সুনানে নাসায়ী 20 · The Book of Qiyam Al-Lail (The Night Prayer) and Voluntary Prayers During the Day
আপনার ভাষায় এখনো কোনো অনুবাদ নেই — ইংরেজি দেখাচ্ছে
1598। আব্বাস ইবনু আব্দুল আজীম (রহঃ) ... নাফি (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, আব্দুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা নফল সালাত আপন আপন ঘরেই আদায় করবে। ঘরে নফল সালাত আদায় না করে ঘরকে কবরের ন্যায় বানিয়ে নিও না।
1599। আহমদ ইবনু সুলায়ইমান (রহঃ) ... যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে একটি চাটাইকে হুজরার ন্যায় বানিয়ে নিলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাতে কয়েক রাত্রি সালাত আদায় করলে কিছু লোকও তার সাথে একত্রিত হয়ে গেল। পরে এক রাত্রিতে তারা তার কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে অনুমান করল যে, তিনি হয়ত ঘুমিয়ে আছেন। তাই কেউ কেউ গলা খঁকারি দিতে লাগল, যাতে তিনি তাদের সামনে বেরিয়ে আসেন। তিনি বললেন আমি তোমাদের আমার সাথে রাত্রে জামাতে নফল সালাত আদায় করতে বরাবর দেখেই আসছি। তাতে আমার ভয় হয় যে, তা তোমাদের উপর ফরযই না করে দেওয়া হয়। যদি তা তোমাদের উপর ফরয করে দেওয়া হয় তবে তোমরা তা যথাযথ রূপে আদায় করতে সক্ষম হতে না। অতএব, হে লোক সকল! তোমরা আপন আপন ঘরেই নফল সালাত আদায় করবে, কেননা ফরয সালাত ছাড়া মানুষের অধিক উত্তম সালাত তার ঘরেই আদায়কৃত সালাত।
1600। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... সা'দ ইবনু ইসহাক এর দাদা [কা'ব ইবনু উজরা (রাঃ)] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার আবদুল আশহাল গোত্রের মসজিদে মাগরিবের সালাত আদায় করলেন। যখন তিনি সালাত আদায় করে নিলেন, কিছু লোক নফল সালাত আদায় করার জন্য দাঁড়িয়ে গেল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের এ নফল সালাত ঘরেই আদায় করা উচিত।
1601। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... সা'দ ইবনু হিশাম (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি ইবনু আব্বাস (রাঃ) এর সাথে সাক্ষাৎ করে তাকে বিতর সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, আমি কি তোমাকে বিশ্ববাসীর মধ্যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিতর সালাত সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত ব্যক্তির সংবাদ দিব না? বললেন, হ্যাঁ। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বললেন, তিনি হলেন আয়িশা (রাঃ)। তুমি তার খেদমতে উপস্তিত হয়ে তাঁকেই জিজ্ঞাসা করে দেখ এবং পরে আমার কাছে এসে তোমাকে দেয়া তার উত্তর সম্বন্ধে আমাকে অবহিত করে যাবে। আমি হাকীম ইবনু আফলাহের কাছে এসে আয়িশা (রাঃ) এর কাছে যাওয়ার জন্য তাকে সাথী বানাতে চাইলে তিনি বললেন, আমি তার ঘনিষ্ঠজন নই, আমি তাকে ঊষ্ট্র যুদ্ধ ও সিফফীন ইত্যকার যুদ্ধ সমুহে অংশ গ্রহণকারী উভয় পক্ষ সম্পর্কে তাকে কিছু বলতে নিষেধ করলেও তিনি তা মানেন নি বরং তাতে সম্পূক্ত হয়ে গিয়েছিলেন। আমি হাকীম ইবনু আফলাকে আয়িশা (রাঃ) এর কাছে যাওয়ার জন্য শপথ দিলে তিনি আমার সাথে আয়িশা (রাঃ) এর কাছে গেলেন। আয়িশা (রাঃ) হাকীমকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার সাথে এ কে? আমি বললাম, সা’দ ইবনু হিশাম (রহঃ)। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, হিশাম কে? আমি বললাম আমেরের ছেলে। তিনি তার প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে বললেন, আমের বড় ভাল মানুষ ছিল। সা'দ ইবনু হিশাম (রহঃ) বললেন, হে উম্মুল মুমিনীন! আপনি আমাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্বভাব চরিত্র সম্পর্কে অবহিত করুন। তিনি বললেন, তুমি কূরআন পাঠ কর না? সা’দ (রহঃ) বলেন, আমি বললাম, হ্যাঁ, নিশ্চয়ই পাঠ করি। আয়িশা (রাঃ) বললেন, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্বভাব চরিত্র ছিল কূরআন। আমি যখন দাঁড়াতে মনস্থ করলাম তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দাঁড়ানোর (রাত্রে নফল সালাত আদায়ের) আমার মনে এসে গেল। তিনি বললেন, হে উম্মুল মু'মিনীন! আপনি আমাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রাত্রে নফল সালাত আদায় সম্পর্কে অবহিত করুন। তিনি বললেন, তুমি "ইয়া আয়্যুহাল মুয্যামমিল" এই সূরাটি পাঠ কর না? আমি বললাম হ্যাঁ, নিশ্চয়ই পাঠ করি। তিনি বললেন, আল্লাহ তা'আলা তাহাজ্জুদকে এই সূরার প্রথমাংশে ফরয করেছিলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাহাবীগণ এক বৎসর পর্যন্ত তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করলেন, যাতে তাঁদের পা ফুলে গেল। আল্লাহ তা'আলা উক্ত সূরার শেষাংশের নাযিল করা বার মাস পর্যন্ত স্থগিত রেখেছিলেন। অতঃপর আল্লাহ তাআলা উক্ত সূরার শেষাংশে সহজীকৃত বিধান অবতীর্ন করলেন। অতএব তাহাজ্জ্বুদের সালাত ফরয হিসাবে অবতীর্ণ হওয়ার পর নফল হিসাবে অবশিষ্ট রয়ে গেল। আমি পূনরায় যখন দাঁড়াতে মনস্থ করলাম তখন আমার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিতরের কথা স্মরণে এসে গেল। আমি আয়িশা (রাঃ) কে বললাম উম্মুল মুমিনীন! আপনি আমাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিতর সম্পর্কে অবহিত করুন। তিনি বললেন, আমরা তার জন্য মিসওয়াক এবং উযুর পানি প্রস্তুত করে রাখতাম। রাত্রে যখন আল্লাহ তাআলা তাকে জাগানোর ইচ্ছা হত তাকে জাগ্রত করে দিতেন। তিনি উঠে মিসওয়াক এবং উযু করতেন এবং আট রাকআত সালাত আদায় করতেন। তাতে সালাম ফিরানোর জন্য শুধু অষ্টম রাকআতেই বসতেন। বসে আল্লাহ তা'আলার যিকর এবং দোয়া করতেন। অতঃপর আমরা শুনতে পারি এমন ভাবে তিনি সালাম ফিরাতেন। এরপর দু’রাকআত সালাত আদায় করতেন এবং দু’রাকআতের পর সালাম ফিরিয়ে বসে থাকতেন। আবার এক রাকআত সালাত আদায় করতেন। তাহলে হে প্রিয় বৎস! সর্বমোট এগার রাকআত সালাত আদায় করা হল। যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বয়স বেড়ে গেল এবং শরীরের ওজন বৃদ্ধি পেয়ে গেল তিনি সাত রাকআত বিতরের সালাত আদায় করতেন। আর সালামের পর বসে থেকে দু’রাকআত সালাত আদায় করতেন। তাহলে হে প্রিয় বৎস! সর্বমোট ন'রাকআত সালাত আদায় করা হল। আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোন সালাত আদায় করতেন, তা নিয়মিত আদায় করতে ভালবাসতেন। আর যদি তাকে নিদ্রা অথবা কোন অসুখ বা ব্যাথা বেদনা তাহাজ্জুদ থেকে বিরত রাখত তাহলে তিনি দিনে বারো রাকআত সালাত আদায় করে নিতেন। আমি এ ব্যাপারে পুরোপুরি অবগত নই যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক রাত্রে সম্পুর্ণ কুরআন মজীদ পাঠ করেছেন। আর তিনি সকাল পর্যন্ত পুরা রাত্র তাহাজ্জ্বুদের সালাতও আদায় করতেন না এবং রমযান ব্যতীত পুরা মাস রোযাও রাখতেন না। আমি ইবনু আব্বাস (রাঃ) এর কাছে এসে আয়িশা (রাঃ) এর হাদীস থেকে বর্ণনা করলে তিনি বললেন, আয়িশা (রাঃ) সত্যই বলেছেন। আমি যদি তার কাছে কখনো যেতাম তাহলে এ হাদীসটি তার মুখ থেকে সরাসরি শুনতে পেতাম। আবূ আব্দুর রহমান (নাসাঈ) বলেন, আমার কাছে এরকমই রয়েছে কিন্তু আমি জানি না যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিতরের ব্যাপারে বর্ণনা কার থেকে হয়েছে।
1602। কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি ইবাদত জ্ঞানে সওয়াব লাভের নিয়তে তারাবীহর সালাত আদায় করে তার পূর্ববর্তী সমস্ত (সগীরা) গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে।
1603। মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল আবূ বকর (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে ব্যক্তি ইবাদত জ্ঞানে সওয়াব লাভের নিয়তে তারাবীহর সালাত আদায় করবে, তার পূববর্তী সমস্ত (সগীরা) গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে।
1604। কুতায়বা (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক রাত্র মসজিদে তারাবীহর সালাত আদায় করলেন, তার সংগে শরীক হয়ে কিছু সংখ্যক লোক সালাত আদায় করল। তারপর পরবর্তী রাত্রেও তারাবীহর সালাত আদায় করলে লোকের সংখ্যা বেড়ে গেল। তারপর তারা তৃতীয় রাত্রেও অথবা চতুর্থ রাত্রেও তারাবিহর সালাত আদায় করার জন্য জড়ো হয়ে গেলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আর তাদের সামনে বের হলেন না। সকাল হলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা যা করেছিলে আমি তা দেখছিলাম। তোমাদের উপর তারাবীহর সালাত ফরয হয়ে যাওয়ার আশংকা ব্যাতীত অন্য কোন কারনে তোমাদের সামনে বের হওয়া থেকে আমাকে বিরত রাখেনি। এ ঘটনা রমযান মাসে ঘটেছিল।
1605। উবায়দুল্লাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আবূ যর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সিয়াম পালন করেছিলাম। রমযান মাসে তিনি আমাদের নিয়ে তারাবীহর সালাত আদায় করলেন। যখন মাসের মাত্র সাত রাত্র অবশিষ্ট রয়ে গেল, তিনি আমাদের নিয়ে তারাবীহর সালাত আদায় করতে লাগলেন রাত্রের তৃতীয় প্রহর অতিবাহিত হওয়া পর্যন্ত। যখন মাসের ছয় রাত্র অবশিষ্ট রয়ে গেল তিনি আমাদের নিয়ে তারাবীহর সালাত আদায় করলেন না। যখন পাঁচ রাত্র অবশিষ্ট রয়ে গেল আমাদের নিয়ে তারাবীহর সালাত আদায় করলেন অর্ধ রাত্রি অতিবাহিত হওয়া পর্যন্ত। আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! যদি আপনি আমাদের নিয়ে অত্র রাত্রের অবশিষ্ট অংশেও নফল সালাত আদায় করতেন! তিনি বললেন, যে ব্যক্তি ইমামের সাথে তারাবীহর সালাত আদায় করে ঘরে ফিরে যায় আল্লাহ তা'আলা তার জন্য পূর্ণ রাত্রি সালাত আদায় করার সওয়াব লিখে রাখেন। অতঃপর আমাদের নিয়েও তারাবীহর সালাত আদায় করলেন না এবং নিজেও আদায় করলেন না। যখন মাসের তিন রাত্রি অবশিষ্ট রয়ে গেল, তিনি আমাদের নিয়ে ঐ রাত্রে তারাবীহর সালাত আদায় করলেন (এবং ঐ সালাতে) তার সন্তান সন্ততি এবং পরিবারবর্গও জড়ো হয়ে গেল। আমরা আশংকা করতে লাগলাম যে, “ফালাহ” না হারিয়ে ফেলি। আমি বললাম, “ফালাহ” এর অর্থ কি? বললেন, সাহরী খাওয়ার সময়।
1606। আহমদ ইবনু সুলাইমান (রহঃ) ... নুআয়ম ইবনু যিয়াদ আবূ তালহা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নুমান ইবনু বশীর (রাঃ) কে হিমস নামক স্থানের মিন্বরে দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছি, আমরা একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে রমযান মাসের তেইশতম রাত্রের প্রথম এক তৃতীয়াংশ পর্যন্ত তারাবীহর সালাত আদায় করলাম। অতঃপর পঁটিশতম রাত্রে তার সাথে অর্ধরাত্রি পর্যন্ত তারাবীহর সালাত আদায় করলাম। আবার তার সাথে সাতাইশতম রাত্রেও তারাবীহর সালাত আদায় করতে লাগলাম। এমনকি আমরা আশংকা করলাম যে “ফালাহ” পাব না। সাহাবীগণ সাহারীকে ফালাহ বলতেন।
1607। মুহাম্মদ ইবনু আবরাহ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ নিদ্রা যায় শয়তান তার মাথায় তিনটা গিট লাগিয়ে দেয়। প্রত্যেক গিট লাগানোর সময় সে বলে, “এখনো অনেক রাত্র বাকী আছে” অর্থাৎ তুমি শুয়ে থাক। যদি সে জেগে উঠে আল্লাহর যিকর করে তাহলে একটি গিঁট খুলে যায়। তারপর যদি উযু করে তাহলে আরো একটি গিট খুলে যায়, যদি সালাত আদায় করে তাহলে সমুদয় গিট খুলে যায় এবং তার সকাল হয় আনন্দ ও উদ্দীপনায়। অন্যথায় তার সকাল হয় অবসাদ ও বিষাদময়।
1608। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আব্দূল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এমন এক ব্যক্তির উল্লেখ করা হল, যে সারা রাত্রি সকাল পর্যন্ত নিদ্রা গিয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে ব্যক্তির কর্ণদ্বয়ে শয়তান প্রশ্রাব করে দিয়েছে।
1609। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! অমুক ব্যক্তি গত রাত্রের সালাত আদায় না করেই সকাল অবধি নিদ্রা গিয়েছে। তিনি বললেন, সে ব্যক্তিত কর্ণদ্বয়ে শয়তান প্রশ্রাব করে দিয়েছে।
1610। ইয়াকুব ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন। আল্লাহ তা'আলা ঐ ব্যক্তির উপর রহম করুন, যে রাত্রের কিছু অংশ জেগে তাহাজ্জ্বুদের সালাত আদায় করে, অতঃপর তার স্ত্রীকেও জাগিয়ে দেয়, সেও তাহাজ্জ্বুদের সালাত আদায় করে। যদি তার স্ত্রী জাগ্রাত হতে না চায় তবে তার মুখমণ্ডলে পানির ছিটা দেয়। ওই মহিলার উপরও আল্লাহ তা'আলা রহম বর্ষন করুন, যে রাত্রের কিছু অংশ জেগে তাহাজ্জ্বুদের সালাত আদায় করে। অতঃপর তার স্বামীকেও জাগিয়ে দেয়, সেও তাহাজ্জ্বুদের সালাত আদায় করে। সে যদি জাগ্রত হতে না চায় তবে তার মুখে পানির ছিটা দেয়া।
1611। কুতায়বা (রহঃ) ... আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং ফাতিমা (রাঃ) এর কাছে একবার রাতের বেলা আসলেন। তিনি বললেন, তোমরা সালাত আদায় করছ না? আমি (লজ্জিত হয়ে) বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাদের প্রাণ তো আল্লাহর হস্তে। যখন তা আমাদের কাছে পাঠাতে মনস্থ করেন পাঠিয়ে দেন। যখন আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ কথা বললাম, তখন তিনি চলে গেলেন। অতঃপর আমি তাকে ফিরে যাওয়ার সময় আমাদের উপর রাগান্বিত হয়ে উরুতে হাত মেরে বলতে শুনেছি, "মানুষ অত্যধিক বিতর্ককারী"।
