হাদিস
ফিরে যান

সুনানে নাসায়ী 21 · The Book of Funerals

আপনার ভাষায় এখনো কোনো অনুবাদ নেই — ইংরেজি দেখাচ্ছে

1818। হারুন ইবনু আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ কখনো মৃত্যু কামনা করবে না। কেননা সে যদি নেককার হয় তাহলে হয়ত তার নেকী আরো পাবে। আর যদি সে বদকার হয় তাহলে হয়ত সে তাওবার দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারবে।

1819। আমর ইবনু উসমান (রহঃ) ... আবূ উবায়দ (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি আবূ হুরায়রা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ কখনো মৃত্যু কামনা করবে না। কেননা সে যদি নেককার হয় তাহলে হয়ত সে জীবিত থেকে আরো নেকী অর্জন করতে পারবে, যা তার জন্য মঙ্গলজনক হবে। আর যদি সে বদকার হয় তাহলে হয়তো সে তাওবার দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারবে।

1820। কুতায়বা (রহঃ) ... আনাস (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন কখনো পার্থিব বালা-মুসীবতে নিপতিত হওয়ার কারণে মৃত্যু কামনা না করে, বরং সে যেন বলেঃ اللَّهُمَّ أَحْيِنِي مَا كَانَتِ الْحَيَاةُ خَيْرًا لِي وَتَوَفَّنِي إِذَا كَانَتِ الْوَفَاةُ خَيْرًا لِي হে আল্লাহ! যতদিন পর্যন্ত আমার জীবিত থাকা মঙ্গলজনক হয়, ততদিন পর্যন্ত আপনি আমাকে জীবিত রাখুন, আর যখন আমার মৃত্যু মঙ্গলজনক হয় তখন আপনি আমাকে মৃত্যু দিন।

1821। আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সাবধান! তোমাদের কেউ যেন কখনো পার্থিব বালা-মুসীবতের সম্মুখীন হয়ে মৃত্যু কামনা না করে। একান্ত যদি মৃত্যূ কামনা করতেই হয় তাহলে যেন বলেঃ اللَّهُمَّ أَحْيِنِي مَا كَانَتِ الْحَيَاةُ خَيْرًا لِي وَتَوَفَّنِي إِذَا كَانَتِ الْوَفَاةُ خَيْرًا لِي হে আল্লাহ, আমার জীবিত থাকা যতদিন পর্যন্ত মঙ্গলজনক হয় ততদিন পর্যন্ত আপনি আমাকে জীবিত রাখুন, আর যখন আমার মৃত্যু মঙ্গলজনক হয়, তখন আপনি আমাকে মৃত্যু দিন।

1822। আহমদ ইবনু হাফস (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা মৃত্যুর দোয়া করবে না এবং তার কামনাও করবে না। একান্ত কাউকে যদি দোয়া করতেই হয় তাহলে সে যেন বলেঃ اللَّهُمَّ أَحْيِنِي مَا كَانَتِ الْحَيَاةُ خَيْرًا لِي وَتَوَفَّنِي إِذَا كَانَتِ الْوَفَاةُ خَيْرًا لِي হে আল্লাহ আমার জীবিত থাকা যতদিন পর্যন্ত মঙ্গলজক হয় যতদিন পর্যন্ত আপনি আমাকে জীবিত রাখুন, আর যখন আমার মৃত্যু মঙ্গলজনক হয় তখন আমাকে মৃত্যু দিন।

1823। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... কায়স (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি খাব্বাব (রাঃ)-এর কাছে উপস্থিত হলাম, তখন তার পেটের সাত জায়গায় ক্ষত ছিল। তিনি বলেন, যদি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মৃত্যুর দোয়া করতে বারণ না করতেন, তাহলে আমি মৃত্যুর দোয়া করতাম।

1824। হুসায়ন ইবনু হুরায়ছ এবং মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা মৃত্যুকে অধিক স্মরণ কর।

1825। মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না (রহঃ) ... উম্মে সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, তোমরা যখন মৃত মানুষের কাছে যাও তখন তার ভাল কর্মসমুহের আলোচনা করতে থাকো। কেননা ফেরেশতারা তোমাদের বলার উপর আমীন বলে থাকেন। যখন আবূ সালামা (রাঃ)-এর ইন্তিকাল হল, আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি তার সম্পর্কে কি রকম বাক্য ব্যবহার করব। তিনি বললেন, তুমি বলবেঃ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَنَا وَلَهُ وَأَعْقِبْنِي مِنْهُ عُقْبَى حَسَنَةً হে আল্লাহ, আপনি আমাদের এবং তাকে ক্ষমা করে দিন, এবং আপনি আমাকে তার পরিবর্তে ভাল প্রতিদান দিন। তাই, আল্লাহ তা'আলা আমাকে তার পরিবর্তে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রতিদান স্বরূপ দিয়েছেন।

1826। আমর ইবনু আলী এবং কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা নিজেদের মৃত্যূমুখি ব্যাক্তিদের لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ স্মরণ করিয়ে দাও।

1827। ইবরাহীম ইবনু ইয়াকুব (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা নিজেদের মৃত ব্যক্তিদের لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ স্মরণ করিয়ে দাও।

1828। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... আব্দুল্লাহর পিতা বুরায়দা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যে মু'মিন ব্যক্তি ঘর্মাক্ত ললাটের সাথে মৃত্যুবরণ করে থাকে। (মৃত্যুর সময়ে ললাট ঘর্মাক্ত হওয়া মু'মিনের আলামত।)

1829। মুহাম্মদ ইবনু মা’মার (রহঃ) ... বুরায়দা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, মু'মিন ব্যক্তি ঘর্মাক্ত ললাটের সাথে মৃত্যুবরণ করে থাকে।

1830। আমর ইবনু মানসূর (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মৃত্যুকালীন সময়ে তার মাথা আমার থুতনি এবং গলদেশের মাঝখানে ছিল। তার মৃত্যু যন্ত্রণা দর্শনের পর আমি অন্য কারো মৃত্যু যন্ত্রণা খারাপ মনে করি না।

1831। কুতায়বা (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার সর্বশেষ দৃষ্টিপাত যা আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি করেছিলাম তা ছিল তার পর্দা উঠানোর সময়। তখন সাহাবীরা আবূ বকর (রাঃ)-এর পেছনে কাতার বন্দী সালাত আদায় করছিলেন। পর্দা উঠানোর সময় আবূ বকর (রাঃ) পেছনে সরে আসার ইচ্ছা করলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের প্রতি ইশারা করলেন যে, তোমরা স্থির থাক এবং পর্দা টেনে দিলেন। সে দিনের শেষ প্রহরেই তিনি ইন্তেকাল করেন। সেদিন ছিল সোমবার।

1832। ইউনুস ইবনু আব্দুল আলা (রহঃ) ... আব্দুল্লাহর পিতা আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মদীনায় জন্ম গ্রহণকারীদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি তথায় মারা গেল রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানাযা পড়ে বললেন, এ ব্যক্তি যদি তার জন্মস্থান ভিন্ন অন্য মারা যেত! সাহাবীরা বললেন, কেন ইয়া রাসুলাল্লাহ! তিনি বললেন, কোন ব্যক্তি যদি স্বীয় জনাস্থান ভিন্ন অন্যত্র মারা যায় তাহলে তার জন্মস্থান এবং মৃত্যু স্থানের মধ্যবর্তী দূরত্বের পরিমাপ করে জান্নাতে তাকে ততটুকু স্থান দেয়া হবে।

1833। উবায়দুল্লাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মু'মিন ব্যক্তি যখন মৃত্যুর সম্মুখীন হয় তখন তার কাছে একদল রহমতের ফেরেশতা সাদা রেশমী কাপড় নিয়ে এসে (তার) তাকে উদ্দেশ্য করে বলতে থাকেন, “তুমি আল্লাহ তা’আলার রহমত এবং সন্তুষ্টির পানে বের হয়ে আস আল্লাহ তা'আলা তোমার উপর রুষ্ট নন; তুমি তার উপর সন্তুষ্ট, তিনিও তোমার উপর সন্তুষ্ট। তখন আত্না মেশকের সুঘ্রাণ অপেক্ষাও অধিক সুঘ্রান ছড়াতে ছড়াতে বের হয়ে আসে। যখন ফেরেশতাগণ সলামের খাতিরে আত্নাকে পর্যায়ক্রমে একজনের হাত থেকে অন্যজনের হাতে দিয়ে আসমানের দরজায় নিয়ে আসেন তখন তথাকার ফেরেশতাগণ বলতে থাকেন, এ সূগন্ধি কত না উত্তম! যা তোমরা নিয়ে আসলে। আর তারা তাকে মু'মিনদের রুহ সমূহের কাছে নিয়ে যান। তোমাদের কেউ প্রবাস থেকে আসলে তোমরা যেরূপ আনন্দিত হও, মু'মিনদের রূহও ঐ নবাগত রূহকে পেয়ে ততোধিক আনন্দিত হয়। মুমিনদের রূহ নবাগত রূহকে জিজ্ঞাসা করে যে, অমুক ব্যক্তি দুনিয়াতে কি কাজ করেছে? অমুক ব্যক্তি দুনিয়াতে কি কাজ করেছে? তখন ফেরেশতারা বলেন, তার সম্পর্কে তোমরা কি জিজ্ঞাসা করবে? সে দুনিয়ার চিন্তা-ভাবনায় ছিল। যখন নবাগত রূহ বলেঃ সে কি তোমাদের কাছে আসেনি? তখন আসমানের ফেরেশতারা বলেনঃ তাকে তার বাসস্থান হাবিয়াতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আর কাফির যখন মৃত্যুর সম্মুখীন হয় তখন তার কাছে আযাবের ফেরেশতারা চটের ছালা নিয়ে আগমন করে এবং তাকে উদ্দেশ্য করে বলে থাকে, “তুমি আল্লাহ তা'আলার আযাবের পানে বের হয়ে আস, তুমিও আল্লাহ তা’আলার উপর অসন্তুষ্ট, আল্লাহ তা'আলাও তোমার উপর অসন্তুষ্ট। তখন সে মুর্দারের দুর্গন্ধ থেকেও অধিকতর দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে রের হয়ে আসে। যখন ফেরেশতারা তাকে নিয়ে দুনিয়ার আসমানের দরজায় পৌছে তখন তথাকার ফেরেশতারা বলতে থাকে এ কি দুর্গন্ধ! এরপর ফেরেশতারা তাকে কাফিরদের আত্না সমূহের কাছে নিয়ে যায়।

1834। হান্নাদ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার সাথে সাক্ষাৎ পছন্দ করে আল্লাহ তা’আলাও তার সাথে সাক্ষাৎ পছন্দ করেন, আর যে ব্যক্তি আল্লাহ তা’আলার সাথে সাক্ষাৎ অপছন্দ করে আল্লাহ তা'আলাও তার সাথে সাক্ষাৎ অপছন্দ করেন। রাবী সুরায়হ (রহঃ) বলেন, আমি আয়িশা (রাঃ)-এর কাছে এসে তাকে বললাম, হে উম্মুল মুমিনিন, আমি আবূ হুরায়রা (রাঃ)-কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে একটি হাদীস উল্লেখ করতে শুনেছি; উক্ত হাদীসের বর্ণনা যদি সঠিক হয়ে থাকে তাহলে আমরা তো নিশ্চিতরূপে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে যাব। আয়িশা (রাঃ) জিজ্ঞাসা করলেন, কেন? তিনি বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ তা’আলার সাথে সাক্ষাৎ পছন্দ করে আল্লাহ তা’আলাও তার সাথে সাক্ষাৎ পছন্দ করেন, আর যে ব্যক্তি আল্লাহ তা’আলার সাথে সাক্ষাৎ অপছন্দ করে আল্লাহ তা'আলাও তার সাথে সাক্ষাত অপছন্দ করেন। অথচ আমাদের সবাই মৃত্যুকে অপছন্দ করে থাকে। আয়িশা (রাঃ) বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত হাদীস ঠিকই বলেছেন, কিন্তু তার অর্থ তুমি যা বুঝেছো তা নয়, বরং যখন দৃষ্টি ঊর্ধ্বমুখী হয়ে যায়, হৃদকস্পন শুরু হয়ে যায়, এবং পশমসমূহ দাঁড়িয়ে যায় (শরীর রোমাঞ্চিত হয়ে ওঠে) ওই সংকটময় মুহূর্তে যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার সাথে সাক্ষাৎ পছন্দ করে আল্লাহ তা’আলাও তার সাথে সাক্ষাৎ পছন্দ করেন, আর যে ব্যক্তি আল্লাহ তা’আলার সাথে সাক্ষাৎ অপছন্দ করে আল্লাহ তা’আলাও তার সাথে সাক্ষাৎ অপছন্দ করেন।

1835। হারিছ ইবনু মিসকীন এবং কুতায়রা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহ তা’আলা বলেন, যখন আমার বান্দা আমার সাথে সাক্ষাৎ পছন্দ করে, আমিও তার সাথে সাক্ষাৎ পছন্দ করি। আর যখন সে আমার সাথে সাক্ষাৎ অপছন্দ করে আমিও তার সাথে সাক্ষাৎ অপছন্দ করি।”

1836। মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না (রহঃ) ... উবাদাহ (রাঃ) সুত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার সাথে সাক্ষাৎ পছন্দ করে আল্লাহ তা’আলাও তার সাথে সাক্ষাৎ পছন্দ করেন, আর যে ব্যক্তি আল্লাহ তা’আলার সাথে সাক্ষাৎ অপছন্দ করে আল্লাহও তার সাথে সাক্ষাৎ অপছন্দ করেন।

1837। আবূল আশআছ (রহঃ) ... উবাদাহ ইবনু সামিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ তা’আলার সাথে সাক্ষাৎ পছন্দ করে, আল্লাহ তা’আলাও তার সাথে সাক্ষাৎ পছন্দ। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ তা’আলার সাথে সাক্ষাতকে অপছন্দ করে আল্লাহ তা’আলাও তার সাথে সাক্ষাতকে অপছন্দ করেন।

1838। আমর ইবনু আলী এবং হুমায়দ ইবনু মাসআদা (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি আল্লাহ তা’আলার সাথে সাক্ষাৎ পছন্দ করে আল্লাহ তা’আলাও তার সাথে সাক্ষাৎ পছন্দ করেন। আর সে ব্যক্তি আল্লাহ তা’আলার সাথে সাক্ষাৎ অপছন্দ করে, আল্লাহ তা’আলাও তার সাক্ষাৎ অপছন্দ করেন। আমর (রহঃ) তার হাদীসে এ অংশটূকু বৃদ্ধি করেছেন। বলা হল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আল্লাহ তা'আলার সাথে সাক্ষাৎ অপছন্দ করাতো মৃত্যুকে অপছন্দ করা অথচ আমরা সকলেই তো মৃত্যুকে অপছন্দ করে থাকি। তিনি বললেন, এ হল তার মৃত্যুকালীন অবস্থা, যখন তাকে আল্লাহ তা'আলার মাগফিরাত এবং রহমতের সুসংবাদ দেয়া হয়, তখন সে আল্লাহ তা'আলার সাথে সাক্ষাৎ পছন্দ করে আর আল্লাহ তা’আলাও তার সাথে সাক্ষাৎ পছন্দ করেন। আর যখন তাকে আল্লাহ তা'আলার আযাবের দুঃসংবাদ দেয়া হয়, তখন সে আল্লাহ তা’আলার সাথে সাক্ষাৎ অপছন্দ করে আর আল্লাহ তা’আলাও তার সাথে সাক্ষাৎ অপছন্দ করেন।

1839। আহমদ ইবনু আমর (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আবূ বকর (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চক্ষুদ্বয়ের মাঝখানে চুমু দিয়েছিলেন, তখন তিনি ছিলেন মৃত।

1840। ইয়াকুব ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস এবং আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আবূ বকর (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে চুমু দিয়েছিলেন, তখন তিনি ছিলেন মৃত।

1841। সুওয়ায়দ (রহঃ) ... আবূ সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আয়িশা (রাঃ) তাকে বর্ণনা করেছেন যে, আবূ বকর (রাঃ) তার “সুনহা” নামক স্থানের বাসস্থান থেকে একটি ঘোড়ায় আরোহন করে এসে অবতরণ করলেন এবং মসজিদে প্রবেশ করলেন-তিনি কারো সাথে কোন কথাবার্তা না বলে আয়িশা (রাঃ)-এর কাছে গেলেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি ইয়ামানী চাদরে ঢাকা ছিলেন। তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুখমন্ডল থেকে তা খুলে ফেলে ঝুঁকে পড়ে তাঁকে চুমু খেলেন এবং কাঁদতে কাঁদতে বলতে লাগলেন আপনার উপর আমার মাতা-পিতা কুরবান হোক, আল্লাহর শপথ! আল্লাহ তা’আলা আপনাকে কখনো দু’বার মৃত্যু দান করবেন না। যে মৃত্যু আপনার জন্য নির্ধারিত ছিল তা আপনি বরণ করে নিয়েছেন।

1842। মুহাম্মদ ইবনু মানসূর (রহঃ) ... ইবনু মুনকাদির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি জাবির (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, উহুদের জিহাদের দিন আমার পিতাকে আনা হল, তখন তার দেহ ছিল বিকৃত অবস্থায়। তাকে চাদার দ্বারা ঢাকা অবস্থায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে রাখা হল। আমি তার চাদর খুলতে চাইলে আমার গোত্রের লোকেরা আমাকে বারণ করল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদেশ করলে তা খোলা হল, যখন খোলা হল তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন ক্রন্দনকারী মহিলার আওয়াজ শুনে জিজ্ঞাসা করলেন, এ কে? লোকেরা বলল, এ আমরের মেয়ে বা বোন হবে। তিনি বললেন, তুমি ক্রন্দন করো না অথবা (তিনি বললেন) ক্রন্দন কেন করছ? ফেরেশতারা তাকে উঠিয়ে নেয়া পর্যন্ত সর্বক্ষণ স্বীয় পাখা দ্বারা ছায়া প্রদান করছিল।

1843। হান্নাদ ইবনু সারি (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ছোট মেয়ের মৃত্যুর সময় উপস্থিত হল, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে উঠিয়ে নিয়ে বক্ষের সাথে মিলালেন। তারপর নিজের হাত তার উপর রাখলেন। এরপর তার মৃত্যু হয়ে গেল আর সে তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম–এর সামনে উম্মে আয়মান কেঁদে উঠলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, হে উম্মে আয়মান, তুমি কাঁদছো অথচ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমার সামনে উপস্থিত রয়েছে? তিনি বললেন, আমি কেন কাঁদব না যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বয়ং কাদছেন? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি স্বেচ্ছায় কাঁদছি না বরং যে অশ্রু তুমি দেখছ, তাহলো আল্লাহ তা'আলার রহমত বিশেষ। অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, মু'মিন সব অবস্থায় ভাল থাকে, তার পার্শ্বদ্বয় থেকে আত্না বের করা হয় অথচ তখনও সে আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা করতে থাকে।

1844। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, ফাতিমা (রাঃ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তিকালে এরূপ ক্রন্দন করেছিলেন এবং বলেছিলেনঃ হে আমার পিতা! কোন বস্তু তাকে তার পরওয়ারদিগারের অতি নিকটবর্তী করেছে? হে আমার পিতা! আমরা জিবরীল (আলাইহিস সালাম) এর নিকট তার মৃত্যূ শোক প্রকাশ করছি। হে আমার পিতা! জান্নাতুল ফিরদাউস যার বাসস্থান।

1845। আমর ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে তার পিতা উহুদের জিহাদের দিনে শহীদ হয়ে গিয়েছিলেন, আমি তার মুখমন্ডল থেকে কাপড় সরিয়ে ফেললাম এবং ক্রন্দন করছিলাম, আর লোকেরা আমাকে বারণ করছিল। কিন্তু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বারণ করছিলেন না, আমার ফুফুও তাঁর জন্য ক্রন্দন করছিলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি তার জন্য ক্রন্দন করো না, যেহেতু তোমরা তাকে উঠিয়ে নেওয়া অবধি ফেরেশতারা তাঁকে স্বীয় ডানা দ্বারা ছায়া দিচ্ছিল।

1846। উতবা ইবনু আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... জাবির ইবনু আতীক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আব্দুল্লাহ ইবনু সাবিত (রাঃ)-এর শুশ্রুষার জন্য গিয়ে দেখতে পেলেন যে, তার মৃত্যূ আসন্ন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে উচ্চ স্বরে ডেকেও তার কোন নাড়া শব্দ না পেয়ে انا لله وانا اليه راجعون পড়লেন এবং বললেন, হে আবূ বুবী! আমাদের সম্মূখে তোমার উপর আল্লাহ তা’আলার হুকুম বিজয়ী হতে যাচ্ছে (তুমি মৃত্যূ বরণ করেছ)। একথা শুনে কিছু মহিলা উচ্চ স্বরে ক্রন্দন শুরু করে দিলে ইবনু আতীক (রাঃ) (জাবির) তাদের শান্ত করাতে লাগলেন। তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তাদের ছেড়ে দাও। যখন মৃত্যৃ হয়ে যারে তখন কোনই ক্রন্দনকারিণী ক্রন্দন করবে না। সাহাবীরা জিজ্ঞাসা করলেন, 'উজুব' শব্দের অর্থ কি ইয়া রাসুলাল্লাহ! তিনি বললেন, ‘মৃত্যু’। তার কন্যা বলল, যে আমি তো এ আশাই করতাম যে, আপনি শহীদ হবেন। আপনি তো শাহাদাতের যাবতীয় পাথেয় সংগ্রহ করেই রেখেছিলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহ তা'আলা তার নিয়্যত অনুযায়ী তাকে শাহাদাতের সওয়াব দিয়ে দিয়েছেন। আচ্ছা, তোমরা শাহাদাত কাকে মনে কর? তারা বললেন, আল্লাহর রাস্তায় মৃত্যুবরণ করাকে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আল্লাহর রাস্তায় মৃত্যুবরণ করা ব্যতীতও আরো সাত প্রকারের শাহাদাত আছে- ১. প্লেগ রোগে মৃত ব্যক্তি শহীদ ২. পেটের পীড়ায় মৃত ব্যক্তি শহীদ ৩. পানিতে ডুবে মৃত ব্যক্তি শহীদ ৪. প্রাচীর চাপায় মৃত ব্যক্তি শহীদ ৫. আভ্যন্তরীণ বিষ ফোঁড়ায় মৃত ব্যক্তি শহীদ ৬. অগ্নিদাহে মৃত ব্যক্তি শহীদ ৭. প্রসবকালে মৃত রমনী শহীদ।

