হাদিস
ফিরে যান

জামে আত-তিরমিযী 41 · Chapters on Knowledge

আপনার ভাষায় এখনো কোনো অনুবাদ নেই — ইংরেজি দেখাচ্ছে

2645। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা যে ব্যক্তির কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের জ্ঞানে সমৃদ্ধ করেন। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (২২০), বুখারী ও মুসলিম। উমার, আবূ হুরাইরাহ ও মু'আবিয়াহ (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে। হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

2646। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক জ্ঞানের খোঁজে কোন পথে চলবে, তার জন্য আল্লাহ তা'আলা জান্নাতের পথ সহজ করে দিবেন। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (২২৫), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান।

2647আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি জ্ঞানের খোজে বের হলে সে ফিরে না আসা পর্যন্ত আল্লাহ্ তা'আলার রাস্তায় আছে বলে গণ্য হবে। যঈফ, মিশকাত (২২০)যঈফা (২০৩৭), আর-রাওয (১০৯) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। কোন কোন রাবী এ হাদীস বর্ণনা করেছেন তবে মারফুরূপে নয়।

2648। সাখবারা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি জ্ঞান খোঁজ করে, এটা তার জন্য তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহের কাফফারা হয়ে যায়। মাওযু, মিশকাত (২২১), যঈফা (৫০১৭) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি সনদের দিক হতে যঈফ। আবদুল্লাহ ইবনু সাখবারা ও তার পিতা সাখবারা (রাঃ)-এর হাদীস রিওয়ায়াত প্রসঙ্গে আমাদের বেশী কিছু জানা নেই। রাবী আবূ দাউদের নাম নুফাই আল-আ'মা কাতাদা এবং অন্যান্যরা তার সমালোচনা করেছেন।

2649। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক এমন ইলম (জ্ঞান) সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হয় যা সে জানে, অতঃপর সে তা গোপন করে, তাকে কিয়ামতের দিবসে আগুনের লাগাম পরানো হবে। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (২৬৪) জাবির ও আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান।

2650। আবূ হারূন আল-আবদী (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমরা আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ)-এর নিকটে (জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে) আসলে তিনি বলতেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপদেশকে “মারহাবা, স্বাগতম!” কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (আমার পরে) মানুষ তো তোমাদের অনুসারী হবে। দিগদিগন্ত হতে মানুষ ধর্মের জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে তোমাদের নিকটে আসবে। তারা তোমাদের নিকটে এলে তোমরা তাদের কল্যাণ সাধনের ব্যাপারে (আমার) উপদেশ গ্রহণ কর। যঈফ, ইবনু মাজাহ (২৪৯) আবূ ঈসা বলেনঃ আলী ইবনু আবদুল্লাহ বলেছেন যে, ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ বলেছেন, শুবা (রাহঃ) আবূ হারূন আবদীকে যঈফ বলতেন, কিন্তু ইবনু আওন আমৃত্যু তার থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবূ হারূনের নাম উমারা ইবনু জুয়াইন।

2651। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ প্রাচ্যের দিক হতে বহু লোক জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্যে তোমাদের নিকটে আসবে। তারা তোমাদের নিকটে এলে তোমরা তাদের কল্যাণ কামনায় (আমার) সদুপদেশ গ্রহণ কর। তিনি (হারূন) বলেন, আবূ সাঈদ (রাঃ) আমাদের দেখলে বলতেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপদেশকে স্বাগতম। যঈফ, দেখুন পূর্বের হাদীস আবূ ঈসা বলেন, আবূ হারূন আবদী-আবূ সাঈদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত হাদীস ব্যতীত এই প্রসঙ্গে আমাদের কিছু জানা নাই।

2652। আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (শেষ যামানায়) আল্লাহ তা'আলা মানুষের নিকট হতে একটানে ইলম উঠিয়ে নিবেন না, বরং আলিমদেরকে উঠিয়ে নেয়ার মাধ্যমেই ইলম উঠিয়ে নিবেন। অবশেষে যখন তিনি কোন আলিমই অবশিষ্ট রাখবেন না, তখন মানুষেরা অজ্ঞ জাহিলদের নেতা হিসেবে গ্রহণ করবে। তারপর বিভিন্ন বিষয়ে তাদের নিকট প্রশ্ন করা হবে, আর তারা ইলম ছাড়াই ফাতাওয়া দিবে। ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে এবং অন্যকেও পথভ্রষ্ট করবে। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (৫২), বুখারী ও মুসলিম। আয়িশাহ ও যিয়াদ ইবনু লাবীদ (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। যুহরী (রহঃ) এ হাদীস উরওয়াহ হতে, ‘আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ)-এর বরাতে এবং উরওয়াহ হতে, ‘আয়িশাহ (রাযিঃ)-এর বরাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে, উভয় সূত্রে একই রকম বর্ণনা করেছেন।

