সুনানে আবু দাউদ 11 · The Rites of Hajj (Kitab Al-Manasik Wa'l-Hajj)
আপনার ভাষায় এখনো কোনো অনুবাদ নেই — ইংরেজি দেখাচ্ছে
1721। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। আকরা‘ ইবনু হাবিস (রাযি.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! হজ (হজ্জ) প্রতি বছরই ফরয, নাকি মাত্র একবার? তিনি বললেন, জীবনে বরং একবারই, তবে কেউ অধিক করলে সেটা তার জন্য নফল।[1] সহীহ।
1722। আবূ ওয়াকিদ আল-লাইসী (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বিদায় হজের (হজ্জের) দিন তাঁর স্ত্রীদেরকে বলতে শুনেছিঃ তোমাদের জন্য হজ (হজ্জ) এই একবারই। এরপর হজের (হজ্জের) জন্য আর বের হতে হবে না।[1] সহীহ।
1723। আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোনো মুসলিম নারীর জন্য সাথে মাহরাম (যার সাথে বিবাহ হারাম এমন আত্মীয়) ছাড়া এক রাতের রাস্তা সফর করা বৈধ নয়।[1] সহীহ।
1724। আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে নারী আল্লাহ এবং শেষ দিনের উপর ঈমান রাখে তার জন্য একদিন ও এক রাতের পথ করা বৈধ নয়... অতঃপর বর্ণনাকারী পূর্বের হাদীসের অর্থানুরূপ বর্ণনা করেন।[1] সহীহ।
1725। আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন... অতঃপর বর্ণনাকারী (পূর্ব বর্ণিত) হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে (বর্ণনাকারী সুহাইল) বলেছেন, ‘এক বারীদ।’[1] শায।
1726। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে নারী আল্লাহ এবং শেষ দিনের প্রতি বিশ্বাস রাখে, তার জন্য তিন দিন কিংবা এর অধিক সময়ের পথ (একাকী) ভ্রমণ করা বৈধ নয়, যদি না তার সংগে তার পিতা, ভাই, স্বামী ছেলে অথবা কোনো মাহরাম লোক থাকে।[1] সহীহ।
1727। ইবনু ‘উমার (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোনো নারী স্বীয় মাহারাম সাথে না নিয়ে তিন দিনের সফর করবে না।[1] সহীহ।
1728। নাফি‘ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। ইবনু ‘উমার (রাযি.) তার দাসী সাফিয়্যাহ নাম্মীকে তার পেছনে সওয়ারীর উপর বসিয়ে নিয়ে মক্কা পর্যন্ত সফর করেন।[1] সহীহ।
1729। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইসলামে সন্নাসবাদীতা নেই।[1] দুর্বলঃ যঈফ আল-জামি‘উস সাগীর (৬২৬৯), মিশকাত (২৫২২)।
1730। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকজন হজ (হজ্জ) করতো কিন্তু সাথে পাথেয় নিয়ে আসতো না। আবূ মাসঊদ বলেন, ইয়ামেনের কতিপয় লোক হজে (হজ্জে) যেতো কিন্তু সাথে পাথেয় আনতো না এবং তারা বলতো যে, আমরা আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করেছি। অথচ মক্কায় পৌঁছার পর তারা ভিক্ষা করতো। ফলে মহান আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন, ‘‘তোমরা হজের (হজ্জের) সফরে পাথেয় নিয়ে যাবে, আর জেনে রেখো তাকওয়াই হলো উত্তম পাথেয়। (২ঃ ১৯৭)[1] সহীহ।
1731। মুজাহিদ (রহঃ) হতে ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) এ আয়াতটি পাঠ করলেনঃ ‘হজের (হজ্জের) সময়ে (ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে) তোমরা তোমাদের প্রভুর অনুগ্রহ তালাশ করলে দোষের কিছু নেই। (২ঃ ১৯৮) ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) বলেন, (অন্যায় মনে করে) মিনায় কেউ ব্যবসা-বাণিজ্য করতো না। তাদেরকে আরাফাত হতে ফেরার পর মিনায় ব্যবসা করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।[1] সহীহ।
1732। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ হজের (হজ্জের) ইচ্ছা করলে যেন তাড়াতাড়ি সম্পাদন করে।[1] হাসান।
1733। আবূ উমামাহ আত-তাইমী (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এমন লোক যে, হজের (হজ্জের) সময় আমার পশু ভাড়ায় খাটাতাম। তাই কতিপয় লোক বললো, তোমার হজ (হজ্জ) হয় নি। ফলে আমি ইবনু ‘উমারের (রাযি.) সাথে সাক্ষাৎ করে বললাম, হে আবূ ‘আব্দুর রহমান! আমি এমন ব্যক্তি যে, হজের (হজ্জের) সফরে পশু ভাড়ায় খাটাই। কতিপয় লোক বলে, তোমার হজ (হজ্জ) হয় না। তখন ইবনু ‘উমার (রাযি.) বললেন, তুমি কি ইহরাম বেঁধেছো, তালবিয়া পাঠ করেছো, বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করেছো, আরাফাত থেকে ঘুরে এসেছো এবং কংকর নিক্ষেপ করেছো? আমি বললাম, হ্যাঁ, তিনি বললেন, তোমার হজ (হজ্জ) হয়ে গেছে। একদা এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে তাঁকে প্রশ্ন করলো যেরূপ তুমি আমাকে প্রশ্ন করলে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো বক্তব্য না দিয়ে কিছুক্ষণ নীরব রইলেন। অবশেষে এ আয়াত অবতীর্ণ হয়ঃ ‘‘এ ব্যাপারে তোমাদের কোনো দোষ নেই যদি (হজের (হজ্জের) মওসুমে) তোমরা ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে তোমাদের রবের অনুগ্রহ তালাশ করো।’’ অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত ব্যক্তিকে ডেকে পাঠিয়ে তাকে এ আয়াত পড়ে শুনালেন এবং বললেন, তোমার হজ (হজ্জ) হয়েছে।[1] সহীহ।
1734। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। প্রাথমিক কালে লোকেরা হজের (হজ্জের) মওসুমে মিনা, আরাফাত, যুল-মাজাযির বাজারে এবং হজের (হজ্জের) বিভিন্ন অনুষ্ঠানে স্থানগুলোতে ব্যবসা করতো, কিন্তু ইহরাম অবস্থায় এসব স্থানে ব্যবসা করা (জায়িজ কিনা) তাদের সংশয় হলো। তখন মহিয়ান আল্লাহ এ আয়াত অবতীর্ণ করলেনঃ ‘‘তোমাদের কোনো অপরাধ নেই যদি (হজের (হজ্জের) সময়) তোমারা ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে তোমাদের রবের অনুগ্রহ তালাশ করো, বিশেষ করে হজের (হজ্জের) অনুষ্ঠানের স্থানগুলোতে। ইবনু আবূ যিব বলেন, ‘উবাইদ ইবনু উমাইর আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.)فِي مَوَاسِمِ الْحَجِّ এ বাক্যটি মূল কুরআনের মধ্যেই পাঠ করতেন।[1] সহীহ।
1735। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। প্রথম দিকে লোকেরা হজের (হজ্জের) মওসুমে কেনা-বেচা করতো। অতঃপর বর্ণনাকারীمَوَاسِمِ الْحَجِّ পর্যন্ত পূর্ব বর্ণিত হাদীসের সমার্থক হাদীস বর্ণনা করেন।[1] সহীহ, পূর্বেরটির দ্বারা।
1736। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আর-রাওহা’ নামক স্থানে এক কাফেলার সাথে সাক্ষাত হলে তাদেরকে সালাম দিয়ে জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমরা কোন কাফেলা? তারা বললো, আমরা মুসলিম। তারা জিজ্ঞেস করলো, তোমরা কারা? লোকেরা বললো, রাসূলুললাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। এ কথা শুনে এক মহিলা অস্থির হয়ে উঠলো এবং ‘হাওদা’ থেকে একটি শিশুর বাহু ধরে বের করে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! এ শিশুর হজ (হজ্জ) আছে কি? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, তবে সওয়াব তুমি পাবে।[1] সহীহ।
1737। ইবনু ‘উমার (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনাবাসীদের জন্য ‘যূলহুলাইফা’, শামবাসীদের জন্য ‘আল-জুহফা’ এবং নজদবাসীদের জন্য ‘কারণ’ মীকাত হিসেবে নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। ইবনু ‘উমার (রাযি.) বলেন, এবং আমার কাছে এটাও পৌঁছেছে যে, তিনি ইয়ামেনবাসীদের জন্য ‘ইয়ালামলাম’ পর্বতকে মীকাত নির্দিষ্ট করেছেন।[1] সহীহ।
1738। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) ও তাঊস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তাঁরা উভয়ে বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মীকাত নির্দিষ্ট করেন। এরপর বর্ণনাকারী পূর্ব বর্ণিত হাদীসের অর্থানুরূপ বর্ণনা করেন। তাদের দু‘জনের একজন বলেন, ইয়ামেনবাসীদের জন্য ‘ইয়ালামলাম, একজন বলেছেন ‘আলামলাম।’ অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ এ স্থানগুলো সেখানকার অধিবাসীদের জন্য এবং যারা হজ (হজ্জ) ও ‘উমরার উদ্দেশ্যে উক্ত স্থানগুলোর উপর দিয়ে অতিক্রম করবে তাদের জন্যও এ স্থানগুলো মীকাত গণ্য হবে, তারা এখানকার অধিবাসী না হলে। আর যারা মীকাতের অভ্যন্তরের অধিবাসী, ইবনু তাঊস বলেন, তারা যেখানে আছে সেখান থেকেই আরম্ভ করবেন। তিনি বলেন, অনুরূপভাবে মক্কাবাসীগণ মক্কা থেকেই ইহরাম বাঁধবে।[1] সহীহ।
1739। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরাকবাসীদের জন্য ‘যাতু ইরক’-কে মীকাত নির্দিষ্ট করেছেন।[1] সহীহ।
1740। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রাচ্যবাসীদের জন্য ‘আল-আক্বীক’-কে মীকাত নির্দিষ্ট করেছেন।[1] দুর্বলঃ মিশকাত (৯২৫৩০), যঈফ সুনান তিরমিযী (৮৪০/১৪০)।
1741। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী উম্মু সালামাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেনঃ যে ব্যক্তি হজ (হজ্জ) অথবা ‘উমরার জন্য বায়তুল মাকদিস হতে মাসজিদুল হারাম পর্যন্ত গমণের ইহরাম বাঁধে তার পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে অথবা তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আব্দুর রহমানের সন্দেহ বর্ণনাকারী কোন শব্দটি বলেছেন। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, আল্লাহ ওয়াকী (রহ.)-কে ক্ষমা করুন। তিনি বাইতুল মাকদিস হতে ইহরাম বেঁধে মক্কায় পৌঁছেন।[1] দুর্বলঃ যঈফ আল-জামি‘উস সাগীর (৫৪৮৩), সিলসিলাতুল আহাদীসিয যঈফাহ (২১১), মিশকাত (২৫৩২), যঈফ ইবনু মাজাহ (৬৪৬)।
1742। হারিস ইবনু ‘আমর আস-সাহমী (রাযি.) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলাম, তখন তিনি মিনা অথবা আরাফাতে ছিলেন। এ সময় কিছু লোক তাঁকে ঘিরে রেখেছিলো। বর্ণনাকারী বলেন, এমন সময় কতিপয় বেদুঈন এসে তাঁর চেহারা দেখে স্বতস্ফুর্তভাবে বলে উঠলো, ‘সত্যই এটা বরকতময় চেহারা। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি এ সময় ইরাকবাসীর জন্য ‘যাতু ইরক’ কে মীকাত নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন।[1] হাসান।
1743। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আসমা‘ বিনতু উমাইস (রাযি.) যুল- হুলায়ফায় আবূ বকর (রাযি.)-এর ছেলে মুহাম্মাদকে প্রসব করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বকর (রাযি.)-কে আদেশ দিলেন তিনি যেন গোসল করে ইহরাম বাঁধে।[1] সহীহ।
1744। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, হায়িয ও নিফাসগ্রস্ত নারীরা মীকাত পৌঁছার পর গোসল করবে, ইহরাম বাঁধবে এবং বায়তুল্লাহর তাওয়াফ ছাড়া অন্যান্য সমস্ত কাজ সম্পন্ন করবে। আবূ মা‘মার তার হাদীসে পবিত্র হওয়া পর্যন্ত বাক্যটি বলেছেন। ইবনু ঈসা বলেন, বায়তুল্লাহ তাওয়াফ ছাড়া হজ (হজ্জ) ও ‘উমরার অন্যান্য কাজ করবে। তিনি ‘কুল্লাহা’ শব্দটি বলেন নি।[1] সহীহ।
1745। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সুগন্ধি লাগিয়ে দিতাম ইহরাম বাঁধার সময়, ইহরাম বাঁধার পূর্বে এবং ইহরাম খোলার সময় বায়তুল্লাহ তাওয়াফের পূর্বে।[1] সহীহ।
1746। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইহরাম অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সুগন্ধি ব্যবহার করতেন, তাঁর সিঁথির চাকচিক্য যেন আমি এখনও দেখছি।[1] সহীহ।
1747। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর চুল জট পাকানো অবস্থায় ইহরাম বাঁধতে অথবা ‘তালবিয়া’ পড়তে শুনেছি।[1] সহীহ।
1748। ইবনু ‘উমার (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মধু দিয়ে তাঁর মাথার চুল জট পাকিয়েছেন।[1] দুর্বলঃ মিশকাত (২৫৪৮)।
1749। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুদায়বিয়ার বছর কুরবানীর জন্য যেসব পশু পাঠান তাতে আবূ জাহলের উটটিও ছিলো যার নাকে রৌপ্য নোলক লাগানো ছিলো। ইবনু মিনহাল বলেন, স্বর্ণ নোলক ছিলো। নুফাইলী বর্ধিত করেছেন যে, এর দ্বারা মুশরিকদের প্রতি রাগ প্রকাশ উদ্দেশ্য।[1] হাসান ‘‘রৌপ্য’’ শব্দে। মিশকাত (২৬৪০)।
1750। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী মা ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজে (হজ্জে) তাঁর পরিবারের পক্ষ হতে একটি গাভী কুরবানী করেছেন।[1] সহীহ।
1751। আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্বীয় স্ত্রীদের পক্ষ থেকে একটি গরু কুরবানী করেন, যারা ‘উমরা করেছেন।[1] সহীহ।
1752। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনা থেকে (হজের (হজ্জের) উদ্দেশ্যে) মক্কায় যাওয়ার সময় যুল-হুলাইফাতে যুহরের সালাত আদায় করেন। অতঃপর তিনি কুরবানীর উট আনালেন এবং তার কুঁজের ডান পাশে জখম করে রক্ত প্রবাহিত করলেন, তারপর একজোড়া জুতা তার গলায় বেঁধে দিলেন। পরে তাঁর সওয়ারী আনা হলো তিনি তার পিঠে উপবিষ্ট হলেন এবং তা আল-বায়দায় তাকে নিয়ে দাঁড়ালেন তিনি হজের (হজ্জের) ‘তালবিয়া’ পাঠ করলেন।[1] সহীহ।
1753। শু‘বাহ (রহ.) থেকে উক্ত হাদীসটি আবুল ওয়ালীদের বর্ণিত হাদীসের অর্থানুযায়ী বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেছেন, অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজ হাতে রক্ত প্রবাহিত করলেন। আবূ দাঊদ বলেন, হাম্মাম বর্ণনা করেছেন, নিজের আঙ্গুল দ্বারা রক্ত প্রবাহিত করেছেন। আবূ দাঊদ বলেন, হাদীসটি কেবলমাত্র বাসরাহ্র বর্ণনাকারীরা বর্ণনা করেছেন।[1] সহীহ
1754। আল-মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ ইবনুল হাকাম ও মারওয়ান সূত্রে বর্ণিত। তারা উভয়ে বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুদায়বিয়ার বছর রওয়ানা হয়ে যখন ‘যুল-হুলাইফায়’ পৌঁছেন। তখন কুরবানীর পশুর গলায় মালা বেঁধে তাকে ইশ‘আর করে ইহরাম বাঁধলেন।[1] সহীহ।
1755। ‘আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি মেষের গলায় মালা পরিয়ে তা কুরবানীর জন্য (মক্কায়) পাঠিয়ে দেন।[1] সহীহ।
1756। আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযি.) একটি ‘বুখতী উট’ কুরবানীর জন্য নির্দিষ্ট করলেন। অতঃপর তিনশো দীনারে তা কেনার প্রস্তাব এলে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি একটি বুখতী উট কুরবানীর জন্য নির্দিষ্ট করেছি। এখন আমাকে এর বিনিময়ে তিনশো দীনার প্রদানের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। আমি তা বিক্রি করে সেই মূল্যে অন্য কোনো উট কিনতে পারি? তিনি বললেনঃ না, বরং সেটাই যাবাহ করো। আবূ দাঊদ বলেন, কেননা তিনি ওটাকে ইশ‘আর করেছিলেন।[1] দুর্বল।
1757। ‘আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নিজ হাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কুরবানীর পশুর গলায় বাঁধায় মালা পাকিয়ে দিয়েছি। আর তিনি নিজ হাতে তাকে ইশ‘আর করে তার গলায় ঐ মালা বেঁধে দিয়েছেন, পরে তা খানায়ে কা‘বাতে পাঠিয়ে দেন। তিনি মদীনায় অবস্থান করেছেন। কিন্তু এতে স্বাভাবিক অবস্থায় তাঁর জন্য যা কিছু হালাল ছিলো সেসবের কিছুই তাঁর জন্য হারাম হয়নি।[1] সহীহ।
1758। ‘উরওয়াহ ও ‘আমরাহ বিনতু ‘আব্দুর রহমান (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনা থেকে (মক্কা থেকে) কুরবানীর পশু পাঠাতেন, আর আমি সেটির গলায় বাঁধার জন্য মালা তৈরী করে দিতাম। কিন্তু এগুলো প্রেরণ করার পর হজের (হজ্জের) উদ্দেশ্যে ইহরামধারী ব্যক্তিকে যা কিছু পরিহার করতে হয় তিনি তার কিছুই পরিহার করতেন না।[1] সহীহ।
1759। উম্মুল মু‘মিনীন ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর পশু পাঠিয়ে দিতেন। আমি নিজ হাতে আমাদের ঘরের তুলা দিয়ে সেটির গলায় বাঁধার জন্য মালা পাকিয়ে দিয়েছি। অতঃপর তিনি আমাদের মধ্যে (ইহরামহীন) হালাল অবস্থায় থাকলেন এবং কেউ স্বীয় স্ত্রীর সাথে যা করে থাকে তিনিও তা করতেন।[1] সহীহ।
1760। আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে কুরবানীর উট নিয়ে যেতে দেখে বললেনঃ এটির পিঠে চড়ে যাও। লোকটি বললো, এটা কুরবানীর পশু। তিনি বললেনঃ তুমি এর পিঠে চড়ো। তিনি দ্বিতীয় বা তৃতীয় বার বললেনঃ তোমার জন্য দুঃখ হয়, তুমি এর পিঠে চড়ো।[1] সহীহ।
1761। আবুয যুবায়র (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যাবির ইবনু ‘আব্দুল্লাহ (রাযি.)-কে কুরবানীর পশুর পিঠে চড়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ তুমি নিরুপায় হলে অন্য সাওয়ারী না পাওয়া পর্যন্ত সদয়ভাবে তার উপর চড়তে পারো।[1] সহীহ।
1762। নাজিয়াতুল আসলামী (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে তার কুরবানীর পশুর সাথে (মক্কা থেকে) প্রেরণের সময় বলেছেনঃ এগুলোর কোনোটি অচল হয়ে পড়লে তা যাবাহ করে সেটির গলায় বাঁধানো জুতা রক্তের মধ্যে ফেলে দিবে এবং মুসাফিরদের আহারের জন্য রেখে দিবে।[1] সহীহ
1763। ইবনু ‘‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনূ আসলামের জনৈক ব্যক্তিকে আঠারটি কুরবানীর পশুসহ (মক্কায়) প্রেরণ করলেন। লোকটি বললো, (পথে) কোনো জন্তু অচল হয়ে পড়লে তখন আমি কি করবো? তিনি বললেনঃ তা যাবাহ করবে এবং তার গলায় বাঁধা জুতা রক্তে মেখে তার ঘাড়ে রেখে দিবে। কিন্তু তুমি নিজে এবং তোমার কোনো সাথী এর গোশত খাবে না। আবূ দাঊদ (রহ.) বলেন, ‘আব্দুল ওয়ারিসের হাদীসে اضْرِبْهَا এর স্থলে اجْعَلْهُ শব্দ রয়েছে।[1] সহীহ।
1764। ‘আলী (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নিজ হাতে ত্রিশটি কুরবানীর পশু (উট) যাবাহ করেছেন। পরে তাঁর নির্দেশ মোতাবেক অবশিষ্ট পশুগুলো আমি যাবাহ করেছি।[1] মুনকার।
1765। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু কুরাত (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ প্রাচুর্যময় মহান আল্লাহর কাছে সবচেয়ে মর্যাদাসম্পন্ন দিন হলো কুরবানীর দিন, তারপর মেহেমানদারীর দিন, সেটি হলো দ্বিতীয় দিন। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর পাঁচটি বা ছয়টি কুরবানীর পশু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আনা হলো। যে পশুকে তাঁর কাছে আনা হতো তিনি প্রথমে সেটি যাবাহ করলেন। এভাবে যাবাহ শেষ হলো। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি হালকা একটি কথা বলেছেন, যা আমি বুঝতে পারিনি। পরে আমি আমার (কাছের ব্যক্তিকে) জিজ্ঞেস করলে সে বললো, তিনি বলেছেনঃ ‘কারো ইচ্ছে হলে এখান থেকে গোশত কেটে নিতে পারবে।’[1] সহীহ।
1766। গারাফা ইবনুল হারিস আল-কিনদী (রাযি.) বলেন, আমি বিদায় হজের (হজ্জের) দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম। তাঁর কাছে কুরবানীর উট আনা হলে তিনি বললেনঃ হাসানের পিতাকে ডাকো। সুতরাং ‘আলী (রাযি.)-কে ডাকা হলো। তিনি তাকে বললেনঃ তুমি অস্ত্রের নিম্নভাগে ধরো, আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে উপরিভাগ ধরলেন। তারপর তাঁরা উভয়ে ধারালো অস্ত্রে পশুটি যাবাহ করলেন। অতঃপর যাবাহ শেষে তাঁর খচ্চরে আরোহণ করে ‘আলীকে তাঁর পিছনে বসিয়ে চলে গেলেন।[1] দুর্বল।
1767। যাবির ও ‘আব্দুর রহমান ইবনু সাবিত (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ উটের বাম পা বেঁধে, অবশিষ্ট (তিন পায়ের) উপর খাড়া অবস্থায় তা যাবাহ করতেন।[1] সহীহ।
1768। যিয়াদ ইবনু যুবায়র বলেন, আমি ইবনু ‘উমার (রাযি.)-এর সাথে মিনাতে ছিলাম। তখন তিনি এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, যে তার উটকে বসানো অবস্থায় যাবাহ করতে প্রশস্ত হচ্ছিল। তিনি বললেন, এটিকে ছেড়ে দাও এবং বেঁধে দাঁড় করিয়ে যাবাহ করো। এটাই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাত।[1] সহীহ।
1769। ‘আলী (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তাঁর কুরবানীর পশু দেখাশোনা, চামড়া বিতরণ ও তার আচ্ছাদন সাদাকা করতে নির্দেশ দেন এবং কসাইকে তা থেকে কিছু না দেয়ার নির্দেশ করেন। বর্ণনাকারী বলেন, তবে কসাইকে আমরা নিজেদের পক্ষ থেকে আলাদাভাবে পারিশ্রমিক দিতাম।[1] সহীহ।
1770। সাঈদ ইবনু যুবায়র (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আব্দুল্লাহ ইবনু ‘‘আব্বাস (রাযি.)-কে বললাম, হে আবুল ‘আব্বাস! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইহরাম বাঁধার মুহুর্ত বিষয়ে যে মতভেদ করছেন তাতে আমি স্তম্ভিত। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) বলেন, আমি এই বিষয়ে অন্যদের চেয়ে অধিক অবগত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুধু একবারই হজ (হজ্জ) করেছেন, আর এটাই তাদের মতভেদের মূল উৎস। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজের (হজ্জের) উদ্দেশ্যে রাওয়ানা হলেন। তিনি যুল-হুলাইফাতে তাঁর মসজিদে দু‘রাক‘আত সালাত আদায় করলেন এবং ঐ বসাবস্থায় দু‘রাক‘আত শেষ করেই নিজের জন্য হজ (হজ্জ) ওয়াজিব করে নিয়ে ‘তালবিয়া’ পাঠ করলেন। সুতরাং এখানে কিছু লোক তাঁকে ‘তালবিয়া’ পড়তে শুনে তারা তাই স্মরণ রেখেছে। অতঃপর তিনি আরোহণ করলেন এবং উষ্ট্রী তাঁকে পিঠে তুলে নিতে দাঁড়ানোর সময়ও তিনি ‘তালবিয়া’ পড়লেন। সুতরাং আরো কিছু লোক এখানে তাঁকে ‘তালবিয়া’ পড়তে শুনলো। বস্তুতঃ লোকজন পৃথক পৃথকভাবে দলে দলে আসছিল। আর তারা তখন তাঁকে ‘তালবিয়া’ পাঠ করতে শুনলো যখন তিনি উষ্ট্রীর পিঠে আরোহিত অবস্থায় ‘তালবিয়া’ পড়লেন। ফলে তারা এ কথাই বললো যে, উষ্ট্রী তাঁকে তার পিঠে তুলার সময় তিনি ‘তালবিয়া’ পড়েছেন।’ এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্মুখে অগ্রসর হলেন। এবার তিনি ‘আল-বায়দার’ উচ্চভূমিতে চড়লেন এবং এখানেও ‘তালবিয়া’ পাঠ পড়লেন। কিছু লোক তাঁকে এখানে ‘তালবিয়া’ পড়তে শুনে তারা বললো, তিনি তখনই ইহরাম বেঁধে ‘তালবিয়া’ পড়েছেন এবং পরে উষ্ট্রীর পিঠে ও ‘আল-বায়দার’ উচ্চভূমিতে, সর্বত্র সর্বাবস্থায় ‘তালবিয়া’ পড়েছিলেন। অতঃপর সাঈদ ইবনু যুবায়র (রহ.) বলেন, যে ব্যক্তি ইবনু আব্বাসের বর্ণনানুযায়ী কাজ করে, সে যেন দু‘রাক‘আত সালাত শেষে স্বীয় মুসাল্লাতেই ইহরাম বাঁধে।[1] দুর্বল : যখন সুনান তিরমিযী (৮২৫/১৩৫) সংক্ষিপ্তভাবে এ শব্দে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক সালাতের পর ‘তালবিয়া’ পড়তেন।’ অনুরূপ যঈফ সুনান নাসায়ী
1771। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, এই হচ্ছে তোমাদের ‘বায়দা’ যেখানে তোমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে অনুমানে কথা বলছো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুলহুলাইফার মাসজিদ থেকেই ইহরাম বেঁধেছেন।[1] সহীহ।
1772। ‘উবাইদ ইবনু জুরাইজ (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। একদা তিনি ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাযি.)-কে বলেন, হে আবূ ‘আব্দুর রহমান! আমি আপনাকে এমন চারটি আমল করতে দেখি, যা আপনার অন্য কোনো সাথীকে করতে দেখি না। তিনি বললেন, হে ইবনু জুরাইজ! সেগুলো কি? তিনি বললেন, আপনি দুই রুকনে ইয়ামেনী ছাড়া অন্য কোনো রুকন স্পর্শ করেন না। আপনি সিবতী চামড়ার জুতা পরেন। আপনি হলুদ রঙ ব্যবহার করেন এবং আপনি মক্কাতে থাকাবস্থায় লোকজন যিলহজ (হজ্জ) মাসের চাঁদ দেখে ইহরমা বাঁধে, কিন্তু আপনি ‘তারবিয়ার দিন’ না আসা পর্যন্ত ইহরাম বাঁধেন না। অতঃপর এর জবাবে ‘আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাযি.) বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দুই রুকুনে ইয়ামেনী ছাড়া অন্য কোনো রুকুন স্পর্শ করতে দেখিনি। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে পশমহীন জুতা পরতে দেখেছি, তিনি সেটা পরা অবস্থায় উযুও করতেন। সুতরাং আমি তা পরতে পছন্দ করি। হলুদ রং- আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে হলদে রং ব্যবহার করতে দেখেছি। কাজেই আমি তা পছন্দ করি। আর ইহরাম বাঁধা- আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর সওয়ারী সফরের উদ্দেশ্যে না দাঁড়ানো পর্যন্ত ইহরাম বাঁধতে দেখিনি।[1] সহীহ।
