হাদিস
ফিরে যান

সুনানে নাসায়ী 13 · The Book of Forgetfulness (In Prayer)

আপনার ভাষায় এখনো কোনো অনুবাদ নেই — ইংরেজি দেখাচ্ছে

1179। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আবদুর রহমান ইবনু আমাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সালাতে তাকবীর বলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হলে বললেন, (মুসল্লী) তাকবীর বলবে, যখন সে রুকুতে যাবে, সিজদায় যাবে, সিজদা থেকে তার মাথা উঠাবে এবং যখন দ্বিতীয় রাকআত থেকে দাঁড়াবে। হুতায়ম (রহঃ) [আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-কে] প্রশ্ন করলেন, কার কাছ থেকে আপনি এগুলো শুনে মনে রেখেছেন? তিনি বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বকর (রাঃ) এবং উমর (রাঃ) থেকে। তখন হুতায়ম (রহঃ) তাকে বললেন, আর উসমান (রাঃ)? তিনি বললেন, উসমান (রাঃ) থেকেও (শুনে মনে রেখেছি)।

1180। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... মুতাররিফ ইবনু আব্দুল্লাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) একদা সালাত আদায় করছিলেন, তিনি প্রত্যেক নীচে অবতরণ এবং উঁচুতে উঠার সময় পূর্নাঙ্গভাবে তাকবীর বলাছিলেন। তখন ইমরান ইবনু হুসায়ন বললেন, আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) তিনি আমাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাতের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন।

1181। ইয়াকুব ইবনু ইবরাহীম দাওরাকী এবং মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... আবূ হুমায়দ সায়ীদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন দু’সিজদার পর দাঁড়াতেন, তাকবীর বলতেন এবং হস্তদ্বয় তার উভয় কাঁধ বরাবর উত্তোলন করতেন, যেমন সালাত শুরু করার সময় তিনি করতেন।

1182। মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল আলা সান'আনী (রহঃ) ... (আব্দুল্লাহ) ইবনু উমর (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত যে, তিনি যখন সালাত আরম্ভ করতেন, তখন তাঁর হস্তদ্বয় উত্তোলন করতেন। আর যখন রুকুতে যাওয়ার ইচ্ছা করতেন, যখন রুকু থেকে মাথা উঠাতেন, এবং যখন দ্বিতীয় রাকআত থেকে দাঁড়াতেন তখনও অনুরূপভাবে উভয় কাঁধ বরাবর তার হস্তদ্বয় উঠাতেন।

1183। মুহাম্মদ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু বাযী (রহঃ) ... সাহল ইবনু সাদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনূ আমর ইবনু আউফে (কোন সংকট) মীমাংসার জন্য গেলেন। এরপর সালাতের সময় হলে মুয়াযযিন আবূ বকর (রাঃ)-এর কাছে এসে সাহাবীগণকে একত্র করে তাদের ইমামতি করতে অনুরোধ করলেন। ইতিমধ্যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে কাতার ফাঁক করে প্রথম সারিতে দাঁড়িয়ে গেলেন। সাহাবীগণ আবূ বকর (রাঃ)-কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আগমন সম্পর্কে অবহিত করার জন্য হাতে তালি দিলেন। আবূ বকর (রাঃ) সালাতে (একাগ্রতার কারণে) অন্য দিকে লক্ষ্য করতেন না। যখন হাত তালির মাত্রা বেড়ে গেল তিনি বুঝতে পারলেন যে, তাদের সালাতে কোন কিছু ঘটেছে। তিনি লক্ষ্য করে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আগমন সমন্ধে অবহিত হলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিকে ইশারা করলেন যে, তুমি নিজ অবস্থায় থাক। তখন আবূ বকর (রাঃ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এ কথার জন্য তার হস্তদ্বয় উত্তোলন পূর্বক আল্লাহ তা’আলার প্রশংসা ও তার গুনগান করলেন এবং পিছু হটে গেলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অগ্রসর হয়ে সালাত আদায় করলেন। সালাত শেষ করে তিনি আবূ বকর (রাঃ)-কে বললেন, আমি যখন তোমার প্রতি ইশারা করেছিলাম তখন তোমাকে সালাত আদায় করতে কিসে বারণ করেছিল? তিনি বললেন, ইবনু আবূ কোহাফার (আবূ বকর) জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে ইমামতি করা সমীচীন ছিল না। তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীগণকে বললেন, তোমাদের কি হয়েছিল? তোমরা হাতে তালি দিয়েছিলে কেন? হাতে তালিতো দেওয়া তো নারীদের জন্য। এরপর বললেন, যদি তোমাদের সালাতে কিছু ঘটে যায় তবে তোমরা তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ) পড়বে।

1184। কুতায়বা ইবনু সায়ীদ (রহঃ) ... জাবির ইবনু সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা আমাদের কাছে আসলেন। তখন আমরা অর্থাৎ সালাত শেষে সালাম ফিরাবার সময় স্বীয় হস্ত উঠিয়ে রেখেছিলাম। তখন তিনি বললেন, এদের কি হল যে, এরা সালাত শেষে স্বীয় হস্ত উঠিয়ে রেখেছে? যেন সালাত অবাধ্য ঘোড়ার লেজ। তোমরা সালাতে ধীর-স্থির থাকবে।

1185। আহমদ ইবনু সুলায়মান (রহঃ) ... জাবির ইবনু সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পেছনে সালাত আদায় করছিলাম। তারপর আমরা (সালাত শেষে) হস্ত দ্বারা ইশারা করে সালাম ফিরাচ্ছিলাম। তখন তিনি বললেন, এদের কি হল যে, এরা স্বীয় হস্ত দ্বারা সালাম ফিরাচ্ছে? যেন সালাত অবাধ্য অস্থির ঘোড়ার লেজ। এদের প্রত্যেকের জন্য কি এটাহ যথেষ্ট নয় যে, সে উরুর উপর হাত রেখে বলে, আসসালামু আলাইকুম, আসসালামু আলাইকুম।

1186। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবী সুহায়ব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পাশ দিয়ে (একদা) যাচ্ছিলাম, তখন তিনি সালাত আদায় করছিলেন। আমি তাকে সালাম করলে তিনি ইশারায় আমার সালামের উত্তর দিলেন। আমি এর বেশি কিছু জানি না যে, তিনি [সুহায়ব (রাঃ)] বলেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অঙ্গুলী দ্বারা ইশারা করেছিলেন।

1187। মুহাম্মদ ইবনু মানসুর মক্কী (রহঃ) ... যায়দ ইবনু আসলাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (আব্দুল্লাহ) ইবনু উমর (রাঃ) বলেছেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করার জন্য একদা মসজিদে কুবায় প্রবেশ করলেন। এরপর কয়েকজন সাহাবী তাঁকে সালাম দেবার জন্য তার কাছে আসলেন। সুহায়ব (রাঃ)-ও তাদের সঙ্গে ছিলেন। আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সালাম করা হল, তখন তিনি কি করলেন? তিনি বললেন, তিনি হাত দ্বারা ইশারা করলেন।

1188। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... আম্মার ইবনু ইয়াসির (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি সালাত আদায়কালে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সালাম বললেন, তিনি তাঁর সালামের জবাব দিলেন।

1189। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে (কোথাও) কোন প্রয়োজনে পাঠালেন, এরপর আমি (এসে) তাঁকে সালাত আদায়রত পেলাম। তখন আমি তাকে সালাম করলে তিনি আমার দিকে ইশারা করলেন। যখন সালাত শেষ করলেন আমাকে ডেকে বললেন যে, তুমি কি এখন আমাকে সালাত আদায় রত অবস্থায় সালাম বলেছিলে? [জাবির (রাঃ) বলেন] তখন তিনি পূর্বদিকে মুখ করেছিলেন। (কারণ তখন তিনি বাহনের উপর ছিলেন)।

1190। মুহাম্মাদ ইবনু হাশিম বালাবাক্কী (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে (কোন প্রযোজনে কোথাও) পাঠালেন। তারপর আমি তার কাছে ফিরে আসলাম। তিনি তখন পূর্ব দিকে বা পশ্চিম দিকে সফর করছিলেন। আমি তাকে সালাম বললে তিনি হাত দ্বারা ইশারা করলেন। আমি পুনরায় তাঁকে সালাম বললে তিনি হাত দ্বারা ইশারা করলেন। আমি চলে যেতে থাকলে তিনি আমাকে ডাকলেন, হে জাবির! এরপর সাহাবীগণও ডাকলেন, হে জাবির! আমি তাঁর কাছে এসে বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি আপনাকে সালাম বললে আপনি তাঁর উত্তর দেন নি (শব্দের মাধ্যমে)। তখন তিনি বললেন, আমি তখন সালাত আদায় করছিলাম।

1191। কুতায়বা ইবনু সাঈদ ও হুসায়ন ইবনু হুরায়ছ (রহঃ) ... আবূ যর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ সালাতে দাঁড়ায় তখন সে যেন কংকর স্পর্শ না করে। কেননা, তখন তাঁর প্রতি (আল্লাহর) রহমত মুতাওয়াজ্জাহ থাকে।

1192। সুওয়াইদ ইবনু নাসর (রহঃ) ... মুআয়কীব (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যদি তোমার তা (কংকর স্পর্শ) করা একান্তই প্রয়োজন হয়ে পড়ে তবে একবার (করতে পার)।

1193। উবায়দুল্লাহ ইবনু সায়ীদ, শুআয়ব ইবনু ইউসুফ (রহঃ) ... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মানুষের কি হল যে, তারা সালাতে আকাশের দিকে দৃষ্টিপাত করে? এ ব্যাপারে তার কথা এতো কঠোর হলো যে, তিনি বললেন, হয় তারা এ থেকে বিরত থাকবে, না হয় অভি দ্রুত তাদের দৃষ্টিশক্তি ছিনিয়ে নেয়া হবে।

1194। সুওয়ায়দ ইবনু নাসর (রহঃ) ... উবায়দুল্লাহ ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একজন সাহাবী তাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন যে, যখন তোমাদের কেউ সালাতে থাকবে তখন সে যেন আকাশের দিকে দৃষ্টিপাত না করে। যাতে (অতি দ্রুত) তার দৃষ্টি শক্তি ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

1195। সুওয়ায়দ ইবনু নাসর (রহঃ) ... আবূ যর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, আল্লাহ তা’আলা বান্দার প্রতি তার সালাতে দণ্ডায়মান থাকাকালীন পর্যন্ত রহমতের দৃষ্টিপাত করতে থাকেন, যতক্ষন পর্যন্ত সে অন্য দিকে দৃষ্টিপাত না করে। যখন সে অন্য দিকে দূষ্টিপাত করে তখন আল্লাহ তাআলাও তার থেকে রহমতের দৃষ্টি ফিরিয়ে নেন।

1196। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সালাতে এদিক-ওদিক তাকানো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, তা হল ছোঁ মারা। যা দ্বারা শয়তান সালাতের একাগ্রতা ছোঁ মেরে নিয়ে যায়।

1197। আমর ইবন আলী (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) এর সূত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ রেওয়ায়ত করেছেন।

1198। আমর ইবন আলী (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) সূত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণিত রয়েছে।

1199। হেলাল ইবনু আলা (রহঃ) ... আবূ আতিয়্যা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আয়িশা (রাঃ) বলেছেন, সালাতে এদিক ওদিক দেখা ছোঁ মারা যা দ্বারা শয়তান সালাতের একাগ্রতা ছোঁ মেরে নিয়ে যায়।

1200। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একবার) অসুস্থ হলেন। আমরা তখন তার পেছনে সালাত আদায় করছিলাম। তিনি তখন বসা অবস্থায় ছিলেন আর আবূ বকর (রাঃ) তাকবীর বলে মুসল্লীদেরকে তার তাকবীর শুনাচ্ছিলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের প্রতি লক্ষ্য করে আমাদের দাড়ানো অবস্থায় দেখলেন। তিনি আমাদের প্রতি ইশারা করলে আমরা বসে গেলাম এবং তার সাথে বসে বসে সালাত আদায় করলাম। যখন তিনি সালাম ফিরালেন তখন বললেন, এখন তোমরা ইরান এবং রোমানদের ন্যায় কাজ করলে। তারা তাদের বাদশাহদের সামনে দণ্ডায়মান থাকতো আর বাদশাহ থাকতো বসা। অতএব, তোমরা সে রকম করবে না, তোমরা স্বীয় ইমামের অনুসরণ করবে। ইমাম যদি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করেন, তবে তোমরাও দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করবে- আর যদি ইমাম বসে সালাত আদায় করেন তরে তোমরাও বসে সালাত আদায় করবে।

1201। আবূ আম্মার হুসায়ন ইবনু হুরায়ছ (রহঃ) ... (আব্দুল্লাহ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সালাতে ডানে এবং বামে তাকাতেন। কিন্তু তিনি তার ঘাড় পিঠের পিছনে ফিরাতেন না।

1202। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই কালো প্রাণী (সাপ এবং বিচ্ছু)-কে সালাতে হত্যা করার আদেশ করেছেন।

1203। মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই কালো প্রাণীকে (সাপ এবং বিচ্ছু) সালাতে হত্যা করার আদেশ করেছেন।

1204। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আবূ কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায়কালীন সময়ে (তার দোহীত্রী) উমামা (রাঃ)-কে কাঁধে তুলে নিতেন এবং যখন সিজদায় যেতেন তাকে (নিচে) রেখে দিতেন। আবার যখন দাঁড়াতেন কোলে তুলে নিতেন।

1205। কূতায়বা (ইবনু সাঈদ) (রহঃ) ... আবূ কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখলাম যে, তিনি সাহাবীদেরকে নিয়ে ইমামতি করছেন এবং উমামা বিনত আবূল আস (রাঃ)-কে তাঁর কাঁধে তুলে রেখেছেন, যখন তিনি রুকূতে যেতেন তাঁকে (নিচে) রেখে দিতেন এবং যখন সিজদা সমাপন করতেন তাঁকে পুনরায় কাঁধে তুলে নিতেন।

1206। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একবার) আমি দরজা খুলতে চাইলাম। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নফল সালাত আদায় করছিলেন আর দরজা ছিল কিবলার দিকে। তখন তিনি বাম দিকে অথবা কয়েক কদম হেঁটে গিয়ে দরজা খুলে দিলেন এবং পুনরায় সালাতের স্থানে ফিরে আসলেন।

1207(। কুতায়বা ইবনু সাঈদ) এবং মুহাম্মাদ ইবনু মুছান্না (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, (সালাতে) তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ) পড়া পুরুষদের জন্য আর হাতে তালি দেওয়া নারীদের জন্য, (মুহাম্মাদ) ইবনু মুছান্না (রহঃ) 'সালাতে' এ শব্দটি বেশি বলেছেন।

1208। মুহাম্মদ ইবনু সালামা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তাসবীহ (সূবহানাল্লাহ) পড়া পুরুষদের জন্য আর হাতে তালি দেওয়া নারীদের জন্য।

1209। কুতায়বা এবং সুওয়াইদ ইবনু নসর (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তাসবীহ পুরুষদের জন্য আর হাতে তালি দেওয়া নারীদের জন্য।

1210। উবায়দুল্লাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) সুত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, তাসবীহ পূরুষদের জন্য আর হাতে তালি দেওয়া নারীদের জন্য।

