হাদিস
ফিরে যান

সুনানে ইবনে মাজাহ 11 · The Chapters on Expiation

আপনার ভাষায় এখনো কোনো অনুবাদ নেই — ইংরেজি দেখাচ্ছে

2090। রিফাআ আল-জুহানী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শপথ করলে বলতেনঃ সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ।

2091। রিফাআ ইবনু ইরাবা আল-জুহানী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে শব্দ দ্বারা শপথ করতেন তা ছিলঃ আমি আল্লাহর নিকট সাক্ষ্য দিচ্ছি; সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ।

2092। ইবনু ‘উমার বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অধিকাংশ শপথ ছিলঃ না, অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারীর শপথ।

2093। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শপথ ছিলঃ না, আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

2094। ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘উমার (রাঃ)-কে তার পিতার নামে শপথ করতে শুনলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ নিশ্চয় আল্লাহ্ তোমাদেরকে তোমাদের বাপ-দাদার নামে শপথ করতে নিষেধ করেছেন। ‘উমার (রাঃ) বলেন, এরপর থেকে আমি আর কখনো এভাবে শপথ করিনি বা অন্যের বরাতেও তা উল্লেখ করিনি।

2095। ‘আবদুর রহমান ইবনু সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা দেব-দেবী ও তোমাদের বাপ-দাদার নামে শপথ করো না।

2096। আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি শপথ করতে গিয়ে বললো, লাত ও উয্যার শপথ, সে যেন ‘‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্’’ বলে।

2097। সা‘দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি লাত ও উয্যার নামে শপথ করলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ বলো, ‘‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা শারীকা লাহু’’ (আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নাই, তিনি এক, তাঁর কোন শরীক নাই)। অতঃপর তুমি তিনবার বামদিকে থুথু নিক্ষেপ করো এবং শয়তান থেকে আশরয় প্রার্থনা করো, আর কখনো এর পুনরাবৃত্তি করো না।

2098। সাবিত ইবনুল দাহহাক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় দীন ইসলাম ব্যতীত অন্য ধর্মের মিথ্যা শপথ করলো, সে যেরূপ বলেছে সে তদ্রূপ।

2099। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে বলতে শুনলেনঃ আমি যদি এরূপ করি তবে আমি ইহূদী। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ অবধারিত হয়ে গেলো।

2100। বুরাইদাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি বললো, আমি ইসলাম থেকে মুক্ত, সে যদি মিথ্যা বলে থাকে তবুও সে যা বলেছে তাই, আর যদি সে সত্য বলে থাকে তবুও ইসলাম তার কাছে নিরাপদে ফিরে আসবে না।

2101। ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে তার পিতার নামে শপথ করতে শুনে বলেনঃ তোমরা তোমাদের বাপ-দাদার নামে শপথ করো না। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর নামে শপথ করে সে যেন তা সত্যে পরিণত করে। আর যার জন্য আল্লাহর নামে শপথ করা হয়, সে যেন তাতে সন্তুষ্ট হয়। যে ব্যক্তি আল্লাহর নামে সন্তুষ্ট হয় না, আল্লাহর সাথে তার কোন সম্পর্ক থাকে না।

2102। আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ঈসা ইবনু মরিয়ম (আঃ) এক ব্যক্তিকে চুরি করতে দেখে বললেন, তুমি চুরি করলে? সে বললো, না, সেই সত্তার শপথ যিনি ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই। তখন ঈসা (আঃ) বললেন, আমি আল্লাহর উপর ঈমান আনলাম এবং আমার চোখকে অবিশ্বাস করলাম।

2103। ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বস্তুত শপথ হলো গুনাহ অথবা অনুতাপ।

2104। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি শপথ করলো এবং ইনশাআল্লাহ্ (যদি আল্লাহ্ চান) বললো, তার প্রতি শপথ ভঙ্গের দায় বর্তায়।

