হাদিস
ফিরে যান

সুনানে ইবনে মাজাহ 6 · Chapters Regarding Funerals

আপনার ভাষায় এখনো কোনো অনুবাদ নেই — ইংরেজি দেখাচ্ছে

1433। ‘আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এক মুসলিমের উপর অপর মুসলিমের ছয়টি ‘হক’ রয়েছেঃ সে তার সাথে সাক্ষাতকালে তাকে সালাম দিবে, সে দাওয়াত দিলে তার দাওয়াত কবুল করবে, সে হাঁচি দিলে তার জবাব দিবে, সে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দেখতে যাবে, সে মারা গেলে তার জানাযায় অংশগ্রহণ করবে এবং সে নিজের জন্য যা পছন্দ করবে, তার জন্যও তা পছন্দ করবে।

1434। আবূ মাস‘উদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এক মুসলিমের উপর অপর মুসলিমের চারটি অধিকার আছেঃ সে হাঁচি দিলে তার জবাব দিবে, সে তাকে দাওয়াত দিলে তা কবুল করবে, সে মারা গেলে তার জানাযায় উপস্থিত হবে এবং সে অসুস্থ হলে তাকে দেখতে যাবে।

1435। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এক মুসলিমের উপর অপর মুসলিমের পাঁচটি অধিকার আছে; সালামের জবাব দেয়া, দাওয়াত কবুল করা, জানাযায় উপস্থিত হওয়া, রোগীকে দেখতে যাওয়া এবং হাঁচিদাতা আলহামদু লিল্লাহ বললে তার জবাবে ইয়ারহামুকাল্লাহ বলা।

1436। জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবূ বাকর (রাঃ) পদব্রজে আমাকে দেখতে আসেন। তখন আমি বনু সালিমায় অবস্থান করছিলাম।

1437। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন দিন পর রোগীকে দেখতে যেতেন।

1438। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বলেছেন : তোমরা রুগ্ন ব্যক্তিকে দেখতে গেলে তার দীর্ঘায়ু কামনা করবে। যদিও তা কিছুই প্রতিরোধ করতে পারে না, তবুও তা রোগীর অন্তরে আনন্দের উদ্রেক করে।

1439। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক রুগ্ন ব্যক্তিকে দেখতে গিয়ে বলেনঃ তুমি কী চাও? সে বললো, আমি গমের রুটি খেতে চাই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কারো কাছে গমের রুটি থাকলে সে যেন তা তার ভাইয়ের জন্য পাঠায়। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কারো রোগী কিছু খেতে আকাঙ্ক্ষা কররে সে তাকে যেন তা খাওয়ায়।

1440। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক রুগ্ন ব্যক্তিকে দেখতে তার নিকট উপস্থিত হন। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করেনঃ তুমি কি কিছু খেতে আগ্রহী? তুমি কি কা‘কা (পারস্য দেশীয় রুটি) খেতে আগ্রহী? সে বললো, হ্যাঁ। অতএব তারা তার জন্য তা খুঁজে আনে।

1441। ‘উমার উবনুল খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিন বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ তুমি কোন রোগীকে দেখতে গেলে তাকে তোমার জন্য দু‘আ করতে বলো। কেননা তার দু‘আ ফেরেশতাদের দু‘আর মত।

1442। ‘আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ কোন ব্যক্তি তার রুগ্ন মুসলিম ভাইকে দেখতে গেলে সে না বসা পর্যন্ত জান্নাতের খেজুর আহরণ করতে থাকে। অতঃপর সে বসলে রহমত তাকে ঢেকে ফেলে। সে ভোরবেলা তাকে দেখতে গেলে সত্তর হাজার ফেরেশতা তার জন্য সন্ধ্যা পর্যন্ত দু‘আ করতে থাকে। সে সন্ধ্যাবেলা তাকে দেখতে গেলে সকাল পর্যন্ত সত্তর হাজার ফেরেশতা তার জন্য দু‘আ করতে থাকে।

1443। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি রোগীকে দেখতে গেলে আকাশ থেকে একজন আহবানকারী তাকে ডেকে বলেন, তুমি উত্তম কাজ করেছো, তোমার পথ চলা কল্যাণময় হোক এবং তুমি জান্নাতে একটি বাসস্থান নির্ধারণ করে নিলে।

1444। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : তোমরা তোমাদের মুমুর্ষ ব্যক্তিদের ‘‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’’-এর তালকীন দাও।

1445। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের মুমুর্ষ ব্যক্তিদের ‘‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’’-এর তালকীন দাও।

1446। ‘আবদুল্লাহ ইবনু জাফর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের মূমুর্ষ ব্যক্তিদের ‘‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহুল হালীমুল কারীম, সুবহানাল্লাহি রব্বিল আরশিল আযীম, আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন’’-এর তালকীন দাও। তারা বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! জীবিত (সুস্থ) ব্যক্তিদের বেলায় এ দু‘আ কেমন হবে? তিনি বললেনঃ অধিক উত্তম, অধিক উত্তম।

1447। উম্মু সালামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা রোগী কিংবা মৃতের নিকট উপস্থিত হলে (তার সম্পর্কে) ভালো কথা বলবে। কেননা তোমরা যা বলবে, ফেরেশতারা তার উপর ‘আমীন’ বলবেন। আবূ সালামাহ (রাঃ) ইনতিকাল করলে, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আবূ সালামাহ ইন্তিকাল করেছেন। তিনি বলেনঃ তুমি বলো, ‘‘হে আল্লাহ্! তুমি আমাকে ও তাকে ক্ষমা করো এবং আমাকে তার চেয়েও উত্তম প্রতিদান দাও।’’ রাবী বলেন, আমি তাই করলাম। আল্লাহ্ আমাকে তার চাইতেও উত্তম বিনিময় মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দান করেছেন।

1448। মাকিল ইবনু ইয়াসার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের মৃতদের কাছে সূরা ইয়াসিন পড়ো।

1449। ‘আবদুর রহমান ইবনু কা‘ব ইবনু মালিক (রহ.) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, কা‘ব (রাঃ)-এর মৃত্যু ঘনিয়ে এলে তার নিকট উম্মু বিশর বিনতুল বারাআ ইবনু মারূর (রাঃ) এসে বলেন, হে আবূ ‘আবদুর রহমান! তুমি অমুকের সাক্ষাত পেলে আমার পক্ষ থেকে তাকে সালাম পৌঁছাবে। তিনি বলেন, হে উম্মু বিশর! আল্লাহ্ তোমাকে ক্ষমা করুন। আমি এখন তার চেয়ে জরুরী কাজে ব্যস্ত আছি। তিনি বলেন, হে আবূ ‘আবদুর রহমান! তুমি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনোনিঃ মু’মিন ব্যক্তির আত্মা সবুজ পাখির মতো অবস্থান করে জান্নাতের গাছের সাথে ঝুলে থাকে? তিনি বলেন, হ্যাঁ। উম্মু বিশর (রাঃ) বলেন, প্রকৃত কথা এটাই।

1450। মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মুমূর্ষু জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললাম, আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সালাম পৌঁছে দিবেন।

1451। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিকট উপস্থিত হন। তখন তার নিকট তার এক প্রতিবেশী মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে চিন্তিত দেখে বলেনঃ তোমার প্রতিবেশির কারণে তুমি চিন্তিত হয়ো না। কেননা এটা তার সৎকর্মসমূহের অন্তর্ভুক্ত।

1452। বুরাইদাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : কপালের ঘামসহ মু’মিন ব্যক্তির মৃত্যু হয়।

1453। আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট জিজ্ঞেস করলাম, বান্দার পরিচয় মানুষ থেকে কখন ছিন্ন হয়ে যায়? তিনি বলেনঃ যখন সে (মৃত্যুর ফেরেশতা ও বারযাখ) দেখতে পায়।

1454। উম্মু সালামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আবূ সালামাহ (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হন, তখন তার চোখ খোলা ছিল। তিনি তার চোখ বন্ধ করে দেন, অতঃপর বলেনঃ যখন রূহ কবয করা হয়, তখন চোখ তার অনুসরণ করে।

1455। শাদ্দাদ ইবনু আওস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের মৃত ব্যক্তির নিকট উপস্থিত হয়ে তার চোখ দু’টি বন্ধ করে দিও। কেননা চোখ রূহের অনুসরণ করে এবং তোমরা তার সম্পর্কে ভালো মন্তব্য করবে। কারণ গৃহবাসীরা যা বলে ফেরেশতারা তাতে ‘আমীন’ বলেন।

1456। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘উসমান ইবনু মাযঊন (রাঃ)-এর লাশ চুম্বন করেন। আমি যেন এখনো তাঁর দু’ গাল বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়তে দেখেছি।

1457। ইবনু ‘আব্বাস ও ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আবূ বাকর (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর লাশ চুম্বন করেন।

1458। উম্মু আতিয়্যা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কন্যা উম্মু কুলসুমের গোসল দেই। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট এসে বলেনঃ তোমরা তাকে তিন বা পাঁচ অথবা ততোধিক বার কুলপাতা মিশ্রিত পানি দিয়ে গোসল করাও। শেষবারে কর্পূর বা কিছু কর্পূর লাগিয়ে দাও। তোমরা গোসল দেওয়া শেষ করে আমাকে ডাকবে। অতএব আমরা তার গোসল দেয়া শেষ করে তাঁকে সংবাদ দিলাম। তিনি তাঁর জামা আমাদের দিকে নিক্ষেপ করে বলেনঃ এটি দিয়ে ভালো করে আবৃত করো।

1459। উম্মু আতিয়্যা (রাঃ) থেকে এই সনদসূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত আছে। হাফসা (রাঃ)-এর বর্ণনায় আছেঃ ‘‘তোমরা তাকে বেজোড় সংখ্যায় গোসল দাও।’’ তার বর্ণনায় আরো আছে, ‘‘তোমরা তাকে তিন বা পাঁচবার গোসল দাও।’’ তার বর্ণনায় আরো আছেঃ ‘‘তোমারা তার ডান দিক থেকে তার উযুর অঙ্গগুলো থেকে গোসল শুরু করো।’’ এই বর্ণনায় আরো আছেঃ উম্মু আতিয়্যা (রাঃ) বলেন, ‘‘আমরা তার মাথার চুল তিন গোছায় বিভক্ত করে আঁচড়ে দিলাম’’।

1460। ‘আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিন বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ তুমি তোমার ঊরু খুলে রেখো না এবং জীবিত ও মৃত কারো ঊরুর প্রতি দৃষ্টিপাত করো না।

1461। ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের মৃতদের আমানতের সাথে (গোপনীয় অঙ্গসমূহ যথাসম্ভব ঢেকে রেখে) গোসল দাও।

1462। ‘আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি মৃতকে গোসল দিলো, কাফন পরালো, সুগন্ধি মাখলো, বহন করে নিয়ে গেলো, তার জানাযার সালাত পড়লো এবং তার গোচরিভূত হওয়া তার গোপনীয় বিষয় প্রকাশ করলো না, তার থেকে তার গুনাহসমূহ তার জন্মদিনের মত বের হয়ে যায়।

1463। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি মৃতকে গোসল দিলো, সে যেন গোসল করে।

1464। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যা আমি পরে অবগত হয়েছি, তা যদি পূর্বে অবহিত হতে পারতাম, তাহলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর স্ত্রীগণ ব্যতীত আর কেউ গোসল দিতে পারতো না।

