হাদিস
ফিরে যান

সুনানে ইবনে মাজাহ 12 · The Chapters on Business Transactions

আপনার ভাষায় এখনো কোনো অনুবাদ নেই — ইংরেজি দেখাচ্ছে

2137। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মানুষের স্বোপার্জিত খাদ্যই হচ্ছে সর্বোত্তম খাদ্য। তার সন্তানও তার স্বোপার্জিত সম্পদ।

2138। মিকদাম ইবনে মাদীকারিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মানুষের স্বোপার্জিত আয়-রোজগারের চেয়ে উত্তম আয়-রোজগার আর কিছুই নাই। কোন ব্যক্তি তার নিজের জন্য, তার পরিবারের জন্য, তার সন্তানের জন্য এবং তার কর্মচারীর জন্য যা ব্যয় করে তা দান-খয়রাত হিসাবে গণ্য হয়

2139। ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বিশ্বস্ত ও সত্যবাদী মুসলিম ব্যবসায় কিয়ামতের দিন শহীদদের সাথে থাকবে।

2140। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ বিধবা ও নিঃস্বদের জন্য উপার্জনকারী ব্যক্তি আল্লাহর পথে জিহাদরত ব্যক্ত সমতুল্য এবং যারা রাতে (নফল) ইবাদত করে ও দিনে রোযা রাখে তাদেরও সমতুল্য।

2141। আবদুল্লাহ ইবনে খুবাইব (রাঃ) এর চাচা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা এক মজলিসে বসা ছিলাম। এমতাবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মাথায় পানির চিহ্নসহ উপস্থিত হলেন। আমাদের কেউ তাঁকে বললো, আপনাকে আমরা আজ খুব প্রফুল্ল দেখছি। তিনি বলেনঃ হ্যাঁ, আলহামদু লিল্লাহ। অতঃপর মজলিসের লোকজন ধন-সম্পদের আলোচনায় লিপ্ত হলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তাক্বওয়ার অধিকারী (খোদাভীরু) লোকেদের ধন-সম্পদের মালিক হওয়াতে কোন দোষ নেই। আর খোদাভীরু লোকেদের জন্য ধন-সম্পদ থেকে সুস্থতা অধিক উত্তম। মনের প্রফুল্লতাও নিয়ামতরাজির অন্তর্ভুক্ত।

2142। আবূ হুমাইদ আস-সাইদী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা পার্থিব জীবনোপকরণ লাভে উত্তম পন্থা অবলম্বন করো। কেননা যাকে যেজন্য সৃষ্টি করা হয়েছে তা তার জন্য সহজতর করা হয়েছে।

2143। আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে মুমিন ব্যক্তি যুগপৎ দুনিয়ার ব্যাপারেও চিন্তা করে এবং আখেরাতের ব্যাপারেও চিন্তা করে সে মহৎ চিন্তার অধিকারী। আবূ আবদুল্লাহ (ইবনে মাজা) বলেন, এ হাদীসটি গরীব। ইসমাঈল ব্যতীত আর কেউ এটি বর্ণনা করেননি।

2144। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে লোকসকল! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং উত্তম পন্থায় জীবিকা অন্বেষণ করো। কেননা কোন ব্যক্তিই তার জন্য নির্দ্ধারিত রিযিক পূর্ণরূপে না পাওয়া পর্যন্ত মরবে না, যদিও তার রিযিক প্রাপ্তিতে কিছু বিলম্ব হয়। অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং উত্তম পন্থায় জীবিকা অন্বেষণ করো, যা হালাল তাই গ্রহণ করো এবং যা হারাম তা বর্জন করো।

2145। কায়েস ইবনে আবূ গারাযা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে আমাদেরকে ‘সামাসিরা’ (দালাল) নামে ডাকা হতো। রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট দিয়ে অতিক্রমকালে আমাদের আগের নামের চেয়ে অধিক সুন্দর নামকরণ করেন। তিনি বলেনঃ হে ‘তাজের’ (ব্যবসায়ী) সম্প্রদায়! ক্রয়-বিক্রয়কালে শপথ ও বেহুদা কথাবার্তা হয়ে যায়। তাই কিছু দান-খয়রাত করে তা ধুয়ে (পরিচ্ছন্ন করে) নিও।

2146। রিফা‘আ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে রওয়ানা হলাম। লোকেরা উট ক্রয়-বিক্রয় করছিল। তিনি তাদের ডেকে বলেনঃ হে তাজের (ব্যবসায়ী) সম্প্রদায়! তারা চোখ তুলে ও ঘাড় উঁচিয়ে তাকালে তিনি বললেনঃ কিয়ামতের দিন ব্যবসায়ীদের পাপিষ্ঠ দুরাচাররূপে উঠানো হবে, তবে যারা আল্লাহকে ভয় করে, সৎভাবে কাজ (ব্যবসা) করে ও সত্য কথা বলে তারা ব্যতীত।

2147। আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ কোন সূত্রে আয় রোজগার প্রাপ্ত হলে সে যেন তাতে লেগে থাকে।

2148। নাফে ‘(রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সিরিয়া ও মিসরে ব্যবসায়িক পণ্য রপ্তানী করতাম। আমি ইরাকে পণ্য রপ্তানীর মনস্থ করে উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাঃ) এর নিকট এসে বললাম, হে উম্মুল মুমিনীন! আমি সিরিয়ায় পণ্য রপ্তানী করতাম, এবার ইরাকে তা রপ্তানী করতে চাই। তিনি বলেন, তুমি তা করো না, তোমার আগের গন্তব্য ঠিক রাখো। কারণ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহ কোন স্থান থেকে তোমাদের কারো রিযিকের ব্যবস্থা করে দিলে সে যেন ঐ স্থান ত্যাগ না করে, যতক্ষণ না সেই স্থান তার প্রতিকূল হয় অথবা অসহনীয় হয়।

2149। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ এমন কোননবী পাঠাননি যিনি ছাগল চরাননি। সাহাবীগণ তাঁকে বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনিও? তিনি বলেনঃ আমিও। কয়েক কীরাতের বিনিময়ে আমি মক্কাবাসীদের ছাগল চরিয়েছি। সুওয়াইদ (রাঃ) বলেন, প্রতিটি বকরী এক কীরাতের বিনিময়ে।

2150। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যাকারিয়্যা (আঃ) ছুতার ছিলেন।

2151। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ চিত্রকরদের কিয়ামতের দিন শাস্তি দেয়া হবে। তাদেরকে বলা হবে, তোমরা যা সৃষ্টি করেছো তাতে জীবন সঞ্চার করো।

2152। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ লোকেদের মধ্যে অধিক মিথ্যাবাদী হলো কাপড়ে রংকারী ও অংলকার নির্মাতারা।

2153। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমদানী পণ্য সরবরাহকারী ব্যবসায়ী রিযিক প্রাপ্ত হয় এবং মজুতদার অভিশপ্ত।

2154। মা‘মার ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে নাদলা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পাপিষ্ঠ ব্যক্তি ছাড়া কেউ মজুতদারি করে না।

2155। উমার উবনুল খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি মুসলিমদের বিরুদ্ধে (বা সমাজে) খাদ্যদ্রব্য মজুতদারি করে, আল্লাহ তাকে কুষ্ঠরোগ ও দরিদ্রতার কষাঘাতে শাস্তি দেন।

2156। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের তিরিশজন অশ্বারোহীকে এক ক্ষুদ্র সামরিক অভিযানে পাঠান। আমরা এক সম্প্রদায়ের নিকট পৌঁছে যাত্রাবিরতি করলাম এবং আমাদের মেহমানদারি করার জন্য তাদের অনুরোধ করলাম, কিন্তু তারা অস্বীকার করলো। ঘটনাক্রমে তাদের নেতা (বিষাক্ত প্রাণীর) হুলবিদ্ধ হলো। তারা আমাদের কাছে এসে বললো, তোমাদের মধ্যে কি এমন কেউ আছে, যে বিছার কামড়ে ঝাড়ফুঁক করতে পারে? আমি বললাম, হ্যাঁ, আমি পারি। তবে তোমরা আমাদেরকে একপাল ছাগল-ভেড়া না দিলে আমি ঝাড়ফুঁক করবো না। তারা বললো, আমরা তোমাদেরকে তিরিশটি বকরী দিবো। আমরা তা গ্রহণ করলাম এবং আমি তার উপর সাতবার ‘আলহামদু’ সূরাটি পাঠ করলাম। সে সুস্থ হয়ে উঠলো এবং আমরা ছাগলগুলো গ্রহণ করলাম। পরে এ ব্যাপারে আমাদের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হলে আমরা বললাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আমাদের না পৌঁছা পর্যন্ত তোমরা তাড়াহুড়া করো না। আমরা তাঁর নিকট উপস্থিত হওয়ার পর আমি যা করেছি তা তাঁকে অবহিত করলাম। তিনি বলেনঃ তুমি কিভাবে জানলে যে, এটা দ্বারা ঝাড়ফুঁকও করা যায়! তোমরা সেগুলো বণ্টন করে নাও এবং তোমাদের সাথে আমাকেও একটি ভাগ দাও। ২/২১৫৬ (১)। আবূ কুরাইব-হুমাইম-আবূ বিশর-ইবনে আবিল মুতাওয়াককিল-আবুল মুতাওয়াককিল-আবূ সাঈদ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। ৩/২১৫৬(২)। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার-মুহাম্মাদ ইবনে জাফর-শোবা-আবূ বিশর-আবুল মুতাওয়াককিল-আবূ সাঈদ (রাঃ)-নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। আবূ আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, সঠিক নাম হলো আবুল মুতাওয়াককিল (যিনি আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন )।

