সুনানে নাসায়ী 27 · The Book of Divorce
আপনার ভাষায় এখনো কোনো অনুবাদ নেই — ইংরেজি দেখাচ্ছে
3389উবায়দুল্লাহ ইবন সাঈদ সারাখসী (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি তাঁর স্ত্রীকে তালাক দিলেন, তখন তাঁর স্ত্রী ছিল ঋতুমতী। তখন উমর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এর সমাধান চাইলেন। তিনি বললেন, আবদুল্লাহ তার স্ত্রীকে ঋতুমতী অবস্থায় তালাক দিয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আবদুল্লাহকে বলে দাও সে যেন তাকে ফিরিয়ে নেয় এবং হায়য থেকে পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তাকে দূরে রাখে। এরপর সে আবার ঋতুমতী হয়ে যখন পবিত্র হবে, তখন সে যদি ইচ্ছা করে তবে তার সাথে সহবাস করার পূর্বেই তাকে তালাক দেবে, আর যদি সে ইচ্ছা করে তাহলে তাকে রেখে দেবে। এটাই তার ঐ ইদ্দত, যে অনুযায়ী আল্লাহ্ তা'আলা আদেশ করেছেন, স্ত্রীদের তালাকের ব্যাপারে।
3390মুহাম্মাদ ইবন সালামা (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি তাঁর স্ত্রীকে হায়য অবস্থায় তালাক দেন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময়। তখন উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এ ব্যাপারে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, তাকে বল, যেন তাকে ফিরিয়ে নেয় এবং পাক হওয়া পর্যন্ত তাকে দূরে রাখে। পরে হায়যের পর পাক হলে যদি সে ইচ্ছা করে তাকে রাখবে, আর যদি ইচ্ছা করে তালাক দেবে-স্পর্শ করার পূর্বে। ইহাই ঐ ইদ্দত, যে অনুযায়ী আল্লাহ্ তা'আলা স্ত্রীদের তালাকের ব্যাপারে আদেশ করেছেন।
3391কাছীর ইবন উবায়দ (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীবিত থাকাকালে আমি আমার স্ত্রীকে তালাক দিলাম হায়য অবস্থায়। উমর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এই ঘটনা বললেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাগান্বিত হয়ে বললেনঃ সে যেন তাকে ফিরিয়ে আনে। এরপর এক হায়য হওয়া পর্যন্ত তার থেকে দূরে থাকবে এবং যতক্ষণ না সে পবিত্র হবে। এরপর সে যদি তাকে তালাক দিতে চায়, তাহলে তার পাক অবস্থায় তাকে তালাক দেবে-সহবাস করার পূর্বে। এই তালাক হলো ইদ্দতের অনুযায়ী, যেমন আল্লাহ্ তা'আলা নাযিল করেছেন। আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলেন, আমি তাকে ফিরিয়ে আনলাম; আর আমি তাকে যে তালাক দিয়েছিলাম, তাকে এক তালাক হিসাবে গণ্য করলাম।
3392মুহাম্মদ ইবন ইসমাঈল ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... ইবন জুরায়জ (রহঃ) বলেন, আমাকে আবু যুবায়র সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি আবদুর রহমান ইবন আয়মন (রহঃ)-কে ইবন উমরের নিকট প্রশ্ন করতে শুনেছেন, আর তখন আবু যুবায়র (রাঃ) শোনেন। কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে হায়য অবস্থায় তালাক দিলে আপনি তা কিরূপ মনে করেন? তিনি তাকে বললেনঃ আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) তাঁর স্ত্রীকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে হায়য অবস্থায় তালাক দিলে উমর (রাঃ) এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট জিজ্ঞাসা করলেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সে যেন তাকে ফিরিয়ে আনে। এ কথা বলে তিনি আমার দেওয়া তালাক ফিরিয়ে রদ করলেন। তিনি বললেনঃ যখন সে পাক হবে, তখন ইচ্ছা হলে তাকে তালাক দেবে; আর না হয় তাকে রেখে দেবে। ইবন উমর (রাঃ) বলেনঃ এরপর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا طَلَّقْتُمْ النِّسَاءَ فَطَلِّقُوهُنَّ فِي قُبُلِ عِدَّتِهِنَّ
3393মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে আল্লাহ্ তা'আলার বাণী (يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا طَلَّقْتُمْ النِّسَاءَ فَطَلِّقُوهُنَّ لِعِدَّتِهِنَّ) সম্পর্কে বর্ণিত যে, এর অর্থ ইদ্দতের পূর্বে।
3394মুহাম্মদ ইবন ইয়াহইয়া (রহঃ) ... আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেনঃ সুন্নত তালাক হলো, যে পাক অবস্থায় সহবাস করা হয়নি। তাতে এক তালাক দেওয়া। এরপর যখন হায়য় হওয়ার পর পাক হয়, তখন তাকে আর এক তালাক দেওয়া। এরপর যখন সে আবার হয়েয থেকে পাক হয়, তখন আরো এক তালাক দেওয়া, এরপর সে এক হায়েয পর্যন্ত ইদ্দত পালন করবে। আ'মাশ (রহঃ) বলেন, আমি ইবরাহীমকে জিজ্ঞাসা করলে, তিনি এরূপ বললেন।
3395আমর ইবন আলী (রহঃ) ... আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সুন্নত তালাক হলো স্ত্রীকে সহবাস ব্যতীত পাক অবস্থায় এক তালাক দেওয়া।
3396মুহাম্মদ ইবন আবদুল আ'লা (রহঃ) ... আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি তাঁহার স্ত্রীকে হয়েয অবস্থায় এক তালাক দেন। তখন উমর (রাঃ) গিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ সংবাদ দিলে তিনি তাকে বললেন, আবদুল্লাহকে বল, সে যেন তাকে ফিরিয়ে আনে, এবং যখন সে গোসল করবে, তখন তাকে অন্য হয়েয পর্যন্ত সহবাস করবে না, যখন অন্য হায়েয হতে গোসল করবে, তখন তাকে তালাক দেওয়ার আগে স্পর্শ করবে না। যদি তাকে রাখতে চায়, তবে রেখে দেবে। ইহাই সেই ইদ্দত- আল্লাহ পাক যার আদেশ করেছেন যে, স্ত্রীদেরকে ইদ্দতে তালাক দেবে।
3397মাহমুদ ইবন গায়লান (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি তাঁর স্ত্রীকে হায়েয অবস্থায় তালাক দিলেন, এই খবর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট পৌঁছলে তিনি বললেন, তাকে বল, সে যেন তাকে ফিরিয়ে নেয়; এরপর তাকে তালাক দেয় পাক অবস্থায় অথবা গর্ভাবস্থায়।
3398যিয়াদ ইবন আইয়ুব (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি তাঁর স্ত্রীকে হায়েয অবস্থায় তালাক দিলে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে তার নিকট ফিরিয়ে দেন। পরে তিনি তাকে পাক-পবিত্র অবস্থায় তালাক দেন।
3399কুতায়বা (রহঃ) ... ইউনুস ইবন জুবায়র (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইবন উমর (রাঃ)-কে এমন এক ব্যক্তি সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলাম, যে তার স্ত্রীকে হায়েয অবস্থায় তালাক দিয়েছে। তখন তিনি বলেনঃ তুমি কি আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-কে চিন? তিনি তার স্ত্রীকে হায়েয অবস্থায় তালাক দেন, তখন উমর (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তাকে আদেশ করলেনঃ সে যেন তাকে ফিরিয়ে নেয়। এরপর তার ইদ্দতের অপেক্ষা করবে। তখন তাকে আমি বললামঃ এই তালাকের জন্যই কি ইদ্দত পালন করবে? তিনি বললেনঃ আস, যদি সে ফিরিয়ে না নেয় এবং মুর্খতার পরিচয় দেয়, তাহলে কি সে তালাক গণ্য হবে না?
3400ইয়াকুব ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... ইউনুস (রহঃ) বলেন, আমি ইবন উমর (রাঃ)-কে বললাম; এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে হায়েয অবস্থায় তালাক দিয়েছে। তখন তিনি বললেনঃ তুমি কি আবদুল্লাহ ইবন উমর কে চিন, সে তার স্ত্রীকে হায়েয অবস্থায় তালাক দেয়। তখন উমর (রাঃ) তার এ বিষয়ে প্রশ্ন করার জন্য বাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসলে, তিনি তাকে এ নির্দেশ দেন যে, সে যেন তাকে ফিরিয়ে নেয়; এরপর তার ইদ্দতের অপেক্ষা করে। আমি তাকে বললামঃ যখন কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে হায়েয অবস্থায় তালাক দেয়, তখন এই তালাকের জন্যও কি তাকে ইদ্দত পালন করতে হবে? তিনি বললেনঃ থাম, যদি সে ফিরিয়ে না নেয় এবং মূর্থিতার পরিচয় দেয়, তাহলে কি সে তালাক গণ্য হবে না?
3401সুলায়মান ইবন দাউদ (রহঃ) ... ইবন মাখরামা (রহঃ) আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন তাঁর পিতা হতে, তিনি বলেনঃ আমি মাহমুদ ইবন লবীদ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এক ব্যক্তি সম্বন্ধে সংবাদ দেওয়া হলো, সে তার স্ত্রীকে একত্রে তিন তালাক দিয়েছে। এ কথা শুনে তিনি রাগান্বিত হয়ে দাঁড়িয়ে বললেনঃ সে কি আল্লাহর কিতাব নিয়ে খেলা করছে? অথচ আমি তোমাদের মাঝেই রয়েছি! তখন এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি কি তাকে হত্যা করবো না?
3402মুহাম্মদ ইবন সালাম (রহঃ) ... মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইবন শিহাব আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, সাহল ইবন সা'দ সাঈদী তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, উওয়াইমির আজলানী আসিম ইবন আদীর নিকট আগমন করলো এবং বললোঃ হে আসিম! তুমি কি মনে কর, যদি কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে কোন ব্যক্তিকে দেখতে পায়, তাহলে সে কি তাকে হত্যা করবে? যদ্দরুন লোকেরাও তাকে হত্যা করবে অথবা কি করবে? হে আসিম! তুমি আমার পক্ষ হয়ে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা কর। তখন আসিম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি প্রশ্নকারীর প্রতি বিরক্তি প্রকাশ করলেন এবং ঐ স্ত্রীকে দোষী সাব্যস্ত করলেন। রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা শুনলেন, তা আসিম অতিশয় গুরুতর মনে করলো। আসিম ঘরে ফিরে আসলে উওয়াইমির (রাঃ) তার নিকট এসে বললোঃ হে আসিম ! রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাকে কি বলেছেন? আসিম উওয়াইমির (রাঃ)-কে বললেনঃ তুমি তো আমার নিকট ভাল খবর নিয়ে আসোনি, আমি যা জিজ্ঞাসা করেছি, তাতে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসন্তুষ্ট হয়েছেন। উওয়াইমির বললেনঃ আল্লাহর শপথ! আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তা জিজ্ঞাসা না করে ক্ষান্ত হবে না। এরপর উওয়াইমির লোকের মধ্যে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আগমন করে বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনি ঐ ব্যক্তি সম্বন্ধে কী বলেন, যে তার স্ত্রীর সাথে অন্য কোন ব্যক্তিকে দেখতে পায়। সে কি তাকে হত্যা করবে, ফলে আপনারাও তাকে হত্যা করবেন অথবা সে কি করবে? তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার এবং তোমার স্ত্রীর ব্যাপারে ফয়সালা নাযিল হয়েছে। অতএব তুমি গিয়ে তাকে নিয়ে এসো। সাহল (রাঃ) বলেন, এরপর উভয়ে এসে লি আন’ করলো। আর তখন আমি অন্যান্য লোকের সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ছিলাম। যখন উওয়াইমির লি'আন শেষ করলো। তখন সে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! যদি আমি তাকে রাখি, তাহলে লোকেরা বলবে, আমি তার উপর মিথ্যা তোহমাত লাগিয়ে ছিলাম। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আদেশ করার পূর্বেই সে তাকে তিন তালাক দিল।
3403আহমদ ইবন ইয়াহইয়া (রহঃ) ... শা'বী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। ফাতিমা বিনতে কায়স (রাঃ) আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে উপস্থিত হয়ে বললামঃ আমি আলে খালিদের কন্যা। আর আমার স্বামী অমুক আমার নিকট তালাকের খবর পাঠিয়েছে। আমি তার অভিভাবকের নিকট খোরপোষ এবং বাসস্থান চাইলে তারা তা আমাকে দিতে অস্বীকার করেছে। ইয়া রাসূলাল্লাহ্! তারা বললোঃ সে তার নিকট তিন তালাকের খবর পাঠিয়েছে। তিনি বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ খোরপোষ এবং বাসস্থান স্ত্রীর জন্য ঐ সময় দেওয়া হবে যখন তাকে ফিরিয়ে আনার অধিকার স্বামীর থাকে।
3404মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... ফাতিমা বিনতে কায়স (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিন তালাকপ্ৰাপ্ত নারীর জন্য কোন খোরপোষ ও বাসস্থান নেই।
3405আমর ইবন উসমান (রহঃ) ... আবু সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার কাছে ফাতিমা বিনতে কায়স (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, আবু আমর ইবন হাফস মাখযুমী তাকে তিন তালাক দিলে খালিদ ইবন ওয়ালীদ বনী মাখযুমের সাথে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গিয়ে বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আবু আমর ইবন হাফস (রাঃ) ফাতিমাকে তিন তালাক দিয়েছে, এখন কি সে খোরপোষ পাবে? তখন তিনি বললেনঃ তার জন্য কোন খোরপোষ এবং বাসস্থান নেই।
3406আবু দাউদ সুলায়মান ইবন সায়ফ (রহঃ) ... ইবন তাউস (রহঃ) তাঁর পিতার মাধ্যমে বর্ণনা করেন। আবু সাহবা ইবন আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট এসে বললোঃ হে ইবন আব্বাস! আপনি কি জানেন না, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে এবং আবু বকর ও উমর (রাঃ)-এর প্রথম যুগে তিন তালাককে এক তালাক ধরা হতো? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ।
3407মুহাম্মদ ইবন 'আলা (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলো যে তার স্ত্রীকে তালাক দিলে সে অন্য স্বামী গ্ৰহণ করলো। সে স্বামী তার সাথে নির্জনবাস করলো। এরপর সে তাকে তালাক দিল সহবাসের পূর্বে, সে কি প্রথম স্বামীর জন্য হালাল হবে? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ না; যতক্ষণ না দ্বিতীয় স্বামী তার মধুর স্বাদ গ্রহণ করবে, আর সেও তার স্বাদ গ্ৰহণ করবে।
3408আব্দুর রহমান ইবন আবদুল্লাহ ইবন আব্দুল হাকম (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রিফা'আ' কুরাযীর স্ত্রী রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে এসে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি আবদুর রহমান ইবন যুবায়রকে বিবাহ করেছি। আল্লাহর কসম তার নিকট আমার এই কাপড় খণ্ডের মত ব্যতীত আর কিছু নেই। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ মনে হয় তুমি আবার রিফা'আর নিকট ফিরে যেতে চাও, তা হতে পারে না, যতক্ষণ না তুমি তার মধুর স্বাদ গ্ৰহণ কর, আর সে তোমার মধুর স্বাদ গ্রহণ করে।
3409আমর ইবন আলী (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রিফাআ কুরাযীর স্ত্রী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসলেন, তখন আবু বকর (রাঃ) তাঁর নিকট ছিলেন। সে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি রিফাআ কুরাযীর বিবাহাধীনে ছিলাম, সে আমাকে 'আলবাত্তা' অর্থাৎ তিন তালাক দেয়। এরপর আমি আবদুর রহমান ইবন যুবায়রকে বিবাহ করি। আর আল্লাহর কসম! ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এই কাপড়ের প্রান্ত ভাগের ন্যায় ব্যতীত তার নিকট কিছু নেই। এই বলে সে তার চাদরের অগ্রভাগ তুলে ধরে। তখন খালিদ ইবন সাঈদ ছিল দরজায়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামন তাকে অনুমতি না দিয়ে বললেনঃ হে আবু বকর! তুমি কি শুনছ না, এই মহিলা জোরে জোরে সশব্দে যা বলছে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে! এরপর তিনি বললেনঃ তুমি কি আবার রিফা'আর নিকট প্রত্যাবর্তন করতে চাও? তা হতে পারে না, যতক্ষণ না তুমি তার মধু পান কর আর সে তোমার মধু পান করে।
3410আলী ইবন নসর ইবন আলী (রহঃ) ... হাম্মাদ ইবন যায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আইয়ূব (রাঃ)-কে বললাম, তুমি কি কাউকেও (أَمْرِكِ بِيَدِكِ) অৰ্থাৎ "তোমরা ব্যাপার তোমার হাতে" বলায় তাতে তিনি তালাক বলতে শুনেছ- হাসান ব্যতীত? তিনি বললেনঃ না। এরপর তিনি বললেন, আল্লাহু ক্ষমা কর। কাতাদা আবু সালাম (রাঃ) আবু হুরায়রা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, এরূপ বললে- তিন তালাক হয়ে যাবে। এরপর আমি কাছীর (রহঃ)-এর সাথে সাক্ষাৎ করে তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি তাকে চিনতে পারলেন না। এরপর আমি কাতাদা (রহঃ)-এর নিকট ফিরে আসলাম এবং তাকে এ সংবাদ দিলাম। তিনি বললেনঃ সে ভুলে গেছে। আবু আবদুর রহমান বলেন, এটা মুনকার হাদীস।
3411ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রিফা'আর স্ত্রী রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে এসে বললো, আমার স্বামী আমাকে তিন তালাক দেয়। এরপর আমি আবদুর রহমান ইবন যুবায়র (রাঃ)-কে বিবাহ করি। কিন্তু তার নিকট কাপড়ের আঁচলের মত ব্যতীত কিছু নেই। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে বললেনঃ মনে হয় তুমি রিফা'আর নিকট ফিরে যেতে চাও। না, তা হয় না; যতক্ষণ না সে তোমার স্বাদ গ্ৰহণ করে আর তুমি তার স্বাদ গ্ৰহণ কর।
3412মুহাম্মদ ইবন মুছান্না (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তিন তালাক দিল। এরপর সে অন্য স্বামী গ্ৰহণ করলো, কিন্তু সে তাকে স্পর্শ করার (সংগত হওয়ার) পূর্বেই তালাক দিল। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট জিজ্ঞাসা করা হলোঃ সে কি প্রথম স্বামীর জন্য হালাল হবে ? তিনি বললেন, না। হালাল হবে না, যতক্ষন দ্বিতীয় স্বামী তার স্বাদ গ্রহণ করে। যেমন প্রথম স্বামী স্বাদ গ্ৰহণ করেছিল।
