হাদিস
ফিরে যান

সুনানে ইবনে মাজাহ 5 · Establishing the Prayer and the Sunnah Regarding Them

আপনার ভাষায় এখনো কোনো অনুবাদ নেই — ইংরেজি দেখাচ্ছে

803। আবূ হুমাইদ আস-সাইদী (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাতে কিবলামুখী হতেন তখন তাঁর দু হাত উত্তোলন করে আল্লাহু আকবার (তাকবীরে তাহরীমা) বলতেন।

804। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত শুরু করে (তাকবীরে তাহরীমার পর) বলতেনঃ সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা ওয়া তাবারাকাসমুকা ওয়া তাআলা জাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা (হে আল্লাহ! আমি আপনার সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করছি, আপনার নাম বরকতপূর্ণ, আপনার মাহাত্ন সুউচ্চ এবং আপনি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই)।

805। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকবীরে তাহরীমা বলার পর, তাকবীর ও কিরাআতের মাঝখানে কিছুক্ষণ নীরব থাকতেন। রাবী বলেন, আমি বললাম, আমার পিতামাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোক, আপনি তাকবীর ও কিরাআতের মাঝখানে চুপ থাকেন কেন? তখন আপনি কী বলেন আমাকে বলুন! তিনি বলেনঃ আমি বলিঃ اللَّهُمَّ بَاعِدْ بَيْنِي وَبَيْنَ خَطَايَاىَ كَمَا بَاعَدْتَ بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ اللَّهُمَّ نَقِّنِي مِنْ خَطَايَاىَ كَالثَّوْبِ الأَبْيَضِ مِنَ الدَّنَسِ اللَّهُمَّ اغْسِلْنِي مِنْ خَطَايَاىَ بِالْمَاءِ وَالثَّلْجِ وَالْبَرَدِ হে আল্লাহ্! আপনি আমার ও আমার গুনাহের মাঝে এরূপ দূরত্ব সৃষ্টি করে দিন, যেরূপ আপনি পূর্ব ও পশ্চিমের মাঝে দূরত্ব সৃষ্টি করেছেন। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে আমার পাপরাশি থেকে পবিত্র করুন, যেমন ময়লা থেকে ধবধবে সা’দা কাপড় পরিষ্কার করা হয়। হে আল্লাহ! আপনি আমার গুনাহসমূহ হিমশীতল পানি দিয়ে ধৌত করুন।

806। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত শুরু করে বলতেনঃ سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ تَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَالَى جَدُّكَ وَلاَ إِلَهَ غَيْرُكَ হে আল্লাহ্! আমি আপনার সপ্রশংস পবিত্রতা বর্ণনা করছি, আপনার নাম বরকতময় এবং আপনার মাহাত্ন্য সুউচ্চ। আপনি ব্যতীত কোন ইলাহ নাই।

807। জুবাইর ইবনু মুতঈম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি যে, তিনি সালাতে প্রবেশকরে বলতেনঃ আল্লাহু আকবার কাবীরা তিনবার, আলহামদু লিল্লাহ কাসীরা তিনবার এবং সুবহানাল্লাহি বুকরাতাও ওয়া আসীলা তিনবার। অতঃপর তিনি বলতেনঃاللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ مِنْ هَمْزِهِ وَنَفْخِهِ وَنَفْثِهِ (হে আল্লাহ্! আমি বিতাড়িত শয়তানের শয়তানী, তার অশ্লীল কবিতা এবং তার অহংকার হতে আপনার নিকট আশ্রয় চাই) আমর (রহঃ) বলেন, অর্থ তার শয়তানী অর্থ তার অশ্লীল কবিতা এবং অর্থ তার অহমিকা।

808। ইবনু মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃاللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ وَهَمْزِهِ وَنَفْخِهِ وَنَفْثِهِ রাবী বলেন,هَمْزِهِ এর অর্থ তার শয়তানী,نَفْخِهِ অর্থ তার অশ্লীল কবিতা এবংوَنَفْثِهِ এর অর্থ, তার অহমিকা।

809। হুলব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের ইমামতি করতেন। তিনি তাঁর ডান হাত দিয়ে বাম হাত ধরতেন।

810। ওয়াইল ইবনু হুজর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সালাত আদায় করতে দেখেছি। তিনি তাঁর ডান হাত দিয়ে তাঁর বাম হাত ধরেন।

811। আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন, আমি আমার বাম হাত ডান হাতের উপর রেখেছিলাম। তিনি আমার ডান হাত ধরে বাম হাতের উপর রাখেন।

812। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন (সূরাহ ফাতিহা) দ্বারা কিরাআত শুরু করতেন।

813। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবূ বাকর ও উমার (রাঃ) আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন দ্বারা কিরাআত শুরু করতেন।

814। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন দ্বারা কিরাআত শুরু করতেন।

815। আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল (রাঃ) এর পুত্র থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইসলামে নতুন কিছু উদ্ভাবন বা প্রচলনের বিরুদ্ধে আমার পিতার চাইতে অধিক কঠোর মনোভাবাপন্ন লোক আমি খুব কমই দেখেছি। তিনি আমাকে (সালাতের মধ্যে) বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম পড়তে শুনে বলেন, প্রিয় বৎস! বিদআত থেকে বিরত থাকো। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবূ বাকর , উমার ও উসমান (রাঃ) এর সাথে সালাত আদায় করেছি, কিন্তু আমি তাদের কাউকে বিসমিল্লাহ পড়তে শুনিনি। অতএব তুমি আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন দ্বারাই কিরাআত শুরু করবে।

816। কুতবাহ ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে ফজরের সালাতে ওয়ান-নাখলা বাসিকাতিল লাহা তালউন নাযীদ (সূরাহ কাফ থেকে) তিলাওয়াত করতে শুনেছেন।

817। আমর ইবনু হুরাইস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সালাত পড়লাম এবং তিনি ফজরের সালাতে (সূরাহ তাকবীর) পড়লেন। আমি যেন (এখনো) তার কিরাআত পাঠ শুনছি।

818। আবূ বারযা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাতে ষাট থেকে এক শত আয়াত পর্যন্ত তিলাওয়াত করতেন।

819। আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে সাথে নিয়ে সালাত আদায় করতেন। তিনি যোহরের প্রথম রাকা্আাত দীর্ঘ করতেন এবং দ্বিতীয় রাকআত সংক্ষেপ করতেন। তিনি ফজরের সালাতেও এরূপ করতেন।

820। আবদুল্লাহ ইবনুুস সাইব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাতে সূরাহ মুমিনূন তিলাওয়াত করলেন। তিনি তিলাওয়াত করতে করতে ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর প্রসঙ্গ পর্যন্ত উপনীত হলে তাঁর হাঁচি (বা কফ) আসে। তিনি তখন রুকূতে চলে গেলেন।

821। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমুআহর দিন ফজরের সালাতে সূরাহ আলিফ-লাম-মীম তানযীল আস-সাজদা এবং ওয়াহাল আতা আলাল ইনসানে (সূরাহ আদ-দাহর) তিলাওয়াত করতেন।

822। সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমুআহর দিন ফজরের সালাতে আলিফ-লাম-মীম তানযীল এবং হাল আতা আলাল ইনসান সূরাদ্বয় তিলাওয়াত করতেন।

823। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমুআহর দিন ফজরের সালাতে আলিফ-লাম-মীম-তানযীল এবং হাল আতা আলাল ইনসান সুরাদ্বয় তিলাওয়াত করতেন।

824। আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমুআহর দিন ফজরের সালাতে আলিফ-লাম-মীম তানযীল এবং হাল আতা আলাল ইনসান সূরাদ্বয় তিলাওয়াত করতেন।

825। কায্আ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলেন, এতে তোমার জন্য কোন কল্যাণ নেই। আমি বললাম, আপনি স্পষ্ট করে বলুন, আল্লাহ আপনাকে অনুগ্রহ করুন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর জন্য যোহর সালাতের ইকামত দেয়া হতো। আমাদের কেউ আল-বাকী নামক স্থানে গিয়ে তার প্রাকৃতিক প্রয়োজন সেরে এসে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতো, অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে যোহরের প্রথম রাক্আতেই পেতো।

826। আবূ মামার (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি খাব্বাব (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম, আপনারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যোহর ও আসর সালাতের কিরাআত কিসের মাধ্যমে বুঝতেন? তিনি বলেন, তাঁর দাড়ি নড়াচড়ার মাধ্যমে।

827। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সালাতের সাথে অমুকের সালাতের চাইতে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ আর কারো সালাত দেখিনি। রাবী বলেন, তিনি যোহরের প্রথম দু রাকআত দীর্ঘ করতেন এবং পরবর্তী দু রাকআত সংক্ষেপ করতেন এবং আসরের সালাত সংক্ষেপ করতেন।

828। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী তিরিশজন সাহাবী সমবেত হয়ে বলেনঃ আসুন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নীরবে পঠিত (যোহর ও আসর) সালাতের কিরাআত সম্পর্কে অনুমান করি। তাদের মধ্যে দুজন সাহাবীও তাদের এ অনুমানে মতভেদ করেননি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যোহরের প্রথম রাকআতে ত্রিশ আয়াত এবং দ্বিতীয় রাকআতে তার অর্ধেক সংখ্যক আয়াত তিলাওয়াত করতেন। এভাবে তারা অনুমান করলেন যে, তিনি আসরের সালাতে যুহরের দ্বিতীয় রাকআতে পঠিত কিরাআতের সমপরিমাণ কিরাআত পড়তেন।

829। আবদুল্লাহ ইবনু আবূ ক্বাতাদাহ (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরসহ যোহরের সালাত পড়াকালে প্রথম দু রাকআতে কখনো কখনো আমাদের শুনিয়ে কিরাআত পাঠ করতেন।

830। আল-বারাআ ইবনু আযেব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে যোহরের সালাত আদায় করতেন। আমরা সূরাহ লুকমান ও সূরাহ যারিয়াত থেকে তাঁর পঠিত আয়াতের পর আয়াত শুনতে পেতাম।

831। লুবাবাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মাগরিবের সালাতে ওয়াল মুরসালাতে উরফান সূরাহ থেকে তিলাওয়াত করতে শুনেছেন।

832। মুহাম্মাদ ইবনু জুবাইর ইবনু মুতইম (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মাগরিবের সালাতে সূরাহ তূর থেকে তিলাওয়াত করতে শুনেছি। জুবাইর অন্য হাদীসে বলেন, আমি যখন তাঁকে তিলাওয়াত করতে শুনলাম (অনুবাদ) তারা কি সৃষ্টিকর্তা ছাড়াই সৃষ্টি হয়েছে, না তারা নিজেরাই সৃষ্টিকর্তা? তাহলে তাদের সেই শ্রোতা সুস্পষ্ট প্রমাণ পেশ করুক (সূরাহ তূরঃ ৩৫-৩৮), তখন আমার অন্তর উড়ে যাওয়ার উপক্রম হল।

833। ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাগরিবের সালাতে সূরাহ কাফিরূন ও সূরাহ ইখলাস তিলাওয়াত করতেন।

834। বারাআ ইবনু আযেব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে এশার সালাতে পড়েন। তিনি বলেন, আমি তাঁকে সূরাহ ওয়াত-তীন ওয়ায-যাইতূন পড়তে শুনেছি।

835। বারাআ (রাঃ) থেকে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আমি তাঁর চাইতে উত্তম ও সুমধুর কন্ঠে তিলাওয়াত আর কোন মানুষের নিকট শুনিনি।

836। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। মুআয ইবনু জাবাল তার সংগীদের নিয়ে এশার সালাত পড়লেন এবং তাদের সালাত দীর্ঘায়িত করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তুমি সূরাহ ওয়াশ-শামস, সূরাহ আলা, সূরাহ লাইল ও সূরাহ আলাক ইত্যাদি (ক্ষুদ্র সূরা) পাঠ করবে।

837। উবাদাহ ইবনুুস সামিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যাক্তি সূরা ফাতিহা পাঠ করেনি, তার সালাত হয়নি।

838। আবূস সাইব (রহঃ) আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যাক্তি কোন সালাত পড়লো এবং তাতে উম্মুল কুরআন (সূরাহ ফাতিহা) পড়েনি তার সালাত অসম্পূর্ণ। আবূস সাইব (রহঃ) বলেন, আমি বললাম, হে আবূ হুরাইরাহ! আমি কখনো কখনো ইমামের সাথে সালাত পড়ি। তিনি আমার বাহুতে খোঁচা দিয়ে বলেন, হে ফারিসী! তুমি তা মনে মনে পড়ো।

839। আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি ফরয অথবা অন্য সালাতে সূরাহ ফাতিহা ও অন্য কোন সূরাহ পড়েনি তার সালাত হয়নি।

840। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ যে কোন সালাতে সূরাহ ফাতিহা না পড়া হলে তা অসম্পূর্ণ।

841। আবদুল্লাহ বিন আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে কোন সালাতে সূরাহ ফাতিহা না পড়লে তা অসম্পূর্ণ তা অসম্পূর্ণ।

842। আবূ দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যাক্তি তাকে জিজ্ঞেস করলো, ইমামের কিরাআত পড়ার সাথে সাথে আমিও কি কিরাআত পড়বো? তিনি বলেন, এক ব্যাক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে জিজ্ঞেস করলো, প্রত্যেক সালাতেই কি কিরাআত আছে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ হ্যাঁ। উপস্থিত লোকেদের মধ্যে একজন বললো, এটি বাধ্যতামূলক হয়ে গেলো।

843। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা যোহর ও আসর সালাতের প্রথম দু রাকআতে ইমামের পিছনে সূরাহ ফাতিহা ও অন্য সূরাহ এবং শেষ দু সালাতে কেবল সূরাহ ফাতিহা পড়তাম।

844। সামুরা ইবনু জুনদুব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নীরবতা অবলম্বনের দুটি স্থান রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কন্ঠস্থ করেছি। ইমরান ইবনুল হুসাইন তা অস্বীকার করেন (এবং বলেন, আমরা একটি স্থান জানি)। আমরা বিষয়টি মদিনাতে উবাই ইবনু কাব (রাঃ) কে লিখে জানালাম। তিনি লিখেন, সামুরা বিষয়টি স্মরণ রেখেছেন। অধস্তন রাবী সাঈদ (রহঃ) বলেন, আমরা ক্বাতাদাহ (রাঃ) কে বললাম, সেই নীরবতা অবলম্বনের স্থান দুটি কী কী? তিনি বলেন, যখন তিনি তাঁর সালাতে প্রবেশ করতেন এবং যখন তিনি কিরাআত শেষ করতেন, অতঃপর তিনি বলেন, যখন তিনি গাইরিল মাগযূবি আলাইহিম ওয়ালায যআল্লীন পড়তেন। রাবী বলেন, কিরাআত পাঠ শেষ করে নিঃশ্বাস নেওয়ার জন্য তিনি নীরবতা অবলম্বন করতেন, এটা লোকেদের ভালো লাগতো।

845। আল-হাসান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সামুরা (রাঃ) বলেছেন, আমি সালাতের মধ্যে নীরবতা অবলম্বনের দুটি স্থান স্মৃতিতে ধরে রেখেছিঃ একটি কিরাআত শুরু করার পূর্বে এবং অপরটি রুকূর সময়। ইমরান ইবনুল হুসাইন তা অস্বীকার করেন। তারা বিষয়টি সম্পর্কে মদিনাতে উবাই ইবনু কাব (রাঃ) কে লিখেন। তিনি সামুরা (রাঃ) এর মত সমর্থন করেন।

846। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অনুসরণ করার জন্যই তো ইমাম নিযুক্ত করা হয়। সুতরাং ইমাম যখন তাকবীর বলেন, তোমরাও তাকবীর বলো। যখন তিনি কিরাআত পড়েন তখন তোমরা নীরব থাকো। যখন তিনি গাইরিল মাগযূবি আলাইহিম ওয়ালায-যুআলীন বলেন, তখন তোমরা আমীন বলো। যখন তিনি রুকূ করেন, তখন তোমরাও রুকূ করো। আর যখন তিনি সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ বলেন, তখন তোমরা আল্লাহুম্মা রাববানা ওয়ালাকাল হামদ বলো। যখন তিনি সিজদা করেন, তখন তোমরাও সিজদা করো। তিনি বসা অবস্থায় সালাত পড়লে তোমরাও সকলে বসা অবস্থায় সালাত পড়ো।

847। আবূ মূসা আল-আশআরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন ইমামের কিরাআাত পাঠের সময় তোমরা নীরব থাকবে। তিনি তাশাহ্হুদ পাঠের জন্য বসলে তোমাদের যে কোন মুসল্লীর প্রথম যিকির যেন হয় তাশাহ্হুদ।

848। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের নিয়ে সালাত পড়লেন, আমাদের মতে তা ছিল ফজরের সালাত। সালাত শেষে তিনি বলেনঃ তোমাদের কেউ কি কিরাআত পড়েছে? এক ব্যাক্তি বললো, আমি পড়েছি। তিনি বলেনঃ তাই তো (মনে মনে) বলছিলাম আমার কুরআন পাঠে বিঘ্ন ঘটছে কেন

849। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে সালাত পড়লেন উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ। এই বর্ণনায় আরো আছেঃ যে সালাতে ইমাম সশব্দে কিরাআত পড়েন, তখন থেকে সেই সালাতে তারা কিরাআত পাঠ ত্যাগ করেন।

850। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যাদের ইমাম আছে ইমামের কিরাআতই তার কিরাআত।

851। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যখন কুরআন পাঠকারী (ইমাম) আমীন বলেন, তখন তোমরাও আমীন বলো। কেননা ফেরেশতাগণও তখন আমীন বলেন অতএব যার আমীন বলা ফেরেশতাদের আমীন বলার সাথে হয় তার পুর্ববর্তী গুনাহ মাফ করা হয়।

852। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন কুরান পাঠকারী (ইমাম) আমীন বলে, তখন তোমরাও আমীন বলো। যার আমীন বলা ফেরেশতাদের আমীন বলার সাথে হয়, তার পূর্বের গুনাহ ক্ষমা করা হয়।

853। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেরা আমীন বলা ত্যাগ করেছে। অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গাইরিল মাগযূবি আলাইহিম ওয়ালায যআল্লীন বলার পর আমীন বলতেন, এমনকি প্রথম সারির লোকেরা তা শুনতে পেতো এবং এতে মসজিদে প্রতিধ্বনি হতো।

854। আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে ওয়ালায যআল্লীন বলার (পড়ার) পর আমীন বলতে শুনেছি।

855। আবদুল জাব্বার ইবনু ওয়াইল (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে সালাত পড়লাম। তিনি ওয়ালায যআলীন বলার পর আমীন বলেছেন। আমরা তা তাঁকে বলতে শুনেছি।

856। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ইয়াহূদীরা তোমাদের কোন ব্যাপারে এত বেশি ঈর্ষান্বিত নয় যতটা তারা তোমাদের সালাম ও আমীনের ব্যাপারে ঈর্ষান্বিত।

857। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইহূদীরা তোমাদের আমীন বলায় যত বেশি ঈর্ষান্বিত হয়, আর কোন জিনিসে তত ঈর্ষান্বিত হয় না। তাই তোমরা অধিক পরিমাণে আমীন বলো।

858। ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখেছি যে, তিনি সালাত শুরু করতে তাঁর দু হাত তাঁর দু কাঁধ পর্যন্ত উত্তোলন করতেন, তিনি রুকূতে যেতে এবং রুকূ থেকে মাথা তুলতেও তাই করতেন, কিন্তু দু সিজদার মাঝখানে হাত উত্তোলন করতেন না।

859। মালিক ইবনুল হুয়াইরিস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাকবীরে তাহরীমা বলতেন তখন তাঁর দু হাত তাঁর উভয় কানের কাছাকাছি পর্যন্ত উঠাতেন। তিনি রুকূতে যেতেও তাই করতেন এবং রুকূ থেকে মাথা তুলতেও অনুরূপ করতেন।

860। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখেছি যে, তিনি সালাত শুরু করতে, রুকূতে যেতে এবং সাজদায় যেতে তাঁর দু হাত তাঁর দু কাঁধ বরাবর উত্তোলন করতেন।

861। উমাইর বিন হাবীব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি (দাদা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরয সালাতের প্রতিটি তাকবীরের সাথে তাঁর দু হাত উপরে উঠাতেন।

862। আবূ হুমাইদ আস-সাইদী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) সহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর দশজন সাহাবীর উপস্থিতিতে বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সালাত সম্পর্কে তোমাদের চেয়ে অধিক অবগত। তিনি যখন সালাতে দাঁড়াতেন সোজা হয়ে দাঁড়াতেন এবং তাঁর দু হাত তাঁর কাঁধ বরাবর উঠাতেন, অতঃপর আল্লাহু আকবার বলতেন। তিনি যখন রুকূতে যাওয়ার ইচ্ছা করতেন তখনও তাঁর দু হাত তাঁর দু কাঁধ বরাবর উঠাতেন। অতঃপর তিনি যখন সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ বলতেন, তাঁর দু হাত উত্তোলন করতেন এবং সোজা হয়ে দাঁড়াতেন। তিনি দ্বিতীয় রাক্আতে দু সাজাদাহ থেকে যখন দাঁড়াতেন তখন তাকবীর বলতেন এবং তাঁর দু হাত তার কাঁধ বরাবর উঠাতেন, যেমনটি তিনি সালাত শুরু করার সময় করতেন।

863। আব্বাস ইবনু সাহল আস-সাইদী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ হুমাইদ, আবূ উসাইদ আস-সাইদী, সাহল ইবনু সা’দ ও মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামা (রাঃ) একত্র হয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত সম্পর্কে আলোচনা করেন। আবূ হুমাইদ (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত সম্পর্কে তোমাদের চেয়ে অধিক অবগত। রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে দাঁড়িয়ে তাকবীর বলতেন এবং তাঁর উভয় হাত উপরে উঠাতেন। তিনি তাকবীর বলে রুকূতে যাওয়ার সময়ও উপরে উঠাতেন, অতঃপর দাঁড়াতেন এবং তাঁর দু হাত উপরে উঠাতেন ও সোজা হয়ে দাঁড়াতেন, যাতে সকল প্রত্যঙ্গ যথাস্থানে এসে স্থির হয়।

864। আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ফরয সালাত আদায় করতে দাঁড়াতেন তখন তাকবীর বলতেন এবং তাঁর দু হাত তাঁর দু কাঁধ বরাবর উঠাতেন। যখন তিনি রুকূতে যাওয়ার ইচ্ছা করতেন, তখনও অনুরূপ করতেন, যখন রুকূ থেকে মাথা উঠাতেন, তখনও অনুরূপ করতেন। যখন তিনি দু রাকআত শেষ করে দাঁড়াতেন তখনও অনুরূপ করতেন।

865। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি তাকবীরের সময় তাঁর দু হাত উপরে উঠাতেন।

866। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত শুরু করার সময় এবং রুকূতে যাওয়ার সময় তাঁর দু হাত (উপরে) উঠাতেন।

867। ওয়াইল ইবনু হুজর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মনে মনে ভাবছিলাম যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিভাবে সালাত পড়েন আমি তা অবশ্যই দেখবো। তিনি দাঁড়িয়ে কিবলামুখী হলেন এবং তাঁর দু হাত তাঁর দু কান বরাবর উঠালেন। তিনি রুকূতে যাওয়ার সময়ও তাঁর দু হাত অনুরূপভাবে উঠালেন। তিনি যখন রুকূ থেকে তাঁর মাথা উঠালেন তখনও তাঁর উভয় হাত অনুরূপভাবে উঠালেন।

868। আবূয যুবায়র (রাঃ) থেকে বর্ণিত। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) যখন সালাত শুরু করতেন, তখন তার উভয় হাত উপরে উঠাতেন। তিনি যখন রুকূ করতেন এবং রুকূ থেকে তার মাথা উঠাতেন, তখনও অনুরূপ করতেন। তিনি বলতেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এরূপ করতে দেখেছি। অধস্তন রাবী ইবরাহীম ইবনু তাহমান (রহঃ) তার দু হাত তার দু কান পর্যন্ত উঠালেন।

869। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রুকূ করতেন, তখন তাঁর মাথা উঁচুও করতেন না, নিচুও করতেন না, বরং সোজা রাখতেন।

870। আবূ মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি রুকূ ও সিজদা করে তার পিঠ সোজা করে না, তার সালাত পূর্ণাঙ্গ হয় না।

871। আলী ইবনু শায়বান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি ছিলেন প্রতিনিধি দলের সদস্য। তিনি বলেন, আমরা রওনা হয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এলাম, তাঁর হাতে বাইআত গ্রহণ করলাম এবং তাঁর পিছনে সালাত পড়লাম। তিনি এক ব্যাক্তির দিকে হালকা দৃষ্টিতে তাকান যে রুকূ ও সাজদা্হয় তার পিঠ সোজা রাখেনি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত শেষ করে বলেনঃ হে মুসলিম সমাজ! যে ব্যাক্তি রুকূ ও সিজদাা্য় তার পিঠ সোজা করে না তার সালাত হয় না।

872। ওয়াবিসা ইবনু মাবাদ (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সালাত আদায় করতে দেখেছি। তিনি যখন রুকূ করতেন তখন তাঁর পিঠ এমনভাবে সোজা করতেন যে, তার উপর পানি ঢাললে অবশ্যি তার স্থির থাকতো।

873। মুসআব ইবনু সা’দ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার পিতার পাশে রুকূতে গেলাম এবং উভয় হাতের আঙ্গুলগুলো একত্র করে তা দু হাঁটুর মাঝখানে রাখলাম। তিনি আমার হাতে আঘাত করে বলেন, আমরা (প্রথমে) এরূপ করতাম, অতঃপর আমাদেরকে হাঁটুর উপর হাত রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

874। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকূ করার সময় তাঁর দু হাত তাঁর দু হাঁটুতে রাখতেন এবং তাঁর বাহুদ্বয় তাঁর বগল থেকে আলাদা রাখতেন।

875। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ্ বলার পর বলতেন রাববানা ওয়া লাকাল হামদহ্।

876। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ইমাম যখন সামিআল্লাহু লিমান হামিদা বলেন তখন তোমরা বলবে রববানা ওয়ালাকাল হামদ (হে আমাদের রব! সকল প্রশংসা তোমার জন্য)।

877। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেনঃ ইমাম যখন সামিআল্লাহু লিমান হামিদা বলে তখন তোমরা বলবে, আল্লাহুম্মা রববানা ওয়া লাকাল হামদ।

878। ইবনু আবূ আওফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রুকূ থেকে মাথা তুলতেন তখন বলতেন (অনুবাদ) যে ব্যাক্তি আল্লাহ্‌র প্রশংসা করে আল্লাহ তা শুনেন। আমাদের প্রতিপালক! তোমার জন্য সমস্ত প্রশংসা, আকাশমন্ডলী, যমীন ও এতদুভয়ের মধ্যে যা কিছু আছে এবং তুমি যা চাও সব কিছুই তোমার প্রশংসায় পূর্ণ।

879। আবূ জুহাইফা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতরত থাকা অবস্থায় তাঁর নিকটেই ধন-সম্পদ সম্পর্কে আলোচনা হচ্ছিল। এক ব্যাক্তি বলেন, অমুকের অনেক ঘোড়া আছে। আরেকজন বলেন, অমুকের অনেক উট আছে। আর একজন বলেন, অমুকের অনেক বকরী আছে। অন্যজন বলেন, অমুকের অনেক দাস-দাসী আছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শেষ রাক্আতের রুকূ থেকে মাথা উঠিয়ে বলেনঃ হে আল্লাহ্! আমাদের প্রভু! তোমার জন্য সকল প্রশংসা, আসমান, যমীন ও এতদুভয়ের মধ্যে যা কিছু আছে এবং তুমি যা চাও সব কিছুই তোমার প্রশংসায় পূর্ণ। হে আল্লাহ্! তুমি কাউকে দান করলে তার কোন প্রতিরোধকারী নাই এবং তুমি কাউকে দান না করলে কেউ তাকে দান করতে পারে না। সম্পদশালীকে তার সম্পদ তোমার বিপরীতে উপকৃত করতে পারে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পদ শব্দটি উচ্চস্বরে বললেন, যাতে লোকেরা বুঝতে পারে যে, তারা যা বলছে তা তেমন নয়।

880। মাইমূনা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সিজদা্তে তাঁর দু হাত (বগল থেকে) এতটা বিস্তার (ফাঁকা) করে রাখতেন যে, বকরীর বাচ্চা যেতে চাইলে তাঁর দু হাতের মাঝখানের ফাঁক দিয়ে চলে যেতে পারতো।

881। উবাঈদুল্লাহ ইবনু আকরাম আল-খুযাঈ (রাঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি (উবাঈদুল্লাহ্) বলেন, আমি আমার পিতার সঙ্গে নামিরা এলাকায় এক সমতল ভূমিতে ছিলাম। আমাদের নিকট দিয়ে কতক আরোহী অতিক্রম করে এবং তারা রাস্তার এক প্রান্তে তাদের উট বসায়। আমার পিতা আমাকে বলেন, তুমি তোমার বকরীর পালের সাথে থাকো যাবত না আমি তাদের জিজ্ঞেস করে আসি যে, তারা কারা। রাবী বলেন, এরপর তিনি বেরিয়ে গেলেন এবং আমিও তার কাছে পৌঁছলাম। তিনি ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। ইত্যবসরে সালাতের ওয়াক্ত হল। আমি তাদের সাথে সালাত পড়লাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখনই সিজদা্ করেছেন, আমি তাঁর দু বগলের শুভ্রতার দিকে দৃষ্টিপাত করেছি। ২/২৮২(২) মুহাম্মাদ ইবনু বাশার, আবদুর রহমান ইবনু মাহ্দী, সফওয়ান ইবনু ঈসা ও আবূ দাঊদ, দাঊদ ইবনু কায়স, উবাঈদুল্লাহ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু আকরাম, তার পিতা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

882। ওয়াইল ইবনু হুজর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখেছি যে, তিনি সাজদা্য় দু হাতের আগে দু হাঁটু রাখতেন। তিনি সাজা্হ থেকে দাঁড়াতে তাঁর দু হাঁটুর আগে দু হাত উঠাতেন।

883। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি সাত অঙ্গে সিজদা করতে আদিষ্ট হয়েছি।

884। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি সাত অঙ্গে সিজদাহ্ করতে এবং চুল ও পরিধেয় বস্ত্র না গুটাতে আদিষ্ট হয়েছি। ইবনু তাঊস (রহঃ) বলেন, আমার পিতা বলতেন, (সাত অংগ হল) দু হাত, দু হাঁটু, দু পা এবং কপাল ও নাক। তিনি নাক ও কপালকে একটি অংগ গণ্য করতেন।

885। আব্বাস ইবনু আবদুল মুত্তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেনঃ বান্দা যখন সিজদা করে তখন তার সাথে তার সাতটি অঙ্গ সিজদা করে- তার মুখমন্ডল, তার দু হাতের তালু, তার দু হাঁটু ও তার দু পা।

886। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবী আহমার (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদারত অবস্থায় তাঁর বাহুদ্বয় (বগল থেকে) এতটা পৃথক করে রাখতেন যে, তাঁর অত্যধিক কষ্টে আমাদের মনে সহানুভূতি জাগতো।

887। উকবা ইবনু আমের আল-জুহানী (রাঃ) বলেন, যখন নাযিল হয় (অনুবাদ), অতএব তুমি তোমার মহান প্রভুর নামের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করো (সূরাহ ওয়াকিআঃ ৭৪ ও ৯৬ এবং আল-হাক্কাহ ৫২), তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বলেনঃ একে তোমাদের রুকূতে স্থাপন করো। আবার যখন নাযিল হয় (অনুবাদ) তুমি তোমার মহান প্রভুর নামের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করো (সূরাহ আল-আলাঃ ১), তখন রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বলেনঃ একে তোমাদের সাজদা্হয় স্থাপন করো।

888। হুযাইফাহ ইবনুল ইয়ামান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে রুকূতে সুবহানা রব্বিয়াল আযীম তিনবার বলতে এবং সাজদা্হয় সুবাহানা রব্বিয়াল আলা তিনবার বলতে শুনেছেন।

889। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রুকূ ও সিজদায় প্রায়ই বলতেনঃ সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা, আল্লাহুম্মাগফির লী (হে আল্লাহ! আমি তোমার প্রশংসা সহকারে তোমার পবিত্রতা ঘোষণা করছি, হে আল্লাহ! তুমি আমায় ক্ষমা করো)। তিনি কুরআনের নির্দেশ অনুযায়ী তা করতেন।

890। ইবনু মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের যে কেউ রুকূতে গিয়ে যেন তার রুকূতে সুবহানা রব্বিয়াল আযীম তিনবার বলে। সে তাই করলে তার রুকূ পূর্ণ হল। তোমাদের যে কেউ তার সিজদায় গিয়ে যেন সুবহানা রব্বিয়াল আলা তিনবার বলে। সে তাই করলে তার সিজদা পূর্ণ হল। আর এটা হল তার ন্যূনতম সংখ্যা।

891। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কে যেন সুষ্ঠুভাবে তার সিজদা করে। সে যেন কুকুরের ন্যায় তার বাহুদ্বয় মাটিতে বিছিয়ে না দেয়।

892। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা সুষ্ঠুভাবে সিজদা করো। তোমাদের কেউ যেন কুকুরের ন্যায় তার বাহুদ্বয় মাটিতে বিছিয়ে দিয়ে সিজদা না করে।

893। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকূ থেকে মাথা তুলে সোজা হয়ে না দাঁড়ানো পর্যন্ত সাজদায় যেতেন না। তিনি এক সাজা্হ থেকে তাঁর মাথা তুলে সোজা হয়ে না বসা পর্যন্ত দ্বিতীয় সাজা্হয় যেতেন না এবং তিনি তাঁর বাম পা বিছিয়ে বসতেন।

894। আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে আলী! তুমি কুকুরের ন্যায় বসো না।

895। আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে আলী! তুমি কুকুরের ন্যায় বসো না।

896। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেনঃ তুমি সিজদা থেকে তোমার মাথা তুলে কুকুরের মত বসো না। তোমার উভয় নিতম্ব তোমার দু পায়ের পাতার মাঝখানে রাখো এবং তোমার দু পায়ের পিঠ মাটির সাথে স্থাপন করো।

897। হুযাইফাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু সিজদার মাঝখানে বসে বলতেনঃ রব্বিগফির লী রব্বিগফির লী (প্রভু! আমায় ক্ষমা করুন, প্রভু আমায় ক্ষমা করুন)।

898। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের সালাতে দু সিজদার মাঝখানে (বসে) বলতেনঃ রব্বিগফির লী ওয়ারহামনী ওয়াজবুরনী ওয়ারযুকনী ওরফায়নী (হে প্রভু! আমায় ক্ষমা করুন, আমাকে দয়া করুন, আমার বিপদ দূর করুন, আমাকে রিযিক দান করুন এবং আমার মর্যাদা বর্ধিত করুন)।

899। আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সালাত পড়ার সময় বলতাম, আল্লাহ্‌র উপর সালাম তাঁর বান্দাদের পক্ষ থেকে, জিবরীল, মীকাঈল ও অমুক অমুক ফেরেশতার উপরও শান্তি বর্ষিত হোক। আমাদের এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা আসসালামু আলাল্লাহ বলো না। আল্লাহ্ই তো সালাম (শান্তিদাতা)। অতএব তোমরা বসে বলবেঃ আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি- আবদুহু ওয়া রাসূলুহ অর্থাৎ সমস্ত সম্মান, ইবাদাত, উপাসনা ও পবিত্রতা আল্লাহ্‌র জন্য। হে নবী! আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক, আল্লাহ্‌র রহমত ও প্রাচুর্যও। আমাদের উপর এবং আল্লাহ্‌র নেক বান্দাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। সে এ কথা বললে আসমান ও জমীনের সকল নেক বান্দার নিকট তা পৌঁছে যায়। আমি সাক্ষ্য দেই যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নাই। আমি আরো সাক্ষ্য দেই যে, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। ১/৮৯৯(১) মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াহ্ইয়া-আবদুর রাযযাক-সুফ্ইয়ান সাওরী-মানসূর, আমাশ, হুসাইন, আবূ হাশেম ও হাম্মাদ- আবূ ওয়াইল- আবূ ইসহাক-আসওয়াদ- আবূল আহওয়াস-আবদুল্লা ইবনু মাসঊদ -নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। ১/৮৯৯(২) মুহাম্মাদ ইবনু মামার, ক্বাবীসাহ, সুফ্ইয়ান, আমাশ, মানসূর ও হুসায়ন, আবূ ওয়াইল, আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ , (পুনরায়) সুফ্ইয়ান, আবূ ইসহাক, আবূ উবাইদাহ, আসওয়াদ ও আবূল আহ্ওয়াস, আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে তাশাহ্হুদ শিক্ষা দিতেন পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ।

900। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে তাশাহ্হুদ শিক্ষা দিতেন, যেমন তিনি আমাদেরকে কুরআনের সূরাহ শিখাতেন। তিনি বলতেনঃ التَّحِيَّاتُ الْمُبَارَكَاتُ الصَّلَوَاتُ الطَّيِّبَاتُ لِلَّهِ السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ আত্তাহিয়াতুল মুবারাকাতু আবদুহু ওয়া রাসূলুহু। (সমস্ত বরকতময় সম্মান, ইবাদাত ও পবিত্রতা আল্লাহ্‌র জন্য। হে নবী! আপনার উপর শান্তি এবং আল্লাহ্‌র রহমত ও করুণা বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দেই যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নাই। আমি আরো সাক্ষ্য দেই যে, মুহাম্মাদ আল্লাহ্‌র রাসূল)।