1773। আনাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় যুহরের চার রাক‘আত সালাত আদায় করেন এবং যুলহুলাইফায় পৌঁছে ‘আসরের সালাত আদায় করেন দুই রাক‘আত। তিনি সেখানেই রাত যাপন করেন এবং সকালে সওয়ারীতে চড়ে সফর শুরু করার সময় ‘তালবিয়া’ পাঠ করেন।[1] সহীহ।
1774। আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মদীনায়) যুহরের সালাত আদায় করে সওয়ারীতে চড়েন। অতঃপর তিনি আল-বায়দায় উচ্চভূমিতে আরোহণের সময় ‘তালবিয়া’ পাঠ করেন।[1] সহীহ।
1775। সা‘দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাযি.) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আল-ফুর‘আ নামক স্থানের দিকে যেতেন তখন সওয়ারীর পিঠে চড়া মাত্রই তালবিয়া পড়তেন। তিনি যখন উহুদের পথে রওয়ানা হতেন, তখন আল-বায়দা পর্বতে উঠার সময় তালবিয়া পড়তেন।[1] দুর্বল।
1776। ইবনু আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। একদা যুবায়র ইবনু ‘আব্দুল মুত্তালিবের মেয়ে-দবা‘আহ (রাযি.) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি হজের (হজ্জের) ইচ্ছা করেছি। এতে কোনো শর্ত করতে পারবো কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। দবা‘আহ বলেন, তা কিভাবে? তিনি বলেনঃ তুমি বলোঃ ‘আমি উপস্থিত, হে আল্লাহ! আমি উপস্থিত, পথে যেখানেই তুমি আমাকে আটক করবে সেটাই আমার ইহরাম ভঙ্গের স্থান।[1] হাসান সহীহ।
1777। ‘আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজ্জে ইফরাদ করেছেন।[1] সহীহ।
1778। ‘আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, যিলহজ (হজ্জ) মাসের নতুন চাঁদ উদয়ের কিছু আগে আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে হজের (হজ্জের) উদ্দেশ্যে রাওয়ানা হলাম। তিনি যুল-হুলাইফায় পৌঁছে বললেনঃ কেউ হজের (হজ্জের) ইহরাম বাঁধতে চাইলে বাঁধুক। আর কেউ ‘উমরার ইহরাম বাঁধতে চাইলে সে যেন ‘উমরার ইহরাম বাঁধে। উহাইব থেকে মূসা বর্ণিত হাদীসে রয়েছে, তিনি বলেছেনঃ যদি আমার সাথে কুরবানীর পশু না আনতাম তাহলে ‘উমরার জন্য ইহরাম বাঁধতাম। হাম্মাদ ইবনু সালামাহর হাদীসে রয়েছে, আমি হজের (হজ্জের) ইহরাম বেঁধেছি, কারণ আমার সাথে কুরবানীর পশু আছে। তারপর উভয় বর্ণনাকারী একইরূপ বর্ণনা করেন। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, যারা শুধু ‘উমরার ইহরাম বেঁধেছিলো, আমি তাদের দলভুক্ত ছিলাম। পথিমধ্যে আমি হায়েয আরম্ভ হলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে আসলেন, এ সময় আমি কাঁদছিলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কাঁদছো কেন? আমি বললাম, কতই না ভালো হতো আমি যদি এ বছর (ঘর থেকে) বের না হতাম। তিনি বললেনঃ তুমি ‘উমরা ত্যাগ করো, মাথার খোপা খুলে ফেলো, চুল আঁচড়িয়ে নাও। মূসার বর্ণনায় রয়েছেঃ এবং হজের (হজ্জের) জন্য ইহরাম বাঁধো। সুলাইমান বলেন, মুসলিমরা হজে (হজ্জে) যেসব অনুষ্ঠান পালন করে তুমিও তা করো। অতঃপর (মক্কা থেকে) ফেরার রাত এলো ‘আব্দুর রহমানকে নির্দেশ করলে তিনি ‘আয়িশাহ (রাঃ)-কে ‘তানঈমে’ নিয়ে যান। মূসার বর্ণনায় আরো রয়েছেঃ তিনি পূর্বের ‘উমরার স্থানে ‘উমরার ইহরাম বাঁধলেন, বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করলেন। ফলে আল্লাহ তাঁর উমরা ও হজ (হজ্জ) উভয়টিই পূর্ণ করলেন। হিশামের বর্ণনায় রয়েছেঃ কিন্তু এরূপ করার কারণে তাকে কাফফারাহ হিসেবে কুরবানী দিতে হয়নি। আবূ দাঊদ বলেন, হাম্মাদ ইবনু সালামাহর হাদীসে মূসা বর্ধিত করলেন যে, অতঃপর ‘বাতহা’ উপত্যকায় প্রবেশের রাতে ‘আয়িশাহ (রাঃ) পবিত্র হন।[1] সহীহ।
1779। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা বিদায় হজের (হজ্জের) বছরের রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে হজের (হজ্জের) উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম। আমাদের মধ্যকার কেউ ‘উমরার ইহরাম বেঁধেছিলো, কেউ হজ (হজ্জ) ও ‘উমরার দু'টির ইহরাম বেঁধেছিলো এবং কেউ শুধুমাত্র হজের (হজ্জের) ইহরাম বেঁধেছিলো। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুধু হজের (হজ্জের) ইহরাম বেঁধেছিলেন। যারা শুধু হজ (হজ্জ) কিংবা হজ (হজ্জ) ও ‘উমরা উভয়ের ইহরাম বেঁধেছিলেন তারা কুরবানীর দিন পর্যন্ত ইহরাম খুলতে পারেননি।[1] সহীহ।
1780। আবুল আসওয়াদ (রহ.) থেকে পূর্ব বর্ণিত সনদে অনুরূপ বর্ণিত। তবে এতে আরো আছেঃ যারা কেবল ‘উমরার ইহরাম বাঁধেন তারা ‘উমরা সমাপন করে ইহরামমুক্ত হন।[1] সহীহ।
1781। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্ত্রী ‘আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিদায় হজের (হজ্জের) সময় আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে রওয়ানা হলাম। আমরা ‘উমরার ইহরাম বাঁধলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যাদের সাথে কুরবানীর পশু আছে তারা যেন ‘উমরার সাথে হজের (হজ্জের) ইহরাম বাঁধে এবং উভয়টির যাবতীয় অনুষ্ঠানাদি শেষ না করা পর্যন্ত ইহরাম না খুলে। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আমি হায়িয অবস্থায় মক্কায় উপস্থিত হলাম। সুতরাং আমি বাইতুল্লাহ তাওয়াফ এবং সাফা ও মারওয়াতে সাঈ করলাম না। আমি বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে অবহিত করলাম। তিনি বললেনঃ চুলের খোপা খুলে ফেলো, মাথায় চিরুনি করো, ‘উমরার নিয়্যাত বর্জন করে কেবল হজের (হজ্জের) ইহরাম বাঁধো। তিনি বলেন, সুতরাং আমি তাই করলাম। অতঃপর আমাদের হজ (হজ্জ) সমাপ্ত হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ‘আব্দুর রহমান ইবনু আবূ বাকরের সাথে ‘তানঈম’-এ প্রেরণ করলেন এবং আমি সেখান থেকে ‘উমরা করলাম। তিনি বললেনঃ এটা তোমার পূর্বের ‘উমরার পরিপূরক। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, যারা ‘উমরার ইহরাম বেঁধেছিলো তারা মক্কায় পৌঁছে বায়তুল্লা তাওয়াফ এবং সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ করার পর ইহরাম খুলে ফেলে। তারপর মিনা থেকে ফিরে এসে হজের (হজ্জের) জন্য আরেকবার বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করে। আর যারা হজ (হজ্জ) ও ‘উমরা একত্রে আদায় করেছে তারা শুধুমাত্র একবার তাওয়াফ করেছে।[1] সহীহ। ইমাম আবূ দাঊদ (রহ.) বলেন, ইবরাহীম ইবনু সা‘দ এবং মা‘মার (রহ.) ইবনু শিহাব (রহ.) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, তবে এতে ‘‘যারা শুধু ‘উমরার ইহরাম বেঁধেছিল এবং যারা হজ (হজ্জ) ও ‘উমরা উভয়টির ইহরাম বেঁধেছে তাদের তাওয়াফের কথা’’ বর্ণিত হয়নি।
1782। ‘আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা হজের (হজ্জের) জন্য ইহরাম বাঁধলাম কিন্তু ‘সারিফ’ নামক স্থানে পৌঁছলে আমার হায়িয আরম্ভ হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে আসলেন, তখন আমি কাঁদছিলাম। তিনি বললেনঃ হে আয়িশা! তুমি কাঁদছো কেন? আমি বললাম, গত রাতে আমি ঋতুবতী হয়েছি, আমি তো হজ (হজ্জ) করতে পারলাম না। তিনি বললেনঃ সুবহানাল্লাহ! এতো সেই বস্তু যা মহান আল্লাহ আদমের কন্যাদের জন্য নির্ধারিত করেছেন। সুতরাং তুমি বায়তুল্লাহ তাওয়াফ ব্যতীত হজের (হজ্জের) অন্যান্য সব কাজ সম্পন্ন করো। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, অতঃপর আমরা মক্কায় প্রবেশ করলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যার সাথে কুরবানীর পশু আছে সে ছাড়া যে কেউ তার ইহরাম ‘উমরাতে পরিণত করতে পারে। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, কুরবানীর দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় স্ত্রীদের পক্ষ থেকে একটি গরু কুরবানী করেন। অতঃপর ‘বাতহা’র রাতে ‘আয়িশাহ (রাঃ) হায়িয থেকে পবিত্র হলেন। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার সাথীরা হজ (হজ্জ) ও ‘উমরা সম্পন্ন করে ফিরে যাবে, আর আমি কি শুধু হজ (হজ্জ) করেই ফিরবো? অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আব্দুর রহমা ইবনু আবূ বাকরকে নির্দেশ দিলে তিনি ‘আয়িশাহ (রাঃ)-কে ‘তানঈম’ নামক স্থানে নিয়ে যান এবং তিনি সেখান থেকে ইহরাম বেঁধে ‘উমরা করেন।[1] সহীহ, তবে এ কথাটি বাদেঃ من شاء أن يجعلها عمرة। সঠিক হলোঃ اجعلوها عمرة মুসলিম। [যা সামনে আসছে এ গ্রন্থের হা/১৭৮৮।]
1783। ‘আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে রওয়ানা হলাম। তাতে হজ (হজ্জ) ছাড়া আমাদের অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিলো না। আমরা মক্কায় পৌঁছে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করি। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদরকে ইহরাম মুক্ত হওয়ার নির্দেশ দিলেন যারা কুরবানীর পশু সাথে আনেনি। সুতরাং যারা কুরবানীর পশু সাথে আনেনি তারা ইহরাম মুক্ত হলো।[1] সহীহ।
1784। ‘আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি যা পরে জানতে পেরেছি তা যদি আগে জানতে পারতাম তাহলে আমি কুরবানীর পশু সাথে আনতাম না। বর্ণনাকারী মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াহইয়া বলেন, আমার ধারণা, আমার শায়খ (‘উসমান ইবনু ‘উমার) বলেছেন, ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেছেন, যারা ‘উমরা সমাপ্ত করে ইহরাম খুলেছে আমিও তাদের দলভুক্ত ছিলাম। মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াহইয়া বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে, সকলের কার্যক্রম যেন একইরূপ হয়।[1] সহীহ।
1785। জাবির ইবনু ‘আব্দুল্লাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে হজ্জে ইফরাদের ইহরাম বেঁধে রওয়ান হই। আর ‘আয়িশাহ (রাঃ) এলেন ‘উমরার ইহরাম বেঁধে। তিনি ‘সারিফ’ নামক স্থানে পৌঁছে ঋতুবতী হলেন। আমরা (মক্কায়) পৌঁছে বাইতুল্লাহ তাওয়াফ এবং সাফা-মারওয়া সাঈ সমাপ্ত করি। আমাদের মধ্যে যার সাথে কুরবানীর পশু নেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ইহরাম খুলে হালাল হওয়ার নির্দেশ দিলেন। আমরা বললাম, হালাল হওয়ার অর্থ কি? তিনি বললেনঃ সবকিছুর জন্য হালাল হওয়া। ফলে আমরা আমাদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস করলাম এবং গায়ে সুগন্ধি মেখে আমাদের স্বাভাবিক পোশাক পরলাম। অথচ আমাদের ও ‘আরাফা দিবসের মাঝে মাত্র চার দিনের ব্যবধান আছে। অতঃপর আমরা যিলহজ (হজ্জ) মাসের অষ্টম তারিখ হজের (হজ্জের) ইহরাম বাঁধলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর কাছে গিয়ে দেখলেন তিনি কাঁদছেন। জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমার কি হয়েছে? তিনি বললেন, আমি ঋতুবতী হয়েছি। অথচ সকল লোক (‘উমরা সম্পন্ন করে) ইহরাম খুলে ফেলেছে, আর আমি বায়তুল্লাহ তাওযাফ করতে পারিনি। আর লোকজন এখনই হজের (হজ্জের) উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবে। তিনি বললেনঃ মহান আল্লাহ তো এটা আদমের সকল কন্যাদের উপর নির্ধারিত করে দিয়েছেন। তুমি গোসল করো এবং হজের (হজ্জের) জন্য ইহরাম বাঁধো। সুতরাং তিনি তাই করলেন এবং যাবতীয় অনুষ্ঠান সম্পন্ন করলেন, পরে যখন পবিত্র হলেন তখন বায়তুল্লাহ এবং সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ করলেন। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি তোমার হজ (হজ্জ) ও ‘উমরা উভয়টি হতে হালাল হয়েছো। তখন ‘আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার মনে (খটকা) হচ্ছে, আমি হজের (হজ্জের) সময় বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করিনি। সুতরাং তিনি বললেনঃ হে ‘আব্দুর রহমান! তুমি তাকে নিয়ে যাও এবং তাকে ‘তানঈম’ থেকে এর ‘উমরা করাও। এটা ছিলো মুহাসসাব উপত্যকার রাতের ঘটনা (অর্থাৎ যিলহজ্জ মাসের চৌদ্দ তারিখ)।[1] সহীহ।
1786। আবুয যুবায়র জাবির (রাযি.) থেকে এ ঘটনার অংশবিশেষ শুনেছেন। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথাঃ এবং তুমি হজের (হজ্জের) ইহরাম বাঁধো অতঃপর হজ (হজ্জ) করো এবং অন্যান্য হাজীগণ যা করে তুমিও তাই করো, কিন্তু বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করবে না এবং সালাত আদায় করবে না।[1] সহীহ।
1787। জাবির ইবনু ‘আব্দুল্লাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে শুধুমাত্র হজের (হজ্জের) জন্য ইহরাম বাঁধি, এতে অন্য কিছু ছিলো না। যিলহজ (হজ্জ) মাসের চার তারিখ আমরা মক্কায় উপস্থিত হয়ে (বায়তুল্লাহ) তাওয়াফ এবং (সাফা-মারওয়া) সাঈ করি। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে ইহরাম খুলে হালাল হবার নির্দেশ দিয়ে বললেনঃ আমার সাথে কুরবানীর পশু না থাকলে আমিও ইহরাম খুলে ফেলতাম। তখন সুরাকাহ ইবনু মালিক (রাযি.) উঠে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের এই ‘হজে (হজ্জে) তামাত্তু’ কি শুধু এ বছরের জন্য, নাকি সর্বকালের জন্য? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ না, বরং এটা সর্বকালের জন্য। ইমাম আওযাঈ বলেন, আমি এই হাদীস ‘আতা ইবনু আবূ রাবাহকে বলতে শুনেছি, কিন্তু তা স্মরণ রাখতে পারিনি। অবশেষে ইবনু জুরাইজ এর সাথে সাক্ষাৎ করলে আমাকে তা যথাযথভাবে স্মরণ করিয়ে দেন।[1] সহীহ।
1788। জাবির (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাথীরা যিলহজ (হজ্জ) মাসের চার তারিখ (মক্কায়) আসেন। তাঁরা বায়তুল্লাহ তাওয়াফ এবং সাফা-মারওয়া সাঈ সম্পন্ন করলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যার সাথে কুরবানীর পশু আছে সে ব্যতীত তোমরা সকলেই এ কাজগুলোকে ‘উমরা গণ্য করো। অতঃপর (অষ্টম তারিখ) তারবিয়ার দিন এলে তারা হজের (হজ্জের) ইহরাম বাঁধলেন। তারপর কুরবানীর দিন দশ তারিখ তারা (মক্কায়) এসে শুধু বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করলেন, সাফা-মারওয়ার মাঝে তাওয়াফ (সাঈ) করলেন না।[1] সহীহ।
1789। জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাথীরা ইহরাম বেঁধে হজের (হজ্জের) উদ্দেশ্যে রওয়ানা করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তালহা (রাযি.) ব্যতীত কারো সাথেই কুরবানীর পশু ছিলো না। ‘আলী (রাযি.) ইয়ামেন দেশ থেকে আসলেন, তখন তাঁর সাথে কুরবানীর পশু ছিলো। ‘আলী (রাযি.) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে উদ্দেশ্যে ইহরাম বেঁধেছেন, আমিও ঐ উদ্দেশ্যেই ইহরাম বেঁধেছি। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাদের সাথে কুরবানীর পশু ছিলো না তাদের হজ্জকে ‘উমরায় রূপান্তরিত করে বায়তুল্লাহ তাওয়াফের নির্দেশ দেন এবং মাথা মুন্ডন করে হালাল হতে বললেন। কিন্তু যাদের সাথে কুরবানীর পশু ছিলো তারা ব্যতীত। তারা বললেন, আমরা কিভাবে মিনার দিকে রওয়ানা হবো অথচ আমাদের কেউ কেউ স্ত্রী সহবাস করেছে। এসব কথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে পৌঁছলে তিনি বললেনঃ আমার ব্যাপারে আমি যা পরে জেনেছি তা যদি আগে জানতাম, তাহলে আমি কুরবানীর পশু সাথে করে আনতাম না। আমার সাথে কুরবানীর পশু না থাকলে আমিও ইহরাম খুলে ফেলতাম।[1] সহীহ।
1790। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এ সেই ‘উমরা যা থেকে আমরা উপকৃত হয়েছি। কাজেই যার সাথে কুরবানীর পশু নেই সে সবকিছু থেকে সম্পূর্ণ হালাল হয়ে যাবে। আর ‘উমরা কিয়ামত পর্যন্ত হজের (হজ্জের) মধ্যে প্রবেশ করলো। ইমাম আবূ দাঊদ বলেন, এ হাদীসটি মুনকার এবং এগুলো ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.)-এর বক্তব্য।[1] সহীহ।
1791। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোনো ব্যক্তি হজের (হজ্জের) ইহরাম বেঁধে মক্কায় উপস্থিত হয়ে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ এবং সাফা-মারওয়া সাঈ করলে সে অবশ্যই হালাল হয়ে গেলো। আর এটাই হচ্ছে ‘উমরা। আবূ দাঊদ বলেন, ইবনু জুরাইজ এক ব্যক্তি থেকে ‘আতা সূত্রে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ শুধুমাত্র হজের (হজ্জের) ইহরাম বেঁধে (মক্কায়) প্রবেশ করেছিলেন। কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা ‘উমরায় রূপান্তরিত করেন।[1] সহীহ।
1792। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজের (হজ্জের) উদ্দেশ্যে ইহরাম বেঁধে (মক্কায়) পৌঁছে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ এবং সাফা-মারওয়া সাই করলেন। ইবনু শাওকার বলেন, কুরবানীর পশু সাথে থাকার কারণে তিনি চুল খাটো করেননি এবং ইহরাম থেকেও মুক্ত হননি। তবে যারা সাথে করে কুরবানীর পশু আনেননি তাদেরকে তাওয়াফ ও সাঈ করার পর চুল ছেটে ইহরাম মুক্ত হওয়ার নির্দেশ দিলেন। ইবনু মানী‘ বর্ধিত করেছেন যে, অথবা মাথা মুন্ডন করে যে হালাল হয়।[1] সহীহ।
1793। সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এক সাহাবী ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযি.)-এর কাছে উপস্থিত হয়ে সাক্ষ্য দেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর মৃত্যুশয্যায় হজের (হজ্জের) পূর্বে ‘উমরা করতে নিষেধ করতে শুনেছেন।[1] দুর্বলঃ যঈফ আল-জামি্‘উস সাগীর (৬০৫১)।
1794। মু‘আবিয়াহ ইবনু আবূ সুফিয়ান (রাযি.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের জিজ্ঞেস করেন, আপনারা কি জানেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অমুক অমুক কাজ করতে এবং চিতাবাঘের চামড়ার উপর আরোহণ করতে নিষেধ করেছেন? তারা বললেন, হ্যাঁ। মু‘আবিয়াহ বললেন, আপনারা কি জানেন যে, তিনি হজ (হজ্জ) ও ‘উমরাকে একক করতে নিষেধ করেছেন? তারা বললেন, এটা আমাদের জানা নেই। অতঃপর তিনি বললেন, এটাকেও ঐসব নিষিদ্ধ জিনিসের অন্তর্ভুক্ত করেছেন, কিন্তু আপনারা ভুলে গেছেন।[1] সহীহঃ তবে হজ (হজ্জ) ও ‘উমরা একত্রে করা নিষেধ কথাটি শায। যঈফ আল-জামি‘উস সাগীর (৬০২৩)।
1795। আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে হজ (হজ্জ) ও ‘উমরা উভয়টির জন্যে একত্রে তালবিয়া পাঠ করতে শুনেছি। তিনি বলেছেনঃ আমি ‘উমরা ও হজের (হজ্জের) জন্য আপনার দরবারে উপস্থিত। আমি ‘উমরা ও হজের (হজ্জের) জন্য আপনার দরবারে উপস্থিত।[1] সহীহ।
1796। আনাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুল-হুলাইফাতে রাত যাপন করেন। অতঃপর সকালে সওয়ারীতে আরোহণ করে বায়দা নামক স্থানে পৌঁছে আল্লাহর প্রশংসা ও তাযবীহ পাঠ করলেন এবং তাকবীর দিলেন। তারপর তিনি হজ (হজ্জ) ও ‘উমরার তালবিয়া পাঠ করলেন লোকেরা হজ (হজ্জ) ও ‘উমরার জন্য তালবিয়া পড়ে। পরে আমরা মক্কায় পৌঁছলে তাঁর নির্দেশ মোতাবেক লোকেরা তাদের ইহরাম খুলে ফেলে। অতঃপর (অষ্টম তারিখ) তালবিয়ার দিনে সবাই হজের (হজ্জের) জন্য তালবিয়া পড়লো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর দিন সাতটি উট দাঁড়ানো অবস্থায় নিজ হাতে কুরবানী করেছেন। আবূ দাঊদ বলেন, হাদীসটি আনাস (রাযি.) বর্ণনা করেছেন, আর ভাষা হলোঃ ‘‘তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর প্রশংসা, গুনগান ও তাকবীর পাঠের পর হজের (হজ্জের) ইহরাম বেঁধেছেন।[1] সহীহ।
1797। আল বারা‘আহ ইবনু ‘আযিব (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ‘আলী (রাযি.)-কে ইয়ামেন দেশে শাসক করে প্রেরণ করেন তখন আমিও তাঁর সাথে ছিলাম। তিনি বলেন, আমি তাঁর সাথে কয়েক ‘আওকিয়া সোনার’ অধিকারী হয়েছিলাম। তিনি বলেন, যখন ‘আলী (রাযি.) ইয়ামেন থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলেন তখন ‘আলী বলেন, আমি ফাতিমা (রাযি.)-কে দেখি রঙিন কাপড় পরে আছে এবং ঘরকে সুগন্ধময় করে রেখেছে। সে আমাকে বললো, আপনার কি হয়েছে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাথীদেরকে ইহরাম খুলে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন, সে জন্য সবাই ইহরাম খুলে ফেলেছেন। ‘আলী (রাযি.) বলেন, আমি তাকে বললাম, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইহরামের মতই ইহরাম বেঁধেছি, এ বলে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এলে তিনি আমাকে বললেনঃ তুমি কি জন্য ইহরাম বেঁধেছো? আমি বললাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে উদ্দেশ্যে ইহরাম বেঁধেছেন আমিও ঐ উদ্দেশ্যে ইহরাম বেঁধেছি। তখন তিনি বললেনঃ ‘আমি কুরবানীর পশু সাথে এনেছি এবং ‘কিরান’ হজের (হজ্জের) নিয়্যাত করেছি। অতঃপর তিনি বললেনঃ আমার জন্য সাতষট্টিটি উট কুরবানী করবে এবং তোমার নিজের জন্য তেত্রিশটি বা চৌত্রিশটি রেখে দিবে আর প্রত্যেকটি উট থেকে আমার জন্য এক টুকরা করে গোশত রেখে দিবে।[1] সহীহ।
1798। আবূ ওয়াইল (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আস সুবাই ইবনু মা‘বাদ (রহ.) বলেন, আমি হজ (হজ্জ) ও ‘উমরার জন্য একত্রে ইহরাম বাঁধায় ‘উমার (রাযি.) বললেন, তুমি তোমার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাতের অনুসরণ করেছো।[1] সহীহ।
1799। আবূ ওয়াইল (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আস-সুবাই ইবনু মা‘বাদ (রহ.) বলেছেন, আমি খৃষ্টান বেদুঈন ছিলাম। ইসলাম কবূলের পর আমি আমার গোত্রের হুযাইম ইবনু সুরমুলা নামীক এক ব্যক্তির কাছে এসে তাকে বললাম, হে অমুক! আমি জিহাদে যোগদান করতে চাই। আমি দেখেছি, আমার উপর হজ (হজ্জ) ও ‘উমরা ফরয হয়ে গেছে। কাজেই এ দু‘টাকে আমি কিভাবে একত্র করবো? সে বললো, তুমি উভয়টি একত্রে আদায় করো এবং তোমার জন্য সহজলভ্য কুরবানী করো। সুতরাং আমি উভয়টির জন্য একত্রে ইহরাম বাঁধি। আমি যখন আল-উযাইব নামক স্থানে পৌঁছি তখন সালমান ইবনু রবি‘আহ এবং যায়িদা ইবনু সূহার (রাযি.)-এর সাথে আমার সাক্ষাৎ হলো। আর উভয়টির একত্রে ইহরাম বেঁধেছি। তাদের একজন আরেকজনকে বললেন, এ ব্যক্তি তার উটের চেয়ে অধিক জ্ঞানী নয়। বর্ণনাকারী বলেন, এই মন্তব্য যেন আমার উপর পাহাড় পতিত হলো। শেষে আমি ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযি.)-এর কাছে গিয়ে বললাম, হে আমীরুল মু‘মিনীন! আমি ছিলাম খৃষ্টান বেদুঈন। আমি ইসলাম কবূল করেছি। আমি জিহাদে অংশগ্রহণে আগ্রহী। আমি আমার উপর হজ (হজ্জ) ও ‘উমরা ফরয দেখতে পাচ্ছি। কাজেই আমি আমার গোত্রের এক লোকের কাছে গেলে সে আমাকে বললো, তুমি একত্রে উভয়টির ইহরাম বাঁধো এবং তোমার জন্য সহজলভ্য কুরবানী করো। পরে আমি একত্রে উভয়টির ইহরাম বেঁধেছি। ‘উমার (রাযি.) আমাকে বললেন, তুমি তোমার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাতের হিদায়াত পেয়েছো।[1] সহীহ।
1800। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘উমার (রাযি.) আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন, রাতে আমার মহাপরাক্রমশালী প্রতিপালকের পক্ষ থেকে এক আগমনকারী এসে আমাকে বললেন, এ কল্যাণময় উপত্যকায় সালাত আদায় করুন এবং বলেছেন, ‘উমরাকে হজের (হজ্জের) অন্তর্ভুক্ত করা হলো। সহীহঃ বুখারী। ‘উমরা হজের (হজ্জের) অন্তর্ভুক্ত হওয়াটা অগ্রগণ্য। বর্ণনাকারী বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন আল-‘আক্বীক উপত্যকায় অবস্থানরত ছিলেন। ইমাম আবূ দাঊদ (রহ.) বলেন, ওয়ালীদ ইবনু মুসলিম আওযায়ী থেকে বর্ণনা করেছেন ‘এবং বলুন, ‘উমরা হজের (হজ্জের) সাথে সংযুক্ত হলো। ইমাম আবূ দাঊদ বলেন, অনুরূপভাবে এ হাদীসের ‘আলী ইবনুল মুবারক বর্ণনা করেন, ‘বলুন, হজের (হজ্জের) মধ্যে ‘উমরা অন্তর্ভুক্ত হলো।
