মুওয়াত্তা মালিক 21 · Jihad
আপনার ভাষায় এখনো কোনো অনুবাদ নেই — ইংরেজি দেখাচ্ছে
959وَأَنزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ অর্থঃ তোমার প্রতি কুরআন অবতীর্ণ করিয়াছি, মানুষকে সুস্পষ্টভাবে বুঝাইয়া দিবার জন্য যাহা তাহাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হইয়াছিল, যাহাতে উহারা চিন্তা করে। (সূরা আন-নাহলঃ ৪৪) রেওয়ায়ত ১. আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ আল্লাহর পথে জিহাদরত ব্যক্তি যতদিন বাড়ি ফিরিয়া না আসে ততদিন তাহার উদাহরণ হইল এমন এক ব্যক্তি, যে ক্লান্তিহীনভাবে অনবরত রোযা রাখে এবং নামায পড়ে।
960রেওয়ায়ত ২. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে জিহাদ করে আর শুধুমাত্র জিহাদ এবং আল্লাহর কথার উপর অপরিসীম আস্থাই তাহাকে বাড়ি হইতে বাহির করিয়া নিয়া আসে, আল্লাহ তা'আলা ঐ ব্যক্তির জিম্মাদার হইয়া যান। হয় তাহাকে তিনি জান্নাতে প্রবেশ করাইবেন অথবা সওয়াব ও গনীমতের সম্পদসহ তাহাকে বাড়ি ফিরাইয়া আনিবেন।
961রেওয়ায়ত ৩. আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, ঘোড়া তিন ধরনের। একজনের জন্য ইহা সওয়াবের, আর একজনের জন্য ইহা ঢালস্বরূপ এবং আর একজনের জন্য ইহা গুনাহর কারণ হইয়া থাকে। ইহা সওয়াবের কারণ হয় ঐ ব্যক্তির জন্য, যে ব্যক্তি ইহাকে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের নিয়তে লালন-পালন করে। কোন চারণক্ষেত্রে বা বাগানে ইহাকে দীর্ঘ রজ্জুর সাহায্যে খুঁটির সঙ্গে বাঁধিয়া রাখে। যতদূর পর্যন্ত এই ঘোড়াটি ঘাস খাইবে তাহার আমলনামায় সওয়াব লেখা হইবে। ঘোড়াটি যদি রজ্জু ছিড়িয়া আরো দূরে চলিয়া যায়, তবে ইহার প্রতিটি পদক্ষেপ এবং বিষ্ঠার বিনিময়ে সওয়াব লেখা হইবে। কোন নদীর কাছে গিয়া যদি ইহা পানি পান করে, তবে মালিক ইচ্ছা করিয়া পানি পান না করানো সত্ত্বেও ইহার সওয়াব লেখা হইবে। আর ইহা ঢালস্বরূপ হইল ঐ ব্যক্তির জন্য, যে ব্যক্তি ইহাকে উপার্জনের এবং পরমুখাপেক্ষী না হওয়ার উদ্দেশ্যে লালন-পালন করে এবং ইহার যাকাত আদায় করে। আর পাপের কারণ হইল ঐ ব্যক্তির জন্য, যে অহংকার ও রিয়াকারী এবং মুসলিমদের সহিত শক্রতা করার উদ্দেশ্যে ইহাকে লালন-পালন করে। গাধা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হইলে তিনি বলিলেনঃ এই সম্পর্কে আমার উপর নিম্নের এই স্বয়ংসম্পূর্ণ আয়াতটি ব্যতীত অন্য কোন হুকুম অবতীর্ণ হয় নাই। আয়াতটি হইল এইঃ (فَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ وَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ) অর্থঃ সামান্য পরিমাণ নেক আমল করিলে তাহাও সে দেখিতে পাইবে আর সামান্য পরিমাণ মন্দ আমল করিলে তাহাও সে দেখিতে পাইবে । (সূরা যিলযালঃ)
962রেওয়ায়ত ৪. আত ইবন ইয়াসার (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ সর্বোচ্চ মর্যাদার আধকারী ব্যক্তির কথা তোমাদেরকে বলিব কি? যে ব্যক্তি স্বীয় ঘোড়ার লাগাম হাতে নিয়া আল্লাহর রাহে জিহাদে লিপ্ত থাকে, সেই ব্যক্তি হইল সর্বোচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি। অতঃপর সর্বোচ্চ মর্যাদা হইল ঐ ব্যক্তির যে ইবাদতে লিপ্ত হইয়া থাকে আর কাহাকেও তাহার সহিত শরীক করে নাই।
963রেওয়ায়ত ৫. উবাদা ইবন সামিত (রাঃ) বলেন, সচ্ছল ও অসচ্ছল সকল অবস্থায় এবং সুখে ও দুঃখে কথা শোনার, আনুগত্য প্রদর্শন করার, উপযুক্ত মুসলিম প্রশাসকদের সহিত বিবাদ না করার, সকল স্থানে সত্য বলার এবং আল্লাহর কাজে নিন্দুকের নিন্দ গ্রাহ্য না করার উপরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামের হাতে আমরা বায়’আত করিয়াছি।
964রেওয়ায়ত ৬. যাইদ ইবন আসলাম (রাঃ) বর্ণনা করেন-আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ (রাঃ) রোমক বাহিনীর শক্তিমত্তা ও নিজেদের আশংকাজনক অবস্থার কথা উল্লেখ করিয়া উমর বিন খাত্তাব (রাঃ)-এর নিকট পত্র লিখিলে উমর (রাঃ) উত্তরে লিখিয়াছিলেন, হামদ ও সালাতের পর। জানিয়া রাখুন, মুমিনের উপর যখনই কোন বিপদ আসুক না কেন আল্লাহ তাহা দূরীভূত করিয়া দেন। মনে রাখিবেন, একবারের কষ্ট কখনো দুইবারের সুখ ও আরামের উপর প্রাধান্য লাভ করিতে পারে না। আল্লাহ তা'আলা কুরআনুল করীমে ইরশাদ করেনঃ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اصْبِرُوا وَصَابِرُوا وَرَابِطُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ অর্থাৎ, ওহে মু’মিনগণ, তোমরা ধৈর্য ধারণ কর, ধৈর্যে প্রতিযোগিতা কর এবং প্রতিরক্ষায় দৃঢ় হইয়া থাক আর আল্লাহকে ভয় কর, যাহাতে তোমরা সফলকাম হইতে পার। (আলে ইমরানঃ)
965রেওয়ায়ত ৭. নাফি’ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলিয়াছেনঃ শক্রর দেশে কুরআন লইয়া যাইতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করিয়াছেন। মালিক (রহঃ) বলেনঃ এই নিষেধাজ্ঞার কারণ হইল, শত্রুরা যেন কুরআন শরীফের অবমাননা করার সুযোগ না পায়।
966রেওয়ায়ত ৮. আবদুর রহমান ইবন কা'ব (রাঃ) বলেন, ইবন আবুল হুকাইককে যাহারা হত্যা করিতে গিয়াছিলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম তাহাদিগকে নারী ও শিশু হত্যা করিতে নিষেধ করিয়া দিয়াছিলেন। ইবন কা'ব বলেন, ঐ কার্যে নিয়োজিতদের একজন বলিয়াছেনঃ ইবন আবুল হুকাইকের স্ত্রী চিৎকার করিয়া আমাদের তৎপরতা ফাঁস করিয়া দিয়াছিল। আমি তাহাকে হত্যা করার জন্য তলওয়ার উঠাইয়াছিলাম। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামের নিষেধাজ্ঞা মনে পড়িতেই আবার নামাইয়া ফেলিয়াছিলাম। আর তাহা না হইলে তাহাকেও সেখানে শেষ করিয়া আসিতাম।
