হাদিস
ফিরে যান

মুওয়াত্তা মালিক 45 · Madina

আপনার ভাষায় এখনো কোনো অনুবাদ নেই — ইংরেজি দেখাচ্ছে

1598রেওয়ায়ত ১. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ হে আল্লাহ! মদীনাবাসীদের মাপযন্ত্রে বরকত দান কর। আর তাহদের সা’ ও মুদে বরকত দাও।

1599রেওয়ায়ত ২. আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, যখন কেহ বাগান হইতে প্রথম ফল আনিত তখন তাহা প্রথমত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমতে লইয়া আসিত। তিনি উহা লইয়া বলিতেন, হে আল্লাহ, আমাদের ফলে বরকত দান করুন। আমাদের শহরে বরকত দান করুন। হে আল্লাহ্! আপনার বান্দা আপনার বন্ধু ও নবী ইবরাহীম (আঃ) মক্কার জন্য দু'আ করিয়াছিলেন। আমি আপনার নিকট মদীনার জন্য দুআ করিতেছি। আমি আপনার বান্দা ও নবী যেরূপ ইবরাহীম (আঃ) মক্কার জন্য দু'আ করিয়াছিলেন আমি তদ্রুপ মদীনার জন্য দুআ করিতেছি। দু'আর শেষে তিনি সকলের চাইতে ছোট যে ছেলেকে তথায় পাইতেন তাহাকে ডাকিয়া উহা তাহাকে দিয়া দিতেন।

1600রেওয়ায়ত ৩. যুবাইর ইবনুল আওয়াম (রাঃ)-এর মুক্ত দাস ইউহান্নাস হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-এর নিকট উপবিষ্ট ছিলাম। এমন সময় তাহার এক দাসী আসিয়া বলিলঃ হে আবু আবদুর রহমান, আমি মদীনা ছাড়িয়া যাইতে চাই। কেননা এইখানে অভাব-অনটনে কষ্ট পাইতেছি। ইবনে উমর (রাঃ) তাহাকে বলিলেনঃ হতভাগ্য! বস। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলিতে শুনিয়াছি, তিনি বলিতেছিলেন : যে ব্যক্তি মদীনার অভাব-অনটন ও কষ্ট সহ্য করিবে, আমি কিয়ামতে তাহার সাক্ষী হইব অথবা তাহার জন্য সুপারিশ করিব।

1601রেওয়ায়ত ৪. জাবির ইবনে আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হইতে বর্ণিত, এক গ্রাম্য ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নিকট তাহার ইসলাম গ্রহণের বায়’আত করিল, মদীনায় তাহার জ্বর আসিতে লাগিল। সে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নিকট আসিয়া বলিতে লাগিল, হে আল্লাহর নবী! আপনি আমার বায়’আত ভঙ্গ করিয়া দিন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহা অস্বীকার করিলেন। সে পুনরায় আসিয়া বলিল, হে আল্লাহর নবী, আমার বায়’আত ভঙ্গ করিয়া দিন। অতঃপর সে মদীনা হইতে বাহির হইয়া পড়িল। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলিলেনঃ মদীনা লোহার ভাট্টির মতো, সে ময়লা বাহির করিয়া খাঁটি সোনা বানাইয়া দেয়।

1602রেওয়ায়ত ৫. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ শুনিয়াছি যে আমাকে এমন লোকালয়ে যাওয়ার আদেশ দেওয়া হইয়াছে যাহা অন্যান্য লোকালয়কে খাইয়া ফেলিবে। লোকে তাহাকে ইয়াস্রাব বলিয়া থাকে আর উহা হইল মদীনা। উহা মন্দ লোকদেরকে বাহির করিয়া দেয় যেমন লোহার ভাট্রি লোহার ময়লা বাহির করিয়া দেয়।

1603রেওয়ায়ত ৬. উরওয়া ইবন যুবাইর (রহঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, যদি কোন ব্যক্তি মদীনার প্রতি ঘৃণা করিয়া তথা হইতে বাহির হইয়া পড়ে, তবে আল্লাহ তা’আলা উহাকে তাহা অপেক্ষা উৎকৃষ্ট ব্যক্তি দান করিয়া থাকেন।

