হাদিস
ফিরে যান

সুনানে নাসায়ী 44 · The Book of Financial Transactions

আপনার ভাষায় এখনো কোনো অনুবাদ নেই — ইংরেজি দেখাচ্ছে

4449উবায়দুল্লাহ ইবন সাঈদ (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মানুষ যা খায়, তন্মধ্যে সর্বোত্তম হলো তার হাতের উপার্জন। আর লোকের সন্তানও তার উপার্জনের অন্তর্ভুক্ত।

4450মুহাম্মাদ ইবন মানসূর (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের সন্তান তোমাদের শ্রেষ্ঠ উপার্জন। অতএব তোমরা তোমাদের সন্তানদের উপার্জন থেকে খাও।

4451ইউসুফ ইবন ঈসা (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মানুষের নিজ হাতের উপার্জন হচ্ছে তার জন্য শ্রেষ্ঠ আহার, আর তার সন্তানও তার উপার্জনের অন্তর্ভুক্ত।

4452আহমাদ ইবন হাফস ইবন আবদুল্লাহ নিশাপুরী (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মানুষের নিজ হাতের উপার্জন হচ্ছে তার উত্তম আহার্য। আর তার সন্তানও তার উপার্জন।

4453মুহাম্মাদ ইবন আবদুল আলা সানআনী (রহঃ) ... নু'মান ইবন বাশীর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, আল্লাহর কসম! তাঁর পর আর কাউকে বলতে শুনব না যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন। তিনি বলেছেনঃ হালাল সুস্পষ্ট এবং হারামও সুস্পষ্ট, আর উভয়ের মধ্যে অনেক সন্দেহজনক বিষয় রয়েছে। তিনি এই বলেনঃ এ ব্যাপারে আমি তোমাদের সামনে একটি উদাহরণ পেশ করছি : নিশ্চয় আল্লাহ্ এক চারণভূমি সংরক্ষণ করেছেন। আল্লাহর চারণ ভূমি হলো, যা তিনি হারাম করেছেন। আর যে ব্যক্তি সেই চারণভূমির আশে-পাশে পশু চরায়, হয়তো তার পশু তাতে ঢুকে পড়বে। আর যে ব্যক্তি সন্দেহযুক্ত কাজে লিপ্ত হবে, অচিরেই তার (হারাম কাজে লিপ্ত হওয়ার) দুঃসাহস দেখা দেবে।

4454কাসিম ইবন যাকারিয়্যা ইবন দীনার (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অতিসত্ত্বর লোকের উপর এমন সময় এসে পড়বে যখন কেউ এই কথার পরওয়া করবে না যে, সে কোন পথে মাল সংগ্রহ করলো- হালাল পথে, না হারাম পথে।

4455কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ লোকের উপর এমন এক সময় উপস্থিত হবে যখন তারা সুদ খাবে। আর যে ব্যক্তি তা খাবে না, তার গায়ে এর কিছু ধূলাবালি লাগবে।

4456আমর ইবন আলী (রহঃ) ... আমর ইবন তাগলীব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামতের কয়েকটি নিদর্শন এই যে, অর্থ-সম্পদের বিস্তার ও প্রাচুর্য দেখা দেবে, ব্যবসা বৃদ্ধি পাবে, বিদ্যা বিলুপ্ত হবে। কোন ব্যক্তি মাল বিক্রিকালে বলবে না, আমি অমুক গোত্রের ব্যবসায়ীর সাথে পরামর্শ করে নিই। আর বিরাট লোকালয়েও লেখক তালাশ করে পাওয়া যাবে না।

4457আমর ইবন আলী (রহঃ) ... হাকীম ইবন হিযাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের জন্য অবকাশ থাকবে, যতক্ষণ না তাদের একজন অপরজন থেকে পৃথক হয়ে যায়। তারা যদি সততা অবলম্বন করে এবং মালের দোষ-ত্রুটি বলে দেয়, তবে তাদের বেচাকেনায় বরকত হবে। আর যদি তারা মিথ্যার আশ্রয় নেয় এবং দোষ-ক্রটি গোপন রাখে, তবে উক্ত ক্রয়-বিক্রয়ে বরকত মুছে দেওয়া হবে।

4458মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... আবু যর (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এমন তিন প্রকার লোক রয়েছে, যাদের সাথে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা কথা বলবেন না, তাদের দিকে তাকাবেন না এবং তাদেরকে পবিত্রও করবেন না; আর তাদের জন্য রয়েছে মর্মন্তুদ শাস্তি। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ আয়াত তিলাওয়াত করলে আবু যর (রাঃ) বললেন, তারা ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তিনি বললেনঃ তারা হলো, যে পরিধেয় বস্ত্র টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে রাখে, যে মিথ্যা কসম করে মাল চালায়, আর যে কিছু দান করে তার খোটা দেয়।

4459‘আমর ইবন আলী (রহঃ) ... আবু যর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, তিন প্রকার লোক আছে যাদের দিকে কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তাকাবেন না এবং তাদেরকে পবিত্রও করবেন না; আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। তারা হলো, যে ব্যক্তি কিছু দান করে তার খোঁটা দেয়, আর যে ব্যক্তি পরিধেয় বস্ত্র টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে রাখে, আর যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা বলে মাল চালায়।

4460হারূন ইবন আবদুল্লাহ্ (রহঃ) ... আবু কাতাদা আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেনঃ তোমরা বিক্রয়কালে অত্যধিক কসম খাওয়া থেকে বিরত থাকবে। কেননা তা দ্বারা মাল তো খুব কাটতি হয়, কিন্তু (বরকত না থাকায়) আয় কমিয়ে দেয়।

4461আহমদ ইবন আমর ইবন সারহ (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) সূত্র থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কসম মালের কাটতি বাড়িয়ে দেয়, কিন্তু আয় কমিয়ে দেয়।

4462ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিন প্রকারের লোক রয়েছে যাদের সাথে আল্লাহ্ তা'আলা কিয়ামতের দিন কথা বলবেন না, তাদের দিকে তাকাবেন না এবং তাদেরকে পবিত্রও করবেন না, আর তাদের জন্য রয়েছে মর্মন্তুদ শাস্তি। তারা হলোঃ ঐ ব্যক্তি যে পথের ধারে প্রয়োজনাতিরিক্ত পানির উপর কর্তৃত্ব করে এবং পথিকদেরকে ঐ পানি দেয় না; আর ঐ ব্যক্তি যে কোন ইমামের হাতে বায়'আত গ্রহণ করে পার্থিব সম্পদ লাভের জন্য, তারপর সে যা চায় তাকে তা দান করলে সে তার আনুগত্যে বহাল থাকে আর যদি তাকে তা না দেওয়া হয়, তবে সে তার আনুগত্য রক্ষা করে না। আর ঐ ব্যক্তি যে আসরের পর অন্য ব্যক্তির সাথে মালের ক্রয়-বিক্রয় নিয়ে দরদাম করে। এক পর্যায়ে সে তাকে আল্লাহর নামে কসম করে বলে যে, তাকে এই এই দাম বলা হয়েছে, ফলে অন্য ব্যক্তি তাকে বিশ্বাস করে।

4463মুহাম্মাদ ইবন কুদামা (রহঃ) ... কায়স ইবন আবূ গারাযা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা মদীনায় ক্রয়-বিক্রয় করতাম। আমরা নিজেদেরকে ‘সামাসেরাহ (দালাল) বলতাম, আর অন্য লোকও আমাদেরকে তাই বলত। একদা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট দিয়ে যাবার সময় উক্ত নাম অপেক্ষা সুন্দর নামে আমাদেরকে আখ্যায়িত করলেন। তিনি বললেনঃ হে ব্যবসায়ীগণ! তোমাদের এ ব্যবসা কাজে অপ্রয়োজনীয় কথা এবং কসম সংযোজিত হয়, অতএব তোমরা ব্যবসা করার সঙ্গে দান-খয়রাতও করবে।

4464আবুল আশআস (রহঃ) ... হাকীম ইবন হিযাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের জন্য অবকাশ থাকবে যতক্ষণ না তাদের একজন অপরজন থেকে পৃথক হয়ে যায়। তারা যদি সততা অবলম্বন করে এবং উভয়ে নিজ নিজ বস্তুর দোষ-ক্রটি প্রকাশ করে দেয়, তবে তাদের ক্রয়-বিক্রয়ে বরকত দান করা হবে। আর যদি তারা মিথ্যার আশ্রয় গ্রহণ করে এবং দোষ-ত্রুটি গোপন রাখে, তবে উক্ত ক্রয়-বিক্রয়ে বরকত মুছে দেয়া হবে।

4465মুহাম্মদ ইবন সালামা এবং হারিস ইবন মিসকীন (রহঃ) ... মালিক (রহঃ) নাফি’ (রহঃ) হতে এবং তিনি আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ক্রেতা এবং বিক্রেতা উভয়ের জন্য তার সাথীর বিপরীতে ইখতিয়ার (ইচ্ছাধিকার) থাকবে, যাবত না তারা পৃথক হয়ে যায়। তবে ইখতিয়ারের শর্তে ক্রয়-বিক্রয় ব্যতীত (অর্থাৎ সেক্ষেত্রে পৃথক হওয়ার পরও ইখতিয়ার থাকবে)।

4466আমর ইবন আলী (রহঃ) ... উবায়দুল্লাহ (রহঃ) নাফি’ (রহঃ) থেকে এবং তিনি ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের জন্য অবকাশ থাকবে যতক্ষণ না তারা পৃথক হয়ে যায়। কিংবা ইখতিয়ারের শর্তে কেনাবেচা হয়।

4467মুহাম্মদ ইবন আলী (রহঃ) ... ইসমাঈল নাফি’ (রহঃ) হতে এবং তিনি ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের জন্য অবকাশ থাকবে, তাদের উভয়ের পৃথক না হওয়া পর্যন্ত। কিন্তু যদি ইখতিয়ারের শর্তে বেচাকেনা হয়, তবে পৃথক হওয়ার পরও ইখতিয়ার অবশিষ্ট থাকবে।

4468আলী ইবন মায়মূন (রহঃ) ... ইবন জুরায়জ নাফি’ থেকে এবং তিনি ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ক্রেতা-বিক্রেতা যখন বেচাকেনা করে, তখন তারা পৃথক না হওয়া পর্যন্ত তাদের জন্য অবকাশ থাকবে, আর যদি তাদের ক্রয়-বিক্রয় গ্রহণ করার কথার চুক্তি সম্পন্ন করে, তা হলে ক্রয়-বিক্রয় বাধ্যতামূলক হবে।

4469আমর ইবন আলী (রহঃ) ... আইয়ূব নাফি’ থেকে এবং তিনি ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের জন্যই অবকাশ রয়েছে; যতক্ষণ না তারা পরস্পর পৃথক হয়ে যায়। অথবা বলেঃ গ্রহণ কর এবং অন্যজন গ্রহণ করে নেয়।

4470যিয়াদ ইবন আইয়ুব (রহঃ) .... আইয়্যূব নাফি’ থেকে এবং তিনি ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ক্রেতা এবং বিক্রেতা উভয়েরই ইখতিয়ার রয়েছে যতক্ষণ না তারা পৃথক হয়ে যায়, অথবা যদি অবকাশের শর্তে ক্রয়-বিক্রয় হয়ে থাকে। রাবী নাফি (রহঃ) কখনও বলেছেন অথবা একে অন্যকে বলবে, গ্রহণ কর।

4471কুতায়বা (রহঃ) ... লায়স নাফি’ হতে এবং তিনি ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ক্রেতা এবং বিক্রেতা উভয়ের জন্য ইখতিয়ার রয়েছে যতক্ষণ না তারা উভয়ে পৃথক হয়ে যায়, অথবা ঐ বিক্রয় হবে ইখতিয়ারের উপর। রাবী নাফি (রহঃ) কখনও বলেছেন, অথবা একজন অন্যজনকে বলবে, গ্রহণ কর।

4472কুতায়বা (রহঃ) ... লায়স নাফি’ হতে এবং তিনি ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যখন দুই ব্যক্তি ক্রয়-বিক্রয় করে, তখন তাদের উভয়েরই ইখতিয়ার থাকে যতক্ষণ না তারা একে অপর থেকে পৃথক হয়ে যাবে। অন্য সময় তিনি বলেছেনঃ তারা পরস্পর পৃথক হওয়া পর্যন্ত, অথবা একে অন্যকে ইখতিয়ার দেয়, যদি একে অন্যকে ইখতিয়ার দেয় এবং এর উপরই ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন করে, তবে সে ক্রয়-বিক্রয় ওয়াজিব হয়ে যাবে। আর যদি তারা পৃথক হয়ে যায় বিক্রয় করার পর এবং তাদের মধ্যে কেউই ক্রয়-বিক্রয় রহিত না করে, তবে ক্রয়-বিক্রয় ওয়াজিব হবে।

4473আমর ইবন আলী (রহঃ) ... ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ বলেন, আমি নাফি’কে ইবন উমর (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, তিনি বলেনঃ ক্রেতা এবং বিক্রেতা পরস্পর পৃথক না হওয়া পর্যন্ত তাদের জন্য ইখতিয়ার থাকবে। হ্যাঁ, যদি ক্রয়-বিক্রয়ে ইখতিয়ার থাকে তবে ভিন্ন কথা। রাবী নাফি (রহঃ) বলেন, আবদুল্লাহ্ (রাঃ) যখন কোন দ্রব্য খরিদ করতেন যা তার পছন্দনীয়, তখন তিনি তার সাথী থেকে পৃথক হয়ে যেতেন।

4474আলী ইবন হুজুর (রহঃ) ... ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) নাফি’ (রহঃ) থেকে এবং তিনি ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ক্রেতা এবং বিক্রেতার মধ্যে ক্রয়-বিক্রয় শেষ হয় না, যতক্ষণ না তারা পরস্পর পৃথক হয়ে যায়, তবে ইখতিয়ারের শর্তে ক্রয়-বিক্রয় ব্যতীত।

4475আলী ইবন হুজুর (রহঃ) ... ইসমাঈল থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবন দীনার থেকে এবং তিনি ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে ক্রয়-বিক্রয় সাব্যস্ত হয় না, যতক্ষণ না তারা পৃথক হয়ে যায়, তবে ইখতিয়ারের ক্রয়-বিক্রয় ব্যতীত।

4476মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন হাকাম (রহঃ) ... ইবনুল হাদ (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবন দীনার (রহঃ) থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেনঃ কোন ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে ক্রয়-বিক্রয় সাব্যস্ত হয় না, যতক্ষণ না তারা পৃথক হয়ে যায়। তবে ইখতিয়ারে ক্রয়-বিক্রয় ব্যতীত।

4477আবদুল হামীদ ইবন মুহাম্মাদ (রহঃ) ... সুফইয়ান আমর ইবন দীনার থেকে এবং তিনি ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে ক্রয়-বিক্রয় সাব্যস্ত হয় না, যতক্ষণ না তারা পৃথক হয়ে যায়। তবে ইখতিয়ারের ক্রয়-বিক্রয় ব্যতীত।

4478রবী’ ইবন সুলায়মান (রহঃ) ... ইয়াযীদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন দীনার থেকে এবং তিনি ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেনঃ কোন ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যকার ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণ হয় না, যতক্ষণ না তারা পৃথক হয়ে যায়, তবে ইখতিয়ারের ক্রয়-বিক্রয় ব্যতীত।

4479আমর ইবন ইয়াযীদ (রহঃ) ... শু'বা (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবন দীনার থেকে এবং তিনি ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যকার ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণ হয় না, যতক্ষণ না তারা পৃথক হয়ে যায়। তবে ইখতিয়ারের ক্রয়-বিক্রয় ব্যতীত।

4480কুতায়বা ইবন সাঈদ (রহঃ) ... সুফয়ান আবদুল্লাহ ইবন দীনার থেকে, তিনি ইবন উমর (রাঃ) থেকে এবং তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেনঃ ক্রেতা বিক্রেতার ইখতিয়ার থাকবে যাবত না তারা পৃথক হয়। অথবা তাদের ক্রয়-বিক্রয় হয় ইখতিয়ারের উপর।

