জামে আত-তিরমিযী 23 · The Book on Jihad
আপনার ভাষায় এখনো কোনো অনুবাদ নেই — ইংরেজি দেখাচ্ছে
1670। বারাআ ইবনু আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা আমার জন্য কাধের হাড় অথবা তক্তা আন। তিনি তাতে এই আয়াত লিখালেনঃ “মুমিনদের মধ্যে যেসব লোক ঘরে বসে থাকে তারা সমকক্ষ হতে পারে না”। আমর ইবনু উম্মি মাকতুম (রাঃ) তার পিছনে বসা ছিলেন। তিনি বললেন, আমার জন্য (ঘরে বসে থাকার) অনুমতি আছে কি? তখন অবতীর্ণ হলঃ “ক্ষতিগ্রস্থ মানুষ ব্যতীত”। সহীহ বুখারী (২৮৩১,৪৫৯৩,৪৫৯৪), মুসলিম (৬৪৩), তক্তা শব্দ ব্যতীত ইবনু আব্বাস, জাবির ও যাইদ ইবনু সাবিত (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আবূ ইসহাক হতে সুলাইমান আত-তাঈমীর সূত্রে গরীব। এ হাদীসটি আবূ ইসহাকের সূত্রে শুবা ও সুফিয়ান সাওরীও বর্ণনা করেছেন।
1671। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট একজন লোক এসে তার কাছে জিহাদে যোগদানের সম্মতি চাইল। তিনি বললেন তোমার মা-বাবা কি বেঁচে আছে? সে বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ তুমি তাদের সেবায় জিহাদ কর। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৭৮২), নাসা-ঈ ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ্। আবূল আব্বাস ছিলেন মক্কার অধিবাসী একজন অন্ধ কবি। তার নাম সাইব ইবনু ফাররূখ।
1672। ইবনু জুরাইজ (রহঃ) আল্লাহ তা'আলার বাণীঃ “তোমরা আল্লাহ্ তা'আলার আনুগত্য কর, রাসূলের আনুগত্য কর এবং তোমাদের সকল কাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদেরও” এই আয়াত প্রসঙ্গে বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু হুযাফা ইবনু কাইস ইবনু আদী আস-সাহমী (রাঃ) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে একটি অভিযানে প্রেরণ করেছিলেন। সহীহ, সহীহ আবূ দাউদ (২৩৫৯), নাসা-ঈ এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ গারীব বলেছেন। এ হাদীসটি আমরা শুধুমাত্র ইবনু জুরাইজের সূত্রেই জেনেছি।
1673ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ একাকী ভ্রমণে যে কি (অনিষ্ট) রয়েছে, তা আমি যে রকম জানি, অন্যরাও সে রকম জানলে কোন ভ্রমণকারীই রাতে একাকী ভ্রমণ করত না। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩৭৬৮), বুখারী
1674। আমর ইবনু শুআইব (রহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ একা ভ্রমণকারী এক শাইতান, দুইজন ভ্রমণকারী দুই শাইতান এবং তিনজন ভ্রমণকারী একটি জামা'আত। হাসান, সহীহা (৬৪), মিশকাত (৩৯১০), সহীহ আবূ দাউদ (২৩৪৬) ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। আমরা এ হাদীসটি শুধু উল্লেখিত সূত্রেই আসিমের রিওয়ায়াত হিসাবে জেনেছি। আসিমের বাবা মুহাম্মাদ, দাদা যাইদ, পরদাদা আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ)। ইমাম বুখারী (রাহঃ) বলেন, আসিম নির্ভরযোগ্য ও সত্যবাদী। আর আসিম ইবনু উমার আল-উমারী হাদীস শাস্ত্রে দুর্বল। আমি তার সূত্রে কোন হাদীস বর্ণনা করি না। আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটি হাসান।
1675। আমর ইবনু দীনার (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যুদ্ধ হল ধোকা। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৮৩৩, ২৮৩৪) আবূ ঈসা বলেন, আলী, জাইদ ইবনু সাবিত, আইশা, ইবনু আব্বাস, আবূ হুরাইরা, আসমা বিনতু ইয়াযীদ, কাব ইবনু মালিক ও আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছদে হাদিস বর্ণিত আছে। এ হাদিসটি হাসান সহিহ।
1676। আবূ ইসহাক (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি যাইদ ইবনু আরকাম (রাঃ)-এর পাশে উপস্থিত ছিলাম। তাকে প্রশ্ন করা হল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কয়টি যুদ্ধ করেছেন? তিনি বললেন, উনিশটি। আমি প্রশ্ন করলাম, আপনি কতটি যুদ্ধে তার সাথে ছিলেন? তিনি বললেন, সতেরটিতে। আমি বললাম, এর মধ্যে সর্বপ্রথম কোন যুদ্ধটি ছিল? তিনি বললেন, যাতুল উশাইর বা উশাইরার যুদ্ধ। সহীহ, নাসা-ঈ এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