1801। আর-রাবী‘ ইবনু সাবরাহ (রহ.) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে রওয়ানা হলাম। যখন ‘উসফান’ নামক স্থানে উপনীত হলাম তখন সুরাকাহ ইবনু মালিক আল-মুদলিজী (রাযি.) তাঁকে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদেরকে হজের (হজ্জের) নিয়ম নীতি এমনভাবে (উত্তমরূপে) বুঝিয়ে দিন যেভাবে কোনো নবীন দলকে বুঝানো হয়। তিনি বললেনঃ মহাশক্তিশালী আল্লাহ তোমাদের হজের (হজ্জের) মধ্যে ‘উমরাকে প্রবেশ করিয়েছেন। সুতরাং তোমরা (মক্কায়) পৌঁছে যে ব্যক্তি বায়তুল্লাহ তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়া সাঈ করবে সে হালাল হয়ে যাবে, কিন্তু যার সাথে কুরবানীর পশু আছে সে ব্যতীত।[1] সহীহ।
1802। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। মু‘আবিয়াহ ইবনু আবূ সুফিয়ান (রাযি.) তাকে জানিয়েছেন যে, তিনি বলেছেন, আমি মারওয়ার পাশে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চুল কাঁচি দিয়ে ছোট করে দিয়েছিলাম অথবা তিনি বলেছেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মারওয়অতে কাঁচি দ্বারা চুল ছাঁটতে দেখেছি।[1] সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। তবে বুখারীতে তার এ কথাটি নেইঃأو رأتيه ....। এটাই অধিক বিশুদ্ধ।
1803। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। মু‘আবিয়াহ (রাযি.) তাকে বলেছেন, আপনি কি জানেন, মারওয়ার উপর এক বেদুঈনের কাঁচি দ্বারা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হজের (হজ্জের) সময় তাঁর চুল ছোট করেছিলাম?[1] সহীহঃ তার এ কথাটি বাদেঃ ‘তাঁর হজের (হজ্জের) সময়।’ কেননা তা শায।
1804। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘উমরার জন্য ইহরাম বেঁধেছিলেন এবং তাঁর সাথীরা হজের (হজ্জের) জন্য ইহরাম বেঁধেছিলেন।[1] সহীহ।
1805। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাযি.) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজে (হজ্জে) হজ্জ ও ‘উমরা একত্রে সম্পন্ন করে তামাত্তু ‘হজ (হজ্জ) করেছেন। তিনি যুল-হুলাইফা থেকে কুরবানীর পশু সাথে নিয়ে যান। সকলকে তামাত্তু করার নির্দেশ দেয়ার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথমে ‘উমরার জন্য তালবিয়া পড়েন, তারপর হজের (হজ্জের) জন্য তালবিয়া পড়েন (ইহরাম বাঁধেন)। তাঁর সাথে লোকজনও হজের (হজ্জের) সাথে ‘উমরার নিয়্যাত করে তামাত্তু’ করলো। কেউ কেউ সাথে কুরবানীর পশু এনেছিল আবার কেউ কেউ আনেনি। রাসূলুল্লাহ মক্কায় পৌঁছে লোকদেরকে বললেনঃ ‘যারা সাথে করে কুরবানীর পশু এনেছো তাদের জন্য হজ (হজ্জ) আদায় করা পর্যন্ত (ইহরাম অবস্থায়) নিষিদ্ধকৃত কাজ বৈধ নয়। আর তোমাদের যারা সাথে করে কুরবানীর পশু আনোনি, তারা বায়তুল্লাহ তাওয়াফ এবং সাফা মারওয়া সাঈ করে, চুল খাটো করে, ইহরাম খুলে ফেলবে এবং হজের (হজ্জের) জন্য (নতুন করে) ইহরাম বাঁধবে, অতঃপর কুরবানী করবে। কিন্তু যারা কুরবানী দিতে অক্ষম তারা হজের (হজ্জের) মৌসুমে তিনটি সত্তম এবং বাড়ীতে ফিরে সাতটি সত্তম (মোট দশটি সত্তম) পালন করবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় পৌঁছে প্রথমে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করলেন, তারপর ‘হাজরে আসওয়াদ’ চুম্বন করলেন। তিনি তাওয়াফের সাত চক্করের প্রথম তিন চক্করে দ্রুত পায়ে চললেন এবং অবশিষ্ট চার চক্করে স্বাভাবিক গতিতে হাঁটলেন। বায়তুল্লাহ তাওয়াফ শেষ করে তিনি মাকামে ইবরাহীমের পাশে দুই রাক‘আত সালাত আদায় করলেন, সালাতের সালাম ফিরিয়ে উঠে সাফা পাহাড়ে গিয়ে সাফা মারওয়ার মাঝে সাত বার সাঈ করলেন। অতঃপর হাজ্জ সমাপন করে কুরবানীর দিন (দশম তারিখ) কুরবানী করা পর্যন্ত তিনি ইহরাম অবস্থায় থাকলেন। অতঃপর ফিরে এসে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করলেন এবং ইহরাম খুলে যেসব জিনিস এ সময় নিষিদ্ধ ছিলো তা হালাল করলেন। আর যারা সাথে করে কুরবানীর পশু এনেছিল তারাও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে অনুসরণ করলো।[1] সহীহঃ কিন্তু তার একথাটি শাযঃ ‘‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথমে ‘উমরার জন্য তালবিয়া পড়েন, তারপর হজ্জের জন্য তালবিয়া পড়েন।’’
1806। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী হাফসা (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! কি হলো, লোকজন ইহরাম খুলে ফেলেছে, অথচ আপনি এখনো ‘উমরার ইহরাম খুলেননি? তিনি বললেনঃ আমি আমর মাথার চুলে জট পাকিয়েছি এবং আমার কুরবানীর পশুর গলায় মালা পরিয়েছি। সুতরাং কুরবানী না করা পর্যন্ত আমি হালাল হতে পারবো না।[1] সহীহ।
1807। সুলাইম ইবনুল আসওয়াদ (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। আবু যার (রাযি.) বললেন, যে ব্যক্তি হজের (হজ্জের) ইহরাম বাঁধার পর তা ‘উমরাতে পরিবর্তন করে এরূপ করা ঠিক নয়। এরূপ করা কেবল তাঁদের জন্যই জায়িয ছিলো, যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে (বিদায় হজে (হজ্জে)) ছিলেন।[1] সহীহ মাওকুফ শায।
1808। আল-হারিস ইবনু বিলাল ইবনুল হারিস (রহ.) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! হজে (হজ্জে) ইহরাম ভেঙ্গে তা ‘উমরায় পরিবর্তন করা কি কেবল আমাদের জন্যই নির্ধারিত না আমাদের পরবর্তীদের জন্যও? তিনি বললেনঃ না, শুধু তোমাদের জন্যই নির্ধারিত।
1809। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফাদল ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পিছনে তাঁর সাওয়ারীতে বসেছিলেন। এমতাবস্থায় আস্আম গোত্রীয় এক মহিলা এসে তাঁর কাছে বিধান জানতে চাইলেন। ফাদল মহিলাটির দিকে তাকাচ্ছিলেন এবং মহিলাটিও তার দিকে তাকাচ্ছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাদলের মুখ অন্যদিকে ফিরিয়ে দিতে থাকলেন। মহিলাটি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! মহান শক্তিশালী আল্লাহ তাঁর বান্দাদের উপর হজ (হজ্জ) ফরয করেছেন। কিন্তু আমার পিতা খুব বৃদ্ধ, তিনি সাওয়ারীর উপর স্থির থাকতে পারেন না। কাজেই আমি কি তার পক্ষ থেকে হজ (হজ্জ) করবো? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। এটা বিদায় হজের (হজ্জের) সময়ের ঘটনা।[1] সহীহ।
1810। আবূ রাযীন (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আমির গোত্রের জনৈক ব্যক্তি বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা অতি বৃদ্ধ, হজ (হজ্জ) এবং ‘উমরা আদায় করতে তিনি অক্ষম এবং সওয়ারীতে সফর করতেও অসমর্থ। তিনি বললেনঃ তোমার পিতার পক্ষ থেকে তুমি হজ (হজ্জ) ও ‘উমরা আদায় করো।[1] সহীহ।
1811। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে বলতে শুনলেনঃ ‘লাববাইকা আন শুবরুমা।’ তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ শুবরুমা কে? লোকটি বললো, আমার ভাই কিংবা আমার বন্ধু। তিনি বললেনঃ তুমি কি নিজের হজ (হজ্জ) করেছো? সে বললো, না। তিনি বললেনঃ প্রথমে তোমার নিজের হজ (হজ্জ) আদায় করে নাও, তারপর শুবরুমার পক্ষ থেকে হজ (হজ্জ) করো।[1] সহীহ।
1812। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তালবিয়া ছিলোঃ ‘‘লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইকা, লাব্বাইকা লা শারীকা লাকা লাব্বাইকা, ইন্নাল হামদা ওয়ান-নি‘মাতা লাকা ওয়াল-মুলকা লা শারীকা লাকা।’’ নাফি‘ (রহ.) বলেনঃ আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাযি.) তার তালবিয়ার মধ্যে বর্ধিত করতেনঃ হে রব! আমি উপস্থিত (তিনবার) এবং সৌভাগ্য ও করুণা আপনার হাতেই এবং আকর্ষণ আপনাতেই। আমাদের কাজের প্রতিদানও আপনার অনুগ্রহের উপর নির্ভরশীল।[1] সহীহ।
1813। জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম বাঁধলেন। অতঃপর বর্ণনাকারী ইবনু উমার বর্ণিত হাদীসের তালবিয়ার উল্লেখ করেন। বর্ণনাকারী বলেন, লোকেরা তালবিয়াতে ‘যাল-মা‘আরিজ’ ইত্যাদি বাক্য বলতো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা শুনতেন, অথচ তিনি তাদেরকে কিছুই বলতেন না।
1814। খাল্লাদ ইবনুস সাঈব আল-আনসারী (রহ.) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমার কাছে জিবরীল (আঃ) এসে নির্দেশ দিলেন, আমি যেন আমার সাহাবী এবং যারা আমার সাথে রয়েছে তাদেরকে আদেশ করি, তারা যেন তাদের ‘ইহলাল’ বা ‘তালবিয়া’ যে কোনো একটি উঁচু আওয়াজে পাঠ করে।'[1] সহীহ।
1815। আল-ফাদল ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামরাতুল আকাবায় কংকর নিক্ষেপ করার পূর্ব পর্যন্ত তালবিয়া পড়েছেন।[1] সহীহ।
1816। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাযি.) বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সকালে মিনা থেকে আরাফার দিকে রওয়ানা হই। তখন আমাদের মধ্যে কেউ তালবিয়া পাঠ করেছেন এবং কেউ তাকবীর পাঠ করেছেন।[1] সহীহ।
1817। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘উমরা আদায়কারী ‘হাজরে আসওয়াদ’ চুম্বন করা পর্যন্ত তালবিয়া পড়তে থাকবে। ইমাম আবূ দাঊদ (রহ.) বলেন, ‘আব্দুল মালিক ইবনুল সুলাইমান এবং হাম্মাম (রহ.) ‘আতা (রহ.) থেকে ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে এটি ‘মাওকুফ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।[1] দুর্বলঃ আল-জামি‘উস সাগীর (৬৪৪৩), মিশকাত (২৬১৫), যঈফ সুনান আত-তিরমিযী (১৫৮/৯২৮)।
1818। আসমা বিনতু আবূ বাকর (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে রওয়ানা হলাম। আমরা আল-আরজ নামক স্থানে পৌঁছলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাত্রাবিরতি করেন এবং আমরাও যাত্রাবিরতি করি। ‘আয়িশাহ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাশে বসলেন আর আমি আমার পিতা আবূ বাকর (রাযি.)-এর পাশে বসি। আবূ বাকর (রাযি.) এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মালপত্র একত্রে একটি উটের পিঠে আবূ বাকর (রাযি.)-এর এক ক্রীতদাসের নিকট ছিলো। আবূ বাকর (রাযি.) তার আগমনের অপেক্ষা ছিলেন। এমন সময় সে হাযির হলো, কিন্তু তার সাথে উট ছিলো না। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমার উট কোথায়? সে বললো, গতরাতে তা আমি হারিয়ে ফেলেছি। বর্ণনাকারী বলেন, আবূ বাকর (রাযি.) বললেন, একটি মাত্র উট, সেটাও হারিয়ে ফেললে? এই বলে তিনি তাকে মারধর করলেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুচকি হেসে বললেনঃ তোমরা এই ইহরামধারীর লোকটির দিকে দেখো, সে কি করছে? ইবনু আবূ রিযমা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুচকি হেসে শুধু বললেন, তোমরা এ মুহরিম লোকটির দিকে দেখো, সে কি করছে।’’[1] হাসান।
1819। সাফওয়ান ইবনু ইয়ালা ইবনু উমাইয়্যাহ (রহ.) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। এক ব্যক্তি আল-জি‘ইররানা নামক স্থানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমাতে উপস্থিত হলো। ঐ ব্যক্তির শরীরে খালুক হলুদ রংয়ের কিছুটা চিহ্ন ছিলো এবং পরনে ছিলো জুব্বা। সে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমার ‘উমরা কিভাবে করতে বলেন? এ সময় মহান আল্লাহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর ওয়াহী অবতীর্ণ করেন। তাঁর থেকে ওয়াহী অবতীর্ণ হবার অবস্থা দূরীভূত হলে তিনি বললেনঃ যে লোকটি ‘উমরা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিল সে কোথায়? তোমার শরীর থেকে খালূক অথবা হলুদ রংয়ের চিহ্ন ধুয়ে ফেলো, তোমার পরিহিত জুব্বাটি খুলে ফেলো এবং হজের (হজ্জের) মধ্যে যা কিছু করেছো ‘উমরাতেও তাই করো।[1] সহীহ।
1820। সাফওয়ান ইবনু ইয়ালা (রহ.) থেকে তার পিতার সূত্রে অনুরূপ ঘটনা বর্ণিত। তাতে আরো রয়েছেঃ অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ তোমার জুব্বাটি খুলে ফেলো। ফলে সে তার মাথার দিক থেকে জুব্বাটি খুলে ফেললো। অতঃপর বর্ণনাকারী পূর্ণ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।[1] সহীহ, তবে তার এ কথাটি বাদেঃ ‘‘তার মাথার দিক থেকে।’’ কেননা এ অংশটুকু মুনকার।
1821। সাফওয়ান ইবনু ইয়া‘লা ইবনু মুনাব্বিহ (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি তার পিতা থেকে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জুব্বাটি খুলে ফেলার নির্দেশ দেন এবং সুগন্ধির স্থান দুই বা তিনবার ধুয়ে ফেলতে বললেন। অতঃপর বর্ণনাকারী পূর্ণ হাদীস বর্ণনা করেছেন।[1] সহীহ।
1822। সাফওয়ান ইবনু ইয়া‘লা ইবনু উমাইয়্যাহ (রহ.) তার পিতা সূত্রে বর্ণনা করেন। এক ব্যক্তি আল-জি‘ইররানা নামক স্থানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলো। সে ‘উমরার জন্য এমন অবস্থায় ইহরাম বেঁধেছে যে, তার গায়ে জুব্বা ছিলো এবং তার চুল ও দাঁড়ি ছিলো হলুদ রংয়ে রঞ্জিত। অতঃপর বর্ণনাকারী পূর্ণ হাদীসটি বর্ণনা করেন।[1] সহীহ।
1823। সালিম (রহ.) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলো, মুহরিম ব্যক্তি কি ধরণের কাপড় পরিহার করবে? তিনি বললেনঃ মুহরিম ব্যক্তি জামা, টুপি, পায়জামা, পাগড়ী জাফরান অথবা ওয়ারাস মাখা কোনো কাপড় ও মোজা পরবে না। তবে যার জুতা নেই সে মোজা পরতে পারে। কিন্তু মোজা দু‘টি সে এমনভাবে কেটে নিবে যাতে তা গোছাদ্বয়ের নীচে থাকে।[1] সহীহ।
1824। ইবনু ‘উমার (রাযি.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে পূর্ব বর্ণিত হাদীসের সমার্থবোধক হাদীস বর্ণনা করেছেন।[1] সহীহ।
1825। ইবনু ‘উমার (রাযি.) থেকে নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে পূর্ব বর্ণিত হাদীসের অর্থানুরূপ বর্ণিত। তাতে অতিরিক্ত রয়েছেঃ ‘মুহরিম নারী মুখাবরণ পরিধান করতে পারবে না, হাত মোজাও পরতে পারবে না।[1] সহীহ। ইমাম আবূ দাঊদ (রহ.) বলেন, হাদীসটি হাকিম ইবনু ইসমাঈল ... বিভিন্ন সূত্রে ইবনু ‘উমার (রাযি.) থেকে মাওকুফভাবে বর্ণিত আছে এবং মারফূভাবেও। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মুহরিম নারী মুখাবরণ ও হাত মোজা পরবে না।
1826। ইবনু ‘উমার (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মুহরিমা মুখাবরণ ও হাত মোজা পরবে না।[1] সহীহ।
1827। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ইহরাম অবস্থায় নারীদের হাত মোজা ও মুখমন্ডলের নিকাব ঝুলাতে এবং ‘ওয়ারস’ ঘাস ও জাফরান মিশ্রিত কাপড় পরতে নিষেধ করতে শুনেছেন। তবে এগুলো বাদে অন্য কাপড় পরতে পারবে, যদিও তা রেশমী, কারুকার্য খচিত পায়জামা বা জামা কিংবা মোজা হয়।[1] হাসান সহীহ।
1828। ইবনু ‘উমার (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। একদা তিনি খুব শীত অনুভব করায় নাফি‘কে বললেনঃ আমাকে একখানা কাপড় দিয়ে ঢেকে দাও। আমি বোরকা সদৃশ্য একটি জুব্বা তাঁর উপর বিছিয়ে দিলাম। তিনি বললেন, তুমি এটা আমার উপর বিছালে? অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুহরিম ব্যক্তিকে এটা পরতে নিষেধ করেছেন।[1] সহীহ।
1829। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ মুহরিম ব্যক্তির লুঙ্গি না থাকলে সে পায়জামা পরবে, জুতা না থাকলে সে মোজা পরবে।[1] সহীহ।
1830। ‘আয়িশা বিনতু তালহা (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। উম্মুল মু‘মিনীন ‘আয়িশাহ (রাঃ) তাকে বলেছেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে (মদীনা থেকে) মক্কায় সফর করেছি এবং ইহরামের সময় আমরা আমাদের পরিধেয় বস্ত্রে উত্তম সুগন্ধি মেখেছি। আমাদের কেউ ঘর্মাক্ত হলে তা মুখমন্ডল বেয়ে পড়তো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা দেখতেন কিন্তু তা ব্যবহার করতে নিষেধ করতেন না।[1] সহীহ।
1831। সালিম (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাযি.) মুহরিম নারীর জন্য মোজার উপরের অংশ কেটে ব্যবহারের অনুমতি দিতেন। পরে সাফিয়্যাহ বিনতু আবূ ‘উবাইদ (রহ.) তাকে বর্ণনা করেন যে, ‘আয়িশাহ (রাঃ) তাকে বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীদেরকে মোজা পরার অনুমতি দিয়েছেন। এরপর তিনি তা কর্তন করা বাদ দেন।[1] হাসান।
1832। আবূ ইসহাক (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল-বারাআ (রাযি.)-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুদায়বিয়াবাসীর সাথে সন্ধি করার সময় তাদের সাথে এই সন্ধি করলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীরা কেবল কোষবদ্ধ তলোয়ার নিয়ে (মক্কায়) প্রবেশ করতে পারবে। বর্ণনাকারী বলেন, আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘জুলবানুসসালাহ’ কি? তিনি বললেন, কোষবদ্ধ তলোয়ার।[1] সহীহ।
1833। ‘আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, অনেক কাফেলা আমাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিল। তখন আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ইহরাম অবস্থায় ছিলাম। তারা আমাদের সামনা-সামনি আসলে আমাদের নারীরা নিজ মুখাবরণ মাথা থেকে নামিয়ে নিজ মুখমন্ডল ঢেকে ফেলতেন। অতঃপর তারা অতিক্রম করে চলে গেলে আমরা মুখ খুলতাম।
1834। উম্মুল হুসাইন (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে বিদায় হজে (হজ্জে) উপস্থিত ছিলাম। আমি উসামা ও বিলাল (রাযি.)-কে দেখলাম, তাদের একজন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উষ্ট্রীর লাগাম ধরে আছেন এবং অপরজন ‘জামরাতুল আকাবায়’ কংকর নিক্ষেপ করা পর্যন্ত তার কাপড় উঠিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে রোদের তাপ থেকে ছায়া দিতে রয়েছেন।[1] সহীহ।
1835। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুহরিম অবস্থায় রক্তমোক্ষণ করিয়েছেন।[1] সহীহ।
1836। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কোনো রোগের কারণে মুহরিম অবস্থায় তাঁর মাথায় রক্তমোক্ষণ করিয়েছেন।[1] সহীহ।
1837। আনাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যাথার কারণে ইহরাম অবস্থায় তাঁর পায়ের উপরিভাগে রক্তমোক্ষণ করিয়েছেন। ইবনু আবূ আরুবাহ (রহ.) কাতাদাহ (রহ.) থেকে এটি মুরসালভাবে বর্ণনা করেছেন।[1] সহীহ।
1838। নুবাইহ্ ইবনু ওয়াহাব (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। ‘উমার ইবনু ‘উবাইদুল্লাহ ইবনু মা‘মারের চোখের অসুখ হলো। তিনি আবান ইবনু ‘উসমান (রাযি.)-এর কাছে জানতে চেয়ে পাঠালেন, এখন কি করণীয়? সুফিয়ান বলেন, তিনি (আবান) ছিলেন আমীরুল হজ্জ। তিনি বললেন, ‘সাবার’ নামক তিতা গাছের রস চোখে লাগাও। কেননা আমি ‘উসমান (রাযি.)-কে এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছি।[1] সহীহ।
1839। নাফি‘ (রহ.) থেকে নুবাইহ্ ইবনু ওয়াহাব (রহ.) সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত।[1] আমি এটি সহীহ এবং যঈফে পাইনি।
1840। ইবরাহীম ইবনু ‘আব্দুল্লাহ ইবনু হুনাইন (রহ.) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস ও আল-মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ (রাযি.)-এর মধ্যে আল-আবওয়া নামক স্থানে মতবিরোধ দেখা দিলে ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) বলেন, মুহরিম ব্যক্তি মাথা ধুতে পারবে। আর মিসওয়ার (রাযি.) বলেন, মুহরিম ব্যক্তি মাথা ধুতে পারবে না। সুতরাং এ বিষয়ে জানার জন্য ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) ‘আব্দুল্লাহ ইবনু হুনাইনকে আবূ আইয়ুব আল-আনসারী (রাযি.)-এর কাছে প্রেরণ করেন। তিনি গিয়ে তাকে দুই খুঁটির মাঝখানে একখানা কাপড়ের আড়ালে গোসল করতে দেখলেন। তিনি বলেন, আমি তাকে সালাম দিলে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কে? আমি বললাম, আমি ‘আব্দুল্লাহ ইবনু হুনাইন। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) আমাকে আপনার কাছে জানতে পাঠিয়েছেন যে, মুহরিম অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মাথা কিভাবে ধুতেন? ইবনু হুনাইন বলেন, আবূ আইয়ুব (রাযি.) তার হাত কাপড়ের উপর রেখে তা নীচু করলেন, এমনকি আমি তার মাথা দেখতে পেলাম। এরপর তিনি এক ব্যক্তিকে তার মাথায় পানি ঢালতে বললে সে পানি ঢালতে থাকলো। তখন তিনি মাথার চুলে দুই হাত দিয়ে একবার সামনে আনলেন, আবার পিছনে নিলেন। অতঃপর বললেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এরূপ করতে দেখেছি।[1] সহীহ।
1841। নুবাইহ ইবনু ওয়াহব (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। ‘উমার ইবনু উবাইদুল্লাহ এক ব্যক্তিকে আবান ইবনু ‘উসমানের নিকট প্রেরণ করলেন এটা জিজ্ঞেস করার জন্য যে, আমি (আমার পুত্র) তালহা ইবনু ‘উমারকে শাইবাহ ইবনু জুবাইয়ের মেয়ের সাথে বিয়ে দেয়ার ইচ্ছা করেছি। তখন আবান ছিলেন আমীরুল হজ (হজ্জ) এবং তারা উভয়েই মুহরিম ছিলেন। আমরা আশা করি আপনি এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। আবান ‘উমারের এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বললেন, আমি আমার পিতা ‘উসমান ইবনু ‘আফফান (রাযি.)-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুহরিম ব্যক্তি ইহরাম অবস্থায় বিয়ে করতে পারবে না এবং কাউকে বিয়ে করাতেও পারবে না।[1] সহীহ।
1842। ‘উসমান (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অতঃপর বর্ণনাকারী উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে এ বর্ণনায় আরো রয়েছেঃ ‘বিবাহের প্রস্তাবও দিতে পারবে না।’[1] সহীহ।
1843। মায়মূনাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ‘সারিফ’ নামক স্থানে বিয়ে করেছেন। তখন আমরা উভয়ে হালাল অবস্থায় ছিলাম।[1] সহীহ।
1844। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম অবস্থায় মায়মূনাহ (রাযি.)-কে বিয়ে করেছেন।[1] সহীহ।
1845। সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইহরাম অবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে মায়মূনাহ (রাযি.)-এর বিয়ে হওয়ার বিষয়ে ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সন্দেহে পড়েছেন।[1] সহীহ মাকতূ।’
1846। সালিম থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করা হলো, মুহরিম ব্যক্তি কোন্ কোন্ প্রাণী হত্যা করতে পারবে। তিনি বললেনঃ পাঁচ প্রকার প্রাণী হত্যা করাতে দোষ নেই, চাই ইহরাম অবস্থায় বা ইহরাম ব্যতিরেকে অথবা হেরেম এলাকায় বা হেরেমের বাইরে হোক। তা হলোঃ বিছা, কাক, ইঁদুর, চিল ও পাগলা কুকুর।[1] সহীহ।
1847। আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সাপ, বিছা, চিল, ইঁদুর ও পাগলা কুকুর- এ পাঁচ প্রকারের প্রাণী হারাম এলাকায় হত্যা করা জায়িয।[1] হাসান সহীহ।
1848। আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করা হলো, মুহরিম ব্যক্তি কোন্ কোন্ প্রাণী হত্যা করতে পারবে। তিনি বললেনঃ সাপ, বিছা, ইঁদুর, খ্যাপা কুকুর, চিল এবং হিংস্র জন্তু। আর কাক তাড়িয়ে দিবে, হত্যা করবে না।[1] দুর্বল, এবং তার কথাঃ ‘‘কাক তাড়িয়ে দিবে, হত্যা করবে না’’ এ অংশটুকু মুনকার। ইরওয়া (১০৩৬), যঈফ সুনান ইবনু মাজাহ (৬৬০), তার বর্ণনায় ‘‘কাক তাড়িয়ে দিবে, হত্যা করবে না।’’ কথাটুকু নেই।
