সুনানে নাসায়ী 14 · The Book of Jumu'ah (Friday Prayer)
আপনার ভাষায় এখনো কোনো অনুবাদ নেই — ইংরেজি দেখাচ্ছে
1367। ওয়াসিল ইবনু আব্দুল আলা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা ও হুযায়ফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তারা বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তা’আলা জুমু'আর দিন সম্পর্কে আমাদের পূর্ববর্তীদের ভ্রষ্টতায় রেখেছিলেন, সুতরাং তা ইহুদীদের জন্য ছিল শনিবার এবং নাসারাদের জন্য রবিবার। তারপর আল্লাহ তাআলা আমাদের সৃষ্টি করলেন এবং জুমু'আর দিন সম্পর্কে সঠিক পথ দেখালেন। অতএব, আল্লাহ তা'আলা আমাদের জন্য জুমু'আর দিন শুক্রবার, ইহুদিদের জন্য শনিবার এবং নাসারাদের জন্য রবিবার নির্ধারণ করলেন। অনুরূপভাবে তারা কিয়ামতের দিনেও আমাদের অনুসারী হবে। আমরা দুনিয়ায় অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে হব তাদের পচাৎবর্তী এবং কিয়ামতের পরিপ্রেক্ষিতে হব তাদের অগ্রবর্তী, যা সৃষ্টির পূর্বেই তাদের জন্য নির্ধারিত হয়ে আছে।
1368
1369। ইয়াকুব ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আবূল জা'দ যামরী (রাঃ) সুত্রে, যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবী ছিলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি তিনটি জুমু'আ তার প্রতি অবহেলা প্রদর্শন পূর্বক ছেড়ে দেয়, আল্লাহ তা’আলা তার অন্তরে মোহর মেরে দেন।
1370। মুহাম্মাদ ইবনু মা'মার (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস এবং ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বরের ধাপের উপর উপবিষ্ট অবস্থায় বলেছেন, হয় মানুষ জুমু'আ ছেড়ে দেওয়া থেকে বিরত থাকবে, না হয় আল্লাহ তা’আলা তাদের অন্তরে মোহর মেরে দিবেন এবং তারা গাফিলদের পর্যায়ভুক্ত হয়ে যাবে।
1371। মাহমূদ ইবনু গায়লান (রহঃ) ... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিনী হাফসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জুমু'আর জন্য মধ্যাহ্নের পর যাত্রা করা প্রত্যেক সাবালক ব্যক্তির উপর ওয়াজিব।
1372। আহমদ ইবনু সুলায়মান (রহঃ) ... সামুরা ইবনু জুন্দুব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি বিনা কারণে জুমু'আ ছেড়ে দেয় সে যেন একটা দ্বীনার সাদাকা করে দেয়-আর যদি তা না পায় তাহলে যেন অর্ধ দ্বীনার সাদাকা করে দেয়া।
1373। সুওয়ায়দ ইবনু নাসর (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে দিনসমূহে সূর্য উদিত হয় তন্মধ্যে সর্বোত্তম দিন হল জুমু'আর দিন। সে দিন আদম (আলাইহিস সালাম)-কে সৃষ্টি করা হয়েছিল এবং সে দিনই তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছিল এবং সে দিনই তাঁকে জান্নাত থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল।
1374। ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ... আওস ইবনু আওস (রাঃ) সুত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমাদের সকল দিনের মধ্যে পরমোৎকৃষ্ট দিন হল জুমু'আর দিন, সে দিন আদম (আলাইহিস সালাম) কে সৃষ্টি করা হয়েছিল, সে দিনই তাঁর ওফাত হয়, সে দিনই দ্বিতীয় বার শিঙ্গায় ফুঁ দেওয়া হবে এবং সে দিনই কিয়ামত অনুষ্ঠিত হবে। অতএব, তোমরা আমার উপর বেশি বেশি দরুদ পড়। কেননা, তোমাদের দরুদ আমার কাছে পেশ করা হয়। তারা বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! কিভাবে আমাদের দরুদ আপনার কাছে পেশ করা হবে। যেহেতু আপনি (এক সময়) ওফাত পেয়ে যাবেন অর্থাৎ তারা বললেন, আপনার দেহ মাটির সাথে মিশে যাবে। তিনি বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা যমীনের জন্য নবীগণের দেহ গ্রাস করা হারাম করে দিয়েছেন।
1375। মুহাম্মাদ ইবনু সালামা (রহঃ) ... আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রত্যেক বালেগ ব্যক্তির উপর শুক্রবার গোসল করা জরুরী এবং মিসওয়াক করা ও সুগন্ধি লাগানো তার জন্য যা সম্ভব হয়। (রাবী) বুকায়র (রহঃ) আব্দুর রহমান (রহঃ)-এর কথা উল্লেখ করেননি এবং সুগন্ধির ব্যাপারে বলেছেন, যদিও তা মেয়ে লোকের ব্যবহার্য সুগন্ধি থেকে হয়।
1376। কুতায়বা (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ জুমু'আর দিন পায় তখন সে যেন গোসল করে নেয়।
1377। কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জুমু'আর দিনের গোসল প্রত্যেক বালিগ ব্যক্তির উপর জরুরী।
1378। হুমায়দ ইবনু মাসআদা (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রত্যেক মুসলিম ব্যক্তির উপর প্রত্যেক সাত দিনে একদিন গোসল করা জরুরী এবং সেই দিনটি হল জুমু'আর দিন।
1379। মাহমূদ ইবনু খালিদ (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু আ'লা (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি কাসিম ইবনু লূদ ইবনু আবূ বকর (রাঃ) থেকে শুনেছেন যে, তারা জুমু'আর দিনের গোসল সম্পর্কে আয়িশা (রাঃ) এর কাছে আলোচনা করলে তিনি বললেন, তখন লোকজন গ্রামে বাস করত, অতএব তারা জুমু'আয় এমন অবস্থায় উপস্থিত হত যে, জীবিকা অর্জনের পেশায় ব্যস্ততার কারণে তাদের শরীরে ময়লা লেগে থাকত, যখন তাদের শরীরে হাওয়া লাগত, তাদের হাওয়া দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে যেত, যাতে লোকজনের কষ্ট হত, ব্যাপারটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে অবহিত করলে তিনি বললেন, তোমরা গোসল কর না কেন?
