হাদিস
ফিরে যান

সুনানে নাসায়ী 24 · The Book of Hajj

আপনার ভাষায় এখনো কোনো অনুবাদ নেই — ইংরেজি দেখাচ্ছে

2619মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ্ ইবন মুবারক মুখাররামী (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার লোকদের সামনে খুৎবা দিলেন। তিনি বললেনঃ আল্লাহ্ তাআলা তোমাদের ওপর হজ্জ ফরয করেছেন, তখন এক ব্যক্তি বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! তা কি প্রতি বছরের জন্য? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উত্তর দেওয়া থেকে চুপ রইলেন। লোকটি তিনবার এর পুনরাবৃত্তি করলো। পরে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যদি আমি বলতাম, হ্যাঁ, তা হলে অবশ্যই তা প্রতি বছরের জন্য ফরয হয়ে যেতো। আর যদি ফরয হয়েই যেতো, তাহলে তোমরা তা আদায় করতে পারতে না। আমি যা বলি তা বলতে দাও, প্রশ্ন করে সহজ কাজকে জটিল করো না। কেননা তোমাদের পূর্বে যারা ছিল তারা সঠিক প্রশ্ন করা এবং তাদের নবীদের সাথে মতবিরােধের কারণে ধ্বংস হয়েছে। আমি যখন তােমাদেরকে কোন কাজের নির্দেশ দেই তখন তা তােমরা সাধ্যানুযায়ী পালন করাে। আর যখন কোন কাজ করতে নিষেধ করি, তখন তা পরিত্যাগ করাে।

2620মুহাম্মদ ইবন ইয়াহইয়া ইবন আবদুল্লাহ নিশাপুরী (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে বললেন, আল্লাহ তা'আলা তােমাদের ওপর হজ্জ ফরয করেছেন। তখন আকরা ইবন হাবিস তামীমী (রাঃ) বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! তা কি প্রতি বছরের জন্য? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুপ রইলেন। তারপর বললেন আমি যদি বলতাম, হ্যাঁ, তবে তা ফরয হয়ে যেত। তখন তােমরা তা শুনতেও না এবং মানতেও না। কিন্তু তােমরা জেনে রাখ, হজ্জ একবারই ফরয।

2621মুহাম্মদ ইবন আবদুল আ'লা (রহঃ) ... আবু রুযাইন (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার পিতা একজন বয়ােবৃদ্ধ লােক, হজ্জ ও উমরাহ করার ক্ষমতা তার নেই এবং বাহনে আরােহণেরও। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাহলে তুমি তােমার পিতার পক্ষ খেকে হজ্জ ও উমরাহ্ আদায় কর।

2622আবদা ইবন আবদুল্লাহু সাফফার বাসরী (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হজ্জে মাবরূরের জান্নাত ব্যতীত কোন প্রতিদান নেই। আর এক উমরাহ অন্য উমরাহর মধ্যবর্তী সময়ের জন্য গুনাহের কাফফারা হয়।

2623আমর ইবন মানসূর (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ হাজ্জে মাবরূরের প্রতিদান জান্নাত ব্যতীত আর কিছুই নয়।

2624মুহাম্মদ ইবন রাফি (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! কোন আমল সর্বোত্তম? তিনি বললেনঃ আল্লাহর ওপর ঈমান আনা। সে বললোঃ এরপর কোনটি? তিনি বললেনঃ আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা। ঐ ব্যক্তি আবার জিজ্ঞাসা করলোঃ তারপর কোনটি? তিনি বললেনঃ হজ্জে মাবরূর।

2625ঈসা ইবন ইবরাহীম ইবন মাছরুদ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিন ব্যক্তি আল্লাহর প্রতিনিধি; গাযী, হাজী ও উমরাহ্ আদায়কারী।

2626মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ্ ইবন আবদুল হাকাম (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বৃদ্ধ, অল্প বয়স্ক, দুর্বল এবং নারীদের জিহাদ হলো হজ্জ ও উমরাহ করা।

2627আবু আম্মার হুসায়ন ইবন হুরায়স মারওয়াযী (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি এই ঘরের (বায়তুল্লাহর) হজ্জ করলো, অশ্লীল কথা বললো না এবং কোন পাপ করলো না সে সদ্যজাত শিশুর মত (নিষ্পাপ) হয়ে প্রত্যাবর্তন করলো।

2628ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আয়েশা বিনত তালহা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা (রাঃ) আমাকে বলেছেন যে, আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমরা কি আপনার সাথে জিহাদে যোগদান করবো না? আমি কুরআনে জিহাদ আপেক্ষা উত্তম কোন আমলই দেখছি না। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ না, বরং অতি উত্তম জিহাদ হলো বায়তুল্লাহর হজ্জ অর্থাৎ হজ্জেমাবরূর।

2629কুতায়বা ইবন সাঈদ (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এক উমরাহ অন্য উমরাহ্ পর্যন্ত কাফফারা হয় উভয়ের মধ্যবর্তী পাপের। আর হজ্জে মাবরূর এর বিনিময় জান্নাত ব্যতীত আর কিছুই নয়।

2630আবু দাউদ (রহঃ) ... আমর ইবন দীনার (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা হজ্জ সমাপনের পর উমরা এবং উমরার পর হজ্জ করবে, কেননা তা অভাব অনটন ও পাপকে দূর করে দেয়। যেমন হাপর লোহার মরিচ দূর করে থাকে।

2631মুহাম্মদ ইবন ইয়াহইয়া ইবন আইয়ূব (রহঃ) ... আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা হজ্জ সমাপনের পর উমরাহ এবং উমরাহর পর হজ্জ আদায় করবে, কেননা তা অভাব ও পাপ এরূপ দূর করে দেয়, যেরূপ হাপর লোহা, সোনা ও রূপার ময়লা দূর করে থাকে। আর হজ্জে মাবরূরের সওয়াব জান্নাত ব্যতীত আর কিছুই নয়।

2632মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, একজন মহিলা হজ্জ মান্নত করেছিল, কিন্তু সে মৃত্যুবরণ করলো (হজ্জ করতে পারলো না)। এরপর তার ভাই রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলো। তিনি বললেনঃ তুমি কি মনে কর, যদি তোমার বোনের দেনা থাকতো তুমি কি তা আদায় করতে? সে বললোঃ হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাহলে, আল্লাহর হকও আদায় কর; কেননা তা আদায় করার অধিক উপযুক্ত।

2633ইমরান ইবন মূসা (রহঃ) ... মূসা ইবন সালামা হুযালী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, সিনান ইবন সালামা জুহানী (রাঃ)-এর স্ত্রী তাকে বললেন, যেন তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করেন যে, তার মাতা হজ্জ না করেই ইনতিকাল করেছেন। তার মাতার পক্ষ থেকে সে হজ্জ করলে তা যথেষ্ট হবে কি ? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, যদি তার কোন দেনা থাকতো আর তার পক্ষ হতে সে আদায় করতো, তা হলে কি তার মাতার পক্ষ থেকে তা আদায় হতো না। অতএব সে যেন তার মাতার পক্ষ থেকে হজ্জ আদায় করে।

2634যাকারিয়া ইবন ইয়াহইয়া (রহঃ) ... রাফে' ইবন খাদীজ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা জমিতে মুহাকালা করতাম। তৃতীয়াংশ অথবা চতুর্থাংশের বিনিময়ে কিংবা নির্দিষ্ট খাদ্যের বিনিময়ে কেরায়া দিতাম।

2635কুতায়াবা (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, খাছ'আম গোত্রের একজন মহিলা মুযদালফায় সকালে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার পিতার অতি বৃদ্ধাবস্থায় তার উপর হজ্জ ফরয হয়েছে, কিন্তু তিনি বাহনের উপর স্থির থাকতে পারেন না, এমতাবস্থায় আমি কি তার পক্ষ থেকে হজ্জ করবো? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ।

2636সাঈদ ইবন আবদুর রহমান আবু উবায়দুল্লাহ মাখিযুমী (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

2637ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আবু রাযীন উকায়লী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার পিতা একজন অতি বৃদ্ধ ব্যক্তি, হজ্জ ও উমরাহ করার মত ক্ষমতা নেই এবং আরোহণেরও। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ তুমি তোমার পিতার পক্ষ হতে হজ্জ এবং উমরাহ আদায় কর।

2638ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আবদুল্লাহ্ ইবন যুবায়র (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, খাছ'আম গোত্রের এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললোঃ আমার পিতা একজন বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তি, তিনি বাহনের উপর আরোহণে অসমর্থ অথচ তার উপর হজ্জ ফরয হয়েছে। তার পক্ষ হতে আমি হজ্জ আদায় করলে তিনি দায়মুক্ত হবে কি? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি কি তার বড় ছেলে? সে বললোঃ হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি বলো, যদি তার উপর ঋণ থাকতো তাহলে তুমি কি তা পরিশোধ করতে? সে বললোঃ হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তবে তুমি তার পক্ষ হতে হজ্জ আদায় কর।

2639আবু আসিম খুশায়শ ইবন আসরাম নাসায়ী (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার পিতা ইনতিকাল করেছেন, অথচ তিনি হজ্জ করেন নি। আমি কি তার পক্ষ হতে হজ্জ করবো । তিনি বললেনঃ তুমি বলে- যদি তার উপর ঋণ থাকতো, তাহলে তুমি কি তা আদায় করে দিতে? সে বললোঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ আল্লাহর হক আদায় করা অধিক যুক্তিযুক্ত।

2640মুজাহিদ ইবন মূসা (রহঃ) ... আবদুল্লাহ্ ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলোঃ আমার পিতার উপর হজ্জ ফরয হয়েছে, অথচ তিনি একজন অতি বৃদ্ধ লোক। তিনি বাহনের ওপর স্থির থাকতে পারেন না। যদি তাকে জোরপূর্বক (হজ্জ করতে) নিয়ে যাই, তবে ভয় হয় যে, তার মৃত্যু ঘটবে। এমতাবস্থায় আমি কি তার পক্ষ হতে হজ্জ করবো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ দেখ, যদি তার উপর ঋণ থাকতো, তবে তুমি তা আদায় করলে তার পক্ষ হতে কি তা আদায় হতো। সে বললোঃ হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ অতএব তোমার পিতার পক্ষ হতে হজ্জ আদায় করো।

2641মুহাম্মদ ইবন সালামা ও হারিছ ইবন মিসকীন (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সময় ফযল ইবন আব্বাস (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পেছনে বাহনের উপর উপবিষ্ট ছিলেন। এমন সময় খাছ'আম গোত্রের এক মহিলা এক সমস্যার সমাধান জিজ্ঞাসা করার জন্য রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসলো। তখন ফযল (রাঃ) ঐ মহিলার দিকে তাকাচ্ছিলেন আর ঐ মহিলাও তার দিকে তাকাচ্ছিলো। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফযলের চেহারা অন্য দিকে ফিরিয়ে দিলেন। তখন ঐ মহিলাটি বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার অতি বৃদ্ধ পিতার উপর হজ্জ ফরয হয়েছে, অথচ তিনি বাহনের ওপর স্থির থাকতে পারেন না। এমতাবস্থায় আমি কি তার পক্ষ হতে হজ্জ আদায় করবাে? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হ্যাঁ। এ ঘটনাটি ঘটেছিল বিদায় হজের দিন।

2642আবু দাউদ (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, খাছ'আম গোত্রের এক মহিলা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বিদায় হজ্জের দিন ফাতাওয়া চাইলো। তখন ফযাল ইবন আব্বাস (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাহনে তাঁর পেছনে আরোহী ছিলেন। সে মহিলা বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার অতি বৃদ্ধ পিতার উপর হজ্জ ফরয হয়েছে অথচ তিনি বাহনের ওপর স্থির থাকতে পারেন না। আমি তার পক্ষ হতে হজ্জ করলে তা কি আদায় হবে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ হ্যাঁ। ফযল ইবন আব্বাস ঐ মহিলার দিকে তাকাচ্ছিলেন, আর ঐ মহিলাটি ছিল সুন্দরী। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফযল (রাঃ) এর চেহারা অন্যদিকে ফিরিয়ে দিলেন।

2643আহমদ ইবন সুলায়মান (রহঃ) ... ফযল ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বাহনের উপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পেছনে উপবিষ্ট ছিলেন। এমন সময় এক ব্যক্তি তাঁর নিকট এসে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার মা তা অতি বৃদ্ধা, তাকে বাহনের উপর উঠালে তিনি স্থির থাকতে পারেন না, জোরপূর্বক তাকে উঠালে আশংকা হচ্ছে, এ কারণে তার মৃত্যু হবে। তখন রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ বলতাে! যদি তােমার মাতার ঋণ থাকতাে, তা হলে তুমি কি তা পরিশােধ করতে না? সে বললােঃ হ্যাঁ। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ 'তাহলে তুমি তােমার মাতার পক্ষ হতে হজ্জ আদায় কর।

2644ইয়াক ইবন ইবরাহীম দাওরাকী (রহঃ) .... ইবন যুবায়র (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে বললেনঃ তুমি তােমার পিতার বড় ছেলে, অতএব তুমি তােমার পিতার পক্ষ হতে হজ্জ আদায় কর।

2645মুহাম্মদ ইবন মুছান্না (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক মহিলা তার শিশু সন্তানকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দিকে তুলে ধরে বললােঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! এর জন্যও কি হজ্জ রয়েছে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, কিন্তু সওয়াব তােমারই।

2646মাহমুদ ইবন গায়লান (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক মহিলা হাওদা থেকে একটি শিশু সন্তানকে বের করে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এর জন্যও কি হজ্জ রয়েছে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, কিন্তু সওয়াব তোমার জন্য।

2647আমর ইবন মানসূর (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দিকে এক মহিলা একটি শিশু সন্তানকে উঁচু করে ধরে বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! এর জন্যও কি হজ্জ রয়েছে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, কিন্তু সওয়াব তোমার জন্য।

2648আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ ইবন আবদুর রহমান ও হারিছ ইবন মিসকীন (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ্জ করে ফেরার পথে যখন রাওহা নামক স্থানে পৌছলেন, তখন একদল লোকের সাথে তার দেখা হলো। তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ তোমরা কারা? তারা বললোঃ আমরা মুসলিম। তারা জিজ্ঞাসা করলোঃ আপনারা কারা? সাহাবায়ে কিরাম বললেনঃ ইনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। রাবী বললেনঃ এমন সময় একজন মহিলা হাওদা থেকে একটি শিশুকে বের করে জিজ্ঞাসা করলোঃ এর জন্য কি হজ্জ আছে? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হ্যাঁ, কিন্তু সওয়াব তোমার।

2649সুলায়মান ইবন দাউদ ও হারিস ইবন মিসকীন (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এক মহিলার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, আর মহিলাটি ছিল হাওদার মধ্যে এবং তার সাথে একটি শিশু ছিল। তখন সে শিশুটিকে দেখিয়ে বললোঃ এর জন্য কি হজ্জ আছে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, তবে সওয়াব তোমার জন্য।

2650হান্নাদ ইবন সারী (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে যুলকা'দা মাসের পাঁচ দিন অবশিষ্ট থাকতে বের হয়েছিলাম। হজ্জ ছাড়া আমাদের অন্য কোন উদ্দেশ্য ছিল না। আমরা যখন মক্কার নিকটবর্তী হলাম, তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদেশ করলেনঃ যার সাথে কুরবানীর পশু নেই, সে যেন বায়তুল্লাহর তাওয়াফ সমাপ্ত করে হালাল হয়ে যায়।

2651কুতায়বা (রহঃ) ... আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মদীনাবাসীরা ইহরাম বাঁধবে যুলহুলাইফ থেকে, আর সিরিয়াবাসীগণ জুহফা নামক স্থান থেকে, নজদবাসীগণ কারন' নামক স্থান হতে। আমর নিকট বর্ণনা পৌঁছেছে যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আর ইয়ামানবাসীগণ তালবিয়া পাঠ করবে ইয়ালামালাম থেকে।

2652কুতায়বা (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি মসজিদে দাঁড়িয়ে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! কোন স্থান থেকে আমাদেরকে ইহরাম বাঁধতে হবে? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ মদীনাবাসীগণ ইহরাম বঁধবে যুলহুলায়াফা থেকে। আর সিরিয়াবাসীগণ জুহাফা থেকে আর নজদবাসীগণ ‘কারন' থেকে। ইবন উমর (রাঃ) বলেন, কোন কোন সাহাবীর ধারণা যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইয়ামানবাসীগণ ইয়ালামালাম থেকে তালবিয়া পাঠ করবে। ইবন উমর (রাঃ) বলতেনঃ একথা আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে জানতে পারিনি।

2653আমর ইবন মানসূর (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনাবাসীদের জন্য 'যুল হুলায়াফা' কে মীকাত নির্ধারণ করেছেন এবং সিরিয়া ও মিশরবাসীদের জন্য 'জুহফা', ইরাকীদের জন্য 'যাতি ইরক'-কে আর ইয়ামানবাসীদের জন্য 'ইয়ালামালাম' কে।

2654রবী' ইবন সুলায়মান (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, বাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনাবাসীদের জন্য যুলহুলায়ফা, সিরিয়াবাসীদের জন্য জুহফা, নজদবাসীদের জন্য কারন, আর ইয়ামানবাসীদের জন্য ইয়ালামালাম-কে মীকাত নির্ধারণ করেছেন। তিনি বলেছেনঃ এই সকল মীকাত তো ঐ সকল স্থানের অধিবাসীদের জন্য আর ঐ সকল লোকের জন্যও যারা অন্য স্থানের বাসিন্দা, কিন্তু এসকল স্থান দিয়ে আগমন করে। আর যে ব্যক্তির পরিবার মীকাতের মধ্যে রয়েছে, তারা যে স্থান হতে ইচ্ছা করে আর এ বিধান মক্কাবাসীদের জন্যও প্রযোজ্য।

2655কুতায়াবা (রহঃ) ... সালিম (রহঃ) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মদীনাবাসীগণ তালবিয়া পাঠ করবে। যুলহুলায়াফা থেকে, সিরিয়াবাসীগণ জুহফা’ থেকে, নজদবাসীগণ কারন থেকে। আর আমি শুনিনি, কিন্তু আমাকে কেউ বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আর ইয়ামানিবাসীগণ তালবিয়া পাঠ করবে ইয়ালামালাম থেকে।

2656মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ্ ইবন আম্মার মাওসিলী (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনাবাসীদের জন্য 'যুলহুলায়াফা', সিরিয়া ও মিশরবাসীদের জন্য ‘জুহফা', ইরাকীদের জন্য 'যাতি ইরক' নাজদবাসীদের জন্য কারন এবং ইয়ামানবাসীদের জন্য 'ইয়ালামলামা'কে মীকাত নির্ধারণ করেছেন।

2657ইয়াকুব ইবন ইবরাহীম দাওরাকী (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনাবাসীদের জন্য যুলহুলায়ফা, সিরিয়াবাসীদের জন্য জুহফা, নজদবাসীদের জন্য 'কারন' এবং ইয়ামানবাসীদের জন্য 'ইয়ালামালাম'-কে মীকাত নির্ধারণ করেছেন। তিনি বলেন, এ সকল মীকাত উল্লিখিত দেশের অধিবাসীদের জন্য এবং ঐ সকল লোকের জন্যও যারা হজ্জ ও উমরার উদ্দেশ্যে এ সকল স্থান দিয়ে আগমন করে। আর এছাড়া যারা যে স্থান হতে আরম্ভ করে; এমনকি মক্কাবাসীদের জন্যও ইহা।

2658কুতায়বা (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনাবাসীদের জন্য যুল হুলায়ফা, সিরিয়াবাসীদের জন্য জুহফা, ইয়ামানবাসীদের জন্য ইয়ালামলাম, নজদবাসীদের জন্য কারন-কে মীকাত নির্ধারণ করেছেন। এ সকল স্থান ঐ সকল লোকদের জন্য এবং ঐ লোকদের জন্যও যারা এ সকল স্থান দিয়ে হজ্জ ও উমরাহর উদ্দেশ্যে আগমন করবে। ঐ সকল স্থানের অধিবাসী ব্যতীত যারা হজ্জ ও উমরাহর ইচ্ছা করে, তারা নিজ নিজ স্থান থেকে ইহরাম বঁধবে। এমনকি মক্কাবাসীরাও তালবিয়া পাঠ করবে নিজ নিজ স্থান থেকে।

2659ঈসা ইবন ইবরাহীম মাছরূদ (রহঃ) ... ইবন শিহাব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ্ ইবন উমরের পুত্র উবায়দুল্লাহ্ আমাকে বলেছেন যে, তার পিতা বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুল হুলায়াফার বায়দা নামক স্থানে রাত্রি যাপন এবং সেখানকার মসজিদে সালাত আদায় করেন।

2660আবদা ইবন আবদুল্লাহ্ (রহঃ) ... আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি তখন যুলহুলায়ফার মুআররাস নামক স্থানে ছিলেন। এমন সময় তার নিকট ওহী আসলো এবং তাঁকে বলা হলো, আপনি বরকতপূর্ণ উপত্যকায় আছেন।

2661মুহাম্মদ ইবন সালামা ও হারিছ ইবন মিসকীন (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুল হুলায়ফার ময়দানে উট বসালেন এবং সেখানে সালাত আদায় করলেন।

2662ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বায়দা নামক স্থানে সালাত আদায় করলেন। অতঃপর বাহনে সওয়ার হয়ে বায়দার পাহাড়ে আরোহণ করলেন এবং জোহরের সালাত আদায় করে হজ্জ ও উমরার ইহরাম বঁধলেন।

2663মুহাম্মদ ইবন সালামা ও হারিছ ইবন মিসকীন (রহঃ) ... আসমা বিনত উমায়াস (রাঃ) বর্ণনা করেন, তিনি মুহাম্মদ ইবন আবু বকর সিদ্দীককে বায়দায় প্রসব করেন। আবু বকর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ সংবাদ জানালে তিনি বলেনঃ তাকে বল, যেন সে গোসল করে, এরপর ইহরাম বাঁধে।

2664আহমদ ইবন ফাযালা ইবন ইবরাহীম নাসায়ী (রহঃ) ... আবু বকর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বিদায় হজ্জে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে হজ্জের উদ্দেশ্যে বের হলেন। তখন তাঁর সাথে তার সহধর্মিণী আসমা বিনীত উমায়স খাছ'আমীয়্যাও ছিলেন। যখন তাঁরা যুলহুলায়ফায় ছিলেন, তখন আসমা মুহাম্মদ ইবন আবু বকরকে প্রসব করেন। আবু বকর (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এ সংবাদ দিলে রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বকরকে বলেন, তাকে গোসল করে হজের ইহরাম বাঁধতে আদেশ করুন। এরপর অন্যান্য লোক যা করে সেও তা করবে। কিন্তু সে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করবে না।

2665কুতায়বা ইবন সাঈদ (রহঃ) ... আবদুল্লাহ্ ইবন আব্বাস এবং মিসওয়ার ইবন মাখরামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তারা উভয়ে আবওয়া নামক স্থানে বিতর্কে লিপ্ত হয়েছিলেন। ইবন আব্বাস বললেনঃ মুহরিম ব্যক্তি তার মাথা ধুইবে, আর মিসওয়ার বললেনঃ সে মাথা ধুইবে না। এরপর আবদুল্লাহ ইবদ আব্বাস (রাঃ) আমাকে আবু আইয়ুব আনসারী (রাঃ)-এর নিকট পাঠালেন, যেন আমি তাঁকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করি। আমি তাকে পেলাম, তিনি কূপের পার্শ্বে দু'টি কাঠের মধ্যস্থলে গোসল করছিলেন। আর তিনি ছিলেন এক কাপড়ের পর্দার আড়ালে। আমি তাঁকে সালাম দিয়ে বললামঃ কিরূপে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম অবস্থায় মাথা ধৌত করতেন, তা আপনার নিকট জিজ্ঞাসা করার জন্য আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) আমাকে আপনার নিকট পাঠিয়েছেন। আমার কথা শুনে আবু আইয়ুব আনসারী (রাঃ) কাপড়ের উপর হাত রেখে তা সরিয়ে দিলেন, তাতে তার মাথা দৃশ্যমান হলো। তিনি একজন লোককে তার মাথায় পানি ঢালতে বললেন, তারপর দু'হাত দ্বারা তিনি মাথা ঝাড়া দিলেন, পরে উভয় হাতকে একবার সামনের দিকে একবার পেছনের দিকে নিলেন, তারপর তিনি বললেনঃ এভাবে আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে গোসল করতে দেখেছি।

2666মুহাম্মদ ইবন সালমা ও হারিছ ইবন মিসকীন (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুহরিমকে যা’ফরান ও ওয়ারস দ্বারা রঞ্জিত কাপড় পরিধান করতে নিষেধ করেছেন।

2667মুহাম্মদ ইবন মানসূর (রহঃ) ... সালিম (রহঃ) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, মুহরিম ব্যক্তি কিরূপে কাপড় পরিধান করবে। তিনি বলেছিলেনঃ মুহরিম ব্যক্তি পরিধান করবে না জামা, বুরনুস*, পাজামা, পাগড়ী এবং ঐ সকল কাপড়, যা যাফরান বা ওয়ারস দ্বারা রং করা হয়েছে। আরও পরিধান করবে না মোজা। কিন্তু ঐ ব্যক্তি ছাড়া, যার জুতা না থাকে। যদি জুতা না পায় তাহলে নিম্ন পর্যন্ত মোজা কেটে তা পরিধান করবে।

2668নূহ ইবন হাবীব কওমাসী (রহঃ) ... ইয়ালা ইবন উমাইয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেনঃ যদি ওহী অবতীর্ণ হওয়ার সময় আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখতে পেতাম! এরপরে এক সময় আমরা জিয়িরারানা নামক স্থানে ছিলাম, তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাবুর ভিতরে ছিলেন। এমতাবস্থায় তাঁর নিকট ওহী আসলে উমর (রাঃ) আমার দিকে ইশারা করে বললেনঃ এদিকে এসো, আমি তাবুর ভিতরে আমার মাথা ঢুকালাম, এমন সময় তার নিকট একজন লোক আগমন করলো। সে উমরাহর জন্য জুব্বা পরিহিত অবস্থায় ইহরাম বেঁধেছিল এবং সুগন্ধি ব্যবহার করেছিল। সে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! ঐ ব্যক্তি সম্বন্ধে আপনি কি বলেন, যে জুব্বা পরিহিত অবস্থায় ইহরাম বেঁধেছে? হঠাৎ তাঁর ওপর ওহী অবতীর্ণ হতে লাগলো। এজন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাক ডাকতে শুরু করলেন। তারপর ওহী অবতীর্ণ হওয়ার অবস্থা কেটে পেলে তিনি বললেনঃ একটু পূর্বে যে ব্যক্তি আমাকে প্রশ্ন করেছিল, সে কোথায়? সে লোকটিকে আনা হলে তিনি বললেনঃ জুব্বা খুলে ফেল, আর সুগন্ধি ধুয়ে ফেল, তারপর নতুন করে ইহরাম বাঁধো। আবু আবদুর রহমান (রহঃ) বলেনঃ পরে ঐ ব্যক্তি নতুন ইহরাম বাঁধলো। নূহ ইবন হাবীব ব্যতীত অন্য কেউ এরূপ বলেছেন বলে আমি জানি না। আর তাকে মাহফুজ বলেও মনে করি না। আল্লাহ্ সর্বজ্ঞ।

2669কুতায়বা (রহঃ) ... আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) বর্ণনা করেন। এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কি বস্ত্ৰ পরিধান করবে এ সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ জামা, পাগড়ি, পায়জামা, বুরনুস, মোজা তোমরা পরিধান করবে না। তবে যদি কেউ জুতা না পায়, তাহলে সে মোজা পরিধান করতে পারবে; আর সে যেন তা গ্ৰন্থির নীচ পর্যন্ত কেটে নেবে। আর তোমরা ইহরাম অবস্থায় এমন কাপড় পরিধান করবে না, যাতে যাফরান অথবা ওয়ারস লেগেছে।

2670আমর ইবন আলী (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। একদা এক ব্যক্তি বললোঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ্! আমরা যখন ইহরাম অবস্থায় থাকি তখন আমরা কোন কোন কাপড় পরিধান করবো? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা জামা পরিধান করবে না। আমাদের আরো বললেন, তোমরা জামা-পাগড়ী, পায়জামা পরিধান করবে না এবং মোজা, ওড়না কিন্তু যদি তোমাদের কারো জুতা না থাকে, তাহলে তা গ্রস্থির নীচ থেকে কেটে নেবে। আর পরিধান করবে না এমন কাপড় যাতে ওয়ারস ও যাফরান-এর রং লেগেছে।

2671কুতায়বা (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে খুতবা দেয়ার সময় বলতে শুনেছি যে, মুহরিম ব্যক্তিদের মধ্যে যে তহবন্দ না পায়, সে পায়জামা পরিধান করতে পারে আর যে ব্যক্তি জুতা না পায়, সে মোজা পরিধান করতে পারে।

2672আইয়ুব ইবনু মুহাম্মদ ওযযান (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি তহবন্দ না পায়, সে পায়জামা পরিধান করতে পারে, আর যে ব্যক্তি জুতা না পায়, সে মোজা পরতে পারে।

2673কুতায়বা (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! ইহরাম অবস্থায় আমাদেরকে কাপড় পরিধান করতে আদেশ করেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, জামা,পায়জামা, পাগড়ী এবং বুরনুস পরবে না, আর মোজা পরিধান করবে না। কিন্তু যদি কারো জুতা না থাকে, তবে সে পায়ের গ্রস্থির নিম্ন পর্যন্ত মোজা পরিধান করতে পারে। আর যে কাপড়ে যাফরান বা ওয়ারস রং লেগেছে ঐ সকল কাপড় তোমরা পরিধান করবে না, আর মুহরিম নারী নিকাব পরিধান করবে না। আর হাত মোজাও পরিধান করবে না।

2674কুতায়বা (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! মুহরিম ব্যক্তি কি কাপড় পরিধান করবে? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ জামা, পায়জামা, পাগড়ী, বুরনুস ও মোজা পরিধান করবে না, আর মোজা পরবে না, কিন্তু যে ব্যক্তি জুতা না পায়, সে মোজা পরিধান করবে, যা পায়ের গ্রস্থির নীচ থেকে কেটে নেবে। আর ওয়ারস ও যাফরান মিশ্রিত কাপড় পরিধান কল্পবে না।

2675মুহাম্মদ ইবন ইসমাঈল ও আমর ইবন আলী (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলো যে, আমরা ইহরাম অবস্থায় কি কাপড় পরিধান করবাে? তিনি বললেনঃ তোমরা জামা, পায়জামা, পাগড়ী, বুরনুস ও মোজা পরিধান করবে না। তবে কারো যদি জুতা না থাকে, তাহলে সে গ্রস্থির নীচ পর্যন্ত মোজা পরিধান করবে, আর যে কাপড়ে যাফরান কিংবা ওয়ারস-এর রং লেগেছে এমন কোন কাপড় পরিধান করবে না।

2676আবুল আশ'আছ (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমরা ইহরাম অবস্থায় কি কাপড় পরিধান করবো? তিনি বললেনঃ তুমি জামা, পাগড়ী, পায়জামা আর বুরনুস পরিধান করবে না। আর মোজাও পরিধান করবে না, কিন্তু যদি জুতা না পাও, তবে পরতে পার। যদি জুতা না থাকে তাহলে গ্রস্থির নীচে পর্যন্ত মোজা পরতে পাের।

2677আবুল আশআছ আহমদ ইবন মিকদাম (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলোঃ আমরা ইহরাম অবস্থায় কি কাপড় পরিধান করবাে? তিনি বললেনঃ জামা, পাগড়ী, বুরনুস, পায়জামা পরিধান করো না আর মোজাও পরিধান করো না, কিন্তু যদি জুতা না থাকে তাহলে গ্ৰন্থির নীচ পর্যন্ত এক জোড়া মোজা পরতে পার। আর পরিধান করবে না এমন কাপড় যা ওয়ারস ও যা'ফরান দ্বারা রঞ্জিত করা হয়েছে। অথবা তিনি বলেছেন, এমন কাপড় যাতে ওয়ারস ও যা’ফরান লেগেছে।

2678হান্নাদ ইবন সারী (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) বর্ণনা করেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ তোমরা ইহরাম অবস্থায়, জামা, পায়জামা, পাগড়ী, বুরনুস এবং মোজা পরিধান করবে না।

2679ইসমাঈল ইবন মাসউদ (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, যখন মুহরিমের তহবিন্দ না থাকে, তখন সে পায়জামা পরতে পারে, আর যখন জুতা না থাকে, তখন মােজা পরতে পারে। কিন্তু সে যেন গ্ৰন্থির নীচ পর্যন্ত কেটে নেয়।

2680ইয়াকুব ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেনঃ যখন মুহরিম ব্যক্তি জুতা না পায় তখন সে মোজা পরতে পারে এবং তা যেন নীচ পর্যন্ত কেটে নেয়।

