হাদিস
ফিরে যান

সুনানে নাসায়ী 10 · The Book of Leading the Prayer (Al-Imamah)

আপনার ভাষায় এখনো কোনো অনুবাদ নেই — ইংরেজি দেখাচ্ছে

777। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও হান্নাদ ইবনু সাররী (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ইন্তিকাল করলেন, আনসার সম্পদায় বললেন, আমাদের মধ্য থেকে একজন আমীর হবে আর তোমাদের মধ্য থেকে একজন আমীর হবে। তাঁদের নিকট উমর (রাঃ) এসে বললেনঃ তোমরা কি জান না যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বকর (রাঃ)-কে আদেশ করেছিলেন, লোকের ইমাম হয়ে সালাত আদায় করতে? অতএব তোমাদের মধ্যে কার মন খুশি হবে আবূ বকরের অগ্রগামী হতে? তাঁরা বললেন, নাউযু বিল্লাহ! আমরা আবূ বকরের অগ্রবর্তী হতে চাই না।

778। যিয়াদ ইবনু আইয়্যুব (রহঃ) ... আবূল আলিয়া বাররা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যিয়াদ বিলম্বে সালাত আদায় করল। তারপর ইবনু সামিত (রাঃ) আমার নিকট আসলে আমি তাঁর জন্য একখানা কুরসী পেতে দিলাম। তিনি তার উপর উপবেশন করলেন। আমি তার নিকট যিয়াদের কান্ড বর্ণনা করলাম- তিনি তার ওষ্ঠদ্বয় কামড়ে ধরলেন এবং আমার উরুদেশ চেপে ধরলেন এবং বললেনঃ আমি আবূ যর (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যেমন তুমি আমাকে জিজ্ঞাসা করলে। তিনিও আমার উষ্ঠদেশে হাত মেরেছিলেন যেমন আমি হাত মেরেছি তোমার উরুর উপর এবং বলেছিলেনঃ আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যেমন তুমি আমাকে জিজ্ঞাসা করলে। তারপর তিনি আমার উরুতে হাত মারলেন, যেমন আমি তোমার উরুতে হাত মেরেছি। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেনঃ সালাত যথাসময়ে আদায় করবে। যদি তাদের সাথে সালাত পাও, তবে আদায় করে নিবে কিন্তু একথা বলো না যে আমি সালাত আদায় করে ফেলেছি এখন আর আদায় করবো না।

779। উবায়দুল্লাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হয়ত তোমরা এমন লোকের সাক্ষাত পাবে যারা অসময়ে সালাত আদায় করবে। যদি তোমরা তাদের পাও, তাহলে সময়মত সালাত আদায় করবে এবং তাদের সাথে সালাত আদায় করবে এবং তা নফল ধরে নেবে।

780। কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দলের ইমামতি করবে ঐ ব্যাক্তি যে তাদের মধ্যে আল্লাহর কিতাব অধিক ভাল পাঠ করে। যদি তারা সকলেই কিরাআতে সমপর্যায়ভুক্ত হয়, তাহলে তাদের মধ্যে যে পূর্বে হিজরত করেছে। যদি তারা সকলেই হিজরতে সমপর্যায়ের হয়, তবে তাদের মধ্যে যে সুন্নাহ সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত। যদি তারা সুন্নাহতেও যদি সমপর্যাযের হয়, তাহলে যার বয়স অধিক, সে ব্যক্তি। আর তুমি কোন ব্যক্তির কর্তূতের স্থানে ইমামতি করবে না। আর তুমি তার আসনে উপবেশন করবে না, হ্যাঁ, যদি তিনি তোমাকে অনুমতি দেন।

781। হাজিব ইবনু সুলায়মান মানবিজী (রহঃ) ... মালিক ইবনু হুয়াইরিস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সময় আমি এবং আমার এক চাচাত ভাই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এলাম। অন্য এক সময় বলেছেন, আমি এবং আমার এক সাথী রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এলে তিনি বললেনঃ যখন তোমরা সফর করবে, তখন তোমরা আযান দিবে এবং ইকামত বলবে, আর তোমাদের ইমামতি করবে, তোমাদের মধ্যে যে বয়সে বড়।

782। উবায়দুল্লাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আবূ সাঈদ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন তিন ব্যাক্তি একত্র হবে তখন তাদের একজন ইমামতি করবে আর তাদের মধ্যে ইমামতের অধিক হকদার সেই- যে বেশি কুরআন জানে।

783। ইবরাহীম ইবনু মুহাম্মাদ তায়মী (রহঃ) ... আবূ মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যাক্তির কর্তৃত্বের স্থানে অন্য কেউ তার ইমাম হবে না। অথবা তার বসার স্থানেও বসা যাবে না। হ্যাঁ, তার অনুমতি পেলে ভিন্ন কথা।

784। কুতায়বা (রহঃ) ... সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট সংবাদ পৌঁছল যে, বনূ আমর ইবনু আউফ-এর মধ্যে কোন বিরোধ দেখা দিয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু লোকসহ তাদের মধ্যে মীমাংসা করার জন্য বের হলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে কাজে আটকা পড়লেন। ইত্যবসরে যোহরের সময় হলো। বিলাল (রাঃ) আবূ বকর (রাঃ)-এর নিকট এসে বললেনঃ হে আবূ বকর (রাঃ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো আটকা পড়েছেন, আর এদিকে সালাতের সময় হয়েছে। আপনি কি লোকদের ইমাম হবেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, যদি তুমি ইচ্ছা কর। তখন বিলাল (রাঃ) ইকামত বললেন আর আবূ বকর (রাঃ) সন্মুখে অগ্রসর হলেন। তিনি লোকদের নিয়ে সালাতের তাকবীর বললেন। এদিকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেঁটে এসে কাতারে দাঁড়ালেন। আর লোক (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপস্থিতির কথা জানানোর জন্য) হাত তালি দিতে লাগলেন। আবূ বকর (রাঃ) সালাতের মধ্যে এদিকে লক্ষ্য করছিলেন না। যখন লোক এগুলো বারবার করতে লাগলেন তখন তিনি লক্ষ্য করে দেখলেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপস্থিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ইঙ্গিতে সালাত আদায় করতে আদেশ করলেন। আবূ বকর (রাঃ) তার হস্তদ্বয় উত্তোলন করে আল্লাহর প্রশ্নংসা করলেন এবং পেছনে সরে আসলেন এবং সালাতের কাতারে দাঁড়িয়ে গেলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সম্মুখে অগ্রসর হয়ে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। তিনি সালাত শেয করে লোকদের দিকে ফিরে বললেনঃ হে লোক সকল! তোমাদের কি হলো যে সালাতে কোন সমস্যা দেখা দিলে তোমরা হাত তালি দিতে আরম্ভ কর? হাত তালি দেওয়া তো নারীদের জন্য। সালাতে কারো কোন সমস্যা দেখা দিলে সে যেন সূবহানাল্লাহ বলে। কেননা সুবহানাল্লাহ বলতে শুনলে সকলের তার দিকে লক্ষ্য করবে। (তারপর তিনি বললেনঃ) হে আবূ বকর! আমি যখন তোমার প্রতি ইঙ্গিত করলাম তখন সালাত আদায় করা থেকে তোমাকে কোনৃ বস্তু বিরত রাখলো? আবূ বকর (রাঃ) বললেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে আবূ কুহাফার পূত্রের ইমামতি করা শোভা পায় না।

785। আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বশেষ যে সালাত লোকের সাথে জামাআতে আদায় করেন তা ছিল আবূ বকর (রাঃ)-এর পেছনে। তিনি এক কাপড়ে সালাত আদায় করেছিলেন এবং বিপরীত দিক হতে কাঁধের ওপর কাপড় পরে বুকের ওপর এর দুপ্রান্তে গিট দিয়ে নিয়েছিলেন।

786। মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আবূ বকর (রাঃ) লোকের ইমাম হয়ে সালাত আদায় করলেন আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন তাঁর পেছনের কাতারে।

787। সুয়ায়দ ইবনু নাসর (রহঃ) ... মালিক ইবনু হুয়ায়রিস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, যখন তোমাদের কেউ কোন দলের সাক্ষাতের জন্য যায়, তখন সে যেন তাদের ইমামতি না করে।

