হাদিস
ফিরে যান

সুনানে নাসায়ী 12 · The Book of The At-Tatbiq (Clasping One's Hands Together)

আপনার ভাষায় এখনো কোনো অনুবাদ নেই — ইংরেজি দেখাচ্ছে

1029। ইসমাঈল ইবনু মাসউদ (রহঃ) ... আলকামা এবং আসওয়াদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তাঁরা উভয়ে আব্দুল্লাহ (রাঃ) এর সাথে তাঁর ঘরে ছিলেন। তিনি বললেন, তারা কি সালাত আদায় করেছে? আমরা বললাম, হ্যাঁ। তিনি তাঁদের ইমামতি করলেন। আর তাঁদের দু'জনের মধ্যে দাঁড়ালেন, আযান ও ইকামত ব্যতীত। তিনি বললেন, তোমরা যখন তিনজন হবে তখন এরূপ করবে, আর যখন এর চেয়ে বেশি লোক হবে তখন তোমাদের মধ্যে একজন ইমাম হবে এবং উভয় হাত রানের উপর বিছিয়ে রাখবে। আমি যেন এখনও দেখছি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাতের আদলের মধ্যস্থিত ফাঁক।

1030। আহমদ ইবনু সায়ীদ রুবাতী (রহঃ) ... আসওয়াদ এবং আলকামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তাঁরা উভয়ে বলেন, আমরা আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ)-এর ঘরে তার সঙ্গে সালাত আদায় করলাম। তিনি আমাদের মধ্যে দাঁড়ালেন। আমরা আমাদের হাত রানের উপর রাখলাম। তিনি তা টেনে নিলেন এবং আমাদের অঙ্গুলীসমূহের মধ্যে ফাঁক করে দিলেন এবং বললেন, আমি রাসুলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এরূপ করতে দেখেছি।

1031। নূহ ইবনু হাবীব (রহঃ) ... আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সালাত শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি দাঁড়িয়ে তাকবীর বললেন, যখন তিনি রুকু করতে ইচ্ছা করলেন, উভয় হাত হাটূদ্বয়ের মধ্যস্থলে রাখলেন, এবং রুকু করলেন। এ সংবাদ সা'দ (রাঃ) এর নিকট পৌছলে তিনি বললেন, আমার ভাই সত্যই বলেছেন। আমরা এরূপ করতাম। তারপর আমরা এরূপ করতে আদিষ্ট হয়েছি অর্থাৎ হাঁটু ধরে রাখতো।

1032। কুতায়বা (রহঃ) ... মুসআব ইবনু সা'দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার পিতার পাশে সালাত আদায় করলাম, আর আমি আমার উভয় হাত আমার হাঁটুদ্বয়ের মধ্যস্থলে রাখলাম। তখন তিনি আমাকে বললেন, তোমার উভয় হাতের তালু তোমার হাঁটুদ্বয়ের উপর রাখ। তিনি বলেন, তারপর আমি তা পুনরায় করলাম। এরপর তিনি আমার হাত ধরে বললেন, আমাদের এরূপ করতে নিষেধ করা হয়েছে এবং আমরা আদিষ্ট হয়েছি হাঁটুর উপর হাত রাখতে।

1033। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... মুস’আব ইবনু সাদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রুকু করলাম এবং তাতে তাৎবিক (হাত দু'হাঁটুর মাঝে রাখা) করলাম। আমার পিতা বললেন, আমরা আগে এরূপ করতাম। তারপর আমরা আদিষ্ট হয়েছি হাটুতে হাত রাখতে।

1034। মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাটু জড়িয়ে ধরা তোমাদের জন্য সূন্নত করা হয়েছে। অতএব, তোমরা হাটূ জড়িয়ে ধরবে।

1035। সুয়ায়দ ইবনু নাসর (রহঃ) ... আবূ আবদূর রহমান সালামী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমর (রাঃ) বলেছেনঃ সুন্নত হলো হাটু জড়িয়ে ধরা।

1036। হান্নাদ ইবনু সরী (রহঃ) ... সালিম (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আবূ মাসঊদের নিকট আসলাম। তাঁকে বললাম, আমাদেরকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত সমন্ধে বর্ণনা করুন। তখন তিনি আমাদের সামনে দাঁড়ালেন এবং তাকবীর বললেন, যখন রুকু করলেন তখন তার উভয় হাতের তালু হাটুদ্বয়ের উপর স্থাপন করলেন। আর তাঁর আঙ্গুলগুলো তার নিচে রাখলেন এবং তার উভয় কনুই পার্শ্বদেশ থেকে দূরে রাখলেন। যাতে তাঁর সকল অঙ্গ সোজা হয়ে গেল। তারপর বললেন, সামিয়ালাহু লিমান হামিদাহ- তখন দাঁড়িয়ে গেলেন। তখন তাঁর সকল অঙ্গ সোজা হয়ে গেল।

1037। আহমদ ইবনু সুলায়মান রাহাভী (রহঃ) ... উকবা ইবনু আমির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি কি তোমাদের জন্য ঐরূপ সালাত আদায় করব না যেরূপ আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখেছি সালাত আদায় করতে? আমরা বললাম, হ্যাঁ, তখন তিনি দাঁড়ালেন। যখন তিনি রুকু করলেন তখন তাঁর হাতদ্বয়ের তালু তাঁর উভয় হাটুর উপর রাখলেন। আর আঙ্গুল সমূহ রাখলেন তাঁর হাটুর নিচের দিকে। আর তার বগল (পার্শ্বদেশ থেকে) পৃথক রাখলেন। তখন তাঁর সকল অঙ্গ সোজা হয়ে গেল। তারপর তিনি তাঁর মাথা উঠালেন এবং দাঁড়িয়ে গেলেন। তখন তাঁর সকল অঙ্গ সোজা হয়ে গেল। তারপর সিজদা করলেন এবং তাঁর বগল (পার্শ্বদেশ থেকে) পৃথক রাখলেন এবং তার সকল অঙ্গ সোজা হয়ে গেল। তারপর বসলেন এবং সকল অঙ্গ সোজা হয়ে গেল, এরপর আবার সিজদা করলেন এবং সকল অঙ্গ সোজা হয়ে গেল। এরূপে চার রাকাআত আদায় করলেন। তারপর বললেন, এরূপই আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সালাত আদায় করতে দেখেছি। আর তিনি এরূপেই আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করতেন।

1038। ইয়াকুব ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... সালিম বাররাদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ মাসউদ (রাঃ) বলেছেনঃ আমি কি তোমাদের দেখাব না রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিভাবে সালাত আদায় করতেন? আমরা বললাম, হ্যাঁ। তখন তিনি দাঁড়িয়ে তাকবীর বললেন, যখন তিনি রুকু করলেন, তার উভয় বগল পৃথক করে রাখলেন। যখন তাঁর সকল অঙ্গ সোজা হয়ে গেল, তিনি তাঁর মাথা উঠালেন, এভাবে তিনি চার রাকআত আদায় করলেন। তারপর বললেন, এভাবে আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সালাত আদায় করতে দেখেছি।

1039। মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... আবূ হুমায়দ সাঈদী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রুকু করতেন, তখন তিনি সোজা হয়ে যেতেন। তিনি তার মাথা উঁচু করে রাখতেন না আবার ঝুঁকিয়েও রাখতেন না। আর তার উভয় হাত হাটুর উপর রাখতেন।

1040। উবায়দুল্লাহ ইবনু সা'য়ীদ (রহঃ) ... আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে নিষেধ করেছেন, রেশম মিশ্রিত কাপড়, রেশমী কাপড় এবং সোনার আংটি থেকে, আর রুকু অবস্থায় কিরাআত থেকে।

1041। উবায়দুল্লাহ ইবনু সায়ীদ (রহঃ) ... আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে সোনার আংটি, রুকু অবস্থায় কিরাআত, রেশম মিশ্রিত কাপড় এবং কুসূম রংয়ের কাপড় থেকে নিষেধ করেছেন।

1042। হাসান ইবনু দাঊদ মুনকাদিরী (রহঃ) ... আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে নিষেধ করেছেন, আর আমি বলি না যে, তোমাদের নিষেধ করেছেন- সোনার আংটি রেশম মিশ্রিত কাপড়, গাঢ় লাল রং-এর কাপড় এবং কুসুম রং-এর কাপড় থেকে নিষেধ করেছেন এবং রুকু অবস্থায় কিরাআত থেকে।

1043। ঈসা ইবনু হাম্মাদ যুগবা (রহঃ) ... আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে সোনার আংটি, রেশম মিশ্রিত কাপড়, কুসূম রং-এর কাপড়, রুকু অবস্থায় কিরাআত থেকে নিষেধ করেছেন।

1044। কুতায়বা (রহঃ) ... আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে রেশম মিশ্রিত কাপড়, কুসূম রং-এর কাপড়; সোনার আংটি পরিধান করতে এবং রুকুতে কিরাআত থেকে নিষেধ করেছেন।

1045। কুতায়বা ইবনু সা'য়ীদ (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্দা উম্মোচন করলেন, তখন লোক আবূ বকর (রাঃ) এর পেছনে কাতারে দাঁড়ানো ছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে লোক সকল! নবুয়তের সুসংবাদ আর অবশিষ্ট থাকবে না, নেক সপ্ন ব্যতীত যা মুসলিম দেখবে এবং তাকে দেখানো হবে। এরপর তিনি বললেন, তোমরা শুনে রেখ! আমাকে নিষেধ করা হয়েছে রুকু অবস্থায় কিরাআত থেকে এবং সিজদা অবস্থায়। রুকুতে তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা বর্ণনা কর। আর সিজদায় তোমরা দোয়া করতে চেষ্টা কর। তোমাদের জন্য দোয়া কবুল হওয়ার উপযুক্ত সময় এটাই।

1046। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... হযায়ফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সালাত আদায় করেছি। তিনি রুকু করতে গিয়ে বললেন, 'সুবহানা রাব্বিয়াল আজীম' আর সিজদা করতে গিয়ে বললেন, 'সূবহানা রাব্বিয়াল আলা'।

1047। ইসমাঈল ইবনু মাসউদ (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অধিকাংশ সময় রুকু এবং সিজদায় বলতেনঃ سُبْحَانَكَ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي

1048। মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল আলা (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার রুকুতে বলতেনঃ سُبُّوحٌ قُدُّوسٌ رَبُّ الْمَلاَئِكَةِ وَالرُّوحِ

1049। আমর ইবনু মানসুর (রহঃ) ... ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এক রাতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে সালাতে দাঁড়ালাম, যখন তিনি রুকু করলেন, সূরা বাকারা পড়া পরিমাণ সময়, তিনি রুকুতে থেকে বলছিলেনঃ سُبْحَانَ ذِي الْجَبَرُوتِ وَالْمَلَكُوتِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْعَظَمَةِ

1050। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রুকু করতেন তখন বলতেনঃ اللَّهُمَّ لَكَ رَكَعْتُ وَلَكَ أَسْلَمْتُ وَبِكَ آمَنْتُ خَشَعَ لَكَ سَمْعِي وَبَصَرِي وَعِظَامِي وَمُخِّي وَعَصَبِي

1051। ইয়াহইয়া ইবনু উসমান হিমসী (রহঃ) ... জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত যে, তিনি যখন রুকু করতেন তখন বলতেনঃ اللَّهُمَّ لَكَ رَكَعْتُ وَبِكَ آمَنْتُ وَلَكَ أَسْلَمْتُ وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ أَنْتَ رَبِّي خَشَعَ سَمْعِي وَبَصَرِي وَدَمِي وَلَحْمِي وَعَظْمِي وَعَصَبِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ

1052। ইয়াহয়া ইবনু উসমান (রহঃ) ... মুহাম্মদ ইবনু মাসলামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নফল সালাত আদায় করতে দাঁড়াতেন তখন রুকু করে বলতেনঃ اللَّهُمَّ لَكَ رَكَعْتُ وَبِكَ آمَنْتُ وَلَكَ أَسْلَمْتُ وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ أَنْتَ رَبِّي خَشَعَ سَمْعِي وَبَصَرِي وَلَحْمِي وَدَمِي وَمُخِّي وَعَصَبِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ

1053। কুতায়বা (রহঃ) ... রিফাআ ইবনু রাফি বদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলাম। এমন সময় এক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করল এবং সালাত আদায় করল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখছিলেন। কিন্তু সে তা টের পায়নি। সে সালাত শেষ করে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে তাঁকে সালাম করলে তিনি তার সালামের জওয়াব দিয়ে বললেন, যাও পুনরায় সালাত আদায় কর। কেননা, তুমি সালাত আদায় করনি। তিনি (রাবী) বলেন, আমার স্মরণ নেই, দ্বিতীয়বার কিংবা তৃতীয়বারে সে ব্যক্তি বলল, ঐ সত্তার শপথ! যিনি আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন। আমি তো খুব চেষ্টা করলাম। অতএব, আমাকে শিখিয়ে দিন এবং দেখিয়ে দিন। তিনি বললেন, যখন তুমি সালাত আদায় করতে ইচ্ছা করবে তখন উত্তমরূপে শুরু করবে। তারপর তুমি কিবলার দিকে মুখ করবে। তারপর তাকবীর বলবে, এরপর কুরআন পড়বে, তারপর রুকু করবে ধীরস্থিরভাবে। তারপর মাথা তুলে সোজা দাঁড়িয়ে যাবে। এরপর সিজদা করবে স্থিরভাবে, তারপর মাথা তুলে স্থিরভাবে বসে পড়বে। আবার সিজদা করবে স্থিরভাবে। যখন তুমি এরূপ করলে তখন তুমি তোমার সালাত পুর্ণ করলে। তা থেকে যতটুকু কম করলে, ততটূকু তোমার সালাত থেকে কম করলে।

1054। মুহাম্মদ ইবনু আবদুল আ'লা (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা যখন রুকু করবে এবং সিজদা করবে তখন রুকু এবং সিজদা পূর্ণরূপে আদায় করবে।

1055। হুমায়দ ইবনু নাসর (রহঃ) ... ওয়ায়িল ইবনু হুজর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পেছনে সালাত আদায় করেছি। আমি তাকে দেখেছি তিনি হাত উঠাতেন যখন সালাত আরম্ভ করতেন আর যখন রুকু করতেন এবং যখন সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদা- বলতেন, এরূপে (এ বলে হাদীসের অন্যতম রাবী) কায়স ইঙ্গিত করলেন উভয় কানের দিকে।

1056। ইসমাঈল ইবনু মাসউদ (রহঃ) ... মালিক ইবনু হুয়ায়রিছ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তার উভয় হাত উঠাতে দেখেছেন। যখন তিনি রুকু করলেন আর যখন তিনি রুকু থেকে মাথা উঠালেন এসময় হাতদ্বয় কানের লতি পর্যন্ত পৌছত।

1058। মাহমুদ ইবনু গায়লান মারওয়াযী (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি কি তোমাদের নিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাতের ন্যায় সালাত আদায় করব না? এরপর তিনি সালাত আদায় করলেন- তখন তিনি একবারের অধিক হাত উঠান নি।

1059। সুয়ায়দ ইবনু নাসর (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাত আরম্ভ করতেন, তখন তার হাতদ্বয় কাঁধ পর্যন্ত উঠাতেন। আর যখন রুকুর জন্য তাকবীর বলতেন এবং রুকু থেকে তাঁর মাথা উঠাতেন, তখন হাতদ্বয় এরূপপ উঠাতেন এবং বলতেন, “সামিয়াহল্লাহু লিমান হামিদা, রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ। আর তিনি সিজদায় এরুপ করতেন না।

1060। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রুকু থেকে মাথা উঠাতেন, তখন বলতেনঃ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ

1061। হান্নাদ ইবনু সারি (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোড়া থেকে ডান কাতে পড়ে গেলেন। তখন লোক তাকে দেখার জন্য আসলেন। এমতাবস্থায় সালাতের সময় উপস্থিত হলো। তিনি সালাত শেষ করে বললেন, ইমাম তো হয় এজন্য তার ইকতিদা করা হবে। যখন সে রুকু করবে তখন তোমরাও রুকু করবে। আর যখন সে উঠবে তখন তোমরাও উঠবে। আর যখন ইমাম 'সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ' বলবে তখন তোমরা 'রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ' বলবে।

1062। মুহাম্মাদ ইবনু সালামা (রহঃ) ... রিফাআ ইবনু রাফি (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পেছনে সালাত আদায় করছিলাম। তিনি যখন রুকু থেকে মাথা উঠালেন, তখন বললেন, 'সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ'। তাঁর পেছনে একব্যক্তি বলে উঠল رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত শেষ করে বললেন, এখন কে কথা বলল? সে ব্যক্তি বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি ত্রিশের বেশি ফেরেশতাকে দেখেছি তা নিয়ে তাড়াহুড়া করছে, কে তা সর্বাগ্রে লিখবে।

1063। কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন ইমাম 'সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ' বলেন, তখন তোমরা 'রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ' বলবে। কেননা, যার কথা ফেরেশতার কথার মত হবে তার পূর্বকৃত পাপ মার্জনা করা হবে।

1064। ইসমাঈল ইবন মাসউদ (রহঃ) ... আবূ মুসা আশ’আরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সামনে ওয়াজ করলেন এবং আমাদেরকে আমাদের কর্মপদ্ধতি শিক্ষা দিলেন, সালাত শিক্ষা দিলেন। তিনি বললেন, যখন তোমরা সালাত আদায় করবে, তোমরা তোমাদের কাতার সোজা করবে। তারপর তোমাদের একজন ইমামতি করবে। যখন ইমাম তাকবীর বলবে তখন তোমরাও তাকবীর বলবে। আর যখন غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلاَ الضَّالِّينَ বলবে তখন তোমরা আমীন বলবে। তাহলে আল্লাহ তা'আলা তা কবুল করবেন। আর যখন ইমাম তাকবীর বলে রুকু করবে তখন তোমরাও তাকবীর বলে রুকু করবে। ইমাম রুকু করবে তোমাদের পূর্বে আর রুকু থেকে উঠবে তোমাদের পূর্বে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এটা তার পরিপুরক হবে। আর যখন ইমাম বলবে, সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ তখন তোমরা বলবে রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ। আল্লাহ তা’আলা তোমাদের কথা শুনবেন। কেননা, আল্লাহ! তা'আলা তার নবীর ভাষায় বলেন, যে আল্লাহ তা’আলার প্রশংসা করে আল্লাহ তা শ্রবণ করেন। অতঃপর ইমাম যখন তাকবীর বলে সিজদায় যাবে তোমরা তখন তাকবীর বলে সিজদায় যাবে। কেননা ইমাম তোমাদের পূর্বে সিজদা করে আর তোমাদের পূর্বে মাথা উঠায়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এটা তার পরিপূরক। আর যখন বৈঠকের নিকটবর্তী হবে তখন তোমাদের প্রথম কথা হবে- التَّحِيَّاتُ الطَّيِّبَاتُ الصَّلَوَاتُ لِلَّهِ سَلاَمٌ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ سَلاَمٌ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ এ সাতটি বাক্য হচ্ছে সালাতের পরিপূরক।

1065। ইয়াকুব ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... বারা ইবনু আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রুকু, রুকু থেকে মাথা উঠানো এবং সিজদা ও সিজদার মাঝে বসার সময় প্রায় এক সমান হত।

1066। আবূ দাঊদ সুলায়মান ইবনু সায়ফ হাররানী (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন 'সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ' বলতেন, তখন তিনি বলতেনঃ اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ مِلْءَ السَّمَوَاتِ وَمِلْءَ الأَرْضِ وَمِلْءَ مَا شِئْتَ مِنْ شَىْءٍ بَعْدُ

1067। মুহাম্মদ ইবনু ইসমাঈল ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকুর পর যখন সিজদা করতে ইচ্ছা করতেন তখন বলতেনঃ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ مِلْءَ السَّمَوَاتِ وَمِلْءَ الأَرْضِ وَمِلْءَ مَا شِئْتَ مِنْ شَىْءٍ بَعْدُ

1068। আমর ইবনু হিশাম আবূ উমায়্যা হাররানী (রহঃ) ... আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সামিয়াল্লাহু লিমাল হামিদাহ- বলতেন, তখন বলতেন- رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ مِلْءَ السَّمَوَاتِ وَمِلْءَ الأَرْضِ وَمِلْءَ مَا شِئْتَ مِنْ شَىْءٍ بَعْدُ أَهْلَ الثَّنَاءِ وَالْمَجْدِ خَيْرُ مَا قَالَ الْعَبْدُ وَكُلُّنَا لَكَ عَبْدٌ لاَ مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ وَلاَ يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ ‏