1849। ইসহাক ইবনু ‘আব্দুল্লাহ ইবনুল হারিস (রহ.) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। আল-হারিস (রাযি.) ছিলেন তায়িফে ‘উসমান (রাযি.)-এর প্রতিনিধি গভর্ণর। হারিস উসমান (রাযি.)-এর জন্যে খাবার তৈরী করালেন, তন্মধ্যে হুযাল ও ইয়া‘কীব পাখির গোশত এবং বন্য গাধার গোশত ছিলো। অতঃপর তিনি ‘আলী ইবনু আবূ তালিব (রাযি.)-কে ডেকে আনতে লোক পাঠালেন। লোকটি যখন তার (আলীর) কাছে এলো তখন তিনি (আলী) উটের জন্য গাছ থেকে পাতা জড়ো করছিলেন। তিনি হাত থেকে পাতা ঝাড়তে ঝাড়তে দাওয়াতে আসলেন। তারা তাকে বললেন, খাওয়া শুরু করুন। তিনি বললেন, এটা এমন ব্যক্তিদেরকে খেতে দিন যারা ইহরামমুক্ত। কেননা আমরা মুহরিম। অতঃপর ‘আলী (রাযি.) উপস্থিত আশজা‘ গোত্রীয় লোকদেরকে শপথ দিয়ে বলেন, তোমরা কি জানো না, এক লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জংলী গাধার গোশত হাদিয়া দিয়েছিলেন, তখন তিনি মুহরিম ছিলেন এবং তিনি তা খেতে চাননি? তারা বললো, হ্যাঁ।[1] সহীহ।
1850। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, হে যায়িদ ইবনু আরকাম! তুমি কি জানো যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে একটি শিকারী প্রাণীর এক টুকরা গোশত হাদিয়া দেয়া হলে তিনি সেটা গ্রহণ না করে এই বলে ফেরত পাঠালেন যে, আমরা মুহরিম? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ।[1] সহীহ।
1851। জাবির ইবনু ‘আব্দুল্লাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ স্থলভাগের শিকার করা পশুর গোশত তোমাদের জন্য খাওয়া হালাল ততক্ষণ পর্যন্ত যতক্ষণ তোমরা (ইহরাম অবস্থায়) তা শিকার না করে থাকো কিংবা শুধু তোমাদের জন্যই কেউ শিকার না করে থাকে। ইমাম আবূ দাঊদ (রহ.) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে পরস্পর বিরোধী হাদীস বর্ণিত হলে সাহাবীরা যেটা গ্রহণ করেছেন সেটাই প্রাধান্য পাবে।[1] দুর্বলঃ যঈফ আল-জামি‘উস সাগীর (৩৫২৪), মিশকাত (২৭০০), যঈফ সুনান আত-তিরমিযী (১৪৭/৮৫৪)।
1852। আবূ কাতাদাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সফর সঙ্গী ছিলেন। মক্কার কোনো রাস্তা অতিক্রমের সময় তিনি তার কিছু মুহরিম সাথীসহ পেছনে রয়ে যান। তিনি ছিলেন ইহরামমুক্ত। অতঃপর তিনি একটি বন্য গাধা দেখতে পেয়ে নিজের ঘোড়ার পিঠে চড়লেন। তাঁর চাবুকটি নীচে পড়ে গেলে তিনি তাঁর সঙ্গীদেরকে তা তুলে দেয়ার অনুরোধ জানালে তারা তুলে দিতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর তাঁর তীরটি তুলে দেয়ার অনুরোধ জানালে তাও দিতে অস্বীকার করেন। অবশেষে তিনি নিজেই তা তুলে নিলেন এবং গাধাটিকে আক্রমণ করে হত্যা করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কিছু সাহাবী তার গোশত খেলেন, আর কিছু সাহাবী খেতে অস্বীকার করলেন। অতঃপর যখন তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে মিলিত হলেন তখন তাঁকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেনঃ এটা তো খাদ্য, যা মহান আল্লাহ তোমাদেরকে খাইয়েছেন।[1] সহীহ।
1853। আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ পঙ্গপাল হলো সামুদ্রিক শিকার।[1] দুর্বলঃ যঈফ আল-জামি‘উস সাগীর (২৬৪৭), মিশকাত (২৭০১), ইরওয়া (১০৩১)।
1854। আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা ফড়িংয়ের একটি বিরাট দলের মধ্যে পৌঁছলে জনৈক মুহরিম ব্যক্তি তার চাবুক দিয়ে সেগুলোকে মারতে লাগলো। কেউ বললো, মুহরিমের জন্য এরূপ করা উচিত নয়। অতঃপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তা অবহিত করালে তিনি বলেনঃ এটা হচ্ছে সামুদ্রিক শিকার।[1] খুবই দুর্বলঃ ইরওয়া (১০৩১)। (বর্ণনাকারী বলেন), আমি ইমাম আবূ দাঊদকে বলতে শুনেছি, আবুল মুহাযযিম হাদীস বর্ণনায় দুর্বল। তার বর্ণিত হাদীসদ্বয় সন্দেহযুক্ত।
1855। কা‘ব ইবনু ‘উজরাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফড়িং সামুদ্রিক শিকারের অন্তর্ভুক্ত।[1] দুর্বল।
1856। কা‘ব ইবনু ‘উজরাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুদায়বিয়ার সময় তার পাশ দিয়ে অতিক্রমকালে তাকে বললেনঃ তোমার মাথার উকুন তোমাকে কষ্ট দিচ্ছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ মাথা মুন্ডন করে ফেলো, অতঃপর একটি বকরী কুরবানী করো অথবা তিন দিন সওম পালন করো অথবা তিন সা‘ খেজুর ছয়জন মিসকীনকে বিতরণ করো।[1] সহীহ।
1857। কা‘ব ইবনু উজরাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ তুমি চাইলে একটি কুরবানী করো অথবা তিন দিন সওম রাখো অথবা তিন সা‘ খেজুর ছয়জন মিসকীনকে দান করো।[1] সহীহ।
1858। কা‘ব ইবনু ‘উজরাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুদায়বিয়ার সময় তার পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন। অতঃপর বর্ণনাকারী পূর্বের ঘটনা বর্ণনা করেন। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমার সাথে কুরবানীর পশু আছে কি? তিনি বললেন, না। তিনি বললেনঃ তাহলে তিন দিন সওম পালন করো অথবা তিন সা‘ খেজুর ছয়জন মিসকীনকে বিতরণ করো, যেন প্রত্যেক দু‘জন মিসকীন এক সা‘ করে পায়।[1] সহীহ।
1859। কা‘ব ইবনু ‘উজরাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তার মাথায় (উকুনের উপদ্রবের কারণে) কষ্ট হওয়ায় তিনি মাথা মুড়ে ফেলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে একটি গরু কুরবানী করার নির্দেশ দিলেন।[1] দুর্বলঃ এবং তার ‘গরু’ কথাটি মুনকার।
1860। কা‘ব ইবনু ‘উজরাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হুদায়বিয়ার বছরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম। আমার মাথায় উকুনের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলো। এমনকি আমি আমার দৃষ্টিশক্তি সম্পর্কে আশংকায় পড়লাম। এ সময় মহান পরাক্রমশালী আল্লাহ অবতীর্ণ করলেনঃ ‘‘তবে যে ব্যক্তি অসুস্থ হওয়ার কারণে অথবা মাথায় কোনো প্রকার কষ্টদায়ক ব্যাপার থাকার কারণে মাথা মুড়িয়ে নেয়, ক্ষতিপূরণ হিসেবে তার সওম পালন বা ফিদয়া প্রদান বা কুরবানী করা বিধেয়’’ (সূরা আল-বাকারাহঃ ১৯৬)। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ডেকে বললেনঃ মাথা মুন্ডন করো এবং তিন দিন সওম পালন করো অথবা এক ফারাক কিশমিশ ছয়জন মিসকীনের মধ্যে বিতরণ করো অথবা একটি বকরী কুরবানী করো। কা‘ব বলেন, সুতরাং আমি আমার মাথা মুন্ডন করি এবং কুরবানী করি।[1] হাসান। কিন্তু কিশমিশের উল্লেখ মুনকার। মাহফূয হলোঃ খেজুর।
1861। কা‘ব ইবনু ‘উজরাহ (রাযি.) সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত। এতে রয়েছেঃ তুমি এসবের কোনো একটি করলেই তা তোমার জন্য যথেষ্ট হবে।[1] সহীহ।
1862। ‘ইকরিমাহ (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হাজ্জাজ ইবনু ‘আমর আল-আনসারী (রাযি.)-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি কারো চলার পথে পা ভেঙ্গে যায় বা খোঁড়া হয়ে যায় তবে সে ইহরাম খুলতে পারবে। অবশ্য পরবর্তীতে বছরে তাকে হজ (হজ্জ) করতে হবে। ‘ইকরিমাহ (রহ.) বলেন, পরে এ বিষয়ে আমি ইবনু ‘আব্বাস ও আবূ হুরাইরাহ (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করলে তারা বললেন, (হাজ্জাজ) সত্যিই বলেছেন।[1] সহীহ।
1863। আল-হাজ্জাজ ইবনু ‘আমর (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কারো পা ভেঙ্গে গেলে অথবা খোঁড়া হয়ে গেলে অথবা ব্যাধিগ্রস্ত হলে ... অতঃপর পূর্ববর্তী হাদীসের অর্থানুযায়ী বর্ণিত।[1] সহীহ।
1864। আবূ মায়মূন ইবনু মিহরান (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে বছর সিরিয়াবাসীরা ইবনুয যুবায়র (রাযি.)-কে মক্কায় অবরোধ করেছিল আমি সেই বছর ‘উমরা করতে বের হই। আমার কওমের কতিপয় লোক আমার সাথে তাদের কুরবানীর পশু প্রেরণ করলো। আমি সিরিয়াবাসীদের নিকট পৌঁছলে তারা আমাদেরকে হেরেমের এলাকাতে যেতে নিষেধ করলো। সুতরাং আমি ঐ স্থানেই সাথের পশুগুলি কুরবানী করি এবং ইহরাম খুলে ফিরে আসি। পরের বছর আমি আমার উমরা পূরণের জন্য রওয়ানা হই এবং ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে সিরিয়াবাসীরা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, কুরবানীর পরিবর্তে কুরবানী করো। কেননা হুদায়বিয়ার বছর লোকেরা যে কুরবানী করেছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সঙ্গীদেরকে তার পরিবর্তে ‘উমরাতুল কাযার সময় কুরবানী করতে আদেশ করেছিলেন।[1] দুর্বল।
1865। নাফি‘ (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। ইবনু ‘উমার (রাযি.) মক্কায় এসে যি-তুয়া নামক স্থানে ভোর পর্যন্ত রাতযাপন করতেন এবং গোসল করে পরে দিনের বেলা মক্কায় প্রবেশ করতেন। আর তিনি বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপই করেছেন।[1] সহীহ।
1866। ইবনু ‘উমার (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সানিয়্যাতুল উলইয়া দিয়ে মক্কায় প্রবেশ করতেন এবং সানিয়্যাতুস সুফলা দিয়ে মক্কা থেকে বের হতেন।[1] সহীহ। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু জা‘ফর আল-বারমাকীর বর্ণনায় আছেঃ এ দুটি স্থান মক্কায় দু‘টি উঁচু টিলা।
1867। ইবনু্ ‘উমার (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুল-হুলাইফার বৃক্ষের পথ দিয়ে মক্কা থেকে বের হতেন এবং যুল-হুলাইফার মু‘আররাসের (মসজিদের) পথে প্রবেশ করতেন।[1] সহীহ।
1868। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের বছর ‘কাদা’ নামক স্থান দিয়ে মক্কায় প্রবেশ করেছিলেন এবং ‘উমরা করার সময় ‘কুদা’ নামক স্থানের পথে প্রবেশ করেছেন। আর ‘উরওয়াহ (রহ.) এ দু‘টি স্থান দিয়েই মক্কায় প্রবেশ করতেন এবং অধিকাংশ সময় ‘কুদা’ নামক স্থান দিয়েই প্রবেশ করতেন, যা তার বাড়ির অধিক নিকটবর্তী ছিলো।[1] সহীহ।
1869। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মক্কায় প্রবেশ করার সময় এর উচ্চভূমি দিয়ে প্রবেশ করতেন এবং নিম্নভূমি দিয়ে বের হতেন।[1] সহীহ।
1870। আল-মুহাজির আল-মাক্কী (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, জাবির ইবনু ‘আব্দুল্লাহ (রাযি.)-কে এমন ব্যক্তি সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করা হলো, যে বায়তুল্লাহ দেখলে দুই হাত উত্তোলন করে। তিনি বলেন, ইয়াহুদী ছাড়া অন্য কাউকে আমি এরূপ করতে দেখিনি। আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে হজ (হজ্জ) করেছি, কিন্তু তিনি এরূপ করেননি।[1] দুর্বলঃ মিশকাত (২৫৭৪), যঈফ সুনান আত-তিরমিযী (১৫০/৮৬৩), যঈফ সুনান নাসায়ী (১৮৫/২৮৯৫)।
1871। আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। মক্কা বিজয়ের দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় প্রবেশ করে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করলেন এবং মাকামে ইবরাহীমের পেছনে দুই রাক‘আত সালাত আদায় করলেন।[1] সহীহ।
1872। আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মদীনা থেকে) আগমন করে মক্কায় প্রবেশ করলেন, এরপর ‘হাজরে অসওয়াদের নিকটবর্তী হয়ে তাতে চুমু খেলেন এবং বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করলেন। অতঃপর সাফা পাহাড়ের চূড়ায় উঠলেন এবং সেখান থেকে বায়তুল্লাহ দৃষ্টিগোচর হলেই তিনি দুই হাত উত্তোলন করে যতক্ষণ ইচ্ছে মহান আল্লাহর যিকির করলেন এবং দু‘আ করলেন। আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) বলেন, এ সময় সিঁড়ি পাথর তার নীচে ছিলো। হাশিম (রহ.) বলেন, সেখানে তিনি আল্লাহর প্রশংসা করেন এবং তা ইচ্ছামত দু‘আ করেন।[1] সহীহ।
1873। ‘উমার (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি হাজরে আসওয়াদের নিকটবর্তী হয়ে তাতে চুমু দিয়ে বললেন, আমি জানি, তুমি একটি পাথর মাত্র, তোমার মধ্যে উপকার বা ক্ষতি করার কোনো ক্ষমতা নেই। আমি যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তোমায় চুমু দিতে না দেখতাম তাহলে আমি কখনো তোমাকে চুমু দিতাম না।[1] সহীহ।
1874। ইবনু ‘উমার (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দু‘টি রুকনে ইয়ামেনী ছাড়া বায়তুল্লাহর অন্য কিছুকে স্পর্শ করতে দেখিনি।[1] সহীহ।
1875। ইবনু ‘উমার (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর উক্তির উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘হাতীমের’ কিছু অংশ বায়তুল্লাহর অন্তর্ভুক্ত। তাই ইবনু ‘উমার (রাযি.) বলেছেন, আল্লাহর শপথ! আমার বিশ্বাস, এ কথা ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে শুনেছেন। সুতরাং আমার মনে হয়, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজরে আসওয়াদের নিকটস্থ দু‘টি (শামী) রুকনে চুমু খাওয়া বর্জন করেছিলেন এজন্য যে, তা ঘরের মূল ভিটির অংশ ছিলো না। আর লোকরোও এ কারণেই হাতীমের পিছন দিয়ে তাওয়াফ করেন।[1] সহীহ।
1876। ইবনু ‘উমার (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক তাওয়াফে রুকনে ইয়ামেনী ও হাজরে আসওয়াদে চুমু খাওয়া পরিত্যাগ করেননি। তিনি (নাফী‘) বলেন, তাই ইবনু ‘উমার (রাযি.) এরূপ করতেন।[1] হাসান।
1877। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। বিদায় হজে (হজ্জে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি উটে সওয়ার হয়ে তাওয়াফ করেছেন এবং লাঠি দিয়ে হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করেছেন।[1] সহীহ।
1878। সাফিয়্যাহ বিনতু শাইবাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিরাপদ হওয়ার পর তাঁর উটে সওয়ার হয়ে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করেন এবং তাঁর হাতের লাঠির সাহায্যে (ইশারায়) হাজরে আসওয়াদে চুমু দিলেন। সাফিয়্যাহ বলেন, আমি এ দৃশ্য তাকিয়ে দেখেছিলাম।[1] হাসান।
1879। আবুত তুফাইল (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর সাওয়ারীতে চড়ে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করতে দেখেছি। তিনি তাঁর লাঠির সাহায্যে হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করার পর তাতে চুমু দিয়েছেন। মুহাম্মাদ ইবনু রাফি‘র বর্ণনায় রয়েছেঃ অতঃপর তিনি সাফা ও মারওয়ায় যান এবং স্বীয় বাহনে আরোহিত অবস্থায়ই সাত বার তাওয়াফ (সাঈ) করেন।[1] সহীহ।
1880। জাবির ইবনু ‘আব্দুল্লাহ (রাযি.) বলেন, বিদায় হজে (হজ্জে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের বাহনে চড়ে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ এবং সাফা-মারওয়া সাঈ করেন, যাতে লোকেরা তাঁকে দেখে, তাঁর কাজের প্রতি দৃষ্টি দেয় এবং প্রয়োজনীয় বিষয়ে জিজ্ঞেস করে নেয়। কারণ লোকেরা চতুর্দিক থেকে তাঁকে ঘিরে রেখেছিল।[1] সহীহ।
1881। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুস্থ অবস্থায় মক্কায় আসেন। এ সময় তিনি তাঁর সাওয়ারীতে চড়ে তাওয়াফ করেন। তিনি রুকনের নিকট আসলে লাঠির সাহায্যে হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করতেন। তাওয়াফ শেষ করার পর তিনি উটকে বসিয়ে দেন এবং দু‘রাক‘আত সালাত আদায় করেন।[1] দুর্বল।
1882। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী উম্মু সালামাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আমার অসুস্থতার কথা জানালে তিনি বললেন, তুমি সাওয়ারীতে চড়ে লোকদের পেছন থেকে তাওয়াফ করবে। তিনি বলেন, আমি এরূপই তাওয়াফ করি। আর তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বায়তুল্লাহর এক পাশে সালাত আদায় করছিলেন এবং তিনি ‘‘ওয়াত-তূরি ওয়া কিতাবিম মাসতূর’’ সূরাটি পাঠ করেছিলেন।[1] সহীহ।
1883। ইয়ালা (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সবুজ রঙ এর একখানা চাদর বগলের নীচ থেকে নিয়ে কাঁধের উপর রাখা অবস্থায় (বায়তুল্লাহ) তাওয়াফ করেছেন।[1] হাসান।
1884। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ আল-জিই‘ররানা নামক স্থান থেকে ‘উমরার ইহরাম বাঁধেন এবং তাঁরা বায়তুল্লাহ তাওয়াফের সময় রমল করেন (দ্রুত পদে হাটেন)। এসময় তাঁরা নিজেদের চাদর বগলের নীচে নিয়ে বাম কাঁধের উপর রেখে দেন।[1] সহীহ।
1885। আবুত তুফাইল (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.)-কে বললাম, আপনার সম্প্রদায়ের ধারণা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বায়তুল্লাহ তাওয়াফের সময় দ্রুতপদে হেটেছেন এবং এরূপ করা সুন্নাত। তিনি বললেন, তারা সত্য বলেছে এবং মিথ্যাও বলেছে। আমি বললাম, তারা কি সত্য বলেছে এবং কি মিথ্যা বলেছে? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘রমল’ করেছেন, একথা সত্য কিন্তু একে সুন্নাত বলা মিথ্যা। হুদায়বিয়ার সময় কুরাইশগণ মুসলিমদেরকে তিরস্কারস্বরূপ বলেছিল যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাথীদের এভাবেই থাকতে দাও। এমন কি তারা উট ও বকরীর মতো মৃত্যু বরণ করে নিঃশেষ হবে। অতঃপর তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সন্ধি চুক্তি করলো, মুসলিমরা আগামী বছর এসে মক্কায় তিন দিন অবস্থান করবে। সুতরাং পরবর্তী বছর রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলেন। মুশরিকরা ‘কুয়াইকিয়ান পাহাড়ের পাদদেশে সমবেত হলো (মুসলিমদের অবস্থান লক্ষ্য করতে)। এসময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের নির্দেশ দিলেন যে, তাওয়াফের মধ্যে তিনবার রমল করো। সুতরাং তারা তাই করলেন। এরূপ করা মূলতঃ সুন্নাত নয়। আমি আবার বললাম, আপনার সম্প্রদায়ের ধারণা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উটে চড়েই সাফা-মারওয়ার মাঝে তাওয়াফ (সাঈ) করেছেন, আর এরূপ নাকি সুন্নাত। তিনি বললেন, তারা সত্যও বলেছে এবং মিথ্যাও বলেছে। আমি বললাম, তারা কি সত্য বলেছে এবং কি মিথ্যা বলেছে? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উটে সাওয়ারী হয়ে সাফা-মারওয়ার মাঝে তাওয়াফ (সাঈ) করেছেন তাদের এ কথা সত্য। কিন্তু এটাকে সুন্নাত বলা মিথ্যা। প্রকৃত ব্যাপার হলো, তখন লোকদের অবস্থা এরূপ ছিলো যে, তাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছ থেকে সরানো যেতো না এবং তিনিও তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে পারতেন না। সুতরাং তিনি উটে আরোহী অবস্থায় তাওয়াফ (সাঈ) করেছেন, যাতে প্রতিটি লোক তাঁর কথা শুনতে পায়, তাঁকে সরাসরি দেখতে পায় এবং তাদের হাত তাঁর শরীরে না লাগে।[1] সহীহ।
1886। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন অবস্থায় মক্কায় এলেন যে, ইয়াসরিবের ভাইরাস জ্বর তাদেরকে দুর্বল করে দিয়েছিল। মুশরিকরা বললো, তোমাদের কাছে এমন এক দল লোক আসছে যাদেরকে ভাইরাস জ্বর দুর্বল করেছে। কাজেই এখন তারা (মুসলিামরা) বিপদগ্রস্ত। মহান আল্লাহ তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মুশরিকদের কথাগুলো জানিয়ে দিলেন। তাই তিনি মুসলিমদেরকে তাওয়াফের সময় তিন চক্করে রমল করতে এবং উভয় রুকন (ইয়ামেনী ও হাতিম)-এর মাঝে স্বাভাবিক গতিতে চলার নির্দেশ দিলেন। মুশরিকরা যখন দেখলো যে, মুসলিমগণ ‘রমল’ করছেন তখন তারা বলাবলি করলো, এরাই তো তারা যাদের সম্বন্ধে তোমরা মন্তব্য করেছিলে যে, ইয়াসরিবের ভাইরাস জ্বর তাদেরকে দুর্বল করে ফেলেছে! অথচ এরা তো আমাদের চাইতেও শক্তিশালী। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) বলেন, তিনি তাদেরকে (মুসলিমদের) সমস্ত চক্করে ‘রমল’ করতে নির্দেশ দেননি।[1] সহীহ।
1887। যায়িদ ইবনু আসলাম (রহ.) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযি.)-কে বলতে শুনেছি, রমল করা এবং কাঁধ খোলা রাখা এখন তেমন গুরুত্ববহ নয়। কেননা মহান আল্লাহ ইসলামকে বিজয়ী ও শক্তিশালী করেছেন এবং কুফর ও কাফির দু‘টোই নির্মূল করেছেন। তথাপি আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময়ে যে কাজ করেছি তা কখনো বর্জন করবো না।[1] হাসান সহীহ।
1888। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মূলতঃ বায়তুল্লাহ তাওয়াফ, সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ এবং জামরায় কংকর নিক্ষেপ ইত্যাদি প্রবর্তিত হয়েছে আল্লাহর যিকির প্রতিষ্ঠিত করার জন্য।[1] দুর্বলঃ যঈফ আল-জামি‘উস সাগীর (২০৫৬), মিশকাত (২৬২৪), যঈফ সুনান আত-তিরমিযী (১৫৪/৯১০)।
1889। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় বগলের নীচ দিয়ে চাদর নিয়ে কাঁধের উপর ছেড়ে দিয়েছেন, হাজরে আসওয়াদে চুমু খেয়েছেন, তাকবীর বলেছেন অতঃপর তিন চক্করে রমল করেছেন। তাঁরা যখন রুকনে ইয়ামেনের কাছে পৌঁছতেন এবং কুরাইশদের চোখের আড়াল হতেন, তখন স্বাভাবিক গতিতে হাঁটতেন। আর যখন তাদের সম্মুখে এসে যেতেন তখন আবার রমল করতেন। তাঁদেরকে দেখে কুরাইশরা বলতো, ওরা যেন হরিণ। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) বলেন, ফলে রমল করা সুন্নাতে পরিণত হয়।[1] সহীহ।
1890। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ আল-জিই‘ররানা নামক স্থান থেকে ইহরমা বেঁধে ইহরাম করেছেন এবং বায়তুল্লাহর তিন চক্করে রমল এবং চার চক্করে স্বাভাবিক গতিতে হেঁটেছেন।[1] সহীহ।
1891। নাফি‘ (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। ইবনু ‘উমার (রাযি.) হাজরে আসওয়াদ থেকে আরম্ভ করে পুনরায় হাজরে আসওয়াদ পর্যন্ত রমল করতেন এবং তিনি উল্লেখ করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করেছেন।[1] সহীহ।
1892। ‘আব্দুল্লাহ ইবনুস সাঈদ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দুই রুকনের মাঝখানে বলতে শুনেছি ‘‘হে আমাদের রব! আমাদেরকে দুনিয়ার কল্যাণ দিন, আখিরাতের কল্যাণ দিন এবং জাহান্নামের ‘আযাব থেকে রক্ষা করুন’’ (সূরা আল-বাকারাহঃ ২০১)।[1] হাসান
1893। ইবনু ‘উমার (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় আসার পর হজ (হজ্জ) ও ‘উমরার জন্য সর্বপ্রথম যে তাওয়াফ করেছিলেন, তার প্রথম তিন চক্করে রমল করেছেন এবং বাকী চার চক্করে ধীর গতিতে চলেছেন, তারপর দুই রাক‘আত সালাত আদায় করেছেন।[1] সহীহ।
1894। যুবায়র ইবনু মুত্ব‘ইম (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা কাউকে রাত বা দিনের যে কোনো সময়ে এই ঘরের তাওয়াফ করতে ও সালাত আদায় করতে বাঁধা দিবে না। আল-ফাদলের বর্ণনায় রয়েছেঃ এর আদবে মানাফের বংশধর! তোমরা কাউকে বাঁধা দিবে না।[1] সহীহ।
1895। জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাযি.) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ সাফা-মারওয়ার মাঝে একবারই তাওয়াফ করেছেন। এটাই ছিলো তাঁর প্রথমবারের তাওয়াফ।[1] সহীহ।
1896। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। (বিদায় হজ্জের সময়) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে থাকা সাহাবীগণ জামরায় কংকর নিক্ষেপ না করা পর্যন্ত তাওয়াফ করেননি।[1] সহীহ।
1897। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেছেনঃ বায়তুল্লাহ এবং সাফা-মারওয়ার মাঝে তোমার তাওয়াফ তোমার হজ (হজ্জ) ও ‘উমরার জন্য যথেষ্ট। ইমাম শাফিঈ (রহ.) বলেনঃ সুফিয়ান কখনো ‘আতা (রহ.) থেকে ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে, আবার কখনো ‘আতা (রহ.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে এরূপ বলেছেন।[1] সহীহ।
