সুনানে নাসায়ী 26 · The Book of Marriage
আপনার ভাষায় এখনো কোনো অনুবাদ নেই — ইংরেজি দেখাচ্ছে
3196আবু দাউদ সুলায়মান ইন সায়ফ (রহঃ) ... আতা (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা ইবন আব্বাস (রাঃ)-এর সঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী মায়মুনা (রাঃ)-এর জানাযায় উপস্থিত হলাম ‘সারিফ, নামক স্থানে। ইবন আব্বাস (রাঃ) বললেনঃ ইনি মায়মুনা (রাঃ)। তোমরা যখন তার জানাযা উঠাবে অধিক ঝাঁকুনী দেবে না এবং হেলাবে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নয়জন সহধর্মিণী ছিলেন, তিনি আট জনের জন্য সময় বন্টন করতেন, আর একজনের জন্য বন্টন করতেন না।
3197ইবরাহীম ইবন ইয়াকুব (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইনতিকালের সময় তাঁর নয়জন সহধর্মিণী ছিলেন, যাদের সাথে তিনি সংগত হতেন, সওদা (রাঃ) ব্যতীত। কেননা তিনি তাঁর দিন-রাত (-এর পালা) আয়েশা (রাঃ)-কে দান করেছিলেন।
3198ইসমাঈল ইবন মাসউদ (রহঃ) ... কাতাদা (রহঃ) থেকে বর্ণিত, আনাস (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই রাতে তাঁর সব সহধর্মিণীদের কাছে গমন করতেন। আর তখন তাঁর নয়জন সহধর্মিণী ছিলেন।
3199মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ্ ইবন মুবারক মুখাররামী (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সব মহিলাগণ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য তাঁদের নিজেদেরকে সমর্পণ করতেন। আমি তাঁদের এ কাজকে অসম্মানসূচক মনে করে বলতাম, কোন আযাদ মহিলা কি নিজেদেরকে সমর্পণ করতে পারেঅ্যা তখন আল্লাহ তাআলা নাযিল করলেনঃ تُرْجِي مَنْ تَشَاءُ مِنْهُنَّ وَتُؤْوِي إِلَيْكَ مَنْ تَشَاءُ অর্থঃ আপনি তাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা আপনার নিকট থেকে দূরে রাখতে পারেন এবং যাকে ইচ্ছা আপনার নিকট স্থান দিতে পারেন। (সূরা আল-আহযাবঃ ৫১) তখন আমি বললামঃ আমি দেখছি, আপনার রব আপনার যা ইচ্ছা, তা দ্রুত পূর্ণ করেন।
3200মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ ইয়াযীদ মুকরী (রহঃ) ... সাহল ইবন সা'দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উপস্থিত সাহাবীগণের মধ্যে ছিলাম। এ সময় একজন মহিলা বলে উঠলোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আমাকে আপনার জন্য দান করলাম, এখন এই ব্যাপারে আপনার মতামত ব্যক্ত করুন। এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললোঃ একে আমার বিবাহে দান করুন। তিনি বললেনঃ যাও, একটি লোহার আংটি হলেও তা দ্বারা একে গ্রহণ কর। সে ব্যক্তি গেল কিন্তু কিছুই পেল না, একটি লোহার আংটিও না। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার কি কুরআনের কোন সূরা থেকে কিছু মুখস্থ আছে? সে ব্যক্তি বললোঃ হ্যাঁ। বর্ণনাকারী বলেন, তখন কুরআনের সূরা থেকে যে অংশ তার মুখস্থ ছিল, এর সম্মানার্থে তাঁর কাছে বিবাহ দিলেন।
3201মুহাম্মদ ইবন ইয়াহইয়া ইবন আব্দুল্লাহ ইবন খালিদ নিশাপূরী (রহঃ) ... আবু সালামা ইবন আব্দুর রহমান (রহঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি তার নিকট বর্ণনা করেছেন, আল্লাহ তাআলা যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর সহধর্মিণীগণের ইচ্ছা জানার আদেশ করলেন, আয়েশা (রাঃ) বললেন, তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দিয়েই আরম্ভ করলেন। তিনি বললেনঃ আমি তোমার নিকট একটি কথা বলব, কিন্তু তুমি সে ব্যাপারে তোমার মাতাপিতার পরামর্শ গ্রহণের পূর্বে হঠাৎ সে সম্বন্ধে মতামত প্রকাশ করবে না। কারণ তিনি জানতেন, আমার মাতাপিতা তার কাছ থেকে বিচ্ছেদের অনুমতি আমাকে দেবেন না, তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِأَزْوَاجِكَ إِنْ كُنْتُنَّ تُرِدْنَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا وَزِينَتَهَا فَتَعَالَيْنَ أُمَتِّعْكُنَّ হে নবী! আপনি আপনার সহধর্মিণীদেগকে বলুন, যদি তোমরা পার্থিব জীবন এবং এর সাজসজ্জা কামনা কর; তবে এসো, আমি তোমাদের ভোগ সামগ্রীর ব্যবস্থা করে দেই এবং সৌজন্যের সাথে তোমাদের বিদায় দেই। (সূরা আল-আহযাবঃ ২৮) আ মি বললামঃ এ ব্যাপারে আমি আমার পিতামাতার নিকট পরামর্শ করব? আমি তোমরা আল্লাহ্, আল্লাহর রাসূল এবং আখিরাতের জীবন কামনা করি।
3202বিশর ইবন খালিদ আসকারী (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সহধর্মিণীদেরকে তাঁর নিকট থাকবে কি থাকবে না- সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা দিলেও এতে তাঁরা তালাক হননি।
3203আমর ইবন আলী (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে ইখতিয়ার দিলে আমরা তাঁকেই গ্রহণ করলাম এবং তা তালাক বলে গণ্য হয়নি।
3204মুহাম্মদ ইন মানসূর (রহঃ) ... আতা (রহঃ) বলেন, আয়েশা (রাঃ) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইনতিকাল করেন নি, যে পর্যন্ত না তার জন্য হালাল করা হয়েছে মহিলাদের মধ্যে যাকে তিনি ইচ্ছা করেন তাকে গ্রহণ করার।
3205মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন মুবারক (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইনতিকালের পূর্বে আল্লাহ তাআলা তার জন্য হালাল করে দিয়েছিলেন যাকে ইচ্ছা তিনি মহিলাদের মধ্য থেকে বিবাহ করতে পারবেন।
3206আমর ইবন যুররা (রহঃ) ... আলকামা (রহঃ) বলেন, আমি ইবন মাসউদ (রাঃ) এর সঙ্গে উসমান (রাঃ)-এর নিকট ছিলাম। তখন উসমান (রাঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হলেন- অর্থাৎ কয়েকজন যুবকদের নিকট। আবূ আব্দুর রহমান বলেন, আমি দ্বারা কাদের বুঝানো হয়েছে, তা বুঝতে পারি নি। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি ধনবান হয়, সে যেন বিবাহ করে। কেননা, তা চক্ষু সংযত করে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। আর যে ব্যক্তি ধনবান না হয়, তার রোযা তার কামভাবের নিয়ন্ত্রক।
3207বিশর ইবন খালিদ (রহঃ) ... আলকামা (রহঃ) বলেন, উসমান (রাঃ) ইবন মাসউদ (রাঃ)-কে বললেনঃ তোমার কি কোন স্ত্রীলোকের কথা জানা আছে, আমি তাকে তোমার সাথে বিবাহ দিয়ে দেব। তখন আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রাঃ) আলকামা (রাঃ)-কে ডেকে বললেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি বিবাহের খরচাদির সামর্থ্য রাখে, সে যেন বিবাহ করে। কেননা তা চক্ষু সংযত করে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। আর যার ক্ষমতা নেই সে যেন রোযা রাখে, তা-ই তার জন্য কামক্ষুধার নিয়ন্ত্রক।
3208হারূন ইবন ইসহাক হামদানী আল কূফী (রহঃ) ... আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বলেছেনঃ তোমাদের যে ব্যক্তি বিবাহের খরচাদির সামর্থ রাখে, সে যেন বিবাহ করে; আর যে ব্যক্তি অসমর্থ, সে যেন রোযা রাখে। ইহা তার যৌন শক্তির নিয়ন্ত্রক। আবু আব্দুর রহমান বলেনঃ এ হাদীসের আসওয়াদ বর্ণনাকারী মাহফুজ নয়।
3209মুহাম্মাদ ইন মানসূর (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বলেছেনঃ হে যুবক দল! তোমাদের মধ্যে যে খরচ বহন করতে সামর্থ্য রাখে সে যেন বিবাহ করে। কেননা তা চক্ষু সংযতকারী এবং লজ্জাস্থানের হেফাজতকারী। আর যে অসমর্থ, সে যেন রোযা রাখে; রোযা তার যৌন উত্তেজনা নিয়ন্ত্রক।
3210মুহাম্মদ ইবন আলা (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বলেছেনঃ হে যুবক সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে যে খরচাদি বহন করতে সক্ষম, সে যেন বিবাহ করে। অনুরূপ পূর্ণ হাদীস বর্ণনা করলেন।
3211আহমদ ইবন হারব (রহঃ) ... আলকামা (রহঃ) বলেন, আমি মিনায় আব্দুল্লাহ (রাঃ)-এর সঙ্গে ছিলাম। তাঁর সাথে উসমান (রাঃ)-এর সাক্ষাত হলো, তিনি তার নিকট দাঁড়িয়ে তাকে বলতে লাগলেনঃ হে আবু আব্দুর রহমান! আমি কি তোমাকে একজন যুবতী মেয়ে বিবাহ করাব? হয়তো তার সংস্পর্শে তোমার বিগত যৌবনের কিছুটা ফিরিয়ে দেবে। আব্দুল্লাহ্ (রাঃ) বললেন, তুমি তো একথা বললে, অথচ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেগকে বলেছেনঃ হে যুবক সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি বিবাহের খরচাদির সামর্থ্য রাখে, সে যেন বিবাহ করে।
3212মুহাম্মদ ইবন উবায়দ (রহঃ) ... সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উছমান ইবন মাউনকে চির কুমার অর্থাৎ খাসি হতে নিষেধ করেছেন, তিনি যদি তাকে অনুমতি দিতেন, তাহলে আমরা খাসি হয়ে যেতাম।
3213ইসমাইল ইবন মাসউদ (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চির কৌমার্য হতে নিষেধ করেছেন।
3214ইসহাক ইন ইবরাহীম (রহঃ) ... সামুরা ইবন জুন্দুব (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামহতে বর্ণনা করেন যে, তিনি চির কৌমার্য হতে নিষেধ করেছেন। আবূ আব্দুর রহমান বলেন, কাতাদা (রহঃ) আশআস (রহঃ) হতে সঠিক স্মরণ শক্তির অধিকারী। আর আশআস (রহঃ)-এর হাদীস অত্যধিক বিশুদ্ধ। মহান আল্লাহ সর্বজ্ঞ।
3215ইয়াহইয়া ইবন মূসা (রহঃ) ... আবু সালামা (রহঃ) হতে বর্ণিত, আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেছেন, আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি একজন যুবক ব্যক্তি। আমি ব্যভিচারের ভয় করি, আমার ব্যাপারে। অথচ বিবাহের খরচ বহনের সামর্থ্যও আমার নেই। আমি কি খাসি হয়ে যাব? একথা শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। তিনবার এমন জিজ্ঞাসা করার পর রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে আবূ হুরায়রা! তোমার ভবিষ্যৎ কর্ম সম্বন্ধে লিখিত হয়ে গেছে, এখন তুমি ইচ্ছা হয়, খাসি হতে পার বা তা পরিত্যাগ করতে পার। আবু আব্দুর রহমান (রহঃ) বলেন, আওযায়ী (রহঃ) এ হাদীস যুহরী (রহঃ) হতে শ্রবণ করেননি। এ হাদীসটি সহীহ। এ হাদীসটি ইউনুস (রহঃ) যুহরী (রহঃ) হতে বর্ণনা করেছেন।
3216মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল্লাহ খালানজী (রহঃ) ... সা'দ ইবন হিশাম (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললেনঃ আমি আপনাকে কৌমার্য সম্বন্ধে প্রশ্ন করতে ইচ্ছা করি। এ ব্যাপারে আপনার মতামত কি? তিনি বললেনঃ তা করো না। তুমি কি শ্রবণ করনি যে, আল্লাহ্ তা'আলা বলেছেনঃ وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلًا مِنْ قَبْلِكَ وَجَعَلْنَا لَهُمْ أَزْوَاجًا وَذُرِّيَّةً অর্থঃ আর আমি আপনার পূর্বেও অনেক রাসূল প্রেরণ করেছিলাম এবং তাদেরকে স্ত্রী ও সন্তান-সন্তুতি দিয়ে ছিলাম। (সূরা আর-রা'দঃ ৩৮)।
3217ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) বলেন, সাহাবায়ে কিরাম এর একদলের কেউ কেউ বললোঃ আমি স্ত্রী গ্রহণ করবো না, কেউ বললেনঃ আমি আহার করবো না। আর কেউ বললোঃ আমি বিছানায় শয়ন করবো না। আবার কেউ বললো এমন রোযা রাখব, আর কখনও রোযা ভঙ্গ করবো না। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা শ্রবণ করে আল্লাহর প্রশংসা করে বললেনঃ এ সকল দলের কি হলো-যারা এমন এমন কথা বলে! কিন্তু আমি (রাত্রির) কিছু অংশে নামায পড়ি, আবার নিদ্রা যাই; রোযা রাখি আবার রোযা ভঙ্গ করি এবং স্ত্রী গ্রহণ করি, যে আমার সুন্নত হতে মুখ ফিরিয়ে নেবে, সে আমার দলভুক্ত নয়।
3218কুতায়বা (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিন প্রকারের লোক যাদের প্রতি আল্লাহর হক রয়েছে, আল্লাহ অবশ্য তাদের সাহায্য করবেন; যে মুকাতাব দাস কিতাবাতের অর্থ আদায় করার ইচ্ছা পোষণ করে, যে বিবাহিত ব্যক্তি ব্যভিচার হতে রক্ষা পেতে চায় এবং আল্লাহর রাস্তার মুজাহিদ।
3219কুতায়বা (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) বলেন, বিবাহ করার পর আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে আগমন করলে তিনি বললেনঃ হে জাবির! তুমি কি বিবাহ করেছ? আমি বললামঃ জি হ্যাঁ। তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ কুমারী, না বিবাহিতা? আমি বললামঃ বিবাহিতা। তিনি বললেনঃ কুমারী কেন বিবাহ করলে না, যে তোমার সাথে ক্রীড়া-কৌতুক করতো, আর তুমি তার সাথে ক্রীড়া-কৌতুক করতে।