2653। আবূদ দারদা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ "-এর সাথে ছিলাম। তিনি আকাশের দিকে তাকালেন, তারপর বললেনঃ এই সময়ে মানুষের কাছ থেকে ইলমকে ছিনিয়ে নেয়া হবে, এমনকি এ সম্পর্কে তাদের কোন সামর্থ্যই থাকবে না। যিয়াদ ইবনু লাবীদ আল-আনসার (রাযিঃ) জিজ্ঞেস করলেন, আমাদের নিকট হতে কিভাবে ইলম ছিনিয়ে নেয়া হবে, অথচ আমরা কুরআন তিলাওয়াত করি? আল্লাহর কসম! অবশ্যই আমরা তা তিলাওয়াত করবো এবং আমাদের স্ত্রীদের ও সন্তানদেরকেও তা শিখাবো। তিনি বললেনঃ হে যিয়াদ! তোমার মা তোমাকে হারিয়ে ফেলুক, আমি তো তোমাকে মাদীনার অন্যতম জ্ঞানী ব্যক্তি বলেই গণ্য করতাম! এই তো ইয়াহুদী-নাসারাদের নিকট তাওরাত ও ইনজীল রয়েছে, তা তাদের কি কাজে লেগেছে? জুবাইর (রাযিঃ) বলেন, তারপর আমি উবাদা ইবনুস সামিত (রাযিঃ)-এর সাথে দেখা করে বললাম, আপনার ভাই আবূদ দারদা (রাযিঃ) কি বলছেন তা আপনি শুনতে পাননি? আবূদ দারদা (রাযিঃ) যা বলেছেন, তা আমি তার নিকট বললাম। তিনি বলেন, আবূদ দারদা (রাযিঃ) ঠিকই বলেছেন। তুমি চাইলে আমি তোমাকে একটি কথা বলতে পারি। ইলমের যে বস্তুটি সর্বপ্রথম মানুষের কাছ থেকে তুলে নেয়া হবে তা হল বিনয়। খুব শীঘ্রই তুমি কোন জামে মসজিদে গিয়ে হয়তো দেখবে যে, একজন লোকও সেখানে বিনয়াবনত নয়। সহীহঃ তাখরীজু ইকতিযায়িল ইলমি আল-আমল (৮৯) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। হাদীসবিশারদগণের মতে মু'আবিয়াহ ইবনু সালিহ একজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী। ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল-কাত্তান ব্যতীত অন্য কেউ তার সমালোচনা করেছেন বলে আমাদের জানা নেই। মুআবিয়াহ ইবনু সালিহ হতেও এরকম হাদীস বর্ণিত আছে। কোন কোন বর্ণনাকারী এই হাদীস আবদুর রাহমান ইবনু জুবাইর ইবনু নুফাইর হতে, তিনি তার বাবা হতে, তিনি ‘আওফ ইবনু মালিক (রাযিঃ)-এর বরাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন।

2654। কাব ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ যে লোক আলিমদের সাথে তর্ক বাহাস করা অথবা জাহিল-মূর্খদের সাথে বাকবিতণ্ডা করার জন্য এবং মানুষকে নিজের দিকে আকৃষ্ট করার উদ্দেশে ইলম অধ্যয়ন করেছে, আল্লাহ তা'আলা তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন। হাসানঃ মিশকাত (২২৩-২২৫), তা’লীকুর রাগীব (১/৬৮)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। আমরা এ হাদীসটি শুধুমাত্র উপরোক্ত সূত্রেই জেনেছি। হাদীস বিশেষজ্ঞদের মতে ইসহাক ইবনু ইয়াহইয়া ইবনু তালহা খুব একটা শক্তিশালী বর্ণনাকারী নন। তার স্মৃতিশক্তি সমালোচিত।

2655। ইবনু উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত আছে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্য ব্যতীত অন্য কোন উদ্দেশ্যে জ্ঞানার্জন করে অথবা এর দ্বারা আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টি ব্যতীত অন্য কিছু অর্জনের ইচ্ছা করে সে যেন তার বাসস্থান জাহান্নামে নির্দিষ্ট করে নেয়। (য’ঈফ; ইবনু মাযাহ-হাঃ নং- ২৫৮) এ অনুচ্ছেদে জাবির (রাযি.) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। উপরিউক্ত সূত্র ব্যতীত আইয়ুবের কোন হাদীস আমাদের জানা নেই।

2656। আবান ইবনু উসমান (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, কোন একদিন যাইদ ইবনু সাবিত (রাযিঃ) ঠিক দুপুরের সময় মারওয়ানের নিকট হতে বেরিয়ে আসলেন। আমরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করলাম, সম্ভবতঃ কোন ব্যাপারে প্রশ্ন করার জন্যই এ সময়ে মারওয়ান তাকে ডেকে পাঠিয়েছেন। সুতরাং আমরা উঠে গিয়ে তাকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেন, হ্যাঁ, তিনি আমার কাছে কয়েকটি কথা জিজ্ঞেস করেছেন, যা আমি রাসূলুল্লাহ -এর নিকট শুনেছি। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহ তা'আলা সেই ব্যক্তির চেহারা আনন্দ-উজ্জ্বল করুন, যে আমার কোন কথা শুনেছে, তারপর তা সঠিকভাবে মনে রেখেছে এবং সেভাবেই অন্যের নিকট পৌছে দিয়েছে। এমন অনেক লোক আছে, যারা নিজেদের তুলনায় উচ্চতর জ্ঞানের অধিকারীর নিকট জ্ঞান পৌছে দিতে পারে। আর অনেক জ্ঞানের বাহক এমন রয়েছে যারা নিজেরাই জ্ঞানী নয়। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (২৩০) 'আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ, মুআয ইবনু জাবাল, জুবাইর ইবনু মুতাইম, আবূদ দারদা ও আনাস (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, যাইদ ইবনু সাবিত (রাযিঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটি হাসান।

