হাদিস
ফিরে যান

জামে আত-তিরমিযী 7 · The Book on Zakat

আপনার ভাষায় এখনো কোনো অনুবাদ নেই — ইংরেজি দেখাচ্ছে

617। আবু যার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে এলাম। তিনি সে সময় কা'বার ছায়াতে বসে ছিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি আমাকে সম্মুখে আসতে দেখে বলেনঃ কা'বার প্রভুর শপথ! তারা কিয়ামতের দিবসে অত্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় হাযির হবে। বর্ণনাকারী বলেন, আমি মনে মনে বললাম, আমার কি হল, মনে হয় আমার প্রসঙ্গে তার উপর কোন কিছু নাযিল হয়েছে। আমি বললাম, আপনার জন্য আমার পিতা-মাতা নিবেদিত হোক! এধরণের লোক কারা? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ অধিক ধনদৌলত আত্মসাৎকারী, কিন্তু যে সব লোক এই, এই ও এই পরিমাণ দিয়েছে সে সব লোক ছাড়া। তিনি সামনে, ডানে ও বামে হাতের ইশারা করলেন। তারপর তিনি বললেনঃ সেই সত্তার শপথ, যার হাতে আমার জীবন! যে লোক এধরণের উট অথবা গরু রেখে মৃত্যুবরণ করল যার যাকাত সে দেয়নি, কিয়ামতের দিন সেগুলো পূর্বাবস্থা হতে বেশি মোটাতাজা হয়ে তার নিকটে আসবে এবং নিজেদের পায়ের ক্ষুর দ্বারা তাকে দলিত করবে এবং শিং দ্বারা গুতো মারবে। সবশেষের জন্তুটি চলে যাওয়ার পর আবার প্রথম জন্তুটি ফিরে আসবে। মানুষের সম্পূর্ণ বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত শাস্তির এ ধারা চলতে থাকবে। — সহীহ তা’লীকুর রাগীব (১/২৬৭) আবু হুরাইরা (রাঃ) হতেও একই রকম হাদীস বর্ণিত আছে। আলী (রাঃ) বলেন, যাকাত অমান্যকারীকে অভিসম্পাত করা হয়েছে। কাবীসা ইবনু হুলব তার পিতা থেকে, জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ, আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেন, আবূ যারের হাদীসটি হাসান সহীহ্! আবু যার (রাঃ)-এর নাম জুনদাব ইবনুস সাকান, কারো মতে ইবনু জুনাদা। দাহহাক ইবনু মুযাহিম বলেন, যার দশ হাজার (দিরহাম) রয়েছে সেই অধিক সম্পদশালী। — সহীহ মাকতু অর্থাৎ যাহহাকের উপর মাওকৃফ এই হাদীসের এক রাবী আবদুল্লাহ ইবনু মুনীর মারওয়ায়ী একজন নিষ্ঠাবান লোক।

618। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যখন তুমি তোমার ধন-সম্পদের যাকাত আদায় করে ফেললে, তুমি তোমার কর্তব্যভার পালন করলে। যঈফ, ইবনু মাজাহ (১৭৮৮) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হতে একাধিক সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি যাকাত নিয়ে আলোচনা করলে এক লোক বলল, হে আল্লাহর রাসূল! এ ব্যতীতও কি আমার কিছু করার আছে? তিনি বলেনঃ না, তবে বাড়তি (দান-খাইরাত) করতে পার। ইবনু হুজাইরার নাম আব্দুর রহমান ইবনু হুজাইরাহ আল-মিসরী।

619। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমরা ইচ্ছা করতাম, আমাদের উপস্থিত থাকা অবস্থায় কোন বুদ্ধিমান বেদুঈন এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কোন বিষয়ে প্রশ্ন করুক। এমন সময় এক বেদুঈন হাযির হল। সে তার হাটু গেড়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে বসল। সে বলল, হে মুহাম্মাদ! আমাদের নিকট আপনার প্রতিনিধি এসে বলল, আপনি দাবি করছেন, আপনাকে আল্লাহ তা'আলা তার রাসূল করে পাঠিয়েছেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হ্যাঁ। লোকটি বলল, সেই সত্তার শপথ, যিনি আকাশসমূহ সমুন্নত করেছেন, যমীনকে বিস্তৃত করেছেন এবং পাহাড়সমূহ দাঁড় করিয়েছেন, সত্যিই কি আপনাকে আল্লাহ তাআলা তার রাসূল করে পাঠিয়েছেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হ্যাঁ। লোকটি বলল, আমাদেরকে আপনার প্রতিনিধি বলেছে, আপনি মনে করেন আমাদের উপর দিন রাতে পাচ ওয়াক্ত নামায বাধ্যতামূলক। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হ্যাঁ। লোকটি বলল, সেই সত্তার শপথ, যিনি আপনাকে পাঠিয়েছেন! আল্লাহ কি এই প্রসঙ্গে আপনাকে আদেশ করেছেন? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। বেদুঈন বলল, আমাদেরকে আপনার প্রতিনিধি বলেছে, আপনি মনে করেন বছরে এক মাস আমাদের উপর রোযা বাধ্যতামূলক। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সে সঠিক বলেছে। লোকটি বলল, সেই সত্তার শপথ, আপনাকে যিনি পাঠিয়েছেন আল্লাহ তাআলা কি এই প্রসঙ্গে আপনাকে আদেশ করেছেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হ্যাঁ। সে বলল, আমাদেরকে আপনার প্রতিনিধি বলেছে, আপনি মনে করেন আমাদের ধনদৌলতের উপর যাকাত বাধ্যতামূলক। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সে সত্য বলেছে। বেদুঈন বলল, সেই সত্তার শপথ, আপনাকে যিনি রাসূল করে পাঠিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা কি এই প্রসঙ্গে আপনাকে আদেশ করেছেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হ্যাঁ। সে বলল, আমাদেরকে আপনার প্রতিনিধি বলেছে, আমাদের মাধ্যে যে লোক দূরত্ব অতিক্রম করার (আর্থিক ও দৈহিক) যোগ্যতা রাখে আপনি মনে করেন তার জন্য বাইতুল্লাহর হজ্জ বাধ্যতামূলক। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হ্যাঁ। বেদুঈন বলল, সেই সত্তার শপথ, আপনাকে যিনি রাসূল করে পাঠিয়েছেন! আল্লাহ তাআ’লা কি আপনাকে এই প্রসঙ্গে আদেশ করেছেন? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। লোকটি বলল, সেই সত্তার শপথ, আপনাকে যিনি সত্য সহকারে পাঠিয়েছেন! আমি এগুলোর কোনটিই ছাড়বো না এবং এগুলোর সীমাও পার করব না। তারপর সে তাড়াতাড়ি উঠে চলে গেল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এই বেদুঈন যদি সত্য বলে থাকে তবে সে জান্নাতে যাবে। – সহীহ, তাখরাজ ঈমান ইবনু আবী শাইবা (৪/৫), বুখারী, মুসলিম৷ আবূ ঈসা বলেন, উল্লেখিত সনদে হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীসটি অন্যান্য সূত্রেও আনাস (রাঃ) হতে এবং তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। আমি একথা মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল বুখারীকে বলতে শুনেছি যে, একদল মুহাদ্দিস বলেন, এ হাদীসের একটি আইনগত (ফিকহী) দিক এই যে, উস্তাদের নিকট পাঠ করা এবং তা তার শুনা উস্তাদের নিকট হতে শুনার মতই গ্রহণযোগ্য। তারা উক্ত হাদীস দলীল হিসাবে উপস্থাপন করে বলেন, এই বেদুঈন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে (বর্ণনা) উপস্থাপন করল, আর তিনি তার সত্যতা স্বীকার করলেন।

620। আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঘোড়া ও গোলামের সাদকা (যাকাত) আমি ক্ষমা করেছি, কিন্তু প্রতি চল্লিশ দিরহাম রূপার ক্ষেত্রে এক দিরহাম সাদকা (যাকাত) আদায় কর। কিন্তু একশত নব্বই দিরহামে কোন সাদকা নেই। যখন তা দুই শত দিরহামে পৌছবে তখন তাতে পাঁচ দিরহাম সাদকা দিতে হবে। – সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৭৯০) আবূ বাকার সিদ্দীক ও আমর ইবনু হাযম (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে! আবু ঈসা বলেন, আমাশ, আবু আওয়ানা ও অন্যান্যরা আবু ইসহাকের সনদের ধারাবাহিকতায় আলী (রাঃ)-এর নিকট হতেও এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। সুফিয়ান সাওরী, ইবনু উআইনা ও অন্যরাও আবু ইসহাকের বরাতে আল-হারিসের সূত্রে আলী (রাঃ) হতে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। উভয় সূত্রকেই ইমাম বুখারী সহীহ বলেছেন। কারণ, হয়ত আসিম ও হারিস দু'জনের নিকট হতে এটি বর্ণিত আছে।