1677। আবদুর রহমান ইবনু আওফ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদরের যুদ্ধে আমাদেরকে রাতের বেলা সারিবদ্ধভাবে বিন্যস্ত করেছেন। সনদ দুর্বল আবূ ঈসা বলেন, এ অনুচ্ছেদে আবূ আইউব (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু উপরোক্ত সনদসূত্রে এটি জেনেছি। আমি মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈলকে এ হাদীস প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে তিনি এ প্রসঙ্গে অজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক (রাহঃ) সরাসরি ইকরিমা হতে হাদীস শুনেছেন। তিরমিয়ী বলেন, আমি ইমাম বুখারীর সাথে আমার সর্বপ্রথম সাক্ষাতে লক্ষ্য করি যে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনু হুমাইদ আর-রায়ী প্রসঙ্গে ভাল ধারণা পোষণ করতেন। কিন্তু পরে তিনি তাকে দুর্বল রাবী বলে আখ্যায়িত করেন।
1678। ইবনু আবী আওফা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি মুশরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে তাকে অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দু’আ করার সময় বলতে শুনেছিঃ “হে আল্লাহ! কিতাব অবতীর্ণকারী এবং দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী শক্রবাহিনীকে পরাজিত কর এবং তাদেরকে ভীত-সন্ত্রস্ত কর”। সহীহ, সহীহ আবূ দাউদ (২৩৬৫), নাসা-ঈ আবূ ঈসা বলেন, ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
1679। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় প্রবেশ করেন এবং তার ক্ষুদ্র পতাকা ছিল সাদা রং-এর। হাসান, ইবনু মা-জাহ (৩৮১৭) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা গারীব বলেছেন। আমরা এ হাদীসটি শারীকের সূত্রে ইয়াহইয়া ইবনু আদমের নিকট হতেই জেনেছি। আমি এ হাদীস প্রসঙ্গে মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈলকে প্রশ্ন করলে তিনিও শুধু এই সূত্রটিই (শারীক-ইয়াহইয়া) উল্লেখ করেন। একাধিক বর্ণনাকারী পর্যায়ক্রমে শারীক, আম্মার, আবূয যুবাইর, তারপর জাবির (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় প্রবেশ করার সময় তার মাথায় ছিল কালো পাগড়ী”।ইমাম বুখারী (রাহঃ) বলেন, এটিই হল সেই হাদীস। আবূ ঈসা বলেন, দুহন হল বাজীলা গোত্রের একটি শাখা গোত্র। আম্মার আদ-দুহনীর উপনাম আবূ মুআবিয়া। তিনি ছিলেন কূফার অধিবাসী। হাদীস বিশারদদের মতে তিনি সিকাহ (নির্ভরযোগ্য) বর্ণনাকারী।
1680। মুহাম্মাদ ইবনুল কাসিমের মুক্তদাস ইউনুস ইবনু উবাইদ (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, মুহাম্মাদ ইবনুল কাসিম আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের (বড়) পতাকা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করার জন্য বারাআ ইবনু আযিব (রাঃ)-এর নিকট প্রেরণ করেন। বারাআ (রাঃ) বলেন, পতাকাটি ছিল কালো রং-এর, বর্গাকৃতির এবং পশমী কাপড়ের। “বর্গাকৃতির" শব্দটি ব্যতীত হাদীসটি সহীহ্ সহীহ আবূ দাউদ (২৩৩৩) আলী, হারিস ইবনু হাম্মান ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান গারীব বলেছেন। আমরা এ হাদীস প্রসঙ্গে শুধুমাত্র ইবনু আবী যাইদার সূত্রেই জেনেছি। আবূ ইয়াকুব আস-সাকাফীর নাম ইসহাক, পিতা ইবরাহীম। তার সূত্রে উবাইদুল্লাহ ইবনু মূসাও হাদীস বর্ণনা করেছেন।
1681। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রাইয়াহ (বড় পতাকা) ছিল কালো রং-এর এবং লিওয়া (ছোট পতাকা) ছিল সাদা রং-এর। হাসান, ইবনু মা-জাহ (২৮১৮) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি উল্লেখিত সনদসূত্রে ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর বর্ণনা হিসাবে হাসান গারীব।
1682। মুহাল্লাব ইবনু আবূ সুফরা (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি এমন একজনের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেনঃ যদি রাতের আঁধারে শত্রু বাহিনী তোমাদেরকে আক্রমণ করে তাহলে তোমরা এই সংকেত উচ্চারণ করঃ হা-মীম’, তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে না। সহীহ, মিশকাত তাহকীক ছানী (৩৯৪৮) আবূ ঈসা বলেন, সালামা ইবনুল আকওয়া (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। কতিপয় বর্ণনাকারী সুফিয়ান সাওরীর অনুরূপ আবূ ইসহাকের সূত্রেও বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসটি তার নিকট হতে মুহাল্লাব-এর বরাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সূত্রে মুরসালভাবেও বর্ণিত আছে।