901। আবূ মূসা আল-আশআরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের উদ্দেশে ভাষণ দেন, আমাদের জন্য আমাদের পালনীয় সুন্নাতসমূহ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন এবং আমাদেরকে আমাদের সালাত শিক্ষা দেন। তিনি বলেনঃ তোমরা যখন সালাত পড়বে এবং বৈঠকে বসবে তখন তোমাদের প্রথম কথা হবেঃ আত্তাহিয়্যাতুত তায়্যিবাতুস সালাওয়াতু ... ওয়া রাসূলুহু। (সমস্ত প্রশংসা, পবিত্রতা ও ইবাদাত আল্লাহ্‌র জন্য। হে নবী! আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক, আল্লাহ্‌র রহমত ও বরকতও। আমাদের উপর এবং আল্লাহ্‌র নেক বান্দাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দেই যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নাই। আমি আরো সাক্ষ্য দেই যে, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল)। এই সাতটি বাক্যই সালাতের আত্তাহিয়্যাতু।

902। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে তাশাহ্হুদ শিক্ষা দিতেন, যেমন তিনি আমাদেরকে কুরআনের সূরাহ শিক্ষা দিতেনঃ বিসমিল্লাহি ওয়া বিল্লাহি আঊযু বিল্লাহি মিনান নার (আল্লাহ্‌র নামে ও আল্লাহ্‌র তাওফীকে শুরু করছি। সমস্ত সম্মান, ইবাদাত ও পবিত্রতা আল্লাহ্‌র জন্য। হে নবী! আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক, আল্লাহ্‌র রহমত ও বারাকাতও। আমাদের উপর এবং আল্লাহ্‌র নেক বান্দাহ্দের উপরও শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দেই যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দেই যে, মুহাম্মাদ আল্লাহ্‌র বান্দাহ্ ও তাঁর রাসূল। আমি আল্লাহ্‌র নিকট জান্নাতের প্রার্থনা করি এবং জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাই।)

903। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! এ হল আপনার প্রতি সালাম, যা আমরা জেনে নিয়েছি। অতএব দুরূদ কিরূপ? তিনি বলেনঃ তোমরা বলো (অনুবাদ) হে আল্লাহ! আপনার বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদের উপর আপনি রহমত বর্ষণ করুন, যেরূপ রহমত নাযিল করেছেন ইব্রাহীমের প্রতি। আপনি মুহাম্মাদের উপর বরকত নাযিল করুন, যেরূপ বরকত নাযিল করেছেন ইব্রাহীমের উপর।

904। ইবনু আবূ লাইলা (রহঃ) বলেন, কাব ইবনু উজরাহ আমার সাথে সাক্ষাৎ করে বললেন, আমি কি তোমাকে একটি উপহার দিবো না? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট বের হয়ে আসলে আমরা বললাম, আমরা আপনার প্রতি সালাম পেশের নিয়ম জেনে নিয়েছি। আপনার প্রতি দুরূদ কিভাবে পড়তে হবে? তিনি বলেনঃ তোমরা বলো (অনুবাদ) হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবারবর্গের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন, যেমন আপনি ইবরাহীম (আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উপর রহমত বর্ষণ করেছেন। নিশ্চয়ই আপনি অধিক প্রশংসিত, মহিমান্বিত। হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবারবর্গের উপর বরকত দান করুন, যেমন আপনি বরকত দান করেছেন ইবরাহীম (আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে। নিশ্চয় আপনি পরম প্রশংসিত মহিমান্বিত।

905। আবূ হুমাইদ আস-সাইদী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তারা বলেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আপনার প্রতি দরূদ পাঠের জন্য আমরা আদিষ্ট হয়েছি। অতএব আমরা আপনার প্রতি কিভাবে দরূদ পাঠ করবো? তিনি বলেনঃ তোমরা বলোঃ اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَأَزْوَاجِهِ وَذُرِّيَّتِهِ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَأَزْوَاجِهِ وَذُرِّيَّتِهِ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ فِي الْعَالَمِينَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ (অনুবাদ) হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ, তাঁর স্ত্রীগণ ও তাঁর বংশধরদের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন, যেমন আপনি রহমত বর্ষণ করেছেন ইবরাহীম (আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উপর এবং আপনি মুহাম্মাদ, তাঁর স্ত্রীগণ ও বংশধরদের প্রতি বরকত নাযিল করুন, যেমন আপনি এ বিশ্বজগতে বরকত নাযিল করেছেন ইবরাহীম (আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বংশধরদের প্রতি। নিশ্চয়ই আপনি অধিক প্রশংসিত মহিমান্বিত।

906। আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমরা যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর প্রতি দরূদ পেশ করবে, তখন তোমরা তাঁর প্রতি উত্তমরূপে দরূদ পেশ করবে। কেননা তোমাদের জানা নেই যে, নিশ্চয় তা তাঁর সামনে পেশ করা হয়। রাবী বলেন, সাহাবীগণ তাঁকে বললেন, আপনি আমাদের শিখিয়ে দিন। তিনি বলেন, তোমরা বলোঃ اللَّهُمَّ اجْعَلْ صَلاَتَكَ وَرَحْمَتَكَ وَبَرَكَاتِكَ عَلَى سَيِّدِ الْمُرْسَلِينَ وَإِمَامِ الْمُتَّقِينَ وَخَاتَمِ النَّبِيِّينَ مُحَمَّدٍ عَبْدِكَ وَرَسُولِكَ إِمَامِ الْخَيْرِ وَقَائِدِ الْخَيْرِ وَرَسُولِ الرَّحْمَةِ اللَّهُمَّ ابْعَثْهُ مَقَامًا مَحْمُودًا يَغْبِطُهُ بِهِ الأَوَّلُونَ وَالآخِرُونَ اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ (অনুবাদ) হে আল্লাহ্! আপনার বান্দা ও আপনার রাসূল, প্রেরিত রাসূলগণের নেতা, মুত্তাকীগণের ইমাম, সর্বশেষ নবী, কল্যাণের উৎস, কল্যাণের দিকে পরিচালনাকারী ও দয়ার নবী মুহাম্মাদের উপর আপনার রহমত, আপনার দয়া ও আপনার প্রাচুর্য নাযিল করুন। হে আল্লাহ্! তাঁকে সেই সুপ্রশংসিত স্থানে পৌঁছিয়ে দিন, যার প্রতি পূর্ববর্তী ও পরবর্তীগণ ঈর্ষান্বিত। হে আল্লাহ্! আপনি মুহাম্মাদ ও তাঁর বংশধরদের উপর রহমত বর্ষণ করুন, যেমন আপনি রহমত বর্ষণ করেছেন ইবরাহীম ও তাঁর বংশধরদের উপর। নিশ্চয় আপনি প্রশংসিত, মহিমান্বিত। হে আল্লাহ্! আপনি মুহাম্মাদ ও তাঁর বংশধরদের বরকত দান করুন, যেমন আপনি ইবরাহীম ও তাঁর বংশধরদের বরকত দান করেছেন। নিশ্চয় আপনি প্রশংসিত, মহিমান্বিত।

907। আমের ইবনু রবীআ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যখন কোন মুসলিম ব্যাক্তি আমার প্রতি দুরূদ পাঠ করে এবং যতক্ষণ সে আমার প্রতি দুরূদ পাঠরত থাকে, ততক্ষণ ফেরেশতাগণ তার জন্য দুআ করতে থাকেন। অতএব বান্দা চাইলে তার পরিমাণ (দরূদ পাঠ) কমাতেও পারে বা বাড়াতেও পারে।

908। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি আমার প্রতি দরূদ পাঠাতে ভুলে গেলো সে জান্নাতের পথই ভুলে গেলো।

909। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ শেষ বৈঠকে তাশাহ্হুদ পড়ে অবসর হয়ে যেন চারটি বিষয়ে আল্লাহ্‌র নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করেঃ জাহান্নামের শাস্তি থেকে, কবরের আযাব থেকে, জীবন ও মৃত্যুর বিপর্যয়কর পরিস্থিতি থেকে এবং মাসীহ দাজ্জালের সৃষ্ট বিপর্যয় থেকে।

910। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যাক্তিকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি সালাতে কী পড়ো? সে বললো, আমি তাশাহ্হুদ পড়ার পর আল্লাহ্‌র নিকটে জান্নাত প্রার্থনা করি এবং জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাই। তবে আল্লাহ্‌র শপথ! আপনার ও মুআযের নীরব দুআ কতই না উত্তম। তিনি বলেনঃ আমরা নীরবে জান্নাতের পরিবেশ লাভের দুআ করি।

911। নুমাইর আল-খুযাঈ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সালাতের মধ্যে তাঁর ডান হাত তাঁর ডান ঊরুর উপর রাখতে এবং তাঁর আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করতে দেখেছি।

912। ওয়াইল ইবনু হুজুর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তাশাহ্হুদে) বৃদ্ধা ও মধ্যমা আঙ্গুল দ্বারা বৃত্তাকার করতে এবং তর্জনী উঁচু করতে দেখেছি। তিনি তা দিয়ে তাশাহ্হুদের মধ্যে দুআ করতেন।

913। ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের (তাশাহ্হুদের) বৈঠকে বসে তাঁর দু হাত তাঁর হাঁটুদ্বয়ের উপর রাখতেন এবং ডান হাতের তর্জনী উঁচু করতেন ও তার দ্বারা দুআ করতেন। বাম হাত তাঁর হাঁটুর উপর বিছানো থাকতো।

914। আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ডানে ও বামে সালাম ফিরাতেন, এমনকি তাঁর দু গালের শুভ্রতা দেখা যেতো। (তিনি বলতেন) আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ (আপনাদের উপর শান্তি ও আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ বর্ষিত হোক)।

915। আমের ইবনু সা’দ (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ডান দিকে ও বাঁম দিকে সালাম ফিরাতেন।

916। আম্মার ইবনু ইয়াসির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ডানে ও বামে এমনভাবে সালাম ফিরাতেন যে, তাঁর দু গালের শুভ্রতা দেখা যেতো। (তিনি বলতেন) আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।

917। আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আলী(রাঃ) উটের যুদ্ধের দিন আমাদেরসহ সালাত পড়েন। তার সালাত আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সালাতের কথা স্মরণ করিয়ে দিল। জানি না, আমরা কি সেই পদ্ধতি ভুলে গিয়েছি, না আমরা তা ত্যাগ করেছি। তিনি তার ডানে ও বামে সালাম ফিরালেন।

918। সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) আস-সাইদী থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সামনের দিকে একবার সালাম ফিরান।

919। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সামনের দিকে একবার সালাম ফিরাতেন।

920। সালামাহ ইবনুল আকওয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সালাত আদায় করতে দেখেছি। তিনি একবার সালাম বলেছেন।

921। সামুরা ইবনু জুনদুব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ইমাম যখন সালাম ফিরান, তোমরা তখন তার জবাব দিও।

922। সামুরা ইবনু জুনদুব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের ইমামগণকে এবং আমাদের একে অপরকে সালাম দেয়ার জন্য আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন।

923। সাওবান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন বান্দা ইমামতি করলে সে যেন অন্যদের বাদ দিয়ে কেবল নিজের জন্য দুআ না করে। সে যদি তাই করে, তবে সে মুকতাদীদের সাথে প্রতারণা করলো।

924। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাম ফিরানোর পর নিম্নোক্ত দুআ পড়ার অতিরিক্ত সময় বসতেন নাঃ হে আল্লাহ্! আপনই শান্তি বিধাতা এবং আপনার পক্ষ থেকেই শান্তি আসে। হে মহিমান্বিত ও গৌরবময় সত্তা! আপনি প্রাচুর্যময়।

925। উম্মু সালামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাত পড়ে সালাম ফিরিয়ে বলতেনঃاللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ عِلْمًا نَافِعًا وَرِزْقًا طَيِّبًا وَعَمَلاً مُتَقَبَّلاً হে আল্লাহ্! আমি আপনার কাছে উপকারী জ্ঞান, পবিত্র রিযিক ও এবং কবূল হওয়ার যোগ্য কর্মতৎপরতা প্রার্থনা করি।

926। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন মুসলিম ব্যাক্তি দুটি অভ্যাস আয়ত্ত করতে পারলে জান্নাতে প্রবেশ করবে। সেই দুটি অভ্যাস আয়ত্ত করাও সহজ, কিন্তু এ দুটি অভ্যাস অনুশীলনকারীর সংখ্যা কম। প্রতি ওয়াক্ত সালাতের পর দশবার সুবহানাল্লাহ, দশবার আল্লাহু আকবর এবং দশবার আলহামদু লিল্লাহ বলা। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এগুলো তাঁর হাতের আঙ্গুল দিয়ে গণনা করতে দেখেছি। তিনি বলেনঃ তা মুখে পড়লে হয় একশত পঞ্চাশ এবং মীযানে হয় এক হাজার পাঁচ শত। সে শয্যা গ্রহণকালে সুবহানাল্লাহ, আলহামদু লিল্লাহ ও আল্লাহু আকবার একশতবার পড়লে তা তার মুখে হয় একশত এবং মীযানে হয় এক হাজার। তোমাদের মধ্যে এমন কে আছে যে প্রতিদিন দু হাজার পাঁচ শত গুনাহ করবে? তারা বলেন, কেউ এ দুটি অভ্যাস কেন অনুশীলন করবে না। তিনি বলেনঃ তোমাদের কেউ কেন সালাতে দাঁড়ায় তখন শয়তান তার নিকট এসে বলে, অমুক অমুক বিষয় স্মরণ করো, এমনকি বান্দা (সালাত থেকে) বিচ্ছিন্ন য়ে যায় এবং বুঝতে পারে না (যে, সে কত রাকআত পড়ছে)। অনুরূপভাবে সে তার বিছানায় অবস্থানকালেও শয়তান সেখানে আসে এবং তাকে ঘুম পারাতে থাকে, অবশেষে সে ঘুমিয়ে যায়।

927। আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলা হল (সুফিয়ানের বর্ণনায় আছে, আমি বললাম), হে আল্লাহ্‌র রাসূল! বিত্তবান লোকেরা পুরস্কার লাভে আমাদের থেকে এগিয়ে গেছে। আমরা যা বলি, তারাও তা বলে এবং তারা ধন-সম্পদ ব্যয় করে, কিন্তু আমরা তা পারি না। তিনি আমাকে বলেনঃ আমি কি তোমাদের এমন বিষয় বলে দিবো না, যা কররে তোমরা তোমাদের অগ্রবর্তীদের ধরতে পারবে এবং তোমরা যাদের অগ্রবর্তী হতে পারবে, তারা তোমাদের অতিক্রম করতে পারবে না? তোমরা প্রতি ওয়াক্ত সালাতের পর আলহামদু ল্লিাহ, সুবহানাল্লাহ এবং আল্লাহু আকবার ৩৩ বার, ৩৩বার এবং ৩৪ বার পাঠ করবে। সুফ্ইয়ান (রহঃ) বলেন, আমার মনে নেই যে,কোন কলেমাটি ৩৪ বার পাঠ করতে হবে।

928। সাওবান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত সমাপনান্তে তিনবার ক্ষমা প্রার্থনা করতেন, অতঃপর বলতেনঃ হে আল্লাহ্! আপনি শান্তিদাতা এবং আপনার পক্ষ থেকে শান্তি পাওয়া যায়। হে মহত্ব ও মর্যাদার অধিকারী! আপনি বরকতময় প্রাচুর্যময়।

929। ক্বাবীসাহ ইবনু হুলব (রহঃ) তার পিতা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের ইমামতি করতেন এবং (সালাম ফিরিয়ে) তাঁর উভয় দিকে সম্পূর্ণরূপে তাঁর চেহারা ঘুরাতেন।

930। আল-আসওয়াদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন নিজের মধ্যে শয়তানের জন্য অংশ নির্ধারিত না করে। সে মনে করে যে, তার প্রতি আল্লাহ্‌র অধিকার হল, কেবল তার ডান দিকে মোড় ঘোরা। অথচ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে প্রায়ই তাঁর বাম দিকে ঘুরে বসতে দেখেছি।

931। আমর ইবনু শুআইব (রহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সালাত শেষে তাঁর ডান দিকে ও বাম দিকে মুখ ফিরিয়ে বসতে দেখেছি।

932। উম্মু সালামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত শেষে সালাম ফিরানোর পর মহিলারা উঠে চলে যেতেন। অতঃপর তিনি উঠে যাওয়ার আগে নিজ জায়গায় কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতেন।

933। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামে বলেনঃ (একই সময়) সালাতের ইকামত ও আহার দেয়া হলে, তোমরা আগে আহার করো।

934। ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রাতের খাবার উপস্থিত করা হলে এবং (একই সময়) সালাতের ইকামত দেয়া হলে তোমরা প্রথমে আহার করো। রাবী বলেন, ইবনু উমার (রাঃ) এক রাতে ইকামত পশ্রবণরত অবস্থায় আহার করেন।

935। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ রাতের খাবার উপস্থিত হলে এবং সালাতের ইকামতও দেয়া হলে তোমরা আগে আহার করো।

936। আবূল মালীহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এক বৃষ্টিমুখর রাতে বের হলাম। আমি ফিরে এসে ঘরের দরজা খুলতে বললাম। আমার পিতা বলেন, কে? আমি বললাম, আবূ মালীহ। তিনি বলেন, আমরা হুদায়বিয়ার দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিলাম। আমাদেরকে বৃষ্টিতে পেলো, যাতে আমাদের জুতার তলাও সিক্ত হয়নি। রাসূলুল্লাহ সারলাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘোষক ডেকে বলেন, তোমাদের শিবিকায় সালাত পড়ে নাও।

937। ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বৃষ্টিপাতের রাতে অথবা শীতের রাতে বায়ু প্রবাহ হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ঘোষক ডেকে বলতেন, তোমরা তোমাদের আবাসস্থলে সালাত পড়ো।

938। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বৃষ্টিমুখর জুমুআহর দিনে বলেনঃ তোমরা তোমাদের নিজ নিজ আবাসে সালাত পড়ো।

939। আবদুল্লাহ ইবনুল হারিস ইবনু নাওফাল (রহঃ) থেকে বর্ণিত। ইবনু আব্বাস (রাঃ) জুমুআহর দিন মুয়ায্যিনকে আযান দেয়ার নির্দেশ দেন। দিনটি ছিল বৃষ্টিমুখর। মুয়াযযিন বলেন, আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, আশহাদু আল-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ। অতঃপর তিনি বলেন, লোকেদের মাঝে ঘোষণা দাও যে, তারা যেন তাদের আবাসে সালাত পড়ে। লোকেরা তাকে বললো, আপনি একি করলেন? তিনি বলেন, আমার চেয়ে মহান ব্যাক্তি এটাই করেছেন। তোমরা কি আমাকে নির্দেশ দাও যে, আমি লোকেদেরকে তাদের ঘর থেকে বের করি, আর তারা হাঁটু পর্যন্ত কাদা মেখে আমার নিকট উপস্থিত হোক?

940। মূসা ইবনু ত্বলহাহ্ (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা সালাত পড়তাম, আর চতুস্পদ জন্তু আমাদের সামনে দিয়ে অতিক্রম করতো। বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উত্থাপন করা হলে তিনি বলেনঃ তোমাদের কারো সামনে শিবিকার খুঁটির ন্যায় কিছু থাকলে তার সামনে দিয়ে যে কেউ অতিক্রম করলে তা তার কোন ক্ষতি করবে না।

941। ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সফরকালে তাঁর জন্য একটি বর্শা সাথে নেয়া হতো। তিনি তা মাটিতে গেড়ে তার দিকে ফিরে সালাত আদায় করতো।

942। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একটি চাটাই ছিল, যা দিনের বেলা বিছানো হতো এবং রাতে তিনি তা দিয়ে ঘের তৈরি করে সেদিকে মুখ করে সালাত আদায় করতো।

943। আবু হুরায়রা (রাঃ) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, তোমাদের কেউ যখন নামায পড়বে তখন তার সামনে কোন একটা কিছু দিয়ে দিবে। যদি কোন কিছু না পায় তবে একটি লাঠি দাঁড় করাবে। তাও যদি না পায় তবে দাগ দিয়ে দিবে। এরপর তার সামনে দিয়ে কোন কিছু অতিক্রম করলেও (নামাযের) কোন ক্ষতি হবে না।

944। বুসর ইবনু সাঈদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সালাতীর সামনে দিয়ে অতিক্রমকারী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করার জন্য সাহাবীগণ আমাকে যায়দ ইবনু খালিদ এর নিকট পাঠালেন। তিনি আমাকে অবহিত করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সালাতীর সামনে দিয়ে অতিক্রম করার চাইতে চল্লিশ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকা উত্তম। সুফ্ইয়ান (রহঃ) বলেন, চল্লিশ দ্বারা তিনি চল্লিশ বছর না মাস না দিন, না ঘণ্টা বুঝিয়েছেন তা আমি অবগত নই।

945। বুসর ইবনু সাঈদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। যায়দ ইবনু খালিদ আবূ জুহাইম আল-আনসারী (রাঃ) এর নিকট জিজ্ঞেস করতে পাঠানঃ সালাতরত ব্যাক্তির সামনে দিয়ে অতিক্রমকারী সম্পর্কে আপনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট কি শুনেছেন? তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ তোমাদের যে কেউ তার সালাতরত ভাইয়ের সামনে দিয়ে অতিক্রম করার পরিণতি সম্পর্কে যদি জানতো, তাহলে অবশ্যি সে চল্লিশ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকা উত্তম ভাবতো। রাবী বলেন, তিনি কি চল্লিশ বছর অথবা চল্লিশ মাস বা চল্লিশ দিন বলেছেন তা আমি অবগত নই।

946। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের যে কেউ যদি জানতো যে, তার সালাতরত ভাইয়ের সামনে দিয়ে তার অতিক্রম করার পরিণতি কি, তাহলে সে এ ধরনের পদক্ষেপ ফেলার চাইতে এক শত বছর দাঁড়িয়ে থাকাকে অবশ্যি অধিক উত্তম মনে করতো।

947। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাফাতের ময়দানে সালাত পড়ছিলেন। আমি ও ফাদল গাধায় চড়ে সালাতের একটি কাতারের সামনে দিয়ে অতিক্রম করলাম। আমরা গাধার পিঠ থেকে নেমে সেটিকে ছেড়ে দিয়ে সালাতের কাতারে শামিল হলাম।

948। উম্মু সালামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মু সালামাহ -এর ঘরে সালাত পড়ছিলেন। আবদুল্লাহ অথবা উমার ইবনু আবূ সালামাহ তাঁর সামনে দিয়ে যেতে উদ্যত হলে তাঁর হাত দিয়ে ইশারা করলে তিনি ফিরে যান। তারপর যয়নব বিনতে উম্মু সালামাহ যেতে চাইলে তাকেও তিনি হাতের ইশারায় নিষেধ করেন, কিন্তু তিনি অতিক্রম করে চলে যান। রাসূলুরলাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত শেষে বলেনঃ নারীরা (পুরুষের উপর) বিজয়ী।

949। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কালো বর্ণের কুকুর ও ঋতুবতী নারী সালাত নষ্ট করে।

950। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ নারী, কুকুর ও গাধা সালাত নষ্ট করে।

951। আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ নারী, কুকুর ও গাধা সালাত নষ্ট করে।

952। আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওযাসাল্লাম বলেন: সালাতীর সামনে শিবিকার খুঁটির ন্যায় কোন জিনিস না থাকলে নারী, গাধা ও কালো বর্ণের কুকুর তার সালাত নষ্ট করে। অধস্তন রাবী বলেন, আমি বললাম, লাল বর্ণের কুকুর থেকে কালো বর্ণের কুকুরের পার্থক্য কি? তিনি বলেন, তুমি আমাকে যেরূপ জিজ্ঞেস করলে আমিও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তদ্রূপ জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনি বলেনঃ কালো কুকুর হল শয়তান।

953। আল-হাসান আল-উরানী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কিসে সালাত নষ্ট করে তা ইবনু আব্বাস (রাঃ) এর উপস্থিতিতে আলোচিত হল। লোকেরা কুকুর, গাধা ও স্ত্রীলোকের কথা উল্লেখ করলো। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, ছয়-সাত মাসের বকরীর বাচ্চা সম্পর্কে আপনারা কি বলেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন সালাত পড়ছিলেন। তাঁর সামনে দিয়ে ছয়-সাত মাসের একটি বকরীর বাচ্চা অতিক্রম করে যাচ্ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেটিকে কিবলার দিক থেকে হটিয়ে দিতে চেষ্টা করেন।

954। আবদুর রহমান ইবনু আবূ সাঈদ (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের যে কেউ সালাত আদায় করতে চাইলে যেন সুতরা সামনে রেখে সালাত পড়ে এবং তার নিকটবতীৃ হয়। সে যেন তা সামনে দিয়ে কাউকে অতিক্রম করতে না দেয়। অতএব যদি কেউ সামনে দিয়ে অতিক্রম করে, তাহলে সে যেন তার সাথে লড়াই করে। কারণ সে একটা শয়তান।

955। আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কেউ যখন সালাত পড়ে, তখন সে যেন তার সামনে দিয়ে কাউকে অতিক্রম করতে না দেয়। যদি সে অস্বীকার করে তবে সে যেন তার সাথে লড়াই করে। কেননা তার সাথে তার সহযোগী (শয়তান) রয়েছে। আল-হাসান ইবনু দাঊদ আল-মুনকাদিরী (রহঃ) বলেন, নিশ্চয় তার সাথে উযযা (প্রতিমা) রয়েছে।

956। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে সালাত আদায় করতো এবং আমি তখন তাঁর ও কিকবলার মাঝখানে জানাযার লাশের ন্যায় আড়াআড়িভাবে শোয়া থাকতাম।

957। যয়নব বিনতে আবূ সালামাহ (রহঃ) থেকে তার মাতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, তার বিছানা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সিজদার স্থানের দিকে ছিল।

958। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী মায়মূনা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করতো এবং আমি তাঁর সামনে থাকতাম। তিনি সিজদায় গেলে কখনো কখনো তাঁর পরিধেয় বস্ত্র (কাপড়) আমার শরীরে লাগতো।

959। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুরলাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাক্যালাপে রত ব্যাক্তি ও ঘুমন্ত ব্যাক্তির পেছনে সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন।

960। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে শিক্ষা দিতেন যে, আমরা যেন ইমামের আগে রুকূ ও সিজদায় না যাই। তিনি আরো বলেনঃ ইমাম যখন তাকবীর বলেন, তখন তোমরাও তাকবীর বলো এবং তিনি যখন সিজদা করেন, তোমরাও তখন সিজদা করো।

961। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি ইমামের আগে (রুকূ-সিজদা থেকে) মাথা তোলে সে কি ভয় করে না যে, আল্লাহ তার মাথাকে গাধার মাথায় পরিবর্তিত করে দিবেন?

962। আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি এখন ভারী হয়ে গেছি। অতএব আমি যখন রুকূ করি, তোমরাও তখন রুকূ করো এবং আমি যখন মাথা উঠাই, তোমরাও তখন মাথা উঠাও। আমি যখন সিজদা্ করি, তোমরাও তখন সিজদা্ করো। আমি যেন কোন ব্যাক্তিকে আমার আগে রুকূ ও সাজদায় যেতে না দেখি।

963। মুআবিয়াহ ইবনু আবূ সুফ্ইয়ান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা আমার আগে রুকূ-সাজদায় যাবে না। যখনই আমি তোমাদের আগে রুকূতে যাই, তোমরা আমাকে মাথা তোলার পূর্বেই পেয়ে যাও। আবার যখনই আমি তোমাদের আগে সাজদায় যাই, তোমরা আমাকে মাথা তোলার পূর্বেই পেয়ে যাও। নিশ্চয় এখন আমি (বয়সের কারণে) ভারী হয়ে গেছি।

964। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: কোন ব্যাক্তির তার সালাত থেকে অবসর না হয়েই অধিক বার তার কপাল মোছা রূঢ় আচরণের অন্তর্ভুক্ত।

965। আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: তুমি সালাতরত অবস্থায় তোমার আঙ্গুলগুলো মটকাবে না।

966। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে কোন ব্যাক্তিকে সালাতরত অবস্থায় তার মুখমন্ডল ঢাকতে নিষেধ করেছেন।

967। কাব ইবনু উজরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যাক্তিকে সালাতরত অবস্থায় তার এক হাতের আঙ্গুলসমূহ অপর হাতের আঙ্গুলসমূহের মধ্যে প্রবেশ করাতে দেখলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার আঙ্গুলসমূহ ফাঁকা (পৃথক) করে দিলেন।

968। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কারো হাই আসলে সে যেন তার হাত তার মুখের উপর রাখে এবং সজোরে শব্দ না করে। কেননা তাতে শয়তান হাসে।

969। আদী ইবনু সাবিত (রহঃ) থেকে তার পিতা, অতঃপর তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সালাতরত অবস্থায় থুথু, নাকের শ্লেষ্মা, হায়েয ও তন্দ্রা আসে শয়তানের পক্ষ থেকে।

970। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিন ব্যাক্তির সালাত কবূল হয় নাঃ যে ব্যাক্তি লোকেদের ইমামতি করে তাকে তারা অপছন্দ করা সত্ত্বেও, যে ব্যাক্তি সালাতের ওয়াক্ত চলে যাওয়ার পর সালাত পড়ে এবং যে ব্যাক্তি কোন স্বাধীন ব্যাক্তিকে দাস বানায়।

971। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তিন ব্যাক্তির সালাত তাদের মাথার এক বিঘত উপরেও উঠে নাঃ যে ব্যাক্তি জনগণের অপছন্দ হওয়া সত্ত্বেও তাদের ইমামতি করে, যে নারী তার স্বামীর অসন্তুষ্টিসহ রাত যাপন করে এবং পরস্পর সম্পর্ক ছিন্নকারী দু ভাই।

972। আবূ মূসা আল-আশআরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দু বা ততোধিক ব্যাক্তি সমন্বয়ে একটি জামাআত হতে পারে।

973। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার খালা মায়মূনা (রাঃ) এর এখানে রাত কাটালাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে সালাত পড়ার জন্য উঠে দাঁড়ালেন। আমি তাঁর বাঁ পাশে দাঁড়ালে তিনি আমার হাত ধরে আমাকে তাঁর ডান পাশে দাঁড় করান।

974। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাগরিবের সালাত পড়ছিলেন। আমি এসে তাঁর বাঁ পাশে দাঁড়ালে তিনি আমাকে তাঁর ডান পাশে দাঁড় করান।

975। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কোন এক স্ত্রী ও আমাকে নিয়ে সালাত পড়েন। তিনি আমাকে তাঁর ডান পাশে দাঁড় করান এবং মহিলাটি আমাদের পেছনে দাঁড়িয়ে সালাত পড়েন।

976। আবূ মাসঊদ আল-আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের মধ্যে আমাদের কাঁধে হাত বুলিয়ে বলতেনঃ তোমরা (কাতারে আঁকাবাঁকা হয়ে দাঁড়িয়ে) বিশৃংখল হয়ো না, অন্যথায় তোমাদের অন্তরসমূহ বিশৃংখল হয়ে যাবে। তোমাদের মধ্যে যারা জ্ঞানী ও বুদ্ধিমান তারা (কাতারে) আমার কাছাকাছি দাঁড়াবে, অতঃপর (যোগ্যতায়) তাদের নিকটতর লোকেরা, অতঃপর তাদের নিকটতর লোকের দাঁড়াবে।

977। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুহাজির ও আনসারদের (সালাতে) তাঁর কাছাকাছি দাঁড়ানো পছন্দ করতেন, যাতে তারা তাঁর নিকট থেকে শিখে নিতে পারেন।

978। আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের পেছনে হটতে দেখে বলেনঃ তোমরা সামনের কাতারে এগিয়ে আসো এবং আমার অনুসরণ করো, যাতে তোমাদের পরবর্তী লোকেরা তোমাদের অনুসরণ করতে পারে। লোকেরা যখন পেছনেই হটতে থাকে, তখন আল্লাহও তাদের পেছনেই হটিয়ে দেন।

979। মালিক ইবনুল হুয়াইরিস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ও আমার এক সঙ্গী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসলাম। যখন আমরা ফিরে যেতে মনস্থ করলাম, তখন তিনি আমাদের বলেনঃ সালাতের ওয়াক্ত উপস্থিত হলে তোমরা আযান দিবে, অতঃপর ইকামত দিবে এবং তোমাদের দুজনের মধ্যে বয়োজ্যেষ্ঠজন তোমাদের ইমামতি করবে।

980। আবূ মাসঊদ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি কুরআন অধিক জানে সে লোকেদের ইমামতি করবে। তারা যদি কুরআনে সমকক্ষ হয়, তবে তাদের মধ্যে হিজরতে অগ্রগামী ব্যাক্তি তাদের ইমামতি করবে। যদি হিজরতেও তারা সমান হয়, তবে তাদের মধ্যকার বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যাক্তি তাদের ইমামতি করবে। কোন ব্যাক্তি যেন অপর ব্যাক্তির বাড়িতে বা তার প্রভাবাধীন এলাকায় তার সম্মতি ছাড়া ইমামতি না করে এবং তার বাড়িতে তার জন্য নির্দিষ্ট আসনে তার সম্মতি ছাড়া না বসে।

981। আবূ হাযিম (রহঃ) বলেন, সাহল ইবনু সা’দ আস-সাইদী (রাঃ) তার গোত্রের যুবকদেরকে (ইমামতির জন্য) এগিয়ে দিতেন। তারা তাদের ইমামতিতে সালাত আদায় করতো। তাকে বলা হল, আপনি এরূপ করছেন, অথচ আপনি (ইসলাম গ্রহণে) প্রবীণ। আপনার তা করার কারণ কী? তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ ইমাম হলেন যিম্মাদার। তিনি উত্তম করলে (সুচারুরূপে সালাত পড়লে) তার জন্যও উত্তম এবং মোক্তাদীদের জন্যও উত্তম (পুরস্কার)। তিনি খারাপ করলে তার দায় তার উপর বর্তাবে, মোক্তাদীদের উপর নয়।

982। খারাশা (রাঃ) এর বোন সালামাহ বিনতুল হুর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ লোকের উপর এমন এক সময় আসবে, যখন তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও তাদের (সালাতে) ইমামতি করার যোগ্য লোক পাবে না।

983। আবূ আলী আল-হামদানী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নৌ-ভ্রমণে বের হন, তাতে উকবা ইবনু আমের আল-জুহানী (রাঃ)ও ছিলেন। কোন এক সালাতের ওয়াক্ত উপস্থিত হলে আমরা তাকে আমাদের ইমামতি করতে অনুরোধ করলাম এবং তাকে বললাম, নিশ্চয় আমাদের মধ্যে আপনই এর যোগ্য। আপনি রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবী। কিন্তু তিনি (ইমামতি করতে) অস্বীকার করেন এবং বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ কোন ব্যাক্তি লোকেদের ইমামতি করলো এবং সঠিকভাবে সালাত পড়লো, তাতে তার ও মোক্তাদীদের সালাত হয়ে গেলো। কিন্তু যে ব্যাক্তি তাতে কোন ত্রুটি করলো, তার দায় তার উপর বর্তাবে, তাদের উপর নয়।

984। আবূ মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যাক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললো, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমি ফজরের সালাতের জামাআতে অমুকের কারণে দেরীতে উপস্থিত হই। কারণ তিনি আমাদের সালাতে দীর্ঘ কিরাআত পড়েন। রাবী বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সে দিনের চাইতে আর কোন দিন অধিক রাগান্বিত হয়ে খুতবাহ দিতে দেখিনিঃ হে লোকসকল! তোমাদের মধ্যে লোকেদের ঘৃণা উদ্রেককারী ব্যাক্তিও আছে। অতএব তোমাদের কেউ যখন লোকেদের নিয়ে সালাত পড়ে তখন সে যেন সংক্ষিপ্ত কিরাআত পড়ে। কেননা তাদের মধ্যে দুর্বল, বৃদ্ধ ও কর্মব্যস্ত লোকও রয়েছে।

985। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংক্ষেপে অথচ পূর্ণরূপে সালাত আদায় করতেন।

986। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুআয ইবনু জাবাল আল-আনসারী (রাঃ) তার সাথীদের নিয়ে এশার সালাত পড়লেন। তিনি তাদের সালাত দীর্ঘ করলেন। ফলে আমাদের মধ্যকার এক ব্যাক্তি (সালাত থেকে) পৃথক হয়ে একাকী সালাত পড়ে। মুআয (রাঃ) কে তার সম্পর্কে অবহিত করা হলে তিনি বলে, নিশ্চয় সে মোনাফিক। লোকটি তা জানতে পেরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে তার সম্পর্কে মুআয (রাঃ) এর মন্তব্য তাঁকে অবহিত করেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ হে মুআয! তুমি কি বিশৃংখলা সৃষ্টিকারী হতে চাও? তুমি যখন লোকেদের নিয়ে সালাত পড়বে, তখন সূরাহ আস-শামসি ওয়া যুহাহা, সূরাহ আল-আলা, সূরাহ ওয়াল-লাইল ও সূরাহ ইকরা বিসমি রব্বিকা পাঠ করবে।

987। মুতাররিফ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনুুস শিখখীর (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উসমান ইবনু আবূল আস (রাঃ) কে বলতে শুনেছি, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তায়েফের আমীর নিয়োগ করাকালে আমার থেকে সর্বশেষ প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করে বলেনঃ হে উসমান! তুমি সালাত সংক্ষেপ করবে এবং লোকেদের মধ্যকার দুর্বলদের সামর্থ্যের প্রতি লক্ষ্য রাখবে। কেননা তাদের মধ্যে বৃদ্ধ, নাবালেগ, রোগাক্রান্ত ব্যাক্তি, দূরের পথের পথিক এবং কর্মব্যস্ত লোক আছে।

988। উসমান ইবনু আবূল আস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বশেষ আমাকে যা বলেছেন তা হলঃ যখন তুমি লোকেদের ইমামতি করবে, তখন তাদের সালাত সংক্ষেপ করবে।

989। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি সালাত শুরু করে তা দীর্ঘায়িত করার সংকল্প করি। কিন্তু আমি শিশুদের কান্না শুনতে পাই এবং তাতে তার মায়ের বিচলিত হওয়ার কথা চিন্তা করে আমার সালাত সংক্ষিপ্ত করি।