1465। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাকী থেকে ফিরে এসে আমাকে মাথা ব্যথায় যন্ত্রণাকাতর অবস্থায় পেলেন। তখন আমি বলছিলাম, হে আমার মাথা! তিনি বলেনঃ হে ‘আয়িশাহ! আমিও মাথা ব্যথায় ভুগছি। হে আমার মাথা! অতঃপর তিনি বলেনঃ তুমি যদি আমার পূর্বে মারা যেতে, তাহলে তোমার কোন ক্ষতি হতো না। কেননা আমি তোমাকে গোসল করাতাম, কাফন পরাতাম, তোমার জানাযার সালাত পড়তাম এবং তোমাকে দাফন করতাম।

1466। বুরাইদাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, গোসল দানকারীগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে গোসল দিতে শুরু করলে, তাদের মধ্যকার একজন ভিতর থেকে তাদেরকে জোর গলায় বলেন, তোমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পরনের জামা খুলো না।

1467। ‘আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে গোসল দানকালে মৃতের থেকে যা (নাপাকী) অন্বেষণ করা হয়, গোসলদানকারী তা তাঁর মধ্যে অন্বেষণ করেন, কিন্তু কিছুই পাননি। ‘আলী (রাঃ) বলেন, আমার পিতার শপথ! হে তায়্যিব! ধন্য আপনার জীবন, ধন্য আপনার মৃত্যু।

1468। ‘আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি মৃত্যুবরণ করলে তোমরা আমাকে আমার গারস কূপের সাত মশক পানি দিয়ে গোসল দিবে।

1469। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তিনখানা সাদা ইয়ামানী কাপড় দিয়ে কাফন দেয়া হয়। এর মধ্যে কামিস ও পাগড়ী ছিলো না। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে বলা হলো, তারা (লোকেরা) ধারণা করে যে, তাকে কারুকার্য খচিত চাদর (হিবারা) দ্বারা কাফন দেয়া হয়েছে। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, তারা কারুকার্য খচিত চাদর এনেছিল, কিন্তু তা দিয়ে তাঁকে কাফন দেয়নি।

1470। ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে (ইয়ামনের) সাহূল এলাকার তৈরি তিন খন্ড সাদা মসৃণ কাপড়ে কাফন দেয়া হয়।

1471। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তিনখানা কাপড়ে কাফন দেয়া হয়ঃ তার মধ্যে ছিলো যে জামা পরিহিত অবস্থায় তিনি ইন্তিকাল করেন এবং নাজারানে তৈরি একটি চাদর।

1472। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কাপড়সমূহের মধ্যে সাদা কাপড়ই অধিক উত্তম। অতএব তোমরা তোমাদের মৃতদের সাদা কাপড়ে কাফন দাও এবং তোমরাও সাদাকাপড় পরিধান করো।

1473। উবাদাহ ইবনুুস সামিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ উত্তম কাফন হলো হুল্লাহ (চাদর)।

1474। আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ তার ভাইয়ের ওলী নিযুক্ত হলে সে যেন তার উত্তম কাফনের ব্যবস্থা করে।

1475। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -তনয় ইবরাহীম ইন্তিকাল করলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকেদের বলেনঃ আমি না দেখা পর্যন্ত তোমরা তাকে তার কাফনে আবৃত করো না। অতঃপর তিনি এসে তার উপর ঝুঁকে পড়েন এবং কাঁদেন।

1476। বিলাল ইবনু ইয়াহ্ইয়া (রহঃ) থেকে বর্ণিত। হুযাইফা (রাঃ)-এর উপস্থিতিতে কেউ মারা গেলে তিনি বলতেন, তার (মৃত্যু) সম্পর্কে তোমরা কাউকে খবর দিয়ো না। কেননা আমি তার জন্য বিলাপের আশঙ্কা করছি। আমি আমার এই দু’ কানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বিলাপ করতে নিষেধ করতে শুনেছি।

1477। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : তোমরা দ্রুত জানাযার ব্যবস্থা করবে। কেননা সে সত্যকর্মপরায়ণ লোক হলে তো উত্তম, তোমরা তাকে সেদিকে পৌঁছে দিলে। সে এর অন্যথা হলে তো তা বড়ই মন্দ, তোমরা তা তোমাদের কাঁধ থেকে নামিয়ে রাখলে।

1478। ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস‘উদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি লাশ বহন করে, সে যেন খাটের চারদিক ধারণ করে। কারণ এটা সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত। অতঃপর সে চাইলে আরো ধরতে পারে, আর চাইলে ত্যাগও করতে পারে।

1479। আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি লাশ তাড়াহুড়া করে নিয়ে যেতে দেখে বলেনঃ তোমরা যেন শান্তভাবে যাও।

1480। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মুক্তদাস সাওবান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতক লোককে জন্তুজানোয়ারে আরোহিত অবস্থায় লাশের সাথে যেতে দেখে বলেনঃ তোমাদের কি লজ্জা হয় না যে, আল্লাহর ফেরেশতাগণ পদব্রজে যাচ্ছেন আর তোমরা বাহনে উপবিষ্ট হয়ে যাচ্ছো

1481। মুগীরাহ ইবনু শু’বাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছিঃ আরোহী ব্যক্তি লাশের পেছনে থাকবে এবং পদব্রজে গমনকারী যেমন ইচ্ছা চলতে পারে।

1482। সালেম (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম , আবূ বাকর ও ‘উমার (রাঃ)-কে লাশের আগে আগে হেঁটে যেতে দেখেছি।

1483। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম , আবূ বাকর, ‘উমার ও ‘উসমান (রাঃ) লাশের আগে আগে হেঁটে যেতেন।

1484। ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘উদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ লাশের অনুসরন করতে হবে (পিছনে পিছনে যেতে হবে), লাশ অনুসরণ করবে না (পেছনে থাকবে না)। যে ব্যক্তি লাশের আগে আগে যায়, সে জানাযার সাথে শরীক নয়।

1485। ইমরান ইবনুল হুসাইন ও আবূ বারযা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তারা বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে একটি জানাযার উদ্দেশে রওয়ানা হলাম। তিনি একদল লোককে পরিধেয় বস্ত্র ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে কেবল জামা পরিহিত অবস্থায় হেঁটে যেতে দেখেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা কি জাহিলী যুগের রীতিনীতি অবলম্বন করছো অথবা জাহিলী যুগের কাজ করছো? আমরা ইচ্ছা হয় যে, আমি তোমাদের বদদোয়া করি এবং তোমরা চেহারায় বিকৃত আকৃতিতে পরিবর্তিত হয়ে যাও। রাবী বলেন, তারা তাদের কাপড় পরিধান করলো এবং আর কখনো অনুরূপ করেনি।

1486। ‘আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ জানাযা উপস্থিত হলে তোমরা (দাফনে) বিলম্ব করো না।

1487। আবূ বুরদা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ মূাস আল-আশআরী (রাঃ)-এর মৃত্যু উপস্থিত হলে তিনি ওসিসয়াত করে লেন, তোমরা আমার লাশের সাথে আগুন নিয়ে যেও না। তারা তাকে বলেন, আপনি কি এ ব্যাপারে কিছু শুনেছেন? তিনি বলেন, হ্যাঁ, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি।

1488। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এক শত মুসলিম কারো জানাযার সালাত পড়লে তাকে ক্ষমা করা হয়।

1489। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর মুক্তদাস কুরাইব (রহ.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর এক ছেলে মারা গেলে তিনি আমাকে বলেনঃ হে কুরাইব! উঠে গিয়ে দেখো তো, আমার ছেলের জানাযায় কেউ এসেছে কিনা? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বলেন, তোমার অমঙ্গল হোক, তুমি তাদের কতজনকে দেখলে, চল্লিশজন? আমি বললাম, না, বরং তারা আরো অধিক। তিনি বলেন, তোমরা আমার ছেলের লাশ নিয়ে বের হও। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছিঃ অন্তত চল্লিশজন মু’মিন অপর মু’মিন ব্যক্তির সুপারিশ করলে, আল্লাহ্ তাদের সুপারিশ কবুল করেন।

1490। মালিক ইবনু হুবায়রা আশ্-শামী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি সাহাবী ছিলেন। মারসাদ (রহঃ) বলেন, কোন জানাযা উপস্থিত হলে এবং লোকসংখ্যা কম হলে, তিনি তাদের তিন সারিতে কাতারবন্দী করে সালাত পড়তেন। তিনি আরো বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন মৃতের জানাযায় মুসলিমদের তিন সারি লোক হলেই তা (জান্নাত) অবধারিত করে।

1491। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট দিয়ে একটি লাশ নিয়ে যাওয়া হলো এবং তার উচ্ছসিত প্রশংসা করা হলো। তিনি বলেনঃ অবধারিত হয়ে গেলো। তারপর আরেকটি লাশ তাঁর নিকট দিয়ে নিয়ে যাওয়া হলো এবং তার কুৎসা বর্ণনা করা হলো। তিনি বলেনঃ অবধারিত হয়ে গেলো। বলা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এই লাশের জন্য অবধারিত হয়ে গেলো এবং ঐ লাশের জন্যও অবধারিত হয়ে গেলো বললেন। তিনি বলেনঃ দলের সাক্ষ্য অনুপাতে। মু’মিনরা পৃথিবীর বুকে আল্লাহর সাক্ষীস্বরূপ।

1492। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট দিয়ে একটি লাশ বয়ে নিয়ে যাওয়া হলো এবং তার নানারূপ ভূয়সী প্রশংসা করা হলো। তিনি বলেনঃ অবধারিত হয়ে গেলো। অতঃপর তাঁর নিকট দিয়ে লোকেরা আরেকটি লাশ বয়ে নিয়ে গেলো এবং তার বিভিন্নুপ কুৎসা বণৃনা করা হলো। তিনি বলেনঃ অবধারিত হয়ে গেলো। কেননা তোমরা পৃথিবীর বুকে আল্লাহর সাক্ষীস্বরূপ।

1493। সামুরা ইবনু জুনদুব আল-ফাযারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিফাসগ্রস্ত অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী এক মহিলার জানাযার সালাত পড়েন এবং তিনি তার মাঝ বরাবর দাঁড়ান।

1494। আবূ গালিব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-কে এক ব্যক্তির জানাযার সালাত পড়তে দেখলাম। তিনি তার মাথা বরাবর দাঁড়ান। আরেকটি মহিলার লাশ উপস্থিত করা হলে লোকেরা বললো, হে আবূ হামযা! তার জানাযার সালাত পড়ুন। তিনি খাটের মাঝ বরাবর দাঁড়ান। আল ইবনু যিয়াদ (রহ.) তাকে বলেন, হে আবূ হামযা! আপনি পুরুষের জানাযায় যেভাবে দাঁড়িয়েছেন, মহিলার জানাযায় যেভাবে দাঁড়িয়েছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কেও সেভাবে দাঁড়াতে দেখেছেন কি? তিনি বলেন, হ্যাঁ। তিনি আমাদের দিকে ফিরে বলেনঃ তোমরা স্মরণ রেখো।

1495। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানাযার সালাতে সূরা ফাতিহা পড়েন।

1496। উম্মু শারীক আল-আনসারিয়া (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে জানাযার সালাতে সূরা ফাতিহা পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

1497। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ তোমরা মৃত ব্যক্তির জানাযার সালাত পড়াকালে তার জন্য একনিষ্ঠভাবে দু‘আ করো।