3413আলী ইবন হুজর (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, গুমায়সা অথবা রুমায়সা নাম্নী এক মহিলা তার স্বামী সম্বন্ধে অভিযোগ নিয়ে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসলো যে, সে তার নিকট আসে না। অল্পক্ষণ পরেই তার স্বামী আসলো এবং বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! সে মিথ্যুক। আমি তার নিকট যেয়ে থাকি, কিন্তু সে তার প্রথম স্বামীর নিকট ফিরে যেতে চায়। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তা হতে পারে না, যতক্ষণ না তুমি তার মধুর স্বাদ গ্ৰহণ কর।
3414আমর ইবন আলী (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি সম্বন্ধে, সে তার স্ত্রীকে তালাক দিল। এরপর তাকে অন্য এক ব্যক্তি বিবাহ করলো এবং সে তার সাথে সহবাস করার পূর্বে তাকে তালাক দিল। সে কি তার প্রথম স্বামীর নিকট ফিরে যেতে পারবে? তিনি বললেনঃ না, যতক্ষণ না সে স্বামী তার স্বাদ গ্রহণ করে।
3415মাহমুদ ইবন গায়লান (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো, যে তার স্ত্রীকে তিন তালাক দিল। পরে অন্য এক ব্যক্তি তাকে বিবাহ করলো। সে দরজা বন্ধ করে পর্দা ঝুলিয়ে দিল। এরপর তার সাথে সহবাস করার পূর্বে তাকে তালাক দিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সে প্রথম স্বামীর জন্য হালাল হবে না। যতক্ষণ না দ্বিতীয় স্বামী তার সাথে সহবাস করে। ইমাম আবু আবদুর রহমান নাসাঈ (রহঃ) বলেনঃ হাদীসটি অধিক সঠিক।
3416আমর ইবন মানসূর (রহঃ) ... আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অভিসম্পাত করেছেন সে সব নারীদের, যারা উল্কি আঁকায় এবং উল্কি আঁকার জন্য নির্দেশ দেয়। আর যে নারী নিজের চুলের সাথে অন্যের চুল মিলায় এবং যে নারী এরূপ করার আদেশ করে। আর যে সুদ খায় এবং সুদ খাওয়ায়, আর যে হালাল করে এবং যার জন্য হালাল করা হয়।
3417হুসায়ন ইবন হুরায়াছ (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ কিলাবিয়া গোত্রের মহিলাটি যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললোঃ আমি আল্লাহর নিকট আপনার থেকে পানাহ চাই। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি এক মহান সত্তার আশ্রয় গ্রহণ করেছ। তুমি তোমার পরিজনের সাথে মিলিত হও।
3418উবায়দুল্লাহ ইবন সায়ীদ (রহঃ) ... আবু জাহম পুত্র আবু বকর (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ফাতিমা বিনতে কায়সকে বলতে শুনেছি, আমার স্বামী আমার নিকট তালাক প্রেরণ করলে আমি আমার কাপড় পরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসলাম। তিনি বললেনঃ তোমাকে কয় তালাক দিয়েছে? আমি বললামঃ তিন তালাক। তিনি বললেনঃ তোমার জন্য কোন খোরপোেষ নেই। তুমি তোমার চাচাত ভাই ইবন উম্মে মাকতুমের গৃহে ইদ্দত পালন কর। কেননা সে অন্ধ। তুমি তার সামনে তোমার কাপড় খুলতে পারবে। আর যখন তোমার ইদ্দত পূর্ণ হবে, তখন আমাকে সংবাদ দেবে। এ হাদীস এখানে সংক্ষেপে বৰ্ণিত হয়েছে।
3419উবায়দুল্লাহ ইবন সায়ীদ (রহঃ) ... ফাতিমা (রাঃ) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।
3420আবদুল্লাহ ইবন আব্দুস সামাদ (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তার নিকট এক ব্যক্তি এসে বললোঃ আমি আমার স্ত্রীকে আমার উপর হারাম করেছি। তিনি বললেনঃ তুমি মিথ্যা বলছো। সে তোমার উপর হারাম নয়। এরপর তিনি এ আয়াত তিলাওয়াত করলেনঃ (يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ لِمَ تُحَرِّمُ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَكَ عَلَيْكَ) তোমার উপর দাসমুক্ত করার ন্যায় কঠিন কাফফার ওয়াজিব হয়েছে।
3421কুতায়বা (রহঃ) ... আতা (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি উবায়দ ইবন উমোয়র (রহঃ)-কে বলতে শুনেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী আয়েশা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যায়নাব (রাঃ) এর নিকট অবস্থান করতেন এবং তাঁর নিকট মধু পান করতেন। আমি এবং হাফসা (রাঃ) পরামর্শ করলাম, আমাদের মধ্যে যার নিকটই রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমন করেন, সে যেন বলেঃ আমি আপনার থেকে মাগাফির-এর গন্ধ পাচ্ছি। এরপর তিনি তাদের একজনের নিকট আগমন করলে, তিনি তাকে তা বললেন। তখন তিনি বললেনঃ বরং আমি তো যায়নবের নিকট মধু পান করেছি। তিনি আরও বললেনঃ আমি আর পুনরায় তা পান করবো না। তখন এ আয়াত নাযিল হয়ঃ (يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ لِمَ تُحَرِّمُ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَكَ) আর আয়েশা এবং হাফসা (রাঃ) সম্বন্ধে নাযিল হয়ঃ (إِنْ تَتُوبَا إِلَى اللَّهِ) আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উক্তিঃ বরং আমি মধু পান করেছি। এর জন্য (وَإِذْ أَسَرَّ النَّبِيُّ إِلَى بَعْضِ أَزْوَاجِهِ حَدِيثًا) আয়াত নাযিল হয়। এর সমস্তই আতা (রহঃ)-এর হাদীসে রয়েছে।
3422মুহাম্মদ ইবন হাতিম (রহঃ) ... আবদুর রহমান ইবন আবদুল্লাহ ইবন কা'ব ইবন মালিক (রাঃ) বলেনঃ আমি কা'ব ইবন মালিককে তার কথা বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি যখন তাবুক যুদ্ধে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে অংশ গ্ৰহণ করা থেকে বিরত রইলেন। তাতে তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দূত এসে আমাকে বললোঃ রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাকে আদেশ করেছেন যে, আপনি যেন আপনার স্ত্রী থেকে দূরে থাকেন। তখন আমি বললামঃ আমি তাকে তালাক দেব, না কি করবো। তিনি বললেনঃ না, বরং তার থেকে দূরে থাকুন, তার কাছে যাবেন না। তখন আমি আমার স্ত্রীকে বললামঃ তুমি তোমার পরিবারের নিকট যাও, তাদের নিকট থাকে, যতক্ষণ না আল্লাহর পক্ষ হতে এ ব্যাপারে কোন ফয়সালা আল্লাহ তা'আলা করে দেন।
3423মুহাম্মদ ইবন জাবালা এবং মুহাম্মদ ইবন ইয়াহইয়া (রহঃ) ... আবদুর রহমান ইবন আবদুল্লাহ্ ইবন কা'ব ইবন মালিক তাঁর পিতা হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার পিতা কা'ব ইবন মালিককে বলতে শুনেছিঃ তিনি ঐ তিন ব্যক্তির একজন, যার গুনাহ ক্ষমা করা হয়েছে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট এবং আমার অন্য দুই সাথীর নিকট সংবাদ পাঠান যে, তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের থেকে দূরে থাক। তখন আমি ঐ দূতকে জিজ্ঞাসা করলামঃ আমি কি আমার স্ত্রীকে তালাক দেব, না কি করবো? তিনি বললেনঃ না, বরং তার থেকে দূরে থাকুন, তার কাছে যাবেন না। তখন আমি আমার স্ত্রীকে বললামঃ তুমি তোমার পরিবারের লোকদের নিকট যাও এবং তাদের সাথে থাক। তখন সে তাদের নিকট চলে যায়।
3424ইউসূফ ইবন সাঈদ (রহঃ) ... ইবন শিহাব (রহঃ) বলেন, আবদুর রহমান ইবন আবদুল্লাহ্ ইবন কা'ব ইবন মালিক আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবন কা'ব বলেছেনঃ আমি ক’ব (রাঃ)-কে তার ঘটনা বর্ণনা করতে শুনেছি, যখন তিনি তাবুক যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে যোগদান করা থেকে বিরত থাকেন, এতে তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দূত আমার নিকট এসে বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাকে আপনার স্ত্রী হতে দূরে থাকতে আদেশ করেছেন। তখন আমি জিজ্ঞাসা করিঃ আমি কি তাকে (স্ত্রীকে) তালাক দেব, না কি করবো? তিনি বলেন, না, বরং আপনি তার থেকে দূরে থাকুন, তার কাছে যাবেন না। আমার দুই সাথীর নিকটও এই সংবাদ পাঠানো হয়। তখন আমি আমার স্ত্রীকে বলিঃ তুমি তোমার পরিবারে গিয়ে তাদের সাথে থাক। যতক্ষণ না আল্লাহ্ তা'আলা এ ব্যাপারে কোন ফয়সালা করে দেন।
3425মুহাম্মাদ ইবন মা'দান ইবন ঈসা (রহঃ) ... উবায়দুল্লাহ ইবন কা'ব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার পিতা কা'বকে বলতে শুনেছি। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট এবং আমার দুই সাথীর নিকট এই বলে দূত পাঠালেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাদেরকে আপনাদের বিবিগণ হতে দূরে থাকতে আদেশ করেছেন। তখন আমি দূতকে বললাম, আমার স্ত্রীকে তালাক দেব, না কি করবো? তিনি বললেনঃ না, বরং তার থেকে দূরে থাকুন। তার কাছে যাবেন না। তখন আমার স্ত্রীকে বললামঃ তুমি তোমার পরিবারস্থ লোকদের নিকট গিয়ে তাদের সাথে থাক। যতদিন আল্লাহ তা'আলা এ ব্যাপারে কোন ফয়সালা করে দেন। তখন সে তাদের নিকট চলে গেল।
3426মুহাম্মদ ইবন আবদুল আ'লা (রহঃ) ... আবদুর রহমান ইবন কা'ব ইবন মালিক তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, যখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দূত আমার নিকট এসে আমাকে বললেন, আপনি আপনার স্ত্রী হতে দূরে থাকুন। তখন আমি বললাম, আমি কি তাকে তালাক দেব? তিনি বললেন, না, কিন্তু তার কাছে যাবেন না। এতে তিনি “তুমি তোমার পরিবারের সাথে গিয়ে থাক” উল্লেখ করেন নি।
3427আমার আলী (রহঃ) ... উমর ইবন মুআত্তিব (রহঃ) বলেন, বনী মওফলের গোলাম আবু হাসান তাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেনঃ আমি এবং আমার স্ত্রী উভয়ে ছিলাম ক্রীতদাস, এমতাবস্থায় আমি তাকে দুই তালাক দিলাম। এরপর আমরা উভয়ে মুক্ত হলাম। আমি ইবন আব্বাস (রাঃ)-কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, যদি তুমি তাকে ফিরিয়ে নাও, তবে সে তোমার নিকট এক তালাকের উপর থাকবে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ ফয়সালা করেছেন।
3428মুহাম্মদ ইবন রাফে' (রহঃ) ... মুআত্তিব (রহঃ) বনী নওফলের ক্রীতদাস আবু হাসান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবন আব্বাস (রাঃ)-কে ক্রীতদাস সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলো যে, সে তার স্ত্রীকে দুই তালাক দিয়েছে। এরপর তাদের উভয়কে মুক্ত করা হয়েছে। সে কি তাকে আবার বিবাহ করতে পারবে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। বলা হলো কিরূপে? তিনি বললেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ ফয়সালা দিয়াছেন। আবদুর রাযযাক (রহঃ) বলেন, ইবন মুবারক মা’মার (রহঃ)-কে বলেনঃ এই আবু হাসান কে? সে তো নিজের উপর বড় পাথর তুলে নিল, অর্থাৎ এ বর্ণনা যদি সঠিক না হয়, তাহলে অসংখ্য অবৈধ বিবাহের পাপের বোঝা তার উপর বর্তবে।
3429রবী' ইবন সুলায়মান (রহঃ) ... কাছীর ইবন সায়েব (রহঃ) বলেন, কুরাইযার ছেলেরা আমাকে সংবাদ দিয়েছে যে, বনী কুরাইযার যুদ্ধে তাদেরকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট পেশ করা হলে তাদের মধ্যে যে বালিগ হয়েছে এবং যার নাভীর নীচের পশম গজিয়েছে, তাদেরকে হত্যা করা হলো এবং যে বালিগ হয়নি এবং তাদের নাভীর নীচের পশমও গজায়নি, তাকে ছেড়ে দেওয়া হলো।
3430মুহাম্মদ ইবন মানসূর (রহঃ) ... আতিয়্যা কুরাযী (রাঃ) বলেন, বনী কুরাইযার ব্যাপারে সা'দ (রাঃ) এর বিচারক নিযুক্ত হওয়ার দিন আমি ছিলাম একজন বালক। তখন তারা আমার ব্যাপারে সন্দেহ করলো। তখন তারা আমার নাভীর নীচের পশম গজানো দেখলে না, তাই আমি রেহাই পেলাম। আমি সেই বালক, এখন তোমাদের মধ্যে রয়েছি।
3431উবায়দুল্লাহ ইবন সাঈদ (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) বলেন, উহুদের যুদ্ধের দিন তাঁকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে পেশ করা হলে, তিনি তাঁকে অনুমতি দিলেন না, তখন তিনি ছিলেন ১৪ বছর বয়সের। আর পরিখার যুদ্ধের সময় তাঁর বয়স ছিল পনের বছর, তখন তিনি তাঁকে অনুমতি দিলেন।
3432ইয়াকুব ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিন প্রকার ব্যক্তি থেকে কলম উঠিয়ে নেয়া হয়েছে। ১. নিদ্ৰিত ব্যক্তি, যাবত না সে জাগ্রত হয়। ২. নাবিলেগ, যতক্ষণ না সে বলেগ হয়, এবং ৩ উন্মাদ, যাবত না সে জ্ঞান ফিরে পায়, অথবা সে রোগমুক্ত হয়।
3433ইবরাহীম ইবন হাসান ও আব্দুর রহমান ইবন মুহাম্মদ ইবন সাল্লাম (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উম্মতের মনে যা উদয় হয়, আল্লাহ তা’আলা তা ক্ষমা করে দেবেন, যতক্ষণ না সে তা করে অথবা বলে।
3434উবায়দুল্লাহ ইবন সাঈদ (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উম্মতের মনে যা উদয় হয় বা খটকা লাগে, আল্লাহ্ তাআলা তা ক্ষমা করে দেবেন, যতক্ষণ না সে তা করে অথবা বলে।
3435মূসা ইবন আব্দুর রহমান (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা ক্ষমা করে দেবেন আমার উম্মতের মনে যা উদয় হয়, যতক্ষণ না সে তা বলে, অথবা তা করে।
3436আবু বকর ইবন নাফে' (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একজন পারশিক প্রতিবেশী ছিল, যে উত্তমরূপে সুরুয়া পাকাতে পারতো। সে একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর থেদমতে আগমন করলো, তখন তাঁর নিকট আয়েশা (রাঃ) ছিলেন, তখন সে তার দিকে হাতের ইশারায় প্রবেশের ইচ্ছা প্রকাশ করলো। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইঙ্গিত করলেন আয়েশা (রাঃ)-এর দিকে অর্থাৎ তিনি রয়েছেন। তখন অন্য একজন তাঁর দিকে হাতে দুই কি তিনবার ইঙ্গিত করলে যে, না।
3437আমর ইবন মানসূর (রহঃ) ... আলকামা ইবন ওক্কাস (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মানুষের সকল কাজের ফলাফল তার নিয়তের উপর নির্ভরশীল। আর প্রত্যেক ব্যাক্তির জন্য তাই রয়েছে, যা সে নিয়ত করে। অতএব যার হিজরত আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূলের দিকে হয়, তার হিজরত আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের দিকেই হবে। আর যদি কারো হিজরতের উদ্দেশ্য দুনিয়া উপাৰ্জন করা হয়, অথবা কোন রমণীকে বিবাহ করা হয়, তাহলে তার হিজরত হবে যার জন্য সে হিজরত করেছে।
3438ইমরান ইবন বাককার (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দেখ, আল্লাহ তা'আলা কিরূপে আমার থেকে কুরাইশের গালি ও অভিসম্পাত দূর করেছেন। তারা তো গালি দিতেছে মুযাম্মাম বলে, এবং অভিসম্পাত দিতেছে মুযাম্মাম বলে, অথচ আমি হলাম মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
3439ইউনুস ইবন আব্দুল আ'লা (রহঃ) ... আবু সালামা ইবন আবদুর রহমান (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী আয়েশা (রাঃ) বলেছেনঃ যখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আদেশ করা হলো, তাঁর স্ত্রীদেরকে এখতিয়ার দিতে, তখন তিনি আমার থেকে আরম্ভ করলেন। তিনি বললেনঃ আমি তোমার নিকট একটি কথা বলবো, তুমি এ ব্যাপারে তাড়াহুড়া না করে তোমার মাতাপিতার সাথে পরামর্শ করে উত্তর দেবে। আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ তিনি জানতেন, আমার মাতা-পিতা কখনও আমাকে আদেশ করবেন না তার থেকে বিচ্ছিন্ন হতে। তিনি বলেন, এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই আয়াত পাঠ করেনঃ "হে নবী! আপনি আপনার ভার্যগণকে বলে দিন, যদি তোমরা পার্থিব জীবনের সুখ স্বাচ্ছন্দ কামনা কর, ইত্যাদি"। তখন আমি বললামঃ এ ব্যাপারে আমি আমার মাতাপিতার কি অনুমতি গ্ৰহণ করবো? আমি আল্লাহ, আল্লাহর রাসূল এবং পরকালকে গ্ৰহণ করবো। আয়েশা (রাঃ) বলেন, এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অন্যান্য স্ত্রীগণ আমি যা করি তারাও তা-ই করলেন। আর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁদেরকে বললেন, আর তারা তাকেই গ্রহণ করলেন, তখন তা তালাক হয়নি তাকে গ্রহণ করার দরুন।
3440মুহাম্মাদ ইবন আবদুল আ'লা (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) বলেন, যখন (إِنْ كُنْتُنَّ تُرِدْنَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ) নাযিল হয়, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট উপস্থিত হয়ে আমাকেই প্রথম বলেন, হে আয়েশা! আমি তোমার নিকট একটি কথা বলবো, তুমি তাতে তাড়াহুড়া না করে বরং তোমার মাতাপিতার সাথে পরামর্শ করে উত্তর দেবে। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানতেন, আমার মাতাপিতা কখনও আমাকে তঁর থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার আদেশ করবেন না। তিনি এরপরও আমার নিকট এই আয়াত তিলাওয়াত করলেনঃ (يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِأَزْوَاجِكَ إِنْ كُنْتُنَّ تُرِدْنَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا وَزِينَتَهَا) তখন আমি বললামঃ এ ব্যাপারে কি আমি আমার মাতাপিতাকে জিজ্ঞাসা করবো? আমি আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলকেই গ্রহণ করছি। আবু আব্দুর রহমান (রহঃ) বলেনঃ এই রেওয়ায়ত ভুল, বরং প্রথম বৰ্ণনাই সঠিক। আল্লাহ সম্যক অবগত।
3441আমর ইবন আলী (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে ইখতিয়ার প্রদান করলে আমরা তাকেই গ্ৰহণ করলাম। তাতে কি তালাক হয়েছিল?