1847। ইউনুস ইবনু আব্দুল আ'লা (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন যায়দ ইবনু হারিসা, জা'ফর ইবনু আবূ তালিব এবং আব্দুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা (রাঃ)-এর শাহাদাত প্রাপ্তির সংবাদ এসে পৌছলো, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মসজিদে) বসে পড়লেন এবং তার মুখমণ্ডলে বিষণ্ণতার রেখা ফুটে উঠল, আমি দরজার ছিদ্রপথ দিয়ে তাকে দেখছিলাম। এক ব্যাক্তি এসে বলল, জা'ফর (রাঃ)-এর পরিবারবর্গ ক্রন্দন করছে, তিনি বললেন, তুমি গিয়ে তাদের নিষেধ কর। সে চলে গেল এবং আবার এসে বললো, আমি তাদের নিষেধ করেছিলাম কিন্তু তারা ক্রন্দন করছেই। তিনি বললেন, তুমি গিয়ে তাদের নিষেধ কর। সে পুনরায় এসে বললো, আমি তাদের নিষেধ করেছিলাম কিন্তু তারা ক্রন্দন করছেই। তিনি বললেন, তুমি গিয়ে তাদের মুখে মাটি ভরে দাও। আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, আল্লাহ তা'আলা অভাগার নাসিকা ধূলাধূসরিত করে দিক, আল্লাহর শপথ! তুমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কষ্ট না দিয়ে ছাড়লে না, তোমাকে যা বলা হয়েছিল, তুমি তা করতে পারলে না।

1848। উবায়দুল্লাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... উমর (রাঃ) সুত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মৃতকে তার পরিবারবর্গের তার উপর ক্রন্দনের কারনে শাস্তি দেওয়া হয়।

1849। মাহমূদ ইবনু গায়ালান (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু সূবায়হ (রহঃ) সুত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন (রহঃ) কে বলতে শুনেছি, একদা ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) এর কাছে উল্লেখ করা হল যে, মৃতকে জীবিতদের ক্রন্দনের কারণে শাস্তি দেওয়া হয়। ইমরান (রাঃ) বললেন, তা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন।

1850। সুলায়মান ইবনু সায়ফ (রহঃ) ... উমর (রাঃ) সুত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মৃতব্যক্তিকে তার পরিবারবর্গের তার জন্য ক্রন্দনের কারণে শাস্তি দেওয়া হয়।

1851। মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল আ’লা (রহঃ) ... হাকীম ইবনু কায়স (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, কায়স ইবনু আসিম (রাঃ) বলেছেন, তোমরা আমার জন্য বিলাপ করবে না। কেননা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য বিলাপ করা হয়নি।

1852। ইসহাক (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহিলাদের বায়আত করার সময়ে অঙ্গীকার নিয়েছিলেন যে, তারা মৃতের জন্য বিলাপ করবে না। তখন তারা বললো, ইয়া রাসুলাল্লাহ! মহিলারা জাহেলী যূগে মৃতের জন্য বিলাপে আমাদের সহযোগিতা করত। এখন আমরা কি মৃতের জন্য বিলাপে তাদের সহযোগিতা করব না? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ইসলামে মৃতর জন্য বিলাপে কোন সহযোগিতা নেই।

1853। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, মৃতকে তার জন্য বিলাপের কারণে কবরে শাস্তি দেওয়া হয়।

1854। ইবরাহীম ইবনু ইয়াকুব (রহঃ) ... ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মৃতকে তার পরিবারবর্গের তার জন্য বিলাপের কারণে শাস্তি দেওয়া হয়। তখন তাকে এক ব্যক্তি বলল, ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে আপনি কি বলেন, যে খোরাসান নামক স্থানে মারা গেল আর তার পরিবারবর্গ তার জন্য এখানে বিলাপ করল। তাকেও কি তার পরিবারবর্গের তার জন্য বিলাপের কারণে শাস্তি দেওয়া হবে? তিনি বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সত্য বলেছেন আর তুমি মিথ্যা বলছ।

1855। মুহাম্মদ ইবনু আদম (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, মৃত ব্যাক্তিকে তার জন্য তার পরিবারবর্গের ক্রন্দনের কারণে শাস্তি দেওয়া হয়। অত্র হাদীস আয়িশা (রাঃ)-এর সামনে উল্লেখ করা হলে তিনি বললেন, ইবনু উমর ভুল করেছেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার এক কবরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বলেছিলেন, এ কবরবাসীকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে আর তার পরিবারবর্গ তার জন্য ক্রন্দন করছে। অতঃপর আয়িশা (রাঃ) পাঠ করলেন,وَلاَ تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى অর্থাৎ “কোন বহনকারী অন্যের পাপের বোঝা বহন করবে না”।

1856। কুতায়বা (রহঃ) ... আমরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি আবূ বকর (রাঃ)-কে খরব দিয়েছেন, যখন আয়িশা (রাঃ)-এর কাছে উল্লেখ করা হল যে, আব্দুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) বলছেনঃ মৃত ব্যক্তিকে তার জন্য জীবিতদের ক্রন্দনের কারনে শাস্তি দেওয়া হয়। তখন তিনি বললেন, আল্লাহ তা’আলা আবূ আব্দুর রহমান (আব্দুল্লাহ ইবনু উমর) (রাঃ)-কে ক্ষমা করুন! তিনি মিথ্যে বলেন নি কিন্তু তিনি ভুলে গেছেন বা ভুল করে ফেলেছেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার এক ইহুদি মহিলার কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যার জন্য ক্রন্দন করা হচ্ছিল। তখন তিনি বলেছিলেন, তারা ঐ মৃতের জন্য ক্রন্দন করছে আর ঐ মৃতকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে।

1857। আব্দুল জব্বার ইবনু আলা (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আয়িশা (রাঃ) বলেছেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো বলেছিলেন যে, আল্লাহ তা’আলা কাফিরের শাস্তি বৃদ্ধি করে থাকেন তার কোন কোন আত্নীয়-স্বজনের ক্রন্দনের কারণে।

1858। সুলায়মান ইবনু মানসূর বলখী (রহঃ) ... আব্দুল জব্বার ইবনু ওয়ারদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি ইবনু আবূ মুলায়কা (রহঃ)-কে বলতে শুনেছেনঃ যখন উম্মে আবান মৃত্যুবরণ করল, আমি লোকজনসহ তথায় উপস্থিত হয়ে আব্দুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) ও ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর সামনে বসললেন। তখন মহিলারা ক্রন্দন করলে ইবনু উমর (রাঃ) বললেন, এদের ক্রন্দন থেকে কি নিষেধ করা হয়নি? কেননা, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, মৃত ব্যক্তিকে তার জন্য তার আত্নীয়-স্বজনের কোন কোন ক্রন্দনের কারণে শাস্তি দেওয়া হয়। তখন ইবনু আব্বাস (রাঃ) বললেন, উমর (রাঃ) এরূপও বলেছিলেন। আমি উমর (রাঃ) এর সঙ্গে বের হলাম। আমরা যখন 'বায়দা' নামক প্রান্তরে ছিলাম তখন উমর (রাঃ) বৃক্ষের নীচে একদল আরোহীকে দেখে বললেন, দেখতো আরোহী কারা? আমি গিয়ে দেখলাম যে, সুহায়ব (রাঃ) এবং তার পরিবারবর্গ। তখন আমি তার কাছে এসে বললাম, হে আমিরুল মু'মিনীন, সুহায়ব এবং তার পরিবারবর্গ। তখন তিনি বললেন, তুমি আমার সামনে সুহায়বকে উপস্তিত কর। যখন আমরা মদীনায় প্রবেশ করলাম এবং উমর (রাঃ) আঘাত প্রাপ্ত হলেন, তখন সুহায়ব (রাঃ) তার সামনে বসে ক্রন্দন করছিলেন এবং বলছিলেন, হে আমার প্রিয় ভ্রাতা! হে আমার প্রিয় ভ্রাতা! তখন উমর (রাঃ) বললেন, হে সূহায়ব তুমি ক্রন্দন করো না, যেহেতূ আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, মৃত ব্যক্তিকে তার জন্য তার আত্নীয়-স্বজনের কোন কোন ক্রন্দনের কারণে শাস্তি দেওয়া হয়। সুহায়ব (রাঃ) বলেন, আমি এ ঘটনা আয়িশা (রাঃ)-এর সামনে উল্লেখ করলে তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! তোমরা এ রকম হাদীস বর্ণনা করছ না দু’জন মিথ্যাবাদীর থেকে। তবে তিনি শ্রবনে কখনো ভুল করেন। নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য কুরআনে এমন আয়াত আছে যা তোমাদের আশ্বস্ত করে দেবেঃأَلاَّ تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى অর্থাৎ কোন বহনকারী অন্যের পাপের বোঝা বহন করবে না। হ্যাঁ, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, কাফিরের জন্য তার আত্নীয় স্বজনের ক্রন্দনের কারণে আল্লাহ তা'আলা তার শাস্তি বৃদ্ধি করে থাকেন।

1859। আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ... সালামা ইবনু আযরাক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ হুরায়রা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরিবারবর্গ থেকে এক ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করলে মহিলাগণ একত্রিত হয়ে তার জন্য অশ্রু বর্ষণ করতে শুরু করল। উমর (রাঃ) তাদের নিষেধ করতে এবং সরিয়ে দিতে উদ্যত হলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে উমর, তাদের ছেড়ে দাও। কেননা চক্ষু অশ্রু বিসর্জনকারী, হৃদয় ব্যথাতুর আর বিয়োগ ও নিকটবর্তী।

1860। আলী ইবনু খাশরাম ও হাসান ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ঐ ব্যক্তি আমার উম্মাতের অন্তর্ভুক্ত নয়, যে গণ্ডদেশে আঘাত করে, আঁচল ছিড়ে এবং জাহিলী যুগের দোয়ার ন্যায় দোয়া করে।

1861। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... সাফওয়ান ইবনু মুহরিয (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ মুসা (রাঃ) বেহুশ হয়ে গেলে তার জন্য সবাই ক্রন্দন করতে লাগলেন। তখন তিনি বললেন, আমি তোমাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে ফেলছি, যেরূপভাবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করে ফেলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ঐ ব্যক্তি আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়, যে বিপদে চুল বা দাড়ি উপড়ে ফেলে, আঁচল ছিড়ে ফেলে এবং সজোরে ক্রন্দন করতে থাকে।

1862। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... আব্দুলাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ঐ ব্যক্তি আমার উম্মাতের অন্তর্ভুক্ত নয় যে (কারো মৃত্যুর কারণে) গণ্ডদেশে আঘাত করে, আঁচল ছিড়ে ফেলে এবং সে জাহেলী যুগের দোয়ার ন্যায় দোয়া করে।

1863। আহমাদ ইবনু উসমান (রহঃ) ... আব্দুর রহমান ইবনু ইয়াযীদ এবং আবূ বুরদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তারা বলেন, যখন আবূ মুসা (রাঃ)-এর অসুখ বেড়ে গেল এবং তিনি বেহুঁশ হয়ে পড়লেন। তার স্ত্রী সজোরে চিৎকার করতে করতে আসলেন। তারা বলেন, তার চেতনা ফিরে আসলে তিনি বললেনঃ আমি কি তোমাকেও সংবাদ দেইনি যে, আমি ঐ নারীর সাথে সম্পর্ক ছেদ করব, যার সাথে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কচ্ছেদ করেছেন। তারা বলেন, তিনি তার স্ত্রীর সামনে বর্ণনা করলেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, আমি ঐ ব্যক্তির সাথে সস্পর্কচ্ছেদ করছি যে, দাড়ি বা মাথার চুল উপড়ে ফেলে, আঁচল ছিঁড়ে ফেলে এবং সজোরে চিৎকার করে।

1864। ইসহাক ইবনু মানসুর (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ (রাঃ) সুত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ঐ ব্যক্তি আমার উম্মাতের অন্তর্ভুক্ত নয়, যে গণ্ডদশে আঘাত করে, আঁচল ছিড়ে ফেলে এবং জাহেলী যুগের দোয়ার ন্যায় দোয়া করে।

1865। মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না (রহঃ) ... আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি একবার বেহুশ হয়ে গেলে তার এক বাঁদী ক্রন্দন করলেন। যখন তার চেতনা ফিরে আসল তখন তিনি তাকে বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছেন তার সংবাদ কি তোমার কাছে পৌছেনি? আমরা তার কাছে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ঐ ব্যক্তি আমার উম্মাতের অন্তর্ভুক্ত নয়, যে সজোরে চিৎকার করে, দাড়ি বা মাথার চুল উপড়ে ফেলে এবং আঁচল ছিড়ে ফেলে।

1866। আবদাহ ইবনু আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... আবূ মুসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ঐ ব্যক্তি আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়, যে মাথার চুল বা দাড়ি উপড়ে ফেলে সজোরে চিৎকার করে এবং আঁচল ছিড়ে ফেলে।

1867। হান্নাদ (রহঃ) ... কারছা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আবূ মুসা (রাঃ)-এর অসুখ বেড়ে গেল, তার স্ত্রী সজোরে চিৎকার করতে লাগলেন। তিনি বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছেন, কি তোমার জানা নেই? তিনি বললেন, হ্যাঁ জানা কাছে। অতঃপর চুপ হয়ে গেলে তাকে জিজ্ঞাসা করা হল, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি বলেছিলেন, তিনি বললেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অভিশাপ দিয়েছেন ঐ ব্যক্তিকে যে মাথার চুল বা দাড়ি উপড়ে ফেলে, সজোরে চিৎকার অথবা আঁচল ছিড়ে ফেলে।

1868। সুওয়ায়দ ইবনু নাসর (রহঃ) ... উসামা ইবনু যায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কন্যা তার কাছে সংবাদ পৌছালেন যে, আমার এক ছেলে মৃত্যু শয্যায় শায়িত। অতএব আপনি আমাদের এখানে আসুন। তখন তিনি সালাম পাঠিয়ে বললেন, আল্লাহ তা'আলা যা নিয়ে যান তা তারই এবং যা দান করেন তাও তারই। আর প্রতিটি বস্তু নির্দিষ্ট সময়ে আল্লাহর কাছে পৌছে যায়। অতএব, তুমি ধৈর্যধারণ কর এবং সওয়াবের আশা রাখ। অতঃপর তিনি কসম দিয়ে তার কাছে পাঠালেন যেন তিনি তার কাছে অবশ্যই আসেন। তখন তিনি দাড়ালেন; তার সাথে সা'দ ইবনু উবাদাহ (রাঃ), মু’আয ইবনু জাবাল (রাঃ), উবায় ইবনু ক'ব (রাঃ), যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) এবং আরো কিছু লোক ছিলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে ছেলেকে উঠালেন তখন তার হদস্পন্দন বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। এতদদর্শনে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আখিদ্বয় অশ্রু বর্ষন করতে লাগল। তখন সাদ (রাঃ) বললেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! এ কি? তিনি বললেন, এ হল রহমত বিশেষ যা আল্লাহ তা'আলা তার বান্দাদের হৃদয়ে রেখে থাকেন। আর আল্লাহ তা'আলা তার বান্দাদের মধ্যে দয়াবানদের উপর দয়া করে থাকেন।

1869। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... সাবিত (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ধৈর্যধারন করা হল প্রথম বিপদের সময়ে।

1870। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... মুআবিয়ার পিতা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসল। তার সাথে তার এক পুত্রও ছিল। তিনি তাকে বললেন, তুমি কি একে মহব্বত কর? ঐ ব্যক্তি বলল, আল্লাহ আপনাকে এরূপ মহব্বত করুন, যেরূপ আমি তাকে মহব্বত করি, অতঃপর সে ছেলে মারা গেল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছেলেকে দেখতে না পেয়ে তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন এবং বললেন, তুমি কি আনন্দিত হবে না যে, তুমি জান্নাতের সে দরজা দিয়েই প্রবেশ করবে যে দরজরে সামনে তোমার ছেলেকে পাবে তোমার জন্য দরজা খোলার চেষ্টা করতে।

1871। সুওয়ায়দ ইবনু নাসর (রহঃ) ... আমর ইবনু সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আমর ইবনু শুআয়ব (রাঃ) আব্দুল্লাহ ইবনু আব্দুর রহমানের এক ছেলের মৃত্যুতে ধৈর্যধারণ করার জন্য তার কাছে একখানা চিঠি লিখেন। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন যে, তিনি তার পিতাকে তাঁর দাদা আব্দুল্লাহ ইবনু আমর ইবনু আস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করতে শুনেছেন। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, পৃথিবীর কোন প্রিয়জন মারা যাওয়ার পর যখন মু'মিন ব্যক্তি ধৈর্যধারণ করে এবং সওয়াবের আশা রাখে, তখন আল্লাহ তা'আলা তার জন্য জান্নাত ছাড়া অন্য কোন সওয়াব দিয়ে সন্তুষ্ট হন না। তিনি আরো বলেছেন, জান্নাত ছাড়া অন্য কোন সওয়াবের নির্দেশ দেওয়া হয় না।

1872। আহমদ ইবনু আমর (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তার তিন সন্তানের মৃত্যুতে ধৈর্যসহ সওয়াবের আশা করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তখন এক মহিলা দাঁড়িয়ে বলল, যদি দুই সন্তানের উপর ধৈর্যধারণ করে থাকে? বললেন, দুইজন হলেও। তখন সেই মহিলা বলল, হায়! আমি যদি একজনের কথা বলতাম।

1873। ইউসুফ ইবনু হাম্মাদ (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তির তিন সন্তান অপ্রাপ্ত বয়স্ক অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে, আল্লাহ তা’আলা সন্তানদের উপর স্বীয় রহমতের কারণে তাকে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।

1874। ইসমাঈল ইবনু মাসউদ (রহঃ) ... সা'সাআ ইবনু মুআবিয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ যর (রাঃ) এর সাথে সাক্ষাত করে বললাম, আপনি আমার কাছে হাদীস বর্ণনা করুন। তিনি বললেন, আচ্ছা, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে মুসলিম মাতা পিতার সম্মুখে তাদের তিন অপ্রাপ্ত বয়স্ক সন্তান মৃত্যুবরন করবে আল্লাহ তা'আলা সন্তানদের উপর নিজ রহমতের কারণে তাদের অবশ্যই ক্ষমা করে দেবেন।

1875। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোন মুসলনান মাতা-পিতার তিনটি সন্তান মৃত্যুবরণ করলে তাদের কখনো দোযখের আগুন স্পর্শ করবে না। অবশ্য তাদেরকে তা অতিক্রম করতে হবে।

1876। মুহাম্মদ ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন মুসলিম মাতা-পিতার সামনে তিনটি অপ্রাপ্ত বয়স্ক সন্তান মৃত্যুবরণ করলে সন্তানদের উপরে আল্লাহর রহমত লাভের কারনে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। তিনি বলেন, সন্তানদের বলা হবে, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ কর। তখন তারা বলবে, আমাদের মাতা-পিতা জান্নাতে প্রবেশ না করা পর্যন্ত আমরা জান্নাতে প্রবেশ করব না। তখন তাদের বলা হবে, তোমরা এবং তোমাদের মাতা-পিতা জান্নাতে প্রবেশ কর।

1877। ইসহাক (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক মহিলা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে তার অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে আসল এবং বলল ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি এর উপরে আশংকা করছি। ইতিপূর্বে আরও তিনজন মৃত্যূবরণ করেছে, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি তো এক কঠিন প্রাচীর দ্বারা জাহান্নাম থেকে নিজকে রক্ষা করেছো।

1878। ইসহাক (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যায়দ এবং জাফরের মৃত্যূ সংবাদ দিলেন। তাদের মৃত্যূ সংবাদ আসার পূর্বেই তখন তিনি তাদের জন্য ক্রন্দন করলেন এবং তার চক্ষুদ্বয় থেকে অশ্রু প্রবাহিত হল।

1879। আবূ দাঊদ (রহঃ) ... আবূ সালামা ও ইবনু মুসায়্যাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আবূ হুরায়রা (রাঃ) তাদের কাছে বর্ণনা করেছেন যে, হাবশার বাদশাহ নাজাশী যেদিন মৃত্যুবরণ করেন সেদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার মৃত্যূ সংবাদ দিয়ে বলেছিলেন, তোমরা তোমাদের ভাইয়ের গুনাহ মার্জনার প্রার্থনা কর।

1880। উবায়দুল্লাহ ইবনু ফাদালা এবং মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ)। থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সফর করছিলাম। এমতাবস্থায় এক মহিলাকে দেখা গেল। আমরা ধারণা করতে পারিনি যে, তিনি তাকে চিনতে পেরেছেন। যখন তিনি রাস্তার মাঝামাঝি আসলেন, তখন তিনি থেমে গেলেন এবং ঐ মহিলা তার কাছে পৌছলেন, তখন আমরা দেখতে পেলাম যে, তিনি ফাতিমা বিনত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! তিনি তাকে বললেন, হে ফাতিমা, তোমার ঘর থেকে তোমাকে কিসে বের করল? তিনি বললেন, আমি এ মৃত ব্যক্তির পরিজনদের কাছে গিয়ে তাদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ জ্ঞাপন করলাম এবং মৃত ব্যক্তির ব্যাপারে ধৈর্যধারণ করার জন্য তাদের উপদেশ করলাম। তিনি বললেন, সম্ভবত তুমি তাদের সাথে কুদা (কবরস্থান) পর্যন্ত গিয়েছিলে। ফাতিমা (রাঃ) বললেন, আমি সেখানে যাওয়া থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি। কেননা এ বিষয়ে আপনি যা বলেছেন তা আমি শুনেছি। তিনি বললেন, যদি তুমি তাদের সাথে সেখানে যেতে তবে তোমার পিতার দাদা জান্নাত না দেখা পর্যন্ত তিনি জান্নাত পেতে না।

