জামে আত-তিরমিযী 21 · The Book on Military Expeditions
আপনার ভাষায় এখনো কোনো অনুবাদ নেই — ইংরেজি দেখাচ্ছে
1548। আবূল বাখতারী (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, মুসলিমদের কোন এক সেনাবাহিনী পারস্যের একটি দুর্গ অবরোধ করে। সালমান ফারসী (রাঃ) এই বাহিনীর সেনাপতি ছিলেন। সেনাবাহিনীর মুজাহিদগণ বললেন, হে আবদুল্লাহর পিতা! আমরা কি তাদের উপর ঝাপিয়ে পড়ব না? তিনি বললেন, আমি যেভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাদের (ইসলাম গ্রহণের) দাওয়াত দিতে শুনেছি, তোমরা আমাকেও সেভাবে দাওয়াত দিতে দাও। সালমান (রাঃ) তাদের নিকটে এসে বললেন, আমি তোমাদের মাঝেরই একজন পারস্যবাসী। তোমরা দেখতে পাচ্ছ, আরবরা আমার আনুগত্য করছে। তোমরা যদি ইসলাম গ্রহণ কর তবে তোমরাও আমাদের মতই অধিকার পাবে এবং আমাদের উপর যে দায় আসে তোমাদের উপরও সেরকম দায় আসবে। তোমরা যদি এ দাওয়াত কুবুল করতে অসম্মত হও এবং তোমাদের ধর্মের উপর অবিচল থাকতে চাও, তবে আমরা তোমাদেরকে তোমাদের ধর্মের উপর ছেড়ে দিব। কিন্তু এক্ষেত্রে তোমরা আমাদের অনুগত্য স্বীকার করে আমাদেরকে জিযইয়া দিবে। রাবী বলেন, তিনি তাদেরকে এ কথাগুলো ফারসী ভাষায় বলেন। (তিনি আরো বলেন) এই অবস্থায় তোমরা প্রশংসিত হবে না। তোমরা যদি এটাও (জিযইয়া প্রদান) অস্বীকার কর তবে আমরা তোমাদের বিরুদ্ধে সমানভাবে লড়বো। তারা বলল, আমরাজিযইয়া প্রদানে সম্মত নই, বরং আমরা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব। মুসলিম সেনানীগণ বললেন, হে আবদুল্লাহর পিতা! আমরা কি তাদেরকে আক্রমণ করব না? তিনি বললেন, না। রাবী বলেন, তিনি এভাবে তাদেরকে তিন দিন যাবত আহবান করতে থাকেন। তারপর তিনি মুসলিম বাহিনীকে নির্দেশ দিলেন, প্রস্তুত হও এবং তাদের উপর ঝাপিয়ে পড়। রাবী বলেন, আমরা তাদেরকে আক্রমণ করে সেই দুর্গ দখল করলাম। যঈফ, ইরওয়া (৫৮৭) এ অনুচ্ছেদে বুরাইদা, নুমান ইবনু মুকাররিন, ইবনু উমার ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। সালমান (রাঃ)-এর হাদীসটি হাসান। আমরা শুধু আতা ইবনুস সায়িবের সূত্রেই এ হাদীসটি জেনেছি। আমি মুহাম্মাদ (বুখারী)-কে বলতে শুনেছি, আবূল বাখতার সালমান (রাঃ)-এর দেখা পাননি। কেননা তিনি আলী (রাঃ)-এর দেখা পাননি। আর সালমান (রাঃ) আলী (রাঃ)-এর পূর্বে মারা যান। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও তার পরবর্তীগণ এ হাদীসের মতই মত দিয়েছেন। তাদের মতে, যুদ্ধ শুরু করার পূর্বে ইসলামের দাওয়াত দিতে হবে। ইসহাক ইবনু ইবরাহীমেরও এই মত। তিনি বলেন, যদি আক্রমণ করার পূর্বে শত্রুবাহিনীকে ইসলামের দাওয়াত দেয়া হয় তবে তা উত্তম এবং তা তাদের মনে প্রভাব ও ভীতির সঞ্চার করবে। কিছু বিশেষজ্ঞ আলিম বলেন, আজকাল আর এরূপ দাওয়াত দেয়ার প্রয়োজন নেই। ইমাম আহমাদ বলেন, বর্তমানে এ ধরনের আহবান করার কোন প্রয়োজনীয়তা দেখছি না। ইমাম শাফিঈ বলেন, শত্রুকে ইসলামের দাওয়াত না দেয়া পর্যন্ত যুদ্ধ শুরু করা যাবে না। কিন্তু তাদেরকে তাড়াতাড়ি দাওয়াত গ্রহণ করার জন্য বলতে হবে। অবশ্য দাওয়াত না দিলেও কোন সমস্যা নেই। কেননা তাদের কাছে ইতিপূর্বেই ইসলামের দাওয়াত পৌছেছে।
1549। ইবনু ইসাম আল-মুযানী (রাহঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি (ইসাম) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছোট বা বড় কোন যুদ্ধাভিযানে প্রেরণকালে সামরিক বাহিনীর সদস্যদেরকে বলতেনঃ তোমরা কোন মাসজিদ দেখলে অথবা মুয়াযযিনের আযান শুনলে সেখানকার কাউকে হত্যা করবে না। যঈফ, যঈফ আবূ দাউদ (৪৫৪) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। এটি ইবনু উআইনার রিওয়ায়াত।
1550। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাইবার অভিযানের যাত্রা করে সেখানে রাতের বেলা গিয়ে পৌছান। তিনি রাতের বেলা কোন সম্প্রদায়ের এলাকায় পৌছালে ভোর না হলে হামলা করতেন না। ইয়াহুদীরা ভোর হলে তাদের চিরাচরিত অভ্যাস মোতাবিক কোদাল ও ঝুড়িসহ (কৃষিকাজে) বের হল। তাকে দেখে এরা বলল, মুহাম্মাদ এসে গেছেন। আল্লাহর শপথ! মুহাম্মাদ তার সমস্ত বাহিনীসহ এসে গেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহু আকবার! খাইবার ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। আমরা যখন কোন সম্প্রদায়ের এলাকায় যাই তখন সতর্ককৃত লোকদের ভোর বেলাটা খুবই শোচনীয় হয়ে থাকে। - সহীহ, নাসা-ঈ
1551আনাস (রাঃ) হতে আবূ তালহা (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত আছে, কোন সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিজয়ী হলে তাদের এলাকায় তিন দিন অবস্থান করতেন। সহীহ, সহীহ আবূ দাউদ (২৪১৪), নাসা-ঈ আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আনাসের সূত্রে হুমাইদের হাদীসটিও হাসান সহীহ। রাতে শত্রুর এলাকায় গিয়ে অতর্কিত হামলার পক্ষে একদল অভিজ্ঞ আলিম সম্মতি প্রদান করেছেন। এটাকে অন্য একদল অভিজ্ঞ আলিম মাকরুহ বলেছেন। ইমাম আহমাদ ও ইসহাক বলেন, রাতের বেলা শক্রর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনায় কোন সমস্যা নেই। ওয়াফাকা মুহাম্মাদ আল-খামীস" -এর অর্থ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে রয়েছে তার পূর্ণাঙ্গ সেনাবাহিনী।
1552। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, বানু নাযীরের বুওয়ায়রাস্থ খেজুর বাগানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অগ্নিসংযোগ করেন এবং গাছগুলো কেটে ফেলেন। আল্লাহ তা'আলা এই বিষয়ে আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ “তোমরা যেসব খেজুরের গাছ কেটেছ বা এদের কাণ্ডের উপর যেগুলোকে স্বঅবস্থায় দাড়িয়ে থাকতে দিয়েছ, তা সবই আল্লাহ্ তা'আলার অনুমতিক্রমেই করেছ, যাতে তিনি ফাসিকদের লাঞ্ছিত করতে পারেন"(সূরাঃ হাশর– ৫)। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৮৪৪), নাসা-ঈ ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহঁ। এ হাদীস মোতাবিক একদল অভিজ্ঞ আলিম মত দিয়েছেন। যুদ্ধাবস্থায় গাছপালা কর্তন এবং দুর্গসমূহের ধ্বংস করায় কোন সমস্যা নেই বলে তারা মনে করেন। কিছু আলিম তা মাকরূহ বলেছেন। এই মত দিয়েছেন ইমাম আওযাঈও। তিনি বলেন, ফলবান বৃক্ষ কাটতে এবং জনপদ ধ্বংস করতে আবূ বকর (রাঃ) বারণ করেছেন। মুসলিমগণও তার পরবর্তী সময়ে এই নীতির অনুসরণ করেছেন। ইমাম শাফিঈ বলেন, শক্র বাহিনীর কৃষিক্ষেত্রে আগুন লাগিয়ে দেওয়া এবং ফলবান বা যে কোন ধরনের গাছ কাটাতে কোন সমস্যা নেই। ইমাম আহমাদ বলেন, প্রয়োজনবোধে তা করা যাবে, কিন্তু বিনা প্রয়োজনে আগুন লাগানো যাবে না। ইমাম ইসহাক বলেন, শক্রর প্রতি প্রবল আক্রমণের উদ্দেশ্যে এরূপ করাই সুন্নাত।
1555। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সফরসঙ্গী চারজন হওয়া উত্তম, চার শত সৈনিক নিয়ে গঠিত ক্ষুদ্র বাহিনী উত্তম, চার হাজার সৈনিক নিয়ে গঠিত পূর্ণ বাহিনী উত্তম এবং বার হাজার সৈন্য নিয়ে গঠিত বাহিনী সংখ্যাস্বল্পতার কারণে পরাজিত হবে না (পরাজিত হলে তা ঈমানের দুর্বলতার কারণেই)। যঈফ, সহীহাহ নতুন সংস্করণ (৯৮৬) এ হাদীসটি হাসান গারীব। জারীর ইবনু হাযিম ব্যতীত আর কোন প্রবীণ রাবী এটাকে মুসনাদ হিসেবে বর্ণনা করেননি। যুহরী হতে এ হাদীসটি মুরসাল হিসেবেই বর্ণিত হয়েছে। হাব্বান ইবনু আলী আবদুল্লাহ হতে তিনি ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। অপরদিকে লাইস ইবনু সা'দ উকাইল সুত্রে, তিনি যুহুরীর সুত্রে, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বরাতে এটাকে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
