জামে আত-তিরমিযী 26 · The Book on Drinks
আপনার ভাষায় এখনো কোনো অনুবাদ নেই — ইংরেজি দেখাচ্ছে
1861। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সকল প্রকারের নেশা সৃষ্টিকারী দ্রব্য মদের অন্তর্ভুক্ত এবং সকল নেশা সৃষ্টিকারী দ্রব্যই হারাম। পৃথিবীতে যে লোক মদ পান করে এবং মদ পানে আসক্ত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে সে পরকালে তা পান করতে পারবে না। সহীহ, ইরওয়া (৮/৪১) আবূ হুরাইরা, আবূ সাইদ, আবদুল্লাহ ইবনু আমর, ইবনু আব্বাস, উবাদা ও আবূ মালিক আল-আশআরী (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন। নাফি হতে ইবনু উমারের বরাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখিত হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। এ হাদীসটি মালিক ইবনু আনাস (রাহঃ) নাফি হতে ইবনু উমারের সূত্রে মাওকুফভাবে বর্ণনা করেছেন, মারফুভাবে নয়।
1862। আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মদ পানকারী ব্যক্তির চল্লিশ দিনের নামায কুবুল করা হয় না। সে তাওবা করলে তবে আল্লাহ তা'আলা তার তাওবা কুবুল করেন। যদি আবার সে মদ পান করে তাহলে আল্লাহ তা'আলা তার চল্লিশ দিনের নামায কুবুল করেন না। যদি সে তাওবা করে তাহলে আল্লাহ তা'আলা তার তাওবা গ্রহণ করেন। সে যদি আবার মদ পানে লিপ্ত হয় তাহলে তার চল্লিশ দিনের নামায আল্লাহ তা'আলা গ্রহণ করেন না। যদি সে তাওবা করে আল্লাহ তা'আলা তার তাওবা কবুল করেন। সে চতুর্থ বারে মদ পানে জড়িয়ে পড়লে আল্লাহ তা'আলা তার চল্লিশ দিনের নামায গ্রহণ করেন না। যদি সে তাওবা করে আল্লাহ তা'আলা তার তাওবা কুকূল করবেন না এবং তাকে 'নাহরুল খাবাল হতে পান করাবেন। প্রশ্ন করা হল, হে আবূ আবদুর রাহমান (ইবনু উমার) খাবাল নামক ঝর্ণাটি কি? তিনি বললেন, জাহান্নামীদের পূজের ঝর্ণা। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩৩৭৭) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান বলেছেন। আবদুল্লাহ ইবনু আমর এবং আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)-ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে একইরকম বর্ণনা করেছেন।
1863। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, মধু দ্বারা বানানো মদ সম্বন্ধে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেনঃ সকল প্রকারের নেশা সৃষ্টিকারী পানীয়ই হারাম। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩৩৮৬), বুখারী ও মুসলিম আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
1864। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ সকল প্রকারের নেশা সৃষ্টিকারী দ্রব্যই হারাম। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩৩৮৭), মুসলিম উমার, আলী, ইবনু মাসউদ, আনাস, আবু সাইদ, আবু মুসা, আশাজজুল আ'সারী, দাইলাম, মাইমূনা, ইবনু আব্বাস, কাইস ইবনু সাদ, নুমান ইবনু বাশীর, মুআবিয়া, ওয়াইল ইবনু হুজর, কুররাতুল মুযানী, আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল, উম্মু সালামা, বুরাইদা, আবূ হুরাইরা ও আইশা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান বলেছেন। আবূ সালামা হতে আবূ হুরাইরা (রাঃ)-এর বরাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতেও একইরকম বর্ণিত হয়েছে। দুটো রিওয়ায়াতই সহীহ। একাধিক বর্ণনাকারী মুহাম্মাদ ইবনু আমরের সূত্রে, তিনি আবূ সালামার সূত্রে, তিনি আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে একইরকম বর্ণনা করেছেন। আবূ সালামা হতে ইবনু উমর (রাঃ)-এর বরাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সূত্রেও হাদীসটি বর্ণিত আছে।
1865। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে দ্রব্যের বেশি পরিমাণ (পান করলে) নেশার সৃষ্টি করে, তার অল্প পরিমাণও (পান করা) হারাম। হাসান সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩৩৯৩) সা'দ, আইশা, আবদুল্লাহ ইবনু আমর, ইবনু উমার ও খাওওয়াত ইবনু জুবাইর (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। জাবির (রাঃ)-এর বর্ণিত হাদীস হিসেবে এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান গারীব
