হাদিস
ফিরে যান

সুনানে নাসায়ী 1 · The Book of Purification

আপনার ভাষায় এখনো কোনো অনুবাদ নেই — ইংরেজি দেখাচ্ছে

1। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ নিদ্রা থেকে জাগ্রত হলে সে যেন তার হাত তিনবার না ধোয়া পর্যন্ত পানিতে না ঢোকায়। কেননা তোমাদের কারো জানা নেই যে, তার হাত রাতে কোথায় পৌঁছেছিল।

2। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... হুযায়ফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাত্রিবেলা সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে উঠলে মিসওয়াক দ্বারা আপন দাঁত মাজতেন।

3। আহমদ ইবনু আবদাহ (রহঃ) ... আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গেলাম তখন তিনি মিসওয়াক করছিলেন এবং মিসওয়াকের একপার্শ্ব তাঁর জিহবার উপর ছিল এবং ‘আ’ ‘আ’ করছিলেন।

4। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... আবূ বুরদা (রহঃ) [তাঁর পিতা] আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এলাম, আমার সঙ্গে ছিল আশ’আরী গোত্রের দু’জন লোক। তাদের একজন ছিল আমার ডানদিকে আর অন্যজন ছিল আমার বামদিকে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন মিসওয়াক করছিলেন। তারা উভয়ে তাঁর কাছে কাজ চাইল। আমি বললামঃ যিনি আপনাকে সত্য নবীরূপে পাঠিয়েছেন তাঁর শপথ! তাদের অন্তরে কি ছিল তা আমাকে অবগত করেনি আর আমিও বুঝতে পারিনি যে, তারা কাজ চাইবে। আমি তখন তাঁর ঠোঁটের নিচে রাখা মিসওয়াকের দিকে লক্ষ্য করছিলাম। তার ঠোঁট তখন উঁচু ছিল। তিনি বললেনঃ যে ব্যাক্তি কাজ চায় আমরা তাকে কাজ দেই না। তবে তুমি যাও, পরে আবূ মূসাকে ইয়ামানে পাঠান আর মুয়াজ ইবনু জাবালকে তাঁর অনুগামী করলেন।

5। হুমায়দ ইবনু মাসআদাহ ও মুহাম্মদ ইবনু আবদুল আ’লা (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেনঃ তিনি বলেছেন যে, মিসওয়াক মুখের পবিত্রতা অর্জনের উপকরণ ও আল্লাহর সন্তোষ লাভের উপায়।

6। হুমায়দ ইবনু মাসআদাহ ও ইমরান ইবনু মূসা (রহঃ) ... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি মিসওয়াক করার ব্যাপারে তোমাদের অত্যধিক উৎসাহিত করছি।

7। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উম্মতের জন্য যদি কষ্টকর মনে না করতাম তবে তাদেরকে প্রত্যেক সালাত (নামায/নামাজ) এর সময় মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।

8। আলী ইবনু খাশরাম (রহঃ) ... সুরাইয়া (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আয়িশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে প্রবেশ করার পর প্রথমে কি করতেন? তিনি বলেনঃ মিসওয়াক করতেন।

9। হারিস ইবনু মিসকীন (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ পাঁচটি বিষয় মানুষের ফিতরাতের অন্তর্গত। খাতনা করা, নাভির নিম্নভাগের লোম চেঁছে ফেলা, গোঁফ ছাঁটা, নখ কাটা, বগলের পশম উপরে ফেলা।

10। মুহাম্মদ ইবনু আবদুল আ’লা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পাঁচটি বিষয় মানুষের ফিতরাতের অন্তর্ভূক্ত। গোঁফ ছাঁটা, বগলের পশম উপড়ে ফেলা, নখ কাটা, নাভির নিম্নাংশের লোম চেছে ফেলা এবং খাতনা করা।

11। মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, পাঁচটি বিষয় মানুষের ফিতরাতের অন্তর্ভূক্ত। খাতনা করা, নাভীর নিম্নাংশের লোম চেঁছে ফেলা, বগলের পশম উপড়ে ফেলা, নখ কাটা এবং গোঁফ ছাঁটা।

12। হারিস ইবনু মিসকীন (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মানুষের ফিতরাত হল নখ কাটা, গোঁফ ছাঁটা এবং নাভীর নিম্নভাগের লোম চেঁছে ফেলা।

13। আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ... যায়দ ইবনু আরকাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি গোঁফ না ছাঁটে সে আমাদের অন্তর্ভূক্ত নয়।

14। কুতায়বা (রহঃ) ... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন আমাদের জন্য গোঁফ ছাঁটা, নখ কাটা, নাভীর নিম্নভাগের লোম চেঁছে ফেলার ও বগলের পশম উপড়ে ফেলার মেয়াদ নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন যে, আমরা যেন এ কাজগুলো চল্লিশ দিনের বেশী সময় পর্যন্ত ফেলে না রাখি। রাবী বলেন, আরেকবার চল্লিশ রাতের কথাও বলেছেন।

15। উবায়দুল্লাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ তোমরা গোঁফ খাট কর এবং দাড়ি বর্ধিত কর।

16। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... আবদুর রহমান ইবনু আবূ কুরাদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ময়দানের দিকে বের হলাম। যখন তিনি পায়খানা-পেশাব করার ইচ্ছা করতেন তখন (লোকালয় হতে) দূরে গমন করতেন।

17। আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ... মুগীরা ইবনু শু’বা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন পায়খানা-পেশাবের স্থানের দিকে যাওয়ার ইচ্ছা করতেন, তখন (লোকালয় হতে) দূরে চলে যেতেন। বর্ণনাকারী বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কোন এক সফরে পায়খানা-পেশাবের প্রয়োজনে (লোকালয় হতে) দূরে গিয়েছিলেন। তারপর বললেন, আমার জন্য উযূর পানি আন। আমি তাঁর জন্য উযূর পানি আনলাম। তিনি উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলেন এবং মোজার উপর মাসেহ করলেন।

18। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... হুযায়ফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে হাঁটছিলাম। তিনি এক সম্প্রদায়ের আবর্জনা ফেলবার স্থান পর্যন্ত গেলেন এবং (সেখানে) দাঁড়িয়ে পেশাব করলেন। এমতাবস্থায় আমি তাঁর নিকট হতে দূরে সরে দাঁড়ালাম। কিন্তু তিনি আমাকে ডাকলেন, আমি (এসে) তাঁর গোড়ালির কাছে (অর্থাৎ নিকটেই) থাকলাম, যাবৎ না তিনি পেশাবের কাজ সমাধা করলেন। এরপর তিনি উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলেন এবং মোজার উপর মাসেহ করলেন।

19। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন পায়খানা-পেশাবের স্থানে প্রবেশের ইচ্ছা করতেন তখন পড়তেন, اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ “হে আল্লাহ! আমি আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি- পুরুষ শয়তান ও নারী শয়তান থেকে”।

20। মুহাম্মদ ইবনু সালামা ও হারিস ইবনু মিসকীন (রহঃ) ... রাফি ইবনু ইসহাক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আবূ আইয়্যূব আনসারী (রাঃ) এর মিসর অবস্থানকালে তাঁকে বলতে শুনেছেন- আল্লাহর শপথ! আমি জানি না কিভাবে (মিসরের) এই পায়খানা ব্যবহার করবো। অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে কেউ যখন মল-মূত্র ত্যাগের উদ্দেশ্যে গমন করবে, তখন সে যেন কিবলামুখী হয়ে ও কিবলাকে পেছনে রেখে না বসে।

21। মুহাম্মদ ইবনু মানসূর (রহঃ) ... আবূ আইয়্যূব আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ পেশাব ও পায়খানার জন্য তোমরা কিবলামুখী হয়ে এবং কিবলাকে পেছনে রেখে বসবে না; বরং পূর্বদিক ও পশ্চিম দিক ফিরে বসবে।

22। ইয়াকূব ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আবূ আইয়ূব আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে কেউ যখন (পায়খানার জন্য) ঢালু জমির দিকে যাবে তখন সে যেন কিবলামুখী হয়ে না বসে এবং সে যেন পূর্ব ও পশ্চিমদিকে মুখ করে বসে।

23। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি (একদিন) আমাদের ঘরের ছাদে উঠেছিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে পায়খানা-পেশাবের প্রয়োজনে দু’টি ইটের উপর উপবিষ্ট অবস্থায় দেখেছি।

24। ইয়াহয়া ইবনু দুরুস্ত (রহঃ) ... আবূ কাতাদাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে কেউ যখন পেশাব করবে, তখন সে যেন ডান হাত দ্বারা তার লিঙ্গ স্পর্শ না করে।

25। হান্নাদ ইবনু সাররী (রহঃ) ... আবূ কাতাদাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে কেউ যখন পায়খানা বা পেশাবখানায় প্রবেশ করবে, তখন সে যেন ডান হাত দ্বারা তার লিঙ্গ স্পর্শ না করে।

26। মুআম্মাল ইবনু হিশাম (রহঃ) ... হুযায়ফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের আবর্জনা ফেলার স্থানে আসেন এবং (সেখানে) দাঁড়িয়ে পেশাব করেন।

27। মুহাম্মদ ইবনু বাশশার ... হুযায়ফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের আবর্জনা ফেলার স্থানে আসেন এবং (সেখানে) দাঁড়িয়ে পেশাব করেন।

28। সুলায়মান ইবনু উবায়দুল্লাহ (রহঃ) ... হুযায়ফা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবর্জনা ফেলবার স্থানে গমন করলেন এবং দাঁড়িয়ে পেশাব করলেন। সুলাইমান (রহঃ) তার হাদিসে বলেছেন, তিনি তার মোজার উপর মাসাহ করেছেন, কিন্তু মনসূর মাসাহ এর কথা উল্লেখ করেন নি।

29। আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যাক্তি তোমাদের বলে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে পেশাব করেছেন, তোমরা তার কথা বিশ্বাস করবে না। (কেননা) তিনি বসেই পেশাব করতেন।

30। হান্নাদ ইবনু সাররী (রহঃ) ... আবদুর রহমান ইবনু হাসানা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা আমাদের কাছে আগমন করলেন। তাঁর হাতে চামড়ার তৈরী ঢালের মত একটি বস্তু ছিল। তিনি তা স্থাপন করলেন। এরপর তার পেছনে বসলেন এবং সেদিকে ফিরে পেশাব করলেন। জনৈক ব্যাক্তি বললো, দেখ, তিনি স্ত্রীলোকের ন্যায় পেশাব করছেন। লোকটির কথা তিনি শুনে ফেললেন এবং বললেনঃ তুমি কি জান না যে, বনী ইসরাঈলের এক ব্যাক্তির কি শাস্তি হয়েছে? তাদের যদি পেশাবের কোন ফোঁটা শরীরে লাগত তাহলে কাঁচি দিয়ে সে অংশ তারা কেটে ফেলত। তাদের এক ব্যাক্তি তাদেরকে এরূপ করতে নিষেধ করে। এজন্য তাকে কবরে শাস্তি দেওয়া হয়।

31। হান্নাদ ইবনু সাররী (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’টি কবরের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। (এমনি সময়) তিনি বললেনঃ এ দু’টি কবরের লোককে আযাব দেওয়া হচ্ছে। (অবশ্য) কোন কবীরা গুনাহর কারণে আযাব দেওয়া হচ্ছে না। (এরপর তিনি কবর দু’টির দিকে ইংগিত করে বললেন) এই যে, কবরের অধিবাসী, সে তার পেশাবের (ফোঁটা) হতে বেঁচে থাকত না। আর এই যে কবরের অধিবাসী, সে চুগলি করে বেড়াত। তারপর তিনি একটি খেজুরের তাজা শাখা আনতে বললেন। (শাখা আনা হলে) তিনি তা দু’ভাগে বিভক্ত করলেন এবং উভয় কবরের উপর একটি করে শাখা পুঁতে দিলেন। তারপর বললেনঃ আল্লাহ তা’আলা হয়ত শাখাগুলো না শুকানো পর্যন্ত এদের আযাব হালকা করে দেবেন।

32। আইয়্যূব ইবনু মুহাম্মদ আল-ওয়াযযান (রহঃ) ... উমায়মা বিন রুকায়কা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একটি কাঠের পেয়ালা ছিল। তিনি তাতে (রাত্রে) পেশাব করতেন এবং তা খাটের নিচে রেখে দিতেন।

33। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেরা বলে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী (রাঃ)-কে ওসিয়ত করেছেন। (অথচ তিনি তাঁর অন্তিমকালে) পেশাব করবার জন্য একটি তশতরী আনতে বললেন আর অমনি তাঁর দেহ মুবারক (মৃত্যুর কারণে) ঢলে পড়ল, অথচ আমি টের পেলাম না (যে তার মৃত্যু হয়েছে)। কাজেই তিনি কাকে (কখন) ওসিয়ত করলেন? শাইখ (আমর ইবনু আলী) বলেন, রাবী আযহার হলেন সা'দ আস-সামানের পুত্র। সাহীহ, বুখারী হাঃ ৪৪৫৯।

34। উবায়দুল্লাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু সারজিস (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, তোমাদের কেউ যেন গর্তে পেশাব না করে। লোকেরা তাঁকে জিজ্ঞাসা করলোঃ গর্তে পেশব করা দূষণীয় কেন? তিনি জবাব দেন যে, বলা হয়ে থাকে, গর্ত জ্বীনের বাসস্থান।

35। কুতায়বা (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদ্ধ পানিতে পেশাব করতে নিষেধ করেছেন।

36। আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন গোসলখানায় পেশাব না করে। কেননা এর কারণেই অধিকাংশ বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়।

37। মাহমূদ ইবনু গায়লান (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পেশাব করছিলেন। এমন সময় এক ব্যাক্তি তাঁর পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। সে তাঁকে সালাম দিল। কিন্তু তিনি তার সালামের জবাব দিলেন না।

38। মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... মুহাজির ইবনু কুনফুয (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পেশাব করছিলেন, এমতাবস্থায় তিনি তাঁকে সালাম দেন। কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উযূ (ওজু/অজু/অযু) করার পূর্বে সালামের জবাব দেননি; উযূ করার পর সালামের জবাব দেন।

39। আহমদ ইবনু আমর ইবনু সারহ (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদেরকে হাড় এবং শুষ্ক গোবর দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করতে নিষেধ করেছেন।

40। ইয়াকূব ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি তো তোমাদের জন্য পিতৃতুল্য। আমি তোমাদেরকে শিক্ষা দেই। তোমাদের মধ্যে কেউ যখন পেশাব-পায়খানার স্থানে যাবে, তখন সে যেন কিবলার দিকে ফিরে অথবা কিবলাকে পেছনে রেখে না বসে। আর ডান হাতে যেন পবিত্রতা অর্জন না করে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনটি পাথর (ঢেলা) ব্যবহার করতে হুকুম করতেন এবং গোবর ও হাড়কে ঢেলা হিসেবে ব্যবহার করতে নিষেধ করতেন।

41। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... সালমান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তাঁকে এক ব্যাক্তি বলল, তোমাদের নবী তোমাদেরকে শিক্ষা দেন এমনকি পায়খানা-পেশাবে কিভাবে বসবে তাও। সালমান (রাঃ) উত্তরে বললেনঃ নিশ্চয়ই। তিনি আমাদেরকে পেশাব-পায়খানাকালে কিবলামুখী হয়ে বসতে, ডান হাতে ইস্তিঞ্জা করতে এবং তিনটি কুলুখের কমে ক্ষান্ত হতে নিষেধ করেছেন।

42। আহমদ ইবনু সুলায়মান (রহঃ) ... আসওয়াদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন (পায়খানার জন্য) ঢালু জমিতে আসেন এবং আমাকে তিনটি পাথর (ঢেলা) আনার জন্য হুকুম করেন। আমি দু’টি পাথর পেলাম। তৃতীয়টি খোঁজ করলাম। কিন্তু পেলাম না। কাজেই আমি একটি গোবরের টুকরা নিলাম এবং এগুলো নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলাম। তিনি পাথর দু’টি নিলেন ও গোবর ফেলে দিলেন এবং বললেন, ইহা ‘রিকস’। আবূ আবদুর রহমান বলেনঃ ‘রিকস’ হল জ্বীনের খাদ্য।

43। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... সালামা ইবনু কায়স (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিন বলেছেন, যখন ঢেলা ব্যবহার কর তখন বেজোড় ব্যবহার কর।

44। কুতায়বা (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন (পায়খানার জন্য) ঢালু ভূমিতে যাবে, সে যেন সাথে করে তিনটি পাথর নিয়ে যায় এবং এগুলোর দ্বারা যেন সে পবিত্রতা অর্জন করে। এটা তার (পবিত্রতা অর্জনের) জন্য যথেষ্ট হবে।

45। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আতা ইবনু আবূ মায়মূনা (রাঃ) বলেনঃ আমি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন পায়খানা-পেশাবের প্রয়োজনে উন্মুক্ত স্থানে প্রবেশ করতেন তখন আমি এবং আমার সাথে আমার মতই আর একটি ছেলে পানির পাত্র বয়ে আনতাম। তিনি পানি দ্বারা ইস্তিঞ্জা করতেন।

46। কুতায়বা (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ তোমাদের স্বামীদেরকে পানি দ্বারা শৌচকার্য করতে বল। আমি নিজে তাদেরকে বলতে লজ্জাবোধ করি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করতেন।

47। ইসমাঈল ইবনু মাসউদ (রহঃ) ... আবূ কাতাদাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন পান করে, তখন সে যেন পাত্রে নিঃশ্বাস না ফেলে এবং যখন পায়খানা-প্রশ্রাবের জন্য যায়, তখন যেন সে তার ডান হাত দ্বারা লিঙ্গ স্পর্শ না করে এবং ডান হাত দ্বারা ইস্তিঞ্জা না করে।

48। আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ ইবনু আবদুর রহমান (রহঃ) ... আবূ কাতাদাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাত্রে নিঃশ্বাস ফেলতে এবং ডান হাতে লিঙ্গ স্পর্শ করতে ও ডান হাতে শৌচকার্যে করতে নিষেধ করেছেন।

49। আমর ইবনু আলী ও শুয়ায়ব ইবনু ইউসুফ (রহঃ) ... সালমান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুশরিকরা বললোঃ তোমাদেরকে নবীকে দেখিছ যে, তোমাদেরকে পায়খানা-পেশাবের পদ্ধতি শিক্ষা দেন! সালমান (রাঃ) বললেন, নিশ্চয়ই। তিনি আমাদের নিষেধ করেছেন যে, আমাদের কেউ যেন ডান হাতে ইস্তিঞ্জা না করে এবং কিবলামুখী হয়ে (পায়খানা-পেশাবে) না বসে। তিনি আরও বলেছেন যে, তোমাদের কেউ যেন তিনটির কম কুলুখ (ঢেলা) দ্বারা ইস্তিঞ্জা না করে।

50। মুহাম্মদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু মুবারক মুখাররামী (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইস্তিঞ্জা করার পর মাটিতে হাত ঘষেন এবং উযূ (ওজু/অজু/অযু) করেন।

51। আহমদ ইবনু সাব্বাহ (রহঃ) ... জারীর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি পায়খানা-পেশাবের স্থানে গেলেন এবং প্রয়োজন সমাধা করলেন। তারপর বললেন, হে জারীর! পানি আন, আমি তাঁকে পানি এনে দিলাম। তিনি পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করেন এবং হাত মাটিতে ঘষেন। আবূ আবদুর রহমান বলেনঃ এটি শারীকের হাদীসের তুলনায় অধিক সঠিক বলে প্রতীয়মান হয়। আল্লাহ সম্যক অবগত।

52। হান্নাদ ইবনু সাররী ও হুসায়ন ইবনু হুরায়স (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে পানির (পাক-নাপাক হওয়ার) পরিমাণ এবং যে পানিতে চতুষ্পদ জন্তু ও হিংস্র জন্তু আসা-যাওয়া করে, সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়। তিনি (উত্তরে) বলেনঃ পানি যখন দুই ‘কুল্লা’ হবে তখন তা নাপাক হবে না।

53। কুতায়বা (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। জনৈক বেদুঈন মসজিদে পেশাব করে দেয়। কেউ কেউ (বাধা দিতে) উঠে দাঁড়ায়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাকে ছেড়ে দাও, তার পেশাবে বাধার সৃষ্টি করো না। সে ব্যাক্তি পেশাব শেষ করলে তিনি এক বালতি পানি আনতে বললেন। তারপর তার পেশাবের উপর তা ঢেলে দেন।

54। কুতায়বা (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ এক বেদুঈন ব্যাক্তি মসজিদে পেশাব করে দেয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক বালতি পানি আনতে আদেশ করলেন। তারপর ঐস্থানে পানি ঢেলে দেয়া হয়।

55। সুওয়াদ ইবনু নাসর (রহঃ) ... ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আনাস (রাঃ) কে বলতে শুনেছি যে, এক বেদুঈন ব্যাক্তি মসজিদে প্রবেশ করে এবং পেশাব করতে শুরু করে। এতে লোকেরা চিত্কার করে উঠল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাকে ছেড়ে দাও। তারা তাকে ছেড়ে দেয়। সে ব্যাক্তি পেশাব শেষ করে। পরে তিনি এক বালতি পানি আনতে নির্দেশ দেন এবং তা পেশাবের উপর ঢেলে দেয়া হয়।

56। আবদুর রহমান ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক বেদুঈন মসজিদে এসে পেশাব করে দেয়। লোকেরা তাকে ধমক দিতে আরম্ভ করলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বললেনঃ তোমরা তাকে ছেড়ে দাও এবং তার পেশাবের উপর এক বালতি পানি ঢেলে দাও। কেননা তোমরা নম্র ব্যবহারের জন্য প্রেরিত হয়েছ, কঠোর ও রূঢ় আচরণের জন্য নয়।

57। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তোমাদের কেউ যেন বদ্ধ পানিতে পেশাব না করে যেখানে সে পরে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করবে।

58। ইয়াকূব ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন বদ্ধ পানিতে পেশাব না করে, যাতে সে পরে গোসল করবে। ইমাম নাসাঈ (রহঃ) বলেনঃ ইয়াকূব (রহঃ) এ হাদীসখানা বর্ণনা করতেন এক দ্বীনার দিয়ে।

59। কুতায়বা (রহঃ) ... মুগীরা ইবনু আবূ বুরদাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আবূ হুরায়রা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, জনৈক ব্যাক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করল। সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা সমুদ্রে ভ্রমণ করি। আমাদের সঙ্গে অল্প পরিমাণ পানি নিয়ে থাকি। এ পানি দ্বারা যদি আমরা উযূ (ওজু/অজু/অযু) করি তবে (পানি নিঃশেষ হয়ে যাবে) আমরা পিপাসায় কষ্ট পাবো। (এমতাবস্থায়) আমরা কি সমুদ্রের পানি দ্বারা উযূ করব? জবাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সমুদ্রের পানি পবিত্র এবং সমুদ্রের মৃত প্রাণীও হালাল।

60। আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত (নামায/নামাজ) আরম্ভ করার পর অল্পক্ষণ নীরব থাকতেন। আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমার পিতামাতা আপনার জন্য কুরবান হোক; তাকবীর ও কিরাআতের মধ্যবর্তী নীরবতার সময় আপনি কি পড়েন? তিনি বলেন, আমি তখন পড়িঃ اللَّهُمَّ بَاعِدْ بَيْنِي وَبَيْنَ خَطَايَاىَ كَمَا بَاعَدْتَ بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ اللَّهُمَّ نَقِّنِي مِنْ خَطَايَاىَ كَمَا يُنَقَّى الثَّوْبُ الأَبْيَضُ مِنَ الدَّنَسِ اللَّهُمَّ اغْسِلْنِي مِنْ خَطَايَاىَ بِالثَّلْجِ وَالْمَاءِ وَالْبَرَدِ “হে আল্লাহ! পূর্ব পশ্চিমের মধ্যে আপনি যেমন দুরত্ব সৃষ্টি করেছেন তেমনিও আমার অপরাধসমূহের মধ্যে দুরত্ব করে দিন। হে আল্লাহ! আমার গুনাহসমূহ থেকে আমাকে পবিত্র করুন যেমন সাদা কাপড় ময়লা থেকে পবিত্র করা হয়। হে আল্লাহ! আমার গুনাহসমূহ থেকে আমাকে ধৌত করে দিন বরফ, পানি এবং শিলাবৃষ্টির পানি দ্বারা”।

61। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পড়তেনঃ اللَّهُمَّ اغْسِلْ خَطَايَاىَ بِمَاءِ الثَّلْجِ وَالْبَرَدِ وَنَقِّ قَلْبِي مِنَ الْخَطَايَا كَمَا نَقَّيْتَ الثَّوْبَ الأَبْيَضَ مِنَ الدَّنَسِ "হে আল্লাহ! আপনি আমার গুনাহসমূহ বরফের পানি এবং বৃষ্টির ঠান্ডা পানি দ্বারা ধৌত করে দিন এবং আমার অন্তরকে গুনাহসমূহ থেকে পবিত্র করে দিন যেমন আপনি সাদা কাপড় পবিত্র করেছেন ময়লা থেকে।

62। হারুন ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ... যুবায়র ইবনু নুফায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আউফ ইবনু মালিক (রাঃ) এর নিকট গমন করি। তখন তিনি বলেছিলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মৃত ব্যাক্তির জানাযার সালাত (নামায/নামাজ)-এর সময় যে দোয়া পড়েছিলেন আমি তা শুনেছি। তিনি পড়ছিলেনঃ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ وَارْحَمْهُ وَعَافِهِ وَاعْفُ عَنْهُ وَأَكْرِمْ نُزُلَهُ وَأَوْسِعْ مُدْخَلَهُ وَاغْسِلْهُ بِالْمَاءِ وَالثَّلْجِ وَالْبَرَدِ وَنَقِّهِ مِنَ الْخَطَايَا كَمَا يُنَقَّى الثَّوْبُ الأَبْيَضُ مِنَ الدَّنَسِ “হে আল্লাহ! আপনি তাকে মাফ করে দিন এবং তার উপর রহম করুন। তাকে আরাম দিন এবং ক্ষমা করুন। তার আতিথিয়তাকে সম্মানজনক করুন। তার কবর প্রশস্ত করুন এবং তাকে পানি, বরফ ও শিলাবৃষ্টির পানি দ্বারা ধৌত করুন। তাকে গুনাহ থেকে পবিত্র করুন যেমন সা’দা কাপড় ময়লা থেকে পবিত্র করা হয়।

63। কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যদি তোমাদের কারও পাত্র থেকে কুকুর পান করে তবে সে যেন তার পাত্রটি সাতবার ধৌত করে।

64। ইবরাহীম ইবনু হাসান (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কারও পাত্র থেকে কুকুর মুখ দেবে, তখন সে যেন তার পাত্রটি সাতবার ধৌত করে।

65। ইবরাহীম ইবনু হাসান (রহঃ) ... অপর এক সূত্র হতে আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

66। আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কারো পাত্রে কুকুর মুখ দিলে সে যেন পাত্রের জিনিস ঢেলে ফেলে দেয়। তারপর যেন তা সাতবার ধুয়ে ফেলে। আবূ আবদুর রহমান বলেনঃ (পাত্রের জিনিস ঢেলে ফেলে দেয়) এই কথায় (সনদের উর্দ্ধতন রাবী) আলী ইবনু মুসহিরকে কেউ অনুসরণ করেছে বলে আমি জানি না।

67। মুহাম্মদ ইবনু আবদুল আ’লা সান’আনী (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুর মেরে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। অবশ্য শিকার ও ছাগপালের পাহারাদারীর জন্য কুকুর রাখার অনুমতি দিয়েছিলেন এবং তিনি বলেছেন যে, কোন পাত্রে যখন কুকুর মুখ দেয় তখন তা সাতবার ধৌত করবে এবং অষ্টমবারে মাটি দ্বারা মেজে নেবে।

68। কুতায়বা (রহঃ) ... কাবশা বিনত কা’ব ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আবূ কাতাদা (রাঃ) একদিন তাঁর নিকট আগমন করেন। তারপর কাবশা কিছু কথা বলেনঃ যার অর্থ হচ্ছে, আমি আবূ কাতাদা (রাঃ) এর জন্য উযূর পানি রাখি। ইত্যবসরে একটি বিড়াল এসে পাত্র থেকে পানি পান করে। আবূ কাতাদা (রাঃ) পাত্রটি কাত করে দিলে বিড়ালটি পানি পান করে। কাবশা বলেনঃ আবূ কাতাদা (রাঃ) আমাকে তার দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে জিজ্ঞাসা করলেন, হে ভাতিজী! (আমি বিড়ালকে পাত্র থেকে পানি পান করিয়েছে দেখে) তুমি আশ্চর্যান্বিত হয়েছ কি? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, বিড়াল অপবিত্র নয়। কারণ যে সব প্রাণী প্রতিনিয়ত তোমাদের আশে পাশে থাকে, তাদের মধ্যে বিড়ালও একটি।

69। মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমাদের নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘোষণাকারী এসে বললোঃ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদেরকে গাধার গোশত (খেতে) নিষেধ করেছেন। কেননা তা অপবিত্র।

70। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি হাড় থেকে গোশত কামড়ে নিতাম। তারপর আমি যেখানে মুখ রাখতাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও সেখানে তাঁর মুখ রাখতেন। অথচ তখন আমি ঋতুমতি ছিলাম। আমি পাত্র থেকে পানি পান করতাম। তারপর তিনিও সে স্থানে মুখ রাখতেন, যেখানে আমি মুখ রাখতাম। অথচ আমি তখন ঋতুমতি ছিলাম।

71। হারুন ইবনু আবদুল্লাহ ও হারিস ইবনু মিসকীন (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যামানায় নারী-পুরুষ একত্রে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতেন।

72। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... উরওয়াহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আয়িশা (রাঃ) তাঁর নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে একই পাত্রে গোসল করতেন।

73। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মাক্কুক* পরিণাম পানি দ্বারা উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতেন এবং পাঁচ মাক্কুক পরিমাণ পানি দ্বারা গোসল করতেন।

74। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... উম্মু আম্মারা বিনত কা’ব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উযূ (ওজু/অজু/অযু) করেন (এ উযূর জন্য) এমন একটি পাত্রে পানি আনা হয় যাতে এক মুদ-এর দু’-তৃতীয়াংশ পানি ছিল। হাবীব থেকে বর্ণনাকারী শু’বা বলেনঃ আমার এ কথাও স্মরণ আছে যে, তিনি উভয় হাত মর্দন করে ধৌত করেন এবং উভয় কানের ভেতর দিকে মাসেহ করেন। কানের উপর দিকে মাসেহ করেছেন কিনা তা আমার খেয়াল নেই।

75। ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব ইবনু আরাবী (রহঃ), সুলায়মান ইবনু মানসূর (রহঃ) ও হারিস ইবনু মিসকীন (রহঃ) ... উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সব কাজই নিয়্যত অনুযায়ী হয়। মানুষ যা নিয়্যত করে, তাই লাভ করে। যে ব্যাক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য হিজরত করবে, তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্যই হবে। আর যে ব্যাক্তির হিজরত হবে দুনিয়া লাভের জন্য, সে তাই লাভ করবে। অথবা যার হিজরত হবে কোন মহিলাকে বিবাহ করার করার জন্য, তার হিজরত সে জন্যই হবে যার উদ্দেশ্য সে হিজরত করেছে।

76। কুতায়বা (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখলাম যে, আসরের সালাত (নামায/নামাজ) নিকটবর্তী (অথচ পানি নেই) লোকেরা পানির অনুসন্ধান করল কিন্তু পানি পেল না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট একটি পাত্র আনা হয়। তিনি পাত্রটির ভেতরে হাত রাখেন এবং লোকদের উযূ (ওজু/অজু/অযু) করার নির্দেশ দেন। আমি দেখলাম, তাঁর হাতের আঙ্গুল থেকে পানি উত্সারিত হচ্ছে। তাঁদের সর্বশেষ ব্যাক্তিসহ সকলেই (সে পানি দ্বারা) উযূ করলেন।

77। ইসহাক ইবনু ইবারাহীম (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা (এক সফরে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলাম। লোকেরা পানি পচ্ছিলেন না। তাঁর কাছে একটি (তশতরীরর ন্যায়) পাত্র নিয়ে আসা হয়। এবং তিনি তাতে হাত ঢোকান। আমি দেখলাম, তাঁর হাতের আঙ্গুলের ফাঁক হতে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। তিনি বলছিলেন, তোমরা আল্লাহর তরফ হতে পানি ও বরকত নিতে এসো। আ’মাশ (রাঃ) বলেনঃ আমাকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন সালিম ইবনু আবূল জা’দ। তিনি বলেনঃ আমি জাবির (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেছিলাম, আপনারা তখন কতজন লোক ছিলেন? তিনি বলেনঃ আমরা তখন দেড় হাজার লোক ছিলাম।

78। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ (কোন এক সফরে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কয়েকজন সাহাবী পানি তালাশ করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমাদের কারো নিকট পানি আছে কি? (একজন পানি এনে দিলে) তিনি পানিতে হাত রাখলেন এবং বললেনঃ বিসমিল্লাহ বলে উযূ (ওজু/অজু/অযু) কর। আমি তাঁর আঙ্গুলের ফাঁক থেকে পানি বের হতে দেখলাম। তাঁদের সর্বশেষ ব্যাক্তিসহ সকলেই এই পানিতে উযূ করেন। সাবিত (রহঃ) বলেনঃ আমি আনাস (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি উপস্থিত লোকের সংখ্যা কত মনে করেন? তিনি বললেন, সত্তরজনের মত।

79। সুলায়মান ইবনু দাউদ ও হারিস ইবনু মিসকীন (রহঃ) ... উরওয়া ইবনু মুগীরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি তাঁর পিতা [মুগীরা (রাঃ)]-কে বলতে শুনেছেনঃ তাবূকের যুদ্ধে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উযূ (ওজু/অজু/অযু) করার সময় পানি ঢেলে দিয়েছি। তিনি মোজার উপর মাসেহ করেছিলেন।

80। মুহাম্মাদ ইবনু মূসান্না (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি তোমাদেরকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উযূর সংবাদ দেব কি? পরে তিনি (প্রত্যেক অঙ্গ) এক-একবার (ধৌত) করে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলেন।

81। সুয়ায়দ ইবনু নাসর (রহঃ) ... মুত্তালিব আবদুল্লাহ ইবনু হানতাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) তিন-তিনবার ধৌত করে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করেছেন এবং বলেছেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ উযূ (ওজু/অজু/অযু) করেছেন।

82। মুহাম্মদ ইবনু ইবরাহীম বসরী (রহঃ) ... মুগীরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে এক সফরে ছিলাম। তাঁর কাছে একটি লাঠি ছিল। (পথের এক স্থানে) তিনি লাঠিটি দিয়ে আমার পিঠে ঠোকা দিলেন। পরে তিনি রাস্তা থেকে সরে গেলেন। আমিও তাঁর সঙ্গে সরে গেলাম। (কিছুক্ষণ চলার পর) এক স্থানে এসে উট থামালেন। তারপর তিনি আবার চলতে লাগলেন। রাবী বলেনঃ তিনি এতদুর গেলেন যে, আমার থেকে অদৃশ্য হয়ে গেলেন। (ক্ষণিক পর) ফিরে এসে বললেন, তোমার নিকট পানি আছে? আমার সাথে একটি পানির পাত্র ছিল। আমি তা নিয়ে তাঁর নিকট আসলাম এবং পানি ঢেলে দিতে লাগলাম। তিনি তাঁর হাত মুখ ধুলেন এবং কব্জির উপরিভাগ ধৌত করতে চাইলেন। তখন তাঁর পরিধানে ছিল চিকন হাতার একটি শামী (সিরীয়) জুব্বা। তিনি জুব্বার ভেতর থেকে হাত বের করে আনলেন এবং মুখমন্ডল ও হাত ধৌত করলেন। তিনি কপাল ও পাগড়ির কিছু অংশ মাসেহ করেছিলেন বলে রাবী উল্লেখ করেছেন। (হাদীসের একজন রাবী) ইবনু আওন (রহঃ) বলেনঃ আমার যেমন ইচ্ছা ছিল হাদীসটি তেমন স্মরণ রাখতে পারিনি। (অতঃপর রাবী বলেন) এরপর তিনি তাঁর মোজার উপর মাসেহ করেন এবং বললেনঃ তোমার প্রয়োজন সমাধা করো। আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমার প্রয়োজন নেই। তারপর আমরা চলে আসলাম। আবদুর রহমান ইবনু আউফ (রাঃ) অগ্রগামী দলে ছিলেন। (এদিকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিলম্বের কারণে) আবদুর রহমান ইবনু আউফ (রাঃ) লোকদেরকে নিয়ে ফজরের সালাত (নামায/নামাজ) এক রাকআত আদায় করলেন। আমি আবদুর রহমান ইবনু আউফ (রাঃ) কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আগমন সংবাদ দেয়ার ইচ্ছা করি কিন্তু তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে নিষেধ করেন। অতএব আমরা যতটুকু পেলাম তা (জামাআতে) আদায় করলাম এবং যা আমরা পাইনি তা নিজেরা আদায় করে নিলাম।

83। হুমায়দ ইবনু মাসআদাহ (রহঃ) ... ইবনু আওস (রহঃ) তাঁর দাদার নিকট থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে (উযূর সময়) তিনবার করে পানি ঢালতে দেখেছি।

84। সুওয়ায়দ ইবনু নাসর (রহঃ) ... হুমরান ইবনু আবান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি উসমান ইবনু আফফান (রাঃ) কে উযূ করতে দেখেছি। তিনি তিনবার হাতে পানি ঢেলে হাত ধৌত করেন। এরপর গড়গড়া করে কুলি করেন এবং নাকে পানি দিয়ে পরিষ্কার করেন, তিনবার মুখমন্ডল ধৌত করেন এবং কনুই পর্যন্ত তিনবার ডান হাত ধৌত করেন। অনুরূপভাবে বাম হাতেও। এরপরে মাথা মাসেহ করেন এবং ডান পা তিনবার ধৌত করেন। অনুরূপভাবে বাম পাও। এভাবে উযূ শেষ করে তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এরূপ উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে দেখেছি এবং বলতে শুনেছি, যে ব্যাক্তি আমার এ উযূর ন্যায় উযূ (ওজু/অজু/অযু) করবে এবং তারপরে একাগ্রতার সাথে দু’রাকআত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবে তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।

85। আহমদ ইবনু মুহাম্মদ ইবনু মুগীরা (রহঃ) ... হুমরান (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি উসমান (রাঃ) কে উযূর পানি চাইতে দেখলেন। (পানি আনা হলে) তিনি পাত্র হতে হাতে পানি ঢালেন এবং হস্তদ্বয় তিনবার ধৌত করেন। পরে ডান হত পাত্রে ঢুকান এবং কুলি করেন ও পানি দিয়ে নাক পরিষ্কার করেন। এরপর মুখমণ্ডল ধৌত করেন তিনবার এবং কনুই পর্যন্ত দুই হাত ধৌত করেন তিনবার। এরপরে মাসেহ করেন ও প্রত্যেক পা তিনবার করে ধৌত করেন ও বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখেছি যে, তিনি আমার উযূর ন্যায় উযূ (ওজু/অজু/অযু) করেছেন এবং বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি আমার এ উযূর ন্যায় উযূ (ওজু/অজু/অযু) করবে এবং একাগ্রতা সহকারে দু’রাকআত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবে, তার পূর্ববর্তী গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে।

86। মুহাম্মদ ইবনু মানসূর ও হুসায়ন ইবনু ঈসা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে কেউ যখন উযূ (ওজু/অজু/অযু) করবে, তখন সে যেন তার নাকে পানি দেয় এবং নাক পরিষ্কার করে ফেলে।

87। কুতায়বা ইবনু সাঈদ ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... লাকীত ইবনু সাবরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে উযূ (ওজু/অজু/অযু) সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেনঃ পূর্ণরূপে উযূ করবে, আর তুমি যদি রোযাদার না হও তাহলে উত্তমরূপে নাকে পানি পৌছাবে।

88। কুতায়বা ও ইসহাক ইবনু মনসূর (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যাক্তি উযূ (ওজু/অজু/অযু) করবে সে যেন নাক ঝাড়ে এবং যে ব্যাক্তি ঢিলা ব্যবহার করবে সে যেন বেজোড় ব্যবহার করে।

89। কুতায়বা (রহঃ) ... সালামা ইবনু কায়স (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন উযূ (ওজু/অজু/অযু) কর তখন নাক ঝেড়ে নাও। যখন কুলুখ ব্যবহার কর, তখন বেজোড় ব্যবহার কর।

90। মুহাম্মদ ইবনু যুমবূর মাক্কী (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কেউ যখন ঘুম হতে জাগ্রত হয়ে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে, সে যেন তিনবার নাক ঝেড়ে নেয়। কেননা শয়তান নাকের (মস্তক সংলগ্ন) ছিদ্রের উপরিভাগে রাত্রি যাপন করে।

91। মূসা ইবনু আবদুর রহমান (রহঃ) ... আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি পানি আনতে বললেন, পরে তিনি কুলি করেন এবং নাকে পানি দেন। বামহাতে নাক ঝাড়েন। তিনবার এরূপ করেন। পরে বলেনঃ এই হল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উযূ (ওজু/অজু/অযু)।

92। কুতায়বা (রহঃ) ... আবদ খায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) এর নিকট এলাম। এমতাবস্থায় যে, তিনি সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে ফেলেছেন। (আমাদেরকে দেখে) তিনি উযূর পানি আনতে বলেন। আমরা বললাম, তিনি তো সালাত আদায় করেছেন, এখন পানি দিয়ে কি করবেন? (পরে বুঝলাম) তিনি আমাদেরকে উযূ (ওজু/অজু/অযু) শিক্ষা দেওয়ার জন্যই এরূপ করেছেন। তাঁর হুকুম অনুযায়ী পানি ভর্তি একটি পাত্র ও অন্য একটি পাত্র আনা হল। তিনি পাত্র হতে হাতে পানি ঢেলে তিনবার হাত ধৌত করলেন। এরপর ডান হাতে পানি নিয়ে তিনবার কুলি করেন এবং ঐ পানির কিছু অংশ দিয়েই নাক ঝাড়েন তিনবার করে। এর পর তিন বার মুখমণ্ডল ধৌত করলেন। তার পর ডান ও বাম হাত তিনবার করে ধৌত করেন এবং একবার মাথা মাসেহ করেন। পরে ডান পা ও বাম পা তিনবার করে ধৌত করেন এবং বলেনঃ যে ব্যাক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উযূ জানতে আগ্রহী, সে জেনে রাখুক এটাই তাঁর উযূ।

93। সুওয়ায়দ ইবনু নাসর (রহঃ) ... আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তাঁর নিকট একটি বসার চৌকি নিয়ে আসা হয় এবং তিনি তাতে বসেন। পরে পানিভর্তি একটি পাত্র আনতে বলেন। (পানি আনা হলে) তিনি উভয় হাতের উপর পাত্রটি কাত করে তিনবার করে পানি ঢালেন। পরে এক-এক অঞ্জলি পানি দ্বারা তিনবার কুলি করেন ও নাকে পানি দেন এবং তিনবার মুখমন্ডল ধৌত করেন। আর তিনবার করে কনুই পর্যন্ত উভয় হাত ধৌত করেন এবং হাতে কিছু পানি নিয়ে মাথা মাসেহ করেন। শু’বা (আলোচ্য হাদীসের রাবী) তাঁর মাথার অগ্রভাগ থেকে মাথার শেষভাগ পর্যন্ত একবার ইঙ্গিত করে দেখান এবং বলেনঃ তিনি হাত দু’টি সম্মুখের দিকে ফিরিয়ে এনেছিলেন কিনা তা আমার মনে নেই এবং তিনি [আলী (রাঃ)] তিনবার করে উভয় পা ধৌত করেন এবং তিনি বলেনঃ যে ব্যাক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উযূ (ওজু/অজু/অযু) দেখে খুশি হতে চায় (সে যেন আমার এ উযূ দেখে), এটাই তাঁর উযূ। ইমাম নাসায়ী (রহঃ) বলেন, আলী (রাঃ) হতে বর্ণনাকারী মালিক ইবনু উরফুতাহ নন, সঠিক হল খালিদ ইবনু আলকামাহ (রহঃ)।

94। আমর ইবনু আলী ও হুমায়দ ইবনু মাসআদা (রহঃ) ... আবদ খায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আলী (রাঃ) এর নিকট উপস্থিত ছিলাম, তিনি একটি চৌকি আনতে বলেন। (চৌকি আনা হলে) তিনি তাতে বসেন এবং একটি পাত্রে পানি আনতে বলেন। (পানি আনা হলে) তিনি তিনবার করে উভয় হাত ধৌত করেন। এক-এক অঞ্জলি পানি দ্বারা তিনবার কুলি করেন ও নাকে পানি দেন। পরে তিনবার মুখমন্ডল ধৌত করেন ও উভয় হাত তিনবার করে ধৌত করেন। এরপর হাত পানির পাত্রে প্রবিষ্ট করান এবং মাথা মাসেহ করেন। পরে উভয় পা তিনবার করে ধৌত করেন এবং বলেনঃ যে ব্যাক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উযূ (ওজু/অজু/অযু) দেখে খুশি হতে চায় (সে যেন আমার উযূ দেখে), এরূপই তাঁর উযূ।