1556। ইয়াযীদ ইবনু হুরমুয (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, ইবনু আব্বাস (রাঃ)-কে হারুরা এলাকার (খারিজী নেতা) নাজদা চিঠির মাধ্যমে প্রশ্ন করে যে, মহিলাদেরকে কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুদ্ধের মাঠে নিয়ে যেতেন এবং তাদের জন্য কি গানীমাতে অংশ নির্ধারণ করতেন? উত্তরে ইবনু আব্বাস (রাঃ) তাকে লিখলেন, তুমি আমাকে চিঠির মাধ্যমে প্রশ্ন করেছ যে, মহিলাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুদ্ধের মাঠে অংশগ্রহণ করাতেন কি-না এবং গানীমতের অংশ তাদের জন্য নির্ধারণ করতেন কি-না। তিনি তাদেরকে যুদ্ধক্ষেত্রে নিয়ে যেতেন। তারা অসুস্থ যোদ্ধাদের সেবাযত্ন করত। গানীমাতের সম্পদ হতে তাদেরকে প্রদান করা হত, কিন্তু তিনি তাদের জন্য অংশ নির্ধারণ করেননি। সহীহ, সহীহ আবূ দাউদ (২৪৩৮), মুসলিম আনাস ও উম্মু আতিয়্যা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীস মোতাবিক বেশিরভাগ অভিজ্ঞ আলিম আমল করেছেন। এই মত দিয়েছেন সুফিয়ান সাওরী এবং শাফিঈও (গানীমাতের কোন অংশ মহিলারা পাবে না)। কয়েকজন আলিম বলেছেন, গানীমাতের ভাগ মহিলা এবং শিশুদেরকেও প্রদান করতে হবে। আওযাঈর এই মত। তিনি বলেন, খাইবারের যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিশুদেরকে গানীমাতের ভাগ প্রদান করেছেন। যুদ্ধক্ষেত্রে ভূমিষ্ঠ শিশুদেরকে মুসলিম নেতৃবৃন্দ গানীমাতের ভাগ প্রদান করেছেন। আওযাঈ আরো বলেন, খাইবারের যুদ্ধে মহিলাদের জন্যও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গানীমাতে অংশ নির্ধারণ করেছেন। মুসলিমগণ পরবর্তীতে এ নীতিই অনুসরণ করেছেন। ইমাম তিরমিয়ী বলেন, আমাদের নিকট একথাগুলো আলী ইবনু খাশরামের সূত্রে, তিনি ঈসা ইবনু ইউনুসের সূত্রে, তিনি আওযাঈর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। "ইউহযাইনা মিনাল গানীমাহ"-এর অর্থ “তাদেরকে (মহিলাদেরকে) গানীমাত হতে অল্প কিছু দেয়া হল, তাদেরকে কিছু দেয়া হল”।
1557। আবূল লাহমের মুক্তদাস উমাইর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি খাইবারের যুদ্ধে আমার মনিবদের সাথে অংশগ্রহণ করি। তারা আমার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে কথা বললেন। তারা তাকে আরো জানান যে, আমি ক্রীতদাস। বর্ণনাকারী উমাইর (রাঃ) বলেন, আমার ব্যপারে তার হুকুম মোতাবিক হেঁচড়িয়ে হেঁচড়িয়ে হাটছিলাম। তিনি গানীমাতের মধ্য হতে কিছু তৈজসপত্র আমাকে দিতে বললেন। আমি তাকে কয়েকটি মন্ত্র শুনালাম, যেগুলো দিয়ে আমি পাগলদের ঝাড়ফুক করতাম। তিনি এর কিছু বাদ দেয়ার এবং কিছু রাখার জন্য আমাকে নির্দেশ দেন। সহীহ, সহীহ আবূ দাউদ (২৪৪০) ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীস মোতাবিক একদল অভিজ্ঞ আলিম আমল করেছেন। তারা মনে করেন গোলামের জন্য গানীমাতের সম্পদে কোন নির্ধারিত অংশ নেই, তবে অল্প পরিমাণ দেওয়া যায়। এই মত দিয়েছেন সুফিয়ান সাওরী, শাফিঈ, আহমাদ এবং ইসহাকও।
1558। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদরের যুদ্ধে রাওনা হলেন। তিনি ওয়াবরার প্রস্তরময় এলাকায় পৌছলে মুশরিক সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তি তার সাথে মিলিত হল। তার সাহসিকতা ও বীরত্বের খ্যাতি ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ তুমি কি আল্লাহ তা'আলা ও তার রাসূলের উপর বিশ্বাসী নও? সে বলল, না। তিনি বললেন, তুমি ফিরে যাও, আমি কখনো কোন মুশরিকের সাহায্য নিব না। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৮৩২), মুসলিম এ হাদীসে আরো বক্তব্য আছে। এ হাদীসটি হাসান গারীব। কিছু বিশেষজ্ঞ আলিম এ হাদীসের বক্তব্য অনুযায়ী আমল করেছেন। তারা বলেন, যিমীদেরকে গানীমাতের অংশ দেওয়া যাবে না যদিও তারা শক্রর বিরুদ্ধে মুসলিমদের সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। অপর একদল বিশেষজ্ঞ আলিম বলেছেন, তারা মুসলিমদের সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করলে তাদেরকে গানীমাতের অংশ দেয়া হবে।
1559। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদরের যুদ্ধে রাওনা হলেন। তিনি ওয়াবারার প্রস্তরময় এলাকায় পৌছলে মুশরিক সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তি তার সাথে মিলিত হল। তার সাহসিকতা ও বীরত্বের খ্যাতি ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ তুমি কি আল্লাহ তা'আলা ও তার রাসূলের উপর ঈমান আনবে? সে বলল, না। তিনি বললেন, তুমি ফিরে যাও, আমি কখনো কোন মুশরিকের সাহায্য নিব না। সহীহ, ইবনু মাজাহ (২৮৩২), মুসলিম এ হাদীসে আরো বক্তব্য আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। কিছু বিশেষজ্ঞ আলিম এ হাদীসের মতই আমল করেছেন। তারা বলেন, যিম্মীদেরকে গানীমাতের অংশ দেয়া যাবে না, তারা মুসলিমদের সাথে কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করলেও না। অপর একদল বিশেষজ্ঞ আলিম বলেছেন, তারা মুসলিমদের সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করলে তাদেরকে গানীমাত দেয়া হবে, যেমন যুহরীর সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়াহুদী একগোষ্ঠী অমুসলিমকে গানিমাতের অংশ দিয়েছিলেন, যারা তার সাথে অমুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলো। হাদীসটি বর্ণনা করেছেন কুতাইবা ইবনু সাঈদ আব্দুল ওয়ারিস ইবনু সাঈদ হতে, তিনি আযরা ইবনু সাবিত হতে, তিনি যুহরী হতে। সনদ দুর্বল
1560। আবূ সালাবা আল-খুশানী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, মাজুসীদেব (অগ্নি উপাসক) হাড়ি-পাতিল ব্যবহার প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বললেনঃ এগুলো পানি দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করে নাও, তারপর এতে রান্নাবান্না কর। তিনি নখর ও শিকারী দাতযুক্ত হিংস্র প্রাণীও (খেতে) নিষেধ করেছেন। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩২০৭, ৩২৩২), নাসা-ঈ এ হাদীসটি আবূ সালাবা (রাঃ)-এর নিকট হতে অন্য সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে। এ হাদীসটি আবূ সালাবা (রাঃ) হতে আবূ ইদরীস আল খাওলানীও বর্ণনা করেছেন। আবূ সালাবা (রাঃ)-এর নিকট হতে আবৃ কিলাবা (রাহঃ) কখনো হাদীস শুনেননি। বরং এ হাদীসটি তিনি আবৃ আসমার মাধ্যমে আবূ সালাবা (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। আবূ সালাবা আল-খুশানী (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আহলে কিতাবের এলাকায় থাকি। আমরা কি তাদের পাত্রে আহার করব? তিনি বললেনঃ তোমরা তাদের পাত্র ব্যতীত অন্য পাত্র সেটাতে খাওয়া-দাওয়া করা থেকে বিরত থাক। আর অন্য পাত্র যোগাতে না পারলে এগুলো পানি দিয়ে পরিষ্কার করে নাও, তারপর এতে খাও। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩২০৭), নাসা-ঈ এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
1561। উবাদা ইবনুস সামিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আক্রমণের প্রথম ভাগে এক-চতুর্থাংশ এবং ফিরতি আক্রমণের ক্ষেত্রে এক-তৃতীয়াংশ নাফল (অতিরিক্ত) দান করতেন। সহীহ, হাদীসটির সনদ দুর্বল, কিন্তু সহীহ আবূ দাউদে এর শাহিদ আছে। হাদীস নং (২৪৫৫) এ অনুচ্ছেদে ইবনু আব্বাস, হাবীব ইবনু মাসলামা, মাআন ইবনু ইয়াযীদ, ইবনু উমার ও সালামা ইবনুল আকওয়া (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, উবাদা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীটি হাসান। উল্লেখিত হাদীসটি আবূ সাল্লাম হতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এক সাহাবীর বরাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত আছে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, বদর যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাফল (নির্দিষ্ট অংশ হতে অতিরিক্ত) হিসাবে তার যুল-ফাকার’ নামক তলোয়ারখানা তাকে দিয়েছিলেন। তিনি উহুদের যুদ্ধের দিন এ বিষয়ে একটি স্বপ্ন দেখেছিলেন। সনদ হাসান এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান গারীব বলেছেন। এ হাদীসটি আমরা শুধুমাত্র উপরোক্ত সূত্রেই ইবনু আবিয যিনাদের হাদীস হিসাবে জেনেছি। অভিজ্ঞ আলিমগণের মধ্যে গানীমাতের এক-পঞ্চমাংশ থেকে পুরস্কার হিসাবে অতিরিক্ত দেওয়ার ব্যাপারে দ্বিমত রয়েছে। মালিক ইবনু আনাস (রাহঃ) বলেন, কোন বর্ণনা আমার নিকট পৌঁছেনি যে, সকল যুদ্ধেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুরস্কার দিয়েছেন। আমি এ ধরণের বর্ণনাই পেয়েছি যে, তিনি যোদ্ধাদের কোন কোন যুদ্ধে পুরস্কৃত করেছেন। ইমামের বিশেষ বিবেচনার উপর বিষয়টি নির্ভরশীল। তিনি চাইলে প্রাথমিকভাবে অথবা শেষ গানীমাত হিসাবে তা দিতে পারেন। ইসহাক ইবনু মানসূর বলেন, আমি ইমাম আহমাদকে বললাম সন্দেহহীনভাবে বলা যায় যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক-পঞ্চমাংশের পর এক-চতুর্থাংশ যুদ্ধের প্রারম্ভভাগে এবং এক-পঞ্চমাংশের পর এক-তৃতীয়াংশ প্রত্যাবর্তনের সময় দান করেছেন। ইমাম আহমাদ বললেন, হ্যাঁ, প্রথমে গানীমাত হতে খুমুস (এক-পঞ্চমাংশ) আলাদা করতে হবে। তারপর বাকি সম্পদ হতে পুরস্কার (নাফল) দেওয়া যায় এবং তা যেন এই পরিমাণকে ছাড়িয়ে না যায়। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসে ইবনুল মুসাইয়্যিবের উক্তির উপর এই কথা বলা যায় যে, খুম্স হতে পুরস্কার প্রদান করা হবে। ইসহাকও একই কথা বলেছেন।
