জামে আত-তিরমিযী 45 · Chapters on The Virtues of the Qur'an
আপনার ভাষায় এখনো কোনো অনুবাদ নেই — ইংরেজি দেখাচ্ছে
2875। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উবাই ইবনু কাব (রাযিঃ)-এর নিকট গেলেন এবং তাকে ডাকলেনঃ হে উবাই। উবাই (রাযিঃ) তখন নামাযরত ছিলেন। তিনি তার প্রতি দৃষ্টিপাত করলেন কিন্তু জবাব দিলেন না। তবে তিনি সংক্ষেপে নামায শেষ করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট গেলেন এবং বললেনঃ আসসালামু আলাইকা ইয়া রাসূলুল্লাহ! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ওয়া 'আলাইকাস সালাম। হে উবাই! আমি তোমাকে ডাকলে কিসে তোমাকে জবাব দিতে বাধা দিল? তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি তো নামাযরত ছিলাম। তিনি বললেন? আমার নিকট আল্লাহ তা'আলা যে ওয়াহী প্রেরণ করেছেন, তার মধ্যে তুমি কি এ হুকুম পাওনি “রাসূল যখন তোমাদের এমন কিছুর দিকে ডাকে যা তোমাদেরকে প্রাণবন্ত করে, তখন আল্লাহ তা'আলা ও রাসূলের ডাকে সাড়া দিবে”— (সূরা আল-আনফাল ২৪)? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আর কখনো এরূপ করব না ইনশাআল্লাহ। তিনি বললেনঃ তুমি কি চাও যে, আমি এমন একটি সূরা তোমাকে শিখিয়ে দেই যার মত কোন সূরা তাওরাত, ইনজীল, যাবুর এমনকি কুরআনেও অবতীর্ণ হয়নি? তিনি বললেন, হ্যাঁ ইয়া রাসূলুল্লাহ রাসূলুল্লাহ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রশ্ন করলেনঃ তুমি নামাযে কি পাঠ কর? বর্ণনাকারী বলেনঃ তিনি (উবাই) উম্মুল কুরআন (ফাতিহা) পাঠ করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যার হাতে আমার প্রাণ, সেই সত্তার শপথ! এ সূরার মত (মর্যাদা সম্পন্ন) কোন সূরা তাওরাত, ইনজীল, যাবুর, এমনকি কুরআনেও অবতীর্ণ করা হয়নি। আর এটি বারবার পঠিত সাতটি আয়াত সম্বলিত সূরা এবং মহাসম্মানিত কুরআন যা আমাকে দেয়া হয়েছে। সহীহঃ সহীহ আবূ দাউদ (১৩১০), মিশকাত তাহকীক সানী (২১৪২), তা’লীকুর রাগীব (২/২১৬)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আর তাতে উবাই ইবনু কাব-এর স্থলে সাঈদ ইবনু মু'আল্লার নাম উল্লেখ আছে।
2876। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (এক অভিযানে) একটি ক্ষুদ্র বাহিনী পাঠান। তারা সংখ্যায় খুব অধিক ছিল না। তিনি তাদেরকে কুরআন তিলাওয়াত করতে বলেন। সুতরাং প্রত্যেকেই যার যা মুখস্ত ছিল তা তিলাওয়াত করে শুনায়। অবশেষে তিনি এদের মধ্যে সবচাইতে কম বয়সী এক ব্যক্তির নিকটে আসলেন। তিনি তাকে প্রশ্ন করলেনঃ হে আদমি! তোমার নিকটে কি আছে? সে বলল, আমার এই এই সূরা ও সূরা আল-বাকারা মুখস্ত আছে। তিনি আবার প্রশ্ন করেনঃ তোমার সূরা আল-বাকারা মুখস্ত আছে? সে বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ যাও, তুমিই এই বাহিনীর দলপতি। দলের একজন নেতৃস্থানীয় ব্যাক্তি বলল ইয়া রাসূলুল্লাহ, আল্লাহর শপথ আমি সূরা আল-বাকারা এই ভয়ে হেফয করিনি যে, আমি এটা নিয়ে (রাতের নামাযে) দাড়াতে পারব না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা কুরআন শিক্ষা কর এবং তা তিলাওয়াত কর। কেননা যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করতে শিখে, তা পাঠ করে এবং এটা নিয়ে নামাযে দাঁড়ায় তার জন্য কুরআনের নমুনা হল কস্তুরী ভর্তি চামড়ার থলের মত যার খুশবু সবখানে ছড়িয়ে পড়ছে। আর যে ব্যক্তি তা শিখে ঘুমিয়ে আছে তার উদাহরণ হল মুখবন্ধ কস্তুরীর থলের মত। যঈফ, ইবনু মাজাহ (২১৭) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান। লাইস ইবনু সা’দ-সাঈদ আল-মাকবুরী হতে তিনি আবূ আহমাদের মুক্তদাস আতা (রাহঃ) হতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে মুরসাল হিসেবেও উপরোক্ত হাদীসের মতই বর্ণিত আছে। এই সূত্রে আবূ হুরাইরা (রাঃ)-এর উল্লেখ নেই।
2877। আবূ হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের ঘরসমূহ কবরস্থানে পরিণত করো না। যে ঘরে সূরা আল-বাকরাহ তিলাওয়াত করা হয় তাতে শাইতান প্রবেশ করে না। সহীহঃ আহকা-মুল জানা-য়িয (২১২), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
2878। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রতিটি বস্তুরই চূড়া আছে। কুরআনের উচু চূড়া হল সূরা আল-বাকারা। এতে এমন একটি আয়াত আছে যা কুরআনের আয়াতসমূহের প্রধান। তা হল আয়াতুল কুরসী। যঈফ, যঈফা (১৩৪৮), তা’লীকুর রাগীব (২/২১৮) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। শুধুমাত্র হাকীম ইবনু জুবাইরের সূত্রেই আমরা এ হাদীস জেনেছি। শুবা তার সমালোচনা করেছেন এবং তাকে দুর্বল রাবী আখ্যায়িত করেছেন।
2879। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সকালবেলা সূরা আল-মু'মিন-এর হা-মী-ম হতে ইলাইহিল মাসীর (১, ২, ও ৩ নং আয়াত) পর্যন্ত এবং আয়াতুল কুরসী তিলাওয়াত করবে সে এর উসীলায় সন্ধ্যা পর্যন্ত (আল্লাহ্ তা'আলার) হিফাযাতে থাকবে। আর যে ব্যক্তি সন্ধ্যা বেলায় তা পাঠ করবে সে ব্যক্তি এর উসীলায় সকাল পর্যন্ত হিফাযাতে থাকবে। যঈফ, মিশকাত, তাহকীক ছানী (২১৪৪) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। কোন কোন হাদীসবেত্তা আবদুর রহমান ইবনু আবূ বাকর ইবনু আবূ মুলাইকার স্মৃতিশক্তির সমালোচনা করেছেন। যুরারা ইবনু মুসআব হলেন আবূ মুসআবের দাদা
