হাদিস
ফিরে যান

সুনানে নাসায়ী 22 · The Book of Fasting

আপনার ভাষায় এখনো কোনো অনুবাদ নেই — ইংরেজি দেখাচ্ছে

2090। আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ... তালহা ইবনু উবায়দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এলোমেলো চুল বিশিষ্ট এক বেদুঈন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বললো, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আল্লাহ তা'আলা আমার উপর যে সালাতসমূহ ফরয করেছেন সে সম্পর্কে আমাকে অবহিত করুন। তিনি বললেন, আল্লাহ তা'আলা দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরয করেছেন। তবে হ্যাঁ, তুমি যা খুশী নফল আদায় করবে। তারপর সে বললো, আপনি আমাকে আল্লাহ তা'আলা আমার উপর যে সাওম ফরয করেছেন সে সম্বন্ধে অবহিত করুন। তিনি বললেন, রমযান মাসের সাওম। তবে হ্যাঁ, তুমি যা খুশী নফল আদায় করবে। অতঃপর সে বললো, আপনি আমাকে আল্লাহ তা'আলা আমার উপর যে যাকাত ফরয করেছেন সে সম্বন্ধে অবহিত করুন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ইসলামী শরীয়ার আহকাম সম্পর্কে অবহিত করলেন। অতঃপর সে বললো, ঐ সত্তার শপথ, যিনি আপনাকে সম্মানিত করেছেন আমি অতিরিক্ত কোন নফলও আদায় করবনা এবং আল্লাহ তা'আলা আমার উপর যা যা ফরয করেছেন তাতে কোন কম করব না। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যদি সে সত্যই বলে থাকে তবে সে কৃতকার্য হয়ে যাবে অথবা তিনি বললেন, যদি সে সত্যই বলে থাকে তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

2091। মুহাম্মাদ ইবনু মা’মার (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কুরআনে আমাদের নিষেধ করা হয়েছে যেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে কোন ব্যাপারে প্রশ্ন না করি। তাই আমরা মনে মনে আশংকা করতাম যেন গ্রাম থেকে কোন জ্ঞানী ব্যাক্তি এসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রশ্ন করে। ইতিমধ্যে একজন গ্রাম্য ব্যক্তি এসে বলল, হে মুহাম্মাদ! আমাদের কাছে আপনার দুত এসেছিলেন। তিনি আমাদের বললেন যে, আপনি নাকি দাবী করেন যে, আল্লাহ তা’আলা আপনাকে রাসুল করে পাঠিয়েছেন? তিনি বললেন যে, সে সত্যই বলেছে। অতঃপর সে প্রশ্ন করলঃ তবে আসমান কে সৃষ্টি করেছে? তিনি বললেনঃ আল্লাহ তা’আলা, অতঃপর সে প্রশ্ন করলঃ যমীন কে সৃষ্টি করেছে? তিনি বললেনঃ আল্লাহ তা’আলা। তারপর সে প্রশ্ন করলঃ যমীনে পাহাড় সমূহ কে স্থাপন করেছে? তিনি বললেনঃ আল্লাহ তা’আলা। এরপর সে প্রশ্ন করলঃ তাতে উপকারী বৃক্ষসমূহ কে সৃষ্টি করেছে? তিনি বললেনঃ আল্লাহ তা’আলা। অতঃপর সে বললোঃ ঐ সত্তার শপথ যিনি আসমান এবং যমীন সৃষ্টি করেছেন আর তাতে পাহাড়সমুহ স্থাপন করেছেন এবং তাতে উপকারী (বৃক্ষসমূহ সৃষ্টি করেছেন- আল্লাহ তা’আলা কি আপনাকে রাসুল করে পাঠিয়েছেন? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। অতঃপর সে বললোঃ আপনার দুত বলেন যে, আমাদের উপর প্রত্যেক দিন রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরয? তিনি বললেনঃ সে তো সত্যই বলেছে। অতঃপর সে বললোঃ ঐ সত্তার শপথ যিনি-আপনাকে রাসুল রূপে প্রেরন করেছেন, আল্লাহ তা’আলা কি আপনাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। অতঃপর সে বললোঃ আপনার দুত বলেন যে, আমাদের উপর স্বীয় ধন-সম্পদের যাকাত আদায় করা ফরয? তিনি বললেনঃ সে তো সত্যই বলেছে। সে বললোঃ সেই সত্তার শপথ যিনি আপনাকে প্রেরণ করেছেন, আল্লাহ তা’আলা কি আপনাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। অতঃপর সে বললোঃ আপনার দূত বলেন যে, আমাদের উপর প্রত্যেক বছর রমযানের রোযা ফরয? তিনি বললেনঃ সে তো সত্যই বলেছে। সে বলল, ঐ সত্তার শপথ যিনি আপনাকে প্রেরণ করেছেন, আল্লাহ তা’আলা কি আপনাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। অতঃপর সে বললোঃ আপনার দূত বলেন যে, আমাদের মধ্যে যারা খরচ বহনে সামর্থবান তাদের উপর হজ্জ ফরয? তিনি বললেনঃ সে তো সত্যই বলেছে। সে বললো, ঐ সত্তার শপথ যিনি আপনাকে প্রেরণ করেছেন, আল্লাহ তা’আলা কি আপনাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। অতঃপর সে বললোঃ ঐ সত্তার শপথ যিনি আপনাকে প্রেরণ করেছেন, আমি-এগুলোর উপর কোন কিছু কখনো বৃদ্ধিও করবো না আর এর থেকে (কিছু) হ্রাসও করবো না। যখন সে ফিরে গেলো, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যদি সে তার কথায় সত্যবাদী হয়ে থাকে তবে সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে। [সহীহ আত-তিরমিযী ৬২৩, আল ঈমান লি-ইবন আবী শায়বা]

2092। ঈসা ইবনু হাম্মাদ (রহঃ) ... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা মসজিদে বসা ছিলাম। ইতিমধ্যে উটের উপর আরোহণ করে এক ব্যক্তি আসলো এবং সেই উটকে মসজিদের (আঙ্গিনায়) বসালো ও বাঁধলো আর উপস্থিত লোকদের জিজ্ঞাসা করলোঃ তোমাদের মধ্যে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন উপস্থিতদের মধ্যে ঠেস দিয়ে বসা ছিলেন। আমরা তাকে বললাম, এই ঠেস দিয়ে বসা ফর্সা ব্যক্তি। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সেই ব্যক্তি বললোঃ হে আব্দুল মুত্তালিবের বংশজাত! তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ আমি তোমার ডাকে সাড়া দিয়েছি। তখন সেই ব্যাক্তি বললোঃ হে মুহাম্মাদ! আমি আপনাকে কিছু প্রশ্ন করবো এবং প্রশ্নের ব্যাপারে কঠোরতা অবলম্বন করব। আপনি কিছু মনে করবেন না। তখন তিনি বললেনঃ তোমার যা মনে চায় প্রশ্ন করো। তখন সে বললোঃ আমি আপনাকে আপনার প্রভু এবং আপনার পূর্ববর্তীদের প্রভুর নামে শপথ দিয়ে বলছি আল্লাহ তা’আলা কি আপনাকে সমস্ত মানুষের হিদায়াতের জন্য পাঠিয়েছেন? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ “হে আল্লাহ আপনি সাক্ষী থাকুন নিশ্চয়ই। সে বললো, এখন আমি আপনাকে আল্লাহর নামে শপথ দিয়ে বলছি, আল্লাহ তা’আলা কি আপনাকে রাত-দিন পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করতে নির্দেশ দিয়েছেন? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে আল্লাহ আপনি সাক্ষী থাকুন নিশ্চয়ই। অতপর সে বললোঃ আমি আপনাকে আল্লাহর নামে শপথ দিয়ে বলছি, আল্লাহ তা’আলা কি আপনাকে বছরের এ (রমযান) মাসে সাওম পালন করতে নির্দেশ দিয়েছেন? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ নিশ্চয়। হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন। অতঃপর সে বললোঃ আমি আপনাকে আল্লাহর নামে শপথ দিয়ে বলছি, আল্লাহ তা’আলা কি আপনাকে আমাদের বিত্তশালীদের থেকে এ যাকাত নিয়ে তা আমাদের অভাবীদের মধ্যে বন্টন করার নির্দেশ দিয়েছেন? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ নিশ্চয়ই, হে আল্লাহ আপনি সাক্ষী থাকুন। তারপর সে ব্যাক্তি বললোঃ আপনি যা নিয়ে এসেছেন তার উপর আমি বিশ্বাস স্থাপন করলাম। আর আমি নিজ গোত্রের অবশিষ্ট লোকদের জন্য দুতরূপে এসেছি এবং আমার নাম হল দিমাম ইবনু ছা’লাবা; আমি সাদ ইবনু বাকর গোত্রের লোক।

2093। উবায়দুল্লাহ ইবনু সা'দ (রহঃ) ... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে মসজিদে বসা ছিলাম। ইতিমধ্যে উটের উপর আরোহণ করে এক ব্যক্তি আসলো এবং সেই উটকে মসজিদের (আঙ্গিনায়) বসিয়ে বেঁধে ফেললো। অতঃপর বললোঃ তোমাদের মধ্যে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে? তিনি তখন আমাদের মধ্যে ঠেস দিয়ে বসা ছিলেন। তখন আমরা তাকে বললাম, এই ঠেস দিয়ে বসা ফর্সা ব্যক্তি। তৎপর সে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললোঃ হে আব্দুল মুত্তালিবের বংশজাত! তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ আমি তোমার ডাকে সাড়া দিয়েছি। অতঃপর সে বললোঃ হে মুহাম্মাদ! আমি আপনাকে কিছু প্রশ্ন করবো এবং প্রশ্নের ব্যাপারে আপনার সাথে কঠোরতা অবলম্বন করবো। তখন তিনি বললেনঃ তোমার যা মনে চায় প্রশ্ন করো। সে বললোঃ আমি আপনাকে আপনার প্রভু এবং আপনার পূর্ববর্তীদের প্রভুর নামে শপথ দিয়ে বলছি- আল্লাহ তা’আলা কি আপনাকে সমস্ত মানুষের হিদায়াতের জন্য পাঠিয়েছেন? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, নিশ্চয়ই, হে আল্লাহ আপনি সাক্ষী থাকুন। অতঃপর সে বললোঃ আমি আপনাকে আল্লাহর শপথ দিয়ে বলছি- আল্লাহ তা’আলা কি আপনাকে প্রত্যেক বছরের এ (রমযান) মাসে সাওম পালন করার নির্দেশ দিয়েছেন? রাবী বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ নিশ্চয়ই, হে আল্লাহ আপনি সাক্ষী থাকুন। অতঃপর সে বললোঃ আমি আপনাকে আল্লাহর শপথ দিয়ে বলছি- আল্লাহ তা’আলা কি আপনাকে আমাদের বিত্তশালীদের থেকে এ যাকাত নিয়ে তা আমাদের অভাবীদের মধ্যে বন্টন করার নির্দেশ দিয়েছেন? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ নিশ্চয়ই, হে আল্লাহ আপনি সাক্ষী থাকুন। অতঃপর সে বললো, আপনি যা নিয়ে এসেছেন তার উপর আমি বিশ্বাস স্থাপন করলাম। আর আমি নিজ গোত্রের অবশিষ্ট লোকদের জন্য দূত স্বরূপ এসেছি। আর আমার নাম হল দিমাম ইবনু ছা’লাবা, আমি সা’দ ইবনু বাকর গোত্রের লোক।

2094। আবূ বকর ইবনু আলী (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ সাহাবীদের সাথে ছিলেন, ইতিমধ্যে একজন গ্রাম্য ব্যক্তি তাদের কাছে এসে বললোঃ তোমাদের মধ্যে আব্দুল মুত্তালিবের বংশজাত কে? সাহাবীগণ বললেনঃ এই হেলান দেওয়া লালবর্ন মিশ্রিত ফর্সা ব্যক্তি। হামযা (রহঃ) বলেনঃامغر শব্দের অর্থ হল লালবর্ণ মিশ্রিত ফর্সা। অতঃপর সেই ব্যক্তি বললোঃ আমি আপনাকে কিছু প্রশ্ন করবো। আর প্রশ্নের ব্যাপারে আপনার সঙ্গে কঠোরতা অবলম্বন করবো। তিনি বললেনঃ তোমার যা মনে চায় প্রশ্ন কর। সে বললোঃ আমি আপনার প্রভু এবং আপনার পূর্ববর্তীদের প্রভুর নামে আপনাকে শপথ দিয়ে বলছি, আল্লাহ তা'আলা কি আপনাকে প্রেরণ করেছেন? তিনি বললেন, নিশ্চয়ই, হে আল্লাহ তুমি সাক্ষী থেকো, তারপর সে বললোঃ আমি আল্লাহর শপথ দিয়ে আপনাকে প্রশ্ন করবো। আল্লাহ তা'আলা কি আপনাকে রাতদিন পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন? তিনি বললেনঃ নিশ্চয়ই, হে আল্লাহ তুমি সাক্ষী থেকো। তারপর সে বললোঃ আমি আপনাকে আল্লাহর শপথ দিয়ে প্রশ্ন করছি, আল্লাহ তা'আলা কি আপনাকে আমাদের বিত্তশালীদের ধন-সম্পদ থেকে এ যাকাত নিয়ে তা আমাদের অভাবীদের দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন? তিনি বললেনঃ নিশ্চয়, হে আল্লাহ আপনি সাক্ষী থাকুন। তারপর সে বললোঃ আমি আপনাকে আল্লাহর শপথ দিয়ে প্রশ্ন করছি, আল্লাহ তা'আলা কি আপনাকে বার মাসের মধ্যে এ (রমযান) মাসে সাওম পালন করার নির্দেশ দিয়েছেন? তিনি বললেন, নিশ্চয়ই, হে আল্লাহ আপনি সাক্ষী থাকুন। তারপর সে বললোঃ আমি আপনাকে আল্লাহর শপথ দিয়ে প্রশ্ন করছি, আল্লাহ তা'আলা কি আপনাকে আমাদের মধ্যে রাহা খরচ বহনের উপর সামর্থ্যবানদের জন্য কা’বা ঘরের হজ্জ করার নির্দেশ দিয়েছেন? তিনি বললেনঃ নিশ্চয়, হে আল্লাহ আপনি সাক্ষী থাকুন। তারপর সে বললোঃ আপনার উপর আমি বিশ্বাস স্থাপন করলাম এবং আপনাকে সত্যবাদীরূপে মেনে নিলাম। আর আমার নাম হল দিমাম ইবনু ছা’লাবা।

2095। সুলায়মান ইবনু দাঊদ (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্যান্য লোকদের তুলনায় অত্যধিক দানশীল ব্যাক্তি ছিলেন। রমযান মাসে যখন জিবরীল (আঃ) তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন তখন তিনি অত্যধিক দানশীল হয়ে যেতেন। জিবরীল (আঃ) রমযানের প্রত্যেক রাত্রে তার সাথে সাক্ষাৎ করতেন এবং তাকে কুরআন শিক্ষা দিতেন। আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, যখন জিবরীল (আঃ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে সাক্ষাত করতেন তখন তিনি প্রবাহমান বায়ু অপেক্ষাও অত্যধিক দানশীল হতেন।

2096। মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উল্লেখযোগ্য কোন অভিশাপ দিতেন না। আর যখন জিবরীল (আঃ) এর অবতরণের সময় নিকটবর্তী হত যিনি তাঁকে কুরআন শিক্ষা দিতেন, তখন তিনি প্রবামান বায়ূ অপেক্ষাও অত্যধিক দানশীল হতেন।

2097। আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন রমযান মাস আসে তখন জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয় আর শয়তানদেরকে বেঁধে রাখা হয়।

2098। ইবরাহীম ইবনু ইয়াকুব (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন রমযান মাস আসে তখন জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয় আর শয়তানদেরকে বেঁধে রাখা হয়।

2099। আব্দুল্লাহ ইবনু সা’দ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন রমযান মাস আগমন করে তখন জান্নাতের দরজাসমূহ খূলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমুহ বন্ধ করে দেয়া হয় আর শয়তানদের শৃঙ্খলাবদ্ধ করে রাখা হয়।

2100। মুহাম্মাদ ইবনু খালিদ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন রমযান মাস আগমন করে তখন জান্নাতের দরজাসমুহ খুলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমুহ বন্ধ করে দেয়া হয় আর শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করে রাখা হয়।

2101। রবী ইবনু সূলায়মান (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন রমযান আসে তখন জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয় আর শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করে রাখা হয়।

2102। উবায়দুল্লাহ ইবনু সা’দ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) সুত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রমযান মাস আসে তখন জান্নাতের দরজাসমুহ খুলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয় আর শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করে রাখা হয়।

2103। উবায়দুল্লাহ ইবনু সা'দ (রহঃ) ... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এই রমযান মাস যা তোমাদের কাছে আগমন করেছে। এ মাসে জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয় আর শয়তানদেরকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করে রাখা হয়।

2104। আবূ বকর ইবনু আলী (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরয ব্যতীত রমযানের তারাবীহর সালাত আদায় করার জন্যও উৎসাহিত করতেন। তিনি বলতেন যে, যখন রমযান আগমন করে জান্নাতের দরজাসমূহ খূলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয় আর শয়তানদেরকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করে রাখা হয়।

2105। মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যখন রমযান আগমন করে তখন রহমতের দরজাসমুহ খুলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয় আর শয়তানদেরকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করে রাখা হয়।

2106। বিশর ইবনু হিলাল (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, তোমাদের নিকট রমযান উপস্থিত হয়েছে, যা একটি বরকতময় মাস। তোমাদের উপরে আল্লাহ তা’আলা অত্র মাসের সওম ফরয করেছেন। এ মাস আগমনে জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয়, আর আল্লাহর অবাধ্য শয়তানদের গলায় লোহার বেড়ী পরানো হয়। এ মাসে একটি রাত রয়েছে যা এক হাজার মাস অপেক্ষাও উত্তম। যে ব্যক্তি সে রাতের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত রয়ে গেল সে প্রকৃত বঞ্চিত রয়ে গেল।

2107। মুহাম্মাদ ইবনু মানসূর (রহঃ) ... আরফাজা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমরা উতবা ইবনু ফারকাদের অসুস্থতা দেখতে গিয়ে আমরা সেখানে রমযান মাস সম্পর্কে আলোচনা করছিলাম। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা কি ব্যাপারে আলোচনা করছ? আমরা বললাম, রমযান মাস সম্পর্কে। তিনি বললেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, রমযান মাসে জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয় এবং শয়তানদের গলায় লোহার শিকল পরানো হয়। এবং প্রত্যেক রাতে একজন আহবানকারী ডাক দিয়ে বলে, হে কল্যাণকামীগন তোমরা নেক কাজ কর, হে পাপিষ্ঠগণ তোমরা পাপকর্ম থেকে বিরত থাকো।

2108। মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... আরফাজা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি একটি ঘরে অবস্থান করছিলাম যেখানে উতবা ইবনু ফারকাদ (রাঃ) ছিলেন। আমি একটি হাদীস বর্ণনা করতে চাইলাম, কিন্তু সেখানে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে একজন সাহাবীও উপস্থিত ছিলেন, যিনি হাদীস বর্ণনার ব্যাপারে আমার চেয়ে অধিক অভিজ্ঞ ছিলেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করলেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযান মাসের ব্যাপারে বলেছেন, রমযান মাসে আসমানের দরজাসমূহ খূলে দেয়া হয়, আর জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয়, আর প্রত্যেক শয়তানকে বন্দী করে রাখা হয়। প্রত্যেক রাতে একজন আহবানকারী আহবান করতে থাকে, হে কল্যাণকামীগণ তোমরা নেক কাজ কর, হে পাপিষ্ঠগণ তোমরা পাপ হতে বিরত থাকো।

2109। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম এবং উবায়দুল্লাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আবু বাকরা (রাঃ) সুত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তোমাদের কেউ কখনও এরূপ বলবে না, আমি পূরা রমযানের সাওম (সিয়াম/রোজা/রোযা) পালন করেছি অথবা আমি পূরা রমযান মাসে তারাবীহর সালাত আদায় করেছি। রাবী বলেন, কেন তিনি এরূপ বলা অসমীচীন মনে করেছেন তা আমার জানা নেই। হয়তো বা এর মধ্যে নিজ প্রশংসা বা অসাবধানতা আছে বলেই তিনি এরূপ বলাকে সমীচীন মনে করেননি।

2110। ইমরান ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন আনসারী মহিলাকে বলেছিলেন, যখন রমযান এসে যাবে তখন তুমি একটি উমরাহ আদায় করবে। কেননা রমযানের একটি উমরাহ একটি হজ্জের সমপরিমাণ।

2111। আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ... কুরায়ব (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, একদা উম্মে ফাযল (রাঃ) তাঁকে মুআবিয়া (রা)-এর কাছে সিরিয়ায় পাঠিয়ে ছিলেন। তিনি বলেন, আমি সিরিয়ায় গিয়ে তাঁর প্রয়োজন সমাধা করলাম এবং সিরিয়ায় অবস্থান করলে জুমু'আর রাত্রে রমযান এর চাঁদ দর্শন করলাম। অতঃপর আমি মাসের শেষের দিকে মদীনায় ফিরে এলাম। আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেন। অতঃপর চন্দ্রের কথা উল্লেখ করে আমাকে বললেন, তোমরা চাঁদ কখন দেখেছিলে? আমি বললাম, আমরা তো চাঁদ জুমু'আর রাত্রে দেখেছিলাম। তিনি আবারো প্রশ্ন করলেন যে, তুমি কি চাঁদ জুমুআর রাত্রে নিজে দেখেছিলে? আমি বললাম, হ্যাঁ, অন্যন্য লোকেরাও দেখেছে এবং তারাও সাওম (সিয়াম/রোজা/রোযা) পালন করেছে এবং মুআবিয়া (রাঃ)-ও সাওম (সিয়াম/রোজা/রোযা) পালন করেছেন। তিনি বললেন, অথচ আমরা তো চাঁদ শনিবার রাত্রে দেখেছি। আমরা সাওম পালন করতেই-থাকব, ত্রিশ সাওম পূরা করা পর্যন্ত অথবা চাঁদ দেখা পর্যন্ত। আমি বললাম, আপনি কি মুআবিয়া অথবা তার সাথীদের দেখা যথেষ্ট মনে করেন না? তিনি বললেন, না, বরং আমাদেরকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপই নির্দেশ দিয়েছেন।

2112। মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল আযীয (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এক বেদুঈন এসে বললো যে, আমি চাঁদ দেখেছি, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন যে, তুমি কি সাক্ষ্য দাও যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন মা’বুদ নাই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বান্দা এবং রাসুল? সে বললো, হ্যাঁ। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোষণা দিলেন যে, তোমরা সবাই সাওম (সিয়াম/রোজা/রোযা) পালন কর।

2113। মুসা ইবনু আব্দুর রহমান (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে একজন বেদুঈন এসে বললেন যে, আমি রাত্রে চাঁদ দেখেছি, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন যে, তুমি কি সাক্ষ্য দেও যে, আল্লাহ তা'আলা ছাড়া অন্য কোন মাবুদ নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা এবং রাসুল? সে বললো, হ্যাঁ। তখন তিনি বললেনঃ হে বেলাল! তুমি লোকদের সামনে ঘোযণা করে দাও যে তারা যেন সাওম (সিয়াম/রোজা/রোযা) পালন করে।

