হাদিস
ফিরে যান

সুনানে নাসায়ী 19 · The Book of the Prayer for the Two 'Eids

আপনার ভাষায় এখনো কোনো অনুবাদ নেই — ইংরেজি দেখাচ্ছে

1556। আলী ইবন হুজর (রহঃ) ... আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জাহিলিয়াত যুগের অধিবাসীদের জন্য প্রত্যেক বৎসরে দু'টি দিন ছিল, যাতে তারা খেল-তামশা করতো। যিখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় আগমন করলেন তখন তিনি বললেন, তোমাদের জন্য দু'টি দিন ছিল, যাতে তোমরা খেল-তামশা করতে। এখন আল্লাহ তা'আলা তোমাদের জন্য উক্ত দু'দিনের পরিবর্তে তার চেয়েও অধিকতর উত্তম দু'টি দিন নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন, ঈদুল ফিতরের দিন এবং কুরবানীর দিন।

1557। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... আবু উমায়র ইবনু আনাসের চাচাদের থেকে বর্ণিত যে, একদল লোক রমযানের ত্রিংশতম দিনে চাঁদ দেখে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসল। তিনি তাদেরকে পরবর্তী দিনে, দিন উজ্জ্বল হওয়ার পর ইফতার করার এবং ঈদগাহে গমনের নির্দেশ দিলেন।

1558। আমর ইবনু যুরারাহ (রহঃ) ... হাফসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উম্মে আতিয়্যা (রাঃ) আমার মাতা-পিতা আপনার উপর কুরবান হোক, বলা ব্যতীত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে স্মরণ করতেন না। একবার আমি তাকে বললাম, তুমি কি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এরূপ এরূপ বলতে শুনেছ? সে বলল হ্যাঁ; তার উপর আমার মাতা-পিতা কুরবান হোক। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, কিশোরী, যুবতী এবং ঋতুমতিগণ যেন বের হয় এবং তারা যেন ঈদগাহ এবং মুসলিমদের দোয়ায় উপস্থিত থাকে আর ঋতুমতিগণ যেন সালাতের স্থান থেকে দূরে অবস্থান করে।

1559। কুতায়বা (রহঃ) ... মুহাম্মাদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উম্মে আতিয়্যা (রাঃ) এর সাথে সাক্ষাত করে তাকে বললাম, আপনি কি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছেন? তিনি যখনই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে স্মরণ করতেন, বলতেন, আমার মাতা-পিতা আপনার উপর কুরবান হোক। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা কিশোরী এবং যুবতীদেরকে রওয়ানা করে দেবে যাতে তারা ঈদের সালাতে এবং মুসলমালদের দোয়ায় উপস্থিত থাকতে পারে। আর ঋতুমতিগণ যেন মানুষের সালাতের স্থান থেকে দূরে অবস্থান করে।

1560। সুলায়মান ইবনু দাঊদ (রহঃ) ... সালিমের পিতা [আব্দুল্লাহ (রাঃ)] থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) একবার বাজারে এক জোড়া মোটা রেশমী পোষাক পেলেন। তিনি তা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সমীপে নিয়ে আসলেন এবং বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি এটা ক্রয় করে নিন, যাতে ঈদে এবং কোন প্রতিনিধি দল আসলে আপনি তা পরিধান করতে পারেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, রেশমী পোষাক তাদেরই পোষাক যাদের ভাগ্যে পরকালে রেশমের কোন অংশ নেই অথবা (তিনি বলেছেন) রেশমী পোষাক তারাই পরিধান করবে, যাদের ভাগ্যে পরকালে রেশমের কোন অংশ নেই। উমর (রাঃ) আল্লাহ তা’আলার যতদিন ইচ্ছা ছিল অপেক্ষা করলেন। তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন উমর (রাঃ) এর কাছে একটি রেশমী জুব্বা পাঠালেন। তিনি তা গ্রহণ করলেন, এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি বলেছিলেন, রেশমী পোষাক তাদেরই পোষাক যাদের ভাগ্যে পরকালে রেশমের কোন অংশ নেই। তা-ই আবার আমার কাছে পাঠালেন? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি তা বিক্রি করে দাও এবং বিক্রয় লব্ধ অর্থ দ্বারা স্বীয় প্রয়োজন মিটাও।

