সুনানে নাসায়ী 11 · The Book of the Commencement of the Prayer
আপনার ভাষায় এখনো কোনো অনুবাদ নেই — ইংরেজি দেখাচ্ছে
876। আমর ইবন মানসুর ও আহমদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন মুগীরা ... ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখেছি, তিনি যখন নামাযে তাকবীর শুরু করতেন তখন তাকবীরের সময় তার দু'হাত উঠাতেন এবং দুই হাতখানাকে উভয় কাঁধ বরাবর করতেন। আর যখন রুকু করবার জন্য তাকবীর বলতেন তখনো এরূপ করতেন। এরপর যখন "সামি'আল্লাহু লিমান হামিদাহ" বলতেন তখনো এমন করতেন এবং বলতেন- رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ আর যখন তিনি সিজদাহ করতেন তখন এবং যখন সিজদাহ থেকে মাথা উঠাতেন তখন এমন করতেন না।
877। সুওয়ায়দ ইবন নাসর (রহঃ) ... ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখেছি, যখন তিনি নামাযের জন্য দাঁড়াতেন দুই হাত উঠাতেন। এমনকি তার দুই হাত দুই কাঁধ বরাবর হয়ে যেত। এর পর তিনি তাকবীর বলতেন। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি এমন করতেন যখন তিনি রুকুর জন্য তাকবীর বলতেন। আর যখন রুকু হতে মাথা উঠাতেন তখনো এমন করতেন আর বলতেন سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ আর তিনি সিজদায় এমন করতেন না।
878। কুতায়বা (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নামায শুরু করতেন তখন দু'কাঁধ পর্যন্ত তার দু হাত তুলতেন। আর যখন রুকু করতেন এবং রুকু থেকে মাথা তুলতেন তখনো দু' হাত এভাবে তুলতেন এবং বলতেন- سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ আর তিনি সিজদার সময় এরূপ করতেন না।
879। কুতায়বা (রহঃ) ... ওয়ায়িল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পেছনে সালাত আদায় করেছি। যখন তিনি সালাত আরম্ভ করতেন তখন তাকবীর বলতেন এবং তাঁর উভয় হাত দু'কান পর্যন্ত তুলতেন। এরপর সূরা ফাতিহা পাঠ করা আরম্ভ করতেন।আর তা শেষ করে "আমীন" বলতেন এবং তা বলার সময় তার স্বর উচু করতেন।
880। মুহাম্মদ ইবনু আবদুল আলা (রহঃ) ... মালিক ইবনু হুওয়াইরিস (রাঃ) তিনি ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অন্যতম সাহাবী তাঁর থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাত আদায় করতেন তখন তার উভয় হাত কান পর্যন্ত তুলতেন। আর যখন তিনি রুকু করার ইচ্ছা করতেন, আর যখন রুকু থেকে মাথা উঠাতেন (তখনও এরূপ করতেন)।
881। ইয়াকুব ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... মালিক ইবনু হুওয়াইরিস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখেছি যে, যখন তিনি সালাত আরম্ভ করতেন তখন তাঁর হাতদ্বয় উঠাতেন। আর যখন রুকু করতেন, এবং রুকু থেকে তাঁর মাথা তুলতেন তখন হাতদ্বয় উভয় কানের নিম্নভাগ (লতি) এর বরাবর হয়ে যেত।
882। মুহাম্মদ ইবনু রাফি (রহঃ) ... ওয়াইল (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখেছেন, যখন তিনি সালাত আরম্ভ করতেন তখন তিনি তাঁর উভয় হাত উঠাতেন। তখন তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলীদ্বয় তাঁর দু'কানের নিম্নভাগ ছোয় ছোয় অবস্থা হত।
883। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... সাঈদ ইবনু সামআন (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ হুরায়রা (রাঃ) বনী যুরায়কের মসজিদে আগমন করে বললেন, তিনটি কাজ এমন যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেছেন। কিন্তু লোকেরা তা ছেড়ে দিয়েছে। তিনি সালাতে হাত উঠাতেন লম্বা করে, আর তিনি কিছুক্ষণ চুপ থাকতেন আর তিনি যখন সিজদা করতেন এবং সিজদা থেকে মাথা উঠাতেন তখন তাকবীর বলতেন।
884। মুহাম্মদ ইবনু মুসান্না (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে প্রবেশ করলে পরে এক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করল এবং সালাত আদায় করল। তারপর এসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সালাম করল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সালামের উত্তর দিয়ে বললেন, ফিরে যাও, আবার সালাত আদায় কর (কেননা, তুমি সালাত আদায় করনি) সে ব্যক্তি প্রত্যাবর্তন করে যেরূপ সালাত আদায় করেছিল সেরূপ সালাত আদায় করল। তারপর এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সালাম করল, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন ওয়া আলাইকাস সালাম। ফিরে যাও সালাত আদায় কর। কেননা, তুমি সালাত আদায় করনি। তিনি এরূপ তিনবার করলেন। তারপর সে ব্যক্তি বলল, ঐ সত্তার শপথ! যিনি আপনাকে সত্য সহকারে পাঠিয়েছেন। আমি এর চেয়ে অধিক ভাল সালাত আদায় করতে জানি না। অতএব, আমাকে শিখিয়ে দিন। তিনি বললেন- যখন সালাতে দাঁড়াবে, তখন তাকবীর বলবে, তারপর কুরআন থেকে যা তোমার পক্ষে সহজ হয় তা পড়বে। তারপর রুকু করবে ধীর-স্থিরভাবে। তারপর মাথা উঠাবে এবং সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যাবে। এরপর সিজদা করবে ধীর-স্থিরভাবে। তারপর মাথা উঠিয়ে ধীর-স্থিরভাবে বসে পড়বে। অতঃপর এভাবে তোমার সালাত শেষ করবে।
885। মুহাম্মদ ইবনু ওহাব (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পেছনে বললঃ اللَّهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا وَالْحَمْدُ لِلَّهِ كَثِيرًا وَسُبْحَانَ اللَّهِ بُكْرَةً وَأَصِيلاً তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কে এ কলেমা বলেছে? ঐ ব্যক্তি বলল- আমি, ইয়া নবী আল্লাহ! তখন তিনি বললেন- বারোজন ফেরেশতা এ কলেমা তাড়াতাড়ি করে তুলে নিলেন।
886। মুহাম্মাদ ইবনু সুজা মারওয়াযী (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সালাত আদায় করছিলাম। উপস্থিত মুসল্লিদের মধ্যে এক ব্যক্তি বলে উঠলঃاللَّهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا وَالْحَمْدُ لِلَّهِ كَثِيرًا وَسُبْحَانَ اللَّهِ بُكْرَةً وَأَصِيلاً তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এমন এমন শব্দ গুলো কে বলেছে? তখন ঐ ব্যক্তি বললো, আমি, ইয়া রাসুলাল্লাহ! তিনি বললেনঃ আমি এ ব্যাপারে আশ্চর্যবোধ করলাম। অতঃপর তিনি যা বললেন, এর অর্থ হল, এর কারণে আকাশের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়েছে। ইবনু উমর (রাঃ) বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এ কথা বলতে শোনার পর থেকে আমি কখনও তা পড়া বাদ দেই নি।
887। সুওয়ায়দ ইবনু নাসর (রহঃ) ... ওয়ায়িল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাতে দাঁড়াতেন তখন আমি তাঁকে ডান হাত দিয়ে বাম হাত ধরে রাখতে দেখেছি।
888। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দেখলেন আমি সালাতে ডান হাতের উপর বাম হাত রেখেছি। তিনি আমার ডান হাত ধরে তা বাম হাতের উপর রাখলেন।
889। সুওয়ায়দ ইবনু নাসর (রহঃ) ... ওয়ায়িল ইবনু হুজর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, আমি নিশ্চয়ই লক্ষ্য করব রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাতের প্রতি, তিনি কিরূপে সালাত আদায় করেন। আমি তার দিকে তাকালাম। তিনি দাঁড়িয়ে তাকবীর বললেন এবং তার হস্তদ্বয় উত্তোলন করলেন। আর হস্তদ্বয় কর্ণদ্বয়ের বরাবর হল। তারপর তিনি তার ডান হাত রাখলেন বাম হাতের উপর অর্থাৎ এক কব্জি অন্য কব্জির ওপর কিংবা এক হাত অন্য হাতের উপর রাখলেন। যখন তিনি রুকু করার ইচ্ছা করলেন হস্তদ্বয় পূর্বের মত উঠালেন। রাবী বলেন, তিনি হস্তদ্বয় স্থাপন করলেন তাঁর দু'হাঁটুর উপর। এরপর যখন তিনি রুকু থেকে মাথা উঠালেন তখন তদ্রুপ হাত উঠালেন। এরপর তিনি সিজদা করলেন, তিনি তাঁর হাতের তালু-দ্বয় স্থাপন করলেন তাঁর উভয় কান বরাবর। তারপর তিনি বসলেন, তিনি বিছিয়ে দিলেন তাঁর বাম পা। আর তাঁর বাম হাতের তালু রাখলেন তার বাম পায়ের ও রানের উপর। আর ডান কনূইর শেষ প্রান্ত পর্যন্ত ডান রানের উপর রাখলেন। পরে তাঁর দু'টি অঙ্গুলী (বৃদ্ধ ও মধ্যমা) টেনে তা দিয়ে বৃত্তাকার বানালেন এবং তারপর একটি অঙ্গুলী (তর্জনী) উঠালেন। আমি দেখলাম, তিনি তা নাড়ছেন (ইশারার জন্য) এবং তা দ্বারা দোয়া করছেন।
890। ইসহাক ইবনুুে ইবরাহীম ও সূয়ায়দ ইবনুুে নাসর (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোমরে হাত রেখে কোন ব্যক্তিকে সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন।
891। হুমায়দ ইবনু মাসআদা (রহঃ) ... যিয়াদ ইবনু সুবায়হ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু উমরের পাশে সালাত আদায় করেছি, তখন আমি আমার কোমরে হাত রাখলাম। তিনি আমাকে তার হাত মেরে বললেন, এরূপ কর। এভাবে যখন আমি সালাত শেষ করলাম, এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করলাম, কে এ ব্যক্তি? সে বলল, আব্দুল্লাহ ইবনু উমর। আমি বললাম, হে আবূ আবদুর রহমান। আমার কোন কাজে আপনার খটকা হলো? তিনি বললেনঃ এটা শূলের ন্যায় হয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা থেকে আমাদের নিষেধ করেছেন।
892। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... আবূ উবায়দা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) এক ব্যক্তিকে উভয় পা মিলিয়ে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতে দেখলেন। তিনি বললেন, এ ব্যক্তি সুন্নতের বিরোধিতা করল। যদি এ ব্যক্তি পদদূয়ের মাঝখানে ব্যবধান বা ফাঁক রেখে দাঁড়াতো তাহলে তা উত্তম হতো।
893। ইসমাঈল ইবনু মাসউদ (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি এক ব্যক্তিকে দেখলেন, সে সালাত আদায় করছে দু’পা মিলিয়ে। তিনি বললেন, এ ব্যক্তি সুন্নতের খেলাফ করছে। যদি সে দু'পায়ের মধ্যে ফাঁক রেখে দাঁড়াত তা হলে তা আমার কাছে অধিক পছন্দনীয় হত।
894। মাহমুদ ইবনু গায়লান (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাত আরম্ভ করতেন তখন কিছুক্ষণ চুপ থাকতেন। এ সময় দোয়া পড়তেন।
895। আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি যখন সালাত আরম্ভ করতেন তখন কিছুক্ষণ চুপ থাকেন। আমি বললামঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমার মাতা-পিতা আপনার প্রতি কুরবান হোক, আপনি তাকবীর ও কিরাআতের মধ্যে চুপ থেকে কি বলেন? তিনি বললেন আমি বলিঃ اللَّهُمَّ بَاعِدْ بَيْنِي وَبَيْنَ خَطَايَاىَ كَمَا بَاعَدْتَ بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ اللَّهُمَّ نَقِّنِي مِنْ خَطَايَاىَ كَمَا يُنَقَّى الثَّوْبُ الأَبْيَضُ مِنَ الدَّنَسِ اللَّهُمَّ اغْسِلْنِي مِنْ خَطَايَاىَ بِالْمَاءِ وَالثَّلْجِ وَالْبَرَدِ অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমার ও আমার পাপরাশির মধ্যে ব্যবধান সৃষ্টি করে দাও। যেমন পুর্ব পশ্চিমের মধ্যে ব্যবধান সৃষ্টি করেছ। হে আল্লাহ! আমাকে আমার পাপরাশি থেকে পবিত্র করে দাও যেমন সাদা কাপড় ময়লা থেকে পরিস্কার করা হয়ে থাকে। হে আল্লাহ! আমাকে পানি, বরফ, শিলা বৃষ্টির সাহায্যে ধৌত কর।
896। আমর ইবনু উসমান ইবনু সায়ীদ (রহঃ) ... জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাত আরম্ভ করতেন তখন তাকবীর বলতেন। তারপর বলতেনঃ إِنَّ صَلاَتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَاىَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ لاَ شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا مِنَ الْمُسْلِمِينَ اللَّهُمَّ اهْدِنِي لأَحْسَنِ الأَعْمَالِ وَأَحْسَنِ الأَخْلاَقِ لاَ يَهْدِي لأَحْسَنِهَا إِلاَّ أَنْتَ وَقِنِي سَيِّئَ الأَعْمَالِ وَسَيِّئَ الأَخْلاَقِ لاَ يَقِي سَيِّئَهَا إِلاَّ أَنْتَ
897। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাত আরম্ভ করতেন তাকবীর বলতেন। তারপর বলতেনঃ وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِي فَطَرَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ حَنِيفًا وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ إِنَّ صَلاَتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَاىَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ لاَ شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا مِنَ الْمُسْلِمِينَ اللَّهُمَّ أَنْتَ الْمَلِكُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ أَنَا عَبْدُكَ ظَلَمْتُ نَفْسِي وَاعْتَرَفْتُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي ذُنُوبِي جَمِيعًا لاَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلاَّ أَنْتَ وَاهْدِنِي لأَحْسَنِ الأَخْلاَقِ لاَ يَهْدِي لأَحْسَنِهَا إِلاَّ أَنْتَ وَاصْرِفْ عَنِّي سَيِّئَهَا لاَ يَصْرِفُ عَنِّي سَيِّئَهَا إِلاَّ أَنْتَ لَبَّيْكَ وَسَعْدَيْكَ وَالْخَيْرُ كُلُّهُ فِي يَدَيْكَ وَالشَّرُّ لَيْسَ إِلَيْكَ أَنَا بِكَ وَإِلَيْكَ تَبَارَكْتَ وَتَعَالَيْتَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ অর্থাৎ আমি একনিষ্ঠভাবে তাঁর দিকে মুখ ফিরিয়েছি যিনি আকাশ মণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই। নিশ্চয়ই আমার সালাত আমার ইবাদত (কুরবানী ও হজ্জ) আমার জীবন ও আমার মরণ জগত সমূহের প্রতিপালক আল্লাহরই উদ্দেশ্যে। তার কোন শরীক নেই। আর এরই জন্য আমি আদিষ্ট হয়েছি এবং আমি মুসলিমদের অন্তর্গত। আল্লাহ, আপনি বাদশাহ, আপনি ব্যতীত কোন মাবুদ নেই। আপনি আমার প্রভু আর আমি আপনার দাস। আমি নিজের উপর জুলুম করেছি এবং আমি আমার অপরাধ স্বীকার করছি- সূতরাং তুমি আমার সমস্ত অপরাধ ক্ষমা করে দাও। নিশ্চয়ই তুমি ব্যতীত আর কেউ অপরাধ সমুহ ক্ষমা করতে পারে না এবং চালিত কর আমাকে উত্তম চরিত্রের পথে। তুমি ব্যতীত অপর কেউ চালিত করতে পারে না উত্তম চরিত্রের পথে এবং দুরে রাখ আমা থেকে মন্দ আচরনকে- তুমি ব্যতীত আমা থেকে তা অপর কেউ দুরে রাখতে পারে না। আল্লাহ! হাজির আছি আমি তোমার নিকটে আর প্রস্তুত আছি তোমার আদেশ পালনে, কল্যাণ সমস্তই তোমার হাতে এবং কোনও অকল্যাণই তোমার প্রতি বর্তায় না। আমি তোমার সাহায্যেই প্রতিষ্ঠিত আছি এবং তোমারই দিকে প্রত্যাবর্তন করছি। তুমি মঙ্গলময়, তুমি সুমহান। আমি তোমার নিকট ক্ষমা ভিক্ষা করছি এবং তোমার দিকে ফিরতেছি।
898। ইয়াহইয়া ইবনু উছমান হীমসী (রহঃ) ... মুহাম্মদ ইবনু মাসলামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নফল সালাত আদায় করতে দাঁড়াতেন তখন বলতেনঃ اللَّهُ أَكْبَرُ وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِي فَطَرَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ حَنِيفًا مُسْلِمًا وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ إِنَّ صَلاَتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَاىَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ لاَ شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ اللَّهُمَّ أَنْتَ الْمَلِكُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ سُبْحَانَكَ وَبِحَمْدِكَ তারপর তিনি কুরআন পাঠ করতেন।
899। উবায়দুল্লাহ ইবন ফাযালা ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাত আরম্ভ করতেন তখন বলতেনঃ سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ تَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَالَى جَدُّكَ وَلاَ إِلَهَ غَيْرُكَ অর্থঃ হে আল্লাহ! তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি, তোমার প্রশংসার সাথে তোমার নাম বরকতময়, উচ্চ, তোমার মহিমা এবং তুমি ব্যাতীত কোন ইলাহ নেই।
900। আহমদ ইবনু সুলায়মান (রহঃ) ... আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাত আরম্ভ করতেন তখন বলতেনঃ سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَتَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَالَى جَدُّكَ وَلاَ إِلَهَ غَيْرُكَ
901। মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করছিলেন। হঠাৎ এক ব্যক্তি এসে মসজিদে প্রবেশ করল। সালাতের জন্য দৌড়ে আসার কারণে তার তার শ্বাস-প্রশ্বাসে কষ্ট হচ্ছিল। সে বলল- اللَّهُ أَكْبَرُ الْحَمْدُ لِلَّهِ حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত শেষ করে বললেন- তোমাদের মধ্যে কে এ বাক্যগুলো উচ্চারণ করল? এতে উপস্থিত সকলে নির্বাক হয়ে গেল। তিনি বললেন- সে কোন ক্ষতিকর কথা বলেনি। সে ব্যক্তি বলল- ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি বলেছি। আমি এসে পড়লাম আর আমার তখন শাসকষ্ট হচ্ছিল। তখন আমি তা বলেছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি বারো জন ফেরেশতাকে দেখলাম তারা প্রতিযোগিতা করছে, কে তা তুলে নেবে।
902। কুতায়বা ইবনু সায়ীদ (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বকর এবং উমর (রাঃ) কিরাআত আরম্ভ করতেন- “আল হামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামীন” দ্বারা।
903। আব্দুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আবদুর রহমান যুহরী (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে এবং আবূ বকর ও উমর (রাঃ)-এর সাথে সালাত আদায় করেছি। তারা সালাত আরম্ভ করতেন, আল হামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন” দ্বারা।
904। আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন তিনি আমাদের মধ্যে ছিলেন অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হঠাৎ ওহীর অবস্থা প্রকাশ পেল। তারপর তিনি মুচকি হাসতে হাসতে মাথা উঠালেন। আমরা তাঁকে বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি কেন হাসলেন? তিনি বললেন, এখন আমার উপর একটি সূরা নাযিল হলোঃ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ إِنَّا أَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ * فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ * إِنَّ شَانِئَكَ هُوَ الأَبْتَرُ তারপর তিনি বললেন, তোমরা জান কি “কাওসার” কি? আমরা বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসুল ই ভাল জানেন। তিনি বললেন, এটা একটি নহর। আমার রব! আমাকে তা জান্নাতে প্রদান করবেন বলে ওয়াদা করেছেন। তার পেয়ালাসমুহ তারকার সংখ্যা অপেক্ষা অধিক, আমার উম্মাত তার কাছে আমার নিকট আসবে। তারপর তাদের মধ্য থেকে কাউকে হটিয়ে দেয়া হবে। তখন আমি বলব, হে আল্লাহ! সে তো আমার উম্মাতের অন্তর্ভুক্ত। তখন তিনি আমাকে বলবেন, নিশ্চয়ই আপনি জানেন না, সে আপনার পরে (শরীয়তের পরিপন্থী অর্থাৎ বিদআত) কি নতুন বিষয় আবিস্কার করেছিল।