3442মুহাম্মদ ইবন আব্দুল আ'লা (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার স্ত্রীদেরকে ইখতিয়ার দিয়েছিলেন, তাতে তালাক হয়নি।
3443মুহাম্মাদ ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীগণকে ইখতিয়ার দিলে তাতে তালাক হয়নি।
3444মুহাম্মাদ ইবন আবদুল আ'লা (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সহধর্মিণীগণকে ইখতিয়ার দিয়েছিলেন, তাতে কি তালাক হয়েছিল?
3445আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ যয়ীফ (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের ইখতিয়ার প্রদান করলে আমরা তাঁকেই গ্রহণ করলাম, তাতে আমাদের উপর কিছুই আরোপিত হয়নি।
3446ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... কাসিম ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আয়েশা (রাঃ)-এর একজন দাস ও একজন দাসী ছিল। তিনি বলেন, আমি তাদেরকে আযাদ করার ইচ্ছা করলে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট তা প্রকাশ করলাম। তিনি বললেনঃ দাসীর পূর্বে দাসকে আযাদ করা।
3447মুহাম্মদ ইবন সালামা (রহঃ) ... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বাবীরা (রাঃ)-এর মধ্যে তিনটি সুন্নত ছিল। একটি এই যে, তাকে আযাদ করা হলে তার স্বামী সম্বন্ধে তাকে ইখতিয়ার দেওয়া হয়, দুই, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যে আযাদ করবে, মীরাস সেই পাবে। তিন. একদিন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ঘরে প্রবেশ করে দেখলেন, ডোগে গোশত রান্না হচ্ছে তখন তাঁর সামনে রুটি এবং ঘরের তরকারী উপস্থিত করা হলে, তিনি বলেনঃ আমি কি ডোগে গোশত দেখিনি? তখন তারা বললেনঃ হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! ঐ গোশত বারীরাকে সাদকা দেওয়া হয়েছে, আর আপনি তো সাদকার বস্তু খান না। তখন রাসূলুল্লাহ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ উহা তার জন্য তো সাদকা, কিন্তু তা আমাদের জন্য হাদিয়া।
3448মুহাম্মদ ইবন আদম (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, বারীরার মধ্যে তিনটি বিষয় ছিল, ১, তার মালিকগণ তাকে বিক্রি করার ইচ্ছা করলে এবং তাকে মীরাছ-এর শর্ত আরোপ করলে আমি তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট প্রকাশ করি। তিনি বললেনঃ তুমি তাকে ক্রয় করে আযাদ করে দাও। কেননা, মীরাছ যে আযাদ করবে, সে-ই পাবে। ২. তাকে আযাদ করা হলে রাসূলুল্লাহ হয় তাকে (তার স্বামী) সম্বন্ধে ইখতিয়ার দিলে সে নিজকেই গ্রহণ করলো। ৩. তাকে সাদক দেওয়া হতো, আর সে তা থেকে আমাদের হাদিয়া দিত। আমি এ বিষয়টি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উল্লেখ করলে তিনি বললেনঃ তোমরা তা খেতে পার; কেননা, তাতো তার জন্য সাদাকা, আর আমাদের জন্য হাদিয়া।
3449কুতায়বা (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেনঃ আমি বারীরাকে ক্রয় করলে তার মনিবরা তার মীলাছ দাবী করলো। আমি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এটি বর্ণনা করলে, তিনি বললেনঃ তুমি তাকে আযাদ করে দাও। কেননা, মীরাছ অভিভাবকত্ব যে মুক্ত করে, সে-ই পাবে। তখন আমি তাকে আযাদ করে দিলাম। এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ডেকে তার স্বামী সম্বন্ধে তাকে ইখতিয়ার দিলে, তিনি বলেন, যদি সে এত এতও দান করে, তা হলেও আমি তার নিকট যাব না। সে নিজেকে গ্ৰহণ করলো, তখন তার স্বামী ছিল স্বাধীন।
3450আমর ইবন আলী (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বারীরাকে ক্রয় করতে মনস্থ করলে তার মনিবারা মীরাছের শর্ত আরোপ করে। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট তা উল্লেখ করলে তিনি বললেনঃ তুমি তাকে ক্রয় করে আযাদ করে দাও। কেননা, যে আযাদ করবে, মীরাছ সে-ই পাবে। তার নিকট কিছু গোশত আনা হলে, বলা হলোঃ ইহা ঐ গোশত, যা বারীরাকে সাদকারূপে দেওয়া হয়েছে। তিনি বললেনঃ তা তার জন্য সাদক কিন্তু আমাদের জন্য হাদিয়া। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ইখতিয়ার দেন। আর এ সময় তার স্বামী আযাদ ছিল।
3451ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বারীরা নিজের ব্যাপারে তার মালিকের কাছ থেকে দাসত্বের মুক্তি চুক্তি লিখিয়ে নেয় যে, সে নয় বছরে তার মালিককে নয় আউকিয়া প্রতি বছর এক উকিয়া করে আদায় করলে, সে তাকে মুক্ত করে দেবে। এরপর সে আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট সাহায্য প্রার্থ হয়ে আগমন করলে তিনি বলেন, না, তবে যদি তারা চায়, তাহলে আমি তাদেরকে একত্রে সব পাওনা আদায় করে দেব। আর মীরাছ হবে আমার জন্য। বাবীরা এরপর তার মালিকদের নিকট গিয়ে এ ব্যাপারে তাদের সাথে আলোচনা করলে তারা তা মানলো না। তারা বললো, মীরাছ আমাদের থাকবে। তখন বারীরা (রাঃ) আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট এসে তার মালিক যা বলেছে, তা তাঁকে বললেন। ইত্যাবসরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমন করেন। আয়েশা (রাঃ) বললেনঃ তা হয় না, মীরাছ আমারই থাকবে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কি ব্যাপার? তিনি বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! বারীরা তার মালিকের দাসত্ব মুক্তির অর্থ আদায়ের ব্যাপারে আমার নিকট সাহায্য চাইলে, আমি বললামঃ না, তা হবে না, যদি তারা ইচ্ছা করে, তবে আমি একসঙ্গে তাদের পাওনা আদায় করে দেব, কিন্তু মীরাছ আমার থাকবে। সে তার মালিকের নিকট একথা বললে তারা তা মানতে অস্বীকার করে এবং বলে, মীরাছ আমাদের থাকবে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি তাকে ক্রয় করে নাও তাদের জন্য মীরাছের শর্তে। কেননা, মীরাছ যে মুক্ত করবে তারই থাকবে। এরপর তিনি দাঁড়িয়ে লোকদের সামনে ভাষণ দিতে গিয়ে আল্লাহর হামদ ও প্রশংসা বর্ণনার পর বললেনঃ মানুষের কী হলো, তারা এমন এমন শর্ত করে যা আল্লাহর কিতাবে নেই। তারা বলেঃ অমুককে মুক্ত করে তার মীরাছ আমি পাব। আল্লাহর কিতাব অধিক সত্য। আল্লাহ্ তা'আলা যে শর্ত ঠিক করেছেন, তা খুবই মজবুত। আর যে শর্ত আল্লাহর কিতাবে নেই, তা বাতিল, অসত্য। যদিও তা একশত শর্তও হয়। এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বারীরা (রাঃ)-কে তার স্বামীর ব্যাপারে ইখতিয়ার প্রদান করেন, আর সে ছিল দাস। তখন সে নিজের স্বামীকে ছেড়ে দেয়। উরওয়া (রহঃ) বলেনঃ যদি তার স্বামী স্বাধীন হতো তাহলে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ইখতিয়ার দিতেন না।
3452ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বারীরা (রাঃ)-এর স্বামী ছিল দাস।
3453কাসিম ইবন যাকারিয়া ইবন দীনার (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি কয়েকজন আনসারী হতে বারীরা (রাঃ)-কে ক্ৰয় করেন। তারা মীরাছের শর্ত আরোপ করে। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে আযাদ করে, সে-ই মীরাছের হকদার। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ইখতিয়ার প্রদান করেন। আর তার স্বামী ছিল দাস। একদা বারীরা (রাঃ) আয়েশা (রাঃ)-কে গোশত হাদিয়া দিলে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা আমার জন্য এর কিছু রেখে দিলে ভাল হতো। আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ এ তো বারীরাকে সাদকা স্বরূপ দান করা হয়েছে। তখন তিনি বলেন, তা তার জন্য তো সাদকা কিন্তু আমাদের জন্য হাদিয়া।
3454মুহাম্মদ ইবন ইসমাঈল (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বারীরা (রাঃ)-এর ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করি। আমি বলিঃ আমার ইচ্ছা আমি বারীরা (রাঃ)-কে ক্রয় করি, আর তার মালিকের জন্য মীরাছের শর্ত করি। তিনি বলেন, তুমি তাকে ক্রয় কর। কেননা, যে মুক্ত করে মীরাছ তারই। বর্ণনাকারী বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বারীরাকে ইখতিয়ার দিয়েছিলেন তার স্বামীর ব্যাপারে, আর তার স্বামী ছিল দাস। এরপর রাবী বলেনঃ আমি জানি না, তিনি দাস না স্বাধীন। একদা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গোশত আনা হলে তার পরিবারস্থ লোক বললেনঃ ইহা কেহ বারীরাকে সাদকা দিয়েছে। তিনি বললেন, তা তার জন্য সাদকা ছিল, এখন তা আমাদের জন্য হাদিয়া।
3455আহমদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন হাকাম বসরী (রহঃ) ... আবু যুহা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু ইয়াকুব (রহঃ) বলেনঃ আমরা তাঁর নিকট মাসের উল্লেখ করলে আমাদের কেউ বললোঃ মাস ত্রিশ দিনের হয়ে থাকে, আবার কেউ বললো, উনত্রিশ দিনের। এর মধ্যে আবু যুহা বললেনঃ ইবন আব্বাস (রাঃ) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। একদিন আমরা সকালে উঠে দেখলাম, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণীগণ ক্ৰন্দন করছেন এবং তাদের প্রত্যেকের নিকট তাদের পরিবারের লোক উপস্থিত রয়েছে। এরপর আমি মসজিদে গিয়ে দেখলাম, মসজিদ লোকে ভর্তি। তিনি বললেন, এরপর উমর (রাঃ) আসলেন, এবং উপরে উঠে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গেলেন, তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কক্ষে ছিলেন। উমর (রাঃ) তাকে সালাম করলেন, কিন্তু কেউ তাঁর সালামের জওয়াব দিলেন না। তিনি আবার সালাম করলেন, এবারও কেউ সালামের উত্তর দিলেন না। তিনি আবার সালাম করলেন, কিন্তু কেউ সালামের উত্তর দিলেন না। তিনি ফিরে এসে বিলাল (রাঃ)-কে ডাকলেন। বিলাল (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞাসা করলেনঃ আপনি কি আপনার স্ত্রীগণকে তালাক দিয়েছেন? তিনি বললেনঃ না। বরং আমি তাদের সাথে এক মাসের জন্য ঈলা করেছি। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তথায় উনত্রিশ দিন ছিলেন। এরপর তিনি সেখান থেকে অবতরণ করে তার স্ত্রীদের নিকট গমন করেন।
3456মুহাম্মদ ইবন মুছান্না (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মাস বিবিদের নিকট না যাওয়ার কসম করলেন, এ সময় তিনি উনত্রিশ দিন প্রকোষ্ঠে অবস্থান করলেন। তারপর তিনি অবতরণ করলে লোকেরা জিজ্ঞাসা করলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনি কি এক মাসের ঈলা করেন নি? তিনি বললেনঃ মাস উনত্রিশ দিনেরও হয়।
3457হুসায়ন ইবন হুরায়াছ (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসলো, যে তার স্ত্রীর সাথে যিহার করেছিলো। আর কাফফারা আদায় করার পূর্বেই সে তার সাথে সহবাস করে। সে এসে বলেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি আমার স্ত্রীর সাথে যিহার করেছি এবং কাফফারা আদায়ের পূর্বে তার সাথে সহবাস করেছি। তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ তুমি কেন এরূপ করলে? সে বললোঃ আমি চাদের আলোতে তার পায়ের মল দেখলাম। তিনি বললেনঃ এখন তুমি আল্লাহর আদেশ পালন না করা পর্যন্ত তার নিকট গমন করো না।
3458মুহাম্মদ ইবন রাফে' (রহঃ) ... ইকরামা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে যিহার করে কাফফারা আদায় করার পূর্বেই তার সাথে সহবাস করলো। এরপর সে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট তা বর্ণনা করলো। তিনি বললেনঃ কোন বস্তু তোমাকে এক কাজের প্রতি উদ্ধৃদ্ধ করলো? সে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আল্লাহ আপনাকে রহম করুন। আমি তার পায়ের মল দেখলাম, অথবা সে বললোঃ আমি চাঁদের আলোতে তার পায়ের গোছা দেখলাম। একথা শুনে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার উপর যা আদায় করা জরুরী, তা আদায় না করা পর্যন্ত তুমি তার থেকে দূরে থাকবে।
3459ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... ইকরামা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে এসে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি আমার স্ত্রীর সাথে যিহার করি এবং কাফফারা দেওয়ার পূর্বেই তার সাথে সহবাস করি। তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেনঃ তুমি এরূপ করলে কেন? আর এ কাজ করার জন্য তোমাকে কে উদ্বুদ্ধ করলো? সে বললোঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ্! চাঁদের আলোতে তার সুন্দর পায়ের গোছা আমার দৃষ্টিগোচর হয়। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ তোমার উপর যা আদায় করা জরুরী তা আদায় না করা পর্যন্ত দূরে থাক। ইমাম নাসাঈ (রহঃ) বলেনঃ ইসহাক তার বর্ণিত হাদীসে, "তুমি তার থেকে দূরে থাক' বৰ্ণনা করেছেন।
3460ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, আল্লাহর শোকর যিনি শব্দসমূহ শ্রবণ করে থাকেন। খাওলা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে উপস্থিত হয়ে তার স্বামীর ব্যাপারে অভিযোগ করলো। সে তার কথা আমার নিকট গোপন রাখলো। তখন আল্লাহ্ তা’আলা আয়াত নাযিল করলেন, আল্লাহ্ তা'আলা ঐ মহিলার কথা শ্ৰবণ করেছেন, যে তার স্বামীর ব্যাপারে আপনার সাথে বিতর্ক করছে এবং আল্লাহর নিকট অভিযোগ করছে। আর আল্লাহ তা'আলা তোমাদের উভয়ের প্রশ্নোত্তর শ্রবণ করছেন। নিশ্চয় আল্লাহ শ্রবণকারী এবং দর্শনকারী। এরপর আল্লাহ তা’আলা যিহার এবং এর কাফফারার আদেশ নাযিল করলেন।
3461ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে মহিলারা স্বীয় স্বামীর সাথে মনোমালিন্য করে এবং খুলা করে, তারা মুনাফিক এবং ধোঁকাবাজ।
3462মুহাম্মদ ইবন সালামা (রহঃ) ... হাবীবা বিনতে সাহল (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি সাবিত ইবন কায়সের স্ত্রী ছিলেন। হাবীব (রাঃ) বলেনঃ একদিন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুব ভোরে নামায পড়তে গেলেন। তিনি হাবীবা বিনতে সাহলকে দরজায় পেয়ে জিজ্ঞাসা করলেনঃ তুমি কে? হাবীব (রাঃ) বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি হাবীব বিনতে সাহল। তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ কি ব্যাপার, তুমি কেন এসেছ? তিনি বললেন ? আমার মধ্যে এবং আমার স্বামীর মধ্যে মিল অসম্ভব হয়ে পড়েছে। যখন সাবিত ইবন কায়স আগমন করলো, তখন তিনি বললেন, এই যে হাবীব বিনতে সাহল! আল্লাহ যা ইচ্ছা করেছেন, তা-ই সে বলছে। হাবীব (রাঃ) বলে উঠলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এই ব্যক্তি যা আমাকে দান করেছে, তা আমার নিকট রয়েছে। তিনি সাবিত ইবন কায়সকে বললেনঃ তুমি যা দিয়েছ তা তার থেকে নিয়ে নাও। সাবিত (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আদেশ মত তাকে যা দিয়েছিলেন, তা নিয়ে নিলেন। আর হাবীবা বিনতে সাহল (রাঃ) তার পরিজনদের মধ্যে অবস্থান করলেন, অর্থাৎ সাবিতের ঘর থেকে চলে গেলেন।
3463আযহার ইবন জামিল (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, সাবিত ইবন কায়সের স্ত্রী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! সাবিত ইবন কায়সের অভ্যাস এবং ধর্মের ব্যাপারে আমার কোন অভিযোগ নেই। কিন্তু আমি ইসলামে নাশোকরীকে অপছন্দ করি। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেনঃ তুমি কি তাকে বাগান ফিরিয়ে দেবে? সে বললোঃ হ্যাঁ, দেব। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাবিত ইবন কায়সকে বললেনঃ তুমি তোমার বাগান নিয়ে নাও এবং তাকে এক তালাক দিয়ে দাও।
3464হুসায়ন ইবন হুরায়াছ (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললোঃ আমার স্ত্রী এমন যে, কেউ তাকে গায়ে হাত দেয়, সে তাকে নিষেধ করে না। তিনি বললেনঃ যদি তুমি ইচ্ছা কর, তবে তাকে তালাক দিয়ে দাও। ঐ লোকটি বললোঃ কিন্তু আমার ভয় হয়, আমার মন তার সাথে লেগে থাকবে এবং সবর করতে না পেরে আমি গুনাহে লিপ্ত হয়ে যাব। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যদি এরূপ করতে না পার, তবে তাকে নিজের কাজে লাগাও।
