হাদিস
ফিরে যান

সুনানে আবু দাউদ 3 · The Book Of The Prayer For Rain (Kitab al-Istisqa')

আপনার ভাষায় এখনো কোনো অনুবাদ নেই — ইংরেজি দেখাচ্ছে

1161। ‘আব্বাদ ইবনু তামীম (রহঃ) হতে তার চাচার সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বৃষ্টি প্রার্থনার সালাত আদায়ের উদ্দেশে লোকদেরকে নিয়ে বের হলেন এবং তাদেরকে নিয়ে ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হমুখী হয়ে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করেন। উভয় রাক‘আতে স্বরবে ক্বিরাআত পাঠ করেন, অতঃপর স্বীয় চাদর উল্টিয়ে নিয়ে দু’ হাত উঠিয়ে বৃষ্টির জন্য দু‘আ করেন।[1] সহীহ।

1162। ইবনু শিহাব (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে ‘আব্বাদ ইবনু তামীম আল-মাযিনী (রহঃ) জানালেন, তিনি তার চাচাকে -যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অন্যতম সাহাবী ছিলেন- বলতে শুনেছেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসতিসকা সালাতের জন্য বের হলেন এবং লোকদের দিকে পিঠ ফিরিয়ে মহা মহীয়ান আল্লাহর কাছে দু‘আ করেন।[1] বর্ণনাকারী সুলায়মান ইবনু দাঊদ বলেন, তিনি ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হমুখী হয়ে স্বীয় চাদর উল্টিয়ে নিয়ে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করেন। ইবনু আবূ যি‘বের বর্ণনায় রয়েছে, তিনি উভয় রাক‘আতে ক্বিরাআত পাঠ করেন। ইবনুস সারাহর বর্ণনায় রয়েছে, তিনি ক্বিরাআত উচ্চস্বরে পাঠ করেছেন। সহীহ : বুখারী ও মুসলিম। তবে মুসলিমে ক্বিরাআত ও উচ্চস্বরে পাঠের কথা নেই।

1163। মুহাম্মাদ ইবনু মুসলিম (রহঃ) হতে নিজস্ব সানাদে এ হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। তবে তার বর্ণনায় সালাত আদায়ের কথা উল্লেখ নেই। বর্ণনাকারী বলেন, ‘‘তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স্বীয় চাদর উল্টিয়ে নেন। তিনি ডান স্কন্ধের উপরে রাখা চাদরের ডান পার্শ্বকে বাম কাঁধের উপর এবং বাম কাঁধের উপরে রাখা চাদরের বাম পার্শ্বকে ডান কাঁধের উপর রাখলেন। তারপর মহা মহীয়ান আল্লাহর কাছে দু‘আ করলেন।[1] সহীহ।

1164। ‘আবদুল্লাহ ইবনু যায়িদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বৃষ্টির জন্য দু‘আ করেন। তখন তাঁর শরীরে কালো বর্ণের একটি চাদর জড়ানো ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাদরের নীচের অংশকে উল্টিয়ে উপরে উঠানোর সময় ভারী বোধ করায় তিনি তা কাঁধের উপরে রেখেই উল্টিয়ে নেন।[1] সহীহ।

1165। হিশাম ইবনু ইসহাক ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু কিনানাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইসতিসকার সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে আল-ওয়ালীদ ইবনু ‘উতবাহ আমাকে ইবনু ‘আব্বাসের (রাঃ) নিকট পাঠালেন। ‘উসমান ইবনু ‘উক্ববাহ বলেন, ওয়ালীদ ইবনু ‘উতবাহ তখন মদীনার গভর্ণর ছিলেন। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুরাতন বেশভূষায় ভয় ও বিনয়ী অবস্থায় বের হয়ে ঈদাগাহে গেলেন। অতঃপর তিনি মিম্বারে উঠেন এবং প্রচলিত নিয়মে খুত্ববাহ না দিয়ে তিনি সারাক্ষণ কাকুতি-মিনতি, দু‘আ ও তাকবীর পাঠেরত ছিলেন। অতঃপর তিনি ঈদের সালাতের মত দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করেন।[1] হাসান।