1562। আবূ কাতাদা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শুক্র পক্ষের কোন সৈনিককে কোন লোক হত্যা করলে এবং এর প্রমাণ তার নিকট থাকলে সে নিহতের অস্ত্রশস্ত্র ও জিনিসপত্র পাবে। সহীহ, ইরওয়া (৫/৫২-৫৩), সহীহ আবূ দাউদ (২৪৩), নাসা-ঈ আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসের সাথে আরও ঘটনা আছে। ইবনু আবী উমার হতে সুফিয়ানের বরাতে ইয়াহইয়া ইবনু সাইদের সূত্রেও অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। আওফ ইবনু মালিক, খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ, আনাস ও সামুরা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আবূ মুহাম্মাদের নাম নাফি, তিনি আবূ কাতাদা (রাঃ)-এর আযাদকৃত গোলাম। এ হাদীস মোতাবিক একদল সাহাবী ও অপরাপর আলিমগণ আমল করেছেন। এই অভিমত (হত্যাকারী নিহতের মালপত্র পাবে) দিয়েছেন ইমাম আওযাঈ, শাফিঈ এবং আহমাদও। আরেক দল অভিজ্ঞ আলিম বলেন, দলনেতার এই মালপত্র হতে খুমুস বের করে নেওয়ার অধিকার আছে। সুফিয়ান সাওরী বলেন, যে লোক যা পেয়েছে তা তারই হবে এবং শক্রপক্ষের কোন লোককে যে ব্যক্তি খুন করল সে তার মালপত্রের অধিকারী হবে। দলনেতার এরূপ ঘোষণাই হল নাফল (পুরস্কার) এবং তাতে কোন খুমুস নেই। ইসহাক (রাহঃ) বলেছেন, হত্যাকারী নিহতের মালপত্রের অধিকারী হবে। তবে যদি মালপত্রের পরিমাণ অধিক হয় তবে দলনেতা চাইলে সেটা হতে খুমুস বের করতে পারেন, যেভাবে উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) বের করেছেন।
1563। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, গানীমাতের মাল ভাগ করার আগে তা বিক্রয় করতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন। সহীহ, মিশকাত তাহকীক ছানী (৪০১৫-৪০১৬) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা গরীব বলেছেন।
1564। উম্মু হাবীবা বিনতু ইরবায ইবনু সারিয়া (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তাকে তার বাবা (ইরযায) জানিয়েছেন যে, গর্ভবতী যুদ্ধবন্দিনীদের সাথে সন্তান প্রসব হওয়ার আগ পর্যন্ত সহবাস করতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বারণ করেছেন। সহীহ, দেখুন হাদীস নং (১৪৭৪) আবূ ঈসা বলেন, রুয়াইফি ইবনু সাবিত (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আর ইরবাযের হাদীসটি গারীব। এ হাদীস অনুসারে আলিমগণ আমল করেছেন। ইমাম আওযাঈ বলেন, গর্ভবতী বন্দিনী দাসী কোন লোক কিনলে সেই ব্যাপারে উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) বলেছেন, সন্তান প্রসব হওয়ার আগ পর্যন্ত তার সাথে সহবাস করা যাবে না। আওযাঈ আরো বলেন, মুক্ত যুদ্ধবন্দিনীর বিষয়ে বিধান হল, তাদের সাথে ইদাত শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত সহবাস করা যাবে না। আলী ইবনু খাশরাম ঈসা ইবনু ইউনুসের সূত্রে আওযাঈ হতে এই উক্তিটি বর্ণনা করেছেন।
1565। কাবীসা ইবনু হুলব (রাহঃ) হতে তার বাবার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি (পিতা) বলেন, নাসারাদের বানানো খাবারের প্রসঙ্গে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাকে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেনঃ তোমার মনে কোন খাবারের ব্যাপারে (অযথা) সন্দেহ ও দ্বিধা-সংকোচ সৃষ্টি হওয়া ঠিক নয়। তুমি এরকম অমূলক সংশয়ে পড়ে গেলে নাসারাদের অনুরূপ হয়ে গেলে। হাসান, ইবনু মা-জাহ (২৮৩০) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। আমি মাহমূদকে বলতে শুনেছি উবাইদুল্লাহ ইবনু মূসা বলেছেন, ইসরাঈল সিমাক হতে, তিনি কাবীসা হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। ওয়াহাব ইবনু জারীর বলেন, শুবা সিমাক হতে, তিনি মুরাই ইবনু কাত্বারী হতে, তিনি আদী ইবনু হাতিম হতে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এ হাদীস মোতাবিক আলিমগণ আমল করেছেন। ইয়াহুদী নাসারাদের খাদ্য খাওয়ার অনুমতি আছে বলে তারা মনে করেন।
1566। আবূ আইয়ূব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ (বন্দিনী) মা ও তার সন্তানকে একে অপর হতে যে লোক আলাদা করল, আল্লাহ তা'আলা কিয়ামত দিবসে তার এবং তার প্রিয়জনদের পরস্পর হতে আলাদা করবেন। হাসান, মিশকাত (৩৩৬১) আবূ ঈসা বলেন আলী (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আর এ হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীস অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও তৎপরবর্তীগণ আমল করেছেন। বন্দিনী মা-সন্তান, পিতা-পুত্র এবং ভাইদেরকে পরস্পর হতে আলাদা করাকে তারা নিষিদ্ধ বলেছেন।
1567। আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন যে, জিবরীল (আঃ) তার নিকট এসে বলেন, বদরের বন্দীদের ব্যাপারে তাদেরকে অর্থাৎ আপনার সাহাবীদেরকে ইখতিয়ার (স্বাধীনতা) দিন। হয় তাদেরকে তারা মেরে ফেলুক অথবা তাদের (সাহাবীদের) সমান সংখ্যক লোক আগামী বছর নিহত হওয়ার শর্তে মুক্তিপণ গ্রহণ করে তাদেরকে মুক্ত করে দিক। তারা (সাহাবীগণ) বললেন, আমাদের মধ্য হতে সম-সংখ্যক লোক মারা গেলেও আমরা তাদেরকে মুক্তিপণ গ্রহণ করে ছেড়ে দিব। সহীহ, মিশকাত তাহকীক ছানী (৩৯৭৩), ইরওয়া (৫/৪৮-৪৯) ইবনু মাসউদ, আনাস, আবূ বারযা ও জুবাইর ইবনু মুতঈম (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা সাওরীর সূত্রে হাসান গারীব বলেছেন। আমরা এ হাদীসটি শুধুমাত্র ইবনু আবী যাইদা বর্ণিত হাদীস হিসাবেই জেনেছি। আবূ উসামা-হিশাম হতে, তিনি ইবনু সীরীন হতে, তিনি উবাইদা হতে, তিনি আলী (রাঃ) হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে একইরকম বর্ণিত হয়েছে। এটি মুরসাল হাদীসরূপে ইবনু আওন-ইবনু সীরীন হতে, তিনি উবাইদা হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে। আবূ দাউদ আল-হাফারীর নাম উমার, পিতা সাদ।
1568। ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, দু’জন মুসলিম বন্দীকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন মুশরিক বন্দীর সাথে বিনিময় করেছেন। সহীহ, মুসলিম (৫/৭৮) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। আবূ কিলাবার চাচার নাম আবূল মুহাল্লাব আব্দুর রাহমান ইবনু আমর, মতান্তরে তার নাম মুআবিয়া ইবনু উমার। আর আবূ কিলাবার নাম আবদুল্লাহ ইবনু যাইদ আল-জারমী। এ হাদীস মোতাবিক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও তাবিঈগণ আমল করেছেন। তাদের মতে নেতা চাইলে কোন বন্দীকে অনুগ্রহ প্রদর্শনপূর্বক মুক্তি দিতে পারেন, মেরে ফেলতে পারেন অথবা বিনিময় গ্রহণ করে ছেড়েও দিতে পারেন। বিনিময় নিয়ে মুক্তি দেওয়ার পরিবর্তে মেরে ফেলাকেই কিছু অভিজ্ঞ আলিম উত্তম মনে করেন। আওযাঈ বলেন, আমি জানতে পেরেছি, নিম্নলিখিত আয়াত মানসূখ (বাতিল) হয়ে গেছেঃ “তারপর হয় অনুগ্রহ করবে অথবা বিনিময় গ্রহণ করে মুক্ত করে দিবে” (সূরাঃ মুহাম্মাদ- ৪)। নাসিখ (বাতিলকারী) আয়াত হলঃ “তাদেরকে যে জায়গাতেই পাও সেখানেই মেরে ফেল" (সূরাঃ বাকারা- ১৯১, সূরাঃ নিসা- ৯১)। ইবনুল মুবারাক আওযাঈ হতে এই উক্তি বর্ণনা করেছেন। ইসহাক ইবনু মানসুর বলেন, আহমাদকে আমি প্রশ্ন করলাম, কাফির যোদ্ধা বন্দী অবস্থায় এলে আপনি তাকে মেরে ফেলা পছন্দ করেন না বিনিময় নিয়ে মুক্তি দেওয়া পছন্দ করেন? তিনি উত্তরে বললেন, বিনিময় দিতে রাযি হলে তা নিয়ে তাকে মুক্তি দেওয়াতেও কোন সমস্যা নেই অথবা মেরে ফেলতেও কোন আপত্তি নেই। ইসহাক বলেন, তাকে মেরে ফেলাটাই আমি উত্তম বলে মনে করি। তবে সে প্রসিদ্ধি লাভ করলে এবং তার ব্যাপারে নানাবিধ আশা করার সুযোগ থাকলে (তাকে মুক্তি দেওয়াই উচিত)।
1569। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, একজন মহিলাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোন এক যুদ্ধে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এতে খুবই অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এবং নারী ও শিশুদের মেরে ফেলতে বারণ করেন। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৮৪১), নাসা-ঈ বুরাইদা, রাবাহ তাকে রিয়াহ ইবনুর রাবীও বলা হয়। আসওয়াদ ইবনু সার', ইবনু আব্বাস ও সাব ইবনু জাসসামা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীস মোতাবিক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও অন্যান্য অভিজ্ঞ আলিম আমল করেছেন। নারী ও শিশুদের মেরে ফেলাকে তারা জঘন্য কাজ বলেছেন। এই মতটি দিয়েছেন সুফিয়াম সাওরী ও শাফিঈও। রাতের বেলা আক্রমণ এবং এমতাবস্থায় নারী ও শিশুদের মেরে ফেলার পক্ষে অন্য একদল অভিজ্ঞ আলিম সম্মতি প্রদান করেছেন। এই অভিমত দিয়েছেন আহমাদ ও ইসহাক। রাতের বেলা অতর্কিত আক্রমণের সুযোগ তারা দু’জনেই রেখেছেন।