1866। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সকল প্রকার নেশা সৃষ্টিকারী দ্রব্য হারাম। যে দ্রব্যের এক ফারাক (মশক) পরিমাণ (পানে) নেশা সৃষ্টি হয় তার এক আজল পরিমাণও হারাম। সহীহ, ইরওয়া (২৩৭৬) আবূ ঈসা বলেন, অপর বর্ণনায় আছে, তার এক ঢোক পরিমাণও হারাম। এ হাদীসটি হাসান সহীহ। মাহদী ইবনু মাইমূনের হাদীসের মতো লাইস ইবনু আবৃ সুলাইম ও আর-রাবী ইবনু সাবীহ-আবৃ উসমান আল-আনসারী হতে বর্ণনা করেছেন। আবূ উসমান আল-আনসারীর নাম আমর ইবনু সালিম, তাকে উমার ইবনু সালিমও বলা হয়।
1867। তাউস (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, ইবনু উমার (রাঃ)-এর নিকট একজন লোক এসে প্রশ্ন করল, সবুজ কলসে বানানো নবীয পান করতে কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তাউস (রাহঃ) বলেন, আল্লাহ্ তা'আলার শপথ! আমি এটা ইবনু উমার (রাঃ)-এর নিকটেই শুনেছি। সহীহ, মুসলিম ইবনু আবী আওফা, আবূ সাঈদ, সুয়াইদ, আইশা, ইবনুয যুবাইর ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীসটি বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
1868। আমর ইবনু মুররা (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি যাযানকে বলতে শুনেছি, ইবনু উমার (রাঃ)-কে আমি প্রশ্ন করলাম, কোন কোন ধরণের পাত্র ব্যবহার করতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বারণ করেছেন এ বিষয়ে আমাকে আপনাদের ভাষায় জানিয়ে দিন এবং তা আমাদের ভাষায় ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে দিন। তিনি বললেন, ৱাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘হানতামাহ’ ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন। এটা মাটি দ্বারা বানানো এক প্রকার সবুজ কলস। সুব্বা ব্যবহার করতেও তিনি নিষেধ করেছেন। এটা কদুর খোল দ্বারা ৱানানো পাত্রবিশেষ। তিনি ‘নাকীর’-এর ব্যবহারকেও নিষেধ করেছেন। এটা খেজুর গাছের মূল-কাণ্ড খুঁড়ে বানানো কাঠের পাত্রবিশেষ। তিনি মুযাফফাত ব্যবহার করতেও নিষেধ করেছেন। এটা আলকাতরার প্রলেপযুক্ত পাত্রবিশেষ। তিনি মশকের মধ্যে নবীয বানানোর আদেশ করেছেন। সহীহ, সহীহা (২৯৫১), মুসলিম উমার, আলী, ইবনু আব্বাস, আবূ সাঈদ, আবূ হুরাইরা, আবদুর রাহমান ইবনু ইয়ামার, সামুরা, আনাস, আইশা, ইমরান ইবনু হুসাইন, আইয ইবনু আমর, হাকাম আল-গিফারী ও মাইমূনা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
1869। সুলাইমান ইবনু বুরাইদা (রহঃ) হতে তার বাবার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি (বুরাইদা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি এসব পাত্র কাজে লাগাতে তোমাদেরকে নিষেধ করেছিলাম। প্রকৃতপক্ষে পাত্র কোন জিনিসকে হালালও করতে পারে না এবং হারামও করতে পারে না। তবে সকল প্রকারের নেশা সৃষ্টিকারী জিনিসই হারাম। সহীহ, তা’লীক আলা ইবনি মা-জাহ, মুসলিম এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
1870। জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদের পাত্রসমূহ ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন। আনসারগণ তার কাছে কিছু অসুবিধার কথা তুলে ধরে বলেন, আমাদের আর কোন পাত্র নেই। তিনি বললেনঃ আচ্ছা! তাহলে (এগুলো ব্যবহার করতে) আপত্তি নেই। সহীহ, বুখারী এ অনুচ্ছেদে ইবনু মাসউদ, আবূ হুরাইরা, আবূ সাঈদ ও আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
1871। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমরা মশকের মধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য নবীয (খেজুরের শরবত) বানাতাম। এর উপরিভাগে যে ছিদ্র ছিল দড়ি দ্বারা তা বেঁধে দেওয়া হত। আমরা সকালে তার জন্য নবীয বানাতাম। তিনি রাতে তা পান করতেন। আবার তার জন্য আমরা রাতে নবীয বানাতাম। তিনি ভোরে তা পান করতেন। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩৩৯৮) জাবির, আবূ সাঈদ ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান গারীব বলেছেন। আইশা হতে ইউনুসের হাদীস হিসেবে এই সূত্র ব্যতীত অন্য কোন সূত্রে জানতে পারিনি।