1612। উবায়াদুল্লাহ ইবনু সা’দ (রহঃ) ... আলী ইবনু হুসায়ন এর দাদা আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক রাত্রে আমার এবং ফাতিমা (রাঃ) এর কাছে এসে আমাদের তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করার জন্য জাগিয়ে দিলেন। অতঃপর নিজের ঘরে গিয়ে দীর্ঘ রাত্র তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করেন এবং আমাদের কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে পুনরায় এসে আমাদের জাগিয়ে দিয়ে গেলেন। তিনি বললেন তোমরা উভয়ে জাগ্রত হয়ে যাও এবং (তাহাজ্জুদের) সালাত আদায় কর। আলী (রাঃ) বলেন, আমি উভয়ে চক্ষু রগড়াতে রগড়াতে বসে পড়ে বললাম, আল্লাহর শপথ! আমরা তো আল্লাহ তা'আলা যা আমাদের উপর ফরয করেছেন তাছাড়া অন্য কোন সালাত আদায় করি না। আমাদের প্রাণ তো আল্লাহ তা'আলার হাতে, যখন তিনি তা আমাদের কাছে পাঠিয়ে দিতে চান পাঠিয়ে দেন। আলী (রাঃ) বলেন, তিনি উরুতে হাত মেরে মেরে এই বলতে বলতে চলে গেলেন যে, "আল্লাহ তা'আলা আমাদের উপর যা ফরয করেছেন, তাছাড়া অন্য কোন সালাত আদায় করি না" আর "মানুষ অত্যধিক তর্ক প্রবণ"।
1613। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, রমযান মাসের পর সর্বোত্তম সাওম হল মুহাররাম মাসের সাওম (আশূরা (আশুরা/আসুরা/আসূরা)-র সাওম) এবং ফরয সালাতের পর সর্বোত্তম সালাত হল রাত্রের সালাত।
1614। সুওয়াইদ ইবনু নাসর (রহঃ) ... আবূ বিশর জাফর ইবনু আবূ ওয়াহশিয়্যাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি হুমায়দ ইবনু আব্দুর রহমান (রাঃ) কে বলতে শুনেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন ফরয সালাতের পর সর্বোত্তম সালাত হল তাহাজ্জুদের সালাত। আর রমযানের সাওমের পর সর্বোত্তম সাওম হল মুহাররম মাসের সাওম (আশূরার সাওম)। শুবা ইবনু হাজ্জাজ (রহঃ) উক্ত হাদিসকে সাহাবীর নাম উল্লেখ না করে বর্ণনা করেছেন।
1615। মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না (রহঃ) ... আবূ যর (রাঃ) সুত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিন ব্যক্তিকে আল্লাহ তা'আলা ভালবাসেন। এক, ঐ দানকারী ব্যক্তিকে যে ব্যক্তি কোন গোত্রের কাছে এসে আল্লাহর ওয়াস্তে সাহায্য চায়; তার এবং উক্ত গোত্রের মধ্যকার কোন আত্মীয়তার সমন্ধের দোহাই দিয়ে সাহায্য প্রার্থনা করে না। গোত্রের লোকেরা তাকে সাহায্যদানে অস্বীকৃতি জানায় (তাদের মধ্য থেকে) এক ব্যক্তি তাদের পেছনে থেকে গিয়ে তাকে গোপনে কিছু দান করবে। তার দান সম্পর্কে আল্লাহ তা’আলা এবং গ্রহন ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কেউ অবগত হয় না। দুই, ঐ ব্যক্তি যখন তার সহযাত্রীগণ রাত্রে সফর করে, নিদ্রা যখন তাদের কাছে অত্যধিক প্রিয় হয়ে দাঁড়ায় এবং তার সফর ক্ষান্ত দিয়ে নিন্দ্রা যায়, তখন সে জাগ্রত হয়ে আমার (আল্লাহ তা’আলা) নিকটে কায়মনোবাক্যে কান্নাকাটি করে দোয়া করে এবং আমার কুরআনে করীমের আয়াত তিলাওয়াত করে। তিন, ঐ ব্যক্তি যে কোন যুদ্ধে গমন পূর্বক শত্রু বাহিনীর মোকাবেলা করে তাদের পরাজিত করে দেয় এবং সম্মুখে অগ্রসর হয়ে শহীদ অথবা গাজী হয়।
1616। মুহাম্মাদ ইবনু ইবরাহীম বসরী (রহঃ) ... মাসরূক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশা (রাঃ) কে বললাম, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে কোন কাজটি অত্যধিক প্রিয় ছিল? তিনি বললেন, নিয়মিত আমল। আমি বললাম, তিনি রাত্রের কোন সময়ে জাগ্রত হতেন? তিনি বললেন, যখন মোরগের ডাকের আওয়াজ শুনতে পেতেন।
1617। ইসমাত ইবনু ফযল (রহঃ) ... আসিম ইবনু হুমায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশা (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাত্রে নিদ্রা থেকে জাগ্রত হওয়ার পর কি করতেন? তিনি বললেন, তুমি আজ আমাকে এমন একটি বিষয়ে প্রশ্ন করেছ, যে বিষয়ে তোমার পূর্বে অন্য কেউ আমাকে প্রশ্ন করেনি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দশবার তাকবীর (আল্লাহু আকবার) দশবার তাহমীদ (আলহামদু লিল্লাহ) দশবার তাসবিহ (সুবহানাল্লাহ) দশবার তাহলীল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) এবং দশবার ইস্তিগফার (আস্তাগফিরুল্লাহ) পড়তেন আর বলতেন, اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَاهْدِنِي وَارْزُقْنِي وَعَافِنِي أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ ضِيقِ الْمَقَامِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
1618। সুওয়াইদ ইবনু নাসর (রহঃ) ... রবী’আ ইবনু কা'ব আসলামী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হুজরার পাশেই রাত্রিযাপন করতাম। আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তিনি রাত্রে জাগ্রত হতেন অনেকক্ষণ পর্যন্ত বলতে শুনতামঃسُبْحَانَ اللَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ অতঃপর অনেকক্ষণ পর্যন্ত سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ।
1619। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রাত্রে নিদ্রা থেকে জাগ্রত হতেন, তাহাজ্জ্বুদের সালাত আদায় করতেন। (আর) তিনি বলতেনঃ اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ نُورُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ قَيَّامُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ مَلِكُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ حَقٌّ وَوَعْدُكَ حَقٌّ وَالْجَنَّةُ حَقٌّ وَالنَّارُ حَقٌّ وَالسَّاعَةُ حَقٌّ وَالنَّبِيُّونَ حَقٌّ وَمُحَمَّدٌ حَقٌّ لَكَ أَسْلَمْتُ وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ وَبِكَ آمَنْتُ অতঃপর কুতায়বা (রহঃ) আরো কিছু বাক্যের উল্লেখ করেছে, যেগুলো হলঃ وَبِكَ خَاصَمْتُ وَإِلَيْكَ حَاكَمْتُ اغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَمَا أَخَّرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ أَنْتَ الْمُقَدِّمُ وَأَنْتَ الْمُؤَخِّرُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ وَلاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ
1620। মুহাম্মাদ ইবনু সালামা (রহঃ) ... কুরায়ব (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি একবার উম্মুল মু'মিনীন মায়মুনা (রাঃ) এর সাথে রাত্রি যাপন করেন। (তিনি সম্পর্কে তার খালা ছিলেন) তিনি শুইলেন বালিশের প্রস্থে আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার পরিবার শুইলেন বালিশের দৈর্ঘে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুয়ে পড়লেন। যখন অর্ধরাত্রি অতিবাহিত হয়ে গেল তার পূর্বে বা পরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাগ্রত হলেন এবং হাত দ্বারা মুখমন্ডল থেকে নিদ্রার লক্ষণ দুরীভূত করতে লাগলেন। তারপর সূরা আলে ইমরান এর শেষ দশটি আয়াত তিলাওয়াত করলেন। এরপর একটি লটকালো মশকের কাছে গেলেন এবং তার (পানি) দ্বারা উত্তমরূপে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলেন এবং দাঁড়িয়ে (তাহাজ্জ্বুদের) সালাত আদায় করলেন। আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) বললেন, আমিও দাঁড়িয়ে তার মত করলাম এবং গিয়ে তার পাশে দাঁড়ালাম। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ডান হাত আমার মাথার উপর রাখলেন এবং (ঠিকমত না দাঁড়ানোর জন্য) আমার ডান কান ধরে মলতে লাগলেন। তারপর তিনি দু’রাকআত সালাত আদায় করলেন। পুনরায় দু’রাকআত, আবার দু’রাকআত, তারপরও দু’রাকআত, আবারও দু’রাকআত, পুনরায় দু’রাকআত সালাত আদায় করে তারপর শুয়ে পড়লেন। পরে মুয়াযযিন তার কাছে আসলে সংক্ষিপ্তভাবে দু’রাকআত ফজরের সুন্নাত আদায় করলেন।
1621। আমর ইবনু আলী এবং মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না (রহঃ) ... হুযায়ফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রাত্রে নিদ্রা থেকে জাগ্রত হতেন তার দাঁত মিসওয়াক দ্বারা মলতেন।
1622। মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল আলা (রহঃ) ... হুযায়ফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রাত্রে নিদ্রা থেকে তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করার জন্য জাগ্রত হতেন তার দাঁত মিসওয়াক দ্বারা ঘষতেন।
1623। উবায়দুল্লাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... হুযায়ফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা যখন রাত্রে নিদ্রা থেকে জাগ্রত হতাম তখন মিসওয়াক করার জন্য আমরা আদিষ্ট হতাম।
1624। আহমদ ইবনু সুলায়মান (রহঃ) ... শকীক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা যখন রাত্রে নিদ্রা থেকে জাগ্রত হতাম তখন আমাদের দাঁত মিসওয়াক দ্বারা মলার আদেশ দেওয়া হত।
1625। আব্বাস ইবনু আব্দুল আজীম (রহঃ) ... আবূ সালামা ইবনু আব্দুর রহমান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশা (রাঃ) এর কাছে জিজ্ঞাসা করলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন দোয়া দ্বারা তাহাজ্জ্বুদের সালাত শুরু করতেন। তিনি বললেন, যখন তিনি রাত্রে নিদ্রা থেকে জাগ্রত হতেন তার সালাত এই দোয়া পড়ে শুরু করতেনঃ اللَّهُمَّ رَبَّ جِبْرِيلَ وَمِيكَائِيلَ وَإِسْرَافِيلَ فَاطِرَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ أَنْتَ تَحْكُمُ بَيْنَ عِبَادِكَ فِيمَا كَانُوا فِيهِ يَخْتَلِفُونَ اللَّهُمَّ اهْدِنِي لِمَا اخْتُلِفَ فِيهِ مِنَ الْحَقِّ إِنَّكَ تَهْدِي مَنْ تَشَاءُ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ
1626। মুহাম্মাদ ইবনু সালামা (রহঃ) ... হুমায়দ ইবনু আব্দুর রহমান ইবনু আওফ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একজন সাহাবী বলেন, আমি একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সফরে থাকাকালীন মনে মনে বললাম যে, আমি অবশ্যই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাতের সময়ের প্রতি গভীর মনোযোগ সহকারের লক্ষ্য রাখবো, যাতে তার আমল দেখতে পারি। যখন তিনি ইশার সালাত আদায় করে নিলেন যাকে আতামাহও বলা হয়; দীর্ঘরাত্র পর্যন্ত শুয়ে রইলেন। অতঃপর জাগ্রত হয়ে আসমানের দিগন্তের প্রতি দৃষ্টিপাত করলেন এবংرَبَّنَا مَا خَلَقْتَ هَذَا بَاطِلاً থেকেإِنَّكَ لاَ تُخْلِفُ الْمِيعَادَ পর্যন্ত পড়লেন। অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিছানার দিকে হাত বাড়িয়ে তার নীচ থেকে একটি মিসওয়াক বের করলেন এবং তার কাছে রাখা একটি পানির পাত্র থেকে লোটায় পানি ঢাললেন, মিসওয়াক করলেন এবং দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করলেন। আমি মনে মনে ধারণা করলাম যে, তিনি যে পরিমাণ সময় ঘুমিয়ে ছিলেন, সে পরিমাণ সময় সালাত আদায় করলেন। পুনরায় ঘুমিয়ে গেলেন, আমি মনে মনে ধারণা করলাম যে, তিনি যে পরিমাণ সময় সালাত আদায় করেছিলেন সে পরিমাণ সময় ঘুমিয়ে রইলেন। আবার জাগ্রত হয়ে প্রথমবার যেরূপ করেছিলেন তদ্রুপ করলেন এবং যা যা বলেছিলেন তা বললেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের পুর্বে অনুরূপ তিনবার করেছিলেন।
1627। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা যখনই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে রাত্রে সালাত আদায়রত অবস্থায় দেখতে চাইতাম, তাকে সে অবস্থাতেই দেখতে পেতাম। আর যদি আমরা তাকে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখতে চাইতাম, তাকে সে অবস্থাতেই দেখতে পেতাম।
1628। হারুন ইবনু আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... ইবনু আবূ মুলায়কা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, ইয়ালা ইবনু মামলাক তাকে অবহিত করেছেন যে, তিনি উম্মে সালামা (রাঃ) কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইশার সালাত আদায় করে তাসবীহ পড়তেন। তারপর রাতে যতক্ষন পর্যন্ত আল্লাহর ইচ্ছা হয় ততক্ষন পর্যন্ত সালাত আদায় করতেন। আবার ফিরে এসে যে পরিমাণ সময় সালাত আদায় করেছিলেন সে পরিমাণ সময় ঘুমিয়ে থাকতেন। আবার সেই নিদ্রা থেকে জাগ্রত হয়ে যে পরিমাণ সময় ঘুমিয়ে ছিলেন সে পরিমাণ সময় সালাত আদায় করতেন। তাঁর সেই শেষ বারের সালাত সকাল অবধি প্রলম্বিত হত।
1629। কুতায়বা (রহঃ) ... ইয়ালা ইবনু মামলাক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সহধর্মিণী উম্মে সালামা (রাঃ) কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কুরআন তিলাওয়াত এবং তার সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেনঃ তোমরা তার সালাত সম্পর্কে জেনে কি করবে? (তোমরা তার মত সালাত আদায় করতে পারবে না) তিনি সালাত আদায় করতেন এবং যে পরিমাণ সময় সালাত আদায় করেছিলেন সে পরিমাণ সময় ঘুমিয়ে থাকতেন। আবার যে পরিমাণ সময় ঘুমিয়ে ছিলেন সে পরিমাণ সময় সালাত আদায় করতেন। তারপর যে পরিমাণ সময় সালাত আদায় করেছিলেন সে পরিমান ঘুমিয়ে থাকতেন সকাল অবধি। অতঃপর তিনি ইয়ালা (রাঃ) এর কাছে তাঁর কিরাআত সম্পর্কে বললেন। তিনি কিরাআতকে উত্তমরূপে থেমে থেমে ষ্পষ্টভাবে বর্ণনা করতেন।
1630। কুতায়বা (রহঃ) ... আমর ইবনু আউস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু আমর ইবনু আস (রাঃ) কে বলতে শুনেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলার কাছে সর্বোত্তম সাওম হল দাঊদ (আলাইহিস সালাম) এর সাওম। তিনি সাওম পালন করতেন একদিন এবং সাওম ভঙ্গ করতেন একদিন। আর আল্লাহ তা'আলার কাছে সর্বোত্তম সালাত দাঊদ (আলাইহিস সালাম) এর সালাত; তিনি অর্ধ রাত্রি পর্যন্ত নিদ্রা যেতেন, রাত্রের এক তৃতীয়াংশ সময় সালাত আদায় করতেন। পুনরায় রাত্রের এক ষষ্টমাংশ সময় নিদ্রা যেতেন।
1631। মুহাম্মাদ ইবনু আলী ইবনু হারব (রহঃ) ... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমাকে মিরাজের রাত্রে একটি লাল টিলার নিকট মুসা (আলাইহিস সালাম) এর কাছে নিয়ে যাওয়া হল। তিনি তখন তার কবরে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন।