2157। উবাদা ইবনুস সামিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আহলে সুফ্ফার কিছু সংখ্যক লোককে কুরআন মাজীদ ও লেখা শিখাই। তাদের একজন আমাকে একটি ধনুক উপহার দেয়। আমি (মনে মনে) বললাম, এটি তেমন উল্লেখযোগ্য মাল নয়। এটির সাহায্যে আমি আল্লাহর পথে তীর মারতে পারবো। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বিষয়টি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলেনঃ তোমাকে জাহান্নামের জিঞ্জীর পরানো হলে তাতে তুমি খুশি হতে পারলে এটি গ্রহণ করো।

2158। উবাই বিন কাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এক ব্যক্তিকে কুরআন শিক্ষা দিলে সে আমাকে একটি ধনুক উপহার দেয়। আমি তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উল্লেখ করলে তিনি বলেনঃ তুমি এটি গ্রহণ করলে (জানবে যে,) তুমি জাহান্নামের একটি ধনুক গ্রহণ করেছো। অতএব আমি তা ফেরত দিলাম।

2159। আবূ মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুরের মূল্য, যেনার বিনিময় ও গণকের বখশিশ ভোগ করতে নিষেধ করেছেন।

2160। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুরের মূল্য ও পাঠার ভাড়া গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন।

2161। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিড়ালের মূল্য গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন।

2162। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রক্তমোক্ষণ করান এবং রক্তমোক্ষককে পারিশ্রমিক দেন। ইবনে মাজা (রহি.) বলেন, ইবনে আবূ উমার এ হাদীসের একক রাবী।

2163। আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রক্তমোক্ষণ করান এবং আমাকে নির্দেশ দিলে আমি রক্তমোক্ষকের পারিশ্রমিক পরিশোধ করি।

2164। আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রক্তমোক্ষণ করান এবং রক্তমোক্ষককে তার পারিশ্রমিক দেন।

2165। আবূ মাসউদ ‘উকবা ইবনে ‘আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রক্তমোক্ষকের উপার্জন ভোগ করতে নিষেধ করেছেন।

2166। হারাম ইবনে মুহাইয়্যাসা (রাঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রক্তমোক্ষকের উপার্জন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। তিনি তাকে তা ভোগ করতে নিষেধ করেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তার প্রয়োজনের কথা বললে তিনি বলেনঃ তুমি তোমার উটের আহার সংগ্রহে তা খরচ করো।

2167। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের বছর তথায় অবস্থানকালে বলেনঃ আল্লাহ ও তাঁর রাসূল মদ, মৃতজমত্ত, শুকর ও মূর্তির ক্রয়-বিক্রয় হারাম করেছেন। তাঁকে বলা হলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! মৃত জন্তুর চর্বি সম্পর্কে কী বলেন? কারণ এটি নৌকায় লাগানো হয়, চামড়া প্রক্রিয়াজাত করতে ব্যবহৃত হয় এবং লোকেরা তা দিয়ে বাতিও জ্বালায়। তিনি বলেনঃ না, এগুলোও হারাম। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহ ইহূদীদের ধ্বংস করুন। আল্লাহ তাদের জন্য চর্বি হারাম করলে তারা এটি গলিয়ে বিক্রয় করে এবং এর মূল্য ভোগ করে।

2168। আবূ উমামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গায়িকা ক্রয়-বিক্রয় করতে, তাদের উপার্জন ও তাদের মূল্য ভোগ করতে নিষেধ করেছেন।

2169। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুলামাসা ও মুনাবাযা পদ্ধতির ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ করেছেন।

2170। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুলামাসা ও মুনাবাযা নিষিদ্ধ করেছেন। অধস্তন রাবী সাহলের বর্ণনায় আরো আছে যে, সুফিয়ান বলেছেন, ‘মুলামাসা’ এই যে, ‘‘ক্রেতা পণ্য হাত দিয়ে স্পর্শ করলেই তা ক্রয় করা বাধ্যতামূলক হয়ে যায়, সে তা স্বচক্ষে না দেখলেও’’। আর ‘মুনাবাযা’ হলো এরূপ বলা যে, ‘‘তোমার হাতের বস্তু আমার দিকে নিক্ষেপ করো এবং আমি আমার হাতের বস্তু তোমার দিকে নিক্ষেপ করবো’’ (এভাবে ক্রয়-বিক্রয় অনুষ্ঠান)।

2171। ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কেউ যেন অপর কারো ক্রয়-বিক্রয়ের উপর ক্রয়-বিক্রয় না করে।

2172। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোন ব্যক্তি যেন তার ভাইয়ের ক্রয়-বিক্রয়ের উপর ক্রয়-বিক্রয় না করে এবং তার ভাইয়ের দরদামের উপর দরদাম না করে।

2173। ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাজাশ নিষিদ্ধ করেছেন।

2174। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা নাজাশ করবে না।

2175। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ স্থানীয় লোকজন যেন বহিরাগতদের পক্ষে ক্রয়-বিক্রয় না করে। তোমরা লোকেদেরকে স্বাধীনভাবে ছেড়ে দাও। আল্লাহ তাদের একজনের দ্বারা অপরজনকে রিযিক দান করেন।

2176। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ স্থানীয় লোকজন যেন বহিরাগতদের পক্ষে ক্রয়-বিক্রয় না করে। তোমরা লোকেদেরকে স্বাধীনভাবে ছেড়ে দাও। আল্লাহ তাদের একজনের দ্বারা অপরজনকে রিযিক দান করেন।

2177। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্থানীয় লোকেদেরকে বহিরাগতদের পক্ষে ক্রয়-বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন। রাবী বলেন, আমি ইবনে আব্বাস (রাঃ) -কে জিজ্ঞেস করলাম, বহিরাগতদের পক্ষে স্থানীয় লোকেদের বেচাকেনার অর্থ কী? তিনি বলেন, স্থানীয় লোকজন যেন তার দালাল না সাজে।

2178। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা বাজারের বাইরে গিয়ে পণ্যবাহীদের সাথে সাক্ষাত করে তা ক্রয় করো না। কেউ এভাবে এগিয়ে গিয়ে তা ক্রয় করলে পণ্যের বাহক বাজারে পৌঁছার পর তার বিক্রয় বাতিলের এখতিয়ার লাভ করে।

2180। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাজারের বাইরে গিয়ে বিক্রয়কারীদের পণ্য ক্রয় করতে নিষেধ করেছেন।

2181। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ দু’জন লোক একত্রে অবস্থান করে পরস্পর ক্রয়-বিক্রয় করলে তারা একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের এখতিয়ার বহাল থাকে অথবা একজন অপরজনকে এখতিয়ার দিলেও তা বহাল থাকে। অতএব একজন অপরজনকে এখতিয়ার প্রদান করার পর ক্রয়-বিক্রয় করলে তাদের ক্রয়-বিক্রয় অবধারিত হয়ে যায়। এ অবস্থায় ক্রয়-বিক্রয়কারী কোন পক্ষ তা প্রত্যাহার না করে পৃথক হয়ে গেলে তাদের ক্রয়-বিক্রয় বহাল হয়ে যায়।

2182। আবূ বার্‌যা আল-আসলামী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ক্রেতা-বিক্রেতা পৃথক না হওয়া পর্যন্ত তাদের এখতিয়ার বহাল থাকে।

2183। সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ক্রেতা ও বিক্রেতা পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের এখতিয়ার বহাল থাকে।

2184। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক বেদুইনের নিকট থেকে এক বোঝা উটের খাদ্য ক্রয় করেন। ক্রয়-বিক্রয় চূড়ান্ত হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমার (ক্রয়-বিক্রয় বহাল রাখার বা বাতিল করার) এখতিয়ার প্রয়োগ করতে পারো। বেদুইন বললো, আল্লাহ আপনাকে দীর্ঘজীবী করুন। আমি বিক্রয় বহাল রাখলাম।

2185। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ক্রয়-বিক্রয় কেবল পারস্পরিক সম্মতিতে অনুষ্ঠিত হয়।