788। হারুন ইবনু আব্দুল্লাহ (রহঃ) ও হারিস ইবনু মিসকীন (রহঃ) ... মাহমূদ ইবনু রবী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। ইতবান ইবনু মালিক (রাঃ) তার দলের লোকের ইমামতি করতেন আর তিনি ছিলেন অন্ধ। তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বললেনঃ অনেক সময় অন্ধকার বৃষ্টি এবং বন্যা হয়, আর আমি একজন অন্ধ ব্যক্তি। অতএব ইয়া রাসুলল্লাহ! আপনি আমার বাড়িতে একস্থানে একবার সালাত আদায় করবেন। আমি ঐ স্থানটি আমার সালাতের জন্য নির্ধারণ করে নেব। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বাড়িতে আগমন করে জিজ্ঞাসা করলেনঃ আমার কোথায় সালাত আদায় করা কে তুমি পছন্দ কর? তখন তিনি তাঁর ঘরের একটা জায়গা দেখিয়ে দিলেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে সালাত আদায় করলেন।

789। মুসা ইবনু আবদুর রহমান মাসরুকী (রহঃ) ... আমর ইবনু সালামা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের নিকট আরোহী যাত্রীগণ আসতেন আমরা তাঁদের নিকট কুরআন শিক্ষা করতাম। আমার পিতা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসলে তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যে যে কুরআন বেশি জানে- সেই ইমামত করবে। আমার পিতা এসে বললেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে যে বেশি কুরআন জানে, সেই ইমামত করবে। তারা দেখলেন, আমি কুরআন অধিক জানি, তখন আমিই তাদের ইমামত করতাম আর তখন আমি ছিলাম আট বছরের বালক।

790। আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ... আবূ কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন সালাতের আযান দেওয়া হয়, তখন তোমরা আমাকে না দেখা পর্যন্ত দাঁড়াবে না।

791। যিয়াদ ইবনু আইয়্যুব (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সালাতের ইকামত বলা হলো আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তির সাথে একান্তে কথা বলছিলেন। তারপর তিনি সালাতে দাঁড়ালেন না, যতক্ষন না লোকেরা ঘুমিয়ে পড়ল।

792। আমর ইবনু উসমান ইবনু সাঈদ ইবনু কাছীর (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সালাতের ইকামত বলা হলো, লোক তাদের কাতার ঠিক করল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হলেন যখন তিনি তার মুসাল্লায় দাড়ালেন, তখন তাঁর স্মরণ হলো, তিনি গোসল করেন নি। তখন তিনি লোকদের বললেন তোমরা তোমাদের জায়গায় থাক। তারপর তিনি ঘরে গেলেন। পরে বের হলেন তখন তাঁর মাথা থেকে পানি বেয়ে পড়ছিল। তিনি গোসল করলেন, তখন আমরা কাতারে ছিলাম।

793। আহমদ ইবনু আবদা (রহঃ) ... সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, বনূ আমর ইবনু আউফ-এর মধ্যে মারামারি হচ্ছিল। এ সংবাদ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট পৌছলো। তিনি যোহরের সালাত আদায় করে তাদের মধ্যে আপস করে দেবার জন্য তাদের নিকট গেলেন। তিনি বিলাল (রাঃ)-কে বললেন, বিলাল! যদি আসরের সালাতের সময় হয় আর আমি আসতে না পারি তবে আবূ বকর (রাঃ)-কে বলবে সে যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে। যখন সালাতের সময় উপস্থিত হলো তখন বিলাল (রাঃ) আযান দিলেন। তারপর ইকামত বললেন এবং আবূ বকর (রাঃ)-কে বললেন, সামনে যান। তখন আবূ বকর (রাঃ) সামনে গিয়ে সালাত আরম্ভ করলেন। তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমন করলেন এবং লোকদের কাতারের মধ্য দিয়ে এসে আবূ বকরের পেছনে দাঁড়ালেন। লোকজন হাততালি দিয়ে ইংগিত করলেন। আর আবূ বকর (রাঃ) সালাতে দাঁড়ালে কোনদিকে লক্ষ্য করতেন না। যখন তিনি দেখলেন তাদের হাততালি বন্ধ হচ্ছে না। তখন তিনি লক্ষ্য করলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিজ হাত দ্বারা ইঙ্গিত করলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সালাত চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিতের জন্য তিনি আল্লাহর শোকর আদায় করলেন। তারপর আবূ বকর (রাঃ) পেছনে সরে আসলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা দেখে সম্মুখে অগ্রসর হলেন এবং লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। যখন সালাত শেয করলেন তখন তিনি বললেনঃ হে আবূ বকর! আমি যখন তোমাকে ইঙ্গিত করলাম, তখন তুমি পিছে সরে আসা থেকে কেন বিরত থাকলে না? তিনি বললেনঃ আবূ ফুহাফার পুত্রের জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইমামত করা শোভা পায় না। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের বললেনঃ যখন তোমাদের কোন সমস্যা দেখা দেয়, তখন পূরুষরা সুবহানাল্লাহ বলবে আর মহিলারা হাততালি দিবে।

794। হান্নাদ ইবনু সাররী (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে (একদা) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোড়া থেকে ডানদিকে পড়ে গেলেন। লোক তাকে দেখতে (তার ঘরে) প্রবেশ করল। ইতিমধ্যে সালাতের সময় উপস্থিত হলে। তিনি সালাত শেষ করে বললেনঃ ইমাম বানানো হয় তার অনুসরণ করার জন্য। যখন তিনি রুকু করেন, তখন তোমরাও রুকু করবে। আর যখন মাথা উঠান, তোমরাও মাথা উঠাবে আর যখন সিজদা করেন, তোমরাও সিজদা করবে। আর যখন ইমাম "সামিআল্লাহু লিমান হামিদা" বলেন, তখন তোমরা বলবে "রাব্বানা লাকাল হামদ।

795। সূওয়ায়দ ইবনু নাসর (রহঃ) ... আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের মধ্যে পেছনে থাকার প্রবণতা লক্ষ্য করলেন। তিনি বললেনঃ তোমরা সামনে এগিয়ে আস এবং আমার সাথে ইকতিদা কর। আর তোমাদের পরবর্তীগণ তোমাদের ইকতিদা করবে। কোন সাম্প্রদায় সর্বদা পেছনে থাকলে পরিশেষে আল্লাহ তা-আলা তাদেরকে পিছিয়েই রাখেন।

797। মাহমূদ ইবনু গায়লান (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বকর (রাঃ)-কে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে আদেশ করলেন। তিনি বলেনঃ তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন আবূ বকর (রাঃ)-এর সামনে। তিনি বসে সালাত আদায় করলেন। আর আবূ বকর (রাঃ) লোকদের ইমাম হয়ে সালাত আদায় করলেন। লোকজন ছিল আবূ বকর (রাঃ)-এর পেছনে।

798। উবায়দুল্লাহ ইবনু ফাযালা ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের ইমাম হয়ে যোহরের সালাত আদায় করলেন তখন আবূ বকর (রাঃ) ছিলেন তার পেছনে। যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকবীর বলতেন তখন আবূ বকর (রাঃ)-ও আমাদেরকে শোনাবার জন্য তাকবীর বলতেন।

799। মুহাম্মাদ ইবনু উবায়দ কুফী (রহঃ) ... আসওয়াদ এবং আলকামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তারা বলেনঃ আমরা দ্বিপ্রহরে আবদুল্লাহ (রাঃ)-এর নিকট গেলাম। তিনি বললেন, অচিরেই এমন নেতা আবির্ভুত হবে যারা যথাসময়ে সালাত আদায় থেকে বিরত থাকবে। অতএব তোমরা যথা সময়ে সালাত আদায় করবে। তারপর তিনি আমার এবং তার (আলকামা) মধ্যে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করলেন এবং বললেনঃ আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এরূপ করতে দেখেছি।

800। আবদা ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ... বুরায়দা ইবনু সুফিয়ান ইবনু ফরওয়াতুল আসলামী তাঁর দাদার এক গোলাম থেকে বর্ণনা করেন। যার নাম ছিল মাসউদ। তিনি বলেন, আমার নিকট রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবূ বকর (রাঃ) আগমন করলেন। আবূ বকর (রাঃ) আমাকে বললেন, হে মাসউদ! আবূ তামীমের নিকট যাও অর্থাৎ তার মনিব-এর নিকট এবং তাদের বল সে যেন আমাদের জন্য উটের সওয়ারীর ব্যবস্থা করে আমাদের জন্য কিছু সামান ও একজন পথপ্রদর্শক পাঠায় যে আমাদের পথ দেখাবে। আমি আমার মালিকের নিকট গিয়ে এ সংবাদ দিলাম। তিনি আমার সাথে একটি উট ও এক মশক দুধ পাঠিয়ে দিলেন। আমি তাঁদের নিরিবিলি স্থানে নিয়ে গেলাম, এমতাবস্থায় সালাতের সময় হলো। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে দাঁড়ালেন আর আবূ বকর (রাঃ) তার ডানদিকে দাঁড়ালেন। আমি ইসলাম সমন্ধে জানতাম। আমিও তাদের সঙ্গে সালাতে শরীক হলাম। অতএব আমি তাদের পেছনে দাঁড়ালাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বকর (রাঃ)-এয় বক্ষে হাত রেখে তাকে পেছনে সরিয়ে দিলেন। আমরা তখন তার পেছনে দাঁড়ালাম। আবূ আবদূর রহমান বলেনঃ এই বুরায়দা হাদীস বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য নন।

801। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তার দাদী মুলায়কা (রাঃ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য খানা তৈরি করে তাকে দাওয়াত করলেন। তিনি তা খেলেন। তারপর বললেনঃ তোমরা উঠ। আমি তোমাদের নিয়ে সালাত আদায় করব। আনাস (রাঃ) বলেন অতএব আমি আমাদের একখানা চাটাই ছিল তা আনতে গেলাম। যা বহু ব্যবহারে কালো হয়ে গিয়েছিল- আমি তাতে পানি ছিটালাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে দাড়ালেন। আমি এবং ইয়াতীম তার পেছনে সারিবদ্ধ হয়ে দাড়ালাম আর বৃদ্ধা আমাদের পেছনে। তিনি আমাদের নিয়ে দুই রাক’আত সালাত আদায় করে (ঘরে) ফিরে গেলেন।

802। সুওয়ায়দ ইবনু নাসর (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট আসলেন আর তখন আমি, আমার মা, ইয়াতীম এবং আমার খালা উম্মে হারাম ব্যতীত আর কেউ ছিল না। তিনি বললেনঃ তোমরা দাঁড়াও, আমি তোমাদের নিয়ে সালাত আদায় করব। আনাস (রাঃ) বলেনঃ তখন (পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের মধ্য হতে কোন) সালাতের সময় ছিল না। তিনি বলেন, তিনি আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন (অর্থাৎ বরকতের জন্য নফল সালাত আদায় করলেন)।

803। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তার মা এবং খালা এক জায়গায় ছিলেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করলেন। আনাস (রাঃ) কে তাঁর ডানদিকে রাখলেন। আর তাঁর মা ও খালাকে উভয়ের পেছনে দাঁড় করালেন।

804। মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পাশে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করেছি। তখন আয়িশা (রাঃ) আমাদের পেছনে দাঁড়িয়ে আমাদের সঙ্গে সালাত আদায় করেন। আর আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পাশে দাঁড়িয়ে তাঁর সাথে সালাত আদায় করি।

805। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এবং আমার পরিবারের এক মহিলাকে সঙ্গে নিয়ে সালাত আদায় করেন। তিনি আমাকে দাঁড় করালেন তাঁর ডানদিকে আর মহিলা ছিলেন আমাদের পেছনে।

806। ইয়াকুব ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার খালা মায়মুনা (রাঃ)-এর নিকট রাত যাপন করলাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের সালাত আদায় করতে উঠলেন। আমি তাঁর বামদিকে দাঁড়ালাম। তিনি আমাকে বললেন এভাবে এবং আমার মাথা ধরে আমাকে তার ডানদিকে দাঁড় করালেন।

807। হান্নাদ ইবনু সাররী (রহঃ) ... আবূ মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে আমাদের স্কন্ধ স্পর্শ করে বলতেনঃ তোমরা কাতারে এলোমেলো হয়ে দাঁড়াবে না। তাহলে তোমাদের অন্তর এলোমেলো হয়ে যাবে। তোমাদের মধ্যে যারা জ্ঞানী ও বুদ্ধিমান তারা আমার কাছে দাঁড়াবে। তারপর যারা তাদের কাছাকাছি এবং তারপর যারা তাদের কাছাকাছি। আবূ মাসউদ বলেনঃ আজকাল তোমাদের মধ্যে প্রচণ্ড মত বিরোধ। আবূ আবদুর রহমান বলেনঃ আবূ মা’মারের নাম আবদুল্লাহ ইবনু সাখবারাহ।

808। মুহাম্মদ ইবনু উমর ইবনু আলী ইবনু মুকাদ্দাম (রহঃ) ... কায়স ইবনু আব্বাদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এক সময় মসজিদে প্রথম কাতারে ছিলাম, হঠাৎ এক ব্যক্তি আমার পেছন থেকে আমাকে টেনে পেছনে হটিয়ে আমার স্থানে দাঁড়ালেন। আল্লাহর শপথ! আমি আমার সালাতই ভুলে যেতে লাগলাম। যখন সেই ব্যক্তি সালাত সম্পন্ন করল, দেখা গেল তিনি ছিলেন উবাই ইবনু কাব (রাঃ)। তিনি আমাকে বললেনঃ হে যুবক! আল্লাহ যেন তোমাকে চিন্তিত না করেন, এটা আমাদের ওপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নির্দেশ, যেন আমরা তাঁর কাছে দাঁড়াই। তারপর তিনি কিবলার দিকে মুখ করে তিনবার বললেন, কাবার প্রভূর কসম! ‘আহলে উকাদ’ ধংস হয়েছে। তারপর বললেন, আল্লাহর কসম! আমি তাদের জন্য আক্ষেপ করি না, কিন্তু আমি আক্ষেপ করি ঐ সকল লোকের জন্য, যারা পথভ্রষ্ট করেছে। আমি বললাম, হে আবূ ইয়াকুব! আহলে উকাদ এর অর্থ কি? তিনি বললেন প্রশাসকগণ।

809। মুহাম্মদ ইবনু সালামা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। সালাতের ইকামত বলা হলে আমরা দাঁড়ালাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট বের হয়ে আসার পূর্বেই কাতার ঠিক করা হলো। তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট এসে মুসাল্লায় দাঁড়ালেন। তাকবীর বলার পূর্বে আমাদের দিকে ফিরে বললেন, তোমাদের নিজ নিজ স্থানে স্থির থাক। আমরা তার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে রইলাম, তিনি গোসল করে আমাদের নিকট আসছিলেন তখন তাঁর মাথা থেকে পানি ফোঁটা ফোঁটা করে পড়ছিল। তখন তিনি তাকবীর বললেন এবং সালাত আদায় করলেন।

810। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... নু’মান ইবনু বশীর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাতার সোজা করতেন যেমন তীর সোজা করা হয়। (একদা) তিনি দেখলেন এক ব্যক্তির বুক কাতারের বাইরে চলে গেছে তখন আমি তাকে বলতে শুনেছিঃ তোমরা তোমাদের কাতার সোজা কর তা না হলে আল্লাহ তা’আলা তোমাদের চেহারা পরিবর্তন করে দিবেন।

811। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... বারা ইবনু আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাতারের একদিক থেকে অন্যদিকে প্রবেশ করে আমাদের কাঁধ ও বুক স্পর্শ করে বলতেনঃ তোমরা কাতারে এলোমেলো হয়ে দাঁড়াবেনা। তাহলে তোমাদের অন্তরে অনৈক্য হবে। তিনি বলতেনঃ আল্লাহ প্রথম কাতারের প্রতি অনুগ্রহ করেন এবং তার ফেরেশতাগণও প্রথম কাতারের জন্য অনুগ্রহ প্রার্থনা করেন।

812। বিশর ইবনু খালিদ আসকারী (রহঃ) ... আবূ মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাঁধ স্পর্শ করে বলতেনঃ তোমরা সোজা হয়ে দাঁড়াও, বিচ্ছিন্ন হয়ো না, তাহলে তোমাদের অন্তরে অনৈক্য হবে। আর তোমাদের মধ্যে জ্ঞানীগণ আমার সাথে মিলিত হয়ে দাঁড়াবে, তারপর যারা তার নিকটবর্তী তারপর যারা তাদের নিকটবর্তী (এভাবে দাঁড়াবে)।

813। আবূ বকর ইবনু নাফি (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ তোমরা বরাবর হয়ে দাঁড়াও, বরাবর হয়ে দাঁড়াও, বরাবর হয়ে দাঁড়াও। যার হাতে আমার প্রাণ তাঁর শপথ! আমি তোমাদের দেখছি আমার পেছন থেকে যেভাবে আমি তোমাদের দেখছি আমার সম্মুখ থেকে।

814। আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একদা) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে দাঁড়ালেন, তখন তাকবীর বলার পূর্বে আমাদের দিকে মুখ করে বললেন, তোমরা তোমাদের কাতার ঠিক কর এবং পরস্পর মিশে দাঁড়াও। আমি তোমাদেরকে আমার পেছন থেকেও দেখে থাকি।

815। মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু মুবারক মুখাররামা (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা কাতারে পরস্পর মিশে দাঁড়াও। কাতার সমূহকে পরস্পর নিকটবর্তী রাখ এবং কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়াও। যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ তার শপথ! আমি শয়তানকে দেখছি ছোট ছোট বকরীর মত কাতারের মধ্যে প্রবেশ করতে।

816। কুতায়বা (রহঃ) ... জাবির ইবনু সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট বের হয়ে বললেনঃ তোমরা কি কাতার সোজা করবে না যেরূপ ফেরেশতাগণ তাঁদের প্রভূর সামনে কাতার সোজা করে দাঁড়ান। তাঁরা বললেন, ফেরেশতাগণ তাদের রবের সামনে কিভাবে কাতারবন্দী হয়ে দাঁড়ান? রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তারা প্রথম কাতার পুর্ণ করে তারপর কাতারে পরস্পর মিশে দাঁড়ান।

817। ইয়াহইয়া ইবনু উসমান হিমসী (রহঃ) ... ইরবায ইবনু সারিয়া (রাঃ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি প্রথম কাতারের জন্য তিনবার (রহমত ও মাগফিরাতের) দোয়া করতেন, তারপর দ্বিতীয় কাতারের জন্য একবার।

818। ইসমাঈল ইবনু মাসউদ (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন প্রথম কাতার পূর্ণ কর তারপর পরবর্তী কাতার। যদি খালি থাকে, তবে তা থাকবে শেষ কাতারে।

819। ঈসা ইবনু ইবরাহীম ইবনু মাসরুদ (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি কাতার মিলায়, আল্লাহ তা’আলা তাকে মিলিয়ে দেন, আর যে ব্যক্তি তাকে পৃথক করে, আল্লাহ তায়ালা তাকে পৃথক করে দেন।

820। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পুরুষদের কাতারের মধ্যে উত্তম হলো প্রথম কাতার এবং নিকৃষ্ট কাতার হলো শেষ কাতার। আর নারীদের কাতারের মধ্যে উত্তম হলো শেষের কাতার এবং নিকৃষ্ট হলো প্রথম কাতার।

821। আমর ইবনু মানসূর (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ হামীদ ইবনু মাহমূদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আনাস (রাঃ)-এর সঙ্গে ছিলাম। আমরা আমীরদের মধ্য থেকে এক আমীরের সঙ্গে সালাত আদায় করছিলাম। তারা আমাদের পেছনে হটিয়ে দিল। তারপর আমরা দুই স্তম্ভের মধ্যে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করলাম। আনাস (রাঃ) পিছিয়ে যেতে থাকলেন এবং বললেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময়ে আমরা এটা (দুই স্তম্ভের মধ্যে দাঁড়ানো) পরিহার করতাম।

822। সুওয়ায়দ ইবনু নাসর (রহঃ) ... বারা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পেছনে সালাত আদায় করতাম। তখন আমি তাঁর ডানদিকে থাকতে পছন্দ করতাম।

823। কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করবে, তখন সে যেন সংক্ষিপ্ত করে। কেননা তাদের মধ্যে রোগী, দুর্বল এবং বৃদ্ধ লোক থাকে। আর যখন কেউ একা একা সালাত আদায় করে, তখন সে যত ইচ্ছা সালাত দেরী করতে পারে।

824। কুতায়বা (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সবচাইতে পূর্ণ অথচ সংক্ষিপ্তভাবে সালাত আদায়কারী ছিলেন।

825। সুওয়ায়দ ইবনু নাসর (রহঃ) ... আবূ কাতাদা (রাঃ) সুত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ আমি সালাতে দাঁড়ালে শিশুর ক্রন্দন শুনতে পাই তখন আমি সালাত সংক্ষেপ করি, পাছে তার মাকে কষ্ট দিয়ে ফেলি।

826। ইসমাঈল ইবনু মাসঊদ (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে সালাত সহজ করতে বলতেন আর তিনি আমাদের ইমামতি করতেন, “সূরা সাফফাত”- দিয়ে।

827। কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখেছি তিনি লোকের ইমামতি করছেন। আর তখন তিনি উমামা বিনত আবূল আসকে তার কাঁধে উঠিয়ে রাখছেন। যখন তিনি রুকু করেন, তাকে রেখে দিচ্ছেন। আর যখন সিজদা থেকে উঠলে, তাকে পুনরায় তুলে নিলেন।

828। কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি, বলেন, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ইমামের আগে মাথা উঠায়, সে কি ভয় করে না যে, আল্লাহ তায়ালা তার মাথাকে গাধার মাথায় পরিবর্তিত করে দিবেন?

829। ইয়াকুব ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বারা (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, আর তিনি মিথ্যাবাদী ছিলেন না, তারা যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে সালাত আদায় করতেন তখন তিনি রুকু থেকে মাথা উঠাতেন আর তারা দাঁড়িয়ে যেতেন। তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদা করতে দেখে তাঁরা সিজদা করতেন।

830। মুহাম্মদ ইবনু হিশাম (রহঃ) ... হিত্তান ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ মুসা (রাঃ) আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। তিনি বৈঠকে থাকাকালে এক ব্যক্তি প্রবেশ করে বলল, “সালাত নেকী এবং যাকাত” এর সাথে মিলিত হয়েছে। আবূ মুসা (রাঃ) যখন সালাম ফিরালেন তখন তিনি লোকের দিকে ফিরে বললেনঃ তোমাদের মধ্যে কে একথা বলেছে? তখন লোকটা চুপ হয়ে গেল আর, তিনি বললেনঃ হে হিত্তান! তুমি এটা বলে থাকবে। তিনি বললেনঃ না, আমি ভয় করছিলাম, আপনি এর জন্য আমাকে দোষারোপ করবেন। তিনি বললেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সালাত ও তার নিয়ম-কানুন শিক্ষা দিয়েছিলেন। তিনি বলেছেনঃ ইমাম এজন্য যে তার ইকতেদা করা হবে। যখন তিনি তাকবীর বলবেন তোমরাও তাকবীর বলবে, আর যখন তিনি غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلاَ الضَّالِّينَ বলেন তখন তোমরা আমীন বলবে। তাহলে আল্লাহ তোমাদের দোয়া কবুল করবেন। আর যখন তিনি রুকু করেন তখন তোমরাও রুকু করবে। আর যখন তিনি মাথা উঠিয়েছেন سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলেন, তখন তোমরা বলবে رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ আল্লাহ তোমাদের কথা শুনবেন। আর যখন ইমাম সিজদা করেন, তোমরাও সিজদা করবে, যখন সিজদা থেকে মাথা উঠাবেন, তোমরাও মাথা উঠাবে। কেননা ইমাম তোমাদের পুর্বে সিজদা করবেন এবং তোমাদের পূর্বে মাথা উঠাবেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এটা তার সমান হয়ে যাবে।

831। ওয়াসিল ইবনু আবদুল আ'লা (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিন বলেন, সালাতের ইকামত বলার পরে এক আনসারী ব্যক্তি আগমন করল। সে মসজিদে প্রবেশ করে মু’আয (রাঃ)-এর পেছনে সালাতে দাঁড়াল। তিনি কিরাআত লম্বা করলেন। লোকটি সালাত থেকে বের হয়ে মসজিদের এক কোণে সালাত আদায় করে চলে গেল। মু’আয (রাঃ) যখন সালাত শেষ করলেন, তাকে বলা হল, অমুক ব্যক্তি এরূপ এরূপ করেছে। মু’আয (রাঃ) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এ ব্যাপারে অবশ্যই অবহিত করব। মু’আয (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে ঘটনা ব্যক্ত করলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকটির নিকট লোক পাঠিয়ে তাকে ডেকে আনলেন এবং তাকে জিজ্ঞাসা করলেনঃ তুমি যা করেছ তা করতে তোমাকে কিসে বাধ্য করেছে? সে ব্যক্তি বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি দিনের বেলায় আমার উটের কাজে ব্যাস্ত ছিলাম। এরপর আমি আসলাম এবং পূর্বেই সালাতের ইকামত বলা হয়েছিল। আমি মসজিদে প্রবেশ করে তার সঙ্গে সালাতে শরীক হলাম। কিন্তু তিনিও সালাতে অমুক অমুক সূরা আরম্ভ করে সালাত লম্বা করে দিলেন। এজন্য আমি সালাত থেকে বের হয়ে মসজিদের এক কোণে সালাত আদায় করি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে মু’আয! তুমি কি তুমি কি ফিতনা সৃষ্টিকারী হবে? হে মু’আয! তুমি কি তুমি কি ফিতনা সৃষ্টিকারী হবে? হে মু’আয! তুমি কি তুমি কি ফিতনা সৃষ্টিকারী হবে?

