সুনানে নাসায়ী 45 · The Book of Oaths (qasamah), Retaliation and Blood Money
আপনার ভাষায় এখনো কোনো অনুবাদ নেই — ইংরেজি দেখাচ্ছে
4706মুহাম্মদ ইবন ইয়াহইয়া (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সর্বপ্রথম জাহিলী যুগে যে কাসামাহ (শপথ গ্রহণ)-এর ঘটনা ঘটে, তা ছিল এইরূপ যে, কুরায়শের এক শাখা গোত্রের এক ব্যক্তি হাশিম গোত্রের এক ব্যক্তিকে অর্থের বিনিময়ে কাজ করার জন্য রেখেছিল। সে তার সাথে তার উটের স্থানে গেল। সেখানে অন্য এক লোকের সাথে তার সাক্ষাৎ হয়, সেও বনূ হাশিমেরই লোক ছিল। সেই ব্যক্তির থলির রশি ছিড়ে গিয়েছিল। সেই লোক বলল, একটি রশি দ্বারা আমার সাহায্য করুন, যেন আমি আমার থলিটি বাঁধতে পারি। এমন না হয় যে, থলির মালামাল পড়ে যায় আর সে কারণে উট ছছাটাছুটি শুরু করে দেয়। হাশিম গোত্রীয় মজুর তাকে একখানা রশি দিয়ে দিল যাতে তার থলি বাঁধতে পারে। যখন তারা অবতরণ করল সকল উট তো বাঁধা হলো কিন্তু একটি উট থেকে গেল, তা বাঁধা গেল না। যে ব্যক্তি তাকে কাজে রেখেছিল, সে জিজ্ঞাসা করলোঃ এই উটের কী হলো? একে বাঁধলে না কেন? চাকর বললোঃ এর বাঁধার রশি নেই। সে জিজ্ঞাসা করলোঃ রশি কোথায় গেল? চাকর বললোঃ বনী হাশিমের এক ব্যক্তির সাথে আমার সাক্ষাৎ হলে তার থলি বাঁধার রশি ছিড়ে গিয়েছিল, সে আমাকে বললোঃ একটি রশি দিয়ে আমার সাহায্য করুন, যা দ্বারা আমি আমার থলির মুখ বন্ধ করতে পারি যাতে আমার উট পালিয়ে না যায়। আমি তাকে বাঁধার জন্য রশি দিয়ে দেই। একথা শুনেই মালিক মজুরকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে। ফলে মজুরটি মারা যায়। সে যখন মুমূর্ষ, তখন ইয়ামনী জনৈক ব্যক্তি তার নিকট দিয়া যাচ্ছিল। সে জিজ্ঞাসা করলোঃ আপনি হজ্জে যাবেন? সে বললঃ গিয়েছিলাম এবার যাব না। সে বললোঃ আপনি যখনই যাবেন, আমার একটি সংবাদ তখন পৌছাতে পারবেন কি? লোকটি বললোঃ হ্যাঁ। সে বললোঃ আপনি হজ্জ মৌসুমে গেলে সেখানে হে কুরায়শ গোত্রের লোক! বলে ডাক দিবেন, তারা জবাব দিলে আবার ডাকবেন, হে হাশিম গোত্রের লোক! তারা জবাব দিলে আপনি আবু তালিব সম্পর্কে খোঁজ নেবেন। তাঁকে বলবেনঃ ‘আমাকে অমুক ব্যক্তি একটি রশির কারণে হত্যা করেছে। এই বলেই সে মৃত্যুবরণ করলো। মালিক ব্যক্তি মক্কায় আসলে আবু তালিব তাকে জিজ্ঞাসা করলঃ আমাদের লোক কোথায়? সে বললোঃ তার অসুখ হয়েছিল, আমি তার উত্তমরূপে সেবা করি, কিন্তু সে মারা যায়। আমি অবতরণ করে তাকে দাফন করি। আবু তালিব বললেনঃ তোমার থেকে সে এরূপ ব্যবহার পাওয়ারই উপযুক্ত ছিল। কিছু দিন পর ইয়ামন হতে ঐ ব্যক্তি আগমন করল, যাকে ঐ মজুর ব্যক্তি তার সংবাদ দেওয়ার ওসীয়ত করেছিল। সে বললোঃ হে কুরায়শ গোত্র! তারা বললোঃ এই যে আমরা। সে বললো, হে বনী হাশিম! তারা বললোঃ এই যে বনু হাশিমের লোক। সে জিজ্ঞাসা করলোঃ আবু তালিব কোথায়? তারা বললোঃ এই যে আবু তালিব। সে বললোঃ আমাকে অমুক ব্যক্তি ওসীয়ত করেছিল, আপনাকে এই সংবাদ দেওয়ার জন্য যে, অমুক ব্যক্তি একটি রশির জন্য তাকে লাঠির আঘাতে হত্যা করেছে। আবূ তালিব সে ব্যক্তির নিকট গিয়ে বললেন, তুমি আমার গোত্রের লোককে হত্যা করেছ। এখন তিনটি প্রস্তাবের একটা গ্রহণ কর। যদি তুমি ইচ্ছা কর, তবে দিয়াতের একশত উট দিয়ে দাও। কেননা তুমি আমাদের লোককে ভুলবশত হত্যা করেছ। আর যদি তুমি ইচ্ছা কর, তা হলে তোমার গোত্রের পঞ্চাশজন লোক কসম খেয়ে বলবে যে, তুমি তাকে হত্যা করনি। যদি তুমি এর কোন শর্ত গ্রহণ না কর, তবে আমরা তোমাকে ঐ ব্যক্তির পরিবর্তে হত্যা করবো। সে ব্যক্তি তার গোত্রের নিকট গিয়ে একথা বললো। তখন তারা বললোঃ আমরা শপথ করবো। এরপর বনূ হাশিম গোত্রের এক নারী যার সেই গোত্রে বিয়ে হয়েছিল, পুত্র সন্তান জন্ম দিয়েছিল, আবু তালিবের নিকট এসে বললোঃ হে আবু তালিব! আমার ইচ্ছা আপনি পঞ্চাশজন লোকের একজন হিসেবে আমার এই ছেলেকে শপথ হতে নিষ্কৃতি দেবেন। আবু তালিব তা মঞ্জুর করলেন। এরপর তাদের আর এক ব্যক্তি এসে বললোঃ হে আবু তালিব! আপনি একশত উটের পরিবর্তে ৫০ লোকের শপথ নিতে চান, তাতে একজনের জন্য দুই উট পড়ে। অতএব এই দুই উট গ্রহণ করে আমাকে শপথ হতে রেহাই দিন। আবু তালিব এটাও গ্রহণ করলেন। পরে আটচল্লিশজন লোক এসে কসম করলো। ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেন, আল্লাহর কসম! এক বছর শেষ না হতেই ঐ আটচল্লিশজন লোকের সবাই মারা গেল।
4707আহমদ ইবন আমর ইবন সারহ ও ইউনুস ইবন আবদুল আ'লা (রহঃ) ... রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এক আনসারী সাহাবী থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাসামাহ জাহিলী যুগে যেভাবে প্রচলিত ছিল সেভাবেই বহাল রাখেন।
4708মুহাম্মাদ ইবন হাশিম (রহঃ) ... রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কয়েকজন সাহাবী হতে বর্ণিত। কাসামাহ জাহিলী যুগে প্রচলিত ছিল। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একে বহাল রাখেন। তিনি আনসারদের মোকদ্দমায় কাসামাহ-এর আদেশ দেন, যখন তারা খায়বরের ইয়াহূদীদের বিরুদ্ধে একটি হত্যার দাবি উত্থাপন করেছিল।
4709মুহাম্মদ ইবন রাফি (রহঃ) ... ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জাহিলী যুগে কাসামাহ প্রচলিত ছিল। পরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একে সেই আনসারীর ক্ষেত্রে আরোপ করেন, যার লাশ ইয়াহূদীদের কূপে পাওয়া গিয়েছিল, কেননা আনসার দাবি করে যে, ইয়াহূদীরা আমাদের লোককে হত্যা করেছে।
4710আহমদ ইবন আমর ইবন সারহ (রহঃ) ... সাহল ইবন আবূ হাসমা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আবদুল্লাহ্ ইবন সাহল এবং মুহায়্যিসা তাঁদের অর্থ-কষ্টের দরুন খায়বরের দিকে রওয়ানা হন। পরে মুহায়্যিসার নিকট এক ব্যক্তি এসে বলেঃ আবদুল্লাহ্ ইবন সাহল নিহত হয়েছে। আর তাকে এক অতি অন্ধকার কূপে ফেলে দেয়া হয়েছে। একথা শুনে মুহায়্যিসা ইয়াহুদীদের নিকট গিয়ে জিজ্ঞাসা করলেনঃ আল্লাহর শপথ! তোমরা তাকে হত্যা করেছ। তারা বললোঃ আল্লাহর শপথ! আমরা তাকে হত্যা করিনি। মুহায়্যিসা সেখান থেকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গিয়ে পূর্ণ ঘটনা বর্ণনা করলেন। এরপর মুহায়্যিসা, তার বড় ভাই হুয়ায়্যিসা এবং আবদুল্লাহ ইবন সাহল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসলেন। মুহায়্যিসা, যিনি খায়বারে ছিলেন। আগে কথা বলতে চাইলে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ বড়কে আগে কথা বলতে দাও। এরপর হুয়ারিসা কথা বললেন, তারপর বললেন, মুহায়্যিসা। সব শুনে রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ইয়াহূদীদের উচিত তোমার ভাইয়ের দিয়াত আদায় করা, অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দেওয়া হবে। তারপর তিনি ইয়াহুদীদেরকে এ ব্যাপারে লিখলে তারা উত্তর দিল, আল্লাহর শপথ! আমরা হত্যা করিনি। এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুয়ায়্যিসা, মুহায়্যিসা এবং আবদুর রহমানকে বললেনঃ আচ্ছা, এখন তোমরা শপথ করে তোমাদের ভাইয়ের হত্যার প্রমাণ দাও। তখন তাঁরা বললেনঃ না, আমরা শপথ করবো না। রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাহলে ইয়াহূদীরা কসম করে বলবে যে, আমরা হত্যা করিনি, তারা বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! ইয়াহূদীরা তোমরা মুসলিম নয় (তারা মিথ্যা কসম করবে)। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে তাদেরকে দিয়াত স্বরূপ একশত উট দিয়ে দেন। তারা উট নিয়ে তাদের বাড়িতে প্রবেশ করেন। সাহল, (রাঃ) বলেনঃ এর একটি লাল উটনী আমাকে পদাঘাত করেছিল।
4711মুহাম্মদ ইবন সালামা (রহঃ) ... সাহল ইবন আবু হাসমা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আবদুল্লাহ ইবন সাহল এবং মুহায়্যিসা (রাঃ) তাদের অভাবের দরুন খায়বরে যান। এরপর মুহায়্যিসা-এর নিকট এক ব্যক্তি এসে বললোঃ আবদুল্লাহ ইবন সাহলকে হত্যা করা হয়েছে এবং একটি অন্ধকার কূপে তাকে নিক্ষেপ করা হয়েছে। একথা শুনে মুহায়্যিসা ইয়াহুদীদের নিকট গিয়ে বললেনঃ আল্লাহ কসম! তোমরা তাকে হত্যা করেছ। তারা বললোঃ আল্লাহর শপথ! আমরা তাকে হত্যা করিনি। মুহায়্যিসা সেখান থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে সকল ঘটনা তাঁকে অবহিত করেন। এরপর মুহায়্যিসা, তার বড় ভাই হুওয়ায়্যিসাহ এবং আবদুর রহমান ইবন সাহল মিলিত হয়ে আসেন। মুহায়্যিসা (রাঃ) খায়বরে প্রথম গমন করেন বিধায় তিনি প্রথমে কথা বলতে চাইলে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ বড় ভাইকে সম্মান কর। পরে হুয়ায়্যিসা সকল ঘটনা বর্ণনা করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমাদের ভাইয়ের দিয়াত দিয়ে দেওয়া ইয়াহুদীদের কর্তব্য, অন্যথায় তাদেরকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হবে। এরপর (রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এ ব্যাপারে ইয়াহুদীদেরকে লিখলে তারা জবাব দেয় যে, আল্লাহর কসম! আমরা তাকে হত্যা করি নাই। এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুয়ায়্যিসা, মুহায়্যিসা এবং আবদুর রহমানকে বললেনঃ এখন তোমরা শপথ করে তোমাদের ভাইয়ের হত্যা প্রমাণিত কর। তাঁরা বললেনঃ আমরা শপথ করতে পারি না (কারণ আমরা চাক্ষুষ দেখিনি)। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তা হলে ইয়াহূদীরা তোমাদের বিপক্ষে শপথ করবে। তারা বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! তারা তো মুসলিম নয়। পরে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের দিয়াত নিজেই আদায় করেন এবং একশত উট তাদের নিকট পাঠিয়ে দেন। যা নিয়ে তারা তাদের ঘরে প্রবেশ করেন। সাহল বলেনঃ এর একটি লাল উটনী আমাকে পদাঘাত করেছিল।
4712কুতায়বা (রহঃ) ... বুশায়র ইবন ইয়াসার (রহঃ) সাহল ইবন আবু হাসমা এবং রাফি ইন খাদীজ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তাঁরা বলেন, আবদুল্লাহ্ ইবন সাহল এবং মুহায়্যিসা ইবন মাসউদ একত্রে বের হন। খায়বরে পৌছলে কোন এক স্থানে তারা পরস্পর পৃথক হয়ে যান। এরপর মুহায়্যিসা (রাঃ) আবদুল্লাহ ইবন সাহলকে দেখলেন যে, তিনি মৃত অবস্থায় পড়ে আছেন। তিনি তাকে দাফন করলেন। পরে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হন। তিনি নিজে, হুওয়ায়্যিসা ইবন মাসউদ এবং আবদুর রহমান ইবন সাহল। আবদুর রহমান সকলের মধ্যে বয়সে ছােট ছিলেন। তিনি প্রথমে কথা বলতে আরম্ভ করলে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যারা বয়সে বড় তাদের সম্মানের প্রতি লক্ষ্য রাখ। তখন তিনি চুপ হয়ে যান। তখন তার সাথীদ্বয় কথা বলতে থাকেন এবং তিনিও তাদের সাথে কথা বলছিলেন। তারা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট ঐ স্থানের কথা বললেনঃ যেখানে আবদুল্লাহ ইবন সাহল নিহত হন। তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ তোমরা পঞ্চাশ ব্যক্তি কি শপথ করতে পারবে যা দ্বারা তোমরা তোমাদের অভিযুক্ত ব্যক্তি কিংবা বললেন, তোমাদের লোকের হত্যাকারীর বিচার লাভের অধিকার প্রতিষ্ঠা করবে? তারা বললেনঃ যখন আমরা দেখিনি এবং আমরা উপস্থিতও ছিলাম না, তখন আমরা কী করে শপথ করতে পারি। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তা হলে ইয়াহুদীদের পঞ্চাশ ব্যক্তি শপথ করে তোমাদের অভিযোগ থেকে মুক্ত হয়ে যাক? তারা বললেনঃ আমরা কাফিরদের কসম কিরূপে বিশ্বাস করবো? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ অবস্থা দেখে নিজে দিয়াত আদায় করে দেন।
4713আহমদ ইবন আবদা (রহঃ) ... বুশায়র ইবন ইয়াসার (রহঃ) সাহল ইবন আবু হাসমা এবং রাফি' ইবন খাদীজ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তারা বলেনঃ মুহায়্যিসা ইবন মাসউদ এবং আবদুল্লাহ্ ইবন সাহল তাদের কোন প্রয়োজনে খায়বর গমন করেন। সেখানে তারা খেজুর বাগানে পৃথক হয়ে যান। অতঃপর আবদুল্লাহ ইবন সাহল নিহত হন। সুতরাং তার ভাই আবদুর রহমান ইবন সাহল এবং তার দুই চাচাতো ভাই হুওয়ায়্যিসা ও মুহায়্যিসা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হলেন। আবদুর রহমান তার ভাই সম্পর্কে কথা বলা শুরু করেন। আর তিনি ছিলেন তাঁদের মধ্যে বয়সে ছােট। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ যারা বয়সে বড় তাদেরপ্ রতি সম্মান প্রদর্শন কর। পরে তারা দুইজন তাদের সাথীর ব্যাপারে কথা বললেন। তখন রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটা কথা বললেন, যার অর্থ হল, তোমাদের মধ্য হতে পঞ্চাশজন লোক কসম করবে। তখন তারা বললেনঃ আমরা যা প্রত্যক্ষ করিনি তার উপর আমরা কিরূপ শপথ করবো? তিনি বলেনঃ তা হলে ইয়াহূদীরা পঞ্চাশজন শপথ করে তোমাদের দাবি হতে রেহাই পেয়ে যাবে। তারা বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! তারা তোমরা কাফির। এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের পক্ষ হতে দিয়াত আদায় করে দেন। সাহল (রাঃ) বলেন, আমি উট রাখার স্থানে গেলে যে উট আমাদেরকে দেওয়া হয়েছিল তার একটি আমাকে পদাঘাত করেছিল।