95। ইবরাহীম ইবনু হাসান মিকসামী (রহঃ) ... হুসায়ন ইবনু আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমার পিতা আলী (রাঃ) আমাকে উযূর পানি আনতে বলেন। আমি তাঁর নিকট পানি এনে দিলাম। তিনি উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে আরম্ভ করলেন। (প্রথমে) উযূর পানিতে হাত ঢুকাবার পূর্বে হাতের কব্জি পর্যন্ত তিনবার ধৌত করলেন। এরপর তিন বার কুলি করেন ও তিন বার নাক ঝাড়েন। তারপর তিন বার মুখমণ্ডল ধৌত করেন এবং ডান হাত তিনবার কনুই পর্যন্ত ধৌত করলেন। অনুরূপভাবে বাম হাতে ধৌত করলেন এবং একবার মাথা মাসাহ করেন। তারপর টাখনু পর্যন্ত ডান পা তিনবার এবং অনুরূপভাবে বাম পা ধৌত করেন। পরে সোজা হয়ে দাঁড়ালেন এবং বললেন, পানির পাত্রটা (আমার হাতে) দাও। আমি (তাঁর উযূর পর যে পানিটুকু পাত্রে ছিল তা সহ) পাত্রটি তাঁকে দিলাম। তিনি উযূর অবশিষ্ট পানিটুকু দাঁড়িয়ে পানি পান করলেন। আমি তাঁকে দাঁড়িয়ে পান করতে দেখে অবাক হলাম। তিনি আমার অবস্থা দেখে বললেনঃ অবাক হয়ো না। তুমি আমাকে যেমন করতে দেখলে, আমিও তোমার নানা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এরূপ করতে দেখেছি। আলী (রাঃ) তাঁর এ উযূ (ওজু/অজু/অযু) এবং অবশিষ্ট পানি দাঁড়িয়ে পান করা সম্পর্কে বলছিলেন।

96। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আবূ হায়্যা ইবনু কায়স (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আলী (রাঃ) কে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে দেখেছি। তিনি (সর্বপ্রথম) হাতের কব্জি পর্যন্ত অত্যন্ত পরিষ্কার করে ধৌত করেন। তারপর তিনবার কুলি করেন তিনবার নাকে পানি দেন ও তিনবার মুখমন্ডল ধৌত করেন এবং উভয় হাত কনুই পর্যন্ত তিনবার করে ধৌত করেন। পরে মাথা মাসেহ করেন এবং উভয় পা গোড়ালী পর্যন্ত ধৌত করেন। তারপর দাঁড়িয়ে উযূর অবশিষ্ট পানি পান করেন এবং বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উযূ পদ্ধতি কিরূপ ছিল, আমি তা তোমাদেরকে দেখাতে চেয়েছি। (তাই আমি তোমাদের উযূ করে দেখালাম)।

97। মুহাম্মদ ইবনু সালামা ও হারিস ইবনু মিসকীন (রহঃ) ... ইয়াহইয়া মাযিনী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ ইবনু আসিম (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলামঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিভাবে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতেন, আপনি আমাকে তা দেখাতে পারবেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, দেখাতে পারি। এই বলে তিনি পানি আনতে বলেন। পানি আনা হলে তিনি হাতে পানি ঢালেন এবং উভয় হাত দু’দুবার করে ধৌত করেন। তিনবার কুলি করেন ও তিনবার নাকে পানি দেন। পরে মুখমন্ডল তিনবার ধৌত করেন এবং মাথা মাসাহ করেন। একবার দু’হাত পেছনে নেন, আর একবার মাথার সামনের দিকে আনেন। মাথার সামনের দিক হতে শুরু করে পেছনে ঘাড় পর্যন্ত নিয়ে যান। আবার হাত ফিরিয়ে আনেন, মাথার যে স্থান থেকে মাসেহ শুরু করেছিলেন সে স্থান পর্যন্ত। পরিশেষে উভয় পা ধৌত করেন।

98। উতবা ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ... ইয়াহইয়া মাযিনী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ ইবনু আসিম মাযিনী (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিভাবে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতেন তা আমাকে দেখাতে পারেন? আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেনঃ হ্যাঁ, এরপর তিনি পানি আনতে বলেন। পানি আনা হলে তিনি ডান হাতে পানি ঢালেন এবং দু’বার করে উভয় হাত ধৌত করেন। এরপর তিনবার কুলি করলেন ও নাকে পানি দিলেন। এরপর তিনবার মুখমণ্ডল ধৌত করলেন, অতপর দু’বার উভয় হাত কনুই পর্যন্ত ধৌত করেন। পরে দু’হাতে মাথা মাসেহ করেন। একবার সামনে আনেন একবার হাত পেছনে নেন, আর মাথার অগ্রভাগ হতে শুরু করেন এবং উভয় হাত পেছনে ঘাড় পর্যন্ত নেন। আবার মাসেহ যে স্থান থেকে শুরু করেন সে স্থান পর্যন্ত উভয় হাত ফিরিয়ে আনেন। তারপর উভয় পা ধৌত করেন।

99। মুহাম্মদ ইবনু মনসূর (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে দেখেছি। তিনি (হাত ধোয়া, কুলি করা ইত্যাদির পর) তিনবার মুখমন্ডল ধৌত করেন এবং দু’বার করে হাত ধৌত করেন এবং দুবার করে পা ধৌত করেন ও মাথা মাসেহ করেন দু'বার।

100। হুসায়ন ইবনু হুরায়স (রহঃ) ... আবূ আবদুল্লাহ সালিম সাবলান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আয়িশা (রাঃ) তাঁর আমানতদারীতে অত্যন্ত মুগ্ধ ছিলেন এবং তাঁকে অর্থের বিনিময়ে কাজে নিযুক্ত করতেন। (সে) সালিম বলেনঃ আয়িশা (রাঃ) আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিভাবে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতেন তা দেখান। তিনি তিনবার কুলি করেন ও নাক পরিষ্কার করেন। তিনবার মুখমন্ডল ধৌত করেন। তিনবার করে ডান ও বাম হাত ধৌত করেন এবং হাত মাথার অগ্রভাগে রাখেন ও মাথার পেছন পর্যন্ত একবার মাসেহ করেন। পরে তিনি উভয় কান মাসেহ করেন। তারপর মুখমন্ডলে হাত বুলান। সালিম বলেনঃ আমি যখন মুকাতাব* ছিলাম তখন তাঁর নিকট আসা-যাওয়া করতাম। তিনি তখন আমার থেকে পর্দা করতেন না। তিনি আমার সম্মুখে বসতেন এবং আমার সঙ্গে কথাবার্তা বলতেন। একদিন আমি তাঁর নিকট এলাম এবং বললাম, হে উম্মুল মুমিনীন! আপনি আমার জন্য বরকতের দোয়া করুন। তিনি বললেনঃ কিসের জন্য দুআ করব? বললাম, আল্লাহ আমাকে আযাদ করে দিয়েছেন। তিনি বললেন, আল্লাহ তোমাকে বরকত দিন। (এই কথা বলে) তিনি আমার সামনে পর্দা ফেলে দিলেন। এরপর আমি তাঁকে কোনদিন দেখিনি।

101। হায়সাম ইবনু আইয়্যুব তালাকানী (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে দেখেছি। তিনি (প্রথমে) হাত ধৌত করেন এবং এক অঞ্জলি পানি দ্বারা কুলি করেন ও নাকে পানি দেন। মুখমন্ডল ও উভয় হাত একবার করে ধৌত করেন। একবার একবার মাথা ও উভয় কান মাসাহ করেন। আবদুল আযীয (রহঃ) বলেনঃ ইবনু আজলান (রহঃ) হতে যিনি শুনেছেন, তিনি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, ইবনু আজলান এই হাদীসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উভয় পা ধৌত করার কথাও বলেছেন।

102। মুজাহিদ ইবনু মূসা (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উযূ (ওজু/অজু/অযু) করেন (উভয় হাত ধৌত করেন)। তিনি এক অঞ্জলি পানি দ্বারা কুলি করেন ও নাকে পানি দেন। আবার এক অঞ্জলি পানি নেন এবং মুখমন্ডল ধৌত করেন। আবার এক অঞ্জলি পানি নিয়ে ডান হাত ধৌত করেন। আবার এক অঞ্জলি পানি নিয়ে বাম হাত ধৌত করেন। তারপর মাথা ও কান মাসাহ করেন। কানের ভেতর দিক শাহাদাত অঙ্গুলী ও বাহির দিক বৃদ্ধাঙ্গুলি দ্বারা মাসহ(মাসেহ) করেন। আবার এক অঞ্জলি পানি নিয়ে ডান পা ধৌত করেন এবং এক অঞ্জলি পানি নিয়ে বাম পা ধৌত করেন।

103। কুতায়বা ও উতবা ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ... আবদুল্লাহ সুনাবিহী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মুমিন বান্দা যখন উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে এবং কুলি করে, তখন তার মুখের গুনাহ বের হয়ে যায়। যখন নাকে পানি দেয় তখন নাকের গুনাহ বের হয়ে যায়। যখন মুখমন্ডল ধৌত করে, তখন মুখমন্ডলের গুনাহ বের হয়ে যায়। এমনকি গুনাহ বের হয়ে যায় দু’চোখের পাতার নিচ থেকে। যখন হাত ধৌত করে, তখন হাতের গুনাহ বের হয়ে যায়। এমনকি তা বের হয়ে যায় দু’ হাতের নখের নিচ থেকে। যখন মাথা মাসহ(মাসেহ) করে তখন মাথার গুনাহ বের হয়ে যায়। এমনকি তা বের হয়ে যায় তার দু’কান থেকে। যখন পা ধৌত করে, তখন পায়ের গুনাহ বের হয়ে যায়। এমনকি তা বের হয়ে যায় নখের নিচ থেকে। তারপর মসজিদে যাওয়া ও সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করা তার জন্য অতিরিক্ত ইবাদত (অতিরিক্ত সওয়াব) হিসেবে গণ্য হয়।

104। হুসায়ন ইবনু মনসূর (রহঃ) ... বিলাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেঃ আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মোজা ও পাগড়ির উপর মসেহ করতে দেখেছি।

105। হুসায়ন ইবনু আবদুর রহমান জারজারায়ী* (রহঃ) ... বিলাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে উভয় মোজার উপর মাসেহ করতে দেখেছি।

106। হান্নাদ ইবনু সাররী (রহঃ) ... বিলাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে পাগড়ি ও মোজার উপর মসেহ করতে দেখেছি।

107। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... মুগীরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উযূ (ওজু/অজু/অযু) করেন। তাতে মাথার অগ্রভাগ*, পাগড়ি ও মোজার উপর মসেহ করেন।

108। আমর ইবনু আলী ও হুমায়দ ইবনু মাসআদাহ (রহঃ) ... মুগীরা ইবনু শু’বাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (এক সফরে কাফেলা থেকে) পেছনে থেকে যান। আমিও তার সঙ্গে পেছনে থেকে যাই। তিনি পায়খানা-পেশাবের কাজ সমাধা করলেন। তারপর আমাকে জিজ্ঞাসা করলেনঃ তোমার নিকট কি পানি আছে? আমি তার নিকট একটি পানির পাত্র নিয়ে উপস্থিত হলাম। তিনি হাত ও মুখমন্ডল ধৌত করলেন। তারপর কনুই থেকে অস্তিন উপরে উঠাতে চাইলেন। কিন্তু জামার হাতা সংকীর্ণ হওয়াতে তিনি তা পারলেন না। তাই জামার হাতা খুলে কাঁধের উপর রেখে দেন এবং কনুই পর্যন্ত হাত ধৌত করেন এবং মাথার অগ্রভাগ ও পাগড়ির উপর মসেহ করেন এবং মোজার উপর মসেহ করেন।

109ইয়াকুব ইবনু ইব্রাহীম (রহঃ) ... আমর ইবনু ওহাব সাকাফী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি মুগীরা ইবনু শু’বা (রাঃ) কে বলতে শুনছি যে, দু’টি বিষয়ে আমি কারো নিকট কিছু জিজ্ঞাসা করব না। কেননা এ দু’টি কাজের সময় আমি স্বয়ং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। (একটি হল মাসাহ) তিনি বলেনঃ আমরা এক সফরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিলাম। তিনি পায়খানা-পেশাবের প্রয়োজনে বাইরে গেলেন। সেখান থেকে এসে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করেন এবং মাথার অগ্রভাগ ও পাগড়ির দু’ পার্শ্ব এবং মোজার উপর মসেহ করেন। আর (দ্বিতীয়টি হল) অধঃস্তনের পিছনে ইমামের (নেতার) সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করা। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সফরে ফিয়েছিলেন। আমিও তার সঙ্গে ছিলাম। (তিনি প্রাকৃতিক প্রয়োজন সমাধার জন্য) দূরে চলে গিয়েছিলেন। এদিকে সালাত (নামায/নামাজ) এর সময় হয়ে যায়। (সালাত এর সময় শেষ হচ্ছে দেখে) লোকেরা সালাত শুরু করে দিল। আবদুর রহমান ইবনু আউফ (রাঃ) কে তারা ইমাম নিযুক্ত করেন। তিনি তাদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করলেন। (এমন সময়) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিরে আসেন এবং ইবনু আউফের পেছনে অবশিষ্ট সালাত আদায় করেন। ইবনু আউফ সালাম ফিরালে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে যান এবং যতটুকু সালাত ছুটে গিয়েছিল তিনি তা আদায় করেন।

110। কুতায়বা ও মুয়াম্মাল ইবনু হিশাম (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আবূল কাসেম (রাসুলুল্লাহ) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (উযূর সময়) যার পায়ের গোড়ালী শুষ্ক থাকবে, তাদের জন্য জাহান্নামের দুর্ভোগ।

111। মাহমূদ ইবনু গায়লান ও আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক দল লোককে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে দেখেন। তাদের পায়ের গোড়ালির প্রতি লক্ষ্য করে দেখেন যে, তা শুষ্ক রয়েছে। তখন তিনি তাদের উদ্দেশ্যে বলেনঃ যাদের পায়ের গোড়ালী শুষ্ক থাকবে, তাদের জন্য জাহান্নামের দুর্ভোগ। তোমরা পরিপূর্ণরূপে উযূ কর।

112। মুহাম্মদ ইবনু আ’লা (রহঃ) .... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি উল্লেখ করেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উযূ (ওজু/অজু/অযু) করা, জুতা পরিধান করা ও চুল আঁচড়াতে যথাসম্ভব ডানদিক থেকে আরম্ভ করা পছন্দ করতেন। হাদীসের অন্যতম রাবী শু’বা বলেনঃ ওয়াসিত শহরে আমি আশয়াছ (রাঃ) কে বলতে শুনেছিঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ডানদিক হতে আরম্ভ করা পছন্দ করতেন তাঁর সকল কাজ। তারপর কূফাতে আমি তাকে বলতে শুনেছি, তিনি [রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] যথাসাধ্য ডানদিক হতে আরম্ভ করা পছন্দ করতেন।

113। মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... (আবদুর রহমান ইবনু আবদ) কায়সী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক সফরে তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলেন, এমতাবস্থায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য পানি আনা হলে তিনি পাত্র থেকে পানি ঢালেন এবং উভয় হাত একবার ধৌত করেন। এক-একবার করে মুখমন্ডল ও দু’হাত কনুই পর্যন্ত ধৌত করেন। পরে উভয় হাত দ্বারা পদদ্বয় ধৌত করেন।

114। ইসহাক ইবনু ইব্রাহীম ও মুহাম্মদ ইবনু রাফে (রহঃ) ... লাকীত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তুমি যখন উযূ (ওজু/অজু/অযু) করবে পরিপূর্ণরূপে উযূ করবে এবং আঙ্গুল খিলাল করবে।

115। মুহাম্মদ ইবনু আদম (রহঃ) ... আবূ হাইয়াহ ওয়াদায়ী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আলী (রাঃ) কে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে দেখেছি। তিনি তিনবার উভয় হাতের কবজি পর্যন্ত ধৌত করেন, তিনবার কুলি করেন, তিনবার নাক পরিষ্কার করেন, তিনবার মুখমন্ডল ধৌত করেন এবং তিনবার উভয় হাত কনুই পর্যন্ত ধৌত করেন। পরে মাথা মসেহ করেন এবং উভয় পা তিনবার করে ধৌত করেন এবং বলেনঃ এটাই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উযূ।

116। আহমদ ইবনু আমর (রহঃ) ও হারিস ইবনু মিসকীন ... হুমরান (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, উসমান (রাঃ) উযূর পানি আনতে বলেন। প্রথমে তিনি তিনবার উভয় হাতের কবজি পর্যন্ত ধৌত করেন। পরে কুলি করেন ও নাকে পানি দেন। তারপর তিনবার মুখমন্ডল ধৌত করেন। এরপর তিনি তিন-তিনবার ডান ও বাম হাত কনুই পর্যন্ত ধৌত করেন। এরপর মাথা মসেহ করেন এবং তিন-তিনবার ডান ও বাম পা গোড়ালী পর্যন্ত ধৌত করেন। পরে বলেনঃ আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এরূপ উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে দেখেছি। তিনি বলেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি আমার এই উযূর ন্যায় উযূ করবে এবং দাঁড়িয়ে দু’রাকাত সালাত (তাহিয়্যাতুল উযূ) একাগ্রচিত্তে আদায় করবে, তার পেছনের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।

117। মুহাম্মদ ইবনু আ’লা (রহঃ) ... উবায়দ ইবনু জুরাইজ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) কে বললামঃ আমি দেখেছি আপনি এই সিবতী* জুতা পরিধান করেন এগুলো পরিধান করেই উযূ (ওজু/অজু/অযু) করেন (এর কারণ কি)? আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেনঃ আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এ সিবতী জুতা পরিধান করতে এবং তা রেখে উযূ করতে দেখেছি।

118। কুতায়বা ইবনু সা’ঈদ (রহঃ) ... জারীর ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি উযূ (ওজু/অজু/অযু) করেন এবং মোজার উপর মসেহ করেন। তাকে বলা হল, কি ব্যাপার! আপনি মোজার উপর মসেহ করেন? তিনি উত্তরে বলেনঃ আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মসেহ করতে দেখেছি। আবদুল্লাহর শাগরিদগণ জারীরের এই কথা পছন্দ করতেন। আর জারীর (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইন্তেকালের সামান্য কিছুকাল পূর্বে ইসলাম কবুল করেন।

119। আব্বাস ইবনু আবদুল আযীম (রহঃ) ... আমর ইবনু উমাইয়া যামরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে এবং (উযূতে) মোজার উপর মসেহ করতে দেখেছেন।

120। আবদুর রহমান ইবনু ইবরাহীম দুহায়ম (রহঃ) ও সুলায়মান ইবনু দাঊদ (রহঃ) ... উসামা ইবনু যায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং বিলাল (রাঃ) হারামে মদিনায় (আসওয়াক) প্রবেশ করেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার পায়খানা-পেশাবের প্রয়োজনে বাইরে যান এবং কিছুক্ষণ পর ফিরে আসেন। উসামা (রাঃ) বলেনঃ আমি বিলাল (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলাম, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে কি করেছেন? বিলাল (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার প্রয়োজনে বাইরে গিয়েছিলেন এবং ফিরে এসে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করেন। তার মুখমন্ডল ও হাত ধৌত করেন, মাথা ও মোজার উপর মাসেহ করেন। তারপর সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেন।

121। সুলায়মান ইবনু দাঊদ ও হারিস ইবনু মিসকীন (রহঃ) ... সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) সূত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত যে, তিনি মোজার উপর মসেহ করেছেন। সহীহ, ইবনু মাজাহ হাঃ ৫৪৬।

122। কুতায়বা (রহঃ) ... সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) সূত্রে মোজার উপর মসেহ সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত যে, মোজার উপর মসেহ করাতে কোন অসুবিধা নেই।

123। আলী ইবনু খাশরাম (রহঃ) ... মুগীরা ইবনু শু’বাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একদা) পায়খানা-পেশাবের প্রয়োজনে বাইরে গিয়েছিলেন। তিনি যখন প্রত্যাবর্তন করেন তখন আমি পানির পাত্র নিয়ে উপস্থিত হই। আমি তাঁকে পানি ঢেলে দেই, তিনি উযূ (ওজু/অজু/অযু) করেন। (প্রথমে) হাতের কবজি পর্যন্ত ধৌত করেন। পরে মুখমন্ডল ধৌত করেন। তারপর কনুই পর্যন্ত হাত ধুতে চান। কিন্তু জামার হাতা চিকন হওয়াতে তা পারেন নি। তাই জুব্বার (জামার) নিচ দিয়ে হাত বের করেন কনুই পর্যন্ত ধৌত করেন এবং মোজার উপর মসেহ করেন। এরপর আমাদের সঙ্গে নিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেন। সহীহ, (কিন্তু "তিনি আমাদের সাথে নিয়ে নামায পড়েন" এ অংশটুকু ভুল। কেননা এ ঘটনায় তিনি ইবনু আওফের পিছনে নামায আদায় করেছিলেন। যেমনটি পূর্বের ৮২ নং হাদীসে বর্ণিত আছে।)

124। কুতা’ইয়বা ইবনু সা’ঈদ (রহঃ) ... মুগীরাহ (রাঃ) সূত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার প্রয়োজন সমাধার জন্য বের হলেন। মুগীরা (রাঃ) পানির পাত্র নিয়ে তার অনুগমন করলেন। নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার প্রয়োজন সামাধার পর উযূ (ওজু/অজু/অযু) করেন এবং মোজার উপর মসেহ করেন। উযূ (ওজু/অজু/অযু) করার সময় মুগীরা (রাঃ) তাঁকে পানি ঢেলে দেন।

125(ক) মুহাম্মদ ইবনু মনসুর (রহঃ) ... মুগীরা ইবনু শু’বা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি এক সফরে নবী এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি আমাকে বলেনঃ হে মুগীরা! তুমি পেছনে থাক এবং (লোকদের বললেন,) হে লোক সকল! তোমরা চলতে থাক। আমি (কাফেলার) পেছনে থাকলাম, আমার সঙ্গে পানির একটি পাত্র ছিল। লোকেরা চলে গেলেন। তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার প্রয়োজন সমাধার জন্য গেলেন। তিনি যখন ফিরে আসেন তখন আমি তাঁকে (উযূর জন্য) পানি ঢেলে দিতে থাকি। তার পরনে চিকন হাতাওয়ালা একটি রূমী জুব্বা ছিল। তিনি তার হাত বের করতে চাইলেন কিন্তু জামার হাতা চিকন হওয়ার কারণে পারলেন না। ফলে জুব্বার নিচের দিক দিয়ে হাত বের করেন। তারপর মুখমন্ডল ও হাত ধৌত করেন এবং মাথা ও মোজার উপর মসেহ করেন। সহীহ। [পূর্বোক্ত হাদিস দ্রঃ] ১২৫ (খ) মুগীরাহ ইবনু শু'বাহ (রঃ) থেকে বর্ণিত, একদা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জওরাবাহ (সুতি মোজা) এবং জুতোর উপর মাসাহ করেছেন। আবূ আবদুর রহমান বলেন, এই বর্ণনায় কেউ আবূ কাইস এর অনুসরণ করেছেন বলে আমাদের জানা নেই। মুগীরাহ হতে সঠিক বর্ণনা এই যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মোজার উপর মাসাহ করেছিলেন। সহীহ, ইবনু মাজাহ হাঃ ৫৫৯, ইরউয়াউল গালীল হাঃ ১০১।