3465ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার স্ত্রী সে এমন, যে কোন ব্যক্তি তার গায়ে হাত দিলে সে তাকে বাধা দেয় না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি তাকে তালাক দিয়ে দাও। সে ব্যক্তি বললোঃ আমি তাকে ছেড়ে থাকতে পারবো না। তিনি বললেনঃ তাহলে তুমি তাকে রেখে দাও।
3466মুহাম্মদ ইবন মা'মার (রহঃ) ... আসিম ইবন আদী (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, আজলান গোত্রের উওয়াইমির আমার নিকট এসে বললোঃ হে আসিম! এ ব্যাপারে তোমার মত কি, কোন ব্যক্তি অন্য ব্যক্তিকে তার স্ত্রীর সাথে দেখলো, যদি ঐ স্ত্রীর স্বামী তার বন্ধুকে হত্যা করে, তাকে কি তোমরা হত্যা করবে? অথবা কি করবে? অতএব হে আসিম! তুমি আমার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট জিজ্ঞাসা কর। আসিম (রাঃ) জিজ্ঞাসা করলে, তিনি তা অপছন্দ করলেন। এরপর উওয়াইমির তার নিকট এসে জিজ্ঞাসা করলো, হে আসিম! তুমি কি করেছ? তিনি বললেনঃ কি করবো, তুমি কল্যাণ নিয়ে আস নাই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই কথা উত্থাপন করাকে অপছন্দ করেছেন। উওয়াইমির (রাঃ) বললেন : আল্লাহর কসম! আমি ইহা অবশ্যই রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট জিজ্ঞাসা করবো। তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে, তিনি বললেনঃ আল্লাহ্ তা'আলা তোমার ও তোমার স্ত্রীর ব্যাপারে আয়াত নাযিল করেছেন। অতএব, তাকে (তোমার স্ত্রীকে) ডেকে আনো। সাহল (রাঃ) বললেনঃ এ সময় আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। যখন উওয়াইমির (রাঃ) সেই মহিলাকে নিয়ে আসলো এবং উভয়ে লি”আন করলো এবং উওয়াইমির কসম করে বলতে লাগলোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! যদি আমি তাকে রেখে দেই তা হলে আমাকে মিথ্যা দোষারোপকারী বলা হবে। এ বলে তিনি তাকে তালাক দিয়ে দিলেন। এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বলার পূর্বেই পৃথক করে দিলেন। ইহাই পরে লি'আনের নিয়ম হয়ে গেল।
3467আহমদ ইবন আলী (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উওয়াইমির আজলানী এবং তার স্ত্রীর মধ্যে লি আন করান। আর এ সময় উওয়াইমির আজলানীর স্ত্রী গর্ভাবস্থায় ছিল।
3468ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আবদুল আ'লা (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি হিশামের কাছে জিজ্ঞাসা করলো, ঐ ব্যক্তি সম্বন্ধে, যে তার স্ত্রীর প্রতি অপবাদ আরোপ করেছে। তখন হিশাম বৰ্ণনা করলে যে, রাবী মুহাম্মদ (রহঃ) আনাস (রাঃ)-এর নিকট জিজ্ঞাসা করেছিল, কেননা সকলেই অবগত ছিল যে, এ ব্যাপারে তার জানা আছে। এরপর আনাস ইবন মালিক (রাঃ) বর্ণনা করলেন, হিলাল ইবন উমাইয়া স্বীয় স্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যভিচারের অপবাদ আরোপ করে এবং যার সাথে সে ব্যভিচার করতো, তার নাম শরীক ইবন সাহিমা ছিল। আর শরীক ইবন সাহমা বারা ইবন মালিক (রাঃ)-এর মায়ের দিক থেকে ভাই ছিলেন। আন্যাস ইবন মালিক (রাঃ) বলেন, ঐ ব্যক্তিই প্রথম লি”আন করেছিল। এই জন্য লি'আনের নিয়ম পদ্ধতি তার লি'আনের দ্বারা জানা যায়। এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের উভয়ের মধ্যে লি'আন করার আদেশ দেন এবং বলেন, তোমরা ইহা দেখতে থাকে। যদি সে সাদা রং লটকান চুল এবং ত্রুটিযুক্ত চোখ বিশিষ্ট বাচ্চা প্রসব করে, তবে তা হবে হিলাল ইবন উমাইয়ার। আর যদি সে হাল্কা পাতলা পা বিশিষ্ট সুরমা রং এর চক্ষু, আর কোঁকড়ান চুল বিশিষ্ট সন্তান প্রসব করে, তবে ঐ সন্তান হবে শরীক ইবন সাহমা-এর। আনাস (রাঃ) বলেন, আমার নিকট সংবাদ পৌছেছে যে, সে সুরমা চক্ষু, কোঁকড়ান চুল এবং হাল্কা পা বিশিষ্ট সন্তান প্রসব করে।
3469ইমরান ইবন ইয়াযীদ (রহঃ) ... আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইসলামে সর্বপ্রথম লি”আন করার নিয়ম হিলাল ইবন উমাইয়া (রাঃ) হতে আরম্ভ হয়। কেননা, তিনি তার স্ত্রীকে শরীক ইবন সমহার সাথে ব্যভিচারের অপবাদ দেন এবং রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে এ সংবাদ দেন। তিনি তাকে বলেন, চারজন সাক্ষী আনো, তা না হলে তোমার উপর শাস্তি প্রয়োগ করা হবে এবং তা তোমার পিঠে পড়বে, তিনি তাকে কয়েকবার এ কথা বললেনঃ তখন হিলাল বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আল্লাহর শপথ, আল্লাহ জানেন আমি সত্যবাদী এবং আল্লাহ্ তা'আলা আপনার উপর আদেশ অবতীর্ণ করবেন। যাতে আমার পিঠ শান্তি হতে নিষ্কৃতি পাবে। এভাবে কথা চলছিল, এমন সময় লি”আনের আয়াত অবতীর্ণ হলোঃ যারা নিজেদের স্ত্রীর প্রতি যিানার অপবাদ আরোপ করে, অথবা নিজেরা ব্যতীত কোন সাক্ষী নেই। তাদের প্রত্যেকের সাক্ষ্য এই হবে যে, সে আল্লাহর নামে চারবার শপথ করে বলবে যে, সে অবশ্যই সত্যবাদী এবং পঞ্চমবারে সে বলবে, যদি সে মিথ্যাবাদী হয়, তবে তার উপর আল্লাহর লা'নত হোক। আর স্ত্রীর উপর হতে শাস্তি এভাবে রহিত হবে যে, যদি সে আল্লাহর নামে শপথ করে চারবার। এভাবে সাক্ষ্য দেয় যে, তার স্বামীই মিথ্যা বলছে এবং পঞ্চমবারে বলে, তার উপর আল্লাহর গযব, যদি তার স্বামী সত্যবাদী হয়। এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিলালকে ডাকলেন, সে আল্লাহর নামে চারবার শপথ করে বলে যে, সে অবশ্যই সত্যবাদী, আর পঞ্চমবারে বলেঃ যদি সে মিথ্যাবাদী হয়, তবে তার উপর আল্লাহর লা'নত। এরপর স্ত্রী লোককে ডাকা হলো, সেও আল্লাহর নামে চারবার শপথ করে বলে, ঐ ব্যক্তি মিথ্যাবাদী। বর্ণনাকারী বলেন, যখন চারবার অথবা পাঁচবার সাক্ষ্য দেওয়া হলো, তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা এই মহিলাকে বিরত রাখ, কেননা, এই সাক্ষ্য ঐ রমণীর জন্য ধ্বংসের কারণ হবে, অর্থাৎ আল্লাহর গযব বৃথা যাবে না। বর্ণনাকারী বলেনঃ তখন ঐ রমণী বিব্রত রইলো, আমাদের ধারণা হলো, সে বুঝতে পেরেছে এবং সে এখন স্বীকার করবে। কিন্তু সে বললোঃ আমি আমার সম্প্রদায়কে সর্বদার জন্য কলংকিত করবো না। এই কথা বলে সে কসম পূর্ণ করলো। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এই মহিলার প্রতি লক্ষ্য রোখ, যদি সে ফর্সা, কোঁকড়ান চুল বিকৃত গড়নের সস্তান প্রসব করে, তবে সে হবে হিলাল ইবন উমাইয়ার সন্তান। আর যদি সে বাদামী রংয়ের এলোমেলো চুল বিশিষ্ট মধ্যম গড়নের এবং পাতলা পা বিশিষ্ট সন্তান প্রসব করে, তবে সে সন্তান হবে শরীক ইবন সাহমার সন্তান। রাবী বলেনঃ সে বাদামী রংয়ের সন্তান প্রসব করলো, যে কোঁকড়ান চুল, মধ্যম গড়ন পাতলা পা বিশিষ্ট ছিল, সেই সন্তান প্রসবের পর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যদি আল্লাহর কিতাবের আদেশ না হতো, তা হলে তোমরা আমাকে দেখতে, আমি তার কি অবস্থা করতাম।
3470ঈসা ইবন হাম্মদ (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট লি'আনের উল্লেখ তুলে আসিম ইবন আলী (রাঃ) সে সম্পর্কে কিছু বললেন এবং পরে প্রস্থান করলেন। এরপর তার নিকট তার গোত্রের এক ব্যক্তি এসে অভিযোগ উত্থাপন করলেন, সে তার স্ত্রীর সাথে এক ব্যক্তিকে পেয়েছে। আসিম ইবন আদী (রাঃ) একথা শুনে বললেন, আমার বলার জন্যই আমার উপর এই মুসীবত এসেছে। এরপর আসিম ইবন আদী (রাঃ) তাকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে নিয়ে গেলেন এবং ঐ ব্যক্তির স্ত্রীর সাথে যে ঘটনা ঘটেছে, তা বর্ণনা করলেন। আর ঐ ব্যক্তি ছিল গৌর বর্ণের, হাল্কা পাতলা গড়ন এবং সরু চুল বিশিষ্ট। আর যে ব্যক্তির সাথে তার স্ত্রীকে পেয়েছিল, তার গায়ের রং ছিল বাদামী, পায়ের গোছা এবং শরীর ছিল মাংসল। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ(اللَّهُمَّ بَيِّنْ) অর্থাৎ হে আল্লাহ্! আপনি এই মাসআলার বিধান প্রকাশ করে দিন। বর্ণনাকারী বলেন, যখন ঐ স্ত্রীলোকটি বাচ্চা প্রসব করলো, তখন দেখা গেল সে ঐ ব্যক্তির মতই হয়েছে, যার কথা তার স্বামী বলেছিল। এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের উভয়কে লি’আন করার আদেশ দেন। যে মজলিসে ইবন আব্বাস (রাঃ) এই হাদীস বর্ণনা করলেন, সেই মজলিসে এক ব্যক্তি বললেনঃ এই মহিলা কি সেই মহিলা, যার সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যদি আমি কাউকে সাক্ষ্য প্রমাণ ব্যতীত রজম করতাম, তা হলে এ মহিলাকে রজম করতাম? ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ না, এই মহিলা মুসলিমদের মধ্যে ইসলামে যার ব্যাভিচার প্রকাশ পেয়েছিল, কিন্তু প্রমাণ বা স্বীকারোক্তি ছিল না।
3471ইয়াহইয়া ইবন মুহাম্মদ ইবন সাকান (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে লি'আনের আলোচনা হলে আসিম ইবন আদী (রাঃ) সে সম্পর্কে কিছু বললেন এবং প্রস্থান করলেন। তার গোত্রের এক ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ হলে সে বললোঃ সে তার স্ত্রীর সাথে এক ব্যক্তিকে পেয়েছে। তিনি তাকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট নিয়ে গেলেন, এবং যার সাথে তার স্ত্রীকে পেয়েছিলেন, তার কথা বললো। আর সেই ব্যক্তি ছিল গৌর বর্ণের, হাল্কা-পাতলা গড়নের সরু চুল বিশিষ্ট। আর সে যার সাথে তার স্ত্রীকে পেয়েছিল, তার গায়ের রং বাদামী এবং পায়ের গোছা ছিল মাংসল, মোটা লোক আর তার ছিল কোঁকড়ান ছােট চুল। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহ্! আপনি প্রকাশ করে দিন। রাবী বলেন, ঐ স্ত্রীলোকটি ঐ লোকের মত বাচ্চা প্রসব করলো, যার কথা তার স্বামী বলেছিল। তখন রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের উভয়ের মধ্যে লি'আন করান। ইবন আব্বাস (রাঃ) যে মজলিসে এই হাদীস বর্ণনা করলেন, সেই মজলিসের এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলোঃ এই মহিলা কি সেই মহিলা, যার সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, যদি আমি কাউকে প্রমাণ ব্যতীত রজম করতাম, তা হলে এই মহিলাকে রজম করতাম? ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ না, সেই মহিলা হচ্ছে যার মন্দ কাজ (যিানা) মুসলিমদের মধ্যে প্রকাশ পেয়েছিল। কিন্তু প্রমাণ বা স্বীকারোক্তি ছিল না।
3472আলী ইবন মায়মুন (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন দুই ব্যক্তিকে লি’আন করার আদেশ দেন, তখন এক ব্যক্তিকে আদেশ করেন যে, যখন সে পঞ্চমবার সাক্ষ্য দিতে থাকবে, তখন তার মুখের উপর হাত রাখবে। কেননা, এই পঞ্চমবারের সাক্ষ্য আল্লাহ তা’আলার শাস্তিকে অবধারিত করে।
3473আমর ইবন আলী ও মুহাম্মদ ইবন মুছান্না (রহঃ) ... সাঈদ ইবন যুবায়র (রহঃ) বলেন, ইবন যুবায়র (রাঃ)-এর শাসনামলে এক ব্যক্তি আমার কাছে লি”আনকারীদের সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলোঃ লি'আনের পরে ঐ দুইজনের মধ্যে কি পৃথক করে দেয়া হবে? ইবন যুবায়র (রাঃ) বলেনঃ আমি কি উত্তর দেব কিছুই বলতে পারলাম না। এরপর আমি উঠে ইবন উমর (রাঃ)-এর ঘরে গেলাম এবং আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলামঃ হে আবু আবদুর রহমান! লি'আন করার পর কি স্বামী-স্ত্রী উভয়কে পৃথক করে দেয়া হবে? ইবন উমর (রাঃ) বললেনঃ হ্যাঁ, সুবহানাল্লাহ! তারপর তিনি বললেনঃ সর্বপ্রথম এ কথাটি জিজ্ঞাসা করেছেন অমুকের পুত্র অমুক। ইবন উমর (রাঃ) তার নাম উল্লেখ করেন নি। আর সে বলেছিলঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! যদি আমাদের কোন ব্যক্তি কোন ব্যক্তিকে তার স্ত্রীর সাথে অশ্লীল কাজ করতে দেখে, যদি সে বলে, তবে তো তা বড় মুসীবতের কথা। আর যদি না বলে, তবে এমন মন্দ কাজের উপর চুপ রইলো, তিনি তাকে কোন উত্তর দিলেন না। এরপর সে ব্যক্তি আবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললোঃ যে কথা আমি আপনার নিকট জিজ্ঞাসা করেছিলাম, আমি নিজেই সেই মুসীবতে পড়েছি। তারপর আল্লাহ্ তা'আলা সূরা নূরের এ আয়াত নাযিল করেনঃ (وَالَّذِينَ يَرْمُونَ أَزْوَاجَهُمْ) হতে (غَضَبَ اللَّهِ عَلَيْهَا إِنْ كَانَ مِنْ الصَّادِقِينَ) অর্থাৎ, আর যারা নিজেদের স্ত্রীর প্রতি অপবাদ আরোপ করে, অথচ নিজেরা ব্যতীত তাদের কোন সাক্ষী নেই, তাদের প্রত্যেকের সাক্ষ্য এই হবে যে, সে আল্লাহর নামে চারবার শপথ করে বলবে যে, সে অবশ্যই সত্যবাদী ... পঞ্চমবারে সে বলেঃ তার স্বামী সত্যবাদী হলে তার উপর নেমে আসবে আল্লাহর গযব। (সূরা নূরঃ ৬–৯) পর্যন্ত। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ ব্যক্তিকে প্রথমে নসীহত করেন এবং বলেন, পরীকালের শান্তি অপেক্ষা ইহকালের শাস্তি অতি সহজ। সেই ব্যক্তি তাঁর নসীহত শ্ৰবণ করে বলতে লাগলোঃ আল্লাহ্ তা'আলার কসম! যিনি আপনাকে সত্য সহকারে প্রেরণ করেছেন, আমি মিথ্যা বলছি না। এরপর তিনি স্ত্রীলোকটিকে নসীহত করলেন এবং তাকে স্মরণ কবিয়ে দিলেন। সেই স্ত্রীলোকটিও বলতে লাগলোঃ আল্লাহ্ তা'আলার শপথ! যিনি আপনাকে সত্য সহকারে প্রেরণ করেছেন, এ ব্যক্তি মিথ্যাবাদী। পুরুষ লোকটি সাক্ষ্য প্রদান আরম্ভ করলো। সে আল্লাহর নাম নিয়ে চারবার সাক্ষ্য প্ৰদান করলো, পঞ্চমবারে সে বললোঃ যদি সে মিথ্যা কথা বলে থাকে, তবে তার উপর আল্লাহর অভিসম্পাত। তারপর স্ত্রীলোকটিও আল্লাহর নামে চারবার সাক্ষ্য দিল, নিশ্চয় সে মিথ্যাবাদী। পঞ্চমবারে সে বললোঃ যদি পুরুষ লোকটি সত্যবাদী হয়, তবে তার নিজের উপর আল্লাহর গযব পড়বে। এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের উভয়কে পৃথক করে দেন।
3474আমর ইবন আলী ও মুহাম্মদ ইবন মুছান্না (রহঃ) ... সাঈদ ইবন যুবায়র (রহঃ) বলেন, মুসআব (রাঃ) লি'আনকারীদের পৃথক করে দেননি। সাঈদ (রহঃ) বলেন, আমি ইবন উমরের নিকট তা বর্ণনা করলে তিনি বললেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনী আজলানের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পৃথক করে দিয়েছিলেন।
3475যিয়াদ ইবন আইউব (রহঃ) ... সাঈদ ইবন যুবায়র (রহঃ) বলেন, আমি ইবন উমর (রাঃ)-এর নিকট জিজ্ঞাসা করলামঃ যদি কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে ব্যভিচারের অপবাদ দেয়, তাহলে কি হবে? তিনি বললেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনী আজলানের স্বামী-স্ত্রী থেকে পৃথক করে দেন এবং বলেন, আল্লাহ্ তা'আলার জানা আছে, তোমাদের মধ্যে কোন একজন মিথ্যাবাদী, যদি তোমাদের মধ্যে কোন একজন তাওবা করে, তবে ভাল, তিনি উভয়কে একথা তিনবার বলেন। কিন্তু উভয়ে তা করতে অস্বীকার করলে তিনি তাদেরকে পৃথক করে দেন। তিনি বলেনঃ লি'আনকারী পুরুষ ব্যক্তিটি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলোঃ ঐ স্ত্রী লোকটির নিকট আমার মাল আছে, আমি তা পাব কি না? তিনি বললেনঃ যদি তুমি সত্যবাদী হও, তবে তুমি ঐ স্ত্রীকে নিজের কাজে ব্যবহার করেছ, কাজেই ঐ মাল তুমি পাবে না। আর যদি তুমি মিথ্যা বলে থাকে, তাহলে ঐ মাল নেয়া এবং ফেরৎ পাওয়া মুশকিল।
3476মুহাম্মদ ইবন মানসূর (রহঃ) ... সাঈদ ইবন জুবাইর (রহঃ) বলেন, আমি ইবন উমর (রাঃ)-এর নিকট লি'আনকারীদের বিষয় জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লি'আনকারী পুরুষ এবং স্ত্রীকে বলেন, তোমাদের ব্যাপার আল্লাহর দায়িত্বে। তোমাদের একজন নিশ্চয় মিথ্যাবাদী, তোমার তার উপর কোন কর্তৃত্ব নেই। পুরুষ লোকটি বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! তার কাছে আমার মাল রয়েছে। তিনি বললেনঃ তার কাছে এখন তুমি কিছুই পাবে না, অর্থাৎ যদি তুমি সত্যবাদী হও, তবে তুমি তো তার লজ্জাস্থান ব্যবহার করেছ, এর বিনিময়ে তোমার মাল নিয়েছ, আর যদি তুমি মিথ্যাবাদী হও, তবে ঐ মাল চাওয়ার তুমি উপযুক্ত নও এবং তোমার মর্যাদার পরিপন্থী।
3477কুতায়বা (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুরুষ এবং স্ত্রীলোকটির মধ্যে লি’আন করার আদেশ দেন এবং তাদের পৃথক করে দেন, আর সন্তানকে তার মায়ের হাতে ন্যাস্ত করেন।