1166। ‘আব্বাদ ইবনু তামীম (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। ‘আবদুল্লাহ ইবনু যায়িদ (রাঃ) তাঁকে বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসতিস্‌কা সালাত আদায়ের উদ্দেশে ঈদগাহে যান এবং যখন দু‘আর ইচেছ করেন তখন ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হমুখী হয়ে স্বীয় চাদরখনা উল্টিয়ে নেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

1167। ‘আবদুল্লাহ ইবনু যায়িদ আল-মাযিনী (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদগাহে গিয়ে ইসতিস্‌কার সালাত আদায় করলেন। তিনি ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হমুখী হওয়ার সময় স্বীয় চাদরখানা উল্টিয়ে নিলেন।[1] সহীহ : মুসলিম।

1168। বনী আবুল লাহমের মুক্তদাস উমাইর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ‘আয-যাওরার’ নিকটবর্তী ‘আহজারুয্ যায়িত’ নামক স্থানে ইসতিসকার সালাত আদায় করতে দেখেছেন। তিনি বৃষ্টি বর্ষণের জন্য দাঁড়িয়ে হাত দু‘টিকে চেহারার সম্মুখে মাথার উপরিভাগ পর্যন্ত উঠিয়ে দু‘আ করেছেন।[1] সহীহ।

1169। জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে কতিপয় লোক (বৃষ্টি না হওয়ায়) ক্রন্দনরত অবস্থায় এলে তিনি দু‘আ করলেনঃ হে আল্লাহ! আমাদেরকে বিলম্বে নয় বরং তাড়াতাড়ি ক্ষতিমুক্ত-কল্যাণময়, তৃপ্তিদায়ক, সজীবতা দানকারী, মুষল ধারায় বৃষ্টি বর্ষণ করো। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তাদের উপর আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে যায় (এবং বৃষ্টি হয়)।[1] সহীহ।

1170। আনাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসতিস্‌কা ছাড়া অন্য কোন দু‘আতে দু’ হাত উঠাননি। তিনি হাত দু’টিকে এতটুকু উঠাতেন যে, তাঁর বগলদ্বয়ের সাদা অংশ দেখা যেত।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

1171। আনাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বৃষ্টির জন্য এরূপে দু‘আ করেছেন। অর্থাৎ তিনি দু’ হাত প্রশস্ত করে দু’ হাতের তালুকে যমীনের দিকে রেখেছেন। এমনকি আমি তাঁর বগলের সাদা অংশ দেখেছি।[1] সহীহ : মুসলিম সংক্ষেপে।

1172। মুহাম্মাদ ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, এ হাদীস আমাকে এমন এক ব্যক্তি অবহিত করেছেন, যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ‘আহজারুয্ যায়িত’ নামক স্থানের সন্নিকটে দু’ হাত প্রশস্ত করে দু‘আ করতে দেখেছেন।[1] সহীহ।