2880। আবূ আইয়ুব আল-আনসার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তার খেজুর বাগানে একটি ছোট মাচান ছিল। তিনি তাতে শুকনো খেজুর রাখতেন। রাতে শাইতান জিন এসে মাচান হতে খেজুর নিয়ে যেত। তিনি এ বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট নালিশ করলেন। তিনি বললেন; যাও, তুমি যখন এটিকে দেখবে তখন বলবে, বিসমিল্লাহ্, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ডাকে তুমি সাড়া দাও। বর্ণনাকারী বলেন, জিন আসতেই তিনি তাকে ধরে ফেললেন। সে তখন কসম করে বলল যে, সে আর কখনও আসবে না। কাজেই তিনি তাকে ছেড়ে দিলেন। তারপর তিনি রাসূলুল্লাহ -এর নিকট আসলে তিনি প্রশ্ন করলেনঃ তোমার বন্দী কি করেছে? তিনি বললেন, সে শপথ করেছে যে, সে আর কখনও আসবে না। তিনি বললেনঃ সে মিথ্যা বলেছে এবং সে তো মিথ্যা বলায় অভ্যস্ত। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি তাকে আবার ধরলেন। এবারও সে শপথ করল যে, সে আর কখনো আসবে না। তিনি তাকে ছেড়ে দিলেন। তারপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট হাযির হলে তিনি প্রশ্ন করলেনঃ কি হে! তোমার বন্দীর কি খবর? তিনি বললেন, সে কসম করে বলেছে যে, সে আর আসবে না, (কাজেই আমি তাকে ছেড়ে দিয়েছি)। তিনি বললেনঃ সে এবারও মিথ্যা বলেছে, আর সে মিথ্যা বলায় অভ্যস্ত। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি আবারো তাকে ধরে ফেললেন এবং বললেন, আমি তোকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট না নিয়ে ছাড়ছি না। সে বলল, আমি আপনাকে একটি বিষয় স্মরণ করাতে চাই। আপনি আপনার ঘরে আয়াতুল কুরসী পাঠ করবেন। তাহলে শাইতান বা অন্য কিছু এতে প্রবেশ করতে পারবে না। এবার তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট হাযির হলে তিনি প্রশ্ন করলেনঃ তোমার বন্দী কি করেছে? বর্ণনাকারী বলেন, তিনি তাকে জিনের কথা ব্যক্ত করলেন। তিনি বললেনঃ সে মিথ্যাবাদী হলেও এ কথাটা সত্য বলেছে। সহীহঃ তা’লীকুর রাগীব (২/২১২), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। উবাই ইবনু কাব (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
2881। আবূ মাসউদ আল-আনসারী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সূরা আল-বাক্কারার শেষ দুই আয়াত রাতের বেলা তিলাওয়াত করবে তা তার জন্য যথেষ্ট হবে। সহীহঃ সহীহ আবূ দাউদ (১২৬৩)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
2882। নুমান ইবনু বাশীর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা আসমান-যামীন সৃষ্টির দুই হাজার বছর পূর্বে একটি কিতাব লিখেছেন। সেই কিতাব হতে তিনি দুটি আয়াত নাযিল করছেন। সেই দু'টি আয়াতের মাধ্যমেই সূরা আল-বাকারা সমাপ্ত করেছেন। যে ঘরে তিন রাত এ দুটি আয়াত তিলাওয়াত করা হয় শাইতান সেই ঘরের নিকট আসতে পারে না। সহীহঃ রাওযুন নায়ীর (৮৮৬), তা’লীকুর রাগীব (২/২১৯), মিশকাত (২১৪৫)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব।
2883। নাওওয়াস ইবনু সাম’আন (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামতের দিবসে কুরআন ও কুরআনের ধারক-বাহকগণ যারা দুনিয়াতে তদনুযায়ী আমল করবে এমন ভাবে হাযির হবে যে, সূরা আল-বাকারাহ ও আল ইমরান তাদের আগে আগে থাকবে। নাওওয়াস (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সূরা দুটি আগমনের তিনটি উদাহরণ দিয়েছেন, আমি সেগুলো এখনও ভুলিনি। তিনি বলেনঃ (১) এ সূরা দুটি ছায়ার মত আসবে, আর এতদুভয়ের মাঝে থাকবে আলো। (২) অথবা এ দুটি কালো মেঘ খণ্ডের ন্যায় (৩) অথবা ডানা বিস্তার করে ছায়াদানকারী পাখীর ন্যায় আসবে এবং তাদের সাথীর পক্ষ হয়ে বিতর্ক করবে। সহীহঃ মুসলিম (২/১৯৭)। বুরাইদাহ ও আবূ উমামাহ্ (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান এবং এই সূত্রে গারীব। আলিমগণের মতে এ হাদীসের তাৎপর্য এই যে, কিয়ামতের দিবসে উক্ত সূরা দুটির সাওয়াব এভাবে এসে হাযির হবে।কোন কোন আলিম এই হাদীস এবং এমন বক্তব্য সম্বলিত অন্যান্য হাদীসের ব্যাখ্যায় এ কথাই বলেছেন। নাওওয়াস ইবনু সাম’আন (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “কুরআন এবং যারা দুনিয়াতে কুরআনের উপর আমল করত তারা হাযির হবে" এ বাক্য দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, "আমলের সাওয়াবই হাযির হবে।
2884। মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল-হুমাইদী হতে, বর্ণনা করেন যে, 'আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসঃ “আসমান-যামীনের মধ্যে আয়াতুল কুরসীর চাইতে মহান আর কোন কিছুই আল্লাহ তা'আলা সৃষ্টি করেননি, এর ব্যাখায় সুফিয়ান ইবনু উয়াইনাহ বলেন, আয়াতুল কুরসী হল আল্লাহ তা'আলার কালাম, আর আল্লাহ তা'আলার কালাম তো নিঃসন্দেহে আসমান-যামীনের সকল সৃষ্টির চাইতে মহান। সহীহঃ দেখুন পূর্বের হাদীস।
2885। আল-বারাআ ইবনু আযিব (রাযিঃ) বলেন, একদা এক লোক সূরা আল-কাহফ তিলাওয়াত করছিল। সে লোকটি হঠাৎ দেখতে পেল, তার পশুটি লাফাচ্ছে। সে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে মেঘমালা বা ছায়ার মত কিছু দেখল। লোকটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গিয়ে এ ঘটনা বলল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এটা হল বিশেষ প্রশান্তি যা কুরআনের সাথে বা কুরআনের উপর অবতীর্ণ হয়েছে। সহীহঃ বুখারী (৫০১১), মুসলিম (২/১৯৩-১৯৪)। উসাইদ ইবনু হুযাইর (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
2886। আবূদ দারদা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সূরা আল-কাহফের প্রথম তিনটি আয়াত পাঠ করবে তাকে দাজ্জালের ফিতনা হতে বিপদমুক্ত রাখা হবে। “মান হাফিযা আশারা আয়াতিন” যে ব্যক্তি দশটি আয়াত মুখস্থ করবে এই শব্দে হাদীসটি সহীহঃ সহীহাহ (৫৮২), আর এখানে বর্ণিত “মান কারায়া ছালাছা আয়া তিন” শব্দে হাদীসটি শাজঃ যঈফাহ (১৩৩৬) মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার-মুআয ইবনু হিশাম হতে তিনি তার পিতা হতে তিনি আবী কাতাদাহ্ (রহঃ) হতে উপরোক্ত হাদীসের মতই বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