3220হাসান ইন্ধন কাযা'আ (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সংগে আমার দেখা হলে তিনি বললেনঃ হে জাবির! আমার অজ্ঞাতে তুমি কি স্ত্রী গ্ৰহণ করেছ? আমি বললামঃ হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি বললেনঃ কুমারী না বিবাহিতা? আমি বললামঃ বিবাহিতা। তিনি বললেনঃ কেন কুমারী বিবাহ করলে না, তাহলে সে তোমার সাথে ক্ৰীড়া-কৌতুক করতো
3221হুসায়ন ইবন হুরায়াছ (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবন বুরায়দা (রহঃ) তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন, আবু বকর এবং উমর (রাঃ) ফাতিমা (রাঃ)-এর বিবাহের পয়গাম পাঠালে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সে তো অল্প বয়স্ক। এরপর আলী (রঃ) প্রস্তাব করলে তিনি তাঁর সাথে বিবাহ দিলেন।
3222কাছীর ইবন উবায়দ (রহঃ) ... উবায়দুল্লাহ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন উতবা (রহঃ) বর্ণনা করেন, আব্দুল্লাহ ইবন আমর ইবন উসমান, মারওয়ানের খেলাফতকালে বিনতে সাঈদ ইবন যায়দকে তিন তালাক দিলেন, অথচ তিনি ছিলেন তখন একজন পূর্ণ যুবক। আর বিনতে সাঈদ-এর মাতা ছিলেন বিনতে কায়স। তার খালা ফাতিমা বিনতে কায়স তার নিকট সংবাদ পাঠালো, সে যেন আব্দুল্লাহ্ ইবন আমরের ঘর হতে পৃথক হয়ে যায়। মারওয়ান এ খবর শুনে বিনতে সাঈদ-এর নিকট লোক পাঠিয়ে আদেশ করলো, সে যেন তার ঘরে প্রত্যাবর্তন করে, এবং তাকে প্রশ্ন করলো, সে ইতিপূর্বে তার ঘরে থাকা অবস্থায় তাকে কিসে তার ঘর হতে বের করলো। ঘরে থেকে ইদ্দত কেন পূর্ণ করলো না? সে খলিফার নিকট সংবাদ পাঠালো, তার খালা তাকে এ আদেশ করেছেন। ফাতিমা বিনতে কায়স মনে করলেন, সে আবু আমর ইবন হাফসের বিবাহে রয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আলী ইবন আবী তালিব (রাঃ)-কে ইয়ামনে গর্ভনর করে পাঠালেন, তখন তিনি তাঁর সাথে গিয়েছিলেন, সেখান হতে তিনি তাঁর নিকট এক তালাক পাঠালেন, যা ছিল তাঁর অবশিষ্ট তালাক এবং হারিছ ইবন হিশাম এবং আইয়াশ ইবন আবী রবীআকে তার খোরপোষ দিয়ে দিতে আদেশ করলেন। ফাতিমা হারিছ এবং আইয়াশ-এর নিকট লোক পাঠিয়ে তার স্বামী তাদেরকে যে খোরপোষ দিতে বলেছিলেন, তা চেয়ে পাঠালেন। তাঁরা উভয়ে বললেনঃ আল্লাহর শপথ আমাদের নিকট তার কোন খোরপোষ নেই; তবে যদি সে গর্ভবতী হয়। আর তার আমাদের ঘরে থাকার কোন অধিকার নেই, আমাদের অনুমতি ব্যতীত। এরপর তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে গমন করে তা বর্ণনা করলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হারিছ এবং আইয়াশ এর কথাই বিশ্বাস করলেন। তখন ফাতিমা (রাঃ) বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি কোথায় যাব? তিনি বললেনঃ তুমি ইবন উম্মে মাকতুম, যাকে আল্লাহ্ তা'আলা স্বীয় কিতাবে 'অন্ধ' বলেছেন, তাঁর নিকট থাক। ফাতিমা (রাঃ) বলেনঃ আমি তার নিকটই ইদ্দত পূৰ্ণ করলাম। তিনি ছিলেন দৃষ্টি শক্তিহীন ব্যক্তি। আমি তাঁর ঘরে আমার কাপড় খুলে রাখতাম। পরে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে উসামা ইবন যায়ীদ-এর নিকট বিবাহ দিলেন, মারওয়ান ইহা অবিশ্বাস করলেন। তিনি বললেন, তোমার পূর্বে এ হাদীস আমি কারও নিকট শ্রবণ করিনি। এ ব্যাপারে লোককে যা করতে দেখেছি, আমি সে ফয়সালা করবো। (সংক্ষিপ্ত)
3223ইমরান ইবন বাক্কার ইবন রাশিদ (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) বলেন, আবু হুযায়ফা ইবন উতবা ইবন রবীআ ইবন আবদ শামস ছিলেন ঐ সকল লোকের মধ্যে যারা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সংগে বদর যুদ্ধে শরীক ছিলেন। তিনি সালিম নামে এক ব্যক্তিকে পুত্র বানিয়ে নিয়েছিলেন এবং তার সাথে তার ভ্রাতৃকন্যা হিন্দা বিনতে ওয়ালীল ইবন উতবা ইবন রবীআ ইবন আবদ শামস-এর বিবাহ দেন। আর সে ছিল এক আনসারী মহিলার ক্রীতদাস। যেমন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যায়দ-কে ছেলে হিসাবে গ্ৰহণ করেছিলেন। জাহিলী যুগে নিয়ম ছিল, যদি কেউ কাউকেও পোষ্যপুত্র হিসেবে গ্রহণ করতো, লোক তাকে তার ছেলে বলেই ডাকতো এবং এ ছেলে ঐ লোকের ওয়ারিস হতো। এ ব্যাপারে আল্লাহ তা’আলা এ আয়াত নাযিল করেনঃ ادْعُوهُمْ لِآبَائِهِمْ هُوَ أَقْسَطُ عِنْدَ اللَّهِ فَإِنْ لَمْ تَعْلَمُوا آبَاءَهُمْ فَإِخْوَانُكُمْ فِي الدِّينِ وَمَوَالِيكُمْ অর্থঃ তোমরা তাদের ডাক তাদের পিতৃ-পরিচয়ে, ইহা আল্লাহর দৃষ্টিতে অধিক ন্যায়সঙ্গত; যদি তোমরা তাদের পিতৃ-পরিচয় না জান, তবে তারা তোমাদের ধর্মীয় ভাই এবং বন্ধু। (সূরা আহযাবঃ ৫)। এরপর যার পিতৃ পরিচয় না থাকতো, সে বন্ধু বা ধৰ্মীয় ভাই হিসেবে পরিগণিত হতো। (সংক্ষিপ্ত)
3224মুহাম্মদ ইবন নাসর (রহঃ) ... রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) এবং উম্মে সালমা (রাঃ) হতে বর্ণিত, আবু হুযায়ফা ইবন উতবা ইবন রবীআ ইবন আবদ শামস ছিলেন। ঐ সকল লোকদের একজন, যাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে বদর যুদ্ধে শরীক ছিলেন, তিনি সালিম নামক এক ব্যক্তিকে পুত্ৰ বানিয়ে নেন। আর সালিম ছিলেন এক আনসারী মহিলার ক্রীতদাস। যেমন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যায়দ ইবন হারিছাকে পোষ্যপুত্র হিসাবে গ্রহণ করে ছিলেন। আবু হুযায়ফা ইবন উতবা তার ভাতিজি হিন্দা বিনত ওয়ালীদ ইবন উতবা ইবন রবীআ-কে তার সাথে বিবাহ দিলেন। হিন্দা বিনত ওয়ালীদ ইবন উতবা ছিলেন প্রথম হিজরতকারিণীদের মধ্যে উত্তম। এরপর আল্লাহ্ তাআলা যখন যায়দ ইবন হারিছা সম্বন্ধে আয়াত নাযিল করলেনঃ ادْعُوهُمْ لِآبَائِهِمْ هُوَ أَقْسَطُ عِنْدَ اللَّهِ তখন প্রত্যেকেই স্বীয় পোষ্যপুত্ৰকে তার পিতার দিকে প্রত্যাবর্তিত করলো। যদি তাঁর পিতার নাম জানা না থাকতো, তা হলে তাকে ধর্মীয় ভাই হিসেবে গণ্য করা হতো।
3225ইবন বুরায়দা (রহঃ) ... তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দুনিয়াদারদের বংশ মর্যাদা গণনা করা হয় সম্পদ দিয়ে।
3226ইসমাঈল ইবন মাসউদ (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময় এক মহিলাকে বিবাহ করলেন। তাঁর সাথে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামএর সাক্ষাৎ হলে তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ হে জাবির, তুমি কি বিবাহ করেছো? তিনি বলেন, আমি বললামঃ জ্বি, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ কুমারী, না বিবাহিতা? আমি বললামঃ বরং বিবাহিতা। তিনি বললেনঃ কেন একজন কুমারীকে বিবাহ করলে না, যে তোমার সাথে মন মাতানো ব্যবহার করতো? তিনি বলেন, আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার কয়েকজন বোন রয়েছে, আমর ভয় হলো, সে আমার এবং তাদের মধ্যে ঝগড়া সৃষ্টি করবে। তিনি বললেনঃ তা হলে তাই ভাল। মহিলাদেরকে তাদের ধর্ম, সম্পদ, এবং সৌন্দর্যের উপর বিবাহ করা হয়ে থাকে। অতএব তুমি ধাৰ্মিক মেয়ে বিবাহ করবে। আল্লাহ ভাল করুন।
3227আব্দুর রহমান ইবন খালিদ (রহঃ) ... মা'কাল ইবন ইয়াসার (রাঃ) বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে আরয করলোঃ আমি এমন এক মহিলার সন্ধান পেয়েছি, যে বংশ গৌরবের অধিকারিণী ও মর্যাদাবান, কিন্তু সে বন্ধ্যা, আমি কি তাকে বিবাহ করবো? তিনি তাকে নিষেধ করলেন। দ্বিতীয় দিন তাঁর নিকট আসলে তিনি নিষেধ করলেন। এরপর তৃতীয় দিন তাঁর খেদমতে আসলে তিনি তাকে নিষেধ করলেন এবং বললেনঃ তোমরা অধিক সন্তান প্রসবা নারীকে বিবাহ করবে, যে তোমাদেরকে ভালবাসবে। কেননা, আমি তোমাদের দ্বারা সংখ্যাধিক্য লাভ করবো।
3228ইবরাহীম ইবন মুহাম্মদ তায়মী (রহঃ) ... আমর ইবন শুআয়ব তাঁর পিতার সূত্রে তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেন, মরছাদ ইবন আবু মরছাদ গানবী (রহঃ) নামক এক ব্যক্তি ছিল খুব শক্তিশালী। সে মক্কা হতে মদীনায় কয়েদী বহন করতো। তিনি বলেন, আমি এক ব্যক্তিকে বহন করার জন্য ডাকলাম। মক্কায় এক দুশ্চরিত্রা স্ত্রীলোক ছিল— যার নাম ছিল আনাক। এ মহিলা ঐ ব্যক্তির প্ৰেমিকা ছিল। সে বের হয়ে দেওয়ালের ছায়ায় আমার কায়া দেখে বললোঃ এ ব্যক্তি কে? মরছাদ নাকি? তোমাকে মোবারকবাদ! হে মরছাদ! চল আজ রাত আমাদের নিকট অতিবাহিত কর, আমাদের মনযিলে। আমি বললামঃ হে আনাক! রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যভিচার হারাম করেছেন। সে বলে উঠলোঃ হে তাঁবুবাসীগণ! এ দুলদুল যে তোমাদের কয়েদীকে বহন করে মক্কা হতে মদীনায় নিয়ে যায়। এরপর আমি 'খানদামা' নামক পাহাড়ে আশ্রয় নিলাম। আমাকে আটজন লোক তালাশ করতে এসে তারা আমার মাথার উপর দাঁড়িয়ে পেশাব করে দিল। তাদের পেশাব আমার গায়ে পড়লো। কিন্তু আল্লাহ্ তাআলা তাদেরকে আমাকে দেখা হতে অন্ধ করে দিলেন। আমি আমার সাথীর নিকট এসে তাকে বহন করে যখন “আরাক’ নামক স্থানে পৌঁছালাম, তখন তার বেড়ী হতে রেহাই পেলাম। এরপর আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে পৌঁছে আরয করলামঃ আমি কি আনাক-কে বিবাহ করবো? তিনি নিশ্চুপ থাকলেন। তখন নাযিল হলোঃ الزَّانِيَةُ لَا يَنْكِحُهَا إِلَّا زَانٍ أَوْ مُشْرِكٌ অর্থঃ আর ব্যভিচারিণী তাকে ব্যভিচার অথবা মুশরিক ব্যতীত কেউ বিবাহ করে না। (সূরা আন-নূরঃ ৩) তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ডেকে একথা শুনিয়ে বললেনঃ তুমি তাকে বিবাহ করো না।
3229মুহাম্মদ ইবন ইসমাঈল ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আবদুল করীম তা ইবন আব্বাস (রাঃ) পর্যন্ত মারফুরূপে বর্ণনা করেছেন, আর হারূন তা মারফুরূপে বর্ণনা করেন নি। তারা বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এক ব্যক্তি এসে বললোঃ আমার এক স্ত্রী রয়েছে যে আমার নিকট সর্বাধিক প্রিয়, কিন্তু কোন স্পর্শকারীর হাত ফেরায় না। তিনি বললেনঃ তাকে তালাক দাও। সে বললোঃ আমি তার বিরহ বেদনা সহ্য করতে পারব না। তিনি বললেনঃ তা তাকে রেখে দাও। আবু আবদুর রহমান (রহঃ) বলেন, এ হাদীস ঠিক নয়। আবদুল করীম মযবুত রাবী নয়। আর হারূন ইবন রিয়াব তা হতে বিশ্বাসযোগ্য এবং তার হাদীস বিশুদ্ধতার নিকটবর্তী আবদুল করীমের হাদীস হতে।
3230উবায়দুল্লাহ ইবন সাঈদ (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মহিলাদেরকে চারটি কারণে বিবাহ করা হয়, তার মাল সম্পদ, বংশ গৌরব, সৌন্দর্য এবং ধর্ম দেখে। তুমি ধাৰ্মিক নারীকে বিবাহ করে উপকৃত হও।
3231কুতায়বা (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রশ্ন করা হলো, কোন মহিলা উত্তম? তিনি বললেনঃ যে মহিলার প্রতি দৃষ্টিপাত স্বামীকে সন্তুষ্ট করে। সে আদেশ করলে তা সম্পন্ন করে, এবং তার বাড়ীর ও তার মালের ব্যাপারে যা অপছন্দ করে, সে তার বিরোধিতা করে।
3232মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন ইয়াযীদ (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন আস (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ সমগ্ৰ পৃথিবী মানুষের ভোগ্য-বস্তু, আর পৃথিবীন্থ ভোগ্য বস্তুসমূহের মধ্যে সর্বোত্তম হলো পুণ্যবতী স্ত্রী।
3233ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ লোকেরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমরা কি আনসারী মহিলাদের বিবাহ করবো না? তিনি বললেন, তাদের মধ্যে অত্যধিক আত্মমর্যাদাবোধ রয়েছে।
3234আবদুর রহমান ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আবু হুৱায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি এক আনসারী মহিলাকে বিবাহের পয়গাম দিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ তুমি কি তাকে দেখেছো? সে ব্যক্তি বললোঃ না। এরপর তিনি তাকে দেখার আদেশ করলেন।
3235মুহাম্মদ ইবন আবদুল আযীয ইবন আবু রিযমা (রহঃ) ... মুগীরা ইবন শু’বা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময় আমি এক মহিলাকে বিবাহ করার পয়গাম দিলাম। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি তাকে দেখে নাও। কেননা, এতে তোমাদের মধ্যে ভালবাসার সম্পর্ক গভীর হবে।
3236উবায়দুল্লাহ্ ইবন সাঈদ (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বিবাহ করেন শাওয়াল মাসে এবং শাওয়াল মাসেই আমাদের বাসর হয়। আর আয়েশা (রাঃ) শাওয়ালে মহিলাদের বাসর হোক এটা পছন্দ করতেন। তিনি বলতেনঃ তার কোন স্ত্রী, তাঁর নিকট আমার চাইতে অধিক নৈকট্যপ্রাপ্ত?