621। সালিম (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত আছে, সাদকা (যাকাত) প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি ফরমান (অধ্যাদেশ) লিখালেন। তার কর্মচারীদের নিকটে এটা পাঠানোর আগেই তিনি মারা যান। তিনি এটা নিজের তরবারির সাথে রেখেছিলেন। তার মৃত্যুর পর আবু বাকার (রাঃ) তা কার্যকর করেন। তিনিও মারা যান। উমার (রাঃ)-ও সে অনুযায়ী কাজ করেন। তারপর তিনিও মারা যান। তাতে লিখা ছিল পাঁচটি উটের জন্য একটি বকরী এবং দশটি উটের জন্য দুইটি বকরী, পনেরটি উটের জন্য তিনটি বকরী এবং বিশটি উটের জন্য চারটি বকরীর যাকাত আদায় করতে হবে। পঁচিশ হতে পঁয়ত্রিশ পর্যন্ত উটের জন্য একটি বিনতু মাখায (একটি পূর্ণ এক বছরের মাদী উট); এর বেশি হলে পয়তাল্লিশ পর্যন্ত (ছত্রিশ হতে পয়তাল্লিশ পর্যন্ত) উটের জন্য একটি বিনতু লাবৃন (একটি পূর্ণ দুই বছরের মাদী উট); এর বেশি হলে ষাট পর্যন্ত (ছিচল্লিশ হতে ষাট পর্যন্ত) উটের জন্য একটি হিক্কাহ (একটি পূর্ণ তিন বছরের মাদী উট); আবার এর বেশি হলে পচাত্তর পর্যন্ত (একষট্টি হতে পচাত্তর পর্যন্ত) উটের জন্য একটি জাযাআহ (একটি চার বছরের মাদী উট); আরো বেশি হলে নব্বই পর্যন্ত (ছিয়াত্তর হতে নব্বই পর্যন্ত) উটের জন্য দু'টি বিনতু লাবৃন; আরো বেশি হলে একশত বিশ পর্যন্ত (একানব্বই-একশত বিশ) উটের জন্য দুটি হিক্কাহ এবং যখন একশত বিশের বেশি হবে তখন প্রতি পঞ্চাশ উটের জন্য একটি হিক্কাহ এবং প্রতি চল্লিশ উটের জন্য একটি বিনতু লাবৃন যাকাত আদায় করতে হবে। ভেড়া বকরীর যাকাত হলঃ চল্লিশ হতে এক শত বিশ পর্যন্ত বকরীর জন্য একটি বকরী; এর বেশি হলে দুশত পর্যন্ত দুটি বকরী; এর বেশি একশত বকরীর জন্য একটি করে বকরী যাকাত আদায় করতে হবে। তারপর বকরীর পরিমাণ আবার একশত পর্যন্ত না পৌছালে (পুনরায়) কোন যাকাত দিতে হবে না। যাকাতের ভয়ে (একাধিক মালিকানায়) বিচ্ছিন্নগুলোকে একত্র করা এবং একত্রগুলোকে বিচ্ছিন্ন করা যাবে না। এক সাথে দুই শরীকের পশু থাকলে প্রত্যেকে নিজ নিজ অংশের হিসাব করে সঠিকভাবে যাকাত আদায় করবে। যাকাতে বৃদ্ধ এবং ক্রটিযুক্ত পশু গ্রহণ করা হবে না। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৭৯৮) যুহরী (রাহঃ) বলেন, সাদকা আদায়কারী আসলে (মালিক) বকরিগুলোকে তিনটি ভাগে ভাগ করবে। একটি ভাগে থাকবে উন্নত মানের বকরী, অন্য ভাগে থাকবে মধ্যম মানের বকরী এবং আর এক ভাগে থাকবে নিকৃষ্ট মানের বকরী। মধ্যম মানের বকরী হতে সাদকা আদায়কারী যাকাত গ্রহণ করবে। যুহরী (রাহঃ) গরুর প্রসঙ্গে কিছু বলেননি। আবূ বাকার সিদ্দীক দাদা হতে, আবু যার ও আনাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা ইবনু উমারের হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। এই হাদীস অনুসারে সকল ফিকহবিদ মত গ্রহণ করেছেন। একদল রাবী মারফুভাবে এ হাদীসটিকে বর্ণনা করেননি। শুধুমাত্র সুফিয়ান ইবনু হুসাইন মারফু হিসাবে এটাকে বর্ণনা করেছেন।

622। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ত্রিশটি গরুর যাকাত (দিতে হবে) একটি এক বছরের এড়ে বাছুর অথবা বকনা বাছুর। চল্লিশটি গরুর যাকাত (দিতে হবে) একটি দুই বছরের বাছুর। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৮০৪) মুআয ইবনু জাবাল (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেন, আব্দুস সালাম ইবনু হারব খুসাইফ হতে হাদীসটি এভাবেই বর্ণনা করেছেন। আবদুস সালাম নির্ভরযোগ্য এবং স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন একজন বর্ণনাকারী। শারীক এই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন শুনেননি।

623। মুআয ইবনু জাবাল (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়ামানে (গভর্ণর করে) প্রেরণ করলেন এবং আদেশ দিলেনঃ আমি যেন প্রতি ত্রিশটি গরুর ক্ষেত্রে একটি এক বছরের এড়ে বাছুর অথবা বকনা বাছুর; প্রতি চল্লিশটি গরুর ক্ষেত্রে একটি দুই বছরের বাছুর (যাকাত হিসেবে) এবং প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়সের (জিম্মী) লোকের নিকট হতে এক দীনার (স্বর্ণ মুদ্রা) অথবা একই মূল্যের মাআফির নামক কাপড় (জিযয়া হিসাবে) আদায় করি। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৮০৩) আবু ঈসা হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। এ হাদীসটি কতিপয় সূত্রে, তিনি মাসরুকের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, মুআযকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়ামানে পাঠালেন। তাকে তিনি আদেশ করলেন ..... এ বর্ণনাটি অধিকতর সহীহ।

624। আমর ইবনু মুররা (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আবু উবাদাকে আমি প্রশ্ন করলাম, আব্দুল্লাহর নিকট হতে তিনি কি কোন কিছু বর্ণনা করেন? তিনি বললেন, না। – আবূ উবাইদাহ হতে সূত্রটি সহীহ, আর তিনি হলেন আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদের ছেলে।

625। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, মুআয (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়ামানে পাঠালেন। তিনি তাকে বললেনঃ এমন একটি জাতির নিকটে তুমি যাচ্ছ যারা আহলি কিতাব। তাদেরকে এমন সাক্ষ্য দিতে আহবান কর যে, আল্লাহ তাআলা ব্যতীত আর কোন মা'বূদ নেই এবং আমি (মুহাম্মাদ) আল্লাহর রাসূল। এটা তারা, মেনে নিলে তাদেরকে জানিয়ে দাও- অবশ্যই তাদের উপর আল্লাহ তাআ’লা দিন-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাযকে ফরয করেছেন। তারা এটাও মেনে নিলে তাদেরকে জানিয়ে দাও- তাদের ধন-দৌলতে আল্লাহ তা'আলা যাকাত ফরয করে দিয়েছেন। তাদের ধনীদের মধ্য হতে এটা এটিও মেনে নেয় তাহলে সাবধান! তাদের উত্তম মাল (যাকাত হিসাবে) নেয়া হতে বিরত থাকবে। নিজেকে নিপীড়িতদের অভিশাপ হতে দূরে রাখ। কেননা, তার আবেদন এবং আল্লাহ্ তা'আলার মাঝে কোন প্রতিবন্ধক নেই। – সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৭৮৩), বুখারী, মুসলিম সুনাবিহী (রহঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা এ হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। আবু মা'বাদ (রহঃ) হচ্ছেন ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর মুক্তদাস এবং তার নাম না-ফিয।

626। আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পাঁচের কম সংখ্যক উটে কোন যাকাত আদায় করতে হবে না; পাঁচ উকিয়ার কম পরিমাণ রূপাতে কোন যাকাত আদায় করতে হবে না এবং পাঁচ ওয়াসাকের কম পরিমাণ ফসলে কোন যাকাত আদায় করতে হবে না। — সহীহ্, ইবনু মা-জাহ (১৭৯৩), বুখারী, মুসলিম আবু হুরাইরা, ইবনু উমার, জা-বির ও আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।

627। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার আব্দুর রহমান ইবনু মাহদী হতে, তিনি সুফিয়ান হতে, তিনি শুবা হতে, তিনি মালিক ইবনু আনাস হতে, হাদীসের মতই হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবু সাঈদ হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। আরো কয়েকটি সূত্রে উপরে উল্লেখিত হাদীসটি তার নিকট হতে বর্ণিত হয়েছে। এই হাদীসের ভিত্তিতে আলিমগণ মত প্রকাশ করেছেন যে, পাঁচ ওয়াসাকের কম পরিমাণ শস্যে কোন যাকাত আদায় করতে হবে না। ষাট সা’ পরিমাণে এক ওয়াসাক হয়। অতএব, পাঁচ ওয়াসাকে তিনশত সা’ হবে। সোয়া পাঁচ রতলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সা’ হত। কুফাবাসীদের এক সা হয় আট রোতল পরিমাণে। পাঁচ উকিয়ার কম পরিমাণ রূপার ক্ষেত্রে যাকাত ধার্য হয় না। চল্লিশ দিরহাম পরিমাণে এক উকিয়া হয়। অতএব, পাঁচ উকিয়া পরিমাণে দুই শত দিরহাম হয়। পাঁচ যাওদ অর্থাৎ পাঁচের কম সংখ্যক উটের ক্ষেত্রে যাকাত ধার্য হয় না। উটের সংখ্যা পঁচিশে পৌছলে তখন যাকাত হিসেরে এক বছরের একটি মাদী উট আদায় করতে হবে। পঁচিশের কম সংখ্যক উট হলে প্রতি পাঁচটি উটে একটি বকরী যাকাত আদায় করতে হবে।

628। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঘোড়া ও ক্রীতদাসের জন্য মুসলিমের কোন সাদকা (যাকাত) আদায় করতে হবে না। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৮১২), যঈফা (৪০১৪), বুখারী, মুসলিম আবদুল্লাহ ইবনু আমর ও আলী (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীসটির পরিপ্রেক্ষিতে আলিমগণ বলেছেন, চারণভূমিতে চরে বেড়ায় এমন ঘোড়া এবং ক্রীতদাসের উপর যাকাত ধার্য হয় না, যদি সেবা দানের উদ্দেশ্যে তা (ক্রীতদাস) রাখা হয়ে থাকে। ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে এগুলো রাখা হলে তবে এক বছর পার হওয়ার পর এর মূল্যের উপর যাকাত ধার্য হবে।

629। ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রতি দশ মশক মধুর ক্ষেত্রে এক মশক যাকাত ধার্য হবে। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৮২৪) আবু হুরাইরা, আবু সাইয়্যারা ও আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেন, ইবনু উমারের হাদীসের সনদ প্রসঙ্গে আপত্তি আছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হতে মধুর যাকাত প্রসঙ্গে সহীহ সূত্রে বেশি কিছু প্রমাণিত নেই। এ হাদীসের পরিপ্রেক্ষিতে বেশির ভাগ মনীষী মধুর উপর যাকাত ধার্যের পক্ষে মত দিয়েছেন। ইমাম আহমাদ, ও ইসহাক এই মত গ্রহণ করেছেন। অন্য আরেক দল মনীষী বলেছেন, মধুর উপর কোন প্রকার যাকাত ধার্য হবে না। বর্ণনাকারী সাদাকাহ ইবনু আব্দুল্লাহ স্মৃতি শক্তির অধিকারী নন। নাফি হতে সাদাকাহ ইবনু আব্দুল্লাহর বর্ণনার বিপরীত বর্ণনা বিদ্যমান আছে।

630। নাফি (রহঃ) বলেন, উমার ইবনু আব্দুল আযীয আমাকে মধুর যাকাত সম্পর্কে প্রশ্ন করলেন। আমি জবাবে বললামঃ (যাকাত দেওয়ার মত) মধু আমাদের কাছে নাই যাতে আমরা যাকাত দিব। কিন্তু মুগীরা ইবনু হাকীম আমাদেরকে জানিয়েছেন যে, মধুতে কোন যাকাত নেই। (একথা শুনে) উমর ইবনু আব্দুল আযীয বললেনঃ তিনি (মুগীরা) ন্যায়পরায়ণ, গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি। অতঃপর তিনি নির্দেশ জারী করলেন যে, মধুতে যাকাত আদায় করতে হবে না। — সনদ সহীহ

631। ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক সম্পদ অর্জন করল, তার উপর বর্ষচক্র পার না হওয়া পর্যন্ত যাকাত আদায় করতে হবে না। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৭৯২) সাররাআ বিনতু নাবহান (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।

632। ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, যে লোক সম্পদ অর্জন করল, মালিকের হাতে তা পুরো এক বছর না থাকা পর্যন্ত তাতে যাকাত আদায় করতে হবে না। — সনদ সহীহ, মাওকুফ, এটি মারফু হাদীসের মতই আবু ঈসা বলেন, পূর্ববর্তী বর্ণনা হতে এই বর্ণনাটি (সনদের বিচারে) বেশি সহীহ। ইবনু উমারের নিকট হতে অধিক সংখ্যক বর্ণনাকারী এটি মাওকৃফ হিসাবে বর্ণনা করেছেন। আবদুর রাহমান ইবনু যাইদ ইবনু আসলাম হাদীস শাস্ত্রে দুর্বল। তাকে আহমাদ ইবনু হাম্বাল, আলী ইবনুল মাদীনী প্রমুখ হাদীস বিশারদগণ যঈফ বলেছেন এবং তিনি অনেক ভুলের শিকার হন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একাধিক সাহাবা হতে বর্ণিত আছে যে, মালিকের হাতে বর্ষচক্র পার না হওয়া পর্যন্ত অর্জিত মালের যাকাত আদায় করতে হবে না। মালিক ইবনু আনাস, শাফিঈ,আহমাদ ইবনু হাম্বাল ও ইসহাকের এই মত। কিছু সংখ্যক মনীষী বলেছেন, যাকাত বাধ্যকর হওয়ার সমপরিমাণ সম্পদ কারো নিকটে থাকলে এবং বছরের মধ্যে আরো কিছু পরিমাণ মাল এসে যদি তার সাথে যুক্ত হয় তবে এক্ষেত্রে নতুন-পুরাতন সকল মালেরই যাকাত আদায় করতে হবে। নতুনভাবে আমদানী হওয়া মাল ব্যতীত তার নিকটে যাকাত ওয়াজিব হওয়ার মত অন্য কোন মাল না থাকলে এই নতুন অর্জিত সম্পদে বর্ষচক্র অতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত যাকাত আদায় করতে হবে না। তার নিকটে যাকাতের নিসাব পরিমাণ মাল আছে, কিন্তু এখনও এক বছর পুরো হয়নি। এরই মাঝে এর সাথে আরো নতুন মাল এসে যুক্ত হল। এক্ষেত্রে পূর্ববতী মালের সাথে সাথে এই নতুনভাবে আসা মালেরও যাকাত আদায় করতে হবে। সুফিয়ান সাওরী ও কুফাবাসীগণের এই মত।

633। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ একই লোকালয়ে (আরবে) দু'টি কিবলার সুযোগ নেই এবং মুসলিমদের ওপর কোন জিযইয়া নেই। যঈফ, ইরওয়া (১২৪৪), যঈফ

634। আবূ কুরাইবও এই সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। যঈফ, জামে সাগীর (২০৫০), মিশকাত (৪০৩৯) এ অনুচ্ছেদে সাঈদ ইবনু যাইদ ও হারব ইবনু উবাইদুল্লাহর দাদা হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, কাবুস ইবনু আবূ যাবিয়ান তার পিতার সূত্রে এ হাদীসটি মুরসাল হিসাবে বর্ণনা করেছেন। সকল ফিকহবিদ এ হাদীসের ভিত্তিতে একমত হয়ে বলেছেন, কোন নাসারা (খ্ৰীষ্টান) মুসলিম হলে তার ওপর নির্ধারিত জিযইয়া মাওকৃফ হয়ে যাবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীঃ “মুসলিমদের ওপর উশরের জিযইয়া নেই”-এর অর্থ হচ্ছেঃ ব্যক্তির ওপর নির্ধারিত জিযইয়া। এ হাদীস হতে এটাও বুঝা যাচ্ছে যে, তিনি বলেছেনঃ উশর (জিযইয়া) শুধু ইয়াহুদী ও নাসারাদের ওপর আরোপিত হবে, মুসলিমদের ওপর কোন উশর ধার্য হবে না।

635আবদুল্লাহ (রাঃ)-এর স্ত্রী যাইনাব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে সম্বোধন করে বললেনঃ হে মহিলাগণ! তোমাদের গহনাপত্র দিয়ে হলেও তোমরা দান-খয়রাত কর। কেননা, কিয়ামত দিবসে তোমাদের সংখ্যাই জাহান্নামীদের মধ্যে বেশি হবে। - পরবর্তী হাদীসের সহায়তায় হাদীসটি সহিহ।

636। মাহমুদ ইবনু গাইলান আবু দাউদ হতে, তিনি শুবা হতে তিনি আমাশ হতে, তিনি আবু ওয়ায়িল হতে তিনি জায়নাবের ভ্রাতুষ্পপুত্র ওয়াসাল্লাম হতে উপরের হাদীসের মত হাদীস বর্ণনা করেছেন......। এই বর্ণনাটি পূর্ববর্তী বর্ণনার চেয়ে অনেক বেশি সহীহ। আবু মুয়াবিয়া সন্দেহে পতিত হয়ে বলেছেন, যাইনাবের ভাইয়ের ছেলের নিকট হতে আমর ইবনু হারিস বর্ণনা করেছেন। অথচ সঠিক হল আমর ইবনু হারিস যাইনাবের ভাইয়ের ছেলে। আমর ইবনু শুআইব হতে পর্যায়ক্রমে তাঁর পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত আছেঃ গহনাপত্রের যাকাত আদায় করতে রাসূলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদেশ করেছেন। অবশ্য এ হাদীসের সনদ প্রসঙ্গে সমালোচনা আছে। আলিমগণের মধ্যে অলংকারপত্রের যাকাত আদায়ের ব্যাপারে মতবিরোধ আছে। একদল সাহাবা ও তাবিঈ বলেছেন, অলংকারাদির যাকাত আদায় করতে হবে, তা স্বর্ণের কিংবা রূপারই হোক না কেন। সুফিয়ান সাওরী, ও ইবনুল মুবারাকের একই রকম মত। আরেক দল সাহাবা, যেমন ইবনু উমার, আইশা, জাবির ইবনু আবদুল্লাহ ও আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) বলেছেন, অলংকারাদির উপর যাকাত আদায় করা ওয়াজিব নয়। কয়েকজন ফিকহবিদ তাবিঈ হতেও একইরকম বর্ণিত আছে। ইমাম মালিক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক এরকমই মত প্রকাশ করেছেন।