1498। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানাযার সালাতে বলতেনঃ ‘‘হে আল্লাহ্! আমাদের জীবিত-মৃত, উপস্থিত, অনুপস্থিত, ছোট-বড়, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলকে ক্ষমা করো। হে আল্লাহ্! তুমি আমাদের মধ্যে যাকে জীবিত রাখো তাকে ইসলামের উপর জীবিত রাখো এবং আমাদের মধ্যে যাকে মৃত্যু দান করো, তাকে ঈমানের সাথে মৃত্যুদান করো। হে আল্লাহ্! আমাদেরকে এর প্রতিদান থেকে বঞ্চিত করো না এবং এর পরে আমাদের পথভ্রষ্ট করো না।’’।

1499। ওয়াসিলা ইবনুল আসকা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলিমদের এক ব্যক্তির জানাযার সালাত পড়লেন। আমি তাঁকে বলতে মুনেছিঃ ‘‘হে আল্লাহ্! অমুকের পুত্র অমুক তোমার যিম্মায় এবং তোমার নিরাপত্তার বন্ধনে। তুমি তাকে কবরের বিপর্যয় ও দেযাখের শাস্তি থেকে রক্ষা করো এবং তাকে দয়া করো। কেননা তুমিই কেবল ক্ষমাকারী পরম দয়ালু’’।

1500। আওফ ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে এক আনসারির জানাযার সালাতে শরীক ছিলাম। আমি তাঁকে বলতে শুনেছিঃ ‘‘হে আল্লাহ্! তুমি তাকে দয়া করো, তাকে ক্ষমা করো এবং তার উপর করুণা বর্ষণ করো, তাকে ক্ষমা করো, তার পাপরাশি দুর করে দাও। তাকে ঠান্ডা পানি ও বরফ দ্বারা ধৌত করো এবং সাদা কাপড় থেকে যেভাবে ময়লা পরিষ্কার করা হয়, তদ্রূপ তাকে গুনাহ থেকে পরিচ্ছন্ন করো। তার ঘরের পরিবর্তে তাকে উত্তম আবাস দান করো, তার পরিবার থেকেও উত্তম পরিবার তাকে দান করো এবং তাকে কবরের বিপর্যয় ও দোযখের শাস্তি থেকে রক্ষা করো’’। আওফ (রাঃ) বলেন, তখন আমার আকাঙ্ক্ষা হলো যে, আমি যদি ঐ ব্যক্তির স্থানে হতাম।

1501। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবূ বাকর ও ‘উমার (রাঃ) আমাদের জন্য জানাযার সালাতে যে (কোন সময় পড়ার) অবকাশ রেখেছেন, তা অন্য কোন সালাতের বেলায় রাখেননি অর্থাৎ ওয়াক্ত নির্দিষ্ট করেননি।

1502। ‘উসমান ইবনু আফ্‌ফান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘উসমান ইবনু মাযঊন (রাঃ)-এর জানাযার সালাত চার তাকবীর পড়েন।

1503। আল-হাজারী (রহ.) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাহাবী ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু আবূ আওফা আল-আসলামী (রাঃ)-এর সাথে তার এক কন্যার জানাযার সালাত পড়লাম। তিনি তাতে চার তাকবীর বলেন। চতুর্থ তাকবীরের পর তিনি ক্ষণিক নীরব থাকেন। রাবী বলেন, আমি কাতারবদ্ধ লোকেদের সুবহানাল্লাহ বলতে শুনেছি। তিনি সারাম ফিরানোর পর লেন, তোমরা কি মনে করেছিলে যে, আমি পঞ্চম তাকবীর বলবো? তারা বললো, আমরা তাই অনুমান করেছিলাম। তিনি বলেন, আমি কখনো তা করতাম না। তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চার তাকবীর বলতেন, তারপর ক্ষণিক চুপচাপ থাকতেন, তারপর আল্লাহর মর্জি কিছু পড়তেন, তারপর সালাম ফিরাতেন।

1504। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চার তাকবীর বলেন।

1505। ‘আবদুর রহমান বিন আবূ লাইলা (রহ.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যায়দ ইবনু আরকাম (রাঃ) আমাদের জানাযার সালাতে চার তাকবীর বলতেন। তিনি এক জানাযার সালাতে পাঁচ তাকবীর বলেন। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঁচ তাকবীরও বলেছেন।

1506। কাসীর ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রহ.) থেকে তার পিতা, অতঃপর তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঁচ তাকবীর বলেছেন।

1507। মুগীরাহ ইবনু শু’বাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছিঃ শিশুর জানাযা পড়তে হবে।

1508। জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শিশু (ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর) চিৎকার করলে (অতঃপর মারা গেলে) তার জানাযা পড়তে হবে এবং তার উত্তরাধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে।

1509। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের শিশুদের জানাযার সালাত পড়ো। কারণ তারা তোমাদের অগ্রগামী সঞ্চয়।

1510। ইসমাঈল ইবনু আবূ খালিদ (রহ.) বলেন, আমি ‘আবদুল্লাহ ইবনু আবূ আওফা (রাঃ) কে বললাম, আপনি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পুত্র ইবরাহীমকে দেখেছেন? তিনি বলেন, সে শিশুকালেই মারা যায়। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পর যদি কারো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হওয়ার (আল্লাহর) সিদ্ধান্ত থাকতো তাহলে তাঁর পুত্র জীবিত থাকতো। কিন্তু তাঁর পরে কোন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাই।

1511। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পুত্র ইবরাহীম মৃত্যুবরণ করলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জানাযার সালাত পড়েন এবং বলেনঃ তার জন্য জান্নাতে একজন ধাত্রী নিযুক্ত করা হয়েছে। সে জীবিত থাকলে অবশ্যি সত্যবাদী ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতো। সে জীবিত থাকলে তার মাতৃকুল স্বাধীন হয়ে যেতো এবং কিবতী থাকতো না।

1512। হুসাইন ইবনু ‘আলী (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পুত্র কাসিম ইন্তিকাল করলে খাদীজা (রাঃ) বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! কাসিমের জন্য পর্যাপ্ত দুধ রয়েছে, আল্লাহ্ যদি তাকে দুধ পানের মেয়াদ পর্যন্ত জীবিত রাখতেন! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তার দুধ পানের মেয়াদ জান্নাতে পূর্ণ করা হবে। তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি তা জানাতে পারলে তার ব্যাপারে শান্ত্বনা লাভ করতাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তুমি চাইলে আমি আল্লাহর নিকট দু‘আ করি, তিনি তোমাকে তার শব্দ শুনাবেন। তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! বরং আমি আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলকে বিশ্বাস করি।

1513। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উহুদের যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে শহীদদের লাশ উপস্থিত করা হলো। তিনি একসঙ্গে দশ দশজনের জানাযার সালাত পড়েন। আর হামযা (রাঃ)-এর লাশ যেভাবে ছিল সেভাবেই রেখেখ দেয়া হলো। অন্যদের লাশ তুলে নেয়া হলো এবং তার লাশ স্বস্থানে পড়ে থাকলো।

1514। জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদ যুদ্ধের শহীদের দু’ বা তিনজনকে এক কাপড়ে একত্র করে জড়িয়ে জিজ্ঞেস করতেন, তাদের মধ্যে কে কুরআনের অধিক জ্ঞানী? তাদের কারো প্রতি ইশারা করে তাঁকে জানানো হলে তিনি তাকে আগে কবরে রাখতেন এবং বলতেনঃ আমি তাদের সকলের পক্ষে সাক্ষী। তিনি তাদেরকে তাদের রক্তমাখা অবস্থায় দাফন করার নির্দেশ দেন এবং তাদের জানাযার সালাতও পড়া হয়নি, গোসলও দেয়া হয়নি।

1515। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদের শহীদদের দেহ থেকে লৌহবর্ম, অস্ত্র ও চামড়ার জুতা খুলে নেয়ার এবং তাদেরকে তাদের রক্তমাখা কাপড়ে দাফন করার নির্দেশ দেন।

1516। জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদের শহীদগণকে তাদের শাহাদত লাভের স্থানে ফিরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেন। তাদেরকে মাদ্বীনায় স্থানান্তরিত করা হয়েছিল।

1517। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি মসজিদে জানাযার সালাত পড়লো, তাতে তার কোন ছওয়াব হলো না।

1518। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুহাইল ইবনু বাইদার জানাযার সালাত মসজিদেই পড়েছেন। ইবনু মাজাহ (রহ.) বলেন, ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটি সনদের দিক থেকে অধিকতর শক্তিশালী।

1519। উকবা ইবনু আমের আল-জুহানী (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে তিন সময়ে আমাদের মৃতদের জানাযা পড়তে এবং তাদেরক কবরস্থ করতে নিষেধ করেছেনঃ সূর্য সুস্পষ্টভাবে উদয়কালে, সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত দুপুরের সময় এবং সূর্যাস্তের সময়, যতক্ষণ না তা অন্তমিত হয়।

1520। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে রাতের বেলা কবরে রাখেন এবং (লাশ ঠিকমত রাখার সুবিধার্থে) কবরে আলোর ব্যবস্থা করেন।

1521। জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা অনন্যোপায় না হলে তোমাদের মৃতদের রাতের বেলা দাফন করো না।

1522। জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ রাতের বেলা এবং দিনের বেলা তোমরা তোমাদের মৃতদের জানাযার সালাত পড়তে পার।

1523। ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (মোনাফিকদের দলপতি) ‘আবদুল্লাহ ইবনু উবাই মারা গেলে তার পুত্র নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (রাঃ)-এর নিকট এসে বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার জামাটি আমাকে দান করুন, আমি তার দ্বারা তাকে দাফন পরাবো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমাকে তার দাফনের সময় খবর দিও। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জানাযার সালাত পড়ার ইচ্ছা করলে ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) তাঁকে বলেন, তার ব্যাপারে আপনার কি হলো! নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জানাযার সালাত পড়েন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেনঃ আমাকে দু’টি বিষয়ের মধ্যে এখতিয়ার দেয়া হয়েছেঃ ‘‘তখন মহান আল্লাহ নাযিল করেন, ‘‘তাদের কারো মৃত্যু হলে তুমি কখনো তার জন্য জানাযার সালাত পড়বে না এবং তার কবরের পাশেও দাঁড়াবেন না’’ (সূরা তওবা : ৮৪)।

1524। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মোনাফিক নেতা (উবাই) মদিনা্য় মারা গেলো। সে ওসিয়াত কররো যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেন তার জানাযার সালাত পড়েন এবং তাঁর জামা দিয়ে যেন তাকে কাফন দেয়া হয়। তিনি তার জানাযার সালাত পড়েন, তাঁর জামা দিয়ে তাকে কাফন দেন এবং তার কবরের পাশে (দু‘আ করতে) দাঁড়ান। তখন আল্লাহ্ তা‘আলা নাযিল করেন (অনুবাদ) ‘‘তাদের কারো মৃত্যু হলে তুমি কখনো তার জন্য জানাযার সালাত পড়বে না এবং তার কবরের পাশেও দাঁড়াবে না’’ (সূরা তওবাঃ ৮৪)।

1525। ওয়াসিলা ইবনুল আসকা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা প্রত্যেক মৃতের জন্য জানাযার সালাত পড়ো এবং প্রত্যেক আমীরের নেতৃত্বে জিহাদ করো।

1526। জাবির ইবনু সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এক সাহাবী আহত হন। এর যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে তিনি তার তীরের ফলা দ্বারা আত্মহত্যা করেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জানাযার সালাত পড়েননি। রাবী বলেন, তা ছিল তাঁর পক্ষ থেকে শিক্ষণীয় (শাস্তিস্বরূপ)।