1683। মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেনঃ আমি আমার তরবারি সামুরা (রাঃ)-এর তরবারির আকৃতিতে তৈরি করেছি। সামুরা (রাঃ) বলেন যে, তিনি তার তরবারি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তরবারির আদলে তৈরি করেছেন। তার তরবারি ছিল বানু হানীফ গোত্রের তরবারির মতই। যঈফ, মুখতাসার শামায়িল মুহাম্মাদীয়া (৮৮) আবূ ঈসা বলেছেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু উল্লেখিত সূত্রেই এ হাদীসটি জেনেছি। প্রখ্যাত হাদীস বিশারদ ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল-কাত্তান (রাহঃ) উসমান ইবনু সা’দ আল-কাতিবের স্মৃতির সমালোচনা করে তাকে স্মৃতির দিক হতে দুর্বল আখ্যায়িত করেছেন।
1684। আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের বছর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মাররায-যাহরান নামক জায়গায় পৌছলেন, তখন তিনি আমাদেরকে শত্রুর মুকাবিলা করার কথা জানিয়ে দিলেন। তিনি আমাদেরকে রোযা ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ দিলেন। তাই আমরা সবাই রোযা ভেঙ্গে ফেললাম। সহীহ, সহীহ আবূ দাউদ (২০৮১), মুসলিম এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। উমার (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
1685। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ তালহা (রাঃ)-এর মানদূব নামক ঘোড়ার উপর চড়ে রাওয়ানা করলেন। তিনি (বাইরে গিয়ে ভীতির কোন কারণ খুঁজে না পেয়ে ফিরে এসে) বললেনঃ ভয় পাওয়ার কোন কারণ নেই। আমি ঘোড়াটিকে অবশ্য সাগরের স্রোতের মতো বেগবান পেলাম। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৭৭২) আবূ ঈসা বলেন, ইবনু আমর ইবনুল আস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ্।
1686। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, একবার মাদীনার জনগণের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে পড়ে। আমাদের মানদূব নামক ঘোড়াটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ধার নিলেন। তিনি (বাইরে হতে ঘুরে এসে) বললেনঃ আমরা ভয় পাওয়ার কোন কারণ খুঁজে পেলাম না। আমরা অবশ্য ঘোড়াটিকে সমুদ্রের স্রোতের অনুরূপ বেগবান পেলাম। সহীহ, দেখুন পূর্বের হাদীস এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
1687। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন অত্যন্ত সুদর্শন, দানশীল ও সাহসী পুরুষ। আনাস (রাঃ) বলেন, মদীনাবাসীগণ এক রাতে একটি (বিকট) শব্দ শুনতে পেয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ তালহা (রাঃ)-এর একটি জিনবিহীন ঘোড়ায় উঠে কাঁধে তলোয়ার ঝুলিয়ে তাদের সাথে দেখা করেন এবং বলেন, তোমরা ভয় পেও না, তোমরা ভয় পেও না। তিনি আরও বলেন, আমি এটাকে সমুদ্রের অনুরূপ বেগবান পেয়েছি অর্থাৎ ঘোড়াটিকে। সহীহ, দেখুন হাদীস নং (১৬১৯) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
1688। বারাআ ইবনু আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমাদেরকে একজন লোক প্রশ্ন করল, হে আবূ উমারা! আপনারা কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে (যুদ্ধে একা ফেলে) রেখে পালিয়েছিলেন? তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ! কখনো নয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো (যুদ্ধ হতে) পালাননি। বরঞ্চ কয়েকজন তাড়াহুড়াকারী লোক পালিয়েছিল। হাওয়াযিন বংশের জনগণ তীরবৃষ্টি বর্ষণ করতে করতে তাদের মুখোমুখি হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার খচ্চরের পিঠে বসা অবস্থায় ছিলেন এবং এর লাগাম ধরে রেখেছিলেন আবৃ সুফিয়ান ইবনুল হারিস ইবনু আবদুল মুত্তালিব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছিলেনঃ “নিঃসন্দেহে আমি (আল্লাহর) নবী, এর মধ্যে বিন্দুমাত্র মিথ্যা নেই, আমি আবদুল মুত্তালিবের বংশধর"। সহীহ, মুখতাসার শামাইল (২০৯), নাসা-ঈ আবূ ঈসা বলেন, আলী ও ইবনু উমর (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
1689। ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমরা হুনাইনের যুদ্ধের দিন দুইটি দলকে পলায়নপর দেখতে পেলাম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে একশত জন লোকও ছিল না। সনদ সহীহ এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান গারীব বলেছেন। আমরা এ হাদীসটি শুধুমাত্র উবাইদুল্লাহর রিওয়ায়াত হিসাবে উপরোক্ত সূত্রে জেনেছি।