4714আমর ইবন আলী (রহঃ) ... বুশায়র ইবন ইয়াসার সাহল ইবন আবু হাসমা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, আবদুল্লাহ্ ইবন সাহল এবং মুহায়্যিসা ইবন মাসউদ ইবন যায়দ খায়বর গেলেন। এটা সেই সময়, যখন সেখানে সন্ধি স্থাপিত হয়ে গিয়েছিল। তারা তাদের কাজে সেখানে পরস্পর পৃথক হয়ে যান। এরপর মুহায়্যিসা আবদুল্লাহ ইবন সাহলের নিকট গিয়ে দেখতে পান যে, তিনি নিহত হয়েছেন এবং তার দেহ রক্তে গড়াগড়ি খাচ্ছে। তিনি তাকে সেখানে দাফন করে মদীনায় ফিরে আসলেন। তারপর আবদুর রাহমান ইবন সাহল হুওয়ায়্যিসা ও মুহায়্যিসা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হলেন। আবদুর রহমান ছিলেন সকলের ছােট। তিনি প্রথমে কথা বলতে আরম্ভ করলে রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যে বয়সে বড় তাকে সম্মান কর। সুতরাং তিনি চুপ হয়ে গেলেন। তারপর অন্য দু’জন কথা বললেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমাদের পঞ্চাশজন কি শপথ করতে পারবে যে, যা দ্বারা তোমরা তোমাদের অভিযুক্ত ব্যক্তির কিংবা বললেন, তোমাদের লোকের হত্যাকারীকে হত্যা করার অধিকার লাভ করবে? তারা বললেনঃ আমরা সেখানে ছিলাম না এবং আমরা যখন দেখিনি, তখন আমরা কিভাবে তা করতে পারি? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাহলে ইয়াহূদীদের মধ্য হতে পঞ্চাশজন শপথ করবে। তারা বললেনঃ কাফিরদের শপথ আমরা কিরূপে মেনে নিতে পারি? এ অবস্থায় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে তাদের দিয়াত আদায় করে দেন।
4715ইসমাঈল ইবন মাসউদ (রহঃ) ... বুশায়র ইবন ইয়াসার সাহল ইবন আবু হাসমা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ্ ইন সাহল এবং মুহায়্যিসা ইবন মাসউদ ইবন যায়দ খায়বর গমন করেন। খায়বরে তখন সন্ধি স্থাপিত হয়ে গেছে। সেখানে যাওয়ার পর তারা কাজে পৃথক হয়ে যান। এরপর মুহায়্যিসা আবদুল্লাহর নিকট যান। গিয়ে দেখেন তিনি নিহত অবস্থায় রক্তের মধ্যে গড়াগড়ি খাচ্ছেন। তিনি তাকে দাফন করে মদীনায় ফিরে আসেন। এরপর আবদুর রহমান ইবন সাহল, হুওয়ায়্যিসা মুহায়্যিসা এবং ইবন মাসউদ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হন। প্রথমে আবদুর রহমান কথা বলতে শুরু করেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যে বয়সে বড়, তাকে সম্মান কর। তিনি ছিলেন বয়সে ছােট। তিনি চুপ করলেন। এরপর তারা দু'জন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে কথা বললেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা পঞ্চাশজন কি শপথ করবে যা দ্বারা তোমরা তোমাদের লোকের হত্যাকারীর বিচার করার অধিকার লাভ করবে। তারা বললেনঃ আমরা যখন দেখিনি, তখন আমরা কি করে শপথ করবো? তিনি বললেনঃ তাহলে ইয়াহুদীদের পঞ্চাশজন কসম করে তোমাদের দাবি মিথ্যা প্রমাণ করবে। তারা বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! কাফিরদের শপথ আমরা কী করে বিশ্বাস করবো? তখন তিনি নিজে তাদের দিয়াত আদায় করে দেন।
4716মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... সাহল ইবন আবু হাসমা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আবদুল্লাহ ইবন সাহল আনসারী এবং মুহায়্যিসা ইবন মাসউদ খায়বার গমন করেন। পরে তারা উভয়ে তাদের কাজে পৃথক হয়ে যান এবং আবদুল্লাহ ইবন সাহল আনসারী নিহত হন। এরপর মুহায়্যিসা ও আবদুর রহমান, নিহত ব্যক্তির ভাই এবং হুওয়ায়্যিসা ইবন মাসউদ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হন। আবদুর রহমান কথা বলতে উদ্যত হলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ বয়সে যে বড় তার সম্মান কর। তখন মুহায়িসা এবং হুওয়ায়্যিসা আবদুল্লাহ ইবন সালের ঘটনা বর্ণনা করলেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা পঞ্চাশ ব্যক্তি শপথ কর এবং তোমাদের লোকের ঘাতকের বিচার লাভের অধিকার প্রমাণ কর। তারা বলেনঃ আমরা যখন দেখিনি এবং উপস্থিতও ছিলাম না, তখন আমরা কী করে শপথ করতে পারি? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তবে তো তারা পঞ্চাশজন শপথ করে তোমাদের অভিযোগ থেকে মুক্ত হয়ে যাবে। তখন তারা বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! কাফিরদের শপথ আমরা কিভাবে মেনে নিতে পারি? রাবী বলেন, এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে দিয়াত আদায় করে দেন। সাহল ইবন আবু হাসমা (রাঃ) বলেনঃ ঐ সকল উটের একটি আমাকে আমাদের উট রাখার স্থানে পদাঘাত করেছিল।
4717মুহাম্মদ ইবন মানসূর (রহঃ) ... সাহল ইবন আবু হাসমা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আবদুল্লাহ ইবন সাহলকে মৃতাবস্থায় পাওয়া গেল, তখন তার ভাই এবং দুই চাচা হুওয়ায়্যিসা এবং মুহায়্যিসা, যারা আবদুল্লাহ (রাঃ)-এর চাচা ছিলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হলেন। আবদুর রহমান প্রথমে কথা বলতে শুরু করলে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ বয়সে যে বড় তাকে সম্মান কর। তারা বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমরা আবদুল্লাহ্ ইবন সালকে মৃতাবস্থায় পেয়েছি। আর তাকে হত্যা করে ইয়াহুদীদের এক কূপে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ তোমরা কাকে সন্দেহ কর? তারা বললেনঃ ইয়াহুদীদের উপরই আমাদের সন্দেহ হয়। তিনি বললেনঃ তোমরা কি কসম করে বলতে পার যে, ইয়াহূদীরা তাকে হত্যা করেছে? তারা বললেনঃ আমরা যখন চোখে দেখিনি তখন আমরা কিরূপে কসম করতে পারি? তিনি বলেনঃ তা হলে ইয়াহূদীরা পঞ্চাশজন শপথ করে দায়মুক্ত হয়ে যাবে। তখন তারা বললেনঃ আমরা তাদের শপথ কিরূপে বিশ্বাস করবো? কেননা তারা তো মুশরিক। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে তাদের দিয়াত আদায় করে দেন।
4718হারিস ইন মিসকীন (রহঃ) ... বুশায়র ইবন ইয়াসার (রহঃ) থেকে বর্ণিত। আবদুল্লাহ ইবন সাহল আনসারী এবং মুহায়্যিসা ইবন মাসউদ খায়বর গমন করার পর নিজ নিজ কাজের জন্য পৃথক হয়ে যান। তারপর আবদুল্লাহ ইবন সাহল নিহত হন। মুহায়্যিসা সেখান থেকে ফিরে আসেন। এরপর তিনি, তাঁর ভাই হুওয়ায়্যিসা এবং আবদুর রহমান ইবন সাহল রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হন। আবদুর রহমান তাঁর ভাই হিসাবে প্রথমে কথা শুরু করেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ বয়সে যে বড়, তাকে সম্মান কর। তখন হুওয়ায়্যিসা এবং মুহায়্যিসা কথা বলতে শুরু করেন। তারা আবদুল্লাহ ইবন সাহলের অবস্থা বর্ণনা করলে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বললেনঃ তোমরা পঞ্চাশজন শপথ করে কি তোমাদের লোকের হত্যাকারীর বিচার লাভের অধিকার সাব্যস্ত করতে পারবে? ইমাম মালিক (রহঃ) বলেন, ইয়াহইয়া বলেছেনঃ বুশায়র মনে করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে দিয়াত আদায় করে দেন।
4719আহমদ ইবন সুলায়মান (রহঃ) ... বুশায়র ইবন ইয়াসার (রহঃ) থেকে বর্ণিত। সাহল ইবন আবু হাসমা নামক এক আনসারী তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তার গোত্রের কয়েকজন খায়বরে গমন করেন। সেখানে তারা পৃথক হয়ে যান পরে তারা তাদের একজনকে নিহত অবস্থায় পেলেন। তারা যে স্থানে নিহত ব্যক্তিকে পেলেন, সেখানকার লোকজনকে বললেন, তোমরা আমাদের লোককে হত্যা করেছ। তারা বললোঃ আমরা তাকে হত্যা করিনি এবং হত্যাকারীকে আমরা চিনিও না। এরপর তারা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা খায়বার গিয়েছিলাম, সেখানে আমরা আমাদের এক ব্যক্তিকে নিহত পেয়েছি। তিনি বললেনঃ বয়সে বড় ব্যক্তির সম্মান কর। তিনি বললেনঃ তোমরা কি সাক্ষী উপস্থিত করতে পারবে যে, কে হত্যা করেছে? তারা বললেনঃ আমাদের কোন সাক্ষী নেই। তিনি বললেনঃ তা হলে ইয়াহূদীরা তোমাদের সামনে শপথ করবে। তারা বললেন, আমরা ইয়াহূদীর শপথ বিশ্বাস করি না। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট ঐ ব্যক্তির রক্ত বৃথা যাওয়া পছন্দ হলো না। কাজেই তিনি সাদকার উট থেকে একশত উট দিয়াত স্বরূপ তাদের দিয়ে দেন।
4720মুহাম্মদ ইবন মা'মার (রহঃ) ... আমর ইবন শুআয়ব তার পিতার সূত্রে তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, মুহায়্যিসার ছােট ছেলে খায়বারের লোকালয়ের সামনে নিহত হন। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি হত্যাকারী সম্পর্কে দুইজন সাক্ষী পেশ কর; আমি তাকে তার রশিসহ তোমাদের নিকট সোপর্দ করবো। তিনি বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি দুইজন সাক্ষী কোথা হতে আনবো? এতো তাদের দুয়ারে মৃতাবস্থায় পতিত ছিল। তিনি বললেনঃ তবে তুমি পঞ্চাশবার শপথ করবে। তিনি বললেনঃ আমি যা জানি না, তার কসম আমি কি করে করবো? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তা হলে ইয়াহুদীদের মধ্য হতে পঞ্চাশজন থেকে আমরা শপথ নিই? তিনি বললেনঃ আমরা তাদের থেকে শপথ নেব, যখন তারা ইয়াহুদী? তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিয়াত তাদের মধ্যে ভাগ করে দেন; আর অর্ধেক দিয়াত নিজের পক্ষ হতে দিয়ে তাদের সাহায্য করেন।
4721বিশর ইবন খালিদ (রহঃ) .... আবদুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন মুসলিমকে হত্যা করা বৈধ নয়, তিনটি কারণ ব্যতীতঃ প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ, যে ব্যক্তি বিবাহের পরও ব্যভিচার করে এবং ঐ ব্যক্তি যে দীন ইসলাম পরিত্যাগ করে মুসলিম সমষ্টি হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
4722মুহাম্মাদ ইবন আলা ও আহমাদ ইবন হারব (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময়ে এক ব্যক্তি এক ব্যক্তিকে হত্যা করলে, হত্যাকারীকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আনা হয়। তিনি তাকে নিহত ব্যক্তির ওয়ারিসের নিকট দিয়ে দেন। তখন হত্যাকারী বললঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহর কসম! আমি তাকে হত্যা করার ইচ্ছা করিনি। তিনি নিহত ব্যক্তির ওয়ারিসকে বললেনঃ যদি এই ব্যক্তি সত্যবাদী হয়, অতঃপর তুমি তাকে হত্যা কর, তবে তুমি জাহান্নামী হবে। তখন সেই ব্যক্তি তাকে ছেড়ে দিল। ঐ ব্যক্তি রশিতে বাঁধা ছিল, সে তার রশি টানতে টানতে চলে গেল। সেদিন হতে তাকে রশিওয়ালা ব্যক্তি বলা হতো।
4723মুহাম্মদ ইবন ইসমাঈল ইন ইবরাহীম (রহঃ) ... ওয়ায়ল হাযরামী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ঘাতক কাউকে হত্যা করেছিল, তাকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট নিয়ে আসা হল। নিহত ব্যক্তির অভিভাবকই তাকে উপস্থিত করলো। তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ তুমি কি তাকে ক্ষমা করে দেবে? সে বললোঃ না। তিনি বললেনঃ তাকে হত্যা করবে? সে বললো, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ যাও, তাকে হত্যা কর। সে রওয়ানা হলে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, যদি তুমি তাকে ক্ষমা কর, তবে সে তোমার গুনাহ এবং তোমার বন্ধুর গুনাহ বহন করবে। তখন সে তাকে ক্ষমা করলো এবং তাকে ছেড়ে দিল। সে ব্যক্তি তার রশি টানতে টানতে চলে গেল।
4724মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... হামযা আবু আমর ‘আইযী (রহঃ) আলকামা ইবন ওয়ায়ল হতে এবং তিনি তার পিতা ওয়ায়ল হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, আমি তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত ছিলাম, যখন নিহত ব্যক্তির ওয়ারিস এক হতাকারীকে রশিতে বেঁধে টেনে আনে। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিহত ব্যক্তির ওয়ারিসকে জিজ্ঞাসা করেনঃ তুমি কি তাকে ক্ষমা করে দেবে? সে বললোঃ না। এরপর তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ দিয়াত নেবে? সে বললোঃ না। তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ তুমি কি তাকে হত্যা করবে? সে বললোঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ তা হলে তাকে নিয়ে যাও। যখন সে তাকে নিয়ে চললো তখন তিনি তাকে বললেনঃ তুমি তাকে ক্ষমা করে দেবে। সে বললোঃ না। তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ দিয়াত নেবে? সে বললোঃ না। আবার জিজ্ঞাসা করলেনঃ তাকে হত্যা করবে? সে বললোঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ তাকে নিয়ে যাও। পরে তিনি বললেনঃ যদি তুমি তাকে ক্ষমা কর, তবে সে তোমার পাপ এবং নিহত ব্যক্তির পাপ বহন করবে। তখন সে তাকে ক্ষমা করে ছেড়ে দিল। (রাবী বলেন) আমি দেখলাম, সেরশি টানতে টানতে যাচ্ছে।
4725মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... জামি' ইবন মাতার হাবাতী আলকামা ইবন ওয়ায়ল (রাঃ) থেকে এবং তিনি তার পিতা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
4726আমর ইবন মানসূর (রহঃ) ... জামি' ইবন মাতার (রহঃ) ‘আলকামা ইবন ওয়ায়ল থেকে এবং ওয়ায়ল (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বসছিলাম। এমন সময় এক ব্যক্তি অন্য একজনকে নিয়ে আসে। সে বলে, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এই ব্যক্তি এবং আমার ভাই উভয়ে কুয়ায় কাজ করতো, হঠাৎ সে কোদাল উঠিয়ে আমার ভাইয়ের মাথায় আঘাত করল এবং তাকে হত্যা করল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাকে ক্ষমা করে দাও। সে ব্যক্তি অস্বীকার করলো এবং বলল, হে আল্লাহর নবী! এই ব্যক্তি এবং আমার ভাই কুয়া খনন করছিল। হঠাৎ সে কোদাল তুলে আমার ভাইয়ের মাথায় আঘাত করল এবং হত্যা করল। তিনি বললেন, তাকে ক্ষমা কর, কিন্তু সে অস্বীকার করল, তারপর দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর নবী! এই ব্যক্তি এবং আমার ভাই কুয়া খনন করছিল। হঠাৎ সে কোদাল তুলে আমার ভাইয়ের মাথায় আঘাত করল এবং তাকে হত্যা করল। তিনি বললেন, তাকে ক্ষমা কর। কিন্তু সে অস্বীকার করল। শেষে তিনি বললেনঃ যাও, যদি তুমি তাকে হত্যা কর, তবে তুমিও তার মত হবে। সে তাকে নিয়ে দূরে যাওয়ার পর আমরা চিৎকার করে বললামঃ তুমি কি শুনছ না রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি বলছেন? সে ফিরে এসে বললোঃ যদি আমি তাকে হত্যা করি তবে কি আমিও ঐরূপ হবো? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, তাকে ক্ষমা কর। এরপর সে রশি টানতে টানতে বের হল এবং আমাদের দৃষ্টির বাইরে চলে গেল।