1380। আবূল আশআস (রহঃ) ... সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমু'আর দিন উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে তা তার জন্য যথেষ্ট এবং তা উত্তম কাজ আর যে ব্যক্তি গোসল করে তবে তা পরমোত্তম কাজ।
1381। আমর ইবনু মানসূর ও হারুন ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু বাককার (রহঃ) ... আওস ইবনু আওস (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি মাথা এবং শরীর ধুয়ে উত্তম রূপে গোসল করে এবং জুমু'আর সময়ের প্রথম সময়েই মসজিদে যায় এবং খুতবা শুরু থেকেই শুনতে পায় ও ইমামের নিকটবর্তী হয়ে বসে এবং কোন অনর্থক কাজ না করে (কথা না বলে), তার জন্য প্রত্যেক পদক্ষেপে এক বছর আমল করার সওয়াব হবে অর্থাৎ এক বছর সিয়াম পালন করা এবং সালাত আদায় করার।
1382। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) এক জোড়া কাপড় দেখে বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! যদি আপনি এই জোড়াটা কিনে নিতেন এবং তা জুমু'আর দিনে পরিধান করতেন! এবং যখন কোন দল আপনার কাছে আসে তখনও! রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এই জোড়া কাপড় তারাই পরিধান করবে যাদের জন্য আখিরাতে কোন অংশ নেই। তারপর একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে অনুরূপ কাপড় হাদিয়া আসলে তিনি উমর (রাঃ)-কে সেখান থেকে এক জোড়া কাপড় দিয়ে দিলেন, তখন উমর (রাঃ) বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি এই কাপড় তো আমাকে দান করলেন অথচ আপনি উতারিদের কাপড় জোড়া সম্পর্কে যা যা বলার বলেছিলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি তোমাকে তা পরিধান করার জন্য দেইনি। তখন উমর (রাঃ) উক্ত কাপড় জোড়া তার মক্কার এক মুশরিক ভাইকে দিয়ে দিলেন।
1383। হারুন ইবনু আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... আব্দুর রহমান ইবনু আবূ সাঈদ (রাঃ) সুত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জুমু'আর দিনে গোসল প্রত্যেক বালিগ ব্যক্তির উপর জরুরী আর মিসওয়াক করা এবং যতটুকু সূগন্ধি ব্যবহার করা তার সামর্থে কুলায়।
1384। আমর ইবনু উসমান (রহঃ) ... রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবী আওস ইবনু আওস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমু'আর দিনে মাথা ও শরীর ধুয়ে উত্তমরূপে গোসল করে জুমু'আর সময়ের প্রথম সময়েই মসজিদে যায়, কোন বাহনে আরোহন না করে পায়ে হেঁটেই মসজিদে যায় এবং ইমামের নিকটবর্তী হয়ে বসে, নিরব হয়ে খুতবা শুনে ও কোন অনর্থক কাজ না করে, তার জন্য প্রত্যেক পদক্ষেপে এক বছর আমল করার সওয়াব হবে।
1385। নাসর ইবনু আলী (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন জুমু'আর দিন হয় ফেরেশতাগণ মসজিদের দরজা সমূহে বসে যান। এবং যারা জুমু'আর জন্য আসতে থাকেন তাদের নাম লিপিবদ্ধ করতে থাকেন। এরপর যখন ইমাম খুতবা দেওয়ার জন্য বের হয়ে আসেন ফেরেশতাগণ খাতা বন্ধ করে দেন। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, পশ্চিম দিগন্তে হেলে যাওয়ার পর জুমু'আর প্রথম আগমনকারী একটি উট সাদাকা কারার ন্যায়, তারপর আগমনকারী একটি গরু সাদাকাকারীর ন্যায়, তারপর আগমনকারী একটি বকরী সাদাকাকারীর ন্যায়, তারপর আগমনকারী একটি হাঁস সাদাকাকারীর ন্যায়, তারপর আগমনকারী একটি মুরগী সাদাকাকারীর ন্যায়, তারপর আগমনকারী একটি ডিম সাদাকাকারীর ন্যায় সওয়াব পাবে।
1386। মুহাম্মাদ ইবনু মানসূর (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি অত্র হাদীসকে সনদ সুত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌছিয়েছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন যে, যখন জুমু'আর দিন হয় মসজিদের দরজা সমুহের প্রত্যেক দরজায় ফেরেশতাগণ বসে থাকেন। তারা মর্যাদা অনুযায়ী আগমনকারীদের নাম লিখে নেন। প্রথম আগমনকারীর নাম প্রথমে, যখন ইমাম খুতবা দেওয়ার জন্য বের হয়ে আসেন তখন তাঁদের খাতা বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং তাঁরা খুতবা শুনতে থাকেন। অতএব, সূর্য পশ্চিম দিগন্তে হেলে যাওয়ার পর জুম’আয় প্রথম আগমনকারী একটি উট সাদাকাকারীর ন্যায়, তারপর আগমনকারী একটি গরু সাদাকাকারীর ন্যায়, তারপর আগমনকারী একটি ভেড়া সাদাকাকারীর ন্যায় সওয়াব পাবে। এমনকি তিনি মুরগি এবং ডিমের কথাও উল্লেখ করেছিলেন।