3478ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আবু হুরায়রা বলেনঃ কাযারা গোত্রের এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললোঃ আমার স্ত্রী এক কালো সন্তান প্রসব করেছে। তিনি তার নিকট জিজ্ঞাসা করলেনঃ তোমার কি উট আছে? সে বললঃ হ্যাঁ আছে। তিনি আবার জিজ্ঞাসা করলেনঃ কোন রংয়ের উট আছে? সে বললোঃ লাল রংয়ের। তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ মিশ্রিত (কালো বর্ণের সাথে অন্য বর্ণ মিশ্ৰিত) রংয়ের কোন উট আছে? সে বললোঃ হ্যাঁ, মিশ্রিত রংয়েরও আছে। তিনি বললেনঃ এই মিশ্রিত রংয়ের উট কি করে জন্মালো? সে বললোঃ তা হয়তো কোন পূর্ব রঙের কারণে হয়েছে। এরপর তিনি বললেনঃ এই সন্তানও হয়তো কোন ঊর্ধ্বতন পুরুষের কারণে কালো হয়ে থাকবে।
3479মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ) ... আবু হুৱায়রা (রাঃ) বলেন, কাযারা গোত্রের এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললোঃ আমার স্ত্রী এক কালো সন্তান প্রসব করেছে এবং ঐ বাচ্চার রং কালো। তিনি ঐ কাযারী ব্যক্তির নিকট জিজ্ঞাসা করলেনঃ তোমার কি উট আছে? সে বললোঃ আছে। তিনি বললেনঃ সেগুলোর রং কি? সে ব্যক্তি বললোঃ সেগুলো লাল রংয়ের। তিনি বললেনঃ দেখ সেগুলোর মধ্যে কালো বর্ণের সাথে অন্য বর্ণ মিশ্রিত রংয়ের উট আছে কি? সে বললোঃ হ্যাঁ, আছে। তিনি বলেনঃ মিশ্ৰিত উট কোথা হতে আসলো? সে বললোঃ তা হয়তো কোন পূর্ব রঙের কারণে হয়ে থাকবে। তিনি বললেনঃ এতেও হয়তো কোন ঊর্ধ্বতন পুরুষের কারণে হয়ে থাকবে। এর দ্বারা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ ব্যক্তিকে সন্তান অস্বীকার করার অবকাশ দিলেন না।
3480আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন মুগীরা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে উপবিষ্ট ছিলাম, এমন সময় এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললোঃ আমার একটি সন্তান জন্মগ্রহণ করেছে, যার গায়ের রং কালো। তিনি বললেনঃ তার এই কালো রং কোথা হতে আসলো? সে বললঃ জানি না কোথা হতে এসেছে। তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ তোমার নিকট উট আছে কি? সে বললোঃ হ্যাঁ, তিনি বললেনঃ সেগুলোর রং কি? সে বললোঃ লাল বর্ণের। তিনি প্রশ্ন করলেনঃ এগুলোর মধ্যে কালো উট কালো বর্ণের সাথে অন্য বর্ণ মিশ্রিত আছে কি? সে বললঃ মিশ্রিত রং এর উটও এগুলোর মধ্যে আছে। তিনি প্রশ্ন করলেনঃ ঐ লাল বর্ণের মিশ্ৰিত উট কোথা হতে আসলো? সে বললোঃ বলতে পারি না কোথা হতে এসেছে, হয়তো কোন ঊর্ধ্বতন পুরুষের কারণে হয়ে থাকবে। বর্ণনাকারী বলেনঃ এইজন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদেশ করেছেন, যে সন্তান তার স্ত্রীর গর্ভ থেকে জন্ম নিয়েছে তাকে অস্বীকার করা উচিত নয়। কিন্তু ঐ সময় অস্বীকার করতে পারবে, যখন সে বলে যে, আমি তাকে অশ্লীল কাজে লিপ্ত দেখেছি, আর আমার এই কথাও জানা আছে যে, সে ব্যাভিচারিণী।
3481মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেনঃ তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে লি'আনের আয়াত নাযিল হওয়ার পর বলতে শুনেছেনঃ যে মহিলা এক গোত্রের পুরুষের বীর্য অন্য গোত্রের সাথে মিশ্রিত করে আল্লাহর নিকট এমন মহিলার কোন মূল্য নেই। আর আল্লাহ্ তা'আলা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন না। আর যে পুরুষ তার সন্তানকে নিজের ঔরষজাত সন্তান বলে জানার পরেও অস্বীকার করে, আল্লাহ্ তা'আলা তাকে তার রহমত থেকে বঞ্চিত করবেন এবং তাকে কিয়ামতের দিন সকল লোকের সামনে অসম্মান করবেন, যখন পূর্বের এবং পরের সকল লোক একত্রিত হবে।
3482কুতায়াবা (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সন্তান গৃহস্বামীরই থাকবে, আর ব্যভিচারীর জন্য কিছুই থাকবে না, অর্থাৎ সে সন্তানের মালিক হবে না। অন্য ব্যাখ্যানুসারে তার হবে প্রস্তরাঘাতে মৃত্যু।
3483ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ সন্তান গৃহস্বামীরই হবে, আর ব্যভিচারী সন্তানের মালিক হবে না।
3484কুতায়বা (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সা'দ ইবন আবু ওয়াক্কাস এবং আবদুল্লাহ ইবন যাম'আ (রাঃ)-এর মধ্যে একটি সন্তান নিয়ে ঝগড়া হয়। সা'দ (রাঃ) বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এই বাচ্চা আমার ভাই উৎবা ইবন আবু ওয়াক্কাসের। আমাকে আমার ভাই ওসীয়ত করেছিলেন যে, যাম'আর বাঁদীর ছেলে আমার ঔরষের। তার শরীরের গঠনের প্রতি লক্ষ্য করুন। আবাদ ইবন যাম'আ (রাঃ) বলেনঃ এ আমার ভাই, আমার পিতার দাসীর গর্ভজাত সন্তান। তিনি দেখলেন, তার শরীরের গড়ন উৎবার সাথে মিল রয়েছে। তিনি বললেনঃ হে আবদ ইবন যাম'আ! এই ছেলে তোমার। কেননা সন্তান গৃহস্বামীর আর ব্যভিচারীর জন্য কিছুই নেই। আর তিনি স্বীয় স্ত্রী সওদা (রাঃ)-কে বললেনঃ যাম'আর কন্যা সওদা, এর থেকে পর্দা কর। এরপর তিনি সওদাকে কখনও দেখেন নি।
3485ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবন যুবায়র (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যাম'আ (রাঃ)-এর একজন বাঁদী ছিল যার সাথে তিনি সহবাস করতেন, আর যাম'আর এজন্য সন্দেহ ছিল যে, এই বাঁদীর সাথে অন্য কেহ যিনা করেছে। এরপর সে একটি বাচ্চা প্রসব করলো, ঐ ব্যক্তির মত, যার সাথে তিনি তার ব্যভিচার করার সন্দেহ করতেন। ইতিমধ্যে যাম'আ ইন্তিকাল করলেন, তখন ঐ বাদী অন্তঃস্বত্ব ছিল। এ কথা সওদা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে বৰ্ণনা করলে, তিনি বলেনঃ বাচ্চা বিছানার মালিকেরই থাকে। আর হে সওদা, তুমি তার সাথে পর্দা কর। কেননা সে তোমার ভাই নয়।
3486ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আবদুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ সন্তান বিছানার মালিকেরই হবে। আর ব্যাভিচারকারী সন্তানের মালিক হবে না। আবু আবদুর রহমান (রহঃ) বলেনঃ আমার মতে ইনি আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রাঃ) নন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ।
3487ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। তিনি বলেনঃ সা'দ ইবন আবু ওয়াক্কাস এবং আবদ ইবন যাম'আ (রাঃ)-এর মধ্যে সন্তান নিয়ে বিবাদ ছিল। সা'দ বলেনঃ যখন আমি মক্কায় আগমন করলাম, তখন আমার ভাই উৎবা আমাকে ওসীয়ত করলেন যে, যাম'আর বাঁদীর সন্তানকে দেখবে; কেননা সে আমার সন্তান। আর আবদ ইবন যাম'আ বর্ণনা করেন, সে আমার পিতার বাদীর সন্তান, সে আমার পিতার আধিপত্যে এবং ফিরাশে প্রসব করেছে। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লক্ষ্য করে দেখলেন, উতবা (রাঃ) এর সাথে তার পরিষ্কার সাদৃশ্য রয়েছে।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সন্তান তাঁরই জন্য, যার জন্য বিছানা। তিনি আরও বললেনঃ হে সওদা! তুমি তার থেকে পর্দা করবে।
3488আবু আসিম খুশাইশ ইবন আসরাম (রহঃ) ... যায়দ ইবন আরকাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ ইয়ামান দেশে আলী (রাঃ)-এর নিকট তিনজন লোক আসলো, যারা সকলে এক মহিলার সাথে একই তুহরে সহবাস করেছিল। তিনি তাদের দুইজনকে পৃথক করে বললেন, তোমরা উভয়ে কি এই সন্তানকে তৃতীয় ব্যক্তির সন্তান বলে স্বীকার কর? তারা বললোঃ না। পরে তিনি অন্য দুইজনকে বললেনঃ তোমরা দুইজন কি এই সন্তানকে তৃতীয় ব্যক্তির সন্তান বলে স্বীকার কর? তারাও বললোঃ না। এরপর তিনি উক্ত তিন ব্যক্তির নামে লটারী করলেন। লটারীতে যার নাম আসলো, তাকে তিনি সন্তান দিয়ে দিলেন। আর তার উপর দিয়াতের অর্থাৎ মূল্যের দুই-তৃতীয়াংশ সাব্যস্ত করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এ ঘটনা আমরা বর্ণনা করলে তিনি হাসলেন, যাতে তাঁর দাঁত মুবারক দেখা গিয়েছিল।
3489আলী ইবন হুজর (রহঃ) ... যায়দ ইবন আরকাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেনঃ একদিন আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপবিষ্ট ছিলাম। এমন সময় ইয়ামন থেকে এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে সেখানকার সংবাদ বর্ণনা করতে লাগলো এবং কথাবার্তা বলতে আরম্ভ করলো। তখন আলী (রাঃ) সেখানে ছিলেন। সে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! তিন ব্যক্তি আলী (রাঃ)-এর নিকট এসে এক সন্তানের ব্যাপারে ঝগড়া করছিল, তার সকলেই এক তুহরে এক মহিলার সাথে সহবাস করেছিল। এভাবে পূর্ণ হাদীস বর্ণনা করেন।
3490আমর ইবন আলী (রহঃ) ... যায়দ ইবন আরকাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপবিষ্ট ছিলাম, তখন আলী (রাঃ) ইয়ামনে ছিলেন। এ সময় এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললোঃ একদিন আলী (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম, তিন ব্যক্তি তাঁর নিকট এসে এক বাচ্চার দাবী করলো, যে এক রমণীর গর্ভে জন্মায়। তখন আলী (রাঃ) এক ব্যক্তিকে বললোঃ তুমি কি এই বাচ্চার দাবী অন্য জনের জন্য ছেড়ে দেবে? সে অস্বীকার করলো। এরপর তিনি অন্যজনকে বললেনঃ তুমি কি এই বাচ্চাকে তোমার কোন সাথীর জন্য ছেড়ে দেবে? সেও অস্বীকার করলো। এভাবে তৃতীয় ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করায় সেও অস্বীকার করলো। আলী (রাঃ) বললেনঃ তোমরা পরস্পর আলাদা এবং ঝগড়া করছো। আমি এখন তোমাদের মধ্যে লটারী করবো। যার নাম লটারীতে আসবে সে এই বাচ্চা পাবে এবং তাকে দিয়াতের দুই-তৃতীয়াংশ দিতে হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন এই ঘটনা শুনলেন, তখন তিনি হাসলেন, এমনকি তার দাঁত মুবারক প্রকাশ হয়ে পড়লো।
3491ইসহাক ইবন শাহীন (রহঃ) ... যায়দ ইবন আরকাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী (রাঃ)-কে ইয়ামনে পাঠান। একদিন এক বাচ্চা আনা হলো, যাকে তিন ব্যক্তি পাওয়ার জন্য ঝগড়া করছিল। হাদীসের শেষ পর্যন্ত অনুরূপ বর্ণনা করলেন।
3492মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... সালামা ইবন কুহায়াল (রহঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, আমি শা'বীকে আবুল খলীল অথবা ইবন আবুল খলীল হতে এক হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছি। তিন ব্যক্তি একই তুহরে শরীক ছিল। এরপর এভাবে হাদীস বর্ণনা করলেন। কিন্তু তিনি যায়দ ইবন আরকামের নাম উল্লেখ করেন নি। আর এই হাদীসকে হাদীসে মারফুও বলেন নি। আবু আবদুর রহমান (রহঃ) বলেন, এ হাদীসটি সহীহ। আল্লাহই অধিক জ্ঞাত।
3493কুতায়াবা (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামআমার নিকট উপস্থিত হলেন, তখন তাঁর চেহারায় খুশীর চিহ্ন প্ৰস্ফুটিত ছিল। তিনি বললেনঃ তুমি কি জান মুজাযিযিয নাম্নী এক ব্যক্তি যায়দ ইবন হারিসা এবং উসামা (রাঃ)-কে দেখে বললোঃ এই উভয় ব্যক্তির পায়ের গড়নের মধ্যে মিল আছে।
3494ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট আসলেন তখন তার চেহারায় খুশীর চিহ্ন বিদ্যমান ছিল। তিনি বললেনঃ হে আয়েশা! মুজাযিযিয মুদলিজী, কিয়াফা অবগত ব্যক্তি আমার নিকট আসলো। তখন উসামা ইবন যায়দ আমার নিকট উপস্থিত ছিল। সে উসামা ইবন যায়ীদ এবং যায়দকে দেখলো। তাদের মুখ চাদরে ঢাকা এবং পা খোলা ছিল। সে বললোঃ এই দু'জনের পায়ের মধ্যে মিল রয়েছে।
3495মাহমুদ ইবন গায়লান (রহঃ) ... আবদুল হামীদ ইবন সালামা আনসারী তাঁর পিতা সূত্রে তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি মুসলিম হলে তাঁর স্ত্রী মুসলিম হতে অস্বীকার করলো। তাদের এক নাবালেগ সস্তান ছিল। সে আসলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার পিতাকে এখানে এবং মাতাকে ওখানে বসিয়ে ছেলেকে ইখতিয়ার দিয়ে দু’আ করলেনঃ হে আল্লাহ্ ! এই ছেলেকে হিদােয়ত দান করুন। তখন সেই ছেলে স্বীয় পিতার নিকট চলে গোল।
3496মুহাম্মদ ইবন আবদুল আ'লা (রহঃ) ... আবু মায়মুনা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমরা আবু হুরায়রা (রাঃ)-এর নিকট বসা ছিলাম, তখন আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, এক মহিলা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললোঃ আমার মাতা-পিতা আপনার উপর কুরবান হোক। আমার স্বামী আমার নিকট হতে আমার ছেলেকে নিয়ে যেতে চায়। অথচ ঐ বাচ্চার দ্বারা আমার অনেক উপকার হয়ে থাকে। সে বীরে আবু ইনাবা থেকে পানি এনে আমাকে পান করায়। এমন সময় তার স্বামী সেখানে এসে বললোঃ আমার ছেলের ব্যাপারে আমার সাথে কে বিবাদ করছে? তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে ছেলে! এই তোমার পিতা, আর এই তোমার মাতা, এদের মধ্যে তোমার যাকে ইচ্ছা, তার হাত ধর। তখন ছেলে তার মার হাত ধরল এবং সে তাকে সঙ্গে নিয়ে চলে গেল।
3497আবু আলী মুহাম্মদ ইবন মারওয়াযী (রহঃ) ... আবদুর রহমান (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, রুবাই বিনত মুআওয়ায ইবন আফরা তাকে সংবাদ দিয়েছেন, সাবিত ইবন কায়স ইবন শামমাস তার স্ত্রীকে মারধর করলো এবং তার হাত ভেঙে দিল, তার নাম ছিল জামিলা বিনত আবদুল্লাহ ইবন উবাই। তার ভাই রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এর অভিযোগ নিয়ে উপস্থিত হলো। তিনি ছাবিত (রাঃ)-এর নিকট লোক পাঠিয়ে তাকে ডেকে আনলেন। ছবিত উপস্থিত হলে তিনি বললেনঃ তুমি তার নিকট হতে তোমার মাল নিয়ে তাকে ছেড়ে দাও। ছাবিত (রাঃ) বললেনঃ হ্যাঁ, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ মহিলাকে এক হায়য পর্যন্ত ইদ্দত পালন করার আদেশ করলেন। এরপর তাকে তার মাতাপিতার নিকট চলে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন।
3498উবায়দুল্লাহ ইবন সা'দ ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... রুবাঈ বিনূত মুআওয়ায (রাঃ) বলেন, আমি আমার স্বামীর সাথে খুলা করলাম। এরপর উসমান (রাঃ)-এর খেদমতে উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞাসা করলামঃ আমাকে কতদিন ইদ্দত পালন করতে হবে? উসমান (রাঃ) বললেন, তোমার কোন ইদ্দত পালন করতে হবে না। তবে, যেহেতু তুমি তোমার স্বামীর নিকট অবস্থান করেছ, অতএব তুমি এক হায়য পর্যন্ত অপেক্ষা কর। এরপর তিনি বললেনঃ এ ব্যাপারে আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুকরণ করছি। তিনি মরিয়াম মাগালিয়ার ব্যাপারে এরূপ সমাধান দিয়েছিলেন। আর তিনি ছিলেন ছবিত ইবন কায়স ইবন শামমাসের স্ত্রী। সেই মহিলা তার সাথে খুলা করেছিল।
3499যাকারিয়া ইবন ইয়াহ্ইয়া (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) হতে উক্ত আয়াতঃ (مَا نَنْسَخْ مِنْ آيَةٍ أَوْ نُنْسِهَا نَأْتِ بِخَيْرٍ مِنْهَا أَوْ مِثْلِهَا) ইবন আব্বাস সম্পর্কে বলেনঃ বর্ণিত হয়েছে যে, কুরআনে সর্বপ্রথম যা রহিত হয়েছে, তা হলো কিবলার হুকুম। আল্লাহর বাণীঃ (وَالْمُطَلَّقَاتُ يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ ثَلَاثَةَ قُرُوءٍ وَقَالَ وَاللَّائِي يَئِسْنَ مِنْ الْمَحِيضِ مِنْ نِسَائِكُمْ إِنْ ارْتَبْتُمْ فَعِدَّتُهُنَّ ثَلَاثَةُ أَشْهُرٍ) এ হতে রহিত করা হয়েছে এবং ইরশাদ করা হয়েছেঃ (وَإِنْ طَلَّقْتُمُوهُنَّ مِنْ قَبْلِ أَنْ تَمَسُّوهُنَّ فَمَا لَكُمْ عَلَيْهِنَّ مِنْ عِدَّةٍ تَعْتَدُّونَهَا)।
3500হান্নাদ ইবন সারী (রহঃ) ... উম্মে হাবীব (রাঃ) বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ যে স্ত্রীলোক আল্লাহ্ এবং পরকালে বিশ্বাস করে, কারো মৃত্যুর পর তার জন্য তিন দিনের অধিক শোক পালন করা বৈধ নয়, স্বীয় স্বামী ব্যতীত। কেননা স্বামীর জন্য তাহার চার মাস দশদিন শোক পালন করা উচিত।
3501মুহাম্মদ ইবন আব্দুল আ'লা (রহঃ) ... হামিদ ইবন নাফে যয়নব (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন, আমি বললামঃ যয়নব তার মাতা উম্মে সালামা হতে বর্ণনা করেছেন? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট কেউ এমন এক স্ত্রীলোক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলো, যার স্বামী মারা গেছেন; আমরা কি তার চোখে সুরমা লাগাব? কেননা, আমরা ভয় করছি, সুরমা না লাগালে তার চোখ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তিনি বললেনঃ এর আগে প্রত্যেক স্ত্রীলোক নিজের ঘরে বসে থাকতো আর ঐ রূপ মোটা ও নিকৃষ্ট বস্ত্র পরিধান করতো, যা উটের হাওদার নীচে দেয়া হতো। আর সে এই কষ্টের মধ্যে পূর্ণ এক বছর কাটিয়ে দিত। এখন কি তোমাদের উপর চার মাস দশদিন অধিক কঠিন মনে হয়?
