সুনানে আবু দাউদ 27 · Drinks (Kitab Al-Ashribah)
আপনার ভাষায় এখনো কোনো অনুবাদ নেই — ইংরেজি দেখাচ্ছে
3669। উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, মদ হারাম হওয়ার বিধান যেদিন অবতীর্ণ হলো তখন তা পাঁচটি জিনিস থেকে তৈরী করা হতো; আঙ্গুর, খেজুর, মধু, গম ও বার্লি। মদ সেই পানীয় যা মানুষকে জ্ঞানশূন্য করে দেয়। তিনটি বিষয় সম্পর্কে আমি আশা করেছিলাম, তা সুস্পষ্টভাবে আমাদের নিকট বর্ণনা না করা পর্যন্ত যদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের থেকে বিদায় না নিতেন! সেগুলো হলো, দাদার মীরাস, কালালার ব্যাখ্যা ও সুদের কিছু বিষয়।[1] সহীহ।
3670। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, মদ পান হারাম হওয়া সম্পর্কিত আদেশ তখনও অবতীর্ণ হয়নি। আমি বললাম, হে আল্লাহ! আমাদের জন্য মদের বিষয়টি সুস্পষ্ট করো দিন। অতঃপর সূরা আল-বাকারাহর (২১৯ নং) আয়াত অবতীর্ণ হলোঃ ‘‘(হে রাসূল!) তারা আপনাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে প্রশ্ন করছে। আপনি বলুন, উভয়ের মধ্যে বড় বড় পাপের উপাদান আছে, যদিও এতে লোকদের জন্য কিছুটা উপকারিতাও আছে। কিন্তু উভয় কাজের পাপ ও অকল্যাণের পরিমাণ উপকারিতার চেয়ে অনেক বেশি।’’ অতঃপর উমার (রাঃ)-কে ডাকা হলো এবং তাকে এ আয়াত পড়ে শুনানো হলো। তিনি বললেন, হে আল্লাহ! মদের ব্যাপারে আমাদের সুস্পষ্ট বলে দিন। অতঃপর সূরা আন-নিসার (৪২নং) আয়াত অবতীর্ণ হলোঃ ‘‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা মাতাল অবস্থায় সালাতের কাছেও যাবে না, সালাত তখন পড়বে যখন তোমরা বুঝতে পারো তোমরা কি পড়ছো।’’ এরপর থেকে যখন সালাতের জামা‘আত প্রস্তুত হতো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘোষক ঘোষণা করতেন, সাবধান! মাতাল অবস্থায় সালাতের কাছেও আসবে না। উমার (রাঃ)-কে ডেকে এনে এ আয়াত পড়ে শুনানো হলো। তিনি আবার দু‘আ করলেন, হে আল্লাহ! মদের বিষয়ে সুস্পষ্টভাবে বলে দিন। তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হলোঃ ‘‘হে আল্লাহ! ঈমানদারগণ! মদ, জুয়া, আস্তানা ও পাশা এসবই নাপাক, শয়তানী কাজ। তোমরা এসব থেকে দূরে থাকো...।’’ (সূরা আল-মায়িদাহঃ ৯০-৯১)। উমার (রাঃ) বলেন, আমরা এসব কাজ বর্জন করলাম।[1] সহীহ।
3671। আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা আনসার গোত্রের এক লোক তাকে ও আব্দুর রাহমান ইবনু আওফ (রাঃ)-কে দা‘ওয়াত করে উভয়কে মদ পান করালেন তা হারাম হওয়ার পূর্বে। অতঃপর মাগরিবের সালাতে আলী (রাঃ) তাদের ইমামতি করলেন। তিনি সূরা ‘‘কুল ইয়া আয়্যুহাল কাফিরূন’’ পাঠ করতে গিয়ে তালগোল পাকিয়ে ফেলেন। অতঃপর এ আয়াত অবতীর্ণ হলোঃ ‘‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা যখন মাতাল অবস্থায় থাকো তখন সালাতের কাছেও যেও না। সালাত তখনই পড়বে, যখন তোমরা কি বলছো তা সঠিকরূাপ বুঝতে পারো।’’ (সূরা আন-নিসাঃ ৪৩)[1] সহীহ।
3672। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। ‘‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা যখন মাতাল অবস্থায় থাকো তখন সালাতের কাছেও যেও না...’’ এবং ‘‘লোকেরা আপনাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে প্রশ্ন করে, আপনি বলুন, এর মধ্যে বড় বড় পাপের উপাদান আছে; যদিও এর মধ্যে লোকদের জন্য কিছুটা উপকারিতাও রয়েছে...’’ এ আয়াত দু’টি হুকুম ‘‘হে ঈমানদারগণ! নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, আস্তানা...’’ দ্বারা রহিত করা হয়েছে।[1] সনদ হাসান।
3673। আনাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন মদ হারাম ঘোষিত হয় তখন আমি আবূ তালহার ঘরে মদ পরিবেশনকারী ছিলাম। আমাদের মদ ছিলো ‘ফাদীখ।’ এ সময় এক লোক এসে আমাদেরকে বললো, নিশ্চয়ই মদ হারাম করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘোষণাকারীও মদ হারাম হওয়ার ঘোষণা দিয়ে যাচ্ছিলেন। আমরা আওয়াজ শুনে বললাম, এ লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘোষক।[1] সহীহ।