1387। রবী ইবনু সুলায়মান (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) সুত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফেরেশতাগণ জুমু'আর দিনে মসজিদের দরজাসমুহে বসে থাকেন, তাঁরা মর্যাদা অনুসারে মানুষের নাম লিপিবদ্ধ করতে থাকেন। ফলে কতক মানুষ সেই লিষ্টে উট সাদাকাকারীর ন্যায়, কতক মানুষ গরু সাদাকাকারীর ন্যায়, কতক মানুষ বকরী সাদাকাকারীর ন্যায়, কতক মানুষ ভেড়া সাদাকাকারীর ন্যায়, কতক মানুষ চড়ুই সাদাকাকারীর ন্যায় এবং কতক মানুষ ডিম সাদাকাকারীর ন্যায় (সওয়াবের দিক থেকে)।
1388। কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমু'আর দিনে সহবাসের পর দেহ পবিত্র করার জন্য গোসলের ন্যায় গোসল করে এবং সূর্য পশ্চিম দিগন্তে হেলে যাওয়ার পর প্রথম মুহূর্তে মসজিদে গমন করে, সে যেন একটি উট সাদাকা করল। যে ব্যক্তি দ্বিতীয় মুহূর্তে মসজিদে গমন করে, সে যেন একটি গরু সাদাকা করল। যে ব্যক্তি তৃতীয় মুহূর্তে মসজিদে গমন করে, সে যেন একটি ভেড়া সাদাকা করল আর যে ব্যক্তি চতুর্থ মুহূর্তে মসজিদে গমন করে সে যেন একটি মুরগী সাদাকা করল এবং যে ব্যক্তি পঞ্চম মুহূর্তে মসজিদে গমন করে সে যেন একটি ডিম সাদাকা করল। যখন ইমাম খুতবা দেওয়ার জন্য বের হয়ে আসেন, তখন ফেরেশতাগণ উপস্থিত হয়ে খুতবা শুনতে থাকেন।
1389। আমর ইবনু সাওয়াদ ও হারিস ইবনু মিসকীন (রহঃ) ... জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জুমু'আর দিনে এমন বারটি মুহূর্ত রয়েছে, এমন কোন মুসলিম বান্দা পাওয়া যাবে না, যে ঐ মূহূর্তগুলোতে আল্লাহর কাছে কোন কিছু চাইবে, কিন্তু তাকে তা দেওয়া হবে না। অতএব, তোমরা ঐ মূহূর্তগুলোকে আসরের পর শেষ সময়ে অনুসন্ধান কর।
1390। হারুন ইবনু আব্দুলাহ (রহঃ) ... জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে জুমু'আর সালাত আদায় করতাম। তারপর আমরা আমাদের আবাসে ফিরে এসে উটগুলোকে আরাম দিতাম। ইমাম মুহাম্মাদ বাকের (রহঃ) বলেন, আমি (জাবির (রাঃ)-কে) জিজ্ঞাসা করলাম, কখন (ফিরে আসতেন)? তিনি বললেন, শীতকালে সূর্য পশ্চিম দিগন্তে হেলে যাওয়ার পর।
1391। শু'আয়ব ইবনু ইয়ুসূফ (রহঃ) ... সালামা ইবনু আকওয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে জুমু'আর সালাত আদায় করতাম, তারপর ঘরে ফিরে আসতাম, তখনও দেয়ালের এমন কোন ছায়ার সৃষ্টি হত না, যেখানে বিশ্রাম গ্রহণ করা যেতে পারে।
1392। মুহাম্মাদ ইবনু সালামা (রহঃ) ... ইবনু শিহাব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার কাছে সাইব ইবনু ইয়াযীদ (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বকর এবং উমর (রাঃ)-এর যুগে জুমু'আর দিনে প্রথম আযান ছিল যখন ইমাম জুমু'আর দিনে মিম্বরের উপর বসতেন। উসমান (রাঃ)-এর খিলাফতের যুগে মানুষের সংখ্যা যখন বেড়ে গেল, তখন উসমান (রাঃ) জুমু'আর দিনে প্রথম আযানের নির্দেশ দিলেন, এবং সর্বপ্রথম সে আযান যাওরা নামক স্থানে দেওয়া হয়েছিল। তারপর (অত্র) আযানের উপর এই আদেশ বলবৎ রয়ে গেল।
1393। মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াহয়া ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ... ইবনু শিহাব (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, সাইব ইবনু ইয়াযীদ (রাঃ) তার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, যখন মদীনায় মানুষের সংখ্যা বেড়ে গিয়েছিল তখন উসমান (রাঃ) তৃতীয় আযানের নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে একটি মাত্র ব্যতীত অন্য আযান ছিল না, আর জুমু'আর দিনে যখন ইমাম (মিম্বরের উপর) বসতেন তখন উক্ত আযান দেওয়া হতো।
1394। মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল আলা (রহঃ) ... সাইব ইবনু ইয়াযীদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমু'আর দিনে মিম্বরের উপর বসতেন, তখন বিলাল (রাঃ) আযান দিতেন এবং যখন তিনি মিম্বর থেকে অবতরণ করতেন তখন ইকামাত দিতেন। তারপর এরূপ আবূ বকর এবং উমর (রাঃ)-এর যুগেও (প্রচলিত) ছিল।