967রেওয়ায়ত ৯. ইবন উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম কোন এক যুদ্ধে একজন স্ত্রীলোককে নিহত অবস্থায় পড়িয়া থাকিতে দেখিতে পাইয়া এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা করেন এবং যুদ্ধে নারী ও শিশুহত্যা নিষিদ্ধ করেন।
968রেওয়ায়ত ১০. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) বর্ণিত-আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ) সিরিয়ায় এক সৈন্যবাহিনী প্রেরণ করিয়াছিলেন। উক্ত বাহিনীর এক-চতুর্থাংশের অধিনায়ক ছিলেন ইয়াযিদ ইবন আবূ সুফিয়ান (রাঃ)। বিদায়ের সময় তিনি তাহার সঙ্গে কিছুদূর পদব্রজে গমন করেন। তখন ইয়াযিদ (রাঃ) বলিলেন, আমীরুল মু'মিনীন হয় আপনি সওয়ারীতে আরোহণ করিয়া চলুন, না হয় আমি নামিয়া পড়ি এবং আমিও হাটিয়া চলি। আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ) বলিলেনঃ তুমিও হাঁটিয়া চলিতে পার না আর আমিও সওয়ার হইতে পারিব না। আমার এই হাটাকে আমি আল্লাহর পথে কদম ফেলা বলিয়া বিশ্বাস করি। অতঃপর তিনি আরো বলিলেন, সেখানে কিছু এমন ধরনের লোক তুমি দেখিবে যাহারা নিজেদেরকে আল্লাহর ধ্যানে নিবেদিত বলিয়া মনে করে (অর্থাৎ খৃষ্টান পদ্রী)। তাহাদিগকে তাহদের অবস্থায় ছাড়িয়া দিও। কিছু এমন লোক দেখিবে যাহারা মধ্যভাগে মাথা মুন্ডন করে (তৎকালে অগ্নি উপাসকদের এই রীতি ছিল।) তাহাদিগকে সেখানেই তলোয়ার দিয়া উড়াইয়া দিবে। দশটি বিষয়ে তোমাকে আমি বিশেষ উপদেশ দিতেছি। উহার প্রতি লক্ষ্য রাখিও । নারী, শিশু ও বৃদ্ধদিগকে হত্যা করিবে না। ফলন্ত বৃক্ষ কাটিও না, আবাদ ভূমিকে ধ্বংস করিও না, খাওয়ার উদ্দেশ্যে ভিন্ন বকরী বা উট হত্যা করিও না, মৌমাছির মৌচাক পোড়াইয়া দিও না অথবা পানিতে ডুবাইয়া দিও না, গনীমত বা যুদ্ধলব্ধ মাল হইতে কিছু চুরি করিও না, হতোদ্যম বা ভীরু হইও না।
969রেওয়ায়ত ১১. মালিক (রহঃ) জ্ঞাত হইয়াছেন, উমর ইবন আবদুল আযীয (রহঃ) তাহার জনৈক শাসনকর্তাকে লিখিয়াছিলেন, আমি জানিতে পারিয়াছি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হিওয়া সাল্লাম যখন কোন দিকে সৈন্যদল প্রেরণ করিতেন তখন তাহাদিগকে উপদেশ দিয়া বলিতেনঃ তোমরা আল্লাহর নামে আল্লাহরই পথে জিহাদ করিয়া যাও। যাহারা আল্লাহকে অস্বীকার করিয়াছে, কুফরী করিয়াছে, তাহদের বিরুদ্ধেই তোমরা এই জিহাদ করিতেছ। খেয়ানত করিও না, ওয়াদা ভঙ্গ করিও না, কাহারো নাক-কান কাটিয়া বিকৃত করিও না, শিশু ও নারীদিগকে হত্যা করিও না। অন্য সেনাদল ও বাহিনীকেও এই কথাগুলি শুনাইয়া দিও। আল্লাহ তোমাদের উপর শান্তি বর্ষণ করুন, তোমাদিগকে নিরাপদে রাখুন।
970রেওয়ায়ত ১২. মালিক (রহঃ) কুফার জনৈক ব্যক্তি হইতে বর্ণনা করেন-উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) জনৈক সেনাধ্যক্ষকে লিখিয়াছিলেন, জানিতে পারিলাম, অনারব কাফেরদের মধ্যে কেহ যুদ্ধ বন্ধ করিয়া পাহাড়ে আশ্রয় নিলে তোমাদের কেহ তাহাকে ডাকিয়া বলে, “তোমার কোন ভয় নাই”, পরে হাতের মুঠায় পাইয়া আবার তাহাকে হত্যা করিয়া ফেলে। যাহার হাতে আমার প্রাণ তাহার কসম, সত্যই যদি কাহাকেও আমি কোনদিন এমন (ওয়াদা ভঙ্গ) করিতে দেখিতে পাই, তবে তাহার গর্দান উড়াইয়া দিব। মালিক (রহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি সম্পর্কে আলিমগণ একমত নহেন এবং ইহার উপর আমল নাই। মালিক (রহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হইয়াছিল- ইশারা ইঙ্গিতে যদি কেহ কাহাকে আমান বা নিরাপত্তা প্রদান করে, তবে কি তাহা গ্রহণযোগ্য হইবে? তিনি বলিলেনঃ হ্যাঁ, আমি মনে করি সৈন্যদিগকে যেন বলিয়া দেওয়া হয় যে, ইশারা করিয়া যাহাকে নিরাপত্তা প্রদান করা হইয়াছে তাহাকে যেন হত্যা না করে। কারণ আমার মতে ইশারাও ভাষার মতোই। আমার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) বলিয়াছেনঃ যে জাতি চুক্তি ভঙ্গ করে, সেই জাতির উপর শক্ৰ চাপাইয়া দেওয়া হয়।
971রেওয়ায়ত ১৩. নাফি’ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) জিহাদের উদ্দেশ্যে যদি কিছু দিতেন, তবে বলিতেনঃ ওয়াদি-এর কুরায় যখন পৌছিবে তখন ইহা তোমার।
972রেওয়ায়ত ১৪. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) হইতে বর্ণিত-সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) বলিতেন, কাহাকেও যদি জিহাদের উদ্দেশ্যে কোন কিছু দেওয়া হয় আর ঐ ব্যক্তি জিহাদের স্থানে পৌছিয়া যায়, তবে উহা তাহার হইয়া যাইবে। মালিক (রহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হইয়াছিল-কেহ যদি জিহাদ করার মানত করে আর তাহার পিতামাতা বা তাহাদের কোন একজন যদি তাহাকে জিহাদে যাইতে নিষেধ করে তবে সে কি করিবে? তিনি বলিলেনঃ আমার মতে মাতাপিতার অবাধ্যতা করা উচিত নহে এবং আপাতত জিহাদ আরেক বৎসর পর্যন্ত মওকুফ করিয়া রাখিবে, জিহাদের উপকরণসমূহও হেফাজত করিয়া রাখিবে। নষ্ট হইয়া পড়ার আশংকা দেখা দিলে সে এইগুলি বিক্রি করিয়া মূল্য সংরক্ষণ করিয়া রাখিবে, যাহাতে সে আগামী বৎসর ইহা দ্বারা পুনরায় অস্ত্র ক্রয় করিতে পারে। তবে সে যদি সম্পদশালী হয় এবং ইচ্ছা মত অস্ত্র ক্রয় করার শক্তি যদি তাহার থাকে তাহা হইলে ঐ অস্ত্র যাহা ইচ্ছা তাহাই করিতে পারে।