1604রেওয়ায়ত ৭. সুফিয়ান ইবনে আবু যুহায়র (রাঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলিয়াছেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলিতে শুনিয়াছি, তিনি বলিয়াছেন ইয়ামান বিজিত হইবে। তথা হইতে লোক সফর করিয়া মদীনায় আগমন করিবে। তাহারা নিজেদের বাড়িঘর এবং যাহা তাহাদের ইচ্ছা হইবে মদীনা হইতে লইয়া যাইবে, অথচ মদীনা তাহাদের জন্য উত্তম ছিল, যদি তাহারা তাহা বুঝিতে পারিত! শাম বিজিত হইবে, তথা হইতে কিছু লোক মদীনায় আগমন করিবে এবং নিজেদের বাড়িঘর এবং যাহারা তাহদের কথা মান্য করিবে তাহাদেরকে মদীনা হইতে লইয়া যাইবে, অথচ মদীনা তাহাদের জন্য উত্তম ছিল, যদি তাহারা তাহা বুঝিতে পারিত! ইরাক বিজিত হইবে। তথা হইতে কিছু সংখ্যক লোক সফর করিয়া মদীনা আগমন করিবে এবং তাহাদের বাড়িঘর এবং যাহারা তাহাদের কথা মান্য করিবে তাহাদেরকে মদীনা হইতে লইয়া যাইবে, অথচ মদীনা তাহদের জন্য উত্তম ছিল, যদি তাহারা জানিতে পারিত! ইয়ামন, শাম ও ইরাক বিজিত হওয়ার পর অনেকে তথাকার আবহাওয়া ও জিনিসপত্র সস্তা দেখিয়া নিজেদের বাড়িঘর এবং যাহারা তাহাদের সহিত যাইতে ইচ্ছা করিয়াছিল তাহাদেরকে মদীনা হইতে লইয়া গেল এবং তথায় যাইয়া বসতি ঠিক করিল। অতঃপর নানা ফিতনা-ফাসাদে আক্রান্ত হইল।

1605রেওয়ায়ত ৮. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ তোমরা মদীনাকে অতি উত্তম অবস্থায় ত্যাগ করিবে, এমন কি তথায় কুকুর ও ব্যাঘ্ৰ আসিবে এবং মসজিদের খুঁটি ও মিম্বরে পেশাব করবে। সাহাবায়ে কিরাম প্রশ্ন করিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ঐ সময় মদীনার ফলমূল কে ভোগ করিবে? তিনি বলিলেন, ক্ষুধার্ত জস্তুরা ও পশু পাখিরা।

1606রেওয়ায়ত ৯. মলিক (রহঃ) বলেন, উমর ইবন আবদুল আযীয (রহঃ) যখন মদীনা হইতে যাইতেছিলেন তখন মদীনার প্রতি লক্ষ্য করিয়া স্বীয় দাস মুযাহিমকে বলিতেছিলেন, হয়ত তুমি ও আমি সমস্ত লোকের মধ্যে হইব যাহাদেরকে মদীনা বাহির করিয়া দিয়াছে।

1607রেওয়ায়ত ১০. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন উহুদ পাহাড়ের প্রতি দৃষ্টি করিতেন তখন বলিতেন, এই পাহাড় আমার প্রিয় আর আমি এই পাহাড়ের প্রিয়। হে আল্লাহ! ইবরাহীম (আঃ) মক্কাকে হরম করিয়াছেন, আমি মদীনার উভয় মধ্যস্থলকে হরম করিতেছি। পার্থক্য এই যে, আল্লাহর হরমে খিয়ানত করিলে উহার ক্ষতিপূরণ অনিবার্য হয়, আর রাসূলের হরমের খিয়ানত করিলে উহা অনিবার্য হয় না। অনেকের মতে এখানেও উহা অনিবার্য হয়।