1690। মাযীদা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, মক্কা বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মক্কায় যাওয়ার সময় তার তরবারি ছিল সোনা-রূপা খচিত। (অধঃস্তন রাবী) তালিব বলেন, আমি তাকে (হুদকে) রূপা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, তরবারির হাতলটি ছিল রৌপ্য খচিত। যঈফ, মুখতাসার শামায়িল মুহাম্মাদীয়া (৮৭) ইরওয়া (৩/৩০৬) আবূ ঈসা বলেনঃ এ অনুচ্ছেদে আনাস (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি গারীব। হুদ-এর নানার নাম ছিল মাযীদা আল-আসরী।
1691। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তলোয়ারের হাতল ছিল রৌপ্যখচিত। সহীহ, সহীহ আবূ দাউদ (২৩২৬-২৩২৮), ইরওয়া (৮২২), মুখতাসার শামাইল (৮৫,৮৬) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান গারীব বলেছেন। হাম্মামও কাতাদার সূত্রে, তিনি আনাসের সূত্রে একইরকম বর্ণনা করেছেন। কয়েকজন বর্ণনাকারী কাতাদা হতে, তিনি সাঈদ ইবনু আবীল হাসান হতে বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তলোয়ারের বাট ছিল রৌপ্যখচিত (এই সূত্রে এটি মুরসাল হাদীস)।
1692। যুবাইর ইবনুল আওয়াম (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, উহুদ যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিধানে দুটি লৌহ বর্ম ছিল। তিনি তা পরিহিত অবস্থায় (আহত হওয়ার পর) একটি পাথরের উপর উঠার চেষ্টা করেন, কিন্তু উঠতে পারেননি। তিনি তালহা (রাঃ)-কে নিচে বসিয়ে তার কাঁধে চড়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাথরের উপর উঠে উপবিষ্ট হন। যুবাইর (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ তালহা (তার জন্য জান্নাত) নির্ধারিত করে নিল। হাসান, মিশকাত (৬১১২), মুখতাসার শামাইল (৮৯), সহীহ আবূ দাউদ (২৩৩২) আবূ ঈসা বলেন, সাফওয়ান ইবনু উমাইয়্যা ও সাইব ইবনু ইয়াযীদ (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা এটি শুধুমাত্র মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাকের হাদীস হিসাবে জেনেছি।
1693। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের দিন লোহার শিরস্ত্রাণ পরে মক্কায় প্রবেশ করেন। তাকে বলা হল, কাবার পর্দার সাথে ইবনু খাতাল জড়িয়ে আছে। তিনি বললেনঃ তাকে মেরে ফেল। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৮০৫), নাসা-ঈ এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ গরীব বলেছেন। এই হাদীসটি যুহরী (রাহঃ) হতে মালিক (রাহঃ) ব্যতীত অন্য কোন প্রবীণ বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন কি না তা আমরা জানি না।
1694। উরওয়া আল-বারিকী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামত পর্যন্ত ঘোড়ার কপালে কল্যাণ বাধা রয়েছেঃ পুরস্কার ও গানীমাত। সহীহ, নাসা-ঈ ইবনু উমার, আবূ সাইদ, জারীর, আবূ হুরায়রা, আসমা বিনতু ইয়াযীদ, মুগীরা ইবনু শুবা ও জাবির (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। উরওয়া হলেন আবূল জা'দ আল-বারিকীর পুত্র, তাকে উরওয়া ইবনুল-জা'দও বলা হয়। ইমাম আহমাদ বলেন, এ হাদীসে যে গভীর তাৎপর্য নিহিত আছে তা হল, কিয়ামত পর্যন্ত প্রত্যেক ইমামের নেতৃত্বে জিহাদ অব্যাহত থাকবে।
1695। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ লাল রং-এর ঘোড়ায় কল্যাণ রয়েছে। হাসান সহীহ, মিশকাত (৩৮৭৯), তা’লীকুর রাগীব (২/১৬২), সহীহ আবূ দাউদ (২২৯৩) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান গারীব বলেছেন। আমরা এটি শুধু এই সূত্রে শাইবানের হাদীস হিসাবে জেনেছি।
1696। আবূ কাতাদা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কালো রং-এর ঘোড়া সবচাইতে উত্তম, যার কপাল ও উপরের ওষ্ঠ সাদা। তারপর যে ঘোড়ার ডান পা ও কপাল ব্যতীত বাকী পাগুলো সাদা রং-এর। কালো বর্ণের ঘোড়া পাওয়া না গেলে লাল-কালো মিশ্রিত বর্ণের অনুরূপ ঘোড়া উত্তম। সহীহ, ইবনু মা-জাহ
1697। উপরোক্ত হাদীসের মতো মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার-ওয়াহব ইবনু জারীর হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি ইয়াহিয়া ইবনু আইউব হতে, তিনি ইয়াযীদ ইবনু আবী হাবীব হতে এই সূত্রেও অনুরূপ অর্থের হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান গারীব সহীহ বলেছেন।