905। মুহাম্মদ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু আব্দুল হাকাম (রহঃ) ... নুয়ায়ম মুজমির (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আবূ হুরায়রা (রাঃ)-এর পেছনে সালাত আদায় করি। তিনি প্রথমে পড়লেন বিসমিল্লাহির রাহমানির রহিম। এরপর সূরা ফাতিহা পাঠ করলেন, যখন তিনি غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلاَ الضَّالِّينَ এ পর্যন্ত পৌছলেন তখন 'আমীন, বললেন, তারপরে সকল লোক বলল,’আমীন’। যখনই তিনি সিজদা করতেন তখন বলতেন, ‘আল্লাহু আকবার’ আর যখন তিনি বসা থেকে দাড়াতেন তখনও আল্লাহু আকবার বলতেন। তিনি সালাম বললেন, যার হাতে আমার প্রাণ, তার শপথ! আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মত সালাত আদায় করে তোমাদের দেখালাম।
906। মুহাম্মদ ইবনু আলী ইবনু হাসান ইবনু শাকীক (রহঃ) ... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। তখন বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম-এর কিরাআত আমরা শুনতে পাইনি। আর আবূ বকর এবং উমর (রাঃ)-ও আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করেছেন। তাঁদের থেকেও আমরা তা শুনিনি।
907। আবদুল্লাহ ইবনু সায়ীদ আবূ সায়ীদ আশাজ (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আামি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবূ বকর, উমর ও উসমান (রাঃ)-এর পেছনে সালাত আদায় করেছি। তাদের কাউকে বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম- উচ্চস্বরে পড়তে শুনিনি।
908। ইসমাঈল ইবনু মাসউদ (রহঃ) ... ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল (রাঃ) আমাদের কাউকে বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম- পড়তে শুনলে বলতেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পেছনে সালাত আদায় করেছি এবং আবূ বকর ও উমর (রাঃ)-এর পেছনেও। তাঁদের কাউকেও বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম- পড়তে শুনিনি।
909। কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি কোন সালাত আদায় করে আর তাতে সূরা ফাতিহা না পড়ে তা অসস্পূর্ণ, তা অসস্পূর্ণ, তা অসস্পূর্ণ, পূর্ণ হয় না। তখন আমি বললাম, হে আবূ হুরায়রা! আমি অনেক সময় ইমামের পেছনে সালাত আদায় করে থাকি, তিনি আমার বাহু টান দিয়ে বললেন, হে পারসিক (ইরানী); তুমি তা মনে মনে পড়বে। কেননা আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, আল্লাহ তা’আলা বলেন, আমি আমার ও আমার বান্দার মধ্যে সালাত আধা আধি ভাগ করেছি। অতএব, এর অর্ধেক আমার জন্য আর অর্ধেক বান্দার জন্য। আর আমার বান্দার জন্য রয়েছে যা সে চায়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা পড়। বান্দা যখন বলে, "আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন" তখন আল্লাহ তাআলা বলেন, আমার বান্দা আমার প্রশংসা করল। আর যখন বান্দা বলে, "আর রহমানির রাহীম" তখন আল্লাহ তা'আলা বলেন, আমার বান্দা আমার স্তুতি বর্ণনা করল। আর বান্দা যখন বলে "মালিকি ইয়াওমিদ্দীন" তখন আল্লাহ তা’আলা বলেন, আমার বান্দা আমার মর্যাদা বর্ণনা করল। আর বান্দা যখন বলে, "ইয়্যাকা না'বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাস্তায়ীন" তখন আল্লাহ তা’আলা বলেন, এই আয়াতটি আমার ও আমার বান্দার মধ্যে। আর আমার বান্দার জন্য তা-ই রয়েছে, যা-সে চায়। বান্দা বলে, "ইহ্দিনাস সিরাতাল মুস্তাকীম, সিরাতাল লাযীনা আন আমতা আলাইহিম, গাইরিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়ালাদ দ্বা-ল্লীন" (তখন আল্লাহ তায়ালা বলেন) এসবই আমার বান্দার জন্য। আর আমার বান্দার জন্য রয়েছে যা সে চায়।
910। মুহাম্মাদ ইবনু মানসূর (রহঃ) ... উবাদাহ ইবনু সামিত (রাঃ) সুত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি সালাতে সূরা ফাতিহা পড়েনি তার সালাত হয়নি।
911। সুওয়ায়দ ইবনু নাসর (রহঃ) ... উবাদা ইবনু সামিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যাক্তি সূরা ফাতিহা এর পর অধিক (অন্য সূরা) পড়লনা, তার সালাত হয়নি।
912। মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু মূবারক মুখাররামী (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মধ্যে ছিলেন আর তাঁর কাছে ছিলেন জিবরীল (আলাইহিস সালাম)। হঠাৎ জিবরীল (আলাইহিস সালাম) তাঁর মাথার উপর এক বিকট আওয়াজ শুনলেন তখন তিনি আকাশের দিকে চোখ তুলে দেখলেন যে, আকাশের একটি দরজা খুলে দেয়া হয়েছে, যা কখনও খোলা হয়নি। তিনি বলেন, এরপর দরজা দিয়ে একজন ফিরিশতা অবর্তীর্ণ হয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বললেন, আপনি এমন দু’টি নূরের সুসংবাদ গ্রহণ করুন, যা শুধু আপনাকেই দান করা হয়েছে। আপনার পূর্বে অন্য কোন নবী কে তা দান করা হয়নি। একটি হলো, সূরা ফাতিহা এবং অন্যটি হলো, সূরা বাকারার শেষাংশ। এতদুভয়ের একটি অক্ষর পাঠ করলেও (তার প্রতিদান) তা আপনাকে দেওয়া হবে।
913। ইসমাঈল ইবনু মাসউদ (রহঃ) ... আবূ সাঈদ ইবনু মুআল্লা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (রহঃ) তার কাছ দিয়ে যাওয়ার কালে তাকে ডাকলেন, তিনি তখন সালাত আদায় করছিলেন। তিনি বলেন আমি সালাত শেষ করে তাঁর কাছে আসলে তিনি বললেন, আমার আহবানে সাড়া দিতে তোমাকে কিসে নিষেধ করল? তিনি বললেন, আমি সালাত আদায় করছিলাম। তিনি বললেন, আল্লাহ তা’আলা কি বলেননি, হে মুমিনগণ! রাসুল যখন তোমাদের এমন কিছুর দিকে আহ্বান করে যা তোমাদের প্রাণবন্ত করে, তখন আল্লাহ ও রাসুলের আহবানে সাড়া দিবে। (৮ঃ ২৪)। মসজিদ থেকে বের হওয়ার পর আমি কি তোমাকে সর্বোৎকৃষ্ট সূরা শিক্ষা দিব না? তিনি বললেন, তারপর তিনি বের হতে গেলে আমি বললাম ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনার কথা? তিনি বললেনঃ আল হামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামীন অর্থাৎ সূরা ফাতিহা, ঐ সাত আয়াত যা বারবার পড়া হয়ে থাকে, যা আমাকে দান করা হয়েছে এবং মহান কুরআন।
914। হুসায়ন ইবনু হুরায়ছ (রহঃ) ... উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাআলা সূরা ফাতিহার মত তাওরাত অথবা ইঞ্জিলে কোন আয়াত নাযিল করেননি। তা সাত আয়াত, যা বারবার পাঠ করা হয়ে থাকে। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন এ আমার ও আমার বান্দার মধ্যে ভাগ করা। আর আমার বান্দার জন্য রয়েছে, সে যা চায়।
915। মুহাম্মদ ইবনু কুদামা (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দান করা হয়েছে কুরআন মজীদের সাতটি বড় সূরা। তিনি অত্র হাদীছে 'সাব আম মিনাল মাছানী' বলতে সাতটি বড় সূরার কথা বুঝিয়েছেন।
916। আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে “সাব আম মিনাল মাছানী” আয়াতের সম্বন্ধে বর্ণিত। তিনি বলেন, তা কুরআন মজীদের সাতটি বড় সূরা।
917। মুহাম্মাদ ইবনু মুছান্না (রহঃ) ... ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যোহরের সালাত আদায় করলেন। এক ব্যক্তি তার পেছনে “সাব্বি হিসমা রাব্বিকাল আলা” পাঠ করল। তিনি যখন সালাত শেয করলেন, তখন বললেন, “সাব্বি হিসমা রাব্বিকাল আলা” কে পাঠ করল? এক ব্যক্তি বলল, আমি পড়েছি। তখন তিনি বললেন, আমি জানতাম, তোমাদের কেউ কিরাআতে আমার সাথে ঝামেলা সৃষ্টি করবে।
918। কুতায়বা (রহঃ) ... ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার যোহর অথবা আসরের সালাত আদায় করলেন। আর এক ব্যক্তি তাঁর পেছনে কুরআন পড়ছিল। তিনি সালাত শেষ করে বললেন, তোমাদের মধ্যে কে “সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আ’লা”- পাঠ করল? উপস্থিত লোকদের মধ্যে এক ব্যক্তি বলল, আমি পড়েছি। আর আমি তা দ্বারা কল্যাণ ব্যতিত কিছু কামনা করিনি। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি বুঝলাম তোমাদের মাঝে কেউ কিরাআতে আমার সাথে ঝামেলা সৃষ্টি করেছ।
919। কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উচ্চ শব্দে কুরআন পাঠ করে সালাত সমাপ্ত করে বললেন, তোমাদের কেউ কি এখন আমার সাথে কুরআন পাঠ করেছে? এক ব্যক্তি বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! হ্যাঁ। তিনি বললেন, আমি বলছি কুরআন তিলাওয়াতে আমার সাথে কেন ঝামেলা সৃষ্টি করা হয়? বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সকল সালাতে কুরআন উচ্চ স্বরে পড়তেন সে সকল সালাতে লোকেরা কুরআন পড়া থেকে বিরত থাকলো, যখন তারা এ ব্যাপারটি শুনতে পেলো।
920। হিশাম ইবনু আম্মার (রহঃ) ... উবাদাহ ইবনু সামিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে এক সালাত আদায় করলেন, যাতে উচ্চস্বরে কুরআন পাঠ করা হয়। তারপর তিনি বললেন, যখন আমি উচ্চস্বরে কুরআন পড়ি তখন সূরা ফাতিহা ব্যতীত তোমাদের কেউ যেন কিছু না পড়ে।