126। কুতায়বা (রহঃ) ... সাফওয়ান ইবনু আসসাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে, আমরা যখন সফরে থাকি তখন আমাদের মোজা তিন দিন তিন রাত না খোলার অনুমতি দিয়েছেন।

127। আহমদ ইবনু সুলায়মান রাহাভী (রহঃ) ... যির (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি সাফওয়ান ইবনু আসসাল (রাঃ) কে মোজার উপর মসেহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছিলাম। তিনি বলেছিলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে আদেশ করতেন, আমরা যখন সফররত অবস্থায় থাকি তখন যেন মোজার উপর মসেহ করি এবং জানাবাতের অবস্থা ব্যাতীত, পায়খানা-পেশাব অথবা নিদ্রার কারণে তিনদিন তা না খুলি।

128। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসেহের ব্যাপারে মুসাফিরের জন্য তিন দিন তিন রাত এবং মুকীমের জন্য একদিন এক রাত সময় নির্ধারণ করেছেন।

129। হান্নাদ ইবনু সাররী (রহঃ) ... শুরাইহ ইবনু হানী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আয়িশা (রাঃ) কে মোজার উপর মসেহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেনঃ আলী (রাঃ) এর নিকট যাও, তিনি এ ব্যাপারে আমার থেকে অধিক জ্ঞাত। তারপর আমি আলী (রাঃ) এর নিকট গেলাম এবং তাকে মাসাহর ব্যাপারে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের আদেশ করতেন যে, মুকীম একদিন একরাত ও মূসাফির তিনদিন তিনরাত মসেহ করবে।

130। আমর ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) আবদুল মালিক মায়সারা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি নাযযাল ইবনু সাবরাহকে বলতে শুনেছি যে, আমি আলী (রাঃ) কে দেখলাম যে, তিনি যোহরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন এবং জনসাধারণের প্রয়োজন পূরণার্থে বসলেন। যখন আসরের সময় উপস্থিত হল তখন তার নিকট একটি পানির পাত্র আনা হল। তিনি তা হতে এককোষ পানি নিলেন এবং তা দ্বারা মুখমন্ডল, হস্তদ্বয়, মাথা এবং উভয় পা মসেহ করলেন। পরে দাঁড়িয়ে উদ্বৃত্ত পানি পান করলেন এবং বললেনঃ অনেক লোক এরূপ পান করাকে খারাপ মনে করে। অথচ আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এরূপ করতে দেখেছি। আর এটা হল ঐ ব্যাক্তির উযূ, যার উযূ (ওজু/অজু/অযু) ভঙ্গ হয়নি।

131। মুহাম্মদ ইবনু আবদুল আ’লা (রহঃ) ... আমর ইবনু আমির (রহঃ) সূত্রে আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট পানির একটি ছোট পাত্র আনা হল এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলেন। আমি (আমর) বললাম, নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি প্রত্যেক সালাত (নামায/নামাজ)-এর জন্য উযূ করতেন? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। আমর বললেনঃ আর আপনারা (সাহাবীগণ)? তিনি বললেঃ আমরা উযূ ভঙ্গ না হওয়া পর্যন্ত সালাত আদায় করতাম। তিনি (আমর) বলেনঃ আমরা একই উযূ দ্বারা একাধিক সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতাম।

132। যিয়াদ ইবনু আইয়্যুব (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শৌচাগার থেকে বের হলে তার নিকট কিছু খাদ্য আনা হল। উপস্থিত লোকেরা বললেনঃ আপনার জন্য উযূর পানি আনব কি? তিনি বললেন, আমাকে তো উযূ (ওজু/অজু/অযু) করার আদেশ করা হয়েছে যখন আমি সালাত (নামায/নামাজ)-এর জন্য প্রস্তুত হই।

133। উবায়দুল্লাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... বুরায়দা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক সালাত (নামায/নামাজ)-এর জন্য উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতেন। কিন্তু মক্কা বিজয়ের দিন তিনি একই উযূ দ্বারা কয়েক ওয়াক্তের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। তখন উমর (রাঃ) তাঁকে বললেনঃ (ইয়া রাসুলাল্লাহ!) আজ আপনি এমন কাজ করলেন যা এর পূর্বে করেননি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে উমর! ইচ্ছা করেই আমি এরূপ করেছি।

134। ইসমাঈল ইবনু মাসঊদ (রহঃ) ... হাকাম (রহঃ) এর পিতা সুফিয়ান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতেন তখন এককোষ পানি নিতেন এবং তা এরুপ ছিটাতেন। শু’বাহ (বিশিষ্ট রাবী) তা স্বীয় পুরুষাঙ্গের উপর ছিটিয়ে দেখালেন। আমি এটা ইব্রাহীমের নিকট উল্লেখ করলে তিনি আশ্চর্যাম্বিত হলেন। শায়খ ইবনু সুন্নি বলেনঃ হাকাম সুফয়ান সাকাফীর পুত্র।

135। আব্বাস ইবনু মুহাম্মদ দুরী ও আহমদ ইবনু হারব (রহঃ) ... হাকাম ইবনু সুফয়ান (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেন, আমি আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখেছি, তিনি উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলেন এবং লজ্জাস্থানের প্রতি পানি ছিটালেন। আহমদ বলেছেন, পরে লজ্জাস্থানের উপর পানি ছিটালেন।

136। আবূ দাঊদ সুলায়মান ইবনু সায়ফ (রহঃ) ... আবূ হাইয়্যাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন আমি আলী (রাঃ) কে দেখলাম, তিনি তিন-তিন বার করে (উযূর অঙ্গগুলো ধৌত করে) উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলেন, পরে দাঁড়ালেন এবং উযূর উদ্বৃত্ত পানি পান করলেন, আর বললেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেরূপ করেছিলেন আমি সেরূপ করেছি।

137। মুহাম্মদ ইবনু মনসূর (রহঃ) ... আবূ জুহাইফাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি বাতহা নামক স্থানে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তখন দেখলাম বিলাল (রাঃ) তার উযূর অবশিষ্ট পানি পান করলেন, আর লোক সেদিকে দৌড়াচ্ছে। আমিও তার কিছু পেলাম। তারপর তার সম্মুখে একটি লাঠি স্থাপন করা হল। তিনি লোকদের ইমাম হয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। আর গাধা, কুকুর এবং স্ত্রীলোক তার সম্মুখ দিয়ে চলাচল করছিল।

138। মুহাম্মদ ইবনু মনসূর (রহঃ) ... সুফয়ান (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি মুনকাদির (রহঃ) কে বলতে শুনেছেনঃ আমি জাবির (রাঃ) কে বলতে শুনেছি, আমি একবার অসুস্থ হলাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবূ বকর (রাঃ) আমাকে দেখতে আসলেন। তারা দেখলেন আমি জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়েছি। এরূপ দেখে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলেন এবং আমার উপর তার উযূর পানি ছিটিয়ে দিলেন।

139। কুতায়বা (রহঃ) ... উসামা ইবনু উমায়র (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তায়ালা পবিত্রতা ব্যতীত কোন সালাত (নামায/নামাজ) কবুল করেন না এবং অবৈধভাবে অর্জিত মালের সদকা গ্রহণ করেন না।

140। মাহমূদ ইবন গায়লান (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন আস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন একজন বেদুঈন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট এসে তাকে উযু সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলেন। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে অযুর অঙ্গ তিন-তিনবার ধৌত করে দেখালেন। আর বললেন- এরুপেই করতে হয়। যে ব্যক্তি এর উপর বাড়ালো সে অন্যায় করল, সীমালঙ্ঘন ও যুলূম করল।

141। ইয়াহয়া ইবনু হাবীব আরাবী (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু উবায়দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমরা আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) এর নিকট উপবিষ্ট ছিলাম, তিনি বললেনঃ আল্লাহর শপথ, অন্য লোকদের বাদ দিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বিশেষভাবে কোন বিষয়ে বলেননি, তিনটি বিষয় ব্যতীতঃ (১) তিনি আমাদের পরিপূর্ণভাবে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করার নির্দেশ দিয়েছেন; (২) আমাদের সা’দকা খেতে নিষেধ করেছেন; (৩) নিষেধ করেছেন গাধাকে ঘোড়ার উপর পাল দিতে।

142। কুতায়বা (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা পরিপূর্ণরূপে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করবে।

143কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি কি তোমাদের এমন বস্তুর সন্ধান দিবনা, যা দ্বারা আল্লাহ তা’য়ালা গুনাহসমূহ দূর করে দিবেন এবং মর্যাদা বৃদ্ধি করে দিবেন? তা হল, কষ্ট অবস্থায়ও পূর্ণরূপে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করা, মসজিদের দিকে অধিক পদচালনা করা, আর এক সালাত (নামায/নামাজ)-এর পর অন্য সালাত (নামায/নামাজ)-এর অপেক্ষায় থাকা। এটাই রিবাত, এটাই রিবাত, এটাই রিবাত।* অর্থাৎ ইসলামী রাষ্ট্রের সীমানা পাহারা দেয়ার ন্যায় সওয়াব এতে রয়েছে।

144। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আসিম ইবনু সাকাফী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তারা ‘সুলাসিল’ যুদ্ধে যোগদান করেছিলেন কিন্তু যুদ্ধ করার সুযোগ পাননি। পরে তার শত্রুর মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত রইলেন এবং মুআবিয়া (রাঃ) এর নিকট প্রত্যাবর্তন করলেন। তখন তার নিকট আবূ আইয়্যুব এবং উকবা ইবনু আমির ছিলেন। তখন আসিম বললেন, হে আবূ আইয়্যুব! এ বৎসর আমরা যুদ্ধ করার সুযোগ পেলাম না। আর আমাদের সংবাদ দেওয়া হয়েছে যে, যে ব্যাক্তি চারটি মসজিদে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবে, তার পাপ মার্জনা করা হবে। তিনি বললেনঃ হে ভাতিজা! আমি কি এর চেয়ে সহজতর পন্থা বলে দিব না? আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যাক্তি নির্দেশ মোতাবেক উযূ (ওজু/অজু/অযু) করবে আর নির্দেশ মোতাবেক সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবে, তার পূর্বেকার পাপ ক্ষমা করা হবে। সত্যি কি তাই হে উকবা? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, তাই।

145। মুহাম্মদ ইবনু আবদুল আ’লা (রহঃ) ... হুমরান ইবনু আবান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আবূ বুরদা (রহঃ) কে মসজিদে এ মর্মে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি উসমান (রাঃ) কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত করতে শুনেছেন, যে ব্যাক্তি আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক উযূ (ওজু/অজু/অযু) সম্পন্ন করবে, পাঁচ ওয়াক্ত সালাত (নামায/নামাজ)-এর মধ্যবর্তী সময়ের পাপসমূহের জন্য কাফফারা স্বরূপ গণ্য হবে।

146। কুতায়বা (রহঃ) ... উসমান (রাঃ) এর আযাদকৃত দাস হুমরান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। উসমান (রাঃ) বলেনঃ আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, যে ব্যাক্তি সুন্দরভাবে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে এবং পরে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে, তার এ সালাত ও পরবর্তী সালাত আদায়ের মধ্যবর্তী সময়ের পাপ মাফ করে দেওয়া হবে।

147। আমর ইবনু মনসূর (রহঃ) ... মুআবিয়া ইবনু সালেহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আবূ ইয়াহয়া সুলায়ম ইবনু আমির, যামরাহ ইবনু হাবীব এবং আবূ তালহা নুয়ায়ম ইবনু যিয়াদ (রহঃ) আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আমরা আবূ উমামা বাহিলী (রাঃ) কে বলতে শুনেছি, আমি আমর ইবনু আবাসা (রাঃ) কে বলতে শুনেছি, আমি বললামঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! উযূ (ওজু/অজু/অযু) কিরূপ করতে হয়? তিনি বললেন, উযূ! তুমি যখন উযূ কর এবং তোমার হস্ত তালুদ্বয় ধৌত কর এবং পরিস্কার করে ধৌত কর তখন তোমার পাপসমুহ তোমার নখের ভিতর হতে এবং তোমার আঙ্গুলির অগ্রভাগ হতে বের হয়ে যায়। এবং যখন তুমি কুলি কর এবং নাকের ভিতরকার অংশ ধৌত কর এবং তোমার মুখমন্ডল ধৌত কর এবং কনুই পর্যন্ত হাত ধৌত কর এবং মাথা মসেহ কর এবং গোড়ালী পর্যন্ত পা ধৌত কর, তখন তুমি তোমার সাধারণ পাপসমূহ ধুয়ে ফেললে। আর যখন তুমি তোমার মুখমন্ডল আল্লাহ তা’আলার জন্য স্থাপন কর, তখন তুমি তোমার পাপ হতে ঐ দিনের মত মুক্ত হয়ে যাও, যেদিন তোমার জননী তোমাকে জন্ম দিয়েছিল। আবূ উমামা বলেনঃ আমি বললাম, হে আমর ইবনু আবাসাহ! দেখ তুমি কি বলছ। একই মজলিসে এ সব কিছু দান করা হয়? তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! আমি বৃদ্ধাবস্থায় উপনীত হয়েছি আর আমার মৃত্যু নিকটবর্তী। আর আমার কোন অভাবও নেই, এমতাবস্থায় কি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সম্পর্কে মিথ্যা বলবো? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আমার উভয় কান তা শ্রবণ করেছে এবং আমার অন্তর তা স্মরণ রেখেছে।

148। মুহাম্মদ ইবনু আলী ইবনু হারব মারওয়াযী (রহঃ) ... উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি উত্তমরূপে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে আর বলেঃ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ তার বান্দা ও রাসূল” তার জন্য বেহেশতের আটটি দরজাই খুলে দেওয়া হবে। সে যে দরজা দিয়ে ইচ্ছে প্রবেশ করবে।

149। কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ হাযিম (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ) সালাত (নামায/নামাজ)-এর জন্য উযূ (ওজু/অজু/অযু) করছিলেন। আর আমি তাঁর পেছনে ছিলাম, তিনি তার হস্তদ্বয় ধৌত করছিলেন তাঁর বগল পর্যন্ত, তখন আমি তাঁকে বললাম, হে আবূ হুরায়রা! এ কোন ধরনের উযূ? তিনি আমাকে বললেনঃ হে ফররূখের বংশধর! তোমরা এখানে? যদি আমি পূর্বে জানতাম যে, তোমরা এখানে আছ তাহলে আমি এরূপ উযূ করতাম না। আমি আমার বন্ধু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, মুমিনের জ্যোতি ঐ পর্যন্ত পৌছবে, যে পর্যন্ত উযূর পানি পৌছে।

150। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার কবরস্থানের দিকে গেলেন। (তথায় উপস্থিত হয়ে) তিনি বললেনঃ হে মুমিন সম্প্রদায়ের ঘরের অধিবাসী! তোমাদেরকে সালাম, আমরাও ইনশাল্ললাহ তোমাদের সাথে মিলিত হব। আমি আশা করি আমার ভ্রাতৃবৃন্দকে দেখতে পাব। উপস্থিত সাহাবায়ে কিরাম জিজ্ঞাসা করলেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমরা কি আপনার ভ্রাতা নই? তিনি বললেনঃ বরং তোমরা আমার সাহাবী। আর আমার ভ্রাতৃবৃন্দ হল যারা পরবর্তীকালে আসবে, আর আমি হাউযে কাওসারে তাদের অগ্রবর্তী হব। তারা বললেন ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনার যেসকল উম্মত পরবর্তীকালে আগমন করবে, আপনি তাদের কিভাবে চিনবেন? তিনি বললেনঃ তোমরা বল তো, যদি কোন ব্যাক্তির একদল কালো ঘোড়ার মধ্যে সা’দা চেহারা ও সা’দা পদবিশিষ্ট ঘোড়া থাকে, তবে কি সেই ব্যাক্তি তার ঘোড়া চিনে নিতে পারবে না? তারা বলেনঃ নিশ্চয়ই। তিনি বললেনঃ কিয়ামতের দিন উযূর দরুণ তাদের হস্তপদ উজ্জ্বল হবে। আর আমি হাউযে কাওসারে তাদের আগে গিয়ে অপেক্ষা করব।

151। মূসা ইবনু আবদুর রহমান মাসরূকী (রহঃ) ... উকবা ইবনু আমির জুহানী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি উত্তমরূপে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে তারপর দু’রাকাত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে নিষ্ঠার সাথে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়।

152। হান্নাদ ইবনু সাররী (রহঃ) ... আবূ আবদুর রহমান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আলী (রাঃ) বলেছেন, আমি এমন ছিলাম যে, প্রায় আমার মযী* নির্গত হতো, আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কন্যা আমার সহধর্মিনী হওয়ায় আমি তাকে জিজ্ঞাসা করতে লজ্জাবোধ করতাম। অতএব আমার পার্শ্বে উপবিষ্ট এক ব্যাক্তিকে এ ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করতে বললাম। সে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেনঃ এতে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে হবে।

153। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি মিকদাদকে বললাম, আপনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করুন যে, যদি কোন ব্যাক্তি স্বীয় স্ত্রীর সাথে আমোদ করে এবং তদ্দরুন তার মযী নির্গত হয় অথচ সে সহবাস করেনি, তাহলে সে কি করবে? কেননা তার কন্যা আমার সহধর্মিনী হওয়ায় আমি জিজ্ঞাসা করতে লজ্জাবোধ করি। তিনি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সে ব্যাক্তি তার লজ্জাস্থান ধৌত করবে এবং সালাত (নামায/নামাজ)-এর উযূর ন্যায় উযূ (ওজু/অজু/অযু) করবে।

154। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আয়িশ ইবনু আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আলী (রাঃ) বলেছেনঃ আমার প্রায়ই মযী নির্গত হত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কন্যা আমার সহধর্মিণী হওয়ায় আম্মার ইবনু ইয়াসিরকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট জিজ্ঞাসা করতে অনুরোধ করলাম। তিনি এর উত্তরে বললেন, এর জন্য উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলেই চলবে।

155। উসমান ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ... রাফি’ ইবনু খাদীজ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আলী (রাঃ) আম্মারকে অনুরোধ করলেন, তিনি যেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মযীর ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করেন। উত্তরে তিনি বললেনঃ সে ব্যাক্তি তার লজ্জাস্থান ধৌত করবে এবং উযূ (ওজু/অজু/অযু) করবে।

156। উতবা ইবনু আবদুল্লাহ মারওয়াযী (রহঃ) ... মিকদাদ ইবনু আসওয়াদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আলী (রাঃ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করার জন্য তাকে অনুরোধ করলেন যে, কোন ব্যাক্তি তার স্ত্রীর নিকটবর্তী হলে যদি তদ্দরুন তার মযী নির্গত হয়, তাহলে তার কি করতে হবে? কারণ তার কন্যা আমার সহধর্মিণী থাকায় আমি তাঁকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করতে লজ্জাবোধ করি। তারপর আমি এ ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেনঃ যদি তোমাদের কারও এরূপ হয় তাহলে সে যেন স্বীয় লজ্জাস্থান ধৌত করে এবং সালাত (নামায/নামাজ)-এর উযূর ন্যায় উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে।

157। মুহাম্মদ ইবনু আবদুল আ’লা (রহঃ) ... আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ ফাতিমা (রাঃ) আমার বিবাহাধীন থাকায় মযী সম্বন্ধে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করতে লজ্জাবোধ করতাম। অতএব আমি মিকদাদ ইবনু আসওয়াদকে অনুরোধ করলাম। তিনি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এতে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে হবে।

158। মুহাম্মদ ইবনু আ’লা (রহঃ) ... আসিম (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি যির ইবনু হুরায়শকে বর্ণনা করতে শুনেছেন, তিনি বলেনঃ আমি সাফওয়ান ইবনু আসসাল নামক এক ব্যাক্তির নিকট আসলাম এবং তার দরজায় বসে রইলাম। তিনি বের হয়ে বললেন, তোমার খবর কি? আমি বললাম, ইলমের সন্ধানে এসেছি। তিনি বললেন, ইলম অন্বেষণকারীর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ফেরেশতাগণ ডানা বিছিয়ে দেন। তারপর তিনি বললেন, কোন বিষয়ে তুমি জিজ্ঞাসা করতে চাও? আমি বললাম, মোজা পরিধান সম্পর্কে। তিনি বললেন, আমরা যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সফরে আসতাম, তিনি আমাদের আদেশ করতেন, আমরা যেন একমাত্র জানাবাত ব্যতীত, পায়খানা-পেশাব এবং নিদ্রার কারণে তিনদিন পর্যন্ত তা না খুলি।

159। আমর ইবনু ইবনু আলী ও ইসমাঈল ইবনু মাসঊদ (রহঃ) ... যির (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ সাফওয়ান ইবনু আসসাল (রাঃ) বলেছেনঃ আমরা যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে সফরে বের হতাম তখন তিনি আমাদের আদেশ করতেন আমরা যেন একমাত্র জানাবাত ব্যতীত পায়খানা-পেশাব এবং নিদ্রার কারণে তিন দিন পর্যন্ত তা না খুলি।

160। কুতায়বা ও মুহাম্মদ ইবনু মনসুর (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ এক ব্যাক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট অভিযোগ করল, সে সালাত (নামায/নামাজ)-এ কিছু অনুভব করে।[১] তিনি বললেনঃ সে সালাত (নামায/নামাজ) পরিত্যাগ করবেনা যতক্ষণ না গন্ধ বা শব্দ শুনতে পায়।

161। ইসমাঈল ইবনু মাসঊদ ও হুমায়দ ইবনু মাসআদাহ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেঊ যখন নিদ্রা হতে জাগ্রত হয় তখন সে যেন তার হাত পানির পাত্রে প্রবিষ্ট না করায় যতক্ষণ না তার উপর তিনবার পানি ঢালে, কেননা সে জানেনা তার হাত রাত্রে কোথায় ছিল।

162। বিশর ইবনু হিলাল (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি কোন ব্যাক্তির সালাত (নামায/নামাজ)-এ তন্দ্রা আসে, তবে সে যেন হালকাভাবে সালাত (নামায/নামাজ) শেষ করে চলে যায়। কেননা অজ্ঞাতসারে সে হয়ত নিজের উপরেই বদদোয়া করে বসবে।