1898। ‘আব্দুর রহমান ইবনু সাফওয়ান (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মক্কা বিজয় করলেন, তখন আমি (মনে মনে) বললাম, আমি আমার পোশাক পরবো আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি কাজ করেন তাও দেখবো। আমার ঘরও ছিলো পথের পাশেই। সুতরাং আমি চলে গেলাম এবং আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখলাম, তিনি এবং তাঁর সাহাবীগণ কা‘বা ঘরের ভিতর থেকে বাইরে এসে, তার দরজা দেখে হাতিম চুমু খেলেন এবং তাঁরা তাঁদের গাল ও চোয়াল রেখেছেন কা‘বা ঘরের উপর। এ সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের মাঝখানে ছিলেন।[1] দুর্বল।
1899। ‘আমর ইবনু শু‘আইব (রহ.) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আমর ইবনুল আস (রাযি.)-এর সাথে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করি। আমরা যখন কা‘বার পিছনে যাই তখন আমি বলি, আপনি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইছেন না কেন? তিনি বললেন, আমরা আল্লাহর কাছে জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাই। অতঃপর তিনি সম্মুখে গিয়ে হাজরে আসওয়াদে চুমু খেলেন, রুকনে ইয়ামেনী এবং দরজার মাঝখানে কিছুক্ষণ অবস্থান করলেন, তার বুক, চেহারা, উভয় বাহু এবং হাতের তালু স্থাপন করে তা বিছিয়ে রাখলেন। এই বলে তিনি দুই হাত প্রসারিত করে দেখালেন। অতঃপর বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এরূপ করতে দেখেছি।[1] দুর্বল।
1900। মুহাম্মাদ ইবনু ‘আব্দুল্লাহ ইবনুস সায়িব (রহ.) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.)-এর (দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হওয়ার পর) হাত ধরে নিয়ে যেতেন এবং বায়তুল্লাহর দরজা সংলগ্ন রুকনের সাথে মিলিত তৃতীয় অংশে দাঁড় করিয়ে দিতেন। অতঃপর ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি জানো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ স্থানে সালাত আদায় করতেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তারপর ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সেখানে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করলেন।[1] দুর্বলঃ যঈফ সুনান নাসায়ী (১৮৮/২৯১৮)।
1901। হিশাম ইবনু ‘উরওয়াহ (রহ.) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ (রাঃ)-কে আমার ছেলে বেলায় জিজ্ঞেস করলাম, মহান পরাক্রমশালী আল্লাহর এ বাণী সম্পর্কে আপনার অভিমত কি? ‘‘নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত।’’ আমি মনে করি, কেউ এই দুই পাহাড়ের মাঝে তাওয়াফ (সাঈ) না করলে তার কোনো গুনাহ হবে না। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, ‘কখনো নয়, তুমি এই আয়াতের যেরূপ ব্যাখ্যা করলে তা ঠিক হলে আয়াতটি হতো এরূপঃ ‘‘তার কোনো গুনাহ নেই যদি সে এই দুই পাহাড়ের মাঝে তাওয়াফ না করে।’’ মূলতঃ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছে আনসারদের সম্পর্কে। ইসলাম গ্রহণের পূর্বে তারা ‘‘মানাত’’ মূর্তির উদ্দেশ্যে ইহরাম বাঁধতো। আর এ মানাত মূর্তি ‘‘কুদাইদ’’ পাহাড় বরাবরে অবস্থিত ছিলো। সুতরাং তারা সাফা মারওয়ার মাঝে তাওয়াফ (সাঈ) করাকে আপত্তিকর ভাবতো। ইসলাম গ্রহণের পর এ বিষয়ে তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলো। তখন মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ অবতীর্ণ করলেনঃ ‘‘নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া পাহাড়দ্বয় আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত।’’ (সূরা আল-বাকারাহঃ ১৫৮)[1] সহীহ।
1902। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আবূ আওফা (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘উমরা করতে এসে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করে মাকামে ইব্রাহীমের পেছনে দুই রাক‘আত সালাত আদায় করেছেন। কাফিরদের সম্ভাব্য আক্রমণ থেকে তাঁকে রক্ষার্থে এ সময় তাঁর সাথে রক্ষীবাহিনী সাহাবীরা ছিলেন। কেউ ‘আব্দুল্লাহ (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করলো, এ সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা‘বার ভেতরে প্রবেশ করেছিলেন কি না? তিনি বললেন, না।[1] সহীহ।
1903। ইসমাঈল ইবনু আবূ খালিদ (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আব্দুল্লাহ ইবনু আবূ ‘আওফা থেকে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস শুনেছি। এতে আরো রয়েছেঃ অতঃপর তিনি সাফা ও মারওয়ায় এসে এর মাঝে সাতবার সাঈ করেন, অতঃপর মাথা মুন্ডন করেন।[1] সহীহ। তবে মুন্ডন কথাটি বাদে।
1904। কাসীর ইবনু জুমহান (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। এক ব্যক্তি সাফা-মারওয়ার মাঝখানে ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করলো, হে আবূ ‘আব্দুর রহমান! আমি দেখতে পাচ্ছি আপনি সাফা-মারওয়ার মাঝে স্বাভাবিক গতিতে চলছেন, অথচ অন্য লোকেরা দৌড়াচ্ছে। তিনি বললেন, যদি আমি হাঁটি তবে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এখানে হাঁটতে দেখেছি। আর যদি আমি দৌড়াই (সাঈ করি), তবে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এখানে দৌড়াতেও দেখেছি। আর এখন তো আমি বৃদ্ধ হয়ে গেছি।[1] সহীহ।
1905। জা‘ফর ইবনু মুহাম্মাদ (রহ.) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা জাবির ইবনু ‘আব্দুল্লাহ (রাযি.)-এর নিকট যাই। আমরা তার নিকটবর্তী হলে তিনি (অন্ধ হওয়ার কারণে) আগন্তুকদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন এবং এক পর্যায়ে আমরা কাছাকাছি এলে আমি বললাম, আমি মুহাম্মাদ ইবনু আলী ইবনু হুসাইন ইবনু ‘আলী (রাযি.)। আমার কথা শুনে তিনি আমার মাথার দিকে হাত বাড়ান, আমার জামার উপরের ও নীচের বোতাম খুলে তার হাতের তালু আমার বুকের উপর রাখলেন। তখন আমি ছিলাম যুবক। তিনি বললেন, মারহাবা! মুবারক হোক তোমার আগমন, স্বাগতম হে ভ্রাতুষ্পুত্র! যা ইচ্ছে জিজ্ঞাসা করতে পারো। এরপর আমি জিজ্ঞাসা করলাম। তখন তিনি ছিলেন অন্ধ। সালাতের সময় উপস্থিত হলে তিনি কাপড় পেচিয়ে নিজের জায়নামাযের উপর সালাতে দাঁড়ালেন কিন্তু তার কাপড় ছোট হওয়ায় তিনি যখনই কাঁধের উপর রাখছিলেন তখনই এর দু‘পাশ তার দিকে ফিরে আসছিল। তিনি আমাদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করলেন, অথচ তার (বড়) চাদরটি আলনার উপর রক্ষিত ছিলো। আমি বললাম, আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হজ (হজ্জ) সম্বন্ধে বলুন। তিনি হাত দিয়ে ইশারা করে নয় সংখ্যাটির কথা বললেন, অতঃপর বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নয় বছর মদীনায় ছিলেন, এ সময় একবারও হজ (হজ্জ) করেননি। অতঃপর দশম বছরে লোকদের মধ্যে ঘোষণা করলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ (হজ্জ) করবেন। ফলে অসংখ্যা লোক মদীনায় আসলো এবং প্রত্যেকেই চাইলো যে, তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণ করবে্ এবং তিনি যেসব কাজ করেন তারাও তাই করবে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রওয়ানা হলে আমরাও তাঁর সাথে রওয়ানা হই। ‘যুল-হুলাইফা’ পর্যন্ত পৌঁছলে আসমা ‘বিনতু উমাইস (রাযি.) মুহাম্মাদ ইবনু আবূ বাকরকে প্রসব করেন। কাজেই তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে লোক মারফত জানতে চাইলেন, এখন আমার কি করণীয়? তিনি বললেনঃ তুমি গোসল করে (লজ্জাস্থানে) কাপড় বেঁধে ইহরাম বেঁধে নাও। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে সালাত আদায় করেন, অতঃপর উষ্ট্রী ‘কাসওয়া‘র উপর চড়েন। উষ্ট্রীটি যখন আল-বায়দা‘ উপত্যকায় দাঁড়ালো তখন জাবির (রাযি.) বলেন, তাঁর সম্মুখে আমার দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত দেখতে পেলাম শুধু আরোহী ও পদাতিক জনসমুদ্র, তাঁর ডানে, বামে এবং পিছনে সবত্রই একই অবস্থা। এ সময় রাসূলুল্লাহ আমাদের মাঝে ছিলেন এবং তখন তাঁর উপর আহকাম সম্মলিত কুরআনের আয়াত নাযিল হচ্ছিল আর তিনি এর ব্যাখ্যা জানতেন। তিনি যা কিছু করতেন আমরাও অনুরূপ করতাম। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহান আল্লাহর একত্ববাদের ঘোষণা দিয়ে ইহরাম বেঁধে উচ্চস্বরে পড়লেনঃ ‘‘লাব্বায়িক আল্লাহুম্মা লাব্বায়িক।লাব্বায়িকা লা শারীকা লাকা লাববায়িক ইন্নাল- হামদা ওয়ান-নি‘মাতা লাকা ওয়াল-মুলক লা শারীকা লাকা।’’ তিনি যেভাবে ইহরাম বেঁধে তালবিয়া পড়েছেন, লোকেরাও সেভাবে ইহরাম বেঁধে তালবিয়া পড়লো। তাদের কোনো কাজকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অস্বীকৃতি দেননি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তালবিয়া পাঠ অব্যাহত রাখলেন। জাবির (রাযি.) বলেন, আমরা শুধু হজের (হজ্জের) নিয়্যাত করেছিলাম। ‘উমরা’ সম্পর্কে আমরা জানতাম না। পরে আমরা তাঁর সাথে বায়তুল্লাহয় এসে পৌঁছলে তিনি রুকন অর্থাৎ হাজরে আসওয়াদে চুমু খেলেন এবং তিনবার রমল এবং চারবার স্বাভাবিক গতিতে হেঁটে (তাওয়াফ) সম্পন্ন করলেন। অতঃপর মাকামে ইবরাহীমের দিকে অগ্রসর হয়ে পড়লেনঃ ‘‘এবং ইবরাহীমের দাঁড়ানোর স্থানকে তোমরা সালাতের স্থানরূপে নির্ধারণ করো’’ (সূরা আল-বাকারাহঃ ১২৫) এবং তিনি মাকামে ইবরাহীম ও বায়তুল্লাহকে সামনে রাখলেন। জা‘ফর ইবনু মুহাম্মাদ বলেন, আমার পিতা বলেছেন, ইবনু নুফাইল এবং ‘উসমান বলেছেন, আমার মনে হয়, একথাটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন। সুলাইমান বলেন, আমার ধারণা, জাবির বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই রাক‘আত সালাত ‘কুল হুআল্লাহু আহাদ’ এবং ‘কুল ইয়া আইয়্যুহাল কাফিরুন’ দিয়ে পড়েছেন। আবার তিনি বায়তুল্লাহর নিকট গিয়ে রুকনে (হাজরে আসওয়াদ) চুমু খেলেন। অতঃপর (বায়তুল্লাহর) দরজা দিয়ে বেরিয়ে সাফা পাহাড়ের দিকে গেলেন। তিনি সাফার কাছে গিয়ে পাঠ করলেনঃ ‘‘নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত’’ (সূরা আল-বাকারাহঃ ১৫৯)। সুতরাং আমরা সেখান থেকে সাঈ শুরু করবো আল্লাহ যেখান থেকে শুরু করেছেন (অর্থাৎ প্রথমে সাফা থেকে পরে মারওয়া থেকে) এ বলে তিনি সাফা পাহাড়ের চূড়ায় উঠলেন। সেখান থেকে বায়তুল্লাহ দেখে তাকবীর বললেন এবং তাঁর তাওহীদের ঘোষণা দিয়ে বললেনঃ ‘‘তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই, মালিকানা ও সার্বভৌমত্ব তাঁর। তিনি জীবন-মৃত্যুদানকারী। তিনি সকল প্রশংসার প্রকৃত হকদার এবং তিনি সবকিছু করতে সক্ষম ও ক্ষমতাবান। তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তিনি একাই তাঁর ওয়াদা পূর্ণ করে দেখিয়েছেন, তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং একাই সকল (বিদ্রোহী) বাহিনীকে বিতাড়িত ও পরাভূত করেছেন।’’ তিনি এর মধ্যে অনুরূপ তিনবার দু‘আ করলেন। অতঃপর সেখান থেকে নেমে মারওয়ায় গেলেন, তাঁর পদদ্বয় নিম্নভূমি স্পর্শ করলো, তিনি সমতল ভূমিতে রমল করলেন। সমতল ভূমি অতিক্রম করে মারওয়া পাহাড়ের নিকটে এসে স্বাভাবিক গতিতে হাটলেন এবং তারপর মারওয়া পাহাড়ে তাই করলেন যেরূপ করেছিলেন সাফা পাহাড়ে। পরে মারওয়ার সর্বশেষ তাওয়াফ সম্পন্ন করে বললেনঃ আমি যা পরে জেনে নেই তা যদি আগে জানতাম তাহলে কুরবানীর পশু সঙ্গে নিয়ে আসতাম এবং (হজের (হজ্জের)) ইহরামকে ‘উমরায় পরিণত করতাম। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যাদের সাথে কুরবানীর পশু নেই, তারা যেন ‘উমরা করার পর ইহরাম খুলে ফেলে এবং (তাওয়াফ, সাঈ ইত্যাদিকে) ‘উমরার কাজ হিসেবে করে নেয়। ফলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং যাদের সাথে কুরবানীর পশু ছিলো তারা ব্যতীত সকল লোক তাদের ইহরাম খুলে মাথার চুল ছেটে ফেললো। এসময় সুরাকাহ ইবনু জ‘শুম (রাযি.) দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এরূপ কি শুধু আমাদের এ বছরের জন্য প্রযোজ্য, নাকি সর্বকালের জন্য? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক হাতের আঙ্গুল অন্য হাতের আঙ্গুলের মধ্যে ঢুকিয়ে বললেনঃ ‘উমরা হজের (হজ্জের) মধ্যে প্রবেশ করেছে, এভাবে তিনি দু‘বার বললেন, সর্বকালের জন্য। বর্ণনাকারী বলেন, এসময় আলী (রাযি.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কুরবানীর পশু নিয়ে ইয়ামেন থেকে এলেন। তিনি দেখলেন, ফাতিমা (রাযি.) ইহরাম খুলে রঙ্গিন পোশাক পরে সুরমা লাগিয়েছেন। ‘আলী (রাযি.) এটা অপছন্দ করে বললেন, তোমাকে এরূপ করতে কে বলেছে? তিনি বললেন, আমার পিতা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। বর্ণনাকারী বলেন, এক সময় আলী (রাযি.) ইরাকে এ কথা বলেছেন, আমি ফাতিমাহর কৃতকর্মের জন্য রাগ করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গিয়ে বিষয়টি জানতে চাইলাম। আমি তাঁকে জানালাম, আমি ফাতিমাহর এ কাজ অপছন্দ করেছি এবং সে বলেছে, আমার পিতা আমাকে এরূপ করতে আদেশ করেছেন। তিনি আমার কথা শুনে বললেনঃ সে সত্য বলেছে, সত্য বলেছে। (হে আলী!) তুমি হজ (হজ্জ) ও ‘উমরার ইহরাম বাঁধার সময় কি বলেছিলে? তিনি বললেন, আমি বলেছি, হে আল্লাহ! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেরূপ ইহরাম বেঁধেছেন, আমার ইহরামও অনুরূপ। তিনি বললেনঃ আমার সাথে কুরবানীর পশু আছে। সুতরাং (আমার মতো) তুমিও ইহরাম খুলে হালাল হতে পারবে না। অপরদিকে ‘আলী (রাযি.)-এর ইয়ামেন থেকে নিয়ে আসা কুরবানীর পশু এবং মদীনা থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিয়ে আসা কুরবানীর পশু, এগুলো মোট সংখ্যা ছিলো একশ‘টি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর ঐ সব সাহাবী যাদের সাথে কুরবানীর পশু ছিলো তারা ব্যতীত সকলেই ইহরাম খুলে হালাল হয়ে মাথার চুল খাটো করলো। বর্ণনাকারী বলেন, তারা যখন (অষ্টম তারিখ) তারবিয়ার দিনে মিনা দিকে রওয়ানা হলেন, তখন তারা হজের (হজ্জের) উদ্দেশ্যে ইহরাম বাঁধলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওয়ারীতে চড়লেন এবং মিনায় পৌঁছে আমাদেরকে যুহর, ‘আসর, মাগরিব, ‘ইশা এবং ফজর, মোট পাঁচ ওয়াক্ত সালাত সেখানে আদায় করলেন এবং সূর্যদয় পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করলেন। তিনি তাঁর জন্য একখানা পশমের তাবু টানাতে নির্দেশ দিলেন এবং ‘নামিরা’ নামক স্থানে তা টানানো হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে গেলেন। যাতে কুরাইশদের এরূপ সংশয় না করে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাশ‘আরুল হারামের নিকটবর্তী মুযদালিফায় অবস্থান করবেন, যেরূপ কুরাইশরা জাহিলিয়াতের যুগে করতো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখান থেকে রওয়ানা হয়ে আরাফাতে আসলেন। এখানে এসে দেখলেন ‘নামিরায়’ তাঁর জন্য তাবু টানানো হয়েছে। পশ্চিমাকাশে সূর্য ঢলে পড়া পর্যন্ত তিনি ঐ তাবুতে অবস্থান করেন। অতঃপর সূর্য ঢলে পড়লে তিনি ‘কাসওয়া’ উষ্ট্রীটি উপস্থিত করার নির্দেশ দিলেন। তা আনা হলে তিনি তাতে চড়ে বাতনুল ওয়াদীতে আসলেন এবং লোকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন। তিনি বললেনঃ নিশ্চয়ই তোমাদের রক্ত ও সম্পদ (পরস্পরের জন্য) আজকের এই দিন, এই মাস এবং এই শহরের মতোই সম্মানিত। সাবধান! জাহিলী যুগের সমস্ত কাজ ও প্রথা আমার দুই পায়ের নীচে পতিত হলো। জাহিলী যুগের রক্তের সকল দাবী বাতিল। আমি সর্বপ্রথম আমাদের (বনী হাশিমের) রক্তের দাবী পরিত্যাগ করলাম। বর্ণনাকারী ‘উসমানের বর্ণনায় রয়েছেঃ আমি ইবনু রবী‘আহর রক্তের দাবী ও সুলাইমানের বর্ণনায় রয়েছেঃ আমি রবী‘আহ ইবনু হারিস ইবনু ‘আব্দুল মুত্তালিবের রক্তের দাবী পরিত্যাগ করলাম। আর রবী‘আহ সা‘দ গোত্রের দুগ্ধপুষ্য থাকাকালীন হুযাইল গোত্রের লোকেরা তাকে হত্যা করেছিল। জাহিলী যুগের সুদও বাতিল হলো। আমি সর্বপ্রথম ‘আব্বাস ইবনু ‘আব্দুল মুত্তালিবের সুদের দাবী পরিহার করলাম। তা সম্পূর্ণরূপে বাতিল হলো। তোমরা নারীদের সম্পর্কে আল্লাহকে ভয় করো। কেননা তাদেরকে তোমরা আল্লাহর আমানত হিসেবে গ্রহণ করেছো এবং আল্লাহর বিধান মোতাবেক তোমরা তাদের লজ্জাস্থানকে নিজেদের জন্য হালাল করেছো। তাদের উপর তোমাদের অধিকার আছে, তারা যেন তোমাদের অপছন্দনীয় ব্যক্তিকে তোমার ঘরে স্থান না দেয়। তারা এরূপ করলে তাদেরকে খুবই হালকা মারধর করো। তাদের ভরণ-পোষনের দায়িত্বও তোমাদের উপর। তোমরা যা স্বাভাবিকভাবে আদায় করবে। সর্বপরই আমি তোমাদের মধ্যে এমন একটি জিনিস রেখে যাচ্ছি, তোমরা তা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরলে কখনো পথভ্রষ্ট হবে না। তা হলো আল্লাহর কিতাব। (কিয়ামতের দিন) তোমাদেরকে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে, তখন তোমরা কি বলবে? তারা বললেন, আমরা সাক্ষ্য দিবো, আপনি আপনার দায়িত্ব যথাযথভাবে পৌঁছিয়েছেন, আপনার আমানতের হক আদায় করেছেন এবং ভালো কাজের উপদেশ দিয়েছেন। অতঃপর তিনি আকাশের দিকে তর্জনী তুলে ধরেন এবং মানুষের প্রতি ইঙ্গিত করে (তিনবার) বললেনঃ হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন, হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন, হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন। অতঃপর বিলাল (রাযি.) আযান অতঃপর ইকামাত দিলেন। তিনি যুহরের সালাত আদায় করলেন, পুনরায় ইকামাত দিলে আসরের সালাত আদায় করলেন। কিন্তু এ দুইয়ের মধ্যবর্তী সময়ে তিনি অন্য (নফল) সালাত পড়েননি। অতঃপর তিনি কাসওয়া উষ্ট্রীতে আরোহণ করে আরাফাতে অবস্থানের স্থানে এলেন এবং কাসওয়া উষ্ট্রীকে ‘জাবালে রহআতের’ পাদদেশে ঘুরিয়ে দাঁড় করিয়ে তিনি পাহাড়কে সামনে রেখে কিবলামুখী হয়ে দাঁড়লেন। সূর্য ডুবে আকাশের লালিমা কিছুটা মুছে যাওয়া পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করলেন। সূর্যের লালিমা বিলুপ্ত হওয়ার পর তিনি উসমানকে তাঁর পিছনে সওয়ারীতে বসিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখান থেকে রওয়ানা হলেন এবং উষ্ট্রীর লাগাম শক্ত করে ধরলেন, ফলে উটের মাথা হাওদার সম্মুখভাগের সাথেই ছুটলে লাগলো। এসময় তিনি ডান হাতের ইশারায় বলতে লাগলেনঃ ধীর স্থিরভাবে পদ চলো, হে লোকেরা, ধীর স্থিরভাবে চলো, হে লোকজন! তিনি কোনো বালির টিলার নিকট এলে উষ্ট্রীর লাগাম সামান্য ঢিলা করতেন যাতে তা সহজে টিলায় উঠে সামনে অগ্রসর হতে পারে। অবশেষে তিনি ‘মুযদালিফায়’ উপস্থিত হলেন। এখানে এসে এক আযান ও দুই ইকামাতের মাগরিব ও ‘ইশার সালাত একত্রে আদায় করেন। এই দুই সালাতের মাঝখানে তিনি অন্য কোনো (নফল) সালাত পড়েননি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ স্থানে ভোর পর্যন্ত বিশ্রাম করেন। ফযরের সময় হলে তিনি ফযরের সালাত আদায় করেন। তিনি এ সালাত আদায় করেছেন এক আযান ও এক ইকামাতে। অতঃপর তিনি কাসওয়া উষ্ট্রীর উপর চড়ে মাশ‘আরুল হারামে এসে তার উপর উঠেন। তারপর তিনি কিবলাহকে সামনে রেখে মহান আল্লাহর প্রশংসা, তাকবীর এবং তাহলীল পাঠ করেন। তিনি আল্লাহর একত্ববাদেরও ঘোষণা করেন এবং তিনি ভোর হওয়া পর্যন্ত এ স্থানে অবস্থান করেন। অতঃপর সূর্যদয়ের পূর্বেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাদল ইবনু আব্বাস (রাযি.)-কে তাঁর বাহনের পেছনে বসিয়ে রওয়ানা হলেন। ফাদল ছিলেন কালো চুল ও সুন্দর চেহারার অধিকারী যুবক। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চলার পথে জন্তুযানের অবস্থানকারী এক দল মহিলাও তাঁর পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিল। আর ফাদল বারবার তাদের দিকে তাকাচ্ছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাদলের মুখের উপর হাত রাখলেন। ফাদল অন্য দিকে ঘুরে তাদের দিকে দেখছিলেন। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাদলের মুখের উপর হাত দিয়ে তা অন্য দিকে ফিরালেন। এবার তিনি ‘মুহাসসার’ নামক স্থানে পৌঁছলেন এবং তিনি উষ্ট্রীকে কিছুটা দ্রুত চালালেন। অতঃপর এখান থেকে রওয়ানা হয়ে জামরাতুল কুবরার দিকে মধ্যবর্তী পথ ধরে চললেন এবং সেখানে বৃক্ষের নিকটবর্তী জামরায় এসে উপস্থিত হয়ে তাতে সাতটি কংকর মারলেন আর প্রত্যেক কংকর নিক্ষেপের সময় তাকবীর বললেন। কংকরগুলো ছিলো পাথরের ক্ষুদ্র টুকরার মতো এবং তা সমতল ভূমি থেকে নিক্ষেপ করেছেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পশু কুরবানীর স্থানে উপস্থিত হলেন এবং নিজ হাতে তেষট্টিটি উট কুরবানী করলেন। অতঃপর ‘আলী (রাযি.)-কে নির্দেশ দিলে তিনি অবশিষ্টগুলো যাবাহ করলেন। তিনি ‘আলী (রাযি.)-কে তাঁর কুরবানীতে অংশীদারও করেন। অতঃপর তিনি প্রত্যেকটি যাবাহকৃত পশু থেকে এক টুকরা করে গোশত তাঁকে দেয়ার আদেশ করলেন। সুতরাং তা নিয়ে একটি হাড়িতে পাকানো হলো। তাঁরা দু‘জনেই এ গোশত খেলেন এবং এর ঝোল পান করলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উষ্ট্রীতে চড়ে খুব তাড়াতাড়ি রওয়ানা হয়ে বায়তুল্লাহয় উপস্থিত হলেন। তিনি মক্কায় এসেই যুহরের সালাত আদায় করলেন। পরে তিনি বনী ‘আব্দুল মুত্তালিবের নিকট গেলেন। এসময় তারা (লোকদের) যমযমের পানি পান করাচ্ছিল। তিনি তাদেরকে বললেনঃ হে বনী আব্দুল মুত্তালিব! পানি উত্তোলন করতে থাকো। লোকদের অত্যাধিক ভিড় হওয়ার আশংকা যদি না থাকতো তাহলে আমিও তোমাদের সাথে পানি উত্তোলনে অংশগ্রহণ করতাম। এরপর লোকেরা তাঁকে পানির বালতি সরবারাহ করলে তিনি তা থেকে পান করেন।[1] সহীহ।
1906। জা‘ফর ইবনু মুহাম্মাদ (রহ.) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাফার ময়দানে এক আযান ও দুই ইকামাতে যুহর ও ‘আসরের সালাত আদায় করেছেন। কিন্তু এই দুই সালাতের মধ্যখানে কোনো তাসবীহ পড়েননি। অনুরূপভাবে তিনি মুযদালিফায় এক আযান ও দুই ইকামাতে মাগরিব ও ‘ইশার সালাত আদায় করেছেন এবং দুই সালাতের মাঝখানে কোনো তাসবীহ পড়েননি।[1] সহীহঃ মুসলিম, জাবির সূত্রে। এটাই সঠিক। এর পূর্বের ১৯০৫ নং হাদীস। ইমাম আবূ দাঊদ (রহ.) বলেন, জাবির থেকে বর্ণিত হাদীসে রয়েছেঃ ‘‘অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাগরিব ও ‘ইশা এক আযান ও এক ইকামাতে আদায় করেছেন।’’ দুর্বল।
1907। জাবির (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি এ স্থানে কুরবানী করেছি। আর মিনার পুরো এলাকাই কুরবানীর স্থান। তিনি আরাফার এক স্থানে অবস্থান করেছেন এবং বলেছেনঃ আমি এ স্থানে অবস্থান করেছি, আর আরাফার সম্পূর্ণ এলাকাই অবস্থানের স্থান। তিনি মুযদালিফার এক স্থানে অবস্থান করেছেন এবং বলেছেনঃ আমি এ স্থানে অবস্থান করেছি, আর মুযদালিফার পুরো এলাকাই অবস্থানের স্থান।[1] সহীহ।
1908। জা‘ফর (রহ.) থেকে একই সনদে বর্ণিত। এতে আরো আছেঃ সুতরাং তোমরা নিজ নিজ অবস্থানস্থলে কুরবানী করো।[1] সহীহ।
1909। জাবির (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তার হাদীসে একথাও রয়েছেঃ ‘‘আর তোমরা মাকাকে ইবরাহীমকে দাঁড়াবার স্থানকে সালাতের স্থান হিসেবে গ্রহণ করো।’’ জা‘ফর ইবনু মুহাম্মাদ বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ স্থানে সালাত আদায়কালে সূরা ইখলাস ও সূরা কাফিরুন পাঠ করেছেন।[1] সহীহ।
1910। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, কুরাইশরা এবং তাদের ধর্মের অনুসারীরা মুযদালিফায় অবস্থান করতো এবং নিজেদের এরূপ আচরণকে বীরত্ব হিসেবে আখ্যায়িত করতো। অথচ আরবের অন্যান্য লোকেরা আরাফায় অবস্থান করতো। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, ইসলামের আবির্ভাবের পর মহান আল্লাহ তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আরাফায় গমনের ও সেখান থেকে প্রত্যাবর্তনের নির্দেশ দেন। যেমন মহান আল্লাহর বাণীঃ ‘‘তোমরাও সেখান থেকে ফিরে যাও যেখান থেকে অন্যান্য লোক ফিরে আসে।[1] সহীহ।