1395। মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল আ'লা (রহঃ) ... আমর ইবনু দীনার (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ এমন সময় আসে যখন ইমাম (খুতবা দেওয়ার জন্য) রের হয়ে আসে, তবে সে যেন দু’রাক-আত সালাত আদায় করে নেয়। রাবী শু’বা (রাঃ) বলেন, জুমু’ আর দিনে।
1396। আমর ইবনু সাওয়্যাদ ইবনু আসওয়াদ (রহঃ) ... জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন খুতবা দিতেন, মসজিদের খেজুর বৃক্ষের স্তম্ভের সাথে ঠেস দিতেন। তারপর যখন মিম্বর প্রস্তুত হয়ে গেল, এবং তিনি তাতে বসলেন, তখন উক্ত খেজুর বৃক্ষের স্তম্ভটি উটনীর ন্যায় ক্রন্দন কবতে লাগল। এমন কি তা মসজিদের মুসল্লিরাও শুনতে ছিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত স্তম্ভের দিকে নেমে এসে তাকে জড়িয়ে ধরলেন। তখন উক্ত স্তম্ভটি চুপ হয়ে গেল।
1397। আহমদ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু হাকাম (রহঃ) ... কা'ব ইবনু উজরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি একদা মসজিদে প্রবেশ করলেন, তখন আব্দুর রহমান ইবনু উম্মি হাকাম (রাঃ) বসে খুতবা দিচ্ছিলেন। তিনি (উপস্থিত মূসল্লিদের লক্ষ্য করে) বললেন, আপনারা এর দিকে তাকান, ইনি বসে খুতবা দিচ্ছেন। অখচ আল্লাহ তা’আলা বলেছেন,وَإِذَا رَأَوْا تِجَارَةً أَوْ لَهْوًا انْفَضُّوا إِلَيْهَا وَتَرَكُوكَ قَائِمًا অর্থঃ যখন তারা দেখল ব্যবসা ও কৌতুক, তখন তারা আপনাকে দাড় করিয়ে ছুটে তার দিকে গেল। (৬২: ১১)।
1398। মাহমুদ ইবনু খালিদ (রহঃ) ... আওস ইবনু আওস সাকাফী (রাঃ) সুত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি শরীর ও মাথা ধৌত করত উত্তম রূপে গোসল করে ও জুমু'আর সময়ের প্রথম সময়েই মসজিদে গিয়ে খুতবা প্রথম থেকে শুনতে পায় আর নিরব হয়ে ইমামের নিকটে বসে এবং কোন অনর্থক কাজ না করে, তার জন্য প্রত্যেক পদক্ষেপে এক বছর আমল করার, এক বছর সালাত আদায় করার এবং সিয়াম পালন করার ন্যায় সওয়াব হরে।
1399। ওয়াহব ইবনু বায়ান (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু বুসর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি শুক্রবারে তার পাশে বসা ছিলাম, তারপর তিনি বলেন, এক ব্যক্তি মানুষের ঘাড় ডিঙিয়ে আসছিল, তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে বললেন, বসে পড়, তুমি মানুষকে কষ্ট দিচ্ছ।
1400। ইবরাহীম ইবনু হাসান ও ইউসুফ ইবনু সায়ীদ (রহঃ) ... জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি আসল, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুক্রবারে মিম্বরের উপর ছিলেন, তিনি তাঁকে বললেন, তুমি কি দু’রাক’আত সালাত আদায় করেছ? সে বলল না, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি সালাত আদায় করে নাও।
1401। কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) সুত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি জুমু'আর দিন ইমামের খুতবা দেওয়ার সময় তার সাথীকে বলল 'চুপ থাক' সে একটি অনর্থক কাজ করল।
1402। আব্দুল মালিক ইবনু শু'আয়ব (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, তুমি যদি জুমু'আর দিন ইমামের খুতবা দেওয়া অবস্থায় তোমার সাথীকে বল চুপ কর, তাহলে তুমি একটি অনর্থক কাজ করলে।
1403। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... সালমান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যেকোন ব্যক্তি জুমু'আর দিনে পবিত্রতা গ্রহণ করে যেভাবে তাকে আদেশ করা হয়েছে। তারপর তার ঘর থেকে বের হয়ে জুম'আয় পৌঁছে যায় এবং সালাত সমাপন না করা পর্যন্ত চুপ থাকে তার জন্য এ আমল জুমু'আর পূর্ববর্তী সমুদয় গুনাহর কাফফারা হয়ে যায়।
1404। মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ (রাঃ) সুত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে খুতবায়ে হাজাত শিক্ষা দিলেনঃ الْحَمْدُ لِلَّهِ نَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا وَسَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلاَ مُضِلَّ لَهُ وَمَنْ يُضْلِلْ فَلاَ هَادِيَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ এরপর তিন আয়াত পাঠ করলেনঃ (يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلاَ تَمُوتُنَّ إِلاَّ وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ) (يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا) (يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيدًا) অর্থঃ হে মু'মিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথার্থভাবে ভয় কর এবং তোমরা আত্নসমর্পণকারী না হয়ে কোন অবস্থায় মর না। (৩ঃ ১০২) হে মানব! তোমরা তোমাদের প্রতিপালক কে ভয় কর যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে করেছেন ও যিনি তা হতে তার সংগিনী সৃষ্টি করেন, যিনি তাদের দু’জন থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দেন; এবং আল্লাহ কে ভয় কর যার নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাঞ্চা কর এবং সতর্ক থাক জ্ঞাতি বন্ধন সম্পর্কে। আল্লাহ তোমাদের উপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন। (৪ঃ ১) হে মুমিগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং সঠিক কথা বলা (৩৩ঃ)
1405। মুহাম্মদ ইবনু বাশ্শার (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একদিন) আমাদের সামনে খুতবা দিলেন। তিনি বললেন, যখন তোমাদের কেউ জুমু'আর সালাত আদায় করার জন্য যাওয়ার ইচ্ছা করে তখন সে যেন গোসল করে নেয়।
1406। মুহাম্মদ ইবনু সালামা (রহঃ) ... ইবরাহীম ইবনু নাশীত (রহঃ) থেকে বর্নিত যে, তিনি ইবনু শিহাব (রহঃ)-কে জুমু'আর দিনের গোসল করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, “তা হলো সূন্নাত”। আরও বলেন, আমার কাছে এ সম্পর্কে সালিম ইবনু আব্দুল্লাহ তার পিতা (আব্দুল্লাহ) (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সষ্পর্কে মিম্বরের উপর বর্ণনা করেছেন।
1407। কুতায়বা (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) সুত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি মিম্বরের উপর দণ্ডায়মান অবস্থায় বলেছেন যে, তোমাদের মধ্যে যে জুমু'আর দিন পায় সে যেন গোসল করে নেয়।
1408। মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) ... আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি জুমু'আর দিনে ছিন্ন বস্ত্রে আসল, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবা দিচ্ছিলেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, তুমি কি সালাত আদায় করেছ? সে বলল, না; তিনি বললেন, তুমি দু’রাকআত সালাত আদায় করে নাও এবং লোকদের সাদাকাহর প্রতি উদ্বুদ্ধ করলেন। তারা কাপড় দান করল, তিনি সেখান থেকে তাকে দুটি কাপড় দিয়ে দিলেন। দ্বিতীয় জুমু'আয় ঐ ব্যক্তি আসল, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবা দিচ্ছিলেন, তিনি লোকদের সাদাকাহর প্রতি উদ্বুদ্ধ করলেন। রাবী বলেন, ঐ ব্যক্তি ও তার দু’কাপড়ের একটা সাদকাহ করে দিলেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এই ব্যক্তি গত জুমু'আয় ছিন্ন বস্ত্রে এসেছিল, তখন আমি লোকদের সাদাকাহ করার আদেশ দিয়েছিলাম, তারা কাপড় দান করেছিল, তখন আমি একে সেখান থেকে দুটো কাপড় দেওয়ার আদেশ দিয়েছিলাম। তারপর এই ব্যক্তি এখন আসল, এবং আমি লোকদের সাদাকাহর আদেশ দিলাম, তো লোকটি তার দুটো কাপড় থেকে একটা দান করে দিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ধমক দিলেন এবং বললেন, তুমি তোমার কাপড় নিয়ে নাও।
1409। কুতায়বা (রহঃ) ... জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একদা) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জুমু'আর দিনে খুতবা দেওয়ার সময় এক ব্যক্তি আসল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, তুমি কি সালাত আদায় করেছ? সে বলল, না; তিনি বললেন, তুমি দাড়াও এবং সালাত আদায় কর।
1410। মুহাম্মাদ ইবনু মানসূর (রহঃ) ... আবূ বাকরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মিম্বরের উপর দেখেছি, এবং ইমাম হাসান (রাঃ) তাঁর সঙ্গে ছিলেন। তিনি একবার লোকদের দিকে তাকাচ্ছিলেন, আর একবার হাসান (রাঃ) এর দিকে তাকাচ্ছিলেন এবং বলছিলেন, নিশ্চয়ই আমার এ দৌহিত্র সর্দার হবে এবং সম্ভবত আল্লাহ তা’আলা তার দ্বারা মুসলিমদের দু’ বড় দলের মধ্যে সন্ধি স্থাপন করাবেন।
1411। মুহাম্মদ ইবনু মুসান্না (রহঃ) ... হারিছা ইবনু নু'মান (রাঃ) এর কন্যা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি “ক্বাফ ওয়াল কুরআনিল মাজিদ” রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মুখ থেকে মুখস্থ করেছিলাম, যখন জুমু'আর দিনে মিন্বরের উপর ছিলেন।