832। কুতায়বা (রহঃ) ... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ঘোড়ায় আরোহণ করলেন এবং তা থেকে পড়ে তার ডান পাঁজরে আঘাত পেলেন। এরপর এক ওয়াক্ত সালাত বসে আদায় করলেন আমরাও তার পেছনে বসে সালাত আদায় করি। সালাত শেষ করে তিনি বললেনঃ ইমাম নিযুক্ত হয় তার অনুসরণ করার জন্য। ইমাম যখন দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করেন, তখন তোমরাও দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করবে। যখন ইমাম سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলেন, তখন তোমরা বলবে رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ আর যখন ইমান বসে সালাত আদায় করবে তখন তোমরাও বসে সালাত আদায় করবে।

833। মুহাম্মাদ ইবনুল আ’লা (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রোগ যখন বেড়ে গেল, তখন বিলাল (রাঃ) তাকে সালাতের খবর দিতে আসলেন। তিনি বললেনঃ আবূ বকর (রাঃ)-কে বল, সে যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে। আয়িশা (রাঃ) বলেনঃ আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আবূ বকর একজন কোমল হৃদয়ের মানুষ। তিনি যখন আপনার স্থানে দাঁড়াবেন, তখন তিনি লোকদের কির’আত শোনাতে পারবেন না। অতএব যদি আপনি উমর (রাঃ)-কে আদেশ করতেন তবে ভাল হত। তিনি বললেনঃ আবূ বকর (রাঃ)-কে বল, যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে। তারপর আমি হাফসা (রাঃ)-কে আমার কথা বলার জন্য বললাম। তিনিও তাঁকে তা বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা (পীড়াপীড়ি করার ব্যাপারে) ঐ সকল নারীর ন্যায় যারা ইউসূফ (আলাইহিস সালাম) এর ব্যাপারে জড়িত ছিল। আবূ বকর (রাঃ)-কে বল, লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে। তিনি [আয়িশা (রাঃ)] বলেনঃ তাঁকে অনুরোধ করা হলে যখন তিনি সালাত আরম্ভ করলেন, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছুটা স্বস্তিবোধ করলেন, তিনি দাঁড়িয়ে দু’জন লোকের সহায়তায় চললেন আর তার পদদ্বয় মাটিতে হেঁচড়াচ্ছিল। যখন তিনি মসজিদে প্রবেশ করলেন, আবূ বকর (রাঃ) তাঁর আগমন অনুভব করে পেছনে হটতে চাইলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে ইঙ্গিতে নিজ অবস্থায় থাকতে বললেন। আয়িশা (রাঃ) বলেনঃ তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে আবূ বকর (রাঃ)-এর বামদিকে দাঁড়ালেন এবং লোকদের সাথে বসে সালাত আদায় করলেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করছিলেন বসে, আবূ বকর (রাঃ) ছিলেন দাঁড়ানো। আবূ বকর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইকতিদা করছিলেন আর অন্য লোকেরা ইকতিদা করছিল আবূ বকর (রাঃ)-এর সালাতের।

834। আব্বাস ইবনু আব্দুল আযীম আম্বারী (রহঃ) ... উবায়দুল্লাহ ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশা (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললাম, আপনি কি আমাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রোগ সমন্ধে অবহিত করবেন না? তিনি বললেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রোগ যখন বেড়ে গেল তখন তিনি বললেন, লোকেরা কি সালাত আদায় করে ফেলেছে? আমরা বললামঃ না, আপনার অপেক্ষা করছে ইয়া রাসুলাল্লাহ! তিনি বললেন আমার জন্য পাত্রে কিছু পানি রাখ। আমরা তা করলে তিনি গোসল করলেন এবং মসজিদে যাওয়ার ইচ্ছা করলেন। ইত্যবসরে তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন। তারপর কিছুটা সূস্থ হয়ে বললেন, লোকগণ কি সালাত আদায় করে ফেলেছে? আমরা বললাম, না, ইয়া রাসুলাল্লাহ! তারা আপনার অপেক্ষা করছে। তিনি বললেন আমার জন্য পাত্রে কিছু পানি রাখ। আমরা যখন পানি রাখলাম তিনি গোসল করলেন। তারপর দাঁড়াবার ইচ্ছা করলে আবার তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন। এরপর তৃতীয়বারও তিনি ঐরূপ বললেন। আয়িশা (রাঃ) বলেনঃ তখন লোকেরা মসজিদে ইশার সালাতের জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অপেক্ষায় অবস্থান করছিলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বকর (রাঃ) এর নিকট লোক পাঠিয়ে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে বললেন। সেই লোক এসে তাঁকে সংবাদ দিল যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাকে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে বলেছেন। আবূ বকর (রাঃ) ছিলেন কোমল হৃদয়ের লোক। তিনি উমর (রাঃ)-কে বললেন, হে উমর! লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করুন। তিনি বললেন, এ কাজের জন্য আপনিই উপযুক্ত। তারপর আবূ বকর (রাঃ) এই কয়দিন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছুটা সুস্থতা অনুভব করলেন এবং তিনি দু’জন লোকের সাহায্য নিয়ে যোহরের সালাতের জন্য আসলেন। তাদের একজন ছিলেন আব্বাস (রাঃ)। যখন আবূ বকর (রাঃ) তাঁকে দেখলেন তখন তিনি পিছে হটতে চাইলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ইঙ্গিতে পিছু হটতে নিষেধ করলেন এবং ঐ ব্যক্তিকে আদেশ করলে তাঁরা তাঁকে আবূ বকর (রাঃ) এর পাশে বসিয়ে দিলেন। তখন আবূ বকর (রাঃ) দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন আর লোকগণ আবূ বকরের ইকতেদা করছিলেন। আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসে সালাত আদায় করছিলেন। বর্ণনাকারী বলেনঃ তারপর আমি ইবনু আব্বাস (রাঃ) এর নিকট গিয়ে বললাম, আয়িশা (রাঃ) আমাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রোগ সমন্ধে যা বলেছেন, তা কি আপনার নিকট বর্ণনা করব? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি তাঁর নিকট বর্ণনা করলাম। তিনি তার কোন কিছুই অস্বীকার করলেন না। কিন্তু তিনি বললেন তিনি তোমার নিকট ঐ ব্যক্তির নাম বলেছেন কি, যিনি আব্বাসের সঙ্গে ছিলেন? আমি বললাম, না। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বললেন, তিনি ছিলেন আলী (রাঃ)।

835। মুহাম্মদ ইবনু মানসূর (রহঃ) ... আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, মু’আয (রাঃ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সালাত আদায় করে স্বীয় গোত্রের নিকট ফিরে যেতেন এবং তাদের ইমাম হয়ে সালাত আদায় করতেন। একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে তিনি বিলম্বে সালাত আদায় করলেন। তারপর নিজ গোত্রের নিকট ফিরে তাদের ইমামতি করেন এবং তিনি তাতে সূরা বাকারা পাঠ করেন। গোত্রের এক ব্যক্তি এরূপ কিরাআত শুনে সালাত থেকে সরে পড়ল এবং একা সালাত আদায় করে বেরিয়ে পড়ল। তখন লোকগণ তাকে বললেন, হে অমুক! তুমি কি মুনাফিক হয়ে গেছ? সে বলল আল্লাহর শপথ! আমি মুনাফিক হইনি। আমি নিশ্চয়ই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর-নিকট গিয়ে তাঁকে বলব। তারপর সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গিয়ে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! মু’আয আপনার সঙ্গে সালাত আদায় করেন। তারপর আমাদের নিকট এসে আমাদের ইমামতি করেন। গত রাতে আপনি সালাত দেরি করে আদায় করেন। তিনি আপনার সঙ্গে সালাত আদায় করার পর আমাদের ইমামতি করতে যান এবং তিনি সুরা বাকারা শুরু করে দেন। আমি তা শুনে পেছনে হটে যাই এবং একা সালাত আদায় করি। আমরা উটের রাখাল, আমরা নিজ হাতে কাজ করি। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে মু’আয! তুমি কি ফিতনা সৃষ্টিকারী হবে? তুমি অমুক অমুক সূরা পাঠ করবে।

836। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... আবূ বাকরা (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। একবার তিনি ভয়কালীন সালাত আদায় করলেন। তিনি প্রথমে তাঁর পেছনের লোকদের নিয়ে দুই রাক’আত সালাত আদায় করলেন। আর যারা পরে আসল তাদের নিয়ে দুই রাক’আত সালাত আদায় করলেন। ফলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত চার রাক’আত হল আর অন্যদের হলো দুই দুই রাক’আত।

837। কুতায়বা (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জামাআতের সালাত একাকী সালাত অপেক্ষা সাতাশ গুন মর্যাদাপূর্ন।

838। কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জামাআতের সালাত তোমাদের একাকী সালাত থেকে পঁচিশ গুন উত্তম।

839। উবায়দুল্লাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ জামাআতের সালাত একাকী সালাত অপেক্ষা পঁচিশ গুন মর্যাদাশালী।

840। কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তিনজন লোক হবে তখন তাদের একজন ইমামতি করবে, আর তাদের মধ্যে ইমামতের সর্বাপেক্ষা উপযুক্ত ব্যক্তি যে অধিক কিরাআত জানে (আল্লাহর কিতাব সন্বন্ধে অধিক জ্ঞান সস্পন্ন)।

841। মুহাম্মদ ইবনু ইসমাঈল ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাশে সালাত আদায় করেছি। তখন আয়িশা (রাঃ) আমাদের পেছনে থেকে আমাদের সাথে সালাত আদায় করছিলেন। আর আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পাশে থেকে তাঁর সঙ্গে সালাত আদায় করছিলাম।

842। সুওয়ায়দ ইবনু নাসর (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে সালাত আদায় করি। আমি তাঁর বাম পাশে দাঁড়ালে তিনি আমাকে তার বাম হাতে ধরে তাঁর ডান পাশে দাঁড় করান।

843। ইসমাঈল ইবনু মাসউদ (রহঃ) ... উবাই ইবনু কা'ব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাত আদায় করলেন। পরে তিনি বললেনঃ অমুক কি সালাতে উপস্থিত হয়েছে? উপস্থিত মুসল্লীগণ বললেন, না। তিনি বললেনঃ অমুক ব্যক্তি? তাঁরা বললেন, না। তিনি বললেন, এ দুটি সালাত (ইশা ও ফজর) মুনাফিকদের উপর অত্যন্ত কঠিন। তাতে কি মর্যাদা রয়েছে তারা যদি তা জানতো তাহলে নিশ্চয়ই তারা তাতে উপস্থিত হতো হামাগুড়ি দিয়ে হলেও। আর প্রথম সারি হলো ফেরেশতাদের সারির ন্যায়। যদি তোমরা তার মর্যাদা জানতে তাহলে তোমরা তাতে উপস্থিত হওয়ার জন্য প্রতিযোগিতা করতে। একজন লোকের সাথে সালাত আদায় করা একাকী সালাত আদায় করা থেকে উত্তম। আর দুইজন লোকের সাথে কোন ব্যক্তির সালাত আদায় করা এক ব্যক্তির সাথে সালাত আদায় করার চেয়ে উত্তম। আর সংখ্যা যতই বৃদ্ধি পাবে ততই আল্লাহর নিকট-পছন্দনীয় হবে।

844। নাসর ইবনু আলী (রহঃ) ... ইতবান ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার কওমের মসজিদ এবং আমার মধ্যে পানির স্রোত বাধা সৃষ্টি করে। অতএব আমার মনের বাসনা আপনি আমার বাড়ি এসে আমার ঘরের এক স্থানে সালাত আদায় করেন এবং আমি সে স্থানটিকে মসজিদ বানিয়ে নই। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি তাই করব, তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে বললেনঃ কোথায় সালাত আদায় করা তুমি পছন্দ কর? আমি ঘরের এক কোণের দিকে ইঙ্গিত করলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে দাঁড়ালেন, আমরা তাঁর পেছনে কাতার বেঁধে দাঁড়ালাম। তিনি আমাদের নিয়ে দুই রাকা’আত সালাত আদায় করলেন।

845। আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে দাঁড়িয়ে তাকবীর বলার পূর্বে আমাদের দিকে মূখ ফিরিয়ে বললেন। তোমরা কাতার সোজা কর এবং পরস্পর মিলে মিশে দাঁড়াও। কেননা আমি তোমাদের আমার পিঠের পেছন দিক থেকে দেখে থাকি।

846। হান্নাদ ইবনু সাররী (রহঃ) ... আবূ কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলাম হঠাৎ দলের একজন বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! যদি আরও বিলম্ব করে সালাত আদায় করতেন। তিনি বললেনঃ আমি ভয় করি তোমরা সালাত ছেড়ে শুয়ে পড়বে। বিলাল (রাঃ) বললেন আমি আপনাদের দেখাশুনা করব। তারপর সকলেই শুয়ে পড়লেন এবং নিদ্রা গেলেন। বিলাল (রাঃ) তার সওয়ারীর সাথে হেলান দিয়ে পিঠ লাগিয়ে রইলেন। তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাগ্রত হয়ে দেখলেন সূর্য উদিত হচ্ছে। তিনি বললেনঃ হে বিলাল! তুমি যা বলেছিলে তা কোথায়? তিনি বললেন আমাকে এত গভীর নিদ্রা আর কখনো পায়নি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহ তা’আলা যখন ইচ্ছা করলেন তখন তোমাদের রুহ কবজ করে নিলেন আর যখন ইচ্ছা ফিরিয়ে দিলেন। উঠ লোকদের সালাতের আহবান কর। তারপর বিলাল (রাঃ) উঠে আযান দিলেন, এরপর সকলে উযু করলেন অর্থাৎ যখন সূর্য বেশ উপরে উঠলো। পরে তিনি দাঁড়িয়ে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন।

847। সুওয়ায়দ ইবনু নাসর (রহঃ) ... মাদান ইবনু আবূ তালহা ইয়া'মুরী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূদ-দারদা (রাঃ) আমাকে বললেনঃ তোমার বাড়ি কোথায়? আমি বললামঃ আমার বাড়ি হিমসের নিকটবর্তী এক গ্রামে। তখন আবূ-দারদা বললেনঃ আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতে শুনেছি, কোন গ্রামে অথবা অনাবাদী স্থানে তিনজন লোক থাকাবস্থায় সেখানে সালাত প্রতিষ্ঠিত না হলে তাদের উপর শয়তানের আধিপত্য বিস্তার লাভ করে। অতএব তোমরা জামাতকে অত্যাবশ্যকীয়রূপে গ্রহণ করবে। কেননা বাঘ বিচ্ছিন্ন ছাগলকে খেয়ে ফেলে। সায়িব (রহঃ) বলেনঃ জামাআত অর্থ সালাতের জামাআত।

848। কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যার হাতে আমার প্রাণ তার শপথ করে বলছি, আমি ইচ্ছা করেছি যে, আমি কিছু জ্বালানি কাঠ আনতে আদেশ করব, তা সংগ্রহ হলে সালাতের আদেশ করব। তারপর তার জন্য আযান দেয়া হবে। পরে এক ব্যক্তিকে আদেশ করব সে লোকের ইমামতি করবে। আর আমি লোকদের পেছন থেকে তাদের ঘর জ্বালিয়ে দেব (যারা জামাআতে আসে না)। যার হাতে আমার প্রাণ তাঁর শপথ! যদি তাদের কেউ জানত যে, একখানা গোশতবহুল হাড় অথবা দুই টূকরা বকরীর সুন্দর খুর পাবে, তাহলে তারা ইশার সালাতে অবশ্যই উপস্থিত হতো।

