হাদিস
ফিরে যান

সুনানে ইবনে মাজাহ 4 · The Book On The Mosques And The Congregations

আপনার ভাষায় এখনো কোনো অনুবাদ নেই — ইংরেজি দেখাচ্ছে

735। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যাক্তি আল্লাহ্‌র নামের যিকিরের জন্য একটি মাসজিদ নির্মাণ করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি প্রাসা’দ তৈরি করেন।

736। উসমান ইবনু আফফান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যাক্তি আল্লাহ্‌র জন্য একটি মাসজিদ নির্মাণ করে, আল্লাহ অনুরূপভাবে তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর তৈরি করেন।

737। আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি নিজ সম্পদ ব্যয়ে আল্লাহ্‌র জন্য একটি মাসজিদ নির্মাণ করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর তৈরি করেন।

738। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যাক্তি আল্লাহ্‌র জন্য টিড্ডির ঢিবির ন্যায় বা তার চাইতেও ক্ষুদ্র একটি মাসজিদ নির্মাণ করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করেন।

739। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যতক্ষণ পর্যন্ত লোকেরা মসজিদের সৌন্দর্য ও সুসজ্জিতকরণ নিয়ে পরস্পর গর্ব না করবে ততক্ষণ ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) সংঘটিত হবে না।

740। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার মনে হয়, তোমরা আমার পরে তোমাদের মাসজিদসমূহকে ইহূদীদের সিনাগগ ও নাসারাদের গির্যার ন্যায় বিশালাকার প্রাসা’দরূপে তৈরি করবে।

741। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন জাতির মাসজিদসমূহকে সোনা-ও রূপা খচিত করা কত মন্দ কাজ

742। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসসাল্লাম-এর মসজিদের স্থানটি ছিল নাজ্জার গোত্রের, সেখানে কিছু সংখ্যক খেজুর গাছ এবং মুশরিকদের কবর ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বলেনঃ তোমরা এই জমিখন্ড আমার নিকট বিক্রয় করো। তারা বলেন, আমরা কখনো এর বিনিময় মূল্য গ্রহণ করবো না। রাবী বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু করেন এবং সাহাবীগণ তাঁকে মাটি ও কাদা দিতে থাকেন। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতে থাকেনঃ আখেরাতের জীবনই প্রকৃত জীবন। আপনি আনসার ও মুহাজিরদের ক্ষমা করুন। ইতোপূর্বে যেখানেই সালাতের ওয়াক্ত হয়ে যেতো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানেই সালাত আদায় করতেন।

743। উসমান ইবনু আবূল আস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে তায়েফবাসীদের জন্য তাদের মূর্তির পাদপিঠে মসজিদে নির্মাণের নির্দেশ দেন।

744। ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তাকে ময়লা-আবর্জনা ফেলার স্থান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর বরাতে বলেন, কয়েকবার পানি ঢেলে দেয়ার পর তথায় সালাত পড়া যাবে।

745। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কবরস্থান ও গোসলখানা ব্যতীত সকল (পবিত্র) জায়গাই মাসজিদ।

746। ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাত স্থানে সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেনঃ ময়লা-আবর্জনাপূর্ণ স্থানে, কসাইখানায়, কবরস্থানে, রাস্তার মাঝখানে, গোসলখানায়, উটের খোঁয়াড়ে এবং কাবার ঘরের ছাদে।

747। উমার উবনুল খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সাত জায়গায় সালাত পড়া জায়েয নয়ঃ কাবা ঘরের ছাদে, কবরস্থানে, ময়লা ফেলার স্থানে, কসাই খানায়, গোসলখানায়, উটের খোঁয়াড়ে ও রাস্তার মাঝখানে।

748। ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কতিপয় আচরণ মসজিদে নিষিদ্ধ। মাসজিদকে চলাচলের পথ বানানো যাবে না, সেখানে অস্ত্রশস্ত্রের প্রদর্শনী করা যাবে না, তীর, বর্শা বা কামান বহন করা যাবে না, কাঁচা গোশত নেয়া যাবে না, হদ্দ কার্যকর করা যাবে না, কারো কিসাস কার্যকর করা যাবে না এবং একে বাজারে পরিণত করা যাবে না।