1632। আব্বাস ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি একটি লাল টিলার সন্নিকটে মুসা (আলাইহিস সালাম) এর কাছে গিয়েছিলাম। তিনি তখন দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন। আবূ আব্দুর রহমান নাসায়ী বলেন, অত্র সনদসহ এই হাদীসটি মু’আয ইবনু খালিদ এর হাদীস হতে আমার নিকট অধিক সঠিক।
1633। আহমদ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি মুসা (আলাইহিস সালাম) এর কবরের পার্শ্বে গিয়েছিলাম, তিনি তখন নিজ কবরে সালাত আদায় করছিলেন।
1634। আলী ইবনু খাশরাম (রহঃ) ... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি মি'রাজের রাত্রে মুসা (আলাইহিস সালাম) এর কাছে গিয়েছিলাম। তখন তিনি নিজ কবরে সালাত আদায় করছিলেন।
1635। মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল আলা (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মি'রাজের রাতে মুসা (আলাইহিস সালাম) এর কাছে গিয়েছিলেন, তখন তিনি নিজ কবরে সালাত আদায় করছিলেন।
1636। ইয়াইয়া ইবনু হাবীব ও ইসমাঈল ইবনু মাসউদ (রহঃ) ... মু'তামিরের পিতা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস (রাঃ) কে বলতে শুনেছি যে, আমাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কোন কোন সাহাবী সংবাদ দিয়েছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মি'রাজের রাত্রে মুসা (আলাইহিস সালাম) এর কাছে গিয়েছিলেন। তখন তিনি নিজ কবরে সালাত আদায় করছিলেন।
1637। কুতায়বা (রহঃ) ... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কোন কোন সাহাবী থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মি'রাজের রাত্রে আমি মুসা (আলাইহিস সালাম) এর কাছে গিয়েছিলাম। তখন তিনি নিজ কবরে সালাত আদায় করছিলেন।
1638। আমর ইবনু উসমান (রহঃ) ... খাব্বাব ইবনু আরাত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বদরের যুদ্ধে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে শরীক ছিলেন। একদা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সারা রাত ব্যাপি সালাত আদায় করলে তিনি গভীর মনোযোগ সহকারে ফজর অবধি তার প্রতি লক্ষ্য রাখেন। যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ সালাত আদায় করে সালাম ফিরিয়ে ফেললেন, খাব্বাব (রাঃ) তার কাছে এসে বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার মাতা পিতা আপনার জন্য কুরবান হোক। আপনি অত্র রাত্র এত দীর্ঘক্ষণ ব্যাপি সালাত আদায়ে ব্যাপৃত রইলেন যে, আপনাকে আমি ইতিপুর্বে এত দীর্ঘক্ষণ ব্যাপি সালাত আদায়ে ব্যাপৃত থাকতে দেখিনি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ; তা ছিল আশা নিরাশার সালাত। আমি আমার রবের সমীপে তিনটি বিষয়ের প্রার্থনা করেছিলাম, তিনি দু'টি বিষয়ের প্রার্থনা কবুল করেছেন আর একটি বিষয়ের অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। আমি আমার রবের সমীপে প্রার্থনা করেছিলাম, তিনি যেন আমাদের পূর্ববতী উম্মাতদের ন্যায় আমাদের আযাব দ্বারা ধ্বংস করে না দেন। তিনি আমার এ প্রার্থনা কবুল করেছেন। আমি আমার রবের সমীপে প্রার্থনা করেছিলাম তিনি যেন আমাদের উপরে আমাদের বিপক্ষ (বিধর্মী) শক্তিসমূহকে বিজয়ী না করেন। তিনি আমার এ প্রার্থনাও কবুল করেছেন। আমি আমার রবের সমীপে এও প্রার্থনা করেছিলাম যে, তিনি যেন আমাদের বিভিন্ন দলে বিভক্ত করে না দেন। কিন্তু তিনি আমার এ প্রার্থনা কবুল করেন নি।
1639। মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... মাসরূক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আয়িশা (রাঃ) বলেছেন, যখন রমযানের শেষ দশ দিন আসত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাত্রে ইবাদতের জন্য জাগ্রত হয়ে যেতেন এবং তার পরিবারবর্গকেও জাগিয়ে দিতেন আর লুঙ্গি শক্ত করে বেঁধে নিতেন।
1640। মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... আবূ ইসহাক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একবার আসওয়াদ ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) এর কাছে আসলাম। তিনি সম্পর্কে আমার ভ্রাতা এবং বন্ধু ছিলেন। আমি তাকে বললাম, হে আবূ আমর! উম্মুল মু'মিনীন আয়িশা (রাঃ) আপনার নিকট রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত সম্পর্কে যা যা বর্ণনা করেছেন তা আপনি আমার কাছে বর্ণনা করুন। আবূ আমর (রহঃ) বললেন, আয়িশা (রাঃ) বলেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের প্রথম দিকে নিদ্রা যেতেন এবং শেষের দিকে জাগ্রত হয়ে ইবাদত করতেন।
1641। হারুন ইবনু ইসহাক (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার জানা নেই যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একরাত্রে সষ্পূর্ণ কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করেছেন কিংবা তিনি সারা রাত্র সকাল অবধি সালাত আদায় করেছেন এবং রমযান ব্যতীত কখনো সষ্পূর্ণ মাস সাওম পালন করেছেন।
1642। শু'আয়ব ইবনু ইউসুফ (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার তার কাছে আসলেন, তখন তার কাছে একজন মহিলা ছিল। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন এ মহিলা কে? আয়িশা (রাঃ) বললেন, সে অমুক (হাওলা) সে রাত্রে নিদ্রা যায় না এবং তার সালাতের কথাও উল্লেখ করলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা (তার সালাতের আদায়ের আধিক্য হেতু আমার কাছে তার প্রশংসা বর্ণনা থেকে) বিরত থাক। যতটুকু তোমাদের সাধ্যে থাকে ততটুকুই তোমরা কর্তব্য জ্ঞান করে নাও। আল্লাহর শপথ! আল্লাহ তায়ালা কখনো তোমাদের সওয়াব দেয়ার ব্যাপারে কুণ্ঠা বোধ করবেন না বরং তোমরাই ক্লান্ত হয়ে তার ইবাদাত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে তার কাছে সর্বাধিক পছন্দনীয় ইবাদাত হল ঐটা যা আমলকারী সর্বদা করে থাকে।
1643। ইমরান ইবনু মুসা (রহঃ) ... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার মসজিদে প্রবেশ করে দু’খুঁটির মাঝখানে লম্বমান অবস্থায় একটা রশি দেখে জিজ্ঞাসা করলেন, এটা কিসের রশি? সাহাবীরা বললেন, এটা যয়নব (রাঃ) এর রশি। যখন তিনি সালাত আদায় করতে দাঁড়াতে অসমর্থ হয়ে যান, তখন এ রশির সাথে লটকে থেকে সালাত আদায় করে থাকেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ও রশি খুলে ফেল, তোমরা প্রফুল্লচিত্ততা অবশিষ্ট থাকা অবধি সালাত আদায়ে রত থাকবে। আর যখনি ক্লান্ত হয়ে পড়বে তখন বসে পড়বে।
1644। কুতায়বা ইবনু সাঈদ এবং মুহাম্মাদ ইবনু মানসূর (রহঃ) ... যিয়াদ ইবনু আলাকাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মুগীরা ইবনু শু’বাকে বলতে শুনেছি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এত দীর্ঘক্ষণ সালাতে দাঁড়িয়ে রইলেন যে, তার কদমদ্বয় ফুলে গেল। তখন তাঁকে বলা হল, আল্লাহ তা'আলা আপনার পূর্বাপর সমুদয় ক্রটি বিচ্যুতি মার্জনা করে দিয়েছেন। (এতদসত্ত্বেও আপনি ইবাদাতে এত ক্লেশ কেন করছেন?) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি কি তাহলে কৃতজ্ঞ বান্দা হব না?
1645। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এত দীর্ঘক্ষণ ব্যাপি সালাত আদারে রত থাকতেন যে, তার কদমদ্বয় (অত্যধিক ফুলে যাওয়ার কারণে) ফেটে যাওয়ার উপক্রম হত।
1646। কুতায়বা (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দীর্ঘ রাত্র পর্যন্ত সালাত আদায়ে রত থাকতেন, যখন তিনি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতেন দাঁড়ানো অবস্থাতেই রুকু করতেন আর যখন বসে সালাত আদায় করতেন, বসা অবস্থাতেই রুকু করতেন।
1647। আব্দুল্লাহ ইবনু আব্দুর রহীম (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়েও সালাত আদায় করতেন আর বসেও সালাত আদায় করতেন। যখন তিনি দাঁড়ানো অবস্থায় সালাত আদায় করতেন দাঁড়ানো অবস্থাতেই রুকু করতেন আর যখন বসা অবস্থায় সালাত শুরু করতেন, বসা অবস্থাতেই রুকু করতেন।
1648। মুহাম্মাদ ইবনু সালামা (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো বসা অবস্থায় সালাত শুরু করতেন। সালাতে কুরআন তিলাওয়াত করতেন তখনও তিনি বসা অবস্থায় থাকতেন। যখন তাঁর কিরাআতের ত্রিশ কি চল্লিশ আয়াত পরিমাণ অবশিষ্ট থাকত তখন তিনি দাঁড়িয়ে যেতেন এবং দাঁড়ানো অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত করে রুকু করতেন আর সিজদা করতেন। তারপর দ্বিতীয় রাকআতেও অনুরূপ করতেন।
1649। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কখনো বসে সালাত আদায় করতে দেখিনি। যখন তার বার্ধক্য এসে গেল। তখন তিনি বসে বসেও সালাত আদায় করতেন, কুরআন তিলাওয়াত করতেন। যখন সূরার ত্রিশ কি চল্লিশ আয়াত পরিমাণ অবশিষ্ট থাকত তিনি দাঁড়িয়ে যেতেন এবং অবশিষ্ট আয়াতগুলো তিলাওয়াত করে নিতেন, তারপর রুকু করতেন।
1650। যিয়াদ ইবনু আইয়ুব (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসা অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত করতেন। যখন রুকু করার ইচ্ছা করতেন লোকদের চল্লিশ আয়াত পরিমাণ কুরআন তিলাওয়াত করার সময় থাকতে দাঁড়িয়ে যেতেন।
1651। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... সা'দ ইবনু হিশাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একবার মদীনাতে গেলে আয়িশা (রাঃ) এর খেদমতে উপস্থিত হলাম। আয়িশা (রাঃ) বললেন, তুমি কে? আমি বললাম, আমি সা’দ ইবনু হিশাম ইবনু আমির। তিনি বললেন, তোমার পিতার উপর আল্লাহ রহমত বর্ষণ করুন! আমি বললাম, আপনি আমাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত সষ্পর্কে অবহিত করুন। তিনি বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ এরূপ ছিলেন না? আমি বললাম, নিশ্চয়। তিনি বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাত্রে ইশার সালাত আদায় করতেন। তারপর তার বিছানায় গিয়ে ঘুমিয়ে যেতেন। যখন অর্ধরাত্রি হয়ে যেত তিনি তার প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারার জন্য এবং উযুর পানি নেয়ার জন্য উঠে যেতেন এবং উযু করে নিতেন। তারপর মসজিদে প্রবেশ করে আট রাকআত সালাত আদায় করতেন। আমার ধারণা হত, যেন তিনি উপরোক্ত রাকআত সমুহের কিরাআত, রুকু এবং সিজদাতে সমতা বিধান করতেন। অতঃপর একটি রাকআত দ্বারা উপরোক্ত সালাত সমূহকে বেজোড় করে দিতেন। পরে বসা অবস্থায় দু’রাকআত সালাত আদায় করতেন। তারপর তিনি শুয়ে পড়তেন। কখনো কখনো বিলাল (রাঃ) এসে তাকে হালকা নিন্দ্রা আসার পূর্বেই সালাতের সংবাদ দিতেন আর কখনো কখনো তার হালকা নিন্দ্রা এসে যেত, এবং কখনো কখনো আমার সন্দেহ হয়ে যেত যে, তিনি হালকা নিদ্রা গেলেন কি না। ইতিমধ্যে তাকে সালাতের সংবাদ দেওয়া হত। এই ছিল রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত। যখন তিনি বার্ধক্যে উপনীত হলেন এবং তার শরীর ভারী হয়ে গেল। আয়িশা (রাঃ) আল্লাহর যা ইচ্ছা ছিল তার ভারী হওয়া সম্পর্কে উল্লেখ করলেন। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের নিয়ে ইশার সালাত আদায় করতেন। তারপর নিদ্রা যেতেন। যখন অর্ধ রাত্রি হত তিনি উযুর পানি নেয়ার জন্য এবং প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারার জন্য নিদ্রা থেকে উঠে যেতেন এবং উযু করতেন ও মসজিদে প্রবেশ করে দু’রাকআত সালাত আদায় করতেন। আমি ধারনা করতাম যে, উক্ত দু’রাকআত সালাতে কিরাআত, রুকু এবং সিজদায় সমতা বিধান করতেন। অতঃপর একটি রাকআত দ্বারা উক্ত সালাত সমূহকে বেজোড় করে দিতেন। তারপর বসা অবস্থায় দু’রাকআত সালাত আদায় করতেন। পরে নিদ্রা যেতেন। কখনো কখনো বিলাল (রাঃ) এসে তাকে হালকা নিদ্রা যাওয়ার পুর্বে সালাতের সংবাদ দিতেন আর কখনো হালকা নিদ্রা যেতেন। আর কখনো কখনো আমরে সন্দেহ হয়ে যেত যে, তিনি হালকা নিদ্রা গেলেন কিনা। ইতিমধ্যে তাঁকে সালাতের সংবাদ দেয়া হত। আয়িশা (রাঃ) বলেন, এই ছিল রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সব সময়ের সালাত।
1652। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাওম পালন অবস্থায় আমার মুখে চুমু খাওয়া থেকে বিরত থাকতেন না। আর মৃত্যু অবধি তার অধিকাংশ (নফল) সালাতই ছিল বসা অবস্থায়। এরপর তিনি আরো একটি বাক্য উচ্চারণ করেছিলেন। যার অর্থ দাঁড়ায় ফরয সালাত ব্যতীত। আর তার কাছে সর্বাধিক প্রিয় আমল ছিল যা মানুষ সর্বদা করতে থাকে; যদিও তা পরিমাণে অল্পই হোক না কেন।
1653। সুলায়মান ইবনু সালাম বখলী (রহঃ) ... উম্মে সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মৃত্যু অবধি অধিকাংশ সালাত ছিল বসা অবস্থায়, ফরয সালাত ব্যাতীত।
1654। ইসমাঈল ইবনু মাসউদ (রহঃ) ... উম্মে সালমা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফরয সালাত ব্যতীত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইনতিকাল অবধি অধিকাংশ সালাত ছিল বসা অবস্থায় আর তার কাছে সর্বাধিক প্রিয় আমল ছিল যা সর্বদা করা হত, তার পরিমাণে অল্পই হত না কেন।
1655। আব্দুল্লাহ ইবনু আব্দূস সামাদ (রহঃ) ... উম্মে সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন ঐ সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইনতিকাল অবধি তার অধিকাংশ সালাত ছিল বসা অবস্থায়, ফরয ব্যাতীত। আর তার কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল ছিল সর্বদা যা করা হত যদিও পরিমাণে অল্পই হত না কেন।