2887। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেকটা বস্তুর কলব (হৃদয়) আছে। কুরআনের কলব হচ্ছে সূরা ইয়াসীন। যে ব্যক্তি এ সূরা একবার পাঠ করবে আল্লাহ তা'আলা এর পরিবর্তে তার জন্য দশবার কুরআন পাঠের সমান সাওয়াব নিরূপণ করবেন। মাওযু, যঈফা (১৬৯) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধুমাত্র হুমাইদ ইবনু আবদুর রহমানের সূত্রে এ হাদীস জেনেছি। বসরায় এই সূত্র ব্যতীত কাতাদার রিওয়াত প্রসঙ্গে কিছু জানা নেই। হারূন আবূ মুহাম্মাদ একজন অপরিচিত শাইখ। আবূ মূসা মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না হতে তিনি আহমাদ আবদুর রহমান (রাহঃ) সূত্রে উপরের হাদীসের মতই বর্ণনা করেছেন। এ অনুচ্ছেদে আবূ বাকর সিদীক (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। সনদের দিক হতে তার সূত্রে বর্ণিত হাদীসটি সহীহ নয়। এর সনদসূত্র দুর্বল। এ অনুচ্ছেদে আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।
2888। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রাতে সূরা হা-মীম আদ-দুখান পাঠ করে, ভোর হওয়া পর্যন্ত তার জন্য সত্তর হাজার ফিরিশতা আল্লাহ্ তা'আলার নিকটে ক্ষমা চাইতে থাকে। মাওযু, মিশকাত (২১৪৯) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধুমাত্র উপরোক্ত সূত্রেই এ হাদীস জেনেছি। উমার ইবনু আবূ খাসআম যঈফ। মুহাম্মাদ (ইমাম বুখারী) বলেনঃ উমার একজন মুনকার রাবী।
2889। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জুমুআর রাতে সূরা হা-মীম আদ-দুখান পাঠ করবে তাকে ক্ষমা করা হবে। যঈফ, যঈফা (৪৬৩২), মিশকাত তাহকীক ছানী (২১৫০) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীর। আমরা শুধুমাত্র উপরোক্ত সূত্রে এ হাদীস জেনেছি। আবূ মিকদাম হাদীস শাস্ত্রে দুর্বল বলে আখ্যায়িত। হাসান বাসরী (রাহঃ) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে কিছুই শুনেননি। আইউব, ইউনুস ইবনু উবাইদ ও আলী ইবনু যাইদ এরকমই বলেছেন।
2890। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ কোন এক সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এক সাহাবী একটি কবরের উপর তার তাবু খাটান। তিনি জানতেন না যে, তা একটি কবর। তিনি হঠাৎ বুঝতে পারেন যে, কবরে একটি লোক সূরা আল-মুলক পাঠ করছে। সে তা পাঠ করে সমাপ্ত করলো। তারপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটে এসে বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমি একটি কবরের উপর তাঁবু খাটাই। আমি জানতাম না যে, তা কবর। হঠাৎ বুঝতে পারি যে, একটি লোক সূরা আল-মুলক পাঠ করছে এবং তা সমাপ্ত করেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এ সূরাটি প্রতিরোধকারী নাজাত দানকারী। এটা কবরের আযাব হতে তিলাওয়াতকারীকে নাজাত দান করে। যঈফ, “হিয়া আল-মানি’আতু" উহা প্রতিরোধকারী অংশটুকু সহীহ, সহীহাহ (১১৪০)। আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি এ সূত্রে হাসান গারীব। এ অনুচ্ছেদে আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। হুরাইম ইবনু মিসআর-ফুযাইল হতে, তিনি লাইস হতে, তিনি তাউস (রাহঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, এ দুটি সূরায় (আলিফ লাম মীম তানখীল ও সূরা আল-মুলক) কুরআনের প্রতিটি সূরার উপর সত্তর গুণ বেশি সাওয়াব আছে। যঈফ, মাকতু’।
2891। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কুরআনের মধ্যে ত্রিশ আয়াত বিশিষ্ট একটি সূরা আছে যেটি কারো পক্ষে সুপারিশ করলে তাকে মাফ করে দেয়া হয়। এ সূরাটি হল তাবারাকাল্লায়ী বিয়াদিহিল মুলক। হাসানঃ তা’লীকুর রাগীব (২/২২৩), মিশকাত (২১৫৩)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান।
2892। জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূরা আলিফ লাম-মীম তানয়ীল ও সূরা “তাবারাকাল্লায়ী বিয়াদিহিল মুলক” না পাঠ করে ঘুমাতেন না। সহীহঃ সহীহাহ (৫৮৫), আর-রওয (২২৭), মিশকাত তাহকীকু সানী (২১৫৫)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীস লাইস ইবনু আবূ সুলাইম হতে একাধিক বর্ণনাকারী অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। মুগীরাহ ইবনু মুসলিম-আবু্য যুবাইর হতে, তিনি জাবির (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে একই রকম বর্ণনা করেছেন। যুহাইর বলেন, আবু্য যুবাইরকে আমি প্রশ্ন করলাম, আপনি এ হাদীসটি কি জাবির (রাযিঃ)-কে আলোচনা করতে শুনেছেন? তিনি বলেন, এ হাদীসটি সাফওয়ান বা ইবনু সাফওয়ান আমাকে বর্ণনা করেছেন। আবু্য যুবাইর-জাবির (রাযিঃ) সূত্রে এ হাদীসটি বর্ণিত হওয়ার বিষয়টি যেন যুহাইর অস্বীকার করলেন। হান্নাদ আবুল আহওয়াস হতে, তিনি লাইস হতে, তিনি আবু্য যুবাইর হতে, তিনি জাবির (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে, এই সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের একই রকম বর্ণনা করেছেন।
2893। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সূরা "ইযা যুলযিলাত” পাঠ করবে তাকে অর্ধেক কুরআনের সমান এবং যে ব্যক্তি “কুল ইয়া আইয়ুহাল কাফিরূন" পাঠ করবে তাকে কুরআনের এক-চতুর্থাংশের সমান এবং যে ব্যক্তি সূরা "কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ” পাঠ করবে তাকে কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান সাওয়াব দেয়া হবে। সূরা ইযাযুল যিলাত-এর ফাযীলাত ব্যতীত হাদীসটি হাসান। যইফা ১১৪২ আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। হাসান ইবনু সালম-এর সূত্রেই শুধুমাত্র আমরা এ হাদীস জেনেছি। এ অনুচ্ছেদে ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।
2894। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সূরা ইযা যুলযিলাতিল আরদু কুরআনের অর্ধেকের সমান, কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ এক-তৃতীয়াংশের সমান এবং কুল ইয়া আইয়ুহাল কাফিরূন এক-চতুর্থাংশের সমান। সূরা "ইযাযুল যিলাত”-এর ফাযীলাত ব্যতীত সহীহ। আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধুমাত্র ইয়ামান ইবনুল মুগীরার সূত্রেই এ হাদীস জেনেছি।