2105। ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তার শপথের সাথে ইনশাআল্লাহ যুক্ত করলো, সে চাইলে শপথ থেকে ফিরে যেতে পারে অথবা তা পরিত্যাগও করতে পারে। তাতে সে শপথ ভঙ্গকারী নয়।

2106। ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি শপথের সাথে ইনশাআল্লাহ্ যুক্ত করে, সে শপথ ভঙ্গকারী নয়।

2107। আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিন বলেন, আমি আশআরীদের একটি দলের সাথে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট জন্তুযান চাইতে এসেছিলাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহর শপথ! আমি তোমাদের জন্য জন্তুযানের ব্যবস্থা করতে অক্ষম। রাবী বলেন, আমরা আল্লাহর ইচ্ছায় সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থান করলাম। অতঃপর কিছু সংখ্যক উট এসে গেলো। তখন তিনি আমাদের উজ্জ্বল কুঁজবিশিষ্ট তিনটি উট দেয়ার জন্য নির্দেশ দিলেন। আমাদের প্রত্যাবর্তনের সময় আমাদের একজন অপরজনকে বললো, আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট জন্তুযান চাইতে এসেছিলাম। তিনি শপথ করে বলেছিলেন যে, তিনি আমাদের জন্তুযান দিতে অপারগ। পরে আবার তিনি আমাদের তা দিলেন। কাজেই চলো, আমরা তাঁর নিকট ফিরে যাই। অতএব আমরা তাঁর নিকট ফিরে এসে বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমরা আপনার নিকট যন্তুযান চাইতে এসেছিলাম। আপনি শপথ করে বলেছিলেন যে, আপনি আমাদের জন্তুযান দিতে অক্ষম। এরপর আপনি আমাদের জন্তুযান দিলেন। তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ! আমি তোমাদের বাহনের ব্যবস্থা করিনি, আল্লাহ্ই তোমাদের বাহনের ব্যবস্থা করেছেন। আল্লাহর শপথ! আল্লাহ্ তা‘আলার মর্জি আমি শপথ করার পর তার বিপরীতে কল্যাণ দেখতে পেলে আমি শপথ ভঙ্গের কাফ্ফারা আদায় করি, অতঃপর কল্যাণকর কাজটি করি। অথবা তিনি বলেনঃ আমি সেই ভালো কাজটি করি এবং আমার শপথ ভঙ্গের কাফফারা শোধ করি।

2108। আদী ইবনু হাতেম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি শপথ করার পর তার বিপরীতে কল্যাণ দেখতে পেলে সে যেন ঐ কল্যাণকর কাজটি করে এবং তার শপথের কাফফারা আদায় করে।

2109। মালিক আল-জুশামী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমার নিকট আমার চাচাতো ভাই এলে আমি শপথ করে বলি যে, আমি তাকে কিছু দানও করবো না এবং তার সাথে আত্মীয়তার সম্পর্কও বজায় রাখবো না। তিনি বলেনঃ তোমার শপথের কাফ্ফারা শোধ করো।

2110। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার শপথ করলে অথবা অসঙ্গত বিষয়ের শপথ করলে, ঐ কাজটি তার না করার ভিতরেই কল্যাণ নিহিত আছে।

2111। ‘আবদুল্লাহ্ বিন আমর শুআইব (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোন ব্যক্তি কোন বিষয়ে শপথ করার পর তার বিপরীতে কল্যাণ লক্ষ্য করলে সে যেন তার শপথ ত্যাগ করে। তার শপথ ত্যাগ করাই তার শপথ ভঙ্গের কাফফারা।

2112। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সা‘ খেজুর কাফফারা স্বরূপ দান করেন এবং লোকেদের এরূপ নির্দেশ দেন। কেউ যদি তা না পায়, তবে অর্ধ সা‘ গম আদায় করবে।

