সুনানে নাসায়ী 42 · The Book of Hunting and Slaughtering
আপনার ভাষায় এখনো কোনো অনুবাদ নেই — ইংরেজি দেখাচ্ছে
4263ইমাম আবু আবদুর রহমান নাসাঈ (রহঃ) ... আদী ইবন হাতিম (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট শিকার সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি বললেনঃ যখন তুমি শিকারের জন্য তোমার কুকুরকে ছাড়বে, তখন বিসমিল্লাহ পড়ে ছাড়বে। তারপর যদি তুমি শিকারকে জীবিত পাও, তবে তাকে বিসমিল্লাহ পড়ে যবেহ করবে, আর যদি ঐ শিকারকে কুকুর মেরে ফেলে এবং তা থেকে না খায়, তবে তুমি তা খাবে। কেননা সে তা তোমার জন্যই ধরেছে। আর যদি কুকুর তা থেকে খায়, তা হলে তুমি তা খাবে না, কেননা তাকে সে নিজের জন্য ধরেছে। আর যদি তোমার কুকুর অন্য কুকুরের সাথে মেশে এবং সকলে শিকার মেরে আনে, আর তারা তা না খায়, তবে তুমি তা থেকে কিছু খাবে না। কেননা তুমি জানো না, ওদের মধ্যের কোন কুকুরটি শিকার মেরেছে।
4264সুওয়ায়দ ইবন নাসর (রহঃ) ... আদী ইবন হাতিম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট মি'রায বা ফলাবিহীন তীর দ্বারা শিকার সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেনঃ যদি ঐ শিকারের উপর তার ধারাল অংশ লাগে, তবে তা খাবে। আর যদি কাঠটি আড়াআড়িভাবে আঘাত লাগে, তবে তা ওয়াকীয। এরপর আমি তাঁকে কুকুরের শিকার সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেনঃ যখন তুমি তোমার কুকুর ছেড়ে দেবে, আর তা শিকার ধরে এনে নিজে না খাবে, তবে তুমি তা খেতে পার। কেননা তার ধরে আনাই তার যবেহ করা। আর যদি তোমার কুকুরের সাথে অন্য কুকুর থাকে এবং তোমার সন্দেহ হয় যে, হয়তো অন্য কুকুরও শিকার করতে পারে, তখন তা খাবে না। কেননা তুমি তোমরা তোমার কুকুর ছাড়ার সময় বিসমিল্লাহ পড়েছ, অন্য কুকুর ছাড়ার সময় তা পড়নি।
4265ইসমাঈল ইবন মাসউদ (রহঃ) ... আদী ইবন হাতিম (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করেন, আমি শিকারী কুকুর ছাড়ি এবং সেই কুকুর প্রাণী ধরে আনে, তা খাওয়া যাবে কি? তিনি বললেনঃ যখন তুমি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর ছেড়ে দেবে, আর ছাড়ার সময় বিসমিল্লাহ পড়ে ছাড়বে এবং সে শিকার ধরে আনবে, তুমি তা খেতে পারবে। আমি বললামঃ যদি সে তাকে মেরে ফেলে? তিনি বললেনঃ মেরে ফেললেও। আমি আবার জিজ্ঞাসা করলামঃ আমি অনেক সময় লৌহবিহীন তীর বা লাঠি নিক্ষেপ করি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যদি তীরের ধারাল অংশ লাগে, তবে তা খেতে পারবে। আর যদি আড়াআড়িভাবে লেগে থাকে, তবে তা খাবে না।
4266মুহাম্মদ ইবন উবায়দ ইবন মুহাম্মাদ কূফী মুহারিবী (রহঃ) ... আবু সা'লাবা খুশানী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি এমন স্থানে থাকি, যেখানে অনেক শিকার পাওয়া যায়। আমি আমার তীর দ্বারা শিকার করি এবং শিকারী এবং অশিকারী উভয় কুকুর দ্বারা শিকার করি। তিনি বললেনঃ যে তীর নিক্ষেপের সময় তুমি আল্লাহর নাম নেবে, ঐ তীরের শিকার তুমি খাবে। আর যে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর আল্লাহর নামে ছাড়বে, তার শিকারও খাবে। আর অশিকারী কুকুর কোন শিকার ধরে আনলে যদি তা যবেহ করতে পার, তবে তা খাবে।
4267মুহাম্মদ ইবন যানবুর আবু সালিহ মক্কী (রহঃ) ... আদী ইবন হাতিম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আমার শিকারী কুকুর ছাড়ি, আর সে আমার জন্য শিকার ধরে আনে, আর আমি তা খাই। তিনি বললেনঃ যখন তুমি তোমার শিকারী কুকুর ছাড়, আর তা তোমার জন্য শিকার ধরে আনে, তখন তুমি তা খাবে। আমি জিজ্ঞাসা করলামঃ যদি সে কুকুর শিকার মেরে ফেলে, তবুও? তিনি বললেনঃ যদিও সে মেরে ফেলে; কিন্তু শর্ত হলো তোমার কুকুরের সাথে অন্য কুকুর যেন না থাকে। আমি আরয করলামঃ আমি লোহাবিহীন তীর নিক্ষেপ করি, আর যদি তা শিকারের গায়ে গেঁথে যায়? তিনি বললেনঃ যদি তা গায়ে গেঁথে যায় তবে খাবে, আর যদি আড়াআড়িভাবে লাগে, তবে খাবে না।
4268আমর ইবন ইয়াহইয়া ইবনুল হারিস (রহঃ) ... আদী ইবন হাতিম (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে শিকার সম্পর্কে প্রশ্ন করলে, তিনি বললেনঃ তোমার কুকুর ছেড়ে দেয়ার পর যদি ঐ কুকুরের সাথে অন্য এমন কুকুর থাকে যাকে ছাড়ার সময় বিসমিল্লাহ পড়া হয়নি, তবে ঐ শিকার খাবে না। কেননা তুমি জান না তাদের কোনটি শিকার মেরেছে।
4269আমর ইবন আলী (রহঃ) ... আদী ইবন হাতিম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কুকুরের শিকার সম্বন্ধে প্রশ্ন করলে, তিনি বললেনঃ যখন তুমি বিসমিল্লাহ্ পড়ে কুকুর ছাড়বে তখন ঐ শিকার খাবে, আর যদি তোমার কুকুরের সাথে অন্য কোন কুকুর দেখতে পাও তবে ঐ শিকার খাবে না। কেননা তোমরা নিজের কুকুর ছাড়ার সময় বিসমিল্লাহ পড়েছ, অন্যের কুকুরের উপর পড়নি।
4270আহমদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন হাকাম (রহঃ) ... আদী ইবন হাতিম (রাঃ) বলেন, নাহরায়নে আমাদের একজন পড়শী ছিলেন যিনি অন্য গোত্র থেকে আমাদের গোত্রে এসে নিবাস গ্রহণ করেছিলেন এবং ইবাদতের জন্য নির্জনতা অবলম্বন করেছিলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করেন, আমি আমার কুকুরকে শিকারের জন্য ছেড়ে দেই; পরে ঐ কুকুরের সাথে অন্য কুকুর দেখতে পাই, আমি বুঝতে পারি না কোন্ কুকুর শিকার করেছে? তিনি বললেনঃ তা খাবে না। কেননা তুমি তোমরা তোমার কুকুরের উপর বিসমিল্লাহ্ পড়েছ, অন্যের কুকুরের উপর বিসমিল্লাহ পড়নি।
4271আহমদ ইবন আবদুল্লাহ্ (রহঃ) ... আদী ইবন হাতিম (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