1911। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তারবিয়ার দিনে যুহরের সালাত এবং আরাফার দিনে ফজরের সালাত মিনাতেই পড়েছেন।[1] সহীহ।
1912। ‘আব্দুল ‘আযীয ইবনু রুফাঈ’ (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাযি.)-কে বললাম, আপনি আমাকে এমন কিছু জানান যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে স্মরণ রেখেছেন। তারবিয়ার দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের সালাত কোথায় আদায় করেছেন? তিনি বললেন, মিনাতে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, তিনি (মিনা থেকে) প্রত্যাবর্তনের দিন ‘আসরের সালাত কোথায় পড়েছিলেন? তিনি বললেন, আল-আবতাহ উপত্যকায়। অতঃপর বললেন, তোমাদের আমীরগণ যেরূপ করেন তোমরাও অনুরূপ করো।[1] সহীহ।
1913। ইবনু ‘উমার (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাফার দিন ভোরে ফজরের সালাত আদায় করেই (মিনা থেকে) রওয়ানা করে আরাফাতে এসে পৌঁছে ‘নামিরাহ’ নামক স্থানে অবস্থান গ্রহণ করেন। এটা আরাফার সেই স্থান যেখানে ইমাম (আরাফার দিন) অবস্থান গ্রহণ করেন। অতঃপর যুহরের সালাতের ওয়াক্ত হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাড়াতাড়ি সালাতের জন্য রওয়ানা হলেন এবং যুহর ও ‘আসরের সালাত একত্রে আদায় করে লোকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন, তারপর সেখান থেকে প্রস্থান করে আরাফার ময়দানের অবস্থান স্থলে অবস্থান গ্রহণ করেন।[1] হাসান।
1914। সাঈদ ইবনু হাসসান থেকে ইবনু ‘উমার (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাজ্জাজ যে বছরে ‘আব্দুল্লাহ ইবনুয যুবায়র (রাযি.)-কে শহীদ করলো, তখন হাজ্জাজ ইবনু ‘উমার (রাযি.)-এর নিকট লোক পাঠিয়ে জানতে চাইলো যে, আজকের এই (আরাফার) দিনে রাসূলুল্লাহ কোন্ সময় আরাফার দিকে রওয়ানা করেছেন? তিনি বললেন, যাত্রার সময় হলে রওয়ানা করবো। অতঃপর ইবনু ‘উমার (রাযি.) যখন রওয়ানা করার ইচ্ছা করলেন, তখন লোকেরা তাকে বললো, এখনো সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়েনি। অতঃপর ইবনু ‘উমার আবার জিজ্ঞেস করলেন, সূর্য ঢলে পড়েছে কি? তার সাথীরা বললো, এখনো ঢলে পড়েনি। সাঈদ বলেন, যখন তার সাথীরা বললো, এখন সূর্য (পশ্চিমাকাশে) ঢলে পড়েছে, তখন তিনি রওয়ানা হলেন।[1] হাসান।
1915। দামরা গোত্রীয় জনৈক ব্যক্তি থেকে তার পিতা অথবা চাচার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আরাফার ময়দানে মিম্বারের উপর (খুৎবা দিতে) দেখেছি।[1] দুর্বল।
1916। নুবাইত (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আরাফার ময়দানে একটি লাল রংয়ের উষ্ট্রীর উপর সওয়ার অবস্থায় খুৎবা দিতে দেখেছেন।[1] সহীহ।
1917। খালিদ ইবনু ‘আদ্দাআ ইবনু হাওযাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আরাফার দিন একটি উটের পিঠে সওয়ার হয়ে তার দুই পাদানীতে পা রেখে দাঁড়িয়ে লোকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে দেখেছি।[1] সহীহ।
1918। আবূ ‘আমর ‘আব্দুল মাজীদ (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি আল-আদ্দাআ ইবনু খালিদ (রাযি.) থেকে এই সনদে পূর্বোক্ত হাদীসটির ভাবার্থে বর্ণনা করেছেন।[1] আমি এটি সহীহ এবং যঈফে পাইনি।
1919। ইয়াযীদ ইবনু শাইবান (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু মিরবা‘ আল-আনসারী (রাযি.) আমাদের কাছে আসলেন, তখন আমরা আরাফার এই স্থানে অবস্থান করছিলাম। আমর বলেন, তাদের অবস্থা স্থলটি ইমামের থেকে কিছু দূরে ছিলো। তিনি এসে বললেন, আমি তোমাদের কাছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একজন দূত। তিনি তোমাদের জন্য ফরমান দিয়েছেন, তোমরা তোমাদের নির্দিষ্ট স্থানগুলোতে অবস্থান গ্রহণ করো কারন তোমরা ইবরাহীম (আঃ)-এর উত্তরাধিকারী ও বংশধর।[1] সহীহ।
1920। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ধীরস্থিরভাবে প্রশান্ত অবস্থায় আরাফা থেকে ফিরে আসেন। তাঁর সওয়ারীর পেছনে বসা ছিলেন ‘উসামাহ (রাযি.)। তিনি লোকদেরকে বললেনঃ হে লোক সকল! ধীরস্থিরভাবে চলো! কেননা ঘোড়া ও উটকে দ্রুত চালনার মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই। বর্ণনাকারী বলেন, আমি ঘোড়া ও উটগুলোকে তাদের দুই হাত (অর্থাৎ সামনের দুই পা) তুলে দ্রুত চলতে দেখিনি। এভাবে তিনি মুযদালিফায় আসলেন। ওয়াহব ইবনু বায়ানের বর্ণনায় রয়েছেঃ পথিমধ্যে তিনি ফাদল ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.)-কে সওয়ারীর পিছনে বসিয়ে নিলেন। এখানেও তিনি বললেনঃ হে লোকসকল! ঘোড়া ও উটকে দ্রুত চালনার মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই। কাজেই তোমরা ধীরস্থিরভাবে চলো। বর্ণনাকারী বলেন, এখানেও আমি পশুগুলোকে তাদের হাত (পা) তুলে দ্রুত চলতে দেখিনি। এভাবেই তিনি মিনায় পৌঁছেন।[1] সহীহ।
1921। কুরাইব (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। একদা তিনি উসামাহ ইবনু যায়িদ (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করেন, যে দিন সন্ধ্যায় আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পিছনে আরোহণ করে ফিরছিলেন, তখন আপনারা কি করছিলেন? তিনি বললেন, আমরা ঐ পাহাড়ী পথে যাই যেখানে রাত যাপনের জন্য লোকেরা অবতরণ করে। সেখানে পৌঁছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উষ্ট্রী বসিয়ে পেশাব করলেন। বর্ণনাকারী এখানে পানি প্রবাহের কথা বলেননি। অতঃপর উযুর পানি চাইলেন, তিনি হালকাভাবে উযু করলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি সালাত আদায় করবেন? তিনি বললেনঃ সালাত সামনে গিয়ে (পড়বো)। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি সওয়ারীতে চড়ে মুযদালিফায় আসেন এবং ইকামাত হলে মাগরিবের সালাত আদায় করেন। এদিকে লোকেরা উটের পিঠ থেকে মালপত্র না নামিয়েই তাদের উটগুলো নিজ নিজ তাঁবুতে বসিয়ে দিলেন। এরপর ইকামাত দিয়ে ‘ইশার সালাত আদায় করলেন। অতঃপর লোকেরা তাদের উটের পিঠের মালপত্র নামালো। মুহাম্মাদ ইবনু কাসীর তার হাদীসে বৃদ্ধি করেছেন যে, আমি (কুয়াইব) জিজ্ঞেস করলাম, পরবর্তী সকালে আপনার কি করেছেন? উসামাহ বলেন, আজ ফাদল তাঁর বাহনের পেছণে চড়লেন এবং আমি কুরাইশদের অগ্রগামী দলটির সাথে পায়ে হেঁটে রওয়ানা হলাম।[1] সহীহ।
1922। ‘আলী (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, অতঃপর তিনি উসামাহকে বাহনের পেছনে বসিয়ে মধ্যম গতিতে উষ্ট্রী চালিয়ে গেলেন। এ সময় লোকেরা তাদের উটকে ডানে-বামে মারধর কর হাঁকিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু তিনি তাদের দিকে ভ্রুক্ষেপ না করে বলতে লাগলেনঃ শান্ত গতিতে চলো হে লোকেরা! অতঃপর সূর্য ডুবার পরই তিনি আরাফা থেকে প্রত্যাবর্তন করেন।[1] হাসান, তার এ কথাটি বাদেঃ ‘তিনি ভ্রুক্ষেপ করলেন না।’ মাহফূয হলোঃ তিনি লক্ষ্য করলেন।’ ইমাম তিরমিযী একে সহীহ বলেছেন।
1923। হিশাম ইবনু ‘উরওয়াহ (রহ.) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উসামাহ (রাযি.)-এর কাছে বসা ছিলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজে (হজ্জে) কিভাবে পথ চলেছেন সে সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মধ্যম গতিতেই চলেছেন। তিনি প্রশস্ত পথে উপনীত হলে একটু দ্রুত গতিতে পথ অতিক্রম করতেন। হিশাম (রহ.) বলেন, এরূপ গতিকে ‘আন-নাচ্ছ’ আনাক বলে।[1] সহীহ।
1924। উসামাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাহনের পেছনে ছিলাম। যখন সূর্য অস্ত গেলো তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আরাফাত থেকে রওয়ানা হলেন।[1] হাসান সহীহ।
1925। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.)-এর মুক্তদাস কুরাই (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি উসামাহ ইবনু যায়িদ (রাযি.)-কে বলতে শুনেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাফা থেকে রওয়ানা করলেন। তিনি পাহাড়ী পথে পৌঁছে পেশাব করার পর হালকা উযু করলেন, পূর্নাঙ্গ উযু করলেন না। উসামাহ ইবনু যায়িদ (রাযি.) বলেন, আমি তাকে জিজ্ঞেস করি, আপনি কি সালাত আদায় করবেন? তিনি বললেন, আরো সামনে এগিয়ে সালাত আদায় করবো। তিনি পুনরায় বাহনে চড়লেন এবং মুযদালিফায় এসে বাহন থেকে নেমে উত্তমরূপে উযু করলেন। তারপর সালাতের ইকামত দেয়া হলে তিনি মাগরিবের সালাত আদায় করলেন। অতঃপর সকল লোক নিজ নিজ স্থানে নিজেদের্ উট বসালো। অতঃপর ‘ইশার সালাতের ইকামত দেয়া হলে তিনি ‘ইশার সালাত পড়লেন, কিন্তু এ দুই সালাতের মাঝখানে কোনো আর সালাত পড়েননি।[1] সহীহ।
1926। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুযদালিফায় মাগরিব এবং ‘ইশার সালাত একত্রে আদায় করেছেন।[1] সহীহ।
1927। আয-যুহরী (রহ.) থেকে তার নিজস্ব সনদে পূর্বোক্ত হাদীসের সমার্থক হাদীস বর্ণিত। তিনি বলেন, প্রত্যেক সালাতের জন্য পৃথক ইকামাত দ্বারা উভয় সালাত একত্রে আদায় করেছেন। আহমাদ (রহ.) বলেন, ওয়াকী‘ (রহ.) বলেছেন, প্রতিটি সালাত আদায় করেছেন এক ইকামাতে।[1] ওয়াকী‘র বর্ণনাটি সহীহ।
1928। আহমাদ ইবনু হাম্বাল (রহ.)-এর সনদ দ্বারা আয যুহরী (রহ.) থেকে হাম্মাদ সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের সমার্থক হাদীস বর্ণিত। বর্ণনাকারী ‘উসমান ইবনু ‘উমার বলেছেন, প্রত্যেক সালাতের জন্য এক ইকামাত দিয়ে এবং প্রথম সালাতে আযান দেয়া হয়নি। আর এ উভয় সালাতের কোনোটির পরে অন্য কোনো সালাত আদায় করেননি। মাখলাদ (রহ.) বলেন, উভয় সালাতের কোনোটির জন্য আযান দেননি।[1] সহীহঃ তার এ কথাটি বাদেঃ ‘‘আযান দেয়া হয়নি...।’’ এটাই সঠিক।
1929। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু মালিক (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু ‘উমার (রাযি.)-এর সাথে মাগরিবের তিন এবং ‘ইশার দুই রাক‘আত সালাত আদায় করেছি। মালিক ইবনুল হারিস (রহ.) তাকে বললেন, এ আবার কেমন সালাত? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে আমি এ দুটি সালাত এই স্থানে এক ইকামাতে আদায় করেছি।[1] সহীহ ‘‘প্রত্যেক সালাত’’ অতিরিক্তসহ। যেমন পূর্বের হাদীসে রয়েছে।
1930। সাঈদ ইবনু যুবায়র ও ‘আব্দুল্লাহ ইবনু মালিক (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তারা উভয়ে বলেছেন, আমরা ইবনু ‘উমার (রাযি.)-এর সাথে মুযদালিফায় মাগরিব ও ‘ইশার সালাত এক ইকামাতে আদায় করেছি। অতঃপর ইবনু কাসীর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন।[1] সহীহ ‘‘প্রত্যেক সালাত’’ অতিরিক্তসহ।
1931। সাঈদ ইবনু যুবায়র (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা ইবনু ‘উমার (রাযি.)-এর সাথে আরাফা থেকে ফিরে যখন মুযদালিফায় আসলাম তখন তিনি এক ইকামাতে মাগরিব ও ‘ইশার সালাত যথাক্রমে তিন ও দুই রাক‘আত পড়ালেন। সালাত শেষে ইবনু ‘উমার (রাযি.) আমাদেরকে বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে এ স্থানে এভাবেই সালাত পড়িয়েছেন।[1] সহীহ। কিন্তু ‘‘প্রত্যেক সালাতের জন্য’’ এ কথাটি বৃদ্ধি না করে ‘‘এক ইকামাতে’’ বলাটা শায। যেমন গত হয়েছে।
1932। সালামাহ ইবনু কুহাইল (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সাঈদ ইবনু যুবায়র (রহ.)-কে দেখেছি, তিনি মুযদালিফায় ইকমাত দিয়ে মাগরিবের তিন রাক‘আত এবং ‘ইশার দুই রাক‘আত সালাত আদায় করেছেন। অতঃপর তিনি বললেন, আমি ইবনু ‘উমার (রাযি.)-কে এ স্থানে এমনটি করতে দেখেছি। আর তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এখানে এরূপ করতে দেখেছি।[1] সহীহ। তবে এতে শুযুয বিদ্যমান। যা ১৯৩১ নং হাদীসে উল্লেখ রয়েছে।
1933। আশ্‘আস ইবনু সুলাইম (রহ.) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু ‘উমার (রাযি.)-এর সাথে আরাফা থেকে মুযদালিফা পর্যন্ত আসি। মুযদালিফায় আসা পর্যন্ত তিনি তাকবীর ও তাহলীল পাঠ করেছেন। এরপর তিনি আযান ও ইকামাত দেন অথবা এক ব্যক্তিকে নির্দেশ করলে সে আযান ও ইকামাত দিলে তিনি আমাদেরকে নিয়ে মাগরিবের তিন রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। তারপর আমাদের দিকে ফিরে বললেন, সালাত। অতঃপর নিয়ে তিনি দুই রাক‘আত ‘ইশার সালাত আদায় করলেন। এরপর রাতের খাবার আনতে বললেন। বর্ণনাকারী আশ‘আস বলেন, ‘ইলাজ ইবনু ‘আমর, ইবনু ‘উমার (রাযি.) সূত্রে আমার পিতা বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। পরবর্তীতে ইবনু ‘উমার (রাযি.)-কে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে এভাবেই সালাত আদায় করেছি।[1] সহীহ। তবে তার কথাঃ ‘‘তিনি বললেন, সালাত’’- এটি শায। মাহফূয হচ্ছেঃ ‘‘অতঃপর ইকামাত দিলেন।’’ যেমন পূর্বের ১৯২৭ ও ১৯২৮ নং হাদীসদ্বয়ে রয়েছে।
1934। ইবনু মাসঊদ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘ইশা ও মাগরিবের সালাতকে মুযদালিফায় একত্রে আদায় করা এবং পরের দিন ফজরের সালাত ওয়াক্তের পূর্বে আদায় করে নেয়া, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এই দুই সালাত ছাড়া কোনো সালাত ওয়াক্তের পূর্বে আদায় করতে দেখিনি।[1] সহীহ।
1935। ‘আলী (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুযদালিফায় রাত যাপনের পর সকালে ‘কুযাহ’ পাহাড়ে অবস্থান করেন এবং বললেনঃ এটি ‘কুযাহ’ এবং এটাই অবস্থানকাল। মুযদালিফার গোটা এলাকাই অবস্থানের স্থান। (তারপর মিনায় এসে বললেন) আমি এ স্থানে কুরবানী করেছি। মিনার পুরো এলাকাই কুরবানী স্থান। সুতরাং তোমরা তোমাদের নিজ নিজ অবস্থানে কুরবানী করো।[1] হাসান সহীহ।
1936। জাবির (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি আরাফার এ স্থানে অবস্থান করেছি। কিন্তু পুরো আরাফাই অবস্থানের স্থান। আর আমি মুযদালিফার এ স্থানে অবস্থান করেছি। তবে মুযদালিফার পুরো এলাকাটিই অবস্থান স্থল। আমি মিনার এ স্থানে কুরবানী করেছি। মিনার পুরো এলাকাই কুরবানীর স্থান। কাজেই তোমরা তোমাদের নিজ নিজ অবস্থানে কুরবানী করো।[1] সহীহ। এটি গত হয়েছে (হা/১৯০৭ ও)
1937। ‘আতা (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা জাবির ইবনু ‘আব্দুল্লাহ (রাযি.) আমাকে বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আরাফার পুরো এলাকাই অবস্থানের জায়গা। মিনার সম্পূর্ণ এলাকা কুরবানীর স্থান এবং মুযদালিফার বিস্তৃত এলাকা অবস্থানের স্থান এবং মক্কার প্রতিটি অলি-গলি চলাচলের পথ এবং কুরবানীর স্থান।[1] হাসান সহীহ।
1938। ‘আমর ইবনু মায়মূন (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযি.) বলেছেন, জাহিলী যুগের লোকেরা (মুযদালিফা থেকে) সূর্যোদয়ের পূর্বে রওয়ানা হতো না। কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বিপরীত করেছেন। তিনি সূর্য উঠার পূর্বেই রওয়ানা করেছেন।[1] সহীহ।
1939। ‘উবাইদুল্লাহ ইবনু আবূ ইয়াযীদ (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.)-কে বলতে শুনেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পরিবারের যেসব দুর্বল লোককে মুযদালিফার রাতে আগেই প্রেরণ করেছিলেন, আমিও তাদের মধ্যে ছিলাম।[1] সহীহ।
1940। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনী ‘আব্দুল মুত্তালিবের অল্প বয়স্কদেরকে মুযদালিফার রাতে গাধার পিঠে চড়িয়ে আগেভাগেই [মিনায়] পাঠান এবং তিনি আমাদের উরুতে হালকা আঘাত করে বলেনঃ হে আমার প্রিয় সন্তান! সূর্যোদয়ের পূর্বে তোমরা জামরায় কংকর মারবে না। ইমাম আবূ দাঊদ (রহ.) বলেন, (اللَّطْخُ) ‘আল-লাতখু’ শব্দের অর্থ হচ্ছে মৃদু আঘাত করা।[1] সহীহ।
1941। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পরিবারের দুর্বল লোকদেরকে রাতের অন্ধকারেই মিনায় প্রেরণ করেন এবং তাদেরকে নির্দেশ দেন, তারা যেন সূর্যোদয়ের পূর্বে জামরায় কংকর নিক্ষেপ না করে।[1] সহীহ।
1942। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর রাতেই উম্মু সালামাহ (রাযি.)-কে মিনায় প্রেরণ করেন এবং তিনি ফজরের পূর্বেই কংকর নিক্ষেপ করেন। অতঃপর তিনি (বায়তুল্লাহ) যিয়ারাতে গিয়ে ‘তাওয়াফে ইফাদা’ সম্পন্ন করেন। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, ঐ দিনটি ছিলো এমন দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেদিন তার কাছে অবস্থান করবেন।[1] দুর্বল।
1943। আসমা (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি ‘জামরাতুল আকাবায়’ কংকর মেরেছেন। বর্ণনাকারী বললেন, আমরা রাতেই জামরায় কংকর মেরেছি। আসমা (রাযি.) বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময়ে এরূপ করেছি।[1] সহীহ।
1944। জাবির (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুযদালিফা থেকে শান্তভাবে রওয়ানা হলেন এবং লোকদেরকে ছোট কংকর মারার নির্দেশ দিলেন। তিনি দ্রুত গতিতে মুহাসসির উপত্যকা অতিক্রম করেন।[1] সহীহ।
1945। ইবনু ‘উমার (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (যিলহাজের দশ তারিখ) নহরের দিন তিনটি জামরার মধ্যস্থলে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করেনঃ এটি কোন্ দিন? লোকেরা বললো, আজ কুরবানীর দিন। তিনি বললেন, আজ হজের (হজ্জের) বড় দিন।[1] সহীহ।
1946। আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) বলেন, আবূ বাকর (রাযি.) নহরের দিন আমাকে এরূপ ঘোষণা দিতে পাঠালেন যে, ‘এ বছরের পর আর কোনো মুশরিক হজ (হজ্জ) করতে পারবে না এবং কেউ উলঙ্গ হয়ে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করতে পারবে না।’ আর এই কুরবানীর দিনই হচ্ছে হজে (হজ্জে) আকবার এবং হজে (হজ্জে) আকবার হলো হজ (হজ্জ)।[1] সহীহ।
1947। আবূ বাকরাহ সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বিদায় হজের (হজ্জের) ভাষণে বলেনঃ মহান আল্লাহ যেদিন আকাশসমূহ এবং পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন, সেদিন থেকে কালচক্র একইভাবে আবর্তিত হচ্ছে। বারো মাসে এক বছর এর মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত। এ চারটি মাসের মধ্যে যুল-কা‘দাহ, যুল-হিজ্জা ও মুহাররাম এ তিনটি মাস পরপর রয়েছে। চতুর্থ মাসটি হলো রজবে মুদার, যা জুমাদা ও শাবানের মধ্যবর্তী মাস।[1] সহীহ।
1948। আবূ বাকরাহ (রাযি.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, যদিও পূর্বের হাদীসে ‘ইবনু আবূ বাকরাহ বলা হয়েছে’ তার নাম উল্লেখ করা হয়নি। কিন্তু এ হাদীসের ইবনু ‘আওন তার নাম উল্লেখ করেছেন ‘আব্দুর রহমান ইবনু আবূ বাকরাহ।[1] আমি সহীহ এবং যঈফেও পাইনি।
1949। ‘আব্দুর রহমান ইবনু ইয়া‘মুর আদ-দীলী (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এমন সময় এলাম যখন তিনি আরাফায় ছিলেন। এ সময় নাজদ এলাকার কতিপয় লোক বা একদল লোক এলো। তারা তাদের একজনকে নির্দেশ দিলে সে উচ্চস্বরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলো, হজ (হজ্জ) কেমন? এক ব্যক্তিকে নির্দেশ দেয়া হলে সেও উচ্চস্বরে বললো, ‘হজ (হজ্জ)-হচ্ছে (নয় তারিখ) আরাফার ময়দানে উপস্থিত হওয়া। যে ব্যক্তি মুযদালিফার রাতে ফজরের সালাতের ওয়াক্ত হওয়ার আগে আরাফায় উপস্থিত হতে পেরেছে সে তার হজ্জকে পূর্ণ করেছে। মিনায় তিন দিন অবস্থান করতে হয়। কেউ সেখানে দুই দিনে কাজ সমাপ্ত করতে চাইলে করতে পারে, এতে দোষ নেই। আর কেউ বিলম্ব করতে চাইলে করতে পারে, এতেও দোষ নেই। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে তাঁর পেছনে সওয়ারীর উপর বসালেন এবং সে উক্ত কথাগুলো ঘোষণা দিতে থাকলো। ইমাম আবূ দাঊদ (রহ.) বলেন, মিহরান সুফিয়ান থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি আল-হাজ্জ আল-হাজ্জ শব্দটি দু‘বার উচ্চারণ করেছেন। কিন্তু ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল কাত্তান সুফিয়ান থেকে আল-হাজ্জ শব্দটি শুধু একবার উচ্চারণ করেছেন।[1] সহীহ।
1950। ‘উরওয়াহ ইবনু মুদাররিস আত্-তায়ী (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মুযদালিফায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বলি, হে আল্লাহর রাসূল! আমি ‘তায়ী’ পাহাড় থেকে আগমন করেছি। আমার সওয়ারী ক্লান্ত হয়ে পড়েছে এবং আমি নিজেও ক্লান্ত। আল্লাহর শপথ! আমি চলার পথে যে পাহাড়ই পেয়েছি, তার উপর ক্ষনিক অবস্থান করেছি। আমার হজের (হজ্জের) কিছুটা অবশিষ্ট আছে কি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি আমাদের সাথে (কুরবানীর দিন) এ স্থানে ফজরের সালাত আদায় করেছে এবং এর পূর্ব রাতে বা দিনে আরাফায় উপস্থিত হয়েছে, তার হজ (হজ্জ) পরিপূর্ণ হয়েছে এবং সে তার অবাঞ্চিত জিনিসগুলো দূর করেছে।[1] সহীহ।
1951। ‘আব্দুর রহমান ইবনু মুয়ায (রহ.) থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জনৈক সাহাবী সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিনাতে লোকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন এবং তাদের অবস্থান স্থল নির্ধারণ করে দিলেন। তিনি কিবলাহর ডান দিকে ইঙ্গিত করে বললেনঃ এখানে মুহাজিরগণ অবস্থান করবে এবং কিবালাহর বাম দিকে ইঙ্গিত করে বললেনঃ এখানে আনসারগণ অবস্থান করবে। আর অন্যান্য লোক তাদের আশেপাশে অবস্থান করবে।[1] সহীহ।
1952। ইবনু আবূ নাজীহ (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি তাঁর পিতা থেকে বনী বাকরের দুই ব্যক্তি সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তারা বলেছেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ‘আইয়্যামে তাশরীকে’ মধ্যের দিন (বারো তারিখ) খুৎবা দিতে দেখেছি। এই সময় আমরা তাঁর সওয়ারীর নিকটেই ছিলাম। মিনাতে এটাই ছিলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পেশকৃত খুৎবা।[1] সহীহ।
1953। সাররা বিনতু নাবহান (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি জাহিলী যুগে প্রতীমা ঘরের তত্ত্বাবধায় ছিলেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আইয়্যামে তাশরীকের দ্বিতীয় দিন আমাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন। তিনি বললেনঃ আজ কোন্ দিন? আমরা বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল অধিক অবগত। তিনি বললেনঃ এটা কি আইয়্যামে তাশরীকের দিন নয়? ইমাম আবূ দাঊদ (রহ.) বলেন, অনুরূপভাবে আবূ হাররাহ আর-রাকাশীর চাচাও বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আইয়্যামে তাশরীকের মাঝের দিন খুৎবা দিয়েছেন।[1] দুর্বল।
1954। আল-হিরমাস ইবনু যিয়াদ আল-বাহিলী (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কুরবানীর দিন মিনায় তাঁর আল-‘আদবা নামক উষ্ট্রীর উপর চড়ে লোকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে দেখেছি।[1] হাসান।
1955। আবূ উমামহ (রাযি.) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কুরবানীর দিন মিনায় খুৎবা দিতে শুনেছি।[1] সহীহ।
1956। রাফী ইবনু ‘আমর আল-মুযানী (রাযি.) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মিনাতে দ্বি-প্রহরে শাহবা নামক খচ্চরে উপবিষ্ট হয়ে লোকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে দেখেছি। এ সময় আলী (রাযি.) তাঁর ভাষণের পুনরাবৃত্তি করে শুনাচ্ছিলেন। তখন লোকদের কেউ দাঁড়ানো এবং কেউ বসা অবস্থায় ছিলো।[1] সহীহ।
