সুনানে ইবনে মাজাহ 26 · Chapters on Sacrifices
আপনার ভাষায় এখনো কোনো অনুবাদ নেই — ইংরেজি দেখাচ্ছে
3120। আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’ শিংবিশিষ্ট দু’টি ধুসর বর্ণের মেষ কোরবানী করেছিলেন। তিনি (যবেহ করার সময়) বিসমিল্লাহ ও তাকবীর বলেছিলেন। আমি তাঁকে নিজের পা সেটির পাঁজরের উপর রেখে চেপে ধরে স্বহস্তে তা কোরবানী করতে দেখেছি।
3121। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের দিন দু’টি মেষ যবেহ করেন। তিনি পশু দু’টিকে কিবলামুখী করেন বলেনঃ ‘‘ইন্নী ওয়াজ্জাহতু ওয়াজহিয়া লিল্লাযী ফাতারাস সামাওয়াতি ওয়াল-আযদা হানীফাঁও ওয়ামা আনা মিনাল মুশরিকীন। ইন্না সালাতী ওয়া নুসুকী ওয়া মাহইয়ায়া ও মামাতী লিল্লাহি রব্বিল আলামীন। লা শারীকা লাহু ওয়া বিযালিকা উমিরতু ওয়া আনা আওওয়ালুল মুসলিমীন। আল্লাহুম্মা মিনকা ওয়া লাকা আন মুহাম্মাদিন ওয়া উম্মাতিহি।’’ ‘‘আমি একনষ্ঠিভাবে তাঁর দিকে মুখ ফিরাচ্ছি যিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই’’ (সূরা আনআমঃ ৭৯)। ‘‘বলো, আমার নামায, আমার ইবাদত (কুরবানী), আমার জীবন, আমার মৃত্যু বিশ্বজাহানের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। তাঁর কোন শরীক নাই এবং আমি তাই আদিষ্ট হয়েছি এবং আত্মসমপর্ণকারীদের মধ্যে আমিই প্রথম’’ (সূরা আনআমঃ ১৬২-৩)। হে আল্লাহ! তোমার নিকট থেকেই প্রাপ্ত এবং তোমার জন্যই উৎসগির্ত। অতএব তা মুহাম্মাদ ও তাঁর উম্মাতের পক্ষ থেকে কবুল করো’’।
3122। আয়েশা (রাঃ) ও আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর ইচ্ছা করলে দু’টি মোটাতাজা, মাংসল, শিংযুক্ত, ধুসর বর্ণের ও ছিন্নমুষ্ক মেষ ক্রয় করতেন। অতঃপর এর একটি নিজ উম্মাতের যারা আল্লাহর একত্বের সাক্ষ্য দেয় এবং তাঁর নবুয়াতের সাক্ষ্য দেয় তাদের পক্ষ থেকে এবং অপরটি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর পরিবারবর্গের পক্ষ থেকে কোরবানী করতেন।
3123। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানী করে না, সে যেন আমাদের ঈদের মাঠের কাছেও না আসে।
3124। মুহাম্মাদ ইবনে সীরীন (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনে উমার (রাঃ) -র নিকট কোরবানী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম যে, তা ওয়াজিব কি না? তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোরবানী করেছেন, তাঁর পরে মুসলিমরাও কুরবানী করেছে এবং এ সুন্নাত অব্যাহতভাবে প্রবর্তিত হয়েছে। ৩/৩১২৪(১) হিশাম ইবনে আম্মার-ইসমাঈল ইবনে আইয়্যাশ-হাজ্জাজ ইবনে আরআত-জাবালা ইবনে সুহাইম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনে উমার (রাঃ) এর নিকট জিজ্ঞেস করলাম .... উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন।
3125। মিখনাফ ইবনে সুলাইম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আরাফাতের ময়দানে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট অবস্থানরত ছিলাম। তখন তিনি বলেনঃ হে জনগণ! প্রতিটি পরিবারের পক্ষ থেকে প্রতি বছর একটি কোরবানী ও একটি আতীরা রয়েছে। তোমরা কি জানো আতীরা কী? তা হলো, যাকে তোমরা রাজাবিয়া বলো।
3126। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কোরবানীর দিন আদম সন্তান এমন কোন কাজ করতে পারে না যা মহামহিম আল্লাহর নিকট রক্ত প্রবাহিত (কোরবানী) করার তুলনায় অধিক পছন্দনীয় হতে পারে। কোরবানীর পশুগুলো কিয়ামতের দিন এদের শিং, খুর ও পশমসহ উপস্থিত হবে। কোরবানীর পশুর রক্ত মাটিতে পড়ার পূর্বেই (কোরবানী) মহান আল্লাহর নিকট সম্মানের স্থানে পৌছে যায়। অতএব তোমরা আনন্দ সহকারে কোরবানী করো।