2113। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন কোন লোক তার পরিবার পরিজনের আহারের জন্য সহজেই পর্যাপ্ত ব্যয় করতে পারতো এবং কোন কোন লোক একান্ত কষ্টেই তার পরিজনদের জন্য অপর্যাপ্ত ব্যয় করতো। তখন এ আয়াত নাযিল হয় (অনুবাদ) ‘‘মধ্যম ধরনের, যা তোমরা তোমাদের পরিজনদের আহার করিয়ে থাকো’’ (সূরা মাইদাঃ ৮৯)।

2114। আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূল কাসিম রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ আল্লাহর বিধানমত কাফ্ফারা আদায় না করে কোন অসঙ্গত শপথের উপর অটল থাকলে সে আল্লাহর নিকট অপরাধী সাব্যস্ত হয়। ১/২১১৪ (১)। মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া-ইয়াহইয়া বিন সালিহ আল-ওয়াহাযী, মু‘আবিয়াহ বিন সাল্লাম-ইয়াহইয়া বিন আবূ কাসীর, ‘ইকরিমা-আবূ হুরাইরাহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন।

2115। বারাআ ইবনু আযেব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শপথকারির দায়মুক্তিতে সাহায্য করতে আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন।

2116। ‘আবদুর রহমান ইবনু সাফওয়ান অথবা সাফওয়ান ইবনু ‘আবদুর রহমান আল-কুরাশী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। মাক্কাহ বিজয়ের দিন ‘আবদুর রহমান তার পিতাকে নিয়ে এসে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমার পিতাকে হিজরতে শরীক করুন। তিনি বলেনঃ আর তো হিজরত নেই। তিনি সেখান থেকে চলে গিয়ে ‘আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন, আপনি আমাকে চিনেন? তিনি বলেন, হ্যাঁ। এরপর ‘আব্বাস (রাঃ) একটি জামা গায়ে দিয়ে চাদরবিহীন অবস্থায় বেরিয়ে পড়লেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনি তো এই লোক এবং তার ও আমাদের মধ্যকার ঘনিষ্ঠতা সম্পর্কে অবহিত। সে তার পিতাকে নিয়ে এসেছে, যেন আপনি তাকে হিজরতের জন্য বাইআত করেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এখন তো আর হিজরত নেই। ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, আপনাকে শপথ দিয়ে বলছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাত বাড়িয়ে দিয়ে লোকটির হাত স্পর্শ করলেন এবং বললেনঃ আমি আমার চাচার শপথ পূর্ণ করলাম এবং এখন আর হিজরত নেই। ২/২১১৬ (১) মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া-আবুল হাসান বিন রাবী‘, আবদুল্লাহ বিন ইদরীস-ইয়াযিদ বিন আবূ যিয়াদ তার নিজস্ব সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন। ইয়াযিদ বিন আবূ যিয়াদ বলেন, অর্থাৎ যে দেশের লোকেরা ইসলাম গ্রহণ করে সেখান হতে কোন হিজরত নেই।

2117। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন শপথ করা কালে এভাবে না বলে, ‘‘আল্লাহ যা চান এবং তুমি যা ইচ্ছা করো’’। বরং সে যেন বলে, ‘‘আল্লাহ্ যা ইচ্ছা করেন, এরপর তুমি যা ইচ্ছা করছো’’।

2118। হুযাইফাহ্ ইবনুল ইয়ামান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক মুসলিম ব্যক্তি স্বপ্ন দেখে যে, আহলে কিতাবের এক ব্যক্তির সাথে তার সাক্ষাত হলে সে বললো, তোমরা কতই না উত্তম জাতি, যদি তোমরা শিরক না করতে। তোমরা বলে থাকো, ‘‘আল্লাহ্ যা ইচ্ছা করেন এবং মুহাম্মাদ যা ইচ্ছা করেন’’। অতঃপর সে স্বপ্নের কথাটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বর্ণনা করলো। তিনি বলেনঃ আল্লাহর শপথ! শোনো, আমি তো তোমাদের এরূপ কিছু বলতে শিখাইনি। তোমরা বলবে, ‘‘আল্লাহ্ যা ইচ্ছা করেন, এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা চান’’। ২/২১১৮ (১)। মুহাম্মাদ বিন আব্দুল মালিক বিন আবূ শাওয়ারিব-আবূ ‘আওয়ানাহ, আবদুল মালিক-রিবঈ‘ বিন হিরাশ ‘আয়িশাহ (রাঃ)’র মায়ের সম্পর্কে ভাই তুফাইল বিন সাখরাহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন।