1656। হাসান ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) ... আবূ সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আয়িশা (রাঃ) অবহিত করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইনতিকাল অবধি তার অধিকাংশ সালাত বসা অবস্থাতেই আদায় করতেন।
1657। আবূল আশআছ (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু শাকীক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশা (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলাম, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি বসা অবস্থায় সালাত আদায় করতেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ; মানুষের দায়িত্ব ভারে দুর্বল হয়ে যাওয়ার পর থেকে।
1658। কুতায়বা (রহঃ) ... হাফসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তার নফল সালাত বসে বসে আদায় করতে কখনো দেখিনি তার ইনতিকালের এক বৎসর পূর্ব পর্যন্ত। এরপর তিনি বসে বসেও নফল সালাত আদায় করতেন। তিনি যখন কোন সূরা তিলাওয়াত করতেন তখন তাতারতীলের সাথেতিলাওয়াত করতেন, তাতে দীর্ঘ সূরা আরো দীর্ঘ হত।
1659। উবায়দুল্লাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বসা অবস্থায় দেখলাম। আমি বললাম, আমার কাছে বর্ণনা করা হয়েছে যে, আপনি বলেছেনঃ বসে বসে সালাত আদায়কারীর সওয়াব দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সালাত আদায়কারীর অর্ধেক। অথচ আপনি বসে বসে সালাত আদায় করছেন? তিনি বললেন, নিশ্চয়ই; কিন্তু আমি তোমাদের কারো মত নই। (আমি বসে বসে সালাত আদায় করলেও আমাকে পুর্ণ সওয়াব দেয়া হয়)।
1660। হুমায়দ ইবনু মাসআদাহ (রহঃ) ... ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, যে বসে বসে সালাত আদায় করে। তিনি বললেন, যে ব্যক্তি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে নফল সালাত আদায় করে তার এ সালাত সর্বোত্তম। আর যে ব্যক্তি বসে বসে সালাত আদায় করে তার জন্যদাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সালাত আদায়কারীর তুলনায় অর্ধেক সওয়াব রয়েছে। আর যে ব্যক্তি শুয়ে শুয়ে সালাত আদায় করে, তার জন্য বসে বসে সালাত আদায়কারীর তুলনায় অর্ধেক সওয়াব রয়েছে।
1661। হারুন ইবনু আব্দুলাহ (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে একবার দেখলাম যে, তিনি চার জানু হয়ে সালাত আদায় করছেন। আবূ আব্দুর রহমান (নাসাঈ) বলেন, অত্র হাদীস আবূ দাঊদ ছাড়া অন্য কেউ বর্ণনা করেছেন বলে আমার জানা নেই। তিনি অবশ্য নির্ভরযোগ্য কিন্তু আমি অত্র হাদীসকে ভূল ভিন্ন কিছুই মনে করি না। আল্লাহই অধিক জ্ঞাত।
1662। শুআয়ব ইবনু ইউসুফ (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু আবূ কায়স (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশা (রাঃ) কে সালাম করলাম যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাত্রে কিভাবে কুরআন পাঠ করতেন, উচ্চ স্বরে না নিম্ন স্বরে? আয়িশা (রাঃ) বললেন, উভয়রূপেই কুরআন পাঠ করতেন। কখনো উচ্চ স্বরে পাঠ করতেন, কখনো নিম্ন স্বরে পাঠ করতেন।
1663। হারুন ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) ... উকবা ইবনু আমির (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি (স্থান-কালভেদে) উচ্চ স্বরে কুরআন তিলাওয়াত করে সে ঐ ব্যক্তির ন্যায়, যে প্রকাশ্যে দান খয়রাত করে, আর যে ব্যক্তি নিম্নস্বরে কুরআন তিলাওয়াত করে সে ঐ ব্যক্তি ন্যায়, যে গোপনে দান খয়রাত করে।
1664। হুসায়ন ইবনু মানসূর (রহঃ) ... হুযায়ফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একরাত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সালাত আদায় করলাম। তিনি সূরা বাকারা শুরু করলেন, আমি মনে মনে বললাম যে, হয়তো তিনি একশত আয়াত পরিমাণ তিলাওয়াত করে থেমে যাবেন। কিন্তু তিনি তিলাওয়াত চালিয়েই যেতে থাকলেন, আমি মনে মনে বললাম, হয়তো তিনি দু’শত আয়াত পরিমাণ তিলাওয়াত করে রুকুতে যাবেন, কিন্তু তিনি তিলাওয়াত চালিয়েই যেতে থাকলেন। আমি মনে মনে বললাম, হয়তো তিনি পূর্ণ সূরা এক রাকআতেই তিলাওয়াত করে ফেলবেন। কিন্তু তিনি তিলাওয়াত চালিয়ে যেতে থাকলেন এবং সূরা “নিসা” শুরু করে তাও তিলাওয়াত করে ফেললেন। তারপর সূরা "আলে ইমরান" ও শুরু করে তাও তিলাওয়াত করে ফেললেন। তিনি ধীরে ধীরে তিলাওয়াত করতেন। যদি তিনি এমন কোন আয়াত তিলাওয়াত করে ফেলতেন যাতে কোন তাসবীহ রয়েছে তবে তাসবীহ পাঠ করতেন, যদি কোন যাঞ্ছা করার আয়াত তিলাওয়াত করে ফেলতেন তবে যাঞ্ছা করতেন। যদি কোন বিতাড়িত শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনার আয়াত তিলাওয়াত করে ফেলতেন, তবে অশ্রেয় প্রার্থনা করতেন। তারপর রুকু করতেন এবং বলতেন, "সুবহানা রাব্বিয়াল আজীম" তার রুকু প্রায় তাঁর কিয়ামের সমান হত। পরে তার মাথা উঠাতেন এবং বলতেন "সামিআল্লাহু লিমান হামিদা"। তার দাঁড়ানো প্রায় তার রুকুর সমান হত। তারপর সিজদা করতেন এবং বলতেন, "সূবহানা রাব্বিয়াল আলা" তার সিজদা প্রায় তার রুকুরে সমান হত।
1665। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... হুযায়ফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে এক রমযান সালাত আদায় করলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকু করলেন এবং রুকুতে বললেনঃ "সুবহানা রাব্বিয়াল আজীম" তার রুকু তার দাঁড়ানো থাকার সমপরিমাণ ছিল। তারপর উভয় সিজদার মধ্যে বসে বললেন, رَبِّ اغْفِرْ لِي رَبِّ اغْفِرْ لِي তার বসাও তার কিয়ামের সমপরিমাণ হত। তারপর সিজদা করলেন এবং বললেন, "সুবহানা রব্বিয়াল আ'লা" তার সিজদাও তার কিয়ামের সমপরিমাণ হত। মাত্র চার রাকআত সালাত আদায় করতেই বিলাল (রাঃ) এসে ফজরের সালাতের সংবাদ দিলেন। আবূ আব্দুর রহমান নাসায়ী বলেন, আমার নিকট এই হাদীসটি মুরসাল।
1666। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... আলী আযদী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি উমর (রাঃ) কে বর্ণনা করতে শুনেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, রাত্রের এবং দিনের সালাত দু’রাকআত দু’রাকআত করে আদায় করবে। আবূ আব্দুর রহমান নাসায়ী বলেন, অত্র হাদীস আমার ধারনা মতে ভুল। আল্লাহই অধিক জ্ঞাত।
1667। মুহাম্মদ ইবনু কুদামাহ (রহঃ) ... তাউস (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি উমর (রাঃ) বলেছেন যে, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে রাত্রের সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, দু’রাকআত দু’রাকআত করে আদায় করবে, যখন ভোর হয়ে যাওয়ার আশংকা করবে, তখন এক রাকআত আদায় করে নেবে।
1668। আমর ইবনু উসমান এবং মুহাম্মাদ ইবনু সাদাকাহ (রহঃ) ... সালিমের পিতা সুত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাত্রের সালাত দু’রাকআত দু’রাকআত। যখন ভোর হয়ে যাওয়ার আশংকা করবে তখন একটি রাকআত দ্বারা (পুর্বের আদায়কৃত সমুদয় সালাতকে) বেজোড় করে নেবে।
1669। মুহাম্মাদ ইবনু মানসুর (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মিম্বরে দণ্ডায়মান থাকাকালীন রাত্রের সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে বলতে শুনেছি, দু’রাকআত দু’রাকআত (করে আদায় করবে) যখন ভোর হয়ে যাওয়ার আশংকা করবে, তখন একটি রাকআত দ্বারা (আদায়কৃত সমুদয় সালাতকে) বেজোড় বানিয়ে নেবে।
1670। মুসা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে রাত্রের সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, দু’রাকআত, দু’রাকআত (করে আদায় করবে)। যদি তোমাদের কেউ ভোর হয়ে যাওয়ার আশংকা করে, তবে যেন একটি রাকআত দ্বারা (আদায়কৃত সমুদয় সালাতকে) বেজোড় বানিয়ে নেয়।
1671। কুতায়বা (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) সুত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাত্রের সালাত দু’রাকআত, দু’রাকআত (করে আদায় করবে)। যখন ভোর হয়ে যাওয়ার আশংকা করবে তখন একটি রাকআত দ্বারা (আদায়কৃত সমুদয় সালাতকে) বেজোড় বানিয়ে নেবে।
1672। আহমদ ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুসলিমদের এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করল, রাত্রের সালাত কিরূপে আদায় করতে হবে? তিনি বললেনঃ রাত্রের সালাত দু’রাকআত, দু দু’রাকআত (করে আদায় করবে)। যখন ভোর হয়ে যাওয়ার আশংকা করবে তখন একটি রাকআত দ্বারা (পূর্বে আদায়কৃত সমুদয় সালাতকে) বেজোড় বানিয়ে নেবে।
1673। মুহাম্মদ ইবনু ইয়াহয়া (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে রাত্রের সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, রাত্রের সালাত দু’রাকআত, দু’রাকআত (করে আদায় করবে)। যখন ভোর হয়ে যাওয়ার আশংকা করবে তখন একটি রাকআত দ্বারা (আদায়কৃত সমুদয় সালাতকে) বেজোড় বানিয়ে নেবে।
1674। আহমদ ইবনু হায়ছাম (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! রাত্রের সালাত কিরূপে আদায় করতে হবে? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, রাত্রের সালাত “দু’রাকআত, দু’রাকআত” (করে আদায় করবে)। যখন ভোর হয়ে যাওয়ার আশংকা করবে তখন একটি রাকআত দ্বারা (আদায়কৃত সমুদয় সালাতকে) বেজোড় বানিয়ে নেবে।
1675। হান্নাদ ইবনু সারি (রহঃ) ... আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার সালাত আদায় করলেন। অতঃপর বললেন, হে কুরআনধারীগণ! তোমরা বিতরের সালাত আদায় কর। কেননা আল্লাহ তাআলা স্বয়ং বেজোড় এবং তিনি বেজোড় পছন্দ করেন।
1676। মুহাম্মদ ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) ... আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিতরের সালাত ফরয সালাতের ন্যায় অত্যাবশ্যকায় নয়। বরং তা ওয়াজিব, যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াজিব করে দিয়েছেন।
1677। সুলায়মান ইবনু সালম এবং মুহাম্মাদ ইবনু আলী (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার অন্তরঙ্গ বন্ধু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তিনটি কাজের ওসিয়্যত করে গেছেন। এক, (রাতে নিদ্রা থেকে জাগ্রত হওয়ার দৃঢ় বিশ্বাস না থাকলে) বিতরের সালাত আদায় করে নিদ্রা যাওয়া। দুই, দু’প্রত্যেক মাসে (আইয়্যামে বীযের) তিন দিন সাওম পালন করা। তিন, চাশতের (পূর্বাহ্নের) দুই রাকআত সালাত আদায় করা।
1678। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার অন্তরঙ্গ বন্ধু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তিনটি কাজের ওসিয়্যত করেছেন। এক, (রাত্রির শেষ ভাগে নিদ্রা থেকে জাগ্রত হওয়ার; দুঢ় বিশ্বাস না থাকলে) রাত্রির প্রথম ভাগেই বিতরের সালাত আদায় করে নেওয়া। দুই, ফজরের দুই রাকআত সুন্নাত সালাত আদায় করা। তিন, প্রত্যেক মাসে তিন দিন আইয়্যামে বীযের সাওম পালন করা।
1679। হান্নাদ ইবনু সারি (রহঃ) ... কায়স ইবনু তল্ক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রমযানের একদিন আমার পিতা তলক ইবনু আলী (রাঃ) আমাদের সাথে সাক্ষাৎ করলেন। তিনি আমাদের সাথে সন্ধ্যা করে ফেললেন, এবং ঐ রাত্রে আমাদের সাথে তারাবীহর সালাত আদায় করলেন আর আমাদের সাথে বিতরের সালাতও আদায় করলেন। অতঃপর তিনি দ্রুত মসজিদে চলে গেলেন এবং তার সাথীদের নিয়ে সালাত আদায়ে লেগে গেলেন। যখন শুধু বিতরের সালাত অবশিষ্ট রয়ে গেল, তিনি এক ব্যাক্তিকে আগে বাড়িয়ে দিলেন এবং বললেন, তুমি এদের সাথে বিতরের সালাত আদায় করে নাও। কেননা আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, এক রাত্রে দুইবার বিতরের সালাত আদায় করতে নেই। [সহীহ। তিরমিযী]
1680। মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না (রহঃ) ... আসওয়াদ ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আয়িশা (রাঃ) কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, রাত্রের প্রথম ভাগে নিদ্রা যেতেন। তারপর জাগ্রত হয়ে যেতেন এবং যখন সাহারীর সময় হয়ে যেত, তখন তিনি বিতরের সালাত আদায় করতেন। তারপর তার বিছানায় যেতেন। যদি তার বিবির কাছে কোন প্রয়োজন হত তাহলে তিনি বিবির সাথে সহবাস পর্ব সেরে নিতেন। তারপর যখন আযান শুনতে পেতেন দ্রুত দাঁড়িয়ে যেতেন। যদি তার উপর গোসল ফরয হত তাহলে তা সেরে নিতেন, অন্যথায় উযু করে নিতেন এবং সালাতের জন্য বের হয়ে যেতেন।
1681। ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতরের সালাত আদায় করতেন (কখনো) রাত্রের প্রথম ভাগে, (কখনো) রাত্রের শেষ ভাগে (আবার কখনো) রাতের মধ্য ভাগে। তিনি শেষ বয়সে রাত্রের শেষ ভাগেই বিতরের সালাত আদায় করা অভ্যাসে পরিণত করে নিয়েছিলেন।
1682। কুতায়বা (রহঃ) ... নাফি (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, ইবনু উমর (রাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি রাত্রে সালাত আদায় করে সে যেন শেষে বিতরের সালাত আদায় করে। কেননা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নির্দেশ দিয়েছেন।
1683। উবায়দুল্লাহ ইবনু ফাদালা (রহঃ) ... আবূ নাদরাহ আওয়াকী (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি আবূ সাইদ খুদরি (রাঃ) কে বলতে শুনেছেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বিতরের সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেছিলেন, তোমরা ভোর হওয়ার পূর্বেই বিতরের সালাত আদায় করে নেবে।
1684। ইয়াহইয়া ইবনু দুরুসত (রহঃ) ... আবূ সাঈদ (রাঃ) সুত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমরা ফজরের সালাতের পূর্বে বিতরের সালাত আদায় করে নেবে।
