হাদিস
ফিরে যান

সুনানে ইবনে মাজাহ 29 · Chapters on Food

আপনার ভাষায় এখনো কোনো অনুবাদ নেই — ইংরেজি দেখাচ্ছে

3251। আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন (হিজরত করে মক্কা থেকে) মদীনায় এলেন তখন লোকেরা তাঁর নিকট যেতে লাগলো এবং বলাবলি হতে লাগলোঃ আল্লাহর রাসূল এসেছেন, আল্লাহর রাসূল এসেছেন,আল্লাহর রাসূল এসেছেন (তিনবার)। আমিও লোকজনের সাথে (তাঁকে) দেখতে গেলাম। আমি তাঁর মুখমন্ডল উত্তমরূপে দেখার পর বুঝতে পারলাম যে, এই চেহারা মিথ্যাবাদীর নয়। সর্বপ্রথম তাঁর মুখে আমার শোনা কথা এই যে, তিনি বললেনঃ হে লোকসকল! তোমরা সালামের ব্যাপক প্রচলন করো, আহার করাও, আত্মীয়তার সম্পর্ক বহাল রাখো এবং লোকজন যখন ঘুমিয়ে থাকে, তখন রাতের বেলা নামায পড়ো। শান্তিতে জান্নাতে প্রবেশ করো।

3252। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) বলতেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা সালামের ব্যাপক প্রসার করো, খাদ্য দান করো এবং ভাই ভাই হয়ে সদ্ভাবে থাকো, যেমন মহামহিম আল্লাহ তোমাদের আদেশ করেছেন।

3253। আবদুল্লাহ ইবনে ‘আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট জিজ্ঞাস করলো, হে আল্লাহর রাসূল! কোন্ ইসলাম উত্তম? তিনি বলেনঃ দরিদ্রদেরকে তোমার খাদ্যদান এবং তোমার পরিচিত ও অপরিচিত সকলকে সালাম দেয়া।

3254। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ একজনের খাবার দু’জনের জন্য যথেষ্ট, দু’জনের খাবার চারজনের জন্য যথেষ্টে এবং চারজনের খাবার আটজনের জন্য যথেষ্ট হতে পারে।

3255। ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ একজনের খাদ্য দু’জনের জন্য যথেষ্ট হতে পারে, দু’জনের খাবার তিন বা চারজনের জন্য যথেষ্ট হতে পারে এবং চারজনের খাবার পাঁচ অথবা ছ‘জনের জন্য যথেষ্ট হতে পারে।

3256। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুমিন ব্যক্তি এক উদরে খায় এবং কাফের ব্যক্তি সাত উদরে খায়।

3257। ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কাফের ব্যক্তি সাতটি পাকস্থলী পূর্তি করে খায় এবং মুমিন ব্যক্তি এক পাকস্থলী পূর্তি করে খায়।

3258। আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুমিন ব্যক্তি এক পাকস্থলীতে খায় এবং কাফের ব্যক্তি সাত পাকস্থলীতে খায়।

3259। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনও খাদ্যসামগ্রীর ত্রুটি ধরতেন না। পছন্দ হলে তিনি আহার করতেন, অন্যথায় রেখে দিতেন। ২/৩২৫৯ (১)। আবূ বাকর ইবনে আবূ শাইবা-আবূ মু‘আবিয়া-আ‘মাশ-আবূ ইয়াহইয়া আবূ হুরায়রা (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

3260। আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি চায় যে, তার ঘরে বরকত আসুক, সে যেন সকালের আহার গ্রহণের সময় উযু করে এবং আহার শেষেও উযু করে।

3261। আবু হুরায়রা (রাঃ) কর্তৃক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট থেকে বর্ণিত। তিনি পায়খানা থেকে বেরিয়ে আসলে তাঁর জন্য খাবার পেশ করা হলো। এক ব্যক্তি বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি আপনার জন্য উযুর পানি নিয়ে আসবো না? তিনি বলেনঃ আমি কি নামায পড়তে চাচ্ছি?

3262। আবূ জুহাইফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি কখনও হেলান দিয়ে আহার করি না।

3263। আবদুল্লাহ ইবনে বুসর (রাঃ) বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে একটি বকরী হাদিয়া দিলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উভয় হাঁটু উঁচু করে বসে আহার করছিলেন। এক বেদুঈন বললো, এটা কী ধরনের বসা! তিনি বলেনঃ নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা আমাকে অনুগ্রহপরায়ণ ও বিনয়ী বান্দা বানিয়েছেন, হিংসুক ও অহংকারী বানাননি।

3264। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ছয়জন সাহাবীসহ আহার করছিলেন। এমন সময় এক বেদুঈন এসে সমস্ত খাদ্য দু’ গ্রাসে শেষ করে ফেললো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সে যদি ‘বিসমিল্লাহ’ বলে আহার করতো, তবে এ খাদ্য তোমাদের সকলের জন্য যথেষ্ট হতো। অতএব তোমাদের কেউ আহার গ্রহণকালে যেন ‘বিসমিল্লাহ’ বলে। সে যদি আহার গ্রহণের প্রারম্ভে ‘বিসমিল্লাহ’ বলতে ভুয়ে যায় তবে যেন বলেঃ ‘বিসমিল্লাহ ফী আওয়ালিহি ওয়া আখিরিহী’ (খাদ্যের প্রারম্ভে এবং শেষেও বিসমিল্লাহ)।

3265। উমার ইবনে আবূ সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার আহার অবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ মহামহিম আল্লাহর নাম স্মরণ করো।

3266। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের প্রত্যেকে যেন ডান হাতে আহার করে, ডান হাতে পান করে, ডান হাতে গ্রহণ করে এবং ডান হাতে দান করে। কারণ শয়তান বাম হাতে খায়, বাম হাতে পান করে, বাম হাতে দেয় এবং বাম হাতে গ্রহণ করে।

