হাদিস
ফিরে যান

সুনানে ইবনে মাজাহ 1 · The Book of Purification and its Sunnah

আপনার ভাষায় এখনো কোনো অনুবাদ নেই — ইংরেজি দেখাচ্ছে

267। সাফীনাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মুদ্দ পানি দিয়ে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতেন এবং এক সা পানি দিয়ে গোসল করতেন।

268। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মুদ্দ পানি দিয়ে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতেন এবং এক সা পানি দিয়ে গোসল করতেন।

269। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মুদ্দ পানি দিয়ে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতেন এবং এক সা পানি দিয়ে গোসল করতেন।

270। আক্বীল ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ উযূ (ওজু/অজু/অযু)তে এক মুদ্দ এবং গোসলে এক সা পানি যথেষ্ট। এক ব্যাক্তি বললো, আমাদের জন্য (এ পরিমাণ পানি) যথেষ্ট নয়। তিনি বলেন, এ পরিমাণ পানি তো তোমার চেয়ে উত্তম ব্যাক্তির জন্যও যথেষ্ট ছিল, যাঁর মাথার চুলও বেশি অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

271। উসামাহ ইবনু উমায়র আল-হুযালী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ পবিত্রতা ব্যতীত সালাত কবূল করেন না এবং হারাম পন্থায় উপার্জিত মালের দান-খয়রাত কবূল করেন না। ১/২৭১ (১)। আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ-‘আবদুল্লাহ ইবনু সা‘ঈদ ও শাবাবাহ ইবনু সাও্ওয়ারাহ-শু‘বাহ (রহ.) থেকে এ সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত আছে।

272। ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ পবিত্রতা ছাড়া সালাত কবূল করেন না এবং হারাম পন্থায় উপার্জিত মালের দান-খয়রাত কবূল করেন না।

273। আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহ পবিত্রতা ছাড়া সালাত কবূল করে না এবং হারাম পন্থায় অর্জিত মালের দান-খয়রাতও কবূল করেন না।

274। আবূ বাকরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ পবিত্রতা ছাড়া সালাত কবূল করেন না এবং হারাম পন্থায় উপার্জিত মালের দান-খয়রাত কবূল করেন না।

275। আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পবিত্রতা হল সালাতের চাবি, তার তাকবীর হল হারামকারী এবং তার সালাম হল হালালকারী।

276। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ পবিত্রতা হল সালাতের চাবি, তাকবীর হল তার হারামকারী এবং সালাম হল তার হালালকারী।

277। সাওবান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা (দ্বীনের উপর) অবিচল থাকো, যদিও তোমরা আয়ত্তে রাখতে পারবে না। জেনে রাখো, তোমাদের আমলসমূহের মধ্যে সর্বোত্তম হল সালাত। কেবল মুমিন ব্যাক্তই যত্ন সহকারে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে।

278। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা (দ্বীনের উপর) স্থির থাকো, যদিও তোমরা তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে না। জেনে রাখো! তোমাদের সর্বোত্তম আমল হল সালাত। কেবল মুমিন ব্যাক্তই যত্ন সহকারে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে।

279। আবূ উমামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা দ্বীনের উপর স্থির থাকো। তোমরা দ্বীনের উপর অবিচল থাকলে তা কল্যাণকর। তোমাদের কার্যাবলীর মধ্যে সর্বোত্তম কাজ হল সালাত আদায় করা। মুমিন ব্যাক্তই যত্ন সহকারে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে।

280। আবূ মালিক আল-আশআরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সুষ্ঠুভাবে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করা ঈমানের অর্ধেক। আল-হামদুলিল্লাহ (নেকীর) পাল্লা পূর্ণ করে। সুবহানাল্লাহ ও আল্লাহু আকবার পৃথিবী ও আকাশমন্ডলী ভরে দেয়। সালাত হল নূর, যাকাত হল দলীল, ধৈর্য হল আলোকমালা এবং কুরআন হল তোমার পক্ষে অথবা বিপক্ষের প্রমাণ। প্রত্যেক মানুষ ভোরে উপনীত হয়ে নিজেকে বিক্রয় করে, এতে সে হয় তাকে মুক্ত করে অথবা ধ্বংস করে।

281। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কোন ব্যাক্তি উত্তমরূপে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে কেবল সালাত আদায়ের জন্য মসজিদে রওয়ানা হলে তার মসজিদে পৌঁছা পর্যন্ত তার প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে আল্লাহ তাআলা তার একধাপ মর্যাদা বৃদ্ধি করেন এবং তার একটি গুনাহ মাফ করেন।

282। আবদুল্লাহ আস-সুনাবিহী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যাক্তি উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে কুলি করলো এবং নাকে পানি পৌঁছালো, তার গুনাহ্সমূহ তার মুখ ও নাক থেকে বের হয়ে যায়। সে তার মুখমন্ডল ধৌত করলে তার গুনাহসমূহ তার মুখমন্ডল থেকে বের হয়ে যায়, এমনকি তার দু চোখের ভ্রুর নিম্নাংশ থেকেও গুনাহসমূহ বেরিয়ে যায়। সে তার উভয় হাত ধৌত করলে তার দু হাত থেকে গুনাহসমূহ বেরিয়ে যায়। সে তার মাথা মাসহ(মাসেহ) করলে তার মাথা থেকে গুনাহসমূহ বের হয়ে যায়, এমনকি তার দু কান থেকেও গুনাহসমূহ বের হয়ে যায়। সে তার উভয় পা ধৌত করলে তার পদদ্বয় থেকেও গুনাহসমূহ ঝরে যায়, এমনকি তার পদদ্বয়ের নখের নিম্নভাগ থেকেও গুনাহ বের হয়ে যায়। এরপর তার সালাত ও তার মসজিদে যাতায়াতের সাওয়াব (উল্লিখিত বিষয়ের) অতিরিক্ত।

283। আমর ইবনু আবাসাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বান্দা যখন উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে এবং তার উভয় হাত ধৌত করে, তখন তার দু হাত থেকে তার গুনাহসমূহ নির্গত হয়ে যায়। যখন সে তার মুখমন্ডল ধৌত করে তখন তার মুখমন্ডল থেকে তার গুনাহসমূহ নির্গত হয়ে যায়। যখন সে তার উভয় হাত ধৌত করে এবং তার মাথা মাসহ(মাসেহ) করে, তখন তার দু হাত ও মাথা থেকে তার গুনাহসমূহ নির্গত হয়ে যায়। এরপর যখন সে তার পদদ্বয় ধৌত করে তখন তার পদদ্বয় থেকে তার গুনাহসমূহ নির্গত হয়ে যায়।

284। আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জিজ্ঞেস করা হল, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আপনি আপনার উম্মাতের যেসব লোককে দেখেননি তাদের কিভাবে চিনবেন? তিনি বলেনঃ উযূ (ওজু/অজু/অযু)র কারণে তাদের মুখমন্ডল ও তাদের উযূর অন্যান্য অঙ্গ থেকে বিচ্ছুরিত আলোর সাহায্যে। ৪/২৮৪ (১) আবূল হাসান আল কাত্তান- আবূ হাতিম- আবূল ওয়ালীদ (রহঃ) সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

285। উসমান ইবনু আফফান (রাঃ) এর মুক্তদাস হুমরান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উসমান ইবনু আফফান (রাঃ) কে এক স্থানে উপবিষ্ট দেখলাম। তিনি উযূর পানি নিয়ে ডাকলেন এবং উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলেন, অতঃপর বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আমার এ স্থানে বসে আমার ন্যায় উযূ করতে দেখেছি। অতঃপর তিনি বলেনঃ যে ব্যাক্তি আমার উযূর ন্যায় উযূ করবে, তার পূর্বেকার সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেনঃ কিন্তু তোমরা তাতে আত্মতুষ্টির ধোঁকায় পড়ো না। ৫/২৮৫ (১) হিশাম ইবনু আম্মার-আবদুল হামীদ ইবনু হাবীব-আওযাঈ-ইয়াহ্ইয়া-মুহাম্মাদ ইবনু ইব্রাহীম-ঈসা ইবনু ত্বলহা-হুমরান-উসমান (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

286। হুযাইফাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে যখন তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করতে উঠতেন, তখন তিনি মিসওয়াক দিয়ে তাঁর মুখ পরিষ্কার করতেন।

287। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি যদি আমার উম্মাতের জন্য কষ্টকর মনে না করতাম, তাহলে তাদেরকে প্রতি ওয়াক্ত সালাতের সময় মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।

288। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে দু' দু রাকআত করে (নফল) সালাত আদায় করতেন এবং (সালাত থেকে) অবসর হয়ে মিসওয়াক করতেন।

289। আবূ উমামাহ (রাঃ) থেকে বণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা মিসওয়াক করো। কেননা মিসওয়াক মুখ পবিত্র ও পরিষ্কার করে এবং মহান প্রভুর সন্তুষ্টি লাভের উপায়। আমার কাছে যখনই জিবরীল (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এসেছেন তখনই আমাকে মিসওয়াক করার উপদেশ দিয়েছেন। শেষে আমার আশঙ্কা হয় যে, তা আমার ও আমার উম্মাতের জন্য ফরয করা হবে। আমি যদি আমার উম্মাতের জন্য কষ্টকর হওয়ার আশঙ্কা না করতাম, তাহলে তাদের জন্য তা ফরয করে দিতাম। আমি এত বেশি মিসওয়াক করি যে, আমার মাড়িতে ঘা হওয়ার আশঙ্কা হয়।

290। শুরাইহ্ ইবনু হানী (রহঃ) বলেন, আমি আয়িশাহ -কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনার নিকট এসে প্রথমে কোন্ কাজটি করতেন তা আমাকে অবহিত করুন। তিনি বলেন, তিনি প্রবেশ করেই প্রথমে মিসওয়াক করতেন।

291। আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমাদের মুখ হল কুরআনের রাস্তা। অতএব তোমরা দাঁতন করে তা পবিত্র ও সুগন্ধযুক্ত করো।

292। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ফিতরাত পাঁচটি অথবা পাঁচটি জিনিস স্বভাবজাত: খতনা করা, নাভির নিচের লোম পরিষ্কার করা, নখসমূহ কাটা, বগলের পশম তুলে ফেলা এবং মোচ কাটা।

293। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দশটি জিনিস ফিতরাত বা স্বভাবজাত। মোচ কাটা, দাঁড়ি বাড়ানো, মিসওয়াক করা, নাকের ছিদ্র পানি দিয়ে পরিষ্কার করা, নখ কাটা, আঙ্গুলের সংযোগ স্থলের ময়লা ধুয়ে ফেলা, বগলের লোম উপড়ে ফেলা, নাভির নিচের লোম পরিষ্কার করা ও পানি দিয়ে শৌচ করা। যাকারিয়া (রহঃ) বলেন, মুসআব (রহঃ) বলেছেন, আমি দশম জিনিসের কথা ভুলে গেছি, সেটি হয়তো কুলি করা।

294। আম্মার ইবনু ইয়াসির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কুলি করা, নাকের ছিদ্রপথে পানি পৌঁছানো, মিসওয়াক করা, মোচ কাটা, নখ কাটা, বগলের লোম উপড়ে ফেলা, নাভির নিচের লোম পরিষ্কার করা, আঙ্গুলের সংযোগ স্থলগুলো ধৌত করা, শৌচ করা, খতনা করা ইত্যাদি মানব স্বভাবের অন্তর্ভুক্ত। ৩/২৯৪ (১) জাফর ইবনু আহমাদ ইবনু উমার-আফফান ইবনু মুসলিম-হাম্মাদ ইবনু সালামা-আলী ইবনু যায়েদ (রহঃ) থেকে উপর্যুক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

295। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মোচ কাটা, নাভির নিচের লোম পরিষ্কার করা, বগলের লোম উপড়ে ফেলা ও নখ কাটার ব্যাপারে আমাদের চল্লিশ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে। আমরা যেন তা বেশি সময় ছেড়ে না দেই।

296। যায়দ ইবনু আরক্বাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (পায়খানায়) এসব শয়তান উপস্থিত হয়। অতএব তোমাদের কেউ (পায়খানায়) প্রবেশকালে যেন বলেঃ হে আল্লাহ্! আমি আপনার নিকট অপবিত্রতা ও শয়তানের চক্রান্ত থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। ১/২৯৬ (১) জামীল ইবনুল হাসান আতাকী-আবদুল আলা ইবনু আবদুল আলা-সাঈদ ইবনু আবূ আরূবাহ-ক্বাতাদাহ- (পুনরায়) হারূন ইবনু ইসহাক-আবদাহ-সাঈদ-ক্বাতাদাহ-কাসিম ইবনু আওফ শায়বানী-যায়দ ইবনু আরক্বাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ (এ সূত্রেও উপরের) পূর্ব হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে।

297। আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জ্বীন ও মানুষের গোপন অঙ্গের মাঝখানের পর্দা হল পায়খানায় প্রবেশকালে তার বিসমিল্লাহ বলা।

298। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন পায়খানায় প্রবেশ করতেন, তখন বলতেনঃ আমি আল্লাহ্‌র নিকট অপবিত্রতা ও শয়তানর অশুভ চক্রান্ত থেকে পানাহ চাই।

299। আবূ উমামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কেউ পায়খানায় প্রবেশকালে যেন এ কথা বলতে অপারগ না হয়ঃ হে আল্লাহ্! আমি কদর্যতা, অপবিত্রতা, কদাকার ও ক্ষতিকর বিতাড়িত শয়তান থেকে আপনার আশ্রয় চাই। ৪/২৯৯ (১) আবূল হাসান, আবূ হাতিম, ইবনু আবূ মারইয়াম (রহঃ) সূত্রে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এ বর্ণনায় الرِّجْسِ النَّجَسِ (কদর্যতা অপবিত্রতা থেকে) কথাটির উল্লেখ নাই, বরং এ বর্ণনায় الْخَبِيثِ الْمُخْبِثِ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ (কদর্য কুৎসিত বিতাড়িত শয়তানের কবল থেকে) কথাটি উল্লেখ আছে।

300। আবূ বুরদা (রহঃ) বলেন, আমি আয়িশাহ (রাঃ) এর নিকট প্রবেশ করে তাকে বলতে শুনলামঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পায়খানা থেকে বের হওয়ার সময় বলতেনঃ (غُفْرَانَكَ) আমি আপনার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। ১/৩০০ (১) আবূল হাসান ইবনু সালামাহ, আবূ হাতিম, আবূ গাসসান নাহ্দী, ইসরাঈল (রহঃ) থেকে এ সূত্রে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

301। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পায়খানা থেকে বের হওয়ার সময় বলতেনঃ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্‌র জন্য যিনি আমার থেকে কষ্ট দূর করেছেন এবং স্বস্তি দান করেছেন।

302। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বাবস্থায় আল্লাহ্‌র যিকর করতেন।

303। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পায়খানায় প্রবেশের আগে তার আংটি খুলে রাখতেন।

304। আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন তার গোসলখানায় পেশাব না করে। কেননা তা থেকেই যাবতীয় সন্দেহের উদ্রেক হয়। ১/৩০৪ (১) আবদুল্লাহ বিন মাজাহ (রহঃ) বলেন, আমি মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ)-কে বলতে শুনেছি, তিনি আলী ইবনু মুহাম্মাদ আত-তানাফিসী (রহঃ)-কে বলতে শুনেছেন, এ নির্দেশ সেই সময়ের যখন গোসলখানা কাঁচা ছিল। যেহেতু বর্তমানকালে গোসলখানা ইট ও চুনা দ্বারা নির্মিত হয়। তাই যদি কেউ পেশাব করার পর সে সেখানে পানি ঢেলে দেয়, তবে তাতে কোন দোষ নেই। এটা পূর্ণটই যঈফ এর প্রথম অংশ সহীহ।

305। হুযাইফাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন এক গোত্রের ময়লা-আবর্জনার নিকট পৌঁছে সেখানে দাঁড়িয়ে পেশাব করেন।

306। মুগীরাহ ইবনু শুবাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক গোত্রের ময়লা-আবর্জনার নিকট পৌঁছে তথায় দাঁড়িয়ে পেশাব করেন। ২/৩০৬ (১) শুবাহ (রহঃ) বলেন, আসিম (রহঃ) সে সময় এ হাদীস মুগীরাহ -এর সূত্রে বর্ণনা করেন। আমাশ (রহঃ) আবূ ওয়ায়িল (রহঃ)-এর সূত্রে হুযাইফাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু আসিম তা ভুলে যান। এরপর আমি মানসূর (রহঃ)-কে জিজ্ঞেস করলে তিনিও সেটি আবূ ওয়ায়িল (রহঃ)-এর সূত্রে হুযাইফাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকেদের ময়লা-আর্বনার স্তূপের নিকট পৌঁছে দাঁড়িয়ে পেশাব করেন।

307। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যাক্তি তোমাকে বলে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে পেশাব করেছেন, তার কথা তুমি বিশ্বাস করবে না। আমি তাঁকে বসে পেশাব করতে দেখেছি।

308। উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দাঁড়িয়ে পেশাব করতে দেখে বলেনঃ হে উমার! তুমি দাঁড়িয়ে পেশাব করো না। এরপর থেকে আমি দাঁড়িয়ে পেশাব করিনি।

309। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে পেশাব করতে নিষেধ করেছেন। ৩/৩০৯ (১) ইবনু মাজাহ (রহঃ) বলেন, আবূ আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ)-কে বলতে শুনেছি, আমি আহমাদ ইবনু আবদুল্লাহ আল-মাখযূমীকে বলতে শুনেছি: সুফ্ইয়ান সাওরী (রহঃ) আয়িশাহ (রাঃ) এর এ হাদীস আমি তাঁকে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসে পেশাব করতে দেখেছি বর্ণনা করলে এক ব্যাক্তি বললো, একজন পুরুষ এ ব্যাপারে তার তুলনায় অধিক জ্ঞাত। আহমাদ ইবনু আবদুর রহমান (রহঃ) বলেন, দাঁড়িয়ে পেশাব করা ছিল আরবদের অভ্যাস। তুমি কি আবদুর রহমান ইবনু হাসানা (রহঃ)-এর বর্ণিত হাদীসে দেখোনি, যাতে তিনি বলেছেন, তিনি মহিলাদের মত বসেই পেশাব করেন? এটা সহীহ হাদীসের অন্তর্ভুক্ত।

310। আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন পেশাব করাকালে তার ডান হাত দিয়ে তার লিঙ্গ স্পর্শ না করে এবং তার ডান হাত দিয়ে শৌচ না করে। ১/৩১০ (১) আবদুর রহমান ইবনু ইব্রাহীম, ওয়ালীদ ইবনু মুসলিম, আওযাঈ (রহঃ) এ সানাদে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