1608রেওয়ায়ত ১১. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলিতেন যদি আমি হরিণ চরিতে দেখি, তাহা হইলে উহাকে কখনও তাড়া করিব না। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, মদীনার উভয় দিকের মধ্যবর্তী অংশ হরম।

1609রেওয়ায়ত ১২. আবু আয়্যূব আনসারী হইতে বর্ণিত আছে, তিনি দেখিলেন, কয়েকটি ছেলে একটি শিয়ালকে ঘিরিয়া রাখিয়াছে। তিনি ছেলেদেরকে তাড়াইয়া শিয়ালটিকে ছাড়াইয়া দিলেন। মালিক (রহঃ) বলেন, আবু আয়্যূব ইহাও বলিয়াছেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হরমেও কি এইরূপ কার্য হইতেছে?

1610রেওয়ায়ত ১৩. এক ব্যক্তি হইতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমার নিকট যায়দ ইবনে সাবিত (রাঃ) আগমন করিলেন, তখন আমি আসওয়াফে (মদীনার একটি গ্রাম) একটি পাখি ধরিয়াছিলাম। তিনি আমার হাত হইতে উহা লইয়া ছাড়িয়া দিলেন।

1611রেওয়ায়ত ১৪. উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় আগমন করিলেন তখন আবু বকর ও বেলালের জ্বর আসিতে শুরু করিল। আয়েশা (রাঃ) বলেন, আমি উভয়ের নিকট গেলাম। আমি তাহাকে বলিলাম, আব্বা আপনার অবস্থা কিরূপ? হে বেলাল! আপনার অবস্থা কিরূপ? আয়েশা (রাঃ) বলেন, আবু বকরের যখন জ্বর আসিত তিনি বলিতেনঃ كُلُّ امْرِئٍ مُصَبَّحٌ فِي أَهْلِهِ وَالْمَوْتُ أَدْنَى مِنْ شِرَاكِ نَعْلِهِ প্রত্যেকে নিজের পরিজনের মধ্যে প্রভাত করে আর মৃত্যু তাহার জুতার ফিতার চাইতেও তাহার অতি নিকটে থাকে, আর যখন বেলালের জ্বর হইত তখন তিনি উচ্চস্বরে এই কবিতা পড়িতেনঃ أَلاَ لَيْتَ شِعْرِي هَلْ أَبِيتَنَّ لَيْلَةً بِوَادٍ وَحَوْلِي إِذْخِرٌ وَجَلِيلُ وَهَلْ أَرِدَنْ يَوْمًا مِيَاهَ مَجَنَّةٍ وَهَلْ يَبْدُوَنْ لِي شَامَةٌ وَطَفِيلُ হায়! যদি আমি জানিতে পারিতাম যে, কখনও আমি এক রাত্রির জন্যও মক্কার উপত্যকায় রাত্রি যাপন করিতে পারিব। আর আমার চতুষ্পার্শ্বে উযখার ও জলিল নামক ঘাস থাকিবে। আর পুনরায় কখনও মাজিন্না কুয়ার নিকট যাইতে পারিব, আর পুনরায় কখনও শামা ও তফীল পাহাড় আমার দৃষ্টিগোচর হইবে। আয়েশা (রাঃ) বলেন, আমি ইহা শুনিয়া রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নিকট বর্ণনা করিলাম। তিনি দু'আ করিলেনঃ اللَّهُمَّ حَبِّبْ إِلَيْنَا الْمَدِينَةَ كَحُبِّنَا مَكَّةَ أَوْ أَشَدَّ وَصَحِّحْهَا وَبَارِكْ لَنَا فِي صَاعِهَا وَمُدِّهَا وَانْقُلْ حُمَّاهَا فَاجْعَلْهَا بِالْجُحْفَةِ হে আল্লাহ আমাদের মনে মদীনার মুহব্বত এইরূপ করিয়া দিন যেইরূপ মক্কার মুহব্বত রহিয়াছে, বরং উহা হইতেও প্রগাঢ় ভালবাসা। আর মদীনাকে স্বাস্থ্যকর করিয়া দিন। উহার সা’ ও মুদে বরকত দিন, উহার জ্বর রূপ ব্যাধি অন্যত্র লইয়া যান এবং জুহফাতে উহার জ্বরকে সরাইয়া দিন। আর উহার সা ও মুদ্দে (পরিমাণ বিশেষ) বরকত দান করুন। আর তথাকার জ্বরকে জুহফার দিকে দূর করিয়া দিন।