4272সুলায়মান ইবন উবায়দুল্লাহ্ ইবন আমর গালানী বসরী (রহঃ) ... আদী ইবন হাতিম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আমার কুকুর ছেড়ে দেই। তিনি বললেনঃ যদি তুমি বিসমিল্লাহ্ বলে তোমার কুকুর ছাড়, তবে ঐ শিকার খাবে। যদি কুকুর তার কিছু অংশ খায়, তবে তুমি তা খাবে না। কেননা সে তা নিজের জন্য ধরেছে। আর যদি তোমার কুকুর ছাড়ার পর তার সাথে অন্য কুকুর পাও, তবে তা খাবে না। কেননা তুমি তোমার কুকুর ছাড়ার সময় তার উপর তোমরা বিসমিল্লাহ্ পড়েছ, অন্য কুকুরের উপর পড়নি।
4273আমর ইবন আলী (রহঃ) ... আদী ইবন হাতিম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলামঃ আমি আমার কুকুর ছাড়ার পর, আমার কুকুরের সাথে অন্য কুকুর দেখতে পাই, ফলে আমি বুঝতে পারি না, কোন্ কুকুর শিকার করেছে? তিনি বললেনঃ তুমি ঐ শিকার খাবে না। কেননা তুমি তোমরা তোমার কুকুরের উপর বিসমিল্লাহ্ পড়েছ; অন্য কুকুরের উপর পড়নি।
4274আহমাদ ইবন সুলায়মান (রহঃ) ... আদী ইবন হাতিম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে লৌহবিহীন তীর দ্বারা শিকার করার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে, তিনি বললেনঃ যদি ঐ তীরের ধারাল অংশ লাগে, তবে তুমি তা খাবে। আর যদি আড়াআড়িভাবে লাগে, তবে তা হারাম। তিনি বলেন, এরপর আমি শিকারী কুকুর সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেনঃ যদি তুমি বিসমিল্লাহ্ বলে কুকুর ছেড়ে থাক, তবে তা খাবে। আমি বললামঃ যদি সে শিকার মেরে ফেলে? তিনি বললেনঃ যদিও মেরে ফেলে। কিন্তু যদি তা হতে কিছু অংশ খায়, তবে তুমি খাবে না। আর যদি তোমার কুকুরের সাথে অন্য কোন কুকুর দেখ আর দেখ যে, সে-ই তাকে মেরেছে, তবে তুমি ঐ শিকার খাবে না। কেননা তুমি তোমার কুকুরের উপর বিসমিল্লাহ্ পড়েছে, অন্য কুকুরের উপর পড়নি।
4275আমর ইবন ইয়াহ্ইয়া (রহঃ) ... আদী ইবন হাতিম তায়ী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে শিকার সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেনঃ যদি তুমি বিসমিল্লাহ্ বলে তোমার কুকুর ছেড়ে থাক এবং সে শিকার মেরে আনে, অথচ সে তা থেকে কিছুই খায়নি, তবে তুমি তা খাবে। আর যদি তা থেকে খায়, তবে তুমি তা খাবে না। কেননা সে তা নিজের জন্য ধরেছে, তোমার জন্য ধরেনি।
4276কাসীর ইবন উবায়দ (রহঃ) ... মায়মূনা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, জিবরীল (আঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলেনঃ আমরা ঐ ঘরে প্রবেশ করি না, যে ঘরে কুকুর এবং ছবি থাকে। এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকালবেলা কুকুর মারার নির্দেশ দেন। এমনকি তিনি ছোট ছোট কুকুরও মারার নির্দেশ দেন।
4277কুতায়বা (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুর মারার নির্দেশ দেন, যেগুলো বাদ দিয়েছেন, তা ব্যতীত।
4278ওহাব ইবন বায়ান (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে উচ্চস্বরে কুকুর হত্যার নির্দেশ দিতে শুনেছি। এরপর কুকুর হত্যা শুরু হয়। তবে শিকারী কুকুর এবং মেষপালের পাহারায় ব্যবহৃত কুকুর ব্যতীত।
4279কুতায়বা (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুর হত্যার নির্দেশ দেন; তবে শিকারী কুকুর এবং মেষপালের পাহারায় ব্যবহৃত কুকুর ব্যতীত।
4280ইমরান ইবন মূসা (রহঃ) .... আবদুল্লাহ ইবন মুগাফফাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি কুকুর অন্যান্য প্রজাতির মত একটি প্রজাতি না হতো, তাহলে আমি সেগুলো হত্যার নির্দেশ দিতাম। তোমরা তাদের মধ্যকার কালো কুকুরকে হত্যা করবে। যে সকল লোক তাদের কৃষিকর্ম ও শিকার করা কিংবা পশু পাহারা ব্যতীত অন্য উদ্দেশ্যে কুকুর পালন করে, তাদের আমল হতে প্রতিদিন এক কীরাত সওয়াব কমে যায়।
4281মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... আলী ইবন আবু তালিব (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ঘরে কুকুর, ছবি এবং জুনুব ব্যক্তি থাকে, সে ঘরে ফেরেশতা প্রবেশ করে না।
4282কুতায়বা ও ইসহাক ইবন মানসূর (রহঃ) ... আবূ তালহা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ঘরে কুকুর অথবা ছবি থাকে, সে ঘরে ফেরেশতা প্রবেশ করে না।
4283মুহাম্মদ ইবন খালিদ ইবন খালী (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী মায়মূনা (রাঃ) বলেন, একদা ভোরে আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে চিন্তিত দেখে জিজ্ঞাসা করলামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আজ ভোর হতে আপনাকে চিন্তিত দেখছি? তিনি বললেনঃ জিবরীল (আঃ) আজ রাতে আমার সাথে সাক্ষাতের ওয়াদা করেন কিন্তু তিনি আসেন নি। আল্লাহর শপথ! তিনি কখনও আমার সাথে ওয়াদা খেলাফ করেন নি। তিনি সারা দিন এভাবেই অতিবাহিত করলেন। এরপর তার স্মরণ হলো যে, একটা কুকুর ছানা আমাদের খাটের নিচে রয়েছে। তিনি আদেশ করলে, সেটি বের করা হয়। পরে তিনি নিজ হাতে পানি নিয়ে ঐ স্থানে ছিটিয়ে দেন। সন্ধ্যায় জিবরীল (আঃ) আসলে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁকে বলেনঃ আপনি তো গত রাতে আমার সাথে দেখা করার ওয়াদা করেছিলেন? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, কিন্তু আমরা ঐ ঘরে প্রবেশ করি না, যে ঘরে কুকুর অথবা ছবি থাকে। সেই দিনের সকাল হতে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুর হত্যা করার নির্দেশ দেন।
4284সুওয়ায়দ ইবন নাসর ইবন সুওয়ায়দ (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কুকুর পালন করে, প্রতিদিন তার আমল হতে দুই কীরাত সওয়াব কম করা হয়, তবে শিকারী কুকুর অথবা গবাদি পশুর রক্ষণাবেক্ষণের কুকুর ব্যতীত।
4285আলী ইবন হুজুর (রহঃ) ... সুফিয়ান ইবন আবু যুহায়র শানাঈ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কৃষিকাজের হিফাযত এবং গৃহপালিত পশুর হিফাযতের কুকুর ব্যতীত অন্য কুকুর পালন করে, তার আমল হতে প্রতিদিন এক কীরাত সওয়াব কমে যাবে। রাবী সায়িব ইবন ইয়াযীদ (রহঃ) সুফিয়ান (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলেনঃ আপনি কি এটা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে শুনেছেন? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, এই মসজিদের রবের কসম