1685। ইয়াহইয়া ইবনু হাকীম (রহঃ) ... ইবরাহীমের পিতা মুহাম্মাদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি আমর ইবনু শুরাহবীল (রহঃ) এর মসজিদে ছিলেন। ইতিমধ্যে সালাতের ইকামত বলা হল। মুসল্লীরা তার অপেক্ষা করছিল। তিনি এসে বললেন, আমি বিতরের সালাত আদায় করছিলাম। আর তিনি বললেন, আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল ফজরের আযানের পরে কি বিতরের সালাত আদায় করা যায়? তিনি বলেছিলেন, হ্যাঁ; ইকামতের পরেও আদায় করা যায় এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীস বর্ণনা করলেন যে, তিনি একবার ফজরের সালাত আদায় না করে নিদ্রায় মগ্ন হয়ে পড়েছিলেন। ইতিমধ্যে সূর্য উদয় হয়ে গেলে তিনি ফজরের সালাত আদায় করে নিয়েছিলেন।
1686। উবায়দুল্লাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো কখনো যানবাহনের উপরও বিতরের সালাত আদায় করে নিতেন।
1687। ইবরাহীম ইবনু ইয়াকুব (রহঃ) ... নাফি (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, ইবনু উমর (রাঃ) কখনো কখনো তার উটের উপর বিতরের সালাত আদায় করে নিতেন এবং বলতেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও অনুরূপ করতেন।
1688। কুতায়বা (রহঃ) ... সাঈদ ইবনু ইয়াসার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে ইবনু উমর (রাঃ) বলেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো কখনো তার উটের উপরও বিতরের সালাত আদায় করে নিতেন।
1689। মুহাম্মদ ইবনু ইয়াহয়া (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বিতরের সালাত শেয রাত্রে (পূর্বের আদায়কৃত সালাত এর সাথে মিলিত) একটি রাকআত।
1690। মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) সুত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিতরের সালাত শেষ রাত্রে (আদায়কৃত সালাত সমুহের সাথে মিলিত) একটি রাকআত।
1691। হাসান ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, জনৈক গ্রাম্য ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে রাত্রের সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, রাত্রের সালাত দু’রাকআত দু’রাকআত করে আদায় করবে এবং বিতরের সালাত, শেষ রাত্রে (পূর্বের আদায়কৃত সালাত সমূহের সাথে মিলিত) একটি রাকআত।
1692। রবী ইবনু সুলায়মান (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) সুত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাত্রের সালাত হল দু’রাকআত, দু’রাকআত। যখন তুমি ফিরে যেতে চাও তখন একটি রাকআত আদায় করে নাও, যা তোমার পুর্বের আদায়কৃত সমুদয় সালাতকে বেজোড় বানিয়ে নেবে।
1693। কুতায়বা (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, রাত্রের সালাত হল দু’রাকআত, দু’রাকআত। আর বিতরের সালাত হল (রাতে আদায়কৃত সালাত সমূহের সাথে মিলিত) একটি রাকআত।
1694। মুহাম্মাদ ইবনু সালামা এবং হারিছ ইবনু মিসকীন (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে রাত্রের সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, রাত্রের সালাত হল দু’রাকআত, দু’রাকআত। যখন তোমাদের কেউ ভোর হয়ে যাওয়ার আশংকা করবে তখন একটি রাকআত আদায় করে নেবে, যা (তার পূর্বে আদায়কৃত সমুদয় সালাতকে) রেজোড় বানিয়ে দেবে।
1695। উবায়দুল্লাহ ইবনু ফাদালাহ (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেনঃ রাত্রের সালাত হল দু’রাকআত, দু’রাকআত। যখন তোমরা ভোর হয়ে যাওয়ার আশংকা করবে তখন একটি রাকআত দ্বারা (পুর্বের আদায়কৃত সমুদয় সালাতকে) বেজোড় বানিয়ে নেবে।
1696। ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাত্রে এগার রাকআত সালাত আদায় করতেন। (পূর্ববর্তী দু'টি রাকআতকে) একটি রাকআত দ্বারা বেজোড় বানিয়ে নিতেন। তারপর তার ডান পার্শ্বে শুয়ে পড়তেন।
1697। মুহাম্মদ ইবনু সালামা এবং হারিছ ইবনু মিসকীন (রহঃ) ... আবূ সালামা ইবনু আব্দুর রহমান (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি আয়িশা (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করেনঃ রমযান মাসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর (নফল) সালাত কি রকম ছিল? তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযান অথবা অন্য সময়ে রাত্রে এগার রাকআতের বেশী সালাত আদায় করতেন না। তিনি চার রাকআত সালাত আদায় করতেন। (সালাত) তার একাগ্রতা এবং তার সালাত দীর্ঘায়িত করা সমন্ধে কোন প্রশ্ন করো না। তারপর আরও চার রাকআত সালাত দু’আদায় করতেন। তার এ একাগ্রতা এবং সালাত দীর্ঘায়িতকরণ সম্বন্ধে কোন প্রশ্ন করো না। তারপর (মাঝখানে সালাম না ফিরায়ে) আরো তিন রাকআত সালাত আদায় করতেন। আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি কি বিতরের সালাত আদায় করার পূর্বেই নিদ্রা যান? তিনি বললেন, হে আয়িশা! আমার আখি যুগল তো নিদ্রা যায় কিন্তু আমার হদয় নিদ্রা যায় না।
1698। ইসমাঈল ইবনু মাসউদ (রহঃ) ... সা’দ ইবনু হিশাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আয়িশা (রাঃ) তার নিকট বর্ণনা করেছেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতরের সালাতে দু’রাকআতে সালাম ফিরাতেন না।
1699। আলী ইবনু মায়মূন (রহঃ) ... উবাই ইবনু কা'ব (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতরের সালাত তিন রাকআত আদায় করতেন। প্রথম রাকআত “সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আলা” দ্বিতীয় রাকআতে “ইয়া আয়্যুহাল কাফিরুন” তৃতীয় রাকআতে “কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ” পাঠ করতেন এবং রুকুতে যাওয়ার পুর্বে দোয়ায়ে কুনূত পড়তেন। যখন সালাত শেষ করতে যেতেন তখন তিনি শেষ পর্যন্ত তিনবারسُبْحَانَ الْمَلِكِ الْقُدُّوسِ পড়তেন।
1700। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... উবাই ইবনু কা'ব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতরের প্রথম রাকআতে “সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আলা” দ্বিতীয় রাকআতে “ইয়া আয়্যুহাল কাফিরুন” এবং তৃতীয় রাকআতে “কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ” পাঠ করতেন।
1701। ইয়াহইয়া ইবনু মুসা (রহঃ) ... উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতরের সালাতে “সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আলা” দ্বিতীয় রাকআতে “কুল ইয়া আয়্যুহাল কাফিরুন” এবং শেষ রাকআতে “কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ” পাঠ করতেন। আর শুধুমাত্র শেষ রাকআতেই সালাম ফিরাতেন অর্থাৎ সালামের পর তিনবারسُبْحَانَ الْمَلِكِ الْقُدُّوسِ বলতেন।
1702। হুসায়ন ইবনু ঈসা (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন রাকআত বিতেরের সালাত আদায় করতেন। প্রথম রাকআত –“সাব্বিহিস্মা রাব্বিকাল আলা” দ্বিতীয় রাকআতে “কুল ইয়া আয়্যুহাল কাফিরুন” এবং তৃতীয় রাকআতে “কুলহুয়াল্লাহু আহাদ” পাঠ করতেন।
1703। আহমদ ইবনু সুলায়মান (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি তিন রাকআত বিতরের সালাত আদায় করতেন “সাব্বিহিস্মা রাব্বিকাল আলা”, “ইয়া আয়্যুহাল কাফিরুন” এবং “কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ” দ্বারা।
1704। মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ... মুহাম্মাদ ইবনু আলীর দাদা আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাত্রে নিদ্রা থেকে জাগ্রত হয়ে গেলেন, তারপর মিসওয়াক করে দু’রাকআত সালাত আদায় করলেন। পরে শুয়ে গেলেন তারপর জাগ্রত হয়ে মিসওয়াক করলেন। অতঃপর উযু করে দু’রাকআত সালাত আদায় করলেন। ছয় রাকআত পর্যন্ত সালাত আদায় করলেন। তারপর তিন রাকআত বিতরের সালাত আদায় করলেন। অতঃপর দু’রাকআত সালাত আদায় করলেন।
1705। আব্দুল্লাহ ইবনু সুলায়মান (রহঃ) ... মুহাম্মাদ ইবনু আলীর দাদা আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একরাত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট ছিলাম। তিনি নিদ্রা থেকে জাগ্রত হয়ে উযু এবং মিসওয়াক করে إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَاخْتِلاَفِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لآيَاتٍ لأُولِي الأَلْبَابِ পর্যন্ত পাঠ করলেন। তারপর দু’রাকআত সালাত আদায় করলেন এবং বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়লেন, আমি তার নাক ডাকার শব্দ শুনতে পেলাম। তারপর জাগ্রত হয়ে উযু ও মিসওয়াক করলেন এবং দু’রাকআত সালাত আদায় করলেন। পুনরায় শুয়ে পড়লেন। আবার জাগ্রত হয়ে উযু ও মিসওয়াক করলেন। তারপর দু’রাকআত সালাত আদায় করে তিন রাকাআত বিতর আদায় করলেন।
1706। মুহাম্মাদ ইবনু জাবালাহ (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একরাত্রে নিদ্রা থেকে জাগ্রত হয়ে গেলেন, তারপর মিসওয়াক করলেন। রাবী হাদীসটি শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করলেন।
1707। হারুন ইবনু আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাত্রে আট রাকআত (তাহাজ্জুদ) সালাত আদায় করতেন এবং তিন রাকআত বিতরের সালাত আদায় করতেন এবং ফজরের ফরয সালাতের পূর্বে দু’রাকআত (সুন্নাত) সালাত আদায় করতেন।
1708। আহমদ ইবনু হারব (রহঃ) ... উম্মে সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাত্রে তের রাকআত সালাত আদায় করতেন (বিতরের সালাতসহ)। যখন তিনি বৃদ্ধ হয়ে গেলেন এবং দূর্বলতা এসে গেল তখন তিনি নয় রাকআত সালাত আদায় করতেন।
1709। আহমদ ইবনু সুলায়মান (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাত্রে নয় রাকআত সালাত আদায় করতেন। যখন তিনি বৃদ্ধ হয়ে গেলেন এবং শরীর ভারী হয়ে গেল, তখন তিনি সাত রাকআত সালাত আদায় করতেন।
1710। আমর ইবনু উসমান (রহঃ) ... আবূ আইয়্যুব (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বিতরের সালাত ওয়াজিব। অতএব, যার ইচ্ছা হয় সে সাত রাকআত দ্বারা বেজোড় করে দেবে, আর যে ইচ্ছা করে সে পাঁচ রাকআত দ্বারা বেজোড় করে দেবে। আর যে ইচ্ছা করে সে তিন রাকআত দ্বারা বেজোড় করে দেবে আর যে ইচ্ছা করে সে এক রাকআত দ্বারা বেজোড় করে দেবে।
1711। আব্বাস ইবনু ওয়ালীদ (রহঃ) ... আবূ আইয়ুব (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বিতরের সালাত ওয়াজিব। অতএব, যে ইচ্ছা করে সে পাঁচ রাকআত দ্বারা বেজোড় করে দেবে আর যে ইচ্ছা করে সে তিন রাকআত দ্বারা বেজোড় করে দেবে আর যে ইচ্ছা করে সে এক রাকআত দ্বারা বেজোড় করে দেবে। [সহীহ। পূর্বোক্ত হাদীস দ্রষ্টব্য]
1712। রবী ইবনু সুলায়মান (রহঃ) ... আতা ইবনু ইয়াযীদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি আবূ আইয়্যুব আনসারী (রাঃ) কে বলতে শুনেছেন যে, বিতরের সালাত ওয়াজিব। অতএব, যে ব্যক্তি পাঁচ রাকআত দ্বারা বেজোড় বানিয়ে দেয়া ভাল মনে করে সে যেন তাই করে। আর যে ব্যক্তি তিন রাকআত দ্বারা বেজোড় বানিয়ে দেয়া ভাল মনে করে, সে যেন তাই করে। আর যে ব্যক্তি এক রাকআত দ্বারা বেজোড় বানিয়ে দেয়া ভাল মনে করে, সে যেন তাই করে।
1713। হারিস ইবনু মিসকীন (রহঃ) ... আবূ আইয়্যুব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। যে ব্যক্তি ইচ্ছা করে সে সাত রাকআত দ্বারা বেজোড় করে দেবে। আর যে ব্যক্তি ইচ্ছা করে সে পাঁচ রাকআত দ্বারা বেজোড় করে দেবে। আর যে ব্যক্তি ইচ্ছা করে সে তিন রাকআত দ্বারা বেজোড় করে দেবে। আর যে ব্যক্তি ইচ্ছা করে সে এক রাকআত দ্বারা বেজোড় করে দেবে, আর যে ব্যাক্তি ইচ্ছা করে সে ভালভাবে ইশারা করবে।
1714। কুতায়বা (রহঃ) ... উম্মে সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঁচ রাকআত দ্বারাও বেজোড় করে দিতেন, সাত রাকআত দ্বারাও বেজোড় করে দিতেন। ঐ রাকআতগুলোর মধ্যে সালাম ফিরিয়ে কিংবা কথা বলে সালাতকে বিভক্ত করতেন না।
1715। কাসিম ইবনু যাকারিয়া (রহঃ) ... উম্মে সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাত রাকআত বা পাঁচ রাকআত দ্বারা সালাতকে বেজোড় করে দিতেন। ঐ রাকাতগুলোর মধ্যে সালাম ফিরিয়ে সালাতকে বিভক্ত করতেন না।
1716। মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) ... মিকসাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বেজোড় করণ হবে সাত রাকআত দ্বারা তবে পাঁচ রাকআতের কম দ্বারা নয়। রাবী (হাকাম) বলেন, আমি একথা ইবরাহীম (রহঃ) কে বললে তিনি বললেন, রাবী (মিকসাম) এ হাদীস কার কাছ থেকে বর্ণনা করেছেন? আমি বললাম, আমার জানা নেই। তারপর আমি হজ্জের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলে মিকসাম (রহঃ) এর সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়ে গেল। আমি তাকে বললাম, আপনি এ হাদীস কার কাছ থেকে বর্ণনা করেছেন? তিনি বললেন, একজন নির্ভরযোগ্য রাবী থেকে। তিনি আয়িশা এবং মায়মুনা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন।
1717। ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো পাঁচ রাকআত দ্বারাও (সালাতকে) বেজোড় বানিয়ে দিতেন এবং কেবলমাত্র শেষ রাকআতেই বসতেন।
1718। ইসমাঈল ইবনু মাসউদ (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বয়স বেড়ে গেল এবং শরীর ভারী হয়ে গেল তিনি সাত রাকআত সালাত আদায় করতেন, শুধুমাত্র শেষ রাকআতেই বসতেন আর সালাম ফিরানোর পর বসা অবস্থায় আরো দু’রাকআত সালাত আদায় করতেন। হে বৎস! তাহলে মোট নয় রাকআত সালাত আদায় করা হল। আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোন সালাত আদায় করতেন তা সর্বদা আদায় করতে ভালবাসেন। (সংক্ষিপ্ত)