990। উসমান ইবনু আবূল আস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয় আমি শিশুরু কান্না শুনতে পাই এবং আমার সালাত সংক্ষিপ্ত করি।

991। আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয় আমি সালাতে দাঁড়িয়ে তা দীর্ঘায়িত করার ইচ্ছা করি। কিন্তু আমি শিশুরু কান্না শুনতে পেয়ে সালাত সংক্ষিপ্ত করি, তার মায়ের কষ্ট হওয়ার আশঙ্কায়।

992। জাবির ইবনু সামুরা আস-সুওয়াঈ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সাবধান! তোমরা এমনভাবে কাতারবন্দী হও যেভাবে ফেরেশতাগণ তাদের প্রভুর নিকট কাতারবন্দী হন। রাবী বলেন, আমরা জিজ্ঞেস করলাম, ফেরেশতারা তাদের প্রভুর সামনে কিভাবে কাতারবন্দী হন? তিনি বলেনঃ তারা প্রথম সারিগুলো আগে পূর্ণ করেন এবং সারিতে গায়ে গায়ে লেগে দাঁড়ান।

993। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের কাতারগুলো সোজা করো। কারণ কাতার সোজা করা সালাত পূর্ণ করার অন্তর্ভুক্ত।

994। নুমান ইবনু বশীর (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্শা অথবা তীরের মত সালাতের কাতার সোজা করতেন। রাবী বলেন, তিনি এক ব্যাক্তির বুক একটু বাইরে অগ্রসর দেখতে পান। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা তোমাদের কাতারগুলো সোজা করো, অন্যথায় আল্লাহ তোমাদের মুখমন্ডলে বিভেদ সৃষ্টি করে দিবেন।

995। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যারা কাতারগুলো মিলিয়ে রাখে তাদের প্রতি আল্লাহ এবং তার ফেরেশতাগণ রহমত বর্ষণ করেন। যে ব্যাক্তি কাতারের ফাঁক বন্ধ করে, আল্লাহ তার বিনিময়ে তার মর্যাদা বৃদ্ধি করেন।

996। ইরবাদ ইবনু সারিয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথম কাতারের লোকের জন্য তিনবার ক্ষমা প্রার্থনা করতেন এবং দ্বিতীয় কাতারের লোকের জন্য একবার।

997। বারাআ ইবনু আযেব (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ নিশ্চয় আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ প্রথম কাতারের লোকের উপর রহমত বর্ষণ করেন।

998। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ লোকেরা যদি জানতো যে, প্রথম কাতারে কী (মর্যাদা) আছে, তাহলে (প্রথম কাতারে দাঁড়াতে) লটারীর ব্যবস্থা করতে হতো।

999। ইবরাহীম ইবনু আবদুর রহমান ইবনু আওফ (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: নিশ্চয় আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ প্রথম কাতারের লোকেদের উপর রহমত নাযিল করেন।

1000। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মহিলাদের কাতারগুলোর মধ্যে (সওয়াবের দিক থেকে) উত্তম হল শেষ কাতার এবং তাদের জন্য মন্দ কাতার (কম সওয়াবের) হল তাদের প্রথম কাতার। পুরুষদের কাতারগুলোর মধ্যে উত্তম হল প্রথম কাতার এবং তাদের জন্য মন্দ হল তাদের শেষ কাতার।

1001। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পুরুষদের কাতারগুলোর মধ্যে উত্তম হল তাদের সামনের (প্রথম) কাতার এবং মন্দ হল তাদের পেছনের (শেষ) কাতার। মহিলাদের কাতারগুলোর মধ্যে উত্তম হল তাদের পেছনের (সর্বশেষ) কাতার এবং মন্দ হল তাদের সামনের কাতার।

1002। মুআবিয়াহ ইবনু কুররা (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যমানায় আমাদেরকে দু খুঁটির মাঝখানে কাতারবন্দী হতে নিষেধ করা হতো এবং আমাদেরকে কঠোরভাবে বিরত রাখা হতো।

1003। আলী ইবনু শায়বান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা এক প্রতিনিধি দল রওয়ানা হয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকটে উপস্থিত হলাম। আমরা তাঁর নিকট বাইআত (ইসলাম) গ্রহণ করলাম এবং তাঁর পিছনে সালাত পড়লাম, অতঃপর তাঁর পিছনে আরো এক ওয়াক্তের সালাত পড়লাম। তিনি সালাত শেষে এক ব্যাক্তিকে কাতারের পেছনে একাকী দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতে দেখলেন। রাবী বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিকট থামলেন এবং সে সালাত শেষ করলে তিনি তাকে বলেন তুমি পুনরায় সালাত পড়ো। কারণ যে ব্যাক্তি কাতারের পেছনে একাকী দাঁড়ায় তার সালাত হয় না।

1004। হিলাল ইবনু ইয়াসাফ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যিয়াদ ইবনু আবূল জাদ (রহঃ) আমার হাত ধরে আর-রাক্কা নামক স্থানে ওয়াবিসা ইবনু মাবাদ (রাঃ) নামক প্রবীণ ব্যাক্তির নিকট নিয়ে যান। তিনি বলেন, এক ব্যাক্তি কাতারের পিছনে একাকী সালাত পড়লে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে তা পুনর্বার পড়ার নির্দেশ দেন।

1005। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ কাতারসমূহের ডান দিকের (মুসল্লিদের) উপর রহমত বর্ষণ করেন।

1006। আল-বারাআ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পেছনে সালাত পড়তাম তখন (কাতারের) ডান দিকে দাঁড়াতে পছন্দ করতাম।

1007। ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলা হল, মসজিদের বাম দিক খালি হয়ে গেছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যাক্তি মসজিদের বাম দিকের খালি জায়গা পূর্ণ করবে, তার জন্য দ্বিগুণ পুরস্কার লিপিবদ্ধ করা হয়।

1008। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বায়তুল্লাহ (কাবা ঘর) তাওয়াফ শেষে মাকামে ইবরাহীমে আসেন। তখন উমার বলেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! এটা তো আমাদের পিতা ইবরাহীম (আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মাকাম, যে সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন (অনুবাদ) তোমরা মাকামে ইবরাহীমকে সালাতের স্থানরূপে গ্রহণ করো (সূরাহ বাকারা: ১২৫)। ওলীদ ইবনু মুসলিম (রহঃ) বলেন, আমি ইমাম মালিক (রহঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি কি এভাবে ওয়াত্তাখিযূ পড়েছেন? তিনি বলেন, হ্যাঁ।

1009। উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! যদি আপনি মাকামে ইবরাহীমকে সালাতের স্থানরূপে গ্রহণ করতেন! তখন নাযিল হলঃ তোমরা ইবরাহীমের দাঁড়ানোর স্থানকে সালাতের স্থানরূপে গ্রহণ করো (সূরাহ বাকারাঃ ১২৫)।

1010। আল-বারাআ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আঠার মাস যাবত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে বাইতুল মাকদিসের দিকে মুখ করে সালাত পড়ি। তাঁর হিজরত করে মদিনা্য় আসার দু মাস পর কাবা শরীফের দিকে কিবলা পরিবর্তিত করা হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বাইতুল মাকদিসের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করতে, তখন অধিকাংশ সময় তিনি তাঁর মুখমন্ডল আকাশের দিকে ফিরাতেন। আল্লাহ তাঁর নবীর মনের আকাঙ্ক্ষা জানতেন যে, তিনি কাবাকে পছন্দ করেন। জিবরীল (আলাইহিস সালাম) আরোহণ করেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর দৃষ্টি তাঁর অনুসরণ করে। তিনি আসমান ও যমীনের মাঝখান দিয়ে অগ্রসর হন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লক্ষ্য করেন, তিনি কী হুকুম নিয়ে আসেন তাঁর জন্য। তখন আল্লাহ এ আয়াত নাযিল করেন (অনুবাদ) আকাশের দিকে তোমার বারবার তাকানোকে আমি অবশ্য লক্ষ্য করছি (সূরাহ বাকারা: ১৪৪)। এরপর আমাদের কাছে একজন আগন্তুক এসে বলেন, নিশ্চয় কিবলা তো কাবার দিকে পরিবর্তিত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বায়তুল মাকদিসকে কিবলা করে আমাদের দু রাকআত সালাত পড়া হয়েছে। আমরা রুকূতে থাকা অবস্থায় (নতুন) কিবলার দিকে ঘুরে গেলাম এবং আমাদের অবশিষ্ট সালাত বাইতুল্লাহর দিকে ফিরে পড়লাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ হে জিবরীল! আমাদের বাইতুল মাকদিসের দিকের সালাতের অবস্থা কী? তখন মহান আল্লাহ এ আয়াত নাযিল করেন (অনুবাদ) আল্লাহ এরূপ নন যে, তোমাদের ঈমান নষ্ট করবেন (সূরাহ বাকারা: ১৪৩)।

1011। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পূর্ব ও পশ্চিমের মাঝখানে কিবলা অবস্থিত।

1012। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করলে সে যেন দু রাকআত সালাত না পড়া পর্যন্ত না বসে।

1013। আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কোন ব্যাক্তি মসজিদে প্রবেশ করলে সে যেন বসার আগে দু রাকআত সালাত পড়ে।

1014। মদান ইবনু আবূ ত্বলহাহ্ আল-ইয়ামারী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। উমার ইবনুল খাত্তাব জুমুআহর খুতবাহ দিতে দাঁড়ান অথবা তিনি জুমুআহর দিন খুতবাহ দেন। তিনি আল্লাহ্‌র প্রশংসা ও গুণগান করার পর বলেন, হে লোকসকল! তোমরা দু টি গাছ খেয়ে থাকো, আমার দৃষ্টিতে তা নিকৃষ্টঃ এই রসুন ও এই পিয়াজ। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর যুগে দেখতাম, যার মুখ থেকে এর দুর্গন্ধ পাওয়া যেতো, তার হাত ধরে তাকে আল-বাকী নামক স্থানের দিকে বের করে দেয়া হতো। অতএব যে ব্যাক্তি তা খেতেই চায়, সে যেন তা রান্না করে খায়।

1015। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি এই গাছ অর্থাৎ রসুন খায়, সে যেন তার দ্বারা আমাদের এই মসজিদে (এসে) আমাদের কষ্ট না দেয়। ইবরাহীম ইবনু সা’দ (রহঃ) বলেন, আমার পিতা এর সাথে দুর্গন্ধযুক্ত তরকারী ও পিঁয়াজকে শামিল করতেন। অর্থাৎ তিনি রসুন সম্পর্কিত আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বর্ণিত হাদীসের সাথে ঐগুলোকেও যোগ করতেন।

1016। ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি এই গাছের কিছু খায়, সে যেন মসজিদে না আসে।

1017। আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত পড়ার জন্য কুবা মসজিদে আসেন। তখন একদল আনসারী তাঁকে সালাম দিতে আসেন। আমি তাঁর সঙ্গী সুহাইব কে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিভাবে তাদের সালামের জবাব দিতেন? তিনি বলেন, তিনি তাঁর হাত দিয়ে ইশারা করতেন।

1018। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি বিশেষ কাজে আমাকে পাঠান। আমি ফিরে এসে তাঁকে সালাতরত অবস্থায় পেলাম। আমি তাঁকে সালাম দিলে তিনি আমার দিকে ইশারা করেন। তিনি সালাত শেষ করে আমাকে ডেকে বলেনঃ তুমি এইমাত্র আমাকে সালাম দিয়েছো এবং আমি তখন সালাত পড়ছিলাম?

1019। আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা সালাতরত অবস্থায় সালাম দিতাম। আমাদের বলা হলঃ সালাতের মধ্যে অবশ্যই একটা ব্যস্ততা আছে।

1020। রবীআহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা এক সফরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিলাম। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে যাওয়ায় কিবলা নির্ণয় করা আমাদের জন্য কষ্টকর হয়ে পড়লো। আমরা সালাত পড়লাম এবং একটি চিহ্ন রাখলাম। এরপর সূর্য উদ্ভাসিত হলে আমরা বুঝতে পালাম যে, আমরা কিবলা ছাড়া অন্যদিকে সালাত আদায় করেছি। আমরা বিষয়টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট উত্থাপন করলাম। তখন আল্লাহ এ আয়াত নাযিল করেন (অনুবাদ): তোমরা যে দিকেই মুখ ফিরাও সেদিকই আল্লাহ্‌র চেহারা (সূরাহ বাকারাঃ ১১৫)।

1021। তারিক ইবনু আবদুল্লাহ আল-মুহারিবী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তুমি সালাতরত অবস্থায় তোমার সামনে ও ডানে থুথু ফেলবে না, বরং তোমরা বামে অথবা তোমার পায়ের নিচে থুথু ফেলবে।

1022। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে কিবলার দিকে থুথু পতিত দেখতে পেয়ে লোকেদের সামনে দাঁড়িয়ে বলেনঃ তোমাদের কারো কী হল যে, তার রবের সামনে দাঁড়ায় এবং তার সামনের দিকে থুথু নিক্ষেপ করে? তোমাদের কেউ কি তার সামনে থেকে তার মুখে থুথু নিক্ষিপ্ত হওয়া পছন্দ করে? অতএব তোমাদের কেউ যখন থুথু ফেলবে, তখন সে যেন তা তার বাম দিকে ফেলে অথবা এভাবে তার কাপড়ে ফেলে। অতঃপর ইসমাঈল ইবনু উলাইয়্যা তার থুথু নিক্ষেপ করে তা রগড়িয়ে আমাকে দেখান।

1023। হুযাইফাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি শাবাছ ইবনু রিবঈকে তার সামনে থুথু ফেলতে দেখে বলেন, হে শাবাছ! তোমার সামনের দিকে থুথু ফেলো না। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা করতে নিষেধ করতেন এবং বলতেনঃ কোন ব্যাক্তি যখন সালাতে দাঁড়ায় তখন আল্লাহ তার সামনে থাকেন, যতক্ষণ না সে সালাত শেষ করে ফিরে যায় অথবা কোন নিকৃষ্ট আচরণ করে।

1024। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতরত অবস্থায় তাঁর কাপড়ে থুথু ফেলেন, অতঃপর তা ঘষে ফেলেন।

1025। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি (সালাতরত অবস্থায়) কাঁকর স্পর্শ করলো সে বাজে কাজ করলো।

1026। মুআইকীব (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতরত অবস্থায় পাথর স্পর্শ করা সম্পর্কে বলেছেনঃ তোমার যদি তা করতেই হয় তবে মাত্র একবার।

1027। আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ সালাতে দাঁড়ানোর পর যেন আর কাঁকর না সরায়। কেননা তখন রহমত তার অভিমুখী হয়।

1028। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী মায়মূনা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাটাইয়ের উপর সালাত আদায় করতেন।

1029। আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাটাইয়ের উপর সালাত আদায় করতেন।

1030। আমর ইবনু দ্বীনার (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু আব্বাস (রাঃ) বসরায় অবস্থানকালে তার বিছানার উপর সালাত আদায় করেছেন। অতঃপর তিনি তাঁর সঙ্গীদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বিছানার উপর সালাত আদায় করতেন।

1031। আবদুল্লাহ ইবনু আবদুর রহমান থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট আসেন এবং আমাদেরকে সাথে নিয়ে আবদুল আশহাল গোত্রের মসজিদে সালাত পড়েন। সিজদা করাকালে আমি তাঁকে তাঁর উভয় হাত তাঁর কাপড়ের উপর রাখতে দেখেছি।

1032। ছাবিত ইবনুুস সামিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুল আশহাল গোত্রে সালাত পড়েন। তাঁর গায়ে জড়ানো ছিল একখানা চাঁদর। পাথরের ঠান্ডা থেকে বাঁচার জন্য তিনি তাঁর দু হাত ঐ চাঁদরের উপর রাখেন।

1033। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা প্রচন্ড গরমের সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে সালাত পড়তাম। আমাদের কেউ (মাটিতে) তাঁর কপাল রাখতে অসমর্থ হলে তার কাপড় বিছিয়ে তার উপর সিজদা করতো।

1034। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ পুরুষদের জন্য তাসবীহ এবং নারীদের জন্য হাততালি।

1035। সাহল ইবনু সা’দ আস-সাইদী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ পুরুষদের জন্য তাসবীহ এবং নারীদের জন্য হাততালি।

1036। নাফি (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলতেন, ইবনু উমার (রাঃ) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীদের জন্য হাততালি এবং পুরুষদের জন্য তাসবীহ পাঠের অনুমতি দিয়েছেন।

1037। ইবনু আবূ আওস (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার দাদা আওস কখনো কখনো সালাতরত অবস্থায় আমার দিকে ইশারা করতেন। আমি তার জুতা জোড়া এগিয়ে দিতাম। তিনি বলতেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তাঁর জুতাজোড়া পরিহিত অবস্থায় সালাত আদায় করতে দেখেছি।

1038। আমর ইবনু শুআইব (রহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে খালি পায়েও এবং জুতা পরিহিত অবস্থায়ও সালাত আদায় করতে দেখেছি।

1039। আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জুতা পরিহিত অবস্থায় এবং মোজা পরিহিত অবস্থায় সালাত আদায় করতে দেখেছি।

1040। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে যে, আমি যেন (সালাতরত অবস্থায়) চুল বা পরিধেয় বস্ত্র না গুটাই।

1041। আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আদিষ্ট হয়েছি যে, আমরা যেন চুল ও কাপড় না গুটাই এবং আবর্জনার স্থান অতিক্রম করলে উযূ (ওজু/অজু/অযু) না করি।

1042। মদিনার বাসিন্দা আবূ সা’দ হতে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মুক্তদাস আবূ রাফি কে দেখলাম যে, তিনি হাসান ইবনু আলী (রাঃ) কে চুল বাঁধা অবস্থায় সালাত আদায় করতে দেখে তা খুলে দিলেন বা তাকে তা নিষেধ করলেন এবং বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুলের খোঁপা বেঁধে পুরুষদের সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন।

1043। ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা সালাতরত অবস্থায় তোমাদের দৃষ্টি আকাশের দিকে উঠাবে না, অন্যথায় তোমাদের দৃষ্টি ছিনিয়ে নেয়া হতে পারে।

1044। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের নিয়ে সালাত পড়েন। তিনি সালাত শেষ করে লোকেদের দিকে তাঁর মুখ ফিরিয়ে বলেনঃ লোকেদের কী হল যে, তারা আকাশের দিকে তাকায়। এ ব্যাপারে তিনি কঠোর মন্তব্য করেন। অবশ্যই তারা যেন তা থেকে বিরত থাকে, অন্যথায় আল্লাহ নিশ্চয় তাদের দৃষ্টিশক্তি ছিনিয়ে নিবেন।

1045। জাবির ইবনু সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ লোকেরা যেন আকাশের দিকে তাদের চোখ তোলা থেকে অবশ্যই বিরত থাকে, অন্যথায় তারা তাদের চোখের দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাবে না।

1046। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক পরমা সুন্দরী মহিলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পেছনে সালাত আদায় করতো। কতক লোক সামনের কাতারে এগিয়ে যেতো যাতে তার প্রতি তার দৃষ্টি না পড়ে এবং কতক লোক পেছনের শেষ কাতারে সরে যেতো। সে রুকূতে গিয়ে নিজ বগলের নিচ দিয়ে (তার প্রতি) তাকাতো। তখন আল্লাহ সেই মহিলাটি সম্পর্কে এ আয়াত নাযিল করেন (অনুবাদ) আমি তোমাদের মধ্যকার অগ্রগামীদেরকেও জানি এবং পশ্চাঁদগামীদেরকেও জানি- (সূরাহ হিজরঃ ২৪)।

1047। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললো, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমাদের কেউ কেউ এক কাপড়ে সালাত (নামায/নামাজ) পড়ে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের প্রত্যেকের কি দুটি করে পরিধেয় বস্ত্র আছে?

1048। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হলেন। তখন তিনি এক কাপড় পরিহিত অবস্থায় তার দু প্রান্ত কাঁধের সাথে বেঁধে সালাত (নামায/নামাজ) পড়ছিলেন।

1049। উমার ইবনু আবূ সালামাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে একটি কাপড় জড়িয়ে তার দু প্রান্ত তাঁর দু কাঁধের বেঁধে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে দেখেছি।

1050। আবদুর রহমান ইবনু কাইসান (রহ ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বিরে উলিয়া নামক কূপের নিকট এক কাপড়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে দেখেছি।

1051। আবদুর রহমান ইবনু কাইসান (রহ ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে একটি কাপড় পরে যোহর ও আসরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে দেখেছি।

1052। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বনী আদম যখন সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করে সিজদা দেয় তখন শয়তান কাঁদতে কাঁদতে দূরে সরে যায় আর বলেঃ আফসোস! বনী আদমকে সিজদা দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল এবং সে সিজদা করছে। তাই তার প্রতিদান জান্নাত। আর আমাকে সিজদা দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল, আমি তা অমান্য করেছি। তাই আমার প্রতিদান হলো জাহান্নাম।

1053। আল-হাসান ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু উবাঈদুল্লাহ ইবনু আবূ ইয়াযীদ (রহ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু জুরাইজ (রহ) আমাকে বললেন, হে হাসান! তোমার দাদা উবাঈদুল্লাহ ইবনু আবূ ইয়াযীদ (রহ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) এর সূত্রে আমাকে অবহিত করেন যে, ইবনু আব্বাস(রাঃ) বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট ছিলাম। তখন এক ব্যক্তি তাঁর নিকট উপস্থিত হয়ে বললো, আমি গতরাতে স্বপ্নে দেখলাম যে, আমি একটি গাছের গোড়ায় সালাত (নামায/নামাজ) পড়ছি এবং তাতে আমি সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করছি। আমি সিজদা করলাম এবং গাছটিও আমার অনুরূপ সিজদা করলো। আমি গাছটিকে বলতে শুনলাম, হে আল্লাহ্! এই সিজদার দ্বারা আমার গুনাহ অপসারিত করুন, আমার জন্য পুরস্কার নির্ধাণে করুন এবং এটাকে আপনার নিকট সঞ্চয় হিসাবে জমা রাখুন। ইবনু আব্বাস(রাঃ) বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করার পর সিজদা দিতে দেখেছি এবং তাঁকে তাঁর সিজদায় সেই দুআ করতে শুনলাম, গাছটির যে দুআ ঐ ব্যক্তি তাঁকে অবহিত করেছিল।

1054। আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামতাঁর তিলাওয়াতের সাজদায় বলতেনঃ হে আল্লাহ! আমি তোমার জন্য সিজদা্ করলাম, তোমার উপর ঈমান আনলাম, তোমার নিকট আত্নসমর্পণ করলাম এবং তুমিই আমার প্রভু। আমার মুখমন্ডল সেই মহান সত্তাকে সিজদা্ করলো, যিনি এর কানের শ্রবণশক্তি ও চোখের দৃষ্টিশক্তি দান করেছেন। সর্বোত্তম স্রষ্টা আল্লাহ কত মহান।

1055। উম্মু দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ দারদা(রাঃ) আমার নিকট বর্ণনা করেন যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে এগারটি সিজদা করেছেন। সূরাহ নাজম-এর সিজদাও তার অন্তর্ভুক্ত।

1056। আবূ দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে এগারটি সিজদা করেছি, তার মধ্যে মুফাসসাল সূরাহ ছিল না (সিজদার সূরাহসমূহ)- সূরাহ আরাফ, রাদ, নাহল, বানূ ইসরাঈল, মারয়াম, হজ্জ, ফুরকান, নামল, আস-সাজদা, সা’দ ও হা মীম সংযুক্ত সূরাহসমূহ।

1057। আমর ইবনুল আস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে কুরআনের পনেরটি সিজদা্ পড়িয়েছেন। তন্মধ্যে মুফাসসাল সূরায় তিনটি এবং সূরাহ হাজ্জে (হজ্জ) দুটি সিজদা্ রয়েছে।

1058। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে সূরাহ ইযাসা্মাউন শাক্কাত ও সূরাহ ইকরা বিসমে রব্বিকায় সিজদা করেছি।

1059। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইযাস সামাউন শাককাত সূরাতে সিজদা করেছেন। আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) বলেন, এ হাদীসটি ইয়াহ্ইয়া ইবনু সাঈদ (রহ ) সূত্রে বর্ণিত। আমি তাকে ছাড়া আর কাউকে হাদীসটি উল্লেখ করতে শুনিনি।

1060। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করে সালাত (নামায/নামাজ) পড়লো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন মসজিদের এক পাশে অবস্থান করছিলেন। সে এসে তাঁকে সালাম দিলো। তিনি বলেনঃ তোমার প্রতিও, তুমি ফিরে যাও, আবার সালাত পড়ো। কেননা তুমি সালাত পড়োনি। সে ফিরে গিয়ে সালাত পড়লো, তারপর এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সালাম দিলো। তিনি বলেনঃ তোমার প্রতিও, ফিরে যাও এবং সালাত পড়ো। কেননা তুমি সালাত পড়োনি। তৃতীয়বারে সে বললো, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমাকে শিখিয়ে দিন। তিনি বলেনঃ তুমি সালাত পড়ার ইচ্ছা করলে উত্তমরূপে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করো, তারপর কিবলামুখী হয়ে তাকবীর (তাহরীমা) বলো, এরপর কুরআনের যে অংশ তোমার কাছে সহজ সেখান থেকে কিরাআত পাঠ করো, তারপর ধীরস্থিরভাবে রুকূ করো, অতঃপর রুকূ থেকে দাঁড়িয়ে সোজা হও, তারপর ধীরস্থিরভাবে সিজদা করো, অতঃপর মাথা তুলে সোজা হয়ে বসো। তুমি তোমার গোটা সালাত এভাবে পড়ো।

1061। মুহাম্মাদ ইবনু আমর ইবনু আতা (রহ ) বলেন, আমি আবূ হুমাইদ আস-সাইদী (রাঃ) কে আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) সহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দশজন সাহাবীর উপস্থিতিতে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাতের (নামাযের) ব্যাপারে আমি তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক জ্ঞাত। তারা বলেন, তা কিভাবে? আল্লাহ্‌র শপথ! আপনি আমাদের চেয়ে অধিক কাল তাঁর অনুসরণকারী নন এবং তাঁর সাহচর্য লাভের দিক থেকেও আমাদের অগ্রগামী নন। তিনি বলেন, হ্যাঁ। তারা বলেন, তাহলে আপনার বক্তব্য পেশ করুন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে (নামাযে) দাঁড়িয়ে তাকবীর (তাহরীমা) বলতেন, তারপর তাঁর উভয় হাত তাঁর দু কাঁধ বরাবর উঠাতেন এবং তাঁর প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যর্ঙ্গ স্ব স্ব স্থানে স্থির থাকতো। অতঃপর তিনি কিরাআত পড়তেন, অতঃপর তাকবীর বলে তাঁর উভয় কাঁধ বরাবর তাঁর উভয় হাত উঠাতেন। তারপর তিনি রুকূ করতেন এবং রুকূতে তাঁর উভয় হাত যথাযথভাবে দু হাঁটুর উপর রাখতেন, তাঁর মাথা অধিক উঁচু বা নীচু না করে সমানভাবে রাখতেন। অতঃপর তিনি সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ বলে উভয় হাত উভয় কাঁধ বরাবর উঠাতেন, এমনকি তাঁর প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্ব স্ব স্থানে স্থির হয় যেতো। অতঃপর তিনি যমীনের দিকে (সিজদায়) ঝুঁকে যেতেন এবং পার্শ্বদেশ থেকে উভয় হাত আলাদা রাখতেন, তারপর মাথা উঠিয়ে বাম পা বিছিয়ে তার উপর বসতেন এবং সিজদার সময় উভয় পায়ের আঙ্গুলগুলো ভাঁজ করে খাড়া রাখতেন, তারপর সিজদা করতেন, অতঃপর তাকবীর বলে (সিজদা্ থেকে উঠে) বাম পায়ের উপর বসতেন, এমনকি তাঁর প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্বস্থানে স্থির হয়ে যেত। অতঃপর তিনি সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে দ্বিতীয় রাকআতেও প্রথম রাকআতের অনুরূপ করতেন। তিনি দ্বিতীয় রাকআত থেকে দাঁড়ানোর সময় তাঁর উভয় হাত তাঁর কাঁধ বরাবর উঠাতেন, যেমন উঠাতেন সালাত শুরু করার সময়। তিনি অবশিষ্ট সালাত এভাবে পড়তেন। শেষ সিজদা করে তিনি সালাম ফিরিয়ে এক পা আগে-পিছে করে, বাম দিকের পাছার উপর ভর করে বসতেন। তারা বলেন, আপনি যথার্থই বলেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবেই সালাত আদায় করতেন।

1062। আসমা বিনত আবদুর রহমান থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত (নামায/নামাজ) কিরূপ ছিল? তিনি বলেন, তিনি উযূ (ওজু/অজু/অযু) করার সময় বিসমিল্লাহ বলে পাত্রে তাঁর দু হাত রেখে পূর্ণরূপে উযূ করতেন, অতঃপর কিবলামুখী হয়ে দাঁড়িয়ে তাকবীর বলতেন এবং তাঁর উভয় হাত তাঁর উভয় কাঁধ পর্যন্ত উত্তোলন করতেন, অতঃপর (কিরাআত শেষে) রুকূ করতেন এবং তাঁর উভয় হাত উভয় হাঁটুতে রাখতেন এবং হাত দুটোকে পৃথক করে রাখতেন। তারপর মাথা উত্তোলন করে মেরুদন্ড সোজা করে দাঁড়িয়ে যেতেন এবং তোমাদের চাইতে সামান্য বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতেন। অতঃপর তিনি সিজদা করতেন এবং তাঁর হাত দুটি কিবলামুখী করে রাখতেন। আমি যতটা দেখেছি, তিনি যথাসাধ্য তাঁর হাত দুটি (পাঁজর থেকে) পৃথক রাখতেন। অতঃপর তিনি তাঁর মাথা তুলে তাঁর বাঁ পায়ের উপর বসতেন এবং ডান পায়ের পাতা খাড়া রাখতেন। তিনি বাঁদিকে ঝুঁকে বসতে অপছন্দ করতেন।

1063। উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যবানীতে সফরের সালাত (নামায/নামাজ) দু রাকআত, জুমুআহর সালাত দু রাকআত এবং ঈদের সালাত দু রাকআত। এগুলো পূর্ণ সালাত, এগুলেরা কসর নাই।

1064। উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর যবানীতে সফরের সালাত দু রাকআত, জুমুআহর সালাত (নামায/নামাজ) দু রাকআত, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার সালাত দু রাকআত করে, এগুলো কসর ব্যতীত পূর্ণ সালাত।

1065। ইয়ালা ইবনু উমাইয়্যা (রহ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) এর নিকট এই আয়াত উল্লেখপূর্বক (অনুবাদ) যদি তোমাদের আশঙ্কা হয় যে, কাফেররা তোমাদের জন্য ফিতনা সৃষ্টি করবে, তবে সালাত (নামায/নামাজ) সংক্ষিপ্ত করলে এতে তোমাদের কোন দোষ নেই জিজ্ঞেস করলাম যে, মানুষ তো এখন নিরাপদে আছে? তিনি বলেন, তুমি যে বিষয়ে বিস্ময় বোধ করছো, আমিও সে বিষয়ে বিস্ময় বোধ করেছিলাম। এ বিষয়ে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেনঃ এতো একটি দানবিশেষ, যা আল্লাহ তাআলা তোমাদের দিয়েছেন। কাজেই তোমরা তাঁর দান গ্রহণ করো।

1066। উমাইয়্যা ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু খালিদ (রহ ) থেকে বর্ণিত। তিনি আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) কে বলেন, আমরা কুরআনুল করীমে মুকীম ব্যক্তির সালাত ও ভীতির সালাত (সালাততুল খাওফ) সম্পর্কে বর্ণনা পাই, অথচ মূসাফিরের সালাত (নামায/নামাজ) এর বর্ণনা পাই না। আবদুল্লাহ তাকে বলেন, আল্লাহ তাআলা আমাদের নিকট মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রেরণ করেছেন এবং আমরা কিছুই জানতাম না। আমরা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে যেরূপ করতে দেখেছি, আমরাও অবশ্যি তদ্রূপ করি।

1067। ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ মদিনা শহর থেকে কোথাও রওনা হয়ে গেলে, এখানে ফিরে না আসা পর্যন্ত দু রাকআতের অধিক সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন না।

1068। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যবানীতে (তাঁর বান্দাদের উপর) মুকীম অবস্থায় চার রাকআত এবং মূসাফির অবস্থায় দু রাকআত সালাত (নামায/নামাজ) ফরয করেছেন।

1069। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি মুজাহিদ, সাঈদ ইবনু জুবাইর, আতা ইবনু আবূ রাবাহ ও তাঊস (রহ) কে অবহিত করেন যে, ব্যতিব্যস্ততা, শত্রুর আক্রমণাশংকা এবং অন্য কিছুর ভয়ভীতিমুক্ত অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরে মাগরিব ও এশার সালাত (নামায/নামাজ) একত্রে পড়তেন।

1070। মুআয ইবনু জাবাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাবূক যুদ্ধের সফরে যোহর ও আসর এবং মাগরিব ও এশার সালাত (নামায/নামাজ) একত্রে আদায় করেন।

1071। হাফস্ ইবনু আসেম (রহ ) বলেন, আমরা এক সফরে ইবনু উমার (রাঃ) এর সাথে ছিলাম। তিনি আমাদের নিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) পড়েন। অতঃপর আমরা সেখান থেকে তার সাথে ফিরে আসি। রাবী বলেন, তিনি একদল লোককে সালাত আদায় করতে দেখে বলেন, ঐ সকল লোক কী করছে? আমি বললাম, তারা নফল সালাত পড়ছে। তিনি বলেন, সফরে নফল সালাত পড়া জরুরী মনে করলে, আমি আমার ফরয সালাত পুরাটাই পড়তাম। হে ভাতিজা! আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সফরসঙ্গী ছিলাম। তিনি তাঁর ইন্তেকাল পর্যন্ত সফরে দু রাকআতের অধিক সালাত পড়েননি। তারপর আমি আবূ বাকর (রাঃ) এর সফরসঙ্গী ছিলাম, তিনিও দু রাকআতের অধিক সালাত পড়েননি। এরপর আমি উমার (রাঃ) এর সফরসঙ্গী ছিলাম এবং তিনিও দু রাকআতের অধিক সালাত পড়েননি। অতঃপর আমি উসমান (রাঃ) এর সফরসঙ্গী ছিলাম, তিনিও দু রাকআতের অধিক সালাত পড়েননি। এই অবস্থায় তারা ইন্তেকাল করেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মধ্যে অবশ্যি তোমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ (সূরাহ আহযাব: ২১)।

1072। উসামাহ ইবনু যায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি তাঊসকে সফরে নফল সালাত (নামায/নামাজ) পড়ার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলাম। তখন হাসান ইবনু মুসলিম ইবনু ইয়ান্নাকও তার নিকট বসা ছিলেন। তিনি বলেন, তাঊস (রহঃ) আমাকে বললেন যে, তিনি ইবনু আব্বাস (রাঃ) কে বলতে শুনেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুকীম অবস্থার ও সফরকালের সালাত নির্ধারণ করে দিয়েছেন। অতএব আমরা মুকীম ও মূসাফির অবস্থায় ফরয সালাতের আগে-পরে নফল সালাত পড়তাম।

1073। আবদুর রহমান ইবনু হুমাইদ আ-যুহরী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সাইব ইবনু ইয়াযীদ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, মক্কা্য় অবস্থানকারীর সম্পর্কে আপনি কী শুনেছেন? তিনি বলেন, আমি আলা ইবনুল হাদরামী (রাঃ) কে বলতে শুনেছি, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তাওয়াফে সদরের পর মুহাজির তিন দিন সালাত (নামায/নামাজ) কসর করবে।

1074। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যিলহাজ্জ মাসের চার তারিখ ভোরে মক্কায় উপনীত হন।

1075। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মক্কা্য়) ঊনিশ দিন অবস্থান করেন এবং দু রাকআত করে (ফরয) সালাত (নামায/নামাজ) পড়েন। অতএব আমরা যখন ঊনিশ দিন অবস্থান করতাম, তখন দু রাকআত করে (ফরয) সালাত (নামায/নামাজ) পড়তাম এবং তার অধিক (দিন) অবস্থান করলে পূর্ণ চার রাকআতই পড়তাম।

1076। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের বছর তথায় পনের দিন অবস্থান করেন এবং সালাত (নামায/নামাজ) কসর করেন।

1077। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে মদিনা থেকে মক্কা্য় রওয়ানা হলাম। আমরা ফিরে না আসা পর্যন্ত দু রাকআত করে (ফরয) সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেছি। রাবী তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, তিনি কত দিন মক্কা্য় অবস্থান করেন? আনাস (রাঃ) বলেন, দশ দিন।

1078। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বান্দা ও কুফরের মধ্যে পার্থক্য হলো সালাত (নামায/নামাজ) বর্জন।

1079। বুরাইদাহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমাদের ও তাদের (কাফেরদের) মধ্যে যে অংগীকার রয়েছে তা হলো সালাত (নামায/নামাজ)। অতএব যে ব্যক্তি সালাত ত্যাগ করলো, সে কুফরী করলো।

1080। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মুমিন বান্দা ও শিরক-এর মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে সালাত (নামায/নামাজ) বর্জন করা। অতএব যে ব্যক্তি সালাত ত্যাগ করলো, সে অবশ্যই শিরক করলো।