1211। মুহাম্মাদ ইবনু কুদামা (রহঃ) ... আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসার একটা নির্দিষ্ট সময় ছিল। তখন আমি তাঁর কাছে আসতাম, আমি যখন তাঁর কাছে আসতাম অনুমতি চাইতাম। যদি তাকে সালাতরত পেতাম তবে তিনি গলা খাকার দিলে আমি প্রবেশ করতাম, আর অবসর থাকলে আমাকে অনুমতি দিতেন।

1212। মুহাম্মাদ ইবনু উবায়দ (রহঃ) ... আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পক্ষ থেকে আমার জন্য প্রবেশের দুটি সময় ছিল। একটি রাতে অপরটি দিনে। যখন রাতে প্রবেশ করতাম তখন তিনি আমাকে উদ্দেশ করে গলা খাঁকার দিতেন।

1213। কাসিম ইবনু যাকারিয়া (রহঃ) ... নুজাই (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আলী (রাঃ) আমাকে বলেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আমার একটা বিশেষ মর্যাদা ছিল যা জগতের মধ্যে অন্য কারো জন্য ছিল না, আমি তাঁর কাছে প্রতি রাতের শেষাংশে আসতাম এবং আসসালামু আলাইকুম ইয়া নবীয়াল্লাহ! বলতাম। তখন যদি তিনি গলা খাঁকার দিতেন তা হলে আমি ঘরে ফিরে যেতাম আর তা না হলে তার কাছে যেতাম।

1214। সুওয়ায়দ ইবনু নাসর (রহঃ) ... আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসলাম, তখন তিনি সালাত আদায় করছিলেন, আর তাঁর ভিতরে ডেকচির শব্দের ন্যায় শব্দ হচ্ছিল। অর্থাৎ তিনি কাঁদছিলেন।

1215। মুহাম্মাদ ইবনু সালামা (রহঃ) ... আবূ দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একবার) সালাতে দাঁড়ালে আমরা তাকে বলতে শুনলাম, আমি তোর (ইবলীস) থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চাই। তারপর বললেন, আমি আল্লাহর লানত দ্বারা তোকে লানত দিচ্ছি। (এ বাক্যটি তিনি) তিনবার (বললেন) এবং হাত প্রসারিত করলেন যেন কোন কিছু ধরতে চাচ্ছেন। যখন তিনি সালাত শেষ করলেন, আমরা বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! (আজ) আমরা সালাতে আপনাকে এমন কিছু বলতে শুনেছি যা ইতিপূর্বে আর কখনো বলতে শুনিনি, আর (আজ) আপনাকে হাত প্রসারিত করতে দেখেছি। তিনি বললেন, আল্লাহর দুশমন ইবলীস অগ্নিস্ফুলিংগ নিয়ে এসেছিল আমার চেহারায় নিক্ষেপ করার জন্য, তখন আমি তিনবার বললাম, আমি তোর থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চাই। এরপর আমি তিনবার বললাম, আল্লাহর লানত দ্বারা আমি তোকে লানত দিচ্ছি। এতেও সে যখন পেছনে সরে গেল না তখন আমি তাকে ধরতে ইচ্ছা করেছিলাম। আল্লাহর শপথ! যদি আমার ভাই সুলায়মান (আলাইহিস সালাম) এর দোয়া না থাকতো তা হলে সে ভোর পর্যন্ত খুঁটির সাথে বাঁধা থাকতো। তার সাথে মদীনার শিশু-কিশোররা খেলা করত।

1216। কাসীর ইবনু উবায়দ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একদা) সালাতে দাঁড়ালেন আমরাও তাঁর সঙ্গে দাঁড়ালাম, তখন এক বেদুঈন সালাতরত অবস্থায় বলে উঠছেন, “ইয়া আল্লাহ! তুমি আমার এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর রহম কর, আর আমাদের সাথে আর কারোর উপর রহম করো না। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাম ফিরালে ঐ বেদুঈনকে বললেন, তুমি একটি প্রশস্ত বস্তুকে সংকুচিত করে দিলে। এর দ্বারা তিনি আল্লাহর রহমতকে বুঝিয়েছেন।

1217। আব্দুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক বেদুঈন (একদা) মসজিদে প্রবেশ করল এবং দু’রাকআত সালাত আদায় করে বললো, হে আল্লাহ! আমার ও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওপর রহম কর এবং আমাদের সাথে আর কারো উপর রহম করো না। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি একটি প্রশস্ত বস্তুকে সংকুচিত করে দিলে।

1218। ইসহাক ইবনু মনসূর (রহঃ) ... মুআবিয়া ইবনু হাকাম সুলামী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমরা নিকট অতীতে জাহেলিয়াতে নিমজ্জিত ছিলাম, তারপর আল্লাহ তা’আলা ইসলাম পাঠালেন। আমাদের মধ্যে কিছু লোক শুভ অশুভ লক্ষণ মানে। তিনি বললেন, তা এক প্রকার কুসংস্কার, যা তাদের মনে উদ্রেক হয়ে থাকে এটা যেন তাদের কোন কাজ থেকে বিরত না রাখে। আমি আরো বললাম, আমাদের মধ্যে কিছু লোক গনকদের কাছে যাতায়াত করে। তিনি বললেন, তোমরা গণকদের কাছে যেয়ো না। তিনি বললেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমাদের মধ্যে কিছু লোক রেখা টেনে থাকে, তিনি বললেন নবীদের (নবীদের) মধ্যে একজন নবী রেখা টানতেন।[ ইদ্রীস (আলাইহিস সালাম) অথবা দানিয়াল (আলাইহিস সালাম)] অতএব, যার রেখা তাঁর রেখার সাথে মিলে যায় তা সঠিক বলে প্রতিপন্ন হবে। রাবী বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে সালাতে ছিলাম, এমন সময় এক ব্যক্তি হাচি দিলে আমি يَرْحَمُكَ اللَّهُ বললাম, তখন উপস্থিত লোকজন আমার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকাতে থাকলে আমি বললাম, তোমাদের মাতারা তোমাদের হারিয়ে ফেলূক! তোমাদের কি হল তোমরা আমার দিকে এরুপ তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকাচ্ছ কেন? তখন লোকজন (আার্শ্চান্বিত হয়ে) তাদের উরুদেশে তাদের হাত মারতে আরম্ভ করলো, আমি যখন দেখলাম যে, তারা আমাকে চুপ করাতে চাচ্ছে আমি (রাগান্বিত না হয়ে) চুপ হয়ে গেলাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাত শেষ করলেন আমাকে তাকলেন, তাঁর উপর আমার মাতা-পিতা কোরবান হোক। তিনি (সালাতে তিনি আমার অবাঞ্চিত কথা বার্তার জন্য) আমাকে তিরস্কার করলেন না এবং কটু কথাও বললেন না। আমি এর পূর্বে বা পরে তার থেকে উত্তম কোন শিক্ষক দেখিনি। তিনি বললেন আমাদের এ সালাতে কারো কথা বলা সমীচীন নয়। এতো হলো তাসবীহ তাকবীর ও তিলাওয়াতে কুরআনের সমষ্টি। রাবী বলেন, এরপর আমার একটি বকরীর পাল আমার দিকে এগিয়ে আসল যা আমার দাসী উহুদ এবং জাওয়ানীয়ায় চরাচ্ছিল। আমি দেখলাম যে, বাঘে পাল থেকে একটি বকরী নিয়ে গেছে। আমিও তো এক আদম সন্তান তাই আমি (দাসীর উপর) রাগান্বিত হয়ে গেলাম, যেমন অন্যরাও রাগান্বিত হয়ে থাকে। অতএব, আমি দাসীকে একটা চড় মারলাম। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে তাঁর সংবাদ দিলাম। তিনি চড় মারাকে খুবই অন্যায় কাজ মনে করলেন। আমি বললাম, ইয়া রাসুলল্লাহ আমি কি তাকে (এর প্রায়শ্চিত স্বরূপ) আযাদ করে দের? তিনি বললেন, আযাদ করে দাও, সে দাসীকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, আল্লাহ কোথায়? সে বললো, আসমানে। তিনি তাঁকে আবার জিজ্ঞাসা করলেন আমি কে? সে বললো, আপনি আল্লাহর রাসুল। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “সে মুমিনা, অতএব তাকে আযাদ করে দাও”।

1219। ইসমাঈল ইবনু মাসউদ (রহঃ) ... যায়দ ইবনু আরকাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যামানায় সালাতে তাঁর সঙ্গীর সাথে কোন প্রয়োজনে কথা বলছিলেন। তখন এ আয়াত নাযিল হলঃ حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلاَةِ الْوُسْطَى وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ অর্থঃ তোমরা সালাতের প্রতি যত্নবান হবে, বিশেষত মধ্যবর্তী সালাতের এবং আল্লাহর উদ্দেশে তোমরা বিনীতভাবে দাঁড়াবে (২: ২৩৮)। তখন আমাদের (সালাতে) চুপ থাকতে আদেশ করলেন।

1220। মুহাম্মদ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু আম্মার (রহঃ) ... আব্দূল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে তাঁর সালাতরত অবস্থায় আসতাম, আমি তাঁকে সালাম করতাম, তিনি উত্তর দিতেন। একদিন আমি তাঁর কাছে এসে তাঁকে সালাম করলাম, তখন তিনি সালাত আদায় করছিলেন কিন্তু তিনি উত্তর দিলেন না। যখন তিনি সালাম ফিরালেন মুসল্লীদের দিকে লক্ষ্য করে বললেন, আল্লাহ তায়ালা সালাতের ব্যাপারে একটি নতুন হুকুম নাযিল করেছেন যে, তোমরা (এতে) আল্লাহর যিকির ছাড়া অন্য কোন কথা বলবে না। আর তা তোমাদের জন্য সমীচীনও নয় আর তোমরা আল্লাহর উদ্দেশে বিনীতভাবে দাঁড়াবে।

1221। হুসায়ন ইবনু হুরায়ছ (রহঃ) ... (আব্দুল্লাহ) ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সালাম বললে তিনি উত্তর দিতেন (কিন্তু) আমরা হাবশা (ইথিওপিয়া) থেকে ফিরে এসে তাঁকে সালাম বললে তিনি উত্তর দিলেন না। তখন আমি নিকট-অতীত এবং দূর-অতীতের স্বীয় ঘটিত কোন অপরাধের কথা চিন্তা করতে লাগলাম ও বসে গেলাম। এরপর তিনি সালাত শেষ করে বললেন, আল্লাহ তাআ’লা যখনই ইচ্ছা করেন নতুন নতুন হুকুম নাযিল করেনঃ তিনি একটি (নতুন) হুকুম নাযিল করেছেন যে, সালাতে কথা বলা যাবে না।

1222। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু বুহায়না (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সাথে দু’রাকআত সালাত আদায় করে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং বসলেন না। মূসল্লীরাও তাঁর সঙ্গে দাঁড়িয়ে গেল। যখন তিনি তাঁর সালাত শেষ করলেন এবং আমরা সবাই তাঁর সালাম ফিরাবার অপেক্ষায় ছিলাম, তিনি তাকবীর বললেন এবং বসা অবস্থায় সালাম ফিরানোর পূর্বে দুটি সিজদা (সাহু) করলেন। তারপর (শেষ) সালাম ফিরালেন।

1223। কুতায়বা (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু বুহায়না (রাঃ) সুত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত যে, তিনি সালাতে (এমন সময়) দাঁড়িয়ে গেলেন যখন তাঁর উপর বসা প্রয়োজন ছিল, তারপর বসা অবস্থায় সালাম ফিরাবার পূর্বে দুটি সিজদা (সাহু) করলেন।

1224। হুমায়দ ইবনু মাসআদা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সাথে অপরাহ্নের (যোহর ও আসর) দু’সালাতের এক সালাত আদায় করলেন। রাবী বলেন, আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেছেন যে, তবে কোন সালাত তা আমি ভুলে গেছি। তারপর তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সহ দু’রাকআত সালাত আদায় করে সালাম ফিরিয়ে ফেললেন। এরপর মসজিদে প্রস্থে রাখা একটি কাঠ খন্ডের দিকে অগ্রসর হয়ে তাতে ঠেস দিলেন যেন তিনি রাগান্বিত, আর সব কাজে অগ্রে থাকা সাহাবীগণ মসজিদের দরজা দিয়ে বের হয়ে গেলেন এবং বলতে লাগলেন, সালাত কি সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে? তাঁদের মধ্যে আবূ বকর এবং উমর (রাঃ)-ও ছিলেন। তাঁরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে কথা বলতে সংকোচ বোধ করছিলেন। তাদের সঙ্গে আরো একজন সাহাবী ছিলেন যার হাত কিছুটা লম্বা ছিল। (রাবী বলেন) তাঁকে যুল ইয়াদাইন (দু’হাত বিশিষ্ট) বলা হত। তিনি বললেন, -”ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি কি ভুলে গেছেন না সালাত সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি ভুলেও যাইনি এবং সালাত সংক্ষিপ্তও হয়নি। রাবী বলেন, তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমবেত সাহাবীগণকে জিজ্ঞাসা করলেন, যুল ইয়াদাইন যা বলছে তা কি ঠিক? সাহাবীগণ বললেন, হ্যাঁ। তারপর তিনি মসজিদে ফিরে আসলেন এবং যা ছুটে গিয়েছিল তা আদায় করে নিয়ে সালাম ফিরালেন এবং তাকবীর বলে পূর্বের মত বা তার চেয়েও দীর্ঘ একটা সিজদা করলেন। তারপর মাথা উঠিয়ে তাকবীর বললেন আবার তাকবীর বলে পূর্বের মত বা তার চেয়েও দীর্ঘ আরো একটা সিজদা করলেন। পরে মাথা উঠিয়ে তাকবীর বললেন।

1225। মুহাম্মাদ ইবনু সালামা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’রাকআত সালাতের পর সালাম ফিরিয়ে ফেললেন। তখন তাঁকে যূল ইয়াদায়ন (রাঃ) বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! সালাত কি সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে না আপনি ভুলে গেছেন? তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যুল ইয়াদায়ন কি সত্য বলছে? সাহাবীগণ বললেন। হ্যাঁ, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ালেন এবং দু’রাকআত সালাত আদায় করে সালাম ফিরালেন। তারপর তাকবীর বলে পূর্বের সিজদার মত বা তার চেয়েও দীর্ঘ একটা সিজদা করলেন। পরে মাথা উঠালেন এবং পুর্বের সিজদার মত বা তার চেয়েও আরো একটা সিজদা করে মাথা উঠালেন।

1226। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একদা) আমাদের নিয়ে আসরের সালাত আদায় করলেন। তিনি দু’রাকআতের পর সালাম ফিরিয়ে ফেললে যুল ইয়াদায়ন (রাঃ) দাঁড়িয়ে বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! সালাত কি সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে না আপনি ভুলে গেছেন? তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এর কোনটাই নয়। যুল ইয়াদায়ন (রাঃ) বললেন, নিশ্চয়ই এতদুভয়ের কোন একটা হবে ইয়া রাসুলাল্লাহ! তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীগণের দিকে মুখ ফিরিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, যুল ইয়াদায়ন কি সত্য বলছে? সাহাবীগণ বললেন, হ্যাঁ। তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবশিষ্ট সালাত পুরা করলেন এবং সালামের পর বসা অবস্থায় দুটি সিজদা করলেন (সাহু)।