3674। ইবনু উমার (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মদ, তা পানকারী, পরিবেশনকারী বিক্রেতা, ক্রেতা, উৎপাদক ও শোধনকারী, যে উৎপাদন করায়, সরবরাহকারী এবং যার জন্য সরবরাহ করা হয়- এদের সকলকে আল্লাহ লা‘নত করেছেন।[1] সহীহ।
3675। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। আবূ তালহা (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কতিপয় কয়েকটি ইয়াতীম সম্পর্কে প্রশ্ন করলেন, তারা উত্তরাধিকার সূত্রে মদ পেয়েছিল। তিনি বললেনঃ তা ঢেলে ফেলে দাও। আবূ তালহা (রাঃ) বললেন, আমি কি একে সিরকায় রূপান্তরিত করতে পারবো না? তিনি বললেনঃ না।[1] সহীহ।
3676। নু‘মান ইবনু বাশীর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আঙ্গুর থেকে মদ তৈরী হয়; খেজুর, থেকে মদ তৈরী হয়’ মধু থেকে মদ তৈরী হয়; গম থেকে মদ তৈরী হয় এবং বার্লি থেকে মদ তৈরী হয়।[1] সহীহ।
3677। নু‘মান ইবনু বাশীর (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ আঙ্গুরের রস, কিশমিশ, খেজুর, গম, বার্লি এবং এক প্রকার বীজ দ্বারা মদ তৈরী হয়। নেশা উদ্রেককারী সব ধরণের বস্ত্তর ব্যবহার থেকে আমি তোমাদের নিষেধ করছি।[1] সহীহ।
3678। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ দু’ প্রকার গাছ থেকে মদ তৈরী হয়। খেজুর গাছ ও আঙ্গুর গাছ।[1] সহীহ।
3679। ইবনু উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নেশা উদ্রেককারী প্রতিটি বস্তু মদের অন্তর্ভুক্ত এবং নেশা উদ্রেককারী প্রতিটি জিনিস হারাম। যে ব্যক্তি সর্বদা মদপান করে এবং এ অবস্থায় মৃত্যু বরণ করে, আখিরাতে তাকে মদ পান করা থেকে বঞ্চিত রাখা হবে।[1] সহীহ।
3680। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নেশা উদ্রেককারী প্রতিটি বস্তু মদের অন্তর্ভুক্ত। আর নেশা সৃষ্টিকারী প্রতিটি বস্তু হারাম। যে ব্যক্তি একবার নেশা উদ্রেককারী জিনিস পান করলো সে তার চল্লিশ দিনের সালাতের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো। সে যদি তওবা করে আল্লাহ তার তওবা কবূল করতে পারেন। সে যদি চতুর্থবার তা পান করে তবে আল্লাহ তাকে জাহান্নামীদের ঘা থেকে নির্গত পুঁজ খাওয়াবেন। প্রশ্ন করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! ‘তীনাতুল খাবাল’ কি? তিনি বললেনঃ জাহান্নামীদের পুঁজ। যে ব্যক্তি কোনো বালককে যার হালাল-হারাম সম্পর্কিত জ্ঞান হয়নি, এটা পান করাবে আল্লাহ তাকে অবশ্যই জাহান্নামীদের পুঁজ-রক্ত পান করাবেন।[1] সহীহ।
3681। জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে জিনিসের অর্ধেক পরিমাণ পান করলে নেশা সৃষ্টি হয় তার সামান্য পরিমাণও হারাম।[1] হাসান সহীহ।
3682। আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মধুর তৈরী শরবত সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেনঃ নেশা সৃষ্টিকারী যে কোনো পানীয় হারাম। অপর বর্ণনায় রয়েছেঃ মধুর তৈরী শরবত। বর্ণনাকারী বলেন, ইয়ামেনের অধিবাসীরা এই শরবত পান করতো।[1] সহীহ।
3683। দায়লাম আল-হিমযারী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রশ্ন করলাম, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা শীতপ্রধান এলাকায় বসবাস করি। আমাদেরকে সেখানে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। আমরা গম থেকে তৈরী মদ পান করে ক্লান্তি দূর করি ও শীত প্রতিরোধ করি। তিনি প্রশ্ন করলেনঃ তাতে কি নেশার সৃষ্টি হয়? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বলেনঃ তবে তা বর্জন করো। আমি বললাম, কিন্তু লোকেরা তা বর্জন করবে না। তিনি বললেনঃ যদি তারা এটা বর্জন না করে তাহলে তোমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো।[1] সহীহ।
3684। আবূ মূসা (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মধুর তৈরী শরবত সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি বলেনঃ এটাকে ‘বেত’উ বলা হয়। আমি বার্লি ও এক ধরণর বীজে তৈরী শরবত সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি বলেনঃ এটা ‘মিযর।’ অতঃপর তিনি বললেনঃ তোমার গোত্রের লোকদের জানিয়ে দাও, নেশা সৃষ্টিকারী প্রতিটি বস্তুই হারাম।[1] সহীহ।