921। জারুদ ইবনু মু’আয তিরমিযী (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ইমাম নিযুক্ত করা হয়েছে তাঁর অনুসরণ করার জন্য। অতএব, যখন সে তাকবীর বলে তখন তোমরাও তাকবীর বল, আর যখন সে কুরআন পড়ে তখন তোমরা চুপ থাকবে, আর যখন তিনি বলেন, "সামি আল্লাহু লিমান হামিদাহ" তখন তোমরা বলবে, “রাব্বানা লাকাল হামদ”।
922। মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু মুবারক (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইমাম তো এজন্য যে, তার অনুসরণ করা হবে। অতএব, যখন ইমাম তাকবীর বলে তখন তোমরাও তাকবীর বল। আর যখন ইমাম কুরআন পড়ে তখন তোমরা চুপ থাক। আবূ আবদুর রহমান বলেন, মুখাররিমী বলতেন, তিনি অর্থাৎ মুহাম্মদ ইবনু সা'দ আনসারী নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী।
923। হারুন ইবনু আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... আবুদ দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে প্রশ্ন করা হলো, প্রত্যেক সালাতে কি কিরাআত আছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। এক আনসার ব্যক্তি বলল তা ওয়াজিব। তখন তিনি আমার দিকে লক্ষ করলেন, আমি সকলের মধ্যে তাঁর নিকটবর্তী ছিলাম। তিনি বললেন, ইমাম যখন দলের ইমামতি করেন, তখন আমি মনে করি, ইমামই তাদের জন্য যথেষ্ট। আবূ আবদুর রহমান (রহঃ) বলেন, এটা “রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বলা ভুল। এ হলো আবূদ দারদারই কথা।
924। ইউসূফ ইবনু ঈসা ও মাহমুদ ইবনু গায়লান (রহঃ) ... ইবনু আবূ আওফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যাক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে আরয করল, আমি কুরআন পাঠ করতে পারি না। অতএব, আমাকে এমন কিছু শিক্ষা দিন যা কুরআন পাঠের পরিবর্তে যথেষ্ট হয়। তিনি বললেনঃ তুমি বল, سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ وَلاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ
925। আমর ইবনু উসমান (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তিলাওয়াতকারী আমীন বলে, তখন তোমরাও আমীন বলবে। কেননা, ফেরেশতাগণও আমীন বলে থাকেন। অতএব, যার আমীন বলা ফেরেশতার আমীন বলার মত হবে, আল্লাহ পাক তার পূর্বের পাপ মার্জনা করবেন।
926। মুহাম্মাদ ইবনু মনসূর (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) সুত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন তিলাওয়াতকারী (ইমাম) আমীন বলে তখন তোমরাও আমীন বল। কেননা, ফেরেশতাগণও আমীন বলে থাকেন। আর যার আমীন বলা ফেরেশতাদের আমীন বলার মত হয় তার পূর্ববর্তী পাপ মার্জনা করে দেওয়া হয়।
927। ইসমাঈল ইবনু মাসউদ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "গাইরুল মাগদুবি আলাইহিম ওয়ালাদ দ্বাল্লীন" বলেন তখন তোমরাও আমীন বল। কেননা ফেরেশতাগণও আমীন বলে থাকে। আর ইমামও আমীন বলেন। যার আমীন বলা ফেরেশতার আমীন বলার মত হব, তার পুর্বের পাপ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।
928। কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন ইমাম আমীন বলে তখন তোমরাও আমীন বল। যার আমীন বলা ফেরেশতাদের আমীন বলার মত হয় তার পরবর্তী পাপ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।
929। কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন ইমাম “গাইরিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়ালাদ-দ্বা-ল্লীন” বলেন, তখন তোমরা আমীন বলবে। কেননা যার কথা ফেরেশতাগণের কথার মত হবে, তার পূর্বের পাপ মার্জনা করা হবে।
930। কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ আমীন বলে, আর ফেরেশতারাও আকাশে আমীন বলেন, তখন যদি একটির সাথে অপরটির মিল হয় তবে তার পূর্বের পাপ ক্ষমা করা হয়।
931। কুতায়বা (রহঃ) ... রিফা'আ ইবনু রাফি (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পেছনে সালাত অদায় করেছি। তখন আমি হাঁচি দিলাম এবং বললাম- الْحَمْدُ لِلَّهِ حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ مُبَارَكًا عَلَيْهِ كَمَا يُحِبُّ رَبُّنَا وَيَرْضَى রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত সমাপ্ত করে ফিরে বললেন কে সালাতে কথা বলেছে? তখনি কেউ উত্তর দিল না। তিনি দ্বিতীয়বার বললেন, কে সালাতে কথা বলেছ? তখন রিফাআ ইবনু রাফি ইবনু আফরা বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি বলেছি। তিনি বললেন, তুমি কি বলেছ? তিনি বললেন, আমি বলেছি- الْحَمْدُ لِلَّهِ حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ مُبَارَكًا عَلَيْهِ كَمَا يُحِبُّ رَبُّنَا وَيَرْضَى তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যার হাতে আমার প্রাণ তাঁর শপথ! ত্রিশ জনের বেশী ফেরেশতা তা নিয়ে তাড়াহুড়ো করছে, কে তা নিয়ে উপরে উঠবে।
932। আবদুল হামিদ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) ... ওয়ায়িল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পেছনে সালাত আদায় করেছি। যখন তিনি তাকবীর বললেন, তাঁর কর্ণদ্বয়ের নিম্ন পর্যন্ত উভয় হাত তুললেন, যখন তিনি -গাইরিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়ালাদ দ্বাল্লীন- বললেন, তখন আমীন বললেন। রাবী বলেন, আমি তাঁর পেছনে থেকে তা শ্রবণ করলাম। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুনলেন, এক ব্যক্তি বলছে الْحَمْدُ لِلَّهِ حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে সালাম ফিরালেন তখন বললেন, সালাতে কে কথা বলেছে? তখন ঐ ব্যাক্তি বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি বলেছি। আর আমি এদ্বারা অন্য কিছু ইচ্ছা করিনি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, বারজন ফেরেশতা তা দ্রুত আরশে তুলে নিয়ে গেল এবং তাতে কোন বাধা সৃষ্টি হয়নি।
933। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হারিস ইবনু হিশাম (রাঃ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনার নিকট কী রূপে ওহী আসে? তিনি বললেন, ঘণ্টার শব্দের মত। তারপর তা শেষ হলে দেখা যায় আমি তা মুখস্থ করে ফেলেছি। এটাই আমার নিকট অত্যন্ত কঠিন বোধ হয়। আর কোন কোন সময় আমার নিকট (ওহীর ফেরেশতা) মানুষের বেশে আগমন করে তা আমাকে বলে যান।
934। মুহাম্মদ ইবনু সালামা ও হারিসা ইবনু মিসকীন (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হারিস ইবনু হিশাম (রাঃ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনার নিকট ওহী কী রূপে আসে? তিনি বললেন, কোন কোন সময় আমার নিকট ওহী আসে ঘন্টা ধ্বনির ন্যায়, আর এটই আমার উপর কষ্টদায়ক হয়। আর আমার থেকে তা সমাপ্ত হলে দেখা যায় আমি তা মুখস্থ করে ফেলেছি, যা বলা হয়েছে। আর কোন কোন সময় ফেরেশতা মানুষের বেশ ধরে আমার কাছে এসে কথাবার্তা বলেন। তখন তিনি যা বলেন, তা আমি মুখস্থ করে নেই। আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি প্রচণ্ড শীতের দিনে তাঁর উপর ওহী অবর্তীর্ণ হতে এবং যখন তা শেষ হতো তখন তাঁর ললাট থেকে ঘাম দরদর করে পড়তে দেখেছি।
935। কুতায়বা (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে আল্লাহর বানী لاَ تُحَرِّكْ بِهِ لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهِ * إِنَّ عَلَيْنَا جَمْعَهُ وَقُرْآنَهُ সম্পর্কে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওহী নাযিল হওয়ার সময় কষ্ট অনুভব করতেন। আর তিনি তার ওষ্ঠদ্বয় নাড়তেন। আল্লাহ তা’আলা বললেন, তা তাড়াতাড়ি মুখস্থ করার জন্য আপনি আপনার জিহ্বা তার সাথে সঞ্চালন করবেন না। কেননা, তা আপনার অন্তরে সংরক্ষণ এবং পাঠ করাবার দায়িত্ব আমারই। পরে তিনি বলেন,فَإِذَا قَرَأْنَاهُ فَاتَّبِعْ قُرْآنَهُ সুতরাং যখন আমি তা পাঠ করি, তখন আপনি সেই পাঠের অনুসরণ করুন। তারপর মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করুন ও চুপ থাকুন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট যখন জিবরীল (আলাইহিস সালাম) আগমন করতেন তখন তিনি শুনতে থাকতেন। যখন চলে যেতেন তখন তিনি ঐরূপই পাঠ করতেন যেরূপ তাঁকে পাঠ করানো হতো।
936। নাসর ইবনু আলী (রহঃ) ... ইবনু মাখরামা (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) বলেন, আমি হিশাম ইবনু হাকীম ইবনু হিযাম (রাঃ) কে সূরা ফুরকান পড়তে শুনেছি। তিনি তাতে এমন কতগুলো অক্ষর পাঠ করলেন যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে পাঠ করান নি। আমি বললাম, আপনাকে এ সূরা কে পড়িয়েছেন? তিনি বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আমি বললাম, আপনি মিথ্যা বলছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপে পড়ান নি। আমি তাকে তার হাত ধরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে নিয়ে এসে বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি আমাকে সূরা ফূরকান পড়িয়েছেন। আমি এ ব্যক্তিকে তা পড়তে শুনলাম এমন কতগুলো অক্ষর তাতে তিনি পড়লেন যা আপনি আমাকে পড়ান নি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে হিশাম! তুমি পড়ে শুনাও তো; তিনি ঐরূপ পড়লেন যেরূপ পূর্বে পড়েছিলেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এরূপই নাযিল হয়েছে। এরপর বললেন, হে উমর! তুমি পড়। তখন আমি পড়লাম, আবারও তিনি বললেন, এরূপই নাযিল হয়েছে। অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কূরআন সাত লূগাতে* (উপভাষা) অবতীর্ন হয়েছে।
