হাদিস
ফিরে যান

সুনানে নাসায়ী 4 · The Book of Ghusl and Tayammum

আপনার ভাষায় এখনো কোনো অনুবাদ নেই — ইংরেজি দেখাচ্ছে

396। সুলায়মান ইবনু দাউদ ও হারিস ইবনু মিসকিন (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন বদ্ধ পানিতে জানবাত অবস্থায় গোসল না করে।

397। মুহাম্মদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামথেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ কোন ব্যাক্তি যেন বদ্ধ পানিতে পেশাব না করে, যাতে সে পরে গোসল অথবা উযু করবে।

398। আহমদ ইবনু সালেহ বাগদাদী (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন বদ্ধ পানিতে পেশাব করতে এবং তাতে জানবাতের গোসল করতে।

399। মুহাম্মদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু ইয়াজিদ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন বদ্ধ পানিতে পেশাব করতে, তারপর তাতে গোসল করতে।

400। কুতায়বা (রহঃ) .... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তোমাদের কেউ যেন প্রবাহিত হয় না এরূপ বদ্ধ পানিতে পেশাব না করে, যাতে সে পরে গোসল করবে। সূফইয়ান (রহঃ) বলেন, লোকেরা হিশাম (রহঃ) কে জিজ্ঞাসা করলেন আইয়ুব (রহঃ) এ হাদিসটির সানাদ আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) পর্যন্তই উল্লেখ করেছেন, জবাবে তিনি বললেন, আইয়ুব (রহঃ) কোন হাদিসে মারফু হিসেবে বর্ণনা করতে সক্ষম না হলে তিনি মারফু হিসেবে বর্ণনা করেন নি।

401। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি আল্লাহ্‌তে এবং কিয়ামত দিবসে বিশ্বাস করে, সে যেন ইযার পরিধান ব্যতীত হাম্মামে প্রবেশ না করে।

402। মুহাম্মদ ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... মাজযাআ ইবনু যাহির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আবদুল্লাহ‌ ইবনু আবূ আওফা (রাঃ)-কে রাসুলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছেন, তিনি দু’আ করতেন নিম্নরূপঃ للَّهُمَّ طَهِّرْنِي مِنَ الذُّنُوبِ وَالْخَطَايَا اللَّهُمَّ نَقِّنِي مِنْهَا كَمَا يُنَقَّى الثَّوْبُ الأَبْيَضُ مِنَ الدَّنَسِ اللَّهُمَّ طَهِّرْنِي بِالثَّلْجِ وَالْبَرَدِ وَالْمَاءِ الْبَارِدِ “হে আল্লাহ্‌! আমাকে পাপ এবং ভুল-ত্রুটি হতে পবিত্র করুন, হে আল্লাহ্‌! আমাকে তা থেকে পাক পবিত্র করুন যেরূপ সাদা বস্ত্র ময়লা থেকে পবিত্র করা হয়। হে আল্লাহ্‌! আমাকে বরফ, মেঘমালার পানি এবং ঠাণ্ডা পানি দ্বারা পবিত্র করুন।“

403। মুহাম্মদ ইবনু ইয়াহইয়া ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) ... ইবনু আবূ আওফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ اللَّهُمَّ طَهِّرْنِي بِالثَّلْجِ وَالْبَرَدِ وَالْمَاءِ الْبَارِدِ اللَّهُمَّ طَهِّرْنِي مِنَ الذُّنُوبِ كَمَا يُطَهَّرُ الثَّوْبُ الأَبْيَضُ مِنَ الدَّنَسِ “হে আল্লাহ্‌! আমাকে বরফ, মেঘের পানি এবং ঠাণ্ডা পানি দ্বারা পবিত্র করুন। হে আল্লাহ্‌! আমাকে পাপ থেকে এরূপ পবিত্র করুন যেরূপ সা’দা কাপড় ময়লা থেকে পবিত্র করা হয়।