973রেওয়ায়ত ১৫. নাফি’ (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) হইতে বর্ণনা করেন, নজদ এলাকার দিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম একটি সেনাদল প্রেরণ করিয়াছিলেন। আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-ও ইহাতে শরীক ছিলেন। গনীমত হিসাবে অনেক উট ধরা পড়ে। প্রত্যেকেই বারটি বা এগারটি করিয়া উট প্রাপ্ত হন এবং প্রত্যেককেই আরো একটি করিয়া নফল (হিস্যাতিরিক্ত) দেওয়া হয়।
974রেওয়ায়ত ১৬. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) বর্ণনা করেন, তিনি সাঈদ-ইবন মুসায়্যাব (রহঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছেন, জিহাদের মালে গনীমত বন্টন করার সময় একটি উট দশটি বকরীর সমান বলিয়া গণ্য করা হইত। মালিক (রহঃ) বলেনঃ জিহাদে যদি কেহ মজুর হিসাবে শরীক হয় আর অন্য মুজাহিদের সহিত সেও যদি যুদ্ধে উপস্থিত থাকে ও যুদ্ধ করে, আর সে আযাদ ব্যক্তি হয়, তবে গনীমত হইতে তাহাকেও হিস্যা প্রদান করা হইবে। আর যদি সে যুদ্ধে শরীক না হয় তবে সে হিস্যা পাইবে না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমি মনে করি, স্বাধীন ব্যক্তি যাহারা যুদ্ধে শরীক হয় তাহারা ব্যতীত অন্য কাহারও জন্য গনীমতের অংশ বরাদ্দ হইবে না।
975রেওয়ায়ত ১৭. মালিক (রহঃ) জ্ঞাত হইয়াছেন যে, আবদুল্লাহ ইবন (রাঃ)-এর একজন গোলাম ঘোড়াসহ পলাইয়া কাফেরদের হাতে পড়িয়া গিয়াছিল। পরে উহা গনীমতের মাল হিসাবে পুনরায় মুসলিমদের হস্তগত হয়। তখন বন্টনের পূর্বেই 'আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-কে এইগুলি ফিরাইয়া দেওয়া হইয়াছিল। ইয়াহইয়া মালিক (রহঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছেন যে, কাফেরদের হাতে মুসলিমদের কোন কিছু পাওয়া গেলে বন্টনের পূর্বে উহা পূর্ব মালিকের নিকট প্রত্যর্পণ করা হইবে। বন্টন হইয়া গেলে আর উহা প্রত্যর্পণ করা হইবে না। মালিক (রহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হইয়াছিল, কোনো মুসলিমের উম্মু ওয়ালাদ যদি কাফেররা লইয়া যায়, পরে গনীমত হিসাবে যদি পুনরায় উহা মুসলিমদের হস্তগত হয়, তবে কি করা হইবে? তিনি বলিলেন, বন্টনের পূর্বে উহাকে কোনরূপে বিনিময় ব্যতিরেকে পূর্ব মালিকের নিকই ফিরাইয়া দেওয়া হইবে। আমার মতে বন্টনের পর মালিক ইচ্ছ করলে মূল দিয়া উহা কেনিয়া বাইতে পারিবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ কোনো মুসলিমের উম্মে ওয়ালাদ[1] দাসীকেও যদি কাফেরগণ ছিনাইয়া লইয়া যায়, পরে সে গনীমতের মাল হিসাবে হস্তগত হয়, আর বন্টন হইয়া যাওয়ার পরে যদি মালিক তাহাকে চিনিতে পারে, তবুও তাহাকে দাসী বানান যইবে না। আমি মনে করি, তখন সরকারের কর্তব্য হইবে তাহার ফিদয়া আদায় করিয়া তাহার মালিকের নিকট প্রত্যর্পণ করা। মালিক (রহঃ) বলেনঃ সরকার যদি এইরূপ না করে তবে পূর্ব মালিক তাহার ফিদয়া আদায় করিয়া তাহাকে মুক্ত করিয়া লইয়া যাইবে। বন্টনের পর যাহার ভাগে সে পড়িয়াছিল তাহার জন্য তাহাকে দাসী বানান বা তাহার সহিত যৌন মিলন জায়েয নহে। উম্মে ওয়ালাদ আযাদ দাসীর মতোই। উম্মে ওয়ালাদ যদি কাহাকেও আঘাত করিয়া যখমী করিয়া ফেলে তবে মালিকের উপর ফিদয়া আদায় করিয়া তাহাকে মুক্ত করিয়া দেওয়া মালিকের উপর জরুরী। তাহাকে মুক্ত না করিয়া ঐ অবস্থায় রাখিয়া দেওয়া এবং তাহাকে পুনরায় দাসী বানান ও তাহার সহিত যৌন সম্ভোগ কোনক্রমেই জায়েয হইবে না। মালিক (রহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হইয়াছিল, কেহ কোন মুসলিমকে মুক্ত করিয়া আনার উদ্দেশ্যে বা ব্যবসা করিতে কাফেরদের অঞ্চলে গেল আর সেখানে আযাদ ও ক্রীতদাস উভয় ধরনের মানুষ ক্রয় করিয়া নিয়া আসিল বা কাফেরগণ তাহাকে হিবা হিসাবে দান করিল। এখন এই ব্যক্তির বিষয়ে কি হুকুম হইবে? তিনি বলিলেন, আযাদ ব্যক্তিকে ক্রয় করিয়া নিয়া আসিলে তাহাকে ক্রীতদাস বানান যাইবে না। আর তাহার মূল্য তখন ঋণ হিসাবে ধরা হইবে। হিবা হিসাবে নিয়া আসিয়া থাকিলে ঐ ব্যক্তি আযাদ হিসাবেই বহাল থাকিবে আর আনয়নকারী ব্যক্তি কিছুই পাইবে না। তবে হিবার বিনিময়ে সে সেখানে কোন কিছু আদায় করিয়া থাকিলে তৎপরিমাণ টাকা দিয়া তাহাকে ক্রয় করিয়া আনিল। আর ঐ ব্যক্তি যদি কোন দাস ক্রয় করিয়া আনে, তবে পূর্ব মালিকের ইখতিয়ার থাকিবে। ইচ্ছা করিলে মূল্য আদায় করিয়া তাহাকে সে নিয়া যাইতে পারবে আর ইচ্ছা করিলে তাহাকে ঐ ব্যক্তির নিকট ছাড়িয়াও দিতে পারিবে।হিবা হিসাবে পাইয়া থাকিলে পূর্ব মালিক তাহাকে এমনিই নিয়া যাইতে পারবে। হিবার বিনিময়ে কিছু ব্যয় করিয়া থাকিলে তৎপরিমাণ টাকা আদায় করিয়া তবে পূর্ব মালিক তাহাকে নিতে পারবে।