311। উসমান ইবনু আফফান (রাঃ) বলেনঃ আমি কখনো গান গাইনি, মিথ্যা কথাও বলিনি এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বায়আত হওয়ার পর থেকে ডান হাতে আমার লিঙ্গও স্পর্শ করিনি।

312। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন তার ডান হাতে শৌচ না করে, বরং সে যেন তার বাম হাতে শৌচ করে।

313। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি তোমাদের জন্য সন্তানের পিতার সমতুল্য। আমি তোমাদের শিক্ষা দিচ্ছি যে, তোমরা পায়খানায় এসে ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হ্কে সামনে রেখেও বসবে না এবং পেছনেও রাখবে না। তিনি তিনটি পাথর বা ঢিলা (শৌচকার্যে) ব্যবহারের নির্দেশ দেন এবং তিনি শুকনা ও কাঁচা গোবর (শৌচকার্যে) ব্যবহার করতে নিষেধ করেন। উপরন্তু তিনি মানুষকে তার ডান হাত দিয়ে শৌচ করতে নিষেধ করেন।

314। আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পায়খানায় যেতে (আমাকে) বলেনঃ আমার জন্য তিনটি পাথর (ঢিলা) নিয়ে এসো। আমি তাঁর জন্য দুটি পাথর ও একটি শুকনা গোবরের টুকরা নিয়ে এলাম। তিনি পাথর দুটি গ্রহণ করেন এবং গোবরের টুকরাটি ফেলে দিয়ে বলেনঃ এটি নোংরা।

315। খুযাইমাহ ইবনু সাবিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শৌচ করা সম্পর্কে বলেছেনঃ তিনটি পাথর টুকরা হতে হবে, যার সাথে কোন নাপাক জিনিস নেই।

316। সালমান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কতিপয় মুশরিক তাকে উপহাস করে বললো, আমি তোমাদের এই সাথীকে (মুহাম্মাদ) দেখতে পাচ্ছি যে, তিনি তোমাদের সব বিষয়ে শিক্ষা দেন, এমনকি পায়খানা-পেশাব সম্পর্কেও। তিনি বলেন, হ্যাঁ। তিনি আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন যে, আমরা যেন ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)মুখী হয়ে পায়খানা-পেশাব না করি, ডান হাতে যেন শৌচ না করি এবং (শৌচে) তিনটি পাথরের কম যেন ব্যবহার না করি, যার সাথে পশুর গোবর ও হাড় যেন না থাকে।

317। আবদুল্লাহ ইবনুল হারিস ইবনু জায্ঈ আয-যুবাইদী (রাঃ) বলেন, আমিই প্রথম ব্যাক্তি, যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেঃ তোমাদের কেউ যেন ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হমুখী হয়ে পেশাব না করে এবং আমিই প্রথম ব্যাক্তি যে লোকেদের নিকট এ হাদীস বর্ণনা করেছে।

318। আবূ আইউব আল-আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ যে ব্যাক্তি পায়খানায় যায় তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিবলামুখী হয়ে বসতে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেনঃ তোমরা পূর্ব অথবা পশ্চিমমুখী হয়ে বসো।

319। মাক্বিল ইবনু আবূ মাক্বিল আল-আসা’দী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাহচর্য লাভ করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে দু ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হর দিকে মুখ করে পায়খানা অথবা পেশাব করতে নিষেধ করেছেন।

320। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে সাক্ষ্য দেন যে, তিনি আমাদেরকে ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হর দিকে মুখ করে পায়খানা ও পেশাব করতে নিষেধ করেছেন।

321। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আবূ সাঈদ খুদরী -কে বলতে শুনেছেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দাঁড়িয়ে পানীয় পান করতে এবং ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)মুখী হয়ে পেশাব করতে নিষেধ করেছেন।

322। আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেরা বলে, তুমি পায়খানায় ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হমুখী হয়ে বসো না। কিন্তু একদিন আমি আমাদের ঘরের ছাদের উপর উঠে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দুটি ইটের উপর উপবিষ্ট দেখতে পাই। তাঁর মুখমন্ডল বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে ছিল। এটা হচ্ছে ইয়াযীদ ইবনু হারূনের বর্ণিত হাদীস।

323। ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে তাঁর পায়খানায় ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হমুখী হয়ে বসতে দেখেছি। ঈসা (রহঃ) বলেন, আমি বিষয়টি শাবী (রহঃ)-কে বললে তিনি বলেন, ইবনু উমার ও আবূ হুরায়রা সত্য বলেছেন। আবূ হুরায়রা (রাঃ)-এর উক্তি উন্মুক্ত ময়দানের বেলায় প্রযোজ্যঃ (পায়খানা-পেশাবে) কেউ ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হর দিকে মুখ করবে না এবং ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হ্কে পিছনেও রাখবে না। আর ইবনু উমার (রাঃ) এর উক্তি প্রাচীর ঘেরা পায়খানা গৃহের বেলায় প্রযোজ্যঃ সেখানে কোন ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হ নাই। সেখানে তুমি যে দিকে ইচ্ছা মুখ ফিরিয়ে (পায়খানা পেশাব) করতে পারো। ২/৩২৩ (১) আবূল হাসান ইবনু সালামাহ, আবূ হাতিম, উবাঈদুল্লাহ ইবনু মূসা (রহঃ) এই সানাদ সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

324। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট একদল লোক সম্পর্কে আলোচনা করা হল যারা তাদের লজ্জাস্থানকে ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)মুখী করতে অপছন্দ করে। তিনি বলেনঃ আমার মনে হয় তারা এরূপ করতে শুরু করে দিয়েছে। তোমরা আমার পায়খানা ক্বিবলার (কিবলা/কেবলা) দিকে ঘুরিয়ে দাও। ৩/৩২৪ (১) আবূল হাসান কাত্তান, ইয়াহ্ইয়া ইবনু উবায়দ, আবদুল আযীয ইবনু মুগীরাহ, খালিদ আল-হাজ্জ, খালিদ ইবনু আবূ সালত্ (রহঃ) থেকে এ সূত্রে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

325। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হমুখী হয়ে পেশাব করতে নিষেধ করেছেন। কিন্তু আমি তাঁকে তাঁর ইন্তেকালের এক বছর আগে ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হমুখী (পায়খানা-পেশাবে) হতে দেখেছি।

326। ইয়াযদাদ আল-ইয়ামানী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ পেশাব করার পর যেন তার লজ্জাস্থান তিনবার ঝাড়ে। ১/৩২৬ (১) আবূল হাসান ইবনু সালামাহ, আলী ইবনু আবদুল আযীয, আবূ নুআয়ম, যাম্আহ (রহঃ) এই সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

327। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পেশাব করতে গেলেন এবং উমার পানি নিয়ে তাঁর পিছে পিছে গেলেন। তিনি বলেনঃ হে উমার! এটা কী? উমার বলেন, পানি। তিনি বলেনঃ যখনই আমি পেশাব করবো তখনই আমাকে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করার নির্দেশ দেয়া হয়নি। আমি তাই করলে তা সুন্নাত (বাধ্যতামূলক) হয়ে যেত।

328। আবূ সাঈদ আল-হিময়ারী (রহঃ) বলেন, মুআয ইবনু জাবাল এমন হাদীস বর্ণনা করতেন, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর অপর সাহাবীগণ শুনেননি এবং তারা যে হাদীস শুনেছেন তা তিনি বর্ণনা করতেন না। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) তার বর্ণিত হাদীস সম্পর্কে অবহিত হয়ে বলেন, আল্লাহ্‌র শপথ! আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে এ হাদীস বলতে শুনিনি। মুআয(রাঃ) যেন পায়খানা-পেশাবের ব্যাপারে তোমাদের দ্বিধা-দ্বন্ধে না ফেলে। মুআয (রাঃ) উক্ত মন্তব্য সম্পর্কে অবহিত হয়ে আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ)-এর সঙ্গে দেখা করেন এবং বলেন, হে আবদুল্লাহ ইবনু আমর! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর প্রতি মিথ্যা হাদীস আরোপ করা মুনাফিকী এবং তার গুনাহ মিথ্যা আরোপকারীর উপর বর্তায়। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছিঃ তোমরা তিনটি অভিশপ্ত জিনিস থেকে দূরে থাকোঃ ব্যবহার্য পানি বা পানির উৎসে, ছায়াদার বৃক্ষতলে ও লোক চলাচলের পথে পেশাব পায়খানা করা।

329। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা রাস্তার উপর রাত যাপন করা ও সালাত আদায় করা থেকে বিরত থাকো। কেননা তা (রাতে) সাপ ও হিংস্র জন্তুর যাতায়াত পথ। তোমরা রাস্তায় পেশাব-পায়খানা করা থেকেও বিরত থাকো। কারণ তা অভিশপ্ত আচরণের অন্তর্ভুক্ত।

330। সালিম (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চলাচলের পথের উপর সালাত আদায় করতে এবং পায়খানা-পেশাব করতে নিষেধ করেছেন।

331। মুগীরাহ ইবনু শুবাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারতে দূরে যেতেন।

332। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে এক সফরে ছিলাম। তিনি প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারতে দূরে যান। অতঃপর ফিরে এসে তিনি উযূর পানি নিয়ে ডাকেন এবং উযূ (ওজু/অজু/অযু) করেন।

333। ইয়ালা ইবনু মুররাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারতে দূরবর্তী স্থানে যেতেন।

334। আবদুর রহমান ইবনু আবূ কুরাদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে হাজ্জ (হজ্জ) করেছি। তিনি প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারতে দূরবর্তী স্থানে চলে যেতেন।

335। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সফরে বের হলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারতে এতটা দূরে যেতেন যে, তাঁকে দেখা যেত না।

336। বিলাল ইবনুল হারিস আল-মুযানী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারতে দূরে চলে যেতেন।

337। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যাক্তি ঢিলা দ্বারা শৌচ করতে চায়, সে যেন বেজোড় সংখ্যক ঢিলা ব্যবহার করে। যে ব্যাক্তি তাই করলো, সে উত্তম কাজ করলো এবং যে তা (বেজোড়) করলো না তার কোন দোষ নেই। কেউ খিলাল করলে সে যেন দাঁতের ফাঁক থেকে নির্গত জিনিস বাইরে ফেলে দেয়। যার মুখ থেকে লালা বের হয়, সে যেন তা ফেলে দেয়। যে ব্যাক্তি এরূপ করলো, সে উত্তম কাজ করলো এবং যে তা করলো না, তার কোন দোষ নেই। যে ব্যাক্তি পায়খানায় যায় সে যেন আড়াল করে। এজন্য কিছু না পেলে সে যেন বালু স্তুপ করে তার দ্বারা আড়াল করে। কেননা শয়তান আদম সন্তানের পশ্চাঁদদ্বার নিয়ে খেলা করে। যে ব্যাক্তি এরূপ করলো, সে উত্তম কাজ করলো, আর যে তা করলো না, তার কোন দোষ নেই।

338। আবদুল মালিক ইবনু সাববাহ (রহঃ) থেকে এই সানাদ সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এই বর্ণনায় আরো আছেঃ যে ব্যাক্তি সুরমা লাগায়, সে যেন বেজোড় সংখ্যকবার লাগায়। যে ব্যাক্তি এরূপ করলো, সে উত্তম কাজ করলো এবং যে এরূপ করেনি তার কোন দোষ নেই। কারো মুখ থেকে কোন কিছু বের হলে সে যেন তা উদগীরণ করে ফেলে দেয়।

339। ইয়ালা ইবনু মুররাহ (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে সফরে ছিলাম। তিনি পায়খানা করার ইচ্ছা করলে আমাকে বলেনঃ এই গাছ দুটিকে ডেকে আনো। ওয়াকী (রহঃ)-এর বর্ণনায় আছে, তা ছিল দুটি ছোট খেজুর গাছ। তুমি গাছ দুটিকে বলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদের উভয়কে একত্র হওয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন। অতএব গাছ দুটি একত্র হলে তিনি তাদের দ্বারা আড়াল করলেন এবং তাঁর প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারলেন। অতঃপর তিনি আমাকে বলেনঃ তুমি ওদের কাছে গিয়ে বলো, তারা যেন স্বস্থানে ফিরে যায়। অতএব আমি (গাছ দুটির নিকট) গিয়ে তাই বললাম এবং এরা স্বস্থানে ফিরে গেল।

340। আবদুল্লাহ ইবনু জাফার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পায়খানা করার সময় উঁচু টিলা অথবা ঘন খেজুর বিথীর আড়ালে বসতে পছন্দ করতেন।

341। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পেশাব করতে গিরিপথে চলে যেতেন। তিনি যখন পেশাব করতেন, তখন আমি তাঁর পিছন দিকে আড় হয়ে থাকতাম।

342। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। বলেনঃ দু ব্যাক্তি যেন এমনভাবে পায়খানায় না বসে যে, একে অপরের আবরণীয় অঙ্গ দেখতে পায় এবং এ অবস্থায় পরস্পর বাক্যালাপ না করে। কারণ তাতে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন। ১/৩৪২ (১) মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াহ্ইয়া, সালম ইবনু ইব্রাহীম, ইকরিমাহ, ইয়াহ্ইয়া ইবনু আবূ কাসীর, ইয়াদ ইবনু হিলাল (রহঃ) সূত্রেও পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। ১/৩৪২ (২) মুহাম্মাদ ইবনু হুমায়দ, আলী ইবনু আবূ বাকর, সুফ্ইয়ান সাওরী, ইকরিমাহ ইবনু আম্মার, ইয়াহ্ইয়া ইবনু আবূ কাসীর, ইয়ায ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) সূত্রেও উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

343। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদ্ধ পানিতে পেশাব করতে নিষেধ করেছেন।

344। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন বদ্ধ পানিতে পেশাব না করে।

345। ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন পরিষ্কার পানিতে পেশাব না করে।

346। আবদুর রহমান ইবনু হাসানাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট বেরিয়ে এলেন। তাঁর হাতে ছিল একটি ঢাল। তিনি সেটিকে (সামনে) রেখে বসেন এবং সে দিকে ফিরে পেশাব করেন। তাদের কোন এক ব্যাক্তি বললো, তাঁকে দেখ! তিনি মহিলাদের মত পেশাব করছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কথা শুনে ফেলেন এবং বলেনঃ তোমার জন্য দুঃখ হয়। তোমার কি জানা নেই যে, বনী ইসরাঈলের সেই ব্যাক্তির কী দশা হয়েছিল? তাদের শরীরের কোন অংশে পেশাব লাগলে তারা তা কাঁচি দিয়ে কেটে ফেলতো। সে তাদেরকে এরূপ করতে নিষেধ করে। ফলে তাকে তার কবরে শাস্তি দেয়া হয়। ১/৩৪৬ (১) আবূল হাসান ইবনু সালামাহ, আবূ হাতিম, উবাঈদুল্লাহ ইবনু মূসা আমাশ (রহঃ) থেকে এই সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

347। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুটি নতুন কবর অতিক্রম করাকালীন বলেন: তাদেরকে শাস্তি দেয়া হচ্ছে। এদেরকে কোন কঠিন অপরাধের জন্য শাস্তি দেয়া হচ্ছে না। এদের একজন পেশাব থেকে সাবধানতা অবলম্বন করতো না এবং অপরজন চোগলখোরী করে বেড়াতো।

348। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বেশির ভাগ কবরে আযাব পেশাব থেকে অসতর্কতার কারণেই হয়ে থাকে।

349। আবূ বাকারহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুটি কবর অতিক্রম করার সময় বলেনঃ নিশ্চয় এই দু কবরবাসীকে শাস্তি দেয়া হচ্ছে এবং তাদেরকে কোন কঠিন অপরাধের জন্য শাস্তি দেয়া হচ্ছে না। এদের একজনকে পেশাবের (অসতর্কতার) কারণে শাস্তি দেয়া হচ্ছে এবং অপরজনকে গীবত করার কারণে শাস্তি দেয়া হচ্ছে।

350। আল-মুহাজির ইবনু কুনফুয (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসলাম। তিনি উযূ (ওজু/অজু/অযু) করছিলেন। আমি তাঁকে সালাম দিলাম। তিনি আমার সালামের উত্তর দিলেন না। তিনি তাঁর উযূ সমাপনান্তে বলেনঃ আমি এজন্য তোমার সালামের উত্তর দেইনি যে, তখন আমি উযূ বিহীন ছিলাম। ১/৩৫০ (১) আবূল হাসান ইবনু সালামাহ, আবূ হাতিম, আল-আনসারী, সাঈদ ইবনু আবূ আরূবাহ থেকে এই সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

351। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যাক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিল। তখন তিনি পেশাবরত ছিলেন। সে তাঁকে সালাম করলে তিনি তার সালামের উত্তর দিলেন না। তিনি পেশাব শেষ করে তাঁর দু হাতের তালু মাটিতে মারেন এবং তায়াম্মুম করেন, অতঃপর তার সালামের উত্তর দেন।

352। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যাক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিল। তিনি তখন পেশাবরত ছিলেন। সে তাঁকে সালাম করলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেনঃ তুমি আমাকে এ অবস্থায় দেখতে পেলে আমাকে সালাম দিবে না। কারণ তুমি তা করলে আমি তোমার সালামের উত্তর দিতে পারবো না।

353। ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যাক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলো। তিনি তখন পেশাবরত ছিলেন। সে তাঁকে সালাম করলে তিনি তার সালামের উত্তর দেননি।

354। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি দেখেছি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো পানি ব্যবহার না করে পায়খানা থেকে বের হননি।

355। আবূ আইউব আল-আনসারী, জাবির ইবনু আবদুল্লাহ ও আনাস ইবনু মালিক(রাঃ) থেকে বর্ণিত। নিম্নোক্ত আয়াত নাযিল হলে (অনুবাদ) সেখানে এমন লোকও আছে যারা পবিত্রতা অর্জন করতে ভালোবাসে এবং পবিত্রতা অর্জনকারীদের আল্লাহ পছন্দ করেন- (সূরাহ আত্-তওবা: ১০৮)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ হে আনসার সম্প্রদায়! আল্লাহ তোমাদের পবিত্রতা অর্জনের ব্যাপারে প্রশংসা করেছেন। তোমরা কিভাবে পবিত্রতা অর্জন করো? তারা বলেন, আমরা সালাতের জন্য উযূ (ওজু/অজু/অযু) করি, জানাবাতের (শারীরিক অপবিত্রতা দূরীকরণের) জন্য গোসল করি এবং পানি দিয়ে শৌচ করি। তিনি বলেনঃ এটাই (প্রশংসার) কারণ। অতএব তোমরা এটাকে অপরিহার্যরূপে ধারণ করো।

356। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পায়খানা করে তাঁর পশ্চাঁদদ্বার তিনবার ধৌত করতেন। ইবনু উমার বলেন, আমরাও তাই করেছি এবং এটাকে নিরাময় ও পবিত্রতার উপায় হিসেবে পেয়েছি। ৩/৩৫৬ (১) আবূল হাসান ইবনু সালামাহ, আবূ হাতিম ও ইব্রাহীম ইবনু সুলাইমান আল-ওয়াসিতী, আবূ নুআয়ম, শারীক (রহঃ) থেকে এ সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

357। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিম্নোক্ত আয়াত কুবাবাসী সম্পর্কে নাযিল হয়েছে (অনুবাদ) সেখানে এমন লোকও আছে যারা পবিত্রতা অর্জন করতে ভালোবাসে এবং পবিত্রতা অর্জনকারীদের আল্লাহ পছন্দ করেন- (সূরাহ আত্-তওবা: ১০৮)। রাবী বলেন, তারা পানি দিয়ে শৌচ করতো। তাই তাদের প্রশংসায় এ আয়াত নাযিল হয়।

358। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পায়খানা করার পর বদনার পানি দিয়ে শৌচ করতেন, অতঃপর তাঁর হাত মাটিতে ঘষতেন। ১/৩৫৮ (১) আবূল হাসান ইবনু সালামাহ, আবূ হাতিম, সাঈদ ইবনু সুলাইমান আল-ওয়াসিতী, শারীক (রহঃ) থেকে এ সানাদে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

359। জারীর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঝোপের মাঝে প্রবেশ করেন এবং তাঁর প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণ করেন। জারীর তাঁর নিকট এক পাত্র পানি নিয়ে আসেন। তা দিয়ে তিনি শৌচ করেন এবং তাঁর হাত মাটিতে ঘষেন।

360। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে পানির মশকের মুখ বন্ধ করতে এবং পানপাত্রসমূহ ঢেকে রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন।

361। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাতের বেলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য তিনটি পানির পাত্র মুখ বন্ধ করে রেখে দিতামঃ একটি তাঁর উযূ (ওজু/অজু/অযু)র জন্য, একটি তাঁর মিসওয়াকের জন্য এবং একটি তাঁর পান করার জন্য।

362। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উযূ (ওজু/অজু/অযু)র পানি ও তাঁর দান-খয়রাত করার মাল কারো নিকট গচ্ছিত রাখতেন না এবং সেই মালও সোপর্দ করতেন না, যা তিনি সদাক্বাহ করতেন। তিনি নিজের তত্ত্বাবধানেই তা সংরক্ষণ করতেন।

363। আবূ রাযীন (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ হুরায়রা (রাঃ) কে দেখেছি যে, তিনি তার কপালে হাত মেরে বলেছেন, হে ইরাকবাসী! তোমরা মনে করো যে, আমি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি মিথ্যারোপ করছি, যাতে তোমরা সাওয়াবের অধিকারী হও এবং আমি গুনাহর ভাগী হই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, অবশ্যই আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছিঃ তোমাদের কারো পাত্রে কুকুর মুখ দিলে সে যেন তা সাতবার ধৌত করে।

364। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কারো পাত্রে কুকুর মুখ দিলে তা সাতবার ধৌত কর।

365। আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ পাত্রে কুকুর মুখ দিলে তোমরা তা সাতবার ধৌত করো এবং অষ্টমবারে তা মাটি দিয়ে মাজো।

366। ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কারো পাত্রে কুকুর মুখ দিলে সে যেন তা সাতবার ধৌত করে।

367। কাবশাহ বিনতু কাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি ছিলেন আবূ ক্বাতাদাহ -এর পুত্রবধূ। তিনি আবূ ক্বাতাদাহ -এর উযূ (ওজু/অজু/অযু)র পানি ঢেলে দেন। তখন একটি বিড়াল এসে সেই পানি পান করে। আবূ ক্বাতাদাহ পানির পাত্রটি তার দিকে ঝুঁকিয়ে দিলেন এবং আমি তার দিকে তাকাতে লাগলাম। তিনি বলেন, হে ভাতিজী! তুমি কি বিস্ময়বোধ করছো! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ বিড়াল অপবিত্র নয়। এটা তো তোমাদের আশেপাশে বিচরণকারী বা বিচরণকারিণী।

368। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই পাত্রের পানি দিয়ে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করেছি, যা থেকে ইতোপূর্বে বিড়াল পানি পান করেছিল।

369। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বিড়াল সালাত বিনষ্ট করে না। কারণ তা ঘরের জিনিসপত্রের অন্তর্ভুক্ত।

370। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এক স্ত্রী একটি বড় পাত্রের পানি দিয়ে গোসল করেন। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোসল অথবা উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে আসলে তিনি বলেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমি অপবিত্র ছিলাম (এবং এই পাত্রের পানি দিয়ে গোসল করেছি)। তিনি বলেনঃ পানি অপবিত্র হয় না।

371। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এক স্ত্রী নাপাকির গোসল করেন। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার গোসলের উদ্বৃত্ত পানি দিয়ে উযূ (ওজু/অজু/অযু) ও গোসল করেন।

372। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী মাইমূনাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তার নাপাকির গোসলের উদ্বৃত্ত পানি দিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উযূ (ওজু/অজু/অযু) করেন।

373। হাকাম ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুরুষকে নারীর উযূ (ওজু/অজু/অযু)র উদ্বৃত্ত পানি দিয়ে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে নিষেধ করেছেন।

374। আবদুল্লাহ ইবনু সারজিস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুরুষকে নারীর উযূর উদ্বৃত্ত পানি দিয়ে এবং নারীকে পুরুষের উদ্বৃত্ত পানি দিয়ে উযূ (ওজু/অজু/অযু)-গোসল করতে নিষেধ করেছেন। তবে তারা (স্বামী-স্ত্রী একত্রে গোসল করতে পারে। ইমাম আবূ আবদুল্লাহ ইবনু মাজাহ (রহঃ) বলেন, প্রথমোক্ত বক্তব্যই সঠিক এবং শেষোক্ত বক্তব্য ধারণামাত্র। ২/৩৭৪ (১)। আবুল হাসান ইবনু সালামাহ, আবূ হাতিম ও আবূ ‘উসমান আল-মুহারিবী, আল মু‘আল্লা ইবনু আসাদ (রহ.) থেকে এ সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

375। আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর স্ত্রী এ পাত্রের পানি দিয়ে গোসল করতেন। তবে তাদের একজন অপরজনের উদ্বৃত্ত পানি দিয়ে গোসল করতেন না।

376। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই পাত্রের পানি দিয়ে গোসল করতাম।

377। মাইমূনাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই পাত্রের পানি দিয়ে গোসল করতাম।

378। উম্মু হানী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও মাইমূনাহ একই পাত্রের পানি দিয়ে গোসল করেন, যাতে আটার দাগ লেগেছিল।

379। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর স্ত্রীগণ একই পাত্রের পানি দিয়ে গোসল করতেন।

380। উম্মু সালামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই পাত্রের পানি দিয়ে গোসল করতেন।

381। ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর যুগে নারী ও পুরুষেরা একই পাত্রের পানি দিয়ে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতো।

382। উম্মু সুবয়াহ আল-জুহানিয়্যা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একই পাত্রের পানি দিয়ে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করার কারণে কখনো কখনো আমার হাতের সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর হাতের স্পর্শ লাগতো। ইমাম আবূ আবদুল্লাহ ইবনু মাজাহ (রহঃ) বলেন, আমি মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল আল-বুখারী (রহঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, উম্মু সুবয়াহ হলেন খাওলা বিনতু ক্বায়িস। আমি বিষয়টি আবূ যুরআহ (রহঃ)-এর নিকট উত্থাপন করলে তিনি বলেন, মুহাম্মাদ (রহঃ) সত্য বলেছেন।

383। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের জন্য একত্রে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতেন।

384। আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লাইলাতুল জ্বীন্ন-এ তাঁকে জিজ্ঞেস করেন, তোমার সাথে উযূর পানি আছে কি? তিনি বলেন, না, তবে একটি পাত্রে কিছু নবীয আছে। তিনি বলেনঃ খেজুরও পবিত্র এবং পানিও পবিত্র। অতঃপর তিনি উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলেন।

385। আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইবনু মাসঊদ (রাঃ) কে লাইলাতুল জ্বীন্ন-এ বলেনঃ তোমার সাথে পানি আছে কি? তিনি বলেন, না, তবে একটি পাত্রে নবীয আছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ খেজুরও পবিত্র এবং পানিও পবিত্র। আমাকে তা ঢেলে দাও। রাবী বলেন, আমি তাঁকে নবীয ঢেলে দেই এবং তিনি তা দিয়ে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করেন।

386। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যাক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এসে বললো, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমরা সমুদ্রে যাতায়াত করে থাকি এবং আমাদের সাথে খুব কম পানি থাকে। যদি আমরা তা দিয়ে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করি, তাহলে পিপাসার্ত হবো। আমরা কি সমুদ্রের পানি দিয়ে উযূ করতে পারি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: সমুদ্রের পানি পবিত্র এবং তার মৃত প্রাণীও হালাল।

387। ইবনুল ফিরাসী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি শিকারে যেতাম এবং আমার একটি পানির মশক ছিল, তাতে (পানের) পানি নিতাম এবং সমুদ্রের পানি দ্বারা উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতাম। আমি বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে উত্থাপন করলাম। তিনি বলেনঃ তার পানি পবিত্র এবং তার মৃত প্রাণীও হালাল।

388। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সমুদ্রের পানি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল। তিনি বলেনঃ তার পানি পবিত্র এবং তার মৃত প্রাণীও হালাল। ৩৮৮/১ (১) আবূল হাসান ইবনু সালামাহ, আলী ইবনুল হাসান আল-হাসতাজানী, আহমাদ ইবনু হাম্বল, আবূল কাসিম ইবনু আবূ যিনাদ, ইসহাক ইবনু হাযিম, উবাঈদুল্লাহ ইবনু মিকসাম, জাবির ইবনু আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ।

389। মুগীরাহ ইবনু শুবাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কোন প্রয়োজনে (পায়খানায়) বের হয়ে গেলেন। তিনি ফিরে এলে আমি পানির পাত্রসহ তাঁর কাছে গেলাম এবং তাঁকে পানি ঢেলে দিতে লাগলাম। তিনি তাঁর দু বাহু ধৌত করলেন, তারপর মুখমন্ডল ধৌত করলেন। তিনি তাঁর বাহুদ্বয় ধৌত করতে চাইলে তাঁর জুব্বার হাত দুটো সংকীর্ণ হওয়াতে তাঁর দু হাত জুব্বার নিম্নভাগ দিয়ে বের করলেন এবং তা ধুলেন, অতঃপর তাঁর মোজাদ্বয়ের উপরিভাগে মাসহ(মাসেহ) করলেন, তারপর আমাদের সাথে সালাত আদায় করলেন।

390। আর-রুবাই বিনত মুআবিয (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য উযূ (ওজু/অজু/অযু)র পানি নিয়ে এলাম। তিনি বলেনঃ পানি ঢালতে থাকো। আমি পানি ঢাললাম। তিনি তাঁর মুখমন্ডল ও দু হাতের কনুই পর্যন্ত ধৌত করলেন। তিনি পুনরায় পানি নিয়ে তা দিয়ে তাঁর মাথা সম্মুখ ও পেছন ভাগসহ মাসহ(মাসেহ) করলেন এবং তাঁর উভয় পা তিনবার করে ধৌত করেন।

391। সাফ্ওয়ান ইবনু আসসাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরে ও বাড়িতে থাকাকালে আমি তাঁর উযূ (ওজু/অজু/অযু)র পানি ঢেলে দিয়েছি।

392। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কন্যা রুকাইয়াহ (রাঃ)-এর দাসী উম্মু আইয়্যাশ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করাতাম। আমি দাঁড়িয়ে পানি ঢালতাম (এবং তিনি বসে উযূ করতেন)।

393। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলতেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ রাতের ঘুম থেকে জেগে তার হাত দু অথবা তিনবার না ধোয়া পর্যন্ত যেন পানির পাত্রে প্রবেশ না করায়। কেননা তোমাদের কেউ জানে না যে, তার হাত কোথায় রাত কাটিয়েছে।

394। সালিম তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ তার ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে তার হাত ধোয়ার পূর্বে যেন পানির পাত্রে প্রবেশ না করায়।

395। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ ঘুম থেকে উঠে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করার ইচ্ছা করলে সে যেন তার হাত ধোয়ার আগে তা তার উযূ (ওজু/অজু/অযু)র পানিতে প্রবেশ না করায়। কেননা সে জানে না যে, তার হাত কোথায় রাত কাটিয়েছে এবং সে তার হাত কিসের উপর রেখেছিল।

396। আল-হারিস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আলী (রাঃ) পানি নিয়ে ডাকলেন। তিনি তার দু হাত পাত্রে ঢুকানোর পূর্বেই ধুয়ে নিলেন। অতঃপর তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এরূপ করতে দেখেছি।

397। আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যাক্তি উযূর সময় আল্লাহ্‌র নাম স্মরণ করেনি তার উযূ (ওজু/অজু/অযু) হয়নি।

398। সাঈদ ইবনু যায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যার উযূ (ওজু/অজু/অযু) হয়নি তার সালাত হয়নি এবং যে ব্যাক্তি উযূর সময় বিসমিল্লাহ বলেনি তার উযূ হয়নি।

399। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যার উযূ (ওজু/অজু/অযু) হয়নি তার সালাত হয়নি এবং যে ব্যাক্তি উযূর সময় বিসমিল্লাহ বলেনি তার উযূ হয়নি।

400। সাহল ইবনু সা’দ আস-সাঈদী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যার উযূ (ওজু/অজু/অযু) হয়নি তার সালাত হয়নি এবং যে ব্যাক্তি উযূর সময় বিসমিললাহ বলেনি তার উযূ হয়নি। ৪/৪০০ (১) আবূল হাসান ইবনু সালামাহ, আবূ হাতিম, ঈসা (উবায়স) ইবনু মারহূম আল-কাত্তার, আবদুল মুহাইমিন ইবনু আব্বাস (রহঃ) সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। যে ব্যাক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি দরূদ পড়েনি তার সালাত এবং যে ব্যাক্তি আনসারদের ভালোবাসে না তার সালাত হয় না।

401। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উযূ (ওজু/অজু/অযু) করাকালে ডানদিক থেকে আরম্ভ করা পছন্দ করতেন। একইভাবে তিনি মাথার চুল আঁচড়ানো ও জুতা পরিধানও ডান থেকে শুরু করা পছন্দ করতেন।

402। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা উযূ (ওজু/অজু/অযু) করার সময় তোমাদের ডান থেকে শুরু করবে। ২/২০৪ (১) আবূল হাসান ইবনু সালামাহ, আবূ হাতিম ইয়াহ্ইয়া, ইবনু সালিহ ও ইবনু নুফায়ল প্রমুখ যুহায়র (রহঃ) থেকে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

403। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক আজলা পানি দিয়ে কুলি করতেন ও নাক পরিষ্কার করতেন।

404। আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলেন এবং এক আজলা পানি দিয়ে তিনবার কুলি করেন ও তিনবার নাক পরিষ্কার করেন।

405। আবদুল্লাহ ইবনু ইয়াযীদ আল-আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট এসে উযূ (ওজু/অজু/অযু)র পানি চান। আমি পানি নিয়ে তাঁর নিকট এলাম। তিনি এক আজলা পানি দিয়ে কুলি করলেন এবং নাক পরিষ্কার করলেন।

406। সালামাহ ইবনু ক্বায়স (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুললাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ তুমি যখন উযূ (ওজু/অজু/অযু) করবে তখন নাক ভালোভাবে পরিষ্কার করবে। আর যখন তুমি শৌচ করবে, তখন বেজোড় সংখ্যক ঢিলা ব্যবহার করবে।

407। লাক্বীত্ব ইবনু সাবরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমাকে উযূ (ওজু/অজু/অযু) সম্পর্কে অবহিত করুন। তিনি বলেনঃ তুমি পরিপূর্ণরূপে উযূ করো এবং নাকের ভেতর উত্তমরূপে পানি পৌঁছাও। কিন্তু তুমি সায়িম হলে তা করবে না।

408। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা দু বা তিনবার পানি দিয়ে উত্তমরূপে নাক পরিষ্কার করো।

409। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে, সে যেন উত্তমরূপে নাক পরিষ্কার করে এবং যে ব্যাক্তি শৌচ করে, সে যেন বেজোড় সংখ্যক ঢিলা ব্যবহার করে।

410। সাবিত ইবনু আবূ সাফিয়্যাহ আস-সুমালী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ জাফার (রহঃ)-কে জিজ্ঞেস করে বললাম, আমার নিকট জাবির ইবনু আবদুল্লাহ থেকে হাদীস বর্ণনা করা হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার করে উযূর অঙ্গ ধৌত করতেন? তিনি বলেন, হ্যাঁ। আমি বললাম, তিনি কি দুবার অথবা তিনবার করে উযূ (ওজু/অজু/অযু) অঙ্গ ধৌত করেছেন? তিনি বলেন, হ্যাঁ।

411। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে এক এক আজলা পানি দিয়ে উযূ (ওজু/অজু/অযু)র এক একটি অঙ্গ ধৌত করতে দেখেছি।

412। উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাবূক অভিযানকালে উযূ (ওজু/অজু/অযু)র প্রতিটি অঙ্গ একবার করে ধৌত করতে দেখেছি।

413। শাকীক ইবনু সালামাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উসমান ও আলী (রাঃ) কে তিনবার করে উযূর অঙ্গসমূহ ধৌত করতে দেখেছি এবং তারা দুজন বলেছেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উযূ (ওজু/অজু/অযু) এরূপই ছিল।

414। ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি তিনবার করে উযূ (ওজু/অজু/অযু)র অংঙ্গসমূহ ধৌত করেন এবং বলেন যে, এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর উযূ (ওজু/অজু/অযু)।

415। আয়িশাহ ও আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উযূ (ওজু/অজু/অযু)র অঙ্গগুলো তিনবার করে ধৌত করতেন।

416। আবদুল্লাহ ইবনু আবূ আওফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে উযূ (ওজু/অজু/অযু)র অঙ্গসমূহ তিন তিনবার করে ধৌত করতে দেখেছি এবং তিনি তাঁর মাথা একবার মাসহ(মাসেহ) করেন।

417। আবূ মালিক আল-আশআরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উযূ (ওজু/অজু/অযু)র অঙ্গগুলো তিন তিনবার করে ধৌত করতেন।

418। রুবাই বিনতু মুআব্বায ইবনু আফরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন তিনবার করে উযূ (ওজু/অজু/অযু)র অঙ্গগুলো ধৌত করতেন।

419। ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার করে উযূর অঙ্গগুলো ধৌত করার পর বলেনঃ এটা হল সেই উযূ (ওজু/অজু/অযু), যা ছাড়া আল্লাহ কারো সালাত কবূল করেন না। অতঃপর তিনি দুবার করে উযূর অঙ্গগুলো ধৌত করেন এবং বলেনঃ এই উযূই যথেষ্ট। অতঃপর তিনি তিনবার করে উযূর অঙ্গগুলো ধৌত করেন এবং বলেনঃ এটা হচ্ছে পূর্ণাঙ্গ উযূ। এটা আমার উযূ এবং আল্লাহ্‌র অন্তরঙ্গ বন্ধু ইবরাহীম (আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উযূ। যে ব্যাক্তি এভাবে উযূ করলো এবং উযূর শেষে বললোঃ (কালিমা শাহাদাত) আমি সাক্ষ্য দেই যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নাই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দেই যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর (প্রেরিত) বান্দা ও রাসূল, তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজাই খুলে দেয়া হবে এবং সে যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা জান্নাতে প্রবেশ করবে।

420। উবাই ইবনু কাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পানি নিয়ে ডাকলেন এবং উযূর অঙ্গসমূহ একবার করে ধৌত করলেন, অতঃপর বলেনঃ এটা হচ্ছে উযূর আবশ্যকীয় রূপ অথবা তিনি বলেন:এটা হল সেই ব্যাক্তির উযূ (ওজু/অজু/অযু) যে উযূ করেনি এবং যা ব্যতীত আল্লাহ তার সালাত কবূল করেন না। অতঃপর তিনি উযূর অঙ্গগুলো দুবার করে ধৌত করে বলেনঃ এটা এমন উযূ, যে ব্যাক্তি এভাবে উযূ করবে, আল্লাহ তাকে দ্বিগুণ পুরস্কার দিবেন। অতঃপর তিনি উযূর অঙ্গগুলো তিনবার করে ধৌত করেন এবং বলেনঃ এটা হল আমার উযূ এবং আমার পূর্ববর্তী নবী ও রাসূলগণের উযূ।

421। উবাই ইবনু কাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয় উযূ (ওজু/অজু/অযু)র জন্য ওয়ালাহান নামের একটি শয়তান আছে। অতএব তোমরা পানি প্রসূত সন্দেহ থেকে দূরে থাকো।

422। আমর ইবনু শুআয়ব (রহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক বেদুঈন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাঁকে উযূ (ওজু/অজু/অযু) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। তিনি তাকে তিনবার করে উযূর অঙ্গগুলো ধৌত করে দেখান, তারপর বলেনঃ এই হল উযূ। যে ব্যাক্তি এর চাইতে বেশি করলো সে অবশ্যই মন্দ কাজ করলো অথবা সীমালঙ্ঘন করলো অথবা জুলুম করলো।

423। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, আমি আমার খালা মাইমূনাহ -এর ঘরে রাত কাটালাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ঘুম থেকে উঠে) দাঁড়ান এবং মশক থেকে অল্প অল্প পানি নিয়ে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করেন। তখন আমিও উঠলাম এবং তিনি যেরূপ করলেন আমিও তদ্রূপ করলাম।

424। ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যাক্তিকে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে দেখে বলেনঃ অপচয় করো না, অপচয় করো না।

425। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সা’দ (রাঃ)-কে অতিক্রম করে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি উযূ (ওজু/অজু/অযু) করছিলেন। তিনি বলেনঃ এই অপচয় কেন? সা’দ(রাঃ) বলেন, উযূতেও কি অপচয় আছে? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ যদিও তুমি প্রবহমান নদীতে থাকো।

426। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের পূর্ণাঙ্গরূপে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করার নির্দেশ দিয়েছেন।

427। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছেনঃ আমি কি তোমাদের এমন জিনিসের পথ দেখাবো না যার দ্বারা আল্লাহ তোমাদের গুনাহসমূহ মুছে দিবেন এবং পুণ্যের পরিমাণ বাড়িয়ে দিবেন? তারা বলেন, হ্যাঁ, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! তিনি বলেনঃ কষ্টের সময় পূর্ণাঙ্গভাবে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করা, মসজিদের দিকে ঘন ঘন যাতায়াত করা এবং এক ওয়াক্তের সালাত আদায়ের পর পরবর্তী ওয়াক্তের সালাতের জন্য অপেক্ষারত থাকা।

428। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কষ্টের সময় পূর্ণাঙ্গভাবে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করা, মসজিদে যাতায়াত করা এবং এক ওয়াক্তের সালাত আদায়ের পর পরবর্তী ওয়াক্তের সালাতের জন্য অপেক্ষারত থাকা (এই তিনটি কাজ) গুনাহসমূহের কাফফারাস্বরূপ।

429। আম্মার ইবনু ইয়াসির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে তাঁর দাড়ি খিলাল করতে দেখেছি।

430। উসমান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলেন এবং তাঁর দাঁড়ি খিলাল করলেন।

431। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতেন, তখন তাঁর দাড়ি খিলাল করতেন এবং তাঁর আঙ্গুলের ফাঁকসমূহও দুবার খিলাল করতেন।

432। ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতেন, তখন তাঁর কপালের দুপাশ আস্তে আস্তে মলতেন। অতঃপর তিনি তাঁর আঙ্গুল দিয়ে নিচের দিক থেকে তাঁর দাড়ি খিলাল করতেন।

433। আইয়ূব আল-আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করার সময় তাঁর দাড়ি খিলাল করতে দেখেছি।

434। ইয়াহ্ইয়া (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ (রাঃ) কে বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিভাবে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতেন তা আপনি আমাকে দেখাতে পারেন কি? আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ বলেন, হ্যাঁ। তিনি উযূর পানি নিয়ে ডাকলেন এবং তিনি তার হাতে পানি ঢেলে উভয় হাত দুবার ধৌত করলেন, অতঃপর তিনবার কুলি করলেন ও নাকে পানি দিলেন, অতঃপর মুখমন্ডল তিনবার ধৌত করলেন, অতঃপর দু হাত কনুইসহ দুবার করে ধৌত করলেন। অতঃপর তিনি উভয় হাত দিয়ে সামনের দিক থেকে পেছনের দিক পর্যন্ত তার মাথা মাসহ(মাসেহ) করলেন। তিনি তাঁর মাথার সামনের দিক থেকে শুরু করলেন এবং দু হাত ঘাড় পর্যন্ত নিলেন, অতঃপর পেছন দিক থেকে দু হাত যেখান থেকে মাসহ(মাসেহ) শুরু করেন সেখানে নিয়ে আসেন, অতঃপর তার দু পা ধৌত করেন।

435। উসমান ইবনু আফফান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে দেখলাম এবং তিনি তাঁর মাথা একবার মাসহ(মাসেহ) করেন।

436। আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মাথা একবার মাসহ(মাসেহ) করেন।

437। সালামাহ ইবনুল আকওয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে দেখেছি। তিনি তাঁর মাথা একবার মাসহ(মাসেহ) করেন।

438। আর-রুবাই বিনত মুআব্বিয ইবনু আফরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উযূ (ওজু/অজু/অযু) করেন এবং তিনি তাঁর মাথা দুবার মাসহ(মাসেহ) করেন।

439। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উভয় কান মাসহ(মাসেহ) করেন। তিনি তাঁর তর্জনীদ্বয় তাঁর দু কানের ছিদ্রপথে প্রবেশ করান এবং তাঁর বুড়ো আঙ্গুলদ্বয় দু কানের বাইরের অংশে রাখেন। এভাবে তিনি দু কানের ভেতরের ও বাইরের অংশ মাসহ(মাসেহ) করেন।

440। আর-রুবাই (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উযূ (ওজু/অজু/অযু) করেন এবং তাঁর উভয় কানের ভেতর ও বাইরের অংশ মাসহ(মাসেহ) করেন।

441। আর-রুবাই বিনতু মুআব্বিয ইবনু আফরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উযূ (ওজু/অজু/অযু) করেন এবং তাঁর দুটি আঙ্গুল তাঁর দু কানের ছিদ্রপথে প্রবেশ করান।

442। মিক্বদাম ইবনু মাদীকারিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উযূ (ওজু/অজু/অযু) করেন, তাঁর মাথা মাসহ(মাসেহ) করেন এবং দু কান ভেতর ও বাইরের অংশ সমেত মাসহ(মাসেহ) করেন।

443। আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কর্ণদ্বয় মাথার অন্তর্ভুক্ত।

444। আবূ উমামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কর্ণদ্বয় মাথার অন্তর্ভুক্ত। তিনি তাঁর মাথা একবার মাসহ(মাসেহ) করতেন এবং নাক সংলগ্ন চোখের কোটরদ্বয়ও মাসহ(মাসেহ) করতেন।

445। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কর্ণদ্বয় মাথার অন্তর্ভুক্ত।

446। মুসতাওরিদ ইবনু শাদ্দাদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে দেখেছি। তিনি তাঁর হাতের কনিষ্ঠ আঙ্গুল দিয়ে তাঁর পায়ের আঙ্গুলসমূহ খিলাল করেন। ১/৪৪৬ (১)। আবূল হাসান ইবনু সালামাহ, খাল্লাদ ইবনু ইয়াহ্ইয়া আল-হুলওয়ানী কুতাইবাহ, ইবনু লাহীআহ থেকে এ সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

447। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তুমি সালাত আদায় করতে দাঁড়াতে চাইলে পূর্ণরূপে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করবে এবং তোমার হস্তদ্বয় ও পদদ্বয়ের আঙ্গুলসমূহের মাঝখানে পানি পৌঁছাবে।

448। লাক্বীত্ব ইবনু সাবিরাহ (সাবরাহ) (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা পূর্ণরূপে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করো এবং আঙ্গুলসমূহের মধ্যখান খিলাল করো।

449। আবদুল্লাহ ইবনু আবূ রাফি (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উযূ (ওজু/অজু/অযু) করার সময় তাঁর হাতের আংটি নাড়াচাড়া করতেন।

450। আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদল লোককে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে দেখলেন, কিন্তু তাদের পায়ের গোড়ালি (না ভেজায়) চমকাচ্ছিল। তিনি বলেনঃ পায়ের গোড়ালিসমূহের জন্য জাহান্নামের শাস্তি রয়েছে। তোমরা পূর্ণাঙ্গরূপে উযূ করো।

451। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পায়ের গোড়ালিসমূহের জন্য জাহান্নামের শাস্তি রয়েছে।

452। আবূ সালামাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আয়িশাহ (রাঃ) আবদুর রহমান (রাঃ) কে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে দেখে বলেন, পূর্ণাঙ্গরূপে উযূ করুন। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ পায়ের গোড়ালিসমূহের জন্য রয়েছে জাহান্নামের শাস্তি।

453। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ পায়ের গোড়ালিসমূহের জন্য রয়েছে জাহান্নামের শাস্তি।

454। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ পায়ের গোড়ালিসমূহের জন্য রয়েছে জাহান্নামের শাস্তি।

455। খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ, ইয়াযীদ ইবনু আবূ সুফ্ইয়ান, শুরাহবীল ইবনু হাসানাহ ও আমর ইবনুল আস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তারা সকলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেনঃ তোমরা পূর্ণরূপে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করো। পায়ের গোড়ালিসমূহের জন্য রয়েছে জাহান্নামের শাস্তি।

456। আবূ হাইয়্যা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আলী (রাঃ) কে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে দেখেছি। তিনি তার উভয় পায়ের পাতা গোছা পর্যন্ত ধৌত করেন; অতঃপর বলেন, আমি তোমাদেরকে তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উযূ দেখাতে চাই। তা

457। মিক্বদাম ইবনু মাদীকারিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উযূ (ওজু/অজু/অযু) করেন এবং তাঁর দুপা তিনবার করে ধৌত করেন।

458আর-রুবাই (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু আব্বাস (রাঃ) আমার নিকটে এলেন এবং আমাকে এ হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন অর্থাৎ যে হাদীস আমি বর্ণনা করি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উযূ (ওজু/অজু/অযু) করেন এবং তাঁর দু'পা ধৌত করেন। ইবনু আব্বাস বলেন, লোকেরা তো পা ধৌত করা ব্যতীত অন্য কিছু মেনে নিতে অস্বীকার করে। কিন্তু আমি আল্লাহ্‌র কিতাবে মাসহ(মাসেহ) ব্যতীত কিছুই পাই না।

459। ঊসমান ইবনু আফফান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যাক্তি আল্লাহ্‌র নির্দেশমত পূর্ণরূপে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করবে, তার ফরজ সালাতসমূহ এগুলোর মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহের কাফফারা হবে।

460। রিফাআহ ইবনু রাফি (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে বসা ছিলেন। তখন তিনি বলেনঃ আল্লাহ্‌র নির্দেশ মত পূর্ণাঙ্গরূপে উযূ (ওজু/অজু/অযু) না করলে কারো সালাত পরিপূর্ণ হবে না। সে তার মুখমন্ডল ও দু হাত কনুইসহ ধৌত করবে, তার মাথা মাসহ(মাসেহ) করবে এবং দুপা গোছা পর্যন্ত ধৌত করবে।

461। আল-হাকাম ইবনু সুফ্ইয়ান আস-সাকাফী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে দেখেন। তিনি উযূ শেষে এক আজলা পানি নিয়ে তা তাঁর লজ্জাস্থানে ছিটিয়ে দেন।

462। যায়দ ইবনু হারিসাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জিবরীল (আলাইহিস সালাম) আমাকে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করার পদ্ধতি শিখিয়েছেন। তিনি আমাকে আমার কাপড়ের নিচে পানি ছিটানোর নির্দেশ দিয়েছেন, উযূ করার পর পেশাব বের হওয়ার সন্দেহ থেকে বাঁচার জন্য। ২/৪৬২(১)। আবূল হাসান ইবনু সালামাহ, আবূ হাতিম, (পুনরায়) আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ আত-তিন্নীসী, ইবনু লাহীআহ (রহঃ) থেকে এ সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

463। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তুমি উযূ (ওজু/অজু/অযু) করার পর (তোমার লজ্জাস্থানে) পানি ছিটিয়ে দিও।

464। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উযূ (ওজু/অজু/অযু) করার পর তাঁর লজ্জাস্থানে পানি ছিটিয়ে দেন।

465। উম্মু হানী বিনতু আবূ তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোসল করতে দাঁড়ালেন। ফাতিমাহ তাকে আড়াল করে রাখেন। অতঃপর তিনি তাঁর কাপড় নিয়ে তা শরীরে পেচান (গা মোছেন)।

466। ক্বায়স ইবনু সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট এলে আমরা তাঁর গোসলের পানি রাখলাম এবং তিনি গোসল করেন। অতঃপর আমি তাঁর জন্য একটি রঙ্গীন চাঁদর নিয়ে এলাম। তিনি তাঁর শরীরে সেটি পেচালেন। আমি যেন তাঁর পেটের উপর ওয়ারস ঘাসের বর্ণের চিহ্ন দেখতে পাচ্ছি।

467। মাইমূনাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট একটি কাপড় নিয়ে এলাম, তখন তিনি নাপাকির গোসল করছিলেন। তিনি সেটি ফেরত দেন এবং তাঁর শরীর থেকে পানি ঝাড়তে থাকেন।

468। সালমান আল-ফারিসী থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উযূ (ওজু/অজু/অযু) করেন এবং তাঁর পরিধানের পশমী জুব্বা উল্টিয়ে তা দিয়ে তাঁর মুখমন্ডল মাসহ(মাসেহ) করেন।

469। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে কোন মুসলিম ব্যাক্তি উত্তমরূপে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করার পর তিনবার বলে (কালিমা শাহাদাত): আমি সাক্ষ্য দেই যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নাই, তাঁর কোন শারীক নাই, তিনি একক এবং আমি আরো সাক্ষ্য দেই যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা ও রাসূল, তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেয়া হবে। সে যে কোন দরজা দিয়ে ইচ্ছা তাতে প্রবেশ করবে। ১/৪৬৯ (১) আবূল হাসান ইবুন সালামাহ আল-কাত্তান, ইব্রাহীম ইবনু নাসর, আবূ নুআয়ম (রহঃ) থেকে এ সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

470। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে কোন মুসলিম ব্যাক্তি উত্তমরূপে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করার পর বলে (কালিমা শাহাদাত) "আমি সাক্ষ্য দেই যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নাই, তাঁর কোন শারীক নাই, তিনি একক এবং আমি আরো সাক্ষ্য দেই যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা ও রাসূল", তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেয়া হবে। সে যে কোন দরজা দিয়ে ইচ্ছা তাতে প্রবেশ করবে।

471। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট এলেন। আমরা একটি পিতলের পাত্রে তাঁর জন্য পানি পেশ করি। তিনি তা দিয়ে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করেন।

472। যায়নাব বিনতু জাহশ (রাঃ) বর্ণিত। তার পিতলের একটি পাত্র ছিল। তিনি বলেন, আমি তাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর চুল আচড়াতাম।

473। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পিতলের একটি পাত্রে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করেন।

474। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমিয়ে যেতেন, এমনকি তাঁর নাক ডাকতো। অতঃপর তিনি ঘুম থেকে উঠে সালাত আদায় করতেন এবং উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতেন না। আত-তানাফিসী (রহঃ) বলেন, ওয়াক্বী (রহঃ) বলেছেন, অর্থাৎ তিনি সিজদারত অবস্থায় (কখনো) ঘুমিয়ে যেতেন।

475। আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমাতেন, এমনকি তাঁর নাক ডাকতো। অতঃপর তিনি উঠে সালাত আদায় করতেন।

476। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এ ঘুম ছিল বসা অবস্থায়।

477। আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ চোখ হল পশ্চাঁদদ্বারের বন্ধনস্বরূপ। অতএব যে ব্যাক্তি ঘুমায় সে যেন উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে (যদি সালাত আদায় করতে চায়)।

478। সাফওয়ান ইবনু আসসাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে নাপাকির গোসল ব্যতীত তিন দিন পর্যন্ত মোজা না খোলার নির্দেশ দিয়েছেন, পায়খানা, পেশাব হলেও এবং ঘুমালেও।

479। বুসরাহ বিনত সাফ্ওয়ান থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ তার লিঙ্গ স্পর্শ করলে সে যেন উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে।

480। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ তার লিঙ্গ স্পর্শ করলে সে যেন অবশ্যই উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে।

481। উম্মু হাবীবাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যাক্তি তার লজ্জাস্থান স্পর্শ করলো সে যেন উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে।

482। আবূ আইউব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুললাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যাক্তি তার লজ্জাস্থান স্পর্শ করলো সে যেন উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে।

483। কায়স ইবনু তালক আল-হানাফী (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট পুরুষাঙ্গ স্পর্শ করার বিষয়ে জিজ্ঞেস করতে শুনেছি। তিনি বলেনঃ তাতে উযূ (ওজু/অজু/অযু)র প্রয়োজন নেই। কেননা তা তোমার দেহের একটি অঙ্গ।

484। আবূ উমামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে পুরুষাঙ্গ স্পর্শ করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল। তিনি বলেনঃ এটা তোমার শরীরের একটি অঙ্গমাত্র।

485। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আগুনে পাকানো জিনিস খাওয়ার পর তোমরা উযূ (ওজু/অজু/অযু) করো। ইবনু আব্বাস (আবূ হুরায়রাকে) বলেন, আমরা কি গরম পানি পানের পরও উযূ (ওজু/অজু/অযু) করবো? তিনি তাকে বলেন, হে ভ্রাতুষ্পুত্র! তুমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর হাদীস শুনলে তার সামনে দৃষ্টান্ত পেশ করো না।

486। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আগুন যাকে স্পর্শ করেছে তা খাওয়ার পর তোমরা উযূ (ওজু/অজু/অযু) করো।

487। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি তার দু কানে তার দু হাত রেখে বলতেন, এই দুকান বধির হয়ে যাক! যদি আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে না শুনে থাকি যে, আগুনে পাকানো জিনিস খাওয়ার পর তোমরা উযূ (ওজু/অজু/অযু) করো।

488। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বকরীর কাঁধের গোশত খাওয়ার পর তাঁর নিচে বিছানো কাপড়ে তাঁর উভয় হাত মোছেন, অতঃপর সালাতে দাঁড়ান এবং সালাত আদায় করেন।

489। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম , আবূ বাকর ও উমার রুটি ও গোশত খেলেন এবং তাঁরা উযূ (ওজু/অজু/অযু) করেননি।

490। যুহরী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ওয়ালীদ অথবা আবদুল মালিকের সামনে রাতের খাবার পেশ করলাম। ইত্যবসরে সালাতের ওয়াক্ত হয়ে গেলে আমি উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে উঠে দাঁড়ালাম। তখন জাফার ইবনু আমর ইবনু উমাইয়্যাহ (রহঃ) বলেন, আমি আমার পিতার সম্পর্কে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট উপস্থিত ছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগুনে পাকানো খাদ্য গ্রহণের পর সালাত আদায় করেন কিন্তু উযূ করেননি। আলী ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস বলেন, আমিও আমার পিতার সম্পর্কে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনিও তাই করেছেন।

491। উম্মু সালামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সামনে বকরীর রানের গোশত পরিবেশন করা হল। তিনি তা থেকে খেলেন, অতঃপর সালাত আদায় করলেন, কিন্তু পানি স্পর্শ করেননি।

492। সুওয়াইদ ইবনু নুমান আল-আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে খায়বারের উদ্দেশে রওয়ানা হলেন। তারা আস-সাহবা নামক স্থানে পৌঁছে আসরের সালাত আদায় করেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাবার নিয়ে ডাকলে ছাতু ছাড়া আর কিছুই পরিবেশন করা গেলো না। তাঁরা সকলে পানাহার করলেন। অতঃপর তিনি পানি নিয়ে ডাকলেন এবং মুখে পানি নিয়ে কুলি করলেন, তারপর দাঁড়িয়ে আমাদেরকে সাথে নিয়ে মাগরিবের সালাত আদায় করেন।

493। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বকরীর কাঁধের গোশত খেলেন, অতঃপর কুলি করেন এবং তাঁর উভয় হাত ধোয়ার পর সালাত আদায় করেন।

494। আল-বারাআ ইবনু আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে উটের গোশত খেয়ে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল। তিনি বললেনঃ তোমরা তা খেয়ে উযূ করবে।

495। জাবির ইবনু সামুরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে উটের গোশত খেয়ে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করার এবং ছাগলের গোশত খেয়ে উযূ না করার নির্দেশ দিয়েছেন।

496। উসায়দ ইবনু হুযায়র (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা বকরীর দুধ পান করার পর উযূ (ওজু/অজু/অযু) করবে না এবং উটের দুধ পান করার পর উযূ করবে।

497। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ তোমরা উটের গোশত খেয়ে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করো, বকরীর গোশত খেয়ে উযূ করো না এবং ছাগলের দুধপান করে উযূ করো না। তোমরা বকরীর খোঁয়াড়ে সালাত আদায় করতে পারো, কিন্তু উটের খোঁয়াড়ে সালাত আদায় করবে না।

498। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা দুধ পান করে কুলি করবে। কেননা তাতে চর্বি আছে।

499। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী উম্মু সালামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা দুধ পান করার পর কুলি করবে। কেননা তাতে চর্বি আছে।

500। সাহল ইবনু সা’দ আস-সাঈদী থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা দুধ পান করার পর কুলি করবে। কারণ তাতে চর্বি আছে।

501। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি বকরী দোহন করে তার দুধ পান করেন, অতঃপর পানি চেয়ে নিয়ে তা দিয়ে কুলি করেন এবং বলেনঃ তাতে চর্বি আছে।

502। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর এক স্ত্রীকে চুমা দিলেন, অতঃপর সালাত আদায়ের জন্য বেরিয়ে গেলেন, কিন্তু উযূ (ওজু/অজু/অযু) করেননি। আমি (উরওয়াহ) বললাম, আপনই সেই ব্যাক্তি। এতে তিনি (আয়িশাহ) হাসলেন।

503। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উযূ (ওজু/অজু/অযু) করার পর চুমা দিতেন, অতঃপর উযূ (ওজু/অজু/অযু) না করেই সালাত আদায় করতেন। বহুবার তিনি আমার সাথে এরূপ করেছেন।

504। আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে মযী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেনঃ তা নির্গত হলে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে হবে এবং বীর্য নির্গত হলে গোসল করতে হবে।

505। মিক্বদাদ ইবনুল আসওয়াদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে এমন ব্যাক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন, যে তার স্ত্রীর নিকটবর্তী হয়েছে কিন্তু বীর্যপাত হয়নি। তিনি বললেনঃ তোমাদের মধ্যে কারো এরূপ হলে সে যেন তার লজ্জাস্থান ধৌত করে এবং উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে।

506। সাহল ইবনু হুনায়ফ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার প্রচুর মযী নির্গত হতো, তাই বহুবার গোসল করতাম। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেনঃ এতে তোমার জন্য উযূ (ওজু/অজু/অযু)ই যথেষ্ট। আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! তা আমার কাপড়ে লেগে গেলে কী করতে হবে? তিনি বলেনঃ তোমার কাপড়ের যে অংশে তা লাগে দেখবে সেই অংশ এক আজলা পানি নিয়ে তা দ্বারা ধৌত করলেই তোমার জন্য যথেষ্ট।

507। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি উমার (রাঃ) কে সাথে করে উবাই ইবনু কাব (রাঃ) এর নিকট এলেন। তিনি তাদের সামনে বেরিয়ে এসে বলেনঃ আমার মযী নির্গত হয়েছিল, তাই আমার লজ্জাস্থান ধৌত করলাম এবং উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলাম। উমার(রাঃ) বললেন, তাই কি যথেষ্ট? তিনি বলেন, হ্যাঁ। উমার(রাঃ) বললেন, আপনি কি তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট শুনেছেন? তিনি বলেন, হ্যাঁ।

508। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে উঠলেন, অতঃপর পায়খানায় গেলেন, তারপর প্রয়োজন পূরণ করে মুখমন্ডল ও দুহাত ধৌত করে ঘুমালেন। ১/৫০৮ (১) আবূ বাকর ইবনু খাল্লাদ আল-বাহিলী, ইয়াহ্ইয়া ইবনু সাঈদ, শুবাহ, সালামাহ ইবনু কুহায়ল, বুকায়র, কুরায়ব, ইবনু আব্বাস নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

509। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি ওয়াক্তের সালাতের জন্য উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতেন এবং আমরা একই উযূতে কয়েক ওয়াক্তের সালাত পড়তাম।

510। বুরাইদাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি ওয়াক্তের সালাতের জন্য উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতেন। তবে মক্কা বিজয়ের দিন তিনি একই উযূ তে কয়েক ওয়াক্তের সালাত আদায় করেছেন।

511। আল-ফাযল ইবনু মুবাশশির (রহঃ) বলেন, আমি জাবির ইবনু আবদুল্লাহ-কে একই উযূ (ওজু/অজু/অযু)তে কয়েক ওয়াক্তের সালাত আদায় করতে দেখেছি। আমি বললাম, একি ব্যাপার? তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে এরূপ করতে দেখেছি। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেরূপ করেছেন, আমিও তদ্রূপ করলাম।

512। আবূ গুতায়ফ আল-হুযালী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনু উমার ইবনুল খাত্তাব এর নিকট মসজিদে তার বৈঠক শুনেছিঃ যখন সালাতের সময় উপস্থিত হল তিনি উঠে গিয়ে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করেন এবং সালাত আদায় করেন, অতঃপর তার মাজলিসে ফিরে আসেন। অতঃপর আসরের সালাতের সময় হলে তিনি উঠে গিয়ে উযূ করেন এবং সালাত আদায় করেন, অতঃপর তার মজলিসে ফিরে আসেন। পুনরায় মাগরিবের সালাতের সময় হলে তিনি উঠে গিয়ে উযূ করেন এবং সালাত আদায় করেন, অতঃপর তার মাজলিসে ফিরে আসেন। আমি বললাম, আল্লাহ আপনাকে সংশোধন করুন। প্রতি ওয়াক্ত সালাতের জন্য (নতুনভাবে) উযূ করা ফরজ না সুন্নাত? তিনি বলেন, তুমি কি ধারণা করেছ যে, এটা আমার নিজের থেকে করেছি? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বলেন, না। যদি আমি ফজরের সালাতের জন্য উযূ করতাম, তাহলে অবশ্যই তা দিয়ে সকল ওয়াক্তের সালাত আদায় করতাম, যাবত না আমার উযূ ভঙ্গ হয়। কিন্তু আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যাক্তি উযূ থাকা অবস্থায় প্রতি ওয়াক্ত সালাতের জন্য উযূ করবে, তার জন্য রয়েছে দশটি নেকী। আমি নেকীর প্রতই আগ্রহী।

513। সাঈদ ও আব্বাদ ইবনু তামীমের চাচার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে অভিযোগ করা হল যে, কোন ব্যাক্তি তার সালাতের মধ্যে কিছু পাওয়ার (বায়ু নির্গত হওয়ার) আশঙ্কা করছে। তিনি বলেনঃ (উযূ (ওজু/অজু/অযু) ভঙ্গ হয় না) যতক্ষণ না সে বায়ু নির্গত হওয়ার গন্ধ পায় অথবা শব্দ শোনে।

514। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সালাতের মধ্যে (বায়ু নির্গত হওয়ার) সন্দেহ হওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল। তিনি বলেনঃ সে শব্দ না শোনা অথবা দুর্গন্ধ না পাওয়া পর্যন্ত সালাত ত্যাগ করবে না।

515। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বায়ু নির্গত হওয়ার শব্দ কিংবা দুর্গন্ধ না পাওয়া পর্যন্ত উযূ (ওজু/অজু/অযু) নষ্ট হয় না বা পুনরায় উযূ করতে হয় না।

516। মুহাম্মাদ ইবনু আমর ইবনু আত্বা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সায়িব ইবনু ইয়াযীদ (রাঃ) কে তার কাপড় শুঁকতে দেখে জিজ্ঞেস করলাম, এরূপ করছেন কেন? তিনি বলেন, অবশ্যই আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছিঃ বায়ুর দুর্গন্ধ পাওয়া বা আওয়াজ শোনা ব্যতীত (পুনরায়) উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে হবে না।

517। আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট জঙ্গলের কুয়ার পানি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে শুনেছি, যা থেকে হিংস্র প্রাণী ও গৃহপালিত পশু পানি পান করে এবং তাতে নামে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ পানি দু কুল্লা পরিমাণ হলে তাকে কোন কিছুই অপবিত্র করে না। ১/৫১৭ (১) আমর ইবনু রাফি, আবদুল্লাহ ইবনু মুবারাক, মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক, মুহাম্মাদ ইবনু জাফার, উবাঈদুল্লাহ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু উমার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

518। আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পানি দু বা তিন কুল্লা পরিমাণ হলে, একে কোন কিছু অপবিত্র করে না। ২/৫১৮ (১) আবূল হাসান ইবনু সালামাহ, আবূ হাতিম, আবূল ওয়ালীদ, আবূ সালামাহ ও ইবনু আয়িশাহ আল-কুরাশী, হাম্মাদ ইবনু সালামাহ (রহঃ) সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

519। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। মক্কা ও মদিনার মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থিত কূপ বা জলাশয়, যা থেকে হিংস্র প্রাণী, কুকুর ও গাধা পানি পান করে এবং তার পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করা হল। তিনি বলেনঃ সেগুলো যা তাদের পেটে পুরেছে তা সেগুলোর জন্যই এবং তাছাড়া যা আছে তা আমাদের জন্য পবিত্র।

520। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা একটি পুকুরের পাড়ে গিয়ে পৌঁছলাম, যাতে একটি গাধার লাশ পতিত ছিল। তিনি বলেন, আমরা তার পানি ব্যবহার থেকে বিরত থাকি, যাবত না রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট এসে পৌঁছেন। তিনি বললেনঃ কোন জিনিস পানিকে অপবিত্র করে না। আমরা পানি পান করলাম পরিতৃপ্ত হলাম এবং তা আমাদের সাথে করে নিলাম।

521। আবূ উমামাহ আল-বাহিলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন জিনিস পানিকে অপবিত্র করে না, যতক্ষণ না তার ঘ্রাণে, স্বাদে ও রং-এ পরিবর্তন আসে।

522। লুবাবাহ বিনতুল হারিস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আলী (রাঃ) এর পুত্র হুসায়ন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কোলে পেশাব করে দিলে আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার পরিধেয় বস্ত্রটি আমাকে দিন এবং এটা ছাড়া অন্য একটি বস্ত্র পরে নিন। তিনি বললেনঃ দুগ্ধপোষ্য বালকের পেশাবের উপর পানি ছিটালেই চলবে কিন্তু বালিকার পেশাব ধুতে হবে।

523। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট একটি (দুগ্ধপোষ্য) শিশু আনা হল। সে তাঁর কোলে পেশাব করে দেয়। তিনি তাতে পানি ছিটিয়ে দেন এবং তা ধৌত করেননি।

524। উম্মু ক্বায়স বিনত মিহসান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার (দুগ্ধপোষ্য) শিশু পুত্রকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গেলাম। সে তখনও শক্ত খাবার ধরেনি। সে তাঁর কোলে পেশাব করে দেয়। তিনি পানি নিয়ে ডাকেন এবং তা তাতে ছিটিয়ে দেন।

525। আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ দুগ্ধপোষ্য শিশু পুত্র সন্তান হলে তার পেশাবে পানি ছিটালেই চলবে, কিন্তু কন্যা সন্তান হলে তার পেশাব ধুয়ে ফেলতে হবে। ৪/৫২৫ (১) আবূল ইয়ামান আল-মিসরী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইমাম শাফিঈ (রহঃ)-কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর হাদীস দুগ্ধপোষ্য শিশু পুত্র সন্তান হলে তার পেশাবে পানি ছিটাতে হবে এবং কন্যা সন্তান হলে তার পেশাব ধুয়ে ফেলতে হবে সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম যে, এখানে উভয়ের পানি (পেশাব হিসাবে) একই পর্যায়ের। তিনি বলেন, কেননা পুত্র সন্তানের পেশাব পানি ও মাটি থেকে নির্গত এবং কন্যা সন্তানের পেশাব গোশত ও রক্ত থেকে নির্গত। অতঃপর তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করেন, তুমি কি হৃদয়ঙ্গম করতে পেরেছ অথবা তিনি বলেন, তোমার কি বোধগম্য হয়েছে? আল-মিসরী বলেন, আমি বললাম, না। শাফিঈ (রহঃ) বলেন, আল্লাহ তাআলা আদম (আলাইহিস সালাম)-কে সৃষ্টি করার পর তাঁর পাঁজরের ক্ষুদ্র হাড় থেকে হাওয়া (আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে সৃষ্টি করা হয়। এ হিসাবে পুত্র সন্তানের পেশাব পানি ও মাটি থেকে তৈরি হয় এবং কন্যা সন্তানের পেশাব গোশত ও রক্ত থেকে নির্গত হয়। আল-মিসরী বলেন, শাফিঈ (রহঃ) আমাকে জিজ্ঞেস করেন, এবার তুমি কি বুঝতে পেরেছ? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি আমাকে বললেন, আল্লাহ এই জ্ঞান দ্বারা তোমাকে উপকৃত করুন।

526। আবূ সাম্‌হ(রাঃ) বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর খাদিম ছিলাম। তাঁর নিকট হাসান অথবা হুসায়ন (রাঃ)-কে নিয়ে আসা হল। সে তাঁর বুকের উপর পেশাব করে দেয়। উপস্থিত লোকেরা তা ধোয়ার উদ্যোগ নিলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তাতে পানি ছিটিয়ে দাও। কেননা শিশু কন্যা সন্তান হলে তার পেশাব ধৌত করতে হয় এবং পুত্র সন্তান হলে তার পেশাবের উপর পানি ছিটিয়ে দেয়াই যথেষ্ট।

527। উম্মু কুরয (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ (দুগ্ধপোষ্য শিশু) বালকের পেশাবের উপর পানি ছিটাতে হবে এবং বালিকার পেশাব ধুতে হবে।

528। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক বেদুঈন মসজিদে (নাববীতে) পেশাব করে দিল। কতক লোক তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্যত হল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাকে পেশাব করতে বাধা দিও না। অতঃপর তিনি এক বালতি পানি নিয়ে ডাকলেন এবং তা পেশাবের উপর ঢেলে দিলেন।

529। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক বেদুইন মসজিদে (নাববীতে) প্রবেশ করলো, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে বসা ছিলেন। সে বললো, হে আল্লাহ্! আমাকে ও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ক্ষমা করুন এবং আমাদের সাথে অপর কাউকে ক্ষমা না করুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে দিয়ে বললেনঃ তুমি একটি প্রশস্ত বিষয়কে সংকীর্ণ করে দিলে। অতঃপর সে ফিরে মোড় ঘুরে মসজিদের এক কোণায় গিয়ে পেশাব করতে লাগলো। বেদুঈন তার অশিষ্ট আচরণ উপলব্ধি করে আমার নিকট দাঁড়িয়ে বললো, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক। তিনি তাকে ধমকও দেননি এবং গালি-গালাজও করেননি। তিনি শুধু বললেনঃ এই মসজিদে, এতে পেশাব করা সংঙ্গত নয়, বরং তা নির্মাণ করা হয়েছে আল্লাহ্‌র যিকির ও সালাতের জন্য। অতঃপর তিনি এক বালতি পানি আনার নির্দেশ দেন এবং তা পেশাবের উপর ঢেলে দেয়া হয়।