4727ইসমাঈল ইবন মাসউদ (রহঃ) ... সিমাক (রহঃ) বলেন, আলকামা ইবন ওয়ায়ল তার পিতা হতে বর্ণনা করেন যে, একদা তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বসা ছিলেন। এমন সময় এক ব্যক্তি অন্য এক ব্যক্তিকে রশিতে বেঁধে টেনে নিয়ে আসল এবং বললঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! এই ব্যক্তি আমার ভাইকে হত্যা করেছে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞাসা করেনঃ তুমি কি তাকে হত্যা করেছ? বাদী বললো, যদি সে স্বীকার না করে তা হলে আমি সাক্ষী আনবো। তখন সে ব্যক্তি বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি হত্যা করেছি। তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ কিভাবে হত্যা করেছ? সে বললো, আমি এবং তার ভাই এক গাছের লাকড়ি কুড়াচ্ছিলাম। তখন সে আমাকে গালি দিল এবং আমাকে রাগিয়ে দিল। ফলে আমি তার মাথায় কুড়াল দিয়ে আঘাত করি। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেনঃ তোমার নিকট কি অর্থ-সম্পদ আছে, যা তুমি তোমার প্রাণের বিনিময়ে দিতে পার? সে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার নিকট একটা কম্বল এবং কুড়াল ছাড়া আর কিছুই নেই। তিনি বললেনঃ তুমি কি মনে কর, তোমার লোক তোমাকে দিয়াতের টাকা দিয়ে ছাড়িয়ে নেবে? সে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার গোত্রের নিকট আমার এত মর্যাদা নেই যে, তারা আমাকে মালের বিনিময়ে ছাড়িয়ে নেবে। একথা শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়ারিসের দিকে রশি নিক্ষেপ করলেন এবং বললেন, তাকে নিয়ে যাও। যখন সে যেতে লাগলো রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যদি সে তাকে হত্যা করে, তবে সেও তার মত হবে। লোক গিয়ে তাকে বললোঃ তোমার সর্বনাশ হোক, রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি সে তাকে হত্যা করে তবে সেও এইরূপ হবে। তখন সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে ফিরে আসল এবং বললোঃ লোক বলছে, আপনি নাকি বলেছেন, আমি তাকে হত্যা করলে আমিও তার মত হবো? আমি তো তাকে আপনার আদেশেই নিয়ে গিয়েছিলাম। তিনি বললেনঃ তুমি কি চাও যে, সে তোমার এবং তোমার এই পাপ নিজের উপর নিয়ে যাক? সে বললোঃ অবশ্যই। তিনি বললেনঃ তাই হবে। সে বললোঃ তবে তাই হোক।
4728যাকারিয়া ইবন ইয়াহইয়া (রহঃ) ... সিমাক ইবন হারব বলেন, ‘আলকামা ইবন ওয়ায়ল তার পিতা হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে উপবিষ্ট ছিলাম, এমন সময় এক ব্যক্তি আর এক ব্যক্তিকে টেনে আনে ....... অতঃপর তিনি পূর্বের অনুরূপ বর্ণনা করেন।
4729মুহাম্মদ ইবন মামার (রহঃ) ... ইসমাঈল ইবন সালিম আলকামা ইবন ওয়ায়ল থেকে বর্ণনা করেন যে, তার পিতা তাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, একদা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এমন এক ব্যক্তিকে আনা হলো, যে অন্য এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছে। তিনি হত্যাকারীকে নিহত ব্যক্তির ওয়ারিসের কাছে সোপর্দ করে দিলেন যাতে সে তাকে হত্যা করে। তারপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীগণকে বললেনঃ নিহত ব্যক্তি এবং হত্যাকারী উভয়ে জাহান্নামে যাবে। এক ব্যক্তি ওয়ারিসকে এই সংবাদ দিল। যখন তাকে এ সংবাদ দেওয়া হলো, সে হত্যাকারীকে ছেড়ে দিল। বর্ণনাকারী বলেন, আমি দেখলাম, তাকে ছেড়ে দেয়ার পর সে রশি টানতে টানতে প্রস্থান করল। রাবী ইসমাঈল বলেন, আমি হাবীবের নিকট এই হাদীস বর্ণনা করলে তিনি বললেনঃ আমার নিকট সাঈদ ইবন আশওয়া বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই ব্যক্তিকে ক্ষমা করার আদেশ দেন।
4730ঈসা ইবন ইউনুস (রহঃ) ... আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি তার এক ঘনিষ্ঠজনের হত্যাকারীকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট নিয়ে আসল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ তাকে ক্ষমা করে দাও। সে ব্যক্তি তা অস্বীকার করল। তিনি বললেনঃ যাও তাকে হত্যা কর, আর তুমিও তার মত হবে। সে চলে গেল। এক ব্যক্তি তার সাথে মিলিত হয়ে বললোঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি তুমি তাকে হত্যা কর তবে তুমিও তার মত হবে। একথা শুনে ঐ ব্যক্তি তাকে ক্ষমা করে দিল। তখন সে আমার সামনে দিয়ে রশি টেনে নিয়ে চলে গেল।
4731হাসান ইবন ইসহাক মারওয়াযী (রহঃ) ... বুরায়দা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যাক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! এ ব্যক্তি আমার ভাইকে হত্যা করেছে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যাও, তুমিও তাকে হত্যা কর, যেমন সে তোমার ভাইকে হত্যা করেছে। সেই ব্যক্তি বললোঃ আল্লাহকে ভয় কর এবং আমাকে ক্ষমা করে দাও, তোমার অনেক সওয়াব হবে, আর কিয়ামতের দিন তোমার এবং তোমার ভাই-এর জন্য উত্তম হবে। একথা শুনে সে হত্যাকারীকে ক্ষমা করে দিল। পরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একথা জানতে পেরে তাকে জিজ্ঞাসা করলে, সে যা করেছিল, তা বর্ণনা করলো। তখন রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (হত্যাকারীকে) তিরস্কার করে বললেনঃ কিয়ামতের দিন সে অর্থাৎ নিহত ব্যক্তি তোমার সাথে যা করবে, তার চেয়ে এটাই (অর্থাৎ শাস্তি গ্রহণই) তোমার পক্ষে শ্রেয় ছিল। সে বলবে, হে আল্লাহ! তাকে জিজ্ঞাসা করুন, সে আমাকে কেন হত্যা করেছিল?
4732কাসিম ইবন যাকারিয়া ইবন দীনার (রহঃ) ... সিমাক (রহঃ) ইকরিমা (রহঃ) হতে এবং তিনি ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, কুরায়যা ও নয়ীর ইয়াহুদীদের দুটি গোত্র। এদের মধ্যে বনূ নযীর গোত্র বনু কুরায়য়া গোত্র থেকে মর্যাদাশালী ছিল। বনূ কুরায়যার কোন ব্যক্তি বনূ নযীরের কোন ব্যক্তিকে হত্যা করলে তাকে হত্যা করা হতো। কিন্তু বনূ নযীরের কোন ব্যক্তি বনূ কুরায়যার কোন ব্যক্তিকে হত্যা করলে রক্তপণ স্বরূপ সে একশত ওসাক খেজুর আদায় করতো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নবুয়তের পর বনূ নযীরের এক ব্যক্তি কুরায়যার এক ব্যক্তিকে হত্যা করল। তখন বনু কুরায়যার লোকেরা বললঃ হত্যাকারীকে আমাদের হাওলা কর, আমরা তাকে হত্যা করবো। বনূ নযীরের লোকেরা বললোঃ তোমাদের এবং আমাদের মধ্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রয়েছেন। তারা তাঁর নিকট আসলে, তখন আয়াত নাযিল হলোঃ “যদি আপনি কাফিরদের মধ্যে মীমাংসা করেন, তবে ইনসাফের সাথে মীমাংসা করবেন,” আর ইনসাফ হলো প্রাণের পরিবর্তে প্রাণ নেয়া। এরপর নাযিল হলোঃ “তারা কি অজ্ঞতার যুগের রেওয়াজ পছন্দ করছে?”
4733উবায়দুল্লাহ ইবন সা'দ (রহঃ) ... দাউদ ইবন হুসায়ন ইকরিমা থেকে এবং তিনি ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, সূরা মায়িদার আয়াতঃ “তারা যদি তোমার কাছে আসে, তবে তাদের বিচার নিষ্পত্তি করো, অথবা তাদেরকে উপেক্ষা করো। তুমি যদি তাদেরকে উপেক্ষা কর, তবে তারা তোমার কোন ক্ষতি করতে পারবে না। আর যদি বিচার-নিষ্পত্তি কর তবে ন্যায়বিচার করো। আল্লাহ্ ন্যায়পরায়ণদেরকে ভালবাসেন।” (৫ : ৪২) বনূ নযীর এবং বনু কুরায়যার রক্তপণের ব্যাপারে নাযিল হয়েছিল। যেহেতু বনী নযীর গোত্র ছিল মর্যাদাশালী, তাই তাদের কোন ব্যক্তি নিহত হলে তারা পূর্ণ রক্তপণ আদায় করত, আর যদি কুরায়যার কোন ব্যক্তি নিহত হতো তবে তারা অর্ধ রক্তপণ পেত। এরপর তারা এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট মীমাংসা প্রার্থী হয়। এমতাবস্থায় আল্লাহ্ তা'আলা তাদের ব্যাপারে এই আয়াত নাযিল করেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ব্যাপারে তাদের মধ্যে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করেন এবং দিয়াত সমান করে দেন।
4734মুহাম্মদ ইবন মুসান্না (রহঃ) ... কায়স ইবন উবাদা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এবং আশতার (রহঃ) আলী (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে, জিজ্ঞাসা করলামঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি এমন কিছু আপনাকে বলেছেন, যা সাধারণভাবে কাউকে বলেন নি? তিনি বললেনঃ না, আমার এই কাগজে যা লিখিত আছে, তা ব্যতীত আর কিছুই তিনি বলেন নি। একথা বলে তিনি তাঁর তলোয়ারের খাপ হতে লিখিত এক টুকরা কাগজ বের করেন। তাতে লেখা ছিলঃ মুসলিমের রক্ত সমমর্যাদাসম্পন্ন, আর তারা অমুসলিমদের ব্যাপারে একটি হাতের মত। মুসলিমদের পক্ষ হতে একজন সাধারণ লোকও কাউকে আশ্রয় দান করতে পারে যা সকলের জন্য রক্ষা করা বাধ্যতামূলক। জেনে রাখ, কোন মুসলিমকে কোন কাফিরের পরিবর্তে হত্যা করা যাবে না, আর মুসলিম রাষ্ট্রের প্রতি যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তাকে তার প্রতিশ্রুতিতে বিদ্যমান থাকা অবস্থায় হত্যা করা যাবে না। যে ব্যক্তি ধর্মে কোন প্রকার বিদ'আত প্রতিষ্ঠা করবে, এর পাপ তার উপর বর্তাবে। যদি কোন ব্যক্তি কোন বিদ'আতীকে আশ্রয় দেয়, তার উপর আল্লাহ্, ফেরেশতা এবং সকল লোকের অভিসম্পাত।
4735আবু বকর ইবন আলী (রহঃ) ... আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুসলিমদের রক্ত সমমর্যাদাসম্পন্ন, অমুসলিমদের ব্যাপারে তারা একটি হাতের ন্যায়। তাদের পক্ষ হতে একজন সাধারণ মুসলিমও কাউকে আশ্রয়দানের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে (যা রক্ষা করা) সকলের জন্য বাধ্যতামূলক হবে। জেনে রাখ, কোন মুসলিমকে কোন কাফিরের পরিবর্তে হত্যা করা যাবে না, আর মুসিলম রাষ্ট্রের সাথে যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তাকেও তার প্রতিশ্রুতিতে বিদ্যমান থাকা অবস্থায় হত্যা করা যাবে না।
4736মাহমূদ ইবন গায়লান (রহঃ) ... সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি তার দাসকে হত্যা করলে আমরা তাকে হত্যা করবো। আর যদি কোন ব্যক্তি তার দাসের নাক-কান কেটে দেয়, আমরা তার নাক-কান কেটে দেব। যদি কোন ব্যক্তি তার দাসকে খাসি করে দেয়, তবে আমরা তাকে খাসি করে দেব।
4737নাসর ইবন আলী (রহঃ) ... সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি তার দাসকে হত্যা করলে আমরা তাকে হত্যা করবো। আর যদি দাসের নাক-কান কাটে, আমরা তার নাক-কান কেটে দেব।
4738কুতায়বা (রহঃ) ... সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ তার দাসকে হত্যা করলে, আমরা তাকে হত্যা করব, আর কেউ তার দাসের নাক কান কাটলে, আমরা তার নাক কান কেটে দেব।
4739ইউসুফ ইবন সাঈদ (রহঃ) ... উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মীমাংসা কী ছিল, তিনি তা জানতে চাইলেন। তখন হামল ইবন মালিক দাঁড়িয়ে বলেনঃ আমি দুই নারীর বাসস্থানের মধ্যস্থলে ছিলাম। এমন সময় একজন নারী অন্যজনকে তার তাবুর লাঠি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করল এবং তার পেটের সন্তানকেও হত্যা করল। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সন্তানের বদলে এক দাস অথবা দাসী দেওয়ার আদেশ করেন এবং নারীর পরিবর্তে ঐ নারীকে হত্যা করার আদেশ দেন।
4740ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ইয়াহূদী একটি বালিকাকে তার রূপার অলঙ্কারের জন্য হত্যা করে। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ বালিকার কিসাস স্বরূপ সেই ইয়াহূদীকে হত্যার আদেশ দেন।
4741মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন মুবারাক (রহঃ) ... আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ইয়াহূদী এক বালিকার রূপার অলঙ্কার কেড়ে নিল এবং পরে তাকে দুইটি পাথরের মাঝে রেখে তার মাথা চূর্ণ করলো। লোকজন এসে দেখলো, তার নিঃশ্বাস তখনও অবশিষ্ট রয়েছে। লোকজন তাকে জিজ্ঞাসা করতে লাগলোঃ তোমাকে কি ঐ ব্যক্তি মেরেছে? ঐ ব্যক্তি মেরেছে? অবশেষে ঐ ইয়াহূদীর নাম আসতেই সে বললোঃ হ্যাঁ। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আদেশে তার মাথা দুটি পাথরের মাঝখানে রেখে চূর্ণ করে দেওয়া হয়।
4742আলী ইবন হুজুর (রহঃ) ... আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক বালিকা রূপার অলঙ্কার পরিহিত অবস্থায় বের হলে এক ইয়াহুদী তাকে ধরল। তারপর তার মাথা দুটি পাথরের মাঝে রেখে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে ফেলল এবং তার শরীরের অলঙ্কার ছিনিয়ে নিয়ে গেল। লোকজন এসে তাকে এমন অবস্থায় পেল যে, তখনও তার নিঃশ্বাস অবশিষ্ট আছে। তারা তাকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট নিয়ে গেলে তিনি বললেনঃ তোমাকে কে আঘাত করেছে? অমুক ব্যক্তি। সে মাথার ইশারায় বললোঃ না, আল্লাহর কসম! তিনি বললেনঃ অমুক ব্যক্তি? শেষ পর্যন্ত তিনি আঘাতকারী ইয়াহুদীর নাম নিয়ে জিজ্ঞাসা করলে, সে তার মাথার ইশারায় বললোঃ হ্যাঁ। ঐ লোকটি ধৃত হলে তা সে স্বীকার করলো। এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদেশ করলে দুই প্রস্তরের মধ্যে রেখে তার মাথা চূর্ণ করা হয়।