2114। আহমাদ ইবনু সুলায়মান (রহঃ) ... ইকরিমা (রহঃ) থেকেও মুরসাল সুত্রে এই হাদীসটি বর্ণিত।

2115। মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ... ইকরিমা (রহঃ) থেকেও মুরসাল সুত্রেই হাদীসটি বর্ণিত।

2116। ইবরাহীম ইবনু ইয়াকুব (রহঃ) ... আব্দুর রহমান ইবনু যায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রমযান বা শা'বান মাসের সন্দেহযূক্ত দিনে লোকদের উদ্দেশ্য করে বললেনঃ শুন, আমি একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীদের সাথে বসা ছিলাম। আমি তাদের প্রশ্ন করলে তাঁরা আমার কাছে বর্ণনা করলেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা চাঁদ দেখে সাওম (সিয়াম/রোজা/রোযা) পালন কর এবং চাঁদ দেখে সাওম (সিয়াম/রোজা/রোযা) ভঙ্গ কর আর চাঁদ দেখেই কুরবানী কর। তবে হ্যাঁ, (শা'বান মাসের ২৯ তারিখে) যদি আকাশে মেঘাচ্ছন্ন থাকে তবে তোমরা মাসের ৩০ দিন পূর্ন করে নেবে। তবে দু'জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিলে তোমরা সাওম পালন করবে এবং ভঙ্গ করবে।

2117। মুয়াম্মাল ইবনু হিশাম (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন তোমরা চাঁদ দেখে সাওম (সিয়াম/রোজা/রোযা) পালন করবে এবং চাঁদ দেখেই সাওম ভঙ্গ করবে। তবে হ্যাঁ, আকাশ মেঘাছন্ন থাকলে মাসের ত্রিশ দিন পূর্ণ করবে।

2118। মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা চাঁদ দেখে সাওম (সিয়াম/রোজা/রোযা) পালন করবে এবং চাঁদ দেখেই সাওম ভঙ্গ করবে। তবে হ্যাঁ, আকাশ মেঘাছন্ন থাকলে মাসের ত্রিশ দিন পূর্ণ করবে।

2119। মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াহয়া (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তোমরা (রমযানের) চাঁদ দেখ তখন সাওম (সিয়াম/রোজা/রোযা) পালন কর। আর যখন তোমরা (শাওয়াল মাসের) চাঁদ দেখ তখন সাওম ভঙ্গ কর। তবে হ্যাঁ, আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলে মাসের ত্রিশ দিন সাওম পালন করবে।

2120। রবী ইবনু সুলায়মান (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) বলেছেনঃ আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেছেন যখন তোমারা চাঁদ দেখবে তখন সাওম (সিয়াম/রোজা/রোযা) পালন করবে। যখন (শাওয়াল মাসের) চাঁদ দেখবে সাওম ভঙ্গ করবে। তবে হ্যাঁ, আকাশ মেঘাছন্ন থাকলে মাসের ত্রিশ দিন পূর্ণ করবে।

2121। মুহাম্মাদ ইবনু সালামা এবং হারিছ ইবনু মিসকীন (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানের আলোচনা করছিলেন, তখন তিনি বললেনঃ যতক্ষন পর্যন্ত তোমরা চাঁদ দেখতে না পাও সাওম (সিয়াম/রোজা/রোযা) পালন করবে না। আবার যতক্ষন পর্যন্ত (চাঁদ শাওয়ালের) চাঁদ দেখতে না পাও তোমরা সাওম ভঙ্গ করবে না। হ্যাঁ, যদি আকাশ মেঘাছন্ন থাকে তবে তোমরা মাসের দিন গুণে নেবে (ত্রিশ দিন পূর্ণ করবে)।

2122। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) সুত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ যতক্ষন পর্যন্ত (রমযানের) চাঁদ দেখতে না পাও তোমরা সাওম (সিয়াম/রোজা/রোযা) পালন করবে না এবং যতক্ষন পর্যন্ত (শাওয়ালের) চাঁদ দেখতে না পাও তোমরা সাওম ভঙ্গ করবে না। হ্যাঁ, যদি আকাশ মেঘাছন্ন থাকে তবে তোমরা দিন গুণে নেবে (ত্রিশ দিন পূর্ণ করবে)।

2123। আবূ বকর ইবনু আলী (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাঁদের ব্যাপারে আলোচনা করে বললেনঃ যখন তোমরা (রমযানের) চাঁদ দেখবে সাওম (সিয়াম/রোজা/রোযা) পালন করবে আর যখন তোমরা (শাওয়াল মাসের) চাঁদ দেখবে তখন সাওম ভঙ্গ করবে। হ্যাঁ, যদি আকাশ মেঘাছন্ন থাকে তবে তোমরা ত্রিশ দিন পূর্ণ করবে।

2124। আহমাদ ইবনু উসমান আবূল জাওযা (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, তোমরা (রমযান মাসের) চাঁদ দেখে সাওম (সিয়াম/রোজা/রোযা) পালন করবে এবং (শাওয়াল মাসের) চাঁদ দেখে সাওম (সিয়াম/রোজা/রোযা) ভঙ্গ করবে। হ্যাঁ, যদি আকাশ মেঘাছন্ন থাকে তবে (শাবান মাসের দিন গণনা করে) ত্রিশ দিন পূর্ণ করবে।

2125। মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আশ্চর্যবোধ করি ঐ ব্যক্তির ব্যাপারে যে রমযান মাস আসার পূর্বেই সাওম (সিয়াম/রোজা/রোযা) পালন করে, অথচ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, যখন তোমরা (রমযানের) চাঁদ দেখবে তখন সাওম পালন করবে আর যখন (শাওয়াল মাসের) চাঁদ দেখবে তখন সাওম ভঙ্গ করবে। হ্যাঁ, যদি আকাশ মেঘাছন্ন থাকে তবে (শা'বান মাসের দিন গণনা করে) ত্রিশ দিন পূর্ণ করবে।

2126। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... হুযায়ফা ইবনু ইয়ামান (রাঃ) সুত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন যে, তোমরা রমযান মাসের চাঁদ না দেখার পূর্বে কিংবা শা'বান মাস ত্রিশ দিন পূর্ণ হওয়ার আগে রমযানের সাওম (সিয়াম/রোজা/রোযা) পালন করবে না। এরপর তোমরা রমযানের সাওম পালন করতে থাকবে যতক্ষন পর্যন্ত না শাওয়ালের চাঁদ দেখবে কিংবা তার পূর্বেই রমযানের মাস ত্রিশ দিন পূর্ণ হবে।

2127। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জনৈক সাহাবী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, তোমরা রমযান মাসের চাঁদ না দেখার পূর্বে কিংবা শা'বান মাস ত্রিশ দিন পূর্ণ হওয়ার আগে রমযানের সাওম (সিয়াম/রোজা/রোযা) পালন করবে না। এরপর তোমরা রমযানের সাওম (সিয়াম/রোজা/রোযা) পালন করতে থাকবে যতক্ষন পর্যন্ত না শাওয়ালের চাঁদ দেখবে কিংবা তার পূর্বেই রমযান মাস ত্রিশ দিন হবে।

2128। মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ... রিব'য়ী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, যখন তোমরা রমযান মাসের চাঁদ দেখবে তখন সাওম (সিয়াম/রোজা/রোযা) পালন করবে আর যখন (শাওয়াল মাসের) চাঁদ দেখবে তখন সাওম (সিয়াম/রোজা/রোযা) ভঙ্গ করবে। তবে হ্যাঁ যদি আকাশে মেঘাছন্ন থাকে তাহলে শা'বান মাসকে ত্রিশ দিন পূর্ণ করবে। তবে এর পূর্বেই চাঁদ দেখলে রমযানের সাওম পালন করবে। এরপর রমাযানের সাওম (সিয়াম/রোজা/রোযা) পালন করতে থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত না শাওয়ালের চাঁদ দেখবে বা তার পূর্বেই রমযান মাস ত্রিশ দিন পূর্ণ হবে।

2129। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... ইকরিমা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু আব্বাস (রাঃ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেনঃ তোমরা (রমযানের) চাঁদ দেখে সাওম পালন করবে এবং (শাওয়ালের) চাঁদ দেখে সাওম (সিয়াম/রোজা/রোযা) ভঙ্গ করবে। তবে হ্যাঁ, তোমাদের এবং চাঁদের মাঝখানে যদি মেঘ আড়াল হয় তাহলে তোমরা (শাবান) মাসকে ত্রিশ দিন পূর্ন করবে। চাঁদ দেখার পুর্বেই সাওম পালন দ্বারা রমযান মাসকে সংবর্ধনা জানাবে না।

2130। কুতায়বা (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, তোমরা রমযানের পূর্বে সাওম (সিয়াম/রোজা/রোযা) পালন করবে না। বরং তোমরা চাঁদ দেখে সাওম পালন করবে এবং চাঁদ দেখে সাওম ভঙ্গও করবে। তবে হ্যাঁ, যদি চাঁদকে মেঘ আড়াল করে দেয় তবে তোমরা (শা'বান) মাসকে ত্রিশ দিন পূর্ণ করবে।

2131। নাসর ইবনু জাহদামী (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শপথ করেছিলেন যে তিনি এক মাস বিবিদের কাছে যাবেন না। অতঃপর তিনি উত্রিশ দিন হওয়ার পর (আমার ঘরে প্রবেশ করলে) আমি বললাম, আপনি কি এক মাসের শপথ করেছিলেন না? আমি তো মাসকে ঊনত্রিশ দিন গণনা করেছি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ মাসটি ছিল ঊনত্রিশ দিনের।

2132। উবায়দুল্লাহ ইবনু সা’দ এবং আমর ইবনু মানসূর (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সর্বদা লালায়িত ছিলাম যে, উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ)-কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিবিদের মধ্য থেকে ঐ দুই জন বিবি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করব যাদের সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা বলেছেনঃإِنْ تَتُوبَا إِلَى اللَّهِ فَقَدْ صَغَتْ قُلُوبُكُمَا যদি তোমরা উভয়ে অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন কর যেহেতু তোমাদের হৃদয় কে পড়েছে - আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করবেন। রাবী এ হাদীসকে বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন এবং এ ব্যাপারে উমর (রাঃ) বলেন যে, হাফসা (রাঃ) এ ঘটনা আয়িশা (রাঃ)-এর কাছে প্রকাশ করায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ বিবিদের থেকে ঊনত্রিশ রাত বিচ্ছিন্ন রইলেন। আয়িশা (রাঃ) বলেন, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যধিক ক্রোধবশত বলেছিলেন, যখন আল্লাহ তা’আলা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে তাদের ঘটনা ব্যক্ত করেছিলেন যে আমি তাদের ঘরে এক মাস পর্যন্ত প্রবেশ করব না। যখন ঊনত্রিশ রাত্র অতিবাহিত হয়ে গেল রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়িশা (রাঃ)-এর ঘরে প্রবেশ করলেন এবং তাঁকে দিয়েই পূনরায় বিবিদের ঘরে যাওয়া শুরু করলেন, তখন আয়িশা (রাঃ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি তো শপথ করেছিলেন যে, আপনি আমাদের ঘরে একমাস পর্যন্ত প্রবেশ করবেন না; আজকে তো আমরা ঊনত্রিশ রাত্র অতিবাহিত করলাম, আমরা তো তা গননা করে রেখেছি। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন যে, মাসটি ঊনত্রিশ রাত্রের।

2133। আমর ইবনু ইয়াযীদ অর্থাৎ আবূ ইয়াযীদ জারমী বসরী (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমার কাছে জিবরীল (আঃ) এসে বললো যে, মাসটি ঊনত্রিশ দিনের।

2134। মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, মাসটি ঊনত্রিশ দিনের।

2135। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... মুহাম্মাদ (রহঃ)-এর পিতা সা’দ (রাঃ) সুত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত যে, তিনি এক হাত অন্য হাতের উপর মেরে বললেন যে, মাস এত দিনের হয়, মাস এতদিনের হয়, মাস এত দিনের হয়, তৃতীয় বারে তিনি একটি আঙ্গুল কমিয়ে দিলেন (উনত্রিশ দিনেরও হয়)।

2136। সুওয়াইদ ইবনু নাসর (রহঃ) ... মুহাম্মাদ (রহঃ)-এর পিতা [সা’দ (রাঃ)] সুত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, মাস এত দিনের হয়, মাস এত দিনের হয়, মাস এত দিনের হয়। অর্থাৎ ঊনত্রিশ দিনের (২৯ দিনেরও হয়)।

2137। আহমদ ইবনু সুলায়মান (রহঃ) ... মুহাম্মাদ ইবনু সা’দ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মাস এত দিনের হয়, মাস এত দিনের হয়, মাস এত দিনের হয় এবং মুহাম্মাদ ইবনু উবায়দ (রহঃ) তার রূপ বর্ণনা করতে গিয়ে তিনবার নিজ হাতে তালি দিলেন, অতঃপর তৃতীয়বারে বাম হাতের বৃদ্ধা আঙ্গুল বন্ধ করে ফেললেন।

2138। আবূ দাঊদ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, মাস কখনো ঊনত্রিশ দিনের হয় আবার কখনো ত্রিশ দিনের হয়। যখন তোমরা (রমযানের) চাঁদ দেখবে তখন সাওম (সিয়াম/রোজা/রোযা) পালন করবে, আর যখন (শাওয়াল মাসের) চাঁদ দেখবে তখন সাওম ভঙ্গ করবে। তবে হ্যাঁ, যদি আকাশ মেঘাছন্ন থাকে তবে মাসের ত্রিশ দিন পূর্ণ করবে।

2139। উবায়দুল্লাহ ইবনু ফাদালাহ এবং আহমাদ ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) বলেছেন যে, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, মাস কখনো ত্রিশ দিনের হয়।

2140। মুহাম্মাদ ইবনু মুছান্না (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) সুত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমরা হলাম উম্মাতে উম্মিয়্যা। (মা এর শিশু সন্তানের মত) আমরা ভাল করে লিখা জানি না আর ভাল করে হিসাবও জানি না। মাস এত দিনের হয়, মাস এত দিনের হয়, মাস এত দিনের হয়। এরকম তিনবার বলে তিনি ঊনত্রিশ দিনের উল্লেখ করলেন।

2141। মুহাম্মাদ ইবনু মুছান্না (রহঃ) এবং মুহাম্মাদ ইবনু বাশা্‌শার (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন যে, আমরা হলাম (মা এর শিশু সন্তানের ন্যায়) অজ্ঞ উম্মাত, (ভাল করে) হিসাবও জানি না এবং (ভাল করে) লিখতেও জানি না। আর মাস এত দিনের হয়, মাস এত দিনের হয়, মাস এত দিনের হয়। এবং তৃতীয় বারে বৃদ্ধ আঙুল বন্ধ করে ফেললেন। (২৯ দিন বুঝাবার জন্য)। আর মাস এরকম, এরকম, এরকম, পূর্ণ ত্রিশ দিনেরও হয়।

2142। মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল আ’লা (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) সুত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, মাস এত দিনের হয়। ইবনু উমর (রাঃ) থেকে জাবালা (রহঃ) যে বর্ণনা করেছেন তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে শুবা (রহঃ) বলেছেন যে, ইবনু উমর (রাঃ) দু'বার তাঁর হস্ত প্রসারিত করে এবং তৃতীয়বারে হস্তদ্বয়ের অঙ্গুলিসমুহ থেকে একটি অঙ্গুলি নামিয়ে ফেলে বলতে চেয়েছেন যে, মাস ঊনত্রিশ দিনেরও হয়।

2143। মুহাম্মাদ ইবনু মুছান্না (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) বলেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মাস (কখনো) ঊনত্রিশ দিনেরও হয়।

2144। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... আব্দুলাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, তোমরা সাহারী (ভোর রাত্রের খাওয়া) খাও। কেননা সাহারীতে বরকত রয়েছে।

2145। উবায়দুল্লাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, তোমরা সাহারী খাও। উবায়দুল্লাহ (রহঃ) বলেন যে, আমি পুরোপুরি জানি না যে, এ হাদীসের বাক্য কিরূপ ছিল।

2146। কুতায়বা (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, তোমরা সাহারী খাও। কেননা সাহারীতে বরকত রয়েছে।

2147। আলী ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা সাহারী খাও। কেননা সাহারীতে বরকত রয়েছে।

2148। আহমদ ইবনু সূলায়মান (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তোমরা সাহারী খাও, কেননা সাহারীতে বরকত রয়েছে।

2149। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তোমরা সাহারী খাও, কেননা সাহারীতে বরকত রয়েছে।

2150। আব্দুল আলা ইবনু আবদুল ওয়াসিল (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, তোমরা সাহারী খাও। কেননা সাহারীতে বরকত রয়েছে।

2151। যাকারিয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, তোমরা সাহারী খাও। কেননা সাহারীতে বরকত রয়েছে।

2152। মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াহয়া (রহঃ) ... যির (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমরা হুযায়ফা (রাঃ)-এর কাছে বললাম, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে আপনি কখন সাহারী খেতেন? তিনি বললেনঃ খুব ভোরেই। তবে হ্যাঁ, তখনো সূর্য উদয় হত না (ভোর রাত্রের শেষের দিকে)।

2153। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... যির ইবনু হুবায়স (রহঃ) বলেন যে, আমি হুযায়ফা (রাঃ)-এর সাথে সাহারী খেলাম। অতঃপর সালাত আদায় করার জন্য বের হলাম। যখন আমরা মসজিদে পৌছে দু’রাকআত সালাত আদায় করলাম (ফজরের সুন্নাত)। তখনই (জামাআতের) ইকামাত বলা হল। উভয়ের মাঝখানে মাত্র অল্প কিছুক্ষণ সময়ের ব্যবধান ছিল।

2154। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... সিলাহ ইবনু যুফার (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি হুযায়ফা (রাঃ)-এর সাথে সাহারী খেলাম। অতঃপর মসজিদে গিয়ে দু’রাকাআত ফজরের সালাত (সুন্নাত) আদায় করলাম। তারপরই সালাতের (জামাআতের) ইকামাত দেয়া হল এবং আমরা সালাত (ফজরের ফরয) আদায় করলাম।

2155। ইসহাক ইবনু ইব্রাহীম (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) সূত্রে যায়দ ইবনু ছাবিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সাহারী খেলাম। অতঃপর সালাত আদায়ের জন্য দাঁড়িয়ে গেলাম। রাবী বলেনঃ আমি জিজ্ঞাসা করলাম যে, এতভয়ের মধ্যকার ব্যবধান কতক্ষণ ছিল? তিনি বললেনঃ কোন ব্যক্তির পঞ্চাশ আয়াত পড়ার সম পরিমাণ সময়।

2156। ইসমাঈল ইবনু মাসউদ (রহঃ) ... যায়দ ইবনু ছাবিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সাহারী খেলাম। অতঃপর (ফজরের) সালাত আদায়ের জন্য দাঁড়িয়ে গেলাম। রাবী বলেনঃ সম্ভবত আনাস (রাঃ) জিজ্ঞাসা করছিলেন, উভয়ের মাঝখানের ব্যবধান কতক্ষণ ছিল? তখন তিনি বলেছিলেন কোন ব্যাক্তির পঞ্চাশ আয়াত পড়ার সমপরিমান সময় (এর ব্যবধান ছিল)।

2157। আবূল আসআছ (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং যায়দ ইবনু ছাবিত (রাঃ) একত্রে সাহরী খেলেন। অতঃপর উভয়ে ফজরের সালাত শুরু করে দিলেন। রাবী বলেনঃ আমরা আনাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, তাঁদের সাহারী শেষ করা এবং সালাত শুরু করার মধ্যকার ব্যবধান কতক্ষণ ছিল। তিনি বলেনঃ কোন ব্যক্তির পঞ্চাশ আয়াত পড়ার সমপরিমাণ সময়।

2158। মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল আলা (রহঃ) ... আবূ আতিয়্যা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আয়িশা (রাঃ)-কে বললাম, আমাদের মধ্যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এমন দু'জন সাহাবী আছেন, যাদের একজন ইফতার তাড়াতাড়ি করেন এবং সাহারী বিলম্বে খান। আর দ্বিতীয়জন ইফতার বিলম্বে করেন এবং সাহারী তাড়াতাড়ি খান। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন যে, তাঁদের মধ্যে কে ইফতার তাড়াতাড়ি করেন এবং সাহারী বিলম্বে খান? আমি বললাম আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ)। তিনি [আয়িশা (রাঃ)] বললেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরকমই করতেন।

2159। মুহাম্মাদ ইবনু বাশাশার (রহঃ) ... আবু আতিয়্যা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশা (রাঃ)-কে বললাম যে, আমাদের মধ্যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এমন দুজন সাহাবী আছেন যাদের একজন ইফতার তাড়াতাড়ি করেন, সাহারী বিলম্বে খান। অন্যজন ইফতার বিলম্বে করেন এবং সাহারী তাড়াতাড়ি খান। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন যে, কে ইফতার তাড়াতাড়ি করেন এবং সাহারী বিলম্বে খান? আমি বললামঃ আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ)। তখন তিনি বললেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ রকমই করতেন।

2160। আহমদ ইবনু সূলায়মান (রহঃ) ... আবূ আতিয়্যা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, একদা আমি এবং মাসরুক (রহঃ) আয়িশা (রাঃ)-এর কাছে গেলাম। তখন মাসরুক (রহঃ) আয়িশা (রাঃ)-কে বললেন যে, আমাদের মাঝে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এমন দু'জন সাহাবী আছে, তারা উভয়েই সওয়াব পাওয়ার আকাঙ্ক্ষী। তন্মধ্যে একজন মাগরিবের সালাত এবং ইফতার বিলম্বে করেন। আর অপরজন মাগরিবের সালাত এবং ইফতার তাড়াতাড়ি করেন। তখন আয়িশা (রাঃ) জিজ্ঞাসা করলেন যে, কে মাগবিবের সালাত এবং ইফতার তাড়াতাড়ি করেন, মাসরুক (রহঃ) বললেন, আব্দুলাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ)। তখন আয়িশা (রাঃ) বললেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ রকমই করতেন।

2161। হান্নাদ ইবনু সারী (রহঃ) ... আবূ আতিয়্যা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমি এবং মাসরুক (রহঃ) আয়িশা (রাঃ)-এর কাছে গেলাম এবং বললাম হে মু'মিনদের মাতা! আমাদের মধ্যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এমন দু'জন সাহাবী আছেন যাদের একজন ইফতার তাড়াতাড়ি করেন এবং মাগরিবের সালাতও তাড়াতাড়ি করেন। আর অন্যজন ইফতার বিলম্বে করেন এবং এবং মাগরিবের সালাতও বিলম্বে আদায় করেন। তখন তিনি জিজ্ঞাসা করলেন যে, তাদের মধ্যে কে ইফতার তাড়াতাড়ি করেন এবং মাগরিবের সালাত তাড়াতাড়ি আদায় করেন? আমরা বললাম আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ)। তখন তিনি বললেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও এরকমই করতেন। (রাবী বলেন) দ্বিতীয় সাহাবী ছিলেন আবূ মুসা (রাঃ)।