404আমর ইবন যুরারা (রহঃ) ... মুহাম্মদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কূফার কাযী শুরায়হ মুযারাবা চুক্তির ব্যবসায় দুই ধরনের আদেশ করতেন। কখনও তিনি মূলধন গ্রহীতাকে বলতেন, তুমি এমন কোন বিষয়ের সপক্ষে তুমি সাক্ষী পেশ কর যাতে তোমাকে নিষ্কৃতি দেওয়া যায় এবং তোমাকে ক্ষতিপূরণ দিতে না হয়। আর কোন সময় তিনি মূলধনের মালিককে বলতেনঃ তুমি এই কথার সাক্ষী দান কর যে, মূলধন গ্রহীতা খেয়ানত করেছে, অথবা তুমি তার থেকে আল্লাহর শপথ নাও যে, সে তোমার খেয়ানত করেনি।

405। ইয়াহ্‌ইয়া ইবনু হাবীব ইবনু আরাবী (রহঃ) ... গুযায়ফ ইবনু হারিস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আয়িশা (রাঃ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলামঃ রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি রাতের প্রথমভাগে গোসল করতেন? না শেষরাতে গোসল করতেন? তিনি বললেনঃ রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সবটাই করতেন। অনেক সময় তিনি রাতের প্রথমভাগে গোসল করতেন। আবার কখনও শেষরাতে গোসল করতেন। আমি বললাম, আল্লাহ্‌র জন্যই সকল প্রশংসা, যিনি প্রত্যেক ব্যাপারে অবকাশ রেখেছেন।

406। ইবরাহীম ইবনু ইয়াকূব (রহঃ) ... ইয়ালা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেখলেন, এক ব্যাক্তি খোলা জায়গায় (পর্দা ব্যতীত) গোসল করছে। তিনি মিম্বরে আরোহণ করলেন, আল্লাহ্‌ তা’আলার প্রশংসা ও তাঁর গুণগান করলেন। তারপর বললেনঃ আল্লাহ্‌ তা’আলা ধৈর্যশীল, লজ্জাশীল, (মানুষের পাপ) আড়ালকারী। তিনি লজ্জাশীলতাকে এবং পর্দা করাকে পছন্দ করেন। অতএব তোমাদের কেউ যখন গোসল করবে, সে যেন পর্দা করে।

407। আবূ বকর ইবনু ইসহাক (রহঃ) ... ইয়ালা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্‌ তা’আলা (মানুষের দোষ) আড়ালকারী। কেউ যখন গোসল করে, তখন সে যেন কোন কিছু দ্বারা পর্দা করে নেয়।

408। কুতায়বা (রহঃ) ... মায়মূনা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য (গোসলের) পানি রাখলাম, তিনি বলেনঃ আমি তাঁকে আড়াল করলাম। তিনি (রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর) গোসলের অবস্থা বর্ণনা করার পর বললেনঃ আমি তাঁর জন্য একটি বস্ত্র আনলাম (গোসলের পানি মুছে ফেলার জন্য), তিনি তা গ্রহন করলেন না।

409। আহমদ ইবনু হাফস ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এক সময় আইয়ূব (আলাইহিস সালাম) উলঙ্গ অবস্থায় গোসল করছিলেন, এমতবস্থায় তাঁর উপর একটি স্বর্ণের পতঙ্গ পতিত হল, তিনি তা তাঁর কাপড়ে ভরতে লাগলেন। রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তখন তাঁর প্রভু তাঁকে ডেকে বললেন, হে আইয়ূব! আমি কি তোমাকে ধনবান করিনি? তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ্‌! হ্যাঁ, আপনি আমাকে ধনবান করেছেন। কিন্তু আমি আপনার বারাকাত থেকে আমার বেনিয়াযী নেই (আমি আপনার বারাকাত হতে মুখ ফেরাতে পারি না)।

410। কাসিম ইবনু যাকারিয়া ইবনু দ্বীনার (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরক* নামক পাত্রে গোসল করতেন। আর আমি এবং তিনি একই পাত্র থেকে গোসল করতাম।

411। সুওয়ায়দ ইবনু নাসর ও কুতায়বা (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আমি একই পাত্র থেকে গোসল করতাম। আমরা উভয়ে তা থেকে একত্রে পানি নিতাম।

412। মুহাম্মদ ইবনু আবদুল আ’লা (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি এবং রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই পাত্র থেকে জানাবাতের গোসল করতাম।

413। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি এবং রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে পাত্রে গোসল করতাম এবং সে পাত্র নিয়ে তাঁর সঙ্গে যে কাড়াকাড়ি করতাম, তা আমার এখনো স্মরণ আছে।

414। মুহাম্মদ ইবনু বাশ্‌শার (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি এবং রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই পাত্র থেকে গোসল করতাম। আমি তাঁর আগে পানি নিতে চেষ্টা করতাম আর তিনি আমার আগে নিতে চাইতেন। এমনকি তিনি বলতেনঃ আমার জন্য রাখ, আর আমি বলতাম, আমার জন্য রাখুন। সুওয়ায়দ-এর রিওয়ায়াতে রয়েছে, তিনি আমার আগে নিতে চাইতেন আর আমি তাঁর আগে নিতে চাইতাম আর বলতামঃ আমার জন্য রাখুন। আমার জন্য রাখুন।

415। মুহাম্মদ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ... আতা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ উম্মে হানী (রাঃ) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি মক্কা বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হলেন। তখন তিনি গোসল করছিলেন। তাঁর জন্য বস্ত্র দ্বারা পর্দার ব্যবস্থা করেছিলেন। তিনি এমন পাত্রে গোসল করছিলেন যাতে আটার চিহ্ন বিদ্যমান ছিল। তিনি বলেনঃ তারপর রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাশ্‌তের সালাত আদায় করলেন। আমার স্মরণ নাই তিনি গোসলের পর কত রাকাত সালাত আদায় করেছিলেন। ("আমার স্মরণ নাই তিনি কত রাকআত পড়েছেন" এ অংশ টুকু বাদে হাদিসটি সহিহ। আর এ অংশটুকু শায। উম্মু হানি হতে সহিহ সানাদে বর্ণিত আছে যে, তিনি আট রাকাআত নামায পড়েছেন। বুখারি ও মুসলিমেও আছে।)

416। সুওয়ায়দ ইবনু নাসর (রহঃ) ... উবায়দ ইবনু উমায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত। আয়িশা (রাঃ) বলেছেনঃ আমার স্মরণ আছে, আমি একই পাত্র হতে রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে একত্রে গোসল করতাম। দেখা গেল, তিনি যে পাত্রের প্রতি ইংগিত করলেন তা এমন একটি পাত্র যাতে এক সা’ বা আরও কম পানি ধরে। তিনি বলেনঃ আমরা উভয়ে তা থেকে গোসল করতে আরম্ভ করতাম, আমি হাত দ্বারা মাথায় তিনবার পানি দিতাম এবং মাথার চুল খুলতাম না।

417। হান্নাদ ইবনু সাররী (রহঃ) ... মুহাম্মদ ইবনু মুনতাশির (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ আমি ইবনু উমর (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, মুহরিম অবস্থায় সুগন্ধি ছড়িয়ে সকালে বের হওয়ার চেয়ে আমার নিকট আলকাতরা মেখে বের হওয়া অধিক পছন্দনীয়। আমি আয়িশা (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাঁর এ উক্তি শোনালে তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গায়ে সুগন্ধি মেখেছিলাম। তারপর তিনি তাঁর সকল বিবির কাছে গমন করলেন এবং ইহরাম অবস্থায় ভোর করলেন।

418। মুহাম্মদ ইবনু আলী (রহঃ) ... মায়মূনা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের উযূর ন্যায় উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলেন কিন্তু তিনি পা দু’খানা ধুলেন না; বরং গুপ্তঅঙ্গে এবং গায়ে যে নাপাকী লেগেছিল তা ধুলেন। পরে তাঁর শরীরে পানি ঢাললেন। তারপর একটু সরে গেলেন এবং উভয় পা ধৌত করলেন। মায়মূনা (রাঃ) বলেনঃ এরূপই ছিল তাঁর জানাবাতের গোসল।