4743আহমদ ইবন হাফস ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ) ... উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, তিন অবস্থার কোন একটি ব্যতীত কোন মুসলিমকে হত্যা করা বৈধ নয়। প্রথমত বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও যদি সে ব্যভিচার করে, তখন তাকে প্রস্তর নিক্ষেপে হত্যা করা হবে; দ্বিতীয়ত ঐ ব্যক্তি, যে কোন মুসলিমকে স্বেচ্ছায় হত্যা করে; তৃতীয়ত ঐ ব্যক্তি যে ইসলাম হতে বের হয়ে যায় এবং পরে আল্লাহ্ তা'আলা এবং আল্লাহর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়। তাকে হত্যা করা হবে বা শূলীতে চড়ানো হবে অথবা দেশান্তর করা হবে।
4744মুহাম্মদ ইবন মানসূর (রহঃ) ... আবূ জুহায়ফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। একদা আমরা আলী (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনার নিকট কি কুরআন ব্যতীত রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কোন অন্য বাণী রয়েছে। তিনি বললেনঃ না, আল্লাহ্ তা'আলার শপথ! যিনি বীজ বিদীর্ণ করে অঙ্কুর বের করে থাকেন এবং জীবন দান করেন। তবে হ্যাঁ, আল্লাহ্ তা'আলা কোন বান্দাকে তাঁর কিতাবের যে বুঝ-সমঝ দান করেন অথবা যা এ সহীফায় রয়েছে সেটা ভিন্ন। আমি জিজ্ঞাসা করলামঃ ঐ সহীফায় কী রয়েছে। তিনি বললেনঃ তাতে রয়েছে দিয়াতের আহকাম, দাসমুক্ত করার বর্ণনা এবং আরো রয়েছে, কোন মুসলিমকে কোন কাফিরের পরিবর্তে হত্যা করা যাবে না।
4745মুহাম্মদ ইব্ন বাশশার (রহঃ) ... আবু হাসসান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আলী (রাঃ) বলেছেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এমন কিছু বলেন নি যা তিনি অন্যান্য লোকের নিকট বলেন নি; তবে আমার তলোয়ারের খাপে যে লিখা রয়েছে, তা ব্যতীত। জনগণ তার পিছু ছাড়লেন না। পরে তিনি সেই লিখা বের করলেন। দেখা গেল, তাতে লিখিত রয়েছে যে, মুসলিমদের রক্ত সমমর্যাদাসম্পন্ন। একজন সাধারণ মুসলিমও কাউকে আশ্রয় দিতে পারে, মুসলিমগণ অমুসলিমদের ব্যাপারে এক হাতের ন্যায়, আর কোন মুসলিমকে কাফিরের পরিবর্তে হত্যা করা যাবে না, আর নিজের ওয়াদার উপর স্থির কোন যিম্মীকে হত্যা করা যাবে না।
4746আহমদ ইবন হাফ (রহঃ) ... মালিক আশতার (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি আলী (রাঃ)-কে বললেনঃ মানুষ (আপনার কাছ থেকে জ্ঞান-প্রজ্ঞার) বিপুল কথা শুনে থাকে। যদি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাকে খাস কিছু বলে থাকেন, তা আমাদের নিকট বর্ণনা করুন। তখন আলী (রাঃ) বললেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এমন কিছু বলেন নি, যা তিনি অন্যান্য লোককে বলেন নি। তবে আমার তলোয়ারের খাপে যা রয়েছে তা ব্যতীত। দেখা গেল, তাতে রয়েছেঃ মুসলিমদের রক্ত সমমর্যাদাসম্পন্ন, একজন সাধারণ মুসলিম একজন কাফিরকে আশ্রয় দিতে পারে, আর কোন মুসলিমকে কাফিরের পরিবর্তে হত্যা করা যাবে না, আর না ঐ যিম্মীকে হত্যা করা যাবে যে তার ওয়াদার উপর স্থির রয়েছে।
4747ইসমাঈল ইবন মাসউদ (রহঃ) ... আবূ বাকরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন যিম্মীকে অন্যায়ভাবে হত্যা করবে, আল্লাহ্ তা'আলা তার জন্য জান্নাত হারাম করে দেবেন।
4748হুসায়ন ইবন হুরায়স (রহঃ) ... আবূ বাকরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন যিম্মীকে হত্যা করবে, আল্লাহ্ তা'আলা তার জন্য জান্নাতের সুবাস গ্রহণও হারাম করে দেবেন।
4749মাহমূদ ইবন গায়লান (রহঃ) ... কাসিম ইবন মুখায়মারা (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জনৈক সাহাবী থেকে শুনেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন যিম্মীকে হত্যা করবে, সে জান্নাতের সুগন্ধও পাবে না। অথচ তার সুগন্ধ সত্তর বছরের দূরত্ব থেকে পাওয়া যাবে।
4750আবদুর রহমান ইবন ইবরাহীম দুহায়ম (রহঃ) .... আবদুল্লাহ ইবন আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন যিম্মীকে হত্যা করবে, সে জান্নাতের সুগন্ধও পাবে না। অথচ তার সুগন্ধ চল্লিশ বছরের দূরত্ব থেকে পাওয়া যাবে।
4751ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... ইমরান ইবন হুসায়ন (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, কয়েকজন গরীব লোকের একটি গোলাম ছিল, সে ধনীদের এক দাসের কান কেটে ফেলে। সে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসলে তিনি তার জন্য কিছুই সাব্যস্ত করেন নি।
4752ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁতের ব্যাপারে কিসাসের আদেশ দেন। তিনি বলেনঃ কিসাস হচ্ছে আল্লাহর বিধান।
4753মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না (রহঃ) ... সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি তার দাসকে হত্যা করবে, আমরা তাকে হত্যা করবো ; আর যে ব্যক্তি তার দাসের অঙ্গ কাটবে, আমরা তার অঙ্গ কাটবো।
4754মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তার দাসকে খাসি করবে, আমরা তাকে খাসি করে দেব এবং যে ব্যক্তি তার দাসের কোন অঙ্গ কাটবে, আমরা তার অঙ্গ কাটবো।
4755আহমাদ ইবন সুলায়মান (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। রুবায়্যি এর বোন উম্মে হারিসা এক ব্যক্তিকে যখম করে। এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এ মোকদ্দমা দায়ের করা হয়। তিনি বলেনঃ কিসাস নেয়া হবে। তখন রুবায়্যির মা বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! তার থেকে কী বদলা নেয়া হবে? আল্লাহর কসম! তার থেকে কখনও বদলা নেয়া যাবে না। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সুবহানাল্লাহ! রুবায়্যি-এর মা! কিসাস নেয়া তো আল্লাহর বিধান। সে বললোঃ আল্লাহর শপথ! তার নিকট হতে কখনও কিসাস নেয়া যাবে না; এরূপ বলতে থাকলো। এমনকি তারা দিয়াত কবূল করে নিল। রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহ্ তা'আলার কিছু বান্দা এমনও রয়েছে, যদি সে আল্লাহর উপর ভরসা করে কোন শপথ করে বসে, তবে আল্লাহ্ তা'আলা তা শপথ সত্যে পরিণত করে দেন।
4756হুমায়দ ইবন মাস'আদা ও ইসমাঈল (রহঃ) ... হুমায়দ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনাস (রাঃ) বলেছেনঃ তার ফুফু এক বালিকার দাঁত ভেঙেছিল; তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিসাসের আদেশ দেন। তার ভাই আনাস ইবন নাযর জিজ্ঞাসা করলোঃ অমুকের দাঁত কি ভাঙা হবে? যিনি আপনাকে সত্য নবী করে পাঠিয়েছেন, তাঁর শপথ করে বলছিঃ কখনও তার দাঁত ভাঙা যাবে না। তারা এর পূর্বেই ঐ বালিকার ওয়ারিসদেরকে বলে রেখেছিল যে, তাকে ক্ষমা করে দাও অথবা দিয়াত নাও। যখন তার ভাই আনাস ইবন নাযরের চাচা, যিনি উহুদ যুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন শপথ করলেন, তখন তার ওয়ারিসরা তাকে ক্ষমা করতে রাযী হয়ে গেল। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহ্ তা'আলার কোন কোন বান্দা এমন রয়েছে, যদি সে আল্লাহর উপর ভরসা করে শপথ করে বসে, তখন আল্লাহ্ তা'আলা তার শপথ সত্যে পরিণত করে দেন।
4757মুহাম্মদ ইবন মুসান্না (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রুবায়্যি এক বালিকার দাঁত ভেঙে ফেললেন। তারপর তিনি তার ওয়ারিসদের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করলেন। কিন্তু ঐ বালিকার ওয়ারিসরা ক্ষমা করতে সম্মত হলো না। পরে দিয়াত দেওয়ার প্রস্তাব করলেও তারা সম্মত হলো না। পরে তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হলে তিনি কিসাসের আদেশ দেন। তখন আনাস ইবন নাযর বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! রুবায়্যি'-এর কি দাঁত ভেঙে দেয়া হবে? না, যিনি আপনাকে নবী হিসাবে প্রেরণ করেছেন তাঁর শপথ! কখনও তার দাঁত ভাঙা যাবে না। তিনি বললেনঃ হে আনাস! আল্লাহর কিতাবের মীমাংসা তোমরা কিসাস। পরে ঐ লোকেরা সম্মত হয়ে গেল এবং ক্ষমা করে দিল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ তা'আলার কোন কোন বান্দা এমন রয়েছে, যদি সে আল্লাহর উপর ভরসা করে কোন শপথ করে, তবে তিনি তা সত্যে পরিণত করে দেন।
4758আহমদ ইবন উসমান আবু জাওযা (রহঃ) ... ইবন সীরীন (রহঃ) ইমরান ইবন হুসায়ন (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি অন্য এক ব্যক্তির হাতে কামড় দিল। যখন সেই ব্যক্তি তার হাত টেনে নিল, তাতে তার একটি দাঁত অথবা তিনি বলেন, কয়েকটি দাঁত পড়ে গেল। সে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট ফরিয়াদ জানালো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ তুমি আমাকে কী আদেশ দিতে বল? তুমি এই বল যে, আমি তাকে আদেশ করি এবং সে তার হাত তোমার মুখে দিয়ে রাখুক; আর তুমি তা চিবাতে থাক, যেমন জন্তু চিবিয়ে থাকে? যদি তোমার ইচ্ছা হয়, তবে তোমার হাত তাকে চিবাতে দাও। তারপর বের করে নাও।
4759আমর ইবন আলী (রহঃ) ... যুরারা ইবন আওফা ইমরান ইবন হুসায়ন (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির বাহুতে কামড় দিল। সে হাত টেনে নিলে ঐ ব্যক্তির দাঁত পড়ে গেল। পরে এই মোকদ্দমা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট পেশ করা হলে তিনি দিয়াত বাতিল করে দেন এবং বলেনঃ তুমি জন্তুর ন্যায় নিজের ভাইয়ের মাংস চিবাতে চাও।
4760মুহাম্মদ ইবন মুসান্না (রহঃ) ... যুরারা (রহঃ) ইমরান ইবন হুসায়ন (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, ইয়ালা এক ব্যক্তির সাথে ঝগড়া করলো এবং তাদের একজন অন্যজনের হাতে কামড় দিল। সে তার মুখ থেকে নিজের হাত টেনে নিতেই অন্যজনের দাঁত পড়ে গেল। পরে উভয়ে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বিচারপ্রার্থী হয়ে আসল। তিনি বললেন, তোমাদের একেকজন তার ভাইকে কামড় দেবে আবার দিয়াতও চাইবে? তার জন্য কোন দিয়াত নেই।
4761সুওয়ায়দ ইবন নাসর (রহঃ) ... যুরারা (রহঃ) ইমরান ইবন হুসায়ন (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, ইয়ালা বলেন, এক ব্যক্তি অন্যজনের হাতে কামড় দিলে তার দাঁত পড়ে যায়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার জন্য কোন দিয়াত নেই।
4762মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন মুবারক (রহঃ) ... যুরারা ইবন আওফা (রহঃ) ইমরান ইবন হুসায়ন (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি অন্য এক ব্যক্তির বাহু কামড়ে ধরে, ফলে তার দাঁত পড়ে যায়। সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গিয়ে তা বর্ণনা করলে তিনি বললেনঃ তুমি তোমার ভাইয়ের বাহু জানোয়ারের মত কামড়াতে চেয়েছিলে। তিনি তার দিয়াত বাতিল করে দিলেন।
4763মালিক ইবন খলীল (রহঃ) ... ইয়ালা ইবন মুন্ইয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত। সে অন্য এক ব্যক্তির সাথে ঝগড়া করলে তাদের একজন অন্যজকে কামড়ে দেয়। অপর ব্যক্তি তার মুখ থেকে হাত টেনে নিলে তার দাঁত পড়ে যায়। পরে এই মোকদ্দমা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট পেশ করা হলে তিনি বললেনঃ তোমাদের একজন নিজের ভাইকে কামড়াবে, যেমন যুবক উট কামড়ায়? তিনি তার দিয়াত বাতিল করে দেন।
4764মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ) ... ইয়ালা ইবন মুনইয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত, বনী তামীমের এক ব্যক্তি অন্য এক ব্যক্তির সাথে ঝগড়া করে তার হাতে কামড় দেয়। ঐ ব্যক্তি হাত টেনে নিলে তার দাঁত পড়ে যায়। তারা এই ঝগড়া রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট নিয়ে গেলে তিনি বললেনঃ তোমাদের একজন তার ভাইকে উটের ন্যায় দাঁত দিয়ে কামড়িয়েছে। আর তিনি তাকে দিয়াত দিতে বলেন নি।
4765ইমরান ইবন বাক্কার (রহঃ) ... মুহাম্মাদ (রহঃ) আতা ইবন আবূ রাবাহ (রহঃ) থেকে, তিনি সাফওয়ান ইবন আবদুল্লাহ থেকে এবং তিনি তার দুই চাচা সালামা এবং ইয়ালা ইবন উমাইয়া (রাঃ) থেকে। তাঁরা বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে তাবুকের যুদ্ধে বের হলাম। আমাদের সাথে এক ব্যক্তি ছিল, সে এক মুসলিম ব্যক্তির সাথে ঝগড়া করলে, সে তার হাতে কামড় দিল। ঐ ব্যক্তি তার মুখ হতে হাত টেনে নিলে তার দাঁত পড়ে গেল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে দিয়াতের জন্য আবেদন করলো। তিনি বললেনঃ তোমাদের এক ব্যক্তি বের হয়ে জানোয়ারের ন্যায় নিজের ভাইকে কামড়ায়, পরে সে দিয়াতের জন্য আগমন করে। সে দিয়াত পাবে না। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিয়াত বাতিল করে দিলেন।
4766আবদুল জব্বার ইবন ‘আলা (রহঃ) ... সুফয়ান আমর হতে, তিনি ‘আতা থেকে তিনি ইয়ালা (রাঃ) থেকে। এক ব্যক্তি অন্য এক ব্যক্তির হাতে কামড় দিলে তাতে তার দাঁত পড়ে যায়। পরে সে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হলে তিনি দিয়াত বাতিল করে দেন।
4767আবদুল জাব্বার (রহঃ) ... আমর (রহঃ) ও ইবন জুরায়জ (রহঃ) আতা (রহঃ) হতে, তিনি সাফওয়ান ইবন ইয়ালা (রহঃ) হতে এবং তিনি ইয়ালা (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি এক ব্যক্তিকে চাকর রাখেন, সে অন্য এক ব্যক্তির সাথে ঝগড়া করে তার হাতে কামড় দেয়। ফলে তার দাঁত পড়ে যায়। পরে সে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট নালিশ করলে তিনি বললেনঃ ঐ ব্যক্তি তার হাত রেখে দেবে যাতে সে পত্র ন্যায় কামড়াতে পারে?