3502ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... উম্মে হাবীবা (রাঃ) বলেনঃ এক মহিলা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললোঃ আমার কন্যার স্বামী ইনতিকাল করেছে। আর আমি ভয় করি, তার চোখ খারাপ না হয়ে যায়। আমি কি তার চোখে সুরমা লাগাতে পারি? তিনি বললেনঃ পূর্বে তো এ ধরনের নবী এক বছর পর্যন্ত বসে থাকতো, আর এই সময় তো কোন অধিক সময় নয়, মাত্র চার মাস দশদিন। আর যখন এক বছর পূর্ণ হতো, তখন ঐ মহিলা বের হয়ে নিজের পিঠের পেছনে উটের গোবর ছিটাতো।
3503মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী হাফসা বিনতে উমর (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহ্ তা'আলা এবং কিয়ামতে বিশ্বাস স্থাপনকারী কোন মহিলার জন্য নিজের স্বামী ব্যতীত কোন মৃতের উপর তিন দিনের অধিক শোক পালন করা বৈধ নয়। তবে স্বামীর উপর চারমাস দশদিন শোক করা উচিত।
3504আবদুল্লাহ্ ইবন সাব্বাহ (রহঃ) ... উম্মে সালামা (রাঃ) বলেন, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে মহিলা আল্লাহ্ এবং কিয়ামতে বিশ্বাস করে তার জন্য কোন মৃতের উপর তিন দিনের অধিক শোক বৈধ নয়, নিজের স্বামী ব্যতীত। কেননা নিজের স্বামীর জন্য সে চার মাস দশদিন শোক পালন করবে।
3505মুহাম্মদ ইবন ইসমাঈল ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... উম্মে সালামা (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণিত আছে।
3506মুহাম্মদ ইবন সালামা ও হারিছ ইবন মিসকীন (রহঃ) ... মিসওয়ার ইবন মাখরামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, যখন সুবাইয়া আসলামী সন্তান প্রসব করলো, এর কয়েকদিন পূর্বে তার স্বামী মারা গেল। এখন সে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে বিবাহ করার অনুমতি প্রার্থনা করলো। তিনি তাকে অনুমতি দিলেন। পরে সে একজনের সাথে বিবাহে আবদ্ধ হলো।
3507নসর ইবন আলী (রহঃ) ... মিসওয়ার ইবন মাখরামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুবাইয়াকে বিয়ে করার অনুমতি দান করেন যখন সে নিফাস হতে পাক হবে।
3508মুহাম্মদ ইবন কুদামা (রহঃ) ... আবু সানাবিল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সুবাইয়ার স্বামীর মৃত্যুর তেইশ অথবা পঁচিশ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর সে বাচ্চা প্রসব করলো। যখন তার নিফাসের সময় অতিবাহিত হলো, তখন সে অন্য স্বামী গ্ৰহণ করার প্রস্তুতি গ্ৰহণ করতে লাগলো। ফলে লোকেরা কুৎসা করলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এর উল্লেখ করা হলে তিনি বললেনঃ এখন তার বিয়ে করতে বাধা কোথায়? কারণ তার ইদ্দত পূর্ণ হয়েছে।
3509মাহমুদ ইবন গায়লান (রহঃ) ... আবদে রাব্বিহী ইবন সাঈদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, আমি আবু সালামাকে বলতে শুনেছিঃ আবু হুরায়রা এবং ইবন আব্বাস (রাঃ) ঐ স্ত্রীলোকের ব্যাপারে মতবিরোধ করলেন যার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। তার স্বামীর মৃত্যুর কিছু দিন পর সে সন্তান প্রসব করে। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বললেনঃ সেই মহিলা প্রসব করার পর বিবাহ করতে পারবে। আর ইবন আব্বাস (রাঃ) বললেনঃ উভয় মুদ্দতের মধ্যে যেটা দীর্ঘ হবে তা গ্ৰহণ করবে। পরে উম্মে সালামা (রাঃ)-এর নিকট লোক পাঠান হলে তিনি বললেনঃ সুবা'আর স্বামী মারা যাওয়ার পনের দিন পর সে বাচ্চা প্রসব করে। এরপর দুই ব্যক্তি তার কাছে বিবাহের প্রস্তাব করলে সে একজনের দিকে ঝুকে পড়লো। তার পরিবারের লোকেরা আশংকা করলো যে, পাছে সে তাকে বিয়ে করে কিনা। তারা তাকে বললোঃ এখনও তো তোমার ইদ্দত ও পূর্ণ হয়নি। সুবায়আ (রাঃ) বলেনঃ এরপর আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হলে তিনি বললেনঃ তুমি বৈধ হয়ে গেছ, কাজেই এখন যার সাথে ইচ্ছা বিবাহ করতে পার।
3510মুহাম্মদ ইবন সালামা ও হারিস ইবন মিসকীন (রহঃ) ... আবু সালামা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ কেউ আবু হুৱায়রা ও ইবন আব্বাসের নিকট ঐ মহিলার ব্যাপারে প্রশ্ন করলো, যার স্বামী মারা যায় এবং সে তখন গর্ভবতী ছিল। ইবন আব্বাস (রাঃ) বললেনঃ সে তার দু'টি ইদ্দতের মধ্যে যেটি দীর্ঘ হয়, সে তা গ্ৰহণ করবে। আর আবু হুরায়রা (রাঃ) বললেনঃ যখনই সে প্রসব করেছে তখনই তার ইদ্দত পূর্ণ হয়ে গেছে। আবু সালমা (রহঃ) এই মতবিরোধ শ্রবণ করে উম্মে সালমা (রাঃ)-এর নিকট গমন করলেন এবং তার নিকট এই মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। উম্মে সালমা (রাঃ) বললেনঃ সুবাইয়ার স্বামীর মৃত্যুর পর অর্ধ মাস অতীত হলে সে সন্তান প্রসব করেছে। এরপর দুই ব্যক্তি তার নিকট বিবাহের পয়গাম পাঠায়, তাদের একজন ছিল যুবক, আর দ্বিতীয় জন ছিল আধা বয়সী। সে যুবকের দিকে ঝুকে গেল। তখন মধ্যম বয়সী ব্যক্তি বললোঃ এখন তোমার বিবাহ করা হালাল হবে না। উম্মে সালামা (রাঃ) বলেনঃ তখন সুবাইয়ার পরিবারের লোক উপস্থিত ছিল না, মধ্য বয়সের লোকটি মনে করলো, যখন তার আত্মীয়-স্বজন আসবে, তখন হয়তো তারা বুঝিয়ে সুবাইয়াকে আমার জন্য রাজী করাবে। পরে ঐ মহিলা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হলে তিনি বললেনঃ তুমি হালাল হয়ে গেছ, এখন তুমি যাকে ইচ্ছা বিয়ে করতে পার।
3511মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ বাযী' (রহঃ) ... আবু সালামা ইবন আবদুর রহমান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ কেউ ইবন আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট জিজ্ঞাসা করলো, যদি কোন স্ত্রীলোক তার স্বামী মুত্যুবরণ করার বিশ দিনের মধ্যে সন্তান প্রসব করে, তবে কি তার বিবাহ করা বৈধ হবে? ইবন আব্বাস (রাঃ) বললেনঃ না। বিবাহ করা বৈধ হবে না, যতক্ষণ না সে তার দুই ইদ্দতের মধ্যে দীর্ঘ ইদ্দতটি পূর্ণ না করে। আবু সালমা (রহঃ) বলেন, আল্লাহ্ তা'আলা বলেছেনঃ "যার গর্ভে সন্তান রয়েছে, তার ইদ্দত হলো তার সন্তান প্রসব করা।" ইবন আব্বাস (রাঃ) আবু সালাম (রহঃ)-কে উত্তর দিলেন, এই আদেশ তালাকপ্রাপ্ত রমণীর ব্যাপারে। এরপর আবু হুরায়রা (রাঃ) বললেনঃ আমি আমার ভাইপো আবু সালামার সাথে আছি। অর্থাৎ যা সে বলছে তা-ই আমার নিকট উত্তম এবং সহীহ। এই কথার পর তিনি স্বীয় দাস কুরায়বকে ডাকলেন এবং উম্মে সালামা (রাঃ)-এর নিকট পাঠালেন, এ খবরসহ যে, এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কোন সুন্নত আছে কি না। কুরায়ব (রহঃ) উম্মে সালমা (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে আবু হুরায়রা (রাঃ) যা বলেছেন তা ব্যক্ত করলে উম্মে সালমা (রাঃ) বললেনঃ হ্যাঁ, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নত এ ব্যাপারে এই যে, সুবাইয়া আসলামী তার স্বামীর মৃত্যুর বিশ দিন পর সন্তান প্রসব করলে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বিবাহ করার অনুমতি দেন, আর আবু সানাবিল তার বিবাহের প্রার্থীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন।
3512কুতায়বা (রহঃ) ... সুলায়মান ইবন ইয়াসার (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, আবু হুরায়রা (রাঃ), ইবন আব্বাস (রাঃ) ও আবু সালামা ইবন আবদুর রহমান (রহঃ) নিজেদের মধ্যে ঐ মহিলার ইদ্দত সম্বন্ধে আলোচনা করেন, যার স্বামী মারা যায়। ইবন আব্বাস (রাঃ) বললেনঃ দু'টি ইদ্দতের মধ্যে যেটি দীর্ঘতর, সেটি পালন করবে। আর আবু সালাম (রহঃ) বললেনঃ সেই মহিলা তার সন্তান প্রসবকাল পর্যন্ত ইদ্দত পালন করবে এবং আবু হুরায়রা (রাঃ) বললেনঃ আমি আমার ভ্রাতুষ্পপুত্রের সাথে একমত। এরপর তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী উম্মে সালামা (রাঃ)-এর নিকট এক ব্যক্তিকে পাঠালে তিনি বললেনঃ সুবাইয়া আসলামিয়া তার স্বামীর মৃত্যুর কদিন পর সন্তান প্রসব করলো। এ ব্যাপারে সুবাইয়া রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এর সমাধান চাইলে তিনি তাকে বিবাহের অনুমতি প্ৰদান করেন।
3513আবদুল আ'লা (রহঃ) ... উম্মে সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সুবাইয়া তার স্বামীর মৃত্যুর কয়েকদিন পর সন্তান প্রসব করলো, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বিবাহ করার অনুমতি প্রদান করেন।
3514মুহাম্মদ ইবন সালাম (রহঃ) ... সুলায়মান ইবন ইয়াসার (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, আবদুল্লাহ্ ইবন আব্বাস এবং আবু সালামা ইবন আব্দুর রহমান এর মধ্যে ঐ মহিলার ইদ্দতের ব্যাপারে মতবিরোধ দেখা দেয়, যার স্বামীর মৃত্যুর কিছুদিন পর সে সন্তান প্রসব করলো। আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) বললেনঃ দুই ইদ্দতের মধ্যে যেটি দীর্ঘতর হয়, ঐ মহিলা সেটি পালন করবে। আর আবু সালামা (রহঃ) বলেনঃ যখন সে সন্তান প্রসব করলো, তখন তার ইদ্দত পূর্ণ হলো। এরপর আবু হুরায়রা (রাঃ) আসলে তিনি বললেনঃ আমি আমার ভাতিজা অর্থাৎ আবু সালামা ইবন আব্দুর রহমানের পক্ষ অবলম্বন করছি। এরপর তাঁরা কুরায়ব (রহঃ)-কে উম্মে সালমা (রাঃ)-এর নিকট এ বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করার জন্য পাঠান। তিনি এই ব্যাপারে তাকে জিজ্ঞাসা করে এসে তাদেরকে বললেন যে, উম্মে সালামা (রাঃ) বলেছেনঃ সুবাইয়া তার স্বামীর মৃত্যুর কয়েকদিন পর সন্তান প্রসব করলো। এরপর সে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এর উল্লেখ করলে, তিনি বললেনঃ তুমি হালাল হয়ে গেছ, অর্থাৎ তোমার ইদ্দত পূৰ্ণ হয়ে গেছে।
3515হুসায়ন ইবন মানসূর (রহঃ) ... আবু সালামা ইবন আবদুর রহমান (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, একদা আমি, ইবন আব্বাস এবং আবু হুরায়রা (রাঃ)-এর নিকট ছিলাম। ইবন আব্বাস (রাঃ) বললেনঃ যখন কোন স্ত্রীলোক তার স্বামীর মৃত্যুর পর সন্তান প্রসব করে, তখন ঐ স্ত্রীলোকের ইদ্দত হবে, দুই ইদ্দতের মধ্যে যেটি দীর্ঘতর সেটি। আবু সালামা (রহঃ) বলেনঃ আমরা কুরাইবকে উম্মে সালাম (রাঃ)-এর নিকট এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করার জন্য পাঠালে, কুরাইব উম্মে সালমা (রাঃ)-এর নিকট থেকে সংবাদ নিয়ে আসলে যে, সুবাইয়ার স্বামীর মৃত্যু হলে কয়েকদিন পর তার সন্তান জন্মগ্রহণ করলো। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বিবাহ করার অনুমতি প্ৰদান করেন।
3516আব্দুল মালিক ইবন শুআয়ব (রহঃ) ... আবু সালামা ইবন আবদুর রহমান (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, যয়নব বিনত আবু সালামা তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তার মা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী উম্মে সালামা হতে, বনী আসলাম গোত্রের সুবাইয়া নাম্নী এক মহিলা তার স্বামীর বিবাহে ছিল। তাকে গর্ভবতী অবস্থায় রেখে স্বামী মারা যায়। আবু সানাবিল ইবন বা'কাক তার বিবাহের পয়গাম দেন, কিন্তু সে তার প্রস্তাবে রাযী হলেন না। পরে তিনি বললেনঃ দুই ইদ্দতের মধ্যে যেটি দীর্ঘতর, সেটি পূর্ণ করার পূর্বে তোমার বিয়ে করা ঠিক হবে না। সে বিশদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করলো। এরপর যখন সে সন্তান প্রসব করেল, তখন সে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসলে তিনি বললেনঃ তুমি এখন বিয়ে করতে পার।
3517ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আবু সালামা ইবন আবদুর রহমান (রহঃ) বলেন, একদিন আমি এবং আবু হুরায়রা (রাঃ) ইবন আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট ছিলাম, এমন সময় এক মহিলা উপস্থিত হয়ে তার স্বামীর অবস্থা বর্ণনা করতে লাগলো যে, তার স্বামীর মৃত্যুবরণ করেছে, তখন সে গর্ভবতী ছিল। সে বললোঃ স্বামীর মৃত্যুর দিন থেকে চার মাস পূর্ণ না হতেই সে সন্তান ভূমিষ্ট হয়। ইবন আব্বাস (রাঃ) বললেনঃ যে ইদ্দত দীর্ঘতর হবে, তা-ই তোমার ইদ্দত হবে। আবু সালামা (রহঃ) বললেনঃ আমাকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এক সাহাবী সংবাদ দিয়েছেন যে, সুবাইয়া আসলামী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে উপস্থিত হয়ে নিজের অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে বললে যে, আমার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে, তখন আমি গর্ভবতী ছিলাম। এরপর আমার সন্তান প্রসব হয়েছে, তখন বাচ্চার পিতার মৃত্যুর পর চার মাস অতিবাহিত হয়নি। তাকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিবাহ করার অনুমতি দান করেন। তখন আবু হুরায়রা (রাঃ) বলতে লাগলেনঃ আমি এ ব্যাপারে সাক্ষী।
3518ইউনুস ইবন আব্দুল আ'লা (রহঃ) ... উবায়দুল্লাহ্ ইবন আবদুল্লাহ্ বর্ণনা করেন, তাহার পিতা আবদুল্লাহ (রাঃ) উমর ইবন আবদুল্লাহ ইবন আরকাম যুহরী (রহঃ)-কে লিখলেন, আপনি গিয়ে সুবাইয়া বিনত হারিস আসলামী (রাঃ)-কে তার অবস্থা জিজ্ঞাসা করুন। যখন সে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট তার অবস্থার সমাধান চেয়েছিল, তখন তিনি তাকে কি বলেছিলেন। তখন উমর ইবন আবদুল্লাহ, আবদুল্লাহ্ ইবন উতবাকে লিখলেন যে, সুবাইয়া (রাঃ) তাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি সা'দ ইবন খাওলার বিবাহধীন ছিলেন, আর সা'দ ছিলেন আমির ইবন লুয়াই গোত্রের লোক। আর তিনি বদরী সাহাবীও ছিলেন, তিনি যখন বিদায় হজ্জে ইনতিকাল করেন, তখন আমি গর্ভবতী ছিলাম। কিন্তু তার মৃত্যুর কয়েক দিন পরই বাচ্চ জন্ম নেয়। যখন সুবাইয়া (রাঃ) নিফাস হতে পাক হন। তখন তিনি বিবাহ প্রস্তাবকারীদের জন্য সাজসজ্জা করলেন। আবদুদ্দার গোত্রের আবু সানাবিল ইবন বা'কাক তার নিকট এসে তাকে জিজ্ঞাসা করলোঃ তোমাকে সাজসজ্জা করতে দেখছি কেন? মনে হয় তুমি বিবাহের ইচ্ছা করছে? আল্লাহর শপথ! তোমার জন্য বিবাহ করা ঠিক হবে না। চার মাস দশদিন অতিবাহিত হওয়ার আগে। সুবাইয়া (রাঃ) বলেনঃ যখন সে একথা বললো, তখন আমি সন্ধ্যায় কাপড় পড়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হলাম এবং তাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি আমাকে ফতওয়া দিয়ে বললেনঃ তুমি যখন বাচ্চা প্রসব করেছ, তখনই তোমার ইদ্দত পূর্ণ হয়েছে। তিনি আমাকে আরো বললেনঃ যদি তোমার ইচ্ছা হয় তবে বিবাহ করে নাও।
3519মুহাম্মদ ইবন ওহাব (রহঃ) ... যুফার ইবন আওস ইবন হাদাছান নসরী বলেন, আবু সানাবিল ইবন বা‘কাক ইবন সাববাক সুবাইয়া আসলামী (রাঃ)-কে বললোঃ চার মাস দশদিন, যা দুই ইদ্দতের মধ্যে দীর্ঘতর, তা শেষ হওয়ার পূর্বে তোমার বিবাহ করা ঠিক হবে না। একথা শুনে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাঁকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলেন। সুবাইয়া (রাঃ)-এর কথা দ্বারা বুঝা গেল রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে এই সমাধান দিলেন যে, তোমার সন্তান প্রসব হলে, তুমি বিয়ে করে নিবে। তাঁর স্বামীর মৃত্যুর সময় তিনি নয় মাসের গর্ভবতী ছিলেন। তিনি সা'দ ইবন খাওলার বিবাহাধীন ছিলেন। তিনি বিদায় হজ্জে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সংগে ছিলেন এবং এ সময় তিনি মারা যান। পরে তার সন্তান প্রসব হওয়ার পর সেই গোত্রের এক যুবকের সাথে তার বিয়ে হয়।