1872। নুমান ইবনু বাশীর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মদ বানানো হয় গম দিয়ে, মদ বানানো হয় যব দিয়ে, মদ বানানো হয় খেজুর দিয়ে, মদ বানানো হয় আঙ্গুর দিয়ে এবং মদ বানানো হয় মধু দিয়ে। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩৩৭৯) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা গরীব বলেছেন।
1873। হাসান ইবনু আলী আল-খাল্লাল-ইয়াহইয়া ইবনু আদম হতে তিনি ইসরাঈল (রহঃ) হতে উপরের বর্ণিত হাদীসের মতোই হাদীস বর্ণনা করেছেন। সহীহ, ইবনু মা-জাহ
1874। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, গম দিয়ে মদ উৎপাদন করা হয়... উপরের হাদীসের মতোই পরের বর্ণনা। সহীহ, দেখুন পূর্বের হাদিস। ইবরাহীম ইবনু মুহাজিরের বর্ণনার চাইতে এ বর্ণনাটি অনেক বেশি সহীহ। আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ বলেছেন, ইবরাহীম ইবনু মুহাজির তেমন বলিষ্ঠ বর্ণনাকারী নন। এ হাদীসটি একাধিক সূত্রে নুমান ইবনু বাশীরের বরাতেও শা'বী হতে বর্ণিত আছে।
1875। আবূ হুরাইরা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দুইটি গাছের ফল দিয়ে মদ বানানো হয়— খেজুর ও আঙ্গুর। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩৩৭৮), মুসলিম এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। আবূ কাসীর আস-সুহাইমী আল-গুবারী হিসাবেও পরিচিত। তার নাম ইয়াযীদ ইবনু আবদুর রাহমান ইবনু গুফাইলা। ইকরিমা ইবনু আম্মার হতে শুবা এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
1876। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, কাঁচা ও পাকা খেজুর একসাথে মিশিয়ে নবীয বানাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩৩৯৫), বুখারী ও মুসলিম এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
1877। আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, (নবীয বানানোর উদ্দেশ্যে) কাঁচা ও পাকা খেজুর একসাথে মিশাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন। তিনি কিশমিশ ও পাকা খেজুর একসাথে মিশাতেও নিষেধ করেছেন। মাটির কলসে নবীয বানাতেও তিনি নিষেধ করেছেন। সহীহ, মুসলিম (৬/৮৮, ৯৪) জাবির, আনাস, আবূ কাতাদা, ইবনু আব্বাস, উম্মু সালামা (রাঃ) ও মাবাদ ইবনু কা'ব হতে তার মায়ের সূত্রে এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
1878হাকম (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, ইবনু আবী লাইলাকে আমি বর্ণনা করতে শুনেছি, হুযাইফা (রাঃ) পানি চাইলেন। একজন লোক তার জন্য রুপার পাত্রে পানি আনলেন। পাত্রটি তিনি ছুড়ে ফেলে দেন এবং বলেন, আমি এটা হতে তাকে বিরত থাকতে বলেছিলাম, কিন্তু সে বিরত থাকতে সম্মত হয়নি। স্বর্ণের অথবা রুপার পাত্রে পান করতে এবং রেশমী পোশাক পরতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন। তিনি আরো বলেছেনঃ এ সকল জিনিস তাদের (কাফিরদের) জন্য দুনিয়াতে এবং তোমাদের জন্য আখিরাতে। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩৪১৪), বুখারী ও মুসলিম উম্মু সালামা, বারাআ ও আইশা (রা) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
1879। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, যে কাউকে দাঁড়িয়ে থাকাবস্থায় পান করতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন। দাঁড়িয়ে খাওয়া-দাওয়া করার ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেনঃ এটাতো অত্যধিক খারাপ। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩৪২৪), মুসলিম এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
1880। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যামানায় আমরা হাঁটতে হাঁটতে খাবার খেতাম এবং দাড়িয়ে থাকাবস্থায় পানি পান করতাম। সহীহ, মিশকাত (৪২৭৫) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি সহীহ এবং উবাইদুল্লাহ ইবনু উমার-নাফি হতে, তিনি ইবনু উমর (রাঃ)-এর সূত্রে গারীব। এ হাদীসটি ইমরান ইবনু হুদাইর আবূল বাযারীর বরাতে ইবনু উমার হতে বর্ণনা করেছেন। আবূল বাযারীর নাম ইয়াযীদ, পিতা উতারিদ।