4768ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... ইবন জুরায়জ ‘আতা হতে, তিনি সাফওয়ান ইবন ইয়ালা হতে এবং তিনি তার পিতা (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে তাবুক যুদ্ধে গমন করি। সেখানে আমি একজন লোককে চাকর হিসাবে রাখি। সেখানে আমার চাকর অন্য এক ব্যক্তির সাথে ঝগড়া করলে, সে তাকে দাঁত দিয়ে কামড়ায়। এতে তার দাঁত পড়ে যায়। সে ব্যক্তি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে সকল ঘটনা বর্ণনা করলে তিনি তার দিয়াত বাতিল করে দেন।
4769ইয়াকূব ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... ইবন জুরায়জ ‘আতা হতে, তিনি সাফওয়ান ইবন ইয়ালা হতে এবং তিনি ইয়ালা ইবন উমাইয়া (রাঃ) থেকে। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে তাবুক যুদ্ধে শরীক হই। আমার ধারণামতে তা ছিল সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক কাজ। আমার এক চাকর ছিল, সে একজন লোকের সাথে ঝগড়ায় লিপ্ত হয়। এক পর্যায়ে একে অন্যের আঙুলে কামড় দেয়। সে ব্যক্তি আঙুল টেনে বের করলে তার দাঁত পড়ে যায়। সে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে নালিশ করলে তিনি তার দাঁতের দিয়াত বাতিল করে দেন এবং বলেনঃ সে কি তোমার মুখে হাত রেখে দেবে, আর তুমি তা চিবিয়ে ফেলবে?
4770সুওয়ায়দ ইবন নাসর (রহঃ) ... কাতাদা (রহঃ) আতা (রহঃ) হতে, তিনি ইবন ইয়ালা হতে এবং তিনি ইয়ালা (রাঃ) হতে। তিনি তদ্রুপ বলেন, যা পূর্বে বর্ণনা করা হয়েছে। তবে এতে রয়েছেঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার জন্য কোন দিয়াত নেই।
4771ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... বুদায়ল ইবন মায়সারা ‘আতা হতে এবং তিনি সাওয়ান ইবন ইয়ালা ইবন মুনইয়া (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, ইয়ালা ইবন মুনইয়ার চাকর এক ব্যক্তির হাতে দাঁত দ্বারা কামড় দিলে, ঐ ব্যক্তি তার মুখ থেকে নিজের হাত টেনে নিল। এই ঘটনা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট পেশ করা হলো। কেননা যে কামড় দিয়েছিল তার দাঁত পড়ে যায়। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিয়াত বাতিল করে দেন এবং বলেনঃ সে কি তার হাত তোমার মুখে রেখে দিবে, আর তুমি তা পশুর মত চিবাতে থাকবে?
4772আবু বকর ইবন ইসহাক (রহঃ) ... সাফওয়ান ইবন ইয়ালা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তাঁর পিতা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে তাবুকের যুদ্ধে শরীক ছিলেন। তিনি সেখানে একজন লোককে চাকর হিসাবে রাখেন। সে এক ব্যক্তির সাথে ঝগড়া করলে ঐ ব্যক্তি তার হাতে কামড় দেয়। সে ব্যথা পেলে হাতে টান দিল। এভাবে সে তার দাঁত ফেলে দিল। এ ব্যাপারটি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট পেশ করা হলে তিনি বলেনঃ তোমাদের একজন নিজের ভাইকে জন্তুর মত দংশন করবে? এরপর তিনি তার দাঁতের দিয়াত বাতিল করে দেন।
4773ওহাব ইন বায়ান (রহঃ) ... আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু বণ্টন করছিলেন, এমন সময় এক ব্যক্তি সামনের দিক হতে এসে তার উপর ঝুকে পড়লে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে তাঁর হাতের কাঠি দ্বারা খোঁচা দেন। এতে ঐ ব্যক্তি বের হয়ে যায়। তারপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এসো, প্রতিশোধ নাও। সে ব্যক্তি বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি ক্ষমা করে দিয়েছি।
4774আহমদ ইবন সাঈদ রিবাতী (রহঃ) ... আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সময় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু বণ্টন করছিলেন; তখন এক ব্যক্তি সামনের দিক থেকে তাঁর উপর ঝুঁকে পড়ে। রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হস্তস্থিত কাঠি দ্বারা তাকে খোঁচা দিলে সে ব্যক্তি চিৎকার দিয়ে উঠে। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ এসো, প্রতিশোধ গ্রহণ কর। সে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি ক্ষমা করে দিয়েছি।
4775আহমদ ইবন সুলায়মান (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি আব্বাস (রাঃ)-এর কোন পূর্বপুরুষকে গালি দিলে তিনি তাকে চড় মারেন। তখন তার গোত্রের লোকজন এসে বলতে লাগলোঃ সেও তাঁকে চড় মারবে, যেমন তিনি তাকে চড় মেরেছেন। এক পর্যায়ে তারা অস্ত্র সজ্জিত হল। এ খবর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট পৌছলে তিনি মিম্বরে আরোহণ করে বললেনঃ হে লোক সকল! তোমরা কি জান বিশ্ববাসীর মধ্যে কে আল্লাহ্ তা'আলার নিকট অধিক সম্মানিত? তারা বললোঃ আপনি। এরপর বললেনঃ আমি আব্বাস হতে এবং আব্বাসও আমা হতে। তোমরা আমাদের মৃতদেরকে মন্দ বলো না। এতে আমাদের জীবিতদের দুঃখ হয়। তখন একদল লোক আসলো। তারা একথা শুনে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা আপনার অসন্তুষ্টি হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা কছি। আপনি আমাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন।
4776মুহাম্মদ ইবন আলী ইবন মায়মূন (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে মসজিদে উপবিষ্ট থাকতাম। তিনি যখন দাঁড়াতেন আমরাও দাঁড়াতাম। একদিন তিনি দাঁড়ালে আমরাও তাঁর সাথে দাঁড়ালাম। যখন তিনি মসজিদের মধ্যস্থলে পৌঁছলেন, তখন এক ব্যক্তি এসে তার চাদর ধরে তাঁর পিছন দিকে টানলো। তাঁর চাদরখানা ছিল মোটা, এতে তাঁর ঘাড় লাল হয়ে গেল। সেই ব্যক্তি বললোঃ হে মুহাম্মদ! আমার এই উষ্ট্রদ্বয়কে খাদ্যদ্রব্য দ্বারা বােঝাই করে দিন। কেননা আপনি তো আপনার মাল হতে বা আপনার পিতার মাল হতে দিচ্ছেন না। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ না, আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আমি তোমাকে কখনও দেব না, যতক্ষণ না তুমি আমার ঘাড় টানা-হেঁচড়া করার বদলা নিতে না দাও। তখন ঐ গ্রাম্য লোকটি বললোঃ আল্লাহর শপথ! আমি কখনও আপনাকে প্রতিশোধ গ্রহণ করতে দেব না। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ তিনবার বললেন; আর ঐ গ্রাম্য লোকটিও বলতে থাকলো যে, আল্লাহর কসম! আমি এর বদলা নিতে দেব না। আমরা যখন লোকটির কথা শুনলাম, দৌড়ে তাঁর নিকট উপস্থিত হলাম। তখন রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের প্রতি লক্ষ্য করে বললেনঃ যে আমার কথা শুনেছে, তাকে আমি আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, কেউ যেন ততক্ষণ নিজ স্থান হতে না নড়ে, যতক্ষণ না আমি আদেশ দেই। এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের একজনকে বলেনঃ হে অমুক! তুমি তার এক উটকে যব এবং অন্য উটকে খেজুর দ্বারা বােঝাই করে দাও। পরে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা চলে যাও।
4777মুআম্মাল ইবন হিশাম (রহঃ) ... আবূ ফিরাস (রহঃ) থেকে বর্ণিত। উমর (রাঃ) বলেছেনঃ আমি দেখছি যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিজের পক্ষ হতেও প্রতিশোধ গ্রহণের সুযোগ দিতেন।
4778মুহাম্মাদ ইবন রাফে' (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ জাহম ইবন হুযায়ফাকে সাদকা আদায় করার জন্য পাঠান। এক ব্যক্তি সাদকা দেয়ার ব্যাপারে তাঁর সাথে ঝগড়া করলে, আবু জাহম তাকে প্রহার করেন। তখন সে তার লোক নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা প্রতিশোধ চাই। তিনি বললেনঃ তোমরা তার বদলে এই-এই পাবে। তারা তাতে সন্তুষ্ট হলো না। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পরিমাণ আরও বাড়িয়ে) বললেনঃ তোমরা এই-এই পাবে। তারা তাতে রাযী হলো। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি লোকের সামনে খুতবা দানের সময় তোমাদের রাযী হওয়ার কথা উল্লেখ করবো। তারা বললোঃ ঠিক আছে। পরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবা দিতে গিয়ে বললেনঃ এই সকল লোক আমার নিকট কিসাস নিতে এসেছিল। আমি তাদের সামনে এত এত মাল পেশ করায় তারা রাযী হয়ে গেছে। তখন তারা বললোঃ না, আমরা রাযী হইনি। তখন মুহাজির লোকেরা তাদের প্রহার করতে উদ্যত হলে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে থামতে বললেন। তারা থেমে গেলেন। এরপর তিনি তাদেরকে ডেকে বলেনঃ তোমরা কি রাযী হও নি? তখন তারা বললোঃ হ্যাঁ, আমরা রাযী হলাম। তিনি বললেনঃ আমি লোকের মধ্যে খুতবা দেয়ার সময় তাদেরকে কি তোমাদের সন্তুষ্টির কথা জানিয়ে দেব? তারা বললোঃ হ্যাঁ। এরপর তিনি ভাষণ দানকালে জিজ্ঞাসা করলেনঃ তোমরা রাযী হলে তো? তারা বললোঃ হ্যাঁ।
4779ইসমাঈল ইবন মাসউদ (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ইয়াহূদী এক বালিকাকে রূপার অলংকার পরিহিত অবস্থায় দেখে প্রস্তরাঘাতে তাকে হত্যা করে। পরে লোকেরা ঐ বালিকাকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট নিয়ে আসে, আর তখনও তার প্রাণ অবশিষ্ট ছিল। তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করেনঃ তোমাকে কি অমুক ব্যক্তি হত্যা করেছে? সে মাথার ইঙ্গিতে জানায়, না। পরে তিনি ঐ ইয়াহুদীর নাম নিয়ে জিজ্ঞাসা করেনঃ তোমাকে কি ঐ ব্যক্তি মেরেছে? তখন সে মাথার ইঙ্গিতে বলেঃ হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ ইয়াহুদীকে ডেকে পাঠান এবং তার মাথাকে দুটি পাথরের মধ্যে রেখে প্রস্তর আঘাতে হত্যা করেন।
4780মুহাম্মদ ইবন ‘আলা (রহঃ) ... কায়স (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাসআম গোত্রের দিকে একটি ছােট সেনাদল পাঠালেন। তারা সিজদার মাধ্যমে আত্মরক্ষা করতে চাইল, কিন্তু তবু তাদের হত্যা করা হল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সম্পর্কে অর্ধ দিয়াতের ফয়সালা দিলেন এবং বললেনঃ যে মুসলিম মুশরিকদের সাথে থাকে, ঐ সকল মুসলিমের সঙ্গে আমার কোন সম্পর্ক নেই। এরপর রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ দেখ, মুসলিম মুশরিকদের সাথে বসবাস করতে পারে না। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সাবধান! উভয় সম্প্রদায়ের রান্নার আগুন যেন পাশাপাশি দেখা না যায়।
4781হারিস ইবন মিসকীন (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বনী ইসরাঈলের মধ্যে কিসাসের বিধান ছিল, কিন্তু দিয়াতের বিধান ছিল না, তখন আল্লাহ্ তা'আলা এই আয়াত নাযিল করেনঃ كُتِبَ عَلَيْكُمْ الْقِصَاصُ فِي الْقَتْلَى الْحُرُّ بِالْحُرِّ وَالْعَبْدُ بِالْعَبْدِ وَالْأُنْثَى بِالْأُنْثَى إِلَى قَوْلِهِ فَمَنْ عُفِيَ لَهُ مِنْ أَخِيهِ شَيْءٌ فَاتِّبَاعٌ بِالْمَعْرُوفِ وَأَدَاءٌ إِلَيْهِ بِإِحْسَانٍ অর্থঃ নিহতদের ব্যাপারে তোমাদের উপর কিসাস ফরয করা হলো আযাদের বদলে আযাদ এবং দাসের পরিবর্তে দাস, নারীর পরিবর্তে নারী। আর যাকে তার ভাইয়ের পক্ষ হতে কিছুটা ক্ষমা করা হয়, সে যেন উত্তমরূপে তার দেয় আদায় করে।” ক্ষমা করার অর্থ এই যে, নিহত ব্যক্তির ওয়ারিসগণ ইচ্ছাকৃত হত্যার দিয়াত গ্রহণ করবে, আর ক্ষমাকারীগণ আইনমত চলবে। আর হত্যাকারী উত্তমরূপে দিয়াত আদায় করবে। “এটা তোমাদের রবের পক্ষ হতে ভার লাঘব এবং রহমত।” কেননা, তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর কেবল কিসাসই বিধেয় ছিল; দিয়াতের বিধান ছিল না।
4782মুহাম্মদ ইবন ইসমঈল ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, আল্লাহ্ তা'আলার বাণীঃ "তোমাদের নিহত ব্যক্তিদের পরিবর্তে কিসাস ফরয করা হলো, আযাদের পরিবর্তে আযাদ এবং দাসের পরিবর্তে দাস এবং নারীর পরিবর্তে নারী।" (সূরা বাকারাঃ ১৭৮)। বনী ইসরাঈলের মধ্যে কিসাসের বিধান ছিল, দিয়াত বিধেয় ছিল না, আল্লাহ্ তা'আলা তোমাদের উপর দিয়াতের বিধান দিয়েছেন। একে আল্লাহ্ তা'আলা এ উম্মতের উপর সহজতর করে দিয়েছেন।
4783ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট কিসাসের মোকদ্দমা পেশ করা হলে, তিনি তাতে ক্ষমা প্রদর্শনের আদেশ করেন।
4784মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট কিসাসের যত মোকদ্দমা পেশা হত তার প্রত্যেকটাতেই তিনি ক্ষমা করার আদেশ দিতেন।
4785মুহাম্মাদ ইবন আব্দুর রহমান ইবন আশআস (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন কোন ব্যক্তি নিহত হয়, তখন তার ওয়ারিসের জন্য দু'টি বিষয়ের যে কোন একটি গ্রহণের ইখতিয়ার থাকবে। চাইলে কিসাস গ্রহণ করবে অথবা দিয়াত গ্রহণ করবে।
4786আব্বাস ইবন ওলীদ ইবন মাযইয়াদ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন কোন ব্যক্তির কোন লোক নিহত হয়, তখন সে দুটির যে কোন একটি বেছে নিতে পারে, হয় কিসাস, না হয় দিয়াত।
4787ইবরাহীম ইবন মুহাম্মাদ (রহঃ) ... আবূ সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যার কোন লোক নিহত হয় (অতঃপর পূর্বের মত)। এটি মুরসাল।
4788ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিহত ব্যক্তির ওয়ারিসের উচিত; কিসাস গ্রহণ হতে বিরত থাকা, পর্যায়ক্রমে প্রথমে একজন তারপর আরেকজন; যদিও সে নারী হয়।