1881। কুতায়বা (রহঃ) ... উম্মে আতিয়া আনাসারিয়াহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কন্যা ইন্তিকাল করলে আমাদের কাছে এলেন এবং বললেন, তোমরা তাকে পানি ও কুলপাতা দিয়ে গোসল করিয়ে দাও। তিন বা পাঁচবার কিংবা তোমরা ভাল মনে করলে আরো অধিকবার। আর শেষের বার তোমরা কর্পূর মিশ্রিত করবে। রাবী বলেন, কিংবা তিনি বলেছেন, কিছু কর্পূর মিশাবে। তোমরা গোসল সমাপ্ত করলে আমাকে জানাবে। আমরা গোসল সারার পর তাকে অবহিত করলাম। তিনি তার একটি চাদর আমাদের দিলেন এবং বললেন, এটি তার শরীরের সাথে জড়িয়ে দাও।

1882। কুতায়বা ইবনু সায়ীদ (রহঃ) ... উম্মে কায়স (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পুত্র ইন্তিকাল করল এবং আমি তাতে মর্মাহত হলাম। আর যে গোসল দেয় আমি তাকে বললাম, আমার পুত্রকে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে গোসল দিয়ে মেরে ফেল না। উসামা ইবনু মিহসান রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গিয়ে মহিলার কথা তাকে অবহিত করলেন, তিনি মুচকি হাসলেন, এরপর বললেন, কী বলেছে সে? তার আয়ু দীর্ঘ হোক। ফলে এ মহিলার মত অন্য কোন মহিলা এত আয়ু পেয়েছেন বলে আমরা জানি না।

1883। ইউসুফ ইবনু সায়ীদ (রহঃ) ... হাফসা (রাঃ) বলেন, উম্মে আতিয়্যা (রাঃ) আমাদের কাছে বর্ণনা করেন যে, তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কন্যার চুলকে তিন অংশে বিভক্ত করেছিলেন। আমি বললাম, তারা কি তা খুলে তিন ভাগ করেছিলেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ।

1884। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... উম্মে-আাতিয়্যা (রাঃ) থেকে বর্নিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কন্যার গোসলের ব্যাপারে বলেছিলেন, তোমরা তার ডান দিক থেকে এবং উযুর স্থান থেকে আরম্ভ কর।

1885। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... উম্মে আতিয়্যা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এক কন্যার মৃত্যু হলে তিনি আমাদের ডেকে পাঠালেন এবং বললেন, তাকে কুল পাতা ও পানি দিয়ে গোসল দাও। আর তাকে তিন-পাঁচ অথবা সাতবার বেজোড় গোসল দিবে, যদি তোমরা তা ভাল মনে কর। আর শেষবার কিছু কর্পূর দিবে। তোমরা কাজ সমাপ্ত করলে আমাকে সংবাদ দিও। আমরা কাজ সমাপ্ত করে তাকে সংবাদ দিলাম। তখন তিনি আমাদের দিকে তার ইযার দিয়ে বললেন, এটি তার দেহের সঙ্গে জড়িয়ে দাও। আমরা তার চুল তিন ভাগে ভাগ করে আঁচড়িয়ে দিলাম এবং তা পেছনে করে দিলাম।

1886। ইসমাঈল ইবনু মাসউদ (রহঃ) ... উম্মে আতিয়্যা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কন্যার গোসল দেওয়ার সময়ে আমাদের কাছে এসে বললেন, তাকে পানি ও কুল পাতা দিয়ে তিন বার, পাঁচবার অথবা তোমরা ভাল মনে করলে আরো অধিকবার গোসল দিবে। শেষবার কর্পুর দিবে। রাবী বলেন, কিংবা তিনি বলেছেন, কিছু কর্পুর দিবে। যখন তোমরা গোসল দেওয়া শেষ করবে তখন আমাকে সংবাদ দিবে। আমরা কাজ সমাপ্ত করে তাকে সংবাদ দিলাম। তিনি আমাদের দিকে তার চাদর ছুঁড়ে দিয়ে বললেন, এটি তার দেহের সাথে জড়িয়ে দাও।

1887। কুতায়বা (রহঃ) ... উম্মে আতিয়্যা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এক মেয়ের মৃত্যূ হলে তিনি আমাদের ডেকে পাঠালেন এবং নির্দেশ দিলেন যে, তাকে তিনবার, পাঁচবার বা ততোধিক যতবার ভাল মনে হয় হয় গোসল দিও পানি এবং বরই পাতা দ্বারা, আর শেষবার কর্পূরের কিছু অংশ দিয়ে দিও। আর যখন তোমরা অবসর হবে আমাকে সংবাদ দেবে। আমরা যখন অবসর হলাম তাকে সংবাদ দিলাম। তিনি আমাদের স্বীয় জুব্বা দিয়ে দিলেন এবং বললেন যে, এটা তার কাফনের নীচে দিয়ে দিও।

1888। কুতায়বা (রহঃ) ... উম্মে আতিয়্যা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন, এতটূকু পার্থক্য যে, তিনি বলেছেন তিনবার, পাঁচবার, সাতবার বা ততোধিক, যদি তোমরা ভাল মনে কর।

1889। ইসমাঈল ইবনু মাসউদ (রহঃ) ... উম্মে আতিয়্যা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এক মেয়ের মৃত্যু হলে আমাদের তাকে গোসল করানোর নির্দেশ দিলেন এবং বললেন, তাকে তিনবার পাঁচবার, সাতবার বা ততোধিকবার গোসল করাবে, যদি তোমরা ভাল মনে কর। তিনি বলেন আমি বললাম, তাও কি বেজোড় সংখ্যায় করতে হবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ, এবং শেষের বারে কর্পূর বা কর্পূরের কিছু অংশ দেবে। আর যখন তোমরা অবসর হবে আমাকে সংবাদ দেবে। যখন আমরা অবসর হলাম তাকে সংবাদ দিলাম। তিনি আমাদের স্বীয় জুব্বা দিয়ে দিলেন এবং বললেন যে, এটা তার কাফনের নীচে দিয়ে দিও।

1890। আমর ইবনু মুরারাহ (রহঃ) ... উম্মে আতিয়্যা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে আসলেন, তখন আমরা তার মেয়েকে গোসল করাচ্ছিলাম। তিনি বললেন, তাকে তিনবার, পাঁচবার বা ততোধিকবার গোসল করাবে। যদি তোমরা ভাল মনে কর পানি এবং বরই পাতা দ্বারা। আর শেষ বারে কর্পূর বা কর্পূরের কিছু অংশ দেবে। আর তোমরা অবসর হলে আমাকে সংবাদ দেবে। আমরা অবসর হলে তাকে সংবাদ দিলাম। তিনি আমাদের স্বীয় জুব্বা দিয়ে দিলেন এবং বললেন, এটা তার কাফনের নীচে দিয়ে দিও। বর্ণনাকারী বহলেন, হাফসা (রাঃ) বলেছেন, তাকে তিনবার, পাঁচবার গোসল করাবে। উম্মে আতিয়্যা (রাঃ) বলেন, আমরা তার চুল আঁচড়িয়ে তিন ভাগে বিভক্ত করে দিলাম।

1891। মুহাম্মাদ ইবনু মানসূর (রহঃ) ... উম্মে আতিয়্যা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তার মাথা (মাথার চুল) আমরা তিনভাগে বিভক্ত করে দিলাম।

1892। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... উম্মে আতিয়্যা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আমরা তার মাথা (মাথার চুল) তিন ভাগে বিভক্ত করে দিলাম।

1893। ইউসূফ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... উম্মে আতিয়্যা (রাঃ) একজন আনসারী মহিলা ছিলেন, তিনি (বসরায়) এসে তাড়াতাড়ি তার ছেলের কাছে গেলেন। কিন্তু তাকে পেলেন না। (কারণ, সে ইতিপূর্বে মারা গিয়েছিল) তিনি বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে আসলেন, আমরা তখন তার মেয়েকে গোসল করাচ্ছিলাম। তিনি বলেন, তাকে তিনবার, পাঁচবার বা ততোধিকবার গোসল করাবে যদি তোমরা ভাল মনে কর পানি এবং বরই পাতা দ্বারা এবং শেষবার কর্পূর বা কর্পূরের কিছু অংশ দেবে। আর যখন তোমরা অবসর হবে আমাকে সংবাদ দিবে। যখন আমরা অবসর হলাম তাকে সংবাদ দিলাম। তিনি বললেন, এটা তার কাফনের নীচে দিয়ে দিও। রাবী মুহাম্মাদ ইবনু রাবী আইয়্যুব ইবনু তামীমা বলেন যে, আমি জানিনা সে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কোন্‌ মেয়ে ছিল। বর্ণনাকারী বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম “তার কাফনের নীচে দিয়ে দাও” এর অর্থ কি? এটা কি তাকে পায়জামা হিসাবে পরিধান করানো হবে? তিনি বললেন, তা আমার মনে হয়না, তবে তিনি হয়তো বলেছিলেন তা দিয়ে পেঁচিয়ে দাও।

1894। শুআয়ব ইবনু ইউসুফ (রহঃ) ... উম্মে আতিয়্যা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এক মেয়ের মৃত্যূ হলে তিনি বললেন, তাকে তিনবার, পাঁচবার বা ততোধিক বার গোসল করাও যদি তোমরা ভাল মনে কর। আর তাকে পানি এবং বরই পাতা দ্বারা গোসল করাও এবং শেষ বারে কর্পূর বা কর্পূরের কিছু অংশ দিও। তোমরা অবসর হলে আমাকে সংবাদ দিও। তিনি বলেন, আমরা তাকে সংবাদ দিলে তিনি আমাদের স্বীয় জুব্বা দিয়ে দিলেন এবং বললেন যে, এটা তার কাফনের নীচে দিয়ে দিও।

1895। আব্দুর রহমান ইবনু খালিদ (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার খুতবা দিলেন এবং সাহাবীদের মধ্য থেকে এই ব্যক্তির কথা উল্লেখ করলেন মৃত্যুবরণ করেছিলেন এবং তাকে রাত্রে কবর দেওয়া হয়েছিল এবং তাকে উত্তম কাপড়ে কাফন দেওয়া হয়নি। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিনা প্রয়োজনে রাত্রে কবর দিতে নিষেধ করলেন এবং বললেন যখন তোমাদের কেউ কারো অভিভাবক হয়ে তাকে উত্তম কাফন পরিধান করাবে।

1896। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... সামুরা (রাঃ) সুত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমরা সাদা কাপড় পরিধান কর। কেননা তা সর্বোত্তম এবং পবিত্রতম এবং তা দ্বারা তোমাদের মৃতদের কাফন দাও।

1897। ইসহাক (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সাহল নামক স্থানের তিনটি সাদা কাপড় দ্বারা কাফন দেওয়া হয়েছিল।

1898। কুতায়বা (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সাহল নামক স্থানের তিনটি সাদা কাপড় দ্বারা কাফন দেওয়া হয়েছিল; তাতে কুর্তা এবং পাগড়ি ছিল না।

1899। কুতায়বা (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তিনটি ইয়ামানী সাদা সুতী কাপড় দ্বারা কাফন দেওয়া হয়েছিল। তাতে কুর্তা এবং পাঞ্জাবি ছিল না। যখন আয়িশা (রা) এর কাছে লোকদের দুই কাপড়ে এবং একটি নকশা করা চাদরে কাফন দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হল, তখন তিনি বলেন, তা আনা হয়েছিল কিন্তু উপস্থিত সাহাবীগণ তা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন এবং তাতে তাকে কাফন দিয়েছিলেন না। [সহীহ]

1900। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আব্দুল্লাহ ইবনু উবাই এর মৃত্যু হল তার ছেলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বললেন, আপনি আমাকে স্বীয় কুর্তাটা দিয়ে দিন যাতে আমি তা দিয়ে তাকে কাফন দিতে পারি এবং তার জানাজা পড়িয়ে দিন এবং তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে স্বীয় জামা দিয়ে দিলেন। তারপর বললেন যখন তোমরা অবসর হও আমাকে সংবাদ দিও আমি তার জানাজা পড়াব। উমর (রাঃ) তাকে টেনে নিয়ে বললেন, আপনাকে তো আল্লাহ তা'আলা মুনাফিকদের জানাজা পড়তে নিষেধ করেছেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন মুনাফিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা বা না করার ব্যাপারে আমাকে এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে। অতঃপর তিনি তার জানাজা পড়লেন। তারপর আল্লাহ তা'আলা অবতীর্ণ করলেনঃوَلاَ تُصَلِّ عَلَى أَحَدٍ مِنْهُمْ مَاتَ أَبَدًا وَلاَ تَقُمْ عَلَى قَبْرِهِ অর্থাৎ (তাদের মধ্যে কারো মৃত্যু হলে তুমি কখনো তার জন্য জানাজার সালাত পড়বেনা এবং আর তার কবরের পাশে দড়াবেন না) এরপর তিনি মুনাফিকদের জানাজা পড়া ছেড়ে দিলেন।

1901। আব্দুল জব্বার ইবনু আ'লা (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আব্দুর রহমান ইবনু উবাইর কবরের সামনে আসলেন। ইতিপুর্বে তাকে দাফন করা হয়েছিল। তিনি সেখানে দাঁড়ালেন এবং তাকে কবর থেকে বের করার নির্দেশ দিলেন। তাকে বের করা হল। তিনি তাকে স্বীয় হস্তদ্বয়ের উপর রাখলেন এবং তাকে নিজ কুর্তা পরিয়ে দিলেন এবং স্বীয় থুথু তার শরীরের উপর ছিটিয়ে দিলেন। আল্লাহ তা’আলাই সর্বজ্ঞ। [সহীহ]

1902। আব্দুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আব্বাস (রাঃ) মদীনাতে ছিলেন। আনসারগণ তাকে পরিধান করানোর জন্য একটি কাপড় তালাশ করে এমন কোন কুর্তা তালাশ করে এমন এক কুর্তা পেলেন না যা তার গায়ে লাগে আব্দুল্লাহ ইবনু উবাহর কুর্তা ব্যতিত। অগত্যা সেটাই তাকে পরিধান করালেন।

1903। উবায়দুল্লাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) এবং ইসমাঈল ইবনু মাসউদ (রহঃ) ... খাব্বাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টি কল্পে হিজরত করলাম। অতএব আমাদের প্রতিদান আল্লাহ তা'আলার যিম্মায় গেল। তাই আমাদের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করল তারা স্বীয় প্রতিদান (গনিমতের সম্পদ) ভোগ করতে পারল না যেমন মুসআব ইবনু উমায়র (রাঃ), তিনি উহুদের জিহাদে শাহাদাত বরণ করেছিলেন। আমরা তার কাফন উপযোগী কোন কাপড়ের সন্ধান রাতে পাচ্ছিলাম না। শুধুমাত্র একটি চাদর ছাড়া যা দিয়ে তার মাথা কাফনে ঢাকলে পা বের হয়ে যেত আর পা ঢাকলে মাথা বের হয়ে যেত। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাদর দিয়ে তার মাথা ঢেকে দিয়ে পাদ্বয়ে ঘাস দিয়ে দেওয়ার জন্য আমাদের নির্দেশ দিলেন। আর আমাদের মধ্যে কতক এমনও আছে যারা স্বীয় প্রতিদান পেয়েছে এবং তা ভোগও করেছে।

1904। উতবা ইবনু আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা ইহরাম ব্যক্তিকে তার পরিধানের কাপড়দ্বয়ে গোসল দেবে পানি এবং বরই পাতা দ্বারা আর তাকে তার কাপড়দ্বয় দ্বারা কাফন দেবে এবং তার শরীরে সুগন্ধি লাগাবে না আর তার জন্য মাথা ঢেকে দেবে না। কেননা, সে কিয়ামতের দিন ইহরাম অবস্থায় উত্থিত হবে।

1905। মাহমূদ ইবনু গায়লান (রহঃ) ... আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সর্বোৎকৃষ্ট সুগন্ধির মধ্যে কস্তুরি অন্যতম।

1906। আলী ইবনু হুসায়ন (রহঃ) ... আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের সর্বোৎকৃষ্ট সুগন্ধির মধ্যে কস্তুরি অন্যতম।

1907। কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ উসামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক অসহায় মহিলা অসুস্থ হলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তার অসুস্থতা সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসহায়দের সেবা শুশ্রুষা করতেন এবং তাদের অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিতেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যদি সে (অসহায় মহিলা) মারা যায় তবে আমাকে সংবাদ দিও। রাত্রে তার জানাজা পড়া হল। আর সাহাবায়ে কিরাম রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জাগানো সমীচীন মনে করলেন না। যখন সকাল হল রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ঘটনা জানানো হলে। তিনি বললেন, আমি কি তোমাদের আমাকে সংবাদ দিতে বলিনি? তারা বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমরা আপনাকে রাত্রে জাগানো সমীচীন মনে করিনি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কবরের পার্শে নিয়ে লোকজন নিয়ে কাতারবন্দী হয়ে দাঁড়ালেন এবং চারটি তাকবীর বললেন।

1908। সুওয়ায়দ ইবনু নাসর (রহঃ) ... আব্দুর রহমান ইবনু মিহরান (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেছেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, যখন কোন নেককার ব্যক্তিকে খাটিয়ায় রাখা হয় সে বলে, "আমাকে শীঘ্রই পাঠাও, আমাকে শীঘ্রই পাঠাও" আর যখন কোন বদকার ব্যক্তিকে খাটিয়ায় রাখা হয় তখন সে বলে হায়! তোমরা আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছ?

1909। কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি আবূ সাঈদ খুদ্‌রী (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন কোন মৃত ব্যক্তিকে খাটিয়ায় রাখা হয় আর লোকজন তাকে কাঁধে বহন করে যদি সে নেককার হয় তবে সে বলতে থাকে, আমাকে শীঘ্র পাঠাও, আমাকে শীঘ্র পাঠাও, অরি যদি বদকার হয় তবে বলতে থাকে, হায়! তোমরা আমাকে কোথায় নিয়ে যাচছ? তার আওয়াজ মানুষ ব্যতীত অন্য সবাই শুনতে পায় যদি মানুষ তা শুনতে পেত তবে অবশ্যই সে বেহুঁশ হয়ে পড়ত।

1910। কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা জানাজা-তাড়াতাড়ি পড়ে নেবে যদি সে নেককার হয় তবে তবে তা তার জন্য কল্যাণকর। তোমরা তাকে তাড়াতাড়ি তার কল্যাণের দিকে পাঠিয়ে দাও। আর যদি বদকার হয় তবে একজন বদকারকে তোমরা স্বীয় স্কন্ধ থেকে নামিয়ে রাখ।

1911। সুওয়ায়দ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি বলতে শুনেছি, তোমরা জানাজা তাড়াতাড়ি পড়ে ফেলবে। যদি সে নেককার হয় তবে তোমরা তাকে স্বীয় কল্যাণের দিকে তাড়াতাড়ি পাঠিয়ে দিলে আর যদি বদকার হয় তবে একজন বদকারকে তোমরা স্বীয় স্কন্ধ থেকে নামিয়ে রাখবে।

1912। মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল আলা (রহঃ) ... আব্দুর রহমান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আব্দুর রহমান ইবনু সামুরা (রাঃ) এর জানাজায় উপস্থিত ছিলাম। যিয়াদ (রাঃ) খাটিয়ার সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন আব্দুর রহমান (রাঃ)-এর কিছু পরিবার-পরিজনের কিছু লোক এবং গোলামগণ জানাজার খাটিয়াকে সম্মুখে রেখে হেঁটে যাচ্ছিলেন এবং বলছিলেন, তোমরা ধীরে ধীরে চলো আল্লাহ তা'আলা তোমাদের বরকত দিন। তারা ধীরে ধীরে চলাছিল। যখন আমরা মিরবাদ নামক জায়গার রাস্তায় পৌছলাম আবূ বাকরা (রহঃ) খচ্চরের উপর আমাদের সাথে মিলিত হলেন, তাদের কার্যকলাপ দেখে খচ্চরে আরোহনবস্থায় তাদের দিকে ধাবিত হলেন এবং তাদের দিকে চাবুক ঝুঁকালেন এবং বললেন, তোমরা এ সমস্ত ছাড়, ওই সত্তার শপথ! যিনি আবূল কাসেম (রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে সম্মানিত করেছেন, আমার স্মরণ আছে আমি একদা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে, ছিলাম। আমরা জানাজা নিয়ে খুব দ্রুত যাচ্ছিলাম। একথা শুনে লোকজন খুশী হয়ে গেল।

1913। আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ... আবূ বাকরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার স্মরণ আছে, আমি একবার রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলাম আমরা জানাজা নিয়ে খুব দ্রুত যাচ্ছিলাম।

1914। ইয়াহইয়া ইবনু দুরুস্‌তা (রহঃ) ... আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্নিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমার কাছ দিয়ে কোন জানাজা নিয়ে যাওয়া হয়, তখন তোমরা দাঁড়িয়ে যাবে। আর যারা জানাজার সাথে যাবে তারা জানাজা রাখার পূর্বে বসবে না।

1915। কুতায়বা (রহঃ) ... আমির ইবনু রাবী'আ (রাঃ) সুত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমাদের কেউ যখন জানাজা দেখে তখন যদি সে তাদের সাথে না যায় তবে তাকে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে, যতক্ষন পর্যন্ত না সে জানাজার পিছনে পড়ে কিংবা পিছনে পড়ার পূর্বে জানাজা রাখা হয়।

1916। কুতায়বা (রহঃ) ... আমির ইবনু রাবী’আ (রাঃ) সুত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন তোমরা যখন জানাজা দেখবে তখন তোমরা তার পিছনে না পড়া পর্যন্ত কিংবা তা না রাখা পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকবে।

1917। আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ও ইসমাঈল ইবনু মাসউদ (রহঃ) ... আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমরা জানাজা দেখবে, দাঁড়িয়ে যাবে। আর যে তার অনুগমন করবে সে যেন তা রাখার পূর্বে না বসে।

1918। ইউসুফ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) ও আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তারা বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কোন জানাজার উপস্থিত হয়ে কখনও তা রাখার পূর্বে বসতে দেখিনি।

1919। আমর ইবনু আলী ও ইবরাহীম ইবনু ইয়াকুব (রহঃ) ... আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছ দিয়ে লোকজন জানাজা নিয়ে যাচ্ছিল, তখন তিনি দাঁড়িয়ে গেলেন, আর আমর (রাঃ) বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট দিয়ে জানাজা নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি দাঁড়িয়ে গেলেন।

1920। ইবনু মুহাম্মাদ ওয়াযযান (রহঃ) ... ইয়াযীদ ইবনু সাবিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে উপবিষ্ট ছিলেন, এমন সময় একটি জানাজা দেখা দিল তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে গেলেন আর তাঁর সাথে যারা ছিলেন তারাও দাঁড়িয়ে গেলেন। ঐ জানাজা চলে না যাওয়া পর্যন্ত তারা দাঁড়িয়ে রইলেন।

1921। ইসমাঈল ইবনু মাসউদ (রহঃ) ... সাহল ইবনু হুনায়ফ ও কায়স ইবনু সা’দ ইবনু উবাদাহ (রাঃ) কাদিসিয়ায় ছিলেন। তাদের নিকট দিয়ে একটি জানাজা যাওয়ার সময় তারা দাঁড়িয়ে গেলেন, এখন তাদেরকে বলা হলো, “এতো যিম্মীর (আশ্রিত বিধর্মীর) লাশ, তখন তারা বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছ দিয়ে একটি জানাজা নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি দাঁড়িয়ে গেলে তাকে বলা হল, সে তো ইয়াহুদী, তিনি বললেন, সে কি মানুষ নয়?