2162। ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জনৈক সাহাবী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমি একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গেলাম যখন তিনি সাহারী খাচ্ছিলেন। তখন তিনি বললেন যে, এতে বরকত রয়েছে, আল্লাহ তা’আলা এ বরকত তোমাদেরকেই দান করেছেন। অতএব তোমরা একে ছাড়বে না।

2163। শুআয়ব ইবনু ইউসুফ বসরী (রহঃ) ... ইরবায ইবনু সারিয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমি রমযান মাসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সাহারী খাওয়ার জন্য আহবান করতে এবং বলতে শুনেছি যে, তোমরা সকলে পবিত্র আহারের দিকে এস।

2164। সুওয়াইদ ইবনু নাসর (রহঃ) ... মিকদাম ইবনু মা'দী কারিব (রাঃ) সুত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন তোমরা ভোর রাত্রের খাদ্য অবশ্যই খাবে। কেননা সেটাই সকাল বেলার পবিত্র খাবার।

2165। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... খালিদ ইবনু মা’দান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে বলেছেনঃ তোমরা সকাল বেলার পবিত্র আহারের দিকে এসো অর্থাৎ সাহারীর দিকে এস।

2166। কুতায়বা (রহঃ) ... আমর ইবনু আস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, আমাদের সাওম (সিয়াম/রোজা/রোযা) এবং আহলে কিতাব-এর সাওমের মধ্যে পার্থক্য হল সাহারী খাওয়া। (আমরা সাহারী খাই কিন্তু ইয়াহুদ ও খ্রিস্টানরা তা খায় না)

2167। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একদা) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহারীর সময় বললেন যে, হে আনাস! আমি সাওম (সিয়াম/রোজা/রোযা) পালন করার ইচ্ছা করেছি, তুমি আমাকে কিছু খাবার দাও। তখন আমি তাঁর কাছে কিছু খোরমা এবং পানীয় একটি পাত্র আনলাম। এগুলো আমি বেলাল (রাঃ)-এর (সাহারী) আযান দেওয়ার পর এনেছিলাম। তখন তিনি বললেনঃ হে আনাস! একজন লোক তালাশ করে আন সে আমার সাথে আহার করবে। তখন আমি যায়দ ইবনু ছাবিত (রাঃ)-কে ডাকলাম, তিনি এসে বললেনঃ আমি কিছু ছাতূর পানি পান করেছি এবং সাওম (সিয়াম/রোজা/রোযা) পালন করার ইচ্ছা করেছি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমিও তো সাওম (সিয়াম/রোজা/রোযা) পালন করার ইচ্ছা করেছি। অতঃপর তার সাথে সাহারী খেলেন এবং দাঁড়িয়ে গিয়ে দু’রাকাআত সালাত (ফজরের সুন্নাত) আদায় করে ফজরের ফরয সালাত আদায় করার জন্য বের হয়ে গেলেন।

2168। হিলাল ইবনু আলা (রহঃ) ... বারা ইবনু আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তাদের কেউ যদি রাত্রের আহার না করেই ঘুমিয়ে পড়ত তবে তার জন্য সেই রাত্রে এবং পরের দিন সূর্যাস্ত পর্যন্ত কিছু খাওয়া ও পান করা বৈধ ছিল না। (... وَكُلُوا وَاشْرَبُوا) এই আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত (এ নিয়ম ছিল)। রাবী বলেন, এই আয়াত আবূ কায়স ইবনু আমর (রাঃ) সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছিল। তিনি সাওম (সিয়াম/রোজা/রোযা) পালন করে মাগরিবের পর নিজ স্ত্রীর কাছে এসে বললেন যে, আহার করার মত কিছু আছে কি? তার স্ত্রী বললেন, আমার কাছে তো আহার করার মত কিছু নেই। তবে আমি আপনার জন্য রাত্রের আহারের সন্ধানে বের হচ্ছি। তারপর তাঁর স্ত্রী বের হয়ে গেলেন। ইতিমধ্যে তিনি মাথা রেখে শুয়ে পড়লেন এবং ঘুমিয়ে গেলেন। কিছুক্ষণ পর স্ত্রী তাঁর কাছে ফিরে এসে তাকে নিদ্রিত অবস্থায় পেয়ে জাগিয়ে দিলেন কিন্তু তিনি কিছুই না খেয়েই রাত্র কাটিয়ে সকাল থেকে সাওম (সিয়াম/রোজা/রোযা) পালনরত থাকলেন। দুপুর হলে তিনি সংজ্ঞা হারিয়ে ফেললেন। এ ঘটনাটি এ আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বেই সংঘটিত হয়েছিল। তার পরেই আল্লাহ তা'আলা এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অত্র আয়াত অবতীর্ণ করেন।

2169। আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ... আদি ইবনু হাতিম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আল্লাহর বাণীঃ حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الأَسْوَدِ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, এ হল রাত্রের অন্ধকার এবং দিনের শুভ্রতা।

2170। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... ইবনু মাসউদ (রাঃ) সুত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন যে, তোমাদের মধ্যে যারা নিদ্রিত তাদের জাগ্রত করার জন্য এবং তোমাদের মধ্যে যারা তাহাজ্জ্বুদের সালাত আদায়ে রত আছে তাদের বিরত করার জন্য বিলাল (রাঃ) রাত্রে আযান দেয়। অতঃপর তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উভয় হাতের কব্জি দ্বারা ইঙ্গিত করে দেখালেন যে এরূপ চিহ্ন প্রকাশ পাওয়া ফজর হওয়ার লক্ষণ নয়। বরং ফজর হওয়ার লক্ষণ হল এরকম চিহ্ন প্রকাশ পাওয়া। এই বলে তিনি স্বীয় তর্জনী অঙ্গূলিদ্বয় দ্বারা ইঙ্গিত করলেন।

2171। মাহমূদ ইবনু গায়ালান (রহঃ) ... সামুরা (রাঃ) বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন যে, বিলাল (রাঃ)-এর আযান এবং এই শুভ্রতা যেন তোমাদেরকে বিভ্রান্তিতে ফেলে না দেয়, যতক্ষন না এ রকম, এ রকমভাবে প্রভাতের আলোর রেখা প্রকাশ পায় অর্থাৎ দিগন্তে। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন যে, এরপর তিনি স্বীয় হস্তদ্বয় লম্বালম্বিভাবে ডানে বামে ছড়িয়ে দিলেন।

2172। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন যে, তোমরা রমযান মাস আগমন করার পূর্বেই সাওম (সিয়াম/রোজা/রোযা) পালন শুরু করে দেবে না। তবে হ্যাঁ, ঐ ব্যক্তি শুরু করতে পারবে, যে সর্বদা নিয়মিত সাওম (সিয়াম/রোজা/রোযা) পালন করত এবং তার নিয়মিত সাওম পালনকালীন দিনটি রমযান মাস আগমনের পূর্বের দিন হয়।

2173। ইমরান ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ কখনো রমযান মাস আগমনের একদিন বা দুই দিন পূর্বেই সাওম (সিয়াম/রোজা/রোযা) পালন শুরু করে দেবে না। তবে হ্যাঁ, ঐ ব্যক্তি শুরু করতে পারবে, যে ইতিপূর্বেও ঐ সময় নিয়মিত সাওম (সিয়াম/রোজা/রোযা) পালন করত, সে তার সাওম পালন করতে পারবে।

2174। মুহাম্মাদ ইবনু 'আলা (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা রমযান মাস আগমনের একদিন বা দুই দিন আগে সাওম (সিয়াম/রোজা/রোযা) পালন শুরু করে দেবে না। তবে হ্যাঁ, তোমাদের কেউ যদি পূর্ব থেকেই নিয়মিত সাওম পালন করত এবং তার সাথে এই সময়ের মিল হয়ে যায় তবে সেটা স্বতন্ত্র ব্যাপার।

2175। শুআয়ব ইবনু ইউসুফ (রহঃ) ... উম্মে সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কখনো একাধারে দুই মাস সাওম (সিয়াম/রোজা/রোযা) পালন করতে দেখিনি। তবে হ্যাঁ, তিনি শা'বান মাসকে রমযান মাসের সাথে মিলাতেন (সাওম পালনসহ) অর্থাৎ তিনি একাধারে শা'বান ও রমযান মাসের সাওম পালন করতেন।

2176। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... উম্মে সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শা'বান মাসকে রমযান মাসের সাথে মিলাতেন সাওম (সিয়াম/রোজা/রোযা) পালনসহ।

2177। রবী ইবনু সুলায়মান (রহঃ) ... আবূ সালামা ইবনু আব্দুর রহমান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আয়িশা (রাঃ)-কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাওম (সিয়াম/রোজা/রোযা) পালন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সাওম পালন করা শুরু করতেন তখন আমরা মনে মনে বলতাম যে, তিনি আর সাওম ভঙ্গ করবেন না। আবার যখন সাওম ভঙ্গ করা শুরু করতেন তখন আমরা মনে মনে বলতাম যে তিনি আর সাওম পালন করবেন না। তিনি শা'বান মাসের পূরা অধিকাংশ দিন সাওম পালন করতেন।

2178। আহমদ ইবনু সা’দ (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আমাদের কেউ (ঋতু ইত্যাদির কারণে) রমযান মাসের সাওম (সিয়াম/রোজা/রোযা) পালন করতে পারত না এবং তার কাযা আদায় করার সূযোগ পাওয়ার পূর্বেই শা'বান মাস এসে যেত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শা'বান মাসের মত অন্য কোন মাসে এত অধিক সাওম পালন করতেন না। তিনি অল্প কয়েক দিন ব্যতীত পুরো শা'বান মাসই সাওম পালন করতেন; বরং (বলতে গেলে) পুরো শা'বান মাসই সাওম পালন করতেন।

2179। মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... আবূ সালামা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমি আয়িশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, আমি তাঁকে বললাম, আপনি আমাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাওম (সিয়াম/রোজা/রোযা) পালন সম্পর্কে অবহিত করুন। তিনি বললেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সাওম পালন করতে শুরু করতেন তখন আমরা মনে মনে বলতাম যে, তিনি হয়ত সাওমই পালন করতে থাকবেন। আবার যখন সাওম ভঙ্গ করা শুরু করতেন তখন আমরা মনে মনে ধারণা করতাম যে, হয়ত সাওম ভঙ্গই করতে থাকবেন। আর তিনি শা'বান মাস অপেক্ষা অন্য কোন মাসে এত অবিক সাওম পালন করতেন না। উনি অল্প কিছু দিন ব্যতীত প্রায় পুরো শা'বান মাসই সাওম পালন করতেন।

2180। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পূরো বছরে শা'বান মাসের চেয়ে বেশি অন্য কোন মাসে এত অধিক (নফল) সাওম (সিয়াম/রোজা/রোযা) পালন করতেন না। তিনি পুরো শা'বান মাসই সাওম পালন করতেন।

2181। আহমদ ইবনু সূলায়মাল (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শা'বান মাস সাওম (সিয়াম/রোজা/রোযা) পালন করতেন।

2182। হারুন ইবনু ইসহাক (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি জানি না যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক রাত্রে পূর্ণ কুরআন খতম করেছিলেন কিনা বা পূর্ণ রাত্রে সকাল পর্যন্ত জাগ্রত থেকে ছিলেন কিনা বা কখনো রমযান মাস ব্যতীত পূর্ণ মাস সাওম (সিয়াম/রোজা/রোযা) পালন করেছিলেন কিনা।

2183। মুহাম্মাদ ইবনু আহমদ (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু শকীক (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি আয়িশা (রাঃ)-কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাওম (সিয়াম/রোজা/রোযা) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সাওম পালন করা শুরু করতেন তখন আমরা মনে মনে বলতাম যে তিনি হয়ত সাওমই পালন করতে থাকবেন আর যখন সাওম ভঙ্গ করা শুরু করতেন তখন আমরা মনে মনে বলতাম যে, তিনি হয়ত সাওম ভঙ্গই করতে থাকবেন। আর তিনি মদীনায় আসার পর থেকেই রমযান মাস ব্যতীত কখনো এক মাস সাওম পালন করতেন না।

2184মুহাম্মাদ ইবন হাতিম (রহঃ) ... ইবন জুরায়জ (রহঃ) বলেন, আমি আতা (রহঃ)-কে জিজ্ঞেস করলামঃ যদি আমি এক শ্রমিককে এক বছর পর্যন্ত শুধু খােরাকীর বিনিময়ে কাজে নিয়োগ করি এবং পরবর্তী বছর এত এত মজুরীর বিনিময়ে? তিনি বললেনঃ এতে কোন দোষ নেই। আর তোমার এই শর্ত করাই যথেষ্ট যে, আমি তাকে এতদিন পর্যন্ত মজুর হিসেবে রাখবাে। (ইবন জুরায়জ বলেন) যদি বছরের কয়েকদিন অতিবাহিত হয়ে যাওয়ার পর তাকে কাজে নিযুক্ত কর, তবে বলবেঃ যতদিন চলে গেছে আমার সঙ্গে তা হিসাব করবে না।

2185। আবূল আশআছ (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু শাকীক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি চাশতের সালাত আদায় করতেন? তিনি বললেন, না; তবে হ্যাঁ সফর থেকে আসলে তখন আদায় করতেন। আমি আবার প্রশ্ন করলাম যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য কি রমযান মাস ব্যতীত কোন নির্দিষ্ট সাওম (সিয়াম/রোজা/রোযা) ছিল? তিনি বললেনঃ আল্লাহর শপথ, তিনি রমযান মাস ব্যতীত মৃত্যু অবধি কখনো পূর্ণ এক মাস সাওম পালন করতেন না আর পুর্ণ এক মাস সাওম ভঙ্গও করতেন না, বরং মাসের কিছুদিন সাওম পালন করতেন।

2186। আমর ইবনু উসমান (রহঃ) ... জুবায়র ইবনু নুফায়র থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি আয়িশা (রাঃ)-কে সাওম (সিয়াম/রোজা/রোযা) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পূর্ণ শা'বান মাস সাওম পালন করতেন আর সোমবার এবং বৃহস্পতিবারের সাওম উত্তম মনে করতেন।

2187। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শা'বান এবং রমযান মাসে সাওম (সিয়াম/রোজা/রোযা) পালন করতেন আর সোমবার এবং বৃহষ্পতিবারের সাওমকে উত্তম মনে করতেন।

2188। আব্দুল্লাহ ইবনু সাঈদ আশাজ্জ (রহঃ) ... সিলাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমরা আম্মার (রাঃ)-এর কাছে ছিলাম, এমন সময়ে একটি ভুনা বকরী নিয়ে আসা হল। তিনি বললেন খাও। তখন উপস্থিত লোকদের একজন পাশে সরে গেলেন এবং বললেন যে, আমি সাওম (সিয়াম/রোজা/রোযা) পালন করছি। তখন আম্মার (রাঃ) বললেনঃ যে ব্যক্তি সন্দেহযুক্ত দিনে সাওম (সিয়াম/রোজা/রোযা) পালন করল সে আবূল কাসিম [রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর অবাধ্যতা করল।

2189। কুতায়বা (রহঃ) ... সিমাক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমি ইকরামা (রহঃ) এর কাছে এমন একদিন গেলাম যে দিনটি সম্পর্কে সন্দেহ করা হলো যে, তা কি রমযান না শা'বান। তিনি তখন রুটি ও সবজী খাচ্ছিলেন এবং দুধ পান করছিলেন। তিনি আমাকে বললেনঃ আসো (এবং খাও) আমি বললাম, আমি তো সাওম (সিয়াম/রোজা/রোযা) পালন করছি। তিনি আল্লাহর নামে শপথ করে বললেন যে, তোমাকে অবশ্যই সাওম ভঙ্গ করতে হবে। আমি দুই বার বললামঃ সুবহানাল্লাহ। যখন আমি তাঁকে দেখলাম যে, তিনি শপথ করছেন এবং আমাকে ছাড়বেন না-আমি নিজেই অগ্রসর হয়ে বললামঃ এখন আপনার কাছে কি আছে আনুন। তিনি বললেন, আমি ইবনু আব্বাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা (রমযান মাসের) চাঁদ দেখে সাওম পালন করবে এবং (শাওয়াল মাসের) চাঁদ দেখে সাওম ভঙ্গ করবে, তবে হ্যাঁ, তোমাদের এবং চাঁদের মাঝখানে যদি মেঘ অথবা অন্ধকার আড়াল হয় তবে তোমরা শা'বান মাসের গননা পূর্ণ করে নেবে এবং রমযান মাস আগমন করার পুর্বে তোমরা সাওম পালন দ্বারা রমযান মাসকে সন্বর্ধনা জানাবে না আর একদিনের সাওম পালন দ্বারা রমযান মাসকে শা'বান মাসের সাথে মিলিয়ে ফেলবে না।

2190। আব্দুল মালিক ইবনু শুআয়ব (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) সুত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলতেনঃ খবরদার! তোমরা রমযান মাসকে এক অথবা দুই দিনের সাওম (সিয়াম/রোজা/রোযা) পালন দ্বারা অগ্রে নিয়ে আসবে না। হ্যাঁ, ঐ ব্যক্তি যে নিয়মিত সাওম পালন করে, সে ঐদিনও সাওম পালন করতে পারবে।

2191। মুহাম্মাদ ইবনু আলা (রহঃ) ... সাঈদ ইবনু মুসায়্যাব (রহঃ) সুত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি রমযান মাসে আল্লাহ তা'আলার উপর দূঢ় বিশ্বাস রেখে সওয়াবের নিয়তে তারাবীহর সালাত আদায় করবে তার পূর্বাপর সমস্ত (সগীরা) গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।

2192। মুহাম্মাদ ইবনু জাবালা (রহঃ) ... উরওয়া ইবনু যুবায়র (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মীনী আয়িশা (রাঃ) তাকে অবহিত করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরযের নির্দেশ দেওয়া ব্যতীতই লোকদেরকে তারাবীহর সালাতের ব্যাপারে উৎসাহিত করতেন এবং বলতেন, যে ব্যাক্তি আল্লাহ তা'আলার উপর দৃঢ় বিশ্বাস রেখে সওয়াবের নিয়তে তারাবীর সালাত আদায় করবে তার পূর্বের সমস্ত (সগীরা) গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে।

2193। যাকারিয়্যা ইবনু ইয়াহিয়া (রহঃ) ... উরওয়া ইবনু যুবায়র (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আয়িশা (রাঃ) তাঁকে খবর দিয়েছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একদা) গভীর রাত্রে বের হয়ে গেলেন এবং মসজিদে গিয়ে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। এটা দীর্ঘ হাদীস; এতে উল্লেখ রয়েছে যে, আয়িশা (রাঃ) বলেছেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের ফরযের নির্দেশ দেওয়া ব্যতীতই তারাবীহর সালাতের ব্যাপারে উৎসাহ দিতেন এবং বলতেন যে, যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার উপর দৃঢ় বিশ্বাস রেখে সওয়াবের নিয়তে কদরের রাত্রিতে জাগরণ করে তার পূর্বাপর সমস্ত (সগীরা) গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। রাবী বলেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইনতিকাল পর্যন্ত তাঁর আমল এরকমই ছিল। [সহীহ। কিন্তু (... فَتُوُفِّيَ) এ অংশটুকু মুদরাজ, কেননা তা যুহরীর উক্তি

2194। রবী ইবনু সুলায়মান (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে রমাযানের ব্যাপারে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার উপর দৃঢ় বিশ্বাস রেখে সওয়াবের নিয়তে তারাবীহর সালাত আদায় করে তার পূর্বাপর সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়।

2195। মুহাম্মদ ইবনু খালিদ (রহঃ) ... উরওয়া ইবনু যুবাইর (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, আয়িশা (রাঃ) তাঁকে খবর দিয়েছেন একদা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গভীর রাত্রে বের হয়ে গেলেন এবং মসজিদে সালাত আদায় করলেন। এটি দীর্ঘ হাদীস। রাবী তাতে বলেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের ফরযের নির্দেশ দেওয়া ব্যতীতই তারাবীহর সালাতের ব্যাপারে উৎসাহিত করতেন এবং বলতেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার উপর দৃঢ় বিশ্বাস রেখে সওয়াবের নিয়তে রমযানে তারাবীহর সালাত আদায় করে তার পূর্বাপর সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়।

2196। মুহাম্মদ ইবনু খালিদ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে রমযানের ব্যাপারে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার উপর দূঢ় বিশ্বাস রেখে সওয়াবের নিয়তে রমযানে তারাবীহর সালাত আদায় করে তার পূর্বাপর সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়।

2197। আবূ দাঊদ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার উপর দৃঢ় বিশ্বাস রেখে সওয়াবের নিয়তে রমযানে তারাবীহর সালাত আদায় করে, তার পূর্বাপর সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়।

2198। নুহ ইবনু হাবীব (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরযের নির্দেশ দেওয়া ব্যতীতই তারাবীহর সালাতের ব্যাপারে উৎসাহিত করতেন। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার উপর দৃঢ় বিশ্বাস রেখে সওয়াবের নিয়তে তারারীহর সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে তার পূর্বাপর সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।

2199। কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার উপর দৃঢ় বিশ্বাস রেখে সওয়াবের নিয়তে তারাবীহর সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে তার পূর্বাপর সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।

2200। মুহাম্মাদ ইবনু সালামা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার উপর দৃঢ় বিশ্বাস রেখে সওয়াবের নিয়তে তারাবীহর সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে, তার পূর্বাপর সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।

2201। মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার উপর দূঢ় বিশ্বাস রেখে সওয়াবের নিয়তে তারাবীহর সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে তার পূর্বাপর সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।

2202। কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ উপর দূঢ় বিশ্বাস রেখে সওয়াবের নিয়তে রমযান মাসের সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করে, তার পূর্বাপর সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।

2204। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার উপর দৃঢ় বিশ্বাস রেখে সওয়াবের নিয়তে-রমযান মাসের সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করে, তার পূর্বাপর সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।

2205। আলী ইবনু মুনযির (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার উপর দূঢ় বিশ্বাস রেখে সওয়াবের নিয়তে রমযান মাসের সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করে, তার পূর্বাপর সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।

2206। মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল আ’লা (রহঃ), মুহাম্মাদ ইবনু হিশাম এবং আবূল আশআছ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি আল্লাহ তা'আলার উপর দূঢ় বিশ্বাস রেখে সওয়াবের নিয়তে তারাবীহর সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে, তার পূর্বাপর সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার উপর দৃঢ় বিশ্বাস রেখে সওয়াবের নিয়তে কদরের রাত্রে জাগ্রত থাকে, তার পূর্বাপর সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।

2207। মুহাম্মাদ ইবনু খালিদ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার উপর দৃঢ় বিশ্বাস রেখে সওয়াবের নিয়তে তারাবীহর সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে, তার পূর্বাপর সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার উপর দৃঢ় বিশ্বাস রেখে সওয়াবের নিয়তে কদরের রাত্রে জাগ্রত থাকে, তার পূর্বাপর সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।