1698। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিকাল ঘোড়া অর্থাৎ তিন পা সাদা ও এক পা শরীরের রং বিশিষ্ট ঘোড়া অপছন্দ করেছেন। সহীহ, ইবনু মাজাহ (৭২১০) মুসলিম আবূ ঈসা বলেছেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীস শুবা আবদুল্লাহ ইবনু ইয়াযীদ আল-খাসআমী হতে তিনি আবূ যুরআ হতে তিনি আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে একই রকম বর্ণনা করেছেন। আবূ যুরআর নাম হারিম, তিনি “উমারা ইবনুল কাকা হতে বর্ণনা করেন তিনি বলেনঃ ইবরাহীম নাখাঈ (রাহঃ) আমাকে বলেছেনঃ আপনি আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করলে আবূ যুরআর সূত্রে তা বর্ণনা করবেন। কারণ তিনি এক সময় আমার নিকট একটি হাদীস বর্ণনা করেন। বেশ কয়েক বছর পর আমি আবার তাকে সেই হাদীস প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে তিনি অক্ষরে অক্ষরে তা হুবহু বর্ণনা করেন, তাতে একটুও ত্রুটি করেননি। যঈফ, সনদ বিচ্ছিন্ন
1699। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, হাফইয়া হতে সানিয়্যাতুল বিদা পর্যন্ত জায়গাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিশেষ পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হালকা শরীরবিশিষ্ট ঘোড়াসমূহের দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছেন। এই দু’টি জায়গার মাঝের দূরত্ব ছয় মাইল। তিনি সানিয়াতুল বিদা হতে যুরাইক বংশের মাসজিদ পর্যন্ত ভারী দেহবিশিষ্ট অপ্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ঘোড়াসমূহের দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছেন। এ দুটি জায়গার মাঝের দূরত্ব এক মাইল। আমিও ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় যোগ দেই। আমার ঘোড়াটি আমাকে-সহ লাফ দিয়ে একটি দেয়াল টপকে যায়। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৮৭৭), নাসা-ঈ। বুখারীতে দেয়াল টপকানোর কথা উল্লেখ নেই। আবূ হুরাইরা, জাবির, আইশা ও আনাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ সাওরীর সূত্রে গারীব বলেছেন।
1700। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তীর নিক্ষেপ এবং উট ও ঘোড়দৌড় ব্যতীত অন্য কিছুতে প্রতিযোগিতা নেই। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৮৭৮) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান বলেছেন।
1701। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন একজন আদেশপ্রাপ্ত বান্দা। তিনটি বিষয় ছাড়া তিনি আমাদেরকে কোন বিশেষ নির্দেশ দেননি। তিনি আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন আমরা যেন উত্তমরূপে ওযু করি, সাদকার জিনিস না খাই এবং গাধা দিয়ে ঘুড়ীর পাল না দেই। সনদ সহীহ আবূ ঈসা বলেন, আলী (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীসটি আবূ জাহ্যাম হতে সুফিয়ান সাওরীও বর্ণনা করেছেন। তিনি উবাইদুল্লাহ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস হতে আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর সূত্রের উল্লেখ করেছেন। কিন্তু ইমাম বুখারীর মতে তার বর্ণনাটি সুরক্ষিত নয়। কেননা এ বর্ণনাটির ব্যাপারে সাওরী ভুলের শিকার হয়েছেন। এ হাদীসটি ইসমাঈল ইবনু উলাইয়্যা ও আবদুল ওয়ারিস ইবনু সাইদ-আবূ জাহ্যাম হতে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু উবাইদুল্লাহ ইবনু আব্বাস হতে, তিনি ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং এ বর্ণনাটিই সহীহ।
1702। আবূদ দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ আমাকে খোজ কর তোমাদের মধ্যে যারা নিঃস্ব-দুর্বল তাদের মাঝে। কেননা তোমরা রিযিক এবং সাহায্য-সহযোগিতাপ্রাপ্ত হয়ে থাক অসহায়-দুর্বল লোকদের ওয়াসিলায়। সহীহ্, সহীহা (৭৭৯), সহীহ্ আবূ দাউদ (২৩৩৫), তা’লীকুর রাগীব (১/২৪) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
1703। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে কাফেলার সাথে কুকুর অথবা ঘণ্টা থাকে ফেরেশতাগণ তাদের সঙ্গী হয় না। সহীহ, সহীহা (৪/৪৯৪), সহীহ আবূ দাউদ (২৩০৩), মুসলিম আবূ ঈসা বলেন, উমার, আইশা, উম্মু হাবীব ও উম্মু সালামা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