2895। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার এক সাহাবীকে প্রশ্ন করলেনঃ হে অমুক! তুমি কি বিয়ে করেছ? তিনি বললেনঃ না, হে আল্লাহর রাসূল। আল্লাহর কসম! আমার কাছে বিয়ে করার মত মাল নেই। তিনি প্রশ্ন করলেনঃ “তোমার কি সূরা কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ মুখস্ত নেই"? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ আছে। তিনি বলেনঃ এটা কুরআনের এক-তৃতীয়াংশ। তিনি আবারও প্রশ্ন করলেনঃ তোমার কি সূরা ইযা জাআ নাসরুল্লাহি ওয়াল ফাতহু মুখস্ত নেই? তিনি বলেন, হ্যাঁ আছে। তিনি বলেনঃ এটা কুরআনের এক-চতুর্থাংশ। তিনি আবার প্রশ্ন করলেনঃ তোমার কি সূরা কুল ইয়া আইয়ুহাল কাফিরূন জানা নেই? তিনি বলেন, হ্যাঁ আছে। তিনি বলেনঃ এটা কুরআনের এক-চতুর্থাংশ। তিনি আবার প্রশ্ন করেনঃ তোমার কি সূরা ইযা যুলযিলাতিল আরযু মুখস্ত নেই? তিনি বলেন, হ্যাঁ আছে। তিনি বলেনঃ এটা কুরআনের এক-চতুর্থাংশ। অতএব তুমি বিয়ে 'কর, বিয়ে কর। যঈফ, তা’লীকুর রাগীব (২/২২৪) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান।
2896। আবূ আইয়ূব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কোন ব্যক্তি কি এক রাতে এক-তৃতীয়াংশ কুরআন তিলাওয়াত করতে অপারগ? যে লোক আল্লাহু ওয়াহিদুস সামাদ (সূরা আল-ইখলাস) পাঠ করল সে কুরআনের এক-তৃতীয়াংশ পাঠ করল। সহীহঃ তা’লীকুর রাগীব (২/২২৫), মুসলিম, আবূ দারদা হতে। আবূদ দারদা, আবূ সাঈদ, কাতাদাহ্ ইবনুন নুমান, আবূ হুরাইরাহ, আনাস, ইবনু উমার ও আবূ মাসউদ (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। এ হাদীসটি যায়িদার রিওয়ায়াতের চাইতে অধিক উত্তমভাবে আর কেউ বর্ণনা করেছেন বলে আমাদের জানা নেই। ইসরাঈল ও ফুযাইল ইবনু ইয়ায এটির সমার্থক রিওয়ায়াত করেছেন। শু'বাহ প্রমুখ নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণ মানসূরের সূত্রে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন কিন্তু এতে তারা গড়মিল করেছেন।
2897। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে আসছিলাম। তখন তিনি এক ব্যক্তিকে “কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ, আল্লাহুস সামাদ" পাঠ করতে শুনলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ওয়াজিব (অবধারিত) হয়ে গেছে। আমি প্রশ্ন করলাম, কি ওয়াজিব হয়ে গেছে? তিনি বললেনঃ জান্নাত। সহীহঃ আত্তা’লীক (২/২২৪)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা এ হাদীস শুধুমাত্র মালিক ইবনু আনাস (রাহঃ)-এর সূত্রে জেনেছি। ইবনু হুনাইন হলেন উবাইদ ইবনু হুনাইন।
2898। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি প্রতিদিন দুইশত বার সূরা কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ পাঠ করবে তার পঞ্চাশ বছরের গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে, কিন্তু তার কর্জের বোঝা থাকলে তা ছাড়া। যঈফ, যঈফা (৩০০), মিশকাত (২১৫৮) একই সনদে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি ঘুমানোর উদ্দেশ্যে বিছানায় গিয়ে ডান কাতে শুয়ে এক শত বার কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ পাঠ করবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলা তাকে বলবেনঃ হে আমার বান্দা! তোমার ডান দিক দিয়ে জান্নাতে যাও। যঈফ, মিশকাত (২১৫৯) আবূ ঈসা বলেনঃ সাবিত হতে আনাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত রিওয়ায়াত হিসেবে এ হাদীসটি গারীব। এ হাদীসটি সাবিতের ভিন্নভাবেও বর্ণিত আছে।
2899। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সূরা 'কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সামান। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (৩৭৮৩), মুসলিম, বুখারী। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
2900। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা একত্র হও, আমি তোমাদেরকে কুরআনের এক-তৃতীয়াংশ তিলাওয়াত করে শুনাব। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, অতএব যাদের একত্র হওয়ার সুযোগ হয়েছে তারা একত্র হল। আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ঘর হতে) বেরিয়ে এসে কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ (সূরাঃ আল-ইখলাস) তিলাওয়াত করলেন, তারপর ভেতরে চলে গেলেন। আমরা পরস্পর বলাবলি করতে লাগলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেনঃ আমি কুরআনের এক-তৃতীয়াংশ তোমাদের সামনে তিলাওয়াত করব। মনে হয় এ বিষয়ে এখন তার নিকট আসমান হতে খবর এসেছে। তারপর আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেরিয়ে এসে বললেনঃ আমি বলেছিলাম তোমাদেরকে কুরআনের এক-তৃতীয়াংশ তিলাওয়াত করে শুনাব। জেনে রাখ! এ সূরাটিই কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান। সহীহঃ তা’লীকুর রাগীব (২/২২৪), সিফাতুস সালাত (৮৫), বুখারী। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ এবং এ সূত্রে গারীব। আবূ হাযিম আল-আশজাঈর নাম সালমান।
2901। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কুবা মসজিদে আনসার সম্প্রদায়ের এক লোক তাদের ইমামতি করতেন। তিনি নামাযে সূরা আল-ফাতিহার পর কোন সূরা পাঠ করার ইচ্ছা করলে প্রথমে সূরা কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ পাঠ করতেন এবং এ সূরা শেষ করার পর এর সাথে অন্য সূরা পাঠ করতেন। তিনি প্রতি রাকাআতেই এরূপ করতেন। তার সাথীরা তার সাথে এ ব্যাপারে আলোচনা করে বললেন, আপনি এ সূরাটি পাঠ করার পর মনে করেন যে, এটা বুঝি যথেষ্ট হয়নি, তাই এর সাথে অন্য আরেকটি সূরাও পাঠ করেন। আপনি হয় এ সূরাটিই পাঠ করবেন, না হয় এটা বাদ দিয়ে অন্য কোন সূরা পাঠ করবেন। তিনি বললেন, আমি এ সূরা বাদ দিতে পারব না। যদি তোমাদের পছন্দ হয় তবে আমি এ সূরাসহ ইমামতি করি, আর পছন্দ না হলে ইমামতি ছেড়ে দেই। কিন্তু তাদের দৃষ্টিতে তিনি ছিলেন তাদের মধ্যে সবচাইতে উত্তম ব্যক্তি। তাই তাকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে ইমাম বানাতে তারা সম্মত হলেন না। পরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের নিকট এলে তারা বিষয়টি তাকে জানালেন। তিনি বললেনঃ হে অমুক! তোমার সাথীরা তোমাকে যে নির্দেশ দিচ্ছে তা পালন করতে তোমাকে কিসে বাধা দিচ্ছে? আর তোমাকে প্রতি রাকআতে এ সূরা পাঠ করতে কিসে উদ্বুদ্ধ করছে? তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি এটি খুব ভালোবাসি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এর প্রতি তোমার ভালোবাসাই তোমাকে জান্নাতে নিয়ে যাবে। হাসান সহীহঃ তা’লীকুর রাগীব (২/২৪৪), সিফাতুস সালাত (৮৫), বুখারী মু'আল্লাক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ এবং উবাইদুল্লাহ ইবনু উমার-সাবিত আল-বুনানী সূত্রে বর্ণিত হাদীস হিসেবে গারীব। মুবারাক ইবনু ফাযালা-সাবিত আল-বুনানী হতে আনাস (রাযিঃ) এর বরাতে বর্ণনা করেছেন যে, “একজন লোক বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ সূরাটিকে ভালোবাসি। তিনি বললেনঃ তোমার এই ভালোবাসাই তোমাকে জান্নাতে নিয়ে যাবে"। পূর্বের হাদীসের সহায়তায় সহীহ।
2902। উকবাহ ইবনু আমির আল-জুহানী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, নবী বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা আমার উপর এমন কতগুলো আয়াত অবতীর্ণ করেছেন যার কোন তুলনা হয় নাঃ “কুল আউযু বিরব্বিন নাস....." শেষ পর্যন্ত এবং “কুল আউযু বিরব্বিল ফালাক” হতে সূরার শেষ পর্যন্ত। সহীহঃ মুসলিম (২/২০০)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আবূ হাযিমকে আবূ কাইস বলা হয়। তার নাম আবদ আওফ। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দেখেছেন এবং তার নিকট হতে হাদীসও বর্ণনা করেছেন।
2903। উকবাহ ইবনু আমির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে প্রতি ওয়াক্ত নামাযের পর সূরা আন-নাস ও সূরা আল-ফালাক পাঠের আদেশ করেছেন। সহীহঃ সহীহাহ (১৫১৪), সহীহ আবূ দাউদ (১৩৬৩), তা’লীক আলা ইবনে খুযাইমাহ (৭৫৫)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব।
2904। আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কুরআন পাঠে দক্ষ ব্যক্তি (আখিরাতে) সম্মানিত নেককার লিপিকর ফেরেশতাদের সাথে থাকবে। আর যে ব্যক্তি উহা পাঠ করে এবং এটা তার পক্ষে (হিশামের বর্ণনায়) খুবই কঠিন ও (শু'বাহর বর্ণনায়) কষ্টকর, সে দুটি পুরস্কার পাবে। সহীহঃ সহীহ আবূ দাউদ (১৩০৭), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
2905। আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করেছে এবং তা হেফয রেখেছে, এর হালালকে হালাল এবং হারামকে হারাম মেনেছে, তাকে আল্লাহ তা'আলা জান্নাতে প্রবেশ করাবেন এবং তার পরিবারের এমন দশজন ব্যাক্তি সম্পর্কে তার শাফায়াত কবুল করবেন যাদের প্রত্যেকের জন্য জাহান্নাম অনিবার্য ছিল। অত্যন্ত দুর্বল, ইবনু মাজাহ (২১৬) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধুমাত্র উপরোক্ত সূত্রেই এ হাদীস জেনেছি। এর সনদসূত্র সহীহ নয়। হাফস ইবনু সুলাইমান হাদীস শাস্ত্রে দুর্বল।
2906। আল-হারিস আল-আওয়ার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ এক সময় আমি মসজিদে গিয়ে দেখি যে, কিছু লোক নানারকম আলাপ করছে। আমি আলী (রাঃ)-এর নিকটে গিয়ে বললাম, হে আমীরুল মু'মিনীন। আপনি কি দেখতে পাচ্ছেন না যে, লোকেরা নানারকম আলাপ করছে? তিনি প্রশ্ন করলেন, তারা কি তাই করছে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, শোনা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ হুশিয়ার শীঘ্রই ফিতনা-ফাসাদ দেখা দিবে। আমি প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! এ ফিতনা হতে আত্মরক্ষার পন্থা কি? তিনি বললেনঃ আল্লাহ তা'আলার কিতাব (কুরআন)। এতে আছে তোমাদের পূর্ববর্তীদের সংবাদ ও পরবর্তীদের সংবাদ এবং তোমাদের মাঝে ফায়সালার বিধান। এটা (সত্য-মিথ্যার মধ্যে) সুস্পষ্ট বিভাজনকারী, কোন অর্থহীন ব্যাপার নয়। যে ব্যক্তি গর্ববশে এটা ছেড়ে দেবে, আল্লাহ তা'আলা তার গর্ব চূৰ্ণ করবেন। এটাকে বাদ দিয়ে যে হিদায়াত খোজ করবে আল্লাহ তা'আলা তাকে পথভ্রষ্ট করবেন। এটা হল আল্লাহ্ তা'আলার মযবুত রশি, হিকমাত ও প্রজ্ঞাপূর্ণ উপদেশ এবং সহজ-সরলপথ। তা অনুসরণ করলে মানুষের চিন্তাধারা বিপথগামী হয় না এবং এতে যবানও আড়ষ্ট হয় না। আলিমগণ এ থেকে তৃপ্ত হয় না (যতই পড়ে ততই ভালো লাগে), বারবার পড়লেও এটা পুরানো হয় না এবং এর সহস্য ও নিগৃঢ় তত্ত্বের শেষ নেই। এটা সেই গ্রন্থ যা শোনা মাত্রই জিনেরা বলে উঠলো, “আমরা এক আশ্চর্যজনক কুরআন শুনলাম যা সঠিক পথের সন্ধান দেয়। সুতরাং আমরা এতে ঈমান এনেছি" (সূরাঃ জ্বিন-১, ২)। যে ব্যক্তি কুরআন অনুযায়ী কথা বলে সে সত্য বলে এবং যে সে অনুসারে আমল করে সে প্রতিদান পায়। যে এর সাহায্যে ফায়সালা করে সে ইনসাফ করে এবং যে এর দিকে আহবান করে সে সঠিক পথ দেখায়। হে আওয়ার! তুমি এটা শক্তভাবে আকড়ে ধর। যঈফ, মিশকাত, তাহকীক ছানী (২১৩৮) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধুমাত্র উপরোক্ত সূত্রেই এ হাদীস জেনেছি। এর সনদসূত্র অজানা। আল-হারিসের রিওয়ায়াত প্রসঙ্গে বিরূপ সমালোচনা আছে।
2907। উসমান ইবনু আফফান (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সে লোকই তোমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ যে কুরআন শিক্ষা করে এবং অন্যকে তা শিক্ষা দেয়। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (২১১), বুখারী। 'আবদুর রাহমান বলেন, এ হাদীসই আমাকে এ স্থানে বসিয়ে রেখেছে। তিনি উসমান (রাযিঃ)-এর যুগ হতে হাজ্জাজ ইবনু ইউসুফের যুগ পর্যন্ত কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