3520কাছীর ইবন উবায়দ (রহঃ) ... উবায়দুল্লাহ ইবন আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আবদুল্লাহ্ ইবন উতবা উমর ইবন আবদুল্লাহ্ ইবন আরকাম যুহরীকে সুবাইয়া (রাঃ)-এর নিকট যাওয়ার জন্য পত্ৰ লিখলেন যে, আপনি গিয়ে সুবাইয়া আসলামী বিনত হারিস (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করবেন, তার গর্ভ সম্বন্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে কী সমাধান দিয়েছিলেন। রাবী বলেন, উমর ইবন আবদুল্লাহ্ (রহঃ) তার নিকট গিয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন ; আমি সা’দ ইবন খাওলার স্ত্রী ছিলাম, সা’দ ইবন খাওলা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবী ছিলেন, তিনি বদরীও ছিলেন। তিনি বিদায় হজ্জে ইনতিকাল করেন। স্বামীর মৃত্যুর পরে আমি সন্তান প্রসব করলাম, চার মাস দশদিন অতিবাহিত হওয়ার আগেই। রাবী বলেনঃ তার নিফাস হতে পাক হওয়ার পর বনী আবদুদ্দারের আবু সানাবিল নাম এক ব্যক্তি তাঁর নিকট উপস্থিত হয়ে দেখলেন যে, তিনি সাজসজ্জা করছেন। সে বললোঃ মনে হয় তুমি বিবাহের ইচ্ছা রাখ, চার মাস দশ দিন অতিবাহিত হওয়ার পূর্বেই। সুবাইয়া (রাঃ) বলেন, আমি আবু সানাবিলের নিকট এ কথা শোনার পর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাঁর নিকট আমার অবস্থা ব্যক্ত করিলাম। তিনি বললেনঃ তুমি সন্তান প্রসব করার সাথে সাথেই তোমার ইদ্দত পূর্ণ করেছ।
3521মুহাম্মদ ইবন আব্দুল আ'লা (রহঃ) ... মুহাম্মদ (রহঃ) বলেন, আমি কুফায় আনসারীদের এক বড় মজলিসে বসা ছিলাম, সেখানে আবদুর রহমান ইবন আবু লায়লাও উপস্থিত ছিলেন। সেখানে সুবাইয়া (রাঃ)-এর ব্যাপারে আলোচিত হলো। আমি আবদুল্লাহ ইবন উতবা ইবন মাসউদের বর্ণনার উল্লেখ করলাম, যা ইবন আওনের কথার অনুরূপ ছিল, অর্থাৎ বাচ্চা প্রসব হওয়া পর্যন্ত তার ইদ্দত ছিল। ইবন আবু লায়লা বললেনঃ আবদুল্লাহ্ ইবন মাসউদ (রাঃ)-এর এ কথার সমর্থক ছিলেন না যে, গৰ্ভধারিণীর ইদ্দত প্রসব পর্যন্ত, বরং তিনি দুই ইদ্দতের মধ্যে যেটি অধিক তাকেই ইদ্দত মনে করতেন। তখন আমি আমার আওয়ায উচু করে বললামঃ আমি কি এরূপ দুঃসাহস করতে পারি যে, আবদুল্লাহর উপর মিথ্যারোপ করবো? অথচ তিনি কুফায় থাকেন। এরপর মালিকের সাথে আমার সাক্ষাৎ হলো। আমি তাঁর নিকট জিজ্ঞাসা করলামঃ আবদুল্লাহ্ ইবন মাসউদ (রাঃ) সুবাইয়া (রাঃ)-এর ব্যাপারে কি বলতেন? তিনি বললেনঃ ইবন মাসউদ (রাঃ) বলতেনঃ তোমরা তার উপর কঠোর বিধান আরোপ করছো? আর তোমরা তাকে অনুমতি দিতেছ না? অথচ ছােট সূরায় নিসা, যা হলো সূরা তালাক, তা বড় সূরা অর্থাৎ সূরা বাকারার পর নাযিল হয়।
3522মুহাম্মদ ইবন মিসকীন (রহঃ) ... আলকামা ইবন কায়স (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, ইবন মাসউদ (রাঃ) বলেন, যদি কেউ ইচ্ছা করে, আমি তার সাথে এ ব্যাপারে মুবাহালা করতে পারি যে, (وَأُولَاتُ الْأَحْمَالِ أَجَلُهُنَّ أَنْ يَضَعْنَ حَمْلَهُنَّ) অর্থঃ আর গর্ভবতী নারীদের ইদ্দতকাল সন্তান প্রসব পর্যন্ত- এ আয়াতটি যে স্ত্রীর স্বামী মারা গেছে তার ইদ্দত সম্পর্কে। এ আয়াতঃ তোমাদের মধ্যে যারা স্ত্রী রেখে মারা যায়, তাদের স্ত্রীগণ চারমাস দশদিন অপেক্ষায় থাকবে - এরপর নাযিল হয়। যে গৰ্ভবতী স্ত্রীর স্বামী মারা যায়, তার সন্তান ভূমিষ্ট হলে তার ইদ্দত শেষ হয়ে যাবে।
3523আবু দাউদ সুলায়মান ইবন সায়ফ (রহঃ) ... আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, ছোট সূরার নিসা, অর্থাৎ সূরায়ে তালাক সূরা বাকারার পর নাযিল হয়।
3524মাহমুদ ইবন গায়লান (রহঃ) ... ইবন মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, একদা তার কাছে কেউ জিজ্ঞাসা করলো যে, এক ব্যক্তি এক স্ত্রীলোককে বিবাহ করলো, আর বিবাহের সময় তার জন্য কোন মাহর নির্ধারণ করলো না, এবং তার সাথে সহবাস করার পূর্বেই সে মারা গেল। ইবন মাসউদ (রাঃ) বললেনঃ ঐ মহিলা তার বংশের অন্যান্য মহিলার ন্যায় মহর পাবে, কমও নয় এবং বেশীও নয়। আর তাকে ইদ্দত পালন করতে হবে এবং সে স্বামীর মীরাছের অংশ পাবে। এ কথা শুনে মাকাল ইবন সিনান আশজায়ী (রঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সম্প্রদায়ের এক মহিলার ফয়সালা এরূপই করেছিলেন, যার নাম ছিল বিরওয়া বিনুত ওয়াশিক, যেরূপ আপনি বললেন। একথা শুনে ইবন মাসউদ (রাঃ) সন্তুষ্ট হলেন।
3525ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিজের স্বামী ব্যতীত কোন মহিলার জন্য তিন দিনের অধিক কোন মৃত ব্যক্তির জন্য শোক করা বৈধ নয়।
3526মুহাম্মদ ইবন মা’মার (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে মহিলা আল্লাহ ও পরকালে ঈমান রাখে, তার জন্য তিন দিনের অধিক শোক করা বৈধ হবে না- নিজের স্বামী ব্যতীত।
3527ইসহাক ইবন মানসূর (রহঃ) ... উম্মে হাবীবা (রাঃ) বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এই মিম্বরে বলতে শুনেছিঃ যে মহিলা আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের উপর ঈমান রাখে, তার জন্য কোন মৃত্যুর উদ্দেশে তিন দিনের অধিক শোক করা বৈধ নয়। কিন্তু সে তার স্বামীর জন্য চার মাস দশ দিন শোক পালন করবে।
3528মুহাম্মদ ইবন 'আলা (রহঃ) ... ফারি'আ বিনত মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তার স্বামী স্বীয় গোলামের তালাশে বের হলে, তারা তাকে হত্যা করলো। শু'বা এবং ইবন জুরাইজ (রহঃ) বলেনঃ সেই মহিলার ঘর ছিল জনবসতি হতে দূরে। পরে সেই মহিলা তার ভাইকে সাথে নিয়ে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে নিজের অবস্থা বর্ণনা করলেন, তিনি তাকে অন্য ঘরে বাস করার অনুমতি দিলেন। যখন সে প্রত্যাবর্তন করছিল, তিনি তাকে ডেকে বললেনঃ তুমি নিজের ঘরেই থাকে, যতক্ষণ না ইদ্দত পূর্ণ হয়।
3529কুতায়বা (রহঃ) ... ফারি'আ বিনত মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আমার স্বামী আজমী গোলামাদেরকে চাকর রাখতেন তার কাজের জন্য। তারা তাকে হত্যা করলে তিনি এই সংবাদ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট পৌছিয়ে বললেন, আমার স্বামীর কোন ঘরও নেই এবং তিনি খোরপোষের কোন ব্যবস্থাও করে যাননি। আমি আমার পরিবারস্থ লোকের নিকট গিয়ে আমার ইয়াতিম সন্তানদের রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারি? তিনি তাকে বললেনঃ তুমি এরূপ করতে পার। এরপর তিনি বললেনঃ কী বলেছিলে? তখন সে যা বলেছিল, তা আবার বললো। তিনি বললেনঃ ইদ্দত ঐ স্থানেই পালন কর, যেখানে তুমি তোমার স্বামীর মৃত্যু সংবাদ শুনেছ।
3530কুতায়বা (রহঃ) ... ফারি'আ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তার স্বামী গোলামদের তালাশে বের হয়ে কাদুমের পথে নিহত হলেন। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললামঃ আমি আমার পরিবারের লোকদের নিকট যেতে চাই এবং তাঁর নিকট ঘটনা বর্ণনা করলাম। তিনি আমাকে অনুমতি দিলেন। যখন আমি রওয়ানা হলাম, তখন তিনি আমাকে ডেকে বললোঃ ইদ্দত পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত নিজের স্বামীর ঘরেই থাক।
3531মুহাম্মদ ইবন ইসমাঈল (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেন, যে আয়াতে বলা হয়েছে "স্ত্রী তার স্বামীর ঘরে ইদ্দত পূৰ্ণ করবে।" এই আয়াত এখন মানসূখ বা রহিত হয়ে গেছে। এখন তার জন্য যেখানে ইচ্ছা সেখানে থেকে ইদ্দত পূর্ণ করার ইখতিয়ার আছে। (غَيْرَ إِخْرَاجٍ) আয়াত দ্বারা তা রহিত হয়েছে।
3532ইসহাক ইবন মানসূর (রহঃ) ... আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)-এর বোন ফারি'আ বিনত মালিক (রাঃ) বলেনঃ আমার স্বামী কাদুম নামক স্থানে ইনতিকাল করেন। আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললামঃ আমার ঘর লোকালয় হতে বহু দূরে অবস্থিত। তিনি আমাকে আমার পরিবারের কাছে থাকার অনুমতি দান করলেন। এরপর ডেকে বললেনঃ নিজের স্বামীর ঘরেই চার মাস দশ দিন অতিবাহিত কর, তাহলে তোমার ইদ্দত পূর্ণ হবে।
3534হুসায়ন ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) ... উম্মু আতিয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন নারী কারো জন্য তিন দিনের অধিককাল শোক করবে না। তবে তার স্বামী ব্যতীত। কেননা, সে তার জন্য চার মাস দশ দিন শোক করবে। আর শোককারীণী কোন রঙ্গিন কাপড় পরিধান করবে না, আর না ঐ কাপড় যার সুতা রং করিয়ে বানানো হয় এবং সুরমা লাগাবে না, আর মাথায় চিরুনী করবে না এবং সুগন্ধি লাগবে না। কিন্তু যখন সে হায়য হতে পাক হবে, তখন কিছু কুসত এবং আযফার (সুগন্ধি জাতীয় জিনিস) ব্যবহার করতে পারে।
3535মুহাম্মদ ইবন ইসমাঈল ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী উম্মে সালামা (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে স্ত্রীলোকের স্বামী মারা যায়, সে কুসুম রঙের কাপড় এবং লাল ফুলদ্বারা রং করা কাপড় পরিধান করবে না এবং খেযাব, সুরমা ইত্যাদিও লাগাবে না।
3536মুহাম্মদ ইবন মানসূর (রহঃ) ... উম্মে আতিয়া (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে নারী আল্লাহ্ ও কিয়ামতের দিনে ঈমান রাখে, তার জন্য কোন মৃতের উদ্দেশ্যে তিন দিনের অধিক শোক করা বৈধ হবে না, তার স্বামী ব্যতীত। আর সে সুরমা ব্যবহার করবে না, খিযাব লাগবে না এবং রং করা কাপড় পরিধান করবে না।
3537আহমদ ইবন আমর ইবন সারাহ (রহঃ) ... উম্মে হাকীম বিনত উসায়দ তাঁর মাতা হতে বর্ণনা করেন; যখন তাঁর স্বামী মারা যায়, তখন তাঁর চােখে ব্যথা ছিল। তখন তিনি ইসমিদ সুরমা লাগান। পরে তিনি তার মুক্ত করা চাকরাণীকে উম্মে সালামা (রাঃ)-এর নিকট প্রেরণ করেন, তার নিকট চোখের রোগ নিবারক সুরমা চেয়ে। উম্মে সালাম (রাঃ) বললেনঃ কোন সুরমা ব্যবহার করবে না। হ্যাঁ যদি কঠিন প্রয়োজন হয় তবে কোন ক্ষতি নেই। কেননা, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট ঐ সময় আসেন, যখন আবু সালামা (রাঃ)-এর ইনতিকাল হয়। আর আমি তখন আমার চোখে ইলুয়া লাগিয়ে ছিলাম। তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেনঃ হে উম্মে সালামা! এটা কি ? আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! ইহা ইলুয়া। এতে সুগন্ধি নেই। তিনি বললেনঃ হে উম্মে সালামা! এর দ্বারা চেহারায় ঔজ্জ্বল্য আসে। এটা আর লাগবে না। যদি লাগাতেই হয় তবে রাতে লাগাবে। আর সুগন্ধি বস্তু দ্বারা মাথা ধোবে না, মেহেদী দ্বারাও নয়। কেননা, মেহেদীর মধ্যে রং রয়েছে। উম্মে সালাম (রাঃ) জিজ্ঞাসা করলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি কি দিয়ে মাথা ধোব? তিনি বললেনঃ মাথায় কুলপাতা লাগাবে।
3538রবী' ইবন সুলায়মান (রহঃ) ... উম্মে সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক মহিলা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার কন্যার চােখে ব্যথা, আমি কি তার চােখে সুরমা লাগিয়ে দেব? আর তার কন্যার স্বামীর মৃত্যুর পর সে ইদ্দত পালন করছিল। তিনি বললেনঃ চার মাস দশদিন পূর্ণ হওয়ার পর লাগাবে। ঐ মহিলা আবার বললোঃ এতে আমি তার চোখ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশংকা করছি। তিনি বললেনঃ চার মোস দশদিন পূর্ণ হওয়ার পূর্বে বৈধ হবে না। তিনি বললেনঃ জাহিলী যুগে প্রত্যেক নারী স্বামীর মৃত্যুর পর এক বছর পর্যন্ত শোক করতো। এক বছর পর তারা গোবর নিক্ষেপ করতো।
3539মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... যায়নব বিনত আবু সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি তাঁর মাতা উম্মে সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, এক মহিলা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে নিজের কন্যার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলো, যার স্বামী মারা গিয়েছিল, এবং সে চোখের অসুখে আক্রান্ত ছিল। তিনি বললেনঃ তোমরা প্রত্যেক নারী জাহিলী যুগে এক বছর শোক পালন করতে, এবং সাল পূর্ণ হলে গোবর ছিটাতো। এখন তো মাত্র চার মাস দশ দিন।
3540মুহাম্মদ ইবন মা'দান ইবন ঈসা (রহঃ) ... উম্মে সালাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ কুরাইশ-এর এক রমণী রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললো যে, আমার কন্যার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে, আমার আশংকা হয় তার চোখ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। উম্মে সালামা (রাঃ) বলেন, তার ইচ্ছা ছিল, তিনি তাকে সুরমা লাগাবার অনুমতি দেবেন। কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমাদের পূর্বে অর্থাৎ জাহিলী যুগে প্রত্যেক নারী বছর পূর্ণ হলে গোবর ছিটাতো। আর এখন তো মাত্র চার মাস দশদিন। হুমায়দ ইবন নাফি' (রহঃ) বলেন, আমি যায়নব (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলামঃ এক বছর পূর্তির ঘটনা কি? যায়নব উত্তর করলেনঃ জাহিলী যুগে যখন কোন নারীর স্বামীর মৃত্যু হতো, তখন সে রমণী তাদের অতি নিকৃষ্ট ঘরে আশ্রয় নিত। যখন এক বছর পূর্ণ হতো, তখন সে নিজের পিঠের পেছনে গোবর ছিটিয়ে সেখান থেকে বের হয়ে আসত।
3541ইয়াহইয়া ইবন হাবীব ইবন আরাবী (রহঃ) ... যয়নব (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, জনৈক মহিলা উম্মে সালামা এবং উম্মে হাবীবা (রাঃ)-এর নিকট স্বামীর মৃত্যু হলে নারীর ইদ্দতের কথা জিজ্ঞাসা করলো, তার সুরমা লাগান বৈধ হবে কি না। তারা বললেনঃ এক নারী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে তাঁকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেনঃ তোমাদের পূর্বেই মহিলারা জাহিলী যুগে যখন তার স্বামী মারা যেত, তখন সে এক বছর ইদ্দত পালন করতো, এরপর তার পিঠের পেছনে গোবর ছিটিয়ে বের হতো। আর এখন তো চার মাস দশ দিন পরই তার ইদ্দত শেষ হয়ে যায়।
3542আব্বাস ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) ... উম্মে আতিয়্যা (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত যে, যে নারীর স্বামী মারা গেছে ঐ নারীকে কুস্ত এবং আযফার লাগানোর অনুমতি দান করেন, তার পবিত্র অবস্থায়।
3543যাকারিয়া ইবন ইয়াহইয়া (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (وَالَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنْكُمْ) অর্থাৎ 'তোমাদের মধ্যে সপত্নীক অবস্থায় যাদের মৃত্যু আসন্ন, তারা যেন তাদের স্ত্রীদেরকে ঘর থেকে বের না করে তাদের এক বছরের ভরণপোষণের ওসীয়ত করে'-এই আয়াতটি মীরাছের আয়াত দ্বারা রহিত হয়ে গেছে। যে আয়াতে আল্লাহ্ তা'আলা স্ত্রীদের জন্য মীরাসের এক চতুর্থাংশ বা এক অষ্টমাংশ অংশ নির্ধারিত করেছেন। আর এক বছর ইদ্দতের আদেশ চার মাস দশ দিনের ইদ্দতের আদেশ দ্বারা রহিত হয়ে গেছে।