3685। আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদ পান, জুয়া খেলা, কুবাহ ও গুবায়রা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেছেনঃ নেশা সৃষ্টিকারী প্রতিটি বস্তুই হারাম।[1] সহীহ।
3686। উম্মু সালামাহ (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নেশা সৃষ্টিকারী সর্ব ধরণের বস্তু এবং অবসন্নকারী বস্তুর ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছেন।[1] দুর্বলঃ যঈফাহ (৪৭৩২), মিশকাত (৩৬৫০)।
3687। আয়িশাহ (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ নেশা উদ্রেককারী যে কোনো বস্তুই হারাম। যে বস্তুর এক ফারাক পরিমাণ পান করলে নেশার উদ্রেক হয় তার এক অঞ্জলি পরিমাণও হারাম।[1] সহীহ।
3688। মালিক ইবনু আবূ মারইয়াম (রহঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আব্দুর রাহমান ইবনু গানম (রহঃ) আমাদের নিকট আসলে আমরা ‘তিলাআ’ সম্পর্কে উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন, আবূ মালিক আল-আশ‘আরী (রাঃ) আমাকে বলেছেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেনঃ আমার উম্মাতের একদল লোক মদ পান করবে এবং তারা একে ভিন্ন নামে অভিহিত করবে।[1] সহীহ।
3689। সুফিয়ান সাওরী (রহঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত। একদা তাকে দাযী (দুষ্কৃতকারীদের শরাব) সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উম্মাতের একদল লোক অবশ্যই মদ পান করবে এবং তারা এর ভিন্নতর নামকরণ করবে।[1] সহীহ।
3690। ইবনু আব্বাস ও ইবনু উমার (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত। তারা উভয়ে বলেন, আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন দুব্বা, হানতাম, মুযাফফাত ও নাকীর পাত্রগুলো ব্যবহার করতে।[1] সহীহ।
3691। সাঈদ ইবনু জুবায়র (রহঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)-কে বলতে শুনলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কলসে সংরক্ষিত নবীয হারাম ঘোষণা করেছেন। আমি তার এ কথায়ঃ ‘‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কলসে সংরক্ষিত নবীয হারাম ঘোষণা করেছেন’’, ভীত হয়ে বেরিয়ে পড়লাম। আমি ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললাম, আপনি কি শুনেছেন ইবনু উমার (রাঃ) কি বলছেন? তিনি বললেন, কি বলছেন? তিনি বলছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কলসে সংরক্ষিত নবীয হারাম ঘোষণা করেছেন। তিনি বললেন, ইবনু উমার (রাঃ) ঠিকই বলেছেন যে, ‘‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কলসে সংরক্ষিত নবীয হারাম ঘোষণা করেছেন।’’ আমি বললাম, ‘জার’ কি? তিনি বলেন, মাটির তৈরী পাত্র।[1] সহীহ।
3692। ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আব্দুল কায়িস গোত্রের প্রতিনিধি দল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা রবী‘আহ গোত্রের একটি শাখাগোত্র। আমাদের ও আপনার মাঝখানে কাফির মুদার গোত্রের এ জনপদ বাধা হয়ে আছে। এজন্য হারাম মাস (মুহাররম, রজব, যিলকাদ ও যিলহজ্জ) ব্যতীত অন্য কোনো সময়ে আমরা আপনার নিকট আসতে পারি না। কাজেই আমাদেরকে এমন কিছু আদেশ দিন যা আমরা নিজেরা গ্রহণ করবো এবং আমাদের অন্যান্য লোকদেরও সে দিকে আহবান করবো। তিনি বললেনঃ আমি তোমাদেরকে চারটি বিষয় গ্রহণের আদেশ দিচ্ছি এবং চারটি বিষয়ে নিষেধ করছি। আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা- এ সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তিনি নিজের হাত দিয়ে ইশারা করলেন। মুসাদ্দাদের বর্ণনায় রয়েছেঃ ‘আল্লাহর প্রতি ঈমান’ বলে তিনি তাদেরকে এর ব্যাখ্যা করে বললেঃ এ সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই; নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়িম করা, যাকাত দেয়া এবং গানীমাতের এক-পঞ্চমাংশ জমা দেয়া। আমি তোমাদেরকে নিষেধ করছি লাউয়ের খোল দ্বারা তৈরী পাত্র, মাটির সবুজ পাত্র, তৈলাক্ত পাত্র এবং কালো রং এর পাত্র ব্যবহার করতে। ইবনু উবাইদের বর্ণনায় মুকাইয়ার শব্দের স্থলে নাকীর শব্দ রয়েছে। মুসাদ্দাদ নাকীর ও মুকাইয়ার শব্দ বর্ণনা করেছেন কিন্তু মুযাফ্ফাত শব্দের উল্লেখ করেননি।[1] সহীহ।