4789হিলাল ইবন আলা ইবন হিলাল (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন দাঙ্গা-হাঙ্গামায় অথবা পাথর, কোড়া অথবা লাঠি ছোড়াছুড়ির মাঝে পড়ে নিহত হয়, তার দিয়াত হবে ভুলে হত্যার দিয়াতের মত, আর যদি ইচ্ছাকৃত হত্যা হয়, তবে তাতে কিসাস ওয়াজিব হবে। আর যদি কেউ এর মধ্যে কোন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, তবে তার উপর আল্লাহর, ফেরেশতাদের এবং সকল লোকের লানত। তার ফরয বা নফল কিছুই কবুল হবে না।
4790মুহাম্মাদ ইবন মা'মার (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি কোন দাঙ্গা-হাঙ্গামায় অথবা পাথর, কোড়া বা লাঠি ছোড়াছুড়ির মাঝে পড়ে নিহত হয়, তার দিয়াত হবে ভুলে হত্যার দিয়াত। আর যদি ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা হয়, তবে কিসাস ওয়াজিব হবে। আর যে ব্যক্তি কিসাসে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, তার উপর আল্লাহ্, ফেরেশতাগণ এবং সকল লোকের লানত। তার ফরয বা নফল কোন ইবাদতই হবে না।
4791মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... শু'বা (রহঃ) আইয়্যুব সাখতিয়ানী (রহঃ) থেকে, তিনি কাসিম ইবন রবীআ (রহঃ) থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ ইবন আমর (রাঃ) থেকে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি এমন ভুলক্রমে হত্যার শিকার হয়, যা ইচ্ছাকৃত হত্যা সদৃশ যথা কোড়া, লাঠি ইত্যাদির আঘাতে হত্যা, তার দিয়াত একশত উট, যার চল্লিশটি গর্ভবতী হতে হবে।
4792মুহাম্মদ ইবন ইসমাঈল ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... হাম্মাদ আইয়্যুব থেকে এবং তিনি কাসিম ইবন রবীআ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের দিন ভাষণ দিতে গিয়ে অনুরূপ বর্ণনা করেন। এটি মুরসাল।
4793ইয়াহইয়া ইবন হাবীব (রহঃ) ... হাম্মাদ (রহঃ) খালিদ হাযায (রহঃ) থেকে, তিনি কাসিম ইবন রবীআ (রহঃ) থেকে, তিনি উকবা ইবন আওস (রহঃ) থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি শিব্হে আমাদ অর্থাৎ ইচ্ছাকৃত হত্যার ন্যায় হত্যায়, বেত্রাঘাত বা লাঠি ইত্যাদির আঘাতে নিহত হয়, তার দিয়াত একশত উট, যার চল্লিশটি হবে গর্ভবতী।
4794মুহাম্মদ ইবন কামিল (রহঃ) ... হুশায়ম খালিদ থেকে, তিনি কাসিম ইবন রবীআ থেকে, তিনি উকবা ইবন আওস থেকে এবং তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একজন সাহাবী থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কার ভাষণে বলেনঃ শুনে রাখ, যে ব্যক্তি এমন ভুলক্রমে হত্যার শিকার হয়, যা ইচ্ছাকৃত হত্যা সদৃশ, যথা চাবুক, লাঠি অথবা পাথরের আঘাতে হত্যা, তার দিয়াত একশত উট, যার চল্লিশটি হবে ছয় বছর হতে নয় বছর বয়সের, বােঝা বহনের উপযুক্ত।
4795মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... ইবন আবু আদী খালিদ থেকে, তিনি কাসিম থেকে এবং তিনি ‘উকবা ইবন আওস থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শুনে রাখো! ভুলক্রমে নিহত ব্যক্তি অর্থাৎ বেত্রাঘাত, লাঠি ইত্যাদি দ্বারা নিহত ব্যক্তির দিয়াত একশত উট, যার চল্লিশটি এমন, যেগুলোর পেটে বাচ্চা থাকবে।
4796ইসমাঈল ইবন মাসউদ (রহঃ) ... বিশর ইবন মুফাযযাল খালিদ হাযযা থেকে, তিনি কাসিম ইবন রবীআ থেকে, তিনি ইয়াকূব ইবন আওস থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীদের একজন থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের দিন যখন মক্কায় প্রবেশ করেন, তখন বলেনঃ শুনে রাখো, যে ব্যক্তি এমন ভুলক্রমে হত্যার শিকার হয়, যা ইচ্ছাকৃত হত্যাসদৃশ, যথা বেত্রাঘাত, কাঠ অথবা পাথর ইত্যাদির দ্বারা নিহত ব্যক্তি, তার দিয়াত একশত উট। এগুলোর চল্লিশটি এমন হবে, যাদের পেটে বাচ্চা থাকবে।
4797মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ) ... ইয়াযীদ খালিদ থেকে, তিনি কাসিম ইবন রবীআ থেকে এবং তিনি ইয়াকূব ইবন আওস (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একজন সাহাবী তাঁকে বলেছেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের দিন যখন মক্কায় প্রবেশ করেন, তখন বলেনঃ শুনে রাখো, ভুলক্রমে নিহত ব্যক্তি, যা ইচ্ছাকৃত হত্যা সদৃশ্য, অর্থাৎ বেত্রাঘাত বা লাঠির আঘাতে নিহত ব্যক্তির দিয়াত একশত উট, এর চল্লিশটি এমন হবে, যাদের পেটে বাচ্চা থাকবে।
4798মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ) ... ইয়াযীদ খালিদ থেকে, তিনি কাসিম ইবন রবীআ থেকে এবং তিনি ইয়াকূব ইবন আওস (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একজন সাহাবী তাঁকে বলেছেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের দিন যখন মক্কায় প্রবেশ করেন তখন তিনি বলেনঃ শুনে রাখো, যে ব্যক্তি এমন ভুলক্রমে হত্যার শিকার যা ইচ্ছাকৃত হত্যা সদৃশ, অর্থাৎ বেত্রাঘাত বা লাঠির আঘাতে নিহত ব্যক্তির দিয়াত একশত উট, এর চল্লিশটি এমন হবে, যাদের পেটে বাচ্চা থাকবে।
4799মুহাম্মদ ইবন মানসূর (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাবা শরীফের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে আল্লাহ্ তা'আলার হামদ-সানা বর্ণনা করে বলেনঃ সকল প্রশংসা আল্লাহ পাকের জন্যই, যিনি স্বীয় অঙ্গীকার সত্য করে দেখিয়েছেন এবং স্বীয় বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং একাই শত্রু সৈন্যকে পরাস্ত করেছেন। তোমরা শুনে রাখ, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত হত্যা সদৃশ ভুলের দরুন নিহত হয়, যথা বেত্রাঘাত অথবা কাষ্ঠাঘাতে নিহত ব্যক্তি, তার দিয়াত হল একশত উটের কঠিন দিয়াত, যার চল্লিশ উট এমন হবে, যাদের পেটে বাচ্চা থাকবে।
4800মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না (রহঃ) ... কাসিম ইবন রবী'আ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শুনে রাখো, ইচ্ছাকৃত হত্যা সদৃশ ভুলে হত্যা, অর্থাৎ বেত্রাঘাত বা লাঠির আঘাতে হত্যার দিয়াত একশত উট, এর চল্লিশটি এমন হবে, যাদের পেটে বাচ্চা থাকবে।
4801আহমদ ইবন সুলায়মান (রহঃ) ... আমর ইবন শুআয়ব (রহঃ) তাঁর পিতার মাধ্যমে তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যাকে ভুলে হত্যা করা হয়, তার দিয়াত একশত উটনী যাদের ত্রিশটি এক বছর বয়সের হতে হবে, আর ত্রিশটি দুই বছর বয়সের হতে হবে, আর ত্রিশটি চার বছর বয়সের হতে হবে আর দশটি উট হবে দুই বছর বয়সের নর বাচ্চা। বর্ণনাকারী বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নগরবাসীর ক্ষেত্রে এর মূল্য নির্ধারণ করতেন- চারশত দীনার অথবা সমমূল্যের রৌপ্য। আর তিনি উটের মালিকদের ক্ষেত্রে এর মূল্য ধার্য করতেন সেখানকার দর অনুযায়ী, অর্থাৎ যখন উটের মূল্য বৃদ্ধি পেত, তখন এর মূল্যও বৃদ্ধি পেত; আর যখন সস্তা হতো, তখন এর দামও কম হতো। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময়ে ঐ সকল উটের মূল্য চারশত দীনার হতে আটশত পর্যন্ত পৌঁছতো অথবা অনুরূপ মূল্যের রৌপ্য। বর্ণনাকারী বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গরুর মালিকদের ক্ষেত্রে, দিয়াত ধার্য করতেন দু'শ গরু। আর ছাগলের মালিকদের ক্ষেত্রে দুই হাজার ছাগল। আর তিনি আদেশ করেছেন যে, দিয়াতের মাল নিহত ব্যক্তির ওয়ারিসদের মধ্যে ফারায়েয অনুযায়ী বণ্টন করা হবে। যা যাবীল ফুরুযকে দেওয়ার পর উদ্ধৃত্ত থাকবে, তা পাবে আসাবাগণ। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীদের ক্ষেত্রে আদেশ করেছেন যে, তাদের দিয়াত বহন করবে তাদের আসাবাগণ, তা যারাই হোক তারা তাতে কোন মীরাস পাবে না। হ্যাঁ, যদি যবীল ফুরুকে দেওয়ার পর কিছু উদ্ধৃত্ত থাকে, তবে তা পাবে। আর এরাই তার হত্যাকারী হতে কিসাস আদায় করবে।
4802আলী ইবন সাঈদ ইবন মাসরুক (রহঃ) ... খাশ্ফ ইবন মালিক বলেন, আমি ইবন মাসউদকে বলতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভুলক্রমে হত্যার দিয়াত ধার্য করেছেন বিশটি বিনতে মাখায, বিশটি ইবন মাখায, বিশটি বিনতে লাবুন, বিশটি জাযআ এবং বিশটি হিক্কাহ্।
4803মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময়ে এক ব্যক্তি অন্য এক ব্যক্তিকে হত্যা করলে তিনি তার দিয়াত নির্ধারিত করেন বার হাজার দিরহাম। তিনি বলেন, আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসূল তাদেরকে স্বীয় দান দ্বারা দিয়াত গ্রহণের মাধ্যমে ধনবান করলেন।
4804মুহাম্মদ ইবন মায়মূন (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিয়াতে বার হাজার দিরহাম ধার্য করেছেন।
4805ঈসা ইবন ইউনুস (রহঃ) ... আমর ইবন শুআয়ব তাঁর পিতার মাধ্যমে তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নারীর দিয়াত নরের দিয়াতের ন্যায়; যাবৎ না এক-তৃতীয়াংশ দিয়াত পর্যন্ত পৌঁছায়।
4806আমর ইবন আলী (রহঃ) ... আমর ইবন শু‘আয়ব তাঁর পিতার মাধ্যমে তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যিম্মী কাফিরের দিয়াত মুসলিমদের দিয়াতের অর্ধেক আর তারা হলো ইয়াহূদী এবং নাসারা।
4807আহমাদ ইবন আমর ইবন সারহ (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবন আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাফিরের দিয়াত মুসলিমদের দিয়াতের অর্ধেক নির্ধারণ করেছেন।
4808মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদেশ করেছেনঃ মুকাতাব যদি নিহত হয়, তা হলে সে চুক্তির যতটুকু অর্থ আদায় করেছে, ততটুকুতে তার দিয়াত স্বাধীন ব্যক্তির সমান দিতে হবে।
4809মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন ইয়াযীদ (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুকাতাব দাসের দিয়াত এরূপ সাব্যস্ত করেছেন যে, তার যতটুকু পরিমাণ মুক্ত হয়েছে, ততটুকুতে স্বাধীন ব্যক্তির দিয়াত প্রদান করতে হবে।
4810মুহাম্মদ ইবন ইসমাঈল ইবন ইব্রাহীম (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুকাতাব দাসের দিয়াতে এই মীমাংসা দিয়েছেন যে, তার যতটুকু আয়াদ হয়েছে, ততটুকুতে স্বাধীন ব্যক্তির দিয়াত আর যতটুকু অবশিষ্ট আছে, তাতে গোলামের দিয়াত দেওয়া হবে।
4811মুহাম্মদ ইবন ঈসা ইবন নাককাশ (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, মুকাতাব ততটুকু আযাদ হবে, যতটুকু সে আদায় করেছে। তার উপর ততটুকু হদ জারি করা হবে, যতটুকু সে আযাদ হয়েছে এবং সে যতটুকু আয়াদ হয়েছে, সেই অনুপাতে মীরাস পাবে।
4812কাসিম ইবন যাকারিয়া ইবন দীনার (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময় এক মুকতাব দাস নিহত হলে তিনি আদেশ দেন যে, সে যতটুকু আযাদ হয়েছে, ততটুকুর দিয়াত আযাদের মত দেওয়া হবে। আর যতটুকু অবশিষ্ট রয়েছে, ততটুকুর দিয়াত দাসের ন্যায় আদায় করা হবে।
4813ইয়াকূব ইবন ইবরাহীম ও ইবরাহীম ইবন ইউনুস (রহঃ) ... বুরায়দা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক নারী অন্য নারীর প্রতি পাথর নিক্ষেপ করলে তার গর্ভপাত হয়ে যায়। এই মোকদ্দমা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট পেশ করা হলে তিনি তার সন্তানের দিয়াত পঞ্চাশটি ছাগল নির্ধারণ করেন। আর তিনি সেদিন হতে পাথর নিক্ষেপ করতে নিষেধ করেন।
4814আহমদ ইবন ইয়াহইয়া (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবন বুরায়দা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক নারী অন্য এক নারীর প্রতি পাথর নিক্ষেপ করলে তার গর্ভস্থ বাচ্চা পড়ে যায়। এই ঘটনা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পেশ করা হলে তিনি তার সন্তানের দিয়াত পাঁচশত ছাগল নির্ধারণ করেন এবং সে দিন হতে তিনি পাথর নিক্ষেপ করতে নিষেধ করে দেন। আবূ আবদুর রহমান বলেন, এটা বর্ণনাকারীর বিভ্রম। সম্ভবত তিনি একশত ছাগল বলতে চেয়েছেন।
4815আহমাদ ইবন সুলায়মান (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবন মুগাফফাল (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, তিনি এক ব্যক্তিকে পাথর মারতে দেখে তাকে বলেনঃ পাথর নিক্ষেপ করো না, কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাথর নিক্ষেপ করতে নিষেধ করেছেন।
4816কুতায়বা (রহঃ) ... তাউস (রহঃ) থেকে বর্ণিত। উমর (রাঃ) গর্ভস্থ বাচ্চার ব্যাপারে পরামর্শ করলেন, তখন হামল ইবন মালিক (রাঃ) বললেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এতে একটি গুররা অর্থাৎ একটি দাস অথবা দাসী দিতে আদেশ করেছেন। তাউস (রহঃ) বলেন, গুররা অর্থ ঘোড়া।
4817কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লিহইয়ান গোত্রের এক মহিলার উদরস্থ বাচ্চার ব্যাপারে আদেশ করেন, যে বাচ্চা মৃত অবস্থায় পড়ে গিয়েছিল, এর বিনিময়ে এক দাস বা এক দাসী দেওয়া হবে। তিনি যে মহিলাকে তা দিতে আদেশ করেন, সে মারা গেলে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদেশ করেন যে, তার মীরাস তার পুত্রদের এবং স্বামীকে দেওয়া হবে এবং তার দিয়াত আদায় করবে তার আত্মীয় আসাবাগণ।
4818আহমাদ ইবন আমর ইবন সারহ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, হুযায়ল গোত্রের দুই নারী ঝগড়া করলে তাদের একজন অন্যজনের প্রতি পাথর নিক্ষেপ করে। ফলে সে মারা যায় এবং তার পেটের বাচ্চাও মারা যায়। ঐ লোকেরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট ফরিয়াদ করলে তিনি বলেনঃ বাচ্চার দিয়াত এক দাস বা দাসী, আর ঐ মহিলার দিয়াত তিনি হত্যাকারিণীর আত্মীয়-স্বজন থেকে আদায় করে দেন। আর সেই দিয়াত পায় ঐ নারীর ছেলে, যে নারী নিহত হয়েছিল। একথা শুনে হামল ইবন মালিক ইবন নাবিগা হুযালী বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি ঐ ব্যক্তির দিয়াত কেন দেব, যে না খেয়েছে, না কোন পান করেছে, না কথা বলেছে? এই খুন তোমরা বৃথা যাবে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এই ব্যক্তি গণকদের ভাই যে ছন্দযুক্ত কথা বলে।