1570। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, সাব ইবনু জাসসামা (রাঃ) আমাকে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! মুশরিকদের নারী ও শিশুদেরকে আমাদের অশ্বারোহী বাহিনী পদদলিত করেছে। তিনি বললেনঃ তারা তাদের বাপ-দাদার সাথেই সম্পৃক্ত। হাসান, ইবনু মা-জাহ (২৮৩৯), নাসা-ঈ। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
1571। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি যুদ্ধে প্রেরণ করেন। তিনি বলে দেন, তোমরা কুরাইশ বংশের অমুক অমুক লোকের নাগাল পেলে তাদের দু’জনকেই আগুনে পুড়িয়ে ফেলবে। যখন আমরা যাত্রা শুরু করলাম তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবার বললেনঃ আমি তোমাদের নির্দেশ দিয়েছিলাম, অমুক অমুক লোককে তোমরা আগুনে পুড়িয়ে ফেলবে। আগুন দিয়ে শাস্তি দেওয়ার অধিকারী আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত অন্য কেউ নয়। অতএব তোমরা অমুক ও অমুকের নাগাল পেলে তবে তাদের দু’জনকেই মেরে ফেলবে। সহীহ, বুখারী ইবনু আব্বাস ও হামযা ইবনু আমর আল-আসলামী (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীস মোতাবিক অভিজ্ঞ আলিমগণ আমল করেছেন। এই হাদীসের সনদে সুলাইমান ইবনু ইয়াসার ও আবূ হুরাইরা (রাঃ)-এর মাঝখানে মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক আরও একজন বর্ণনাকারীর উল্লেখ করেছেন। এই হাদীসটি একাধিক বর্ণনাকারী লাইসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। লাইস ইবনু সাদের হাদীস অনেক বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ ও সহীহ।
1572। সাওবান (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক তিনটি বিষয়ে অর্থাৎ অহংকার, গানীমাতের সম্পদ আত্মসাৎ ও ঋণ হতে মুক্ত অবস্থায় মারা গেল সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৪১২) আবূ হুরাইরা ও যাইদ ইবনু খালিদ (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
1573। সাওবান (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি তিনটি বিষয় হতে মুক্ত থাকা অবস্থায় তার রূহ তার দেহ হতে আলাদা হলে সে জান্নাতে যাবেঃ সম্পদ পুঞ্জীভূত করা, গানীমাতের মাল আত্মসাৎ করা ও ঋণ। হাদীসে বর্ণিত শব্দ শাজ, সহীহা (২৭৮৫) সাঈদ তার বর্ণনায় আল-কানয এবং আবূ আওয়ানা তার বর্ণনায় আল-কিবর (অহংকার) শব্দের উল্লেখ করেছেন। আবূ আওয়ানার বর্ণনায় "মাদান" রাবীর উল্লেখ করেননি। সাঈদের বর্ণনাটি অনেক বেশী সহীহ।
1574। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) বলেন, বলা হল, হে আল্লাহর রাসূল! অমুক লোক শহীদ হয়েছে। তিনি বললেনঃ কোন অবস্থাতেই নয়, গানীমাতের একটি আলখাল্লা (লম্বা ঢিলা জামা) আত্মসাৎ করায় আমি তাকে জাহান্নামে দেখতে পাচ্ছি। তিনি বললেনঃ হে উমার! উঠ এবং তিনবার ঘোষণা দাও- ঈমানদার লোক ব্যতীত অন্য কেউ জান্নাতে যেতে পারবে না। সহীহ, মুসলিম এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ গারীব বলেছেন।
1575। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, উম্মু সুলাইম (রাঃ) ও তার সাথের আনসার মহিলাদের নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতেন। যুদ্ধক্ষেত্রে তারা পানি পান করাতেন এবং আহতদের জখমে ঔষধ লাগিয়ে দিতেন। সহীহ, সহীহ আবূ দাউদ (২২৮৪), মুসলিম আবূ ঈসা বলেছেন, রুবাই বিনতি মুআওয়্যিয (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আর এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
1576। আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য কিসরা (পারস্য সম্রাট) উপহার পাঠালে তিনি তা নেন। বিভিন্ন দেশের রাজা-বাদশাগণ তার জন্য উপহার পাঠালে তিনি তা গ্রহণ করেছেন। খুবই দুর্বল, তা’লীক আলার রাওযাতুন নাদীয়্যাহ (২/১৬৩) এ অনুচ্ছেদে জাবির (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেছেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। সুওয়াইর ইবনু আবূ ফাখিতার নাম সাঈদ, পিতার নাম ইলাকা। সুওয়াইর-এর উপনাম আবূ জাহম।
1577ইয়ায ইবনু হিমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি তার একটি উষ্ট্রী বা অন্য কিছু উপহার হিসাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে উপস্থাপন করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি কি ইসলাম ধর্ম কুবুল করেছ? তিনি বলেন, না (পরে তিনি ইসলাম ধর্ম কুবুল করেন)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ মুশরিকদের উপহার নিতে আমাকে বারণ করা হয়েছে। হাসান সহীহ, প্রাগুক্ত (২/১৬৪) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। ‘যাবদুল মুশরিকীন’ অর্থ ‘মুশরিকদের দেওয়া উপহার। অবশ্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এও বর্ণিত আছে যে, মুশরিকদের উপহার তিনি নিতেন। এ হাদীসে মাকরূহ হওয়ার কথা বলা হয়েছে। এটাও হতে পারে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগে উপহার নিতেন। তারপর তা নিতে তাকে বারণ করে দেওয়া হয়েছে।
1578। আবূ বাকরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এমন একটি সুখবর আসে যে, তিনি তাতে খুবই আনন্দিত হন এবং সিজদায় লুটিয়ে পড়েন। হাসান, ইবনু মা-জাহ (১৩৯৪) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান গারীব বলেছেন। আমরা শুধুমাত্র উল্লেখিত সনদ সূত্রেই বাক্কার ইবনু আবদুল আযীযের বর্ণিত হাদীসে তা জেনেছি। এ হাদীস মোতাবিক বেশির ভাগ আলিম আমল করেছেন। কৃতজ্ঞতার সিজদা বৈধ হওয়ার পক্ষে তারা অভিমত দিয়েছেন। বাক্কার ইবনু আব্দুল আজীজ ইবনু আবী বাকরাহ হাদীসের (বর্ণনার) উপযোগী।
1579। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মহিলারাও তাদের সম্প্রদায়ের পক্ষে (কাউকে) আশ্রয় দিতে পারে। হাসান, মিশকাত তাহকীক ছানী (৩৯৭৮) উম্মু হানী (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান গারীব। ইমাম বুখারীর নিকট আমি প্রশ্ন করলে তিনি এটিকে সহীহ হাদীস বলেন। কাছীর ইবনু যাইদ আল-ওয়ালীদ ইবনু রাবাহ-এর নিকট হাদীস শুনেছেন। আর আল-ওয়ালীদ ইবনু রাবাহ আবূ হুরাইরার নিকট হাদীস শুনেছেন। তিনি হাদীস বর্ণনা করার উপযোগী। আবূ তালিবের কন্যা উম্মু হানী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমার শ্বশুর পক্ষের আত্মীয়দের মধ্যে দুইজন লোককে আমি নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যে লোককে তুমি নিরাপত্তা প্রদান করেছ আমরাও তাকে নিরাপত্তা দিলাম। সহীহ সহীহ আবূ দাউদ (২৪৬৮),সহীহ (২০৪৯), নাসা-ঈ সংক্ষিপ্তভাবে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীস মোতাবিক অভিজ্ঞ আলিমগণ আমল করেছেন। নারীরাও কোন লোককে নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে বলে তারা মনে করেন। এই মত দিয়েছেন ইমাম আহমাদ ও ইসহাকও। নারী ও গোলামদের দ্বারা কোন লোকের নিরাপত্তা দানকে তারা দু’জনেই বৈধ বলেছেন। অন্যান্য সূত্রেও উপরোক্ত হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। আবূ মুররা (রহঃ) আকীল ইবনু আবূ তালিবের মুক্ত দাস, তাকে উম্মু হানী (রাঃ)-এর মুক্তদাসও বলা হয়। তার নাম ইয়াযীদ। উমর (রাঃ)-এর ব্যাপারে বর্ণিত আছে যে, গোলাম কর্তৃক নিরাপত্তা দান করাকে তিনি অনুমোদন করেছেন। আলী ইবনু আবূ তালিব ও আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “মুসলিমদের যিম্মা এক সমান, তাদের সাধারণ লোকও (কাউকে) নিজ দায়িত্বে নিরাপত্তা দেওয়ার অধিকারী”। আবূ ঈসা বলেনঃ অভিজ্ঞ আলিমগণের মতে এ হাদীসের অর্থ হচ্ছে কোন মুসলিম লোক যদি (শক্র পক্ষের) কোন লোককে মুসলিমদের পক্ষে নিরাপত্তার ওয়াদা দেয় তবে তা সমগ্র মুসলিম সমাজের পক্ষে গণ্য হবে।