2186। আবদুর রহমান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) আশআছ ইবনে কায়েস (রাঃ) এর নিকট রাষ্ট্রের গোলামসমূহের মধ্য থেকে একটি গোলাম বিক্রয় করে। পরে তার মূল্য নিয়ে তাদের মধ্যে মতভেদ হয়। ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেন, আমি বিশ হাজারে তোমার নিকট বিক্রয় করেছি। আর আশআছ ইবনে কায়েস (রাঃ) বলেন, আমি দশ হাজারে আপনার নিকট থেকে ক্রয় করেছি। ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেন, তুমি চাইলে আমি তোমার নিকট একটি হাদীস বলতে পারি, যা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট শুনেছি। কায়েস (রাঃ) বলেন, তা পেশ করুন। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে মূল্য নিয়ে বিরোধ বাধলে এবং এ ব্যাপারে কোন সাক্ষী না থাকলে এবং বিক্রীত পণ্যও অবিকল বিদ্যমান থাকলে বিক্রেতার কথাই গ্রহণযোগ্য হবে অথবা উভয়ে ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি রদ করবে। কায়েস (রাঃ) বলেন, আমি এই ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি রদ করলাম। অতএব তিনি গোলাম ফেরত দিলেন।

2187। হাকীম ইবনে হিযাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এক ব্যক্তি আমার নিকট থেকে এমন কিছু কিনতে চায়, যা আমার নিকট বিদ্যমান নাই। আমি কি তার সাথে বিক্রয় চুক্তিতে আবদ্ধ হতে পারি? তিনি বলেনঃ তোমার নিকট যা বিদ্যমান নেই, তা তুমি বিক্রয় করো না।

2188। আমর ইবনে শো‘আইব (রাঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে জিনিস তোমার নিকট বিদ্যমান নেই, তা বিক্রয় করা হালাল নয়। আর লোকসানের ঝুঁকি গ্রহণ না করা পর্যন্ত মুনাফা গ্রহণ করা হালাল নয়।

2189। আত্তাব ইবনে আসীদ (উসাউদ) (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাকে মক্কায় পাঠান তখন তাকে (লোকসানের) ঝুঁকি বহন না করা পর্যন্ত মুনাফা গ্রহণ করতে নিষেধ করেন।

2190। ‘উকবা উবনে ‘আমের অথবা সামুরা ইবনে জুনদুর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোন ব্যক্তি কোন জিনিস পরপর দু’জন ক্রেতার নিকট বিক্রয় করলে তা প্রথম ক্রেতা পাবে।

2191। হাসান ইবনে সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কর্তৃত্ব সম্পন্ন দু’ ব্যক্তি কোন জিনিস বিক্রয় করলে তা প্রথম ব্যক্তি (ক্রেতা) পাবে।

2192। ‘আমর ইবনে শু‘আইব (রাঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘উরবান ধরনের ক্রয়-বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন।

2193। ‘আমর ইবনে শু‘আইব (রাঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উরবান ধরনের ক্রয়-বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন। আবূ আবদুল্লাহ (ইমাম ইবনে মাজা) বলেন, উরবান ধরনের ক্রয়- বিক্রয় এই যে, যেমন কোন ব্যক্তি একশত দীনারে একটি পশু ক্রয় করে বিক্রেতাকে বায়নাস্বরূপ দু’ দীনার দিয়ে বললো, আমি পশুটি ক্রয় না করলে দীনার দু‘টি তোমারই থাকবে। আরো বলা হয়েছে যে, ক্রেতা কোন জিনিস ক্রয় করে বিক্রেতাকে এক দিরহাম অথবা তার কম বা বেশি দিয়ে বললো, আমি তা রেখে দিলে তো ঠিক আছে, অন্যথায় দিরহামটি তোমারই। আল্লাহই ভালো জানেন।

2194। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতারণামূলক ক্রয়-বিক্রয় এবং পাথর নিক্ষেপে নির্ধারিত ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ করেছেন।

2195। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতারণামূলক ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ করেছেন।

2196। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গবাদি পশুর গর্ভস্থ বাচ্চা প্রসবের পূর্বে, পশুর স্তনের দুধ পরিমাণ না করে, পলাতক গোলাম, গানীমাতের মাল বণ্টনের পূর্বে, দান-খয়রাত হস্তগত করার পূর্বে এবং ডুবুরীর বাজির ভিত্তিতে ক্রয়-বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন।

2197। ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পশুর গর্ভস্থ ভ্রুণের বাচ্চা ক্রয়-বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন।

2198। আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক আনসারী ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে কিছু চাইলে তিনি বলেনঃ তোমার ঘরে কি কিছু আছে? সে বললো, হ্যাঁ, একটি কম্বল আছে, যার একাংশ আমরা গায়ে দেই এবং অপরাংশ (বিছানা হিসাবে) বিছাই। আর আছে একটি পানপাত্র যাতে করে আমরা পানি পানি করি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ জিনিস দু’টি আমার নিকট নিয়ে এসো। রাবী বলেন, সে এগুলো তাঁর নিকট নিয়ে আসলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিনিস দু’টি নিজ হাতে নিয়ে বলেনঃ এই জিনিস দু’টি কে কিনবে? এক ব্যক্তি বললো, আমি এক দিরহামে তা ক্রয় করতে পারি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এর বেশী মূল্য কে দিবে? তিনি কথাটি দু’বার অথবা তিনবার বলেন। তখন এক লোক বললো, আমি দু’ দিরহামে তা কিনতে পারি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিনিস দু’টি তাকে দিয়ে দিরহাম দু’টি গ্রহণ করলেন। তিনি তা আনসারী লোকটিকে দিয়ে বললেনঃ এর একটি দিরহাম দিয়ে খাদ্য কিনে তোমার পরিবার-পরিজনকে দিয়ে আসো এবং অবশিষ্ট দিরহামটি দিয়ে কুঠার কিনে আমার নিকট নিয়ে আসো। লোকটি তাই করলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেটি নিয়ে তাতে নিজ হাতে কাঠের হাতল লাগিয়ে দিলেন এবং বললেনঃ যাও, জঙ্গল থেকে কাঠ সংগ্রহ করো। আমি যেন পনের দিনের মধ্যে তোমাকে না দেখি। সে কাঠ সংগ্রহ করে বিক্রয় করতে লাগলো। অতঃপর সে যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলো, তখন তার নিকট দশ দিরহাম সঞ্চিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এর কিছু দিয়ে খাদ্য কিনে নাও এবং কিছু দিয়ে কাপড়-চোপড় কিনে নাও। তিনি আরো বলেনঃ ভিক্ষার কারণে কিয়ামতের দিন তোমার মুখমন্ডলে অপমানের চিহৃ থাকার চেয়ে এটি তোমার জন্য অধিক উত্তম। চরম দরিদ্রতা, কঠিন ঋণের বোঝা অথবা রক্তপণ আদায়ের মত প্রয়োজন ব্যতীত যাচ্ঞা করা সংগত নয়।

2199। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন মুসলিমের (বা অনুতপ্ত ব্যক্তির অনুরোধে) চুক্তি ভঙ্গের সুযোগ দিলো, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার ক্রটি-বিচ্যুতি মাফ করবেন।

2200। আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর যুগে একবার জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেলো। লোকজন বললো, হে আল্লাহর রাসূল! জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেছে। অতএব আপনি আমাদের জন্য মূল্য বেঁধে দিন। তিনি বলেনঃ নিশ্চয় আল্লাহ মূল্য নিয়ন্ত্রণকারী, সংকোচনকারী, সম্প্রসারণকারী এবং রিযিক দানকারী। আমি আমার রবের সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাত করতে চাই যে, কেউ যেন আমার বিরুদ্ধে রক্তের ও সম্পদের কোনরূপ অভিযোগ উত্থাপন করতে না পারে।

2201। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে একবার জিনিসপত্রের মূল্য বৃদ্ধি পেলে লোকেরা বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি যদি মূল্য বেঁধে দিতেন। তিনি বলেনঃ আমি তোমাদের নিকট থেকে এমন অবস্থায় বিদায় নিতে ইচ্ছুক যে, তোমাদের কেউ আমার বিরুদ্ধে তার উপর কৃত যুলুমের দাবি না উঠাতে পারে।

2202। উসমান ইবনে আফ্‌ফান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ক্রয়-বিক্রয়ের সময় যে ব্যক্তি সহজতা প্রদর্শন করে আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।

2203। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি বিক্রয়কালে উদারচিত্ত, ক্রয়কালেও উদারচিত্ত এবং পাওনা আদায়ের তাগাদায়ও উদারচিত্ত আল্লাহ সেই বান্দার প্রতি দয়া করুন।

2204। বনূ আনমারের মাতা কাইলা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কোন উমরা আদায়কালে মারওয়া পাহাড়ের পাদদেশে আমি তাঁর নিকট উপস্থিত হয়ে বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি একজন ব্যবসায়ী নারী। আমি কোন জিনিস কিনতে চাইলে আমার ইপ্সিত মূল্যের চেয়ে কম দাম বলি। এরপর দাম বাড়িয়ে বলতে বলতে আমার ইপ্সিত মূল্যে গিয়ে পৌঁছি। আবার আমি কোন জিনিস বিক্রয় করতে চাইলে ইপ্সিত মূল্যের চাইতে বেশি মূল্য চাই। এরপর দাম কমাতে কমাতে অবশেষে আমার ইপ্সিত মূল্যে নেমে আসি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ হে কাইলা! এরূপ করো না। তুমি কিছু কিনতে চাইলে তোমার ইপ্সিত মূল্যই বলো, হয় তোমাকে দেয়া হবে নয় দেয়া হবে না। তিনি আরো বলেনঃ তুমি কোন কিছু বিক্রয় করতে চাইলে তোমার ইপ্সিত দামই চাও, হয় তুমি দিলে অথবা না দিলে।