1561। ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ... ছা'লাবা ইবনু যাহদাম (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, আলী (রাঃ) আবূ মাসউদ (রাঃ)-কে জন সাধারণের প্রতিনিধি নির্বাচিত করে ঈদের দিন বের হয়ে গেলেন এবং বললেন, হে লোক সকল! ইমামের পূর্বে সালাত আদায় করা সূন্নাতে নববীতে আওতাভুক্ত নয়।

1562। কুতায়বা (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে ঈদের দিনে সালাত আদায় করলেন খুৎবার পুর্বে আযান এবং ইকামাত ব্যতীত।

1563। মুহাম্মাদ ইবনু উসমান (রহঃ) ... বারা ইবনু আযিব (রাঃ) মসজিদের কোন এক খুঁটির নিকট দাঁড়িয়ে আমাদেরকে হাদীস বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর দিন খুৎবা দিলেন। তিনি বললেন, আজকের এ দিন আমরা যে কাজ দ্বারা প্রথমে শুরু করব তা হল আমরা সালাত আদায় করব তারপর কুরবানী করব। অতএব যারা অনুরূপ করবে তারা আমাদের সুন্নাত অনুযায়ী করবে। আর যারা সালাতের পুর্বে কুরবানী করবে তা শুধু গোশতই হবে, যা তাদের পবিবারবের্গের জন্য পূর্বেই যবেহ করে ফেলল (কুরবানী হবে না)। আবূ বুরদাহ ইবনু দীনার (রাঃ) সালাতের পূর্বেই যবেহ ফেললেন এবং বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার কাছে একটি এক বছর বয়সের ছাগলের বাচ্চা আছে যা বাহ্যিক দৃষ্টিতে দু'বছর বয়সের বাচ্চা অপেক্ষাও বেশী হৃষ্টপুষ্ট। তিনি বললেন, তুমি তাই কুরবানী করে দাও। কিন্তু তোমার পরে আর কারো জন্য তা যথেষ্ট হবে না।

1564। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বকর এবং উমর (রাঃ) উভয় ঈদের সালাত খুৎবার পূর্বে আদায় করতেন।

1565। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আযহার দিনে একটি লাঠি বের করতেন, তা মাটিতে পুঁতে দিতেন এবং তা সম্মুখে রেখে সালাত আদায় করতেন।

1566। ইমরান ইবনু মুসা (রহঃ) ... উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ঈদুল আযহার সালাত দু’রাকআত, ঈদুল ফিতরের সালাত দু’রাকআত, মুসাফিরের সালাত দু’রাকআত এবং জুমুআর সালাত দু’রাকআতই পরিপূর্ণ; অসম্পুর্ন নয়, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ভাষ্য মতে।

1567। মুহাম্মাদ ইবনু মনসূর (রহঃ) ... উবায়দুল্লাহ ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার উমর (রাঃ) ঈদের দিনে বের হলেন এবং আবূ ওয়াকিদ লায়ছী (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আজকের দিনে কি কোন সূরা সালাতে তিলাওয়াত করতেন? তিনি বললেন, সূরা “ক্বাফ” এবং “ইকতারাবাত”।

1568। কুতায়বা (রহঃ) ... নু'মান ইবনু বাশীর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উভয় ঈদ এবং জুমুয়ার সালাতে “সাব্বি হিসমা রাব্বিকাল আলা” এবং “হাল আতাকা হাদীসুল গাশিয়া” পাঠ করতেন। কখনো কখনো ঈদ এবং জুমুআ একই দিনে হয়ে যেত। তখনও তিনি উপরোক্ত সূরা দু'টি তিলাওয়াত করতেন।

1569। মুহাম্মাদ ইবনু মনসূর (রহঃ) ... আতা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু আব্বাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি এক ঈদের সালাতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে উপস্থিত ছিলাম। তিনি খুৎবার পূর্বেই সালাত শুরু করে দিলেন, অতঃপর খুৎবা দিলেন।

1570। কুতায়বা (রহঃ) ... বারা ইবনু আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর দিন সালাত আদায়ের পরে আমাদের খুৎবা। উভয় ঈদের সালাতের খুতবা শুনার জন্য বসা ও না বসার ইখতিয়ার।

1571। মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু সায়িব (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের সালাত আদায় শেষে বললেন, যে চলে যাওয়া ভাল মনে করে সে যেন চলে যায়, আর যে খুৎবা শ্রবণের জন্য অপেক্ষা করা ভাল মনে করে সে যেন অপেক্ষা করে।