3693। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আব্দুল কায়িস গোত্রের প্রতিনিধিদেরকে বললেনঃ আমি তোমাদের নাকীর, মুকাইয়ার, হানতাম, দুব্বা এবং মাথা কাটা কলস ব্যবহার করতে নিষেধ করছি। বরং তোমরা (অন্য) পাত্রে পান করো এবং পাত্রের মুখ উত্তমরূপে বেঁধে দেয়া।[1] সহীহ।
3694। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে আব্দুল কায়িস গোত্রের প্রতিনিধিদের ঘটনা প্রসঙ্গে বর্ণিত। তারা বললো, হে আল্লাহর নবী! আমরা কিসে করে পান করবো? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমাদের উচিত মুখ বন্ধ করে রাখা চামড়ার মশক ব্যবহার করা।[1] সহীহ।
3695। আবুল কামূস যায়িদ ইবনু আলী (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আব্দুল কায়িস গোত্রের প্রতিনিধি দলের সাথে যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসেছিল তাদেরই একজন আমাকে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। আওফের ধারণা তার নাম কায়িস ইবনুল নু‘মান। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কাঠের পাত্রে, তৈলাক্ত পাত্রে, লাউয়ের খোলের পাত্রে এবং মাটির সবুজ পাত্রে পান করো না। যদি তা (নবীয) কড়া হয়ে যায় তবে পানি মিশিয়ে এর তেজী ভাব দূরে করো। যদি কড়া কমাতে না পারো তবে তা ঢেলে ফেলে দাও।[1] সহীহ।
3696। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আব্দুল কায়িসের প্রতিনিধি দল বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কিসে করে পান করবো? তিনি বলেনঃ তোমরা লাউয়ের খোলের পাত্রে, তৈলাক্ত পাত্রে এবং কাঠের পাত্রে পান করবে না। তোমাদের কলসে নবীয প্রস্তুত করো। তারা বললো, হে আল্লাহর রাসূল! কলসের নবীযে যদি তেজী ভাব আসে? তিনি বলেনঃ তাতে পানি ঢেলে দাও। তারা বললো, হে আল্লাহ রাসূল! এরপরও যদি তেজী ভাব আসে! তিনি তাদেরকে তৃতীয় বা চতুর্থবারে বললেনঃ তা ঢেলে ফেলে দাও। অতঃপর তিনি বললেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উপর হারাম করেছেন অথবা হারাম করা হয়েছে মদ, জুয়া এবং যাবতীয় বাদ্যযন্ত্র। তিনি আরো বলেনঃ নেশা উদ্রেককারী সকল জিনিস হারাম। সুফিয়ান (রহঃ) বলেন, আমি আলী ইবনু বাযীমাকে ‘কুবাহ’ সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, তা হলো তবলা বা ঢোল।[1] সহীহ।
3697। আলী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে লাউয়ের খোলের পাত্র, মাটির সবুজ পাত্র, ও কাঠের পাত্র ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন এবং জি‘আহ নামক নবীয পান করতেও নিষেধ করেছেন।[1] সহীহ।
3698। ইবনু বুরাইদাহ (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি তোমাদেরকে তিনটি বিষয় থেকে বিরত থাকতে বলেছিলাম। এখন আমি শেষ বিষয়ে তোমাদেরকে অনুমতি দিচ্ছি। আমি তোমাদেরকে কবর যিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম। এখন তোমরা তা যিয়ারত করো। কেননা তা দর্শনে (মৃত্যুকে) স্মরণ হয়। আমি তোমাদেরকে পানপাত্র সম্পর্কে নিষেধ করেছিলাম যে, তোমরা চামড়ার পাত্রে নবীয পান করবে। এখন তোমরা যে কোনো পাত্রে পান করতে পারো। কিন্তু তোমরা কখনো মাদক দ্রব্য পান করো না। আমি তোমাদের উপর কুরবানীর গোশতের ব্যাপারে তা তিন দিনের পর না খেতে বলেছিলাম। এখন তোমরা তা (দীর্ঘদিন) খেতে পারো এবং তোমাদের সফরে তা কাজে লাগাতে পারো।[1] সহীহ।
3699। জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বিভিন্ন পাত্র সম্পর্কে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেন, তখন আনসারগণ বললেন, এছাড়া আমাদের একবারেই চলে না। তিনি বলেনঃ তাহলে আপত্তি নেই।[1] সহীহ।