2205। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এক যুদ্ধে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম। তিনি আমাকে বলেনঃ তোমার এই উটটি কি এক দীনারে বিক্রয় করবে? আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করুন। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি যখন মদীনায় পৌঁছাবো, তখন এটি আপনাদের উট হবে। তিনি বলেনঃ তাহলে এটি কি দু’ দীনারে বিক্রয় করবে? আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করুন। জাবির (রাঃ) বলেন, এভাবে তিনি প্রতিবার এক দীনার করে বাড়িয়ে বলতে থাকেন এবং প্রতিবারই বলেনঃ আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করুন। অবশেষে তিনি বিশ দীনার পর্যন্ত পৌঁছলেন। এরপর আমি মদীনায় পৌঁছে উটটির মাধা ধরে এটিকে নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গিয়ে হাযির হলাম। তিনি বলেনঃ হে বিলাল! গনীমাতের মাল থেকে একে বিশটি দীনার দাও। তিনি আমাকে বলেনঃ তুমি তোমার উট নিয়ে রওয়ানা হও এবং তা তোমার বাড়িতে নিয়ে যাও।

2206। আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্য উঠার আগে দরদাম করতে এবং দুগ্ধবতী পশু যবহ করতে নিষেধ করেছেন।

2207। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিন শ্রেণীর লোকের সাথে কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ কথা বলবেন না, তাদের প্রতি দৃষ্টিপাত করবেন না, তাদেরকে পবিত্র করবেন না এবং তাদের জন্য রয়েছে মর্মন্তুদ শাস্তি। (১) যার নিকট নির্জন প্রান্তরে অতিরিক্ত পানি আছে, সে তা পথিক মুসাফিরকে পান করতে বাধা দেয়। (২) যে বিক্রেতা আসরের পর তার পণ্য ক্রেতার নিকট বিক্রয় করে আর আল্লাহর নামে শপথ করে বলে যে, সে এতো এতো মূল্যে তা ক্রয় করেছে এবং ক্রেতা তার কথা বিশ্বাস করেছে, অথচ আসল ব্যাপার তার বিপরীত। (৩) যে ব্যক্তি কেবল পার্থিব স্বার্থ লাভের অভিপ্রায়ে শাসকের আনুগত্য করার শপথ করে, শাসক তাকে কিছু দিলে শপথ পূর্ণ করে এবং না দিলে শপথ ভঙ্গ করে।

2208। আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহ কিয়ামতের দিন তিন শ্রেণীর লোকের সাথে কথা বলবেন না, তাদের প্রতি দৃষ্টি দিবেন না, তাদেরকে পবিত্রও করবেন না এবং তাদের জন্য রয়েছে কষ্টদায়ক শাস্তি। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তারা কারা? তারা তো বিফল হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেনঃ (১) যে ব্যক্তি পায়ের গোছার নিচে পরিধেয় ঝুলিয়ে পরে, (২) যে ব্যক্তি দান করার পর খোঁটা দেয় এবং (৩) যে ব্যক্তি মিথ্যা শপথ করে নিজের মাল বিক্রয় করে।

2209। আবূ কাতাদাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা ক্রয়-বিক্রয় করাকালে শপথ করা থেকে বিরত থাকো। কেননা মিথ্যা শপথের ফলে পণ্য বিক্রয় হলেও তার বরকত নষ্ট হয়ে যায়।

2210। ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোন ব্যক্তি তাবীরকৃত খেজুর বাগান ক্রয় করলে তার ফল বিক্রেতার, তবে ক্রেতা শর্ত করে নিলে তা তার। ২/২২১০ (১) মুহাম্মাদ ইবনে রুমহ-লাইস ইবনে সাদ-নাফে-ইবনে উমার (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে অনুরূপ বর্ণিত আছে।

2211। ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোন ব্যক্তি তাবীরকৃত খেজুর বাগান বিক্রয় করলে তার ফল বিক্রেতাই পাবে, তবে ক্রেতা পূর্বেই শর্ত আরোপ করে থাকলে সে পাবে। কোন ব্যক্তি মালদার গোলাম খরিদ করলে তার মাল বিক্রেতা পাবে। তবে ক্রেতা পূর্বেই শর্ত আরোপ করে থাকলে তা সে পাবে।

2212। ইবন উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোন ব্যক্তি খেজুর বাগান ও গোলাম বিক্রয় করলে তা অবশ্য একত্রেও বিক্রয় করতে পারে।

2213। উবাদা ইবনুস সামিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফয়সালা করেছেন যে, খেজুর গাছের ফল তাবীরকারী পাবে, তবে ক্রেতা পূর্বেই শর্ত আরোপ করে থাকলে সে পাবে। আর ক্রীতদাসের মালও বিক্রেতার থাকবে। তবে ক্রেতা পূর্বেই শর্ত আরোপ করে থাকলে তা সে পাবে।

2214। ইবন উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ পুষ্ট হওয়ার আগে তোমরা ফল বিক্রয় করো না। তিনি ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়কেই নিষেধ করেছেন।

2215। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা ফল পুষ্ট হওয়ার আগে বিক্রয় করো না।

2216। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফল পুষ্ট হওয়ার আগে বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন।

2217। আনাস ইবন মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুষ্ট হওয়ার আগে ফল বিক্রয় করতে, কালো হওয়ার পূর্বে আঙ্গুর বিক্রয় করতে এবং শক্ত না হওয়া পর্যন্ত শস্য ইত্যাদি বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন।

2218। জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কয়েক বছরের মেয়াদে (ফলের বাগান) বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন।

2219। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোন ব্যক্তি ফলের বাগান বিক্রয় করার পর প্রাকৃতিক দুর্যোগে তা বিনষ্ট হলে, সে যেন তার ভাই (ক্রেতা) থেকে কিছু গ্রহণ না করে। তোমাদের কেউ কিসের বিনিময়ে তার মুসলিম ভাইয়ের মাল গ্রহণ করবে?

2220। সুওয়াইদ ইবনে কায়েস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ও মাখরাফা আল-আবদী হাজার এলাকা থেকে কাপড় নিয়ে এলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে আসেন এবং একটি পাজামার দর করেন। আমাদের নিকটেই ছিল একজন কয়েল, যে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে ওযন করে দিতো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেনঃ কয়েল! ওযন করো এবং কিছু বেশী দাও।

2221। মালেক আবূ সাওয়ান ইবনে ইমায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হিজরতের পূর্বে আমি তাঁর নিকট একটি পাজামা বিক্রয় করেছিলাম। তিনি ওযন করে দিলেন এবং আমাকে কিছু বেশীই দিলেন।

2222। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা যখন ওযন করে দিবে, তখন একটু বেশীই দিবে।

2223। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদীনায় আসেন তখন লোকেরা মাপে কারচুপি করতো। অতএব মহান আল্লাহ এ আয়াত নাযিল করেন (অনুবাদ) ‘‘মন্দ পরিণাম তাদের জন্য যারা মাপে কম দেয়’’ (৮৩ঃ১)। এরপর থেকে তারা ঠিকভাবে ওযন করে।

2224। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন, তখন সে খাদ্যশস্য বিক্রয় করছিল। তিনি খাদ্যশস্যের স্তুপের মধ্যে তার হাত ঢুকালেন এবং আদ্রতা অনুভব করলেন। রাসূলুল্লাহ বলেনঃ যে ব্যক্তি ধোঁকা দেয় সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।

2225। আবুল হামরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে যেতে দেখলাম, যার কাছে একটি পাত্রে খাদ্যশস্য ছিল। তিনি এর মধ্যে তাঁর হাত ঢুকালেন এবং বললেনঃ সম্ভবত তুমি ধোঁকা দিচেছা। যে আমাদের সাথে ধোঁকাবাজি করে, সে আমাদের নয়।

2226। ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোন ব্যক্তি খাদ্যশস্য ক্রয় করলে, সে যেন তা হস্তগত করার পূর্বে বিক্রয় না করে।

2227। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি খাদ্যশস্য ক্রয় করে সে যেন তা হস্তগত করার পূর্বে বিক্রয় না করে। আবূ আওয়ানা (রাঃ) তার হাদীসে বলেন, ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, আমি অন্যান্য সকল বস্ত্তকে খাদ্যশস্যের বিধানের অন্তভুর্ক্ত মনে করি।

2228। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাদ্যশস্য দু’বার ওজন না দেয়া পর্যন্ত তা বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন। একটি হলো বিক্রেতার ওজন, অপরটি হলো ক্রেতার ওজন।

2229। ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা বিভিন্ন কাফেলা থেকে অনুমানের ভিত্তিতে খাদ্যশস্য ক্রয় করতাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই খাদ্যশস্য স্থানান্তর করার পূর্বে পুনরায় বিক্রয় করতে আমাদের নিষেধ করেছেন।