1081। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের উদ্দেশে ভাষণ দেন। তিনি বলেনঃ হে মানবমন্ডলী! তোমরা মরার পূর্বেই আল্লাহ্‌র নিকট তওবা করো এবং কর্মব্যস্ত হয়ে পড়ার পূর্বেই সৎ কাজের দিকে দ্রুত ধাবিত হও। তাঁর অধিক যিকরের মাধ্যমে তোমাদের রবের সাথে তোমাদের সম্পর্ক স্থাপন করো এবং গোপনে ও প্রকাশ্যে অধিক পরিমাণে দান-খয়রাত করো, এজন্য তোমাদের রিযিক বাড়িয়ে দেয়া হবে, সাহায্য করা হবে এবং তোমাদের অবস্থার সংশোধন করা হবে। তোমরা জেনে রাখো, নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা আমার এই স্থানে আমার এই দিনে, আমার এই মাসে এবং আমার এই বছরে তোমাদের উপর কিয়ামতের দিন পর্যন্ত জুমুআহর সালাত (নামায/নামাজ) ফরয করেছেন। অতএব যে ব্যক্তি আমার জীবদ্দশায় বা আমার ইন্তেকালের পরে, ন্যায়পরায়ণ অথবা যালেম শাসক থাকা সত্ত্বেও জুমুআহর সালাত তুচ্ছ মনে করে বা অস্বীকার করে তা বর্জন করবে, আল্লাহ তার বিক্ষিপ্ত বিষয়কে একত্রে গুছিয়ে দিবেন না এবং তার কাজে বরকত দান করবেন না। সাবধান! তার সালাত, যাকাত, হাজ্জ (হজ্জ), সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) এবং অন্য কোন নেক আমল গ্রহণ করা হবে না, যতক্ষণ না সে তওবা করে। যে ব্যক্তি তওবা করে, আল্লাহ তাআলা তার তওবা কবূল করেন। সাবধান! নারী পুরুষের, বেদুইন মুহাজিরের এবং পাপাচারী মুমিন ব্যক্তির ইমামতি করবে না। তবে স্বৈরাচারী শাসক তাকে বাধ্য করলে এবং তার তরবারি ও চাবুকের ভয় থাকলে স্বতন্ত্র কথা।

1082। আবদুর রহমান ইবনু কাব ইবনু মালিক (রহ ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা অন্ধ হয়ে গেলে আমি ছিলাম তার পরিচালক। আমি তাকে নিয়ে যখন জুমুআহর সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে বের হতাম, তিনি আযান শুনলেই আবূ উমামাহ আসআদ ইবনু যুরারাহ্ (রাঃ) এর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতেন এবং দুআ করতেন। আমি তাকে ক্ষমা প্রার্থনা ও দুআ করতে শুনে কিছুক্ষণ থামলাম, অতঃপর মনে মনে বললাম, আল্লাহ্‌র শপথ! কি বোকামী! তিনি জুমুআহর আযান শুনলেই আমি তাকে আবূ উমামাহ -এর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা ও দুআ করতে শুনি, অথচ আমি তাকে তার কারণ জিজ্ঞেস করিনি? আমি তাকে নিয়ে যেমন বের হতাম, তদ্রূপ একদিন তাঁকে নিয়ে জুমুআহর উদ্দেশে বের হলাম। তিনি যখন আযান শুনলেন তখন তার অভ্যাস মাফিক ক্ষমা প্রার্থনা করলেন। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, হে পিতা! জুমুআহর আযান শুনলেই আমি কি আপনাকে দেখি না যে, আপনি আসআদ ইবনু যুরারাহ্ -এর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন, তা কেন? তিনি বলেন, প্রিয় বৎস! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মক্কা থেকে (মদিনা্য়) আসার পূর্বে তিনই সর্বপ্রথম বনূ বাইয়াদার প্রস্তরময় সমতল ভূমিতে অবস্থিত নাকীউল খাযামাত-এ আমাদের নিয়ে জুমুআহর সালাত (নামায/নামাজ) পড়েন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, আপনারা তখন কতজন ছিলেন? তিনি বলেন, চল্লিশজন পুরুষ।

1083। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জুমুআহর সালাতের (নামাযের) ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা আমাদের পূর্ববর্তীদের পথভ্রষ্ট করেছেন। ইহূদীদের জন্য ছিল শনিবার এবং খ্রিস্টানদের জন্য রবিবার। কিয়ামতের দিন পর্যন্ত তারা হবে আমাদের পশ্চাঁদগামী। আমরা পৃথিবীর অধিবাসীদের মধ্যে সর্বশেষ আগমনকারী, কিন্তু সৃষ্টিকুলের বিচার অনুষ্ঠানের দিক থেকে হবো সর্বপ্রথম।

1084। আবূ লুবাবা ইবনু আবদুল মুনযির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জুমুআহর দিন হলো সপ্তাহের দিনসমূহের নেতা এবং তা আল্লাহ্‌র নিকট অধিক সম্মানিত। এ দিনটি আল্লাহ্‌র নিকট কুরবানীর দিন ও ঈদুল ফিতরের দিনের চেয়ে অধিক সম্মানিত। এ দিনে রয়েছে পাঁচটি বৈশিষ্ট্যঃ এ দিন আল্লাহ আদম (আলাইহিস সালাম) কে সৃষ্টি করেন, এ দিনই আল্লাহ তাঁকে পৃথিবীতে পাঠান এবং এ দিনই আল্লাহ তাঁর মৃত্যু দান করেন। এ দিনে এমন একটি মুহূর্ত আছে, কোন বান্দা তখন আল্লাহ্‌র নিকট কিছু প্রার্থনা করলে তিনি তাকে তা দান করেন, যদি না সে হারাম জিনিসের প্রার্থনা করে এবং এ দিনই ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) সংঘটিত হবে। নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতাগণ, আসমান-যমীন, বায়ু, পাহাড়-পর্বত ও সমুদ্র সবই জুমুআহর দিন শংকিত হয়।

1085। শাদ্দাদ ইবনু আওস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের সর্বোত্তম দিন হলো জুমুআহর দিন। এ দিন আদম (আলাইহিস সালাম) কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এ দিন শিঙ্গায় ফুঁ দেয়া হবে এবং তাতে বিকট শব্দ হবে। অতএব তোমরা এ দিন আমার উপর প্রচুর পরিমাণে দুরূদ পাঠ করো। তোমাদের দুরূদ অবশ্যই আমার নিকট পেশ করা হয়। এক ব্যক্তি বলেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! কিভাবে আমাদের দুরূদ আপনার নিকট পেশ করা হবে, অথচ আপনি তো অচিরেই মাটির সাথে একাকার হয়ে যাবেন? তিনি বলেনঃ আল্লাহ নবীগণের দেহ ভক্ষণ মাটির জন্য হারাম করেছেন।

1086। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এক জুমুআহ পরবর্তী জুমুআহ পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহসমূহের কাফফারা স্বরূপ, যদি না কবীরা গুনাহ করা হয়।

1087। আওস ইবনু আওস আস-সাকাফী (রাঃ) বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি জুমুআহর দিন (স্ত্রী সহবাসজনিত) গোসল করলো এবং নিজে গোসল করলো এবং সকাল সকাল যানবাহন ছাড়া পদব্রজে মসজিদে এসে ইমামের কাছাকাছি বসলো, মনোযোগ সহকারে প্রথম থেকে খুতবাহ শুনলো এবং অনর্থক কিছু করলো না, তার জন্য প্রতি কদমে এক বছরের সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) রাখ ও তার রাত জেগে সালাত (নামায/নামাজ) পড়ার সমান সওয়াব রয়েছে।

1088। ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মিম্বারের উপর বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি জুমুআহর সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে আসে সে যেন গোসল করে।

1089। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ জুমুআহর দিন প্রত্যেক বালেগ ব্যক্তির গোসল করা কর্তব্য।

1090। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি উত্তমরূপে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে জুমুআহর সালাত (নামায/নামাজ)এ এসে ইমামের নিকটবর্তী হয়ে বসলো এবং নীরবে মনোযোগ সহকারে খুতবাহ শুনলো, তার এক জুমুআহ থেকে পরবর্তী জুমুআহর মধ্যবর্তী সময়ের এবং আরও তিন দিনের গুনাহ ক্ষমা করা হয়। আর যে ব্যক্তি কংকর স্পর্শ করলো, সে অনর্থক কাজ করলো।

1091। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি জুমুআহর দিন উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলো, সে উত্তম কাজই করলো এবং ফরয আদায়ের জন্য তা তার পক্ষে যথেষ্ট। আর যে ব্যক্তি গোসল করে, তবে গোসলই অধিক উত্তম।

1092। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ জুমুআহর দিন হলে মসজিদের প্রতিটি দরজায় ফেরেশতাগণ অবস্থান করেন এবং লোকেদের আগমনের ক্রমানুসারে তাদের নাম লিখেন। যেমন প্রথম আগমনকারীর নাম প্রথমে। ইমাম যখন খুতবাহ দিতে বের হন, তখন তারা তাদের নথি গুটিয়ে নেন এবং মনোযোগ সহকারে খুতবাহ শোনেন। সালাত (নামায/নামাজ)এ প্রথম আগমনকারীর সাওয়াব একটি উট কুরবানীকারীর সমান, তারপরে আগমনকারীর সওয়াব একটি গরু কুরবানীকারীর সমান, তারপর আগমনকারীর সওয়াব একটি মেষ কুরবানীকারীর সমান, এমনকি তিনি মুরগী ও ডিমের কথা উল্লেখ করেন। সাহল ইবনু আবূ সাহলের রিওয়ায়তে আরো আছেঃ এরপর যে ব্যক্তি আসে, সে কেবল সালাত (নামায/নামাজ) পড়ার সওয়াব পায়।

1093। সামুরা ইবনু জুনদুব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমুআহর সালাত (নামায/নামাজ) এ সকাল সকাল আগমনের একটি উদাহরণ দেনঃ যেমন উট কুরবানীকারী, গরু কুরবানীকারী, বকরী কুরবানীকারী, এমনকি তিনি মুরগী পর্যন্ত উল্লেখ করেন।

1094। আলক্বামাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ (রহ )-এর সাথে জুমুআহর সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে বের হলাম। তিনি মসজিদে গিয়ে তিন ব্যক্তিকে দেখেন যে, তারা তার আগে এসেছে। তিনি বলেন, চারজনের মধ্যে (আমি) চতুর্থ। তবে চারজনের মধ্যে চতুর্থ ব্যক্তি খুব দূরে নয়। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছিঃ কিয়ামতের দিন লোকেরা আল্লাহ্‌র সামনে বসবে জুমুআহর সালাত (নামায/নামাজ) এ তাদের আগমনের ক্রমানুসারেঃ প্রথম আগন্তুক, দ্বিতীয় আগন্তুক, তৃতীয় আগন্তুক, চতুর্থ আগন্তুক এভাবে। তিনি বলেন, চারজনের চতুর্থ। আর চারজনের মধ্যে চতুর্থজন খুব দূরে নয়।

1095। আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি জুমুআহর দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মিম্বারের উপর বলতে শুনেছেনঃ তোমরা যদি তোমাদের কাজকর্মের পেশাকদ্বয় ছাড়া জুমুআহর দিনের জন্য আরো দুটি পরিধেয় বস্ত্র ক্রয় করতে। ১/১০৯৫ (১) আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, একজন শায়খ, আবদুল হামীদ ইবনু জাফার, মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াহ্ইয়া ইবনু হাব্বান, ইউসুফ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু সালাম, তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের উদ্দেশে ভাষণ দেন পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ।

1096। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমুআহর দিন লোকেদের উদ্দেশে ভাষণ দেন। তিনি তাদেরকে দৈনন্দিনের পোশাক পরিহিত দেখেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কী হলো যে, তোমাদের মধ্যে যার সামর্থ্য আছে সে কি তার কাজকর্মের পোশাকদ্বয় ছাড়া জুমুআহর সালাত (নামায/নামাজ) এর জন্য আরো একজোড়া পোশাক গ্রহণ করতে পারে না?

1097। আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি জুমুআহর দিন উত্তমরূপে গোসল করে, উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করে, তার উৎকৃষ্ট পোশাক পরিধান করে এবং আল্লাহ তার পরিবারের জন্য যে সুগন্ধির ব্যবস্থা করেছেন, তা শরীরে লাগায়, এরপর জুমুআহর সালাত (নামায/নামাজ)এ এসে অনর্থক আচরণ না করে এবং দুজনের মাঝে ফাঁক করে অগ্রসর না হয়, তার এক জুমুআহ থেকে পরবর্তী জুমুআহর মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহসমূহ ক্ষমা করা হয়।

1098। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয় আল্লাহ এই দিনকে মুসলিমদের ঈদের দিনরূপে নির্ধারণ করেছেন। অতএব যে ব্যক্তি জুমুআহর সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে আসবে সে যেন গোসল করে এবং সুগন্ধি থাকলে তা শরীরে লাগায়। আর মিসওয়াক করাও তোমাদের কর্তব্য।

1099। সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা জুমুআহর সালাত (নামায/নামাজ) পড়ার পরেই দুপুরের আহার করতাম এবং বিশ্রাম নিতাম।

1100। সালামাহ ইবনুল আকওয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে জুমুআহর সালাত (নামায/নামাজ) পড়ে ফেরার সময় দেয়ালের এতটুকু ছায়াও দেখতাম না যার ছায়া আমরা গ্রহণ করতে পারি।

1101। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মুয়াজ্জ্বীন আম্মার ইবনু সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সময়ে সূর্য পশ্চিমাকাশে জুতার ফিতার ন্যায় ঢলে পড়ার পর আযান দিতেন।

1102। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা জুমুআহর সালাত (নামায/নামাজ) পড়ে ফিরে আসার পর দুপুরের বিশ্রাম করতাম।

1103। ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (জুমুআহর সালাত (নামায/নামাজ) এর) দুটি খুতবাহ দিতেন এবং দু খুতবাহর মাঝখানে কিছুক্ষণ বসতেন। বিশর (রহঃ)-এর বর্ণনায় আরো আছেঃ তিনি দাঁড়িয়ে খুতবাহ দিতেন।

1104। আমর ইবনু হুরাইস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে কালো পাগড়ি পরিহিত অবস্থায় মিম্বারে দাঁড়িয়ে খুতবা দিতে দেখেছি।

1105। জাবির ইবনু সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে খুতবাহ দিতেন। তবে তিনি একবার কিছুক্ষণ বসতেন, অতঃপর (দ্বিতীয় খুতবাহ দিতে) দাঁড়াতেন।

1106। জাবির ইবনু সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে খুতবাহ দিতেন, তারপর (প্রথম খুতবাহ শেষে) বসতেন, অতঃপর দাঁড়িয়ে কুরআনের আয়াত পড়তেন এবং আল্লাহ্‌র যিকির করতেন। তাঁর খুতবাহ ও সালাত (নামায/নামাজ) দুটোই ছিল নাতিদীর্ঘ।

1107। সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুদ্ধক্ষেত্রে খুতবাহ দিলে ধনুকে ভর করে খুতবাহ দিতেন এবং জুমুআহর খুতবাহ দিলে লাঠিতে ভর দিয়ে খুতবাহ দিতেন।

1108। আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি দাঁড়িয়ে খুতবাহ দিতেন, না বসে? তিনি বলেন, তুমি কি এ আয়াত পাঠ করোনি: এবং তারা তোমাকে রেখে গেল দাঁড়ানো অবস্থায় (সূরাহ জুমুআহ: ১১)?

1109। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারে উঠে সালাম দিতেন।

1110। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ জুমুআহর দিন ইমামের খুতবাহ দানকালে যখন তুমি তোমার সাথীকে বললে, চুপ করো তখন তুমি অনর্থক কাজ করলে।

1111। উবাই ইবনু কাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমুআহর সালাত (নামায/নামাজ) এ (খুতবাহ দিতে) দাঁড়িয়ে সূরাহ তাবারাকা (মুলক) পাঠ করেন এবং আমাদের উদ্দেশে আল্লাহ্‌র দিনসমূহের ইতিহাস বর্ণনা করেন। আবূ দারদা অথবা আবূ যার(রাঃ) আমাকে খোঁচা মেরে বলেন, সূরাটি কখন নাযিল হয়েছে? আমি তো তা এখনই শুনলাম। তিনি তার দিকে ইশারা করে বলেন, চুপ করুন। সাহাবীরা চলে গেলে তিনি বলেন, আমি আপনাকে জিজ্ঞেস করলাম সূরাটি কখন নাযিল হয়েছে, অথচ আপনি আমাকে তা অবহিত করেননি? উবাই(রাঃ) বলেন, আজকে আপনার সালাত (নামায/নামাজ) হয়নি, অনর্থক কাজই হয়েছে। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে বিষয়টি তাঁকে বর্ণনা করেন এবং উবাই যা বলেছেন, তাঁকে তাও অবহিত করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ উবাই ঠিকই বলেছে।

1112। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খুতবাহ দানকালে সুলাইক আল-গাতাফানী মসজিদে প্রবেশ করেন। তিনি বলেনঃ তুমি কি সালাত (নামায/নামাজ) পড়েছ? সে বললো, না। তিনি বলেনঃ তুমি দু রাকআত পড়ে নাও। রাবী আমর ইবনু দ্বীনারের বর্ণনায় সুলাইক (রাঃ) এর নাম উল্লেখিত হয়নি।

1113। আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর খুতবাহ দানকালে এক ব্যক্তি এসে উপস্থিত হলো। তিনি বলেনঃ তুমি কি সালাত (নামায/নামাজ) পড়েছ? সে বললো, না। তিনি বলেনঃ তুমি দু রাকআত পড়ে নাও।

1114। আবূ হুরাইরাহ ও জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তারা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খুতবারত অবস্থায় সুলাইক আল-গাতাফানী এলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেনঃ তুমি কি এখানে আসার পূর্বে দু রাকআত পড়েছ? সে বললো, না। তিনি বলেনঃ তুমি সংক্ষেপে দু রাকআত পড়ে নাও।

1115। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। জুমুআহর দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর খুতবারত অবস্থায় এক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করলো। সে লোকের ঘাড় ডিঙ্গিয়ে সামনের দিকে যাচ্ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তুমি বসো, তুমি (অন্যকে) কষ্ট দিয়েছ এবং অনর্থক কাজ করেছ।

1116। মুআয ইবনু আনাস (রহ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জুমুআহর দিন লোকের ঘাড় ডিঙ্গিয়ে সামনে অগ্রসর হয়েছে, (কিয়ামতের দিন) তাকে জাহান্নামের পুল বানানো হবে।

1117। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমুআহর দিন মিম্বার থেকে নেমে প্রয়োজনীয় কথা বলতেন।

1118। উবাঈদুল্লাহ ইবনু আবূ রাফি (রহ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মারওয়ান ইবনুল হাকাম আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) কে মদিনা্য় তার স্থলাভিষিক্ত করে মক্কা্য় যান। আবূ হুরাইরাহ আমাদের নিয়ে জুমুআহর দিন সালাত (নামায/নামাজ) পড়লেন। তিনি প্রথম রাকআতে সূরাহ জুমুআহ এবং দ্বিতীয় রাকআতে সূরাহ ইযা জাআকাল মুনাফিকূন পড়েন। উবাঈদুল্লাহ্ (রহ ) বলেন, আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সালাত থেকে অবসর হলে আমি তাকে বললাম, আপনি এমন দুটি সূরাহ পড়লেন, যা আলী (রাঃ) কূফায় পড়েছিলেন। আবূ হুরাইরাহ বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এ দুটি সূরাহ পড়তে শুনেছি।

1119। উবাইদুল্লাহ ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, দাহ্হাক ইবনু কায়েস (রহ ) নোমান ইবনু বাশীর (রাঃ) কে লিখে পাঠান যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমুআহর সালাত (নামায/নামাজ) এ সূরাহ জুমুআহর সাথে আর কোন্ সূরাহ পড়তেন তা আপনি আমাদের অবহিত করুন। তিনি বলেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হাল আতাকা হাদীসুল গাশিয়াহ সূরাহ পড়তেন।

1120। আবূ ইনাবা আল-খাওলানী থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমুআহর সালাত (নামায/নামাজ) এ সাব্বিহ ইসমা রব্বিকাল আলা সূরাহ এবং হাল আতাকা হাদীসুল গাশিয়াহ সূরাহ পড়তেন।

1121। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি জুমুআহর সালাত (নামায/নামাজ)এর এক রাকআত পেলো, সে যেন তার সাথে আরো এক রাকআত মিলায় (পড়ে)।

1122। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সালাতের এক রাকআত পেলো, সে সালাত (নামায/নামাজ) পেয়ে গেলো।

1123। ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জুমুআহর সালাতের বা অন্য সালাতের এক রাকআত পেলো, সে (পূর্ণ) সালাত (নামায/নামাজ) পেয়ে গেলো।

1124। ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কুবাবাসীগণ জুমুআহর দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে জুমুআহর সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতো।

1125। আবূল জাদ আদ-দমরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি সাহাবী ছিলেন। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি অবহেলা করে একাধারে তিন জুমুআহ্ ত্যাগ করলো, তার অন্তরে মোহর মেরে দেয়া হয়।

1126। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি অপ্রয়োজনে পরপর তিন জুমুআহ ত্যাগ করলো, আল্লাহ তার অন্তরে মোহর মেরে দেন।

1127। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শোন! তোমাদের কেউ বকরী চরাবার জন্য এক বা দু মইল দূরে চলে গেল, অতঃপর সেখানে ঘাস না পেয়ে আরও দূরে চলে গেল, তারপর জুমুআহর দিন এলো, কিন্তু সে এসে জুমুআহর সালাত (নামায/নামাজ) এ উপস্থিত হলো না। তারপর আরেক জুমুআহ এলো এবং সে তাতেও হাযির হলো না, তারপর আরেক জুমুআহ এলো এবং সে তাতেও হাযির হলো না, শেষে তার অন্তরে মোহর মেরে দেয়া হয়।

1128। সামুরা ইবনু জুনদুব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় জুমুআহর সালাত (নামায/নামাজ) ত্যাগ করলো, সে যেন এক দ্বীনার দান-খয়রাত করে। যদি সে তা না পায়, তাহলে যেন অর্ধ দ্বীনার দান-খয়রাত করে।

1129। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমুআহর (ফরয) সালাতের পূর্বে চার রাকআত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে এবং তাতে মাঝখানে সালাম ফিরাতেন না।

1130। আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি জুমুআহর (ফরয) সালাত (নামায/নামাজ) পড়ার পর তার ঘরে এসে দু রাকআত সালাত আদায় করতেন। অতঃপর তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাই করতেন।

1131। সালিম (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমুআহর (ফরয) সালাত (নামায/নামাজ) পড়ার পর দু রাকআত সালাত আদায় করতেন।

1132। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা জুমুআহর (ফরয) সালাতের পর আরো সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে চাইলে চার রাকআত (সুন্নাত) পড়বে।

1133। আবদুল্লাহ বিন আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমুআহর দিন (ফরয) সালাত (নামায/নামাজ) পড়ার পূর্বে মসজিদে গোলাকার হয়ে বসতে নিষেধ করেছেন।

1134। আমর ইবনু শুআইব (রহ) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, জুমুআহর দিন ইমামের খুতবাহ দানকালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিতম্বের উপর বসতে নিষেধ করেছেন।

1135। সাইব ইবনু ইয়াযীদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাত্র একজন মুয়াযযিন ছিল। তিনি যখন (খুতবাহ দিতে) বের হতেন, তখন সে আযান দিতো এবং তিনি যখন (মিম্বার থেকে) নামতেন, তখন সে ইকামত দিতো। আবূ বাকর ও উমার (রাঃ) এর আমলেও এ নিয়মই চালু থাকে। উসমান (রাঃ) এর আমলে মুসলিমদের সংখ্যা বেড়ে গেলে তিনি বাজারে অবস্থিত আয-যাওরা নামক স্থান থেকে তৃতীয় আযান দেয়ার ব্যবস্থা করেন। অতঃপর তিনি যখন বের হতেন, তখন মুয়াযযিন আযান দিতো এবং তিনি মিম্বার থেকে নামলে সে ইকামত দিতো।

1136। সাবিত (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (খুতবাহ দেয়ার জন্য) মিম্বারে উঠে দাঁড়ালে তাঁর সাহাবীগণ তাঁর দিকে তাদের মুখ ঘুরিয়ে বসতেন।

1137। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জুমুআহর দিন একটি বিশেষ মুহূর্ত আছে, কোন মুসলিম বান্দা সেই মুহূর্তে সালাত (নামায/নামাজ)-রত অবস্থায় আল্লাহ্‌র নিকট কল্যাণ প্রার্থনা করলে নিশ্চয়ই তিনি তাকে তা দান করেন। তিনি হাতের ইশারায় বলেন যে, সেই মুহূর্তটি খুবই সীমিত।

1138। আমর ইবনু আওফ আল-মুযানী (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ জুমুআহর দিন এমন একটি মুহূর্ত আছে, যখন কোন বান্দাহ আল্লাহ্‌র কাছে কিছু প্রার্থনা করলে তিনি তার প্রার্থিত বস্তু তাকে দান করেন। জিজ্ঞেস করা হলোঃ কোন্ মুহূর্ত? তিনি বলেনঃ সালাত (নামায/নামাজ) শুরু হওয়ার মুহূর্ত থেকে তা শেষ হওয়া পর্যন্ত সময়ের মধ্যে (সেই মুহূর্তটি)।

1139। আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বসে থাকা অবস্থায় আমি বললাম, আমরা আল্লাহ্‌র কিতাবে জুমুআহর দিনের এমন একটি মুহূর্ত সম্পর্কে উল্লেখ পেয়েছি যে, সেই মুহূর্তে কোন মুমিন বান্দা সালাতরত অবস্থায় আল্লাহ্‌র নিকট কিছু প্রার্থনা করলে, তিনি তার প্রয়োজন পূরণ করেন। আবদুল্লাহ বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার দিকে ইশারা করে বললেনঃ এক ঘণ্টার সামান্য সময় মাত্র। আমি বললাম, আপনি যথার্থই বলেছেন, এক ঘণ্টার সামান্য সময়ই। আমি বললাম, সেটি কোন মুহূর্ত? তিনি বলেনঃ সেটি হলো দিনের শেষ মুহূর্ত। আমি বললাম, তা সালাতের সময় নয়? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ। মুমিন বান্দা এক সালাত (নামায/নামাজ) শেষ করে বসে বসে অন্য সালাতের প্রতীক্ষায় থাকলে সে সালাতের মধ্যেই থাকে।

1140। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি নিয়মিত বারো রাকআত সুন্নাত সালাত (নামায/নামাজ) পড়বে, তার জন্য জান্নাতে একটি প্রাসা’দ নির্মাণ করা হবে। যোহরের (ফরজের) আগে চার রাকআত ও (ফরজের) পরে দু রাকআত, মাগরিবের (ফরজের) পরে দু রাকআত, এশার (ফরজের) পরে দু রাকআত এবং ফজরের (ফরযের) পূর্বে দু রাকআত।

1141। আবূ সুফ্ইয়ান কন্যা উম্মু হাবীবা থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি দিনে বারো রাকআত (সুন্নাত) সালাত (নামায/নামাজ) পড়লো, তার জন্য জান্নাতে একটি প্রাসা’দ নির্মাণ করা হয়।

1142। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি দৈনিক বারো রাকআত (সুন্নাত) সালাত (নামায/নামাজ) পড়লো, তার জন্য জান্নাতে একটি প্রাসা’দ নির্মাণ করা হয়। ফজরের (ফরযের) পূর্বে দু রাকআত, যোহরের (ফরজের) পূর্বে দু রাকআত এবং পরে দু রাকআত। রাবী বলেন আমার ধারণা মতে তিনি বলেছেনঃ আসরের (ফরযের) পূর্বে দু রাকআত, মাগরিবের (ফরযের) পরে দু রাকআত এবং আমার ধারণা মতে তিনি বলেছেনঃ এশার (ফরযের) পরে দু রাকআত।

1143। ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুবহে সাদেক স্পষ্টভাবে প্রতিভাত হওয়ার পর দু রাকআত সুন্নাত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন।

1144। ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের আযান শোনামাত্র দু রাকআত সুন্নাত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন।

1145। উমার (রাঃ) এর কন্যা হাফসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাতের আযান হওয়ার পরে এবং ফজর সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে যাওয়ার পূর্বে হালকাভাবে (স্বল্প সময়ে) দু রাকআত সুন্নাত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন।

1146। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উযূ (ওজু/অজু/অযু) করার পর দু রাকআত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন, তারপর (ফারয) সালাত পড়ার জন্য চলে যেতেন।

1147। আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইকামতের কাছাকাছি সময় দু রাকআত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন।

1148। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের ফারয্ সালাত (নামায/নামাজ) এর পূর্বেই দু রাকআত সুন্নাত সালাতে সূরাহ কাফিরূন ও সূরাহ ইখলাস পড়তেন।

1149। ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে একমাস যাবত ফজরের ফারয্ সালাত (নামায/নামাজ) এর পূর্বেকার দু রাকআত সুন্নাত সালাতে সূরাহ কাফিরূন ও সূরাহ ইখলাস তিলাওয়াত করতে দেখেছি (শুনেছি)।

1150। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের (ফরযের) পূর্বে দু রাকআত সুন্নাত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন। তিনি বলতেনঃ এ দু রাকআত সালাতে কাফিরূন ও সূরাহ ইখলাস পড়া কতই না উত্তম

1151। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যখন ইকামত দেয়া হয়, তখন ফরয সালাত (নামায/নামাজ) ছাড়া অন্য কোন সালাত (নামায/নামাজ) পড়া যাবে না। ১/১১৫১ (১) মাহমূদ ইবনু গাইলান, ইয়াযীদ ইবনু হারূন, হাম্মাদ ইবনু যায়দ, আইউব, আমর ইবনু দ্বীনার, আতা ইবনু ইয়াসার, আবূ হুরাইরাহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত আছে।

1152। আবদুল্লাহ ইবনু সারজিস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ফজরের) ফরয সালাত (নামায/নামাজ) আদায়রত অবস্থায় এক ব্যক্তিকে ফজরের সালাতের পূর্বে দু রাকআত সালাত আদায় করতে দেখেন। তিনি সালাত শেষে তাকে বলেনঃ তোমার দু সালাতের কোনটি হিসাব করলে?

1153। আবদুল্লাহ ইবনু মালিক ইবনু বুহাইনা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত (নামায/নামাজ)রত এক ব্যক্তিকে অতিক্রম করে যাচ্ছিলেন। তখন ফজরের সালাতের ইকামত হয়ে গেছে। তিনি তাকে কী যেন বললেন যা আমি বুঝে উঠতে পারিনি। সে সালাত (নামায/নামাজ) শেষ করলে আমরা তাকে ঘিরে ধরে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাকে কী বলেছেন? লোকটি বললো, তিনি আমাকে বললেনঃ অচিরেই তোমাদের কেউ ফজরে চার রাকআত (ফরয) সহীহ্ পড়বে।

1154। কায়স ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে ফজরের সালাতের পর দু রাকআত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে দেখে বলেনঃ ফজরের সালাত কি দুবার? লোকটি তাঁকে বললো, আমি ফজরের পূর্বের দু রাকআত পড়তে পারিনি, সেই দু রাকআত পড়লাম। রাবী বলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নীরব থাকলেন।

1155। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের দু রাকআত সুন্নাত না পড়ে ঘুমিয়ে রইলেন। তিনি সূর্যোদয়ের পর তা পড়লেন।

1156। কাবূস (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে আয়িশাহ (রাঃ) এর নিকট জানতে পাঠান যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন্ সালাত (নামায/নামাজ) নিরবচ্ছিন্নভাবে পড়তে পছন্দ করতেন? তিনি বলেন, তিনি যোহরের পূর্বে চার রাকআত সালাত দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে পড়তেন এবং তার রুকূ-সিজদাসমূহ উত্তমরূপে আদায় করতেন।

1157। আবূ আইউব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্য ঢলে গেলে যোহরের (ফরযের) পূর্বে এক সালামে চার রাকআত (সুন্নাত) সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন। তার মাঝে সালাম দিয়ে পার্থক্য করতেন না তিনি বলতেনঃ সূর্য ঢলে গেলে অসমানের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়।

1158। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যোহরের চার রাকআত সুন্নাত ছুটে গেলে, তিনি তা যোহরের দু রাকআত সুন্নাতের পর পড়তেন।

1159। আবদুল্লাহ ইবনুল হারিস (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুয়াবিয়া এক ব্যক্তিকে উম্মু সালামাহ -এর নিকট পাঠালেন। আমিও এই ব্যক্তির সাথে গেলাম। তিনি উম্মু সালামাহ (রাঃ) কে (যোহরের দু রাকআত সুন্নাত সম্পর্কে) জিজ্ঞেস করেন। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘরে যোহরের সালাতের উযূ (ওজু/অজু/অযু) করছিলেন। তিনি এক ব্যক্তিকে যাকাত আদায় করার জন্য পাঠিয়েছিলেন। তার কাছে বহু সংখ্যক মুহাজির উপস্থিত হন। তাদের অবস্থা তাঁকে চিন্তান্বিত করেছিল। হঠাৎ ঘরের দরজায় আঘাত করা হলো। তিনি বেরিয়ে গেলেন এবং যোহরের সালাত (নামায/নামাজ) পড়লেন। অতঃপর তিনি বসে আগত মাল বণ্টন করতে লাগলেন। রাবী বলেন, এ অবস্থায় আসরের সালাতের ওয়াক্ত হয়ে গেল। অতঃপর তিনি আমার ঘরে প্রবেশ করে দু রাকআত সালাত পড়লেন, অতঃপর বললেনঃ যাকাত আদায়কারীর বিষয় আমাকে ব্যতিব্যস্ত রেখেছে যোহরের পরের দু রাকআত পড়া থেকে। আসরের পর সেই দু রাকআত পড়লাম।

1160। উম্মু হাবীবা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি যোহরের (ফরযের) আগে চার রাকআত এবং পরে চার রাকআত সালাত (নামায/নামাজ) পড়লো, আল্লাহ তার জন্য জাহান্নাম হারাম করে দেন।

1161। আসেম ইবনু দমরা আস-সালূলী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আলী (রাঃ) কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর দিনের বেলার নফল সালাত (নামায/নামাজ) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলেন, তোমরা তা করতে সমর্থ নও। আমরা বললাম, আপনি আমাদের সেই সম্পর্কে অবহিত করুন, আমরা তা থেকে আমাদের সাধ্যমত গ্রহণ করবো। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাত পড়ার পর কিছুক্ষণ অবসর থাকতেন। অবশেষে সূর্য আসরের সময় পশ্চিমাকাশে যত উপরে থাকে, পূর্বাকাশে ঠিক ততটা উপরে উঠলে তিনি দু রাকআত সালাত আদায় করতো, অতঃপর অবসর থাকতেন। অবশেষে পশ্চিম আকাশে সূর্য যতটা উপরে থাকলে যোহরের সালাতের ওয়াক্ত থাকে, পূর্বাকাশে সূর্য ঠিক ততখানি উপরে উঠলে তিনি চার রাকআত সালাত আদায় করতো। সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়ার পর তিনি যোহরের (ফরয) সালাতের পূর্বে চার রাকআত এবং পরে দু রাকআত পড়তেন। তিনি আসরের পূর্বেও দু সালাম চার রাকআত সালাত আদায় করতো এবং তার মাঝখানে নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতাগণ, আম্বিয়া (আলাইহিস সালাম) এবং তাদের অনুগত মুমিন মুসলিমদের জন্য শান্তি ও স্বস্তি কামনা করতেন (তাশাহ্হুদ পড়তেন)। আলী বলেন, এই হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দিনের বেলার ষোল রাকআত নফল সালাত। খুব কম লোকই তার উপর স্থায়ীভাবে আমল করতে পারে। ওয়াকী (রহঃ) বলেন, আমার পিতা এতে আরো বলেছেন, হাবীব ইবনু আবূ সাবিত (রহ) বলেছেন, হে আবূ ইসহাক! আপনার এই হাদীসের পরিবর্তে এই মসজিদে ভর্তি সোনা আমার মালিকানাভুক্ত হলে তাও আমার প্রিয় হতো না।

1162। আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ্‌র নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বরেছেনঃ প্রতি দু আযানের মধ্যবর্তী সময়ে একটা সালাত (নামায/নামাজ) আছে। তিনি এই কথা তিনবার বলেন এবং তৃতীয়বারে বলেনঃ তবে যে চায় তার জন্য।

1163। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যমানায় মুয়াজ্জ্বীন (মাগরিবের) আযান দিলে মনে হতো তা যেন ইকামত। কারণ প্রচুর সংখ্যক লোক দাঁড়িয়ে মাগরিবের আগে দু রাকআত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতো।

1164। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাগরিবের (ফরয) সালাত (নামায/নামাজ) পড়ার পর আমার ঘরে ফিরে এসে দু রাকআত সুন্নাত সালাত আদায় করতো।

1165। রাফি ইবনু খাদীজ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের আবদুল আশহাল গোত্রে আসলেন এবং আমাদেরসহ আমাদের মসজিদে মাগরিবের সালাত (নামায/নামাজ) পড়লেন। অতঃপর তিনি বলেনঃ তোমরা এই দু রাকআত তোমাদের বাড়িতে গিয়ে পড়বে।

1166। আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাগরিবের (ফরয) সালাতের পরের দু রাকআতে সূরাহ কাফিরূন ও সূরাহ ইখলাস পড়তেন।

1167। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি মাগরিবের সালাতের পর ছয় রাকআত নফল সালাত (নামায/নামাজ) পড়লো এবং তার মাঝখানে কোন মন্দ কথা বলেনি, তাকে বারো বছরের ইবাদাতের সম-পরিমাণ সওয়াব দান করা হলো।

1168। খারিজা ইবনু হুজাফা আল-আদাবী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট বের হয়ে এসে বলেনঃ নিশ্চয় আল্লাহ একটি সালাত (নামায/নামাজ) দ্বারা তোমাদের সাহায্য করছেন। এটা তোমাদের জন্য অনেক লাল উটের চেয়েও উত্তম। তা হলো বিতরের সালাত। আল্লাহ তোমাদের জন্য এটা এশা ও ফজরের মধ্যবর্তী সময়ে পড়ার জন্য নির্ধারণ করেছেন।