4819আহমাদ ইবন আমর ইবন সারহ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময়ে হুযায়ল গোত্রের দুই নারীর একজন অন্যজনকে পাথর মারে। এতে তার গর্ভস্থিত সন্তান পড়ে যায়। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জন্য একটি দাস অথবা দাসী দেওয়ার আদেশ জারী করেন।
4820হারিস ইবন মিসকীন (রহঃ) ... সাঈদ ইবন মুসাইয়্যাব (রহঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে বাচ্চাকে তার মাতৃগর্ভে হত্যা করা হয়, তার দিয়াত এক দাস বা এক দাসী দেওয়ার আদেশ করেন। তিনি যার বিরুদ্ধে এ আদেশ দেন, সে বললো, আমি কিরূপে দিয়াত দেব, অথচ সে খায় নি, পান করে নি, কথা বলে নি- এই হত্যা বৃথা যাবে। তখন রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এই ব্যক্তি তো গণকদের অন্তর্গত।
4821আলী ইবন মুহাম্মদ ইবন আলী (রহঃ) ... মুগীরা ইবন শুবা (রাঃ) বলেন, এক নারী তাঁর সতীনকে তাঁবুর খুঁটি দিয়ে আঘাত করে মেরে ফেলে, আর সে নারী ছিল গর্ভবতী। এই মোকদ্দমা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট পেশ করা হলে, তিনি হত্যাকারিণীর আত্মীয়-স্বজনের থেকে দিয়াত আদায়ের ফয়সালা দেন আর বাচ্চার বদলে এক দাস অথবা দাসী দেওয়ার আদেশ দেন। সেই আত্মীয়-স্বজনেরা বললোঃ আমরা এই বাচ্চার দিয়াত কেন দেব, যে এখনও খায় নি, পান করে নি, না চিৎকার করেছে, না কান্নাকাটি করেছে? এরকম খুন তোমরা বৃথা যাবে। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ বেদুঈনদের ন্যায় ছন্দপূর্ণ কথা
4822মুহাম্মদ ইবন কুদামা (রহঃ) .... মুগীরা ইবন শু'বা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক নারী তার সতীনকে তাঁবুর খুঁটি দ্বারা আঘাত করলো, সে ছিল গর্ভাবস্থায় এবং সে মারা গেল। এ মামলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট পেশ করা হলে তিনি হত্যাকারিণীর আত্মীয়কে দিয়াত দিতে আদেশ করেন; আর বাচ্চার বদলে এক দাস আর দাসী দেওয়ার আদেশ দেন। তখন হত্যাকারীণীর এক আত্মীয় বললোঃ আমরা এই বাচ্চার বদলা কী করে দেব, যে না খেয়েছে, না পান করেছে, না ক্রন্দন করেছে? এরকম খুনতো বাতিল গণ্য হবে। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ বেদুঈনদের মত ছন্দপূর্ণ কথা। তিনি তাদের উপর দিয়াত আরোপ করলেন।
4823মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... মুগীরা ইবন শুবা (রাঃ) বলেন, দুই সতীনের একজন অন্যজনকে তাঁবুর খুঁটি দ্বারা হত্যা করে। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হত্যাকারিণীর আত্মীয়দের উপর দিয়াত দেওয়ার আদেশ জারি করেন; আর তার গর্ভস্থ শিশুর বদলে একটি দাস বা দাসী দিতে বলেন। আত্মীয়গণ বললোঃ আমরা এ বাচ্চার দিয়াত কেন দেব, যে বাচ্চা না খেয়েছে, না পান করেছে, না কান্নাকাটি করেছে, এ রকমের খুন তোমরা বৃথা যাবে! তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এতো জাহিলী যুগের লোকদের ন্যায় ছন্দপূর্ণ কথা। তিনি গর্ভস্থ সন্তানের জন্য একজন দাস বা দাসী দেয়ার ফয়সালা দেন।
4824আলী ইবন সাঈদ ইবন মাসরূক (রহঃ) ... মুগীরা ইবন শু'বা (রাঃ) বলেন, বনী লিহইয়ানের এক নারী তার সতীনকে তাঁবুর খুঁটি দ্বারা আঘাত করলে সে মারা যায় আর সে ছিল গর্ভবতী। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট অভিযোগ পেশ হলে তিনি হত্যাকারিণীর আত্মীয়দের উপর দিয়াত আরোপ করেন এবং শিশুর বদলে এক দাস অথবা দাসী দেয়ার আদেশ দেন।
4825সুওয়ায়দ ইবন নাসর (রহঃ) ... মুগীরা ইবন শু'বা (রাঃ) বলেন, হুযায়ল গোত্রের এক ব্যাক্তির বিবাহে দুই নারী ছিল, তাদের একজন অন্যজনকে তাঁবুর কাষ্ঠ দ্বারা আঘাত করলে তার উদরস্থ বাচ্চা পড়ে যায়। তারা উভয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট মোকদ্দমা পেশ করে। আত্মীয়রা বলেঃ আমরা ঐ সন্তানের দিয়াত কিরূপে আদায় করবো; যে খায়নি, পান করেনি, কাঁদেনি, চীৎকার করে নি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ বেদুঈনদের মত ছন্দযুক্ত বাক্য! তিনি ঐ নারীর হত্যাকারিণীর আত্মীয়দের উপর দিয়াত আরোপ করেন।
4826মাহমূদ ইবন গায়লান (রহঃ) ... মুগীরা ইবন শুবা (রাঃ) বলেন, হুযায়ল গোত্রের এক ব্যক্তির দুই স্ত্রী ছিল, একজন অপর নারীর উপর একটি তাঁবুর কাঠ নিক্ষেপ করলে তার গর্ভপাত হয়ে যায়। তখন বলা হয়ঃ কী বলেন, আমরা ঐ বাচ্চার পরিবর্তে দিয়াত দিব, যে খায়নি, পান করে নি, আর না কাঁদতে গিয়ে চিৎকার করেছে? তিনি বললেন, বেদুঈনদের মত ছন্দোবদ্ধ কথা! অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ব্যাপারে এক দাস বা দাসী দেওয়ার ফয়সালা দেন। আর তিনি হত্যাকারিণীর আত্মীয়দের উপর দিয়াতের ফয়সালা দেন।
4827মুহাম্মাদ ইবন রাফে' (রহঃ) ... ইবরাহীম (রহঃ) বলেন, এক নারী তার সতীনকে তার গর্ভাবস্থায় প্রস্তরাঘাত করে হত্যা করে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার গর্ভস্থ সন্তানের জন্য দিয়াতের ফয়সালা দেন, আর তার দিয়াত হত্যাকারিণীর আত্মীয়দের উপর সাব্যস্ত করেন। তখন তারা বললোঃ যে বাচ্চা পান করেনি, খায়নি এবং ক্রন্দনও করেনি, আমরা তার দিয়াত দেব? এরূপ বাচ্চার হত্যা তো বৃথা যাবে। তিনি বললেনঃ বেদুঈন লোকদের ন্যায় ছন্দযুক্ত কথা! আমি তোমাদেরকে যা বলছি, তাই হবে।
4828আহমদ ইবন উসমান ইবন হাকীম (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেন, দুই প্রতিবেশী নারীর মধ্যে ঝগড়া হয়। তখন তাদের একজন অপরজনকে প্রস্তরাঘাত করলে সে মারা যায় এবং তার গর্ভের বাচ্চাও পড়ে যায়, যার মাথায় চুল উঠেছিল। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হত্যাকারিণীর আত্মীয়ের উপর দিয়াত সাব্যস্ত করেন। তখন তার চাচা বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! বাচ্চা পড়ে গেছে যার মাথায় চুল উঠেছে। হত্যাকারিণীর পিতা বললোঃ এই ব্যক্তি মিথ্যাবাদী, আল্লাহর শপথ ঐ বাচ্চা চিৎকার দেয়নি, খায়নি, পান করেনি এরূপ বাচ্চার হত্যা তো বাতিল সাব্যস্ত করা হয়। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ জাহিলী যুগের গণকদের ন্যায় ছন্দোবদ্ধ কথা! নিশ্চয় বাচ্চার পরিবর্তে এক দাস বা দাসী দিতে হবে। ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ তাদের একজনের নাম ছিল মুলায়কা আর অপরজনের নাম ছিল উম্মু গাতীফা।
4829আব্বাস ইবন আবদুল আযীম (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক গোত্রের উপর দিয়াত ফরয করেছেন। আর কোন আযাদকৃত দাসের জন্য জায়েয নেই মুক্তিদাতা মনিবের অনুমতি ব্যতীত অন্য কাউকে মনিব স্থির করা।
4830আমর ইবন উসমান এবং মুহাম্মদ ইবন মুসাফফা (রহঃ) ... আমর ইবন শুআয়ব (রহঃ) তার পিতার মাধ্যমে তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি লোকের চিকিৎসা করে, অথচ সে চিকৎসক হিসেবে পরিচিত নয়, সে (রোগীর জন্য) দায়ী থাকবে।
4831মাহমূদ ইবন খালিদ (রহঃ) ... আমর ইবন শু'আয়ব (রহঃ) তাঁর পিতার মাধ্যমে তাঁর দাদা থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
4832হারূন ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ) ... আবূ রিমসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার পিতার সাথে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এলে তিনি বললেনঃ তোমার সাথে এ কে? তিনি বললেনঃ আমার পুত্র, আপনি এর ব্যাপারে সাক্ষী থাকুন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার অপরাধের জন্য সে দায়ী হবে না, আর না তুমি তার অপরাধের জন্য দায়ী হবে।
4833মাহমূদ ইবন গায়লান (রহঃ) ... সালাবা ইবন যাহদাম ইয়ারবু'ঈ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসার গোত্রের কিছু লোককে সম্বােধন করে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন। তখন তারা বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! ওই যে সালাবা ইবন য়ারবু এর সন্তানেরা, এরা জাহিলী যুগে অমুক ব্যক্তিকে হত্যা করেছিল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উচ্চস্বরে বলেনঃ শুনে রাখ, একজনের অপরাধ অন্যজনের উপর বর্তায় না।
4834আহমদ ইবন সুলায়মান (রহঃ) ... সালাবা ইবন যাহদাম ইয়ারবু'ঈ গোত্রের এক ব্যক্তির বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, একদা সালাবা গোত্রের একদল লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়। তখন তিনি ভাষণ দিচ্ছিলেন। এ অবস্থায় এক ব্যক্তি বলে উঠল, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এরা বনূ সালাবা ইবন য়ারবু-এর লোক, যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীদের একজনকে হত্যা করেছে। একথা শুনে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কেউ কারোর অপরাধে অপরাধী হবে না।
4835মাহমূদ ইবন গায়লান (রহঃ) ... সালাবা ইবন ইয়ারবু গোত্রের এক ব্যাক্তি বর্ণনা করেন, তিনি বলেন একদা সালাবা গোত্রের একদল লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়। তখন এক ব্যক্তি বলেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! এরা বনূ সালাবা ইয়ারবু-এর লোক, যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীদের একজনকে হত্যা করেছিল। একথা শুনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কেউ কারো অপরাধে অপরাধী হবে না।
4836আবু দাউদ (রহঃ) ... আসওয়াদ ইবন হিলাল (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাক্ষাৎ পেয়ে ছিলেন। তিনি সালাবা ইবন য়ারবু গোত্রের জনৈক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেন যে, তাদের কিছু লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একজন সাথীকে হত্যা করেছিল। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একজন সাহাবী বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ওই যে, বনূ সালাবা, যারা অমুককে হত্যা করেছিল। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ একজনের অপরাধে অন্যজন অপরাধী হবে না। শু’বা বলেন, অর্থাৎ একজনের কারণে অন্যজনকে ধরা হবে না।
4837কুতায়বা (রহঃ) ... বনী সালাবা ইবন য়ারবু-এর এক ব্যক্তি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হই যখন তিনি কথা বলছিলেন। এক ব্যক্তি বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এরা সালাবা ইবন য়ারবু গোত্রের লোক, যারা অমুককে হত্যা করেছে। তখন রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোন লোক অন্যের অপরাধে অপরাধী হবে না।
4838হান্নাদ ইবন সারী (রহঃ) ... আশআস (রহঃ) তাঁর পিতা সূত্রে বর্ণনা করেন যে, সালাবা ইবন য়ারবু গোত্রের জনৈক ব্যক্তি বলেছেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে উপস্থিত হলাম। তিনি লোকদের সাথে কথা বলছিলেন। তখন কিছু লোক দাঁড়িয়ে বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এরা অমুক গোত্রের লোক যারা অমুককে হত্যা করেছে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ একের অপরাধে অন্য কেউ অপরাধী হবে না।
4839ইউসুফ ইবন ঈসা (রহঃ) ... তারিক মুহারিবী (রাঃ) বলেন, এক ব্যক্তি বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এরা সালাবা গোত্রের লোক, যারা জাহিলী যুগে অমুক ব্যক্তিকে হত্যা করেছিল। আপনি আমাদের বদলা নিয়ে দিন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হস্তদ্বয় উত্তোলন করেন, এমনকি আমি তাঁর বগলের শুভ্র প্রত্যক্ষ করি। তিনি বলেন, মায়ের অপরাধে পুত্র অপরাধী হবে না, তিনি এটা দু'বার বলেন।
4840আহমদ ইবন ইবরাহীম ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) ... আমর ইবন শু‘আয়ব (রহঃ) তাঁর পিতার মাধ্যমে তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে দৃষ্টিহীন চক্ষু নিজ স্থানে রয়েছে তা যদি উপড়ে ফেলা হয়, তবে সে ব্যাপারে মীমাংসা দেন যে, তার জন্য এক-তৃতীয়াংশ দিয়াত দিতে হবে। আর যে হাত অবশ হয়ে গেছে, তা কেটে ফেললে হাতের এক-তৃতীয়াংশ দিয়াত দিতে হবে। যে দাঁত কালো হয়ে গেছে, তা উপড়ে ফেললে তার জন্য এক-তৃতীয়াংশ দিয়াত দিতে হবে।
4841মুহাম্মদ ইবন মুআবিয়া (রহঃ) ... আমর ইবন শুআয়ব (রহঃ) তাঁর পিতার মাধ্যমে তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক দাঁতের পরিবর্তে পাঁচ উট দিয়াত দিতে হবে।
4842হুসায়ন ইবন মানসূর (রহঃ) ... আমর ইবন শু'আয়ব (রহঃ) তাঁর পিতার মাধ্যমে তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দন্তরাজি সমমানের, প্রত্যেক দাঁতের জন্য পাঁচ-পাঁচ উট দিয়াত দিতে হবে।
4843আবুল আশআস (রহঃ) ... আবূ মূসা (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, প্রত্যেক আঙ্গুলের জন্য দশ-দশটি উট দিয়াত দিতে হবে।