1069। হুমায়দ ইবনু মাসআদা (রহঃ) ... হুযায়ফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, একরাত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে সালাত আদায় করেন। তিনি যখন তাকবীর বললেন, তখন তাকে বলতে শুনলেন اللَّهُ أَكْبَرُ ذَا الْجَبَرُوتِ وَالْمَلَكُوتِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْعَظَمَةِ আর তিনি রুকুতে বলতেনسُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ আর যখন রুকু থেকে মাথা উঠাতেন তখন বলতেন لِرَبِّي الْحَمْدُ لِرَبِّي الْحَمْدُ আর তিনি সিজদায় গিয়ে বলতেন, سُبْحَانَ رَبِّيَ الأَعْلَى আর দু'সিজদার মধ্যে বলতেন رَبِّ اغْفِرْ لِي رَبِّ اغْفِرْ لِي আর তাঁর কিয়াম আর রুকু, রুকু থেকে যখন মাথা উঠাতেন সে সময়, আর রুকু আর সিজদার মধ্যবর্তী সময় প্রায় সমান সমান হতো।

1070। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একমাস পর্যন্ত রুকু করার পর কুকুত পাঠ করেছেন, যাতে তিনি বদদোয়া করেছেন রিল, যাকওয়ান এবং উসাইয়্যা গোত্রের প্রতি যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের নাফরমানী করেছেন।

1071। কুতায়বা (রহঃ) ... ইবনু সীরীন (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, আনাস ইবনু মালিককে প্রশ্ন করা হলো, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি ফজরের সালাতে কুনূত পাঠ করতেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তাঁকে বলা হলো, তা কি রুকুর পূর্বে না পরে? তিনি বললেন, রুকুর পর।

1072। ইসমাঈল ইবনু মাসউদ (রহঃ) ... ইবনু সীরীন (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, যারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ফজরের সালাত আদায় করেছেন তাদের কেউ আমার কাছে রেওয়ায়েত করেছেন যে, যখন তিনি দ্বিতীয় রাকাআতেسَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বললেন, তখন কিছুক্ষণ দাঁড়ালেন।

1073। মুহাম্মাদ ইবনু মানসূর (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাতের দ্বিতীয় রাকআতে মাথা উঠালেন। তখন বললেন, ইয়া আল্লাহ! ওলীদ ইবনু ওলীদ এবং সালামা ইবনু হিশাম, আইয়াশ ইবনু আবূ রাবীআ এবং মক্কার দুর্বল মুসলিমদেরকে নাজাত দাও। আর তুমি মুদার গোত্রের উপর তোমার কঠিন আযাব অবতীর্ণ কর। তাদের বছরগুলোকে ইউসুফ (আলাইহিস সালাম) এর বছরগুলোর ন্যায় করে দাও।

1074। আমর ইবনু উসমান (রহঃ) ... সাঈদ ইবনু মুসাইয়্যাব এবং আবূ সালমা ইবনু আবদুর রহমান (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আবূ হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করতেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে যখন سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলতেন তখন দোয়া করতেন। তারপর সিজদার পূর্বে তিনি দাঁড়িয়ে বলতেন, ইয়া আল্লাহ! ওলীদ ইবনু ওলীদ, সালামা ইবনু হিশাম, আইয়াশ ইবনু আবূ রাবীআ এবং অসহায় মুমিনদের নাজাত দাও। ইয়া আল্লাহ! মুদার গোত্রের উপর তোমার শাস্তি কঠিন কর। আর তাদের বছরগুলোকে তাদের জন্য ইউনুস (আলাইহিস সালাম) এর বছরগুলোর ন্যায় করে দাও। তারপর তিনি 'আল্লাহু আকবার' বলে সিজদা করতেন। আর মুদার গোত্রের উপজাতীয়রা তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিরোধী ছিল।

1075। সুলায়মান ইবনু সালম বালখী (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি তোমাদের জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাতকে নিকটবর্তী করে দিব। রাবী বলেন, আবূ হুরায়রা (রাঃ) কুনূত পাঠ করতেন জোহর, ইশা এবং ফজরের সালাতের শেষ রাকাআতে سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলার পর। তিনি মু'মিনদের জন্য দোয়া করতেন এবং কাফিরদের অভিসম্পাত করতেন।

1076। উবায়দুল্লাহ ইবনু সাঈদ ও আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... বারা ইবনু আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুনূত পাঠ করতেন ফজর এবং মাগরিবের সালাতে।

1077। মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একমাস পর্যন্ত কুনুত পাঠ করেন। এতে তিনি কয়েকজন লোক কিংবা আরবের কতিপয় গোত্রকে অভিসম্পাত করেন। আর তিনি এ কুনূত রুকুর পর পাঠ করেন। এরপর তা ত্যাগ করেন। অন্য এক বর্ণনায় আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মাস যাবত কুনুত পাঠ করেন যাতে তিনি রিল, যাকওয়ান ও লিহয়ান গোত্রের উপর অভিসষ্পাত করেন।

1078। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ফজরের সালাতে শেষ রাকাআতের রুকু থেকে মাথা উঠালেন তখন তিনি তাঁকে ইয়া আল্লাহ! অমুক অমুক ব্যক্তির উপর অভিসম্পাত কর বলে কতিপয় মুনাফিকের উপর বদদোয়া করতে শুনেছেন। এ সময়, আল্লাহ তায়ালা নাযিল করেনঃلَيْسَ لَكَ مِنَ الأَمْرِ شَىْءٌ أَوْ يَتُوبَ عَلَيْهِمْ أَوْ يُعَذِّبَهُمْ فَإِنَّهُمْ ظَالِمُونَ তিনি তাদের তাদের উপর আযাব দিবেন অথবা তাদের ক্ষমা করে দিবেন তাতে তোমার করনীয় কিছুই নেই; কারণ তারা জালিম। (আলে ইমরানঃ)

1079। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুনুত পড়েছেন একমাস, যাতে তিনি আরবের গোত্রসমূহ থেকে কোন গোত্রের উপর বদদোয়া করছিলেন। এরপর তা পরিত্যাগ করেন।

1080। কুতায়বা (রহঃ) ... মালিক ইবনু আশজায়ী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পেছনে সালাত আদায় করেছি। তিনি কুনূত পড়েন নি। আর আবূ বকর (রাঃ) এর পেছনে সালাত আদায় করেছি, তিনিও কুনূত পড়েন নি। আর উমর (রাঃ) এর পেছনে সালাত আদায় করেছি। তিনিও কুনূত পড়েন নি। উসমান (রাঃ) এর পেছনে সালাত আদায় করেছি, তিনিও কুনুত পড়েন নি। আর আলী (রাঃ) এর পেছনে সালাত আদায় করেছি, তিনিও কুনুত পড়েন নি। তারপর বললেন, হে বৎস! এটা বিদ'আত (নতূন আবিস্কৃত)।

1081। কুতায়বা (রহঃ) ... জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে যোহরের সালাত আদায় করলাম। আমি এক মুষ্ঠি পাথর টুকরা তা ঠাণ্ডা করার জন্য হাতে নিলাম। তারপর আমি তা আমার অন্য হাতে নাড়াচাড়া করতে লাগলাম। যখন আমি সিজদা করলাম তখন তা আমার কপাল রাখার স্থানে রেখে দিলাম।

1082। ইয়াহয়া ইবনু হাবীব ইবনু আরাবী (রহঃ) ... মুতাররিফ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এবং ইমরান ইবনু হুসাইন, আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ)-এর পেছনে সালাত আদায় করলাম। তিনি যখন সিজদা করলেন, তখন তাকবীর বললেন। আর যখন তিনি সিজদা থেকে মাথা তুললেন, তখন তাকবীর বললেন। যখন দু'রাকআতের পর দাঁড়ালেন তখনও তাকবীর বললেন। সালাত শেষ হওয়ার পর ইমরান আমার হাত ধরে বললেন, ইনি [আলী (রাঃ)] আমাকে স্মরণ করিয়ে দিলেন, তিনি এমন একটি বাক্য বললেন, যার অর্থ হলো- মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাত।

1083। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক নীচু হওয়ার সময় এবং উঠার সময় তাকবীর বলতেন। এবং তাঁর ডানে ও বামে সালাম করতেন। আর আবূ বকর এবং উমর (রাঃ) তা করতেন।

1084। ইসমাঈল ইবনু মাসউদ (রহঃ) ... হাকীম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বায়আত গ্রহণ করেছি এ কথার উপর যে, আমি সোজা হয়ে দাঁড়ানো অবস্থা ব্যতীত সিজদার জন্য নীচু হব না।

1085। মুহাম্মদ ইবনু মুসান্না (রহঃ) ... মালিক ইবনু হুয়াইরিছ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সালাতে উভয় হাত উঠাতে দেখেছেন। যখন তিনি রুকু করতেন, যখন রুকু থেকে তার মাথা তুলতেন আর যখন সিজদা করতেন এবং সিজদা থেকে মাথা উঠাতেন। তাঁর হাতদ্বয় তাঁর উভয় কানের লতি বরাবর হতো।

1086। মুহাম্মদ ইবনু মুছান্না (রহঃ) ... মালিক ইবনু হুয়াইরিছ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সালাতে উভয় হাত উঠাতে দেখেছেন। তারপর তিনি পূর্ববৎ উল্লেখ করলেন।

1087। মুহাম্মদ ইবনু মুছান্না (রহঃ) ... মালিক ইবনু হুয়াইরিছ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাত আরম্ভ করতেন, এরপর তিনি অনুরূপ বর্ণনা করলেন, তাতে অতিরিক্ত বাড়িয়েছেন- আর যখন তিনি রুকু করলেন, এরূপ করলেন। আর যখন তিনি থেকে তার মাথা উঠালেন, এরূপ করলেন, আর যখন তিনি সিজদা থেকে স্বীয় মাথা তূললেন, অনুরূপ করলেন।

1088। মুহাম্মদ ইবনু উবায়দ কুফী মুহারিবী (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাত আরম্ভ করতেন তখন-তার হস্থদ্বয উঠাতেন। আর যখন রুকু করতেন এবং রুকু থেকে মাথা উঠাতেন। আর সিজদায় এরূপ করতেন না।

1089। হুসায়ন ইবনু ঈসা কাওমাসী বিসতামী (রহঃ) ... ওয়ায়িল ইবনু হুজর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখেছি, যখন তিনি সিজদা করতেন তখন তার হাতদ্বয়ের পুর্বে তাঁর উভয় হাটু (জমিনে) স্থাপন করতেন। আর যখন উঠতেন তখন হাটূর পুর্বে হাত উঠাতেন।

1090। কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ সালাতে বসতে চায় এরপর সে এমনভাবে বসে, যেভাবে উট বসে?