419। মুহাম্মদ ইবনু আবদুল আ’লা (রহঃ) ... রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী মায়মূনা বিনতে হারিস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন গোসল করতেন তখন তিনি প্রথমে উভয় হাত ধৌত করতেন। তারপর তিনি তাঁর ডান হাত দ্বারা বাম হাতে পানি ঢেলে গুপ্তঅঙ্গ ধুতেন পরে মাটিতে হাত মেরে ঘষতেন। তারপর তা ধুয়ে ফেলতেন। তারপর সালাতের উযূর ন্যায় উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতেন এবং তাঁর মাথায় পানি ঢালতেন। পরে সমস্ত শরীরে পানি ঢালতেন। তারপর গোসলের স্থান থেকে সরে উভয় পা ধুতেন।

420। সুওয়ায়দ ইবনু নাসর (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন জানাবাতের গোসল করতেন, তখন হস্তদ্বয় ধুয়ে নিতেন, তারপর সালাতের উযূর ন্যায় উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতেন এবং পরে গোসল করতেন। হাত দ্বারা মাথার চুল খেলাল করতেন। যখন তিনি মনে করতেন যে, মাথার চামড়া ভিঁজে গেছে, তখন সারা শরীরে তিনবার পানি ঢালতেন এবং সারা শরীর ধুয়ে নিতেন।

421। সুওয়ায়দ ইবনু নাসর (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পবিত্রতা অর্জনে, জুতা পরিধানে ও মাথায় চিরুণী করতে যথাসম্ভব ডানদিক থেকে আরম্ভ করা পছন্দ করতেন। তিনি [মাসরূক (রহঃ)] ওয়াসিত নামক স্থানে বলেছেনঃ তাঁর সকল কাজ যথাসম্ভব ডানদিক থেকে আরম্ভ করা পছন্দ করতেন।

422। ইমরান ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। উমর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জানাবাতের গোসল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। আয়িশা (রাঃ) ও ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, বিভিন্ন হাদীসে একইরূপ বর্ণনা এসেছে যে, তিনি গোসল আরম্ভ করতে গিয়ে দু’বার অথবা তিনবার তাঁর ডান হাতে পানি ঢালতেন। তারপর ডান হাত পাত্রে ঢোকাতেন এবং তাঁর লজ্জাস্থানের উপর ডান হাতে পানি ঢালতেন। তখন তাঁর বাম হাত থাকত তাঁর লজ্জাস্থানের উপর, তিনি সেখানে যে ময়লা থাকত তা ধুয়ে পরিষ্কার করতেন এবং যখন ইচ্ছা করতেন তাঁর বাম হাত মাটিতে স্থাপন করতেন। তারপর বাম হাতের উপর পানি ঢেলে তা পরিষ্কার করতেন। পরে উভয় হাত তিনবার করে ধুয়ে নিতেন, নাক পরিষ্কার করতেন আর কুলি করতেন এবং তাঁর মুখমণ্ডল ও উভয় হাত কনুই পর্যন্ত তিনবার ধুয়ে নিতেন। যখন মাথা মসেহ্‌ করার সময় আসত তখন তিনি মাথা মসেহ্‌ করতেন না; বরং তাতে পানি ঢালতেন। উপরে যেরূপ বর্ণিত হয়েছে, তদ্রূপই ছিল রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গোসল।

423। আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন জানাবাতের গোসল করতেন, তখন তিনি উভয় হাত ধুয়ে নিতেন পরে তিনি সালাতের উযূর ন্যায় উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতেন। তারপর আঙ্গুলির দ্বারা মাথার চুল খেলাল করতেন এবং যখন তিনি মনে করতেন যে, মাথার সকল স্থান ভিজে গেছে, তখন তিনি মাথায় তিন অঞ্জলি পানি দিতেন। তারপর তিনি সর্বশরীর ধৌত করতেন।

