সুনানে নাসায়ী 7 · The Book of the Adhan (The Call to Prayer)
আপনার ভাষায় এখনো কোনো অনুবাদ নেই — ইংরেজি দেখাচ্ছে
626। মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল ও ইবরাহীম ইবনু হাসান (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ মুসলিমগণ যখন মদ্বীনায় আগমন করেন, তারা একত্র হয়ে সালাতের সময় নির্ধারণ করে নিতেন, কিন্তু কেউ সালাতের জন্য আহবান করতেন না। তাই একদিন তারা এ ব্যাপারে আলোচনায় বসলেন। কেউ কেউ বললেনঃ নাসারাদের ঘন্টার মত ঘণ্টা ব্যবহার করুন। আর কেউ কেউ বললেনঃ বরং ইয়াহুদীদের শিংগার মত শিংগা ব্যবহার করা হোক। উমর (রাঃ) বললেনঃ আপনারা কি একজন লোক পাঠাতে পারেন না, যে সালাতের আহবান জানাবে? তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে বিলাল, উঠ এবং সালাতের এ আহবান জানাও।
627। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিলাল (রাঃ)-কে আযান (এর বাক্যগুলো) দু'বার করে বলার এবং ইকামত (-এর বাক্য গুলো) একবার করে বলার নির্দেশ দেন।
628। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে আযান (-এর বাক্যগুলো) দু’দু-বার এবং ইকামত (-এর বাক্যগুলো) একবার করে ছিল। তবে তুমি قَدْ قَامَتِ الصَّلاَةُ দু’বার করে বলবে।
629। বিশর ইবনু মুআয (রহঃ) ... আবূ মাহযুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে (সামনে) বসালেন এবং তাকে এক-একটি শব্দ করে আযান শিখিয়ে দেন। ইবরাহিম বলেনঃ তা আমাদের এ আযানের ন্যায়। আমি তাকে বললামঃ (আযানের শব্দগুলো ) আমার নিকট পূনরাবৃত্তি করুন। তিনি তখন বললেনঃ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ দু’বার, أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ দু’বার, أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ দু’বার حَىَّ عَلَى الصَّلاَةِ দু’বার, حَىَّ عَلَى الْفَلاَحِ দু’বার, তারপর اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ
630। সুয়ায়দ ইবনু নাসর (রহঃ) ... আবূ মাহযূরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে আযানের উনিশটি এবং ইকামতের সতেরটি বাক্য শিখিয়েছেন। এরপর আবূ মাহযূরা (রাঃ) ঊনিশটি ও সতেরটি বাক্য গণনা করলেন।
631। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আবূ মাহযূরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে আযান শিক্ষা দেন এবং বলেনঃ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ তারপর আবার বললেনঃ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ حَىَّ عَلَى الصَّلاَةِ حَىَّ عَلَى الصَّلاَةِ حَىَّ عَلَى الْفَلاَحِ حَىَّ عَلَى الْفَلاَحِ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ
632। ইবরাহীম ইবনু হাসান (রহঃ) ও ইউসুফ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আবদুল আযীয ইবনু আবদুল মালিক ইবনু আবূ মাহযূরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আব্দুল্লাহ ইবনু মুহাইরীয (রাঃ) তার নিকট বর্ণনা করেন, তিনি ইয়াতীম ছিলেন এবং আবূ মাহযূরার নিকট লালিত হন এবং তাকে সিরিয়ায় এক সফরে পাঠিয়েছিলেন। তিনি বলেনঃ আমি আবূ মাহযূরা (রাঃ)-কে বললামঃ আমি সিরিয়া অভিমুখে রওয়ানা হচ্ছি। ভয় পাচ্ছি আপনার আযান দেয়া - সম্পর্কে আমাকে জিজ্ঞাসা করা হবে। রাবী আব্দুল আযীয বলেনঃ ইবনু মুহাইরীয আমাকে বলেন যে, আবূ মাহযূরা তখন তাকে বলেছেনঃ আমি একটি দলের সাথে বের হলাম। আমরা হুনায়নের কোন একটি পথে গিয়ে উপনীত হলাম। যা ছিল রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হুনায়নের যুদ্ধ থেকে ফেরার সময়। রাস্তায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে আমাদের সাক্ষাত হল। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মুয়াযযিন তার অদূরে সালাতের আযান দিলেন। আমরা আযানের ধ্বনি শুনলাম, তখন আমরা ইসলাম থেকে বিমুখ ছিলাম। তাই আমরা আযানের অনুকরণ ও তা নিয়ে ঠাট্টা করছিলাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে আওয়াজ শুনলেন এবং আমাদের ডেকে পাঠালেন। অবশেষে আমরা (ধৃত হয়ে) তাঁর সামনে দাঁড়ালাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, আমি যার ধ্বনি শুনেছিলাম সে - কে? লোকেরা আমার দিকে ঈশারা করল এবং তারা প্রত্যায়ন করল। তারপর তিনি সকলকে ছেড়ে দিলেন এবং আমাকে আটকিয়ে রাখলেন। তিনি আমাকে নির্দেশ দিলেনঃ দাঁড়াও সালাতের আযান দাও। আমি দাঁড়ালে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বয়ং আমাকে আযান দেয়া শিক্ষা দিলেন, তিনি বললেনঃ বলঃ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ তারপর বললেন, পুনরায় দীর্ঘ স্বরে বলও। তারপর তিনি বলেনঃ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ حَىَّ عَلَى الصَّلاَةِ حَىَّ عَلَى الصَّلاَةِ حَىَّ عَلَى الْفَلاَحِ حَىَّ عَلَى الْفَلاَحِ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ আমি আযান দেয়া শেষ করলে তিনি আমাকে ডাকলেন এবং আমাকে একটি থলে দান করলেন। যাতে ছিল রৌপ্য। তখন আমি আরয করলাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাকে মক্কায় আযান দেয়ার দায়িত্বে নিয়োজিত করুন। উত্তরে তিনি বলেনঃ হ্যাঁ, তোমাকে মক্কায় আযান দেয়ার দায়িত্বে নিয়জিত করলাম। তারপর আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তুক নিযুক্ত মক্কার আমীর আত্তাব ইবনু আসীদ (রাঃ)-এর সঙ্গে সাক্ষাত করি এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নির্দেশ অনুযায়ী তার সঙ্গে আযান দিতে থাকি।
633। ইবরাহীম ইবনু হাসান (রহঃ) ... আবূ মাহযূরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন হুনায়ন থেকে বের হলেন, আমি মক্কাবাসী দশ ব্যক্তির অন্যতম হয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর দলের খোঁজে বের হলাম। আমরা তাঁদেরকে সালাতের আযান দিতে শুনলাম। আমরা বিদ্রুপ সহকারে তাদের আযানের অনুকরণ করতে লাগলাম। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি তাদের মধ্যে মধূর কণ্ঠর বিশিষ্ট এমন একজনের আওয়াজ শুনেছি। তখন তিনি আমাদের ডেকে পাঠালেন। তাহাপর আমরা সকলেই এক-একজন করে আযান দিলাম। সর্বশেষে ছিলাম আমি। আমি আযান দেয়ার পর বললেন, আস তারপর আমাকে তাঁর সামনে বসালেন এবং আমার কপালে হাত বুলিয়ে তিনবার বরকতের দোয়া করলেন। তারপর বললেন, যাও, মসজিদে হারামে আযান দাও। আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! কিভাবে দেব? তখন তিনি আমাদের আযান শিক্ষা দিলেন যেরুপ তোমরা এখন আযান দিচ্ছঃ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ حَىَّ عَلَى الصَّلاَةِ حَىَّ عَلَى الصَّلاَةِ حَىَّ عَلَى الْفَلاَحِ حَىَّ عَلَى الْفَلاَحِ তিনি ফজরের আযানে- দু'বার বলার শিক্ষা দেন- الصَّلاَةُ خَيْرٌ مِنَ النَّوْمِ الصَّلاَةُ خَيْرٌ مِنَ النَّوْمِ তিনি আমাকে ইকামত শিক্ষা দেন দু-বার করে اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ حَىَّ عَلَى الصَّلاَةِ حَىَّ عَلَى الصَّلاَةِ حَىَّ عَلَى الْفَلاَحِ حَىَّ عَلَى الْفَلاَحِ قَدْ قَامَتِ الصَّلاَةُ قَدْ قَامَتِ الصَّلاَةُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ ইবনু জুরায়জ বলেনঃ উসমান (রহঃ) এ পূরো হাদীসটি তার পিতা এবং উম্মু আবদুল মালিক ইবনু আবূ মাহযূরা (রাঃ) থেকে। আর তাঁরা উভয়ে আবূ মাহযূরা (রাঃ) থেকে শুনেছেন।
634। হাজিব ইবনু সুলায়মান (রহঃ) ... মালিক ইবনু হুওয়ায়রিস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একবার আমি এবং আমার চাচাত ভাই (কখনো বলেছেন আমি এবং আমার সাথী) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলাম। তিনি বললেনঃ তোমরা দু’জন যখন সফরে যাবে আযান দিবে এবং ইকামত দিবে, তারপর তোমাদের মধ্যে যে বড় সে ইমামতি করবে।
635। যিয়াদ ইবনু আইয়্যুব (রহঃ) ... মালিক ইবনু হুওয়ায়রিস (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেনঃ আমরা (কয়েকজন) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হলাম, তখন আমরা সবাই ছিলাম যুবক ও কাছাকাছি বয়সের। আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে বিশ দিন অবস্থান করি। তিনি অত্যন্ত দয়াশীল ও বিনম্র চিত্তের ছিলেন। তাঁর ধারণা হয়ে থাকবে যে, আমরা বাড়িতে যেতে আগ্রহী। তিনি আমাদের জিজ্ঞাসা করলেনঃ বাড়িতে কাদের রেখে এসেছ? আমরা তাকে অবহিত করলাম। তিনি বললেনঃ তোমরা তোমাদের বাড়িতে চলে যাও এবং তোমাদের পরিজনদের মধ্যে থাক। তাদের (দ্বীন) শিক্ষা দাও এবং তাদের (সৎকাজের) আদেশ দাও। যখন সালাতের সময় উপস্থিত হয় তখন যেন তোমাদের কোন একজন আযান দেয় এবং তোমাদের মধ্যে যে বড় সে সালাতের ইমামতি করে।