1227। সুলায়মান ইবনু উবায়দুল্লাহ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জোহরের দু’রাকআত সালাত আদায় করে সালাম ফিরালেন। তখন সাহাবীগণ বললেন, সালাত কি সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে? তখন তিনি দাঁড়িয়ে দু’রাকআত সালাত আদায় করলেন। তারপর সালাম ফিরিয়ে দু'টি সিজদা করলেন (সাহু)।

1228। ঈসা ইবনু হাম্মাদ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা সালাত আদায়কালে দ্বিতীয় রাকআতে সালাম ফিরিয়ে ফেললেন। সালাত শেষ করে ফেরার সময় যুল ইয়াদায়ন (রাঃ) তাঁকে পেয়ে বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! সালাত কি সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে না আপনি ভুলে গেছেন? তিনি বললেন, সালাত সংক্ষিপ্তও করা হয়নি আর আমিও ভুলিনি। যুল ইয়াদায়ন (রাঃ) বললেন, আপনাকে যিনি সত্য সহকারে পাঠিয়েছেন তার শপথ! (নিশ্চয় এতদুভয়ের কোন একটি হয়েছে) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যুল ইয়াদায়ন (রাঃ) কি সত্য বলছে? সাহাবীগণ বললেন, হ্যাঁ। তখন তিনি তাদের নিয়ে (আর) দু’রাকআত সালাত আদায় করলেন।

1229। হারুন ইবনু মুসা ফারবী (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভূল করে (একদা) দু’রাকআতের পরই সালাম ফিরিয়ে ফেললেন, তখন তাকে যুল ইয়াদায়ন (রাঃ) বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! সালাত কি সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে, না আপনি ভুলে গেছেন? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যুল ইয়াদায়ন কি সত্য বলছে? সাহাবীগণ বললেন, হ্যাঁ। তখন তিনি দাঁড়িয়ে সালাত পূর্ণ করে নিলেন।

1230। মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জোহর অথবা আসরের সালাত আদায়কালে দু’রাকআতের পর সালাম ফিরিয়ে সালাত শেষ করলেন। তখন তাঁকে যুল ইয়াদায়ন ইবনু আমর (রাঃ) বললেন, সালাত কি সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে, না আপনি ভুলে গেছেন? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যুল ইয়াদায়ন কি বলছে? সাহাবীগণ বললেন, ইয়া নবী আল্লাহ! সে সত্যই বলছে, তখন তিনি তাদের নিয়ে যে দু’রাকআত কম হয়েছিল তা আদায় করে নিলেন।

1231। আবূ দাউদ (রহঃ) ... আবূ বকর ইবনু সুলায়মান ইবনু আবূ হাসমা (রাঃ) বলেন, তাঁর কাছে সংবাদ পৌছেছে যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’রাকআত সালাত আদায় করলে যুল ইয়াদায়ন (রাঃ) তাকে অনুরূপ বলেছিলেন। ইবনু শিহাব বলেন, সাইদ ইবনুল মুসাইয়্যিব আমাকে এ সংবাদ অবহিত করেছেন আবু হুরাইরাহ হতে। তিনি বলেন এটি আমাকে আর অবহিত করেছেন আবু সালামাহ ইবনু আব্দুর রহমান আবু বাকর ইবনুল হারিস এবং উবাইদুল্লাহ।

1232। মুহাম্মদ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু হাকাম (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেদিন সালামের পূর্বে বা পরে সিজদা করেন নি।

1233। আমর ইবনু সাওয়াদ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুল ইয়াদায়ন (রাঃ) এর দিন সালামের পর দু' টি সিজদা করেছিলেন।

1235। আমর ইবনু উছমান ইবনু সাঈদ ইবনু কাসীর ইবনু দ্বীনার (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় সন্দেহের কারণে সালামের পর সিজদা (সাহু) করেছিলেন।

1236। মুহাম্মদ ইবনু ইয়াহয়া ইবনু আব্দুল্লাহ নিশাপুরী (রহঃ) ... ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের নিয়ে সালাত আদায়কালে ভুল করে ফেললেন এবং দু’সিজদা (সাহু) করে সালাম ফিরালেন।

1237। আবূল আশআস (রহঃ) ... ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসরের সালাতের তিন রাকাআত আদায় করে সালাম ফিরিয়ে ঘরে প্রবেশ করলেন তখন খিরবাক (রাঃ) নামক এক সাহাবী তার কাছে এসে বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! সালাত কি সংক্ষিপ্ত হয়েছে? তখন তিনি রাগান্বিত হয়ে চাদর সামলাতে সামলাতে বের হয়ে বললেন, এ কি সত্য বলছে? সাহাবীগণ বললেন, হ্যাঁ, তখন তিনি দাঁড়িয়ে সে রাকআত আদায় করলেন এবং সালাম ফিরিয়ে সে রাকআতের জন্য দু’সিজদা করলেন (সাহু) ও সালাম ফিরালেন।

1238। ইয়াহয়া ইবনু হাবীব ইবনু আরাবী (রহঃ) ... আবূ সাঈদ (রাঃ) সুত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, যখন তোমাদের কেউ সালাতে সন্দেহ করে তখন সে যেন সন্দেহ ত্যাগ করে দৃঢ় বিশ্বাসের উপর নির্ভর করে। যখন সমাপ্তি সম্পর্কে দৃঢ় বিশ্বাস হয়ে যায় তখন বসা অবস্থায় দু’টি সিজদা করবে (সাহু)। যদি সে পাঁচ রাকআত আদায় করে থাকে তা হলে এ দু’সিজদা তার (ঐ পাঁচ রাকআত) সালাতকে জোড় বানিয়ে দেবে। আর যদি সে চার রাকআত আদায় করে থাকে, তা হলে এ দু’সিজদা শয়তানের জন্য অপমানের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

1239। মুহাম্মদ ইবনু রাফি (রহঃ) ... আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) সুত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, যখন (তোমাদের) কেউ বুঝতে না পারে যে, সে তিন রাকআত আদায় করেছে না চার রাকআত, তখন সে যেন আরো এক রাকআত আদায় করে নেয়, এবং বসা অবস্থায় তার পরে দুটি সিজদা করে নেয় (সাহু)। যদি সে পাঁচ রাকআত আদায় করে থাকে তা হলে এ দু’সিজদা তার সালাতকে জোড় বানিয়ে দেবে, আর যদি সে চার রাকআত আদায় করে থাকে তা হলে এ দু’সিজদা শয়তানের জন্য অপমানের কারণ হবে।

1240। মুহাম্মদ ইবনু রাফি (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ (ইবনু মাসউদ) (রাঃ) সুত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমাদের কারো যদি সালাতে সন্দেহের উদ্রেক হয় তা হলে সে যেন ভেবে দেখে। যা সে সঠিক মনে করে তা পূর্ণ করবে, তারপর দুটি সিজদা করে নেবে (সাহু)। রাবী বলেন, আমি হাদীসের কিছু শব্দ যেরকম ভাবে ইচ্ছা করেছিলাম সে রকম ভাবে বুঝে উঠতে পারিনি।

1241। মুহাম্মদ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু মুবারক মুখাররামি (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কারো যদি সালাতে সন্দেহের উদ্রেক হয়, তখন সে যেন ভেবে দেখে এবং সালাত শেযে দুটি সিজদা করে নেয় (সাহু)।

1242। সুওয়ায়দ ইবনু নাসর (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একদা) সালাত আদায়কালে কিছু বাড়িয়ে অথবা কমিয়ে ফেললেন। যখন তিনি সালাম ফিরালেন তখন আমরা বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! সালাতে কি কোন কিছু ঘটেছে? তিনি বললেন, যদি সালাতে কোন কিছু ঘটে থাকত তা হলে আমি তা তোমাদের জানিয়ে দিতাম, কিন্তু আমি তো একজন মানুষ, আমিও ভুলে যেতে পারি যেমনি ভাবে তোমরা ভুলে যেতে পার। অতএব, তোমাদের কারো যদি তার সালাতে সন্দেহের উদ্রেক হয় তা হলে সে যেন ভেবে দেখে যে, কোনটা সঠিকের কাছাকাছি। যা সঠিক বলে মনে হয় তার উপর ভিত্তি করে সালাত শেষ করবে। তারপর সালাম ফিরিয়ে দু’টি সিজদা করে নেবে (সাহু)।

1243। হাসান ইবনু ইসমাঈল ইবনু সুলায়মান মুজালিদী (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একদা) সালাত আদায়কালে কিছু বাড়িয়ে অথবা কমিয়ে ফেললেন। যখন তিনি সালাম ফিরালেন, আমরা বললাম, ইয়া নবী আল্লাহ! সালাতে কি কিছু ঘটেছে? তিনি বললেন, তা কি? তখন তিনি যা করেছেন আমরা তাকে সে সম্পর্কে অবহিত করলাম। তখন তিনি পা গুটিয়ে কিবলার দিকে মুখ করে সাহুর (ভুলের) জন্য দুটি সিজদা করলেন। তারপর আমাদের দিকে ফিরে বললেন, যদি সালাতে কিছু ঘটে থাকত তাহলে আমি তোমাদের অবহিত করে দিতাম। তারপর বললেন, আমিও তো একজন মানুষ, তোমরা যেমন ভুলে যেতে পার আমিও তেমনিভাবে ভুলে যেতে পারি। অতএব, যদি তোমাদের কারো সালাতে সন্দেহের উদ্রেক হয় তা হলে সে যেন ভেবে দেখে কোনটা সঠিক, তারপর সালাম ফিরিয়ে সাহুর (ভুলের) জন্য দুটি সিজদা করে নেয়।

1244। ইসমাঈল ইবনু মাসউদ (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একদিন) জোহরের সালাত আদায় করে মুসল্লীদের দিকে মুখ ফিরালেন তখন তারা বলল, সালাতে কি কছু ঘটেছে? তিনি বললেন, তা কি? তখন মুসুল্লীগণ তাঁর কৃত কাজ সম্পর্কে তাকে অবহিত করলেন। তখন তিনি তার পা গুটিয়ে নিলেন, এবং কিবলার দিকে মুখ করে দু’টি সিজদা করলেন ও সালাম ফিরালেন। তারপর তাদের দিকে ফিরে বললেন, আমিও তো একজন মানুষ, তোমরা যেমন ভুলে যেতে পার আমিও তেমনি ভাবে ভুলে যেতে পারি। যদি আমি ভুলে যাই তা হলে তোমরা আমাকে স্মরণ করিয়ে দেবে। তিনি আরো বললেন, যদি সালাতে কিছু ঘটে থাকত তা হলে আমি তোমাদের তা জানিয়ে দিতাম। তিনি আরো বললেন, তোমাদের কারো যদি সালাতে সন্দেহের উদ্রেক হয় তবে সে যেন ভেবে দেখে যা সঠিকের কাছাকাছি বলে মনে হয় তার উপর ভিত্তি করে সালাত শেষ করে নেয় ও দুটি সিজদা করে (সাহু)।

1245। সুওয়ায়দ ইবনু নাসর (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, মুসল্লীর সালাতে সন্দেহের উদ্রেক হলে সে যেন কোনটা সঠিক তা ভেবে দেখে, তারপর সালাত শেষ করে বসা অবস্থায় সিজদা করে নেয় (সাহু)।

1246। সুওয়ায়দ ইবনু নাসর (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে মুসল্লী সালাতে সন্দেহে পাতিত হয় সে যেন কোনটা সঠিক তা ভেবে দেখে তারপর দু'টি সিজদা করে নেয় (সাহু)। সহিহ, বুখারি হাঃ ৪০১, মুসলিম (ইসলামিক সেন্টার) হাঃ

1247। সুওয়ায়দ ইবনু নাসর (রহঃ) ... ইবরাহীম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাহাবীগণ বলতেন, কেউ যদি সালাতে সন্দেহে পতিত হয় তা হলে সে যেন কোনটা সঠিক তা ভেবে দেখে তারপর দু’টি সিজদা করে নেয় (সাহু)।

1248। সুওয়ায়দ ইবনু নাসর (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু জাফর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে মুসল্লীর সালাতে সন্দেহের উদ্রেক হয়, সে যেন সালাম ফিরাবার পর দুটি সিজদা করে নেয় (সাহু)।

1249। মুহাম্মদ ইবনু হাশিম (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু জাফর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে মুসল্লীর সালাতে সন্দেহের উদ্রেক হয় সে যেন সালাম ফিরাবার পর দুটি সিজদা করে নেয় (সাহু)।

1250। মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু জাফর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে সালাতে সন্দেহের উদ্রেক হয় সে যেন সালাম ফিরাবার পর দু’টি সিজদা করে নেয়।

1251। হারুন ইবনু আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু জাফর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তির সালাতে সন্দেহের উদ্রেক হয, সে যেন দুটি সিজদা (সাহু) করে নেয়। রাবী হাজ্জাজ (রহঃ) বলেন, সালামের পর; রাবী রাওহ (রহঃ) বলেন, বসা অবস্থায়।

1252। কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ যখন সালাত আদায় করতে দাঁড়ায় তখন শয়তান এসে তার সালাতে ভ্রান্তি সৃষ্টি করে। ফলে সে বুঝতে পারে না কত রাকআত সালাত আদায় করেছে। অতএব, যখন তোমাদের কেউ এরূপ অবস্থার সম্মুখীন হয় তখন সে যেন বসা অবস্থায় দু’টি সিজদা করে নেয় (সাহু)।

1253। বিশর ইবনু হেলাল (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন সালাতের জন্য আযান দেওয়া হয় তখন শয়তান পৃষ্ঠ প্রদর্শন পূর্বক পালাতে থাকে। আর তার থেকে আওয়াজ সহকারে বায়ু বের হতে থাকে। আর যখন ইকামাত শেষ হয় তখন সে পুনঃ আগমন পূর্বক মুসল্লীদের মনে খটকা সৃষ্টি করতে থাকে, ফলে মুসল্লী বুঝতে পারে না যে, সে কত রাকআত আদায় করল। অতএব, তোমাদের মধ্যে যদি কেউ তা অনুভব করে তবে সে যেন দু'টি সিজদা করে নেয় (সাহু)।

1254। মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... আব্দূল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন জোহরের সালাত পাঁচ রাকআত আদায় করে ফেললেন। তখন তাঁকে বলা হল, সালাত কি বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে? তিনি বললেন, তা কিভাবে? সাহাবীগণ বললেন, আপনি পাঁচ রাকআত আদায় করে ফেলেছেন। তখন তিনি তাঁর পা গুটিয়ে দু'টি সিজদা করে নিলেন (সাহু)।

1255। আবদাহ ইবনু আব্দুর রহীম (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত যে, তিনি একদিন সাহাবীগণকে নিয়ে জোহরের সালাত পাঁচ রাকআত আদায় করে ফেললেন। তখন সাহাবীগণ বললেন, আপনি পাঁচ রাকআত আদায় করে ফেলেছেন। তখন তিনি সালামের পর বসা অবস্থায় দুটি সিজদা করে নিলেন (সাহু)।

1256। মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ... ইবরাহীম ইবনু সুওয়ায়দ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন আলকামা (রহঃ) একদিন পাঁচ রাকআত সালাত আদায় করে ফেললেন। তখন তাকে বলা হলে তিনি বললেন, আমি (অনুরূপ) করিনি। [ইবরাহীম (রহঃ) বলেন] আমি আমার মাথার দ্বারা ইশারা করলাম নিশ্চয়ই (আপনি পাঁচ রাকআত আদায় করে ফেলেছেন)। তিনি বললেন, হে অন্ধ! তুমিও (এরূপ) সাক্ষ্য দিচ্ছ? আমি বললাম, হ্যাঁ, তখন তিনি দুটি সিজদা (সাহু) করলেন তারপর আমাদের হাদীস বর্ণনা করলেন।