2657। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ "-কে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহ তা'আলা সেই ব্যক্তিকে আলোকোজ্জ্বল করুন, যে আমার কোন কথা শুনেছে এবং যেভাবে শুনেছে সেভাবেই অন্যের নিকট তা (জ্ঞান) পৌছে দিয়েছে। এমন অনেক ব্যক্তি আছে যার নিকট ইলম পৌছানো হয় তিনি শ্রোতার চেয়ে বেশি হৃদয়ঙ্গমকারী হয়ে থাকেন। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (২৩২) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আবদুল মালিক ইবনু উমাইর ও এই হাদীসটি 'আবদুর রাহমান ইবনু আবদিল্লাহ (রাহঃ) হতে বর্ণনা করেছেন।

2658। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা সেই ব্যক্তিকে আলোকোজ্জ্বল করুন যে আমার কথা শুনেছে, তা কণ্ঠস্থ করেছে, সংরক্ষণ করেছে এবং অন্যের নিকট পৌছে দিয়েছে। অনেক জ্ঞানের বাহক যার নিকট জ্ঞান বহন করে নিয়ে যান তিনি তার (বাহকের) চাইতে বেশি বুদ্ধিমান হতে পারেন। মু’মিনের অন্তর তিনটি বিষয়ে খিয়ানাত (অবহেলা) করতে পারে নাঃ আল্লাহ তা'আলার জন্য নিষ্ঠাপূৰ্ণ আমল, মুসলিমদের নেতৃবর্গকে সদুপদেশ দান এবং মুসলিম জামাআত অবলম্বন। কেননা দাওয়াত (আহবান) তাদের পশ্চাৎকেও পরিবেষ্টন করে। সহীহঃ সহীহাহ

2659। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক নিজ ইচ্ছায় আমার উপর মিথ্যারোপ করে, সে জাহান্নামকে তার বাসস্থান বানিয়ে নিক। সহীহঃ মুতাওয়াতির, ইবনু মা-জাহ (৩০), বুখারী ও মুসলিম।

2660। আলী ইবনু আবী তালিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা আমার প্রতি মিথ্যারোপ করো না। কেননা যে লোক আমার উপর মিথ্যারোপ করবে সে জাহান্নামে যাবে। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম আবূ বাকর, উমার, উসমান, যুবাইর, সাঈদ ইবনু যাইদ, আবদুল্লাহ ইবনু আমর, আনাস, জাবির, ইবনু আব্বাস, আবূ সাঈদ, আমর ইবনু আবাসাহ, উকবাহ ইবনু আমির, মু'আবিয়াহ, বুরাইদাহ, আবূ মূসা, আবূ উমামাহ, ‘আবদুল্লাহ ইবনু উমার, আল-মুনকা" ও আওস আস-সাকাফী (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, ‘আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ। ‘আবদুর রাহমান ইবনু মাহদী বলেন, মানসূর ইবনুল মু'তামির হলেন কূফাবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী। ওয়াকী' বলেন, রিবঈ ইবনু হিরাশ মুসলিম অবস্থায় একটি মিথ্যাও বলেননি।

2661। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক আমার উপর মিথ্যারোপ করবে, (বর্ণনাকারী বলেন) আমার মনে হয় তিনি “ইচ্ছাকৃতভাবে” কথাটুকুও বলেছেন, সে যেন তার বাসস্থান জাহান্নামে বানিয়ে নেয়। সহীহঃ মুতাওয়াতির, বুখারী ও মুসলিম। দেখুন পূর্বের হাদীস। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ এবং যুহরী-আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ)-এর সূত্রে গারীব। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এ হাদীস আনাস (রাযিঃ) হতে একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।

2662। মুগীরাহ ইবনু শুবাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার পক্ষ হতে যে লোক কোন হাদীস বর্ণনা করে অথচ সে জানে যে, তা মিথ্যা, সে মিথ্যাবাদীদের একজন। সহীহঃ আয-যঈফার ভূমিকা (১/১২), মুসলিম। আলী ইবনু আবী তালিব ও সামুরাহ (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীসটি আল-হাকাম-আবদুর রাহমান ইবনু আবূ লাইলা হতে, তিনি সামুরা (রাযিঃ) হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে শুবাহ (রাহঃ) বর্ণনা করেছেন। আমাশ ও ইবনু আবী লাইলা (রহঃ) আল-হাকাম হতে, তিনি 'আবদুর রাহমান ইবনু আবী লাইলা হতে, তিনি আলী (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন। সামুরাহ (রাযিঃ)-এর সূত্রে 'আবদুর রাহমান ইবনু আবী লাইলা বর্ণিত হাদীসটি মুহাদীসগণের মতে অনেক বেশি সহীহ। আবু ঈসা বলেন, আমি আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ ইবনু আব্দুর রহমান (রহঃ)-কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীস “যে ব্যক্তি আমার পক্ষ হতে কোন হাদীস বর্ণনা করে অথচ সে জানে যে, তা মিথ্যা, সে মিথ্যাবাদীদের একজন” সম্পর্কে প্রশ্ন করলাম। আমি বললাম, যদি কোন ব্যক্তি হাদীস বর্ণনা করে এবং জানে যে, এর সনদ ক্রটিপূর্ণ তবে সে কি এ হাদীস মুতাবিক মিথ্যুক বলে পরিগণিত হবে? অথবা যদি কোন ব্যক্তি মুরসাল হাদীসকে মুসনাদ হিসেবে বর্ণনা করে কিংবা সনদে উল্টাপাল্টা করে তাহলে সেও কি উক্ত হাদীসের আওতাভুক্ত বলে পরিগণিত হবে? আবদুল্লাহ ইবনু আবদুর রাহমান বলেন, না, বরং এ হাদীসের তাৎপর্য হলঃ যে এমন হাদীস বর্ণনা করে, যে সম্পর্কে সে জানে না যে, এটা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীস কি-না। আমি আশংকা করি যে, সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উক্ত হাদীসের আওতাভুক্ত হবে।