424। মুহাম্মদ ইবনু মূসান্না (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন জানাবাতের গোসল করতেন তখন তিনি দুধ দোহনের ন্যায় কোন পাত্র আনাতেন এবং তা থেকে এক অঞ্জলি পানি নিয়ে মাথার ডান পার্শ্ব থেকে আরম্ভ করতেন পরে বাম পার্শ্বে পানি ঢালতেন। তারপর দু’হাত দ্বারা পানি নিতেন এবং তা দ্বারা মাথায় পানি ঢালতেন।

425। উবায়দুল্লাহ্‌ ইবনু সাঈদ ও সুওয়ায়দ ইবনু নাস্‌র (রহঃ) ... জুবায়র ইবনু মুত’ইম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গোসলের প্রসঙ্গ উত্থাপন করা হলে তিনি বলেনঃ আমি আমার মাথায় তিনবার পানি ঢালি।

426। মুহাম্মদ ইবনু আবদুল আ’লা (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন গোসল করতেন, তখন তিনি তাঁর মাথায় তিনবার পানি ঢালতেন।

427। হুসায়ন ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক মহিলা রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রশ্ন করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ্‌! আমি পবিত্রতা অর্জনের জন্য কিভাবে গোসল করব? তিনি বললেনঃ একখানা মিশ্‌ক মিশ্রিত কাপড় ব্যবহার করবে, তারপর তা দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করবে। ঐ মহিলা বলল, তা দ্বারা কিরূপে পবিত্রতা অর্জন করব? তিনি বললেনঃ তা দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করবে। ঐ মহিলা আবার বলল, তা দ্বারা কিভাবে পবিত্রতা অর্জন করব? আয়িশা (রাঃ) বলেনঃ এতে রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুবহানাল্লাহ্‌ বললেন এবং উক্ত মহিলার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। তখন আয়িশা (রাঃ) বুঝতে পারলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উদ্দেশ্য কি ছিল। তিনি বলেনঃ পরে আমি তাকে আমার দিকে টেনে নিয়ে রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উদ্দেশ্য তাকে বুঝিয়ে বললাম।

428। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী মায়মূনা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানাবাতের গোসলে তাঁর গুপ্তঅঙ্গ ধৌত করলেন এবং হাত মাটিতে ঘষলেন অথবা বলেছেন, দেয়ালে ঘষলেন। তারপর তিনি সালাতের উযূর ন্যায় উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলেন। পরে তাঁর মাথায় এবং সমস্ত শরীরে পানি ঢাললেন।

429। আমর ইবনু আলী, মুহাম্মদ ইবনু মূসান্না ও ইয়াকূব ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... মুহাম্মদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ আমরা জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাঁকে বিদায় হাজ্জ (হজ্জ) সম্মন্ধে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বর্ণনা করলেনঃ রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যিলকা’দা মাসের পাঁচ দিন অবশিষ্ট থাকতে বের হলেন। আমরাও তাঁর সঙ্গে বের হলাম। এরপর তিনি যুল-হুলায়ফায় আগমন করলে আস্‌মা বিনত উমায়স (রাঃ) মুহাম্মদ ইবনু আবূ বকরকে প্রসব করলেন। পরে তিনি রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট লোক পাঠিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, এখন আমি কি করব? তিনি বলেনঃ তুমি গোসল করবে এবং ন্যাকড়া পরিধান করবে, তারপরে ইহ্‌রাম বাঁধবে।

430। আহমদ ইবনু উসমান ইবনু হাকীম (রহঃ) ও আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোসলের পর উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতেন না।

431। হুমায়দ ইবনু মাসআদা (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আমি রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দেহে সুগন্ধি লাগাতাম। তারপর তিনি তাঁর সকল বিবির নিকট গমন করতেন এবং ভোরে মুহরিম অবস্থায় সুবাস ছড়াতে ছড়াতে বের হতেন।