937। মুহাম্মদ ইবনু সালামা ও হারিস ইবনু মিসকীন (রহঃ) ... আবদুর রহমান ইবনু আবদুল কারী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, আমি হিশাম ইবনু হাকীমকে সূরা ফুরকান পড়তে শুনলাম, আমি যেভাবে পড়ি সেভাবে না পড়ে অন্যভাবে। আর আমাকে তা পড়িয়েছেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আমি তো তাকে আক্রমণ করতে উদ্যত হয়েছিলাম। অতঃপর আমি তাকে ছেড়ে দিলাম। তিনি পড়া বন্ধ করলেন না। আমি তার চাঁদর দ্বারা পেঁছিয়ে তাকে নিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে উপস্থিত হয়ে বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি একে সূরা ফুরকান পড়তে শুনলাম যেভাবে আপনি আমাকে সূরা ফুরকান পড়িয়েছেন তাছাড়া অন্যভাবে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন, পড়। আমি তাকে যেভাবে পড়তে শুনেছি তিনি সেভাবেই পড়লেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এরূপই নাযিল হয়েছে। এরপর আমাকে বললেন, পড়। আমি পাঠ করার পর বললেন, এরূপই নাযিল হয়েছে এ কুরআন অবর্তীর্ণ হয়েছে সাত লূগাতে (উপ-ভাষায়) অতএব, তোমরা তা পাঠ কর যেরূপ তোমাদের পক্ষে সহজ হয়।
938। ইউনুস ইবনু আবদূল আলা (রহঃ) ... উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবদ্দশায় হিশাম ইবনু হাকীমকে সূরা ফুরকান পড়তে শুনেছি। আমি তাঁর কিরাআত লক্ষ্য করে শুনলাম। শুনলাম, তিনি তা পড়লেন এমন কতগুলো অক্ষরসহ যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে পড়ান নি। সালাতের মধ্যেই আমি তাঁকে আক্রমণ করতে মনস্থ করলাম। কিন্তু আমি তাঁর সালাম ফিরান পর্যন্ত অপেক্ষা করলাম। যখন তিনি সালাম ফিরালেন আমি তাকে তাঁর চাঁদর দ্বারা বেঁধে জিজ্ঞাসা করলাম আপনাকে এ সূরাটি কে শিক্ষা দিয়েছে? যা আপনাকে পড়তে শুনলাম। তিনি বললেন, আমাকে তা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিক্ষা দিয়েছেন। আমি বললাম, আপনি মিথ্যা বলছেন। আল্লাহর শপথ! রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ই আমাকে তা পড়িয়েছেন, যা আমি আপনাকে পড়তে শুনেছি। আমি তাঁকে টেনে নিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গিয়ে বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি তাঁকে সূরা ফুরকান পড়তে শুনেছি এমন কতগুলো অক্ষর সহ যা আপনি আমাকে পড়ান নি। অথচ আপনই আমাকে তা শিক্ষা দিয়েছেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে উমর! তাকে ছেড়ে দাও। হে হিশাম! পড়। তখন তিনি ঐ কিরাআত পড়লেন যা আমি তাকে পড়তে শুনেছি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এরূপই নাযিল হয়েছে। তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে উমর! পড়। তখন আমি ঐরূপই পড়লাম, তিনি আমাকে যেরূপ পড়তে শিখিয়েছেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এরূপই অবর্তীর্ণ হয়েছে, অতএব রাসুলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ কুরআন নাযিল হয়েছে সাত উপ-ভাষায়। অতএব, তোমাদের যেরূপ সহজ হয় সেরূপ পড়।
939। মুহাম্মাদ ইবনু বাশাশার (রহঃ) ... উবাই ইবনু কা'ব (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনূ গিফারের কুয়ার নিকট ছিলেন। এমন সময় তার নিকট জিবরীল (আলাইহিস সালাম) আগমন করলেন এবং বললেন, আল্লাহ তা'আলা আপনাকে আদেশ করেছেন, আপনি যেন আপনার উম্মাতকে এক উপভাষায় কুরআন পড়ান। তিনি বললেন, আমি আল্লাহ তা'আলার নিকট তাঁর ক্ষমা কামনা করি, আমার উম্মত এর ক্ষমতা রাখবে না। তারপর তাঁর নিকট দ্বিতীয়বার আগমন করে বললেন, আল্লাহ তা'আলা আপনাকে আদেশ করেছেন, আপনি যেন আপনার উম্মাতকে দু'হরফ বা উপভাষায় কুরআন পড়ান। তিনি বললেন, আমি আল্লাহ তা’আলার নিকট তার ক্ষমা ভিক্ষা করি। আমার উম্মত এরও ক্ষমতা রাখে না। তারপর জিবরীল তার নিকট তৃতীয়বার এসে বললেন, আল্লাহ তা’আলা আপনাকে আদেশ করছেন, আপনি যেন আপনার উম্মাতকে তিন হরফ বা উপভাষায় কুরআন পড়ান। তিনি বললেন, আমি আল্লাহ তাআলার নিকট তাঁর ক্ষমা ভিক্ষা করি। আমার উম্মত এরও ক্ষমতা রাখবে না। এরপর জিবরীল তাঁর নিকট চতুর্থবার আগমন করে বললেন, আল্লাহ তায়ালা আপনাকে আদেশ করছেন, আপনি যেন আপনার উম্মাতকে সাত হরফ বা উপভাষায় কুরআন পড়ান। যে লুগাতেই পড়ুক না কেন তা-ই সঠিক হবে। আবু আবদুর রহমান বলেন, এ হাদিস বর্ণনায় হাকামের বিরোধিতা করা হয়েছে। মনসুর ইবনু মু'তামির এটি মুজাহিদ সূত্রে উবাইদ ইবনু উমাইর হতে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
940। আমর ইবনু মানসূর (রহঃ) ... উবাই ইবনু কা'ব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে একটি সূরা পড়ালেন। আমি মসজিদে বসা থাকতেই শুনতে পেলাম, এক ব্যক্তি তা আমার কিরাআতের বিপরীত পাঠ করছে। আমি তাকে বললাম, তোমাকে এ সূরা কে শিক্ষা দিয়েছে? সে ব্যাক্তি বলল, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আমি বললাম, আমার কাছ থেকে পৃথক হবে না, যতক্ষণ না আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে যাই। আমি তার কাছে এসে বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি আমাকে এই সূরাটা যেভাবে শিক্ষা দিয়েছেন। ঐ ব্যক্তি তা উল্টোভাবে পাঠ করেছে। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে উবাই! তুমি পড়; আমি পড়লাম। তখন আমাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি ঠিকই পাঠ করেছ। অতঃপর ঐ ব্যক্তিকে বললেন, তুমি পড়। সে আমার পড়ার অন্য রূপ পড়ল। তাকেও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমিও ঠিকই পড়েছ। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে উবাই! ব্যাপার এই যে, কুরআন সাত প্রকার উপভাষায় (লুগাত) নাযিল হয়েছে। তার প্রত্যেক প্রকার রোগ মুক্তি এবং উদ্দেশ্য অনুধাবনে যথেষ্ট। আবূ আবদুর রহমান (রহঃ) বলেন, মা’কাল ইবনু উবায়দুল্লাহ তত সবল নন।
941। ইয়াকুব ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... উবাই (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার ইসলাম গ্রহণের পর থেকে আমার অন্তরে কোন প্রকার সন্দেহ উপস্থিত হয়নি। কিন্তু আমি একটি আয়াত পাঠ করলাম, আর তা অন্য একজন আমার কিরাআতের বিপরীত পাঠ করল। আমি বললাম আমাকে এটা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিক্ষা দিয়েছেন। ঐ ব্যক্তিও বলল, আমাকেও এটা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিক্ষা দিয়েছেন। তারপর আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খেদমতে উপস্থিত হয়ে বললাম, হে আল্লাহর নবী! আপনি আমাকে অমুক অমুক আয়াত পাঠ করিয়েছিলেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আর সে ব্যক্তি বলল, আপনি কি আমাকে অমুক অমুক আয়াত পাঠ করাননি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। জিবরীল (আলাইহিস সালাম) আমার ডান পাশে এবং মীকাঈল (আলাইহিস সালাম) আমার বাম পাশে উপবেশন করলেন। তখন জিবরীল (আলাইহিস সালাম) বললেন, আপনি কুরআন এক উপভাষায় পাঠ করুন আর মীকাঈল (আলাইহিস সালাম) বললেন, তা আরও বাড়িয়ে দিন, তা আরও বাড়িয়ে দিন। এমনিভাবে তা সাত উপভাষায় পৌছলো। আর প্রত্যেক উপভাষায়ই রোগ মুক্তি এবং উদ্দেশ্য অনুধাবনে যথেষ্ট।
942। কুতায়বা (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কুরআন ওয়ালার দৃষ্টান্ত এক বাঁধা উটের মালিকের ন্যায়। যখন সে তার যত্ন করে ততক্ষন ধরে রাখে। আর যখন তাকে ছেড়ে দেয় তখন তা চলে যায়।
943। ইমরান ইবনু মুসা (রহঃ) ... আবদুল্লাহ (রাঃ) সুত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, কত মন্দ পরিণতি ঐব্যক্তির জন্য, যে বলে আমি অমুক অমুক আয়াত ভুলে গিয়েছি। বরং তাকে ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। কুরআন স্মরণ রেখ। কেননা তা মানুষের অন্তর থেকে চতুষ্পদ জন্তুর তার রশি থেকে পালাবার চেয়েও তাড়াতাড়ি অন্তর্হিত হয়ে পড়ে।
944। ইমরান ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সুন্নত দু- রাকাআতের প্রথম রাকাআতে সূরা বাকারার قُولُوا آمَنَّا بِاللَّهِ وَمَا أُنْزِلَ إِلَيْنَا এই আয়াতখানার শেষ পর্যন্ত পাঠ করতেন। আর দ্বিতীয় রাকআতে آمَنَّا بِاللَّهِ وَاشْهَدْ بِأَنَّا مُسْلِمُونَ আয়াতখানা পাঠ করতেন। (সূরা আলে ইমরান)
945। আবদুর রহমান ইবনু ইবরাহীম দুহায়ম (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সূন্নত দু' রাকআতে قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ (সূরা কাফিরুন) এবং قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ (সূরা ইখলাস) পাঠ করেছেন।
946। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখলাম, তিনি ফজরের (সূন্নত) দু’রাকআত আদায় করতেন এবং উক্ত দু’রাকআত এত তাড়াতাড়ি আদায় করতেন যে, আমি বলতাম- তিনি কি ঐ রাক'আতদ্বয়ে সূরা ফাতিহা পড়েছেন?
947। মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জনৈক সাহাবী সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত যে, তিনি ফজরের সালাত আদায় করলেন এবং তাতে সূরা রুম পড়লেন। এতে তাঁর কিরাআত এলোমেলো হয়ে গেল। যখন তিনি সালাত শেষ করলেন তখন বললেন, ঐ সকল লোকের কি হল, তারা আমাদের সাথে সালাত আদায় করে অথচ উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করে না। তারাই আমাদের কিরাআত এলোমেলো করে ফেলে।
948। মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আবূ বারযা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাতে ষাট থেকে একশত আয়াত পাঠ করতেন।
949। ইমরান ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) ... উম্মে হিশাম বিনত হারিসা ইবনু নুমান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পেছনে সালাতে শরীক হয়ে সূরা কাফ মুখস্থ করেছি। তিনি ঐ সালাতে তা পাঠ করতেন।
950। ইসমাঈল ইবনু মাসউদ ও মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল আলা (রহঃ) ... যিয়াদ ইবনু ইলাকা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার চাচাকে বলতে শুনেছি, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ফজরের সালাত আদায় করেছি। তিনি এর এক রাক'আতে وَالنَّخْلَ بَاسِقَاتٍ لَهَا طَلْعٌ نَضِيدٌ পাঠ করলেন। (হাদীসের অন্যতম রাবী শু'বা বলেন) তারপর বাজারে ভিড়ের মধ্যে তার দেখা হলে তিনি বললেন, সূরা কাফ পড়েছিলেন।
951। মুহাম্মাদ ইবনু আবান বালখী (রহঃ) ... আমর ইবনু হুরায়ছ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে ফজরের সালাতে إِذَا الشَّمْسُ كُوِّرَتْ পাঠ করতে শুনেছি।
952। মুসা ইবনু হিযাম তিরমিযী ও হারুন ইবনু আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... উকবা ইবনু আমির (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মু’আওয়াযাতায়ন সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলেন। উকবা বলেন, তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত সূরাদ্বয় দ্বারা আমাদের ফজরের সালাতের ইমামতি করলেন।
953। কুতায়বা (রহঃ) ... উকবা ইবনু আমির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পেছনে পেছনে চললাম। তখন তিনি ছিলেন আরোহী। আমি তার পায়ে হাত রেখে বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাকে সূরা হুদ এবং সূরা ইউসুফ পড়িয়ে দিন। তিনি বললেন, সূরা নাস ও সূরা ফালাক অপেক্ষা আল্লাহর নিকট অধিক মর্যাদাশীল কোন কিছুই পাঠ করবে না।
954। মুহাম্মদ কুদামাহ (রহঃ) ... উকবা ইবনু আমির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আজ রাতে আমার উপর কয়েকটি আয়াত নাযিল হয়েছে। তার ন্যায় আর কোন আয়াতই দেখা যায়নি। তা হল সূরা ফালাক এবং সূরা নাস।
955। মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমুআর দিন ফজরের সালাতেالم * تَنْزِيلُ এবংهَلْ أَتَى পাঠ করতেন।
956। কুতায়বা ও আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমুআর দিন ফজরের সালাতে تَنْزِيلُ السَّجْدَةَ এবংهَلْ أَتَى عَلَى الإِنْسَانِ সূরা পাঠ করতেন।
957। ইবরাহীম ইবনু হাসান মিকসামী (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূরা সোয়াদে সিজদা করেছেন এবং বলেছেন, দাউদ (আলাইহিস সালাম) তওবা করার জন্য এ সিজদা করেছেন, আর আমরা শোকর আদায়ের জন্য সিজদা করি, [যে আল্লাহ তা'আলা দাউদ (আলাইহিস সালাম) এর দোয়া কবুল করেছেন।
958। আবদুল মালিক ইবনু আবদুল হামীদ ইবনু মাইমুন ইবনু মিহরান (রহঃ) ... মুত্তালিব ইবনু আবূ ওদাআ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় সূরা নাজম পাঠ করে সিজদা করলেন। তখন তার নিকট যারা ছিলেন তারাও সিজদা করলেন, আমি তখন আমার মাথা উঠিয়ে রাখলাম এবং সিজদা করতে অস্বীকার করলাম। আর তখন (আবূ ওদাআর পূত্র) মুত্তালিব ইসলাম গ্রহণ করেনি।
959। ইসমাঈল ইবনু মাসউদ (রহঃ) ... আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূরা নাজম পাঠ করে সিজদা করলেন।
960। আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ... আতা ইবনু ইয়াসার (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি যায়দ ইবনু ছাবিত (রাঃ) কে ইমামের সাথে কিরাআত পড়া সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তিনি বললেন, ইমামের সাথে কোন সালাতে কিরাআত নেই। আর বলেন, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে ওয়ান নাজমি পড়েছে। কিন্তু তিনি সিজদা করেননি।
961। কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ সালমা ইবনু আবদুর রহমান থেকে বর্ণিত যে, আবূ হুরায়রা (রাঃ) তাদের নিয়েإِذَا السَّمَاءُ انْشَقَّتْ পাঠ করলেন। আর তাতে সিজদা করলেন। সিজদা শেষ করে তাদের সংবাদ দিলেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এতে সিজদা করেছেন।
962। মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম إِذَا السَّمَاءُ انْشَقَّتْ সূরায় সিজদা করেছেন।
963। মুহাম্মাদ ইবনু মানসূর (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে إِذَا السَّمَاءُ انْشَقَّتْ এবং اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ সূরায় সিজদা করেছি।
964। কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে।
965। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ বকর (রাঃ) এবং উমর (রাঃ) إِذَا السَّمَاءُ انْشَقَّتْ সূরায় সিজদা করেছেন এবং তাঁদের থেকে যিনি উত্তম তিনিও তা করেছেন।
966। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ বকর, উমর এবং তাদের চেয়ে উত্তম ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম إِذَا السَّمَاءُ انْشَقَّتْ এবং اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ সূরাদ্বয়ে সিজদা করেছেন।
967। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে إِذَا السَّمَاءُ انْشَقَّتْ এবং اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ সূরাদ্বয়ে সিজদা করেছি।
968। হুমায়দ ইবনু মাসআদা (রহঃ) ... আবূ রাফি (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ হুরায়রা (রাঃ)-এর পেছনে ইশার সালাত আদায় করেছি। তিনি সূরা إِذَا السَّمَاءُ انْشَقَّتْ পাঠ করে তাতে সিজদা করলেন। যখন তিনি সালাত শেষ করলেন, আমি বললাম, হে আবূ হুরায়রা! আমরা তো এ সিজদা করতাম না। তিনি বললেন, এ সিজদা করেছেন আবূল কাসেম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তখন আমি তার পেছনে ছিলাম। অতএব, আমি সর্বদা এ সিজদা করতে থাকব, যতদিন না আমি আবূল কাসেম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে মিলিত হব।
969। মুহাম্মাদ ইবনু কুদামা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, প্রত্যেক সালাতেই কিরাআত রয়েছে। অতএব যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের শুনিয়ে পড়তেন আমরা তা তোমাদের শুনিয়ে পড়বো, আর তিনি যা আমাদের থেকে চুপে-চুপে পড়েছেন। আমরা তা তোমাদের থেকে চুপে-চুপে পড়ব।
970। মুহাম্মদ ইবনু আবদুল আলা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, প্রত্যেক সালাতে কিরাআত রয়েছে। অতএব, যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের জনিয়ে পড়তেন তা আমরা তোমাদের শুনিয়ে পড়বো। আর যা তিনি আমাদের থেকে নীরবে পড়েছেন আমরাও তা তোমাদের থেকে নীরবে পাঠ করব।
971। মুহাম্মদ ইবনু ইবরাহীম ইবনু সুদরান (রহঃ) ... বারা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পেছনে জোহরের সালাত আদায় করতাম। তখন আমরা সূরা লোকমান এবং যারিয়াতের কয়েক আয়াতের পর তা থেকে একটি আয়াত শুনতাম।
972। মুহাম্মদ ইবনু শুজা মারওয়াযী (রহঃ) ... আবূ বকর ইবনু নযর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা ‘তফ’- নামক স্থানে আনাস (রাঃ)-এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি তাদের নিয়ে জোহরের সালাত আদায় করলেন। সালাত শেষ করে তিনি বললেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে জোহরের সালাত আদায় করেছি। তিনি দু’রাকআতে আমাদের জন্য সাব্বিহিসমা- রব্বিকাল আলা এবং হাল আতাকা হাদীসুল গাশিয়াহ পাঠ করলেন।
973। আমর ইবনু উসমান (রহঃ) ... আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জোহরের সালাত আরম্ভ হল। এরপর কোন ব্যক্তি বাকী এর দিকে গমন করে তার প্রয়োজন শেষ করত। তারপর উযু করে এসে দেখতে পেত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথম রাকআতে রয়েছেন। তা এত দীর্ঘ করতেন।
974। ইয়াহইয়া ইবনু দুরুসত (রহঃ) ... আবূ কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে জোহরের সালাত আদায় করতেন। তিনি এর প্রথম দু’রাকাআতে সূরা পাঠ করতেন এবং আমাদের এক আধ আয়াত শুনাতেন, তিনি যোহর সালাতের (প্রথম) রাকাআত এবং প্রথম রাকআত অর্থাৎ ফজর সালাতের প্রথম রাকাআত লম্বা করতেন (দ্বিতীয় রাকাআতের তুলনায়)।
975। ইমরান ইবনু ইয়াযীদ ইবনু খালিদ মুসলিম (রহঃ) ... আবূ কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জোহর এবং আসরের প্রথম দু'রাকাআতে সূরা ফাতিহা এবং দুটি সূরা পাঠ করতেন। আর কোন কোন সময় আমাদের আয়াত শুনাতেন। আর তিনি প্রথম রাকআত লম্বা করতেন।
976। উবায়দুল্লাহ ইবনু সা’য়ীদ (রহঃ) ... আবূ কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে জোহরের সালাত আদায় করতেন। প্রথম দু-রাকআতে আমাদের কখনও কখনও কিরাআত শুনাতেন। তিনি প্রথম রাকআত লম্বা করতেন আর দ্বিতীয় রাকআত সংক্ষিপ্ত করতেন। তিনি ফজরের সালাতেও এরূপ করতেন। প্রথম রাকআত দীর্ঘ করতেন এবং দ্বিতীয় রাকআত সংক্ষিপ্ত করতেন। আর তিনি আসরের সালাতের প্রথম দু'রাকআত আমাদের সাথে নিয়ে এমনভাবে আদায় করতেন যে, প্রথম রাকআত লম্বা করতেন এবং দ্বিতীয় রাকআত সংক্ষিপ্ত করতেন।
977। মুহাম্মাদ ইবনু মুছান্না (রহঃ) ... আবূ কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যোহর এবং আসরের সালাতের প্রথম দু রাকাআতে সূরা ফাতিহা এবং অন্য দুটি সূরা আর শেষের দু' রাকাআতে সূরা ফাতিহা পাঠ করতেন। আর কোন সময় আমাদের কিরাআত শুনাতেন। আর তিনি জোহরের প্রথম রাকাআত লম্বা করতেন।
978। কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জোহর এবং আসরের প্রথম দুরাকআতে সূরা ফাতিহা এবং অন্য দুটি সূরা পাঠ করতেন। আর কোন কোন সময় আমাদের আয়াত শুনাতেন। তিনি জোহরের প্রথম রাকআত লম্বা করতেন আর দ্বিতীয় রাকআত সংক্ষিপ্ত করতেন। তিনি এরূপ করতেন ফজরের সালাতেও।
979। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... জাবির ইবনু সামুরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যোহব এবং আসরের সালাতে “ওয়াস্সামায়ি যাতিল বুরুজ” এবং “ওয়াস্সামায়ি ওয়াত তারিক”- এবং এতদুভয়ের মত সূরা পাঠ করতেন।
980। ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ... জাবির ইবনু সামুরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জোহর সালাতে “ওয়াল লাইলি ইযা ইয়াগশা” এবং আসর সালাতে এর মত সূরা এবং ফজর সালাতে এর চেয়েও লম্বা সূরা পাঠ করতেন।
981। কুতায়বা (রহঃ) ... যায়িদ ইবনু আসলাম (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-এর নিকট পৌছলাম। তিনি বললেন, তোমরা সালাত আদায় করেছ কি? আমরা বললাম- হ্যাঁ। তিনি বললেন, হে বালিকা! আমার জন্য উযুর পানি আন। আমি অন্য কোন ইমামের পেছনে সালাত আদায় করিনি, যার সালাত তোমাদের এই ইমাম (উমর ইবনু আব্দুরল আযীয) এর চেয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাতের সাথে অধিক সাদৃশ্য পূর্ণ। যায়দ বলেন, উমর ইবনু আবদুল আযীয (রহঃ) রুকু এবং সিজদা পূর্ণ আদায় করতেন। আর দাঁড়ানো এবং বসায় অপেক্ষাকৃত কম দেরী করতেন।
982। হারুন ইবনু আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাতের সাথে অমুকের চেয়ে সামঞ্জস্যপূর্ণ সালাত আর কারও পেছনে আদায় করিনি। সূলাইমান (রাঃ) বলেন, তিনি জোহরের প্রথম দুরাকআত লম্বা করতেন, শেষের দু'রাকআত সংক্ষিপ্ত করতেন। আর আসরের সালাত সংক্ষিপ্ত করতেন। আর মাগরিবের সালাত কিসারে মুফাস্সাল দ্বারা আদায় করতেন। আর ইশার সালাত তিলাওয়াতে মুফাস্সাল দ্বারা আদায় করতেন। আর ভোরের সালাত অথাৎ ফজর তিওয়ালে মুফাস্সাল দ্বারা আদায় করতেন।
983। উবায়দুল্লাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এমন কোন ব্যক্তির পেছনে সালাত আদায় করিনি যার সালাত অমুক ব্যাক্তির সালাতের চেয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাতের সাথে সঠিক সামঞ্জস্যপূর্ণ। অতএব, আমরা ঐ ব্যক্তির পেছনে সালাত-আদায় করলাম। তিনি জোহরের প্রথম দু'রাকআত লম্বা করতেন, পরের দু'রাক’আত সংক্ষিপ্ত করে আদায় করতেন। আসরের সালাতও সংক্ষিপ্ত করে আদায় করতেন। আর মাগরিবে কিসারে মুফাস্সাল পড়তেন। আর ইশার সালাত আদায় করতেন “ওয়াশ্ শামসি ওয়াদূহাহা এবং এর মত সূরা দ্বারা। আর ফজরের সালাত আদায় করতেন দুটি লম্বা সূরা দ্বারা।
984। মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল আলা (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক আনসারী ব্যাক্ত দু'টি উট নিয়ে মু’আয (রাঃ)-এর নিকট গেলেন। তখন তিনি মাগরিবের সালাত আদায় করছিলেন। তিনি সূরা বাকারা আরম্ভ করলেন। ঐ ব্যক্তি পৃথকভাবে সালাত আদায় করে চলে গেল। একথা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট পৌছলে তিনি বললেন, হে মু’আয তুমি কি (লোকদের) ফিতনা ও কষ্টে ফেলতে চাও? হে মু’আয তুমি কি (লোকদের) ফিতনা ও কষ্টে ফেলতে চাও? তুমি কেন “সাব্বিহিসমা রাব্বিকা অথবা ওয়াশ্শামসি ওয়াদূহাহা” অথবা এ জাতীয় সূরা পাঠ করলে না?