2908। উসমান (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সে লোকই তোমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বা উত্তম যে নিজে কুরআন শিখে এবং তা অন্যকে শিখায়। সহীহঃ দেখুন পূর্বের হাদীস। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আবদুর রাহমান ইবনু মাহদী প্রমুখ সুফইয়ান সাওরী হতে, তিনি আলকামাহ্ ইবনু মারসাদ হতে, তিনি আবূ আবদুর রাহমান হতে, তিনি উসমান (রাযিঃ) হতে, তিনি নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সুত্রে একই রকম বর্ণনা করেছেন। সুফিয়ান উক্ত হাদিসের সনদে সা'দ ইবনু উবাইদার উল্লেখ করেননি। ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল-কাত্তান এ হাদীস সুফইয়ান ও শুবাহ হতে, তিনি আলকামাহ হতে, তিনি ইবনু মারসাদ হতে, তিনি সা'দ ইবনু উবাইদাহ হতে, তিনি আবূ 'আবদুর রাহমান হতে, তিনি উসমান (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন। ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ-সুফইয়ান ও শুবাহুর সূত্রে মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার উক্ত হাদীস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার বলেন, ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ উক্ত হাদীস সুফইয়ান ও শুবাহ-একাধিকবার আলকামাহ ইবনু মারসাদের সূত্রে-সা'দ ইবনু উবাইদাহ্ হতে তিনি আবূ আবদুর রহমান হতে, তিনি উসমান (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে একই রকম বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার বলেন, সুফইয়ানের শাগরিদগণ এর সনদে "সুফইয়ান-সা'দ ইবনু উবাইদাহ হতে" এভাবে উল্লেখ করেননি এবং এটাই সহীহ। আবূ ঈসা বলেন, শুবাহ এ হাদীসের সনদে সা'দ ইবনু উবাইদার নাম অতিরিক্ত উল্লেখ করেছেন। সুফইয়ানের রিওয়ায়াতই যেন অধিক সহীহ। আলী ইবনু আবদুল্লাহ বলেন, ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ বলেছেন, আমার মতে শুবাহুর সমতুল্য কেউ নেই। কোন রিওয়ায়াতের বেলায় সুফইয়ানের সাথে তার মতের অমিল হলে সেই ক্ষেত্রে আমি সুফইয়ানের বক্তব্য গ্রহণ করি। আবূ ঈসা বলেন, আমি আবূ আম্মারকে ওয়াকীর সূত্রে উল্লেখ করতে শুনেছি, তিনি বলেন, শুবাহ বলেছেন, সুফইয়ান আমার চাইতে অনেক বেশী স্মৃতিশক্তির অধিকারী। সুফইয়ান কারো বরাতে আমার নিকট কিছু বর্ণনা করলে আমি সেই প্রসঙ্গে উক্ত ব্যক্তিকে প্রশ্ন করলে তিনি হুবহু তাই বলেন যা সুফইয়ান আমাকে বলেছেন। এ অনুচ্ছেদে আলী ও সা'দ (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।
2909। আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সে লোকই তোমাদের মধ্যে উত্তম যে কুরআন শিক্ষা করে এবং তা অন্যকে শিখায়। পূর্বের হাদীসের সহায়তায় সহীহ। আবূ ঈসা বলেন, আমরা এ হাদীস শুধু আবদুর রাহমান ইবনু ইসহাকের রিওয়ায়াত হিসেবে ‘আলী (রাযিঃ) হতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে জেনেছি।
2910। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলার কিতাবের একটি হরফ যে ব্যক্তি পাঠ করবে তার জন্য এর সাওয়াব আছে। আর সাওয়াব হয় তার দশ গুণ হিসেবে। আমি বলি না যে, আলিফ-লাম-মীম একটি হরফ, বরং আলিফ একটি হরফ, লাম একটি হরফ এবং মীম একটি হরফ। সহীহঃ তাখরীজুত তাহাবীয়াহ (১৩৯), মিশকাত (২১৩৭)। ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে উপরোক্ত সনদ সূত্র ব্যতীত অন্য সূত্রেও এই হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীস আবূল আহওয়াস (রাহঃ) ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। তাদের কিছু বর্ণনাকারী এটিকে মারফু হাদীস হিসেবে এবং কিছু বর্ণনাকারী মাওকুফ হাদীস হিসেবে অর্থাৎ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ)-এর বক্তব্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ এবং উক্ত সনদে গারীব। আমি কুতাইবা ইবনু সাঈদকে বলতে শুনেছি, আমি অবগত হয়েছি যে, মুহাম্মাদ ইবনু কাব আল-কুরাযী (রাহঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবদ্দশায় জন্মগ্রহণ করেন। মুহাম্মাদ ইবনু কাব আল-কুরাযী (রহঃ)-এর উপনাম আবূ হামযা।
2911। আবূ উমামা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ তাআলা বান্দার দুই রাকাআত নামাযে যেভাবে মনঃসংযোগ করেন এর চেয়ে কোন কিছুতেই এই প্রকার করেন না। বান্দা যতক্ষণ নামাযে নিয়োজিত থাকে ততক্ষণ তার মাথার উপর সাওয়াব বর্ষিত হতে থাকে। বান্দা কুরআন পাঠের মাধ্যমে আল্লাহ্ তা'আলার যতটুকু নৈকট্য অর্জন করতে পারে অন্য কিছু দ্বারা তার এত নৈকট্য অর্জন করতে পারে না। যঈফ, মিশকাত (১৩৩২), যঈফা (১৯৫৭) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধুমাত্র উপরোক্ত সূত্রেই এ হাদীস জেনেছি। ইবনুল মুবারাক (রহঃ) বাকর ইবনু খুনাইসের সমালোচনা করেছেন এবং পরিশেষে তাকে পরিহার করেছেন। যাইদ ইবনু আরতাত হতে জুবাইর ইবনু নুফাইর বরাতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে এটি মুরসালরূপে বর্ণিত আছে।
2912। জুবাইর ইবনু নুফাইর (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলার প্রস্রবণ হতে নিঃসৃত জিনিস অর্থাৎ কুরআন মাজীদের তুলনায় শ্রেষ্ঠতর কোন কিছু নিয়ে তোমরা আল্লাহ তা’আলার নিকটে ফিরে যেতে পারবে না। যঈফ, যঈফা
2913। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যার হৃদয়ে কুরআনের কিছুই নেই সে বর্জিত ঘরের মত। যঈফ, মিশকাত (২১৩৫) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
2914। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (কিয়ামতের দিন) কুরআনের বাহককে বলা হবে, পাঠ করতে থাক ও উপরে আরোহণ করতে থাক এবং দুনিয়াতে যেভাবে ধীরে সুস্থে পাঠ করতে ঠিক সেরূপে ধীরে সুস্থে পাঠ করতে থাক। যে আয়াতে তোমার পাঠ সমাপ্ত হবে সেখানেই তোমার স্থান। হাসান সহীহঃ মিশকাত (২১৩৪), তা’লীকুর রাগীব (২/২০৮), সহীহ আবূ দাউদ (১৩১৭), সহীহাহ (২২৪০)।