1173। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে লোকজন অনাবৃষ্টির অভিযোগ পেশ করলে তিনি একটি মিম্বার স্থাপনের নির্দেশ দিলেন। সেটি তাঁর ঈদগাহে রাখা হলো এবং তিনি লোকদেরকে ওয়াদা দিলেন যে, তিনি তাদেরকে নিয়ে একদিন সেখানে যাবেন। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্য উদিত হওয়ার পর বের হয়ে মিম্বারের উপর বসে তাকবীর বলে মহা মহীয়ান আল্লাহর প্রশংসা করেন এবং বলেনঃ তোমরা তোমাদের অনাবৃষ্টির অভিযোগ করেছ। অথচ মহান আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ করেছেন তোমরা তাকে ডাকো, তিনি তোমাদের ডাকে সাড়া দিতে ওয়াদাবদ্ধ। অতঃপর তিনি বলেনঃ সকল প্রশংসা বিশ্ব জগতের রব আল্লাহর জন্য, যিনি দয়ালু ও অতিশয় মেহেরবান, শেষ বিচারের দিনের মালিক। আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নাই। তিনি যা ইচ্ছা করেন তাই করেন। হে আল্লাহ! আপনিই আল্লাহ, আপনি ছাড়া কোন ইলাহ নাই, আপনি সম্পদশালী আর আমরা ফকীর ও মুখাপেক্ষী। কাজেই আমাদের প্রতি বৃষ্টি বর্ষণ করুন এবং আপনি যা কিছু বর্ষণ করবেন, তদ্দ্বারা আমাদের জন্য প্রবল শক্তি ও প্রত্যাশিত লক্ষ্যে পৌছার ব্যবস্থা করে দিন। অতঃপর তিনি দু’ হাত এতোটা উঁচুৃ করলেন যে, তাঁর বগলের শুভ্রতা দেখা গেলো। অতঃপর হাত উঠানো অবস্থায়ই তিনি লোকদের দিকে স্বীয় পিঠ ঘুরিয়ে দিয়ে চাদরটি উল্টিয়ে নিলেন। এরপর তিনি লোকজনের দিকে ফিরে মিম্বার হতে নেমে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। এ সময় মহান আল্লাহ এক খন্ড মেঘের আবির্ভাব ঘটালেন, যার মধ্যে গর্জন ও বিদ্যুৎ চমকাতে লাগলো এবং আল্লাহর ইচ্ছায় বৃষ্টিপাত হলো। এমনকি তিনি মাসজিদ পর্যন্ত আসতে না আসতেই পথঘাট পানিতে প্লাবিত হয়ে গেলো। যখন লোকজনকে বাড়ি-ঘরের দিকে দৌড়াতে দেখলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনভাবে হাসলেন যে, তার সামনের পাটির দাঁত দেখা গেলো। অতঃপর তিনি বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চই আল্লাহ সকল বস্তুর উপর ক্ষমতবান এবং আমি আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রসূল।[1] ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, এ হাদীসটি গরীব। তথাপি হাদীসটির সানাদ ভাল। হাসান।

1174। আনাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবদ্দশায় একবার ম‏দীনাহবাসী দুর্ভিক্ষে পতিত হয়। ঐ সময়ের জুমু‘আহর দিন তিনি আমাদের উদ্দেশে খুত্ববাহ দানকালে এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললো, হে আল্লাহর রসূল! (অনাবৃষ্টির কারণে) উট-বকরী ইত্যাদি প্রায় ধ্বংসের মুখে। সুতরাং আল্লাহর কাছে আমাদের জন্য বৃষ্টি বর্ষণের দু‘আ করুন। অতঃপর তিনি হাত প্রসারিত করে দু‘আ করলেন। আনাস (রাঃ) বলেন, তিনি দু‘আ করার পূর্বে পর্যন্ত আকাশ মেঘমুক্ত স্বচ্ছ কাঁচের ন্যায় পরিস্কার ছিল, (দু‘আ করার পর) হঠাৎ বায়ু প্রবাহিত হয়ে এক খন্ড মেঘ প্রস্তুত হলো, অতঃপর বিভিন্ন খন্ড একত্র হয়ে আকাশে অঝোর ধারায় বৃষ্টি বর্ষিত হলো। এমনকি আমরা বৃষ্টিতে ভিজে বাড়িঘরে ফিরে এলাম এবং একটানা পরবর্তী জুমু‘আহ পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে থাকলো। এ জুমু‘আহতে ঐ লোক অথবা অন্য কেউ দাঁড়িয়ে বললো, হে আল্লাহর রসূল! (অধিক বৃষ্টিপাতের ফলে) ঘর-বাড়ি ধসে যাচ্ছে, কাজেই বৃষ্টি বন্ধের জন্য আল্লাহর কাছে দু‘আ করুন। তার কথায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুচকি হেসে দু‘আ করলেন, (হে আল্লাহ!) আমাদের আশেপাশে বৃষ্টি দাও, আমাদের উপরে নয়।[1] বর্ণনাকারী বলেন, আমি মেঘের দিকে তাকিয়ে দেখতে পেলাম, তা মদীনার আশেপাশে উঁচু উঁচু সুদৃশ্য চূড়ার মত বিক্ষিপ্ত হয়ে যাচ্ছে। সহীহ : বুখারী। মুসলিম সংক্ষেপে।