985। আমর ইবনু মানসূর (রহঃ) ... উম্মুল ফযল বিনত হারিস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে তার গৃহে মাগরিবের সালাত আদায় করলেন। তিনি তাতে সূরা ওয়াল মুরসালাত পড়লেন। এরপর তিনি লোকদের নিয়ে তাঁর ইন্তিকালের পুর্বে আর কোন সালাত আদায় করেননি।
986। কুতায়বা (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) তাঁর মাতার সুত্রে বর্ণনা করেন, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মাগরিবের সালাতে সূরা “ওয়াল মুরসালাত”- পাঠ করতে শুনেছেন।
987। কুতায়বা (রহঃ) ... জুবায়র ইবনু মুতয়িম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মাগরিবের সালাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি সূরা তূর পড়তে শুনেছি।
988। মুহাম্মদ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু ইয়াযিদ (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু উতবা ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাগরিবের সালাতে সূরা হা-মীম দুখান পাঠ করেছেন।
989। মুহাম্মাদ ইবনু সালামা (রহঃ) ... যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি মারওয়ানকে বললেন, হে আবূ আবদুল মালিক! আপনি কি মাগরিবের সালাতে قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ এবং إِنَّا أَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ পড়ে থাকেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ! আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখেছি তিনি দীর্ঘ সুরার মধ্যে (সূরা আনআম এবং সূরা আরাফ দীর্ঘ) বড় সুরা আলিফ লাম মীম সোয়াদ (সূরা আরাফ) পড়েছেন।
990। মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল আলা (রহঃ) ... মারওয়ান ইবনু হাকাম থেকে বর্ণিত যে, যায়িদ ইবনু সাবিত (রাঃ) বললেন, আমার কি হলো আমি দেখছি আপনি মাগরিবের সালাতে ছোট ছোট সূরা পড়লেন। অথচ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখেছি তিনি তাতে দু'টি দীর্ঘ সূরার মধ্য থেকে যে সুরা অধিক দীর্ঘ তা পাঠ করতেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, ঐ দীর্ঘ সূরা কি? তিনি বললেন, তা হলো সূরা আ’রাফ।
991। আমর ইবনু উসমান (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাগরিবের সালাতে সূরা আ’রাফ পাঠ করতেন। আর তিনি তা দু' রাকআতে ভাগ করলেন।
992। ফযল ইবনু সাহল (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি বিশ বার লক্ষ্য করেছি যে, তিনি মাগরিবের পর দু'রাকআতে এবং ফজরের পূর্বের (সূন্নত) দু’রাকআতে, 'কূল ইয়া আইয়্যুহাল কাফিরুন' এবং 'কুল হুয়াল্লাহু আহাদ' পাঠ করেছেন।
993। সুলায়মান ইবনু দাঊদ (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে যুদ্ধের নেতা করে পাঠালেন। তিনি তাঁর সাথীদের নিয়ে সালাতে কুরআন পাঠ করতেন আর “কুল হুয়াল্লাহু আহাদ” দ্বারা শেষ করতেন। সঙ্গী লোকেরা ফিরে এসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এ ঘটনা উল্লেখ করলেন। তিনি বললেন, তোমরা তাকে জিজ্ঞাসা কর, সে কেন এরূপ করেছে? তারা তাঁকে প্রশ্ন করলে, তিনি বললেন, কেননা, তা দয়াময়ের গুন। তাই আমি তা পড়া পছন্দ করি। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা তাকে সংবাদ দাও যে, আল্লাহ তা’আলা তাকে ভালবাসেন।
994। কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে আসলাম। তিনি শুনলেন যে, এক ব্যক্তি পড়ছে (বল, তিনই আল্লাহ, একক ও অদ্বিতীয় তিনি কারও মুখাপেক্ষী নন, সকলেই তাঁর মুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেয়া হয়নি এবং তাঁর সমতূল্য কেউই নেই।) তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, অবধারিত হয়ে গিয়েছে। আমি তাকে প্রশ্ন করলাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! কী অবধারিত হয়ে গিয়েছে? তিনি বললেন, জান্নাত।
995। কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি অপর এক ব্যক্তিকে “কুল হুয়াল্লাহু আহাদ”- পড়তে শুনলেন, সে তা বারবার পড়ছিল। সকাল বেলা সে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত হয়ে ঘটনা বর্ণনা করলে তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ! তা কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমতূল্য।
996। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... আবূ আয়্যুব (রহঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন, “কুল হুয়াল্লাহু আহাদ” কুরআনের এক তৃতীয়াংশ। আবু আবদুর রহমান বলেন, এ সানাদের চেয়ে কম দীর্ঘ সানাদ আমার জানা নেই।
997। মুহাম্মাদ ইবনু কুদামা (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মু’আয (রাঃ) দাঁড়িয়ে ইশার সালাত আদায় করলেন এবং তা দীর্ঘায়িত করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে মু’আয; তুমি কি (লোকদের) ফিৎনা ও বিপদে ফেলবে? তুমি কি (লোকদের) ফিৎনা ও কষ্টে ফেলবে তুমি সাব্বিহিস্মা রাব্বিকা, ওয়াদ্দূহা এবং ইযাস্সামা উনফাতারাত সূরা পাঠ কর না কেন?
998। কুতায়বা (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মু’আয ইবনু জাবাল (রাঃ) তাঁর সাথীদের নিয়ে ইশার সালাত আদায় করেছিলেন। তিনি সালাতে দীর্ঘ করলে আমাদের মধ্যে এক ব্যক্তি চলে গেল। মুআয (রাঃ) কে এ সংবাদ দেয়া হলে তিনি বললেন, সে ব্যক্তি মুনাফিক। ঐ ব্যক্তির নিকট এ সংবাদ পোঁছলে সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গেল এবং মু’আয (রাঃ) যা বলেছিলেন তা তাঁকে অবহিত করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন, হে মু’আয! তুমি কি (লোকদের মধ্যে) ফিৎনা সৃষ্টি করতে চাও? যখন তুমি লোকদের ইমামতি করবে তখন ওয়াশ্শামসি ওয়াদুহাহা ও সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আলা, ওয়াল লাইলি ইযা ইয়াগশা এবং ইকরা বিস্মি রাব্বিকা পাঠ করবে।
999। মুহাম্মাদ ইবনু আলী ইবনু হাসান ইবনু শাফীক (রহঃ) ... বুরায়দা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইশার সালাতে ওয়াশ্শামসি ওয়াদূহাহা বা এ জাতীয় অন্যান্য সূরা পাঠ করতেন।
1000। কুতায়বা (রহঃ) ... বারা ইবনু আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ইশার সালাত আদায় করেছি। তিনি তাতে ওয়াত তীন ওয়ায যায়তুন পড়েছেন।
1001। ইসমাঈল ইবনু মাসউদ (রহঃ) ... বারা ইবনু আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সফরে ছিলেন। তিনি ইশার প্রথম রাক'আতে ওয়াতীনি ওয়ায যায়তূন পড়লেন।
1002। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... জাবির ইবনু সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। উমর (রাঃ) সা’দ (রাঃ)-কে বললেন লোক প্রত্যেক কাজে তোমার বিপক্ষে অভিযোগ করে। এমনকি সালাত সম্পর্কেও। তখন সা'দ বললেন, আমি প্রথম দু'রাকআত লম্বা করি আর শেষের দু'রাকআত সংক্ষিপ্ত করি। আর আমি যে সকল সালাত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ইকতিদা করে আদায় করেছি সে সকল সালাতে তাঁর অনুকরণ করতে ক্রটি করি না। তিনি বললেন, তোমার প্রতি আমার ধারণাও তাই।
1003। হাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল ইবনু ইবরাহীম ইবনু উলাইয়্যা আবূল হাসান (রহঃ) ... জাবির ইবনু সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কুফার কিছু লোক উমর (রাঃ)-এর নিকট সা'দ (রাঃ) এর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনল। তারা বলল, আল্লাহর। শপথ! তিনি সালাত উত্তমরূপে আদায় করেন না। তিনি (সা'দ) বললেন, আমি তো তাদের নিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাতের ন্যায় সালাত আদায় করে থাকি। তা থেকে কোন রকম কম করিনা। আমি প্রথম দু'রাকআত লম্বা করি আর শেষের দু'রাকআত সংক্ষিপ্ত করি। তিনি (উমর) বললেন, তোমার প্রতি আমার ধারনা তাই।
1004। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, পরস্পর সামঞ্জস্যপূর্ণ যেসব সূরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঠ করতেন আমি সেসব সূরার সাথে পরিচিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দশ রাকআতে অনুরূপ বিশটি সূরা পাঠ করতেন। তারপর তিনি আলকামার হাত ধরে ভিতরে প্রবেশ করলেন। পরে আলকামা আমাদের নিকট বেরিয়ে এলেন। আমরা তাঁকে প্রশ্ন করলাম, তিনি আমাদের সে সকল সূরার সংবাদ দিলেন।
1005। ইসমাঈল ইবনু মাসউদ (রহঃ) ... আমর ইবনু মুররা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ ওয়ায়িলকে বলতে শুনেছি, আব্দুল্লাহর নিকট এক ব্যক্তি বলল, আমি এক রাক'আতে মুফাসসাল পড়েছি। তিনি বললেন, কবিতার ন্যায় তাড়াতাড়ি পড়া? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরস্পর সামঞ্জস্যপূর্ণ যে সূরা গুলো মিলিয়ে পাঠ করতেন তা আমি জানি। তারপর তিনি মুফাসসালের বিশটি সূরার উল্লেখ করলেন এক রাকআতে দু'সূরা করে।