1704। বারাআ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুইটি বাহিনী (যুদ্ধে) পাঠান। তিনি আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ)-কে এক দলের এবং খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ (রাঃ)-কে অন্য দলের অধিনায়ক নিয়োগ করেন। তিনি বলেনঃ যুদ্ধ চলার সময় আলী পুরো বাহিনীর সেনাপতির দায়িত্ব পালন করবে। রাবী বলেন, আলী (রাঃ) একটি দুর্গ দখল করেন এবং বন্দীদের মধ্য হতে একটি বাদী নিজের জন্য নিয়ে নেন। খালিদ (রাঃ) এই বিষয়ে তার সমালোচনা করে একটি চিঠি লিখে তা দিয়ে আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে পাঠান। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে (চিঠি নিয়ে) উপস্থিত হলাম। তিনি তা পড়লেন এবং তার চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল। তারপর তিনি বললেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলা ও তার রাসূলকে ভালোবাসে এবং যাকে আল্লাহ তা'আলা ও তার রাসূল ভালোবাসেন তার প্রসঙ্গে তুমি কি ভাব! আমি বললাম, আমি আল্লাহ তা'আলা ও তার রাসূলের অসন্তুষ্টি হতে আল্লাহ্ তা'আলার আশ্রয় চাই। আমি তো পত্রবাহক মাত্র। এ কথায় তিনি নীরব হলেন। সনদ দুর্বল আবূ ঈসা বলেন, এ অনুচ্ছেদে ইবনু উমর (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান গারীব। আহওয়াস ইবনু জাওয়াবের সূত্রেই শুধুমাত্র আমরা এ হাদীস জেনেছি। হাদীসের শব্দ “ইয়াশী বিহি” অর্থঃ তার সমালোচনাযুক্ত।
1706। উম্মুল হুসাইন আল-আহমাসিয়া (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি বিদায় হাজ্জের সময় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে খুতবা দিতে শুনেছি। তখন তার গায়ে একটি চাদর ছিল। তিনি তার বগলের নিচে এটা পেচিয়ে রেখেছিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, তার বাহুর গোশতপিণ্ডের দিকে আমি তাকিয়ে দেখলাম তা দোল খাচ্ছে। আমি তাকে বলতে শুনলামঃ উপস্থিত জনমণ্ডলী। আল্লাহ্ তা'আলাকে ভয় কর। যদি তোমাদের নেতা হিসাবে কোন নাক-কান কাটা হাবশী ক্রীতদাসকেও নিযুক্ত করা হয়, তবে সে তোমাদের জন্য যে পর্যন্ত আল্লাহ তা'আলার কিতাবের ফায়সালা প্রতিষ্ঠিত রাখবে সে পর্যন্ত তার কথা শোন এবং তার আনুগত্য কর। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৮৬১) আবূ ঈসা বলেন, আবূ হুরাইরা ও ইরবায ইবনু সারিয়া (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীসটি উম্মু হুসাইন (রাঃ) হতে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।
1707। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সকল মুসলিমেরই নেতার কথা শোনা ও আনুগত্য করা অবশ্য কর্তব্য, তা হোক তার পছন্দের বা অপছন্দের, তাকে যে পর্যন্ত গুনাহের কাজের নির্দেশ না দেওয়া হবে। যদি তাকে গুনাহের কাজের নির্দেশ দেওয়া হয় তাহলে তা না শুনা এবং না মানাই তার কর্তব্য। সহীহ, নাসা-ঈ আবূ ঈসা বলেন, আলী, ইমরান ইবনু হুসাইন ও হাকাম ইবনু আমর আল-গিফারী (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
1708। মুজাহিদ (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পশুর লড়াই অনুষ্ঠান করতে মানা করেছেন। যঈফ, গায়াতুল মারাম (৩৮) এ বর্ণনায় ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর উল্লেখ নেই। অর্থাৎ এই সূত্রে হাদীসটি মুরসাল হিসেবে বর্ণিত হয়েছে এবং এটা কুতবার বর্ণনার তুলনায় অনেক বেশী সহীহ। শরীক-আমাশ হতে তিনি মুজাহিদ হতে তিনি ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে একই রকম বর্ণনা করেছেন। তাতে আবূ ইয়াহইয়ার উল্লেখ নেই। আবূ মুয়াবিয়া-আমাশ হতে তিনি মুজাহিদের সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আবূ ইয়াহইয়ার নাম যাযান, তিনি কুফার অধিবাসী। এ অনুচ্ছেদে তালহা, জাবির, আবূ সাঈদ ও ইকরাশ ইবনু যুয়াইব (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।
1710। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, মুখমণ্ডলে দাগ দিতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বারণ করেছেন। সহীহ, ইরওয়া (২১৮৫), সহীহ আবূ দাউদ (২৩১০), মুসলিম এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
1711। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমাকে কোন এক সেনাবাহিনীতে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে হাযির করা হয়। তখন আমার বয়স চৌদ বছর ছিল। তিনি আমাকে গ্রহণ করেননি। আমাকে আবার পরের বছর সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্তির উদ্দেশ্যে তার সামনে হাযির করা হয়। তখন আমার বয়স পনের বছর ছিল। এবার তিনি আমাকে গ্রহণ করলেন। নাফি (রাহঃ) বলেন, আমি এ হাদীসটি উমার ইবনু আবদুল আযীয (রহঃ)-এর সামনে বর্ণনা করলে তিনি বলেন, এটাই বালেগ ও নাবালেগের মধ্যে পার্থক্যকারী বয়সসীমা। তারপর যারা পনের বছর বয়সে পদার্পণ করেছে তিনি তাদের জন্য বাইতুল মাল হতে ভাতা নির্ধারণের নির্দেশ জারী করেন। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৫৪৩), নাসা-ঈ ইবনু আবী উমার-সুফিয়ান ইবনু উয়াইনা হতে, তিনি উবাইদুল্লাহ রহঃ)-এর সূত্রে একইরকম বর্ণনা করেছেন। এতে নাফি (রাহঃ) বলেন, উমার ইবনু আবদুল আযীয (রাহঃ) বললেনঃ এ হলো বালেগ ও নাবালেগের যুদ্ধে অংশগ্রহণের বয়সসীমা। এই সূত্রে ভাতা নির্ধারণের উল্লেখ নেই। - সহীহ দেখুন পূর্বের হাদীস আবু ঈসা বলেন, ইসহাক ইবনু ইউসুফের সুত্রে বর্ণিত হাদিস হাসান সহীহ এবং সুফিয়ান সাওরীর বর্ণনা হিসাবে গারীব।