3700। আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুব্বা, হানতাম, মুযাফ্ফাত, নাকীর ইত্যাদি পাত্রের কথা উল্লেখ করলেন (ব্যবহার করতে বারণ করলেন)। তখন এক বেদুঈন বললো, এছাড়া আমাদের অন্য কোনো পাত্র নেই। তিনি বলেনঃ যা হালাল তা পান করো।[1] সহীহ।
3701। শারীক (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি তার সনদে বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা নেশা উদ্রেককারী বস্তু বর্জন করো।[1] সহীহ।
3702। জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য মশকে নবীয ঢালা হতো। মশক না পাওয়া গেলে পাথরের তৈরী পাত্রে তাঁর জন্য নবীয ঢালা হতো।[1] সহীহ।
3703। জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খেজুর ও আঙ্গুরের সমন্বয়ে নবীয তৈরী করতে বারণ করেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কাঁচা ও পাকা খেজুর একত্রে করেও নবীয বানাতে বারণ করেছেন।[1] সহীহ।
3704। আবূ কাতাদাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিশমিশ ও শুকনো খেজুর একত্রে মিশিয়ে এবং কাঁচা ও পাকা খেজুর একত্রে মিশিয়ে এবং পাকা রং ধারণকৃত ও শুকনো খেজুর একত্রে মিশিয়ে পানীয় বানাতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেনঃ প্রতিটি ফল দিয়ে ভিন্ন ভিন্নভাবে তোমরা নবীয বানাও।[1] সহীহ।
3705। ইবনু আবূ লাইলাহ (রহঃ) থেকে জনৈক ব্যক্তি সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একদল সাহাবী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি কাঁচা ও পাকা খেজুর একত্রে মিশিয়ে এবং আঙ্গুর ও খেজুর একত্রে মিশিয়ে নবীয তৈরী করতে নিষেধ করেছেন।[1] সহীহ।
3706। কাবশাহ বিনতু আবূ মারইয়াম (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উম্মু সালামাহ (রাঃ)-কে প্রশ্ন করলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন বস্তু থেকে নিষেধ করেছেন? তিনি বললেন, তিনি আমাদের খেজুরের আঁটি পাকাতে নিষেধ করেছেন এবং কাঁচা ও পাকা খেজুর একত্রে মিশ্রিত করে নবীয তৈরী করতে নিষেধ করেছেন।[1] সনদ দুর্বল।
3707। আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য আঙ্গুরের নবীয তৈরী করা হতো, অতঃপর তাতে খেজুর ছেড়ে দেয়া হতো বা খেজুরের নবীয তৈরী করা হতো এবং তাতে আঙ্গুর ছেড়ে দেয়া হতো।[1] সনদ দুর্বল।
3708। সাফিয়্যাহ বিনুত আতিয়্যাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আব্দুল কায়িস গোত্রের মহিলাদের সঙ্গে আমি আয়িশাহ (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হলাম। আমরা তাকে খেজুর ও আঙ্গুর মিশ্রিত শরবত সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আমি এক মুষ্টি খেজুর ও এক মুষ্টি আঙ্গুর একটি পাত্রে ঢালতাম। তা আঙ্গুল দিয়ে চেপে রস বের করতাম, অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে পান করাতাম।[1] সনদ দুর্বল।
3709। কাতাদাহ (রহঃ) থেকে জাবির ইবনু যায়িদ ও ইকরিমাহ সূত্রে বর্ণিত। তারা দু’ জনেই কেবল কাঁচা খেজুরের তৈরী শরবত অপছন্দ করতেন। তারা ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে এটা বর্ণনা করেন। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, আমার আশংকা হচ্ছে- এটা যেন মুযযাআ না হয়। কেননা আব্দুল কায়িস গোত্রকে তা পান করতে নিষেধ করা হয়েছে। (বর্ণনাকারী হিশাম বলেন), আমি কাতাদাহকে বললাম, ‘মুযযাআ’ কি? তিনি বলেন, মাটির সবুজ পাত্রে ও তৈলাক্ত পাত্রে ভিজানো নবীয।[1] সনদ সহীহ।
3710। আব্দুল্লাহ ইবনু দায়লামী (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি (পিতা) বলেন, একদা আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বলি, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি জানেন যে, আমরা কারা, কোথাকার অধিবাসী এবং কার নিকট এসেছি। তিনি বললেনঃ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নিকট এসেছো। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের এখানে আঙ্গুর উৎপাদিত হয়। আমরা এগুলো কি করবো? তিনি বললেনঃ এগুলো শুকিয়ে কিশমিশ বানাও। আমরা বললাম, কিশমিশ দিয়ে কি করবো? তিনি বলেনঃ শরবত তৈরীর জন্য তা সকালে ভিজাবে এবং রাতে পান করবে অথবা রাতে ভিজাবে এবং সকালে পান করবে। তা চামড়ার মশকে ভিজাবে। মাটির কলসীতে অথবা বড় পাত্রে নবীয বানাবে না। কেননা নিংড়াতে দেরী হলে তা সিরকার পরিণত হবে।[1] হাসান সহীহ।