1580। সুলাইম ইবনু আমির (রহঃ) বলেন, একটি সন্ধিচুক্তি মুআবিয়া (রাঃ) ও রূমবাসীদের মধ্যে কার্যকর ছিল। তিনি (মুআবিয়া) তাদের জনপদে (সৈন্যসহ) চলাফেরা করতেন। এমতাবস্থায় চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার সাথে সাথে অতর্কিতে তাদেরকে আক্রমণ করেন। এমন সময় শোনা গেল, পশুর পিঠে অথবা ঘোড়ায় সাওয়ার হয়ে একজন লোক বলছে, আল্লাহু আকবার। চুক্তির সময় পূর্ণ কর, বিশ্বাসঘাতকতা কর না। আমর ইবনু আবাসা (রাঃ) ছিলেন এই আরোহী ব্যক্তি। এ বিষয়ে মুআবিয়া (রাঃ) তাকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ কোন জাতির সাথে যে লোকের চুক্তি আছে সে যেন এই চুক্তি ভঙ্গ না করে এবং তার বিপরীত কিছু না করে। চুক্তির সময় শেষ না হওয়ার আগ পর্যন্ত অথবা প্রতিপক্ষকে পরিষ্কারভাবে জানানোর আগ পর্যন্ত এটা ভঙ্গ করা যাবে না। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর মুআবিয়া (রাঃ) নিজের লোকদের নিয়ে ফিরে আসেন। সহীহ, সহীহ আবূ দাউদ (২৪৬৪) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
1581। ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ প্রত্যেক বিশ্বাসঘাতকের জন্যে কিয়ামত দিবসে একটি করে পতাকা স্থাপন করা হবে। সহীহ, সহীহ আবূ দাউদ (২৪৬১) আলী, আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ, আবূ সাঈদ আল-খুদরী ও আনাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। তিনি আরও বলেনঃ “প্রত্যেক বিশ্বাস ঘাতকের জন্য পতাকা থাকবে” আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত এই হাদীস সম্পর্কে আমি মুহাম্মাদ (বুখারী)-কে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এ হাদীসটি মারফু’ হিসাবে আমার জানা নেই।
1582। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, সা’দ ইবনু মুআয (রাঃ) আহযাব যুদ্ধের দিন তীরবিদ্ধ হয়ে আহত হন। এতে তার বাহুর মাঝখানের রগ কেটে যায়। তার ক্ষতস্থানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগুনের সেক দিয়ে রক্তক্ষরণ বন্ধ করেন। তারপর তার হাত ফুলে যায়। আগুনের সেঁক দেওয়া বন্ধ করলে আবার রক্তক্ষরণ হতে থাকে। আবার তিনি তার ক্ষতস্থানে আগুনের সেঁক দেন। তার হাত পুনরায় ফুলে উঠে। তিনি (সাদ) নিজের এ অবস্থা দেখে বলেন, ‘হে আল্লাহ। আমার জীবনকে কেড়ে নিও না বানু কুরাইযার চরম পরিণতি দেখে আমার চোখ না জুড়ানো পর্যন্ত।” তার জখম হতে সাথে সাথে রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়ে গেল। এরপর আর একটি ফোটাও বের হয়নি। সা'দ ইবনু মুআয (রাঃ)-কে তারা (বানু কুরাইযা) সালিশ মানতে রাজী হয়। তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার (সাদের) নিকট লোক পাঠালেন (সমাধানের জন্য)। তিনি সমাধান দিলেন যে, বানু কুরাইযা গোত্রের পুরুষদেরকে মেরে ফেলা হবে এবং মহিলাদেরকে বাচিয়ে রাখা হবে। মুসলিমগণ তাদের দ্বারা বিভিন্ন রকম কাজ আদায় করতে পারবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাদের ব্যাপারে তোমার মত সম্পূর্ণ আল্লাহ্ তা'আলার মতের অনুরূপ হয়েছে। তারা (পুরুষগণ) সংখ্যায় ছিল চার শত। লোকেরা তাদেরকে মেরে ফেলা সমাপ্ত করলে, তার ক্ষতস্থান হতে আবার রক্ত পড়া আরম্ভ হল এবং তিনি মৃত্যু বরণ করলেন। সহীহ, ইরওয়া (৫/৩৮-৩৯) আবূ সাঈদ ও আতিয়া আল-কুরায়ী (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
1583। সামুরা ইবনু জুনদুব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ “বয়স্ক মুশরিকদের হত্যা কর এবং তাদের অপ্রাপ্তবয়স্ক বালকদের জীবিত রাখ।" যঈফ, মিশকাত তাহকীক ছানী (৩৯৫২) যঈফ আবূ দাউদ (২৫৯) শারখঃ যার এখনও লজ্জাস্থানের লোম গজায়নি সে বালক। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। হাজ্জাজ ইবনু আরতাতও কাতাদার সূত্রে এ হাদীস এভাবেই বর্ণনা করেছেন।
1584। আতিয়া আল-কুরায়ী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমাদেরকে বানূ কুরাইযার যুদ্ধের দিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আনা হল। যাদের লজ্জাস্থানের লোম উঠেছে (বালেগদের) তাদেরকে হত্যা করা হল, আর যাদের তা উঠেনি (নাবালেগদের) তাদেরকে মুক্ত করে দেওয়া হল। আমার লজ্জাস্থানে তখনও লোম উঠেনি। একারণে আমাকে মুক্ত করে দেওয়া হল। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৫৪১) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীস মোতাবিক একদল অভিজ্ঞ আলিম আমল করেছেন। তাদের মতে, যে লোকের বয়স এবং বীর্যপাতের ব্যাপারে সঠিকভাবে অনুমান করা না যাবে- তার নাভির নীচের লোম উঠাই বয়ঃপ্রাপ্তির লক্ষণ বলে গণ্য হবে। এই অভিমত দিয়েছেন ইমাম আহমাদ এবং ইসহাকও।
1585। আমর ইবনু শুআইব (রহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার এক খুতবায় বলেনঃ জাহিলী আমলের চুক্তিসমূহকে তোমরা পূর্ণ কর। কেননা ইসলাম এটাকে আরো মজবুত করবে। তোমরা আর নতুন করে ইসলামে একইরকম চুক্তি করবে না। হাসান, মিশকাত তাহকীক ছানী (৩৯৮৩) আবদুর রাহমান ইবনু আওফ, উম্মু সালামা, জুবাইর ইবনু মুতঈম, আবূ হুরাইরা, ইবনু আব্বাস ও কাইস ইবনু আসিম (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
1586। বাজালা ইবনু আবদা (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, মানাযির নামক অঞ্চলে আমি জায ইবনু মুআবিয়ার সচিব ছিলাম। আমাদের নিকট উমার (রাঃ)-এর চিঠি আসল। তিনি লিখেছেন, তোমাদের এ অঞ্চলের অগ্নিপূজকদের দেখ এবং তাদের নিকট হতে কর সংগ্রহ কর। আমাকে আবদুর রাহমান ইবনু আওফ (রাঃ) জানিয়েছেন যে, হাজার এলাকার অগ্নিপূজকদের নিকট হতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর আদায় করেছেন। সহীহ, ইরওয়া (১২৪৯), বুখারী এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান বলেছেন।
1587। বাজালা (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, অগ্নিপূজকদের হতে উমার (রাঃ) কর সংগ্রহ করতেন না যে পর্যন্ত না তাকে আবদুর রাহমান ইবনু আওফ (রাঃ) জানান যে, হাজার এলাকার অগ্নিপূজকদের নিকট হতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর সংগ্রহ করেছেন। সহীহ, দেখুন পূর্বের হাদীস এ হাদীসে আরো অনেক কথা আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
1588। সাইব ইবনু ইয়াযীদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাহরাইনের মাজুসীদের নিকট হতে জিযইয়া গ্রহণ করেন। উমার (রাঃ) পারস্যের মাজুসীদের নিকট হতে এবং উসমান (রাঃ) ফুরস-এর মাজুসীদের নিকট হতে তা আদায় করেন। ইমাম তিরমিয়ী বলেনঃ আমি মুহাম্মাদ (বুখারী)-কে এই হাদীস প্রসঙ্গে প্রশ্ন করায় তিনি বলেনঃ মালিক জুহরীর সুত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। অতএব হাদীসটি মুরসাল, ইরওয়া
1589। উকবা ইবনু আমির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! এমন একটি সম্প্রদায়ের এলাকা দিয়ে আমরা চলাচল করি যারা আমাদের মেহমানদারীও করে না এবং তাদের উপর আমাদের প্রাপ্য অধিকারও আদায় করে না। আমরাও তাদের নিকট হতে জোরপূর্বক আমাদের প্রাপ্য অধিকার আদায় করি না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তারা তোমাদের বল প্রয়োগ ব্যতীত মেহমানদারী করতে না চাইলে তোমরা জোরপূর্বকই তা আদায় কর। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩৬৭৬), নাসা-ঈ এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান বলেছেন। এটিকে ইয়াযীদ ইবনু হাবীবের সূত্রেও লাইস ইবনু সা’দ বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসের তাৎপর্য হল, মুসলিম যোদ্ধারা অভিযানে গমন করত। তখন এমন সব যিমীদের লোকালয় পেরিয়ে যেতে হত যেখানে ইচ্ছা করলেও খাবার-দাবার কিনতে পাওয়া যেত না। এরূপ ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশ ছিলঃ তারা খাবার বিক্রয় করতে অস্বীকার করলে এবং জোরখাটিয়ে আদায় করা ছাড়া আর কোন উপায় না থাকলে তবে তাদের নিকট হতে শক্তি খাটিয়েই তা কিনে নাও। কয়েকটি হাদীসে এরূপ ব্যাখ্যার উল্লেখ আছে। এরকম পরিস্থিতিতে উমার (রাঃ)-ও এরূপ নির্দেশই দিতেন।
1590। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এই বিজয়ের পর আর হিজরাত নেই। হ্যাঁ জিহাদ ও (তার) সংকল্প বজায় থাকবে। অতএব যখন জিহাদে অংশগ্রহণের জন্য তোমাদেরকে ডাকা হবে তখন তোমরা তার জন্যে বেরিয়ে পড়। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৭৭৩), নাসা-ঈ আবূ সাঈদ, আবদুল্লাহ ইবনু আমর ও আবদুল্লাহ ইবনু হুবশী (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীসটি সুফিয়ান সাওরীও মানসূরের সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