3267। উমার ইবনে আবূ সালামা (রাঃ) বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতিপালনাধীন ছিলাম। আহার গ্রহণের সময় আমার হাত পাত্রের যত্রতত্র চলে যেতো। তিনি আমাকে বলেনঃ এই ছেলে! আল্লাহর নাম স্মরণ করো, ডান হাতে আহার করো এবং তোমার নিকটের খাদ্য থেকে খাও।

3268। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা বাম হাতে আহার করো না। কারণ শয়তান বাম হাতে আহার করে।

3269। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কেউ যখন খাবার খায়, তখন সে যেন নিজ হাত চেটে খাওয়ার অথবা (অপরকে) চেটে খাওয়ানোর পূর্বে তা না মোছে। সুফিয়ান (রাঃ) বলেন, আমি উমার ইবনে কায়েসকে আমর ইবনে দীনারের নিকট জিজ্ঞাসা করতে শুনেছিঃ আপনার মতে আতা (রাঃ) এর হাদীস ‘‘তোমাদের কেউ যেন হাত চেটে খাওয়ার অথবা চেটে খাওয়ানোর পূর্বে তা না মোছে’’, কোন্ সাহাবী থেকে বর্ণিত? তিনি বলেন, ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। ‘আমর ইবনে দীনার (রাঃ) বলেন, জাবির (রাঃ) আমাদের নিকট আসার পূর্বেই আমরা তা ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে আতার মাধ্যমে প্রাপ্ত হয়ে মুখস্থ করেছি। আতা (রহঃ) তো জাবির (রাঃ) এর সাথে মক্কায় যাওয়ার বছর সাক্ষাত করে।

3270। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন হাত চেটে খাওয়ার পূর্বে তা না মোছে। কারণ তার জানা নাই যে, তার খাদ্যের কোন্ অংশে বরকত আছে।

3271। উম্মু আসিম (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহর মুক্তদাস নুবাইশা (রাঃ) আমাদের নিকট প্রবেশ করলেন। তখন আমরা একটি বড় পাত্রে আহার করছিলাম। তিনি আমাদের বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আহার করার পর আহারের পাত্র চেটে খেয়ে পরিষ্কার করে, তার জন্য পাত্র ক্ষমা প্রার্থনা করে।

3272। আবুল ইয়ামান (রাঃ) বলেন, আমার দাদী থেকে হুযাইল গোত্রের নুবাইশা আল-খায়ের (রাঃ) এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নুবাইশা আমাদের নিকট এলেন। আমরা তখন আমাদের একটি পাত্রে আহার করছিলাম। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন পাত্রে আহার করার পর তা চেটে খেয়ে পরিষ্কার করে, তার জন্য ঐ পাত্র ক্ষমা প্রার্থনা করে।

3273। ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আহারের দস্তরখান বিছানো হলে কেউ তার নিকটের খাবার থেকে যেন আহার করে এবং নিজ সঙ্গীর নিকটেরগুলো না নেয়।

3274। ইকরাশ ইবনে যুআইব (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট প্রচুর সারীদ (গোশতের ঝোলে ভিজানো রুটি) ও চর্বি ভর্তি একটি পাত্র নিয়ে আসা হলো। আমরা সামনে অগ্রসর হয়ে তা আহার করতে লাগলাম। আমার হাত পাত্রের মধ্যে যত্রতত্র সঞ্চালিত হতে থাকলে তিনি বলেনঃ হে ইকরাশ! এক জায়গা থেকে নিয়ে খাও। কারণ গোটা পাত্রে একই খাদ্য রয়েছে। অতঃপর আমাদের জন্য বিভিন্ন রকমের তাজা খেজুর ভর্তি আর একটি বড় পাত্র আনা হলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাত পাত্রের সর্বত্র বিচরণ করতে লাগলো এবং তিনি বললেনঃ হে ‘ইকরাশ! পাত্রের যেখান থেকে ইচ্ছা খাও। কারণ তাতে বিভিন্ন কিছিমের খাবার রয়েছে।

3275। আবদুল্লাহ ইবনে বুসর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট একটি পাত্র আনা হলে তিনি বলেনঃ এর চারপাশ থেকে খাও এবং উপরাংশ রেখে দাও, তাহলে তাতে বরকত লাভ করা যাবে।

3276। ওয়াসিলা ইবনুল আসকা আল-লাইসী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সারীদের উপরাংশ স্পর্শ করে বলেনঃ আল্লাহর নাম নিয়ে তার চারপাশ থেকে আহার করো এবং তার উপরাংশ অবশিষ্ট রাখো। কারণ এই উপরের দিক থেকেই বরকত আসে।

3277। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ খাদ্যদ্রব্য এনে রাখা হলে তার চারপাশ থেকে খাও এবং মধ্যভাগ রেখে দাও। কারণ এ মধ্যস্থলে বরকত নাযিল হয়।

3278। মা‘কিল ইবনে ইয়াসার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, একদা তিনি সকালের খাবার খাচ্ছলেন। হঠাৎ তার একটি গ্রাস নিচে পড়ে গেলো। তিনি তা তুলে নিয়ে তার ময়লা দূর করে আহার করেন। এতে অনারব কৃষকরা চোখ টিপাটিপি করতে লাগলো। বলা হলো, আল্লাহ নেতাকে কল্যাণের সাথে রাখুন। নিচে পতিত খাবার তুলে নেয়ায় এসব কৃষক আপানার প্রতি চোখ টিপাটিপি করছে। তিনি বলেন, এসব অনারবের কারণে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট থেকে শ্রুত কথা ত্যাগ করতে প্রস্তুত নই। আমাদের মধ্যে কারো খাবারের গ্রাস পড়ে গেলে তাকে নির্দেশ দেয়া হতো যে, সে যেন তা তুলে নিয়ে তার ময়লা দূর করে খেয়ে নেয় এবং শয়তানের জন্য ফেলে না রাখে।

3279। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কারো হাত থেকে খাবারের গ্রাস পড়ে গেলে সে যেন তা তুলে নেয় এবং তাতে যে ময়লা লেগেছে তা দূর করে খেয়ে নেয়।