1922। আলী ইবনু হুজর ও ইসমাঈল ইবনু মাসউদ (রহঃ) ... জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের কাছ দিয়ে একটি জানাজা যাওয়ার সময় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে গেলেন এবং আমরাও তার সাথে দাঁড়িয়ে গেলাম। তখন আমি বললাম, “ইয়া রাসুলাল্লাহ! এতো এক ইয়াহুদী মহিলার জানাজা। তিনি বললেন, প্রত্যেক মৃত্যুতেই ভীতি আছে। অতএব যখন তোমরা জানাজা দেখবে তখন দাঁড়িয়ে যাবে।

1923। মুহাম্মাদ ইবনু মানসুর (রহঃ) ... আবূ মা'মার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা একদা আলী (রাঃ)-এর নিকট ছিলাম। এমন সময় তার কাছ দিয়ে একটি জানাজা গেলে তারা (আলী (রাঃ) এর কাছে উপবিষ্ট লোকজন) দাঁড়িয়ে গেলেন। তখন আলী (রাঃ) বললেন, একি? তারা বললেন, আবূ মুসা (রাঃ)-এর নির্দেশ। তখন তিনি বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ইয়াহুদী মহিলার জানাজার জন্য তিনি দাঁড়িয়ে ছিলেন। এরপর আর তা করেননি।

1924। কুতায়বা (রহঃ) ... মুহাম্মাদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। হাসান ইবনু আলী এবং ইবনু আব্বাস (রাঃ) এর নিকট দিয়ে একটি জানাজা গেলে হাসান (রাঃ) দাঁড়িয়ে গেলেন কিন্তু ইবনু আব্বাস (রাঃ) দাঁড়ালেন না। তখন, হাসান (রাঃ) বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি ইয়াহুদীর জানাজার জন্য দাঁড়ান নি? ইবনু আব্বাস বললেন, হ্যাঁ। তারপর তিনি দাঁড়ান নি।

1925। ইয়াকুব ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... ইবনু সীরীন (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাসান ইবনু আলী এবং ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট দিয়ে একটি জানাজা নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তখন হাসান (রাঃ) দাঁড়িয়ে গেলেন কিন্তু ইবনু আব্বাস (রাঃ) দাঁড়ালেন না। তখন হাসান (রাঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ)-কে বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি এর জন্য দাঁড়ান নি? ইবনু আব্বাস (রাঃ) বললেন এর জন্য দাঁড়িয়েছিলেন কিন্তু পরে তিনি বসে পড়েন।

1926। ইয়াকুব ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আবূ মিজলায (রহঃ) সুত্রে ইবনু আব্বাস (রাঃ) ও হাসান ইবনু আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তাদের নিকট দিয়ে একটি জানাজা যাওয়ার সময় তাদের একজন দাঁড়ালেন অন্যজন বসে রইলেন। তখন যিনি দাঁড়িয়েছিলেন তিনি বললেন, তুমি তো নিশ্চয়ই জানো যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ব্যাপারে দাঁড়িয়ে ছিলেন? যিনি বসেছিলেন তিনি বললেন, আমি জানি যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসা ছিলেন।

1927। ইবরাহীম ইবনু হারুন বলখী (রহঃ) ... জাফরের পিতা মুহাম্মাদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, হাসান ইবনু আলী (রাঃ) বসা ছিলেন, তখন তার কাছ দিয়ে একটি জানাজা নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল সেই জানাজা চলে না যাওয়া পর্যন্ত লোকজন দণ্ডায়মান ছিল। তখন হাসান (রাঃ) বললেন, একজন ইয়াহুদীর জানাজা নিয়ে যাওয়া হল। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তথায় উপবিষ্ট ছিলেন। ইয়াহুদীর জানাজা তার মাথার উপর দিয়ে যাবে তা তিনি অপছন্দ করার কারণে দাঁড়িয়েছিলেন।

1928। আবূ যুবাইর (রহঃ) আমাদেরকে সংবাদ এ দিয়েছেন যে, তিনি জাবির (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার সাহাবীগণ এক ইয়াহুদীর জানাজার জন্য দাঁড়িয়েছিলেন তা অদৃশ্য হয়ে না যাওয়া পর্যন্ত।

1929। ইসহাক (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছ দিয়ে একটি জানাজা যাওয়ার সময় তিনি দাঁড়িয়ে গেলে তাকে বলা হল যে, এটাতো এক ইয়াহুদীর জানাজা। তিনি বললেন, আমরাতো ফেরেশতাদের সম্মানার্থে দাঁড়িয়েছি।

1930। কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ কাতাদা ইবনু রিবয়ী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে দিয়ে একটি জানাজা নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি বললেন, হয়তো বা এ ব্যক্তি নিস্কৃতি পাচ্ছে বা তার থেকে লোকজন নিষ্কৃতি পাচ্ছে। সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন যে, কেই বা নিজে নিস্কৃতি পায় আর কার কাছ থেকেই বা লোকজন নিস্কৃতি পায়? তিনি বললেন, যে মু'মিন ব্যক্তি যখন মৃত্যূবরণ করে এখন সে দুনিয়ার দুঃখ কষ্ট থেকে নিস্কৃতি পায় আর গুনাহগারের মৃত্যু হলে তার মৃত্যুতে অন্যান্য লোকজন, জনপদ, বৃক্ষরাজি এবং প্রানীকুল তার থেকে নিস্কৃতি পায়।

1931। মুহাম্মাদ ইবনু ওয়াহাব (রহঃ) ... আবূ কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বসা ছিলাম। এমতাবস্থায় একটি জানাজা দেখা গেল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হয়তো বা সে নিষ্কৃতি পাচ্ছে বা তার থেকে মুমিনগণ নিষ্কৃতি পাচ্ছে। মু'মিন ব্যক্তি যখন মৃত্যূবরণ করে তখন সে তার দুঃখ-কষ্ট ও বালা-মুসীবত থেকে নিষ্কৃতি পায় আর গুনাহগার মৃত্যু বরণ করলে তার থেকে অন্যান্য লোকজন, জনপদ, বৃক্ষরাজি এবং প্রানীকুল নিষ্কৃতি পায়।

1932। যিয়াদ ইবনু আইয়ুব (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একটি জানাজা যেতে লাগলে তার উত্তম প্রশংসা করা হল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তার জন্য জান্নাত নির্ধারিত হয়ে গেল। আর একটি জানাজা যাচ্ছিল, যার পাপের আলোচনা করা হচ্ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তার জন্য দোযখ সাব্যস্ত হয়ে গেল। তখন উমর (রাঃ) বললেন, আপনার উপর আমার মাতা-পিতা উৎসর্গ হোক; একটি জানাজা যাচ্ছিল যার ভাল প্রশংসা করা হল, আর আপনি বললেন যে, তার জন্য জান্নাত সাব্যস্ত হয়ে গেল। অন্য আর একটি জানাজা যাচ্ছিল তার পাপের আলোচনা করা হচ্ছিল আর আপনি বললেন যে, তার জন্য দোযখ সাব্যস্ত হয়ে গেল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা যার ভাল প্রশংসা কর তার জন্য জান্নাত সাব্যস্ত হয়ে যায় আর তোমরা যার পাপের আলোচনা কর তার জন্য দোযখ সাব্যস্ত হয়ে যায়। কারণ, তোমরা জমীনে আল্লাহর সাক্ষী।

1933। মুহাম্মাদ ইবনু বাশাশার (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকজন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট একটি জানাজা নিয়ে যাচ্ছিল এবং তার ভাল প্রশংসা করছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তার জন্য জান্নাত সাব্যস্ত হয়ে গেল। অতঃপর অন্য একটি জানাজা যাচ্ছিল যার পাপের আলোচনা করছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তার জন্য দোযখ সাব্যস্ত হয়ে গেল। তারা বললো, প্রথম এবং দ্বিতীয় ব্যক্তির ব্যাপারে আপনার একই মন্তব্য "সাব্যস্ত হয়ে গেল?" নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ফেরেশতাগণ আসমানে আল্লাহ তা'আলার সাক্ষী আর তোমরা যমীনে আল্লাহ তা'আলার সাক্ষী।

1934। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আবূল আসওয়াদ দোয়ালী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একবার মদীনাতে এসে উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ)-এর পাশে বসে ছিলাম এমন সময় একটি জানাজা নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। আর তার সাথীরা তার সম্পর্কে ভাল প্রশংসা করছিল। তখন উমর (রাঃ) বললেন যে, তার জন্য (জান্নাত) সাব্যস্ত হয়ে গেল। দ্বিতীয়বার আরো একটি জানাজা নিয়ে যাওয়ার হচ্ছিল। আর তার সম্পর্কে তার সাথীরা মন্দ আলোচনা করছিল। তখন উমর (রাঃ) বললেন যে, তার জন্য সাব্যস্ত হয়ে গেল। আমি বললাম, কি সাব্যস্ত হয়ে গেছে ইয়া আমীরুল মুমিনীন? তিনি বললেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে রকম বলেছেন, আমি সে রকমই বলেছি যে, যে কোন মুসলিম সম্পর্কে চারজন মানুষ ভাল বলে সাক্ষ্য দেয়, আল্লাহ তা’আলা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। আমরা বললাম, যদি তিনজন মানুষ সাক্ষ্য দেয়? তিনি বললেন, তিনজন মানুষ সাক্ষ্য দিলেও। আমরা বললাম, যদি দুইজন মানুষ সাক্ষ্য দেয়? তিনি বললেন, দুইজন মানুষ সাক্ষ্য দিলেও।

1935। ইবরাহীম ইবনু ইয়া'কুব (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে এক মৃত ব্যক্তি সম্পর্কে মন্দ মন্তব্য করা হলে তিনি বললেন, তোমরা মৃত ব্যক্তিদের সম্পর্কে ভাল মন্তব্য ছাড়া মন্তব্য করবে না।

1936। হুমায়দ ইবনু মাসআদা (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা (মুসলিম) মৃত ব্যক্তিদের মন্দ বলবে না। কেননা তারা স্বীয় কৃতকর্মের ফল ভোগ করবে।

1937। কুতায়বা (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু আবূ বকর (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিনটি বস্তু মৃত ব্যক্তির পিছু পিছু যায়। তার পরিবার-পরিজন, তার ধন-সম্পত্তি এবং তার কৃতকর্ম। অতঃপর দুইটি বস্তু ফিরে আসে তার পরিবার-পরিজন এবং তার ধন-সম্পত্তি আর অন্য বস্তুটি তার সাথেই থেকে যায় আর তা হল তার কৃতকর্ম।

1938। কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রত্যেক মু'মিন ব্যক্তির উপর অন্য মু'মিন ভাইয়ের ছয়টি অধিকার রয়েছেঃ (১) যখন অসুস্থ হবে তার সেবা শুশ্রুষা করবে (২) তার জানাজায় উপস্থিত হবে যখন সে মারা যাবে (৩) তার আতিথ্য গ্রহণ করবে যখন সে দাওয়াত করবে (৪) যখন তার সাথে সাক্ষাৎ হলে তাকে সালাম দিবে (৫) যখন সে হাঁচি দেবে তখন তার উত্তরেيرحمك الله বলবে (৬) তার কল্যাণ কামনা করবে সে অনুপস্থিত থাকুক বা উপস্থিত থাকুক।

1939। সুলায়মান ইবনু মানসূর বালখী (রহঃ) এবং হান্নাদ ইবনু সারী (রহঃ) ... বারা ইবনু আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সাতটি কাজের নির্দেশ দিয়েছেন এবং সাতটি কাজ থেকে বারণ করেছেন, অসুস্থের হাঁচি দাতার উত্তরে يرحمك الله বলার, শপথ পূরণে সহায়তার, অত্যাচারিতের সাহায্য করার, সালাম বিস্তারের, আমন্ত্রনকারীর আমন্ত্রণ গ্রহণ করার এবং জানাজার পিছু পিছু গমন করার তিনি আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন আর তিনি স্বর্ণের আংটি পরিধান, রৌপ্য পাত্র ব্যবহার, রেশম নির্মিত গদী ব্যবহার, কসি (এক প্রকার মিসরীয় কাপড়) নির্মিত কাপড় পরিধান, রেশমী মোটা কাপড় ব্যবহার এবং রেশম ও দীবাজ (এক প্রকার রেশমী পোষাক) ব্যবহার থেকে আমাদের নিষেধ করেছেন।

1940। কুতায়বা (রহঃ) ... মুসাইয়াব ইবনু রাফি (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বারা ইবনু আযিব (রাঃ) কে বলতে শুনেছি যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি জানাজার সালাত আদায় করা পর্যন্ত জানাজার অনুগমন করে তার জন্য এক কীরাত সওয়াব রয়েছে। আর যে ব্যক্তি দাফন করা পর্যন্ত জানাযার অনুগামী হয় তার জন্য দুই কীরাত সওয়াব রয়েছে। এক কীরাত উহুদ পাহাড়ের সমপরিমাণ।

1941। মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল আ'লা (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি দাফন করা পর্যন্ত জানাজার অনুগামী হয় তার জন্য দুই কীরাত সওয়াব রয়েছে। আর যদি দাফনের পুর্বেই ফিরে তবে তার জন্য রয়েছে এক কীরাত সওয়াব।

1942। যিয়াদ ইবনু আইয়্যুব (রহঃ) ... মুগীরা ইবনু শুবা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আরোহী জানাজার পিছনে চলবে। পদব্রজেে চলাকারী জানাজার যেখান দিয়ে ইচ্ছা সেখান দিয়ে চলতে পারে। নবজাত শিশুর (ক্রন্দন করার পর মারা গেলে) জানাজা আদায় করা হবে।

1943। আহমদ ইবনু বাক্কার হাররানী (রহঃ) ... মুগীরা ইবনু শু’বা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সাওয়ারী জানাজার পিছনে চলবে আর পদব্রজ চলাকারী ব্যাক্তি যেথায় দিয়ে ইচ্ছা সেখান দিয়ে চলবে। আর নবজাত শিশুর (ক্রন্দন করার পর মারা গেলে) জানাজা আদায় করা হবে।

1944। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম আলী ইবনু হুজর এবং কুতায়রা (রহঃ) ... সালিম (রহঃ)-এর পিতা [আব্দুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ)] থেকে বর্ণিত তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবূ বকর এবং উমর (রাঃ)-কে জানাজার আগে আগে পায়ে হেঁটে চলতে দেখেছেন।

1945। মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবূ বকর, উমর এবং উসমান (রাঃ)-কে জানাজার আগে আগে পায়ে হেঁটে চলতে দেখেছেন।

1946। আলী ইবনু হুজর এবং আমর ইবনু যুররা নিশাপুরী (রহঃ) ... ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, তোমাদের এক ভাই (নাজ্জাশী) মৃত্যুবরণ করেছে। তোমরা প্রস্তুত হও এবং তার উপর জানাজার সালাত আদায় কর।

1947। আমর ইবনু মানসুর (রহঃ) ... উম্মুল মু'মিনীন আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে একটি আনসারী বালকের মৃতদেহ আনা হলে তিনি তার উপর জানাজার সালাত আদায় করলেন। আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, জান্নাতের চড়ুই পাখীদের মধ্যে হতে এ চড়ুই পাখিটি কতই ভাগ্যবান। সে কোন পাপ কাজ করেনি এবং পাপ তাকেও স্পর্শ করেনি। তিনি বললেন এর অন্যথাও হতে পারে হে আয়িশা! আল্লাহ তা'আলা জান্নাত সৃষ্টি করেছেন এবং তার বাসিন্দা সৃষ্টি করেছেন। আর তাদের সৃষ্টি করেছেন স্বীয় পিতার ঔরসে এবং জাহান্নাম সৃষ্টি করেছেন আর তার বাসিন্দাও সৃষ্টি করেছেন। তাদের সৃষ্টি করেছেন তাদের পিতার ঔরসে।

1948। ইসমাঈল ইবনু মাসউদ (রহঃ) ... মুগীরা ইবনু শু'বা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আরোহীরা জানাজার পিছু পিছু চলবে আর পদব্রজে চলাকারী জানাজার যে দিক দিয়ে ইচ্ছে সে দিক দিয়ে চলবে। (ক্রন্দন করার পর মারা গেলে) নবজাতকের জানাজার সালাত আদায় করা হবে।

1949। ইসহাক (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুশরিকদের সন্তানদের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে বলেছিলেন, আল্লাহ তা'আলাই তাদের ভবিষৎ কর্ম সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত।

1950। মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুশরিকদের সন্তানদের ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হলে বলেছিলেন, আল্লাহ তা’আলাই তাদের ভবিষ্যৎ কর্ম সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত।

1951। মুহাম্মাদ ইবনু মুছান্না (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুশরিকদের সন্তানদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হলে বলেছিলেন, যখন আল্লাহ তা’আলা তাদের সৃষ্টি করেন তখন তিনি তাদের ভবিষ্যৎ কর্ম সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত।

1952। মুজাহিদ ইবনু মুসা (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুশরিকদের সন্তানদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হলে বলেছিলেন, আল্লাহ তা'আলা তাদের ভবিষ্যৎ কর্ম সম্পকে অধিক পরিজ্ঞাত।

1953। সূওয়াইদ ইবনু নাসর (রহঃ) ... শাদ্দাদ ইবনু হাদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একজন গ্রাম্য ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে তাঁর উপর ঈমান আনলো এবং তাঁর অনুসরন করল। অতঃপর বললেন যে, আমি আপনার সাথে হিজরতকারী অবস্থায় অবস্থান করব। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সম্পর্কে কোন সাহাবীকে ওসিয়্যত করলেন। এক যুদ্ধে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গনীমত স্বরূপ কিছু বন্দী হস্তগত হল। তিনি সেগুলো বন্টন করে দিলেন এবং ঐ গ্রাম্য সাহাবীকেও দিলেন। তার অংশ একজন সাহাবীকে দিলেন। তিনি অন্যান্য সাহাবীদের উট চরাতেন। যখন তিনি আসলেন সেগুলি তাকে দেওয়া হলে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, এগুলো কি? তারা বলেন, তোমার অংশ যা তোমাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিয়েছেন। তিনি সেগুলো নিলেন এবং সেগুলো নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বললেন, এগুলো কি? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এগুলো আমি তোমার জন্য বন্টন করেছি। তখন তিনি বললেন, এ জন্য আমি আপনার অনুসরণ করিনি বরং এ জন্য আমি আপনার অনুসরণ করেছি, যেন এখানে আমি তীর গ্রহণ করতে পারি এবং সে স্বীয় গলদেশের প্রতি ইঙ্গিত করল এবং শহীদ হতে পারি ও জান্নাতে প্রবেশ করতে পারি। তিনি বললেন, যদি তুমি আল্লাহ তা’আলাকে বিশ্বাস কর তবে আল্লাহ তা’আলা তোমার সে আশা সত্য করে দেখাবেন। অল্প কিছুক্ষণ পরেই তিনি শত্রু নিধনের জন্য দৌড়িয়ে গেলেন। অতঃপর তাকে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে আনা হলে দেখা গেল ঠিক ঐ স্থানেই তার বিদ্ধ ছিল যে দিকে তিনি ইঙ্গিত করেছিলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ কি সেই ব্যাক্তি? সাহাবাগণ বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেন, সে আল্লাহ তা'আলাকে সত্য বলে বিশ্বাস করেছিল, আল্লাহ তা'আলাও তাকে সত্য সাব্যস্ত করে দিয়েছেন। অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে স্বীয় জুব্বা দ্বারা কাফন দিলেন এবং তাকে সম্মূখে রেখে তার জানাজার সালাত আদায় করলেন। তার জানাজা সালাতে যা প্রকাশ পেয়েছিল তা হল, হে আল্লাহ! এ ব্যক্তি তোমার বান্দা সে তোমার রাস্তায় মুহাজির অবস্থায় বের হয়েছিল। এখন সে শাহাদাত প্রাপ্ত হয়েছে আমি তার জন্য সাক্ষী হয়ে রইলাম।

1954। কুতায়রা (রহঃ) ... উকবা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন বের হয়ে উহুদের শহীদের উপর জানাজার সালাত আদায় করলেন যেরূপ মৃতদের উপর আদায় করা হয়। পরে মিম্বরে উঠে এসে বললেন তোমাদের আমি অগ্রগামী দল স্বরূপ পাঠিয়েছি আর আমি তোমাদের জন্য সাক্ষী হয়ে রইলাম।

1955। কুতায়বা (রহঃ) ... জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদের শহীদের মধ্য হতে দু'জনকে এক কাপড়ে একত্রিত করতেন অতঃপর জিজ্ঞাসা করতেন যে, কে কুরআন সম্পর্কে অধিক পরিজ্ঞাত? যখন তাদের কোন একজনের দিকে ইশারা করা হল তখন তাকে কবরে অগ্রে শায়িত করে দিতেন এবং বলতেন যে, আমি এদের জন্য সাক্ষী হয়ে রইলাম। আর শহীদের স্বীয় রক্ত মাখা শরীরে তাদের উপর জানাজার সালাত আদায় না করেই বিনা গোসলে দাফন করার নির্দেশ দিতেন।

1956। মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াহয়া এবং নূহ ইবনু হাবীব (রহঃ) ... জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আসলাম গোত্রের এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে যিনার স্বীকারোক্তি করল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন, সে আবারো স্বীকারোক্তি করল, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবারো তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন, সে আবারো স্বীকারোক্তি করল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবারো তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। এভাবে সে নিজের উপর চার বার সাক্ষ্য দান করল। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন যে, তুমি কি অপ্রকৃতস্ত? সে বললো, না। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি বিবাহিত? সে বললো, হ্যাঁ, অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে পাথর মারার নির্দেশ দিলেন। যখন পাথর মারা হল সে অধৈর্য হয়ে দৌড় দিল তখন তাকে ধরে এনে পুনরায় পাথর মারা হল, যাতে সে মারা গেল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সম্পর্কে ভাল মন্তব্য করলেন কিন্তু তার উপর জানাজার সালাত আদায় করলেন না।

1957। ইসমাঈল ইবনু মাসউদ (রহঃ) ... ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ জুহায়না গোত্রের এক মহিলা। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কাছে এসে বলছেন যে, আমি যিনা করেছি আর সে গর্ভবতী ছিল। তিনি তাকে স্বীয় আত্নীয়-স্বজনের নিকট সোপর্দ করে দিলেন এবং বললেনঃ এর সাথে সদ্ব্যবহার কর, আর যখন সে প্রসব করবে, তখন তাকে আমার কাছে নিয়ে আসবে। প্রসবের পর তাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে নিয়ে আসা হলে তিনি তাকে পাথর মারার নির্দেশ দিলেন। তার উপর কাপড় জড়ানো হল, পরে পাথর মারা হল। অতঃপর তিনি তার জানাজার সালাত আদায় করলেন। উমর (রাঃ) বললেন, আপনি তার উপর জানাজার সালাত আদায় করলেন অথচ সে যিনা করেছে। তিনি বললেন, সে এমন তওবা করেছে যে, তা যদি সত্তরজন মদীনাবাসীকে বন্টন করে দেওয়া হত তবে তা তাদের জন্য পর্যাপ্ত হয়ে যেত তুমি কি এর চেয়ে উত্তম তওবা দেখেছ, যে নিজকে আল্লাহ তা’আলার জন্য উৎসর্গ করে দিয়েছে?