2915। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কুরআন কিয়ামত দিবসে হাযির হয়ে বলবে, হে আমার প্রভু! একে (কুরআনের বাহককে) অলংকার পরিয়ে দিন। তারপর তাকে সম্মান ও মর্যাদার মুকুট পরানো হবে। সে আবার বলবে, হে আমার প্রভু! তাকে আরো পোশাক দিন। সুতরাং তাকে মর্যাদার পোশাক পরানো হবে। সে আবার বলবে, হে আমার প্রভু! তার প্রতি সন্তুষ্ট হোন। কাজেই তিনি তার উপর সন্তুষ্ট হবেন। তারপর তাকে বলা হবে, তুমি এক এক আয়াত পাঠ করতে থাক এবং উপরের দিকে উঠতে থাক। এমনিভাবে প্রতি আয়াতের বিনিময়ে তার একটি করে সাওয়াব (মর্যাদা) বাড়ানো হবে। হাসানঃ তা’লীকুর রাগীব (২/২০৭)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার-মুহাম্মাদ ইবনু জাফার হতে, তিনি শু'বাহ হতে, তিনি আসিম ইবনু বাহদালা হতে, তিনি আবূ সালিহ হতে, তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে উপরোক্ত হাদীসের সমর্থবোধক হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি এটি এ সূত্রে মারফুরূপে বর্ণনা করেননি। আবূ ঈসা বলেন, ‘আবদুস সামাদ হতে শুবাহ (রাহঃ) সূত্রে বর্ণিত হাদীসের তুলনায় এটিই আমাদের মতে অনেক বেশী সহীহ। বুনদার আবদুর রাহমান ইবনু মাহদী হতে, তিনি সুফইয়ান হতে, তিনি আসিমের সূত্রে উপরে বর্ণিত হাদীসের মতই বর্ণনা করেছেন।
2916। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উম্মাতের সকল সাওয়াব আমার সামনে উপস্থাপন করা হয়, এমনকি মাসজিদ হতে জঞ্জাল দূর করার সাওয়াবও। আমার উম্মাতের গুনাহসমূহও আমার সামনে উপস্থাপন করা হয়। কাউকে কুরআনের কোন সূরা বা আয়াত প্রদান করার পর তা বিস্মৃত হওয়ার চাইতে বড় গুনাহ আমি আর দেখিনি। যঈফ, মিশকাত (৭২০), রওযুননায়ীর (৭২), যঈফ, আবূ দাউদ (৭১) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধুমাত্র উপরোক্ত সূত্রেই এ হাদীস জেনেছি। আমি মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈলের নিকট এ হাদীস উল্লেখ করলে তিনি তার অজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং হাদীসটিকে গারীব সংজ্ঞায়িত করেন। মুহাম্মাদ আরো বলেনঃ মুত্তালিব ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু হানতাব রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণের কারো নিকট হতে সোজাসুজি কিছু শুনেছেন বলে আমার জানা নেই। তার নিম্নোক্ত কথাটি ভিন্নঃ “যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভাষণে হাজির ছিলেন তিনি আমাকে বলেছেন" (এ কথা তার কোন সাহাবীর সাক্ষাত লাভ প্রমাণ করে, এ ছাড়া আর কোন দলিল পাওয়া যায় না)। আমি আবদুল্লাহ ইবনু আবদুর রহমানকে বলতে শুনেছি, মুত্তালিব রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোন সাহাবীর নিকট সোজাসুজি কিছু শুনেছেন বলে আমাদের জানা নেই। আবদুল্লাহ (রহঃ) আরও বলেনঃ আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-এর নিকট মুত্তালিবের সরাসরি শোনার বিষয়টি আলী ইবনুল মাদীনী প্রত্যাখ্যান করেছেন।
2917। ইমরান ইবনু হুসাইন (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, একদা তিনি জনৈক কুরআন তিলাওয়াতকারীর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। লোকটি তখন কুরআন পাঠ করতে করতে (মানুষের নিকট) ভিক্ষা করছিল। তিনি “ইন্না লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন” পাঠ করে বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ কুরআন তিলাওয়াতকারী ব্যক্তি যেন এর দ্বারা শুধু আল্লাহ তা'আলার নিকট প্রার্থনা করে। কেননা অচিরেই এমন এক সম্প্রদায়ের আবির্ভাব ঘটবে যারা কুরআন পাঠের মাধ্যমে মানুষের নিকট ভিক্ষা করবে। হাসানঃ সহীহাহ (২৫৭)। মাহমুদ (রাহঃ) বলেন, এই খাইসামা আল-বাসর যার নিকট হতে জাবির আল-জুকী হাদীস বর্ণনা করেছেন ইনি খাইসামা ইবনু আবদুর রাহমান নন। এই খাইসামা হলেন বাসরার শাইখ এবং তার উপনাম আবূ নাসর। তিনি আনাস (রাযিঃ) হতে কিছু হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। জাবির আল-জুকী এই খাইসামা হতেও হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। এটির সানাদ তেমন শক্তিশালী নয়।
2918। সুহাইব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কুরআনের হারামসমূহকে হালাল মনে করে সে কুরআনের প্রতি ঈমান আনেনি। যঈফ, মিশকাত, তাহকীক ছানী (২২০৩) আবূ ঈসা বলেনঃ উক্ত হাদীসের সনদ তেমন মজবুত নয়। ওয়াকীর রিওয়ায়াতের বিরোধিতা করা হয়েছে। মুহাম্মাদ বলেনঃ আবূ ফারওয়া ইয়াযীদ ইবনু সিনান আর-রাহাবীর হাদীস বর্ণনায় কোন সমস্যা নেই। তবে তার পুত্র মুহাম্মাদ তার সূত্রে যে রিওয়ায়াত করেছেন সেগুলোর বক্তব্য আলাদা। কারণ তিনি তার আব্বার বরাতে অনেক মুনকার হাদীস বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মাদ ইবনু সিনান তার আব্বার সূত্রে এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন এবং তার সনদে মুজাহিদ-সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব-সুহাইব (রাহঃ) অতিরিক্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। মুহাম্মাদ ইবনু ইয়ামীদের রিওয়ায়াতের সমর্থক কোন রিওয়ায়াত নেই। ইনি একজন দুর্বল রাবী। আর আবূল মুবারাক একজন অপরিচিত ব্যক্তি।
2919। উকবাহ ইবনু আমির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ প্রকাশ্যে কুরআন পাঠকারী প্রকাশ্যে দান-খাইরাতকারীর সমতুল্য এবং গোপনে কুরআন পাঠকারী গোপনে দান-খাইরাতকারীর সমতুল্য। সহীহঃ মিশকাত তাহকীকু সানী (২২০২), সহীহ আবূ দাউদ (১২০৪)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীসের অর্থ হল গোপনে কুরআন পাঠকারীই প্রকাশ্যে পাঠকারীর চাইতে উত্তম। কেননা আলিমদের মতে প্রকাশ্যে (ঐচ্ছিক) দান-খাইরাতের তুলনায় গোপনে দান করা উত্তম। বিশেষজ্ঞ আলিমগণের মতে, হাদীসের তাৎপর্য এই যে, পাঠক যেন অহংকার হতে বেঁচে থাকে। আর যে আমল গোপনে করা হয়, তাতে অহংকারের ততটা আশংকা থাকে না যতটা থাকে প্রকাশ্যে ‘আমল করার মধ্যে।