1257। সুওয়ায়দ ইবনু নাসর (রহঃ) ... শাবী থেকে বর্ণিত যে, (একদা) আলকামা ইবনু কায়স (রহঃ) সালাতে ভুল করে ফেললে (সালাত শেষে) কথা বলার পর লোকেরা তাকে স্মরণ করিয়ে দিলে তিনি বললেন, হে আওয়ার! ঘটনা কি এরূপই? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তখন তিনি বাহু বন্ধন খুলে ফেলে সহুর (ভুলের) জন্য দুঁটি সিজদা করলেন, এবং বললেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপই করেছিলেন। রাবী বলেন, আমি হাকাম (রহঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, আলকামা (রহঃ) সে দিন পাঁচ রাকআত আদায় করে ফেলেছিলেন।

1258। সুওয়ায়দ ইবনু নাসর (রহঃ) ... ইবরাহীম (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, আলকামা (রহঃ) (এক দিন) পাঁচ রাকআত সালাত আদায় করে ফেললেন। সালাম ফিরালে ইবরাহীম ইবনু সুওয়ায়দ বললেন, হে আবূ শিবল (আলকামা) (রহঃ)! আপনি পাঁচ রাকআত আদায় করে ফেলেছেন। তখন তিনি বললেন, হে আওয়ার! ঘটনা কি এরূপই? পরে সাহুর জন্য দু'টি সিজদা করলেন, তারপর বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপই করেছিলেন।

1259। সুওয়ায়দ ইবনু নাসর (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপরাহ্নের দু’সালাতের এক সালাতে পাঁচ রাকআত আদায় করে ফেললে তাঁকে বলা হল, সালাত কি বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে? বললেন, তা কিভাবে? সাহাবীগণ বললেন, আপনি পাঁচ রাকআত আদায় করে ফেলেছেন। তখন তিনি বললেন, আমিও তো একজন মানুষ! তোমরা যেরূপ ভুলে যেতে পার আমিও সেরূপ ভুলে যেতে পারি। তোমাদের যেরূপ স্মরণ থাকে আমারও তদ্রুপ স্মরণ থাকে। তারপর দুটি সিজদা (সাহু) করে সালাত শেষ করে নিলেন।

1260। রবী ইবনু সুলায়মান (রহঃ) ... মুহাম্মাদ ইবনু ইউসুফ-এর পিতা (ইউসুফ) (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, মুআবিয়া (রাঃ) (একদিন) তাদের সামনে সালাত আদায় করলেন। সালাতে এমন সময় দাঁড়িয়ে গেলেন, যখন তাঁর উপর বসা প্রয়োজন ছিল। মুসল্লীরা সুবহানাল্লাহ বললে তিনি দাঁড়ানো অবস্থায়ই থাকলেন। সালাত শেষ করার পর বসা অবস্থায় দুটি সিজদা করলেন (সাহু), তারপর মিম্বরের উপর বসে বললেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, যে মুসুল্লী তার সালাতে কোন কিছু ভুলে যায় সে যেন এ দু’টি সিজদার ন্যায় সিজদা করে নেয়।

1261। আহমদ ইবনু আমর ইবনু সারহ (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু বুহায়না (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা জোহরের দ্বিতীয় রাকআত থেকে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং বসলেন না। যখন সালাত শেষ করলেন তখন বসা অবস্থায় সালাম ফিরাবার সময় দু’সিজদা (সাহু) করলেন, প্রত্যেক সিজদায় তাকবীর বললেন, অন্য মুসল্লীরাও ভুলে না বসার জন্য তাঁর সঙ্গে ঐ দু’সিজদা করে নিলেন।

1262। ইয়াকুব ইবনু ইবরাহীম দাওরাকী এবং মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... আবূ হুমায়দ সাঈদী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ঐ দু’রাকআতে পৌছতেন, যে দু’রাকআতের পর সালাত শেষ হবে তখন তাঁর বাম পা নিতম্বের নিচ দিয়ে ডান পাশে বের করে দিতেন এবং নিতম্বের নিচ দিয়ে পা বের করা অবস্থায় নিতম্বের উপর বসতেন।

1263। কুতায়বা (রহঃ) ... ওয়াইল ইবনু হুজর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখেছি তিনি যখন সালাত আরম্ভ করতেন তাঁর হস্তদ্বয় উত্তোলন করতেন, আর যখন রুকু করতেন ও রুকু থেকে মাথা ওঠাতেন তখনও। আর তিনি যখন বসতেন তার বাম পা বিছিয়ে দিতেন এবং ডান পা দাঁড় করে রাখতেন, আর তাঁর বাম হাত বাম উরুর উপর এবং ডান হাত ডান উরুর উপর রাখতেন এবং মধ্যম ও বৃদ্ধাঙ্গুলি দ্বারা গোলাকার বৃত্ত বানিয়ে ইশারা করতেন।

1264। মুহাম্মদ ইবনু আলী ইবনু মায়মূন (রহঃ) ... ওয়াইল ইবনু হুজর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখলেন যে তিনি সালাতে বসে তার বাম পা বিছিয়ে দিলেন আর তার হস্তদ্বয় তাঁর উরুদ্বয়ের উপর রাখলেন এবং তর্জনি অঙ্গুলি দ্বারা ইশারা করে তদ্দারা দোয়া করলেন।

1265। ইসমাঈল ইবনু মাসউদ (রহঃ) ... ওয়াইল ইবনু হুজর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি (মনে মনে) বললাম, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাতের প্রতি লক্ষ্য রাখব যে, তিনি কীভাবে সালাত আদায় করেন। একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে দাঁড়ালেন এবং কিবলার দিকে মুখ করে তাঁর হস্তদ্বয় উঠালেন এমনভাবে যে, তা তাঁর কর্ণদ্বয়ের বরাবর হয়ে গেল, তারপর তিনি তাঁর ডান হাত দ্বারা বাম হাত ধরলেন, যখন তিনি রুকু করার ইচ্ছা করলেন তখন হস্তদ্বয় পূর্বের ন্যায় উঠালেন এবং হাতদ্বয় তাঁর হাটুর উপর রাখলেন, যখন তিনি তাঁর মাথা রুকু হতে উঠালেন হস্তদ্বয়কে পূর্বের ন্যায় উঠালেন। তারপর যখন তিনি সিজদা করলেন, তার মাথা হস্তদ্বয়ের মধ্যস্থলে রাখলেন। পরে বসে তার বাম পা বিছালেন ও বাম হাত বাম উরুর ওপর রাখলেন। আর তার ডান কনুই ডান উরুর ওপর রাখলেন এবং দু’আঙ্গুল দ্বারা গোলাকার বৃত্ত বানালেন। তাকে এরূপই করতে দেখেছি। রাবী বিশর (রহঃ) তর্জনি অঙ্গুলি দ্বারা ইশারা করলেন এবং মধ্যমা ও বৃদ্ধাঙ্গুলি দ্বারা গোলাকার বৃত্ত বানালেন।

1266। মুহাম্মদ ইবনু মানসূর (রহঃ) ... আলী ইবনু আব্দুর রহমান থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আব্দুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ)-এর পার্শ্বে সালাত আদায় করছিলাম, তখন আমি কংকর (সিজদার স্থান থেকে) সরালে তিনি আমাকে বললেন, তুমি (সিজদার স্থান থেকে) কংকর সরাবে না, কেননা তা শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকেই হয়ে থাকে এবং তুমি করবে যেরূপ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আমি করতে দেখেছি। (আলী বলেন) আমি বললাম, আপনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে কিরূপ করতে দেখেছেন? তিনি বললেন, এরূপ। আর ডান পা খাড়া করলেন ও বাম পা বিছালেন এবং তার ডান হাত তার ডান উরু ও বাম হাত বাম উরুর উপর রাখলেন এবং তর্জনি দ্বারা ইশারা করলেন।

1267। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আলী ইবনু আব্দুর রহমান থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (আব্দুল্লাহ) ইবনু উমর (রাঃ) আমাকে দেখলেন যে, আমি সালাতে পাথর নিয়ে খেলা করছি। যখন সালাম ফিরালেন আমাকে (তা থেকে) নিষেধ করলেন ও বললেন, তুমি সেরূপই করবে যেরূপ তিনি অর্থাৎ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করতেন। আমি বললাম, তিনি কিরূপ করতেন? তিনি বললেন, যখন তিনি সালাতে বসতেন তার ডান হাত তার উরুর উপর রাখতেন ও বন্ধ করে দিতেন অর্থাৎ তার সমস্ত অঙ্গূলি, এবং বৃদ্ধাঙ্গলির সংলগ্ন অঙ্গুল (তজর্নি) দ্বরা ইশারা করতেন আর তাঁর বাম হাত তাঁর বাম উরুর উপর রাখতেন।

1268। সূওয়ায়দ ইবনু নাসর (রহঃ) ... ওয়াইল ইবনু হুজর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি (মনে মনে) বললাম যে, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাতের প্রতি লক্ষ্য রাখব যে, তিনি কিভাবে সালাত আদায় করেন। অতএব, আমি তাঁর প্রতি লক্ষ্য বাখতে বললাম। পরে তিনি বর্ণনা করে বলেন, তিনি (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে) বসলেন এবং তাঁর বাম পা বিছিয়ে দিলেন ও তাঁর বাম হাত তাঁর উরু ও বাম হাটুর উপর রাখলেন আর তাঁর ডান উরুর উপর ডান কনুই খাড়া রাখলেন এবং তাঁর দু’টি অঙ্গুলি বন্ধ রাখলেন ও (অন্য দুটি দ্বারা) গোলাকার বৃত্ত বানালেন তারপর একটি অঙ্গুলি উঠালেন। আমি তাঁকে দেখলাম যে, তিনি সেই অঙ্গুটি নাড়াচ্ছেন আর তদ্দারা ইশারা করছেন। (সংক্ষেপিত)

1269। মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ... (আব্দুল্লাহ) ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাতে বসতেন তার উভয় হাত উভয় উরুর উপর রাখতেন এবং বৃদ্ধাঙ্গুলির সংলগ্ন অঙ্গুলি (তর্জনি) উপরে দুলাতেন ও তার দ্বারা ইশারা করতেন আর তাঁর বাম হাত উরুর উপর রাখতেন।

1270। আয়্যুব ইবনু মুহাম্মাদ ওয়াযযান (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন দোয়া করতেন, অঙ্গূলি দ্বারা ইশারা করতেন কিন্তু তা নাড়তেন না। ইবনু জুরায়জ (রহঃ) বলেন, হাদীসের অন্যতম রাবী আমর (রহঃ) এতটুকু বাড়িয়ে দিয়েছেন যে, আমির তাঁর পিতা আব্দুল্লাহ ইবনু যুবায়র থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে অনুরূপভাবে দোয়া করতে এবং তার বাম হাত দ্বারা তাঁর বাম পায়ের উপর ঠেস দিতে দেখেছেন।

1271। মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু আম্মার (রহঃ) ... মাওসিলী নুমায়র খুযায়ী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি (একদা) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখলাম যে, তিনি সালাতে তাঁর ডান হাত তাঁর ডান উরুর উপর রেখেছেন এবং অঙ্গুলি দ্বারা ইশারা করেছেন।

1272। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক সাহাবী [সা’দ (রাঃ)] দু’আঙ্গুলি দ্বরা ইশারা করতেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি এক অঙ্গুলি দ্বারা ইশারা করবে, এক অঙ্গুলি দ্বারা ইশারা করবে।

1273। মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু মুবারক মুখাররামি (রহঃ) ... সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একদিন) আমার কাছ দিয়ে গেলেন। তখন আমি আমার সমুদয় অঙ্গুলি দ্বারা ইশারা করছিলাম। তিনি আমাকে বললেন, তুমি এক অঙ্গুলি দ্বারা ইশারা করবে, এক অঙ্গুলি দ্বারা ইশারা করবে এবং তিনি তর্জনি দ্বারা ইশারা করলেন।

1274। আহমদ ইবনু ইয়াহয়া সূফী (রহঃ) ... বসরার অধিবাসী নুমায়র খুযায়ী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সালাতে বসা অবস্থায় ডান হাত ডান উরুর উপর রেখে তর্জনি উচু করে কিছুটা ঝুকিয়ে রেখে ইশারা করতে দেখেছেন।

1275। ইয়াকুব ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাশাহুদ আদায় করতে বসতেন তখন তার বাম হাত তাঁর বাম উরুর উপর রাখতেন এবং তর্জনি দ্বারা ইশারা করতেন। আর দৃষ্টি তাঁর ইশারা অতিক্রম করত না।

1276। আহমদ ইবনু আমর ইবনু সারহ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মুসল্লীগণ সালাতে দোয়া করার সময় আকাশের দিকে তাদের দৃষ্টিপাত করা থেকে বিরত থাকবে। নতুবা তাদের দৃষ্টিশক্তি আল্লাহ তায়ালা কেড়ে নেবেন।

1277। সাঈদ ইবনু আব্দুর রহমান আবূ উবায়দুল্লাহ মাখযুমী (রহঃ) ... ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা তাশাহুদ-এর বিধান অবতীর্ণ হওয়ার পুর্বে সালাতে বলতামঃ আল্লাহর উপর সালাম, জিবরীল ও মীকাঈলের উপর সালাম। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা এরূপ বলবে না। কেননা আল্লাহ তাআলাই স্বয়ং সালাম বরং তোমরা বলবেঃ التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ

1278। আহমদ ইবনু সুলায়মান (রহঃ) ... (আব্দূল্লাহ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের তাশাহুদ শিক্ষা দিতেন যেরূপভাবে আমাদের কুরআনের সূরা শিক্ষা দিতেন।

1279। কুতায়বা (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তায়ালাই স্বয়ং সালাম। অতএব, তোমাদের কেউ যখন (সালাত আদায়কালে) বসে তখন সে যেন বলেঃ التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ এরপর দোয়া মাসুরা (কুরআন-হাদীসে বর্ণিত) দোয়া থেকে যা ইচ্ছা হয় পড়বে।