1169। আসেম ইবনু দমরা আস-সালূলী (রহ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) বলেছেন, নিশ্চয় বিতর বাধ্যতামূলক সালাত (নামায/নামাজ) নয় এবং তোমাদের ফরয সালাতের সম-পর্যায়ভুক্তও নয়। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেছেন, অতঃপর বলেছেনঃ হে আহলে কুরআন! তোমরা বিতরের সালাত পড়ো। নিশ্চয় আল্লাহ বিতর (বেজোড়), তিনি বিতরকে ভালবাসেন।

1170। আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহ বেজোড়, তিনি বেজোড় ভালোবাসেন। হে কুরআনের বাহকগণ! তোমরা বিতর সালাত (নামায/নামাজ) পড়ো। এক বেদুঈন বললো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি বললেন? রাবী বলেন, (তা) তোমার জন্য নয় এবং তোমার সাথীদের জন্যও নয়।

1171। উবাই ইবনু কাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতরের সালাতে সূরাহ আলা, সূরাহ কাফিরূন ও সূরাহ ইখলাস পড়তেন।

1172। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতরের সালাতে সূরাহ আলা, সূরাহ কাফিরূন ও সূরাহ ইখলাস পড়তেন। ২/১১৭২(১) আহমাদ ইবনু মানসূর, আবূ বাকর, শাবাবাহ, ইউনুস ইবনু ইসহাক, তার পিতা, সাঈদ ইবনু জুবায়র, ইবনু আব্বাস (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

1173। আবদুল আযীয ইবনু জুরাইজ (রহ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আয়িশাহ (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতরের সালাতে কি (সূরা) পড়তেন? তিনি বলেন, তিনি প্রথম রাকাতে সূরাহ আলা, দ্বিতীয় রাকআতে সূরাহ কাফিরূন, তৃতীয় রাকআতে সূরাহ ইখলাস ও মুআব্বিযাতাইন (সূরাহ ফালাক ও নাস) পড়তেন।

1174। ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের সালাত (নামায/নামাজ) দু দু রাকআত করে পড়তেন এবং এক রাকআত বিতর পড়তেন।

1175। ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রাতের সালাত (নামায/নামাজ) দু দু রাকআত করে এবং বিতর সালাত (নামায/নামাজ) এক রাকআত। (রাবী বলেন) আমিম বললাম, আপনার কি মত, যদি আমার চোখকে (ঘুম) পরাভূত করে এবং আমি ঘুমিয়ে যাই? তিনি বলেনঃ তুমি এই তারকার দিকে লক্ষ্য করো। তখন আমি মাথা তুলে সিমাক (মৎস) তারকা দেখতে পেলাম। এরপর তিনি হাদীস বর্ণনা প্রসঙ্গে বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রাতের সালাত দু দু রাকআত করে এবং সুবহে সা’দিকের পূর্বে বিতর সালাত এক রাকআত পড়বে।

1176। মুত্তালিব ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি ইবনু উমার (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করলো, আমি কিভাবে বিতর পড়বো? তিনি বলেন, তুমি এক রাকআত বিতর পড়বে। সে বললো, আমি আশংকা করি যে, লোকেরা আমাকে শিকড় কাটা বলবে। তিনি বলেন, আল্লাহ্‌র সুন্নাত ও তাঁর রাসূলেও। তিনি মনে করেন, এটাই আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সুন্নাত।

1177। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি দু রাকআতে সালাম ফিরাতেন এবং বিতর এক রাকআত পড়তেন।

1178। হাসান ইবনু আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার নানা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বিতর সালাতের কুনূতে পড়ার জন্য কতগুলো বাক্য শিক্ষা দিয়েছেঃ ‘‘আল্লাহুম্মাহদিনী ফীমান হাদাইতা ওয়া‘আ-ফিনী ফীমান ‘আ-ফাইতা ওয়া তাওয়াল্লানী ফীমান তাওয়াল্লাইতা ওয়া বা-রিক লী ফীমা আ‘তাইতা ওয়াক্বিনী শাররা মা ক্বাদাইতা, ইন্নাকা তাক্বদী ওয়ালা ইউকদা ‘আলাইকা ওয়া ইন্নাহু লা ইয়াযিল্লু মান ওয়ালাইতা ওয়ালা ইয়াইয্যু মান ‘আ-দাইতা তাবা-রাকতা রববানা ওয়া তা‘আলাইতা।’’ হে আল্লাহ্! যাদের প্রতি তুমি উদারতা প্রদর্শন করেছো, তাদের সাথে আমাকেও উদারতা প্রদর্শন করো, যাদের তুমি অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেছো, তাদের সাথে আমারও অভিভাবকত্ব গ্রহণ করো, যাদের তুমি হিদায়াত দান করেছো তাদের সাথে আমাকেও হিদায়াত দান করো। তোমার নির্ধারিত অকল্যাণ থেকে আমাকে রক্ষা করো। তুমি আমাকে যা দান করেছো তাতে বরকত দাও। কেবল তুমিই নির্দেশ দিতে পারো, তোমার উপর কারো নির্দেশ চলে না। তুমি যার পৃষ্ঠপোষকতা দাও, সে কখনও অপমানিত হয় না। হে আমাদের রব! তুমি পবিত্র, কল্যাণময় ও সুউচ্চ।

1179। আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিত্রের সালাতের শেষে বলতেনঃ للَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِرِضَاكَ مِنْ سُخْطِكَ وَأَعُوذُ بِمُعَافَاتِكَ مِنْ عُقُوبَتِكَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْكَ لاَ أُحْصِي ثَنَاءً عَلَيْكَ أَنْتَ كَمَا أَثْنَيْتَ عَلَى نَفْسِكَ হে আল্লাহ্! আমি আপনার সন্তুষ্টির উসীলায় আপনার অসন্তুষ্টি থেকে আশ্রয় চাই, আপনার ক্ষমার উসীলায় আপনার শাস্তি থেকে আশ্রয় চাই, আপনার সৌন্দর্যময় গুণাবলীর উসীলায় আপনার মহিমাময় গুণাবলী থেকে আশ্রয় পাই, আমি আপনার প্রশংসা গণনা করে শেষ করতে পারি না, আপনি আপনার প্রশংসারই অনুরূপ।

1180। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসতিসকার সালাত (নামায/নামাজ) ব্যতীত তাঁর অন্য কোন দুআয় তাঁর দুহাত উঠাতেন না (হাত তুলে মোনাজত করতেন না)। তিনি ইসতিসকার সালাতে এতটা উপরে হাত উঠাতেন যে, তাঁর উভয় বগলের শুভ্রতা দৃষ্টিগোচর হতো।

1181। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তুমি আল্লাহ্‌র নিকট দুআ করলে তোমার দু হাতের তালু উপরে তুলে দুআ করবে, তার পিঠ তুলে দুআ করবে না এবং দুআ শেষে উভয় হাত তোমার মুখমন্ডলে মাসহ(মাসেহ) করবে।

1182। উবাই ইবনু কাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতো এবং রুকূর আগে দুআ কুনূত পড়তেন।

1183। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফজরের সালাতে দুআ কুনূত পাঠ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো। তিনি বলেন, আমরা (কখনো) রুকূর আগে বা (কখনো) রুকূর পরে দুআ কুনূত পড়তাম।

1184। মুহাম্মাদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) কে দুআ কুনূত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকূর পরে দুআ কুনূত পড়েছেন।

1185। মাসরূক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ (রাঃ) কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিতরের সালাত (নামায/নামাজ) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলেন, তিনি প্রতি রাতেই বিতর সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতো, কখনো রাতের প্রথম ভাগে, কখনো রাতের মধ্যভাগে, কখনো শেষভাগে। ইন্তেকালের পূর্বে তিনি রাতের শেষভাগ পর্যন্ত তা বিলম্বিত করতেন।

1186। আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতির রাতে বিতর সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতো, কখনো রাতের প্রথমভাগে, কখনো মধ্যভাগে এবং কখনো শেষভাগে তাঁর বিতর পড়তেন।

1187। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের মধ্যে কেউ শেষরাতে জাগতে পারবে না বলে আশংকা করলে সে যেন রাতের প্রথমভাগেই বিতর পড়ে নেয়, অতঃপর ঘুমায়। আর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি রাতের শেষভাগে সালাত (নামায/নামাজ) পড়ার আশা করে সে যেন শেষরাতে বিতর পড়ে। কেননা শেষ রাতের কিরাআত (শুনার জন্য ফেরেশতাদের) উপস্থিতির সময়। তাই তা অধিক উত্তম।

1188। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি বিতর সালাত (নামায/নামাজ) না পড়ে ঘুমিয়ে গেলো বা তা পড়তে ভুলে গেলো, সে যেন ভোরবেলা অথবা যখন তার স্মরণ হয় তখন তা পড়ে নেয়।

1189। আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা ভোরে উপনীত হওয়ার আগেই বিতর সালাত (নামায/নামাজ) পড়ো। মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াহ্ইয়া (রহ ) বলেন, এই হাদীস প্রমাণ করে যে, আবদুর রহমানের রিওয়ায়াত (১১৮৮) দুর্বল বিধায় আমলযোগ্য নয়।

1190। আবূ আইউব আল-আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ বিতর সালাত (নামায/নামাজ) সত্য। অতএব কেউ চাইলে তা পাঁচ রাকআতও পড়তে পারে, তিন রাকআতও পড়তে পারে এবং এক রাকআতও পড়তে পারে।

1191। সা’দ ইবনু হিশাম (রহ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম, হে মুমিনগণের মাতা! আপনি আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর বিতর সালাত (নামায/নামাজ) সম্পর্কে ফতোয়া দিন। তিনি বলেন, আমরা তাঁর জন্য মিসওয়াক ও উযূ (ওজু/অজু/অযু)র পানি প্রস্তুত রাখতাম। আল্লাহ যখন চাইতেন তখন তাঁকে রাতের ঘুম থেকে জাগিয়ে দিতেন। তিনি উঠে মিসওয়াক করতেন ও উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতেন, অতঃপর নয় রাকআত সালাত আদায় করতো। তাতে তিনি কেবল অষ্টম রাকআতেই বসতেন এবং তাঁর প্রতিপালকের নিকট দুআ করতেন, আল্লাহ্‌র যিকির করতেন, তাঁর প্রশংসা করতেন এবং তাঁকে ডাকতেন, অতঃপর বসতেন এবং আল্লাহ্‌র যিকির করতেন, তাঁর প্রশংসা করতেন, তাঁর প্রভুর নিকট দুআ করতেন এবং তার নবীর উপর দুরূদ পড়তেন, অতঃপর আমাদের শুনিয়ে সালাম ফিরাতেন। সালাম ফিরানোর পর তিনি বসা অবস্থায় দু রাকআত সালাত আদায় করতো। এভাবে এগার রাকআত সালাত হতো। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বয়স বেড়ে গেলে এবং তার শরীর ভারী হয়ে গেলে তিনি সাত রাকআত বিতর পড়তেন এবং সালাম ফিরানোর পর দু রাকআত সালাত আদায় করতো।

1192। উম্মু সালামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাত বা পাঁচ রাকআত বিতর সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতো এবং এর মাঝখানে সালাম ফিরাতেন না, কথাও বলতেন না।

1193। আবদুল্লাহ বিন উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরে দু রাকআত (ফরয) সালাত আদায় করতো, তার চেয়ে বেশি পড়তেন না। আর তিনি তাহাজ্জুদ সালাতও পড়তেন। আমি বললাম, তিনি কি বিতর সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতো? তিনি বলেন, হ্যাঁ।

1194। ইবনু আব্বাস ও ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তারা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরে দু রাকআত সালাত (নামায/নামাজ) প্রবর্তন করেন। এই দু রাকআতই পূর্ণ সালাত, কসর নয়। সফরে বিতরের সালাত সুন্নাত।

1195। উম্মু সালামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতরের সালাতের পর বসা অবস্থায় হালকাভাবে দু রাকআত (নফল) সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতো।

1196। আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক রাকাত বিতর পড়তেন। অতঃপর তিনি বসা অবস্থায় দু রাকআত নফল সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতো, তাতে কিরাআতও বসে পড়তেন। তিনি রুকূ করতে ইচ্ছা করলে দাঁড়িয়ে যেতেন, তারপর রুকূ করতেন।

1197। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে রাতের শেষভাগে আমার পাশে ঘুমন্ত অবস্থায় পেয়েছি। ওয়াকী (রহ) বলেন, অর্থাৎ বিতরের সালাত (নামায/নামাজ) পড়ার পর।

1198। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের দু রাকআত (সুন্নাত) পড়ার পর তাঁর ডান কাতে ভর করে শুয়ে থাকতেন।

1199। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের দু রাকআত (সুন্নাত) সালাত (নামায/নামাজ) পড়ার পর কাত হয়ে শুয়ে থাকতেন।

1200। সাঈদ ইবনু ইয়াসার (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি (সফরে) ইবনু উমার (রাঃ) এর সাথে ছিলাম। আমি পিছনে পড়ে বিতর সালাত (নামায/নামাজ) পড়ে নিলাম। তিনি বলেন, তোমাকে কিসে পেছনে ফেলেচে? আমি বললাম, আমি বিতরের সালাত আদায় করেছি। তিনি বলেন, তোমার জন্য কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মধ্যে অনুসরণীয় আদর্শ নেই? আমি বললাম, হ্যাঁ, আছে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উটের পিঠে বিতরের সালাত আদায় করতো।

1201। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বাহনের উপর বিতরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতো।

1202। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বাকর (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেন: তুমি কখন বিতরের সালাত (নামায/নামাজ) পড়ো? তিনি বলেন, এশার সালাতের পরে, রাতের প্রথম ভাগে। তিনি বলেনঃ হে উমার! তুমি কখন? তিনি বলেন, রাতের শেষভাগে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ হে আবূ বাকর! তুমি তো মজবুত নীতির উপর আছো। আর হে উমার! তুমি দৃঢ় সংকল্পের উপর আছো। ১/১২০২(১) আবূ দাঊদ সুলাইমান ইবনু তওবা (রহঃ), মুহাম্মাদ ইবনু আব্বাদ, ইয়াহ্ইয়া ইবনু সুলায়ম, উবাঈদুল্লাহ, নাফি, ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বাকর (রাঃ)-কে বলেনঃ ... উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ।

1203। আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত (নামায/নামাজ) পড়লেন এবং তাতে বেশী অথবা কম করলেন (ইবরাহীম বলেন, সন্দেহ আমার হয়েছে)। তাঁকে বলা হলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সালাতে কি কিছু বাড়ানো হয়েছে? তিনি বলেনঃ আমি তো একজন মানুষই, আমিও বিস্মৃত হই, যেমন তোমরা বিস্মৃত হও। অতএব তোমাদের কেউ (সালাতে) বিস্মৃত হলে সে যেন বসা অবস্থায় দুটি সিজদা করে। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মোড় ঘুড়ে দুটি সিজদা করলেন।

1204। ইয়াদ (রহঃ) আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করে বলেন, আমাদের কেউ সালাত (নামায/নামাজ) পড়লো কিন্তু সে যে কতো রাকআত পড়লো তা মনে করতে পারছে না। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমাদের কেউ সালাত পড়লো কিন্তু সে যে কতো রাকআত পড়লো তা মনে করতে না পারলে বসা অবস্থায় যেন দুটি সিজদা করে।

1205। আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যোহরের সালাত (নামায/নামাজ) পাঁচ রাকআত পড়লেন। তাঁকে বলা হলো, সালাতে কি বাড়ানো হয়েছে? তিনি বলেনঃ তা কিভাবে? অতএব তাকে (বুঝিয়ে) বলা হলে তিনি পা ঘুরিয়ে নিয়ে দুটি সিজদা করেন।

1206। ইবনু বুহাইনা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত (নামায/নামাজ) পড়লেন। (রাবী বলেন) আমার মনে হয় তা ছিল যোহরের (বা আসরের) সালাত (নামায/নামাজ)। দ্বিতীয় রাকআতে না বসে তিনি দাঁড়িয়ে গেলেন। শেষে তিনি সালাম ফিরানোর পূর্বে দুটি সিজদা করলেন।

1207। ইবনু বুহাইনা থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যোহরের দ্বিতয়ি রাকআতে বসতে ভুলে গিয়ে দাঁড়িয়ে যান। সালাত (নামায/নামাজ) শেষে তিনি সালাম ফিরানোর আগে দুটি সাহু সিজদা করেন এবং সালাম ফিরান।

1208। মুগীরাহ ইবনু শুবাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ দ্বিতীয় রাকআতের পর (ভুলে) দাঁড়িয়ে গেলে এবং তখনও যদি তার দাঁড়ানো সম্পূর্ণ না হয়, তবে সে যেন বসে যায়। আর যদি সে পূর্ণরূপে দাঁড়িয়ে যায় তবে সে যেন না বসে এবং (শেষে) দুটি সাহু সিজদা করে।

1209। আবদুর রহমান ইবনু আওফ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ তোমাদের কারো সালাতের এক ও দু রাকআতের মধ্যে সন্দেহ হলে সে যেন তাকে এক রাকআত গণ্য করে। তার দু ও তিন রাকআতের মধ্যে সন্দেহ হলে সে যেন তাকে দু রাকআত গণ্র করে। আর তিন ও চার রাককআতের মধ্যে সন্দেহ হলে সে যেন তাকে তিন রাকআত গণ্য করে, তারপর অবশিষ্ট সালাত (নামায/নামাজ) পূর্ণ করে, যাতে সন্দেহটা অতিরিক্ত সালাতে হয়। অতঃপর সে যেন সালাম ফিরানোর পূর্বে, বসা অবস্থায় দুটি সিজদা করে।

1210। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কারো সালাতের মধ্যে তার সন্দেহ হলে সে যেন সন্দেহ পরিহার করে প্রবল ধারণার উপর ভিত্তি করে। প্রবল ধারণার ভিত্তিতে সালাত (নামায/নামাজ) শেষ করার পর দুটি (সাহু) সিজদা করবে। এই অবস্থায় যদি তার সালাত আগেই পূর্ণ হয়ে থাকে, তাহলে (ধারণার ভিত্তিতে পড়া) অতিরিক্ত রাকআতটি হবে নফল। আর যদি সালাত (আগেই) অপূর্ণ থেকে থাকে তাহলে ঐ রাকআতটি হবে তার সালাত পূর্ণ করার সহায়ক এবং সিজদা দুটি হবে শয়তানের জন্য নাকে খত দেয়ার মত অপ্রীতিকর।

1211। আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন এক ওয়াক্তের সালাত (নামায/নামাজ) পড়লেন। আমরা বুঝতে পারলাম না যে, তিনি বেশি পড়লেন নাকি কম পড়লেন। তিনি আমাদের জিজ্ঞেস করলে আমরা তাঁকে (অনুমানে) বললাম। তিনি তাঁর পা ঘুরিয়ে কিবলামুখী হয়ে দুটি সিজদা করেন, অতঃপর সালাম ফিরান। অতঃপর তিনি আমাদের দিকে মুখ ঘুরিয়ে (বসে) বলেনঃ সালাতে নতুন কিছু ঘটলে অবশ্যই আমি তা তোমাদের অবহিত করতাম। অবশ্যই আমি একজন মানুষ; আমিও বিস্মৃত হই, যেমন তোমরা বিস্মৃত হও। অতএব আমি বিস্মৃত হলে তোমরা আমাকে স্মরণ করিয়ে দিবে। তোমাদের কারো সালাতের মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি হরে সে যেন চিন্তা করে। আর এটাই যথার্থতার অধিক নিকটবর্তী। সে তার ভিত্তিতে সালাত পূর্ণ করবে, সালাম ফিরাবে এবং দুটি সিজদা করবে।

1212। আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বতেলন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কারো সালাতের মধ্যে সন্দেহ হলে সে যেন সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চিন্তা করে (ভেবে দেখে), অতঃপর দুটি সিজদা করে। তানাফিসী (রহঃ) বলেন, এ একটি মূলনীতি যা প্রত্যাখ্যান করার অধিখার কেউ রাখে না।

1213। ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভুলবশত দ্বিতীয় রাকআতে সালাম ফিরালে যুল-ইয়াদাইন নামক এক ব্যক্তি তাঁকে বলেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! সালাত (নামায/নামাজ) কি হ্রাসপ্রাপ্ত হয়েছে, না আপনি ভুলে গেছেন? তিনি বলেনঃ হ্রাসপ্রাপ্তও হয়নি এবং আমি ভুলেও যাইনি। তিনি (যুল-ইয়াদাইন) বলেন, তাহলে আপনি দু রাকআত পড়েছেন। তিনি জিজ্ঞেস করেনঃ যুল-ইয়াদাইন যা বলছে ঘটনা কি তাই? সাহাবীগণ বলেন, হ্যাঁ। অতএব তিনি অগ্রসর হয়ে দু রাকআত সালাত পড়ে সালাম ফিরালেন, অতঃপর দুটি সাহু সিজদা করলেন।

1214। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে নিয়ে রাতের কোন এক ওয়াক্তের সালাত (নামায/নামাজ) দু রাকআত পড়লেন, অতঃপর সালাম ফিরালেন, অতঃপর উঠে গিয়ে মসজিদের একটি কাঠের সাথে ঠেস দিয়ে দাঁড়ালেন। লোকেরা এই বলতে বলতে ধ্রুত বেরিয়ে গেলো যে, সালাত হ্রাসপ্রাপ্ত হয়েছে। লোকেদের মধ্যে আবূ বাকর ও উমার (রাঃ)ও ছিলেন। কিন্তু তারা এ বিষয়ে তাঁকে কিছু জিজ্ঞেস করতে সংকোচবোধ করেন। লোকেদের মধ্যে যুল-ইয়াদাইন নামে লম্বা হাতবিশিষ্ট এক ব্যক্তি ছিলেন। তিনি বলেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! সালাত কি হ্রাসপ্রাপ্ত হয়েছে, না আপনি বিস্মৃত হয়েছেন? তিনি বলেনঃ সালাত হ্রাসপ্রাপ্তও হয়নি এবং আমি ভুল করিনি। যুল-ইয়াদাইন বলেন, আপনি যে দু রাকআত পড়েছেন! তিনি জিজ্ঞেস করেনঃ যুল-ইয়াদাইন যা বলছে তা কি ঠিক? তারা বলেন, হ্যাঁ। রাবী বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে দু রাকআত সালাত পড়ে সালাম ফিরালেন, অতঃপর দুটি সিজদা করলেন এবং পুনরায় সালাম ফিরালেন।

1215। ইমরান ইবনুল হুসাইন (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসরের সালাত (নামায/নামাজ) তিন রাকআত পড়ার পর সালাম ফিরান, অতঃপর উঠে গিয়ে হুজরায় প্রবেশ করেন। খিরবাক নামক লম্বা হাতবিশিষ্ট এক ব্যক্তি উঠে দাঁড়িয়ে জোর গলায় বলেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! সালাত কি কমানো হয়েছে? তিনি বিসন্ন অবস্থায় তাঁর পরিধেয় হেঁচড়াতে হেঁচড়াতে বেরিয়ে এসে (বিষয়টি সম্পর্কে) জিজ্ঞেস করেন। তাঁকে অবহিত করা হলে তিনি (ভুলে) পরিত্যক্ত রাকআতটি পড়েন, অতঃপর সালাম ফিরান, অতঃপর দুটি সিজদা করে পুনরায় সালাম ফিরান।

1216। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কারো সালাতে রত থাকা অবস্থায় তার নিকট নিশ্চয় শয়তান আসে, অতঃপর তার ও তার অন্তরের মধ্যখানে প্রবেশ করে। অবশেষে সে স্মরণ করতে পারে না যে, সে (সালাত (নামায/নামাজ) বেশি পড়েছে না কম পড়েছে। এরূপ অবস্থা হলে সে যেন সালাম ফিরানোর পূর্বে দুটি সিজদা করে, অতঃপর সালাম ফিরায়।

1217। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ নিশ্চয় শয়তান আদম সন্তান ও তার অন্তরের মধ্যখানে প্রবেশ করে। ফলে সে স্মরণ করতে পারে না যে, সে কত রাকআত পড়েছে। তার এরূপ অবস্থা হলে সে যেন সালাম ফিরানোর পূর্বে দুটি সিজদা করে।

1218। আলক্বামাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। ইবনু মাসঊদ (রাঃ) সালাম ফিরানোর পর দুটি সাহু সিজদা করেছেন এবং তিনি বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাই করেছেন।

1219। সাওবান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ প্রতিটি ভুলের জন্য সালাম ফিরানোর পর দুটি সিজদা করতে হবে।

1220। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে বের হয়ে এসে তাকবীরে তাহরীমা করার পর তাদের প্রতি ইশারা কররে তারা স্বঅবস্থায় অপেক্ষা করেন। অতঃপর তিনি চলে গিয়ে গোসল করেন। তিনি তাঁর মাথা থেকে পানি পটকানো অবস্থায় ফিরে এসে তাদের সাথে সালাত পড়েন। সালাত শেষে তিনি বলেনঃ আমি তোমাদের নিকট নাপাক অবস্থায় বের হয়ে এসেছিলাম, আমি তা ভুলে গিয়েছিলাম, এমনকি সালাতে দাঁড়িয়ে গিয়েছিলাম।

1221। আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সালাত (নামায/নামাজ)রত অবস্থায় কারো বমি হলে, নাক দিয়ে রক্ত বের হলে, খাদ্য বা পানীয় পেট থেকে মুখে চলে এলে অথবা বীর্যরস নির্গত হলে, সে যেন বাইরে এসে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে, অতঃপর পূর্বোক্ত সালাতের অবশিষ্টাংশ পূর্ণ করে, উক্ত অবস্থায় যদি সে কথা না বলে থাকে।

1222। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: তোমাদের কারো সালাত (নামায/নামাজ)রত অবস্থায় উযূ (ওজু/অজু/অযু) ছুটে গেলে সে যেন তার নাক ধরে বের হয়ে যায়। ১/১২২২(১) হারামালাহ ইবনু ইয়াহ্ইয়া, আবদুল্লাহ ইবনু ওয়াহব, উমার ইবনু কায়স, হিশাম ইবনু উরওয়াহ, তার পিতা, আয়িশাহ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

1223। ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ভগন্দর রোগে আক্রান্ত ছিলাম। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এ অবস্থায় সালাত (নামায/নামাজ) পড়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলেনঃ তুমি দাঁড়ানো অবস্থায় সালাত পড়ো, তাতে সমর্থ না হলে বসে পড়ো, তাতেও সমর্থ না হলে কাত হয়ে শুয়ে সালাত (নামায/নামাজ) পড়।

1224। ওয়াইল ইবনু হুজুর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে তাঁর রোগাক্রান্ত অবস্থায় তাঁর ডান পায়ের উপর বসে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে দেখেছি।

1225। উম্মু সালামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সেই মহান সত্তার শপথ যিনি তাঁর জান নিয়েছেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মৃত্যুর কাছাকাছি সময়ে তাঁর অধিকাংশ (নফল) সালাত (নামায/নামাজ) বসা অবস্থায় পড়তেন। তাঁর নিকট অধিক পছন্দনীয় নেক আমল ছিল তাই যা বান্দা নিয়মিত করতে পারে, তা পরিমাণে কম হলেও।

1226। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নফল সালাতের কিরাআত বসা অবস্থায় পড়তেন। অতঃপর তিনি যখন রুকূ করার ইচ্ছা করতেন তখন কোন লোকের চল্লিশ আয়াত পরিমাণ পড়ার মত সময় কিয়াম করতেন (দাঁড়িয়ে থাকতেন)।

1227। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বয়স ভারী না হওয়া পর্যন্ত তিনি রাতের সালাত (নামায/নামাজ) দাঁড়িয়েই পড়তেন। অতঃপর তিনি বসা অবস্থায় সালাত আদায় করতে থাকেন। শেষে যখন তাঁর চল্লিশ বা তিরিশ আয়াত পরিমাণ বাকি থাকতো তখন তিনি দাঁড়িয়ে যেতেন, অতঃপর তা পড়া শেষ করে সিজদায় যেতেন।

1228। আবদুল্লাহ ইবনু শাকীক আল-উকাইলী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রাতের সালাত (নামায/নামাজ) সম্পর্কে আয়িশাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলেন, তিনি কখনও দীর্ঘ রাত ধরে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতো, আবার কখনও দীর্ঘ রাত ধরে বসে সালাত আদায় করতো। তিনি দাঁড়ানো অবস্থায় কিরাআত পাঠ করলে রুকূও দাঁড়ানো অবস্থায় করতেন এবং বসা অবস্থায় কিরাআত পড়লে রুকূও বসা অবস্থায় করতেন।

1229। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে অতিক্রম করে যাওয়ার সময় তিনি বসা অবস্থায় সালাত (নামায/নামাজ) পড়ছিলেন। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি বসে সালাত (নামায/নামাজ) পড়ে তার সওয়াব, যে ব্যক্তি দাঁড়িয়ে সালাত পড়ে তার অর্ধেক।

1230। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হয়ে এসে কিছু সংখ্যক লোককে বসা অবস্থায় সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে দেখেন। তিনি বলেনঃ বসে সালাত আদায়কারির সালাতের সওয়াব দাঁড়িয়ে সালাত আদায়কারির সালাতের অর্ধেক।

1231। ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) থেকে বর্ণিত। যে ব্যক্তি বসে সালাত (নামায/নামাজ) পড়ে তার সম্পর্কে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করেন। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি দাঁড়িয়ে সালাত পড়ে সে অধিক উত্তম। আর যে ব্যক্তি বসে সালাত পড়ে তার সওয়াব দাঁড়িয়ে সালাত আদায়কারীর অর্ধেক। আর যে ব্যক্তি শোয়া অবস্থায় সালাত পড়ে তার সওয়াব বসা অবস্থায় সালাত আদায়কারির অর্ধেক।

1232। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মৃত্যুব্যাধিতে আক্রান্ত অবস্থায় বিলাল এসে তাঁকে সালাতের কথা অবহিত করেন। তিনি বলেনঃ তোমরা আবূ বাকরকে নির্দেশ দাও তিনি যেন লোকেদের সালাত (নামায/নামাজ) পড়ান। আমরা বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আবূ বাকর(রাঃ) নরম দিকের লোক। যখনই তিনি তআপনার স্থানে দাঁড়াবেন তকনই কেঁদে ফেলবেন এবং (সালাত পড়াতে) সক্ষম হবেন না। অতএব আপনি যদি উমার (রাঃ) কে নির্দেশ দিতেন তাহলে তিনি লোকেদের সালাত পড়াতেন। তিনি বলেনঃ তোমরা আবূ বাকরকে নির্দেশ দাও তিনি যেন লোকেদের সালাত পড়ান। তোমরা (মুমিন জননীগণ) যেন ইউসুফ (আলাইহিস সালাম)-এর সঙ্গিনীগণের অনুরূপ। আয়িশাহ(রাঃ) বলেন, আমরা আবূ বাকর(রাঃ) এর নিকট লোক পাঠালে তিনি লোকেদের নিয়ে সালাত পড়া শুরু করেন। ইত্যবসরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেকে একটু হালকা (সুস্থ) বোধ করলে দু ব্যক্তির কাঁধে ভর করে মাটিতে তাঁর পদদ্বয় হেঁচড়াতে হেঁচড়াতে সালাত আদায় করতে রওয়ানা হন। আবূ বাকর(রাঃ) তাঁর আগমন টের পেয়ে পেছনে সরে যেতে উদ্যোগী হন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইশারা করে তাকে স্বস্থানে স্থির থাকতে বলেন। রাবী বলেন, তিনি (মসজিদে) এসে পৌঁছলে সাহায্যকারীদ্বয় তাঁকে আবূ বাকর(রাঃ) এর পাশে বসিয়ে দেন। আবূ বাকর(রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইকতিদা করলেন এবং লোকেরা আবূ বাকর (রাঃ) এর ইকতিদা করে।

1233। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রোগগ্রস্ত অবস্থায় আবূ বাকর -কে নির্দেশ দেন যে, তিনি যেন লোকেদের সালাত (নামায/নামাজ) পড়ান। অতএব তিনি তাদের সালাত পড়াচ্ছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছুটা হালাক (সুস্থতা) বোধ করলেন। অতএব তিনি বের হলেন, তখন আবূ বাকর(রাঃ) লোকেদের ইমামতি করছিলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখে পেছনে হটতে উদ্যোগী হন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ইশারা করে স্বস্থানে থাকতে বলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বকর(রাঃ) এর ঠিক বামে বসলেন। আবূ বাকর(রাঃ) তাঁর ইমামতিতে সালাত পড়েন এবং লোকেরা আবূ বাকর(রাঃ) এর ইমামতিতে সালাত পড়ে।

1234। সালেম ইবনু উবাইদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর অসুস্থ অবস্থায় বেহুঁশ হয়ে পড়লেন, অতঃপর হুঁশ ফিরে পেলে তিনি জিজ্ঞেস করেনঃ সালাতের ওয়াক্ত হয়েছে কি? তারা বললেন, হ্যাঁ। তিনি বলেনঃ বিলালকে আযান দিতে নির্দেশ দাও এবং আবূ বাকরকে লোকেদের নিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে নির্দেশ দাও। তিনি আবার সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলেন, অতঃপর সংজ্ঞা ফিরে পেলে তিনি জিজ্ঞেস করেনঃ সালাতের ওয়াক্ত হয়েছে কি? লোকেরা বললো, হ্যাঁ। তিনি বলেনঃ বিলালকে আযান দিতে এবং আবূ বাকরকে লোকেদের নিয়ে সালাত আদায় করতে নির্দেশ দাও। তিনি পুনরায় সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলেন। তিনি সংজ্ঞা ফিরে পেলে জিজ্ঞেস করেনঃ সালাতের ওয়াক্ত হয়েছে কি? লোকেরা বললো, হ্যাঁ। তিনি বলেনঃ বিলালকে আযান দিতে এবং আবূ বাকরকে লোকেদের নিয়ে সালাত আদায় করতে নির্দেশ দাও। আয়িশাহ(রাঃ) বলেন, আমার পিতা নরম দিলের মানুষ। তিনি যখন ঐ স্থানে দাঁড়াবেন তখন কেঁদে দিবেন এবং (কিরাআত পড়তে) সক্ষম হবেন না। অতএব আপনি যদি অপর কাউকে নির্দেশ দিতেন। তিনি পুনরায় সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলেন। অতঃপর সংজ্ঞা ফিরে পেলে তিনি বলেনঃ বিলালকে আযান দিতে এবং আবূ বাকরকে লোকেদের নিয়ে সালাত আদায় করতে নির্দেশ দাও। তোমরা হলে ইউসুফ (আলাইহিস সালাম) এর সঙ্গী বা সঙ্গিনী। রাবী বলেন, বিলাল (রাঃ)-কে নির্দেশ দেয়া হলে তিনি আযান দেন এবং আবূ বাকর (রাঃ) কে নির্দেশ দেয়া হলে তিনি লোকেদের নিয়ে সালাত পড়েন। ইত্যবসরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছুটা হালকা বোধ করলে বলেনঃ দেখো তো আমার ভর দিয়ে যাওয়ার মত কাউকে পাওয়া যায় কিনা। বারীরা ও অপর এক ব্যক্তি এলে তিনি তাদের উপর ভর করে (মসজিদে যান)। আবূ বাকর(রাঃ) তাঁকে দেখতে পেয়ে পিছনে সরতে যাচ্ছিলেন। তিনি তাকে ইশারায় স্বস্থানে স্থির থাকতে বলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে আবূ বাকর (রাঃ) এর পাশে বসেন। আবূ বাকর(রাঃ) তার সালাত শেষ করেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করেন। আবূ আবদুল্লাহ (ইমাম ইবনু মাজাহ) বলেন, এ হাদীসটি গরীব। নাসর ইবনু আলী ব্যতীত আর কেউ এটি বর্ণনা করেননি।

1235। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মরণ ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার পর আয়িশাহ (রাঃ) এর ঘরে ছিলেন। তিনি বলেনঃ তোমরা আলীকে আমার নিকট ডেকে আনো। আয়িশাহ(রাঃ) বলেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমরা আবূ বাকরকেও আপনার নিকট ডেকে আনি? তিনি বলেনঃ তাকেও ডেকে আনো। হাফসা(রাঃ) বলেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমরা উমারকেও আপনার নিকট ডেকে আনি? তিনি বলেনঃ তাকেও ডাকো। উম্মুল ফাদল(রাঃ) বলেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আব্বাস (রাঃ) কেও আপনার নিকট ডেকে আনি? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ। তারা একত্র হলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাথা উত্তোলন করে তাকান এবং নিশ্চুপ থাকেন উমার (রাঃ) বলেন, তোমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট থেকে উঠে যাও। অতঃপর বিলাল এসে তাঁকে সালাত (নামায/নামাজ) সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি বলেনঃ আবূ বাকরকে নির্দেশ দাও তিনি যেন লোকেদের নিয়ে সালাত পড়েন। আয়িশাহ(রাঃ) বলেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আবূ বাকর নরম দিলের লোক, তিনি কিরাআত পড়তে সক্ষম হবেন না, তিনি আপনাকে দেখতে না পেলেই কেঁদে ফেলবেন এবং লোকেরাও কেঁদে ফেলবে। অতএব আপনি যদি উমার (রাঃ) কে লোকেদের সালাত পড়াবার নির্দেশ দিতেন! আবূ বাকর(রাঃ) বেরিয়ে এসে লোকেদের সাথে নিয়ে সালাত শুরু করলেন। ইত্যবসরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হালকা বোধ করলেন এবং দুজন লোকের উপর ভর করে তাঁর দু পা মাটিতে হেঁচড়াতে হেঁচড়াতে বের হলেন। লোকেরা তাকে দেখতে পেয়ে সুবহানাল্লাহ বলে আবূ বাকর (রাঃ) কে সতর্ক করলো। তিনি পেছনে সরে যেতে উদ্যোগী হলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ইশারা করে স্বস্থানে থাকতে বলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে তার ডান পাশে বসলেন এবং আবূ বাকর দাঁড়ালেন। আবূ বাকর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইকতিদা করলেন এবং লোকেরা আবূ বাকর (রাঃ) এর ইকতিদা করলো। ইবনু আব্বাস বলেন, আবূ বাকর(রাঃ) যে পর্যন্ত কিরাআত পড়েছিলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তারপর থেকে কিরাআত শুরু করেন। ওয়াকী (রহ) বলেন, এটাই সুন্নাত। রাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর এই রোগেই ইন্তেকাল করেন।