2681সুওয়ায়দ ইবন নাসর (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। একদা এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! ইহরাম অবস্থায় আপনি আমাদেরকে কি কাপড় পরিধান করতে আদেশ করেন? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চমেক বললেনঃ তোমরা জামা, পায়জামা, মোজা পরিধান করবে না। অবশ্য ঐ ব্যক্তি, যার জুতা নেই, সে মোজা পরতে পারবে গ্রস্থির নীচ পর্যন্ত। আর পরিধান করবে না কোন কাপড়, যাতে যা'ফরান ও ওয়ারস লেগেছে। আর মুহরিম মহিলা নেকাব পরিধান করবে না, আর হাত মোজাও ব্যবহার করবে না।

2682উবায়দুল্লাহ ইবন সাঈদ (রহঃ) ... হাফসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললামঃ ইহরাম ছেড়ে হালাল হয়ে গেছেন অথচ আপনি উমরার ইহরাম ছাড়েন নি। তিনি বললেনঃ আমি আমার মাথায় লাবাদা ব্যবহার করেছি এবং আমার কোরবানীর পশুর গলায় কালাদা বেঁধেছি। আমি এখন ইহরাম ছাড়বো না, আমি হজ্জ শেষ করে ইহরাম ছাড়বো।

2683আহমদ ইবন আমর ইবন সারহ এবং হারিছ ইবন মিসকীন (রহঃ) ... সালিম (রহঃ) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখেছি, তিনি তালবীদ করা অবস্থায় তালবিয়া পাঠ করেছেন।

2684কুতায়াবা (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ইহরাম বাঁধার ইচ্ছা করিলেন, তখন তঁর ইহরামের সময় আমি তাঁর গায়ে নিজ হাতে সুগন্ধি লাগিয়েছি। আর যখন তিনি ইহরাম খুলছিলেন, তাঁর ইহরাম খোলার পূর্বে আমার নিজ হাতে সুগন্ধি মাখিয়েছি।

2685কুতায়বা ইবন সাঈদ (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তার ইহরামের জন্য ইহরাম বাঁধার পূর্বে সুগন্ধি লাগিয়েছি এবং তাঁর বায়তুল্লাহ্ তওয়াফ করার পূর্বে ইহরাম খোলার জন্যও।

2686হুসায়ন ইবন মানসূর ইবন জাফর নিশাপুরী (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর গায়ে তাঁর ইহরামের জন্য এবং তার ইহরাম বঁধার পূর্বে সুগন্ধি লাগিয়েছি। তার ইহরাম খোলার জন্যও যখন তিনি ইহরাম খুললেন।

2687সাঈদ ইবন আবদুর রহমান আবূ উবায়দুল্লাহ্ মাখযুমী (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর ইহরামের জন্য ইহরামের পূর্বে সুগন্ধি লাগিয়েছি এবং তাঁর ইহরাম খোলার জন্যও, যামারা আকাবায় কঙ্কর নিক্ষেপের পর এবং বায়তুল্লাহর তাওয়াফের পূর্বে।

2688ঈসা ইবন মুহাম্মদ আবু উমােয়র (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তার হালাল হওয়ার জন্য সুগন্ধি লাগিয়েছি আর আমি তাকে তঁর ইহরামের জন্য এমন সুগন্ধি লাগিয়েছি যা তোমাদের সুগন্ধির অনুরূপ নয়। তিনি এর দ্বারা বুঝাতে চেয়েছেন যে, তার স্থায়িত্ব ছিল না।

2689মুহাম্মদ ইবন মানসূর (রহঃ) ... উছমান ইবন উরওয়া (রহঃ) তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তাঁর পিতা বলেছেন, আমি আয়েশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, আপনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কোন প্রকারের সুগন্ধি লাগিয়েছিলেন? তিনি বললেনঃ সর্বোৎকৃষ্ট সুগন্ধি তাঁর ইহরামের সময় এবং হালাল হওয়ার সময়।

2690আহমদ ইবন ইয়াহইয়া ইবন ওয়াযীর ইবন সুলায়মান (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সুরভিত করতাম তাঁর ইহরামের সময়, উত্তম সুগন্ধি দ্বারা যা আমরা যোগাড় করতে পারতাম।

2691আহমদ ইবন হারব (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে উৎকৃষ্ট সুগন্ধি লাগাতাম তার হালাল হওয়ার সময়, ইহরাম-এর সময়, আর যখন তিনি বায়তুল্লাহর যিয়ারতের ইচ্ছা করতেন, যা আমি সংগ্রহ করতে পারতাম।

2692ইয়াকুব ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... কাসিম (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আয়েশা (রাঃ) বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সুগন্ধি লাগিয়েছি ইহরাম বাঁধার পূর্বে, আর কুরবানীর দিন বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করার পূর্বে এমন সুগন্ধি, যাতে কস্তুরী মিশ্রিত ছিল।

2693আহমদ ইবন নাসর ও মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ্ ইবন মুবারক (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ যেন আমি এমনও দেখছি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাথার সুগন্ধির দীপ্তি, যখন তিনি ছিলেন মুহরিম, আহমদ ইবন নাসর (রহঃ) তার বর্ণনায় বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাথার সিঁথিতে কস্তুরীর দীপ্তি ছিল।

2694মাহমুদ ইবন গায়লান (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাথার মধ্যস্থলে সুগন্ধির দীপ্তি ছিল, অথচ তিনি মুহরিম ছিলেন।

2695মুহাম্মদ ইবন কুদামা (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ আমি যেন দেখছি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাথার সুগন্ধির দীপ্তি। অথচ তিনি মুহরিম।

2696মাহমুদ ইবন গায়লান (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনছ আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাথার চুলের মূলে সুগন্ধির দীপ্তি দেখেছিলাম; অথচ তিনি ছিলেন মুহরিম।

2697হুমায়দ ইবন মাসা’আদা (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) বর্ণনা করেন, আমি যেন দেখছি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাথার মধ্যস্থিত সুগন্ধির দীপ্তি, অথচ তিনি মুহরিম।

2698বিশর ইবন খালিদ আসকারী (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাথায় সুগন্ধির দীপ্তি দেখেছি তার ইহরাম অবস্থায়।

2699হান্নাদ ইবন সারী (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি যেন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাথার মধ্যস্থিত সুগন্ধির দীপ্তি দেখছি, আর তখন তিনি তালবিয়া পাঠ করছিলেন।

2700কুতায়বা ও হান্নাদ ইবন সারী (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ইহরাম বাঁধার ইচ্ছা করতেন, তখন উত্তম যে সুগন্ধি পেতেন, তা ব্যবহার করতেন, এমনকি আমি তার দাড়িতে ও মাথায় এর দীপ্তি দেখতে পেতাম।

2701আবদা ইবন আবদুল্লাহ্ (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর ইহরামের পূর্বে সর্বোৎকৃষ্ট সুগন্ধি মাখিয়ে দিতাম, যা আমি পেতাম। এমনকি তাঁর দাড়িতে এবং মাথায় আমি সুগন্ধির দীপ্তি দেখতে পেতাম।

2702ইমরান ইবন ইয়াযীদ (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাথার মধ্যস্থলে সুগন্ধির ঔজ্জ্বল্য তিন দিন পরেও দেখতে পেতাম।

2703আলী ইবন হুজর (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাথার সিঁথিতে তিন দিন পরেও সুগন্ধির দীপ্তি দেখতে পেতাম।

2704হুমায়দ ইবন মাসআদাহ (রহঃ) ... ইবরাহীম ইবন মুহাম্মদ ইবন মুনতাশির তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেনঃ আমি ইবন উমর (রাঃ)-কে ইহরামের সময় সুগন্ধি ব্যবহার সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেনঃ আমার নিকট এ থেকে আলকাতরা ব্যবহার করা অধিক পছন্দনীয়। আমি আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট এ ঘটনা ব্যক্ত করলে তিনি বললেনঃ আল্লাহ্ তা'আলা আবু আবদুর রহমানকে রহম করুন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সুগন্ধি লাগাতাম। তারপর তিনি তাঁর সকল স্ত্রীদের সাথে সাক্ষাৎ করতেন। সকাল বেলায়ও এর সুগন্ধি তার থেকে ছড়িয়ে পড়তো।

2705হান্নাদ ইবন সারী (রহঃ) ... ইবরাহীম ইবন মুহাম্মদ ইবন মুনতাশির তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, আমি ইবন উমর (রাঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ ইহরাম অবস্থায় সুগন্ধি ব্যবহার করা অপেক্ষা আমার কাছে আলকাতরা ব্যবহার করা অধিক পছন্দনীয়। আমি আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে এ কথা জানালে তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সুগন্ধি লাগিয়েছি; আর তিনি তাঁর স্ত্রীদের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। তারপর তিনি ইহরাম বেঁধেছেন।

2706ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুরুষের জন্য যা'ফরান ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছেন।

2707কাছীর ইবন উবায়দ (রহঃ) ... আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা'ফরান ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন।

2708কুতায়বা (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা'ফরান ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন, হাম্মাদ (রহঃ) বলেনঃ অর্থাৎ পুরুষদের জন্য।

2709মুহাম্মদ ইবন মানসূর (রহঃ) ... সাফওয়ান ইবন ইয়ালা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি তঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হলো আর সে উমরাহর ইহরাম বেঁধেছিল। তার গায়ে কয়েক টুকরা কাপড় ছিল। আর সে খালুক মেখেছিল। সে ব্যক্তি বলেন, আমি উমরাহর ইহরাম বেঁধেছি, এখন আমি কি করবো? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ তুমি তোমার হজ্জে কি করতে? সে ব্যক্তি বললোঃ আমি ইহা পরিত্যাগ করতাম এবং ধুয়ে ফেলতাম। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি তোমার হজ্জে যা করতে তোমার উমরাহতেও তাই কর।

2710মুহাম্মদ ইবন ইসমাঈল (রহঃ) ... সাফওয়ান ইবন ইয়া'লা (রহঃ) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এক ব্যক্তি আগমন করে। তিনি তখন জি'য়িরারানায় ছিলেন। তাঁর গায়ে একটি জুব্বা ছিল, আর মাথা এবং দাড়িতে সুফরা সুগন্ধি লাগান ছিল। সে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি উমরাহর ইহরাম বেঁধেছি- আর আমার অবস্থা আপনি যেরূপ দেখছেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ তুমি তোমার জুব্বা খুলে ফেল, আর তোমার শরীর হতে সুফরা সুগন্ধি ধুয়ে ফেল। আর তুমি হজে যা করতে তা-ই উমরায়ও কর।

2711কুতায়বা (রহঃ) ... আবান ইবন উছমান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামই মুহরিম সম্বন্ধে বলেছেনঃ যখন সে তার চোখে এবং মাথায় ব্যথা অনুভব করে, তখন সে যেন ইলুয়া (এক প্রকার গাছের রস) দ্বারা উভয় স্থানে পালিশ করে।

2712মুহাম্মদ ইবন মুছান্না (রহঃ) ... জাফর ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেনঃ আমরা জাবির (রাঃ)-এর নিকট এসে তাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হজ্জ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার যে মনােভাব পরে দেখা দিয়েছে, যদি পূর্বে হতো, তা হলে আমি কুরবানীর জন্তু নিয়ে আসতাম না এবং আগে উমরার কাজ সম্পাদন করতাম। অতএব যার কাছে কুরবানীর জন্তু নেই, সে যেন হজ্জের ইহরাম ত্যাগ করে নতুনভাবে উমরার কাজ আদায় করে। আলী (রাঃ) ইয়ামান হতে কুরবানীর পশু নিয়ে আগমন করেছিলেন। আর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনা থেকে কুরবানীর পশু নিয়ে আসেন। হঠাৎ দেখা গেল, ফাতিমা (রাঃ) রঙ্গীন কাপড় পরিধান করেছেন এবং সুরমা লাগিয়েছেন। আলী (রাঃ) বলেন, আমি এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করার জন্য রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গেলাম, আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! ফাতিমা রঙ্গীন কাপড় পরিধান করেছে এবং সুরমা লাগিয়েছে। তখন ফাতিমা (রাঃ) বললেনঃ আমার পিতা আমাকে এর আদেশ করেছেন। শুনে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ফাতিমা সত্যই বলেছে, ফাতিমা সত্যই বলেছে, ফাতিমা সত্যই বলেছে। আমি তাকে আদেশ করেছি।

2713মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি বাহন থেকে পড়ে যাওয়ায় তার ঘাড় ভেঙ্গে যায় এবং মারা যায়। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাকে কুল পাতার পানি দ্বারা গোসল দাও, এবং তাকে এমন দু'টি কাপড়ে কাফন দিতে হবে, যেন তার মাথা এবং চেহারা বাইরে থাকে। কেননা কিয়ামতের দিন তাকে তালবিয়া পাঠরত অবস্থায় উঠানো হবে।

2714আবদা ইবন আবদুল্লাহ্ সাফফার (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি মারা গেল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সাহাবাদেরকে) বললেনঃ তাকে কুল পাতার পানি দ্বারা গোসল করাও এবং তার কাপড়েই তাকে কাফন দাও। আর মাথা ও মুখমণ্ডল ঢাকবে না, কেননা তাকে কিয়ামতের দিন তালবিয়া পাঠরত অবস্থায় উঠানো হবে।

2715উবায়দুল্লাহ্ ইবন সাঈদ ও ইসহাক ইবন মানসূর (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইফরাদ হজ্জ করেন।

2716কুতায়বা (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ্জের ইহরাম বঁধেন।

2717ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে যুলকা'দা মাস শেষে যুলহিজ্জার চাঁদ দেখার জন্য বের হলাম। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যে হজ্জের ইহরাম বঁধতে চায়, সে যেন হজ্জের ইহরাম বাঁধে। আর যে উমরাহর ইহরাম বাঁধতে চায়, সে যেন উমরাহর ইহরাম বাঁধে।

2718মুহাম্মদ ইবন ইসমাঈল (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে বের হয়েছিলাম, তখন হজ্জ ছাড়া আমাদের আর কোন ধারণা ছিল না।

2719ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আবু ওয়ায়িল (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সুবাই ইবন ম'বাদ বলেছেনঃ আমি একজন খ্রিস্টান বেদুঈন ছিলাম। আমি ইসলাম গ্ৰহণ করলাম। তখন আমি জিহাদের জন্য লালায়িত ছিলাম। দেখলাম, আমার উপর হজ্জ ও উমরাহ ফরয হয়েছে। আমি আমার গোত্রের হুরায়ম নামক ব্যক্তির কাছে আসলাম এবং তাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেনঃ এ দু'টিকে একত্রে আদায় কর। এরপর যে জন্তু তোমার পক্ষে সম্ভব হয় তা যাবাহ কর। আমি উভয়ের ইহরাম বাঁধলাম। যখন আমি উযায়ব নামক স্থানে উপস্থিত হলাম, তখন সালমান ইবন রবীআ এবং যায়দ ইবন সুহান এর সাথে আমার সাক্ষাৎ হলো। তখনও আমি হজ্জ ও উমরার তালবিয়া পাঠ করছি। তাদের একজন অন্য জনকে বললো, এই ব্যক্তি তার উট অপেক্ষা অধিক ওয়াকিফহাল নয়। পরে আমি উমর (রাঃ)-এর নিকট এসে বললামঃ হে আমীরুল মু'মিনীন, আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি এবং আমি জিহাদ করতে উদগ্ৰীব। আর আমি দেখছি যে, হজ্জ ও উমরা আমার উপর ফরয। আমি হুরায়ম ইবন আবদুল্লাহর নিকট এসে বললামঃ আমার উপর হজ্জ ও উমরাহ ফরয হয়েছে। তিনি আমাকে বললেনঃ হজ্জ ও উমরাহ একত্রে আদায় করা। তারপর যে জন্তু তোমার জন্য সহজলভ্য হয় তা যাবাহ করা। আমি উভয়ের নিয়তে ইহরাম বঁধলাম। যখন আমি উযায়ব নামক স্থানে পৌঁছলাম, তখন সালমান ইবন রবী'আ এবং যায়দ ইবন সুহান-এর সাথে আমার সাক্ষাৎ হলো। তাদের একজন অপরজনকে বললোঃ এই ব্যক্তি তার উট অপেক্ষা অধিক অবহিত নয়। তখন উমর (রাঃ) বললেনঃ তুমি তোমার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নত পালন করেছ।

2720ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... শাকীক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সুবাই আমাদের নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি পূর্ব হাদীসের মত বর্ণনা করে বললেনঃ আমি উমর (রাঃ)-এর নিকট এসে পূর্ণ ঘটনা বর্ণনা করেছিলাম। "ইয়া হান্নাহ" শব্দ ব্যতীত।

2721ইমরান ইবন ইয়াযীদ (রহঃ) ও ইবরাহীম ইবন হাসান (রহঃ) ... ইরাক অধিবাসী এক ব্যক্তি যাকে শাকীক ইবন সালামা আবু ওয়ায়িল বলা হয়, তিনি বর্ণনা করেন, সুবাই ইবন মা'বাদ নামক বনী তাগলিবের এক ব্যক্তি ছিল খ্ৰীস্টান, যে ইসলাম গ্রহণ করলো। সে প্রথম হজ্জ করতে গিয়ে হিজ এবং উমরাহ উভয়ের তালবিয়া পাঠ করলো। এভাবে হজ্জ ও উমরাহ উভয়ের তালবিয়া তালবিয়া পড়তে পড়তে সে সালমান ইবন রবী'আ এবং যায়দ ইবন সুহানের নিকট গেল। তখন তাদের একজন বললেনঃ তুমি তোমার এই উট হতে অজ্ঞ। সুবাই বলেন, আমার অন্তরের এই কথা নিয়ে আমি উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-এর সাথে দেখা করলাম, তাঁর কাছে এ ঘটনা বর্ণনা করলাম। তিনি বললেনঃ তুমি তোমার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামর সুন্নতের হিদায়াত প্রাপ্ত হয়েছে। শাকীক (রহঃ) বলেনঃ আমি এবং মাসরূক ইবন আজদা সুবাই ইবন মা’বাদের নিকট একথা স্মরণ কবিয়ে দেয়ার জন্য বারবার বলতাম।

2722ইমরান ইবন ইয়াযীদ (রহঃ) ... মারওয়ান ইবন হাকম (রহঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, একদা আমি উসমান (রাঃ)-এর নিকট উপবিষ্ট ছিলাম। তিনি তখন আলী (রাঃ)-কে হজ্জ এবং উমরার তালবিয়া পাঠ করতে শুনতে পেলেন। তিনি বললেনঃ তোমাকে কি এরূপ করতে নিষেধ করা হয়নি? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। কিন্তু আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ দুয়ের জন্য একসাথে তালবিয়া পাঠ করতে শুনেছি। অতএব আমি তোমার কথায় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নত পরিত্যাগ করবো না।

2723ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... মারওয়ান (রহঃ) বর্ণনা করেন, উসমান (রাঃ) হজ্জে তামাত্তু এবং কোন ব্যক্তির হজ্জ ও উমরাহ একত্র করতে নিষেধ করেন। তখন আলী (রাঃ) এক সঙ্গে বলেন, লাব্বায়কা। তখন উসমান (রাঃ) বললেনঃ আমি "বি হাজ্জাতিন ওয়া উমরাতিন" নিষেধ করা সত্ত্বেও কি তুমি তা করছে? আলী (রাঃ) বললেনঃ কোন লোকের কথায় আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নত পরিত্যাগ করতে পারি না।

2724ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... নযর - শু'বা (রহঃ) থেকে উক্ত সনদের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

2725মুআবিয়া ইবন সালিহ্ (রহঃ) ... বারা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আলী ইবন আবু তালিব (রাঃ)-কে ইয়ামানে আমীর নিযুক্ত করে পাঠান। তখন আমি তাঁর সাথে ছিলাম। যখন তিনি তথা হতে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আগমন করেন, তখন আলী (রাঃ) বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হলে তিনি বললেনঃ কিরূপ করেছ? আমি বলি, আমি আপনার ইহরামের মত ইহরাম বেঁধেছি। রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি কুরবানীর জন্তু নিয়ে এসেছি এবং হজ্জে কিরানের নিয়ত করেছি। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের লক্ষ্য করে বলেন, আমি কোন কাজে অগ্রসর হলে তা থেকে পিছপা হই না। আমার অবস্থা যদি এরূপ না হতো তাহলে তোমরা যা করেছ আমিও তা করতাম। কিন্তু আমি কুরবানীর জন্তু সাথে নিয়ে এসেছি এবং হজ্জে কিরানের নিয়্যত করেছি।

2726মুহাম্মদ ইবন আবদুল আ'লা সানআনী (রহঃ) ... ইমরান ইবন হুসায়ন (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ্জ ও উমরাহ একত্রে সমাধা করেন। তারপর এ ধরনের হজ্জ হারাম হওয়া সম্পর্কে কুরআনের কোন আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার এবং এ ধরনের কাজ থেকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করার পূর্বে তিনি ইনতিকাল করেন।

2727আমর ইবন আলী (রহঃ) ... ইমরান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ্জ ও উমরাহ একসাথে আদায় করেন। তারপর এ সম্পর্কে কুরআনের কোন আয়াত অবতীর্ণ হয়নি এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও এর থেকে নিষেধ করেন নি। এক ব্যক্তি তার নিজস্ব অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

2728আমর ইবন আলী (রহঃ) ... আবু দাউদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে ইমরান ইবন হুসায়ন (রাঃ) বলেছেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে তামাত্তু হজ্জ আদায় করেছি।

2729মুজাহিদ ইবন মূসা ও ইয়াকূব ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, লাব্বায়কা উমরাতান ওয়া হাজ্জান, লাব্বায়কা উমরাতান ওয়া হাজ্জান।

2730হান্নাদ ইবন সারী (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) বর্ণনা করেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ দুয়ের জন্য তালবিয়া পড়তে শুনেছি।

2731ইয়াকুব ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... বকর ইবন আবদুল্লাহ্ মুযানী (রহঃ) থেকে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস (রাঃ) থেকে বলতে শুনেছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে হজ্জ ও উমরার একত্রে তালবিয়া পাঠ করতে শুনেছি। রাবী বলেন, আনাস (রাঃ)-এর কথা ইবন উমর (রাঃ)-এর নিকট বর্ণনা করলে তিনি বললেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেবলমাত্র হজ্জের তালবিয়া পাঠ করেছেন। এরপর আমি আনাসের সঙ্গে সাক্ষাত করেছি। ইবন উমরের এই উক্তি তার নিকট ব্যক্ত করলে তিনি বললেন, ইবন উমর কি আমাদেরকে বালক মনে করেন? আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে লাব্বাইকা উমরাতান ওয়া হাজ্জান অর্থাৎ উমরা ও হজ্জের তালবিয়া একত্রে পড়তে শুনেছি।

2732মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন মুবারক মুখাররামী (রহঃ) ... সালিম ইবন আবদুল্লাহ্ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) বলেছেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজ্জাতুল বিদা বা বিদায় হজ্জের উমরাহ ও হজ্জ একত্রে পর্যায়ক্রমে আদায় করে তামাত্তু করেন। আর তিনি যুল হুলায়াফায় তার সাথে কুরবানীর পশু নিয়ে আসেন এবং তা পাঠিয়ে দেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ দিনে হজ্জের কাজ আরম্ভ করেন। তিনি প্রথমে উমরাহর ইহরাম বাঁধলেন। তারপর হজ্জের ইহরাম বাঁধলেন। আর অন্যান্য লোক তাঁর সাথে পর্যায়ক্রমে উমরাহ ও হজ্জের ইহরাম বঁধলো। লোকদের মধ্যে কতিপয় ব্যক্তি কুরবানীর পশু সাথে নিয়ে এসেছিল তারা তো কুরবানীর পশু পাঠিয়ে দিল। আর তাদের মধ্যে কতক এমন ছিল যারা কুরবানীর পশু নিয়ে আসেনি। তারপর যখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় আগমন করলেন, তখন তিনি লোকদেরকে বললেনঃ তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কুরবানীর পশু পাঠিয়েছে, সে যেন হজ্জ আদায় করা পর্যন্ত তার জন্য যা হারাম করা হয়েছে তদ্বারা ইহরাম ভঙ্গ না করে। আর যে ব্যক্তি কুরবানীর জন্তু পাঠায়নি, সে যেন কা'বার তাওয়াফ করে এবং সাফা মারওয়ার সাঈ করে এবং মাথার চুল ছাঁটে এবং ইহরাম ভঙ্গ করে। তারপর সে যেন হজ্জের ইহরাম বাঁধে এবং কুরবানীর জন্তু পাঠায়। আর যে ব্যক্তি কুরবানীর জন্তু পাঠাতে সমর্থ না হয়, সে যেন হজ্জের মাসে তিন দিন সিয়াম পালন করে, এবং পরিবার-পরিজনের নিকট ফিরে আসার পর সাতদিন সিয়াম পালন করে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মক্কায় আগমন করলেন, সর্বপ্রথম তওয়াফ করলেন এবং রুকনে ইয়ামানী চুম্বন করলেন, তারপর তিনি সাত তওয়াফের তিন তাওয়াফে রমল করলেন এবং চার তাওয়াফে হাঁটলেন। তওয়াফ সমাপ্ত করে তিনি বায়তুল্লাহর নিকট মাকামে ইব্রাহীমে দু' রাকাআত সালাত আদায় করলেন। তারপর তিনি তথা হতে সাফা পাহাড়ে আগমন করলেন এবং সাফা ও মারওয়ায় সাতবার সাঈ করলেন। পরে হজ্জ আদায় করার পূর্বে যা তাঁর জন্য হারাম ছিল, তার কোনটি করে ইহরাম ভঙ্গ করেন নি। এরপর কুরবানীর দিন পশু কুরবানী করলেন এবং তথা হতে প্রত্যাবর্তন করে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করলেন। তারপর তাঁর জন্য যা হারাম ছিল তার প্রত্যেকটি দ্বারা তিনি ইহরাম ভঙ্গ করলেন। পরে লোকদের মধ্যে যারা কুরবানীর পশু পাঠিয়েছিল বা নিয়ে এসেছিল, তারা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা করলেন তদ্রুপ করলো।

2733আমর ইবন আলী (রহঃ) ... আবদুর রহমান ইবন হারমালা (রহঃ) বলেন, সাঈদ ইবন মুসাইয়্যাব (রহঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, আলী ইবন উছমান (রাঃ) হজ্জ সমাপ্ত করলেন, আমরা যখন কোন রাস্তায় ছিলাম, তখন উছমান (রাঃ) তামাত্তু করতে নিষেধ করলেন। তখন আলী (রাঃ) বললেনঃ যখন তোমরা তাকে প্রত্যাবর্তন করতে দেখ তোমরাও প্রত্যাবর্তন কর। পরে আলী (রাঃ) এবং তাঁর অনুসারীগণ উমরার তালবিয়া পড়লেন। আর উছমান তাদেরকে নিষেধ করেন নি। আলী (রাঃ) বললেনঃ আমাকে কি খবর দেয়া হয়নি যে, আপনি তামাতু করতে নিষেধ করেন? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। তখন আলী (রাঃ) তাকে বললেনঃ আপনি কি শুনেন নি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তামাত্তু করেছেন? তিনি বললনেঃ হ্যাঁ।

2734কুতায়াবা (রহঃ) ... সা'দ ইবন আবু ওয়াক্কাস এবং দাহহাক ইবন কায়সকে মুয়াবিয়া ইবন আবৃ সুফিয়ানের হজ্জের বছর বলতে শুনেছেনঃ তারা হজ্জ পর্যন্ত উমরাহ দ্বারা তামাত্তু করার ব্যাপারে আলাপ করেছিলেন। দাহহাক বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর আদেশের ব্যাপারে অজ্ঞ, সে ব্যতীত কেউই এরূপ করতে পারে না। সা'দ বলেন, হে ভ্রাতুষ্পপুত্ৰ! তুমি যা বললে তা অত্যন্ত মন্দ। তখন দাহহাক (রাঃ) বললেনঃ “উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) এরূপ করতে নিষেধ করেছেন। সা'দ (রাঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করেছেন। আর আমরাও তার সাথে এরূপ করেছি।

2735মুহাম্মদ ইবন মুছান্না ও মুহাম্মদ বাশশার (রহঃ) ... আবু মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি হজ্জ-ই-তামাত্তু-এর ফতোয়া দিতেন। তাকে এক ব্যক্তি বললোঃ আপনি এ ধরনের ফতোয়া দান থেকে বিরত থাকুন। কেননা আপনি জানেন না আমীরুল মু'মিনীন হজ্জের আহকামে কি নতুন আবিষ্কার করেছেন। পরে আমি তার সাথে সাক্ষাৎ করে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করি। উত্তরে উমর (রাঃ) বলেনঃ আমি নিশ্চিতরূপে জানি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা করেছেন। কিন্তু লোক আরাকে* স্ত্রীসহবাস করে হজ্জে গমন করবে, আর তাদের মাথা থেকে পানি পড়তে থাকবে, তা আমার পছন্দনীয় নয়।

2736মুহাম্মদ ইবন আলী ইবন হাসান (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উমর (রাঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহর শপথ! আমি তোমাদেরকে তামাত্তু থেকে নিষেধ করছি অথচ তা আল্লাহর কিতাবে বিদ্যমান রয়েছে এবং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা করেছেন। অর্থাৎ তিনি হজ্জের আগে উমরাহ করেছেন।

2737আবদুল্লাহ্ ইবন মুহাম্মদ ইবন আবদুর রহমান (রহঃ) ... তাউস (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুয়াবিয়া (রাঃ) ইবন আব্বাস (রাঃ)-কে বললেন, আপনি জানেন কি, আমি মারওয়ায় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাথার চুল ছেঁটেছিলাম? তিনি বললেনঃ না। ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ মুয়াবিয়া (রাঃ) লোকদেরকে তামাত্তু করতে নিষেধ করেন, অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তামাত্তু করেছেন।

2738মুহাম্মদ ইবন মুছান্না (রহঃ) ... আবু মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এলাম। তখন তিনি বাতহায় ছিলেন। তিনি বলেনঃ কিসের তালবিয়া পাঠ করেছ? আমি বললামঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যার তালবিয়া পাঠ করেছেন, আমিও তার তালবিয়া পাঠ করেছি। তিনি বললেন, তুমি কি কুরবানীর পশু পাঠিয়েছ? আমি বললাম, না। তিনি বললেনঃ তা হলে তুমি প্রথমে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ ও সাফা মারওয়ার সাঈ কর, তারপর ইহরাম ভঙ্গ কর। আমি বায়তুল্লাহর তাওয়াফ এবং সাফা মারওয়ার সাঈ করলাম। এরপর আমার বংশের একজন মহিলার নিকট গেলাম, সে আমার মাথা আঁচড়িয়ে ও মাথা ধুইয়ে দিল। আমি লোকদেরকে আবু বকর ও উমরের খেলাফতের সময় এই ফতোয়াই দিতাম। আমি এক হজ্জের মওসুমে দাঁড়িয়ে আছি, এমন সময় এক ব্যক্তি এসে বললোঃ আমীরুল মু'মিনীন হজ্জের ব্যাপারে যে নতুন কথা বলছেন, তা কি তুমি জান না? আমি বললামঃ হে লোকসকল! আমি যাকে কোন ব্যাপারে। ফতোয়া দিয়েছি সে যেন তাড়াহুড়া না করে। কেননা তোমাদের নিকট আমীরুল মুমিনীন শীঘ্রই আসছেন, তাঁর অনুসরণ কর। যখন তিনি আগমন করলেন, তখন আমি বললামঃ হে আমীরুল মুমিনীন! হজ্জের ব্যাপারে আপনি কি নূতনত্ব প্রবর্তন করেছেন? তিনি বললেনঃ আমরা আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী কাজ করবো। আল্লাহ্ তা'আলা বলেছেনঃ "তোমরা আল্লাহর জন্য হজ্জ এবং উমরাহ্ আদায় করা।" আর আমরা আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নত অনুযায়ী কাজ করবো। তিনি কুরবানী করার পূর্বে ইহরাম ভঙ্গ করেন নি।

2739ইবরাহীম ইবন ইয়াকুব (রহঃ) ... মুতাররিফ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমাকে ইমরান ইবন হুসায়ন (রাঃ) বলেছেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তামাত্তু করেছেন এবং তার সাথে আমরাও তামাত্তু করেছি। এ ব্যাপারে কেউ তার মত ব্যক্ত করেছেন।

2740ইয়াকুব ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... জাফর ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আমি জাবির ইবন আবদুল্লাহর নিকট গিয়ে তাঁকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হজ্জ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় নয় বৎসর অবস্থান করেন। তারপর জনসাধারণের মধ্যে সংবাদ দেয়া হলো যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বৎসর হজ্জ করতে যাবেন। এ সংবাদে মদীনায় বহু লোকের সমাগম হলো। সকলেই কামনা করছিলো যে, তারা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে হজ্জ সমাপন করবেন এবং তিনি যা করেন তা করবেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুলকা'দা মাসের পাঁচ দিন বাকী থাকতে মদীনা থেকে বের হন। আর আমরাও তাঁর সাথে বের হই। জাবির (রাঃ) বলেন, এসময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মধ্যেই ছিলেন। তাঁর উপর কুরআন অবতীর্ণ হচ্ছিল আর তিনি এর মর্ম অনুধাবন করতেন। তিনি তদনুযায়ী যা করতেন, আমরাও তা করতাম। আমরা একমাত্র হজ্জের উদ্দেশ্যেই বের হয়েছিলাম।