1612রেওয়ায়ত ১৫. আয়েশ (রাঃ) বলিয়াছেন, আমির ইবনে ফুহাইরা বলতেন, আমি মৃত্যুর পূর্বে মৃত্যুকে দেখিয়াছি, যাহার ভীরু তাহদের মৃত্যু উপর হইতে অবতরণ করে।

1613রেওয়ায়ত ১৬. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ মদীনার দ্বারে ফিরিশতা মোতায়েন রহিয়াছে। উহাতে কখনও মহামারী দেখা দিবে না আর দজ্জালও প্রবেশ করিবে না।

1614রেওয়ায়ত ১৭. উমর ইবনে আবদুল আযীয (রহঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বশেষ কথা যাহা বলিয়াছেন তাহাতে ছিলঃ قَاتَلَ اللَّهُ الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى اتَّخَذُوا قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ مَسَاجِدَ لاَ يَبْقَيَنَّ دِينَانِ بِأَرْضِ الْعَرَبِ অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা ইহুদী ও নাসারাদেরকে ধ্বংস করুন। তাহারা নিজেদের নবীদের কবরকে মসজিদ বানাইয়া লইয়াছে। তোমরা সতর্ক থাক, আরবের মাটিতে যেন দুই ধর্ম হইতে না পারে।

1615রেওয়ায়ত ১৯. উমর (রাঃ) ফিদক ও নাজরান হইতেও ইহুদী বিতাড়িত করিয়াছিলেন। খায়বরের ইহুদীদের না কোন জায়গা ছিল, না বাগান ছিল। ফিদকের ইহুদীদের স্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক ছিল এবং অর্ধেক ফল ছিল। উমর (রাঃ) অর্ধেক ফল ও স্থাবর সম্পত্তির দাম নির্ধারিত করিয়া উহা তাহাদেরকে দিয়া দেন এবং তাহাদেরকে তথা হইতে বহিষ্কার করিয়াছিলেন।

1616রেওয়ায়ত ২০. উরওয়া ইবনে যুবায়র (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদ পাহাড় দেখিয়া বলিয়াছেন, এই পাহাড় আমাদের এবং আমরা এই পাহাড়কে ভালবাসি।

1617রেওয়ায়ত ২১. আবদুর রহমান ইবনে কাসিম (রহঃ) হইতে বর্ণিত, উমর ইবনে খাত্তাব (রাঃ)-এর মুক্ত দাস আসলাম বলিয়াছেন, তিনি মক্কার রাস্তায় আবদুল্লাহ ইবন আয়াশ আল-মাখযুরীর সহিত সাক্ষাৎ করিতে যাইয়া তাহার সম্মুখে নবীয দেখিতে পাইলেন। আসলাম বলিলেন, এই পানীয়কে উমর (রাঃ) খুব পছন্দ করেন। অতঃপর আবদুল্লাহ্ ইবনে আয়াশ (রাঃ) একটি বড় পেয়ালা ভরিয়া উমর (রাঃ)-এর সম্মুখে রাখিলেন। তিনি উহা উঠাইয়া পান করিতে ইচ্ছা করিলেন। অতঃপর মাথা তুলিয়া বলিলেন, ‘এই পানীয় খুব ভাল’ ইহা বলিয়া তিনি উহা পান করিলেন। অতঃপর যে তাহার ডানদিকে ছিল তাহাকে দান করিলেন। যখন আবদুল্লাহ ইবনে আয়াশ প্রস্থান করিতে উদ্যত হইলেন তখন উমর (রাঃ) তাহাকে ডাকিয়া বলিলেন, তুমি বলিতেছ মদীনা হইতে মক্কা ভাল। আবদুল্লাহ্ বলিলেন, মক্কায় আল্লাহর হরম এবং উহা শান্তির স্থান আর তথায় তাহার ঘর রহিয়াছে। উমর (রাঃ) বলিলেন, আমি আল্লাহর ঘর ও হরম সম্বন্ধে কিছু বলিতেছি না। উমর (রাঃ) আবারও আবদুল্লাহকে তদ্রুপ জিজ্ঞাসা করিলে তিনি ঐ একই উত্তর দিলেন। উমর (রাঃ) তখন আবার বলিলেন, আল্লাহর হরম এবং তাহার গৃহ সম্বন্ধে কিছুই বলিতেছি না। অতঃপর তিনি চলিয়া গেলেন।