530। ওয়াসিলাহ ইবনুল আসক্বা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক বেদুঈন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললো, হে আল্লাহ্! আমার উপর ও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর রহমত বর্ষণ করুন এবং বিশেষ করে আমাদের সাথে আপনার রহমতের মধ্যে অন্য কাউকে যোগ না করুন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমার জন্য দুঃখ হয়! তুমি প্রশস্তকে সংকীর্ণ করে ফেলেছ। রাবী বলেন, এরপর সে সরে গিয়ে পেশাব করতে লাগলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাহাবীগণ বলেন, থামো! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা তাকে ত্যাগ করো। অতঃপর তিনি এক বালতি পানি আনালেন এবং তা পেশাবের উপর ঢেলে দিলেন।

531। আবদুর রহমান ইবনু আওফ (রহঃ) এর উম্মু ওয়ালাদ থেকে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী উম্মু সালামাহ (রাঃ)-কে বললেন, আমার পরিধেয় বস্ত্রের আঁচল বেশ লম্বা। এ অবস্থায় আমি আবর্জনার স্থান দিয়ে যাতায়াত করি। উম্মু সালামাহ(রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তার পরের স্থান একে পবিত্র করে দেয়।

532। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বলা হল, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমরা মসজিদে যাতায়াতকালে আবর্জনার স্থানও অতিক্রম করি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ভূমির একাংশ অপরাংশকে পবিত্র করে।

533। আবদুল আশহাল গোত্রের এক মহিলা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট জানতে চেয়ে বললাম, আমার ও মসজিদের মাঝখানে আবর্জনাপূর্ণ কিছু পথ আছে। তিনি বলেনঃ তার পরবর্তী পথ হয়ত পরিচ্ছন্ন হবে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বলেনঃ এই অংশ ঐ অংশের সমান বা পরিপূরক।

534। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। মদিনার কোন এক পথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে নাপাক অবস্থায় তার সাক্ষাৎ হয়। তিনি নিজেকে লুকিয়ে ফেলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে হারিয়ে ফেলেন। অতঃপর তিনি ফিরে এলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করেনঃ হে আবূ হুরাইরাহ! তুমি কোথায় ছিলে? তিনি বলেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আপনি যখন আমাকে দেখেছেন তখন আমি নাপাক ছিলাম। এমতাবস্থায় গোসল না করে আপনার সাথে বসা আমি সঙ্গত মনে করিনি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মুমিন ব্যাক্তি নাপাক হয় না।

535। হুযাইফাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হয়ে এসে আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন। আমি নাপাক অবস্থায় ছিলাম। তাই আমি তাঁকে পাশ কাটিয়ে গোসল করতে গেলাম। অতঃপর আমি ফিরে এলে তিনি বলেনঃ তোমার কী হল? আমি বললাম, আমি নাপাক ছিলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মুসলিম ব্যাক্তি নাপাক হয় না।

536। আমর ইবনু মাইমূন (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সুলাইমান ইবনু ইয়াসার (রহঃ)-কে বীর্য লেগে যাওয়া পরিধেয় বস্ত্র সম্পর্কে জিজ্ঞেস করি যে, আমরা কি শুধু বীর্য লেগে যাওয়া অংশ ধৌত করবো, না গোটা কাপড়টই ধৌত করবো? সুলাইমান (রহঃ) বলেন, আয়িশাহ (রাঃ) বলেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরিধেয় বস্ত্রে বীর্য লেগে গেলে তিনি তা পরিহিত অবস্থায় ধুয়ে ফেলতেন, অতঃপর ঐ কাপড় পরেই সালাত আদায় করতে বেরিয়ে যেতেন এবং আমি তাতে ধোয়ার চিহ্ন দেখতে পেতাম।

537। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কখনো কখনো আমি নিজ হাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাপড় থেকে বীর্য খুঁটে তুলে ফেলতাম।

538। হাম্মাম ইবনুল হারিস (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আয়িশাহ (রাঃ) এর ঘরে একজন মেহমান আসলে তিনি তার জন্য একটি হলুদ বর্ণের তোষক বিছিয়ে দেয়ার নির্দেশ দিলেন। তাতে মেহমানের স্বপ্নদোষ হল এবং স্বপ্নদোষের চিহ্ন বিদ্যমান থাকা অবস্থায় সে তোষকটি ফেরত পাঠাতে লজ্জাবোধ করে। তাই সে তা পানিতে ডুবিয়ে ধৌত করার পর সেটি তাকে ফেরত পাঠায়। তখন আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, সে আমাদের কাপড়টি কেন নষ্ট করলো? তার জন্য তো আঙ্গুল দিয়ে তা খুঁটে ফেলাই যথেষ্ট ছিল। কখনো কখনো আমি আমার আঙ্গুল দ্বারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাপড় থেকে বীর্য খুঁটে তুলে ফেলেছি।

539। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি স্বচক্ষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাপড়ে বীর্যের চিহ্ন দেখে তা নিজ হাতে খুঁটে তুলে ফেলেছি।

540। মুআবিয়াহ ইবনু আবূ সুফ্ইয়ান (রঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি তার বোন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী উম্মু হাবীবাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে কাপড় পরে সহবাস করতেন তা পরেই কি তিনি সালাতও আদায় করতেন? তিনি বলেন, হ্যাঁ, যদি তাতে নাপাকী না লাগতো।

541। আবূ দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মাথা থেকে পানির ফোঁটা পতিত হওয়া অবস্থায় আমাদেরকে নিকট বের হয়ে আসেন। তিনি আমাদের এক কাপড়ে সালাত আদায় করালেন, যার দু প্রান্ত দু (কাঁধে) বিপরীত দিকে ছিল। তিনি সালাত শেষ করলে পর উমার ইবনুল খাত্তাব বলেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আপনি আমাদের সাথে এক কাপড়ে সালাত আদায় করালেন। তিনি বলেনঃ হ্যাঁ, তাতেই সালাত আদায় করেছি এবং এই কাপড় পরিহিত অবস্থায় আমি সহবাস করেছি।

542। জাবির ইবনু সামুরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যাক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে জিজ্ঞেস করলো, কোন ব্যাক্তি যে কাপড় পরে সহবাস করেছে সে কাপড় পরেই কি সে সালাত আদায় করতে পারে? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ, তবে তাতে নাপাকী দৃষ্টিগোচর হলে তা ধুয়ে নিতে হবে।

543। হাম্মাম ইবনুল হারিস (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জারীর ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) পেশাব করার পর উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলেন এবং তার চামড়ার মোজাদ্বয়ের উপর মাসহ(মাসেহ) করলেন। তাকে বলা হল, আপনিও কি এরূপ করেন? তিনি বলেন, আমাকে কোন্ জিনিস তাতে বাধা দিবে? অথচ আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এরূপ করতে দেখেছি। ইব্রাহীম (রহঃ) বলেন, জারীর -এর হাদীস শুনে লোকেরা বিস্মিত হতো। কারণ তিনি সূরাহ আল-মায়িদাহ নাযিল হওয়ার পর ইসলাম গ্রহণ করেছেন।

544। হুযাইফাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলেন এবং তার চামড়ার মোজাদ্বয়ের উপর মাসহ(মাসেহ) করলেন।

545। মুগীরাহ ইবনু শুবাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পায়খানায় যেতে বের হলেন। মুগীরাহ (রাঃ) এক পাত্র পানিসহ তাঁর অনুসরণ করেন। শেষে রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রয়োজন সেরে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করেন এবং তাঁর চামড়ার মোজাদ্বয়ের উপর মাসহ(মাসেহ) করেন।

546। ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি সা’দ ইবনু মালিক (রাঃ) কে চামড়ার মোজাদ্বয়ের উপর মাসহ(মাসেহ) করতে দেখে বলেন, আপনারাও এটা করছেন! এরপর তারা উভয়ে উমার (রাঃ) এর এর নিকট একত্র হলেন। সা’দ(রাঃ) উমার(রাঃ) কে বলেন, আমার এই ভাতিজাকে চামড়ার মোজাদ্বয়ের উপর মাসহ(মাসেহ) সম্পর্কে ফতওয়া দিন। উমার(রাঃ) বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে থাকাকালে আমাদের চামড়ার মোজার উপর মাসহ(মাসেহ) করতাম। আমরা একে আপত্তিকর দেখতে পাইনি। ইবনু উমার(রাঃ) বলেন, আর যদি সে পায়খানা সেরে আসে? তিনি বলেন, হ্যাঁ (সে ক্ষেত্রেও)।

547। আবদুল মুহাইমিন ইবনুল আব্বাস ইবনু সাহল আস্-সাইদী থেকে তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চামড়ার মোজাদ্বয়ের উপর মাসহ(মাসেহ) করেছেন এবং আমাদেরকেও মোজাদ্বয়ের উপর মাসহ(মাসেহ) করার নির্দেশ দিয়েছেন।

548। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সফরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিলাম। তিনি বলেন, পানি আছে কি? তিনি উযূ (ওজু/অজু/অযু) করেন এবং তাঁর চামড়ার মোজাদ্বয়ের উপর মাসহ(মাসেহ) করেন, অতঃপর সেনাবাহিনীর সাথে মিলিত হয়ে তাদের সালাতে ইমামত করেন।

549। আবূ বুরাইদাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। (হাবশা-রাজ) নাজাশী (রহঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে কালো রংয়ের একজোড়া চামড়ার মোজা উপহার পাঠান। তিনি তা পরিধান করেন, অতঃপর উযূ (ওজু/অজু/অযু) করেন এবং মোজাদ্বয়ের উপর মাসহ(মাসেহ) করেন।

550। মুগীরাহ ইবনু শুবাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মোজার উপরিভাগ ও নিম্নভাগ মাসহ(মাসেহ) করেন।

551। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যাক্তিকে অতিক্রম করে যাচ্ছিলেন। তখন সে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করছিল এবং তার চামড়ার মোজাদ্বয় ধৌত করছিল। তিনি তাকে হাতের ইশারায় নিষেধ করেন এবং বলেনঃ আমাকে মাসহ(মাসেহ) করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাত দিয়ে দেখিয়ে বলেনঃ এভাবে আঙ্গুলের মাথা থেকে নলার মূল পর্যন্ত এবং তিনি তাঁর আঙ্গুল দ্বারা রেখা টানেন (পায়ের নলা পর্যন্ত)।

552। সুরাইয়া ইবনু হানী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ (রাঃ) কে মোজাদ্বয়ের উপর মাসহ(মাসেহ) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলেন, তুমি আলীর নিকট যাও এবং তাকে জিজ্ঞেস করো। কারণ তিনি এ সম্পর্কে আমার চেয়ে অধিক জ্ঞাত। অতএব আমি আলী (রাঃ) এর নিকট পৌঁছে তাকে মাসহ(মাসেহ) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে মাসহ(মাসেহ) করার নির্দেশ দিয়েছেনঃ মুকীমের জন্য একাধারে এক দিন ও এক রাত এবং মুসাফিরের জন্য পূর্ণ তিন দিন পর্যন্ত।

553। খুযাইমাহ ইবনু সাবিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসাফিরের জন্য তিন দিন (মাসহ(মাসেহ) করার মেয়াদ) নির্ধারণ করেছেন। যদি প্রশ্নকারী আবেদন করতে থাকতো তাহলে তিনি হয়তো পাঁচ দিন নির্ধারণ করতেন।

554। খুযাইমাহ ইবনু সাবিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তিন দিন (রাবী বলেন) আমার ধারণা মতে তিনি তিন রাতও বলেছেন, মুসাফিরের জন্য মোজাদ্বয়ের উপর মাসহ(মাসেহ) করার মেয়াদ।

555। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেরা বললো, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! মোজার উপর মাসহ(মাসেহ) করার মেয়াদ কত? তিনি বলেনঃ মুসাফিরের জন্য একাধারে তিন দিন ও তিন রাত ও মুকীমের জন্য এক দিন ও এক রাত।

556। আবূ বাকারহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে মোজা পরিধানের পর উযূ ভঙ্গ হওয়ার ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসাফিরের জন্য একাধারে তিন দিন ও তিন রাত এবং মুকীমের জন্য এক দিন ও এক রাত মোজার উপর মাসহ(মাসেহ) করার অনুমতি দিয়েছেন।

557। উবাই ইবনু ইমারাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বাড়িতে উভয় ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)র দিকে মুখ করে সালাত আদায় করেছেন। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলেন, আমি কি মোজাদ্বয়ের উপর মাসহ(মাসেহ) করব? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ। রাবী বলেন, এক দিন? তিনি বলেনঃ দু' দিন। রাবী বলেন, তাহলে তিন দিন? এভাবে তিনি সাত (দিন) পর্যন্ত পৌঁছেন। তিনি তাকে বলেনঃ যত দিন তোমার ইচ্ছা হয়।

558। উক্ববাহ্ ইবনু আমির আল-জুহানী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি মিসর থেকে উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) এর নিকট আসেন। উমার (রাঃ) বলেন, কবে থেকে তুমি মোজা খোলনি? তিনি বলেন, এক জুমুআহর দিন থেকে পরবর্তী জুমুআহর দিন পর্যন্ত। তিনি বলেন, তুমি সুন্নাতকে পেয়ে গেছো।

559। মুগীরাহ ইবনু শুবাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উযূ (ওজু/অজু/অযু) করেন এবং সুতি মোজাদ্বয় ও জুতা জোড়ার উপর মাসহ(মাসেহ) করেন।

560। আবূ মূসা আল-আশআরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উযূ (ওজু/অজু/অযু) করেন এবং সুতি মোজাদ্বয় ও জুতা জোড়ার উপর মাসহ(মাসেহ) করেন। মুআল্লা (রহঃ) তার বর্ণিত হাদীসে বলেন, আমি অবশ্যি জানি যে, তিনি জুতা জোড়ার কথা বলেছেন।

561। বিলাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চামড়ার মোজাদ্বয় ও পাগড়ির উপর মাসহ(মাসেহ) করেছেন।

562। জাফার ইবনু আমর (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে চামড়ার মোজাদ্বয় ও পাগড়ির উপর মাসহ(মাসেহ) করতে দেখেছি।

563। যায়দ ইবনু সূহান (রাঃ) এর মুক্তদাস আবূ মুসলিম (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সালমান -এর সাথে ছিলাম। তিনি এক ব্যাক্তিকে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করার উদ্দেশে তার চামড়ার মোজাদ্বয় খুলতে দেখে তাকে বলেন, তুমি তোমার মোজাদ্বয়ের উপর, তোমার পাগড়ির উপর ও তোমার মাথার সম্মুখভাগ মাসহ(মাসেহ) করো। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মোজাদ্বয় ও পাগড়ির উপর মাসহ(মাসেহ) করতে দেখেছি।

564। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে কিতরী পাগড়ী পরিহিত অবস্থায় উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে দেখেছি। তিনি তাঁর পাগড়ির নিম্নভাগ দিয়ে তাঁর হাত প্রবেশ করিয়ে তাঁর মাথার সম্মুখভাগ মাসহ(মাসেহ) করেন এবং পাগড়ী খুলেননি।

565। আম্মার ইবনু ইয়াসির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আয়িশাহ (রাঃ) এর গলার হার হারিয়ে গেলে তিনি তার সন্ধানে পেছনে থেকে গেলেন। আবূ বাকর (রাঃ) আয়িশাহ (রাঃ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে লোকেদের অগ্রযাত্রায় বিলম্ব ঘটানোর জন্য তার উপর অসন্তুষ্ট হন। তখন মহামহিম আল্লাহ তায়াম্মুমের অনুমতি সম্বলিত আয়াত নাযিল করেন। রাবী বলেন, আমরা সেদিন থেকে কাঁধ পর্যন্ত মাসহ(মাসেহ) করে আসছি। রাবী বলেন, আবূ বাকর (রাঃ) আয়িশাহ (রাঃ) -এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলেন, আমি জানতাম না যে, তুমি এত কল্যাণময়ী।

566। আম্মার ইবনু ইয়াসির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে কাঁধ পর্যন্ত মাসহ(মাসেহ) করেছি।

567। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমার জন্য ভূপৃষ্ঠকে মসজিদে ও পবিত্রতা অর্জনের উপকরণ করা হয়েছে।

568। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আসমা (রাঃ) এর নিকট থেকে একটি হার ধার নেন এবং সেটি হারিয়ে যায়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেটির খোঁজে লোক পাঠান। ইত্যবসরে তাদের সালাতের ওয়াক্ত হয়ে গেলে তারা বিনা উযূ (ওজু/অজু/অযু)তে সালাত আদায় করেন। তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট ফিরে এসে এ ব্যাপারে অভিযোগ করেন। তখন তাইয়াম্মুমের আয়াত নাযিল হল। উসায়দ ইবনু হুযায়র আয়িশাহ (রাঃ) কে বলেন, আল্লাহ আপনাকে উত্তমরূপে পুরস্কৃত করুন। আল্লাহ্‌র শপথ! যখনই আপনার উপর কোন কঠিন বিপদ এসেছে, তখনই আল্লাহ তা থেকে আপনার জন্য নাযাতের পথ বের করে দিয়েছেন এবং তাতে মুসলিমদের জন্য বারাকাত রেখেছেন।

569। আবদুর রহমান ইবনু আবযা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যাক্তি উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) এর নিকট এসে বললো, আমি অপবিত্র হয়েছি, কিন্তু পানি পাচ্ছি না (এখন কী করি)? উমার বলেন, তুমি সালাত আদায় কর না। আম্মার ইবনু ইয়াসির (রাঃ) বলেন, হে আমীরুল মুমিনীন! আপনার কি স্মরণ আছে, আমি ও আপনি যখন এক যুদ্ধাভিযানে যোগদান করেছিলাম, আমরা অপবিত্র হয়ে পড়লাম, কিন্তু পানি পাইনি? তখন আপনি সালাত আদায় করেননি, কিন্তু আমি মাটিতে গড়াগড়ি করি, অতঃপর সালাত আদায় করি। এরপর আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাঁর নিকট ঐ ঘটনা বর্ণনা করি। তিনি বলেনঃ এটাই তোমার জন্য যথেষ্ট, অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দু হাত দিয়ে মাটিতে আঘাত করার পর তাতে ফুঁ দেন, তারপর দু হাত দিয়ে তাঁর মুখমন্ডল ও উভয় হাত মাসহ(মাসেহ) করেন।

570। আল-হাকাম ও সালামাহ ইবনু কুহাইল (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তারা উভয়ে আবদুল্লাহ ইবনু আবূ আওফা -এর নিকট তাইয়াম্মুম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আম্মার (রাঃ) কে এভাবে তাইয়াম্মুম করার নির্দেশ দিয়েছেন। এরপর তিনি তাঁর দু হাত দিয়ে মাটিতে আঘাত করেন, অতঃপর হস্তদ্বয় ঝেড়ে তার মুখমন্ডল ও (হাকওমের বর্ণনায়) উভয় হাত মাসহ(মাসেহ) করেন। সালামাহ (রহঃ) বলেন, তিনি তার দু হাতের কনুই সমেত মাসহ(মাসেহ) করেন। দুহাতের কনই ব্যতীত সহীহ কেননা কনুইয়ের কথা মুনকার।