1881। আল-জারুদ ইবনুল মুআল্লা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাড়িয়ে থাকাবস্থায় পান করতে নিষেধ করেছেন। পূর্বের হাদীসের সহায়তায় সহীহ। আবূ সাঈদ, আবূ হুরাইরা ও আনাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীসটি বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান গারীব বলেছেন। এ হাদীসটি সাঈদ-কাতাদা হতে, তিনি আবূ মুসলিম হতে, তিনি আলজারুদ হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সূত্রে একাধিক বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন। কাতাদা-ইয়াযীদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনুশ শিখখীর হতে, তিনি আবূ মুসলিম হতে, তিনি জারুদ (রাঃ) হতে এই সূত্রে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “মুসলিমের হারানো বস্তু জাহান্নামের লেলিহান (অগ্নি) শিখা সমতুল্য"। জারূদ আল-মুআল্লা আল-আবদীর ছেলে। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একজন সাহাবী। তাকে আল-জারূদ ইবনুল আলাও বলা হয়। তবে ইবনুল মুআল্লাই সঠিক।
1882। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যমযমের পানি দাঁড়িয়ে থাকাবস্থায় পান করেছেন। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩৪২২) আলী, সাদ, আবদুল্লাহ ইবনু আমর ও আইশা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
1883। আমর ইবনু শুআইব (রাহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার বাবা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি (দাদা) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দাঁড়িয়ে ও বসে পান করতে দেখেছি। হাসান, মিশকাত (৪২৭৬), মুখতাসার শামা-ইল (১৭৭) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
1885। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা এক চুমুকে উটের মত পানি পান করো না; বরং দুই-তিনবারে (শ্বাস নিয়ে) পান কর। তোমরা যখন পান করবে আল্লাহ তা'আলার নাম নিবে (বিসমিল্লাহ বলবে) এবং যখন পান শেষ করবে তখন আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা করবে (আলহামদুলিল্লাহ বলবে)। যঈফ, মিশকাত, তাহকীক ছানী (৪২৭৮) আবূ ঈসা বলেছেন, এ হাদীসটি গারীব। ইয়াযীদ ইবনু সিনান আল-জাযারীর উপনাম আবূ ফরওয়া আর-রুহাবী।
1886। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন পান করতেন, দুইবার নিঃশ্বাস নিতেন। যঈফ, ইবনু মাজাহ (৩৪১৭) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধু রিশদীন ইবনু কুরাইবের সূত্রেই এ হাদীস প্রসঙ্গে জেনেছি। তিনি আরও বলেছেন, আমি আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ ইবনু আব্দুর রাহমানের নিকট রিশদীন প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলাম- রাবী হিসেবে রিশদীন ও মুহাম্মাদ ইবনু কুরাইবের মধ্যে কে বেশী শক্তিশালী? তিনি বললেন, এরা খুবই কাছাকাছি, তবে আমার মতে রিশদীন অগ্রগণ্য। তিনি আরও বলেছেন, আমি এ প্রসঙ্গে মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাইলকে প্রশ্ন করলে তিনি বললেন, রিশিদিনের তুলনায় মুহাম্মাদ অগ্রগণ্য। আবূ মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ ইবনু আব্দুর রহমানের মত আমার অভিমতও এই যে, তাদের উভয়ের মধ্যে রিশদীন বেশী অগ্রগণ্য ও প্রকৃষ্টতর। তিনি ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর দেখা পেয়েছেন। তারা উভয়ে সহোদর ভাই এবং তাদের অনেক মুনকার রিওয়ায়াতও আছে।
1887। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, পানীয় দ্রব্যের মধ্যে ফুঁ দিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন। একজন বলল, পানির পাত্রে ময়লা দেখতে পেলে? তিনি বলেনঃ তা ঢেলে ফেলে দাও। লোকটি বলল, আমি এক নিঃশ্বাসে তৃপ্ত হতে পারি না। তিনি বললেনঃ পাত্রটিকে নিঃশ্বাসের সময় তোমার মুখ হতে সরিয়ে রাখ। হাসান, সহীহাহ (৩৮৫) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
1888। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাত্রে নিঃশ্বাস ফেলতে এবং তাতে ফু দিতে বারণ করেছেন। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩৪২৯) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
1889। আবদুল্লাহ ইবনু আবী কাতাদা (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কোন ব্যক্তি পান করার সময় যেন পাত্রের মধ্যে নিঃশ্বাস না ছাড়ে। সহীহ, সহীহ আবূ দাউদ (২৩), বুখারী ও মুসলিম এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