1412। মাহমুদ ইবনু গায়লান (রহঃ) ... হুসায়ন (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, বিশর ইবনু মারওয়ান (রাঃ) জুমু'আর দিন মিম্বরের উপর থাকাবস্থায় উভয় হাত উঠালেন, তখন তাকে উমারা ইবনু রওয়ায়বা ছাকাফী (রাঃ) তিরস্কার করে বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর থেকে বেশি কিছু করেননি, আর তার তর্জনি দ্বারা ইশারা করলেন।
1413। মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল আযীয (রহঃ) ... বুরায়দা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবা দিচ্ছিলেন এমন সময় ইমাম হাসান ও ইমাম হুসায়ন (রাঃ) আগমন করলেন; তাদের পরিধানে দু’টি লাল কুর্তা ছিল। তাঁরা দুর্বলতা হেতূ এদিক-ওদিক পড়ে যাচ্ছিলেন, তাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নেমে আসলেন এবং তাঁর খুতবা বন্ধ করে দিলেন, তিনি তাঁদের উভয়কে উঠিয়ে নিলেন ও মিম্বরের উপর ফিরে আসলেন। তারপর বললেন, আল্লাহ তা'আলা সত্যই বলেছেনঃإِنَّمَا أَمْوَالُكُمْ وَأَوْلاَدُكُمْ فِتْنَةٌ অর্থঃ তোমাদের সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি তো তোমাদের জন্য পরীক্ষা (৬৪ঃ ১৫)। আমি এদের দুই জনকেই দেখলাম যে, তাদের কুর্তা নিয়ে তারা এদিক-ওদিক পড়ে যাচ্ছিল, কাজেই আমি ধৈর্যধারণ করতে পারলাম না, আমি আমার খুতবা বন্ধ করে দিলাম এবং তাদের উঠিয়ে নিয়ে আসলাম।
1414। মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল আযীয (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু আবূ আউফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যিকির অত্যধিক পরিমাণে করতেন এবং অনর্থক কাজ একেবারেই করতেন না আর সালাত দীর্ঘ করতেন, ও খুতবা সংক্ষেপ করতেন, তিনি বিধবা ও গরীবদের সাথে চলা-ফেরায় সংকোচ বোধ করতেন না। যাতে তিনি তাদের প্রয়োজন পূরণ করতে পারেন।
1415। আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ... জাবির ইবনু সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে উঠাবসা করেছি। আমি তাকে দাঁড়ানো অবস্থায় ছাড়া কখনো খুতবা দিতে দেখিনি। তিনি বসতেন, পুনরায় দাঁড়িয়ে যেতেন ও দ্বিতীয় খুতবা পাঠ করতেন।
1416। ইসমাঈল ইবনু মাসউদ (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুইটি খুতবা দিতেন দাঁড়ানো অবস্থায় এবং উভয়ের মাঝে বসার দ্বারা বিরতি করতেন।
1417। মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু বাযী (রহঃ) ... জাবির ইবনু সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখেছি যে, তিনি জুমু'আর দিনে দাঁড়ানো অবস্থায় খুতবা দিতেন তারপর বসতেন, সে বসাতে কথা বলতেন না। পুনরায় দাঁড়িয়ে যেতেন এবং দ্বিতীয় খুতবা দিতেন। অতএব, যে ব্যক্তি তোমাদের কাছে বর্ণনা করে যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসা অবস্থায় খুতবা দিতেন তা হলে সে মিথ্যা বলল।
1418। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... জাবির ইবনু সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে খুতবা দিতেন, তারপর বসতেন, পূনরায় দাঁড়াতেন ও কিছু আয়াত তিলাওয়াত করতেন এবং আল্লাহ তা’আলার যিকির করতেন। আর তার খুতবা হত পরিমিত আকারের, এবং তার সালাত হত মধ্যম প্রকারের। [হাসান। ইবন মাজাহ হাঃ ১১০৬,মুসলিম (ইসলামিক সেন্টার) হাঃ
1419। মুহাম্মাদ ইবনু আলী (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বর থেকে অবতরণ করার পর কেউ তার সামনে আসলে তিনি তার সাথে কথা বলতেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে তার প্রয়োজন মিটিয়ে দিতেন, তারপর তার সালাতের স্থানে এসে সালাত আদায় করে নিতেন।
1420। আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ... আব্দুর রহমান ইবনু আবূ লায়লা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমর (রাঃ) বলেছেন, জুমু’আর সালাত দু’রাকআত, ঈদুল ফিতরের সালাত দু’রাকআত, ঈদুল আযহার সালাত দু’রাকআত এবং সফরের অবস্থার সালাতও দু’রাকআত। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ভাষ্য মতে সে দু’রাকআতই পূর্ণ সালাত, সংক্ষেপ নয়। আবূ আব্দুর রহমান নাসাঈ (রহঃ) বলেন, আব্দুর রহমান ইবনু আবূ লায়লা উমর (রাঃ) থেকে শুনেন নি।