1572। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... আবূ রিমছা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে একবার দেখলাম যে, তিনি খুৎবা দিচ্ছেন সবুজ চাদর পরিহিত অবস্থায়।

1573। ইয়াকুব ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আবূ কাহেল আহমাসী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে উষ্ট্রির পিঠে বসা অবস্থায় খুৎবা দিতে দেখেছি আর এক হাবশী [বিলাল (রাঃ)] উষ্ট্রির লাগাম ধরে রেখেছিলেন।

1574। ইসমাঈল ইবনু মাসউদ (রহঃ) ... সিমাক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জাবির (রাঃ) জিজ্ঞাসা করলাম যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি দাঁড়িয়ে খুৎবা দিতেন? তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে খুৎবা দিতেন। অতঃপর ক্ষনিকের তরে বসতেন, পুনরায় দাঁড়িয়ে যেতেন।

1575। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ঈদের দিন আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সালাতে উপস্থিত ছিলাম। তিনি আযান ইকামাত ব্যতীতই খুৎবা দেওয়ার পূর্বে সালাত শুরু করে দিলেন। যখন সালাত শেষ করলেন, বিলাল (রাঃ) এর উপর ভর করে দাঁড়িয়ে গেলেন, আল্লাহর প্রশংসা এবং গুন বর্ণনা করলেন, লোকদের ওয়াজ করলেন, তাদের নসীহত করলেন এবং আল্লাহর ইবাদতের প্রতি উদ্বুদ্ধ করলেন। অতঃপর চেহারা ফিরিয়ে নিলেন এবং নারীদের দিকে গেলেন। তার সাথে বিলাল (রাঃ)-ও ছিলেন। তিনি তাদেরকে আদেশ দিলেন আল্লাহকে ভয় করতে, ওয়াজ করলেন, নসীহাত করলেন, আল্লাহর প্রশংসা এবং গুন বর্ণনা করলেন এবং তাদেরকে আল্লাহর ইবাদতের প্রতি উবুদ্ধ করলেন এবং বললেন, তোমরা দান-খয়রাত করবে, যেহেতু তোমাদের অধিকাংশই জাহান্নামের ইন্ধন। তখন নিম্ন শ্রেনির একজন মহিলা বলে উঠল যার গন্ডদ্বয়ে হালকা কাল দাগ ছিল, কেন ইয়া রাসুলাল্লাহ? তিনি বললেন, তোমরা অত্যধিক গীবত কর এবং স্বামীর নাফরমানী কর। তখন তারা নিজেদের হার, কানের বালী এবং আংটি টেনে টেনে খূলে ফেলতে শুরু করল, যা বিলালে (রাঃ) এর কাপড়ে ছুড়ে মারতে শুরু করল সদকা স্বরূপ।

1576। কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আযহার দিনে ঈদগাহের দিকে বের হতেন এবং মানুষদের নিয়ে সালাত আদায় করতেন। যখন দ্বিতীয় রাকআতে বসতেন এবং সালাম ফিরাতেন। তখন দাঁড়িয়ে যেতেন ও মানুষের দিকে মুখ করে নিতেন আর লোকজন বসা থাকত। যদি তাঁর কোথাও কোন সৈন্য প্রেরণের প্রয়োজন দেখা দিত তিনি তা মানুষের সামনে প্রকাশ করতেন। অন্যথায় তাদেরকে দান খয়রাতের আদেশ দিতেন। তিনি তিনবার বলতেন, তোমরা দান খয়রাত কর। অধিকাংশ দান খয়রাতকারিণী হত মহিলাগণ।

1577। মুহাম্মাদ ইবনু সালামা এবং হারিছ ইবনু মিসকীন (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তুমি যদি ইমামের খূৎবা দেয়াকালীন তোমার সাথীকে বল, "নিরব থাক" তা হলে তুমি একটি অনর্থক কাজ করবে।