1280। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার ও মুহাম্মদ ইবনু মুছান্না (রহঃ) ... (আবূ মুসা) আশআরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সামনে (একদিন) খুতবায় আমাদের সুন্নাত শিক্ষা দিলেন, আমাদের সালাত সম্পর্কে বর্ণনা করলেন। তিনি বললেন, তোমরা যখন সালাতে দাঁড়াবে তখন তোমাদের কাতার সোজা করে নেবে। তারপর তোমাদের একজন তোমাদের ইমামতি করবে। যখন সে তাকবীর বলবে, তোমরাও তাকবীর বলবে আর যখন সে 'ওয়ালাদদ্বাল্লীন' বলবে, তোমরা তখন ‘আমীন’ বলবে, আল্লাহ তোমাদের দোয়া কবুল করবেন। তারপর যখন সে তাকবীর বলে রুকুতে যাবে তখন তোমরাও তাকবীর বলে রুকুতে যাবে। কেননা, ইমাম তোমাদের পুর্বে রুকুতে যাবে এবং তোমাদের পুর্বে-রুকু থেকে উঠবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ (তোমাদের রুকুতে পরে যাওয়া এবং রুকু থেকে পরে উঠা) তার (ইমামের রুকুতে তোমাদের আগে যাওয়া ও তোমাদের আগে উঠার) সমান হয়ে যাবে। আর যখন ইমাম 'সামি আল্লাহু লিমান হামিদাহ' বলবে, তখন তোমরা 'আল্লাহুম্মা রাব্বানা লাকাল হামদ' বলবে। আল্লাহ তা’আলা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মুখ দ্বারা বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রশংসা করে আল্লাহ তায়ালা তা শুনেন। তারপর যখন ইমাম তাকবীর বলে সিজদা করবে, তখন তোমরাও তাকবীর বলে সিজদা করবে। কেননা, ইমাম তোমাদের পূর্বে সিজদা করবে এবং তোমাদের পুর্বে সিজদা থেকে উঠবে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ (তোমাদের সিজদায় ইমামের পরে যাওয়া ও পরে উঠা) তাঁর (ইমামের সিজদায় তোমাদের আগে যাওয়া ও আগে উঠারও) সমান হয়ে যাবে। আর যখন তোমরা বসবে তখন, তোমাদের প্রত্যেকে বলবেঃ التَّحِيَّاتُ الطَّيِّبَاتُ الصَّلَوَاتُ لِلَّهِ السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ

1281। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের তাশাহুদ শিক্ষা দিতেন যেরূপভাবে আমাদের কুরআনের সূরা শিক্ষা দিতেন তা এইরূপঃ بِسْمِ اللَّهِ وَبِاللَّهِ التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ وَأَسْأَلُ اللَّهَ الْجَنَّةَ وَأَعُوذُ بِهِ مِنَ النَّارِ আবু আবদুর রহমান বলেন, কোন বর্ণনাকারী এ হাদিস বর্ণনায় আইমান ইবনু নাবিল এর অনুসরণ করেছেন বলে আমাদের জানা নেই। আমাদের মতে আইমান এমন এক বর্ণনাকারী যার মধ্যে কোন দোষ নেই। তবে হাদিসটি ভুল। আল্লাহর নিকট আমরা তাওফীক কামনা করি।

1282। আব্দুল ওয়াহাব ইবনু আব্দুল হাকাম ওয়াররাক ও মাহমূদ ইবনু গায়লান (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তা'আলার কতক ফেরেশতা এমনো রয়েছে, যারা পৃথিবীতে বিচরণ করে বেড়ায়, তাঁরা আমার উম্মতের সালাম আমার কাছে পৌছিয়ে থাকেন।

1283। ইসহাক ইবনু মানসূর কাউসাজ (রহঃ) ... আবূ তালহা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন সানন্দে আমাদের কাছে আসলেন। আমরা বললাম, (আজ) আমরা আপনার চেহারায় প্রফুল্লতা দেখছি! তিনি বললেন, আমার কাছে (একজন) ফেরেশতা এসে বলল, হে মুহাম্মাদ! আপনার প্রভু বলছেন যে, আপনাকে কি একথা খুশি করবে না, যে ব্যক্তি আপনার উপর একবার দরুদ পড়বে আমি তাঁর উপর দশটি রহমত নাযিল করব। আর যে ব্যক্তি আপনার উপর একবার সালাম পাঠাবে আমি তাঁর উপর দশটি শান্তি বর্ষণ করব (সালাম পাঠাব)।

1284। মুহাম্মদ ইবনু সালামা (রহঃ) ... ফাজালা ইবনু উবায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে সালাতে দোয়া করতে শুনলেন সে ব্যক্তি আল্লাহর প্রশংসাও করল না এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর দরুদও পড়ল না। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, হে মুসল্লী! তুমি দোয়া খুব তাড়াতাড়ি করে ফেলেছ। তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসল্লীদের দোয়া শিক্ষা দিলেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে দেখলেন, সে সালাত আদায় করল এবং আল্লাহ তাআলার মাহাত্ম্য বর্ণনা করল, তার প্রশংসা এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর দরুদ পাঠ করল। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তাকে) বললেন, তুমি দোয়া কর, তা কবুল করা হবে এবং আল্লাহর কাছে চাও, তোমাকে দেওয়া হবে।

1285। মুহাম্মাদ ইবনু সালামা এবং হারিস ইবনু মিসকীন (রহঃ) ... আবূ মাসউদ আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাদ ইবনু উবাদা (রাঃ)-এর মজলিসে আমাদের কাছে (একদিন) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলেন, তাঁকে বশীর ইবনু সা'দ (রাঃ) জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আল্লাহ তাআলা আমাদের আপনার উপর দুরুদ পড়তে আদেশ করেছেন, আমরা কীভাবে আপনার উপর দুরুদ পড়ব? তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুপ রইলেন। আমরা অনুতাপ করলাম যে, যদি তাকে জিজ্ঞাসা না করতাম! তারপর তিনি বললেনঃ اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ فِي الْعَالَمِينَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ আর সালাম করবে যেরূপ তোমরা শিখেছ।

1286। যিয়াদ ইবনু ইয়াহয়া (রহঃ) ... আবূ মাসউদ আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলা হল, আপনার উপর দুরুদ পড়তে ও সালাম পাঠাতে আমাদের আদেশ করা হয়েছে, সালাম কিভাবে পাঠাতে হয় তা তো আমরা জানি, কিন্তু আপনার উপর দুরুদ কিভাবে পাঠ করবো? তিনি বললেন, তোমরা বলবেঃ اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ

1287। কাসিম ইবনু যাকারিয়া (রহঃ) ... কা'ব ইবনু উজরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনাকে সালাম কিভাবে পাঠাতে হয় তা তো আমরা জানি, কিন্তু (আপনার উপর) দুরুদ কিভাবে পড়ব? তিনি বললেন, তোমরা বলবেঃ اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ (আবদূর রহমান) ইবনু আবূ লায়লা (রহঃ) বলেন, আমরা বলে থাকি তাঁদের সাথে আমাদের উপরেও (রহমত এবং বরকত বর্ষণ কর)। আবূ আব্দুর রহমান (নাসাঈ) (রহঃ) বলেন, আমার উস্তাদ কাসিম ইবনু যাকায়িয়া উল্লেখিত হাদীস অত্র সনদ সুত্রে বর্ণনা করেছিলেন, কিন্তু অত্র সনদ ভুল।

1288। কাসিম ইবনু যাকারিয়া (রহঃ) ... কা'ব ইবনু উজরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনাকে সালাম পাঠানোর নিয়ম তো আমরা জানি, কিন্তু আপনার উপর দুরুদ কিভাবে পড়বো? তিনি বললেন, তোমরা বলবেঃ اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَآلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَآلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ আব্দুর রহমান (রঃ) বলেন, আমরা বলে থাকি তাদের সঙ্গে আমাদের উপরেও (রহম ও বরকত বর্ষণ কর।) আবু আব্দুর রহমান (নাসায়ী) (রঃ) বলেন, পূর্ববর্তী সনদের তুলনায় এ সনদ অধিকতর সঠিক। কাসিম ইবনু জাকারিয়্যা (রহঃ) ব্যাতিত অন্য কেউ পূর্ববর্তী সনদে আমর ইবনু মুররাহ (রঃ) এর নাম উল্লেখ করেন নি।

1289। সুওয়ায়দ ইবনু নাসর (রহঃ) ... ইবনু আবূ লায়লা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কা'ব ইবনু উজরা (রাঃ) আমাকে বললেন, আমি কি তোমাকে কিছু হাদিয়া দেব না? (পরে বললেন,) আমরা বললাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আপনাকে সালাম পাঠানোর নিয়ম তো আমরা জানি, কি আপনার উপর দুরুদ কিভাবে পাঠ করব। তিনি বললেন তোমরা পড়বেঃ اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَآلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَآلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ

1290। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... তালহা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনার উপর দরুদ কিভাবে পাঠ করতে হবে? তিনি বললেন, তোমরা বলবেঃ اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَآلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَآلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ

1291। উবায়দুল্লাহ ইবনু সা'দ (রহঃ) ... তালহা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, ইয়া নবী আল্লাহ! আমরা আপনার উপর দুরুদ কিভাবে পাঠ করব? তিনি বললেন, তোমরা বলবেঃ اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ

1292। সাঈদ ইরূন ইয়াহয়া (রহঃ) ... যায়দ ইবনু খারিজা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে প্রশ্ন করলে তিনি বললেন, তোমরা আমার উপর দরুদ পাঠ কর এবং বেশি রেশি দোয়া কর আর-তোমরা বলঃ اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ

1293। কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনার উপর সালাম পাঠানোর নিয়ম তো আমরা জানি, কিন্তু আপনার উপর দুরুদ কিভাবে পাঠ করব? তিনি বললেন, তোমরা বলবেঃ اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ عَبْدِكَ وَرَسُولِكَ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَآلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ

1295। সুওযায়দ ইবনু নাসর (রহঃ) ... আবূ তালহা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন (আমাদের কাছে) আগমন করলেন। তখন তার চেহারায় প্রফুল্লতা দৃষ্টি গোচর হচ্ছিল। তিনি বললেন, জিবরীল (আলাইহিস সালাম) আমার কাছে এসে বলল, "ইয়া মুহাম্মাদ! আপনাকে কি এই সংবাদ খুশি করে না যে, আপনার উম্মতের মধ্য থেকে যদি কোন ব্যক্তি আপনার উপর একবার দরুদ পাঠ করে আমি তার দশবার মাগফিরাত চাইব, আর কেউ যদি আপনাকে একবার সালাম পাঠায় আমি তার প্রতি দশবার সালাম পাঠাব।

1296। আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) সুত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরুদ পাঠ করবে আল্লাহ তা’আলা তাঁর উপর দশবার রহমত নাযিল করবেন।

1297। ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরুদ পাঠ করবে আল্লাহ তা’আলা তার উপর দশবার রহমত নাযিল করবেন, তার দশটি শুনাহ মিটিয়ে দেওয়া হবে এবং তাঁর জন্য দশটি মর্যাদা উন্নীত করা হবে।

1298। ইয়াকুব ইবনু ইবরাহীম দাওরাকী ও আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা যখন একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে সালাত আদায়কালে বসলাম, তখন বললাম, আল্লাহর উপর সালাম আল্লাহর বান্দাদের পক্ষ থেকে আর অমুক অমুকের উপর সালাম। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা আল্লাহর উপর সালাম বলো না, কেননা, আল্লাই স্বয়ং সালাম, তোমাদের কেউ যখন সালাত আদায় কালে বসে তখন সে যেন বলেঃ التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ কেননা যখন তোমরা এ তাশাহহুদ পড়বে আসমান এবং যমীনের সকল নেক বান্দার রুহে পৌছবে।أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ এরপর যে দুয়া ইচ্ছা হয় সে দুয়া পাঠ করবে।

1299। উবায়দ ইবনু ওয়াকী ইবনু জাররাহ (রহঃ) ... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উম্মে সুলায়ম (রাঃ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাকে এমন কিছু বাক্য শিক্ষা দিন যা আমি আমার সালাতে পাঠ করতে পারি। তিনি বললেন, তুমি সুবহানাল্লাহ দশবার, আলহামদু লিল্লাহ দশবার এবং আল্লাহু আকবার দশবার বলে আল্লাহর কাছে তোমার যা প্রয়োজন হয় তা চাইবে। তিনি বলবেন- হ্যাঁ, হ্যাঁ অর্থাৎ নিশ্চয়ই তিনি তোমার দোয়া কবুল করবেন।

1300। কুতায়বা (রহঃ) ... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে বসা ছিলাম, অর্থাৎ তখন এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিল, যখন সে রুকু-সিজদা এবং তাশাহুদ পড়ে দোয়া করতে আরম্ভ করল তখন সে তার দোয়ায় বলতে লাগলঃ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِأَنَّ لَكَ الْحَمْدَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ الْمَنَّانُ بَدِيعُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ يَا ذَا الْجَلاَلِ وَالإِكْرَامِ يَا حَىُّ يَا قَيُّومُ إِنِّي أَسْأَلُكَ তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাহাবীগনকে বললেন, তোমরা কি জানো সে কিসের দ্বারা দোয়া করল? তারা বললেন, আল্লাহ এবং তার রাসুলই ভালো জানেন। তখন তিনি বললেন, যার হাতে আমার প্রাণ তার শপথ! সে আল্লাহর ঐ ইসমে আজম দ্বারা দোয়া করেছে যা দ্বারা দোয়া করা হলে তিনি তা কবুল করেন, আর যদ্দারা কোন কিছু চাওয়া হলে তা তিনি দান করেন।

1301। আমর ইবনু ইয়াযীদ আবূ বুরায়দ বসরী (রহঃ) ... মিহজান ইবনু আদরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একদিন) মসজিদে প্রবেশ করে দেখলেন যে, এক ব্যক্তি তাশাহুদ পড়ে সালাত শেষ করার সময় বললোঃ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ يَا اللَّهُ بِأَنَّكَ الْوَاحِدُ الأَحَدُ الصَّمَدُ الَّذِي لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ أَنْ تَغْفِرَ لِي ذُنُوبِي إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে এ বাক্যটি তিনি তিনবার বললেন।

1302। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন, আমাকে এমন একটা দোয়া শিক্ষা দিন যা দ্বারা আমি সালাতে দোয়া করব। তিনি বললেন তুমি বলবেঃ اللَّهُمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظُلْمًا كَثِيرًا وَلاَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلاَّ أَنْتَ فَاغْفِرْ لِي مَغْفِرَةً مِنْ عِنْدِكَ وَارْحَمْنِي إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ

1303। ইউনুস ইবনু আবদুল আ'লা (রহঃ) ... মু’আয ইবনু জাবাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার হাত ধরে বললেন, হে মু’আয! আমি তোমাকে ভালবাসি। তখন আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমিও আপনাকে ভালবাসি। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি প্রত্যেক সালাতে বলতে বাদ দেবে নাঃ رَبِّ أَعِنِّي عَلَى ذِكْرِكَ وَشُكْرِكَ وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ

1304। আবূ দাঊদ (রহঃ) ... শাদ্দাদ ইবনু আউস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সালাতে বলতেনঃ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الثَّبَاتَ فِي الأَمْرِ وَالْعَزِيمَةِ عَلَى الرُّشْدِ وَأَسْأَلُكَ شُكْرَ نِعْمَتِكَ وَحُسْنَ عِبَادَتِكَ وَأَسْأَلُكَ قَلْبًا سَلِيمًا وَلِسَانًا صَادِقًا وَأَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِ مَا تَعْلَمُ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا تَعْلَمُ وَأَسْتَغْفِرُكَ لِمَا تَعْلَمُ