1527। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক কৃষ্ণকায় নারী মসজিদে নববীতে ঝাড়ু দিতো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখতে না পেয়ে কয়েক দিন পর তিনি তার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। তাঁকে জানানো হলো যে, সে মারা গেছে। তিনি বলেনঃ তোমরা কেন আমাকে অবহিত করোনি? অতঃপর তিনি তার কবরের পাশে আসেন এবং তার জানাযার সালাত পড়েন।

1528। ইয়াযীদ ইবনু সাবিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি যায়দ (রাঃ)-এর বড় ভাই। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে বের হলাম। তিনি বাকী গোরস্থানেপৌছে একটি নতুন কবর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। তারা বলেন, অমুক মহিলার কবর। রাবী বলেন, তিনি তাকে চিনতে পেরে বলেনঃ তোমরা কেন আমাকে তার সম্পর্কে জানালে না? তারা বললেন, আপনি রোযা অবস্থায় দুপুরের বিশ্রাম করছিলেন। তাই আমরা আপনাকে কষ্ট দেয়া পছন্দ করিনি। তিনি বলেনঃ তোমরা এরূপ করো না। তোমাদের মধ্যে কেউ মারা গেলে এবং আমি তোমাদের মাঝে উপস্থিত থাকলে তোমরা অবশ্যই আমাকে তার সম্পর্কে জানাবে। কেননা তার জন্য আমার সালাত তার রহমত লাভের উপায় হবে। অতঃপর তিনি কবরের নিকট আসলেন এবং আমরা তাঁর পিছনে কাতারবন্দী হয়ে দাঁড়ালাম। তিনি চার তাকবীরে তার জানাযার সালাত পড়েন।

1529। আমের ইবনু রবীআ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক কৃষ্ণকায় মহিলা মারা গেলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে অবহিত করা হয়নি। পরে তাঁকে এ ব্যাপারে অবহিত করা হলে তিনি বলেনঃ তোমরা কেন আমাকে তার সম্পর্কে অবহিত করলে না? অতঃপর তিনি তাঁর সাহাবীগণকে বলেনঃ তোমরা তার (সালাতের জন্য) কাতারবন্দী হয়ে দাঁড়াও। তারপর তিনি তার জানাযার সালাত পড়েন।

1530। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক রুগ্ন ব্যক্তিকে দেখতে যেতেন। সে মারা গেলে লোকেরা তাকে রাতে দাফন করে। সকাল বেলা তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বিষয়টি অবহিত করে। তিনি বলেনঃ আমাকে তা জানাতে কিসে তোমাদের বাধা দিলো? তারা বললো, গভীর অন্ধকার রাত ছিল বিধায় আমরা আপনাকে কষ্ট দেয়া সমীচীন মনে করিনি। তিনি তার কবরের নিকট এসে তার জানাযার সালাত পড়েন।

1531। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তিকে দাফন করার পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জানাযার সালাত পড়েন।

1532। বুরাইদাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে দাফন করার পর তার জানাযার সালাত পড়েন।

1533। আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক কৃষ্ণকায় মহিলা মসজিদে নববীতে ঝাড়ু দিতো। সে রাতের বেলা মারা গেলো (এবং রাতেই দাফন করা হলো) এবং ভোরবেলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে তার মৃত্যুর সংবাদ দেয়া হলো। তিনি বলেনঃ তোমরা কেন আমাকে তার সম্পর্কে জানাওনি? অতঃপর তিনি তার সাহাবীগণকে নিয়ে রওয়ানা হলেন এবং তার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে তাকবীর দিয়ে সালাত পড়েন এবং তার জন্য দু‘আ করেন। লোকেরাও তাঁর পিছনে দাঁড়িয়ে (সালাতে অংশগ্রহণ করেন)। অতঃপর তিনি ফিরে আসেন।

1534। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। বলেনঃ নাজাশী ইনতিকাল করেছেন। অতএব রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীগণকে নিয়ে বাকির কবরস্থানের উদ্দেশে রওয়ানা হলেন। আমরা তাঁর পিছনে কাতারবন্দী হলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সামনে অগ্রসর হয়ে চার তাকবীরের সাথে জানাযার সালাত পড়েন।

1535। ইমরান ইবনুল হুসাইন (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : তোমাদের ভাই নাজাশী ইনতিকাল করেছেন। অতএব তোমরা তার জানাযার সালাত পড়ো। রাবী বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ালেন এবং আমরা তাঁর পিছনে দাঁড়িয়ে জানাযার নাময পড়লাম। অবশ্যি আমি ছিলাম দ্বিতীয় কাতারে। তিনি (মোক্তাদীদের) দু’ কাতারে সারিবদ্ধ করে তার জানাযার সালাত পড়েন।

1536। মুজাম্মি ইবনু জারিয়া আল-আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের ভাই নাজাশী ইনতিকাল করেছেন। তোমরা দাঁড়িয়ে তার জানাযার সালাত পড়ো। অতএব আমরা তাঁর পিছনে দু’ কাতারে সারিবদ্ধ হলাম।

1537। হুযাইফাহ ইবনু উসাইদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে সাথে নিয়ে বের হয়ে বলেনঃ অন্য দেশে মৃত্যুবরণকারী তোমাদের এক ভাইয়ের জানাযার সালাত পড়ো। তারা বলেনঃ তিনি কে? তিনি বলেনঃ নাজাশী।

1538। ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চার তাকবীরে নাজাশীর জানাযার সালাত পড়েন।

1539। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি জানাযার সালাত পড়লো তার জন্য এক কীরাত সওয়াব। আর যে ব্যক্তি দাফনকার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করলো, তার জন্য দু’ কীরাত সওয়াব। লোকেরা বললো, দু’ কীরাত? তিনি বলেনঃ দু’টি পাহাড়ের সমান।

1540। সাওবান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি জানাযার সালাত পড়লো, তার জন্য এক কীরাত সওয়াব। আর যে ব্যক্তি তার দাফনেও অংশগ্রহণ করলো, তার জন্য দু’ কীরাত সওয়াব। রাবী বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এক কীরাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেনঃ তা উহুদ পাহাড় সমতুল্য।

1541। উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি জানাযার সালাত পড়লো, তার জন্য এক কীরাত সওয়াব এবং সে যে ব্যক্তি দাফনের কাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত উপস্থিত থাকলো তার জন্য দু’ কীরাত সওয়াব। সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! একটি কীরাত এই উহুদ পাহাড়ের চেয়েও বিশাল।

1542। আমের ইবনু রবীআ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : তোমরা যখন লাশ বয়ে নিয়ে যেতে দেখো, তখন তার জন্য দাঁড়াও, যাবত না তা তোমাদেরকে পেছনে ফেলে যায় অথবা লাশ নামিয়ে রাখা হয়।

1543। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে দিয়ে একটি লাশ নিয়ে যাওয়া হলে তিনি দাঁড়ান এবং বলেনঃ তোমরা দাঁড়িয়ে যাও। কেননা মৃত্যুর কারণে ভীত হওয়া উচিত।

1544। ‘আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি লাশ বয়ে নিয়ে যেতে দেখে দাঁড়ালে আমরাও দাঁড়ালাম। অতঃপর তিনি বসলে আমরাও বসে পড়ি।

1545। উবাদা ইবনুস সামিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লাশের সাথে সাথে গেলে লাশ কবরে না রাখা পর্যন্ত বসতেন না। জনৈক ইহূদী পন্ডিত তাঁর নিকট উপস্থিত হয়ে বললো, হে মুহাম্মাদ! আমরাও তাই করি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তৎক্ষণাৎ বসে পড়েন এবং বলেনঃ তোমরা তাদের বিপরীত করো।

1546। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে হারিয়ে ফেললাম (বিছানায় পেলাম না)। তিনি গারাকাদে বাকিতে গিয়েছিলেন। তিনি সেখানে বলেনঃ ‘‘হে কবরবাসি মু’মিনগণ! তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। তোমরা আমাদের জন্য অগ্রগামী এবং নিশ্চয় আমরা তোমাদের সাথে মিলিত হবো। হে আল্লাহ্! তাদের পুরস্কার থেকে আমাদের বঞ্চিত করো না এবং তাদের পরে আমাদের বিপদে ফেলো না।’’ তাদের পুরস্কার থেকে আমাদের বঞ্চিত করো না এবং তাদের পরে আমাদের বিপদে ফেলো না।

1547। বুরাইদাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে তারা যখন কবরস্থানে যেতেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের শিক্ষা দিতেনঃ ‘‘হে কবরবাসি মু’মিন ও মুসলিমগণ! তোমাদেরকে সালাম। আমরাও ইনশাআল্লাহ তোমাদের সাথে মিলিত হবো। আমরা আল্লাহর কাছে আমাদেরও তোমাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করি’’।

1548। বারাআ ইবনু আযেব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে একটি জানাযায় বের হলাম। তিনি কিবলামুখী হয়ে বসে পড়েন।

1549। বারাআ ইবনু আযেব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে একটি জানাযায় বের হলাম। আমরা কবরস্থানে পৌঁছলে তিনি বসে পড়েন (এবং আমরাও নীরবে অনড় হয়ে বসে পড়লাম), যেন আমাদের মাথার উপর পাখী বসে আছে।

1550। ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, লাশ কবরে রাখার সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন : ‘‘বিসমিল্লাহ ওয়া আলা মিল্লাতি রাসূলিল্লাহ’’। আবূ খারিদ (রহ.) বলেন, লামকে তার কবরে রাখার সময় তিনি বলতেনঃ ‘‘বিসমিল্লাহি ওয়া আলা সুন্নাতি রাসুলিল্লাহ’’। হিশাম (রহ.) তার হাদীসে বলেন, ‘‘বিস্মিল্লাহি ওয়া ফী সাবীলিল্লাহি ওয়া আলা মিল্লাতি রাসূলিল্লাহ’’।

1551। আবূ রাফি‘ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (খাটিয়া থেকে) সা‘দ (রাঃ)-এর লাশ পাযের দিক থেকে কবরে নামান এবং তার কবরে পানি ছিটিয়ে দেন।

1552। আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর লাশ কিবলার দিক থেকে কবরে রাখার জন্য গ্রহণ করা হয, তাঁর মুখমন্ডল কিবলামুখী রাখা হয় এবং তাঁর পায়ের দিক থেকে রওযা মুবারকে নামানো হয়।

1553। সাঈদ ইবনুল মুসায়্যাব (রহ.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু ‘উমার (রাঃ)-এর সাথে এক জানাযায় উপস্থিত ছিলাম। তিনি কবরে লাশ রাখার সময় বলেন, ‘‘বিসমিল্লাহি ওয়া পসিাবীলিল্লাহ ওয়া আলা মিল্লাতি রাসূলিল্লাহ’’। কবরের উপর মাটি সমান করে দেওয়ার সময় তিনি বলেন, ‘‘হে আল্লাহ্! তাকে শয়তান ও কবরের আযাব থেকে রক্ষা করুন। হে আল্লাহ্! তার পার্শ্বদেশ থেকে মাটি সরিয়ে দিন এবং তার রূহ উঠিয়ে নিন এবং সন্তুষ্টির সাথে তাকে সাক্ষাত দান করুন’’। আমি বললাম, হে ইবনু ‘উমার! আপনি কি এ কথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছেন, না আপনার নিজের থেকে বলেছেন? তিনি বলেন, আমি সামর্থ্য রাখি, তবে আমি একথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি।

1554। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমাদের জন্য লাহ্দ এবং অন্যদের জন্য শাক্ব কবর।

1555। জারির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ আল-বাজালী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমাদের জন্য লাহ্দ অন্যদের জন্য শাক্ক কবর।