2663। আবূ রাফি' (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি যেন তোমাদের মধ্যে কাউকে এমন অবস্থায় না পাই যে, সে তার সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে বসে থাকবে এবং তার নিকট যখন আমার আদিষ্ট কোন বিষয় অথবা আমার নিষেধ সম্বলিত কোন হাদীস উত্থাপিত হবে তখন সে (তাচ্ছিল্যভরে) বলবে, আমি তা জানি না, আল্লাহ তা'আলার কিতাবে আমরা যা পাই, তারই অনুসরণ করবো। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (১৩) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীসটি কোন কোন বর্ণনাকারী সুফইয়ান-ইবনুল মুনকাদির (রাহঃ)-এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে মুরসালভাবে বর্ণনা করেছেন। আবার কোন কোন বর্ণনাকারী সালিম আবূন নাযর হতে, তিনি উবাইদুল্লাহ ইবনু আবী রাফি হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে, এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন। ইবনু উয়াইনাহ যখন পৃথকভাবে উভয় সনদের উল্লেখ করতেন তখন মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদিরের বর্ণনাকে সালিম আবূন নাযরের বর্ণনা হতে পৃথক করে বর্ণনা করতেন এবং যখন উভয় সনদ একত্র করে বর্ণনা করতেন তখন প্রথমোক্তভাবে সনদটির উল্লেখ করতেন। আবূ রাফি' (রাযিঃ) ছিলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মুক্তদাস, তার নাম আসলাম।

2664। মিকদাম ইবনু মাদীকারিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সাবধান! খুব শীঘ্রই এমন ব্যক্তির আগমন ঘটবে যে, সে তার সুসজ্জিত গদিতে হেলান দিয়ে বসে থাকবে, তখন তার নিকট আমার কোন হাদীস পৌছলে সে বলবে, আমাদের ও তোমাদের সামনে তো আল্লাহ তা’আলার কিতাবই আছে। আমরা তাতে যা হালাল পাব সেগুলো হালাল বলে মেনে নিব এবং যেগুলো হারাম পাব সেগুলো হারাম বলে মনে নিব। সাবধান রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা হারাম ঘোষণা করেছেন তা আল্লাহ তা'আলা কর্তৃক হারামকৃত বস্তুর মতোই হারাম। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (১২) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান, তবে উপরোক্ত সূত্রে গারীব।

2665। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট (হাদীস) লিপিবদ্ধ করে রাখার অনুমতি চাইলাম, কিন্তু তিনি আমাদেরকে অনুমতি দেননি। সহীহঃ মুসলিম (৮/২২৯) অনুরূপ আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি যাইদ ইবনু আসলাম (রহঃ) হতে অন্য সূত্রেও বর্ণিত আছে। এটি হাম্মামও যাইদ ইবনু আসলাম হতে বর্ণনা করেছেন।

2666। আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, এক আনসার সাহাবী রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরবারে বসতেন এবং তার নিকট হাদীস শুনতেন। হাদীসগুলো তার নিকটে ভালো লাগলেও তিনি তা মনে রাখতে পারতেন না। কোন এক সময় তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকটে তার এ অবস্থার কথা পেশ করে বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার কথা শুনে থাকি এবং তা আমার নিকটে খুবই ভালো লাগে, কিন্তু তা মনে রাখতে পারি না। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তুমি তোমার ডান হাতের সাহায্য নাও, এই বলে তিনি লিখে রাখার প্রতি ইংগিত করেন। যঈফ, যঈফা (২৭৬১) এ অনুচ্ছেদে আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসের সনদ তেমন মজবুত নয়। আমি মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈলকে বলতে শুনেছি, খালীল ইবনু মুররা মুনকারুল হাদীস। (অর্থাৎ প্রত্যাখ্যাত রাবী)

2667। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, কোন এক সময় (বিদায় হজ্জে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভাষণ দিলেন। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) পূর্ণ হাদীস বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আবূ শাহ আরয করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! এ ভাষণটি আমাকে লিখে দিন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এ ভাষণটি (তোমরা) আবূ শাহের জন্য লিখে দাও। সহীহঃ মুখতাসার বুখারী (৭৬), বুখারী। এ হাদীসে আরো বিবরণ আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। শাইবান (রহঃ) ইয়াহইয়া ইবনু আবূ কাসীরের সূত্রে উক্ত হাদীসের মত বর্ণনা করেছেন।

2668। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলতেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীদের মধ্যে আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) ব্যতীত আমার চাইতে বেশি তার হাদীস সংরক্ষণকারী আর কেউ নেই। কারণ তিনি হাদীস লিখতেন, আর আমি লিখতাম না। সহীহঃ মুখতাসারুল বুখারী (৭৭), বুখারী। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। ওয়াহব ইবনু মুনাব্বিহ তার ভাই হতে বর্ণনা করেন, যার নাম হাম্মাম ইবনু মুনব্বিহ।