1719। যাকারিয়্যা ইবনু ইয়াহয়া (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নয় রাকআত দ্বারা বেজোড় করতেন কেবলমাত্র আট রাকআতেই বসতেন এবং আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা এবং যিকর করতেন (তাশাহ্হুদ পড়তেন) আর দোয়া করতেন (ছানা পড়তেন)। তারপর উঠে যেতেন এবং সালাম ফিরাতেন না। অতঃপর নবম রাকআত আদায় করতেন এবং বসে যেতেন ও আল্লাহ তা'আলার যিকর করতেন আর দোয়া করতেন। তারপর এমনভাবে সালাম ফিরাতেন যা আমরা শুনতে পেতাম। অতঃপর বসা অবস্থায় আরো দু’রাকআত সালাত আদায় করতেন। যখন তার বয়স বেড়ে গেল এবং দুর্বলতা এসে গেল তখন সাত রাকআত দ্বারা বেজোড় করে দিতেন, শুধুমাত্র ষষ্ঠ রাকআতেই বসতেন। তারপর উঠে যেতেন এবং সালাম ফিরাতেন না। অতঃপর সপ্তম রাকআত আদায় করতেন, তারপর সালাম ফিরাতেন। অতঃপর বসা অবস্থায় দু’রাকআত সালাত আদায় করতেন।
1720। হারুন ইবনু ইসহাক (রহঃ) ... সা'দ ইবনু হিশাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আয়িশা (রাঃ) বলেছেন, আমরা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য মিসওয়াক এবং উযুর পানি তৈরী করে রাখতাম। রাত্রের যে অংশে তাকে জাগ্রত করার আল্লাহ তা'আলার ইচ্ছা তিনি সে অংশে তাকে জাগ্রত করে দিতেন। (জাগ্রত হয়ে) তিনি মিসওয়াক এবং উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতেন ও নয় রাকআত সালাত আদায় করতেন। শুধুমাত্র অষ্টম রাকআতে বসতেন এবং আল্লাহর প্রশংসা ও নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উপর দরুদ পাঠ করতেন এবং দোয়া করতেন, সালাম ফিরাতেন। অতঃপর নবম রাকআত আদায় করতেন এবং বসে যেতেন অনুরূপভাবে আল্লাহর যিকর করতেন, তার প্রশংসা করতেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর দরুদ পাঠ করতেন ও দোয়া করতেন। তারপর এমনভাবে সালাম ফিরাতেন যা আমরা শুনতে পেতাম। অতঃপর বসা অবস্থায় দু’রাকআত সালাত আদায় করতেন।
1721। যাকারিয়্যা ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ... যুরারহ ইবনু আওফা (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, সা’দ ইবনু হিশাম আমাদের কাছে এসে বললেন যে, তিনি ইবনু আব্বাসের নিকট গিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিতরেব সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন, আমি কি তোমাকে সন্ধান দেব না? অথবা (তিনি বললেন) আমি কি তোমাকে ধরাবাসীদের মধ্যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিতরের সালাত সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত ব্যক্তির সংবাদ দেব না? আমি বললাম, তিনি কে? তিনি বললেনঃ আয়িশা (রাঃ)। তখন আমরা তার কাছে আসলাম এবং তাকে সালাম বলে তার ঘরে প্রবেশ করলাম এবং তাকে জিজ্ঞাসা করলাম। আমি বললাম আপনি আমাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিতরের সালাত সম্পর্কে অবহিত করুন। তিনি বললেন, আমরা তার জন্য তার মিসওয়াক এবং উযূর পানি তৈরী করে রাখতাম। আল্লাহ তাআলা তাকে রাত্রে যখন জাগাতে ইচ্ছা করতেন জাগিয়ে দিতেন। তিনি মিসওয়াক করে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতেন এবং নয় রাকআত সালাত আদায় করতেন। শুধুমাত্র অষ্টম রাকআতেই বসতেন। (বসে) আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা করতেন এবং তার যিকর করতেন আর দোয়া করতেন। তারপর উঠে যেতেন; সালাম ফিরাতেন না। অতঃপর নবম রাকআত আদায় করতেন এবং বসে যেতেন ও আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা বর্ণনা করতেন, তার যিকর এবং দোয়া করতেন। তারপর এমনভাবে সালাম ফিরাতেন যা আমরা শুনতে পেতাম। অতঃপর সালাম ফিরানোর পর বসা অবস্থায় দু’রাকআত সালাত আদায় করতেন। হে বৎস! তাহলে মোট এগার রাকআত সালাত আদায় করা হত। যখন তিনি বয়স্ক হয়ে গেলেন এবং শরীর ভারী হয়ে গেল, তখন তিনি সাত রাকআত পড়ে বেজোড় করে দিতেন। তারপর সালাম ফিরানোর পর বসা অবস্থায় দু’রাকআত সালাত আদায় করতেন। হে বৎস! তাহলে সেটি নয় রাকআত সালাত আদায় করা হল। আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোন সালাত আদায় করতেন তা সর্বদা আদায় করতে ভালবাসতেন।
1722। যাকারিয়্যা ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ... সা'দ ইবনু হিশাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি আয়িশা (রাঃ) কে বলতে শুনেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নয় রাকআত দ্বারা বেজোড় করতেন। তারপর বসা অবস্থায় দু’রাকআত সালাত আদায় করতেন। যখন তিনি বয়স্ক হয়ে গেলেন তখন সাত রাকআত দ্বারা রেজোড় করতেন। তারপর বসা অবস্থায় দু’রাকআত সালাত আদায় করতেন।
1723। মুহাম্মাদ ইবনু বাশাশার (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নয় রাকআত দ্বারা বেজোড় করতেন এবং বসা অবস্থায় দু’রাকআত সালাত আদায় করতেন।
1724। মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুলাহ খালানজী (রহঃ) ... সা’দ ইবনু হিশাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি আয়িশা (রাঃ) এর নিকট এসে তাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত সষ্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন, [রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] রাত্রে আট রাকআত সালাত আদায় করতেন এবং নবম রাকআত দ্বারা বেজোড় করে দিতেন এবং বসা অবস্থায় দু’রাকআত সালাত আদায় করতেন। (সংক্ষিপ্ত)
1725। হান্নাদ ইবনু সারি (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাত্রে নয় রাকআত সালাত আদায় করতেন।
1726। ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাত্রে এগার রাকআত সালাত আদায় করতেন এবং একটি রাকআত দ্বারা বেজোড় করে দিতেন। তারপর তিনি ডান কাতে শুয়ে পড়তেন।
1727। আহমদ ইবনু হারব (রহঃ) ... উম্মে সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তের রাকআত দ্বারা বেজোড় করতেন। যখন তিনি বৃদ্ধ হয়ে গেলেন এবং দুর্বলতা এসে গেল, তখন তিনি নয় রাকআত দ্বারা বেজোড় করতেন।
1728। ইবরাহীম ইবনু ইয়াকুব (রহঃ) ... আবূ মিজলায (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আবূ মুসা (রাঃ) একবার মক্কা এবং মদীনার মাঝামাঝি স্থানে অবস্থান করেছিলেন। তিনি সেখানে দু’রাকআত ইশার সালাত আদায় করলেন। তারপর দাঁড়ালেন এবং একটি রাকআত দ্বারা বেজোড় করে দিলেন, তাতে সূরা নিসার একশটি আয়াত তিলাওয়াত করলেন। তারপর বললেন, আমি যেখানে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পদদ্বয় রাখতেন সেখানে আমার পদদ্বয় রাখতে এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা যা তিলাওয়াত করতেন তা তিলাওয়াত করতে কোন ত্রুটি করিনি।
1729। মুহাম্মাদ ইবনু হুসায়ন (রহঃ) ... উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম “সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আলা”, “কুল ইয়া আইয়্যুহাল কাফিরুন” ও “কুলহু আল্লাহু আহাদ” দ্বারা বিতরের সালাত আদায় করতেন এবং যখন সালাম ফিরাতেন তখন তিনবার سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْقُدُّوسِ বলতেন।
1730। ইয়াহইয়া ইবনু মুসা (রহঃ) ... উবাই ইবনু কা'ব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম “সাব্বিাহিস্মা রাব্বিকাল আ’লা” “কুলইয়া আয়্যুহাল কাফিরুন” এবং “কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ” দ্বারা বিতরের সালাত আদায় করতেন।
1731। হাসান ইবনু কাযাআ (রহঃ) ... আব্দুর রহমান ইবনু আবযা (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতরের সালাতে “সাব্বিহিস্মা রাব্বিকাল আ’লা” “কুল ইয়া আয়্যুহাল কাফিরুন” এবং “কুলহুওয়াল্লাহু আহাদ” তিলাওয়াত করতেন।
1732। আমর ইবনু ইয়ায়ীদ (রহঃ) ... আব্দুর রহমান ইবনু আবযা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম “সাব্বিহিস্মা রাব্বিকাল আলা” “কুল ইয়া আয়্যুহাল কাফিরুন” এবং “কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ” দ্বারা বিতবের সালাত আদায় করতেন। আর যখন সালাম ফিরাতেন, তখন তিনবার سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْقُدُّوسِ পড়তেন এবং তৃতীয়বার উচ্চস্বরে পড়তেন।
1733। মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল আ'লা (রহঃ) ... আবদুর রহমান (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতরের সালাতে “সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আ'লা” “কুল ইয়া আয়্যুহাল কাফিরুন” এবং “কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ” তিলাওয়াত করতেন। তারপর যখন সালাম ফিরাতেন তখন তখন سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْقُدُّوسِ এবং তৃতীয়বারে سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْقُدُّوسِ উচ্চস্বরে পড়তেন।
1734। মুহাম্মাদ ইবনু কুদামাহ (রহঃ) ... আব্দুর রহমান ইবনু আবযা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম "সাব্বিহিস্মা রাব্বিকাল আলা" "কুল ইয়া আয়্যুহাল কাফিরুন" এবং "কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ" দ্বারা বিতরের সালাত আদায় করতেন এবং যখন সালাম ফিরাতেন ও সালাম থেকে অবসর হয়ে যেতেন তিনবার سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْقُدُّوسِ পড়তেন এবং তৃতীয়বারে তা দীর্ঘ করতেন।
1735। আহমদ ইবনু সুলায়মান (রহঃ) ... আব্দুর রহমান ইবনু আবযা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম “সাব্বিহিস্মা রাব্বিকাল আলা” “কুল ইয়া আইয়্যুহাল কাফিরুন” এবং “কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ” দ্বারা বিতরের সালাত আদায় করতেন।
1736। ইমরান ইবনু মুসা (রহঃ) ... আবযা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম “সাব্বিহিস্মা রাব্বিকাল আলা” বলে “ইয়া আয়্যুহাল কাফিরুন” এবং “কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ” দ্বারা বিতরের সালাত আদায় করতেন। আর যখন সালাত থেকে অবসর হয়ে যেতেন তিনবার سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْقُدُّوسِ পড়তেন।
1737। আহমদ ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) ... আবযা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতরের সালাতে “সাব্বিহিস্মা রাব্বিকাল আলা” “ইয়া আয়্যুহাল কাফিরুন” এবং “কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ” তিলাওয়াত করতেন।
1738। আহমদ ইবনু সুলায়মান (রহঃ) ... আবযা (রাঃ) তার পিতা থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
1739। আব্দুলাহ ইবনু সাব্বাহ (রহঃ) ... আব্দুর রহমান ইবনু আবযা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম “সাব্বিহিস্মা রাব্বিকাল আ’লা” “ইয়া আয়্যুহাল কাফিরুন” এবং “কুলহুওয়াল্লাহু আহাদ” তিলাওয়াত করতেন।
1740। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... সাঈদ আব্দুর রহমান ইবনু আবযা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম “সাব্বিহিস্মা রাব্বিকাল আলা” “কুল ইয়া আয়্যুহাল কাফিরুন” এবং “কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ”। দ্বারা বিতরের সালাত আদায় করতেন। আর যখন (সালাত থেকে) অবসর হয়ে যেতেন তখন তিনবার سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْقُدُّوسِ পড়তেন।
1741। ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ... আব্দুর রহমান ইবনু আবযা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ”সাব্বিহিস্মা রাব্বিকাল আলা” “কুল ইয়া আয়্যুহাল কাফিরুন” এবং “কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ” দ্বারা বিতরের সালাত আদায় করতেন। যখন সালাত থেকে অবসর হয়ে যেতেন তিনবার سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْقُدُّوسِ পড়তেন এবং তৃতীয়বারে দীর্ঘ করতেন।
1742। মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না (রহঃ) ... আব্দুর ইবনু আবযা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম “সাব্বিহিস্মা রাব্বিকাল আ’লা” দ্বারা বিতরের সালাত আদায় করতেন।
1743। বিশর ইবনু খালিদ (রহঃ) ... ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম “সাব্বিহিস্মা রাব্বিকাল আলা” দ্বারা বিতরের সালাত আদায় করতেন।
1744। মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না (রহঃ) ... ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার জোহরের সালাত আদায় করছিলেন। তখন এক ব্যক্তি “সাব্বিহিস্মা রাব্বিকাল আ'লা” তিলাওয়াত করল। তিনি সালাত আদায় শেষে জিজ্ঞাসা করলেন, “সাব্বিহিস্মা রাব্বিকাল আলা” কে তিলাওয়াত করেছিল? এক ব্যক্তি বলল, আমি। তিনি বললেন, আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে, তোমাদের কেউ সালাতে আমাকে বিরক্ত করেছিলে।
1745। কুতায়বা (রহঃ) ... আবূল জাউযা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাসান (রাঃ) বলেছেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে কিছু বাক্য শিক্ষা দিয়েছিলেন যেগুলো আমি বিতরের কুনূতে পড়ে থাকিঃ اللَّهُمَّ اهْدِنِي فِيمَنْ هَدَيْتَ وَعَافِنِي فِيمَنْ عَافَيْتَ وَتَوَلَّنِي فِيمَنْ تَوَلَّيْتَ وَبَارِكْ لِي فِيمَا أَعْطَيْتَ وَقِنِي شَرَّ مَا قَضَيْتَ إِنَّكَ تَقْضِي وَلاَ يُقْضَى عَلَيْكَ وَإِنَّهُ لاَ يَذِلُّ مَنْ وَالَيْتَ تَبَارَكْتَ رَبَّنَا وَتَعَالَيْتَ