976রেওয়ায়ত ১৮. আবু কাতাদা ইবন রিবয়ী (রাঃ) বর্ণনা করেন- হুনায়ন যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামের সহিত আমরা বাহির হইলাম। প্রচণ্ড চাপে মুসলিমগণ হটিয়া আসেন। কোন এক কাফের সৈন্যকে তখন জনৈক মুসলিম সৈন্যের উপর জয়ী হইয়া যাইতেছে দেখিয়া পিছন হইতে আমি ঐ কাফের সৈন্যটির ঘাড়ে তলওয়ারের এক কোপ বসাইলাম। সে তখন দৌড়াইয়া আমাকে ধরিয়া এমন চাপ দিল যে, আমার মৃত্যুর স্বাদ অনুভূত হইতে লাগিল। শেষে সে মৃত্যুর কোলে ঢলিয়া পড়িল। পরে উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) এর সহিত আমার সাক্ষাত হইল। আমি বলিলাম, মানুষের একি হইল! তিনি বলিলেনঃ আল্লাহর হুকুম। শেষে মুসলিম সৈন্যগণ আবার ময়দানে ফিরিয়া আসিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই সময় ঘোষণা করিলেনঃ সাক্ষী পেশ করিতে পারিলে যে তাহাকে হত্যা করিয়াছে তাহার আসবাবপত্র সে-ই পাইবে। আবু কাতাদা বলেনঃ এই ঘোষণা শুনিয়া আমি দাঁড়াইলাম এবং বলিলাম, আমার জন্য কে সাক্ষ্য দেবে? এই কথা বলিয়া আমি বসিয়া পড়িলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম পুনরায় ঐ কথা ঘোষণা করিলেন। আমি আবার দাঁড়াইলাম এবং বলিলামঃ আমার জন্য কে সাক্ষ্য দিবে? এই কথা বলিয়া আমি বসিয়া পড়িলাম। তৃতীয়বার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম এই কথা ঘোষণা করিলেন। আমিও উঠিয়া দাঁড়াইলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বলিলেনঃ আবূ কাতাদা, তোমার কি হইল? সমস্ত ঘটনা তখন আমি তাহাকে বিবৃত করিলাম। তখন এক ব্যক্তি উঠিয়া বলিলেনঃ হে আল্লাহর রাসূল, ইনি সত্যিই বলিয়াছেন। ঐ নিহত কাফেরটির আসবাবপত্র আমার নিকট আছে। আপনি তাহাকে রাজী করাইয়া ঐ আসবাবপত্র আমাকে দেওয়ার ব্যবস্থা করুন। আবু বকর (রাঃ) তখন বলিলেন, আল্লাহর কসম, কখনো নয়। আপনি এমন কাজ করার ইচ্ছাও করিবেন না। আল্লাহর ব্যাঘ্ৰসমূহ হইতে কোন এক ব্যাঘ্ৰ আল্লাহ ও তাহার রাসূলের পক্ষে লড়াই করিবে আর তুমি আসবাবপত্র নিয়া যাইবে, তাহা হইতে পারে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বলিলেন, আবু বকর যখার্থই বলিয়াছেন। আবূ কাতাদাকে ঐ আসবাবপত্র দিয়া দাও। শেষে ঐ ব্যক্তি উহা আমাকে দিয়া দিলেন। উহা হইতে একটি বর্ম বিক্রয় করিয়া বনু সালিমা মহল্লায় একটা বাগান ক্রয় করিয়া ফেলিলাম। ইসলম গ্রহণ করার পর এই সম্পত্তিটুকু আমি লাভ করিতে পারিয়াছিলাম।
977রেওয়ায়ত ১৯. কাশিম ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) বলেন, আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট আনফাল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিতে এক ব্যক্তিকে শুনিয়াছিলাম। ইবন আব্বাস (রাঃ) তখন উত্তরে বলিয়াছিলেন, ঘোড়া এবং অন্ত্রশস্ত্র আনফালের মধ্যে শামিল। ঐ ব্যক্তি ঐ প্রশ্নের পুনরাবৃত্তি করিলে ইবন আব্বাস (রাঃ) পুনরায় ঐ উত্তর প্রদান করেন। তখন ঐ ব্যক্তি বলিল, কুরআনুল করীমে যে আনফালের আলোচনা করা হইয়াছে, সেই আনফাল সম্পর্কে আপনার নিকট জানিতে চাহিতেছি। কাশিম (রহঃ) বলেনঃ ঐ ব্যক্তি বার বার একই কথা বলিতে লাগিল। শেষে ইবন আব্বাস (রাঃ) বিরক্ত হইয়া বলিলেনঃ এই ব্যক্তি সবীগের মতো যাহাকে উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বেত্ৰদণ্ড দিয়াছিলেন।[1] মালিক (রহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হইয়াছিল, মুসলিমদের কোন শক্রকে হত্যা করিতে পারিলে মুসলিম রাষ্ট্রনায়কের অনুমতি ব্যতিরেকে তাহার আসবাবপত্র নিহতকারী পাইতে পারে কি? তিনি বলিলেনঃ না। ইমাম বা রাষ্ট্রপ্রধান মুনাসিব মনে করিলে এই ধরনের হুকুম জারি করিতে পারেন।হুনায়ন যুদ্ধ ব্যতীত অন্য কোন যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ ধরনের নির্দেশ দিয়াছেন বলিয়া আমরা জ্ঞাত হই নাই।
978রেওয়ায়ত ২০. সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) বলেনঃ মালে গনীমতের এক-পঞ্চমাংশ হইতে (সাহাবা যুগের) লোকগণ নফল দিতেন। মালিক (রহঃ) বলেনঃ এই বর্ণনাটি আমার নিকট উত্তম। মালিক (রহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হইয়াছিল- গনীমতের প্রথম ভাগ হইতেই কি নফল দিতে হইবে? তিনি বলিলেনঃ ইহা রাষ্ট্রপ্রধানের বিবেচনার উপর নির্ভর করে। আমাদের নিকট ইহার নির্দিষ্ট রীতি নাই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক জিহাদেই নফল দিয়াছেন বলিয়া কোন রেওয়ায়ত আমাদের নিকট পৌছে নাই বরং কতক সময় তাহা দিয়াছেন, তন্মধ্যে হুনায়ন একটি। ইহা ইমামের ইচ্ছাধীন।
979রেওয়ায়ত ২১. মালিক (রহঃ) বলেন, আমার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, উমর ইবন আবদুল আযীয (রহঃ) বলিয়াছেনঃ গনীমতের মধ্যে ঘোড়ার দুই অংশ এবং অশ্বারোহীর এক অংশ। মালিক (রহঃ) বলেন, আমি উক্ত ধরনের অভিমতই শুনিয়া আসিয়াছি। মালিক (রহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হইয়াছিল- একজন যদি কয়েকটি ঘোড়া জিহাদে নিয়া আসে তবে সে প্রত্যেকটিরই কি আলাদা হিস্যা পাইবে? তিনি বলিলেনঃ না, আমি এইরূপ শুনি নাই, যে ঘোড়াটির উপর আহরণ করিয়া যুদ্ধ করিয়াছে সেইটির হিস্যাই কেবল সে পাইবে। মালিক (রহঃ) বলেন, আমার মতে তুর্কী ঘোড়া এবং সংকর জাতীয় ঘোড়াও সাধারণ ঘোড়ার হুকুমের অন্তর্ভুক্ত হইবে। কেননা কুরআনুল করীমে ইরশাদ হইয়াছেঃ “ঘোড়া, গাধা ও খচ্চর তোমাদের আরোহণের জন্য আমি সৃষ্টি করিয়াছি।” (নাহলঃ ৮) আল্লাহ্ তা'আলা আরো ইরশাদ করেন, “কাফেরদের মুকাবিলায় যথাশক্তি যুদ্ধাস্ত্র এবং ঘোড়া তৈরি রাখ যাহাতে ইহাদের দ্বারা আল্লাহর শক্র এবং তোমাদের শক্রকে সন্ত্রস্ত রাখিতে পার। (আনফালঃ ৬০) সুতরাং সরকার যখন গ্রহণ করিয়া নেন তখন আমার মতে তুর্কী ও সংকর জাতীয় ঘোড়াও সাধারণ ঘোড়ার অন্তর্ভুক্ত বলিয়া গণ্য হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ)- কে কেহ জিজ্ঞাসা করিয়াছিল, তুর্কী ঘোড়ারও কি যাকাত দিতে হইবে? উত্তরে তিনি বলিয়াছেনঃ ঘোড়ারও আবার যাকাত ওয়াজিব হয় নাকি?