637। আমর ইবনু শুআইব (রাহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও দাদার সুত্রে বর্ণিত আছে। দুইজন মহিলা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসে। তাদের দুজনের হাতে স্বর্ণের বালা ছিল। তিনি তাদের উভয়কে প্রশ্ন করেনঃ তোমরা কি এর যাকাত প্রদান কর? তারা বলল, না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বললেনঃ তোমরা কি এটা পছন্দ কর যে, আল্লাহ তা'আলা (কিয়ামতের দিন) তোমাদের আগুনের দু'টি বালা পরিয়ে দিবেন? তারা বলল, না। তিনি বললেনঃ তবে তোমরা এর যাকাত প্রদান কর। – অন্য শব্দে হাদীসটি হাসান, ইরওয়া (৩/২৯৬), মিশকাত (১৮০৯), সহীহ আবু দাউদ (১৩৯৬) আবু ঈসা বলেন, মুসান্না ইবনুস সাব্বাহ ও ইবনু লাহীআও আমর ইবনু শুআইবের নিকট হতে উক্ত হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তারা উভয়ে হাদীস শাস্ত্রে যঈফ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হতে এ ব্যাপারে কোন হাদীস সহীহ সনদে বর্ণিত হয়নি।(কিন্তু ইমাম আবু দাউদ এ হাদিসটি অপর একটি সুত্রে বর্ণনা করেছেন, যাতে কোন খুঁত নেই)।

638। মুআয (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি রাসূলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সজি অর্থাৎ তরিতরকারির উপর যাকাত ধার্য প্রসঙ্গে জানতে চেয়ে চিঠি লিখেন। তিনি (রাসূলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ এতে যাকাত ধার্য হবে না। — সহীহ, ইরওয়া (৩/২৭৯) আবু ঈসা এ হাদীসের সনদ সহীহ নয় বলেছেন। সহীহ সনদসূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হতে এ অনুচ্ছেদে কোন কিছু বর্ণিত হয়নি। এ হাদীসটি মূসা ইবনু তালহা তার সনদসূত্রে মুরসালভাবে বর্ণনা করেছেন। আলিমগণও এ হাদীসের উপর আমল করেছেন। তারা বলেন, শাক-সজি ও তরিতরকারির যাকাত আদায় করতে হবে না। আবু ঈসা বলেন, হাসান হলেন উমারার ছেলে। তিনি হাদীস বিশারদদের দৃষ্টিতে যঈফ বর্ণনাকারী। শুবা প্রমুখ তাকে দুর্বল বলেছেন। তাকে আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারাক সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাগ করেছেন।

639। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে যমী ঝর্ণা ও বৃষ্টির পানির সাহায্যে সিক্ত হয় সে যমীতে উশর ধার্য হবে। সেচের সাহায্যে যে যমী সিক্ত হয় তাতে অর্ধেক উশর ধার্য হবে। — পরবর্তী হাদীসের সহায়তায় হাদীসটি সহীহ আনাস ইবনু মালিক, ইবনু উমার ও জাবির (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেন, এই হাদীসটি সুলাইমান ইবনু ইয়াসার ও বুসর ইবনু সাঈদ মুরসালভাবে বর্ণনা করেছেন। পূর্ববর্তী বর্ণনার তুলনায় সনদের বিচারে এই (মুরসাল) বর্ণনাটি বেশি সহীহ। ইবনু উমার (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহীহ হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসের উপরই সকল ফিকহবিদ আমল করেন।

640। সালিম (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত আছে, এমন ধরণের যমীর উপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উশর ধার্য করেছেন যেটি বৃষ্টির পানি অথবা ঝর্ণার কিংবা নালার পানির সাহায্যে সিক্ত হয়ে থাকে। আর সেচের সাহায্যে যে যমী সিক্ত হয় তাতে অর্ধেক উশর। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৮১৭) বুখারী, মুসলিম আবু ঈসা এই হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন।

641। আমর ইবনু শুআইব (রাহঃ) হতে পালাক্রমে তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনতার উদ্দেশ্যে বক্তৃতা দিলেন। তিনি বললেনঃ শুনো! যে লোক কোন সম্পদশালী ইয়াতীমের তত্ত্বাবধায়ক হয়েছে, সে যেন তা ব্যবসায়ে খাটায় এবং ফেলে না রাখে। তা না হলে যাকাতে সেগুলো নিঃশেষ হয়ে যাবে। যঈফ, ইরওয়া (৭৮৮) আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি শুধু উল্লেখিত সূত্রেই বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু এর সনদ সম্পর্কে সমালোচনা আছে। কেননা মুসান্না ইবনুস সাববাহকে হাদীস শাস্ত্রে যঈফ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। কেহ কেহ হাদীসটি আমর ইবনু শুয়াইব হতে এই ভাবে বর্ণনা করেছেন যে, উমার ইবনুল খাত্তাব ভাষণ দিলেন পূর্বের হাদীসের অনুরূপ। ইয়াতীমের মালে যাকাত নির্ধারিত হবে কি না এই প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতের অমিল আছে। কিছু সাহাবী, যেমন উমার, আলী, আইশা ও ইবনু উমার (রাঃ) ইয়াতীমের মালে যাকাত নির্ধারিত হবে বলে মত দিয়েছেন। ইমাম মালিক শাফিঈ আহমাদ ও ইসহাকের মত এটাই। অপর একদল বিদ্বান বলেছেন, ইয়াতীমের সম্পদে যাকাত নির্ধারিত হবে না। সুফিয়ান সাওরী ও আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারাকের এই মত। রাবী আমর ইবনু শুআইব-মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আসের ছেলে। তিনি তার দাদা আবদুল্লাহ ইবনু আমরের নিকট হাদীস শুনেছেন। কিন্তু ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ (রাহঃ) আমর ইবনু শুআইবের হাদীসের সমালোচনা করেছেন এবং বলেছেন, তার হাদীস আমাদের মতে যঈফ। যারাই তাকে যঈফ বলেছেন- তার কারণ উল্লেখ করেছেন, তিনি তার দাদা আবদুল্লাহ ইবনু আমরের খসড়া হতে হাদীস বর্ণনা করেন। অপরদিকে বেশীরভাগ হাদীস বিশারদ তার বর্ণিত হাদীস দলীল হিসাবে গ্রহণ করেছেন এবং একে প্রামাণ্য বলে গণ্য করেছেন। এদের মধ্যে আছেন ইমাম আহমাদ, ইসহাক ও অন্যান্যরা।

642। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পশুর আঘাতে, খনিতে, এবং কূপে পড়াতেও কোন দণ্ড নেই। রিকাযে পাঁচ ভাগের এক ভাগ (যাকাত) নির্ধারিত হবে। -সহীহ ইবনু মা-জাহ (২৬৭৩) বুখারী, মুসলিম আনাস ইবনু মালিক, আবদুল্লাহ ইবনু আমর, উবাদা ইবনু সামিত, আমর ইবনু আওফ ও জা-বির (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।

643। আবদুর রহমান ইবনু মাসউদ (রহঃ) বলেন, সাহল ইবনু আবূ হাসমা (রাঃ) আমাদের এক মজলিসে হাযির হয়ে বলেছেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ যখন তোমরা কোন ফলের পরিমাণ আন্দাজ কর তখন (সে অনুযায়ী যাকাত) নিয়ে নাও। তা আন্দাজে নিৰ্দ্ধারিত মোট পরিমাণ) হতে তিনভাগের এক অংশ বাদ দাও। যদি তিনভাগের এক অংশ না বাদ দাও তবে অন্তত চারভাগের এক অংশ বাদ দাও। যঈফ, যঈফ আবূ দাউদ (২৮১) এ অনুচ্ছেদে আইশা, আত্তাব ইবনু উসাইদ ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেছেন, বেশিরভাগ আলিম এ হাদীস অনুসারে আমল করার পক্ষপাতী। ইমাম আহমাদ ও ইসহাক এই হাদীসের সমর্থক। অনুমান করার তাৎপর্য হল, খেজুর অথবা আঙ্গুর পাকার সময় হলে রাষ্ট্রপ্রধান (অথবা তার প্রতিনিধি) একজন ফল বিশেষজ্ঞকে উৎপাদিত ফল আন্দাজ করার জন্য পাঠাবেন। তিনি অনুমান করে বলবেন, গাছের খেজুর বা আঙ্গুর শুকানোর পরে কতটুকু হতে পারে। সেই অনুযায়ী তিনি উশরের পরিমাণ ঠিক করবেন। একইভাবে অন্যান্য ফলের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোজ্য। ফল আন্দাজ করে বাগান মালিকের হিফাযাতে ছেড়ে দেবে। তারপর ফল পেকে শুকানোর পর আগের নির্ধারিত দশ ভাগের এক অংশ উশর নিবে। একদল আলিম হাদীসের এই মৰ্মাৰ্থ বর্ণনা করেছেন। ইমাম শাফিঈ, মালিক, আহমাদ ও ইসহাক একই রকম ব্যাখ্যাই করেছেন।

644আত্তাব ইবনু উসাইদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যক্তিদের নিকটে তাদের আঙ্গুর এবং অন্যান্য ফল আন্দাজ (পরিমাণ নির্ধারণ) করার জন্য লোক পাঠাতেন। একই সনদে এও বর্ণিত আছেঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আঙ্গুরের যাকাত প্রসঙ্গে বলেছেনঃ যেভাবে (গাছে থাকতেই) খেজুর আন্দাজ করা হয় ঠিক সেভাবে আঙ্গুরও আন্দাজ করা হবে। তারপর যেভাবে খেজুরের যাকাত শুকনো খেজুর দিয়ে আদায় করা হয় সেভাবে আঙ্গুরের ক্ষেত্রেও কিশমিশ দিতে হবে। যঈফ, ইরওয়া (৮০৭), যঈফ আবূ দাউদ (২৮০) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। ইবনু জুরাইজ এ হাদীসটি ইবনু শিহাবের সূত্রে, তিনি উরওয়ার সূত্রে এবং তিনি আইশা (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আমি মুহাম্মাদকে এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ইবনু জুরাইজের হাদীস সুরক্ষিত নয়, বরং আত্তাবের হাদীসই অনেক বেশী সহীহ।