1091। হারুন ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু বাক্কার ইবনু বিলাল (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ যখন সিজদা করে তখন সে যেন হাটু স্থাপনের পুর্বে তার উভয় হাত স্থাপন করে আর সে যেন উটের বসার মত না বসে।

1092। যিয়াদ ইবনু আইয়্যুব দাললুইয়া (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, উভয় হাতও সিজদা করে যেরূপ মুখমন্ডল সিজদা করে। অতএব, যখন তোমাদের কেউ তার মুখমন্ডল স্থাপন করে তখন সে যেন তার উভয় হাতও স্থাপন করে। আর যখন তা উঠাবে তখন উভয় হাতকেও উঠাবে।

1093। কুতায়বা (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদিষ্ট হয়েছেন সাত অঙ্গের উপর সিজদা করতে। আর তাঁর কাপড় ও চুল একত্র না করতে।

1094। কুতায়বা (রহঃ) ... আব্বাস ইবনু আবদুল মুত্তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেন, যখন কোন বান্দা সিজদা করে তখন তার সপ্ত অঙ্গ সিজদা করে। তার মুখমন্ডল, উভয় হাতের তালু, উভয় হাত এবং তার উভয় পা।

1095। মুহাম্মদ ইবনু সালামা ও হারিস ইবনু মিসকীন (রহঃ) ... আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার দু' চোখ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ললাটে এবং নাকের উপর পানি এবং কাদা মাটির চিহ্ন একুশ তারিখের ভোর থেকে দেখেছে।

1096। আহমদ ইবনু আমর ইবনু সারহ, ইবনু আবদুল আলা ও হারিস ইবনু মিসকীন (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি আদিষ্ট হয়েছি সাত অঙ্গের উপর সিজদা করতে। আর যেন আমি চুল ও কাপড় একত্র করে না রাখি (সে সাত অঙ্গ হচ্ছে ) ললাট, নাক, উভয় হাত, উভয় হাঁটু এবং উভয় পা।

1097। আমর ইবনু মানসূর নাসাঈ (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) সুত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সাত অঙ্গের উপর সিজদা করতে আদিষ্ট হয়েছি। ললাটের উপর, নাকের উপর এবং দু’হাঁটু, দু’হাত এবং দু’পায়ের প্রান্তের ওপরে, আর দু’হাত দ্বারা ইঙ্গিত করলেন।

1098। মুহাম্মাদ মানসূর মক্কী ও আব্দুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ ইবন আবদুর রহমান যুহরী (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাত অঙ্গের উপর সিজদা করতে আদিষ্ট হয়েছেন এবং চুল ও কাপড় একত্র করে রাখতে নিষেধ করা হয়েছে। ঐ সাত অঙ্গ হলো- হাতদ্বয়, উভয় হাটূ এবং পায়ের আঙ্গুলের কিনারা। সুফিয়ান বলেন, ইবন তাঊস তাঁর হাতদ্বয় তাঁর ললাটের উপর রাখলেন এবং তা তার নাকের উপর ঘুরালেন এবং আমাদের বললেন, এ হলো একটা। ইমাম নাসাঈ (রহঃ) বলেনঃ আমি এ হাদীস দু’ব্যক্তি থেকে শুনেছি- মুহাম্মাদ ইবনু মনসূর ও আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ। তবে এ হাদীসের শব্দমালা মুহাম্মদ ইবনু মানসুরের।

1099। মুহাম্মদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু আবদুল হাকাম (রহঃ) ... আব্বাস ইবনু আবদুল মুত্তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেন, যখন কোন বান্দা সিজদা করে তখন তাঁর সাথে তাঁর সাত অঙ্গ সিজদা করেঃ তাঁর চেহারা, তাঁর দু’হাতের তালু, দু’হাটু এবং দু’পা।

1100। ইসহাক ইবরাহীম (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক রাতে আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে না পেয়ে তার নিকট পৌছে দেখি তিনি সিজদায় আছেন আর তাঁর পায়ের পাতাদ্বয় খাড়াবস্থায়। আর তিনি বলছেন- اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِرِضَاكَ مِنْ سَخَطِكَ وَبِمُعَافَاتِكَ مِنْ عُقُوبَتِكَ وَبِكَ مِنْكَ لاَ أُحْصِي ثَنَاءً عَلَيْكَ أَنْتَ كَمَا أَثْنَيْتَ عَلَى نَفْسِكَ

1101। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... আবূ হুমায়দ সা'য়িদী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সিজদার জন্য যমীনের দিকে যেতেন, তখন তিনি তাঁর উভয় বাহু উভয় বগল থেকে পৃথক রাখতেন এবং তাঁর উভয় পায়ের আঙ্গুল খাড়া রাখতেন। (সংক্ষিপ্ত)

1102। আহমদ ইবনু নাসিহ (রহঃ) ... ওয়ায়িল ইবনু হুজর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মদীনায় আগমন করে বললাম, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত প্রত্যক্ষ করবো। তিনি তাকবীর বললেন এবং তাঁর হাতদ্বয় তুললেন যাতে দেখলাম তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলীদ্বয় তার কানের নিকটে। যখন রুকু করতে ইচ্ছা করলেন তখন তাকবীর বললেন এবং তার হাতদ্বয় তুললেন। অতঃপর তার মাথা উঠালেন এবং বললেন, সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ। তারপর তাকবীর বললেন এবং সিজদা করলেন। তখন তাঁর হাতদ্বয় কানের ঐ স্থানে ছিলো, যেখানে সালাত আরম্ভ করার সময়।

1103। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) সুত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন সিজদায় তার বাহুদ্বয় বিছিয়ে না দেয়, যেমন কুকুর বিছিয়ে দিয়ে থাকে। হাসান।

1104। আলী ইবনু হুজর মারওয়াযী (রহঃ) ... আবূ ইসহাক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বারা (রাঃ) আমাদেরকে সিজদার নিয়ম বর্ণনা করতে গিয়ে তাঁর হাতদ্বয় মাটিতে স্থাপন করলেন এবং নিতম্ব উঠিয়ে রাখলেন এবং বললেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এরূপ করতে দেখেছি।

1105। আবদা ইবনু আবদুর রহীম মারওয়াযী (রহঃ) ... বারা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাত আদায় করতেন তখন প্রত্যেক অঙ্গ পৃথক পৃথক রাখতেন।

1106। কুতায়বা (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু মালিক ইবনু বুহায়না (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাত আদায় করতেন তখন তাঁর হাতদ্বয় এমন ভাবে পৃথক রাখতেন যে, তাঁর বগলের শুভ্রতা প্রকাশ পেত।

1107। মুহাম্মাদ ইবনু আবাদুল্লাহ বাযী (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যদি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে থাকতাম (যখন তিনি সিজদায় থাকতেন) তাহলে তাঁর বগল দেখতে পেতাম। (এই পরিমাণ তিনি বাহুদ্বয়কে খোলা রাখতেন)। আবু মিজলায বলেন, (আবু হুরায়রাহ) এ কথা বলার কারণ হলো, তিনি নামাযে ছিলেন (তাই দেখতে পাননি)।

1108। আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু আকরাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে সালাত আদায় করেছি। তিনি যখন সিজদা করতেন আমি তাঁর বগলের শুভ্রতা দেখতে পেতাম।

1109। কুতায়বা (রহঃ) ... মায়মূনা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সিজদা করতেন তখন তাঁর হাতদ্বয় পৃথক রাখতেন। এমনকি যদি একটি বকরীর বাচ্চা তাঁর হাতদ্বয়ের নীচ দিয়ে যেতে চাইতো, যেতে পারত।

1110। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও ইসমাঈল ইবনু মাসউদ (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা সিজদায় মধ্যপন্থা অবলম্বন কর। তোমাদের কেউ যেন, তার বাহুদ্বয় কুকুরের ন্যায় বিছিয়ে না রাখে।

1111। আলী ইবনু খাশরাম মারওয়াযী (রহঃ) ... আবূ মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঐ সালাত পূর্ণ হয়না, যে সালাতে কোন ব্যাক্তি রুকু ও সিজদায় পিঠ সোজা রাখে না।

1112। মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুলাহ ইবনু আব্দুল হাকাম (রহঃ) ... আবদুর রহমান ইবনু শিবল (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনটি কাজ থেকে নিষেধ করেছেন। কাকের ন্যায় ঠোকর মারা থেকে, চতুষ্পদ জন্তুর ন্যায় হাত বিছিয়ে দেয়া থেকে এবং কোন ব্যক্তির একস্থানকে সালাতের জন্য নির্দিষ্ট করা থেকে। যেরূপ উট কোন স্থান নির্দিষ্ট করে নেয়।

1113। হুমায়দ ইবনু মাসআদা বসরী (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি সাত অঙ্গে সিজদা করতে এবং সালাতে অথবা কাপড় একত্র (না গুছাতে) করে না রাখার জন্য আদিষ্ট হয়েছি।

1114। আমর ইবনু সাওয়াদ ইবনু আসওয়াদ ইবনু আমর সারহী (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু হারিসকে সালাত আদায় করতে দেখেছেন। তখন তাঁর মাথা পেছন দিক থেকে বেনী করা ছিল। তিনি দাঁড়িয়ে তা খুলতে লাগলেন। সালাত শেষ করে তিনি ইবনু আব্বাসের দিকে ফিরে বললেন, আমার মাথার সাথে তোমার কি সম্পর্ক? তিনি বললেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, এর উদাহরণ ঐ ব্যক্তির ন্যায়, যে সালাত আদায় করে আর তার উভয় হাত বাঁধা থাকে।