980রেওয়ায়ত ২২. আমর ইবন শোয়াইব (রহঃ) হইতে বর্ণিত, হুনায়নের জিহাদ হইতে যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যাবর্তন করিয়া জিয়িরানা নামক স্থানের উদ্দেশে যাইতেছিলেন, তখন তাহার নিকট আসিয়া লোকেরা গনীমতের হিস্যা চাহিতে লাগিল, এমনকি লোকের চাপে তাহারা উট বৃক্ষের নিকট চলিয়া গেল এবং তাহার চাদর কাটায় আটকাইয়া পিঠ হইতে পড়িয়া গেল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, আমার চাদর আমাকে দাও। তোমরা কি মনে কর, যে জিনিস আল্লাহ তোমাদেরকে দিয়াছেন তাহা তোমাদেরকে আমি বাঁটিয়া দিব না? যাঁহার হাতে আমার প্রাণ তাঁহার কসম, তিহামা প্রান্তরের বাবলা গাছের মতো এত অধিক সংখ্যক পশুও যদি আল্লাহ্ তা'আলা তোমাদিগকে দান করেন তাহাও তোমাদের মাঝে আমি বন্টন করিয়া দিব। তোমরা আমাকে কৃপণ, ভীরু ও মিথ্যাবাদী হিসাবে দেখিতে পাইবে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উট হইতে অবতরণ করিয়া লোকের সামনে দাঁড়াইলেন। অতঃপর বলিলেনঃ কেহ যদি একটি সুতা বা সুচ নিয়া যায় তবে তাহাও দিয়া দাও। গনীমত হইতে কিছু চুরি করা লজ্জা ও জাহান্নামের কারণ হয় এবং কিয়ামতের দিনও ইহা লজ্জা এবং মহাদোষের কারণ হইবে। অতঃপর তিনি মাটি হইতে বকরী বা উটের একটা পশম হাতে নিয়া বলিলেনঃ যাহার হাতে আমার প্রাণ সে সত্তার কসম, আল্লাহ্ তা'আলা তোমাদিগকে যে সম্পদ দিয়াছেন উহাতে এতটুকু হিস্যাও আমার নাই। হ্যাঁ, গনীমতের এক-পঞ্চমাংশ আমি পাই। উহা তোমাদের নিকটই প্রত্যাবর্তিত হয়।
981রেওয়ায়ত ২৩. যাইদ ইবন খালিদ জুহানী (রহঃ) বলিয়াছেন, হুনায়নের জিহাদে এক ব্যক্তি মারা যায়। অন্যরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আসিয়া এই সংবাদ জানাইলে তিনি বলিলেনঃ তোমরা তোমাদের এই সঙ্গীর জানাযা পড়িয়া নাও। এই কথা শুনিয়া সকলের মুখ ফ্যাকাশে হইয়া গেল। কারণ মৃত ব্যক্তির কোন দোষের কারণেই হয়ত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামায পড়াইতে অস্বীকার করিতেছেন। যাইদ (রাঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বলিয়াছিলেন, এই ব্যক্তি গনীমত হইতে চুরি করিয়া কিছু নিয়া গিয়াছিল। যাইদ (রাঃ) বলেনঃ আমরা ঐ ব্যক্তির আসবাবপত্র খুলিয়া উহাতে ইহুদীদের পুতি হইতে সামান্য কয়েকটি পুতি পাইলাম, দুই দিরহাম পরিমাণ যাহার মূল্য হইবে।
982রেওয়ায়ত ২৪. আবদুল্লাহ ইবন মুগীরা ইবন আবু বুরদা কেনানী (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছিয়াছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাদিগের সকল কবীলার লোকদের কাছে আসিয়া তাহাদের জন্য দোয়া করিয়াছিলেন। কিন্তু একটি কবীলার জন্য দোয়া করেন নাই। এই কবীলার একটি লোকের বিছানার নিচে আকীক পাথরের তৈরি একটি চুরি করা হার পাওয়া গিয়াছিল। এই কবীলার নিকট আসিয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুর্দাদের বেলায় যেমন তাকবীর পড়া হয় তদ্রুপ তাকবীর পাঠ করিয়াছিলেন।
983রেওয়ায়ত ২৫. আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ খায়বরের বৎসর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামের সহিত আমরা রওয়ানা হইয়াছিলাম। এই যুদ্ধে আমরা সোনা-রূপা হস্তগত করিতে পারি নাই, তবে অনেক আসবাবপত্র ও কাপড় আমাদের হস্তগত হইয়াছিল। রিফা'আ ইবন যাইদ (রাঃ) মিদ’আম নামের একজন দাস রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হাদিয়া দিয়াছিলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াদি-এ কুরার দিকে যাত্রা করেন। সেইখানে পৌছার পর মিদ’আম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের উটের হাওদা নামাইতেছিল এমন সময় কোথা হইতে একটি তীর আসিয়া তাহার শরীরে বিদ্ধ হয় এবং সে মারা যায়। লোকেরা তখন বলাবলি করিতে লাগিল, মিদ’আমের জন্য জান্নাত মুবারক হউক। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, কখনো নহে। যাহার হাতে আমার প্রাণে সেই সত্তার কসম, খায়বরের যুদ্ধে গনীমতের মাল বন্টনের পূর্বে যে চাদর সে চুরি করিয়া নিয়া গিয়াছিল উহা এখন তাহার গায়ে আগুন হইয়া জ্বলিতেছে। এই কথা শুনিয়া এক ব্যক্তি একটা কি দুইটা ফিতা আনিয়া হাযির করিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বলিলেনঃ এই একটি বা দুইটি ফিতাও আগুনের ছিল।
984রেওয়ায়ত ২৬. আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ যে জাতির মধ্যে গনীমতের মাল চুরি করার প্রবণতা প্রকাশ পায় আল্লাহ্ তাহাদের মনে দুশমনের ভয় ঢুকাইয়া দেন। যে জাতির মধ্যে যিনা বেশি হয়, তাহদের মধ্যে মৃত্যুর আধিক্য ঘটে। যে জাতি মাপে কম দেয় আল্লাহ তাহাদের রিযিক কাটিয়া দেন। যে জাতি ন্যায়বিচার করে না তাহাদের মধ্যে রক্তপাত বেশি হইবে। আর যে জাতি চুক্তির খেলাফ করে, আল্লাহ তাহাদের উপর দুশমনকে চাপাইয়া দেন।
985রেওয়ায়ত ২৭. আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, যাহার হাতে আমার প্রাণ তাঁহার কসম, আমি চাই একবার আল্লাহর পথে শহীদ হই, আবার জীবিত হই; আবার শহীদ হই, আবার জীবিত হই; আবার শহীদ হই, আবার জীবিত হই। আবু হুরায়রা (রাঃ) তিনবার এই কথা উল্লেখ করিয়া বলিতেন, আমি সাক্ষী, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই ধরনের কথা বলিয়াছিলেন।
986রেওয়ায়ত ২৮. আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তা'আলা দুই ব্যক্তিকে দেখিয়া হাসিবেন। তাহারা ছিলেন একজন অন্যজনের হত্যাকারী। তাহারা উভয়ে জান্নাতে প্রবেশ করিবেন। একজন তো আল্লাহর পথে জিহাদ করিতে করিতে শহীদ হন। পরে তাহার হত্যাকারী ইসলাম গ্রহণ করিয়া তিনিও আল্লাহর পথে জিহাদ করিয়া শাহাদত বরণ করেন।