1305। ইয়াইয়া ইবনু হাবীব (রহঃ) ... আতা ইবনু সায়িব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আম্মার ইবনু ইয়াসির (রাঃ) একবার আমাদের সাথে সালাত আদায় করলেন এবং সালাত সংক্ষিপ্ত করে ফেললেন। তখন কেউ কেউ তাঁকে বললেন, আপনি সালাত সংক্ষিপ্ত করে ফেলেছেন। তিনি বললেন, কিন্তু এতদসত্তেও তো আমি ঐ সমস্ত দোয়া পাঠ করে ফেলেছি যা আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি। তারপর যখন তিনি (চলে যাওয়ার জন্য) উঠে দাঁড়ালেন, লোকদের মধ্য হতে একজন তার অনুসরণ করতে লাগলেন। [আতা বলেন] তিনি ছিলেন আমার পিতা কিন্তু তিনি তাঁর নাম বলেননি। তিনি তাঁকে ঐ দোয়া সম্পর্কে প্রশ্ন করলেন এবং এসে সবাইকে ঐ দোয়ার সংবাদ দিলেন। সেই দোয়াটি ছিলঃ اللَّهُمَّ بِعِلْمِكَ الْغَيْبَ وَقُدْرَتِكَ عَلَى الْخَلْقِ أَحْيِنِي مَا عَلِمْتَ الْحَيَاةَ خَيْرًا لِي وَتَوَفَّنِي إِذَا عَلِمْتَ الْوَفَاةَ خَيْرًا لِي اللَّهُمَّ وَأَسْأَلُكَ خَشْيَتَكَ فِي الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ وَأَسْأَلُكَ كَلِمَةَ الْحَقِّ فِي الرِّضَا وَالْغَضَبِ وَأَسْأَلُكَ الْقَصْدَ فِي الْفَقْرِ وَالْغِنَى وَأَسْأَلُكَ نَعِيمًا لاَ يَنْفَدُ وَأَسْأَلُكَ قُرَّةَ عَيْنٍ لاَ تَنْقَطِعُ وَأَسْأَلُكَ الرِّضَاءَ بَعْدَ الْقَضَاءِ وَأَسْأَلُكَ بَرْدَ الْعَيْشِ بَعْدَ الْمَوْتِ وَأَسْأَلُكَ لَذَّةَ النَّظَرِ إِلَى وَجْهِكَ وَالشَّوْقَ إِلَى لِقَائِكَ فِي غَيْرِ ضَرَّاءَ مُضِرَّةٍ وَلاَ فِتْنَةٍ مُضِلَّةٍ اللَّهُمَّ زَيِّنَّا بِزِينَةِ الإِيمَانِ وَاجْعَلْنَا هُدَاةً مُهْتَدِينَ

1306। উবায়দুল্লাহ ইবনু সা'দ ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... কায়স ইবনু উবাদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আাম্মার ইবনু ইয়াসির (রাঃ) একদল লোক নিয়ে সালাত আদায় করলেন, যাতে তিনি সংক্ষেপ করে ফেললেন আর মুসল্লীরা যেন ঐ সংক্ষিপ্ত করণকে খারাপ মনে করলেন। তখন তিনি বললেন, আমি কি রুকু এবং সিজদা পরিপূর্ণরূপে আদায় করিনি? তারা বললেন, নিশ্চয়ই! তখন তিনি বললেন, আমি তাতে এমন দোয়াও পড়েছি যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পড়তেন। সেই দোয়াটি হলঃ اللَّهُمَّ بِعِلْمِكَ الْغَيْبَ وَقُدْرَتِكَ عَلَى الْخَلْقِ أَحْيِنِي مَا عَلِمْتَ الْحَيَاةَ خَيْرًا لِي وَتَوَفَّنِي إِذَا عَلِمْتَ الْوَفَاةَ خَيْرًا لِي وَأَسْأَلُكَ خَشْيَتَكَ فِي الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ وَكَلِمَةَ الإِخْلاَصِ فِي الرِّضَا وَالْغَضَبِ وَأَسْأَلُكَ نَعِيمًا لاَ يَنْفَدُ وَقُرَّةَ عَيْنٍ لاَ تَنْقَطِعُ وَأَسْأَلُكَ الرِّضَاءَ بِالْقَضَاءِ وَبَرْدَ الْعَيْشِ بَعْدَ الْمَوْتِ وَلَذَّةَ النَّظَرِ إِلَى وَجْهِكَ وَالشَّوْقَ إِلَى لِقَائِكَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ ضَرَّاءَ مُضِرَّةٍ وَفِتْنَةٍ مُضِلَّةٍ اللَّهُمَّ زَيِّنَّا بِزِينَةِ الإِيمَانِ وَاجْعَلْنَا هُدَاةً مُهْتَدِينَ

1307। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... ফারওয়াহ ইবনু নওফল (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশা (রাঃ)-কে বললাম, আমাকে এমন কিছু বলুন যদ্দারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সালাতের দোয়া করতেন। তিনি বললেন, হ্যাঁ, (বলব) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তার সালাতে) বলতেনঃ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا عَمِلْتُ وَمِنْ شَرِّ مَا لَمْ أَعْمَلْ

1308। হাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে কবরের আযাব সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি বললেন, হ্যাঁ! কবরের আযাব সত্য, আয়িশা (রাঃ) বলেন, এরপর আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এমন কোন সালাত আদায় করতে দেখিনি যাতে তিনি কবরের আযাব থেকে পানাহ না চেয়েছেন।

1309। আমর ইবনু উসমান (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে এই দোয়া পড়তেনঃ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْمَأْثَمِ وَالْمَغْرَمِ তখন তাকে কেউ বলল, আপনি প্রায়ই ঋণ গ্রস্ততা থেকে পানাহ চেয়ে থাকেন কেন? তিনি বললেন, কোন লোক যখন ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ে, তখন সে কথা বলতে মিথ্যা বলে এবং ওয়াদা করে খেলাফ করে।

1310। মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু আম্মার ও আলী ইবনু খাশরাম (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ যখন সালাত আদায়কালে তাশাহুদ পড়বে, তখন চার বস্তু থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চাইবে ১. দোযখের আযাব থেকে। ২. কবরের আযাব থেকে ৩. জীবন ও মরণের ফিৎনা থেকে। ৪. এবং মসীহে দাজ্জালের অনিষ্ট থেকে। অতঃপর তার জন্য যা (প্রয়োজনীয়) মনে আসে তার দোয়া করবে।

1311। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে তাশাহুদের পর বলতেনঃ أَحْسَنُ الْكَلاَمِ كَلاَمُ اللَّهِ وَأَحْسَنُ الْهَدْىِ هَدْىُ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم

1312। আহমদ ইবনু সুলায়মান (রহঃ) ... হুযায়ফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি এক ব্যক্তিকে দেখলেন সে সালাত সংক্ষেপে আদায় করছে। হুযায়ফা (রাঃ) তাঁকে বললেন, তুমি কতদিন থেকে এভাবে সালাত আদায় করছ? সে বলল, চল্লিশ বছর যাবত। তিনি বললেন, তুমি চল্লিশ বছর যাবত সালাত আদায় করছ না (পরিপূর্ণরূপে)। যদি তুমি এভাবে সালাত আদায় করতে করতে মৃত্যুবরণ কর তা হলে তুমি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাতের তরীকা ব্যতীত মৃত্যুবরণ করবে। তারপর তিনি বললেন, কোন ব্যক্তি সালাতে কিরাআত সংক্ষিপ্ত করতে পারে এভাবে যে, সে সালাতের ফরয ওয়াজিব সমূহ ঠিকমত আদায় করবে এবং সালাত সুন্দরভাবে আদায় করবে। (সূন্নত ও মুস্তাহাব আমলগুলো পালনের মাধ্যমে)।

1313। কুতায়বা (রহঃ) ... ইয়াহয়ার চাচা (রিফা'আ ইবনু রাফি (রাঃ) তিনি বদরী সাহাবী ছিলেন) থেকে বর্ণিত। তিনি বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি একদা মসজিদে প্রবেশ করে সালাত আদায় করতে লাগল আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার প্রতি লক্ষ্য রাখছিলেন অথচ আমরা তা জানতামও না। সে ব্যক্তি সালাত শেষ করে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সালাম করলে তিনি বললেন, ফিরে পুনরায় সালাত আদায় কর। কেননা, তুমি সালাত আদায় করনি। সে ব্যক্তি গিয়ে পুনরায় সালাত আদায় করে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসলে তিনি বললেন, তুমি গিয়ে পুনরায় সালাত আদায় কর। কেননা তুমি সালাত আদায় করনি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ তিনবার কি চার বার করলে ঐ ব্যক্তি তাকে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! সেই আল্লাহর শপথ, যিনি আপনাকে সম্মানিত করেছেন, আমি তো খুব চেষ্টা করে দেখলাম, আপনি আমাকে শিখিয়ে দিন। তখন তিনি বললেন, যখন সালাত আদায়ের ইচ্ছা কর, তখন উত্তমরূপে ওযু করবে। তারপর কিবলামুখী হয়ে তাকবীর বলবে। তারপর কুরআন পাঠ করে তাকবীর বলে রুকুতে যাবে এবং খুব স্থিরতার সাথে রুকু করবে। তারপর মাথা উঠিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যাবে। তারপর সিজদা করবে এবং স্থিরতার সাথে সিজদা করে মাথা উঠাবে। পরে মাথা উঠিয়ে স্থিরতার সাথে বসবে। পুনরায় সিজদা করবে এবং স্থিরতার সাথে সিজদা করে মাথা উঠাবে। তারপর তুমি এরূপ করে স্বীয় সালাত সমাপ্ত করবে।

1314। সুওয়ায়দ ইবনু নাসর (রহঃ) ... ইয়াহয়া ইবনু খাল্লাদ এর চাচা (রিফাআ ইবনু রাফি) (যিনি বদরী সাহাবী ছিলেন) (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একদা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে মসজিদে বসা ছিলাম। তখন এক ব্যক্তি এসে দু'রাকআত সালাত আদায় করল। তারপর এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সালাম করল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সালাতের প্রতি লক্ষ্য রাখছিলেন। তিনি তাঁর সালামের উত্তর দিয়ে তাকে বললেন, তুমি ফিরে গিয়ে পুনরায় সালাত আদায় কর, যেহেতু তুমি সালাত আদায় করনি। তারপর সে ফিরে গিয়ে সালাত আদায় করলো। পরে এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সালাম করলো। তিনি সালামের জবাব দিয়ে বললেন, তুমি ফিরে গিয়ে সালাত আদায় কর। কারণ তুমি সালাত আদায় করনি। এমনিভাবে তৃতীয় অথবা চতুর্থ বারে সে বলল, সেই আল্লাহর শপথ, যিনি আপনার উপর কিতাব (কুরআন) অবর্তীর্ণ করেছেন, আমি তো খুব চেষ্টা করে দেখলাম এবং আমি সালাত আদায় করতে চাইও, আপনি আমাকে শিখিয়ে দিন। তখন তিনি বললেন, তুমি যখন সালাত আদায় করতে ইচ্ছা কর তখন উত্তম রূপে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করবে, তারপর কিবলার দিকে মুখ করে তাকবীর বলবে, তারপর কুরআন পড়ে (তাকবীর বলে) রুকুতে যাবে। রুকুতে স্থির হবে। তারপর মাথা উঠিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যাবে। তারপর সিজদায় গিয়ে স্থিরভাবে সিজদা করবে তারপর সিজদা থেকে মাথা উঠিয়ে স্থিরভাবে বসবে। আবার সিজদায় গিয়ে স্থিরভাবে সিজদা করবে। তারপর মাথা উঠাবে। যদি তুমি এই নিয়মে তোমার সালাত শেষ কর, তবে তোমার সালাতপূর্ণ হবে। আর যদি এই নিয়মে কোন ক্রটি হয় তবে তোমার সালাতও ততটূকু ক্রটি যুক্ত হবে।

1315। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... সা'দ ইবনু হিশাম (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে উম্মুল মু'মিনীন! রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিতর সালাত সম্পর্কে আমাকে অবহিত করুন। তিনি বললেন, আমরা তাঁর জন্য মিসওয়াক প্রস্তুত রাখতাম এবং ওযুর পানি রাখতাম। তারপর যখন রাতে আল্লাহর ইচ্ছা হত তাঁকে তুলে দিতেন, তখন তিনি মিসওয়াক করে ওযূ করতেন এবং আট রাকআত সালাত আদায় করতেন। তাতে তিনি অষ্টম রাকআতের শেষে বসতেন, এবং আল্লাহর যিকির ও দোয়া করতেন। তারপর এমনভাবে সালাম ফিরাতেন যা আমরা শুনতে পেতাম।

1316। মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সালাতে) তার ডান দিকে এবং বাম দিকে সালাম ফিরাতেন।

1317। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... সা'দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখতাম যে তিনি তার ডান দিকে এবং বাম দিকে সালাম ফিরাতেন তখন তার গালের শুভ্রতা দেখা যেত। আবু আব্দদুর রহমান বলেন, এ সানাদে রাবী 'আব্দুল্লাহ ইবনু জাফারের মধ্যে কোন দোষ নেই। তবে আলী ইবনু আল-মাদানির পিতা আব্দুল্লাহ ইবনু জাফার ইবনু নাজিহ হাদিস শাস্ত্রে পরিত্যক্ত।

1318। আমর ইবনু মানসূর (রহঃ) ... জাবির ইবনু সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পেছনে সালাত আদায় করতাম তখন বলতাম “আসসালামুআলাইকুম, আসসালামু আলাইকুম” হাদীসের অন্যতম রাবী মিসআর (রাঃ) তাঁর হাত দ্বারা ডান দিকে এবং বাম দিকে ইশারা করছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন তাঁদের কি হল? তারা এমনভাবে হাত দ্বারা ইশারা করে যেন তা অস্থির ঘোড়ার লেজ। তোমাদের প্রত্যেকের জন্য এটা কি যথেষ্ট নয় যে, সে উরুর উপর হাত রাখবে এবং ডানে ও বামে আপন ভাই-এর প্রতি সালাম দিবে।

1319। মুহাম্মদ ইবনু মুসান্না (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখেছি যে, তিনি প্রত্যেক নীচু হওয়ার সময় এবং উপরে উঠার সময় তাকবীর বলতেন, আর দাঁড়াবার সময় এবং বসার সময়েও তাকবীর বলতেন। আর তিনি তার ডান দিকে এবং বাম দিকে “আলসালামূ আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ, আলসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ,” বলে সালাম ফিরাতেন, তখন তার গণ্ড দেশের শুভ্রতা দেখা যেত। আর আমি আবূ বকর এবং উমর (রাঃ)-কেও অনুরূপ করতে দেখেছি।

1320। হাসান ইবনু মুহাম্মাদ জাফরানী (রহঃ) ... ওয়াসি ইবনু হাব্বান (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ)-কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, প্রত্যেক বার যখন মাথা নিচু করতেন তখন এবং যখন মাথা উঠাতেন তখন 'আল্লাহু আকবার' তারপর তার ডান দিকে 'আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ' এবং তাঁর বাম দিকে 'আসসালামু আলইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ' বলতেন।

1321। কুতায়বা (রহঃ) ... ওয়াসি ইবনু হাব্বান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু উমর (রাঃ)-কে বললাম, আপনি আমাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত সম্পর্কে অবহিত করুন যে, তা কিরূপ ছিল? রাবী বলেন, তিনি তাকবীরের কথা উল্লেখ করলেন। রাবী বলেন, তিনি অর্থাৎ আব্দুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) এমন কিছু বাক্য উল্লেখ করলেন, যার অর্থ হল- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকবীর এবং ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়ারহমাতুল্লাহ’ বলে ডান দিকে এবং ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলে বাম দিকে সালাম ফিরাতেন।