1618রেওয়ায়ত ২২. আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) হইতে বর্ণিত, উমর ইবনে খাত্তাব (রাঃ) শাম দেশের দিকে যাত্রা করিলেন। যখন তিনি সুরগ নামক স্থানে পৌছিলেন তখন বড় বড় সেনাপতি তাহার সহিত মিলিত হইলেন, যেমন আবূ উবায়দা ইবনুল জাররাহ ও তাহার সঙ্গিগণ। ঐ সেনাপতিগণ বলিলেন, আজকাল শাম দেশে মহামারী বিস্তার লাভ করিয়াছে। ইবন আব্বাস বলিলেন, নেতৃস্থানীয় মুহাজিরদেরকে ডাকিয়া আন যাহারা প্রথমে হিজরত করিয়াছেন। উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বলিলেন তাহাদিগকে ডাকিয়া আনা হইল। উমর (রাঃ) তাহাদের সহিত শাম দেশের মহামারী সম্বন্ধে পরামর্শ করিলেন। তাহাদের কেহ মন্তব্য করিলেন, আপনি কাজের জন্য বাহির হইয়াছেন এখন প্রত্যাবর্তন করা সমীচীন হইবে না। কেহ বলিলেন, আপনার সহিত অন্যান্য লোকও রহিয়াছে আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের সাহাবীও রহিয়াছেন। তাহাদিগকে এই মহামারীতে লইয়া যাওয়া যুক্তিযুক্ত হইবে না। উমর (রাঃ) তাহাদিগকে বিদায় দিলেন। অতঃপর বলিলেন, যাও আনসারদেরকে ডাকিয়া আন! অতঃপর ইবনে আব্বাস আনসারদেরকে ডাকিয়া আনিলেন। উমর (রাঃ) তাহদের সহিত পরামর্শ করিলেন। তাহারাও মুহাজিরদের মতো মত প্রকাশ করিলেন। উমর (রাঃ) তাহাদিগকেও বিদায় দিলেন। অতঃপর বলিলেন, যাও কুরাইশ সর্দারদিগকে ডাকিয়া আন। যাহারা মক্কা বিজয়ের পর হিজরত করিয়াছেন, আমি কুরাইশের বয়োবৃদ্ধদের ডাকিয়া আনিলাম। তাহদের দুইজনের মধ্যেও কোন মতবিরোধ হইল না, বরং সকলেই এক বাক্যে বলিলেন, আমাদের মতে আপনার ফিরিয়া যাওয়াই যুক্তিযুক্ত মনে হইতেছে। লোকদেরকে মহামারিতে লইয়া যাওয়া সমীচীন মনে হইতেছে না। অতঃপর উমর (রাঃ) ঘোষণা করিয়া দিলেন, সকাল বেলায় আমরা ফিরিয়া যাইব । সকাল বেলা সকলেই সওয়ার হইয় তাহার সহিত সাক্ষাৎ করিতে আসিল। সে সময় আবূ উবায়দা (রহঃ) বলিলেন, কি হইল, আল্লাহর তকদীর (নির্ধারিত বিধান) হইতে পলাইয়া যাইতেছ? উমর (রাঃ) বলিলেন, যদি এই কথা অন্য কেহ বলিত। হ্যাঁ, আমরা আল্লাহর তকদীর হইতে আল্লাহর তকদীরের প্রতি পলায়ন করিতেছি। যদি তোমার নিকট উট থাকে আর তুমি দুই দিক ঘেরাও করা মাঠে লইয়া যাও, যাহার একদিক শস্য শ্যামল থাকে আর অন্যদিক শুষ্ক ও খালি থাকে। যদি তুমি উটকে শ্যামল দিকে চরাও তখনও তুমি উহা আল্লাহর তকদীরেই উহাকে চরাইলে আর যদি শুষ্ক ভূমিতে চরাও তবুও আল্লাহর তকদীরেই চরাইলে। এই সময়ে আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রাঃ) আসিয়া পড়িলেন। তিনি কোথাও কোন কাজে গিয়াছিলেন। তিনি বলিলেন, আমার এই ব্যাপারে জানা আছে। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলিতে শুনিয়াছি যদি তুমি কোন স্থানে মহামারীর কথা শুনিতে পাও তবে তথায় গমন করিও না। আর যদি কোন স্থানে মহামারী ছড়াইয়া পড়ে আর তুমি সেখানে থাক তবে তথা হইতে পলাইও না। ইবনে আব্বাস বলিলেন, ইহা শুনিয়া উমর (রাঃ) আল্লাহর প্রশংসা করিলেন এবং তথা হইতে প্রত্যাবর্তন করিলেন।