1421। মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল আলা সান’আনী (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জুমু'আর দিনে ফজরের সালাতে الم تَنْزِيلُ এবং هَلْ أَتَى عَلَى الإِنْسَانِ পাঠ করতেন, আর জুমু'আর সালাতে সূরা জুমু'আ ও সূরা মুনাফিকুন পাঠ করতেন।
1422। মুহাম্মদ ইবনু আব্দুল আলা (রহঃ) ... সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমু'আর সালাতে سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الأَعْلَى এবং هَلْ أَتَاكَ حَدِيثُ الْغَاشِيَةِ পড়তেন।
1423। কুতায়বা (রহঃ) ... উবায়দুল্লাহ ইবনু আব্দুল্লাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, যাহহাক ইবনু কায়স (রহঃ) নূমান ইবনু বশীর (রাঃ) কে প্রশ্ন করলেন, জুমু'আর দিনে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূরা জুমু'আর পরে কোন সূরা পাঠ করতেন? তিনি বললেন, তিনি هَلْ أَتَاكَ حَدِيثُ الْغَاشِيَةِ পাঠ করতেন।
1424। মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল আ’লা (রহঃ) ... নু'মান ইবনু বশীর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমু'আর সালাতে سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الأَعْلَى এবং هَلْ أَتَاكَ حَدِيثُ الْغَاشِيَةِ পাঠ করতেন। আর কখনো কখনো ঈদ এবং জুমু'আ একত্রিত হয়ে যেত তখন ঈদ এবং জুমু'আ ঊভয় সালাতে ঐ দুই সূরা পড়তেন।
1425। কুতায়বা ও মুহাম্মাদ ইবনু মানসূর (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) সুত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি জুমু'আর সালাতের এক রাকআত পেল সে ব্যক্তি জুমু'আ পেল।
1426। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ জুমু'আর সালাত আদায় করে তখন সে যেন তার পরে চার রাকআত সালাত আদায় করে।
1427। কুতায়বা (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমু'আর পরে কোন সালাত আদায় করতেন না, যতক্ষন না ঘরে ফিরে আসতেন, তারপর দু’রাকআত সালাত আদায় করতেন।
1428। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... সালিমের পিতা (ইবনু উমর) (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমু'আর পরে তার ঘরে দু’রাকআত সালাত আদায় করতেন।
1429। আবদা ইবনু আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি জুমু'আর পরে দু’রাকআত সালাত আদায় করতেন এবং তা দীর্ঘ করতেন। তিনি বলতেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাই করতেন।
1430। কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমি একদা তূর নামক স্থানে আসলাম। তথায় আমি কা’ব (রাঃ) কে পেলাম, সেখানে আমি এবং তিনি একদিন অবস্থান করলাম। আমি তাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদিস বর্ণনা করতাম, আর তিনি আমাকে ‘তাওরাত’ থেকে বর্ণনা করতেন। আমি তাকে বললাম, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন সর্বোৎকৃষ্ট দিন যাতে সূর্য উদিত হয়, জুমু'আর দিন। সেই দিনে আদম (আঃ) কে সৃষ্টি করা হয়েছে, সে দিনই জান্নাত তাকে জান্নাত থেকে অবতরন করানো হয়েছে, সে দিনই তাঁর তাওবা কবুল করা হয়েছে, সে দিনই তাঁর মৃত্যু হয়েছে, সে দিনই কিয়ামত অনুষ্ঠিত হবে। ভূপৃষ্ঠে বনী আদম ছাড়া এমন কোন জীব জন্তু নেই যা জুমু'আর দিন সূর্যোদয় পর্যন্ত কিয়ামত সংগঠিত হবার ভয়ে উৎকণ্ঠিত হয়ে না থাকে। সেই দিনে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে যে কোন মু’মিন সালাতে রত থাকা অবস্থায় তা পেয়ে আল্লাহর কাছে যদি সেই সময় কিছু প্রার্থনা করে, আল্লাহ্ তাকে নিশ্চয় তা দিবেন। তারপর কা’ব জিজ্ঞাসা করলেন, সেই মুহূর্তটি প্রতি বছর কি একদিনই হয়? আমি বললাম, বরং তা প্রতি জুমু'আর দিনেই হয়। তখন কা’ব তাওরাত থেকে পাঠ করলেন, তারপর বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সত্যই বলেছেন, তা প্রত্যেক জুমু'আর দিনেই হয়। তখন আমি বের হলে বসরা ইবনু আবূ বসরা গিফারী (রাঃ) এর সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়। তিনি বললেন, তুমি কোথা থেকে আসছ? আমি বললাম, ‘তূর’ থেকে। তিনি বললেন যদি তোমার সেখানে যাওয়ার পূর্বে তোমার সাথে আমার সাক্ষাৎ হতো, তা হলে তুমি সেখানে