1556। সা‘দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার জন্য তোমরা লাহ্দ কবর তৈরি করো এবং নিদর্শনস্বরূপ সেখানে ইট পুঁতে দিও, যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বেলায় করা হয়েছিল।

1557। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ইনতিকাল করেন তখন মদিনা্য় এক ব্যক্তি লাহ্দ কবর খনন করতো এবং অপর ব্যক্তি শাক্ক কবর খনন করতো। সাহাবীগণ বলেন, আমরা আমাদের প্রভুর নিকটে ইস্তিখারা করবো এবং তাদের উভয়ের কাছে সংবাদ পাঠাবো। তাদের মধ্যে যে আগে আসবে (তাকে রাখবো) এবং অন্যজনকে বাদ দিবো। অতএব তাদের দু’জনকেই ডেকে পাঠানো হলো এবং লাহ্দ কবর খননকারী আগে পৌঁছে গেলো। অতএব সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর জন্য লাহ্দ কবর খনন করেন।

1558। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ইনতিকাল করেন, তখন সাহাবীগণ তাঁকে লাহ্দ অথবা শাক্ক কবরে দাফন করার ব্যাপারে মতভেদ করেন, এমনকি তারা এ নিয়ে বাদানুবাদে রিপ্ত হন এবং তাদের কন্ঠস্বর উচু হয়ে যায়। ‘উমার (রাঃ) বলেন, তোমরা জীবিত ও মৃত কোন অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উচ্চ কন্ঠে বিতন্ডা করো না অথবা অনুরূপ কিছু বলেছেন। তোমরা শাক্ক ও লাহ্দ খননকারী সকলের নিকট খবর পাঠাও। অতএব লাহ্দ কবর খননকারী (আগে) আসলো এবং সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য লাহ্দ কবর খনন করলো, অতঃপর তাঁকে দাফন করা হলো।

1559। আল-আদরাআ আস-সুলামী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এক রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে পাহারা দিতে আসলাম। এক ব্যক্তি উচ্চ কন্ঠে কুরআন পড়ছিলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেরিয়ে এলে আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! এ ব্যক্তি তো রিয়াকার। রাবী বলেন, লোকটি মাদ্বীনায় মারা গেলে লোকজন তার দাফন-কাফনে শংকাগ্রস্ত হয়ে পড়লো। তারা তার লাশ বহন করে নিয়ে গেলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা তার প্রতি সদয় হও, আল্লাহ তার প্রতি সদয় হয়েছেন। কারণ সে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসতো। রাবী বলেন, তার কবর খনন করলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তার কভর আরো প্রশস্ত করো। আল্লাহ্ তাঁর প্রতি সদয় হয়েছেন। তাঁর কোন সাহাবী বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনি নিশ্চয় তার ব্যাপারে চিন্তান্বিত। তিনি বলেনঃ হ্যাঁ, নিশ্চয় সে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসতো।

1560। হিশাম ইবনু আমের (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা প্রশস্ত করে কবর খনন করো এবং সদয় হও।

1561। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘উসমান ইবনু মাযঊন (রাঃ)-এর কবর একটি পাথর দিয়ে চিহ্নিত করে রাখেন।

1562। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবর পাকা করতে নিষেধ করেছেন।

1563। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরের উপর কিছু লিখতে নিষেধ করেছেন।

1564। আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরের উপর কিছু নির্মাণ করতে নিষেধ করেছেন।

1565। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তির জানাযার সালাত পড়লেন, অতঃপর মৃতের কবরের নিকট এসে তার মাথার দিকে তিনবার মাটি ছড়িয়ে দিলেন।

1566। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কবরের উপর তোমাদের কারো বসার চাইতে জ্বলন্ত অঙ্গারের উপর বসা তার জন্য উত্তম।

1567। উকবা ইবনু আমের (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন মুসলিমের কবরের উপর দিয়ে আমার হেঁটে যাওয়া অপেক্ষা জ্বলন্ত অঙ্গারের উপর দিয়ে অথবা তরবারির উপর দিয়ে আমার হেঁটে যাওয়া অথবা আমার জুতাজোড়া আমার পায়ের সাথে সেলাই করা আমার নিকট অধিক প্রিয়। কবরস্থানে পায়খানা করা এবং বাজারের মাঝখানে পায়খানা করার মধ্যে আমি কোন পার্থক্য দেখি না।

1568। বাশীর ইবনুল খাসাসিয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে পায়চারি করছিলাম। তিনি বলেনঃ হে ইবনুল খাসাসিয়া! তুমি আল্লাহর নিকট এর চাইতে বড় নিয়ামত আর কী আশা করো যে, তুমি তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সকালবেলা পায়চারি করছো। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আল্লাহর নিকট এর চেয়ে বেশি কিছু আশা করি না। কেননা আল্লাহ্ আমাকে সব ধরনের কল্যাণ দান করেছেন। অতঃপর তিনি মুসলিমদের কবরস্থানের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বলেনঃ এসব লোক বিপুল কল্যাণ লাভ করেছে। অতঃপর তিন মুশরিকদের কবরস্থানের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বলেনঃ এসব লোক ইতোপূর্বে প্রচুর কল্যাণ লাভ করেছে। রাবী বলেন, তিনি এক ব্যক্তিকে জুতা পরিহিত অবস্থায় কবরস্থান অতিক্রম করতে দেখে বলেনঃ হে জুতা পরিধানকারী! তোমার জুতা জোড়া খুলে ফেলো। ১/১৫৬৮ (১)। মুহাম্মাদ বিন বাশশার-আবদুর রহমান বিন মাহদী বলেন, আবদুল্লাহ বিন উসমান এমন বলতেন। হাদীসটি যাইয়েদ, এর রাবীসমূহ মজবুত।

1569। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা কবর যিয়ারত করো। কেননা তা তোমাদেরকে আখেরাত স্মরণ করিয়ে দেয়।

1570। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবর যিয়ারতের অনুমতি দিয়েছেন।

1571। ইবনু মাস‘উদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : আমি তোমাদেরকে কবর যিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম। এখন তোমরা কবর যিয়ারত করো। কেননা তা দুনিয়া বিমুখ বানায় এবং আখেরাত স্মরণ করিয়ে দেয়।

1572। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মায়ের কবর যিয়ারত করেন। তিনি কান্নাকাটি করেন এবং তাঁর সাথের লোকেদেরও কাঁদান। অতঃপর তিনি বলেন, আমি আমার রবের নিকট তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনার অনুমতি চাইলে তিনি আমাকে অনুমতি দেননি। আমি আমার রবের নিকট তার কবর যিয়ারতের অনুমতি চাইলে তিনি আমাকে অনুমতি দেন। অতএব তোমরা কবর যিয়ারত করো। কেননা তা তোমাদের মৃত্যু স্মরণ করিয়ে দেয়।

1573। ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক বেদুইন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললো হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা আত্মীয়তার সম্পর্ক বহাল রাখতেন এবং তিনি এই এই কাজ করতেন। তিনি কোথায় আছেন? তিনি বলেনঃ জাহান্নামে। রাবী বলেন, এতে সে ব্যথিত হলো। সে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার পিতা কোথায় আছে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তুমি যখন কোন মুশরিকের কবর অতিক্রম করো, তখন তাকে জাহান্নামের দুঃসংবাদ দিও। রাবী বলেন, সেই বেদুইন পরে ইসলাম গ্রহণ করে এবং বলে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিশ্চয় আমাকে একটি কাজের দায়িত্ব দিয়েছেনঃ আমি কোন কাফেরের কবর অতিক্রম করলেই তাকে দোযখের দুঃসংবাদ দিয়েছি।

1574। হাসসান ইবনু সাবিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘন ঘন কবর যিয়ারতকারিণীদের অভিসম্পাত করেছেন।

1575। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘন ঘন কবর যিয়ারতকারিণীদের অভিসম্পাত করেছেন।

1576। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘন ঘন কবর যিয়ারতকারিণীদের বদদোয়া করেছেন।

1577। উম্মু আতিয়্যা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদেরকে জানাযায় অংশগ্রহণ করতে নিষেধ করা হয়েছে, কিন্তু কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়নি।

1578। ‘আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেরিয়ে এসে মহিলাদের বসা দেখতে পান। তিনি জিজ্ঞেস করেনঃ তোমরা কেন বসে আছো? তারা বললেন, আমরা লাশের অপেক্ষা করছি। তিনি বলেনঃ তোমরা কি লাশের গোসল করাবে? তারা বললেন, না। তিনি বলেনঃ তোমরা কি লাশ বহন করবে? তারা বললেন, না। তিনি বলেনঃ যারা লাশ কবরে রাখবে তাদের সাথে তোমরাও কি লাশ কবরে রাখবে? তারা বললেন, না তিনি বলেনঃ তোমরা ফিরে যাও, তোমাদের জন্য গুনাহ ব্যতীত কোন সওয়াব নাই।

1579। উম্মু সালামাহ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর বরাতে বলেন, ‘‘তারা উত্তম কাজে তোমাদের অমান্য করবে না’’ (সূরা মুমতাহিনাঃ ১২), এর অর্থ ‘বিলাপ করবে না’।

1580। মু‘য়াবিয়ার মুক্ত দাস জারীর (রহ.) বলেন, মুআবিযা (রাঃ) হিমস নামক স্থানে ভাষণ দানকালে তার ভাষণে উল্লেখ করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিলাপ করে কাঁদতে নিষেধ করেছেন।

1581। আবূ মালিক আল-আশআরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বিলাপকারিণী তওবা না করে মারা গেলে, আল্লাহ্ তা‘আলা তাকে আলকাতরা যুক্ত কাপড় এবং লেলিহান শিখার বর্ম পরাবেন।

1582। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন মৃতের জন্য বিলাপ করে কান্নাকাটি করা জাহিলী প্রথা। অতএব যে বিলাপকারিণী মৃত্যুর পূর্বে তওবা করেনি, কিয়ামতের দিন তাকে আলকাতরা যুক্ত জামা পরিয়ে উঠানো হবে, অতঃপর তাকে লেলিহান শিখার বর্ম পরানো হবে।

1583। ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন লাশের সাথে বিলাপকারিণী থাকলে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার অনুসরণ করতে নিষেধ করেছেন।

1584। ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি (মৃত্যু শোকে) বুকের কাপড় ছিঁড়ে, মুখমন্ডলে আঘাত করে এবং জাহিলী যুগের ন্যায় চীৎকার করে কান্নাকটি করে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।

1585। আবূ উমামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চেহারা ক্ষতবিক্ষতকারিণী, বক্ষদেশের জামা ছিন্নকারিণী, ধ্বংস ও মৃত্যু কামনাকারিণী ও শোকগাথার আয়োজনকারিণীকে অভিসম্পাত করেছেন।

1586। আব্দুর রহমান ইবনু ইয়াযীদ ও আবূ বুরদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তারা বলেন, আবূ মূসা (রাঃ) যখন মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতর, তখন তার স্ত্রী উম্মু ‘আবদুল্লাহ্ গলা ফাটিয়ে চীৎকার করতে করতে আসে। তিনি চেতনা ফিরে পেয়ে তাকে বলেন, তুমি কি জানো না, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যার প্রতি অসন্তুষ্ট, আমিও তার প্রতি অসন্তুষ্ট? তিনি তার নিকট বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি (মৃত্যু শোকে) মাথা মুন্ডন করে, চীৎকার করে কান্নাকটি করে এবং জামা ছিড়ে, আমি তার থেকে দায়মুক্ত।