1175। আনাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দু’ হাত স্বীয় চেহারা বরাবর উঠিয়ে দু‘আ করলেনঃ হে আল্লাহ! আমাদেরকে বৃষ্টি দাও। অতঃপর পূর্বের হাদীসের অনুরূপ।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম সংক্ষেপে।

1176। ‘আমর ইবনু শু‘আইব (রহঃ) তার পিতা হতে তার দাদা সূত্রে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বৃষ্টির জন্য দু‘আ করার সময় বলতেনঃ হে আল্লাহ! আপনি আপনার বান্দাদের ও প্রাণীদেরকে পানি দান করুন, আপনার রহমত বিস্তৃত করুন এবং আপনার মৃত শহরকে (শুস্ক ভূমিকে) জীবিত করুন।[1] হাসান।

1177। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে সূর্যগ্রহণ হলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদেরকে নিয়ে সালাতে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেন। অতঃপর রুকূ‘ করে আবার দাঁড়ালেন। আবার রুকূ‘ করলেন এবং আবার দাঁড়ালেন। অতঃপর রুকূ‘ করলেন। এভাবে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করলেন এবং প্রত্যেক রাক‘আতে তিনটি করে রুকূ‘ করার পর সিজদা্ করলেন। সালাতে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার ফলে কতিপয় লোক অজ্ঞান হয়ে যায় এবং তাদের উপর পানি ঢালা হয়। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রুকূ‘ করার সময় ‘আল্লাহু আকবার; আর রুকূ‘ হতে মাথা উঠানোর সময় ‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলেছেন এবং তাঁর সালাত অবস্থায়ই সূর্য গ্রহণ শেষ হয়ে যায়। অতঃপর তিনি বললেনঃ সূর্য কিংবা চন্দ্রগ্রহণ কারোর জন্ম বা মৃর্তু্যর কারণে হয় না, বরং তা মহাপরাক্রমশালী আল্লাহর নিদর্শনসমূহের দু‘টি নিদর্শন। তিনি এর দ্বারা স্বীয় বান্দাদেরকে ভয় দেখিয়ে থাকেন। সুতরাং কখনো গ্রহণ হলে তোমরা সালাত আদায়ে মনোনিবেশ করবে।[1] সহীহ : মুসলিম। কিন্তু (তিন রুকু) কথাটি শায। মাহফূয হচ্ছে (দুই রুকু)। যেমন বুখারী ও মুসলিমে রয়েছে। এছাড়া সামনে ১১৮০ নং এ আসছে।

1178। জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পুত্র ইবরাহীমের মৃত্যুর দিনে সূর্যগ্রহণ হলে লোকজন মন্তব্য করলো, ইবরাহীমের মৃত্যুর কারণেই গ্রহণ লেগেছে। অতঃপর তিনি লোকদেরকে নিয়ে চার সিজদা্ ও ছয় রুকু‘সহ সালাত আদায় করেন। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকবীর বলে সালাত আরম্ভ করে দীর্ঘক্ষণ ক্বিরাআত পড়েন। অতঃপর দাঁড়ানোর অনুরূপ সময় রুকূ‘তে অতিবাহিত করেন। অতঃপর মাথা উঠিয়ে প্রথমবারের চেয়ে কিছুটা কম সময় ক্বিরাআত পড়েন। অতঃপর দাঁড়ানোর অনুরূপ সময় রুকূ‘তে অতিবাহিত করেন। অতঃপর মাথা উঠিয়ে তৃতীয়বারের ক্বিরাআত পড়েন যা ছিল দ্বিতীয়বারের চেয়ে কিছুটা কম। অতঃপর তিনি রুকূ‘তে গিয়ে দাঁড়ানোর অনুরূপ সময় অতিবাহিত করে মাথা উঠান, অতঃপর সিজদা্ করেন। তিনি দু’টি সিজদা্ করার পর দ্বিতীয় রাক‘আতের জন্য দাঁড়ান এবং এ রাক‘আতেও তিনি সিজদার পূর্বে তিনটি রুকূ‘ করেন। তাঁর দ্বিতীয় রাক‘আতের দাঁড়ানোর সময়ও দীর্ঘ ছিল, তবে তা প্রথম রাক‘আতের প্রত্যেকটি ক্বিয়ামের চেয়ে কম সময় ছিল এবং রুকু‘তে অবস্থানের সময় ছিলো দাঁড়ানোর সমপরিমাণ। অতঃপর তিনি সালাতের মধ্যেই পেছনের দিকে সরে আসেন, ফলে মুসল্লীদের কাতারগুলোও তাঁর সাথে সাথে সরে গেল। অতঃপর তিনি আবার সস্থানে আসলে সবগুলো কাতার সম্মুখে অগ্রসর হয়। এভাবে তিনি সালাত সমাপ্ত করলেন এবং এ সময়ের মধ্যে সূর্যও গ্রহণমুক্ত হয়ে যায়। অতঃপর তিনি বলেনঃ হে লোকেরা! নিশ্চয় সূর্য ও চন্দ্র মহাপরাক্রমশালী মহান আল্লাহ নিদর্শনসমূহের দু‘টি নিদর্শন। কোন ব্যক্তির মত্যুর কারণে এ দু‘টির গ্রহণ হয়না। অতএব তোমরা গ্রহণ হতে দেখলে তা গ্রাসমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত সালাত আদায় করবে। হাদীসের অবশিষ্ট অংশও এভাবে বর্ণিত হয়েছে।[1] সহীহ : মুসলিম। কিন্ত (ছয় রুকু) কথাটি শায। মাহফূয হচ্ছেঃ (চার রুকু)। যেমন সামনে আসছে।