3280। আবূ মূসা আল-আশআরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ পুরুষদের মধ্যে অনেকেই পূর্ণতায় পৌঁছেছেন। কিন্তু মহিলাদের মধ্যে কেবল ইমরান কন্যা মরিয়ম এবং ফিরআওনের স্ত্রী আসিয়া এই পূর্ণতায় পৌঁছেতে পেরেছিলেন। আর নারী সমাজের উপর আয়েশার মর্যাদা তদ্রূপ, যেমন অন্যান্য খাদ্যের উপর সারীদের (ঝোলে ভিজানো রুটির) মর্যাদা।

3281। আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নারী সমাজের উপর আয়েশার এমন মর্যাদা রয়েছে যেমন অন্যান্য সকল প্রকারের খাদ্যের উপর রয়েছে সারীদের প্রাধান্য।

3282। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে খাদ্য খুব কমই পেতাম। আমরা যখন তা পেতাম তখন আমাদের নিকট তোয়ালে থাকতো না, হাতের তালু, বাহু ও পায়ের পাতা ব্যতীত। অতঃপর আমরা নামায পড়তাম এবং (আহার শেষে) উযু করতাম না।

3283। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাবার শেষ করে বলতেনঃ (الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَنَا وَسَقَانَا وَجَعَلَنَا مُسْلِمِينَ) ‘‘আলহামদু লিল্লাহিল্লাযী আত‘আমানা ওয়া সাকানা ওয়া জাআলানা মিনাল মুসলিমীন’’ (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের আহার করিয়েছেন, পান করিয়েছেন এবং মুসলিম বানিয়েছেন)।

3284। আবূ উমামা আল-বাহিলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খাবার অথবা তাঁর সামনের খাবার তুলে রাখার পর তিনি বলতেনঃ ‘‘আলহামদু লিল্লাহি হামদান কাসীরান তায়্যিবান মুবারাকান গাইরা মাকফিয়্যিন ওয়ালা মুওয়াদ্দাইন ওয়ালা মুসতাগনান আনহু রববানা’’ (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, অসংখ্য প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা পবিত্র ও প্রাচুর্যময় সত্তার জন্য। তিনি সবার জন্য যথেষ্ট, তিনি কখনও পৃথক হন না। তাঁর অমুখাপেক্ষী হওয়া যায় না,আমাদের রব)।

3285। সাহল ইবনে মুআয ইবনে আনাস আল-জুহানী (রাঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি আহার করে সে যেন বলে, ‘‘আলহামদু লিল্লাহিল্লাযী আত‘আমানী হাযা ওয়া রাযাকানীহি মিনগাইরি হাওলিন মিন্নী ওয়ালা কুওয়াতিন’’ (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তা‘আলার জন্য যিনি আমাকে আমার শক্তি ও জোর ব্যতীত আহার করিয়েছেন ও রিযিক দান করেছেন), তাহলে তার পূর্বেকার গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে।

3286। ওয়াহশী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তারা বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা আহার করি, কিন্তু পরিতৃপ্ত হতে পারি না। তিনি বলেন, তোমরা হয়ত পৃথক পৃথকভাবে আহার করো। তারা বলেন, হ্যাঁ। তিনি বলেন, তোমরা একত্রে আহার করো এবং আহারকালে আল্লাহর নাম স্মরণ করো, তাহলে তোমাদের খাদ্যে তোমাদের জন্য বরকত দেয়া হবে।

3287। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা একত্রে আহার করো এবং বিচ্ছিন্নভাবে করো না। কারণ বরকত থাকে সমষ্টির সাথে।

3288। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাদ্য ও পানীয় দ্রব্যে ফুঁ দিতেন না এবং পাত্রের মধ্যে নিঃশ্বাস ফেলতেন না।

3289। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কারো খাদেম তার জন্য খাবার এনে উপস্থিত করলে সে যেন তাকে নিজের সাথে বসায় এবং নিজের সাথে খাওয়ায়। সে যদি তাকে নিজের সাথে বসাতে না চায়, তবে খাবার থেকে যেন তাকে দেয়।

3290। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তোমাদের কারো ক্রীতদাস তার সামনে আহার পরিবেশন করে, যা রান্না করার কষ্ট ও গরম সে সহ্য করেছে, তখন সে যেন তাকে নিজের সাথে বসিয়ে খাওয়ায়। সে যদি তা না করে, তাহলে একটি গ্রাস তুলে যেন তার হাতে দেয়।

3291। আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কারো খাদেম যখন তার নিকট খাদ্য নিয়ে আসে, তখন সে তাকে যেন নিজের সাথে বসায় অথবা খাদ্য থেকে তাকেও খেতে দেয়। কারণ সে খাদ্যদ্রব্য রান্না করতে গিয়ে গরম ও ধোঁয়া সহ্য করেছে।

3292। আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনও কোন উঁচু জিনিসের উপর থালা রেখে আহার করেননি।। কাতাদা (রাঃ) বলেন, তাহলে তারা কিসের উপর রেখে খেতেন? তিনি (আনাস) বলেন, দস্তরখানের উপর রেখে।

3293। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তাঁর ইন্তেকালের পুর্ব পর্যন্ত কখনও খাঞ্চা ভরে আহার করতে দেখিনি।

3294। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাদ্যসামগ্রী তুলে নেয়ার পূর্বে (সকলের আহার শেষ না হওয়া পর্যন্ত) উঠে যেতে নিষেধ করেছেন।

3295। ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দস্তরখান বিছানো হলে তা পুনরায় তুলে না নেয়া পর্যন্ত কোন ব্যক্তি যেন উঠে না যায় এবং সে আহারে পরিতৃপ্ত হলেও হাত গুটিয়ে না নেয়, যতক্ষণ না অন্য সকলের আহার গ্রহণ শেষ হয়। (একান্তই যদি ওঠার প্রয়োজন হয় তবে) সে যেন ওজরখাহি করে। কারণ সে হাত গুটিয়ে নিলে তার সাথে লোক লজ্জিত হবে এবং হয়ত তার আরও খাদ্যের প্রয়োজন থাকতে পারে।