1619রেওয়ায়ত ২৩. সা’দ ইবন আবু ওয়াক্কাস (রাঃ) উসামা ইবনে যায়দের নিকট জিজ্ঞাসা করিলেন, তুমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নিকট মহামারী সম্বন্ধে কি শুনিয়াছ? তিনি বলিলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন মহামারী এক প্রকার আযাব যাহা বনী ইসরাইলের এক সম্প্রদায়ের প্রতি পাঠান হইয়াছে (অথবা বলিয়াছেন) তোমাদের পূর্বেকার লোকদের প্রতি পাঠান হইয়াছে। যখন তোমরা কোন স্থানে মহামারীর কথা শোন তথায় যাইও না, আর যদি কোথাও মহামারী সংক্রামিত হইয়া পড়ে আর তোমরা তথায় থাক, তবে তথা হইতে পলায়ন করিও না। আবু নসর বলেন, পলায়নের ইচ্ছায় বাহির হইও না।

1620রেওয়ায়ত ২৪. আবদুল্লাহ ইবন আমির ইবনে রবী'আ (রাঃ) হইতে বর্ণিত, উমর (রাঃ) শাম দেশের দিকে রওয়ানা হইলেন, যখন সুরগ নামক স্থানে পৌছিলেন, তখন জানিতে পারিলেন, শাম দেশে মহামারী বিস্তার লাভ করিয়াছে।

1621রেওয়ায়ত ২৫. সালেম ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) আবদুর রহমান ইবনে আউফ-এর কথায় সুরগ হইতে ফিরিয়া আসিলেন।

1622রেওয়ায়ত ২৬. মালিক (রহঃ) বলেন, উমর (রাঃ) বলিয়াছেন, রুকবার একটি ঘর আমার নিকট শাম দেশের দশটি ঘর হইতে উৎকৃষ্ট। মালিক (রহঃ) বলেন, ইহা এইজন্য যে, রুকবা স্বাস্থ্যকর স্থান ছিল, সেখানে লোকেরা দীর্ঘায়ু লাভ করিত, আর শামে প্রায়ই মহামারী দেখা দিত।

উৎস: Muwatta Malik

WEBREATH · 11:11

«Should I not be a thankful servant?» — Sahih al-Bukhari

Breath is one for all: everyone lives by it, whoever they are and whatever they believe. Every day at 11:11 local time people stop for sixty seconds, breathe, and thank GOD for the breath — each in their own words, each within themselves. In that minute we are One Breath.

WEBREATH — the Minute at 11:11, your own local time — we are One Breath