হাদিস
ফিরে যান

সুনানে ইবনে মাজাহ 30 · Chapters on Drinks

আপনার ভাষায় এখনো কোনো অনুবাদ নেই — ইংরেজি দেখাচ্ছে

3371। আবূ দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার বন্ধু (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে উপদেশ দিয়েছেনঃ শরাব পান করো না, কারণ তা সমস্ত পাপাচারের প্রসূতি।

3372। খাব্বাব ইবনুল আরাত্তি (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সাবধান! শরাব পরিহার করো। কারণ শরাবের পাপ অন্যান্য পাপাচারকে আওতাভুক্ত করে নেয়, যেমন তার গাছ (আংগুর গাছ) অন্যান্য গাছের উপর বিস্তারিত হয়।

3373। ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি দুনিয়াতে শরাব পান করলো, সে তা থেকে তওবা না করলে, আখেরাতে তা পান করতে পারবে না।

3374। আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি দুনিয়াতে শরাব পান করে, সে আখেরাতে তা পান করতে পারবে না।

3375। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শরাবখোর (পাপের ক্ষেত্রে) মূর্তিপূজকের সমতুল্য।

3376। আবূ দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ শরাব পানে অভ্যস্ত ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।

3377। ‘আবদুল্লাহ ইবনে ‘আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি শরাব পান করে এবং মাতাল হয়, চল্লিশ দিন পর্যন্ত তার নামায কবুল হয় না। সে মারা গেলে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। আর যদি সে তওবা করে, তবে আল্লাহ তা‘আলা তার তওবা কবুল করবেন। সে পুনরায় শরাব পানে লিপ্ত হলে কিয়ামতের দিন অল্লাহ তা‘আলা অবশ্যি তাকে ‘‘রাদগাতুল খাবাল’’ পান করাবেন। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ‘রাদগাতুল খাবাল’ কী? তিনি বলেনঃ জাহান্নামীদের দেহ থেকে নির্গত পুঁজ ও রক্ত।

3378। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শরাব এই দু’টি গাছ থেকে তৈরি হয়ঃ খেজুর গাছ ও আংগুর গাছ।

3379। নু'মান ইবনে বাশীর (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ গম থেকে শরাব হয়, বার্লি থেকে শরাব হয়, আংগুর থেকে শরাব হয়, খেজুর থেকে শরাব হয় এবং মধু থেকে শরাব হয়।

3380। ইবনে উমার (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শরাবের উপর দশভাবে অভিসম্পাত করা হয়েছেঃ স্বয়ং শরাব (অভিশপ্ত), শরাব উৎপাদক, যে তা উৎপাদন করায়, তার বিক্রেতা, তার ক্রেতা, তার বহনকারী, তা যার জন্য বহন করা হয়, এর মূল্য ভোগকারী, তা পানকারী ও তা পরিবেশনকারী (এদের সকলেই অভিশপ্ত)।

3381। আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দশভাবে শরাবের উপর অভিসম্পাত করেছেনঃ শরাব প্রস্তুতকারী, তা উৎপাদনকারী, যে তা উৎপাদন করায়, তা যার জন্য উৎপাদন করা হয়, তা বহনকারী, যার জন্য তা বহন করা হয়, তার বিক্রেতা, তার ক্রেতা, তা পরিবেশনকারী এবং যার জন্য পরিবেশন করা হয়। এভাবে তিনি দশজনের উল্লেখ করেছেন।

3382। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন সুদ সম্পর্কিত সূরা বাকারার শেষ আয়াতগুলো নাযিল হয়, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাইরে বের হয়ে আসেন এবং শরাবের ব্যবসাও নিষিদ্ধ (হারাম) ঘোষণা করেন।

3383। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সামুরা (রাঃ) শরাব বিক্রয় করেন এ কথা উমার (রাঃ) জানতে পেরে বললেন, আল্লাহ সামুরাকে ধ্বংস করুনঃ সে কি জানে না যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘‘আল্লাহ তা‘আলা ইহূদীদের অভিসম্পাত করুন, তাদের প্রতি চর্বি হারাম করা হয়েছিল; কিন্তু তারা তা গলিয়ে বিক্রয় করতো’’।

3384। আবূ উমামা আল-বাহিলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এমন কোন রাত এবং দিন অতিবাহিত হবে না, যখন আমার উম্মাতের কতক লোক শরাবের ভিন্ন নামকরণ করে তা পান করবে না।

3385। উবাদা ইবনুস সামিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উম্মাতের কতক লোক শরাবের ভিন্নতর নাম রেখে তা পান করবে।

3386। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ নেশা উদ্রেককর প্রতিটি পানীয় হারাম।

3387। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রতিটি নেশা উদ্রেককর জিনিস হারাম।