1578। উতবা ইবনু আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার খূৎবায় বলতেন। তিনি আল্লাহ তা'আলার যথাযোগ্য প্রসংসা এবং গুন বর্ণনা করতেন। مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلاَ مُضِلَّ لَهُ وَمَنْ يُضْلِلْهُ فَلاَ هَادِيَ لَهُ إِنَّ أَصْدَقَ الْحَدِيثِ كِتَابُ اللَّهِ وَأَحْسَنَ الْهَدْىِ هَدْىُ مُحَمَّدٍ وَشَرَّ الأُمُورِ مُحْدَثَاتُهَا وَكُلَّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ وَكُلَّ بِدْعَةٍ ضَلاَلَةٌ وَكُلَّ ضَلاَلَةٍ فِي النَّارِ অতঃপর বলতেনঃبُعِثْتُ أَنَا وَالسَّاعَةُ كَهَاتَيْنِ (আমি প্রেরিত হয়েছি এমন অবস্থায় যে, আমি ও কিয়ামত এ দু'টি আঙ্গুল তর্জনী ও মধ্যমার মত।) অর্থাৎ আমার পরে প্রেরিত রূপে আর কোন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসবে না। এইভাবে আমি কিয়ামতের নিকটবর্তী নবীরূপে প্রেরিত হয়েছি। আর যখন তিনি কিয়ামতের উল্লেখ করতেন তাঁর গণ্ডদ্বয়ের উপরিভাগ লাল হয়ে যেত এবং আওয়াজ উচ্চ হয়ে যেত, তার রাগ বেড়ে যেত যেন তিনি কোন সৈন্য বাহিনীকে সতর্ক করে দিচ্ছেন। তিনি বলতেন, শক্রবাহিনী তোমাদের উপর সকালে অথবা সন্ধ্যায় আক্রমণ করতে পারে। তারপর বলতেন, যে ব্যক্তি কোন সস্পতি ছেড়ে মারা যাবে তা তার পরিবারবর্গর জন্য আর যে ব্যক্তি কোন ঝন অথবা নিঃসম্বল সন্তান-সন্ততি রেখে মারা যাবে তার সমুদয় দায়-দায়িত্ব আমার উপর বর্তাবে, আর আমিই মুমিনদের জন্য উত্তম অভিভাবক।

1579। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের দিনে বের হতেন এবং দু’রাকআত সালাত আদায় করতেন। অতঃপর খুৎবা দিতেন আর সাদকার আদেশ করতেন, অধিকাংশ সাদকারিণী হত মহিলা। যদি তার কোন প্রয়োজন হত অথবা কোথাও কোন সৈন্য বাহিনী প্রেরণের প্রয়োজন দেখা দিত, তাহলে তিনি কথা বলতেন, অন্যথায় ফিরে যেতেন।

1580। আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ... হাসান (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, ইবনু আব্বাস (রাঃ) একবার বসরায় খুৎবা দিচ্ছিলেন, তিনি বললেন, তোমরা স্বীয় কওমের যাকাত আদায় কর। তখন লোকেরা একে অন্যের দিকে তাকাতে লাগল। তিনি বললেন এখানে মদীনার অধিবাসী কে কে আছ? তোমরা তোমাদের ভাইদের কাছে যাও এবং তাদের দ্বীনী ইলম শিক্ষা দাও। যেহেতু তারা জানে না যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছোট, বড়, আযাদ, গোলাম, পুরুষ এবং মহিলা সবার উপর অর্ধ সা' গম অথবা এক সা' খেজুরে এবং যব ফরয করেছেন।

1581। কুতায়বা (রহঃ) ... বারা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর দিনে আমাদের সামনে সালাতের পরে খূৎবা দিলেন। তারপর বললেন, যে আমাদের সালাতের ন্যায় সালাত আদায় করবে এবং আমাদের কুরবানীর ন্যায় কুরবানী দেবে সেই সঠিকভাবে কুরবানী দেবে। আর যে ব্যক্তি সালাতের পূর্বে কুরবানী করবে সেটা বকরীর গোশত হবে। আবূ বুরদাহ ইবনু নিয়ার (রাঃ) বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি সালাতের জন্য বের হওয়ার পুর্বেই কুরবানী করে ফেলেছি। আমি জানতাম যে, আজ পানাহারের দিন। তাই আমি তাড়াতাড়ি যবেহ করে ফেলেছি এবং আমি নিজে খেয়ে নিলাম এবং আমার পরিবারবর্গ এবং প্রতিবেশীকেও খাওয়ায়ে দিলাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সেটাতো বকরীর গোশত। আবূ বুরদাহ (রাঃ) বললেন, আমার কাছে একটি এক বছর বয়সের ভেড়া আছে যাতে দু’টি বকবীর গোশত অপেক্ষাও বেশী গোশত হবে। তা কি আমার পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে? বললেন, হ্যাঁ; কিন্তু তোমার পরে আর কারো পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে না।