3127। যায়েদ ইবনে আরকাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীগণ বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! এই কোরবানী কী? তিনি বলেন, তোমাদের পিতা ইবরাহীম (আ) এর সুন্নাত (ঐতিহ্য)। তারা পুনরায় জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহর রাসূল! এতে আমাদের জন্য কী (সওয়াব) রয়েছে? তিনি বলেন, প্রতিটি পশমের পরিবর্তে পুন্য হবে (এদের পশম তো অনেক বেশি)? তিনি বলেন, লোমশ পশুর প্রতিটি পশমের বিনিময়েও একটি করে নেকী রয়েছে।
3128। আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিং-বিশিষ্ট হৃষ্টপুষ্ট এবং মুখমন্ডল, চোখ ও পা কালো বর্ণের একটি মেষ কোরবানী করেন।
3129। ইউনুস ইবনে মাইসারা ইবনে হালবাস (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবী আবূ সাঈদ আয-যুরাকী (রাঃ) এর সাথে কোরবানী পশু ক্রয় করতে গেলাম। ইউনুস আরো বলেন, আবূ সাঈদ (রাঃ) একটি সামান্য কালো বর্ণের মেষের দিকে ইশারা করেন, যা খুব উঁচুও ছিলো না, বেঁটেও ছিলো না। তিনি আমাকে বলেন, এই মেষটি আমার জন্য ক্রয় করো। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মেষের সাথে এর একটা সাদৃশ্য আছে।
3130। আবূ উমামা আল-বাহিলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ উত্তম কাফন একজোড়া কাপড় (লুংগি ও চাদর) এবং উত্তম কোরবানী হলো শিং-বিশিষ্ট মেষ।
3131। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা এক সফরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিলাম। ইতোমধ্যে কোরবানীর ঈদ এসে গেলো। আমরা একটি উট দশজনে এবং একটি গরু সাতজনে শরীক হয়ে কোরবানী করলাম।
3132। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা হুদাইবিয়া নামক স্থানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে একটি উট সাতজনের পক্ষ থেকে এবং একটি গরুও সাতজনের পক্ষ থেকে কোরবানী করেছি।
3133। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিদায় হজ্জে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যে সকল স্ত্রী উমরা (অর্থাৎ তামাত্তো হজ্জ) করেন, তিনি তাদের সকলের পক্ষ থেকে একটি গাভী কোরবানী করেন।
3134। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে একবার উটের স্বল্পতা দেখা দিলে তিনি লোকেদেরকে গরু কোরবানী করার নির্দেশ দেন।
3135। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজ্জে তাঁর পরিবারবর্গের পক্ষ থেকে একটি মাত্র গরু কোরবানী করেন।
3136। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললো, আমার উপর একটি উট কোরবানী করা অপরিহার্য এবং তা ক্রয়ের সামর্থ্যও আমার আছে কিন্তু তা পাওয়া যাচ্ছে না বিধায় আমি ক্রয় করতে পারছি না। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সাতটি ছাগল ক্রয় করে তা যবেহ করার নির্দেশ দেন।
3137। রাফে ইবনে খাদীজ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে তিহামার যুল-হুলাইফায় ছিলাম। আমরা (যুদ্ধে) উট ও মেষ-বকরী লাভ করি। লোকেরা (তা বণ্টনে) তাড়াহুড়া করছিল এবং তা বণ্টনের পূর্বেই আমরা চুলায় (গোশতের) হাঁড়ি তুলে দিয়েছিলাম। ইত্যবসরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট এলেন এবং গোশতের হাঁড়িগুলো সম্পর্কে নির্দেশ দিলে তদনুযায়ী তা উল্টে ফেলে দেয়া হয় (কারণ বণ্টনের পূর্বে গনীমতের সম্পদ ব্যবহার অবৈধ)। অতঃপর একটি উট দশটি মেষের সমান ধরা হলো।
3138। ‘উকবা ইবনে ‘আমের আল-জুহানী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে এক পাল বকরী দিলেন এবং তিনি সেগুলো কোরবানীর জন্য তার সংগীদের মধ্যে বণ্টন করলেন। এক বছর বয়সের একটি ছাগল (বণ্টনের পর) অবশিষ্ট থাকলে তিনি তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জানান। তিনি বলেনঃ এটা তুমি কোরবানী করো।
3139। উম্মু বিলাল বিনতে হিলাল (রাঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ছয় মাস বয়সের ভেড়া দিয়ে কোরবানী করা জায়েয।