4286কুতায়বা (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি শিকারী কুকুর অথবা পশু রক্ষার কুকুর ব্যতীত অন্য কুকুর পালন করে, তার সওয়াব হতে প্রতিদিন দুই কীরাত কমে যায়।
4287আবদুল জাব্বার ইবন আ'লা (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি শিকারী কুকুর অথবা পশু রক্ষণাবেক্ষণের কুকুর ছাড়া অন্য কুকুর পালে, তার সওয়াব থেকে প্রতিদিন দুই কীরাত কমে যায়।
4288মুহাম্মদ ইবন বাশার (রহঃ) ... আবদুল্লাহ্ ইবন মুগাফফাল (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি শিকারী কুকুর, গবাদি পশুর রক্ষণাবেক্ষণের কুকুর এবং কৃষিকাজের হিফাযতের কুকুর ব্যতীত অন্য কোন কুকুর পালন করবে, প্রতিদিন তার সওয়াব থেকে এক কীরাত কমে যাবে।
4289ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেনঃ যে ব্যক্তি শিকারী কুকুর, পালিত জন্তুর রক্ষক কুকুর অথবা জমি পাহারার কুকুর ব্যতীত অন্য কোন কুকুর পালন করবে, তার আমল হতে প্রতিদিন এক কীরাত সওয়াব কমে যাবে।
4290ওহাব ইবন বায়ান (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি শিকারী কুকুর পালিত পশুর রক্ষক কুকুর কিংবা কৃষিভূমির পাহারার কুকুর ব্যতীত অন্য কোন কুকুর পালন করবে, তার সওয়াব হতে প্রতিদিন দুই কীরাত সওয়াব কমে যাবে।
4291আলী ইবন হুজর (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি পালিত পশুর রক্ষক কুকুর অথবা শিকারী কুকুর ব্যতীত অন্য কুকুর পালে, তার আমল থেকে প্রতিদিন এক কীরাত সওয়াব কমে যাবে। আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেছেনঃ অথবা কৃষিকাজের কুকুর ব্যতীত।
4292কুতায়বা (রহঃ) ... আবু মাসউদ উকবা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুরের মূল্য, ব্যভিচারিণীর উপার্জন এবং গণকদের কাজের বিনিময় ভোগ করতে নিষেধ করেছেন।
4293ইউনুস ইবন আবদুল আ'লা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কুকুরের মূল্য, গণকদের পারিশ্রমিক এবং গণিকার উপার্জন হালাল নয়।
4294শুআয়ব ইন ইউসুফ (রহঃ) ... রাফে' ইবন খাদীজ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পতিতাদের উপার্জন, কুকুরের মূল্য এবং সিঙ্গা লাগানোর পারিশ্রমিক অতি নিকৃষ্ট।
4295ইব্রাহীম ইবন হাসান মিকসামী (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুরের মূল্য গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন, তবে শিকারী কুকুরের মূল্য ব্যতীত।
4296আমর ইবন আলী (রহঃ) ... আমর ইবন শুআয়ব (রহঃ) তাঁর পিতা তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার নিকট শিকারী কুকুর আছে, আপনি আমাকে তাদের ব্যাপারে বলে দিন। তিনি বললেনঃ তোমার কুকুর যা তোমার জন্য ধরে আনে, তা তুমি খাবে। সে ব্যক্তি বললোঃ আমার কুকুর ঐ শিকার মেরে ফেললেও? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, মেরে ফেললেও। এরপর ঐ ব্যক্তি বললোঃ আপনি আমাকে তীর-ধনুকের ব্যাপারে কিছু বলুন? তিনি বললেনঃ তোমার তীর যা শিকার করবে, তুমি তা খাবে। ঐ ব্যক্তি বললোঃ যদি তীরের আঘাতের পর ঐ শিকার পালিয়ে যায়? তিনি বললেনঃ যদিও সে পালিয়ে যায়। কিন্তু তার মধ্যে যেন অন্য তীরের চিহ্ন না থাকে, আর তা পঁচে না যায়।
4297আহমদ ইবন সুলায়মান (রহঃ) .... রাফে ইবন খাদীজ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সময় আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে যুল-হুলায়ফায় ছিলাম, যা তিহামায় অবস্থিত। লোক (গনীমতের) উট এবং বকরী প্রাপ্ত হলো। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন সকলের পেছনে, সামনের লোকেরা গনীমতের মাল বণ্টনের পূর্বেই পশু যবেহ করলেন এবং উনুনে হাঁড়ি চড়ালেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে দ্রুত পৌছে গেলেন। তিনি তা দেখে তাদের হাঁড়ির গোশত ফেলে দিতে বললেন। সুতরাং হাঁড়ি উপুড় করে তা ফেলে দেওয়া হলো। তারপর তিনি পশুগুলো বন্টন করলেন। তিনি এক উটের সমান দশটি বকরী ধরলেন। এমন সময় একটা উট পালিয়ে গেল আর লোকের নিকট ঘোড়াও ছিল অল্প। লোকেরা তাকে ধরবার জন্য দৌড়ালো কিন্তু তাকে ধরতে সক্ষম হলো না, বরং সে সকলকেই ব্যর্থ করে দিল। শেষ পর্যন্ত এক ব্যক্তি তার দিকে তীর নিক্ষেপ করলে আল্লাহ্ তা'আলা তাকে থামিয়ে দিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এ সকল জন্তু অনেক সময় বন্য জন্তুর ন্যায় পালাতে চায়। অতএব এর কোনওটি তোমাদের ব্যর্থ করে দিলে তার সাথে এরূপই করবে।
4298আহমদ ইবন মানী (রহঃ) ... আদী ইবন হাতিম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে শিকার সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেনঃ যখন তুমি তীর নিক্ষেপ কর তখন আল্লাহর নাম উচ্চারণ করবে। তারপর ঐ জন্তুকে নিহত পেলে তাকে খাবে। কিন্তু যখন ঐ জন্তু পানিতে পড়ে যায় এবং তুমি বুঝতে পার না যে, তীরের আঘাতে মরেছে, না পানিতে পড়ে মরেছে, তা খাবে না।
4299আমর ইবন ইয়াহইয়া ইবন হারিস (রহঃ) ... আদী ইবন হাতিম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে শিকার সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলে, তিনি বললেনঃ যখন তুমি তীর ছুঁড়বে অথবা বিসমিল্লাহ্ বলে কুকুর ছাড়বে, আর তাতে আল্লাহর নাম নেবে। তারপর তোমার তীর কোন শিকার বধ করবে, তুমি তা খাবে। আদী (রাঃ) বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! যদি ঐ শিকার এক রাতের পর আমার হাতে আসে, তবে? তিনি বললেনঃ যদি তুমি তোমার তীর পাও, আর ঐ শিকারের মধ্যে ঐ তীর ব্যতীত অন্য কিছুর চিহ্ন না পাও; তবে তা খাবে। আর যদি শিকার পানিতে পড়ে যায়, তবে তা খাবে না।