1591। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে আল্লাহ তা'আলার এই বাণী প্রসঙ্গে বর্ণিত আছেঃ “আল্লাহ তা'আলা অবশ্যই মু'মিন লোকদের উপর সন্তুষ্ট হয়েছেন যখন গাছের নীচে তোমার নিকট তারা শপথ করছিল। তাদের অন্তরের অবস্থা তার জানা ছিল। এজন্যই তাদের উপর তিনি প্রশান্তি অবতীর্ণ করেন এবং তাদেরকে নিকটবর্তী বিজয় দান করেন” (সূরাঃ ফাত্হ- ১৮)। জাবির (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আমরা শপথ করলাম (প্রতিজ্ঞা করলাম) যে, আমরা যুদ্ধক্ষেত্র হতে পালাবো না। কিন্তু আমরা তার নিকট মৃত্যুর বাই’আত করিনি। - সহীহ, মুসলিম আয়াতের উল্লেখ ব্যতীত সালামা ইবনুল আকওয়া, ইবনু উমার, উবাদা ও জারীর ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি অন্য একটি সূত্রেও বর্ণিত আছে। কিন্তু আবূ সালামার নাম তাতে উল্লেখ নেই।
1592। ইয়াযীদ ইবনু আবূ উবাইদ (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, সালামা ইবনুল আকওয়া (রাঃ)-কে আমি প্রশ্ন করলামঃ হুদাইবিয়ার দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আপনারা কি বিষয়ে শপথ করেছিলেন তিনি বললেন, মৃত্যুর শপথ করেছিলাম (যে পর্যন্ত জীবন থাকবে যুদ্ধ করতে থাকব, পালিয়ে যাবো না )। সহীহ, নাসা-ঈ এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
1593। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট (নির্দেশ) শুনার ও সে মোতাবিক আনুগত্যের শপথ নিতাম। তিনি আমাদের বলতেনঃ তোমাদের পক্ষে যতটুকু সম্ভব। সহীহ, সহীহ আবূ দাউদ, নাসা-ঈ এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। উভয় হাদীসের অর্থই সঠিক। কেননা তার নিকট প্রয়োজনবোধে মৃত্যুবরণের জন্য তার একদল সাহাবী শপথ (বাই’আত) করেছেন। তারা বলেছেন, “আমরা মৃত্যুবরণ করার পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত আপনার আগে আগে প্রতিরক্ষা রচনা করে চলব’৷ সাহাবীদের অন্য দল তার নিকট প্রাণভয়ে যুদ্ধক্ষেত্র হতে না পালানোর শপথ করেছেন।
1594জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আমরা কোন সময়ই মৃত্যুর শপথ করিনি, বরং আমরা তার নিকট যুদ্ধক্ষেত্র হতে পালিয়ে না যাওয়ার শপথ করেছি। সহীহ, মুসলিম ১৫৯১ নং হাদীসটি উল্লেখ হয়েছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
1595। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিন প্রকার লোকের সাথে আল্লাহ তা'আলা কিয়ামত দিবসে কথা বলবেন না, তাদেরকে পবিত্র করবেন না এবং তাদের জন্য রয়েছে খুবই বেদনাদায়ক শাস্তি। এদের মধ্যকার একজন হলঃ ইমামের নিকট যে লোক আনুগত্যের শপথ করেছে। ইমাম (রাষ্ট্রপ্রধান) তাকে কোন সুযোগ-সুবিধা দিলে তবে সে শপথ ঠিক রাখে। তিনি তাকে কোন সুযোগ-সুবিধা না দিলে তবে সে শপথ পূর্ণ করে না। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২২০৭), নাসা-ঈ এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এই হাদীসের বক্তব্য সম্পর্কে কোন মতবিরোধ নেই।
1596। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট একজন গোলাম এসে হিজরাতের শপথ নিল। সে যে গোলাম তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানতেন না। তার মনিব এসে উপস্থিত হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ আমার নিকট একে বিক্রয় করে দাও। তিনি দু'টি কালো গোলামের বিনিময়ে তাকে কিনলেন। এরপর হতে তিনি কোন লোককে শপথ করাতেন না সে গোলাম কি-না তা প্রশ্ন না করা পর্যন্ত। সহীহ, মুসলিম ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান গারীব সহীহ বলেছেন। আমরা এ হাদীসটি শুধুমাত্র আবূয যুবাইরের সূত্রে জেনেছি।
1597। মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি রুকাইকার মেয়ে উমাইমা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট কয়েকজন মহিলার সাথে শপথ গ্রহণ করি। তিনি আমাদেরকে বললেনঃ তোমাদের যোগ্যতা ও শক্তি মোতাবিক (দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পাদন করবে)। আমি বললাম, আমাদের নিজেদের চাইতে আল্লাহ ও তার রাসূল আমাদের উপর অনেক বেশি অনুগ্রহশীল। আমি আরো বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদেরকে শপথ করান। সুফিয়ান বলেন, তার কথার অর্থ ছিল, আমাদের হাত স্পর্শ করুন (যেভাবে পুরুষদের হাত স্পর্শ করে শপথ করা হয়)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমার বক্তব্য একজন মহিলার প্রতি যেমন এক শতজন মহিলার উপরেও ঠিক তেমনই। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৮৭৪) আইশা, আবদুল্লাহ ইবনু আমর ও আসমা বিনতু ইয়াযীদ (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। আমরা এ হাদীস প্রসঙ্গে শুধুমাত্র মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদিরের সূত্রেই জেনেছি। সুফিয়ান সাওরী, মালিক ও অন্যান্যরা মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদিরের সূত্রে এ হাদীসের মতই বর্ণনা করেছেন। আমি এ হাদীস বিষয়ে মুহাম্মাদ (বুখারী)-কে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, উমাইমা বিনতু রুকাইকা (রাঃ) হতে বর্ণিত এটি ব্যতীত আর কোন হাদীস আছে কি-না তা আমার জানা নেই। উমাইমা (রাঃ) নামক আরো একজন মহিলা আছেন যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে হাদীস বর্ণনা করেছেন।
1598। বারাআ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, বলেন, আমরা একে অপরের সাথে বলাবলি করতাম যে, বদরের যুদ্ধে বাদরী বাহিনীতে সাহাবীগণের পরিমাণ ছিল তালুত বাহিনীর মত তিন শত তেরজন। সহীহ, বুখারী ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীসটি আবূ ইসহাকের সূত্রে সুফিয়ান সাওর এবং অন্যান্যরাও বর্ণনা করেছেন।
1599। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, আবদুল কাইস বংশের প্রতিনিধি দলকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছি, তোমরা গানীমাতের যে সম্পদ লাভ করবে তার মধ্য হতে এক-পঞ্চমাংশ (বাইতুল মালে) দিয়ে দেবে। সহীহ্, সংক্ষিপ্ত বুখারী (৪০), আল ঈমান, আবৃউবাইদ(৫৯/১),নাসা-ঈ এ হাদীসের সাথে একটি ঘটনা আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। উপরোক্ত হাদীসের মত অন্য একটি সূত্রেও ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে।
1600। রাফি ইবনু খাদীজ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, এক (যুদ্ধের) ভ্রমণে আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলাম। কয়েকটি দ্রুতগামী লোক আগে চলে গেল। তারা দ্রুততার সাথে গানীমাতের সম্পদ হতে কিছু নিয়ে তা রান্না করা শুরু করে দিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পিছনের দলের সাথে ছিলেন। এই হাড়িগুলোর সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি নির্দেশ দিলেন এবং সে অনুযায়ী সেগুলো উলটিয়ে দেওয়া হল। তারপর তিনি গানীমাতের সম্পদ বণ্টন করলেন এবং দশ দশটি বকরীর সমান ধরলেন এক একটি উটকে। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩১৩৭), নাসা-ঈ আবূ ঈসা বলেন, সুফিয়ান সাওরী-তার পিতা হতে, তিনি আবাইয়া হতে, তিনি তার দাদা রাফি ইবনু খাদীজ (রাঃ)-এর সূত্রে উল্লেখিত হাদীস বর্ণনা করেছেন, এতে আবাইয়ার পরে তার পিতা রিফাআর কোন উল্লেখ নেই। মাহমূদ ইবনু গাইলান-ওয়াকী হতে, তিনি সুফিয়ানের সূত্রে উক্ত হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং এটি অনেক বেশি সহীহ। সালাবা ইবনুল হাকাম, আনাস, আবূ রাইহানা, আবূদ দারদা, আবদুর রাহমান ইবনু সামুরা, যাইদ ইবনু খালিদ, জাবির, আবূ হুরাইরা ও আবূ আইয়ূব (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা এ হাদীসটিকে অধিক সহীহ বলেছেন। আর আবাইয়া ইবনু রিফাআ সরাসরিভাবে তার দাদা রাফি (রাঃ) হতে হাদীস শ্রবণ করেছেন।
1601। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বন্টনের পূর্বে যে ব্যক্তি গানীমাতের সম্পদ হতে কিছু গ্রহণ করে সে আমাদের দল ভুক্ত নয়। সহীহ, মিশকাত তাহকীক ছানী (২৯৪৭) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ এবং আনাস (রাঃ)-এর রিওয়ায়াত হিসাবে গারীব বলেছেন।