4481আমর ইবন আলী (রহঃ) ... সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ক্রেতা বিক্রেতার ইখতিয়ার থাকবে যতক্ষণ না তারা পৃথক হয় এবং বিক্রি দ্বারা তাদের প্রত্যেকের ইপ্সিত বস্তু তারা গ্রহণ করে নেয় আর তারা ইখতিয়ার পাবে তিনবার।

4482মুহাম্মদ ইবন ইসমাঈল ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ক্রেতা-বিক্রেতার ইখতিয়ার থাকবে, যতক্ষণ না তারা পৃথক হয়ে যায় অথবা তারা গ্রহণ করে নেয়— যা ইচ্ছা করে তার সাথী থেকে।

4483কুতায়বা ইবন সাঈদ (রহঃ) ... ‘আমর ইবন শুয়ায়ব (রহঃ) তাঁর পিতার মাধ্যমে তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের জন্য ইখতিয়ার থাকবে, যতক্ষণ না তারা একে অপর হতে পৃথক হয়ে যাবে। অবশ্য যদি ইখতিয়ারের শর্তে চুক্তি হয়ে থাকে। এমতাবস্থায় ক্রেতা ও বিক্রেতা কারো জন্য সঙ্গত নয় যে, সে অপরজন হতে দ্রুত পৃথক হয়ে যাবে এই ভয়ে যে, হয়তো সে ক্রয়-বিক্রয় প্রত্যাখ্যান করবে।

4484কুতায়বা ইবন সাঈদ (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যাক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললোঃ আমি ক্রয়-বিক্রয় করলে ঠকে যাই। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেনঃ তুমি ক্রয়-বিক্রয়কালে বলবেঃ ধোঁকা দিবেন না। সে মতে ঐ ব্যক্তি ক্রয়-বিক্রয় করাকালে এরূপ বলতো।

4485ইউসুফ ইবন হাম্মাদ (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যাক্তির বিচার বুদ্ধিতে দুর্বলতা ছিল, আর সে বেচাকেনাও করতো। তার পরিবারস্থ লোকজন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! তার প্রতি বেচাকেনার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করুন। সেমতে আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ডেকে নিষেধ করলেন। সে বললোঃ হে আল্লাহ্‌র নবী! আমি বেচাকেনা না করে থাকতে পারি না। তিনি বললেনঃ তুমি যখন বেচাকেনা করবে, তখন বলবেঃ ধোঁকা দিবেন না।

4486ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ ছাগল, উট বিক্রয় করতে মনস্থ করে, তখন সে যেন তার ওলানে দুধ আটকে না রাখে।

4487মুহাম্মদ ইবন মানসূর (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, তোমরা বিক্রয় স্থানে পৌছার পূর্বে মাল খরিদ করার জন্য কাফেলার নিকট যাবে না, আর উট এবং বকরী ইত্যাদির ওলানে দুধ আটকে রাখবে না। যে ব্যক্তি ঐরূপ কোন জন্তু খরিদ করবে, তখন তার দুই-এর একটা গ্রহণের ইখতিয়ার থাকবে। ইচ্ছা করলে তা রেখে দিতে পারে; আর যদি ফেরত দেওয়ার ইচ্ছা করে, তবে তা ফেরতও দিতে পারে। তবে ফেরত দিলে তার সাথে এক সা' খেজুর দিবে।

4488ইসহাক ইন ইবরাহীম (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ওলানে দুধ আটকিয়ে রাখা হয়েছে এমন জন্তু খরিদ করে, এরপর যখন সে দুধ দোহন করে, তখন তার ইচ্ছা হলে তা রাখতে পারে; আর যদি সে তা পছন্দ না করে, তবে তা ফেরত দিতে পারে। তবে ফেরত দিলে তার সাথে এক সা খেজুর দিয়ে দিবে।

4489মুহাম্মদ ইবন মানসূর (রহঃ) ... মুহাম্মদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবু হুরায়রা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, আবুল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি এমন পশু খরিদ করে যার ওলানে দুধ আটকিয়ে রাখা হয়েছে, তবে তিনদিন পর্যন্ত তার ইখতিয়ার থাকবে, যদি সে রাখতে চায় রেখে দিবে, আর যদি ফেরত দিতে চায় ফেরত দিবে। তবে ফেরত দিলে তার সাথে এক সা' খেজুর দিয়ে দিবে, গম নয়।

4490ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফয়সালা দিয়েছেন যে, দায়িত্ব যার উসূলও তার।

4491আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ ইবন তামীম (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন বাজারে বিক্রি করার জন্য যারা বাইরে থেকে খাদ্যদ্রব্য নিয়ে আসে, বাজারে পৌছবার পূর্বে তাদের খাদ্যদ্রব্য ক্রয় করে নেয়ার জন্য অগ্রসর হতে, মুহাজির কর্তৃক গ্রাম্য লোকের পক্ষ হতে বিক্রি করতে, গরু-ছাগলের ওলানে দুধ জমা করে ফুলিয়ে রাখতে, দালালী করতে, কোন মুসলিম ভ্রাতার দরদামের উপর দরদাম করতে। আর কোন স্ত্রীলোক কর্তৃক তার বােনের তালাক চাইতে।

4492মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নগরবাসী কর্তৃক কোন গ্রাম্য লোকের পণ্য বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন, যদিও সে তার পিতা অথবা ভাই হয়।

4493মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নগরবাসী কর্তৃক কোন গ্রাম্য লোকের মাল বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন, যদিও সে তার পিতা বা ভাই হয়।

4494মুহাম্মাদ ইবন আবদুল আ'লা (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন গ্রাম্য লোকের মাল বিক্রয় করতে আমাদেরকে নিষেধ করা হয়েছে।

4495ইবরাহীম ইবন হাসান (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শহরের লোক গ্রাম্য লোকদের পণ্যদ্রব্য বিক্রয় করে দিবে না। লোকজনকে ছেড়ে দাও, আল্লাহ্ তা'আলা তাদের কারো দ্বারা কারো রিযিক পৌঁছিয়ে থাকেন।

4496কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বহিরাগত আমদানী-কারকের সাথে শহরের বাইরে গিয়ে সাক্ষাত করবে না বা অগ্রসর হবে না। একজনের ক্রয়-বিক্রয়ের প্রস্তাবের উপর অন্য কেউ বিক্রির প্রস্তাব করবে না, দালালী করবে না, শহরের লোক গ্রাম্য লোকের পণ্য বিক্রয় করে দেবে না।

4497আব্দুর রহমান ইবন আবদুল্লাহ ইবন আবদুল হাকাম ইবন আয়ান (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তায়া থেকে বর্ণিত যে, তিনি দালালী করতে এবং গ্রামের পণ্য বিক্রেতাকে শহরে পৌছার পূর্বে সামনে গিয়ে সাক্ষাত করতে এবং শহরের লোক কর্তৃক গ্রাম্য ব্যক্তির পক্ষ হতে বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন।

4498উবায়দুল্লাহ ইবন সাঈদ (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বহিরাগত আমদানীকারকের সাথে শহরের বাইরে গিয়ে সাক্ষাত করতে নিষেধ করেছেন।

4499ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিন বলেন, যারা পণ্যদ্রব্য বাজারে বিক্রি করার জন্য বাইরে থেকে নিয়ে আসে, তারা বাজারে প্রবেশ না করা পর্যন্ত বাইরে গিয়ে তাদের সাথে সাক্ষাত করতে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করছেন।

4500মুহাম্মাদ ইবন রাফি' (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন বাইরে থেকে যারা পণ্যদ্রব্য শহরে নিয়ে আসে, বাজারে পৌঁছার পূর্বে তাদের সাথে সাক্ষাত করতে এবং গ্রাম্য লোকের পণ্যদ্রব্য শহরের লোকদের বিক্রি করে দিতে। আমি ইবন আব্বাস (রাঃ)-কে গ্রাম্য লোকের পণ্য শহরের লোক কর্তৃক বিক্রয় করার অর্থ জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেনঃ তার জন্য দালাল হবে না।

4501ইবরাহীম ইবন হাসান (রহঃ) ... ইবন সীরীন (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবু হুরায়রা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যারা বাজারে বিক্রি করার জন্য পণ্যদ্রব্য নিয়ে আসে, এগিয়ে গিয়ে তাদের সাথে মিলিত হবে না। যদি কেউ এরূপ করে এবং কোন বস্তু ক্রয় করে, তবে ঐ বিক্রেতা মালিক বাজারে পৌঁছার পর তার ইখতিয়ার থাকবে।

4502মুজাহিদ ইবন মূসা (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ গ্রাম্য লোকের পণ্যদ্রব্য শহরের লোক বিক্রয় করে দেবে না, দালালী করবে না, কোন ব্যক্তি তার মুসলিম ভ্রাতার দরদামের উপর দরদাম করবে না। মুসলিম ভাইয়ের বিবাহের প্রস্তাবের উপর নিজে বিবাহের প্রস্তাব দেবে না, আর কোন নারী তার মুসলিম বােনের তালাক চাইবে না, যাতে তার পাত্র শূন্য করে নিজ পাত্র পূর্ণ করতে পারে এবং তাকে (তালাকপ্রাপ্তার স্থানে) বিবাহ করা হয়। তার জন্য তা-ই রয়েছে যা আল্লাহ্ তার জন্য নির্ধারণ করে রেখেছেন।

4503কুতায়বা ইবন সাঈদ (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের বেচাকেনার প্রস্তাবের উপর নিজে বেচাকেনার প্রস্তাব দিবে না।

4504ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের বেচাকেনার প্রস্তাবের উপর নিজে বেচাকেনার প্রস্তাব দেবে না, যতক্ষণ না সে খরিদ করে, অথবা ছেড়ে যায়।

4505কুতায়বা (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (দাম বাড়ানোর উদ্দেশে) দালালী করতে নিষেধ করেছেন।

4506মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহইয়া (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ কোন ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের ক্রয়-বিক্রয়ের প্রস্তাবের উপর নিজে ক্রয়-বিক্রয়ের প্রস্তাব দেবে না। গ্রাম্য লোকের পণ্যদ্রব্য শহরের লোকগণ বিক্রয় করে দিবে না, দালালী করবে না, আর কেউ কোন মুসলিম ভাইয়ের বিক্রয়ের উপর মূল্য বৃদ্ধি করবে না; আর কোন নারী অপর নারীর পাত্র শূন্য করে নিজ পাত্র পূর্ণ করার লক্ষ্যে তার তালাক চাইবে না।

4507মুহাম্মাদ ইবন আবদুল আ'লা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ শহরের লোকগণ গ্রাম্য লোকের পণ্য বিক্রয় করবে না। আর তোমরা দালালী করবে না। আর কোন ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের ক্রয়ের উপর মূল্য বৃদ্ধি করবে না; আর কোন মহিলা অন্য কোন মুসলিম বােনের তালাক কামনা করবে না তার ভাণ্ডে যা আছে তা নিজে ভোগ করার জন্য।

4508ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিলামে একটি পাত্র এবং একটি কাপড় বিক্রি করেন।

4509মুহাম্মদ ইবন সালাম ও হারিস ইবন মিসকীন (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন ‘মুলামাসা’ এবং মুনাবাযা’ প্রণালীতে ক্রয়-বিক্রয় করতে।

4510ইবরাহীম ইবন ইয়াকূব ইবন ইসহাক (রহঃ) ... আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন 'মুলামাসা' ধরনের ক্রয়-বিক্রয় করতে অর্থাৎ কাপড় না দেখে কেবল স্পর্শ করবে, আর তাতেই বেচাকেনা সাব্যস্ত হয়ে যাবে। এরূপ বেচাকেনা, আর তিনি নিষেধ করেছেন 'মুনাবাযা’ প্রণালীতে ক্রয়-বিক্রয় করতে। আর তা হলো কোন কাপড় নাড়াচাড়া করা বা দেখার আগে কোন ব্যক্তির দিকে ছুঁড়ে মারা আর তাতে ক্রয়-বিক্রয় সাব্যস্ত হয়ে যাওয়া।

4511ইউনুস ইবন আবদুল আ'লা ও হারিস ইবন মিসকীন (রহঃ) ... আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ক্রয় বিক্রয়ে মুনাবাযা ও মুলামাসা নিষেধ করেছেন।

4512হুসায়ন ইবন হুরায়স মারওয়াযী (রহঃ) ... আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ক্রয়-বিক্রয়ের দুটি ধরন মুনাবাযা ও মুলামাসা থেকে নিষেধ করেছেন।

4513মুহাম্মাদ ইবন মুসাফফা ইবন বাহলূল (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুনাবাযা ও মুলামাসা থেকে নিষেধ করেছেন। মুলামাসা এই যে, দুই ব্যক্তি রাতে দুটি কাপড় ক্রয়-বিক্রয় করবে প্রত্যেকে তার সাথীর কাপড় হাতে স্পর্শ করবে। মুনাবাযা এই যে, এক ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির প্রতি কাপড় ছুঁড়ে মারবে, অন্য ব্যক্তিও ঐ ব্যক্তির দিকে কাপড় ছুঁড়বে—এই পন্থায় তাদের ক্রয়-বিক্রয় সাব্যস্ত হবে।

4514আবূ দাউদ (রহঃ) ... আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুলামাসা থেকে নিষেধ করেছেন। আর 'মুলামাসা' হলো কাপড় না দেখে কেবল স্পর্শের মাধ্যমে বিক্রি সাব্যস্ত করা। [এইরূপে বিক্রয় করলে আর ক্রেতা-বিক্রেতার কোন ইখতিয়ার থাকবে না।] আর তিনি নিষেধ করেছেন মুনাবাযা পদ্ধতির ক্রয়-বিক্রয় থেকে। আর 'মুনাবাযা' হলো, এক ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির দিকে স্বীয় কাপড় নিক্ষেপ করবে তা নাড়াচাড়া করার পূর্বে।

4515মুহাম্মাদ ইবন রাফি' (রহঃ) ... আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই পদ্ধতির বস্ত্র পরিধান নিষেধ করেছেন, এবং ক্রয়-বিক্রয়ের দুই প্রণালীও নিষেধ করেছেন। নিষিদ্ধ ক্রয়-বিক্রয় প্রণালীদ্বয় হলো মুলামাসা এবং মুনাবাযা। মুনাবাযা পদ্ধতি হলো এরূপ বলা যে, যখন আমি এই কাপড়খানা নিক্ষেপ করবো, তখন বিক্রি সাব্যস্ত হয়ে যাবে। আর মুলামাসা পদ্ধতি হলো কাপড় স্পর্শ করলেই ক্রয়-বিক্রয় সাব্যস্ত হয়ে যাবে, তা খুলবেও না এবং উল্টিয়ে দেখবেও না, যখন স্পর্শ করবে তখনই ক্রয়-বিক্রয় সাব্যস্ত হবে।

4516হারূন ইবন ইয়াযীদ (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই পদ্ধতির কাপড় পরিধান নিষেধ করেছেন। আর তিনি আমাদেরকে দুই পদ্ধতির ক্রয়-বিক্রয় থেকে নিষেধ করেছেন, তা হলো মুনাবাযা ও মুলামাসা। ক্রয়-বিক্রয়ের ঐ সকল পদ্ধতি জাহিলী যুগের লোকেরা অবলম্বন করতো।

4517মুহাম্মদ ইবন আবদুল আ'লা (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই পদ্ধতির ক্রয়-বিক্রয় থেকে নিষেধ করেছেন। সেই দুই পদ্ধতি হলো মুনাবাযা এবং মুলামাসা। তিনি বলেন, মুলামাসা পদ্ধতি এরূপঃ কোন ব্যক্তি অপর ব্যক্তিকে বলবে, আমি তোমার কাপড়ের পরিবর্তে আমার কাপড় বিক্রয় করবো; কিন্তু তাদের কেউ অন্যের কাপড়ের প্রতি দৃষ্টিপাত করবে না, শুধু হাতে স্পর্শ করবে। আর মুনাবাযা পদ্ধতি এরূপ যে, একজন বলবেঃ আমার নিকট যা আছে আমি তা নিক্ষেপ করবো আর তুমি তোমার নিকট যা আছে তা নিক্ষেপ করবে, একে অন্যের নিকট হতে ক্রয় করার জন্য। তাদের কেউই অবগত নয় যে, অন্যের নিকট কী পরিমাণ মাল রয়েছে এবং কোন্ প্রকারের রয়েছে।