1957। ‘আব্দুর রহমান ইবনু মুয়ায আত-তাইমী (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিনায় আমাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন। এ সময় আমরা ছিলাম উৎকর্ণ, যাতে তাঁর বক্তব্য (ভালো করে) শুনতে পাই। আমরা আমাদের নিজ নিজ অবস্থানেই ছিলাম। তিনি তাদের হজের (হজ্জের) যাবতীয় বিধি-বিধান শিখালেন, এমন কি কংকর মারা সম্পর্কেও। তিনি তাঁর উভয় শাহাদাত আঙ্গুল নিজের দু‘কানের মধ্যে রেখে বললেনঃ কংকরগুলো খুবই ক্ষুদ্র হওয়া চাই। তারপর মুহাজিরদেরকে নির্দেশ দিলে তারা মসজিদের পেছনে গিয়ে অবস্থান করলেন। অতঃপর অন্যান্য লোক তাদের অবস্থান গ্রহণ করে।[1] সহীহ। সংক্ষিপ্তভাবে এটি গত হয়েছে।
1958। ‘আব্দুর রহমান ইবনু ফাররূখ (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি ইবনু ‘উমার (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করেন, আমরা লোকদের মালপত্র ক্রয় করি এবং তা সংরক্ষণের জন্য আমাদেরকেও মক্কায় গিয়ে রাত যাপন করে। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিনাতেই রাত যাপন করতেন এবং দিনেও সেখানেই থাকতেন।[1] দুর্বল।
1959। ইবনু ‘উমার (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল-আব্বাস (রাযি.) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট হাজীদেরকে পানি পান করানোর জন্য মিনায় অবস্থানের রাতগুলোতে মক্কায় অবস্থান করার অনুমতি প্রার্থনা করলে তিনি তাকে অনুমতি দেন।[1] সহীহ।
1960। ‘আব্দুর রহমান ইবনু ইয়াযীদ (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘উসমান (রাযি.) মিনাতে চার রাক‘আত সালাত আদায় করেছেন (কসর করেননি)। ‘আব্দুল্লাহ বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে আবূ বাকর ও ‘উমার (রাযি.)-এর সাথে দুই রাক‘আত সালাত আদায় করেছি। হাফস ইবনু গিয়াছের বর্ণনায় রয়েছে, এবং ‘উসামন (রাযি.)-এর খিলাফাতের শুরুতে তার সাথেও দুই রাক‘আত সালাত আদায় করেছি। অতঃপর ‘উসমান (রাযি.) চার রাক‘আত পড়েছেন। অতঃপর বর্ণনাকারী আবূ মু‘আবিয়্যাহ থেকে অতিরিক্ত বর্ণনা করেন যে, পরে এ নিয়ে মতভেদ পরিলক্ষিত হয়। আমি নিজের জন্য চার রাক‘আতের চেয়ে দুই রাক‘আত মাকবুল সালাতই পছন্দ করি। আনাস (রাযি.) বলেন, মু‘আবিয়্যাহ ইবনু কুররাহ তাঁর শায়েখদের সূত্রে আমাকে বলেছেন, পরে ‘আব্দুল্লাহ (রাযি.) ‘উসমান (রাযি.)-এর সাথে চার রাক‘আতই পড়েছেন। কেউ তাকে জিজ্ঞেস করলো, ‘উসমান (রাযি.) চার রাক‘আত সালাত আদায়ের কারণে আপনি তার সমালোচনা করেছেন। অথচ দেখছি আপনিও চার রাক‘আত আদায় করেছেন। তখন তিনি বললেন, মত পার্থক্য করা মন্দ কাজ।[1] সহীহ।
1961। আয-যুহরী (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। ‘উসমান (রাযি.) মিনাতে চার রাক‘আত সালাত আদায় করেছেন। কারণ তিনি হজের (হজ্জের) পর সেখানে কিছুদিন অবস্থান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।[1] দুর্বল।
1962। ইবরাহীম সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘উসমান (রাযি.) সালাত চার রাক‘আত পড়েছেন। কারণ তিনি সেখানে স্থায়ীভাবে অবস্থান বানিয়েছিলেন।[1] দুর্বল।
1963। আয-যুহরী (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘উসমান (রাযি.) যখন তাদের এলাকায় কিছু সম্পদ পেলেন তখন তিনি সেখানে কিছুদিন অবস্থানের ইচ্ছা করলেন। সেজন্যই তিনি সালাত চার রাক‘আত আদায় করেন। অতঃপর (উমাইয়্যাহ) শাসকগণও সেখানে অনুরূপ করেছেন।[1] দুর্বল।
1964। আয-যুহরী (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। ‘উসমান ইবনু ‘আফফান (রাযি.) আরববাসীদের অধিক উপস্থিতির কারণেই মিনাতে পূর্ণ চার রাক‘আত সালাত আদায় করেছেন। যাতে তারা জানতে পারে যে, (আসলে) সালাত চার রাক‘আতই।[1] হাসান।
1965। হারিসা ইবনু ওয়াহব আল-খুযাঈ (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তার মা ছিলেন ‘উমার (রাযি.)-এর স্ত্রী। তার গর্ভে ‘উবাইদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাযি.)-কে জন্ম হয়। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে মিনায় সালাত আদায় করেছি। সে বছর লোকজনের সংখ্যা অন্যান্য বছরের তুলনায় অধিক ছিলো। সুতরাং বিদায় হজের (হজ্জের) দিন তিনি আমাদেরকে কসর সালাত পড়িয়েছেন।[1] সহীহ।
1966। সুলাইমান ইবনু ‘আমর ইবনুল আহওয়াস (রহ.) থেকে তার মাতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সওয়ারী অবস্থায় উপত্যকার কেন্দ্রস্থল থেকে কংকর মারতে দেখেছি। প্রত্যেক কংকর মারার সময় তিনি তাকবীর বলেছেন। এ সময় এক লোক তাঁকে পেছন থেকে আড়াল করে রেখেছিল। আমি লোকটি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে লোকেরা বললো, তিনি আল-ফাদল ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.)। লোকজনের ভীড় হচ্ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ হে লোকেরা! তোমরা (বড়) কংকর নিক্ষেপ করে একে অপরকে হত্যা করো। তোমরা জামরায় কংকর নিক্ষেপ করার সময় ছোট পাথর কুচি নিক্ষেপ করবে।[1] হাসান।
1967। সুলাইমান ইবনু ‘আমর ইবনুল আহওয়াস (রহ.) থেকে তার মাতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জামরাতে আকাবার নিকট বাহনে সওয়ার অবস্থায় দেখেছি এবং দেখেছি তাঁর আঙ্গুলের ফাঁকে কংকর রয়েছে। তিনি নিক্ষেপ করলে লোকেরাও নিক্ষেপ করলো।[1] সহীহ।
1968। ইয়াযীদ ইবনু আবূ যিয়াদ (রহ.) উক্ত সনদে পূর্বোক্ত হাদীস বর্ণনা করেছেন। এতে আরো রয়েছেঃ তিনি (কংকর মেরে) সেখানে দাঁড়িয়ে থাকেননি।[1] সহীহ।
1969। ইবনু ‘উমার (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি কংকর মারার জন্য (কুরবানীর পরের) তিন দিন জামরাতসমূহে পায়ে হেঁটে আসা-যাওয়া করতেন। তিনি বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও এরূপ করতেন।[1] সহীহ।
1970। জাবির ইবনু ‘আব্দুল্লাহ (রাযি.) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর বাহনে সওয়ার অবস্থায় কংকর মারতে দেখেছি। এ সময় তিনি বলেছিলেনঃ তোমরা হজের (হজ্জের) নিয়ম-পদ্ধতি শিখে নাও। তিনি আরো বলেনঃ আমি অবহিত নই আমার এই হজের (হজ্জের) পর আবার হজ (হজ্জ) করার সুযোগ পাবো কি না।[1] সহীহ।
1971। জাবির ইবনু ‘আব্দুল্লাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, কুরবানীর দিন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দ্বি-প্রহরে তাঁর বাহনে আরোহিত অবস্থায় কংকর নিক্ষেপ করতে দেখেছি। আর এর পরের দিনগুলোতে তিনি সূর্য ঢলে পড়ার পর কংকর নিক্ষেপ করেছেন।[1] সহীহ।
1972। ওয়াবারাহ (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু ‘উমার (রাযি.)-কে জামরায় কখন কংকর নিক্ষেপ করবো তা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, তোমার ইমাম যখন নিক্ষেপ করেন তখন তুমিও নিক্ষেপ করবে। আমি আমার প্রশ্নের পুনরাবৃত্তি করলে তিনি বলেন, সূর্য ঢলা পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করতাম। সুতরাং যখন সূর্য ঢলে পড়লেই আমরা কংকর নিক্ষেপ করতাম।[1] সহীহ।
1973। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (কুরবানীর দিন) যুহরের সালাত আদায় করে দিনের শেষভাগে ফরয তাওয়াফ সম্পন্ন করেন। এরপর মিনায় আসেন এবং সেখানে তাশরীকের দিন রাতগুলো অতিবাহিত করেন। তিনি সূর্য ঢলার পর জামরায় কংকর মারেন। তিনি প্রত্যেক জামরায় সাতটি কংকর মারেন এবং প্রত্যেক কংকর মারার সময় তাকবীর বলেন। তিনি প্রথম ও দ্বিতীয় জামরায় দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে বিনয়ের সাথে দু‘আ করেন। অবশ্য তৃতীয় জামরাতে কংকর মারার পর সেখানে অবস্থান করেননি।[1] সহীহ; তার ‘‘যুহরের সালাত আদায় করে’’ কথাটি বাদে। কেননা এটি মুনকার।
1974। ইবনু মাসঊদ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি জামরাতুল কুবরার নিকটবর্তী হয়ে বায়তুল্লাহকে তার বামদিকে এবং মিনাকে তার ডান দিকে রেখে জামরাতে সাতটি কংকর মারলেন এবং বললেনঃ যাঁর উপর সূরা আল-বাকারাহ অবতীর্ণ হয়েছে তিনি এভাবেই (কংকর) নিক্ষেপ করেছেন।[1] সহীহ।
1975। আবুল বাদ্দাহ ইবনু ‘আসিম (রহ.) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উটের রাখালদেরকে মিনার বাইরে রাত যাপনের অনুমতি দেন। তারা কেবল কুরবানীর দিন কংকর মারবে এবং পরের দু‘দিন ও প্রত্যাবর্তনের দিন (তের তারিখ) কংকর নিক্ষেপ করবে।[1] সহীহ।
1976। আবুল বাদ্দাহ ইবনু ‘আদী (রহ.) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উটের রাখালদেরকে একদিন বাদ দিয়ে একদিন (অর্থাৎ ১১ ও ১২ তারিখ) কংকর মারার বিশেষ অনুমতি দিয়েছেন।[1] সহীহ।
1977। আবূ মিজলায (রহ.) বলেন, আমি ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.)-কে (জামরাতে) কয়টি কংকর মারতে হবে তা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আমি অবহিত নই যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছয়টি কংকর মেরেছেন নাকি সাতটি।[1] সহীহ।
1978। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোনো ব্যক্তি ‘জামরায় আকাবায়’ কংকর নিক্ষেপ করার পর স্ত্রী সহবাস ছাড়া তার জন্য সবই হালাল হয়ে যায়। ইমাম আবূ দাঊদ (রহ.) বলেন, হাদীসটি যঈফ। কারণ যুহরীর সাথে হাজ্জাজের সাক্ষাৎ হয়নি এবং তার থেকে তিনি হাদীসও শুনেননি।[1] সহীহ।
1979। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু‘আ করলেনঃ হে আল্লাহ! মাথা মুন্ডনকারীদের প্রতি রহমত বর্ষন করুন। লোকেরা বললো, হে আল্লাহর রাসূল! চুল খাটোকারীদের? তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ! মাথা মুন্ডনকারীদের প্রতি রহমত বর্ষন করুন। লোকেরা বললো, হে আল্লাহর রাসূল! চুল খাটোকারীদের? এবার তিনি বললেনঃ এবং চুল খাটোকারীদের প্রতিও।[1] সহীহ।
1980। ইবনু ‘উমার (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজে (হজ্জে) তাঁর মাথার চুল মুন্ডন করেছিলেন।[1] সহীহ।
1981। আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর দিন জামরাতুল আকাবায় কংকর মেরে মিনায় তাঁর অবস্থান স্থলে ফিরে এসে কুরবানীর পশু আনিয়ে তা যাবাহ করলেন। পরে নাপিত ডাকিয়ে প্রথমে তাঁর মাথার ডান দিকের চুল মুড়ালেন এবং তিনি উপস্থিত লোকদেরকে এক বা দুইগাছি করে চুল বিতরণ করলেন। তারপর মাথার বাম দিকের চুল মুড়ালেন। অতঃপর তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এখানে আবূ তালহা আছে কিনা? অবশিষ্ট চুলগুলো তিনি আবূ তালহা (রাযি.)-কে দিলেন।[1] সহীহ।
1982। হিশাম ইবনু হাসসান (রহ.) থেকে উপরোক্ত সনদে পূর্বের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত। তাতে আরো আছে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নাপিতকে বললেনঃ ডানদিক থেকে শুরু করো এবং তা মুন্ডন করো।[1] সহীহ।
1983। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। মিনাতে অবস্থানকালে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে (হজ্জের)) বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়। তিনি জবাবে বলতে থাকেনঃ ‘কোনো দোষ নেই।’ এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলো, আমি কুরবানী করার পূর্বেই মাথা মুড়িয়েছি। তিনি বললেনঃ এখন কুরবানী করো, কোনো দোষ নেই। লোকটি বললো, সন্ধ্যা হয়ে গেছে অথচ এখনো কংকর নিক্ষেপ করিনি। তিনি বললেনঃ এখন কংকর নিক্ষেপ করো, কোনো দোষ নেই।[1] সহীহ।
1984। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নারীদের মাথার চুল মুড়ানোর প্রয়োজন নেই। বরং তারা চুল কাটাবে।[1] সহীহ, পরবর্তী হাদীস দ্বারা।
1985। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নারীদের জন্য মাথা কামানোর দরকার নেই, তাদেরকে চুল ছাঁটতে হবে।[1] সহীহ।
1986। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আয়িশাহ (রাঃ)-কে যিলহজ (হজ্জ) মাসে ‘উমরা করিয়েছেন এজন্যই যে, যাতে মুশরিকদের কাজের বিরোধিতা হয়। কেননা কুরাইশদের এ গোত্র এবং তাদের অনুসারীরা বলতোঃ ‘উটের পিঠের ঘা শুকিয়ে পশম গজলে এবং সফর মাস এলে ‘উমরা করতে ইচ্ছুকদের ‘উমরা করা বৈধ। মুশরিকরা যিলহজ (হজ্জ) এবং মুহাররম মাস শেষ না হওয়া পর্যন্ত ‘উমরা করা হারাম মনে করতো।[1] সহীহ।
1987। আবূ বাকর ইবনু ‘আব্দুর রহমান (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, মারওয়ানের যে দূতকে উম্মু মা‘কিলের নিকট প্রেরণ করা হয়, তিনি আমাকে জানিয়েছেন, উম্মু মা‘কিল (রাযি.) বলেছেন, আবূ মা‘কিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে হজ (হজ্জ) গমনের ইচ্ছা করেছিলেন। তিনি ঘরে এলে উম্মু মা‘কিল (রাযি.) বললেন, আমি অবগত হয়েছি, আমার উপরও হজ (হজ্জ) ফরয হয়েছে। সুতরাং তারা (স্বামী-স্ত্রী) উভয়ে পদব্রজে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত হলেন। উম্মু মা‘কিল বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার উপর হজ (হজ্জ) ফরয হয়েছে। আর আবূ মা‘কিলের নিকট একটি উষ্ট্রী আছে। আবূ মা‘কিল (রাযি.) বললেন, সে সত্যই বলেছে, কিন্তু আমি তো সেটি আল্লাহর পথে যুদ্ধের কাজে সাদাকাহ করেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি এটা তাকে দিয়ে দাও, সে হজ (হজ্জ) করে আসুক। কেননা এটাও আল্লাহর পথ। নির্দেশ মোতাবেক তিনি উষ্ট্রীটি তাকে দিলেন। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি তো বৃদ্ধ মহিলা এবং অসুস্থ। সুতরাং এমন কোনো কাজ আছে কি যা আমার হজের (হজ্জের) বিকল্প হবে? তিনি বললেনঃ রমাযান মাসের ‘উমরা তোমার হজের (হজ্জের) জন্য যথেষ্ট।[1] হাসান।
1988। আবূ বাকর ইবনু ‘আব্দুর রহমান (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, মারওয়ানের যে দূতকে উম্মু মা‘কিলের কাছে প্রেরণ করা হয়েছিল, তিনি আমাকে জানিয়েছেন যে, উম্মু মা‘কিল (রাযি.) বলেছেনঃ আবূ মা‘কিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে হজ (হজ্জ) করার ইচ্ছা করেছিলেন। তিনি ঘরে এলে উম্মু মা‘কিল (রাযি.) বলেন, আমার উপরও যে হজ (হজ্জ) ফরয হয়েছে তা আমি অবগত হয়েছি। কাজেই স্বামী-স্ত্রী দু‘জনেই পায়ে হেঁটে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গেলেন। উম্মু মা‘কিল (রাযি.) বললেন, হে আল্লাহ রাসূল! আমার উপর হজ (হজ্জ) ফরয হয়েছে। আর আবূ মা‘কিলের নিকট (বাহন উপযোগী) একটি উষ্ট্রী আছে। আবূ মা‘কিল (রাযি.) বললেন, সে সত্য বলেছে, কিন্তু আমি তো সেটি আল্লাহর পথে সাদাকাহ করে দিয়েছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি ওটা (উষ্ট্রীটি) একে দাও, সে হজ (হজ্জ) করে আসুক। কারণ এটাও তো আল্লাহর পথ। ফলে তিনি তাকে তা দিলেন। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি একজন বৃদ্ধা মহিলা এবং অসুস্থ। কাজেই এমন কোনো আমল আছে কি যা করলে আমার হজের (হজ্জের) পরিবর্তে যথেষ্ট হবে? তিনি বললেনঃ রমাযানের একটি ‘উমরা তোমার হজের (হজ্জের) জন্য যথেষ্ট হবে।[1] সহীহ, তবে মহিলার এ কথাটি বাদেঃ আমি একজন বৃদ্ধা মহিলা।...’’
1989। উম্মু মা‘কিল (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বিদায় হজ (হজ্জ) গমন করেন তখন আমাদের একটি মাত্র উট ছিলো, সেটাও আবূ মা‘কিল (রাযি.) আল্লাহর পথে (জিহাদে) সাদাকাহ করেছেন। এদিকে আমরা অসুস্থ হলাম এবং আবূ মা‘কিলও মৃত্যুবরণ করলেন। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (হজ্জে)) চলে গেলেন। তিনি হজ (হজ্জ) সম্পন্ন করার পর আমি তাঁর কাছে আসলে তিনি বললেনঃ হে উম্মু মা‘কিল! আমাদের সাথে যেতে তোমাকে কিসে বাঁধা দিয়েছে? তিনি বললেন, আমরা তো প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। কিন্তু আবূ মা‘কিল মারা গেলেন। আমাদের যে উটটি ছিলো, যা দ্বারা আমি হজ (হজ্জ) সম্পন্ন করতে চেয়েছিলাম, সেটাকেও আবূ মা‘কিল আল্লাহর পথে দান করার ওয়াসিয়্যাত করেছেন। তিনি বললেন, তুমি সেটা নিয়েই বের হলে না কেন? কারণ হজ (হজ্জ) করাও আল্লাহর পথের সদৃশ! তুমি যখন আমাদের সাথে এ হজ (হজ্জ) করতে পারলে না সুতরাং রমযান মাসে ‘উমরা আদায় করো। কেননা এ সময়ের ‘উমরা হজের (হজ্জের) সমতুল্য। এরপর থেকে উম্মু মা‘কিল প্রায়ই বললেন, হজ্জ হজ’ই এবং ‘উমরা ‘উমরাই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একথা কেবল আমার জন্যই বলেছেন নাকি সবার জন্য তা আমি অবহিত নই।[1] সহীহ, তার এ কথাটি বাদেঃ ‘‘তিনি প্রায়ই বলতেন...।’’
1990। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজের (হজ্জের) ইচ্ছা করলেন। তখন জনৈক মহিলা (উম্মু মা‘কিল) তার স্বামীকে বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে আমার হজে (হজ্জে) গমনের ব্যবস্থা করে দিন। তিনি বললেন, তোমাকে হজে (হজ্জে) পাঠাবার মতো (বাহন) ব্যবস্থা আমার কাছে নেই। তিনি (উম্মু মা‘কিল) বললেন, অমুক উটটি দ্বারা আমাকে হজে (হজ্জে) গমনের ব্যবস্থা করুন। তিনি বললেন, তা তো মহান শক্তিমান আল্লাহর পথে (জিহাদের জন্য) আবদ্ধ। অতঃপর তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন, আমার স্ত্রী আপনাকে সালাম জানিয়েছে এবং আপনার উপর আল্লাহর রহমত কামনা করেছে। সে আপনার সাথে হজে (হজ্জে) যেতে আমার কাছে অনুমতি চেয়ে বলেছে, আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে হজে (হজ্জে) গমনের ব্যবস্থা করে দিন। আমি বলেছি, আমার কাছে তোমাকে হজে (হজ্জে) পাঠানোর কোনো ব্যবস্থা নেই। সে বললো, অমুক উট দ্বারা আমাকে হজে (হজ্জে) গমনের সুযোগ দিন। আমি বললাম, সেটি তো মহান শক্তিমান, আল্লাহর পথে (জিহাদের জন্য) আবদ্ধ। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তুমি তাকে সেটির দ্বারা হজে (হজ্জে) গমনের ব্যবস্থা করে দিলে তাও আল্লাহর পথেই হতো। সে আমাকে আপনার কাছে জিজ্ঞেস করতে বলেছে, আপনার সাথে হজ (হজ্জ) করার সমতুল্য সওয়াব পাওয়ার মতো কোনো কাজ আছে কিনা? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাকে আমার সালাম জানাবে, তার উপর আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। তাকে এ সংবাদও দিবে, রমযান মাসে ‘উমরা করা আমার সাথে হজ (হজ্জ) করার সমতুল্য।[1] হাসান সহীহ।
1991। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুইবার ‘উমরা করেছেন। একটি যিলকাদ মাসে এবং অপরটি শাওয়াল মাসে।[1] সহীহঃ কিন্তু তার কথাঃ শাওয়াল অর্থাৎ প্রথমটি। অন্যথায় সেটিও যিলকাদ মাসে।
1992। মুজাহিদ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু ‘উমার (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতবার ‘উমরা করেছেন? তিনি বললেন, দুইবার। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বললেন, ইবনু ‘উমার (রাযি.) অবগত আছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজের (হজ্জের) সাথে যে ‘উমরা করেছেন সেটা ছাড়াও তিনবার ‘উমরা করেছেন।[1] দুর্বল।
1993। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চারবার ‘উমরা করেছেন। প্রথমবার হুদায়বিয়ার সময়, দ্বিতীয় ‘উমরা এর পরবর্তী বছর, যেটির উপর তাদের সাথে সন্ধি হয়েছিল। তৃতীয় ‘উমরা আল-জিইররানা থেকে এবং চতুর্থ ‘উমরা তাঁর হজের (হজ্জের) সাথে।[1] সহীহ।
1994। আনাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মোট চারবার ‘উমরা করেছেন। বিদায় হজের (হজ্জের) সাথের ‘উমরা ছাড়া অবশিষ্ট ‘উমরাগুলো তিনি যিলকাদ মাসে আদায় করেছেন।[1] সহীহ।
1995। হাফসাহ বিনতু ‘আব্দুর রহমান ইবনু আবূ বাকর (রহ.) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আব্দুর রহমানকে বলেনঃ হে আব্দুর রহমান! তোমার বোন ‘আয়িশাকে তোমার সওয়ারীর পেছনে বসিয়ে নাও এবং আত-তানঈম থেকে তাকে ‘উমরার জন্য ইহরাম বাঁধাও। আর তুমি তাকে নিয়ে সেখানকার উঁচু টিলা থেকে নেমে সমতল ভূমিতে এলেই সে ইহরাম বাঁধবে, কারণ তা ‘উমরা কবূল হওয়ার স্থান।[1] সহীহ।
1996। মুহাররিশ আল-কা‘বী (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল-জি‘ইররানাহ স্থানে পৌঁছে সেখানকার মসজিদে গিয়ে তথায় আল্লাহ যতটুকু চাইলেন তিনি (রুকু‘) সালাত আদায় করলেন, অতঃপর ইহরাম বাঁধলেন। তারপর সওয়ারীতে চড়ে ‘বাতনে সারিফ’ ভূমিতে এসে মদীনাগামী পথে উপনীত হলেন এবং রাত যাপনকারীর মতই তিনি মক্কায় ভোর পর্যন্ত অবস্থান করলেন।[1] সহীহ, মসজিদে রুকু‘ কথাটি বাদে। কেননা তা মুনকার।
1997। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাযা ‘উমরা আদায়ের পর মক্কায় তিন দিন অবস্থান করেছেন।[1] সহীহ।
1998। ইবনু ‘উমার (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর দিন মক্কায় এসে তাওয়াফে যিয়ারা সমাপ্ত করে পুনরায় মিানয়ই ফিরে এসে সেখানে যুহরের সালাত আদায় করেন।[1] সহীহ।
1999। উম্মু সালামাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে আমার পালার রাতটি ছিলো কুরবানীর দিন সন্ধ্যায়। সুতরাং সেদিন তিনি আমার কাছে ছিলেন। এ সময় ওয়াহব ইবনু যাম‘আহ এবং তার সাথে আবূ উমায়্যাহ পরিবারের জনৈক ব্যক্তি উভয়েই জামা পরিহিত অবস্থায় আমার নিকট প্রবেশ করে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াহবকে জিজ্ঞেস করলেনঃ হে আবূ ‘আব্দুল্লাহ! তুমি কি তাওয়াফে ইফাদা সম্পন্ন করেছো? সে বললো, না, আল্লাহর শপথ, হে আল্লাহর রাসূল! তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তুমি তোমার জামা খুলে ফেলো। উম্মু সালামাহ (রাযি.) বলেন, তিনি মাথার দিক থেকে তা খুললেন এবং তার সাথীও মাথার দিক থেকে তার জামা খুললো। অতঃপর তিনি জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহ রাসূল! এরূপ করার কারণ কি? তিনি বললেনঃ আজকের দিনে তোমাদের জন্য বিধান শিথিল হয়েছে। তোমরা যখন জামরায় কংকর মেরে, কুরবানী সম্পন্ন করে চুল মুড়াবে, তখন একমাত্র স্ত্রীসহবাস ছাড়া এ পর্যন্ত ইহরামের কারণে যা কিছু তোমাদের জন্য হারাম ছিলো তা হালাল হবে। আর যদি আজকে বায়তুল্লাহ তাওয়াফের আগে রাত হয়ে যায় তাহলে তাওয়াফ করা পর্যন্ত তোমরা অনুরূপভাবে ইহরাম অবস্থায় থেকে যাবে, যেভাবে ছিলে জামরায় কংকর মারার আগে।[1] হাসান সহীহ।
2000। ‘আয়িশাহ ও ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর দিন তাওয়াফকে রাত পর্যন্ত বিলম্বিত করেছেন।[1] দুর্বলঃ যঈফ ইবনু মাজাহ (৬৫৪), মিশকাত (২৬৭২), ইরওয়া (১০৭০), যঈফ সুনান আত-তিরমিযী (১৫৯/৯২৯) এ শব্দেঃ ‘‘তাওয়াফে যিয়ারাহ।’’
2001। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাওয়াফে যিয়ারাতের সাত চক্করের একটিতেও রমল করেননি।[1] সহীহ।
2002। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেরা তাওয়াফে যিয়ারাত সম্পন্ন করে মক্কার চতুর্দিক দিয়ে চলে যাচ্ছিল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোষণা করলেনঃ তোমাদের কেউ যেন শেষ বারের মতো বায়তুল্লাহ তাওয়াফ না করে চলে না যায়।[1] সহীহ।
2003। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুয়াই এর কন্যা সাফিয়্যাহ্ (রাযি.)-এর কথা উল্লেখ করেন। তখন বলা হলো, সে ঋতুবতী। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সম্ভবত সে আমাদের যাত্রা বিলম্বিত করবে। লোকেরা বললো, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি তো তাওয়াফে ইফাদা করেছেন। এবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাহলে সমস্যা নেই।[1] সহীহ।