4300যিয়াদ ইবন আইয়ুব (রহঃ) ... আদী ইবন হাতিম (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা শিকারী লোক। আর আমাদের মধ্যে কেউ শিকারের প্রতি তীর নিক্ষেপ করলে কখনও তা এক অথবা দুই রাত্রি পর্যন্ত উধাও হয়ে যায়, আর শিকারী ব্যক্তি শিকারের পদচিহ্ন অনুসরণ করে, তাকে মৃত পায় এবং তার শরীরে তীর লাগা অবস্থায় পায়। তিনি বললেনঃ যখন তুমি তার মধ্যে তোমার তীর পাও এবং অন্য কোন হিংস্র জন্তুর চিহ্ন তাতে না দেখ এবং তোমার দৃঢ় বিশ্বাস হয় যে, তোমার তীরই তাকে মেরেছে, তবে তুমি তা খেতে পার।
4301মুহাম্মদ ইবন আবদুল আ'লা ও ইসমাঈল ইবন মাসউদ (রহঃ) ... আদী ইবন হাতিম (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তুমি শিকারের মধ্যে তোমার তীর বিদ্ধ দেখবে, এবং তোমার তীর ব্যতীত অন্য কিছুর চিহ্ন তাতে না দেখ, আর তোমার বিশ্বাস হবে যে, ঐ তীরই তাকে হত্যা করেছে, তবে তা খাবে।
4302মুহাম্মদ ইবন আবদুল আ'লা (রহঃ) .... আদী ইবন হাতিম (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি শিকারের প্রতি তীর মারি, আর এক রাত্রি পর তার পদচিহ্ন অনুসরণ করি। তিনি বললেনঃ যখন তুমি তোমার তীর তার মধ্যে পাবে, আর তা থেকে কোন হিংস্র জন্তু কিছু না খাবে, তবে তুমি তা খেতে পারো।
4303আহমাদ ইবন খালিদ খাল্লাল (রহঃ) ... আবূ সা'লাবা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তিন দিন পর তার শিকার পায়, তবে সে তা খেতে পারে, কিন্তু যদি তা দুর্গন্ধময় হয়ে যায়, তবে নয়।
4304মুহাম্মদ ইবন আবদুল আ'লা (রহঃ) ... আদী ইবন হাতিম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি কুকুর ছাড়ি এবং ঐ কুকুর শিকার ধরে; কিন্তু আমার নিকট যবেহ করার কিছু থাকে না, তখন আমি পাথর অথবা লাঠি দ্বারা তাকে যবেহ করি। তিনি বললেনঃ যে বস্তু দ্বারাই হোক রক্ত ঝরিয়ে দাও এবং বিসমিল্লাহ পড়।
4305মুহাম্মদ ইবন কুদামা (রহঃ) ... আদী ইবন হাতিম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর ছাড়ি, আর সে শিকার ধরে আনে এবং আমি তা খাই। তিনি বললেনঃ যখন তুমি বিসৃমিয়াহ পড়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর ছাড় এবং তা শিকার ধরে আনে, তুমি তা খেতে পার। আমি বললামঃ যদি সে শিকার মেরে ফেলে? তিনি বললেনঃ যদিও সে শিকার মেরে ফেলে, যতক্ষণ তার সাথে অন্য কুকুর মিলিত না হয়। আমি বললাম, আমি মি'রায নিক্ষেপ করি এবং তা দ্বারা শিকার করি এবং খাই? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যখন তুমি বিসমিল্লাহ বলে মি'রায ছুঁড়বে এবং ঐ তীর ধারাল অংশ দ্বারা আঘাত করবে, তুমি তা খাবে, আর যদি আড়াআড়ি দিকে আঘাত করে, তবে তা খাবে না।
4306আমর ইবন আলী (রহঃ) ... আদী ইবন হাতিম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মি'রায দ্বারা শিকার সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেনঃ যদি ঐ তীরের ধারাল অংশ লাগে, তবে তুমি তা খাবে, আর যদি তার পার্শ্ব দ্বারা আঘাত করে, তবে তুমি তা খাবে না। কেননা তখন তাকে মাওকূযা (পাথর, কাঠ ইত্যাদি দ্বারা যা ধারালো নয়, কোন জন্তুকে মারা) বলা হয়। তা খাবে না।
4307হুসায়ন ইবন মুহাম্মদ যাররা' (রহঃ) ... ‘আদী ইবন হাতিম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মি'রায দ্বারা শিকার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেনঃ যদি তুমি তা তোমার তীরের ধারাল অংশ দ্বারা শিকার কর, তবে তা খাবে। আর যদি তুমি তাকে তীরের পার্শ্বদেশের আঘাতে শিকার করে থাক, তবে তা খাবে না।
4308আলী ইবন হুজর (রহঃ) ... আদী ইবন হাতিম (রাঃ) এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মি'রাযের শিকার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে, তিনি বললেনঃ যদি তার ধারাল অংশ লাগে, তবে তা খাবে, আর যদি তীরের পাশ লেগে থাকে, তবে তা মাওকূযা।
4309ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ও মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি মুরুভূমিতে বাস করে, সে কঠিন হয়ে যায় আর যে ব্যক্তি শিকারের পেছনে লেগে থাকে, সে অন্য সব কিছু ভুলে যায়, আর যে ব্যক্তি বাদশাহর সংশ্রবে থাকে, সে (দীনীভাবে) ফিতনায় পতিত হয়।
4310মুহাম্মাদ ইবন মা'মার বাহরানী (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, গ্রাম্য এক বেদুঈন একটি খরগোশ ভূনা করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট নিয়ে আসে এবং তা তার সামনে রাখে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাত গুটিয়ে নিলেন, তা খেলেন না। কিন্তু অন্য লোকদেরকে খেতে বললেন। ঐ বেদুঈনও তা খাওয়া হতে বিরত থাকল। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞাসা করলেনঃ তুমি খেলে না কেন? সে বললোঃ আমি প্রতি মাসে তিনটি রোযা রাখি। তিনি বললেনঃ যদি তুমি প্রত্যেক মাসে রোযা রাখ, তবে মাঝের তিন দিন (১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ) রাখবে।
4311মুহাম্মাদ ইবন মানসূর (রহঃ) ... আবুল হাওতাকিয়া (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমর (রাঃ) জিজ্ঞাসা করলেন, কাহা দিবসে আমাদের সাথে কে ছিল? আবু যর (রাঃ) বললেন, আমি ছিলাম। সেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট একটি খরগোশ আনা হল। যে ব্যক্তি সেটি এনেছিল, সে বললোঃ আমি এর স্রাব হতে দেখেছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা খেলেন না। তিনি অন্যান্য লোককে খেতে বললেন। এ সময় এক ব্যক্তি বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি রোযা রেখেছি। তিনি বললেনঃ তুমি কি রোযা রেখেছ? সে বললোঃ প্রতি মাসে তিনটি। রোযা। তিনি বললেনঃ তবে তুমি কেন আইয়ামে বীযের অর্থাৎ ১৩, ১৪ এবং ১৫ তারিখে রোযা রাখ না?