3140। আসেম ইবনে কুলাইব (রাঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা সুলাইম গোত্রের মুজাশে (রাঃ) নামক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এক সাহাবীর সাথে ছিলাম। মেষ-বকরীর স্বল্পতা দেখা দিলে তিনি একজন ঘোষককে নির্দেশ দিলেন এবং তদনুযায়ী সে ঘোষণা করলোঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ এক বছর বয়সের বকরী দ্বারা যে কাজ হয় (কোরবানীর ক্ষেত্রে) ছয় মাস বয়সের মেষ দ্বারাও তা হতে পারে।
3141। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা (কোরবানীতে) মুসিন্না ছাড়া যবেহ করো না। কিন্তু তা সংগ্রহ করা তোমাদের জন্য কষ্টসাধ্য হলে ছয় মাস বয়সের মেষ-ভেড়া যবেহ করো।
3142। ‘আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কানের অগ্রভাগ অথবা পশ্চাদভাগ (মূলের দিক) কর্তিত অথবা ফাটা অথবা ছিদ্রযুক্ত অথবা অঙ্গ কর্তিত পশু কুরবানী করতে নিষেধ করেছেন।
3143। ‘আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে (কোরবানীর পশুর) চোখ ও কান উত্তমরূপে পরীক্ষা করে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
3144। উবাইদ ইবনে ফাইরূয (রাঃ) বলেন, আমি বারাআ ইবনে আযিব (রাঃ) কে বললাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে ধরনের পশু কোরবানী করতে অপছন্দ অথবা নিষেধ করেছেন সেই সম্পর্কে আমাদের বলুন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাতের ইশারায় বলেন, এরূপ, আর আমার হাত তাঁর হাতের চেয়ে ক্ষুদ্র। চার প্রকারের পশু কোরবানী করলে তা যথেষ্ট হবে না। অন্ধ পশু যার অন্ধত্ব সুস্পষ্ট, রুগ্ন পশু যার রোগ সুস্পষ্ট, খোঁড়া পশু যার পঙ্গুত্ব সুস্পষ্ট এবং কৃশকায় দুর্বল পশু যার হাড়ের মজ্জা শুকিয়ে গেছে। উবাইদ (রাঃ) বলেন, আমি ক্রটিযুক্ত কানবিশিষ্ট পশু কোরবানী করা অপছন্দ করি। বারাআ (রাঃ) বলেন, যে ধরনের পশু তুমি নিজে অপছন্দ করো তা পরিহার করো, কিন্তু অন্যদের জন্য তা হারাম করো না।
3145। ‘আলী (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিং ভাংগা ও কান কাটা পশু কোরবানী করতে নিষেধ করেছেন।
3146। আবূ সাঈদ আল-কুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা কোরবানীর উদ্দেশে একটি মেষ খরিদ করলাম। অতঃপর নেকড়ে বাঘ তার নিতম্ব অথবা কান কেটে নিয়ে গেলো। আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি আমাদেরকে তা কোরবানী করার অনুমতি দেন।
3147। আতা ইয়াসার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ আইউব আল-আনসারী (রাঃ) -র নিকট জিজ্ঞাসা করলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে আপনাদের কোরবানী কিরূপ ছিল? তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে কোন ব্যক্তি নিজের ও স্বীয় পরিবারের পক্ষ থেকে একটি বকরী কোরবানী করতো। তা থেকে তারাও আহার করতো এবং (অন্যদেরও) আহার করাতো। পরবর্তী কালে লোকেরা কোরবানীকে অহমিকা প্রকাশের বিষয়ে পরিণত করে এবং এখন যা অবস্থা দাঁড়িয়েছে তা তো দেখতেই পাচ্ছ।
3148। আবূ সারীহা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এতো দিন যে সুন্নাতের উপর আমল করে আসছিলাম, আমার পরিবারের লোকেরা আমাকে তার বিপরীত করতে বাধ্য করলো। অবস্থা এই ছিল যে, কোন পরিবারের পক্ষ থেকে একটি বা দু’টি বকরী কোরবানী করা হতো। এখন আমরা তদ্রূপ করলে আমাদের প্রতিবেশীরা আমাদের কৃপণ বলে।
3149। উম্মু সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যখন (যিলহজ্জ মাসের) প্রথম দশক শুরু হয় এবং তোমাদের কেউ কোরবানী করার ইচ্ছা রাখে, সে যেন তার চুল ও শরীরের কোন অংশ স্পর্শ না করে (না কাটে)।
3150। উম্মু সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি যিলহজ্জ মাসের নতুন চাঁদ দেখে এবং কোরবানী করার ইচ্ছা রাখে, সে যেন তার চুল ও নখ না কাটে।