3711। আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য একটি পাত্রে নবীয বানানো হতো, তার উপরের মুখ বন্ধ করে দেয়া হতো এবং এর নীচের দিকেও মুখ ছিলো। তাঁর জন্য সকালে যে নবীয বানানো হতো তিনি রাতের বেলা তা পান করতেন। আবার রাতে যে নবীয বানানো হতো তিনি তা সকালে পান করতেন।[1] সহীহ।
3712। আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য সকালে নবীয তৈরী করতেন। যখন রাত হতো তিনি তা পান করতেন। কিছু উদ্ধৃত্ত থাকলে তিনি তা ঢেলে ফেলে দিতেন বা শেষ করে দিতেন। অতঃপর তিনি রাতে নবীয তৈরী করতেন। যখন সকাল হতো তিনি তা পান করতেন। আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আমি সকাল সন্ধ্যায় নবীযের পাত্র ধুয়ে নিতাম। মুকাতিল (রহঃ) বলেন, আমার পিতা তাকে বললেন, দৈনিক দু’ বার? তিনি বললেন, হ্যাঁ।[1] সনদ হাসান।
3713। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য আঙ্গুরের নবীয বানানো হতো। তিনি তা সারা দিন পান করতেন, দ্বিতীয় দিন এবং তৃতীয় দিনও বিকাল পর্যন্ত পান করতেন। অতঃপর তিনি আদেশ দিলে অবশিষ্ট শরবত খাদেমদেরকে পান করানো হতো কিংবা ফেলে দেয়া হতো। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, খাদেমদের পান করানোর অর্থ হলো, তাতে নেশা প্রকাশ পাওয়ার আগে তারা তা পান করতো।[1] সহীহ।
3714। ‘উবাইদ ইবনু উমাইর (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী আয়িশাহ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাইনাব বিনতু জাহশ (রাঃ)-এর ঘরে আসতেন এবং সেখানে মধু খেতেন। একদিন আমি ও হাফসাহ পরামর্শ করলাম যে, আমাদের দু’জনের যার ঘরেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রবেশ করবেন। সে যেন বলে, আমি আপনার মুখ থেকে মাগাফীরের গন্ধ পাচ্ছি। তিনি তাদের কোনো একজনের ঘরে ঢুকলে তিনি তাঁকে ঐ কথা বললেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ বরং আমি যাইনাব বিনতু জাহশের ঘরে মধু পান করেছি। ঠিক আছে আমি আজ থেকে তা কখনো পান করবো না। অতঃপর কুরআনের আয়াত অবতীর্ণ হলোঃ ‘‘হে নবী! আল্লাহ আপনার জন্য যা হালাল করেছেন তা কেন হারাম করছেন? আপনি কি স্ত্রীদের সন্তুষ্টি লাভ করতে চান? ... তোমরা উভয়ে যদি আল্লাহর নিকট তওবা করো’’ (সূরা তাহরীমঃ ১-৫), এ আয়াতগুলোতে আয়িশাহ ও হাফসাহ (রাঃ)-কে তওবা করতে বলা হয়েছে। ‘‘যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটা কথা স্বীয় এক স্ত্রীর নিকট সংগোপনে বলেছিলেন’’ এ আয়াতটি ‘বরং আমি মধু পান করেছি’ কথার ব্যাখ্যায় অবতীর্ণ।[1] সহীহ।
3715। আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিষ্টি জিনিস ও মধু অত্যান্ত পছন্দ করতেন। অতঃপর বর্ণনাকারী উপরের হাদীসের অংশ বিশেষ বর্ণনা করে বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শরীর থেকে কেউ কোনরূপ দুর্গন্ধ পাক তা তিনি খুবই অপছন্দ করতেন। এ হাদীসে রয়েছেঃ সাওদা (রাঃ) বলেন, বরং আপনি মাগাফীর পান করেছেন। তিনি বললেনঃ আমি মধু পান করেছি, হাফসাহ আমাকে মধু পান করিয়েছে। আমি বললাম, ‘তাহলে মৌমাছি উরফুতের রস শোষণ করেছে’ যেসব গাছ থেকে মৌমাছি মধু সংগ্রহ করে উরফুত সে ধরণের একটি গাছ। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, মাগাফীর হচ্ছে এক ধরণের বৃক্ষ নির্যাস; জারাসাত অর্থ আহার করলো এবং উরফুত হলো এক ধরণের উদ্ভিদ যা থেকে মৌমাছি রস সংগ্রহ করে।[1] সহীহ।
3716। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জানতাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রায়ই সাওম পালন করতেন। সুতরাং আমি অপেক্ষায় ছিলাম তিনি কোন্ দিন সাওম না রাখেন। আমি তাঁর জন্য লাউয়ের পাত্রে নবীয তৈরী করে নিয়ে গেলাম। আমি তাঁকে তা পরিবেশন করলাম। কিন্তু তাতে তেজী ভাব আসায় তিনি বললেনঃ এগুলো দেয়ালের ওখানে ফেলে দাও। এটা তারাই পান করতে পারে যারা আল্লাহর আখিরাতের প্রতি বিশ্বাসী নয়।[1] সহীহ।