636। ইবরাহীম ইবনু ইয়াকুব (রহঃ) ... আইয়্যুব (রহঃ) আবূ কিলাবা (রাঃ) থেকে, তিনি আমর ইবনু সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন। (আইয়্যুব বলেন) আবূ কিলাবা (রহঃ) আমাকে বলেছেন যে, আমর ইবনু সালামা (রহঃ) এখনও জীবিত আছেন, আপনি এখনো তাঁর সঙ্গে সাক্ষাত করেন না কেন? আইয়্যুব বলেনঃ আমি গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাত করে তাকে জিজ্ঞাসা করি। তিনি বলেনঃ মক্কা বিজয়ের পর প্রত্যেক গোত্রই দ্রুত ইসলাম কবুল করতে আরম্ভ করে। আমাদের গোত্রের সকলের পক্ষ থেকে আমার পিতা ইসলাম কবুল করার জন্য যান। তার প্রত্যাবর্তনের সময় আমরা তাকে অভ্যর্থনা জ্ঞাপন করি। তখন তিনি বলেনঃ আল্লাহর শপথ! আমি অবশ্যই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট থেকে তোমাদের কাছে এসেছি। তিনি বললেনঃ অমুক সালাত অমুক সময়ে আদায় করবে এবং যখন সালাতের সময় উপস্থিত হবে, তোমাদের মধ্যে একজন আযান দিবে এবং তোমাদের মধ্যে যার কুরআন বেশি জানা আছে, সে ইমামতি করবে।
637। কুতায়বা (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বিলাল (রাঃ) রাত থাকতে আযান দেয় সুতরাং ইবনু মাকতুমের আযান না শোনা পর্যন্ত তোমরা পানাহার করতে পার।
638। কুতায়বা (রহঃ) ... সালেম (রহঃ) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বিলাল (রাঃ) রাত থাকতে আযান দেয়। সুতরাং ইবনু উম্মে মাকতূমের আযান না শোনা পর্যন্ত তোমরা পানাহার করতে পার।
639। ইয়াকুব ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন বিলাল (রাঃ) আযান দেয়, তখন থেকে ইবনু উম্মে মাকতুমের আযান পর্যন্ত তোমরা পানাহার করবে। আয়িশা (রাঃ) বলেনঃ দুই আযানের মধ্যে খুব বেশি ব্যবধান হত না। একজন আযান দিয়ে নেমে আসত অন্যজন আযান দিতে উঠত।
640। ইয়াকুব ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... উনায়সা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন ইবনু উম্মে মাকতুম (রাঃ) আযান দেয়, তখন তোমরা পানাহার কর এবং যখন বিলাল (রাঃ) আযান দেয় তখন আর পানাহার করবে না।
641। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) সুত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ বিলাল রাতে তোমাদের ঘুমন্ত লোকদের জাগানোর জন্য এবং সালাতরত লোকদের ফিরিয়ে আনার জন্য আযান দেন। তিনি ঈশারায় বোঝালেন যে, সুবহে কাযিবের প্রকাশে ফজর হয় না।
642। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ফজরের ওয়াক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিলাল (রাঃ) কে আযান দিতে আদেশ করলেন। বিলাল (রাঃ) প্রভাত হওয়ার (সুবেহে সাদিকের প্রারম্ভে) সাথে সাথে আযান দিলেন। পরবর্তী দিন ভোর ফর্সা হওয়া পর্যন্ত ফজরের সালাতে বিলম্ব করলেন। এরপর বিলাল (রাঃ)-কে ইকামত বলার নির্দেশ দিলেন। বিলাল (রাঃ) ইকামত দিলেন এবং সালাত আদায় করলেন। তারপর বললেনঃ এটাই ফজরের সালাতের সময়।
643। মাহমূদ ইবনু গায়লান (রহঃ) ... আবূ জুহায়ফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হলাম। তখন বিলাল (রাঃ) বের হলেন এবং আযান দিলেন। তিনি আযান দেয়ার সময় ডানদিকে এবং বামদিকে এভাবে মুখ ফিরালেন।
644। মুহাম্মাদ ইবনু সালামা (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু আবদুর রহমান ইবনু আবূ সাসাআ আনসারী আল-মাযিনী (রহঃ) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি তাকে বলেছেন যে, আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) তাকে বলেছেনঃ আমি তোমাকে দেখি তুমি বকরী চরাতে এবং ময়দানে থাকতে ভালবাসো, যখন তুমি তোমার বকরীর পালের নিকট ময়দানে থাক এবং সালাতের জন্য আযান দাও, তখন উচ্চসূরে আযান দিবে। কেননা মুয়াযযিনের আওয়াজ যে পর্যন্ত পৌছবে, কিয়ামতের দিন ঐ স্থানের সকল জ্বীন্ন, মানুষ এবং প্রতিটি বস্তু তার সাক্ষ্য প্রদান করবে। আবূ সাঈদ (রাঃ) বলেনঃ আমি এটা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট থেকে শুনেছি।
645। ইসমাঈল ইবনু মাসউদ ও মুহাম্মদ ইবনু আবূল আলা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন যে, মুয়াযযিনের আওয়াজের দূরত্ব পরিমাণ তাকে ক্ষমা করে দেয়া হবে এবং প্রত্যেক শুষ্ক ও আদ্র জিনিস (অর্থাৎ জীবন্ত ও মৃত প্রত্যেক জিনিস) তার (ঈমানের) পক্ষে সাক্ষ্য প্রদান করবে।
646। মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না (রহঃ) ... বারা ইবনু আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রথম কাতারে সালাত আদায়কারীদের প্রতি অনুগ্রহ করেন এবং তাঁর ফেরেশতাগণও তাদের জন্য অনুগ্রহ প্রার্থনা করেন এবং মুয়াযযিনকে তার আওয়াজের দূরত্ব পরিমান ক্ষমা করে দেয়া হয় এবং যে সব শুষ্ক ও আদ্র জিনিস তার শব্দ শোনে, তারা তাকে সত্যবাদী বলে ঘোষণা দেয় এবং তাকে তার সাথে সালাত আদায়কারীদের সমপরিমাণ পূরস্কার দেওয়া হয়।
647। সুওয়ায়দ ইবনু নাসর (রহঃ) ... আবূ মাহয়ূবা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মুয়াযযিন ছিলাম। আাম ফজরের প্রথম আযানে- حَىَّ عَلَى الْفَلاَحِ এর পরে বলতামঃ الصَّلاَةُ خَيْرٌ مِنَ النَّوْمِ الصَّلاَةُ خَيْرٌ مِنَ النَّوْمِ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ
648। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... ইয়াহইয়া ও আবদূর রহমান (রাঃ) সূত্রে বর্ণনা করেন যে, সুফিয়ান এর অনুরুপ হাদীসে বর্ণনা করেছেন। আবূ আবদূর রহমান (রহঃ) বলেনঃ এ সনদে উল্লিখিত আবূ জাফর আবূ জাফর ফাররা নন।
649। মুহাম্মদ ইবনু মা’দান ইবনু ঈসা (রহঃ) ... বিলাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আযানের শেষ বাক্যগুলো এরূপ বলতেনঃ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ
650। সুওসায়দ (রহঃ) ... আসওয়াদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ বিলাল (রাঃ)-এর আযানের শেষ বাক্যগুলো ছিলঃ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ
651। সুওয়ায়দ (রহঃ) ... আসওয়াদ (রহঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে। [অর্থাৎ বিলাল (রাঃ) এর আযানের শেষ বাক্য ছিল لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ
652। সুওয়ায়দ (রহঃ) ... আবূ মাহযূরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আযানের শেষ বাক্য ছিল, لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ
653। কুতায়বা (রহঃ) ... আমর ইবনু আওস (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেন, আমার নিকট সাকীফ গোত্রের এক ব্যক্তি বর্ননা করেছেন যে, তিনি সফর অবস্থায় বর্ষার এক রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘোষককে বলতে শুনেছেনঃ حَىَّ عَلَى الصَّلاَةِ حَىَّ عَلَى الْفَلاَحِ صَلُّوا فِي رِحَالِكُمْ "সকলেই আপন আপন স্থানে সালাত আদায় করে নিন"।
654। কুতায়বা (রহঃ) ... নাফে (রহঃ) থেকে বর্ণিত। আব্দুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) এক রাতে সালাতের জন্য আযান দেন। সে রাত্রে খুব ঠাণ্ডা পড়েছিল ও প্রচণ্ড বাতাস বইছিল। তিনি আযানে বলেনঃ أَلاَ صَلُّوا فِي الرِّحَالِ সকলেই আপন আপন স্থানে সালাত আদায় করে নিন। কেননা ঠাণ্ডা ও বৃষ্টির রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুয়াযযিনকে এই কথা ঘোযণা করতে নির্দেশ দিতেন যে, সকলেই আপন আপন স্থানে সালাত আদায় করে নিন।
655। ইবরাহীম ইবনু হারুন (রহঃ) ... জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চলতে থাকলেন এবং আরাফায় পৌছলেন। সেখানে পৌছে দেখলেন-যে, নামীরা নামক স্থানে তার জন্য তাঁবু স্থাপন করা হয়েছে। তিনি সেখানে অবতরণ করলেন। যখন সূর্য ঢলে পড়ল, কাসওয়া নামক উষ্ট্রীর পিঠে হাওদা স্থাপন করার নির্দেশ দিলেন। এরপর তিনি বাতন-ই ওয়াদিতে পৌছার পর লোকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন। তারপর বিলাল (রাঃ) আযান দিলেন এবং ইকামত বললেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যোহরের সালাত আদায় করলেন। পূনরায় বিলাল (রাঃ) ইকামত বললে তিনি আসরের সালাত আদায় করলেন। আর এ দুই সালাতের মধ্যবর্তী সময়ে কোন সালাত আদায় করলেন না।
656। ইবরাহীম ইবনু হারুন (রহঃ) ... জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চলতে চলতে মুযদালিফায় পৌছলেন। সেখানে এক আযান ও দুই ইকামতের সাথে মাগরিব ও ঈশার সালাত আদায় করলেন। এ দু-য়ের মধ্যবর্তী সময়ে কোন সালাত আদায় করেননি।
657। আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ... সাঈদ ইবনু জুবায়র (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা আব্দুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ)-এর সঙ্গে মুযদালিফায় ছিলাম। যখন আযান ও ইকামত দেয়া হয়, তখন তিনি আমাদের নিয়ে মাগরিবের সালাত আদায় করেন। তারপর তিনি বলেনঃ (আবার) সালাত আদায় কর এবং তিনি আমাদের নিযে ঈশার দুই রাক’আত সালাত আদায় করেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম এ কোন সালাত? তিনি বললেনঃ আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে এ স্থানে এরুপেই সালাত আদায় করেছি।
658। মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না (রহঃ) ... সাঈদ ইবনু জুবায়র থেকে বর্ণিত। তিনি এক ইকামতের সাথে মাগরিব ও ঈশার সালাত আদায় করেন এবং আব্দুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে তিনিও এরুপ করেছেন এবং আব্দুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও এরুপ করেছেন।
659। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি মুজদালিফায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে এক ইকামতে দুই সালাত আদায় করেছেন।
660। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’সালাত একত্রে আদায় করেছেন এবং দু’সালাতই তিনি এক ইকামতসহ আদায় করেন এবং দু' সালাতের কোন সালাতেরই পূর্বে বা পরে কোন নফল সালাত আদায় করেননি।
661। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ খন্দকের যুদ্ধের দিন মুশরিকরা আমাদেরকে যোহরের সালাত থেকে সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত বিরত রেখেছিল। এটা যুদ্ধের সময় সালাতুল খওফ সম্পর্কিত আয়াত অবর্তীর্ণ হওয়ার পূর্বের ঘটনা। তারপর আল্লাহ তাআলা এই আয়াত অবর্তীর্ন করেনঃوَكَفَى اللَّهُ الْمُؤْمِنِينَ الْقِتَالَ অর্থাৎ “যুদ্ধে মুমিনদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।” (৩৩ : ২৫) তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিলাল (রাঃ)-কে ইকামত দেওয়ার আদেশ করেন। তিনি যোহরের সালাতের ইকামত দেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের আসল ওয়াক্তে; আদায় করার ন্যায় যোহরের কাযা সালাত আদায় করেন। পরে আসরের জন্য ইকামত বলা হয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন সালাতের আসল ওয়াক্তে আদায় করার ন্যায় আসরের কাযা সালাত আদায় করেন। তারপর মাগরিবের আযান দেয়া হয় এবং তা নির্ধারিত সময়ে আদায় করার ন্যায় আদায়-করেন।
662। হান্নাদ (রহঃ) ... আবূ উবায়দা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) বলেছেন যে, খন্দকের যুদ্ধের দিন মুশরিকরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে চার ওয়াক্ত সালাত হতে বিরত রেখেছিল। পরে তিনি বিলাল (রাঃ)-কে আযান দেওয়ার নির্দেশ দেন, বিলাল (রাঃ) আযান দেন, পরে ইকামত দেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যোহরের সালাত আদায় করেন। পূনরায় ইকামত দেন এবং আসরের সালাত আদায় করেন। পূনরায় ইকামত বলা হয় ও মাগরিবের সালাত আদায় করেন। আবার ইকামত বলা হয় এবং তিনি ঈশার সালাত আদায় করেন।
663। কাসিম ইবনু যাকারিয়া (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা একটি যুদ্ধে লিপ্ত ছিলাম, মুশরিকরা আমাদেরকে যোহর, আসর, মাগরিব ও ইশার সালাত আদায় করতে সুযোগ দেয়নি। যখন তারা চলে গেল, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুয়াযযিনকে আযান দেয়ার নির্দেশ দিলেন। তারপর যোহরের সালাতের জন্য ইকামত বলা হলে আমরা সালাত আদায় করলাম। আবার আসরের সালাতের জন্য ইকামত বলা হলে আমরা সালাত আদায় করলাম। পরে মাগরিবের জন্য ইকামত বলা হলে আমরা সালাত আদায় করলাম। পূনরায় ইশার সালাতের ইকামত বলা হয় এবং আমরা সালাত আদায় করলাম। তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের প্রতি লক্ষ্য করে বললেনঃ এখন যমীনের উপর তোমরা ব্যতীত এমন আর কোন দল নেই যারা আল্লাহ তা’আলার যিকির করছে।