987রেওয়ায়ত ২৯. আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেন-রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, যাহার হাতে আমার প্রাণ তাহার কসম, যে ব্যক্তি আল্লাহর রাহে আহত বা যখমী হইবে, আর কে আল্লাহর রাহে আহত হইয়াছে তাহাকে তিনিই ভাল জানেন, সেই ব্যক্তি কিয়ামতের দিন এমনভাবে উঠিবে যে, তখন তাহার শরীর হইতে রক্ত প্রবাহিত হইতে থাকিবে। ইহার রং রক্তের রঙের মতোই হইবে, কিন্তু ইহা হইতে মেশক আম্বরের মতো সুগন্ধ ছড়াইতে থাকিবে।
988রেওয়ায়ত ৩০. যাইদ ইবন আসলাম (রাঃ) বর্ণনা করেন, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বলিতেন, হে আল্লাহ! এমন ব্যক্তির হাতে আমাকে হত্যা করাইও না যে ব্যক্তি তোমাকে একটি সিজদাও করিয়াছে।
989রেওয়ায়ত ৩১. আবদুল্লাহ ইবন আবু কাতাদা (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন। তিনি বলিয়াছেনঃ এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামের নিকট আসিয়া আরয করিল, হে আল্লাহর রাসূল! সওয়াবের আশায় পলায়ন না করিয়া দুশমনদের মুকাবিলায় ধৈর্যের সঙ্গে লড়িতে লড়িতে আল্লাহর রাহে যদি শহীদ হইতে পারি তবে আল্লাহ্ তা'আলা আমার গুনাহ মাফ করিয়া দিবেন কি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ হ্যাঁ। পরে এই ব্যক্তি যখন ফিরিয়া যাইতে লাগিল তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাকে ডাকিয়া আনিতে বলিলেন। সে আসিলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ তুমি আমার নিকট কি জিজ্ঞাসা করিয়াছিলে। ঐ ব্যক্তি তাহার কথা পুনরায় ব্যক্ত করিলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ হ্যাঁ, ঋণ ব্যতীত অন্য ধরনের গুনাহসমূহ আল্লাহ্ তা'আলা মাফ করিয়া দিবেন। জিবরীল (আঃ) আসিয়া এই কথাই আমাকে জানাইয়া গিয়াছেন।
990রেওয়ায়ত ৩২. উমর ইবন উবায়দুল্লাহ্ (রহঃ)-এর আযাদকৃত গোলাম আবুন্ নাযর-এর নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদের যুদ্ধে শাহাদত বরণকারীদের সম্পর্কে বলিয়াছেন, আমি নিজে ইহাদের সাক্ষী। আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ) তখন আরয করিলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি ইহাদের ভাই নহি? আমরাও তাহাদের মতো ইসলাম গ্রহণ করিয়াছি এবং তাহাদের মতো আল্লাহর রাহে জিহাদে রত রহিয়াছি। আপনি কি আমাদের পক্ষে সাক্ষী হইবেন না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হ্যাঁ, কিন্তু জানা নাই আমার মৃত্যুর পর তোমরা কি করিতে শুরু করবে। ইহা শুনিয়া আবু বকর (রাঃ) কাঁদিতে লাগিলেন। তিনি বলিলেন, আপনার মৃত্যুর পরও আমরা জীবিত থাকিব?
991রেওয়ায়ত ৩৩. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক স্থানে উপবিষ্ট ছিলেন। তখন মদীনায় একটি কবর খোড়ান হইতেছিল। এক ব্যক্তি কবরটি দেখিয়া বলিল, মুসলিমদের জন্য কত খারাপ এই জায়গা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ তুমি গৰ্হিত কথা বলিয়াছ। ঐ ব্যক্তি বলিলঃ আমার এই কথা বলার উদ্দেশ্য ছিল যে, আল্লাহর রাহে শহীদ হওয়া এই মৃত্যু হইতে অনেক ভাল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ আল্লাহর রাহে শহীদ হওয়ার চাইতে উত্তম অন্য কিছু নাই সত্য, কিন্তু মদীনা ব্যতীত এমন কোন স্থান নাই, যে স্থানে আমার কবর হইতে আমি ভালবাসি। এই কথা তিনি তিনবার উচ্চারণ করিলেন।
992রেওয়ায়ত ৩৪. যাইদ ইবন আসলাম (রহঃ) বর্ণনা করেন, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বলতেন, হে আল্লাহ! তোমার রাহে শাহাদত আর তোমার রাসূলের এই নগরে (মদীনায়) আমার মৃত্যু তোমার কাছে আমি প্রার্থনা করি।
993রেওয়ায়ত ৩৫. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) বর্ণনা করেন, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বলিতেনঃ মুমিনের সম্মান হইল তাহার তাকওয়া ও পরহেযগারী অর্জনে, আর দীন হইল তাহার শরাফত ও ভদ্রতা। ভদ্রতা ও চক্ষুলজ্জা হইল তাহার চরিত্র। বাহাদুরী ও ভীরুতা উভয়ই হইল জন্মগত গুণ। যেখানে ইচ্ছা করেন আল্লাহ ইহাদের একটি সেখানে রাখেন। ভীরু ও কাপুরুষ ব্যক্তি মাতাপিতাকে বিপদের মুখে ফেলিয়া পালাইয়া যায় আর বাহাদুর ব্যক্তি এমন ব্যক্তির সহিত লড়াইয়ে লিপ্ত হয় যাহার সম্পর্কে সে জানে যে, এই ব্যক্তি তাহাকে আর বাড়ি ফিরিয়া যাইতে দিবে না (অর্থাৎ মৃত্যু নিশ্চিত জানিয়াও সে যুদ্ধে লিপ্ত হয়)। মৃত্যুর বিভিন্ন রূপের মধ্যে নিহত হওয়া একটি। শহীদ হইল সেই ব্যক্তি, যে সন্তুষ্টচিত্তে নিজের প্রাণ আল্লাহর রাহে তুলিয়া দেয়।
994রেওয়ায়ত ৩৭. মালিক (রহঃ) বলেনঃ আহলে ইলম হইতে তাঁহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, তাঁহারা বলিতেন, আল্লাহ্র রাহের শহীদগনকে গোসল করান বা তাঁহাদের কাহারও জানাযা পড়া ঠিক নহে। বরং যে কাপড়ে শহীদ হইয়াছেন সেই কাপড়েই তাঁহাদিগকে দাফন করা উচিত। মালিক (রহঃ) বলেন, ইহা যুদ্ধের ময়দানে নিহত শহীদগনের হুকুম। আর যুদ্ধের ময়দান হইতে জীবিত আনার পর বাড়ি আসিয়া আল্লাহ্র ইচ্ছায় কিছুক্ষন বা কিছু কাল পর যাহাদের মৃত্যু হয় তাঁহাদিগকে গোসল দেওয়া হইবে এবং তাঁহাদের জানাযাও পড়া হইবে। উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) এর বেলায়ও এরূপ করা হইয়াছিল।