1179। জাবির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে প্রচন্ড গরমের দিনে সূর্যগ্রহণ হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করেন। তিনি এতো দীর্ঘ সময় সালাতে দাঁড়িয়ে থাকলেন যে, লোকজন বেহুশ হয়ে পড়ছিল। তিনি দীর্ঘক্ষণ রুকূ‘ করলেন। অতঃপর মাথা উঠিয়ে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলেন। অতঃপর দু’টি সিজদা্ করলেন। অতঃপর উঠে দাঁড়িয়ে দ্বিতীয় রাক‘আতেও প্রায় প্রথম রাক‘আতের অনুরূপ করলেন। এতে পুরো সালাত চার রুকূ‘ ও চার সিজদা্ বিশিষ্ট হলো। এরপর বর্ণনাকারী পুরো হাদীস বর্ণনা করেন।[1] সহীহ : মুসলিম।

1180। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবদ্দশায় সূর্যগ্রহণ সংঘটিত হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদের দিকে বের হন। তিনি আল্লাহু আকবার বলে সালাত আরম্ভ করেন এবং লোকজন তাঁর পেছনে কাতারবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে যান। অতঃপর তিনি লম্বা ক্বিরাআত পাঠ করেন, তারপর তাকবীর বলে রুকূ‘তে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ তাতে অতিবাহিত করেন। এরপর মাথা তুলে ‘‘সামি‘আল্লাহু লিমান হামিদাহ্ রব্বানা ওয়ালাকাল হামদ’’ বলে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যান। অতঃপর আবার লম্বা ক্বিরাআত পড়েন, তবে তা প্রথমবারের চেয়ে কম দীর্ঘ ছিল। অতঃপর তাকবীর বলে দীর্ঘক্ষণ রুকূ‘ করেন, তবে তা প্রথমবারের চেয়ে কম দীর্ঘ ছিল। অতঃপর ‘‘সামি‘আল্লাহু লিমান হামিদা্হ্ রব্বানা ওয়ালাকাল হামদ’’ বলেন। অতঃপর দ্বিতীয় রাক‘আতেও অনুরূপ করেন। এভাবে তিনি পুরো সালাত চার রুকূ‘ ও চার সিজদা্ সহকারে আদায় করেন। সালাত শেষে প্রত্যাবর্তনের পূর্বেই সূর্য গ্রাসমুক্ত হয়ে যায়।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

1181। কাসীর ইবনু ‘আব্বাস (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হাদীস বর্ণনা করতেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্যগ্রহণের সময় সালাত আদায় করেছেন। অতঃপর অবশিষ্ট বর্ণনা ‘উরওয়াহ হতে ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সূত্রে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। তিনি বলেন, তিনি দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করেছেন এবং প্রতি রাক‘আতে দু‘টি করে রুকূ‘ করেছেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