163। হারূন ইবনু আবদুল্লাহ ও হারিস ইবনু মিসকীন (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু আবূ বকর ইবনু আমর ইবনু হাযম থেকে বর্ণিত। তিনি উরওয়া ইবনু যুবায়রকে বলতে শুনেছেন যে, আমি মারওয়ান ইবনু হাকাম এর নিকট এসে কোন কোন কারণে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে হয় তা জিজ্ঞাসা করলাম। মারওয়ান বললেনঃ পুরুষাঙ্গ স্পর্শ করলে উযূ করতে হবে। উরওয়া বললেন, আমি তা অবগত নই। মারওয়ান বললেনঃ বুসরা বিনতে সাফওয়ান (রাঃ) আমাকে বলেছেন যে, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেন যে, যখন তোমাদের কেঊ স্বীয় পুরুষাঙ্গ স্পর্শ করে তখন তার উযূ করা উচিৎ।

164। আহমদ ইবনু মুহাম্মদ ইবনু মুগীরা (রহঃ) ... যুহরী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আবদুল্লাহ ইবনু আবূ বকর ইবনু আমর ইবনু হাযম (রহঃ) আমাকে বলেছেন, কোন ব্যাক্তি স্বীয় হস্ত দ্বারা পুরুষাঙ্গ স্পর্শ করলে সে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করবে। আমি অস্বীকার করলাম এবং বললাম, যে ব্যাক্তি তা স্পর্শ করে, তার উযূ করতে হবে না। তখন মারওয়ান বললেন, বুসরা বিনতে সাফওয়ান আমাকে বলেছেন যে, তিনি যে যে কারণে উযূ করতে হয় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তা উল্লেখ করতে শুনেছেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, আর পুরুষাঙ্গ স্পর্শ করলে উযূ করতে হবে। উরওয়া বলেনঃ অতএব আমি এ ব্যাপারে মারওয়ানের সাথে বিতর্কে লিপ্ত রইলাম। অবশেষে তিনি তার দেহরক্ষীদের একজনকে ডেকে বুসরার নিকট প্রেরণ করলেন। বুসরা তার নিকট ঐরূপই বলে পাঠালেন যেরূপ মারওয়ান আমার নিকট বুসরা থেকে বর্ণনা করেছেন।

165। হান্নাদ (রহঃ) ... তালক ইবনু আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা আমাদের গোত্রের প্রতিনিধি হিসাবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এলাম, তারপর তাঁর নিকট বায়আত গ্রহণ করলাম এবং তাঁর সঙ্গে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলাম। সালাত (নামায/নামাজ) শেষ হলে এক ব্যাক্তি আসলো, মনে হল যেন সে একজন গ্রাম্য লোক। সে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! কোন ব্যাক্তি সালাতে পুরুষাঙ্গ স্পর্শ করলে তার সম্বন্ধে আপনার অভিমত কি? তিনি বললেনঃ এটা তোমার শরীরের এক টুকরা গোশত বৈ আর কি? অথবা তিনি বললেনঃ তা তোমার শরীরের একটি অংশ।

166। মুহাম্মদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু আবদুল হাকাম (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন আর আমি জানাযার ন্যায় তার সামনে শায়িত থাকতাম। এমনকি তিনি যখন বিতর নামায পরার ইচ্ছা করতেন তখন আমাকে তার পা দ্বারা স্পর্শ করতেন।

167। ইয়াকুব ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি দেখেছি আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে আড়াআড়ি শুয়ে আছি আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন। যখন তিনি সিজদা করতে মনস্থ করতেন আমার পা স্পর্শ করতেন। আমি তা আমার দিকে টেনে নিতাম। তারপর তিনি সিজদা করতেন।

168। কুতায়বা (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে শায়িত থাকতাম আর আমার পদদ্বয় তার কিবলার দিকে থাকত। যখন তিনি সিজদা করতেন আমাকে স্পর্শ করতেন আর আমি আমার পদদ্বয় টেনে নিতাম আর যখন তিনি দাঁড়াতেন তখন আমি তা মেলে দিতাম। আর ঘরে তখন কোন বাতি থাকত না।

169। মুহাম্মদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু মুবারক ও নুসায়ের ইবনু ফারাজ (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ এক রাতে আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বিছানায় পাচ্ছিলাম না। তখন আমি আমার হাত দ্বারা তাঁকে খুঁজতে লাগলাম। তখন আমার হাত তাঁর পদযুগলের উপর পতিত হল। তখন তাঁর পা খাড়া ছিল এবং তিনি ছিলেন সিজদারত। তিনি বলছিলেনঃ أَعُوذُ بِرِضَاكَ مِنْ سَخَطِكَ وَبِمُعَافَاتِكَ مِنْ عُقُوبَتِكَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْكَ لاَ أُحْصِي ثَنَاءً عَلَيْكَ أَنْتَ كَمَا أَثْنَيْتَ عَلَى نَفْسِكَ “(হে আল্লাহ!) আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি তোমার ক্রোধ হতে তোমার সন্তুষ্টির, তোমার শাস্তি থেকে তোমার ক্ষমার আর তোমার আশ্রয় গ্রহণ করছি তোমা হতে। তোমার প্রশংসা করে আমি শেষ করতে পারব না, তুমি নিজে ঐরূপ, যেরূপ তুমি নিজের প্রশংসা করেছ।”

170। মুহাম্মদ ইবনু মুসান্না (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জনৈক স্ত্রীকে চুম্বন করতেন পরে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন কিন্তু তিনি উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতেন না। আবূ আবদুর রহমান বলেনঃ এ অধ্যায়ে এর চেয়ে উত্তম হাদীস আর নেই যদিও হাদীসটি মুরসাল। এ হাদীসটি আ’মাশ–হাবীব ইবনু আবূ সাবিত থেকে এবং তিনি উরওয়া থেকে এবং তিনি আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। ইয়াহইয়া কাত্তান বলেনঃ হাবীবের এই হাদীসটি, যা তিনি উরওয়া থেকে এবং উরওয়া আয়িশা (রাঃ) থেকে এই মর্মে বর্ণনা করেছেন যে, “মুস্তাহাযা মহিলা সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবে যদিও রক্তের ফোঁটা বিছানায় টপকায়”- এর কোন গ্রহণযোগ্যতা নেই।

171। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, আগুনে জ্বাল দেওয়া বস্তু আহার করলে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করবে।

172। হিশাম ইবনু আবদুল মালিক (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, তোমরা আগুনে জ্বাল দেওয়া বস্তু আহার করলে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করবে।

173আবদুলাহ ইবনুু ইবরাহীম ইবনুুকারিয (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আবূ হুরায়রা (রাঃ) কে মসজিদের উঠানে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে দেখেছি। তিনি বললেন, আমি কয়েক টুকরা পনির খেয়েছি তাই উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলাম। কেননা আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আগুনে জ্বাল দেওয়া বস্তু আহার করাতে উযূ করার নির্দেশ দিতে শুনেছি।

174। ইবরাহীম ইবনু ইয়াকুব (রহঃ) ... আবদুর রহমান ইবনু আমর আল-আওযায়ী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি মুত্তালিব ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু হানতাব (রাঃ) কে বলতে শুনেছেন যে, ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেছেনঃ আগুন স্পর্শ করার কারণে কি ঐ খাদ্যের জন্য উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে হবে যাকে আমি আল্লাহর কিতাবে (কুরআনে) হালাল পেয়েছি? এতদশ্রবণে আবূ হুরায়রা (রাঃ) কতকগুলো পাথর টুকরা একত্রিত করলেন এবং বললেন আমি এই কংকর পরিমাণ সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা উযূ (ওজু/অজু/অযু) করবে ঐ সকল বস্তু হতে যা আগুন স্পর্শ করেছে।

175। মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা উযূ (ওজু/অজু/অযু) করবে ঐ সকল বস্তু আহার করলে যা আগুন স্পর্শ করেছে।

176। আমর ইবনু আলী ও মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... আবূ আইয়ুব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা উযূ (ওজু/অজু/অযু) করবে ঐ সকল বস্তু আহার করলে যা আগুন পরিবর্তন করেছে।

177। উবায়দুল্লাহ ইবনু সাঈদ ও হারূন ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ... আবূ তালহাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা উযূ (ওজু/অজু/অযু) করবে ঐ সকল বস্তু আহার করলে যা আগুন পরিবর্তন করেছে।

178। হারূন ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ... আবূ তালহা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা উযূ (ওজু/অজু/অযু) কর ঐ সকল বস্তু আহার করার জন্য যা আগুন দ্বারা রান্না করা হয়েছে।

179। হিশাম ইবনু আবদুল মালিক (রহঃ) ... যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, তোমরা উযূ (ওজু/অজু/অযু) করবে ঐ সকল বস্তু আহার করলে যা আগুন স্পর্শ করেছে।

180। হিশাম ইবনু আবদুল মালিক (রহঃ) ... আবূ সুফিয়ান ইবনু সাঈদ ইবনু আখনাস ইবনু শারীক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি একবার তাঁর খালা নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী উম্মে হাবীবা (রাঃ) এর নিকটে গেলেন। তিনি (উম্মে হাবীবা) তাঁকে ছাতু খাওয়ালেন। পরে তাঁকে বললেন, হে ভাগ্নে! উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে নাও। কেননা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা উযূ (ওজু/অজু/অযু) কর ঐ সকল বস্তু আহার করলে যা আগুন স্পর্শ করেছে।

181। রবী ইবনু সুলায়মান ইবনু দাঊদ (রহঃ) ... আবূ সুফিয়ান ইবনু সাঈদ ইবনু আখনাস ইবনু শারীক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী উম্মে হাবীবা (রাঃ) তাকে ছাতু খাওয়ানোর পর বলেছিলেন, হে ভাগ্নে, উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে নাও। কারণ আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ তোমরা উযূ কর ঐ সকল বস্তু আহার করলে যা আগুন স্পর্শ করেছে।

182। মুহাম্মদ ইবনু মূসান্না (রহঃ) ... উম্মে সালমাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। একদা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (বকরীর) কাঁধের গোশত আহার করলেন, তারপর বিলাল (রাঃ) এলে তিনি সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে গেলেন। অথচ তিনি পানি স্পর্শ করলেন না।

183। মুহাম্মদ ইবনু আবদুল আ’লা (রহঃ) ... সুলায়মান ইবনু ইয়াসির (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি উম্মে সালমার নিকট গেলাম। তিনি আমার নিকট বর্ণনা করলেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বপ্নদোষ ব্যতীত (সহবাস জনিত কারণে) জানাবাত অবস্থায় ভোর করতেন এবং সিয়ামও পালন করতেন। বর্ণনাকারী রাবীদের মধ্যে খালিদ বলেন যে, এ হাদীসের সাথে এও বর্ণনা করেছেন যে, একদা উম্মে সালমা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট ভূনা গোশত রাখলেন। তিনি তা হতে কিছু খেলেন। পরে সালাত (নামায/নামাজ)-এর জন্য প্রস্তুত হলেন কিন্তু উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলেন না।

184। মুহাম্মদ ইবনু আবদুল আ’লা (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গেলাম। তিনি রুটি ও গোশত খেলেন। পরে সালাত (নামায/নামাজ)-এর জন্য গেলেন কিন্তু উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলেন না।

185। আমর ইবনু মনসূর (রহঃ) ... মুহাম্মদ ইবনু মুনকাদির (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) কে বলতে শুনেছি যে, যে সকল বস্তুকে আগুনে স্পর্শ করেছে তা আহার করার পরে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করা ও না করার মধ্যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শেষ কাজটি ছিল উযূ (ওজু/অজু/অযু) না করা।

186। মুহাম্মদ ইবনু সালামা ও হারিস ইবনু মিসকীন (রহঃ) ... বুশায়র ইবনু ইয়াসার (রহঃ) থেকে বর্ণিত। সুয়ায়দ ইবনু নু’মান (রাঃ) তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি খায়বার যুদ্ধের বৎসর একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে বের হলেন। যখন তাঁরা সাহবা নামক স্থানে পৌঁছলেন – আর তা খায়বারের শেষ সীমায় অবস্থিত, তখন তিনি আসরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। পরে তিনি কিছু খাদ্যদ্রব্য চাইলে তাঁর নিকট কেবল কিছু ছাতু পরিবেশন করা হল। তার আদেশক্রমে তা পানির সাথে মেশানো হল, তারপর তিনি তা খেলেন আর আমরাও তা খেলাম। তারপর তিনি মাগরিবের সালাত (নামায/নামাজ) আদায়ের জন্য প্রস্তুত হলেন এবং কুলি করলেন আর আমরাও কুলি করলাম। পরে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন অথচ আর উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলেন না।

187। কুতায়বা (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুধ পান করার পর পানি চাইলেন এবং তা দ্বারা কুলি করলেন এবং বললেনঃ ওতে চর্বি আছে।

188। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... কায়স ইবনু আসিম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি মুসলিম হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে কুলপাতা মিশ্রিত পানি দ্বারা গোসল করতে আদেশ করলেন।

189। কুতায়বা (রহঃ) ... সাঈদ ইবনু আবূ সাঈদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আবু হুরায়রা (রাঃ) কে বলতে শুনেছেন যে, সুমামা ইবনু উসাল হানাফী মসজিদে নববীর নিকটবর্তী একটি বাগানে গেলেন, সেখানে গোসল করার পর মসজিদে নবাবীতে গেলেন এবং বললেনঃ “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ব্যতীত কোন মা’বুদ নেই, তিনি এক, তঁর কোন শরীক নেই, আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা এবং রাসূল।” হে মুহাম্মদ! আল্লাহর শপথ, পৃথিবীতে আমার কাছে কোন চেহারাই আমার কাছে আপনার চেহারা থেকে অধিক অপ্রিয় ছিল না, এখন আপনার চেহারা আমার নিকট সকলের চেহারা থেকে প্রিয়। আপনার সৈনিকরা আমাকে গ্রেফতার করেছে অথচ আমি উমরার ইচ্ছা করেছিলাম। এখন এ ব্যাপারে আপনার অভিমত কি? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে সুসংবাদ দান করলেন এবং তাঁকে উমরাহ করতে অনুমতি দিলেন।

190। মুহাম্মদ ইবনু মূসান্না (রহঃ) ... আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। একবার তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এলেন এবং বললেনঃ আবূ তালিব মরে গিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যাও তাকে দাফন কর, আলী (রাঃ) বললেনঃ তিনি তো মুশরিক অবস্থায় মারা গিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবার বললেনঃ যাও তাকে দাফন কর। যখন আমি তাকে দাফন করে তাঁর নিকট ফিরে আসলাম, তখন তিনি আমাকে বললেনঃ গোসল করে নাও।

191। মুহাম্মদ ইবনু আবদুল আ’লা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন কেউ স্ত্রীর চার শাখার মাঝে বসে তার সাথে সহবাসের চেষ্টা করে, তখন গোসল ওয়াজিব হয়ে যায়।

192। ইবরাহীম ইবনু ইয়াকূব ইবনু ইসহাক আল-জুযাজানী (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন কেউ স্ত্রীর চার শাখার* মাঝে বসে তার সাথে সঙ্গমের চেষ্টা চালায়, তখন গোসল ওয়াজিব হয়ে যায়। আবূ আবদুর রহমান বলেন, আশআস হাসান সুত্রে আবূ হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, ইবনু সীরিন সুত্রে নয়। হাদিসটি খালেদের ন্যায় নাযর ইবনু শুমাইল এবং অন্যরাও শু'বাহ হতে বর্ণনা করেছেন।

193। কুতায়বা ইবনু সাঈদ ও আলী ইবনু হুজুর (রহঃ) ... আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি এমন ছিলাম যে, আমার অধিক মযী নির্গত হত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ যখন তুমি মযী দেখবে, তখন তোমার পুরুষাঙ্গ ধৌত করবে এবং সালাত (নামায/নামাজ)-এর ন্যায় উযূ (ওজু/অজু/অযু) করবে। আর যখন বীর্য নির্গত হয়, তখন গোসল করবে।

194। উবায়দুল্লাহ ইবনু সাঈদ ও ইসহাক ইবনু ইব্রাহীম (রহঃ) ... আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমার অত্যধিক মযী নির্গত হত, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলাম,* তখন তিনি আমাকে বললেনঃ যখন তুমি মযী দেখতে পাও, তখন তোমার পুরুষাঙ্গ ধৌত করো এবং উযূ (ওজু/অজু/অযু) করো। আর যখন বীর্যের ফোঁটা দেখতে পাবে, তখন গোসল করবে।

195। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। পুরুষের ন্যায় মহিলার স্বপ্ন দেখা সম্পর্কে উম্মে সুলায়ম (রাঃ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেনঃ বীর্য নির্গত হলে গোসল করবে।

196। কাসির ইবনু উবায়দ (রহঃ) ... উরওয়া (রহঃ) থেকে বর্ণিত। আয়িশা (রাঃ) তাঁকে সংবাদ দিলেন যে, উম্মু সুলায়মান রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে কথা বলেছিলেন তখন আয়িশা (রাঃ) উপবিষ্ট ছিলেন। উম্মে সুলায়মান বললেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আল্লাহ সত্যের ব্যাপারে লজ্জা করেন না, আমাকে বলুন, কোন নারী যদি স্বপ্নে এমন কিছু দেখে যা পুরুষ দেখে থাকে, এতে কি তারও গোসল করতে হবে? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ হ্যাঁ। আয়িশা (রাঃ) বলেনঃ আমি তাঁকে বললাম, ধিক তোমায়! নারীও কি তা দেখে? তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার দিকে লক্ষ্য করে বললেনঃ তোমার হাত ধুলো-মলিন হোক, তা না হলে সন্তান মাতার মত হয় কি করে?

197। শু’য়াইব ইবনু ইউনুস (রহঃ) ... উম্মে সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ জনৈক মহিলা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বললেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আল্লাহ সত্যের ব্যাপারে লজ্জা করেন না, আমাকে বলুন, কোন নারী যদি স্বপ্নে এমন কিছু দেখে যা পুরুষ দেখে থাকে, এতে কি তারও গোসল ওয়াজিব হয়? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, যখন সে বীর্য দেখবে। এতে উম্মু সালামা হেসে দিলেন, তিনি বললেনঃ নারীরও কি স্বপ্নদোষ হয়? তখনরাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তা না হলে সন্তান মায়ের সদৃশ হয় কিরূপে?

198। ইউসুফ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... খাওলা বিনতে হাকীম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এমন নারীর কথা জিজ্ঞাসা করলাম যার স্বপ্নদোষ হয়। তিনি বললেনঃ যখন সে বীর্য দেখবে, তখন গোসল করবে।

199। আবদুল জব্বার ইবনু আ’লা (রহঃ) .... আবূ আইয়্যুব (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেনঃ পানির ব্যবহার পানির কারণেই অপরিহার্য হয়। (অর্থাৎ বীর্যপাত হলেই গোসল করতে হয়।)

200। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পুরুষের বীর্য গাঢ় সা’দা বর্ণের এবং নারীর বীর্য পাতলা হলদে বর্ণের। এতদুভয়ের যেটই পূর্বে নির্গত হয় সন্তান তার সদৃশ হয়ে থাকে।

201। ইমরান ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) ... কুরায়শ বংশের আসা’দ গোত্রের ফাতিমা বিনতে কায়েস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসুলুল্লাহ এর নিকট এসে উল্লেখ করলেন যে, তার অতিরিক্ত রক্তস্রাব হয়। তার ধারণা যে, রাসুলুল্লাহ তাঁকে বলেছেন যে, তা একটি শিরার* রক্ত মাত্র। অতএব যখন হায়য আরম্ভ হয় তখন সালাত (নামায/নামাজ) ছেড়ে দিবে- আর যখন হায়যের মেয়াদ অতিবাহিত হয়, তখন রক্ত ধৌত করবে তারপর সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবে।

202। হিশাম ইবনু আম্মার (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যখন হায়য আরম্ভ হয় তখন সালাত (নামায/নামাজ) ছেড়ে দিবে আর যখন তা বন্ধ হয়ে যায় (অর্থাৎ যখন তা অতিবাহিত হয়) তখন গোসল করবে।

203। ইমরান ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ উম্মে হাবীবাহ বিনতে জাহশ সাত বছর ইস্তেহাযায় ভুগেছিলেন। তিনি এ ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে অবহিত করলেন। রাসুলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এটা হায়য নয় বরং এটা একটা শিরার রক্ত মাত্র। অতএব, তুমি গোসল কর এবং সালাত (নামায/নামাজ) আদায় কর।

204। রবী ইবনু সুলায়মান (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আবদুর রহমান ইবনু আওফ (রাঃ) এর স্ত্রী উম্মে হাবীবা বিনতু জাহশ (রাঃ) যিনি ছিলেন উম্মুল মুমেনীন যয়নব বিনত জাহশ (রাঃ) এর বোন- ইস্তিহাযায় আক্রান্ত ছিলেন। আয়িশা (রাঃ) বলেনঃ তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এ বিষয়ে ফতোওয়া জিজ্ঞাসা করলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেনঃ এটা হায়য নয়। এটা একটা শিরার রক্ত মাত্র। অতএব যখন হায়য বন্ধ হয়ে যায়, তখন গোসল করবে এবং সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবে। আবার যখন হায়য আরম্ভ হবে, তখন সালাত ছেড়ে দিবে। আয়িশা (রাঃ) বলেনঃ এরপর তিনি প্রত্যেক সালাতের জন্য গোসল করতেন এবং সালাত আদায় করতেন। কোন কোন সময় তিনি তাঁর বোন যয়নবের কক্ষে যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট থাকতেন, একটি বড় গামলায় গোসল করতেন। এমনকি রক্তের লাল রং পানির উপর উঠে আসত। তারপর তিনি বের হতেন এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সালাত শরীক হতেন। এটা তাঁকে সালাত বাধা প্রদান করত না।

205। মুহাম্মদ ইবনু সালামা (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আবদুর রহমান ইবনু আউফ (রাঃ) এর স্ত্রী রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শ্যালিকা উম্মে হাবীবা (রাঃ) সাত বছর যাবৎ ইস্তিহাযায় ভুগছিলেন। এ ব্যাপারে তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট ফতওয়া জিজ্ঞাসা করলে রাসুলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এটা হায়য নয়, বর এটা একটা শিরার রক্ত। অতএব তুমি গোসল কর এবং সালাত (নামায/নামাজ) আদায় কর।

206। কুতায়বা (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ উম্মে হাবীবা বিনতে জাহ্‌শ (রাঃ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট ফতোওয়া জিজ্ঞাসা করতে গিয়ে বললেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি ইস্তিহাযায় আক্রান্ত। তিনি বললেনঃ এটা একটা শিরার রক্ত মাত্র। অতএব তুমি গোসল কর এবং সালাত (নামায/নামাজ) আদায় কর। এরপর উম্মে হাবীবা প্রত্যেক সালাত (নামায/নামাজ)-এর জন্য গোসল করতেন।

207। কুতায়বা (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। উম্মে হাবীবা (রাঃ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে (ইস্তিহাযার) রক্ত প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করলেন। আয়িশা (রাঃ) বলেনঃ আমি তাঁর টব রক্তে পূর্ণ দেখেছি। রাসুলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেনঃ তোমার হায়য যতদিন তোমাকে সালাত (নামায/নামাজ) হতে বিরত রাখবে, ততদিন বিরত থাক, তারপর গোসল কর।