432। হাসান ইবনু ইসমাঈল ইবনু সুলায়মান (রহঃ) ... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমাকে এমন পাঁচটি বস্তু দান করা হয়েছে যা আমার পূর্বে কাউকে দেয়া হয়নি। এক মাস পথ চলার দূরত্ব থেকে শত্রুর মাঝে ভীতি সঞ্চার করার ক্ষমতা প্রদান করে আমাকে সাহায্য করা হয়েছে। আমার জন্য মাটিকে মসজিদ ও পবিত্রতা অবলম্বনের উপকরণ করা হয়েছে। অতএব আমার উম্মতের কোন ব্যাক্তির সামনে যেখানেই সালাতের সময় উপস্থিত হয়, সে সেখানে সালাত আদায় করতে পারে। আর আমাকে শাফাআত দান করা হয়েছে, যা আমার পূর্বে কোন নবীকে দান করা হয়নি, আর আমাকে সমগ্র মানব জাতির জন্য প্রেরণ করা হয়েছে। আমার পূর্বের প্রত্যেক নবী কোন বিশেষ সম্প্রদায়ের প্রতি প্রেরিত হতেন।

433। মুসলিম ইবনু আমর ইবনু মুসলিম (রহঃ) ... আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। দুই ব্যাক্তি তায়াম্মুম করে সালাত আদায় করল। পরবর্তীতে সালাতের সময় থাকতেই তারা পানি প্রাপ্ত হল। তাদের একজন উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে তার সালাত ওয়াক্তের মধ্যেই আদায় করল। দ্বিতীয় ব্যাক্তি পুনরায় আদায় করল না। তারা উভয়েই এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রশ্ন করল। যে ব্যাক্তি পুনরায় সালাত আদায় করেনি, তিনি তাকে বললেনঃ তুমি বিধান মত কাজ করেছ। তোমার সালাত তোমার জন্য যথেষ্ট হয়েছে। অন্য বক্তিকে বললেনঃ তোমার জন্য উভয় কাজের সওয়াব রয়েছে।

434। সুয়ায়দ ইবনু নাসর (রহঃ) ... আতা ইবনু ইয়াসার (রাঃ) থেকেও অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

435। আলী ইবনু মায়মূন (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আলী, মিকদাদ এবং আম্মার (রাঃ) আলাপ করছিলেন, আলী (রাঃ) বললেনঃ আমি একজন এমন ব্যাক্তি যার অত্যধিক মযী নির্গত হয়, কিন্তু এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করতে আমি লজ্জাবোধ করি। যেহেতু তাঁর কন্যা আমার সহধর্মিণী। অতএব তোমাদের একজন তাঁকে জিজ্ঞাসা কর, তাঁদের একজন জিজ্ঞাসা করলেন। কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তা ভুলে গিয়েছি। রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তা মযী। যখন কারও তা নির্গত হয়, তখন সে তার ঐ স্থান ধুয়ে ফেলবে এবং সালাতের উযূর ন্যায় উযূ (ওজু/অজু/অযু) করবে অথবা তিনি বলেছেনঃ সালাতের উযূর ন্যায়।

436। মুহাম্মদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ... আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি এমন এক ব্যাক্তি যার প্রায়ই মযী নির্গত হত। আমি এক ব্যাক্তিকে অনুরোধ করলে সে রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করল। তিনি বললেনঃ এতে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে হবে।

437। মুহাম্মদ ইবনু আবদুল আ’লা (রহঃ) ... আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ ফাতিমা (রাঃ)-এর কারনে আমি রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মযী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে লজ্জাবোধ করতাম। অতএব আমি মিকদাদ (রাঃ)-কে অনুরোধ করলে তিনি তাঁকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করলেন, তিনি বললেনঃ এতে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে হবে।

438। আহমদ ইবনু ঈসা (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আলী (রাঃ) বলেছেনঃ আমি মিকদাদ (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট মযী সম্পর্কে প্রশ্ন করার জন্য পাঠালাম। তিনি বলেছেনঃ সে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করবে এবং লজ্জাস্থান ধুয়ে ফেলবে। ইমান আবূ আবদুর রহমান (রহঃ) বলেন, মাখরামাহ (রহঃ) তার পিতা হতে কোন হাদিস শুনেন নি।