3296। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কন্যা ফাতিমা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সাবধান! যে ব্যক্তি আহারের তেলচিটে হাতে নিয়ে (হাত পরিার না করে) রাত কাটায়, সে যেন নিজেকেই ভর্ৎসনা করে।

3297। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি হাতে তেলচিটে নিয়ে ঘুমালো, তা ধুয়ে পরিষ্কার করলো না, এমতাবস্থায় সে কোন অনিষ্টের শিকার হলে এজন্য যেন নিজেকেই তিরস্কার করে।

3298। আসমা বিনতে ইয়াযীদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য খাদ্যদ্রব্য আনা হলো। তা আমাদের সামনে পরিবেশন করা হলে আমরা বললাম, আমাদের ক্ষুধা নেই। তখন তিনি বলেনঃ মিথ্যা ও ক্ষুধা একত্র করো না (পেটে ক্ষুধা রেখে খেতে অস্বীকার করো না)।

3299। আবদুল আশহাল গোত্রের আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হলাম। তখন তিনি সকালের আহার করছিলেন। তিনি বলেনঃ এগিয়ে আসো এবং খাও। আমি বললাম, আমি রোযাদার। আফসোস আমার জন্য আমি যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে আহারে অংশগ্রহণ করতাম।

3300। আবদুল্লাহ ইবনুল হারিস ইবনে জাযই আয-যুবাইদী (রাঃ) বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে মসজিদে বসে রুটি ও গোশত আহার করতাম।

3301। ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে হাঁটা অবস্থায় আহার করেছি এবং দাঁড়ানো অবস্থায় পান করেছি।

3302। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লাউয়ের তরকারী পছন্দ করতেন।

3303। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (আমার মা) উম্মু সুলাইম (রাঃ) আমাকে এক টুকরি তাজা খেজুরসহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট পাঠালেন। কিন্তু আমি তাঁকে পেলাম না। তিনি তাঁর নিকটস্থ এক মুক্তদাসের বাড়িতে গিয়েছিলেন। সে তাঁকে আহার প্রহণের দাওয়াত করেছিল এবং তার জন্য খাবার তৈরি করেছিল। আমি তাঁর নিকট আসলাম, তখন তিনি আহার করছিলেন। রাবী বলেন, তিনি আমাকে তাঁর সাথে আহার করার জন্য ডাকলেন। রাবী বলেন, সে তাঁর জন্য গোশত ও লাউ দিয়ে ছারীদ তৈরী করেছিল। আমি লক্ষ্য করলাম, তিনি লাউ খুব পছন্দ করেন। তাই আমি লাউয়ের টুকরাগুলো একত্র করে তাঁর সামনে দিতে থাকলাম। আমরা আহার শেষ করার পর তিনি নিজের বাড়ীতে ফিরে এলেন এবং আমি তাঁর সামনে টুকরিটি রাখলাম। তিনি খেজুর আহার করতে লাগলেন এবং অন্যদেরও দিতে থাকলেন, এভাবে তা দিতে দিতে শেষ করে অবসর হলেন।

3304। হাকীম ইবনে জাবির (রহঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাড়িতে তাঁর নিকট উপস্থিত হলাম। তখন তাঁর সামনে লাউয়ের তরকারী ছিল। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এটা কী? তিনি বলেনঃ এটা লাউ তরকারী। আমরা তা দিয়ে আমাদের খাদ্যদ্রব্যের পরিমাণ বাড়াই।

3305। আবূ দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দুনিয়াবাসী ও জান্নাতবাসীদের খাদ্যের মধ্যে শ্রেষ্ঠ খাদ্য হলো গোশত।

3306। আবূ দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে যখনই গোশত খাওয়ার দাওয়াত দেয়া হয়েছে তখনই তিনি তাতে সাড়া দিয়েছেন এবং যখনই তাকে গোশত উপঢৌকন দেয়া হয়েছে, তিনি তা কবুল করেছেন।

3307। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গোশত আনা হলো। তাঁকে রানের গোশত দেয়া হলো এবং এটাই পছন্দ করতেন। তিনি তা চুষে চুষে খেলেন।

3308। আবদুল্লাহ ইবনে জাফর (রাঃ) ইবনুল যুবাইর (রাঃ) এর সূত্রে হাদীস বর্ণনা করেন। তিনি তাদের জন্য একটি উট যবেহ করেছিলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন, যখন লোকেরা তাঁর জন্য গোশত ঢালছিলোঃ গোশতের মধ্যে অপেক্ষাকৃত উত্তম হচ্ছে পাছার (রানের) গোশত।

3309। আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহামহিম আল্লাহর সাথে মিলিত হওয়ার আগ পর্যন্ত কখনও আস্ত ভুনা বকরী দেখেছেন বলে আমি জানি না।

3310। আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সামনে থেকে কখনও খাওয়ার পর অবশিষ্ট ভুনা গোশত তুলে রাখা হয়নি (কারণ এই গোশতের পরিমাণ কম হতো এবং অভ্যাগত অধিক হওয়ায় তা অবশিষ্ট থাকতো না) এবং তাঁর জন্য কখনো মোটা বিছানা বহন করা হতো না।

3311। আবুদুল্লাহ ইবনুল হারিস ইবনুল হারিস ইবনুল জাযই আয-যুবাইদী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে মসজিদে বসে ভুনা গোশত খেয়েছি, অতঃপর কাঁকরে হাত মুছে দাঁড়িয়ে নামায পড়েছি, কিন্তু (গোশত খাওয়ার কারণে পুনরায়) উযু করিনি।