208। কুতায়বা (রহঃ) ... উম্মে সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ এর সময়ে জনৈকা মহিলার সর্বদা রক্তক্ষরণ হচ্ছিল, উম্মে সালামা তার এ ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে প্রশ্ন করলেন। রাসুলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ (রক্তস্রাব বন্ধ না হওয়ার) যে রোগে সে আক্রান্ত, সে রোগ হওয়ার পূর্বে প্রত্যেক মাসে কত দিন কত রাত হায়য আসত সে তার প্রতি লক্ষ্য রাখবে। মাসের সেই দিন ও রাত্রিগুলোতে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবে না। তারপর সে দিনগুলো অতিবাহিত হলে সে গোসল করবে ও লজ্জাস্থান কাপড় দিয়ে বেঁধে নিবে এবং সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবে। সহিহ।

209। রবী ইবনু সুলায়মান (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। উম্মে হাবীবা বিনতে জাহশ যিনি আবদুর রহমান ইবনু আউফের সহধর্মিণী ছিলেন – ইস্তিহাযায় আক্রান্ত হলেন যা অবিরাম চলতে লাগল। তাঁর এ অবস্থা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উল্লেখ করা হলে তিনি বললেনঃ তা হায়য নয়, বরং তা জরায়ুর স্পন্দন মাত্র। অতএব সে যেন হায়যের মুদ্দতের প্রতি লক্ষ্য রাখে এবং সে দিনগুলোতে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় থেকে বিরত থাকে, হায়যের মুদ্দত অতিবাহিত হলে সে যেন প্রত্যেক সালাতের জন্য গোসল করে।

210। মুহাম্মদ ইবনু মূসান্না (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। উম্মে হাবীবা বিনতে জাহশ (রাঃ) সাত বছর ইস্তিহাযায় আক্রান্ত ছিলেন। তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেনঃ এটা হায়য নয়, বরং একটি শিরা মাত্র (যা থেকে রক্ত নির্গত হয়)। অতএব তিনি তার হায়যের মুদ্দত পরিমাণ সালাত (নামায/নামাজ) ত্যাগ করতে আদেশ দিলেন। তারপর গোসল করতে ও সালাত আদায় করতে বললেন। এরপর তিনি প্রত্যেক সালাতের জন্য গোসল করতেন।

211। ঈসা ইবনু হাম্মাদ (রহঃ) ... উরওয়াহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। ফাতিমা বিনতে আবূ হুবায়শ (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, তিনি রাসুলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে তাঁর রক্তক্ষরণ জনিত সমস্যার কথা জানালেন। রাসুলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেনঃ এটা একটি শিরা মাত্র (যা হতে রক্ত নির্গত হয়)। অতএব লক্ষ্য রাখবে যখন তোমার হায়য উপস্থিত হয়, তখন সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করা হতে বিরত থাকবে। আর যখন তোমার হায়য অতিবাহিত হয় এবং তুমি পবিত্র হও, তখন তুমি সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবে এবং এক হায়য থেকে অন্য হায়যের মধ্যবর্তী সময় পর্যন্ত। এ হাদীস হতে বুঝা যায়, (الأَقْرَاءَ) ‘আকরা’ এখানে হায়য অর্থেই ব্যবহৃত হয়। আবূ আবদুর রহমান বলেনঃ হিশাম ইবনু উরওয়া (রহঃ) এ হাদীসটি উরওয়া থেকে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু মুনযীর (রাবী) তাতে এ (হায়য) সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছেন তা তিনি উল্লেখ করেন নি।

212। ইসহাক ইবনু ইব্রাহীম (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন ফাতিমা বিনতে আবী হুবায়শ (রাঃ) রাসুলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললেনঃ আমি একজন ইস্তিহাযা আক্রান্ত মহিলা; আমি পাক হই না। এমতাবস্থায় আমি কি সালাত (নামায/নামাজ) ত্যাগ করব? তিনি বললেনঃ না। এটা হায়য নয়। এটা একটা শিরার রক্ত মাত্র। যখন তোমার হায়য আরম্ভ হবে তখন সালাত (নামায/নামাজ) ছেড়ে দিবে। যখন তা অতিবাহিত হয় তখন রক্ত ধুয়ে সালাত আদায় করবে।

213। মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময় একজন ইস্তিহাযাগ্রস্ত নারীকে বলা হয়েছিল যে, এটা একটা শিরামাত্র যার রক্ত বন্ধ হয় না। তাকে আদেশ করা হয়েছিল, সে যেন যোহর সালাতকে পিছিয়ে শেষ ওয়াক্তে এবং আসর সালাতকে প্রথম ওয়াক্তে আদায় করে এবং উভয় সালাত (নামায/নামাজ)-এর জন্য একবারই গোসল করে এবং মাগরিবকে শেষ ওয়াক্তে এবং ঈশাকে প্রথম ওয়াক্তে আদায় করে এবং এ দুই সালাত (নামায/নামাজ)-এর জন্য একবারই গোসল করে। আর ফজরের সালাত এর জন্য একবার গোসল করে।

214। মুহাম্মদ ইবনু কুদামাহ (রহঃ) ... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি আসমা বিনতে উমায়স (রাঃ) এর হাদীসে বর্ণনা করেন যে, তিনি যখন যুল হুলায়ফা নামক স্থানে নিফাসগ্রস্ত হলেন, তখন রাসুলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বকর (রাঃ) কে বললেনঃ তাকে (আসমা বিনতে উমায়স) গোসল করে ইহরাম বাঁধতে বল।

215। মুহাম্মদ ইবনু মুসান্না (রহঃ) ... ফাতেমা বিনতে আবূ হুবায়শ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তাঁর ইস্তিহাযা হলে রাসুলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেনঃ যখন হায়যের রক্ত হয়, যা কাল রক্ত, চেনা যায়, তখন তুমি সালাত (নামায/নামাজ) থেকে বিরত থাকবে, আর যখন অন্য রক্ত হয় তখন উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে নিবে। কেননা তা একটি শিরামাত্র (যা হতে রক্ত নির্গত হয়)।

216। মুহাম্মদ ইবনু মূসান্না (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। ফাতেমা বিনতে আবূ হুবায়শ (রাঃ) এর ইস্তিহাযা হলে রাসুলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেনঃ হায়যের রক্ত কালো বর্ণের হয়ে থাকে যা সহজে চেনা যায়। যখন এ রক্ত দেখা দেবে তখন সালাত (নামায/নামাজ) থেকে বিরত থাকবে, আর যখন অন্য রক্ত দেখা দেবে তখন উযূ (ওজু/অজু/অযু) করবে এবং সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবে। আবূ আবদুর রহমান বলেন, এ হাদিসটি অনেকেই বর্ণনা করেছেন, তবে ইবনু আবী আদী যা উল্লেখ করেছেন, "হায়যের রক্ত কালো যা সহজে চেনা যায়" অন্য আর কেউ তা উল্লেখ করেননি। আল্লাহই ভাল জানেন।

217। ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব ইবনু আরাবী (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। ফাতিমা বিনত আবূ হুবায়শ (রাঃ) এর ইস্তিহাযা হলে তিনি রাসুলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলেনঃ ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমার ইস্তিহাযা হয়, অতএব আমি পাক হই না। এমতাবস্থায় আমি কি সালাত (নামায/নামাজ) ত্যাগ করব? রাসুলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এটা হায়য নয় (বরং এটা একটি শিরা মাত্র যা হতে রক্ত নির্গত হয়)। অতএব যখন হায়য দেখা দেয় তখন নামায পড়বে না। আর যখন হায়েয বন্ধ হবে তখন রক্তের চিহ্ন ধৌত করবে এবং ওযু করবে। কারণ এটি হায়েয নয়, বরং তা একটি সিরার রক্ত মাত্র। তাঁকে প্রশ্ন করা হলঃ হায়য বন্ধ হওয়ার পর কি গোসল করতে হবে? তিনি বললেনঃ এতে কারও সন্দেহ থাকতে পারেনা। আবূ আবদুর রহমান বলেন, হাম্মাদ ইবনু যাইদ ব্যতীত অন্য কেউ এ হাদিসে "তুমি ওযু করে নিবে" এ কথাটি উল্লেখ করেছেন বলে আমার জানা নেই। তিনি ব্যতিত আরও অনেকে এটি হিশাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তবে কেউই তুমি ওযু করে নেবে কথাটি উল্লেখ করেন নি।

218। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ ফাতিমা বিনতে আবূ হুবায়শ (রাঃ) রাসুলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বললেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি পবিত্র হই না, আমি কি নামায ত্যাগ করব? রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এটা একটা শিরামাত্র (যা হতে রক্ত নির্গত হয়), এটা হায়য নয়। যখন হায়য দেখা দিবে তখন সালাত (নামায/নামাজ) ত্যাগ করবে আর যখন হায়যের মুদ্দত অতিবাহিত হবে, তখন গোসল করে রক্ত দূর করবে এবং সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবে।

219। আবূল আশআছ (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আবূ হুবায়শের কন্যা বলেনঃ ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমি পাক হই না, অতএব আমি কি সালাত (নামায/নামাজ) ত্যাগ করব? তিনি বললেনঃ না, এটা একটা শিরামাত্র (যা হতে রক্ত নির্গত হয়)। খালিদ বললেনঃ আমি তার নিকট যা পাঠ করেছি তাহলো, তা হায়য নয়, অতএব যখন হায়য আসে তখন সালাত ছেড়ে দিবে আর যখন শেষ হয়ে যায় তখন গোসল করে সালাত আদায় করবে।

220। সুলায়মান ইবনু দা’ঊদ ও হারিস ইবনু মিসকীন (রহঃ) ... বুকায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত। আবূ সায়িব তাঁর নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আবূ হুরায়রা (রাঃ) কে বলতে শুনেছেন যে, রাসুলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন জানাবাত অবস্থায় বদ্ধ পানিতে গোসল না করে।

221। মুহাম্মদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু ইয়াযীদ মুকরী (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন বদ্ধ পানিতে পেশাব না করে, যাতে সে পরে গোসল করবে।

222। আমর ইবনু হিশাম (রহঃ) ... গুযায়ফ ইবনু হারিস (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আয়িশা (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করেন যে, রাসুলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের কোন অংশে গোসল করতেন? তিনি বললেনঃ কোন সময় তিনি রাতের প্রথমভাগে গোসল করতেন আর কোন কোন সময় রাতের শেষভাগে গোসল করতেন। আমি বললাম, সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর যিনি এই ব্যাপারে অবকাশ রেখেছেন।

223। ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব ইবনু আরাবী (রহঃ) ... গুযায়ফ ইবনু হারিস (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আয়িশা (রাঃ) এর নিকট গিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, রাসুলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের প্রথমভাগে গোসল করতেন না শেষভাগে? তিনি বললেনঃ সব রকমই করেছেন। কোন সময় রাতের প্রথমভাগে করেছেন আবার কোন সময় রাতের শেষভাগে করেছেন। আমি বললাম, সকল প্রশংসা আল্লাহ তায়ালার যিনি এ বিষয়ে অবকাশ রেখেছেন।

224। মুজাহিদ ইবনু মূসা (রহঃ) ... মুহিল ইবনু খলীফা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আবূস সামেহ (রাঃ) আমার নিকট বর্ণনা করেছেনঃ আমি রাসুলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমত করতাম। তিনি যখন গোসল করার ইচ্ছা করতেন, তখন বলতেনঃ তোমার পিঠটা আমার দিকে ঘুরিয়ে দাও। তখন আমি আমার পিঠ তাঁর দিকে ঘুরিয়ে দিতাম। এভাবে তাঁকে পর্দা করতাম।

225। ইয়াকুব ইবনু ইব্রাহীম (রহঃ) ... উম্মে হানী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি মক্কা বিজয়ের দিন রাসুলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গিয়ে দেখলেন, তিনি গোসল করছেন আর ফাতিমা (রাঃ) তাঁকে একখানা কাপড় দিয়ে পর্দা করে আছেন। তিনি তাঁকে সালাম করলেন, তিনি বললেন ইনি কে? আমি বললামঃ ‘আমি উম্মে হানী’। তিনি গোসল শেষ করলেন এবং পরে একখানা কাপড় জড়িয়ে আট রাকাত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন।

226। মুহাম্মদ ইবনু উবায়দ (রহঃ) ... মূসা জুহানী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ মুজাহিদ (রহঃ) এর নিকট একটি পেয়ালা আনা হল, আমার অনুমান তাতে আট রতল* পানি হবে। পরে তিনি বললেনঃ আমাকে আয়িশা (রাঃ) বর্ণনা করেছেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ পরিমাণ পানি দ্বারা গোসল করতেন।

227। মুহাম্মদ ইবনু আবদুল আ’লা (রহঃ) ... আবূ বকর ইবনু হাফস (রহঃ) থেকে বর্ণিত। আমি আবূ সালামাকে বলতে শুনেছি, আমি এবং আয়িশা (রাঃ) এর দুধভাই তাঁর নিকট গেলাম। তাঁর ভাই রাসুলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর গোসল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তখন তিনি এমন একটি পাত্র আনলেন যাতে এক সা’ পরিমাণ পানি ছিল। তারপর তিনি যথাযথ পর্দা করে গোসল করলেন এবং তাঁর মাথায় তিনবার পানি ঢাললেন।

228। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন এক পানির পাত্রে গোসল করতেন যার নাম ফারাক (যাতে ষোল রতল পানি ধরত) আর আমি এবং তিনি একই পাত্রে গোসল করতাম।

229। সুওয়ায়দ ইবনু নাসর (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু জাবর (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) কে বলতে শুনেছি যে, রাসুলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মাককূক[1] দ্বারা উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতেন এবং গোসল করতেন পাঁচ মাককূক দ্বারা।

230। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আবূ জাফর (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমর জাবির ইবনু আবদুল্লাহর সম্মুখে গোসলের ব্যাপারে সন্দেহে পতিত হলাম। তখন জাবির (রাঃ) বললেনঃ জানাবাতের গোসলে এক সা’ পানই যথেষ্ট। আমরা বললাম এক সা’ বা দুই সা’ কোনরূপেই যথেষ্ট নয়। জাবির বললেনঃ তোমাদের থেকে উত্তম ও অধিক কেশযুক্ত ব্যাক্তির (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জন্য তা যথেষ্ট হতো।

231। সুওয়ায়দ ইবনু নাসর ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি এবং রাসুলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই পাত্র থেকে গোসল করতাম আর সে পাত্র ছিল ফারাক (ষোল রতল পরিমাণের একটি পাত্র)।

232। সুওয়ায়দ ইবনু নাসর ও কুতায়বা (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আমি একই পাত্র থেকে গোসল করতাম। আমরা অঞ্জলিপূর্ণ করে তা থেকে একই সময়ে পানি নিতাম।

233। মুহাম্মদ ইবনু আবদুল আ’লা (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই পাত্র থেকে নাপাকির গোসল করতাম।

234। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার স্মরণ আছে, আমি এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে পাত্র থেকে গোসল করতাম সে পাত্র নিয়ে আমি ও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাড়াকাড়ি করতাম।

235। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি এবং রাসুলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই পাত্র থেকে গোসল করতাম।

236। ইয়াহইয়া ইবনু মূসা (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমাকে আমার খালা (উম্মুল মুমেনীন) মায়মূনা (রাঃ) সংবাদ দিয়েছেন, তিনি এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই পাত্র থেকে গোসল করতেন।

237। সুওয়ায়দ ইবনু নাসর (রহঃ) ... আবদুর রহমান ইবনু হুরমূয আল আ'রাজ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমাকে উম্মে সালামার আযাদকৃত গোলাম না’য়িম বর্ণনা করেছেন যে, উম্মে সালামা (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করা হল, স্ত্রী কি পুরুষের সাথে গোসল করতে পারবে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, করতে পারে যখন স্ত্রী বুদ্ধিমতী হয়। আমার স্মরণ আছে, আমি এবং রাসুলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই গামলা থেকে গোসল করতাম। আমরা আমাদের উভয় হাতে পানি ঢালতাম এবং তা ধুইতাম পরে তার উপর পানিও ঢালতাম। আ’রাজ (রহঃ) ‘বুদ্ধিমতী’ এর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বলেনঃ যে লজ্জাস্থানের উল্লেখ করেন না এবং নির্বোধ মহিলার ন্যায় আচরণ করেন না।

238। কুতায়বা (রহঃ) ... হুমায়দ ইবনু আবদুর রহমান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি সাক্ষাত লাভ করেছি এমন এক ব্যাক্তির যিনি চার বৎসর রাসুলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহচর্য লাভ করেছিলেন যেরূপ আবূ হুরায়রা (রাঃ) তাঁর সহচর্য লাভ করেছেন। তিনি বলেছেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের প্রতিদিন মাথা আঁচড়াতে এবং গোসলের স্থানে পেশাব করতে না করেছেন আর স্ত্রীর উদ্বৃত্ত পানি দ্বারা পুরুষের এবং পুরুষের উদ্বৃত্ত পানি দ্বারা স্ত্রীর গোসল করতে এবং তাদের একত্রে অঞ্জলি দিয়ে পানি নিতেও নিষেধ করেছেন।

239। মুহাম্মদ ইবনু বাশশার ও সুওয়ায়দ ইবনু নাসর (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই পাত্র থেকে গোসল করতাম। তিনি আমার পূর্বে পানি নেওয়ার জন্য তাড়াতাড়ি করতেন, আমি তার পূর্বে নেয়ার জন্য তাড়াহুড়া করতাম। এমনকি তিনি বলতেন আমার জন্য রাখ, আর আমি বলতাম, আমার জন্য রাখুন। সুওয়ায়দ (রহঃ) বলেন, আয়িশা (রাঃ) বলেছেনঃ তিনি আমার পূর্বে ও আমি তাঁর পূর্বে পানি নেয়ার চেষ্টা করতাম। এক পর্যায়ে আমি বলতাম, আমার জন্য রাখুন, আমার জন্য রাখুন।

240। মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... উম্মে হানী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও মায়মূনা (রাঃ) একই পাত্রে গোসল করেছেন, তা এমন পাত্র ছিল যাতে আটার খামিরের চিহ্ন ছিল।

241। সুলায়মান ইবনু মানসূর (রহঃ) ... নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী উম্মে সালমা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি শক্ত করে বেণী করি। আমি কি আমার জানাবাতের সময় তা ধোয়ার জন্য খুলে ফেলব? তিনি বললেনঃ তুমি তোমার মাথায় তিন অঞ্জলি পানি দিয়ে পরে তোমার শরীরে পানি ঢালবে।

242। ইউনুস ইবনু আবদুল আ’লা (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা বিদায় হাজ্জের (হজ্জের) বছর রাসুলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে বের হলাম, তারপর আমি উমরার ইহরাম বাঁধলাম। আর আমি হায়য অবস্থায় মক্কায় উপস্থিত হলাম। ফলে আমি কা’বাঘরের ও সাফা-মারওয়ার তাওয়াফ করতে পারলাম না। আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এ ব্যাপারে মনঃকষ্টের কথা জানালাম। তিনি বললেনঃ তুমি তোমার মাথার চুল খুলে ফেল ও মাথা আঁচড়াও, হাজ্জের (হজ্জের) ইহরাম বাঁধ, উমরার নিয়্যাত ছাড়। আমি তাই করলাম। তারপর যখন আমরা হাজ্জের (হজ্জের) কাজ সমাপ্ত করলাম, তিনি আমাকে আবদুর রহমান ইবনু আবূ বকরের সাথে তানঈমে পাঠালেন। তখন আমি উমরা করলাম। তিনি বললেনঃ এ-ই তোমার উমরার স্থান। আবূ আবদুর রহমান বলেনঃ এ হাদীসটি গরীব, কারণ মালিক থেকে আশহাব ভিন্ন আর কেউ এটি বর্ণনা করেন নি।

243। আহমদ ইবনু সুলায়মান (রহঃ) ... আবূ সালামা ইবনু আবদুর রহমান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আয়িশা (রাঃ) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন জানাবাতের গোসল করতেন, তাঁর জন্য পানি রাখা হত, তখন তিনি তাঁর হাতদ্বয়কে পাত্রে ঢুকাবার পূর্বে তাঁর উপর পানি ঢেলে নিতেন। তারপর যখন উভয় হাত ধুয়ে নিতেন তখন তিনি নিজ ডান হাত পাত্রে ঢুকাতেন। তারপর ডান হাত ধৌত করতেন আর বাম হাতে তাঁর লজ্জাস্থান ধৌত করতেন। এ কাজ শেষ করার পর তিনি ডান হাতে বাম হাতের উপর পানি ঢালতেন। এভাবে উভয় হাত ধুয়ে ফেলতেন। তারপর তিনি তিন বার কুলি করতেন এবং নাকে পানি দিতেন। তারপর উভয় হাতের তালুভরে মাথায় তিনবার পানি ঢালতেন। তারপর দেহে পানি ঢালতেন।

244। আহমদ ইবনু সুলাইমান (রহঃ) ... আবূ সালমা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আয়িশা (রাঃ) কে জানাবাতের গোসল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছিলাম। তিনি বললেনঃ রাসুলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনবার হাতে পানি ঢালতেন, তারপর লজ্জাস্থান ধুতেন। তারপর উভয় হাত ধুতেন, পরে কুলি করতেন এবং নাকে পানি দিতেন। তারপর মাথার উপর তিনবার পানি ঢালতেন। এরপর তার সমস্ত শরীরের উপর পানি ঢালতেন।

245। মাহমূদ ইবনু গায়লান (রহঃ) ... আতা ইবনু সায়িব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আবূ সালামাহ (রাঃ) কে বলতে শুনেছি যে, তিনি আয়িশা (রাঃ) এর নিকট গিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জানাবাতের গোসল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। উত্তরে তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট পানির পাত্র আনা হলে নিজ হাত তিনবার পানি ঢেলে ধৌত করেন। তারপর তিনি ডান হাত দ্বারা বাম হাতে পানি ঢালতেন। সে পানি দ্বারা উভয় উরু ধৌত করতেন। পরে উভয় হাত ধৌত করতেন, কুলি করতেন এবং নাক পরিষ্কার করতেন। এরপর মাথায় তিনবার পানি ঢালতেন। এরপর সমস্ত শরীরে পানি ঢালতেন।

246। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আবূ সালামাহ ইবনু আবদুর রহমান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আয়িশা (রাঃ) রাসুলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জানাবাতের গোসলের বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেন যে, তিনি উভয় হাত তিনবার ধৌত করতেন এবং যে সকল স্থানে নাপাকী লেগেছে তা ধুতেন। উমর ইবনু যায়িদ বলেনঃ আমি তাঁকে [বর্ণনাকারী ‘আতা ইবনু সায়িব (রহঃ) কে] এ ব্যতীত আর কিছু বলতে শুনিনি। তিনি বলেছেন যে, তিনি ডান হাতে বাম হাতের উপর তিন বার পানি ঢালতেন এবং তিনবার কুলি করতেন। আর তিনবার নাকে পানি দিতেন আর তাঁর চেহারা ও দু’হাত তিন বার ধুয়ে ফেলতেন। তারপর মাথায় তিনবার পানি ঢালতেন। পরিশেষে তাঁর সর্বাঙ্গে পানি ঢালতেন।

247। কুতায়বা (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন জানাবাতের গোসল করতেন তখন উভয় হাত ধোয়ার মাধ্যমে আরম্ভ করতেন। তারপর সালাতের উযূর মত উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতেন। তারপর আঙ্গুলসমূহ পানিতে ডুবিয়ে তদ্বারা তাঁর চুলের গোড়া খিলাল করতেন। পরে মাথায় তিন অঞ্জলি পানি দিতেন। এরপর সর্বাঙ্গে পানি ঢালতেন।

248। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... উরওয়াহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আয়িশা (রাঃ) রাসুলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জানাবাতের গোসল সম্পর্কে আমাকে বলেছেন যে, তিনি উভয় হাত ধৌত করতেন, উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতেন এবং মাথায় খিলাল করতেন, যেন পানি তাঁর চুলের গোড়া পর্যন্ত পৌছে, তারপর সমস্ত শরীরে পানি ঢালতেন।

249। মুহাম্মদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মাথায় (খিলালের মাধ্যমে) পানি পৌঁছাতেন তারপর মাথায় তিন অঞ্জলি পানি ঢালতেন।

250। কুতায়বা (রহঃ) ... জুবায়র ইবনু মুতঈম (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে সাহাবীগণ গোসল সম্বন্ধে বিতর্কে লিপ্ত হলেন। তাদের কেউ বললেনঃ আমি এভাবে গোসল করি, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কিন্তু আমি আমার মাথায় তিন অঞ্জলি পানি ঢালি।

251। আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ ইবনু আবদূর রহমান (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক মহিলা তার হায়যের গোসল সম্বন্ধে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট জিজ্ঞাসা করল। তিনি তাকে কিভাবে গোসল করতে হবে তা বললেন। তারপর বললেনঃ মিশ্‌ক মিশ্রিত একখণ্ড তুলা নিয়ে তা দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করবে। সে বলল, তা দ্বারা কিভাবে পরিত্র হব? তখন রাসুলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম [লজ্জায়] এভাবে মুখ ঢাকলেন [বর্ণনাকারী নিজ মুখ ঢেকে দেখালেন] এবং বললেনঃ সুবহানাল্লাহ! তা দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করবে। আয়িশা (রাঃ) বলেনঃ তখন আমি ঐ মহিলাকে টেনে নিলাম এবং বললাম, এটা যেখানে রক্তের চিহ্ন আছে সেখানে লাগাবে।

252। আহমদ ইবনু উসমান ইবনু হাকীম ও আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোসলের পর উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতেন না।

253। আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমার খালা মায়মুনা (রাঃ) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জানাবাতের গোসলের সময় তার কাছে পানি এগিয়ে দিলাম। তিনি দু’বার কি তিনবার উভয় হাত (কব্জি পর্যন্ত) ধুলেন, তারপর তাঁর ডান হাত পাত্রে ঢুকালেন। ঐ হাতে তাঁর লজ্জাস্থানে পানি ঢাললেন এবং বাম হাতে তা ধুলেন। তারপর বাম হাত মাটিতে রেখে তা উত্তমরূপে ঘষলেন। তারপর সালাতের উযূর ন্যায় উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলেন। এরপর অঞ্জলিভরে তিন অঞ্জলি পানি মাথায় ঢাললেন। তারপর সমস্ত শরীর ধৌত করলেন। এরপর গোসলের স্থান হতে সরে উভয় পা ধৌত করলেন। পরিশেষে আমি তাঁর নিকট রুমাল নিয়ে গেলে তিনি তা ফিরিয়ে দিলেন।

254। মুহাম্মদ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোসল করার পর তাঁর নিকট রুমাল আনা হল, কিন্তু তিনি তা স্পর্শ করলেন না এবং এরুপে পানি ঝেড়ে ফেলতে লাগলেন।

255। হুমায়দ ইবনু মাসআদাহ ও আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানাবাত অবস্থায় যখন আহার করতে অথবা নিদ্রা যেতে ইচ্ছা করতেন তখন তিনি উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতেন। আমর তাঁর বর্ণনায় বলেছেন, সালাতের উযূর মত উযূ।

256। মুহাম্মদ ইবনু উবায়দ (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানাবাত অবস্থায় নিদ্রার ইচ্ছা করলে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতেন আর আহার করার ইচ্ছা করলে উভয় হাত ধৌত করতেন।

257। সুওয়ায়দ ইবনু নাসর (রহঃ) ... আবূ সালামা (রহঃ) থেকে বর্ণিত, আয়িশা (রাঃ) বলেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানাবাত অবস্থায় নিদ্রার ইচ্ছা করলে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতেন। আর যখন পানাহারের ইচ্ছা করতেন, তখন উভয় হাত ধুতেন, তারপর পানাহার করতেন।

258। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানাবাত অবস্থায় নিদ্রার ইচ্ছা করলে নিদ্রা যাওয়ার পূর্বে সালাতের ন্যায় উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতেন।

259। কুতায়বা (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমর (রাঃ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উল্লেখ করলেন যে, রাতে তিনি জানাবাতগ্রস্থ হন (এরপর ঘুমাতে চাইলে কি করবেন?) তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এরুপ হলে তুমি উযূ (ওজু/অজু/অযু) করবে এবং লজ্জাস্থান ধৌত করবে, তারপর ঘুমাবে।

261। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও উবায়দুল্লাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আলী (রাঃ) সুত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে ঘরে ছবি, ককুর বা জুনুব ব্যাক্তি থাকে, সে ঘরে ফেরেশতা প্রবেশ করে না।

262। হুসায়ন ইবনু হুরায়স (রহঃ) ... আবূ সাঈদ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেনঃ তোমাদের কেউ পুনঃ সহবাস করতে চাইলে সে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে নেবে।

263। ইসহাক ইবনু ইবরাহিম ও ইয়াকুব ইবনু ইবরাহিম (রহঃ) ... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই গোসলে একরাতে তাঁর সকল সহধর্মীণীর নিকট গমন করেছেন।

264। মুহাম্মদ ইবনু উবায়দ (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই গোসলে সকল স্ত্রীর নিকট গমন করতেন।

265। আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এবং অন্য দু’ব্যাক্তি আলী (রাঃ) এর নিকট গেলাম। তখন তিনি বললেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শৌচাগার হতে বের হয়ে কুরআন পড়তেন এবং আমাদের সাথে গোশত খেতেন। জানাবাত অবস্থা ব্যাতিত তাকে কোন কিছুই কোরআন পাঠ হতে বিরত রাখত না।

266। মুহাম্মদ ইবনু আহমদ আবূ ইউসুফ সায়দালানী আর-রিক্কি (রহঃ) ... আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানাবাতের অবস্থা ব্যাতিত সর্বাবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত করতেন।

267। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... হুযায়ফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখনই তাঁর সাহাবীগণের কারো সাথে সাক্ষাত করতেন, তাঁর সাথে মূসাফাহা করতেন এবং তাঁর জন্য দোয়া করতেন। হুযায়ফা বলেন, একদিন ভোরে আমি তাঁর দেখা পেলাম। তাকে দেখে আমি দূরে সরে গেলাম। তারপর যখন কিছু বেলা হল, আমি তাঁর নিকট এলাম। তিনি বললেনঃ আমি তোমাকে দেখলাম, তারপর তুমি আমার থেকে দূরে সরে গেলে? আমি বললাম, আমি জুনুব অবস্থায় ছিলাম। আমার ভয় হল, এমতাবস্থায় আপনি আমাকে স্পর্শ করে না বসেন। এ কথা শুনে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ মুসলিম নাপাক হয় না।

268। ইসহাক ইবনু মানসুর (রহঃ) ... হুযায়ফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তাঁর জানাবাত অবস্থায় তাঁর সঙ্গে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দেখা হল। (হুযায়ফা বলেন) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার দিকে আসছেন দেখে আমি বললাম, আমি জানাবাত অবস্থায় আছি। তিনি [রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেনঃ মুসলিম নাপাক হয় না।

269। হুমায়দ ইবনু মাসআদাহ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তাঁর সাথে মদিনার এক রাস্তায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সাক্ষাত হল, তখন তিনি জানাবাত অবস্থায়। সেজন্য তিনি সন্তর্পণে সরে পড়লেন এবং গোসল করলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে আর দেখতে পেলেন না। যখন পুনরায় আসলেন তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, যে আবূ হুরায়রা! তুমি কোথায় ছিলে? তিনি বললেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার সাথে যখন আপনার সাক্ষাত হয়েছিল তখন আমি জানাবাত অবস্থায় ছিলাম। আমি গোসল করার পূর্বে আপনার সাথে বসাকে খারাপ মনে করলাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সুবহানাল্লাহ! মুমিন নাপাক হয় না।

270। মুহাম্মদ ইবনু মূসান্না (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে ছিলেন, হঠাৎ তিনি বললেনঃ হে আয়িশা আমাকে কাপড়টি দাও। তিনি [আয়িশা (রাঃ)] বললেনঃ আমি তো সালাত হতে বিরত আছি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হায়য তোমার হাতে নয়, পরে আয়িশা (রাঃ) তাঁকে কাপড় দিলেন।

271। কতায়বা ইবনু সাঈদ ও ইসহাক ইবনু ইবরাহিম (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, মসজিদ হতে আমাকে জায়নামাজটি এনে দাও। তিনি বললেন, আমি তো হায়য অবস্থায় আছি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হায়য তোমার হাতে নয়।

272। ইসহাক ইবনু ইবরাহিম (রহঃ) আবূ মু’আবিয়া (রহঃ) থেকে, তিনি আ’মাশ (রহঃ) থেকে এ সনদে অনুরূপ হাদিস বর্ণনা করেছেন।

273। মুহাম্মদ ইবনু মানসুর ... মানবুয (রহঃ) এর মা* থেকে বর্ণিত। মায়মুনা (রাঃ) বলেছেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ মাথা আমাদের কারো কোলে রেখে কোরআন তিলাওয়াত করতেন অথচ (যার কোলে মাথা রাখতেন) তিনি তখন ঋতুমতী। আর আমাদের কেউ ঋতুবতী অবস্থায় মসজিদে চাটাই বিছিয়ে দিতেন।

274। ইসহাক ইবনু ইবরাহিম ও আলী ইবনু হুজর (রহঃ) .... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমাদের ঋতুমতী কারো কোলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাথা রেখে কোরআন তিলাওয়াত করতেন।

275। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইতিকাফ অবস্থায় আমার দিকে তাঁর মাথা বের করে দিতেন আর আমি তা ধুয়ে দিতাম অথচ তখন আমি ঋতুমতী।

276। মুহাম্মদ ইবনু সালামা (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইতিকাফ অবস্থায় মসজিদ হতে তাঁর মাথা আমার দিকে বের করে দিতেন আর আমি তা ধুয়ে দিতাম, অথচ তখন আমি ঋতুমতী।

277। কুতায়বা ইবনু সা’ঈদ (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাথা আঁচড়ে দিতাম অথচ তখন আমি ঋতুমতী।

278। কুতায়বা ইবন সাঈদ ও আলী ইবন শুয়ায়ব (রহঃ) ... আইশা (রাঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে। (অর্থাৎ তিনি বলেনঃ আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাথা আঁচড়ে দিতাম অথচ তখন আমি ঋতুমতী।)

279। কুতায়বা (রহঃ) ... সুরাইয়া (রহঃ) থেকে বর্ণিত। আমি আয়িশা (রাঃ) কে প্রশ্ন করলামঃ হায়য অবস্থায় স্ত্রী কি তাঁর স্বামীর সঙ্গে খেতে পারে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ডাকতেন, আমি তাঁর সঙ্গে খেতাম অথচ আমি তখন ঋতুমতী। আর তিনি হাড় নিতেন এবং বলতেন, আল্লাহর কসম, তুমি আগে খাও। তারপর আমি তাঁর কিছু অংশ চিবাতাম এবং রেখে দিতাম। পরে তিনি তা নিয়ে চিবাতেন। হাড়টির ঐখানেই মুখ দিতেন যেখানে আমি মুখ দিয়েছিলাম। আর তিনি পানীয় আনিয়ে বলতেনঃ আল্লাহর কসম, তুমি এটি আগে পান কর। তখন আমি পাত্রটি নিয়ে তা থেকে পান করতাম এবং আমি রেখে দিলে তিনি উঠিয়ে তা থেকে পান করতেন। আর আমি পেয়ালার যেখানে মুখ দিয়েছিলাম তিনি সেখানেই মুখ দিতেন।

280। আইয়ুব ইবনু মুহাম্মদ ওয়াজ্জান (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে মুখ রাখতে যেখানে মুখ রেখে আমি পান করতাম। তিনি আমার ভুক্তাবশেষ (অবশিষ্ট অংশ) থেকে পান করতেন অথচ তখন আমি ঋতুমতী।

281। মুহাম্মদ ইবনু মানসুর (রহঃ) ... মিকদাম ইবনু সুরাইয়া তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেনঃ আমি আয়িশা (রাঃ) কে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে পাত্র দিতেন আমি তা থেকে পান করতাম অথচ তখন আমি ঋতুমতী। তারপর আমি তাকে সে পাত্র দিতাম আর তিনি আমার পান করার জায়গা তালাশ করে সে জায়গায় তাঁর মুখ রাখতেন।

282। মাহমুদ ইবনু গায়লান (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি হায়য অবস্থায় পাত্র থেকে পান করতাম এবং তা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দিতাম। আমি যেখানে মুখ রেখে পান করতাম তিনি সেখানে মুখ রাখতেন। আমি হায়য অবস্থায় হাড় চিবাতাম তারপর তা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দিতাম। আর তিনি আমার মুখ রাখার স্থানে মুখ রাখতেন।

283। ইসমাইল ইবনু মাসউদ (রহঃ) উবায়দুল্লাহ ইবনু সাঈদ ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... উম্মে সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে একই চাঁদরে শায়িত ছিলাম, হঠাৎ আমার হায়য দেখা দিল। আমি সরে পড়লাম এবং আমার হায়যের কাপড় পরিধান করলাম। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন তুমি কি ঋতুমতী হয়েছ? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি আমাকে ডাকলেন আর আমি তাঁর সঙ্গে একই চাঁদরে শয়ন করলাম।

284। মুহাম্মদ ইবনু মূসান্না (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই চাঁদরে রাত্রিযাপন করতাম অথচ তখন আমি ঋতুমতী। যদি আমার কোন কিছু তাঁর শরীরে লাগত, তখন তিনি ঐ স্থানই ধুয়ে নিতেন এবং এর বেশি ধুতেন না। আর এ অবস্থাতেই তিনি সালাত আদায় করতেন, আবার তিনি বিছানায় ফিরে আসতেন। যদি আমার কোন কিছু তার শরীরে লাগত, তবে তিনি শরীরের ঐ অংশটুকুই ধুতেন এর বেশী ধুতেন না। আর এ অবস্থাতেই তিনি নামায পড়তেন।

285। কুতায়বা (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমাদের কেউ ঋতুমতী অবস্থায় থাকলে রাসুলুল্লাহ তাকে ইযার (হায়যের কাপড়) পরার আদেশ দিতেন। তারপর তিনি তাঁর শরীরের সাথে শরীর লাগাতেন।

286। ইসহাক ইবনু ইবরাহিম (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমাদের কেউ ঋতুমতী থাকলে তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে তাঁর ইযার পরিধান করতে বলতেন। তারপর তিনি তাঁর শরীরে শরীর লাগাতেন।

287। হারিস ইবনু মিসকীন (রহঃ) ... মায়মুনা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কোন সহধর্মিণীর হায়য অবস্থায় যখন তাঁর পরনে ইযার থাকত যা হাঁটু ও রানের মধ্যস্থল পর্যন্ত পৌঁছে, তখন তিনি তাঁর শরীরে শরীর মেলাতেন। লায়সের হাদিসে আছে, তিনি (সহধর্মিণী) ঐ ইযার দ্বারা (দেহের মধ্যাংশ) আবৃত করতেন।

288। ইসহাক ইবনু ইবরাহিম (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ ইয়াহুদিদের স্ত্রীরা যখন ঋতুমতী হত তখন তারা তাদের সাথে একত্রে পানাহার করত না এবং তারা ঘরে তাদের সাথে একত্রে অবস্থানও করত না। অতএব সাহাবীগন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলেন।তখন আল্লাহ্‌ তা’য়ালা - وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ قُلْ هُوَ أَذًى আয়াতটি* নাযিল করলেন। তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের আদেশ করলেন তারা যেন তাদের স্ত্রীদের সাথে পানাহার করে ও ঘরে একত্রে অবস্থান করে এবং তাদের সাথে সহবাস ব্যাতিত আর সব কিছু করা বৈধ মনে করে। এতে ইয়াহুদিরা বলল, আমাদের রীতিনীতির কোনটিরই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিরোধিতা না করে ছাড়বেন না। উসায়দ ইবনু হুজায়র ও আব্বাদ ইবনু বিশর (রাঃ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গমন করে এ কথাটি জানালেন এবং প্রশ্ন করলেন, আমরা হায়য অবস্থায় স্ত্রীদের সাথে সহবাস করব কি? এতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চেহারা রক্তিম হয়ে গেল, তখন তারা ধারনা করলেন যে, তিনি রাগান্বিত হয়েছেন এবং উভয়েই সেখান থেকে প্রস্থান করলেন। ইত্যবসরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু হাদিয়ার দুধ গ্রহন করলেন। তখন তিনি সাহাবিদ্বয়-এর অনুসন্ধানে লোক পাঠালেন। তাদের দেকে আনা হল এবং উভয়কে তিনি দুধ পান করালেন। এতে জানা গেল যে, তাদের প্রতি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাগ করেন নি।

289। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে ঐ ব্যাক্তি সম্পর্কে বর্ণনা করেনঃ যে ব্যাক্তি হায়য অবস্থায় স্ত্রী সঙ্গম করে, সে এক দিনার অথবা অর্ধ দিনার সা’দকা করবে। সহিহ, ইবনু মাজাহ হাঃ ৬৪০, আদবুয যিফাফ

290। ইসহাক ইবনু ইবরাহিম (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে হাজ্জের (হজ্জ) নিয়তে বের হলাম। যখন আমরা সারিফ নামক স্থানে পৌঁছলাম, আমার হায়য আসল। তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট আসলেন, তখন আমি কাঁদছিলাম। তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার কি হল? তোমার কি হায়য হয়েছে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ এ এমন একটি ব্যাপার যা আল্লাহ্‌ তা’আলা আদম কন্যাদের জন্য অবধারিত করেছেন। অতএব তুমি হাজ্জের (হজ্জ) সকল আহকাম আদায় কর তবে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করবে না। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সহধর্মিণীদের পক্ষ থেকে গরু কুরবানী দিলেন।

291। আমর ইবনু আলী, মুহাম্মদ ইবনু মূসান্না ও ইয়াকুব ইবনু ইবরাহিম (রহঃ) ... জাফর ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমাকে আমার পিতা বলেছেন, আমরা জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) এর নিকট গমন করে তাঁকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিদায় হাজ্জ (হজ্জ) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যূলকা’দ মাসের পাঁচ দ্বীন অবশিষ্ট থাকতে হাজ্জের (হজ্জ) উদ্দেশ্য বের হলেন। আমরাও তাঁর সাথে বের হলাম। যখন তিনি যুল-হুলায়ফা পৌঁছলেন, তখন আসমা বিনতে উমায়স (রাঃ) মুহাম্মদ ইবনু আবূ বকরকে প্রসব করলেন। তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট জিজ্ঞাসা করে পাঠালেনঃ আমি এখন কি করব? তিনি বললেনঃ তুমি গোসল কর তারপর পট্টি পরে নাও এবং ইহরাম বাঁধ।

292। উবায়দুল্লাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আদী ইবনু দ্বীনার (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি উম্মে কায়স বিনত মিহসান (রাঃ) কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট হায়যের রক্ত লাগার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতে শুনেছি, তিনি বললেন, কাঠ দ্বারা তা ঘষে নেবে এবং কুলপাতা মিশ্রিত পানি দ্বারা ধুয়ে ফেলেবে।

293। ইয়াহিয়া ইবনু হাবীব ইবনু আরাবী (রহঃ) ... আসমা বিনত আবূ বকর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক মহিলা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট কাপড়ে লাগা হায়যের রক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেনঃ তা খুঁটবে, তারপর পানি দিয়ে রগড়াবে, তারপর তা ধুয়ে নেবে আর তাতেই সালাত আদায় করবে।

294। ঈসা ইবনু হাম্মাদ (রহঃ) ... মু’আবিয়া ইবনু আবূ সুফয়ান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী উম্মে হাবীবা (রাঃ) কে প্রশ্ন করলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে কাপড়ে সহবাস করতেন তাতে কি তিনি সালাত আদায় করতেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। যদি তাতে কোন নাপাকী না দেখতেন।

295। সুওয়ায়াদ ইবনু নাসর (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাপড় হতে জানাবাতের নাপাকী ধুইতাম, তারপর তিনি সালাতের জন্য বের হতেন অথচ পানির চিহ্ন তাঁর কাপড়ে বিদ্যমান থাকত।

296। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাপড় থেকে জানাবাতের নাপাকী ঘষে ফেলতাম। আর এক সময় বলেছেনঃ কাপড় থেকে বীর্য ঘষে ফেলতাম।

297। আমর ইবনু ইয়াজীদ (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেনঃ আমার মনে আছে যে, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাপড় থেকে জানাবাতের নাপাকী ঘষে ফেলার অতিরিক্ত কিছু করতাম না।

298। হুসায়ন ইবনু হুরায়স (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাপড় থেকে তা ঘষে ফেলতাম।

299। শুআয়ব ইবনু ইউসুফ (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমিই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাপড়ে তা দেখতাম আর তা ঘষে ফেলতাম।

300। কুতায়বা (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমার মনে পড়ে, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাপড় থেকে জানবাতের চিহ্ন ঘষে ফেলতাম।

301। মুহাম্মদ ইবনু কামিল মারওয়াযী (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার মনে পড়ে আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাপড় থেকে জানবাতের চিহ্ন ঘষে পরিষ্কার করতাম।

302। কুতায়বা (রহঃ) ... উম্মে কায়স বিনতে মিহসান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি খাদ্যগ্রহণ করেনি তার এমন একটি শিশুকে নিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে তার কোলে বসালেন, সে তার কাপড়ে প্রস্রাব করে দিল। তিনি কিছু পানি আনিয়ে কাপড়ে ঢেলে দিলেন, তা ধুলেন না।