1236। মুগীরাহ ইবনু শুবাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুপস্থিত ছিলেন। আমরা সম্প্রদায়ের নিকট যখন পৌঁছলাম তখন আবদুর রহমান ইবনু আওফ(রাঃ) লোকেদের এক রাকআত পড়ানো শেষ করেছেন মাত্র। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপস্থিত অনুভব করে তিনি পেছনে সরে যেতে উদ্যোগী হলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সালাত (নামায/নামাজ) পড়ে শেষ করতে ইশারা করেন। (সালাত শেষে) তিনি বলেনঃ তুমি উত্তম কাজ করেছো। তুমি এমনটই করবে।

1237। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোগাক্রান্ত হলে তাঁর কতক সাহাবী তাঁকে দেখতে এলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসা অবস্থায় সালাত (নামায/নামাজ) পড়লেন, কিন্তু তারা তাঁর সাথে দাঁড়িয়ে সালাত পড়লেন। তিনি তাদেরকে ইশারা করে বসতে বলেন। তিনি সালাত শেষে বলেনঃ ইমাম নিযুক্ত করা হয় তাকে অনুসরণ করার জন্য। অতএব তিনি রুকূতে গেলে তোমরাও রুকূতে যাও, তিনি মাথা তুললে তোমরাও মাথা তোল এবং তিনি বসে সালাত পড়লে তোমরাও বসে সালাত পড়ো।

1238। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোড়ার পিঠ থেকে নিক্ষিপ্ত হলে তাঁর ডান পার্শ্বদেশ আহত হয়। আমরা তাঁকে দেখতে গেলাম। সালাতের ওয়াক্ত হয়ে গেলে তিনি বসা অবস্থায় আমাদের সালাত (নামায/নামাজ) পড়ান এবং আমরাও তাঁর পেছনে বসা অবস্থায় সালাত পড়ি। তিনি সালাত শেষ করে বলেন: ইমাম নিযুক্ত করা হয় তাকে অনুসরণ করার জন্য। তিনি যখন তাকবীর বলেন, তোমরাও তাকবীর বলো, তিনি যখন রুকূ করেন, তোমরাও রুকূ করো, তিনি যখন সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ বলেন, তোমরা বলো, রববানা ওয়া লাকাল হাম্দ। তিনি যখন সিজদা করেন, তোমরাও সিজদা করা এবং তিনি যখন বসা অবস্থায় সালাত পড়েন, তোমরাও সকলে বসা অবস্থায় সালাত পড়ো।

1239। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইমাম নিযুক্ত করা হয় তাকে অনুসরণ করার জন্য। অতএব তিনি যখন তাকবীর বলেন, তোমরাও তাকবীর বলো, তিনি যখন রুকুতে যান, তোমরাও রুকূতে যাও, তিনি যখন সামিআল্লাহু লিমান হামিদা বলেন, তোমরা তখন রাব্বানা ওয়ালাকাল হামদ বলো, তিনি দাঁড়ানো অবস্থায় সালাত (নামায/নামাজ) পড়লে তোমরাও দাঁড়ানো অবস্থায় সালাত পড়ো এবং তিনি বসা অবস্থায় সালাত পড়লে তোমরাও বসা অবস্থায় সালাত পড়ো।

1240। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুস্থ হয়ে পড়লেন। তিনি বসা অবস্থায় (ইমামতি করেন), আমরা তাঁর পিছনে সালাত (নামায/নামাজ) পড়লাম, আবূ বাকর(রাঃ) লোকেদের শুনানোর জন্য উচ্চকন্ঠে তাঁর তাকবীরের পুনরাবৃত্তি করেন। তিনি আমাদের দিকে লক্ষ্য করে আমাদেরকে দাঁড়ানো অবস্থায় দেখলেন। তিনি ইশারা করলে আমরা বসে পড়লাম এবং বসা অবস্থায় তাঁর সাথে সালাত পড়লাম। তিনি সালাম ফিরিয়ে বললেনঃ তোমরা প্রায় পারস্য ও রোমবাসীদের মত কাজ করে ফেলেছিলে। তাদের নেতারা বসা থাকতো এবং তারা তাদের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতো, কিন্তু তোমরা তা করো না। তোমরা তোমাদের ইমামদের অনুসরণ করো। তিনি দাঁড়িয়ে সালাত পড়লে তোমরাও দাঁড়িয়ে সালাত পড়ো এবং তিনি বসে সালাত পড়লে তোমরাও বসে সালাত পড়ো।

1241। আবূ মালিক আল-আশজাঈ সা’দ ইবনু তারেক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে বললাম, হে পিতা! আপনি অবশ্যই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম , আবূ বাকর , উমার ও উসমান (রাঃ) এর পিছনে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেছেন এবং এই কুফায় আলী -এর পেছনে প্রায় পাঁচ বছর সালাত আদায় করেছেন। তাঁরা কি ফজরের সালাতে দুআ কুনূত পড়তেন? তিনি বলেন, হে বৎস! এটা তো বিদ্আত।

1242। উম্মু সালামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাতে দুআ কুনূত পড়তে নিষেধ করেছেন।

1243। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাতে দুআ কুনূত পড়তেন। এতে তিনি আরবের কতক গোত্রকে এক মাস ধরে বদদোয়া করেছিলেন, অতঃপর তা ত্যাগ করেন।

1244। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাতে (রুকূ থেকে) মাথা তুলে বললেনঃ হে আল্লাহ্! ওলীদ ইবনুল ওলীদ, সালামাহ ইবনু হিশাম, আইয়াশ ইবনু আবূ রবীআ ও মক্কার অসহায় মুসলিমদের নাজাত দিন। হে আল্লাহ্! মুদার গোত্রের উপর আপনার নিপীড়ন জোরদার করুন এবং তাদের উপর ইউসুফ (আলাইহিস সালাম) এর সময়কার দুর্ভিক্ষের মত কয়েক বছরের দুর্ভিক্ষ কার্যকর করুন।

1245। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত (নামায/নামাজ)রত অবস্থায়ও দুটি কালো প্রাণী হত্যার নির্দেশ দিয়েছেনঃ বিছা ও সাপ।

1246। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে তাঁর সালাত (নামায/নামাজ)রত অবস্থায় একটি বিছা দংশন করে। তিনি বলেনঃ আল্লাহ বিছাকে অভিশপ্ত করুন, সে সালাতী ও অসালাতী কাউকেই ছাড়ে না। তোমরা একে হেরেম শরীফে ও তার বাইরে সর্বত্র হত্যা করো।

1247। ইবনু আবূ রাফি (রহঃ) থেকে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত (নামায/নামাজ) অবস্থায় একটি বিছা হত্যা করেন।

1248। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু সময়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে নিষেধ করেছেনঃ ফজরের সালাতের পর সূর্য উঠার পূর্ব পর্যন্ত এবং আসরের সালাতের পর সূর্য অস্ত যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত।

1249। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আসরের সালাতের পর সূর্য অস্তমিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত কোন সালাত (নামায/নামাজ) নাই এবং ফজরের সালাতের পর সূর্য উদিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত কোন সালাত নাই।

1250। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে কয়েকজন সন্তোষভাজন ব্যক্তি বলেছেন, উমার (রাঃ)ও তাদের অন্তর্ভুক্ত এবং তাদের মধ্যে উমার (রাঃ)-ই আমার অধিক সন্তোষভাজন ব্যক্তি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ফজরের সালাতের পর থেকে সূর্য উঠার পূর্ব পর্যন্ত কোন সালাত (নামায/নামাজ) নাই এবং আসরের সালাতের পর থেকে সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত কোন সালাত নাই।

1251। আমর ইবনু আবাসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে জিজ্ঞেস করলাম, এমন কোন সময় আছে কি, যা আল্লাহ্‌র নিকট অন্য সময়ের তুলনায় অধিক প্রিয়? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ, মধ্য রাত। অতএব তুমি পারলে তখন থেকে ভোর হওয়ার পুর্ব পর্যন্ত সময়ের মধ্যে সালাত (নামায/নামাজ) পড়ো; অতঃপর (ফজরের সালাত পড়ে) সূর্য উদিত হয়ে তা কিছুটা উপরে না উঠা পর্যন্ত বিরত থাক। অতঃপর তুমি পারলে খুঁটি তার ছায়ার উপর স্থির হওয়ার পূর্ব (দ্বিপ্রহর) পর্যন্ত সালাত আদায় করতে পারো। অতঃপর সূর্য ঢলে না পড়া পর্যন্ত (সালাত পড়া থেকে) বিরত থাকো। কেননা ঠিক দুপুরে জাহান্নামকে উত্তপ্ত করা হয়। অতঃপর তুমি পারলে তোমার আসরের সালাত পড়ার পূর্ব পর্যন্ত সালাত আদায় করতে পারো। অতঃপর সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত বিরত থাকো। কেননা তা শয়তানের দু শিং-এর মধ্যখান দিয়ে অস্ত যায় ও উদিত হয়।

1252। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাফওয়ান ইবনু মুআত্তাল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট জিজ্ঞাসা সুরে বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি এমন একটি বিষয় আপনার নিকট জিজ্ঞেস করতে চাই যে সম্পর্কে আপনি জ্ঞাত কিন্তু আমি অজ্ঞ। তিনি বলেনঃ তা কি? তিনি বলেন, রাত ও দিনের সময়সমূহের মধ্যে এমন সময়ও কি আছে যখন সালাত (নামায/নামাজ) পড়া মাকরূহ? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ। তুমি ফজরের সালাত পড়ার পর থেকে সূর্য উদিত না হওয়া পর্যন্ত (নফল) সালাত পড়া ত্যাগ করো। কারণ তা শয়তানের দু শিং-এর মধ্যখান দিয়ে উদিত হয়। অতঃপর তুমি সালাত পড়ো। এই সালাতে (ফেরেশতাগণ) উপস্থিত হয় এবং (ইবাদাত) কবূল করা হয়, (তা পড়তে পারো) যাবত না সূর্য তীরের মত তোমার মাথার উপর এসে সোজা হয়। যখন সূর্য তীরের মত তোমার মাথার উপর স্থির হয় তখন সালাত পড়া ত্যাগ করো। কারণ এ সময় জাহান্নামকে উত্তপ্ত করা হয় এবং এর দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়, যাবত না সূর্য তোমার ডান ভ্রূ দিয়ে ঢলে পড়ে। তা ঢলে পড়ার পর থেকে তোমার আসরের সালাত পড়ার পূর্ব পর্যন্ত (সময়ে নফল) সালাতে ফেরেশতাগণ উপস্থিত হন এবং তা কবূল করা হয়। অতঃপর তুমি সূর্যাস্ত না যাওয়া পর্যন্ত সালাত ত্যাগ কর।

1253। আবূ আবদুল্লাহ আস-সুনাবিহী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ নিশ্চয় সূর্য শয়তানের দু শিং-এর মধ্যখান দিয়ে উদিত হয় অথবা তার সাথে শয়তানের দু শিং-ও উদিত হয়। সূর্য উপরে উঠলে তা থেকে সে পৃথক হয়ে যায়। আবার সূর্য যখন আসমানের মধ্যখানে আসে তখন সে তার সামনে আসে। সূর্য যখন ঢলে যায় তখন সে তা থেকে পৃথক হয়ে যায়। আবার যখন তা অস্ত যাওয়ার কাছাকাছি আসে তখন সে তার সামনে এসে যায়। অতঃপর তা অস্তমিত হলে সে আবার পৃথক হয়ে যায়। অতএব তোমরা এই তিন সময়ে (নফল) সালাত (নামায/নামাজ) পড়ো না।

1254। যুবায়র ইবনু মুতইম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছেনঃ হে আবদে মানাফের বংশধর! কোন ব্যক্তি দিনের অথবা রাতের যে কোন সময় ইচ্ছা এই ঘর তাওফাফ করলে বা এখানে সালাত (নামায/নামাজ) পড়লে তোমরা তাকে বাধা দিও না।

1255। আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অচিরেই হয়ত তোমরা এমন সব লোকের সাক্ষাত পাবে যারা নির্দিষ্ট ওয়াক্তে সালাত (নামায/নামাজ) না পড়ে ভিন্ন ওয়াক্তে তা পড়বে। তোমরা তাদের সাক্ষাৎ পেলে নিজেদের ঘরে তোমাদের প্রসিদ্ধ ওয়াক্তে সালাত পড়ে নিও, অতঃপর তাদের সাথে (জামাআতে) তা পড়ে নিও এবং একে নফলরূপে গণ্য করো।

1256। আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: তুমি সালাতের নির্দিষ্ট ওয়াক্তে তা পড়ে নাও। অতঃপর ইমামকে লোকেদের নিয়ে সালাতরত পেলে তুমিও তাদের সাথে সালাত (নামায/নামাজ) পড়ো। তুমি আগে সালাত না পড়ে থাকলে এটা তোমার সেই সালাত হবে, অন্যথায় তা হবে তোমার জন্য নফল।

1257। উবাদাহ ইবনুুস সামিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ অচিরেই এমন সব শাসকের আবির্ভাব হবে যারা বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে সালাতকে তার ওয়াক্ত থেকে বিলম্বিত করবে। অতএব তোমরা তাদের সাথে (জামাআতে) তোমাদের নফল সালাত (নামায/নামাজ) পড়ো।

1258। ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাওফ (শংকাকালীন সালাত (নামায/নামাজ) সম্পর্কে বলেছেনঃ ইমাম তার সাথের একদল লোকসহ সালাত (নামায/নামাজ) পড়বে, তারা (তার সাথে) এক রাকআত সালাত (নামায/নামাজ) পড়বে এবং অপর দল তাদের ও তাদের শত্রুদের মধ্যে প্রতিরোধ বজায় রাখবে। অতঃপর আমীরের সাথে এক রাকআত পড়া দলটি (প্রতিরক্ষা ব্যূহে) চলে যাবে এবং যে দলটি সালাত পড়েনি তাদের স্থানে অবস্থান নিবে এবং সালাত না পড়া দলটি অগ্রসর হয়ে তাদের আমীরের সাথে এক রাকআত সালাত (নামায/নামাজ) পড়বে। অতঃপর তাদের আমীর তার সালাত পূর্ণ করে চলে যাবে এবং পূর্বোক্ত দুটি দল পৃথক পৃথকভাবে আরো এক রাকআত সালাত পড়ে নিবে। যদি অধিক সন্ত্রস্ত অবস্থা বিরাজ করে তবে পদাতিক অবস্থায় বা অশ্বারোহী অবস্থায় (যেভাবে সম্ভব) সালাত পড়ে নিবে। রাবী বলেন, এখানে সিজদা দ্বারা রাকআত বুঝানো হয়েছে।

1259। সাহল ইবনু আবূ হাসমা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি সালাতুল খাওফ সম্পর্কে বলেন, ইমাম কিবলামুখী হয়ে দাঁড়াবেন, তাদের একদলও তার সাথে (সালাতে) দাঁড়াবে এবং অপর দল শত্রুর প্রতিরোধে থাকবে এবং তাদের দৃষ্টি থাকবে কাতারের দিকে। তিনি তাদেরকে নিয়ে এক রাকআত পড়বেন, অতঃপর তারা স্বতন্ত্রভাবে দু সিজদায় এক রাকআত পড়বেন তাদের স্থানে। অতঃপর তারা পূর্বোক্ত দলের স্থানে ফিরে যাবে এবং তারা এসে গেলে তিনি তাদেরকে নিয়ে দু সিজদায় আরো এক রাকআত পড়বেন। এতে তার হবে দু রাকআত এবং লোকেদের হবে এক রাকআত। অতঃপর তারা দু সিজদায় এক রাকআত পড়বেন। ২/১২৫৯(১) মুহাম্মাদ ইবনু বাশ্শার (রহ) বলেন, আমি ইয়াহ্ইয়া ইবনু সাঈদ আল-কাত্তানকে উক্ত হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি শুবাহ, আবদুর রহমান ইবনুল কাসিম, তার পিতা, সালিহ ইবনু খাওয়াত, সাহল ইবনু হাসমাহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে ইয়াহ্ইয়া ইবনু সাঈদের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। রাবী (মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার) বলেন, ইয়াহ্ইয়া ইবনু সাঈদ আমাকে বললেন, এ হাদীসও এক কোণায় লিখে নাও। আমি হাদীসটি মুখস্থ রাখতে পারিনি কিন্তু তা ইয়াহ্ইয়া ইবনু সাঈদ আল-আনসারীর হাদীসের অনুরূপ।

1260। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীগণকে নিয়ে সালাতুল খাওফ আদায় করেন। তিনি তাঁর নিকটস্থ সকলকে নিয়ে রুকূ করেন এবং অন্যরা দাঁড়িয়ে থাকে। প্রথম দল সিজদা করে অবসর হলে দ্বিতীয় দল স্বতন্ত্রভাবে দুটি সিজদা করে। অতঃপর প্রথম দল পিছনে সরে গিয়ে পূর্বোক্ত দলের স্থানে অবস্থান নেয় এবং শেষোক্ত দল সামনে অগ্রসর হয়ে (জামাআতে) প্রথম দলের স্থানে এসে দাঁড়ায়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের নিকটস্থ সকলকে নিয়ে রুকূ করেন এবং সিজদা করেন। তারা সিজদা থেকে অবসর হলে দ্বিতীয় দল দুটি সিজদা করে। তাদের প্রতিটি দল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে এক রাকআত সালাত (নামায/নামাজ) পড়ে এবং পৃথকভাবে এক রাকআত পড়ে, তখন শত্রুবাহিনী তাদের সন্মুভাগে ছিল।

1261। ইবনু মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মানবজাতির মধ্যে কারো মৃত্যুর কারণে সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ হয় না। অতএব তোমরা তা দেখলে সালাতে দাঁড়িয়ে যাও।

1262। নুমান ইবনু বশীর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে সূর্যগ্রহণ হয়। তিনি ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় তাঁর পরিধেয় বস্ত্র হেঁচড়াতে হেঁচড়াতে মসজিদে এসে পৌঁছেন। গ্রহণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি সালাতে রত থাকেন অতঃপর তিনি বলেনঃ এক দল লোক ধারণা করে যে, কোন মহান নেতার মৃত্যুর কারণে সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ হয়ে থাকে। আসলে তা নয়। কারো মৃত্যু অথবা জীবিত থাকার কারণে সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণ হয় না। আল্লাহ তাআলা যখন তাঁর কোন সৃষ্টির উপর তাজাল্লী বিস্তার করেন তখন তা তাঁর ভয়ে ভীত হয়।

1263। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবদ্দশায় সূর্যগ্রহণ হলে তিনি বের হয়ে মসজিদে চলে যান। তিনি দাঁড়িয়ে তাকবীরে তাহরীমা বলেন এবং লোকজন তাঁর পিছনে কাতারবন্দী হয়ে দাঁড়ায়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দীর্ঘ কিরাআত পড়েন, অতঃপর তাকবীর বলে দীর্ঘ রুকূ করেন, অতঃপর মাথা তুলে সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ রব্বানা ওয়ালাকাল হামদ বলেন। অতঃপর দাঁড়িয়ে দীর্ঘ কিরাআত পড়েন, তবে তা ছিল পূর্বের কিরাআতের তুলনায় কম দীর্ঘ। অতঃপর তাকবীর বলে রুকূতে গিয়ে দীর্ঘ রুকূ করেন, তবে তা পূর্বের রুকুর চেয়ে কম দীর্ঘ ছিল। অতঃপর সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ রববানা ওয়ালাকাল হামদ বলেন। তিনি দ্বিতীয় রাকআতেও তাই করেন। তিনি মোট চার রাকআত সালাত (নামায/নামাজ) পড়েন এবং তাঁর সালাত শেষ করার পূর্বেই সূর্যগ্রহণ সমাপ্ত হয়। অতঃপর তিনি দাঁড়িয়ে লোকেদের উদ্দেশে ভাষণ দেন। তিনি আল্লাহ তাআলার যথোপযুক্ত প্রশংসা করার পর বলেনঃ সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহ্‌র নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত দুটি নিদর্শন। কারো জীবন-মৃত্যুতে সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণ হয় না। তোমরা তা দেখলে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে সালাতে রত হও।

1264। সামুরা ইবনু জুনদুব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সাথে নিয়ে সূর্যগ্রহণের সালাত (নামায/নামাজ) পড়লেন। আমরা তাঁর (কিরাআতের) কোন শব্দ শুনতে পাইনি।

1265। আসমা বিনতে আবূ বাকর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্যগ্রহণের সালাত (নামায/নামাজ) পড়েন। তাতে তিনি দীর্ঘ কিয়াম করেন, দীর্ঘ রুকূ করেন, রুকূ থেকে উঠেও দীর্ঘ কিয়াম করেন, পুনরায় দীর্ঘ রুকূ করেন, অতঃপর মাথা তোলেন, অতঃপর সিজদায় গিয়ে দীর্ঘ সিজদা করেন, অতঃপর মাথা তোলেন, আবার দীর্ঘ সিজদা করেন, অতঃপর উঠে দীর্ঘ কিয়াম করেন, অতঃপর রুকূতে গিয়েও দীর্ঘক্ষণ রুকূতে থাকেন, অতঃপর মাথা তুলে পুনরায় সাজদায় গিয়ে দীর্ঘক্ষণ সাজাদায় থাকেন, অতঃপর মাথা তুলে পুনরায় সিজদায় গিয়ে দীর্ঘক্ষণ সাজদায় থাকেন। অতঃপর সালাত শেষ করে বলেনঃ জান্নাত আমার নিকটবর্তী হলো, এমনকি আমি ইচ্ছা করলে হাত বাড়িয়ে তার ফলগুচ্ছ আহরণ করে তোমাদের জন্য নিয়ে আসতে পারতাম। অনুরূপভাবে জাহান্নাম আমার নিকটবর্তী হলো, এমনকি আমি বললাম, হে প্রভু! আমি তাদের মধ্যে থাকতেও (কি তাদের শাস্তি দেয়া হবে)? নাফি (রহঃ) বলেন, আমার মনে হয় তিনি এ কথাও বলেছেন: আমি এক নারীকে দেখলাম যে, তার একটি বিড়াল তাকে নখর দ্বারা আচড় কাটছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, তার এ অবস্থা কেন? ফেরেশতারা বলেন, সে একে আটক করে রেখেছিল, অবশেষে অনাহারে এটি মারা যায়। সে একে আহারও দেয়নি এবং ছেড়েও দেয়নি, যাতে জমিনের কীট-পত্যঙ্গ খেতে পারতো।

1266। হিশাম ইবনু ইসহাক ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু কিনানা (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি (পিতা) বলেন, কোন এক শাসক ইস্তিস্কার সালাত (নামায/নামাজ) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করার জন্য আমাকে ইবনু আব্বাস (রাঃ) এর নিকট পাঠান। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, সরাসরি আমার নিকট জিজ্ঞেস করতে তাকে কিসে বাধা দিলো! তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিনয়ী ও নরমভাবে, সাধারণ পোশাক পরে, ভীত বিহ্বল হয়ে রওয়ানা করে ধীরপদে (মাঠে) পৌঁছে দু রাকআত সালাত পড়লেন, যেভাবে তিনি ঈদের সালাত পড়েন। কিন্তু তিনি তোমাদের এই খুতবাহর ন্যায় খুতবাহ দেননি।

1267। আব্বাদ ইবনু তামীম (রহ) থেকে তার চাচার সূত্রে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে সাক্ষ্য দেন যে, তিনি ইসতিসকার সালাত (নামায/নামাজ) পড়ার জন্য মাঠে রওয়ানা হলেন। তিনি (মাঠে পৌঁছে) কিবলামুখী হন, তাঁর চাঁদর উল্টিয়ে পরেন এবং দু রাকআত সালাত পড়েন। ২/১২৬৭(১) মুহাম্মাদ ইবনু সাব্বাহ, সুফ্ইয়ান, ইয়াহ্ইয়া ইবনু সাঈদ, আবূ বাকর ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আমর ইবনু হাযম, আব্বাদ ইবনু তামীম, তার চাচা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। সুফ্ইয়ান-মাসঊদী (রহঃ) বলেন, আমি আবূ বাকর ইবনু মুহাম্মাদকে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি কি তাঁর পোশাকের উপরিভাগ নিচে করেছিলেন, না ডান দিক বাঁ দিকে করেছিলেন? তিনি বলেন, না, বরং ডান দিক বাঁ দিকে করেছিলেন।

1268। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক দিন বৃষ্টি প্রার্থনার জন্য রওয়ানা হলেন। তিনি আমাদেরকে সাথে নিয়ে আযান ও ইকামত ব্যতীত দু রাকআত সালাত (নামায/নামাজ) পড়েন, অতঃপর আমাদের উদ্দেশে খুতবাহ দিলেন, তাঁর মুখমন্ডল কিবলামুখী করে তাঁর উভয় হাত উপরে তুলে আল্লাহ্‌র নিকট দুআ করেন এবং তাঁর চাঁদর উলোটপালট করে পরেন, চাঁদরের ডান দিক বামে এবং বাম দিক ডানে আনেন।

1269। শুরাহবীল ইবনুুস সিমত (রহ) থেকে বর্ণিত। তিনি কাব (রাঃ) কে বলেন, হে কাব ইবনু মুররা! আমাদের নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদীস বর্ণনা করুন এবং সতর্কতা অবলম্বন করুন। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললো, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আল্লাহ্‌র নিকট বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দুহাত তুলে দুআ করেনঃ আল্লাহুম্মা আসকিনা গাইছান মারীআন মারীআন তবাকান আজিলান গাইরা রাইছিন নাফিআন গাইরা দাররিন (হে আল্লাহ্! আমাদেরকে এমন বৃষ্টির পানি দান করুন যা সুপেয়, ফসল উৎপাদক, পর্যাপ্ত, বিলম্বে নয়, অবলম্বনে, উপকারী এবং ক্ষতিকর নয়)। কাব (রাঃ) বলেন, জুমুআহর সালাত (নামায/নামাজ) শেষ না হতেই বৃষ্টি হয়ে গেলো। পরে লোকেরা তাঁর নিকট এসে অতিবৃষ্টির অভিযোগ করলো এবং বললো, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! বাড়িঘর ধ্বসে যাচ্ছে। তিনি বলেনঃ হে আল্লাহ্! আমাদের উপর নয়, আমাদের আশেপাশে বর্ষিত হোক। রাবী বলেন, তৎক্ষণাৎ মেঘমালা টুকরা টুকরা হয়ে ডানে-বামে সরে গেলো।

1270। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক বেদুইন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি অবশ্যি এমন এক সম্প্রদায়ের নিকট থেকে আপনার নিকট উপস্থিত হয়েছি যাদের রাখালদের পর্যাপ্ত আহারের সংস্থান নেই, এমনকি তারা তাদের চতুস্পদ জন্তুর বেঁচে থাকার আশাও ত্যাগ করেছে। তিনি সালাত (নামায/নামাজ) পড়লেন অতঃপর মিম্বারে উঠে আল্লাহ্‌র প্রশংসা করলেন, অতঃপর দুআ বললেনঃ হে আল্লাহ্! আমাদেরকে সাহায্যকারী বৃষ্টির পানি দান করুন যা সুপেয়, পর্যাপ্ত, ফসল উৎপাদক, প্রচুর, অবলম্বনে, বিলম্বে নয়। অতঃপর তিনি মিম্বার থেকে নামলেন। অতঃপর যে সকল লোকই তাঁর নিকট এসেছে তারাই বলেছে, আমাদের এখানে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে।

1271আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বৃষ্টিপাতের জন্য দুআ করলেন, এমনকি আমি তাঁর বগলের শুভ্রতা (উপরে হাত তোলার কারণে) দেখতে পাই। অধস্তন রাবী মুতামির বলেন, আমার মতে তিনি ইসতিসকার সালাতে এভাবে দুআ করেন।

1272। সালেম (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, কখনও কখনও আমার কবির কবিতা স্মরণ হতো এবং আমি মিম্বারের উপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর চেহারা মোবারকের দিকে লক্ষ্য নিবদ্ধ করে রাখতাম। তিনি মিম্বার থেকে অবতরণ না করতেই মদিনার বাড়িঘরের ছাদের পানিবাহী নল দিয়ে (বৃষ্টির) পানি পড়তে শুরু করে (পানি অপসারী নালা দিয়ে পানি বয়ে যেতে শুরু করতো)। তখন কবির কবিতা আমার মনে পড়ে যেতোঃ কত সুন্দর সৌন্দর্যময় সত্তা, যাঁর উসীলায় বৃষ্টি বর্ষণের প্রার্থনা করা যায়, যিনি ইয়াতীম ও বিধবাদের আশ্রয়স্থল। এটা আবূ তালিবের কবিতা।

1273। আতা (রহ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু আব্বাস (রাঃ) কে বলতে শুনেছি, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি খুতবা দানের পূর্বে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেছেন, অতঃপর খুতবাহ দিয়েছেন। তিনি লক্ষ্য করলেন যে, তিনি মহিলাদের তাঁর ভাষণ শুনাতে পারেননি (তাঁর কন্ঠস্বর তাদের পর্যন্ত পৌঁছেনি)। অতএব তিনি তাদের নিকট এসে তাদেরকে উপদেশ দেন, ওয়াজ-নাসীহাত করেন এবং তাদেরকে দান-খয়রাত করার নির্দেশ দেন। আর বিলাল তার হাতের কাপড় এভাবে ধরেন। মহিলারা তাদের স্বর্ণের বালা, আংটি ও অন্যান্য জিনিস (সেই কাপড়ের মধ্যে) ঢেলে দিতে থাকেন।

1274। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের দিন আযান ও ইকামত ব্যতীত (ঈদের) সালাত (নামায/নামাজ) পড়েন।

1275। আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ঈদের দিন মারওয়ান (ঈদের মাঠে) মিম্বার বের করে আনে এবং ঈদের সালাত (নামায/নামাজ) পড়ার আগে খুতবাহ দেয়। তখন এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললো, হে মারওয়ান! তুমি সুন্নাতের পরিপন্থী কাজ করেছো। তুমি ঈদের দিন (মাঠে) মিম্বার বের করে এনেছো, অথচ তা ঈদের মাঠে বের করে আনা হতো না। আবার তুমি ঈদের সালাত (নামায/নামাজ) পড়ার পূর্বে খুতবা দিতে শুরু করলে, অথচ সালাতের আগে খুতবাহ দিয়ে শুরু করা হতো না। আবূ সাঈদ (রাঃ) বলেন, এই ব্যক্তি অবশ্যি তার কর্তব্য পালন করেছে। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ তোমাদের মধ্যে কেউ অন্যায় কাজ হতে দেখলে এবং তার হাত দিয়ে তা প্রতিহত করার সামর্থ্য থাকলে সে যেন তা নিজ হাতে প্রতিহত করে। তার সেই সামর্থ্য না থাকলে সে যেন মুখের ভাষায় তা প্রতিহত (বা প্রতিবাদ) করে। যদি মুখের ভাষায় প্রতিহত করার সামর্থ্য তার না থাকে তবে সে যেন তার অন্তরে তা প্রতিহত করে। এটা ঈমানের খুবই নিম্নস্তর।

1276। ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, অতঃপর আবূ বাকর (রাঃ) অতঃপর উমার(রাঃ) খুতবাদানের পূর্বে ঈদের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন।

1277। সা’দ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু ঈদের সালাতের প্রথম রাকআতে কুরআন পাঠের পূর্বে সাত তাকবীর এবং দ্বিতীয় রাকআতেও কুরআন পাঠের পূর্বে পাঁচ তাকবীর দিতেন।

1278। আবদুল্লাহ বিন ইআলা থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের সালাতে পর্যায়ক্রমে (প্রথম ও দ্বিতীয় রাকআতে) সাত ও পাঁচ তাকবীর দিতেন।

1279। আমর ইবনু আওফ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু ঈদের সালাতে প্রথম রাকআতে সাত তাকবীর এবং শেষের রাকআতে পাঁচ তাকবীর দিতেন।

1280। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার সালাতে রুকূ-সিজদার তাকবীর ব্যতীত অতিরিক্ত সাত ও পাঁচ তাকবীর দিতেন।

1281। নুমান ইবনু বাশীর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু ঈদের সালাতে সূরাহ সাব্বিহিসমা রব্বিকাল আলা ও সূরাহ হাল আতাকা হাদীসুল গাশিয়া পড়তেন।

1282। উবাঈদুল্লাহ ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমার ঈদের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে রওয়ানা হলেন। তিনি আবূ ওয়াকিদ আল-লাইসী (রাঃ) এর নিকট লোক পাঠিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, আজকের মত এ দিনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কী তিলাওয়াত করতেন? তিনি জানান যে, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূরাহ কাফ ও সুরা ইকতারাবাতিস সাআহ দ্বারা কিরাআত পড়তেন।

1283। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের সালাতে সুরা আলা ও সূরাহ গাশিয়া পড়তেন।

1284। আবূ কাহিল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাহচর্য লাভ করেন। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে একটি উষ্ট্রীর পিঠে আরোহিত অবস্থায় খুতবাহ দিতে দেখেছি। এক হাবশী গোলাম উষ্ট্রীর লাগাম ধরে রেখেছিল।

1285। আবূ কাহিল কায়েস ইবনু আইয (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে একটি সুন্দর উষ্ট্রীর পিঠে আরোহিত অবস্থায় খুতবা দিতে দেখেছি। এক হাবশী গোলাম তার লাগাম ধরে রেখেছিলস।

1286। সালামাহ ইবনু নুবাইত (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি হাজ্জ (হজ্জ) করেন এবং বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তাঁর উটের পিঠে আরোহিত অবস্থায় খুতবাহ দিতে দেখেছি।

1287। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মুয়াযযিন সা’দ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অধিকাংশ খুতবাহ্য় বেশি বেশি তাকবীর বলতেন এবং তিনি দু ঈদের খুতবাহ্য় আরো অধিক সংখ্যায় তাকবীর বলতেন।

1288। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের দিন বের হতেন এবং লোকেদের নিয়ে দু রাকআত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন, তারপর সালাম ফিরাতেন। এরপর তিনি তাঁর উভয় পায়ের উপর দাঁড়িয়ে উপবিষ্ট লোকেদের দিকে মুখ করে বলতেনঃ তোমরা দান-খয়রাত করো, তোমরা দান-খয়রাত করো। দান-খয়রাতকারীদের অধিকাংশই ছিল মহিলা। তারা কানবালা, আংটি ও অন্যান্য জিনিস দান করে। তিনি যদি কোথাও সামরিক বাহিনী প্রেরণ করা জরুরী মনে করতেন, তাহলে তাদের উদ্দেশে সে সম্পর্কে আলোচনা করতেন, অন্যথায় ফিরে আসতেন।

1289। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতরের দিন অথবা ঈদুল আযহার দিন বের হলেন। অতঃপর তিনি (সালাত (নামায/নামাজ) শেষে) দাঁড়িয়ে খুতবাহ দেন, তারপর কিছুক্ষণ বসার পর পুনরায় দাঁড়িয়ে খুতবাহ দেন।

1290। আবদুল্লাহ ইবনুুস সাইব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ঈদের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে উপস্থিত ছিলাম। তিনি আমাদের নিয়ে ঈদের সালাত (নামায/নামাজ) পড়েন, অতঃপর বলেনঃ আমরা সালাত আদায় করেছি। অতএব যে পছন্দ করে সে খুতবাহর জন্য বসুক এবং যে চলে যেতে পছন্দ করে সে চলে যাক।

1291। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হয়ে এসে লোকেদের সাথে সালাত (নামায/নামাজ) পড়েন। তিনি ঈদের সালাতের পূর্বে বা পরে (নফল) সালাত পড়েননি।

1292। আমর ইবনু শুআইব (রহঃ) থেকে পর্যাযক্রমে তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের সালাতের আগে বা পরে (নফল) সালাত (নামায/নামাজ) পড়েননি।

1293। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের সালাতের আগে কোন সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে না। তবে তিনি তাঁর বাড়িতে ফিরে আসার পর দু রাকআত সালাত আদায় করতেন।

1294। সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পদব্রজে ঈদগাহে যেতেন এবং পদব্রজেই ঈদগাহ থেকে ফিরে আসতেন।

1295। ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পদব্রজেই ঈদগাহে যেতেন এবং পদব্রজেই ফিরে আসতেন।

1296। আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, পায়ে হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত।

1297। আবূ রাফি থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পদব্রজে ঈদগাহে আসতেন।

1298। আম্মার বিন সা’দ থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন দু ঈদের সালাতের জন্য বের হতেন, তখন সাঈদ ইবনু আবূল আস (রাঃ) এর ঘরের নিকট দিয়ে আসহাবে ফাসাতীত-এর দিক থেকে ঈদগাহে যেতেন। ফেরার পথে তিনি বনূ যরাইহ্কের পথ ধরে, আম্মার ইবনু ইয়াসির ও আবূ হুরাইরাহ -এর ঘরের সম্মুখ দিয়ে বালাত নামক স্থানের দিকে আসতেন।

1299। ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি এক রাস্তা দিয়ে ঈদের মাঠে যেতেন এবং ভিন্ন রাস্তা দিয়ে ফিরে আসতেন। তার মতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করতেন।

1300। আবূ রাফি (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পায়ে হেঁটে ঈদের মাঠে আসতেন এবং ভিন্ন পথে প্রত্যাবর্তন করতেন।

1301। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক রাস্তা দিয়ে ঈদের মাঠে যেতেন এবং অন্য রাস্তা দিয়ে প্রত্যাবর্তন করতেন।

1302। আমির (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়াদ আল-আশআরী আনবার নামক এলাকায় ঈদের সালাতে উপস্থিত হন। তিনি বলেন, আমি তোমাদেরকে দফ বাজাতে দেখছি না কেন, যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে তা বাজানো হতো?