1712। আবদুল্লাহ ইবনু আবূ কাতাদা (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত আছে তিনি তার পিতা (কাতাদা রাঃ)-কে বর্ণনা করতে শুনেছেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন এক সময় তাদের মাঝে দাড়ালেন। তিনি তাদের উদ্দেশ্যে বললেনঃ আল্লাহ তা'আলার পথে জিহাদ এবং আল্লাহ্ তা'আলার উপর ঈমান হল সবচেয়ে উত্তম কাজ। একজন লোক দাড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি মনে করেন, আমি আল্লাহ্ তা'আলার পথে নিহত হলে তাতে আমার গুনাহসমূহ কি মাফ হয়ে যাবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, হ্যাঁ। আল্লাহ্ তা'আলার পথে তুমি যদি এরূপভাবে নিহত হও যে, তুমি ধৈর্য ধারণকারী, সাওয়াবের আশাবাদী, অগ্রগামী হও এবং পৃষ্ঠ প্রদর্শনকারী না হও। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি কিভাবে প্রশ্ন করেছিলে (তা আবার বল)? লোকটি বলল, আপনি কি মনে করেন, আল্লাহ্ তা'আলার পথে আমি নিহত হলে কি তাতে আমার গুনাহসমূহের কাফফারা হয়ে যাবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হ্যাঁ, তোমার গুনাহসমূহের কাফফারা হয়ে যাবে, যদি তুমি ধৈর্যশীল হও, সাওয়াবের আকাঙ্ক্ষী ও সৎ উদ্দেশ্য পোষণকারী হও, অগ্রগামী হও এবং পৃষ্ঠ প্রদর্শনকারী না হও। কিন্তু ঋণের ক্ষমা হবে না, কেননা আমাকে জিবরীল এ কথা বলেছেন। সহীহ, ইরওয়া (১১৯৭), মুসলিম আবূ ঈসা বলেন, আনাস, মুহাম্মাদ ইবনু জাহশ ও আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ। কয়েকজন বর্ণনাকারী সাঈদ আল-মাকবুরী হতে, তিনি আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপভাবে উল্লেখিত হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল-আনসারী প্রমুখ-সাঈদ আল-মাকবুরী হতে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু আবী কাতাদা হতে, তিনি তার পিতা আবূ কাতাদা হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সূত্রে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এই বর্ণনাটি আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে সাঈদ আল-মাকবুরীর বর্ণনার তুলনায় অনেক বেশি সহীহ।
1713। হিশাম ইবনু আমির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, উহুদের যুদ্ধের সময় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট শহীদদের কথা বলা হলে তিনি বললেনঃ প্রশস্তভাবে কবর খনন কর, সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ কর এবং একই কবরে দুই-দুইজন অথবা তিন-তিনজনকে দাফন কর। এদের মধ্যে যে কুরআনে বেশি পারদর্শী ছিল তাকে সম্মুখে (কিবলার দিকে) রাখ। বর্ণনাকারী বলেন, আমার পিতাও মারা যান। তাকে দু'জনের সামনে রাখা হয়। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৫৬০) আবূ ঈসা বলেন, খাব্বাব, জাবির ও আনাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এই হাদীসটি আইয়ুব হতে, তিনি হুমাইদ ইবনুল হিলাল হতে, তিনি হিশাম ইবনু আমর (রাহঃ)-এর সূত্রে সুফিয়ান সাওরী প্রমুখ বর্ণনা করেছেন। আবূদ দাহমার নাম কিরফা, পিতার নাম বুহাইস বা বাইহাস।
1714। আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, বদর যুদ্ধবন্দীদের নিয়ে আসা হলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এসব বন্দীর ব্যাপারে তোমাদের কি মত? এরপর রাবী দীর্ঘ ঘটনা বর্ণনা করেন। যঈফ, ইরওয়া (৫/৪৭-৪৮) আবূ ঈসা বলেন, এ অনুচ্ছেদে উমার, আবূ আইউব, আনাস ও আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান। আবূ উবাইদা তার পিতা হতে হাদীস শুনার সুযোগ পাননি। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপেক্ষা নিজ সঙ্গীদের সাথে অধিক পরামর্শকারী আমি আর কাউকে দেখিনি।”