2230। উসমান ইবনে আফ্‌ফান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বাজারে খেজুরের স্তুপ বিক্রয় করতাম। আমি বলতাম, আমার এই স্তুপ থেকে এই পরিমাণ খেজুর মেপে নাও। সে (ক্রেতা) নির্দিষ্ট পরিমাণ খেজুর ওজন করে নেয়ার পর আমি অবশিষ্ট অংশ রেখে দিতাম। এতে আমার মনে খটকার সৃষ্টি হলে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলেনঃ যেহেতু তুমি একটি নির্দিষ্ট পরিমাণের উল্লেখ করেছো, তাই তাকে মেপে দাও।

2231। আবদুল্লাহ ইবনে বুসর আল-মাযিনী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ তোমরা তোমাদের খাদ্যশস্য ওজন করো, তার মধ্যে তোমাদেরকে বরকত দেয়া হবে।

2232। আবূ আইউব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা তোমাদের খাদ্যশস্য ওজন করো, তার মধ্যে তোমাদেরকে বরকত দেয়া হবে।

2233। আবূ উসাইদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আন-নবীত নামক বাজারে গেলেন এবং কিছুক্ষণ তা পরিদর্শন করে বলেনঃ এটা তোমাদের উপযোগী বাজার নয়। অতঃপর তিনি অন্য একটি বাজারে গেলেন এবং তা পরিদর্শন করে বলেনঃ এটিও তোমাদের উপযোগী নয়। অতঃপর তিনি এই বাজারে ফিরে এলেন এবং কিছুক্ষণ পরিদর্শন করে বলেনঃ এটি তোমাদের জন্য উপযুক্ত বাজার। এখানে তোমরা কারচুপি পাবে না এবং এই বাজারে তোমাদের উপর খাজনা আরোপ করা হবে না।

2234। সালমান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি ভোরবেলা ফজরের নামায পড়তে রওয়ানা হয় সে ঈমানের পতাকা নিয়ে রওয়ানা হয়। আর যে ব্যক্তি সকাল বেলা বাজারের উদ্দেশে রওয়ানা হয়, সে শয়তানের পতাকা নিয়ে রওয়ানা হয়।

2235। উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি বাজারে প্রবেশকালে বলেঃ ‘‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ইউহ্য়ী ওয়া ইউমীতু ওয়া হুয়া হায়্যুন লা ইয়ামূতু বিয়াদিহিল খাইর কুল্লুহু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শায়ইন কাদীর’’ (আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নাই, তিনি এক, তাঁর কোন শরীক নাই, রাজত্ব তাঁরই এবং সমস্ত প্রশংসা তাঁরই। তিনি জীবন দান করেন এবং মৃত্যু দেন। তিনি চিরঞ্জীব, কখনো মরবেন না, তাঁর হাতেই সমস্ত কল্যাণ নিহিত এবং তিনি সব কিছুর উপর সর্বশক্তিমান), আল্লাহ তার আমলনামায় দশ লক্ষ পুণ্য লিপিবদ্ধ করেন, তাঁর দশ লক্ষ গুনাহ মাফ করেন এবং তার জন্য জান্নাতে একটি প্রাসাদ তৈরি করেন।

2236। সাখর আল-গামিদী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘‘হে আল্লাহ! আমার উম্মাতের জন্য তাদের ভোরবেলাকে বরকতময় করুন।’’ তিনি ক্ষুদ্র বা বৃহৎ সামরিক বাহিনী অভিযানে পাঠাতে চাইলে দিনের প্রথম ভাগেই তাদেরকে পাঠাতেন। রাবী (উমারা ইবনে হাদীদ) বলেন, সাখর (রাঃ) ছিলেন একজন ব্যবসায়ী। তিনি তার ব্যবসায়িক পণ্য দিনের প্রথম ভাগেই পাঠাতেন। ফলে তিনি সম্পদশালী হন এবং তার সম্পদে প্রাচুর্য আসে।

2237। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘‘হে আল্লাহ! বৃহস্পতিবার দিনের প্রথম ভাগে আমার উম্মাতকে বরকত দান করুন’’।

2238। ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ‘‘হে আল্লাহ! আমার উম্মাতের ভোরবেলায় বরকত দান করুন’’।

2239। অবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি স্তনে দুধ আটকে রাখা জন্তু ক্রয় করলো, তার জন্য তিন দিনের এখতিয়ার আছে (ক্রয় বহাল রাখা বা না রাখার)। সে তা ফেরত দিলে তার এক সা খেজুরও দিবে, গম নয়।

2240। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ লোকসকল! যে ব্যক্তি (দুধ জমা করে) স্তন ফুলানো পশু ক্রয় করবে তার জন্য তিন দিনের এখতিয়ার থাকবে। সে যদি তা ফেরত দেয় তবে তার সাথে দুধের সমপরিমাণ দুধ অথবা দুধের সমপরিমাণ গম দিবে।

2241। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, সত্যবাদী এবং সত্যবাদী বলে স্বীকৃত আবুল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বলেছেনঃ (দুধ আটকে রেখে) স্তন ফুলানো পশু বিক্রয় করা একটি প্রতারণা। আর মুসলিম ব্যক্তির জন্য প্রতারণা করা হালাল নয়।

2242। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রায় দিয়েছেন যে, গোলামের দায় বহন করলে তার উপার্জিত আয় ভোগ করা যায়।

2243। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি একটি গোলাম খরিদ করে তার দ্বারা কিছু উপার্জনও করে। অতঃপর গোলামের মধ্যে কিছু দোষ পেয়ে সে তা ফেরত দেয়। বিক্রেতা এসে বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সে আমার গোলাম দ্বারা কিছু উপার্জনও করেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ উপার্জন ভোগ দায় বহনের সাথে যুক্ত।

2244। সামুরা ইবনে জুনদুব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ গোলাম ফেরত দেওয়ার সময়সীমা তিন দিন।

2245। ‘উকবা ইবনে ‘আমের (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ চার দিনের পর ফেরত দানের সুযোগ নাই।

2246। ‘উকবা বিন ‘আমের (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ মুসলিম মুসলিমের ভাই। অতএব কোন মুসলিমের পক্ষে তার ভাইয়ের কাছে পণ্যের ক্রটি বর্ণনা না করে তা বিক্রয় করা বৈধ নয়।

2247। ওয়াসিলা ইবনুল আসকা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যেঃ যে ব্যক্তি পণ্যের ত্রুটি বর্ণনা না করে তা বিক্রয় করে, সে সর্বদা আল্লাহর গযবের মধ্যে থাকে এবং ফেরেশতারা সব সময় তাকে অভিসম্পাত করতে থাকে।

2248। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট যুদ্ধবন্দী আসলে তিনি তাদেরকে বিচ্ছিন্ন করা অপছন্দ করতেন। তাই তিনি (নিকট সম্পর্কযুক্ত ) সকল বন্দী একই পরিবারকে দান করতেন।

2249। আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দু’টি গোলাম দান করেন, যারা ছিল পরস্পর সহোদর ভাই। আমি তাদের একজনকে বিক্রয় করলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে জিজ্ঞেস করেনঃ তুমি গোলাম দু’টি কী করলে? আমি বললাম, আমি তাদের একজনকে বিক্রয় করেছি। তিনি বলেনঃ তাকে ফেরত আনো।

2250। আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি (বন্দী) মা ও তার সন্তানকে এবং দু’ সহোদর ভাইকে পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন করে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে অভিসম্পাত করেছেন।

2251। আবদুল মাজীদ ইবনে ওয়াহব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আদ্দা ইবনে খালিদ ইবনে হাওয়া (রাঃ) আমাকে বললেন, আমি কি তোমাকে সেই পত্র পড়ে শুনাবো না, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে লিখেছিলেন? রাবী বলেন, আমি বললাম, হ্যাঁ। অতএব তিনি আমার সামনে একখানি পত্র বের করলেন, যাতে লেখা ছিলঃ ‘‘আদ্দা ইবনে খালিদ ইবনে হাওয়া আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদের নিকট থেকে যা ক্রয় করেছেন এটা তার দলীল। সে তাঁর নিকট থেকে একটি গোলাম বা বাঁদী ক্রয় করেছে, যার কোন রোগ-ব্যাধি নাই, যা চুরিকৃতও নয় এবং হারাম মালও নয়। এ হলো দু’ মুসলিমের পারস্পরিক ক্রয়-বিক্রয়’’।

2252।‘ আমর ইবনে শু‘আইব (রহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের যে কেউ দাসী ক্রয় করলে সে যেন বলে, ‘‘হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট এর কল্যাণ এবং এর স্বভাবের মধ্যে যে কল্যাণ রেখেছেন তা প্রার্থনা করি। আমি আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করি’’, অতঃপর বরকতের জন্য দোয়া করবে। আর তোমাদের কেউ উট ক্রয় করলে সে যেন তার কুঁজের উপরিভাগ ধরে বরকতের জন্য দোয়া করে এবং পূর্বানুরূপ বলে।