849। সূওয়ায়দ ইবনু নাসর (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলতেন, যে ব্যক্তি কাল আল্লাহ তা'আলার সঙ্গে একজন মুসলিম হিসাবে সাক্ষাত করার আশা রাখে, সে যেন পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের হিফাযত করে, সেখানে তার আযান দেয়া হয়। আল্লাহ তা'আলা তার নবীকে হিদায়াতের নিয়মাবলী বর্ণনা করেছেন, আর ঐগুলো হিদায়াতের নিয়মের অন্তর্ভুক্ত। আর আমি ধারনা করি, তোমাদের ঘরে প্রত্যেকের একটা সালাতের স্থান রয়েছে। অতএব যদি তোমরা তোমাদের ঘরে সালাত আদায় কর আর তোমাদের মসজিদ পরিত্যাগ কর, তাহলে তোমরা তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর তরীকা পরিত্যাগ করলে। আর যদি তোমরা তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর তরীকাই পরিত্যাগ করলে তাহলে তোমরা পথভ্রষ্ট হলে। আর যে মুসলিমই উত্তমরুপে উযু করে, তারপর সে সালাতের জন্য পায়ে হেঁটে যায়, আল্লাহ তা’আলা তার প্রতি পদক্ষেপে একটি পুণ্য লেখেন, অথবা তার জন্য তার মর্যাদার একটি ধাপ উন্নত করে দেন। অথবা তদদ্বারা তার একটি পাপের প্রায়শ্চিত্ত করেন। আমি সেই সময়টা যেন দেখতে পাচ্ছি যখন আমরা (মসজিদে যাওয়ার সময়) কাছাকাছি পা ফেলে চলতাম (যাতে অধিক নেকী পাওয়া যায়) আর তা থেকে বিরত থাকত না কেউ ঐ মুনাফিক ব্যতীত যার নিফাক প্রকাশ্য। পক্ষান্তরে আমি দেখেছি, এক ব্যক্তি দুই ব্যক্তির সাহায্যে চলতে থাকত। অবশেষে তাকে কাতারে দাঁড় করানো হত।

850। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একজন অন্ধ লোক রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললেন, আমার এমন কোন পথপ্রদর্শক নেই, যে আমাকে সালাতে নিয়ে যাবে। সে ব্যক্তি তাঁর নিকট নিজ ঘরে সালাত আদায় করার অনুমতি চাইলেন। তিনি তাঁকে অনুমতি দিলেন। যখন ঐ ব্যক্তি চলে যাচ্ছিলেন তখন তাকে ডেকে বললেনঃ তুমি কি সালাতের আযান শুনতে পাও? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ তাহলে তার উত্তর দাও (অর্থাৎ আযানের উত্তর দাও এবং জামাআতে উপস্থিত হও)

851। হারুন ইবনু যায়দ ইবনু আবূ যারকা (রহঃ) ও আব্দুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ ইবনু ইসহাক (রহঃ) ... ইবনু উম্মে মাকতূম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বললেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! মদীনায় বহু পশু এবং হিংস্র প্রানী রয়েছে। তিনি বললেনঃ তুমি কি "সালাতের দিকে আস, কল্যাণের দিকে আস" এ আওয়াজ শুনতে পাও? তিনি বললেন, হ্যাঁ। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাহলে তুমি আসবে। তিনি তাকে অনুমতি দিলেন না।

852। কুতায়বা (রহঃ) ... উরওয়া (রহঃ) থেকে বর্ণিত। আব্দুল্লাহ ইবনু আরকাম (রাঃ) তাঁর সাথীদের ইমামতি করতেন। একদিন সালাতের সময় হলে তিনি তাঁর প্রয়োজনে চলে গেলেন। তারপর ফিরে এসে বললেন- আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যখন তোমাদের কারও পায়খানার প্রয়োজন হয়, তখন সে যেন সালাতের পূর্বে তা সেরে নেয়।

853। মুহাম্মাদ ইবনু মানসূর (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন রাতের খানা উপস্থিত আর সালাত আরম্ভ হয়, তখন প্রথমে আহার করে নেবে।

854। মুহাম্মদ ইবনু মুসান্না (রহঃ) ... আবূল মলীহ (রহঃ) এর পিতা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে হুনায়নে ছিলাম, এমন সময়ে আমাদের উপর বর্যণ আরম্ভ হলো। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মুয়াযযিন ঘোষণা দিলেন, আপনারা নিজ নিজ বাসস্থানে সালাত আদায় করুন।

855। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) সুত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি উত্তমরূপে ওজু করল তৎপর মসজিদের উদ্দেশে বের হয়ে দেখল লোক সালাত শেয করেছে- আল্লাহ তা'আলা তার জন্য সালাতে উক্ত ব্যক্তিদের সমান সওয়াব লিখে দিবেন এবং তাদের সওয়াব থেকে কিছুই কমানো হবে না।

856। সুলায়মান ইবনু দাঊদ (রহঃ) ... উসমান ইবনু আফফান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি সালাতের জন্য উযু করল পূর্ণরূপে, তারপর ফরয সালাতের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলো এবং তা আদায় করল লোকের সাথে। অথবা তিনি বলেছেন জামাআতে অথবা বলেছেন মসজিদে, আল্লাহ তাআলা তাঁর পাপসমূহ মার্জনা করে দিবেন।

857। কুতায়বা (রহঃ) ... মিহজান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি এক সময় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে এক মজলিসে ছিলেন। তখন সালাতের সময় হলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ালেন, তারপর সালাত আদায় করে এসে দেখলেন মিহজান (রাঃ) সেই মজলিসেই রয়েছেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ তোমাকে সালাত আদায় করা থেকে কোন জিনিস বাধা দিল? তুমি কি মুসলিম নও? তিনি বললেন, হ্যাঁ। কিন্তু আমি আমার ঘরে সালাত আদায় করে ফেলেছি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ যখন আসবে, তখন লোকের সাথে সালাত আদায় করে নেবে- যদিও পৃর্বে সালাত আদায় করে থাক।

858। যিয়াদ ইবনু আইয়্যুব (রহঃ) ... ইয়াযীদ ইবনু আসওযাদ আমিরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি মসজিদে খায়ফে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ফজরের সালাত আদায় করলাম। যখন তিনি সালাত শেষ করলেন, লোকজনের শেষ প্রান্তে দু'জন লোক দেখলেন, যারা তাঁর সঙ্গে সালাত আদায় করেনি। তিনি বললেনঃ ঐ দুই ব্যক্তিকে আমার নিকট নিয়ে এস। তাদেরকে আনা হলো। ভয়ে তাঁরা কাপছিল। তিনি বললেনঃ কি কারণে তোমরা আমাদের সাথে সালাত আদায় করলে না? তারা বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমরা আমাদের ঘরে সালাত আদায় করেছি। তিনি বললেন আর এরূপ করবে না। যখন তোমরা তোমাদের ঘরে সালাত আদায় করে জামাআতের মসজিদে আগমন করবে, তখন তাদের সাথে সালাত আদায় করবে আর তা তোমাদের জন্য নফল (বলে গণ্য) হবে।

859। মুহাম্মদ ইবনু আবদুল আলা (রহঃ) ও মুহাম্মদ ইবনু ইবরাহীম ইবনু সুদরান (রহঃ) ... আবূ যর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার উরুদেশে হাত রেখে বললেনঃ যদি তুমি এমন লোকের মধ্যে বেঁচে থাক যারা সঠিক সময় থেকে সালাতকে পিছিয়ে দেবে তখন তুমি কি করবে? তিনি বললেন, আপনি যা আদেশ করবেন। তিনি বললেনঃ তুমি সময়মত সালাত আদায় করে নেবে। তারপর তোমার প্রয়োজনে যাবে। যদি সালাত আরম্ভ হয় আর তুমি মসজিদে থাক, তাহলে সালাত আদায় করবে।

860। ইবরাহীম ইবনু মুহাম্মাদ তায়মী (রহঃ) ... মায়মুনা (রাঃ)-এর আযাদকৃত গোলাম সুলায়মান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু উমর (রাঃ)-কে বালাত নামক স্থানে উপবিষ্ট দেখলাম আর লোকেরা তখন সালাত আদায় করছিল। আমি বললাম, হে আবূ আব্দুর রহমান! আপনার কি হয়েছে, সালাত আদায় করছেন না কেন? তিনি বললেনঃ আমি সালাত আদায় করে ফেলেছি। আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, একদিনে এক সালাত দু'বার আদায় করা যাবে না।

861। আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আবদুর রহমান যুহরী (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তোমরা সালাতে আগমন করবে তখন তোমরা দৌড়ে আসবে না, বরং হেঁটে আসবে। তোমাদের কর্তব্য স্বস্তিতে আসা। তারপর যা পাবে তা আদায় করবে আর যা ছুটে যাবে তা পরে আদায় করে নেবে।