1115। মুহাম্মাদ মানসুর মক্কী (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদিষ্ট হয়েছেন সাত অঙ্গের উপর সিজদা করতে। আর তাকে নিষেধ করা হয়েছে চুল ও কাপড় (অর্থাৎ চুল এবং কাপড় না গুছাতে) একত্র করে রাখতে।

1116। সুয়ায়দ ইবনু নাসর (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা যখন দুপূরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পেছনে সালাত আদায় করতাম তখন আমরা উত্তাপ থেকে রক্ষা পাবার জন্য আমাদের কাপড়ের উপর সিজদা করতাম।

1117। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) সুত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ তোমরা রুকু এবং সিজদা পূর্ণভাবে আদায় কর। আল্লাহর শপথ! আমি তোমাদেরকে আমার পেছন থেকে তোমাদের রুকুতে এবং তোমাদের সিজদায় দেখে থাকি।

1118। আবূ দাঊদ সুলায়মান ইবনু সায়ফ (রহঃ) ... আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার বন্ধুটি আমাকে তিনটি কাজ থেকে নিষেধ করেছেন। আমি বলি না যে, লোকদের নিষেধ করেছেন। তিনি আমাকে নিষেধ করেছেন সোনার আংটি পরিধান করতে, রেশম মিশ্রিত কাপড়, কুসুম রংয়ের কাপড় এবং গাঢ় লাল রংয়ের কাপড় পরিধান করতে। আর আমি যেন রুকু এবং সিজদা অবস্থায় কুরআন পাঠ না করি।

1119। আহমদ ইবনু আমর ইবনু সারহ ও হারিস ইবনু মিসকীন (রহঃ) ... আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে নিষেধ করেছেন, রুকু এবং সিজদা অবস্থায় কুরআন পাঠ করতে।

1120। আলী ইবনু হুজর মারওয়াযী (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে অসুখে ইন্তেকাল করেন, সে অসুস্থ অবস্থায় তিনি পর্দা খুললেন। তার মাথায় পট্টি বাধা ছিল। তিনি বললেন, হে আল্লাহ! আমি পৌছিয়েছি, একথা তিনবার বললেন। বস্তুত যথার্থ স্বপ্ন ব্যতীত নবুওতের সুসংবাদ ছাড়া আর কিছুই বাকি রইল না। বান্দা তা দেখে অথবা তাকে তা দেখানো হয়। তোমরা শুনে রেখ, আমাকে রুকু এবং সিজদায় কিরাআত থেকে নিষেধ করা হয়েছে। অতএব, যখন তোমরা রুকু করবে তখন তোমাদের রবের তাযীম করবে। আর যখন তোমরা সিজদা করবে তখন তোমরা বেশি বেশি দোয়া করার চেষ্টা করবে। কেননা, এটা তোমাদের দোয়া কবুলের উপযুক্ত সময়।

1121। হান্নাদ ইবনু সরারি (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার খালা মায়মুনা বিনত হারিছের নিকট রাত যাপন করলাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও তাঁর নিকট রাত যাপন করলেন। আমি তাঁকে দেখলাম- তিনি তাঁর প্রয়োজনে উঠে দাঁড়ালেন। তিনি পানির পাত্রের নিকট এসে তার ঢাকনা খুললেন। তারপর, তিনি ওযু করলেন এক ধরনের (অর্থাৎ হাত ধুইলেন) পরে তিনি তাঁর বিছানায় আগমন করে নিদ্রা গেলেন। তারপর তিনি পুনরায় ঘুম থেকে জাগলেন এবং পানির পাত্রের নিকট এসে তার ঢাকনা খূলে পূর্ণ ওযু করলেন (সালাতের ওযুর ন্যায়)। তারপর দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করলেন এবং তিনি সিজদায় বলছিলেনঃ اللَّهُمَّ اجْعَلْ فِي قَلْبِي نُورًا وَاجْعَلْ فِي سَمْعِي نُورًا وَاجْعَلْ فِي بَصَرِي نُورًا وَاجْعَلْ مِنْ تَحْتِي نُورًا وَاجْعَلْ مِنْ فَوْقِي نُورًا وَعَنْ يَمِينِي نُورًا وَعَنْ يَسَارِي نُورًا وَاجْعَلْ أَمَامِي نُورًا وَاجْعَلْ خَلْفِي نُورًا وَأَعْظِمْ لِي نُورًا এরপর তিনি নিদ্রা গেলেন, এমনকি তিনি নাকের শব্দ করলেন (তাঁর নাক ডাকার শব্দ শোনা যাচ্ছিল)। তারপর বিলাল (রাঃ) এসে তাকে সালাতের জন্য জাগালেন।

1122। সুয়ায়দ ইবনু নাসর (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকু ও সিজদায় বলতেন,سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي এর দ্বারা তিনি কুরআনের মর্ম বর্ণনা করতেন।

1123। মাহমূদ ইবনু গায়লান (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকু এবং সিজদায় বলতেনঃسُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي এর মাধ্যমে তিনি কুরআনের মর্ম বর্ণনা করতেন।

1124। মুহাম্মাদ ইবনু কুদামা (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। (একরাতে) আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর বিছানায় না পেয়ে তাঁকে হাতড়িয়ে তালাশ করতে লাগলাম। আমি মনে করেছিলাম তিনি তার অন্য কোন স্ত্রীর নিকট গিয়ে থাকবেন। এমতাবস্থায় আমার হাত তাঁর উপর পতিত হলো, তখন তিনি সিজদায় থেকে বলছিলেনঃ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي مَا أَسْرَرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ

1125। মুহাস্মদ ইবনু মুছান্না (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে না পেয়ে মনে করলাম তিনি হয়তো তাঁর কোন স্ত্রীর নিকট গিয়ে থাকবেন। তাঁকে খুঁজে দেখলাম, তিনি সিজদারত অবস্থায় বলছেনঃ رَبِّ اغْفِرْ لِي مَا أَسْرَرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ

1126। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সিজদা করতেন, তখন বলতেনঃ اللَّهُمَّ لَكَ سَجَدْتُ وَلَكَ أَسْلَمْتُ وَبِكَ آمَنْتُ سَجَدَ وَجْهِي لِلَّذِي خَلَقَهُ وَصَوَّرَهُ فَأَحْسَنَ صُورَتَهُ وَشَقَّ سَمْعَهُ وَبَصَرَهُ تَبَارَكَ اللَّهُ أَحْسَنُ الْخَالِقِينَ

1127। ইয়াহইয়া ইবনু উসমান (রহঃ) ... জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) সুত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি সিজদায় বলতেনঃ اللَّهُمَّ لَكَ سَجَدْتُ وَبِكَ آمَنْتُ وَلَكَ أَسْلَمْتُ وَأَنْتَ رَبِّي سَجَدَ وَجْهِي لِلَّذِي خَلَقَهُ وَصَوَّرَهُ وَشَقَّ سَمْعَهُ وَبَصَرَهُ تَبَارَكَ اللَّهُ أَحْسَنُ الْخَالِقِينَ

1128। ইয়াহইয়া ইবনু উসমান (রহঃ) ... মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাত্রে যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নফল সালাতে দাঁড়াতেন তখন সিজদায় বলতেনঃ اللَّهُمَّ لَكَ سَجَدْتُ وَبِكَ آمَنْتُ وَلَكَ أَسْلَمْتُ اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي سَجَدَ وَجْهِي لِلَّذِي خَلَقَهُ وَصَوَّرَهُ وَشَقَّ سَمْعَهُ وَبَصَرَهُ تَبَارَكَ اللَّهُ أَحْسَنُ الْخَالِقِينَ

1129। সাওওয়ার ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু সাওওয়ার কাযী, মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে কুরআনের তিলাওয়াতের সিজদায় বলতেনঃ سَجَدَ وَجْهِي لِلَّذِي خَلَقَهُ وَشَقَّ سَمْعَهُ وَبَصَرَهُ بِحَوْلِهِ وَقُوَّتِهِ

1130। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক রাতে আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে না পেয়ে পরে তাঁকে সিজদারত অবস্থায় পেলাম; তাঁর পদদ্বয়ের আঙ্গুল সমূহ ছিল কিবলার দিকে। তাকে বলতে শুনলামঃ أَعُوذُ بِرِضَاكَ مِنْ سَخَطِكَ وَأَعُوذُ بِمُعَافَاتِكَ مِنْ عُقُوبَتِكَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْكَ لاَ أُحْصِي ثَنَاءً عَلَيْكَ أَنْتَ كَمَا أَثْنَيْتَ عَلَى نَفْسِكَ

1131। ইবরাহীম ইবনু হাসান মাসসিসী মিকসামী (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এক রাতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে না পেয়ে মনে করলাম তিনি তাঁর অন্য কোন বিবির নিকট গিয়ে থাকবেন। হাতড়িয়ে দেখলাম তিনি রুকু অথবা সিজদা অবস্থায় বলছেনঃ سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ তখন আমি বললাম, আমার মাতা-পিতা আপনার উপর উৎসর্গ হোক। আমি এক অবস্থায় ছিলাম আর আপনি আছেন অন্য অবস্থায়।

1132। হারুন ইবনু আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... আউফ ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে উঠলাম। তিনি মিসওয়াক করতে আরম্ভ করলেন। তারপর ওযু করে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করলেন। তিনি শুরুতেই সূরা বাকারা আরম্ভ করলেন। তিনি কোন রহমতের আয়াতে পৌছলে তাতে দোয়া না করে ছাড়তেন না। আর কোন আযাবের আয়াতে পৌছলে সেখানে থেমে আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ করতেন। তারপর তিনি রুকু করলেন, রুকুতে তিনি কিয়ামের সম পরিমাণ সময় অবস্থান করলেন। তিনি রুকুতে বলছিলেনঃ سُبْحَانَ ذِي الْجَبَرُوتِ وَالْمَلَكُوتِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْعَظَمَةِ তারপর তিনি এক রাকআতের সমপরিমাণ সময়-সিজদা করলেন। আর সিজদায় বলছিলেনঃ سُبْحَانَ ذِي الْجَبَرُوتِ وَالْمَلَكُوتِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْعَظَمَةِ তারপর তিনি আলে-ইমরান পাঠ করলেন। তারপর এক সূরা তারপর আর এক সূরা এরূপ করলেন।