2253। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নগদ আদান-প্রদান না হলে সোনার বিনিময়ে স্বর্ণমুদ্রা গ্রহণ সুদের অন্তর্ভুক্ত। গমের পরিবর্তে গম নগদ বিনিময় না হলে সূদ হবে। বার্লির সাথে বার্লির নগদ বিনিময় না হলে সুদ হবে। খেজুরের সাথে খেজুরের বিনিময় নগদ না হলে সুদ হবে।

2254। মুসলিম ইবনে ইয়াসার ও আবদুল্লাহ ইবনে উবাইদ (রাঃ) বলেন, কোন এক গির্জায় অথবা ইহূদীদের ইবাদতখানায় উবাদা ইবনুস সামিত (রাঃ) ও মুআবিয়া (রাঃ)-র সাক্ষাতকার অনুষ্ঠিত হয়। উবাদা ইবনুস সামিত (রাঃ) তাদের নিকট হাদীস বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে রূপার বিনিময়ে রূপা, সোনার বিনিময়ে সোনা, গমের বিনিময়ে গম, বার্লির বিনিময়ে বার্লি, খেজুরের বিনিময়ে খেজুর এবং লবণের বিনিময়ে লবণ বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন। তিনি আমাদেরকে গমের বিনিময়ে বার্লি এবং বার্লির বিনিময়ে গম ওজনে কম-বেশি করে যেভাবে ইচ্ছা নগদ বিক্রয় করার অনুমতি দিয়েছেন।

2255। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ রূপার সাথে রূপা, সোনার সাথে সোনা, যবের সাথে যব এবং গমের সাথে গম পরিমাণে সমান সমান ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় অনুমোদিত।

2256। আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে আহারের জন্য নিম্ন মানের খেজুর দিতেন। আমরা এই খেজুর পরিমাণে বেশি দিয়ে উত্তম খেজুর বদলে নিতাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এক সা‘ খেজুরের পরিবর্তে দু’ সা‘ খেজুর এবং এক দিরহামের পরিবর্তে দু’ দিরহাম গ্রহণ করা বৈধ নয়, বরং এক দিরহামের পরিবর্তে এক দিরহাম এবং এক দীনারের পরিবর্তে এক দীনার সমান ওযনে অতিরিক্ত না করে নেয়া যাবে।

2257। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) কে বলতে শুনেছি, দিরহামের বিনিময়ে দিরহাম, দীনারের বিনিময়ে দীনার (ওজনে সমান ও নগদ আদান প্রদান) হতে হবে। আমি বললাম, আমি ইবনে আব্বাস (রাঃ) কে অন্য রকম বলতে শুনেছি। আবূ সাঈদ (রাঃ) বলেন, আমি ইবনে আব্বাস (রাঃ) -এর সাথে সাক্ষাত করে বললাম, আমাকে অবহিত করুন যে, মুদ্রার বিনিময় সম্পর্কে আপনি যা বলেন, তা কি আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট শুনেছেন, না আল্লাহর কিতাবে পেয়েছেন? তিনি বলেন, আমি তা আল্লাহর কিতাবেও পাইনি এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকটও শুনিনি, বরং উসামা ইবনে যায়েদ (রাঃ) আমাকে অবহিত করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ধার-কর্জের ক্ষেত্রেই কেবল (কম বেশি করলে) সুদ হয়।

2258। আবুল জাওযা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনে আব্বাস (রাঃ) সম্পর্কে শুনলাম যে, তিনি মুদ্রার বিনিময় (বাকিতে কম-বেশী) করার বিষয়টি অনুমোদন করছেন এবং তার বরাতে তা বর্ণনা করা হচ্ছে। অতঃপর আমি জানতে পারলাম যে, তিনি এ মত প্রত্যাহার করেছেন। তাই আমি মক্কা শরীফে তার সাথে সাক্ষাত করে বললাম, আমি অবগত হয়েছি যে, আপনি আপনার মত প্রত্যাহার করেছেন। তিনি বলেন, হ্যাঁ। সেটি ছিল আমার ব্যক্তিগত অভিমত। আর এই আবূ সাঈদ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর বরাতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (বাকিতে) মুদ্রার বিনিময় নিষিদ্ধ করেছেন।

2259। উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নগদ লেনদেন না হলে সোনার সাথে রূপার (বাকীতে) বিনিময় সুদের অন্তর্ভুক্ত। আবূ বাকর ইবনে আবূ শাইবা (রাঃ) বলেন, আমি সুফিয়ান (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, তোমরা মনে রেখো, সোনার সাথে রূপার বিনিময়।

2260। মালেক ইবনে আওস ইবনে হাদাসান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একথা বলতে বলতে সামনে অগ্রসর হলাম, কে রৌপ্য মুদ্রা বদল করবে? তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ (রাঃ) তখন উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) -এর নিকট উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, আমাদেরকে তোমার সোনা দেখাও এবং (কিছুক্ষণ পর) আমাদের নিকট এসো। আমাদের কোষাধ্যক্ষ এসে গেলেই (তোমাকে তোমার প্রাপ্য) রূপা দিয়ে দিবো। তখন উমার (রাঃ) বলেন কক্ষনো নয়, আল্লাহর শপথ! হয় এখনই তুমি তাকে রৌপ্য মুদ্রা দিয়ে দাও, নতুবা তার সোনা তাকে ফেরত দাও। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ নগদ আদান-প্রদান না হলে সোনার সাথে রূপার বিনিময়ে সুদ হবে।

2261। আলী ইবনে আবূ তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দীনারের বিনিময়ে দীনার (স্বর্ণমুদ্রা) এবং দিরহামের বিনিময়ে দিরহামের (রৌপ্যমুদ্রা) লেনদেনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নেয়া যাবে না। কারো রূপার প্রয়োজন হলে সে যেন সোনার সাথে তা বিনিময় করে এবং কারো সোনার প্রয়োজন হলে সে যেন তা রূপার সাথে বিনিময়ে করে। তবে বিনিময়ের এই লেনদেন নগদ হতে হবে।

2262। ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উটের ব্যবসা করতাম। আমি রূপার পরিবর্তে সোনা, সোনার পরিবর্তে রূপা, দীনারের পরিবর্তে দিরহাম এবং দিরহামের পরিবর্তে দীনার গ্রহণ করতাম। আমি এ সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেনঃ যখন তুমি ঐগুলোর একটি গ্রহণ করবে এবং অপরটি প্রদান করবে, তখন তোমার সঙ্গীর সাথে লেনদেন চূড়ান্ত না করে পৃথক হবে না। (তিরমিযী, ১১৭৯) ২/২২৬২ (১)। ইয়াহইয়া ইবনে হাকীম-ইয়াকূব ইবনে ইসহাক-হাম্মাদ ইবনে সালামা-সিমাক ইবনে হারব-সাঈদ ইবনে জুবাইর-ইবনে উমার (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

2263। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলিমদের মধ্যে প্রচলিত বৈধ মুদ্রা অপরিহার্য প্রয়োজন ব্যতীত ভাঙ্গতে নিষেধ করেছেন।

2264। যুহরা গোত্রের মুক্তদাস যায়েদ আবূ আইয়্যাশ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি সাদ ইবনে আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) -কে যবের বিনিময়ে সাদা গম ক্রয় করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। সাদ (রাঃ) তাকে বলেন, এ দু’টির মধ্যে কোন্টি উত্তম? তিনি বলেন, সাদা গম। সা‘দ (রাঃ) আমাকে এরূপ লেনদেন করতে নিষেধ করেন এবং বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে শুকনা খেজুরের সাথে তাজা খেজুরের বিনিময় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে শুনেছি। তিনি জিজ্ঞেস করেনঃ তাজা খেজুর শুকালে কি কমে যায়? লোকজন বলেন, হ্যাঁ। তিনি এ জাতীয় লেনদেন করতে নিষেধ করেন।

2265। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ মুযাবানা ধরনের ক্রয়-বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন। বাগানের তাজা খেজুর গাছে থাকা অবস্থায় (সংগৃহীত) ওজনকৃত শুকনো খেজুরের বিনিময়ে বিক্রয় করাকে ‘মুযাবানা’ বলে। অনুরূপভাবে তাজা আঙ্গুর ওজনকৃত শুকনা আঙ্গুর (কিশমিশ)-এর বিনিময়ে বিক্রয় করা, ক্ষেতের শস্য (সংগৃহীত) ওজনকৃত শস্যের বিনিময়ে বিক্রয় করাও (মুযাবানার অন্তর্ভুক্ত)। তিনি এই প্রকারের লেনদেন করতে নিষেধ করেছেন।

2266। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুহাকালা ও মুযাবানা ধরনের ক্রয়-বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন।

2267। রাফে‘ ইবনে খাদীজ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুহাকালা ও মুযাবানা ধরনের লেনদেন করতে নিষেধ করেছেন।

2268। যায়েদ ইবনে সাবিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গাছের উপরিস্থিত খেজুর অনুমানে পরিমাণ নিরূপণ করে বিক্রয় করার অনুমতি দিয়েছেন।