2741মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ্ ইবন ইয়াযীদ ও হারিছ ইবন মিসকীন (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, আমরা সফরে বের হলাম। হজ্জ ব্যতীত আমাদের আর কোন উদ্দেশ্য ছিল না। সারিফ নামক স্থানে পৌছার পর আমি ঋতুবতী হই। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট আসলেন আর আমি তখন কাঁদছিলাম। তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ তোমার কি ঋতুস্রাব দেখা দিয়েছে? আমি বললামঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ ইহা এমন বস্তু, যা আল্লাহ্ তা'আলা আদমের কন্যা সন্তানদের উপর নির্ধারিত করেছেন। তুমি বায়তুল্লাহর তাওয়াফ ব্যতীত মুহরিম ব্যক্তি হজ্জের যে সকল কাজ করে তুমিও তা করতে থাক।

2742মুহাম্মদ ইবন আবদুল আ'লা (রহঃ) ... তারিক ইবন শিহাব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু মূসা (রাঃ) বলেছেনঃ আমি ইয়ামান থেকে আসলাম। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাতহায় ছিলেন, এখানেই তিনি হজ্জ আদায় করেন। তিনি আমাকে বলেন, তুমি কি হজ্জ করেছ? আমি বলিঃ হ্যাঁ। তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ তুমি কিরূপ নিয়ত করেছ? তিনি বলেন, আমি বললাম, “আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিয়তে নিয়ত করলাম। তিনি বলেনঃ তাহলে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ কর এবং সাফা মারওয়ার সাঈ কর এবং ইহরাম ভঙ্গ কর। আমি তা-ই করলাম। তারপর আমি এক মহিলার নিকট আসলাম, সে আমার মাথা থেকে উকুন বের করলো, এরপর আমি লোকদেরকে এরূপ ফতোয়া দিতে লাগলাম, এমনকি উমর (রাঃ)-এর খেলাফতকালেও। তখন তাঁকে এক ব্যক্তি বললোঃ হে আবু মূসা! তোমার এরূপ ফতোয়া দেয়া থেকে তুমি বিরত থাকে। কেননা তুমি জান না তোমার পর আমীরুল মু'মিনীন হজ্জের আহকামে কি নতুন বিধান দিয়েছেন। আবু মূসা বললেনঃ হে লোকসকল! আমি যাকে ফতোয়া দিয়েছি, সে যেন তাড়াহুড়া না করে। কেননা আমীরুল মুমিনীন তোমাদের নিকট আগমন করছেন। তোমরা তাঁর অনুসরণ করবে। উমর (রাঃ) বলেন, আমরা আল্লাহর কিতাব অনুসারে কাজ করবো। তিনি আমাদেরকে হজ্জের আহকাম পূৰ্ণ করতে আদেশ করেছেন। আর আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নত অনুযায়ী কাজ করবো। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম ভঙ্গ করতেন না, যতক্ষণ না কুরবানীর পশু যবোহ-এর স্থানে পৌঁছে যেতো।

2743মুহাম্মদ ইবন মুছান্না (রহঃ) ... জাফর ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা আমাদেরকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেনঃ আমরা জাবির ইবন আবদুল্লাহ্ (রাঃ)-এর নিকট এসে তাকে জিজ্ঞাসা করলাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হজ্জ সম্বন্ধে। তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করলেনঃ আলী (রাঃ) ইয়ামন থেকে আগমন করলেন কুরবানীর জন্তু নিয়ে। আর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনা থেকে কুরবানীর পশু এনেছিলেন। তিনি আলী (রাঃ)-কে বললেনঃ তুমি কিসের নিয়্যত করেছ? তিনি বললেনঃ আমি বললামঃ হে আল্লাহ্! আমি নিয়াত করছি, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যার নিয়াত করেছেন। আর আমার সাথে রয়েছে কুরবানীর পশু। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাহলে তুমি ইহরাম ভঙ্গ করো না।

2744ইমরান ইবন ইয়াযীদ (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) বর্ণনা করেছেন। আলী (রাঃ) তাঁর উপর ন্যস্ত কাজ সমাপ্ত করে আগমন করলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেনঃ হে আলী! তুমি কিরূপ নিয়্যত করেছ? তিনি বললেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেরূপ নিয়াত করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাহলে তুমি কুরবানীর জন্তু সংগ্ৰহ কর এবং মুহরিম অবস্থায় থাক, যেমন তুমি আছ। রাবী বলেন, আলী (রাঃ) তাঁর নিজের জন্য একটি কুরবানীর জন্তু সংগ্রহ করলেন।

2745আহমদ ইবন মুহাম্মদ ইবন জাফর (রহঃ) ... বারা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আলী (রাঃ)-এর সাথে ছিলাম, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ইয়ামনে আমীর নিযুক্ত করে পাঠান। তার সাথে আমি কিছু মুদ্রা পেলাম। যখন আলী (রঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এলেন তখন আলী (রাঃ) বললেনঃ আমি ফিরে ফাতিমা (রাঃ)-কে পেলাম। সে তার ঘরকে নাদূহ সুগন্ধি দ্বারা সুরভিত করে রেখেছে। আমি তার নিকট থেকে দূরে রইলাম। সে আমাকে বললোঃ আপনার কি হলো? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীগণকে ইহরাম ভঙ্গ করার আদেশ করেছেন, এবং তঁরা ইহরাম ভঙ্গ করেছেন। আলী (রাঃ) বলেন, আমি বললামঃ আমি তো রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিয়াতে নিয়্যত করেছি। তিনি বলেন, তারপর আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এলাম। তিনি আমাকে বললেনঃ তুমি কি করেছ? আমি বললামঃ আমি আপনার নিয়্যতে নিয়্যত করেছি। তিনি বললেনঃ আমি তো কুরবানীর পশু পাঠিয়ে দিয়েছি এবং হজ্জে কিরান করেছি।

2746কুতায়বা (রহঃ) ... নাফি' (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, ইবন উমর (রাঃ) হজ্জের ইচ্ছা করছিলেন। যে বৎসর হাজ্জাজ ইবন যুবায়র (রাঃ)-এর সাথে যুদ্ধ করার জন্য এসেছিল তাকে বলা হলো যে, তাদের মধ্যে যুদ্ধ অবশ্যম্ভাবী হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমার ভয় হচ্ছে তারা তোমাকে হজ্জ থেকে বিরত রাখবে। তিনি বললেনঃ "তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে।" যদি অবস্থা তা-ই হয়, তা হলে আমি তা-ই করবো- যা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেছিলেন। আমি তোমাদেরকে সাক্ষী রেখে বলছি যে, আমি আমার উপর উমরাহ ওয়াজিব করে নিয়েছি। তারপর তিনি বের হলেন। পরে যখন তিনি বায়দা নামক স্থানে উপস্থিত হলেন, তখন বললেনঃ হজ্জ এবং উমরাহর অবস্থা একই। আমি তোমাদেরকে সাক্ষী রেখে বলছি, আমি আমার উমরাহর সাথে হজ্জও ওয়াজিব করে নিয়েছি। আর তিনি একটি কুরবানীর পশু এনেছিলেন। তিনি তা কুদায়া নামক স্থান থেকে ক্রয় করেছিলেন। তারপর তিনি হজ্জ এবং উমরার উভয়ের তালবিয়া পড়তে পড়তে চলে গেলেন। পরে তিনি মক্কায় আগমন করে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ এবং সাফা ও মারওয়ার সাঈ করেন। এর অতিরিক্ত তিনি কিছু করেন নি। কুরবানীও করলেন না, মাথা মুণ্ডালেন না, চুলও কাটলেন না এবং যে সকল বস্তু হারাম ছিল, তার কোনটি দ্বারা ইহরাম ভঙ্গ করলেন না। এমতাবস্থায় কুরবানীর দিন উপস্থিত হলো, তারপর তিনি কুরবানী করলেন, মাথা মুণ্ডন করলেন। পরে দেখা গেল, তিনি প্রথম তাওয়াফ দ্বারাই হজ্জ ও উমরাহর তাওয়াফ পূর্ণ করলেন। ইবন উমর (রাঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপই করেছেন।

2747ঈসা ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... ইবন শিহাব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সালিম (রহঃ) আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তাঁর পিতা বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তালবিয়া পাঠ করতে শুনেছি। তিনি বলেছিলেনঃ (لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ لَبَّيْكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ) আর আবদুল্লাহ্ ইবন উমর বলতেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুলহুলায়ফায় দুরাকাত সালাত আদায় করতেন। তারপর যখন তিনি যুলহুলায়ফা মসজিদের নিকট উটনীর উপর আরোহণ করতেন, তখন তিনি ঐ সকল বাক্য দিয়ে তালবিয়া পাঠ করতেন।

2748আহমদ ইবন আবদুল্লাহ্ আল-হাকাম (রহঃ) ... আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলতেনঃ لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ لَبَّيْكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ

2749কুতায়বা ইবন সাঈদ (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর তালবিয়া ছিলঃ لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ لَبَّيْكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ

2750ইয়াকুব ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... উবায়দুল্লাহ্ ইবন আবদুল্লাহ্ ইবন উমর তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর তালবিয়া ছিলঃ لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ لَبَّيْكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ ইবন উমর (রাঃ) তাতে আরও বাড়িয়ে বলেছেনঃ لَبَّيْكَ لَبَّيْكَ وَسَعْدَيْكَ وَالْخَيْرُ فِي يَدَيْكَ وَالرَّغْبَاءُ إِلَيْكَ وَالْعَمَلُ

2751আহমদ ইবন আবদা (রহঃ) ... আবদুল্লাহ্ ইবন মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর তালবিয়া ছিলঃ لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ لَبَّيْكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ

2752কুতায়বা (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর তালবিয়ার মধ্যে ছিলঃ (لَبَّيْكَ إِلَهَ الْحَقِّ)। আবু আবদুর রহমান বলেনঃ আবদুল আযীয ব্যতীত আবদুল্লাহ ইবন ফজল থেকে অন্য কেউ ইহা বৰ্ণনা করেছেন বলে জানা নেই। ইসমাঈল ইবন উমাইয়া তার থেকে মুরসালরূপে বর্ণনা করেছেন।

2753ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... খাল্লাদ ইবন সায়িব তার পিতা থেকে, তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ জিবরীল (আঃ) আমার নিকট এসে আমাকে বলেন, হে মুহাম্মদ! আপনি আপনার সাহাবীগণকে বলে দিন, তারা যেন উঁচু স্বরে তালবিয়া পাঠ করে।

2754কুতায়বা (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালতের পর তালবিয়া পড়া আরম্ভ করতেন।

2755ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বায়দা নামক স্থানে জোহরের সালাত আদায় করে সওয়ার হলেন এবং বায়দা পাহাড়ে আরোহণ করেন। আর হজ্জ ও উমরাহর তালবিয়া পাঠ করলেন। জোহরের সালাত আদায়ের পর।

2756ইমরান ইবন ইয়াযীদ (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হজ্জ সম্বন্ধে বলেন, যখন তিনি যুলহুলায়ফায় আগমন করেন, তখন তিনি সালাত আদায় করেন এবং বায়দায় আসা পর্যন্ত নীরব থাকেন।

2757কুতায়বা (রহঃ) ... সালিম (রহঃ) থেকে বর্ণিত তিনি তাঁর পিতাকে বলতে শুনেছেনঃ ইহা তোমাদের ঐ বায়দা যার ব্যাপারে তোমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্বন্ধে মিথ্যা বলছাে। অথচ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুলহুলায়ফার মসজিদ ব্যতীত অন্য কোথাও থেকে তালবিয়া পড়া আরম্ভ করেন নি।

2758ঈসা ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... ইবন শিহাব (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, সালিম ইবন আবদুল্লাহ্ (রহঃ) তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) বলেছেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে যুলহুলায়ফায় তাঁর সওয়ারীতে আরোহণ করতে এবং সওয়ারীতে যখন স্থির উপবিষ্ট হতেন তখন তালবিয়া পাঠ করতে দেখেছি।

2759ইমরান ইবন ইয়াযীদ ও মুহাম্মদ ইবন ইসমাঈল (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন স্বীয় সওয়ারীতে স্থির হয়ে উপবেশন করতেন, তখন তালবিয়া পাঠ করতেন।

2760মুহাম্মদ ইবন আলী (রহঃ) ... উবায়দ ইবন জুরায়জ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবন উমর (রাঃ)-কে বললামঃ আমি আপনাকে দেখলাম যে, আপনি যখন আপনার উটনীর উপর স্থির হয়ে বসেন, তখন তালবিয়া পাঠ করেন? তিনি বললেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন স্বীয় উটনীর উপর স্থির হয়ে উপবেশন করতেন, তখন তিনি তালবিয়া পাঠ করতেন।

2761মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ্ ইবন আবদুল হাকম (রহঃ) ... জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মদীনায়) নয় বছর অবস্থান করেন, কিন্তু তিনি হজ্জ করেন নি। তারপর তিনি লোকদেরকে হজ্জের ব্যাপারে ঘোষণা দিলেন। ফলে যে সওয়ার হয়ে অথবা পদব্ৰজে আসার ক্ষমতা রাখতো, এমন কেউ আসতে বাকী রইলো না। তারা মিলিত হলো রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে হজ্জে শরীক হওয়ার জন্য। এমনিভাবে সকলে যুলহুলায়ফায় উপস্থিত হলো। সেখানে আসমা বিনত উমায়স-এর গর্ভে মুহাম্মদ ইবন আবু বকর ভূমিষ্ট হন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এ সংবাদ পাঠালে তিনি বলেন, গোসল করে একখানা কাপড় বেঁধে নাও, তারপর তালবিয়া পাঠ কর, তিনি তা-ই করেন। (সংক্ষিপ্ত)

2762আলী ইবন হুজর (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আসমা বিনত উমায়স-এর গর্ভে মুহাম্মদ ইবন আবু বকর ভূমিষ্ট হন। তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট সংবাদ পাঠিয়ে জিজ্ঞাসা করেন যে, তাঁকে ঐ অবস্থায় কি করতে হবে? তখন তিনি তাকে গোসল করতে এবং একখানা কাপড় বেঁধে নিয়ে তালবিয়া পড়তে আদেশ করেন।

2763কুতায়বা (রহঃ) ... জাবির ইবন আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে হজ্জের তালবিয়া পাঠ করতে করতে গমন করলাম, আর আয়েশা (রাঃ) গেলেন উমরাহর তালবিয়া পড়তে পড়তে। আমরা যখন সরিফ নামক স্থানে পৌছলাম, তখন আয়েশা (রাঃ) ঋতুমতী হলেন, তারপর যখন আমরা মক্কায় পৌঁছলাম, আমরা কা'বার তাওয়াফ এবং সাফা ও মারওয়ার সাঈ করলাম। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে আদেশ করলেন, যার সাথে কুরবানীর পশু নেই, সে যেন ইহরাম ভঙ্গ করে। রাবী বলেন- আমরা আরয করলামঃ কোন বস্তু হালাল হবে? তিনি বললেনঃ সকল কিছুই হালাল হবে। (যা ইহরামে কারণে হারাম হয়েছিল)। পরে আমরা স্ত্রী সহবাস করলাম, সুগন্ধি ব্যবহার করলাম এবং আমাদের কাপড় পরিধান করলাম অথচ আমাদের ও আরাফার মধ্যে চার রাতেরই ব্যবধান ছিল। তারপর আমরা ৮ই যিলহজ্জের দিন তালবিয়া পাঠ করলাম এবং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট গেলেন তখন দেখলেন তিনি কাঁদছেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন ও তোমার অবস্থা কি? আয়েশা (রাঃ) বললেনঃ আমার অবস্থা হলো আমার ঋতু আরম্ভ হয়েছে, লোকজন তো ইহরাম ভঙ্গ করেছে অথচ আমি ইহরাম ভঙ্গ করিনি। আর আমি বায়তুল্লাহর তওয়াফও করিনি। এখন লোকজন তো হজ্জ আদায়ের জন্য যাচ্ছে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ইহা এমন এক ব্যাপার, যা আল্লাহ্ তা'আলা আদম কন্যাদের জন্য নির্ধারিত করেছেন। অতএব তুমি গোসল কর এবং হজ্জের নিয়ত কর। তারপর তিনি তা-ই করলেন এবং বিভিন্ন অবস্থান স্থলে অবস্থান করলেন। এরপর যখন তিনি পবিত্র হলেন। তখন বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করলেন এবং সাফা ও মারওয়ায় সাঈ করলেন। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এখন তুমি তোমার হজ্জ ও উমরাহ উভয়ের ইহরাম ভঙ্গ করলে। আয়েশা (রাঃ) বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার মনে হয় যেন আমি বাতুল্লাহর তাওয়াফ করিনি, অথচ হজ্জ করেছি। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে আবদুর রহমান! তাকে নিয়ে যাও এবং তানঈম হতে উমরাহ করাও। আর ইহা ছিল মুহাসসবের রাত্রি। (মিনা থেকে প্রত্যাবর্তনের পর মুহাসসাব নামক স্থানে অবস্থানের রাত্রি।)

2764মুহাম্মদ ইবন সালামা ও হারিছ ইবন মিসকীন (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা বিদায় হজ্জে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে বের হলাম। আমরা উমরাহর তালবিয়া পড়লাম। তারপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যার সাথে কুরবানীর জন্তু রয়েছে, সে যেন উমরাহর সাথে হজ্জেরও নিয়াত করে এবং এ দুয়ের কাজ সমাধা করার পূর্বে যেন ইহরাম ভঙ্গ না করে, তারপর আমি হায়েয অবস্থায় মক্কায় পৌছলাম। ফলে আমি বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করতে পারলাম না এবং সাফা ও মারওয়ার সাঈও না। আমি এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে অবহিত করলাম। তিনি বললেনঃ তুমি তোমার মাথার চুলের বেনী খুলে ফেল, মাথার চুল আঁচড়াও এবং হজের নিয়্যত কর, উমরাহর নিয়্যত ছেড়ে দাও, তখন আমি তাই করলাম। যখন হজ্জ শেষ করলাম, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে আবদুর রহমান ইবন আবু বকর (রাঃ)-এর সাথে তানঈম পাঠিয়ে দিলেন। তখন আমি উমরাহ করলাম। তিনি বললেনঃ ইহাই তোমার উমরাহর স্থান। অতএব যারা উমরাহর নিয়্যত করেছিলেন, তারা কা'বার তাওয়াফ এবং সাফা ও মারওয়ার সাঈ করলেন। পরে তারা ইহরাম ভঙ্গ করলেন। তারা মিনা থেকে প্রত্যাবর্তনের পর হজ্জের জন্য অন্য এক তাওয়াফ করলেন। কিন্তু যারা হজ্জ ও উমরাহর একত্রে নিয়্যত করেছিলেন তারা একই তাওয়াফ করলেন (ফরয হিসেবে)।

2765হারূন ইবন আবদুল্লাহ্ (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, দুবা'আ (রাঃ) হজ্জের ইচ্ছা করলেন। তাকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদেশ করলেন, যেন তিনি শর্ত করে নেন। তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নির্দেশে তা-ই করলেন।

2766ইব্রাহীম ইবন ইয়াকুব (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেন ও দুবা'আ বিনত যুবায়র ইবন আবদুল মুত্তালিব নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি হজ্জের ইচ্ছা করেছি। এখন আমি কি বলবো? তিনি বললেনঃ তুমি বলবেঃ لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ وَمَحِلِّي مِنَ الأَرْضِ حَيْثُ تَحْبِسُنِي লাব্বায়ক আল্লাহুম্মা লাব্বায়ক, আমার ইহরাম খোলার স্থান ঐটি যেখানে আমাকে আটকে দিলে। কারণ তোমার জন্য তোমার রবের নিকট তা-ই রয়েছে, যা তুমি শর্ত করেছ।

2767ইমরান ইবন ইয়াযীদ (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ দুবা'আ বিত যুবায়র রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি সন্তান সম্ভবা মহিলা অথচ আমি হজ্জ করার মনস্থ করেছি। অতএব, আমাকে কি বলে ইহরাম করতে আদেশ করেন? তিনি বলেনঃ তুমি ইহরাম বাঁধার সময় শর্ত করে বলবেঃ যেখানে (হে আল্লাহ্) আমাকে বাঁধা দেবেন, সেখানে আমি ইহরাম ভঙ্গ করবো।

2768ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুবা'আ (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হলে দুবা'আ বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি অসুস্থ অথচ আমি হজ্জের ইচ্ছা করেছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ তুমি হজ্জে যাবে এবং শর্ত করবে যে, (হে আল্লাহ) আপনি আমাকে যেখানে বাধাগ্ৰস্ত করবেন, সেখানে আমি ইহরাম ভঙ্গ করবো।

2769আহমদ ইবন আমর ইবন সারাহ (রহঃ) ও হারিছ ইবন মিসকীন (রহঃ) ... সালিম (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবন উমর (রাঃ) হজ্জে শর্ত করা অস্বীকার করে বলতেনঃ তোমাদের জন্য কি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নত যথেষ্ট নয়? যদি তোমাদের কেউ হজ্জে বাধাপ্রাপ্ত হয়, যে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ এবং সাফা ও মারওয়ার সাঈ করে তারপর সর্বপ্রকার (ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ কাজ থেকে) হালাল হয়ে যাবে, এবং পরবর্তী বৎসর হজ্জ করবে ও কুরবানীর জন্তু যাবাহ করবে। আর যদি কুরবানী না করতে পারে, তবে সিয়াম পালন করবে।

2770ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... সালিম (রহঃ) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি হজ্জে শর্ত করতে অপছন্দ করতেন। তিনি বলতেনঃ তোমাদের জন্য কি তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নত যথেষ্ট নয়? তিনি শর্ত করতেন না, যদি তোমাদের কারও সামনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়, তবে সে যেন বায়তুল্লাহর তাওয়াফ, সাফা ও মারওয়ার সাঈ করে। তারপর মাথা মুণ্ডন করে অথবা চুল কাটে এবং হালাল হয়ে যায়। আর পর বৎসর তার জন্য হজ্জ আদায় করা ওয়াজিব হবে।

2771মুহাম্মদ ইবন আবদুল আ'লা এবং ইয়াকুব ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... মিসওয়ার ইবন মাখরামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুদায়বিয়ার ঘটনার সময় তাঁর ১৪০০ সাহাবীকে সঙ্গে নিয়ে বের হলেন। যখন তাঁরা যুলহুলায়ফা পৌছলেন, তখন তিনি কুরবানীর পশুর গলায় কালাদা পরালেন এবং ইশতআর করলেন এবং উমরাহর ইহরাম বাঁধলেন। (সংক্ষিপ্ত)

2772আমর ইবন আলী (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উটের ইশআর করেন।

2773মুজাহিদ ইবন মূসা (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উটের ডান দিকে ইশ'আর করেন এবং রক্ত মুছে ফেলেন, আর এভাবে তার ইশতআর করেন।

2774আমর ইবন আলী (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন যুলহুলায়ফায় পৌছলেন, তখন তিনি আদেশ করলেন তাঁর উটকে ইশ'আর করতে। তারপর তাঁর উটের কুঁজের ডানদিকে ইশ'আর করা হলো, তার রক্ত মুছে ফেললেন এবং তার গলায় দু’খানা জুতার কিলাদা বা মালা লাগালেন। আর যখন সেটি তাকে নিয়ে বায়দায় পৌছলেন, তখন তিনি ইহরাম বাঁধলেন।

2775কুতায়বা (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনা থেকে কুরবানীর জন্তু পাঠাতেন। আমি তাঁর কুরবানীর জন্তুর কিলাদা পাকাতাম। তারপর তিনি মুহরিম যা বর্জন করে তার কিছুই বর্জন করতেন না।

2776হাসান ইবন মুহাম্মদ ইবন জা’ফারানী (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কুরবানীর জন্তুর কিলাদা পাকতাম। তিনি কিলাদা পাঠিয়ে দিতেন। কুরবানীর জন্তু কুরবানীর স্থানে পৌঁছার পূর্বে তিনি ঐ সমস্ত কাজই করতেন, যা একজন হালাল ব্যক্তি করে থাকে।

2777আমর ইবন আলী (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কুরবানীর জন্তুর কিলাদা পাকাতাম। তারপরও তিনি মদীনায় অবস্থান করতেন, ইহরাম বাঁধতেন না।

2778আবদুল্লাহ্ ইবন মুহাম্মদ যয়ীফ (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কুরবানীর পশুর জন্য কিলাদা পাকাতাম। তারপর তিনি তাঁর কুরবানীর জন্তুকে তা পরিয়ে পাঠিয়ে দিতেন। পরে তিনি মদীনায় অবস্থান করতেন এবং মুহরিম যা পরিহার করে, তার কিছুই পরিহার করতেন না।

2779হাসান ইবন মুহাম্মদ জাফরানী (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর বকরীর জন্য আমি যে কিলাদা প্ৰস্তুত করতাম, তা আমার এখনও মনে আছে। তারপর তিনি হালাল অবস্থায় অবস্থান করতেন।

2780হাসান ইবন মুহাম্মদ জাফরানী (রহঃ) ... উন্মুল মুমিনীন (আয়েশা) (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এ সকল কিলাদা তৈরী করতাম- তুলা দ্বারা, যা আমার নিকট থাকতো। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মধ্যেই অবস্থান করতেন। এরপর তিনি সে সকল কাজ করতেন যা একজন হালাল ব্যক্তি তার পরিবারে করে থাকে। আর যা কোন ব্যক্তি তার পরিবারের সাথে করে থাকে।

2781মুহাম্মদ ইবন সালামা (রহঃ) ... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী হাফসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! মানুষের কি হলো, তারা তো উমরাহ করে হালাল হয়ে গেছে, আর আপনি তো উমরাহ আদায় করার পর হালাল হলেন না? তিনি বললেনঃ আমি মাথার চুল জমাট করেছি এবং আমার কুরবানীর পশুকে কিলাদা পরায়েছি। অতএব আমি কুরবানী না করা পর্যন্ত হালাল হবে না।

2782উবায়দুল্লাহ্ ইবন সাঈদী (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন যুলহুলায়ফায় গমন করেন, তখন কুরবানীর পশুর কুঁজের ডান দিকে ইশ'আর করেন। তারপর তা থেকে রক্ত মুছে ফেলেন, আর তাকে দুখানা জুতার কিলাদা পরিয়ে দেন। এরপর তাঁর উটনীর উপর আরোহণ করেন। যখন উটনী তাকে নিয়ে বায়দায় পৌঁছলো, তখন তিনি তালবীয়া পাঠ করে জোহরের সময় ইহরামের দু'আ পড়ে ইহরাম বাঁধেন আর হজ্জের তালবিয়া পাঠ করেন।

2783আহমদ ইবন হারব (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি নিজ হাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কুরবানীর উটের কিলাদা পাকিয়েছি। তারপর তিনি তাকে কিলাদা পরালেন এবং তাকে ইশ'আর করলেন এবং তাকে বায়তুল্লাহ অভিমুখী করে কিলাদাসহ পাঠিয়ে দিলেন। তারপর তিনি অবস্থান করলেন অথচ যেসকল বস্তু তার জন্য হালাল ছিল, তা তার কোনটাই তার জন্য হারাম হয়নি।

2784কুতায়বা (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কুরবানীর উটের কিলাদা পাকিয়েছি। অথচ তিনি ইহরাম বাঁধেন নি এবং কোন কাপড়ও পরিত্যাগ করেন নি।

2785ইসমাঈল ইবন মাসউদ (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কুরবানীর পশুর (বাকবীর) কিলাদা পাকাতাম।

2786ইসমাঈল ইবন মাসউদ (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বকরীকে কুরবানীর পশু হিসেবে পাঠাতেন।

2787হান্নাদ ইবন সারী (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার বকরীকে কুরবানীর পশুরূপে পাঠালেন, এবং তিনি তাকে কিলাদা পরালেন।

2788মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কুরবানীর পশুর (বকরীর) কিলাদা পাকাতাম। তারপর তিনি মুহরিম হতেন না।

2789মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কুরবানীর পশুর (বকরীর) কিলাদা পাকাতাম। তারপর তিনি মুহররম হতেন না।

2790মুহাম্মদ ইবন জাহাদা (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কুরবানীর বকরীর কিলাদা পরিয়ে দিতাম। আর তিনি তা হালাল অবস্থায় পাঠিয়ে দিতেন। এ সময় তিনি কোন কিছু বর্জন করতেন না।

2791ইয়াকুব ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন যুলহুলায়াফায় পদার্পণ করলেন, তখন কুরবানীর জন্তুর কুঁজের ডানদিকে ইশ'আর করলেন। তারপর তা থেকে রক্ত মুছে ফেললেন। পরে তাকে দুটি জুতার কিলাদা পরালেন। তারপর তিনি তাঁর উটনীতে আরোহণ করলেন। যখন তা তাকে নিয়ে বায়দায় পৌঁছলেন, তখন তিনি হজ্জের ইহরাম বাঁধলেন। তিনি জোহরের সময় হজ্জের ইহরাম বাঁধলেন এবং হজ্জের তালিবীয়া পাঠ করলেন।

2792কুতায়বা (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তারা [সাহাবীগণ (রাঃ)] এমন ছিলেন যে, যখন আঁরা মদীনায় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে উপস্থিত থাকতেন, তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর জন্তু পাঠিয়ে দিতেন। সে সময় যার ইচ্ছা ইহরাম বাঁধতেন, আর যার ইচ্ছা ইহরাম বঁধতেন না।

2793ইসহাক ইবন মানসূর (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার নিজের হাতে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কুরবানীর পশুর কিলাদা পাকাতাম। তারপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বহস্তে তা জন্তুর গায়ে পরিয়ে দিতেন।তারপর তা আমার আব্বার সাথে পাঠিয়ে দিতেন। তারপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর জন্তু যবাহ না করা পর্যন্ত ঐসকল কোন বিষয়ই পরিত্যাগ করতেন না, যা তাঁর জন্য আল্লাহ তা'আলা হালাল করেছিলেন।

2794ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও কুতায়বা (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কুরবানীর জন্তুর কিলাদা প্ৰস্তুত করে দিতাম। তারপর তিনি মুহরিম ব্যক্তি যা পরিত্যাগ করে থাকে, ঐরূপ কোন বস্তু পরিত্যাগ করতেন না।

2795আবদুল্লাহ্ ইবন মুহাম্মদ ইবন আবদুর রহমান (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, আয়েশা (রাঃ) বলেছেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কুরবানীর জন্তুর কিলাদা তৈরী করতাম, তারপর তিনি কিছুই পরিত্যাগ করতেন না। (আয়েশা (রাঃ) বলেন) আর আমি কোন হাজীকে জানি না যে, তাকে হালাল করে দেয় বায়তুল্লাহর তাওয়াফ ব্যতীত।

2796কুতায়বা (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কুরবানীর জন্তুর কিলাদা তৈরী করতাম। আর ঐ জন্তু কিলাদা পরান অবস্থায় বের করা হতো। অথচ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখনও মদীনায় অবস্থান করতেন, এবং তাঁর সহধর্মিণীদের সম্ভোগ থেকে বিরত থাকতেন না।

2797মুহাম্মদ ইবন কুদামা (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার স্মরণ আছে, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কুরবানীর জন্তু বকরীর কিলাদা তৈরী করে দিতাম। তারপর তিনি তা পাঠিয়ে দিতেন। এরপর তিনি আমাদের মধ্যে হালাল অবস্থায় অবস্থান করতেন।

2798ইমরান ইবন ইয়াযীদ (রহঃ) ... জাফর ইবন মুহাম্মদ তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি তাকে জাবির (রাঃ) সূত্রে বর্ণনা করতে শুনেছেন। তিনি জাবিরকে বলতে শুনেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হজ্জের সময় কুরবানীর জন্তু হাঁকিয়ে নিয়েছেন।

2799কুতায়বা (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে দেখলেন যে, সে কুরবানীর উট হাঁকিয়ে নিয়ে চলছে। তিনি বললেনঃ এতে আরোহণ করা। সে ব্যক্তি বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এ-তো কুরবানীর উট। তিনি দ্বিতীয়বারে বা তৃতীয়বারে তাকে বললেনঃ দুর্ভোগ তোমার জন্য! তুমি উহাতে আরোহণ করা।

2800ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে দেখলেন যে, সে তার কুরবানীর উট হাঁকিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তিনি বললেনঃ এতে আরোহণ কর। সে ব্যক্তি বললোঃ এ-তো কুরবানীর উট। তিনি আবার বললেনঃ এতে আরোহণ কর। তিনি চতুৰ্থবারে বললেনঃ তুমি এতে আরোহণ করা। দুর্ত্যোগ তোমার জন্য।