3237আবদুর রহমান ইবন মুহাম্মদ ইবন সাল্লাম (রহঃ) ... আমির ইবন শারাহীল শাবী (রহঃ) বলেন, তিনি ফাতিমা বিনতে কায়স (রাঃ)-কে, যিনি প্রথম মহিলা হিজরত কারাণীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, বলতে শুনেছেন, আবদুর রহমান ইবন আউফ (রাঃ) মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একদল সাহাবীর মধ্যে আমার বিবাহের পয়গাম দিলেন। আর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ক্রীতদাস উসামা ইবন যায়দ-এর জন্যও আমার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। আর আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করা হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে আমাকে ভালবাসে সে যেন উসামাকে ভালবাসে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আমার সাথে কথা বললেন, তখন আমি বললামঃ আমার ব্যাপার আপনার ইখতিয়ারে। আপনি যার সাথে ইচ্ছা আমার বিবাহ দিতে পারেন। তিনি বললেনঃ তুমি উম্মে শরীকের নিকট যাও। উম্মে শরীক সম্পদশালীণী আনসার মহিলা, আল্লাহর রাস্তায় অত্যধিক দানকারীণী। তার নিকট বহু অতিথি মেহমানের সমাগম হয়ে থাকে। আমি বললামঃ আচ্ছা আমি তাই করব। পরে তিনি বললেনঃ না, তার নিকট যেও না, কারণ উম্মে শরীকের নিকট বহু মেহমানের সমাগম ঘটে। হয়তো তোমার উড়না পড়ে যাবে। অথবা তোমার কাপড় সরে যাবে তোমার পায়ের গোছা হতে, আর লোকেরা তোমার এমন স্থান দেখে ফেলবে, যা তুমি দেখাতে চাও না। আর এটা আমার পছন্দ হয় না। তাই তুমি তোমার চাচাত ভাই আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন উম্মে মাকতুম-এর নিকট যাও। সে বনী ফিহরের লোক। এরপর আমি তার নিকট গেলাম। (সংক্ষিপ্ত)
3238কুতায়বা (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ তোমাদের কেউ যেন অন্যের বিবাহের প্রস্তাবের উপর প্রস্তাব না দেয়।
3239মুহাম্মদ ইবন মানসূর ও সাঈদ ইবন আবদুর রহমান (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা একজনের দামের উপর বাড়িয়ে দাম বলবে না। আর কোন শহরবাসী কোন গ্রামবাসীর পক্ষে বিক্ৰী করবে না, একজনের খরিদ করার উপর অন্যজন খরিদ করার প্রস্তাব দিবে না। আর এক ভাইয়ের বিবাহের পয়গামের উপর বিবাহের প্রস্তাব দিবে না। আর কোন স্ত্রীলোক যেন তার (দীনী) বোনের তালাক না চায়, তার পাত্রে যা আছে তা নিজে ভোগ করার মানসে।
3240হারূন ইবন আবদুল্লাহ ও হারিছ ইবন মিসকীন (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ যেন তার ভাই-এর বিবাহের পয়গামের উপর পয়গাম না দেয়।
3241ইউনুস ইবন আবদুল আ'লা (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন তার ভাই-এর বিবাহের পয়গামের উপর পয়গাম না দেয়, যে পর্যন্ত সে বিবাহ করে কিংবা ছেড়ে যায়।
3242কুতায়বা (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন ব্যক্তি যেন তার অন্য ভাই-এর বিবাহের পয়গামের উপর বিবাহের পয়গাম না দেয়।
3243ইবরাহীম ইবন হাসান (রহঃ) ... ইবন জুরাইজ (রহঃ) বলেন, আমি নাফি (রহঃ)-কে বর্ণনা করতে শুনেছি, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলতেনঃ কারও খরিদ করার উপর অন্য কারোর খরিদ করার প্রস্তাব দিতে এবং একজনের বিবাহের প্রস্তাবের উপর অন্যজনের প্রস্তাব দিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন, যে পর্যন্ত না ঐ প্রথম প্রস্তাবক ছেড়ে যায় অথবা তাকে অনুমতি দেয়।
3244হাজিব ইবন সুলায়মান (রহঃ) ... হারিছ ইবন আবদুর রহমান ও মুহাম্মদ ইবন আবদুর রহমান ইবন সাওবান (রহঃ) হতে বর্ণিত যে, তারা উভয়ে ফাতিমা বিনতে কায়সকে তার ব্যাপারে প্রশ্ন করেন। জবাবে তিনি বলেনঃ আমার স্বামী আমাকে তিন তালাক দেয়। সে আমাকে কিছু খোৱাক দিত। আমি বললামঃ আল্লাহর কসম যদি খোরাক ও থাকার বাসস্থান আমার প্রাপ্য হয়ে থাকে, তবে আমি তা চাইব। আমি ইহা গ্রহণ করব না। উকিল বললোঃ তোমার জন্য কোন খোরাক ও থাকার ঘর নেই। তখন আমি বাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে উপস্থিত হয়ে ইহা জানালাম। তিনি বললেনঃ তোমার জন্য খোরাক ও বাসস্থান নেই, তুমি অমুক স্ত্রীলোকের কাছে থেকে ইদ্দত পালন কর। সে বললোঃ তার নিকট তার সাথীরা আসা-যাওয়া করে। এরপর তিনি বললেনঃ তাহলে তুমি উম্মে মাকতুমের নিকট থেকে ইদ্দত পূৰ্ণ কর। কেননা সে একজন অন্ধ ব্যক্তি। যখন তুমি ইদ্দত পূর্ণ করবে, তখন আমাকে সংবাদ দেবে। ফাতিমা (রাঃ) বলেন, আমি হালাল হয়ে তাকে সংবাদ দিলাম। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কে কে তোমার বিবাহের পয়গাম দিয়েছে? আমি বললামঃ মুআবিয়া এবং অন্য একজন কুরায়শী ব্যক্তি। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ মুআবিয়া তো কুরায়শী যুবকদের মধ্যে একজন যুবক, তার কোন সম্পদ নেই। আর অন্য ব্যক্তি একজন মন্দ লোক, তার মধ্যে কোন মঙ্গল নেই; বরং তুমি উসামাকে বিবাহ কর। ফাতিমা (রাঃ) বলেনঃ আমি তা পছন্দ করলাম না। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা তিনবার বললেন। এরপর আমি তাকে বিবাহ করলাম।
3245মুহাম্মদ ইবন সালামা এবং হারিছ ইবন মিসকীন (রহঃ) ... ফাতিমা বিনত কায়স (রাঃ) বলেন, আবু আমর ইবন হাফস তাকে তিন তালাক দিয়ে ফেললেন, আর তিনি ছিলেন অনুপস্থিত। তিনি তার উকিলকে কিছু যব দিয়ে তার নিকট পাঠালেন। কিন্তু ফাতিমা এতে সন্তুষ্ট না হওয়ায় তিনি বললেনঃ আল্লাহর শপথ! আমাদের উপর তোমার কোন পাওনা নেই। ফাতিমা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে এসে এসকল কথা ব্যক্ত করলে তিনি বললেন, তোমার কোন খোরাক পাওনা নেই। তিনি তাকে উম্মে শরীকের ঘরে থেকে ইদত পূর্ণ করতে আদেশ করলেন। এরপর তিনি বললেনঃ ঐ মেয়ে লোক এমন যার কাছে আমার সাহাবীগণ বেশি যাতায়াত করে। বরং তুমি ইবন উম্মে মাকতুম-এর নিকট থেকে ইদ্দত পূৰ্ণ কর। সে একজন অন্ধ ব্যক্তি। তুমি তোমার উত্তম কাপড়-চোপড় খুলে রাখবে। যখন তুমি ইদ্দত পূর্ণ হয়ে যাবে, তখন আমাকে সংবাদ দেবে। ফাতিমা (রাঃ) বলেনঃ যখন আমি ইদ্দত পূর্ণ করলাম, তখন তার নিকট বললামঃ মুআবিয়া ইবন আবু সুফিয়ান এবং জাহাম আমার বিবাহের পয়গাম দিয়েছে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আবু জাহাম তো এমন ব্যক্তি, যে কখনও স্কন্ধ হতে লাঠি নামিয়ে রাখে না। অর্থাৎ সে স্ত্রীকে কষ্ট দেয়। আর মুআবিয়া তো নিঃস্ব, তার কোন মাল-সম্পদ নেই। আমি তা অপছন্দ করলাম। তিনি পুনরায় বললেন উসামা ইবন যায়দকে বিবাহ কর । এরপর "আমি তাকে বিবাহ করলাম। আল্লাহ তাতে মঙ্গল দান করলেন। তাকে নিয়ে আমি গর্ব করতে পারি।
3246মুহাম্মদ ইবন আদম (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক আনসারী ব্যক্তি বাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে উপস্থিত হয়ে বললোঃ আমি এক মহিলাকে বিবাহ করেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি কি তাকে দেখেছ? আনসারদের চক্ষুতে কিছু ত্রুটি থাকে।
3247মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন ইয়াযিদ (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি এক মহিলাকে বিবাহ করতে ইচ্ছা করলে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাকে দেখে নাও, কেননা আনসারদের চক্ষুতে কিছু ত্রুটি থাকে।
3248ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, খুনায়স অর্থাৎ ইবন হুযাফ, যিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবী এবং বদরের যুদ্ধে অংশ গ্ৰহণকারীদের মধ্যে একজন ছিলেন, মদীনায় তাঁর ইন্তেকাল হলে হাফসা বিনত উমর (রাঃ) বিধবা হলেন। উমর (রাঃ) বলেনঃ আমি উসমান ইবন আফফানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে হাফসার কথা উল্লেখ করে তাকে বললামঃ যদি তুমি ইচ্ছা কর, তাহলে হাফসাকে আমি তোমার নিকট বিবাহ দিব। তিনি বললেনঃ এ ব্যাপারে আমি চিন্তা করব। আমি কিছুদিন অতিবাহিত করলাম, পুনরায় তার সাথে সাক্ষাৎ করলে তিনি বললেনঃ এসময় আমার বিবাহ করার ইচ্ছা নেই। উমর (রাঃ) বলেনঃ এরপর আমি আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁকে বললামঃ যদি আপনি ইচ্ছা করেন, তাহলে হাফসাকে আপনার সাথে বিবাহ দিব। তিনি আমার এ প্রশ্নের কোন উত্তর দিলেন না। এতে উসমান (রাঃ)-এর উপর আমার যে ক্ৰোধ হয়েছিল, তাহাতে অধিক ক্ৰোধ হলো তার উপর। এভাবে আমি কিছুদিন অতিবাহিত করলাম। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে তার বিবাহের প্রস্তাব দিলেন। আমি তাকে তাঁর বিবাহে সোপর্দ করলাম। এরপর আবু বকর (রাঃ)-এর সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হলে তিনি বললেনঃ আপনি আমার নিকট হাফসার বিবাহের প্রস্তাব দিলে আমি কিছু না বলায় হয়তো আপনি আমার উপর অসন্তুষ্ট হয়েছেন। আমি বললামঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ আপনি যখন প্রস্তাব দিলেনঃ তখন আপনাকে কোন উত্তর না দেওয়ার কারণ এ ব্যতীত আর কিছুই ছিল না যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তার আলোচনা করতে শুনেছি। আর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গোপন কথা প্ৰকাশ করতে চাইনি। যদি তিনি তাকে বাদ দিতেন তবে আমি তাকে বিবাহ করতাম।
3249মুহাম্মদ ইবন মুছান্না (রহঃ) ... মারহুম ইবন আবদুল আয়ীয আত্তার আবু আবদুস সামাদ বলেছেন, আমি ছাবিত বুনানী (রহঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ একদা আমি আনাস ইবন মালিক (রাঃ)-এর নিকট ছিলাম। তখন তার নিকট তাঁর এক কন্যাও ছিল। তিনি বললেনঃ এক মহিলা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে এসে নিজের বিবাহ প্রস্তাব করে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনার কি আমার প্রয়োজন আছে?
3250মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। একদা এক মহিলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে এসে তাকে বিবাহ করার প্রস্তাব দিল। এতে আনাসের কন্যা হেসে উঠে বললোঃ সে কত নির্লজ্জ। আনাস (রাঃ) বললেনঃ সে তোমার চাইতে উত্তম, সে তো নিজকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে পেশ করেছে।
3251সুওয়ায়দ ইবন নাসর (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন যায়নবের ইদ্দত শেষ হলো তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যায়দকে বললেনঃ তার নিকট আমার বিবাহের প্রস্তাব উত্থাপন কর। যায়ীদ (রাঃ) বলেন, আমি গিয়ে বললাম, হে যায়নব! সুসংবাদ গ্রহণ কর, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমার কথা উল্লেখ করে আমাকে তোমার নিকট প্রেরণ করেছেন। তিনি বললেনঃ আমি আমার রবের আদেশ না নিয়ে কিছুই করব না। এই বলে তিনি তার নামাযের স্থানে দাঁড়িয়ে গেলেন। ইতিমধ্যে কুরআনের আয়াত অবতীর্ণ হলো এবং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমন করলেন। অর্থাৎ তার আদেশ ব্যতীত তার নিকট গমন করলেন। (কারণ আল্লাহ্ তা'আলা নিজেই যায়নব (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বিবাহ দিলেন)।
3252আহমদ ইবন ইয়াহইয়া সূফী (রহঃ) ... ঈসা ইবন তাহমান আবু বকর বর্ণনা করেন, আমি আনাস ইবন মালিক (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, যয়নাব বিনত জাহশ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অন্যান্য বিবিদের নিকট গর্ব করে বলতেনঃ আল্লাহ্ তা'আলা আমাকে বিবাহ দিয়েছেন আসমানে, আর এ ব্যাপারে পর্দার আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে।
3253কুতায়বা (রহঃ) ... জাবির ইবন আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে প্রত্যেক কাজে ইস্তিখারা করতে শিক্ষা দিতেন, যেমন আমাদেরকে কুরআনের আয়াত শিক্ষা দিতেন। তিনি বলতেনঃ যখন তোমাদের কেউ কোন কাজের ইচ্ছা করবে, তখন সে যেন ফরয ব্যতীত দুরাকাআত নামায পড়ে নেয়, তারপর বলেঃ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَخِيرُكَ بِعِلْمِكَ وَأَسْتَعِينُكَ بِقُدْرَتِكَ وَأَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ الْعَظِيمِ فَإِنَّكَ تَقْدِرُ وَلَا أَقْدِرُ وَتَعْلَمُ وَلَا أَعْلَمُ وَأَنْتَ عَلَّامُ الْغُيُوبِ اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الْأَمْرَ خَيْرٌ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي أَوْ قَالَ فِي عَاجِلِ أَمْرِي وَآجِلِهِ فَاقْدِرْهُ لِي وَيَسِّرْهُ لِي ثُمَّ بَارِكْ لِي فِيهِ وَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الْأَمْرَ شَرٌّ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي أَوْ قَالَ فِي عَاجِلِ أَمْرِي وَآجِلِهِ فَاصْرِفْهُ عَنِّي وَاصْرِفْنِي عَنْهُ وَاقْدُرْ لِي الْخَيْرَ حَيْثُ كَانَ ثُمَّ أَرْضِنِي بِهِ তিনি বলেন, এরপর নিজ প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করবে।
3254মুহাম্মদ ইবন ইসমাঈল ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... উম্মে সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন তাঁর ইদ্দত পূর্ণ হলো, আবু বকর (রাঃ) তাঁর নিকট নিজের বিবাহ প্রস্তাব দিয়ে লোক পাঠালেন। কিন্তু তিনি তাঁকে বিবাহ করলেন না। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-কে তার বিবাহের প্রস্তাব দিয়ে পাঠালেন। তিনি বললেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলুন, আমি একজন আত্মাভিমানী নারী, আর আমার সন্তান রয়েছে। আর এখানে আমার কোন আত্মীয়-স্বজন উপস্থিত নেই। উমর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে উপস্থিত হয়ে সব কিছুই বর্ণনা করলেন। তিনি বললেনঃ আপনি তার নিকট ফিরে গিয়ে বলুন, আপনি যে বলেছেন, আমি আত্মাভিমানী, আমি আল্লাহ্ তা'আলার নিকট দু'আ করব তা হলে আপনার অভিমান থাকবে না। আর আপনি বলেছেন, আমি সন্তানওয়ালা, আপনার সন্তানদের জন্য আপনাকে একটা ব্যবস্থা করে দেয়া হবে। আর আপনি বলেছেন, এখানে আপনার কোন আত্মীয়-স্বজন উপস্থিত নেই। আপনার উপস্থিত অনুপস্থিত কোন আত্মীয়ই এতে অনিচ্ছা প্রকাশ করবে না। তখন তিনি তাঁর ছেলেকে বললেন, হে উমর! উঠ, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে আমার বিবাহ দাও। ফলে সে তাঁর বিবাহ দিল। (সংক্ষিপ্ত)
3255ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বিবাহ করেন, তখন তাঁর বয়স ছিল ছয় বছর। আর যখন তাঁকে নিয়ে বাসর করেন, তখন তাঁর বয়স ছিল নয় বছর।
3256মুহাম্মাদ ইবন নাদর ইবন মুসাবির (রহঃ) ... আয়শা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বিবাহ করেন, আমার ছিল সাত বছর বয়স। আর নয় বছর বয়সে তিনি আমার সাথে বাসর করেন।