2269। যায়েদ ইবনে সাবিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গাছের উপরিস্থিত খেজুর অনুমানে পরিমাণ নির্দ্ধারণ করে সংগৃহীত খেজুরের বিনিময়ে বিক্রয় করার অনুমতি দিয়েছেন। ইয়াহইয়া (রাঃ) বলেন, গাছের মাথার খেজুর অনুমানে পরিমাণ নিরূপণ করে ঘরের শুকনা খেজুরের সাথে বিনিময় করাকে ‘আরিয়্যা’ বলে।

2270। সামুরা ইবনে জুনদুব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পশুর বিনিময়ে পশু ধারে ক্রয়-বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন।

2271। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ একটি পশু দু’টি পশুর বিনিময়ে নগদ ক্রয়-বিক্রয় করাতে কোন দোষ নেই। কিন্তু তিনি বাকীতে এরূপ লেনদেন করতে নিষেধ করেছেন।

2272। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফিয়্যা (রাঃ) কে সাতটি দাসীর বিনিময়ে খরিদ করেন। রাবী আবদুর রহমান (রাঃ) বলেন, দিহয়াতুল কালবী (রাঃ) এর নিকট থেকে (তাকে খরিদ করেন)।

2273। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মিরাজের রাতে আমাকে একদল লোকের নিকট নিয়ে আসা হলো। তাদের পেট ছিল ঘরের মত বিশাল, তার মধ্যে সাপ ভর্তি ছিলো, যা বাইরে থেকে দেখা যায়। আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে জিবরীল! এরা কারা? তিনি বলেনঃ এরা সুদখোর।

2274। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সুদের গুনাহর সত্তরটি স্তর রয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে ক্ষুদ্র স্তর হলো আপন মাকে বিবাহ (যেনা) করা।

2275। আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সুদের পাপের তিয়াত্তরটি স্তর রয়েছে।

2276। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সবশেষে সুদের আয়াত নাযিল হয়। কিন্তু আমাদেরকে বিস্তারিত ব্যাখ্যাদানের আগেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইনতিকাল করেন। অতএব সূদ এবং (সূদের) সন্দেহ সৃষ্টিকারী জিনিস পরিহার করো।

2277। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূদখোর, সূদদাতা, সূদের সাক্ষীদ্বয় এবং সূদের হিসাব রক্ষক বা দলীল লেখককে অভিসম্পাত করেছেন।

2278। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অবশ্যই মানুষ এমন এক যুগের সম্মুখীন হবে যখন তাদের মধ্যে এমন একজনও পাওয়া যাবে না যে সূদখোর নয়। সে সূদ না খেলেও তার ধুলোবালি (মলিনতা) তাকে স্পর্শ করবে।

2279। ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি সূদের দ্বারা সম্পদ বাড়িয়েছে, পরিণামে তার সম্পদ হ্রাসপ্রাপ্ত হবেই।

2280। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদীনায় আসেন তখন মদীনাবাসী দু’ বা তিন বছর মেয়াদে খেজুর আগাম ক্রয়-বিক্রয় করতো। তিনি বলেনঃ কেউ অগ্রিম খেজুর ক্রয়-বিক্রয় করতে চাইলে সে যেন ওজন, পরিমাপ ও মেয়াদ নির্দিষ্ট করে অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয় করে।

2281। আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললো, ইহূদীদের অমুক দল ইসলাম গ্রহণ করেছে। কিন্তু তারা দুর্ভিক্ষে পতিত হয়েছে। আমার আশংকা হয় যে, তারা মুরতাদ হয়ে যায় কিনা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কারো নিকট মাল থাকলে আমাদের সাথে অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয় করুক। এক ইহূদী বললো, আমার নিকট এই এই পরিমাণ জিনিস আছে। সে তার নামও উল্লেখ করলো। আমার মনে হয় সে বলেছে, তিন শত দীনারে অমুক গোত্রের বাগান থেকে এই এই দরে ফল দিতে হবে। রাসূলুল্লাহ বলেনঃ দর এবং মেয়াদ ঠিকই আছে, কিন্তু অমুক গোত্রের বাগান এ ভাবে স্থান নির্ধারণ গ্রহণযোগ্য নয়।

2282। আবুল মুজালিদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে শাদ্দাদ ও আবূ বারযা (রাঃ) -র মধ্যে অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয় সম্পর্কে মতভেদ হয়। তাই তারা আমাকে আবদুল্লাহ ইবনে আবূ আওফা (রাঃ) এর নিকট পাঠালেন। আমি তাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে এবং আবূ বাকর ও উমার (রাঃ) এর যুগে গম, যব, কিশমিশ ও খেজুর অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয় করতাম এমন লোকেদের সাথে যাদের কাছে তা বিদ্যমান থাকতো না। (রাবী আবুল মুজালিদ বলেন) আমি ইবনে আবযা (রাঃ)-কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনিও অনুরূপ জবাব দেন।

2283। আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তুমি কোন জিনিস অগ্রিম ক্রয় করলে সেই জিনিসের পরিবর্তে অন্যটি নিতে পারবে না। ২/২২৮৩ (১)। আবদুল্লাহ ইবনে সাঈদ (রাঃ) শুজা ইবনুল ওলীদ-যিয়াদ ইবনে খাইসামা আতিয়্যা-আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেনঃ পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু এ সনদসূত্রে রাবী সাদ (রাঃ)-এর উল্লেখ নাই।

2284। আন-নাজরানী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, ফল আসার পূর্বে খেজুর গাছ অগ্রিম বিক্রয় করা যায় কিনা? তিনি বলেন, না। আমি বললাম, কেন? তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে এক ব্যক্তি ফল আসার পূর্বে একটি খেজুর বাগান অগ্রিম ক্রয় করে। কিন্তু (ঘটনাক্রমে) সে বছর খেজুর গাছে কোন ফল ধরেনি। ক্রেতা বললো, ফল না আসা পর্যন্ত এ বাগান আমার। আর বিক্রেতা বললো, নিশ্চয় আমি তোমার নিকট খেজুর বাগান কেবল এক বছরের জন্যই বিক্রয় করেছি। অতঃপর তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরবারে মামলা দায়ের করলো। তিনি বিক্রেতাকে জিজ্ঞেস করেলেঃ ক্রেতা কি তোমার খেজুর গাছ থেকে কিছু গ্রহণ করেছে? বিক্রেতা বললো, না। তিনি বলেনঃ তাহলে কিসের বদলে তুমি তার মাল হালাল করলে? তার থেকে যা গ্রহণ করেছো তা তাকে ফেরত দাও। আর (ভবিষ্যতে) গাছের খেজুর পুষ্টি না হওয়া পর্যন্ত তা অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয় করো না।

2285। আবূ রাফে (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তির নিকট থেকে ধারে একটি উঠতি বয়সের উট কিনেন এবং বলেনঃ যাকাতের উট এলে তোমার ধার পরিশোধ করবো। অতঃপর যাকাতের উট এলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ হে আবূ রাফে! সেই লোকের উটটি পরিশোধ করো। অতএব আমি চার বছর বা ততোধিক বয়সের উট ছাড়া আর কোন উট পেলাম না। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বিষয়টি অবহিত করলে তিনি বলেনঃ ওটাই তাকে দাও। কেননা লোকেদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম যে উত্তমভাবে ঋণ পরিশোধ করে।

2286। ইরবাদ ইবনে সারিয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট উপস্থিত থাকা অবস্থায় এক বেদুঈন (এসে) বললো, আমার উঠতি বয়সের উটটি পরিশোধ করুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে একটি বড় উট দিলেন। বেদুঈন বললো, ইয়া রাসূলুল্লাহ! এটি আমার উটের তুলনায় অধিক বয়ষ্ক। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মানুষের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম যে ঋণ পরিশোধে উত্তম।

2287। আস-সাইব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলেন, জাহিলী যুগে আপনি আমার অংশীদার ছিলেন এবং সর্বোত্তম অংশীদার ছিলেন। না আপনি কখনো আমার প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছেন আর না আমার সাথে বিবাদ করেছেন।

2288। আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বদর যুদ্ধের দিন সাদ (রাঃ), আম্মার (রাঃ) ও আমি গানীমাতের মালের ব্যাপারে অংশীদার হই (এই মর্মে যে, আমরা যা পাবো তা তিনজনে ভাগ করে নিবো)। আম্মার ও আমি কিছুই আনতে পারিনি। অবশ্য সাদ (রাঃ) দু’জন যুদ্ধবন্দী নিয়ে আসেন।

2289। সুহাইব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিনটি জিনিসের মধ্যে বরকত রয়েছেঃ মেয়াদ নির্দিষ্ট করে ক্রয়-বিক্রয়, মুকারাযা ব্যবসা এবং পারিবারিক প্রয়োজনে গমে যব মিশনো, ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে নয়।

2290। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা যা ভোগ-ব্যবহার করো তার মধ্যে উত্তম হলো তোমাদের নিজস্ব শ্রমের উপার্জন। আর তোমাদের সন্তানও তোমাদের উপার্জনের অন্তর্ভুক্ত।