1958। আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ... ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, এক ব্যক্তি তার মৃত্যুর সময় নিজের ছয়টি গোলাম মুক্ত করে দিয়েছিলেন। সেগুলো ছাড়া তার অন্য কোন সম্পত্তি ছিল না। এ সংবাদ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে পৌছলে এ কারনে তিনি রাগান্বিত হয়ে গেলেন এবং বললেন, আমি ইচ্ছা করেছিলাম, তার জানাজার সালাত আদায় করব না। অতঃপর তিনি তার গোলামদের ডাকলেন এবং তিনটি ভাগ করে তাদের মধ্যে লটারী দিলেন এবং দু’জনকে মুক্ত করে দিয়ে বাকী চারজনকে গোলাম অবস্থায় রেখে দিলেন।

1959। উবায়দুল্লাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... যায়দ ইবনু খালিদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, খায়বারে যুদ্ধে এক ব্যাক্তি মৃত্যুবরণ করলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, (গনিমতের মধ্যে) তোমাদের যে সাথী আল্লাহ তা'আলার রাস্তায় খিয়ানত করেছে তার উপর তোমরা জানাজার সালাত আদায় কর। আমরা তার মাল-সামান তল্লাশী চালিয়ে ইয়াহুদীদের মুল্যবান পাথর থেকে একটি পাথর পেলাম, যার মূল্য দুই দিরহাম সমতূল্য ছিল।

1960। মুহাম্মাদ ইবনু গায়লান (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু আবূ কাতাদাহ তাঁর পিতা আবূ কাতাদাহ (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে কয়েকজন আনসারী ব্যক্তির মৃত দেহ আনা হল জানাজার সালাত আদায় করার জন্য। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা নিজেরাই স্বীয় সাথীর উপর জানাজার সালাত আদায় কর, যেহেতূ সে ঋণগ্রস্ত। আবূ কাতাদা (রাঃ) বললেন, সে ঋণ আমার উপর (সে ঋণ আদায়ের দায়িত্ব আমার)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা আদায় করার অঙ্গীকার চাইলেন। আদায় করার অঙ্গীকার করা হলে তিনি জানাজার সালাত আদায় করলেন।

1961। আমর ইবনু আলী মুহাম্মাদ ইবনু মুছান্না (রহঃ) ... সালামা ইবনু আকওয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে একজনের মৃত দেহ আনা হলে সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর নবী! আপনি এর উপর জানাজার সালাত আদায় করুন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন যে, সে কি ঋণগ্রস্ত? সাহাবীগণ বললেন, হ্যাঁ। তিনি পুনরায় জিজ্ঞাসা করলেন যে, সে কি কোন সম্পতি রেখে গেছে? সাহাবীগণ বললেন, না। তিনি বললেন তোমরা নিজেরাই সাথীর উপর জানাজার সালাত আদায় কর। একজন আনসারী সাহাবী বললেন, যাকে আবূ কাতাদাহ (রাঃ) বলা হয়, আপনি তার উপর জানাজার সালাত আদায় করুন তার ঋণ পরিশোধ করার দায়িত্ব আমার উপর। অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উপর জানাজার সালাত আদায় করলেন।

1962। নূহ ইবনু হাবীব কুমাসী (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঋনগ্রন্ত ব্যক্তির উপর জানাজার সালাত আদায় করতেন না। এক ব্যক্তির মৃতদে আনা হলে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন যে, এর উপর কোন ঋণ আছে? সাহাবীগণ বললেন, হ্যাঁ, তার উপর দুই দীনার ঋণ রয়েছে। তিনি বললেন, তোমরা নিজেরাই স্বীয় সাথীর উপর জানাজার সালাত আদায় কর। আবূ কাতাদাহ (রাঃ) বললেন, সে দিরহাম আমার উপর হে আল্লাহর রাসূল! (উহা পরিশোধের দায়িত্ব আমার)। অতঃপর তিনি তার উপর জানাজার সালাত আদায় করলেন। যখন আল্লাহ তা’আলা স্বীয় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মক্কা বিজয় দান করলেন, তখন তিনি বললেন, আমি প্রত্যেক মুমিনের নিকট তার নিজ অপেক্ষা ঘনিষ্ঠতর। যে ব্যক্তি ঋণ রেখে যায় তা পরিশোধ করার দায়িত্ব আমার। আর যে ব্যক্তি ধন-সম্পদ রেখে যায় তা তার ওয়ারিসদের।

1963। ইউনুস ইবনু আব্দুল আলা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, যখন কোন ঋণগ্রস্ত মুমিন ব্যক্তি মারা যেত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করতেন, তার কি কোন ত্যাজ্য সম্পতি আছে? যদি সাহাবীগণ হ্যাঁ বলতেন, তাহলে তার উপর জানাজার সালাত আদায় করতেন। আর যদি তারা না বলতেন তাহলে তিনি বলতেন যে, তোমরা নিজেরাই সাথীর উপর জানাজার সালাত আদায় কর। যখন আল্লাহ তা’আলা স্বীয় রাসুলকে মক্কা বিজয় দান করলেন তখন তিনি বললেন, আমি মুমিনের নিকট তাদের নিজেদের অপেক্ষা ঘনিষ্ঠতর। যে ব্যক্তি ঋণগ্রস্ত অবস্থায় মারা যায় তার ঋণ পরিশোধ করার দায়িত্ব আমার। আর যে ব্যক্তি ধন-সম্পদ রেখে যায় তা তার ওয়ারিসদের।

1964। ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ... জাবির ইবনু সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি আত্নহত্যা করে ফেললো তীরের ফলা দ্বারা। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেন, আমি কিন্তু তার উপর জানাজার সালাত আদায় করব না।

1965। মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল আলা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি পাহাড় থেকে পড়ে গিয়ে আত্নহত্যা করে সে ব্যক্তি দোযখের আগুনে সদা সর্বদা পাহাড় থেকে পড়তে থাকবে। আর যে ব্যক্তি বিষ পান করে আত্নহত্যা করে সে ব্যক্তি দোযখের আগুনে সদা সর্বদা স্বীয় হস্তে বিষ পান করতে থাকবে। আর যে ব্যক্তি লৌহ দ্বারা আত্মহত্যা করে তার হস্তে একটি লৌহ থাকবে যা দ্বারা দোযখের আগুনে সদা সর্বদা সে নিজের পেটে আঘাত করতে থাকবে।

1966। মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আব্দুল্লাহ ইবনু উবাইর মৃত্যু হল, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তার উপর জানাজার সালাত আদায় করার জন্য ডাকা হল। যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাওয়ার জন্য দাঁড়ালেন তখন আমি তার দিকে দ্রুত গিয়ে বললাম ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি ইবনু উবাইর উপর জানাজার সালাত আদায় করবেন? অথচ সে অমুক, অমুক দিন এরূপ বলেছিল। আমি গুনে গুনে বললাম, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুচকি হাসলেন এবং বললেন, হে উমর! আমা হতে সরে যাও, আমি যখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর পীড়াপীড়ি করতে লাগলাম তখন তিনি বললেন, আমাকে এখতিয়ার দেওয়া হলে আমি ইস্তিগফারকেই গ্রহণ করেছি। যদি আমি জানতাম যে, আমি সত্তর বারের বেশী ক্ষমা চাইলে তাকে ক্ষমা করা হবে তাহলে আমি সত্তরবারের বেশীই ক্ষমা চাইতাম। অতঃপর তিনি তার উপর জানাজার সালাত আদায় করলেন, তারপরে ফিরে গেলেন। কিছুক্ষণ পর সূরা বারাআতের দুটি আয়াত অবতীর্ণ হল, وَلاَ تُصَلِّ عَلَى أَحَدٍ مِنْهُمْ مَاتَ أَبَدًا وَلاَ تَقُمْ عَلَى قَبْرِهِ إِنَّهُمْ كَفَرُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَمَاتُوا وَهُمْ فَاسِقُونَ অর্থাৎ “তাদের কেউ মারা গেলে আপনি কখনো তার উপর জানাজার সালাত আদায় করবেন না এবং তার কবরের পাশেও দাঁড়াবেন না”। তারা আল্লাহ তা’আলার এবং তদীয় রাসুলের নাফরমানী করেছে এবং তারা নাফরমান অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে, আমি পরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে আমার সেদিনের সাহসিকতায় আশ্চার্যান্বিত হয়ে গিয়েছিলাম। আল্লাহ ও তার রাসুলই অধিক জ্ঞাত।

1967। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) এবং আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূহায়ল ইবনু বায়দা (রাঃ)-এর উপর মসজিদেই জানাজার সালাত আদায় করেছিলেন।

1968। সুওয়ায়দ ইবনু নসর (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইবনু বায়দা (রাঃ)-এর উপর মসজিদের অভ্যন্তরেই জানাজার সালাত আদায় করেছিলেন।

1969। ইউনুস ইবনু আব্দুল আলা (রহঃ) ... আবূ উমামা সাহল ইবনু হুনায়ফ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একজন গ্রাম্য দরিদ্র মহিলা রোগাক্রান্ত হলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবাদের তার সম্পর্কে জিজ্ঞানা করতেন এবং বলতেন যে, সে যদি মৃত্যুবরণ করে তাহলে তার উপর আমার জানাজার সালাত আদায় করা ব্যতীত তাকে কবরস্থ করবে না। কিছুদিন পর তার মৃত্যু হলে সাহাবীগণ তাকে নিয়ে ইশার পর মদীনায় আসলেন। এসে তারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নিদ্রিতাবস্থায় পেয়ে জাগানো অপছন্দনীয় মনে করে তার উপর জানাজার সালাত আদায় করে বকীয় গরকদ নামক কবরস্থানে তাকে কবরস্থ করে ফেললেন। যখন সকাল হল এবং সাহাবীগণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলেন, তখন তিনি তাদের উক্ত মহিলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তারা বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমরা তো তাকে কবরস্থ করে ফেলেছি। আমরা আপনার কাছে এসেছিলাম আপনাকে নিদ্রিত অবস্থায় পেয়ে জাগানো অশোভনীয় মনে করেছিলাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা সকলে চলো। অতঃপর পদব্রজে চলতে শুরু করলেন। সাহাবীগণও তার সাথে চলতে শুরু করলেন। কবরস্থানে এসে তারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তার কবর দেখালেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে গেলেন, সাহাবীগণও তার পিছনে কাতারবন্দী হয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহিলাটির কবরের উপর জানাজার সালাত আদায় করলেন ও চারটি তাকবীর বললেন।

1970। মুহাম্মাদ ইবনু উবায়দ (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেনঃ তোমাদের ভাই নাজ্জাশী মৃত্যূবরণ করেছেন, তোমারা দাঁড়াও এবং তার উপর জানাজার সালাত আদায় কর। তিনি নিজে দাঁড়ালেন এবং আমাদের কাতারবন্দী করালেন যেভাবে আমরা জানাজার সালাতে কাতারবব্দী হয়ে দাঁড়ালেন। অতঃপর তিনি তাঁর উপর জানাজার সালাত আদায় করলেন।

1971। সুওয়ায়দ ইবনু নাসর (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাজ্জাশী যে দিন মৃত্যুবরণ করেছিলেন সেদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীগণকে তাঁর মৃত্যূ সংবাদ জানিয়ে দিয়েছিলেন। অতঃপর ঈদগাহে তাঁদের নিয়ে কাতারবন্দী হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন এবং তার উপর জানাজার সালাত আদায় করেছিলেন ও চারটি তাকবীর বলেছিলেন।

1972। মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনাতে স্বীয় সাহাবীদের নাজাশীর মৃত্যু সংবাদ দিলেন। সাহাবীগণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পেছনে কাতার বন্দী হয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং তিনি তার উপর জানাজার সালাত আদায় করলেন ও চারটি তাকবীর বললেন।

1973। আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের ভাই মৃত্যুবরণ করেছেন। অতএব তোমরা দাঁড়াও এবং তার উপর জানাজার সালাত আদায় কর। (জানাজার সালাতে) আমরা দুইটি কাতার বেঁধে দাঁড়িয়েছিলাম।

1974। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে দিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাজাশীর উপর জানাজার সালাত আদায় করেছিলেন সেদিন আমি দ্বিতীয় কাতারে ছিলাম।

1975। ইসমাঈল ইবনু মাসউদ (রহঃ) ... ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বললেন যে, তোমাদের ভাই নাজাশী মৃত্যুবরণ করেছেন। অতএব তোমরা দাঁড়াও এবং তার উপর জানাজার সালাত আদায় কর। রাবী বলেন, অতঃপর আমরা দাঁড়িয়ে গেলাম এবং কাতারবন্দী হয়ে গেলাম, যে রকম মৃতের সামনে কাতারবন্দী হয়ে দাঁড়ানো হয় এবং তার উপর জানাজার সালাত আদায় করলাম, যে রকম মৃতের সামনে আদায় করা হয়।

1976। হুমায়দ ইবনু মাসআদা (রহঃ) ... সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে উম্মে কা'ব-এর জানাজার সালাত আদায় করেছিলাম যিনি নিফাস অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছিলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানাজার সালাতে তার ঠিক মাঝখান বরাবর দাঁড়িয়ে ছিলেন।

1977। মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... আম্মার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার শিশু ও মহিলার জানাজা একত্রিত হলে শিশুর জানাজা লোকজনের সম্মুখভাবে রাখা হল এবং মহিলার জানাজা শিশুটির পেছনে রাখা হল এবং তাদের উভয়ের উপরে জানাজার সালাত আদায় করা হল। উপস্থিত লোকজনের মধ্যে আবূ সাঈদ খুদূরী, ইবনু আব্বাস, আবূ কাতাদা এবং আবূ হুরায়রা (রাঃ) প্রমুখ ছিলেন। এ সম্পর্কে তাদের জিজ্ঞাসা করা হলে তারা বললেন যে, এটাই সুন্নাত।

1978। মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ... ইবনু জুরাইজ সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাফে'-কে বলতে শুনেছি, তার ধারণামতে ইবনু উমর (রাঃ) একত্রে নয়জনের জানাজার সালাত আদায় করেছিলেন, পূরুষদের জানাজা ইমামের সম্মুখে আর মহিলাদের জানাজা কিবলার দিকে রেখেছিলেন, সমস্ত জানাজা এক কাতারে রাখা ছিল। উম্মে কুলছুম বিনত আলী, উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ)-এর স্ত্রী এবং তার এক ছেলে যাকে যায়দ বলা হত তাদের জানাজা একত্রে রাখা হয়েছিল। সে দিন ইমাম ছিলেন সাঈদ ইবনু আস (রাঃ) আর উপস্থিত লোকদের মধ্যে ছিলেন ইবনু উমর, আবূ হুরায়রা, আবূ সাঈদ এবং আবূ কাতাদা (রাঃ) প্রমুখ। ইমামের সম্মুখে পূরুষদের রাখা হয়েছিল। রাবী বলেন, এক ব্যক্তি বলল, (পূরুষদের জানাজা ইমামের সম্মুখে রাখা) আমি বিশ্বাস করতে পারলাম না। রাবী বলেন যে, আমি ইবনু আব্বাস, আবূ হুরায়রা, আবূ সাঈদ এবং আবূ কাতাদা (রাঃ)-এর দিকে তাকালাম এবং বললাম, এ ব্যাপারে আপনাদের অভিমত কি? তারা বললেন, এটাই সুন্নাত।

1979। আলী ইবনু হুজর এবং সুওয়ায়দ (রহঃ) ... সামুরা ইবনু জুন্দুব (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অমুকের মাতার জানাযার সালাত আদায় করেছিলেন যিনি নিফাসের অবস্থায় মৃত্যূবরণ করেছিলেন, তার জানাযার ঠিক মাঝখানে তিনি দাঁড়িয়েছিলেন।

1980। কূতায়বা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের নাজাশীর মূত্যু সংবাদ দিলেন এবং তাঁদের নিয়ে বের হয়ে কাতারবন্দী হয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং চারটি তাকবীর বললেন।

1981। কূতায়বা (রহঃ) ... আবূ উমামা ইবনু সাহল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একজন গ্রাম্য মহিলা রোগাক্রান্ত হয়ে গেল। যেহেতু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অত্যাধিক পছন্দনীয় কাজ ছিল রোগীর শুশ্রুষা করা, তাই তিনি বললেন, এই মহিলা যখন মৃত্যুবরণ করবে আমাকে সংবাদ দেবে। সে মহিলা রাত্রে মূত্যুবরণ করল এবং সাহাবীগণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে অবগত না করেই তাকে কবরস্থ করলেন। যখন সকাল হল রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। সাহাবীগণ বললেন, আমরা আপনাকে ঘুম হতে জাগানো অশোভনীয় মনে করেছিলাম হে আল্লাহর রাসুল! অতপর তিনি তার কবরের নিকট আসলেন এবং তার জানাজার সালাত আদায় করলেন ও চারটি তাকবীর বললেন।

1982। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... ইবনু আবী লায়লা (রাঃ) থেকে বর্নিত যে, যায়দ ইবনু আরকাম (রাঃ) একবার জানাজার সালাত আদায়কালে পাঁচটি তাকবীর বললেন। এবং বললেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরকমই তাকবীর বলেছিলেন।

1983। আহমাদ ইবনু আমর (রহঃ) ... আউফ ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে একবার জানাজার সালাতে বলতে শুনেছিঃ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ وَارْحَمْهُ وَاعْفُ عَنْهُ وَعَافِهِ وَأَكْرِمْ نُزُلَهُ وَوَسِّعْ مُدْخَلَهُ وَاغْسِلْهُ بِمَاءٍ وَثَلْجٍ وَبَرَدٍ وَنَقِّهِ مِنَ الْخَطَايَا كَمَا يُنَقَّى الثَّوْبُ الأَبْيَضُ مِنَ الدَّنَسِ وَأَبْدِلْهُ دَارًا خَيْرًا مِنْ دَارِهِ وَأَهْلاً خَيْرًا مِنْ أَهْلِهِ وَزَوْجًا خَيْرًا مِنْ زَوْجِهِ وَقِهِ عَذَابَ الْقَبْرِ وَعَذَابَ النَّارِ আউফ (রাঃ) বলেন, আমি আকাংক্ষা করেছিলাম যে, যদি সেই মৃত ব্যক্তিটি আমি হতাম যেই মৃত ব্যক্তির জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দোয়া করেছিলেন।

1984। হারুন ইবনু আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... জুবায়র ইবনু হাদরামী সুত্রে আউফ ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানাজার সালাত আদায় করার সময দোয়া পড়তে শুনেছি। তিনি দোয়াতে বলছিলেনঃ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ وَارْحَمْهُ وَعَافِهِ وَاعْفُ عَنْهُ وَأَكْرِمْ نُزُلَهُ وَوَسِّعْ مُدْخَلَهُ وَاغْسِلْهُ بِالْمَاءِ وَالثَّلْجِ وَالْبَرَدِ وَنَقِّهِ مِنَ الْخَطَايَا كَمَا نَقَّيْتَ الثَّوْبَ الأَبْيَضَ مِنَ الدَّنَسِ وَأَبْدِلْهُ دَارًا خَيْرًا مِنْ دَارِهِ وَأَهْلاً خَيْرًا مِنْ أَهْلِهِ وَزَوْجًا خَيْرًا مِنْ زَوْجِهِ وَأَدْخِلْهُ الْجَنَّةَ وَنَجِّهِ مِنَ النَّارِ রাবী বলেন, অথবা তিনি বলেছিলেন, أَعِذْهُ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ

1985। সুওয়ায়দ ইবনু নাসর (রহঃ) ... উবায়দ ইবনু খালিদ সুলামী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই ব্যক্তির মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন স্থাপন করে দিয়েছিলেন। তাদের একজন নিহত হল। অন্যজন পরে স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করলে আমরা তার জানাজার সালাত আদায় করলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা কি পড়েছিলে? সাহাবীগণ বললেন, আমরা তার জন্য দোয়া করেছিলাম اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ اللَّهُمَّ ارْحَمْهُ اللَّهُمَّ أَلْحِقْهُ بِصَاحِبِهِ তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, নিহত ব্যক্তির সালাতের উপর মৃত ব্যক্তির মর্যাদা কোথায়? এবং নিহত ব্যক্তির কৃতকর্মের উপর মৃতব্যক্তির কৃতকর্মের মর্যাদা কোথায়? এতদুভয়ের ব্যবধান তো আসমান এবং যমীনের মধ্যকার ব্যবধানের ন্যায়।

1986। ঈসমাঈল ইবনু মাসউদ (রহঃ) ... আবূ ইবরাহীম (রাঃ)-এর পিতা থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মৃতের জানাজায় বলতে শুনেছেনঃ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِحَيِّنَا وَمَيِّتِنَا وَشَاهِدِنَا وَغَائِبِنَا وَذَكَرِنَا وَأُنْثَانَا وَصَغِيرِنَا وَكَبِيرِنَا

1987। হায়ছম ইবনু আয়্যুব (রহঃ) ... তালহা ইবনু আব্দুল্লাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর পেছনে জানাযার সালাত আদায় করেছিলাম। তাতে তিনি সূরা ফাতিহা এবং অন্য একটি সূরা তিলাওয়াত করেছিলেন এবং এতটুকু উচ্চ স্বরে তিলাওয়াত করেছিলেন যে, আমরা তা শুনতে পেয়েছিলাম। যখন তিনি অবসর হলেন আমি তাঁর হস্ত ধারণ পূর্বক জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, এটা সুন্নাত এবং সঠিক।

1988। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... তালহা ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর পেছনে জানাজার সালাত আদায় করেছিলাম। আমি তার সূরা ফাতিহা তিলাওয়াত শুনতে পেলাম। যখন তিনি অবসর হলেন আমি তার হস্ত ধারণ পূর্বক জিজ্ঞাসা করলাম: আপনি জানাজার সালাতে সূরা ফাতিহা তিলাওয়াত করেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ! এটা তো সুন্নাত এবং সঠিক।

1989। কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ উমামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জানাযার সালাতে সূন্নাত হল প্রথম তাকবীর চুপেচুপে সূরা ফাতিহা তিলাওয়াত করবে। অতঃপর আরো তিনটি তাকবীর বলবে; শেষ তাকবীরে সালাম ফিরাবে।

1990। কুতায়বা (রহঃ) ... যাহহাক ইবনু কায়স দিমাশকী (রহঃ) থেকেও অনুরূপ বর্ণিত।

1991। সুওয়ায়দ (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) সুত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এমন কোন মৃত ব্যক্তি নেই যার উপর এমন একদল মুসলিম জানাযার সালাত আদায় করে যাদের সংখ্যা একশত পৌছে যায় এবং যারা তার সম্পর্কে সুপারিশ করে তাদের সুপারিশ গ্রহণ করা হবে না। হাদীসের অন্যতম রাবী সাল্লাম ইবনু আবূ মুতী বলেন, পরবর্তীতে আমি এই হাদীস শুআয়ব ইবনু হাবহাব-এর নিকট বর্ণনা করলে তিনি বললেনঃ আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুত্রে আমার কাছে এই হাদীস বর্ণনা করেছেন।

1992। আমর ইবন যুরারা (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) সুত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুসলিমদের মধ্যে এমন কোন মৃত ব্যক্তি নেই যার উপর এমন একদল মানুষ জানাযার সালাত আদায় করে যাদের সংখ্যা একশতে পৌছে যায় আর যারা তার সম্পর্কে সুপারিশ করে তাদের সুপারিশ গ্রহন করা হবে না।

1993। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আবূ বাক্কার হাকাম ইবনু ফাররুখ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের নিয়ে আবূল মালীহ (রহঃ) এক মৃত ব্যক্তির জানাজার সালাত আদায় করছিলেন। আমরা ধারণা করলাম যে, তিনি হয়তো তাকবীর বলে ফেলেছেন। ইত্যবসরে তিনি আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন, তোমরা কাতারবন্দী হয়ে দাঁড়িয়ে যাও এবং উত্তমরূপে সুপারিশ কর। আবূল মালীহ (রহঃ) বলেন যে, আমার কাছে আব্দুল্লাহ ইবনু সালীত (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী উম্মুল মু'মিনীন মায়মুনা (রাঃ) থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেনঃ আমাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবহিত করেছেন যে, এমন কোন মৃত ব্যাক্তি নেই যার উপর মানুষ জানাযার সালাত আদায় করে, তার ব্যাপারে তাদের সুপারিশ গ্রহণ করা হবে না। রাবী বলেন, আমি আবূল মালীকে দলে লোকের সংখ্যা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, চল্লিশজন।

1994। নূহ ইবনু হাবীব (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি কোন মৃত ব্যক্তির উপর জানাযার সালাত আদায় করে তার জন্য এক কীরাত সওয়াব। আর যে ব্যক্তি লাশ কবরস্থ করা পর্যন্ত অপেক্ষা করে তার জন্য দু’কীরাত সওয়াব, দুই কীরাত সওয়ারের পরিমাণ হল দুইটি বিরাট পাহাড়ের সমপরিমাণ।

1995। সুওয়ায়দ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি কোন মৃত ব্যক্তির জানাযায় উপস্থিত হয়ে তার জানাজার সালাত আদায় করে তার জন্য এক কীরাত পরিমান সওয়াব। আর যে ব্যক্তি কোন মৃত ব্যক্তির জানাযায় শরীক হয়ে লাশ দাফন করা পর্যন্ত থাকে তরে জন্য দুই কীরাত সওয়াব। প্রশ্ন করা হল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! দুই কীরাতের পরিমান কতটূকু? তিনি বললেন, দুইটি বিরাট পাহাড়ের সমতুল্য।

1996। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি পূন্যের আশায় কোন মুসলিম ব্যক্তির জানাজার অনুগমন করে এবং তার জানাজার সালাত আদায় করে ও তাকে কবরস্থ করে তার জন্য দুই কীরাত সওয়াব রয়েছে। আর যে ব্যক্তি তার জানাজার সালাত আদায় করে অতঃপর ফিরে যায় কবরস্থ করার পূর্বেই সে ব্যক্তি এক কীরাত সওয়াব নিয়ে ফিরে যায়।

1997। হাসান ইবনু কাযাআ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন মৃত ব্যক্তির অনুগমন করে এবং তার জানাযার সালাত আদায় করে ফিরে যায় তার জন্য রয়েছে এক কীরাত সওয়াব। আর যে ব্যক্তি তার অনুগমন করে এবং তার জানাযার সালাত আদায় করে অতঃপর অপেক্ষমান থাকে তাকে কবরস্থ করা পর্যন্ত তার জন্য রয়েছে দুই কীরাত সওয়াব। প্রত্যেক কীরাত সওয়াব উহুদ পাহাড়ের চেয়েও বৃহৎ।

1998। সুওয়ায়দ ইবনু নাসর (রহঃ) ... আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমরা কোন জানাযা দেখবে দাঁড়িয়ে যাবে। আর যে ব্যক্তি তার অনুগমন করবে সে জানাযা না রাখা পর্যন্ত বসবে না।

1999। কুতায়বা (রহঃ) ... আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তার কাছে জানাযা না রাখা পর্যন্ত তার জন্য দাঁড়ানোর ব্যাপারে উল্লেখ করা হলে তিনি বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে ছিলেন, অতঃপর বসে গিয়েছিলেন।

2000। ইসমাঈল ইবনু মাসউদ (রহঃ) ... আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখলাম তিনি দাঁড়ালেন আমরাও দাঁড়ালাম আমরা তাকে দেখলাম যে, তিনি বসে গেলেন আমরাও তার সাথে বসে গেলাম।

2001। হারুন ইবনু ইসহাক (রহঃ) ... বারা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে একটি জানাযায় বের হলাম, যখন কবরস্থান পর্যন্ত পৌছলাম তখনও দাফন শেষ হয়নি। তিনি বসে গেলেন তো আমরাও তার পাশে বসে গেলাম, যেন আমাদের মাথার উপর পাখি বসে রয়েছিল।

2002। হান্নাদ (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু ছা'লাবা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদের শাহীদদের সম্পর্কে বলেছিলেন, তাদেরকে স্বীয় রক্তসহ ঢেকে দাও। কেননা যে কোন ক্ষত যা আল্লাহর রাস্তায় হয় কিয়ামতের দিন সেখানে থেকে রক্ত প্রবাহিত হবে তার রং হবে রক্তের কিন্তু তার সুগন্ধি হবে মিশুকের সুগন্ধির ন্যায়।

2003। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... উবায়দুল্লাহ ইবনু মুআইয়া (রাঃ) এক ব্যক্তি থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তায়েফের দিন দুইজন মুসলিম আঘাতপ্রাপ্ত হলে তাদের রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে নিয়ে আসা হল। তিনি তাদের সেই আঘাতের ক্ষত অবস্থায় দাফন করার নির্দেশ দিলেন। ইবনু মূআইয়া (রাঃ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

2004। মুহাম্মাদ ইবনু মানসূর (রহঃ) ... জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদের শহীদদের ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, তাদের যেন স্বীয় শাহাদাতের স্থানে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। তাদের মদীনায় নিয়ে আসা হয়েছিল।

2005। মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্নিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা শহীদদের তাদের নিজ নিজ শাহাদাতের স্থানেই দাফন কর।

2006। উবায়দুল্লাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললাম, আপনার বৃদ্ধ পথভ্রষ্ট চাচা মৃত্যুবরণ করেছেন, এখন কে তাকে দাফন করবে? তিনি বললেন, তুমি গিয়ে তোমার পিতাকে ঢেকে রাখ এবং তুমি আমার কাছে না আসা পর্যন্ত অন্য কিছু করবে না। অতঃপর আমি তাকে ঢেকে দিলাম। এরপর তার কাছে আাসলাম। আমাকে নির্দেশ দেওয়ায় আমি গোসল করলাম এবং তিনি আমার জন্য দোয়া করলেন। রাবী বলেন, আলী (রাঃ) কিছু দোয়া উল্লেখ করেছিলেন যা আমি স্মরণ রাখতে পারিনি।

2007। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... সাদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমরা আমার জন্য লাহদ কবর খনন করবে এবং আমার কবরের উপরে কিছু গেড়ে দেবে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কবরের উপরে যে রকম গেড়ে দেওয়া হয়েছিল।

2008। হারুন ইবনু আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... আমির সা'দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, সা’দ (রাঃ)-এর মৃত্যুর সময় যখন উপস্থিত হল তখন তিনি বললেন, তোমরা আমার জন্য লাহদ কবর খনন করবে এবং আমার কবরের উপরে কিছু গেড়ে দেবে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কবরের উপরে যে রকম গেড়ে দেওয়া হয়েছিল।

2009। আব্দুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ আবূ আব্দুর রহমান আযরামী (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, লাহদ কবর আমাদের জন্য আর শাক্ক কবর অন্যদের জন্য।

2010। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... হিশাম ইবনু আমির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা উহুদের দিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে অভিযোগ করে বললাম ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাদের পক্ষে প্রত্যেক মানুষের জন্য কবর খনন করা কষ্টসাধ্য ব্যাপার। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা কবর খনন কর এবং কবরকে গর্ত কর আর মৃতদের উত্তম রূপে দাফন কর এবং দু’জন, তিন জনকে এক এক কবরে দাফন কর। সাহাবীগণ বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! কাকে প্রথমে রাখব? তিনি বললেন, যে কুরআন বেশী জানে তাকে প্রথমে রাখ। রাবী বলেন, এভাবে আমার পিতা একই কবরের তিনজনের অন্যতম ছিলেন।

2011। মুহাম্মাদ ইবনু মা'মার (রহঃ) ... সা'দ এর পিতা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন উহুদের দিন অনেক মুসলিমের উপর বিপদ আসল আর সাহাবীগণ ক্ষত-বিক্ষত হলেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা কবর খনন কর এবং তা প্রশস্ত কর। আর দুই দুইজন তিন তিনজন ব্যক্তিকে এক এক কবরে দাফন কর এবং যে ব্যক্তি কুরআন বেশী জানে তাকে প্রথমে রাখ।

2012। ইসমাঈল ইবনু মাসউদ (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে যখন দাফন করা হয়েছিল, তখন তার নীচে একটি লাল চাদরের টুকরা রাখা হয়েছিল।

2013। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... উকবা ইবনু আমির জুহানী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনটি সময়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সালাত আদায় করতে এবং মৃতদের কবরস্থ করতে নিষেধ করেছেন। সূর্য উদয় হওয়া থেকে তা উপরে উঠা পর্যন্ত। ঠিক দ্বি-প্রহর থেকে সূর্য হেলে পড়া পর্যন্ত এবং সূর্য যখন অস্ত যাওয়ার জন্য হেলে পড়ে।

2014। আব্দুর রহমান ইবনু খালিদ কাত্তান (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার ভাষণ প্রসঙ্গে তার এমন এক সাহাবীর কথা উল্লেখ করলেন, যে মৃত্যুবরণ করেছিলেন এবং তাকে রাত্রেই কবরস্থ করা হয়েছিল। আর তাকে নিম্নমানের কাপড়ের কাফন দেওয়া হয়েছিল। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাউকে রাত্রে বিশেষ প্রয়োজন ব্যতীত কবরস্থ করা থেকে সতর্ক করে দিলেন।

2015। মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... হিশাম ইবনু আমির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন উহুদের দিন সাহাবীগণ ভীষণভাবে বিপদগ্রস্ত হলেন তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা কবর খনন কর ও কবরকে প্রশস্ত কর এবং এক এক কবরে দুই দুইজন, তিন তিনজন দাফন কর। সাহাবীগণ বললেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমরা কাকে প্রথমে রাখব? তিনি বললেন, যে কুরআন বেশী জানে তাকে প্রথমে রাখবে।

2016। ইবরাহীম ইবনু ইয়াকুব (রহঃ) ... হিশাম (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উহুদের দিন আঘাত ছিল মারাত্নক। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে তার অতিযোগ করা হলে তিনি বললেন, তোমরা কবর খনন কর এবং কবরকে প্রশস্ত ও সুন্দর কর আর এক এক কবরে দুই দুই জন তিন তিনজন করে দাফন কর আর যে কুরআন বেশী জানে তাকে অগ্রে রাখ।

2017। ইবরাহীম ইবনু ইয়াকুব (রহঃ) ... হিশাম ইবনু আমির (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা কবর খনন কর ও তা সুন্দর কর এবং (এক এক কবরে) দুই দুইজন তিন তিন জনকে দাফন কর আর যে কুরআন বেশী জানে তাকে অগ্রে দাফন কর।

2018। মুহাম্মাদ ইবনু মানসূর (রহঃ) ... হিশাম ইবনু আমির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমার পিতা উহুদের দিন শহীদ হয়ে গিয়েছিলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা কবর খনন কর ও তা প্রশস্ত কর এবং সুন্দর কর আর এক এক কবরে দুই দুই জন তিন তিনজন করে দাফন কর এবং যে কুরআন বেশী জানে তাকে অগ্রে দাফন কর। রাবী বলেন, আমার পিতা এক কবরে দাফনকৃত তিনজনের একজন ছিলেন এবং তিনি তাদের মধ্যে কুরআন বেশী জানতেন বলে তাঁকে প্রথমে রাখা হয়েছিল।

2019। হারিছ ইবনু মিসকীন (রহঃ) সুত্রে সুফইয়ান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমর ও জাবির (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আব্দুল্লাহ ইবনু উবাই এর কবরের নিকট তাকে দাফন করার পর আসলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশে তাকে কবর থেকে বের করা হল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে স্বীয় উরুদ্বয়ে রেখে তার মুখে নিজ থুথু দিলেন এবং নিজ কুর্তা তাকে পরিধান করালেন। আল্লাহ অধিক জ্ঞাত।

2020। হুসায়ন ইবনু হুরায়ছ (রহঃ) ... আমর ইবনু দীনার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জাবির (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আব্দুল্লাহ ইবনু উবাইকে কবর থেকে বের করার নির্দেশ দিলেন। বের করার পর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার মাথা স্বীয় উরুদ্বয়ে রেখে তার মুখে থুথু দিলেন এবং নিজ কুর্তা পরিধান করালেন। জাবির (রাঃ) বলেন, তিনি তার জানাযার সালাত আদায় করলেন। আল্লাহ অধিক জ্ঞাত।

2021। আব্বাস ইবনু আব্দুল আজীম (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতার সাথে অন্য এক ব্যক্তি [আমর ইবনু জামুহ (রাঃ)]-কে দাফন করা হয়েছিল, তা আমার মনোপুত না হওয়ায় আমার পিতাকে আমি কবর থেকে বের করে এনে একটি স্বতন্ত্র কবরে দাফন করলাম।

2022। উবায়দুল্লাহ ইবনু সাঈদ আবূ কুদামা (রহঃ) ... ইয়াযীদ ইবনু সাবিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তারা একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে বের হলেন এবং একটি নতুন কবর দেখলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, এটি কার কবর? সাহাবীগণ বললেন, এটা অমুক গোত্রের অমুক বাঁদীর কবর। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে চিনতে পারলেন। (সাহাবীগণ বললেন) সে দ্বি-প্রহরের সময় মৃত্যুবরণ করেছিল। আপনি তখন দুপুরের নিদ্রায় ছিলেন। সেজন্য আমরা আপনাকে উক্ত মহিলার জানাযার সালাতের জন্য জাগানো সমীচীন মনে করিনি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কবরের নিকট দাঁড়িয়ে গেলেন। আর সাহাবীগণকে তার পেছনে কাতারবন্দী করে দাঁড় করালেন এবং তার উপর চারটি তাকবীর বললেন। অতঃপর বললেন, আমার উপস্থিতকালীন সময়ে তোমাদের কেউ যদি মৃত্যু বরণ করে তাহলে তোমরা আমাকে তার ব্যাপারে অবগত করাবে। কেননা আমার জানাযার সালাত আদায় করা তার জন্য রহমত স্বরূপ।

2023। ইসমাঈল ইবনু মাসউদ (রহঃ) ... শা'বী (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে যে ব্যক্তি একটি বিচ্ছিন্ন কবরের পাশ দিয়ে গিয়েছিলেন তিনি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি তাদের ইমামতী করলেন আর তিনি তাদের তাঁর পেছনে কাতারবন্দী করে দাঁড় করালেন। রাবী বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম, হে আবূ আমর! সেই ব্যক্তিটি কে ছিলেন? তিনি বললেন, ইবনু আব্বাস (রাঃ)।

2024। ইয়াকুব ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... শাবী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে একটি বিচ্ছিন্ন কবরের পাশ দিয়ে যেতে দেখেছিলেন তিনি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জানাযার সালাত আদায় করেছিলেন আর তাঁর সাহাবীগণকে তাঁর পেছনে কাতারবন্দী করে দাঁড় করালেন। বলা হল যে, কে তোমার কাছে বর্ণনা করেছেন? তিনি বললেনঃ ইবনু আব্বাস (রাঃ)।

2025। মুগীরা ইবনু আব্দুর রহমান (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মহিলার কবরে জানাযার সালাত আদায় করেছিলেন তাকে দাফন করার পর।

2026। আহমাদ ইবনু সুলায়মান (রহঃ) ... জাবির ইবনু সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ দাহদাহ (রাঃ)-এর জানাযায় বের হলেন। যখন তিনি ফিরছিলেন তখন তার জন্য একটি ঘোড়া আনা হল যার পিঠে গদি ছিল না। তিনি তাতে সাওয়ার হলেন আর আমরা তার সাথে পদব্রজে চললাম।

2027। হারুন ইবনু ইসহাক (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরে পাকা ঘর নির্মান, কবরকে বর্ধিতকরণ এবং চুনকাম করা থেকে নিষেধ করেছেন। সুলায়মান ইবনু মুসা (রহঃ)-এর বর্ণনায় একথাটি অতিরিক্ত রয়েছে, "তিনি কবরের উপর লেখা থেকেও নিষেধ করেছেন।

2028। ইউসুফ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরে চুনকাম করা, কবরকে পাকা করা এবং তাতে কারো উপবেশন করা থেকে নিষেধ করেছেন।

2029। ইমরান ইবনু মুসা (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরে চুনকাম করা থেকে নিষেধ করেছেন।

2030। সুলায়মান ইবনু দাউদ (রহঃ) ... ছুমামা ইবনু শুফাই (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমরা ফদালা ইবনু উবাইদ (রাঃ)-এর সাথে রোমে ছিলাম। সেখানে আমাদের এক সাথী মৃত্যু বরণ করল, তখন ফদালা ইবনু উবাইদ (রাঃ) নির্দেশ দিলে আমরা তার কবরকে সমতল করে দিলাম। অতঃপর তিনি বললেন যে-আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কবর সমতল করার নির্দেশ দিতে শুনেছি।

2031। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... আবূল হায়য়াজ (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, আলী (রাঃ) বলেছিলেন, আমি কি তোমাকে সে কাজে পাঠাব না যে কাজে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে পাঠিয়েছিলেন। তুমি উচু কবরকে সমতল না করে ছাড়বে না এবং ঘরের কোন (প্রানীর) ছবিকে বিনষ্ট না করে ছাড়বেনা।

2032। মুহাম্মাদ ইবনু আদম (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ এর পিতা বুয়ায়দা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি তোমাদের কবর যিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম। এখন তোমরা কবর যিয়ারত কর। আর আমি তোমাদের তিন দিনের অধিক কুরবানীর গোশত সংরক্ষণ করতে বারণ করেছিলাম। এখন তোমরা যতদিন ইচ্ছা সংরক্ষণ করতে পার। আর আমি তোমাদের মশক ভিন্ন অন্য কোন পাত্রে নবীয (খুরমা ভিজানো পানি) রাখতে নিষেধ করেছিলাম। এখন তোমরা যে কোন পাত্রে রেখে তা পান করতে পার। হ্যাঁ নেশাদায়ক হলে পান করবে না।