995রেওয়ায়ত ৩৮. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) বর্ণনা করেন, মুজাহিদগণের আরোহণের জন্য উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) প্রতি বৎসর চল্লিশ হাজার উট প্রদান করিতেন। তিনি সিরিয়াগামী সৈন্যদলের প্রতিজনকে একটি করিয়া এবং ইরাকগামীদের প্রতি দুইজনকে একটি করিয়া উট দিতেন। একদিন জনৈক ইরাকী আসিয়া তাহাকে বলিল, আমাকে এবং সুহাইমকে একটি উট দিন। উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বলিলেনঃ তোমাকে আল্লাহর কসম দিয়া বলিতেছি, সুহাইম বলিতে কি তুমি তোমার পানির মশকটিকেই বুঝাইতেছ? সে বলিলঃ হ্যাঁ।
996রেওয়ায়ত ৩৯. আনাস ইবন মালিক (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যখন কোবায় তশরীফ নিয়া যাইতেন তখন উম্মে হারাম বিনত মিলহান (রাঃ)-এর বাড়িতে যাইতেন। উম্মে হারাম (রাঃ) তাহাকে সেখানে আহার করাইতেন। উম্মে হারাম (রাঃ) ছিলেন উবাদা ইবন সামেত (রাঃ)-এর স্ত্রী। একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহার বাড়িতে গেলেন। উম্মে হারাম তাহাকে আহার করাইয়া মাথার চুল বাছিতে বসিয়া গেলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমাইয়া পড়িলেন, হঠাৎ হাসিতে হাসিতে তিনি জাগ্রত হইলেন। উম্মে হারাম (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! হাসিতেছেন কেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, আমার উম্মতের কিছু সংখ্যক লোক আমাকে দেখানো হইল বাদশাহগণ যেমন সিংহাসনে আসীন হন তদ্রুপ তাহার জিহাদ করার জন্য সমুদ্রের বুকে আরোহণ করিতেছে। উম্মে হারাম (রাঃ) তখন আরয করিলেন, হে আল্লাহর রাসূল! দোয়া করিয়া দিন আমাকেও যেন আল্লাহ তা'আলা ইহাদের মধ্যে শামিল করিয়া নেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দোয়া করিলেন এবং আবার ঘুমাইয়া পড়িলেন । পুনরায় তিনি হাসিয়া জাগ্রত হইয়া উঠিলেন। উম্মে হারাম (রাঃ) বলিলেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! হাসিতেছেন কেন? তিনি বলিলেন, আমাকে দেখানো হইল আমার উম্মতের কিছু সংখ্যক লোক বাদশাহদের সিংহাসনারোহী হওয়ার মতো জিহাদের উদ্দেশ্যে সমুদ্রের বুকে বিচরণ করিতেছে। উম্মে হারাম (রাঃ) আরয করিলেন, হে আল্লাহর রাসূল! দোয়া করিয়া দিন, আল্লাহ যেন আমাকে ইহাদের অন্তর্ভুক্ত করিয়া দেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ তুমি তো প্রথম দলের অন্তর্ভুক্ত হইয়া পড়িয়াছ। পরে এই উম্মে হারাম (রাঃ) মু'আবিয়া ইবন আবু সুফিয়ান (রাঃ)-এর সহিত জিহাদে সমুদ্রযাত্রায় শরীক হইয়াছিলেন। ফিরিবার পথে জাহাজ হইতে অবতরণ করার পর সওয়ারী হইতে পড়িয়া গিয়া তাহার মৃত্যু হয়।
997রেওয়ায়ত ৪০. আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেন-রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, আমার উম্মতের জন্য যদি কষ্টকর না হইত তবে আল্লাহর রাহে গমনকারী প্রত্যেকটি সৈন্যদলের সঙ্গে যাইতে আমি বিরত হইতাম না। আমার নিকট এত অধিক বাহন নাই যে, প্রত্যেককেই-এক একটা দিতে পারি আর তাহদের নিজেদের নিকট এমন কোন বাহন নাই যাহাতে আরোহণ করিয়া তাহারা জিহাদে যাইতে পারে। আমি নিজে যদি চলিয়া যাই তবে তাহাদের এইখানে থাকিতে কষ্ট হয়। আমার তো ইচ্ছা হয় আল্লাহর পথে লড়িতে যাইয়া আমি শহীদ হই, আবার জীবিত হই, আবার শহীদ হই, আবার জীবিত হই, আবার শহীদ হই।
998রেওয়ায়ত ৪১. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) বর্ণনা করেন, উহুদ যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ সা'দ ইবন রবী ‘আনসারী (রাঃ)-এর খবর আমাকে কে আনিয়া দিতে পরিবে? এক ব্যক্তি উঠিয়া বলিলেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমি পারিব। এই ব্যক্তি সাদকে পড়িয়া থাকা লাশগুলির মধ্যে খুঁজিতে লাগিলেন। এক স্থানে গিয়া তাহাকে আহত হইয়া পড়িয়া থাকিতে দেখিতে পাইলেন। সা'দ বলিলেন, কি ব্যাপার? লোকটি বলিলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তালাশ করিয়া আপনার খবর নিয়া যাইতে আমাকে পাঠাইয়াছেন। সা'দ বলিলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমার সালাম দিবে। আমার এই শরীরে বারটি আঘাত লাগিয়াছে। প্রত্যেকটি আঘাতই মারাত্মক। তোমার সম্প্রদায়কে বলিবে, তোমাদের একজন জীবিত থাকিতেও যদি আল্লাহ না করুন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শহীদ হইয়া যান, তবে আল্লাহর দরবারে তোমাদের কোন ওযর ও জবাবদিহি কবূল হইবে না।
999রেওয়ায়ত ৪২. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) বর্ণনা করেন (বদরের যুদ্ধের সময়) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদেরকে জিহাদের উৎসাহ দিতে যাইয়া জান্নাতের অবস্থা বর্ণনা করেন। এমন সময় জনৈক আনসার সাহাবী[1] যিনি কয়েকটি খেজুর হাতে নিয়া তখন খাইতেছিলেন, তিনি বলিয়া উঠিলেন, এই খেজুরগুলি খাইয়া শেষ করা পর্যন্ত যদি আমি অপেক্ষা করি তবে সত্যি আমি দুনিয়া লোভী বলিয়া প্রমাণিত হইব। শেষ পর্যন্ত বাকি খেজুরগুলি দূরে ছুড়িয়া ফেলিলেন এবং তলোয়ার হাতে নিয়ে লড়াইয়ের ভিড়ে ঢুকিয়া পড়িলেন এবং লড়াই করিতে করিতে শহীদ হইয়া গেলেন।
1000রেওয়ায়ত ৪৩. মুআয ইবন জাবাল (রাঃ) বলিয়াছেনঃ জিহাদ দুই প্রকার। এক হইল যাহাতে একজন সর্বোত্তম সম্পদ ব্যয় করে। সাথীদের সহিত প্রেম-প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হইয়া থাকে। সেনাধ্যক্ষের নির্দেশ পালন করে এবং বিশৃংখলা সৃষ্টি হইতে সে বাঁচিয়া থাকে। এই ধরনের জিহাদ সম্পূর্ণভাবে সওয়াবের। আরেক ধরনের জিহাদ হইল যাহাতে একজন উত্তম সম্পদ ব্যয় করে না, সঙ্গীদের সহিত প্রীতির সম্পর্ক রাখে না, সেনাধ্যক্ষের নির্দেশের অবাধ্যতা করে এবং বিশৃংখলা সৃষ্টি করা হইতে বিরত থাকে না। এই ধরনের জিহাদে সওয়াব লাভ হওয়া তো দূরের কথা, গুনাহ না লইয়া ফিরিয়া আসিতে পারাটাই অনেক মুশকিল।