3257কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ উবায়দা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আয়েশা (রাঃ) বলেছেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে নয় বছর বয়সের সময় বিবাহ (বাসর) করেন। আর আমি তাঁর (দাম্পত্য) সঙ্গলাভ করি নয় বছর পর্যন্ত।
3258মুহাম্মাদ ইবন আলা এবং আহমাদ ইবন হারব (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বিবাহ করেন, তখন তাঁর বয়স ছিল নয় বছর। আর যখন তিনি ইনতিকাল করে তখন তাঁর বয়স ছিল আঠারো বছর।
3259মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন মুবারক (রহঃ) ... উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বর্ণনা করেন, হাফসা বিনত উমর (রাঃ) খুনায়স ইবন হুযাফা সাহমীর ইন্তেকাল হওয়ায় বিধবা হলেন। খুনায়স রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবী ছিলেন এবং তিনি মদীনায় ইনতিকাল করেন। উমর (রাঃ) বলেন, আমি উসমান ইবন আফফানের নিকট গিয়ে তার সাথে হাফসা বিনত উমর-এর বিবাহ প্ৰস্তাব দিলাম। উমর (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, যদি আপনি ইচ্ছা করেন, তা হলে হাফসাকে আপনার সাথে বিবাহ দিব। তিনি বললেনঃ এ ব্যাপারে আমি চিন্তা করবো। আমি কিছুদিন অপেক্ষা করলাম। এরপর তিনি আমার সাথে সাক্ষাৎ করে বললেনঃ আমি ঠিক করেছি, এ সময় আমি বিবাহ করবো না। উমর (রাঃ) বলেন, তখন আমি আবু বকর সিদ্দীকের সাথে সাক্ষাৎ করলাম, বললামঃ যদি আপনার ইচ্ছা হয়, তাহলে আমি হাফসা বিনত উমর (রাঃ)-কে আপনার সাথে বিবাহ দিব। আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ) চুপ রইলেন। কোন উত্তরই দিলেন না। এতে উসমান (রাঃ)-এর উপর আমার যে ক্ৰোধ হয়েছিল, তার চাইতে অধিক ক্ৰোধ হলো তার উপর। এভাবে কিছুদিন অতিবাহিত করলাম। এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বিবাহের পয়গাম দিলেন, আমি তাঁর সাথে তাকে বিবাহ দেই। পরে আবু বকর (রাঃ)-এর সাথে সাক্ষাৎ হলে তিনি বললেনঃ আপনি যখন হাফসার বিবাহের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তখন হয়তো আপনি আমার উপর রাগ করেছিলেন, কেননা আমি কোন উত্তর দেইনি। উমর (রাঃ) বলেন, আমি বললামঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ আপনার প্রস্তাবে আমার কিছু না বলার কারণ এটাই ছিল যে, আমি জানতাম, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার আলোচনা করেছেন। আর আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর গোপন কথা প্রকাশ করতে চাইনি। যদি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে উপেক্ষা করতেন, তাহলে আমি তাকে গ্ৰহণ করতাম।
3260কুতায়বা (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বিধবা তার নিজের ব্যাপারে তার ওলীর চাইতে অধিক হকদার। আর কুমারীর ব্যাপারে তার অনুমতি নেয়া হবে। আর তার অনুমতি হলো তার চুপ থাকা।
3261মুহাম্মদ ইবন গায়লান (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বিধবা তার নিজের ব্যাপারে তার ওলীর চাইতে অধিক হকদার। আর কুমাবী নারীর অনুমতি গ্ৰহণ করা হবে এবং তার অনুমতি হলো তার চুপ থাকা।
3262আহমদ ইবন সাঈদ রি'বাতী (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বিবাহিতা নারী তার ব্যাপারে নিজেই যথেষ্ট। আর কুমারী নারীর অনুমতি গ্ৰহণ করা হবে। তার অনুমতি হলো চুপ থাকা।
3263মুহাম্মদ ইবন রাফি’ (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বিবাহিতা নারীর ব্যাপারে অভিভাবকের কোন কিছু করার নেই। আর কুমারী নারীর ব্যাপারে তার অনুমতি গ্ৰহণ করা হবে। আর তার অনুমতি হলো চুপ থাকা।
3264মুহাম্মদ ইবন মানসূর (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বিবাহিতা নারী নিজের ব্যাপারে হকদার আর কুমারীর ব্যাপারে তার পিতা তার অনুমতি নিবে। আর তার অনুমতি হলো- তার চুপ থাকা।
3265ইয়াহইয়া ইবন দুরুস্তা (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বিবাহিতা নারীকে তার অনুমতি ব্যতীত বিবাহ দেয়া যাবে না। আর কুমারী নারীকে তার অনুমতি না নিয়ে বিবাহ দেয়া হবে না। লোকেরা জিজ্ঞাসা করলোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! তার অনুমতি কিভাবে হবে? তিনি বললেনঃ তার অনুমতি হলো চুপ থাকা।
3266ইসহাক ইবন মানসূর (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা নারীদের বিবাহে তাদের অনুমতি গ্ৰহণ করবে। বলা হলোঃ কুমারী নারী তো লজ্জা করবে এবং চুপ থাকবে। তিনি বলেন, এটাই তার অনুমতি।
3267মুহাম্মদ ইবন আবদুল আ'লা (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বিবাহিতা নারীকে বিবাহ দেবে না। তার অনুমতি ব্যতীত, আর কুমারীকে তার মতামত না নিয়ে বিবাহ দেবে না। সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! তার অনুমতি কিভাবে নেয়া হবে? তিনি বললেনঃ তা হলো চুপ থাকবে।
3268হারূন ইবন আবদুল্লাহ্ (রহঃ) ... খানসা বিনত খিযাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তাঁর পিতা তাকে বিবাহ দিলেন, তিনি ছিলেন, সায়্যিব, তিনি তা অপছন্দ করলেন। এরপর সে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গেলে, তিনি এ বিবাহ ভেঙে দিলেন।
3269যিয়াদ ইবন আইউব (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। একটি বালিকা তাঁর নিকট উপস্থিত হয়ে বললোঃ আমার পিতা আমাকে তার ভাতিজার নিকট বিবাহ দিয়েছে। আমার দ্বারা তার নীচুতা দূর করে মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য এবং আমি তা অপছন্দ করি। তিনি বলেনঃ তুমি রাসূলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আগমন পর্যন্ত এখানে বস। পরে রাসূলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমন করলে সে তাঁকে বিষয়টি জানালো। তিনি তার পিতার নিকট লোক পাঠিয়ে তাকে ডেকে আনলেন এবং ঐ বালিকার অনুমতির উপর বিষয়টি ছেড়ে দিলেন। বালিকাটি বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার পিতা যা করেছেন, তাতে আমি অনুমতি দিলাম। কিন্তু নারী সমাজকে ইহা জানিয়ে দিতে চাই যে, বিবাহের ব্যাপারে তাদের অধিকার রয়েছে।
3270আমর ইবন আলী (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কুমারী নারী সম্বন্ধে তাদের অনুমতি নেয়া হবে, সে যদি চুপ থাকে তবে তাই তার অনুমতি। আর যদি সে অস্বীকার করে, তবে তার উপর কোন চাপ প্রয়োগ করা চলবে না।
3271আমর ইবন আলী (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মায়মুনা বিনত হারিসকে বিবাহ করেন, তখন তিনি মুহরিম ছিলেন। ইয়ালার হাদীসে আছে বিবাহ হয় সারিফ নামক স্থানে।
3272মুহাম্মদ ইবন মানসূর (রহঃ) ... আবু শা'সা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। ইবন আব্বাস (রাঃ) তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মায়মূনাকে বিবাহ করেন, তখন তিনি ইহরাম অবস্থায় ছিলেন।
3273উসমান ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মায়মূনাকে বিবাহ করেন ইহরাম অবস্থায়। মায়মূনা (রাঃ) তার ব্যাপারটি আব্বাস (রাঃ)-এর উপর ন্যস্ত করলে, তিনি তাকে তার সংগে বিবাহ দেন।
3274আহমদ ইবন নাসর (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মায়মূনা (রাঃ)-কে বিবাহ করেন ইহরাম অবস্থায়।
3275হারূন ইবন আবদুল্লাহ্ (রহঃ) ... নুবায়হ ইবন ওয়াহাব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। আবান ইবন উসমান (রহঃ) বলেছেন। আমি উসমান ইবন আফফান (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুহরিম নিজে বিবাহ করবে না, অন্য কাউকে বিবাহ দেবে না, আর সে বিবাহের পয়গামও পাঠাবে না।।
3276আবুল আশ'আস (রহঃ) ... আবান ইবন উসমান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। উসমান ইবন আফফান (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুহরিম নিজে বিবাহ করবে না, আর কাউকে বিবাহ দেবে না; আর সে নিজে বিবাহের পয়গামও পাঠাবে না।
3277কুতায়বা (রহঃ) ... আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে নামাযের তাশাহহুদ শিক্ষা দিতেন, আর বিবাহ ইত্যাদি দরকারের সময়ের তাশাহহুদও শিক্ষা দিতেন, তিনি বলেন, প্রয়োজনের তাশাহহুদ হলোঃ الْحَمْدُ لِلَّهِ نَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ وَمَنْ يُضْلِلْ اللَّهُ فَلَا هَادِيَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ এরপর তিনটি আয়াত পাঠ করা।
3278আমর ইবন মানসূর (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি কোন ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে কথা বললে তিনি বললেনঃ إِنَّ الْحَمْدَ لِلَّهِ نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِينُهُ مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ وَمَنْ يُضْلِلْ اللَّهُ فَلَا هَادِيَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ أَمَّا بَعْدُ
3279ইসহাক ইবন মানসূর (রহঃ) ... আদী ইবন হাতিম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, দু’ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট তাশাহহুদ পাঠ করলেন, তাদের একজন বললোঃ مَنْ يُطِعْ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ رَشِدَ وَمَنْ يَعْصِهِمَا فَقَدْ غَوَى রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কত মন্দ খুৎবা পাঠকারী।
3280মুহাম্মদ ইবন মানসূর (রহঃ) ... সুফিয়ান (রহঃ) বলেন, আমি আবু হাযিম (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, সাহল ইবন সা'দ (রাঃ) বলতেনঃ আমি এক দল লোককে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত পেলাম। এক মহিলা দাঁড়িয়ে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এ মহিলা আপনার জন্য নিজকে উৎসর্গ করতে চায়, এ ব্যাপারে আপনার অভিমত কী? তিনি নিচুপ রইলেন এবং কোন উত্তর দিলেন না। আবার সে মহিলা দাঁড়িয়ে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এ মহিলা আপনার জন্য নিজকে উৎসর্গ করতে চায়, এ ব্যাপারে আপনার অভিমত কী? তখন এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! তাকে আমার সঙ্গে বিবাহ দিন। তিনি বললেনঃ তোমার নিকট কি কোন বস্তু আছে? সে বললোঃ না। তিনি বললেনঃ যাও একটি লোহার আংটি হলেও তা সংগ্রহ করে নিয়ে এসো। সে ব্যক্তি যেয়ে খোজ করে এসে বললোঃ আমি কিছুই পেলাম না, এমনকি একটি লোহার আংটিও না। তিনি বললেনঃ তোমার কি কুরআনের কিছু মুখস্থ আছে? সে বললোঃ হ্যাঁ, অমুক অমুক সূরা আমার মুখস্থ আছে। তিনি বললেনঃ কুরআনের যা তোমার নিকট রয়েছে, তার বিনিময়ে আমি তাকে তোমার সাথে বিবাহ দিলাম।
3281ঈসা ইবন হাম্মদ (রহঃ) ... উকবা ইবন আমির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সৰ্বাধিক প্রয়োজনীয় শর্ত হলো তোমরা যা দ্বারা মহিলার লজ্জাস্থান হালাল করবে, তা আদায় করা অর্থাৎ মোহর আদায় করা।
3282আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ ইবন তামীম (রহঃ) ... উকবা ইবন আমির (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সর্বাধিক প্রয়োজনীয় শর্ত হলো তোমরা যা দ্বারা মহিলার লজ্জাস্থান হালাল করবে, তা আদায় করা।
3283ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, রিফা'আ (রাঃ)-এর স্ত্রী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললেনঃ রিফা'আ আমাকে চূড়ান্ত তালাক দিয়ে ফেলেছে। এরপর আমি আবদুর রহমান ইবন যুবায়র (রাঃ)-কে বিবাহ করেছি। কিন্তু তার নিকট আমার কাছে আমার কাপড়ের আঁচালের মত ব্যতীত আর কিছু নেই। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে বললেনঃ হয়তো তুমি রিফা'আর নিকট প্রত্যাবর্তনের ইচ্ছা করছে। তা হালাল হবে না, যে পর্যন্ত না সে তোমার মধুর স্বাদ গ্ৰহণ না করে, আর তুমি তার মধুর স্বাদ গ্রহণ কর।
3284ইমরান ইবন বাক্কার (রহঃ) ... উরওয়া (রহঃ) সংবাদ দিয়েছেন, যয়নব বিনত আবু সালামা এবং তার মা উম্মে সালামা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী তাকে সংবাদ দিয়েছেন, আবু সুফিয়ানের কন্যা উম্মে হাবীবা (রাঃ) তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আবু সুফিয়ানের কন্যা আমার বোনকে আপনি বিবাহ করুন। তিনি বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি কি এটা পছন্দ কর? আমি বললামঃ হ্যাঁ, আমি আপনার সাথে একাকী হব না, আর যারা আমার বোনের মিলনের ব্যাপারে আমার সঙ্গে থাকবে তাদেরকেও আমি ভালবাসি। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার বোন আমার জন্য হালাল হবে না। আমি বললামঃ আল্লাহর কসম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমরা বলাবলি করছি, আপনি দুররাহ বিনত আবু সালামাকে বিবাহ করতে ইচ্ছা রাখেন। তিনি বললেনঃ উম্মে সালামার কন্যা? আমি বললামঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ আল্লাহর কসম! যদি সে আমার ক্রোড়ে পালিত কন্যা নাও হতো, তবুও সে আমার জন্য হালাল হতো না। কেননা, সে তো আমার দুধ ভাই-এর কন্যা। আমাকে এবং আবু সালামাকে সুওয়াইবা (রাঃ) দুধ পান করিয়েছেন। অতএব তোমাদের বোনদেরকে বা কন্যাদেরকে আমার জন্য পেশ করো না।
3285ওয়াহাব ইবন বয়ান (রহঃ) ... যয়নব বিনুত আবু সালামা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী উম্মে হাবিবা (রাঃ) বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার পিতার কন্যা অর্থাৎ আমার বােনকে আপনি বিবাহ করুন। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি কি পছন্দ কর? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। আমি তো আপনার একমাত্র স্ত্রী নই, বরং আরো যারা আপনার সহধর্মিণী হওয়ার সৌভাগ্যে শরীক হবে, আমার বোনও তাদের অন্তর্ভুক্ত হোক, আমি তা পছন্দ করি। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এটা হালাল হবে না। উম্মে হাবীবা (রাঃ) বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আল্লাহর শপথ! আমরা বলাবলি করেছি যে, আপনি দুররাহ বিনতে আবু সালামাকে বিবাহ করবেন। তিনি বললেনঃ উম্মে সালামার কন্যা? উম্মে হাবীব (রাঃ) বললেনঃ হ্যাঁ। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহর শপথ! যদি সে আমার ক্ৰোড়ে, আমার স্ত্রীর কন্যারূপে পালিত না হতো, তাহলেও সে হালাল হতো না। কেননা সে আমার দুধ ভাই-এর কন্যা। আমাকে এবং আবু সালামাকে সুওয়াইবা দুধপান করিয়েছেন। অতএব তোমাদের কন্যাদেরকে এবং বোনদেরকে আমার সংগে বিবাহের প্রস্তাব দেবে না।