4312ইসমাঈল ইবন মাসউদ (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) বলেন, মাররুয-যাহরান নামক স্থানে আমি একটি খরগোশকে ধাওয়া করলাম এবং ধরে ফেললাম। আবু তালহা (রাঃ)-এর নিকট আমি তা নিয়ে গেলে তিনি তা যবেহ করলেন এবং তার উভয় রান ও নিতম্ব নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট পাঠালেন, তিনি তা গ্রহণ করলেন।
4313কুতায়বা (রহঃ) ... ইবন সাফওয়ান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি দু’টি খরগোশ ধরলাম। কিন্তু তা যবেহ করার মত কিছুই পেলাম না। পরে আমি পাথর দিয়ে তাদের যবেহ করি। এরপর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি আমাকে তা খাওয়ার আদেশ দেন।
4314কুতায়বা (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বরের উপর থাকাবস্থায় তাঁর নিকট গোসাপ (দব্ব) সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমি তো তা খাই না, আর তা হারামও বলি না।
4315কুতায়বা (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি গোসাপ (দব্ব) সম্বন্ধে কী বলেন? তিনি বললেনঃ আমি তা খাইও না এবং তা হারামও বলি না।
4316কাসীর ইবন উবায়দ (রহঃ) ... খালিদ ইবন ওলীদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট ভাজা একটি গোসাপ (দব্ব) আনা হলে তিনি তা খাওয়ার জন্য হাত বাড়ান, এমন সময় এক ব্যক্তি বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! এটা গোসাপের গোশত। তখন তিনি তা আর খেলেন না এবং হাত উঠিয়ে নিলেন। খালিদ ইবন ওলীদ (রাঃ) জিজ্ঞাসা করলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! গোসাপ (দব্ব) কি হারাম? তিনি বললেনঃ না, কিন্তু তা আমার গোত্রের এলাকায় পাওয়া যায় না বলে এর প্রতি আমার অরুচি রয়েছে। পরে খালিদ ইবন ওলীদ (রাঃ) হাত বাড়িয়ে তা খেতে লাগলেন। আর তা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেখছিলেন।
4317আবু দাউদ (রহঃ) ... খালিদ ইবন ওলীদ (রাঃ) বর্ণনা করেন, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে তাঁর খালা মায়মূনা বিনত হারিস (রাঃ)-এর গৃহে প্রবেশ করলেন। সেখানে সামনে গোসাপের (দব্ব) গোশত পেশ করা হল। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অভ্যাস ছিল যে, কোন খাবার ততক্ষণ পর্যন্ত খেতেন না, যতক্ষণ না জেনে নিতেন তা কী? তাই কোন মহিলা বললেনঃ তোমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জানাচ্ছ না কেন, তিনি কী খাচ্ছেন? সুতরাং আমি তাকে বললামঃ এটা গোসাপের গোশত। তখন তিনি তা পরিহার করলেন। খালিদ (রাঃ) বলেন, তখন আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলাম, তা কি হারাম? তিনি বললেনঃ না, তবে তা এমন জন্তু, যা আমার কওমের এলাকায় পাওয়া যায় না; তাই তা আমার খেতে রুচি হয় না। খালিদ (রাঃ) বলেন, আমি তা আমার দিকে টেনে নিয়ে খাওয়া শুরু করলাম আর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেখছিলেন।
4318ইসমাঈল ইবন মাসউদ (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার খালা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট পনির, ঘি এবং গোসাপের (দব্ব) গোশত পেশ করলে তিনি পনির, ঘি তো খেলেন কিন্তু অরুচি হওয়ায় গোসাপের গোশত খেলেন না। তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দস্তরখানে তা খাওয়া হয়েছে। যদি তা হারাম হতো তবে দস্তরখানে তা খাওয়া হতো না।
4319যিয়াদ ইবন আইয়ুব (রহঃ) ... সাঈদ ইবন জুবায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত, ইবন আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট গোসাপ (দব্ব) সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, উম্মে হুফায়দ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট পনির, ঘি এবং গোসাপ (দব্ব) প্রেরণ করলে তিনি ঘি এবং পনির তো খান এবং গোসাপ অপছন্দ করে পরিহার করেন। যদি তা হারাম হতো, তবে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দস্তরখানে তা খাওয়া হত না, আর তিনিও খেতে অনুমতি দিতেন না।
4320সুলায়মান ইবন মানসূর (রহঃ) ... সাবিত ইবন ইয়াযীদ আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে এক সফরে ছিলাম। আমরা এক মনযিল অবতরণ করলে লোকে গোসাপ দেখতে পেল। আমি একটি গোসাপ ধরলাম। তারপর সেটি ভেজে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে পেশ করলাম। তিনি একখণ্ড কাঠ নিয়ে তার আঙ্গুল গণনা শুরু করলেন। পরে বললেন, বনী ইসরাঈলের একদল লোককে সরীসৃপ জাতীয় প্রাণীতে রূপান্তরিত করা হয়েছিল। কিন্তু আমার জানা নেই তারা কোন জন্তু। আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! লোক তোমরা তা খেয়েছে। সাবিত (রাঃ) বলেনঃ তিনি তা খেতে আদেশও করেন নি এবং নিষেধও করেন নি।
4321আমর ইবন ইয়াযীদ (রহঃ) ... সাবিত ইবন ওদীআ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গোসাপ (দব্ব) নিয়ে উপস্থিত হলে তিনি তাকে ওলট-পালট করে দেখতে লাগলেন এবং বললেনঃ একটি সম্প্রদায়কে বিকৃত করা হয়েছিল। জানি না, শেষ পর্যন্ত তাদের কী হয়েছিল? আর আমি এটাও জানি না যে, এরা তাদের মধ্য হতে কিনা।
4322আমর ইবন আলী (রহঃ) ... সাবিত ইবন ওদীআ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট একটি গোসাপ (দব্ব) আনলে তিনি বললেনঃ একটি সম্প্রদায়ের আকৃতি পরিবর্তন করে দেয়া হয়েছিল। আল্লাহই ভাল জানেন (তা গোসাপ না অন্য কিছু)।