749। আমর ইবনু শোআইব (রহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাসজিদসমূহে ক্রয়-বিক্রয় করতে এবং কবিতা আবৃত্তি করতে নিষেধ করেছেন।

750। ওয়াসিলা ইবনুল আসকা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা তোমাদের মসজিদসমূহকে শিশু, পাগল, ক্রয়-বিক্রয়, ঝগড়া-বিবাদ, হৈ-চৈ, হদ্দ কার্যকরকরণ ও উন্মুক্ত অস্ত্র বহন থেকে হেফাযত করো। তোমরা তার দরজাসমূহের কাছে শৌচকর্মের জন্য ঢিলা রাখো এবং জুমুআহর দিন তাকে সুগন্ধময় করো।

751। ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে মসজিদে ঘুমাতাম।

752। কায়েস ইবনু তিখফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আসহাবে সুফফার অন্যতম সদস্য। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বললেনঃ তোমরা যাও। অতএব আমরা আয়িশাহ (রাঃ) এর ঘরে গেলাম এবং পানাহার করলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা ইচ্ছা করলে এখানেও ঘুমাতে পারো, আর চাইলে মসজিদেও যেতে পারো। রাবী বলেন, আমরা বললাম, বরং আমরা মসজিদেই চলে যাই।

753। আবূ যার আল-গিফারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! সর্বপ্রথম কোন মাসজিদ নির্মিত হয়েছে? তিনি বলেনঃ মাসজিদুল হারাম। রাবী বলেন, আমি আবার বললাম, তারপর কোনটি? তিনি বলেনঃ তারপর মাসজিদুল আকসা। আমি জিজ্ঞেস করলাম, উভয়ের মধ্যে ব্যবধান কত বছরের? তিনি বলেনঃ চল্লিশ বছরের। এখন তোমার জন্য সমগ্র পৃথিবীই মাসজিদ। অতএব যেখানেই তোমার সালাতের ওয়াক্ত হয়, সেখানেই তুমি সালাত আদায় করতে পারো।

754। ইতবান ইবনু মালিক আস-সালিমী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি ছিলেন তাঁর গোত্র বনু সালিমের মসজিদের ইমাম এবং তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমার দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হয়ে আসছে এবং সয়লাবের কারণে আমার ঘর ও আমার গোত্রের মসজিদের মধ্যকার নালাটি পানিপূর্ণ হয়ে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়। তা পার হয়ে আসা-যাওয়া আমার জন্য বেশি কষ্টকর। আপনি যদি মনে করেন, আমার বাড়িতে এসে আপনি একটা স্থানে সালাত পড়বেন, যাকে আমি সালাতের স্থান বানাতে পারি, তাহলে তাই করুন। তিনি বলেনঃ আচ্ছা! তাই করবো। পরের দিন দুপুরের পূর্বে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবূ বাকর (রাঃ) আমার বাড়িতে আসেন এবং ভিতরে আসার অনুমতি চান। আমি তাঁকে ভিতর বাড়িতে আসার অনুমতি দিলাম। কিন্তু তিনি না বসে জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমার ঘরের কোন জায়গায় তোমার আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী আমার সালাত পড়া তুমি পছন্দ করো? আমি ঘরের যে স্থানে আমার সালাত পড়া পছন্দ করি সেই জায়গাটি তাঁকে ইশারায় দেখিয়ে দিলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে দাঁড়ালেন এবং আমরাও তাঁর পিছনে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ালাম। তিনি আমাদের নিয়ে দু রাকআত সালাত পড়েন। এরপর আমি তাঁকে খাযীরা (এক প্রকার খাদ্য) খাওয়ারনো জন্য অপেক্ষা করালাম, যা তাঁদের জন্য তৈরি করা হয়েছিল।

755। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক আনসারী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট লোক পাঠিয়ে তাঁকে অনুরোধ করেন, আপনি এসে আমার বাড়ির একটি স্থান আমার সালাতের জন্য নির্দিষ্ট করে দিন। যাতে সেখানে আমি সালাত আদায় করতে পারি। ঘটনাটি ছিল তার অন্ধ হয়ে যাওয়ার পরের। অতএব তিনি এসে তাই করলেন।

756। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার কোন এক ফুফু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য খাবার তৈরি করেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলেন, আমার একান্ত ইচ্ছা যে, আপনি আমার ঘরে এসে পানাহার করুন এবং তাতে সালাত পড়ুন। অতএব তিনি এলেন। ঘরে একটি কালো চাটাই ছিল। তিনি ঘরের এক কোণের দিকে ইশারা করেন। আমার চাটাইয়ে পানি ছিটিয়ে (তা পরিষ্কার করে রেখে) দিলাম। তিনি সালাত পড়লেন এবং আমরাও তাঁর সাথে সালাত পড়লাম। আবূ আবদুল্লাহ ইবনু মাজা (রহঃ) বলেন, যে চাটাই পুরানো হয়ে কালো হয়ে যায় তাকে ফাহল বলে।

757। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি মাসজিদ থেকে ময়লা দূর করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি বাড়ি নির্মাণ করেন।

758। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহল্লায় মহল্লায় মাসজিদ নির্মাণ করতে, তা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে এবং তাতে খোশবু ছাড়াতে নির্দেশ দিয়েছেন।

759। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহল্লায় মহল্লায় মাসজিদ নির্মাণ করতে, তা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে এবং তাতে সুগন্ধি ছড়াতে নির্দেশ দিয়েছেন।

760। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তামীম আদ-দারী (রাঃ)-ই প্রথম ব্যাক্তি যিনি মসজিদে আলো-বাতির ব্যবস্থা করেন।

761। আবূ হুরাইরাহ ও আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তারা উভয়ে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদের দেয়ালে থুথু বা কফ দেখতে পেলেন তিনি একটি কাঁকর তুলে নিয়ে তা দিয়ে থুথু (কফ) মুছে ফেলেন, অতঃপর বলেনঃ তোমাদের কেউ থুথু ফেলতে চাইলে সে যেন তা তার সামনের দিকে এবং তার ডান দিকে না ফেলে, বরং তার বাম দিকে বা তার বাম পায়ের নিচে ফেলে।

762। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদের কেবলার দিকে থুথু দেখতে পেয়ে খুবই রাগান্বিত হন, এমনকি তাঁর চেহারা রক্তিম বর্ণ ধারণা করে। এক আনসারী মহিলা এসে তা মুছে ফেলে এবং সেই স্থানে সুগন্ধি লাগিয়ে দেয়। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এটা কত উত্তম

763। আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদের কিবলার দিকে থুথু দেখতে পান। তখন তিনি লোকেদের নিয়ে সালাত পড়ছিলেন তিনি তা মুছে ফেলেন। অতঃপর সালাত শেষে তিনি বলেনঃ যখন তোমাদের কেউ সালাতে রত থাকে, তখন আল্লাহ তার সামনে থাকেন। অতএব তোমাদের কেউ যেন সালাতরত অবস্থায় তার সামনের দিকে থুথু না ফেলে।

764। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদের কিবলার দিকে (নিক্ষিপ্ত) থুথু মুছে ফেলেন।

765। সুলাইমান ইবনু বুরাইদাহ (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত পড়লেন। এক ব্যাক্তি দাঁড়িয়ে বললো, কে লাল উটের খোঁজ দিতে পারে (আমার লাল উটটি হারিয়ে গেছে)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তুমি যেন তা না পাও। মাসজিদ যে উদ্দেশে নির্মাণ করা হয়েছে তা সেই উদ্দেশেই ব্যবহৃত হবে।

766। আমর ইবনু শুআইব (রহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে হারানো জিনিস খোঁজার ঘোষণা দিতে নিষেধ করেছেন।

767। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছিঃ কোন ব্যাক্তি অপর ব্যাক্তিকে মসজিদে হারানো জিনিস খোঁজার ঘোষণা দিতে শুনলে সে যেন বলে, আল্লাহ তোমাকে যেন তা ফিরিয়ে না দেন। কারণ এজন্য মাসজিদ নির্মাণ করা হয়নি।

768। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা বকরী বা উটের খোঁয়াড় ব্যতীত সালাত পড়ার জায়গা না পেলে, বকরীর খোঁয়াড়ে সালাত আদায় করতে পারো কিন্তু উটের খোঁয়াড়ে পড়বে না।

769। আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল আল-মুযানী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা বকরীর খোঁয়াড়ে সালাত আদায় করতে পারো, কিন্তু উটের খোঁয়াড়ে সালাত পড়ো না। কেননা তা শয়তানদের থেকে সৃষ্ট।

770। সাবরা ইবনু মাবাদ আল-জুহানী থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ উটের খোঁয়াড়ে সালাত পড়া যাবে না, তবে বকরীর খোঁয়াড়ে সালাত পড়া যাবে।

771। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কন্যা ফাতিমা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে প্রবেশকালে বলতেনঃ আল্লাহ্‌র নামে (প্রবেশ) এবং আল্লাহ্‌র রাসূলকে সালাম। হে আল্লাহ্! আমার গুনাহসমূহ ক্ষমা করুন এবং আমার জন্য আপনার দয়ার দরজাসমূহ উন্মুক্ত করে দিন। তিনি (মাসজিদ থেকে) বের হওয়ার সময় বলতেনঃ আল্লাহ্‌র নামে (প্রস্থান) এবং সালাম আল্লাহ্‌র রাসূলকে। হে আল্লাহ্! আমার গুনাহসমূহ ক্ষমা করুন এবং আমার জন্য আপনার অনুগ্রহের দরজাসমূহ উন্মুক্ত করে দিন।

772। আবূ হুমাইদ আস-সাইদী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের যে কেউ মসজিদে প্রবেশকালে যেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর প্রতি সালাম পেশ করে, তারপর যেন বলেঃ হে আল্লাহ্! আমার জন্য আপনার রহমতের দরজাসমূহ উন্মুক্ত করে দিন এবং বের হওয়ার সময় যেন বলেঃ হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আপনার অনুগ্রহ প্রার্থনা করি।

773। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের যে কেউ মসজিদে প্রবেশকালে যেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি সালাম পেশ করে, অতঃপর বলেঃ হে আল্লাহ্! আমার জন্য আপনার রহমতের দরজাসমূহ খুলে দিন এবং বের হওয়ার সময়ও যেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর প্রতি সালাম পেশ করে, অতঃপর বলেঃ হে আল্লাহ! আপনি আমাকে বিতাড়িত শয়তান রক্ষা করুন।

774। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ উত্তমরূপে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করার পর কেবল সালাত পড়ার উদ্দেশেই মসজিদে আসে, আল্লাহ তার প্রতি কদমের বিনিময়ে তার একটি ধাপ মর্যাদা বাড়িয়ে দেন এবং তার একটি গুনাহ মুছে দেন যাবত না সে মসজিদে প্রবেশ করে। মসজিদে প্রবেশ করার পর সে যতক্ষণ সালাতের জন্য সেখানে অবস্থান করে, ততক্ষণ সালাতরত হিসাবেই গণ্য হয়।

775। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সালাতের ইকামত শুরু হলে তোমরা তার জন্য দ্রুত বেগে আসবে না, বরং ধীরে সুস্থে হেঁটে আসবে। এরপর সালাতের যতটুকু পাও তা পড়ো এবং যতটুকু ছুটে যায় তা পূর্ণ করো।

776। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেনঃ আমি কি তোমাদের এমন জিনিসের কথা বলে দিবো না, যার দ্বারা আল্লাহ তাআলা তোমাদের গুনাহরাশি ক্ষমা করবেন এবং সওয়াবের পরিধিও বাড়িয়ে দিবেন? তারা বলেন, হ্যাঁ, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! তিনি বলেনঃ কষ্টের সময় পূর্ণরূপে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করা, মাসজিদসমূহের দিকে বেশি বেশি কদম রাখা এবং এক সালাতের পর অপর সালাতের অপেক্ষায় থাকা।

777। আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যাক্তি আগামীতে কিয়ামতে মুসলিম হিসাবে আল্লাহ্‌র সাথে সাক্ষাত করে আনন্দিত হতে চায়, সে যেন এই পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের প্রতি যত্নবান হয়, যেখানে তার জন্য আযান দেয়া হয়। কেননা এটাই হল হেদায়াতের উত্তম পন্থা। আর আল্লাহ তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর জন্য হেদায়াতের পন্থা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আমার জীবনের শপথ! তোমাদের সকলে যদি নিজ নিজ বাড়িতে সালাত পড়ো, তবে তোমরা অবশ্যই তোমাদের নবীর সুন্নাত ত্যাগ করলে। আর তোমরা তোমাদের নবীর সুন্নাত ত্যাগ করলে অবশ্যই পথভ্রষ্ট হয়ে গেলে। অবশ্যই আমরা প্রকাশ্য মুনাফিক ব্যতীত অপর কাউকে সালাতের জামাআত ত্যাগ করতে দেখতাম না। আমি এমন ব্যাক্তিকেও দেখেছি, যিনি দু ব্যাক্তির কাঁধে ভর করে জামাআতের কাতারে শারীক হতেন। যে ব্যাক্তি উত্তমরূপে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে মসজিদে উপস্থিত হয়ে সালাত পড়ে, তার প্রতিটি কদমের বিনিময়ে আল্লাহ তার এক ধাপ মর্যাদা বৃদ্ধি করেন এবং তার একটি গুনাহ মুছে দেন।

778। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি সালাতের উদ্দেশে তার ঘর থেকে বের হয়ে যেতে যেতে বলেঃ হে আল্লাহ্! তোমার নিকট প্রার্থনাকারীদের যে অধিকার আছে তার উসীলায় তোমার নিকট প্রার্থনা করছি, এই পদব্রজের অধিকারের উসীলায় তোমার নিকট প্রার্থনা করছি। কেননা গৌরব, অহংকার, প্রদর্শনেচ্ছা প্রসিদ্ধি লাভ ইত্যাদির জন্য আমি মোটেই বের হইনি। আমি বের হয়েছি তোমার অসন্তোষের ভয়ে এবং তোমার সন্তুষ্টির অন্বেষায়। অতএব আমি তোমার নিকট প্রার্থনা করি যে, তুমি আগুন থেকে আমাকে বাঁচাবে এবং আমার গুনাহসমূহ ক্ষমা করবে। কারণ তুমি ছাড়া গুনাহ মাফ করার কেউ নেই, আল্লাহ তার প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেন এবং সত্তর হাজার ফেরেশতা তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

779। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রাতের অন্ধকারে মজিদসমূহে যাতায়াতকারীদেরকে কিয়ামতের দিনের পরিপূর্ণ নূরের সুসংবাদ দেয়া হোক।

780। সাহল ইবনু সা’দ আস-সাইদী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রাতের অন্ধকারে মসজিদে যাতায়াতকারীদেরকে কিয়ামতের দিনের পরিপূর্ণ নূরের সুসংবাদ দেয়া হোক।

781। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রাতের অন্ধকারে মাসজিদসমূহে যাতায়াতকারীদেরকে কিয়ামতের দিনের পরিপূর্ণ নূরের সুসংবাদ দাও।

782। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মাসজিদ থেকে দূরে আরো দূরে বসবাসকারীর জন্য রয়েছে মহা পুরস্কার রয়েছে।

783। উবাই ইবনু কাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক আনসারী ব্যাক্তির বাড়ি ছিল মদিনার শেষ প্রান্তে। সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সালাতে উপস্থিত হতে কখনো ভুল করতো না। রাবী বলেন, তার জন্য আমার মনে কষ্ট অনুভব করলাম। তাই আমি বললাম, হে অমুক! একটি গাধা কিনে নিলে তা তোমাকে গরম থেকে, পথের কষ্ট-কাঠিন্য থেকে এবং মাটির কীট-পতঙ্গ থেকে রেহাই দিত। লোকটি বললো, আল্লাহ্‌র শপথ! মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ঘরের লাগোয়া আমার ঘর হোক, এটাও আমার পছন্দনীয় নয়। রাবী বলেন, আমি তার কষ্টে ব্যথিত হলাম, অবশেষে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর বাড়িতে উপস্থিত হয়ে তাঁর নিকট বিষয়টি উপস্থাপন করলাম। তিনি তাকে ডেকে জিজ্ঞেস করলে সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট একই কথা ব্যক্ত করে। সে আরো উল্লেখ করে যে, সে তার পদক্ষেপসমূহের সওয়াব আশা করে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: তুমি যেরূপ আশা করছো তদ্রূপই পাবে।

784। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বনূ সালিমার লোকেরা তাদের বাড়িঘর মসজিদে নববীর নিকটে স্থানান্তরিত করার ইচ্ছা করলো। কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনার প্রান্ত এলাকা জনশূন্য হওয়া অপছন্দ করলেন। তাই তিনি বলেনঃ হে বনূ সালিমা! তোমরা কি তোমাদের পদক্ষেপের সওয়াব আশা করো না? অতএব তারা স্বস্থানেই থেকে গেলো।

785। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনসারদের বসতি মসজিদে নববী থেকে দূরে ছিল। তারা মসজিদের কাছাকাছি বসতি স্থানান্তরিত করতে চাইলে এ আয়াত নাযিল হয় (অনুবাদ) আমি লিখে রাখি যা তারা অগ্রে পাঠায় এবং যা তারা পিছনে রেখে যায় (সূরাহ ইয়াসীনঃ ১২)। রাবী বলেন, তখন তারা তাদের অবস্থানে বহাল থাকেন।

786। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যাক্তির জামাআতে সালাত তার ঘরে বা বাজারে পড়া সালাত অপেক্ষা বিশ গুণের অধিক মর্যাদাপূর্ণ।

787। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ জামাআতের ফযীলাত তোমাদের কারো একাকী সালাত পড়ার তুলনায় পঁচিশ গুণ বেশি।

788। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যাক্তির জামাআতের সালাত তার বাড়িতে পড়া সালাত অপেক্ষা পঁচিশ গুণ বেশি মর্যাদাপূর্ণ।

789। ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যাক্তির জামাআতের সালাত তার একাকী পড়া সালাত অপেক্ষা সাতাশ গুণ বেশি মর্যাদাপূর্ণ।

790। উবাই ইবনু কাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যাক্তির জামাআতে সালাত তার একাকী পড়া সালাত অপেক্ষা চব্বিশ কিংবা পঁচিশ গুণ বেশি মর্যাদাপূর্ণ।

791। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার ইচ্ছা হয় যে, আমি সালাত কায়েমের নির্দেশ দেই এবং এক ব্যাক্তিকে লোকেদের নিয়ে সালাত আদায় করতে আদেশ করি। অতঃপর আমি লাকড়িসহ একদল লোককে নিয়ে বেরিয়ে যাই সেইসব লোকের নিকট যারা জামাআতে উপস্থিত হয়নি, অতঃপর তাদেরসহ তাদের বসতি আগুন দিয়ে ভস্মীভূত করে দেই।

792। আবদুল্লাহ ইবনু উম্মু মাকতূম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বললাম, আমি বৃদ্ধ ও অন্ধ, আমার বসতিও দূরে এবং আমার সাহায্যকারী কোন পরিচালকও নেই। সুতরাং আপনি কি (আমাকে জামাআতে হাযির না হওয়ার ব্যাপারে) অবকাশ (অনুমতি) দিবেন? তিনি বলেনঃ তুমি কি আযান শুনতে পাও? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বলেনঃ আমি তোমার জন্য অবকাশ পাচ্ছি না।

793। ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যাক্তি আযান শুনলো এবং তার কোন ওযর না থাকা সত্ত্বেও জামাআতে উপস্থিত হল না, তার সালাত নাই।

794। ইবনু আব্বাস ও ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তারা উভয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তাঁর কাঠের মিম্বারের উপর থেকে বলতে শুনেছেনঃ লোকেরা অবশ্যই যেন জামাআত ত্যাগ করা থেকে বিরত থাকে। অন্যথায় আল্লাহ অবশ্যই তাদের অন্তরে সীলমোহর মেরে দিবেন, অতঃপর তারা বিস্মৃতদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়বে।