645। রাফি ইবনু খাদীজ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ ন্যায়নিষ্ঠার সাথে যাকাত আদায়কারী আল্লাহ্ তা'আলার পথে জিহাদকারী সৈনিকের সমান (মর্যাদা সম্পন্ন) যে পর্যন্তনা সে বাড়িতে ফিরে আসে। — হাসান সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৮০৯) এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান বলেছেন। ইয়াযীদ ইবনু ইয়ায একজন দুর্বল বর্ণনাকারী। মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাকের হাদীসটি অনেক বেশি সহীহ।

646। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যাকাত সংগ্রহে সীমা লংঘনকারী যাকাত আদায়ে বাধা দানকারীর (অস্বীকারকারীর) মতই। – হাসান, ইবনু মা-জাহ (১৮০৮) ইবনু উমার, উম্মু সালামা ও আবু হুরাইরা (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে উল্লেখিত সনদে গারীব বলেছেন। আহমাদ ইবনু হাম্বাল এ হাদীসের এক বর্ণনাকারী সা’দ ইবনু সিনানের সমালোচনা করেছেন। লাইস ইবনু সা’দ হাদীসের সনদ এভাবে বলেছেনঃ ইয়াযীদ ইবনু আবী হাবীব সা’দ ইবনু সিনান হতে তিনি আনাস ইবনু মালিক হতে। আর আমর ইবনুল হারিস সনদ বর্ণনা করেছেন এভাবে, ইবনু লাহীআ ইয়াযীদ ইবনু আবী হাবীব হতে, তিনি সিনান ইবনু সা’দ হতে তিনি আনাস হতে। ইমাম বুখারী বলেছেন, সা’দ ইবনু সিনান সঠিক নয়; বরং সিনান ইবনু সা'দ হবে। তিনি আরো বলেন, যে লোক যাকাত আদায় করে না তার যে গুনাহ হবে, অনুরূপ যে লোক যাকাত আদায় করতে গিয়ে বাড়াবাড়ি করে সে লোকেরও একইরকম গুনাহ হবে।

647। জারীর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যাকাত আদায়কারী (সংগ্রহকারী) তোমাদের নিকটে আসলে তিনি যেন (তোমাদের উপর সন্তুষ্ট হয়েই ফিরতে পারে (তার সাথে ভাল ব্যবহার কর)। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৮০২), মুসলিম সংক্ষিপ্তভাবে

648। আবূ আম্মার আল-হুসাইন ইবনু হুরাইস সুফিয়ান ইবনু উয়াইন হতে, তিনি দাউদ হতে, তিনি শা'বী হতে, তিনি জারীর হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে উপরোক্ত হাদীসের মতই বর্ণনা করেছেন। আবু ঈসা মুজালিদের হাদীসের (৬৪৭) তুলনায় দাউদের হাদীসকে (৬৪৮) বেশি সহীহ বলেছেন। মুজালিদকে কিছু হাদীস বিশেষজ্ঞ যঈফ বলেছেন এবং তিনি অনেক ভুলের শিকার হন।

649। আওন ইবনু আবূ জুহাইফা (রাঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি (আবূ জুহাইফা) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের (নিযুক্ত) যাকাত আদায়কারী আমাদের নিকটে আসলেন। তিনি আমাদের মালদারদের নিকট হতে যাকাত নিয়ে আমাদের দরিদ্রদের মাঝে বিলি করলেন। এ সময় আমি ইয়াতীম বালক ছিলাম। তিনি আমাকে তা হতে একটি হৃষ্টপুষ্ট মাদী উট দিলেন। - সনদ দুর্বল এ অনুচ্ছেদে ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, আবূ জুহাইফার হাদীসটি হাসান। ইমাম শাফিঈ এবং অন্যরা এই রকমই মত দিয়েছেন।

650। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মানুষের নিকটে যে লোক হাত পাতে (সাহায্য প্রার্থনা করে) অথচ তার এটা হতে বাঁচার মত সম্বল আছে, সে লোক কিয়ামত দিবসে তার মুখমণ্ডলে এই সাহায্য চাওয়ার ক্ষত নিয়ে আল্লাহ্ তা'আলার সামনে উপস্থিত হবে। প্রশ্ন করা হল, হে আল্লাহর রাসূল! কি পরিমাণ সম্পদ থাকলে সে লোক অন্য কারো নিকটে হাত পাততে পারবে না? তিনি বললেনঃ পঞ্চাশ দিরহাম বা সমমূল্যের স্বর্ণ। — সহীহ, সহীহ আবু দাউদ (১৪৩৮), মিশকাত (১৮৪৭) আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। এ হাদীসের পরিপ্রেক্ষিতে শুবা হাকীম ইবনু জুবাইরের সমালোচনা করেছেন।

651। মাহমূদ ইবনু গাইলান ইয়াহইয়া ইবনু আ-দাম হতে তিনি সুফিয়ান হতে, তিনি হাকীম ইবনু জুবাইর হতে..... এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। শুবার শাগরিদ আব্দুল্লাহ ইবনু উসমান বলেছেন, যদি হাকীম ব্যতীত অন্য কেউ হাদীসটি বর্ণনা করত একথা শুনে সুফিয়ান তাকে বললঃ শুবার কি হাকীম হতে বর্ণনা করা উচিত নয়? তিনি বললেন, হ্যাঁ, সুফিয়ান বলেন, আমি যুবাইদাকে উহা মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুর রাহমান হতে বর্ণনা করতে শুনেছি। এ হাদীস অনুযায়ী আমাদের কিছু সঙ্গী আমল করেছেন। সুফিয়ান সাওরী, আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারাক, আহমাদ ও ইসহাক বলেছেন, পঞ্চাশ দিরহাম কোন লোকের মালিকানায় থাকলে সে লোকের জন্য যাকাতের মাল খাওয়া বৈধ নয়। অন্য একদল আলিম এ হাদীস অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেননি। তারা এ সুযোগটাকে আরো ব্যাপক রেখেছেন। তারা বলেছেন, পঞ্চাশ দিরহাম থাকার পরও কোন ব্যক্তি যদি প্রয়োজনে যাকাত নেয়ার মুখাপেক্ষী হয় তবে সেটা নেয়া তার জন্য বৈধ। ইমাম শাফিঈ, ও অন্যান্য ফিকহবিদের অনুরূপ মত।

652। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অবস্থাপন্ন সচ্ছল ও সুস্থ-সবল লোকের জন্য ষাকাত নেয়া বৈধ নয়। — সহীহ, মিশকাত (১৪৪৪), ইরওয়া (৮৭৭) আবু হুরাইরা, হুবশী ইবনু জুনাদা ও কাবীসা ইবনু মুখারিক (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। এ হাদীসটি শুবাও সা’দ ইবনু ইবরাহীম হতে উল্লেখিত সনদে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এ হাদীসকে তিনি মারফুহিসেবে বর্ণনা করেননি। অন্য একটি বর্ণনায় রয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “অবস্থাপন্ন সচ্ছল লোক এবং শক্তিমান ও সুস্থ দেহের অধিকারী লোকের পক্ষে অন্য কারো নিকটে হাত পাতা জায়িয নয়।" এ প্রসঙ্গে আলিমগণের অভিমত এটাই যে, যদি শক্তিমান সুঠাম দেহের অধিকারী লোক সাহায্যের মুখাপেক্ষী হয় এবং যদি তার নূন্যতম প্রয়োজন মেটানোর মত সম্বল না থাকে তবে সে লোককে যাকাত প্রদান করলে যাকাত আদায় হয়ে যাবে। কিছু মনীষীর মতে, ভিক্ষাবৃত্তি প্রসঙ্গে এ হাদীসটি বলা হয়েছে (যাকাত গ্রহণ জায়িয হওয়া বা না হওয়া প্রসঙ্গে নয়)।

653। হুবশী ইবনু জুনাদা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমি বিদায় হাজের সময় বলতে শুনেছি। তিনি তখন আরাফার মায়দানে ছিলেন। এক বেদুঈন এসে তার চাঁদরের পার্শ্ব ধরে তার নিকটে কিছু চাইলো। তিনি তাকে কিছু দিলেন। লোকটি চলে গেল। এ সময়ই ভিক্ষারূপ পেশা নিষিদ্ধ করা হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ধনী লোকের জন্য এবং সুস্থ সুগঠিত শরীরের অধিকারী সচল ব্যক্তির জন্য (অপরের নিকট) ভিক্ষা করা জায়িয নয়, তবে সর্বনাশা অভাবে পড়েছে এমন ব্যক্তি এবং অপমানকর কর্জে জর্জরিত ব্যক্তির জন্য জায়িয। যে ব্যক্তি নিজের সম্পদ বাড়ানোর উদ্দেশে অপরের নিকটে ভিক্ষা চায়, কিয়ামতের দিন তার চেহারায় এর ক্ষতচিহ্ন হবে এবং সে জাহান্নামের উত্তপ্ত পাথর খাবে। অতএব যার ইচ্ছা হয় (ভিক্ষা) কম করুক আর যার ইচ্ছা হয় বেশী করুক। যঈফ, ইরওয়া

654। মাহমূদ ইবনু গাইলান ইয়াহইয়া ইবনু আদম এর সূত্রে আব্দুর রহীম ইবনু সুলাইমান হতে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। দেখুন পূর্বের হাদীস। আবূ ঈসা বলেন, এই সূত্রে হাদীসটি গরীব।

655। আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, এক লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে ফল কিনে ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে অনেক ঋণে জর্জরিত হয়ে পড়ে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (লোকদের) বললেনঃ একে তোমরা দান-খায়রাত কর। লোকেরা তাকে দান-খয়রাত করল, কিন্তু তা ঋণ পরিশোধের সমপরিমাণ হল না। তারপর ঋণগ্রস্ত লোকের পাওনাদারদের রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এখন যা পাচ্ছ নিয়ে নাও, (আপাতত) এরচেয়ে বেশি আর পাবে না। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৩৫৬), মুসলিম আইশা, জুয়াইরিয়া ও আনাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা আবু সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন।

656। বাহয ইবনু হাকীম (রাহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি (দাদা) বলেন, কোন কিছু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে আনা হলে তিনি প্রশ্ন করতেনঃ এটা সাদকা না-কি উপহার? লোকেরা যদি এটাকে সাদকা বলত তবে তিনি তা খেতেন না এবং লোকেরা যদি এটাকে উপহার বলত তবে তিনি তা খেতেন। — হাসান সহীহ, আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বুখারী, মুসলিম আমর, আবু রাফি ও আবদুর রাহমান ইবনু আলকামা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। উল্লেখিত হাদীসটি আব্দুর রাহমান ইবনু আলকামা হতে, আব্দুর রাহমান ইবনু আবূ আকীলার সূত্রেও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত হয়েছে। বাহয (রাঃ)-এর দাদার নাম মুআবিয়া ইবনু হাইদা আল-কুশাইরী। আবু ঈসা বাহয ইবনু হাকীম (রাহঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান গারীব বলেছেন।

657। আবু রাফি (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, মাখযুম বংশের এক লোককে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকাত আদায়কারী নিযুক্ত করে প্রেরণ করেন। সে আবু রাফি (রাঃ)-কে বলল, আপনি আমার সহযাত্রী হয়ে যান, আপনিও যাতে কিছু পেতে পারেন। তিনি বলেন, না, আগে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে গিয়ে জিজ্ঞেস করে দেখি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে গিয়ে তিনি প্রশ্ন করলেন। তিনি বললেনঃ আমাদের (হাশিম বংশের) জন্য যাকাত নেয়া বৈধ নয়। আর কোন বংশের মুক্তদাস তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। — সহীহ, মিশকাত (১৮২৯), ইরওয়া (৩/৩৬৫ ও ৮৮০), সহীহাহ (১৬১২) আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আবূ রাফি (রাঃ) রাসূলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুক্তিপ্রাপ্ত দাস ছিলেন। তার নাম আসলাম। রাফির ছেলের নাম উবাইদুল্লাহ, তিনি আলী (রাঃ)-এর সচিব ছিলেন।

658। সালমান ইবনু আমির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তোমাদের কোন লোক ইফতার করে, সে যেন খেজুর দিয়ে ইফতার করে। কেননা, এতে বারকাত আছে। যদি সে খেজুর না পায় তবে যেন পানি দিয়ে ইফতার করে। কেননা, পানি হল পবিত্র। — যঈফ, সঠিক হল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কর্ম (নির্দেশ নয়), ইবনু মা-জাহ (১৬৯৯) তিনি আরো বলেছেনঃ গরীবদের দান-খায়রাত করা শুধু দান বলেই গণ্য হয়; কিন্তু আত্মীয়-স্বজনকে দান করলে তা দানও হয় এবং আত্মীয়তাও রক্ষা করা হয়। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৮৪৪) আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদের স্ত্রী যাইনাব, জা-বির ও আবু হুরাইরা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান বলেছেন। বর্ণনাকারী আর-রাবাব হলেন সুলাই’এর কন্যা উম্মুর রায়িহ। এ ভাবেই সুফিয়ান সাওরী বর্ণনা করেছেন আসিম হতে, তিনি হাফসা বিনতু সীরীন হতে, তিনি আর-রাবাব হতে। আর শুবা বর্ণনা করেছেন আসিম হতে, তিনি হাফসা বিনতু সীরীন হতে, তিনি সালমান ইবনু আমির হতে। শুবা আর-রাবাব-এর উল্লেখ করেন নাই। এর মধ্যে সুফিয়ান সাওরী ও ইবনু উআইনার বর্ণনাটি বেশি সহীহ। ইবনু আউন এবং হিশাম ইবনু হাসসান বর্ণনা করেছেন হাফসা বিনতু সীরীন হতে, তিনি আর-রাবাব হতে, তিনি সালমান ইবনু আমির হতে।

659। ফাতিমা বিনতু কাইস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি অথবা (রাবীর সন্দেহে) অন্য কেউ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যাকাত প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলাম। তিনি বলেনঃ অবশ্যই যাকাত ছাড়াও (ধনীর) মালে আরো প্রাপ্য আছে। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূরা বাকারার এ আয়াত পাঠ করলেনঃ “তোমরা পূর্ব বা পশ্চিম দিকে মুখ ফিরাবে শুধু এটাই সাওয়াবের কাজ নয়, বরং সাওয়াব আছে- কোন ব্যক্তি আল্লাহ, আখিরাত, ফিরিশতা, কিতাব ও নবীদের প্রতি ঈমান আনলে এবং তার ভালবাসায় আত্মীয়-স্বজন, ইয়াতীম, মিসকীন, পথিক-মুসাফির, ভিক্ষুক ও ক্রীতদাসদের মুক্ত করার করলে এবং ওয়াদা করে তা রক্ষা করলে, দুর্ভিক্ষ, প্রতিকূল অবস্থা ও যুদ্ধ-বিগ্রহের সময় ধৈর্য ধরলে। এরাই প্রকৃত সত্যবাদী আর এরাই প্রকৃত মুত্তাকী"। (সূরাঃ বাকারা - ১৭৭) যঈফ, ইবনু মাজাহ

660। ফাতিমা বিনতু কাইস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যাকাত ছাড়াও (সম্পদশালীর) সম্পদে অবশ্যই আরো প্রাপ্য আছে। অনুরূপ যঈফ আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসের সনদ খুব একটা (মজবুত) নয়। আবূ হামযা মায়মূন আল-আওয়ার একজন দুর্বল রাবী। বায়ান ও ইসমাঈল ইবনু সালিম উল্লেখিত হাদীস শাবী (রহঃ) হতে তার বিবৃতিরূপে বর্ণনা করেছেন এবং এটাই বেশী সহীহ।

661। সাঈদ ইবনু ইয়াসার (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি আবু হুরাইরা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক বৈধ উপার্জন হতে দান খায়রাত করে, আর আল্লাহ তাআ’লা হালাল ও পবিত্র মাল ছাড়া গ্রহণ করেন না, সেই দান দয়াময় রাহমান স্বয়ং ডান হাতে গ্রহণ করেন, তা যদি সামান্য একটি খেজুর হয় তাহলেও। এটা দয়াময় রাহমানের হাতে বাড়তে বাড়তে পাহাড় হতেও বড় হয়ে যায়; যেভাবে তোমাদের কেউ তার দুধ ছাড়ানো গাভী বা ঘোড়ার বাচ্চাকে লালন পালন করে থাকে। সহীহ, জিলালুল জুন্নাহ (৬২৩), তা’লীকুর রাগীব, ইরওয়া (৮৮৬), বুখারী, মুসলিম আইশা, আদী ইবনু হাতিম, আনাস, আবদুল্লাহ ইবনু আবূ আওফা, হারিসা ইবনু ওয়াহব, আবদুর রাহমান ইবনু আওফ ও বুরাইদা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন।

662। আবূ হুরাইরা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন ; নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা দান-খাইরাত কুবুল করেন এবং তা ডান হাতে গ্রহণ করেন। সেগুলো প্রতিপালন করে তিনি ঘোড়ার বাচ্চা লালন-পালন করে বড় করতে থাকে। (এ দানের) এক একটি গ্রাস বাড়তে বাড়তে উহুদ পাহাড়ের সমপরিমাণ হয়ে যায়। এর প্রমাণে আল্লাহ তা'আলার কিতাবে আছেঃ তিনি তার বান্দাদের তাওবা কুবুল করেন এবং তাদের দান গ্রহণ করেন" (সূরাঃ তাওবা- ১০৪)। “আল্লাহ তা'আলা সুদকে নির্মুল করেন এবং দান-খাইরাত বাড়িয়ে দেন" (সূরাঃ বাকারা- ২৭৬) হাদীসের বর্ধিত অংশ এর প্রমাণে আল্লাহ্ তা'আলার কিতাব রয়েছে. মুনকার। ইরওয়া (৩/৩৯৪), তা’লীকুর রাগীব (২/১৯) আবূ ঈসা বলেন; এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আয়িশাহ (রাযিঃ)-এর সূত্রেও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। অনেক বিদ্বানগণই এ হাদীস বা এর অনুরূপ বর্ণনা যাতে আল্লাহর গুণাবলী বর্ণিত হয়েছে, যেমন আল্লাহ প্রত্যেক রাত্রে দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন, এ বর্ণনাগুলো সহীহ সাব্যস্ত আছে। ঐগুলোর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে। এমন বলা যাবে না যে, এটা কিভাবে? এটাই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আতের বিদ্বানগণের অভিমত। জাহমিয়াহ সম্প্রদায় এ ধরনের বর্ণনাগুলো অস্বীকার করে। আর বলে, এতে সাদৃশ্য সাব্যস্ত হয়। আল্লাহ তা'আলা কুরআনের অনেক জায়গায় হাত, শ্রবণ এবং দৃষ্টির কথা উল্লেখ করেছেন। জাহমিয়াহগণ তার অপব্যাখ্যা করে বলেছে হাত অর্থ শক্তি। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম বলেনঃ সাদৃশ্য তখন সাব্যস্ত হবে যখন বলা হবে অমুক হাতের মত হাত, অমুক শ্রবণের মত শ্রবণ। কিন্তু যদি বলে, হাত, শ্রবণ ও দৃষ্টি তা সৃষ্টির শ্রবণের মত নয় তবে সাদৃশ্য সাবস্ত হবে না। যেমনটি আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, “তার সাদৃশ্য কিছুই নেই। তিনি শ্রবণকারী ও দ্রষ্টা।”

663। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করা হল, রামাযানের রোযার পর কোন রোযা সবচাইতে বেশী মর্যাদা সম্পন্ন? তিনি বলেনঃ রামাযানের সম্মানার্থে শাবানের রোযা। প্রশ্নকারী আবার বলল, কোন (সময়ের) দান-খাইরাত সবচাইতে বেশী মর্যাদা সম্পন্ন? তিনি বললেনঃ রামাযান মাসের দান-খাইরাত। যঈফ, ইরওয়া (৮৮৯) আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি গারীব। সাদাকা ইবনু মূসা হাদীস বিশারদদের মতে খুব একটা নির্ভরযোগ্য রাবী নন।

664। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দান-খাইরাত আল্লাহ তা'আলার অসন্তুষ্টি কমিয়ে দেয় এবং অপমানজনক মৃত্যু রোধ করে। হাদীসের প্রথমাংশ সহীহ, ইরওয়া (৮৮৫), সাহীহাহ (১৯০৮) আবূ ঈসা বলেনঃ উল্লেখিত সূত্রে হাদীসটি গারীব।

665আবদুর রাহমান ইবনু বুজাইদ (রহঃ) হতে তার দাদী উম্মু বুজাইদ (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে যে সকল মহিলা বাইআ’ত গ্রহণ করেছিলেন তিনিও তাদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন, ভিক্ষুক এসে আমার দরজায় দাড়ায়, অথচ আমার হাতে তাকে দেওয়ার মত কিছুই থাকে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ যদি তুমি (পশুর পায়ের) একটি ক্ষুর (খুবই সামান্য জিনিস) ছাড়া তাকে দেওয়ার মত আর কিছু না পাও তবে তাই তার হাতে তুলে দাও। — সহীহ তা’লীকুর রাগীব (২/২৯), সহীহ আবু দাউদ (১৪৬৭) আলী, হুসাইন ইবনু আলী, আবু হুরাইরা ও আবু উমামা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেন, উম্মু বুজাইদ (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ হাদীস।

666সাফওয়ান ইবনু উমাইয়া (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, হুনাইনের যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে কিছু (গানীমাতের) মাল দান করেন। তিনি আমার দৃষ্টিতে সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে ঘৃণ্য দুশমন ছিলেন। আমাকে তিনি দান করতে থাকলেন। যার ফলে তিনিই আমার নিকটে সৃষ্টিকুলের মাঝে সবচেয়ে পছন্দনীয় লোক হয়ে গেলেন। — সহীহ, মুসলিম আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেন, সাফওয়ানের হাদীসটি মামার এবং অন্যরা বর্ণনা করেছেন যুহরী হতে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব হতে তিনি সাফওয়ান ইবনু উমাইয়্যা হতে, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দান করেছেন...... এই হাদীসটি অধিক সহীহ। মতবিরোধ আছে। বেশির ভাগ আলিমদের মতে, তাদেরকে দান করা যাবে না। তারা বলেন, এ ধরণের একটা দল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে ছিল যাদেরকে তিনি ইসলামের দিকে আকৃষ্ট করতে চেয়েছেন। তারপর তারা ইসলাম মেনে নেয়। এ ধরণের লোকদেরকে বর্তমানে যাকাত হতে দান করার প্রয়োজন নেই। সুফিয়ান সাওরী, কুফাবাসীগণ, আহমাদ ও ইসহাক এই মত ব্যক্ত করেন। আরেক দল আলিম বলেছেন, যদি এ ধরণের লোক বর্তমানেও থেকে থাকে এবং তাহলে তাদেরকে কিছু দান করলে তা জায়িয হবে। ইমাম শাফিঈ এই মত প্রকাশ করেছেন।

667। আবদুল্লাহ ইবনু বুরাইদা (রাঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি (বুরাইদা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে আমি বসা ছিলাম। এমন সময় তার নিকট এক মহিলা এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আমার মাকে একটি দাসী দান করেছিলাম। তিনি মারা গেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি সাওয়াবের অধিকারী হয়ে গেছ এবং উত্তরাধিকার স্বত্ত্ব দাসীটি তোমাকে ফেরত দিয়েছে। সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! এক মাসের রোযা আদায় করা তার বাকী আছে, তার পক্ষ হতে আমি কি রোযা আদায় করতে পারি? তিনি বললেনঃ তার পক্ষে তুমি রোযা আদায় কর। সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! কখনও তিনি হাজ্জ করেননি। তার পক্ষ হতে আমি কি হাজ আদায় করতে পারি? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ, তার জন্য তুমি হাজ্জ আদায় কর। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৭৫৯, ২৩৯৪), মুসলিম আবু ঈসা এ হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। উপরোক্ত সূত্র ব্যতীত এটি বুরাইদার হাদীস হিসাবে জানা যায়নি। হাদীস বিশারদদের মতে আবদুল্লাহ ইবনু আতা সিকাহ (নির্ভরযোগ্য) বর্ণনাকারী। এ হাদীস অনুযায়ী বেশির ভাগ আলিম আমল করার মত ব্যক্ত করেছেন। কোন লোক কিছু সাদকা করল এবং পরে আবার সে তার উত্তরাধিকারী হল, এক্ষেত্রে তার জন্য ঐ সম্পদ বৈধ। অপর একদল মনীষী বলেনঃ সাদকা বা দান-খায়রাত এমন একটি জিনিস যা শুধুমাত্র আল্লাহ তা'আলার জন্য খরচ করা হয়। এরকম সম্পদ ওয়ারিস সূত্রে প্রাপ্ত হলে উচিত হচ্ছে ঐ জিনিস পুনরায় সে পথে খরচ করে দেয়া। সুফিয়ান সাওরী ও যুহাইর ইবনু মুআবিয়া-আবদুল্লাহ ইবনু আতার সূত্রে উল্লেখিত হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

668। উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, এক ব্যক্তিকে তিনি আল্লাহ তা'আলার পথে ঘোড়া দান করলেন। তিনি দেখতে পেলেন যে, সে লোক ঘোড়াটিকে বিক্রয় করছে। তিনি তা কিনতে ইচ্ছা করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমার দান করা বস্তু তুমি ফিরত নিও না। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৩৯০), বুখারী, মুসলিম আবু ঈসা হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। এই হাদীস অনুযায়ী বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ আলিম আমল করার কথা বলেছেন।

669। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, এক লোক বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার মা মৃত্যুবরণ করেছেন। তার পক্ষে আমি দান-খয়রাত করলে তার কি কোন কল্যাণে আসবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হ্যাঁ। সে বলল, আমার একটি বাগান আছে। আপনাকে আমি সাক্ষী রেখে তার পক্ষ থেকে তা দান করলাম। — সহীহ, সহীহ আবু দাউদ (৬৫৬৬), বুখারী আবু ঈসা এ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী আলিমগণ মত ব্যক্ত করেছেন। তারা বলেন, মৃত ব্যক্তির নিকটে দুআ এবং দান-খায়রাত পৌছে। এ হাদীসটিকে কিছু বর্ণনাকারী মুরসালভাবে বর্ণনা করেছেন। মাখরাফ শব্দের অর্থ হলো ফলের বাগান।

670। আবু উমামা আল-বাহিলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি বিদায় হজ্জের বছর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তার বক্তৃতায় বলতে শুনেছিঃ স্বামীর ঘর হতে তার পূর্বানুমতি ছাড়া কোন স্ত্রীলোক যেন কিছু দান না করে। প্রশ্ন করা হল, হে আল্লাহর রাসূল! খাবারও কি নয়? তিনি বললেনঃ খাবার তো আমাদের উত্তম সম্পদ। – হাসান, ইবনু মা-জাহ (২২৯৫) সাদ ইবনু আবু ওয়াক্কাস, আসমা বিনতু আবু বাকর, আবু হুরাইরা, আবদুল্লাহ ইবনু আমর ও আইশা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিন আছে। আবু উসামা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান বলেছেন।

671। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ স্বামীর ঘর হতে স্ত্রী কোন কিছু দান করলে এতে তার সাওয়াব হয়। স্বামীরও সমপরিমাণ সাওয়াব হয় এবং রক্ষণাবেক্ষণকারীরও সমপরিমাণ সাওয়াব হয়। এতে একজন অন্যজনের কিছু পরিমাণ সাওয়াবও কমাতে পারে না। স্বামীকে উপার্জনের জন্য এবং স্ত্রীকে খরচের জন্য সাওয়াব দেওয়া হয়। – সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২২৯৪),বুখারী, মুসলিম আবূ ঈসা এ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন।

672। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ স্বামীর ঘর হতে যে মহিলা কোনরূপ অপচয় না করে এবং খুশি মনে কোন কিছু দান করে সে স্বামীর সমপরিমাণ সাওয়াব লাভ করে। তার সৎ উদ্দেশ্যের জন্য সে সাওয়াব লাভ করে এবং রক্ষণাবেক্ষণকারী একই পরিমণে সাওয়াব অর্জন করে। – পূর্ববর্তী হাদীসের সহায়তায় হাদীসটি সহীহ। আবু ঈসা এ হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। আবু ওয়ায়িল হতে আমর ইবনু মুররাহ কর্তৃক বর্ণিত হাদীস হতে এটা অনেক বেশি সহীহ। কেননা আমর ইবনু মুররাহ তার বর্ণনায় মাসরুকের উল্লেখ করেন নাই।

673। আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে থাকা অবস্থায় আমরা (মাথাপিছু) এক সা খাবার অথবা এক সা' যব অথবা এক সা খেজুর অথবা এক সা’ কিশমিশ অথবা এক সা’ পনির (ফিত্রা হিসাবে) দান করতাম। আমরা এভাবেই দিয়ে আসছিলাম। কিন্তু মুআবিয়া (রাঃ) মাদীনায় এসে তিনি বিভিন্ন বিষয়ে লোকদের সাথে আলোচনা করলেন। তার আলোচনার মধ্যে একটি ছিলঃ আমি দেখছি, সিরিয়ার দুই মুদ গম এক সা খেজুরের সমান। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর লোকেরা এটাই অনুসরণ করতে লাগলো। আবু সাঈদ (রাঃ) বলেন, কিন্তু আমি পূর্বের মতই দিতে থাকব। – সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৮২৯); বুখারী, মুসলিম। আবু ঈসা হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীসের অনুসরণ করে একদল মনীষী বলেন, প্রতিটি জিনিস এক সা’ পরিমাণ হতে হবে। একই রকম মত প্রকাশ করেছেন ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল বিশেষজ্ঞ সাহাবা ও অন্যান্যরাও বলেছেন, এক সা’ পরিমাণই প্রতিটি জিনিস হতে হবে কিন্তু গম অর্ধ সা’ পরিমাণ দিলেই যথেষ্ট। সুফিয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারাক ও কুফাবাসীদের মত এটাই যে, গম অর্ধেক সা’ পরিমাণ দিলেই চলবে।

674। আমর ইবনু শুআইব (রাহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কার অলিতেগলিতে লোক পাঠিয়ে ঘোষণা করলেনঃ জেনে রাখ! প্রত্যেক মুসলিম নারী-পুরুষ, আযাদ-গোলাম, ছোট অথবা বড় সকলের ওপর ফিতরা ওয়াজিব। এর পরিমাণ হল, (মাথাপিছু) দুই মুদ গম অথবা এটা ছাড়া এক সা’ পরিমাণ অন্যান্য খাদ্যদ্রব্য। সনদ দুর্বল আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। উমার ইবনু হারুন হাদীসটি ইবনু জুরাইজ হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি আমর ইবনু শুয়াইবের স্থলে আব্বাস ইবনু মীনার নাম উল্লেখ করেছেন। জারুদও উমার ইবনু হারুন হতে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

675। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, প্রত্যেক পুরুষ, নারী, মুক্ত দাস-দাসীর উপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সা’ পরিমাণ খেজুর অথবা এক সা’ পরিমাণ যব ফিত্রা হিসাবে নির্ধারণ করে দিয়েছেন। বর্ণনাকারী বলেন, কিন্তু পরবর্তীতে লোকেরা অর্ধেক সা’ গমকে এর সমপরিমাণ ধরে নিয়েছে। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৮২৫), বুখারী আবু ঈসা এ হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। আবু সাঈদ, ইবনু ইবনু আবৃ সুআইর ও আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।

676। আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, মুসলিম মুক্ত অথবা গোলাম, পুরুষ অথবা স্ত্রীলোক নির্বিশেষে সকলের উপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সা’ পরিমাণ খেজুর অথবা এক সা’ পরিমাণ যব রামাযান মাসের ফিতরা হিসাবে নির্ধারণ করে দিয়েছেন। - সহীহ ইবনু মা-জাহ (১৮২৬), বুখারী, মুসলিম ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। মালিক নাফি হতে, তিনি ইবনু উমার হতে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে আইয়ুবের হাদীসের মতই বর্ণনা করেছেন এবং তাতে তিনি মুসলিমীন শব্দের উল্লেখ করেছেন। এই হাদীসটি আরও অনেকে নাফি হতে বর্ণনা করেছেন তবে তারা মুসলিমীন শব্দের উল্লেখ করেননি। ইমাম মালিক, শাফিঈ ও আহমাদ বলেন, কারো নিকটে কাফির দাস থাকলে তার জন্য ফিতরা আদায় করতে হবে না। সুফিয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারাক ও ইসহাক বলেন, কাফির গোলাম হলেও তার জন্য ফিত্রা আদায় করতে হবে।

677। ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের দিন সকালে ঈদের নামায আদায় করতে যাওয়ার পূর্বে ফিত্রা আদায়ের নির্দেশ দিতেন। - হাসান সহীহ, সহীহ আবু দাউদ (১৪২৮), ইরওয়া (৮৩২),বুখারী হাদিসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ গারীব বলেছেন। সকাল বেলা ঈদের নামায আদায় করতে যাওয়ার পূর্বেই ফিতরা আদায় করাকে আলিমগণ মুস্তাহাব বলেছেন।

678। আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, আব্বাস (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এক বছর পূর্ণ হওয়ার পূর্বে যাকাত আদায় প্রসঙ্গে প্রশ্ন করেন। তিনি তাকে এর অনুমতি দিয়েছেন। — হাসান, ইবনু মা-জাহ

679। আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, উমার (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমরা বছরের শুরুতেই আব্বাসের এই বছরের যাকাত নিয়ে নিয়েছি। — হাসান ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেন, হাজ্জাজ ইবনু দিনার হতে ইসরাইল করতিক অগ্রিম যাকাত আদায়ের হাদীসটি অমরা এই সূত্র ব্যতীত অবগত নই। (তিরমিয়ী বলেন) আমার মতে, হাজ্জাজ হতে ইসমাঈল ইবনু যাকারিয়া বর্ণিত হাদিসটি হাজ্জাজ ইবনু দিনার হতে ইসরাইলের বর্ণিত হাদিসের চেয়ে বেশি সহীহ। এটি হাকাম ইবনু উতাইবাহ হতে মুরসাল হিসেবেও বর্ণিত আছে। আলিমদের মাঝে অগ্রিম যাকাত আদায় করার ব্যাপারে দ্বিমত আছে। একদল মনীষী অগ্রিম যাকাত আদায় করা উচিৎ নয় বলে মত ব্যক্ত করেছেন। সুফিয়ান সাওরী এই মতের সমর্থন করেছেন। তিনি বলেছেন, এটা না করাই আমার মতে উত্তম। বেশিরভাগ মনীষী অগ্রিম যাকাত আদায় করলে তা জায়িয হওয়ার কাথা বলেছেন। এ মতের প্রবক্তা হচ্ছেন শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক।

680। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমি বলতে শুনেছিঃ তোমাদের মাঝে কোন লোক সকালে গিয়ে কাঠ সংগ্রহ করে তা পিঠে করে বহন করে এনে তা হতে প্রাপ্ত উপার্জন হতে সে দান-খায়রাত করল এবং লোকদের নিকটে হাত পাতা হতে বিরত থাকল। তার জন্য এটা অনেক উত্তম অন্যের নিকটে সাহায্য প্রার্থনা করা হতে। আর অন্য লোকের নিকটে চাইলে সে তাকে দিতেও পারে আবার নাও দিতে পারে। কেননা, নিচের হাত হতে উপরের হাত (দান গ্রহণকারীর চেয়ে প্রদানকারী) উত্তম। নিজের প্রতিপাল্যদের নিকট হতে (অর্থ ব্যয় ও দান-খয়রাত) শুরু কর। — সহীহ, ইরওয়া (৮৩৪), মুসলিম হাকিম, ইবনু হিজাম, আবূ সাঈদ আল খুদরী, জুবাইর ইবনুল আওয়াম, আতিয়া আস-সা’দী, আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ, মাসউদ ইবনু আমর, ইবনু আব্বাস, সাওবান, যিয়াদ ইবনু হারিস আস-সুদাঈ, আনাস, হুবশী ইবনু জুনাদা, কাবীসা ইবনু মুখারিক, সামুরা ও ইবনু উমার (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা এ হাদীসটিকে হাসান, সহীহ গারীব বলেছেন। কায়িস (রাহঃ) হতে বায়ান (রাহঃ)-এর বর্ণিত হাদীসটিকে গারীব হাদীস বলে গণ্য করা হয়েছে।

681। সামুরা ইবনু জুনদাব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অন্য কারো নিকটে হাত পাতাটা ক্ষতের সমতুল্য (হীন ও শ্রান্তিকর)। সাহায্য প্রার্থী নিজের মুখমণ্ডলকে এর দ্বারা ক্ষতবিক্ষত (লাঞ্ছিত) করে। কিন্তু শাসকের নিকটে কোন কিছু চাওয়া বা যে লোকের হাত পাতা ব্যতীত আর কোন উপায় নেই তার কথা ভিন্ন। -সহীহ তা’লীকুর রাগীব (২/২) এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।

উৎস: Jami At Tirmidhi

WEBREATH · 11:11

«Should I not be a thankful servant?» — Sahih al-Bukhari

Breath is one for all: everyone lives by it, whoever they are and whatever they believe. Every day at 11:11 local time people stop for sixty seconds, breathe, and thank GOD for the breath — each in their own words, each within themselves. In that minute we are One Breath.

WEBREATH — the Minute at 11:11, your own local time — we are One Breath