2669আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার পক্ষ থেকে একটি মাত্র আয়াত হলেও তা (মানুষের নিকট) পৌছে দাও। আর বনী ইসরাঈলের বরাতে (হাদীস) কথা বর্ণনা করতে পার, এতে কোন ক্ষতি নেই। কিন্তু যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার উপর মিথ্যা চাপিয়ে দেয়, সে যেন জাহান্নামে তার থাকার জায়গা নির্ধারণ করে নেয়। সহীহঃ রাওযুন নায়ীর (৫৮২), তাখরাজুল ইলম লিআবী খাইসামা (১১৯/৪৫), বুখারী। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার-আবূ আসিম হতে, তিনি আওযাঈ হতে, তিনি হাসসান ইবনু আতিয়াহ হতে, তিনি আবূ কাবশা আস-সালুলী হতে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু 'আমূর (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের মতো হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিও সহীহ।

2670। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট একজন লোক এসে তার নিজের জন্য একটি বাহন চাইল। কিন্তু তাকে তিনি দেয়ার মতো কোন বাহন না পেয়ে তাকে অন্য এক লোকের নিকট পাঠিয়ে দিলেন। সেই ব্যক্তি তাকে একটি বাহন দিল। সে এ ঘটনাটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললে তিনি বলেনঃ সৎকাজের পথপ্রদর্শক উক্ত কাজ সম্পাদনকারীর সমতুল্য। হাসান সহীহঃ সহীহাহ (১১৬০), তা’লীকুর রাগীব (১/৭২)। আবূ মাসউদ আল-বাদূরী ও বুরাইদাহ (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ সূত্রে অর্থাৎ- আনাস (রাযিঃ)-এর সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত হাদীসটি গারীব।

2671। আবূ মাসউদ আল-বদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট একজন লোক একটি বাহন (জন্তুযান) চাইতে এসে বলে, আমার জন্তুযানটি চলার অযোগ্য হয়ে পড়েছে (বা মরে গেছে)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি অমুক ব্যক্তির নিকট যাও। সে তার নিকট গেলে সে তাকে একটি জন্তুযান দান করল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যে লোক কোন সৎকাজের পথ দেখায়, তার জন্য উক্ত কাজ সম্পাদনকারীর সমপরিমাণ সাওয়াব রয়েছে। সহীহঃ মুসলিম (৬/৪১) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আবূ আমর আশ-শাইবানীর নাম সা'দ ইবনু ইয়াস এবং আবূ মাসউদ আল-বাদরী (রাযিঃ)-এর নাম উকবাহ ইবনু আমির। আল-হাসান ইবনু ‘আলী আল-খাল্লাল-আবদুল্লাহ ইবনু নুমাইর হতে, তিনি আমাশ হতে, তিনি আবূ আমর আশ-শাইবান হতে, তিনি আবূ মাসউদ (রাযিঃ) হতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর উপরের হাদীসের মতো হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে তাতে সন্দেহমুক্তভাবে “মিসলু আজরি ফাঈলিহি" উল্লেখ আছে।

2672। আবূ মূসা আল-আশ'আরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা আবেদন কর, সাওয়াব পাবে। আল্লাহ তা'আলা তার নবীর মুখ দিয়ে যা চান তাই ফায়সালা করান। সহীহঃ সহীহাহ (১৪৪৬), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। বুরাইদের উপনাম আবূ বুরদাহ, তিনি আবূ মূসা আল-আশ'আরী (রাযিঃ)-এর ছেলে আবদুল্লাহ ইবনু আবী বুরদাহ এর পুত্র। তিনি কুফাবাসী নির্ভরযোগ্য হাদীস বর্ণনাকারী। তার নিকট হতে শুবাহ, সুফইয়ান সাওরী ও সুফইয়ান ইবনু উয়াইনাহ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

2673। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অন্যায়ভাবে যে কোন লোককেই হত্যা করা হয় তার খুনের (গুনাহর) একটি অংশ আদমের ছেলের (কাবীল) উপর বর্তাবে। কেননা সর্বপ্রথম সে-ই (প্রাণ) হত্যার প্রচলন করে। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (২৬১৬), বুখারী ও মুসলিম। 'আবদুর রাযযাকের বর্ণনায়, “আসান্নাল কাতলা” স্থলে “সান্নাল কাতলা” বর্ণিত আছে। উক্ত বর্ণনাটি ইবনু আবী উমার সুফইয়ান ইবনু উয়াইনাহ হতে, তিনি আমাশ হতে এই সানাদে বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

2674। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ যদি হিদায়াতের পথে আহবান করে তাহলে সে তার অনুসারীর সমপরিমাণ সাওয়াব পাবে, তবে অনুসরণকারীদের সাওয়াব থেকে মোটেও কম করা হবে না। আর বিপথের দিকে আহবানকারী ব্যক্তি তার অনুসারীদের পাপের সমপরিমাণ পাপের অংশীদার হবে, তবে তাদের (অনুসরণকারীদের) পাপ থেকে মোটেই কমানো হবে না। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (২০৬), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