2801মুহাম্মদ ইবন মুছান্না (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে দেখলেন যে, সে তার কুরবানীর উট হাঁকিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। অথচ পথ চলতে চলতে সে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। তিনি বললেনঃ এতে আরোহণ কর। সে ব্যক্তি বললোঃ এ-তো কুরবানীর উট। তিনি আবার বললেনঃ কুরবানীর উট হলেও তুমি এতে আরোহণ কর।

2802আমর ইবন আলী (রহঃ) ... আবূ যুবায়র (রহঃ) বলেন, আমি জাবির ইবন আবদুল্লাহ্ (রাঃ)-কে কুরবানীর জন্তুর উপর আরোহণ করা সম্বন্ধে প্রশ্ন করতে শুনি, তিনি বলেনঃ আমি বাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, এতে বিবেচনার সাথে আরোহণ কর। যখন তুমি এর মুখাপেক্ষী হও এবং অন্য একটি সওয়ারী না পাও।

2803মুহাম্মদ ইবন কুদামা (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে বের হলাম। আর হজ্জ ব্যতীত আমাদের অন্য কোন উদ্দেশ্য ছিল না, পরে যখন আমরা মক্কায় পৌঁছলাম তখন বায়তুল্লাহর তওয়াফ করলাম। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদেশ করলেনঃ যে কুরবানীর জন্তু সাথে নিয়ে আসেনি, সে যেন হালাল হয়ে যায়। ফলে, যে কুরবানীর জন্তু সাথে নিয়ে আসেনি। সে হালাল হয়ে গেল। আর তাঁর সহধর্মিণীগণ ও কুরবানীর জন্তু সাথে আনেন নি, তাঁরাও হালাল হয়ে গেলেন। আয়েশা (রাঃ) বলেন, এরপর আমি ঋতুবতী হলাম। তাই আমি বায়তুল্লাহর তওয়াফ করলাম না। এরপর যখন মুহাসসাব নামক স্থানে রাত্রি যাপনের সময় হলো, তখন আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! অন্যান্য লোক তো এক হজ্জ ও এক উমরাহসহ প্ৰত্যাবর্তন করবে, আর আমি শুধু এক হজ্জ নিয়েই প্রত্যাবর্তন করবো? তিনি বললেনঃ তুমি কি আমাদের মক্কা আগমনের রাত্রে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করনি? আমি বললামঃ না। তিনি বললেনঃ তাহলে তুমি তোমার ভাইয়ের সাথে তানঈম চলে যাও এবং উমরাহর ইহরাম করে আস। এরপর তোমার ওয়াদা পূর্ণ হওয়ার স্থান হবে অমুক অমুক জায়গা।

2804আমর ইবন আলী (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে বের হলাম। হজ্জ ব্যতীত আমাদের আর কোন উদ্দেশ্য ছিল না। আমরা যখন মক্কার নিকটবর্তী হলাম, তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদেশ করলেন, যার সাথে কুরবানীর জন্তু রয়েছে, সে যেন তার ইহরাম অবস্থায় থাকে। আর যার সাথে কুরবানীর জন্তু নেই, সে যেন হালাল হয়ে যায়।

2805ইয়াকুব ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীগণ শুধু হজ্জের ইহরাম করেছিলাম, তার সাথে আর কোন কিছুর নিয়ত ছিল না। যিলহজ্জ মাসের চতুর্থ তারিখ ভোরে আমরা মক্কায় উপনীত হলাম। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে আদেশ করলেন, তোমরা হালাল হয়ে যাও, আর একে উমরাহ করে ফেল। (অর্থাৎ হজ্জের নিয়্যতের ইহরামকে উমরাহর নিয়্যতে পরিবর্তিত করে ফেল।) আমাদের পক্ষ থেকে তার নিকট এ খবর পৌঁছলো যে, আমরা বলছি, আমাদের আরাফার মধ্যে মাত্র পাঁচ দিন বাকী থাকতে আমাদেরকে তিনি হালাল হতে আদেশ করলেন? তাহলে কি আমরা এমন অবস্থায় মিনায় উপস্থিত হব, যখন আমাদের বীর্য নিৰ্গত হতে থাকবে? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে আমাদেরকে ভাষণ দিতে গিয়ে বললেনঃ তোমরা যা বলেছ তা আমার নিকট পৌছেছে। নিশ্চয়ই আমি তোমাদের মধ্যে অধিক নেককার এবং পরহেযাগার। যদি কুরবানীর জন্তু না হতো, তাহলে আমি অবশ্যই হালাল হয়ে যেতাম। আমি পরে যা বুঝতে পেরেছি, তা যদি পূর্বে বুঝতাম, তাহলে কুরবানীর জন্তু সাথে আনতাম না। বর্ণনাকারী বলেন, ইত্যবসরে আলী (রাঃ) ইয়ামন থেকে আগমন করলেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি কিসের ইহরাম বেঁধেছা? তিনি বললেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যার ইহরাম বেঁধেছেন তার। তিনি বললেনঃ তাহলে কুরবানীর জন্তুসহ ইহরাম অবস্থায় থাকে। বর্ণনাকারী বলেন, সুরাকা ইবনু মালিক ইবন জা'সুম বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনি কি বলেন? আমাদের এ উমরাহ কি এ বৎসরের জন্যই, না চিরদিনের জন্য? তিনি বললেনঃ চিরদিনের জন্য।

2806মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... সুরাকা ইবন মালিক ইবন জ'শম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়া ব্লাসূলাল্লাহ্! আপনার কি অভিমত, আমাদের এ উমরাহ কি এ বৎসরের জন্যই, না চিরদিনের জন্য? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ইহা চিরদিনের জন্য।

2807হান্নাদ ইবন সারী (রহঃ) ... আতা (রহঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন যে, সুরাকা (রাঃ) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ্জে তামাত্তু করলেন, তাঁর সঙ্গে আমরাও তামাত্তু করলাম, পরে আমরা বললামঃ ইহা কি বিশেষভাবে আমাদের জন্য, না চিরদিনের জন্য? তিনি বললেনঃ চিরদিনের জন্য।

2808ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... হারিস ইবন বিলাল তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! হজ্জ পরিত্যাগ করার বিধান কি শুধু আমাদের জন্য, না সকল লোকের জন্য? তিনি ইরশাদ করলেনঃ বরং শুধু আমাদের জন্য।

2809আমর ইবন ইয়াযীদ (রহঃ) ... আবু যর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি হজ্জে তামাত্তু সম্বন্ধে বলেনঃ এর অনুমতি শুধু আমাদের জন্যই দান করা হয়েছে। (অর্থাৎ হজ্জ পরিত্যাগ করে উমরাহ করার অনুমতি শুধু আমাদের জন্য ছিল।)

2810মুহাম্মদ ইবন মুছান্না ও মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... আবু যর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি হজ্জে তামাত্তু সম্বন্ধে বলেনঃ ইহা তোমাদের জন্য নয়। ইহা পরিত্যাগ করার অনুমতি শুধু আমরা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীদের জন্য।

2811বিশর ইবন খালিদ (রহঃ) ... আবু যর (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। তিনি বলেনঃ হজ্জে তামাত্তু আমাদের জন্য ঐচ্ছিক ছিল।

2812মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন মুবারক (রহঃ) ... আবদুর রহমান ইবন আবু শা'ছা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সময় আমি ইবরাহীম নাখায়ী এবং ইবরাহীম তায়মীর সাথে ছিলাম। আমি বললামঃ আমি ইচ্ছা করেছি এ বৎসর হজ্জ ও উমরাহ একত্রে করবো। তখন ইবরাহীম বললেনঃ তোমার পিতা হলে এর ইচ্ছা করতেন না। তিনি বললেনঃ ইবরাহীম তায়ামী তাঁর পিতার সূত্রে আবু যর (রাঃ) থেকে বলেন, তিনি বলেছেনঃ হজ্জে তামাত্তু তো আমাদের জন্য খাস ছিল।

2813আবদুল আ'লা ইবন ওয়াসিল ইবন আবদুল আ'লা (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জাহিলী যুগে লোক মনে করতো পৃথিবীতে হজ্জের মাসে উমরাহ করা গুরুতর পাপ। তারা মুহররম মাসকে সফর মাস হিসেবে গণ্য করতো। এবং তারা বলতঃ إِذَا بَرَأَ الدَّبَرْ وَعَفَا الْوَبَرْ وَانْسَلَخَ صَفَرْ - أَوْ قَالَ دَخَلَ صَفَرْ - فَقَدْ حَلَّتِ الْعُمْرَةُ لِمَنِ اعْتَمَرْ যখন উটের পিঠে ক্ষত শুকিয়ে যায়, উটের পশম বৃদ্ধি পায় এবং সফর অর্থাৎ (তাদের বিশ্বাসানুযায়ী) মুহররম অতিবাহিত হয়।” অথবা বলতোঃ সফর মাস এসে যায়, তখন উমরাহ হালাল হয়ে যায়, যে উমরাহ করতে চায়। তার জন্য। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার সাহাবীগণ যিলহজ্জ মাসের চতুর্থ তারিখে ভোরে হজের ইহরাম বঁধেন। তিনি তাদেরকে আদেশ করেন, তারা যেন হজ্জকে উমরায় পরিবর্তিত করে ফেলে। ইহা তাদের নিকট কষ্টকর মনে হলো, তাঁরা প্রশ্ন করলোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! কোনটি হালাল? তিনি ইরশাদ করলেন, হালাল সবই।

2814মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... মুসলিম (রহঃ) বলেনঃ আমি ইবন আব্বাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমরাহর ইহরাম বাঁধলেন, আর তাঁর সাহাবীগণ হজ্জের ইহরাম বাঁধলেন, যাদের সাথে কুরবানীর জন্তু ছিল না, তিনি তাদেরকে আদেশ করলেন যেন তারা হালাল হয়ে যায়। আর যাদের সাথে কুরবানীর জন্তু ছিল না, তাদের মধ্যে ছিলেন তালহা ইবন উবায়দুল্লাহ্ এবং অন্য এক ব্যক্তি। অতএব, তারা উভয়ে হালাল হয়ে গেলেন।

2815মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) সূত্রে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এই উমরাহ্ আমরা উপভোগ করলাম, অতএব যার সাথে কুরবানীর জন্তু নেই, সে যেন সর্বোতভাবে হালাল হয়ে যায়। এভাবে উমরার নিয়্যত হজ্জের নিয়্যতের মধ্যে শামিল হলো।

2816কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। একদা তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলেন। যখন তিনি মক্কায় কোন এক রাস্তায় পৌঁছলেন, তখন তিনি তার কয়েকজন মুহরিম সঙ্গিসহ পেছনে রয়ে গেলেন, আর তিনি নিজে মুহরিম ছিলেন না। এমন সময় তিনি একটি বন্য গাধা দেখতে পেলেন। তিনি একটি ঘোড়ায় আরোহণ করলেন। তারপর তিনি তাঁর সাথীদেরকে তাকে চাবুক মারতে বললেনঃ কিন্তু তারা অস্বীকার করলেন। পরে তিনি তাঁদেরকে তীর ছুড়তে বললেন, তারা তা-ও অস্বীকার করলেন। এরপর তিনি নিজে গাধার প্রতি তীর নিক্ষেপ করলেন এবং তা শিকার করলেন। তা থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কোন কোন সাহাবী খেলেন আর কেউ কেউ খেতে অস্বীকৃতি জানালেন। তারপর তাঁরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে পেয়ে এ সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেনঃ ইহা তো খাদ্য বিশেষ, যা আল্লাহ তা'আলা তোমাদেরকে খাওয়ালেন ।

2817আমর ইবন আলী (রহঃ) ... মুয়ায ইবন আবদুর রহমান তায়মী তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমরা তালহা ইবন উবায়দুল্লাহর সঙ্গে ছিলাম। আর আমরা সকলে ছিলাম মুহরিম। তাকে একটি পাখি হাদিয়া দেওয়া হলো। তখন তিনি ছিলেন নিদ্রিত। আমাদের মধ্যে কেউ তা আহার করলো আর কেউ তা আহার করলো না। ইত্যবসরে তালহা (রাঃ) নিদ্রা থেকে জাগলেন। যারা তা খেয়েছিলেন, তিনিও তাদের অনুসারী হলেন এবং বললেন, আমরা তা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে আহার করেছি।

2818মুহাম্মদ ইবন সালামা ও হারিছ ইবন মিসকীন (রহঃ) ... বাহযী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম অবস্থায় মক্কার উদ্দেশ্যে বের হলেন। যখন তঁরা রওহা নামক স্থানে পৌঁছলেন, তখন আহত অবস্থায় একটি জংলী গাধা দেখতে পেলেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এ সংবাদ দিলে তিনি বললেনঃ এটা ছেড়ে দাও, হয়তো তার মালিক এসে পড়বে। তারপর তার মালিক বাহযী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এই গাধার ব্যাপারটি আপনাদের হাতে। পরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বকর (রাঃ)-কে আদেশ করলে তিনি তা সাথীদের মধ্যে ভাগ করে দিলেন। তারপর যখন তিনি রুয়াইসাহ ও আরজ এর মধ্যবর্তী উসাইয়াহ্ নামক স্থানে পৌঁছলেন, তখন দেখা গেল একটি হরিণ ছায়ায় শায়িত রয়েছে, ভার গায়ে একটি তীর বিন্ধ আছে। বর্ণনাকারী বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে আদেশ করলেন, যে ব্যক্তি তার নিকট দণ্ডায়মান ছিল, কোন ব্যক্তি যেন তাকে অতিক্রম করে যাওয়ার সময় তাকে উত্যক্ত না করে।

2819কুতায়বা ইবন সাঈদ (রহঃ) ... সা'ব ইবন জাছছামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আবওয়ায় অথবা ওয়াদানে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে একটি জংলী গাধা হাদিয়া দিলে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ফেরত দেন। এতে আমার চেহারার অবস্থা দেখে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিচ বললেনঃ আমি যেহেতু মুহরিম, সেজন্য তা তোমাকে ফেরত দিয়েছি।

2820কুতায়বা ইবন সাঈদ (রহঃ) ... সা'ব ইবন জাছছামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় আগমনকালে যখন ওয়াদানে পৌঁছলেন, তখন একটি জংলী গাধা দেখলেন। (যা তাঁকে সাব ইবন জাছছামা কর্তৃক হাদিয়া হিসেবে দেয়া হয়েছে।) তিনি তা তাকে ফেরত দিলেন এবং বললেনঃ আমরা মুহরিম, আমরা শিকার আহার করি না।

2821আহমদ ইবন সুলায়মান (রহঃ) ... আতা (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, ইবন আব্বাস (রাঃ) যায়দ ইবন আরকাম (রাঃ)-কে বললেনঃ আপনি কি জানেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর ইহরাম অবস্থায় শিকার করা জন্তুর এক অংশ হাদিয়া দেয়া হয়েছিল আর তিনি তা গ্ৰহণ করানে নি! তিনি বললেনঃ হ্যাঁ।

2822মুহাম্মদ ইবন কুদামা (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাব ইবন জাছছামা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জংলী গাধার একটি পা হাদিয়া দিলেন যার থেকে রক্ত পড়ছিল, আর তখন তিনি কুদায়দ নামক স্থানে ইহরাম অবস্থায় ছিলেন। পরে তিনি তা তাকে ফেরত দিলেন।

2823ইউসুফ ইবন হাম্মাদ মানী (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, সাব ইবন জাছছামা (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে একটি গাধা হাদিয়া দিলেন, তখন তিনি ছিলেন মুহরিম। তিনি তা নিকট তা ফেরত দিলেন।

2824মুহাম্মদ ইবন আবদুল আ'লা (রহঃ) ... আবদুল্লাহ্ ইবন আবু কাতাদা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুদায়বিয়ার বছর আমার পিতা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে রওয়ানা হলেন। তাঁর সাহাবীগণ ইহরাম বাঁধলেন, আর তিনি ইহরাম বাঁধলেন না। আমি তাঁর সাহাবীগণের সাথে ছিলাম। এমন সময় তারা একে অন্যের দিকে তাকিয়ে হেসে উঠলেন। আমি লক্ষ্য করে দেখলাম, একটি জংলী গাধা। আমি তাকে লক্ষ্য করে বর্শা নিক্ষেপ করলাম। বর্শ নিক্ষেপ করতে আমি তাঁদের সাহায্য কামনা করলাম, কিন্তু তারা আমাকে সাহায্য করতে অস্বীকৃতি জানালেন। আমরা তার গোশত খেলাম। আমরা কাফেলা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশংকা করলাম। তারপর আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর তালাশে ঘোড়াকে অতি দ্রুত হাঁকালাম। মধ্যরাত্রে গিফার গোত্রের এক ব্যক্তির সাথে আমার সাক্ষাত হলো। তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, তুমি কোথায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ছেড়ে এসেছে? সে বললো, সুকিয়া নামক স্থানে তাঁকে শায়িত অবস্থায় ছেড়ে এসেছি। পরে তাঁর সাথে মিলিত হয়ে বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনার সাহাবীবৃন্দ আপনাকে সালাম দিয়েছেন। তারা আপনার থেকে পেছনে থাকার কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ভয় করছে। অতএব আপনি তাঁদের জন্য অপেক্ষা করুন। তিনি তাঁদের জন্য অপেক্ষা করলেন। আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি একটি জংলী গাধা ধরে ফেলেছি। আর তার কিছু অংশ আমার নিকট আছে। তিনি কাফেলাকে লক্ষ্য করে বললেনঃ তোমরা তা আহার কর, অথচ তারা তখন মুহরিম ছিল।

2825উবায়দুল্লাহ ইবন ফাদালা ইবন নাসায়ী (রহঃ) ... ইয়াহইয়া ইবন আবু কাসীর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবন আবু কাতাদা (রহঃ) আমার নিকট বৰ্ণনা করেছেন যে, তাঁর পিতা তার নিকট বলেছেন, তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে হুদায়বিয়ার যুদ্ধে ছিলেন। তিনি বললেনঃ আমি ব্যতীত সকলেই উমরাহর ইহরাম করেছিলেন। আমি একটি জংলী গাধা শিকার করলাম, এবং তা থেকে আমার সাথীদেরকে খাওয়ালাম, অথচ তাঁরা ছিলেন মুহরিম। তারপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে তাঁকে এ সংবাদ দিলাম যে, এর উদ্ধৃত্ত গোশত আমাদের নিকট রয়েছে। তিনি বললেনঃ তোমরা তা খাও। অথচ তারা সকলেই মুহরিম ছিলেন।

2826মাহমুদ ইবন গায়লান (রহঃ) ... উসমান ইবন আবদুল্লাহ ইবন মাওহাব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহকে তার পিতা আবু কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, কয়েকজন সাহাবী এক সফরে ছিলেন। তাদের কেউ কেউ মুহরিম ছিলেন, আর কেউ কেউ মুহরিম ছিলেন না। তিনি বলেন, আমি একটি জংলী গাধা দেখতে পেলাম। আমি আমার ঘোড়ায় আরোহণ করে বর্শ ধারণ করলাম এবং তঁদের সাহায্য চাইলাম। কিন্তু তারা আমাকে সাহায্য করতে অস্বীকার করলেন। তারপর আমি তাদের একজনের নিকট থেকে একটি তীর কেড়ে নিয়ে ঐ গাধাকে আক্রমণ করলাম এবং তাকে ধরে ফেললাম। তারা সকলেই তা খেলেন এবং ভয় করলেন। বর্ণনাকারী বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেনঃ তোমরা কি এ ব্যাপারে ইঙ্গিত অথবা সাহায্য করেছিলে ? তারা বললেনঃ না । তিনি বললেন, তাহলে খাও।

2827কুতায়বা ইবন সাঈদ (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ তোমাদের জন্য স্থলের শিকার হালাল, যদি তোমরা তা শিকার না কর অথবা তোমাদের আদেশে শিকার করা না হয়। আবু আবদুর রহমান (রহঃ) বলেনঃ আমর ইবন আবু আমার হাদীসে তত নির্ভরযোগ্য নন, যদিও মালিক (রহঃ) তাঁর থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন।

2828কুতায়বা (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পাঁচ প্রকার প্রাণী হত্যা করায় মুহরিমের কোন পাপ নেই। তা হলো- কাক, চিল, বিচ্চু, ইদুর এবং দংশনকারী কুকুর।

2829আমর ইবন আলী (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেনঃ মুহরিম ব্যক্তি পাঁচ প্রকার জন্তু হত্যা করতে পারে, সাপ, ইদুর, চিল, ঐ কাক- যার পেটে বা পিঠে শুভ্রতা রয়েছে এবং দংশনকারী কুকুর।

2830কুতায়বা ইবন সাঈদ (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঁচ প্রকার, প্রাণী হত্যা করতে মুহরিমকে অনুমতি দিয়েছেন। তা হলো- কাক, চিল, ইদুর, দংশনকারী কুকুর এবং বিচ্ছু।

2831আবু বকর ইবন ইসহাক (রহঃ) ... সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক মহিলা আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে দেখল যে, তার হাতে একটি ছড়ি রয়েছে। মহিলা জিজ্ঞাসা করলোঃ ইহা কি? তিনি বললেনঃ ইহা গিরগিটি মারার জন্য। কেননা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক প্রাণীই ইবরাহীম (আঃ)-এর আগুন নিৰ্বাপিত করতে চেষ্টা করেছিল, তবে এ জীবটি ব্যতীত। অতএব, তিনি একে হত্যা করতে আমাদেরকে আদেশ করেছেন এবং তিনি ঘরের সাপ মারতে নিষেধ করেছেন। তবে পিঠে সাদা দুই দাগ বিশিষ্ট এবং ছোট লেজ বিশিষ্ট সাপ ছাড়া। কেননা, এই দুই প্রকারের সাপ চোখ অন্ধ করে দেয় এবং স্ত্রীলোকের গর্ভপাত ঘটায়।

2832উবায়দুল্লাহ ইবন সাঈদ আবু কুদামা (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পাঁচ প্রকার জন্তুকে ইহরাম অবস্থায় মারলে কোন পাপ হবে না। সেগুলো হলো।— চিল, ইদুর, দংশনকারী কুকুর, বিচ্ছু এবং কাক।

2833যিয়াদ ইবন আইয়ুব (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যাক্তি বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! ইহরাম অবস্থায় আমরা কোন কোন প্রাণী হত্যা করতে পারি? তিনি বললেনঃ পাঁচ প্রকার প্রাণী হত্যা করলে তাতে কোন পাপ হবে না। তা হলোঃ চিল, কাক, ইঁদুর, বিচ্ছু ও দংশনকারী কুকুর।

2834ইয়াকূব ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, (একদা) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করা হলঃ মুহরীম কোন কোন প্রাণী হত্যা করতে পারে? তিনি বললেনঃ বিচ্ছু, ইঁদুর, চিল, কাক ও দংশনকারী কুকুর।

2835মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন ইয়াযীদ মুকরী (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেব, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি পাঁচ প্রকার প্রাণী হারাম শরীফে এবং ইহরাম অবস্থায় হত্যা করে, যেগুলো হত্যার জন্য তার কোন পাপ হবে না। সেগুলো হলঃ ইঁদুর, চিল, কাক, বিচ্ছু এবং দংশনকারী কুকুর।

2836মুহাম্মাদ ইবন মানসূর (রহঃ) ... ইবন আবু আম্মার (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যাবির ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ)-কে দব্ব সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি আমাকে তা খাওয়ার আদেশ দিলেন। আমি বললাম, তা কি শিকার? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। আমি বললামঃ আপনি কি তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছেন? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ।

2837কুতায়বা (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম অবস্থায় মায়মূনা (রাঃ)-কে বিবাহ করেছিলেন।

2838আমর ইবন আলী (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম অবস্থায় বিবাহ করেছিলেন।

2839ইবরাহীম ইবন ইউনুস ইবন মুহাম্মাদ ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মায়মূনা (রাঃ)-কে বিবাহ করেছিলেন। তখন তারা উভয়ে মুহরিম ছিলেন।

2840মুহাম্মাদ ইবন সাগানী (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মায়মূনা (রাঃ)-কে ইহরাম অবস্থায় বিবাহ করেছিলেন।

2841শুয়াইব ইবন শুয়াইব ইবন ইসহাক ও সাফওয়ান ইবন আমার হিমসী (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মায়মূনা (রাঃ)-কে বিবাহ করেছিলেন, তখন তিনি ছিলেন মুহরিম।

2842কুতায়াবা (রহঃ) ... আবান ইবন উসমান (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেনঃ আমি উসমান ইবন আফফান (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুহরিম বিবাহ করবে না, বিবাহের পয়গাম পাঠাবে না এবং অপর কাউকে বিবাহ দেবে না।

2843উবায়দুল্লাহ ইবন সাঈদ (রহঃ) ... আবান ইবন উসমান (রহঃ) তাঁর পিতার সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামর থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি মুহরিমকে বিবাহ করতে, বিবাহ দিতে, বা বিবাহের পয়গাম পাঠাতে নিষেধ করেছেন।

2844মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ্ ইবন ইয়াযীদ (রহঃ) ... নুবায়হ ইবন ওহাব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমর ইবন উবায়দুল্লাহ্ ইবন মা'মার (রহঃ) আবান ইবন উসমান (রহঃ)-এর নিকট জিজ্ঞাসা করে পাঠান যে, মুহরিম কি বিবাহ করতে পারে? আবান বলেন, উসমান ইবন আফফান (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুহরিম না বিবাহ করবে, না বিবাহের পয়গাম পাঠাবে।

2845কুতায়বা (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম অবস্থায় শিংগা লাগিয়েছিলেন।

2846কুতায়বা (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম অবস্থায় শিংগা লাগিয়েছিলেন।

2847মুহাম্মাদ ইবন মানসূর (রহঃ) ... আতা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবন আব্বাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম অবস্থায় শিংগা লাগিয়েছিলেন। আর সনদের অন্য ধারায় আমর ইবন দীনার বলেন, আমাকে তাউস (রহঃ) ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে অবহিত করেছেন, তিনি বলেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম অবস্থায় শিংগা লাগিয়েছিলেন।

2848মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ্ ইবন মুবারক (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পায়ে যে ব্যথা ছিল, তার জন্য তিনি ইহরাম অবস্থায় শিংগা লাগিয়েছিলেন।

2849ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পা মুবারকের পিঠে যে ব্যথা ছিল, তার জন্য ইহরাম অবস্থায় তিনি শিংগা লাগিয়েছিলেন।

2850হিলাল ইবন বিশর (রহঃ) ... আ'রাজ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আবদুল্লাহ ইবন বুহায়না (রাঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কার পথে 'লাহ্ইয়ে জামাল’ নামক স্থানে ইহরাম অবস্থায় মাথার মধ্যস্থলে শিংগা লাগিয়েছিলেন।

2851মুহাম্মদ ইবন সালামা ও হারিছ ইবন মিসকীন (রহঃ) ... ক’ব ইবন উজরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি মুহরিম অবস্থায় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিলেন। তখন তার মাথায় উকুন কষ্ট দিতেছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে মাথা মুণ্ডন করতে আদেশ করলেন এবং বললেন ঐ তিন দিন রোযা রাখা অথবা ছয়জন মিসকীনকে দুই দুই মুদ করে খাওয়াও অথবা একটি বকরী কুরবানী কর। এর যে কোন একটি আদায় করলেই তােমার জন্য তা যথেষ্ট হবে।

2852আহমদ ইবন সাঈদ রিবাতী (রহঃ) ... কা'ব ইবন উজরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার ইহরাম বাঁধার পর আমার মাথায় উকুন বেড়ে গেল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এই সংবাদ পৌছলে তিনি আমার নিকট আগমন করলেন। তখন আমি আমার সাথীদের জন্য রান্না করতে ছিলাম। তিনি স্বীয় আঙ্গুল দ্বারা আমার মাথা স্পর্শ করে বললেনঃ উঠ, ইহা মুণ্ডন করে ফেল এবং ছয়জন মিসকীনকে সাদকা দাও।

2853ইয়াকূব ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিল। তাকে তার উটনী পৃষ্ঠ হতে ফেলে দেয়ায় তার ঘাড় ভেঙ্গে গেল এবং সে মারা গেল। আর সে ছিল মুহরিম। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন তাকে কুল পাতার পানি দ্বারা গােসল দাও। আর তাকে তার দু'খানা কাপড় দ্বারা কাফন দাও, তার গায়ে কোন সুগন্ধি লাগাবে না এবং তার মাথাও ঢাকবে না। কেননা, কিয়ামতের দিন তালবিয়া পাঠ করতে করতে তার উত্থান হবে।

2854মুহাম্মদ ইবন আবদুল আ'লা (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক মুহরিম ব্যক্তি উট থেকে পড়ে যাওয়ায় তার ঘাড় ভেঙ্গে গেল এবং সে মারা গেল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এ সংবাদ পৌঁছলে তিনি বলেনঃ তাকে কুল পাতার পানি দিয়ে গোসল দাও এবং দু' কাপড় দিয়েই তাকে কাফন দাও। এরপর তিনি বলেনঃ তার মাথা কাফনের বাইরে থাকবে। আর তার গায়ে খুশবু লাগাবে না। কেননা সে কিয়ামতের দিন তালবিয়া পড়তে পড়তে উঠবে। শু’বা (রহঃ) বলেনঃ আমি দশ বৎসর পর তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি ঐ হাদীস বর্ণনা করলেন, যেমন পূর্বে তিনি বর্ণনা করতেন। কিন্তু তাতে তিনি (অতিরিক্ত) বললেনঃ তার চেহারা এবং মাথা ঢাকবে না।

2855কুতায়বা (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি আরাফায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে অবস্থান করছিল। হঠাৎ সে তার সওয়ারী থেকে পড়ে যায় এবং সাথে সাথে মারা যায়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তাকে কুল পাতার পানি দিয়ে গোসল দাও এবং দুই কাপড়ে কাফন দাও, তার গায়ে সুগন্ধি লাগবে না এবং তার মাথা ঢাকবে না। কেননা, আল্লাহ্ তা'আলা তাকে কিয়ামতের দিন তালবিয়া পাঠরত অবস্থায় উঠবেন।

2856মুহাম্মদ ইবন কুদামা (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক মুহূরিম ব্যক্তিকে তার উটনী পিঠ থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করলো। তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আনা হলে তিনি বললেনঃ তাকে গোসল দিয়ে কাফন পরাও, তার মাথা ঢেকে না এবং তার গায়ে সুগন্ধি লাগিও না। কেননা, তালবিয়া পড়তে পড়তে তার হাশর হবে।

2857মুহাম্মদ ইবন মুআবিয়া (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে হজ্জের সফরে ছিল। তার উট তাকে ফেলে দিলে সে ইনতিকাল করলো । রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাকে গোসল দেওয়া হবে এবং দুই কাপড়ে কাফন দেওয়া হবে, আর তার চেহারা ও মাথা ঢাকা যাবে না। কেননা, সে কিয়ামতের দিন তালবিয়া পড়তে পড়তে উঠবে।

2858ইমরান ইন ইয়াযীদ (রহঃ) ... ইবন জুরায়জ (রহঃ) বলেনঃ আমর ইবন দীনার আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, সাঈদ ইবন জুবায়র তাকে খবর দিয়েছেন, ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেছেনঃ এক মুহুরিম ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে আগমন করছিল। সে তার উটের উপর থেকে পড়ে আঘাত পেয়ে মারা গেল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন তাকে কুল পাতার পানিতে গােসল দাও এবং তার কাপড় দুইখানা দিয়ে তাকে কাফন দাও; আর তার মাথা ঢেকো না। কেননা সে কিয়ামতের দিন তালবিয়া পড়তে পড়তে আসবে।

2859মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ্ ইবন ইয়াযীদ মুকরী (রহঃ) ... নাফি’ (রহঃ) বলেন, আবদুল্লাহ্ ইবন আবদুল্লাহ্ এবং সালিম ইবন আবদুল্লাহ্ তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, যখন আবদুল্লাহ্ ইবন যুবােয়র (রাঃ) (শত্রু) সেনা কর্তৃক আক্রান্ত হলেন, তখন তাঁর শহীদ হওয়ার পূর্বে তারা উভয়ে আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ)-এর সাথে এই মর্মে আলাপ করলেন যে, এ বৎসর হজ্জ না করলে আপনার কোন ক্ষতি হবে না। আমরা আশংকা করি যে, আপনার এবং বায়তুল্লাহর মধ্যে শক্ৰ প্ৰতিবন্ধক হবে। তিনি বললেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে বের হলাম। তখন কাফির কুরায়শরা বায়তুল্লাহর নিকট প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কুরবানীর পশু যাবাহ করলেন, মাথা মুণ্ডন করলেন এবং বললেন যে, আমি তোমাদেরকে সাক্ষী রেখে বলছি, আমি ইনশা আল্লাহ উমরাহ্ আদায় করবো। চল, যদি আমার ও বায়তুল্লাহর মধ্যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয়, তাহলে তাওয়াফ করবো। আর যদি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়, তাহলে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে যখন ছিলাম তখন তিনি যা করেছেন, আমিও এখন তা করবো। তারপর তিনি কিছুক্ষণ চললেন এবং বললেনঃ উভয়ের অর্থাৎ হজ্জ ও উমরাহর অবস্থা একই। আমি তোমাদেরকে সাক্ষী রাখছি যে, আমি আমার উমরাহর সাথে হজ্জকে ওয়াজিব করে নিয়েছি। তিনি তা থেকে হালাল হলেন না। কুরবানীর দিন হালাল হলেন এবং কুরবানী করলেন।