1182। উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে সূর্যগ্রহণ হলে তিনি সাহাবীদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করেন। তিনি সালাতে দীর্ঘ সূরাহ তিলাওয়াত করেন। তিনি প্রথম রাক‘আতে পাঁচটি রুকূ‘ ও দু’টি সিজদা করেন। অতঃপর দ্বিতীয় রাক‘আতে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ সূরাহ তিলাওয়াত করেন। তাতেও পাঁচটি রুকূ‘ ও দু’টি সিজদা করেন। অতঃপর ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হমুখী হয়ে বসে দু‘আ করতে থাকেন। এমতাবস্থায় সূর্য গ্রাসমুক্ত হয়ে যায়।[1] দুর্বল।

1183। উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে সূর্যগ্রহণ হলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করেন। তিনি তাতে ক্বিরাআত পড়ে রুকূ‘ করেন, অতঃপর ক্বিরাআত পড়ে রুকূ‘ করেন, পুনরায় ক্বিরাআত পড়ে রুকূ‘ করেন, আবার ক্বিরাআত পড়ে রুকূ‘ করেন, অতঃপর সিজদা্ করেন এবং দ্বিতীয় রাক‘আতেও অনুরূপ করেন। (অর্থাৎ প্রতি রাক‘আতে চারটি রুকূ‘)।[1] মুনকার।

1184। সামুরাহ ইবনু জুনদুব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ও এক আনসারী যুবক তীর চালনা করছিলাম। এমন সময় সূর্য যখন লোকদের নজরে আনুমানিক দুই বা তিন তীর পরিমাণ উপরে উঠেছিল তখন তা কালোজিরা বা কালো ফলের মত হয়ে যায়। তখন আমাদের একজন তার সাথীকে বললো, চলো মসাজিদে যাই। আল্লাহর শপথ! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উম্মাতের উপর এ সূর্যের কারণে নিশ্চয়ই নতুন কিছূ ঘটতে যাচ্ছে। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা গিয়ে দেখি, তিনি বেরিয়ে এসে সম্মুখে অগ্রসর হয়ে সালাত আরম্ভ করেছেন। তিনি আমাদেরকে নিয়ে সালাতে এত দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেন যে, ইতিপূর্বে কখনো তিনি এত দীর্ঘক্ষণ দাঁড়াননি। তবে (নিঃশব্দে ক্বিরাআত পড়ায়) আমরা সালাতের মধ্যে তাঁর কোন শব্দ শুনতে পাইনি। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি আমাদেরকে নিয়ে রুকূ‘ করলেন এবং এত লম্বা রুকূ‘ করলেন যে, ইতিপূর্বে কখনো এত দীর্ঘ রুকূ‘ করেননি। এতেও আমরা তাঁর (তাসবীহ পাঠের) শব্দ শুনতে পাইনি। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি এত দীর্ঘ সিজদা্ করলেন যে, ইতিপুর্বে সালাতে কখনো এরূপ দীর্ঘ সিজদা্ করেননি। এতেও আমরা তাঁর কোন শব্দ শুনতে পাইনি। অতঃপর দ্বিতীয় রাক‘আতেও অনুরূপ করলেন। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি দ্বিতীয় রাক‘আতে বসা অবস্থায় থাকতেই সূর্য গ্রাসমুক্ত হয়ে যায়। অতঃপর তিনি সালাম ফিরিয়ে দাঁড়িয়ে আল্লাহর যথাযথ প্রশংসা ও গুন বর্ণনা করে সাক্ষ্য দেন যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন ইলাহ নেই এবং আরো সাক্ষ্য দেন যে, তিনি তাঁর বান্দাহ ও রসূল। অতঃপর আহমাদ ইবনু ইউনুস (রহঃ) তার বর্ণনায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ভাষণের বর্ণনা দেন।[1] দুর্বল।