664। কুতায়বা (রহঃ) ... মুআবিয়া ইবনু খুদায়জ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করেন এবং সালাম ফিরান। কিন্তু এক রাক’আত সালাত তাঁর বাকী রয়ে গিয়েছিল (অর্থাৎ এক রাক’আত বাকী থাকতেই ভুলে সালাম ফিরান)। এক ব্যাক্তি তা স্মরণ করিয়ে দিলেন এবং বললেন, আপনি এক রাক’আত সালাত ভুলে গিয়েছেন। তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে প্রবেশ করেন এবং বিলাল (রাঃ)-কে ইকামত দিতে বলেন। বিলাল (রাঃ) ইকামত বললেন। তিনি লোকদের নিয়ে এক রাক’আত সালাত আদায় করেন। আমি যখন এ ঘটনা লোকদের নিকট বর্ণনা করলাম তখন তারা আমাকে বলল আপনি কি লোকটিকে চেনেন? আমি বললাম, না তাকে আমি চিনি না। তবে তাঁকে দেখলে চিনতে পারব। সে ব্যক্তি আমার সামনে আসল, আমি বললাম, ইনই সেই লোক। লোকেরা বলল, ইনি হলেন তালহা ইবনু উবায়দুল্লাহ (রাঃ)।
665। ইসহাক ইবনু মানসুর (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু রুবাইয়্যি'আ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে একবার সফরে ছিলেন এবং এক ব্যক্তির আযানের শব্দ শুনতে পেলেন। তিনি উত্তরে মুয়াযযিনের অনুরুপ বাক্য বললেন। তারপর বলেন যে, এ ব্যক্তি কোন রাখাল বা পরিবার থেকে বিছিন্ন কোন ব্যক্তি হবে। তারপর তাঁরা লক্ষ্য করে দেখলেন যে, সে একজন রাখাল।
666। মুহাম্মাদ ইবনু সালামা (রহঃ) ... উকবা ইবনু আমির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, তোমার রব সে ব্যক্তির উপর খুশি হন, যে পাহাড়ের উচ্চ শৃঙ্গে বকরী চরায় এবং সালাতের জন্য আযান দেয় ও সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে। আল্লাহ তা-আলা বলেনঃ তোমরা আমার এ বান্দাকে দেখ, সে আযান দিচ্ছে এবং সালাত (নামায/নামাজ) কায়েম করছে ও আমাকে ভয় করছে। আমি আমার এ বান্দাকে ক্ষমা করে দিলাম এবং তাকে জান্নাতে প্রবেশ করালাম।
667। আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ... রিফা’আ ইবনু রাফি (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের কাতারে বসা ছিলেন এমন সময় ... আল হাদীস।
668। আব্দুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) ... জামে মসজিদের মুয়াযযিন আবূল মুসান্না (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আব্দুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ)-কে আযান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে আযানের শব্দ গুলো দু'-দু'-বার এবং ইকামতের শব্দগুলো এক-একবার বলা হতো। কিন্তু তুমি যখন قَدْ قَامَتِ الصَّلاَةُ বলবে (তখন দু'বার বলবে)। কারণ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুয়াযযিন দু'-বার বলতেন। আমরা যখন قَدْ قَامَتِ الصَّلاَةُ বলার আওয়াজ শুনতাম, তখন উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতাম এবং সালাতের জন্য বের হতাম।
669। আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ... মালিক ইবনু হুয়ায়রিস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এবং আমার এক সাথীকে বললেনঃ যখন সালাতের সময় হবে তখন তোমাদের মধ্যে একজন আযান দেবে (অন্য জন আযানের জবাব দেবে)। পরে একজন ইকামত দেবে এবং যে তোমাদের মধ্যে বড় সে ইমামতি করবে।
670। কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যখন সালাতের জন্য আযান দেওয়া হয়, তখন শয়তান সশব্দে বায়ু ছাড়তে ছাড়তে পালায় যাতে আযানের আওয়াজ না শোনে। আযান শেষ হলে সে আবার আসে। তারপর সালাতের জন্য ইকামত আরম্ভ হলে সে আবার পালায়। ইকামত বলা শেষ হলে পুনরায় উপস্থিত হয়ে মুসল্লীদের মনে খটকা করে এবং যে সকল বিষয় তার স্মরণ ছিল না সে সকল বিষয়ে সে বলতে থাকে, অমুক বিষয় স্মরণ কর, অমুক বিষয় স্মরণ কর। অবশেষে সে ব্যক্তি এরুপ হয়ে যায় যে, সে বলতে পারে না কত রাক’আত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেছে।
671। কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মানুষ যদি জানত, আযান দেয়া এবং সালাতের প্রথম কাতারে দাঁড়ানোর মধ্যে কি ফযীলাত রয়েছে, তবে তা পাবার জন্য লটারী ছাড়া উপায় না থাকলে তারা তার জন্য লটারী করত। আর তারা যদি জানত যে, দ্বি-প্রহরের (যোহর ও জুমু'আ) সালাতের প্রথম সময়ে গমনে কি রয়েছে- তবে তার দিকে দ্রুতগতিতে ধাবিত হত। আর তারা যদি জানত ইশা ও ফজরের সালাতে কি রয়েছে, তাহলে উভয় সালাতের জন্য অবশ্যই হামাগুড়ি দিয়ে হলেও উপস্থিত হত।
672। আহমদ ইবনু সূলায়মান (রহঃ) ... উসমান ইবনু আবূল আস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আবেদন করলামঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি আমাকে আমার কওমের ইমাম বানিয়ে দিন। তিনি বললেন, (ঠিক আছে যাও) তুমি তাদের ইমাম। তবে তাদের দুর্বল লোকদের প্রতি লক্ষ্য রাখবে [সালাত (নামায/নামাজ) দীর্ঘ করায় তাদের যেন কষ্ট না হয়] এবং যে ব্যক্তি আযানের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ করে না, তাকে মুয়াযযিন নিযুক্ত করবে।
673। কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যখন তোমরা আযানের শব্দ শুনবে, তখন (উত্তরে) মুয়াযযিন যা বলবে তার অনুরূপ বলবে।
674। মুহাম্মাদ ইবনু সালামা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট ছিলাম। এমন সময় বিলাল (রাঃ) আযান দেওয়ার জন্য দাঁড়ালেন। তিনি আযান শেষ করলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যে ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে এর অনুরূপ বলবে (আযানের জবাব দিবে), সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
675। সুওয়াঈদ ইবনু নাসর (রহঃ) ... মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াহইয়া আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ উমামা ইবনু সাহল ইবনু হুনায়ফ (রাঃ)-এর নিকট বসা ছিলাম। এ সময় মুয়াযযিন আযান দিলেন। মুয়াযযিন দু'-বার اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ, বললেন, তিনিও দু-বার বললেন। মুয়াযযিন أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ বললেন, তিনিও দু-বার বললেন। মুয়াযযিনأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ বললেন, তিনিও ও দু'-বার বললেন। তারপর তিনি বললেন, মুআবিয়া ইবনু আবূ সুফিয়ান (রাঃ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট থেকে আমাকে এরূপ বর্ণনা করেছেন।
676। মুহাম্মাদ ইবনু কুদামা (রহঃ) ... আবূ উমামা ইবনু সাহল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি মুআবিয়া (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মুয়াযযিনের আযান শুনতেন, তখন তাঁকে মুয়াযযিনের অনুরুপ বলতে শুনেছি।
677। মুজাহিদ ইবনু মুসা ও ইবরাহীম ইবনু হাসান (রহঃ) ... আলকামা ইবনু ওয়াক্কাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মুআবিয়া (রাঃ)-এর নিকট ছিলাম। যখন তাঁর মুয়াযয়িন আযান দিলেন তখন মুআবিয়া সে বাক্যগুলো বললেন, যেগুলো মুয়াযযিন বলছিলেন। মুয়াযযিন যখন বললেন, حَىَّ عَلَى الصَّلاَةِ তখন তিনি বললেনঃ لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ মুয়াযযিন যখন حَىَّ عَلَى الْفَلاَحِ বললেন, তিনি বললেন لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ তারপর মুয়াযযিন যে বাক্য বললেন, তিনিও সে বাক্য বললেন। তারপর বললেনঃ আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে এরূপ বলতে শুনেছি।
678। সুওয়ায়দ (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, তোমরা যখন মুয়াযযিনকে আযান দিতে শোন, তখন মুয়াযযিন যা বলে তোমরাও তা বলবে এবং আমার উপর দরুদ পাঠ করবে। কেননা যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ দশবার তার উপর রহমত প্রেরণ করেন। তারপর আল্লাহর কাছে আমার জন্য ওসীলা সওয়াল করবে, কেননা ওসীলা জান্নাতের একটি মনযিল। আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে একজন ব্যতীত আর কেউ এর যোগ্য হবে না। আশা করি আমি হব সেই ব্যক্তি। অতএব যে ব্যক্তি আমার জন্য ওসীলা চাইবে, সে আমার সুপারিশের অধিকারী হবে।
679। কুতায়বা (রহঃ) ... সাদ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) সুত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ যে ব্যক্তি মুয়াযযিনকে أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ বলতে শোনে এবং তখন বলেঃ وَأَنَا أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ رَضِيتُ بِاللَّهِ رَبًّا وَبِمُحَمَّدٍ رَسُولاً وَبِالإِسْلاَمِ دِينًا "আমিও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই এবং তিনি এক, তাঁর কোন শরীক নেই। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা ও রাসুল। আমি স্বতস্ফূর্তভাবে আল্লাহকে রব, ইসলামকে আমার দ্বীন, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে রাসুল মেনে নিয়েছি", তার সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে।