3717। আনাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো ব্যক্তিকে দাঁড়িয়ে পান করতে নিষেধ করেছেন।[1] সহীহ।
3718। আন নাযযাল ইবনু সাবরাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা আলী (রাঃ) পানি চেয়ে নিয়ে তা দাঁড়িয়ে পান করলেন। অতঃপর তিনি বলেন, কতিপয় লোক এটাকে অপছন্দ করে যে, তাদের কেউ এরূপ করুক। অথচ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ (দাঁড়িয়ে পান করতে) করতে দেখেছি, যেরূপ তোমরা আমাকে করতে দেখলে।[1] সহীহ।
3719। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কলসের মুখে মুখ লাগিয়ে পানি পান করতে, জাল্লালায় সওয়ার থেকে এবং কোনো প্রাণীকে বেঁধে তীর নিক্ষেপ করে হত্যা করতে বারণ করেছেন। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, জাল্লালা হলো, যে প্রাণী নাপাক বস্তু খায়।[1] সহীহ।
3720। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মশকের মুখ উল্টিয়ে পানি পান করতে নিষেধ করেছেন।[1] সহীহ।
3721। আনসার গোত্রের ঈসা ইবনু আব্দুল্লাহ (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। উহুদ যুদ্ধের দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চামড়ার একটি ছোট মশক নিয়ে আহবান করলেন। তিনি বললেনঃ পাত্রের মুখ উল্টাও। অতঃপর তিনি এর মুখ দিয়ে পানি পান করলেন।[1] মুনকার।
3722। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন পাত্রের ভাঙ্গা স্থান দিয়ে পানি পান করতে এবং পানির মধ্যে ফুঁ দিতে।[1] সহীহ।
3723। ইবনু আবূ লায়লাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুযাইফাহ (রাঃ) মাদায়েনে ছিলেন। তিনি পানি চাইলেন। তখন এক মহাজন একটি রূপার পাত্রে তার জন্য পানি আনলে তিনি পানি ফেলে দিয়ে বললেন, আমি এটা ফেলতাম না; ফেলেছি কেবল এ জন্য যে, তাকে এ পাত্রে পানি পরিবেশন করতে নিষেধ করেছি, কিন্তু তবুও বিরত হয়নি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রেশমী কাপড় পড়তে এবং সোনা-রূপার পাত্রে পান করতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেনঃ ঐগুলো দুনিয়াতে কাফিরদের জন্য এবং আখিরাতে তোমাদের জন্য।[1] সহীহ।
3724। জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর এক সাহাবী এক আনসারীর নিকট গেলেন। সে তখন তার বাগানে পানি দিচ্ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার নিকট পুরাতন কলসে রাখা গত রাতের বাসি পানি থাকলে নিয়ে আসো। নতুবা আমরা নালায় চুমুক দিয়ে পানি পান করে নিবো। লোকটি বললো, হ্যাঁ আমার নিকট পুরাতন কলসে রাখা বাসি পানি আছে।[1] সহীহ।
3725। আব্দূল্লাহ ইবনু আবূ আওফা (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ দলের পানি পরিবেশনকারী সবশেষে পান করবে।[1] সহীহ।
3726। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য দুধ আনা হলো। তাতে পানি মিশানো ছিলো। তাঁর ডান দিকে এক বেদুঈন বসা ছিলো এবং বাম দিকে ছিলেন আবূ বাকর (রাঃ)। তিনি দুধ পান করার পর তা বেদুঈনকে দিয়ে বললেনঃ ডান দিকের ব্যক্তি, অতঃপর ডান দিকের ব্যক্তি।[1] সহীহ।
3727। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পান করার সময় তিনবার নিঃশ্বাস নিতেন। তিনি বলতেনঃ এতে পরিতৃপ্ত হয়ে পান করা যায়, পিপাসা দূরীভূত হয়, পরিপাক শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়।[1] সহীহ।
3728। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পানির পাত্রের মধ্যে নিঃশ্বাস ফেলতে অথবা তাতে ফুঁ দিতে বারণ করেছেন।[1] সহীহ।