1587। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক জানাযায় উপস্থিত ছিলেন। ‘উমার (রাঃ) এক মহিলাকে (কাঁদতে) দেখে ধমকালেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ হে ‘উমার! তাকে ছেড়ে দাও। কেননা অশ্রু বর্ষণকারী, দেহ-মন বেদনাক্লিষ্ট এবং প্রতিশ্রুত সময় নিকটবর্তী। ১/১৫৮৭ (১) আবূ বকর বিন আবূ শায়বাহ-আফফান, হাম্মাদ বিন সালামাহ-হিশাম বিন ‘উরওয়াহ, ওয়াহাব বিন কায়সান-মুহাম্মাদ বিন আমর বিন আত্বা-সালামাহ বিন আযরাক্ব আবূ হুরাইরাহ থেকে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

1588উসামাহ ইবনু যায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর এক কন্যার শিশু পুত্রের মৃত্যু আসন্ন হলে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে তার নিকট আসার জন্য লোক মারফত বলে পাঠান। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কন্যাকে বলে পাঠান যে, সবই আল্লাহর যা তিনি নেন তাও তাঁর এবং যা তিনি দান করেন তাও তাঁর। প্রতিটি বস্তুর জন্য তাঁর নিকট একটি নির্ধারিত কাল রয়েছে। অতএব তোমার ধৈর্যধারণ ও সওয়াবের আশা করা উচিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কন্যা কসম খেয়ে পুনরায় তাঁর কাছে লোক পাঠান। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠে রওয়ানা হন এবং আমিও তাঁর সাথে উঠে রওয়ানা হই। তাঁর সাথে আরো ছিলেন মুআয ইবনু জাবাল, উবাদা ইবনুস সামিত ও উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ)। আমরা গিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করলে শিশুটিকে যখন তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে দিলো, তখন তার রূহ তার বুকের মাঝে ধড়ফড় করছিল। রাবী বলেন, আমার মনে হয় তিনি বলেনঃ এ যেন পুরাতন মশক। রাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেঁদে ফেললেন। উবাদা ইবনুস সামিত (রাঃ) তাঁকে বলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ্! একী? তিনি বলেনঃ মায়া-মমতা, যা আল্লাহ আদম-সন্তানদের মধ্যে রেখে দিয়েছেন। আল্লাহ্ তাঁর দয়ালু বান্দাদের অবশ্যই দয়া করেন।

1589। আসমা বিনতে ইয়াযীদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-র শিশু পুত্র ইবরাহীম ইনতিকাল করলে তিনি নীরবে কাঁদেন। তাঁকে সান্ত্বনা দানকারী আবূ বাকর অথবা ‘উমার (রাঃ) বলেন, আপনি আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ও মহত্ব রক্ষার ব্যাপারে অধিক যোগ্য। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ চোখ অশ্রু বর্ষণ করছে, হৃদয় ব্যথিত হচ্ছে এবং আমরা এমন কিছু বলছি না, যা আমাদের প্রভুকে অসন্তুষ্ট করে। যদি তা (মৃত্যু) অবধারিত না হতো, কিয়ামতের দিন একত্র হওয়ার ওয়াদা না থাকতো এবং পরবর্তীদের জন্য পূর্ববর্তীদের অনুসরণ করার সিদ্ধান্ত না থাকতো, তাহলে হে ইবরাহীম! আমরা তোমার ব্যাপারে যে কষ্ট পেয়েছি, তার চেয়ে অধিক কষ্ট পেতাম। আমরা তোমার জন্য অবশ্যই দুঃখিত।

1590। হামনা বিনতে জাহশ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তাকে বলা হলো যে, তার ভাইকে শহীদ করা হয়েছে। তিনি বলেন, আল্লাহ্ তার প্রতি দয়াপরবশ হোন। ‘‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিঊন’’ (আমরা আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চিত তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী)। তারা বললো, আপনার স্বামীকে শহীদ করা হয়েছে। তিনি বলেনঃ আফসোস! আমরা তার জন্য চিন্তিত। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ নিশ্চয় স্বামীর সাথে মহিলাদের এমন ভালোবাসার সম্পর্ক রয়েছে, যা অন্য কিছুতে নেই।

1591। ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার ‘আবদুল আশহাল গোত্রের মহিলাদের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তারা উহুদ যুদ্ধে শহীদ তাদের আত্মীয়দের জন্য কান্নারত ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কিন্তু হামযা! তার জন্য কান্নাকাটি করার কেউ নেই। ইতোমধ্যে কয়েকজন আনসার মহিলা এসে হামযা (রাঃ)-এর জন্য কান্নাকাটি করতে লাগলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুম থেকে জেগে উঠে বলেনঃ তাদের জন্য আফসোস! এতদিন পরে কিসে তাদের কান্নার প্রেরণা যোগালো? তাদের নিকট গিয়ে বলো, তারা যেন ফিরে যায়। আজকের দিনের পর থেকে তারা যেন কোন শহীদের জন্য কান্নকাটি না করে।

1592। ইবনু আবূ আওফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মৃতের জন্য) বিলাপ করতে বা শোকগাঁথা গাইতে নিষেধ করেছেন।

1593। ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মৃতের জন্য বিলাপ করে কান্নার কারণে মৃত ব্যক্তিকে শাস্তি দেয়া হয়।

1594। আবূ মূসা আল-আশআরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ জীবিতদের কান্নার কারণে মৃত ব্যক্তিকে শাস্তি দেয়া হয়, যখন তারা বলেঃ হে আমাদের বাহুদ্বয়, হে আমাদের ভরণপোষণের সংস্থানকারী, হে আমাদের সাহায্যকারী, হে আমাদের পাহাড়সম পরমাত্মীয় ইত্যাদি। তখন তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, তুমি কি এরূপ ছিলে? তুমি কি এরূপ ছিলে? আসীদ (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, সুবহানাল্লাহ্! আল্লাহ্ মহাপবিত্র। নিশ্চয় আল্লাহ্ বলেছেনঃ ‘‘কোন বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না’’ (সূরা ফাতিরঃ ১৮)। রাবী বলেন, তোমার জন্য দুঃখ হয়। আমি তোমার নিকট আবূ মূসা (রাঃ)-এর সূত্রে হাদীস বর্ণনা করছি এবং তিনি তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। তুমি কি মনে করো, আবূ মূসা (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর উপর মিথ্যা আরোপ করেছেন অথবা তুমি কি মনে করো, আমি আবূ মূসা (রাঃ)-এর উপর মিথ্যারোপ করছি?

1595। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ইয়াহূদী নারী মারা গেলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জন্য তাদের কান্নাকাটি শুনতে পেয়ে বলেনঃ তার পরিবার-পরিজন তার জন্য ক্রন্দন করছে, অথচ তাকে তার কবরে শাস্তি দেয়া হচ্ছে।

1596। আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বিপদের প্রথম আঘাতে ধৈর্য ধারণই হচ্ছে প্রকৃত ধৈর্য।

1597। আবূ উমামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মহান আল্লাহ্ বলেছেনঃ হে বনী আদম! যদি তুমি সওয়াবের আশায় প্রথম আঘাতেই ধৈর্য ধারণ করো তাহলে আমি তোমাকে সওয়াবের বিনিময় হিসাবে জান্নাত দান না করে সন্তুষ্ট হবো না।

1598। আবূ সালামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছেনঃ কোন মুসলিম যখন বিপদে পড়ে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে আল্লাহর নির্দেশিত ‘‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিঊন’’ (আমরা আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চিত আমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী) পাঠ করে এবং বলে, হে আল্লাহ্! আমি তোমার নিকট বিপদে সওয়াবের প্রত্যাশা করি, তুমি আমাকে এর পুরস্কার দান করো এবং আমাকে এর বিনিময় দান করো, তখন আল্লাহ্ তাকে পুরস্কৃত করেন এবং এর চেয়ে উত্তম বিনিময় দান করেন। রাবী (উম্মু সালামাহ) বলেন, আবূ সালামাহ (রাঃ) ইনতিকাল করলে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে হাদীস আমার কাছে বর্ণনা করেছিলেন তা স্মরণ করলাম। আমি বললাম, ‘‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিঊন। হে আল্লাহ্! আমার বিপদের পুরস্কার আপনার কাছেই আশা করি। অতএব আমাকে তার বিনিময়ে পুরস্কৃত করুন। অতঃপর আমি যখন বলতে চাইলাম, আমাকে এর চেয়ে উত্তম কিছু দান করুন, তখন আমি মনে মনে বললাম, আবূ সালামাহ (রাঃ) অপেক্ষা আমাকে উত্তম কিছু দান করুন। তারপর আমি তা বললাম’’। অতএব আল্লাহ আমাকে বিনিময় স্বরূপ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দান করেন এবং আমার বিপদে তিনি আমাকে পুরস্কৃত করেন।

1599। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ও লোকেদের মাঝখানের দরজা খুলে অথবা পর্দা তুলে দেখেন যে, লোকজন আবূ বাকর (রাঃ)-এর পিছনে সালাত পড়ছে। তিনি তাদেরকে উক্ত অবস্থায় দেখে আল্লাহর প্রশংসা করেন এবং আশা করেন যে, আল্লাহ্ যেন আবূ বাকরকে তাদের প্রতিনিধি নির্ধারণ করেন, যেভাবে তিনি তাদেরকে দেখতে পেয়েছেন। এরপর তিনি বলেনঃ হে লোকসকল! কোন লোকের উপর অথবা কোন মু’মিন ব্যক্তির উপর কোন বিপদ আসলে সে যেন অপরের উপর আপতিত বিপদের প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করে, বরং আমার উপর আপতিত বিপদের কোন কথা স্মরণ করে প্রশান্তি লাভ করে। কেননা আমার পরে আমার কোন উম্মাতের উপর, আমার বিপদের তুলনায় কঠিন বিপদ আপতিত হবে না।

1600। হুসাইন বিন ‘আলী (রাঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কারো উপর বিপদ আসার পর তা স্মরণ করে ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিঊন’’ পাঠ করলে, আল্লাহ তার বিপদের দিন থেকে শুরু করে বিপদমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত তাকে সওয়াব দান করতে থাকেন।

1601। ‘আমর ইবন হাযম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি তার মু’মিন ভাইকে তার বিপদে সান্ত্বনা দিবে, আল্লাহ্ তা’আলা কিয়ামতের দিন তাকে সম্মানের পোশাক পরাবেন।

1602। ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি বিপদগ্রস্ত লোককে সান্ত্বনা দেয় তার জন্য রয়েছে অনুরূপ সওয়াব।

1603। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোন ব্যক্তির তিনটি সন্তান মারা গেলে সে জাহান্নাম পার হয়ে যাবে, তবে শপথ পূর্ণ না করার জন্য (শাস্তি পাবে)।

1604। উতবা ইবনু আবদুস সুলামী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ কোন মুসলিম ব্যক্তির তিনটি নাবালেগ সন্তান মারা গেলে, সে জান্নাতের আটটি দরজার যেটি দিয়ে ইচ্ছা তাতে প্রবেশ করতে পারবে।

1605। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোন মুসলিম পিতা-মাতার তিনটি নাবালেগ সন্তান মারা গেলে, আল্লাহ্ তার বিশেষ অনুগ্রহে তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।

1606। ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তিনটি নাবালেগ সন্তান আগাম পাঠায় (মারা যায়), তার জন্য তারা হবে জাহান্নামের মজবুত ঢালস্বরূপ। তখন আবূ যার (রাঃ) বলেন, আমি দু’টি সন্তান আগাম পাঠিয়েছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ দু’টি হলেও। সায়্যিদুল কুররা উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ) বলেন, আমি একটি সন্তান আগাম পাঠিয়েছি। তিনি বলেনঃ একটি হলেও।