1001রেওয়ায়ত ৪৪. আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ ঘোড়ার কপালে কিয়ামত দিবস পর্যন্ত বরকত এবং মঙ্গল লিখিয়া দেওয়া হইয়াছে।
1002রেওয়ায়ত ৪৫. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় ইযমার[1] কৃত ঘোড়ার জন্য হাফইয়া হইতে সানিয়াতুলবিদা পর্যন্ত (পাঁচ মাইল) সীমা নির্ধারণ করিয়া দিয়াছিলেন। আর সাধারণ ঘোড়ার জন্য সানিয়াতুল বিদা হইতে মসজিদে বনী যুরাইক পর্যন্ত (এক মাইল) সীমা নির্ধারণ করিয়া দিয়াছিলেন। আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) এই ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় শরীক ছিলেন।
1003রেওয়ায়ত ৪৬. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছেন, তিনি বলিতেনঃ ঘোড়দৌড়ে কোন কিছুর শর্ত করায় দোষ নাই তবে শর্ত হইল, ইহাদের মধ্যে তৃতীয় এক ব্যক্তি হইতে হইবে। সে যদি সকলের আগে যাইতে পারে শর্তকৃত বস্তু সে-ই নিয়া যাইবে। আর পিছনে পড়িয়া গেলে সে কিছুই পাইবে না।
1004রেওয়ায়ত ৪৭. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে স্বীয় চাদর দ্বারা ঘোড়ার মুখ মুছিতে দেখিয়া ইহার কারণ জিজ্ঞাসা করা হইলে তিনি বলিয়াছিলেনঃ ঘোড়ার দেখাশুনা না করায় কাল রাতে আমাকে আল্লাহর তরফ হইতে সতর্ক করা হইয়াছিল।
1005রেওয়ায়ত ৪৮. আনাস ইবন মালিক (রাঃ) বর্ণনা করেন, জিহাদের উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন খায়বার পৌছান তখন রাত হইয়া গিয়াছিল। তাহার রীতি ছিল, জিহাদের উদ্দেশ্যে কোথাও রাত্রে গিয়া পৌছলে সকাল পর্যন্ত যুদ্ধের জন্য অপেক্ষা করিতেন (কোন আক্রমণ করিতেন না)। ভোরে খায়বরবাসিগণ কোদাল, ঝুড়ি ইত্যাদি লইয়া (কাজের উদ্দেশ্যে) স্বাভাবিকভাবেই বাহির হইল। তখন হঠাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সসৈন্যে দেখিতে পাইয়া চিৎকার করিয়া বলিতে লাগিল, আরে, আল্লাহ্র কসম, মুহাম্মদ এবং তাহার সহিত পূর্ণ এক বাহিনী! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহু আকবার, খায়বার ধ্বংস হইয়া গিয়াছে এবং তিনি তখন এই আয়াত পাঠ করিলেনঃ (فَإِذَا نَزَلَ بِسَاحَتِهِمْ فَسَاءَ صَبَاحُ الْمُنذَرِينَ) অর্থাৎ যখন আমি কোন জাতির মুকাবিলায় অবতরণ করি তখন ভয় প্রদর্শিত জাতির ভোর বড় দুঃখজনক হয়। (সূরা আস-সফফাতঃ)
1006রেওয়ায়ত ৪৯. আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেন, যে ব্যক্তি এক জোড়া বস্তু আল্লাহর পথে ব্যয় করিবে, তবে কিয়ামতের দিন বেহেশতের দরজায় তাহাকে ডাকিয়া বলা হইবে, হে আল্লাহর বান্দা! তোমার জন্য রহিয়াছে উত্তম প্রতিদান। অতঃপর নামায়ীকে নামাযের দরজা দিয়া এবং মুজাহিদকে জিহাদের দরজা দিয়া, সদকাদাতাকে সদকার দরজা দিয়া এবং রোযাদারকে রাইয়্যান নামক দরজা দিয়া ডাকা হইবে। আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ) তখন বলিলেনঃ যে কোন এক দরজা দিয়া ডাকিলেই আর অন্য দরজা দিয়া প্রবেশের প্রয়োজন পড়িবে না। তবে এমনকি কেহ হইবে যাহাকে সকল দরজা দিয়াই ডাকা হইবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ হ্যাঁ, আমার আশা আপনি তাঁহাদের মধ্যে হইবেন।
1007রেওয়ায়ত ৫০. আবদুর রহমান ইবন আবু সাসা'আ (রাঃ) বর্ণনা করেন, 'আমর ইবন জামুহ (রাঃ) এবং আবদুল্লাহ ইবন আমর (রাঃ) উভয়েই ছিলেন আনসার ও বনী সালমা গোত্রের। তাহারা উহুদের যুদ্ধে শহীদ হইয়াছিলেন। তাহাদের দুইজনকে একটি কবরে সমাধিস্থ করা হইয়াছিল। পানি নামার ঢালের মুখে তাঁহাদের কবর পড়িয়া গিয়াছিল। তাই পানির স্রোত ক্রমে তাহাদের কবর বিনষ্ট করিয়া ফেলিয়াছিল। তাহাদের লাশ স্থানান্তরিত করার উদ্দেশ্যে পরে তাহাদের কবর খোঁড়ান হইলে দেখা গেল তাহাদের লাশ সম্পূর্ণ অবিকৃত অবস্থায় রহিয়াছে। মনে হইতেছিল কালকেই তাহদের মৃত্যু হইয়াছে। তাহদের একজন আহত হওয়ার সময় ক্ষত স্থানে হাত চাপিয়া ধরিয়াছিলেন। দাফন করার সময় তাঁহার হাতটা সরাইয়া দিলে হাতটি আবার সেই স্থানে আসিয়া লাগিয়া যায়। উহুদ যুদ্ধ সংঘটিত হওয়ার ছিচল্লিশ বৎসর পর তাহাদের লাশ স্থানান্তরিত করার সময় এই ঘটনা ঘটিয়াছিল। মালিক (রহঃ) বলেনঃ প্রয়োজনবশত এক কবরে একাধিক লাশ দাফন করিলে কোন দোষ নাই। তবে ইহাদের মধ্যে বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিকে কিবলার দিকে শোয়াইবে।
1008রেওয়ায়ত ৫১. রবী'আ ইবন আবদুর রহমান (রহঃ) বলেনঃ আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ)-এর নিকট বাহরাইন হইতে প্রচুর ধন-সম্পদ আসিয়া পৌছিলে তিনি ঘোষণা করাইয়া দিয়াছিলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীবিতকালে কাহাকেও কিছু দেওয়ার ওয়াদা করিয়া থাকিলে অথবা কেউ তাহার নিকট কিছু পাওনা থাকিলে সে আমার নিকট হইতে যেন তাহা নিয়া যায়। এই সময় জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ) আগাইয়া আসিলেন। আবু বকর (রাঃ) তাহাকে তখন তিন অঞ্জলি (দিরহাম) দিলেন।
উৎস: Muwatta Malik
WEBREATH · 11:11
«Should I not be a thankful servant?» — Sahih al-Bukhari
Breath is one for all: everyone lives by it, whoever they are and whatever they believe. Every day at 11:11 local time people stop for sixty seconds, breathe, and thank GOD for the breath — each in their own words, each within themselves. In that minute we are One Breath.
WEBREATH — the Minute at 11:11, your own local time — we are One Breath