হাদিস
ফিরে যান

জামে আত-তিরমিযী 34 · Chapters On Dreams

আপনার ভাষায় এখনো কোনো অনুবাদ নেই — ইংরেজি দেখাচ্ছে

2270। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামত নিকটবর্তী সময়ে মু'মিনদের স্বপ্ন খুব কমই মিথ্যা হবে। তাদের মধ্যে বেশি সত্যবাদীর স্বপ্নও তদনুরূপ সত্য হবে। মুমিনের স্বপ্ন হলো নাবুওয়াতের ছিচল্লিশ ভাগের একভাগ। আর স্বপ্ন তিন প্রকারঃ (১) ভাল স্বপ্ন হলো আল্লাহ্ তা'আলার নিকট হতে সুসংবাদস্বরূপ। (২) আরেক প্রকার স্বপ্ন হলো শাইতানের নিকট হতে মুমিনের জন্য দুশ্চিন্তাস্বরূপ। (৩) আরেক প্রকার স্বপ্ন হলো মানুষের মনের চিন্তা-ভাবনা (সে যা চিন্তা করে তা-ই স্বপ্নে দেখে)। অতএব, তোমাদের কেউ যদি অপছন্দনীয় কোন স্বপ্ন দেখে তাহলে সে যেন উঠে যায় এবং (বাম দিকে) থুথু ফেলে এবং তা লোকের নিকট না বলে। বর্ণনাকারী বলেন, আমি স্বপ্নে (পায়ে) শৃঙ্খল দেখা পছন্দ করি; কিন্তু (গলদেশে) শৃঙ্খল দেখা অপছন্দ করি। (পায়ে) শিকলের তাৎপর্য হলো ধর্মের উপর স্থিতিশীল। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

2271। উবাদা ইবনুস সামিত (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মু’মিন ব্যক্তির স্বপ্ন হলো নাবূওয়াতের ছিচল্লিশ ভাগের একভাগ। সহীহ বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, আবূ হুরাইরা, আবূ রাযীন আল-উকাইলী, আবূ সাঈদ, আবদুল্লাহ ইবনু আমর, আওফ ইবনু মালিক, ইবনু উমার ও আনাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। উবাদা (রাঃ)-এর বর্ণিত হাদীসটি সহীহ।

2272। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রিসালাত ও নাবুওয়াতের ধারাবাহিকতা অবশ্যই সমাপ্ত হয়ে গেছে। অতএব, আমার পরে আর কোন রাসূলও প্রেরিত হবে না এবং নবীও আসবে না। বর্ণনাকারী বলেন, বিষয়টি জনগণের নিকট কঠিন মনে হলো। তারপর তিনি বললেনঃ তবে মুবাশশিরাত অব্যাহত থাকবে। সাহাবীগণ প্রশ্ন করেন, হে আল্লাহ্র রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! মুবাশশিরাত কি? তিনি বললেন, মুসলিমের স্বপ্ন। আর তা নাবুওয়াতের অংশসমূহের একটি অংশ। সনদ সহীহ। আবূ ঈসা বলেন, আবূ হুরাইরা, হুযাইফা ইবনু আসীদ, ইবনু আব্বাস উম্মু কুরয ও আবূ আসীদ (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ, তবে এ সূত্রে মূখতার ইবনু ফুলফুলের রিওয়ায়াত হিসাবে গারীব।

2273। জনৈক মিসরীয় ব্যক্তি হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি আবূদ দারদা (রাঃ)-কে আল্লাহ্ তা'আলার বাণীঃ “দুনিয়াবী জীবনে তাদের জন্য রয়েছে সুসংবাদ" (সূরাঃ ইউনুস-৬৪) প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলাম। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করার পর হতে আজ পর্যন্ত শুধুমাত্র তুমি ও অপর এক ব্যক্তি ব্যতীত আর কেউ আমাকে প্রশ্ন করেনি। আমি এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেনঃ এই আয়াত নাযিলের পর হতে আজ পর্যন্ত আমাকে তুমি ব্যতীত আর কোন ব্যক্তি এ বিষয়ে প্রশ্ন করেনি। আর তা (বুশরা) হল সত্য স্বপ্ন যা মুসলিম ব্যক্তি দেখে বা তাকে দেখানো হয়। সহীহ, সহীহাহ (১৭৮৬), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, উবাদাহ্ ইবনুস সামিত (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান।