2208। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... নযর ইবনু শায়বান (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি আবূ সালামা ইবনু আব্দুর রহমান (রহঃ)-এর সাথে সাক্ষাত করে তাঁকে বললেন, আপনি রমযান মাস সম্পর্কে উত্তম যা কিছু আলোচনা শুনেছেন তা আমার কাছে বর্ণনা করুন। তখন আবূ সালামা (রহঃ) বললেন যে, আব্দুর রহমান ইবনু আউফ (রাঃ) আমার কাছে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযান মাসের আলোচনা করলেন এবং রমযান মাসকে সকল মাসের উপর মর্যাদা দান করে বললেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার উপর দৃঢ় বিশ্বাস রেখে সওয়াবের নিয়তে তারাবীহর সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে, সে স্বীয় গুনাহসমূহ থেকে ঐ দিনের মত পবিত্র হয়ে যায় যে দিন তার মাতা তাকে প্রসব করেছিল।

2209। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আবূ সালামা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। অতঃপর পূর্বের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করলেন এবং বললেন যে, যে ব্যক্তি রমযান মাসে সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করে এবং তারাবীহর সালাত আদায় করে আল্লাহ তা'আলার উপর দৃঢ় বিশ্বাস রেখে এবং সওয়াবের নিয়তে।

2210। মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ... নযর ইবনু শায়বান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ সালামা ইবনু আব্দুর রহমান (রহঃ)-কে বললামঃ আপনি আমার কাছে বর্ণনা করুন রমযান মাস সম্পর্কে যা আপনি আপনার পিতা থেকে শুনেছেন। আর আপনার পিতা তা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এমতাবস্থায় শুনেছিলেন যে, আপনার পিতা এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাঝখানে অন্য আর কেউ ছিল না। তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমার পিতা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা তোমাদের উপর রমযান মাসের সাওম ফরয করেছেন এবং আমি তোমাদের জন্য তারাবীহর সালাত (নামায/নামাজ) কে সুন্নাত করে দিয়েছি। অতএব যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার উপর দৃঢ় বিশ্বাস রেখে সওয়াবের নিয়তে রমযান মাসে সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করে এবং তারাবীহর সালাত আদায় করে, সে স্বীয় গুনাহসমূহ থেকে সে দিনের মত পবিত্র হয়ে যায় যে দিন তার মাতা তাকে প্রসব করেছিল।

2211। হিলাল ইবনু আলা (রহঃ) ... আলী ইবনু আর তালিব (রাঃ) সুত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন যে, আল্লাহ তা'আলা বলেছেনঃ সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) আমারই জন্য আর আমিই তার প্রতিদান দেব। সাওম পালনকারীর জন্য দুটি আনন্দের মুহূর্ত রয়েছে, যখন সে ইফতার করে এবং যখন সে তার রবের সাথে (আল্লাহ তা'আলার) সাথে সাক্ষাৎ করবে, ঐ সত্তার শপথ যার হস্তে আমার জীবন রয়েছে সাওম পালনকারীর (ক্ষুধাজনিত কারণে নির্গত) মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহ তা'আলার নিকট মিশকের সুগন্ধি থেকে অধিক পছন্দনীয়।

2212। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... আবূল আহওয়াস (রহঃ) থেকে বর্ণিত। আব্দুল্লাহ (রাঃ) বলেছেন যে, আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ সাওম আমারই জন্য আর আমিই তার প্রতিদান দেব। সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালনকারীর জন্য দু'টি আনন্দের মুহূর্ত রয়েছে- একটি যখন সে তার রবের (প্রভুর) সাথে সাক্ষাৎ করবে আর তার ইফতারের সময়। আর সাওম পালনকারীর (ক্ষুধাজনিত কারণে নির্গত) মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহ তা'আলার নিকট মিশকের সুগন্ধি থেকে অধিক পছন্দনীয়।

2213। আলী ইবনু হারব (রহঃ) ... আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা বলেন যে, সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) আমারই জন্য আর আমিই তার প্রতিদান দেব। সাওম পালনকারীর জন্য দু'টি আনন্দের মুহূর্ত রয়েছে- সে যখন ইফতার করে আনন্দ লাভ করে আর সে যখন আল্লাহ তা'আলার সাথে সাক্ষাৎ করবে এবং আল্লাহ তাকে প্রতিদান দিবেন তখনও সে আনন্দ লাভ করবে। ঐ সত্তার শপথ যরে হাতে আমার জীবন, সাওম পালনকারীর মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহ তা'আলার নিকট মিশকের সুগন্ধি থেকে বেশী পছন্দ।

2214। সুলায়মান ইবনু দাঊদ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন যে,* (আল্লাহ্‌ বলেন) সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) আমারই জন্য। আমিই তার প্রতিদান দেব। সাওম পালনকারীর জন্য দু'টি আনন্দ রয়েছে; ইফতারের সময় এবং আল্লাহ তা'আলার সাথে সাক্ষাতের সময়। আর সাওম পালনকারীর (ক্ষুধাজনিত কারণে) নির্গত মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহ তা'আলার নিকট কস্তুরীর সুগন্ধি থেকেও অধিক পছন্দনীর।

2215। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) সুত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে কোন নেককাজ আদম সন্তান করে না কেন তার জন্য দশ থেকে সাতশত গুণ পর্যন্ত বর্ধিত করে সওয়াব লিপিবদ্ধ করা হয়। কিন্তু আল্লাহ তা'আলা বলেছেনঃ সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) ব্যতীত, যেহেতু সাওম আমার জন্য এবং আমিই তার প্রতিদান দিব। সাওম পালনকারী আমারই কারণে স্বীয় কামভাব এবং পানাহার পরিত্যাগ করে। সাওম পালনকারীর জন্য সাওম ঢাল স্বরূপ। সাওম পালনকারীর জন্য দু'টি আনন্দ রয়েছে- তার ইফতারের সময় এবং তার রবের সাথে সাক্ষাতের সময়। আর সাওম পালনকারীর (ক্ষুধাজনিত কারণে নির্গত) মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহ তা'আলার কাছে মিশকের সুগন্ধি থেকেও অধিক পছন্দনীয়।

2216। ইবরাহীম ইবনু হাসান (রহঃ) ... আবূ সালিহ যায়্যাত (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি আবূ হুরায়রা (রাঃ) কে বলতে শুনেছেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, বনী আদমের প্রত্যেক নেক কাজ তার নিজের জন্য (কেননা সব কাজের প্রতিদান তাকে দেওয়া হয়) কিন্তু সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) আমারই জন্য (আল্লাহর জন্য) এবং আমিই নিজে তার প্রতিদান দিব। আর সাওম ঢাল স্বরূপ। তোমাদের মধ্যে কেহ যখন সাওম পালন করে, তখন সে যেন অশ্লীল বাক্য ব্যবহার না করে এবং উচ্চস্বরে কথা না বলে ও কারো উপর রাগান্বিত না হয়। যদি কেউ তাকে গালি দেয় বা গায়ে পড়ে ঝগড়া করতে আসে তখন সে যেন বলে, আমি সাওম পালন করছি। ঐ সত্তার শপথ যার পবিত্র হাতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রাণ, সাওম পালনকারীর (ক্ষুধাজনিত কারণে) মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহ তাঁআলার কাছে কস্তুরীর সুগন্ধি থেকেও অধিক পছন্দনীয় হবে। সাওম পালনকারীর জন্য দু'টি আনন্দ রয়েছে- যার দ্বারা সে আনন্দিত হবে। স্বীয় ইফতারের সময় সে আনন্দিত হবে এবং তার রবের সাথে সাক্ষাত করার সময় তার সাওম পালনের কারণে আনন্দিত হবে।

2217। মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ... আতা যায়্যাত (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি আবূ হুরায়রা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ বনী আদমের প্রত্যেক নেক কাজ তারই। (কেননা নেক কাজের প্রতিদান তাকে দিয়ে দেওয়া হয়) কিন্তু সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) একমাত্র আমারই জন্য এবং আমিই নিজে তার প্রতিদান দিব। আর সাওম ঢাল স্বরূপ। তোমাদের মধ্যে কেও যখন সাওম পালন করে, তখন সে যেন অশ্লীল বাক্য ব্যবহার না করে এবং উচ্চস্বরে কথা না বলে ও কারো উপর রাগান্বিত না হয়। যদি কেউ তাকে গালি দেয় বা গায়ে পড়ে ঝগড়া করতে আসে তখন সে যেন বলে, আমি সাওম পালন করছি। ঐ সত্তার শপথ যার পবিত্র হস্তে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবন, আল্লাহ তা'আলার নিকট সাওম পালনকারীর (ক্ষুধাজনিত কারণে নির্গত) মুখের দুর্গন্ধ কস্তুরীর সুগন্ধি থেকেও অধিক পছন্দনীয়।

2218। রবী ইবনু সুলায়মান (রহঃ) ... সাঈদ ইবনু মুসায়্যাব (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেছেন যে, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ বনী আদমের প্রত্যেক নেক কাজ তার নিজের। (কেননা সব নেক কাজের প্রতিদান তাকে দিয়ে দেওয়া হয়) কিন্তু সাওম; একমাত্র আমারই জন্য এবং আমিই নিজে তার প্রতিদান দিব। ঐ সত্তার শপথ যার পবিত্র হস্তে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবন, সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালনকারীর (ক্ষুধাজনিত কারণে নির্গত) মুখের দু্র্গন্ধ আল্লাহ তা'আলার নিকট কস্তুরীর সুগন্ধি-থেকেও অধিক পছন্দনীয়।

2219। আহমদ ইবনু ঈসা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) সুত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ (আল্লাহ্‌ বলেন) বনী আদম যে নেক কাজ করে তাকে তার দশ গুন প্রতিদান দেওয়া হয়। কিন্তু সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) আমারই জন্য এবং আমি নিজেই তার প্রতিদান দিব।

2220। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... আবু উমামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমি একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বললামঃ আমাকে এমন একটি ইবাদাতের নির্দেশ দিন যা আমি আপনার নির্দেশক্রমে পালন করব। তিনি বললেন, তুমি সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম)-কে আকড়ে ধর যেহেতু এর কোন বিকল্প নাই।

2221। রবী' ইবনু সুলায়মান (রহঃ) ... আবূ উমামা বাহীলি (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাকে এমন একটি ইবাদাতের নির্দেশ দিন যা দ্বারা আল্লাহ আমার উপকার করবেন। তিনি বললেনঃ তুমি সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম)-কে আকড়ে ধর, যেহেতু এর কোন বিকল্প নাই।

2222। আব্দুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ দয়ীফ (রহঃ) ... আর উমামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রশ্ন করেছিলেন, কোন ইবাদাত সর্বোত্তম? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি সাওমকে আকড়ে ধর, যেহেতু সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) এর কোন বিকল্প নাই।

2223। ইয়াহইয়া ইবনু মুহাম্মাদ অর্থাৎ ইবনু সাকান আবূ উবায়দুল্লাহ (রহঃ) ... আবূ উমামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমি বললাম যে, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাকে কোন একটি আমলের নির্দেশ দিন। তিনি বললেন, তুমি সাওমকে আকড়ে ধর যেহেতু সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) এর কোন বিকল্প নাই। (এ একটি অদ্বিতীয় ইবাদত)।

2224। মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) ... মু’আয ইবনু জাবাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) ঢালস্বরূপ।

2225। মুহাম্মাদ ইবনু মুছান্না (রহঃ) ... মু’আয ইবনু জাবাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) ঢাল স্বরূপ।

2226মুহাম্মদ ইবন মুসান্না এবং মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... রাফে' ইন খাদীজ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাকল হতে তোমাদেরকে নিষেধ করেছেন।

2227। ইবরাহীম ইবনু হাসান (রহঃ) ... আবূ সালিহ যায়্যাত (রহঃ) থেকে বর্ণিত।

2228। ইবরাহীম ইবনু হাসান (রহঃ) ... আবূ সালিহ যায়্যাত (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি আবূ হুরায়রা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) ঢাল স্বরূপ।

2229। মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ... আতা যায়্যাত (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি আবূ হুরায়রা (রাঃ) কে বলতে শুনেছেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) ঢাল স্বরূপ।

2230। কুতায়বা (রহঃ) ... সাঈদ ইবনু আবূ হিনদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, আমির ইবনু সা'অসা'আ গোত্রের মুতাররিফ (রহঃ) নামক জনৈক ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন যে, উছমান ইবনু আবুল আস (রাঃ) তাকে পান করাবার জন্য দুধ আনালে তিনি বললেন যে, আমি সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করছি। তখন উছমান (রাঃ) বললেনঃ আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, সাওম ঢাল স্বরূপ, তোমাদের যুদ্ধে ব্যবহৃত ঢালের ন্যায়।

2231। আলী ইবনু হুসায়ন (রহঃ) ... মুতাররিফ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমি উছমান ইবনু আবূল আস (রাঃ)-এর কাছে গেলে তিনি আমার জন্য দুধ আনালেন। তখন আমি বললাম, আমি তো সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করছি। তিনি বললেন যে, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, সাওম জাহান্নামের অগ্নি থেকে ঢাল স্বরূপ, তোমাদের যুদ্ধে ব্যবহত ঢালের ন্যায়।

2232। যাকারিয়্যা ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) থেকে অনুরূপ হাদিস বর্ণিত।

2233। ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব (রহঃ) ... ইয়াদ ইবনু গুতায়ফ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। আবূ উবায়দা (রাঃ) বলেছেন যে, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) ঢাল স্বরূপ যতক্ষন পর্যন্ত ভেঙ্গে না ফেলে।

2234। মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াযীদ আদমী (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) সুত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) জাহান্নামের অগ্নি থেকে ঢাল স্বরূপ। তাই যে ব্যক্তি সাওম পালনরত অবস্থায় যার ভোর হয় সে যেন অজ্ঞ ব্যক্তির ন্যায় ব্যাবহার না করে। অন্য কেউ যদি তার সাথে অজ্ঞ ব্যক্তির ন্যায় আচরণ করে তবে সে যেন তার সাথে অশ্লীল বাক্য ব্যবহার না করে এবং গালি না দেয়। বরং বলে যে, আমি সাওম পালন করছি। ঐ সত্তার শপথ যার হস্তে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবন, সাওম পালনকারীর (ক্ষুধাজনিত কারণে নির্গত) মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহ তা’আলার নিকট কস্তুরির সুগন্ধি থেকেও অধিক পছন্দনীয়।

2235। মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ... আবূ উবায়দা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) ঢালস্বরূপ যতক্ষণ পর্যন্ত সে তা ভেঙ্গে না ফেলে।

2236। আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ... সাহল ইবনু সা'দ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন যে, সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালনকারীদের জন্য জান্নাতে একটি দরজা রয়েছে যাকে রাইয়ান বলা হয়, সে দরজা দিয়ে সাওম পালনকারীগণ ব্যতীত অন্য কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। যখন তাদের শেষ ব্যক্তি প্রবেশ করে ফেলবে, সে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হবে। যে ব্যক্তি সে দরজা দিযে প্রবেশ করবে সে পানি পান করবে আর যে পানি পান করবে সে কখনো ক্ষুধার্ত হবে না।

2237। কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ হাকিম (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাহল আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, নিশ্চয়ই জান্নাতে একটি দরজা আছে যাকে রাইয়ান বলা হয়। কিমামতের দিন বলা হবে কোথায় সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালনকারীরা? তোমরা কেন রাইয়ান এর দিকে আসছ না? যে ব্যক্তি সে দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে সে কখনো তৃষ্ণার্ত হবে না। যখন সাওম পালনকারীরা প্রবেশ করে ফেলবে সে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হবে। অতএব সে দরজা দিয়ে সাওম পালনকারীগণ ব্যতীত অন্য কেউ প্রবেশ করতে পারবে না।

2238। আহমদ ইবনু আমর এবং হারিছ ইবনু মিসকীন (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) সুত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যাক্তি আল্লাহর রাস্তায় এক জোড়া (ভাল জিনিস) দান করবে তাকে কিয়ামতের দিন ডাকা হবে, হে আল্লাহর বান্দা! তোমার এ দানটা কতই না ভালো। যে ব্যক্তি সালাত (নামায/নামাজ) আদায়ে অভ্যস্ত হবে তাকে সালাতের দরজা দিয়ে ডাকা হবে, আর যে ব্যক্তি জিহাদে অভ্যস্ত হবে তাকে জিহাদের দরজা দিয়ে ডাকা হবে যে ব্যক্তি দান খয়রাতে অভ্যস্ত হবে তাকে দান খয়রাতের দরজা দিয়ে ডাকা হবে আর যে ব্যক্তি সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালনে অভ্যস্ত হবে তাকে রাইয়ান নামক দরজা দিয়ে ডাকা হবে। তখন আবূ বকর সিদ্দিক (রাঃ) বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! কাউকে এক যোগে এই সকল দরজা দিয়ে ডাকার কোন প্রয়োজন নেই। তাই কাউকে কি এই সকল দরজা দিয়ে এক যোগে ডাকা হবে? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ এবং আমি আশা করি যে, আপনি সেই সৌভাগ্যবান ব্যক্তিদের অন্যতম হবেন।

2239। মাহমুদ ইবনু গায়লান (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে একবার বের হলাম; তখন আমরা যুবক ছিলাম। কিন্তু আমাদের বিবাহের সামর্থ্য ছিল না রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে যুবক শোন! তোমরা বিবাহ করে ফেল। কেননা তা দৃষ্টিকে অবনত রাখে আর লজ্জাস্থানের সংরক্ষণ করে। আর যে ব্যক্তি বিবাহের সামর্থ্য রাখে না সে যেন সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করে। কেননা সাওম তার কামভাব দমন করবে।

2240। বিশর ইবনু খালিদ (রহঃ) ... আলকামা (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, ইবনু মাসউদ (রাঃ) একদা আরাফাতে উছমান (রাঃ) এর সাথে সাক্ষাৎ করলেন। তিনি ইবনু মাসউদ (রাঃ) কে নির্জনে নিয়ে গিয়ে বললেন যে, তোমার কি কোন যুবতীর প্রয়োজন আছে যাকে আমি তোমার সাথে বিবাহ দিয়ে দিব? তখন আব্দুল্লাহ (রাঃ) আলকামা (রহঃ)-কে ডেকে তার কাছে বর্ণনা করলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি বিবাহের সামর্থ্য রাখে সে যেন বিবাহ করে ফেলে। কেননা বিবাহ দৃষ্টিকে অবনত রাখে এবং লজ্জাস্থানকে সংরক্ষণ করে। আর যে ব্যক্তি বিবাহের সামর্থ্য রাখে না সে যেন সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করে, যেহেতু সাওম তার কামভাব দমনকারী।

2241। হারুন ইবনু ইসহাক (রহঃ) ... আব্দুলাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি বিবাহের সামর্থ্য রাখে সে যেন বিবাহ করে আর যে ব্যক্তি বিবাহের সামর্থ্য না রাখে সে যেন সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করে। কেননা সাওম তার কামভাবকে দমন করবে।

2242। হিলাল ইবনু আলা (রহঃ) ... আব্দুর রহমান ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমরা আব্দুল্লাহ (রাঃ)-এর কাছে গেলাম। তখন আমাদের সাথে আলকামা, আসওয়াদ (রহঃ) এবং একজন লোক ছিলেন। তিনি আমাদের সামনে এমন একটি হাদীস বর্ণনা করলেন, যা আমার ধারণায় উপস্থিত লোকদের নয় বরং আমাকেই উপলক্ষ করে বর্ণনা করলেন। যেহেতু আমি উপস্থিত লোকদের মধ্যে কম বয়সের ছিলাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, হে যুবক শ্রেনী! তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি বিবাহের সামর্থ রাখে সে যেন বিবাহ করে, যেহেতু বিবাহ দৃষ্টিকে অবনত রাখে এবং লজ্জাস্থানকে সংরক্ষণ করে।

2243। আমর ইবনু যুরারাহ (রহঃ) ... আলকামা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু মাসউদ (রাঃ)-এর সাথে বসা ছিলাম। তিনি তখন উসমান (রাঃ) এর কাছে ছিলেন। উসমান (রাঃ) বললেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কয়েকজন যুবকের কাছে গেলেন এবং বললেন যে, তোমাদের মধ্যে যার সামর্থ্য রয়েছে সে যেন বিবাহ করে ফেলে। কেননা বিবাহ দৃষ্টিকে অবনত রাখে এবং লজ্জাস্থানকে সংরক্ষণ করে। আর যার সামর্থ্য নেই, সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) তার কামভাবকে দমন করবে। আবূ আব্দুর রহমান নাসায়ী বলেন, অত্র হাদীসের অন্যতম রাবী আবূ মা'শার এর নাম যিয়াদ ইবনু কুলায়ব। তিনি নির্ভরযোগ্য এবং ইবরাহীমের ছাত্র। তার থেকে মানসূর, মুগীরা এবং শুবা রিওয়ায়াত করেছেন। অপর দিকে আবূ মা'শার মাদানীর নাম নূজায়হ, তিনি দুর্বল।

2244। ইউনুস ইবনু আব্দুল আলা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় একদিন সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করবে আল্লাহ তা'আলা সেই একদিনের সাওমের বিনিময়ে তার চেহারাকে জাহান্নামের আগুন থেকে সত্তর বছরের দূরে সরিয়ে রাখবেন। (অর্থাৎ তার চেহারা জাহান্নাম থেকে বহু দুরে থাকবে।)

2245। ইবরাহীম ইবনু ইয়াকুব (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় একদিন সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করবে আল্লাহ তা'আলা তার চেহারাকে জাহান্নামের আগুন থেকে সত্তর বছরের দূরে রাখবেন।

2247। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... আবূ সাঈদ (রাঃ) সুত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় একদিন সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করবে আল্লাহ তা'আলা তার চেহারাকে জাহান্নামের আগুন থেকে সত্তর বছরের দুরত্বে সরিয়ে রাখবেন।

2248। মুহাম্মদ ইবনু আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় একদিন সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করবে আল্লাহ তা’আলা সেই সাওমের বিনিময়ে তার চেহারাকে জাহান্নামের আগুন থেকে সত্তর বছরের দূরত্বে সরিয়ে রাখবেন।

2249। হাসান ইবনু কাযাআ (রহঃ) ... আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় একদিন সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করবে আল্লাহ তা’আলা সেই সাওমের বিনিময়ে তার চেহারাকে জাহান্নামের আগুন থেকে সত্তর বছরের দূরত্বে সরিয়ে রাখবেন।

2250। মুআম্মাল ইবনু ইহাব (রহঃ) ... আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় একদিন সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করবে আল্লাহ তা'আলা তার চেহারাকে জাহান্নামের আগুন থেকে সত্তর বছারের দূরে সরিয়ে রাখবেন।

2251। আব্দুল্লাহ ইবনু মুনীর নিশাপূরী (রহঃ) ... আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে কোন ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় একদিন সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করবে আল্লাহ তা'আলা সেই সাওমের বিনিময়ে তার চেহারাকে জাহান্নামের আগুন থেকে সত্তর বছরের দূরত্বে সরিয়ে রাখবেন।

2252। আহমাদ ইবনু হারব (রহঃ) ... আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) সুত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় একদিন সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করবে আল্লাহ তা’আলা সেই সাওমের বিনিময়ে তার চেহারা থেকে জাহান্নামের উত্তাপকে সত্তর বছরের দূরত্বে সরিয়ে রাখবেন।

2253। আব্দুল্লাহ ইবনু আহমদ (রহঃ) ... আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় একদিন সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করবে আল্লাহ তা’আলা সেই সাওমের বিনিময়ে তার চেহারাকে জাহান্নামের আগুন থেকে সত্তর বছরের দূরত্বে সরিয়ে রাখবেন।