571। আম্মার ইবনু ইয়াসির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। যখন মুসলিমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে তাইয়াম্মুম করেন, তখন তিনি মুসলিমদের নির্দেশ দিলে তারা তাদের হাতের তালু দ্বারা মাটিতে আঘাত করেন, কিন্তু মাটি থেকে কিছুই নেননি। এরপর তারা তাদের মুখমন্ডল একবার মাসহ(মাসেহ) করেন। তারা পুনর্বার তাদের হাতের তালু দ্বারা মাটিতে আঘাত করেন এবং তাদের হাতসমূহ মাসহ(মাসেহ) করেন।

572। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর যমানায় এক ব্যাক্তি মাথায় আঘাত পেয়ে আহত হল, অতঃপর তার স্বপ্নদোষ হল। তাকে গোসলের নির্দেশ দেয়া হলে সে গোসল করলো। ফলে সে সর্দিজ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলো। এ সংবাদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে পৌঁছলে তিনি বলেনঃ তারা তাকে হত্যা করেছে, আল্লাহ তাদের হত্যা করুন। অজ্ঞতার প্রতিষেধক কি জিজ্ঞেস নয়? আতা (রহঃ) বলেন, আমাদের নিকট এ সংবাদ পৌঁছেছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সে যদি তার শরীর ধৌত করতো এবং তার মাথা বাদ দিতো! আতা তার নিকট পৌছেছে একথা ব্যতীত হাসান।

573। মায়মূনা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য গোসলের পানি রেখে দিলে তিনি অপবিত্রতার গোসল করেন। তিনি তাঁর বাম হাত দিয়ে পানির পাত্রটি কাত করে তাঁর ডান হাতে পানি ঢালেন এবং দু হাতের তালু কব্জি পর্যন্ত তিনবার ধৌত করেন, অতঃপর নিজের লজ্জাস্থান ধৌত করেন, অতঃপর হস্তদ্বয় মাটিতে ঘষেন, অতঃপর কুলি করেন ও নাকে পানি দেন। তিনি তাঁর মুখমন্ডল তিনবার এবং দু' হাত তিন বার ধুলেন, অতঃপর নিজের সমস্ত শরীরে পানি ঢালেন, তারপর একটু সরে গিয়ে তাঁর দু পা ধৌত করেন।

574। জুমাই ইবনু উমাইর আত-তাইমী (রহঃ) বলেন, আমি আমার ফুফু ও খালার সাথে আয়িশাহ (রাঃ) এর নিকট প্রবেশ করলাম। আমরা তাকে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপবিত্রতার গোসলে কী কী করতেন? আয়িশাহ(রাঃ) বলেন, তিনি প্রথমে তাঁর উভয় হাতে তিনবার পানি ঢালতেন, অতঃপর হাত পানির পাত্রে ঢুকাতেন, অতঃপর তিনবার মাথা ধৌত করতেন, অতঃপর সমস্ত শরীরে পানি ঢালতেন, অতঃপর সালাতে দাঁড়াতেন। আর আমরা আমাদের মাথার চুল ঘন হওয়ায় তা পাঁচবার ধৌত করি।

575। জুবাইর ইবনু মুত্ইম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে অপবিত্রতার গোসল সম্পর্কে বাদানুবাদে লিপ্ত হল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি তো হাত ভর্তি করে তিনবার আমার মাথায় পানি ঢেলে থাকি।

576। আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যাক্তি তাকে নাপাকির গোসল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, তিনবার। লোকটি বললো, আমার মাথার চুল তো বেশ ঘন। তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাথার চুল তোমার চুলের চাইতে অধিক ঘন ছিল এবং তিনি (তোমার চাইতে) অধিক পবিত্রতা সচেতন ছিলেন।

577। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমি শীতপ্রধান অঞ্চলে কিভাবে নাপাকির গোসল করবো? তিনি বলেনঃ আমি তো হাতে পানি নিয়ে তিনবার আমার মাথায় ঢেলে থাকি।

578। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যাক্তি তাকে জিজ্ঞেস করলো, অপবিত্রতার গোসলে আমি আমার মাথায় কতবার পানি ঢালবো? তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাত ভর্তি করে তাঁর মাথায় তিনবার পানি ঢালতেন। লোকটি বললো, আমার চুল তো খুব লম্বা। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর মাথার চুল ছিল তোমার চুলের চাইতে অধিক (লম্বা) এবং (তিনি ছিলেন) অধিক পবিত্রতা সচেতন।

579। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাপাকির গোসলের পর উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতেন না।

580। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাপাকির গোসল করার এবং আমার গোসলের পূর্বে আমাকে জড়িয়ে ধরে উষ্ণতা লাভ করতেন।

581। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপবিত্র হতেন, তারপর গোসল না করেই ঘুমিয়ে যেতেন, অতঃপর উঠে গোসল করতেন।

582। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীর সাথে মিলিত হওয়ার প্রয়োজন মনে করলে তা পূর্ণ করতেন, অতঃপর সেই অবস্থায় গোসল না করে ঘুমিয়ে যেতেন।

583। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপবিত্র হতেন, অতঃপর গোসল না করে সেই অবস্থায় ঘুমিয়ে যেতেন। সুফ্ইয়ান (রহঃ) বলেন, আমি একদিন এ হাদীস বর্ণনা করলে ইসমাঈল (রহঃ) আমাকে বলেন, হে যুবক! হাদীসটি কোন কিছুর সাথে মজবুত করে বেঁধে রাখা হোক।

584। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপবিত্র হওয়ার পর ঘুমানোর ইচ্ছা করলে তার পূর্বে সালাতের উযূর ন্যায় উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে নিতেন।

585। ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। উমার ইবনুল খাত্তাব রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বললেন, আমাদের কেউ কি অপবিত্র অবস্থায় ঘুমাতে পারে? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ, সে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে নিলে পারবে।

586। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাতের বেলা অপবিত্র হতেন, অতঃপর ঘুমানোর ইচ্ছা করতেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে ঘুমানোর নির্দেশ দেন।

587। আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ স্ত্রী সহবাসের পর পুনরায় সহবাসের ইচ্ছা করলে সে যেন উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে নেয়।

588। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সকল স্ত্রীর সাথে সহবাস শেষে একবার গোসল করতেন।

589। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর গোসলের পানি প্রস্তুত করে রাখলাম। তিনি একই রাতে তাঁর সকল স্ত্রীর সাথে সহবাসের পর একবার গোসল করেন।

590। আবূ রাফি (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক রাতে তাঁর স্ত্রীগণের সাথে সহবাস করলেন। তিনি তাদের প্রত্যেকের সাথে সহবাসের পর পর গোসল করেন। তাঁকে বলা হল, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আপনি কেন একবার গোসল করলেন না? তিনি বলেনঃ সেটি অধিকতর বিশুদ্ধ, পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন।

591। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাপাক অবস্থায় কিছু খাওয়ার ইচ্ছা করলে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে নিতেন।

592। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে অপবিত্র ব্যাক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল যে, সে কি ঘুমাতে বা পানাহার করতে পারে? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ, যদি সে তার সালাতের উযূর ন্যায় উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে নেয়।

593। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাপাক অবস্থায় খাদ্য গ্রহণের ইচ্ছা করলে তাঁর দু হাত ধুয়ে নিতেন।

594। আবদুল্লাহ ইবনু সালামাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) এর নিকট গেলাম। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পায়খানায় গিয়ে তাঁর প্রাকৃতিক প্রয়োজন সেরে বের হয়ে এসে আমাদের সাথে রুটি ও গোশত খেতেন, কুরআন তিলাওয়াত করতেন এবং তাঁকে কোন জিনিস এ থেকে বিরত রাখতো না। রাবী কখনো বলতেন, গোসলের প্রয়োজন হয় এরূপ নাপাক অবস্থা ব্যতীত কোন জিনিস তাঁকে কুরআন তিলাওয়াত থেকে বিরত রাখতো না।

595। ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নাপাক ব্যাক্তি ও ঋতুবতী স্ত্রীলোক কুরআন তিলাওয়াত করবে না।

596। ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নাপাক ব্যাক্তি ও ঋতুবতী স্ত্রীলোক কুরআনের কিছুই তিলাওয়াত করবে না।

597। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয় প্রতিটি লোমকূপে নাপাকী আছে। অতএব তোমরা লোমকূপ উত্তমরূপে ধৌত করো এবং দেহের চামড়া পরিষ্কার করো।

598। আবূ আইউব আল-আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ পাঁচ ওয়াক্তের সালাত, এক জুমুআহ থেকে পরবর্তী জুমুআহ এবং আমানত ফেরত দেয়া এদের মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহের কাফফারাস্বরূপ। আমি বললাম, আমানত ফেরত দেয়ার অর্থ কী? তিনি বলেনঃ নাপাকির গোসল করা। কেননা প্রতিটি লোমকূপে নাপাকী আছে।

599। আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যাক্তি নাপাকির গোসলে তার দেহের একটি পশমও (না ধুয়ে) ছেড়ে দেয়, সে গোসলই করেনি। তাকে জাহান্নামের এই এই শাস্তি দেয়া হবে। আলী বলেন, এরপর থেকে আমি আমার চুলের সাথে শত্রতুা করে আসছি। তিনি তার মাথা মুন্ডন করতেন।

600। উম্মু সালামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উম্মু সুলাইম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এসে জিজ্ঞেস করেন যে, স্ত্রীলোকের যদি পুরুষ লোকের ন্যায় স্বপ্নদোষ হয় তবে কী করবে? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ, সে পানি (বীর্য) দেখতে পেলে যেন গোসল করে। আমি বললাম, তুমি তো নারীদের অবমাননা করলে। মহিলাদেরও কি স্বপ্নদোষ হয়? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমার হাত ধুলিমলিন হোক, তা না হলে সন্তান মাতৃসদৃশ হয় কেন?

601। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। উম্মু সুলাইম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট জিজ্ঞেস করেন, পুরুষের ন্যায় কোন নারীর স্বপ্নদোষ হলে সে কী করবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যদি তার স্বপ্নদোষ হয় এবং তার বীর্যপাত হয়, তবে তাকে গোসল করতে হবে। উম্মু সালামাহ (রাঃ) বলেন, হে আললাহর রাসূল! তাই কি হয়? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ। পুরুষের বীর্য গাঢ় সাদা এবং স্ত্রীলোকের বীর্য পাতলা হলদে রংবিশিষ্ট। সুতরাং এদের মধ্যে যার বীর্য আগে স্খলিত হয়, সন্তান তার সদৃশ হয়।

602। খাওলা বিনত হাকীম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করেন, পুরুষের ন্যায় নারীর স্বপ্নদোষ হলে তিনি বলেনঃ বীর্যপাত না হওয়া পর্যন্ত গোসল করা তার কর্তব্য নয়, যেমন পুরুষের বীর্যপাত না হলে গোসল করতে হয় না।

603। উম্মু সালামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমি আমার চুলের খোপা খুব শক্ত করে বেঁধে থাকি। আমি নাপাকির গোসল করতে কি তা খুলে নিব? তিনি বলেনঃ তোমার হাতে করে তিনবার মাথায় পানি ঢাললেই তা তোমার জন্য যথেষ্ট হবে। অতঃপর তুমি তোমার সমস্ত দেহে পানি ঢেলে দিবে এবং তাতেই তুমি পবিত্র হয়ে যাবে অথবা তিনি বলেছেনঃ এরূপ করলেই তুমি পবিত্র হয়ে গেলে।

604। উবাইদ ইবনু উমাইর (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আয়িশাহ জানতে পারেন যে, আবদুল্লাহ ইবনু আমর তার স্ত্রীদের (নাপাকির) গোসলের সময় তাদের মাথার চুলের খোপা খুলে ফেলার নির্দেশ দিয়ে থাকেন। তিনি বলেন, আমরের পুত্রের এ কাজে আশ্চর্য বোধ করছি। সে তার স্ত্রীগণকে তাদের মাথা কামিয়ে ফেলার নির্দেশ দেয় না কেন? অবশ্যই আমি ও আল্লাহ্‌র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই পাত্রের পানি দিয়ে একত্রে গোসল করেছি। আমি আমার হাতে তিনবার পানি নিয়ে আমার মাথায় ঢেলেছি, এর বেশি নয়।

605। আবূ হুরাইরাহ বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন বদ্ধ পানিতে নাপাকির গোসল না করে। তিনি বলেন, তাহলে সে কিভাবে গোসল করবে, হে আবূ হুরাইরাহ! তিনি বলেন, কোন পাত্রে পানি তুলে নিয়ে গোসল করবে।

606। আবূ সাঈদ আল-খুদরী(রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক আনসারীর নিকট দিয়ে গেলেন এবং তাকে ডেকে পাঠালেন। সে বেরিয়ে এলো এবং তখন তার মাথা থেকে পানি ঝরছিল। তিনি বলেনঃ সম্ভবত আমরা তোমাকে তাড়াহুড়ার মধ্যে ফেলেছি? সে বললো, হ্যাঁ, হে আল্লাহ্‌র রাসূল। তিনি বলেনঃ যখন তোমার তাড়াহুড়া করতে হয় এবং তোমার বীর্যপাত না হয়, তখন তোমার জন্য গোসল অপরিহার্য নয়, তুমি উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে নিবে।

607। আবূ আইউব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বীর্যপাত হলে গোসল ওয়াজিব হয়।

608। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, দু বিপরীত লিঙ্গ পরস্পর মিলিত হলেই গোসল ওয়াজিব হয়। আমি ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করেছি এবং আমরা গোসল করেছি।

609। উবাই ইবনু কাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইসলামের প্রাথমিক যুগে বীর্যপাতের ফলে গোসল ওয়াজিব ছিল না। অতঃপর আমাদেরকে গোসলের নির্দেশ দেয়া হয়।

610। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যখন কোন ব্যাক্তি তার (স্ত্রীর) চার অঙ্গের মধ্যবর্তী স্থানে উপবিষ্ট হয় এবং তার সাথে সঙ্গম করে, তখন গোসল ওয়াজিব হয়।

611। আমর ইবনু শুআইব (রহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দু বিপরীত লিঙ্গ পরস্পর মিলিত হলে এবং পুরুষাঙ্গের অগ্রভাগ অদৃশ্য হয়ে গেলেই গোসল ওয়াজিব হয়।

612। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যদি তোমাদের কেউ ঘুম থেকে জেগে উঠে ভিজা দেখতে পায় কিন্তু স্বপ্নদোষের কথা তার মনে না পড়ে তাহলে সে গোসল করবে। অপরদিকে তার স্বপ্নদোষের কথা স্মরণ হলে, কিন্তু ভিজা দেখতে না পেলে তার উপর গোসল ওয়াজিব নয়।

613। আবূ সামহ (রাঃ) বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমত করতাম। তিনি গোসলের ইচ্ছা করলে বলতেনঃ আমার দিকে পিঠ ফিরিয়ে দাঁড়াও। আমি তাঁর দিকে আমার পিঠ ফিরিয়ে দাঁড়াতাম এবং কাপড় লম্বা করে তা দিয়ে তাকে আড়াল করতাম।

614। উবাঈদুল্লাহ্ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নাওফাল (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি অনেকের কাছে জিজ্ঞেস করেছি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি সফররত অবস্থায় চাশতের সালাত আদায় করতেন? আমাকে অবহিত করার মত কাউকে আমি পেলাম না। অবশেষে উম্মু হানী বিনতে আবূ তালিব (রাঃ) আমাকে অবহিত করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের বছর সেখানে আসেন। তিনি আড়াল করার জন্য নির্দেশ দেন। সে মতে তাঁর জন্য আড়ালের ব্যবস্থা করা হয়। তিনি গোসল করেন, অতঃপর আট রাকআত (চাশতের) সালাত পড়েন।

615। আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন আড়ালের ব্যবস্থা না করে উন্মুক্ত ময়দানে কিংবা ছাদের উপরে গোসল না করে। কারণ সে তাঁকে না দেখলেও তিনি (আল্লাহ) তাকে দেখেন।

616। আবদুল্লাহ ইবনু আরকাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ পায়খানায় যাওয়ার মনস্থ করলে এবং সালাতের ইকামতও হতে থাকলে সে যেন প্রথমে পায়খানা সেরে নেয়।

617। আবূ উমামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে কোন ব্যাক্তিকে পেশাব-পায়খানার বেগ চেপে রেখে সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন।

618। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন পেশাব-পায়খানার বেগ নিয়ে সালাতে না দাঁড়ায়।

619। সাওবান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোন মুসলিমের পেশাব-পায়খানার বেগ হলে সে যেন তা থেকে হালকা না হয়ে সালাতে না দাঁড়ায়।

620। ফাতিমা বিনত আবূ হুবাইশ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট উপস্থিত হয়ে তার কাছে ঋতুস্রাব সম্পর্কে অভিযোগ করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তা এক প্রকার শিরাজনিত রোগ। সুতরাং তুমি লক্ষ্য রাখবে যে, তোমার হায়েয শুরু হলে সালাত পড়বে না। হায়েযকাল উত্তীর্ণ হলে পর তুমি পবিত্রতা অর্জন করবে, অতঃপর দু হায়েযের মধ্যবর্তীকাল সালাত পড়বে।

621। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফাতিমা বিনতে আবূ হুবাইশ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এসে বলেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমার অনবরত রক্তস্রাব হতেই থাকে এবং আমি পবিত্র হতে পারি না। আমি কি সালাত ছেড়ে দিবো? তিনি বলেনঃ না, বরং এটি হচ্ছে একটি শিরাজনিত রোগ এবং এটা হায়েযের রক্ত নয়। অতএব তোমার ঋতুস্রাব দেখা দিলে তুমি সালাত ছেড়ে দিবে। অতঃপর ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে গেলে তুমি রক্ত ধুয়ে ফেলে সালাত পড়বে।

622। উম্মু হাবীবা বিনতে জাহশ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার ইস্তিহাযার রক্ত খুব বেশি দিন ধরে নির্গত হতো। আমি এ ব্যাপারে সমাধান জানতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এলাম এবং তাঁকে বিষয়টি অবহিত করলাম। রাবী বলেন, আমি তাঁকে আমার বোন যয়নবের নিকট পেলাম। আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আপনার সাথে আমার একটি বিশেষ প্রয়োজন আছে। তিনি বলেনঃ তা কী, হে আমার প্রিয় শ্যালিকা? আমি বললাম, আমার খুব বেশি পরিমাণে দীর্ঘ সময় ধরে ইস্তিহাযার রক্ত আসে, যা আমাকে সালাত-সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) থেকে বিরত রাখে। এ ব্যাপারে আপনি আমাকে কী হুকুম করেন? তিনি বলেন, আমি তোমাকে তুলার পট্টি ব্যবহারের নির্দেশ দিচ্ছি। কেননা তা রক্ত প্রতিরোধক। আমি বললাম, তা পরিমাণে আরও বেশি। পরবর্তী বর্ণনা শারীকের হাদীসের অনুরূপ।