2274। আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ভোররাতের স্বপ্নই বেশী সত্য হয়। যঈফ, যঈফা

2275। উবাদা ইবনুস সামিত (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আল্লাহ তা'আলার বাণীঃ “দুনিয়াবী জীবনে তাদের জন্য রয়েছে সুসংবাদ" প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেনঃ তা হলো সৎ স্বপ্ন, যা মু'মিন ব্যক্তি দেখে বা তাকে দেখানো হয়। সহীহ, সহীহাহু (১৭৮৬)। বর্ণনাকারী হারব তার সনদ সূত্রে এভাবে বলেছেনঃ ইয়াহইয়া ইবনু কাসীর আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান।

2276। আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি স্বপ্লের মধ্যে আমাকে দেখতে পেয়েছে সে আমাকেই দেখতে পেয়েছে। কেননা, শাইতান আমার রূপ (সাদৃশ্য) ধারণ করতে পারে না। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩৯০০)। আবূ ঈসা বলেন, আবূ হুরাইরা, আবূ কাতাদা, ইবনু আব্বাস, আবূ আবূ বাকরা ও আবূ সাইদ, জাবির, আনাস, আবূ মালিক আল-আশজাঈ তার পিতার সুত্রে, আবূ বকরা ও জুহাইফা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

2277। আবূ কাতাদা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ভাল স্বপ্ন আসে আল্লাহ্ তা'আলার পক্ষ হতে এবং মন্দ স্বপ্ন আসে শাইতানের পক্ষ হতে। কাজেই কেউ যদি স্বপ্নে অপছন্দনীয় কিছু দেখতে পায় তাহলে সে যেন তার বামদিকে তিনবার থুথু ফেলে এবং এর অকল্যাণ হতে আল্লাহ তা'আলার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করে। তাহলে তাতে তার কোন ক্ষতি হবে না। সহীহ, বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনু আমর, আবূ সাঈদ, জাবির ও আনাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

2278। আবূ রাযীন আল-উকাইলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুমিনের স্বপ্ন নাবুওয়াতের চল্লিশ ভাগের একভাগ। স্বপ্নের ব্যাপারে যে পর্যন্ত আলোচনা করা না হয় সে পর্যন্ত এটা পাখির পায়ে (ঝুলে) থাকা জিনিসের মতো। আলোচনা করার সাথে সাথে তা যেন পা হতে পড়ে গেল। বর্ণনাকারী বলেন, আমার মনে হয়, তিনি এ কথাটুকুও বলেছেনঃ আর স্বপ্ন দ্রষ্ঠা ব্যক্তি যেন জ্ঞানী ব্যক্তি অথবা পছন্দনীয় ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কারো নিকট স্বপ্নের ব্যাপারে আলোচনা না করে। সহীহ, সহীহাহ (১২০), মিশকাত তাহকীক ছানী (৪৬২২)।