2920। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, সূরা বনী ইসরাঈল ও সূরা আয-যুমার তিলাওয়াত না করা পর্যন্ত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমাতেন না। সহীহঃ সহীহাহ (৬৪১)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। আবূ লুবাবা একজন বাসরার শাইখ। হাম্মাদ ইবনু যাইদ তার সূত্রে একাধিক হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। তার নাম মারওয়ান বলে কথিত। মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল উক্ত কথাটি তার কিতাবুত তারীখ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
2921। ইরবায ইবনু সারিয়া (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমানোর পূর্বে মুসাব্বিহাত সূরাসমূহ পাঠ করতেন এবং বলতেনঃ এ আয়াতসমূহের মধ্যে এমন একটি আয়াত আছে, যা হাজার আয়াতের চাইতেও উত্তম। সানাদ দুর্বলঃ তা’লীকুর রাগীব (১/২১০)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব।
2922। মাকিল ইবনু ইয়াসার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি সকালে উপস্থিত হয়ে তিনবার "আউযু বিল্লাহিস সামীঈল আলীমি মিনাশ শাইতানির রাজীম" তারপর সুরা আল হাশরের শেষের তিন আয়াত পাঠ করবে, আল্লাহ তা'আলা তার জন্য সত্তর হাজার ফিরিশতা নিয়োজিত করবেন। তারা সন্ধ্যা পর্যন্ত তার জন্য দু'আ করতে থাকবেন। সে ঐ দিন ইন্তেকাল করলে তার শহীদী মৃত্যু হবে। যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় এরূপ পাঠ করবে, সেও একই রকম গৌরবের অধিকারী হবে। যঈফ, তা’লীকুর রাগীব (২/২২৫) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধুমাত্র উপরোক্ত সুত্রেই এ হাদীস জেনেছি।
2923ইয়ালা ইবনু মামলাক (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী উম্মু সালামা (রাঃ)-কে প্রশ্ন করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের (রাতের) কিরাআত ও নামায কেমন ছিল? তিনি বললেনঃ তার নামাযের কথা শুনে তোমাদের কি ফায়দা? তিনি যতক্ষণ নামায আদায় করতেন ঠিক ততক্ষণ ঘুমাতেন, আবার উঠে যতক্ষণ ঘুমিয়েছেন ততক্ষণ নামায আদায় করতেন, আবার এ নামাযের সমপরিমাণ সময় ঘুমাতেন। এভাবে তার সকাল হত। তারপর তিনি তার কিরা'আতের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেনঃ তার পাঠ ছিল অত্যন্ত সহজবোধ্য তিনি প্রতিটি অক্ষর পৃথক করে পরিষ্কারভাবে উচ্চারণ করতেন। যঈফ, যঈফ আবূ দাউদ (২৬০), মিশকাত, তাহকীক ছানী (১২১০) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। আমরা শুধুমাত্র লাইস ইবনু সাদের রিওয়ায়াত হিসেবে এ হাদীস জেনেছি, যা তিনি ইবনু আবূ মুলাইকা হতে তিনি ইয়ালা ইবনু মামলাক হতে তিনি উম্মু সালামা (রাঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন। ইবনু জুরাইজ উপরোক্ত হাদীসটি ইবনু আবী মুলাইকার সূত্রে উম্মু সালামার বরাতে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিটি শব্দ আলাদা আলাদা করে উচ্চারণ করে কুরআন পাঠ করতেন। লাইস এর রিওয়ায়াতটিই অনেক বেশি সহীহ।
2924। আবদুল্লাহ ইবনু আবূ কাইস (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিতরের নামায বিষয়ে আয়িশাহ (রাযিঃ)-কে প্রশ্ন করলাম যে, তিনি কি রাতের প্রথম ভাগে বিতর আদায় করতেন না শেষ ভাগে? তিনি বললেন, তিনি দুই সময়েই তা আদায় করতেন। তিনি কখনো তা রাতের প্রথম ভাগে আদায় করে নিতেন আবার কখনো শেষ রাতে আদায় করতেন। আমি বললাম, আলহামদুলিল্লাহ, সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর যিনি এ ব্যাপারে ব্যাপক সুবিধাজনক ব্যবস্থা রেখেছেন। আমি আবার প্রশ্ন করলাম, তার কিরআত পাঠ কেমন ছিল? তিনি কি তা চুপি চুপি পড়তেন না সশব্দে পড়তেন? তিনি বললেন, উভয়ভাবেই পড়তেন। কখনো তিনি তা চুপি চুপি পড়তেন, আবার কখনো সশব্দে পড়তেন। আমি বললাম, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তা'আলার যিনি এ ব্যাপারে প্রশস্ততর ব্যবস্থা রেখেছেন। আমি আবার প্রশ্ন করলাম, তিনি জানাবাতের (স্ত্রীসহবাস জনিত গোসল) ব্যাপারে কি করতেন? তিনি কি ঘুমিয়ে যাওয়ার পূর্বেই গোসল সারতেন না গোসলের পূর্বেই ঘুমিয়ে যেতেন। তিনি বললেন, তিনি দু'টোই করতেন। তিনি কখনো গোসলের পর ঘুমাতেন আবার কখনো ওযু করে ঘুমিয়ে যেতেন (জাগ্রত হওয়ার পর গোসল করতেন)। আমি বললাম, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তা'আলার যিনি এ ব্যাপারেও প্রশস্ততর ব্যবস্থা রেখেছেন। সহীহঃ সহীহ আবূ দাউদ (২২২, ১২৯১), মুসলিম, বুখারী শুধু বিতর সংক্রান্ত বিষয় আরো পূর্ণভাবে বর্ণিত হয়েছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি উপরোক্ত সূত্রে হাসান গারীব।
2925। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজ্জের মৌসুমে নিজেকে বিভিন্ন গোত্রের সামনে পেশ করে বলতেনঃ এমন কোন লোক নেই কি যে আমাকে তার সম্প্রদায়ের নিকট নিয়ে যেতে পারে? কেননা কুরাইশগণ আমাকে আমার প্রভুর বাণী প্রচার করতে বাধা দিচ্ছে। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (২০১)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব সহীহ।
2926। আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মহান রাব্বুল ইজ্জাত বলেন, কুরআন (চর্চার ব্যস্ততা) ও আমার যিকির যাকে আমার নিকটে কিছু আবেদন করা হতে নিবৃত্ত রেখেছে আমি তাকে আমার কাছে যারা চায় তাদের চাইতে অনেক উত্তম বখশিশ দিব। সব কালামের উপর আল্লাহ্ তা'আলার কালামের গৌরব এত বেশি যত বেশি আল্লাহ তা'আলার সম্মান তার সকল সৃষ্টির উপর। যঈফ, মিশকাত (২১৩৬), যঈফা (১৩৩৫) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব।
উৎস: Jami At Tirmidhi
WEBREATH · 11:11
«Should I not be a thankful servant?» — Sahih al-Bukhari
Breath is one for all: everyone lives by it, whoever they are and whatever they believe. Every day at 11:11 local time people stop for sixty seconds, breathe, and thank GOD for the breath — each in their own words, each within themselves. In that minute we are One Breath.
WEBREATH — the Minute at 11:11, your own local time — we are One Breath