623। উম্মু সালামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট সমাধান জানতে চেয়ে বলেন, আমার অনবরত রক্তস্রাব হয়, আমি কখনো পবিত্র হই না। আমি কি সালাত ছেড়ে দিবো? তিনি বলেনঃ না, বরং তুমি তোমার হায়িযের মেয়াদে সালাত ত্যাগ করো। আবূ বাকর (রহঃ)-এর রিওয়ায়াতে আছেঃ প্রতি মাসে হায়েযের সমপরিমাণ মেয়াদ নির্ধারণ করো, অতঃপর গোসল করে কাপড়ের পট্টি বেঁধে সালাত পড়ো।

624। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফাতিমা বিনতে আবূ হুবাইশ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এসে বললেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমার রক্তস্রাব হতেই থাকে এবং আমি কখনো পবিত্র হতে পারি না। আমি কি সালাত ছেড়ে দিবো? তিনি বলেনঃ না, এটা এক প্রকার শিরাজনিত রোগ, এটা হায়িযের রক্ত নয়। তুমি তোমার হায়িযের মেয়াদকালে সালাত থেকে বিরত থাকো, অতঃপর গোসল করো এবং প্রতি ওয়াক্ত সালাতের জন্য উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে সালাত পড়ো, যদিও সালাতের পাটিতে রক্ত পড়ে।

625। আদী ইবনু সাবিত (রহঃ) থেকে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ইস্তিহাযায় (রক্তপ্রদরে) আক্রান্ত নারী তার হায়িযের মেয়াদকাল সালাত ত্যাগ করবে। এরপর সে গোসল করবে এবং প্রতি ওয়াক্ত সালাতের জন্য উযূ (ওজু/অজু/অযু) করবে এবং সালাত-সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) করবে।

626। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আবদুর রহমান ইবনু আওফ (রাঃ) এর স্ত্রী উম্মু হাবীবা বিনতে জাহশ এর ইস্তিহাযা (রক্তপ্রদর) হল। তিনি সাত বছর তার স্ত্রীত্বে ছিলেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এসে অভিযোগ করলে তিনি বলেনঃ এটা হায়েযের রক্ত নয়, বরং তা একটি শিরাজনিত রোগ। তোমার হায়েয শুরু হলে তুমি সালাত ছেড়ে দিবে এবং হায়েযের রক্ত বন্ধ হয়ে গেলে তুমি গোসল করে সালাত পড়বে। আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, এরপর তিনি প্রতি ওয়াক্ত সালাতের জন্য গোসল করে সালাত আদায় করতেন। তিনি তার বোন যয়নব বিনতে জাহ্শ (রাঃ) এর পানির পাত্রে বসতেন, এমনকি রক্তের লাল রংয়ে পানি রঞ্জিত হয়ে যেত।

627। হামনা বিনতু জাহশ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবদ্দশায় তার ইস্তিহাযা শুরু হলে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এসে বলেন, আমার প্রচুর পরিমাণে হায়েযের রক্ত আসে। তিনি তাকে বলেনঃ তুমি তুলার পট্টি ব্যবহার করো। হামনা তাকে বলেন, তা অত্যধিক। আমার সারাক্ষণই স্রাব হতে থাকে। তিনি বলেনঃ তাহলে স্রাব নির্গত স্থানে কাপড়ের পট্টি বাঁধো এবং প্রতি মাসের ছয় বা সাত দিন হায়েযের মেয়াদ গণ্য করো, যোহরের সালাত বিলম্বে (ওয়াক্তের শেষ দিকে) ও আসরের সালাত জলদি (ওয়াক্তের প্রথমভাগে) পড়ো এবং এই সালাতদ্বয়ের জন্য একবার গোসল করো। অনুরূপভাবে মাগরিবের সালাত বিলম্বে ও এশার সালাত জলদি পড়ো এবং এই দু সালাতের জন্য একবার গোসল করো। এ পন্থা আমার নিকট অধিকতর প্রিয়।

628। উম্মু কায়েস বিনতু মিহসান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পরিধানের কাপড়ে হায়েযের রক্ত লেগে যাওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলেনঃ তুমি তা পানি ও বরই পাতা দিয়ে ধৌত করো এবং কাঠি দিয়ে হলেও তা খুঁচিয়ে পরিষ্কার করো।

629। আসমা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট পরিধানের কাপড়ে হায়েযের রক্ত লেগে গেলে তার বিধান জিজ্ঞেস করা হল। তিনি বলেনঃ তা খুঁটে ফেলে ধৌত করো এবং তা পরেই সালাত পড়ো।

630। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের কারো হায়েয হওয়ার পর পবিত্র অবস্থায় পৌঁছে সে তার পরিধেয় থেকে রক্তের দাগ খুঁটে তুলে রগড়িয়ে ধৌত করতো, অতঃপর গোটা কাপড়ে পানি ছিটিয়ে দিতো, অতঃপর সেই কাপড়ে সালাত আদায় করতো।

631। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। জনৈকা মহিলা তাকে জিজ্ঞেস করলো, ঋতুবতী নারী কি কাযা সালাত আদায় করবে? আয়িশাহ (রাঃ) তাকে বলেন, তুমি কি হারূরিয়া (খারিজী) নারী? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর জীবদ্দশায় আমাদের হায়েয হতো, অতঃপর আমরা পবিত্র হতাম, কিন্তু তিনি আমাদেরকে কাযা সালাত আদায় করার নির্দেশ দেননি।

632। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ মাসজিদ থেকে চাটাইটি তুলে আমাকে এনে দাও। আমি বললাম, আমি তো হায়েযগ্রস্ত। তিনি বললেনঃ তোমার হায়েযের নাপাকী তো আর তোমার হাতে লেগে নেই।

633। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে ইতিকাফরত অবস্থায় তাঁর মাথা আমার নিকট এগিয়ে দিতেন। আমি তখন ঋতুবতী ছিলাম। আমি তাঁর মাথা ধুয়ে চুল আঁচড়ে দিতাম।

634। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হায়েযগ্রস্ত থাকাকালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মাথা আমার কোলে রেখে কুরআন তিলাওয়াত করতেন।

635। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের কারো হায়েয শুরু হলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে তার লজ্জাস্থানে শক্ত করে পাজামা বাঁধার নির্দেশ দিতেন, অতঃপর তিনি তার সাথে আলিঙ্গন করতেন। তোমাদের মধ্যে এমন কে আছে যে তার প্রবৃত্তিকে বশে রাখতে পারে, যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর প্রবৃত্তিকে বশে রাখতে সক্ষম ছিলেন

636। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের কেউ হায়েযগ্রস্ত হলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে তার (লজ্জাস্থানে) পাজামা শক্তভাবে বাঁধার নির্দেশ দিতেন, অতঃপর তাকে আলিঙ্গন করতেন।

637। উম্মু সালামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে একত্রে তাঁর লেপের ভিতর ছিলাম। নারীদের যে হায়েয হয় আমার তা শুরু হয়েছে বুঝতে পেরে, আমি লেপের ভিতর থেকে বেরিয়ে আসলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, তোমারা কী হায়েয হয়েছে? আমি বললাম, নারীদের যেরূপ হায়েয হয়, আমিও সেরূপ অনুভব করছি। তিনি বলেনঃ এটা তো এমন জিনিস, যা আল্লাহ আদম (আলাইহিস সালাম)-এর কন্যাদের জন্য নির্ধারণ করেছেন। উম্মু সালামাহ (রাঃ) বলেন, আমি বের হয়ে গিয়ে নিজের অবস্থা ঠিকঠাক করে ফিরে আসলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেনঃ এসো এবং আমার সঙ্গে লেপের মধ্যে ঢোকো। তিনি বলেন, আমি তাঁর সাথে লেপের মধ্যে ঢুকলাম।

638। মুআবিয়াহ ইবনু আবূ সুফ্ইয়ান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর স্ত্রী উম্মু হাবীবা (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম, তুমি ঋতুবতী অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে কিরূপ করো? তিনি বলেন, আমাদের কারো হায়েয শুরু হলে, তখনই তিনি তার পাজামা দু উরুর মাঝ বরাবর শক্ত করে বেঁধে নিতেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে শুয়ে পড়তেন।

639। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি ঋতুবতী স্ত্রীর সাথে সহবাস করলো অথবা স্ত্রীর মলদ্বারে সঙ্গম করলো অথবা গণকের নিকট গেলো এবং সে যা বললো তা বিশ্বাস করলো, সে অবশ্যই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর নাযিলকৃত জিনিসের (আল্লাহ্‌র কিতাবের) বিরুদ্ধাচরণ করলো।

640। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। যে ব্যাক্তি তার ঋতুবতী স্ত্রীর সাথে সঙ্গম করলো, তার সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সে এক দ্বীনার বা অর্ধ দ্বীনার দান-খয়রাত করবে।

641। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে তার হায়েযগ্রস্ত অবস্থায় বলেনঃ তোমার মাথার চুল খুলে গোসল করো। অধস্তন রাবী আলী (রহঃ)-এর বর্ণনায় আছেঃ তোমার মাথার চুল খুলে ফেলো।

642। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আসমা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট হায়েযের গোসল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। তিনি বললেনঃ তোমাদের যে কোন নারী বরই পাতাযুক্ত পানি নিয়ে যেন উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করে যতটা উত্তমরূপে সম্ভব; অতঃপর মাথায় পানি ঢেলে তা মর্দন করবে, যেন তার চুলের গোড়ায় পানি পৌঁছে যায়, অতঃপর তার গোটা শরীরে পানি ঢেলে দিয়ে এক টুকরা সুগন্ধিযুক্ত পশমী কাপড় অথবা তুলা দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করবে। আসমা বলেন, আমি তার সাহায্যে কিরূপে পবিত্রতা অর্জন করবো? তিনি বলেনঃ সুবহানাল্লাহ্! তার সাহায্যেই তুমি পবিত্রতা অর্জন করবে। আয়িশাহ চুপিসারে বলেন, তুমি তা দিয়ে রক্তের চিহ্ন মুছে ফেলবে। আসমা বলেন, আমি তাঁকে নাপাকির গোসল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলেনঃ তোমাদের যে কোন নারী তার গোসলের পানি নিয়ে যেন যতটা সম্ভব উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করে, অতঃপর তার মাথায় পানি ঢেলে তা উত্তমরূপে মর্দন করে, যাতে চুলের গোড়ায় পানি পৌঁছে যায়, অতঃপর গোটা দেহে পানি ঢালবে। আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আনসার মহিলারা কতই না উত্তম। ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন করতে লজ্জা তাদের বিরত রাখে না।

643। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ঋতুবতী অবস্থায় হাড় চুষতাম, অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেটি নিয়ে আমার মুখ লাগানো স্থানে তাঁর মুখ রেখে তা চুষতেন। আবার আমি ঋতুবতী থাকাকালে যে পাত্রে পানি পান করতাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেটি নিয়ে আমার মুখ লাগানো স্থানে তাঁর মুখ লাগিয়ে পান করতেন।

644। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। বাড়িতে ইহূদীরা ঋতুবতী মহিলাদের সাথে একত্রে বসতো না এবং পানাহার করতো না। রাবী বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বিষয়টি উত্থাপন করা হলে আল্লাহ তাআলা এ আয়াত নাযিল করেন (অনুবাদ) লোকে আপনাকে ঋতুস্রাব সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। আপনি বলুনঃ তা অশুচি। অতএব তোমরা ঋতুস্রাবকালে স্ত্রীসঙ্গ ত্যাগ করো (সূরাহ বাকারাঃ ২২২)। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা তাদের সাথে সঙ্গম ব্যতীত আর সবকিছুই করতে পারো।

645। উম্মু সালামাহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই মসজিদের বারান্দায় প্রবেশ করে উচ্ছঃস্বরে ঘোষণা করেন যে, নাপাক ব্যাক্তি ও হায়েযগ্রস্তা নারীর মসজিদে প্রবেশ করা হালাল নয়।

646। আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, যে নারী (হায়েয থেকে) পবিত্র হওয়ার পর সন্দেহজনক কিছু দেখতে পায় তার সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তা শিরাজনিত রোগ বা শিরাসমূহ থেকে নির্গত। মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াহ্ইয়া (রহঃ) বলেন, হাদীসে পবিত্র হওয়ার পর বলতে গোসল করার পর বুঝানো হয়েছে।

647। উম্মু আতিয়্যা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা হলদে ও মেটে বর্ণের স্রাব দেখলে তাকে কিছুই মনে করতাম না। [১] ২/৬৪৭ (১) উম্মু আতিয়্যা হতে (রাঃ) বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা হলদে ও মেটে বর্ণের স্রাবকে হায়েযের মধ্যে গণ্য করতাম না। মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াহ্ইয়া (রহঃ) বলেন, আমাদের কাছে এটাই গ্রহণযোগ্য।

648। উম্মু সালামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে নিফাসগ্রস্তা নারীরা চল্লিশ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতো। আমরা তখন আমাদের মুখমন্ডলে ওয়ারস ঘাস থেকে নিঃসৃত হলুদ বর্ণের রস কলপ হিসাবে ব্যবহার করতাম।

649। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিফাসগ্রস্তা নারীদের নিফাসকাল চল্লিশ দিন নির্ধারণ করতেন। এই মেয়াদের আগেই কেউ পবিত্র হলে তা স্বতন্ত্র ব্যাপার।

650। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন ব্যাক্তি তার হায়েযগ্রস্তা স্ত্রীর সাথে সহবাস করলে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে অর্ধ-দ্বীনার সদাকা (দান-খয়রাত) করার নির্দেশ দিয়েছেন।

651। আবদুল্লাহ ইবনু সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট ঋতুবতী স্ত্রীর সাথে একত্রে পানাহার করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলেনঃ তুমি তার সাথে একত্রে পানাহার করতে পারো।

652। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করতেন, আমি হায়েযগ্রস্তা অবস্থায় তাঁর পাশে অবস্থান করতাম। আমার গায়ে পরিহিত পশমী চাঁদরের কিছু অংশ তাঁর উপর পতিত থাকতো।

653। মায়মূনা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রেশমী চাঁদর পরিহিত অবস্থায় সালাত পড়লেন, যার কতকাংশ আমার দেহে এবং কতকাংশ তাঁর দেহে ছিল। তখন আমি হায়েযগ্রস্তা ছিলাম।

654। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিকট প্রবেশ করলেন। তার মুক্তদাসী পর্দার আড়ালে চলে গেল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করেন: তার কি হায়েয হয়েছে (বালেগ হয়েছে)? আয়িশাহ বলেন, হ্যাঁ। তিনি তাঁর পাগড়ীর একাংশ ছিঁড়ে তাকে দিয়ে বলেনঃ এটা দিয়ে তোমার মাথা ঢেকে নাও।

655। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: আল্লাহ প্রাপ্তবয়স্কা নারীর সালাত ওড়না পরা ব্যতীত কবূল করেন না।

656। মুআযা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। এক মহিলা আয়িশাহ (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করলো, ঋতুবতী নারী কি খেযাব লাগাতে পারে? তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আল্লাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট অবস্থানকালে খেযাব লাগাতাম। তিনি আমাদের তা থেকে বিরত থাকতে বলেননি।

657। আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার বাহুর একটি হাড় ভেঙ্গে গেল। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে জিজ্ঞেস করলে তিনি আমাকে পট্টির উপর মাসহ(মাসেহ) করতে নির্দেশ দেন। ১/৬৫৭ (১) আবূল হাসান ইবনু সালামাহ-আদ-দাবারী-আবদুর রাযযাক (রহঃ) থেকে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

658। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে হুসাইন ইবনু আলী (রাঃ) কে তাঁর কাঁধে বহন করতে দেখেছি এবং তার মুখের লালা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শরীরে গড়িয়ে পড়ছিল।

659। আব্দুল জাব্বার ইবনু ওয়াইল (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি দেখলাম যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে এক বালতি পানি আনা হল। তিনি তা থেকে কুলি করলেন এবং তাতে কস্তুরীসম বা কস্তুরীর চেয়েও সুঘ্রাণযুক্ত তাঁর মুখের লালা নিক্ষেপ করলেন এবং নাকের ময়লা বালতির বাইরে ঝেড়ে ফেললেন।

660। মাহমুদ ইবনুুর রবী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি কূপ থেকে পানি তোলা বালতিটি তুলে রেখে দিলেন, যার মধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মুখের লালা নিক্ষেপ করেছিলেন।

661। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোন নারী যেন অপর নারীর লজ্জাস্থানের দিকে না তাকায়। একইভাবে কোন পুরুষ যেন অপর পুরুষের লজ্জাস্থানের দিকে না তাকায়।

662। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি কখনো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর লজ্জাস্থানের দিকে তাকাইনি বা দেখিনি।

663। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাপাকির গোসল করলেন, তারপর দেখতে পেলেন যে, তাঁর শরীরের সামান্য অংশে পানি পৌঁছায়নি। তিনি এক আজলা পানি আনিয়ে তা সেই স্থানে প্রবাহিত করলেন। ইসহাক (রহঃ)-এর বর্ণনায় আছে: তিনি তাঁর পশম ভিজালেন।

664। আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যাক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এসে বললো, আমি নাপাকির গোসল করে ফজরের সালাত পড়লাম। তারপর সকাল হলে আমি দেখতে পেলাম যে, নখ পরিমাণ স্থানে পানি পৌঁছায়নি, রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তুমি স্থানটুকু তোমার হাত দিয়ে মাসহ(মাসেহ)্ করলেই তোমার জন্য তা যথেষ্ট হতো।

665। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যাক্তি উযু করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট আসলো, সে নখ পরিমাণ স্থান ছেড়ে দিয়েছিল, যেখানে পানি পৌঁছেনি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেনঃ তুমি ফিরে গিয়ে উত্তমরূপে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করো।

666। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যাক্তিকে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করার সময় তার পায়ের নখ পরিমাণ স্থান অধৌত বা শুকনা ছেড়ে দিতে দেখলেন। তিনি তাকে পুনর্বার উযূ করে সালাত পড়ার নির্দেশ দেন। রাবী বলেন, সে ফিরে গেল (এবং উযূ করে সালাত পড়লো)।

উৎস: Sunan Ibn Majah

WEBREATH · 11:11

«Should I not be a thankful servant?» — Sahih al-Bukhari

Breath is one for all: everyone lives by it, whoever they are and whatever they believe. Every day at 11:11 local time people stop for sixty seconds, breathe, and thank GOD for the breath — each in their own words, each within themselves. In that minute we are One Breath.

WEBREATH — the Minute at 11:11, your own local time — we are One Breath