3312। আবূ মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এলো। তিনি লোকটির সাথে কথা বলেন। তার কাঁধের গোশত (ভয়ে) কাঁপছিল। তিনি তাকে বলেনঃ তুমি শান্ত হও, স্বাভাবিক হও। কারণ আমি কোন রাজা-বাদশা নই, বরং আমি শুকনো গোশত খেয়ে জীবনধারিণী এক মহিলার পুত্র।

3313। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা ছাগলের পায়া তুলে রাখতাম এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোরবানীর পনের দিন পরও তা খেতেন।

3314। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের জন্য দু’ প্রকারের মৃতজীব ও দু’ ধরনের রক্ত হালাল করা হয়েছে। মৃত জীব দু’টি হলো মাছ ও টিড্ডি এবং দু’ প্রকারের রক্ত হলো কলিজা ও প্লীহা।

3315। আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের তরকারীর নেতা (প্রধান উপকরণ) হলো লবণ।

3316। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সির্কা (টক ও ঝাঁঝযুক্ত) পানীয় উত্তম তরকারী।

3317। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন , রাসূলুললাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সির্কা উত্তম তরকারী।

3318। উম্মু সা'দ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়েশা (রাঃ) র নিকট আসলেন। আমি তখন তার কাছে উপস্থিত ছিলাম। তিনি বলেনঃ সকালের নাস্তা আছে কি? তিনি বলেন, আমাদের নিকট রুটি, খেজুর ও সির্কা আছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সির্কা উত্তম তরকারী। হে আল্লাহ! সির্কায় বরকত দান করুন, কারণ তা ছিল আমার পূর্বকালের নবীগণের তরকারী। যে ঘরে সির্কা আছে সে ঘরে কখনও তরকারীর অভাব হয় না।

3319। উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যাইতুন তৈল দিয়ে রুটি খাও এবং তা দেহে মাখো। কারণ তা বরকতপূর্ণ গাছ থেকে নির্গত হয়।

3320। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা যায়তূন তৈল খাও এবং তা দেহে মাখো। কারণ তা বরকতপূর্ণ।

3321। আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট দুধ আনা হলে তিনি বলতেনঃ এক অথবা দু’ বরকত।

3322। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা যখন কাউকে আহার করান তখন সে যেন বলেন, ‘‘আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফীহি ওয়ারযুকনা খাইরাম মিনহু’’ (হে আল্লাহ! আমাদেরকে এই খাদ্যে বরকত দান করুন এবং এর চেয়েও উত্তম রিযিক দান করুন)। আর আল্লাহ যাকে দুধ পান করান সে যেন বলে, ‘‘আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফীহি ওয়া যিদনা মিনহু’’ (হে আল্লাহ! এ দুধে আমাদের বরকত দান করুন এবং এর চেয়েও বাড়িয়ে দিন)। কারণ আমি জানি না যে, দুধ ছাড়া এমন কোন জিনিস আছে কিনা যা একই সঙ্গে আহার ও পানীয় উভয়ের জন্য যথেষ্ট হতে পারে।

3323। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হালুয়া ও মধু পছন্দ করতেন।

3324। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার মা আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সংসারে পাঠাতে চাচ্ছিলেন বিধায় আমার দৈহিক পরিপুষ্টির জন্য চিকিৎসা করাতেন। কিন্তু তা কোন উপকারে আসলো না। অবশেষে আমি তাজা খেজুরের সাথে শসা মিশিয়ে খেলাম এবং উত্তমরূপে দৈহিক পরিপুষ্টি লাভ করলাম।

3325। আবদুল্লাহ ইবনে জাফর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তাজা খেজুরের সাথে শসা মিশিয়ে খেতে দেখেছি।

3326। সাহল ইবনে সাদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাজা খেজুর তরমুজের সাথে মিশিয়ে আহার করতেন।

3327। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ঘরে খেজুর নেই সে ঘরের বাসিন্দাগণ অভুক্ত।

3328। উবাইদুল্লাহ ইবনে আবূ রাফে (রাঃ) থেকে তাঁর দাদী সালমা (রাঃ) এর সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ঘরে খেজুর নেই সে ঘর খাদ্যশূন্য ঘরের ন্যায়।

3329। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট মৌসুমের প্রথম ফল উপস্থিত করা হলে তিনি বলতেনঃ ‘‘আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফী মাদীনাতিনা ওয়া ফী সিমারিনা ওয়া ফী মুদ্দিনা ওয়া ফী সাইনা বারাকাতান মাআ বারাকাতিন’’ (হে আল্লাহ! আমাদের বরকত দান করুন আমাদের শহরে, আমাদের ফলে,আমাদের মুদ্দ-এ ও আমাদের সা-এ, বরকতের উপর বরকত)। অতঃপর তিনি তাঁর নিকট উপস্থিত শিশুদের তা খেতে দিতেন।

3330। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা তাজা খেজুর শুকনা খেজুরের সাথে মিশিয়ে খাও, পুরাতন খেজুর নতুন খেজুরের সাথে মিশিয়ে খাও। কারণ তাতে শয়তান রাগান্বিত হয় এবং বলে, আদম-সন্তান জীবিত রইলো, এমনকি পুরাতন ফল নুতন ফলের সাথে আহার করলো।

3331। ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন কোন ব্যক্তি যেন নিজ সাথীদের অনুমতি ব্যতিরেকে একত্রে দু’টি খেজুর মুখে না দেয়।

3332। আবূ বাকর (রাঃ) এর মুক্তদাস সা'দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। সা'দ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমত করতেন এবং তাঁর কথাবার্তা তার ভালো লাগতো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কয়েকটি খেজুর একসাথে মুখে দিতে নিষেধ করেছেন।

3333। আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি যে, তাঁর সামনে খেজুর পেশ করা হলে তিনি ভালো খেজুর খোঁজ করতেন।