1322। যায়দ ইবনু আখযাম (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ (রাঃ) সুত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চেহারার শুভ্রতা দেখছি। তিনি ডান দিকে 'আসসালামু আলাইকুম ওয়ারহমাতুল্লাহ' এবং বাম দিকে 'আসসালামু আলাইকুম ওয়ারহমাতুল্লাহ' বলে সালাম ফিরাতেন।

1323। মুহাম্মাদ ইবনু আদম (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ডান দিকে সালাম ফিরাতেন, তখন তার চেহারার শুভ্রতা দেখা যেত। আর যখন বাম দিকে সালাম ফিরাতেন তখনও তাঁর চেহারার শুভ্রতা দেখা যেত।

1324। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ (রাঃ) সুত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত যে, তিনি তার ডান দিকে এবং বাম দিকে সালাম ফিরাতেন, 'আসসালামু আলাইকুম ওয়ারহমাতুল্লাহ' 'আসসালামু আলাইকুম ওয়ারহমাতুল্লাহ' বলে তখন তাঁর চেহারার শুভ্রতা দেখা যেত, এদিক থেকে এবং ওদিক থেকে।

1325। ইয়াকুব ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ডান দিকে সালাম ফিরাতেন 'আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ' বলে তখন তার চেহারার ডান দিকের শুভ্রতা দেখা যেত। অনুরূপভাবে বাম দিকে 'আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ' বলে সালাম ফিরালে তার চেহারার বাম দিকের শুভ্রতা দেখা যেত।

1326। আহমদ ইবনু সুলায়মান (রহঃ) ... জাবির ইবনু সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি (একদিন) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে সালাত আদায় করছিলাম, আমরা যখন সালাম ফিরালাম তখন হাত দ্বারা ইশারা করে বললাম, 'আসসালামু আলাইকুম, আসসালামু আলাইকুম' তিনি বলেন, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের প্রতি লক্ষ্য করে বললেন, তোমাদের কি হল যে, তোমরা হাত দ্বারা ইশারা করছ? যেন তা ঘোড়ার লেজ! যখন তোমাদের কেউ সালাম ফিরাবে তখন সে তার সাথীর প্রতি তাকাবে এবং স্বীয় হাত দ্বারা ইশারা করবে না।

1327। সুওয়াইদ ইবনু নাসর (রহঃ) ... ইতবান ইবনু মালিক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার গোত্রে বনূ সালিমের সাথে সালাত আদায় করতাম। একদা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আমি এসে বললাম, (ইয়া রাসুলাল্লাহ!) আমার শক্তি হ্রাস পেয়েছে, আর (কখনো কখনো) আমার এবং আমার গোত্রের মসজিদের মাঝখানে বন্যা প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়, তাই আমার একান্ত ইচ্ছা যে, আপনি এসে আমার ঘরের কোন এক স্থানে সালাত আদায় করেন যাকে আমি আমার সালাতের স্থান রূপে নির্দিষ্ট করে নিতে পারি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ইনশাআল্লাহ! অতি শীঘ্রই আমি তা করব। পরের দিন সূর্য প্রখর হওয়ার পর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে আসলেন, আর আবূ বকর (রাঃ)-ও তার সঙ্গে ছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে আমার কাছে অনুমতি চাইলেন, আমি তাকে অনুমতি দিলে তিনি না বসেই বললেন, তুমি তোমার ঘরের কোন স্থানে আমার সালাত আদায় করা পছন্দ করো? তখন আমি তাকে ঐ স্থান দেখিয়ে দিলাম যেখানে তার সালাত আদায় করা আমি পছন্দ করেছি। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ালেন, আমরাও তার পেছনে কাতার বন্দী হয়ে দাঁড়ালাম। তারপর তিনি (সালাতের শেষে) সালাম ফিরালে আমরাও তার সঙ্গে সালাম ফিরালাম।

1328। সুলায়মান ইবনু দাঊদ ইবনু হাম্মাদ ইবনু সা’দ (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইশার সালাত শেষ করার পর ফজর পর্যন্ত এগার রাকআত সালাত আদায় করতেন এবং সেই এগার রাকাআত সালাতকে একটি রাকআত দ্বারা বেজোড় করে দিতেন এবং প্রতিটি সিজদা এত দেরী করতেন যে, তাতে তোমাদের কেউ তার মাথা উঠাবার পুর্বে পঞ্চাশ আয়াত তিলাওয়াত করতে পারতো। এই হাদীসের কোন কোন রাবী একে অন্যের থেকে কিছু অংশ বাড়িয়ে দিয়েছেন।

1329। মুহাম্মদ ইবনু আদম (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একদা সালাতে) সালাম ফিরালেন। পরে কথা বলে ফেললেন। তারপর সাহুর দু'টি সিজদা করলেন।

1330। সুওয়ায়দ ইবনু নাসর (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একদা সালাতে) সালাম ফিরিয়ে ফেললেন এবং সেই বসা অবস্থায় থেকেই তিনি সাহুর সিজদা করলেন। তারপর সালাম ফিরালেন।

1331। ইয়াহয়া ইবনু হাবীব ইবনু আরাবী (রহঃ) ... ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, (একদা) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন রাকআত সালাত আদায় করে সালাম ফিরিয়ে ফেললেন। তখন তাকে খিরবাক (রাঃ) বললেন, আপনি সালাত তিন রাকআত আদায় করেছেন। তখন তিনি মুসল্লীদের নিয়ে অবশিষ্ট এক রাকআত আদায় করে নিলেন। তারপর সালাম ফিরিয়ে সাহুর দু'টি সিজদা করে নিলেন এবং আবারো সালাম ফিরালেন।

1332। আহমদ ইবনু সুলায়মান (রহঃ) ... বারা ইবনু আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দিকে তার সালাত আদায়কালে লক্ষ্য রাখছিলাম, আমি তার কিয়াম (দাঁড়ানো), রুকু এবং রুকুর পর সোজা হয়ে দাঁড়ানো দেখছিলাম। তার সিজদা, সিজদার মাঝখানের বসা, তার সিজদা, তার সালাম ফিরানো এবং মুসল্লীদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বসা প্রায়ই সমান হতো।

1333। মুহাম্মদ ইবনু সালামা (রহঃ) ... উম্মে সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, মহিলারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে যখন সালাতের শেষে সালাম ফিরাত, তখন দাঁড়িয়ে যেত এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের স্থানে বসে থাকতেন। আর পুরুষদের মধ্যে যারা যারা সালাত শেষ করে ফেলত (তারাও বসে থাকত) যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়াতেন তখন পুরুষরাও দাঁড়িয়ে যেত।

1334। ইয়াকুব ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... ইয়াযীদ ইবনু আসওয়াদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি (একদা) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ফজরের সালাত আদায় করেছিলেন। যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত শেষ করলেন তখন তিনি মুসল্লীদের দিকে ফিরে বসলেন।

1335। বিশর ইবনু খালিদ আসকরী (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত শেষ হওয়া জানতে পারতাম তাকবীরের দ্বারা।

1336। মুহাম্মদ ইবনু সালামা (রহঃ) ... উকবা ইবনু আমির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে প্রত্যেক সালাতের পর সূরা ফালাক ও সূরা নাস পড়তে আদেশ করেছেন।

1337। মাহমূদ ইবনু খালিদ (রহঃ) ... রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর (আযাদকৃত) গোলাম সাওবান (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁর সালাতে সালাম ফিরাতেন, তিনবার ইস্তিগফার করতেন এবং বলতেনঃ اللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلاَمُ وَمِنْكَ السَّلاَمُ تَبَارَكْتَ يَا ذَا الْجَلاَلِ وَالإِكْرَامِ

1338। মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল আ’লা ও মুহাম্মাদ ইবনু ইবরাহীম ইবনু সুদরান (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন (সালাতে) সালাম ফিরাতেন তখন বলতেনঃ للَّهُمَّ أَنْتَ السَّلاَمُ وَمِنْكَ السَّلاَمُ تَبَارَكْتَ يَا ذَا الْجَلاَلِ وَالإِكْرَامِ

1339। মুহাম্মাদ ইবনু শুজা মারওয়াযী (রহঃ) ... আবূ যুবায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন আমি আব্দুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ)-কে এই মিম্বরের উপর বলতে শুনেছি। তিনি বলেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাম ফিরাতেন তখন বলতেনঃ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ لاَ نَعْبُدُ إِلاَّ إِيَّاهُ أَهْلَ النِّعْمَةِ وَالْفَضْلِ وَالثَّنَاءِ الْحَسَنِ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ

1340। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আবূ যুবায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ) প্রত্যেক সালাতের পর তাহলীল করতেন। তিনি বলতেনঃ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَلاَ نَعْبُدُ إِلاَّ إِيَّاهُ لَهُ النِّعْمَةُ وَلَهُ الْفَضْلُ وَلَهُ الثَّنَاءُ الْحَسَنُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ তারপর ইবনু যুবায়র (রাঃ) বলতেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই সমস্ত বাক্য দ্বারা (প্রত্যেক) সালাতের পর তাহলীল পড়তেন।

1341। মুহাম্মাদ ইবনু মানসুর (রহঃ) ... ওয়াররাদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুআাবিয়া (রাঃ) মুগীরা ইবনু শু'বা (রাঃ) এর কাছে লিখলেন যে, আপনি আমাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছ থেকে শুনা কিছু দোয়া সম্পর্কে অবহিত করুন। তিনি বললেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাত শেষ করতেন তখন বলতেনঃ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ اللَّهُمَّ لاَ مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ وَلاَ مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ وَلاَ يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ

1342। মুহাম্মাদ ইবনু কুদামাহ (রহঃ) ... ওয়াররাদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুগীরা ইবনু শু'বা (রাঃ) মুআবিয়া (রাঃ)-এর কাছে লিখেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (প্রত্যেক) সালাতের পর যখন সালাম ফিরাতেন তখন বলতেনঃ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ اللَّهُمَّ لاَ مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ وَلاَ مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ وَلاَ يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ

1343। হাসান ইবনু ইসমাইল ও ইয়াকুব ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... ওয়াররাদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, মুআবিয়া, মুগীরা ইবনু শুবা (রাঃ) এর কাছে লিখলেন যে, আপনি আমাকে এমন কিছু হাদীস লিখে পাঠান, যা আপনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছ থেকে শুনেছেন। তখন মুগীরা (রাঃ) তার কাছে লিখলেন যে, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সালাত আদায় শেষে সালাম ফিরানোর পর তিনবার বলতে শুনেছিঃ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ

1344। মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক সাগানী (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোন মজলিসে বসতেন অথবা সালাত আদায় করতেন তখন কিছু বাক্য উচ্চারণ করতেন। আয়িশা (রাঃ) তাকে উক্ত বাক্যসমূহ সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি বললেন, কেউ যদি ভাল বাক্য বলে তা হলে সেগুলো কিয়ামত পর্যন্ত তার জন্য মোহরস্বরূপ হবে। আর সে যদি অন্য ধরনের বাক্য বলে তা হলে সেগুলো তার জন্য কাফফারা স্বরূপ হবে। (সে বাক্যগুলো হলো): سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ

1345। আহমদ ইবনু সুলায়মান (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার কাছে এক জন ইহুদী মহিলা এসে বলল, কবরের আযাব পেশাব থেকে (সাবধানতা অবলম্বন করার কারণে) হবে। [আয়িশা (রাঃ) বলেন] তখন আমি তাকে বললাম, তুমি মিথ্যা কথা বলছ। সে বলল- না, সত্য। আমরা পেশাব লাগলে চামড়া এবং কাপড় অবশ্যই কেটে ফেলতাম। এ সময় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের জন্য বের হয়ে এলেন। ইত্যবসরে আমাদের আওয়াজ বড় হয়ে গিয়েছিল। তাই তিনি বললেন, কি ব্যাপার? আমি তাঁকে ঐ মহিলা যা যা বলেছিল সে সম্পর্কে অবহিত করলাম। তখন তিনি বললেন, সে সত্যই বলেছে। তারপর তিনি এমন কোন সালাত আদায় করেননি, যে সালাতের পর তিনি বলেন নি- رَبَّ جِبْرِيلَ وَمِيكَائِيلَ وَإِسْرَافِيلَ أَعِذْنِي مِنْ حَرِّ النَّارِ وَعَذَابِ الْقَبْرِ

1346। আমর ইবনু সাওয়াদ ইবনু আসওয়াদ (রহঃ) ... আবূ মারওয়ান (রহঃ) থেকে তাঁর পিতা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, কাব (রাঃ) তাঁর কাছে ঐ আল্লাহর শপথ করে বলেছেন, যিনি মুসা (আলাইহিস সালাম) এর জন্য সমুদ্রকে বিদীর্ণ করেছিলেন, নিশ্চয়ই আমরা তাওরাতে দেখতে পাই যে, দাউদ নবী যখন তার সালাত থেকে সালাম ফিরাতেন তখন বলতেনঃ اللَّهُمَّ أَصْلِحْ لِي دِينِي الَّذِي جَعَلْتَهُ لِي عِصْمَةً وَأَصْلِحْ لِي دُنْيَاىَ الَّتِي جَعَلْتَ فِيهَا مَعَاشِي اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِرِضَاكَ مِنْ سَخَطِكَ وَأَعُوذُ بِعَفْوِكَ مِنْ نِقْمَتِكَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْكَ لاَ مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ وَلاَ مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ وَلاَ يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ মারওয়ান (রহঃ) বলেন, কাব (রাঃ) আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, সুহায়ব (রাঃ) তাঁর কাছে বর্ণনা করেছেন যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ সমস্ত দোয়া তার সালাত শেষে সালাম ফিরানোর পর বলতেন।

1347। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... মুসলিম ইবনু আবূ বাকরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা প্রত্যেক সালাতের পর বলতেনঃ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْكُفْرِ وَالْفَقْرِ وَعَذَابِ الْقَبْرِ তারপর আমিও তা বলতে থাকলে আমার পিতা আমাকে বললেন, হে বৎস! তুমি এ দোয়াগুলো কার কাছ থেকে শিখেছ? আমি বললাম, আপনার কাছ থেকে। তারপর তিনি বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (প্রত্যেক) সালাতের পর এ দোয়া গুলো বলতেন।

1348। ইয়াহয়া ইবনু হাবীব ইবনু আরাবী (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দু'টি অভ্যাস এমন রয়েছে যে, কোন মুসলিম ঐ দুটি অভ্যাসে অভ্যস্থ হলে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। ঐ দু'টি অভ্যাস সহজ অথচ তার আমলকারী হবে খুব কম। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, পাঁচ ওয়াক্ত সালাতে তোমাদের কেউ যদি প্রত্যেক সালাতের পর দশবার তাসবীহ (সূবহানাল্লাহ) পড়ে, দশবার আলহামদুলিল্লাহ পড়ে, আর দশবার আল্লাহু আকবার বলে, তাহলে একশত পঞ্চাশ বার মুখে বলা হয় আর তা পাল্লায় হবে এক হাজার পাঁচশত বার। আর আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখলাম যে, তিনি তার অঙ্গুলি দ্বারা গণনা করছেন। আর যখন তোমাদের কেউ তার বিছানায় অথবা শয়নের স্থানে আসবে, তখন সে যেন সুবহানাল্লাহ ৩৩ বার, আলহামদু লিল্লাহ ৩৩ বার আর আল্লাহু আকবার ৩৪ বার বলে। এ তো মুখে বলা হবে এক শতবার, আর পাল্লায় হবে এক হাজার বার। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের মধ্যে কেহ প্রত্যেক দিন রাতে দুই হাজার পাঁচ শত গুনাহ করে? কেউ বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমরা কেন তার অভ্যাস গড়ে তুলব না? তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, শয়তান তোমাদের আরো কাছে এসে তার সালাতরত অবস্থায় বলতে থাকে, অমুক কাজ স্মরণ কর, অমুক কাজ স্মরণ- কর আর তার নিদ্রার সময় তার কাছে এসে তাকে ঘূম পাড়িয়ে দেয়।