1602। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা ইয়াহুদী-নাসারাদের প্রথমে সালাম প্রদান করো না। তোমরা রাস্তায় চলাচলের সময় তাদের কারো সাথে দেখা হলে তাকে রাস্তার কিনারায় ঠেলে দিও। সহীহ, সহীহা (৭০৪), ইরওয়া (১২৭১), মুসলিম, বুখারী আদাবুল মুফরাদ, ২৮৫৫ নং হাদীসটির আলোচনা আসবে। ইবনু উমার, আনাস ও আবূ বাসরা আল-গিফারী (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
1603। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তোমাদেরকে কোন ইয়াহুদী সালাম করে তখন বলে, 'আসসামু আলাইকুম’ (তোমার মৃত্যু হোক)। তুমি উত্তরে বল, 'আলাইকা' (তোমার হোক)। সহীহ, ইরওয়া (৫/১১২), নাসা-ঈ এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
1604। জারীর ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, খাসআমদের অঞ্চলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি ছোট বাহিনী প্রেরণ করেন। সিজদার মাধ্যমে সেখানকার জনগণ আত্মরক্ষা করতে চাইল। কিন্তু দ্রুততার সাথে তাদেরকে মেরে ফেলা হয়। এ সংবাদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলে তিনি তাদের অর্ধেক দিয়াত (রক্তপণ) দেওয়ার জন্য হুকুম দেন। তিনি আরো বলেন, মুশরিকদের সাথে যে সকল মুসলিম বসবাস করে আমি তাদের দায়িত্ব হতে মুক্ত। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! তা কেন? তিনি বললেনঃ এইটুকু দূরে থাকবে যেন উভয়ের আগুন না দেখা যায়। “অর্ধেক দিয়াত দেওয়ার হুকুম দেন” এই অংশ ব্যতীত হাদীসটি সহীহ, ইরওয়া (১২০৭), সহীহ আবূ দাউদ
1605। আবূ মুআবিয়ার হাদীসের মত হাদীস হান্নাদ-আবদাহ হতে, তিনি ইসমাঈল ইবনু আবৃ খালিদ হতে, তিনি কাইস ইবনু আবূ হাযিম (রাহঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত আছে। তবে এই সূত্রে জারীর (রাঃ)-এর উল্লেখ নেই এবং এটিই অনেক বেশি সহীহ। সামুরা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, ইসমাঈলের বেশিরভাগ সঙ্গী তার হতে, তিনি কাইস ইবনু আবূ হাযিমের সূত্রে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি ছোট বাহিনী পাঠান। এ সূত্রেও জারীরের উল্লেখ নেই। আবূ মুআবিয়ার হাদীসের মত হাদীস হাম্মাদ ইবনু সালামা-হাজ্জাজ ইবনু আরতাত হতে, তিনি ইসমাঈল ইবনু আবূ খালিদ হতে, তিনি কাইস হতে, তিনি জারীর (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আমি ইমাম বুখারীকে বলতে শুনেছি, সঠিক কথা হল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে কাইসের বর্ণনাটি মুরসাল। সামুরা ইবনু জুনদাব (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “মুশরিকদের সাথে তোমরা একত্রে বসবাস কর না, তাদের সংসর্গেও যেও না। যে মানুষ তাদের সাথে বসবাস করবে অথবা তাদের সংসর্গে থাকবে সে তাদের অনুরূপ বলে বিবেচিত হবে।”
1606। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইনশাআল্লাহ আমি জীবিত থাকলে ইয়াহুদী-নাসারাদের অবশ্যই আরব উপদ্বীপ হতে বের করে দিব। সহীহ দেখুন পূর্বের হাদীস
1607। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেনঃ আমি ইহুদী ও নাসারাদের আরব উপদ্বীপ হতে অবশ্যই বহিষ্কার করব। মুসলিম ব্যতীত অন্য কাউকে সেখানে বসবাস করতে দিব না। সহীহ, সহীহা (১১৩৪), সহীহ আবূ দাউদ, মুসলিম এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
1608। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আবূ বাকর (রাঃ)-এর নিকট ফাতিমা (রাঃ) এসে বললেন, আপনার উত্তরাধিকারী কে হবে? তিনি বললেন, আমার স্ত্রী এবং সন্তানগণ। তিনি (ফাতিমা) বললেন, তাহলে আমার পিতার উত্তরাধিকারী আমি হব না কেন? আবূ বাকর (রাঃ) বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ “আমাদের (নবীদের) কোন উত্তরাধিকারী হয় না।” তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাদের ভরণ-পোষণের যোগার করতেন আমিও তাদের ভরণ-পোষণের যোগার করে যাব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাদের খরচপাতি বহন করতেন আমিও তাদের খরচপাতি বহন করতে থাকব। সহীহ, মুখতাসার শামাঈল মুহাম্মাদীয়া (৩৩৭) উমার, তালহা, যুবাইর, আবদুর রাহমান ইবনু আওফ, সা’দ ও আইশা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা উল্লেখিত সনদ সূত্রে হাসান গারীব বলেছেন। এই হাদীস আব্দুল ওয়াহহাব ইবনু আতা হতে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনু আমর হতে, তিনি আবূ সালামা হতে, তিনি আবূ হুরাইরা (রাঃ)-এর সূত্রে হাম্মাদ ইবনু সালামা বর্ণনা করেছেন। আমি এই হাদীস প্রসঙ্গে মুহাম্মাদ বুখারীকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এ হাদীস মুহাম্মাদ ইবনু আমর হতে, তিনি আবূ সালামা হতে, তিনি আবূ হুরাইরা (রাঃ)-এর সূত্রে হাম্মাদ ইবনু সালামা ছাড়া অন্য কেউ বর্ণনা করেছেন বলে আমার জানা নেই।
1609। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, আবূ বাকর ও উমার (রাঃ)-এর কাছে ফাতিমা (রাঃ) এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে তার প্রাপ্য উত্তরাধিকারস্বত্ব দাবি করেন। তারা দু’জনেই বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমরা বলতে শুনেছিঃ “আমার কেউ ওয়ারিস হয় না”। ফাতিমা (রাঃ) বললেন, আল্লাহর শপথ আমি আর কোন সময় (উত্তরাধিকারস্বত্ব বিষয়ে) আপনাদের উভয়ের সাথে আলোচনা করব না। অতঃপর মৃত্যু পর্যন্ত তিনি আর তাদের সাথে (এ ব্যাপারে) কথা বলেননি। সহীহ, দেখুন পূর্বের হাদীস। আলী ইবনু ঈসা বলেন, আমি তোমাদের সাথে কথা বলবনা। এর অর্থ হল উত্তরাধিকার বিষয়ে তোমরা সত্যবাদী। আবূ বাকার (রাঃ) হতে একাধিক সূত্রে হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে।
1610। মালিক ইবনু আওস ইবনু হাদাসান (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-এর সামনে আসলাম। উসমান ইবনু আফফান, যুবাইর ইবনুল আওয়াম, আবদুর রাহমান ইবনু আওফ ও সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ)-ও তার সামনে আসলেন। তারপর আলী ও ইবনু আব্বাস (রাঃ)-ও আসলেন। তারা দু’জনেই তাদের অভিযোগ উপস্থাপন করলেন। তাদের সবাইকে উমার (রাঃ) বললেন, আমি আপনাদেরকে সেই আল্লাহর শপথ করে বলছি যার হুকুমে আকাশ এবং যমীন সুপ্রতিষ্ঠিত আছে! আপনারা কি জানেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “আমাদের (নবীদের) কোন উত্তরাধিকারী হয় না, আমরা যে সব (সম্পদ) রেখে যাই তা সাদকা বলে বিবেচিত"? তারা সকলেই বললেন, হ্যাঁ। আবার উমার (রাঃ) বললেন, আবূ বাকর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যুর পর বললেন, আমি এখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্থলাভিষিক্ত হয়েছি। (উমার বলেন) তখন আপনি (আব্বাস) ও ইনি (আলী) আবূ বাকর (রাঃ)-এর নিকট এসেছিলেন। আপনার ভাইয়ের ছেলের সম্পত্তিতে আপনি নিজের উত্তরাধিকার দাবি করলেন এবং ইনি তার শ্বশুরের সম্পত্তিতে নিজের স্ত্রীর অংশ দাবি করলেন। আবূ বাকর (রাঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “আমাদের কোন উত্তরাধিকারী হয় না, আমরা যা কিছু রেখে যাই তা সাদকা বলে বিবেচিত”। আল্লাহ তা'আলা জানেন, তিনি (আবূ বাকর) সত্যবাদী, সৎকর্মশীল, সৎপথের পথিক এবং সত্য-ন্যায়ের অনুসারী ছিলেন। সহীহ, মুখতাসার শামাইল (৩৪১), নাসা-ঈ আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসের সাথে দীর্ঘ বর্ণনা রয়েছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব এবং মালিক ইবনু আনাস (রাহঃ)-এর রিওয়ায়াত হিসাবে গারীব।
1611। হারিস ইবনু মালিক ইবনু বারসা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মক্কা বিজয়ের দিন বলতে শুনেছিঃ আজকের পর কিয়ামত পর্যন্ত এখানে আর যুদ্ধ করা যাবে না। সহীহ, সহীহা (২৪২৭) ইবনু আব্বাস, সুলাইমান ইবনু সুরাদ ও মুতী’ (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। যাকারিয়া ইবনু আবূ যাইদা-শাবী (রহঃ)-এর সূত্রে উক্ত হাদীসটি বর্ণিত। আমরা এ হাদীসটি শুধুমাত্র এই সূত্রেই জেনেছি।