4518উবায়দুল্লাহ ইবন সাঈদ (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন, পাথর নিক্ষেপ করে ক্রয়-বিক্রয় করতে এবং অনিশ্চিত বস্তু ক্রয়-বিক্রয় করতে।

4519কুতায়বা (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমরা ফল বিক্রি করবে না তা উপযুক্ত হওয়ার পূর্বে। তিনি ক্রেতা এবং বিক্রেতা উভয়কে নিষেধ করেছেন।

4520কুতায়বা ইবন সাঈদ (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফলের উপযুক্ততা প্রকাশের পূর্বে তা বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন।

4521ইউনুস ইবন আবদুল আলা ও হারিস ইবন মিসকীন (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ফলের উপযুক্ততা প্রকাশ পাওয়ার পূর্বে তোমরা তা ক্রয়-বিক্রয় করবে না এবং শুষ্ক খেজুরের পরিবর্তে গাছের ফল বিক্রি করবে না। সালিম ইবন আবদুল্লাহ তাঁর পিতার মাধ্যমে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন ..., পূর্বের অনুরূপ।

4522আবদুল হামীদ ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মধ্যে দাঁড়িয়ে বলেনঃ ফল উপযুক্ত না হওয়া পর্যন্ত তোমরা বিক্রি করবে না।

4523মুহাম্মদ ইবন মানসূর (রহঃ) ... জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুখাবারা, এবং ‘মুযাবানা’ এবং মুহাকালা নিষেধ করেছেন এবং তিনি ফল বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন তা উপযুক্ত হওয়ায় পূর্বে, দীনার ও দিরহাম দ্বারা বিক্রি করলে আলাদা কথা। কিন্তু তিনি আরায়া জায়েয রেখেছেন।

4524কুতায়বা (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুখাবারা’, ‘মুযাবানা, মুহাকালা’ এবং খাওয়ার উপযুক্ত হওয়ার পূর্বে ফল বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন, আরায়া ব্যতীত।

4525মুহাম্মাদ আবদুল আ'লা (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন গাছের ফল ক্রয়-বিক্রয় করতে, যতক্ষণ না খাবার উপযোগী হয়।

4526মুহাম্মাদ ইবন সালামা এবং হারিস ইবন মিসকীন (রহঃ) ... আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খেজুর ফল লাল হওয়ার পূর্বে বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহর সৃষ্ট কোন দুর্যোগে যদি ফল বিনষ্ট হয়ে যায়, তবে মুসলিম ভাই থেকে কিসের বিনিময়ে মূল্য আদায় করবে?

4527ইবরাহীম ইবন হাসান (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি তুমি তোমার কোন মুসলিম ভাইয়ের নিকট ফল বিক্রি কর, পরে যদি তা দুর্যোগ কবলিত হয়, তবে তোমার জন্য বৈধ হবে না যে, তুমি তার নিকট হতে মূল্য আদায় করবে। তার প্রাপ্য তাকে না দিয়ে কিসের বিনিময়ে তুমি মূল্য গ্রহণ করবে?

4528হিশাম ইবন আম্মার (রহঃ) ... জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ফল বিক্রয় করে, এরপর দুর্যোগ কবলিত হয়, তাহলে সে তার মুসলিম ভাই হতে এর মূল্য গ্রহণ করবে না। তারপর তিনি বললেনঃ কিসের বিনিময়ে তোমাদের কেউ তার মুসলিম ভাই হতে তার মাল গ্রহণ করবে?

4529মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন ইয়াযীদ (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুর্যোগে বিনষ্ট মালের মূল্য কর্তন করতে আদেশ করেছেন।

4530কুতায়বা ইবন সাঈদ (রহঃ) ... আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময় এক ব্যক্তি যে ফল ক্রয় করেছিল, তা নষ্ট হয়ে গেল। ফলে সে অধিক করযদার হয়ে গেল। তখন রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা তাকে দান কর। তখন লোক তাকে দান করলো কিন্তু এতেও তার কর পরিশোকরধ হলো না। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাওনাদারদের বললেনঃ যা পেয়েছ, তাই নিয়ে নাও। এর অধিক আর পাবে না।

4531কুতায়বা ইবন সাঈদ (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কয়েক বছরের জন্য ফল বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন।

4532কুতায়বা ইবন সাঈদ (রহঃ) ... সালিম (রহঃ) তাঁর পিতার মাধ্যমে বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন শুষ্ক খেজুরের বিনিময়ে (গাছের) খেজুর ফল বিক্রি করতে। ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, যায়দ ইবন সাবিত (রাঃ) বলেছেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরায়ার ব্যাপারে অনুমতি দিয়েছেন।

4533যিয়াদ ইবন আইয়ুব (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন মুযাবানা ধরনের ক্রয়-বিক্রয় হতে। তা এইরূপঃ গাছের মাথার খেজুর অনুমান করে নির্দিষ্ট পরিমাণ এই কথার উপর বিক্রয় করা যে, ফল পাড়ার পর বেশি হলে তা আমার প্রাপ্য, আর কম হলে তা আমার প্রদেয়।

4534কুতায়বা (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন, মুযাবানা ধরনের ক্রয়-বিক্রয় হতে। আর মুযাবানা হলো শুষ্ক খেজুরের পরিবর্তে গাছের খেজুর অনুমান করে কায়ল (পরিমাপের পাত্র বিশেষ) হিসেবে বিক্রি করা এবং কিশমিশের পরিবর্তে গাছের আঙুর অনুমান করে কায়ল হিসেবে বিক্রি করা।

4535কুতায়বা ইবন সাঈদ (রহঃ) ... রাফি' ইবন খাদিজ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন, মুহাকালা এবং মুযাবানা ধরনের ক্রয়-বিক্রয় হতে।

4537কুতায়বা ইবন সাঈদ (রহঃ) ... যায়দ ইবন সাবিত (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুমতি দান করেছেন ‘আরায়া’-এর ব্যাপারে। হারিস ইবন মিসকীন ... যায়দ ইবন সাবিত (রাঃ) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামআরায়ার ব্যাপারে অনুমতি দিয়েছেন খোরমা ও তাজা খেজুরের বিনিময়ে।

4538উবায়দুল্লাহ ইবন সাঈদ (রহঃ) ... যায়দ ইবন সাবিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরায়ার ক্ষেত্রে অনুমতি দান করেছেন যে, তা অনুমান করে বিক্রি করা যাবে।

4539ঈসা ইবন হাম্মাদ (রহঃ) ... যায়দ ইবন সাবিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুমতি দিয়েছেন যে, তা অনুমান করে খােরমার বিনিময়ে বিক্রি করা যাবে।

4540আবূ দাউদ (রহঃ) ... যায়দ ইবন সাবিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খোরমা ও তাজা খেজুরের বেলায় আরায়া বিক্রির অনুমতি দিয়েছেন, এছাড়া অন্য কিছুতে অনুমতি দেননি।

4541ইসহাক ইবন মানসূর (রহঃ) ও ইয়াকূব ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরায়ার ক্ষেত্রে অনুমতি দিয়েছেন যে, তা পাঁচ ওসাক বা পাঁচ ওসাকের কম পরিমাণে বিক্রি করা যাবে (ষাট সা'তে এক ওসাক)।

4542আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ ইবন আব্দুর রহমান (রহঃ) ... সাহল ইবন আবূ হাসমা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপযুক্ততা প্রকাশের আগে ফল বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন। আর তিনি আরায়ার ক্ষেত্রে অনুমতি দিয়েছেন যে, তা খোরমার বিনিময়ে অনুমান করে বিক্রি করা যাবে, ক্রেতা তা তাজা অবস্থায় খাবে।

4543হুসায়ন ইবন ঈসা (রহঃ) ... রাফি' ইবন খাদীজ (রাঃ) এবং সাহল ইবন আবূ হাসমা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন মুযাবানা ধরনের ক্রয়-বিক্রয় হতে আর তা হলো, শুষ্ক খেজুরের পরিবর্তে তাজা খেজুর বিক্রি করা। কিন্তু তিনি আরায়া’ ওয়ালাদের জন্য অনুমতি দিয়েছেন।

4544কুতায়বা ইবন সাঈদ (রহঃ) ... রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কয়েকজন সাহাবী থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আরায়া’ অনুমান করে বিক্রি করার অনুমতি দিয়েছেন।

4545আমর ইবন আলী (রহঃ) ... সা'দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তাজা খেজেুরের পরিবর্তে খোরমা খরিদ করার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রশ্ন করা হলে তিনি তাঁর আশেপাশের লোকদের বলেনঃ তাজা খেজুর শুকালে কি কমে যায়? তারা বলেন, হ্যাঁ। তখন তিনি তা থেকে নিষেধ করেন।

4546মুহাম্মাদ ইবন আলী ইবন মায়মূন (রহঃ) ... সা'দ ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে শুকনা খোরমার পরিবর্তে তাজা খেজুর বিক্রি সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করা হল। তিনি বললেনঃ তা শুকালে কি কম হয়ে যায়? তারা বললেন, হ্যাঁ। তখন তিনি তা থেকে নিষেধ করলেন।

4547ইবরাহীম ইবন হাসান (রহঃ) ... জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কায়লের মাপে নির্দিষ্ট পরিমাণ খেজুরের বিনিময়ে খোরমার স্তূপ বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন, যার সঠিক পরিমাণ জানা নেই।

4548ইবরাহীম ইবন হাসান (রহঃ) ... জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ খাদ্য বস্তুর স্তূপের পরিবর্তে খাদ্য স্তূপ বিক্রি করা যাবে আর নির্দিষ্ট পরিমাণ খাদ্য স্তূপের বিনিময়ে খাদ্যের স্তূপ বিক্রি করা যাবে না।

4549কুতায়বা (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুযাবানা ধরনের ক্রয়-বিক্রয় হতে নিষেধ করেছেন, আর তা খেজুরের ক্ষেত্রে এরূপ : বাগানের গাছে যে খেজুর রয়েছে, তা নির্দিষ্ট পরিমাণ খেজুরের বিনিময়ে বিক্রি করা। আর আঙ্গুরের ক্ষেত্রে এরূপ : বাগানের গাছে যে আঙ্গুর আছে, তা নির্দিষ্ট পরিমাণ কিশমিশের বিনিময়ে বিক্রি করা। আর তা শস্যের মধ্যে এরূপ যে, ক্ষেতে যে শস্য আছে, তা নির্দিষ্ট পরিমাণ কর্তিত খাদ্যশস্যের বিনিময়ে বিক্রি করা। এই সকল প্রকারকেই তিনি নিষেধ করেছেন।

4550আবদুল হামীদ ইবন মুহাম্মাদ (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুখাবারা, মুযাবানা' এবং মুহাকালা’ নিষেধ করেছেন এবং খাওয়ার উপযুক্ত হওয়ায় পূর্বে ফল বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন। তিনি এ বেচাকেনা নিষেধ করেছেন, তবে বিনিময় যদি দীনার বা দিরহাম হয়, তবে ভিন্ন কথা।

4551আলী ইবন হুজর (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন খেজুর বিক্রি করতে, যতক্ষণ না তাতে লাল বা হলুদ বর্ণ আসে। আর শীষ জাতীয় বস্তু যাবৎ শুষ্ক সাদা হয়ে ওঠে এবং কোন প্রকার মড়কে বিনষ্ট হওয়া থেকে নিরাপদ হয়ে যায়, তিনি ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়কে নিষেধ করেছেন।

4552কুতায়বা ইবন সাঈদ (রহঃ) ... আবু সালিহ (রহঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জনৈক সাহাবী তাকে জানিয়েছেন, তিনি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি সায়হানী এবং ইযক জাতীয় খেজুর পাই না, যাবৎ তা বিক্রেতাদেরকে পরিমাণে আরও বেশি দেই। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি তোমার খেজুর দিরহামের পরিবর্তে বিক্রয় করবে এবং তা দ্বারা (উত্তম খেজুর) খরিদ করবে।

4553মুহাম্মদ ইবন সালামা এবং হারিস ইবন মিসকীন (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বরে এক ব্যক্তিকে কাজে নিযুক্ত করলে সে উৎকৃষ্ট খোরমা নিয়ে আসে। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ খায়বরের প্রত্যেক খোরমাই কি এরূপ হয়? সে বললোঃ আল্লাহর কসম! না, আমরা এ জাতীয় খোরমার এক সা' অন্য খোরমার দুই সা'-এর পরিবর্তে নিয়ে থাকি। আর এর দুই সা' তিন সা'-এর পরিবর্তে নিয়ে থাকি। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এরূপ করো না; বরং তুমি এগুলো দিরহামের পরিবর্তে বিক্রি করে দাও। তারপর দিরহাম দ্বারা ঐগুলো খরিদ করো।

4554নাসর ইবন আলী ও ইসমাঈল ইবন মাসউদ (রহঃ) ... আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট কিছু রসালো খোরমা আনা হলো, আর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খোরমা ছিল শুষ্ক। তিনি বললেন, তোমরা এটা কোথায় পেলে? তারা বললোঃ আমরা এটা এক সা’ আমাদের দুই সা'-এর পরিবর্তে খরিদ করেছি। তখন তিনি বললেনঃ এরূপ করো না, কেননা এটা ঠিক নয়, বরং তুমি তোমার খেজুর বিক্রি করে দাও, আর এর থেকে তোমার প্রয়োজনমত খরিদ করে নাও।

4555ইসমাঈল ইবন মাসউদ (রহঃ) ... আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময় আমরা ভালো-মন্দ মিশ্রিত (বা বিভিন্ন প্রজাতির মিশ্রিত) খেজুর পেতাম। তখন আমরা তার দুই সা'-এর পরিবর্তে এক সা' উত্তম খোরমা নিতাম। এ খবর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট পৌছলে তিনি বলেনঃ এক সা'র বিনিময়ে দুই সা' খেজুর নয়, এক সা'র বিনিময়ে দুই সা' গম নয় এবং এক দিরহামের পরিবর্তে দুই দিরহাম নয়।

4556হিশাম ইবন আম্মার (রহঃ) ... আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আমরা বিক্রি করতাম দুই সা' নিম্নমানের খোরমার পরিবর্তে উন্নতমানের এক সা'। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ খোরমার এক সা-এর পরিবর্তে দুই সা' আর এক সা' গমের পরিবর্তে দুই সা', আর এক দিরহামের পরিবর্তে দুই দিরহাম (বৈধ) নয়।

4557হিশাম ইবন আম্মার (রহঃ) ... আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, বিলাল (রাঃ) কিছু উন্নতমানের খোরমা নিয়ে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসলে তিনি বললেনঃ এটা কী? তিনি বললেনঃ আমি এর এক সা' দুই সা'-এর পরিবর্তে ক্রয় করেছি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ বাহ্! এতো প্রকাশ্য সুদ, এর নিকটেও যাবে না।

4558ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রূপার বিনিময়ে সোনা (বিক্রি) সুদ, যদি না নগদ লেনদেন হয়। গমের বিনিময়ে গম সুদ, যদি না নগদ লেনদেন হয়, যবের বিনিময়ে যব সুদ, যদি না নগদ লেনদেন হয়, খোরমার বিনিময়ে খোরমা সুদ, যদি না নগদ লেনদেন হয়।