3286কুতায়াবা (রহঃ) ... ইরাক ইবন মালিক (রহঃ) বর্ণনা করেন, যয়নব বিনত আবু সালামা তাকে সংবাদ দিয়েছেন, উম্মে হাবীবা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেনঃ আমরা বলাবলি করি যে, আপনি দুররা বিনুত আবু সালামাকে বিবাহ করবেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ উম্মে সালামা থাকা সত্ত্বেও? যদি আমি উম্মে সালামাকে বিবাহ নাও করতাম, তবুও সে আমার জন্য হালাল হতো না। কেননা তার পিতা আমার দুধ ভাই।
3287হান্নাদ ইবন সারী (রহঃ) ... উম্মে হাবীব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার বোনের ব্যাপারে আপনার কোন আগ্রহ আছে? তিনি বললেনঃ আমি কি করব? উম্মে হাবীবা বললেনঃ আপনি তাকে বিবাহ করুন। তিনি বললেনঃ এটা কি তোমার নিকট খুব পছন্দনীয়? উম্মে হাবীবা (রাঃ) বললেনঃ হ্যাঁ। আমি তো আপনার একমাত্র স্ত্রী নই, বরং আরো যারা আমার সাথে সৌভাগ্য ও মঙ্গলের অংশীদার হবে, আমি ভালবাসি যে, আমার বোনও তাদের অন্তর্ভুক্ত হোক। তিনি বললেনঃ সে আমার জন্য হালাল হবে না। উম্মে হাবীব (রাঃ) বললেনঃ আমি জানতে পেরেছি যে, আপনি দুররা বিনত উম্মে সালামাকে বিবাহের পয়গাম দিচ্ছেন। তিনি বললেনঃ আবু সালামার কন্যা? উম্মে হাবীবা বললেনঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ আল্লাহর কসম! যদি সে আমার কাছে পালিত, আমার স্ত্রীর কন্যা নাও হতো, তবুও সে আমার জন্য হালাল হতো না। কেননা, সে তো আমার দুধ ভাইয়ের কন্যা। অতএব তোমাদের কন্যাদের ও তোমাদের বোনদের আমার সংগে বিবাহের প্রস্তাব করবে না।
3288হারূন ইবন আবদুল্লাহ্ (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন নারী ও তার ফুফুকে একত্রে বিবাহ করবে না। আর না কোন নারী ও তার খালাকে একত্রে বিবাহ করবে।
3289মুহাম্মদ ইবন ইয়াকুব ইবন আবদুল ওয়াহ্হাব ইবন ইয়াহইয়া ইবন আব্বাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন যুবায়র ইবন আওওয়াম (রহঃ) ... কুবায়সা ইবন যুওয়েব (রহঃ) বলেন, তিনি আবু হুরায়রা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন নারী ও তার ফুফুকে একত্রে বিবাহ করতে এবং কোন নারী ও তার খালাকে একত্রে বিবাহ করতে নিষেধ করেছেন।
3290ইবারাহীম ইবন ইয়াকুব (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। কোন নারীর খালা এবং ফুফুর সাথে ঐ নারীকে বিবাহ করতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন।
3291কুতায়াবা (রহঃ) ... আবু হুৱায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। চারজন পরস্পর সম্পৰ্কীয়া নারীকে একত্রে বিবাহ করতে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন। কোন নারী এবং তার ফুফু এবং কোন নারী এবং তার খালা।
3292আমর ইবন মানসূর (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ কোন নারীকে তার ফুফুর সাথে অথবা তার খালার সাথে বিবাহ করবে না।
3293মুজাহিদ ইবন মূসা (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন নারীকে তার খালা অথবা তার ফুফুর সাথে বিবাহ করবে না।
3294ইয়াহইয়া ইবন দুরুস্তা (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, কোন নারীকে তার ফুফুর সাথে অথবা তার খালার সাথে বিবাহ করবে না।
3295উবায়দুল্লাহ্ ইবন সাঈদ (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, কোন নারীকে তার ফুফুর সাথে অথবা তার খালার সাথে বিবাহ করবে না। কোন নারীকে বিবাহ করা যাবে না তার ফুফু, অথবা তার খালার সাথে।
3296ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন নারীকে তার ফুফুর সাথে অথবা ফুফুকে তার ভাই-এর কন্যার সাথে বিবাহ করতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন।
3297মুহাম্মদ ইবন আবদুল আ'লা (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ কোন নারীকে তার ফুফু, অথবা তার খালার সাথে বিবাহ করা যাবে না। রাবী আসিম (রহঃ) বলেন, আমি এটা জাবির (রাঃ) থেকে শুনেছি।
3298মুহাম্মদ ইবন আদম (রহঃ) ... শা'বী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জাবির ইবন আবদুল্লাহ্ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ কোন নারীকে তার খালা এবং ফুফুর সাথে বিবাহ করতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন।
3299ইবরাহীম ইবন হাসান (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ কোন নারীকে তার ফুফু অথবা খালার সাথে বিবাহ করতে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন।
3300উবায়দুল্লাহ্ ইবন সাঈদ (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ জন্ম সম্পর্ক যাকে হারাম করে, দুধ পানের সম্পর্কও তাকে হারাম করে।
3301কুতায়বা (রহঃ) ... উরওয়া (রহঃ) আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তার রিযায়ী ফুফা আফলাহ তার নিকট আসতে অনুমতি চাইলে তিনি তা হতে পর্দা করলেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ সংবাদ দিলে তিনি বলেন তার থেকে পর্দা করো না। কেননা, দুধ পান সম্পর্কে ঐ সকল লোক হারাম হয়, বংশগত সম্পর্কে যারা হারাম হয়।
3302মুহাম্মদ ইবন বাশার (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামথেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ বংশগত সূত্রে যারা হারাম, তারা দুধ পানের সম্পর্কেও হারাম।
3303মুহাম্মদ ইবন উবায়দ (রহঃ) ... আমরাহ্ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আয়েশা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জন্মসূত্রে যারা হারাম, দুধপান সম্পর্কেও তারা হারাম।
3304হান্নাদ ইবন সারী (রহঃ) ... আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনার কি হলো যে, আপনি কুরাইশদের মধ্যেই (বিবাহ করার) আগ্রহ করেন, আর আমাদেরকে (অর্থাৎ বনী হাশিমকে) পরিত্যাগ করেন। তিনি বললেনঃ তোমার নিকট কি কেউ আছে? আমি বললামঃ হ্যাঁ, হামযার কন্যা। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সে আমার জন্য হালাল হবে না। কেননা, সে তো আমার দুধ ভাই-এর কন্যা।
3305ইবরাহীম ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, হামযার কন্যাকে বিবাহ করা সম্বন্ধে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সেতো আমার দুধ ভাইয়ের কন্যা। শু'বা (রহঃ) বলেনঃ কাতাদা (রহঃ) জাবির ইবন যায়ীদ (রহঃ) হতে এটা শুনেছেন।
3306আবদুল্লাহ ইবন সাব্বাহ ইবন আবদুল্লাহ্ (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। হামযা (রাঃ)-এর কন্যাকে বিবাহ করা সম্বন্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলা হলে তিনি বললেনঃ সেতো আমার দুধ ভাই-এর কন্যা। আর বংশ সূত্রে যারা হারাম হয়, দুধ পান সম্পর্কেও তারা হারাম হয়।
3307হারূন ইবন আবদুল্লাহ্ (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহু তা'আলা যা নাযিল করেছেন, তাতে রয়েছে; হারিস (রহঃ) বলেন, আল্লাহ্ তা'আলা যে কুরআন নাযিল করেছেন তাতে রয়েছে, দশবার দুধপান হারাম করে দেয়। এরপর ঐ দশবার পরিবর্তিত হয়ে গেল পাঁচবার দ্বারা, যা নির্দিষ্ট। এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইনতিকাল করেন। আর পাঁচবারের কথা, যারা জানতো না, তারা তা তিলাওয়াত করতো।
3308আবদুল্লাহ ইবন সাব্বাহ্ (রহঃ) ... উম্মে ফযল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দুধপান সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেনঃ একবার, দু’বার পান করা হারাম করে না। কাতাদা (রহঃ) একবার, দু'বার স্তন চোষণ করায় বিবাহ হারাম হয় না ।
3309শুয়ায়ব ইবন ইউসুফ (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবন যুবায়র (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার এবং দু’বার স্তন চোষণ করা হারাম করে না।
3310যিয়াদ ইবন আইয়ুব (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ একবার এবং দু'বার স্তন চোষণ করা হারাম করে না।
3311মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন বযী' (রহঃ) ... কাতাদা (রহঃ) বলেনঃ আমরা ইবরাহীম ইবন ইয়াযীদ নখয়ীকে দুধপান সম্বন্ধে প্রশ্ন করে লিখেছিলাম। উত্তরে তিনি লিখলেন, ‘শুরায়হ আমাদিগকে বর্ণনা করেছেন। আলী (রাঃ) এবং ইবন মাসউদ (রাঃ) বলতেনঃ দুধপান অল্প হোক অথবা অধিক হোক, তা বিবাহ হারাম করে। তার কিতাবে রয়েছে, আবু শা'সা মুহারিবী বর্ণনা করেছেন- আয়েশা (রাঃ) তাঁর কাছে বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ অল্প পরিমাণ পান করলে, তা হারাম করে না।
3312হান্নাদ ইবন সারী (রহঃ) ... মাসরূক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আয়েশা (রাঃ) বলেছেন, একদা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট আগমন করলেন, তখন আমার নিকট এক ব্যক্তি উপবিষ্ট ছিল। এটা তার নিকট খারাপ লাগলো। আমি তার চেহারায় ক্রোধের লক্ষণ দেখতে পেলাম। আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! সে আমার দুধ-ভাই। তিনি বললেনঃ চিন্তা করে দেখ, কি ধরনের ভাই। অন্য সময় তিনি বলছেনঃ চিন্তা করে দেখ, কে তোমার দুধ-ভাই। এরপর তিনি বললেনঃ দুধপান ধর্তব্য হয় ক্ষুধা নিবারণের জন্য যা পান করা হয়।
3313হারূন ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ) ... আমরাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। আয়েশা (রাঃ) তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নিকট ছিলেন, এমন সময় তিনি শুনতে পেলেন, এক ব্যক্তি হাফসা (রাঃ)-এর ঘরে প্রবেশের অনুমতি চাচ্ছে। আয়েশা (রাঃ) বলেন, আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! এ ব্যক্তি আপনার ঘরে প্রবেশের অনুমতি চাচ্ছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমার মনে হয় সে অমুক ব্যক্তি, যিনি হাফসার দুধ সম্পর্কের চাচা। আয়েশা (রাঃ) বলেন, আমি বললামঃ যদি অমুক ব্যক্তি জীবিত থাকতো, সেও আমার দুধ সম্পর্কের চাচা হতো, আমার কাছে আসতো। রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ জন্মগত সম্পর্কে যা হারাম হয়, দুধ পানের সম্পর্কও তাকে হারাম করে দেয়।
3314ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... উরওয়া (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, আয়েশা (রাঃ) বলেছেন, আমার দুধ সম্পৰ্কীয় চাচা আবুল জা'দ আগমন করলে আমি তাকে ফিরিয়ে দিয়েছিলাম। রাবী বলেন, হিশাম (রহঃ) বলেছেনঃ তিনি ছিলেন আবুল কুয়াইস। এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমন করলে আমি তাকে সংবাদ দিলাম, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাকে অনুমতি দেবে।
3315আবদুল ওয়ারেছ ইবন আবদুস সামাদ ইবন আবদুল ওয়ারেছ (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আবুল কুয়াইস-এর ভাই (আকলা) অনুমতি চাইলে তিনি তাকে অনুমতি দিতে অস্বীকার করেন। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট তিনি এ ব্যাপারে বর্ণনা করলে তিনি বলেন, তুমি তাকে অনুমতি দিও, কেননা সে তোমার চাচা। আমি বললামঃ আমাকে তো মহিলা দুধ পান করিয়েছে, কোন পুরুষ তো দুধপান করায় নি। তিনি বললেনঃ সে তোমার চাচা, অতএব সে প্রবেশ করতে পারবে তোমার নিকট।
3316হারূন ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, আবুল কুয়াইস-এর ভাই আফলাহ আমার নিকট আসতে অনুমতি চান ; আর তিনি ছিলেন আমার দুধ সম্পর্কের চাচা। আমি তাকে অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছি। ইত্যাবসরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমন করলে আমি তাকে তা জানালাম। তিনি বললেনঃ তাকে অনুমতি দিও, কেননা সে তোমার চাচা। আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ আর এটা ছিল পর্দার আয়াত নাযিল হওয়ার পরের ঘটনা।
3317আবদুল জব্বার ইবন আলা (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, আমার চাচা আফলাহ পর্দার আয়াত নাযিল হওয়ার পর আমার নিকট আগমনের অনুমতি চাইলে আমি তাকে অনুমতি দিলাম না। এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমন করলে আমি তাঁর নিকট জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেনঃ তাকে অনুমতি দেবে। কেননা সে তোমার চাচা। আমি বললামঃ আমাকে তো নারী দুধ পান করিয়েছে, কোন পুরুষ তোমরা দুধ পান করায় নি। তিনি বললেনঃ তোমার দক্ষিণ হস্তে মাটিযুক্ত হোক। তাকে অনুমতি দেবে, কেননা সে তোমার চাচা।
3318রবী' ইবন সুলায়মান ইবন দাউদ (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, আবুল কুয়াইস-এর ভাই আফলাহ অনুমতি চাইলে আমি বললামঃ আমি তাকে অনুমতি দেব না, যতক্ষণ না রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট হতে অনুমতি পাই। পরে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমন করলে আমি তাকে বললামঃ আবুল কুয়াইস-এর ভাই আফলাহ্ এসে অনুমতি চাচ্ছিল। আমি তাকে অনুমতি দিতে অস্বীকার করলাম। তিনি বললেনঃ তাকে অনুমতি দেবে, কেননা সে তোমার চাচা। আমি বললামঃ আমাকে তো দুধ পান করিয়েছে আবুল কুয়াইস-এর স্ত্রী, কোন পুরুষ তো আমাকে দুধ পান করায় নি। তিনি বললেনঃ তাকে অনুমতি দেবে, কেননা সে তোমার চাচা।
3319ইউনুস ইবন আবদুল আ'লা (রহঃ) ... মাখরামা ইবন বুকায়র তার পিতার সূত্রে বলেন, আমি হুমাইদ ইবন নাফি'কে বলতে শুনেছি যে, আমি যায়নব বিনত আবু সালামাকে বলতে শুনেছি, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ সাহলা বিনত সুহায়াল (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি আবু হুযায়ফা-এর চেহারায় ক্রোধের চিহ্ন দেখতেছি, আমার নিকট সালিম-এর আগমনের কারণে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি তাকে দুধপান করিয়ে দাও। আমি বললামঃ সে তো দাড়িওয়ালা বয়স্ক লোক। তিনি বললেনঃ তাকে তুমি দুধ পান করিয়ে দাও। আবু হুযায়ফা-এর চেহারায় যে ক্রোধের চিহ্ন দেখতেছো তা দূর হয়ে যাবে। সাহলা (রাঃ) বলেনঃ আল্লাহর কসম! এরপর আবু হুযায়ফা (রাঃ)-এর চেহারায় আমি আর ক্রোধের চিহ্ন দেখিনি।
3320আবদুল্লাহ্ ইবন মুহাম্মদ ইবন আবদুর রহমান (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা সাহলা বিনত সুহায়াল রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে এসে বললোঃ আমি আমার নিকট সালিম এর আগমনের কারণে আবু হুযায়ফা-এর চেহারায় ক্ৰোধের চিহ্ন দেখতেছি। তিনি বললেনঃ তাকে দুধ পান করিয়ে দাও। তিনি (সাহলা) বললেনঃ তাকে দুধ পান করাব কিভাবে, সে তো একজন বয়স্ক লোক? তিনি বললেন, আমি কি জানিনা যে সে একজন বয়স্ক পুরুষ? পরে তিনি (সাহলা) (তাকে দুধ পান করালেন এবং) এসে বললেন, যিনি আপনাকে নবী করে পাঠিয়েছেন তার কসম! এরপর আমি আবু হুযায়ফা (রাঃ)-এর চেহারায় কোন ক্ৰোধ দেখিনি, যা আমার খারাপ লাগতো।