2279। আবূ রাযীন (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুসলিমের স্বপ্ন নাবুওয়াতের ছিচল্লিশ ভাগের একভাগ। স্বপ্নদ্রষ্টা এ প্রসঙ্গে (কারো সাথে) আলোচনা না করা পর্যন্ত তা পাখির পায়ে ঝুলন্ত জিনিসের অনুরূপ। আর যখনই সে এটা আলোচনা করে তখনই তা ছিটকে পড়ে যায়। সহীহ, দেখুন পূর্বের হাদীস। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আবূ রাযীন আল-উকাইলী (রাঃ)-এর নাম লাকীত ইবনু আমির। এ হাদীসটি ইয়ালা ইবনু আতার সূত্রে হাম্মাদ ইবনু সালামা বর্ণনা করতে গিয়ে ওয়াকীর বাবার নাম ‘হুদুস উল্লেখ করেছেন। কিন্তু ইয়ালা ইবনু আতার সূত্রে শুবা, আবূ আওয়ানা ও দুশাইম (রাহঃ) বর্ণনা করতে গিয়ে তার বাবার নাম “উদুস” উল্লেখ করেছেন এবং এটিই অনেক বেশি সহীহ।

2280। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ স্বপ্ন তিন প্রকারঃ (১) সত্য স্বপ্ন, (২) বান্দার মনের চিন্ত-ভাবনা (যা চিন্তা করে তাই স্বপ্নে দেখে) ও (৩) শাইতানের পক্ষ হতে ভীতি প্রদর্শনমূলক কিছু। অতএব, কেউ যদি অপছন্দনীয় কোন কিছু স্বপ্নে দেখে তাহলে সে যেন ঘুম হতে জেগে নামায আদায় করে। আর তিনি বলতেন, স্বপ্নে (পায়ে) শৃংখল দেখা আমার পছন্দনীয় এবং (গলায়) শৃংখল দেখা অপছন্দনীয়। (পায়ে) শৃংখলের ভাবার্থ হচ্ছে দ্বীনের উপর সুদৃঢ় থাকার ইঙ্গিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলতেনঃ যে আমাকে স্বপ্নে দেখলো তা সত্যিই আমি। কেননা, শাইতান আমার রূপ (সাদৃশ্য) ধারণ করতে পারে না। তিনি আরো বলতেনঃ জ্ঞানী ব্যক্তি অথবা শুভাকাংখী ব্যক্তি ব্যতীত আর কোন ব্যক্তির কাছে স্বপ্নের কথা প্রকাশ করবে না। সহীহ, সহীহাহ (১১৯, ১২০, ১৩৪১), রাওযুন নায়ীর (১১৬২)। আবূ ঈসা বলেন, আনাস, আবূ বাকরা, উম্মুল আলা, ইবনু উমার, আইশা, আবূ মূসা, জাবির, আবূ সাঈদ ইবনু আব্বাস ও আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদিসটি হাসান সহীহ।

2281। আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে আমি বর্ণনা করছি যে, তিনি বলেছেনঃ মনগড়া (মিথ্যা) স্বপ্ন বর্ণনাকারীকে কিয়ামতের দিন যবের দানায় গিট লাগাতে বাধ্য করা হবে। সহীহ, সহীহাহ (২৩৫৯)।

2282। উপরোল্লেখিত হাদীসের অনুরূপ কুতাইবা-আবূ আওয়ানা হতে, তিনি আলী (রাঃ) হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসটি হাসান। ইবনু আব্বাস, আবূ হুরাইরা, আবূ শুরাইহ ও ওয়াসিলা ইবনুল আসকা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেন, পূর্বোক্ত হাদিসের সনদসুত্রের চেয়ে এইসনদসুত্রটি অনেক বেশি সহীহ।

2283ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মনগড়া (মিথ্যা) স্বপ্ন বর্ণনাকারীকে কিয়ামতের দিন দুটি যবের দানায় গিট লাগাতে বাধ্য করা হবে; আর সে তাতে গিট লাগাতে সক্ষম হবে না। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩৯১৬), বুখারী। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