1185। ক্বাবীসাহ আল-হিলালী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে সূর্যগ্রহণ হলে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স্বীয় কাপড় হেঁচড়াতে হেঁচড়াতে খুব ভয়ের সাথে বের হলেন। তখন আমি তাঁর সাথে মাদীনায় ছিলাম। তিনি দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করালেন এবং এতে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেন। অতঃপর তাঁর সালাত শেষ হলে সূর্য গ্রাসমুক্ত হয়ে যায়। এরপর তিনি বলেন, নিশ্চয় এগুলো হচ্ছে নিদর্শন, মহান আল্লাহ এর মাধ্যমে ভীতি প্রদর্শন করেন। সতরাং যখন তোমরা এরূপ দেখবে, তখন এর পূর্বে তোমাদের আদায়কৃত (ফজরের) ফারয সালাতের ন্যায় সালাত আদায় করবে।[1] দুর্বল।

1186। হিলাল ইবনু ‘আমির (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। ক্বাবীসাহ আল-হিলালী (রাঃ) তাকে বলেছেন, একদা সূর্যগ্রহণ হয়। অতঃপর মূসা বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। তিনি বলেন, গ্রহণের কারণে সূর্য এমনভাবে আচ্ছন্ন হয়েছিল যে, তারকারাজি পর্যন্ত দৃষ্টিগোচর হচ্ছিল।[1] দুর্বল।

1187। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে সূর্যগ্রহণ হওয়ায় রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেরিয়ে এসে লোকদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করলেন। তিনি দাঁড়িয়ে এত দীর্ঘক্ষণ ক্বিরাআত পাঠ করেন যে, আমি অনুমান করে দেখেছি যে, তিনি সূরাহ বাক্বারাহ তিলাওয়াত করেছেন। অতঃপর বর্ণনাকারী হাদীসের বাকী অংশ বর্ণনা করেন। এরপর তিনি দু‘টি সিজদা্ করেছেন। তারপর দাঁড়িয়ে এত দীর্ঘ ক্বিরাআত পাঠ করেন যে, আমি অনুমান করেছি যে, তিনি সূরাহ আলে-‘ইমরান তিলাওয়াত করেছেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

1188। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সূর্যগ্রহণের সালাতে) স্বরবে অত্যধিক দীর্ঘ ক্বিরাআত পাঠ করেছেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

1189। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা সূর্যগ্রহণ হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত এবং তাঁর সাথের লোকেরা সালাত আদায় করেন। তিনি (সালাতে) সূরাহ আল-বাক্বারাহ পড়ার সমপরিমাণ সময় দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকেন। তারপর রুকূ‘ করেন। এরপর বর্ণনাকারী হাদীসের বাকী অংশটি বর্ণনা করেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

1190। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা সূর্যগ্রহণ হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে ঘোষণা দেয়ার নির্দেশ করেন যে, সালাতের জামা‘আত অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে (কাজেই তোমরা একত্রিত হও)।[1] সহীহ : মুসলি। বুখারী তা‘লীক্বভাবে।

1191। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কারো মৃত্যু এবং জন্মের কারণে সূর্য ও চন্দ্রগ্রহণ হয় না। কাজেই যখন তোমরা তা (সংঘটিত হতে) দেখবে তখন মহা পরাক্রমশালী আল্লাহর নিকট দু‘আ করবে, তাকবীর বলবে এবং সাদাকা করবে।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

1192। আসমা (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্যগ্রহণের সালাতের সময় গোলাম আযাদ করার আদেশ দিতেন।[1] সহীহ : বুখারী।

1193। নু‘মান ইবনু বাশীর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে সূর্যগ্রহণ হলে তিনি দু’ দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করেন এবং সূর্য গ্রহণমুক্ত হয়েছে কিনা তা জিজ্ঞেস করতে থাকেন।[1] মুনকার।