2860হুমায়দ ইবন মাসআদা বসরী (রহঃ) ... হাজ্জাজ ইবন আমর আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন, যে ব্যক্তি খোঁড়া হয়ে গেল, অথবা তার পা ভেঙ্গে গেল, সে হালাল হয়ে গেল। তার উপর অন্য এক হজ্জ ফরয হলো। আমি ইবন আব্বাস এবং আবু হুরায়রা (রাঃ)-কে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তারা বললেন, তিনি সত্যই বলেছেন।

2861শু'আয়ৰ ইবন ইউসুফ ও মুহাম্মদ ইবন মুছান্না (রহঃ) ... হাজ্জাজ ইবন আমার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ যে খোঁড়া হয়েছে, অথবা যার পা ভেঙ্গেছে, সে হালাল হয়ে গেছে, তার উপর অন্য এক হজ্জ ফরয হবে। আমি ইবন আব্বাস এবং আবু হুরায়রা (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলে তারা বললেনঃ তিনি সত্যই বলেছেন। আর শু'আয়ব (রহঃ) তার বর্ণিত হাদীসে উল্লেখ করেছেনঃ পরবর্তী বৎসর তার উপর হজ্জ করা ওয়াজিব হবে।

2862আবদা ইবন আবদুল্লাহ্ (রহঃ) ... মূসা ইবন উকবা (রহঃ) বলেনঃ নাফি' (রহঃ) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) তাঁর নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মক্কায় আগমন করতেন, তখন যীতুয়া নামক স্থানে অবতরণ করতেন এবং সেখানে রাত্রি যাপন করে ফজরের সালাত আদায় করতেন। আর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত আদায়ের এই স্থানটি ছিল শক্ত মাটির উঁচু টিলার ওপর। তথায় যে মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছিল এস্থানটি সেই মসজিদের ছিল না; বরং এর নীচে উঁচু শক্ত টিলার উপর ছিল।

2863ইমরান ইবন ইয়াযীদ (রহঃ) ... মুহাররিশ কা'বী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে উমরার নিয়তে জি'য়িরারানা থেকে হেঁটে বের হলেন, জিয়িরারানাতেই তার ভোর হলো, যেন তিনি সেখানেই রাত্রি যাপন করেছেন। সূর্য ঢলার পর তিনি জিয়িরারানা থেকে সারিফ উপত্যকার দিকে গমন করলেন, এমনকি তিনি সারিফ থেকে মদীনার রাস্তার সঙ্গমস্থলে গেলেন।

2864হান্নাদ ইবন সারী (রহঃ) ... মুহারারিশ কা'বী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জি'য়িরারানা থেকে রাতে বের হলেন, তখন তাকে স্বচ্ছ রৌপ্যের মত মনে হচ্ছিল। তারপর তিনি উমরাহ্ আদায় করলেন, তারপর সেখানেই ভোর হলো, যেন তিনি সেখানেই রাত্রি যাপন করেছেন।

2865আমর ইবন আলী (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছানিয়াতুল উলইয়া নামক স্থান দিয়ে মক্কায় প্রবেশ করেন, যা বাতহার নিকট অবস্থিত। আর তিনি ছানিয়্যাতুস সুফলা নামক স্থান দিয়ে বের হন।

2866ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মক্কায় প্রবেশ করেন, তখন তাঁর পতাকা ছিল সাদা রংয়ের।

2867কুতায়বা (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মক্কায় প্রবেশ করেন, তখন তাঁর মাথায় শিরস্ত্ৰাণ ছিল। তখন তাঁকে বলা হলোঃ ইবন খাতাল কা'বার গিলাফ ধরে আছে। তিনি বললেনঃ তাকে হত্যা কর।

2868উবায়দুল্লাহ্ ইবন ফাদালা ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, মক্কা বিজয়ের দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাতে প্রবেশ করেন, তখন তাঁর মাথায় শিরস্ত্ৰাণ ছিল।

2869কুতায়াবা (রহঃ) ... জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের দিন ইহরাম ব্যতীত মক্কায় প্রবেশ করেছিলেন। আর তাঁর মাথায় কালো বর্ণের পাগড়ি ছিল।

2870মুহাম্মদ ইবন মুআম্মার (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার সাহাবীগণ ফিলহজ্জ মাসের ৪ তারিখে ভোরে মক্কায় পদার্পণ করেন। তখন তাঁরা হজ্জের তালবিয়া পাঠ করছিলেন। সে সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে ইহরাম ভঙ্গ করতে আদেশ দেন।

2871মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিলহজ্জ মাসের ৪ তারিখ রাত গত হওয়ার পর প্রবেশ করেন এবং তখন তিনি হজ্জের ইহরাম অবস্থায় ছিলেন। তিনি বাত্‌হা নামক স্থানে ফজরের সালাত আদায় করে বলেনঃ যার ইচ্ছা হয় একে উমরাহয় পরিণত করার, সে তা করতে পারে।

2872ইমরান ইবন ইয়াযীদ (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যিলহজ্জ মাসের ৪র্থ তারিখের রাত অতিক্রান্ত হওয়ার পর ভোরে মক্কায় পদাৰ্পণ করেন।

2873আবু আসিম খুশায়শ ইবন আসরাম (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমরাতুল কাযায় মক্কায় প্রবেশ করেন, আর তখন আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহা এই কবিতা পাঠ করতে করতে তাঁর সামনে হাঁটছিলেনঃ خَلُّوا بَنِي الْكُفَّارِ عَنْ سَبِيلِهِ الْيَوْمَ نَضْرِبْكُمْ عَلَى تَنْزِيلِهِ ضَرْبًا يُزِيلُ الْهَامَ عَنْ مَقِيلِهِ وَيُذْهِلُ الْخَلِيلَ عَنْ خَلِيلِهِ অর্থঃ হে কাফির সম্প্রদায়! তাঁর রাস্তা ছেড়ে দাও। তার প্রবেশে বাধা দিলে তোমাদেরকে আঘাত করবো। এমন আঘাত, যা মাথা স্থানচ্যুত করে দেবে এবং বন্ধুকে বন্ধুর কথা তুলিয়ে দেবে। তারপর তাকে উমর (রাঃ) বললেনঃ হে ইবন রাওয়াহা! রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে হারাম শরীফে তুমি কবিতা আবৃত্তি করছে? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাকে ছেড়ে দাও। এই কবিতা কাফিরদের অন্তরে ভীর নিক্ষেপের চেয়ে দ্রুত প্রভাব বিস্তারকারী।

2874মুহাম্মদ ইবন কুদামা (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের দিন বলেনঃ এই শহর, একে আল্লাহ্ তা'আলা পৃথিবী ও নভোমণ্ডল সৃষ্টির দিনেই সম্মানিত করেছেন। অতএব তা আল্লাহর সম্মান দ্বারাই কিয়ামতের দিন পর্যন্ত সম্মানিত, তার কাঁটাও তোলা যাবে না, সেখানে শিকার করা যাবে না, আর সেখানে কোন দ্রব্য পতিত থাকলে কেউ তা উঠাবে না, অবশ্য তার কথা স্বতন্ত্র, যে সে দ্রব্যের কথা প্রচার করবে। আর তার ঘাস কাটা যাবে না। ইবন আব্বাস (রাঃ) বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! ইযখির নামক ঘাস ব্যতীত? তারপর তিনি এমন শব্দ উল্লেখ করলেন, যার অর্থ ইযখির ব্যতীত।

2875মুহাম্মদ ইবন রাফি' (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের দিন বললেনঃ নিশ্চয় এই শহর পবিত্র। আল্লাহ্ তা'আলা একে পবিত্র করেছেন। আমার পূর্বে তাতে যুদ্ধ বিগ্রহ করা কারো জন্য বৈধ ছিল না। আমার জন্য দিনের কিয়দংশে তা বৈধ করা হয়েছে। অতএব তা আল্লাহ্ তা'আলার পবিত্রকরণে পবিত্র ও সম্মানিত।

2876কুতায়বা (রহঃ) ... আবু শুরায়হ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আমর ইবন সাঈদ (রহঃ)-কে বলেছিলেন, যখন “আমর মক্কার দিকে সেনাবাহিনী প্রেরণ করছিলেন, হে আমীর! শুনুন, আমি আপনার নিকট এমন একটি হাদীস বর্ণনা করবো, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের দিন বলেছিলেনঃ যা আমার কর্ণদ্বয় শ্রবণ করেছে, আমার অন্তর যা সংরক্ষণ করেছে, আর যখন তিনি তা বলেছিলেন তখন আমার চক্ষুদ্বয় তা দেখেছে। তিনি প্ৰথমে আল্লাহর প্রশংসা বর্ণনা করেন, তারপর বলেনঃ মক্কাকে আল্লাহ্ই সম্মান দান করেছেন তাকে কোন লোক সম্মানিত করেনি, আর এমন কোন মুসলিমের জন্য সেখানে রক্তপাত বৈধ নয়, যে আল্লাহ্ এবং পরকালের প্রতি ঈমান রাখে। আর সেখানের কোন বৃক্ষ কর্তন করবে না। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সেখানে যুদ্ধ করার দরুন যদি কেউ বৈধ মনে করে, তবে তাকে জানিয়ে দাও, আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর বাসূলকে অনুমতি দান করেছিলেন; তাদেরকে অনুমতি দান করেননি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, আমাকে দিনের কিংদংশে অনুমতি দান করা হয়েছিল। তারপর তার সম্মান আজ ফিরে এসেছে, যেমন গতকাল তা সম্মানিত ছিল। অতএব, উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তিকে এ সংবাদ পৌঁছে দেয়।

2877ইমরান ইবন বাক্‌কার (রহঃ) ... যুহুরী (রহঃ) বলেন, সুহায়ম (রাঃ) আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি আবৃ হুরায়রা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এক সৈন্যদল এই কা'বা শরীফে যুদ্ধ করতে আসবে, তাদেরকে বায়দা নামক স্থানে ধ্বসিয়ে দেয়া হবে।

2878মুহাম্মদ ইবন ইদরীস আবু হাতীম রাযী (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্র থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ সেনাবাহিনী এই কা'বা ঘরের যুদ্ধ থেকে বিরত থাকবে না; যতক্ষণ না তাদের একদলকে যমীনে ধ্বসিয়ে দেয়া হবে।

2879মুহাম্মদ ইবন দাউদ মিসসীস্যি (রহঃ) ... হাফসা বিন্‌ত উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এই হারামের দিকে একটি সেনাদল পাঠানো হবে। যখন তারা বায়দা নামক স্থানে পৌঁছবে, তখন তাদের প্রথমাংশ এবং শেষাংশকে ধ্বসিয়ে দেয়া হবে, আর তাদের মধ্যাংশও পরিত্রণ পাবে না। আমি বললামঃ যদি তাদের মধ্যে মুমিন লোক থাকে, তবে তাদের কি অবস্থা হবে? তিনি বললেনঃ ঐ ভূখণ্ড তাদের জন্য কবর হবে।

2880হুসায়ন ইবন ঈসা (রহঃ) ... উমাইয়া ইবন সাফওয়ান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি তার দাদা আবদুল্লাহ্ ইবন সাফওয়ানকে বলতে শুনেছেন যে, হাফসা (রাঃ) আমাকে বলেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এক সেনাদল এই কা'বা ঘরের স্থানে যুদ্ধ করার অভিপ্ৰায়ে আসবে, তারা যখন বায়দা নামক স্থানে পৌঁছবে, তখন তাদের মধ্যবর্তী দলকে ধ্বসিয়ে দেয়া হবে। তারপর তাদেরকে অগ্রবর্তী দল ও পেছনের দল ডাক দেবে। এরপর তাদের সকলকে ধ্বসিয়ে দেয়া হবে। তাদের মধ্যে থেকে কেউই পরিত্রাণ পাবে না। ঐ ব্যক্তি ব্যতীত, যে তাদের সম্পর্কে সংবাদ দেবে, তখন তাকে এক ব্যক্তি বললোঃ আমি তোমার সম্বন্ধে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তুমি তোমার দাদা সম্বন্ধে মিথ্যা বলনি আর আমি তোমার দাদা সম্বন্ধে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি হাফসার ব্যাপারে মিথ্যা বলেন নি। আর হাফসা (রাঃ) সম্বন্ধে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ব্যাপারে মিথ্যা বলেন নি।

2881ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... উরওয়া (রহঃ) আয়েশা (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেনঃ পাঁচ প্রকার কষ্টদায়ক জন্তুকে হারাম ও হারামের বাইরে উভয় স্থানে হত্যা করা যাবে, কাক, চিল, দংশনকারী কুকুর ও বিচ্ছ এবং ইদুর।

2882ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... সাঈদ ইবন মুসায়্যাৰ (রহঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, পাঁচ প্রকার অনিষ্টকর জন্তু হিল্ল ও হারাম উভয় স্থলে হত্যা করা যাবে। তা হলোঃ সাপ, দংশনকারী কুকুর, চিল, ধূসর বর্ণের কাক ও ইদুর।

2883আহমদ ও সুলায়মান (রহঃ) ... আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে মিনার খায়ফ নামক স্থানে ছিলাম। এমন সময় সূরা 'আলমুরসালাত' নাযিল হলো। ইত্যবসরে একটি সাপ বের হলে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাকে হত্যা কর। আমরা তাকে হত্যার জন্য তাড়াতাড়ি সেদিকে গেলাম। এমন সময় সে তার গর্তে ঢুকে যায়।

2884আমর ইবন আলী (রহঃ) ... আবূ উবায়দা তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ আরাফার দিনের পূর্ববতী রাত্ৰিতে আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিলাম। এমন সময় একটি সাপ দৃষ্টিগোচর হলো। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাকে মেরে ফেলা। ইত্যবসরে তা একটি গর্তের ছিদ্রে প্ৰবেশ করলো। আমরা এক খণ্ড কাঠ ঢুকিয়ে সেই গর্তের কিয়দংশ উপড়ে ফেললাম এবং একটি খেজুর গাছের ডালে আগুন ধরিয়ে তাতে ঢুকিয়ে দিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহ্ তাআলা তোমাদের অনিষ্ট থেকে তাকে রক্ষা করেছেন এবং তোমাদেরকেও তার অনিষ্ট থেকে রক্ষা করেছেন।

2885মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ্ ইবন ইয়ায়ীদ মুকরী (রহঃ) ... উম্মে শরীক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে টিকটিকি হত্যা করতে আদেশ করেছেন।

2886ওহাব ইবন বিয়ান (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ টিকটিকি অনিষ্টকারী প্ৰাণী।

2887আব্দুর রহমান ইবন খালিদ রাক্কি কাত্তান (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পৃথিবীর উপর বিচরণকারী জন্তুদের মধ্যে পাঁচটি জন্তু অনিষ্টকর। হারাম ও হারামের বাইরে সর্বত্র তাদের হত্যা করা যাবে। সেগুলো হলোঃ দংশনকারী কুকুর, কাক, চিল, বিচ্ছু এবং ইদুর।

2888ইউনুস ইবন আবদুল আ'লা (রহঃ) ... উরওয়া (রহঃ) থেকে বর্ণিত। আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বিচরণকারী জন্তুদের মধ্যে পাঁচটি জন্তু অনিষ্টকর। হারামে তাদেরকে হত্যা করা যাবে। সেগুলো হলোঃ কাক, চিল, দংশনকারী কুকুর, ইঁদুর ও বিচ্ছু।

2889ঈসা ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-সহধর্মিণী হাফসা (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যমীনে বিচরণকারী জন্তুদের মধ্যে পাঁচটি এমন জন্তু আছে যাদের হত্যাকারীর কোন পাপ নেই। তা হলোঃ বিচ্ছু, কাক, চিল, ইদুর ও দংশনকারী কুকুর।

2890ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অনিষ্টকারী পাঁচ প্রকার জন্তু হারাম ও হারামের বাইরে উভয় স্থানেই তাদেরকে হত্যা করা যাবে; চিল, কাক, ইদুর, বিচ্ছু, দংশনকারী কুকুর। আবদুর রাজ্জাক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের কেউ কেউ বলেছেন যে, মা'আমার তা যুহরী হতে বৰ্ণনা করেছেন। তিনি সালিম (রহঃ) হতে তিনি তার পিতা হতে এবং উরওয়া (রহঃ) হতে, উরওয়া (রহঃ) আয়েশা (রাঃ) এবং তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন।

2891আহমদ ইবন আবদা (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পাঁচ প্রকার অনিষ্টকারী জন্তু হারামে হত্যা করা যাবে। বিচ্ছু, ইদুর, কাক, দংশনকারী কুকুর এবং চিল।

2892সাঈদ ইবন আবদুর রহমান (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এই মক্কা নগরী আল্লাহ্ তা'আলা তাকে হারাম করেছেন, যমীন ও আকাশ সৃষ্টির দিন থেকে, আমার পূর্বে তা কারো জন্য হালাল ছিল না। আর না আমার পরে হালাল হবে। দিনের কিছু সময় তা আমার জন্য হালাল করা হয়েছিল। আর তা আমার এ সময় থেকে আল্লাহ্ তা'আলা কর্তৃক হারাম করা দ্বারা কিয়ামত পর্যন্ত হারাম থাকবে। সেখানকার ঘাস কাটা যাবে না, তার বৃক্ষ কাটা যাবে না। তার শিকারকে ভয় দেখানো যাবে না। আর সেখানে পতিত কোন বস্তু কারও জন্য উঠানো হালাল হবে না। ঐ ব্যাক্তি ব্যতীত, যে তা লোকের মধ্যে প্রচার করে। তখন আব্বাস (রাঃ) দাঁড়ালেন এবং তিনি ছিলেন অভিজ্ঞ ও সাহসী লোক, তিনি বললেনঃ ইযখির নামক ঘাস ব্যতীত, কেননা, তা আমাদের গৃহের জন্য এবং কবরের জন্য। তিনি বললেনঃ ইযখির ব্যতীত।

2893মুহাম্মদ ইবন আবদুল মালিক (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমরাতুল কাযা আদায় করার জন্য মক্কায় প্রবেশ করলে ইবন রাওয়াহা তার সামনে বলতে লাগলেনঃ خَلُّوا بَنِي الْكُفَّارِ عَنْ سَبِيلِهِ الْيَوْمَ نَضْرِبْكُمْ عَلَى تَأْوِيلِهِ ضَرَبًا يُزِيلُ الْهَامَ عَنْ مَقِيلِهِ وَيُذْهِلُ الْخَلِيلَ عَنْ خَلِيلِهِ অর্থঃ হে কাফির সম্প্রদায়! তাঁর রাস্তা ছেড়ে দাও। তার প্রবেশে বাধা দিলে তোমাদেরকে আঘাত করবো। এমন আঘাত, যা মাথা স্থানচ্যুত করে দেবে এবং বন্ধুকে বন্ধুর কথা ভুলিয়ে দেবে। তখন উমর (রাঃ) বললেনঃ হে ইবন রাওয়াহা! রাসূলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে হারামে তুমি কবিতা আবৃত্তি করছো? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাকে ছেড়ে দাও। ঐ মহান সত্তার শপথ! যার হাতে আমার প্ৰাণ, তার এই কবিতাগুলো তাদের জন্য বর্শার আঘাত অপেক্ষা অধিক কষ্টদায়ক।

2894কুতায়বা (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মক্কায় আগমন করেন, তখন বনী হাশিমের ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা তাকে অভ্যর্থনা জানায়। ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেন, তিনি তাদের একজনকে সামনে ও অন্যজনকে পেছনে তুলে নিলেন।

2895মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... মুহাজির মক্কী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জাবির ইবন আবদুল্লাহ্ (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হলোঃ কোন ব্যক্তি বায়তুল্লাহ্ দৰ্শন করলে সেকি হস্তদ্বয় উত্তোলন করবে? তিনি বললেনঃ আমার মনে হয় না যে, ইয়াহুদী ব্যতীত কেউ এরূপ করে। আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে হজ্জ করেছি, কিন্তু আমরা তা করি নি।

2896আমর ইবন আলী (রহঃ) ... উবায়দুল্লাহ ইবন আবু ইয়াযীদ (রহঃ) বর্ণনা করেন, আবদুর রহমান ইবন তারিক ইবন আলকামা (রহঃ) তাকে তার মাতার সূত্রে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ইয়ালা (রাঃ) এর বাড়ীর কোন স্থানে আগমন করতেন, তখন কিবলার দিকে মুখ করে দুআ করতেন।

2897আমর ইবন আলী (রহঃ) ও মুহাম্মদ ইবন মুসান্না (রহঃ) ... আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ আমার মসজিদে সালাত আদায় কৱা অন্য মসজিদের এক হাজার সালাত হতে উত্তম, মসজিদুল হারাম ব্যতীত। আবু আবদুর রহমান (রহঃ) বলেন, মূসা জুহানী (রহঃ) ব্যতীত অন্য কাউকে নাফি' (রহঃ) আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) থেকে এই হাদীস রেওয়ায়ত করেন বলে আমার জানা নেই। ইবন জুরাইজ (রহঃ) ও অন্যান্য বর্ণনাকারীরা এ রেওয়ায়ত ভিন্ন সনদে বর্ণনা করেছেন।

2898ইসহাক ইবন ইবরাহীম মুহাম্মদ ইবন রাফি' (রহঃ) ... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-সহধর্মিণী মায়মূনা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ আমার মসজিদে সালাত আদায় করা অন্যান্য মসজিদের সালাত থেকে এক হাজার গুণ উত্তম, কা'বার মসজিদ ব্যতীত।

2899আমর ইবন আলী (রহঃ) ... সা'দ ইবন ইবরাহীম (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু সালামা বলেছেনঃ আমি এ হাদীস সম্পর্কে আমর-কে জিজ্ঞাসা করেছি, তিনি বলেছেন যে, আমি আবু হুরায়রা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার এ মসজিদে সালাত আদায় করা কা'বার মসজিদ ব্যতীত অন্যান্য মসজিদের তুলনায় এক হাজার গুণ বেশী মর্যাদা রাখে।

2900মুহাম্মদ ইবন সালামা ও হারিস ইবন মিসকীন (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ তুমি কি জান না যে, তোমার সম্প্রদায় যখন কা'বার পুনঃনির্মাণ করেছিল তারা তখন ইবরাহীম (আঃ)-এর নির্মাণ হতে তাকে ছোট করে নির্মাণ করেছিল। আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি কি তাকে ইবরাহীমী নির্মাণের মুতাবেক পুনঃ স্থাপন করবেন না? তিনি বললেনঃ তা করতাম যদি তোমার সম্প্রদায় কুফৱী অবস্থার নিকটবর্তী না হতো। তখন আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বললেনঃ যদি আয়েশা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে তা শুনতেন, তবে আমি মনে করি, তিনি হাজরে আসওয়াদের সাথে মিলিত দুই রুকনকে চুম্বন করা ছেড়ে দিতেন, (কিন্তু তিনি তা ছেড়ে দেননি) কারণ বায়তুল্লাহ-এর নির্মাণ ইবরাহীম (আঃ)-এর ভিত্তির উপর সম্পন্ন হয়নি।

2901ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি তোমার সম্প্রদায়ের সময় কুফরের নিকটবর্তী না হতে তা হলে আমি ক’বা-এর বর্তমান নির্মাণ কাঠামো ভেঙ্গে ইবরাহীম (আঃ)-এর ভিত্তির উপর পুনঃনির্মাণ করতাম এবং এর পিছন দিকে একটি দরজা রাখতাম। কুরায়শরা যখন কা'বা নির্মাণ করেছে তখন তাকে ছোট করে নির্মাণ করেছে।

2902ইসমাঈল ইবন মাসউদ ও মুহাম্মদ ইবন আবদুল আ'লা (রহঃ) ... উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ 'যদি আমার সম্প্রদায়' আর রাবী মুহাম্মদের বর্ণনায় রয়েছে 'তোমার সম্প্রদায়' জাহিলী যুগের নিকটবর্তী না হতো, তা হলে আমি কাবা-এর নির্মাণ কাঠামো ভেঙ্গে তাতে দুটি দরজা করতাম। ইবন যুবায়র (রাঃ) ক্ষমতাপ্রাপ্ত হলে তখন তিনি তাতে দুটি দরজা স্থাপন করলেন।

2903আবদুর রহমান ইবন মুহাম্মদ ইবন সালাম (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেছেনঃ হে আয়েশা! যদি তোমার সম্প্রদায় জাহিলী যুগের নিকটবর্তী না হতো, তা হলে কা'বা সম্পর্কে আমি আদেশ করতাম এবং তার সাবেক নির্মাণ কাঠামো ভেঙ্গে দেয়া হতো, এমতাবস্থায় তা হতে যা বাদ দেয়া হয়েছে, আমি তা পুনঃস্থাপন করতাম এবং তাকে ভূমির সাথে মিলাতাম। আর তার দুটি দরজা করতাম; একটি পূর্বদিকে আর অপরটি পশ্চিম দিকে স্থাপিত হতো। তারা এর সঠিক নির্মাণে ব্যৰ্থ হয়েছিল। আমি তাকে ইবরাহীম (আঃ)-এর নির্মাণ কাঠামোর উপর বসতাম। রাবী বলেন, এ কারণেই ইবন যুবায়র (রাঃ) তার সাবেক কাঠামো ভেঙ্গে পুনঃনির্মাণ করতে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। ইয়াযীদ (রহঃ) বলেন, ইবন যুবায়র (রাঃ) যখন তা ভেঙ্গে পুনঃনির্মাণ করেন এবং তাতে হাজরে আসওয়াদ ঢুকালেন তখন আমি তথায় উপস্থিত ছিলাম। আমি ইবরাহীমী ভিতের পাথর দেখেছি। উটের কুজের মত পরস্পর মিলিত।

2904কুতায়বা (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিউ ইরশাদ করেনঃ পায়ে ছোট ছোট গোঁছা বিশিষ্ট দু'জন হাবশী লোক কা'বা ধ্বংস করবে।

2905মুহাম্মদ ইবন আবদুল আ'লা (রহঃ) ... আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি কা'বা শরীফের নিকট পৌঁছলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, বিলাল এবং উসামা ইবন যায়ীদ (রাঃ) কাবাঘরে প্রবেশ করলেন, তাদের প্রবেশের পর উসমান ইবন তালহা দরজা বন্ধ করে দিলেন। তাঁরা কিছুক্ষণ তথায় অতিবাহিত করলেন। তারপর দরজা খোলা হলো এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হলেন, আর আমি সিঁড়িতে চড়ে কা'বা ঘরে প্রবেশ করলাম এবং জিজ্ঞাসা করলামঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোথায় সালাত আদায় করলেন? তারা বললেনঃ এ স্থানে। আর আমি তাদেরকে একথা জিজ্ঞাসা করতে ভুলে গিয়েছিলাম যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কত রাকাআত সালাত আদায় করেছিলেন

2906ইয়াকুব ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা'বায় প্রবেশ করলেন, আর তার সঙ্গে ছিলেন ফযল ইবন আব্বাস, উসামা ইবন যায়দ, উসমান ইবন তালহা এবং বিলাল (রাঃ) তাঁরা প্ৰবেশ করে দরজা বন্ধ করে দিলেন। তারপর তাতে অবস্থান করলেন যতক্ষণ আল্লাহর ইচ্ছা ছিল। এরপর বের হলেন। ইবন উমর (রাঃ) বলেনঃ আমি সর্বপ্রথম যার সাথে সাক্ষাৎ করলাম, তিনি ছিলেন বিলাল, আমি জিজ্ঞাসা করলামঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন স্থানে সালাত আদায় করেছেন? তিনি বললেনঃ এই দুই স্তম্ভের মধ্যস্থলে।

2907আমর ইবন আলী (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা'বা ঘরে প্রবেশ করলেন এবং তার বের হওয়ার সময় নিকটবর্তী হলে আমি সংবাদ পেয়ে তথায় তাড়াতাড়ি গমন করলাম। আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এমন অবস্থায় পেলাম যে, তিনি তখন কা'বা ঘর থেকে বের হয়েছেন। আমি বিলালকে জিজ্ঞাসা করলামঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি কা'বায় সালাত আদায় করেছেন? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, তিনি দু'রাকাত সালাত আদায় করেছেন দুই স্তম্ভের মধ্যস্থলে।

2908আহমদ ইবন সুলায়মান (রহঃ) ... সাইফ ইবন সুলায়মান (রহঃ) বলেন, আমি মুজাহিদ (রহঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, ইবন উমর (রাঃ)-এর ঘরে এসে তাঁকে বলা হলো যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাবায় প্রবেশ করেছেন। আমি এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে পেলাম, তিনি তখন বের হয়ে গিয়েছেন। আর আমি বিলালকে দরজায় দাঁড়ানো অবস্থায় পেলাম ! আমি বললামঃ হে বিলাল! রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি কাবায় সালাত আদায় করেছেন? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। আমি বললামঃ কোথায়? তিনি বললেনঃ এই দুইস্তম্ভের মধ্যস্থলে তিনি দুই রাকাত সালাত আদায় করেছেন। তারপর তিনি বের হয়ে কা'বার দরজার সামনে দুই রাকাত সালাত আদায় করেছেন।

2909হাজিব ইবন সুলায়মান মুম্বিজী (রহঃ) ... উসামা ইবন যায়ীদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা'বায় প্রবেশ করেছেন এবং এর চতুষ্পার্শ্বে তাসবীহ পাঠ করেছেন এবং তকবীর বলেছেন, তিনি সালাত আদায় করেননি। তারপর বের হয়ে মাকামে ইবরাহীমের পেছনে দুই রাকাত সালাত আদায় করেছেন। এরপর বলেছেনঃ এই কিবলা।

2910হান্নাদ ইবন সারি (রহঃ) ... ইবন যুবায়র (রাঃ) বলেছেনঃ আমি আয়েশা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যদি কুফরের সাথে মানুষের যুগ নিকটবর্তী না হতো, আর আমার কাছে এমন সম্পদও নেই যা আমাকে শক্তি যোগায়, আর তা যদি থাকতো, তাহলে আমি হিজর হতে আরও পাঁচ হাত এতে মিলাতাম এবং এর একটি দরজা রাখতাম, যা দিয়ে লোক প্রবেশ করতো। আর একটি দরজা রাখতাম, যা দিয়ে লোক তা হতে বের হতো।

2911আহমদ ইবন সাঈদ রুবাতী (রহঃ) ... আবদুল হামিদ ইবন জুবায়র (রহঃ) তার ফুফু সফিয়া বিনত শায়বা সূত্রে বলেছেন, আমাদের কাছ আয়েশা (রাঃ) বলেছেন যে, আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি কি কা'বায় প্রবেশ করবো না? তিনি ইরশাদ করলেন, তুমি হিজারে প্রবেশ কর। কেননা, তা কা'বারই অংশ।

2912ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমার ইচ্ছা হতো কা'বায় প্রবেশ করে তাতে সালাত আদায় করতে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার হাত ধরে আমাকে হিজরে প্রবেশ করিয়ে বললেনঃ যখন তুমি কাবায় প্রবেশ করতে ইচ্ছা করেছ, তখন এখানে সালাত আদায় কর, কেননা এটি কাবারই এক অংশ। কিন্তু তোমার গোত্র যখন একে নির্মাণ করে, তখন তাকে সংক্ষিপ্ত করেন।

2913কুতায়বা (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা'বায় সালাত আদায় করেন নি, বরং তিনি চারপাশে তাকবীর বলেছেন।

2914ইয়াকুব ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... উসামা ইবন যায়ীদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি এবং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা'বা গৃহে প্রবেশ করলেন। বিলাল (রাঃ)-কে আদেশ করলে তিনি দরজা বন্ধ করে দিলেন, সে সময় কা'বা ঘর ছয়টি স্তম্ভের উপর ছিল। তিনি যেতে যেতে যখন কা'বা ঘরের দরজা সংলগ্ন স্তম্ভদ্বয়ের মধ্যে পৌঁছলেন, তখন আল্লাহর হামদ ও সানা বর্ণনা করলেন। তাঁর নিকট প্রার্থনা করলেন এবং ক্ষমা চাইলেন। তারপর কা'বার প্রত্যেক স্তম্ভের কাছে গেলেন এবং সে সবের সামনে তাকবীর তাহলীল এবং তাসবীহ পাঠ করলেন। এরপর কা'বার পেছনের দিকে এসে সামনে দাঁড়ালেন, সেখানে ললাট ও গাল রাখলেন এবং আল্লাহর হামদ ও সানা বর্ণনা করলেন এবং তাঁর নিকট চাইলেন ও ক্ষমা প্রার্থনা করলেন। এরপর তিনি বের হয়ে কা'বার দিকে মুখ করে দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন। এরপর প্রত্যাবর্তন করে বললেনঃ এই কিবলা, এই কিবলা।