2254। মাহমূদ ইবনু খালিদ (রহঃ) ... উকবা ইবনু আমির (রাঃ) সুত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় একদিন সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করবে আল্লাহ তা'আলা তার থেকে জাহান্নামকে একশত বছরের দুরত্বে সরিয়ে রাখবেন।

2255। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... কা’ব ইবনু আসিম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ সফরকালীন অবস্তায় সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করা সওয়াবের কাজ নয়।

2256। ইবরাহীম ইবনু ইয়াকুব (রহঃ) ... সাঈদ ইবনু মুসায়্যাব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, সফরকালীন অবস্থায় সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করা সাওয়াবের কাজ নয়।

2257। কুতায়বা (রহঃ) ... জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেখলেন যে, কিছু লোক একজন লোককে ঘিরে রেখেছে। তিনি জিজ্ঞাসা করলে তারা বলল যে, এই ব্যক্তিকে সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পরিশ্রান্ত করে ফেলেছে। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সফরকালীন অবস্থায় সাওম পালন করা সওয়াবের কাজ নয়।

2258। শুআয়ব ইবনু শুআয়ব (রহঃ) ... জাবির ইবনু আব্দূল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে গেলেন যিনি গাছের ছায়ায় (বসা) ছিলেন আর তার উপর পানি ছিটানো হচ্ছিল, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন যে, তোমাদের এ সাথীর কি হল? তারা উত্তর দিল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! সে সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করছিল, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সফরকালীন অবস্থায় সাওম পালন করা সওয়াবের কাজ নয়। তোমরা আল্লাহ প্রদত্ত সুযোগের সদ্ব্যবহার কর; যে সুযোগ আল্লাহ তা'আলা তোমাদের দিয়েছেন, তোমরা তা গ্রহণ কর।

2259। মাহমূদ ইবনু খালিদ (রহঃ) ... মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুর রহমান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সফরকালীন অবস্থায় সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করা সওয়াবের কাজ নয়। তোমরা আল্লাহ প্রদত্ত সুযোগের সদ্ব্যবহার কর এবং তা গ্রহণ কর।

2260। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) সুত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সফরকালীন অবস্থায় সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করা সওয়াবের কাজ নয়। তোমরা আল্লাহ প্রদত্ত সুযোগের সদ্ব্যবহার কর এবং তা গ্রহণ কর।

2261। মুহাম্মাদ ইবনু মুছান্না (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সফরকালীন অবস্থায় সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করা সওয়াবের কাজ নয়।

2262। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তাকে সফররত অবস্থায় ছায়া দেওয়া হচ্ছিল। তখন তিনি বললেন যে, সফরকালীন অবস্থায় সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করা সওয়াবের কাজ নয়।

2263। মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের বছর মক্কা অভিমুখে রওয়ানা হলেন এবং সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করেই কুরাউল গামীম নামক উপত্যকা পর্যন্ত পৌছলেন। সাহাবীগণও সাওম পালন করতে লাগলেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে সংবাদ পৌঁছল যে, সাহাবীদের জন্য সাওম পালন করা কষ্টদায়ক হয়ে পড়েছে। তখন তিনি আসরের পরে এক পেয়ালা পানি চাইলেন এবং তা পান করে ফেললেন। আর সাহাবীগণ (এ দৃশ্য) দেখছিল এবং কিছু সাহাবী সাওম ভঙ্গ করে ফেললেন আর কিছু সাহাবী সাওম পালন করতে থাকলেন। যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে সংবাদ পৌঁছল যে, কিছু সাহাবী এখনো সাওম পালন করেছেন তিনি বললেন যে, তারা অপরাধী।

2264। হারুন ইবনু আব্দুল্লাহ এবং আব্দুর রহমান ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে মাররুজ জাহরান নামক স্থানে কিছু খানা নিয়ে আসা হলে তিনি আবূ বকর (রাঃ) এবং উমর (রাঃ)-কে বললেন, তোমরা দু’জন কাছে এসো এবং খাও। তাঁরা উভয়ে বললেন, আমরা সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করছি। তখন তিনি বললেন, তোমাদের সাথীদ্বয়ের জন্য হাওদা প্রস্তুত কর এবং তাদেরকে সহযোগিতা কর।

2265। ইমরান ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) ... আবূ সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাররুজ জাহুরান নামক স্থানে দ্বিপ্রহরের আহার করছিলেন আর তার সাথে আবূ বকর এবং উমর (রাঃ)-ও ছিলেন। তখন তিনি (তাঁদেরকে) বললেন, এসো খাও।

2266। মুহাম্মাদ ইবনু মুছান্না (রহঃ) ... আবূ সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবূ বকর ও উমর (রাঃ) মাররুজ জাহরান নামক স্থানে ছিলেন।

2267। আব্দুল্লাহ ইবনু আব্দুর রহীম (রহঃ) ... আমর ইবনু উমাইয়া দমরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একবার সফর থেকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসলাম। তিনি বললেন, হে আবূ উমাইয়া! দ্বিপ্রহরের আহার গ্রহণের জন্য অপেক্ষা কর। আমি বললাম যে, আমি সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করছি। তিনি বললেন, আসো আমার কাছে আসো, যাতে আমি তোমাকে মুসাফিরের সম্পর্কে বিধান বলতে পারি। আল্লাহ তা'আলা মুসাফির থেকে সাওমকে মুলতবী রেখেছেন আর অর্ধেক সালাত (নামায/নামাজ) রহিত করে দিয়েছেন।

2268। আমর ইবনু উসমান (রহঃ) ... জা’ফর ইবনু আমর (রহঃ)-এর পিতা [আমর (রাঃ)] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসলাম। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, হে আবূ উমাইয়্যা! তুমি কি দ্বিপ্রহরের খানা পর্যন্ত অপেক্ষা করবে না? আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করছি। তিনি বললেন, আসো আমার কাছে আসো; আমি তোমাকে মুসাফির সম্পর্কে বিধান অবহিত করি। আল্লাহ তা’আলা মুসাফির থেকে সাওমকে মুলতবী এবং অর্ধেক সালাত (নামায/নামাজ) রহিত করে দিয়েছেন।

2269। ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ... আবূ উমাইয়া দমরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে সফর থেকে আসলাম এবং তাঁকে সালাম দিলাম। যখন আমি চলে যেতে উদ্যত হলাম, তিনি বললেনঃ দ্বিপ্রহরের আহারের জন্য অপেক্ষা কর, হে আবূ উমাইয়া! আমি বললাম, ইয়া নবীয়্যাল্লাহ! আমি তো সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করছি। তিনি বললেন, কাছে এসো; আমি তোমাকে মুসাফিরের বিধান সম্পর্কে অবহিত করি। আল্লাহ তা'আলা মুসাফিরের উপর থেকে সাওমকে মুলতবী এবং অর্ধেক সালাত (নামায/নামাজ)-কে রহিত করেছেন।

2270। আহামদ ইবনু সূলাইমান (রহঃ) ... আবূ উমাইয়া দমরী (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, তিনি একবার সফর থেকে আসলেন এবং তখন তিনি সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করছিলেন। অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে খাবারের জন্য ডাকলেন, তিনি বললেনঃ আমি সাওম পালন করছি। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কাছে এসো; আমি তোমাকে মুসাফিরের বিধান সম্পর্কে অবহিত করি। আল্লাহ তা'আলা মুসাফিরের উপর থেকে সাওমকে মুলতবী এবং অর্ধেক সালাত (নামায/নামাজ) কে রহিত করেছেন।

2271। শুআয়ব ইবন শুআয়ব (রহঃ) ... আবূ উমাইয়া দমরী (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, তিনি একবার সফর থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আবূ উমাইয়া! দ্বিপ্রহরের খানার অপেক্ষা কর, আমি বললাম, আমি তো সাওম পালন করছি। কাছে এসো, আমি তোমাকে মুসাফিরের বিধান সম্পর্কে অবহিত করি। আল্লাহ্‌ তা'আলা মুসাফির থেকে সাওমকে মুলতবী এবং অর্ধেক সালাতকে রহিত করে দিয়েছেন।

2272। মুহাম্মাদ ইবন উবায়দুল্লাহ (রহঃ) ... আবূ উমাইয়া দমরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি একবার সফর থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসলেন আর তখন তিনি সাওম পালন করছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, তুমি কি দ্বিপ্রহরের আহার করা পর্যন্ত অপেক্ষা করবে না? তিনি বললেন, আমি তো সাওম পালন করছি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কাছে এসো; আমি তোমাকে মুসাফিরের সাওমের বিধান সম্পর্কে অবহিত করি। আল্লাহ্‌ তা'আলা মুসাফিরের উপর থেকে সাওমকে মুলতবী এবং অর্ধেক সালাতকে রহিত করে দিয়েছেন।

2273। মুহাম্মাদ ইবনু মুছান্না (রহঃ) ... আবূ উমাইয়্যা (রাঃ) তাঁর নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি এক সফর থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসেন এরপর উক্তরূপ বর্ণনা করেছেন।

2274। উমর ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) সুত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ তা'আলা মুসাফিরের উপর থেকে রহিত করে দিয়েছে অর্ধেক সালাত (নামায/নামাজ) এবং মুলতবী রেখেছেন সাওমকে। আর গর্ভবতী মহিলা এবং দুগ্ধদানকারী মহিলা থেকেও মুলতবী করে দিয়েছেন সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম)।

2275। মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ... আনাস ইবনু মালিক আল কুশাইরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আমার প্রাপ্য উটের ব্যাপারে সফর করে যেতে যেতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম–এর কাছে পৌঁছলাম। তখন তিনি খাচ্ছিলেন অথবা বলেন যে, তিনি আহার গ্রহণ করার ইচ্ছে করছিলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কাছে এসো এবং খানা খাও। আমি বললাম, আমি তো সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করছি। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহ্‌ মুসাফিরের উপর থেকে অর্ধেক সালাত (নামায/নামাজ) মুলতবি করেছেন এবং সাওম মুলতবি করে দিয়েছেন। আর গর্ভবতী মহিলা এবং দুগ্ধদানকারী মহিলা থেকেও মুলতবী করে দিয়েছেন সাওম।

2276। আবূ বকর ইবনু আলী (রহঃ) ... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে (বনূ হাওয়াজেন এর সাথে লড়াইয়ে প্রাপ্ত) আমার ভাগের উট নেওয়ার জন্য আসলাম। তাঁর কাছে গিয়ে দেখলাম যে তিনি আহার করছেন। তিনি আমাকেও আহার করতে ডাকলেন। আমি বললাম যে, আমি তো সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করছি। তিনি বললেন, কাছে এসো; আমি তোমাকে এ ব্যাপারে অবহিত করব। আল্লাহ তা'আলা মুসাফিরের উপর থেকে সাওম মুলতবী এবং অর্ধেক সালাত (নামায/নামাজ) রহিত করে দিয়েছেন।

2277। সুওয়ায়দ ইবনু নাসর (রহঃ) ... এক সাহাবী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমি কোন প্রয়োজনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলাম। তখন তিনি দ্বিপ্রহরের আহার করছিলেন। তিনি বললেন, খেতে এসো। আমি বললাম, আমি তো সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করছি। তিনি বললেন, কাছে এসো; আমি তোমাকে সাওমের বিধান সম্পর্কে অবহিত করব। আল্লাহ তা’আলা মুসাফিরের উপর থেকে সাওম মুলতবী এবং অর্ধেক সালাত (নামায/নামাজ) রহিত করে দিয়েছে। আর গর্ভবতী এবং দুগ্ধদানকারী মহিলাকেও সাওম মুলতবী রাখার সুযোগ দিয়েছেন।

2278। সুওয়ায়দ ইবনু নাসর (রহঃ) ... আবূল আলা ইবনুল শিখখীর অপর এক ব্যক্তি থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

2279। কুতায়বা (রহঃ) ... বালহারীশ গোত্রের এক ব্যক্তির পিতা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একবার মুসাফির অবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলাম। তখন আমি সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করছিলাম আর তিনি আহার গ্রহণ করছিলেন। তিনি বললেন, এসো, আমি বললাম, আমিতো সাওম পালন করছি। তিনি বললেন, এসো, তুমি কি আল্লাহ তা’আলা মুসাফিরের উপর থেকে কী কী মুলতবী করে দিয়েছেন তা জান না? আমি বললাম, মুসাফিরের উপর থেকে কী কী মুলতবী করে দিয়েছেন? তিনি বললেন, সাওম এবং অর্ধেক সালাত (নামায/নামাজ)।

2280। আব্দুর রহমান ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) ... বালহারীশ গোত্রের এক ব্যক্তির পিতা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যথায় ইচ্ছা সফর করতাম। একবার আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসলাম। তখন তিনি আহার করছিলেন। তিনি বললেন, এসো, খাও। আমি বললাম আমি তো সাওম পালন করছি। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি তোমাকে সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) সম্পর্কে অবহিত করব। আল্লাহ তা'আলা মুসাফিরের উপর থেকে সাওম মুলতবী এবং অর্ধেক সালাত (নামায/নামাজ) রহিত করে দিয়েছেন।

2281। উবায়দুল্লাহ ইবনু আব্দুল করীম (রহঃ) ... হানী (রহঃ)-এর পিতা [আবদুল্লাহ (রাঃ)] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সফর করছিলাম। একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসলাম। তখন তিনি আহার করছিলেন আর আমি সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করছিলাম। তিনি বললেন, এসো, আমি বললাম, আমি তো সাওম পালন করছি। তিনি বললেন, তুমি কি জান, আল্লাহ তা'আলা মুসাফিরের উপর থেকে কী কী মুলতবী করে রেখেছেন? আমি জিজ্ঞাসা করলাম- কী কী মুলতবী করে রেখেছেন? তিনি বললেন, সাওম এবং অর্ধেক সালাত (নামায/নামাজ)।

2282। আহমাদ ইবনু সুলায়মান (রহঃ) ... গায়লান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একবার আবূ কিলাবা (রাঃ)-এর সাথে সফরে বের হলাম। খানা উপস্তিত করা হলে আমি বললাম, আমি তো সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করছি। তখন তিনি বললেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার সফরে বের হয়েছিলেন, তখন তার সামনে খানা উপস্থিত করা হলে তিনি এক ব্যক্তিকে বলেছিলেন, কাছে এসো এবং খাও। তখন সে ব্যক্তি বলেছিল যে, আমি তো সাওম পালন করছি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, আল্লাহ তা'আলা মুসাফিরের উপর থেকে সফরের অবস্থায় সাওম মুলতবী এবং অর্ধেক সালাত (নামায/নামাজ) রহিত করে দিয়েছেন। অতএব তুমি এসো এবং খাও। অতঃপর আমি কাছে গেলাম এবং খেলাম।

2283। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা এক সফরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিলাম। আমাদের মধ্যে কিছু সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালনকারী লোকও ছিলেন আর কিছু সাওম ভঙ্গকারী লোকও ছিলেন। একদিন গরম পড়লে আমরা একটি ছায়াযূক্ত স্থানে উপনীত হলাম; সাওম পালনকারীরা বিশ্রাম নিতে লাগলেন আর সাওম ভঙ্গকারীরা সওয়ারী উটগুলোকে পানি পান করাতে লাগলেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আজ তো সাওম ভঙ্গকারীরা সমুদয় সওয়াব নিয়ে গেল।

2284। মুহাম্মাদ ইবনু আবান বালাখী (রহঃ) ... আব্দুর রহমান ইবনু আউফ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বলা হয় যে, সফরকালীন অবস্থায় সাওম পালন করা বাড়ীতে অবস্থানকালে সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) ভঙ্গ করার ন্যায়। (সফরকালীন অবস্থায় সাওম পালন দ্বারা যদি সাওম পালনকারী পরিশ্রান্ত হয়ে যায় তবে তার জন্য সাওম ভঙ্গ করাই উত্তম)।

2285। মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ... আব্দুর রহমান ইবনু আউফ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সফরকালীন অবস্থায় সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালনকারী ব্যক্তি বাড়িতে অবস্থানকালে সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) ভঙ্গকারী ব্যক্তির ন্যায়।

2286। মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ... হুমায়দ ইবনু আব্দুর রহমান (রহঃ) এর পিতা [আব্দুর রহমান ইবনু আউফ (রাঃ)] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, সফরকালীন অবস্থায় সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করা বাড়িতে অবস্থানকালে সাওম ভঙ্গ করার ন্যায়।

2287। মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার রমযান মাসে সফরে বের হলেন। যখন কুদায়দ নামক স্থানে পৌছলেন তখন একটি দুধের পেয়ালা আনা হলে তিনি এবং তার সাহাবীগণ তা পান করলেন এবং সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) ভঙ্গ করে ফেললেন।

2288। কাসিম ইবনু যাকারিয়্যা (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) শুরু করে (সফর করে) কুদায়দ নামক স্থানে আসলেন এবং সাওম ভঙ্গ করে মক্কায় পৌছলেন।

2289। যাকারিয়্যা ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরকালীন অবস্থায় সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) শুরু করে কুদায়দ নামক স্থানে পৌছলেন এবং এক পেয়ালা দুগ্ধ চেয়ে নিয়ে পান করে তিনিও সাওম ভঙ্গ করে ফেললেন এবং তার সাহাবীগণও সাওম ভঙ্গ করে ফেললেন।

2290। ইসমাঈল ইবনু মাসউদ (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কার উদ্দেশ্যে বের হলেন এবং সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) শুরু করলেন। যখন উস্‌ফান নামক স্থানে পৌছলেন, এক পেয়ালা দুধ চেয়ে নিয়ে তা পান করলেন। শুবা (রহঃ)-এর বর্ণনায় “রমযান মাসে” এ উল্লেখ রয়েছে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলতেন, যার ইচ্ছা হয় সাওম পালন করবে আর যার ইচ্ছা হয় সাওম ভঙ্গ করে ফেলবে।

2291। মুহাম্মাদ ইবনু কুদামাহ (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার রমযানে সফর করলেন এবং সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) শুরু করে উসফান নামক স্থানে পৌছেলেন। অতঃপর একটি (দুধের) পাত্র চেয়ে নিয়ে তা দিনের বেলায় পান করলেন। লোকজন তাঁকে দেখছিল। তারপর সাওম ভঙ্গ করে ফেললেন। (সাওম ভঙ্গ করতে থাকলেন মক্কা পৌছা পর্যন্ত।)

2292। হুমায়দ ইবনু মাসআদাহ (রহঃ) ... আওয়াম ইবনু হাওশাব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বললেন, আমি মুজাহিদ (রহঃ) কে বললাম, সফর অবস্থায় সাওম (কি পালন করতে হবে?) তিনি বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সফর অবস্থায় কখনো) সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করতেন (আবার কখনো) সাওম ভঙ্গ করতেন।

2293। হিলাল ইবনু আলা (রহঃ) ... মুজাহিদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার রমযান মাসে সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) শুরু করে তা সফরের মধ্যে ভঙ্গ করে ফেলেছিলেন।

2294। মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ... হামযা ইবনু আমর আসলামী (রাঃ) থেকে বর্ণিত সে, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সফরকালীন অবস্থায় সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, 'যদি'। অতঃপর তিনি এমন কিছু বাক্য ব্যবহার করলেন যার অর্থ হল যদি তোমার ইচ্ছা হয় তবে সাওম পালন কর আর যদি ইচ্ছা হয় তবে সাওম ভঙ্গ করে ফেল।

2296। সুওয়ায়দ ইবনু নাসর (রহঃ) ... হামযা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সফরকালীন অবস্থায় সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেনঃ যদি তোমার সাওম পালন করতে ইচ্ছা হয় তবে সাওম পালন কর, আর যদি সাওম ভঙ্গ করতে ইচ্ছা হয় তবে সাওম ভঙ্গ করে ফেল।

2297। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... হামযা ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সফরকালীন অবস্থায় সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, যদি তোমার সাওম পালন করতে ইচ্ছা হয় তবে সাওম পালন কর, আর যদি তোমার সাওম ভঙ্গ করে ফেলতে ইচ্ছা হয় তবে সাওম ভঙ্গ করে ফেল।

2298। রবী ইবনু সুলায়মান (রহঃ) ... হামযা ইবনু আমর আসলামী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি সফরকালীন অবস্থায় সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করার সামর্থ্য রাখি। তিনি বললেন, যদি তোমার ইচ্ছা হয় তবে সাওম পালন কর আর যদি ইচ্ছা হয় তবে সাওম ভঙ্গ করে ফেল।

2299। হারুন ইবনু আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... হামযা ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সফরকালীন অবস্থায় সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেনঃ যদি তোমার সাওম পালন করতে ইচ্ছা হয় তবে সাওম পালন কর। আর যদি তোমার সাওম ভঙ্গ করতে ইচ্ছা হয় তবে সাওম ভঙ্গ করে ফেল।

2300। ইমরান ইবনু বাক্কার (রহঃ) ... হামযা ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে বিরামহীন সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পলন করতাম। তাই অমি জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি সফরকালীন অবস্থায় বিরামহীন সাওম পালন করি। তিনি বললেন, যদি তোমার ইচ্ছা হয় তবে সাওম পালন কর আর যদি ইচ্ছা হয় তবে সাওম ভঙ্গ করে ফেল।

2301। উবায়াদুল্লাহ ইবনু সা'দ (রহঃ) ... হামযা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র নবী! আমি বিরামহীন সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালনকারী ব্যক্তি। তাই আমি কি সফরকালীন অবস্থায় সাওম পালন করব? তিনি বললেন, যদি তোমার ইচ্ছা হয় তবে সাওম পালন কর আর যদি ইচ্ছা হয় তবে সাওম ভঙ্গ করে ফেল।

2302। উবায়দুল্লাহ ইবনু সা'দ (রহঃ) ... হামযা ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলেন আর তিনি সফরকালীন অবস্থায় সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালনকারী ব্যক্তি ছিলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যদি তোমার ইচ্ছা হয় তবে সাও পালন কর আর যদি ইচ্ছা হয় তবে সাওম ভঙ্গ করে ফেল।

2303। রবী ইবনু সুলায়মান (রহঃ) ... হামযা ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেনঃ আমি সফরকালীন অবস্থায় সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করার সামর্থ্য রাখি, তাতে কি আমার কোন অসুবিধা হবে? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন যে, সেটা হল আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে একটি সুযোগ। অতএব, যে ব্যক্তি তার-সদ্ব্যবহার করল সে ভাল কাজ করল আর যে ব্যক্তি সাওম পালন করতে ভালবাসে তার কোন অসুবিধা নেই।

2304। মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) ... হামযা ইবনু আমর আসলামী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলেনঃ আমি সফরকালীন অবস্থায় সাওম পালন করতে পারব? তিনি বললেনঃ যদি তোমার ইচ্ছা হয় তবে সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করবে আর যদি ইচ্ছা হয় তবে সাওম ভঙ্গ করে ফেলবে।

2305। আলী ইবনু হাসান (রহঃ) ... হামযা ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বললেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি সর্বদা সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালনকারী ব্যক্তি, আমি কি সফরকালীন অবস্থায় সাওম পালন করব? তিনি বললেনঃ যদি তোমার ইচ্ছা হয় তবে সাওম পালন কর, আর যদি তোমার ইচ্ছা হয় তবে সাওম ভঙ্গ করে ফেল।