1303। কায়েস ইবনু সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর যমানায় যা কিছু ঘটেছে তা আমি দেখেছি। একটি বিষয় আমি অবশ্যই দেখেছি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সময়ে ঈদুল ফিতরের দিন দফ বাজানো হতো। ২/১৩০৩(১) আবূল হাসান ইবনু সালামাহ আল-কাত্তান, ইবনু দীযীল, আদম, শাইবান, জাবির, (পুনরায়) ইসরাঈল, জাবির, (পুনরায়) ইব্রাহীম ইবনু নাসর, আবূ নুআয়ম, শারীক, আবূ ইসহাক, আমির (রহ) থেকে এই সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত আছে।

1304। ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের দিন ভোরবেলা ঈদগাহে যেতেন এবং তাঁর আগে আগে একটি বর্শা বহন করা হতো। তিনি ঈদগাহে পৌঁছলে তাঁর সামনে বর্শাটি পুঁতে দেয়া হতো। তিনি সেদিকে ফিরে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন। এ ছিল সেই সময়কার ঘটনা, যখন ঈদগাহ ছিলো খোলা মাঠ। তাতে এমন কিছু ছিল না যাকে সুতরা বানানো যেত।

1305। ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ঈদের সালাত (নামায/নামাজ) অথবা অন্য কোন সালাত (নামায/নামাজ) আদায়কালে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে একটি বল্লম পুঁতে দেয়া হতো। তিনি সেদিকে ফিরে সালাত আদায় করতেন, লোকেরা তাঁর পেছনে থাকতো। নাফি (রহ) বলেন, তাঁর অনুসরণে শাসকগণ এ পদ্ধতি অবলম্বন করেন।

1306। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের মাঠে বর্শা দ্বারা সুতরা করে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন।

1307। উম্মু আতিয়্যা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিন (ঈদের মাঠে) মহিলাদের নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। উম্মু আতিয়্যা(রাঃ) বলেন, আমরা বললাম, তাদের কারো যদি চাঁদর না থাকে, তার ব্যাপারে আপনার কী মত? তিনি বলেনঃ তার বোন নিজ চাঁদর থেকে তাকে পরাবে।

1308। উম্মু আতিয়্যা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা নাবালেগা ও বালেগা সকল মহিলাকে ঈদের মাঠে নিয়ে আসবে, যাতে তারা ঈদের নামাযে এবং মুসলিমদের দুআয় শরীক হতে পারে। তবে ঋতুবতী মহিলারা যেন ঈদের মাঠে যাওয়া থেকে বিরত থাকে।

1309। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কন্যাদের ও স্ত্রীদের দু ঈদের সালাতে নিয়ে যেতেন।

1310। ইয়াস ইবনু আবূ রামলা আশ-শামী (রহ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এক ব্যক্তিকে যায়দ ইবনু আকরাম (রাঃ) এর নিকট জিজ্ঞেস করতে শুনেছিঃ একই দিন দু ঈদে আপনি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে উপস্থিত ছিলেন? তিনি বলেন, হ্যাঁ। সে বললো, তিনি কিভাবে কী করতেন? যায়দ (রাঃ) বলেন, তিনি ঈদের সালাত (নামায/নামাজ) পড়ার পর জুমুআহর সালাতের ব্যাপারে অবকাশ দিতেন। অতঃপর যার ইচ্ছা হতো সে জুমুআহর সালাত আদায় করতো।

1311। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের আজকের এ দিন দু ঈদ একত্র হয়েছে। অতএব যার ইচ্ছা সে জুমুআহর সালাত (নামায/নামাজ) ছেড়ে দিতে পারে। ইনশাআল্লাহ আমরা অবশ্যই জুমুআহর সালাত পড়বো। ২/১৩১১ (১) আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের আজকের এই দিন দু ঈদ একত্র হয়েছে। অতএব যার ইচ্ছা সে জুমুআহর সালাত ছেড়ে দিতে পারে। ইনশাআল্লাহ আমরা অবশ্যই জুমুআহর সালাত আদায় করব।

1312। ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যমানায় একবার দু ঈদ একত্র হলো। তিনি লোকেদের নিয়ে ঈদের সালাত (নামায/নামাজ) পড়ার পর বলেনঃ যে ব্যক্তি জুমুআহর সালাতে আসতে চায় সে আসুক এবং যে চলে যেতে চায় সে চলে যাক (এবং যোহরের সালাত পড়ুক)।

1313। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যমানায় ঈদের দিন বৃষ্টি হলে তিনি লোকেদের নিয়ে মসজিদে সালাত (নামায/নামাজ) পড়েন।

1314। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু ঈদের দিন দেশের কোন শহরে অস্ত্রসজ্জিত হতে নিষেধ করেছেন, তবে শত্রুর উপস্থিতিতে তা করা যেতে পারে।

1315। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিন গোসল করতেন।

1316। ফাকিহ ইবনু সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি সাহাবী ছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতর, ঈদুল আয্হা ও আরাফার দিন গোসল করতেন। ফাকিহ (রাঃ) তার পরিবার-পরিজনদের ঐ দিনগুলিতে গোসল করার নির্দেশ দিতেন।

1317। আবদুল্লাহ ইবনু বুসর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি লোকেদের সাথে ঈদুল ফিতর অথবা ঈদুল আযহার দিন বের হলেন। ইমামের বিলম্বে তিনি অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, আমরা তো এ সময়ে ঈদের সালাত (নামায/নামাজ) শেষ করতাম। আর তখন চাশতের সালাতের সময়।

1318। ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের (তাহাজ্জুদ) সালাত (নামায/নামাজ) দু দু রাকআত করে পড়তেন।

1319। ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ রাতের (নফল) সালাত (নামায/নামাজ) দু রাকআত করে পড়বে।

1320। ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট রাতের সালাত (নামায/নামাজ) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন: তা দু দু রাকআত করে পড়বে। ভোর হওয়ার আশঙ্কা হলে, এক রাকআত বিতর পড়বে।

1321। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের (তাহাজ্জুদ) সালাত (নামায/নামাজ) দু রাকআত দু রাকআত করে পড়তেন।

1322। ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, রাত ও দিনের সালাত (নামায/নামাজ) দু দু রাকআত করে।

1323। উম্মু হানী বিনত আবূ তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের দিন আট রাকয়াত চাশতের সালাত (নামায/নামাজ) পড়েন এবং প্রতি দু রাকআত অন্তর সালাম ফিরান। আট রাকয়াত যুহার সালাত (নামায/নামাজ) পড়ার কথা সহীহ যা বুখারী, মুসলিমে রয়েছে, সহীহ আবী দাউদ ১১৬৮, কিন্তু প্রতি দুরাকআত অন্তর সালামের কথা মুনকার।

1324। আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ প্রতি দু রাকআত অন্তর একবার সালাম ফিরাবে।

1325। আল-মুত্তালিব ইবনু আবূ ওয়াদাআ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রাতের সালাত (নামায/নামাজ) দু দু রাকআত করে। প্রতি দু রাকআতের শেষে রয়েছে তাশাহ্‌হুদ। অত্যন্ত বিনয়-নম্রতা সহকারে, শান্তভাবে ও একাগ্রতার সাথে সালাত (নামায/নামাজ) পড়বে এবং বলবেঃ হে আল্লাহ্! আমাকে ক্ষমা করুন। যে ব্যক্তি তা করেনি তার নামায ত্রুটিপূর্ণ।

1326। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় রমযান মাসের সওম রাখে (এবং রাতে) দন্ডায়মান হয় (সালাত (নামায/নামাজ) পড়ে) তার পূর্ববর্তী গুনাহ মাফ করা হয়।

1327। আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে রমযানে সওম রাখলাম। তিনি আমাদের নিয়ে এ মাসে (নফল সালাতে) দাঁড়াননি, এমনকি রমযানের মাত্র সাতটি রাত বাকি রইল। সপ্তম রাতে তিনি আমাদের নিয়ে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ রাত সালাত (নামায/নামাজ) পড়লেন। এরপর ষষ্ঠ রাতে তিনি (নফল) সালাত ড়েননি। অতঃপর পঞ্চম রাতে তিনি আমাদের নিয়ে প্রায় অর্ধরাত পর্যন্ত সালাত পড়েন। আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! এর রাতের অবশিষ্ট অংশও যদি আপনি আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করতেন। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি ইমামের সাথে সালাত পড়ে ফিরে আসে, সে সারা রাত সালাত পড়ার সমান সওয়াব পায়। অতঃপর তিনি চতুর্থ রাতে সালাত পড়েননি। তৃতীয় রাত এলে তিনি তাঁর স্ত্রীদের, পরিজনদের একত্র করেন এবং লোকেরাও একত্র হয়। রাবী বলেন, তিনি আমাদের নিয়ে এত দীর্ঘক্ষণ সালাত পড়লেন যে, আমরা কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করলাম। আবূ যার (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করা হলো, কল্যাণ কী? তিনি বলেন, সাহরী। অতঃপর তিনি আমাদের নিয়ে মাসের অবশিষ্ট রাতগুলোতে আর কোন নফল সালাত পড়েননি।

1328। নাযর ইবনু শাইবান (রহ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ সালাম ইবনু আবদুর রহমান (রহঃ)-এর সাথে সাক্ষাত করে বললাম, আপনি আপনার পিতাকে রমযান মাস সম্পর্কে যে হাদীস বলতে শুনেছেন তা আমার নিকট বর্ণনা করুন। তিনি বলেন, হ্যাঁ, আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেন যে,রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযান মাস সম্পর্কে উল্লেখ করে বলেনঃ এমন একটি মাস, আল্লাহ তোমাদের উপর তার সওম ফরয করেছেন এবং আমি তোমাদের উপর এর দন্ডায়মান হওয়া (রাত জেগে ইবাদাত করা) সুন্নাত করেছি। অতএব এয ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় এ মাসে সওম রাখে ও (রাতে ইবাদাতে) দন্ডায়মান হয় সে তার জন্মদিনের মত পাপমুক্ত হয়ে যায়।

1329। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রাতের বেলা শয়তান তোমাদের প্রত্যেকের মাথায় একটি দড়ি দিয়ে তিনটি গিরা দেয়। সে ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে আল্লাহকে স্মরণ করলে একটি গিরা খুলে যায়। সে উঠে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলে আরেকটি গিরা খুলে যায়। অতঃপর সে যখন সালাতে দাঁড়ায়, তখন সমস্ত গিরা খুলে যায়। ফলে সে প্রশান্ত মনে হৃষ্টচিত্তে ভোরে উপনীত হয় এবং কল্যাণপ্রাপ্ত হয়। আর সে যদি এরূপ না করে, তবে তার ভোর হয় অলসতা ও অপবিত্র মন নিয়ে। ফলে সে কল্যাণ লাভ করতে পারে না।

1330। আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এক ব্যক্তি সম্পর্কে আলোচনা হলো যে, সে এক ঘুমে রাত কাটিয়ে ভোরে উপনীত হয়। তিনি বলেনঃ এ ব্যক্তির দুকানে শয়তান পেশাব করে দিয়েছে।

1331। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তুমি অমুক ব্যক্তির মত হয়ো না, যে রাতে উঠতো (নফল ইবাদাত করতো), পরে তা ছেড়ে দিয়েছে।

1332। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সুলায়মান (আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মা তাঁকে বললেন, হে বৎস! তুমি রাতে অধিক ঘুমিও না। কেননা রাতের অধিক ঘুম মানুষকে কিয়ামতের দিন নিঃস্ব অবস্থায় ত্যাগ করে।

1333। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রাতে অধিক পরিমাণে সালাত (নামায/নামাজ) পড়ে, দিনে তার চেহারা উজ্জ্বল হয়।

1334। আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনা্য় পদার্পণ করলে লোকেরা তাঁকে দেখার জন্য ভীড় জমায় এবং বলাবলি হয় যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসেছেন। আমিও লোকেদের সাথে তাঁকে দেখতে গেলাম। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চেহারার দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারলাম যে, এ চেহারা কোন মিথ্যাবাদীর চেহারা নয়। তখন তিনি সর্বপ্রথম যেকথা বলেন তা হলোঃ হে লোকসকল! তোমরা পরস্পর সালাম বিনিময় করো, অভুক্তকে আহার করাও এবং রাতের বেলা মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন সালাত (নামায/নামাজ) পড়ো। তাহলে তোমরা নিরাপদে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে।

1335। আবূ সাঈদ ও আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি রাতে ঘুম থেকে জেগে উঠে নিজ স্ত্রীকেও ঘুম থেকে জাগ্রত করে উভয়ে দু রাকআত (নফল) সালাত (নামায/নামাজ) পড়ে, তাদের উভয়কে আল্লাহ্‌র পর্যাপ্ত যিকরকারী পুরুষ ও পর্যাপ্ত যিকিরকারী স্ত্রীলোকদের তালিকাভুক্ত করা হয়।

1336। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে অনুগ্রহ ধন্য করুন, যে রাতে উঠে সালাত (নামায/নামাজ) পড়ে এবং তার স্ত্রীকেও জাগায়, তারপর সেও সালাত পড়ে। আর যদি সে (স্ত্রী জাগতে অস্বীকার করে, তাহলে স্বামী তার মুখমন্ডলে পানি ছিটিয়ে দেয়। আল্লাহ সেই মহিলাকে অনুগ্রহ ধন্য করুন, যে রাতে উঠে সালাত পড়ে এবং তার স্বামীকেও জাগায়, আর সেও সালাত পড়ে। স্বামী জাগতে অস্বীকার করলে সে তার মুখমন্ডলে পানি ছিটিয়ে দেয়।)

1337। আবদুর রহমান ইবনুুস সাইব (রহ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) আমাদের নিকট এলেন। তখন তার দৃষ্টিশক্তি লোপ পেয়েছিল। আমি তাকে সালাম দিলে তিনি বলেন, তুমি কে? আমি তাকে আমার পরিচয় দিলে তিনি বলেন, মারহাবা, হে ভাতিজা! আমি জানতে পেরেছি যে, তুমি সুকন্ঠে কুরআন তিলাওয়াত করো। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছিঃ নিশ্চয় এই কুরআন দুশ্চিন্তার সাথে নাযিল হয়েছে। অতএব তোমরা যখন কুরআন তিলাওয়াত করো, তখন কাঁদো। যদি তোমরা কাঁদতে না পারো, তাহলে কান্নার ভাব জাগ্রত করো এবং সুমধুর স্বরে কুরআন তিলাওয়াত করো। যে ব্যক্তি সুমধুর কন্ঠে কুরআন তিলাওয়াত করে না, সে আমাদের নয়।

1338। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময়ে এক রাতে আমি এশার পর খানিকটা বিলম্বে ঘরে আসি। তিনি বলেনঃ তুমি কোথায় ছিলে? আমি বললাম, আমি আপনার সাহাবীদের একজনের কুরআন তিলাওয়াত শুনছিলাম। আমি কখনো তার মত সুকন্ঠ কারো তিলাওয়াত শুনিনি। আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, তিনি কুরআন তিলাওয়াত শুনতেই উঠে গেলেন এবং আমিও তাঁর সাথে উঠে গেলাম। তিনি আমার দিকে তাকিয়ে বলেনঃ এতো আবূ হুযাইফাহর মুক্তদাস সালিম। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্‌র, যিনি আমার উম্মাতের মধ্যে এরূপ ব্যক্তি সৃষ্টি করেছেন।

1339। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মানুষের মধ্যে সুকন্ঠে কুরআন তিলাওয়াতকারী সেই ব্যক্তি যার তিলাওয়াত শুনে তোমাদের ধারণা হয় যে, সে আল্লাহ্‌র ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত।

1340। ফাযালাহ্ ইবনু উবাইদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন গায়িকা তার গানের প্রতি যতটা একাগ্র থাকে, আল্লাহ তাআলা সুকন্ঠে ও সশব্দে কুরআন তিলাওয়াতকারীর তিলাওয়াত তার চেয়ে অধিক কান লাগিয়ে শোনেন।

1341। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে প্রবেশ করে এক ব্যক্তির কুরআন তিলাওয়াত শোনেন। তিনি জিজ্ঞেস করেনঃ কে এই ব্যক্তি? বলা হলো, আবদুল্লাহ ইবনু কায়েস। তিনি বলেনঃ তাকে দাউদ (আলাইহিস সালাম)-এর সুমধুর কন্ঠস্বর দান করা হয়েছে।

1342। আল-বারাআ ইবনু আযেব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের সুকন্ঠী আওয়াজ দ্বারা কুরআনকে সুসজ্জিত করো।

1343। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তার রাতের নিয়মিত তিলাওয়াত বা তার অংশবিশেষের তিলাওয়াত বাদ রেখে ঘুমিয়ে পড়লো, অতঃপর তা ফজর থেকে যোহরের সালাতের মধ্যবর্তী সময়ে পড়ে নিলো, সে যেন তা রাতেই পড়েছে বলে (তার আমলনামায়) লিপিবদ্ধ হয়।

1344। আবূ দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি (ঘুমাতে) তার বিছানায় এসে রাতে উঠে সালাত (নামায/নামাজ) পড়ার নিয়ত করলো, কিন্তু ঘুমের আধিক্যের কারণে তার ভোরে ঘুম ভাংলো, তাকে তার নিয়াত অনুযায়ী সওয়াব দেয়া হবে। তার এ ঘুম তার প্রভুর পক্ষ থেকে তার জন্য দান-খয়রাত হিসাবে গণ্য।

1345। আওস ইবনু হুযাইফাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা ছাকীফ গোত্রের প্রতিনিধি দলের সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট আসলাম। তারা তাদের মিত্র বনু মুগীরাহ ইবনু শুবাহ (রাঃ) এর মেহমান হলেন। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনূ মালেকের তাঁবুতে অবস্থান করেন। তিনি প্রতি রাতে এশা সালাতের পর আমাদের নিকট আসতেন এবং তাঁর দু পায়ের উপর দাঁড়িয়ে আমাদের সাথে কথাবার্তা বলতেন। তিনি কখনো এক পায়ের উপর ভর করে আবার কখনো উভয় পায়ের উপর ভর করে কথাবার্তা বলতেন। তিনি অধিকাংশই আমাদের কাছে তাঁর নিজ গোত্র কুরায়শদের নির্মম আচরণ সম্পর্কে আলোচনা করতেন এবং বলতেনঃ এ কথা বলতে কোন দোষ নেই যে, আমরা ছিলাম দুর্বল ও লাঞ্ছিত। আমরা যখন মদিনার দিকে বেরিয়ে এলাম, তখন আমাদের ও তাদের মধ্যে যুদ্ধ বেধে যায়। কখনো আমরা তাদের উপর বিজয়ী হতাম, আবার কখনো তারা আমাদের উপর জয়লাভ করতো। এক রাতে তিনি তার পূর্ব নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বিলম্বে আমাদের নিকট এলেন। আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আজ রাতে আপনি আমাদের নিকট বিলম্বে এসেছেন! তিনি বলেনঃ আমার কুরআনের কিছু তিলাওয়াত বাকী থাকায়, তা তিলাওয়াত না করা পর্যন্ত বের হওয়া অপছন্দ করলাম। আওস (রহ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীদের নিকট জিজ্ঞেস করলাম, আপনারা কিভাবে কুরআনের অংশ নির্দিষ্ট করে তিলাওয়াত করতেন? তারা বলেন, প্রথম দিন তিন সূরা, দ্বিতীয় দিন পাঁচ সূরা, তৃতীয় দিন সাত সূরা, চতুর্থ দিন নয় সূরা, পঞ্চম দিন এগার সূরা, ষষ্ঠ দিন তের সূরাহ এবং সপ্তম দিন হিযবুল মুফাসসাল হতে শেষ অংশ।

1346। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি কুরআন মুখস্থ করেছি এবং তা প্রতি রাতে সম্পূর্ণ তিলাওয়াত করি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমার আশংকা যে, তুমি দীর্ঘজীবী হবে এবং বার্ধক্যে দুর্বল হয়ে পড়বে। তাই তুমি এক মাস অন্তর কুরআন খতম করো। আমি বললাম, আমাকে আমার শক্তিমত্তা ও যৌবন দ্বারা উপকৃত হতে দিন। তিনি বলেনঃ তাহলে তুমি দশ দিন অন্তর কুরআন খতম করো। আমি বললাম, আপনি আমাকে আমার শক্তিমত্তা ও যৌবন দ্বারা উপকৃত হতে দিন। তিনি বলেন: তাহলে তুমি সাত দিন অন্তর খতম করো। আমি বললাম, আমার শক্তিমত্তা ও যৌবন দ্বারা আমাকে উপকৃত হতে দিন। তখন তিনি তা অস্বীকার করেন।

1347। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তিন দিনের কম সময়ে যে ব্যক্তি কুরআন খতম করে, সে কুরআনের কিছুই বুঝতে পারে না।

1348। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক রাতে কুরআন খতম করেছেন বলে আমার জানা নেই।

1349। উম্মু হানী বিনতে আবূ তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার ঘরের ছাদে শোয়া অবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রাতের কিরাআত শুনতে পেলাম।

1350। আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে দাঁড়িয়ে ভোর হওয়া পর্যন্ত একটি আয়াত বারবার তিলাওয়াত করতে থাকেনঃ আপনি যদি তাদের শাস্তি দেন তবে তারা তো আপনারই বান্দা। আর আপনি যদি তাদের ক্ষমা করেন তবে আপনি তো পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়- (সূরাহ মায়িদাঃ ১১৮)।

1351। হুযাইফাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে (সালাতে) কুরআন পড়ে রহমতের আয়াতে পৌঁছে রহমত কামনা করতেন এবং আযাবের আয়াতে পৌঁছে আযাব থেকে আশ্রয় চাইতেন এবং আল্লাহ্‌র পবিত্রতা ঘোষণাকারী আয়াতে পৌছে তাঁর তাসবীহ পাঠ করতেন।

1352। ইবনু আবী লাইলা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে নফল সালাত (নামায/নামাজ) পড়েন, আমি তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে তাঁর সাথে নফল সালাত (নামায/নামাজ) পড়লাম। তিনি আযাবের আয়াত তিলাওয়াত করে বলেনঃ আমি। জাহান্নামের আগুন থেকে আল্লাহর আস্রয় প্রার্থনা করছি আর জাহান্নামের অধিবাসীদের জন্য ধ্বংস।

1353। ক্বাতাদাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) এর নিকট নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কিরাআত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করি। তিনি বলেন, তিনি সশব্দে কিরাআত পড়তেন।

1354। গুতাইফ ইবনুল হারিস (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ (রাঃ) এর নিকট এসে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি সশব্দে কুরআন পড়তেন, না অস্পষ্ট শব্দে? তিনি বলেন, কখনো তিনি সশব্দে আবার কখনো অস্পষ্ট শব্দে কিরাআত পড়তেন। আমি বললাম, আল্লাহু আকবার, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্‌র, যিনি এ বিষয়ে (উভয়টির) অবকাশ রেখেছেন।

1355। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের তাহাজ্জুদ সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে উঠে বলতেনঃ হে আল্লাহ্! সমস্ত প্রশংসা তোমার, তুমি আসমান-যমীন ও এগুলোর মধ্যস্থ সকল কিছুর জ্যোতি। সমস্ত প্রশংসা তোমার, তুমিই আসমান-যমীন এবং এগুলোর মধ্যস্থ সকল কিছুর ধারক। সমস্ত প্রশংসা তোমার। তুমি আসমান-যমীন এবং এগুলোর মধ্যস্থ সবকিছুর অধিপতি। সমস্ত প্রশংসা তোমার। তুমি সত্য, তোমার অঙ্গীকার সত্য, তোমার সাক্ষাত লাভ সত্য, তোমার বাণী সত্য, জান্নাত সত্য, জাহান্নাম সত্য, ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) সত্য, আম্বিয়া কিরাম সত্য এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সত্য। হে আল্লাহ্! আমি তোমার নিকট আত্মসমর্পণ করেছি, তোমার উপর ঈমান এনেছি, তোমার উপর ভরসা করেছি, তোমার দিকে ফিরে এসেছি, তোমার জন্য বিতর্ক করি এবং তোমার কাছেই বিচারপ্রার্থী। অতএব তুমি আমার পূর্বাপর পাপরাশি ক্ষমা করে দাও, যা আমি গোপনে ও প্রকাশ্যে করেছি। তুমিই আদি, তুমিই অন্ত, তুমিই একমাত্র ইলাহ এবং তুমি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই। তোমার শক্তি ব্যতীত ক্ষতি রোধ করার এবং কল্যাণ লাভ করার কোন শক্তি নেই। ১/১৩৫৫(১) আবূ বাকর ইবনু খাল্লাদ আল-বাহিলী, সুফ্ইয়ান ইবনু উয়াইনাহ, সুলাইমান ইবনু আবূ মুসলিম আল-আহ্ওয়াল, তাঊস, ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করতে উঠে বলতেন পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ।

1356। আসিম ইবনু হুমাইদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে উঠে প্রথমে কী পড়তেন? তিনি বলেন, তুমি আমার নিকট যে সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছো, তোমার আগে সে সম্পর্কে আমাকে আর কেউ জিজ্ঞেস করেনি। তিনি দশবার আল্লাহু আকবার, দশবার আলহামদু লিল্লাহ, দশবার সুবহানাল্লাহ ও দশবার ক্ষমা প্রার্থনা করতেন এবং বলতেনঃ হে আল্লাহ্! আমাকে ক্ষমা করো, আমাকে হিদায়াত দান করো, আমাকে রিযিক দাও এবং আমাকে নিরাপত্তা দান করো। তিনি ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) দিবসের ভয়াবহ অবস্থা থেকেও আশ্রয় প্রার্থনা করতেন।

1357। আবূ সালাম ইবনু আবদুর রহমান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে জাগ্রত হয়ে তাঁর (তাহাজ্জুদ) সালাতের শুরুতে কী বলতেন? আয়িশাহ(রাঃ) বলেন, তিনি বলতেনঃ হে আল্লাহ জিবরাঈল, মীকাঈল ও ইসরাফীল (আলাইহিমুস সালাম)-এর প্রভু, আসমান ও যমীনের সৃষ্টিকর্তা, অদৃশ্য ও দৃশ্যের পরিজ্ঞাতা! আপনার বান্দারা যে বিষয় নিয়ে মতভেদ করে, আপনি তার মীমাংসাকারী। যে বিষয়ে মতভেদ করা হয়ে থাকে, আপনি মেহেরবাণী করে সে বিষয়ে আমাকে সঠিক পথ প্রদর্শন করুন। আপনই সরল সঠিক পথে হিদায়াত দান করেন। আবদুর রহমান বিন উমার (রহঃ) বলেন, তোমরা জিবরাঈল শব্দটি হামযা অক্ষরযোগে পাঠ করো। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এরূপই বর্ণিত আছে।

1358। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এশার সালাতের পর থেকে ফজরের সালাতের পূর্ব পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এগারো রাকআত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন। তিনি প্রতি দু রাকআত পর সালাম ফিরাতেন এবং এক রাকআত বিতর পড়তেন। তিনি এ সালাতে এতো দীর্ঘ সিজদা করতেন যে, তাঁর মাথা উঠানোর পূর্বে তোমাদের যে কেউ পঞ্চাশ আয়াত পরিমাণ তিলাওয়াত করতে পারতো। মুআয্যিন যখন ফজরের সালাতের প্রথম আযান শেষ করে নীরব হতো, তখন তিনি উঠে দাঁড়িয়ে হালকাভাবে দু' রাকআত সালাত আদায় করতেন।

1359। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে তেরো রাকআত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন।

1360। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে নয় রাকআত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন।

1361। আমের আশ-শাবী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস ও আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রাতের সালাত (নামায/নামাজ) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তারা বলেন, তেরো রাকআত, এর মধ্যে আট রাকআত তাহাজ্জুদ, তিন রাকআত বিতর এবং ফজরের ওয়াক্ত হলে পর দু রাকআত (সুন্নাত)।

1362। যায়দ ইবনু খালিদ আল-জুহানী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি (মনে মনে) বললাম, আমি অবশ্যি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আজকের রাতের সালাত (নামায/নামাজ) দেখবো। তিনি বলেন, আমি তাঁর ঘরের বা তাঁর তাঁবুর দরজার কাঠের সাথে ঠেস দিয়ে বসে থাকলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে হালকাভাবে দু' রাকআত সালাত পড়েন, অতঃপর দীর্ঘ দু রাকআত পড়েন, তারপর আরো দু রাকআত পড়েন, যা পূর্ববর্তী দু রাক্আতের চেয়ে কম দীর্ঘ, তারপর দু রাকআত পড়েন, যা ছিল তার পূর্ববর্তী দু রাকআত অপেক্ষা কম দীর্ঘ, তারপর আরো দুরাকআত পড়েন, যা ছিল তার পূর্ববর্তী দু রাকআত অপেক্ষা স্বল্প দীর্ঘ, এরপর আরো দু রাকআত পড়েন, তারপর বিতর পড়েন। এভাবে মোট তেরো রাকআত হলো।

1363। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি তার খালা এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর স্ত্রী মাইমূনা (রাঃ) এর ঘরে ঘুমালেন। তিনি বলেন, আমি বালিশে আড়াআড়িভাবে শুয়ে পড়লাম এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর স্ত্রী লম্বালম্বি শুয়ে পড়েন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমিয়ে পড়েন। অর্ধরাত বা তার চেয়ে কম কিছু অথবা বেশি অতিবাহিত হলে তিনি জেগে তাঁর দু হাত দিয়ে ঘুমের রেশ তাঁর চেহারা থেকে দুর করেন, অতঃপর সূরাহ আল ইমরানের শেষ দশ আয়াত তিলাওয়াত করেন, তারপর উঠে দাঁড়িয়ে ঝুলন্ত পানির মশকের কাছে গিয়ে তা থেকে পানি নিয়ে উত্তমরূপে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করেন, তারপর সালাতে দাঁড়িয়ে যান। আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস বলেন, আমিও উঠে গেলাম এবং তিনি যা করলেন আমিও তদ্রূপ করলাম, তারপর তাঁর পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ডান হাত আমার মাথার উপর রাখলেন এবং আমার ডান কান ধরে মললেন। তারপর তিনি দু রাকআত সালাত (নামায/নামাজ) পড়েন, তারপর দু রাকআত, তারপর দু রাকআত, তারপর দু রাকআত, তারপর দু রাকআত, তারপর দু রাকআত, তারপর বিতর সালাত পড়েন। তারপর তিনি আরাম করেন, যাবত না তাঁর নিকট মুআয্যিন আসে। অতঃপর তিনি হালকাভাবে দু রাকআত (ফজরের সুন্নাত) সালাত পড়েন, অতঃপর (ফজরের ফরয) সালাত আদায় করতে বেরিয়ে যান।

1364। আমর ইবনু আবাসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আপনার সাথে কে কে ইসলাম গ্রহণ করেছেন? তিনি বলেনঃ স্বাধীন ও ক্রীতদাস। আমি বললাম, এমন কোন সময় আছে কি যা অপর সময়ের তুলনায় আল্লাহ্‌র নিকটতর (নৈকট্য লাভের উত্তম সময়)? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ। রাতের মধ্যভাগ।

1365। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের প্রথমভাগে ঘুমাতেন এবং শেষবাগে জাগ্রত থাকতেন।

1366। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকতে আমাদের মহান প্রতিপালক (পৃথিবীর নিকটতম আকাশে) অবতরণ করেন এবং ফজর হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত বলতে থাকেনঃ আমার কাছে যে চাইবে আমি তাকে দান করবো, আমার নিকট যে দুআ করবে আমি তার দুআ কবূল করবো, যে আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে, আমি তাকে ক্ষমা করবো। এ কারণেই সাহাবীগন রাতের প্রথমাংশ অপেক্ষা শেষাংশে সালাত (নামায/নামাজ) পড়া পছন্দ করতেন।

1367। রিফাআ আল-জুহানী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রাতের অর্ধেক বা দু-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা (বান্দাকে) অবকাশ দেন। ফজর উদিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তিনি বলতে থাকেনঃ আমার বান্দা আমাকে ছাড়া আর কারো কাছে চাইবে না। যে আমাকে ডাকবে আমি তার ডাকে সাড়া দিবো, যে আমার কাছে প্রার্থনা করবে, আমি তাকে দান করবো, যে আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে, আমি তাকে ক্ষমা করে দিবো।

1368। আবূ মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি রাতে সূরাহ বাকারার শেষ দু আয়াত তিলাওয়াত করলে তা তার জন্য যথেষ্ট। হাফস (রহঃ) তার হাদীসে উল্লেখ করেন যে, আবদুর রহমান (রহঃ) বলেন, আমি আবূ মাসঊদ (রাঃ) এর সাথে তার তাওয়াফরত অবস্থায় সাক্ষাত করি। তখন তিনি আমার নিকট এ হাদীস বর্ণনা করেন।

1369। আবূ মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি রাতে সূরাহ বাকারার শেষ দু আয়াত তিলাওয়াত করে, তা তার জন্য যথেষ্ট।

1370। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সালাতরত অবস্থায় তোমাদের কেউ তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়লে সে যেন শুয়ে যায়, যাবত না তার ঘুম দূরীভূত হয়। কেননা তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় সালাত (নামায/নামাজ) পড়লে কী বলা হচ্ছে, তা সে জানে না। হয়তো সে ক্ষমা প্রার্থনা করতে গিয়ে নিজেকে গালি দিয়ে বসবে।

1371। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে প্রবেশ করে দুটি খুঁটির মাঝখানে একটি রশি বাঁধা দেখলেন। তিনি বলেনঃ এ রশি কিসের? তারা বলেন, যয়নবের জন্য। তিনি সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে পড়তে অবসা’দগ্রস্ত হয়ে পড়লে এই রশিতে ঝুলে পড়েন। তিনি বলেনঃ এটি খুলে ফেলো, এটি খুলে ফেলো। তোমাদের কারো সামর্থ্য থাকা পর্যন্ত সালাত পড়বে। যখন সে ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তখন যেন শুয়ে পড়ে।

1372। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কেউ যখন রাতে সালাতে দাঁড়ায় এবং কিরাআত পাঠে তার জিহবা আড়ষ্ট হয়ে আসে (তন্দ্রার কারণে), সে কী বলে তা বুঝেনা, তখন সে শুয়ে পড়বে।

1373। আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি মাগরিব ও এশার মধ্যবর্তী সময়ে বিশ রাকআত সালাত (নামায/নামাজ) পড়ে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করেন।

1374। আবূ হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি মাগরিবের সালাতের পর ছয় রাকআত সালাত (নামায/নামাজ) পড়লো এবং এ সালাতের মাঝখানে কোন অশিষ্ট কথা বলেনি, তাকে বারো বছরের ইবাদাতের সওয়াব দেয়া হয়।

1375। আসেম ইবনু আমর (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইরাকের একটি প্রতিনিধি দল উমার (রাঃ) এর সাথে সাক্ষাতের জন্য রওয়ানা হলেন। তারা তার নিকট উপস্থিত হলে তিনি তাদের বলেন, তোমরা কারা? তারা বললো, ইরাকীদের পক্ষ থেকে। তিনি বলেন, তোমরা অনুমতি নিয়ে এসেছো কি? তারা বললো, হ্যাঁ। রাবী বলেন, তারা তাকে কোন ব্যক্তি তার ঘরে (নফল) সালাত (নামায/নামাজ) পড়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলো। উমার (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেনঃ কোন ব্যক্তির ঘরে সালাত পড়া হলো নূর (আলো)। অতএব তোমরা তোমাদের ঘরকে আলোকিত করো। ১/১৩৭৫ (১) মুহাম্মাদ ইবনু আবূল হুসায়ন, আবদুল্লাহ ইবনু জাফার, উবাঈদুল্লাহ ইবনু আমর, যায়দ ইবনু আবূ উনাইসাহ, আবূ ইসহাক, আসিম ইবনু আমর, উমায়র মাওলা উমার ইবনুল খাত্তাব, উমার (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

1376। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কেউ সালাত (নামায/নামাজ) পড়লে তার কিছু অংশ সে যেন তার ঘরে পড়ে। কারণ তার সালাতের উসীলায় আল্লাহ তার ঘরে প্রাচুর্য দান করেন।

1377। ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের ঘরগুলো কবরে পরিণত করো না (ঘরেও কিছু সুন্নাত বা নফল সালাত (নামায/নামাজ) পড়ো)।

1378। আবদুল্লাহ ইবনু সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলাম, কোনটি উত্তম- আমার ঘরের সালাত (নামায/নামাজ) অথবা মসজিদের সালাত? তিনি বলেনঃ তুমি কি আমার ঘর দেখো না, তা মসজিদের কত নিকটে? তা সত্ত্বেও আমার মসজিদে সালাত পড়া অপেক্ষা আমার ঘরে সালাত পড়া আমার নিকট অধিক প্রিয়। কিন্তু ফরয সালাত হলে (তা মসজিদে পড়বে)।

1379। আবদুল্লাহ ইবনুল হারিস (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উসমান ইবনু আফফান (রাঃ) এর আমলে বহু লোকের উপস্থিতিতে আমি চাশতের সালাত (সালাতুদ দুহা) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। কিন্তু মাইমূনা (রাঃ) ব্যতীত আর কেউ বলতে পারেননি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেছেন কি না। তিনি আমাকে অবহিত করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই সালাত আট রাকআত পড়েছেন।

1380। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি বার রাকআত চাশতের সালাত (নামায/নামাজ) পড়লো, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের মধ্যে একটি স্বর্ণের ইমারত নির্মাণ করেন।

1381। মুআযা আল-আদাবিয়্যা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি চাশতের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতো? তিনি বলেন, হ্যাঁ, চার রাকআত, আবার আল্লাহ্‌র মর্জি হলে তার বেশিও পড়তেন।

1382। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি চাশতের দু রাকআত সালাতের হেফাজত করলো, তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করা হলো, তা সমুদ্রের ফেনারাশির ন্যায় অধিক হলেও।