2284। আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ কোন এক সময় আমি ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলাম, এ সময় আমার সামনে এক পেয়ালা দুধ নিয়ে আসা হলো। আমি তা হতে পান করলাম এবং বাকী টুকু উমার ইবনুল খাত্তাবকে দিলাম। লোকেরা প্রশ্ন করল, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। আপনি এর কি তাবীর (ব্যাখ্যা) করেন? তিনি বললেনঃ জ্ঞান। সহীহ, তা’লীকাত আল-হাস্সান (৬৮১৫, ৬৮৩৯), বুখারী, মুসলিম। আবদুল্লাহ ইবনু সালাম, খুযাইমা, তুফাইল ইবনু সাখবারা, আবূ উমামা ও জাবির (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু উমার (রাঃ)-এর বর্ণিত হাদীসটি সহীহ।

2285। আবূ উমামা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জনৈক সাহাবীর সূত্রে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন একদিন আমি ঘুমন্ত অবস্থায় (স্বপ্নে) দেখতে পাই যে, জামা পরিহিত লোকদেরকে আমার সামনে হাযির করা হচ্ছে। তাদের কারো জামা বুক পর্যন্ত এবং কারো জামা তার নীচে পর্যন্ত। তখন উমারকে আমার সামনে হাযির করা হলো এবং তার পরনে ছিল লম্বা পোশাক, যা সে হেঁচড়িয়ে চলছিল। লোকেরা প্রশ্ন করল, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আপনি এর কি তাবীর (ব্যাখ্যা) করেন? তিনি বললেনঃ এর দ্বারা দ্বীন বুঝানো হয়েছে। সহীহ, বুখারী, মুসলিম।

2286। পূর্বোক্ত হাদীসের মতো হাদীস আবদ হুমাইদ-ইয়াকুব ইবনু ইবরাহীম ইবনু সা’দ হতে, তিনি তার বাবা হতে, হতে, তিনি আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং এই সনদসূত্রটি অনেক বেশি সহীহ।

2287। আবূ বাকরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, কোন একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রশ্ন করলেন, তোমাদের মধ্যে কে স্বপ্ন দেখেছে? জনৈক ব্যক্তি বলল, আমি স্বপ্নে দেখি যে, আকাশ হতে একটি দাড়িপাল্লা নেমে এলো। তারপর আপনাকে ও আবূ বাকরকে ওজন করা হলো। আবূ বাকরের চেয়ে আপনার ওজন ভারী হলো। তারপর আবূ বাকর ও উমারকে ওজন দেয়া হলো এবং তাতে আবূ বাকরের ওজন বেশি হলো। তারপর উমার ও উসমানকে ওজন দেয়া হলো এবং তাতে উমারের ওজন বেশি হলো। তারপর দাড়িপাল্লা উঠিয়ে নেয়া হলো। এমন সময় আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেহারায় অসন্তুষ্টির ভাব লক্ষ্য করলাম। সহীহ, মিশকাত, তাহকীক ছানী (৬০৫৭)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

2288। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ওয়ারাকা ইবনু নাওফল প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হয় (তিনি কি জান্নাতী না জাহান্নামী)। খাদীজা (রাঃ) তাকে বলেন, তিনি তো আপনাকে সত্য বলে সমর্থন করেছিলেন এবং আপনার নবুওয়াত প্রকাশের পূর্বেই মারা যান। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি তাকে সাদা পোশাক পরে থাকা অবস্থায় স্বপ্নে দেখেছি। তিনি জাহান্নামী হলে তার পরিধানে অন্য রংয়ের পোশাক থাকত। যঈফ, মিশকাত (৪৬২৩) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। আর হাদীস বিশারদদের মতে উসমান ইবনু আবদুর রহমান খুব একটা মজবুত রাবী নন।

2289। আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, আবূ বাকর (রাঃ) ও উমর (রাঃ) এর সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্বপ্ন দেখা প্রসঙ্গে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি জনগণকে সমবেত হতে দেখলাম। আবূ বকর এক বালতি কি দুই বালতি পানি তুললো। তার মধ্যে সামান্য দুর্বলতা ছিল। আল্লাহ তা'আলা তাকে ক্ষমা করুন। তারপর উমার দাড়ালো এবং পানি তুলতে লাগল। বালতিটি বেশ বিরাট আকার ধারণ করল। তার মতো করে কোন শক্তিশালী ব্যক্তিকে আমি কাজ করতে দেখিনি। আর সে এত পানি তুললো যে, লোকেরা তাদের উটের পানির চৌবাচ্চা পূর্ণ করে নিল। সহীহ, বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি সহীহ, তবে ইবনু উমর (রাঃ)-এর রিওয়ায়াত হিসাবে গারীব।