2675। জারীর ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ ভালো কাজের প্রচলন করলে এবং তার অনুসরণ করা হলে সে তার নিজের সাওয়াবও পাবে এবং তার অনুসারীদের সমপরিমাণ সাওয়াব পাবে, তবে তাদের সাওয়াব থেকে একটুও কমানো হবে না। আবার কেউ মন্দ কাজের প্রচলন করলে এবং তার অনুসরণ করা হলে তার উপর নিজের গুনাহ্ বর্তাবে উপরন্তু তার অনুসারীদের সম-পরিমাণ গুনাহর অংশীদারীও হবে, কিন্তু তাতে অনুসরণকারীদের গুনাহর পরিমাণ একটুও কমানো হবে না। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (২০৩), মুসলিম। হুযাইফাহ্ (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। জারীর ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ)-এর বরাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে একাধিক সূত্রে একই রকম বর্ণিত হয়েছে। এ হাদীসটি আল-মুনযির ইবনু জারীর ইবনু আবদুল্লাহ হতে তার বাবা হতে এই সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত আছে। উবাইদুল্লাহ ইবনু জারীর হতে তার বাবার বরাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতেও তা বর্ণিত হয়েছে।

2676। ইরবায ইবনু সারিয়াহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন ফজরের নামযের পর আমাদেরকে মর্মস্পশী ওয়াজ শুনালেন, যাতে (আমাদের) সকলের চোখে পানি এলো এবং অন্তর কেঁপে উঠলো। কোন একজন বলল, এ তো বিদায়ী ব্যক্তির নাসীহাতের মতো। হে আল্লাহর রাসূল! এখন আপনি আমাদেরকে কি উপদেশ দিচ্ছেন? তিনি বললেনঃ আমি তোমাদেরকে আল্লাহ তা’আলাকে ভয় করার এবং (নেতৃআদেশ) শ্রবণ ও মান্য করার উপদেশ দিচ্ছি, যদিও সে (নেতা) হাবশী ক্রীতদাস হয়ে থাকে। তোমাদের মধ্যে যারা বেঁচে থাকবে, তারা বহু বিভেদ-বিসম্বাদ প্রত্যক্ষ করবে। তোমরা নতুন নতুন বিষয় আবিষ্কার করা হতে দূরে থাকবে। কেননা তা গুমরাহী। তোমাদের মধ্যে কেউ সে যুগ পেলে সে যেন আমার সুন্নাতে ও সৎপথপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাতে দৃঢ়ভাবে অবিচল থাকে। তোমরা এসব সুন্নাতকে চোয়ালের দাঁতের সাহায্যে শক্তভাবে আঁকড়ে ধর। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (৪২) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীসটি সাওর ইবনু ইয়াযীদ- খালিদ ইবনু মা'দান হতে, তিনি আবদুর রাহমান ইবনু আমর আস-সুলামী হতে, তিনি আল-ইরবায ইবনু সারিয়াহ্ (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে একই রকম বর্ণনা করেছেন। আল-হাসান ইবনু আলী আল-খাল্লাল আরো অনেকে আবূ আসিম হতে, তিনি সাওর ইবনু ইয়াযীদ হতে, তিনি খালিদ ইবনু মা'দান হতে, তিনি আবদুর রাহমান ইবনু 'আমর আস-সুলামী হতে, তিনি আল-ইরবায ইবনু সারিয়াহ্ (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের মতো হাদীস বর্ণনা করেছেন। আল-ইরবায (রাযিঃ)-এর উপনাম আবূ নাজীহ। এ হাদীস হুজর ইবনু হুজর-ইরবায (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে একই রকম বর্ণিত হয়েছে।

2677। কাসীর ইবনু আবদুল্লাহ (রাহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিলাল ইবনুল হারিসকে বলেনঃ তুমি জেনে রাখ। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি জেনে রাখব? তিনি বললেনঃ হে বিলাল! তুমি জেনে রাখ। তিনি বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি কি জেনে রাখব? তিনি বললেনঃ যে ব্যক্তি (আমার) এমন কোন সুন্নাত জীবিত করবে, যা আমার (মৃত্যুর পর) পর বিলিন হয়ে যাবে, তার জন্য রয়েছে সেই সুন্নাতের উপর আমলকারীর সম-পরিমাণ সাওয়াব। তবে তাদের সাওয়াব হতে কিছুই কমানো হবে না। আর যে ব্যক্তি পথভ্রষ্টতার বিদ'আত চালু করে, যা আল্লাহ ও তার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সন্তুষ্ট করে না তার জন্য রয়েছে সেই বিদ'আতের উপর আমলকারীর সম-পরিমাণ পাপ। তবে তাদের পাপ হতে কিছুই কমানো হবে না। যঈফ, ইবনু মাজাহ (২১০) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান। মুহাম্মাদ ইবনু উয়াইনা হলেন মিসসীসী এবং সিরিয়াবাসী। আর কাসীর ইবনু আবদুল্লাহর দাদার নাম আমর ইবনু আওফ আল-মুযানী।