3388। ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ প্রতিটি নেশা উদ্রেককর জিনিস হারাম।

3389। মু‘আবিয়া (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ প্রতিটি নেশা উদ্রেককর জিনিস প্রত্যেক মুমিন ব্যক্তির জন্য হারাম।

3390। উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রতিটি নেশা উদ্রেককর জিনিস শরাবের অন্তর্ভুক্ত এবং যে কোন শরাবই হারাম।

3391। আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নেশা সৃষ্টিকারী প্রতিটি জিনিস হারাম।

3392। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে কোন নেশা উদ্রেককর জিনিস হারাম। আর যে জিনিসের অধিক পরিমাণ নেশা সৃষ্টি করে, তার সামান্য পরিমাণও হারাম।

3393। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে জিনিসের অধিক পরিমাণ নেশা উদ্রেক করে, তার সামান্য পরিমাণও হারাম।

3394। ‘আমর ইবনে শু‘আয়ব (রাঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে জিনিসের অধিক পরিমাণ নেশা সৃষ্টি করে, তার সামান্য পরিমাণও হারাম।

3395। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খেজুর ও আংগুর একত্রে ভিজিয়ে নবীয তৈরি করতে নিষেধ করেছেন এবং পাকা খেজুর ও কাঁচা খেজুর একত্রে মিশিয়ে নবীয তৈরি করতেও নিষেধ করেছেন।

3396। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা কাঁচা খেজুর ও শুকনা খেজুর একত্রে ভিজিয়ে নবীয তৈরি করো না, তবে এর প্রতিটি পৃথকভাবে ভিজিয়ে নবীয তৈরি করতে পার।

3397। আবদুল্লাহ ইবনে আবূ কাতাদা (রাঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেনঃ কাঁচা খেজুর ও পাকা খেজুর একত্রে মিশাবে না এবং খেজুর ও আংগুরও একত্রে মিশাবে না। তবে এর প্রতিটি পৃথকভাবে ভিজিয়ে নবীয তৈরি করতে পারো।

3398। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য একটি পাত্রে নবীয বানাতাম। আমরা এক মুঠো খেজুর অথবা এক মুঠো আংগুর তুলে নিয়ে পাত্রের মধ্যে ছেড়ে দিতাম, অতঃপর তাতে পানি ঢেলে দিতাম। আমরা সকালবেলা তা ভিজাতাম এবং তিনি সন্ধ্যাবেলা তা পান করতেন। আবার কখনও আমরা সন্ধ্যাবেলা তা ভিজাতাম এবং তিনি সকালবেলা তা পান করতেন। আবূ মুআবিয়া (রাঃ) তার বর্ণনায় বলেন, দিনে ভিজাতেন এবং তিনি রাতের বেলা তা পান করতেন অথবা রাতের বেলা ভিজাতেন এবং তিনি দিনের বেলা তা পান করতেন।

3399। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য নবীয তৈরি করা হতো এবং তিনি তা ঐ দিন অথবা পরের দিন সকাল অথবা তৃতীয় দিন পর্যন্ত পান করতেন। পান করার পর এর কিছু অবশিষ্ট থাকলে তিনি তা ঢেলে ফেলে দিতেন অথবা ঢেলে ফেলার নির্দেশ দিতেন।

3400। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য একটি পাথরের পাত্রে নবীয তৈরি করা হতো।

3401। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাঠের পাত্রে, তৈলাক্ত পাত্রে, কদুর খোলের পাত্রে ও মাটির সবুজ পাত্রে নবীয তৈরি করতে নিষেধ করেছেন। তিনি আরও বলেনঃ সমস্ত নেশা সৃষ্টিকর জিনিস হারাম।

3402। ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তৈলাক্ত পাত্রে ও কদুর খোলে নবীয তৈর করতে নিষেধ করেছেন।

3403। আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাটির সবুজ পাত্রে, কদুর খোলে ও কাঠের পাত্রে পান করতে নিষেধ করেছেন।

3404। আবদুর রহমান ইবনে ইয়ামার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কদুর খোল ও মাটির সবুজ পাত্র ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন।

3405। আবদুল্লাহ ইবনে বুরাইদা (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি তোমাদেরকে কতগুলো পাত্র ব্যবহার করতে নিষেধ করেছিলাম। এখন তোমরা তাতে নবীয তৈরি করতে পারো এবং সমস্ত নেশা উদ্রেককারী জিনিস পরিহার করো।

3406। ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি কতকগুলো পাত্রে নবীয তৈরি করতে তোমাদের নিষেধ করেছিলাম। জেনে রাখো! পাত্র কোন জিনিসকে হারাম করে না। তবে সকল নেশাকর দ্রব্যই হারাম।