1582। কুতায়বা (রহঃ) ... জাবির ইবনু সামূরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সালাত আদায় করতাম, তার সালাত ছিল পরিমিত, তার খুৎবা ছিল পরিমিত।

1583। কুতায়বা (রহঃ) ... জাবির ইবনু সামুরা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখলাম যে, তিনি দাঁড়িয়ে খুৎবা দিচ্ছেন। অতঃপর ক্ষণিকের তরে নীরব হয়ে বসলেন। পুনরায় দাঁড়ালেন ও দ্বিতীয় খুৎবা দিলেন। অতএব, যে ব্যক্তি তোমাকে সংবাদ দেয় যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসে খুৎবা দিয়েছে। তুমি তাকে সত্যবাদী মনে করবে না।

1584। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... জাবির ইবনু সামুরা (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে খুৎবা দিতেন, অতঃপর বসতেন, আবার দাঁড়াতেন এবং কিছু আয়াত পাঠ করতেন এবং আল্লাহর যিকর করতেন। আর তার খুৎবা ছিল পরিমিত এবং তাঁর সালাতও ছিল পরিমিত।

1585। ইয়াকুব ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... বুরাইদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারের উপর দাঁড়িয়ে খুৎবা দিচ্ছিলেন, ইত্যবসরে হাসান ও হুসায়ন (রাঃ) আসলেন, তাদের পরিধানে দু'টি লাল জামা ছিল। তাঁরা চলছিলেন এবং জামায় আটকে আটকে হুমড়ি খেয়ে পড়ে যাচ্ছিলেন। তিনি নীচে নেমে আসলেন এবং উভয়কে উঠিয়ে নিলেন আর বললেন, আল্লাহ তা'আলা সত্যই বলেছেন, "নিশ্চয়ই তোমাদের সস্পদ এবং তোমাদের সন্তান-সন্ততি পরীক্ষা স্বরূপ"; আমি এদের দেখলাম যে, এরা চলছিল এবং হুমড়ি খেয়ে পড়ে যাচ্ছিল জামায় আটকে আটকে। তখন আমি ধৈর্যধারণ করতে পারলাম না। অবশেষে নীচে নেমে আসলাম এবং তাদের উঠিয়ে নিলাম।

1586। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... আব্দুর রহমান ইবনু আবিস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে শুনেছি যে, তাকে এক ব্যক্তি বলল, আপনি কি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হওয়ার সময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ; যদি তাঁর কাছে আমার কোন মর্যাদা না থাকত, আমি তার কাছে উপস্থিত থাকতে পারতাম না। অর্থাৎ তার অল্প বয়স্ক হওয়ার দরুন। তিনি কাছীর ইবনু সালত এর বাড়ীর নিকটস্থ চিহ্নিত স্থানে আসলেন এবং সালাত আদায় করলেন ও খুৎবা দিলেন। অতঃপর মহিলাদের কাছে এসে তাদের ওয়াজ নসীহত করলেন এবং সাদকার আদেশ দিলেন। তখন মহিলারা তাদের হস্তসমূহ স্বীয় অলংকারাদির দিকে নিয়ে গেল তারা তা বিলাল (রাঃ) এর কাপড়ে ছুড়ে মারতে লাগল।

1587। আব্দুল্লাহ ইবনু সাঈদ আশাজ্জ (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের দিনে বের হলেন এবং দু’রাকআত সালাত আদায় করলেন। তার পূর্বে কোন সালাত আদায় করেন নি এবং তার পরেও (ঈদগাহে) কোন সালাত আদায় করেননি।

1588। ইসমাঈল ইবনু মাসউদ (রহঃ) ... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর দিনে আমাদের সামনে খুৎবা দিলেন এবং দু’টি সুন্দর (সাদা) ভেড়ার কাছে গিয়ে সেগুলো যবেহ করলেন।

1589। মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... নাফি (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, আব্দুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদগাহে যবেহ অথবা নহর করতেন।

1590। মুহাম্মাদ ইবনু কুদামাহ (রহঃ) ... নু'মান ইবনু বশীর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমুআ এবং ঈদের সালাতে “সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আ’লা-- এবং হাল আতাকা হাদীছুল গাশিয়াহ” পড়তেন আর যখন জুমুআ এবং ঈদ একই দিনে হয়ে যেত তখন জুমুআ এবং ঈদের সালাত উক্ত সূরা দুটি দ্বারা আদায় করতেন।