2678। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেনঃ হে বৎস! তুমি যদি সকাল-সন্ধ্যা এমনভাবে কাটাতে পার যে, তোমার অন্তরে কারো প্রতি কোন রকম বিদ্বেষ নেই, তাহলে তাই কর। তিনি আমাকে পুনরায় বললেনঃ হে বৎস! এটা হল আমার সুন্নাত। আর যে ব্যক্তি আমার সুন্নাতকে জীবিত করল, সে আমাকেই ভালবাসল, আর যে ব্যক্তি আমাকে ভালবাসল সে তো জান্নাতে আমার সাথেই থাকবে। যঈফ, মিশকাত (১৭৫) এই হাদীসে বড় ঘটনা রয়েছে। আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান এবং উপরিউক্ত সূত্রে গারীব। মুহাম্মদ ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী ও তার পিতা উভয়ই সিকাহ রাবী। আলী ইবনু যাইদ সত্যবাদী, কিন্তু যে হাদীসকে অন্যরা মাওকুফরূপে বর্ণনা করেছেন, তিনি কখনো কখনো তা মারফুরূপে বর্ণনা করেন। আমি মুহাম্মদ ইবনু বাশশারকে বলতে শুনেছি, আবূল ওয়ালীদ বলেন, শুবা বলেছেনঃ আলী ইবনু যাইদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি অনেক (মাওকুফ রিওয়ায়াতকে) মারফুরূপে বর্ণনা করেছেন। সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রাহ.) আনাস (রাযি) হতে উপরিউক্ত হাদীসটি বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা ব্যতীত আরো হাদীস বর্ণনা করেছেন বলে আমাদের জানা নেই। আনাস (রাযি.)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং তাতে সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাবের উল্লেখ করেননি। আমি বিষয়টি নিয়ে মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈলের সাথে আলোচনা করলে তিনি এ প্রসঙ্গে তার অজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব সরাসরি আনাস (রাযি.) হতে উক্ত হাদীস বা অন্য কোন হাদীস বর্ণনা করেছেন কি-না সে ব্যাপারেও তার অজ্ঞতা প্রকাশ করেন। আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) ৯৩ হিজরীতে এবং সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব তার দু’বছর পর ৯৫ হিজরীতে মারা যান।

2679। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি তোমাদেরকে যে বিষয়ে বলি না সে বিষয়ে তোমরাও আমাকে ত্যাগ কর (নিজ উদ্যোগে কোন প্রশ্ন করো না)। আমি তোমাদের মধ্যে কিছু বললে আমার নিকট হতে তা গ্রহণ কর। কেননা তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মাতগণ তাদের নবীদেরকে বেশি বেশি প্রশ্ন ও বিরুদ্ধাচরণ করার কারণে ধ্বংস হয়েছে। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (১, ২), বুখারী ও মুসলিম অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

2680। আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত আছে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অচিরেই মানুষ উটে চড়ে ইলম অন্বেষণের উদ্দেশ্যে দুনিয়া ঘুরে বেড়াবে। কিন্তু তারা মদীনার আলিমদের অপেক্ষা বিজ্ঞ আলিম আর কোথাও খুঁজে পাবে না। (য’ঈফ; মিশকাত— হাঃ নং- ২৪৬; তা’লীক 'আলা তানকীল- হাঃ নং- ১/৩৮৫; য’ঈফাহ-হাঃ নং- ৪৮৩৩) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান। এটা ইবনু উয়াইনার রিওয়ায়াত। এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেনঃ মাদীনার আলিম হলেন মালিক ইবনু আনাস (রাহ.)। ইসহাক ইবনু মূসা বলেনঃ আমি ইবনু উয়াইনাকে আরো বলতে শুনেছি, মদীনার এ আলিম হলেন উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযি.) বংশীয় পার্থিব মোহ বিমুখ আবদুল আযীয ইবনু আবদুল্লাহ। (আব ঈসা বলেনঃ) আমি ইয়াহইয়া ইবনু মূসাকে বলতে শুনেছি, আবদুর রাযযাক বলেছেন, তিনি হলেন মালিক ইবনু আনাস (রাহ.)।

2681। ইবনু আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ একজন ফকীহ (বিজ্ঞ আলিম) শাইতানের জন্য হাজার (মূর্খ) আবিদ অপেক্ষা বিপজ্জনক। (মাওযূ; ইবনু মাযাহ-হাঃ নং)

2682। কাইস ইবনু কাসীর (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি মাদীনা হতে দামিশকে (অবস্থানরত) আবূদ দারদা (রাযিঃ)-এর নিকট এলো। তিনি প্রশ্ন করলেন, ভাই! তুমি কি প্রয়োজনে এসেছে? সে বলল, একটি হাদীসের জন্য এসেছি। আমি জানতে পারলাম যে, আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে সেই হাদীস বর্ণনা করছেন। তিনি আবারো প্রশ্ন করলেন, তুমি অন্য কোন প্রয়োজনে আসনি? সে বলল, না। তিনি বললেন, তুমি কোন ব্যবসা-বাণিজ্যের উদ্দেশে আসনি। সে বলল, না; সে আরো বলল, আমি শুধুমাত্র সেই হাদীসটির খোজেই এসেছ? এবার তিনি বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ ইলম লাভের উদ্দেশে যে লোক পথ চলে আল্লাহ তা'আলা এর মাধ্যমে তাকে জান্নাতের পথে পৌছে দেন এবং ফেরেশতাগণ ইলম অন্বেষণকারীর সন্তুষ্টির জন্য নিজেদের ডানা বিছিয়ে দেন। অতঃপর আসমান-যমীনের সকল প্রাণী (আল্লাহ তা'আলার নিকট) আলিমদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে, এমনকি পানির জগতের মাছসমূহও। সমস্ত নক্ষত্ররাজির উপর পূর্ণিমার চাঁদের যে প্রাধান্য, ঠিক তেমনি (মূর্খ) ‘আবিদগণের উপর আলিমদের মর্যাদা বিদ্যমান। অবশ্যই আলিমগণ নবীদের ওয়ারিস। আর নবীগণ উত্তরাধিকার হিসেবে কোন দীনার বা দিরহাম রেখে যাননি, বরং তারা রেখে গেছেন মীরাস হিসেবে ইলম। সুতরাং যে ব্যক্তি ইলম লাভ করেছে, সে পূর্ণ অংশ লাভ করেছে। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (২২৩) আবূ ঈসা বলেন, আমরা এ হাদীসটি শুধুমাত্র আসিম ইবনু রাজা ইবনু হাইওয়ার রিওয়ায়াত হিসেবেই জেনেছি। আমার মতে এই সনদসূত্র মুত্তাসিল নয়। উক্ত হাদীসটি মাহমূদ ইবনু খিদাশও আমাদের নিকট অনুরূপভাবে বর্ণনা করেছেন। আসিম ইবনু রাজা ইবনু হাইওয়া-দাউদ ইবনু জামীল হতে, তিনি কাসীর ইবনু কাইস হতে, তিনি আবূদ দারদা (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রেও উক্ত হাদীস বর্ণিত আছে। এই সনদসূত্রটি মাহমূদ ইবনু খিদাশের বর্ণনার চাইতে অনেক বেশি সহীহ। মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল (বুখারী) ও এই সনদকে অধিক সহীহ মনে করেন।