3334। সুলাইম গোত্রের বুসর-এর দু’ পুত্রের সূত্রে বর্ণিত। তারা উভয়ে বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের এখানে আসলেন। আমরা তাঁর বসার জন্য আমাদের একটি চাদর পেতে দিলাম। পানি ছিটিয়ে আমরা তা তাঁর জন্য নরম করে দিলাম। তিনি তার উপর বসলেন। তখন আমাদের ঘরে মহামহিম আল্লাহ তাঁর উপর ওহী নাযিল করলেন। আমরা তাঁর সামনে মাখন ও খেজুর পেশ করলাম। তিনি মাখন পছন্দ করতেন।

3335। আবদুল আযীয ইবনে আবূ হাযিম (রাঃ) বলেন, আমার পিতা আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করে বলেন, আমি সাহল ইবনে সাদ (রাঃ) এর নিকট জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কি ময়দা দেখেছেন? তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর ইন্তিকালের পূর্ব পর্যন্ত ময়দা দেখিনি। আমি পুনরায় জিজ্ঞেস করলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে লোকেদের কি চালুনি ছিল? তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইন্তিকালের পূর্ব পর্যন্ত চালুনিও দেখিনি। আমি পুনরায় জিজ্ঞেস করলাম, তাহলে আপনারা চালুনি ছাড়া কিভাবে যব খেতেন? তিনি বলেন, হ্যাঁ (আমরা তা গুড়া করে) তাতে ফুঁ দিতাম এবং যা উড়ে যাওয়ার তা উড়ে যেতো এবং যা অবশিষ্ট থাকতো তা পানিতে ভিজাতাম।

3336। উম্মু আইমান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আটা ছেনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য রুটি তৈরি করলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ এটা কী? তিনি বলেন, এটা আমাদের এলাকার খাবার। আমি আপনার জন্য এ খাবার তৈরি করতে আগ্রহী হলাম। তিনি বলেনঃ এর মধ্যে ভুষি ঢেলে দাও, তারপর ছেনে নাও।

3337। আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর এক চোখেও (কখনও) ময়দার রুটি দেখেননি, এমনকি এই অবস্থায় তিনি আল্লাহর সাথে মিলিত হন।

3338। ইবনে আতা (রাঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি (আতা) বলেন, আবূ হুরায়রা (রাঃ) তার এলাকা অর্থাৎ উবাইনায় (ইউনা) যান। লোকেরা তার জন্য মিহি রুটি পরিবেশন করলে তিনি কেঁদে দিলেন এবং বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনও এরূপ রুটি দেখেননি।

3339। কাতাদা (রহঃ) বলেন, আমরা আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) এর নিকট যেতাম। ইসহাক (রহঃ) এর বর্ণনায় আছেঃ তার রুটি প্রস্তুতকারী দাঁড়ানো থাকতো। আর দারিমীর বর্ণনায় আছেঃ তার খাঞ্চা বিছানো থাকতো। একদিন তিনি বলেন, তোমরা আহার করো। আমি জানি না, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর সাথে মিলিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত স্বচক্ষে মিহি রুটি এবং আস্ত ভূনা বকরী দেখেছেন কি না।

3340। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সর্বপ্রথম আমরা ফালূদার নাম শুনতে পাই, যখন জিবরীল (আঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলেন, আপনার উম্মাত অনেক দেশের উপর বিজয়ী হবে এবং অঢেল সম্পদ তাদের হস্তগত হবে, এমনকি তারা ফালূযাজ খাবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করেনঃ ফালূযাজ কী? তিনি বলেনঃ তারা ঘি ও মধু একত্রে মিশাবে। একথা শুনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কান্নার মত আওয়াজ করলেন।

3341। ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন বলেনঃ আহা! আমার নিকট যদি ঘি মিশ্রিত সাদা মিহি আটার রুটি থাকতো, আমরা তা আহার করতাম। রাবী বলেন, একথা শুনে এক আনসার সাহাবী অনুরূপ রুটি তৈরি করে তাঁর নিকট নিয়ে এলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এই ঘি কিসের মধ্যে ছিল? সাহাবী বলেন, গুই সাপের চামড়ার তৈরী পাত্রের মধ্যে। রাবী বলেন, তিনি তা আহার করতে অসম্মতি জ্ঞাপন করেন।

3342। আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উম্মু সুলাইম (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য রুটি তৈরি করলেন এবং তাতে কিছু ঘি ঢেলে দিলেন? অতঃপর তিনি (আমাকে) বলেন, তুমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট যাও এবং তাঁকে দাওয়াত দাও। রাবী বলেন, আমি তাঁর নিকট উপস্থিত হয়ে বললাম, আমার মা আপনাকে দাওয়াত দিয়েছেন। রাবী বলেন, আমি তাদের আগেই বাড়ী পৌঁছে মাকে এ খবর জানালাম। ইতোমধ্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে বলেনঃ তুমি যা তৈরি করেছো, তা নিয়ে এসো। মা বলেন, আমি তো মাত্র আপনার একার পরিমাণ খাবার তৈরি করেছি। তিনি বলেনঃ তাই দাও। তিনি আরও বলেনঃ হে আনাস! দশজন দশজন করে আমার কাছে ভেতরে পাঠাও। তিনি বলেন, আমি দশজন দশজন করে তাঁর নিকট পাঠাতে থাকি। তারা সবাই আহার করলেন, এমনকি সবাই পরিতৃপ্ত হলেন, আর তারা ছিলেন আশিজন।

3343। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সেই মহান সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ! আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনও পরপর তিন দিন গমের রুটি পেট ভরে খেতে পাননি, এ অবস্থায় মহামহিম আল্লাহ তাঁকে তুলে নেন (ইনতিকাল করেন)।

3344। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় আসার পর থেকে তাঁর ইন্তিকাল পর্যন্ত তাঁর পরিবার কখনও একাধারে তিন দিন পেট ভরে আটার রুটি খেতে পাননি।

3345। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ইন্তিকাল করেন, তখন আমার ঘরে আমার আলমিরায় রক্ষিত যবের সামান্য আটা ব্যতীত কোন প্রাণীর আহার করার মত আর কিছুই ছিলো না। আমি তা থেকে আহারের ব্যবস্থা করতে থাকলাম। এভাবে অনেক দিন চলে গেলো। অবশেষে একদিন আমি তা ওজন করলাম। ফলে তা শেষ হয়ে গেল।