1383। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে ইসতিখারার নিয়ম শিক্ষা দিতেন, যেমন (গুরুত্ব সহকারে) তিনি আমাদের কুরআনের সূরাহ শিক্ষা দিতেন। তিনি বলতেনঃ তোমাদের কেউ যখন কোন কাজ করার ইচ্ছা করে, তখন সে যেন দু রাকআত নফল সালাত (নামায/নামাজ) পড়ে, অতঃপর বলেনঃ হে আল্লাহ্! আমি তোমার ইলম অনুযায়ী তোমার নিকট কল্যাণের দিকে পরিচালিত করার প্রার্থনা করি এবং তোমার শক্তি থেকে শক্তি চাই, আমি তোমার মহান অনুগ্রহ প্রত্যাশা করি। কেননা তুমি ক্ষমতা রাখো এবং আমি ক্ষমতা রাখি না। তুমিই জানো, আমি জানি না, তুমি অদৃশ্য বিষয়ে সম্যক জ্ঞাত। হে আল্লাহ্! যদি তুমি জানো, আমার এ কাজ (উদ্দেশ্য উল্লেখ করতে হবে) আমার দ্বীন-দুনিয়া এবং পরিণাম হিসেবে কল্যাণকর (অথবা বর্তমান ও ভবিষ্যতে আমার জন্য মংগলময়) মনে করো তবে আমাকে সে কাজের ক্ষমতা দাও এবং তা আমার জন্য সহজ করো এবং এতে আমায় বকরত দান করো। আর তুমি যদি মনে করো যে, (প্রথম বারের মত বলবে) আমার ধর্ম, আমার জীবন ও পরিণাম হিসেবে এটা অকল্যাণকর, তবে আমার থেকে তা দূরে রাখো এবং তা থেকে আমাকেও দূরে রাখো, আর আমার জন্য যা কল্যাণকর, সে কাজে আমাকে সন্তুষ্ট রাখো।

1384। আবদুল্লাহ ইবনু আবূ আওফা আল-আসলামী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট বের হয়ে এসে বলেন: আল্লাহ্‌র নিকট অথবা তাঁর কোন মাখলুকের নিকট কারো কোন প্রয়োজন থাকলে, সে যেন উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে দু রাকআত সালাত (নামায/নামাজ) পড়ে, অতঃপর বলেঃ পরম সহনশীল ও দয়ালু আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই। মহান আরশের রব আল্লাহ অতীব পবিত্র। সমগ্র বিশ্বের প্রতিপালক আল্লাহ্‌র জন্যই যাবতীয় প্রশংসা। হে আল্লাহ্! আমি তোমার নিকট অবধারিত রহমত, তোমার অফুরন্ত ক্ষমা, সকল সদাচারের ভান্ডার এবং প্রতিটি পাপাচার থেকে নিরাপত্তা প্রার্থনা করি। আমি তোমার নিকট আরো প্রার্থনা করি যে, তুমি আমার সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দাও, আমার দুশ্চিন্তা দূর করে দাও, তোমার সন্তুষ্টিমূলক প্রতিটি প্রয়োজন পূরণ করে দাও। অতঃপর সে দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য যা চাওয়ার আছে তা প্রার্থনা করবে। কারণ তা আল্লাহ্ই নির্ধারিত করেন।

1385। উসমান ইবনু হুনাইফ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক অন্ধ লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এসে বললো, আপনি আল্লাহ্‌র কাছে আমার জন্য দুআ করুন। তিনি যেন আমাকে রোগমুক্তি দান করেন। তিনি বলেনঃ তুমি চাইলে আমি তোমার জন্য দুআ করতে বিলম্ব করবো, আর তা হবে কল্যাণকর। আর তুমি চাইলে আমি দুআ করবো। সে বললো, তাঁর নিকট দুআ করুন। তিনি তাকে উত্তমরূপে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করার পর দু রাকআত সালাত (নামায/নামাজ) পড়ে এ দুআ করতে বলেনঃ হে আল্লাহ্! আমি তোমার নিকট প্রার্থনা করছি, রহমতের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর উসীলা দিয়ে, আমি তোমার প্রতি নিবিষ্ট হলাম। হে মুহাম্মাদ! আমার চাহিদা পূরণের জন্য আমি আপনার উসীলা দিয়ে আমার রবের প্রতি মনোযোগী হলাম, যাতে আমার প্রয়োজন মিটে। হে আল্লাহ্! আমার জন্য তাঁর সুপারিশ কবুল করো।

1386। আবূ রাফি (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিন বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আব্বাস (রাঃ) কে বললেনঃ হে চাচাজান! আমি কি আপনার অবাধ্য হতে বিরত থাকবো না, আমি কি আপনার উপকার করবো না, আমি কি আপনার সাথে আত্নীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখবো না? তিনি বলেন, হ্যাঁ, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! তিনি বলেনঃ তাহলে আপনি চার রাকআত সালাত (নামায/নামাজ) পড়ুন। আপনি প্রতি রাকআতে সূরাহ ফাতিহার সাথে অন্য একটি সূরাও পড়ুন। আপনি কিরাআত পাঠ শেষে রুকূ করার আগে পনের বার বলুনঃ আল্লাহ পুতঃ পবিত্র, সকল প্রশংসা আল্লাহ্‌র জন্য। আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নাই, আল্লাহ মহান। অতঃপর রুকূতে গিয়ে ঐ দুআ দশবার পড়ুন, অতঃপর রুকূ থেকে আপনার মাথা তুলে ঐ দুআ দশবার পড়ুন, অতঃপর সিজদায় গিয়ে ঐ দুআ দশবার পড়ুন, অতঃপর আপনার মাথা তুলে দশবার ঐ দুআ পড়ুন, পুনরায় সিজদায় গিয়ে তা দশবার পড়ুন, পুনরায় সিজদা থেকে আপনার মাথা তুলে উঠে দাঁড়ানোর আগে তা দশবার পড়ুন। এভাবে প্রতি রাকআতে তা পঁচাত্তর বার এবং চার রাকআতে তিন শতবার হবে। আপনার পাপরাশি বালুর স্তুপের সম-পরিমাণ হলেও আল্লাহ তা মাফ করবেন। আব্বাস (রাঃ) বলেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! প্রতি দিন এ সালাত পড়ার সামর্থ্য কার আছে? তিনি বলেনঃ তাহলে প্রতি জুমুআহর দিন তা পড়ুন। তাতেও সমর্থ না হলে প্রতি মাসে একবার পড়ুন। অবশেষে তিনি বলেনঃ তাহলে অন্তত বছরে একবার তা পড়ুন।

1387। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আব্বাস (রাঃ) ইবনু আবদুল মুত্তালিব (রাঃ) কে বললেনঃ হে আব্বাস! হে প্রিয় চাচাজান! আমি কি আপনাকে কিছু দান করবো না, আমি কি আপনার সাথে আত্নীয় সম্পর্ক বজায় রাখবো না, আমি কি আপনার অবাধ্য হতে বিরত থাকবো না, আমি কি আপনাকে এমন কলেমা বলে দিব না, যা পড়লে আল্লাহ আপনার আগের-পরের, নতুন-পুরান, ভুলক্রমে, স্বেচ্ছায়, ছোট-বড়, গোপন-প্রকাশ্য সব ধরনের গুনাহ মাফ করে দিবেন? সেই দশটি কলেমা হলোঃ আপনি চার রাকআত সালাত (নামায/নামাজ) পড়ুন এবং তার প্রতি রাকআতে সুরা ফাতিহার সাথে অন্য একটি সূরাহ পড়ুন। প্রথম রাকআতের কিরাআত পাঠ শেষ হলে দাঁড়ানো অবস্থায় আপনি পনের বার বলুনঃ আল্লাহ পবিত্র, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্‌র। আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই। আল্লাহ মহান। অতঃপর আপনি রুকূ করুন এবং রুকূ অবস্থায় তা দশবার বলুন, অতঃপর রুকূ থেকে আপনার মাথা তুলে তা দশবার বলুন। অতঃপর আপনি সিজদায় যান এবং সিজদাবনত অবস্থায় তা দশবার বলুন, অতঃপর সিজদা থেকে আপনার মাথা তুলে তা দশবার বলুন, অতঃপর সিজদায় গিয়ে আবার তা দশবার বলুন, অতঃপর সিজদা থেকে আপনার মাথা তুলে তা দশবার বলুন। এভাবে তা প্রতি রাকআতে পঁচাত্তর বার হলো। এ নিয়মে আপনি চার রাকআত সালাত পড়ুন। আপনি প্রতিদিন একবার এ সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে সক্ষম হলে তাই করুন। আপনি তাতে সক্ষম না হলে প্রতি সপ্তাহে তা একবার পড়ুন। আপনি তাতেও সক্ষম না হলে প্রতি মাসে তা একবার পড়ুন। আপনি তাতেও সক্ষম না হলে অন্তত জীবনে তা একবার পড়ুন।

1388। আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন মধ্য শাবানের রাত আসে তখন তোমরা এ রাতে দাঁড়িয়ে সালাত (নামায/নামাজ) পড়ো এবং এর দিনে সওম রাখো। কেননা এ দিন সূর্য অস্তমিত হওয়ার পর আল্লাহ পৃথিবীর নিকটতম আকাশে নেমে আসেন এবং বলেনঃ কে আছো আমার নিকট ক্ষমাপ্রার্থী, আমি তাকে ক্ষমা করবো। কে আছো রিযিকপ্রার্থী, আমি তাকে রিযিক দান করবো। কে আছো রোগমুক্তি প্রার্থনাকারী, আমি তাকে নিরাময় দান করবো। কে আছো এই প্রার্থনাকারী। ফজরের সময় হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত (তিনি এভাবে আহবান করেন)।

1389। আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক রাতে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে (বিছানায়) না পেয়ে তাঁর খোঁজে বের হলাম। আমি লক্ষ্য করলাম, তিনি বাকির কবরস্থানে, তাঁর মাথা আকাশের দিকে তুলে আছেন। তিনি বলেন: হে আয়িশাহ! তুমি কি আশঙ্কা করেছো যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তোমার প্রতি অবিচার করবেন? আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, তা নয়, বরং আমি ভাবলাম যে, আপনি হয়তো আপনার কোন স্ত্রীর কাছে গেছেন। তিনি বলেনঃ মহান আল্লাহ মধ্য শাবানের রাতে দুনিয়ার নিকটবর্তী আকাশে অবতরণ করেন এবং কালব গোত্রের মেষপালের পশমের চাইতেও অধিক সংখ্যক লোকের গুনাহ মাফ করেন।

1390। আবূ মূসা আল-আশআরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহ মধ্য শাবানের রাতে আত্নপ্রকাশ করেন এবং মুশরিক ও হিংসুক ব্যতীত তাঁর সৃষ্টির সকলকে ক্ষমা করেন। ৩/১৩৯০(১) মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক, আবূল আসওয়াদ, নাযর ইবনু আবদুল জাব্বার, ইবনু লাহীআ, যুবায়র ইবনু সুলায়ম, দাহ্হাক ইবনু আবদুর রহমান, তার পিতা, আবূ মূসা আশআরী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত আছে।

1391। আবদুল্লাহ ইবনু আবূ আওফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ জাহলের শিরশ্ছেদের সুসংবাদ প্রাপ্তি দিবসে দু' রাকআত শোকরানা সালাত (নামায/নামাজ) পড়েন।

1392। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে কোন প্রয়োজন বা কাজ পূর্ণ হওয়ার সুসংবাদ দেয়া হলে তিনি (কৃতজ্ঞতার) সিজদায় লুটিয়ে পড়েন।

1393। কাব ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আল্লাহ যখন তার তাওবা কবূল করেন তখন, তিনি (কৃতজ্ঞতার) সাজদায় লুটিয়ে পড়েন।

1394। আবূ বাকারহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট কোন খুশির খবর আসলে তিনি মহামহিম আল্লাহ্‌র সমীপে কৃতজ্ঞতার সাজদায় লুটিয়ে পড়তেন।

1395। আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট হাদীস শুনতাম, তখন আল্লাহ তার দ্বারা আমার যতটুকু উপকার করতে চাইতেন করতেন। আর অন্য কেউ তাঁর থেকে আমার নিকট হাদীস বর্ননা করলে আমি তাকে শপথ করাতাম। সে শপথ করার পর আমি তাকে বিশ্বাস করতাম। আবূ বাকর (রাঃ) আমার নিকট হাদীস বর্ননা করতেন এবং তিনি সত্য বলতেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি গুনাহ করার পর উত্তমরূপে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে দু রাকআত সালাত (নামায/নামাজ) পড়ে আল্লাহ্‌র নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন। মিসআর (রহঃ)-এর বর্ণনায় শুধু সালাত উল্লেখ আছে (রাকআত সংখ্যা উল্লেখ নাই)।

1396। আসিম ইবনু সুফ্ইয়ান আস-সাকাফী (রহ) থেকে বর্ণিত। তারা সালাসিল যুদ্ধ অভিযানে অংশগ্রহণ করতে রওয়ানা হন। এরপর তারা সীমান্ত এলাকায় সারিবদ্ধভাবে ঘোড়া বিন্যস্ত করেন। পরে তারা মুআবিয়াহ (রাঃ) এর নিকট ফিরে আসেন। তখন তার নিকট উপস্থিত ছিলেন আবূ আইউব ও উকবাহ ইবনু আমির (রাঃ)। আসিম (রহঃ) বলেন, হে আবূ আইউব! এ বছরের যুদ্ধাভিযানে আমরা অংশগ্রহণ করতে পারিনি। আমরা অবহিত হয়েছি যে, যে ব্যক্তি চারটি মসজিদে সালাত (নামায/নামাজ) পড়বে, তার গুনাহ মাফ করা হবে। আবূ আইউব (রাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি চারটি মসজিদে সালাত (নামায/নামাজ) পড়বে, তার গুনাহ মাফ করা হবে। আবূ আইউব (রাঃ) বলেন, হে ভ্রাতুষ্পুত্র! আমি তোমাকে এর চেয়েও সহজ পথ বলে দিচ্ছি। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছিঃ কোন ব্যক্তি যথাবিধি উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে যথাবিধি সালাত পড়লে, তার পূর্বেকার গুনাহ ক্ষমা করা হয়। হে উক্বা! হাদীসটি কি এরূপ? তিনি বলেন, হ্যাঁ।

1397। উসমান ইবনু আফফান (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ তুমি কি মনে করো, কারো বাড়ির আঙ্গিনায় যদি প্রবহমান নদী থাকে, আর সে তাতে প্রতিদিন পাঁচবার গোসল করে, তবে তার শরীরে কি কোন ময়লা থাকে? তিনি বলেন, কিছুই থাকে না। তিনি বলেনঃ পানি যেভাবে ময়লা দূর করে দেয়, তদ্রূপ সালাত (নামায/নামাজ)ও গুনাহ দূর করে দেয়।

1398। আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি এক নারীর সাথে অপকর্ম করে, তবে যেনা নয়। আমি জানি না, আসলে কী ঘটেছিল। সম্ভবত যিনা ব্যতীত অন্য কিছু। সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে ব্যাপারটি তাঁর কাছে বর্ণনা করে। তখন মহান আল্লাহ এ আয়াত নাযিল করেন (অনুবাদ) সালাত (নামায/নামাজ) কায়িম করো দিনের দু প্রান্তভাগে ও রাতের প্রথমাংশে, সৎকর্ম অবশ্যই অসৎ কর্ম মিটিয়ে দেয়। যারা উপদেশ গ্রহণ করে এতো তাদের জন্য উপদেশ (সূরাহ হূদঃ ১১৪)। সেই ব্যক্তি বললো, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! এ আয়াত কি আমার জন্যই? তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি এর উপর আমল করবে (তার জন্যও)।

1399। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ আমার উম্মাতের উপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত (নামায/নামাজ) ফরয করেছিলেন। আমি তা নিয়ে ফেরার পথে মূসা (আলাইহিস সালাম) এর নিকট আসলাম। তখন মূসা (আলাইহিস সালাম) বলেনঃ আপনার প্রভু আপনার উম্মাতের জন্য কী ফরয করেছেন? আমি বললামঃ তিনি আমার উপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরয করেছেন। তিনি বলেনঃ আপনি আপনার প্রভুর নিকট ফিরে যান। কেননা আপনার উম্মাত তা পড়তে সক্ষম হবে না। অতএব আমি আমার প্রভুর নিকট ফিরে গেলে তিনি তার অর্ধেক কমিয়ে দেন। অতঃপর আমি মূসা (আলাইহিস সালাম) এর নিকট ফিরে এসে তাঁকে তা অবহিত করলাম। তিনি বলেনঃ আপনি আপনার প্রভুর নিকট ফিরে গেলাম। তিনি বলেনঃ তা পাঁচ ওয়াক্ত, পঞ্চাশের সমান। আর আমার কথা কখনো পরিবর্তন হয় না। তারপর আমি মূসা (আলাইহিস সালাম) এর নিকট ফিরে আসলে তিনি আবার বলেনঃ আপনি আপনার প্রভুর নিকট ফিরে যান। আমি বললাম, আমি আমার প্রভুর নিকট পুনরায় ফিরে যেতে লজ্জাবোধ করছি।

1400। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাতের নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। এরপর তোমাদের রব তা পাঁচ ওয়াক্তে পরিণত করেন।

1401। উবাদাহ ইবনুুস সামিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের উপর পাঁচ ওয়াক্ত সালাত (নামায/নামাজ) ফরয করেছেন। যে ব্যক্তি সালাতের কোন হক নষ্ট না করে তা যথাযথভাবে আদায় করবে, নিশ্চয় আল্লাহ্‌র নিকট কিয়ামতের দিন তার জন্য এই প্রতিশ্রুতি আছে যে, তিনি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। আর যে ব্যক্তি সালাতের হক নষ্ট করবে এবং যথাযথভাবে সালাত পড়বে না, তার জন্য আল্লাহ্‌র কাছে কোন অঙ্গীকার নেই। তিনি ইচ্ছা করলে তাকে শাস্তি দিবেন, অন্যথায় মাফ করবেন।

1402। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) বলেন, একদা আমরা মসজিদে বসা ছিলাম। তখন এক ব্যক্তি উটের পিঠে আরোহিত অবস্থায় এসে তার উটটিকে মসজিদের নিকট বসিয়ে সেটিকে বাঁধলো, অতঃপর জিজ্ঞেস করলো, তোমাদের মধ্যে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সামনেই হেলান দিয়ে বসা ছিলেন। রাবী বলেন, তারা বললেন, হেলান দিয়ে বসা এই সুন্দর ব্যক্তি। লোকটি তাঁকে বললো, হে আবদুল মুত্তালিবের বংশধর! নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেনঃ আমি তোমার ডাকে সাড়া দিয়েছি। লোকটি তাঁকে বলবো, হে মুহাম্মাদ! আমি আপনাকে কিছু প্রশ্ন করবো এবং আমার প্রশ্নগুলো আপনার জন্য হবে কঠোর। এতে আপনি কিছু মনে করবেন না। তিনি বলেনঃ তোমার ইচ্ছামত প্রশ্ন করো। লোকটি তাঁকে বললো, আমি আপনাকে আপনার প্রভুর এবং আপনার পূর্ববর্তীদের প্রভুর শপথ দিচ্ছি, আল্লাহ কি আপনাকে সমগ্র বিশ্ববাসীর নিকট প্রেরণ করেছেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ইয়া আল্লাহ্! হ্যাঁ। সে বললো, আমি আপনাকে আল্লাহ্‌র নামে শপথ করে বলছি, আল্লাহ কি আপনাকে দিন-রাত পাঁচ ওয়াক্ত সালাত (নামায/নামাজ) পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ইয়া আল্লাহ্! হ্যাঁ। সে বললো, আমি আপনাকে আল্লাহ্‌র নামে শপথ করে বলছি, আল্লাহ কি আপনাকে বছরের এই মাসে সওম রাখার নির্দেশ দিয়েছেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ইয়া আল্লাহ্! হ্যাঁ। সে বললো, আমি আপনাকে আল্লাহ্‌র নামে শপথ করে বলছি, আল্লাহ কি আপনাকে আমাদের ধনাঢ্যদের নিকট থেকে যাকাত আদায় করে তা আমাদের গরীবদের মধ্যে বিতরণের নির্দেশ দিয়েছেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ইয়া আল্লাহ্! হ্যাঁ। লোকটি বললো, আপনি যা নিয়ে এসেছেন আমি তার উপর ঈমান আনলাম। আর আমার সম্প্রদায়ের যেসব লোক আমার পেছনে রয়েছে, আমি তাদের প্রতিনিধি এবং আমি হলাম সা’দ ইবনু বাকর গোত্রের সদস্য দিমাম ইবনু সালাবা।

1403। সাঈদ ইবনুল মূসাইয়্যাব (রহঃ) বলেন, ক্বাতাদাহ ইবনু রিবঈ তাকে অবহিত করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মহামহিম আল্লাহ বলেছেন, আমি আপনার উম্মাতের উপর পাঁচ ওয়াক্ত সালাত (নামায/নামাজ) ফরয করেছি এবং আমি আমার নিকট এ অঙ্গীকার করছি যে, যে ব্যক্তি যথাযথভাবে ওয়াক্তমত এসব সালাতের হেফাজত করবে, আমি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবো। আর যে ব্যক্তি তা যথাযথভাবে হেফাজত করবে না, তার জন্য আমার পক্ষ থেকে কোন অঙ্গীকার নাই।

1404। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মাসজিদুল হারাম ব্যতীত, অন্যান্য মসজিদে পড়া সালাতের তুলনায় আমার এ মসজিদে পড়া সালাত (নামায/নামাজ) হাজার গুণ শ্রেষ্ঠ। ১/১৪০৪ (১) হিশাম ইবনু আম্মার, সুফ্ইয়ান ইবনু উয়াইনাহ, যুহরী, সাঈদ ইবনুল মূসাইয়্যাব, আবূ হুরাইরাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত আছে।

1405। ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: অন্যান্য মসজিদে পড়া সালাত অপেক্ষা আমার এ মসজিদে পড়া সালাত (নামায/নামাজ) হাজার গুণ উত্তম (ফাযীলাতপূর্ণ) মাসজিদুল হারাম ব্যতীত।

1406। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মাসজিদুল হারাম ব্যতীত অপরাপর মসজিদের সালাত (নামায/নামাজ) অপেক্ষা আমার মসজিদের সালাত হাজার গুণ শ্রেষ্ঠ (ফাযীলাতপূর্ণ)। অন্যান্য মসজিদের সালাতের তুলনায় মাসজিদুল হারামের সালাত এক লক্ষ গুণ উত্তম (ফাযীলাতপূর্ণ)।

1407। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মুক্তদাসী মায়মূনাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! বাইতুল মাকদিস সম্পর্কে আমাকে ফাতওয়া দিন। তিনি বলেনঃ এটা হাশরের মাঠ এবং সকলের একত্র হওয়ার ময়দান। তোমরা তাতে সালাত (নামায/নামাজ) পড়ো। কেননা সেখানে এক ওয়াক্ত সালাত (নামায/নামাজ) পড়া অন্যান্য স্থানের তুলনায় এক হাজার গুণ উত্তম। আমি বললাম, আপনি কি মনে করেন, যদি আমি সেখানে যেতে সমর্থ না হই? তিনি বলেনঃ তুমি তাতে বাতি জ্বালানোর জন্য যায়তুন তৈল হাদিয়া পাঠাও। যে ব্যক্তি তা করলো, সে যেন সেখানে উপস্থিত হলো।

1408। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সুলাইমান ইবনু দাঊদ (আলাইহিস সালাম) বায়তুল মাকদিসের নির্মাণ কাজ শেষ করে আল্লাহ্‌র কাছে তিনটি বিষয় প্রার্থনা করেনঃ আল্লাহ্‌র হুকুমমত সুবিচার, এমন রাজত্ব যা তার পরে আর কাউকে দেয়া হবে না এবং যে ব্যক্তি বাইতুল মাকদিসে কেবলমাত্র সালাত (নামায/নামাজ) পড়ার জন্য আসবে, তার গুনাহ যেন তার থেকে বের হয়ে যায় তার মা তাকে প্রসব করার দিনের মত। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: প্রথম দুটি তাঁকে দান করা হযেছে এবং আমি আশা করি তৃতীয়টিও তাঁকে দান করা হবে।

1409। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ (আল্লাহ্‌র নৈকট্য লাভের উদ্দেশে) তিনটি মাসজিদ ব্যতীত আর কোথাও সফর করা যাবে নাঃ মাসজিদুল হারাম, আমার এই মাসজিদ এবং মাসজিদুল আকসা।

1410। আবূ সাঈদ ও আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তিনটি মাসজিদ ব্যতীত আর কোথাও (আল্লাহ্‌র নৈকট্য লাভের আশায়) সফর করা যাবে না। মাসজিদুল হারাম, মাসজিদুল আকসা এবং আমার এই মসজিদের দিকে।

1411। উসাইদ ইবনু যুহাইর আল-আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবী ছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কুবা মসজিদে এক ওয়াক্ত সালাত (নামায/নামাজ) পড়া একটি উমরার সমতুল্য।

1412। সাহল ইবনু হুনাইফ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি নিজের ঘরে পবিত্রতা অর্জন করলো, অতঃপর কুবা মসজিদে এসে এক ওয়াক্ত সালাত (নামায/নামাজ) পড়লো, তার জন্য একটি উমরাহর সমান সাওয়াব রয়েছে।

1413। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তির নিজ ঘরে এক ওয়াক্ত সালাত (নামায/নামাজ) পড়ার সওয়াব এক ওয়াক্ত সালাতেরই সমান, তার পাড়ার বা গোত্রের মসজিদে তার এক সালাত পঁচিশ সালাতের সমতুল্য, জুমুআহ মসজিদে তার এক সালাত পাঁচ শত সালাতের সমান। মাসজিদুল আকসায় তার এক সালাত পঞ্চাশ হাজার সালাতের সমতুল্য, আমার মসজিদে তার এক সালাত পঞ্চাশ হাজার সালাতের সমতুল্য এবং মাসজিদুল হারামে তার এক সালাত এক লাখ সালাতের সমতুল্য।

1414। উবাই ইবনু কাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাপড়ার মসজিদে থাকা অবস্থায় একটি খেজুর গাছের খুঁটির পাশে দাঁড়িয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতো। তিনি ঐ খেজুর গাছের খুঁটি ঘেঁষে খুতবাহ দিতেন। তাঁর সাহাবীদের একজন বলেন, আমরা কি আপনার জন্য এমন একটি জিনিসের ব্যবস্থা করবো, যার উপর আপনি জুমুআহর দিন দাঁড়াবেন। যাতে লোকেরা আপনাকে দেখতে পায় এবং আপনার খুতবাহ তাদের শুনাতে পারেন। তিনি বলেনঃ হ্যাঁ। তখন ঐ ব্যক্তি তাঁর জন্য তিন ধাপবিশিষ্ট একটি মিম্বার তৈরি করেন। এটি ছিল সবচাইতে উঁচু মিম্বার। মিম্বারটি বানানো হলে তারা তা যথাস্থানে স্থাপন করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারে উঠে খুতবাহ দেয়ার ইচ্ছা করলেন। তিনি ঐ খুঁটির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তা চিৎকার দিয়ে কেঁদে উঠে। ফলে তা ফেটে যায়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুকনো খেজুর গাছের কান্নার শব্দ শুনে নেমে আসেন এবং তাতে নিজ হাতে বুলিয়ে দেন। ফলে তা শান্ত হয়ে যায়। তারপর তিনি মিম্বারে ফিরে যান। এরপর যখন তিনি সালাত আদায় করতেন তখন ঐ খুঁটির দিকে রোখ করে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন। অতঃপর মাসজিদ যখন (সংস্কারের জন্য) ভাঙ্গা হলো, তখন উবাই ইবনু কাব খুঁটিটি নিয়ে তার ঘরে রাখেন। অবশেষে উইপোকা তা খেয়ে ফেলে এবং ফলে তা ধ্বংসাবশেষে পরিণত হয়।

1415। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খেজুর গাছের একটি শুকনা খুঁটি ঘেঁষে খুতবাহ দিতেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারের ব্যবস্থা করলে, তিনি (খুতবাদানের জন্য) মিম্বারে গিয়ে উঠলে খেজুর গাছের খুঁটিটি কেঁদে উঠে। তিনি তার কাছে এসে তার গায়ে হাত বুলিয়ে দেন এবং তা শান্ত হয়। অতঃপর তিনি বলেনঃ আমি তার গায়ে হাত না বুলালে তা ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) পর্যন্ত রোনাজারি করতো।

1416। আবূ হাযিম (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর মিম্বার কিসের দ্বারা নির্মিত ছিল সে বিষয়ে লোকেরা মতভেদ করে। তারা সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) এর নিকট এসে তাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার চেয়ে অধিক জ্ঞাত আর কেউ বেঁচে নেই। এটি ছিল আল-গাবা বনভূমির আছল নামীয় গাছের তৈরি। অমুক মহিলার মুক্তদাস কাঠমিস্ত্রী তা তৈরি করেছিল। সেটি এনে স্থাপন করা হলে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উপর দাঁড়ান। অতঃপর তিনি কিবলামুখী হয়ে দাঁড়ালে লোকেরাও তাঁর পিছনে দাঁড়ায়, অতঃপর তিনি কিরাআত পড়েন, তারপর রুকূ করেন, অতঃপর মাথা উঠান, অতঃপর কিবলামুখী অবস্থায় পেছনে সরে এসে যমীনে সিজদা করেন, অতঃপর আবার মিম্বারের দিকে এগিয়ে গিয়ে কিরাআত পড়েন, তারপর রুকূ করে দাঁড়িয়ে যান, অতঃপর আগের মত পেছনে সরে এসে মাটিতে সিজদা করেন।

1417। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি গাছের মূলে অথবা খেজুর গাছের কান্ডে ঠেস দিয়ে দাঁড়াতেন। অতঃপর তিনি একটি মিম্বার গ্রহণ করেন। রাবী বলেন, খেজুর কান্ডটি কেঁদে দিলো। জাবির বলেন, এমনকি মসজিদের লোকেরা এর কান্না শুনতে পায়। অবশেষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গাছের নিকট এসে তাতে হাত বুলান, ফলে তা শান্ত হয়। তাদের কতক বললেন, তিনি এর কাছে না এলে এটা ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) পর্যন্ত কাঁদতো।

1418। আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক রাতে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সালাত (নামায/নামাজ) পড়লাম। তিনি এত দীর্ঘক্ষণ দাঁড়ান যে, শেষে আমি একটি অসমীচীন কাজের ইচ্ছা করলাম। আবূ ওয়াইল (রহঃ) বলেন, আমি বললাম, সেই কাজটি কী? তিনি বলেন, আমি তাঁকে একা সালাতরত অবস্থায় ত্যাগ করে বসে পড়ার ইচ্ছা করেছিলাম।

1419। মুগীরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এত দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে সালাত (নামায/নামাজ) পড়েন যে, তাঁর পদদ্বয় ফুলে যায়। বলা হলো, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আল্লাহ তো আপনার পূর্বাপর সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন। তিনি বলেনঃ আমি কি কৃতজ্ঞ বান্দা হবো না?

1420। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (দীর্ঘক্ষণ ধরে) সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে থাকতেন, এমনকি তাঁর পদদ্বয় ফুলে যেতো। তাঁকে বলা হলো, আল্লাহ আপনার পূর্বাপর সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন। তিনি বলেনঃ আমি কি কৃতজ্ঞ বান্দা হবো না?

1421। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করা হলো, কোন্ সালাত (নামায/নামাজ) উত্তম? তিনি বলেনঃ দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে পড়া সালাত।

1422। আবূ ফাতেমাহ (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমাকে এমন একটি আমল বলে দিন, যা আমি অবিচলভাবে অনবরত করতে পারি। তিনি বলেনঃ তুমি সিজদা করো। কেননা তুমি যখনই আল্লাহ্‌র জন্য একটি সিজদা করবে, আল্লাহ তার বিনিময়ে তোমার মর্যাদা একধাপ সমুন্নত করবেন এবং তোমার একটি গুনাহ মাফ করবেন।

1423। মাদান ইবনু আবূ তালহা আল-ইয়ামূরী (রহঃ) বলেন, আমি সাওবান (রাঃ) এর সাথে সাক্ষাত করে তাকে বললাম, আপনি আমার নিকট একটি হাদীস বর্ণনা করুন, আশা করি তার দ্বারা আল্লাহ আমাকে উপকৃত করবেন। রাবী বলেন, তিনি নীরব থাকলেন। আমি বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করলাম, এবারও তিনি নীরব থাকলেন। এভাবে তিনবার নীরব থাকলেন। অবশেষে তিনি আমাকে বলেন, তুমি অবশ্যই আল্লাহ্‌র জন্য সিজদা করো। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছিঃ যে কোন বান্দা আল্লাহ্‌র জন্য একটি সিজদা করলেই আল্লাহ এর বিনিময়ে তার একধাপ মর্যাদা বাড়িয়ে দেন এবং তার একটি গুনাহ ক্ষমা করে দেন। মাদান (রহঃ) বলেন, অতঃপর আমি আবূ দারদা -এর সঙ্গে সাক্ষাত করে তাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনিও একই কথা বলেন।

1424। উবাদাহ ইবনুুস সামিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছেনঃ যখন কোন বান্দা আল্লাহ্‌র জন্য একটি সিজদা করে, আল্লাহ এর বিনিময়ে তাকে একটি নেকী দান করেন, তার একটি গুনাহ মাফ করেন এবং তার মর্যাদা এক ধাপ উন্নত করেন। অতএব তোমরা অধিক সংখ্যায় সিজদা করো।

1425। আনাস ইবনু হাকীম আদ-দাববী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ হুরাইরাহ আমাকে বললেন, তুমি তোমার শহরে পৌঁছে তার বাসিন্দাদের অবহিত করবে যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছিঃ কিয়ামতের দিন মুসলিম বান্দার নিকট থেকে সর্বপ্রথম ফরয সালাতের হিসাব নেয়া হবে। যদি সে তা পূর্ণরূপে আদায় করে থাকে (তবে তো ভালো), অন্যথায় বলা হবেঃ দেখো তো তার কোন নফল সালাত (নামায/নামাজ) আছে কি না? যদি তার নফল সালাত (নামায/নামাজ) থেকে থাকে, তবে তা দিয়ে তার ফরয সালাত (নামায/নামাজ) পূর্ণ করা হবে। অতঃপর অন্যান্য সব ফরয আমলের ব্যাপারেও অনুরূপ ব্যবস্থা করা হবে।

1426। তামীম আদ-দারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কিয়ামতের দিন বান্দার নিকট থেকে সর্বপ্রথম তার সালাতের হিসাব নেয়া হবে। যদি সে তা যথাযথভাবে পড়ে থাকে, তখন তার নফল সালাত (নামায/নামাজ) তার জন্য অতিরিক্ত হিসাবে গণ্য করা হবে। সে তা পূর্ণরূপে না পড়ে থাকলে মহান আল্লাহ তাঁর ফেরেশতাদের বলবেনঃ দেখো তো আমার বান্দার জন্য নফল কিছু পাও কিনা। সে তার ফরযে যা ঘাটতি করেছে, তোমরা তা নফল দ্বারা পূরণ করো। তারপর অপরাপর আমলের হিসাবও অনুরূপভাবে নেয়া হবে।

1427। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কেউ (ফরয) সালাত (নামায/নামাজ) পড়ার পর একটু সামনে এগিয়ে বা পিছনে সরে অথবা তার ডানে বা বাঁমে সরে (নফল) সালাত আদায় করতে কি অপরাগ হবে?

1428। মুগীরাহ ইবনু শুবাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ইমাম যে স্থানে দাঁড়িয়ে ফরয সালাত (নামায/নামাজ) পড়ে, সেই স্থান থেকে না সরে সে যেন (নফল) সালাত না পড়ে। ২/১৪২৮(১) কাসীর ইবনু উবায়দ আল-হিমসী (রহঃ), বাকিয়্যা, আবূ আবদুর রহমান তামীমী, উসমান ইবনু আতা, তার পিতা, মুগীরাহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

1429। আবদুর রহমান ইবনু শিবল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনটি কাজ করতে নিষেধ করেছেন: সালাতের সিজদায় কাকের মত ঠোকর মারতে, হিংস্র জন্তুর ন্যায় বাহুদ্বয় যমীনের উপর বিছিয়ে দিতে এবং (মসজিদে) কোন লোকের সালাত (নামায/নামাজ) পড়ার স্থান নির্দিষ্ট করে নিতে, যেমন উট আস্তাবলে স্থান নির্দিষ্ট করে নেয়।

1430। সালামাহ ইবনুল আক্ওয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি একটি খুঁটির নিকটে দাঁড়িয়ে দুপুরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন, তবে সারিতে নয়। আমি (ইয়াযীদ) তাকে মসজিদের কোন স্থানের দিকে ইশারা করে বললাম, আপনি এখানে সালাত পড়েন না কেন? তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ স্থানে সালাত আদায় করার চেষ্টা করতে দেখলাম।

1431। আবদুল্লাহ ইবনুুস সাইব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মক্কা বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে দেখলাম। তিনি তাঁর জুতাজোড়া তাঁর বাম পাশে রাখলেন।

1432। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তুমি তোমার পদদ্বয়ে জুতা পরে থাকবে। তুমি তা খুলে ফেললে তোমার দু পায়ের মাঝখানে তা রাখো, তা তোমার ডান পাশেও রেখো না এবং তোমার সাথীর ডানে বা তোমার পেছনেও রেখো না। অন্যথায় তাতে তোমার পেছনের লোক কষ্ট পাবে।

উৎস: Sunan Ibn Majah

WEBREATH · 11:11

«Should I not be a thankful servant?» — Sahih al-Bukhari

Breath is one for all: everyone lives by it, whoever they are and whatever they believe. Every day at 11:11 local time people stop for sixty seconds, breathe, and thank GOD for the breath — each in their own words, each within themselves. In that minute we are One Breath.

WEBREATH — the Minute at 11:11, your own local time — we are One Breath