862। আমর ইবনু সাওয়াদ ইবনু আসওয়াদ ইবনু আমর (রহঃ) ... আবূ রাফি (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসরের সালাত আদায় করে বনূ আবদুল আশহালের নিকট যেতেন এবং তাদের সাথে কিছু কথা বার্তা বলতেন। তারপর মাগরিবের সালাতের জন্য তাড়াতাড়ি চলে আসতেন। আবূ রাফি বলেনঃ একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাগরিব সালাতের জন্য তাড়াতাড়ি আসছিলেন। আমরা বাকী নামক স্থানের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম তখন তিনি বললেন, “তোমার জন্য আফসোস, তোমার জন্য আফসোস।” তিনি বলেনঃ এটা আমার কাছে কঠিন মনে হল। অতএব আমি পেছনে রয়ে গেলাম, আর আমি মনে করলাম, তিনি আমাকেই উদ্দেশ্য করেছেন। তিনি বললেনঃ তোমার কি হলো, চলো। আমি বললাম, আমি কি কোন ঘটনা ঘটিয়েছি? তিনি বললেনঃ তা কি? আমি বললাম, আপনি বললেন তোমার জন্য আফসোস। তিনি বললেনঃ না, (আমি যাকে লক্ষ করে)আফসোস বলছি সে হচ্ছে সে ব্যক্তি যাকে আমি অমূক গোত্রের নিকট যাকাত উসুলকারী করে পাঠিয়েছিলাম। সে একখানা চাদর আত্নসাৎ করেছিল। এখন তাকে ঐরূপ আগুনের একখানা চাদর পরিয়ে দেয়া হয়েছে।

863। হারুন ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ... আবূ রাফি (রাঃ) সুত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত আছে।

864। আহমদ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু মুগীরা (রহঃ) ... যুহরী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ সালামা ইবনু আবদুর রহমান এবং আবূ আব্দুল্লাহ আগারর আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আবূ হুরায়রা (রাঃ) তাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সবাগ্রে সালাতে যে ব্যক্তি উপস্থিত হয় সে ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে একটি উট কুরবানী করে, তারপর যে ব্যক্তি আসে সে ঐ ব্যাক্তির ন্যায় যে একটি গাভী কুরবানী করে। এরপর যে ব্যাক্তি আসে সে ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে একটি দুম্বা কুরবানী করে। পরে যে ব্যক্তি আসে সে ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে একটি মুরগী আল্লাহর রাস্তায় দান করে। তারপর যে ব্যক্তি আগমন করে সে ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে একটি ডিম আল্লাহর রাস্তায় দান করে।

865। সুওয়ায়দ ইবনু নাসর (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন ইকামত বলা হয় তখন ফরয সালাত ব্যতীত আর কোন সালাত নেই।

866। আহমদ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু হাকাম ও মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন ইকামত বলা হয় তখন ফরয সালাত ব্যতীত আর কোন সালাত নেই।

867। কুতায়বা (রহঃ) ... ইবনু বুহায়না (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফজর সালাতের ইকামত বলা হলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে দেখলেন সে সালাত আদায় করছে আর মুয়াযযিন ইকামত বলছে। তিনি তখন বললেন তুমি কি ফজরের সালাত চার রাক’আত আদায় করছো?

868। ইয়াহ্‌য়া ইবনু হাবীব ইবনু আরাবী (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু সারজিস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি আগমন করল রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন ফজরের সালাত আদায় করছিলেন। সে ব্যক্তি দু রাক’আত সালাত আদায় করে সালাতে শরীক হলো। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সালাত শেষ করে বললেনঃ হে অমুক! তোমার সালাত কোনটি, তুমি যে সালাত আমাদের সাথে আদায় করেছ সেটি, না যে সালাত একা আদায় করেছ?

869। আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ ইবনু আবদুর রহমান (রহঃ) ... ইসহাক ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের ঘরে আসলেন। আমি এবং আমাদের এক ইয়াতীম তার পেছনে সালাত আদায় করলাম। আর উম্মে সুলায়ম আমাদের পেছনে সালাত আদায় করলেন।

870। কুতায়বা (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ অতি সূন্দরী এক মহিলা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পেছনে সালাত আদায় করছিল। তিনি বলেন তখন তাদের মধ্য থেকে কেউ কেউ প্রথম কাতারে এগিয়ে গেল, যেন তাকে দেখতে না পায়। আর তাদের কেউ কেউ পেছনে রয়ে গেল। যখন রুকু করল তখন তারা বগলের নিচ দিয়ে তাকাচ্ছিল তখন আল্লাহ তায়ালা নাযিল করলেনঃ وَلَقَدْ عَلِمْنَا الْمُسْتَقْدِمِينَ مِنْكُمْ وَلَقَدْ عَلِمْنَا الْمُسْتَأْخِرِينَ অর্থাৎ “তোমাদের মধ্যে যারা আগে অগ্রসর হয়ে গেছে, তাদেরকেও আমি জানি আর যারা পেছনে রয়ে গেছে- তাদেরকেও জানি।” (১৫ঃ ২৪)।

871। হুমায়দ ইবনু মাসআদাহ (রহঃ) ... হাসান (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, আবূ বাকরা (রাঃ) তার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি এমন সময় মসজিদে প্রবেশ করলেন যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকুতে চলে গেছেন। তিনি (তাড়াতাড়ি) কাতারের বাইরেই রুকু করে ফেললেন। পরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেনঃ আল্লাহ তোমার আগ্রহ বাড়িয়ে দিন কিন্তু আর কখনও এরূপ করবে না।

872। মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু মুবারক (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করলেন। সালাত শেষে বললেন হে অমুক ব্যক্তি, তুমি তোমার সালাত ঠিকমত আদায় কর না। তুমি কি মুসল্লীদেরকে দেখ না তারা কিরূপে তাদের সালাত আদায় করে? আমি (তোমাদেরকে) পেছনে থেকে দেখি যেরূপ তোমাদেরকে সামনে দিয়ে দেখি।

873। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যোহরের পূর্বে দুই রাক’আত সালাত আদায় করতেন আর তার পরেও দুই রাক’আত। আর তিনি মাগরিবের পরও গৃহে দুই রাক’আত সালাত আদায় করতেন। তিনি ঈশার পরেও দুই রাক’আত আদায় করতেন। আর তিনি জুমআর পর কোন সালাত আদায় করতেন না (ঘরে) না ফেরা পর্যন্ত। তারপর তিনি দুই রাক’আত সালাত আদায় করতেন।

874। ইসমাঈল ইবনু মাসউদ (রহঃ) ... আসিম ইবনু যামরাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আলী (রাঃ)-কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেনঃ তোমাদের কার ক্ষমতা আছে? আমি বললাম- আমি তার ক্ষমতা না রাখলেও শুনতে বাসনা রাখি। তিনি বললেন, যখন সূর্য আসরের সময় আপন অবস্থায় এখানে থাকত তখন তিনি দুই রাক’আত সালাত আদায় করতেন। আর যিকরের সময় যখন তা আপন অবস্থায় এখানে উপস্থিত হতো, তখন তিনি চার রাক’আত সালাত আদায় করতেন। আর তিনি যোহরের পূর্বে চার রাক’আত এবং তারপর দুই রাক’আত আদায় করতেন। প্রতি দুই রাক’আত সালামের মাধ্যমে পৃথক করতেন, তাঁর এই সালাম ছিল নৈকট্য প্রাপ্ত ফেরেশতাগণ, নবীগণ আর-তাঁদের অনুগামী মুসলিম এবং মু'মিনদের প্রতি।

875। মুহাম্মদ ইবনু মুসান্না (রহঃ) ... আসিম ইবনু যামরা (রহঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ)-কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দিনের ফরযের পূর্বের সালাত সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করি। তিনি বললেন কে এর সামর্থ রাখে? তারপর তিনি তা আমাদের অবহিত করলেন। বললেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সূর্য উপরে উঠতো তখন দুই রাক’আত সালাত আদায় করতেন। আর দূপুরের পূর্বে চার রাক’আত আদায় করে তার শেষে সালাম ফিরাতেন।

উৎস: Sunan an Nasai

WEBREATH · 11:11

«Should I not be a thankful servant?» — Sahih al-Bukhari

Breath is one for all: everyone lives by it, whoever they are and whatever they believe. Every day at 11:11 local time people stop for sixty seconds, breathe, and thank GOD for the breath — each in their own words, each within themselves. In that minute we are One Breath.

WEBREATH — the Minute at 11:11, your own local time — we are One Breath