2290আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্বপ্ন দর্শন প্রসঙ্গে তিনি বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ আমি এলোমেলো চুল ওয়ালা এক কালো মহিলাকে মদীনা হতে বের হয়েমাহইয়াআহ-তে গিয়ে দাঁড়াতে দেখেছি। মাহইয়াআহ হলো জুহফা। তারপর আমি এর ব্যাখ্যা করেছি যে, মাদীনার মহামারী জুহফাতে স্থানান্তরিত হলো। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩৯২৪), বুখারী। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি সহীহ গারীব।

2291। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শেষ যামানায় মুমিনের স্বপ্ন খুব কমই মিথ্যা হবে। তাদের মধ্যে অধিক সত্যবাদীর স্বপ্নই বেশি সত্য হবে। স্বপ্ন তিন প্রকারঃ (১) ভাল স্বপ্ন, যা আল্লাহ্ তা'আলার পক্ষ হতে সুসংবাদ, (২) স্বপ্লের আকারে ব্যক্তির মনের চিন্তা-ভাবনা ও (৩) শাইতানের পক্ষ হতে দুশ্চিন্তায় ফেলার স্বপ্ন। কাজেই তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি যদি অপছন্দনীয় কিছু স্বপ্নে দেখে তাহলে সে যেন তা অন্যের নিকট প্রকাশ না করে বরং সে যেন তখন উঠে গিয়ে নামায আদায় করে। আবূ হুরাইরা (রাঃ) বলেন, (স্বপ্নে পায়ে) শৃংখল দেখা আমার পছন্দনীয় এবং গলায় শৃংখল দেখা অপছন্দনীয়। (পায়ে) শৃংখল দেখা হলো দ্বীনের উপর সুদৃঢ়তার প্রতীক। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুমিনের স্বপ্ন নাবুওয়াতের ছিচল্লিশ ভাগের একভাগ। সহীহ, দেখুন ২২৮০ নং হাদীস। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি আবদুল ওয়াহহাব আস-সাকাফী (রাহঃ) আইয়ূব (রাহঃ) হতে মারফুরূপে বর্ণনা করেছেন। আর তা হাম্মাদ ইবনু যাইদ (রাহঃ) আইয়ূব (রহঃ) হতে মাওকুফরূপে বর্ণনা করেছেন।

2292। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি কোন একদিন স্বপ্নে দেখলাম যে, আমার হাতে যেন দুটি স্বর্ণের চুড়ি। বিষয়টি আমাকে চিন্তিত করে তুললো। তারপর আমার নিকট ওয়াহী প্রেরিত হলো যে, আমি যেন ঐ দুটিতে ফুঁ দেই। আমি দুটিতে ফুঁ দেয়ার পর তা উড়ে চলে গেল। আমি চুড়ি দুটির এই ব্যাখ্যা করলাম যে, আমার পরে দুইজন মিথ্যাবাদী (নাবুওয়াতের দাবিদার) আত্মপ্রকাশ করবে। তারা হলোঃ মুসাইলামা নামে ইয়ামামার অধিবাসী এবং আল-আনাসী নামে সানআর (ইয়ামানের রাজধানী) অধিবাসী। সহীহ, বুখারী। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদিসটি সহীহ হাসান গারীব।