2291। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি বললো, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমার সম্পদও আছে, সন্তানও আছে। আমার পিতা আমার সম্পদের মুখাপেক্ষী। তিনি বলেনঃ তুমি ও তোমার সম্পদ সবই তোমার পিতার।

2292। আমর ইবনে শুআইব (রহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললো, আমার পিতা আমার সম্পদ শেষ করে দিয়েছে প্রায়। তিনি বলেনঃ তুমি ও তোমার সম্পদ তোমার পিতার জন্য। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেনঃ তোমাদের সন্তান তোমাদের উত্তম উপার্জন। অতএব তোমরা তাদের সম্পদ থেকে ভোগ করতে পারো।

2293। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (আবূ সুফিয়ানের স্ত্রী) হিন্দ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আবূ সুফিয়ান খুবই কৃপণ লোক। সে আমার ও আমার সন্তানের জীবন ধারণে যথেষ্ট হওয়ার মত খরচপাতি দেয় না। তাই আমি তার অগোচরে তার সম্পদ থেকে কিছু নেই (যাতে যথেষ্ট হয়)। তিনি বলেনঃ তোমার ও তোমার সন্তানের জন্য যথেষ্ট হতে পারে ততটুকু ন্যায়সংগতভাবে নিতে পারো।

2294। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেনঃ স্ত্রী তার স্বামীর মালিকানাভুক্ত মাল থেকে অপচয় না করে খরচ করলে বা আহারের সংস্থান করলে তার জন্য এর সওয়াব লেখা হয়। স্বামীর অনুরূপ সওয়াব হয় উপার্জন করার কারণে, স্ত্রীর সওয়াব হয় খরচ করার কারণে এবং ভান্ডার রক্ষকেরও অনুরূপ সওয়াব হয়, এতে তাদের কারো সওয়াব থেকে কিছুই হ্রাসপ্রাপ্ত হয় না।

2295। আবূ উমামা আল-বাহিলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ স্ত্রী তার ঘর থেকে স্বামীর অনুমতি ব্যতীত কিছু খরচ করবে না। লোকজন বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! খাদ্যদ্রব্যও নয়? তিনি বলেনঃ তা তো আমাদের সর্বোত্তম সম্পদভুক্ত।

2296। আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুললাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোলামের দাওয়াতও কবুল করতেন।

2297। আবুল লাহমের মুক্তদাস উমাইর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার মনিব আমাকে কিছু দিলে আমি তা থেকে অপরকে খাওয়াতাম। আমার মনিব আমাকে তা করতে নিষেধ করলেন বা আমাকে প্রহার করলেন। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বিষয়টি অবহিত করে বললাম, গরীবদের আহার করানো ত্যাগ করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এর সওয়াব হলো তোমাদের উভয়ের।

2298। আবূ বিশর জাফর ইবনে আবূ ইয়াস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি গুবার গোত্রের আববাদ ইবনে গুরাহবীল (রাঃ) কে বলতে শুনেছিঃ এক বছর আমাদের এলাকায় দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে আমি মদীনায় চলে এলাম। আমি মদীনার কোন এক ফলের বাগানে পৌঁছে এক ছড়া শস্যবীজ নিয়ে তা থেকে ছিঁড়ে কিছু আহার করলাম এবং কিছু আমার চাদরে বেঁধে নিলাম। বাগানের মালিক এসে আমাকে মারধর করলো এবং আমার চাদরখানা কেড়ে নিলো। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বিষয়টি তাঁকে অবহিত করলাম। তিনি মালিককে বলেনঃ সে তো দুর্ভিক্ষপীড়িত ছিল, কেন তুমি তাকে আহার করাওনি? আর সে তো ছিল মূর্খ, কেন তুমি তাকে শিখাওনি? অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাগানের মালিককে তার চাদর ফেরতদানের নির্দেশ দিলে সে তা ফেরত দেয় এবং তিনি তাকে এক ওয়াসাক বা অর্ধ ওয়াসাক খাদ্যদ্রব্য প্রদানেরও নির্দেশ দেন।

2299। রাফে‘ ইবনে ‘আমর আল-গিফারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বালক বয়সে আমাদের খেজুর বাগানে অথবা এক আনসার ব্যক্তির খেজুর বাগানে ঢিল মেরেছিলাম। তিনি আমাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট নিয়ে আসেন। তিনি আমাকে বলেনঃ হে বালক বা হে বৎস! তুমি খেজুর গাছে ঢিল ছুঁড়েছিলে কেন? রাফে‘ (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, খেজুর খাওয়ার জন্য। তিনি বলেনঃ তুমি আর কখনো খেজুর গাছে ঢিল মের না, গাছের নিচে যা পড়ে থাকে তা খাও। রাফে‘ (রাঃ) বলেন, অতঃপর তিনি আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দোয়া করেনঃ হে আল্লাহ! তুমি তার পেটের ক্ষুধা দূর করে দাও।

2300। আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তুমি গবাদিপশুর পালের নিকট পৌঁছে তার রাখালকে উচ্চৈস্বরে তিনবার ডাক দিবে। সে তোমার ডাকে সাড়া দিলে তো ভালো, অন্যথায় তুমি তার দুধপান করো, ক্ষতিসাধন না করে। আর তুমি কোন ফলের বাগানে পৌঁছে বাগানের মালিককে তিনবার ডাক দিবে। সে তোমার ডাকে সাড়া দিলে তো ভালো, অন্যথায় তুমি ক্ষতি না করে তা থেকে পেড়ে খাও।

2301। ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ কোন বাগানের কাছ দিয়ে যাতায়াতকালে সে ইচ্ছ করলে ফল খাবে, কিন্তু কাপড়ে বেঁধে নিয়ে যাবে না।

2302। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে বলেনঃ তোমাদের কেউ যেন মালিকের অনুমতি ছাড়া তার পশু দোহন না করে। তোমাদের কেউ কি এটা পছন্দ করে যে, তার ধনভান্ডারে অন্য লোক প্রবেশ করে তার ধনভান্ডারের দরজা ভেঙ্গে তার খাদ্যদ্রব্য নিয়ে যাক? গবাদি পশুর বাঁট তো তাদের মালিকের জন্য খাদ্যদ্রব্য সঞ্চিত করে রাখে। তাই তোমাদের কেউ যেন অপরের পশুর দুধ তার অনুমতি ব্যতীত দোহন না করে।

2303। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে এক সফরে ছিলাম। আমরা কাঁটাযুক্ত গাছের আড়ালে দুগ্ধবতী উষ্ট্রী দেখতে পেয়ে সেদিকে দ্রুত ছুট দিলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে ডাক দিলেন। আমরা তাঁর নিকট ফিরে এলে তিনি বলেনঃ এই উট কোন মুসলিম পরিবারের। এগুলোই তাদের খাদ্যের এবং বেঁচে থাকার সংস্থান। এগুলো আল্লাহর পর তাদের মালিাকানাধীন। তোমার কি ভালো লাগবে যে, তোমরা তোমাদের খাদ্যভান্ডারে ফিরে গিয়ে তা খাদ্যশূন্য দেখতে পাবে? তোমরা কি এটাকে ইনসাফ মনে করো? তারা বলেন, না। তিনি বলেনঃ এটাও তদ্রূপ। আমরা বললাম, আপনি কি মনে করেন, যদি আমাদের খাদ্য ও পানীয়ের অভাব দেখা দেয়? তিনি বলেনঃ এমতাবস্থায় তোমরা খেতে পারো কিন্তু সাথে করে নিয়ে যেতে পারবে না এবং পান করো, কিন্তু সাথে করে নিয়ে যেতে পারবে না।

2304। উম্মু হানী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেনঃ তুমি ছাগল-ভেড়া পালো। কারণ তাতে বরকত রয়েছে।

2305। উরওয়া আল-বারিকী (রাঃ) থেকে মারফূ হাদীসরূপে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ উট তার মালিকের জন্য গৌরবের ধন, ছাগল-ভেড়া হলো বরকতপূর্ণ সম্পত্তি এবং কিয়ামত পর্যন্ত ঘোড়ার কপালে কল্যাণ যুক্ত রয়েছে।

2306। ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বকরী বেহেশতের প্রাণীকুলের অন্তর্ভুক্ত।

2307। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ধনীদেরকে ছাগল-ভেড়া পালতে নির্দেশ দিয়েছেন এবং দরিদ্রদেরকে মুরগী পালতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেনঃ ধনীরা মুরগী পালন করলে আল্লাহ তা‘আলা সেই জনপদ ধ্বংস করার অনুমতি দেন।

উৎস: Sunan Ibn Majah

WEBREATH · 11:11

«Should I not be a thankful servant?» — Sahih al-Bukhari

Breath is one for all: everyone lives by it, whoever they are and whatever they believe. Every day at 11:11 local time people stop for sixty seconds, breathe, and thank GOD for the breath — each in their own words, each within themselves. In that minute we are One Breath.

WEBREATH — the Minute at 11:11, your own local time — we are One Breath