3346। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইন্তিকাল পর্যন্ত তাঁর পরিবারের সদস্যগণ কখনও যবের রুটি পেট ভরে আহার করেননি।

3347। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একাধারে কয়েক রাত অভুক্ত অবস্থায় কেটে যেতো এবং তাঁর পরিবারের লোকেদেরও রাতের আহার জুটতো না। অধিকাংশ সময় তাদের রুটি হতো যবের তৈরী।

3348। আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পশমী বস্ত্র ও সাধারণ জুতা পরিধান করতেন। তিনি আরও বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বাদহীন খাবার খেতেন এবং মোটা বস্ত্র পরিধান করতেন। হাসানকে জিজ্ঞাসা করা হলো, ‘স্বাদহীন’-এর অর্থ কি? তিনি বলেন, মোটা যবের রুটি। তিনি তা এক ঢোক পানি ব্যতীত গলাধঃকরণ করতে পারতেন না।

3349। মিকদাম ইবনে মাদীকারিব (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ মানুষ পেটের চেয়ে নিকৃষ্ট কোন পাত্র ভর্তি করে না। (যতটুকু খাদ্য গ্রহণ করলে পেট ভরে পাত্র থেকে ততটুকু খাদ্য উঠানো কোন ব্যক্তির জন্য দূষণীয় নয়)। যতটুকু আহার করলে মেরুদন্ড সোজা রাখা সম্ভব, ততটুকু খাদ্যই কোন ব্যক্তির জন্য যথেষ্ট। এরপরও যদি কোন ব্যক্তির উপর তার নফস (প্রবৃত্তি) জয়যুক্ত হয়, তবে সে তার পেটের এক-তৃতীয়াংশ আহারের জন্য, এক-তৃতীয়াংশ পানির জন্য এবং এক তৃতীয়াংশ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য রাখবে।

3350। ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে ঢেকুর তুললে তিনি বলেনঃ তুমি আমাদের থেকে তোমার ঢেকুর প্রতিরোধ করো। কারণ যারা পার্থিব জীবনে ভুরিভোজ করে তারাই হবে কিয়ামতের দিন অধিক ক্ষুধার্ত।

3351। আতিয়্যা ইবনে ‘আমের আল-জুহানী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সালমান (রাঃ) এর নিকট শুনেছি যে, তাকে আহার করতে পীড়াপীড়ি করা হলে তিনি বলতেন, আমার জন্য যথেষ্ট যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ দুনিয়াতে যেসব লোক ভুরিভোজ করে, তারাই হবে কিয়ামতের দিন অধিক ক্ষুধার্ত।

3352। আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখনই তোমার যা খেতে লোভ জাগে, তখনই তা খাওয়াই (যথেচ্ছ আহার) হলো অপচয়।

3353। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে ঘরে প্রবেশ করে এক টুকরা রুটি পড়ে থাকতে দেখেন। তিনি তা তুলে নিয়ে ধুলাবালি ঝেড়ে ফেলে আহার করলেন এবং বলেনঃ হে আয়েশা! সম্মান করো সম্মানিতের (আল্লাহ প্রদত্ত রিযিকের)। কারণ কোন জাতির নিকট থেকে আল্লাহ প্রদত্ত রিযিক উঠে গেলে তা পুনরায় তাদের নিকট প্রত্যাবর্তন করে না।

3354। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ ‘‘আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযু বিকা মিনাল-জু ফাইন্নাহু বিসায-যাজীউ ওয়া আউযু বিকা মিনাল খিয়ানাতে ফাইন্নাহা বিসাতিল-বিতানাহ (‘‘হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট ক্ষুধা ও দুর্ভিক্ষ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি। কারণ তা (মানুষের) নিকৃষ্ট সাথী এবং আমি আপনার নিকট আরও আশ্রয় প্রার্থনা করি প্রতারণা থেকে। কারণ তা গোপন চারিত্রিক দোষ)।

3355। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রাতের আহার ত্যাগ করো না, যদিও তা এক মুঠো খেজুরও হয়। কারণ রাতের আহার ত্যাগ মানুষকে বৃদ্ধ করে দেয়।

3356। আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ঘরে মেহমানের ভিড় লেগে থাকে সেই ঘরে উটের কুঁজের দিকে দ্রুত ধাবমান ছুরির চেয়েও দ্রুততর গতিতে কল্যান প্রবেশ করে।

3357। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ঘরে (মেহমানদের) আহার করানো হয়, সেই ঘরে উটের কুঁজের দিকে দ্রুত ধাবমান ছুরির চেয়েও দ্রুত গতিতে কল্যাণ প্রবেশ করে।

3358। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বিদায়ের প্রাক্কালে মেহমানের সাথে ঘরের দরজা পর্যন্ত এগিয়ে যাওয়া সুন্নাত।

3359। ‘আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আহার তৈরি করলাম এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দাওয়াত দিলাম। তিনি এসে ঘরের ভেতর ছবি দেখতে পেয়ে ফিরে গেলেন।

3360। সাফীনা আবূ আবদুর রহমান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি ‘আলী ইবনে আবূ তালিব (রাঃ) এর মেহমান হলো। তিনি তার জন্য আহার তৈরি করলেন। ফাতিমা (রাঃ) বলেন, আমরা যদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেও দাওয়াত করতাম তবে তিনিও আমাদের সাথে আহার করতেন। অতএব তারা তাঁকেও দাওয়াত করলেন এবং তিনি আসলেন। তিনি ঘরের দরজার চৌকাঠে হাত রেখে ঘরের এক কোণে পাতলা নকশাযুক্ত কাপড় দেখতে পেয়ে ফিরে গেলেন। ফাতিমা (রাঃ) আলী (রাঃ)-কে বলেন, আপনি তাঁর সাথে সাক্ষাত করুন এবং তাঁকে জিজ্ঞেস করুন, হে আল্লাহর রাসূল! কোন্ জিনিস আপনাকে ফিরিয়ে দিলো? তিনি বলেনঃ এ রকম সুসজ্জিত ঘরে প্রবেশ করা আমার জন্য শোভা পায় না।