যেতে না। আমি তাকে বললাম, তুমি এমন কথা কেন বলছ? আমি তো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, তিনটি মসজিদ ছাড়া সফর করা যাবে না। মসজিদে হারাম, আমার মসজিদ (মসজিদে নববী) এবং মসজিদে বায়তুল মুকাদ্দাস। তারপর আমি আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ)-এর সাথে সাক্ষাৎ করে বললাম, যদি আপনি আমাকে দেখতেন যে, আমি 'তূর' নামক স্থানে গিয়েছি ও কা’ব (রাঃ)-এর সাথে সাক্ষাৎ করেছি আর আমি এবং তিনি একদিন সেখানে অবস্থান করেছি। আমি তাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীস বর্ণনা করে শুনাতাম আর তিনি আমাকে তাওরাত থেকে বর্ননা করে শুনাতেন। তখন আমি তাকে বললাম যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সর্বোৎকৃষ্ট দিন যাতে সূর্য উদিত হয় জুমু'আর দিন। সেই দিন আদম (আলাইহিস সালাম) কে সৃষ্টি করা হয়েছে, সে দিনই তাকে জান্নাত থেকে অবতরণ করানো হয়েছে, সে দিনই তার তওবা কবুল করা হয়েছে, সে দিনই তার মৃত্যু হয়েছে এবং সে দিনই কিয়ামত অনুষ্ঠিত হবে। ভূ-পৃষ্ঠে বনী আদম ছাড়া এমন কোন জীব-জন্তু নেই, জুমু'আর দিন সূর্যোদয় পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার ভয়ে উৎকর্ণ হয়ে না থাকে। সেই দিনে এমন একটি মুহৃর্ত রয়েছে যে কোন মুমিন সালাতে রত থাকা অবস্থায় তা পেযে আল্লাহর কাছে যদি সেই সময় কোন কিছু প্রার্থনা করে আল্লাহ তাকে তা নিশ্চয়ই দিবেন। কা’ব (রাঃ) বলেছেন, সেই দিনটি প্রতি বছর একদিনই হয়, তখন আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) বললেন, কা’ব (রাঃ) সত্য বলেনি। আমি (আবূ হুরায়রা) বললাম, তারপর কা’ব (রাঃ) পুনরায় (তওরাত) পড়লেন। তখন তিনি বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সত্যই বলেছেন, সেই মুহূর্তটি প্রত্যেক জুমু'আর দিনেই হয়। তখন আবদুল্লাহ (রাঃ) বললেন, কা’ব (রাঃ) সত্যই বলেছেন, আমি সেই মুহূর্তটি সম্পর্কে অবশ্যই অবগত আছি। আমি বললাম, হে আমার ভাই! আপনি আমাকে সেই মুহূর্তটি সম্পর্কে বর্ণনা করুন। তিনি বললেন, তা জুমু'আর দিনে সূর্য অস্ত যাওয়ার পুর্বে শেষ সময়। তখন আমি বললাম, আপনি কি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেননি যে, কোন মুমিন ব্যক্তি সালাতে রত থাকা অবস্থায় তা পায় (এবং সে সময় কোন দোয়া করলে আল্লাহ কবুল করেন) অথচ সে সময় তো কোন সালাত নেই। তিনি বললেন, তুমি কি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুননি যে, যে ব্যক্তি সালাত আদায় করে এবং বসে বসে পরবর্তী সালাতের অপেক্ষায় থাকে, সে ব্যক্তি সালাতেই থাকবে, যতক্ষন পর্যন্ত না তার কাছে পরবর্তী সালাত উপস্থিত হয়। আমি বললাম, কেন নয়? নিশ্চয়! তিনি বললেন, এটাও সেই রকমই।
1431। মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াহয়া (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) সুত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নিশ্চয়ই জুমু'আর দিনে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে কোন মুসলিম বান্দা উক্ত মুহূর্তটি পেয়ে আল্লাহর কাছে কোন কিছু প্রার্থনা করলে অবশ্যই আল্লাহ তাকে তা নিশ্চয়ই দিবেন।
1432। আমর ইবনু যুরারাহ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূল কাসেম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, নিশ্চয়ই জুমু'আর দিনে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে যে, কোন মুসলিম বান্দা সেই সময়টি পেয়ে সালাতে দাঁড়িয়ে আল্লাহ তা'আলার কাছে কোন কিছু প্রার্থনা করলে নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা তাকে তা দেবেন। (আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন যে, এ মুহূর্তটি সংকীর্ণ।
উৎস: Sunan an Nasai
WEBREATH · 11:11
«Should I not be a thankful servant?» — Sahih al-Bukhari
Breath is one for all: everyone lives by it, whoever they are and whatever they believe. Every day at 11:11 local time people stop for sixty seconds, breathe, and thank GOD for the breath — each in their own words, each within themselves. In that minute we are One Breath.
WEBREATH — the Minute at 11:11, your own local time — we are One Breath