3321আহমদ ইবন ইয়াহইয়া আবুল ওয়াযির (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু হুযায়ফা-এর স্ত্রীকে আদেশ করেছেন, আবু হুযায়ফা-এর মাওলা সালিমকে দুধ পান করাবার জন্য। তাতে আবু হুযায়ফা-এর ক্ৰোধ প্রশমিত হবে, অতএব তিনি তাকে দুধ পান করালেন, আর তখন সে একজন বয়স্ক পুরুষ। রবী'আ বলেন, আর এটা ছিল সালিম-এর জন্য বিশেষ অনুমতি।
3322হুমায়দ ইবন মাস'আদা (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাহলা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে আগমন করে আরয করলোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! সালিম আমাদের নিকট আগমন করে, পুরুষ যা বুঝে, সেও তা বুঝে। আর পুরুষ যা জানে, সেও তা জানে। তিনি বললেনঃ তাকে দুধ পান করিয়ে দাও। তাহলে তুমি তার জন্য এভাবে হারাম হয়ে যাবে। রাবী আবু মুলায়কা (রহঃ) বলেন, এক বছর যাবত আমি অপেক্ষা করলাম, তা বর্ণনা করিনি। এরপর কাসেমের সাথে সাক্ষাৎ হলে সে বললো, তা বর্ণনা করো. ভয় করো না।
3323আমর ইবন আলী (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আবৃ হুযায়ফা-এর পালকপুত্ৰ সালিম আবু হুযায়ফা এবং তার পরিবারের সাথে তাদের ঘরে ছিল। সুহায়াল কন্যা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে এসে বললোঃ পুরুষের মত সালিমও বালিগ হয়েছে। তারা যা বুঝে, সেও তা বুঝে। সে আমাদের মধ্যে যাতায়াত করে। এজন্য আমি আবু হুযায়ফা-এর মনে কিছু ক্রোধের ভাব অনুভব করি। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি তাকে দুধ পান করাও, তা হলে তুমি তার জন্য হারাম হয়ে যাবে। অতএব আমি তাকে দুধ পান করালাম। এতে আবু হুযায়ফা-এর মনে যা ছিল, তা দূর হলো। পরে আমি তাঁর খেদমতে আরয করলাম, আমি তাকে দুধ পান করিয়েছি, তাতে আবু হুযায়ফা-এর মনে যা ছিল, তা দূর হয়ে গেছে।
3324ইউনুস ইবন আব্দুল আ'লা (রহঃ) ... উরওয়া (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সকল সহধর্মিণী তাদের নিকট এ ধরনের দুধ সম্পর্কের কোন ব্যক্তির আগমনকে তারা অপছন্দ করতেন। (আয়েশা (রাঃ) ব্যতীত), অর্থাৎ বয়স্কদের দুধ সম্পর্ক। তঁরা আয়েশা (রাঃ)-কে বলতেনঃ আল্লাহর কসম! আমরা মনে করি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহলা বিনত সুহায়াল-কে যে আদেশ করেন, তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পক্ষ হতে শুধু সালিম-এর দুধ পানের ব্যাপারেই অনুমতি ছিল। আল্লাহর কসম! যেন কেউ আমাদের নিকট আগমন না করে এ দুধ সম্পর্ক নিয়ে এবং আমাদেরকে না দেখে।
3325আব্দুল মালিক ইবন শুয়ায়ব ইবন লায়াছ (রহঃ) ... আবু উবায়দা ইবন আব্দুল্লাহ ইবন যামআ সংবাদ দিয়েছেন যে, তার মাতা যায়নব বিনত আবু সালমা তাকে সংবাদ দিয়েছেন, তার মাতা রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী উম্মে সালমা বলতেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সকল স্ত্রীই তাঁদের নিকট এ দুধ সম্পর্কে প্রবেশকে অপছন্দ করতেন, তারা আয়েশা (রাঃ)-কে বলতেনঃ আল্লাহর কসম! আমরা মনে করি, ইহা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিশেষ অনুমতি, যা ছিল শুধু সালিম এর জন্য। কেউ যেন এ দুধ সম্পর্কের কারণ আমাদের নিকট আগমন না করে এবং আমাদেরকে না দেখে।
3326উবায়দুল্লাহ এবং ইসহাক ইবন মানসূর (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, জুদামা বিনত ওয়াহ্ব তাঁর নিকট বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি ইচ্ছা করেছিলাম যে, স্তন্য দানকারিণী স্ত্রীর সাথে সহবাস করতে নিষেধ করবো। পরে আমার মনে হলো যে, পারস্য এবং রোমের অধিবাসীরা এমন করে থাকে। ইসহাক (রহঃ) বলেন, তারা এমন করে, অথচ এতে তাদের সন্তানদের কোন ক্ষতি হয় না।
3327ইসমাঈল ইবন মাসউদ এবং হুমায়দ ইবন মাস'আদা (রহঃ) ... আব্দুর রহমান ইবন বিশর ইবন মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি হাদীসটিকে আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)-এর দিকে সম্পর্কিত করেছেন, তিনি বলেছেন, একদা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এ আযল সম্বন্ধে উল্লেখ করা হলে তিনি বললেনঃ এটা কি? আমরা বললামঃ কোন ব্যক্তির স্ত্রী থাকে, আর সে তার সাথে সহবাস করার সময় গৰ্ভধারণ করাকে অপছন্দ করে; অথবা তার দাসী থাকে, তার সাথে সহবাস করে এবং গর্ভধারণ অপছন্দ করে। তিনি বললেনঃ এটা না করলে তোমাদের ক্ষতি নাই। কেননা, যা নির্ধারিত আছে তা হবেই।
3328মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... আবু সাঈদ যুরাকী (রাঃ) বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আযল সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করে যে, আমার স্ত্রী স্তন্যদান করে, আমি তার গর্ভধারণ পছন্দ করি না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ জরায়ুতে যা হওয়ার নির্ধারিত আছে তা হবেই।
3329ইয়াকুব ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... হাজ্জাজ ইবন হাজ্জাজ তাঁর পিতার মাধ্যমে বর্ণনা করেন, আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি কি করে স্তন্যদানের হক আদায় করতে পারি? তিনি বললেনঃ একজন দাস অথবা দাসী দ্বারা।
3330আলী ইবন হুজুর (রহঃ) ... উকবা ইবন হারিছ (রহঃ) বলেন, আর আমি তা উকবা হতে শ্রবণ করেছি, কিন্তু আমি উবায়দের হাদীস স্মরণ রাখি। তিনি বলেন, আমি এক নারীকে বিবাহ করেছি, তার নিকট একজন কাল নারী এসে বললোঃ আমি তোমাদের উভয়কে স্তন্যদান করেছি। এরপর আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে তাঁকে সংবাদ দিলাম এবং বললামঃ আমি অমুকের কন্যা অমুককে বিবাহ করেছি। তখন এক কাও (হাবশী) নারী এসে বললঃ আমি তোমাদের উভয়কে স্তন্যদান করেছি। তিনি আমার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। আমি তার সামনে গিয়ে বললামঃ সে মিথ্যাবাদী। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাহলে তুমি কি করে তার সাথে সহবাস করছে? অথচ এ মহিলা মনে করে যে, সে তোমাদেরকে দুধপান করিয়েছে? অতএব তুমি তোমার স্ত্রীকে তোমার থেকে পৃথক করে দাও।
3331আহমদ ইবন উসমান ইবন হাকীম (রহঃ) ... বারা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমর মামার সাথে সাক্ষাৎ করলাম তখন তার সাথে একখানা ঝান্ডা ছিল। আমি বললামঃ আপনি কোথায় যাচ্ছেন? তিনি বললেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এমন এক ব্যক্তির নিকট পাঠিয়েছেন, যে ব্যক্তি তার পিতার মৃত্যুর পর তার পিতার স্ত্রীকে বিবাহ করেছে, তার গর্দন উড়িয়ে দেয়ার জন্য, অথবা তিনি বলেছেনঃ তাকে হত্যা করার জন্য।
3332আমর ইবন মানুসূর (রহঃ) ... ইয়াযীদ ইবন বারা (রহঃ) তাঁর পিতার মাধ্যমে বর্ণনা করেন, আমি আমার চাচার সাক্ষাৎ পেলাম, আর তার সাথে একটি পতাকা ছিল। আমি বললামঃ আপনি কোথায় যাচ্ছেন? তিনি বললেনঃ আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রেরণ করেছেন এমন ব্যক্তির নিকট, যে তার পিতার স্ত্রীকে বিবাহ করেছে। তিনি আমাকে আদেশ করেছেন তার গর্দন উড়িয়ে দিতে, এবং তার মাল ছিনিয়ে নিতে।
3333মুহাম্মদ ইবন আব্দুল আ'লা (রহঃ) ... আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আওতাস' নামক স্থানে একদল সৈন্য পাঠালেন। তারা শত্রু সৈন্যদের সাথে মুকাবিলা করে তাদের উপর বিজয় লাভ করলেন, তাদের মহিলাদেরকে বন্দী করলেন, আর তাদের মুশরিক স্বামী ছিল। মুসলিমগণ তাদের সাথে সহবাস করা হতে বিরত রইলেন, তখন আল্লাহ তা'আলা আয়াত-এ নাযিল করলেনঃ وَالْمُحْصَنَاتُ مِنْ النِّسَاءِ إِلَّا مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ অর্থঃ নারীদের মধ্যে তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসী ব্যতীত সকল সধবা তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ। (সূরা নিসাঃ ২৪)। অর্থাৎ এরা তোমাদের জন্য হালাল, তবে তাদের ইদ্দতপূর্ণ হওয়ার পর।
3334উবায়দুল্লাহ ইবন সাঈদ (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিগার করতে নিষেধ করেছেন।
3335হুমায়দ ইবন মাস'আদা (রহঃ) ... ইমরান ইবন হুসাইন (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইসলামে জলব, জনব, এবং শিগার নেই। আর যে ব্যক্তি লুট করে কিছু আত্মসাৎ করে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।
3336আলী ইবন মুহাম্মদ ইবন আলী (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ইসলামে জলব, জনাব এবং শিগার নেই। আবু আব্দুর রহমান বলেন, এটা অত্যন্ত ভুল। সঠিক হলো বিশর -এর বর্ণনা।
3337হারূন ইবন আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিগার করতে নিষেধ করেছেন। আর শিগার হলো কোন ব্যক্তি তার কন্যাকে অন্য একজনের নিকট বিবাহ দেয় এ শর্তে যে, সে ব্যক্তি তার কন্যাকে এ ব্যক্তির নিকট বিবাহ দিবে। আর এ উভয়ের মধ্যে কোন মাহর ধার্য হবে না।
3338মুহাম্মদ ইবন ইবরাহীম এবং আব্দুর রহমান ইবন মুহাম্মদ ইবন সাল্লাম (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিগার করতে নিষেধ করেছেন। রাবী উবায়দুল্লাহ (রহঃ) বলেন, শিগার হলো কোন ব্যক্তি তার কন্যাকে এ শর্তে বিবাহ দেবে যে, ঐ ব্যক্তি তার বোনকে এ ব্যক্তির নিকট বিবাহ দেবে।
3339কুতায়বা (রহঃ) ... সাহল ইবন সা'দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, একজন মহিলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি এসেছি নিজেকে আপনাকে দান করার জন্য। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার প্রতি দৃষ্টি দিলেন, তাঁর দৃষ্টিকে তিনি উপরে উঠালেন, এরপর নীচু করলেন। তারপর তিনি তাঁর মস্তক নীচু করে রইলেন। মহিলাটি যখন দেখলো, তিনি তার ব্যাপারে কিছুই ফয়সালা করছেন না, তখন সে বসে পড়লো। এসময় তাঁর সাহাবীদের থেকে এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! যদি এ মহিলার আপনার প্রয়োজন না থাকে, তবে তাকে আমার নিকট বিবাহ দিন। তিনি বললেনঃ তোমার নিকট কিছু আছে কি? সে বললোঃ না। আল্লাহর কসম! আমি কিছুই পেলাম না। তিনি বললেনঃ দেখ যদি একটি লোহার আংটিও পাও। সে ব্যক্তি চলে গেল, এরপর ফিরে এসে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! না, একটি লোহার আংটিও পেলাম না, কিন্তু এ তাহবন্দটি আছে, তাকে এর অর্ধেক দিতে পারি। সাহল (রাঃ) বলেন, তার কোন চাদরও ছিল না। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার এ তহবন্দ দিয়ে কি করবে। যদি তুমি ইহা পরিধান কর, তাহলে তার গায়ে এর কিছুই থাকবে না। আর যদি সে পরে, তবে তোমার গায়ে কিছু থাকবে না। তখন ঐ লোকটি অনেক্ষণ বসে রইলো। এরপর ঐ ব্যক্তি দাঁড়িয়ে গেল এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বিষন্ন দেখতে পেলেন। তারপর তাকে ডাকতে আদেশ করলে তাকে ডাকা হলো। সে আসলে তিনি বললেনঃ তোমার নিকট কুরআনের কিছু আছে কি ? সে বললোঃ আমার নিকট অমুক সূরা, অমুক সূরা রয়েছে, আর তা গুণে গুণে বললো। তিনি বললেনঃ তুমি কি তা মুখস্ত পড়তে পার? সে বললোঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ কুরআনের যে অংশ তোমার মুখস্ত আছে, তার বিনিময় আমি এ মহিলাকে তোমার অধিকারে দিয়ে দিলাম।
3340কুতায়বা (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু তালহা (রাঃ) উম্মে সুলায়মকে বিবাহ করেছে এবং তাদের মধ্যকারী মাহর ছিল ইসলাম। উম্মে সুলায়ম আবু তালহার পূর্বেই ইসলাম গ্ৰহণ করে। আবু তালুহা তাকে বিবাহের পয়গাম দিলে সে বললোঃ আমি ইসলাম গ্ৰহণ করেছি। যদি তুমি ইসলাম গ্রহণ কর, তাহলে আমি তোমাকে বিবাহ করবো। সে ইসলাম গ্ৰহণ করলে এটাই তাদের মাহর হিসাবে ধার্য হয় ।
3341মুহাম্মাদ ইবন নাদর ইবন মুসাবির (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু তালহা (রাঃ) উম্মে সুলায়মকে বিবাহের পয়গাম দিলে সে বললোঃ হে আবু তালহা!! আল্লাহর কসম! তোমার মত ব্যক্তিকে ফিরিয়ে দেওয়া যায় না। কিন্তু তুমি একজন কাফির, আর আমি একজন মুসলিম মহিলা। তোমাকে বিবাহ করা আমার জন্য বৈধ নয়। যদি তুমি ইসলাম গ্রহণ করা, তাহলে তা-ই আমার মাহর হবে। আমি তোমার কাছে এর অতিরিক্ত কিছুই চাই না। এরপর তিনি ইসলাম গ্রহণ করলে তা-ই তার মাহর ধার্য হলো। ছবিত (রহঃ) বলেন, আমি কখনো এমন কোন মহিলার কথা শুনি নাই, যে মাহরের ব্যাপারে উসম্মে সুলায়ম হতে উত্তম। পরে সে তার সাথে সহবাস করলে তাদের সন্তান হয়।
3342কুতায়বা (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফিয়া (রাঃ)-কে মুক্ত করে দিলেন, আর এটাকেই তিনি তাঁর মাহর ধার্য করলেন।
3343মুহাম্মদ ইবন রাফে' (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফিয়্যা (রাঃ)-কে আযাদ করে দিলেন, আর এই মুক্ত করাকে তার মাহর ধার্য করলেন-এ শব্দ ভাষ্য মুহাম্মদ (রহঃ)-এর।
3344ইয়াকুব ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আবু মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিন ধরনের লোক রয়েছে, যার দুই গুণ বিনিময় দেওয়া হবে। এক ব্যক্তি যার একটি দাসী রয়েছে, তাকে সে শিষ্টাচার শিক্ষা দিয়েছে এবং উত্তম ভাবে শিক্ষা দিয়েছে এবং তাকে ইলমে-দীন শিক্ষা দিয়েছে এবং তা উত্তম ভাবে শিক্ষা দিয়েছে। এরপর সে- তাকে মুক্ত করে বিবাহ করেছে। দ্বিতীয়ত, ঐ দাস, যে আল্লাহর হক এবং তার মনিবের হক আদায় করে। তৃতীয়ত, আহলে কিতাবদের মধ্যে যারা মু'মিন হয়।
3345হান্নাদ ইবন সারী (রহঃ) ... আবু মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তার দাসীকে মুক্ত করে বিবাহ করে, তার জন্য দ্বিগুণ প্রতিদান রয়েছে।