1349। মুহাম্মদ ইবনু ইসমাঈল ইবনু সামুরা (রহঃ) ... কা'ব ইবনু উজরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এমন কতগুলো তাসবীহ রয়েছে যার পাঠকারী তার সওয়াব থেকে বঞ্চিত হবে না। প্রত্যেক সালাতের পর সে সুবহানাল্লাহ- ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ- ৩৩ বার এবং আল্লাহু আকবার ৩৪ বার বলবে।

1350। মুসা ইবনু হিযাম তিরমিযী (রহঃ) ... যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একদা) সাহাবায়ে কেরামকে আদেশ করা হলো- তারা যেন প্রত্যেক সালাতের পর ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ- ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ এবং ৩৪ বার আল্লাহু আকবর বলে। তারপর যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ)-এর স্বপ্নেএক আনসারী সাহাবী নীত হলে যায়দ (রাঃ)-কে উদ্দেশ করে বলা হল, তোমাদের কি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আদেশ করেছেন যে, তোমরা প্রত্যেক সালাতের পর ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ এবং ৩৪ বার আল্লাহু আকবার বলবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তখন ঐ আনসারী বললেন, তোমরা ঐ তাসবীহ গুলোকে ২৫ বার করে পড়বে এবং তাতে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহকেও অন্তর্ভুক্ত করে নেবে। যখন সকাল হল তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে স্বপ্ন বৃত্তান্ত বর্ণনা করাতে তিনি বললেন, তোমরা তাসবীহ গুলোকে অনুরূপভাবেই পড়বে।

1351। উবায়দুল্লাহ ইবনু আব্দুল কারীম আবূ যুরআ রাযী (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি স্বপ্নে দেখল যে, কেউ তাকে জিজ্ঞাসা করছে যে, তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিসের আদেশ করেছেন? সে বলল, আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদু লিল্লাহ এবং ৩৪ বার - আল্লাহু আকবার বলতে আদেশ করেছেন। এ হল একশত বার। সে বলল, তোমরা ২৫ বার সুবহানাল্লাহ, ২৫ বার আলহামদু লিল্লাহ, ২৫ বার আল্লাহ আকবার এবং ২৫ বার লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলবে, তাও একশত বার হবে। যখন সকাল হল ঐ ব্যক্তি স্বপ্ন বৃত্তান্ত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জানাল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা তাসবীহ অনুরূপই বলবে, যেরূপ আনসারী ব্যক্তি বলেছেন।

1352। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... জুওয়ায়রিয়া বিনত হারিস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, (একদা) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছ দিয়ে গেলেন। তখন তিনি মসজিদে দোয়া করছিলেন। পুনরায় প্রায় দ্বি-প্রহরের সময় তাঁর কাছ দিয়ে গেলেন, তখন তাকে বললেন, তুমি তোমার পুর্ব অবস্থায় এখনো রয়ে গেছ? তিনি বললেন, হ্যাঁ; রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি কি তোমাকে শিক্ষা দেব না অর্থাৎ এমন কিছু দোয়া যেগুলো তুমি বলবে? سُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ خَلْقِهِ سُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ خَلْقِهِ سُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ خَلْقِهِ سُبْحَانَ اللَّهِ رِضَا نَفْسِهِ سُبْحَانَ اللَّهِ رِضَا نَفْسِهِ سُبْحَانَ اللَّهِ رِضَا نَفْسِهِ سُبْحَانَ اللَّهِ زِنَةَ عَرْشِهِ سُبْحَانَ اللَّهِ زِنَةَ عَرْشِهِ سُبْحَانَ اللَّهِ زِنَةَ عَرْشِهِ سُبْحَانَ اللَّهِ مِدَادَ كَلِمَاتِهِ سُبْحَانَ اللَّهِ مِدَادَ كَلِمَاتِهِ سُبْحَانَ اللَّهِ مِدَادَ كَلِمَاتِهِ

1353। আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কিছু দরিদ্র লোক (একদা) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! ধনীরাও সালাত আদায় করে থাকে যেমনিভাবে আমরা আদায় করে থাকি আর তারাও সিয়াম পালন করে থাকে যেমনিভাবে আমরা পালন করে থাকি, কিন্তূ তাদের জন্য রয়েছে সম্পদ, যা থেকে তারা দান-সাদাকা করে থাকে এবং গোলাম (কিনে) আযাদ করে থাকে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যখন তোমরা সালাত আদায় করবে, তখন বলবে, সূবহানাল্লাহ ৩৩ বার, আল হামদুলিল্লাহ ৩৩ বার, আল্লাহ আকবার ৩৩ বার এবং লা-ইলাহা ইলাল্লাহ ১০ বার। কেননা এর দ্বারা তোমরা তোমাদের অগ্রবর্তীদের সমপর্যায়ে পৌছে যেতে পারবে এবং তোমাদের পরবর্তী থেকে অগ্রগামী হয়ে যেতে পারবে।

1354। আহমদ ইবনু হাফস ইবনু আব্দুল্লাহ নিশাপুরী ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি সকালের সালাতের পর একশত বার সূবহানাল্লাহ এবং একশত বার লা-ইলাহা ইল্লালাহ বলবে, তার গুনাহসমূহ মাফ করে দেওয়া হবে। যদিও তা সমুদ্রের ফেনাসম হয়।

1355। মুহাম্মদ ইবনু আব্দুল আ'লা সানআনী ও হুসায়ন ইবনু মুহাম্মাদ যারি (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখেছি যে, তিনি আঙ্গুলে তাসবীহ গণনা করতেন।

1356। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (প্রতি) মাসের মধ্যবর্তী দশ দিন ইতিকাফ করতেন। যখন বিংশতম রাত অতিবাহিত হওয়ার এবং একাবিংশতম রাতের আগমনের সময় হত তখন তিনি তাঁর ঘরে ফিরে আসতেন এবং তার সঙ্গে যারা ইতিকাফ করতেন তারাও ফিরে আসতেন। তারপর তিনি অন্য এক মাসে, যে মাসে ইতিকাফ করছিলেন ঐ রাতেও রয়ে গেলেন যে রাতে তিনি ঘরে ফিরে আসতেন এবং লোকদের সামনে খুতবা দিলেন। তাঁদেরকে আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী আদেশ করলেন। তারপর বললেন, আমি এই মধ্যবর্তী দশদিন ইতিকাফ করতাম, পরে আমার কাছে প্রকাশ পেল যে, আমি এই শেষ দশ দিনও ইতিকাফ করি, অতএব যারা আমার সাথে গত মধ্যবর্তী দশদিন ইতিকাফ করেছ তাঁরা স্বীয় ই'তিকাফের স্থানে স্থির থাকবে। আমি এই শবে কদরকে স্বপ্নে দেখলাম। আমাকে তা দেওয়া হয়েছে, অতএব তোমরা তা এই শেষ দশ রাতে প্রত্যেক বেজোড় রাতে তালাশ করো। স্বপ্নে আমাকে দেখলাম যে, আমি পানি এবং কাদার মধ্যে সিজদা করছি। আবূ সাঈদ (রাঃ) বলেন, আমাদের উপর একবিংশতিতম রাতে বৃষ্টি হল বৃষ্টির পানি মসজিদে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত আদায় করার জায়গার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে গেল। আমি তাঁর দিকে লক্ষ্য করলাম যে, তিনি ফজরের সালাত থেকে সালাম ফিরিয়ে নিয়েছেন, আর তাঁর চেহারা পানি ও কাদা দ্বারা আপ্লুত ছিল।

1357। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... জাবির ইবনু সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাতের পর তাঁর সালাতের স্থানে সুর্যোদয় পর্যন্ত বসে থাকতেন।

1358। আহমদ ইবনু সুলায়মান (রহঃ) ... সিমাক ইবনু হারব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জাবির ইবনু সামুরা (রাঃ)-কে বললাম, আপনি তো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে উঠা-বসা করে থাকতেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাত আদায় করতেন, তার সালাতের স্থানে সুর্যোদয় পর্যন্ত বসে থাকতেন। তখন তাঁর সাহাবীগণের সঙ্গে কথাবার্তা বলতেন, তাঁরা জাহিলী যুগের ঘটনা সমুহের আলোচনা করতেন, কবিতা আবৃতি করতেন এবং হাসা-হাসিও করতেন, আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুচকি হাসতেন।

1359। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... সুদ্দী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, আমি যখন সালাত শেষ করি তখন কিভাবে বসব? আমার ডান দিক থেকে না আমার বাম দিক থেকে? তিনি বললেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে যা অধিকাংশ সময় দেখেছি তা হলো তিনি তাঁর ডান দিক থেকে ফিরে বসতেন।

1360। আবূ হাফস আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... আসওয়াদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ (রাঃ) বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন শয়তানের জন্য তার মনে কোন অংশ না রাখে এরূপ মনে করে যে, তার জন্য (সালাত শেষে) ডান দিক থেকে ফেরাই জরুরী। আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখেছি, তার অধিকাংশ ফিরে বসা তার বাম দিক থেকেই হত।

1361। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দাঁড়িয়ে ও বসে পানি পান করতে, খালি পায়ে ও জুতা পরিহিত অবস্থায় সালাত আদায় করতে এবং সালাত শেষে তার ডান দিক থেকে ও বাম দিক থেকে ফিরে বসতে দেখেছি।

1362। আলী ইবনু খাশরাম (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহিলারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ফজরের সালাত আদায় করত। যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাম ফিরাতেন তখন তারা চাদর মুড়ি দেওয়া অবস্থায় ফিরে যেত। তাদেরকে অন্ধকারের কারণে চেনা যেত না।

1363। আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন, তারপর তিনি আমাদের দিকে তার চেহারা ফিরিয়ে বললেন, আমি হলাম তোমাদের ইমাম। অতএব, তোমরা রুকুতে আমার আগে যাবে না। সিজদাতেও না, দাঁড়ানোতেও না এবং ফিরে যাবার সময়েও না। কেননা, আমি তোমাদের আমার সামনের দিক থেকেও দেখি এবং পেছনের দিক থেকেও। তারপর তিনি বললেন, ঐ আল্লাহর শপথ যার হাতে আমার প্রাণ! যদি তোমরা ঐ জিনিস দেখতে যা আমি দেখেছি, তাহলে তোমরা অবশ্যই কম হাসতে এবং অধিক কাঁদতে। আমরা বললাম, আপনি কি দেখেছেন ইয়া রাসুলাল্লাহ! তিনি বললেন, জান্নাত এবং জাহান্নাম।

1364। ইসমাঈল ইবনু মাসউদ (রহঃ) ... আবূ যর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা এক রমযানে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে সিয়াম পালন করলাম, সেবার তিনি আমাদের সাথে তারাবীহর সালাত আদায় করলেন না, যত দিন পর্যন্ত না মাসের সাত দিন অবশিষ্ট রইল; তখন তিনি আমাদের সাথে তারাবীহ সালাত আদায় করলেন। তাতে রাতের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হয়ে গেল। তারপর যখন ছয়দিন অবশিষ্ট রইলো, তখনও তিনি আমাদের সাথে তারাবীহর সালাত আদায় করলেন না। পরে যখন পাঁচ দিন অবশিষ্ট রইলো আবার তিনি আমাদের সাথে তারাবীহর সালাত আদায় করলেন এবং তাতে রাত্রের প্রায় অর্ধেক অতিবাহিত হয়ে গেল। আমরা বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! যদি আপনি আমাদের নিয়ে পূরো রাত তারাবীহর সালাত আদায় করতেন! তিনি বললেন, কোন ব্যক্তি যখন ইমামের সাথে সালাম ফিরিয়ে সালাত থেকে বের হওয়া পর্যন্ত তার সালাত আদায় করে তার জন্য এক পূর্ণ রাত সালাত আদায় করার সওয়াব লেখা হয়। তারপর যখন চারদিন অবশিষ্ট রইল তখনও আমাদের নিয়ে তারাবীহর সালাত আদায় করলেন না। তারপর যখন মাসের তিনদিন অবশিষ্ট রইল, তিনি তার কন্যা এবং স্ত্রীগণের কাছে লোক পাঠালেন এবং সাহাবাগণকে একত্র করলেন এবং আমাদের নিয়ে তারাবীহর সালাত এমনিভাবে আদায় করলেন যে, আমরা ভয় পেয়ে গেলাম আমরা ফালাহ এর সময় না হারিয়ে ফেলি। তারপর তিনি আমাদের নিয়ে ঐ মাসের আর কোনদিন তারাবীহর সালাত আদায় করেননি। রাবী দাঊদ (রহঃ) বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, ফালাহ-এর অর্থ কি? তিনি বললেনন, সাহরী খাওয়া।

1365। আহমদ ইবনু বাক্‌কার হাররানী (রহঃ) ... উকবা ইবনু হারিস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে মদীনাতে একবার আসরের সালাত আদায় করলাম। তারপর তিনি সালাম ফিরিয়ে দ্রুত মুসল্লীদের ঘাড় ডিঙ্গিয়ে চলে গেলেন। মুসল্লীরা তাঁর দ্রুততায় আশ্চর্যান্বিত হয়ে গেলে তাঁর কিছু সাহাবী তাঁকে অনুসরণ করলেন। পরে তিনি তাঁর কোন এক বিবির কাছে গিয়ে বের হয়ে এলেন এবং বললেন, আসরের সালাত আদায়রত অবস্থায় আমার কাছে থাকা কিছু স্বর্ণের কথা মনে পড়লো। আমি সমীচীন মনে করলাম না যে, সেগুলো আমার কাছে রাতে থাকুক। অতএব, আমি সেগুলো বণ্টন করে দেওয়ার আদেশ দিয়ে এসেছি।

1366। ইসমাঈল ইবনু মাসউদ ও মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল আলা সানআনী (রহঃ) ... জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) খন্দকের যুদ্ধের দিন সূর্যাস্তের পর কাফির কুরাইশদের গালমন্দ করতে লাগলেন এবং বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি আসরের সালাত আদায় না করতেই সূর্য অস্তমিত হওয়ার উপক্রম হয়ে গেল। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহর শপথ! আমিও তো উক্ত সালাত আদায় করিনি। তারপর আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে বুতহান নামক স্থানে অবতরণ করলাম। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের জন্য ওযূ করলেন, আমরাও সালাতের জন্য উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলাম। তারপর তিনি সূর্য অস্ত যাওয়ার পর আসরের সালাত আদায় করলেন। পরে তিনি মাগরিরের সালাত আদায় করলেন।

উৎস: Sunan an Nasai

WEBREATH · 11:11

«Should I not be a thankful servant?» — Sahih al-Bukhari

Breath is one for all: everyone lives by it, whoever they are and whatever they believe. Every day at 11:11 local time people stop for sixty seconds, breathe, and thank GOD for the breath — each in their own words, each within themselves. In that minute we are One Breath.

WEBREATH — the Minute at 11:11, your own local time — we are One Breath