3407। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমাদের মধ্যে কোন মহিলা কি প্রতি বছর তার কোরবানীর পশুর চামড়া দিয়ে একটি মশক বানাতে সক্ষম নয়? তিনি পুনরায় বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাটির কলসে এবং এরূপ এরূপ পাত্রে নবীয তৈরি করতে নিষেধ করেছেন, অবশ্য সিরকা বানানো যেতে পারে।

3408। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাটির কলসে নবীয বানাতে নিষেধ করেছেন।

3409। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট মাটির কলসে প্রস্তুত নবীয নিয়ে আসা হলো, যাতে মাদকতা সৃষ্টি হয়েছিলা। তিনি বলেনঃ কলসটা ঐ দেয়ালের উপর নিক্ষেপ করো। কারণ তা কেবল সেইসব লোক পান করতে পারে যাদের আল্লাহ ও আখেরাতের দিনের প্রতি ঈমান নাই।

3410। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা খাদ্য ও পানীয় পাত্র ঢেকে রাখো, মশকের মুখ বন্ধ করো, প্রদীপ নিভিয়ে দাও এবং (শয়নকালে) ঘরের দরজা বন্ধ করো। কারণ শয়তান (মুখবন্ধ) মশক খুলতে পারে না, (বন্ধ) দরজাও খুলতে পারে না এবং (ঢেকে রাখা) পাত্রও খুলতে পারে না। তোমাদের কেউ যদি পাত্র ঢাকার মত কিছু না পায় তবে সে যেন তার উপর একটি কাঠ আড়াআড়িভাবে রেখে দেয় এবং আল্লাহর নাম স্মরণ করে। কেননা ইঁদুর মানুষের ঘর জ্বালিয়ে দেয়।

3411। অবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাত্র ঢেকে রাখতে, মশকের মুখ বন্ধ করতে এবং খালি পাত্র উপুড় করে রাখতে আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন।

3412। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য রাতের বেলা তিনটি পাত্র রাখতাম এবং তিনটিই ঢেকে রাখতাম। একটি তাঁর পবিত্রতা অর্জনের জন্য, একটি তাঁর মিসওয়াকের জন্য একটি তাঁর পান করার জন্য।

3413। উম্মু সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি রূপার পাত্রে পান করে, সে নিজের পেটে গড় গড় করে জাহান্নামের আগুন ঢালে।

3414। হুযায়ফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সোনা ও রূপার পাত্রে পান করতে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেনঃ তা দুনিয়াতে তাদের (কাফিরদের) জন্য এবং তোমাদের জন্য আখেরাতে।

3415। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি রূপার পাত্রে পান করে, সে নিজের পেটে গড় গড় করে জাহান্নামের আগুন ঢালে।

3416। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি তিন নিঃশ্বাসে পানি পান করতেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন নিঃশ্বাসে পানি পান করতেন।

3417। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পানি পান করলেন এবং পানের সময় দু’বার নিঃশ্বাস নিলেন।

3418। আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মশকের মুখ উল্টিয়ে তাতে মুখ লাগিয়ে পান করতে নিষেধ করেছেন।

3419। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মশকের মুখ উল্টিয়ে পানি পান করতে নিষেধ করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এ নিষেধাজ্ঞার পর এক ব্যক্তি রাতের বেলা উঠে পাত্রের মুখ উল্টে পানি পান করতে গেলে তৎক্ষণাৎ তা থেকে একটি সাপ বের হয়ে আসে।

3420। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মশকের মুখে মুখ লাগিয়ে পানি পান করতে নিষেধ করেছেন।

3421। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মশকের মুখে মুখ লাগিয়ে পানি পান করতে নিষেধ করেছেন।

3422। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে যমযমের পানি পরিবেশন করলাম। তিনি দাঁড়ানো অবস্থায় তা পান করলেন। শা'বী (রাঃ) বলেন, আমি এ হাদীস ইকরিমার নিকট বর্ণনা করলে, তিনি আল্লাহর নামে শপথ করে বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা করেননি।

3423। কাবশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিকট এলেন। নিকটেই পানির মশক ঝুলানো ছিল। তিনি দাঁড়ানো অবস্থায় তা থেকে পান করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মুখ লাগানো স্থানের বরকত লাভের আশায় কাবশা (রাঃ) মশকের মুখ কেটে সংরক্ষণ করেন।

3424। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ানো অবস্থায় পানি পান করতে নিষেধ করেছেন।

3425। আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য পানি মিশ্রিত দুধ আনা হলো। তাঁর ডান পাশে ছিল এক বেদুইন এবং বাম পাশে ছিলেন আবূ বাকর (রাঃ)। তিনি তা থেকে পান করার পর বেদুইনকে দেন এবং বলেনঃ পর্যায়ক্রমে ডান দিক থেকে।