1746। মুহাম্মাদ ইবনু সালামা (রহঃ) ... হাসান ইবনু আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এ বাক্যগুলো শিক্ষা দিয়েছেন বিতরের সালাতে (পড়বার জন্য) তিনি বলেছেন, তুমি বলঃ اللَّهُمَّ اهْدِنِي فِيمَنْ هَدَيْتَ وَبَارِكْ لِي فِيمَا أَعْطَيْتَ وَتَوَلَّنِي فِيمَنْ تَوَلَّيْتَ وَقِنِي شَرَّ مَا قَضَيْتَ فَإِنَّكَ تَقْضِي وَلاَ يُقْضَى عَلَيْكَ وَإِنَّهُ لاَ يَذِلُّ مَنْ وَالَيْتَ تَبَارَكْتَ رَبَّنَا وَتَعَالَيْتَ وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى النَّبِيِّ مُحَمَّدٍ
1747। মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বিতরের সালাতের শেষে বলতেনঃ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِرِضَاكَ مِنْ سَخَطِكَ وَبِمُعَافَاتِكَ مِنْ عُقُوبَتِكَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْكَ لاَ أُحْصِي ثَنَاءً عَلَيْكَ أَنْتَ كَمَا أَثْنَيْتَ عَلَى نَفْسِكَ
1748। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের প্রথম তাকবীরের মত ইসতিস্কা ব্যতীত অন্য কোন দোয়ায় কাঁধ বরাবর হস্তদ্বয় উঠাতেন না।
1749। ইউসুফ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইশার সালাত থেকে অবসর হওয়ার পর ফজরের সালাত পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়ে ফজরের দু’রাকআত সুন্নাত সালাত ব্যতীত রাত্রে এগার রাকআত সালাত আদায় করতেন এবং তোমাদের কারো পঞ্চাশ আয়াত পড়ার সমপরিমাণ সময় পর্যন্ত (প্রতিটি) সিজদা (দীর্ঘ) করতেন।
1750। আহমদ ইবনু হারব (রহঃ) ... আব্দুর রহমান (রহঃ) ইবনু আবযা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম “সাব্বিহিস্মা রাব্বিকাল আলা” “ইয়া আয়্যুহাল কাফিরুন” এবং “কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ” দ্বারা বিতরের সালাত আদায় করতেন এবং সালাম ফিরানোর পর তিনবার উচ্চস্বরে سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْقُدُّوسِ বলতেন।
1751। মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) ... আব্দুর রহমান ইবনু আবযা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম “সাব্বিাহিস্মা রাব্বিকাল আলা” “কুল ইয়া আয়্যুহাল কাফিরুন” এবং “কুলহুওয়াল্লাছ আহাদ” দ্বারা বিতরের সালাত আদায় করতেন। যখন (সালাম ফিরানোর পর) ফিরে যাওয়ার মনস্থ করতেন, তখন তিনবার উচ্চস্বরে سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْقُدُّوسِ বলতেন।
1753। হারামী ইবনু ইউনুস (রহঃ) ... আব্দুর রহমান ইবনু আবযা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম “সাব্বিহিস্মা রাব্বিকাল আলা” “কুল ইয়া আয়্যুহাল কাফিরুন” এবং “কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ” দ্বারা বিতরের সালাত আদায় করতেন এবং যখন সালাম ফিরাতেন তখন তিনবার উচ্চস্বরে سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْقُدُّوسِ বলতেন। তৃতীয়বার উচ্চ ও দীর্ঘায়িত করতেন।
1754। মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না (রহঃ) ... আব্দুর রহমান ইবনু আবযা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম “সাব্বিহিস্মা রাব্বিকাল আলা” “কুল ইয়া আয়্যুহাল কাফিরুন” এবং “কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ” দ্বারা বিতরের সালাত আদায় করতেন। যখন অবসর হয়ে যেতেন তখন سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْقُدُّوسِ তিনবার পড়তেন।
1755। মুহাম্মদ ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) ... সাঈদ ইবনু আব্দুর রহমান (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতরের সালাত আদায় করতেন। রাবী হাদীসটি শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন।
1756। উবায়দুল্লাহ ইবনু ফাদালা (রহঃ) ... আবূ সালামা ইবনু আব্দুর রহমান (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি আয়িশা (রাঃ) কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রাত্রের সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেনঃ তিনি তের রাকআত সালাত আদায় করতেন। নয় রাকআত দাড়ানো অবস্থায়, তাতে (তিন রাকআত) বিতরের সালাত আদায় করতেন। দু’রাকআত বসা অবস্থায় আদায় করতেন, যখন রুকু করার ইচ্ছা করতেন দাঁড়িয়ে যেতেন। তারপর রুকু এবং সিজদা করতেন। এ দু’রাকআত বিতরের সালাতের পরে আদায় করতেন। যখন ফজরের আযান শুনতে পেতেন উঠে যেতেন এবং সংক্ষিপ্তভাবে দু’রাকআত সালাত আদায় করতেন।
1757। মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যোহরের সময় চার রাকআত এবং ফজরের পূর্বের দু’রাকআত সুন্নাত কখনো ছাড়তেন না। [সহীহ। সহীহ আবু দাউদ হাঃ ১১৭৯, বুখারী]
1758। আহমদ ইবনু আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জোহরের সময় চার রাকআত এবং ফজরের পূর্বের দু’রাকআত সুন্নাত ছাড়তেন না।
1759। হারুন ইবনু ইসহাক (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) সুত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেনঃ ফজরের দু’রাকআত সুন্নাত দুনিয়া এবং তদস্থিত সমুদয় বস্তু (আল্লাহর রাস্তায় দান করা) থেকেও উত্তম।
1760। কুতায়বা (রহঃ) ... হাফসা (রাঃ) সুত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত যে, যখন ফজরের আযান দেয়া হত, তখন তিনি ফজরের ফরয সালাত আদায় করার জন্য যাওয়ার পূর্বে দু’রাকআত সংক্ষিপ্ত সুন্নাত আদায় করতেন।
1761। মুহাম্মাদ ইবনু মানসূর (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাফসা (রাঃ) আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, সূর্য যখন ফর্সা হয়ে যেত তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’রাকআত সুন্নাত আদায় করতেন।
1762। আমর ইবনু মানসূর (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন মুয়ায্যিন সালাতের আযান দিয়ে দিত তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে যেতেন এবং সুবহে সাদিক প্রকাশিত হওয়ার পর ফজরের ফরয সালাত আদায় করার পুর্বে সংক্ষিপ্তভাবে দু’রাকআত ফজরের সুন্নাত আদায় করে নিতেন। অতঃপর ডান কাতে শুয়ে পড়তেন।
1763। সুওয়ায়দ ইবনু নাসর (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেন, অমুক ব্যক্তির মত হবে না, যে রাত্রে জাগ্রত হয় অথচ তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করে না।
1764। হারিস ইবনু আসাদ (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, হে আব্দুল্লাহ, তুমি অমুক ব্যক্তির মত হবে না, যে রাত্রে জাগ্রত হয় কিন্তু তাহাজ্জ্বুদের সালাত আদায় করে না।
1765। মুহাম্মাদ ইবনু ইবনু ইবরাহীম বসরী (রহঃ) ... হাফসা (রাঃ) সুত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত যে, তিনি সংক্ষিপ্তভাবে দু’রাকাত সূন্নাত আদায় করতেন।
1766। শুআয়ব ইবনু শুআয়ব (রহঃ) ... হাফসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের ফরয সালাতের আযান এবং ইকামাতের মধ্যবর্তী সময়ে সংক্ষিপ্তভাবে দু’রাকআত সুন্নাত সালাত আদায় করতেন।
1767। ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ... হাফসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের ফরয সালাত এবং আযানের মাঝখানে সংক্ষিপ্তভাবে দু’রাকআত সুন্নাত সালাত আদায় করতেন।
1768। হিশাম ইবনু আম্মার (রহঃ) ... হাফসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের আযান এবং ইকামাতের মধ্যবর্তী সময়ে সংক্ষিপ্তভাবে দু’রাকআত ফজরের সুন্নাত সালাত আদায় করতেন।
1769। ইসহাক ইবনু মানসুর (রহঃ) ... উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, হাফসা (রাঃ) তাঁকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের আযান এবং ইকামাতের মধ্যবর্তী সময়ে সংক্ষিপ্তভাবে দু’রাকআত ফজরের সুন্নাত আদায় করতেন।
1770। ইয়াহইয়া ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাফসা (রাঃ) আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের ফরয সালাতের পুর্বে দু’রাকআত সুন্নাত আদায় করতেন।
1771। মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, হাফসা (রাঃ) তাকে অবহিত করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ফজরের সালাতের আযান দেয়া হত তখন ফরয সালাতের পূর্বে দু’রাকআত সুন্নাত আদায় করতেন।
1772। আব্দুল্লাহ ইবনু ইসহাক (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, উম্মুল মু'মিনীন হাফসা (রাঃ) তাকে সংবাদ দিয়েছেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুয়ায্যিন চুপ হয়ে গেলে সংক্ষিপ্তভাবে দু’রাকআত ফজরের সুন্নাত আদায় করতেন।
1773। মুহাম্মাদ ইবনু সালামা (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, উম্মুল মু'মিনীন হাফসা (রাঃ) তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুয়ায্যিন ফজরের সালাতের আযান থেকে অবসর হয়ে গেলে এবং সুবহে সাদিক প্রকাশিত হয়ে গেলে ফজরের ফরয সালাত শুরু হওয়ার পুর্বে সংক্ষিপ্তভাবে দু’রাকআত সুন্নাত আদায় করতেন।
1774। ইসমাঈল ইবনু মাসউদ (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে আমার বোন হাফসা (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের ফরয সালাতের পূর্বে সংক্ষিপ্তভাবে দু’রাকআত সুন্নাত আদায় করতেন।
1775। মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... হাফসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুবহে সাদিক উদয় হওয়ার পর দু’রাকআত ফজরের সুন্নাত আদায় করতেন।
1776। আহমদ ইবনু আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... হাফসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুবহে সাদিক উদয় হওয়ার পর সংক্ষিপ্তভাবে ফজরের দু’রাকআত সুন্নাত ব্যতীত (ফরয সালাতের পূর্বে) অন্য কোন সালাত আদায় করতেন না।
1777। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... হাফসা (রাঃ) সুত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত যে, তিনি ফজরের আযান দেওয়া হলে ফজরের ফরয সালাত আদায় করার জন্য মসজিদে যাওয়ার পূর্বে সংক্ষিপ্তভাবে দু’রাকআত সুন্নাত আদায় করতেন।
1778। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... সালিম (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, ইবনু উমর (রাঃ) বলেছেনঃ হাফসা (রাঃ) আমাকে খবর দিয়েছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের (ফরয সালাতের) পুর্বে দু’রাকআত সুন্নাত আদায় করতেন এবং তা সুবহে সাদিক উদয় হওয়ার পরে আদায় করতেন।
1779। হুসায়ন ইবনু ঈসা (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাফসা (রাঃ) আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুবহে সাদিক প্রকাশিত হয়ে গেলে দু’রাকআত ফজরের সুন্নাত আদায় করতেন।
1780। মাহমূদ ইবনু খালিদ (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের আযান এবং ইকামাতের মধ্যবর্তী সময়ে সংক্ষিপ্তভাবে দু’রাকআত সুন্নাত আদায় করতেন।
1781। ইসমাঈল ইবনু মাসউদ (রহঃ) ... আবূ সালমা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আয়িশা (রাঃ)-কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রাত্রের সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তের রাকআত সালাত আদায় করতেন। প্রথমে আট রাকআত আদায় করতেন। তারপরে বিতরের সালাত আদায় করতেন। অতঃপর বসা অবস্থায় দু’রাকআত সালাত আদায় করতেন। যখন রুকুতে যাওয়ার মনস্থ করতেন দাঁড়িয়ে যেতেন। অতঃপর রুকুতে যেতেন। আর ফজরের আযান এবং ইকামাতের মধ্যবর্তী সময়ে দু’রাকআত সুন্নাত আদায় করতেন।
1782। আহমদ ইবনু নাসর (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের আযান শুনতে পেলে দু’রাকআত সুন্নাত আদায় করতেন এবং তা সংক্ষিপ্তভাবে আদায় করতেন।
1783। সুওয়ায়দ ইবনু নাসর (রহঃ) ... যুহরী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সায়িব ইবনু ইয়াযীদ (রাঃ) আমাকে খবর দিয়েছেন যে, একদা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকটে শুরায়হ হাদরামী (রাঃ) এর আলোচনা হলো। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে কুরআনকে বালিকা বানায় না। (অর্থাৎ সে কুরআন না পড়ে ঘুমায় না বরং যত্নের সঙ্গে সে রাত্রে কুরআন পড়ে থাকে)।
1784। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... সাঈদ ইবনু জুবায়র (রহঃ) এর প্রিয়ভাজন জনৈক ব্যক্তি থেকে বর্ণিত যে, তিনি সাঈদ ইবনু জুবায়র (রহঃ) কে খবর দিয়েছেন, আয়িশা (রাঃ) তাকে অবহিত করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তাহাজ্জুদের সালাতে অভ্যস্থ ব্যক্তির যদি নিদ্রা প্রবল হয়ে যায় (এবং তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করতেন না পারে) তাহলে আল্লাহ তা'আলা তার জন্য সালাতের সওয়াব লিখে দেন এবং নিদ্রা তার জন্য সাদকা স্বরূপ হয়ে যায়।
1785। আবূ সাঈদ (রহঃ) ... আসওয়াদ ইবনু ইয়াযীদ (রাঃ) সূত্রে আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি রাত্রে কিছু (নফল) সালাত আদায়ে অভ্যস্থ, যদি কোন রাত্রে তার নিদ্রা প্রবল হয়ে যায় এবং সালাত আদায় না করতে পারে, তাহলে সে নিদ্রা তার জন্য আল্লাহর তরফ থেকে সাদকা স্বরূপ হবে এবং আল্লাহ তার জন্য সালাতের সওয়াব লিখে দিবেন।
1786। আহমাদ ইবনু নাসর (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তারপর রাবী পূর্বের হাদীসের ন্যায় উল্লেখ করেছেন।