2306। মুহাম্মাদ ইবনু সালামা (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, হামযা (রাঃ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি কি সফরকালীন অবস্থায় সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করব? আর তিনি অধিক সাওম পালনকারী ছিলেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেনঃ যদি তোমার ইচ্ছা হয় তবে সাওম পালন কর আর যদি তোমার ইচ্ছা হয় তবে সাওম ভঙ্গ করে ফেল।

2307। আমর ইবনু হিশাম (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হামযা (রাঃ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি কি সফরকালীন অবস্থায় সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করব? তিনি বললেনঃ যদি তোমার ইচ্ছা হয় তবে সাওম পালন কর আর যদি ইচ্ছা হয় তবে সাওম ভঙ্গ করে ফেল।

2308। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, হামযা আসলামী (রাঃ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সফরকালীন অবস্থায় সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন আর তিনি সর্বদা সাওম পালনকারী ব্যক্তি ছিলেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যদি তোমার ইচ্ছা হয় তবে সাওম পালন কর আর যদি তোমার ইচ্ছা হয় তবে সাওম ভঙ্গ করে ফেল।

2309। ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব (রহঃ) ... আবূ সাঈদ (রাঃ) বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, আমরা একবার রমযান মাসে সফর করছিলাম। আমাদের কতেক সাওম পালনকারী ছিলেন আর কতেক সাওম ভঙ্গকারী ছিলেন। আমাদের সাওম পালনকারীরাও সাওম ভঙ্গকারীদের তিরস্কার করছিলেন না আর সাওম ভঙ্গকারীরাও সাওম পালনকারীদের তিরস্কার করছিলেন না।

2310। সাঈদ ইবনু ইয়াকুব তালকানী (রহঃ) ... আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সফর করছিলাম। আমাদের মধ্যে কতেক সাওম পালনকারী ছিলেন আর কতেক সাওম ভঙ্গকারী ছিলেন কিন্তু আমাদের সাওম পালনকারীরাও সাওম ভঙ্গকারীদের তিরস্কার করছিলেন না আর সাওম ভঙ্গকারীরাও সাওম পালনকারীদের তিরস্কার করছিলেন না।

2311। আবূ বকর ইবনু আলী (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে একবার সফর করছিলাম, আমাদের কতেক সাওম পালন করছিলেন আর কতেক সাওম ভঙ্গ করছিলেন।

2312। আইয়্যুব ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) ... আবূ সাঈদ (রাঃ) এবং জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তাঁরা দু'জন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সফর করছিলেন, তখন সাওম পালনকারীরা সাওম পালন করতেন আর সাওম ভঙ্গকারীরা সাওম ভঙ্গ করতেন। কিন্তু সাওম পালনকারীরাও সাওম ভঙ্গকারীদের তিরস্কার করতেন না আর সাওম ভঙ্গকারীরাও সাওম পালনকারীদের তিরস্কার করতেন না।

2313। কুতায়বা (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের বছর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযান মাসে সাওম পালন অবস্থায় বের হলেন। যখন কাদীদ নামক স্থানে পৌছলেন তখন সাওম ভঙ্গ করে ফেললেন।

2314। মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার সফর করছিলেন এবং সাওম শুরু করে উসফান নামক স্থানে পৌছলেন। তারপর একটি পাত্র চেয়ে নিয়ে দিনের বেলায়ই পান করলেন যাতে লোকজন দেখতে পায়। অতঃপর সাওম ভঙ্গ করে ফেললেন এবং মক্কায় প্রবেশ করে রমযান মাসে মক্কা বিজয় করে ফেললেন। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরকালীন অবস্থায় সাওম শুরু করে তারপর তা ভঙ্গ করে ফেলেছিলেন। তাই যার ইচ্ছা হয় সে সাওম পালন করবে আর যার ইচ্ছা হয় সে সাওম ভঙ্গ করে ফেলবে।

2315। আমর ইবনু মানসূর (রহঃ) ... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, সাহাবীদের থেকে এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে মদীনায় আসলেন। তখন তিনি দ্বিপ্রহরের আহার করছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন যে, খেতে এসো। তিনি বললেনঃ আমি তো সাওম পালন করছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন যে, আল্লাহ তা'আলা মুসাফির, গর্ভবতী এবং স্তন্য দানকারিণী মহিলার উপর থেকে সাওমকে মুলতবী, অর্ধেক সালাতকে রহিত করে দিয়েছেন।

2316। কুতায়বা (রহঃ) ... সালামা ইবনু আকওয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ আয়াত অবতীর্ণ হল তখন আমাদের মধ্যে যারা ইচ্ছা করত সাওম ভঙ্গ করে ফেলত এবং ফিদয়া দিত। যখন তার পরবর্তী আয়াত (فَمَن شَهِدَ مِنكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ) অবতীর্ণ হল উক্ত আয়াতের হুকুমকে রহিত করে দিল।

2317। মুহাম্মদ ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আল্লাহ তা'আলার বাণীঃ وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ (অর্থঃ আর যাদের সাওম পালন করার সামর্থ্য আছে তারা ইচ্ছা করলে সাওম ভঙ্গ করে একজন মিসকীনকে তার বিনিময়ে খাদ্য দান করতে পারবে) এর ব্যাখ্যায় বর্ণিত আছে, যাদের সাওম পালন করতে খুব বেশী কষ্ট হয় তারা প্রত্যেকটি সাওমের পরিবরর্তে ফিদয়া ,স্বরূপ একজন মিসকীনকে খাদ্য দান করবে। আর যে ব্যক্তি আরো অধিক দান করবে তা তার জন্য উত্তম হবে-এই আয়াতের হুকুম রহিত হয়নি আর যদি তোমরা সাওম পালন কর তবে তা তোমাদের জন্য উত্তম। অত্র আয়াতে সাওম পালনে সামর্থ্যবানদের অব্যাহতি দেওয়া হয়নি বরং অক্ষম এবং এমন অসুস্থ ব্যক্তিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে যাদের রোগ মুক্তির আশা নেই।

2318। আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ... মুআযা আদাবীয়া (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক মহিলা আয়িশা (রাঃ)-এর কাছে জিজ্ঞাসা করল যে, ঋতুবতী মহিলা যখন ঋতু থেকে পবিত্র হবে তখন কি সে সালাত কাযা করবে? তিনি বললেন, তুমি কি হারুরী গোত্রের মহিলা? আমরা তো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে ঋতুবতী হতাম এবং যখন পবিত্র হতাম তখন আমাদেরকে সাওম কাযা করার নির্দেশ দেওয়া হল কিন্তু সালাত কাযা করার নির্দেশ দেওয়া হত না।

2319। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যদি আমার উপর রমযানের সাওম অনাদায়ী থেকে যেত তবে আমি তা পূনরায় শাবান মাস না আসা পর্যন্ত কাযা করতাম না।

2320। আব্দুল্লাহ ইবনু আহমদ (রহঃ) ... মুহাম্মাদ ইবনু সায়ফী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশূরা (আশুরা/আসুরা/আসূরা)-র দিন জিজ্ঞাসা করলেন যে, আজ কি তোমরা কেউ কিছু খেয়েছ? তারা বললেন, আমাদের কেউ কেউ সাওম পালন করছে আর কেউ কেউ সাওম ভঙ্গ করেছে। তখন তিনি বললেন, তবে তোমরা অবশিষ্ট দিন পূর্ণ করে ফেল (না খেয়ে থাক)। আর মক্কা ও মদীনার আশে পাশেও সংবাদ পাঠাও তারাও যেন তাদের দিনের অবশিষ্ট অংশ পূর্ণ করে ফেলে।

2321। মুহাম্মাদ ইবনু মুছান্না (রহঃ) ... সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে বলেছিলেন, তুমি আশূরা (আশুরা/আসুরা/আসূরা)র দিন ঘোষণা করে দাও, যে ব্যক্তি না খেয়ে থাকে আর যে ব্যক্তি এখনো কিছু খায়নি সে যেন সাওম পালন করে।

2322। আমর ইবনু মানসূর (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন আমার কাছে আসলেন এবং বললেনঃ তোমার কাছে কি খাওয়ার কিছু আছে? আমি বললাম না; তিনি বললেন, তাহলে আমি সাওমের নিয়্যত করে নিলাম। এরপর তিনি আরেক দিন আমার কাছে আসলেন এবং সে দিন আমাকে কিছু “হায়স”- (খেজুরে এবং ঘি ইত্যাদি দ্বারা প্রস্তুত এক প্রকার খাদ্য), উপহার দেওয়া হয়েছিল, আমি তা থেকে কিছু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য রেখে দিয়েছিলাম। আর তিনি হায়স খুব পছন্দ করতেন। তিনি বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাকে কিছু হায়স উপহার দেওয়া হয়েছিল, আমি সেখান থেকে আপনার জন্য কিছু পৃথক করে রেখে দিয়েছি। তিনি বললেন, নিয়ে এসো, আমি তো আজকে সকালে সাওমের নিয়্যত করে ফেলেছিলাম, অতঃপর তা থেকে খেলেন। তারপর বললেন, নফল সাওমের হল ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে স্বীয় ধন-সম্পদ থেকে দান করার নিয়্যতে কিছু মাল বের করল। এখন সে ব্যক্তি ইচ্ছা করলে তা দানও করতে পারে আবার ইচ্ছা করলে রেখেও দিতে পারে।

2323। আর দাঊদ (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার আমার কাছে এসে বললেন, তোমার কাছে কি খাওয়ার কিছু আছে? আমি বললাম, আমার কাছে তো কিছুই নেই। তিনি বললেন, তা হলে আমি সাওমের নিয়ত করে নিলাম। আয়িশা (রাঃ) বলেন, অতঃপর তিনি আরেক বার আমার কাছে আসলেন, তখন আমাকে কিছু হায়স উপহার দেওয়া হয়েছিল। আমি উহা তাঁকে দিলাম। তিনি তা খেয়ে ফেললেন। আমি তাতে আশ্চার্যানিত হয়ে গেলাম এবং বললাম ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি (একবার) সাওম পালনরত অবস্থায় আমার কাছে এলেন তারপর হায়স খেয়ে ফেললেন। তিনি বললেন, হে আয়িশা! হ্যাঁ, যে ব্যাক্তি রমযানের সাওম বা তার কাযা ছাড়া নফল সাওম পালন করে তার তুলনা ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে স্বীয় মাল দান করার জন্য বের করল এবং সেখান থেকে যা ইচ্ছা দান করল আর বাকী যা ইচ্ছা ফিরিয়ে নিল।

2324। আব্দুল্লাহ ইবনু হায়ছাম (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে বললেনঃ তোমার কাছে আহারের কিছু আছে কি? আমি বললামঃ না; তিনি বললেন, তাহলে আমি সাওমের নিয়্যত করে ফেললাম। আরেক দিন তিনি আমার কাছে আসলেন তখন আমাকে কিছু হায়স উপহার দেওয়া হয়েছে। তিনি বললেন, আমি তো সকালে সাওমের নিয়্যত করে ফেলেছিলাম, অতঃপর খেলেন।

2325। আহমদ ইবনু হারব (রহঃ) ... উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন আমাদের কাছে আসলেন তখন আমরা বললাম যে, আমাদেরকে কিছু হায়স উপহার দেওয়া ছিল। আমরা তার থেকে আপনার জন্য কিছু রেখে দিয়েছিলাম। তিনি বললেন যে, আমি তো সাওমের নিয়্যত করে ফেলেছিলাম অতঃপর তিনি সাওম ভঙ্গ করে ফেললেন।

2326। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... উম্মুল মু'মিনীন আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার তার কাছে আসলেন তখন তিনি সাওম পালন করছিলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তোমাদের কাছে আহারের কিছু আছে কি যা আমাকে খাওয়াতে পার? আমরা বললাম, না; তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাহলে আমি সাওমের নিয়্যত করে নিলাম। এরপর তিনি আয়িশা (রাঃ)-এর কাছে আবার আসলেন তখন আয়িশা (রাঃ) বললেন যে, আমাদেরকে কিছু উপহার দেওয়া হয়েছে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, কি? তিনি বললেন, হায়স, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি তো সকালে সাওমের নিয়্যত করে ফেলেছিলাম, অতঃপর খেলেন।

2327। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... উম্মুল মু'মিনীন আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে এসে জিজ্ঞাসা করলেন তোমার কাছে আহারের কিছু আছে কি? আমি বললাম, না; তিনি বললেন, তাহলে আমি সাওমের নিয়তে করে ফেললাম।

2328। আবূ বকর ইবনু আলী (রহঃ) ... আয়েশা বিনত তালহা এবং মুজাহিদ (রহঃ) সুত্রে আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে এসে বললেন, তোমার কাছে আহারের কিছু আছে কি? আমি বললাম না; তিনি বললেন, তাহলে আমি সাওমের নিয়্যত করে ফেললাম। রাবী বলেন, তিনি আরেক দিন আসলেন তখন আয়িশা (রাঃ) বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাকে কিছু হায়স উপহার দেওয়া হয়েছে। তিনি তা চেয়ে নিলেন এবং বললেন যে, আজকে সকালে তো আমি সাওমের নিয়্যত করে ফেলেছিলাম। অতঃপর তা খেলেন।

2329। আমর ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ... মুজাহিদ এবং উম্মে কুলসূম (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার আয়িশা (রাঃ)-এর কাছে গেলেন এবং জিজ্ঞাসা করলেন যে, তোমার কাছে আহারের কিছু আছে কি? রাবী পূর্বের বর্ণনার অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

2330। সাফওয়ান ইবনু আমর (রহঃ) ... উম্মুল মু'মিনীন আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার তাঁর কাছে আসলেন এবং জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার কাছে আহারের কিছু আছে কি? আমি বললাম না; তখন তিনি বললেন, তাহলে আমি সাওমের নিয়ত করে ফেললাম। আযেশা (রাঃ) বলেন, তিনি আমার কাছে আরেকবার আসলেন, তখন আমি বললামঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাকে কিছু হায়স উপহার দেওয়া হয়েছে। তিনি বললেন, তাহলে আজ আমি সাওম পালন করব না অথচ আমি সাওমের নিয়্যত করে ফেলেছিলাম।

2331। কাসেম ইবনু যাকারিয়া (রহঃ) ... হাফসা (রাঃ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি (রমযানের সাওম ব্যতীত) রাত্রে সাওমের নিয়্যত না করে তার সাওম পালন করা হবে না।

2332। আব্দুল মালিক ইবনু শুআয়ব (রহঃ) ... হাফসা (রাঃ) সুত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি রাত্রে ফজরের পূর্বেই সাওমের নিয়্যত (দূঢ় ইচ্ছা) না করে তার সাওম পালন হবে না।

2333। মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... হাফসা (রাঃ) সুত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি ফজর উদয়ের পূর্বেই রাত্রে সাওমের নিয়ত না করে তার সাওম পালন হবে না।

2334। আহমদ ইবনু আযহার (রহঃ) ... হাফসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। যে ব্যক্তি রাত্রে সাওমের নিয়্যত না করে তার সাওম পালন হবে না।

2335। মুহাম্মদ ইবনু আব্দুল আলা (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ (রাঃ) হাফসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলতেন, যে ব্যক্তি রাত্রে সাওমের নিয়্যত না করবে তার সাওম পালন হবে না।

2336। রবী ইবনু সুলায়মান (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, হাফসা (রাঃ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ফজরের পূর্বেই রাত্রে সাওমের নিয়্যত না করে তার সাওম পালন হবে না।

2337। যাকারিয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ... হাফসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি ফজরের পূর্বে রাত্রে সাওমের নিয়্যত না করে তার সাওম পালন হবে না।

2338। মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ... হাফসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি ফজরের পূর্বে রাত্রেই সাওমের নিয়্যত না করে তার সাওম পালন হবে না।

2339। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... হাফসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি ফজরের পূর্বে রাত্রেই সাওমের নিয়্যত না করে তার সাওম পালন হবে না।

2340। আহমদ ইবনু হারব (রহঃ) ... হাফসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যাক্তি ফজরের পূর্বে রাত্রেই সাওমের নিয়্যত না করে তার সাওম পালন হবে না।

2341। হারিছ ইবনু মিসকীন (রহঃ) এর সামনে পাঠ করা অবস্থায় শ্রুত হাফসা (রাঃ) এবং আয়িশা (রাঃ) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তি ফজরের পূর্বে রাত্রে সাওমের নিয়্যত না করে তার সাওম পালন হবে না।

2342। মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল আলা (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যদি কোন ব্যক্তি রাত্রেই সাওমের নিয়্যত না করে তবে সে যেন সাওম পালন না করে (তার সাওম পালন হবে না)।

2343। হারিছ ইবনু মিসকীন (রহঃ)-এর সামনে পাঠ করা অবস্থায় শ্রুত ... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলতেন, যে ব্যক্তি ফজরের পূর্বে রাত্রেই সাওমের নিয়্যত না করে তার সাওম পালন হবে না।

2344। কুতায়বা (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) বলেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলার কাছে সবচেয়ে পছন্দনীয় সাওম দাঊদ (আঃ) এর সাওম। তিনি একদিন সাওম পালন করতেন আর একদিন সাওম পালন করতেন না। আর আল্লাহ তা'আলার কাছে সবচেয়ে পছন্দনীয় সালাত দাঊদ (আঃ) এর সালাত। তিনি-অর্ধরাত্র নিদ্রা যেতেন এবং রাত্রের এক তৃতীয়াংশ সালাত আদায় করতেন আবার রাত্রের ষষ্ঠমাংশ নিদ্রা যেতেন।

2345। কাসেম ইবনু যাকারিয়া (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাড়ীতে অবস্থানকালীন অবস্থায় এবং সফরকালীন অবস্থায় আইয়ামে বীযের সাওম পালন করা থেকে বিরত থাকতেন না।

2346। মুহাম্মাদ ইবনু বাশাশার (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সাওম পালন শুরু করতেন তখন আমরা মনে মনে বলতাম যে, হয়ত আর সাওম ছাড়বেন না আবার যখন সাওম রাখা থেকে বিরত থাকতেন তখন আমরা মনে মনে ধারণা করতাম যে, তিনি হয়ত আর সাওম পালন করার ইচ্ছাই রাখেন না। আর মদীনায় আগমনের পর থেকে রমযান মাস ব্যতীত কখনো পূর্ণ এক মাস বিরামহীন সাওম পালন করতেন না।

2347। মুহাম্মাদ ইবনু নাযর (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সাওম পালন শুরু করতেন তখন আমরা মনে মনে ধারণা করতাম যে, তিনি হয়ত আর সাওম পালন থেকে বিরত থাকার ইচ্ছা রাখেন না। আবার যখন সাওম পালন থেকে বিরত থাকতেন তখনো আমরা মনে মনে ধারণা করতাম যে, তিনি হয়ত আর সাওম পাননের ইচ্ছা রাখেন না।

2348। ইসমাঈল ইবনু মাসউদ (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো এক রাত্রে পূর্ণ কুরআন খতম করেছেন বা কখনো সকাল পর্যন্ত পূর্ণ রাত্র সালাত আদায় করেছেন কিংবা রমযান মাস ব্যতীত পূর্ণ এক মাস কখনো সাওম পালন করেছেন বলে আমার জানা নেই।

2349। কুতায়বা (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু শাকীক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশা (রাঃ)-কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাওম পালন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন যে, তিনি যখন সাওম পালন শুরু করতেন তখন আমরা মনে মনে ধারণা করতাম যে, তিনি হয়ত এবার সাওম পালন করতে থাকবেন। আবার যখন সাওম ভঙ্গ করা শুরু করতেন তখনো আমরা মনে মনে ধারণা করতাম যে তিনি হয়ত এবার সাওম ভঙ্গ করতে থাকবেন। আর তিনি মদীনায় আগমনের পর থেকে রমযান মাস ব্যতীত কখনো পূর্ণ এক মাস সাওম পালন করেননি।

2350। রবী ইবনু সুলায়মান (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু আবূ কায়স (রাঃ) থেকে বর্নিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে মাস সমূহের মধ্যে শা'বান মাসের সাওম পালন করা সর্বাধিক পছন্দনীয় ছিল। বরং তিনি শা'বান মাসকে (সাওম পালনসহ) রমযানের সাথে মিলিরে নিতেন।

2351। রবী' ইবনু সুলায়মান (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সাওম পালন শুরু করতেন তখন আমরা মনে মনে ধারণা করতাম যে, তিনি হয়ত আর সাওম ভঙ্গই করবেন না। আবার যখন সাওম ভঙ্গ করা শুরু করতেন তখনো আমরা মনে মলে ধারণা করতাম যে তিনি হয়ত আর সাওম পালনই করবেন না এবং আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে শা'বান মাসের চেয়ে বেশী অন্য কোন মাসে সাওম পালন করতে দেখিনি।

2352। মাহমূদ ইবনু গায়লান (রহঃ) ... উম্মে সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শা'বান এবং রমযান মাস ব্যতীত কখনো বিরামহীন দুই মাসের সাওম পালন করতেন না।

2353। মুহাম্মদ ইবনু ওলীদ (রহঃ) ... উম্মে সালামা (রাঃ) সুত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত যে, তিনি শা’বান মাস ব্যতীত কখনো বছরের পূর্ণ মাস সাওম পালন করতেন না আর উহাকে রমযানের সাথে মিলিয়ে নিতেন।

2354। উবায়াদুল্লাহ ইবনু সা’দ (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো শা'বান মাসের চেয়ে বেশী অন্য কোন মাসে সাওম পালন করতেন না। তিনি পূর্ণ শা'বান মাস অথবা তার অধিকাংশ দিন সাওম পালন করতেন।

2355। আমর ইবনু হিশাম (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কয়েক দিন ব্যতীত পূর্ণ শাবান মাসের সাওম পালন করতেন।

2356। আমর ইবনু উসমান (রহঃ) ... জুবায়ের ইবনু নূফায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, আয়িশা (রাঃ) বলেছেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পূর্ণ শা'বান মাসই সাওম পালন করতেন।

2357। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... উসামা ইবনু যায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি আপনাকে তো শা'বান মাসে যে পরিমাণ সাওম পালন করতে দেখি বছরের অন্য কোন মাসে সে পরিমাণ সাওম পালন করতে দেখি না। তিনি বললেন শা'বান মাস রজব এবং রমযানের মধ্যবর্তী এমন একটি মাস যে মাসের (গুরুত্ব সম্পর্কে) মানুষ খবর রাখে না অথচ এ মাসে আমলনামা সমূহ আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নিকটে উত্তলোন করা হয়। তাই আমি পছন্দ করি যে, আমার আমলনামা আল্লাহ তা’আলার নিকটে উত্তোলন করা হবে আমার সাওম পালনরত অবস্থায়।