2119। সুওয়াইদ ইবনু হানযালা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উদ্দেশে বের হলাম এবং আমাদের সাথে ছিলেন ওয়াইল ইবনু হুজর (রাঃ)। তার এক শত্রু তাকে ধরে ফেলে। সাথের লোকজন শপথ করতে রাযী হলো না। তাই আমি শপথ করে বললাম যে, সে আমার ভাই। অতএব সে তাকে ছেড়ে দেয়। আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে তাঁকে জানালাম যে, দলের লোকজন শপথ করতে সম্মত না হওয়ায় আমি শপথ করে বলি যে, সে আমার ভাই। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তুমি সত্য বলেছো। এক মুসলিম অপর মুসলিমের ভাই।

2120। আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শপথের ফলাফল শপথকারির অভিপ্রায়ের উপর নির্ভরশীল।

2121। আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমার প্রতিপক্ষ তোমার শপথে আস্থা স্থাপন করলে সেটাই হবে তোমার শপথের ভিত্তি।

2122। ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানত করতে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেনঃ এর দ্বারা কৃপণের কিছু সম্পদ হাতছাড়া হয় মাত্র।

2123। আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মান্নত আদম-সন্তানের জন্য তার তাকদীরে নির্ধারিত বস্ত্তর অতিরিক্ত কিছু বয়ে আনে না, বরং তার জন্য নির্ধারিত তাকদীরই তার উপর বিজয়ী হয়। অতএব এর দ্বারা বখীলের কিছু আর্থিক খরচ হয় মাত্র। ফলে ইতোপূর্বে তার জন্য যা সহজ ছিলো না তার জন্য সহজ হয়ে গেলো। আল্লাহ্ তা‘আলা অবশ্যি বলেছেন, তুমি খরচ করলে আমিও তোমার জন্য খরচ করবো।

2124। ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পাপ কাজে মানত করা যাবে না এবং আদম-সন্তান যে জিনিসের মালিক নয় তার মানতও হয় না।

2125। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ গুনাহের কাজে মানাত করা যাবে না। এর কাফফারা হলো শপথ ভঙ্গের কাফ্‌ফারার অনুরূপ।

2126। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর আনুগত্য করার মানত করে, সে যেন তা করে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর অবাধ্যাচরণ করার মানত করে, সে যেন তা না করে।

2127। ‘উকবাহ্ ইবনু ‘আমের আল-জুহানী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন কোন ব্যক্তি নামোল্লেখ না করে মানত করলে তার কাফফারা হলো শপথ ভঙ্গের কাফ্‌ফারার অনুরূপ।

2128। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোন ব্যক্তি নামোল্লেখ না করে মানত করলে তার কাফ্‌ফারা হবে শপথ ভঙ্গের কাফ্ফারার অনুরূপ। আর কোন ব্যক্তি তার সামর্থ্যের বহির্ভূত কিছুর মানত করলে তার কাফ্ফারাও শপথ ভঙ্গের কাফ্ফারার অনুরূপ। আর যে ব্যক্তি তার সামর্থ্য মোতাবেক মানত করে, সে যেন তা পূরণ করে।

2129। ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জাহিলিয়াতের যুগে একটি মান্নত করেছিলাম। ইসলাম গ্রহণের পর আমি এ বিষয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে জিজ্ঞেস করলে তিনি আমাকে মান্নত পূর্ণ করার নির্দেশ দেন।