3361। ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, তিনি আহাররত অবস্থায় উমার (রাঃ) তার ঘরে প্রবেশ করলেন। তিনি তাকে আহারের মজলিসে মধ্যখানে জায়গা করে দিলেন। তিনি বিসমিল্লাহ বলে খাবারের পাত্রে হাত দিলেন এবং এক গ্রাস তুলে দিলেন, অতঃপর দ্বিতীয় গ্রাস তুলে নিয়ে বলেনঃ আমি তৈলাক্ত জিনিসের স্বাদ পাচ্ছি এবং তা গোশতের চর্বি নয়। আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, হে আমীরুল মুমিনীন! আমি মোটা গোশত ক্রয়ের উদ্দেশে বাজারে গিয়েছিলাম, কিন্তু তার চড়া দাম দেখে এক দিরহামের শীর্ণকায় পশুর গোশত ক্রয় করে এবং এক দিরহামের ঘি ক্রয় করে তা ঐ গোশতের মধ্যে ঢেলে দিয়েছি। আমি চাচ্ছিলাম যে, পরিবারের সকলের ভাগে অন্তত একটি করে হাড় পড়ুক। উমার (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট ঘি ও গোশত একত্রে উপস্থিত করা হলে, তিনি তার একটি আহার করতেন এবং অন্যটি দান-খয়রাত করতেন। আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, হে আমীরুল মুমিনীন! আহার করুন। পুনরায় কখনও ঘি ও গোশত একত্র হলে আমিও তাই করবো। উমার (রাঃ) বলেন, আমি কখনও খাবো না।

3362। আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (রাঃ) বলেনঃ তুমি তরকারী রান্না করলে তাতে ঝোল বেশী দিও এবং তোমার প্রতিবেশীদের পর্যন্ত তা পৌঁছিও।

3363। মাদান ইবনে আবূ তালহা আল-ইয়ামুরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) জুমুআর দিন খুতবা দিতে দাঁড়ালেন। তিনি আল্লাহর যথোপযুক্ত প্রশংসা ও গুণগান করেন, অতঃপর বলেন, হে লোকসকল! তোমরা দু’ প্রকারের গাছ খাও, আমি তা নিকৃষ্ট জ্ঞান করি। তা হলো রসুন ও পিঁয়াজ। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে দেখেছি যে, এক ব্যক্তির মুখ থেকে তার দুর্গন্ধ নির্গত হলে তার হাত ধরে আল-বাকী নামক স্থানের দিকে বের করে দেয়া হয়। অতএব তোমাদের কেউ যদি তা খেতেই চায়, তবে সে যেন তা রান্না করে এর দুর্গন্ধ দূর করে দেয়।

3364। উম্মু আইউব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য খাদ্য প্রস্তুত করলাম এবং তাতে কিছু শাক-সবজিও ছিল। তিনি তা ত্যাগ করে বলেনঃ আমি আমার সাথীকে (জিবরীল) কষ্ট দেয়া পছন্দ করি না।

3365। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। একদল লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এলে তিনি তাদের থেকে দুর্গন্ধ অনুভব করেন। তিনি বলেনঃ আমি কি তোমাদের এই বৃক্ষ খেতে নিষেধ করিনি? মানুষ যেসব জিনিসে কষ্ট পায়, ফেরেশতারাও সেসব জিনিসে কষ্ট পান।

3366। ‘উকবা ইবনে ‘আমের আল-জুহানী (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীগণকে বললেনঃ তোমরা পিঁয়াজ খেও না। অতঃপর তিনি আস্তে বলেনঃ কাঁচা পিঁয়াজ।

3367। সালমান আল-ফারসী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ঘি, পনির ও বন্য গাধা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো। তিনি বলেনঃ আল্লাহ তাঁর কিতাবে যেসব জিনিস হালাল করেছেন তা হালাল এবং আল্লাহ তা‘আলা তাঁর কিতাবে যেসব জিনিস হারাম করেছেন তা হারাম। আর যেসব জিনিস সম্পর্কে তিনি নীরব থেকেছেন তা তিনি ক্ষমা করেছেন।

3368। নোমান ইবনে বাশীর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য তায়েফ থেকে আংগুরের উপঢৌকন এলো। তিনি আমাকে ডেকে বলেনঃ এই আংগুরের গুচ্ছ তুমি লও এবং তোমার মাকে পৌঁছিয়ে দাও। কিন্তু আমার মাকে পৌঁছানোর পূর্বে আমি তা খেয়ে ফেললাম। কায়েক রাত অতিবাহিত হওয়ার পর তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করেনঃ আংগুরের গুচ্ছের কী হলো? তুমি কি তোমার মাকে তা পৌঁছেছিলে? আমি বললাম, না। তাই তিনি রসিকতা করে আমার নাম রাখলেন ‘‘গুদার’’ (দাগাবাজ)।

3369। তালহা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হলাম তখন তাঁর হাতে ছিল এক জাতীয় অম্লফল। তিনি বলেনঃ হে তালহা! এগুলো লও। এগুলো অন্তরকে শান্তি দেয়।

3370। সালিম (রহঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে কোন ব্যক্তিকে উপুড় হয়ে আহার করতে নিষেধ করেছেন।

উৎস: Sunan Ibn Majah

WEBREATH · 11:11

«Should I not be a thankful servant?» — Sahih al-Bukhari

Breath is one for all: everyone lives by it, whoever they are and whatever they believe. Every day at 11:11 local time people stop for sixty seconds, breathe, and thank GOD for the breath — each in their own words, each within themselves. In that minute we are One Breath.

WEBREATH — the Minute at 11:11, your own local time — we are One Breath