4844আমর ইবন আলী (রহঃ) ... আবূ মূসা আশ'আরী (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক আঙ্গুলের জন্য দশ উট। দিয়াতের বেলায় সবগুলো সমমানের।
4845হুসায়ন ইবন মানসূর (রহঃ) ... আবূ মূসা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ফয়সালা যে, সব আঙ্গুল সমান, প্রত্যেকটির জন্য দশ উট।
4846হুসায়ন ইবন মানসূর (রহঃ) ... সাঈদ ইবন মুসাইয়্যেব (রহঃ) বলেন, তিনি যখন সেই লিখিত কাগজ আমর ইবন হাযম-এর সন্তানদের নিকট পান— যে সম্পর্কে তারা বলে থাকে যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের জন্য তা লিখেছেন, তাতে তিনি লেখা পান যে, প্রতিটি আঙ্গুলের দিয়াত দশটি করে উট।
4847আমর ইবন আলী (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ এইটি ও এইটি অর্থাৎ বৃদ্ধাঙ্গুলি ও কনিষ্ঠা সমান-সমান।
4848নাসর ইবন আলী (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এটা এবং ওটা সমান অর্থাৎ বৃদ্ধাঙ্গুলি এবং কনিষ্ঠা।
4849আমর ইবন আলী (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেন, আঙ্গুলের জন্য দশ-দশ উট (দিয়াত দিতে হবে)।
4850ইসমাঈল ইবন মাসউদ (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবন আমর (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মক্কা জয় করেন, তখন তিনি তাঁর ভাষণে বলেনঃ আঙ্গুলের জন্য দশ-দশটি উট (দিয়াত দিতে হবে)।
4851আবদুল্লাহ ইবন হায়সাম (রহঃ) ... আমর ইবন শু'আয়ব (রহঃ) তাঁর পিতার মাধ্যমে তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ভাষণে বলেন, যখন তিনি কা'বার সাথে হেলান দেওয়া ছিলেন : সব আঙ্গুল সমান।
4852ইসমাঈল ইবন মাসউদ (রহঃ) ... আবদুল্লাহ্ ইবন আমর (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মক্কা জয় করেন, তিনি তাঁর ভাষণে বলেনঃ যে যখমে হাঁড় বেরিয়ে যায়, তাতে পাঁচ-পাঁচটি উট দিয়াত দিতে হবে।।
4853আমর ইবন মানসূর (রহঃ) ... আবু বকর ইবন মুহাম্মাদ ইবন আমর ইবন হাযম (রহঃ) তাঁর পিতার মাধ্যমে তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়ামানবাসীদেরকে এক চিঠি লেখেন, যাতে ফরয, সুন্নাত এবং দিয়াত সম্বন্ধে লিখছিলেন। আর তিনি তা আমর ইবন হাযমের মাধ্যমে পাঠান। ইয়ামানবাসীদেরকে তা পড়ে শোনানো হয়। তাতে লেখা ছিলঃ এটা নবীমুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পক্ষ হতে শুরাহবিল ইবন আবদে কুলাল, নু'আয়ম ইবন আবদে কুলাল এবং হারিস ইবন আবদে কুলালকে, যারা যী রুআয়ন, মুআফির এবং হামদানের অধিপতি, তাতে লেখা ছিলঃ যে ব্যক্তি কোন মুসলিমকে অন্যায়ভাবে হত্যা করবে, আর সাক্ষ্য-প্রমাণে তা প্রমাণিত হবে, তার বদলা নেয়া হবে। তবে যদি নিহত ব্যক্তির ওয়ারিস ক্ষমা করে দেয়, তবে ক্ষমা হবে। তোমাদের জানা দরকার যে, প্রাণের বিনিময় হলো একশত উট, আর যদি সম্পূর্ণ নাক কাটা যায়, তবুও একশত উট। এইভাবে জিহ্বা, ঠোঁট, পুরুষাঙ্গ, পেট এবং হাড়েরও পূর্ণ দিয়াত রয়েছে। আর চক্ষুদ্বয়ের পূর্ণ দিয়াত [একশ উট] রয়েছে। এক পায়ের অর্ধ দিয়াত কিন্তু পদদ্বয়ের পূর্ণ দিয়াত দিতে হবে। এভাবে মস্তিষ্কে পৌছেছে এমন যখমের জন্য অর্ধ দিয়াত। যে যখম পেট পর্যন্ত পৌছে, তাতে এক-তৃতীয়াংশ দিয়াত, যে যখমে হাড় ভেঙে যায়, তাতে পনের উট। আর হাত পায়ের আঙুলে দশটি করে উট, আর এক দাঁতে পাঁচ উট। যে যখমে হাঁড় নড়ে যায়, তাতে পাঁচ উট। আর পুরুষকে নারীর পরিবর্তে হত্যা করা হবে এবং যাদের নিকট স্বর্ণ রয়েছে, তাদের উপর এক হাজার দীনার। মুহাম্মদ ইবন বাক্কার ইবন বিলাল এতে মতভেদ করেন। (তার বর্ণনা নিম্নরূপ) [দেখুন পরের হাদীস]
4854হায়সাম ইবন মারওয়ান (রহঃ) ... আবু বকর ইবন মুহাম্মদ ইবন আমর ইবন হাযম (রহঃ) তাঁর পিতার মাধ্যমে তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়ামানবাসীদের নিকট একখানা পত্র লিখেন, যাতে ফরয, সুন্নাত এবং দিয়াতের কথা ছিল। তিনি আমর ইবন হাযম-এর মাধ্যমে তা পাঠান। ইয়ামানবাসীদের নিকট তাঁর এই পত্র পড়া হয়। তাতে অনুরূপ বর্ণনা উল্লেখ আছে। তবে তাতে এতটুকু অতিরিক্ত রয়েছে যে, তিনি বলেছেনঃ এক চক্ষুতে অর্ধ দিয়াত, এক হাতে অর্ধ দিয়াত, এক পায়ে অর্ধ দিয়াত। আবূ আবদুর রহমান বলেনঃ ইহা সহীহ হওয়ার অধিক নিকটবর্তী। আল্লাহ্ অধিক অবহিত। ইউনুস (রহঃ) যুহরী (রহঃ) হতে এটি মুরসালরূপে বর্ণনা করেছেন (যা নিম্নরূপ) :
4855আহমাদ ইবন আমর ইবন সারহ (রহঃ) ... ইবন শিহাব যুহরী (রহঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ঐ পত্রখানা পাঠ করেছি, যা তিনি আমার ইবন হাযমের জন্য লিখেছিলেন, যখন তিনি তাকে নাজরানে প্রেরণ করেছিলেন। ঐ পত্র আবু বকর ইবন হাযমের নিকট রয়েছে। সে বলেছিল, তাতে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লিখেছিলেনঃ এটা আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বর্ণনাঃ হে ঈমানদারগণ! তোমরা অঙ্গীকার পূর্ণ কর এর পরবর্তী কয়েক আয়াত ........... ইনাল্লাহা সারীউল হিসাব অর্থাৎ দ্রুত হিসাবগ্রহণকারী পর্যন্ত। এরপর তিনি লেখেন এটা ফৌজদারি বিধি-বিধান : প্রাণনাশের দিয়াত একশত উট............ইত্যাদি।
4856আহমাদ ইবন আবুল ওয়াহিদ (রহঃ) ... যুহরী (রহঃ) বলেন, আবূ বকর ইবন হাযম (রহঃ) একটি চামড়ার পত্র নিয়ে আসেন যা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে লিখিত হয়েছিল। তাতে লেখা ছিলঃ “ইহা আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের পক্ষ হতে বর্ণনা : হে ঈমানদারগণ! তোমার অঙ্গীকার পূর্ণ কর।” এরপর কয়েকটি আয়াত বর্ণিত হয়েছে। তারপর তিনি বলেনঃ প্রাণের বিনিময়ে একশত উট, আর চক্ষুতে পঞ্চাশ উট, হাতের বদলে পঞ্চাশ উট, পা-এর পরিবর্তে পঞ্চাশ উট, আর যে যখম হাঁড়ের মগজ পর্যন্ত পৌছে, তাতে এক-তৃতীয়াংশ দিয়াত। আর যে যখম পেটের ভিতর পৌছে, তাতে এক-তৃতীয়াংশ, আর যে যখমে হাঁড় স্থানচ্যুত হয়, তাতে পনর উট, আর আঙ্গুলে দশ-দশটি উট, আর দাঁতে পাঁচ উট। আর যে যখমে হাঁড় দেখা দেয়, তাতে পাঁচ উট।
4857হারিস ইবন মিসকীন (রহঃ) ... আবদুল্লাহ্ ইবন আবু বকর ইবন মুহাম্মদ ইবন হাযম (রহঃ) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেনঃ দিয়াত সম্বন্ধে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমর ইবন হাযমের জন্য যে পত্র লিখেন, তাতে ছিলঃ প্রাণের পরিবর্তে এক শত উট, আর পূর্ণ নাকের জন্য একশত উট, আর যে যখম মগজ পর্যন্ত পৌছে, তাতে এক-তৃতীয়াংশ এবং যে যখম পেট পর্যন্ত পৌছে, তাতেও দ্রুপ। আর হাতের জন্য পঞ্চাশ উট, চোখের জন্য পঞ্চাশ এবং পায়ের জন্য পঞ্চাশ। প্রত্যেক আঙুলের জন্য দশ উট, আর দাঁতের জন্য পাঁচ উট এবং যে যখমে হাঁড় প্রকাশ পায়, তাতে পাঁচ উট।
4858আমর ইবন মানসূর (রহঃ) ... আনাস ইবন মালিক (রাঃ) বলেন, এক বেদুঈন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরজায় এসে ছিদ্রে চক্ষু লাগিয়ে দেখতে লাগলো। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা দেখতে পেয়ে একখণ্ড কাঠ অথবা লোহা নিয়ে তার চোখ ছুঁড়ে দিতে ইচ্ছা করলেন। সে তা দেখে নিজের চোখ সারিয়ে নেয়। এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যদি তুমি সেখানে চোখ রাখতে, তবে আমি তা ফুঁড়ে দিতাম।
4859কুতায়বা (রহঃ) ... সাহল ইবন সা'দ সাঈদী (রাঃ) বলেন, এক ব্যাক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ঘরের ছিদ্রপথে দেখছিল। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একখণ্ড কাষ্ঠ ছিল, যা দিয়ে তিনি তাঁর মাথা চুলকাতেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাকে দেখলেন, তখন বললেনঃ যদি আমি জানতে পারতাম যে, তুমি আমাকে দেখছো, তবে আমি তোমার চোখে এই কাষ্ঠ ঢুকিয়ে দিতাম। অনুমতি গ্রহণের বিধান তোমরা দেওয়া হয়েছে এজন্যই যাতে উঁকি মেরে দেখতে না হয়।
4860মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি যদি কারো ঘরে তার বিনা অনুমতিতে উঁকি মারে আর ঘরের মালিক তার চোখ ফুঁড়ে দেয়, তবে সে দিয়াত এবং বদলা কিছুই পাবে না।
4861মুহাম্মাদ ইবন মানসূর (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, যদি কোন ব্যক্তি অনুমতি ব্যতীত তোমার দিকে উঁকি মারে আর তুমি পাথর নিক্ষেপ করে ঐ ব্যক্তির চোখ ফুটা কর, তবে তাতে তোমার কোন পাপ হবে না।
4862মুহাম্মাদ ইবন মুসআব (রহঃ) ... আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) বলেন, একদা তিনি নামায পড়ছিলেন, এমন সময় মারওয়ানের পুত্র তার সম্মুখ দিয়ে যাচ্ছিল। তিনি নিষেধ করা সত্ত্বেও সে মানলো না। তখন আবু সাঈদ (রাঃ) তাকে মারলেন। সে কাঁদতে কাঁদতে মারওয়ানের নিকট গেল। মারওয়ান আবু সাঈদ (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি আপনার ভাইয়ের ছেলেকে কেন মারলেন? আবু সাঈদ (রাঃ) বললেনঃ আমি তাকে মারিনি, বরং শয়তানকে মেরেছি। আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ যদি তোমাদের কারো নামায পড়ার সময় তোমাদের সামনে দিয়ে কেউ অতিক্রম করতে চায়, তবে যতটুকু সম্ভব তাকে বাধা দেবে। যদি সে না মানে, তবে তার সাথে যুদ্ধ করবে; কেননা সে শয়তান।
4863আবূ আব্দুর রহমান (রহঃ) ... সাঈদ ইবন জুবায়র (রহঃ) বলেন, আবদুল্লাহ ইবন আবযা (রাঃ) আমাকে আদেশ করলেন, আমি যেন ইবন আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট দু'টি আয়াতের তাফসীর জিজ্ঞাসা করি। এক আয়াত হলঃ (وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا) "কেউ ইচ্ছাকৃত কোন মু'মিনকে হত্যা করলে ..."। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেনঃ এই আয়াত রহিত হয়নি। আর দ্বিতীয় আয়াত হলঃ (وَالَّذِينَ لَا يَدْعُونَ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ) "আর যারা আল্লাহ্র সাথে অন্য কাউকে শরীক করে না ..." (সূরা ফুরকানঃ ৬৮–৭০) আমি এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে, তিনি বললেনঃ এই আয়াত মুশরিকদের সম্বন্ধে নাযিল হয়েছে।
4864আযহার ইবন জামীল (রহঃ) ... সাঈদ ইবন জুবায়র (রহঃ) বলেন, (وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا) আয়াত রহিত হয়েছে কিনা এ সম্পর্কে কূফাবাসীদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিল। আমি ইবন আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেনঃ এই আয়াতটি তো শেষদিকে অবতীর্ণ আয়াতসমূহের একটি। একে কোন আয়াতই রহিত করেনি।
4865আমর ইবন আলী (রহঃ) ... সাঈদ ইবন জুবায়র (রহঃ) বলেন, আমি ইবন আব্বাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলামঃ যে ব্যক্তি কোন মুসলিমকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করে, তার তাওবা কবুল হবে কি? তিনি বললেনঃ না। আমি সূরা ফুরকানের (وَالَّذِينَ لَا يَدْعُونَ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ) এ আয়াতের শেষ পর্যন্ত পাঠ করলাম। তিনি বললেনঃ এই আয়াতটি মক্কায় নাযিল হয়েছে। আর মদীনায় অবতীর্ণ সূরা বাকারার উপরিউক্ত আয়াত এটাকে রহিত করে
4866কুতায়বা (রহঃ) ... সালিম ইবন আবুল জা'দ (রাঃ) বলেন, কেউ ইবন আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট জিজ্ঞাসা করলোঃ যদি কেউ কোন মুসলিমকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করে, পরে তাওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকাজ করে, সোজা পথে আসে, তবে কি তার তাওবা কবুল হবে? ইবন আব্বাস (রাঃ) বললেনঃ তার তাওবা কীরূপে ককূল হবে? আমি তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ কিয়ামতের দিন নিহত ব্যক্তি হত্যাকারীকে ধরে আনবে, তখনও তার ধমনী হতে রক্তধারা প্রবাহিত হতে থাকবে। সে বলবেঃ হে আল্লাহ! একে জিজ্ঞাসা করুন, সে আমাকে কেন হত্যা করেছিল? ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ এই আদেশ আল্লাহ্ নাযিল করেছেন, তিনি তা রহিত করেন নি।
4867ইসহাক ইবন ইব্রাহীম (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কবীরা গুনাহগুলো হলো আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করা, মাতাপিতার অবাধ্য হওয়া, কাউকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা এবং মিথ্যা বলা।
4868‘আবদা ইবন আবদুর রহীম (রহঃ) ... আবদুল্লাহ্ ইবন আমর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, কবীরা গুনাহ হলো আল্লাহ্ তা'আলার সাথে কাউকে শরীক করা, মাতাপিতার অবাধ্য হওয়া, কাউকে হত্যা করা এবং মিথ্যা কসম খাওয়া।
4869আবদুর রহমান ইবন মুহাম্মদ ইবন সাল্লাম (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন বান্দা যখন ব্যভিচার করে, তখন সে ঈমানদার অবস্থায় ব্যভিচার করে না, আর যখন সে মদ্যপান করে, তখন ঈমানদার অবস্থায় মদ্যপান করে না, মু'মিন অবস্থায় চুরি করে না, আর মুমিন অবস্থায় কাউকে হত্যা করে না।
উৎস: Sunan an Nasai
WEBREATH · 11:11
«Should I not be a thankful servant?» — Sahih al-Bukhari
Breath is one for all: everyone lives by it, whoever they are and whatever they believe. Every day at 11:11 local time people stop for sixty seconds, breathe, and thank GOD for the breath — each in their own words, each within themselves. In that minute we are One Breath.
WEBREATH — the Minute at 11:11, your own local time — we are One Breath