1194। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে সূর্যগ্রহণ হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে দাঁড়ান। তিনি এত দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেন যে, রুকূতেই যাচ্ছেন না। আতঃপর রুকূ‘ করলেন এবং এত দীর্ঘক্ষণ রুকূ‘ করলেন যে, মাথা উঠাবেন বলে মনে হলো না, অবশ্য পরে উঠালেন এবং এত দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেন যে, সিজদা্ করার সম্ভাবনাই থাকলো না। অতঃপর সিজদা্ করলেন এবং এত দীর্ঘক্ষণ সিজদা্ করলেন যে, মাথা উঠানোর সম্ভাবনাই থাকলো না। অবশ্য পরে মাথা উঠালেন এবং প্রথম সিজদার পর এত দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলেন যে, দ্বিতীয় সিজদা্ করবেন বলে সম্ভাবনা দেখা গেলো না। অতঃপর সিজদায় গিয়ে এত দীর্ঘক্ষণ সিজদা্ করলেন যে, মাথা উঠাবেন বলে মনে হলো না, অতঃপর উঠালেন এবং দ্বিতীয় রাক‘আতেও অনুরূপ করলেন। পরে তিনি সর্বশেষ সাজদার মধ্যে করলেন উহঃ উহঃ শব্দ করলেন এবং বললেনঃ হে আমার প্রভূ! আপনি কি আমাকে এ প্রতিশ্রুতি দেননি যে, আমার বর্তমানে আপনি তাদেরকে শাস্তি দিবেন না? আপনি কি আমার সাথে ওয়াদা করেননি যে, তারা ক্ষমা চাইতে থাকলে আপনি তাদেরকে শাস্তি দিবেন না? এ বলে তিনি সালাত হতে অবসর হলে সূর্যও গ্রাসমুক্ত হয়ে যায়। আর এভাবেই হাদীস বর্ণিত হয়েছে।[1] সহীহ : কিন্তু দুই রুকূ‘ উল্লেখসহ। যেমনটি বুখারী ও মুসলিমে আছে।

1195। ‘আবদুর রহমান ইবনু সামুরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবদ্দশায় একটি জায়গাতে আমি তীর চালনা শিখছিলাম। এমন সময় সূর্যগ্রহণ হলে আমি তীরগুলো ফেলে দিয়ে বলি, আজ সূর্যগ্রহণের দরুন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য কি ঘটে, তা অবশ্যই স্বচক্ষে দেখবো। আমি তাঁর কাছে গিয়ে দেখলাম, তিনি দু’ হাত উঠিয়ে তাসবীহ, তাহমীদ, কালিমাহ ও দু‘আ পাঠেরত আছেন। অবশেষে সূর্য গ্রাসমুক্ত হয়ে গেল। তিনি দু‘টি সূরার দ্বারা দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করলেন।[1] সহীহ : মুসলিম সংক্ষেপে।

1196। ‘উবায়দুল্লাহ ইবনুন নাদর (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা বলেছেন, একদা আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) এর সময় একবার (আকাশ) অন্ধকারাচ্ছন্ন হলে আমি আনাস (রাঃ)-এর নিকট এসে জিজ্ঞেস করলাম, হে আবূ হামযাহ! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে আপনারা কখনো এরূপ বিপদের সম্মুখীন হয়েছিলেন কি? তিনি বললেন, ‘‘আল্লাহ পানাহ! তখন একটু জোরে বাতাস প্রবাহিত হলেই আমরা ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) হবার আশংকায় দ্রুত দৌড়িয়ে মসজিদে যেতাম।[1] দুর্বল।

1197। ‘ইকরিমাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কোন এক স্ত্রীর ইন্তেকালের সংবাদ দেয়া হলে তিনি সিজদায় লুটে পড়লেন। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, এ সময় সিজদা্ করার কারণ কি? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তোমরা কোন নির্দশন দেখবে, তখন সিজদা্ করবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রীর ইন্তিকালের চেয়ে বড় নির্দশন (বিপদ) আর কি হতে পারে![1] হাসান

উৎস: Sunan Abu Dawud

WEBREATH · 11:11

«Should I not be a thankful servant?» — Sahih al-Bukhari

Breath is one for all: everyone lives by it, whoever they are and whatever they believe. Every day at 11:11 local time people stop for sixty seconds, breathe, and thank GOD for the breath — each in their own words, each within themselves. In that minute we are One Breath.

WEBREATH — the Minute at 11:11, your own local time — we are One Breath