2915ইয়াকুব ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... উসামা ইবন যায়ীদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে কা'বায় প্রবেশ করলাম। তিনি বসে পড়লেন, আল্লাহর শোেকর আদায় করলেন, তার প্রশংসা করলেন। তাকবীর বললেন এবং 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বললেন। তারপর কা'বার সামনের অংশের দিকে ঝুঁকলেন এবং তার মুখমণ্ডল ও বক্ষস্থল এর উপর রাখলেন এবং উভয় হাত এর উপর রেখে তাকবীর ও তাহলীল পাঠ করে দু'আ করলেন। তিনি কা'বার প্রত্যেক স্তম্ভের সাথে এরূপ করলেন। এরপর বের হলেন এবং কিবালামুখী হয়ে দরজায় এসে বললেনঃ এ-ই কিবলা। এ-ই কিবলা।

2916ইসমাঈল ইবন মাসউদ (রহঃ) ... উসামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা'বা হতে বের হলেন এবং কা'বার সামনে দুই রাকাআত সালাত আদায় করলেন। এরপর বললেনঃ এ-ই। কিবলা।

2917আবূ আসিম খুশায়শ ইবন আসরাম নাসাঈ (রহঃ) ... আতা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি ইবন আব্বাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, উসামা ইবন যায়ীদ (রাঃ) আমার কাছে বৰ্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা'বায় প্রবেশ করলেন এবং এর চারদিকে দু’আ করলেন এবং এর ভিতরে সালাত আদায় না করে বের হলেন। যখন তিনি বাইরে আসলেন, তখন দুই রাকাআত সালাত আদায় করলেন কা'বার সামনে।

2918আমর ইবন আলী (রহঃ) ... মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ্ ইবন সায়িব (রহঃ) তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি ইবন আব্বাস (রাঃ)-কে নিয়ে হাজরে আসওয়াদের সাথে মিলিত স্তম্ভের পাশের তৃতীয় অংশে, যে স্থানটি দরজার নিকটবর্তী সেখানে দাঁড় করালেন। তখন ইবন আব্বাস (রাঃ) বললেনঃ আপনি কি সংবাদ পাননি যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই স্থানে সালাত আদায় করেছেন? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। তারপর তিনি এগিয়ে গিয়ে সেখানে সালাত আদায় করলেন।

2919কুতায়বা (রহঃ) ... আবদুল্লাহ্ ইবন উবায়দ ইবন উমায়ার (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি বললো: হে আবু আবদুর রহমান! আমি আপনাকে এই দু (দু’রুকনে ইয়ামানী) ব্যতীত অন্য কোন স্তম্ভ চুম্বন করতে দেখি না। তিনি বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ এদের স্পর্শ করা গুনাহ দূর করে দেয় এবং তাঁকে এও বলতে শুনেছি যে, যে ব্যক্তি সাতবার তাওয়াফ করে, সে একটি গোলাম আযাদ করার সাওয়াব পাবে।

2920ইউসূফ ইবন সাঈদ (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, কা'বার তাওয়াফ করার সময় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন একজন লোকের নিকট দিয়ে গমন করছিলেন, যাকে অন্য একজন লোক তার নাকের ভিতরে ঢুকানো রশী ধরে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ হাতে তা কেটে ফেললেন, তারপর সেই ব্যক্তিকে হাত ধরে টেনে নিতে বললেন।

2921মুহাম্মদ ইবন আবদুল আ'লা (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন এক ব্যক্তির কাছ দিয়ে যান, যাকে অন্য একজন লোক এমন এক বস্তুর সাহায্যে টানছে, যা সে মানত করেছিল। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা নিয়ে কেটে ফেললেন এবং বললেনঃ ইহাই মানত।

2922ইউসুফ (রহঃ) ও হারিছ ইবন মিসকীন (রহঃ) ... তাউস (রহঃ) এমন এক ব্যক্তির সূত্রে বর্ণনা করেন যে, যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাক্ষাত লাভ করেছেন, তিনি বলেন, বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করাও সালাতের ন্যায়। অতএব কথা কমই বলবে। শব্দ ইউসুফের, হানজালা ইবন আবু সুফইয়ান (রহঃ)-এর বর্ণনায় আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ)-এর উল্লেখ করেছেন। যেখানে অপর রাবী হাসান ইবন মুসলিম-এর নাম উল্লেখ করেন নি।

2923মুহাম্মদ ইবন সুলায়মান (রহঃ) ... তাউস (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলেছেনঃ তোমরা তাওয়াফে কথা কম বলবে। কেননা তোমরা সালাতে রয়েছ।

2924আবদুল্লাহ্ ইবন মুহাম্মদ ইবন আবদুর রহমান (রহঃ) ... জুবােয়র ইবন মুতায়িম (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে বনু আবদ মানাফা! দিন ও রাতের যে কোন সময় সালাত আদায় করতে এবং এই ঘরের তাওয়াফ করতে কাউকেও নিষেধ করবে না।

2925মুহাম্মদ ইবন সালামা ও হারিছ ইবন মিসকীন (রহঃ) ... উম্মে সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বললামঃ আমি অসুস্থ। তিনি বললেনঃ তুমি লোকের পেছনে সওয়ার অবস্থায় তাওয়াফ করবে। তারপর আমি তাওয়াফ করলাম আর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন কা'বার পাশে সালাত আদায় করছিলেন। সালাতে তিনি 'ওয়াত-তুর ওয়া কিতাবিম-মাসতুর' সূরা পাঠ করছিলেন।

2926মুহাম্মদ ইবন আদম (রহঃ) ... উম্মে সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহর শপথ! আমি বিদায় তাওয়াফ করিনি। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যখন সালাত আরম্ভ হবে তখন তুমি তােমার উটের উপর থেকে লোকের পেছনে তাওয়াফ করবে। এ হাদীস “উরওয়া (রহঃ) উম্মে সালামা (রাঃ) থেকে শুনেন নি।

2927উবায়দুল্লাহ্ ইবন সাঈদ (রহঃ) ... উম্মে সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি মক্কায় আগমন করলেন, তখন তিনি ছিলেন অসুস্থ। তিনি তা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বললে তিনি ইরশাদ করলেনঃ তুমি মুসল্লিদের পেছনে সওয়ার অবস্থায় তাওয়াফ করবে। তিনি বললেনঃ আমি শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাবার নিকট সূরা 'তূর' পড়ছিলেন।

2928আমর ইবন উসমান (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজ্জে কাবার চারপাশে উটের উপর আরোহণ অবস্থায় তাওয়াফ করেন। এসময় তিনি তাঁর হাতের লাঠি দ্বারা রোকন চুম্বন করেন।

2929আবদা ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ) ... যুহায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, ওয়াবরাহ (রহঃ) তার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আমি আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, তাকে এক ব্যক্তি প্রশ্ন করলো, আমি হজ্জের ইহরাম বেঁধেছি। এখন আমি কি তাওয়াফ করবো? তিনি বললেনঃ তোমাকে কে নিষেধ করেছে? তিনি বললেনঃ আমি দেখেছি আবদুল্লাহ্ ইবন আব্বাস (রাঃ)-কে তা নিষেধ করতে। আর আপনি আমাদের নিকট তার চাইতে অধিক গ্রহণযোগ্য। তিনি বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে হজ্জের ইহরাম করে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করতে এবং সাফা ও মারওয়ার মধ্যে সাঈ করতে দেখেছি।

2930মুহাম্মদ ইবন মানসূর (রহঃ) ... আমর (রহঃ) বলেন, আমি ইবন উমর (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি। আমরা তাঁকে এমন এক ব্যক্তি সম্বন্ধে প্রশ্ন করছিলাম, যে উমরাহ করতে এসে কা'বার তাওয়াফ করে, কিন্তু সাফা ও মারওয়ার সাঈ করেনি। সে কি তার পরিবারের কাছে গমন করবে? তিনি বললেনঃ যখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় আগমন করেন, তখন তিনি সাতবার তাওয়াফ করেন এবং মাকামে ইবরাহীমের পেছনে দুই রাকাআত সালাত আদায় করেন এবং সাফা ও মারওয়ার সাঈ করেন। "আর তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে।

2931আহমদ ইবন আযহার (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হলেন আর তাঁর সঙ্গে আমরাও বের হলাম। তিনি যুলহুলায়ফা নামক স্থানে পৌছার পর জোহরের সালাত আদায় করলেন। তারপর তিনি তাঁর সওয়ারীতে আরোহণ করেন, যখন তিনি বায়দা নামক স্থানে পৌঁছলেন তখন তিনি হজ্জ ও উমরাহ উভয়ের তালবিয়া পড়লেন। তাঁর সঙ্গে আমরাও তালবিয়া পড়লাম। আর যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় পদার্পণ করেন, আর আমরা তাওয়াফ করলাম, তখন তিনি লোকদের হালাল হতে আদেশ করলেন। এতে তারা ভীত হলেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেনঃ যদি আমার সাথে কুরবানীর জন্তু না থাকতো, তা হলে আমিও হালাল হতাম। এরপর লোকেরা হালাল হয়ে গেলেন, এমন কি তাঁরা স্ত্রীর সঙ্গে সংগত হলেন আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম থেকে হালাল হলেন না, আর তিনি কুরবানীর দিন পর্যন্ত চুলও কাটান নি।

2932মুহাম্মদ ইবন মানসূর (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি হজ্জ ও উমরাহর একত্রে নিয়ত করলেন এবং উভয়ের জন্য এক তাওয়াফ করলেন। তারপর বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এরূপ করতে দেখেছি।

2933আলী ইবন মায়মুন (রহঃ) ... নাফি' (রহঃ) বলেন, আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) বের হলেন, যখন যুলহুলায়ফায় আগমন করলেন, তখন উমরাহর তালবিয়া পড়লেন, তিনি কিছুক্ষণ চললেন। এরপর তিনি আশংকা করলেন, কেউ হয়তো তাকে কা'বায় পৌঁছতে বাঁধা দিতে পারে। তখন তিনি বললেনঃ যদি আমি বাধাপ্রাপ্ত হই, তাহলে আমি তাই করবো, যা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেছেন। তিনি বললেনঃ আল্লাহর শপথ! (পথে বাধাপ্রাপ্ত হলে যা করণীয় সে ব্যাপারে) উমরাহ্ এবং হজ্জের একই নিয়ম, আমি তোমাদেরকে সাক্ষী রাখছি যে, আমি উমরাহর সাথে হজ্জেরও নিয়্যত করেছি। এরপর তিনি সামনে অগ্রসর হলেন এবং কুদায়দ নামক স্থানে পৌঁছলেন এবং সেখান থেকে কুরবানীর জন্তু খরিদ করলেন। তারপর মক্কায় আগমন করলেন এবং সাতবার বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করেন এবং সাফা ও মারওয়ার সাঈ করলেন এবং বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এরূপ করতে দেখেছি।

2934ইয়াকুব ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... জাবির ইবন আবদুল্লাহ্ (রাঃ) বলেনঃ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার তাওয়াফ করেন।

2935ইবরাহীম ইবন ইয়াকুব (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামন বলেছেনঃ হাজরে আসওয়াদ জান্নাতী পাথর।

2936মাহমুদ ইবন গায়লান (রহঃ) ... সুওয়ায়দ ইবন গাফলাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমর (রাঃ) হাজরে আসওয়াদকে চুম্বন করলেন এবং তাকে জড়িয়ে ধরে বললেনঃ আমি আবুল কাসেম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তোমার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে দেখেছি (চুমা দিয়ে এবং স্পর্শ করে)।

2937ইসহাক ইন ইবরাহীম (রহঃ) ... আবিস ইবন রবীআ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি উমর (রাঃ)-কে দেখেছি, তিনি হাজরে আসওয়াদের কাছে এসে বললেন, আমি নিশ্চিতরূপে জানি তুমি একখণ্ড পাথর, যদি আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তোমাকে চুম্বন করতে না দেখতাম, তাহলে আমি তোমাকে চুম্বন করতাম না। তারপর তিনি এর নিকটবর্তী হয়ে তাকে চুম্বন করলেন।

2938আমর ইবন উসমান (রহঃ) ... হানযালা (রহঃ) বলেনঃ আমি তাউসকে দেখেছি, তিনি রোকনের কাছ দিয়ে যেতেন, যদি উক্ত স্থানে লােকের ভিড় লক্ষ্য করতেন, তবে চলে যেতেন, ভিড় করতেন না। আর যদি ভিড় শূণ্য পেতেন, তখন তাকে চুম্বন করতেন- তিনবার। তারপর বলতেনঃ আমি ইবন আব্বাস (রাঃ)-কে এরূপ করতে দেখেছি। আর ইবন আব্বাস (রাঃ) বলতেনঃ আমি উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-কে এরূপ করতে দেখেছি। তিনি (উমর (রাঃ) বলতেনঃ তুমি একখণ্ড পাথর মাত্র, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তােমাকে চুম্বন করতে যদি না দেখতাম, তাহলে আমি তােমাকে চুম্বন করতাম না। তারপর উমর (রাঃ) বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এরূপ করতে দেখেছি।

2939আবদুল আ'লা ইবন ওয়াসিল ইবন আবদুল আ'লা (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মক্কায় শুভাগমন করলেন, তখন তিনি প্রথমে মসজিদে প্রবেশ করে হাজরে আসওয়াদকে চুম্বন করলেন। এরপর এর ডান দিকে গেলেন এবং তিনবার রমল করলেন এবং চারবার স্বাভাবিকভাবে হেঁটে তাওয়াফ করলেন। পরে মাকামে ইবরাহীমে গমন করে বললেনঃ "তােমরা মাকামে ইবরাহীমকে সালাতের স্থানরূপে গ্রহণ কর।" (সূরা বাকারাঃ ১২৫) এরপর তিনি দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন। এ সময় মাকামে ইবরাহীম তার ও বায়তুল্লাহর মধ্যস্থলে ছিল। তারপর তিনি দুই রাকআত সালাত আদায়ের পর বায়তুল্লায় গিয়ে হাজরে আসওয়াদকে চুম্বন করেন, তারপর তিনি সাফার দিকে গমন করেন।

2940উবায়দুল্লাহ্ ইন সাঈদ (রহঃ) ... নাফি (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) তিনবার রমল করতেন এবং চারবার হাঁটতেন, আর তিনি ধারণা করতেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করতেন।

2941কুতায়বা (রহঃ) .... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ্জ ও উমরায় প্রথমে এসে যে তাওয়াফ করতেন, তাতে তিনি তিনবার সাঈ করতেন, আর চারবার হাঁটতেন। তারপর দুই রাকআত সালাত আদায় করতেন। এরপর সাফা ও মারওয়ায় সাঈ করতেন।

2942আহমদ ইবন আমর ও সুলায়মান ইবন দাউদ (রহঃ) .... আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মক্কায় যান, তখন তিনি প্রথমে হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করেন, এবং সাতবার তাওয়াফের মধ্যে প্রথম তিনবার রমল করেন।

2943মুহাম্মদ ও আবদুর রহমান (রহঃ) ... নাফি (রহঃ) থেকে বর্ণিত। আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) মক্কায় আগমন করলে, হজ্জ বা উমরায় এলে, তার তাওয়াফে তিনবার রমল করতেন এবং চারবার সাধারণভাবে চলতেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করতেন।

2944মুহাম্মদ ইবন সালাম ও হারিস ইন মিসকীন (রহঃ) ... জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে হাজরে আসওয়াদ হতে হাজরে আসওয়াদ পর্যন্ত রমল করতে দেখেছি, এমনকি তা তিনি এখানে তিন তাওয়াফ পূর্ণ করেন।

2945আহমদ ইবন সুলায়মান (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার সাহাবীগণ যখন মক্কায় আগমন করেন, তখন মুশরিকরা বলতে লাগলো, মদীনার জ্বর তাদেরকে দুর্বল করে দিয়েছে, আর সেখানে তাদের অনেক কষ্ট স্বীকার করতে হয়েছে। আল্লাহ তা'আলা তাঁর নবীকে এ সংবাদ পৌছালে তিনি সাহাবীগণকে রমল করতে আদেশ করেছেন এবং দুই কুকনে ইয়ামানীর মধ্যস্থলে স্বাভাবিকভাবে চলতে বলেন। মুশরিকরা তখন হিজর-এর নিকট ছিল। তারা বলতে লাগলাে। এরা তাে অমুক হতে শক্তিশালী।

2946কুতায়বা (রহঃ) ... যুবায়র ইবন 'আরাবী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি ইবন উমর (রাঃ)-কে হাজরে আসওয়াদ চুম্বন সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলে, তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তা চুম্বন করতে দেখেছি এবং স্পর্শ করতে দেখেছি। সে লােকটি বললোঃ আমি অত্যধিক ভিড়ের দরুন বা লােকের মধ্যে তা পর্যন্ত পৌছতে সক্ষম না হলে কি করবো? তখন ইবন উমর (রাঃ) বলেন, যদি এমন হয়, তবে আপনি এসব ইয়ামনে রেখে আসবেন। আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে তা স্পর্শ করতে এবং চুম্বন করতে দেখেছি।

2947মুহাম্মদ ইবন মুসান্না (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক তাওয়াফেই রুকনে ইয়ামানী এবং হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করতেন।

2948ইসমাঈল ইবন মাসউদ ও মুহাম্মদ ইবন মুসান্না (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজরে আসওয়াদ এবং রুকনে ইয়ামানী ব্যতীত অন্য কিছু স্পর্শ করতেন না।

2949কুতায়বা (রহঃ) ... আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বায়তুল্লাহর উভয় রুকনে ইয়ামানী ব্যতীত অন্য কিছুকে স্পর্শ করতে দেখিনি।

2950মুহাম্মদ ইবন আ'লা (রহঃ) ... উবায়দ ইবন জুরায়জ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। আমি ইবন উমর (রাঃ)-কে বললামঃ আমি দেখেছি, আপনি উভয় রুকনে ইয়ামানী ব্যতীত অন্য কোন রুকনকে স্পর্শ করেন না। তিনি বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে উক্ত দু' রুকন ব্যতীত অন্য কিছুকে স্পর্শ করতে দেখিনি। (সংক্ষিপ্ত)

2951আহমদ ইবন আমর ও হারিস ইবন মিসকীন (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজরে আসওয়াদ এবং এর নিকটবর্তী রুকন, যা জুমাহীদের ঘরের দিকে অবস্থিত; তাছাড়া বায়তুল্লাহর অন্য কোন রুকন স্পর্শ করতেন না।

2952উবায়দুল্লাহ্ ইবন সাঈদ (রহঃ) ... নাফি (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেছেনঃ আমি যখন থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে রুকনে ইয়ামানী ও হাজরে আসওয়াদ নামক রুকনদ্বয় স্পর্শ করতে দেখেছি, তখন হতে আমি অনুকূল ও প্রতিকূল যে কোন অবস্থায় উক্ত রুকনদ্বয় স্পর্শ করতে ছাড়িনি।

2953ইমরান ইবন মূসা (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন থেকে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ ও চুম্বন করতে দেখেছি, তখন থেকে আমি তাকে স্পর্শ ও চুম্বন করতে ছাড়িনি, অনুকূল ও প্রতিকূল যে কোন অবস্থায়।

2954ইউনুস ইবন আবদুল আ'লা ও সুলায়মান ইবন দাঊদ (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজ্জে উটের উপর সওয়ার হয়ে তাওয়াফ করেন এবং হাজরে আসওয়াদ লাঠি দ্বারা স্পর্শ করেন।

2955বিশর ইবন হিলাল (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সওয়ারীর উপর থেকে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করেছেন, যখন তিনি হাজরে আসওয়াদের নিকট পৌছতেন, তখন তার দিকে (লাঠি দিয়ে) ইঙ্গিত করতেন।

2956মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ মহিলারা উলঙ্গ অবস্থায় কা'বার তাওয়াফ করতাে এবং তারা বলতোঃ الْيَوْمَ يَبْدُو بَعْضُهُ أَوْ كُلُّهُ وَمَا بَدَا مِنْهُ فَلَا أُحِلُّهُ আজ লজ্জাস্থানের সব কিংবা অংশ বিশেষ খােলা থাকবে (তাওয়াফের প্রয়ােজনে)। অতএব, এর প্রতি নজর করা কারাের জন্য আমরা হালাল মনে করি না। তিনি বলেনঃ তখন আল্লাহর বাণী অবতীর্ণ হলােঃ হে আদম সন্তানগণ! তােমরা প্রত্যেক সালাতের সময় সুন্দর পরিচ্ছদ পরিধান করবে। (সূরা আ'রাফঃ ৩১)।

2957আবু দাউদ (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, বিদায় হজ্জের পূর্বে যে হজ্জে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বকর (রাঃ)-কে হজ্জের আমীররূপে পাঠিয়েছিলেন, সে হজ্জে আবু বকর (রাঃ)-কে একটি দলে পাঠিয়েছিলেন, যেন তিনি লােকের মধ্যে একথা প্রচার করেন যে, শুন, এ বছরের পর আর কোন মুশরিক হজ্জ করতে পারবে না। আর কোন উলঙ্গ ব্যক্তি বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করবে না।

2958মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবু তালিব (রাঃ) এর সঙ্গে গিয়েছিলাম। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে মক্কাবাসীদের কাছে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘােষণা প্রচারের জন্য পাঠিয়েছিলেন। তিনি বলেনঃ আপনারা কিসের ঘোষণা দেন? তারা বলেনঃ আমরা এ কথা ঘোষণা দেই যে, মু'মিন ব্যক্তি ব্যতীত কেউ জান্নাতে প্রবেশ করবে না, আর কোন উলঙ্গ ব্যক্তি বায়তুল্লাহর তাওয়াফ কবে না, আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও যে ব্যক্তির মধ্যে চুক্তি রয়েছে এর সময় চার মাস পর্যন্ত বহাল থাকবে। যখন চার মাস অতিবাহিত হবে, তখন আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসূল মুশরিকদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবেন। আর এ বছবের পর কোন মুশরিক হজ্জ করবে না। আমি এই ঘোষণা দিচ্ছিলাম। এমনকি (ঘােষণা প্রচার করতে করতে) আমার আওয়াজ অস্পষ্ট হয়ে যায়।

2959ইয়াকূব ইন ইরাহীম (রহঃ) ... মুত্তালিব ইবন আবু ওয়াদা'আহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ বাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাওয়াফের সপ্তম চক্কর সমাপ্ত করলেন, তখন তিনি তাওয়াফ করার স্থানের এক পার্শ্বে গমন করলেন এবং সেখানে দু' রাকাত সালাত আদায় করলেন। তখন তার মধ্যে এবং তাওয়াফকারীদের মধ্যে কেউ ছিল না।

2960কুতায়বা (রহঃ) ... আমর (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, ইবন উমর (রাঃ) বলেছেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় এলেন এবং সাতবার কা'বার তাওয়াফ করলেন, এবং মাকামে ইবরাহীমের পেছনে দু'রাকাত সালাত আদায় করলেন এবং সাফা ও মারওয়ায় সাঈ করালেন। আর বললেন ও তােমাদের জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মধ্যে উত্তম নমুনা রয়েছে।

2961মুহাম্মদ ইক্‌ন আবদুল্লাহ ইবন আবদুল হাকাম (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাতবার বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করেন, তার মধ্যে তিনি তিনবার রমল করেন, আর চারবার সাধারণভাবে চলেন। তারপর মাকামে ইবরাহীমের নিকট দাঁড়িয়ে দু'রাকাত সালাত আদায় করেন এবং তিনি তিলাওয়াত করেনঃ (وَاتَّخِذُوا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى) অর্থঃ তোমরা মাকামে ইব্রাহীমকে সালাতের স্থান হিসেবে গ্রহণ কর। (সূরা বাকারাঃ ১২৫) লোকদের শুনাবার জন্য তিনি উচ্চস্বরে এরূপ পাঠ করেন। তারপর তিনি ফিরে এসে হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করেন। এরপর (সাফা-এর দিকে) গেলেন এবং বললেনঃ আল্লাহ যা হতে আরম্ভ করেছেন আমরাও তা থেকে আরম্ভ করবে। এরপর তিনি সাফা হতে আরম্ভ করেন এবং এর উপর আরোহণ করেন। এ সময় কা'বা তার দৃষ্টিগােচর হলে তিনি তিনবার বলেনঃ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ অর্থঃ “আল্লাহ্ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, নেই তার কোন শরীক, রাজত্ব তারই, প্রশংসা তারই, তিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান, তিনি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান। এরপর তিনি 'আল্লাহু আকবার' বলেন এবং আল্লাহর প্রশংসা করেন এবং যা তিনি নির্ধারিত ছিল তার জন্য তিনি দু'আ করেন। এরপর তিনি পায়ে হেঁটে নেমে আসেন। এমন কি তার পদদ্বয় বাতনে মাসিলে স্থির হলাে। তারপর তিনি দ্রুত হেঁটে চলেন, যাতে তার উভয় পা উঠে যেত। পরে তিনি স্বাভাবিকভাবে হেঁটে মারওয়া পাহাড়ে পৌছে তাতে আরোহণ করেন। এবারও বায়তুল্লাহ তার দৃষ্টিগোচর হলো, তিনি তিনবার বলেনঃ (لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ) দুআর পর তিনি আল্লাহকে স্মরণ করলেন এবং হামদ ও সানা আদায় করলেন। এখানেও তিনি আল্লাহ যা নির্ধারিত করেছেন সেভাবে দু'আ করেন। এভাবে তিনি তাওয়াফ সমাপ্ত করেন।

2962আলী ইবন হুজুর (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাতবার তাওয়াফ করেন এবং তিনবার রমল করেন এবং চারবার স্বাভাবিকভাবে হেঁটে তাওয়াফ করেন। এরপর তিনি পড়েনঃ (وَاتَّخِذُوا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى) অর্থঃ "তোমরা মাকামে ইবরাহীমকে সালাতের স্থান হিসেবে গ্রহণ কর।" (সূরা বাকারাঃ ১২৫) পরে দু'রাকআত সালাত আদায় করেন। এ সময় তিনি মাকামে ইবরাহীমকে তাঁর ও কা'বার মধ্যে রাখেন। পরে হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করেন। তা হতে বের হয়ে বললেনঃ (إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ) "নিশ্চয় সাফা ও মারওয়া আল্লাহর অন্যতম নিদর্শন।" তােমরা আরম্ভ কর ঐস্থান থেকে যার কথা আল্লাহ প্রথমে উল্লেখ করেছেন।

2963আমর ইবন উসমান ইবন সাঈদ ইবন কাছীর ইবন দীনার আল-হিমসী (রহঃ) ... জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাকামে ইবরাহীমে পৌছে তিলাওয়াত করলেনঃ (وَاتَّخِذُوا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى) তারপর দু'রাকআত সালাত আদায় করেন। তিনি সুরা-ই ফাতিহা এবং সূরা-ই-কাফিরুন ও সূরা-ই-ইখলাস পাঠ করেন। পরে আবার হাজরে আসওয়াদের কাছে এসে তাকে চুম্বন করেন। তারপর সাফা পাহাড়ের দিকে যান।

2964যিয়াদ ইবন আইয়ূব (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামদাঁড়িয়ে যমযমের পানি করেন।

2965আলী ইবন হুজুর (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে যমযমের পানি পান করিয়েছি। তিনি দাঁড়ানো অবস্থায় তা পান করেন।

2966মুহাম্মদ ইবন বাশার (রহঃ) ... আমর ইবন দীনার (রহঃ) বলেনঃ ইবন উমর (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় আগমন করার পর সাতবার কা'বার তাওয়াফ করেন। পরে মাকামে ইবরাহীমের পেছনে দাঁড়িয়ে দু'রাকআত সালাত আদায় করেন। তারপর যে দরজা দিয়ে লোক বের হয়, সে দরজা দিয়েই তিনি সাফার দিকে বের হন এবং সাফা ও মারওয়ার সাঈ করেন। শুবা (রহঃ) বলেনঃ আইয়ুব (রহঃ) আমর ইবন দীনার (রহঃ) সূত্রে আমার কাছে বর্ণনা করেন যে, ইবন উমর (রাঃ) একে সুন্নত বলে আখ্যায়িত করেছেন।

2967মুহাম্মদ ইবন মানসূর (রহঃ) .... উরওয়া (রহঃ) বলেন, আমি আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট (فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا) [(অর্থঃ তাই যে কেউ কা'বা গৃহের (হজ্জ কিংবা উমরাহ করে) এ দু'টির মধ্যে যাতায়াত করাতে তার কোন পাপ নেই। (সূরা বাকারাঃ ১৫৮)] এ আয়াত পাঠ করে বললামঃ উক্ত পাহাড়দ্বয়ের মধ্যে সাঈ না করাকে আমি মন্দ মনে করি না। তিনি বলেনঃ তুমি যা বললে তা মন্দ কথা, জাহিলী যুগে লোকেরা এই দু পাহাড়ের সাঈ করতো না। যখন ইসলামের যুগ এলো এবং কুরআন নাযিল হলোঃ (إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ) “নিশ্চয় সাফা ও মারওয়া আল্লাহর অন্যতম নিদর্শন” (সূরা বাকারাঃ ১৫৮)। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাঈ করলেন এবং আমরাও তাঁর সঙ্গে সাঈ করলাম। তাই ইহা সুন্নত।

2968আমর ইবন উসমান (রহঃ) ... উরওয়া (রহঃ) বলেনঃ আমি আয়েশা (রাঃ)-কে (فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا) এ আয়াত সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলাম এবং বললামঃ আল্লাহর শপথ! সাফা ও মারওয়ায় সাঈ না করলে কারও পাপ হবে না। আয়েশা (রাঃ) বললেনঃ তুমি যা বললে, তা ভাল নয়, হে ভাগ্নে! তুমি এই আয়াতের মর্ম যা বুঝেছ; যদি তা-ই হতো তাহলে তোমরা এর সাঈ না করলে কোন পাপ হবে না ঠিকই। কিন্তু এই আয়াত নাযিল হয়েছে আনসারদের সম্বন্ধে। ইসলাম গ্রহণের পূর্বে তারা মানাতে তাগিয়া' (একটি মূর্তি)-এর হজ্জ করতো। আর যে এর হজ্জ করতো, সে সাফা ও মারওয়ার সাঈ করতো না। যখন তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করেছিল, তখন আল্লাহ্‌ তা'আলা নাযিল করেনঃ إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوْ اعْتَمَرَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্বতদ্বয়ের সাঈ করাকে শরীয়তের আহকামভূক্ত করেন। তাই কেউ পর্বতদ্বয়ের সাঈ বাদ দিতে পারবে না।

2969মুহাম্মদ ইবন সালামা (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সাফায় গমনের ইচ্ছায় মসজিদে থেকে বের হলেন, তখন তিনি বললেনঃ আমরা সেখান থেকে আরম্ভ করবো, যেখান থেকে আল্লাহ্ তা'আলা আরম্ভ করেছেন।

2970ইয়াকূব ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফার দিকে বের হয়ে বলেনঃ আল্লাহ্ তা'আলা যে স্থান থেকে আরম্ভ করেছেন, আমরাও সে স্থান থেকে আরম্ভ করবো।

2971ইয়াকূব ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফায় আরোহণ করে যখন তিনি বায়তুল্লাহর প্রতি তাকান তখন তাকবীর বলেন।

2972মুহাম্মাদ ইবন সালামা ও হারিস ইবন মিসকীন (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফা পাহাড়ে আরোহণ করে তিনবার তাকবীর বলেন। এরপর তিনি বলেনঃ (لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ) তিনি এইরূপ তিনবার বলেন, পরে দু'আ করেন। মারওয়া পাহাড়েও তিনি এইরূপ করেন।

2973ইমরান ইবন ইয়াযীদ (রহঃ) ... জাফর ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) বলেছেন। তাঁর পিতা বলেছেন যে, তিনি শুনেছেন, জাবির (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হজ্জ সম্বন্ধে বলেছেনঃ তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফায় আরোহণ করে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' পড়েন এবং এর মাঝে দু'আ করেন।