2033। মুহাম্মাদ ইবনু কুদামাহ (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ এর পিতা বুয়ায়দা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি এমন এক বৈঠকে ছিলেন যেখানে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও ছিলেন। তিনি বললেন যে, আমি তোমাদের কুরবানীর গোশত তিন দিনের অধিক খেতে নিষেধ করেছিলাম, এখন তোমরা যতদিন ইচ্ছা নিজেরা খাও অপরকে খাওয়াও এবং জমা করে রাখ। আর আমি তোমাদের বলেছিলাম যে, তোমরা কদুর পাত্র, তৈলাক্ত পাত্র, কাঠের পাত্র এবং হানতাম (আলকাতরার প্রলেপযুক্ত পাত্র) জাতীয় পাত্রে নবীয বানাবে না। এখন তোমরা যাতে ইচ্ছা তাতেই বানাতে পার, হ্যাঁ প্রত্যেক নেশাদায়ক বস্তু থেকে বেঁচে থাকবে। আর তোমাদের কবর যিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম। এখন যাদের ইচ্ছে তারা যিয়ারত করতে পার তবে অপ্রয়োজনীয় কথা বলবে না।

2034। কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার মাতার কবর যিয়ারত করার সময় ক্রন্দন করলেন, তার আশ পাশের সবাইও ক্রন্দন করলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি আম্মার মাগাফিরাতের অনুমতি চাইলাম কিন্তু আমাকে তার অনুমতি প্রদান করা হল না। অতঃপর তার কবর যিয়ারতের অনুমতি চাইলে তার অনুমতি দেওয়া হয়। তাই তোমরা কবর যিয়ারত কর, কেননা তা তোমাদের মৃত্যুর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

2035। মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল আ'লা (রহঃ) ... সাঈদ এর পিতা মুসায়্যাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আবূ তালিবের মৃত্যু সমপুস্থিত হল তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে আসলেন এবং সে সময় তার সামনে আবূ জাহল এবং আব্দুল্লাহ ইবনু আবূ উমাইয়াও ছিল। তিনি বললেন, হে চাচাজান। আপনি। একবার বলুন لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) আমি আপনার জন্য তাই নিয়ে আল্লাহর নিকটে যথাসাধ্য চেষ্টা চালাব (সুপারিশ কবর)। তখন আবূ জাহল এবং আব্দুল্লাহ ইবনু আবূ উমাইয়্যা বলল, হে আবূ তালিব, আপনি কি আব্দুল মুত্তালিবের ধর্ম থেকে সরে যাবেন? তারা সর্বক্ষণই এ কথা বলতে থাকল। শেষ পর্যন্ত তার মুখ থেকে শেষ শব্দ যা বের হয়েছিল তা ছিল আমি আব্দুল মুত্তালিবের ধর্মে থেকেই মৃত্যুবরণ করছি। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জন্য বললেন, আমি আপনার জন্য অবশ্যই অবশ্যই মাগফিরাত চাইব যতক্ষন না আমাকে নিষেধ করা হয়। তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হলঃمَا كَانَ لِلنَّبِيِّ وَالَّذِينَ آمَنُوا أَنْ يَسْتَغْفِرُوا لِلْمُشْرِكِينَ আর এ আয়াতও অবতীর্ণ হলঃ إِنَّكَ لاَ تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ

2036। ইসহাক ইবনু মানসুর (রহঃ) ... আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এক ব্যক্তিকে শুনলাম যে, সে তার পিতা মাতার জন্য মাগফিরাত চাচ্ছে অথচ তারা মুশরিক। তখন আমি তাকে বললাম, তুমি তাদের জন্য মাগফিরাত চাচ্ছ অথচ তারা মুশরিক। তখন সে বললো, ইবরাহীম (আঃ) কি স্বীয় পিতার জন্য মাগফিরাত চাননি? এরপর আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসলাম এবং ঘটনা তার কাছে উল্লেখ করলাম। তখন এ আয়াত অবর্তীর্ণ হলঃ وَمَا كَانَ اسْتِغْفَارُ إِبْرَاهِيمَ لأَبِيهِ إِلاَّ عَنْ مَوْعِدَةٍ وَعَدَهَا إِيَّاهُ

2037। ইউসুফ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... মুহাম্মাদ ইবনু কায়স ইবনু মাখরামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেছেন, আমি কি তোমাদের আমার এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একটি ঘটনার কথা বলব না? আমরা বললাম, হ্যাঁ অবশ্যই বলবেন। তিনি বললেন, একরাত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে ছিলেন। তিনি এশার সালাতের পর বিছানায় আসলেন, স্বীয় পাদুকাদ্বয় নিজ পায়ের কাছে রাখলেন এবং পরিধেয় কাপড়ের একাংশ বিছানার উপর বিছালেন। কিছুক্ষণ পরেই যখন তিনি মনে করলেন যে, আমি ঘুমিয়ে পড়েছি, তখন তিনি অতি সন্তর্পণে জুতা পরিধান করলেন, আস্তে আস্তে স্বীয় চাদরখানা উঠিয়ে নিলেন এবং নিঃশব্দে দরজা খুলে বের হয়ে গেলেন। তখন আমিও স্বীয় চাঁদরখানা নিজ মাথায় রাখলাম ওড়না ও কাপড় পরিধান করে তার পিছু পিছু চললাম। তিনি বাকী নামক কবরস্থানে আসলেন এবং তিনবার স্বীয় হস্তদ্বয় লম্বা করে উত্তলন করলেন। অতঃপর তিনি ফিরে চললে আমিও ফিরে চললাম। তিনি দ্রুত হাটতে লাগলে আমিও দ্রুত হাটতে লাগলাম। তিনি আরও একটু দ্রুতগতিতে চললে আমিও আরও একটু দ্রুত গতিতে চলতে লাগলাম। তিনি দৌড়াতে লাগলে আমিও দ্রুত দৌড়াতে লাগলাম। আমি তার পূর্বে ঘরে প্রবেশ করে গেলাম এবং তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়লাম। অতঃপর তিনি প্রবেশ করলেন এবং বললেন, হে আয়িশা! তোমার কি হল যে, তোমার নিঃশ্বাস এত জোরে জোরে বের হচ্ছে, পেট ফুলে উঠছে? আমি বললাম, ও কিছু নয়। তিনি বললেন, হায় তুমি হয় আমাকে এ ব্যাপারে অবগত করবে না হয় আল্লাহ তা'আলা যিনি সর্ববিষয়ে জ্ঞাত তিনি আমাকে জানিয়ে দিবেন। আমি বললাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আপনার উপর আমার মাতা-পিতা কুরবান হোক। অতঃপর আমি তাঁকে পূর্ণ ঘটনা ব্যক্ত করলাম। তিনি বললেন, আমার সম্মুখে যাকে আমি দেখেছিলাম সেকি তুমিই ছিলে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তখন তিনি আমার বক্ষে এমনভাবে আঘাত করলেন যে, তাতে আমি ব্যাথা অনূভব করলাম। অতপর তিনি বললেনঃ তুমি কি মনে কর যে, আল্লাহ এবং তার রাসুল তোমার উপর অন্যায় আচরণ করবে? আমি বললাম, মানুষ যখন কিছু গোপন করে তা আল্লাহ নিশ্চয়ই জানেন। তিনি বললেন- যখন তুমি দেখেছিলে তখন জিবরাঈল (আঃ) আমার কাছে এসেছিলেন। তোমার গায়ে কাপড় ঠিক ছিল না। বিধায় তিনি আমার কাছে আসেন নি বরং তোমা হতে আড়ালে থেকে আমাকে ডাক দিয়েছিলেন। আমি তার ডাকে সাড়া দিলাম এবং তোমা থেকে তা গোপন রাখলাম। আমি মনে করেছিলাম যে, তুমি ঘুমিয়ে ছিলে। আমি তোমার নিদ্রা ভঙ্গ করা অপন্দনীয় মনে করলাম। আমি আশংকাও করলাম যে, হয়ত তুমি ভয় পাবে। তিনি আমাকে বাকী নামক কবরস্থানে গিয়ে কবরবাসীদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে বললেন। (আয়িশা বলেন,) আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি কিরূপ বলব? তিনি বললেন তুমি বলবেঃ السَّلاَمُ عَلَى أَهْلِ الدِّيَارِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُسْلِمِينَ، يَرْحَمُ اللَّهُ الْمُسْتَقْدِمِينَ مِنَّا وَالْمُسْتَأْخِرِينَ، وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللَّهُ بِكُمْ لاَحِقُونَ

2038। মুহাম্মাদ ইবনু সালামা এবং হারিছ ইবনু মিসকীন (রহঃ) ... আল কামার মাতা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, এক রাত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে তার কাপড় পরিধান করলেন তৎপর বের হয়ে গেলেন। আয়িশা (রাঃ) বলেন যে, তখন আমি আমার বাদী বারীরাকে তার পেছনে পেছনে যেতে আদেশ দিলাম। সে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পেছনে পেছনে বাকী পর্যন্ত গেল এবং তার আড়ালে দাঁড়িয়ে রইল। যতক্ষন আল্লাহ তা'আলার ইচ্ছা ছিল ততক্ষন পর্যন্ত। অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিরে আসলেন। বারীরা পূর্বেই ফিরে এসে আমাকে সব অবগত করল। সকাল পর্যন্ত আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ ব্যাপারে কিছুই জিজ্ঞাসা করলাম না। অতঃপর আমি তাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন যে, আমি বাকী নামক কবরস্থানে অবস্থানরতদের প্রতি প্রেরিত হয়েছিলাম, তাদের জন্য দোয়া করার উদ্দেশ্য।

2039। আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে তার যে রাত্রির পালা আসত সেই রাত্রির শেষ ভাগে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাকী নামক কবরস্থানে যেতেন এবং বলতেনঃ السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ دَارَ قَوْمٍ مُؤْمِنِينَ، وَإِنَّا وَإِيَّاكُمْ مُتَوَاعِدُونَ غَدًا أَوْ مُوَاكِلُونَ، وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللَّهُ بِكُمْ لاَحِقُونَ، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لأَهْلِ بَقِيعِ الْغَرْقَدِ

2040। উবায়দূল্লাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... সুলায়মান এর পিতা বুরায়দা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কবরস্থানে আগমন করতেন তখন বলতেনঃ السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ أَهْلَ الدِّيَارِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُسْلِمِينَ، وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللَّهُ بِكُمْ لاَحِقُونَ، أَنْتُمْ لَنَا فَرَطٌ وَنَحْنُ لَكُمْ تَبَعٌ، أَسْأَلُ اللَّهَ الْعَافِيَةَ لَنَا وَلَكُمْ

2041। কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন হাবশার অধিপতি নাজাশী (রহঃ) মৃত্যুবরণ করলেন তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা তার জন্য ইস্তিগফার কর (ক্ষমা প্রার্থনা কর)।

2042। আবূ দাঊদ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাবশার অধিপতি নাজাশী যেদিন মৃত্যুবরণ করেছিলেন সেদিনই তাঁর মৃত্যু সংবাদ আমাদের দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন, তোমরা তোমাদের ভাই এর জন্য ইস্তিগফার কর।

2043। কুতায়বা (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবর যিযারতকারিণীদের, কবরের উপর মসজিদ নির্মাণকারীদের এবং বাতি প্রজ্জলকারীদের উপর অভিসম্পাৎ করেছেন।

2044। মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কারো কবরের উপর বসা অপেক্ষা স্বীয় বস্ত্র জ্বালিয়ে দেওয়া পর্যন্ত আগুনের ফুলকির উপর বসে থাকা উত্তম।

2045। মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... আমর ইবনু হাযম (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা কবরের উপর উপবেশন করো না।

2046। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ লোকদের উপর আল্লাহর অতিসম্পাৎ দিয়েছেন, যারা তাদের নবীদের (নবীদের) কবর সমূহকে মসজিদরূপে বানিয়ে নিয়েছে।

2047। মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুর রহীম (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ ইয়াহুদ এবং খ্রীষ্টানদের আল্লাহর অভিসম্পাৎ দিয়েছেন যারা স্বীয় নবীদের (নবীদের) কবর সমুহকে মসজিদ বানিয়ে নিয়েছে।

2048। মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... বশীর ইবনু খাছাছিয়াহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে চলতে ছিলাম। তিনি মুসলিমদের একটি কবরস্থানে গিয়ে বললেন যে, এরা বহু মন্দ কাজ পরিত্যাগে অগ্রগামী হয়েছে অতঃপর তিনি মুশরিকদের একটি কবরস্থানে গিয়ে বললেন যে, এরা বহু মঙ্গলময় কাজ পরিত্যাগে অগ্রগামী হয়েছে। অতঃপর তিনি অন্যদিকে লক্ষ্য করে দেখলেন যে, এক ব্যক্তি জুতা পায়ে কবরস্থানের মাঝখান দিয়ে হাটাহাটি করছে। তখন তিনি বললেন, হে পাকা জুতা পরিধানকারী, জুতা ফেলে দাও (খুলে নাও)।

2049। আহমাদ ইবনু আবূ উবায়দুল্লাহ ওয়াররাক (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন কোন বান্দাকে কবরে রাখা হয় এবং তার সঙ্গী সাথীরা প্রস্থান করে তখন সে তাদের পায়ের শব্দ শুনতে পায়।

2050। মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, কোন বান্দাকে যখন তার কবরে রাখা হয় এবং তার সাথীগণ ফিরে যায় আর সে তাদের জুতার আওয়াজ শুনতে পায়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এমনি মুহূর্তে তার কাছে দু’জন ফিরিশতা আসেন এবং তাকে বসিয়ে জিজ্ঞাসা করেন [নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখিয়ে] এ ব্যক্তি সম্পর্কে তুমি কি বলতে? যদি সে মুমিন হয় তবে বলবে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি আল্লাহর বান্দা ও তার রাসুল তখন তাকে বলা হবে যে, জাহান্নামে নিজের স্থান দেখে নাও। আল্লাহ তা'আলা তোমাকে এর পরিবর্তে জান্নাতে স্থান দিয়েছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তাকে উভয় স্থান দেখানো হবে।

2051। আহমাদ ইবনু আবূ উবায়দুল্লাহ (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন কোন বান্দাকে কবরে রাখা হয় এবং তার সাথীগণ তার নিকট থেকে ফিরে যায়। আর সে তাদের তার আওয়াজ শুনতে পায় তখন তার কাছে দু’জন ফিরিশতা আসেন এবং তাকে বসিয়ে জিজ্ঞাসা করেন [নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখিয়ে] তুমি এ ব্যক্তি যিনি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তুমি কি বলতে? তখন ঐ ব্যক্তি মু'মিন হলে বলবে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি আল্লাহর বান্দা ও তার রাসুল। তখন তাকে বলা হবে, তুমি তোমার জাহান্নামের স্থানের দিকে লক্ষ্য কর; আল্লাহ তা'আলা তোমাকে তার পরিবর্তে তার চেয়ে উত্তম স্থান দান করেছেন। তখন ঐ ব্যক্তি উভয় স্থান দেখবে।আর ঐ ব্যক্তি কাফির বা মুনাফিক হলে তাকে বলা হবে যে, তুমি এ ব্যক্তি সম্পর্কে কি বলতে? তখন সে বলবে, আমি কিছুই জানি না; অন্যান্যরা যেরূপ বলত আমিও তদ্রুপ বলতাম। তখন তাকে বলা হবে, তুমি কিছু বুঝতেও পারনি এবং তুমি (শরীয়তের সঠিক জ্ঞানের অধিকারীদের) অনুসরণও করনি। অতঃপর তার কর্ণদ্বয়ের মাঝখানে এক আঘাত করা হবে তখন সে বিকট চিৎকার করে যা মানুষ এবং জিন ব্যতীত অন্য যারা তার আশে পাশে থাকবে তারা তা শুনতে পাবে।

2052। মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল আলা (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু ইয়াসার (রহঃ) বলেন যে, আমি এবং সুলায়মান ইবনু সুবাদ ও খালিদ ইবনু উরফাতা (রহঃ) একস্থানে বসা ছিলাম। এমন সময় লোকজন উল্লেখ করল যে, এক ব্যক্তি পেটের পিড়ায় মৃত্যুবরণ করেছে। তখন তারা উভয়ে তার জানাযায় সালাতে উপস্থিত হতে ইচ্ছা করল। একজন অন্যজনকে বলল যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি বলেননি যে, যে ব্যক্তি পেটের পীড়ায় মারা যায় কবরে তাকে অবশ্যই শাস্তি দেওয়া হবে না? তখন অন্য ব্যক্তি বলল, হ্যাঁ (বলেছেন)।

2053। ইবরাহীম ইবনু হাসান (রহঃ) ... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এক সাহাবী থেকে বর্ণিত যে, এক সাহাবী জিজ্ঞাসা করলেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! শহীদ ব্যতীত অন্যান্য মু'মিনগণ কবরের ফিৎনার সমুখীন হবে এর কারণ কি? তিনি বললেন, তার মাথার উপর উজ্বল তরবারি তাকে কবরের ফিৎনা থেকে নিরাপদ রাখবে।

2054। উবায়দুল্লাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... সাফওয়ান ইবনু উমাইয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ মহামারী, পেটের পীড়া, পানিতে ডুবে মৃত্যু বরণকারী এবং নেফাসের অবস্থায় (সন্তান জন্মদানের সময়) মৃত্যুবরণকারী শহীদ। তিনি বলেন যে, আবূ উছমান (রাঃ) বহুবার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। একবার তিনি অত্র হাদীস রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মারফূ বর্ণনা করেছেন।

2055। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) সুত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সেই ব্যক্তি যার জন্য আরশ কেঁপে উঠেছিল এবং যার জন্য আকাশের দ্বারসমুহ খূলে গিয়েছিল এবং যার জানাযার সত্তর হাজার ফিরিশতা উপস্থিত হয়েছিল তার কবরও সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছিল। অতঃপর তা প্রশস্ত হয়ে গিয়েছিল।

2056। ইসহাক ইবনু মানসুর (রহঃ) ... বারা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الآخِرَةِ অত্র আয়াতটি- কবরের আযাব সম্বন্ধে অবতীর্ণ হয়েছিল।

2057। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... বারা ইবনু আযিব (রাঃ) সুত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الآخِرَةِ আয়াতটি কবরের আযাব সম্বন্ধে অবর্তীর্ণ হয়েছে। কবরস্থ ব্যক্তিকে প্রশ্ন করা হবে যে, তোমার রব কে? সে বলবে, আমার রব হলেন, আল্লাহ এবং আমার দ্বীন হলো মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দ্বীন। ইহা আল্লাহর বাণীঃيُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الآخِرَةِ এর জ্বলন্ত প্রমাণ।

2058। সুওয়াইদ ইবনু নাসর (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি কবর থেকে আওয়াজ শুনতে পেয়ে বললেন, এ ব্যক্তি কখন মৃত্যুবরণ করেছে? সাহাবীগণ বললেন, সে জাহিলিয়্যাত যুগে মৃত্যূবরণ করেছেন তাতে তিনি খুশী হয়ে বললেন, যদি আমি আশংকা না করতাম যে তোমরা ভয়ে একে অপরকে দাফন কর্ম ছেড়ে দিবে তাহলে আমি তোমাদের কবরের আযাব (আযাবের আওয়াজ) শুনানোর জন্য আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া করতাম।

2059। উবায়দুল্লাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আবূ আইয়্যুব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্যাস্তের পর বের হলেন, তখন এক শব্দ শুনে বললেন যে, ইয়াহুদিদের কবরে আযাব দেওয়া হচ্ছে।

2060। ইয়াহইয়া ইবনু দুরুসত (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) সুত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলতেনঃ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ النَّارِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ

2061। আমর ইবনু সাওওয়াদ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এরপর থেকে আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কবরের আযাব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতে শুনেছি।

2062। সুলায়মান ইবনু দাঊদ (রহঃ) ... আসমা বিনত আবূ বকর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরে লোকজন যে পরীক্ষার সম্মুখীন হবে দাঁড়িয়ে তার উল্লেখ করতে থাকলে মুসলিমগণ এমন উচ্চস্বরে কাঁদতে লাগলেন যে, আমার জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কথা শুনতে বাধা সৃষ্টি হতে লাগল। যখন কান্নাকাটি থেমে গেল তখন আমি আমার নিকটবর্তী এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনাকে আল্লাহ তায়ালা রহম করুন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কথার শেষে কি বলেছিলেন? তিনি বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার নিকট ওহী এসেছে যে, তোমরা দাজ্জালের ফিৎনার ন্যায় কবরে ফিৎনার সম্মুখীন হবে।

2063। কুতায়বা (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কিরামকে এই দোয়া শিক্ষা দিতেন যেভাবে তিনি তাদের কুরআনের সুরা শিক্ষা দিতেনঃ اللَّهُمَّ إِنَّا نَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ

2064। সূলায়মান ইবনু দাঊদ (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার আমার কাছে আসলেন তখন আমার কাছে একজন ইয়াহুদী রমনী ছিল। সে বলছিল যে, তোমরা কবরের ফিৎনার সম্মুখিন হবে। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অস্থিরতার সাথে বললেন, ইয়াহুদিরাই ফিৎনার সম্মুখীন হবে। আয়িশা (রাঃ) বলেন, কয়েক রাত্র এভাবে অতিবাহিত হবার পর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার নিকট ওহী এসেছে যে, তোমরা কবরের ফিৎনার সম্মুখীন হবে। আয়িশা (রাঃ) বলেন, এরপর আমি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কবরের আযাব থেকে আশ্রয় চাইতে শুনেছি।

2065। কুতায়বা (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাজ্জালের ফিৎনা এবং কবরের আযাব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন এবং তিনি বলতেন, তোমরা নিজ নিজ কবরে আযাবের সম্মুখিন হবে।

2066। হান্নাদ (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ইয়াহুদী রমনী তার কাছে এসে কিছু ভিক্ষা চাইল। তখন আয়িশা (রাঃ) তাকে ভিক্ষা দিলে সে বলনো আল্লাহ তা'আলা তোমাকে কবরের আযাব থেকে রক্ষা করুন। আয়িশা (রাঃ) বলেন, এতে আমি চিন্তান্বিত হলাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলে তাঁর কাছে আাম তা বললাম। তিনি বললেন, তারা নিজ নিজ কবরে এমন আযাবের সম্মুখীন হবে যা চতুষ্পদ জন্তুসমুহ শুনতে পাবে।