303। কুতায়বা (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট একটি শিশু আনা হল। সে তার কোলে প্রস্রাব করে দিল। তিনি কিছু পানি আনালেন এবং তা প্রস্রাবের উপর ঢেলে দিলেন।

304। মুজাহিদ ইবনু মূসা (রহঃ) ... আবূস সামহ (রাঃ) [তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খাদেম ছিলেন] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ছোট মেয়ের প্রস্রাব ধুয়ে ফেলতে হয় আর ছোট ছেলের প্রস্রাবের উপর পানি ছিটাতে হয়।

305। মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল আ’লা (রহঃ) ... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। উকল গোত্রের কিছু লোক রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাদের ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দিল। তারপর তারা বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমরা দুগ্ধবতী পশু রাখি; আমরা কৃষিকাজের লোক নই। মদিনার আবহাওয়া তাদের উপযোগী হল না। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে কিছু উট ও একজন রাখাল প্রদানের নির্দেশ দিলেন এবং তিনি তাদের উটের প্রতিপালনের কাজে মদিনার বাইরে যেতে এবং উটের দুধ ও এর পেশাব পান করার নির্দেশ দিলেন। যখন তারা সুস্থ হয়ে গেল এবং হাররা নামক স্থানে অবস্থান করল, তখন তারা ইসলাম পরিত্যাগ করল। আর তারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রাখালকে হত্যা করে উটগুলোকে হাঁকিয়ে নিয়ে গেল। এ খবর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট পৌছলে তিনি তাদের পেছনে অনুসন্ধানকারী দল পাঠালেন এবং তাদের গ্রেফতার করে আনা হল। তাদের চোখে লৌহ শলাকা গরম করে লাগান হল এবং হাত পা কেটে দেয়া হল। পরে তাদের হাররার জমিতে ঐ অবস্থায় ফেলে রাখা হল। এভাবে তারা প্রাণত্যাগ করল।

306। মুহাম্মদ ইবনু ওহাব (রহঃ) ... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ উরায়নাহ গোত্রের কয়েকজন বেদুঈন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে ইসলাম কবুল করল। মদিনায় বসবাস তাঁদের জন্য উপযোগী হল না। এমনকি তাঁদের রঙ ফ্যাকাসে হয়ে গেল এবং পেট ফুলে গেল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের স্বীয় দুগ্ধবতী উটের পালের দিকে পালিয়ে দিলেন। আর তাঁদেরকে উহা (দুধ ও প্রস্রাব) পান করার আদেশ দিলেন। এতে তারা সুস্থ হয়ে পড়ল এবং উটের রাখালকে মেরে উটগুলো হাঁকিয়ে নিয়ে গেল। এর পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের খুঁজে আনার জন্য লোক পাঠালেন। তাঁদের ধরে আনা হল তাঁদের হাত পা কেটে দেয়া হল এবং তাঁদের চোখে গরম শলকা ঢুকিয়ে দেয়া হল। আমিরুল মু'মিনীন আব্দুল মালিক আনাস (রাঃ) এর কাছে এ হাদিস শুনে তার কাছে প্রশ্ন করলেন, এ শাস্তি কি কুফুরের জন্য না পাপের জন্য? তিনি বললেন কুফুরের জন্য। আবূ আবদুর রহমান (ইমাম নাসারী) বলেন, তালহাহ ব্যতীত অন্য কেউ এ হাদিসের সানাদে ইয়াহিয়া আনাস হতে এ কথা উল্লেখ করেছে বলে আমাদের জানা নেই। সঠিক কথা হল, আল্লাহই ভাল জানেন- ইয়াহইয়া সা'ইদ ইবনুল মুসাইয়্যাব হতে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

307। আহমদ ইবনু উসমান ইবনু হাকিম (রহঃ) ... আমর ইবনুল মায়মূন (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) আমাদের নিকট বায়তুল মাল সম্পর্কিত একটি হাদিস বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বায়তুল্লাহর নিকট সালাত আদায় করছিলেন। তখন একদল কুরাইশ তথায় উপবিষ্ট ছিল। তারা একটি উট যবেহ করেছিল। তাদের একজন বলল, তোমাদের মধ্যে কে এর রক্তমাখা উদরস্থ গোবর (নাড়ি ভুঁড়ি সহ) নিয়ে তার কাছে গিয়ে অপেক্ষা করতে পারবে, তারপর যখন সে সিজদায় কপাল ঠেকাবে তখন তা পিঠের উপর রেখে দেবে? আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, তখন তাদের সবচেয়ে নিকৃষ্ট ব্যাক্তিটি প্রস্তুত হল এবং গোবরযুক্ত নাড়ি ভুঁড়ি সহ হাতে নিয়ে অপেক্ষায় রইল। যখন তিনি সিজদায় গেলেন, তখন তা তার পিঠের উপর রেখে দিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কন্যা ফাতিমা (রাঃ) এ খবর পেলেন এ সময় তিনি ছিলেন অল্পবয়স্কা। তিনি দৌড়ে এলেন এবং তার পিঠ হতে তা সরিয়ে ফেললেন। তিনি সালাত শেষ করে তিনবার বললেনঃ আয় আল্লাহ! কুরাইশকে ধর। হে আল্লাহ! আবূ জহল ইবনু হিশাম, শায়িবা ইবনু রবি’আ, উতবা ইবনু রবিআ, উকবা ইবনু আবূ মুআয়ত প্রমুখকে পাকড়াও কর। এভাবে তিনি সাতজনের নাম উল্লেখ করলেন। আবদুল্লাহ বলেন, সেই আল্লাহর কসম যিনি তার উপর কুরআন অবতীর্ণ করেছেন, আমি তাদের সকলকে বদরের দিন একই গর্তে মৃত অবস্থায় পতিত দেখেছি।

308। আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার চাঁদরের একদিক উঠিয়ে তাতে থুথু ফেললেন, এরপর এক অংশের উপর অন্য অংশ চাপা দিলেন।

309। মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ সালাত আদায় করে তখন কেউ যেন তার সামনে অথবা তার ডানে থুথু না ফেলে। বরং বামদিকে কিংবা পায়ের নিচে ফেলে। অথবা এরকম (এ বলে) করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাপড়ে থুথু ফেললেন ও তা মললেন।

310। কুতায়বা (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে কোন এক সফরে বের হলাম। আমরা যখন বায়দা অথবা জাতুল যায়শ নামক স্থানে পৌঁছলাম তখন আমার একটি হার হারিয়ে গেল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার সঙ্গীগন তার তালাশে সেখানে অবস্থান করলেন। তাদের অবস্থান পানির নিকটে ছিল না এবং তাদের সাথেও পানি ছিল না। লোকজন আবূ বকর (রাঃ) এর নিকট এসে বলল, আপনি কি দেখছেন না আয়িশা (রাঃ) কি করলেন? তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এবং অন্যান্য লোকদের এমন স্থানে অবস্থানে বাধ্য করেছেন যার নিকটে কোন পানি নেই এবং লোকদের সাথেও পানি নেই। তখন আবূ বকর (রাঃ) আমার নিকট এলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন আমার উরুর উপরে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। আবূ বকর (রাঃ) বললেন, তুমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং অন্যান্য লোকদের এমন স্থানে আটকিয়ে রেখেছ যেখানে পানির কোন উৎস নেই আর তাদের সাথেও পানি নেই। আয়িশা (রাঃ) বলেনঃ তিনি মাকে খুব তিরস্কার করলেন আর আল্লাহর যা ইচ্ছা ছিল তাই বললেন এবং তার হাত দিয়ে আমর কোমরে খোঁচা দিতে লাগলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শরীর আমার উরুর উপর থাকার কারণে আমি নড়াচড়া করতে পারছিলাম না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিদ্রায় রইলেন, এমনকি পানির কোন ব্যবস্থা ছাড়াই ভোর হয়ে গেল। তখন আল্লাহ তায়ালা তায়াম্মুমের আয়াত নাযিল করলেন। এতে উসায়র ইবনু হুজায়র (রাঃ) বললেনঃ হে আবূ বকরের পরিজন! এটাই তোমাদের প্রথম বরকত নয়। আয়িশা (রাঃ) বলেনঃ আমি যে উটের উপরে ছিলাম সেটিকে উঠালে তার নিচে আমার হারটি পেলাম।

311রবী ইবন সুলায়মান (রহঃ) ... আবদুর রহমান ইবন হুরমুয (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, আমি উসায়দ ইবন রাফে ইবন খাদীজা (রাঃ) হতে শ্রবণ করেছি, তিনি বলেন, তাদেরকে মুহাকালয হতে নিষেধ করা হয়েছে। মুহাকালার অর্থ হলো উৎপন্ন শস্যের কিয়দংশের বিনিময়ে জমি চাষ করতে দেওয়া।

312। মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... আবদুর রহমান ইবনু আবযা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যাক্তি উমার (রাঃ) এর নিকট এসে বলল আমি জানবাতের অবস্থায় আছি কিন্তু পানি পাইনি। উমার (রাঃ) বললেনঃ তুমি সালাত আদায় করো না। একথা শুনে আম্মার ইবনু ইয়াসির বললেন, হে আমিরুল মুমিনীন! আপনার কি স্মরণ নেই, যে এক সময় আমি আর আপনি এক যুদ্ধে ছিলাম, আমরা উভয়ে জুনুবী হয়ে পড়লাম, আর আমরা পানি পেলাম না। এতে আপনি সালাত আদায় করলেন না কিন্তু আমি মাটিতে গড়াগড়ি দিলাম, তারপর সালাত আদায় করলাম। তারপর আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে তার নিকট ঘটনা বর্ণনা করলাম। তখন তিনি বললেনঃ তোমার জন্য এ ই যথেষ্ট ছিল। এ বলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হস্তদ্বয় মাটিতে মারলেন এরপর তাতে ফুঁ দিলেন এবং তা দ্বারা তার চেহারা এবং উভয় হাত মসেহ করলেন। বর্ণনাকারী সালাম সন্দেহ করলেন এ ব্যাপারে তার মনে নেই কনুই পর্যন্ত বলেছেন নাকি কব্জি পর্যন্ত। এ কথা শুনে উমার (রাঃ) বললেনঃ তুমি যা বর্ণনা করলে তার দায়দায়িত্ব তোমার উপরেই অর্পণ করলাম।

313। মুহাম্মাদ ইবনু উবায়দ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) ... আম্মার ইবনু ইয়াসির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একবার আমি জুনুবী হয়ে পড়লাম, তখন আমি ছিলাম উট পালের মধ্যে। এসময়ে আমি পানি পেলাম না। তখন আমি চতুষ্পদ জন্তুর ন্যায় মাটিতে গড়াগড়ি দিলাম। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাকে এই সংবাদ জানালাম। এ রকম না করে বরং তায়াম্মুম করাই তোমার জন্য যথেষ্ট ছিল।

314। মুহাম্মদ ইবনু ইয়াহিয়া ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ... আম্মার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শেষরাতে উলাতুল জায়শ নামক স্থানে যাত্রা বিরতি দিলেন। আর তার সঙ্গে ছিলেন তার সহধর্মিণী আয়িশা (রাঃ)। তার ইয়ামানী মোতির হার হারিয়ে গেলে এর তালাশে সমস্ত লোক আটকা পড়ল। অবশেষে ভোর হয়ে গেল অথচ লোকদের পানি ছিল না। যদ্দরুন আবূ বকর (রাঃ) তার উপর রাগান্বিত হয়ে বললেনঃ তুমি লোকদের আটকিয়ে রেখেছ অথচ তাদের সাথে পানি নেই। তখন আল্লাহ তা'আলা তায়াম্মুম করার অনুমতি সংক্রান্ত আয়াত নাযিল করলেন। বর্ণনাকারী বলেন, তখন মুমিনগণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে উঠে মাটিতে নিজেদের হাত মারলেন আর তাদের হাত উঠালেন এবং হাত থেকে মাটি একটুও ঝাড়লেন না, বরং তা দ্বারা তাদের চেহারা ও হাত (উপরের দিক থেকে) কাঁধ পর্যন্ত মাসেহ করলেন আর তাদের হাতের নিচ দিক থেকে বগল পর্যন্ত মাসেহ করলেন।

315। আব্বাস ইবনু আবদুল আযীয আম্বারী (রহঃ) ... আম্মার ইবনু ইয়াসির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে মাটি দ্বারা তায়ম্মুম করলাম। এতে আমাদের চেহারা এবং কাঁধ পর্যন্ত আমাদের হাত মাসেহ করেছিলাম।

316। মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... আবদুর রহমান ইবনু আবযা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা উমার (রাঃ) নিকট ছিলাম। তার কাছে এক ব্যাক্তি এসে বলল, হে আমীরুল মুমিনীন! অনেক সময় আমরা এক মাস বা দুই মাস পর্যন্ত কোথাও অবস্থান করি আর আমরা পানি পাই না। উমার (রাঃ) বললেন, আমি পানি না পেলে সালাত আদায় করবার নই, যাবৎ না পানি পাই। তখন আম্মার ইবনু ইয়াসির (রাঃ) বললেনঃ হে আমীরুল মুমিনীন! আপনার মনে আছে কি, যখন আমরা অমুক অমুক স্থানে ছিলাম আর আমরা উট চরাতাম, আপনি জানেন যে আমরা জানবাতগ্রস্ত হলাম। তিনি বললেন, হ্যাঁ। তখন আমি মাটিতে গড়াগড়ি দিলাম। পরে আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসলে তিনি হেসে বললেনঃ মাটই তোমার জন্য যথেষ্ট ছিল, আর তিনি উভয় হাত মাটিতে মারলেন এবং তাতে ফুঁ দিলেন। তারপর তিনি তার চেহারা আর উভয় হাতের কিয়দংশ মসেহ করলেন। উমর (রাঃ) বললেনঃ হে আম্মার! আল্লাহকে ভয় কর। আম্মার বললেনঃ হে আমীরুল মুমিনীন! যদি আপনি চান আমি এটা বর্ণনা করব না। উমর (রাঃ) বললেনঃ না। কিন্তু আমার নিকট যা বর্ণনা করলে, এর দায়িত্বভার আমি তোমার উপর অর্পণ করলাম (তাই হাদিস বর্ণনায় সাবধানতা অবলম্বনের জন্য এটা বললাম)।

317। আমর ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) ... আবদুর রহমান ইবনু আবযা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যাক্তি উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) কে তায়াম্মুম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। এ প্রশ্নের তিনি কোন উত্তর খুঁজে পেলেন না। তখন আম্মার (রাঃ) বললেন, আপনার কি স্মরণ আছে? যখন আমরা যুদ্ধে ছিলাম, আমি জানবাতগ্রস্ত হলাম। তখন আমি মাটিতে গড়াগড়ি দিলাম। পরবর্তীতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হলে তিনি বললেনঃ তোমার এরূপ করাই যথেষ্ট ছিল। এ বলে শু’বা হাঁটুর উপর তার উভয় হাত মেরে তার হস্তদ্বয়ে ফুঁ দিলেন আর উভয় হাত দ্বারা তার মুখ ও হস্তদ্বয় একবার করে মাসেহ করলেন।

318। ইসমাঈল ইবনু মাসউদ (রহঃ) ... ইবনু আবদুর রহমান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যাক্তি জানবাতগ্রস্ত হলে উমর (রাঃ) এর নিকট এসে বলল, আমি জানবাত অবস্থায় উপনীত হয়েছি কিন্তু পানি পাই না। তিনি বললেন তুমি সালাত আদায় করো না। তখন আম্মার (রাঃ) বললেন আপনার কি স্মরণ নেই যে, আমরা এক যুদ্ধে ছিলাম। আমরা জানাবার অবস্থায় পতিত হলাম, তখন আমরা পানি পাইনি, এতে আপনি সালাত আদায় করলেন না কিন্তু আমি মাটিতে গড়াগড়ি দিলাম এবং সালাত আদায় করলাম। পরবর্তীতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে তা বর্ণনা করলাম। তখন তিনি বললেনঃ তোমার জন্য এটাই যথেষ্ট ছিল, এ বলে শু’বা (রহঃ) একবার মাটিতে হাত মারলেন আর তাতে ফুঁ দিলেন আর তা দিয়ে এক হাত অন্য হাতের সাথে ঘষলেন এবং উভয় হাত দ্বারা মুখমণ্ডল মাসেহ করলেন। তখন উমার (রাঃ) বললেন, আমি জানি না এটা কি। আম্মার (রাঃ) বললেন, যদি আপনি চাহ তাহলে আমি এটা বর্ণনা করব না। সালামার বর্ণনায় অতিরিক্ত আছে যে, উমার (রাঃ) বললেনঃ তুমি যা বর্ণনা করলে, তার দায়দায়িত্ব তোমার।

319। আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ ইবনু তামীম (রহঃ) ... আবদুর রহমান ইবনু আবযা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যাক্তি উমার (রাঃ) এর নিকট এসে বলল, আমি জানবাতগ্রস্ত হয়েছি কিন্তু পানি পেলাম না। উমর (রাঃ) বললেন তুমি সালাত আদায় করোনা। তখন আম্মার (রাঃ) বললেন হে আমীরুল মুমিনীন! আপনার স্মরণ আছে কি? একবার আমি এবং আপনি এক যুদ্ধে ছিলাম আর আমরা জানবাতগ্রস্থ হলাম কিন্তু পানি পাচ্ছিলাম না। তখন আপনি সালাত আদায় করলেন না। কিন্তু আমি মাটিতে গড়াগড়ি দিলাম এবং সালাত আদায় করলাম। পরবর্তীতে যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট তা ব্যক্ত করলাম, তিনি বললেনঃ তোমার জন্য এ ই যথেষ্ট ছিল, এ বলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাটিতে হাত রাখলেন এবং উভয় হাতে ফুঁ দিলেন তারপর উভয় হাত দ্বারা আপন মুখমণ্ডল ও উভয় কব্জি মাসেহ করলেন। সালামা সন্দেহ করে বলেন, আমার জানা নেই (তিনি এতে উভয় কনুই বলেছেন না উভয় কব্জি বলেছেন)। উমার (রাঃ) বললেন, তুমি যা করলে, তার দায়দায়িত্ব তোমার উপরেই অর্পণ করলাম। শু’বা (রহঃ) বলেন, তিনি উভয় হাত, বাহুদ্বয় এবং মুখমণ্ডলের কথা বলতেন। এজন্য মানসুর তাকে বললেন, আপনি কি বলছেন? আপনি ব্যতীত কেউই বাহুর কথা উল্লেখ করেন নি। এজন্য সালামার সন্দেহ হল। তিনি বললেনঃ আমার স্মরণ নেই তিনি বাহুর কথা উল্লেখ করেছেন কিনা।

320। মুহাম্মদ ইবনু আ’লা (রহঃ) ... শাকীক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আবদুল্লাহ এবং আবূ মূসা (রাঃ) এর সঙ্গে বসা ছিলাম, তখন আবূ মূসা বললেন, আপনি কি আম্মারের কথা শুনেওনি য, তিনি উমার (রাঃ) কে বলেছিলেন, আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক কাজে পাঠালেন, আমি জানবাতগ্রস্ত হলে পানি পেলাম না। অতএব আমি মাটিতে গড়াগড়ি দিলাম। পরবর্তীতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে এ ঘটনা বর্ণনা করলাম। তিনি বললেনঃ তোমার জন্য এ-ই যথেষ্ট ছিল। এই বলে তিনি তার হস্তদ্বয় একবার মাটিতে মারলেন। তারপর উভয় হাতের তালু মুছলেন ও ঝাড়লেন, তারপর তার বামহাত ডানহাতের উপর মারলেন আর ডান হাত বামহাতের উপর এবং উভয় কব্জি ও মুখমণ্ডল মাসেহ করলেন। আবদুল্লাহ বললেন, তুমি কি দেখছ না যে, উমার (রাঃ) আম্মার (রাঃ) এর কথায় তৃপ্ত হননি।

321। সুয়ায়দ ইবনু নাসর (রহঃ) ... আবূ রাজা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যাক্তিকে লোকদের সঙ্গে সালাত আদায় না করে আলাদা থাকতে দেখলেন। তিনি বললেনঃ হে অমুক! লোকদের সঙ্গে সালাত আদায় করতে কোন বস্তুটি তোমায় বাধা দিল? সে ব্যাক্তি বলল। ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি জানবাত অবস্থায় আছি অথচ পানি পাইনি। তিনি বললেনঃ তুমি মাটি ব্যবহার কর, তা ই তোমার জন্য যথেষ্ট।

322। আমর ইবনু হিশাম (রহঃ) ... আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন পবিত্র মাটি মুমিনের উযুর উপকরণ, যদি সে দশ বছরও পানি না পায়।

323। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উসায়দ ইবনু উযায়র (রাঃ) এবং আরো কয়েক ব্যাক্তিকে আয়িশা (রাঃ) এর একটি হার তালাশের জন্য পাঠিয়ে ছিলেন, যা তিনি যে মন্‌জিলে অবতরণ করেছিলেন সেখানে হারিয়েছিলেন। এমতাবস্থায় সালাতের সময় উপস্থিত হল, অথচ লোকদের উযু ছিলনা আর তারা পানিও পাচ্ছিলেন না। তখন তারা উযু ব্যতীতই সালাত আদায় করলেন। তারপর তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট তা উল্লেখ করলেন। আল্লাহ তা’আলা তায়াম্মমুমের আয়াত অবতীর্ণ করলেন। উসায়দ ইবনু হুযায়র (রাঃ) বলে উঠলেন, আল্লাহ তা’আলা আপনাকে উত্তম বিনিময় দান করুন, যখনই আপনার উপর এমন কোন বিপদ অপতিত হয়েছে যা আপনি অপছন্দ করেন, তার মধ্যেই আল্লাহ তা’আলা আপনার ও মুসলিমদের জন্য কল্যাণ নিহিত রেখেছেন।

324। মুহাম্মদ ইবনু আবদুল আ’লা (রহঃ) ... তারিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যাক্তি জানবাতগ্রস্ত হলে সে সালাত আদায় করল না। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে তা বর্ণনা করল। তিনি বললেনঃ তুমি ঠিক করেছ। এরপর অন্য একটি লোক জানবাতগ্রস্ত হয়ে তায়াম্মুম করে সালাত আদায় করল তারপর সে তার নিকট আসল। তিনি অন্য ব্যাক্তিকে যা বলেছিলেন তাকেও তাই বললেন। অর্থাৎ তুমি ঠিকই করেছ।

উৎস: Sunan an Nasai

WEBREATH · 11:11

«Should I not be a thankful servant?» — Sahih al-Bukhari

Breath is one for all: everyone lives by it, whoever they are and whatever they believe. Every day at 11:11 local time people stop for sixty seconds, breathe, and thank GOD for the breath — each in their own words, each within themselves. In that minute we are One Breath.

WEBREATH — the Minute at 11:11, your own local time — we are One Breath