1133। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... হুযায়ফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এক রাতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে সালাত আদায় করলাম। তিনি সূরা বাকারা আরম্ভ করলেন এবং একশত আয়াত পড়লেন। তিনি রুকু না করে সামনে চললেন। আমি ভাবলাম তা তিনি দু’রাকআতে শেষ করবেন ও তারপর তিনি রুকু করবেন। তিনি চলতে থাকলেন, এমন কি সূরা নিসা শেষ করলেন। অতঃপর সূরা আলে ইমরান। তারপর তিনি রুকু করলেন তার কিয়ামের কাছাকাছি সময় নিয়ে। তিনি রুকুতে বলছিলেনঃسُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ পরে তিনি তার মাথা ওঠালেন এবং বললেনঃ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ এরপর কিছু সময় দাঁড়িয়ে থাকলেন। তারপর সিজদা করলেন এবং সিজদা লম্বা করলেন। আর সিজদায় বলছিলেনঃ سُبْحَانَ رَبِّيَ الأَعْلَى سُبْحَانَ رَبِّيَ الأَعْلَى سُبْحَانَ رَبِّيَ الأَعْلَى তিনি আল্লাহর ভয় অথবা তাযীমের-আয়াতে পৌছলেই তাঁকে স্মরণ করতেন।

1134। বুনদার মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকু ও সিজদায় বলতেনঃ سُبُّوحٌ قُدُّوسٌ رَبُّ الْمَلاَئِكَةِ وَالرُّوحِ

1135। মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাতের সাথে অধিক সামঞ্জস্যশীল সালাত আদায় করতে এ যুবকের অর্থাৎ উমর ইবনু আবদুল আযীযের মত আর কাউকে দেখিনি। আমরা তাঁর রুকুতে দশ তাসবীহ অনুমান করেছি। আর তার সিজদায়ও দশ তাসবীহ।

1136। মুহাম্মদ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু ইয়াযীদ মুকরী (রহঃ) ... রিফাআ ইবনু রাফি (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সময় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপবিষ্ট ছিলেন আর আমরা তাঁর আশেপাশে বসা ছিলাম। এমন সময় এক ব্যক্তি প্রবেশ করে কিবলার দিকে এসে সালাত আদায় করল। সে সালাত শেষ করে এসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সালাম করল এবং দলের অন্যদেরকেও। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সালামের উত্তর দিয়ে বললেন, যাও, সালাত আদায় কর। কেননা, তুমি সালাত আদায় করনি। সে ব্যক্তি গিয়ে আবার সালাত আদায় করল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সালাতের প্রতি লক্ষ্য রাখছিলেন। সে ব্যক্তি বুঝতে পারল না, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এতে কী ভুল ধরেছেন। সে এবারও সালাত শেষ করে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে তাঁকে এবং দলের অন্যদেরকে সালাম করল। এবারও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সালামের উত্তর দিয়ে তাকে বললেন, যাও, সালাত আদায় কর। কেননা, তুমি সালাত আদায় করনি। সে ব্যক্তি এভাবে দু'বার কি তিনবার সালাত পুনঃ আদায় করলেন। তারপর সে ব্যক্তি বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি আমার সালাতে কী ভুল পেলেন? তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের কারও সালাত হবে না যতক্ষন না সে আল্লাহ তা’আলা যেরূপ ওযু করতে আদেশ করেছেন সেরূপ ওযু না করে। অর্থাৎ সে তার চেহারা এবং উভয় হাত কনূই পর্যন্ত ধৌত না করে এবং তার মাথা মসেহ না করে এবং তার উভয় পা টাখনু পর্যন্ত ধৌত না করে। তারপর আল্লাহর তাকবীর না বলে (তাকবীর তাহরীমা না বলে) এবং তার তাহমীদ ও তামজীদ না করে (ছানা না পড়ে)। তারপর কুরআনের যতটুকু সম্ভব পড়বে, আল্লাহ তাকে যতটুকু শিক্ষাদান করেছেন এবং যার অনুমতি দান করেছেন। তারপর তাকবীর বলে রুকু করবে যেন তার সকল অঙ্গ স্থির হয়ে যায়। তারপর বলবে سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ তারপর সোজা হয়ে দাড়াবে যেন তার পিঠ সোজা হয়ে যায়। পরে তাকবীর বলে সিজদা করবে যেন তার চেহারা ঠিকভাবে স্থাপিত হয়। আর তার সকল অঙ্গ সোজা হয়ে হয়ে যায়। এরপর তাকবীর বলবে এবং মাথা তুলে সোজা হয়ে বসবে বসার অঙ্গের উপর। আর পিঠ সোজা রাখবে। তারপর তাকবীর বলে সিজদা করবে যেন তার চেহারা ঠিকভাবে স্থাপিত হয় এবং স্থির হয়ে যায়। যখন এরূপ না করবে তার সালাত পুর্ণ হবে না।

1137। মুহাম্মদ ইবনু সালামা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বান্দা আল্লাহ তা’আলার অধিক নিকটবর্তী হয়, যে অবস্থায় সে সিজদারত থাকে। অতএব, তখন তোমরা অধিক দোয়া করতে থাক।

1138। হিশাম ইবনু আম্মার (রহঃ) ... রাবি'আ ইবনু কাব আসলামী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট তাঁর ওযূর পানি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে আসতাম। একদিন তিনি আমাকে বললেন, তুমি আমার নিকট কিছু চাও। আমি বললাম, আমি বেহেশতে আপনার সঙ্গ কামনা করি। তিনি বললেন, এছাড়া অন্য কিছু কি চাও? আমি বললাম, না, এটাই। তিনি বললেন, তা হলে তুমি অধিক সিজদা দ্বারা তোমার এ কাজে আমাকে সহায়তা কর (অর্থাৎ বেশি বেশি নফল সালাত আদায় করে)।

1139। আবূ আম্মার হুসায়ন ইবনু হুরায়য়ছ (রহঃ) ... মা'দান ইবনু তালহা ইয়ামারী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আযাদকৃত দাস ছাওবানের সাথে আমি সাক্ষাৎ করলাম। আমি বললাম, আমাকে এমন একটি আমলের কথা বলুন যা আমার উপকারে আসবে অথবা আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে। তিনি আমার জবাব না দিয়ে কিছুক্ষণ চুপ রইলেন। তারপর আমার প্রতি লক্ষ্য করে বললেন, আপনি সিজদা করতে থাকুন। কেননা, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, যে বান্দাই আল্লাহর উদ্দেশে একটি সিজদা করবে, আল্লাহ তা'আলা এর বিনিময়ে তার একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন। আর এর দ্বারা তার একটি পাপ মুছে ফেলবেন। মা’দান বলেন, অতঃপর আমি আবূ দারদার সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং তাকেও ঐ প্রশ্ন করলাম যা আমি ছাওবান (রাঃ)-কে করেছিলাম। তিনিও আমাকে বললেন, আপনি সিজদাকে অবশ্য করনীয়রুপে গ্রহণ করুন। কেননা, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি, যে কোন বান্দা আল্লাহর উদ্দেশে একটি সিজদা করে, আল্লাহ তায়ালা তার একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করেন এবং তার দ্বারা তার একটি পাপ মার্জনা করেন।

1140। মুহাম্মাদ ইবনু সুলায়মান লুয়ায়ন (রহঃ) ... আতা ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ হুরায়রা (রাঃ) এবং আবূ সাঈদ (রাঃ) এর নিকট উপবিষ্ট ছিলাম। তাদের একজন শাফাআতের হাদীস বর্ণনা করলেন, আর অন্যজন ছিলেন নিশ্চুপ। তিনি বলেন, তারপর ফেরেশতা এসে সুপারিশ করবেন এবং রাসুলগণ সুপারিশ করবেন, তারপর তিনি পুলসিরাতের উল্লেখ করে বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যাদের অনুমতি দেয়া হবে তাঁদের মধ্যে আমিই হবো প্রথম। তারপর যখন আল্লাহ তা'আলা তাঁর সৃষ্টির বিচারকার্য থেকে অবসর গ্রহণ করবেন এবং দোযখ থেকে যাকে বের করতে ইচ্ছা করবেন তাকে বের করবেন। আল্লাহ তা’আলা ফেরেশতা ও রাসুলগণকে আদেশ করবেন সুপারিশ করার জন্য। তখন তারা তাদের চিহ্ন দ্বারা চিনে নিবেন যে, আদম সন্তানের সিজদার স্থান ব্যতীত আর সব কিছু আগুন জ্বালিয়ে ফেলেছে। তারপর তাদের উপর আবে হায়াত- ঢেলে দেয়া হবে। তখন তারা নবজীবন লাভ করবে যেরূপ স্রোতের ধারায় বীজ গজিয়ে ওঠে।

1141। আবদুর রহমান ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু সাল্লাম (রহঃ) ... শাদ্দাদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ইশার সালাতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের দিকে বেরিয়ে আসলেন। তখন তিনি হাসান অথবা হুসায়ন (রাঃ)-কে বহন করে আনছিলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সামনে অগ্রসর হয়ে তাকে রেখে দিলেন। তারপর সালাতের জন্য তাকবীর বললেন ও সালাত আদায় করলেন। সালাতের মধ্যে একটি সিজদা লম্বা করলেন। (হাদীসের অন্যতম রাবী আব্দুল্লাহ বলেন), আমার পিতা (শাদ্দাদ) বলেন, আমি আমার মাথা উঠালাম এবং দেখলাম, ঐ ছেলেটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পিঠের উপর রয়েছেন। আর তিনি সিজদারত। তারপর আমি আমার সিজদায় গেলাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত শেষ করলে লোকেরা বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি আপনার সালাতের মধ্যে একটি সিজদা এত লম্বা করলেন, যাতে আমরা ধারণা করলাম, হয়তো কোন ব্যাপার ঘটে থাকবে। অথবা আপনার উপর ওহী নাযিল হচ্ছিল। তিনি বললেন, এর কোনটাই ঘটেনি। বরং আমার এ সন্তান আমাকে সওয়ারী বানিয়েছে। আমি তাড়াতাড়ি উঠতে অপছন্দ করলাম, যেন সে তার কাজ সমাধা করতে পারে।