2974মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন আবদুল হাকাম (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাতবার বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করেন, এতে তিনবার রমল করেন এবং চারবার সাধারণভাবেই হেঁটে তাওয়াফ করেন। তারপর মাকামে ইবরাহীমের কাছে দাঁড়িয়ে দু'রাকাত সালাত আদায় করেন এবং পড়েনঃ (وَاتَّخِذُوا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى) এ সময় তিনি লোকদেরকে শােনাবার জন্য উচ্চকণ্ঠে পড়েন। এরপর সেখান থেকে এসে তিনি হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ ও চুম্বন করেন। তারপর সাফার দিকে গমন করেন এবং বলেনঃ আমরা তা হতে আরম্ভ করবো, আল্লাহ যা হতে আরম্ভ করেছেন। এরপর তিনি সাফা হতে আরম্ভ করে তার উপর আরোহণ করেন। সেখান থেকে তিনি বায়তুল্লাহ দেখতে পান এবং তিনি তিনবার বলেনঃ (لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ) এরপর তিনি আল্লাহু আকবর বলেন এবং আল্লাহর প্রশংসা করেন এরপর তার জন্য যা নির্ধারিত ছিল তিনি তা দিয়ে দু'আ করেন। পরে তিনি পায়ে হেঁটে নেমে এসে বাতনে মাসীলে (উপত্যকায়) এসে পৌঁছেছেন। তারপর তিনি দ্রুত হেঁটে চলেন, যাতে তাঁর পদদ্বয় উঠে যায়। পরে তিনি মারওয়া পাহাড়ে আরোহণ করেন। এখানেও বায়তুল্লাহ তাঁর দৃষ্টিগোচর হয়। এখানেও তিনি তিনবার বলেনঃ (لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ) এরপর তিনি আল্লাহকে স্মরণ করেন, সুবহানাল্লাহ ও আলহামদুলিল্লাহ বলেন, এখানে তিনি আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী দু'আ করলেন। দুআ করেন এবং এভাবে তিনি তাওয়াফ শেষ করেন।

2975ইমরান ইবন ইয়াযীদ (রহঃ) ... আবু যুবায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজ্জে বাহনের উপর থেকে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করেন এবং সাফা ও মারওয়ার মাঝে সাঈ করেন যেন লোকে তাকে দেখতে পায় এবং তিনি উপরে অবস্থান করেন যেন প্রশ্নকারীগণ তার কাছে প্রশ্ন করতে পারেন। কেননা লোকের অনেক ভিড় ছিল।

2976মাহমূদ ইবন গায়লান (রহঃ) ... কাসীর ইবন জুমহান (রহঃ) বলেনঃ আমি ইবন উমর (রাঃ)-কে দেখেছি তিনি সাফা ও মারওয়ার মধ্যস্থলে হাঁটছেন, তিনি বলেন, যদি আমি হেঁটে চলি, তা এজন্য যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে হাঁটতে দেখেছি। আর যদি আমি দ্রুত চলি, তা এজন্য যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দ্রুত চলতে দেখেছি।

2977মুহাম্মদ ইবন রাফি (রহঃ) ... সাঈদ ইবন জুবায়র (রহঃ) বলেন, আমি ইবন উমর (রাঃ)-কে দেখেছি, এরপর তিনি পূর্ব হাদীসের মত উল্লেখ করেন। তবে তিনি অতিরিক্ত বলেনঃ আর আমি তখন ছিলাম বৃদ্ধ ।

2978মুহাম্মদ ইবন মানসূর (রহঃ) ... যুহরী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেরা ইবন উমর (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলোঃ আপনি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সাফা ও মারওয়ার মধ্যস্থলে রমল করতে দেখেছেন? তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন একদল লোকের মধ্যে তারা সকলেই রমল করেন, আমি তাদের সকলকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রমলের অনুকরণেই রমল করতে দেখেছি।

2979আবু আম্মার হুসায়ন ইন হুরায়স (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফা ও মারওয়ার মধ্যে সাঈ করেন মুশরিকদেরকে তার শক্তি প্রদর্শনের জন্য।

2980কুতায়বা (রহঃ) ... জনৈক মহিলা থেকে বর্ণিত যে, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বাতনে মাসীলে সাঈ করতে দেখেছি। তিনি বলছিলেনঃ এই উপত্যকা দ্রুতগতিতে অতিক্রম করতে হয়।

2981মুহাম্মদ ইবন সালমা ও হারিস ইবন মিসকীন (রহঃ) ... জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সাফা থেকে অবতরণ করতেন তখন হাঁটতেন, এমনকি তার পদদ্বয় বাতনে ওয়াদীতে নামার পর তিনি সাঈ করে তা হতে বের হতেন।

2982মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পদদ্বয় বাতনে উপত্যকায় পৌছলে, তখন তিনি রমল করতে করতে তা থেকে বের হয়ে যান।

2983ইয়াকূব ইবন ইবরহীম (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবতরণ করেন অর্থাৎ সাফা হতে। যখন তাঁর পদযুগল ওয়াদীতে অবতরণ করে, তখন তিনি রমল করেন। আর যখন তিনি উপত্যকা অতিক্রম করেন, তখন তিনি হেঁটে চলেন।

2984মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ্ ইবন আবদুল হাকাম (রহঃ) ... জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মারওয়ায় এসে তার উপর আরোহণ করেন, তারপর বায়তুল্লাহ্ তার দৃষ্টিগোচর হয়। তখন তিনি তিনবার বলেনঃ (لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ) এরপর তিনি আল্লাহকে স্মরণ করেন, সুবহানাল্লাহ ও আল-হামদুলিল্লাহ বলেন। তারপর তিনি আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী দুআ করেন এবং এই কাজের মাধ্যমে তিনি তাওয়াফ শেষ করেন।

2985আলী ইবন হুজুর (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফার দিকে গেলেন এবং তাতে আরোহণ করলেন। এরপর বায়তুল্লাহ তার দৃষ্টিগোচর হলো। এরপর তিনি মহান আল্লাহর তাওহীদ বর্ণনা করে তাকবীর পাঠ করলেন। তিনি বলেনঃ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ এরপর তিনি চলতে লাগলেন যখন তাঁর পদদ্বয় উপত্যকাতে নামলো তখন সাঈ করলেন। যখন উভয় পদ 'উপতাকা থেকে উপরে উঠে এলো, তখন তিনি হেঁটে মারওয়ায় আগমন করেন। এখানেও তাই করলেন, যা তিনি সাফা পাহাড়ে করেছিলেন। এভাবে তিনি তার তাওয়াফ শেষ করেন।

2986আমর ইবন আলী (রহঃ) ... আবু যুবায়র (রহঃ) বর্ণনা করেন যে, তিনি জাবির (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাফা এবং মারওয়ার মধ্যে একবারের বেশী সাঈ করেন নি।

2987মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না (রহঃ) ... মুআবিয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উমরায় তাঁর চুল তীরের ফলা দিয়ে কেটেছেন মারওয়া পাহাড়ের উপরে।

2988মুহাম্মদ ইবন ইয়াহইয়া ইবন আবদুল্লাহ্ (রহঃ) ... মুআবিয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মারওয়ায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চুল কেটেছি বেদুঈনের তীরের ফলা দিয়ে।

2989মুহাম্মদ ইবন মানসূর (রহঃ) ... মুআবিয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চুলের চারদিক থেকে কেটেছি, আমার নিকট তীরের ফলা ছিল তা দিয়ে, তাঁর বায়তুল্লাহর তাওয়াফ ও সাফা মারওয়া সাঈ-এর পর যুলহিজ্জার দশ দিনের মধ্যে। কায়স (রহঃ) বলেন, লোকেরা মুআবিয়া (রাঃ)-এর এ ব্যাপারটি অস্বীকার করেছেন।

2990মুহাম্মদ ইবন রাফি (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন আমরা হজ্জের নিয়্যতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে বের হই। যখন তিনি বায়তুল্লাহর তাওয়াফ এবং সাফা ও মারওয়ার সাঈ করেন, তখন বললেনঃ যার সাথে কুরবানীর পশু রয়েছে, সে তার ইহরামের উপর আসবে। আর যার সাথে কুরবানীর পশু নেই, সে হালাল হয়ে যাবে।

2991মুহাম্মদ ইবন হাতিম (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন আমরা বিদায় হজ্জে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে বের হই। আমাদের মধ্যে কেউ তোমরা হজ্জের ইহরাম করে, আর কেউ কেউ উমরার ইহরাম করে এবং কুরবানীর পশু সঙ্গে নেয়। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে উমরাহর ইহরাম করেছে, আর কুরবানীর পশু সাথে আনেনি, সে হালাল হয়ে যাবে। আর যে উমরাহর ইহরাম করে কুরবানীর পশু সঙ্গে এনেছে, সে হালাল হবে না। আর যে হজ্জের ইহরাম করেছে সে তার হজ্জ পূর্ণ করবে। আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ আমি ঐ সকল লোকের মধ্যে ছিলাম, যারা উমরার ইহরাম করেছিল।

2992মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন মুবারক (রহঃ) ... আসমা বিনত আবু বকর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা হজ্জের ইহরাম করে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে বের হলাম। আমরা মক্কার নিকটবর্তী হলে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যার সাথে কুরবানীর পশু নেই, সে যেন হালাল হয়ে যায়, আর যার সাথে কুরবানীর পশু রয়েছে, সে তার ইহরামের উপর থাকবে। আসমা (রাঃ) বলেনঃ যুবায়র (রাঃ)-এর সাথে কুরবানীর পশু থাকায় তিনি তার ইহরামের উপর থাকেন। আর আমার সাথে কুরবানীর পশু না থাকায় আমি হালাল হয়ে যাই। আমি আমার জামাকাপড় পরিধান করি, সুগন্ধি ব্যবহার করি এবং যুবায়র (রাঃ)-এর কাছে বসি। তিনি বললেন, আমার থেকে দূরে বস। আমি বলিঃ তুমি কি ভয় কর যে, আমি তোমার উপর ঝাঁপিয়ে পড়বাে?

2993ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমরাহ্ করে জিয়িররানা নামক স্থানে ফিরে এসে আবু বকর (রাঃ)-কে হজ্জের আমীর নিযুক্ত করে প্রেরণ করেন। আমরাও তাঁর সঙ্গে আসলাম। যখন ‘আরজ নামক স্থানে পৌছলেন তখন সকাল হলে তিনি তাকবীর বলার জন্য প্রস্তুত হলেন। এমন সময় তার পেছনে উটের শব্দ শুনতে পেয়ে তিনি তাকবীর না দিয়ে বললেন ইহা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উটনী জাদ’আর শব্দ। হয়তো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাশরীফ এনেছেন, আমরা তার সঙ্গে সালাত আদায় করবো, হঠাৎ দেখা গেল এর আরােহী হলেন আলী (রাঃ)। আবু বকর (রাঃ) তাকে বললেনঃ আপনি কি আমীর হিসেবে এসেছেন, না সংবাদ বাহক হিসেবে। তিনি বললেনঃ আমি সংবাদ বাহক হিসেবে এসেছি। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে অব্যাহতি বাণী (সূরা তাওবা বা বারা'আত) সহ প্রেরণ করেছেন। আমি হজ্জের বিশিষ্ট স্থানসমূহে লোকদের তা শুনাব। আমরা মক্কায় আগমন করলাম। যিলহজ্জের ৮ তারিখের একদিন পূর্বে আবু বকর (রাঃ) লোকের মধ্যে দাঁড়িয়ে খুতবা দিলেন এবং তাদেরকে হজ্জের আহকাম শুনালেন। তিনি তার খুৎবা শেষ করলে আলী (রাঃ) দাঁড়ালেন এবং তিনি লোকের মধ্যে অব্যাহতি বাণী (সূরা বারাআত) পাঠ করে শুনালেন এবং তা শেষ করলে আমরা তাঁর সঙ্গে বের হলাম। যখন আরাফার দিন উপস্থিত হলো, তখন আবু বকর (রাঃ) লোকের মধ্যে দাঁড়িয়ে খুৎবা দিলেন, তাদের কাছে হজ্জের আহকাম বর্ণনা করলেন। যখন তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করলেন, তখন আলী (রাঃ) দাঁড়িয়ে লোকের মধ্যে সূরা বারাআত পাঠ করে শুনালেন। এরপর কুরবানীর দিন আসলে আমরা তাওয়াফে ইফাযা করলাম। আবু বকর (রাঃ) ফিরে এসে লোকের মধ্যে খুৎবা দিলেন। তাতে তিনি প্রত্যাবর্তন ও কুরবানীর আহকাম এবং হজ্জের আহকাম বৰ্ণনা করলেন। তিনি যখন খুৎবা শেষ করলেন, তখন আলী (রাঃ) দাঁড়িয়ে লোকের মধ্যে বারাআতের ঘােষণা শুনালেন, সূরা বারাআত শুনানাে শেষ করলেন। প্রথম নফরের দিন আসলে আবু বকর (রাঃ) লোকের উদ্দেশ্যে খুতবা দিলেন; কিরূপে নফর বা যাত্রা করতে হবে এবং রমী করতে হবে সে সমস্ত আহকাম তাদেরকে শিক্ষা দিলেন। তিনি খুৎবা শেষ করলে আলী (রাঃ) দাঁড়িয়ে লোকের নিকট সূরা বারাআত পড়ে শুনালেন এবং তা শেষ পর্যন্ত পাঠ করলেন। আবু আবদুর রহমান (রহঃ) বলেন, ইবন খুশায়ম (রহঃ) হাদীস বর্ণনায় তেমন শক্তিশালী নন। আমি ইবন জুরায়জ (রহঃ) আবূ যুবায়র (রহঃ) থেকে এ সনদে বর্ণনা না করে ইবন জুরায়জ (রহঃ) ইবন খুশায়ম (রহঃ) থেকে, তিনি আবু যুবায়র (রাঃ) এ সনদে রেওয়ায় বর্ণনা করেছি। কেননা প্রথমােক্ত সনদে ইবন জুরায়জ (রহঃ) ও আবু যুবায়র (রহঃ)-এর মধ্যের একজন রাবী বাদ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যাকে উসূলে হাদীসের ভাষায় মুনকাতি' বলা হয়। আমি এ হাদীসটি ইসহাক ইবন রাহওয়াই ইবন ইবরাহীম (রহঃ) সূত্রে লিপিবদ্ধ করেছি। ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ আল-কাত্তান (রহঃ) ইবন খুশায়ম (রহঃ) থেকে হাদীস বর্ণনা বাদ দেননি। আর আবদুর রহমান থেকেও না। তবে আলী ইবন মাদীনী (রহঃ) ইবন খুশায়ম (রহঃ)-কে 'মুনকারুল হাদীস' বলে মন্তব্য করেছেন। আর আলী ইবন মাদীনী (রহঃ) হাদীস শাস্ত্রের জন্যেই তাঁর সৃষ্টি।

2994ইসমাঈল ইবন মাসউদ (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যিলহজ্জ মাসের চারদিন অতীত হওয়ার পর আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাঙ্গে আগমন করলাম। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা হালাল হয়ে যাও এবং একে ‘উমরাহ গণ্য কর। এতে আমাদের অন্তর সংকুচিত হলো এবং আমাদের কাছে তা ভারী মনে হলো। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এ সংবাদ পৌছলে তিনি বললেনঃ হে লোকেরা! তোমরা হালাল হয়ে যাও, আমার নিকট যে কুরবানীর পশু রয়েছে, যদি তা থাকতো তাহলে তোমরা যা করছে। আমিও তা করতাম। এরপর আমরা হালাল হয়ে গেলাম এবং স্ত্রী সহবাসও করলাম। হালাল ব্যক্তি যা করে আমরাও তাই করলাম। যখন তারবিয়ার' দিন আসলো এবং মক্কা প্রকাশিত হলো, তখন আমরা হজ্জের তালবিয়া পড়লাম।

2995মুহাম্মদ ইবন সালামা ও হারিস ইবন মিসকীন (রহঃ) ... আমর আনসারী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) আমার কাছে আসলেন, তখন আমি মক্কার পথে একটি বৃক্ষের নীচে অবস্থানরত ছিলাম। তিনি আমাকে বললেন, আপনাকে এ বৃক্ষের নীচে কিসে অবতরণ করালো? আমি বললামঃ এর ছায়া আমাকে এখানে অবতরণ করতে আকৃষ্ট করেছে। তখন আবদুল্লাহ বললেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তুমি মিনার দু'টি পাহাড়ের মধ্যস্থলে থাকবে এবং তিনি তার হাত দ্বারা পূর্ব দিকে ইশারা করলেন, তখন সেখানে একটি উপত্যকা দেখতে পাবে। যাকে 'সুরিয়াবা' বলা হয়- হারিসের বর্ণনায় আছে একে ‘সারার' বলা হয়, তাতে একটি প্রকাণ্ড বৃক্ষ রয়েছে, যার নীচে সত্তরজন নবী জন্মগ্রহণ করেন।

2996মুহাম্মদ ইবন হাতিম ইবন নুযায়ম (রহঃ) ... মুহাম্মদ ইবন ইবরাহীম তায়মী তাদের মধ্য হতে একজন লোকের মাধ্যমে বর্ণনা করেন, যার নাম আবদুর রহমান ইবন মুয়ায (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিনায় আমাদের উদ্দেশ্যে খুৎবা দিলেন, আল্লাহ আমাদের কান খুলে দিলেন এবং আমরা তিনি যা বলেছিলেন, তা শুনেছিলাম। অথচ আমরা ছিলাম আমাদের মনযিলে। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে হজ্জের আহকাম শিক্ষা দিচ্ছিলেন। যখন তিনি কংকর নিক্ষেপ করা পর্যন্ত পৌছলেন, তখন বললেনঃ দু' আঙ্গুলে পাথর টুকরো নিয়ে তা নিক্ষেপ করবে। আর মুহাজিরদের মসজিদের সামনে থাকতে আদেশ করলেন এবং আনসারদের মসজিদের শেষভাগে থামতে আদেশ করলেন।

2997মুহাম্মদ ইবন ইসমাঈল ইবন ইবরাহীম ও আবদুর রহমান ইবন মুহাম্মদ ইবন সালাম (রহঃ) ... আবদুল আযীয ইবন রুফাই (রহঃ) বলেনঃ আমি আনাস ইবন মালিক (রাঃ)-কে বললাম, আপনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা কিছু স্মরণ রেখেছেন, তা আমাকে বলুন, তিনি তারবিয়ার দিন জোহরের সালাত কোথায় আদায় করেন? তিনি বললেনঃ মিনায়। আমি বললামঃ মিনা হতে প্রত্যাবর্তনের দিন আসর কোথায় আদায় করেন? তিনি বললেনঃ আবতাহে অর্থাৎ মুহাসাবে।

2998ইয়াহইয়া ইবন হাবীব ইবন আরাবী (রহঃ) .... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ভোরে মিনা হতে আরাফার দিকে গমন করলাম, আমাদের মধ্যে কেউ কেউ তালবিয়া পড়ছিল; আর কেউ কেউ তাকবীর বলছিল।

2999ইয়াকূব ইবন ইবরাহীম দাওরাকী (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা সকাল বেলা মিনা হতে আরাফার দিকে গমন করলাম। আমাদের কেউ কেউ ছিল তালবিয়া পাঠকারী, আর কেউ কেউ ছিল তাকবীর পাঠকারী।

3000ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... মুহাম্মদ ইবন আবু বকর আস-সাকাফী (রহঃ) বলেন, আমি আনাস (রাঃ)-এর সঙ্গে সকাল বেলা মিনার দিকে যাওয়ার সময় তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনারা এই দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে তালবিয়ায় কি করতেন? তিনি বললেনঃ যে তালবিয়া পড়তো, সে তালবিয়া পড়তো; তাকে কেউ বাধা দিত না ; আর যে তাকবীর বলতো, সে তাকবীর বলতো, তাকেও কেউ বাধা দিত না।

3001ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... মুহাম্মাদ ইবন আবু বকর আস-সাকাফী (রহঃ) বলেন, আমি আরাফায় ভোরে আনাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলামঃ আপনারা এই দিন তালবিয়ায় কি বলতেন? তিনি বললেনঃ এ সফরে আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে এবং তাঁর সাহাবার সঙ্গে সফর করি, তাদের মধ্যে কেউ তালবিয়া পাঠ করতেন, আর তাকবীর বলতেন। তাদের মধ্যে কেউ অন্যকে বাধা দিত না।

3002ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... তারিক ইবন শিহাব (রহঃ) বলেন, এক ইয়াহুদী উমর (রাঃ)-কে বলল, যদি (الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ) আয়াতটি আমাদের উপর নাযিল হতো, তাহলে আমরা ঐদিনকে ঈদের দিন হিসেবে পালন করতাম। উমর (রাঃ) বললেনঃ আমরা জানি যেদিনটিতে ঐ আয়াতটি নাযিল হয়েছে। আর যে রাতে তা অবতীর্ণ হয়েছে তা ছিল জুমআর রাত, আর তখন আমরা ছিলাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে আরাফাতে।

3003ঈসা ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ এমন কোন দিন নেই, যে দিন আরাফার দিন হতে অধিক বান্দা অথবা বান্দীকে আল্লাহ জাহান্নাম থেকে পরিত্রাণ দেন। আর তিনি সেদিন বান্দার নিকটবর্তী হন এবং তাদের নিয়ে ফিরিশতাদের কাছে তাদের মর্যাদার ব্যাপারে গর্ব করে বলেনঃ এরা কী কামনা করে? আবূ আবদুর রহমান (রহঃ) বলেনঃ এই হাদীসের রাবী হয়তো ইউনুস ইবন ইউসুফ। যার কাছ থেকে বর্ণনা করেছেন ইমাম মালিক (রহঃ)। আল্লাহই ভাল জানেন।

3004উবায়দুল্লাহ ইবন ফাযালা (রহঃ) ... উকবা ইবন আমির (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আরাফার দিন, কুরবানীর দিন, এবং আইয়্যামে তাশরীক মুসলিমদের ঈদের দিন; আর এগুলো খাওয়া ও পান করার দিন।

3005ইউনুস ইবন আবদুল আ'লা (রহঃ) ... সালিম ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল মালিক ইবন মারওয়ান হাজ্জাজ ইবন ইউসুফকে লিখিত আদেশ করলেন, তিনি যেন হজ্জের ব্যাপারে ইবন উমরের বিরোধিতা না করেন। তারপর যখন আরাফার দিন আসলো, ইবন উমর (রাঃ) সূর্য ঢলে পড়ার পর তার কাছে আগমন করলেন এবং আমিও তাঁর সঙ্গে ছিলাম। তিনি তার পর্দার নিকট এসে চিৎকার করে বললেনঃ এ ব্যক্তি কোথায়? তখন হাজ্জাজ তাঁর কাছে বের হয়ে আসলেন। তখন তার গায়ে কুসুম রংয়ের চাদর ছিল। তিনি বললেনঃ হে আবূ আবদুর রহমান! কী অবস্থা? তিনি বললেনঃ যদি সুন্নত পালনের আশা রাখেন, তা হলে এই অপরাহ্নেই বের হয়ে পড়ুন। হাজ্জাজ বললেনঃ এ মুহূর্তেই? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। হাজ্জাজ বললেনঃ আমি গায়ে একটু পানি ঢেলেই আপনার নিকট আসছি। এরপর তিনি অপেক্ষা করলে হাজ্জাজ বের হলেন। তারপর আমার এবং আমার পিতার সাথে চললেন। আমি বললাম, আপনি যদি সুন্নত মত আমল করার আশা রাখেন, তা হলে খুতবাকে সংক্ষেপ করুন এবং আরাফার দিকে তাড়াতাড়ি চলুন। তিনি আমার কথা শুনে ইবন উমরের প্রতি দৃষ্টিপাত করলেন, যেন একথা তিনি তার থেকেও শুনতে পান। যখন ইবন উমর (রাঃ) তা বুঝতে পারলেন, তিনি বললেন, তিনি ঠিকই বলেছেন।

3006আহমদ ইবন উসমান ইবন হাকীম আঊদী (রহঃ) ... সাঈদ ইবন জুবায়র (রাঃ) বলেনঃ আমি ইবন আব্বাস (রাঃ)-এর সঙ্গে আরাফায় ছিলাম। তিনি বললেনঃ কী হলো লোকদেরকে তোমরা তালবিয়া পাঠ করতে দেখছি না? আমি বললামঃ মুয়াবিয়া (রাঃ)-এর ভয়ে। এরপর ইবন আব্বাস (রাঃ) তার তাবু হতে বের হলেন এবং বললেনঃ (لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ لَبَّيْكَ) তারা আলী (রাঃ)-এর প্রতি শত্রুতাবশত সুন্নত ছেড়ে দিয়েছে।

3007আমর ইবন আলী (রহঃ) ... সালামা ইবন নুবায়ত (রহঃ) তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে আরাফায় সালাতের পূর্বে লাল বর্ণের উটের উপর থেকে খুৎবা দিতে দেখেছি।

3008মুহাম্মদ ইবন আদম (রহঃ) .... সালামা ইন নুবায়ত (রহঃ) তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন। তার পিতা বলেছেন, আমি আরাফার দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে লাল বর্ণের উটের উপর বসে খুৎবা দিতে দেখেছি।

3009আহমদ ইবন সারহ (রহঃ) ... সালিম ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, আরাফার দিন আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) হাজ্জাজ ইবন ইউসুফের নিকট আসলেন, তখন সূর্য ঢলে পড়েছিল, আর আমি তার সাথে ছিলাম। তিনি বললেনঃ যদি আপনি সুন্নত তরীকা মত আমল করতে চান, তা হলে এই অপরাহ্নে বেরিয়ে পড়ুন। তিনি বললেনঃ এখনই? আবদুল্লাহ বললেনঃ হ্যাঁ। সালিম বলেনঃ আমি হাজ্জাজকে বললামঃ যদি আপনি আজ সুন্নত মুতাবিক আমল করতে চান, তাহলে খুবা সংক্ষেপ করুন এবং সালাত তাড়াতাড়ি আদায় করুন। তখন আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বললেনঃ সে ঠিকই বলেছে।

3010ইসমাঈল ইবন মাসউদ (রহঃ) ... আবদুল্লাহ্ (রাঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকল সালাতই সময় মত আদায় করতেন, তবে আরাফায় ও মুযদালিফায় একত্রে আদায় আদায় করতেন।

3011ইয়াকূব ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আতা (রহঃ) বলেন, উসামা ইবন যায়দ (রাঃ) বলেন, আমি আরাফায় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে একই বাহনে সাওয়ার ছিলাম। তিনি দু'আয় উভয় হাত উত্তোলন করলেন। এমন সময় তার উট তাঁকে নিয়ে একদিকে হেলে গেল, ফলে তার নাকের রশি পড়ে যেতে লাগলো, তিনি তাঁর এক হাতে তা ধরে ফেললেন, এ সময় তাঁর অন্য হাত উঠানোই ছিল।

3012ইসহাক ইন ইবরাহীম (রহঃ) .... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কুরায়শরা মুযদালিফায় অবস্থান করতো এবং তাদেরকে বলা হতো 'হুমছ'। আর আরবের অন্যান্য লোকেরা আরাফায় অবস্থান করতো। আল্লাহ তা'আলা তার নবীকে আরাফায় অবস্থান করতে আদেশ করলেন। এরপর তা হতে রওয়ানা হতে হবে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা'আলা নাযিল করলেনঃ (ثُمَّ أَفِيضُوا مِنْ حَيْثُ أَفَاضَ النَّاسُ) অর্থঃ আর তোমরা সেখান থেকে প্রত্যাবর্তন করবে, যেখান থেকে লোকেরা ফিরে যায়।

3013কুতায়বা ইবন সাঈদ (রহঃ) ... জুবায়র ইবন মুতইম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আমার একটি উট হারিয়ে ফেলি। আমি আরাফার দিন আরাফায় তা তালাশ করতে বের হলাম এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখলাম, সেখানে দাঁড়ানো। আমি বললামঃ তাঁর অবস্থা কি? ইনিও তো কুরায়শদের একজন।

3014কুতায়বা (রহঃ) ... ইয়াযীদ ইবন শায়বান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আরাফায় মাওকাফের দূরে একস্থানে দণ্ডায়মান ছিলাম। এমন সময় ইবন মিরবা' আনসারী (রাঃ) আমাদের কাছে এসে বললেনঃ আমি তোমাদের কাছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক প্রেরিত। তিনি বলেনঃ তোমরা তোমাদের মাশায়েরে অবস্থান কর, কেননা তোমরা তোমাদের পিতা ইবরাহীম (আঃ)-এর বিধানের উপর রয়েছ।

3015ইয়াকূব ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... জাফর ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) বলেন, আমার পিতা বলেছেন, আমরা জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ)-এর নিকট গিয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করলামঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হজ্জ সম্বন্ধে। তিনি আমাদের বললেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আরাফার সবটাই মাওফিক বা অবস্থানের স্থান।

3016ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আবদুর রহমান ইবন ইয়ামুর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে উপস্থিত ছিলাম। এমন সময় তাঁর কাছে কয়েকজন লোক এসে তাকে হজ্জ সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেনঃ হজ্জ হলো আরাফায়। অতএব যে ব্যক্তি আরাফার রাত পেয়েছে মুযদালাফার রাতের পূর্বে, তার হজ্জ পূর্ণ হয়েছে।

3017মুহাম্মদ ইবন হাতিম (রহঃ) ... ফযল ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাফা থেকে প্রত্যাবর্তন করলেন তখন উসামা ইবন যায়দ (রাঃ) তার পেছনে সওয়ার ছিলেন, তাঁকে নিয়ে উটনী সামনের পা একদিকে হেলে গেল, তখন তিনি তাঁর হস্তদ্বয় এতটুকু উত্তোলন করেছিলেন যে, হস্তদ্বয় তঁর মাথার উপরে উঠেনি! এ অবস্থায় তিনি সফর করতে থাকলেন মুযদালিফায় পৌছা পর্যন্ত।

3018ইবরাহীম ইন ইউনুস ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, উসামা ইন যায়দ (রাঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাফা হতে প্রত্যাবর্তন করলেন, তখন আমি তার পেছনে সওয়ার ছিলাম। তিনি তাঁর সওয়ারীর লাগাম টেনে ধরলেন যাতে তাঁর কর্ণদ্বয় হাওদার সম্মুখভাগে লাগার উপক্রম হলো, আর তখন তিনি বলছিলেনঃ হে লোক সকল! শান্ত এবং ধীর গতিতে চলে। কেননা, উটকে দ্রুত চালনা করে তাকে কষ্ট দেওয়ার মধ্যে কোন পুণা নেই।

3019মুহাম্মদ ইবন আলী ইবন হারব (রহঃ) ... ইসমাঈল ইবন উমাইয়া (রহঃ) বলেন, আবূ গাতফান ইবন তরীক (রহঃ) বর্ণনা করেন যে, তিনি ইবন আব্বাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন যে, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাফা হতে মুযদালিফার দিকে চললেন, তিনি তার উটের লাগাম টেনে ধরলেন, ফলে তার মাথা হাওদার পালানের সামনের অংশ সনক করছিল, আর তিনি আরাফার সন্ধ্যায় বলছিলেনঃ তোমরা গাম্ভীর্য সহকারে চলবে।

3020কুতায়বা (রহঃ) ... ফযল ইবন আব্বাস (রাঃ), যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পেছনে একই বাহনে সওয়ার ছিলেন, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাফার সন্ধ্যায় এবং মুযদালিফার সকালে লোকদেরকে বললেনঃ যখন তারা ঐ স্থান ছেড়ে যাচ্ছিল, শান্তভাবে চলো আর তিনি তার উটনীর লাগাম টেনে রাখছিলেন। যখন তিনি মিনা হতে মুহাসসিরে প্রবেশ করলেন, তখন বললেনঃ তোমরা পাথরের ছােট ছােট টুকরা সংগ্রহ কর যা নিক্ষেপ করতে হবে। আর রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তালবিয়া পড়তে থাকলেন জামরায়ে আকাবায় পাথর নিক্ষেপ করা পর্যন্ত।

3021মুহাম্মদ ইবন মানসূর (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাফা পরিত্যাগের সময় ধীর শান্তভাবে চলছিলেন। তিনি লোকদেরকেও শান্তভাবে চলতে আদেশ করলেন। আর তিনি মুহাসসির উপত্যকা দ্রুত অতিক্রম করলেন, আর লোকদেরকে জামরায় পাথর নিক্ষেপ করতে আদেশ করলেন।

3022আবু দাউদ (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাফা হতে রওয়ানা হলেন, তখন তিনি বললেনঃ হে আল্লাহর বান্দাগণ! তোমরা শান্তভাবে চল। তিনি হাত দ্বারা এভাবে ইঙ্গিত করছিলেন। আর রাবী আইয়ূব ইঙ্গিত করলেন তার হাতের তালু দ্বারা আকাশের দিকে।

3023ইয়াকূব ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... উসামা ইবন যায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। বিদায় হজ্জে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সফর সম্বন্ধে তাকে প্রশ্ন করা হলে, তিনি বলেনঃ তিনি সফরে মাধ্যম চাল অবলম্বন করতেন। যখন তিনি প্রশস্ততা পেতেন, তখন তিনি দ্রুত চলতেন। আর 'নস' বলা হয় আনাক-এর তুলনায় দ্রুত চলাকে।

3024কুতায়বা (রহঃ) .... উসামা ইন যায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আরাফা হতে প্রত্যাবর্তন করলেন, তখন তিনি উপত্যকার দিকে গেলেন। উসামা (রাঃ) বলেনঃ আমি তাকে বললামঃ আমি কি মাগরিবের সালাত আদায় করবো? তিনি বললেনঃ সালাত আদায় করার স্থান তোমার সামনে।