4559ওয়াসিল ইবন আবদুল আ'লা (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ খোরমার বিনিময়ে খোরমা, গমের পরিবর্তে গম, যবের বিনিময়ে যব, লবণের বিনিময়ে লবণ নগদ লেনদেন করতে হবে। আর সে ক্ষেত্রে যে ব্যক্তি বেশি দিবে বা বেশি গ্রহণ করবে, সে সুদের কাজ সম্পন্নকারী সাব্যস্ত হবে, কিন্তু যদি বিভিন্ন জাতীয় বস্তু হয়, তবে কোন ক্ষতি নেই।

4560মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ) ... মুসলিম ইবন ইয়াসার এবং আবদুল্লাহ ইবন আতীক (রহঃ) বলেছেনঃ এক স্থানে উবাদা ইবন সামিত এবং মুআবিয়া (রাঃ) একত্র হলেন। উবাদা (রাঃ) তাদের সাথে কথা প্রসঙ্গে বললেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে নিষেধ করেছেন স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ, রৌপ্যের পরিবর্তে রৌপ্য, গমের পরিবর্তে গম, যবের বিনিময়ে যব, খোরমার বিনিময়ে খোরমা বিক্রি করতে। তাদের একজন আরও বলেন, লবণের বিনিময়ে লবণ কিন্তু অন্যজন তা বলেননি। অবশ্য সমপরিমাণে এবং নগদ আদান-প্রদান করলে দোষ নেই। আর তিনি আমাদেরকে আদেশ করেছেন, আমরা যেন রৌপ্যের বিনিময়ে স্বর্ণ এবং স্বর্ণের বিনিময়ে রৌপ্য, যবের বিনিময়ে গম এবং গমের বিনিময়ে যব নগদ লেনদেনের শর্তে যেভাবেই ইচ্ছা, বেচাকেনা করি। তাদের একজন বলেন, যে ব্যক্তি অতিরিক্ত নিল বা দিল, সে সুদে লিপ্ত হলো।

4561মুআম্মাল ইবন হিশাম (রহঃ) ... মুসলিম ইবন ইয়াসার এবং আবদুল্লাহ্ ইবন উবায়দা (রহঃ) যাকে ইবন হুরমুয বলা হতো, তিনি বলেন, উবাদা ইবন সামিত এবং মুআবিয়া (রাঃ) এক স্থানে একত্র হলে উবাদা (রাঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে নিষেধ করেছেন স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ, রূপার বিনিময়ে রূপা, খোরমার বিনিময়ে খোরমা, গমের বিনিময়ে গম এবং যবের বিনিময়ে যব বেচাকেনা করতে। তাদের একজন বলেছেন এবং লবণের বিনিময়ে লবণ, অন্যজন তা বলেননি। কিন্তু সমপরিমাণে ও কমবেশি না। হলে দোষ নেই। তাদের একজন বললেনঃ যে ব্যক্তি বেশি নিল বা দিল, সে সুদে লিপ্ত হলো। অন্যজন তা বলেননি। আর তিনি আমাদেরকে আদেশ করেছেন যে, আমরা ক্রয়-বিক্রয় করতে পারি রৌপ্যের বিনিময়ে স্বর্ণ এবং স্বর্ণের বিনিময়ে রৌপ্য, গমের পরিবর্তে যব এবং যবের পরিবর্তে গম নগদ লেনদেনের সাথে, যেভাবে আমরা ইচ্ছা করি।

4562ইসমাঈল ইবন মাসউদ (রহঃ) ... মুসলিম ইবন ইয়াসার ও আবদুল্লাহ ইবন উবায়দা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। এক স্থানে উবাদা ইবন সামিত এবং মুআবিয়া (রাঃ) একত্র হলে উবাদা (রাঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে নিষেধ করেছেন, স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ, রৌপ্যের বিনিময়ে রৌপ্য, গমের বিনিময়ে গম, যবের বিনিময়ে যব, খোরমার বিনিময়ে খোরমা বিক্রয় করতে। তাদের একজন বললেনঃ এবং লবণের বিনিময়ে লবণ, কিন্তু অন্যজন তা বলেননি, তবে সমপরিমাণে একই রকমের হলে দোষ নেই। তাদের একজন বললেনঃ যে ব্যক্তি বেশি নেয় বা বেশি দেয়, সে সুদের লেনদেন করল। কিন্তু অন্যজন তা বলেন নি। আর তিনি আমাদেরকে আদেশ করেছেন যে, আমরা রৌপ্যের বিনিময়ে স্বর্ণ এবং স্বর্ণের বিনিময়ে রৌপ্য, যবের বিনিময়ে গম এবং গমের বিনিময়ে যব হলে হাতে হাতে যেরূপ ইচ্ছা বিক্রি করতে পারবো। মুআবিয়া (রাঃ)-এর নিকট এই হাদীস পৌঁছলে তিনি দাঁড়িয়ে বলেনঃ কেন যে কিছু লোক রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এসব হাদীস বর্ণনা করে, যা আমরা তাঁর থেকে শুনিনি অথচ আমরাও তাঁর সাহচর্যে থেকেছি। এ কথা উবাদা ইবন সামিত (রাঃ)-এর নিকট পৌছলে, তিনি দাঁড়িয়ে ঐ হাদীস পুনঃ উল্লেখ করে বলেনঃ আমরা যা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে শ্রবণ করেছি, নিশ্চয়ই বর্ণনা করবো, যদিও মুআবিয়া (রাঃ) তা অপছন্দ করেন।

4563কাতাদা (রহঃ) ... বদরী সাহাবী উবাদা ইবন সামিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এই মর্মে বায়আত করেছিলেন যে, তিনি আল্লাহর ব্যাপারে কোন নিন্দুকের নিন্দার ভয় করবেন না। তিনি ভাষণ দিতে দাঁড়িয়ে বললেনঃ হে লোক সকল! তোমরা ক্রয়-বিক্রয়ের এমন কতক পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছ, আমি জানি এগুলো কোন্ ধরনের? জেনে রাখ, সোনার বিনিময়ে সোনা সমান সমান হতে হবে, তা পিণ্ড আকারে হোক বা মুদ্রারূপে। আর রূপার বিনিময়ে রূপা তা পিণ্ড আকারে হোক বা মুদ্রারূপে, সমপরিমাণ হতে হবে। সোনার বিনিময়ে রূপা যদি নগদ নগদ হয়, তবে রূপা বেশি হলেও ক্ষতি নেই, কিন্তু বাকিতে বৈধ হবে না। আর জেনে রাখ! গমের বিনিময়ে গম এবং যবের বিনিময়ে যব সমপরিমাণ হতে হবে। কিন্তু যবের বিনিময়ে গম বিক্রয় করলে যব অধিক হলেও তাতে কোন ক্ষতি নেই। কিন্তু হাতে হাতে লেনদেন হতে হবে, বাকিতে বিক্রয় করা চলবে না। আর জেনে রাখ, খাোরমার বিনিময়ে খোরমা বিক্রয় হলে সমপরিমাণ হতে হবে, এমনকি তিনি লবণের কথাও এভাবে উল্লেখ করলেন। যদি কেউ বেশি দেয় বা নেয়, তবে সে সুদে জড়িত হল।

4564মুহাম্মদ ইবনুল মুসান্না ও ইয়াকূব ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... উবাদা ইবন সামিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ, পিণ্ড আকারে হোক বা মুদ্ররূপে, সমপরিমাণ হতে হবে এবং রূপার বিনিময়ে রূপা, তা পিণ্ড আকারে হোক বা মুদ্রারূপে, সমপরিমাণ হতে হবে। লবণের বিনিময়ে লবণ, খোরমার বিনিময়ে খোরমা এবং গমের বিনিময়ে গম এবং যবের বিনিময়ে যব ক্রয়-বিক্রয় হলে সমপরিমাণ হতে হবে। যে তা থেকে অধিক নেয় বা দেয়, সে সুদে লিপ্ত হল। ইয়াকূব যবের বিনিময়ে যবের কথা উল্লেখ করেন নি।

4565ইসমাঈল ইবন মাসউদ (রহঃ) ... সুলায়মান ইবন আলী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। আবুল মুতাওয়াক্কিল তাদের সাথে বাজারে গেলে তাঁর নিকট একদল লোক এসে দাঁড়াল, তখন আমিও তাদের মধ্যে ছিলাম। তিনি বলেন, আমরা বললাম, আমরা আপনার নিকট মুদ্রার লেনদেন সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করার জন্য এসেছি। তিনি বললেনঃ আমি আবু সাঈদ খুদরীকে বলতে শুনেছি, এমনই সময় এক ব্যক্তি বলল, আপনার এবং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মধ্যে আবু সাঈদ ব্যতীত অন্য কেউ নেই? তিনি বললেনঃ আমার এবং তাঁর মধ্যে তিনি ছাড়া আর কেউই নেই। তিনি বলেছেনঃ স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ, রৌপ্যের বিনিময়ে রৌপ্য, গমের বিনিময়ে গম, যবের বিনিময়ে যব, খোরমার বিনিময়ে খোরমা এবং লবণের বিনিময়ে লবণ সমপরিমাণে ক্রয়-বিক্রয় শুদ্ধ হবে। যে ব্যক্তি এর উপর কিছু বেশি দেবে বা নেবে, সে সুদের মধ্যে লিপ্ত হবে এবং দাতা-গ্রহীতা তাতে সমান।

4566হারূন ইবন আবদুল্লাহ্ (রহঃ) ও ইয়াকূব ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... উবাদা ইবন সামিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ স্বর্ণের এক পাল্লার বিনিময়ে এক পাল্লা হওয়া অপরিহার্য, তখন মুআবিয়া (রাঃ) বললেনঃ এর কথা কিছুই হচ্ছে না। উবাদা (রাঃ) বললেনঃ আল্লাহর কসম! আমি এ কথার পরওয়া করি না যে, আমি ঐ দেশে থাকবো না, যেখানে মুআবিয়া (রাঃ) রয়েছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এটা বলতে শুনেছি।

4567কুতায়বা ইবন সাঈদ (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দীনারের বিনিময়ে দীনার এবং দিরহামের বিনিময়ে দিরহাম বিক্রয় করবে, এমনভাবে, যেন উভয়ের মধ্যে কম-বেশি না হয়।

4568কুতায়বা ইবন সাঈদ (রহঃ) ... উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, দীনারের বিনিময়ে দীনার এবং দিরহামের বিনিময়ে দিরহাম বিক্রয় করা যায় সমপরিমাণে, যেন তা বেশ কম না হয়। এটা আমাদের প্রতি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আদেশ।

4569ওয়াসিল ইবন আবদুল আ'লা (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ এবং রৌপ্যের বিনিময়ে রৌপ্য ক্রয়-বিক্রয় করবে পরিমাণে সমতা রক্ষা করে। যে ব্যক্তি বেশি দিল বা নিল, সে সুদে জড়িত হলো।

4570কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ বিক্রয় কর না সমপরিমাণ ব্যতীত এবং একটিকে অন্যটির উপর বর্ধিত কর না, রৌপ্যের বিনিময়ে রৌপ্য বিক্রি কর না সমপরিমাণ ব্যতীত। আর এদের কোনটিই বাকিতে বিক্রয় কর না।

4571হুমায়দ ইবন মাস'আদা ও ইসমাঈল ইবন মাস'উদ (রহঃ) ... আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার চোখ দেখেছে এবং আমার কান শুনেছে যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ এবং রৌপ্যের বিনিময়ে রৌপ্য সম্পূর্ণরূপে সমপরিমাণ ব্যতীত বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন। তিনি আরও বলেছেনঃ নগদকে বাকির বিনিময়ে বিক্রয় করবে না, আর একটাকে অন্যটার চাইতে অধিক করবে না।

4572কুতায়বা (রহঃ) ... আতা ইবন ইয়াসার (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, মু'আবিয়া (রাঃ) স্বর্ণ অথবা রৌপ্য নির্মিত একটি পানপাত্র তার চেয়ে বেশি ওজনের সোনা বা রূপার বিনিময়ে বিক্রয় করেন। তখন আবু দারদা (রাঃ) বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এইরূপ ক্রয়-বিক্রয় নিষেধ করতে শুনেছি, তবে সমান সমান হলে অসুবিধা নেই।

4573কুতায়বা (রহঃ) ... ফাযালা ইবন উবায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি খায়বার যুদ্ধের দিন বার দীনারে স্বর্ণের এমন একটি হার খরিদ করি, যা স্বর্ণ এবং পাথর খচিত ছিল। যখন আমি তার স্বর্ণ পৃথক করলাম, তখন তা বার দীনারের অধিক বের হলো। এটি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উল্লেখ করা হলে তিনি বললেনঃ যতক্ষণ তার স্বর্ণ পৃথক করা না হয় ততক্ষণ যেন তা বিক্রয় করা না হয়।

4574আমর ইবন মানসূর (রহঃ) ... ফাযালা ইবন উবায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, খায়বার যুদ্ধের দিন আমি এমন একটি হার পেলাম যা স্বর্ণ এবং মুক্তা খচিত ছিল। আমি তা বিক্রয় করতে চাইলাম। বিষয়টি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বর্ণনা করা হলে তিনি বললেনঃ স্বর্ণ এবং মুক্তা পৃথক করে ফেল। এরপর তা বিক্রয় কর।

4575মুহাম্মদ ইবন মানসূর (রহঃ) ... আবুল মিনহাল (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার এক অংশীদার বাকিতে রৌপ্য বিক্রয় করলো, পরে আমাকে বললে আমি বললামঃ এটা অবৈধ। তিনি বললেন, আমি সর্বসমক্ষে খােলা বাজারে বিক্রয় করেছি। কিন্তু কেউই একে মন্দ বলেনি। এরপর আমি বারা ইবন আযিবের নিকট গমন করে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মদীনা আগমনের কালে আমরা এরূপ ক্রয়-বিক্রয় করতাম। তা দেখে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যদি নগদ লেনদেন হয়, তবে এতে কোন ক্ষতি নেই; কিন্তু বাকিতে বিক্রি হলে তা সুদ হবে। তারপর বারা’ (রাঃ) আমাকে বললেনঃ তুমি যায়দ ইবন আরকাম-এর নিকট গমন কর। আমি তাঁর নিকট গেলে তিনিও অনুরূপ বললেন।

4576ইবরাহীম ইবন হাসান (রহঃ) ... আবুল মিনহাল (রহঃ) বলেন, আমি যায়দ ইবন আরকাম এবং বারা ইবন আযিব (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলে তাঁরা বলেন, আমরা উভয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময়ে ব্যবসা করতাম। আমরা তাঁকে রৌপ্যের বিনিময়ে স্বর্ণ এবং স্বর্ণের বিনিময়ে রৌপ্য ক্রয়-বিক্রয় সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেনঃ যদি নগদ ক্রয়-বিক্রয় হয়, তবে কোন ক্ষতি নেই। আর যদি ধারে বিক্রি হয়, তবে তা অবৈধ।

4577আহমদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন হাকাম (রহঃ) ... আবুল মিনহাল (রহঃ) বলেন, আমি বারা ইবন আযিব (রাঃ)-কে দীনার ও দিরহামের লেনদেন সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলে, তিনি আমাকে বললেনঃ তুমি যায়দ ইবন আরকাম (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা কর; কেননা তিনি আমার চাইতে উত্তম এবং তিনি অধিক অবহিত। এরপর আমি যায়দ (রাঃ)-কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে, তিনি বললেনঃ তুমি বারা ইবন আযিব (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা কর; কেননা তিনি আমার চাইতে উত্তম এবং তিনি অধিক জ্ঞানী। এরপর তাঁরা উভয়ে বললেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বর্ণের বিনিময়ে রৌপ্য ধারে বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন।

4578আহমাদ ইবন মানী' (রহঃ) ... আবূ বাকরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রূপার বিনিময়ে রূপা এবং সোনার বিনিময়ে সোনা বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন, তবে যদি সমপরিমাণ হয় তাতে কোন ক্ষতি নেই। আর তিনি আমাদেরকে অনুমতি দিয়েছেন যে, আমরা রূপার বিনিময়ে সোনা কিনতে পারি যেরূপই ইচ্ছা করি। আর সোনার বিনিময়ে রূপা কিনতে পারি যেভাবেই ইচ্ছা করি।