439। সুওয়ায়দ ইবনু নাসর (রহঃ) ... সুলায়মান ইবনু ইয়াসার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) মিকদাদ (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পাঠালেন যেন তিনি তাঁকে এমন ব্যাক্তির ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করেন, যার মযী নির্গত হয়। রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সে তার পুরুষাঙ্গ ধৌত করবে এবং উযূ (ওজু/অজু/অযু) করবে।

440। উতবা ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ... আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি তাঁকে (মিকদাদকে) রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ঐ ব্যাক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার অনুরোধ করেন যে ব্যাক্তি স্বীয় স্ত্রীর কাছে গেলে তার মযী নির্গত হয়। কেননা তাঁর কন্যা আমার বিবাহে থাকায় আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করতে লজ্জাবোধ করি। রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেনঃ সে যেন তার লজ্জাস্থান ধৌত করে এবং সালাতের উযূর ন্যায় উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে।

441। ইমরান ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন রাতে বিছানা ত্যাগ করে, তখন সে যেন দু’বার অথবা তিনবার হাত না ধুয়ে পানির পাত্রে হাত প্রবিষ্ট না করায়। কেননা তোমাদের কারো জানা নেই যে, তার হাত রাতে কোথায় ছিল।

442। কুতায়বা (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে এক রাতে সালাত আদায় করলাম। আমি তাঁর বামদিকে দাঁড়ালাম কিন্তু তিনি আমাকে তাঁর ডানদিকে করে দিলেন। তারপর সালাত আদায় করে তিনি শুয়ে পড়লেন এবং ঘুমিয়ে পড়লেন। পরে তাঁর কাছে মুয়ায্‌যিন আসলেন। তিনি উঠে সালাত আদায় করলেন কিন্তু তিনি উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলেন না।

443। ইয়াকূব ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ সালাতে তন্দ্রাভিভূত হয়, তখন সে যেন সালাত হতে বিরত থাকে এবং শুয়ে পড়ে।

444। কুতায়বা (রহঃ) ... বুসরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে নিজের গুপ্ত অঙ্গ স্পর্শ করে, সে যেন উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে।

445। ইমরান ইবনু মূসা (রহঃ) ... বুসরা বিনত সাফওয়ান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি তোমাদের কেউ নিজ লজ্জাস্থানে হাত রাখে, তবে সে যেন উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে নেয়।

446। কুতায়বা (রহঃ) ... মারওয়ান ইবনু হাকাম থেকে বর্ণিত। লজ্জাস্থান স্পর্শ করলে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে হবে। মারওয়ান বলেন, বুসরা বিনত সাফওয়ান আমাকে এটা অবগত করেছেন। একথা শুনে উরওয়া (রাঃ) তার নিকট লোক পাঠালে তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি কি কাজে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে হবে তার উল্লেখ করতে গিয়ে বলেছেন, পুরুষাঙ্গ স্পর্শ করলেও।

447। ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ... বুসরা বিনত সাফওয়ান (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি নিজ গুপ্তাঙ্গ স্পর্শ করে সে যেন উযূ (ওজু/অজু/অযু) করা ব্যতীত সালাত আদায় না করে। আবূ আবদুর রহমান বলেন, হিশাম ইবনু উরওয়াহ হাদিসটি তার বাবা হতে শোনেন নি। আল্লাহই ভালো জানেন।

উৎস: Sunan an Nasai

WEBREATH · 11:11

«Should I not be a thankful servant?» — Sahih al-Bukhari

Breath is one for all: everyone lives by it, whoever they are and whatever they believe. Every day at 11:11 local time people stop for sixty seconds, breathe, and thank GOD for the breath — each in their own words, each within themselves. In that minute we are One Breath.

WEBREATH — the Minute at 11:11, your own local time — we are One Breath