1715। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, একদা মুশরিকরা তাদের এক মুশরিকের লাশ কিনতে চাইল। কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের নিকটে লাশ বিক্রয় করতে অস্বীকার করেন। সনদ দুর্বল আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা এ হাদীসটি শুধু হাকামের রিওয়ায়াত হিসেবেই জেনেছি। হাজ্জাজ ইবনু আরতাতও এটিকে হাকামের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। ইমাম আহমাদ বলেছেন, ইবনু আবূ লাইলার কোন হাদীস দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। ইমাম বুখারী বলেন, ইবনু আবূ লাইলা ব্যক্তিগতভাবে খুবই সৎলোক। কিন্তু তার সহীহ হাদীসগুলো দুর্বল হাদীসগুলো হতে আলাদা করা কঠিন। তাই আমি তার নিকট হতে হাদীসই বর্ণনা করি না। ইবনু আবূ লাইলা ব্যক্তিগতভাবে সত্যবাদী ও ফিকহবিদ, কিন্তু তিনি সনদের বর্ণনায় গোলমাল করেন। সুফিয়ান সাওরী বলেছেন, আমাদের ফিকহবিদ হলেন ইবনু আবূ লাইলা ও আবদুল্লাহ ইবনু শুবরুমা। বিচ্ছিন্ন সনদ সহীহ
1716। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের একটি বাহিনী অভিযানে পাঠান। (শত্রুর আক্রমণে) এক পর্যায়ে আমাদের কিছু লোক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। আমরা মাদীনায় ফিরে এসে (লজ্জায়) আত্মগোপন করে থাকলাম আর (মনে মনে) বললাম, আমরা ধ্বংস হয়ে গেছি। তারপর আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে এসে তাকে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা (যুদ্ধক্ষেত্র হতে) পলায়নকারী। তিনি বললেন; বরং তোমরা (নিজেদের ইমামের কাছে) পুনঃপ্রত্যাবর্তনকারী এবং আমি তোমাদের দলের সাথেই আছি। যঈফ, ইরওয়া (১২০৩) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধু ইয়াযীদ ইবনু আবূ যিয়াদের সূত্রেই এ হাদীস জেনেছি। “ফাহাসান-নাসু হাইসাতান"-এর অর্থঃ “তারা যুদ্ধক্ষেত্র হতে পালালো”। “বাল আনতুমুল আক্কারূন" অর্থ “যারা নেতার সাহায্যের জন্য তার নিকটে ফিরে আসে", এটা যুদ্ধক্ষেত্র হতে পলানো উদ্দেশ্য নয়।
1717। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমার ফুফু উহুদের যুদ্ধে আমার বাবার মৃতদেহ নিজেদের কবরস্থানে দাফনের উদ্দেশ্যে আনেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঘোষক ঘোষণা করলেন, “শহীদদেরকে তাদের নিহত হওয়ার জায়গায় ফিরিয়ে আন"। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৫১৬) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। নুবাইহ নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী।
1718। সাইব ইবনু ইয়াযীদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, তাবুকের যুদ্ধ শেষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিরে আসলে জনগণ তাকে অভ্যর্থনা জানানোর উদ্দেশ্যে সানিয়াতুল বিদা পর্যন্ত এগিয়ে যায়। সাইব (রাঃ) বলেন, জনগণের সাথে আমিও এগিয়ে গেলাম। আমি তখন বালক ছিলাম। সহীহ, বুখারী এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
1719। মালিক ইবনু আওস ইবনু হাদাসান (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-কে আমি বলতে শুনেছিঃ ফাই হিসাবে আল্লাহ তার রাসূলকে যেসব সম্পদ দিয়েছিলেন, তার মধ্যে নায়ীর গোত্র হতে প্রাপ্ত সম্পদও অন্তর্ভুক্ত ছিল। তা অর্জনের লক্ষে মুসলিমরা না ঘোড়া দৌড়িয়েছে আর না উট হাকিয়েছে (বিনা যুদ্ধে অর্জিত)। বিশেষভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য এই সম্পদ নির্দিষ্ট ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই সম্পদ হতে তার পরিবার-পরিজনের সাংবাৎসরিক ভরণ-পোষণের যোগাড় করতেন এবং বাকী সম্পদ আল্লাহ তা'আলার পথে জিহাদের উদ্দেশ্যে ঘোড়া ও যুদ্ধাস্ত্র সংগ্রহের উদ্দেশ্যে খরচ করতেন। সহীহ, মুখতাসার শামাইল (৩৪১), সহীহ আবূ দাউদ (২৬২৪-২৬২৬), নাসা-ঈ এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এই হাদীসটি সুফিয়ান ইবনু উয়াইনা মামারের সূত্রে, তিনি ইবনু শিহাবের সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
উৎস: Jami At Tirmidhi
WEBREATH · 11:11
«Should I not be a thankful servant?» — Sahih al-Bukhari
Breath is one for all: everyone lives by it, whoever they are and whatever they believe. Every day at 11:11 local time people stop for sixty seconds, breathe, and thank GOD for the breath — each in their own words, each within themselves. In that minute we are One Breath.
WEBREATH — the Minute at 11:11, your own local time — we are One Breath