4579মুহাম্মদ ইবন ইয়াহইয়া ইবন মুহাম্মাদ ইবন কাসীর হাররানী (রহঃ) ... আবু বাকরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে রূপার বিনিময়ে রূপা বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন, কিন্তু নগদ লেনদেন হলে এবং সমপরিমাণে হলে তা বৈধ। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেনঃ তোমরা রূপার বিনিময়ে সোনা বিক্রি করবে, যেভাবে তোমাদের ইচ্ছা, আর সোনার বিনিময়ে রূপা, যেরূপ তোমাদের ইচ্ছা।

4580আমর ইবন আলী (রহঃ) ... উসামা ইবন যায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সুদ কেবল বাকি লেনদেনেই হয়ে থাকে।

4581কুতায়বা ইবন সাঈদ (রহঃ) ... আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবন আব্বাস (রাঃ)-কে বললামঃ আপনি যা বলছেন, তা কি আপনি আল্লাহর কিতাবে পেয়েছেন, না রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে শুনেছেন? তিনি বললেনঃ আমি তা আল্লাহর কিতাবেও পাইনি এবং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতেও শুনিনি কিন্তু উসামা ইবন যায়দ (রাঃ) আমাকে বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সুদ শুধু বাকি বিক্রির মধ্যেই হয়ে থাকে।

4582আহমাদ ইবন ইয়াহইয়া (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বাকী নামক স্থানে উট বিক্রি করতাম তখন আমি দীনারের বিনিময়ে বিক্রয় করতাম এবং দিরহাম গ্রহণ করতাম। একদা আমি হাফসা (রাঃ)-এর গৃহে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আপনার নিকট জানতে চাই যে, আমি বাকীতে উট বিক্রি করি, আর আমি দীনারের বিনিময়ে বিক্রয় করে দিরহাম নিয়ে থাকি। তিনি বললেনঃ কোন ক্ষতি নেই যদি তুমি ঐ দিনের দামে নিয়ে থাক এবং এমন অবস্থায় পৃথক হও যে, কারো কাছে কারো কিছু বাকি থাকবে না।

4583কুতায়বা (রহঃ) ... সিমাক (রহঃ) ইবন জুবায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত এবং তিনি ইবন উমর (রাঃ) থেকে। তিনি বলেন, আমি রূপার বিনিময়ে স্বর্ণ বিক্রি করতাম এবং স্বর্ণের বিনিময়ে রূপা বিক্রয় করতাম। আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে, তিনি বললেনঃ যখন তুমি বিক্রয় করবে, তখন আপন সাথী হতে পৃথক হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তোমাদের উভয়ের মধ্যে লেনদেন অবশিষ্ট থাকে।

4584মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... মূসা ইবন নাফি সাঈদ ইবন জুবায়র (রহঃ) থেকে। তিনি দীনারের পরিবর্তে দিরহাম এবং দিরহামের বিনিময়ে দীনার লেনদেন করতে অপছন্দ করতেন।

4585মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... আবূ হাশিম (রহঃ) সাঈদ ইবন জুবায়র থেকে এবং তিনি ইবন উমর (রাঃ) থেকে। তিনি দিরহামের বিনিময়ে দীনার নিতে এবং দীনারের বিনিময়ে দিরহাম নেওয়ায় কোনরূপ ক্ষতি মনে করতেন না।

4586মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... ইবরাহীম (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি দিরহামের বিনিময়ে দীনার নেয়াকে অপছন্দ করতেন, যদি তা ধারে হতো।

4587মুহাম্মদ ইবন বাশার (রহঃ) ... সাঈদ ইবন জুবায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি ধারে হলেও এতে কোন ক্ষতি মনে করতেন না।

4588মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... সাঈদ ইবন জুবায়র (রহঃ) থেকে অনুরূপ ঘটনা বর্ণনা করেছেন।

4589মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ্ ইবন আম্মার (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! একটু দাঁড়ান, আমি কিছু জিজ্ঞাসা করবো। আমি বাকী নামক স্থানে দীনারের বিনিময়ে উট বিক্রয় করে থাকি এবং পরে দিরহাম গ্রহণ করি। তিনি বললেনঃ যদি তুমি সেই দিনের মূল্য অনুযায়ী নিয়ে থাক, তবে কোন ক্ষতি নেই, আর যতক্ষণ না তোমরা এমনভাবে পৃথক হও যে, তোমাদের কারোর নিকট কারো কিছু বাকি রয়ে গেছে।

4590মুহাম্মদ ইবন আবদুল আ'লা (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় পদার্পণ করলেন, তখন তিনি একখানা পাল্লা আনালেন এবং আমাকে মেপে দিলেন এবং আমাকে আমার করয হতেও অধিক দিলেন।

4591মুহাম্মদ ইবন মানসূর ও মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন ইয়াযীদ (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কর আদায় করলেন এবং আমাকে অধিক দান করলেন।

4592ইয়াকূব ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... সুওয়ায়দ ইবন কায়স (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এবং মাখরামা আবাদী হিজর নামক স্থান হতে কাপড় নিয়ে আসলাম, এ সময় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট আসলেন। তখন আমরা মিনাতে ছিলাম, আর সেখানে এক ব্যক্তি পারিশ্রমিক নিয়ে পরিমাপের কাজ করতো। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের থেকে কয়েকটি পায়জামা কিনলেন। তারপর পরিমাপক লোকটিকে বললেনঃ দিরহামগুলো মেপে দাও এবং পাল্লা কিছু ঝুঁকিয়ে মাপ।

4593মুহাম্মদ ইবন মুসান্না ও মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... আবু সাফওয়ান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হিজরতের পূর্বে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট কয়েকটি পায়জামা বিক্রি করলাম, তখন তিনি আমাকে [মূল্যের দিরহামগুলো] ঝুঁকিয়ে মেপে দেন।

4594ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও মুহাম্মদ ইবন (ইসমাঈল ইবন) ইবরাহীম (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মদীনাবাসীদের পরিমাপ-পাত্রই ধর্তব্য আর দিরহাম-দীনার দ্বারা যাকাত আদায়ের ক্ষেত্রে মক্কাবাসীদের ওজনই ধর্তব্য।

4595মুহাম্মদ ইবন সালামা এবং হারিস ইবন মিসকীন (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি শস্য জাতীয় কোন খাদ্যবস্তু খরিদ করে, সে যেন তা অধিকারে আনার পূর্বে বিক্রয় না করে।

4596মুহাম্মাদ ইবন সালামা (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন খাদ্যবস্তু ক্রয় করে, যেন তা কবজা করার আগে বিক্রয় না করে।

4597মুহাম্মাদ ইবন হারব (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি কেউ কোন খাদ্য খরিদ করে, তবে সে যেন পরিমাপ করার আগে বিক্রয় না করে।

4598ইসহাক ইবন মানসূর (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি। আরও শুনেছি যে, যতক্ষণ না সে তা দখলে আনে।

4599কুতায়বা (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অধিকারে আনার পূর্বে যা বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন, তা হলো খাদ্যবস্তু।

4600মুহাম্মাদ ইবন রাফি' (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি খাদ্যবস্তু ক্রয় করে, সে যেন তা কবজা করার আগে বিক্রয় না করে। ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেন, আমার ধারণামতে, প্রত্যেক বস্তুই খাদ্যদ্রব্যের মত।

4601ইবরাহীম ইবন হাসান (রহঃ) ... হাকীম ইবন হিযাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তুমি কোন খাদ্যবস্তু খরিদ করবে, তখন তুমি তা স্বীয় অধিকারে আনার পূর্বে বিক্রি করবে না।

4602ইবরাহীম ইবন হাসান (রহঃ) ... হাকীম ইবন হিযাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

4603সুলায়মান ইবন মানসূর (রহঃ) ... হাকীম ইবন হিযাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সাদকার খাদ্য ক্রয় করলাম এবং তা আপন অধিকারে আনার পূর্বেই তা দ্বারা মুনাফা করলাম। এরপর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাঁর নিকট সে ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেনঃ তুমি তা নিজের অধিকারে না এনে বিক্রি করবে না।

4604সুলায়মান ইবন দাউদ ও হারিস ইবন মিসকীন (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে খাদ্যবস্তু ক্রয় করা হয়েছে, নিজ অধিকারে আনার পূর্বে তা বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন।

4605মুহাম্মদ ইবন সালামা এবং হারিস ইবন মিসকীন (রহঃ) ... আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময়ে আমরা খাদ্যবস্তু ক্রয় করতাম এবং আমাদের নিকট তিনি এমন এক ব্যক্তিকে পাঠাতেন যিনি আমাদেরকে আদেশ করতেন, আমরা যেন তা বিক্রয় করার পূর্বে যে স্থান হতে তা ক্রয় করেছি, সেখান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরের পূর্বে বিক্রয় না করি।

4606উবায়দুল্লাহ ইবন সাঈদ (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময় লোক বাজারের উঁচু স্থানে স্তূপে-স্তূপে খাদ্য সামগ্রী ক্রয় করতো। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে তা বিক্রয় করতে নিষেধ করতেন, যতক্ষণ না তা সেই স্থান হতে অন্য স্থানে সরানো হতো।

4607আবদুর রহমান ইবন আবদুল্লাহ ইবন আবদুল হাকাম (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময় লোক আরোহী লোকদের নিকট হতে খাদ্যশস্য খরিদ করতো, তিনি তাদেরকে তা বাজারে নিয়ে যাওয়ার পূর্বে ঐখানে বিক্রয় করতে নিষেধ করতেন।

4608নাসর ইবন আলী (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি দেখেছি যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে মানুষ যখন খাদ্যশস্যের স্তূপ ক্রয় করে ঘরে না উঠিয়ে ঐ স্থানে বিক্রয় করতো, তখন তাদেরকে এজন্য পিটানো হতো।

4609মুহাম্মদ ইবন আদম (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ইয়াহুদী হতে মেয়াদ স্থির করে বাকিতে খাদ্যশস্য ক্রয় করেছিলেন, আর তিনি তার কাছে নিজ বর্ম বন্ধক রেখেছিলেন।

4610ইসমাঈল ইবন মাসউদ (রহঃ) ... আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি একবার কিছু যবের রুটি এবং দুর্গন্ধযুক্ত চর্বি নিয়ে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হন। আনাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় এক ইয়াহূদীর নিকট বর্ম বন্ধক রেখে তার কাছ থেকে নিজ পরিবারবর্গের জন্য যব নিয়েছিলেন।

4611আমর ইবন আলী ও হুমায়দ ইবন মাসআদা (রহঃ) ... আমর ইবন শুআয়ব (রহঃ) তাঁর পিতার মাধ্যমে, তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঋণের শর্তে বিক্রি বৈধ নয় এবং এক বিক্রয়ে দুই শর্ত করাও বৈধ নয়। আজ ঐ বস্তু বিক্রয় করাও বৈধ নয়, যা তোমার নিকট নেই।

4612উসমান ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ) ... আমর ইবন শুআয়ব (রহঃ) তাঁর পিতার মাধ্যমে তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তির এমন বস্তু বিক্রয় করা উচিত নয়, যার সে মালিক নয়।

4613যিয়াদ ইবন আইয়্যুব (রহঃ) ... হাকীম ইবন হিযাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট জিজ্ঞাসা করলামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! এক ব্যক্তি আমার নিকট এসে আমার কাছ থেকে এমন কিছু ক্রয় করতে চায়, যা আমার নিকট নেই এবং আমি তা বাজার থেকে ক্রয় করে তার নিকট বিক্রয় করে থাকি। তখন রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তুমি এমন বস্তু বিক্রয় করবে না, যা তোমার নিকট থাকে না।

4614উবায়দুল্লাহ ইবন সাঈদ (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবন আবু মুজালিদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবন আবু আওফা (রাঃ)-কে দাদন ক্রয় সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলাম, তা কি বৈধ, না অবৈধ? তিনি বললেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবু বকর সিদ্দীক এবং উমর (রাঃ)-এর সময়ে গম, যব, খেজুর ইত্যাদিতে ‘দাদন’ করতাম। আর এই ব্যবসা আমরা এমন লোকদের সাথে করতাম, যাদের সম্বন্ধে আমাদের এই ধারণা ছিল না যে, তাদের নিকট এই বস্তু আছে কি নেই।

4615মাহমূদ ইবন গায়লান (রহঃ) ... ইবন আবুল মুজালিদ (রহঃ) বলেন, একদা আবু বুরদা এবং আবদুল্লাহ ইবন শাদ্দাদ দাদন বেচাকেনার ব্যাপারে বিতর্কে লিপ্ত হন। পরে তারা আমাকে ইবন আবু আওফার নিকট প্রেরণ করেন। আমি তাঁর নিকট জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময় এবং আবু বকর ও উমর (রাঃ)-এর সময় দাদন বেচাকেনা করতাম। আর আমরা এটা গম, যব, কিশমিশ, খেজুর ইত্যাদিতে এমন লোকদের সাথে করতাম, যাদের নিকট এ সকল বস্তু আছে বলে আমরা মনে করতাম। এরপর আমি ইবন আবযা (রাঃ)-কে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনিও অনুরূপ বলেন।

4616কুতায়বা ইবন সাঈদ (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদীনায় আসেন, তখনও তারা খেজুরে দুই অথবা তিন বছর পর্যন্ত দাদন বেচাকেনা করতো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করে বলেনঃ যে ব্যক্তি দাদন ক্রয় করবে, সে যেন পরিমাপ, ওজন এবং সময় নির্ধারণ করে নেয়।

4617আমর ইবন আলী (রহঃ) ... আবু রাফি (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তির সাথে একটি জওয়ান উটে ‘সালাফ’ করেন (অর্থাৎ দাদন বা অগ্রিম মূল্যে বিক্রি করেন); পরে ঐ ব্যক্তি তার উট চাইতে আসলে তিনি এক ব্যক্তিকে বললেনঃ যাও, এই ব্যক্তির জন্য একটি জওয়ান উট কিনে আন। সে ব্যক্তি ফিরে এসে বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি তো সাত বছরের উট পেয়েছি। তিনি বললেনঃ তাকে সেটিই দিয়ে দাও। মুসলিমদের মধ্যে উত্তম ঐ ব্যক্তি, যে কর উত্তমভাবে আদায় করে।

4618আমর ইবন মানসূর (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এক ব্যক্তির একটি উট পাওনা ছিল। সে উট নিতে আসলে তিনি বললেনঃ তোমরা তাকে দিয়ে দাও। তারা ঐ উটের বয়সের চেয়ে অধিক বয়সের উট পেল। তিনি বললেনঃ ওটাই দিয়ে দাও। সে ব্যক্তি বললোঃ আপনি আমাকে পুরোপুরি আদায় করেছেন। রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তিই উত্তম, যে উত্তমরূপে পরিশোধ করে।

4619ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... ইরবায ইবন সারিয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে একটি জওয়ান উট খরিদ করলাম এবং আমি তা নেয়ার জন্য তাঁর নিকট উপস্থিত হলাম। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ আমি তোমাকে উত্তম জাতের উট দান করবো। এরপর তিনি আমাকে উত্তম উট দান করলেন। আর এক বেদুঈন উট নেয়ার জন্য রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হলে, তিনি বললেনঃ তাকে ঐ বয়সের একটি উট দিয়ে দাও। তাঁরা তাকে বড় একটি উট দিলে তখন বেদুঈন লোকটি বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! এই উট তোমরা আমার উট হতে উত্তম ! তিনি বললেনঃ তোমাদের মধ্যে সেই ব্যাক্তি শ্রেষ্ঠ, যে পরিশোধে শ্রেষ্ঠ?