3025মাহমূদ ইন গায়লান (রহঃ) ... উসামা ইবন যায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে ঢালু স্থানে অবতরণ করেন, সে স্থানে (বনূ উমাইয়ার) আমীরগণ অবতরণ করেন। তিনি সেখানে পেশাব করে অযু করেন- হালকাভাবে (একবার একবার অঙ্গ ধৌত করেন অথবা পানি স্বল্প ব্যয় করেন।) আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! সালাত। তিনি বললেনঃ এরাতে যে সময়ে সালাত আদায় করতে হয়, সে সালাত ও তার সময় তোমাদের সামনে। যখন আমরা মুযদালিফায় আসলাম, তখন তিনি সালাত আদায় করলেন, শেষ ব্যক্তিটিও তার উটের পিঠ হতে নামার পূর্বে।

3026ইয়াহইয়া ইবন হাবীব ইবন আরাবী (রহঃ) ... আবূ আইয়ুব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাগরিব এবং ইশার সালাত একত্রে আদায় করেন মুযদালিফায়।

3027কাসিম ইবন যাকারিয়া (রহঃ) ... ইবন মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুযদালিফায় মাগরিব এবং ইশার সালাত একত্রে আদায় করেন মুযদালিফায় ।

3028আমর ইবন আলী (রহঃ) ... সালিম (রহঃ) তাঁর পিতার মাধ্যমে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুযদালিফায় মাগরিব ও ইশার সালাত একত্রে আদায় করেন, একই ইকামতে, উভয়ের মধ্যে কোন নফল আদায় করেন নি এবং উভয় সালাতের কোনটির পরেও কোন সালাত আদায় করেন নি।

3029ঈসা ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... ইবন শিহাব (রহঃ) বলেনঃ উবায়দুল্লাহ্ ইবন আবদুল্লাহ তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তার পিতা বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাগরিব ও ইশার সালাত একত্রে আদায় করেন, এবং উভয় সালাতের মধ্যে কোন নফল আদায় করেন নি। মাগরিব আদায় করেন তিন রাকআত, ইশার সালাত আদায় করেন দুই রাকআত। আবদুল্লাহ্ ইবল উমর (রাঃ)-ও এরূপ একত্রে আদায় করতেন, মহান আল্লাহর সঙ্গে মিলিত হওয়া পর্যন্ত।

3030আমর ইবন মানসূর (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাগরিব ও ইশার সালত একত্রে আদায় করেন মুযদালিফায়. একই ইকামতে।

3031মুহাম্মদ ইবন হাতিম (রহঃ) ... কুরায়ব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উসামা ইবন যায়দকে প্রশ্ন করেছিলাম, যখন তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পেছনে সওয়ার ছিলেন- আরাফার সন্ধ্যায়। আমি বললাম আপনারা কি করতেন? তিনি বললেনঃ আমরা সফর করতে করতে মুযদালিফায় পৌঁছলাম, তথায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উট বসিয়ে অবতরণ করলেন এবং মাগরিবের সালাত আদায় করলেন। এরপর দলের লোকদের কাছে লোক পাঠিয়ে সংবাদ দেয়া হলো। তারাও তাদের উট বসিয়ে দিলেন তাদের মনযিলে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইশার সালাত আদায় করার পূর্বে তারা আসবাবপত্র নামালেন না। তারপর তাঁরা আসবাবপত্র নামালেন এবং মনযিলে অবতরণ করলেন। ভোরে আমি পায়ে হেঁটে কুরায়শদের অগ্রবর্তী দলের সঙ্গে রওয়ানা হলাম। তখন ফল (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পেছনে একই বাহনে সওয়ার ছিলেন।

3032হুসায়ন ইন ইবরাহীম (রহঃ) ... উবায়দুল্লাহ ইবন আবূ ইয়াযীদ (রহঃ) বলেনঃ আমি ইবন আব্বাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, আমি সে সব লোকের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম যাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুযদালিফার রাতে বনূ হাশিমের দুর্বলগণের (মহিলা ও বালক) সঙ্গে প্রেরণ করেছিলেন।

3033মুহাম্মদ ইবন মানসূর (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি সে সব লোকের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুদালিফার রাতে যাদেরকে আগে ভাগে বনূ হাশিমের দুর্বলগণের সঙ্গে পাঠিয়েছিলেন।

3034আবু দাঊদ (রহঃ) ... ফযল (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনূ হাশিমের দুর্বলগণকে আদেশ করেন যে, তারা যেন মুযদালিফা থেকে আগে ভাগে চলে যায়।

3035আমর ইবন আলী (রহঃ) .... সালিম ইবন শাওয়াল (রহঃ) বলেনঃ উম্মে হাবীবা (রাঃ) তার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে ভোরের অন্ধকারে মুযদালিফা হতে মিনার দিকে চলে যেতে আদেশ করেন।

3036আবদুল জব্বার ইবন ‘আলা (রহঃ) ... উম্মে হাবীবা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময়ে ভোরের অন্ধকারে মুযদালিফা হতে মিনার দিকে গমন করতাম।

3037ইয়াকূব ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাওদা (রাঃ)-কে ভোরের পূর্বেই মুযদালিফা হতে চলে যাওয়ার অনুমতি দান করেন। কেননা তিনি ছিলেন একজন মােটা ও ধীর গতির মহিলা।

3038মুহাম্মদ ইবন 'আলা (রহঃ) ... আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কখনও অন্য দিন যে সময় সালাত আদায় করতেন, সে নির্ধারিত সময় ব্যতীত সালাত আদায় করতে দেখিনি। মাগরিব ও ইশা ব্যতীত, যা তিনি আদায় করেছেন মুযদালিফায়। আর সেদিন তিনি ফজরের সালাত আদায় করেন পূর্ব নির্ধারিত সময়ের পূর্বে।

3039সাঈদ ইবন আবদুর রহমান (রহঃ) ... উরওয়া ইবন মুদাররিস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মুযদালিফায় দাঁড়ান অবস্থায় দেখেছি। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি এখানে আমাদের সঙ্গে এই সালাত আদায় করেছে, আমাদের সঙ্গে এখানে অবস্থান করেছে এবং এর আগের দিনে অথবা রাতে আরাফায় অবস্থান করেছে তার হজ্জ পূর্ণ হয়েছে।

3040মুহাম্মদ ইবন কুদামা (রহঃ) ... উরওয়া ইবন মুদাররিস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ইমাম এবং অন্যান্য লোকের সঙ্গে মুযদালিফায় অবস্থান করেছেন এবং পরে সেখান থেকে মিনায় প্রত্যাবর্তন করেছে, সে হজ্জ পেয়েছে। আর যে ব্যক্তি ইমাম এবং লোকের সঙ্গে মুযদালিফায় অবস্থান করেনি, সে হজ্জ পায় নি।

3041আলী ইবন হুসায়ন (রহঃ) ... উরওয়া ইবন মুদারিস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি মুযদালিফায় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে উপস্থিত হয়ে বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি তায় গোত্রের পাহাড়দ্বয় হতে আগমন করেছি, আর আমি কোন পাহাড়ে অবস্থান বাদ দেইনি; এমতাবস্থায় আমার কি হজ্জ আদায় হয়েছে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যে ব্যক্তি আমাদের সঙ্গে এই সালাত আদায় করেছে আর এর পূর্বে আরাফায় অবস্থান করেছে- দিনে হউক অথবা রাতে, তার হজ্জ পূর্ণ হয়েছে এবং সে তার ইহরাম শেষ করেছে। (এখন সে ইহরামে নিষিদ্ধ কার্যাদি চুল কাটা, নখ কাটা ইত্যাদি করতে পারবে।)

3042ইসমাঈল ইবন মাসউদ (রহঃ) ... উরওয়া ইবন মুদাররিস ইবন আউস ইবন হারিসা ইবন লাম (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, আমি মুযদালিফায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, আমার কি হজ্জ আদায় হয়েছে? তিনি বললেনঃ যে ব্যক্তি আমাদের সঙ্গে এই সালাত আদায় করেছে এবং এস্থানে অবস্থান করেছে, এর পূর্বে আরাফা হতে প্রত্যাবর্তন করেছে- রাতে অথবা দিনে, তার হজ্জ আদায় হয়েছে এবং সে তার ইহরামের দায়িত্ব পূর্ণ করেছে। এখন হালাল হওয়ার জন্য যা করণীয়, তা পূর্ণ করবে।

3043আমর ইবন আলী (রহঃ) ... উরওয়া ইবন মুদাররিস তায়ী (রাঃ) বলেন, আমি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াসাল্লাম এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে অারয করলামঃ আমি তায়-এর পাহাড়দ্বয় হতে আপনার খেদমতে হাযির হয়েছি। আমার সওয়ারীকে ক্লান্ত করেছি এবং নিজেও অনেক কষ্ট স্বীকার করেছি। এমন কোন পাহাড় নেই যার উপর আমি অবস্থান করিনি, আমার কি হজ্জ আদায় হয়েছে? তিনি বললেনঃ যে ব্যক্তি এখানে আমাদের সঙ্গে ভোরের সালাত আদায় করেছে, আর এর পূর্বে আরাফায় আগমন করেছে- সে ইহরামের কাজ সমাপ্ত করে চুল, গোফ, নখ ইত্যাদি কর্তন করার পর্যায়ে পৌছেছে, সে তার হজ্জ পূর্ণ করেছে।

3044আমর ইবন আলী (রহঃ) ... বুকায়র ইবন আতা (রহঃ) বলেন, আমি আবদুর রহমান ইবন ইয়া'মার দারলামী (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেনঃ আমি আরাফায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখেছি, তার কাছে নাজদ হতে কতিপয় লোক এসে তাদের একজনকে তারা প্রতিনিধি নিযুক্ত করে, সে তাকে হজ্জ সম্বন্ধে প্রশ্ন করলে, তিনি বলেনঃ হজ্জ হলো আরাফায় অবস্থান। যে ব্যক্তি মুযদালিফার রাতে ভোরের সালাতের পূর্বে সেখানে আগমন করলো, সে তার হজ্জ পেল। মিনার তিন দিন, যে ব্যক্তি দুই দিন পর তাড়াতাড়ি চলে যায়, তার কোন পাপ নেই। আর যে ব্যক্তি দেরী করে তার কোন পাপ নেই। তারপর তিনি একজন লোককে তার পশ্চাতে আরোহণ করান, যিনি এ কথাগুলি লোকের মধ্যে প্রচার করছিলেন।

3045ইয়াকূব ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... জা'ফর ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) বর্ণনা করেন যে, আমার পিতা বর্ণনা করেছেন যে, আমরা জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ)এর কাছে আগমন করলাম, তিনি আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুযদালিফার সমস্ত স্থানই মওকিফ বা অবস্থানের জায়গা।

3046হান্নাদ ইবন সারি (রহঃ) ... আবদুর রহমান ইবন ইয়াযীদ (রহঃ) বলেনঃ ইবন মাসউদ (রাঃ) বলেছেনঃ আমরা মুযদালিফায় ছিলাম, যার উপর সূরা বাকারা নাযিল হয়েছে ও তাঁকে এ স্থানে (لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ) বলতে শুনেছি।

3047ইসমাঈল ইবন মাসউদ (রহঃ) ... আবূ ইসহাক (রহঃ) বলেন, আমি আমর ইবন মায়মূন (রহঃ)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন আমি মুযদালিফায় উমর (রাঃ)-এর কাছে হাযির হলাম। তিনি বললেন, জাহিলী যুগে তারা মুযদালিফা হতে প্রস্থান করতো না সূর্যোদয়ের পূর্বে, তারা বলতোঃ সবির পাহাড়ে সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত অবস্থান কর। আর রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বিরোধিতা করে সূর্যোদয়ের পূর্বেই মুদালিফা থেকে প্রস্থান করেন।

3048মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ্ ইবন আবদুল হাকাম (রহঃ) ... আতা ইবন আবু রাবাহ (রহঃ) ইবন আব্বাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তার পরিবারের দুর্বলদের সঙ্গে প্রেরণ করেন, আমরা ফজরের সালাত মিনায় আদায় করি, এবং জামরায় কংকর নিক্ষেপ করি।

3049মুহাম্মদ ইবন আদম ইবন সুলায়মান (রহঃ) ... উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ভাল মনে করলাম যে, সাওদা (রাঃ) যেরূপ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছ থেকে অনুমতি চেয়ে নিয়েছেন, আমিও যদি সেরূপ তার কাছ থেকে অনুমতি চেয়ে নিতাম এবং ফজরের সালাত মিনায় লোকের আগমনের পূর্বে আদায় করতাম। সাওদা (রাঃ) ছিলেন মোটা মানুষ এবং ধীরগতি সম্পন্না। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে অনুমতি প্রার্থনা করলে তিনি তাকে অনুমতি দেন। তখন তিনি ফজরের সালাত মিনায় আদায় করেন এবং লোকের আগমনের পূর্বেই কংকর নিক্ষেপ করেন।

3050মুহাম্মদ ইবন সালামা (রহঃ) ... আতা ইবন আবু রাবাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আসমা বিত আবু বকর (রাঃ)-এর আযাদকৃত গোলাম তার কাছে বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন যে, আমি আসমা বিনত আবু বকর (রাঃ)-এর সঙ্গে মিনায় অন্ধকারে গমন করলাম। আমি তাকে বললামঃ আমরা যে মিনায় অন্ধকারে এসে গেলাম। তিনি বললেনঃ আমরা এরূপ করতাম ঐ ব্যক্তির সঙ্গে, যিনি তোমার চাইতে উত্তম ছিলেন।

3051মুহাম্মদ ইবন সালামা (রহঃ) ... উরওয়া (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি উসামা ইবন যায়দের সঙ্গে উপবিষ্ট ছিলাম, তখন তাকে প্রশ্ন করা হলো যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজ্জে মুযদালিফা থেকে ফেরার সময় কিরূপে চলেন? তিনি বলেনঃ তিনি তার উটনী চালিয়ে যাচ্ছিলেন, যখন কোন পানি শূন্য স্থানে উপনীত হন, তখন সওয়ারী দ্রুত চালান।

3052উবায়দুল্লাহ ইবন সাঈদ (রহঃ) ... ফযল ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের উদ্দেশ্যে বললেন, যখন তারা সন্ধ্যায় আরাফা ত্যাগ করছিলেন আর মুযদালিফায় ভোৱে তোমরা ধীরস্থির ভাবে পথ অতিক্রম করবে আর তখন তিনি তাঁর উটনীর লাগাম ধরে রেখেছিলেন। তারপর যখন তিনি মিনায় প্রবেশ করলেন, অবতরণ করলেন। যখন তিনি মুহাসসার নামক স্থানে অবতরণ করলেন, তখন বললেনঃ তোমরা পাথরের টুকরা সঙ্গে নাও, যা জামরায় নিক্ষেপ করতে হবে। রাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাতে ইঙ্গিত করে বললেনঃ যেরূপ পাথর মানুষ সাধারণত নিক্ষেপ করে থাকে।

3053ইবরাহীম ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দ্রুত উট চালনা করেন।

3054ইবরাহীম ইবন হারুন (রহঃ) ... জাফর ইন মুহাম্মদ (রহঃ) তাঁর পিতার মাধ্যমে বর্ণনা করেন, তাঁর পিতা বলেন, আমি জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ)-এর কাছে উপস্থিত হয়ে তাকে বললামঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হজ্জ সম্বন্ধে আমাকে অবহিত করুন। তিনি বললেনঃ রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্য উদিত হওয়ার পূর্বেই মুদালিফা ত্যাগ করেন এবং ফযল ইবন আব্বাসকে তার পেছনের বাহনে বসিয়ে নেন, মুহাসসিরে এসে তিনি তার বাহনকে দ্রুতগতিতে পরিচালনা করেন। পরে তিনি সে পথ ধরে চলেন যা তোমাকে জামরায় কুরবায় পৌছে দেবে। এরপর তিনি বৃক্ষের নিকটে জামরায় উপনীত হন এবং সেখানে সাতটি পাথর টুকরো নিক্ষেপ করেন। তিনি এগুলোর প্রত্যেকটি নিক্ষেপের সময় তাকবীর বলেন। তিনি পাথর টুকরোগুলো নিক্ষেপ করেন উপত্যকার মধ্যে থেকে।

3055হুমায়দ ইবন মাসআদা (রহঃ) ... ফযল ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পেছনে সওয়ার ছিলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তালবিয়া পাঠ করতেন জামরায় কংকর নিক্ষেপ করা পর্যন্ত।

3056মুহাম্মদ ইবন বাশার (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামরায় কংকর নিক্ষেপ করা পর্যন্ত সর্বদা তালবিয়া পাঠ করতেন।

3057ইয়াকূব ইবন ইবরাহীম দাওরাকী (রহঃ) ... আবুল আলিয়া (রহঃ) থেকে বর্ণিত। ইবন আব্বাস(রাঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আকবার সকালে তার সওয়ারীতে উপবিষ্ট থেকে আমাকে বলেনঃ এসাে, আমার জন্য কংকর কুড়িয়ে নাও। এরপর আমি তার জন্য কয়েক টুকরো কংকর তুলে নেই, যেগুলি ছিল দুই আংগুলে তুলে নেওয়ার মত। যখন আমি সেগুলো তাঁর হাতে দিলাম তখন তিনি বললেনঃ এগুলোর মত কংকর নিক্ষেপ করবে। সাবধান, ধর্মের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করো না, কেননা তোমাদের পূর্বে যারা ছিল, তারা ধর্মের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করে ধ্বংস হয়েছে।

3058উবায়দুল্লাহ ইবন সাঈদ (রহঃ) ... ফযল ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের উদ্দেশ্যে বলেন, যখন তারা সন্ধ্যায় আরাফা ও সকালে মুযদালিফা ত্যাগ করেন এবং মিনায় প্রবেশ করেন, তোমরা ধীর-স্থিরভাবে চল। তখন তিনি তাঁর উটনীর লাগাম টেনে রাখেন। এরপর যখন তিনি মিনায় প্রবেশ করেন তখন তিনি অবতরণ করেন। মুহাসির নামক স্থানে তিনি বলেনঃ তোমরা কংকর সাথে নাও, যা জামরায় নিক্ষেপ করতে হবে। রাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাতে ইঙ্গিত করে বলেন যেরূপ কংকর মানুষ সাধারণত নিক্ষেপ করে থাকে।

3059উবায়দুল্লাহ ইবন সাঈদ (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সওয়ারীর উপর থেকে আকাবার ভোরে বলেনঃ এসাে, আমার জন্য কংকর কুড়িয়ে নাও, তখন আমি তাঁর জন্য কয়েকটি কংকর কুড়িয়ে নেই। সেগুলো তাঁর হাতে দিলাম। তিনি সেগুলো তাঁর হাতে নাড়াচাড়া করতে করতে বলেন, এগুলোর মত কংকরই তোমরা নিক্ষেপ করবে। ইয়াহইয়া (রহঃ) সেগুলোর মত কংকর তার হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করার অবস্থা বর্ণনা করেছেন।

3060আমর ইবন হিশাম (রহঃ) ... ইয়াহইয়া ইবন হুসায়ন তার দাদী উম্মে হুসায়নের মাধ্যমে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হজ্জের বছর আমিও হজ্জ করি। বিলাল (রাঃ)-কে দেখলাম, তার সওয়ারীর লাগাম ধরে টেনে নিলেন। আর উসামা ইবন যায়দ (রাঃ) তার উপর কাপড় টাঙ্গিয়ে তাঁকে ছায়া দিচ্ছেন রৌদ্র তাপ থেকে রক্ষার জন্য, আর তখন তিনি ছিলেন মুহরিম। এরপর তিনি জামরায়ে আকাবায় পাথর নিক্ষেপ করেন এবং লোকদের সম্মুখে খুতবা দেন। তিনি আল্লাহর শোকর আদায় করেন, তার প্রশংসা করেন এবং একটি দীর্ঘ খুতবা দেন।

3061ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... কুদামা ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তার সাদা ও লাল মিশ্রিত রংয়ের উটনীর উপর থেকে কুরবানীর দিনে জামরাতুল আকাবায় কংকর নিক্ষেপ করতে দেখেছি। তিনি উটনীকে মারতেও দিলেন না, আর হাঁকাতেও ছিলেন না।

3062আমর ইবন আলী (রহঃ) ... আবু যুবায়র (রহঃ) বলেছেনঃ তিনি জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তার উটনীর উপর থেকে জামরায় কংকর নিক্ষেপ করতে দেখেছি। তিনি বলতেছিলেনঃ হে লোক সকল! তোমরা তোমাদের হজ্জের মাসায়েল শিখে রাখ। আমি জানি না, হয়তো এ বছরের পর আমি আর হজ্জ করতে পারবো না ।

3063মুহাম্মদ ইবন ইয়াহইয়া ইবন আইয়ুব ইবন ইবরাহীম সাকাফী আল-মারওয়াযী (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কুরবানীর দিন ভোরে জামরায় কংকর নিক্ষেপ করেন, আর কুরবানীর দিনের পর তিনি কংকর নিক্ষেপ করেন সূর্য পশ্চিম দিকে ঢলে পড়ার পর।

3064মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন ইয়াযীদ আল-মুকরী ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের অর্থাৎ আবদুল মুত্তালিব গোত্রের সন্তানদেরকে গাধায় সওয়ার করিয়ে প্রেরণ করেন। আর আমাদের উরুদেশে মৃদু আঘাত করতে করতে বলেন, হে আমার আদরের সন্তানরা! তোমরা জামরা-ই-আকাবায় সূর্যোদয়ের আগে কংকর নিক্ষেপ করবে না।

3065মাহমূদ ইবন গায়লান (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামতাঁর পরিবার-পরিজনকে আগেই পাঠিয়ে দিলেন, আর তাদের বলেছিলেনঃ তোমরা জামৱা-ই-আকাবায় সূর্যোদয়ের আগে কংকর নিক্ষেপ করবে না।

3066আমর ইবন আলী (রহঃ) ... উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামতাঁর একজন স্ত্রীকে আদেশ করেন যে, যেন সে মুদালিফার রাতে মুযদালিফা ত্যাগ করে জামরা-ই আকাবায় গিয়ে সেখানে কংকর নিক্ষেপ করে এবং ভোরে মানযিলে ফিরে আসে। আতা (রহঃ) মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত এরূপ করতেন।

3067মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন বাযী (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রশ্ন করা হলো, মিনার দিনগুলোতে সে দিনের হজ্জের কার্যাবলীর ব্যাপারে তিনি বললেনঃ কোন গুনাহ্ নেই। এরপর এক ব্যক্তি প্রশ্ন করলো ও আমি পশু কুরবানীর পূর্বে মাথা মুণ্ডন করেছি। তিনি বললেনঃ কোন পাপ নেই। পরে এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলোঃ আমি সন্ধ্যার পর কংকর নিক্ষেপ করেছি। তিনি বললেনঃ এতে কোন পাপ নেই।

3068হুসায়ন ইবন হুরায়স ও মুহাম্মদ ইবন মুসান্না (রহঃ) ... আবুল বাদ্দাহ ইবন আদী তার পিতার মাধ্যমে বর্ণনা করেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাখালদের অনুমতি দিয়েছেন, তারা একদিন কংকর নিক্ষেপ করবে আর একদিন তা বাদ দেবে।

3069আমর ইবন আলী (রহঃ) ... আবুল বাদ্দাহ ইবন আসিম ইবন আদী তাঁর পিতার মাধ্যমে বর্ণনা করেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাখালদের রাত্র যাপনের ব্যাপারে অনুমতি দিয়েছেন, তারা কুরবানীর দিন কংকর নিক্ষেপ করবে এবং পরের দু'দিন একত্রে কোন একদিন নিক্ষেপ করবে।

3070হান্নাদ ইন সারী (রহঃ) ... আবদুর রহমান অর্থাৎ ইবন ইয়াযীদ (রহঃ) বলেনঃ আবদুল্লাহ্ ইবন মাসউদ (রাঃ)-কে বলা হলো, লোকেরা আকাবার উপর হতে জামরায় কংকর নিক্ষেপ করে থাকে। রাবী বলেন, এরপর আবদুল্লাহ্ (রাঃ) বাতনে ওয়াদী হতে কংকর নিক্ষেপ করে বলেনঃ যিনি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ নেই তাঁর শপথ করে বলছিঃ যার উপর সূরা বাকারা নাযিল হয়েছে, তিনি এবান হতে কংকর নিক্ষেপ করেছেন।

3071হাসান ইবন মুহাম্মদ যা'ফরানী ও মালিক ইবন খলীল (রহঃ) ... আবদুর রহমান ইবন ইয়াযীদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আবদুল্লাহ্ (রাঃ) জামরায় সাতটি কংকর নিক্ষেপ করেন। তিনি বায়তুল্লাহকে তার বামদিকে রাখেন এবং আরাফাকে রাখেন তার ডান দিকে এবং তিনি বলেনঃ যার উপর সূরা বাকারা নাযিল হয়েছে, তিনি এ স্থানে দাঁড়িয়েই কংকর নিক্ষেপ করেন। আবু আবদুর রহমান (রহঃ) বলেন, ইবন আবু আদী ব্যতীত আমি কাউকেও এ হাদীসে মনসূর-এর নাম উল্লেখ করেছেন বলে আমার জানা নেই। আল্লাহ্ তা'আলাই অধিক জ্ঞাত।

3072মুজাহিদ ইবন মূসা (রহঃ) ... আবদুর রহমান ইবন ইয়াযীদ (রহঃ) বর্ণনা করেন, আমি ইবন মাসউদ (রাঃ)-কে বাতনে ওয়াদী হতে জামরায়ে আকাবায় কংকর নিক্ষেপ করতে দেখেছি, তারপর তিনি বলেনঃ যিনি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ নেই, তার শপথ! এই সে ব্যক্তির কংকর নিক্ষেপের স্থান, যার উপর সূরা বাকারা নাযিল হয়েছে।

3073ইয়াকূব ইন ইবরাহীম (রহঃ) ... আ'মাশ (রহঃ) বর্ণনা করেন, আমি হাজ্জাজকে বলতে শুনেছি যে, তোমরা সূরা বাকারা বলবে না বরং তোমরা বলবে, এই সে সূরা যাতে বাকারা বা গাভীর উল্লেখ রয়েছে। আমি ইবরাহীমের নিকট একথা উল্লেখ করলে তিনি বলেনঃ আবদুর রহমান ইবন ইয়াযীদ (রহঃ) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আবদুল্লাহ্ (রাঃ)-এর সঙ্গে ছিলেন, যখন তিনি জামরায়ে আকাবায় কংকর নিক্ষেপ করেন। তিনি বাতনে ওয়াদীতে প্রবেশ করে তা অর্থাৎ জামরার সামনে দাঁড়ান। এরপর সেখান থেকে সাতটি কংকর নিক্ষেপ করেন। আর তিনি প্রত্যেক কংকর নিক্ষেপের সাথে তাকবীর বলেন। আমি বললাম, লোকেরা পাহাড়ে আরোহণ করে। তিনি বলেনঃ যে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ নেই তার শপথ! যার উপর সূরা বাকারা নাযিল হয়েছে, আমি তাকে এখান থেকেই নিক্ষেপ করতে দেখেছি।

3074মুহাম্মাদ ইবন আদম (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামরায় কংকর নিক্ষেপ করেন, দু’আঙ্গুলে নিক্ষেপ করার মত ক্ষুদ্র কংকর।

3075মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আঙ্গুলে তুলে কংকর নিক্ষেপ করতে দেখেছি।

3076ইবরাহীম ইন হারূন (রহঃ) ... জা'ফার ইবন মুহাম্মাদ ইবন আলী ইবন হুসায়ন তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ আমরা জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললামঃ আমাকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হজ্জ সম্পর্কে অবহিত করুন। তিনি বললেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বৃক্ষের নিকটস্থ জামরায় সাতটি কংকর নিক্ষেপ করেন। তিনি এর প্রত্যেক কংকরের সাথে তাকবীর বলেন। তিনি কংকর নিক্ষেপ করেন বাতনে-ওয়াদী হতে। এরপর তিনি যবেহ করার স্থানে গমন করে যবেহ করেন।

3077ইয়াহইয়া ইবন মূসা বালাখী (রহঃ) ... সা'দ (রাঃ) বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে হজ্জ হতে প্রত্যাবর্তন করছিলাম। আমাদেরকে কেউ বললোঃ আমি সাতটি কংকর নিক্ষেপ করেছি। আর কেউ কেউ বললোঃ আমি ছয়টি কংকর নিক্ষেপ করেছি। এ ব্যাপারে কেউ কারো প্রতি দোষারোপ করেন নি।

3078মুহাম্মদ ইবন আবদুল আ'লা (রহঃ) ... কাতাদা (রহঃ) বলেনঃ আমি আবূ মিজলাজকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি ইবন আব্বাস (রাঃ)-কে জামরা সম্বন্ধে কিছু জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছয়টি কংকর নিক্ষেপ করেন না সাতটি নিক্ষেপ করেন, তা আমার জানা নেই।

3079হারূন ইবন ইসহাক হামদানী আল কূফী (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) তার ভাই ফযল ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পিছনে একই বাহনে সওয়ার ছিলাম, তিনি তালবিয়া পাঠ করতে থাকেন- জামরায়ে আকাবায় কংকর নিক্ষেপ পর্যন্ত। তিনি সাতটি কংকর নিক্ষেপ করেন এবং প্রতিবার কংকর নিক্ষেপের সময় তিনি তাকবীর বলেন।

3080হান্নাদ ইবন সারী (রহঃ) .... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ ফযল ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেছেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পিছনে একই বাহনে সওয়ার ছিলাম, আমি সর্বদা তাকে তালবিয়া পাঠ করতে শুনি জামরায় আকাবায় কংকর নিক্ষেপ করা পর্যন্ত। যখন তিনি কংকর নিক্ষেপ শেষ করেন, তখন তালবিয়া পাঠ বন্ধ করেন।

3081হিলাল ইবন আলা ইবন হিলাল (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেন, ফযল (রাঃ) তার কাছে বর্ণনা করছেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পেছনে একই বাহনে সওয়ার ছিলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তালবিয়া পাঠ করতে থাকেন কংকর নিক্ষেপ করা পর্যন্ত।

3082আবু আসিম খুশায়শ ইবন আসরাম (রহঃ) ... ফযল ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পিছনে একই বাহনে সওয়ার ছিলেন, তিনি সর্বদা তালবিয়া পাঠ করছিলেন আকাবায় কংকর নিক্ষেপ করা পর্যন্ত।

3083আব্বাস ইবন আবদুল আজীম আম্বরী (রহঃ) ... যুহরী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের নিকট সংবাদ পৌছেছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মিনার যবাহ করার স্থানের নিকটস্থ জামরায় কংকর নিক্ষেপ করেন, তখন তাতে সাতটি কংকর নিক্ষেপ করেন। যথনই তিনি কংকর নিক্ষেপ করেন, তখনই তাকবীর বলেন। তারপর তিনি এর সামনে অগ্রসর হন এবং পশ্চিমমুখী হয়ে দাঁড়ান এবং তার হস্তদ্বয় উত্তোলন করে অনেকক্ষণ দুআয় রত থাকেন। তারপর তিনি দ্বিতীয় জামরায় এসে তাতেও সাতটি কংকর নিক্ষেপ করেন। এরপর তিনি উত্তর দিকে কিছুটা সরে যান এবং কেবলামুখী হয়ে দাঁড়িয়ে তার হস্তদ্বয় উত্তোলন করে দু'আ করেন। এরপর তিনি আকাবার নিকটস্থ জামরায় আগমন করেন এবং এতেও তিনি সাতটি কংকর নিক্ষেপ করেন। কিন্তু এর নিকট তিনি দাঁড়ান নি। যুহরী (রহঃ) বলেন, আমি সালিম (রহঃ)-কে এই হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছি তার পিত্রার মাধ্যমে। আর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। আর ইবন উমর (রাঃ) এরূপ আমল করতেন।

3084আমর ইবন আলী (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যখন কেউ জামরায় কংকর নিক্ষেপ করে, তখন তার জন্য স্ত্রী ব্যতীত সকল কিছুই হালাল হয়ে যায়। কেউ জিজ্ঞাসা করলো, সুগন্ধিও? তিনি বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কস্তুরীর সুগন্ধি লাগাতে দেখেছি। আর সুগন্ধি লাগানই যে আহকামে হজ্জের শেষ ক্রিয়া, এতে কোন সন্দেহ নেই।

উৎস: Sunan an Nasai

WEBREATH · 11:11

«Should I not be a thankful servant?» — Sahih al-Bukhari

Breath is one for all: everyone lives by it, whoever they are and whatever they believe. Every day at 11:11 local time people stop for sixty seconds, breathe, and thank GOD for the breath — each in their own words, each within themselves. In that minute we are One Breath.

WEBREATH — the Minute at 11:11, your own local time — we are One Breath