1607। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : আমার নিকট গর্ভপাতজনিত সন্তান, যা আগে পাঠানো হয়, দুনিয়ায় রেখে যাওয়া অশ্বারোহী সন্তান অপেক্ষা অধিক পছন্দনীয়।

1608। ‘আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ গর্ভপাত হওয়া সন্তানের রব তার পিতা-মাতাকে যখন জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন তখন সে তার প্রভুর সাথে বিতর্ক করবে। তাকে বলা হবে, ওহে প্রভুর সাথে বিতর্ককারী গর্ভপাত হওয়া সন্তান! তোমার পিতা-মাতাকে জান্নাতে প্রবেশ করাও। অতএব সে তাদেরকে নিজের নাভিরজ্জু দ্বারা টানতে টানতে শেষে জান্নাতে প্রবেশ করাবে।

1609। মুআয ইবনু জাবাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! গর্ভপাত হওয়া সন্তানের মাতা তাতে সওয়াব আশা করলে ঐ সন্তান তার নাভিরজ্জু দ্বারা তাকে টেনে জান্নাতে নিয়ে যাবে।

1610। ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু জা‘ফর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জা‘ফর (রাঃ)-এর শহীদ হওয়ার সংবাদ এসে পৌছলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা জা‘ফরের পরিবারের জন্য খাদ্য তৈরি করো। কেননা তাদের উপর এমন বিপদ অথবা বিষয় এসেছে যা তাদের ব্যস্ত রেখেছে।

1611। আসমা বিনত উমাইস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জা‘ফর (রাঃ) শহীদ হওয়ার সংবাদ পৌঁছার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের পরিবারের নিকট এসে বলেনঃ জা‘ফরের পরিবার তাদের মৃতের কারণে ব্যস্ত রয়েছে। অতএব তোমরা তাদের জন্য খাদ্য তৈরি করো। ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) বলেন, এটা সুন্নাত হিসাবে পরিগণিত হয়। তবে তা আলোচনার বিষয়ে পরিণত হলে বর্জন করা হয়।

1612। জারীর ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ আল-বাজালী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মৃতের বাড়িতে ভীড় জমানো ও খাদ্য প্রস্তুত করা বিলাপের অন্তর্ভুক্ত মনে করতাম।

1613। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সফররত অবস্থায় মৃত্যু হলো শহীদী মৃত্যু।

1614। ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন মাদ্বীনায় জন্মগ্রহণকারী এক ব্যক্তি মাদ্বীনায় মারা যায়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জানাযার সালাত পড়েন, অতঃপর বলেনঃ আহ্! এ ব্যক্তি যদি তার জন্মস্থান ব্যতীত অন্যত্র মারা যেতো! উপস্থিত লোকেদের একজন বললো, হে আল্লাহর রাসূল! তা কেন? তিনি বলেনঃ কোন ব্যক্তি তার জন্মভূমি ব্যতীত অন্যত্র মারা গেলে তার মৃত্যুর স্থান থেকে তার জন্মস্থান পর্যন্ত দূরত্বের পরিমাপ করে ততখানি স্থান তার জন্য জান্নাতে নির্ধারণ করা হয়।

1615। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রোগাক্রান্ত অবস্থায় মারা যায়, সে শাহাদতের মৃত্যু লাভ করে। কবরের বিপর্যয় হতে তাকে রক্ষা করা হয় এবং সকাল-সন্ধ্যা তার জন্য জান্নাত থেকে রিযিক সরবরাহ করা হয়।

1616। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মৃত ব্যক্তির হাড় ভাঙ্গা, তা তার জীবিত অবস্থায় ভাঙ্গার সমতুল্য।

1617। উম্মু সালামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মৃত ব্যক্তির হাড় ভাঙ্গা, জীবিত ব্যক্তির হাড় ভাঙ্গার মতই মারাত্মক গুনাহের কাজ।

1618। ‘উবাইদুল্লাহ্ ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রহ.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, হে আম্মা! আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর (অন্তিম) রোগ সম্পর্কে অবহিত করুন। তিনি বলেন, তিনি রোগাক্রান্ত হলে আমরা অনুভব করলাম যে, তিনি কিশমিশ ভক্ষণকারীর ন্যায় শ্বাস-প্রশ্বাস নিচ্ছেন। তখনও তিনি তাঁর স্ত্রীদের কাছে পালাক্রমে যাতায়াত করতেন। তাঁর রোগ বেড়ে গেলে তিনি তাদের নিকট ‘আয়িশাহর ঘরে অবস্থান করার অনুমতি চাইলেন এবং তারা যেন পালাক্রমে তাঁর নিকট আসেন। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’ ব্যক্তির উপর ভর করে তাঁর পদদ্বয় হেঁচড়াতে হেঁচড়াতে আমার ঘরে আসেন। তাদের দু’জনের একজন ছিলেন ‘আব্বাস (রাঃ)। আমি (উবাইদুল্লাহ) এ হাদীস ইবন ‘আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট বর্ণনা করলে তিনি বলেন, তুমি কি জানো অপর ব্যক্তি কে, যার নাম ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) উল্লেখ করেননি? তিনি হলেন ‘আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ)।

1619। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিম্নোক্ত বাক্যে আশরয় প্রার্থনা করতেনঃ হে মানুষের প্রভু! আপনি বিপদ দূর করুন এবং রোগমুক্তি দান করুন। আপনি ব্যতীত অপর কারো রোগমুক্তি দানের ক্ষমতা নেই। আপনি এমন নিরাময় দান করুন যার পর আর কোন রোগ থাকবে না।’’ অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অন্তিম রোগ আরো বেড়ে গেলে আমি উক্ত দু‘আ পড়ে তাঁর হাত ধরে তাঁর শরীরে মলে দিতাম। তিনি তাঁর হাত আমার হাত থেকে মুক্ত করে নিলেন এবং বললেনঃ ‘‘হে আল্লাহ্! আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমাকে আমার পরম বন্ধুর সাথে মিলিত করুন’’। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শেষ কথা যা শুনেছি তা এই।

1620। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছিঃ যখন কোন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোগগ্রস্ত হন, তখন তাঁকে দুনিয়া ও আখেরাতের মধ্য থেকে যে কোনটি গ্রহণ করার এখতিয়ার দেয়া হয়। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, তিনি যখন অন্তিম রোগে আক্রান্ত তখন তাঁর থেকে উচ্চশব্দ বের হতো। আমি তাঁকে বলতে শুনলামঃ ‘‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সত্যনিষ্ঠগণ, শহীদগণ ও সৎকর্মপরায়ণগণ, যাদের প্রতি আল্লাহ্ অনুগ্রহ করেছেন তাদের সঙ্গে’’ (সূরা নিসাঃ ৬৯)। তখন আমি বুঝতে পারলাম, তাকেও এখতিয়ার দেয়া হয়েছে।

1621। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর স্ত্রীগণ সকলে একত্র হলেন, তাদের একজনও বাদ ছিলেন না। এরপর ফাতেমাহ (রাঃ) আসলেন। আর তার হাঁটাচলার ধরন ছিল যেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর অনুরূপ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ খোশ আমদেদ হে আমার প্রিয় কন্যা। তিনি তাকে নিজের বাম পাশে বসান, অতঃপর তাঁর সাথে চুপেচুপে কিছু কথা বলেন। এতে ফাতেমাহ (রাঃ) কাঁদেন। তিনি পুনরায় তার সাথে গোপনে কিছু কথা বলেন। এতে তিনি হাসেন। পরে আমি ফাতেমাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, তুমি কেন কাঁদলে? তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর গোপন তথ্য প্রকাশ করবো না। আমি বললাম, দুশ্চিন্তার পরে আজকের মত এত খুশী আমি আর কখনো দেখিনি। তার কাঁদার সময় আমি তাঁকে বললাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি আমাদের বাদ দিয়ে তোমার সঙ্গে বিশেষ কোন আলাপ করেছেন, তারপর তুমি কাঁদলে? আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সঙ্গে যে বিষয়ে আলাপ করেছিলেন, আমি পুনরায় তা তাকে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর গোপন তথ্য ফাঁস করবো না। তিনি [রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] ইনতিকাল করার পর আমি ফাতেমাহ (রাঃ)-কে সে বিষয়ে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেন, জিবরীল (আঃ) প্রতি বছর আমাকে একবার কুরআন পড়ে শুনাতেন। এ বছর তিনি তা আমাকে দু’বার পড়ে শুনিয়েছেন। মনে হয় আমার মৃত্যু নিকটবর্তী হয়েছে। তুমিই আমার পরিবারের মধ্যে সবার আগে আমার সঙ্গে মিলিত হবে। আমি তোমার জন্য কত উত্তম পূর্বসূরী। এ কথায় আমি কাঁদলাম। এরপর তিনি আমাকে গোপনে বলেন, তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, তুমি মু’মিন নারীদের বা এ উম্মাতের নারীদের নেত্রী হবে? এতে আমি হেসেছি।

1622। মাসরূক (রহ.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চাইতে আর কারো অত কঠিন মৃত্যুযন্ত্রণা দেখিনি।

1623। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মুমূর্ষু অবস্থায় দেখলাম যে, তিনি তাঁর নিকটস্থ পানির পাত্রে তাঁর হাত ডুবিয়ে পানি নিয়ে তা তাঁর মুখমন্ডলে মলছেন, অতঃপর বলেনঃ ‘‘হে আল্লাহ্! আপনি আমাকে মৃত্যুযন্ত্রণায় সাহায্য করুন’’।

1624। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সোমবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে শেষবারের মত দেখেছি, যখন তিনি (জানালার) পর্দা সরালেন। আমি তাঁর মুখমন্ডলের দিকে তাকালাম, যেন কুরআনের একটি পৃষ্ঠা। তখন লোকজন আবূ বাকর (রাঃ)-এর পিছনে সালাতরত ছিল। আবূ বাকর (রাঃ) তার স্থান ত্যাগ করতে চাইলে, তিনি তাকে ইশারায় স্বস্থানে স্থির থাকতে বলেন এবং পর্দা নামিয়ে দেন। এ দিনের শেষভাগে তিনি ইনতিকাল করেন।

1625। উম্মু সালামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যু ব্যাধিগ্রস্ত অবস্থায় বলছিলেনঃ ‘‘সালাত এবং তোমাদের অধীনস্থ দাস-দাসী’’। বারবার একথা বলতে বলতে শেষে তাঁর যবান মুবারক জড়িয়ে যায়।

1626। আসওয়াদ (রহ.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেরা ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) -এর নিকট উল্লেখ করে যে, ‘আলী (রাঃ) ছিলেন (মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামর) ওসী (প্রতিনিধি)। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখন তাকে ওসী নিয়োগ করলেন? অবশ্যই আমি তাঁকে আমার বুকের সাথে বা কোলে হেলান দিয়ে রেখেছিলাম। তিনি একটি পাত্র চাইলেন। তিনি আমার কোলেই ঢলে পড়ে ইনতিকাল করেন। আমি তা বুঝতেই পারলাম না। তবে তিনি আবার কখন ওসিয়াত করলেন?