4620আমর ইবন আলী (রহঃ) ... সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামপশুর বিনিময়ে পশু বাকিতে বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন।

4621কুতায়বা (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক গোলাম এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট হিজরত করার উপর বায়আত গ্রহণ করল। নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা জানতেন না যে সে দাস। এরপর তার মালিক তাকে তালাশ করতে আসে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি তাকে আমার নিকট বিক্রয় কর। তিনি দুইজন কালো দাসের বিনিময়ে তাকে ক্রয় করেন। এরপর তিনি কারো বায়আত নিতেন না যতক্ষণ না তার দাস অথবা স্বাধীন হওয়ার বিষয় জেনে নিতেন। যদি সে স্বাধীন হতো, তা হলে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বায়আত নিতেন।

4622ইয়াহইয়া ইবন হাকীম (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামবলেছেনঃ পেটের বাচ্চার বাচ্চাকে বিক্রয় করা সুদ।

4623মুহাম্মাদ ইবন মানসূর (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পশুর গর্ভস্থ শাবকের শাবককে বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন।

4624কুতায়বা (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পেটের বাচ্চার বাচ্চাকে বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন।

4625মুহাম্মদ ইবন সালামা ও হারিস ইবন মিসকীন (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পেটের বাচ্চার বাচ্চাকে বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন, যা ছিল জাহিলী যুগের এক প্রকার বিক্রয় পদ্ধতি। যেমন কোন ব্যক্তি একটি উট ক্রয় করত এবং মূল্য দেওয়ার অঙ্গীকার এভাবে করতো যে, যখন এই উটনী বাচ্চা দিবে এবং সেই বাচ্চা বাচ্চা দিবে, তখন সে মূল্য পরিশোকরধ করবে।

4626মুহাম্মদ ইবন মানসূর (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কয়েক বছরের জন্য ফল বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন।

4627ইসহাক ইবন মানসূর (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কয়েক বছরের জন্য ফল বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন।

4628আমর ইবন আলী (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দুইখানা কিতরী চাদর ছিল, যখন তিনি তা গায়ে দিয়ে বসতেন এবং ঘামতেন, তখন ঐ চাদর তাঁর জন্য ভারি বােধ হতো। এ সময় শামদেশ হতে এক ইয়াহূদীর কাপড় আসলে আমি তাঁকে বললামঃ যদি আপনি তার নিকট কাউকে পাঠিয়ে দুইখানা চাদর এই শর্তে আনিয়ে নিতেন যে, যখন আপনার আর্থিক স্বচ্ছলতা আসবে, তখন তার মূল্য আদায় করে দিবেন। তিনি একজন লোককে সে ইয়াহূদীর নিকট পাঠালে সে বললোঃ আমি মুহাম্মদ এর মতলব বুঝতে পেরেছি। তিনি আমার মাল অথবা আমার চাদর দুইখানা আত্মসাৎ করতে চান। একথা শুনে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সে মিথ্যা বলেছে এবং সে ভালরূপেই অবগত আছে যে, আমি আল্লাহ তা'আলাকে অধিক ভয় করে থাকি। আর আমি সকলের চেয়ে অধিক আমানত আদায় করে থাকি।

4629ইসমাঈল ইবন মাসউদ (রহঃ) ... আমর ইবন শুআয়ব (রহঃ) তাঁর পিতা, তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিক্রয় ও ঋণ একত্র করতে এবং বিক্রয়ে দুটি শর্ত যোগ করতে এবং এমন বস্তুতে মুনাফা করতে নিষেধ করেছেন, যা তার দখলীভুক্ত নয়।

4630যিয়াদ ইবন আইয়ুব (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবন আমর (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঋণ ও বিক্রি একত্র করা বৈধ হবে না, আর একই বিক্রয়ে দুই শর্তও বৈধ নয়। আর যে বস্তু অধিকারে নেই তা দ্বারা মুনাফা করাও বৈধ নয়।

4631মুহাম্মদ ইবন রাফি (রহঃ) ... আমর ইবন শুআয়ব (রহঃ) তাঁর পিতার মাধ্যমে তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঋণ এবং বিক্রি একত্র করতে নিষেধ করেছেন এবং একই বিক্রয়ে দুই শর্ত করতে নিষেধ করেছেন, আর যা নিজের কাছে নেই তা বিক্রয় করতে, আর যা নিজের অধিকারে থাকে না; তার লাভ গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন।

4632‘আমর ইবন আলী, ইয়াকূব ইবন ইব্রাহীম ও মুহাম্মদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই বিক্রয়ে দুই বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন।

4633যিয়াদ ইবন আইয়্যুব (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুহাকালা, মুযাবানা এবং মুখাবারা’ ধরনের ক্রয়-বিক্রয় করতে এবং বিক্রিত দ্রব্য হতে কিছু অংশ বাদ রাখতে নিষেধ করেছেন, তবে তার পরিমাণ জ্ঞাত থাকলে অসুবিধা নেই।

4634আলী ইবন হুজর (রহঃ) ও যিয়াদ ইবন আইয়্যুব (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুহাকালা’, মুযাবানা', মুখাবারা', মুআওমা এবং সুনিয়া ধরনের লেনদেন করতে নিষেধ করেছেন, কিন্তু আরায়া’-এর অনুমতি দিয়েছেন।

4635কুতায়বা (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন খেজুর গাছে পরাগায়ণ করে, তারপর সেই গাছ বিক্রি করে, তবে ফল তারই থাকবে। যদি ক্রেতা এই শর্ত করে যে, ফল আমি নেব, আর বিক্রেতা তাতে সম্মত হয়ে যায়, তাহলে ফল তার হবে।

4636ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি পরাগায়ণের পর খেজুর বৃক্ষ ক্রয় করে, তার ফল বিক্রেতা পাবে। তবে যদি ক্রেতা শর্ত করে নেয়, তাহলে সে পাবে। আর যে ব্যক্তি দাস বিক্রি করে, আর ঐ দাসের কিছু মাল থাকে, সেই মাল বিক্রেতার, কিন্তু যদি ক্রেতা শর্ত করে, তবে মাল তার হবে।

4637আলী ইবন হুজুর (রহঃ) ... জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এক সফরে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলাম। পথে আমার উট অচল হয়ে গেলে আমি ঐ উটকে ছেড়ে দিতে ইচ্ছা করলাম। এমন সময় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে আমার সথে মিলিত হলেন এবং তিনি ঐ উটের জন্য দু'আ করলেন এবং তাকে হাঁকালেন। পরে তা এমন দ্রুত চলতে লাগলো যে, পূর্বে কখনও তা এমন চলেনি। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এই উট চল্লিশ দিরহামের বিনিময়ে আমার কাছে বিক্রি করে দাও। আমি বললামঃ আমি তা বিক্রি করবো না। তিনি বললেনঃ বিক্রি করে ফেল। তখন আমি চল্লিশ দিরহামের বিনিময়ে তা বিক্রি করে ফেললাম এবং এই শর্তে করলাম যে, আমরা মদীনায় পৌছা পর্যন্ত তাতে সওয়ার হব। যখন আমরা মদীনায় পৌছলাম, তখন আমি উট নিয়ে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হলাম এবং মূল্য চাইলাম। তারপর আমি ফিরে চললে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ডেকে পাঠালেন। তারপর বললেনঃ তুমি কি মনে কর যে, আমি তোমার সাথে দর-কষাকষি করেছিলাম তোমার উট নেয়ার জন্য? নাও, এই তোমার উট এবং এই তোমার দিরহাম।

4638মুহাম্মদ ইবন ইয়াহইয়া (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে আমাদের একটি পানি বহনকারী উটের উপর সওয়ার হয়ে জিহাদ করেছি। এর পর তিনি লম্বা হাদীস বর্ণনা করে বললেন কিছু কথা, যার মর্ম হলো, আমার উট অচল হয়ে গেল; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে উটকে হাঁকালে সেটি দ্রুত চলতে আরম্ভ করল। এমনকি তা বাহিনীর অগ্রগামী হয়ে গেল। তখন রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে জাবির! আমি তা দেখেছি, তোমার উট দ্রুতগামী হয়ে গেছে। আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! সে তোমরা আপনার বরকতে। তিনি বললেনঃ তুমি তা আমার নিকট বিক্রয় কর এবং মদীনায় পৌছা পর্যন্ত তাতে আরোহণ কর। আমি তা তাঁর নিকট বিক্রয় করলাম, যদিও আমর উটের অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল। আমার লজ্জা হলো যে, তিনি ক্রয় করতে চাচ্ছেন, আর আমি তা বিক্রয় করবো না। জিহাদ শেষে আমরা যখন মদীনার নিকটবর্তী হলাম, তখন আমি দ্রুত গমনের জন্য তাঁর নিকট অনুমতি প্রার্থনা করলাম। আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি সদ্য বিবাহিত। তিনি বললেনঃ তুমি কুমারী বিবাহ করেছ, না বিধবা? আমি বললামঃ বিধবা। কারণ আমার পিতার মৃত্যুর পর তিনি কয়েকজন কুমারী কন্যা রেখে গেছেন। সেজন্য তাদের সামনে একটি কুমারী স্ত্রী বিবাহ করা আমার ভাল মনে হয়নি। তাই আমি বিধবা বিবাহ করেছি। যেন সে তাদেরকে শিক্ষা দেয় এবং আদব-কায়দার তালীম দেয়। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে অনুমতি দান করলেন এবং বললেনঃ রাত্রে স্ত্রীর নিকট গমন কর। আমি মদীনায় এসে মামার নিকট উট বিক্রি করার ঘটনা বললাম। তিনি আমাকে তিরস্কার করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় আসলে আমি ভোরে উট নিয়ে গেলাম। তখন তিনি উটের মূল্য দিলেন এবং উটও ফিরিয়ে দিলেন। তিনি অন্যান্যের সঙ্গে আমাকে গনীমতের অংশ দান করলেন।

4639মুহাম্মদ ইবনুল আলা (রহঃ) ... জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সফরে আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলাম। আমি উটে সওয়ার ছিলাম। তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ তুমি সকলের পিছনে থাক, কারণ কি? আমি বললামঃ আমার উট দুর্বল হয়ে গেছে। তিনি তার লেজ ধরে হাঁকালেন; ফলে সে এমন হলো যে, আমি সামনের লোকদের মধ্যে পৌছে গেলাম এবং আমি চিন্তিত হয়ে পড়লাম যে, আমার উটটির মাথা অন্যদের উটের সামনে চলে যায় কিনা। মদীনার নিকটবর্তী হলে তিনি বললেনঃ তোমার উটের অবস্থা কী? এটি আমার নিকট বিক্রি কর। আমি বললামঃ বিক্রয় নয়, বরং ইয়া রাসূলাল্লাহ! এটি আপনারই। তিনি বললেনঃ না, বিক্রি কর। আমি বললামঃ আপনি মূল্য ছাড়াই গ্রহণ করুন। তিনি বললেনঃ না, বিক্রি কর; আমি তা চল্লিশ দিরহামে কিনলাম। তুমি এতে সওয়ার হতে থাক, মদীনায় পৌছলে আমার নিকট নিয়ে এস। আমি মদীনা পৌঁছে তাঁর খিদমতে উট হাযির করলাম। তিনি বিলাল (রাঃ)-কে বললেনঃ হে বিলাল! তাকে এক উকিয়া রূপা মেপে দাও, আরো এক কীরাত অধিক দিও। আমি বললামঃ এই এক কীরাত রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে অতিরিক্ত দান করলেন, এজন্য আমি তা একটি থলিতে রাখলাম এবং তা সর্বদা আমার নিকট রক্ষিত থাকতো। অবশেষে হাররার দিন সিরীয়াবাসীরা এলে তারা আমার নিকট থেকে সব কিছুই লুট করে নিয়ে গেল।

4640মুহাম্মদ ইবন মানসূর (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে আমাদের একটি পানি বহনকারী মন্দ উটের উপর সওয়ার দেখলেন। আমি বললামঃ আফসোস! আমাদের সর্বদা পানি বহনের খারাপ উট থাকে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে জাবির! তুমি কি এটি বিক্রয় করবে? আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এই উট মূল্য ছাড়াই আপনার জন্য। তিনি বললেন, হে আল্লাহ্! জাবিরকে ক্ষমা করুন এবং তার উপর রহম করুন। আমি এত মূল্যে এটা ক্রয় করলাম। আর আমি তোমাকে মদীনা পর্যন্ত তাতে সওয়ার হওয়ার অনুমতি দিলাম। মদীনায় পৌছে আমি উট প্রস্তুত করে নিয়ে গেলাম। তখন রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে বিলাল! তাকে তার মূল্য দিয়ে দাও। আমি ফিরে যেতে থাকলে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে আবার ডাকলেন। আমার আশংকা হলো যে, তিনি না আবার উটটি ফিরিয়ে দেন। তিনি বললেন, উটও তোমারই (অতএব তুমি তা নিয়ে যাও)।

4641মুহাম্মদ ইবন আবদুল আ'লা (রহঃ) ... জাবির ইবন আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে সফর করছিলাম। আমি একটি পানি আনয়নকারী উটের উপর সওয়ার ছিলাম। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি এটা এত মূল্যে বিক্রয় করবে? আল্লাহ্ তোমায় ক্ষমা করুন। আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! এটা আপনারই। তিনি আবার বললেনঃ তুমি এটা এতো মূল্যে বিক্রয় করবে কি? আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! এটা আপনারই। তিনি বললেনঃ তুমি কি এটা এতো মূল্যে বিক্রয় করবে? আমি বললামঃ হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এটা আপনারই! আবু নাযরা (রহঃ) বলেনঃ “আল্লাহ্ তোমায় ক্ষমা করুন”- এমন একটি কথা, যা মুসলিমগণ বলে থাকে; এই এই কাজ কর, আল্লাহ্ তোমরামায় ক্ষমা করবেন।

4642কুতায়বা ইবন সাঈদ (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বারীরা (রাঃ)-কে ক্রয় করলে তার মালিকগণ শর্ত করলো যে, ওয়ালা তারা পাবে। আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট তা উল্লেখ করলে, তিনি বললেনঃ তুমি আযাদ করে দাও, ওয়ালা সে-ই পাবে; যে অর্থ খরচ করে। তারপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ডেকে আনান এবং তার স্বামীর ব্যাপারে তাকে ইখতিয়ার দেন। সে তার স্বামী হতে পৃথক হওয়াকেই পছন্দ করে, আর তার স্বামী ছিল স্বাধীন।

4643মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি মুক্ত করার জন্য বারীরা (রাঃ)-কে ক্রয় করার ইচ্ছা করলে তার মালিকেরা শর্ত আরোপ করে যে, তার ওয়ালা আমরা নেব। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এই ঘটনার উল্লেখ করা হলে, তিনি বললেনঃ তুমি তাকে ক্রয় করে মুক্ত করে দাও। কেননা ওয়ালা সে-ই পাবে, যে মুক্ত করেছে। একদা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গোশত উপস্থিত করা হলে, কেউ কেউ বললো, এ তোমরা সাদকার গোশত যা বারীরা (রাঃ)-কে দেওয়া হয়েছে। তখন তিনি বললেনঃ বারীরার জন্য সাদকা, আর আমাদের জন্য (বারীরার পক্ষ হতে) হাদিয়া। বারীরা মুক্ত হওয়ার পর তাকে ইখতিয়ার দেওয়া হলো - (যে, সে ইচ্ছা করলে তার স্বামীর কাছে থাকতে পারে বা পৃথক হতে পারে)।

4644কুতায়বা (রহঃ) ... আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আয়েশা (রাঃ) একজন দাসী ক্রয় করে মুক্ত করার ইচ্ছা করলে তার মালিকেরা বললোঃ আমরা এই দাসীকে আপনার নিকট এই শর্তে বিক্রয় করতে পারি যে, তার ওয়ালা আমরা পাবো। তিনি তা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বর্ণনা করলে, তিনি বললেনঃ এই শর্ত যেন তোমাকে ক্রয় করা হতে বিরত না রাখে। কেননা ‘ওয়ালা’ ঐ ব্যাক্তিরই হবে যে মুক্ত করবে।

4645আহমদ ইব্ন হাফস (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বন্টনের পূর্বে গনীমতের মাল বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন, (যুদ্ধবন্দীদের মধ্যে) যারা অন্তঃসত্তা, সন্তান ভূমিষ্ঠ না হওয়া পর্যন্ত তাদের সাথে সহবাস করতে নিষেধ করেছেন। আর বন্য জন্তুর মধ্যে যেসব দাঁতে শিকার করে, সেগুলোর গোশত খেতে নিষেধ করেছেন।