795। উসামাহ ইবনু যায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ লোকজনকে অবশ্যই জামাআত ত্যাগ করা থেকে বিরত থাকতে হবে, অন্যথায় আমি তাদের ঘরবাড়ি ভস্মীভূত করে দিবো।

796। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি লোকেরা এশা ও ফজরের সালাতের যে কত ফযীলাত তা জানতো, তাহলে অবশ্যই তারা এই দু সালাতে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও উপস্থিত হতো।

797। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মোনাফিকদের জন্য সবচেয়ে ভারবহ (কষ্টকর) হচ্ছে এশা ও ফজরের সালাত। তারা যদি এই দু সালাতের ফযীলাত সম্পর্কে অবহিত থাকতো, তাহলে অবশ্যই তারা হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তাতে হাযির হতো।

798। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ যে ব্যাক্তি মসজিদে এসে জামাআতের সাথে চল্লিশ রাত তাকবীরে ঊলাসহ এশার সালাত পড়বে, তার বিনিময়ে আল্লাহ জাহান্নাম থেকে তার মুক্তির সনদ লিখে দেন।

799। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন মসজিদে প্রবেশ করে এবং যতক্ষণ সালাত তাকে আটক রাখে, ততক্ষণ সে সালাতের মধ্যে থাকে। তোমাদের কেউ যে মজলিসে সালাত পড়েছে তাতে যতক্ষণ সে অবস্থান করে ততক্ষণ ফেরেশতারা তার জন্য দুআ করতে থাকেন। তারা বলেন, হে আল্লাহ্! তাকে ক্ষমা করুন। হে আল্লাহ্! তাকে অনুগ্রহ করুন। হে আল্লাহ্! তার তওবা কবূল করুন। যতক্ষণ না তার উযূ (ওজু/অজু/অযু) ছুটে যায়, যতক্ষণ না সে কাউকে কষ্ট দেয় (ততক্ষণ এ দুআ চলতে থাকে)।

800। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোন মুসলিম ব্যাক্তি যতক্ষণ মসজিদে সালাত ও যিকিরে রত থাকে ততক্ষণ আল্লাহ তার প্রতি এতটা আনন্দিত হন, প্রবাসী ব্যাক্তি তার পরিবারে ফিরে এলে তারা তাকে পেয়ে যেরূপ আনন্দিত হয়।

801। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে মাগরিবের সালাত পড়লাম। তারপর যার চলে যাওয়ার চলে গেলেন এবং যার থেকে যাওয়ার থেকে গেলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এত দ্রুতবেগে এলেন যে, তাঁর দীর্ঘ নিঃশ্বাস বের হতে লাগলো। তিনি তাঁর দু হাঁটুর উপর ভর করে বসে বলেনঃ তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ করো। তোমাদের প্রতিপালক আসমানের একটি দরজা খুলে দিয়েছেন এবং ফেরেশতাদের নিকট তোমাদের সম্পর্কে গর্ব করে বলছেনঃ তোমরা আমার বান্দাদের দিকে তাকিয়ে দেখো, তারা এক ফরয আদায়ের পর পরবর্তী ফরয আদায়ের জন্য অপেক্ষা করছে।

802। আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা কোন ব্যাক্তিকে মসজিদে যাতায়াত করতে দেখলে তার ঈমানের পক্ষে সাক্ষ্য দিও। মহান আল্লাহ বলেনঃ তারাই তো আল্লাহ্‌র মাসজিদসমূহের রক্ষণাবেক্ষণ করে যারা আল্লাহ্‌র উপর ঈমান আনে (সূরাহ তওবা: ১৮)।

উৎস: Sunan Ibn Majah

WEBREATH · 11:11

«Should I not be a thankful servant?» — Sahih al-Bukhari

Breath is one for all: everyone lives by it, whoever they are and whatever they believe. Every day at 11:11 local time people stop for sixty seconds, breathe, and thank GOD for the breath — each in their own words, each within themselves. In that minute we are One Breath.

WEBREATH — the Minute at 11:11, your own local time — we are One Breath