2358। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... উসামা ইবনু যায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি যখন সাওম পালন করা শুরু করেন তখন সহসা আর সাওম ভঙ্গ করেন না আবার যখন সাওম ভঙ্গ করা শুরু করেন তখন আর সহসা সাওম পালন ভরা করেন না কিন্তু দুইটি দিন; দুই দিন আপনার সাওম পালন করার দিন সমূহের মধ্যে এসে পড়ে (তবে আপনি সে দু'দিন সাওম পালন করেন) তা না হলেও আপনি ঐ দুই দিনের সাওম পালন করে থাকেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, সে কোন দু'দিন? আমি বললাম, সোমবার এবং বৃহস্পতিবার। তিনি বললেন, সেই দু'দিন মানুষের আমলনামা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নিকটে উত্তোলন করা হয়। তাই আমি পছন্দ করি যে, আমার আমলনামা আল্লাহর নিকটে এমন অবস্থায় উত্তোলন করা হয় যখন আমি সাওম পালনরত থাকি।

2359। আহমদ ইবনু সুলায়মান (রহঃ) ... উসামা ইবনু যায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বিরামহীন সাওম পালন শুরু করতেন তখন মনে মনে ধারণা করা হত যে, হয়ত তিনি সাওম ভঙ্গ করবেন না। আবার যখন সাওম ভঙ্গ করা শুরু করতেন তখনো মনে মনে ধারণা করা হত যে, তিনি হয়ত আর সাওম পালনই করবেন না।

2360। আমর ইবনু উসমান (রহঃ) ... জুবায়র ইবনু নুফায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত। আয়িশা (রাঃ) বলেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বদা সোমবার এবং বৃহস্পতিবার সাওম পালন করতেন (সাওম পালন করাকে অধিক গুরুত্ব দিতেন)।

2361। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বদা সোমবার এবং বৃহস্পতিবার সাওম পালন করতেন।

2362। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বদা সোমবার এবং বৃহস্পতিবার সাওম পালন করতেন।

2363। আহমদ ইবনু সুলায়মান (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বদা সোমবার এবং বৃহস্পতিবার সাওম পালন করতেন।

2364। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বদা সোমবার এবং বৃহস্পতিবার সাওম পালন করতেন।

2365। আবূ বকর ইবনু আলী (রহঃ) ... উম্মে সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক মাসে তিন দিন সাওম পালন করতেন (প্রথম সপ্তাহে) সোমবার, বৃহষ্পতিবার এবং পরবর্তী সপ্তাহে শুধু সোমবার।

2366। যাকারিয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ... হাফসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক মাসের সোমবার এবং বৃহস্পতিবার দিন সাওম পালন করতেন এবং পরবর্তী সপ্তাহে শুধু সোমবার।

2367। কাসেম ইবনু যাকারিয়া (রহঃ) ... হাফসা (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নিদ্রা যেতেন তখন তার পবিত্র ডান হাত তার গাল মুবারকের নীচে রখেতেন এবং সোমবার ও বৃহস্পতিবার দিন সাওম পালন করতেন।

2368। মুহাম্মদ ইবনু আলী (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক মাসের শুরুতে তিন দিন সাওম পালন করতেন, আর শুক্রবার দিন খুব কমই সাওম ভংগ করতেন।

2369। যাকারিয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ... আর হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাশতের দুই রাকআত সালাত আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং বিতরের সালাত আদায় না করে নিদ্রা না যাওয়ার এবং প্রত্যেক মাসে তিন দিন সাওম পালন করারও নির্দেশ দিতেন।

2370। কুতায়বা (রহঃ) ... উবায়দুল্লাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, ইবনু আব্বাস (রাঃ)-কে যখন আশূরা (আশুরা/আসুরা/আসূরা)-র সাওম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল তখন তিনি তাকে বলতে শুনেছেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযান মাসের ও আশূরার সাওম ব্যতীত অন্য কোন দিনের সাওমকে অন্য দিনের সাওমের উপর গুরত্ব দিয়েছেন বলে আমার জানা নেই।

2371। কুতায়বা (রহঃ) ... হুমায়দ ইবনু আব্দুর রহমান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মুআবিয়া (রাঃ)-কে আশূরা (আশুরা/আসুরা/আসূরা)র দিন মিম্বারের উপর দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছি যে, হে মদীনাবাসীগন, তোমাদের আলিমগণ কোথায়? আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এদিন সম্পর্কে বলতে শুনেছি যে, আমি তো সাওম পালন করছি। অতএব যারা সাওম পালন করতে ইচ্ছুক তারা যেন সাওম পালন করে।

2372। যাকারিয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ... হুনায়দাহ ইবনু খালিদ (রাঃ)-এর স্ত্রী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমার কাছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীগণের মধ্যে কোন একজন বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশূরা (আশুরা/আসুরা/আসূরা)র দিন, জিলহজ্ব মাসের নয় দিন এবং প্রত্যেক মাসের তিন দিন, মাসের প্রথম সোমবার ও দু' বৃহস্পতিবার সাওম পালন করতেন।

2373। হাজিব ইবনু সুলায়মান (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি সারা জীবন সাওম পালন করে তার সাওম পালন হবে না।

2374। ঈসা ইবনু মুসাবির (রহঃ) এবং মুহাম্মদ ইবনু আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি সারা জীবন সাওম পালন করে তার সাওম পালন হবে না এবং ইফতারও গ্রহণ যোগ্য হবে না।

2375। আব্বাস ইবনু ওলীদ (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি সারা জীবন সাওম পালন করে তার সাওম পালন হবে না।

2376। ইসমাঈল ইবনু ইয়াকুব (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে শ্রবণকারী এক ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি সারা জীবন সাওম পালন করে তার সাওম পালন গ্রহণযোগ্য হবে না।

2377। আহমাদ ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি সারা জীবন সাওম পালন করে তার সাওম ও ইফতার গ্রহণযোগ্য হবে না।

2378। ইবরাহীম ইবনু হাসান (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) বলেনঃ তিনি একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে সংবাদ পৌছাল যে, আমি সর্বদা সাওম পালন করি। (ইহা একটি দীর্ঘ হাদীস) রাবী বলেন, আতা (রহঃ) বলেছেন যে, আমি বলতে পারব না তিনি সর্বদা সাওম পালনের ব্যাপার কিভাবে উল্লেখ করেছিলেন যে ব্যক্তি সর্বদা সাওম পালন করে তার সাওম গ্রহণ যোগ্য নয়”। (এভাবে বলেছেন না অন্যভাবে বলেছেন, সঠিক শব্দগুলি আমার মনে নাই।)

2379। আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ... ইমরান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করা হল ইয়া রাসুলাল্লাহ! অমুক ব্যক্তি সারা বছর দিনে খায় না (সাওম পালন করে)। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তার সাওম পালন এবং তার ইফতার গ্রহণযোগ্য হবে না।

2380। আমর ইবনু হিশাম (রহঃ) ... মুতাররিফ (রহঃ) এর পিতা আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। একদা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে এক ব্যক্তি সম্পর্কে আলোচনা করা হল। যে সর্বদা সাওম পালন করত। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তার সাওম এবং তার ইফতার গ্রহণযোগ্য নয়।

2381। মুহাম্মদ ইবনু মুছান্না (রহঃ) ... মুতাররিফ-এর পিতা আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বদা সাওম পালনকারীর ব্যাপারে বলেছেন যে, তার সাওম এবং ইফতার গ্রহণযোগ্য হবে না।

2382। হারুন ইবনু আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিলাম। আমরা এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। সাহাবীরা বললেনঃ হে আল্লাহ্‌র নবী! এই ব্যক্তি দীর্ঘ দিন পর্যন্ত সাওম ভঙ্গ করে না। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তার সাওমও গ্রহণযোগ্য নয় আর তার সাওম ভঙ্গও গ্রহণযোগ্য নয়।

2383। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... আবূ কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তার সাওম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি রাগান্বিত হয়ে গেলেন, তখন উমর (রাঃ) বললেন যে, আমরা রব হিসাবে আল্লাহর উপর, ধর্ম হিসাবে ইসলামের উপর এবং রাসুল হিসারে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর সন্তুষ্ট। আরেকবার সর্বদা সাওম পালনকারী ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হলে তিনি বললেনঃ তার সাওম পালনও গ্রহণযোগ্য নয়। তার সাওম ভঙ্গও গ্রহণযোগ্য নয়।

2384। ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, হামযা ইবনু আমর আসলামী (রাঃ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি সর্বদা সাওম পালনকারী ব্যক্তি। তাই আমি কি সফরকালীন সময়ে সাওম পালন করব? তিনি বললেনঃ যদি তোমার ইচ্ছা হয় তবে সাওম পালন করবে আর যদি ইচ্ছা হয় তবে সাওম ভঙ্গ করে ফেলবে।

2385। মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এক সাহাবী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলা হল যে, এক ব্যক্তি সর্বদা সাওম পালন করে। তিনি বললেনঃ আমার মনে চায় সে যেন কখনো কিছু আহার না করে। সাহাবীরা বললেন, তাহলে বছরের দুই তৃতীয়াংশকালে সাওম পালন করুক? তিনি বললেন, তাও অধিক। সাহাবীরা বললেন, তাহলে সারা বছরের অর্ধেক? তিনি বললেন, তাও অধিক। অতঃপর তিনি বললেন, আমি কি তোমাদের অন্তরের ওয়াসওয়াসা বিদূরিত করার আমল সম্পর্কে অবহিত করব না? তা হল প্রত্যেক মাসের তিন দিন সাওম পালন করা।

2386। মুহাম্মাদ ইবনু আলা (রহঃ) ... আমর ইবনু শুরাহবীল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এক ব্যক্তি আসল এবং জিজ্ঞাসা করল যে, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি এমন ব্যক্তি সম্পর্কে কি বলেন, যে সারা বছর সাওম পালন করে? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার মনে চায় সে যেন কখনো কিছু আহার করে। তখন আগত ব্যক্তি বলল, সারা বছরের দুই তৃতীয়াংশ কাল? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন যে, তাও অধিক। সে বলল, তাহলে সারা বছরের অর্ধেক কাল? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাও অধিক। অতঃপর তিনি বললেন, আমি কি তোমাদের অন্তরের ওয়াসওয়াসা দূর করার আমল সষ্পর্কে অবহিত করব না? সাহাবীগণ বললেন, কেন নয়? তিনি বললেন, তা হল প্রত্যেক মাসের তিন দিন সাওম পালন করা।

2387। কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, উমর (রাঃ) জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! সারা বছর সাওম পালনকারী ব্যক্তির অবস্থা কেমন হবে? তিনি বলেন, তার সাওমও গ্রহণযোগ্য হবে না, আর তার সাওম ভঙ্গও গ্রহণ যোগ্য হবে না। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! দুই দিন সাওম পালনকারী এবং একদিন সাওম ভঙ্গকারীর অবস্থা কেমন হবে? (উত্তরে) তিনি বললেন, এও কি কারো দ্বারা সম্ভব? [উমর (রাঃ)] জিজ্ঞাসা করলেন যে, একদিন সাওম পালনকারী এবং একদিন সাওম ভঙ্গকারীর অবস্থা কেমন হবে? (উত্তরে) তিনি বললেন যে, এ হল দাঊদ (আঃ) এর সাওম। তিনি [উমর (রাঃ)] বললেন একদিন সাওম পালনকারী এবং দুই দিন সাওম ভঙ্গকারীর অবস্থা কেমন হবে? (উত্তরে) তিনি বললেন, আমার ইচ্ছা হয় আমি যেন সেই শক্তি পাই। উমর (রাঃ) বলেন যে, অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ রমযান মাসের সাওম এবং প্রত্যেক মাসে তিন দিন সাওম পালন করা, ইহাই সারা বছর সাওম পালন করার সমতুল্য।

2388। আহমদ ইবনু মানী (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সর্বত্তম সাওম হল দাঊদ (আঃ) এর সাওম। তিনি একদিন সাওম পালন করতেন আর একদিন সাওম ভঙ্গ করতেন।

2389। মুহাম্মাদ ইবনু মা'মার (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) বলেছেন যে, আমাকে আমার পিতা এক সম্ভ্রান্ত মহিলা বিবাহ করালেন। অতঃপর আমার পিতা তার কাছে এসে তার স্বামী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন। আমার স্ত্রী বলত যে, আমার স্বামী খুবই ভাল মানুষ (তবে) তিনি কখনো আমার সাথে বিছানা মাড়ান নি এবং আমি তার কাছে আসা অবধি তিনি কখনো আমার পাশে আসেন নি। আমার পিতা তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে উল্লেখ করলে তিনি বললেনঃ তুমি তাকে আমার কাছে নিয়ে এসো। অতঃপর আমি আমার পিতার সাথে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গেলে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কিভাবে সাওম পালন কর? আমি বললাম, আমি প্রত্যেক দিন সাওম পালন করি। তিনি বললেন, তুমি প্রত্যেক সপ্তাহে তিন দিন সাওম পালন করবে। আমি বললাম, (ইয়া রাসুলাল্লাহ!) আমি এর চেয়েও বেশী সাওম পালন করার সামর্থ্য রাখি। তিনি বললেন, তাহলে তুমি দুইদিন সাওম পালন কর এবং একদিন সাওম ভঙ্গ কর। আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি এর চেয়েও বেশী সাওম পালন করার সামর্থ্য রাখি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাহলে তুমি সর্বোত্তম সাওম অর্থাৎ দাঊদ (আঃ) এর সাওম পালন কর; একদিন সাওম পালন কর আর একদিন সাওম ভঙ্গ কর।

2390। আবূ হাসীন আব্দুল্লাহ ইবনু আহমদ (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে এক মহিলা বিবাহ করালেন এবং তাকে দেখতে আসলেন এবং জিজ্ঞাসা করলেন যে, তুমি তোমার স্বামীকে কেমন পেলে? সে বলল খুবই ভাল লোক। তিনি রাত্রে নিদ্রাও যান না আর দিনেও সাওম ভঙ্গ করেন না। তখন আমার পিতা আমাকে তিরস্কার করে বললেন, আমি তোমাকে এক মুসলিম মহিলা বিবাহ করালাম আর তুমি তাকে এভাবে ঠেলে রাখলে। [আব্দুল্লাহ (রাঃ)] বলেন, আমি নিজের মধ্যে শক্তি অনুভব করার কারণে আমর পিতার তিরস্কারের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করছিলাম না। এ সংবাদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌছালে তিনি বললেন, আমি তো সালাতও আদায় করি আবার নিদ্রাও যাই, সাওম পালনও করি আবার সাওম ভঙ্গও করি। তাই তুমিও সালাত আদায় কর, নিদ্রা যাও, সাওম পালন কর এবং সাওম ভঙ্গও কর। তিনি বললেন, তুমি প্রত্যেক মাসে তিন দিন সাওম পালন কর। তখন আমি বললাম, আমি তো এরও অধিক সাওম পালনের সামর্থ্য রাখি। তিনি বললেন, তাহলে তুমি দাঊদ (আঃ) এর সাওম পালন কর। একদিন সাওম পালন কর আর একদিন সাওম ভঙ্গ কর। আমি বললাম আমি তো এর চেয়েও অধিক সাওম পালনের সামর্থ্য রাখি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাহলে তুমি প্রতি মাসে এক খতম করে কুরআন তিলাওয়াত কর। অতঃপর তিনি তা পনের দিনে খতম করার অনুমতি দিলে আমি বললাম, আমি এর চেয়েও অধিক এর চেয়ে অধিক সামর্থ্য রাখি।

2391। ইয়াহইয়া ইবনু দুরুসত (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ (রাঃ) বলেছেন যে, একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কামরায় প্রবেশ করলেন এবং বললেন, আমাকে অবহিত করা হয়েছে যে, তুমি নাকি সারা রাত্র সালাত আদায় কর এবং সারাদিন সাওম পালন কর? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তখন তিনি (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি কখনো এরূপ করবে না বরং কিছুক্ষণ নিদ্রা যাবে। আর কিছুক্ষন সালাত আদায় করবে এবং কখনো কখনো সাওম পালন করবে আবার কখনো সাওম ভঙ্গও করে ফেলবে। কেননা তোমার চক্ষুর জন্য তোমার উপর হক রয়েছে, তোমার শরীরের জন্য তোমার উপর হক রয়েছে, তোমার স্ত্রীর জন্য তোমার উপর হক রয়েছে, তোমার মেহমানের জন্য তোমার উপর হক রয়েছে, তোমার বন্ধুর জন্য তোমার হক রয়েছে। আশা করি, তুমি দীর্ঘজীবী হও! তোমার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, তুমি প্রত্যেক মাসে তিন দিন সাওম পালন করবে। ইহাই সারা বছর সাওম পালন করার সমান হবে, যেহেতু প্রত্যেক ভাল কাজের জন্য তার দশ দশ গুন সওয়াব রয়েছে। আমি বললাম, আমি তো এর চেয়েও অধিক সামর্থ্য রাখি। আমি কঠোরতা অবলম্বন করতে চাইলে তিনি তার অনুমতি দিলেন। তিনি বললেন, তুমি প্রতি সপ্তাহে তিন দিন সাওম পালন করবে। আমি বললাম, আমি তো এর চেয়েও অধিক সাওম পালনের সামর্থ্য রাখি। আমি কঠোরতা অবলম্বন করতে চাইলে তিনি তার অনুমাতি দিলেন। তিনি বললেন, তুমি আল্লাহর নবী দাঊদ (আঃ) এর ন্যায় সাওম পালন কর। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, দাঊদ (আঃ) এর সাওম কিরূপ ছিল? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, বছরের অর্ধেক সময়।

2392। রবী ইবনু সূলায়মান (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে তার সমন্ধে উল্লেখ করা হলে তিনি বলেনঃ আমি যতদিন বেঁচে থাকব ততদিন অবশ্যই সারা রাত্র সালাত আদায় করব এবং অবশ্যই সারা দিন সাওম পালন করব। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কি এরূপ বলেছ? আমি তাঁকে বললাম ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি নিশ্চয়ই এরূপ বলেছি। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি এ রকম পারবে না। অতএব তুমি কখনো কখনো সাওম পালন কর-আর কখনো সাওম ভঙ্গ করে ফেল এবং কিছু সময় নিদ্রা যাও আর কিছু সময় সালাত আদায় কর। আর প্রতি মাসে তিন দিন সাওম পালন কর। কেননা প্রত্যেক ভাল কাজের জন্য তার দশ দশ গুণ সওয়াব রয়েছে। আর এটাই বছর সাওম পালনের সমান। আমি বললাম, আমি তো এর চেয়েও অধিক সাওম পালন করার সামর্থ্য রাখি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি এক দিন সাওম পালন কর এবং দুই দিন সাওম ভঙ্গ কর। আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি তো এর চেয়েও অধিক সাওম পালন করার সামর্থ্য রাখি। তিনি বললেন, তাহলে তুমি একদিন সাওম পালন কর, একদিন সাওম ভঙ্গ কর। আর এটাই দাঊদ (আঃ) এর সাওম এবং এটাই হলো সর্বোত্তম সাওম। আমি বললাম, আমি তো এর চেয়েও অধিক সাওম পালন করার সামর্থ্য রাখি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এর চেয়ে উত্তম সাওম আর হয় না। আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) বলেন, যে তিন দিনের সাওম পালন করার কথা বলেছিলেন তা গ্রহণ করাই আমার নিকট আমার পরিবার-পরিজন ও আমার ধন-সম্পদ থেকে অধিকতর প্রিয় মনে হয়।

2393। আহমদ ইবনু বাককার (রহঃ) ... আবূ সালামা ইবনু আব্দুর রহমান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) এর কাছে গিয়ে বললাম, হে চাচা! রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাকে যা বলেছিলেন তা আমাকে বলুন। তিনি বললেন, হে আমার ভ্রাতূষ্পুত্র, আমি দৃঢ় সংকল্প করেছিলাম যে, আমি অত্যধিক পবিশ্রম করব, এমনকি মনে মনে বলেছিলাম যে, আমি অবশ্যই সারা জীবন সাওম পালন করব এবং প্রত্যেক দিবা রাত্রে একবার কুরআন খতম করব। এ খবর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুনে ফেললে তিনি আমার কাছে আসলেন এবং ঘরে প্রবেশ করে বললেন যে, আমি শুনেছি তুমি নাকি বলেছ যে, আমি অবশ্যই সারা জীবন সাওম পালন করব এবং সারাক্ষণ কুরআন তিলাওয়াত করব? আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি অবশ্যই বলেছি। তিনি বললেন, তুমি এরূপ কর না বরং তুমি প্রত্যেক মাসে তিন দিন সাওম পালন করবে। আমি বললাম, আমি তো এর চেয়েও অধিক সাওম পালন করার সামর্থ্য রাখি। তিনি বললেন, তাহলে তুমি প্রত্যেক সপ্তাহে দুই দিন সাওম পালন করবে সোমবার এবং বৃহষ্পতিবার। আমি বললাম, আমি তো এর চেয়েও অধিক সাওম পালনের সামর্থ্য রাখি। তিনি বললেন, তাহলে তুমি দাঊদ (আঃ) এর ন্যায় সাওম পালন করবে। কেননা সেটাই আল্লাহ তা'আলার নিকট সর্বোত্তম সাওম। একদিন সাওম পালন করবে আর একদিন সাওম ভঙ্গ করে ফেলবে। আর দাঊদ (আঃ) যখন ওয়াদা করতেন তা পূর্ণ করতেন আর যখন শক্রর মুখোমুখী হতেন পলায়ন করতেন না।

2394। মুহাম্মাদ ইবনু মুছান্না (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেছিলেন, তুমি (প্রত্যেক দশ দিনে) একদিন সাওম পালন করবে তা হলে অবশিষ্ট দিনগুলোর সওয়াবও তোমার অংশে লেখা হবে। তিনি বলেন, আমি তো এর চেয়েও অধিক সাওম পালনের সামর্থ্য রাখি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তা হলে তুমি দুই দিন সাওম পালন কর তাহলে অবশিষ্ট দিনগুলোর সওয়াবও তোমার অংশে লেখা হবে। তিনি বললেন, আমি তো এর চেয়েও অধিক সাওম পালনের সামর্থ্য রাখি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাহলে তুমি তিন দিন সাওম পালন কর, তাহলে অবশিষ্ট দিনগুলোর সওয়াবও তোমার অংশে লেখা হবে। তিনি বললেন, আমি তো এর চেয়েও অধিক সাওম পালনের সামর্থ্য রাখি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাহলে তুমি আল্লাহ তা'আালার নিকট সর্বোত্তম সাওম দাঊদ (আঃ) এর সাওম পালন কর। তিনি একদিন সাওম পালন করতেন আর একদিন সাওম ভঙ্গ করতেন।

2395। মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল আলা (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে সাওমের উল্লেখ করলে তিনি বললেন, তুমি প্রত্যেক দশ দিনে এক দিন সাওম পালন কর তাহলে অবশিষ্ট নয় দিনের সওয়াবও তোমার অংশে লেখা হবে। আমি বললাম, আমি তো এর চেয়েও অধিক সাওম পালনের সামর্থ্য রাখি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাহলে তুমি প্রত্যেক নয়দিনে এক দিন সাওম পালন কর তাহলে অবশিষ্ট আট দিনের সওয়াবও তোমার অংশে লেখা হবে। আমি বললাম, আমি তো এর চেয়েও অধিক সাওম পানলের সামর্থ্য রাখি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাহলে তুমি প্রত্যেক আট দিনে এক দিন সাওম পালন কর তাহলে অবশিষ্ট সাত দিনের সওয়াবও তুমি পাবে। আমি বললাম, আমি তো এর চেয়েও অধিক সাওম পালনের সামর্থ্য রাখি। তিনি বললেন, আমি এরকম বলতেই থাকলাম, শেষ পর্যন্ত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি একদিন সাওম পালন কর আর একদিন সাওম ভঙ্গ কর।