4646আমর ইবন যুরারা (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক এজমালি সম্পত্তিতে শুফআ (ক্রয়ের অগ্রাধিকার) রয়েছে, তা বাগান হোক অথবা ঘরবাড়ি হোক। কাজেই এক শরীকের জন্য তা বিক্রয় করা বৈধ হবে না অন্য শরীককে না জানিয়ে। যদি বিক্রয় করে ফেলে, তবে অন্য শরীকই তার বেশি হকদার, যতক্ষণ না সে অনুমতি দান করে।

4647হায়সাম ইবন মারওয়ান (রহঃ) ... উমারা ইবন খুযায়মা (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তার চাচা যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবী ছিলেন, তাঁর নিকট বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক বেদুঈন হতে একটি ঘোড়া ক্রয় করলেন। তারপর বেদুঈন ঘোড়ার মূল্য গ্রহণের জন্য তার পিছনে চলল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দ্রুত চলছিলেন আর সে ধীরে। এ সময় লোকজন তার সামনে পড়লে তারা ঘোড়ার দরদাম করতে লাগলো। তারা জানতো না যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা ক্রয় করেছেন। তাই তারা তার স্থিরীকৃত মূল্যের উপর আরও মূল্য বাড়িয়ে বলতে লাগলো। শেষে ঐ বেদুঈন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আহবান করে বলতে লাগল, আপনি যদি এটা ক্রয় করেন তবে করুন, না হয় আমি অন্যের নিকট বিক্রি করে দিচ্ছি। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথা শুনে দাঁড়ালেন এবং বললেনঃ তুমি কি এটা আমার নিকট বিক্রি করনি? সে বললোঃ না, আমি এটা আপনার নিকট বিক্রি করিনি। তিনি বললেনঃ আমি এটা তো তোমার থেকে ক্রয় করে নিয়েছি। কোন কোন লোক এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পক্ষ অবলম্বন করলো, আর কেউ কেউ বেদুঈনের পক্ষ অবলম্বন করলো। বেদুইন বললোঃ তা হলে আপনি সাক্ষী পেশ করুন, যে সাক্ষ্য দেবে যে, আমি এটা আপনার নিকট বিক্রয় করেছি। তখন খুযায়মা ইবন সাবিত (রাঃ) বললেনঃ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তুমি তাঁর নিকট এটা বিক্রয় করেছ। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুযায়মাকে জিজ্ঞাসা করলেনঃ তুমি কেন সাক্ষ্য দিচ্ছ (তুমি তো উপস্থিত ছিলে না)? তিনি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনাকে সত্য নবী বলে বিশ্বাস করার দরুন। বর্ণনাকারী বলেনঃ এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুযায়মা (রাঃ)-এর একার সাক্ষ্যকে দুই ব্যক্তির সাক্ষ্যরূপে সাব্যস্ত করেন।

4648মুহাম্মদ ইবন ইদরীস (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ যখন ক্রেতা এবং বিক্রেতা মূল্যের ব্যাপারে বিরোধ করবে, আর তাদের মধ্যে সাক্ষী না থাকবে, তখন বিক্রেতার কথা ধর্তব্য হবে অথবা তারা সে বেচাকেনা পরিত্যাগ করবে।

4649ইবরাহীম ইবন হাসান, ইউসুফ ইবন সাঈদ ও আবদুর রহমান ইবন খালিদ (রহঃ) ... আবদুল মালিক ইবন উবায়দ (রহঃ) বলেন, একদা আমরা আবু উবায়দা ইবন আবদুল্লাহ্ ইবন মাসউদ-এর নিকট উপস্থিত হলাম। এমন সময় সেখানে দুইজন লোক আসল, যারা মাল বিক্রি করেছে। এক ব্যক্তি বললোঃ আমি তো এত মূল্যে খরিদ করেছি। অন্যজন বললোঃ এত মূল্যে বিক্রয় করেছি। আবু উবায়দা (রাঃ) বললেনঃ ইবন মাসউদ (রাঃ)-এর নিকট এরূপ একটি মোকদ্দমা আসলে তিনি বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তাঁর নিকট অনুরূপ এক মোকদ্দমা আসলে তিনি বিক্রেতাকে শপথ করতে বললেন এবং ক্রেতাকে বললেন, এই মূল্যে হয় তুমি তা ক্রয় কর, না হয় তা পরিত্যাগ কর।

4650আহমদ ইবন হারব (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়াহূদীর নিকট হতে ধারে কিছু খাদ্যবস্তু খরিদ করেন এবং তিনি তাঁর লৌহ বর্ম বন্ধক রাখেন।

4651ইউসুফ ইবন হাম্মাদ (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ইনতিকাল করেন, তখনও তাঁর লৌহ বর্ম এক ইয়াহূদীর নিকট ত্রিশ সা' যবের বিনিময়ে বন্ধক ছিল, যা তিনি তাঁর পরিবারস্থ লোকের জন্য খরিদ করেছিলেন।

4652কুতায়বা (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আযরা গোত্রের এক ব্যক্তি তার এক দাসকে তার মৃত্যুর পর সে মুক্ত হবে এই মর্মে মুক্তি দিল। এ সংবাদ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট পৌছলে তিনি বলেনঃ এই দাস ব্যতীত তোমার নিকট অন্য কোন মাল আছে কী? সে বললোঃ না। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমার নিকট হতে এই দাসকে কেউ ক্রয় করবে কি? তখন নু'আয়ম ইবন আবদুল্লাহ্ ঐ দাসকে আটশত দিরহামের বিনিময়ে ক্রয় করলেন এবং ঐ দিরহাম তাঁর নিকট উপস্থিত করলেন। তিনি এই দিরহাম ঐ মালিককে দিয়ে বললেনঃ প্রথমে নিজের জন্য খরচ কর। তারপর কিছু থাকলে তা পরিবারের লোকদেরকে দান কর। আরও অবশিষ্ট থাকলে আত্মীয়-স্বজনকে দান কর। তারপরেও যদি থেকে যায়, তবে এরূপ, এরূপ এবং এরূপ । অর্থাৎ তোমার সামনে, তোমার ডানে এবং তোমার বামে দান কর।

4653যিয়াদ ইবন আইয়ুব (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আবূ মাযকূর নামের এক আনসারী তাঁর ইয়াকূব নামের দাসকে বলল, তুমি আমার মৃত্যুর পর মুক্ত হয়ে যাবে। তার এ ছাড়া কোন অর্থ-সম্পদ ছিল না। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ডেকে আনলেন। তারপর বললেন, কে এই গোলামকে ক্রয় করবে? নু'আয়ম ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ) ঐ গোলামকে আটশত দিরহামের বিনিময়ে ক্রয় করলেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ দিরহামগুলো আনসারী ব্যক্তিকে দিয়ে বললেন, তোমাদের কেউ গরীব হলে সে যেন নিজ হতে আরম্ভ করে। তারপরও কিছু উদ্বৃত্ত থাকলে যেন স্বীয় পরিবারস্থ লোকের জন্য ব্যয় করে। তারপরও কিছু থাকলে তা আত্মীয়-স্বজনের জন্য ব্যয় করবে। তারপরও কিছু অবশিষ্ট থাকলে, এদিক-ওদিক গরীব-দুঃখীদের দান করবে।

4654মাহমূদ ইবন গায়লান (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুদাব্বার গোলাম বিক্রি করেছেন।

4655কুতায়বা ইবন সাঈদ (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। বারীরা (রাঃ) তাঁর মুক্তিলাভের চুক্তিতে ধার্যকৃত অর্থ আদায়ে সাহায্য চাওয়ার জন্য আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট আসলেন। তিনি বললেন, তুমি গিয়ে তোমার মালিকদেরকে জিজ্ঞাসা কর, যদি তারা এ কথায় সম্মত হয় যে, আমি তাদের সকল প্রাপ্য আদায় করে দিলে 'ওয়ালা' আমার হবে, তা হলে আমি তোমার সমুদয় প্রাপ্য আদায় করে দেব। বারীরা (রাঃ) তাঁর মালিকদের একথা জানালে তারা তা অস্বীকার করে বললোঃ যদি আয়েশা তোমাকে সাহায্য করে পুণ্য অর্জন করতে চান তবে করতে পারেন, কিন্তু ওয়ালা আমাদেরই থাকবে। আয়েশা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট একথা উল্লেখ করলে তিনি বলেনঃ তুমি ক্রয় করে তাকে মুক্ত করে দাও। ওয়ালা তারই, যে মুক্ত করে। এরপর তিনি বললেনঃ আফসোস! লোকের কি হলো, তারা এমন শর্ত আরোপ করে যা আল্লাহর কিতাবে নেই। যারা এমন শর্ত করে, যা আল্লাহর কিতাবে নেই, তা পূর্ণ করা হবে না, যদিও শতবার শর্ত করে। আল্লাহর শর্তই অধিকতর গ্রহণযোগ্য ও পালনীয়।

4656ইউনুস ইবন আবদুল আ'লা (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বারীরা (রাঃ) আমার নিকট এসে বললোঃ হে আয়েশা! আমি আমার মালিকদের সাথে সাত উকিয়ার বিনিময়ে মুক্তিলাভের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছি, প্রতি বছর আমি এক উকিয়া আদায় করবো। অতএব আপনি এ ব্যাপারে আমাকে সাহায্য করুন। সে তখনও কিছুই আদায় করেনি। আয়েশা (রাঃ) তাঁর প্রতি সদয় হয়ে বলেনঃ তুমি তোমার মালিকদের কাছে গিয়ে বল, যদি তারা সম্মত হয়, তবে আমি একত্রেই তাদের প্রাপ্য সাত উকিয়া আদায় করে দেব কিন্তু ওয়ালা আমারই হবে। তারা বললোঃ আয়েশা (রাঃ) ইচ্ছা করলে সওয়াবের উদ্দেশ্য তোমার সাথে ভাল ব্যবহার যা ইচ্ছা করতে পারেন, কিন্তু ‘ওয়ালা আমাদের থাকবে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আয়েশা (রাঃ) এটা প্রকাশ করলে তিনি বললেনঃ তাদের কথায় তুমি এর থেকে বিরত থেক না। তুমি তাকে ক্রয় করে মুক্ত করে দাও। কেননা ‘ওয়ালা’ ঐ ব্যক্তির হবে, যে মুক্ত করে। তিনি তাই করলেন। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ লোকের অবস্থা কী হলো যে, তারা এমন শর্ত আরোপ করে, যা আল্লাহর কিতাবে নেই। যে এমন শর্ত আরোপ করবে, যা আল্লাহর কিতাবে নেই, তার সে শর্ত বাতিল বলে গণ্য হবে, তাতে সে শত শর্তই করুক না কেন। আল্লাহর আদেশই অধিকতর গ্রহণযোগ্য এবং আল্লাহর শর্তই বেশি শক্তিশালী। ‘ওয়ালা’ আযাদকারী ব্যক্তিই পাবে।

4657ইসমাঈল ইবন মাসউদ (রহঃ) ... আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়ালা বিক্রয় বা হেবা করতে নিষেধ করেছেন।

4658কুতায়বা ইবন সাঈদ (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘ওয়ালা’ বিক্রয় বা হেবা করতে নিষেধ করেছেন।

4659আলী ইবন হুজর (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়ালা বিক্রি করতে বা হেবা করতে নিষেধ করেছেন।

4660হুসায়ন ইবন হুরায়স (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পানি বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন।

4661কুতায়বা ও আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ ইবন আবদুর রাহমান (রহঃ) ... আবু মিনহাল (রহঃ) বলেন, আমি ইয়াস ইবন উমর (রাঃ) আরেকবার বলেন, ইযাস ইবন আবদ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে পানি বিক্রি নিষেধ করতে শুনেছি।

4662কুতায়বা ইবন সাঈদ (রহঃ) ... ইয়াস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রয়োজনাতিরিক্ত পানি বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন।

4663ইবরাহীম ইবন হাসান (রহঃ) ... ইয়াস ইবন আবদ (রাঃ) যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবী ছিলেন। তিনি বলেন, অতিরিক্ত পানি বিক্রয় করো না। কেননা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অতিরিক্ত পানি বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন।

4664কুতায়বা (রহঃ) ... ইবন ওয়ালা মিসরী (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি ইবন আব্বাস (রাঃ) এর নিকট আঙুর নিংড়ানো পানি সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেনঃ এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এক মটকা মদ হাদিয়া দিয়েছিল। তখন তিনি তাকে বললেনঃ তোমার কি জানা নেই যে, আল্লাহ তাআলা মদ হারাম করেছেন? এক ব্যক্তি ঐ ব্যক্তির কানে কানে কি কথা বললো, আর কী বললো তা আমি বুঝতে পারিনি। আমি তার নিকটস্থ এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করলাম। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি এর কানে কানে কী বলেছ? সে বললোঃ আমি তার কানে কানে বলেছি, তুমি এটা বিক্রয় করে দাও। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যেই সত্তা এর পান করাকে হারাম করেছেন, তিনি এর বিক্রয় করাও হারাম করেছেন।

4665মাহমূদ ইবন গায়লান (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন সুদের আয়াত নাযিল হলো, তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বরে দাঁড়িয়ে তা পাঠ করে শোনালেন। এরপর তিনি মদের ব্যবসা হারাম ঘোষণা করেন।

4666কুতায়বা (রহঃ) ... আবু মাসউদ উকবা ইবন আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুরের মূল্য, পতিতার রোজগার এবং গণকের পরিতোষিক নিশিদ্ধ করেছেন।

4667আবদুর রহমান ইবন আবদুল্লাহ ইবন আবদুল হাকাম (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতকগুলো বস্তুকে হারাম বলেছেন, এদের মধ্যে তিনি কুকুরের মূল্যের কথাও উল্লেখ করেছেন।

4668ইবরাহীম ইবন হাসান (রহঃ) ... জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুর ও বিড়ালের মূল্য নিতে নিষেধ করেছেন; তবে শিকারী কুকুর ব্যতীত।

4669কুতায়বা (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ক্র মক্কা বিজয়ের দিন মক্কায় বলতে শোনেনঃ আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল মদ, মৃত জন্তু, শূকর এবং মূর্তি বিক্রয় করতে নিষেধ করছেন। এক লোক জিজ্ঞাসা করলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! মৃত জন্তুর চর্বি বিক্রয় সম্বন্ধে আপনি কী বলেন, যা দ্বারা নৌকা ইত্যাদি তৈলাক্ত করা হয় এবং চামড়ায় তেল লাগানো হয়, আর লোকে তার দ্বারা প্রদীপ জ্বালায়? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ না, তা হারাম। এরপর তিনি বলেনঃ আল্লাহ্ তা'আলা ইয়াহূদীদের ধ্বংস করুন, যখন আল্লাহ্ তা'আলা তাদের উপর চর্বি হারাম করেন, তখন তারা তা গলিয়ে বিক্রয় করল এবং তার মূল্য ভোগ করল।

4670ইবরাহীম ইবন হাসান (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঊটের পাল দেওয়ার বিনিময় গ্রহণ করতে, পানি বিক্রয় করতে এবং কৃষিযোগ্য জমি বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন।

4671ইসহাক ইবন ইব্রাহীম ও হুমায়দ ইবন মাসআদা (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাদীর সাথে নরের পাল দেয়ার পর বিনিময় গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন।

4672ইসমা ইবন ফযল (রহঃ) ... আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কিলাব গোত্রের এক অংশ বনী সাকি-এর এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে নর ও মাদী পশুর পাল দেওয়ার বিনিময় সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে তা থেকে নিষেধ করেন। তখন সে ব্যক্তি বলেঃ এর বিনিময়ে আমাদেরকে সম্মান করা হয়।