1006। আমর ইবনু মানসূর (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তাঁর নিকট এক ব্যক্তি এসে বলল, আমি এ রাত্রে এক রাক'আতে মুফাসসাল পাঠ করেছি। তিনি বললেন, তাড়াতাড়ি কবিতা আবৃতির মত? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরস্পর সামঞ্জস্যপূর্ণ মূফাসসালের বিশটি সূরা পাঠ করতেন। যেগুলোর আরম্ভ হয়েছে হা-মীম দিয়ে।
1007। মুহাম্মদ ইবনু আলী (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু সায়িব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মক্কা বিজয়ের দিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হলাম। তিনি কা’বার সম্মুখে সালাত আদায় করলেন। তিনি তার পাদুকাদ্বয় খুলে তার বাম পাশে রাখলেন। তারপর তিনি সূরা মু'মিনুন আরম্ভ করলেন। যখন তিনি মুসা বা ঈসা (আলাইহিস সালাম) এর ঘটনায় পৌছলেন, তাঁর কাশির উদ্রেক হলে তিনি রুকু করলেন।
1008। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... হুযায়ফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি এক রাত্রিতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পাশে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করেছেন। তিনি কিরাআত পড়তে পড়তে যখন আযাবের আয়াতে পৌছতেন, তখন থেমে যেতেন এবং দোয়া করতেন। আর যখন রহমতের আয়াত পাঠ করতেন তখনো থেমে যেতেন এবং দুয়া করতেন। আর রুকুতে বলতেন, সুবহানা রাব্বিয়াল আজীম, আর সিজদায় বলতেন, সূবহানা রাব্বিয়াল আলা।
1009। মুহাম্মাদ ইবনু আদম (রহঃ) ... হুযায়ফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক রাকআতে সূরা বাকারা, আল ইমরান এবং নিসা পাঠ করতেন। তিনি যখনই রহমতের আয়াতে পৌছতেন প্রার্থনা করতেন। আর আযাবের আয়াতে পৌছলে আশ্রয় ভিক্ষা করতেন।
1010। নূহ ইবনু হাবীব (রহঃ) ... আবূ যর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভোর পর্যন্ত একটি আয়াত দিয়েই সালাত আদায় করলেন। আর সে আয়াতখানা হলো মহান আল্লাহর বাণীঃ إِنْ تُعَذِّبْهُمْ فَإِنَّهُمْ عِبَادُكَ وَإِنْ تَغْفِرْ لَهُمْ فَإِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ
1011। আহমদ ইবনু মানী ও ইয়াকুব ইবনু ইবরাহীম দাওরাকী (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। وَلاَ تَجْهَرْ بِصَلاَتِكَ وَلاَ تُخَافِتْ بِهَا আয়াত সম্বন্ধে তিনি বলেন, যখন এ আয়াতগুলা নাযিল হয় তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় চুপে চুপে কুরআন পড়তেন। তিনি যখন তার সাথীদের নিয়ে সালাত আদায় করতেন, তখন তাঁর আওয়াজ বুলন্দ করতেন। ইবনু মানী বলেন, তখন উচ্চ স্বরে কুরআন পড়তেন। আর মুশরিকরা যখন তার শব্দ শুনত তখন তারা কুরআনকে, কুরআন অবতরণ কারীকে এবং যিনি এ কুরআন নিয়ে এসেছেন তাকে গালি দিত। তখন আল্লাহ তায়ালা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন, আপনার সালাতকে অর্থাৎ সালাতের কিরাআতকে উচ্চ করবেন না। কেননা, মুশরিকরা তা শুনে কুরআনকে গালি দিবে। আর আপনার সাথীদের থেকে তা চুপেচুপেও পড়বেন না। তাহলে তারা শুনতে পাবে না, এতভয়ের মধ্য পন্থা অবলম্বন করুন।
1012। মুহাম্মদ ইবনু কুদামাহ (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উচ্চস্বরে কুরআন পাঠ করতেন। আর মুশরিকরা যখন তার আওয়াজ শ্রবণ করত তখন কুরআনকে এবং যিনি তা আনয়ন করেছেন তাকে গালি দিত। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিম্নস্বরে কুরআন পড়তে আরম্ভ করলেন যা সাহাবায়ে কিরাম শুনতে পেতেন না। তখন আল্লাহ তাআলা নাযিল করলেন আপনি আপনার সালাত উচ্চস্বরে পড়বেন না, আবার একেবারে নীরবেও পড়বেন না, বরং এতদুভয়ের মধ্যপন্থা অবলম্বন করুন।
1013। ইয়াকুব ইবনু ইবরাহীম দাওরাকী (রহঃ) ... উম্মা হানী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কুরআন পাঠ শ্রবণ করতাম আমার ঘরের উপর থেকে।
1014। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস (রাঃ) কে প্রশ্ন করলাম, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কুরআন পাঠ কিরূপ ছিল? তিনি বললেন, তিনি তাঁর স্বর লম্বা করে পড়তেন।
1015। আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ... বারা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা সুন্দর সূরে কুরআন পাঠ করবে।
1016। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... বারা ইবনু আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা সুন্দর সূরে কুরআন পাঠ করবে। ইবনু আওসাজাহ বলেন, আমি "কুরআন পাঠ সুন্দর কর" এ কথাটি ভুলে গিয়েছিলাম। দাহহাক ইবনু মযাহিম আমাকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।
1017। মুহাম্মদ ইবনু যুনবূর মক্কী (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা কোন জিনিসকে (এমন মহব্বত ও গুরুত্বের সাথে) শোনেন না যেমন তিনি কুরআন শোনেন ঐ নবীর মুখে যিনি সুললিত কণ্ঠের অধিকারী ও সূললিত কণ্ঠে উচ্চঃস্বরে আল্লাহর কালাম পাঠ করেন।
1018। কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা কোন জিনিসকে ঐরূপ শোনেন না যেরূপ তিনি কুরআন শোনেন, সূললিত কণ্ঠের অধিকারী নবীর মুখে যিনি সুললিত কণ্ঠে কুরআন পাঠ করেন।
1019। সুলায়মান ইবনু দাঊদ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ মুসার কুরআন পাঠ শ্রবণ করে বললেন, তাকে দাউদ (আলাইহিস সালাম) এর সূলালত কণ্ঠস্বর দান করা হয়েছে।
1020। আবদুল জব্বার ইবনু আলা ইবনু আব্দুর জাব্বার (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ মুসা (রাঃ) এর কুরআন পাঠ শ্রবণ করে বললেন, তাঁকে দাঊদ (আলাইহিস সালাম) এর সুন্দর স্বর দান করা হয়েছে।
1021। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ মুসা (রাঃ) এর কুরআন পাঠ শ্রবণ করে বললেন, একে দাউদ (আলাইহিস সালাম) এর সুন্দর স্বর দান করা হয়েছে।
1022। কুতায়বা (রহঃ) ... ইয়া'লা ইবনু মামলাক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি উম্মে সালামা (রাঃ) কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কুরআন পাঠ এবং তাঁর সালাত সমন্ধে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন, তোমাদের তার সালাতের সাথে কি সম্বন্ধ? তারপর তিনি তাঁর কুরআন পাঠের বর্ণনা দিলেনঃ তা ছিল এমন কুরআন পাঠ যার শব্দ শব্দ স্পষ্ট ও পরিস্কারভাবে বোঝা যেত।
1023। সুয়ায়দ ইবনু নাসর (রহঃ) ... আবূ সালামা ইবনু আবদুর রহমান থেকে বর্ণিত যে, যখন মারওয়ান আবূ হুরায়রা (রাঃ) কে মদীনার প্রতিনিধি করে পাঠালেন, তখন তিনি ফরয সালাতে দাঁড়াবার সময় তাকবীর বলতেন। এরপর যখন রুকু করতেন তাকবীর কলতেন, অতঃপর থেকে যখন তাঁর মাথা তুলতেন তখন বলতেন, سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ আবার যখন সিজদার জন্য নিচু হতেন তখন তাকবির বললেন। অতঃপর যখন তাশাহুদ পড়ে দ্বিতীয় রাক'আত শেষ করে উঠতেন তখন তাকবীর বলতেন এভাবে তিনি সালাত শেষ করতেন। যখন সালাত শেষ করে সালাম ফিরাতেন তখন মসজিদের লোকদের প্রতি মুখ করতেন এবং বলতেন, আল্লাহর শপথ! তোমাদের চেয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাতের সঙ্গে আমার সালাত অধিক সামঞ্জস্যশীল।
1024। আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ... মালিক ইবনু হুয়ায়রিছ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখেছি, তিনি যখন তাকবীর বলতেন, আর যখন রুকু করতেন এবং রুকু থেকে মাথা তুলতেন তখন স্বীয় উভয় হাত উঠাতেন যা তাঁর কানের নিম্নভাগ (লতি) পর্যন্ত পৌছত।
1025। কুতায়বা (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখেছি যখন তিনি সালাত আরম্ভ করতেন স্বীয় উভয় হাত তুলতেন কাঁধ পর্যন্ত। এ রকম হাত তুলতেন যখন যখন রুকু করতেন এবং রুকু থেকে মাথা উঠাতেন।
1026। সুয়ায়দ ইবনু নাসর (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি তোমাদের রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত সমন্ধে সংবাদ দেব না? রাবী বলেন, এরপর সালাতে দাঁড়িয়ে প্রথমবার তার উভয় হাত উঠালেন। তারপর আর উঠালেন না।
1027। কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি রুকু এবং সিজদায় তার পিঠ সোজা রাখে না তার সালাত পূর্ণ হয় না।
1028। সুযায়দ ইবনু নাসর (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা রুকু এবং সিজদা ঠিক ঠাক ভাবে করো। আর তোমাদের কেউ যেন কুকুরের ন্যায় উভয় হাত (জমিনে) না বিছিয়ে দেয়।
উৎস: Sunan an Nasai
WEBREATH · 11:11
«Should I not be a thankful servant?» — Sahih al-Bukhari
Breath is one for all: everyone lives by it, whoever they are and whatever they believe. Every day at 11:11 local time people stop for sixty seconds, breathe, and thank GOD for the breath — each in their own words, each within themselves. In that minute we are One Breath.
WEBREATH — the Minute at 11:11, your own local time — we are One Breath