4323মুহাম্মদ ইবন মানসূর (রহঃ) .... ইবন আবু আম্মার (রহঃ) বলেন, আমি জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ)-কে হায়েনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে, তিনি আমাকে তা খাওয়ার অনুমতি দিলেন। আমি জিজ্ঞাসা করলামঃ এটা কি শিকার? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। আমি আবার জিজ্ঞাসা করলামঃ আপনি কি তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর থেকে শুনেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ।
4324ইসহাক ইবন মানসূর (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক দাঁতাল হিংস্র জন্তু খাওয়া হারাম।
4325ইসহাক ইবন মানসূর ও মুহাম্মদ ইবন মুসান্না (রহঃ) ... আবু সা'লাবা খুশানী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক দাঁতাল হিংস্র জন্তু খেতে নিষেধ করেছেন।
4326আমর ইবন উসমান (রহঃ) ... আবু সা'লাবা খুশানী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ লুণ্ঠিত মাল হালাল নয় এবং দাঁতাল হিংস্র জন্তু হালাল নয়, আর মুজছামা, অর্থাৎ গুলি, তীর ইত্যাদির আঘাতে যে জন্তু মারা যায়, তা-ও হালাল নয়।
4327কুতায়বা ও আহমাদ ইবন আবদা (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বর যুদ্ধের দিন গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেন। আর ঘোড়ার গোশত খাওয়ার অনুমতি দেন।
4328কুতায়বা (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামআমাদেরকে ঘোড়ার গোশত খাওয়ান এবং গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেন।
4329হুসায়ন ইন হুরায়স (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে খায়বর যুদ্ধের দিন ঘোড়ার গোশত খাওয়ান এবং গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেন।
4330আলী ইবন হুজর (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময়ে ঘোড়ার গোশত খেতাম।
4331ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... খালিদ ইবন ওলীদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন যে, ঘোড়া, খচ্চর এবং গাধার গোশত খাওয়া বৈধ নয়।
4332কাসীর ইবন উবায়দ (রহঃ) ... খালিদ ইবন ওলীদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোড়া, খচ্চর, গাধা এবং দাঁতাল হিংস্র জন্তুর গোশত খেতে নিষেধ করেছেন।
4333মুহাম্মদ ইবন মুসান্না (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা ঘোড়ার গোশত খেতাম। আতা (রহঃ) বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম, খচ্চরের গোশত? তিনি বললেনঃ না।
4334মুহাম্মাদ ইবন মানসূর ও হারিস ইবন মিসকীন (রহঃ) ... মুহাম্মাদ (রহঃ) বলেন, আলী (রাঃ) ইবন আব্বাস (রাঃ)-কে বললেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বরের দিন মুত'আ বিবাহ এবং গৃহপালিত গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেন।
4335সুলায়মান ইবন দাউদ (রহঃ) ... আলী ইবন আবু তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামখায়বরের দিন নারীদেরকে মুত'আ বিবাহ করতে এবং গৃহপালিত গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেন।
4336ইসহাক ইবন ইব্রাহীম ও আমর ইবন আলী (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বর বিজয়ের দিন গৃহপালিত গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেন।
4337ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণিত আছে, কিন্তু এই বর্ণনায় খায়বরের উল্লেখ নেই।
4338মুহাম্মদ ইবন আবদুল আলা (রহঃ) ... বারা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিজয়ের দিন গৃহপালিত গাধার গোশত রান্না করা বা রান্না ব্যতীত খেতে নিষেধ করেন।
4339মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন ইয়াযীদ মুকরি’ (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবন আবু আওফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা খায়বর বিজয়ের দিন ঐ সকল গাধা ধরেছিলাম, যা গ্রাম থেকে বের হয়েছিল। আমরা তা রান্না করলাম। এ সময় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পক্ষ হতে ঘোষক ঘোষণা দিলেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গাধার গোশত হারাম করেছেন, তোমরা গোশতসহ পাত্র উলটিয়ে দাও। তখন আমরা পাত্র উলটিয়ে গোশত ফেলে দেই।
4340মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন ইয়াযীদ (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বর বিজয়ের দিন অতি প্রত্যুষে সেখানে পৌঁছেন। তখন খায়বরের ইয়াহূদীরা কোদাল নিয়ে বের হয়েছিল। যখন তারা আমাদেরকে দেখলো তখন বলে উঠলোঃ মুহাম্মদ এবং তাঁর সেনাবাহিনী! এই বলে তারা দৌড়িয়ে দুর্গে আশ্রয় গ্রহণ করলো। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় হস্তদ্বয় উত্তোলন করে বললেনঃ আল্লাহু আকবর! আল্লাহু আকবর! খায়বর ধ্বংস হলো। যখন আমরা কোন সম্প্রদায়ের চত্বরে অবতরণ করি, তখন সতর্ককৃত সে সম্প্রদায়ের ভোর কতই না দুঃখজনক হয়! আনাস (রাঃ) বলেনঃ আমরা সেখানে গাধা ধরে তা রান্না করলাম। এমন সময় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ঘোষক ঘোষণা দিলেন যে, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল তোমাদেরকে গাধার গোশত খেতে নিষেধ করছেন। কেননা তা অপবিত্র।
4341আমর ইবন উসমান (রহঃ) ... আবূ সালাবা খুশানী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, লোক রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে খায়বরের যুদ্ধের জন্য বের হলো। তখন তারা ছিল ক্ষুধার্ত, তারা সেখানে কিছু পালিত গাধা পেয়ে গেল এবং তা যবেহ করলো। এ সংবাদ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট পৌঁছলে তিনি আবদুর রহমান ইবন আউফকে ঘোষণার আদেশ দিলেন। তিনি লোকের মধ্যে ঘোষণা দিলেন যে, পালিত গাধার গোশত এমন কারও জন্য হালাল নয়, যে সাক্ষ্য দেয় যে, আমি আল্লাহর রাসূল।