3346ইউনুস ইবন আব্দুল আ'লা এবং সুলায়মান ইবন দাউদ (রহঃ) ... উরওয়া ইবন যুবায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি আয়েশা (রাঃ)-কে আল্লাহর এ বাণীঃ (وَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تُقْسِطُوا فِي الْيَتَامَى فَانْكِحُوا مَا طَابَ لَكُمْ مِنْ النِّسَاءِ) অর্থঃ তোমরা যদি আশংকা কর যে, তোমরা ইয়াতীম মেয়েদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না, তবে বিবাহ করবে নারীদের থেকে যাকে তোমাদের ভাল লাগে....। (সূরা নিসাঃ ৩) সম্বন্ধে প্রশ্ন করেছিলেন। তিনি বলেন, হে আমার ভাগ্নে! আয়াতে ঐ ইয়াতীম সম্পর্কে বলা হয়েছে যে তার অভিভাবক ক্রোড়ে পালিত হচ্ছে, এবং সে তাকে তার মালে শরীক করে নেয়। এরপর তার মাল ও সৌন্দর্য তাকে আকৃষ্ট করে এবং অভিভাবক তাকে বিবাহ করতে ইচ্ছা করে। তার মাহরে ইনসাফ করা ব্যতীত এবং তাকে ঐ মাহরই দিতে চায় না, যা তাকে অন্যরা দিতে চায়। অতএব তাদের প্রতি ইনসাফ করা ব্যতীত এবং মাহরের সর্বোচ্চ হার তাদেরকে আদায় করা ব্যতীত, তাদেরকে বিবাহ করতে নিষেধ করা হয়েছে। আর তাদের ব্যতীত অন্য যে মহিলা তাদের পছন্দ হয়, তাদেরকে বিবাহ করতে আদেশ করা হয়েছে। উরওয়া (রহঃ) বলেন, আয়েশা (রাঃ) বলেছেনঃ এরপর লোকেরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাদের ব্যাপারে সমাধান দিতে বললে, আল্লাহ্ তা'আলা এ আয়াত নাযিল করেনঃ وَيَسْتَفْتُونَكَ فِي النِّسَاءِ قُلْ اللَّهُ يُفْتِيكُمْ فِيهِنَّ إِلَى قَوْلِهِ وَتَرْغَبُونَ أَنْ تَنْكِحُوهُنَّ অর্থঃ লোকেরা আপনার নিকট নারীদের বিষয়ে ব্যবস্থা জানতে চায়। বলুন, আল্লাহ তোমাদেরকে তাদের সম্বন্ধে ব্যবস্থা জানাচ্ছেন ... অথচ তোমরা তাদের বিবাহ করতে চাও...। (সূরা নিসাঃ ১২৭) আয়েশা (রাঃ) বলেন, আল্লাহ তা’আলা যা উল্লেখ করেছেন তা তিলাওয়াত করা হয় আল্লাহর কিতাবে; তাহলে প্রথম আয়াত যাতে রয়েছেঃ وَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تُقْسِطُوا فِي الْيَتَامَى فَانْكِحُوا مَا طَابَ لَكُمْ مِنْ النِّسَاءِ আয়েশা (রাঃ) বলেন, অন্য আয়াতে আল্লাহ তা'আলার বাণী হলোঃ (وَتَرْغَبُونَ أَنْ تَنْكِحُوهُنَّ) তোমাদের কারও ক্ৰোড়ে যে ইয়াতীম রয়েছে যখন সে স্বল্প মাল ও স্বল্প সৌন্দর্যশীলা হয়, তাদের প্রতি তোমাদের মন আকৃষ্ট হয় না, তখন ইয়াতীমদের মালের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তাদেরকে বিবাহ করতে নিষেধ করা হয়েছে, ইনসাফ ব্যতীত।
3347ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আবু সালামা (রহঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, আমি আয়েশা (রাঃ)-কে এব্যাপারে প্রশ্ন করেছিলাম। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাড়ে বার আওকিয়ায় বিবাহ করেছেন, আর এর পরিমাণ পাঁচশ' দিরহাম।
3348মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন মুবারক (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মধ্যে ছিলেন, তখনকার মাহর ছিল দশ আওকিয়া।
3349আলী ইবন হুজুর ইবন আয়াস ইবন মুকাতিল ইবন মুশামরিখ ইবন খালিদ (রহঃ) ... আবুল আজফা (রহঃ) বলেন, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বলেছেনঃ হুশিয়ার! তোমরা নারীর মাহরের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করো না, কেননা যদি তা দুনিয়ায় উত্তম কার্য হতো, তাহলে তোমাদের চেয়ে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার অধিক উপযুক্ত ছিলেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কোন স্ত্রীকে বা তার কন্যাদের কারও বার আওকিয়ার অধিক মাহর দেননি। কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে অধিক মাহর দান করে, শেষ পর্যন্ত ঐ স্ত্রীলোকের প্রতি ঐ ব্যক্তির অন্তরে শক্রিতার সৃষ্টি হয়। এমন কি সে বলে, তোমার জন্য আমি অনেক কষ্ট করেছি। রাবী বলেন, আমি ছিলাম জন্ম সূত্রে আরবী, তাই (عِلْقُ الْقِرْبَةِ) 'মশকের রশির অর্থ কি তা আমি বুঝি না। অপরজন তাকে বললোঃ তোমাদের যুদ্ধে যারা নিহত হয়, অথবা মারা যায়। বলা হয় যে, সে শহীদ হিসাবে মারা গেছে, সম্ভবত সে তার বাহনের পিঠে বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে, অথবা তার বাহনের পিঠে-হাওদা লাগিয়েছে স্বর্ণ ও চাঁদি দিয়ে পূর্ণ বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে। তাই তোমরা শহীদি মৃত্যু হয়েছে না বলে এরূপ বল, যেরূপ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তা হলো এইঃ যে আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয় অথবা মারা যায়, সে জগন্নাতে প্ৰবেশ করবে।
3350আব্বাস ইবন মুহাম্মদ দাওরী (রহঃ) ... উম্মে হাবীবা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁকে বিবাহ করেন, তখন তিনি ছিলেন হাবশায়। নাজ্জাশী তাকে বিবাহ দেন এবং তাঁর মাহর আদায় করেন। চার হাজার দিরহাম এবং তার নিজের পক্ষ হতে বিবাহ উপঢৌকন আদায় করেন। আর তাকে ঐ সকল দিয়ে শুরাহবীল ইবন হাসানা (রাঃ)-এর সাথে পাঠিয়ে দেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিকট কিছুই পাঠাননি। আর তাঁর অন্যান্য স্ত্রীদের মাহর ছিল চারশত দিরহাম।
3351মুহাম্মদ ইবন সালামা এবং হারিছ ইবন মিসকীন (রহঃ) ... আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আব্দুর রহমান ইবন আউফ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে উপস্থিত হলেন, তখন তাব শরীরে বিবাহের সুগন্ধির চিহ্ন অবশিষ্ট ছিল। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করলে তিনি জানালেন যে, তিনি এক আনসারী রমণীকে বিবাহ করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাকে কত মাহর দান করেছ? তিনি বললেনঃ একদানা পরিমাণ স্বর্ণ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ একটা ছাগল দ্বারা হলেও ওয়ালীমা কর।
3352ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আব্দুল আযীয ইবন সুহায়ব (রহঃ) বর্ণনা করেন যে, আমি আনাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, আব্দুর রহমান ইবন আউফ (রাঃ) বলেছেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আমাকে দেখলেন, তখন আমার মধ্যে ছিল বিবাহের খুশি। আমি বললামঃ আমি এক আনসারী রমণীকে বিবাহ করেছি। তিনি বললেনঃ তাকে কত মাহর দিয়েছ ? আমি বললামঃ একদানা পরিমাণ স্বর্ণ।
3353হিলাল ইবন আলী (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবন আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে রমণীকে বিবাহ দেয়া হয়েছে মাহরের বিনিময়ে অথবা দানে-বিবাহের আকাদের পূর্বে, তা তারই; আর যা আকদের পরে দেয়া হয়, তা যে দান করেছে তার এবং পুরুষকে যা দ্বারা সম্মানিত করা হয়, তার কন্যা বা বোন তার হকদার।
3354আব্দুর রহমান ইবন মুহাম্মদ ইবন আব্দুর রহমান (রহঃ) ... আলকামা এবং আসওয়াদ (রহঃ) হতে বর্ণিত, তারা বলেন, আব্দুল্লাহ (রাঃ)-এর নিকট এ মর্মে একটা মামলা আনা হলো যে, এক ব্যক্তি জনৈক রমণীকে বিবাহ করেছে, অথচ সে তার কোন মাহর ধার্য করেনি। আর সে ব্যক্তি সহবাস করার পূর্বেই মারা গেছে। আব্দুল্লাহ (রাঃ) বললেন, তোমরা লোকদের জিজ্ঞাসা কর তোমরা কি উক্ত রমণীর মধ্যে কোন চিহ্ন দেখতে পোচ্ছ ? তারা বললোঃ হে আবু আব্দুর রহমান! আমরা তার মধ্যে কোন চিহ্ন পাচ্ছি না। তিনি বললেন, আমি আমার জ্ঞান অনুযায়ী বলছি, যদি তা সঠিক হয়, তবে তা আল্লাহর পক্ষ হতে। আর তার মাহর হলো তার মত রমণীদের মাহরের মত। তা হতে বেশীও হবে না এবং কমও হবে না। সে মীরাছ পাবে, এবং তার ইদ্দত পালন করতে হবে। আশজা গোত্রের এক ব্যক্তি দাড়িয়ে বললোঃ আমাদের এক মহিলার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনই ফয়সালা দেন যার নাম ছিল বিরওয়া বিনত ওয়াশিক। সে এক পুরুষকে বিবাহ করেছিল এবং সহবাসের পূর্বেই তার স্বামী ইনতিকাল করে। তার জন্যও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার মত মহিলার মাহরের মত মাহর ধাৰ্য করেন। আর তার জন্য মীরাছ এবং ইদ্দত পালনও ধার্য করেন। একথা শুনে আব্দুল্লাহ (রাঃ) হস্তদ্বয় উত্তোলন করে তাকবীর অর্থাৎ আল্লাহু আকবার বলেন। আবু আব্দুর রহমান (রহঃ) বলেন, এ, হাদীসে যায়দি ব্যতীত অ্যার কাউকেও আসওয়াদের নাম উল্লেখ করতে শুনিনি।
3355আহমদ ইবন সুলায়মান (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তার নিকট এক মহিলার মোকাদ্দামা উপস্থাপন করা হলো, যাকে একজন পুরুষ বিবাহ করে ইনতিকাল করে। আর তার জন্য কোন মাহরাও ধার্য করেনি এবং তার সাথে সহবাসও করেনি। লোকেরা তার নিকট প্রায় একমাস যাবত যাতায়াত করতে লাগলো। তিনি তাকে কোন সমাধান দিচ্ছিলেন না। এরপর তিনি বললেন, আমার মতে তার জন্য তার মত রমণীর মাহর হবে; বেশীও না এবং কমও না। আর সে মীরাছ পাবে এবং তাকে ইদ্দত পালন করতে হবে। তখন মাকাল ইবন সিনান আশজয়ী (রাঃ) সাক্ষ্য দিলেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিরওয়া বিনত ওয়াশিক-এর ব্যাপারে আপনার মতই রায় দিয়েছিলেন।
3356ইসহাক ইবন মানসূর (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি কোন এক মহিলাকে বিবাহ করে মৃত্যুবরণ করে, সে তার জন্য কোন মাহরও ধাৰ্য করেনি এবং তার সাথে সহবাসও করেনি। এ মহিলা সম্পর্কে তিনি বলেন, তাকে মাহর দিতে হবে এবং তাকে ইদ্দত পালন করতে হবে এবং সে মীরাছও পাবে। মাকাল ইবন সিনান (রাঃ) বলেন, আমি শুনেছি, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিরওয়া বিনত ওয়াশিকের ব্যাপারে এরূপ ফয়সালা দিয়েছিলেন।
3357ইসহাক ইবন মানসূর (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত রয়েছে।
3358আলী ইবন হুজর (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তার নিকট একদল লোক এসে বললোঃ আমাদের এক ব্যক্তি কোন মাহর ধার্য না করে এক রমণীকে বিবাহ করে মৃত্যুবরণ করলো এবং সে তার সাথে সহবাসও করেনি। আব্দুল্লাহ (রাঃ) বললেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইনতিকালের পরে এর চাইতে কোন কঠিন ব্যাপারে আমাকে প্রশ্ন করা হয়নি। তোমরা আমাকে বাদ দিয়ে অন্য কারও নিকট যাও। তারা একমাস যাবত এ ব্যাপারে তার নিকট যাতায়াত করতে রইলো। এরপর তারা তাঁকে বললোঃ আপনাকে জিজ্ঞাসা না করে আর কাকে জিজ্ঞাসা করবো? আপনি হলেন এ শহরে- মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নেতৃস্থানীয় সাহাবীদের অন্যতম। আপনাকে ব্যতীত আর কাউকেও আমরা পাচ্ছি না। তিনি বললেন, আচ্ছা! এ ব্যাপারে আমার চিন্তায় যা আসে, তা আমি বলছিঃ যদি তা সঠিক হয় তবে তা এক আল্লাহর পক্ষ হতে, আর যদি ভুল হয়, তবে তা আমার পক্ষ হতে, আর শয়তানের পক্ষ হতে। আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূল এ ব্যাপারে নির্দোষ। আমার মতে, তার জন্য মাহরে মিছাল হবে, কোন প্রকার কম ও বেশী ব্যতীত, সে মীরাছ পাবে এবং তাকে চার মাস দশ দিন ইদ্দত পালন করতে হবে। তিনি বললেনঃ এ ফয়সালা আশজা গোত্রের কয়েকজন লোক শুনলো এবং তারা দাঁড়িয়ে বললোঃ আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি, আপনি এমন ফয়সালা দিলেন, যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মধ্যে বিরওয়া বিনত ওয়াশিক নাম্নী এক মহিলার ব্যাপারে ফয়সালা দিয়েছিলেন। আব্দুল্লাহ (রাঃ)-কে সেদিন যেমন আনন্দিত দেখা গিয়েছিল, তাঁর ইসলাম গ্রহণের দিন ব্যতীত আর কোন দিন এত আনন্দিত দেখা যায়নি।
3359হারূন ইবন আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... সাহল ইবন সা'দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এক মহিলা এসে বললঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আমাকে আপনার জন্য দান করলাম। এ কথা বলে সে অনেক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলো। তখন এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললোঃ যদি আপনার তার প্রয়োজন না থাকে, তবে তাকে আমার নিকট বিবাহ দিন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার নিকট কি কিছু আছে? সে বললোঃ আমার নিকট কিছুই নেই। তিনি বললেনঃ তালাশ করে দেখ যদি একটা লোহার আংটিও পাও; সে ব্যক্তি তালাশ করে কিছুই পেল না, তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ তোমার কি কুরআনের কিছু অংশ জানা আছে? সে ব্যক্তি কয়েকটি সূরার নাম নিয়ে বললোঃ এ, এ সূরা। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমাকে তার সাথে বিবাহ দিলাম তোমার কুরআনের যা জানা আছে, তার উপর।
3360মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... নুমান ইবন বশীর (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। ঐ ব্যক্তি সম্বন্ধে, যে তার স্ত্রীর বাঁদীর সাথে সহবাস করেছিল। তিনি বললেনঃ যদি সে তাকে তার জন্য হালাল করে থাকে, তবে আমি তাকে একশত কোড়া লাগাব। আর যদি সে তা তার জন্য হালাল না করে থাকে, তবে আমি তাকে রজম করব।
3361মুহাম্মাদ ইবন মা'মার (রহঃ) ... নু'মান ইবন বশীর (রাঃ) হতে বর্ণিত, আব্দুর রহমান ইবন হুনায়ন কুরকুর নামক এক ব্যক্তি তার স্ত্রীর বাদীর সাথে সঙ্গমে লিপ্ত হলে নুমান ইবন বশীর (রাঃ)-এর নিকট তার বিচার আনা হলো- তিনি বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ফয়সালা অনুযায়ী তোমার ফয়সালা করবো। যদি সে তোমার জন্য তা বৈধ করে থাকে, তাবে তোমাকে বেত্ৰাঘাত করবো, আর যদি সে তোমার জন্য তা বৈধ না করে থাকে, তবে তোমাকে প্রস্তরাঘাতে মেরে ফেলবো। দেখা গেল, সে তা তার জন্য বৈধ করেছিল। সে জন্য তিনি একশত কোড়া লাগালেন। কাতাদা (রহঃ) বলেনঃ আমি এ ব্যাপারে হাবীব ইবন সালিম-এর নিকট লিখলে, তিনিও আমার নিকট এরূপই লিখেন।
3362আবু দাউদ (রহঃ) ... নুমান ইবন বশীর (রাঃ) হতে বর্ণিত, যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর বাদীর সাথে সঙ্গমে লিপ্ত হয়, তার সম্বন্ধে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি সে স্ত্রী বাদীকে তার জন্য বৈধ করে থাকে, তবে তাকে একশত কোড়ার আঘাত কর, আর যদি সে তা তার জন্য বৈধ না করে থাকে, তবে তাকে রজম কর।
3363মুহাম্মাদ ইবন রাফে' (রহঃ) ... সালামা ইবন মুহাব্বাক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ ব্যক্তির ব্যাপারে ফয়সালা দিয়েছিলেন, যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর বাঁদীর সাথে সঙ্গমে লিপ্ত হয়েছে, যদি সে ব্যক্তি তার প্রতি বল প্রয়োগ করে থাকে, তবে এ বাঁদী আযাদ হয়ে যাবে এবং ঐ ব্যক্তির উপর ঐ বৗদীর মালিককে এর মত আর একটি দিতে হবে। আর যদি ঐ বাঁদী, ঐ ব্যক্তির অনুগত হয়ে থাকে তা হলে ঐ বাঁদী ঐ ব্যক্তিরই হয়ে যাবে। সে ব্যক্তির উপর ঐ বাঁদীর মালিককে আর একটা বাঁদী দেয়া গুয়াজিব হবে।
3364মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন বযী (রহঃ) ... সালামা ইবন মুহাব্বাক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি তার স্ত্রীর বাঁদীর সাথে সহবাস করলো, এ সংবাদ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট পৌঁছলে তিনি বললেনঃ যদি ঐ ব্যক্তি তাকে বল প্রয়োগ করে থাকে, তবে ঐ বাঁদী ঐ ব্যক্তির মাল দ্বারা মুক্ত হয়ে যাবে, এবং তার উপর ঐ বাঁদীর মালিকের জন্য এমন একটি বাদী দেয়া ওয়াজিব হবে।