2683। ইয়াযীদ ইবনু সালামা (রাঃ) বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি তো আপনার নিকট হতে অনেক হাদীস শুনেছি। এখন আমার ভয় হয় যে, পরের হাদীসগুলো পূর্বের হাদীসগুলোকে ভুলিয়ে দিতে পারে। সুতরাং আপনি আমাকে এমন একটি বাক্য বলুন যার মধ্যে সব কিছু শামিল থাকবে। তিনি বলেনঃ তুমি যা জান সে ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলাকে ভয় কর। যঈফা (১৬৯৬) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটির সনদসূত্র মুত্তাসিল নয়। আমার মতে এটি মুরসাল হাদীস। আমার মতে ইবনু আশওয়াআ (রাহঃ) ইয়াযীদ ইবনু সালামা (রাঃ)-এর দেখা পাননি। ইবনু আশওয়াআ-এর নাম সাঈদ।

2684। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এমন দুটি স্বভাব আছে যা মুনাফিকের মধ্যে একত্রে সমাবেশ হতে পারে না (১) উত্তম চরিত্র ও (২) দ্বীনের সুষ্ঠ জ্ঞান। সহীহঃ মিশকাত তাহকীকু সানী (২১৯), সহীহাহ (২৭৮)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। এ হাদীসের ব্যাপারে খালাফ ইবনু আইয়ুবের সূত্র ব্যতীত আওফ (রাহঃ)-এর বর্ণনা হিসেবে আমাদের কিছু জানা নেই। মুহাম্মাদ ইবনুল আলা ব্যতীত আমি তার বরাতে অন্য কাউকে হাদীস বর্ণনা করতে দেখিনি। খালাফ ইবনু আইয়ুবের ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে আমার কিছু জানা নেই।

2685। আবূ উমামাহ্ আল-বাহিলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, দু'জন লোকের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ -এর নিকট আলোচনা করা হল। তাদের একজন আবিদ (সাধক) এবং অন্যজন আলিম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমাদের সাধারণ ব্যক্তির উপর আমার যতখানি মর্যাদা, ঠিক তেমনি একজন আলিমের মর্যাদা একজন আবিদের উপর। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ, তার ফেরেশতাগণ এবং আসমান-যমীনের অধিবাসীরা, এমনকি গর্তের পিপড়া এবং পানির মাছ পর্যন্ত সেই ব্যক্তির জন্য দু'আ করে যে মানুষকে কল্যাণকর জ্ঞান শিক্ষা দেয়। সহীহঃ মিশকাত, তাহকীকু সানী (২১৩), তা’লীকুর রাগীব (১/৬০)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব সহীহ। আমি আবূ আম্মার বলতে শুনেছি, কর্মতৎপর একজন জ্ঞানবান শিক্ষককে ঊর্ধ্বজগতে মহান বলে আখ্যায়িত করা হয়।

2686। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মু'মিন ব্যক্তি কখনো কল্যাণকর কথা শুনে জান্নাতে না যাওয়া পর্যন্ত তৃপ্তি পাবে না। যঈফ, মিশকাত (২১৬) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব।

2687। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রজ্ঞাপূর্ণ কথা মুমিনের হারানো ধন। সুতরাং সে যেখানেই তা পাবে, সে-ই হবে তার অধিকারী। অত্যন্ত দুর্বল, মিশকাত (২১৬) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধুমাত্র উপরোক্ত সূত্রেই এ হাদীস প্রসঙ্গে জেনেছি। ইবরাহীম ইবনুল ফাযল আল-মাখযুমী হাদীসশাস্ত্রে দুর্বল।

উৎস: Jami At Tirmidhi

WEBREATH · 11:11

«Should I not be a thankful servant?» — Sahih al-Bukhari

Breath is one for all: everyone lives by it, whoever they are and whatever they believe. Every day at 11:11 local time people stop for sixty seconds, breathe, and thank GOD for the breath — each in their own words, each within themselves. In that minute we are One Breath.

WEBREATH — the Minute at 11:11, your own local time — we are One Breath