3544কুতায়বা (রহঃ) ... ইকরামা (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, (وَالَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنْكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَاجًا وَصِيَّةً لِأَزْوَاجِهِمْ مَتَاعًا إِلَى الْحَوْلِ غَيْرَ إِخْرَاجٍ) আয়াতটি (وَالَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنْكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَاجًا يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا) আয়াত দ্বারা রহিত হয়ে গেছে।
3545আব্দুল হামিদ ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) ... আবদুর রহমান ইবন আসিম (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, ফাতিমা বিনত কায়স (রাঃ) তাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি মাখযুম গোত্রের এক ব্যক্তির স্ত্রী ছিলেন, যিনি তাকে তিন তালাক দেন এবং কোন যুদ্ধে গমন করেন। আর তিনি নিজের উকীলের নিকট বলে যানঃ তুমি তাকে কিছু খরচ দিয়ে দিও। সেই উকীল তাকে কিছু দিল। কিন্তু ফাতিমা (রাঃ) তা কম মনে করে ফিরিয়ে দিলেন এবং তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কোন সহধর্মিণীর নিকট গমন করেন। এমন সময় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে প্রবেশ করেন, তখন ঐ মহিলা ঐ ঘরে ছিলেন। তিনি বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি ফাতিমা বিনত কায়স! আমাকে অমুক ব্যক্তি তালাক দিয়েছে। আর অমুকের মারফত আমার খরচ পাঠিয়েছে। আমি একে সামান্য মনে করে তা ফিরিয়ে দিয়েছি। সে বলে, এতটুকু দেয়াও আমার ইহসান। তিনি বললেনঃ সে ব্যক্তি ঠিকই বলেছে। এখন তুমি উম্মে কুলসুমের কাছে গিয়ে তোমার ইদ্দত পূর্ণ করা। এরপর তিনি আবার বললেন, উম্মে কুলসুমের ঘরে লোকের যাতায়াত অধিক হয়। অতএব তুমি এখন আবদুল্লাহ ইবন উম্মে মাকতুমের কাছে গিয়ে থাক। কেননা, ঐ ব্যক্তি অন্ধ। ফাতিমা (রাঃ) বলেন, আমি আবদুল্লাহ (রাঃ)-এর নিকট চলে গেলাম এবং সেখানে আমার ইদ্দত পূর্ণ করলাম। আমার ইদ্দতের সময় পূর্ণ হলে আবু জাহম এবং মুআবিয়া ইবন আবু সুফিয়ান বিয়ের প্রস্তাব পাঠালে আমি পুনরায় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে উক্ত দুই ব্যক্তি সম্বন্ধে পরামর্শ নিলাম। তিনি বললেনঃ আমি তো তোমার জন্য জাহামের লাঠির ভয় করি, আর মুআবিয়া তো গরীব লোক। ফাতিমা (রাঃ) বলেন, এ কথা শুনে আমি উসামা ইবন যায়ীদ (রাঃ)-কে বিবাহ করলাম।
3546মুহাম্মদ ইবন রাফে' (রহঃ) ... ফাতিমা বিনত কায়স (রাঃ) বলেন, তিনি আবু আমর ইবন হাফস (রাঃ) এর বিবাহাধীনে ছিলেন। তিনি ফাতিমাকে তিন তালাক দেন। ফাতিমা (রাঃ) বলেন, এরপর আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে নিজের ঘর হতে বের হওয়ার অনুমতি চাইলাম। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে নিজের ঘর থেকে ইবন উম্মে মাকতুমের ঘরে যাওয়ার অনুমতি দিলেন। রাবী বলেনঃ মারওয়ান ইবন হাকাম এই মাসআলা অস্বীকার করেন এবং ফাতিমাকে তিনি এই বর্ণনায় সত্যবাদী মনে করেন না। আর উরওয়া (রহঃ) বলেন, আয়েশা (রাঃ)-ও ফাতিমা (রাঃ)-এর কথা অস্বীকার করেন।
3547মুহাম্মদ ইবন মুছান্না (রহঃ) ... ফাতিমা বিনত কায়স (রাঃ) বলেন, আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার স্বামী আমাকে তিন তালাক দিয়েছে; এখন আমার ভয় হয়, আমার নিকট কোন চোর আসতে পারে। তখন তিনি তাকে সেখান থেকে অন্যত্র যাওয়ার অনুমতি দিলেন।
3548ইয়াকুব ইবন হামান (রহঃ) ... শা'বী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ ফাতিমা বিনত কায়স আমার নিকট আসলে আমি তাঁর নিকট তার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ফয়সালার কথা জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, তাঁর স্বামী তাকে তিন তালাক দেন। আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট তার উকীলের সাথে তর্ক করলাম এবং আমি ঘর এবং খরচাদির জন্য কথাবার্তা বললাম। ফাতিমা (রাঃ) বলেনঃ তিনি আমার জন্য ঘর, খরচাদি দেওয়ার কথা বললেন না। আর তিনি আমাকে ইবন উম্মে মাকতুমের ঘরে ইদ্দত পূর্ণ করার আদেশ দেন।
3549আবু বকর ইবন ইসহাক সাগানী (রহঃ) ... শা'বী (রহঃ) সূত্রে ফাতিমা বিনূত কায়স (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে আমার স্বামী তালাক দিল, আমি তার ঘর থেকে চলে যাওয়ার ইচ্ছায় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হলাম। তিনি বললেন, তুমি তোমার চাচাত ভাই আমর ইবন উম্মে মাকতুমের ঘরে গিয়ে সেখানে তোমার ইদ্দত পূর্ণ করা। একথা শুনে আসওয়াদ তাঁকে পাথর দ্বারা আঘাত করে বললেনঃ আপনার ধ্বংস হোক। আপনি এরূপ কথা কোন বর্ণনা করছেন? উমর (রাঃ) বললেন, যদি তুমি দুইজন সাক্ষী আনো, যারা এই সাক্ষ্য দিবে যে, আমরা ইহা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে শুনেছি; তাহলে আমি তোমার কথা গ্রহণ করবো। তা-না হলে আমরা একজন মহিলার কথায় আল্লাহর কিতাব ছাড়তে পারি না, আল্লাহর কিতাবে নির্দেশ আছেঃ "ঐ সকল মহিলাদেরকে তাদের ঘর হতে বের করো না, আর তারাও যেন বের না হয়; যদি না তারা প্ৰকাশ্য অশ্লীলতার কাজে লিপ্ত হয়।
3550আব্দুল হামিদ ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাঁর খালাকে তালাক দেওয়ার পর তিনি তার খেজুর বাগানে যেতে চাইলেন। পথে এক ব্যক্তির সাথে তার সাক্ষাৎ হলে সে তাকে সেখানে যেতে নিষেধ করলো। তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গেলে, তিনি বললেনঃ তুমি গিয়ে তোমার খেজুর নিয়ে এসো। হয়তো তুমি সাদকা করবে এবং মানুষের উপকারের জন্য দিয়ে দেবে।
3551আহমদ ইবন আবদুল্লাহ্ ইবন হাকাম (রহঃ) ... আবু বকর ইবন হাফস (রহঃ) বলেনঃ আমি এবং আবু সালামা ফাতিমা বিনত কায়সের নিকট গেলাম। ফাতিমা বললেন, আমার স্বামী আমাকে তালাক দেয়, কিন্তু আমার জন্য থাকার ঘর ও খোরপোষের ব্যবস্থা করেনি। তিনি বলেন, সে তার চাচাতো ভাইয়ের নিকট আমার জন্য দশ কাফীয রাখল। এর পাঁচ কাফীয ছিল যব, আর পাঁচ কাফীয ছিল খেজুর। এরপর আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে তা উল্লেখ করলাম। তিনি বললেনঃ সে যা বলেছে সত্যই বলেছে। তিনি আমাকে আদেশ করলেন, আমি যেন অমুকের ঘরে আমার ইদ্দত পূৰ্ণ করি। তার স্বামী তাকে বায়িন তালাক দিয়েছিল।
3552আমর ইবন উসমান ইবন সাঈদ (রহঃ) ... উবায়দুল্লাহ ইবন আবদুল্লাহ ইবন উতবা (রাঃ) বলেন, আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন উসমান সাঈদ ইবন যায়দ এর কন্যাকে তালাক দিল, সেই কন্যার মাতার নাম ছিল হামনা বিনত কায়স। তিনি তাকে এমন তালাক দিলেন, যা দ্বারা সম্পর্ক একেবারে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, অর্থাৎ তিন তালাক। সেই মহিলার খালা ফাতিমা বিনত কায়স (রাঃ) তাকে বললেনঃ তুমি আবদুল্লাহ ইবন আমার-এর ঘরে চলে যাও। মারওয়ান একথা শুনে আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন উসমানের স্ত্রীকে নির্দেশ দিলেনঃ তোমার ইদ্দত পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তুমি নিজের গৃহে অবস্থান কর। আবদুল্লাহ ইবন আমর-এর স্ত্রী মারওয়ানের কাছে লোক পাঠিয়ে জানালেন যে, আমাকে আমার খালা ফাতিমা ঘর হতে চলে যাওয়ার আদেশ করেছেন। আর তিনি বলেছেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে ঐ সময় ঘর হতে বের হয়ে যাওয়ার আদেশ করেন, যখন তাকে তার স্বামী আবু আমর ইবন হাফস তালাক দিয়েছিলেন। মারওয়ান যখন এ ঘটনা জানতে পারলো, তখন তিনি কাবীসা ইবন যুবায়রকে ফাতিমা (রাঃ)-এর নিকট পাঠালেন। এ ব্যাপারে ফাতিমাকে কাবীসা (রাঃ) জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেনঃ আমার স্বামী আবু আমার আলী (রাঃ)-এর সাথে চলে যান, যখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ইয়ামনের শাসক নিযুক্ত করেন। সেখানে পিয়ে আমার স্বামী এক তালাক দিয়ে পাঠান, আর তা ছিল ঐ তালাক, যা অবশিষ্ট ছিল। তখন হারিস ইবন হিশাম, এবং আইয়াশ ইবন আবু রবীআকে বলে পাঠান আমাকে খোরপোেষ দেয়ার জন্য। আমি আমার খরচ চাওয়ার জন্য তাদের নিকট লোক পাঠালাম, যা আমার স্বামী আমাকে দিতে বলেছিল। তারা উভয়ে বললেনঃ আল্লাহর শপথ! আমাদের নিকট তার জন্য কোন খোরপোেষ নেই। তবে যদি সে গৰ্ভবতী হতো, তা হলে তার জন্য খোরপোষ ছিল। আর আমরা যতক্ষণ না বলি, সে যেন আমাদের ঘরে না থাকে। ফাতিমা (রাঃ) বলেনঃ তখন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হলাম এবং তাঁকে এ ঘটনা জানালাম। তিনি তাদের উভয়কে সত্যবাদী মনে করলেন। আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি এখন কোথায় যাব? তিনি বললেনঃ ইবন উম্মে মাকতুমের নিকট চলে যাও, ইবন উম্মে মাকতুম অন্ধ লোক, যার জন্য আল্লাহ তা'আলা তার কিতাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সতর্ক করে দিয়েছিলেন। আমি তাঁর নিকট চলে গেলাম। আমি তাঁর নিকট গায়ের কাপড় ফেলে দিতাম। এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উসামা ইবন যায়ীদ (রাঃ)-এর সাথে আমার বিবাহ দেন।
3553আমর ইবন মানসূর (রহঃ) ... ফাতিমা বিনত আবু হুবায়শ (রাঃ) বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গিয়ে রক্ত নির্গমনের কথা ব্যক্ত করলেন। তিনি তাকে বললেনঃ এই রক্ত কোন শিরা হতে প্রবাহিত হয় অর্থাৎ জরায়ু হতে আসে না। যখন তোমার হায়ায় আরম্ভ হয়, তখন তুমি এর প্রতি লক্ষ্য রাখ। তখন নামায় পড়বে না। হায়যের সময় চলে গেলে তুমি পাক হয়ে যাবে। তিনি বললেনঃ উভয় হয়েযের মধ্যবর্তী সময় নামায পড়বে।
3554যাকারিয়া ইবন ইয়াহইয়া (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে (مَا نَنْسَخْ مِنْ آيَةٍ أَوْ نُنْسِهَا نَأْتِ بِخَيْرٍ مِنْهَا أَوْ مِثْلِهَا) এ আয়াতের তাফসীরে বর্ণিত যে, "আমি কোন আয়াত রহিত করলে অথবা ভুলিয়ে দিলে, তা হতে উত্তম বা তার সমতুল্য কোন আয়াত আনি। ইবন আব্বাস (রাঃ) এরপর অন্য একটি আয়াত বর্ণনা করেন, (وَإِذَا بَدَّلْنَا آيَةً مَكَانَ آيَةٍ وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا يُنَزِّلُ) যখন আমি এক আয়াতের বদলে অন্য আয়াত উপস্থিত করি, আল্লাহ যা নাযিল করেন, তা তিনি-ই ভাল জানেন, তখন তারা বলে, তুমি তো কেবল মিথ্যা উদ্ভাবনকারী। আল্লাহর বাণীঃ 'আল্লাহর যা ইচ্ছা তা নিশ্চিহ্ন ফরেন এবং যা ইচ্ছা তা প্রতিষ্ঠিত রাখেন, আর তারই নিকট আছে কিতাবের মূল।' এরপর ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ সর্বপ্রথম কুরআনে যা রহিত হয়েছিল, তা ছিল কেবলা। ইবন আব্বাস (রাঃ) আরো বলেনঃ আল্লাহ্র বাণীঃ (وَالْمُطَلَّقَاتُ يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ ثَلَاثَةَ قُرُوءٍ وَلَا يَحِلُّ لَهُنَّ أَنْ يَكْتُمْنَ) 'মহিলারা তিন হায়েয পর্যন্ত অপেক্ষা করবে, আর তাদের জন্য বৈধ হবে না, আল্লাহ্ তা'আলা তাদের গর্ভে যা সৃষ্টি করেছেন তা গোপন রাখা।' যদি তারা আল্লাহ্ এবং কিয়ামতের দিনের উপর ঈমান রাখে। আর তাদের স্বামীগণ এই অবস্থায় তাদের ফিরিয়ে রাখার অধিক হকদার। যদি তারা অপেক্ষা করার ইচ্ছা রাখে।' তিনি এই আয়াত বৰ্ণনা করতে গিয়ে বলেন, এই অবস্থা এইরূপ ছিল, যখন কোন লোক স্বীয় স্ত্রীকে তালাক দিত, তবে সে-ই তার রাজআত করার অধিকারী ছিল, যদিও সে তাকে তিন তালাক দিত। আল্লাহ্ তা'আলা তা রহিত করে বলেনঃ তালাক দু'বার। এরপর স্ত্রীকে হয় বিধিমত রেখে দেবে, অথবা সদয়ভাবে মুক্ত করে দেবে।
3555মুহাম্মদ ইবন মুছান্না (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আমার স্ত্রীকে তার হয়েয অবস্থায় তালাক দেই। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উমর (রাঃ) এসে এই ঘটনা জানালে তিনি বললেনঃ সে যেন তাকে ফিরিয়ে নেয়। তারপর যখন সে পাক হবে, তখন ইচ্ছা হলে তাকে রাখবে, অথবা তালাক দেবে। ইবন উমরের শাগরেদ তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, এই প্রথম তালাকও কি হিসাব করা হবে? তিনি বললেনঃ হিসাবে অসুবিধা কি? তুমি চিন্তা করে দেখ, যদি কোন ব্যক্তি অপরাগ হয়- কিংবা অজ্ঞতার কারণে তালাক দিয়ে বসে- তা তো হিসাবে ধরা হবে।
3556বিশার ইবন খালিদ (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি তাঁর স্ত্রীকে তার হায়েয অবস্থায় তালাক দিয়ে দিলেন। উমর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এই ঘটনা বর্ণনা করলে তিনি বললেনঃ তাকে বলে দাও, অন্য হয়েয না আসা পর্যন্ত সে যেন তাকে ফিরিয়ে নেয়। এরপর যখন সে পাক হবে তখন ইচ্ছা করলে সে তাকে তালাক দেবে, বা রেখে দেবে। কেননা, এই তালাক আল্লাহর আদেশ অনুযায়ী। আল্লাহ্ তা'আলা বলেছেনঃ তাদের তালাক দেবে ইদ্দতের প্রতি লক্ষ্য রেখে।
3557আলী ইবন হুজর (রহঃ) ... নাফে' (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবন উমর (রাঃ)-এর নিকট যখন ঐ ব্যক্তি সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করা হলো, যে তার স্ত্রীকে হায়েয অবস্থায় তালাক দিয়ে দেয়। তিনি বললেনঃ ঐ ব্যক্তির এক অথবা দুই তালাক দেয়ার অবস্থায় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সে ব্যক্তি নিজের স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেবে বরং অন্য হায়েয আসা পর্যন্ত তাকে রাখবে, সে পাক হলে তাকে সহবাসের পূর্বে তালাক দেবে; আর যদি সে তিন তালাক একত্রে দিয়ে থাকে, তবে আল্লাহ্ তা'আলা তাকে যে আদেশ করেছেন, সে তা আমান্য করলো। [তাহক্বীকঃ সহীহ।] ৩৫৬২. ইউসুফ ইবন ঈসা মারওয়ায়ী (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি তাঁর স্ত্রীকে হয়েয অবস্থায় তালাক দেন। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে নির্দেশ দিলে তিনি তাকে ফিরিয়ে নেন। [তাহক্বীকঃ সহীহ।] ৩৫৬৩. আমর ইবন আলী (রহঃ) ... ইবন তাউস (রহঃ) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি শুনেছেন, আবদুল্লাহ ইবন উমরকে ঐ ব্যক্তি সম্বন্ধে প্রশ্ন করা হলো, যে তাঁর স্ত্রীকে হায়েয অবস্থায় তালাক দিয়েছিল। তিনি বললেনঃ তুমি কি আবদুল্লাহ ইবন উমরকে চিন? সে বললোঃ হ্যা। তিনি বললেনঃ তিনি তার স্ত্রীকে হায়েয অবস্থায় তালাক দেন, পরে উমর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে এ সংবাদ দিলে তিনি তাকে ফিরিয়ে নিতে আদেশ করেন, পাক হওয়া পর্যন্ত । রাবী বলেনঃ এর অধিক বর্ণনা করতে আমি তাকে শুনিনি। [তাহক্বীকঃ সহীহ। ইরওয়া ৭/১৩০।] ৩৫৬৪. আবদ ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) সূত্রে উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাফসা (রাঃ)-কে তালাক দেন, পরে তিনি তাঁকে ফিরিয়ে নেন। আল্লাহ্ সম্যক অবগত। [তাহক্বীকঃ সহীহ। ইবন মাজাহ ২০১৬।]
উৎস: Sunan an Nasai
WEBREATH · 11:11
«Should I not be a thankful servant?» — Sahih al-Bukhari
Breath is one for all: everyone lives by it, whoever they are and whatever they believe. Every day at 11:11 local time people stop for sixty seconds, breathe, and thank GOD for the breath — each in their own words, each within themselves. In that minute we are One Breath.
WEBREATH — the Minute at 11:11, your own local time — we are One Breath