1890। আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি মশকের মুখ উল্টা অবস্থায় রেখে তা হতে পানি পান করতে নিষেধ করেছেন। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩৪১৮), বুখারী ও মুসলিম জাবির, ইবনু আব্বাস ও আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
1891। ঈসা ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু উনাইস (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি (পিতা) বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি যে, তিনি একটি ঝুলন্ত মশকের দিকে উঠে যান এবং এর মুখ উল্টে ধরে তা থেকে পানি পান করেন। মুনকার, যঈফ আবূ দাউদ এ অনুচ্ছেদে উম্মু সুলাইম হতেও হাদীস বর্ণিত হয়েছে। আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসের সনদ সহীহ নয়। (অধঃস্তন রাবী) আবদুল্লাহ ইবনু উমারের স্মৃতিশক্তি দুর্বল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাছাড়া তিনি ঈসার নিকটে হাদীস শুনার সুযোগ পেয়েছেন কি-না তা আমি (তিরমিয়ী) জানি না।
1892। কাবশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘরে আসলেন। তিনি দাড়িয়ে থাকাবস্থায় একটি ঝুলন্ত মশকের মুখ হতে পানি পান করলেন। আমি পরে উঠে গিয়ে মশকের মুখের সেই অংশ (বারকাতের আশায়) কেটে রেখে দেই। সহীহ, মিশকাত (৪২৮১), মুখতাসার শামা-ইল (১৮২) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ গারীব বলেছেন। ইয়াযীদ ইবনু ইয়াযিদ ইবনু জাবির হলেন আব্দুর রাহমান ইবনু ইয়াযিদের সহোদর ভাই এবং তিনি তার আগে মৃত্যুবরণ করেন।
1893। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, পানি মিশানো দুধ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে হাযির করা হল। একজন বেদুঈন লোক ছিল তার ডান পাশে এবং আবূ বাকর (রাঃ) ছিলেন বাম পাশে। তা তিনি প্রথমে নিজে পান করলেন, তারপর বেদুঈনকে দিলেন এবং বললেনঃ প্রথমে ডান পাশের মানুষেরা পর্যায়ক্রমে অগ্রাধিকার পাবে। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩৪২৫), বুখারী ও মুসলিম ইবনু আব্বাস, সাহল ইবনু সাদ, ইবনু উমার ও আবদুল্লাহ ইবনু বুসর (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
1894। আবূ কাতাদা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ লোকদেরকে পানীয় পরিবেশনকারী সবার পান করা শেষে পান করবে। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩৪৩৪), মুসলিম ইবনু আবী আওফা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
1895। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঠাণ্ডা মিষ্টি শরবত বেশি পছন্দ করতেন। সহীহ, মিশকাত তাহকীক ছানী (৪২৮২), সহীহা (৩০০৬), মুখতাসার শামা-ইল (১৭৫) আবূ ঈসা বলেন, একাধিক বর্ণনাকারী ইবনু উয়াইনা হতে, তিনি মামার হতে, তিনি যুহরী হতে, তিনি উরওয়া হতে, তিনি আইশা (রাঃ) হতে এ হাদীসটি একইরকম বর্ণনা করেছেন। তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে যুহরীর সূত্রে মুরসাল বর্ণনাটিই সহীহ।
1896। যুহরী (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করা হল, কোন প্রকার পানীয় দ্রব্য বেশি ভাল? তিনি বললেনঃ ঠাণ্ডা মিষ্টি শরবত। সহীহ, দেখুন পূর্বের হাদীস আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি আবদুর রাযযাক (রাহঃ) মামার হতে, তিনি যুহরী হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সূত্রে একইভাবে মুরসালরূপে বর্ণনা করেছেন। এটি ইবনু উয়াইনার রিওয়ায়াতের চাইতে অনেক বেশি সহীহ।
উৎস: Jami At Tirmidhi
WEBREATH · 11:11
«Should I not be a thankful servant?» — Sahih al-Bukhari
Breath is one for all: everyone lives by it, whoever they are and whatever they believe. Every day at 11:11 local time people stop for sixty seconds, breathe, and thank GOD for the breath — each in their own words, each within themselves. In that minute we are One Breath.
WEBREATH — the Minute at 11:11, your own local time — we are One Breath