3426। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য দুধ দেয়া হলো। তাঁর ডান দিকে ছিলেন ইবনে আব্বাস (রাঃ) ও বাম দিকে ছিলেন খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ (রাঃ)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইবনে আব্বাস (রাঃ) কে বলেন, তুমি কি আমাকে অনুমতি দিবে যে আমি খালেদকে পানি পান করাবো? ইবনে আব্বাস (রাঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উচ্ছিষ্টের ব্যাপারে আমার উপর অপর কাউকে অগ্রাধিকার দেয়া আমি পছন্দ করি না। অতএব ইবনে আব্বাস (রাঃ) দুধের পাত্র নিয়ে পান করেন এবং খালিদ (রাঃ)-ও পান করেন।

3427। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ পানীয় দ্রব্য পানকালে যেন পাত্রের মধ্যে নিঃশ্বাস না ফেলে। নিঃশ্বাস নেয়ার প্রয়োজন হলে সে মুখ থেকে পাত্র সরিয়ে নিবে, অতঃপর আরও পান করতে চাইলে পাত্র থেকে পান করবে।

3428। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পানপাত্রে নিঃশ্বাস ফেলতে নিষেধ করেছেন।

3429। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পানপাত্রে ফুঁ দিতে নিষেধ করেছেন।

3430। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনও পানীয় দ্রব্যে ফুঁ দিতেন না।

3431। আসেম ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে যায়েদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি (দাদা আবদুল্লাহ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে উপুড় হয়ে (পাত্রের মধ্যে মুখ ডুবিয়ে) পানি পান করতে নিষেধ করেছেন। তিনি আমাদেরকে এক হাতের আঁজলা ভরে পানি পান করতেও নিষেধ করেছেন এবং বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন কুকুরের মত পানিতে মুখ দিয়ে পান না করে, এক হাতেও যেন পানি পান না করে, যেমন একদল লোক পান করে থাকে, যাদের প্রতি আল্লাহ তা‘আলা অসন্তুষ্ট; রাতের বেলা পানপাত্র আন্দোলিত না করে যেন পানি পান না করে। তবে পাত্র আবৃত অবস্থায় থাকলে ভিন্ন কথা। যে ব্যক্তি পাত্র থেকে পান করার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও হাত দিয়ে পানি পান করে এবং এর দ্বারা বিনয় ও নম্রতা প্রকাশ তার উদ্দেশ্য, তবে আল্লাহ তা‘আলা তার আংগুলের সম-পরিমাণ পুণ্য তার আমলনামায় লিখে দিবেন। কারণ হাত হচ্ছে ঈসা ইবনে মরিয়ম (আঃ)-এর পানপাত্র, যখন তিনি পানপাত্র ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে বলেছিলেনঃ আফসোস! এটাও পার্থিব উপকরণ।

3432। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক আনসার সাহাবীর নিকট গেলেন। তখন তিনি নিজের বাগানে পানি দিচ্ছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেনঃ তোমার নিকট মশকের বাসি পানি থাকলে আমাদের পান করাও, অন্যথায় আমরা মুখ লাগিয়ে পান করে নিবো। তিনি বলেন, আমার নিকট মশকের বাসি পানি আছে। অতঃপর তিনি কুঁড়ে ঘরের দিকে গেলেন এবং আমরাও তাঁর সাথে গেলাম। ঐ সাহাবী তাঁর জন্য একটি বকরী দোহন করে তার দুধ মশকের পানিতে ঢাললেন। তিনি তা পান করলেন। অতঃপর তাঁর সাথে তাঁর যে সাহাবী ছিলেন তার সাথেও এরূপ করা হলো।

3433। ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা একটি পানির চৌবাচ্চা অতিক্রমকালে তা থেকে মুখ লাগিয়ে পানি পান করছিলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা মুখ লাগিয়ে পানি পান করো না, বরং তোমাদের হাতগুলো ধৌত করে তার সাহায্যে পান করো। কারণ হাতের তুলনায় অধিক পরিচ্ছন্ন কোন পাত্র নাই।

3434। আবূ কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ লোকেদের পানীয় পরিবেশনকারী সবশেষে পান করবে।

3435। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর একটি কাঁচের গ্লাস ছিল। তিনি তাতে পানীয় দ্রব্য পান করতেন।

উৎস: Sunan Ibn Majah

WEBREATH · 11:11

«Should I not be a thankful servant?» — Sahih al-Bukhari

Breath is one for all: everyone lives by it, whoever they are and whatever they believe. Every day at 11:11 local time people stop for sixty seconds, breathe, and thank GOD for the breath — each in their own words, each within themselves. In that minute we are One Breath.

WEBREATH — the Minute at 11:11, your own local time — we are One Breath