4342আমর ইবন উসমান (রহঃ) ... আবু সা'লাবা খুশানী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁতাল জন্তু খেতে নিষেধ করেছেন এবং গৃহপালিত গাধার গোশতও খেতে নিষেধ করেছেন।
4343কুতায়বা (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা খায়বারের দিন ঘোড়া ও বন্য জন্তুর গোশত খেয়েছি। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন।
4344কুতায়বা (রহঃ) ... উমায়র ইবন সালামা যামরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে মদীনার রাওহা নামক স্থান অতিক্রম করছিলাম, আর তাঁরা সকলেই ছিলেন হজ্জের ইহরাম অবস্থায়। এমন সময় একটি আহত বন্য গাধা আমাদের দৃষ্টিগোচর হলো। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ একে ছেড়ে দাও, হয়তো এর শিকারী মালিক আসছে। এমন সময় বাহায গোত্রের এক ব্যক্তি, যে গাধাটিকে আঘাত করেছিল, সে এসে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এই গাধা আপনি নিয়ে নিন। তখন তিনি আবু বকর (রাঃ)-কে আদেশ দিলেন যেন সকলের মধ্যে এর গোশত বণ্টন করে দেন।
4345মুহাম্মদ ইবন ওহাব (রহঃ) ... আবু কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি একটি বন্য গাধা শিকার করে তাঁর সাথীদের নিকট নিয়ে আসেন তখন তারা সকলে ছিল ইহরাম অবস্থায়, কিন্তু তিনি ইহরাম অবস্থায় ছিলেন না। আমরা তা খেয়ে পরে একে অপরকে বললাম, এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করার প্রয়োজন ছিল। পরে আমরা তাঁর নিকট জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেনঃ তোমরা ভালই করেছ। তিনি আমাদেরকে আরো বললেনঃ তোমাদের নিকট এর অবশিষ্ট কিছু আছে কি? আমরা বললামঃ জ্বি হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ তা আমাকে হাদিয়া দাও। আমরা তা তাঁর নিকট নিয়ে আসলে তিনি তা থেকে খান, আর তখন তিনি ইহরাম অবস্থায় ছিলেন।
4346মুহাম্মদ ইবন মানসূর (রহঃ) ... যাহদাম (রহঃ) বর্ণনা করেন, আবু মূসা (রাঃ)-এর নিকট একটি রান্নাকরা মুরগী আনা হলে উপস্থিত লোকদের একজন সরে পড়লো। আবু মূসা (রাঃ) বললেন, তোমার কি হলো? সে বললো, আমি একে একটা বস্তু খেতে দেখেছি। তাই আমার ঘেন্না হয় এবং আমি কসম করেছি যে, আমি তা খাব না। আবূ মূসা (রাঃ) বললেনঃ তুমি নিকটে এসো এবং খাও। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তা খেতে দেখেছি। আর তিনি ঐ ব্যক্তিকে বললেনঃ তুমি তোমার কসমের কাফফারা দাও।
4347আলী ইবন হুজর (রহঃ) ... যাহদাম জারমী (রহঃ) বলেন, আমরা আবূ মূসা (রাঃ) এর নিকট ছিলাম, এমন সময় তাঁর খানা আনা হলো আর তাতে মুরগীর গোশত ছিল। উপস্থিত লোকদের মধ্যে তায়মুল্লাহ গোত্রের রক্তিম বর্ণের এক ব্যক্তি যে ক্রীতদাস ছিল, সে নিকটে আসলো না। তখন আবু মূসা (রাঃ) তাকে বললেনঃ নিকটে এসো, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এটা খেতে দেখেছি।
4348ইসমাঈল ইবন মাসউদ (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বরের দিন প্রত্যেক থাবাবিশিষ্ট পাখি এবং দাঁতাল হিংস্র জন্তু খেতে নিষেধ করেন।
4349মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন ইয়াযীদ মুকরী (রহঃ) ... আবদুল্লাহ্ ইবন আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি চড়ুই অথবা তা থেকে ছােট কোন জন্তু অন্যায়ভাবে হত্যা করে, আল্লাহ্ তা'আলা কিয়ামতের দিন তাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করবেন। লোকেরা জিজ্ঞাসা করলোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! এর ন্যায্যতা কি? তিনি বললেনঃ এর ন্যায্যতা এই যে, একে আল্লাহর নামে যবেহ করে খাবে। এর মাথা কেটে ফেলে দেবে না।
4350ইসহাক ইবন মানসূর (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সমুদ্রের পানি পাক, আর এর মৃত জীব হালাল।
4351মুহাম্মদ ইবন আদম (রহঃ) ... জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের তিনশত ব্যক্তির একদলকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিহাদে পাঠান। আমরা আমাদের পাথেয় কাঁধে বয়ে নিচ্ছিলাম। এক সময় আমাদের পাথেয় নিঃশেষ হয়ে গেল। এমনকি আমাদের প্রত্যেকের একটি করে খেজুর মিলত। এক ব্যক্তি বললোঃ হে আবু আবদুল্লাহ্! একজন লোকের একটি খেজুরে কী হয়? জাবির (রাঃ) বললেনঃ তাও যখন ফুরিয়ে গেল, তখন আমরা বুঝলাম, একটি খেজুরের মূল্য কী? অতঃপর আমরা সমুদ্র তীরে আসলাম এবং সেখানে এমন এক মাছ পেলাম, সমুদ্র যা তীরে নিক্ষেপ করেছে। তা আমরা আঠার দিন পর্যন্ত খেয়েছিলাম।
4352মুহাম্মদ ইবন মানসূর (রহঃ) ... আমর (রহঃ) বলেন, আমি জাবির (রাঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনশত ব্যক্তিকে আবু উবায়দা ইবন জাররাহ্ (রাঃ)-এর অধীনে কুরায়শের বাণিজ্যদলের গতিবিধি লক্ষ্য করার জন্য পাঠান। আমরা ঐ কাফেলার অপেক্ষায় সমুদ্র তীরে অবস্থান করি। আমরা এমন খাদ্য সংকটে পড়লাম যে, শেষ পর্যন্ত আমরা গাছের পাতা খেতে লাগলাম। এঅবস্থায় একদিন সমুদ্র একটি মাছ তীরে নিক্ষেপ করল যাকে আম্বর বলা হয়ে থাকে। আমরা তা অর্ধ মাস পর্যন্ত খেতে থাকি, আর এর চর্বি তেল হিসেবে ব্যবহার করি। এমনকি আমাদের হৃত স্বাস্থ্য ফিরে আসল। আবূ উবায়দা (রাঃ)-এর পাঁজরের একটি হাঁড় তুলে নেন। তিনি একটি লম্বা উটের প্রতি লক্ষ্য করেন, আর বাহিনীর সর্বাপেক্ষা লম্বা ব্যক্তিকে এর উপর সওয়ার করালেন। লোকটি এর নিচ দিয়ে চলে গেল। আবার বাহিনীর খাদ্যাভাব দেখা দিলে এক ব্যক্তি তিনটি উট যবেহ করল। আবার খাদ্যাভাব দেখা দিলে এক ব্যক্তি আরও তিনটি উট যবেহ করল। তারপর আবার খাদ্যাভাব দেখা দিলে আবারও এক ব্যক্তি তিনটি উট যবেহ করল। আবু উবায়দা (রাঃ) পরে তা নিষেধ করেন। (রাবী) সুফিয়ান (রহঃ) বলেন, আবু যুবায়র (রহঃ) জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, আমরা এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট জিজ্ঞাসা করলে, তিনি বলেনঃ তোমাদের নিকট কি এর অবশিষ্ট আছে? জাবির (রাঃ) বলেন, আমরা এর চক্ষুদ্বয় হতে এত-এত মটকা চর্বি বের করলাম। আর এর চক্ষের কোটরে চার ব্যক্তি নেমে পড়েছিল। আবু উবায়দা (রাঃ)-এর নিকট একটি খেজুর ভর্তি থলি ছিল। তিনি আমাদেরকে একা-এক মুষ্ঠি দান করতেন। পরে একটি করে খেজুর দিতেন, তা ফুরিয়ে যাওয়ার পর আমরা এর ফুরিয়ে যাওয়ার মূল্য বুঝতে পারি।