1627। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইনতিকাল করেন তখন আবূ বাকর (রাঃ) আওয়ালী নামক স্থানে তাঁর স্ত্রী বিনতে খারিজার ঘরে ছিলেন। লোকজন বলতে লাগলো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইনতিকাল করেননি, বরং ওহী নাযিলের সময় তাঁর যে অবস্থা হতো, এটা তাই। ইতোমধ্যে আবূ বাকর (রাঃ) এসে তাঁর মুখমন্ডল থেকে কাপড় সরিয়ে তাঁর দু’চোখের মাঝখানে চুমা দিয়ে বলেন, আপনি দ্বিতীয়বার মারা যাবেন না, আপনি আল্লাহর কাছে অধিক সম্মানিত। আল্লাহর শপথ! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবশ্যই ইনতিকাল করেছেন। ‘উমার (রাঃ) তখন মসজিদের এক কোণ থেকে বলছিলেন, আল্লাহর শপথ! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইনতিকাল করেননি। আর তিনি ব্যাপকভাবে মুনাফিকদের শক্তি খর্ব না করা পর্যন্ত ইনতিকাল করবেন না। তখন আবূ বাকর (রাঃ) মিম্বারে উঠে দাঁড়িয়ে বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর ইবাদত করতো সে যেন মনে রাখে, আল্লাহ্ চিরঞ্জীব, তিনি কখনো মরবেন না। আর যে ব্যক্তি মুহাম্মাদের ইবাদত করতো সে জেনে রাখুক, মুহাম্মাদ তো ইনতিকাল করেছেন। ‘‘মুহাম্মাদ একজন রাসূলমাত্র, তার পূর্বে অনেক রাসূল গত হয়েছে। সুতরাং যদি সে মারা যায় অথবা সে শহীদ হয়, তবে কি তোমরা পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে? কেউ পৃষ্ঠ প্রদর্শন করলে সে কখনো আল্লাহর ক্ষতি করতে পারবে না, বরং আল্লাহ্ অচিরেই কৃতজ্ঞদের পুরস্কৃত করবেন’’ (সূরা আল ইমরানঃ ১৪৪)। ‘উমার (রাঃ) বলেন, আমার মনে হলো, আমি যেন এ আয়াত আজই পড়ছি।

1628। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সহাবায়ে কিরাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কবর খননের সিদ্ধান্ত নিলে, তাঁরা আবূ উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ (রাঃ) এর নিকট খবর পাঠান। তিনি মক্কাবাসীদের কবর খননের ন্যায় কবর খনন করতেন। তাঁরা আবূ তালহা (রাঃ)-এর নিকটও খবর পাঠান। তিনি মদ্বীনাবাসীদের জন্য লাহাদ আকৃতির কবর খনন করতেন। তাঁরা তাদের উভয়ের নিকট দু’জন লোক পাঠান। তারা বলেন, হে আল্লাহ্! আপনার রাসূলের জন্য আপনি পছন্দ করুন। তারা আবূ তালহা (রাঃ)-কে পেয়ে গেলেন এবং তাকে নিয়ে আসা হলো, কিন্তু আবূ উবাইদাহ (রাঃ)-কে পাওয়া গেলো না। অতএব আবূ তালহা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর জন্য লাহ্দ কবর খনন করেন। রাবী বলেন, মঙ্গলবার তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাফনের কাজ সম্পন্ন করলে তাঁকে তাঁর ঘরে খাটের উপর রাখা হয়। এরপর লোকজন দলে দলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট প্রবেশ করেন এবং তাঁর জন্য দু‘আ করেন। পুরুষদের পালা শেষ হলে মহিলারা প্রবেশ করেন। তাদের পালা শেষ হলে বালকরা প্রবেশ করে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জানাযায় কেউ ইমামতি করেননি। তাঁর কবর কোথায় খনন করা হবে, এ নিয়ে একদল বলেন, তাঁকে তার মসজিদে দাফন করা হবে। অপরদল বলেন, তাঁকে তাঁর সাহাবীদের সাথে (একই গোরস্থানে) দাফন করা হবে। আবূ বাকর (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ যে স্থানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইনতিকাল করেন, সেখানেই তাঁকে দাফন করা হয়। রাবী বলেন, যে বিছানায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইনতিকাল করেন, তারা তা সরিয়ে নেন এবং তাঁর জন্য সেখানে কবর খনন করেন। অতঃপর তাঁকে বুধবার মধ্যরাতে দাফন করা হয়। ‘আলী ইবনু আবূ তালিব, ফাদল ইবনু ‘আব্বাস, তার ভাই কুসাম এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মুক্তদাস শুকরান (রাঃ) তাঁর কবরে নামেন। আবূ লাইলা আওস ইবনু খাওলী (রাঃ) ‘আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ)-কে বলেন, আল্লাহর শপথ! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর ব্যাপারে আমাদেরও অংশ রয়েছে। ‘আলী (রাঃ) তাকে বলেন, তুমিও নামো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর মুক্তদাস শুকরান (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরিহিত চাঁদরটি সাথে নিয়েছিলেন। তিনি তাও কবরে দাফন করেন এবং বলেন, আল্লাহর শপথ! আপনার পরে তা আর কেউ কখনো পরবে না। অতএব তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে দাফন করা হয়।

1629। আনাস ইবনু মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মৃত্যু যন্ত্রণা তীব্রভাবে অনুভব করেন, তখন ফাতেমাহ (রাঃ) বলেন, হায় আমার আব্বার কত কষ্ট। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আজকের দিনের পরে তোমার আব্বার আর কোন কষ্ট থাকবে না। তোমার আব্বার নিকট এমন জিনিস উপস্থিত হয়েছে, যা কিয়ামত পর্যন্ত কাউকে ছাড়বে না।

1630। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফাতেমাহ (রাঃ) আমাকে বললেন, হে আনাস! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর উপর মাটি ঢেলে দিতে তোমাদের অন্তরাত্মা কিভাবে সায় দিতে পারলো। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইনতিকাল করলে ফাতেমাহ (রাঃ) বলেন, হায় আমার আব্বা! জিবরীল (আঃ)- তাঁর থেকে পৃথক হয়ে গেলেন। হায় আমার আব্বা! তিনি তাঁর রবের নিকটবর্তী হলেন। হায় আব্বা! জান্নাতুল ফিরদাওস তাঁর ঠিকানা। হায় আব্বা! তিনি তাঁর রবের ডাকে সাড়া দিলেন। হাম্মাদ (রহ.) বলেন, আমি সাবিত (রহ.)-কে এ হাদীস বর্ণনাকালে দেখলাম যে, তিনি কাঁদছেন, এমনকি তার হাড়ের জোড়াগুলোও কাঁপছে।

1631। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেদিন মদিনা্য় উপনীত হন, তখন মদিনার প্রতিটি বস্তু জ্যোতির্ময় হয়ে উঠে। আর যেদিন তিনি ইনতিকাল করেন, সেদিন মদিনার প্রতিটি বস্তু অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যায়। তাঁর দাফন সম্পন্ন করার পর আমাদের অন্তরে যেন পরিবর্তন অনুভব করলাম।

1632। ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যমানায় আমরা আমাদের স্ত্রীদের সাথে খোশালাপ করতে এবং মেলামেশা করতে এজন্য ভয় পেতাম যে, না জানি আমাদের সম্পর্কে কুরআনের আয়াত নাযিল হয়ে যায়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইনতিকালের পর থেকে আমরা তাদের সাথে খোলামেলাভাবে কথাবার্তা বলতে শুরু করি।

1633। উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে থাকা অবস্থায় আমাদের দৃষ্টি ছিলো একই দিকে (তাঁর দিকে)। তাঁর ইনতিকালের পর আমরা (অস্থির হয়ে) এদিক সেদিক দৃষ্টি দিতে লাগলাম (এখন কী করবো)।

1634। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী উম্মু সালামাহ বিনত আবূ উমাইয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যমানায় লোকেদের অবস্থা এরূপ ছিলো যে, সালাতী যখন সালাতে দাঁড়াতেন, তখন তাদের কারো দৃষ্টি তার পদদ্বয়ের স্থান অতিক্রম করতো না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইনতিকাল করার পর মানুষের অবস্থা এরূপ হয় যে, যখন তাদের কেউ সালাতে দাঁড়াতেন, তখন তার দৃষ্টি সিজদার স্থান অতিক্রম করতো না। অতঃপর আবূ বাকর (রাঃ) ইনতিকাল করেন এবং ‘উমার (রাঃ) খলীফা হন। তখন লোকেদের অবস্থা এরূপ হলো যে, তাদের কেউ যখন সালাতে দাঁড়াতেন তখন তার দৃষ্টি কিবলার দিক অতিক্রম করতো না। ‘উসমান ইবনু আফফান (রাঃ) খলীফা হওয়ার পর থেকে বিশৃংখলার সূত্রপাত হয়। অতএব লোকজন (সালাতরত অবস্থায়) ডানে-বামে তাকাতে থাকে।

1635। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর ইনতিকালের পর আবূ বাকর (রাঃ) ‘উমার (রাঃ) কে বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেমন উম্মু আইমানের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করতে যেতেন, চলুন আমরাও তেমন তার সাথে দেখা করতে যাই। তিনি বলেন, আমরা তার নিকট গিয়ে উপস্থিত হলে তিনি কাঁদতে থাকেন। তারা দু’জন তাকে বলেন, আপনি কাঁদছেন কেন! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য আল্লাহর নিকট যা আছে তা তাঁর জন্য কল্যাণকর। তিনি বলেন, আমি অবশ্যই জানি যে, আল্লাহর নিকট যা আছে তা তাঁর রাসূলের জন্য কল্যাণকর। কিন্তু আমি এজন্য কাঁদছি যে, আসমান থেকে ওহী নাযিল হওয়া বন্ধ হয়ে গেলো। রাবী বলেন, তার এ কথা তাদের উভয়কে কাঁদতে উদ্বুদ্ধ করলো এবং তারাও তার সাথে কাঁদতে লাগলেন।

1636। আওস ইবনু আওস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে জুমু‘আহর দিন সর্বোত্তম। এদিনই আদম (আঃ)--কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এদিনই শিঙ্গায় ফুঁ দেয়া হবে এবং এদিনই ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) সংঘটিত হবে। অতএব তোমরা এদিন আমার প্রতি অধিক সংখ্যায় দুরূদ ও সালাম পেশ করো। কেননা তোমাদের দুরূদ আমার সামনে পেশ করা হয়। এক ব্যক্তি বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের দুরূদ আপনার নিকট কিভাবে পেশ করা হবে, অথচ আপনি তো মাটির সাথে মিশে যাবেন? তিনি বলেনঃ আল্লাহ্ তা‘আলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামগণের দেহ ভক্ষণ যমীনের জন্য হারাম করে দিয়েছেন।

1637। আবূ দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা জুমু‘আহর দিন আমার উপর অধিক দুরূদ পাঠ করবে। কেননা তা আমার নিকট পৌঁছানো হয়, ফেরেশতাগণ তা পৌঁছে দেন। যে ব্যক্তিই আমার উপর দুরূদ পাঠ করে তা থেকে সে বিরত না হওয়া পর্যন্ত তা আমার নিকট পৌঁছতে থাকে। রাবী বলেন, আমি বললাম, (আপনার) ইনতিকালের পরেও? তিনি বলেন, হ্যাঁ, ইনতিকালের পরেও। আল্লাহ তা’আলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামগণের দেহ ভক্ষণ যমীনের জন্য হারাম করে দিয়েছেন। আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীবিত এবং তাঁকে রিযিক দেয়া হয়।

উৎস: Sunan Ibn Majah

WEBREATH · 11:11

«Should I not be a thankful servant?» — Sahih al-Bukhari

Breath is one for all: everyone lives by it, whoever they are and whatever they believe. Every day at 11:11 local time people stop for sixty seconds, breathe, and thank GOD for the breath — each in their own words, each within themselves. In that minute we are One Breath.

WEBREATH — the Minute at 11:11, your own local time — we are One Breath