3729। সুলাইম গোত্রের আব্দুল্লাহ ইবনু বুশর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার পিতার ঘরে এলে তিনি তাঁর সামনে খাদ্য পরিবেশন করলেন। তিনি ‘হাইস’ নামক খাবারের উল্লেখ করলে তা তাঁর নিকট নিয়ে আসা হলো। অতঃপর তিনি শরবত আনলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা পান করলেন। অতঃপর ডান দিক থেকে পরিবেশন করা হলো। তিনি খেজুর খেলেন এবং বিচিগুলো তর্জনী ও মধ্যমা আঙ্গুলের পেটের উপর রাখলেন। যখন তিনি বিদায় নিতে উঠলেন, আমার পিতাও দাঁড়ালেন তিনি তাঁর জন্তুজানের লাগাম ধরে বললেন, আল্লাহর নিকট আমার জন্য দু‘আ করুন। তিনি দু‘আ করলেনঃ ‘হে আল্লাহ! তাদেরকে দেয়া রিযিকে বরকত দিন, তাদেরকে ক্ষমা করুন এবং তাদের প্রতি অনুগ্রহ করুন।[1] সহীহ।
3730। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি মাইমূনাহ (রাঃ)-এর ঘরে উপস্থিত ছিলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে আসলেন। তাঁর সাথে ছিলো খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ (রাঃ)। তখন এ সময় কতিপয় লোক দু’টি দব্ব (অনেকটা গুইসাপের মত দেখতে) ভূনা করে দু’টি কাঠের উপর রেখে নিয়ে এলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থুথু ফেললেন। খালিদ (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! মনে হয় আপনি ঐ দব্বের গোশত অপছন্দ করেন। তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য দুধ আনা হলো। তিনি তা পান করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমাদের কেউ খাবার খাওয়ার সময় যেন বলেঃ ‘‘হে আল্লাহ! আমাদেরকে এর মধ্যে বরকত দিন এবং এর চেয়ে উত্তম খাবার দান করুন।’’ এবং দুধ পানের সময় যেন বলেঃ ‘‘হে আল্লাহ! আমাদেরকে এর মধ্যে বরকত দিন এবং এর চেয়ে আরো বৃদ্ধি করে দিন।’’ কেননা একমাত্র দুধই খাদ্য ও পানীয় উভয়ের কাজ দেয়।[1] সহীহ।
3731। জাবির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহর নাম নিয়ে তোমার ঘরের দরজা বন্ধ করে ঘুমাও। কারণ শয়তান বন্ধ দরজা খুলতে পারে না। আল্লাহর নাম নিয়ে তোমার ঘরের আলো নিভিয়ে ঘুমাও। আল্লাহর নাম নিয়ে তোমার পাত্রগুলোর মুখ ঢেকে রাখো, যদিও একটি কাঁচ দ্বারা হয়। তা পাত্রের মুখ আড়াআড়িভাবে রেখে দাও। আল্লাহর নাম নিয়ে তোমার পান পাত্রের মুখ বন্ধ করে রাখো।[1] সহীহ।
3732। জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদীসটি এভাবেই বলেছেন। এ হাদীস পরিপূর্ণ বর্ণিত হয়নি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ শয়তান বন্ধ দরজা খুলতে পারে না, বন্ধ পাত্রে ঢুকতে বা তা খুলতে পারে না এবং ইঁদুর মানুষের ঘর বা ঘরগুলো জ্বালিয়ে দেয়।[1] সহীহ।
3733। জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমাদের শিশুদের রাতের বেলা ঘরে আবদ্ধ রাখো। মুসাদ্দাদের বর্ণনায় রয়েছে, সন্ধ্যা বেলায়, কেননা এ সময় শয়তান বা জ্বিন ছড়িয়ে পড়ে এবং নিজেদের থাবা বিস্তার করে।[1] সহীহ।
3734। জাবির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি পানি চাইলে দলের এক ব্যক্তি বললো, আমরা কি আপনাকে নবীয পরিবেশন করবো না? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। জাবির (রাঃ) বললেন, লোকটি দ্রুত চলে গিয়ে একটি নবীয ভর্তি পাত্র নিয়ে ফিরে এলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি কেন পাত্রটির মুখ ঢাকলে না? অন্তত একটি কাঠ-এর উপর আড়াআড়িভাবে রাখলেও হতো।[1] সহীহ।
3735। আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য ‘বুয়ুতুস-সুকইয়া, থেকে মিষ্টি পানি সংগ্রহ করে আনা হতো। কুতাইবা (রহঃ) বলেন, ‘বুয়ুতুস-সুকইয়া, হলো একটি কূপের নাম। এর এবং মদীনার মাঝে দু’ দিনের পথের দূরত্ব।[1] সহীহ।
উৎস: Sunan Abu Dawud
WEBREATH · 11:11
«Should I not be a thankful servant?» — Sahih al-Bukhari
Breath is one for all: everyone lives by it, whoever they are and whatever they believe. Every day at 11:11 local time people stop for sixty seconds, breathe, and thank GOD for the breath — each in their own words, each within themselves. In that minute we are One Breath.
WEBREATH — the Minute at 11:11, your own local time — we are One Breath