4353যিয়াদ ইবন আইয়ুব (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু উবায়দার নেতৃত্বে আমাদেরকে এক যুদ্ধে প্রেরণ করেন। আমাদের পাথেয় ফুরিয়ে যাওয়ার পর আমরা এমন একটি মাছ পেলাম যা সমুদ্র তীরে নিক্ষেপ করেছিল। আমরা তা থেকে খাওয়ার ইচ্ছা করলে আবু উবায়দা (রাঃ) নিষেধ করলেন। পরে তিনি বললেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রেরিত এবং আমরা আল্লাহর রাস্তায় রয়েছি, অতএব খাও। আমরা বেশ কিছু দিন তা থেকে খেয়েছিলাম। আমরা পরে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে ঘটনা বর্ণনা করলাম। তিনি বললেনঃ যদি তোমাদের কাছে কিছু অবশিষ্ট থেকে থাকে, তবে তা আমাদের কাছে পাঠিয়ে দাও।
4354মুহাম্মদ ইবন আমর ইবন আলী ইবন মুকাদ্দাম মুকাদ্দামী (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের তিনশত ব্যক্তির উর্ধ্বে একটি দলকে আবু উবায়দার নেতৃত্বে যুদ্ধে পাঠান। তিনি আমাদের পাথেয় হিসাবে এক থলি খেজুর দিলেন। আবু উবায়দা (রাঃ) এ থেকে আমাদেরকে একমুষ্ঠি করে দিতেন। আর যখন তা নিঃশেষ হতে চললো, তখন তিনি একটি একটি করে খেজুর বণ্টন করতেন। আমরা শিশুদের ন্যায় তা চুষতাম এবং পরে পানি পান করতাম। যখন তাও শেষ হলো, তখন আমরা এর মূল্য অনুভব করতে পারলাম। শেষ পর্যন্ত আমরা আমাদের বর্শা দ্বারা গাছের পাতা ঝরিয়ে তা খেতে লাগলাম। এরপর পানি পান করতাম। এই জন্য ঐ সেনাদলের নাম ‘পাতার দল’ হয়ে গেল। যখন আমরা সমুদ্র তীরে পৌঁছলাম, সেখানে আমরা এক জন্তু দেখতে পেলাম, যা বালুর টিলার ন্যায় পড়ে ছিল। তাকে আম্বর বলা হতো। আবু উবায়দা (রাঃ) বললেনঃ এটা মৃত জন্তু, তোমরা তা খাবে না। এরপর তিনি বললেনঃ আমরাতো রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সেনাদল, আর আল্লাহ্ পাকের রাস্তায় রয়েছি এবং আমরা নিরুপায়। অতএব তোমরা আল্লাহর নামে খাও। পরে আমরা তা থেকে খেলাম এবং মাছের কিছু অংশ শুকালাম। এর চোখের কোটরে তের ব্যক্তি বসতে পারতো। বর্ণনাকারী বলেনঃ আবু উবায়দা (রাঃ) এর পাঁজরের এক পাশের একখানা হাড় নিলেন। তারপর সর্ববৃহৎ উটের পিঠে হাওদা বসান। তারপর সেটিকে সেই হাড়ের নিচ দিয়ে চালিয়ে নেন। আমরা এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হলে তিনি বললেনঃ তোমরা এত দেরী করলে কেন? আমরা বললামঃ আমরা কুরায়শদের দলের প্রতীক্ষায় ছিলাম। আর আমরা তাঁর নিকট ঐ জন্তুর ঘটনাও বর্ণনা করলাম। তখন তিনি বললেনঃ এটা আল্লাহ্-প্রদত্ত রিয্ক, যা তিনি তোমাদেরকে দান করেছেন। তোমাদের নিকট এর কিছু অংশ অবশিষ্ট আছে কি? রাবী বলেন, আমরা বললামঃ হ্যাঁ।
4355কুতায়বা (রহঃ) ... আবদুর রহমান ইবন উসমান (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, একজন চিকিৎসক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট ঔষধ হিসাবে ব্যাঙ-এর উল্লেখ করলে, তিনি একে হত্যা করতে নিষেধ করেন।
4356কুতায়বা (রহঃ) ... আবু ইয়া'ফুর (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবন আবু আওফা (রাঃ)-কে ফড়িং হত্যা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছয়টি জিহাদে শরীক হয়ে ছিলাম। আর সে সময় আমরা ফড়িং খেতাম।
4358ওহাব ইন বয়ান (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : কোন এক নবীকে একটি পিঁপড়া দংশন করলে তিনি সে পিঁপড়ের বস্তি জ্বালিয়ে দেয়ার আদেশ দেন এবং তা জ্বালিয়ে দেয়া হয়। তখন আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর প্রতি ওহী প্রেরণ করে বলেনঃ তোমাকে তো একটা পিঁপড়া দংশন করেছে। আর তুমি এমন এক জাতিকে ধ্বংস করলে যারা আল্লাহর মহিমা ও পবিত্রতা ঘোষণা করত।
4359ইসহাক ইবন ইব্রাহীম (রহঃ) ... হাসান (রহঃ) বলেন, একজন নবী গাছের নীচে অবতরণ করলে তাঁকে একটি পিপড়া দংশন করে। ফলে তাঁর আদেশে তাদের পূর্ণ বস্তি জ্বালিয়ে দেওয় হয়। আল্লাহ তা'আলা উক্ত নবীর উপর ওহী অবতীর্ণ করেন যে, তুমি ঐ পিঁপড়াকে কেন মারলে না, যে তোমাকে দংশন করেছিল? আবূ হুরায়রা (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, সেই বর্ণনায় এটুকু বর্ধিত আছে যে, কেননা তারা তাসবীহ পাঠ করত।
4360ইসহাক ইবন ইব্রাহীম (রহঃ) ... হাসান (রহঃ) থেকে অর্ণিত। তিনি আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তিনি এটাকে মারফুরূপে অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নামে বর্ণনা করেননি।
উৎস: Sunan an Nasai
WEBREATH · 11:11
«Should I not be a thankful servant?» — Sahih al-Bukhari
Breath is one for all: everyone lives by it, whoever they are and whatever they believe. Every day at 11:11 local time people stop for sixty seconds, breathe, and thank GOD for the breath — each in their own words, each within themselves. In that minute we are One Breath.
WEBREATH — the Minute at 11:11, your own local time — we are One Breath