1591। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... ইয়াস ইবনু আবূ রমলা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মু'আবিয়া (রাঃ)-কে যায়দ ইবনু আরকাম (রাঃ)-কে প্রশ্ন করতে শুনেছি, আপনি কি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ঈদ এবং জুমূআর সালাতে শরীক ছিলেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ; তিনি ঈদের সালাত দিনের শুরুতে আদায় করে ফেলেছিলেন। অতঃপর (গ্রামের অধিবাসীদেরকে) জুমুআর সালাতে উপস্থিত না হওয়ার অনুমতি দিয়েছিলেন।

1592। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... ওয়াহাব ইবনু কায়সান (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, ইবনু যুবায়র (রাঃ) এর যুগে একবার ঈদ এবং জুমুআ একত্রিত হয়ে গিয়েছিল। তিনি সূর্য উপরে না উঠা পর্যন্ত ঈদের সালাত আদায় করার জন্য বের হতে বিলম্ব করলেন। অতঃপর বের হলেন এবং খূৎবা দিলেন এবং খুৎবাকে দীর্ঘ করলেন তারপর নীচে অবতরণ করলেন এবং সালাত আদায় করলেন। আর সেদিন লোকদের নিয়ে জুমুআর সালাত আদায় করলেন না। এ ঘটনা ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর সমীপে উল্লেখ করা হলে তিনি বললেন, তিনি সুন্নাত মতই করেছেন।

1593। কুতায়বা ইবনু সাইদ (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক দিন তার কাছে গেলেন। তখন তাঁর সামনে দুইটি বালিকা দফ বাজাচ্ছিল। আবূ বকর (রাঃ) তাদের নিষেধ করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাদের নিষেধ করো না। কেননা প্রত্যেক জাতির জন্যই একটি আনন্দ স্ফূর্তির দিন থাকে।

1594। মুহাম্মাদ ইবনু আদম (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কয়েকজন হাবশী এসে ঈদের দিনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সম্মুখে খেলাধুলা করতে লাগল। তিনি আমাকে ডাকলেন। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাঁধের দিয়ে তাদের দিকে দেখতে লাগলাম। আমি তাদের দিকে নিজে ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত দেখতেই ছিলাম।

1595। আলী ইবনু খাশরাম (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখেছি তিনি আমাকে তার চাঁদর দ্বারা ঢেকে রাখতেন যখন আমি হাবশীদের (নিগ্রো) দিকে নিজে ক্লান্ত না হওয়া পর্যন্ত দেখতে থাকতাম। তারা মসজিদে খেলাধূলা করত। এখন তোমরা, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে খেলাধূলায় আগ্রহী অল্প বয়স্কা বালিকাদের কতটুকু মর্যাদা ছিল তা আন্দাজ করতে পারো।

1596। ইসহাক ইবনু মুসা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমর (রাঃ) মসজিদে প্রবেশ করলেন, তখন হাবশীরা (নিগ্রো) মসজিদে খেলাধূলা করছিল। তিনি তাদের ধমকালে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে উমর! তাদের ছেড়ে দাও, কেননা তারা আরফিদার বংশধর (হাবশী)। (আরফিদা তাদের ঊর্ধ্বতন পুরুষের নাম)।

1597। আহমাদ ইবনু হাফস (রহঃ) ... উরওয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আয়িশা (রাঃ) তাকে বর্ণনা করেছেন যে, আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) একবার তাঁর কাছে গেলেন, তখন তার কাছে বালিকা দফ বাজাচ্ছিল এবং উচ্চস্বরে কবিতা আবৃত্তি করছিল। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাপড় মুড়ি দিয়ে ছিলেন। আর একবার বর্ণনা করেছেন, কাপড়ে আবৃত ছিলেন। তিনি আপন চেহারা থেকে কাপড় সরিয়ে নিয়ে বললেন, হে আবূ বকর! তাদের ছেড়ে দাও আর তা ছিল ঈদুল আযহার দিন। আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন সে দিন মদীনায়।

উৎস: Sunan an Nasai

WEBREATH · 11:11

«Should I not be a thankful servant?» — Sahih al-Bukhari

Breath is one for all: everyone lives by it, whoever they are and whatever they believe. Every day at 11:11 local time people stop for sixty seconds, breathe, and thank GOD for the breath — each in their own words, each within themselves. In that minute we are One Breath.

WEBREATH — the Minute at 11:11, your own local time — we are One Breath