4673মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিঙ্গা লাগানোর বিনিময়, পশুর পাল দেওয়ার বিনিময় এবং কুকুর বিক্রির বিনিময় নিতে নিষেধ করেছেন।

4674মুহাম্মাদ ইবন আলী (রহঃ) ... আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নর-মাদীর পাল দিয়ে বিনিময় গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন।

4675ওয়াসিল ইবন আবদুল আ'লা (রহঃ) ... আবু হাযিম (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুরের মূল্য গ্রহণ করতে এবং নর-মাদীর পাল দিয়ে বিনিময় গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন।

4676কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যাক্তি কোন মাল ক্রয় করার পর নিঃস্ব হয়ে যায়, আর তার নিকট বিক্রিত মাল তদবস্থায় পাওয়া যায়, তবে সে মালে অন্যান্য লোক অপেক্ষা বিক্রেতাই অধিক হকদার।

4677আবদুর রহমান ইবন খালিদ ও ইবরাহীম ইবন হাসান (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন কোন ব্যক্তি নিঃস্ব হয়ে যায়, আর তার নিকট কারো বিক্রিত মাল হুবহু পাওয়া যায়, আর বিক্রেতা তা-চিনতে পারে, তবে তা সেই ব্যক্তিরই, যে তা বিক্রি করেছে।

4678আহমদ ইবন আমর ইবন সারহ (রহঃ) ... আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময়ে এক ব্যক্তির ক্রয় করা ফল বিনষ্ট হওয়ায় তার প্রচুর দেনা হয়ে গেল। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা তাকে দান কর। লোকে তাকে দান করলো, কিন্তু তা তার দেনা পরিমাণ হলো না। তখন যারা পাওনাদার ছিল, তাদেরকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা যা আছে তাই নিয়ে নাও, এর অতিরিক্ত কিছুই পাবে না।

4679হারূন ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ) ... উসায়দ ইবন হুযায়র ইবন সিমাক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফয়সালা দিয়েছেন, যদি কোন ব্যক্তি এমন কোন ব্যক্তির নিকট তার মাল পায় যার উপর চুরির অভিযোগ আনা যায় না, তবে তার ইচ্ছা হলে সে ঐ মূল্য দিয়ে তা গ্রহণ করতে পারে, যে মূল্যে সে ব্যক্তি ক্রয় করেছে। আর ইচ্ছা করলে চোরের অনুসন্ধান করতে পারে। আবু বকর এবং উমর (রাঃ)-ও এরূপ ফয়সালা প্রদান করেন।

4680আমর ইবন মানসূর (রহঃ) ... ইকরিমা ইবন খালিদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, উসায়দ ইবন হু্যায়র আনসারী (রাঃ) ইয়ামামার শাসনকর্তা ছিলেন। মারওয়ান তার নিকট লিখেন যে, মুআবিয়া (রাঃ) তার নিকট লিখেছেনঃ যার কোন বস্তু চুরি হয়ে যায়, তবে সে তার অধিক হকদার, যেখানেই সে তা পাক না কেন। উসায়দ (রাঃ) বলেন, মারওয়ান আমাকে এরূপ লিখলে আমি মারওয়ানকে লিখলামঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফয়সালা দিয়েছেনঃ যে ব্যক্তি চোরের নিকট হতে তা ক্রয় করেছে সে যদি এমন লোক হয়, যার প্রতি চুরির অভিযোগ নেই, তবে মালের মালিক ইচ্ছা করলে মূল্য দিয়ে তা নিবে, না হয় চোরের অনুসন্ধান করবে। এরপর এর অনুকরণে আবু বকর, উমর (রাঃ) এবং উসমান (রাঃ) ফয়সালা করেন। মুআবিয়া (রাঃ) মারওয়ানকে লিখেন যে, তুমি এবং উসায় আমার বিপরীতে ফয়সালা দিতে পার না; বরং আমি যে কর্তৃত্ব লাভ করেছি, সে জন্য আমিই তোমাদের বিপরীতে ফয়সালা দিতে পারি। অতএব আমি যে আদেশ করেছি তা কার্যকর কর। মারওয়ান মুআবিয়া (রাঃ)-এর চিঠি আমার নিকট পাঠালে আমি বললামঃ আমি যতদিন শাসক থাকি, ততদিন তাঁর কথামত বিচার করবো না।

4681মুহাম্মাদ ইবন দাউদ (রহঃ) ... সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন লোক কারও কাছে তার মাল পেলে সে-ই তার মালের অধিক হকদার। আর ক্রেতা সেই ব্যক্তিকে ধরবে, যে তার কাছে তা বিক্রি করেছে।

4682কুতায়বা ইবন সাঈদ (রহঃ) ... সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি কোন মহিলাকে দুই অভিভাবক বিয়ে দেয়, তবে প্রথম যার সাথে বিবাহ হয়েছে সে তারই স্ত্রী হবে। আর যদি কেউ কোন জিনিস দু’জন লোকের কাছে বিক্রি করে, তবে তা প্রথমজনেরই প্রাপ্য।

4683আমর ইবন আলী (রহঃ) ... ইসমাঈল ইবন ইবরাহীম ইবন আবদুল্লাহ ইবন আবু রাবীআ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি তার পিতার মাধ্যমে তার দাদা হতে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট হতে চল্লিশ হাজার দিরহাম কর্জ নিয়েছিলেন। এরপর তাঁর নিকট মাল আসলে তিনি তা আদায় করে বলেনঃ আল্লাহ্ তা'আলা তোমার ঘরে এবং মালে বরকত দান করুন। কর্জের বিনিময় তো এই যে, লোক কর্জদাতার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে এবং তা আদায় করবে।

4684আলী ইবন হুজর (রহঃ) ... মুহাম্মদ ইবন জাহাশ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বসছিলাম। এমন সময় তিনি আকাশের দিকে তাঁর মাথা উঠান, তারপর তাঁর হাত ললাটের উপর স্থাপন করে বলেনঃ সুবহানাল্লাহ্! কী কঠোরতা অবতীর্ণ হলো! আমরা ভয়ে নির্বাক হয়ে গেলাম। পরদিন আমি জিজ্ঞাসা করলামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! ঐ কঠোরতা কী ছিল, যা অবতীর্ণ হয়েছে? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যার নিয়ন্ত্রণে আমার প্রাণ তাঁর কসম! যদি কোন ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হয়, আবার জীবন লাভ করে; আবার শহীদ হয় এবং আবার জীবিত হয়, পরে আবার শহীদ হয়, আর তার উপর কর্জ থাকে, তবে তার পক্ষ হতে সে কর্জ আদায় না হওয়া পর্যন্ত সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।

4685মাহমূদ ইবন গায়লান (রহঃ) ... সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা এক জানাযায় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি তিনবার জিজ্ঞাসা করলেনঃ এখানে অমুক গোত্রের কেউ আছে কি? এক ব্যক্তি দাঁড়ালে তিনি বললেনঃ তুমি প্রথম দুইবার উত্তর দাও নি কেন? আমি তোমার ভালোর জন্যই ডেকেছি। এরপর তিনি তাদের এক ব্যক্তি সম্বন্ধে বলেনঃ সে তোমরা মারা গেছে, কিন্তু সে দেনার দায়ে আবদ্ধ রয়েছে।

4686মুহাম্মাদ ইবন কুদামা (রহঃ) ... ইমরান ইবন হুযায়ফা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মায়মূনা (রাঃ) লোকের নিকট হতে অনেক কর্জ নিতেন। তাঁর পরিবারের লোক তাকে এ ব্যাপারে কঠিন কথা বলল, তিরস্কার করলো এবং তাঁর উপর অসন্তুষ্ট হলো। তখন তিনি বললেনঃ আমি কর্জ নেওয়া পরিত্যাগ করবো না। কারণ আমি আমার প্রিয়তম (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি কর্জ করে আর আল্লাহ তা'আলা অবগত আছেন যে, সে তা আদায়ের ইচ্ছা রাখে, তা হলে আল্লাহ্ তা'আলা পৃথিবীতে তার কর্জ পরিশোধ করে দেবেন।

4687মুহাম্মদ ইবন মুসান্না (রহঃ) ... উবায়দুল্লাহ ইবন আবদুল্লাহ ইবন উতবা (রহঃ) বলেন, উম্মুল মুমিনীন মায়মূনা (রাঃ) কর্জ গ্রহণ করতেন। তাঁকে বলা হলোঃ হে উম্মুল মুমিনীন! আপনি তো কর্জ নিচ্ছেন, অথচ এত কর্জ পরিশোধ করার মত সম্পত্তি আপনার নেই। তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি কর্জ নিয়ে তা পরিশোধের ইচ্ছা রাখে, আল্লাহ্ তা'আলা তাকে সাহায্য করে থাকেন।

4688কুতায়বা ইন সাঈদ (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমাদের কাউকে (তার প্রাপ্যের ব্যাপারে) ধনী ব্যক্তির উপর হাওয়ালা করা হলে সে যেন তা গ্রহণ করে নেয়। আর যদি ধনী লোক কর্জ আদায়ে টালবাহানা করে, তবে তা হবে যুলুম।

4689মুহাম্মদ ইবন আদম (রহঃ) ... আমর ইবন শারীদ (রহঃ) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ধনী ব্যক্তি কর্তৃক দেনা পরিশোধে টালবাহানা করাটা তার মানহানি (অর্থাৎ তার সম্পর্কে অভিযোগ করা) এবং শাস্তিকে বৈধ করে দেয়।

4690ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আমর ইবন শারীদ (রহঃ) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ধনবান লোক যদি কর্জ আদায় করতে টালবাহানা করে, তবে তার মানহানি ঘটানো এবং তাকে শাস্তি দেওয়া বৈধ হয়ে যায়।

4691মুহাম্মদ ইবন সালামা এবং হারিস ইবন মিসকীন (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ধনী ব্যক্তির কর্জ আদায় করতে দেরী করা যুলুম। আর তোমাদের কাউকে যদি কর্জ আদায় করার ব্যাপারে ধনীর উপর হাওয়ালা করা হয়, তবে সে যেন তা গ্রহণ করে নেয়।

4692মুহাম্মদ ইবন আবদুল আ'লা (রহঃ) ... আবু কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক আনসারী ব্যক্তির মৃতদেহ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আনা হলো যেন তিনি তার জানাযা পড়ান। তখন তিনি বললেনঃ এর উপর তো কর্জ রয়েছে। আবু কাতাদা বললেনঃ আমি এর যামিন হলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সম্পূর্ণ কর্জের? আবু কাতাদা বললেনঃ সম্পূর্ণ কর্জের।

4693ইসহাক ইবন ইব্রাহীম (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমাদের মধ্যে উত্তম ঐ ব্যক্তি যে উত্তমভাবে কর্জ পরিশোধ করে।

4694ঈসা ইবন হাম্মাদ (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি কখনও কোন ভাল কাজ করেনি। তবে সে মানুষের সংগে বাকিতে কারবার করত আর তার প্রতিনিধিকে বলত, যেখানে কর্জদার নিঃস্ব গরীব হয়, সেখানে ছেড়ে দাও, মাফ করে দাও। হয়তো আল্লাহ তা'আলা আমাদের মাফ করে দেবেন। যখন সেই লোকের মৃত্যু হল, তখন আল্লাহ তা'আলা তাকে জিজ্ঞাসা করেন, তুমি কি কোন্ নেককাজ করেছ? সে ব্যক্তি বললঃ না, কিন্তু আমার এক চাকর ছিল, আমি লোকদেরকে কর্জ দিতাম, যখন আমি তাকে কর্জ উসূল করতে পাঠাতাম, তখন বলে দিতামঃ যদি সহজভাবে পাওয়া যায়, তবে তা নেবে আর যেখানে কষ্ট হয়, সেখানে ছেড়ে দেবে, ক্ষমা করে দেবে। তখন আল্লাহ্ তা'আলা বললেনঃ আমিও তোমাকে ক্ষমা করলাম।

4695হিশাম ইবন আম্মার (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এক ব্যক্তি লোকদের কর্জ দিত; যখন সে কোন গরীবকে দেখতো, তখন সে তার চাকরকে বলতোঃ তাকে ক্ষমা করে দাও; হয়তো আল্লাহ্ তা'আলা এর বিনিময়ে আমাদেরকে ক্ষমা করবেন। এরপর লোকটির মৃত্যুর পর আল্লাহ্ তা'আলার দরবারে উপস্থিত হলে, আল্লাহ্ তা'আলা তাকে ক্ষমা করে দিলেন।

4696আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ ইবন ইসহাক (রহঃ) ... উসমান ইবন আফফান (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ তা'আলা এমন এক ব্যক্তিকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যে ব্যক্তি ক্রয় কর্জত, বিক্রয় কর্জত, উসূল কর্জত এবং আদায় কর্জত লোকের সাথে কোমল ব্যবহার করত।

4697আমর ইবন আলী (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রাঃ) বলেন, আমি, আম্মার এবং সা'দ বদরের দিন অংশীদার হলাম। সা'দ (রাঃ) তো দুইজন বন্দি ধরে আনলেন কিন্তু আমি এবং আমার কিছুই আনলাম না।

4698নূহ ইবন হাবীব (রহঃ) ... সালিম থেকে এবং তিনি তার পিতা [আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)] থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি গোলামের মধ্যে তার অংশ মুক্ত করে দেয়, তখন সে যেন অন্যের অংশও নিজের মাল দ্বারা মুক্ত করে দেয়, যদি তার নিকট গোলামের মূল্য পরিমাণ মাল থাকে।

4699আমর ইবন আলী (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি দাস অথবা দাসীর মধ্যে নিজের অংশ মুক্ত করে, আর তার এত মাল রয়েছে, যা সেই দাস বা দাসীর অবশিষ্ট অংশের জন্য যথেষ্ট হয়, তবে সে তার মাল দ্বারা মুক্ত হয়ে যাবে।

4700কুতায়বা (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে যার নিকট জমি অথবা খেজুর গাছ থাকে, সে যেন তার অংশীদারকে না জানিয়ে তা বিক্রয় না করে।

4701মুহাম্মাদ ইবন আলা (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক এমন এজমালি সম্পত্তিতে ‘শুফআ’-এর আদেশ করেছেন, যা এখনও বণ্টন করা হয়নি, তা ঘরবাড়ি হোক বা বাগান, এক অংশীদারের নিজের অংশ অন্য অংশীদারকে না জানিয়ে এবং তার অনুমতি ছাড়া বিক্রি করা বৈধ নয়। সেই অংশীদারের ইচ্ছা, সে নিতেও পারে, নাও নিতে পারে। যদি কোন অংশীদার অন্য অংশীদারকে না জানিয়ে বিক্রি করে দেয়, তবে সে তার অধিক হকদার।

4702আলী ইবন হুজুর (রহঃ) ... আবু রাফে (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামবলেছেনঃ প্রতিবেশী শুফআর বেশি হকদার।

4703ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আমর ইবন শারীদ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার জমি আছে, যাতে কারও অংশীদারিত্ব নেই এবং কারো ভাগও নেই। তবে আমার প্রতিবেশী আছে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ প্রতিবেশী শুফআর অধিক হকদার।

4704হিলাল ইবন বিশর (রহঃ) ... আবূ সালামা (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শুফ'আ প্রত্যেক এমন সম্পত্তিতে রয়েছে, যা বণ্টন করা হয়নি। যখন সীমানা চিহ্নিত হয়ে যায়, পথ নির্দিষ্ট হয়ে যায়, তখন আর শুফআ থাকে না।

4705মুহাম্মাদ ইবন আবদুল আযীয (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুফআ এবং প্রতিবেশীর অধিকারের পক্ষে ফায়সালা দিয়েছেন।

উৎস: Sunan an Nasai

WEBREATH · 11:11

«Should I not be a thankful servant?» — Sahih al-Bukhari

Breath is one for all: everyone lives by it, whoever they are and whatever they believe. Every day at 11:11 local time people stop for sixty seconds, breathe, and thank GOD for the breath — each in their own words, each within themselves. In that minute we are One Breath.

WEBREATH — the Minute at 11:11, your own local time — we are One Breath