1142। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখেছি, তিনি (সালাতের মধ্যে) প্রত্যেক নীচু হওয়ার সময় এবং মাথা উত্তোলনের সময় আর প্রত্যেক দাঁড়ানোর এবং বসার সময় তাকবীর বলতেন এবং ডান ও বাম দিকে আস্‌ সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ বলে সালাম করতেন। তখন তাঁর চেহারার শুভ্রতা দেখা যেত। রাবী বলেন, আর আমি আবূ বকর (রাঃ) এবং উমর (রাঃ)-কেও এরূপ করতে দেখেছি।

1143। মুহাম্মাদ ইবনু মুছান্না (রহঃ) ... মালিক ইবনু হুয়ায়রিছ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাতে প্রবেশ করতেন তখন তার হাতদ্বয় উঠাতেন। আর যখন রুকু করতেন ঐরূপ করতেন, আর যখনরুকু থেকে মাথা উঠাতেন তখনও ঐরূপ করতেন। আর যখন সিজদা থেকে তাঁর মাথা উঠাতেন তখনও ঐরূপ করতেন। অর্থাৎ তাঁর হাতদ্বয় উঠাতেন।

1144। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাত আরম্ভ করতেন তখন তাকবীর বলতেন এবং তাঁর উভয় হাত উঠাতেন, আর যখন রুকু করতেন এবং রুকুর পরেও। আর তিনি হাত উঠাতেন না দু’সিজদার মাঝে।

1145। মুহাম্মদ ইবনু আব্দুল আলা (রহঃ) ... হুযায়ফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গিয়ে তারপাশে দাঁড়ালেন। তিনি বললেন,اللَّهُ أَكْبَرُ ذُو الْمَلَكُوتِ وَالْجَبَرُوتِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْعَظَمَةِ তারপর তিনি সুরা বাকারা পড়তে শুরু করলেন, পরে তিনি রুকু করলেন। তার রুকু তার কিয়ামের প্রায় বরাবর ছিল। তিনি রুকুতে বললেনسُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ আর যখন তিনি মাথা উঠালেন, তখন বললেন,لِرَبِّيَ الْحَمْدُ لِرَبِّيَ الْحَمْدُ আর তিনি তার সিজদায় বলতেনسُبْحَانَ رَبِّيَ الأَعْلَى سُبْحَانَ رَبِّيَ الأَعْلَى তিনি তাঁর দু'সিজদার মধ্যে বলতেন رَبِّ اغْفِرْ لِي رَبِّ اغْفِرْ لِي।

1146। মুসা ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু মুসা বাসরী (রহঃ) ... নযর ইবনু কাসীর আবূ সাহল আযদী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনু তাঊস (রহঃ) মিনার মসজিদে খায়ফে আমার পাশে সালাত আদায় করলেন। যখন তিনি প্রথম সিজদা করতেন এবং সিজদা থেকে মাথা উঠাতেন, তখন তিনি তাঁর চেহারা বরাবর তাঁর উভয় হাত উঠাতেন। তা আমার না-পছন্দ হওয়ায় আমি উহায়ব ইবনু খালিদকে বললাম, এ ব্যক্তি এমন কিছু করছে যা আমি কাউকে করতে দেখিনি। উহায়ব তাঁকে বললেন, আপনি এমন কিছু করছেন যা আমরা কাউকে করতে দেখিনি, তখন আব্দুল্লাহ ইবনু তাঊস বললেন, আমি আমার পিতাকে তা করতে দেখেছি। আর আমার পিতা বলেছেন, আমি আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাসকে এরূপ করতে দেখেছি। আর আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস বলেছেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এরূপ করতে দেখেছি।

1147। আব্দুর রহমান ইবরাহীম দুহায়ম (রহঃ) ... মায়মুনা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সিজদা করতেন তখন তাঁর হাত দু’খানা এত দুরে রাখতেন যে, তাঁর পেছন দিক থেকে তাঁর বগলদ্বয়ের শুভ্রতা দেখা যেত। আর যখন তিনি বসতেন তখন তিনি তাঁর বাম উরুর উপর স্থির হয়ে বসতেন।

1148। উবায়দুল্লাহ ইবনু সায়ীদ আবূ কুদামা (রহঃ) ... বারা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাতে তাঁর রুকু-সিজদা এবং রুকু থেকে মাথা উত্তোলনের পর দাঁড়ানো এবং দু’সিজদার মধ্যবর্তী সময় প্রায় বরাবর হতো।

1149। কুতায়বা (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বকর, উমর ও উসমান (রাঃ) মাথা উত্তোলনের সময়, সিজদার সময়, দাঁড়ানোর সময় এবং বসার সময় তাকবীর বলতেন।

1150। মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাতে দাঁড়াতেন তখন তাকবীর বলতেন। তারপর যখন রুকু করতেন তখনও তাকবীর বলতেন। যখন তিনি রুকু থেকে স্বীয় পিঠ উঠাতেন তখন বলতেন তিনি سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ এরপর যখন তিনি সিজদার জন্য নীচু হতেন, তখনও তাকবীর বলতেন। তারপর যখন রুকু থেকে মাথা-উত্তোলন করতেন তখন তাকবীর বলতেন। এরপর তিনি সস্পূর্ণ সালাতে এরূপ করতেন এবং সালাত সম্পন্ন করতেন। আর তিনি দু'রাকআত এর পর বসা থেকে যখন দাঁড়াতেন তখন তাকবীর বলতেন।

1151। যিয়াদ ইবনু আইয়্যুব (রহঃ) ... আবূ কিলাবা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ সুলায়মান মালিক ইবনু হুয়াইরিছ (রাঃ) আমাদের মসজিদে এসে বললেন, আমি তোমাদের দেখাতে ইচ্ছা করি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি কিরূপে সালাত আদায় করতে দেখেছি। (এরপর তিনি সালাত আদায় করেন) তিনি যখন প্রথম রাকাআতে শেষ সিজদা থেকে মাথা উঠালেন তখন বসে পড়লেন।

1152। আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ... মালিক ইবনু হুয়াইরিছ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সালাত আদায় করতে দেখেছি। তিনি যখন তাঁর সালাতের বেজোড় রাকআত আদায় করতেন তখন সোজা হয়ে না বসে উঠতেন না।

1153। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... আবূ কিলাবা (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মালিক ইবনু হুয়াইরিছ (রাঃ) আমাদের নিকট এসে বললেন, আমি কি তোমাদেরকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত সম্বন্ধে বর্ণনা করব না? তারপর তিনি সালাতের সময় ছাড়াই (নফল) সালাত আদায় করলেন (অর্থাৎ তখন কোন ফরজ সালাতের সময় নয়)। যখন তিনি প্রথম রাকআতে দ্বিতীয় সিজদা থেকে মাথা উঠাতেন, তখন সোজা হয়ে বসতেন। তারপর মাটিতে ঠেক (মাটির উপর দু’হাতের ভর) দিয়ে উঠে দাঁড়াতেন।

1154। ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ... ওয়ায়িল ইবনু হুজর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখেছি, যখন তিনি সিজদা করতেন তখন তার হাটুদ্বয় হাতদ্বয়ের পূর্বে রাখতেন। আর যখন তিনি উঠতেন তখন উভয় হাটু উঠানোর পুর্বে উভয় হাত উঠাতেন। আবূ আবদুর রহমান বলেন, ইয়াযীদ ইবনু হারুন ছাড়া আর কেউ এ হাদীস (জনৈক রাবী) থেকে বর্ণনা করেননি। আল্লাহই সর্বজ্ঞা।

1155। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আবূ সালামা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। আবূ হুরায়রা (রাঃ) তাদের (সাহাবীদের) নিয়ে সালাত আদায় করতেন। তিনি যখনই উঠতেন বা নীচু হতেন তখনই তাকবীর বলতেন। সালাত শেষ করে তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ! তোমাদের মধ্যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাতের সাথে আমার সালাত অধিক সামঞ্জস্যশীল।

1156। নাসর ইবনু আলী ও সাওয়ার ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু সাওয়ার (রহঃ) ... আর বকর ইবনু আব্দুর রহমান এবং আবূ সালমা ইবনু আবদুর রহমান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তাঁরা উভয়ে আবূ হুরায়রা (রাঃ) এর পেছনে সালাত আদায় করেন। যখন তিনি রুকু করলেন তখন তাকবীর বললেন। যখন মাথা উঠালেন তখন বললেন سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ তারপর সিজদা দিতে তাকবীর বললেন এবং যখন তাঁর মাথা উঠালেন তখনও তাকবীর বললেন। এরপর এক রাকআতের পর যখন দাঁড়ালেন তখন তাকবীর বললেন। পরে বললেন, যার হাতে আমার প্রাণ, তাঁর শপথ! আমি তোমাদের মধ্যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে অধিক সামঞ্জস্যশীল। পৃথিবী ত্যাগ করা পর্যন্ত তার সালাত এরূপই ছিল।

1157। কুতায়বা ইবনু সায়ীদ (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সালাতের নিয়মের মধ্যে এটাও যে, তুমি তোমার বাম পা বিছিয়ে রাখবে এবং ডান পা খাড়া রাখবে।

1158। রবী ইবনু সুলায়মান ইবনু দাঊদ (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সালাতের সুন্নতের মধ্যে এটাও যে, ডান পা খাড়া রাখা আর তার আঙ্গূল সমুহ কিবলার দিকে রাখা এবং বাম পায়ের উপর বসা।

1159। মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু যায়ীদ মুকরী (রহঃ) ... ওয়ায়িল ইবনু হুজর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসলাম। দেখলাম, তিনি যখন সালাত আরম্ভ করলেন। তার হাতদ্বয় উঠালেন, তা তার কাঁধ বরাবর হলো। আর যখন তিনি রুকু করতে ইচ্ছা করলেন তখনও এরূপ করলেন। তিনি যখন দু’রাকআতের পর বসলেন, তখন বাম পা বিছিয়ে দিলেন। আর ডান পা খাড়া রাখলেন। আর তার ডান হাত তাঁর ডান উরুর উপর রাখলেন। আর দোয়ার জন্য তাঁর আঙ্গূল উঠালেন। আর তাঁর বাম হাত বাম উরুর উপর রাখলেন। তিনি বলেন, তারপর আমি সম্মুখ দিয়ে তাদের নিকট আসলাম তাদেরকে দেখলাম, তারা কাপড়ের মধ্যে হাত উঠাচ্ছিলেন।