2293। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আবূ হুরাইরা (রাঃ) হাদীস বর্ণনা করতেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে কোন একজন লোক এসে বলল, আমি আজ রাতে একটি ছায়াযুক্ত মেঘ স্বপ্নে দেখতে পেয়েছি এবং তা হতে ঘি ও মধু ঝরে পড়ছে। লোকদের দেখলাম যে, তারা হাতে তুলে তা পান করছে। কেউ বেশি পাচ্ছে এবং কেউ অল্প। আমি আরো দেখতে পেলাম যে, আকাশ হতে মাটি পর্যন্ত একটি রশি ঝুলছে। হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। আপনাকে দেখলাম যে, আপনি সেটা ধরে উপরে উঠে গেছেন, তারপর আরেকজন সেটা ধরে উঠে গেছে, তারপর আরেকজন ধরল এবং সেও উঠে গেল। তারপর অপর একজন ধরলে সেটা ছিড়ে গেল। আবার সেটা জোড়া লেগে গেল এবং সেও তা ধরে উঠে গেল। আবূ বাকর (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। আমার পিতা-মাতা আপনার প্রতি কুরবান হোক। আল্লাহর শপথ! আমাকে এ স্বপ্নের ব্যাখ্যা করতে দিন। তিনি বললেনঃ ঠিক আছে, এর তাবীর (ব্যাখ্যা) কর। আবূ বাকর (রাঃ) বললেন, ছায়াযুক্ত মেঘ হলো ইসলামের ছায়া, পতিত ঘি ও মধু হলো কুরআনের কোমলতা, সুমিষ্টতা ও মাধুর্য। আর বেশি ও কম লাভকারী হল কুরআন হতে বেশি ও কম লাভকারী। আকাশ হতে যমীন পর্যন্ত ঝুলন্ত রশি হলো সেই মহাসত্য যার উপর আপনি প্রতিষ্ঠিত। আপনি তা ধরে আছেন, আপনাকে এর মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলা উপরে তুলে নিয়েছেন। তারপর সেটা আরেকজন ধারণ করবেন এবং তিনিও উপরে উঠে যাবেন। তারপর আরেকজন তা ধরবেন এবং তিনিও উপরে উঠে যাবেন। তারপর আরেকজন তা ধরবেন এবং রশি ছিড়ে যাবে। আবার তা জোড়া লাগবে এবং তিনিও উপরে উঠে যাবেন। হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলুন, আমি সঠিক বলেছি না তাতে ভুল করেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সামান্য তো সঠিকই বলেছ আর সামান্য ভুল বলেছ। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর কসম! আপনার প্রতি আমার পিতা-মাতা কুরবান হোক। আপনি আমাকে বলুন আমি কোথায় ভুল করেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কসম দিয়ে বলো না। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩৯১৮), বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বললেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

2294। সামুরা ইবনু জুনদাব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে নিয়ে ফজরের নামায আদায়ের পর লোকদের দিকে মুখ ফিরিয়ে প্রশ্ন করতেনঃ আজ রাতে তোমাদের মধ্যে কেউ কোন স্বপ্ন দেখেছে কি? সহীহ, তা’লীকুর রাগীব (১/১৯৮-১৯৯), বুখারী। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। কিন্তু এ হাদীসটি আওফ ও জারীর ইবনু হাযিম হতে আবূ রাজা এর সূত্রে সামুরা (রাঃ) এর বরাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে দীর্ঘ আকারে বর্ণিত আছে। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রাহঃ) ওয়াহব ইবনু জারীর (রাহঃ) হতে সংক্ষিপ্ত আকারে আমাদের নিকট এই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

উৎস: Jami At Tirmidhi

WEBREATH · 11:11

«Should I not be a thankful servant?» — Sahih al-Bukhari

Breath is one for all: everyone lives by it, whoever they are and whatever they believe. Every day at 11:11 local time people stop for sixty seconds, breathe, and thank GOD for the breath — each in their own words, each within themselves. In that minute we are One Breath.

WEBREATH — the Minute at 11:11, your own local time — we are One Breath