3365আমর ইবন আলী (রহঃ) ... হাসান এবং আব্দুল্লাহ নামক মুহাম্মদের পুত্রদ্বয় তাদের পিতার মাধ্যমে বর্ণনা করেন, আলী (রাঃ)-এর নিকট সংবাদ পৌঁছালো যে, এক ব্যক্তি মুতআ কোন প্রকার ক্ষতি মনে করে না, তখন তিনি বললেনঃ তুমি একজন পথভ্রষ্ট লোক। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তা হতে নিষেধ করেছেন এবং গৃহপালিত গাধার গোশত হতে, খায়বারের দিন।
3366মুহাম্মাদ ইবন সালামা এবং হারিস ইবন মিসকীন (রহঃ) ... আলী ইবন আবূ তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বারের দিন নারীদের সাথে মুত'আ করা এবং গৃহপালিত গাধার গোশত নিষেধ করেছেন।
3367আমর ইবন আলী, মুহাম্মাদ ইবন বাশশার এবং মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না (রহঃ) ... মালিক ইবন আনাস অবহিত করেছেন যে, ইবন শিহাব (রহঃ) তাকে অবহিত করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনু আলীর দুই ছেলে আবদুল্লাহ এবং হাসান তাকে অবহিত করেছেন যে, তাদের পিতা মুহাম্মাদ ইবন আলী তাদের অবহিত করেছেন। আলী ইবন আবূ তালিব (রাঃ) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বারের দিন মেয়েদের সাথে মুত'আ করা হতে নিষেধ করেছেন। ইবন মুসান্না (রহঃ) বলেছেনঃ হুনায়নের দিন। তিনি বলেন, আবদুল ওয়াহহাব তার কিতাব থেকে আমাদের নিকট এমনই বর্ণনা করেছেন।
3368কুতায়বা (রহঃ) ... রবী' ইবন সাবরা জুহানী (রহঃ) তার পিতার মাধ্যমে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুত'আর অনুমতি দিলে আমি আর এক ব্যক্তি বনূ আমরের এক মহিলার নিকট গেলাম এবং তার নিকট আমাদের নিজেদের উপস্থাপন করলাম। সে বললোঃ আমাকে কি দেবে? আমি বললামঃ আমার চাদর। আমার সাথীও বললেন, আমার চাদর দিব। আর আমার সাথীর চাদরখানা ছিল আমার চাদর হতে উত্তম। আর আমি ছিলাম আমার সাথী হতে অধিক যুবক। যখন সে আমার সাথীর চাদরের প্রতি লক্ষ্য করলো, তখন ঐ চাদর তার নিকট ভাল লাগল। আর যখন আমার দিকে লক্ষ্য করলো, তখন আমি তার চোখে ভালবোধ হলাম। এরপর সে বললঃ তুমি এবং তোমার চাদরই আমার জন্য যথেষ্ট। আমি তার সঙ্গে তিন রাত অবস্থান করলাম, পরবর্তী সময়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যার নিকট এ মুত'আর নারী আছে, সে যেন তার পথ ছেড়ে দেয় (মুক্ত করে দেয়)।
3369মুজাহিদ ইবন মূসা (রহঃ) ... মুহাম্মদ ইবন হাতিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হালাল এবং হারাম-এর মধ্যে ব্যবধান হলো দফ বাজান এবং বিবাহের সংবাদ প্রচার করা।
3370মুহাম্মদ ইবন আব্দুল আ'লা (রহঃ) ... মুহাম্মদ ইবন হাতিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ হালাল এবং হারাম-এর মধ্যে ব্যবধান হলো - বিবাহের প্রচার।
3371আমর ইবন আলী এবং মুহাম্মদ ইবন আব্দুল আ'লা (রহঃ) ... হাসান (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, আকীল ইবন আবু তালিব (রাঃ) জাশাম গোত্রের এক রমণীকে বিবাহ করলে তাদের মিল মহব্বত এবং সন্তানের জন্য দু’আ করা হলো। আকীল বললেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেমন বলেছেন, তোমরা তেমন বলঃ (بَارَكَ اللَّهُ فِيكُمْ وَبَارَكَ لَكُمْ) অর্থাৎ আল্লাহ তোমাদের মাঝে বরকত দান করুন এবং তোমাদের জীবন প্রাচুর্যময় করুন।
3372কুতায়াবা (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুর রহমানের শরীরে কুসুম রংয়ের চিহ্ন দেখতে পেয়ে বললেনঃ এটা কি? তিনি বললেনঃ আমি একদানা পরিমাণ স্বর্ণের উপর এক মহিলাকে বিবাহ করেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহ্ তোমাকে বরকত দিন, একটা বকরী দ্বারা হলেও ওয়ালীমা কর।
3373আবু বকর ইবন নাফি' (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আবদুর রহমান ইবন আউফ (রাঃ) আগমন করলেন, তখন তাঁর গায়ে যাফরানের চিহ্ন ছিল। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার কী অবস্থা? তিনি বললেনঃ আমি এক রমণীকে বিবাহ করেছি। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ মাহর কত দিয়েছ? তিনি বললেনঃ একদানা ওজনের স্বর্ণ। তিনি বললেনঃ একটি বাকরী দ্বারা হলেও ওয়ালীমা কর।
3374আহমদ ইবন ইয়াহয়া ইবন ওযীর ইবন সুলায়মান (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আব্দুর রহমান ইবন আউফ (রাঃ)-এর দেহে হলুদ রংয়ের চিহ্ন দেখে জিজ্ঞাসা করলেনঃ তোমার অবস্থা কী? তিনি বললেনঃ আমি এক আনসারী রমণীকে বিবাহ করেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ একটি বকরী দ্বারা হলেও ওয়ালীমা কর।
3375আমর ইবন মানুসূর (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আলী (রাঃ) বলেছেন, আমি ফাতিমা (রাঃ)-কে বিবাহ করার পর বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! তাকে আমার কাছে পাঠিয়ে দিন। তিনি বললেনঃ তাকে কিছু দাও। আমি বললামঃ আমার কাছে কিছু নেই। তিনি বললেনঃ তোমার হাতমী লৌহ বর্মটি কোথায়? আমি বললামঃ তা আমার নিকট রয়েছে। তিনি বললেনঃ তাকে তাই দাও।
3376হারূন ইবন ইসহাক (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আলী (রাঃ) ফাতিমা (রাঃ)-কে বিবাহ করলেন, তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ তাকে কিছু দাও। তিনি বললেনঃ আমার নিকট কিছু নেই। তিনি বললেনঃ তোমার হাতমী বর্মটি কোথায়?
3377ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বিবাহ করেন শাওয়াল মাসে, আর আমি তার কাছে যাই শাওয়াল মাসেই। তার কোন স্ত্রী আমার চেয়ে অধিক ভাগ্যবতী-তার নিকট?
3378মুহাম্মদ ইবন আদম (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ছয় বৎসর বয়সে বিবাহ করেন এবং আমার সঙ্গলাভ করেন নয় বৎসর বয়সে, তখন আমি মেয়েদের সাথে খেলাধূলা করতাম।
3379আহমদ ইবন সা'দ ইবন হাকাম ইবন আবু মরিয়াম (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বিবাহ করেন ছয় বছর বয়সে। আর তিনি তার সাথে বাসর করেন নয় বছর বয়সে।
3380যিয়াদ ইবন আইউব (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বারের যুদ্ধ করলেন, আমরা তাঁর সাথে ফজরের নামায আদায় করলাম কিছু অন্ধকারে থাকতে। এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওয়ার হলেন, এবং আবু তালহাও আরোহণ করলেন, আর আমি ছিলাম আবু তালহার পিছনে উপবিষ্ট। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বারের পথ ধরলেন। আমার হাঁটুদ্ধয় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উরুদ্বয়ে ছিল। আর আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উরুর শুভ্রতা প্রত্যক্ষ করছিলাম। তিনি যখন সেখানকার জনপদে প্রবেশ করলেন, তখন "আল্লাহ আকবার" বললেন, এবং তিনবার বললেনঃ خَرِبَتْ خَيْبَرُ إِنَّا إِذَا نَزَلْنَا بِسَاحَةِ قَوْمٍ فَسَاءَ صَبَاحُ الْمُنْذَرِينَ অর্থঃ খায়বার বরবাদ হয়েছে। আমরা যখন কোন কাওমের আঙ্গীনায় অবতরণ করি, তখন সতর্কীকৃতদের প্রভাত কতই না মন্দ হয়ে থাকে! বর্ণনাকারী বলেন, এরপর যখন লোকেরা তাদের কাজে বের হলো, আব্দুল আযীয (রহঃ) বলেন, তখন তারা বললোঃ মুহাম্মদ! আব্দুল আযীয (রহঃ) বলেনঃ আমাদের কোন সাথী বললোঃ আর সেনাবাহিনীও। যেহেতু আমরা যুদ্ধ করে খায়বার জয় করেছিলাম, তাই সমস্ত কয়েদী একত্রিত করা হলো। দাহিয়া (রাঃ) এসে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমাকে একটি বাঁদী দান করুন। তিনি বললেনঃ যাও, একটা বেছে নাও। তিনি সফিয়্যা বিনত হুয়াই (রাঃ)-কে বেছে নিলেন। এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে এসে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! বনী নযীর ও কুরাইযার সর্দার সফিয়া বিনত হুয়ায়কে দাহিয়া (রাঃ)-কে দিলেন? তিনি তো আপনার জন্য ব্যতীত কারও জন্য উপযুক্ত নয়। তিনি বললেনঃ তাকে ডাক, ফলে তিনি তাকে নিয়ে আসলেন, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিকে দৃষ্টিপাত করলেন, তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি একে ব্যতীত অন্য একটা বাঁদী কয়েদীদের মধ্য হতে বেছে নাও। রাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে মুক্ত করে দিয়ে বিবাহ করলেন। সাবিত (রহঃ) তাকে বললেনঃ হে আবু হামযা! তাকে কি মাহর দেয়া হয়েছিল? তিনি বললেনঃ তার নিজেকেই, কেননা, তিনি তাকে আযাদ করেন এবং পরে তাকে বিবাহ করেন। তিনি বলেন, এমনকি, পথেই উম্মে সুলায়ম (রাঃ) তাকে নববধূর সাজে সজ্জিত করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত করেন। ভোরে তাঁরা বর কনে হিসেবে বের হলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ যার নিকট কিছু আছে সে যেন তা নিয়ে আসে এবং তিনি একটি চামড়ার দস্তরখান বিছিয়ে দিলেন। তখন কেউ পনির নিয়ে আসলো, কোন ব্যক্তি খুরমা নিয়ে আসলো, কেউ ঘি আনলো। এটা দ্বারা হায়াসা (এক প্রকার সুস্বাদু খাদ্য) তৈরি করলেন। এর দ্বারা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওয়ালীমা করা হল।
3381মুহাম্মাদ ইবন নাসর (রহঃ) ... হুমায়াদ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি আনাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বারের পথে হুয়াই ইবন আখতাবের কন্যা সফিয়া (রাঃ)-এর সাথে তিন দিন অতিবাহিত করেন। এরপর তিনি ঐ সকল লোকের মধ্যে পরিগণিত হন, যাদের ব্যাপারে পর্দা করা হতো।
3382আলী ইবন হুজুর (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। তিনি আনাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বার এবং মদীনার মধ্যস্থলে তিনদিন সফিয়্যা বিনত হুয়াই (রাঃ)-এর সংগে কাটান। আমি তার ওয়ালীমার জন্য মুসলিমদের দাওয়াত দিলাম, আর তাতে গোশত ও রুটি কিছুই ছিল না। তিনি চামড়ার দস্তরখান বিছাতে আদেশ করলেন, লোকেরা তার উপর খেজুর, পনির, ঘি রাখতে লাগলো, এটাই ছিল তাঁর ওয়ালীমা। মুসলিমগণ বলতে লাগলো, তিনি উম্মাহাতুল মুমিনীনের একজন না তাঁর দাসীদের একজন? তারা বললোঃ যদি তার সামনে পর্দা লটকান হয়, তবে তিনি উম্মাহাতুল মু'মিনীনদের অন্তর্ভুক্ত। আর যদি পর্দা না করা হয়, তবে তিনি বাঁদীদের একজন। যখন প্রত্যাবর্তনের সময় হলো, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সওয়ারীর হাওদার পেছনে তাঁর বসার ব্যবস্থা করা হলো এবং অন্যান্য লোক ও তার মধ্যে পর্দা ঝুলানো হলো।
3383আলী ইবন হুজর (রহঃ) ... আমির ইবন সা'দ (রহঃ) বলেন, এক বিবাহ মজলিসে আমি কুরজা ইবন কা'ব এবং আবূ মাসউদ (রাঃ) আনসারীর নিকট গেলাম, হঠাৎ দেখা গেল ছোট ছোট বালিকারা গান গাচ্ছে। আমি বললামঃ আপনারা উভয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বদরী সাহারী। অথচ আপনাদের সামনে এমন করা হচ্ছে! তারা বললেনঃ যদি ইচ্ছা হয় আমাদের সঙ্গে বসে শোন, আর যদি চাও চলে যাও। আমাদেরকে বিবাহে আমোদ-ফুর্তি করার অনুমতি দেয়া হয়েছে।
3384নাসির ইবন ফারাজ (রহঃ) ... আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাতিমা (রাঃ)-কে যাহিয দান করেছিলেন- একখানা চাদর। একটা পানির পাত্ৰ (মশক) আর একটা বালিশ, যার ভিতরে ছিল ইযখির নামক তৃণ।
3385ইউনুস ইবন আব্দুল আ'লা (রহঃ) ... জাবির ইবন আব্দুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুরুষের জন্য একখানা চাদর, তার স্ত্রীর জন্য একখানা চাদর এবং তৃতীয়টি অতিথির জন্য। আর চতুর্থটি শয়তানের জন্য।
3386কুতায়বা (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ তুমি কি বিবাহ করেছ? আমি বললামঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ তোমরা কি গালিচা বানিয়েছ? আমি বললামঃ আর আমাদের জন্য গালিচা কিভাবে হবে? তিনি বললেনঃ তা হয়ে যাবে।
3387কুতায়াবা (রহঃ) ... আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার বিবাহ করে স্ত্রীর নিকট গেলেন। আনাস (রাঃ) বলেন, আমার মা উম্মে সুলায়ম হায়স তৈরি করলেন। তিনি বলেন, আমি তা নিয়ে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট যেয়ে বললামঃ আমরা মা আপনাকে সালাম বলেছেন এবং বলেছেন, ইহা আপনার জন্য আমাদের পক্ষ হতে যৎকিঞ্চিত হাদিয়া। তিনি বললেনঃ তা রাখ। এরপর তিনি কয়েকজন লোকের নাম নিয়ে বললেন, অমুক অমুক ব্যক্তিকে ডেকে আন, আর তোমার সাথে যার দেখা হয়, সকলকে ডেকে আন। তারপর আমি ডেকে আনি, তিনি যাদের নাম বলেন, এবং যাদের সাথে আমার দেখা হয়। বর্ণনাকারী বলেন, আমি আনাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলামঃ তাদের সংখ্যা কত ছিল? তিনি বলেন, তিনশত লোকের মত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ দশ দশ জন করে গোল হয়ে বস এবং প্রত্যেকে তার নিকটস্থ স্থান হতে খেতে থাক। তারা সকলে তৃপ্তি সহকারে আহার করলো। একদল যাচ্ছিল আর একদল প্রবেশ করছিল। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ হে আনাস! উঠিয়ে নাও। আমি খাবার উঠিয়ে নিলাম। আমি বুঝতে পারলাম না, যখন আমি তা উঠিয়ে নিলাম তখন অধিক ছিল, না যখন রেখেছিলাম
3388আহমদ ইবন ইয়াহয়া ইবন ওয়াযির (রহঃ) ... হুমায়দ তবীল (রহঃ) আনাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন, তিনি তাঁকে বলতে শুনেছেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরায়শ এবং আনসারদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন করে দিলেন, এ পরিপ্রেক্ষিতে তিনি সা'দ ইবন রবী' এবং আব্দুর রহমান ইবন আউফ (রাঃ)-এর মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন প্রতিষ্ঠা করলেন। তখন সা'দ (রাঃ) আবদুর রহমান (রাঃ)-কে বললেনঃ আমার যে ধন সম্পদ রয়েছে তা আপনার এবং আমার মধ্যে আধা-আধি হিসাবে ভাগ হবে। আর আমার দু’জন স্ত্রী রয়েছে। অতএব আপনি দেখুন, তাদের কোনজন আপনার অধিক পছন্দ হয় আমি তাকে তালাক দিয়ে দেব, তার ইদ্দত পূর্ণ হলে তাকে আপনি বিবাহ করবেন। আব্দুর রহমান (রাঃ) বললেনঃ আল্লাহ্ তা'আলা আপনার ধানে ও পরিবারে বরকত দান করুন। আমাকে রাস্তা বলে দিন অর্থাৎ বাজারের। তিনি অনেকক্ষণ পর বেশ কিছু ঘি এবং পনির সহ ফিরে আসলেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার শরীরে হলুদ রং দেখে জিজ্ঞাসা করলেনঃ ইহা কি? আমি বললামঃ আমি এক আনসারী রমণীকে বিবাহ করেছি। তিনি বললেনঃ একটা বকরী দ্বারা হলেও ওয়ালীমা কর।
উৎস: Sunan an Nasai
WEBREATH · 11:11
«Should I not be a thankful servant?» — Sahih al-Bukhari
Breath is one for all: everyone lives by it, whoever they are and whatever they believe. Every day at 11:11 local time people stop for sixty seconds, breathe, and thank GOD for the breath — each in their own words, each within themselves. In that minute we are One Breath.
WEBREATH — the Minute at 11:11, your own local time — we are One Breath