2130। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এসে বললো, হে আল্লাহর রসূল! আমি বুয়ানা নামক স্থানে একটি কুরবানী করার মান্নত করেছি। তিনি বলেনঃ তোমার মধ্যে কি জাহিলিয়াতের চিন্তা অবশিষ্ট রয়ে গেছে? সে বললো, না। তিনি বলেনঃ তাহলে তোমার মান্নত পূর্ণ করো।

2131। মায়মূনা বিনতে কারদাম আল-ইয়াসারিয়্যা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তার পিতা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সাক্ষাত করেন। তখন মায়মূনা তার পিতার সাথে একই বাহনে তার পিছনে বসা ছিলেন। তিনি (পিতা) বললেন, আমি বুয়ানা নামক স্থানে একটি কুরবানী রার মান্নত করেছি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করেনঃ সেখানে কি কোন মূর্তি আছে? তিনি বলেন, না। তিনি বলেনঃ তোমার মান্নত পূর্ণ করো। ৩/২১৩১ (১)। আবূ বকর বিন আবূ শায়বাহ-ইবনু দুকাইন, আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান-ইয়াযিদ বিন মিক্বসাম মাইমূনাহ বিনতে কারদাম সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন।

2132। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। সা‘দ ইবনু উবাদা (রাঃ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে তার মায়ের একটি মান্নত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন, যা পূর্ণ করার আগেই তার মা মারা যান। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তুমি তার পক্ষ থেকে তা পূর্ণ করো।

2133। জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক মহিলা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললো, আমার মা মারা গেছেন। তিনি রোযা রাখার মান্নত করেছিলেন। কিন্তু তিনি তার রোযার মান্নত পূর্ণ করার আগেই মারা গেলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তার পক্ষ থেকে ওলী (ওয়ারিস) যেন রোযা রাখে।

2134। উকবা ইবনু আমের (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে, তার বোন নগ্নপদে ও অনাবৃত চেহারায় পদব্রজে (হজ্জে) যাওয়ার মান্নত করেছে। তিনি বিষয়টি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে অবহিত করলেন। তিনি বলেনঃ তাকে বলো, সে যেন বাহনে আরোহণ করে এবং মুখমন্ডল আবৃত রেখে (হাজ্জে যায়) এবং তিন দিন রোযা রাখে।

2135। আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক বৃদ্ধকে দেখলেন যে, সে তার দু’ ছেলের উপর ভর করে হেঁটে যাচ্ছে। তিনি জিজ্ঞেস করেনঃ এ ব্যক্তির কি হয়েছে? ছেলেরা বললো, ইয়া রাসূরাল্লাহ্! (তার) মান্নত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ হে বুড়ো! তুমি বাহনে আরোহণ করো। নিশ্চয় আল্লাহ্ তোমার ও তোমার মান্নাতের মুখাপেক্ষী নন।

2136। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাক্কাহ্য় রোদের মধ্যে দাঁড়ানো এক ব্যক্তিকে অতিক্রম করে যাচ্ছিলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ একি? লোকজন বললো যে, সে রোযা রাখার, সারাটা দিন ছায়া গ্রহণ না করার এবং কথাবার্তা না বলার মান্নত করেছে। তাই সে এ অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। তিনি বলেনঃ সে যেন কথা বলে, ছায়া গ্রহণ করে, বসে এবং তার রোযা পূর্ণ করে। ১/২১৩৬ (১) হুসাইন ইবনু মুহাম্মাদ বিন সাম্বাহ আলওয়াসিতী-আল ‘আলা বিন আবদুল জাব্বার, উহাইব-আইউব, ইকরামা-ইবনু আব্বাস সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন। আল্লাহ অধিক জ্ঞাত।

উৎস: Sunan Ibn Majah

WEBREATH · 11:11

«Should I not be a thankful servant?» — Sahih al-Bukhari

Breath is one for all: everyone lives by it, whoever they are and whatever they believe. Every day at 11:11 local time people stop for sixty seconds, breathe, and thank GOD for the breath — each in their own words, each within themselves. In that minute we are One Breath.

WEBREATH — the Minute at 11:11, your own local time — we are One Breath