2004। আল-হারিস ইবনু ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আওস (রাযি.) বলেন, আমি উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযি.)-এর নিকট এসে জনৈক মহিলা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করি যে, সে কুরবানীর দিন বায়তুল্লাহ তাওয়াফের পর ঋতুবতী হয়েছে। উমার (রাযি.) বললেন, তার সর্বশেষ কাজ হওয়া চাই বায়তুল্লাহ তাওয়াফ। বর্ণনাকারী (ওয়ালিদ) বলেন, তখন আল-হারিস (রাযি.) উমার (রাযি.)-কে বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও আমাকে এরূপ ফতোয়া দিয়েছেন। উমার (রাযি.) বললেন, তোমার ব্যবহারে আমি দুঃখ পেলাম। তুমি আমাকে (না জানার ভান করে) এমন কথা জিজ্ঞেস করেছো যা তুমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আগেই জিজ্ঞেস করে জ্ঞাত আছো। যাতে আমি তাঁর বিপরীত কিছু বলি।[1] সহীহ, কিন্তু এটি মানসুখ পূর্বের (২০০৩) হাদীস দ্বারা।
2005। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আত-তানঈম থেকে ‘উমরার জন্য ইহরাম বাঁধলাম। এরপর মক্কায় প্রবেশ করে ‘উমরা সম্পন্ন করলাম। এ সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আল-আবতাহ’ নামক স্থানে আমার অপেক্ষায় থাকলেন। পরে তিনি লোকদেরকে (মদীনাতে) যাওয়ার নির্দেশ দিলেন। তিনি বলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় এসে বায়তুল্লাহ (বিদায়ী) তাওয়াফ করে রওয়ানা হলেন।[1] সহীহ।
2006। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সর্বশেষ কাফেলায় (যিলহাজের তের তারিখে) মক্কা থেকে মদীনার পথে রওয়ানা হই। তিনি মুহাসসাব উপত্যকায় নামলেন। ইমাম আবূ দাঊদ (রহ.) বলেন, ইবনু বাশশার এ হাদীসে তাকে আত-তানঈম প্রেরণের ঘটনা উল্লেখ করেননি। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, আমি ‘উমরা (সম্পন্ন করে) শেষ রাতে তাঁর কাছে আসি। তখন তিনি তাঁর সাহাবীদেরকে রওয়ানা হবার ঘোষণা দিলেন এবং তিনি নিজেও রওয়ানা হলেন। আর তিনি ফজরের সালাতের পূর্বে যাত্রাকালে বায়তুল্লাহ গিয়ে বিদায়ী তাওয়াফ করার পর মদীনার দিকে যাত্রা করলেন।[1] সহীহ।
2007। আব্দুর রহমান ইবনু তারিক (রহ.) থেকে তার মাতা সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘দ্বারে ই‘য়ালা‘র নিকটস্থ স্থান দিয়ে অতিক্রমকালে বায়তুল্লাহকে সম্মুখে রেখে দু‘আ করেছেন। ‘উবাইদুল্লাহ স্থানটির নাম ভুলে গেছেন।[1] দুর্বল।
2008। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুহাস্সাবে অবতরণ করেছেন, যেন মদীনা অভিমূখে রওয়ানা হওয়া সহজতর হয়। তবে সেখানে অবতরণ করা সুন্নাত নয়।[1] সহীহ।
2009। সুলাইমান ইবনু ইয়াসার (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ রাফি‘ (রাযি.) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে মুহাস্সাব উপত্যকায় অবতরণ করতে আদেশ করেননি। তবে আমি সেখানে তাঁর জন্য তাঁবু স্থাপন করেছি। তাই তিনি সেখানে অবতরণ করেছেন। মুসাদ্দাদ বলেন, আবূ রাফি‘ (রাযি.) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মালপত্র দেখাশুনার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।[1] সহীহ।
2010। উসামাহ ইবনু যায়িদ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বিদায় হজের (হজ্জের) সময় জিজ্ঞেস করি, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আগামীকাল সকালে কোথায় অবতরণ করবেন? তিনি বললেনঃ ‘আক্বীল কি আমাদের জন্য কোনো বাড়ী রেখেছে? এরপর বললেনঃ আগামী কাল আমরা বনী কিনানার খাইফে (মুহাস্সাবে) অবতরণ করবো, যেখানে কুরাইশরা কুফরীর শপথ করেছিল। অর্থাৎ বনী কিনানার লোকেরা কুরাইশদের সাথে এই মর্মে শপথ করেছিল যে, বনী হাশিমের সাথে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবে না, তাদেরকে কোনো ধরণের আশ্রয় দিবে না এবং তাদের সাথে ক্রয়-বিক্রয় করবে না। ইমাম যুহরী (রহ.) বলেন, ‘খায়ফ’ শব্দের অর্থ উপত্যকা।[1] সহীহ।
2011। আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মিনা থেকে প্রত্যাবর্তনের ইচ্ছা করলেন, তখন বললেনঃ আমরা আগামী কাল অবতরণ করবো। অতঃপর বর্ণনাকারী পূর্বের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। কিন্তু তিনি হাদীসের প্রথমাংশ বর্ণনা করেননি এবং এটাও উল্লেখ করেননি যে, ‘খাইফ’ অর্থ উপত্যকা।[1] সহীহ।
2012। নাফি‘ (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। ইবনু উমার (রাযি.) ‘বাত্হাতে’ (মুহাস্সাবে) সামান্য নিদ্রা যেতেন এবং পরে মক্কায় প্রবেশ করতেন। তিনি বলতেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপই করতেন।[1] সহীহ।
2013। ইবনু উমার (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাতহায় যুহর, ‘আসর, মাগরিব ও ‘ইশার সালাত আদায় করে সামান্য ঘুমাতেন, তারপর মক্কায় প্রবেশ করেন। নাফি‘ বলেন, ইবনু উমার (রাযি.)-ও অনুরূপ করতেন।[1] সহীহ।
2014। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আমর ইবনুল ‘আস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। বিদায় হজের (হজ্জের) সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিনায় অবস্থান করলেন। সেখানে লোকেরা তাঁকে প্রশ্ন করতে থাকলো। এক ব্যক্তি এসে বললো, আমার জানা ছিলো না, তাই আমি কুরবানী করার পূর্বেই মাথা কামিয়েছি। তিনি বললেনঃ এখন যাবাহ করো, কোনো ক্ষতি নেই। আরেক ব্যক্তি এসে বললো, আমি জানতাম না, তাই কংকর নিক্ষেপের পূর্বেই কুরবানী করেছি্। তিনি বললেনঃ এখন কংকর মেরে আসো, এতে কোনো অসুবিধা নেই। বর্ণনাকারী বলেন, এ দিন তাঁকে আগে-পিছে করা যে কাজ সম্পর্কেই তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়, তিনি জবাবে বলেছেনঃ ‘এখন করে নাও কোনো দোষ নেই।[1] সহীহ।
2015। উসামাহ ইবনু শারীক (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে হজে (হজ্জে) গেলাম। এ সময় লোকেরা এসে তাঁকে জিজ্ঞেস করলো, হে আল্লাহর রাসূল! আমি তাওয়াফ করার পূর্বেই সাঈ করেছি কিংবা কেউ এসে বললো, আমি কিছু কাজ আগে পরে করে ফেলেছি। জবাবে তিনি বলতে থাকলেনঃ যাও কোনো অসুবিধা নেই, কোনো দোষ নেই। তবে কেউ যদি অন্যায়ভাবে কোনো মুসলিমের ইজ্জত সম্মান নষ্ট করে, তার সম্পর্কে বলেছেনঃ সে পাপে লিপ্ত হয়েছে, সে ধ্বংস হয়েছে।[1] সহীহ।
2016। কাসীর ইবনু কাসীর ইবনুল মুত্তালিব ইবনু আবূ ওয়াদা‘আহ (রহ.) থেকে তার পরিবারের জনৈক ব্যক্তির সূত্রে এবং তিনি তার দাদার সূত্রে বর্ণনা করেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বনী সাহমের দরজার কাছে সালাত আদায় করতে দেখেছেন। এ সময় লোকেরা তাঁর সম্মুখ দিয়ে অতিক্রম করেছে। অথচ উভয়ের মাঝখানে সুতরাহ ছিলো না। সুফিয়ান বলেন, তাঁর এবং কা‘বার মাঝখানে কোনো সুতরাহ ছিলো না।[1] দুর্বল।
2017। আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ যখন তাঁর রাসূলকে মক্কায় বিজয়ী করলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের মাঝে দাঁড়িয়ে আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করলেন, অতঃপর বললেনঃ মহান আল্লাহ মক্কা থেকে হাতি বাহিনীকে প্রতিহত করেছেন এবং তিনি তাঁর রাসূল ও মু‘মিন বান্দাদেরকে মক্কার উপর আধিপত্য দিয়েছেন। আমার জন্য দিনের কিছু সময় বৈধ করা হয়েছিল। এরপর কিয়ামত পর্যন্ত হারাম হয়ে গেছে। সুতরাং এখানকার গাছপালা কাটা যাবে না। এখানের শিকার তাড়ানো যাবে না এবং এখানকার পড়ে থাকা বস্তু তুলে নেয়া যাবে না। তবে ঘোষকের জন্য তা তুলে নেয়া বৈধ। তখন ‘আব্বাস (রাযি.) দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! ‘ইযখির’ ঘাস কাটার অনুমতি দিন, কেননা এগুলো আমরা আমাদের কবর ও ঘরের চালায় ব্যবহার করে থাকি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ঠিক আছে, ইযখির ঘাস কাটার অনুমতি দেয়া হলো। ইমাম আবূ দাঊদ (রহ.) বলেন, ইবনুল মুসাফফা’ ওয়ালীদ সূত্রে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, এ সময় আবূ শাহ (রাযি.) নামের জনৈক ইয়ামেনবাসী দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এটা আমাকে লিখে দিন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা আবূ শাহকে লিখে দাও। ওয়ালীদ ইবনু মুসলিম বলেন, আমি আওযাঈকে জিজ্ঞেস করি, আবূ শাহ (রাযি.) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কি লিখে দিতে বললেন? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই ভাষণ যা তাঁর কাছ থেকে শুনেছেন।[1] সহীহ।
2018। মক্কার মর্যাদা সম্পর্কে ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে এও বর্ণিত হয়েছে যেঃ সেখানকার ঘাসও কাটা যাবে না।[1] সহীহ।
2019। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে রাসূল! আমরা কি আপনার জন্য মিনাতে একটি ঘর বা এমন বাসস্থান নির্মাণ করে দিবো না যা আপনাকে সূর্যের তাপ থেকে ছায়া দিবে? তিনি বললেনঃ না, কেননা মিনার পুরো অঞ্চল উট বসাবার জায়গা। যে আগে আসবে সে এখান তার হবে।[1] দুর্বলঃ যঈফ সুনান ইবনু মাজাহ (৬৪৮-৬৪৯), যঈফ সুনান আত-তিরমিযী (১৫৩/৮৮৮)।
2020। মূসা ইবনু বাযান (রহ.) বলেন, আমি ইয়া‘লা ইবনু উমায়্যাহ (রাযি.)-এর কাছে এলে তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হেরেম এলাকায় খাদ্যশস্য গুদামজাত করে রাখা ধর্মদ্রোহিতার নামান্তর।[1] দুর্বলঃ যঈফ আল-জামি‘উস সাগীর (১৮৪), মিশকাত (২৭২৩)।
2021। বকর ইবনু আব্দুল্লাহ (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.)-কে বললো, এই ঘরের লোকদের কি হলো, এরা হাজীদেরকে শুধু ‘নবীয’ পান করান কেন? অথচ তাদের চাচাতো ভাইয়ের সন্তানরা তো দুধ, মধু ও ছাতুও পান করান। এটা কি তাদের কৃপণতা না দারিদ্রতা? ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) বললেন, এটা আমাদের কৃপণতা বা দারিদ্রতা কোনোটিই নয়। বরং ব্যাপার এই যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সওয়ারীতে চড়ে এবং উসামাহ ইবনু যায়িদকে তাঁর পিছনে বসিয়ে আমাদের কাছে এসে কিছু পানীয় পান করতে চাইলেন। তখন ‘নবীয’ আনা হলে তিনি তা থেকে পান করলেন এবং বাকীটুকু উসামাহ ইবনু যায়িদকে দিলেন। তিনি তা পান করলেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ তোমরা খুব উত্তম কাজ করেছো। ভবিষ্যতেও এরূপ করতে থাকবে। তাই আমরা আমরা এরূপ পান করাচ্ছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যার প্রশংসা করেছেন আমরা তা পরিবর্তন করতে চাই না।[1] সহীহ।
2022। ‘উমার ইবনু ‘আব্দুল ‘আযীয (রহ.) সায়িব ইবনু ইয়াযীদ (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, হজে (হজ্জে) আগত মুহাজিরদের মক্কায় অবস্থান সম্পর্কে আপনি কিছু শুনেছেন কি? তিনি বললেন, আমাকে ইবনুল হাদরামী (রাযি.) বলেছেন, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মুহাজিরদের লক্ষ্য করে বলতে শুনেছেনঃ ফরয তাওয়াফ আদায়ের পর মক্কায় তিন দিন অবস্থান করতে পারবে।[1] সহীহ।
2023। আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা‘বার ভেতরে প্রবেশ করলেন। এ সময় তাঁর সাথে ছিলেন উসামাহ ইবনু যায়িদ, ‘উসমান ইবনু তালহা আল-হাজাবী ও বিলাল (রাযি.)। তিনি ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দিয়ে সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থান করলেন। আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাযি.) বললেন, দরজা খুলে বাইরে এলে আমি বিলাল (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভেতরে কি করেছেন? তিনি বললেন, তিনি একটি স্তম্ভ তাঁর বামদিকে, দুটি স্তম্ভ ডানদিকে এবং তিনটি স্তম্বকে পিছনে রেখে সালাত আদায় করেছেন। এ সময় বায়তুল্লাহ মোট ছটি স্তম্ভের উপর স্থাপিত ছিলো।[1] সহীহ।
2024। ইমাম মালিক (রহ.) সূত্রেও উক্ত হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তবে তিনি সওয়ারীর (স্তম্ভ) কথা উল্লেখ করেননি। তিনি বলেছেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করলেন, এ সময় তাঁর ও সামনের দেয়ালের মধ্যে তিন গজের দূরত্ব ছিলো।[1] সহীহ।
2025। ইবনু উমার (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে আল-কা‘নবীর বর্ণিত হাদীসের অর্থের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন। তিনি এও বলেন যে, আমি বিলাল (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করতে ভুলে গেছি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কত রাক‘আত সালাত আদায় করেছেন।[1] সহীহ।
2026। আব্দুর রহমান ইবনু সাফওয়ান (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা‘বার ভেতরে প্রবেশ করে কি করেছিলেন? তিনি বললেন, তিনি দুই রাক‘আত সালাত আদায় করেছেন।[1] সহীহ।
2027। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় আগমন করে কা‘বা ঘরে প্রবেশ করতে অস্বীকার করেন। কেননা এ ঘরে তখন বহু দেব-দেবী রাখা ছিলো। অতঃপর তাঁর নির্দেশ মোতাবেক সেগুলো অপসারণ করা হয়। বর্ণনাকারী বলেন, ইবরাহীম ও ইসমাঈল (আঃ) এর মূর্তিও অপসারণ করা হলো; তাদের মূর্তির হাতে ছিলো ভাগ্য পরিক্ষার তীর। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহ তাদেরকে ধ্বংস করুন। আল্লাহর শপথ! তারা নিশ্চিত জানতো যে, তাঁরা কখনো এ তীরের সাহায্যে ভাগ্য পরিক্ষা করেননি। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি কা‘বা ঘরে প্রবেশ করলেন এবং এর কোণে তাকবীর ধ্বনি দিলেন, অতঃপর বাইরে আসলেন। কিন্তু তিনি সেখানে সালাত আদায় করেননি।[1] সহীহ।
2028। ‘আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বায়তুল্লাহর ভেতরে প্রবেশ করে সেখানে সালাত আদায় করতে চাইলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার হাত ধরে হাতীমের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে বললেন, তুমি যেহেতু বায়তুল্লাহর ভেতর সালাত পড়তে চেয়েছো তখন এখানেই সালাত পড়ে নাও। কেননা এটাও বায়তুল্লাহর অংশ। তোমার সম্প্রদায়ের লোকেরা যখন বায়তুল্লাহ পুনঃনির্মাণ করছিলো, তখন তাদের অর্থের অনটন থাকায় তারা এ অংশটুকু মূল ঘর থেকে বাইরে রেখেছো।[1] হাসান সহীহ।
2029। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কাছ থেকে বাইরে গেলেন প্রফুল্ল চিত্তে, কিন্তু ফিরে আসলেন বিষন্ন মনে। তিনি বললেনঃ আমি কা‘বা ঘরে প্রবেশ করেছিলাম। আমি যা পরে জেনেছি তা যদি পূর্বেই জানতাম তাহলে আমি তাতে প্রবেশ করতাম না। আমার আশংকা হচ্ছে যে, আমি আমার উম্মতকে কষ্টের মধ্যে ফেলে দিলাম কিনা।[1] দুর্বলঃ যঈফ আল-জামি‘উস সাগীর (২০৮৫), যঈফ সুনান আত-তিরমিযী (১৫২/৮৮০)।
2030। মানসূর আল হাজাবী (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার মামা আমার আম্মা সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি (আম্মা) বলেছেন, আমি আসলাম গোত্রীয় জনৈক মহিলাকে বলতে শুনেছি আমি ‘উসমান ইবনু তালহা আল-হাজাবী (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাকে ডেকে নিয়ে কি বলেছিলেন? তিনি বললেন, আমি আপনাকে জানাতে ভুলে গেছি যে, (ইসমাঈলের যাবাহকৃত দুম্বার) শিং দুইটি ঢেকে রাখুন (যা বায়তুল্লাহর দেয়ালে টাঙ্গানো ছিলো) কারণ বায়তুল্লায় এমন জিনিস থাকা সমীচীন নয় যা মুসল্লীদের অন্যমনস্ক করে দেয়। ইবনুস সারহ বলেছেন, তার মামার নাম হলো মুসাফি‘ ইবনু শাইবাহ।[1] সহীহ।
2031। শাইবাহ ইবনু ‘উসমান (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আপনি যে স্থানে বসা আছেন, একদা উমার ইবনুল খাত্তাব উক্ত স্থানে বসা অবস্থায় বললেন, কা‘বার ভেতরে রক্ষিত সম্পদ বন্টন না করা পর্যন্ত আমি এখান থেকে বের হবো না। শাইবাহ বলেন, আমি বললাম, আপনি এরূপ করতে পারেন না। উমার বলেন, হ্যাঁ, আমি অবশ্যই এরূপ করবো। শাইবাহ বলেন, আমি আবার বললাম, আপনি এরূপ করতে পারেন না। উমার (রাযি.) বললেন, কেন? আমি বললাম, কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবূ বাকর (রাযি.) সম্পদ সম্পর্কে অবহিত ছিলেন। আপনার চেয়ে তাঁদের এ সম্পদের বেশি প্রয়োজন ছিলো। কিন্তু তারা এ সম্পদে হস্তক্ষেপ করেননি। একথা শুনে তিনি উঠে বেরিয়ে যান।[1] সহীহ।
2032। যুবায়র (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ‘লিয়্যা’ নামক স্থান থেকে আস-সিদরাহ নামক জায়গাতে পৌঁছলাম তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কালো পাথরের পাহাড়ের সামনে এসে দাঁড়িয়ে তায়েফের দিকে দৃষ্টিপাত করলেন। বর্ণনাকারী বলেছেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উপত্যকায় থামলেন এবং সকল লোকেরাও থামলো। অতঃপর তিনি বললেনঃ ‘সাইদু ওয়াজ্জ’ ও ‘ইযাহা’ কাঁটাবিশিষ্ট বৃক্ষের এলাকাটি আল্লাহর পক্ষ থেকে হারাম। এ ঘটনা তাঁর তায়েফ অভিযান ও বনু সাক্বীফকে অবরোধ করার পূর্বেকার।[1] দুর্বলঃ যঈফ আল-জামি‘উস সাগীর (১৮৭৫), মিশকাত (২৭৪৯)।
2033। আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিনটি মাসজিদ ব্যতীত অন্য কোথাও সফরের প্রস্তুতি নেয়া যাবে না। মাসজিদুল হারাম, আমার এই মাসজিদ এবং মাসজিদুল আকসা।[1] সহীহ।
2034। ‘আলী (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আল্লাহর কুরআন এবং তাঁর এ সহীফার মধ্যে যা লিখিত আছে তা ব্যতীত অন্য কিছু লিপিবদ্ধ করিনি। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মদীনা ‘আয়ের’ থেকে ‘সাওর’ পর্যন্ত হারাম এলাকা। এখানে যদি কেউ বিদ‘আত করে কিংবা বিদ‘আতীকে আশ্রয় দেয়, তবে তার উপর আল্লাহ, সকল ফিরিশতা ও মানবকুলের অভিশাপ। তার কোনো ফরয বা নফল ইবাদাত আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না। তিনি আরো বলেছেনঃ সকল মুসলিমের নিরাপত্তা বিধান সমান গুরুত্বপূর্ণ, এমনকি একজন সাধারণ ব্যক্তির নিরাপত্তাও। সুতরাং যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের প্রদত্ত নিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটাবে তার উপর আল্লাহ, সকল ফিরিশতা ও মানবকুলের অভিশাপ। তার কোনো ফরয বা নফল ‘ইবাদাত আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না। আর যে ব্যক্তি কোনো কাওমের লোকদের অনুমতি ছাড়াই তাদের নেতা হয় তার উপর আল্লাহ, সকল ফিরিশতা ও মানবকুলের অভিশাপ। তার কোনো ফরয বা নফল ‘ইবাদাত আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না।[1] সহীহ।
2035। ‘আলী (রাযি.) থেকে পূর্বোক্ত হাদীসের ঘটনা প্রসংগে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (মদীনার) সবুজ ঘাস কাটা যাবে না, শিকার তাড়ানো যাবে না এবং পড়ে থাকা বস্তু উঠানো যাবে না। তবে ঘোষক ঘোষণার উদ্দেশ্যে তা তুলতে পারবে। কেউ সেখানে যুদ্ধের উদ্দেশ্যে কোনো হাতিয়ার নিয়ে যেতে পারবে না এবং সেখানকার কোনো বৃক্ষও কাটা যাবে না, তবে কেউ তার উটের খাদ্য সংগ্রহ করলে তা ভিন্ন কথা।[1] সহীহ।
2036। ‘আদী ইবনু যায়িদ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনার চতুর্দিকে এক এক ‘বারীদ’ সম্মানিত ঘোষণা করেছেন। এখানকার গাছের পাতা পাড়া যাবে না, এবং কাটাও যাবে না। তবে উট যেটুকু খাদ্য হিসেবে বহন করে, তা কাটা যাবে।[1] দুর্বল।
2037। সুলাইম ইবনু আবূ ‘আব্দুল্লাহ (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সা‘দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাযি.)-কে এক ব্যক্তিকে আটক করতে দেখেছি, যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক মদীনার হেরেম এলাকার মধ্যে শিকার করছিলো। তিনি তার সাথের মালপত্র কেড়ে নিলেন। অতঃপর তার মনিব এসে এ বিষয়ে তার সাথে কথা বললে তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ এলাকাটি হারাম ঘোষনা করে বলেছেনঃ এ এলাকায় যদি কাউকে শিকার করতে দেখো তাহলে তার সাথের মালপত্র কেড়ে নিবে। সুতরাং আমি এমন দান ফেরত দেবো না, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দিয়েছেন। অবশ্য তুমি চাইলে তার মূল্য তোমাদেরকে দিবো।[1] সহীহ, কিন্তু তার ‘‘শিকার করছিলো’’ কথাটি মুনকার। মাহফূয হলোঃ গাছ কাটছিলো’’ যা পরবর্তী ২০৩৮) হাদীসে আসছে। মিশকাত (২৭৪৭)।
2038। সা‘দ (রাযি.) এর মুক্তদাস সূত্রে বর্ণিত। সা‘দ (রাযি.) মদীনার কতিপয় গোলামকে মদীনার গাছপালা কাটতে দেকে তাদের মালপত্র কেড়ে নিলেন এবং তাদের মনিবদের বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মদীনার গাছপালা কাটতে নিষেধ করতে শুনেছি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরো বলেছেনঃ কেউ এখানকার কিছু কাটলে তার মালপত্র সেই পাবে যে তা কেড়ে নিবে।[1] সহীহ।
2039। জাবির ইবনু ‘আব্দুল্লাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ যেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সংরক্ষিত এলাকায় গাছের পাতা না পাড়ে এবং কর্তন না করে, তবে কোমলভাবে পাতায় আঘাত করা যাবে।[1] সহীহ।
2040। ইবনু উমার (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো বাহনে চড়ে, আবার কখনো পায়ে হেঁটে কুবা মসজিদে আসতেন। ইবনু নুমাইরের বর্ণনায় রয়েছেঃ এবং তিনি সেখানে দুই রাক‘আত সালাত আদায় করতেন।[1] সহীহ।
2041। আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ আমার উপর সালাম পেশ করলে আল্লাহ আমার ‘রূহ’ ফিরিয়ে দেন এবং আমি তার সালামের জবাব দেই।[1] হাসান।
2042। আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের ঘরগুলোকে কবরস্থানে পরিণত করো না এবং আমার কবরকে উৎসবের স্থানে পরিণত করো না। তোমরা আমার উপর দরূদ পাঠ করো। তোমরা যেখানেই থাকো না কেন তোমাদের দরূদ আমার কাছে পৌঁছানো হবে।[1] সহীহ।
2043। রাবী‘আহ ইবনু হুদাইর (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি তালহা ইবনু উবাইদুল্লাহ (রাযি.)-কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে একটি হাদীস ছাড়া অন্য কোনো হাদীস বর্ণনা করতে শুনিনি। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, তা কি? তিনি বললেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে শহীদদের কবর যিয়ারাতে রওয়ানা হই। শেষ পর্যন্ত আমরা ‘হাররা’ ওয়াকিমের উঁচু টিলায় উঠি। আমরা সেখান থেকে নেমে উপত্যকার বাঁকে কিছু কবর দেখলাম। তালহা (রাযি.) বলেন, আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! এগুলো কি আমাদের ভাইদের কবর? তিনি বললেনঃ আমাদের সাথীদের কবর। তারপর আমরা শহীদের কবরের কাছে এলে তিনি বললেনঃ এগুলো আমাদের ভাইদের কবর।[1] সহীহ।
2044। আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুলহুলাইফার বিস্তৃর্ণ এলাকায় উট বসিয়ে যাত্রা বিরতি করে সেখানে সালাত আদায় করলেন। নাফী‘ (রহ.) বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাযি.)-ও অনুরূপ করতেন।[1] সহীহ।
2045। আল-কা‘নবী (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইমাম মালিক (রহ.) বলেছেন, যথা সম্ভব কিছু সালাত না পড়ে মদীনা প্রত্যাবর্তনকারী কোনো ব্যক্তির জন্য মু‘আররাস নামক স্থান অতিক্রম করা উচিত নয়। কেননা আমার কাছে হাদীস পৌঁছেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এখানে রাত যাপন করেছেন, সামান্য ঘুমিয়েছেন এবং সালাত আদায় করেছেন। ইমাম আবূ দাঊদ (রহ.) বলেন, আমি মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক আল মাদানী (রহ.)-কে বলতে শুনেছি মু‘আররাস মদীনা থেকে ছয় মাইল দূরে অবস্থিত।[1] সহীহ মাকতূ।
উৎস: Sunan Abu Dawud
WEBREATH · 11:11
«Should I not be a thankful servant?» — Sahih al-Bukhari
Breath is one for all: everyone lives by it, whoever they are and whatever they believe. Every day at 11:11 local time people stop for sixty seconds, breathe, and thank GOD for the breath — each in their own words, each within themselves. In that minute we are One Breath.
WEBREATH — the Minute at 11:11, your own local time — we are One Breath