1612। নুমান ইবনু মুকাররিন (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি। ফজ্বর হয়ে গেলে সূর্য না উঠা পর্যন্ত তিনি যুদ্ধ হতে বিরত থাকতেন এবং সূর্য উঠার পর যুদ্ধ শুরু করতেন। দিনের অর্ধেক চলে যাবার পর তিনি যুদ্ধ স্থগিত করতেন এবং সূর্য পশ্চিম আকাশে ঢলে না পড়া পর্যন্ত তা বন্ধ রাখতেন। সূর্য ঢলে যাওয়ার পর তিনি আবার যুদ্ধ শুরু করতেন এবং আসর পর্যন্ত তা অব্যাহত রাখতেন। তারপর আসর নামায আদায়ের জন্য তা বন্ধ করতেন। নামায শেষে তিনি আবার যুদ্ধে নেমে যেতেন। বলা হত, এ সময় (আল্লাহ্ তা'আলার) সাহায্যের বায়ু প্রবাহিত হয় এবং মু’মিনগণ তাদের নামাযের মাঝে তাদের সেনাবাহিনীর জন্য দু'আ করতেন। যঈফ, মিশকাত তাহকীক ছানী (৩৯৩৪) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি নুমান ইবনু মুকাররিন (রাঃ) হতে আরও একের অধিক অবিচ্ছিন্ন (মুত্তাসিল) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। কাতাদা (রাহঃ) নুমান ইবনু মুকাররিনের দেখা পাননি। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-এর খিলাফাত কালে নুমান (রাঃ) মারা যান।
1613। মাকিল ইবনু ইয়াসার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) হুরমুযানের বিরুদ্ধে নুমান ইবনু মুকাররিন (রাঃ)-কে প্রেরণ করেন। তারপর এ হাদীসের বিস্তারিত ঘটনা (অন্যত্র) বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন। নুমান ইবনু মুকাররিন (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে (বিভিন্ন যুদ্ধে) অংশগ্রহণ করেছি। তিনি দিনের প্রথম ভাগে যুদ্ধ আরম্ভ না করলে সূর্য (পশ্চিমাকাশে) ঢলে পড়ার, বাতাস প্রবাহিত হওয়ার এবং সাহায্য অবতীর্ণ হওয়ার অপেক্ষা করে যুদ্ধ আরম্ভ করতেন। সহীহ্, সহীহ আৰূ দাউদ (২৩৮৫), মিশকাত তাহকীক ছানী (৩৯৩৩) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। আলকামা ইবনু আবদুল্লাহ (রাহঃ) বাকর ইবনু আবদুল্লাহ আল-মুযানীর ভাই। নুমান ইবনু মুকাররিন উমর (রাঃ)-এর খিলাফতকালে মারা যান।
1614। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কুলক্ষণে বিশ্বাস করা শিরকের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। এমন কেউই আমাদের মধ্যে নেই যার মনে এর ধারণা আসে না। তবে আল্লাহ তা'আলা তার উপর (মু'মিন লোকের) ভরসার কারণে তা দূর করে দেন। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩৫৩৮) আবু ঈসা বলেন, আবু হুরাইরা, হাবিস আত তামীমী, আইশা, ইবনু উমার ও সা'দ (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আমরা শুধুমাত্র আলামা ইবনু কুহাইলের সূত্রেই এটি জেনেছি। এটি সালামা (রাহঃ) হতে শুবা (রাহঃ)-ও বর্ণনা করেছেন। এ হাদীস প্রসঙ্গে সুলাইমান ইবনু হারব বলতেনঃ “আমাদের মধ্যে এমন কেউই নেই যার মনে এর ধারণা আসে না তবে আল্লাহর উপর ভরসার কারণে তা দূর করে দেন।” কথাটুকু ইবনু মাসউদ (রাঃ)-এর (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা নয়)।
1615। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সংক্রমণ এবং কুলক্ষণ বলতে কিছু নেই। তবে আমি ফাল পছন্দ করি। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! ফাল কি জিনিস? তিনি বলেনঃ পবিত্র ও উত্তম কথা। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩৫৩৭), নাসা-ঈ এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
1616। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন দরকারে বের হওয়ার সময় (কারো মুখে) হে সঠিক পথের পথিক’, ‘হে সফলকাম’ বাক্য শুনতে পছন্দ করতেন। সহীহ, রাওযুন নায়ীর (৮৬) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান গারীব সহীহ বলেছেন।
1617। সুলাইমান ইবনু বুরাইদা (রাঃ) হতে তার বাবার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি (বুরাইদা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন বাহিনীর অধিনায়ক মনোনীত করে কাউকে পাঠানোর এবং অধীনস্থ মুসলিম যোদ্ধাদের কল্যাণ কামনা করার পরামর্শ দিতেন। তিনি বলতেনঃ আল্লাহ্ তা'আলার নামে যুদ্ধ শুরু কর, আল্লাহ্ তা'আলার রাস্তায় জিহাদ কর, আল্লাহ্ তা'আলার সাথে অবাধ্যাচরণকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর, গানীমাতের সম্পদ আত্মসাৎ কর না, বিশ্বাসঘাতকতা করা হতে বিরত থাক, (শত্রুসৈন্যের) মৃতব্যক্তির নাক-কান ইত্যাদি কেটে মৃতদেহ বিকৃত কর না এবং শিশুদের হত্যা কর না। তুমি মুশরিক শক্ৰদের সাথে মুখোমুখি হওয়াকালে তাদেরকে তিনটি বিকল্প প্রস্তাবের যে কোন একটি মেনে নেওয়ার আহবান জানাবে। তারা এ তিনটি প্রস্তাবের যে কোন একটি মেনে নিলে তা গ্রহণ কর এবং তাদেরকে হামলা করা হতে বিরত থাক। তুমি তাদেরকে ইসলাম ধর্ম কবুল করার জন্য আহবান জানাবে এবং হিজরাত করে মুহাজিরদের এলাকায় চলে আসতে বলবে। তাদেরকে জানিয়ে দিবে যে, তারা এ প্রস্তাব গ্রহণ করলে তারা মুহাজিরদের সমপরিমাণ অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা লাভ করবে এবং যেসব দায়িত্ব ও কর্তব্য মুহাজিরদের উপর অর্পিত হবে অনুরূপ তাদের উপরও অর্পিত হবে। তারা নিজস্ব অবস্থান পরিবর্তন করতে সম্মত না হলে তুমি তাদেরকে জানিয়ে দিবে যে, তারা বেদুঈনদের অনুরূপ বলে বিবেচিত হবে। যা বেদুঈনদের বেলায় কার্যকর হবে তাদের বেলায়ও তাই প্রযোজ্য হবে। তারা জিহাদে যোগ না দিলে গানীমাত ও ফাই হতে কিছুই পাবে না। তারা ইসলাম ধর্ম কুবুল করতে রাজি না হলে তুমি তাদের বিরুদ্ধে আল্লাহ তা'আলার সাহায্য প্রার্থনা কর এবং তাদের বিপক্ষে যুদ্ধ কর। তুমি কোন দুর্গ ঘেরাও করার পর তারা তোমার নিকট আল্লাহ ও তার নবীর যিম্মাদারি (নিরাপত্তা) চাইলে তুমি তাদেরকে আল্লাহ্ তা'আলার যিম্মাদারিও অনুমোদন করবে না আর তার নবীর যিম্মাদারিও নয়, বরং তাদের জন্য তোমার এবং তোমার সার্থীদের যিম্মাদারি মঞ্জুর করবে। কেননা আল্লাহ ও তার রাসূলের যিম্মাদারির খেলাপ করার চেয়ে তোমার ও তোমার সার্থীদের যিম্মাদারির খেলাপ করাই তোমাদের জন্য উত্তম। তুমি কোন দুর্গবাসীদের অবরোধ করার পর তারা তোমার নিকট আল্লাহ তা'আলার ফায়সালা মোতাবিক দুর্গ হতে বের হয়ে আত্মসমর্পণ করতে চাইলে তুমি তা অনুমোদন করবে না, বরং তুমি তাদেরকে তোমার নিজের ফায়সালা মতো দুর্গ হতে বের করে আত্মসমর্পণ করাবে। কারণ তুমি তাদের ব্যাপারে আল্লাহ্ তা'আলার সঠিক ফায়সালায় পৌছাতে পেরেছ কি-না তা তোমার জানা নেই। অথবা তিনি একইরকম কোন কথা বলেছেন। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৮৫৮), মুসলিম আবূ ঈসা বলেন, নুমান ইবনু মুকাররিন (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদিস বর্ণিত আছে। আবূ বুরাইদা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদিসটি হাসান ও সহীহ। উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ আলকামা ইবনু মারসাদ (রাহঃ) হতেও বর্ণিত হয়েছে। এই বর্ণনায় আরো আছেঃ তারা (ইসলাম ধর্ম কুবুল করতে) অস্বীকার করলে তাদের কাছ থেকে খাজনা আদায় কর। তারা তাও ফিরিয়ে দিলে তাদের বিরুদ্ধে (যুদ্ধ করার জন্য) আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা কর। সহীহ দেখুন পূর্বের হাদীস আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি ওয়াকী ও একাধিক বর্ণনাকারী সুফিয়ানের নিকট হতে বর্ণনা করেছেন। আবদুর রাহমান ইবনু মাহদীর সূত্রে মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার ব্যতীত অন্য বর্ণনাকারীগণ এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তাতেও জিযরার উল্লেখ আছে।
1618। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, ফজরের সময়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (কোন জনপদে) নৈশ হামলা করতেন। তিনি আযান শুনলে হামলা হতে বিরত থাকতেন, অন্যথায় হামলা করতেন। একদিন তিনি কানকে সজাগ রাখলেন। তিনি একজন লোককে 'আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার’ বলতে শুনলেন। তিনি বললেনঃ ফিতরাতের (ইসলামের) উপর আছে। ঐ লোকটি আবার বলল, “আশহাদু আল-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ" (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত আর কোন মা’বুদ নেই)। তিনি বললেনঃ তুমি জাহান্নাম হতে বেরিয়ে গেলে। সহীহ, সহীহ আবূ দাউদ (২৩৬৮), মুসলিম হাসান (রাহঃ) বলেন, আবূল ওয়ালীদ-হাম্মাদ ইবনু সালামা (রাহঃ)-এর এই সূত্রে একইরকম বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
উৎস: Jami At Tirmidhi
WEBREATH · 11:11
«Should I not be a thankful servant?» — Sahih al-Bukhari
Breath is one for all: everyone lives by it, whoever they are and whatever they believe. Every day at 11:11 local time people stop for sixty seconds, breathe, and thank GOD for the breath — each in their own words, each within themselves. In that minute we are One Breath.
WEBREATH — the Minute at 11:11, your own local time — we are One Breath