2396। মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) এবং যাকারিয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ... শুআয়ব (রহঃ)-এর পিতা আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ তুমি একদিনের সাওম পালন কর তাহলে তুমি দশ দশ দিন সাওম পালন করার সওয়াব পাবে। আমি বললাম, আরো কিছু বাড়িয়ে দিন। তিনি বললেন, তাহলে তুমি দুই দিনের সাওম পালন কর, তাহলে অবশিষ্ট নয়দিনের সাওম পালন করার সওয়াবও তোমার অংশে লেখা হবে। আমি বললাম, আরো কিছু বাড়িয়ে দিন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাহলে তুমি তিন দিনের সাওম পালন কর, তাহলে অবশিষ্ট আট দিনের সাওম পালন করার সওযাবও তোমার অংশে লেখা হবে। ছাবিত (রহঃ) বলেন যে, আমি এ হাদীস মুতাররিফ (রহঃ)-এর কাছে উল্লেখ করলে তিনি বললেন, আমার মনে হয় এ হাদীসের অর্থ হল, সাওম পালনকারী আমলের সংখ্যা বাড়ালেও সওয়াব কম হবে। বর্ণনাকারী মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) এভাবে বর্ণনা করেছেন।

2397। মুহাম্মাদ ইবনু উবায়দ (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার কাছে সংবাদ পৌছেছে যে, তুমি নাকি সারা রাত্র সালাত আদায় কর এবং সারা দিন সাওম পালন কর? আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! এর দ্বারা তো আমি ভালই আশা করে থাকি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সর্বদা সাওম পালনকারীর সাওম গ্রহণযোগ্য নয়। তবে আমি তোমাকে সর্বদা সাওম পালন করার নিয়ম বলে দিচ্ছি। তা হল প্রত্যেক মাসে তিন দিন সাওম পালন করা। আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি তো এর চেয়েও অধিক সাওম পালন করার সামর্থ্য রাখি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাহলে তুমি পাঁচ দিন সাওম পালন কর। আমি বললাম, আমি তো এর চেয়েও অধিক সাওম পালন করার সামর্থ্য রাখি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাহলে তুমি দশ দিন সাওম পালন কর। আমি বললাম, আমি তো এর চেয়েও অধিক সাওম পালন করার সামর্থ্য রাখি। তিনি বললেনঃ তাহলে তুমি দাঊদ (আঃ) এর সাওম পালন কর- তিনি একদিন সাওম পালন করতেন আর একদিন সাওম ভঙ্গ করতেন।

2398। আলী ইবনু হুসাইন (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তারপর দীর্ঘ হাদীস বর্ণনা করলেন।

2399মুহাম্মাদ ইবন আবদুল আ'লা (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবন আমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, হে আব্দুল্লাহ ইবন আমর! তুমি নাকি সর্বদা সাওম পালন কর এবং সারা রাত্রে সালাত আদায় কর? তুমি যখন এরূপ করতে থাকবে তখন তোমার চক্ষু কোটেরাগত হয়ে যাবে এবং শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। সর্বদা সাওম পালনকারীর সাওম গ্রহণযোগ্য নয়। সারা জীবনের সাওম হল প্রত্যেক মাসে তিন দিন সওম পালন করা। আমি বললাম, আমি তো এর চেয়েও অধিক সাওমি পালন করার সামর্থ্য রাখি। তিনি বললেন, তাহলে তুমি দাউদ (আ.)-এর সাওমি পালন কর- তিনি একদিন সাওম পালন করতেন আর একদিন সওম ভঙ্গ করতেন। এবং (শত্রুর) মুখোমুখী হলে পলায়ন করতেন না।

2400মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবন আমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি মাসে একবার কুরআন খতম কর। আমি বললাম, আমি তো এরচেয়েও অধিক পড়তে পারি। আমি তাঁর কাছে আরো বাড়াবার আবেদন করতে থাকলে শেষ পর্যন্ত তিনি আমাকে পাঁচ দিনে কুরআন খতম করতে বললেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বললেন, তুমি মাসে তিন দিন সাওম পালন কর । আমি বললাম, আমি তো এরচেয়েও অধিক সাঞ্জাম পালন করার সামর্থ্য রাখি। আমি তার কাছে আরো বাড়াবার আবেদন করতে থাকলে শেষ পর্যন্ত তিনি আমাকে আল্লাহ তা’আলার নিকট সবেত্তিম সাওম দাউদ (আ.)-এর সাওম পালন করতে বললেন। তিনি একদিন সাওম পালন করতেন। আর একদিন সাওম ভঙ্গ করতেন।

2401ইবরাহীম ইবন হাসান (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবন আমর ইবন আস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে সংবাদ পৌঁছলে যে, আমি সর্বদা সাওম পালন করে থাকি এবং সারা রাত্রে সালাত আদায় করে থাকি। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কাছে সংবাদ পাঠালেন কিংবা তিনি তাঁর সাথে সাক্ষাত করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন আমাকে সংবাদ দেওয়া হয়েছে যে, তুমি সর্বদা সাওম পালন কর; সাওম ভঙ্গ কর না এবং সারা রাত্রে সালাত আদায় করে থাকে। তুমি এরূপ করবে না। কেননা, তোমার চক্ষুর জন্য তোমার উপর হক রয়েছে। তোমার শরীরের জন্য তোমার উপর হক রয়েছে। তোমার স্ত্রীর জন্য তোমার উপর হক রয়েছে। তুমি কখনো কখনো সাওম পালন করবে। আবার কখনো সাওম ভঙ্গও করে ফেলবে। এবং রাত্রের কিছু সময় সালাত আদায় করবে। আর কিছু সময় নিদ্ৰা যাবে। তুমি প্রত্যেক দশ দিনে একদিন সাওম পালন করবে, তাহলে তোমার জন্য অবশিষ্ট নয় দিনের সওয়াবও লেখা হবে। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি তো এর চেয়েও অধিক সাত্তম পালন করার সামর্থ্য রাখি। তিনি বলেন, তাহলে তুমি দাউদ (আ.)-এর সাওম পালন কর। তিনি বলেন দাউদ (আ.)-এর সাওম কিরূপ ছিল। ইয়া রাসূলাল্লাহ? তিনি বলেন, দাউদ (আ.) একদিন সাওম পালন করতেন আর তিনি একদিন সাওম ভঙ্গ করতেন। আর তিনি শত্রুর মুখোমুখী হলে পলায়ন করতেন না। তিনি বললেন যে, হে আল্লাহ্‌র নবী! আমার সেই শক্তি কোথায়?

2402যাকারিয়া ইবন ইয়াহইয়া (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবন আমার (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে আমার সাওম পালন সম্পর্কে উল্লেখ করা হলে তিনি আমার কাছে আসলেন এবং আমি তাঁর জন্য একটি খেজুরের বাকল ভর্তি মধ্যম আকারের চামড়ার বালিশ আগিয়ে দিলাম। তিনি মাটিতে বসে গেলেন এবং বালিশ আমার আর তাঁর মাঝখানে ছিল। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার জন্য কি প্রত্যেক মাসে তিন দিন সওম পালন যথেষ্ট নয়? আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! (আমার জন্য আরো বাড়িয়ে দিন) তিনি বললেন, তাহলে পাঁচ দিন? আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! (আমার জন্য আরো বাড়িয়ে দিন) তিনি বললেন, তাহলে সাত দিন? আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! (আমার জন্য আরো বাড়িয়ে দিন) তিনি বললেন, নয় দিন? আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! (আমার জন্য আরো বাড়িয়ে দিন) তিনি বললেন, তাহলে এগার দিন? আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! (আরো বাড়িয়ে দিন) তিনি বললেন, দাউদ (আ.)-এর সাওমের উপরে কোন সাওম হতে পারে না। আর তা হল সারা জীবনের অর্ধেক একদিন সাওম পালন করা আর একদিন সওম ভঙ্গ করা।

2403ইবরাহীম ইবন হাসান (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবন আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ তুমি প্রত্যেক মাসে একদিন সওম পালন কর তাহলে অবশিষ্ট দিনগুলোর সওয়াবও তুমি পাবে। আমি বললাম, আমি তো এর চেয়েও অধিক সাওম পালনের সামর্থ্য রাখি। তিনি বললেন, তবে তুমি দুইদিন সওম পালন কর, অবশিষ্ট দিনগুলোর সওয়াবও তুমি পাবে। আমি বললাম, আমি তো এর চেয়েও অধিক সাওম পালনের সামর্থ্য রাখি। তিনি বললেন, তবে তুমি তিন দিন সাওম পালন কর, অবশিষ্ট দিনগুলোর সওয়াবও তুমি পাবে। আমি বললাম, আমি তো এর চেয়েও অধিক সওম পালনের সামৰ্থ্য রাখি। তিনি বললেন, তবে তুমি চারদিন সওম পালন কর, তুমি অবশিষ্ট দিনগুলোর সওয়াবও তুমি পাবে। আমি বললাম, আমি তো এর চেয়েও অধিক সাওম পালনের সামর্থ্য রাখি। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সর্বোত্তম সাওম হল দাউদ (আ.)-এর সাওম। তিনি একদিন সওম পালন করতেন আর একদিন সাওম ভঙ্গ করতেন।

2404আলী ইবন হজর (রহঃ) ... আবু যর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার বন্ধু (রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তিনটি আমলের ওসীয়্যত করেছেন; ইনশাআল্লাহ আমি সেগুলো কখনো পরিত্যাগ করব না। তিনি আমাকে চাশতের সালাত এবং নিদ্ৰা যাওয়ার পূর্বে বিত্বরের সালাত আদায় করার আর প্রত্যেক মাসে তিন দিন সাওম পালন করার ওসীয়্যত করেছেন।)

2405মুহাম্মদ ইবন আলী (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তিনটি আমলের নির্দেশ দিয়েছেন- বিতরের সালাত আদায় করেই নিদ্রা যাওয়ার, শুক্রবার দিন গোসল করার এবং প্রত্যেক মাসে তিন দিন সাওম পালন করার।

2406যাকারিয়া ইবন ইয়াহইয়া (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দুই রাকাআত চাশতের সালাত আদায় করার, বিতরের সালাত আদায় করার পরই নিদ্ৰা যাওয়ার এবং প্রত্যেক মাসে তিন দিন সওম পালন করার নির্দেশ দিয়েছেন।

2407মুহাম্মদ ইবন রাফি' (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বিতরের সালাত আদায় করার পরই নিদ্ৰা যাওয়ার, শুক্রবার দিন গোসল করার এবং প্রত্যেক মাসে তিন দিন সাওম পালন করার নির্দেশ দিয়েছেন।

2408যাকারিয়া ইবন ইয়াহইয়া (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেছেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, ধৈর্যের মাস হল রমযান মাস আর প্রত্যেক মাসে তিন দিন সাওম পালন করা সারা বছর সওম পালন করার সমতুল্য।

2409আলী ইবন হাসান লানী (রহঃ) ... আবু যর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রতি মাসে তিন দিন সাওম পালন করল সে যেন সারা বছর সাওম পালন করল। অতঃপর তিনি বললেন, আল্লাহ তা'আলা কুরআনে সত্যই বলেছেন, যে ব্যক্তি একটি ভাল কাজ করবে: তাকে তার দশ গুণ সওয়াব দেওয়া হবে।

2410মুহাম্মদ ইবন হাতিম (রহঃ) ... আবু যর (রাঃ) বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি ঐ যে ব্যক্তি প্রতি মাসে তিন দিন সওম পালন করল সে যেন সারা মাস সাওম পালন করল অথবা তিনি বলেছেনঃ তার জন্য সারা মাস সাওম পালন করার সওয়াব রয়েছে।

2411কুতায়বা (রহঃ) ... উসমান ইবন আবুল আস (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি? উত্তম সাত্তম হল প্ৰতি মাসে তিন দিন সাওম পালন করা।

2412যাকারিয়া ইবন ইয়াহইয়া (রহঃ) ... উসমান ইবন আবুল আস (রাঃ) মুরসালরূপে অনুরূপ বলেছেন।

2413ইউসুফ ইবন সাঈদ (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) বলেছেন যে, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক মাসে তিন দিন সাওম পালন করতেন।

2414হাসান ইবন মুহাম্মদ যাফরানী (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক মাসে তিন দিন সাওম পালন করতেন। মাসের প্রথম সপ্তাহে সোমবার, তার পরবর্তী সপ্তাহে বৃহস্পতিবার এবং তার পরবতী সপ্তাহে বৃহস্পতিবার।

2415আলী ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) ... উম্মুল মুমিনীন [হাফসা (রাঃ)] বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক মাসে তিন দিন সওম পালন করতেন। মাসের প্রথম সোমবার, তারপর বৃহস্পতিবার এবং তার পরবর্তী বৃহস্পতিবার।

2416আবু বকর ইবন আবু নযর (রহঃ) ... হাফসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, চারটি আমল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো পরিত্যাগ করতেন না। আশুরার দিনের সাওম, যিলহজ্জ মাসের নয় দিনের সাওম, প্রত্যেক মাসে তিন দিনের সাওম এবং ফজরের দু' রাকাআত সুন্নাত।

2417আহমদ ইবন ইয়াহইয়া (রহঃ) ... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কোন স্ত্রী থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যিলহজ্জ মাসের নয় দিন, আশুরার দিন এবং প্রত্যেক মাসের তিন দিন সাওম পালন করতেন-মাসের সোমবার এবং দুই বৃহস্পতিবার

2418মুহাম্মদ ইবন উসমান (রহঃ) ... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কোন স্ত্রী থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যিলহজ্জ মাসের নবম তারিখ এবং প্রত্যেক মাসের তিন দিন সওম পালন করতেন-সোমবার (দু' সোমবার) এবং বৃহস্পতিবার।

2419ইবরাহীম ইবন সাঈদ জাওহারী (রহঃ) ... উম্মে সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক মাসের তিন দিন সওম পালন করার নির্দেশ দিতেন। মাসের প্রথম বৃহস্পতিবার, তারপরে পরবর্তী সোমবার এবং তার পরবর্তী সোমবার।

2420মাখলাদ ইবন হাসান (রহঃ) ... জারীর ইবন আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্র থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, প্ৰত্যেক মাসের তিন দিন সাওম পালন করা সারা জীবন সাওম পালন করার সমতুল্য। আর আইয়ামে বীয—তের তারিখের সকাল থেকে চৌদ্দ এবং পনের তারিখ পর্যন্ত ।

2421মুহাম্মদ ইবন মা'মার (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে একজন বেদুঈন একটি ভুনা খরগোশ নিয়ে আসল এবং তা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে রাখল। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা খাওয়া থেকে বিরত রইলেন। কিন্তু উপস্থিত সাহাবীগণকে তা খেতে বললেন। বেদুঈন ব্যক্তিও বিরত রইল। তখন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, তুমি কেন খাওয়া থেকে বিরত রাইলে? সে বলল, আমি মাসের তিন দিন সওম পালন করছি। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যদি সাওম পালনই কর তবে আলোময় দিনের সাওমই পালন কর (আইয়ামে বীয্যের সওম পালন কর)।

2422মুহাম্মদ ইবন আব্দুল আযীয (রহঃ) ... আবু যর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে প্রত্যেক মাসের আইয়ামে বীয্যের তিন দিন সওম পালন করার নির্দেশ দিয়েছেন- তের তারিখ, চৌদ্দ তারিখ এবং পনের তারিখের।

2423আমর ইবন ইয়াযীদ (রহঃ) ... আবু যর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে প্রত্যেক মাসে আইয়ামে বীযের তিন দিন সাওম পালন করার নির্দেশ দিয়েছেন অর্থাৎ তের তারিখ, চৌদ্দ তারিখ এবং পনের তারিখের।

2424আমর ইবন ইয়াযীদ (রহঃ) ... আবু যর (রাঃ) রাবাযা নামক স্থানে বলেছেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেনঃ তুমি যখন মাসের কোন সাওম পালন করবে তখন তের তারিখ, চৌদ্দ এবং পনের তারিখের সাওম পালন করবে।

2425মুহাম্মদ ইবন মানসূর (রহঃ) ... আবু যর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে বলেছিলেন, তোমার উপর তের তারিখ, চৌদ্দ তারিখ এবং পনের তারিখের সাওম পালন করা উচিত।

2426মুহাম্মদ ইবন মুছান্না (রহঃ) ... আবু যর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে তের তারিখ, চৌদ্দ তারিখ এবং পনের তারিখের সাওম পালন করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

2427আহমদ ইবন উসমান (রহঃ) ... ইবনুল হাওতাকিয়্যা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা বলেছেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এক বেদুঈন ব্যক্তি আসল, তার সাথে একটি ভুনা খরগোশ এবং কিছু রুটি ছিল। সে তা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে রাখল এবং বলল যে, আমি তাকে রক্তস্রাব অবস্থায় পেয়েছি। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় সাহাবীগণকে বললেন: এটা ক্ষতিকর নয়, অতএব তোমরা খাও এবং বেদুঈন ব্যক্তিটিকে বললেন, তুমিও খাও। সে বলল, আমি সাওম পালন করছি। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, এটা কিসের সাওম? সে বলল, মাসের তিন দিনের সাওম। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যদি তুমি সাওম পালন করই তবে উজ্জ্বল আলোময় দিনগুলোয় সাওম পালন কর অর্থাৎ তের তারিখ, চৌদ্দ তারিখ এবং পনের তারিখের ।

2428আমর ইবন ইয়াহইয়া (রহঃ) ... মূসা ইবনু তালহা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে একটি খরগোশ নিয়ে আসল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিকে হাত বাড়িয়ে দিলেন। তখন বাহক বলল যে, আমি এর সাথে রক্ত দেখেছি তারপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাত গুটিয়ে নিলেন এবং সাহাবীদের নির্দেশ দিলেন যে, তোমরা খাও, উপস্থিত সাহাবীদের মধ্যে একজন পাশে বসা ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন তোমার কি হল? সে বলল যে, আমি সাওম পালন করছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, তুমি আইয়ামে বীযের তিন দিনের সাওম কখনো পরিত্যাগ করবে না। অর্থাৎ তের তারিখ, চৌদ্দ তারিখ এবং পনের তারিখের সাওম ।

2429মুহাম্মদ ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) ... মূসা ইবনু তালহা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এক ব্যক্তি একটি ভুনা খরগোশ রেখে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি এর সাথে রক্ত দেখেছি। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিরত রইলেন এবং খেলেন না, কিন্তু তাঁর সামনে যারা ছিলেন তাদেরকে বললেন, তোমরা খাও। কেননা আমার আগ্রহ থাকলে আমিও খেতাম। আর এক ব্যক্তি পাশে বসা ছিল। রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, এসো। এদের সাথে খাও। সে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ ! আমি সাওম পালন করছি। তখন তিনি বললেন, তুমি আইয়ামে বীযের সাওম কেন পালন করলে না। সে বলল, আইয়ামে বীয কি? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তের তারিখ, চৌদ্দ তারিখ এবং পনের তারিখ।

2430মুহাম্মদ ইবন আব্দুল আ'লা (রহঃ) ... আব্দুল মালিক (রহঃ)-এর পিতা থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আইয়ামে বীযের এই তিন দিন সওম পালন করার নির্দেশ দিতেন এবং বলতেন যে, এই তিন দিনের সাওম সারা মাসের সাওম পালন করার সমতুল্য।

2431মুহাম্মদ ইবন হাতিম (রহঃ) ... আব্দুল মালিক (রহঃ)-এর পিতা আবুল মিনহাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে আইয়ামে বীযের তিন দিনের সাওমে পালন করার নির্দেশ দিতেন এবং বলতেন যে, এই তিন দিনের সাওম সারা মাস সাওম পালন করার সমতুল্য।

2432মুহাম্মদ ইবন মামার (রহঃ) ... আব্দুল মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে আলোকোজ্জ্বল রাত বিশিষ্ট আইয়ামের বীযের তিন দিনের সাওমে পালন করার নির্দেশ দিয়েছেন। তের, চৌদ্দ এবং পনের তারিখের।

2433আমর ইবন আলী (রহঃ) ... আবু নওফল (রহঃ)-এর পিতা আবূ আকারাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে একবার (নফল) সাওম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, তুমি প্রতি মাসে এক দিন সওম পালন কর। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আরো বাড়িয়ে দিন। আরো বাড়িয়ে দিন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি বলছ, আরো বাড়িয়ে দিন, আরো বাড়িয়ে দিন ইয়া রাসূলাল্লাহ! তাহলে প্রতি মাসে দু'দিন। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ। আর একটু বাড়িয়ে দিন, আর একটু বাড়িয়ে দিন, আমি এর চেয়েও অধিক সাওম পালন করার সামর্থ্য রাখি। তিনি বললেন, “আর একটু বাড়িয়ে দিন, আর একটু বাড়িয়ে দিন, আমি এর চেয়েও অধিক সাওম পালন করার সামর্থ্য রাখি। একথা বলেরাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুপ হয়ে গেলেন। আমি ধারণা করলাম যে, তিনি নিশ্চয়ই আমার আবেদনে সাড়া দিবেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি প্রত্যেক মাসে তিন দিন সওম পালন কর।

2434আব্দুর রহমান ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) ... আবু নওফল (রাঃ)-এর পিতা আবু আকারাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সাওম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন, তুমি প্রত্যেক মাসে একদিন সওম পালন কর। তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আরো সময় বাড়ানোর আবেদন করে বললেন, আপনার উপর আমার পিতা-মাতা কুরবান হােক। আমি তো এর চেয়েও অধিক সাওম পালনের সামৰ্থ্য রাখি। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সময় আরো বাড়িয়ে দিলেন। তিনি বললেন, তুমি প্রতি মাসে দু'দিন সাওম পালন কর। তখন তিনি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার উপর আমার পিতা-মাতা কুরবান হােক। আমি তো এর চেয়েও অধিক সাপ্তম পালন করার সামৰ্থ্য রাখি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সময় আরো বাড়িয়ে দিলেন। তিনি বললেন, তুমি প্রতি মাসে দুদিন সওম পালন কর। তখন তিনি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনার উপর আমার পিতা-মাতা কুরবান হােক। “আমি তো এর চেয়েও অধিক সাপ্তম পালন করার সামর্থ্য রাখি। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি তো এর চেয়েও অধিক সাওম পালন করার সামর্থ্য রাখি। আমি তো এর চেয়েও অধিক সাওম পালন করার সামৰ্থ্য রাখি। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জন্য বাড়াতেই রাজী ছিলেন না। যখন তিনি রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে বারবার মিনতি করছিলেন তখন রাসূলুল্লাহ বললেন, তুমি প্রতি মাসে তিন দিন সওম পালন কর।

উৎস: Sunan an Nasai

WEBREATH · 11:11

«Should I not be a thankful servant?» — Sahih al-Bukhari

Breath is one for all: everyone lives by it, whoever they are and whatever they believe. Every day at 11:11 local time people stop for sixty seconds, breathe, and thank GOD for the breath — each in their own words, each within themselves. In that minute we are One Breath.

WEBREATH — the Minute at 11:11, your own local time — we are One Breath