1787। হারুন ইবনু আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... আবূ দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি অত্র সনদ সূত্রকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌছিয়েছেন। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি তাহাজ্জূদের সালাত আদায় করার নিয়তে বিছানায় আসে কিন্তু তার চক্ষুদ্বয় নিদ্রা প্রবল হয়ে যাওয়ায় ভোর পর্যন্ত সে ঘুমিয়ে থাকে, তার জন্য তার নিয়ত অনুসারে সওয়াব লিখা হবে, আর আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে তার নিদ্রা তার জন্য সদকা স্বরূপ হয়ে যাবে।
1788। সুয়ায়দ ইবনু নাসর (রহঃ) ... আবূ দারদা (রাঃ) থেকে মওকুফ সুত্রে বর্ণিত।
1789। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নিদ্রা, অসুখ-বিসূখ বা ব্যথা বেদনার কারণে রাত্রে তাহাজ্জ্বুদের সালাত আদায় করতে পারতেন না, তখন তিনি দিনের বেলা বারো রাকআত সালাত আদায় করে নিতেন।
1790। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আব্দুর রহমান ইবনু আব্দুল কারী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) কে বলতে শুনেছি, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি নিদ্রার কারণে পূর্ণ ওযীফা অথবা তার কিছু অংশ আদায় করতে না পারে সে যেন তা ফজর ও জোহরের সালাতের মধ্যবর্তী সময়ে আদায় করে নেয়। তার জন্য রাত্রে আদায় করার সমপরিমাণ সওয়াব লিখা হবে।
1791। মুহাম্মদ ইবনু রাফি (রহঃ) ... আব্দুর রহমান ইবনু আবদুল কারী (রহঃ) থেকে বর্ণিত, উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি নিদ্রার কারণে রাত্রের ওযীফা আদায় করতে পারল না এবং তা ফজর ও জোহরের সালাতের মধ্যবর্তী সময়ে আদায় করে নিল, সে যেন তা রাত্রেই আদায় করল।
1792। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... ইবনু উমর খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, যে ব্যক্তি রাত্রের ওযীফা আদায় করতে পারল না এবং তা সূর্য উদয় হওয়ার সময় থেকে জোহরের সালাতের আগে আগেই কাযা করে নিল, তার সে ওযীফা যেন কাযাই হলো না অথবা সে যেন তা (রাত্রেই) আদায় করল।
1793। সুওয়াইদ ইবনু নাসর (রহঃ) ... হুমায়দ ইবনু আব্দুর রহমান থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যাক্তি রাত্রে ওয়ীফা আদায় করতে পারল না। সে যেন তা যোহরের পূর্বে আদায় করে নেয়। কেননা তা রাত্রের সালাতের সমপর্যায়ে গণ্য করা হবে।
1794। হাসান ইবনু মানসূর (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি দিবা রাত্রে বার রাকআত (সুন্নাতে মুওয়াক্কাদা) আদায়ে অভ্যস্থ হয়ে যায় সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। জোহরের ফরয সালাতের পূর্বে চার রাকআত এবং পরে দু’রাকআত, দু’রাকআত মাগরিব সালাতের পরে, দু’রাকআত ইশার ফরয সালাতের পরে এবং দু’রাকআত ফজরের ফরয সালাতের পূর্বে।
1795। আহমদ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) সুত্রে থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি দিবা রাত্রে বার রাকআত (সুন্নাতে মুওয়াক্কাদা) আদায়ে অভ্যস্থ হয়ে যায় আল্লাহ তা'আলা তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর বানিয়ে রাখেন। চার রাকআত জোহরের ফরয সালাতের পূর্বে এবং দু’রাকআত জোহরের ফরয সালাতের পরে, দু’রাকআত মাগরিবের ফরয সালাতের পরে, দু’রাকআত ইশার ফরয সালাতের পরে এবং দু’রাকআত ফজরের ফরয সালাতের পূর্বে।
1796। মুহাম্মাদ ইবনু মা’দান (রহঃ) ... উম্মে হাবীবা বিনত আবূ সূফিয়ান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি দিবা রাত্রি ফরয সালাত ব্যতীত বার রাকআত (সুন্নাতে মুওয়াক্কাকাদার) সালাত আদায় করবে আল্লাহ তা'আলা তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর বানাবেন।
1797। ইবরাহীম ইবনু হাসান (রহঃ) ... উম্মে হাবীবা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি আম্বাসা ইবনু আবূ সুফয়ান (রাঃ) এর কাছে বর্ণনা করেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি দিবা রাত্রি ফরয সালাত ব্যতীত বারো রাকআত (সুন্নাতে মুওয়াক্কাদার) সালাত আদায় করবে আল্লাহ তা'আলা তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর বানাবেন।
1798। আয়্যুব ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) ... উম্মে হাবীবা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি দিনে বার রাকআত (সুন্নাতে মুওয়াক্কাদার) সালাত আদায় করবে, আল্লাহ তাআলা তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর বানাবেন।
1799। মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ... ইয়া-লা ইবনু উমায়্যা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি তায়েফ গিয়ে আম্বাসা ইবনু আবূ সুফিয়ান (রাঃ)-এর কাছে গেলাম। তিনি তখন মৃত্যু শয্যায় ছিলেন। আমি তার মধ্যে (মৃত্যুর) ভীতি লক্ষ্য করে বললাম, ভাল অবস্থাতেই তো আপনার মৃত্যূ হচ্ছে। তিনি বললেন, আমাকে আমার বোন উম্মে হাবীবা (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি দিবা রাত্রে বার রাকআত (সুন্নাতে মুওয়াক্কাদার) সালাত আদায় করবে, আল্লাহ তা'আলা তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর বানাবেন।
1800। মুহাম্মদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ... উম্মে হাবীবা বিনতে আবূ সুফিয়ান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি দিনে রাত্রে বার রাকআত (সুন্নাতে মুওয়াক্কাদার) সালাত আদায় করবে জোহরের ফরয সালাতের আল্লাহ তা'আলা তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর বানাবেন।
1801। রবীআ ইবনু সুলায়মান (রহঃ) ... উম্মে হাবীবা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বার রাকআত সুন্নাতে (মুওয়াক্কাদার) সালাত যে ব্যক্তি আদায় করবে, আল্লাহ তা’আলা তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর বানাবেন, চার রাকআত জোহরের ফরয সালাতের পুর্বে, দু'রাকআত ফরযের পরে, দু'রাকআত আসরের ফরয সালাতের পূর্বে, দু'রাকআত মাগরিবের ফরয সালাতের পরে, দু'রাকআত ফজরের ফরয সালাতের পূর্বে।
1802। আবূল আযহার আহমদ ইবনু আযহার নিশাপুরী (রহঃ) ... উম্মে হাবীবা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি বার রাকআত (সুন্নাত মুওয়াক্কাদা) সালাত আদায় করবে আল্লাহ তা'আলা তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর বানাবেন। চার রাকআত জোহরের ফরয সালাতের পূর্বে, দু'রাকআত পরে, দু'রাকআত আসরের ফরয সালাতের পূর্বে, দু’রাকআত মাগরিবের ফরয সালাতের পরে এবং দু'রাকআত ফজরের ফরয সালাতের পূর্বে।
1803। আহমদ ইবনু সুলায়মান (রহঃ) ... উম্মে হাবীবা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি দিবা-রাত্রে বার রাকআত (সূন্নাতে মুওয়াক্কাদার) সালাত আদায় করবে ফরয সালাত ব্যতীত, তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর বানানো হবে। চার রাকআত জোহরের ফরয সালাতের পূর্বে, দু'রাকআত ফরযের পরে, দু'রাকআত আসরের ফরয সালাতের পুর্বে, দু'রাকআত মাগরিবের ফরয সালাতের পরে এবং দু'রাকআত ফজরের ফরয সালাতের পুর্বে।
1804। মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) ... উম্মে হাবীবা (রাঃ) সুত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি দিবা-রাত্রে বার রাকআত (সুন্নাত মুওয়াক্কাদার) সালাত আদায় করবে, তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর বানানো হবে।
1805। আহমদ ইবনু সুলায়মান (রহঃ) ... উম্মে হাবীবা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি দিবা রাত্রে বার রাকআত (সুন্নাত মুওয়াক্কাদার) সালাত আদায় করবে ফরয সালাত ব্যতীত, তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর বানানো হবে।
1806। মুহাম্মদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ... উম্মে হাবীবা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি দিবা রাত্রে ফরয সালাত ব্যতীত বার রাকআত (সূন্নাতে মুওয়াক্কাদার) সালাত আদায় করবে, আল্লাহ তা'আলা তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর বানাবেন।
1807। যাকারিয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ... আবূ সালিহ যাকওয়ান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আম্বাসা ইবনু আবূ সূফয়ান (রাঃ) তার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, উম্মে হাবীবা (রাঃ) তাকে বলেছেন, যে ব্যক্তি বার রাকআত (সুন্নাতে মুওয়াক্কাদার) সালাত আদায় করবে, তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর বানানো হবে।
1808। ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব (রহঃ) ... উম্মে হাবীবা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যাক্তি দৈনিক ফরয ব্যতীত বার রাকআত (সুন্নাতে মুওয়াক্কাদার) সালাত আদায় করবে, আল্লাহ তা'আলা তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর বানাবেন। (রাবী বলেন) অথবা (তিনি বলেন) তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর বানানো হবে।
1809। আলী ইবনু মুসান্না (রহঃ) ... উম্মে হাবীবা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যাক্তি দিবা রাত্রে বার রাকআত (সুন্নাতে মুওযাক্কাদার) সালাত আদায় করবে আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একাটি ঘর বানাবেন।
1810। যাকারিয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ... উম্মে হাবীবা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি দৈনিক বারো রাকাত (সুন্নাতে মুওয়াক্কাদার) সালাত আদায় করবে, তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মান করা হবে।
1811। মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) সুত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি দৈনিক বার রাকআত (সুন্নাতে মুওয়াক্কাদার) সালাত আদায় করবে, ফরয সালাত ব্যতীত, আল্লাহ তা'আলা তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর বানাবেন।
1812। ইয়াযীদ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) ... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী উম্মে হাবীবা (রাঃ) সুত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে জোহরের ফরয সালাতের পুর্বে চার রাকআত এবং ফরযের পর চার রাকআত সালাত আদায় করবে, আল্লাহ তা'আলা তার গোশত (শরীর) জাহান্নামের আগুনের জন্য হারাম করে দিবেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী উম্মে হাবীবা (রাঃ) বলেন, এ সমন্ধে শুনার পর থেকে আমি সে চার রাকআত সালাত ছাড়িনি।
1813। হিলাল ইবনু ই'আলা (রহঃ) ... আম্বাসা ইবনু আবূ সুফিয়ান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার কাছে আমার বোন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী উম্মে হাবীবা (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর প্রিয়তম আবূল কাসেম [নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] তাঁর কাছে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, যে মু'মিন ব্যক্তি জোহরের ফরয সালাতের পর চার রাকআত সালাত আদায় করবে তার চেহারা কস্মিনকালেও জাহান্নামের অগ্নি স্পর্শ করতে পারবে না, ইনশা আল্লাহ।
1814। আহমদ ইবনু নাসিহ (রহঃ) ... উম্মে হাবীবা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন, যে ব্যক্তি জোহরের ফরয সালাতের পুর্বে চার রাকআত (সুন্নাতে মুওয়াক্কাদা) এবং ফরযের পরে চার রাকআত (দু'রাকআত সুন্নাতে মুওয়াক্কাদা এবং দু'রাকআত মুস্তাহাব) সালাত আদায় করবে, আল্লাহ তা'আলা তাকে জাহান্নামের আগুনের জন্য হারাম করে দিবেন। [সহীহ]
1815। মাহমূদ ইবনু খালিদ (রহঃ) ... উম্মে হাবীবা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি জোহরের ফরয সালাতের পূর্বে চার রাকআত (সূন্নাতে মুওয়াক্কাদা) এবং ফরযের পরে চার রাকআত (দু'রাকআত সূন্নাত মুওয়াক্কাদা এবং দু'রাকআত মুস্তাহাব) সালাত আদায় করবে, আল্লাহ তায়ালা তাকে জাহান্নামের আগুনের জন্য হারাম করে দিবেন।
1816। আব্দুল্লাহ ইবনু ইসহাক (রহঃ) ... মুহাম্মাদ ইবনু আবূ সুফিয়ান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন তার মূত্যুর সময় নিকটবর্তী হয়ে গেল এবং অসুস্থতা বেড়ে গেল তখন তিনি বললেন, আমার কাছে আমার বোন উম্মে হাবীবা বিনত আবূ সুফিয়ান (রাঃ) বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি জোহরের ফরয সালাতের পূর্বে চরে রাকআত (সুন্নাত মুওয়াক্কাদা) এবং ফরযের পরে চার রাকআত (দু'রাকআত সুন্নাতে মুওয়াক্কাদা এবং দু'রাকআত মুস্তাহাব) সালাত আদায়ে অভ্যস্থ হবে, আল্লাহ তা'আলা তাকে জাহান্নামের আগুনের জন্য হারাম করে দিবেন।
1817। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... উম্মে হাবীবা (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি জোহরের ফরয সালাতের পূর্বে চার রাকআত এবং ফরযের পরে চার রাকআত সালাত আদায় করবে, তাকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করতে পারবে না।
উৎস: Sunan an Nasai
WEBREATH · 11:11
«Should I not be a thankful servant?» — Sahih al-Bukhari
Breath is one for all: everyone lives by it, whoever they are and whatever they believe. Every day at 11:11 local time people stop for sixty seconds, breathe, and thank GOD for the breath — each in their own words, each within themselves. In that minute we are One Breath.
WEBREATH — the Minute at 11:11, your own local time — we are One Breath