1160। আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি এক ব্যক্তিকে দেখলেন, সে সালাতে থাকা অবস্থায় তার হাত দ্বারা পাথরের টুকরা নাড়ছেন। তার সালাত শেষ হলে তাকে আব্দুল্লাহ (রাঃ) বললেন, তুমি সালাতে থাকা অবস্থায় পাথরের টুকরা নেড়ো না। কেননা, তা শয়তানের কাজ, বরং ঐরূপ কর যেরূপ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করতেন। সে ব্যক্তি বলল, তিনি কি করতেন? আব্দুল্লাহ (রাঃ) তাঁর ডান হাত ডান উরুর উপর রাখলেন। আর তার ঐ আঙ্গূল দ্বারা কিবলার দিকে ইশারা করলেন যা বৃদ্ধা আঙ্গুলীর নিকটবর্তী (অর্থাৎ তর্জনি আঙ্গূল দ্বারা) আর তার দৃষ্টি তার প্রতি রাখলেন। তারপর বললেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে এরূপই করতে

1161। যাকারিয়া ইবনু ইয়াহয়া সাজাযী (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন দুই অথবা চার রাকাতে বসতেন। তাঁর উভয় হাত উভয় উরুর উপর রাখতেন। তার পর তাঁর আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করতেন।

1162। ইয়াকুব ইবনু ইবরাহীম দাওরাকী (রহঃ) ... আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন, আমরা যখন দু'রাকআতে বসি তখন আমরা যেন বলিঃ التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ

1163। মুহাম্মাদ ইবনু মুছান্না (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা জানতাম না, আমরা প্রত্যেক দু’রাকআতে কি বলব এ ব্যতীত যে, আমরা তাসবীহ পড়তাম তাকবীর বলতাম- আর আমাদের প্রভুর প্রশংসা করতাম এবং বলতাম যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এমন কথা শিক্ষা দেওয়া হয়েছে যার শুরু ও শেষ কল্যাণময়। তখন তিনি বললেন, দু-রাকাআতের পর তোমরা বসে বলবেঃ التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ আর যার যে দোয়া ভাল লাগে সে সেই দোয়া (পড়ার জন্য) গ্রহণ করবে, তারপর আল্লাহ তা’আলার নিকট দোয়া করবে।

1164। কুতায়বা (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সালাতের তাশাহুদ এবং প্রয়োজনের সময় পড়ার তাশাহুদ শিক্ষা দিয়েছেন। সালাতের তাশাহুদ হলোঃ التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ

1165। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... ইয়াহয়া ইবনু আদম (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সুফিয়ানকে ফরয ও নফল সালাতে এ তাশাহুদ পড়তে দেখেছি আর তাকে বলতে শুনেছি- আমি আবূ ইসহাকের নিকট এ তাশাহুদ শুনেছি। তিনি শুনেছেন। আবূল আওয়াসের নিকট এবং তিনি শুনেছেন আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ)-এর নিকট এবং তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছেন।

1166। আহমদ ইবনু আমর ইবনু সারাহ (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিলাম। আমরা কিছুই জানতাম না। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বললেন, তোমরা প্রত্যেক বৈঠকে বলবেঃ التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ

1167। মুহাম্মাদ ইবনু জাবালা রাফিকী (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা যখন সালাত আদায় করতাম তখন কি বলব তা আমরা জানতাম না। তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের এক পুর্নাঙ্গ দোয়া শিক্ষা দিলেন। তিনি আমাদের বললেন, তোমরা বলোঃ التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ আলকামা (রহঃ) বলেন, ইবনু মাসউদ (রাঃ) এ বাক্য গুলো আমাদের এমনভাবে শিক্ষা দিতেন যেমনি ভাবে তিনি আমাদের কুরআন শিক্ষা দিতেন।

1168। আবদুর রহমান ইবনু খালিদ কাত্তান (রহঃ) ... ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সালাত আদায় করতাম তখন আমরা বলতাম, আস সালামু আল্লাল্লাহ আলসালামু আলা জিবরীল, আসসালামু আলা মীকাঈল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বললেন, তোমরা আসসালামু আলাল্লাহ বলো না, কেননা আল্লাহ তা আলা-ই সালাম। বরং তোমরা বলঃ التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ

1169। ইসমাঈল ইবনু মাসউদ (রহঃ) ... ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সালাত আদায় করতাম ও বলতাম السَّلاَمُ عَلَى اللَّهِ السَّلاَمُ عَلَى جِبْرِيلَ السَّلاَمُ عَلَى مِيكَائِيلَ তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা السَّلاَمُ عَلَى اللَّهِ বলো না। কেননা, আল্লাহই সালাম বরং তোমরা বলোঃ التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ

1170। বিশর ইবনু খালিদ আসকারী (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ (রাঃ) সুত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত যে, তিনি তাশাহুদে পড়েছেনঃ التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ আবূ আবদুর রহমান বলেন, আবূ হাশিম বর্ণনাকারীদের মধ্যে মশহুর নন।

1171। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের তাশাহুদ শিক্ষা দিয়েছেন। যেরূপ তিনি আমাদের কুরআনের সূরা শিক্ষা দিতেন। আর তখন আমার হাত তাঁর হস্ত মুবারক দ্বয়ের মধ্যে থাকতো। (আর তা হচ্ছেঃ) التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ

1172। উবায়দুল্লাহ ইবনু সায়ীদ আবূ কুদামা সারখাসী (রহঃ) ... হিত্তান ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আবূ মুসা আশ’আরী (রাঃ) বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদেরকে লক্ষ্য করে ওয়াজ করলেন, আমাদের সূন্নত শিখালেন। আমাদের সালাত সম্বন্ধে বর্ণনা করলেন। বললেন, তোমরা তোমাদের কাতার ঠিক করবে। তারপর তোমাদের একজন ইমাম হবে। যখন সে তাকবীর বলবে, তখন তোমরাও তাকবীর বলবে। আর যখন সে وَلاَ الضَّالِّينَ বলবে, তখন তোমরা آمِين বলবে। তাহলে আল্লাহ তা'আলা তোমাদের ভালবাসবেন। আর যখন ইমাম তাকবীর বলবে এবং রুকু করবে তখন তোমরাও তাকবীর বলে রুকু করবে। কারণ ইমাম তোমাদের পূর্বে রুকু করবে আর তোমাদের পূর্বে মাথা উঠাবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এটা তার পরিবর্তে হয়ে যাবে। আর যখন ইমাম سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলবে, তখন তোমরা বলবে رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ আল্লাহ তোমাদের কথা শুনবেন। কেননা, আল্লাহ তার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ভাষায় বলেছেন, আল্লাহ ঐ ব্যক্তির কথা শ্রবণ করেন, যে তার প্রশংসা করে। তারপর যখন ইমাম তাকবীর বলে সিজদা করবে তখন তোমরাও তাকবীর বলে সিজদা করবে। কেননা, ইমাম তোমাদের পূর্বে সিজদা করবে আর তোমাদের পূর্বে মাথা উঠাবে। আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এটা তার পরিবর্তে। আর যখন বৈঠকে পৌছবে, তখন তোমরা সর্ব প্রথম বলবেঃ التَّحِيَّاتُ الطَّيِّبَاتُ الصَّلَوَاتُ لِلَّهِ السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ

1173। আবূল আশআছ আহমদ ইবনু মিকদাম আজলী বাসরী (রহঃ) ... হিত্তান ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তারা (কিছু সংখ্যক লোক) আবূ মুসা (রাঃ)-এর সাথে সালাত আদায় করেছেন। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন শেষ বৈঠকের নিকট হবে তখন তোমাদের প্রথম কথাই হবেঃ التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ الطَّيِّبَاتُ الصَّلَوَاتُ لِلَّهِ السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ

1174। কুতায়বা (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের ঐরূপেই তাশাহুদ শিক্ষা দিতেন যেভাবে আমাদের কুরআন শিখাতেন, তিনি বলতেনঃ التَّحِيَّاتُ الْمُبَارَكَاتُ الصَّلَوَاتُ الطَّيِّبَاتُ لِلَّهِ سَلاَمٌ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ سَلاَمٌ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ

1175। মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল আলা (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের তাশাহুদ শিক্ষা দিতেন যেভাবে আমাদের কুরআনের সূরা শিক্ষা দিতেন। (তিনি বলতেন) بِسْمِ اللَّهِ وَبِاللَّهِ التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ أَسْأَلُ اللَّهَ الْجَنَّةَ وَأَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ النَّارِ

1176। হায়ছাম ইবনু আয়্যুব তালিকানী (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের দুই রাকাআতের পর এমন অবস্থায় হতেন, যেন তিনি গরম পাথরের উপর রয়েছেন। (রাবী বলেন) আমি (আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদকে) এমন জিজ্ঞাসা করলাম বৈঠক থেকে উঠা পর্যন্ত? তিনি বললেন হ্যাঁ। এটা তিনি ইচ্ছা করে করতেন।

1177। ইয়াহয়া ইবনু হাবীব আরাবী বসরী (রহঃ) ... ইবনু বুহায়না (রাঃ) থেকে বর্নিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করলেন, তিনি যে দুই রাকাআতের পর বসতে ইচ্ছা করছিলেন, তাতে তিনি না বসে দাঁড়িয়ে গেলেন। তিনি সালাত চালু রাখলেন। যখন তিনি সালাতের শেষ দিকে পৌছলেন তখন সালাম ফিরাবার পূর্বে দুটি সিজদা করলেন। তারপর সালাম ফিরালেন।

1178। আবূ দাউদ সুলায়মান ইবনু সায়ফ (রহঃ) ... ইবনু বুহায়না (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে দু'রাকআতের পরে না বসে দাঁড়িয়ে গেলেন। তখন সাহাবায়ে কিরাম সুবহানাল্লাহ বলে উঠলেন। তিনি সালাত চালিয়ে গেলেন। তারপর যখন তিনি সালাতের শেষ অবস্থায় পৌছলেন, তখন দুটি সিজদা করলেন। তারপর সালাম ফিরালেন।

উৎস: Sunan an Nasai

WEBREATH · 11:11

«Should I not be a thankful servant?» — Sahih al-Bukhari

Breath is one for all: everyone lives by it, whoever they are and whatever they believe. Every day at 11:11 local time people stop for sixty seconds, breathe, and thank GOD for the breath — each in their own words, each within themselves. In that minute we are One Breath.

WEBREATH — the Minute at 11:11, your own local time — we are One Breath