2067। মুহাম্মাদ ইবনু কুদামাহ (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মদীনার ইয়াহুদী বৃদ্ধাদের থেকে দুইজন বৃদ্ধা আমার কাছে আসল। তারা বলল যে, কবরবাসীরা নিজ নিজ কবরে আযাবের সমুখীন হবে। তখন আমি তাদের মিথ্যাবাদী মনে করলাম; সত্যবাদী মনে করতে চাইলাম না। তাই তারা বের হয়ে গেল। অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে আসলে আমি বললাম ইয়া রাসুলাল্লাহ! মদীনার ইয়াহুদী বৃদ্ধাদের থেকে দুইজন বৃদ্ধা বললো যে, কবরবাসীগণ তাদের কবরে আযাবের সম্মুখীন হবে। তিনি বললেন যে, তারা সত্যই বলেছে; তারা কবরে এমন আযাবের সম্মুখীন হবে যে, তা সকল চতুষ্পদ জন্তু শুনতে পাবে। তারপর আমি তাকে এমন কোন সালাত আদায় করতে দেখিনি যাতে তিনি কবরের আযাব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা না করতেন।

2068। মুহাম্মাদ ইবনু কুদামাহ (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা অথবা মদীনার বাগান সমূহের কোন এক বাগানে গেলে দুই ব্যক্তির শব্দ শুনতে পেলেন, যারা নিজ নিজ কবরে আযাবের সম্মুখীন হচ্ছিল। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাদের কবরে আযাব দেওয়া হচ্ছে। আর তারা কোন বড় অপরাধে শাস্তি পাচ্ছে না। তারপর তিনি বললেন, তবে তাদের একজন নিজ পেশাব থেকে পবিত্র থাকত না আর অন্যজন চোগলখুরী করে বেড়াত। অতঃপর তিনি একটি খেজুরের ডাল কাটলেন এবং তা দ্বিখণ্ডিত করে প্রত্যেক কবরে তার এক একটা খন্ড গেড়ে দিলেন। তখন তাকে বলা হল ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি এরূপ কেন করলেন? তিনি বললেন, হয়ত এগুলো না শুকানো পর্যন্ত তাদের থেকে আযাব লাঘব করা হতে পারে।

2069। হান্নাদ ইবনু সারী (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুইটি কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তিনি বললেন যে, এই দুইজন ব্যক্তিকে আযাব দেওয়া হচ্ছে কোন বড় অপরাধের জন্য নয় বরং তাদের একজন নিজ পেশাব থেকে পবিত্র থাকত না আর অন্যজন চোগলখুরী করে বেড়াত। অতঃপর তিনি একটি তাজা খেজুরের ডাল নিয়ে তা দ্বিখণ্ডিত করে প্রত্যেক কবরে একটি করে গেড়ে দিলেন। সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি এরূপ কেন করলেন? তখন তিনি বললেন, হয়ত এগুলো শুষ্ক না হওয়া পর্যন্ত এদের আযাব লাঘব করা হবে।

2070। কুতায়বা (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, শুনো, যখন তোমাদের কেউ মৃত্যুবরণ করে তখন তাকে সকাল সন্ধ্যা তার স্থান দেখানো হয়। যদি সে বেহেশতী হয় তবে বেহেশতীদের স্থান। আর যদি দোযখী হয় তবে দোযখীদের স্থান দেখানো হয়। আল্লাহ তা'আলা তাকে কিয়ামতের দিন উঠানোর পূর্ব পর্যন্ত (তাকে এরূপ দেখানো হবে)।

2071। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) সুত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, তোমাদের কেউ যখন মৃত্যুবরণ করে তখন সকাল সন্ধা তাকে তার স্থান দেখানো হয়। যদি সে জান্নাতী হয় তবে তাকে জান্নাতীদের স্থান এবং যদি সে জাহান্নামী হয় তবে তাকে জাহান্নামীদের স্থান দেখিয়ে বলা হয় যে, এটাই তোমার স্থান। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা’আলা তাকে উঠানো পর্যন্ত (তাকে এরূপ দেখানো হবে)।

2072। মুহাম্মাদ ইবনু সালামা (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কারো যখন মৃত্যু হয় তখন সকাল সন্ধ্যা তার স্থান তাকে দেখানো হয়। যদি সে জান্নাতী হয় তবে জান্নাতীদের স্থান। আর জাহান্নামী হলে জাহান্নামীদের স্থান দেখিয়ে বলা হয় যে, এটা তোমার স্থান। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তাকে উঠানো পর্যন্ত (তাকে এরূপ দেখানো হবে)।

2073। কুতায়বা (রহঃ) ... কা'ব ইবনু মালিক (রাঃ) সুত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ মু'মিনদের রুহ জান্নাতের গাছের পাখীর রূপ ধারণ করে থাকবে, কিয়ামতের দিন তাদের রুহ শরীরে পুনঃস্থাপন করা পর্যন্ত।

2074। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা মক্কা এবং মদীনার মাঝপথে উমর (রাঃ)-এর সাথে ছিলাম। তখন তিনি আমাদের নিকট বদরের জিহাদে অংশগ্রহণকারী মুশরিকদের সম্পর্কে বলতে লাগলেন। তিনি বললেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সেদিন) আমাদেরকে আগামীকাল তাদের পড়ে যাওয়ার স্থান (মৃত্যুর স্থান) সমূহ দেখিয়ে বলেছিলেন, ইনশাআল্লাহ ইহা আগামীকাল অমুকের পড়ে যাওয়ার স্থান। উমর (রাঃ) বলেন, আল্লাহর কসম যিনি তাকে সত্য সহকারে প্রেরণ করেছেন, তারা ঐ সমস্ত স্থানসমূহ ভুল করেনি। (দেখানো স্থানেই তারা নিহত হয়েছে) অতঃপর তাদের একটি কুয়ায় (গর্তে) ফেলা হল। তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে তাদের ডেকে ডেকে বললেন, হে অমুকের পূত্র অমুক! হে অমুকের পূত্র অমুক! তোমাদের রব তোমাদের সাথে যে ওযাদা করেছিলেন তা কি তোমরা সত্যরূপে পেয়েছ? আল্লাহ তা'আলা আমার সাথে যে ওয়াদা করেছিলেন তা আমি সত্যরূপে পেয়েছি। তখন উমর (রাঃ) বললেন, আপনি এমন দেহের সাথে কথা বললেন যাদের মধ্যে রূহ নেই। তিনি বললেন, আমি যা বলছি তা তোমরা তাদের থেকে অধিক শ্রবণ করছ না।

2075। সুওয়াইদ ইবনু নাসর (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুসলমালগণ এক রাত্রে বদরের কুপের পাশে আওয়াজ শুনলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে ডাকছিলেন, হে আবূ জাহল ইবনু হিশাম, হে শাইবা ইবনু রবীআ, হে উতবা ইবনু রবীআ, হে উমাইয়া ইবনু খালফ! তোমাদের প্রভূ তোমাদের সাথে যে অঙ্গীকার করেছিলেন তা কি তোমরা সত্যরূপে পেয়েছ? আমার প্রভু আমার সাথে যে ওয়াদাটি করেছিলেন তা আমি সত্যরূপে পেয়েছি। সাহাবীগণ বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি তো এমন লোকদের ডাকছেন যারা পঁচে গিয়েছে। তিনি বললেন, আমি যা বলছি তা তাদের অপেক্ষা তোমরা অধিক শুনতে পাচ্ছ না কিন্তু তারা উত্তর দানের ক্ষমতা রাখে না।

2076। মুহাম্মাদ ইবনু আদম (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদরের কুপের কাছে দাঁড়িয়ে বললেন, তোমাদের প্রভু তোমাদের সাথে যে ওয়াদা করেছিলেন তা যথার্থরূপে পেয়েছ কি? তিনি বললেন, আমি এখন তাদেরকে যা বলছি তা তারা শুনতে পাচ্ছে। এ কথা আয়িশা (রাঃ) কে বলা হলে তিনি বললেন, এটা ইবনু উমর (রাঃ)-এর ধারণা। প্রকৃত পক্ষে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, তারা এখন বুঝতে পারছে যে, আমি তাদেরকে যা বলেছিলাম তা ছিল সত্য। অতঃপর আয়িশা (রাঃ) نَّكَ لاَ تُسْمِعُ الْمَوْتَى (মৃতকে তো তুমি কথা শুনাতে পারবে না, বধিরকেও পারবে না আহবান শুনাতে, যখন পিঠ ফিরিয়ে চলে যায়) এই আয়াত পাঠ করলেন।

2077। কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রত্যেক আদম সন্তানকে মাটি খেয়ে ফেলবে মেরুদণ্ডের হাড়টুকু ব্যতীত; এ থেকেই তাকে শুরু করা হয়েছে এ থেকে তাকে আঁবার জোড়া দেওয়া হবে। আবূ হুরায়রা (রাঃ)-এর রেওয়ায়তে كُلُّ بَنِي آدَمَ এবং মুগীরা (রাঃ)-এর রেওয়াতেكُلُّ ابْنِ آدَمَ রয়েছে।

2078। রবী ইবনু সুলায়মান (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা বলেন, আদম সন্তান আমাকে অস্বীকার করে অথচ তার জন্য উচিত ছিল না আমাকে অস্বীকার করা। আদম সন্তান আমাকে গালি দেয় অথচ তার জন্য উচিত ছিল না আমাকে গালি দেয়া। আমাকে তার অস্বীকার করার অর্থ হল তার একথা বলা যে, আমি তাকে পূনরায় সৃষ্টি করব না যেরূপ প্রথমে সৃষ্টি করেছিলাম অথচ দ্বিতীয়বার সৃষ্টি করা প্রথমবার সৃষ্টি করা অপেক্ষা আমার জন্য কোন কঠিন ব্যাপারই নয়। আর আমাকে তার গালি দেওয়ার অর্থ হল, সে বলে যে, আল্লাহ তা’আলা সন্তান গ্রহণ করেছেন অথচ আমি আল্লাহ একক ও অদ্বিতীয়, কারো মুখাপেক্ষী নই। আমি কাউকে জন্ম দেইনি আর আমি কারও জাতও নই আর আমার সমকক্ষও কেহ নেই।

2079। কাছীর ইবনু উবায়দ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, এক বান্দা নিজের উপর অত্যাচার করছিল। এমতাবস্থায় তার কাছে মৃত্যূ উপস্তিত হলে সে তার পরিবার-পরিজনকে বললঃ যখন আমি মৃত্যুবরণ করি তখন তোমরা আমাকে পুড়ে ফেলবে এবং ছাই করে ফেলবে। তারপর আমাকে বাতাসে সাগরে ফেলে দেবে। আল্লাহর কসম, যদি আল্লাহ তা’আলা আমার উপর ক্ষমতা পান তাহলে তিনি আমাকে এমন শাস্তি দিবেন যা তাঁর সৃষ্টির কাউকেও দেননি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তার পরিবার-পরিজন তাই করল। (আল্লাহ তা'আলা কিয়ামতের দিন) ঐ ব্যক্তিকে বলবেন, যে নিজের কিছু অংশ বিনষ্ট করে দিয়েছিলে "তুমি তা ফিরিয়ে দাও" তখন সে দাঁড়িয়ে যাবে। তখন আল্লাহ তা’আলা জিজ্ঞাসা করবেন “তুমি কেন এরূপ করেছিলে? সে বলবে, তোমার ভয়ে! অতঃপর আল্লাহ তা'আলা তাকে ক্ষমা করে দিবেন।

2080। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... হুযায়ফা (রাঃ) সুত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি তিনি বলেন, তোমাদের পুর্বকার এক ব্যক্তি তার আমল সম্পর্কে মন্দ ধারণা করেছিল। যখন তার মৃত্যু উপস্থিত হল সে তার পরিবারের লোকজনকে বললো যে, আমি মৃত্যুবরণ করলে তোমরা আমাকে পুড়ে ফেলবে এবং আমাকে নিশ্চিহ্ন করে সাগরে ফেলে দেবে। কেননা আল্লাহ তা'আলা যদি আমার উপর ক্ষমতাবান হন তাহলে আমাকে ক্ষমা করবেন না। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তখন আল্লাহ তা'আলা ফিরিশতাগণকে আদেশ করলে তারা তার আত্নাকে উপস্থিত করবে। আল্লাহ তা'আলা তাকে তখন জিজ্ঞাসা করবেন, তুমি যা করেছিল তা করতে তোমাকে কোন জিনিস উদ্বুদ্ধ করেছিল? সে বলবে, হে আমার প্রভু আমি একমাত্র তোমার ভয়ে ঐরূপ করেছিলাম। তখন আল্লাহ তা'আলা তাকে ক্ষমা করে দিবেন।

2081। কুতায়বা (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মিম্বরের উপর ওয়াজ করার সময় বলতে শুনেছি নিশ্চয়ই তোমরা নগ্ন পায়ে, বস্ত্রহীন ও খাৎনাবিহীন অবস্থায় আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে।

2082। মুহাম্মাদ ইবনু মুছান্না (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) সুত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকদের কিয়ামতের দিন উলঙ্গ শরীরে খাৎনাবিহীন অবস্থায় উঠানো হবে। প্রথম যে ব্যক্তিকে কাপড় পরিধান করানো হবে তিনি হলেন ইবরাহীম (আঃ)। অতঃপর তিনি পাঠ করলেনঃ كَمَا بَدَأْنَا أَوَّلَ خَلْقٍ نُعِيدُهُ

2083। আমর ইবনু উসমান (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, কিয়ামতের দিন লোকদেরকে উঠানো হবে নগ্ন পায়ে উলঙ্গ শরীরে খাৎনাবিহীন অবস্থায়। তখন আয়িশা (রাঃ) বললেন যে, লজ্জাস্থানের অবস্থা কিরূপ হবে? তিনি বললেনঃ সে দিন তাদের প্রত্যেকের অবস্থা এমন হবে যে, তারা প্রত্যেকেই অন্য থেকে বিমুখ থাকবে।

2084। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) সুত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, অবশ্যই তোমাদেরকে (কিয়ামতের দিন) নগ্ন পায়ে উলঙ্গ শরীরে একত্রিত করা হবে। আমি বললাম যে, পুরুষ এবং রমনীগন একে অন্যের প্রতি তাকাবে না? তিনি বললেনঃ তাদের একে অন্যের প্রতি তাকাবার খেয়াল আনা অপেক্ষা তখন অবস্থা আরো ভয়াবহ হবে।

2085। মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন লোকজন তিনদল হয়ে হাশরের মাঠে উপাস্থিত হবে। একদল তারা বেহেশতের আশা রাখবে আর একদল তারা দোযখের ভয়ে ভীত থাকবে তারা দুই দুইজন, তিনি তিনজন, চার চারজন, দশ দশজন এক এক উটে আরোহণ করে আসবে। আর অবশিষ্ট লোকদেরকে অগ্নি তাড়িয়ে আনবে। অগ্নি তাদের সাথে দ্বিপ্রহরে অবস্থান করবে যেখানে তারা দ্বি-প্রহরের সময় অবস্থান করবে। তাদের সাথে রাত্রে অবস্থান করবে যেখানে তারা রাত্রে অবস্থান করবে। তাদের সাথে সকালে অবস্থান করবে যেখানে তারা সকালে অবস্থান করবে। তাদের সাথে সন্ধায় অবস্থান করবে যেখানে সন্ধায় অবস্থান করবে।

2086। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... আবূ যর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, পরম সত্যবাদী রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, হাশরের দিন লোকজন তিন দলে বিভক্ত হয়ে উপস্থিত হবে। একদল হবে পরিতৃপ্ত ও পোশাক পরিহিত আরোহী, আর একদল হবে ফিরিশতাগণ তাদেরকে সামনা-সামনি টেনে আনবে। আর অগ্নি তাদের তাড়িয়ে আনবে। আর একদল হবে তারা হেঁটে আসবে দ্রুতগতিতে। তাদের পিঠের উপর আল্লাহ তাআলা মুসীবত ঢেলে দিবেন। অতএব তাদের শক্তি আর অবশিষ্ট থাকবে না। এমনকি এক ব্যক্তির একটি বাগান হবে সে একটি উটের বিনিময়ে তা দিয়ে দিতে চাইবে কিন্তু তা তার সাধ্যের বাইরে হবে।

2087। মাহমূদ ইবনু গায়লান (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াজ করতে দাঁড়িয়ে বললেনঃ হে লোক সকল! তোমরা আল্লাহ তা’আলার নিকট একত্রিত হবে উলঙ্গ অবস্থায়। (আবূ দাঊদ (রহঃ)-এর বর্ণনায় আছে খালি পায়ে, খাৎনাবিহীন অবস্থায় এবং ওকী (রহঃ) ও ওয়াহব (রহঃ)-এর বর্ণনায় রয়েছে উলঙ্গ এবং খাৎনাবিহীন অবস্থায়) যে রকম তোমাদেরকে প্রথমে সৃষ্টি করা হয়েছিল ঐ রকমই তোমাদেরকে পুনরুত্থান করা হবে। তিনি বললেন, প্রথম যে ব্যক্তিকে কিয়ামতের দিন কাপড় পরিধান করানো হবে তিনি ইবরাহীম (আঃ) এবং তাকে আনা হবে। ওয়াহব এবং ওকী (রহঃ)-এর বর্ণনায় আছে, আমার উম্মতের লোককে বাম পার্শে অবস্থানকারীদের মধ্যে আনা হবে। তখন আমি বলব, হে আল্লাহ! এরা তো আমার উম্মাত। বলা হবে যে, আপনি জানেন না এরা আপনার পরে ধর্মে নতুন নতুন জিনিস আবিস্কার করেছিল। তখন আমি এক নেক্কার বান্দা যেভাবে বলেছিলেন আমি তদ্রূপ বলবوَكُنتُ عَلَيْهِمْ شَهِيدًا مَّا دُمْتُ فِيهِمْ فَلَمَّا تَوَفَّيْتَنِي كُنتَ أَنتَ الرَّقِيبَ عَلَيْهِمْ ۚ وَأَنتَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدٌ إِن تُعَذِّبْهُمْ فَإِنَّهُمْ عِبَادُكَ وَإِن تَغْفِرْ لَهُمْ فَإِنَّكَ أَنتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ তখন বলা হবে যে, এরা সর্বদা পেছনে থাকত। আবূ দাউদ (রহঃ)-এর বর্ণনায় আছে তারা মুরতাদ হয়ে গিয়েছিল আপনি তাদের ছেড়ে আসার পর।

2088। হারুন ইবনু যায়দ অর্থাৎ আবূ যারকা মুআবিয়ার পিতা কুররা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বসতেন তখন সাহাবীদের অনেকে তার কাছে এসে বসতেন। তাদের মধ্যে এক জনের অল্প বয়স্ক একটি ছেলে ছিল। তিনি তার ছেলেটিকে পেছনের দিক থেকে নিজের সামনে এনে বসাতেন। অতঃপর ছেলেটি মৃত্যুবরণ করল। তিনি বিষণ্ণ হয়ে পড়লেন। তার ছেলের কথা মনে করে তিনি মজলিসে উপস্থিত হতে পারতেন না। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে না দেখে জিজ্ঞাসা করলেন যে, আমি অমুক ব্যক্তিকে কেন দেখছি না? সাহাবীগণ বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি তার ছোট ছেলেটিকে দেখেছিলেন সে মৃত্যূবরণ করেছে। পরে তার সাথে সাক্ষাৎ করে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেনঃ তোমার ছোট ছেলেটির কি হয়েছে? সে ব্যক্তি বললো, ছেলেটির মৃত্যূ হয়েছে। তখন তিনি তাকে সান্তনা দিয়ে ধৈর্যধারণ করতে বললেন। তারপর তিনি বললেন যে, হে অমুক! তোমার কাছে কোনটি পছন্দনীয়- তার দ্বারা তোমার পার্থিব জীবন সুখময় করা না কাল কিয়ামতে জান্নাতের যে দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে তাকে তথায়ই পাওয়া, তোমার সেখানে পৌছে তোমার জন্য দরজা খুলে দেওয়া? সে বললো, হে আল্লাহর রাসুল বরং সে আমার জান্নাতের দরজায় গিয়ে আমার জন্য দরজা খুলে দেবে এটাই আমার কাছে অধিক পছন্দনীয়। তিনি বললেন, তাহলে তা-ই তোমার জন্য হবে।

2089। মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুসা (আঃ) এর কাছে মালাকুল মউতকে প্রেরণ করা হলো। যখন মালাকুল মউত তার কাছে পৌছলেন তিনি তাকে এক চড় মারলেন যাতে তার একটি চক্ষু বের হয়ে গেল। তিনি তার প্রভুর কাছে গিয়ে বললেনঃ আপনি আমাকে এমন এক বান্দার কাছে প্রেরণ করেছেন মৃত্যুর ইচ্ছা পোষণ করেন না। আল্লাহ তা'আলা তার চক্ষু ফিরিয়ে দিয়ে বললেন যে, এবার তার কাছে ফিরে গিয়ে বলবে, তিনি যেন একটি গরুর পিঠে তার হাত রাখে। তার হাতের নীচে যতগুলো পশম পড়বে প্রত্যেক পশমের পরিবর্তে এক বৎসর করে তার আয়ু বাড়িয়ে দেওয়া হবে। তিনি মুসা (আঃ) বললেন, হে পরওয়ারদিগার! তারপর কি হবে? তিনি বললেন, মৃত্যূ। তখন মুসা (আঃ) বললেন, তাহলে এখনই মৃত্যূ হয়ে যাক। তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলেন, তাকে যেন পবিত্রভূমি (বায়তুল মুকাদ্দাস) হতে একখানা প্রস্তর নিক্ষেপের দূরত্ব পরিমাণ নিকটবর্তী স্থানে রাখা হয়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যদি আমি তথায় থাকতাম তাহলে তোমাদেরকে তাঁর কবর দেখিয়ে দিতাম। যা পথের এক পার্শে লাল বালুকা স্তূপের নীচে রয়েছে।

উৎস: Sunan an Nasai

WEBREATH · 11:11

«Should I not be a thankful servant?» — Sahih al-Bukhari

Breath is one for all: everyone lives by it, whoever they are and whatever they believe. Every day at 11:11 local time people stop for sixty seconds, breathe, and thank GOD for the breath — each in their own words, each within themselves. In that minute we are One Breath.

WEBREATH — the Minute at 11:11, your own local time — we are One Breath