3151। আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি কোরবানীর দিন ঈদের নামাযের পূর্বে কোরবানী করলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে পুনর্বার কোরবানী করার নির্দেশ দেন।
3152। জুনদুব আল-বাজালী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আসওয়াদ ইবনে কায়েস (রাঃ) তাকে বলতে শুনেছেন, আমি ঈদুল আযহায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে উপস্থিত ছিলাম। কতক লোক ঈদের নামাযের পূর্বেই কোরবানী করলো। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি ঈদের নামাযের পূর্বে কোরবানী করেছে সে যেন পুনর্বার কোরবানী করে। আর যে ব্যক্তি এখনও কোরবানী করেনি সে যেন আল্লাহর নাম নিয়ে যবেহ করে।
3153। উআইমির ইবনে আশকার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি ঈদের নামাযের পূর্বে যবেহ করেন। তিনি বিষয়টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উল্লেখ করলে তিনি বলেনঃ তুমি পুনরায় কোরবানী করো।
3154। আবু যায়েদ আল-আনসারী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক আনসারীর ঘরের নিকট দিয়ে যেতে ভূনা গোশতের ঘ্রাণ পেলেন। তিনি জিজ্ঞেস করেনঃ কোন্ ব্যক্তি কোরবানী করেছে? আমাদের মধ্যকার এক ব্যক্তি বেরিয়ে এসে বলেন, আমি, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আমার পরিবার ও প্রতিবেশীদের গোশত খাওয়ানোর জন্য ঈদের নামায পড়ার পূর্বেই কোরবানী করেছি। তিনি তাকে পুনর্বার (নামাযের পর) কোরবানী করার নির্দেশ দেন। সে বললো, না, আল্লাহর শপথ, যিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নাই! আমার নিকট ছয় মাস বয়সের একটি ভেড়ার বাচ্চা ছাড়া আর কিছুই নাই। তিনি বলেনঃ সেটিই (নামাযের পর) যবেহ করো। কিন্তু তোমার পরে আর কারো জন্য ছয় মাসের বাচ্চা যথেষ্ট হবে না।
3155। আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তাঁর কোরাবানীর পশুর পাঁজরের উপর পা দিয়ে চেপে ধরে স্বহস্তে কোরবানী করতে দেখেছি।
3156। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মুআযযিন আম্মার ইবনে সাদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুরাইক গোত্রের রাস্তার পাশে একটি চাকু দিয়ে নিজের কোরবানী পশু গলার কাছ দিয়ে স্বহস্তে যবেহ করেছেন।
3157। আলী ইবনে আবূ তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে তাঁর (কোরবানীর) উটের গোশত, চামড়া ও ঝুল (জালড়) সবকিছু দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণের নির্দেশ দেন।
3158। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সবগুলো (কোরবানীর) উটের কিছু অংশ একত্র করে তা একটি হাঁড়িতে পাকানোর নির্দেশ দেন। লোকেরা এই গোশত ও ঝোল আহার করে।
3159। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুর্ভিক্ষজনিত কারণে লোকেদেরকে কোরবানীর গোশত জমা করে রাখতে নিষেধ করেছিলেন এবং পরে আবার জমা করে রাখার অনুমতি দেন।
3160। নুবাইশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি তোমাদেরকে কোরবানীর গোশত তিন দিনের অধিকা আহার করতে নিষেধ করেছিলাম। এখন তোমরা তা আহার করো এবং জমা করো রাখো।
3161। ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের মাঠে কোরবানীর পশু যবেহ করতেন।
উৎস: Sunan Ibn Majah
WEBREATH · 11:11
«Should I not be a thankful servant?» — Sahih al-Bukhari
Breath is one for all: everyone lives by it, whoever they are and whatever they believe. Every day at 11:11 local time people stop for sixty seconds, breathe, and thank GOD for the breath — each in their own words, each within themselves. In that minute we are One Breath.
WEBREATH — the Minute at 11:11, your own local time — we are One Breath