680। আমর ইবনু মানসূর (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি আযান শুনে এই দোয়া পড়বেঃ اللَّهُمَّ رَبَّ هَذِهِ الدَّعْوَةِ التَّامَّةِ وَالصَّلاَةِ الْقَائِمَةِ آتِ مُحَمَّدًا الْوَسِيلَةَ وَالْفَضِيلَةَ وَابْعَثْهُ الْمَقَامَ الْمَحْمُودَ الَّذِي وَعَدْتَهُ "হে আল্লাহ! এই পূর্ণাঙ্গ আহবান ও অনুষ্ঠিতব্য সালাতের মালিক। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ওসীলা (জান্নাতের সর্বোত্তম মর্যাদা) এবং শ্রেণ্ঠত্ব দান করুন। তাঁকে আপনার ওয়াদাকৃত মাকামে মাহমূদে পৌছে দিন।" সে অবশ্যই কিয়ামতের দিন আমার শাফাআত পাবে।
681। উবায়দুল্লাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক দুই আযানের মধ্যবর্তী সময়ে সালাত রয়েছে। প্রত্যেক দুই আযানের মধ্যবর্তী সময়ে সালাত রয়েছে। প্রত্যেক দুই আযানের মধ্যবর্তী সময়ে সালাত রয়েছে, যে ব্যক্তি ইচ্ছা করে তার জন্য।
682। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুয়াযযিন আযান শেয করলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কোন কোন সাহাবী মসজিদের খুটির নিকট যেতেন এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (হুজরা হতে) বের না হওয়া পর্যন্ত সালাত আদায় করতেন। মাগরিবের পূর্বেও তাঁরা (নফল) সালাত আদায় করতেন। তবে মাগরিবের আযান ও ইকামতের মধ্যে বেশি বিলম্ব করা হত না।
683। মুহাম্মাদ ইবনু মানসূর (রহঃ) ... আশআস ইবনু আবূ শা’সা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ এক ব্যক্তি আযানের পর মসজিদ থেকে বের হল এবং সেখান থেকে চলে গেল। আবূ হুরায়রা (রাঃ) সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং বললেনঃ এই ব্যক্তি আবূল কাসেম অর্থাৎ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অবাধ্যতা করল।
684। আহমদ ইবনু উসমান ইবনু হাকীম (রহঃ) ... আবূ শা’সা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ সালাতের জন্য আযান দেয়ার পর এক ব্যক্তি মসজিদ থেকে বের হয়ে গেল। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বললেনঃ এই ব্যক্তি আবূল কাসেম অর্থাৎ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অবাধ্য হল।
685। আহমদ ইবনু আমর ইবনুুস সারাহ (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইশার সালাতের পর থেকে ফজরের সালাত পর্যন্ত সময়ে এগার রাক’আত সালাত আদায় করতেন। প্রত্যেক দূই বাকআতের পর সালাম ফিরাতেন। বিতরের এক রাক’আত পড়তেন এবং এত দীর্ঘ সিজদা করতেন যে, তিনি সে সময়ে তোমাদের একজন কুরআনের পঞ্চাশটি আয়াত পড়তে পারে। তারপর মাথা উঠাতেন মুয়াযযিন আযান দেওয়া শেষ করলে তিনি ফজরের সালাতের সময় জ্ঞাত হয়ে দুই রাক’আত সংক্ষিপ্ত সালাত আদায় করতেন এবং ডান কাত হয়ে শুয়ে পড়তেন। মুয়াযযিন ইকামতের বিষয়ে যখন তাঁর নিকট আসত। তিনি তার সঙ্গে বের হতেন। এ হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে কোন কোন বর্ণনা করার চেয়ে কিছু বেশি বর্ণনা করেছেন।
686। মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু আবূল হাকাম (রহঃ) ... কুরায়ব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে কিভাবে সালাত আদায় করতেন সে বিষয়ে প্রশ্ন করি। তিনি বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে বিতরসহ এগার রাক’আত সালাত আদায় করতেন। তারপর ঘুমাতেন। একদা তাঁর নিদ্রা গভীর হলো এবং তাঁর নাকের শব্দ শোনা যাচ্ছিল। এমন সময় বিলাল (রাঃ) তাঁর নিকট আসলেন এবং বললেনঃ (আসসালাতূ ইয়া রাসুলাল্লাহ) ইয়া রাসুলাল্লাহ! সালাত। তিনি উঠলেন এবং দুই রাক’আত সালাত আদায় করলেন। তারপর লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। (তবে) তিনি উযূ করেননি।
687। হুসায়ন ইবনু হুরায়স (রহঃ) ... আবূ কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সালাতের ইকামত হলে আমাকে বের হতে না দেখা পর্যন্ত দাঁড়াবে না।
উৎস: Sunan an Nasai
WEBREATH · 11:11
«Should I not be a thankful servant?» — Sahih al-Bukhari
Breath is one for all: everyone lives by it, whoever they are and whatever they believe. Every day at 11:11 local time people stop for sixty seconds, breathe, and thank GOD for the breath — each in their own words, each within themselves. In that minute we are One Breath.
WEBREATH — the Minute at 11:11, your own local time — we are One Breath